(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: -)
التكملة للفارسي القسم: النحو والصرف
الكتاب: التكملة [تكملة لكتاب الإيضاح العضدي]
المؤلف: أبو علي الحسن بن أحمد بن عبد الغفار النحوي (ت 377 هـ)
تحقيق ودراسة: د كاظم بحر المرجان
الناشر: عالم الكتب، بيروت - لبنان
الطبعة: الثانية، 1419 هـ - 1999 مـ
عدد الصفحات: 685
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 جُمادَى الأولى 1444
আল-তাকমিলা লি-ফারসি বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-তাকমিলা [আল-ইদাহ আল-আদাদি গ্রন্থের পরিপূরক]
লেখক: আবু আলি আল-হাসান বিন আহমদ বিন আব্দুল গাফফার আন-নাহবি (মৃত্যু ৩৭৭ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. কাজিম বাহরুল মারজান
প্রকাশক: আলমুল কুতুব, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপার অনুরূপ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَة الطبْعَة الثَّانيَةهذه هى الطبعة الثانية من كتاب التكملة لأبي علي الحسن بن أحمد بن عبد الغفار النحوي المعروف بالفارسي المتوفى سنة 377 هـ.
وكانت الطبعة الأولى منه قد صدرت عام 1981 من دار الكتب بجامعة الموصل، وكنت في وقتها موفدًا للتدريس في جامعة محمد الأول/ بوجدة في المغرب الشقيق مما حال بيني وبين الإشراف القريب على مسودات الطباعة. وهذه مناسبة طيّبة لأن أنوّه بالشكر الجزيل للصديقين الدكتور محمد مجيد السعيد رئيس جامعة الموصل -في حينه- والدكتور سعيد الزبيدي التدريسي فيها آنذاك، لما قاما به من متابعة إخراج الطبعة الأولى، ذلك أنني لم أتمكن من شكرهما في وقت ظهورها.
غير أن كتابًا مثل كتاب التكملة، على أية حال، لن تسد الحاجة إليه طبعة واحدة وفي زمن بعينه. بل هو كتاب لا غنى لدارس اللغة العربية ومدرّسها من الرجوع إليه بنفس القدر الذي لا غنى فيه للمكتبة العربية بأنْ يُرفد إليها بين الآونة والأخرى.
وهذا الأمر يصح أيضًا على غير التكملة من شوامخ المصادر والمراجع التي كانت قد ظهرت مرة وعلى الأخص ما كان منها قد طبع قبل أنْ تحقق حركة التحقيق العلمي للمخطوطات هذا الحضور الراسخ في حياتنا الثقافية المعاصرة.
إن قضيّة تحقيق المخطوطات قد توطدت أصولها وأدواتها المعرفية والتقنية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাএটি হলো ৩৭৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী আল-ফারিসি নামে পরিচিত নাহুবিদ আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল গাফফারের ‘আত-তাকমিলা’ গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ।
এর প্রথম সংস্করণটি ১৯৮১ সালে মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল কুতুব থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, এবং সে সময় আমি ভ্রাতৃপ্রতিম মরক্কোর মুহাম্মদ আল-আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ওজদাতে) শিক্ষকতার জন্য প্রেষণে নিয়োজিত ছিলাম, যার ফলে মুদ্রণের পাণ্ডুলিপিগুলো নিবিড়ভাবে তদারকি করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। আর এটি একটি উত্তম সুযোগ যে, আমি আমার দুই বন্ধু—মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন চ্যান্সেলর ডক্টর মুহাম্মদ মাজিদ আল-সাঈদ এবং সেখানকার তৎকালীন শিক্ষক ডক্টর সাঈদ আল-জুবাইদির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রথম সংস্করণটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের তদারকির জন্য; কারণ সেই সময় আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে সক্ষম হইনি।
যাহোক, ‘আত-তাকমিলা’-এর মতো একটি গ্রন্থের প্রয়োজন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কেবল একটিমাত্র সংস্করণ দিয়ে মিটবে না। বরং এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আরবি ভাষার গবেষক ও শিক্ষকদের কাছে যেমন অপরিহার্য, তেমনি সময়ে সময়ে আরবি লাইব্রেরিগুলোতে এর পুনঃসরবরাহ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
এই বিষয়টি ‘আত-তাকমিলা’ ব্যতীত অন্যান্য উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন মূল উৎস ও রেফারেন্স গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেগুলো ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, বিশেষ করে সেই গ্রন্থগুলো যা আমাদের সমকালীন সাংস্কৃতিক জীবনে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির এই সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হওয়ার আগে মুদ্রিত হয়েছিল।
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার বিষয়টি এখন তার মূলনীতি এবং জ্ঞানগত ও প্রযুক্তিগত উপকরণের দিক থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى حد بعيد لدرجة لم يعد بالإِمكان أنْ تتيح حيّزًا لغير ذوي المعرفة الرصينة من الإِضرار بها سواء أكان ذلك من دور النشر أم الافراد الذين يلجون ساحتها دون امتلاك أدواتها المتممة لنجاحها.
وأخيرًا فإن هذه الطبعة التي أصدرتها دار عالم الكتب العامرة تتدارك ما قد يكون في الطبعة الأولى من هنات غير مقصودة ولهذا فإنني أتقدم بالشكر الوافر لصاحبها الصديق نزيه بعلبكي لإخراج هذه الطبعة لهذا الكتاب النفيس، جزاه الله خيرًا عن العلم والمشتغلين به.
بغداد 19/ 9/ 1995
الدكتور كاظم بحر المرجان
كلية التربية/ جامعة بغداد
এটি এমন এক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, গভীর জ্ঞানবর্জিত ব্যক্তিদের পক্ষে—তারা প্রকাশনা সংস্থা হোক বা এমন কোনো ব্যক্তি যারা এই বিষয়ের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই এখানে পদার্পণ করেছে—এর কোনো ক্ষতিসাধন করার সুযোগ এখন আর নেই।
পরিশেষে, ‘দারু আলামিল কুতুব’ কর্তৃক প্রকাশিত এই সংস্করণটি প্রথম সংস্করণে অনিচ্ছাকৃতভাবে থেকে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ সংশোধন করে নিয়েছে। এ কারণে আমি এই অমূল্য গ্রন্থটির এই সংস্করণটি প্রকাশের জন্য এর স্বত্বাধিকারী বন্ধু নাজিহ বা’লাবাক্কির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; আল্লাহ তাঁকে জ্ঞান এবং জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
বাগদাদ ১৯/০৯/১৯৯৫
ডক্টর কাযিম বাহর আল-মারজান
শিক্ষা অনুষদ/ বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَةمن الأمور الداعية للتفاؤل في الحقبة الراهنة من تطورنا أن يعطي فريق من الدارسين انتباههم لتراث أمتنا اللغوي فيقوموا بنشره وتحقيقه. ذلك أن حجم التيار الفكري وإيجابيته وتنوعه يوضح مدى رقي أية أمة لأن النشاط الثقافي معيار صادق لنهج تقدم الأمم.
لكن دواعي الوفاء لمفكري الأمة الأسلاف توجب على من يتصدر لمهام التحقيق أن يولي تراثهم حقه من العناية والجهد؛ إذ إنَّ العبث بالتراث أو التسرع في إخراجه بلا ترو وتؤدة أشد وبالًا من بقائه دفين خزائن المخطوطات.
بهذا الإِدراك توجهت لتحقيق كتاب التكملة لأبي علي الفارسي بعد أن هداني أستاذي الفاضل الدكتور حسين نصار إلى القيمة اللغوية الفريدة لهذا الكتاب. وكان الكتاب كما قدر الأستاذ الكريم مخزونًا ضخمًا من القواعد الأصول للغتنا السمحاء، وهو أيضًا كتاب في الصرف، وكتب الصرف حقها من اهتمام المحققين ضئيل، يضاف إلى ذلك أن صعوبة هذا الكتاب ووعورة مداخله ثم تعدد نسخه وتناثرها في مكتبات العالم أمور حالت بين الكتاب ومحاولة تحقيقه. لكني رأيت أن حظوة إخراجه علميًا تفوق كل عقبات تعوقها، ولهذا بذلت ما وسعني الجهد وتحملت الكثير من متاعب السفر ومشاقه لأجمع نسخه، ثم تفرغت للعمل المتواصل فيه زمنًا طويلًا، وأقرُّ أن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাআমাদের বর্তমান যুগের উত্তরণের ধারায় আশাব্যঞ্জক একটি বিষয় হলো এই যে, গবেষকদের একটি দল আমাদের উম্মাহর ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন এবং তা প্রকাশ ও সম্পাদনার (তাহকিক) কাজ সম্পন্ন করছেন। কারণ, কোনো জাতির চিন্তাচেতনার প্রবাহের ব্যাপকতা, ইতিবাচকতা এবং বৈচিত্র্যই সেই জাতির উন্নতির মানদণ্ড স্পষ্ট করে দেয়; কেননা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডই হলো জাতিসমূহের অগ্রগতির প্রকৃত মাপকাঠি।
তবে উম্মাহর পূর্বসূরি চিন্তাবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতার দাবি হলো, যারা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন, তারা যেন তাঁদের এই ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ যত্ন ও শ্রম ব্যয় করেন। কেননা ঐতিহ্যের সাথে ছিনিমিনি খেলা কিংবা গভীর চিন্তা ও ধীরস্থিরতা ছাড়া তড়িঘড়ি করে তা প্রকাশ করা, পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডারে এটি সমাহিত থাকার চেয়েও অধিক ক্ষতিকর।
এই উপলব্ধি থেকেই আমি আবু আলী আল-ফারিসী রচিত ‘আত-তাকমিলা’ কিতাবটির সম্পাদনার (তাহকিক) দিকে মনোনিবেশ করি, যখন আমার সম্মানিত শিক্ষক ডক্টর হুসাইন নাসসার আমাকে এই কিতাবটির অনন্য ভাষাতাত্ত্বিক গুরুত্বের কথা জানান। কিতাবটি ছিল—শ্রদ্ধেয় উস্তাদ যেমনটি মূল্যায়ন করেছিলেন—আমাদের মহান ভাষার মৌলিক নিয়মাবলির এক বিশাল ভাণ্ডার। একই সাথে এটি ইলমুস সরফের (শব্দতত্ত্ব) একটি কিতাব; আর সরফ শাস্ত্রের কিতাবগুলোর প্রতি গবেষকদের মনোযোগের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে এই কিতাবটির জটিলতা, এর বিষয়বস্তুর দুর্গমতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে এর পাণ্ডুলিপিগুলোর একাধিক কপি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা; যা ইতিপূর্বে কিতাবটি সম্পাদনার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু আমি অনুভব করেছি যে, কিতাবটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করার মর্যাদা একে বাধাগ্রস্তকারী সকল প্রতিবন্ধকতার চেয়েও অনেক বড়। এ কারণেই আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেছি এবং এর পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহের জন্য সফরের বহু কষ্ট ও পরিশ্রম সহ্য করেছি। অতঃপর দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এর কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। আমি স্বীকার করছি যে
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৮)
كل ما عملته من أجل الكتاب لن يرقى إلى مبلغ منزلته، ولذا فإني آمل بعودة متأنية إلى الكتاب، غير أني ازعم أيضًا أن الكتاب غدا نصًا موثقًا لكل ذي رغبة وموهبة أن قراءة أو إفادة بأية صورة.
وقامت محاولتي في الكتاب على قسمين: الأول دراسته، والثاني تحقيقه. وجزأت القسم الأول إلى تمهيد وفصلين، عرّفْتُ باقتضاب في التمهيد بالمصنف إذ أشرت إلى حياته وأساتذته وتلامذته وآثاره، وذكرت عددًا غير قليل من مراجع ترجمته. وعقدت الفصل الأول لدراسة الكتاب وقسمته إلى أربعة أقسام، بحثت في الأول منها سبب التأليف، وقمت بمحاولة لتحديد تاريخه. وفي الثاني تعرضت لمصادر التكملة، وفي الثالث عرضت موضوعات الكتاب وأبوابه، وفي الرابع ذكرت كتب الشروح وشروح الشواهد ومؤلفيها.
وخصصت الفصل الثاني لمنهج الكتاب، وقسمت هذا الفصل إلى أربعة أقسام أيضًا تحدثت في القسم الأول عن طريقة عرض المادة، وفي الثاني عن القياس وما يرتبط به من موضوعات مثل التعليل، والاحتجاج، والأصول والفروع، والتخريج والتأويل. وتحدثت في الثالث عن السماع ويدخل فيه موضوع الاستشهاد وأشرت إلى مصادره في الاستشهاد وهي القرآن وقراءاته، والشعر، والأمثال والأقوال، وذكرت موقفه من الاستشهاد بالحديث النبوي. وفي القسم الرابع من هذا الفصل تكلمت عن موقفه من المدارس النحوية المختلفة وشيوخها، وأنهيته بالكلام عن شخصية أبي علي اللغوية في الكتاب.
وعملت خاتمة للدراسة تحدثت فيها عن أثر الكتاب فيما بعده من المصنفات وركزت على تتبع هذا الأثر في بعض مصنفات ابن جني، وفي المخصص، والأمالي الشجرية.
এই গ্রন্থের জন্য আমি যা কিছু করেছি, তা এর মর্যাদার উচ্চশিখরে পৌঁছাতে পারবে না। তাই আমি আশা করি যে, গ্রন্থটির প্রতি গভীর মনোযোগের সাথে পুনরায় নিবিষ্ট হওয়া হবে। তবুও আমি দাবি করি যে, গ্রন্থটি এখন এমন এক প্রামাণ্য পাঠে পরিণত হয়েছে, যা থেকে যেকোনো আগ্রহী ও প্রতিভাধর ব্যক্তি যেকোনোভাবে পাঠ গ্রহণ করতে বা উপকৃত হতে পারেন।
এই গ্রন্থে আমার প্রচেষ্টা দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথমটি হলো এর অধ্যয়ন এবং দ্বিতীয়টি হলো এর সম্পাদনা। আমি প্রথম অংশটিকে একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। ভূমিকায় আমি সংক্ষেপে গ্রন্থকারের পরিচয় প্রদান করেছি, যেখানে তাঁর জীবন, শিক্ষকগণ, ছাত্রগণ ও তাঁর রচনাবলি নির্দেশ করেছি এবং তাঁর জীবনী সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সূত্রের উল্লেখ করেছি। গ্রন্থটি পর্যালোচনার জন্য আমি প্রথম অধ্যায়টি নির্ধারণ করেছি এবং একে চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি। প্রথমটিতে আমি গ্রন্থটি রচনার কারণ অনুসন্ধান করেছি এবং এর রচনাকাল নির্ধারণের চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয়টিতে আমি 'তাকমিলাহ'-এর উৎসসমূহ আলোচনা করেছি। তৃতীয়টিতে গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও অধ্যায়সমূহ উপস্থাপন করেছি এবং চতুর্থটিতে ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, কাব্যিক প্রমাণের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সেগুলোর লেখকদের কথা উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়টি আমি গ্রন্থের কর্মপদ্ধতির জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং এই অধ্যায়টিকেও চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদে আমি তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। দ্বিতীয়টিতে কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন তালী্ল (যুক্তিপ্রদর্শন), ইহতিজাজ (দলিল উপস্থাপন), উসুল ও ফুরু (মূলনীতি ও শাখা), এবং তাখরীজ ও তাবীল (ব্যাখ্যা) সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি সামা (শ্রুত প্রমাণ) সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ইসতিশহাদ (প্রমাণ উপস্থাপন)। আমি এখানে প্রমাণের উৎস হিসেবে কুরআন ও এর কিরাআতসমূহ, কবিতা, প্রবাদ ও প্রবচন নির্দেশ করেছি এবং হাদীসে নববী দ্বারা প্রমাণ পেশ করার ব্যাপারে তাঁর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছি। এই অধ্যায়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি বিভিন্ন ব্যাকরণিক ঘরানা ও তাদের শায়খদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং গ্রন্থে আবু আলীর ভাষাতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাপ্ত করেছি।
আমি এই গবেষণার একটি উপসংহার তৈরি করেছি, যেখানে পরবর্তী রচনাবলির ওপর এই গ্রন্থের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে ইবনে জিন্নীর কিছু রচনা, 'আল-মুখাস্সাস' এবং 'আল-আমালি আশ-শাজারিয়্যাহ' গ্রন্থে এই প্রভাবটি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৯)
أما القسم الثاني من الدراسة، فخصصته للكتاب محققًا وقدمت له مع وصف للنسخ، وذكرت منهج التحقيق الذي بينت فيه الأسس والقواعد التي ألزمت نفسي بها، ثم عملت فهرسًا مقارنًا لأبواب الموضوعات في النسخ المختلفة.
وأود أن أوضح أني لم أبخل بشيء من أجل أن أوفي عملي حقه، وإنْ بدا فيه ما يوجب الاعتذار عنه، فما لي إلا التذرع بأمرين: باكورة التجربة، والصعوبة في متابعة أفكار هذا العالم الفذ، وكلاهما واقع لا قبل لي بتجاوزه، وقد يفهم عذري ويغتفر لي من عانى التحقيق ومشاكله فهو يقدر المنهج الذي ألزمت نفسي به وحاولت السير بما يمليه.
وأوكد أني وطدت النفس بالصبر على المشقة طويلًا، وأخلصت النية وبذلت ما وسع الجهد، ولولا رعاية تفوق المعتاد اولانيها أستاذي الكريم، وعناء منه وحدب يجاوزان ما كنت آمل، لما قدر لي أن أصل إلى ما وصلت إليه في هذا الموضوع، وتحدوني الموضوعية التي أخذتها عنه فيما أخذت من أمور عدة أن أقرر أن ما يلاحظ في عملي من هفوات تتركز في المواطن التي بعدت فيها عن توجيهاته السديدة لظروف شتى، جزاه الله عني وعن طلبة علمه أفضل الجزاء، والله الموفق.
القاهرة 1972
كاظم بحر المرجان
গবেষণার দ্বিতীয় অংশটি আমি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার জন্য নির্ধারিত করেছি। আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনাসহ একটি ভূমিকা পেশ করেছি এবং এতে সম্পাদনার সেই পদ্ধতি উল্লেখ করেছি যার মূলনীতি ও নিয়মাবলী আমি নিজের ওপর আবশ্যিক করে নিয়েছিলাম। এরপর আমি বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তুর অধ্যায়সমূহের একটি তুলনামূলক সূচি তৈরি করেছি।
আমি স্পষ্ট করতে চাই যে, এই কাজের হক আদায়ের ব্যাপারে আমি কোনো কার্পণ্য করিনি। তবুও যদি এতে এমন কিছু পরিলক্ষিত হয় যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা জরুরি, তবে আমার কাছে ওজর হিসেবে দুটি বিষয় রয়েছে: এটি আমার প্রথম অভিজ্ঞতা এবং এই অনন্য সাধারণ আলেমের চিন্তাধারা অনুসরণ করার কাঠিন্য। এ উভয়টিই এমন বাস্তব সত্য যা অতিক্রম করার সামর্থ্য আমার নেই। যারা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কষ্ট ও ঝক্কি-ঝামেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তারা হয়তো আমার ওজর বুঝতে পারবেন এবং আমাকে ক্ষমা করবেন; কেননা তারা সেই পদ্ধতির কদর বুঝেন যা আমি নিজের ওপর আবশ্যক করেছি এবং যার নির্দেশানুযায়ী চলার চেষ্টা করেছি।
আমি নিশ্চিত করে বলছি যে, আমি দীর্ঘ সময় ধরে কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে নিজেকে দৃঢ় রেখেছি, নিয়তকে একনিষ্ঠ করেছি এবং সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ যদি আমাকে সাধারণের ঊর্ধ্বে অসাধারণ যত্ন না করতেন এবং তার পক্ষ থেকে আমার প্রত্যাশার অতীত কষ্ট ও মমতা না থাকত, তবে এই বিষয়ে আজ আমি যেখানে পৌঁছেছি সেখানে পৌঁছানো আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। আমি তার কাছ থেকে আরও অনেক বিষয়ের সাথে যে বস্তুনিষ্ঠতা শিখেছি, তা আমাকে স্বীকার করতে বাধ্য করছে যে, আমার কাজে যে সব ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হতে পারে, সেগুলো প্রধানত সেই সব স্থানেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে যেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে আমি তার সঠিক দিকনির্দেশনা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে এবং তার ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
কায়রো ১৯৭২
কাযিম বাহর আল-মারজান
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১১)
تمهيدكتاب التكملة من الكتب الأصول التي لقيت اهتمامًا كبيرًا من دارسي اللغة الأقدمين، وتبرز أهميته في كونه كتابًا خصصه مؤلفه لبحث قواعد اللغة والصرف وأقيستها.
ومؤلفه الحسن بن أحمد بن عبد الغفار بن محمد بن سليمان بن أبان الفارسي النحوي، وكنيته التي اشتهر بها "أبو علي".
وعلى الرغم من أنَّ جده البعيد "أبان" اسم عربي مصروف
(1) فقد ذهب أكثر من ترجم له إلى أن أباه فارسي الأصل. وربما كان الأمر أن جدّه هذا عربي الأصل استوطن بلاد فارس في أثناء الفتوحات الإِسلامية، أو لعله فارسي أسلم آباؤه فسموه باسم عربي، ولقب الفارسي -كما يقول الدكتور عبد الفتاح شلبي- لا ينهض دليلًا على فارسيته إذ كثيرًا ما تلقب بعض المشهورين من العرب بألقاب فارسية كأبي إسحاق الشيرازي والفيروزابادي، والترمذي صاحب السنن، والأصبهاني صاحب الأغاني
(2).
وأم أبي علي سدوسية -بفتح السين- نسبة لسدوس وهي قبيلة عربية ترجع
--------------------------------------------
উপস্থাপনাতাকমিলা গ্রন্থটি সেই সকল মৌলিক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত যা প্রাচীন ভাষাবিদদের নিকট ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছে। এর গুরুত্ব এই দিক থেকে সুস্পষ্ট যে, লেখক গ্রন্থটিকে ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের নিয়মাবলি এবং এর সূত্রসমূহ আলোচনার জন্য নিবেদিত করেছেন।
আর এর লেখক হলেন হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আবান আল-ফারিসি আন-নাহবি; তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম হলো "আবু আলী", যা দিয়েই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।
যদিও তাঁর দূরবর্তী পূর্বপুরুষ "আবান" শব্দটি একটি আরবীয় 'মুনসারিফ' নাম, তবুও তাঁর অধিকাংশ জীবনীকারের অভিমত হলো যে, তাঁর পিতা পারস্য বংশোদ্ভূত ছিলেন। হতে পারে বিষয়টি এমন যে, তাঁর এই পূর্বপুরুষ মূলত আরব বংশোদ্ভূত ছিলেন যিনি ইসলামি বিজয়াভিযানের সময় পারস্যে বসতি স্থাপন করেছিলেন; অথবা সম্ভবত তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষরা ইসলাম গ্রহণ করার পর তাঁকে একটি আরবি নাম প্রদান করেছিলেন। আর 'আল-ফারিসি' উপাধিটি—যেমন ডক্টর ফাত্তাহ শালবি বলেছেন—তাঁর পারস্য বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়, কেননা অনেক ক্ষেত্রে প্রখ্যাত আরব ব্যক্তিরাও পারস্যের উপাধিতে পরিচিত হতেন; যেমন—আবু ইসহাক আশ-শিরাজি, আল-ফিরোজাবাদি, সুনান গ্রন্থের রচয়িতা আত-তিরমিজি এবং আল-আগানি গ্রন্থের রচয়িতা আল-আসফাহানি।
আবু আলীর মা ছিলেন সাদূসি—সীন বর্ণে ফাতহাহ যোগে—যা সাদূস গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, এটি একটি আরব গোত্র যা ফিরে গিয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১২)
إلى شيبان من بكر بن وائل، ثم إلى جديلة، ثم إلى أسد، ثم إلى ربيعة، ثم إلى نزار بن معد بن عدنان. وهذا مما يثير الشك في الجزم بفارسيته.
ومولده مدينة "فسا" التي ينسب إليها أحيانًا، وهي أكبر مدينة في كورة درابجرد، وتقارب في الكبر مدينة شيراز، وقد وصفت بأنها أنزه مدن فارس
(1).
اختلف مؤرخوه في عام مولده، لكنهم اتفقوا على أن وفاته سنة 377 هجرية، وأرجح الروايات على أنه عاش تسعًا وثمانين عامًا، وعلى هذا يكون مولده عام 286 هجرية.
غادر مدينة "فسا" إلى بغداد سنة 307 هـ، وهو دون العشرين، طلبًا للشهرة والعلم والمنزلة، وتشبهًا بآخرين من ذوي الطموح والنباهة.
وقضى في العراق ما بين 307 - 341 هـ متنقلًا في مدنها المهمة، ومتصدرًا للإِقراء، والتدريس، والتأليف، تاركًا في أغلب هذه المدن أثرًا لغويًا يحمل أسماءها. فله البغداديات، والبصريات، والهيتيات
(2)، والقصريات
(3)، وقد ذكر ابن جني أنه التقى بالفارسي سنة 341 هـ في جامع الموصل وسمع منه
(4) عندما كان قاصدًا حلب يطلب فيها الحظوة عند سيف
--------------------------------------------
শায়বান থেকে বকর বিন ওয়ায়েল, এরপর জাদিলা, এরপর আসাদ, এরপর রাবিয়া, তারপর নিজার বিন মাআদ বিন আদনান পর্যন্ত (তাঁর বংশপরম্পরা পৌঁছেছে)। এটি তাঁর পারস্যদেশীয় হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি করে।
তাঁর জন্মস্থান হলো "ফাসা" শহর, যার দিকে কখনো কখনো তাঁকে নিসবত করা হয়। এটি দারাবজারদ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর এবং আয়তনে শিরাজ শহরের কাছাকাছি। একে পারস্যের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম শহর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে
(১)।
ঐতিহাসিকগণ তাঁর জন্মের সাল নিয়ে মতভেদ করেছেন, তবে তাঁরা একমত হয়েছেন যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে ৩৭৭ হিজরিতে। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ঊননব্বই বছর বেঁচে ছিলেন, আর সেই হিসেবে তাঁর জন্মসাল হয় ২৮৬ হিজরি।
তিনি খ্যাতি, জ্ঞান ও উচ্চ মর্যাদা লাভের আশায় এবং অন্যান্য উচ্চাভিলাষী ও মেধাবী ব্যক্তিদের অনুকরণে ৩০৭ হিজরিতে বিশ বছরের কম বয়সে "ফাসা" শহর ছেড়ে বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তিনি ৩০৭ থেকে ৩৪১ হিজরি পর্যন্ত ইরাকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি ক্বিরাত পাঠদান, অধ্যাপনা এবং গ্রন্থ রচনায় নেতৃত্ব দেন। এই শহরগুলোর অধিকাংশেই তিনি ভাষাতাত্ত্বিক এমন সব অবদান রেখে গেছেন যা ওই শহরগুলোর নাম বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আল-বাগদাদিয়্যাত', 'আল-বাসরিয়্যাত', 'আল-হিতিয়্যাত'
(২) এবং 'আল-কাসরিয়্যাত'
(৩)। ইবনে জিন্নি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৩৪১ হিজরিতে মসুলের জামে মসজিদে আল-ফারসির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে পাঠ গ্রহণ করেন
(৪) যখন তিনি সাইফুদ্দৌলার নৈকট্য লাভের আশায় আলেপ্পোর দিকে যাচ্ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدولة غير أن منزلة ابن خالويه في بلاط سيف الدولة حالت بين الفارسي وما آمل، فأخذ يطوف مدن الشام، وظهرت أسماء بعض هذه المدن على كتبه أيضًا، كالمسائل الحلبية، والدمشقية.
وعاد إلى بغداد سنة 346 هـ، ومكث فيها حتى عام 348 هـ، ثم انتقل إلى شيراز، ليلحق بعضد الدولة، وبقي فيها مقربًا إليه يسايره ويحضره مجلسه ويتباحث معه في النحو واللغة، إلى أن حدث النزاع بين عضد الدولة وابن عمة عز الدولة بختيار بن معز الدولة، الذي انتصر فيه عضد الدولة، ودخل بغداد، وبلغ فيها أوج سلطانه.
ولحق أبو علي بعضد الدولة في بغداد، وارتفع شأنه عند عضد الدولة حتى كان الوكيل عنه في عقد زواج ابنته على الخليفة الطائع سنة 369 هـ
(1)، فقصدت أبا علي الوفود من جميع الأقطار، واشتهر ذكره في الآفاق.
وتوفي في بغداد في ربيع الأول سنة 377 هـ، ودفن في الجانب الغربي منها.
وكان ميسور الحال في آخر أيام عمره حتى قيل: أنه أوصى بثلث ماله لنحاة بغداد، فكان ثلاثين ألف دينار
(2).
ووصفه المؤرخون بأنه كان قوي البنية، نظيفًا في مظهره ولهذا فقد أزرى على المتنبي قبح زيه، وما أخذ به نفسه من الكبر
(3).
وقد وصف أيضًا بأنه كان صادقًا في نفسه، مترفعًا عن الكذب
(4)، رفيقًا
--------------------------------------------
রাষ্ট্র, তবে সাইফুদ দাওলার দরবারে ইবনে খালওয়াইহের উচ্চ মর্যাদা আল-ফারিসির প্রত্যাশার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তিনি শামের শহরগুলোতে ভ্রমণ করতে থাকেন এবং এই শহরগুলোর নাম তাঁর কিছু কিতাবেও প্রকাশ পায়, যেমন: আল-মাসাইলুল হালাবিয়্যাহ এবং আদ-দিমাশকিয়্যাহ।
তিনি ৩৪৬ হিজরিতে বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানে ৩৪৮ হিজরি পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর তিনি আদুদুদ দাওলার সাথে যোগ দিতে শিরাজ গমন করেন এবং সেখানে তাঁর সান্নিধ্যে থেকে তাঁর সফরসঙ্গী হন, তাঁর মজলিশে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর সাথে নাহু ও ভাষা বিষয়ে আলোচনা করতেন। এভাবে আদুদুদ দাওলা এবং তাঁর চাচাতো ভাই ইজ্জুদ দাওলা বখতিয়ার বিন মুইজ্জুদ দাওলার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। এই বিরোধে আদুদুদ দাওলা জয়লাভ করেন এবং বাগদাদে প্রবেশ করে সেখানে তাঁর ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছান।
আবু আলী বাগদাদে আদুদুদ দাওলার সাথে যোগ দেন এবং আদুদুদ দাওলার নিকট তাঁর মর্যাদা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, ৩৬৯ হিজরিতে খলিফা আত-তাঈ-এর সাথে আদুদুদ দাওলার কন্যার বিবাহ চুক্তিতে তিনি তাঁর উকিল হিসেবে কাজ করেন
(১)। ফলে সমস্ত অঞ্চল থেকে প্রতিনিধি দল আবু আলীর কাছে আসতে শুরু করে এবং দিগন্তজুড়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি ৩৭৭ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন এবং শহরের পশ্চিম অংশে তাঁকে দাফন করা হয়।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি সচ্ছল ছিলেন, এমনকি বলা হয় যে: তিনি তাঁর সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ বাগদাদের নাহুবিদদের জন্য ওসিয়ত করেছিলেন, যার পরিমাণ ছিল ত্রিশ হাজার দিনার
(২)।
ঐতিহাসিকগণ তাঁকে বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবয়বের হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একারণেই তিনি মুতানাব্বির কদর্য পোশাক এবং তার অহংকারী আচরণের সমালোচনা করতেন
(৩)।
তাঁকে আরও এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি স্বভাবে সত্যবাদী ছিলেন, মিথ্যা থেকে দূরে থাকতেন
(৪) এবং নম্র ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بذي قرباه؛ إذ أوصى الصاحب بن عباد خيرًا بابن أخته أبي الحسين
(1).
وقد كان ذا موضوعية في تقرير الحقائق العلمية واللغوية والنحوية، وسوف نرى ذلك بينا في أثناء الحديث عن آرائه عند دراسة الكتاب.
وعقيدته تجمع بين التشيع والاعتزال، ودليل تشيعه العلاقة الوثيقة التي ربطته بالصاحب بن عباد، وهو معروف بشيعيته، وكذلك تقريب عضد الدولة البويهي له، وطابع الدولة البويهية العام هو التشيع.
أما عن اعتزاله فكثيرًا ما تنعكس مصطلحات المعتزلة في كتبه كالحسن والقبح، والقديم وغيرها. والمعتزلة يقولون كما ذكر الشهرستاني
(2) بأن الحسن والقبح تجب معرفتهما بالعقل، وهم يدعون إلى النظر والتفكير والاستدلال على الحسن والقبح بأعمال العقل. وهذا ما يقرره أبو علي في كثير من أقواله في الكتاب
(3).
أساتذته وتلاميذه وآثاره:عند الحديث عن أساتذة أبي علي لا بد من الإِشارة إلى أنه تلقى علومه عن طريقين:
الأول: عن قدماء النحويين واللغويين الذين أخذ عنهم بشكل غير مباشر حيث درس كتبهم أو كتب تلامذتهم الذين أخذوا عنهم، وسنعرض لذكر هؤلاء عند الحديث عن مصادر كتابه.
الثاني: عن العلماء والشيوخ الذين أخذ عنهم مباشرة وهؤلاء:
--------------------------------------------
নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে; যেহেতু সাহেব ইবনে আব্বাদ তাঁর ভাগ্নে আবুল হুসাইনের ব্যাপারে কল্যাণকর ওসিয়ত করেছিলেন
(১)।
তিনি বৈজ্ঞানিক, ভাষাতাত্ত্বিক এবং ব্যাকরণগত সত্য নিরূপণের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ ছিলেন, এবং এই কিতাবটি অধ্যয়নের সময় তাঁর মতামতের আলোচনার মধ্যে আমরা তা স্পষ্টভাবে দেখতে পাব।
তাঁর আকিদা শিয়া মতবাদ এবং মুতাজিলা মতবাদের সমন্বয় ছিল। তাঁর শিয়া হওয়ার প্রমাণ হলো সাহেব ইবনে আব্বাদের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক, যিনি তাঁর শিয়া মতবাদের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তদ্রূপ বুওয়াইহি শাসক আদুদুদ দাওলাহ কর্তৃক তাঁর নৈকট্য লাভ করাও এর প্রমাণ, আর বুওয়াইহি রাষ্ট্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্যই ছিল শিয়া মতবাদ।
আর তাঁর মুতাজিলা মতাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি হলো, তাঁর বইগুলোতে প্রায়শই মুতাজিলাদের পরিভাষা যেমন 'হুসন' (ভালো) এবং 'কুবহ' (মন্দ), 'কাদিম' (অনাদি) ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটে। মুতাজিলারা বলে থাকেন, যেমনটি শাহরাস্তানি
(২) উল্লেখ করেছেন, ভালো ও মন্দকে বিবেকের মাধ্যমে জানা ওয়াজিব। তাঁরা বিবেকের প্রয়োগের মাধ্যমে ভালো ও মন্দের প্রতি দৃষ্টিপাত, চিন্তা-ভাবনা এবং যুক্তি প্রদর্শনের আহ্বান জানান। আর এটিই আবু আলী এই কিতাবের অনেক উক্তিতে সাব্যস্ত করেছেন
(৩)।
তাঁর উস্তাদগণ, ছাত্রবৃন্দ এবং রচনাবলি:আবু আলীর উস্তাদদের সম্পর্কে আলোচনার সময় এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, তিনি দুই পন্থায় শিক্ষা লাভ করেছেন:
প্রথমত: প্রাচীন ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ, যাঁদের কাছ থেকে তিনি পরোক্ষভাবে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি তাঁদের গ্রন্থাবলি অথবা তাঁদের ছাত্রদের কিতাব অধ্যয়ন করেছেন যাঁরা সরাসরি তাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। কিতাবটির উৎস সম্পর্কে আলোচনার সময় আমরা তাঁদের কথা উল্লেখ করব।
দ্বিতীয়ত: সেই সকল আলিম ও শায়খগণ যাঁদের কাছ থেকে তিনি সরাসরি শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁরা হলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
1 - أبو إسحاق إبراهيم بن السري بن سهل الزجاج، المتوفى سنة 311 هـ وقد ورد ذكر الزجاج في التكملة ثلاث مرات نص فيها أبو علي على حضوره مجلس الزجاج.
2 - أبو الحسن علي بن سليمان المعروف بالأخفش الصغير، المتوفى سنة 315 هـ. وقد كان حافظًا للأخبار فانتفع أبو علي منه بذلك، وهو ينص في التكملة على أخذه منه أيضًا.
3 - أبو بكر بن السري بن سهل، البغدادي، المعروف بابن السراج المتوفى سنة 316 هـ، وهو صاحب الأصول وتأثر أبو علي به في القراءات لأن ابن السراج احتج للقراءات التي ذكرها ابن مجاهد، وهذا من أساتذة أبي علي، وقد قرأ أبو علي على ابن السراج كتاب سيبويه.
وترجمت لهؤلاء الثلاثة ترجمات مختصرة عند ورود أسمائهم في الكتاب
(1).
4 - أبو بكر محمد بن أحمد بن منصور المعروف بابن الخياط، المتوفى سنة 320 هـ، كان يجمع بين نحو البصريين والكوفيين، وذكر ياقوت أنه رأي بخط أبي علي ما يفيد قراءته على ابن الخياط
(2).
5 - أبو بكر محمد بن الحسن بن دريد، المتوفى سنة 321 هـ، بصري رحل إلى بغداد، وبقي فيها حتى أصبح عالمًا باللغة وأشعار العرب، من كتبه: الجمهرة، والاشتقاق، وقد تأثر أبو علي بمسائله وكتبه اللغوية
(3).
6 - أبو بكر بن مجاهد، المتوفى سنة 324 هـ، وهوأحمد بن موسى، كان
--------------------------------------------
১ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনুল সাররি ইবনে সাহল আল-যাজ্জাজ, মৃত্যু ৩১১ হিজরি। 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে তিনবার আল-যাজ্জাজের উল্লেখ এসেছে, যেখানে আবু আলী তার মজলিসে উপস্থিত থাকার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
২ - আবুল হাসান আলী ইবনে সুলাইমান, যিনি আল-আখফাশ আল-সগির নামে পরিচিত, মৃত্যু ৩১৫ হিজরি। তিনি ইতিহাসের একজন হাফেজ (সংরক্ষক) ছিলেন এবং আবু আলী তার থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে তার থেকে ইলম গ্রহণ করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
৩ - আবু বকর ইবনুল সাররি ইবনে সাহল আল-বাগদাদী, যিনি ইবনুস সাররাজ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৩১৬ হিজরি। তিনি 'আল-উসুল' গ্রন্থের লেখক এবং কিরাআতের ক্ষেত্রে আবু আলী তার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন; কারণ ইবনুস সাররাজ সেই কিরাআতগুলোর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যা ইবনে মুজাহিদ উল্লেখ করেছিলেন। তিনি আবু আলীর অন্যতম উস্তাদ এবং আবু আলী ইবনুস সাররাজের কাছে সিবাওয়াইহ-এর কিতাব পড়েছেন।
বইটিতে যখনই এই তিনজনের নাম এসেছে, তখনই তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়েছে
(১)।
৪ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মানসুর, যিনি ইবনুল খাইয়্যাত নামে পরিচিত, মৃত্যু ৩২০ হিজরি। তিনি বসরীয় এবং কুফী উভয় ধারার ব্যাকরণকে একত্রিত করেছিলেন। ইয়াকুত উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু আলীর হস্তাক্ষরে এমন কিছু দেখেছেন যা থেকে বোঝা যায় তিনি ইবনুল খাইয়্যাতের কাছে পড়েছেন
(২)।
৫ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে দুরাইদ, মৃত্যু ৩২১ হিজরি। তিনি একজন বসরীয় আলেম ছিলেন যিনি বাগদাদে পাড়ি জমান এবং সেখানে অবস্থান করে ভাষা ও আরবীয় কবিতায় অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: আল-জামহারা এবং আল-ইশতিকাক। আবু আলী তার ভাষাতাত্ত্বিক মাসআলা ও গ্রন্থসমূহ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন
(৩)।
৬ - আবু বকর ইবনে মুজাহিদ, মৃত্যু ৩২৪ হিজরি, তিনি হলেন আহমাদ ইবনে মুসা, তিনি ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فاضلًا عالمًا ذا معرفة بالقراءات وعلوم القرآن، وتأثر أبو علي به في كتاب الحجة
(1).
7 - أبو بكر محمد بن علي بن إسماعيل العسكري، المتوفى سنة 345 هـ، المعروف بـ "مبرمان". كانت له عناية بكتاب سيبويه فشرحه وشرح شواهده، أخذ عنه السيرافي وأبو علي، ويقال إن الذي لقبه بهذا اللقب "مبرمان" هو المبرد، لكثرة سؤال أبي بكر له
(2).
وعن تلامذته، فقد أخذ عنه خلق كثير؛ لأنه ارتحل في بلاد عدة، ومن هؤلاء من لازمه طويلًا منتفعًا بعلمه كابن جني الذي بقي معه إلى أن توفي أبو علي، وعلي بن عيسى الربعي، الذي أخذ عنه مباشرة لعشرين عامًا لا يبرح مجلسه في أثناء إقامة أبي علي في شيراز
(3).
ومن المشهورين من تلامذته غير ابن جني والربعي، وأبو بكر أحمد بن بكر العبدي
(4).
وذكر له تلامذة آخرون في مختلف علوم اللغة والحديث والقراءات منهم: عبد الملك بن أبي بكر النهرواني، وأبو القاسم التنوخي، وعبد الله بن أحمد الفزاري، وهلال بن الحسن بن إبراهيم بن هلال الصابي، وإبراهيم بن علي الفارسي، ومحمد بن عمر الخلال، وعبد الله بن محمد بن جرو الأسدي، وإسماعيل بن حماد الجوهري، وعلي بن عبد الله السمسمي، وعلي بن عبد الله الدقيقي النحوي، وصاعد بن الحسن بن عيسى الربعي، وأحمد بن محمد بن الحسن المرزوقي، والحسين بن محمد بن جعفر
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন একজন গুণী আলেম, কিরাত এবং কুরআন উলুম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন। আবু আলী তাঁর দ্বারা 'কিতাব আল-হুজ্জাহ' গ্রন্থে প্রভাবিত হয়েছিলেন
(১)।
৭ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইসমাইল আল-আসকারি, মৃত্যু ৩৪৫ হিজরি, যিনি 'মুবরামান' নামে পরিচিত। সিবাওয়াইহ-এর কিতাবের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ছিল, তাই তিনি সেটির ব্যাখ্যা এবং এর কাব্যিক উপমাগুলোর (শাওয়াহিদ) ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আস-সিরাফি এবং আবু আলী তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বলা হয় যে, আবু বকরের অতিমাত্রায় প্রশ্ন করার কারণে আল-মুবররাদ তাঁকে এই 'মুবরামান' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন
(২)।
তাঁর ছাত্রদের ব্যাপারে বলা যায় যে, বহু সংখ্যক মানুষ তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন; কারণ তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে থেকে ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, যেমন ইবনে জিন্নি, যিনি আবু আলীর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাথে ছিলেন। আর আলী বিন ঈসা আর-রাবঈ, যিনি বিশ বছর যাবত সরাসরি তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং শিরাজ-এ আবু আলীর অবস্থানকালে তাঁর মজলিস থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হননি
(৩)।
ইবনে জিন্নি এবং আর-রাবঈ ছাড়াও তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন বকর আল-আবদি
(৪)।
ভাষা, হাদিস এবং কিরাতের বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর আরও অন্যান্য ছাত্রদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল মালিক বিন আবু বকর আন-নাহরাওয়ানি, আবু আল-কাসিম আত-তানুখি, আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-ফাযারি, হিলাল বিন আল-হাসান বিন ইব্রাহিম বিন হিলাল আস-সাবি, ইব্রাহিম বিন আলী আল-ফারিসি, মুহাম্মদ বিন উমর আল-খাল্লাল, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জারু আল-আসাদি, ইসমাইল বিন হাম্মাদ আল-জাওহারি, আলী বিন আবদুল্লাহ আস-সামসামি, আলী বিন আবদুল্লাহ আদ-দাকিকি আন-নাহবি, সাঈদ বিন আল-হাসান বিন ঈসা আর-রাবঈ, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-মারযুকি এবং আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন জাফর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
النحوي المعروف بالخالع، وعلي بن طلحة بن كردان النحوي، وأبو الحسن محمد بن الحسين بن محمد بن عبد الوارث الفارسي النحوي (ابن أخت أبي علي)، ومحمد بن محمد بن عيسى المعروف بالخيشي، وأبو القاسم زيد بن علي النحوي الفارسي، وعالي بن حسان بن جني
(1).
أما آثاره فهي كثيرة، وقد أجملها الذين ترجموا له فيما يأتي:
1 - أبيات الأعراب.
2 - أبيات المعاني.
3 - الأغفال.
4 - أقسام الأخبار في المعاني.
5 - الأهوازيات.
6 - الإيضاح.
7 - الإيضاح الشعري.
8 - التتبع لكلام أبي علي الجبائي في التفسير.
9 - التذكرة.
10 - الترجمة.
11 - التعليق على كتاب سيبويه.
12 - تفسير قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ}
13 - التكملة.
14 - جواهر الأدب.
15 - الحجة.
16 - شرح أبيات الإِيضاح.
17 - العوامل المائة.
--------------------------------------------
আল-খালি' নামে পরিচিত ব্যাকরণবিদ, আলী বিন তালহা বিন কুরদান আন-নাহবী, আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-ওয়ারিস আল-ফারিসি আন-নাহবী (আবু আলীর ভাগ্নে), মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা যিনি আল-খায়শি নামে পরিচিত, আবুল কাসিম যায়েদ বিন আলী আন-নাহবী আল-ফারিসি এবং আলী বিন হাসান বিন জিন্নি
(১)।
আর তার রচনাবলি অনেক, যারা তার জীবনী লিখেছেন তারা সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন:
১ - আবিয়াতুল আ'রাব।
২ - আবিয়াতুল মাআনি।
৩ - আল-আগফাল।
৪ - আকসামুল আখবার ফিল মাআনি।
৫ - আল-আহওয়াজিয়াত।
৬ - আল-ইজাহ।
৭ - আল-ইজাহ আশ-শি'রি।
৮ - তাফসীরশাস্ত্রে আবু আলী আল-জুব্বায়ীর বক্তব্যের পর্যালোচনা।
৯ - আত-তাযকিরাহ।
১০ - আত-তারজামাহ।
১১ - কিতাবু সিবওয়াইহ-র ওপর টীকা।
১২ - মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীর: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে}
১৩ - আত-তাকমিলাহ।
১৪ - জওয়াহিরুল আদাব।
১৫ - আল-হুজজাহ।
১৬ - শারহু আবিয়াতিল ইজাহ।
১৭ - আল-আওয়ামিল আল-মিয়াহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
18 - مختصر الأعراب.
19 - المسائل البصرية.
20 - المسائل البغدادية.
21 - المسائل الحلبيات.
22 - المسائل الدمشقية.
23 - المسائل الذهبيات.
24 - المسائل الشيرازية.
25 - المسائل العسكرية.
26 - المسائل القصرية.
27 - المسائل الكرمانية.
28 - المسائل المجلسيات.
29 - المسائل المشكلة.
30 - المسائل المصلحة من كتاب ابن السراج.
31 - المسائل المنثورة.
32 - المقصور والممدود.
33 - نقص الهاذور.
34 - الهيتيات.
ووجدت إشارات لكتب أخرى لأبي علي في تراجم غيره من النحاة أو في الفهارس، ومن ذلك:
1 - ذكر في مقدمة معجم الأدباء، أن لياقوت كتابًا اسمه "مجموع كلام أبي علي الفارسي"
(1).
--------------------------------------------
১৮ - মুখতাসার আল-আ'রাব।
১৯ - আল-মাসাইল আল-বাসরিয়্যাহ।
২০ - আল-মাসাইল আল-বাগদাদিয়্যাহ।
২১ - আল-মাসাইল আল-হালাবিয়্যাত।
২২ - আল-মাসাইল আদ-দিমাশকিইয়াহ।
২৩ - আল-মাসাইল আজ-জাহাবিয়্যাত।
২৪ - আল-মাসাইল আশ-শিরাজিয়্যাহ।
২৫ - আল-মাসাইল আল-আসকারিয়্যাহ।
২৬ - আল-মাসাইল আল-কাসরিয়্যাহ।
২৭ - আল-মাসাইল আল-কিরমানিয়্যাহ।
২৮ - আল-মাসাইল আল-মাজলিসিয়্যাত।
২৯ - আল-মাসাইল আল-মুশকিলাহ।
৩০ - আল-মাসাইল আল-মুসলাহা মিন কিতাব ইবনুস সাররাজ।
৩১ - আল-মাসাইল আল-মানসুরাহ।
৩২ - আল-মাকসুর ওয়াল মামদুদ।
৩৩ - নাকসুল হাযুর।
৩৪ - আল-হিতিয়্যাত।
অন্যান্য বৈয়াকরণদের জীবনীতে বা গ্রন্থতালিকায় আবু আলীর আরও কিছু গ্রন্থের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মু'জামুল উদাবা-এর ভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়াকুতের একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম "মাজমুউ কালামি আবি আলি আল-ফারিসি"
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - ذكر في مصنفات ابن جني كتاب "القد" وقيل في وصفه وهو: ما استملاه من أبي علي
(1).
3 - ذكر في فهرس مخطوطات الجامعة العربية: "مسألة لأبي علي في الأخبار" أولها الأخبار تنقسم على ثمانية أقسام
(2).
4 - ذكر في مصنفات الرماني كتاب اسمه "شرح الأسماء والصفات لأبي علي
(3) ".
ولم يطبع من آثار أبي علي سوى كتاب الحجة
(4)، وكتاب الإِيضاح
(5).
هذه إلمامة قصيرة بحياة أبي علي الذي كان موضع إعجاب دارسيه وغيرهم ممن عرفوا علمه ومنزلته على مر العصور، وقد وصفه الخطيب البغدادي بقوله: "أبو علي فوق المبرد واعلم منه"
(6). وقال عنه تلميذه أبو طالب العبدي: "ما كان بين سيبويه وأبي علي أفضل منه"
(7)، وكان عضد الدولة يفخر بقوله: "أنا غلام أبي علي في النحو
(8) "، وامتدحه أبو العلاء المعري بقوله:
"أنه رجل يمت بكتابه في (القرآن) المعروف بكتاب الحجة
(9) "،
--------------------------------------------
২ - ইবনে জিন্নির রচনাবলীতে "আল-কাদ" নামক একটি গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে এবং এর বর্ণনায় বলা হয়েছে: এটি তিনি আবু আলীর কাছ থেকে শ্রুতলিখন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন
(১)।
৩ - আরব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে: "সংবাদ বিষয়ে আবু আলীর একটি মাসআলা", যার প্রারম্ভিক অংশ হলো: সংবাদসমূহ আটটি ভাগে বিভক্ত
(২)।
৪ - রুম্মানীর রচনাবলীতে "আবু আলীর নাম ও গুণাবলির ব্যাখ্যা" নামক একটি গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে
(৩)।
আবু আলীর রচনাবলির মধ্যে "কিতাবুল হুজ্জাহ"
(৪) এবং "কিতাবুল ঈযাহ"
(৫) ব্যতীত অন্য কিছু মুদ্রিত হয়নি।
এটি আবু আলীর জীবনীর উপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, যিনি যুগে যুগে তাঁর ছাত্র এবং তাঁর জ্ঞান ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত অন্যদের নিকট প্রশংসার পাত্র ছিলেন। খতিব আল-বাগদাদী তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: "আবু আলী আল-মুবররাদের ঊর্ধ্বে এবং তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী"
(৬)। তাঁর ছাত্র আবু তালিব আল-আবদী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "সিবওয়াইহ এবং আবু আলীর মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ ছিল না"
(৭)। আযুদুদ দাওলাহ গর্ব করে বলতেন: "আমি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে আবু আলীর ছাত্র"
(৮)। আবুল আলা আল-মা'আররি তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:
"তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি (কুরআন) বিষয়ক তাঁর 'কিতাবুল হুজ্জাহ' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছেন
(৯)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال عنه دارسهُ الدكتور شلبي: "ويكفيه ما انتهى إليه حكم أبي العلاء، وهو حكم ترضى حكومته
(1) ".
ترجم لأبي علي كثير من الأقدمين والمعاصرين، ومن شاء التوسع في معرفة هذا العالم الكبير فليراجع على سبيل المثال لا الحصر:
1 - أبو علي الفارسي (رسالة دكتوراه) تأليف الدكتور عبد الفتاح شلبي.
2 - إشارة التعيين (مخطوط بدار الكتب) ورقة 13.
3 - الأعلام للزركلي 2/ 193 - 194.
4 - الامتاع والمؤانسة 1/ 131.
5 - إنباه الرواة 1/ 273 - 275.
6 - بغية الوعاة 216 - 217.
7 - تاريخ بروكلمان 1/ 113 - 117.
8 - تاريخ بغداد 7/ 275.
9 - طبقات الزبيدي 130.
10 - طبقات القراء 1/ 206 - 207.
11 - طبقات النحويين لابن قاضي شهبة (مخطوط بدار الكتب) ص 295.
12 - الفهرست لابن النديم 64.
13 - كشف الظنون 1/ 511 - 515.
14 - المزهر 2/ 264.
15 - معجم الأدباء 7/ 232 - 261.
--------------------------------------------
তাঁর সম্পর্কে গবেষক ডক্টর শালবী বলেছেন: "তাঁর জন্য আবু আল-আলার সিদ্ধান্তই যথেষ্ট, আর এটি এমন এক সিদ্ধান্ত যার কর্তৃত্ব সন্তোষজনক
(১) "।
প্রাচীন ও সমসাময়িক অনেক পণ্ডিতই আবু আলীর জীবনী রচনা করেছেন। যারা এই মহান আলেম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা উদাহরণস্বরূপ নিচের উৎসগুলো দেখতে পারেন (তবে এগুলিই সব নয়):
১ - আবু আলী আল-ফারিসি (ডক্টরেট থিসিস), রচনা: ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ শালবী।
২ - ইশারাতুত তা'য়ীন (দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি), পত্র ১৩।
৩ - আল-আ'লাম, যিরিকলী ২/১৯৩ - ১৯৪।
৪ - আল-ইমতায়ু ওয়াল মুয়ানাসাহ ১/১৩১।
৫ - ইনবাহুর রুওয়াত ১/২৭৩ - ২৭৫।
৬ - বুগইয়াতুল উয়াত ২১৬ - ২১৭।
৭ - ব্রোকলম্যানের ইতিহাস ১/১১৩ - ১১৭।
৮ - তারীখে বাগদাদ ৭/২৭৫।
৯ - তাবাকাতুয যুবাইদী ১৩০।
১০ - তাবাকাতুল কুররা ১/২০৬ - ২০৭।
১১ - ইবনে ক্বাযী শুহবাহ রচিত তাবাকাতুন নাহভিয়্যিন (দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি), পৃষ্ঠা ২৯৫।
১২ - ইবনু নাদীমের আল-ফিহরিস্ত ৬৪।
১৩ - কাশফুয যুনুন ১/৫১১ - ৫১৫।
১৪ - আল-মুযহির ২/২৬৪।
১৫ - মু'জামুল উদাবা ৭/২৩২ - ২৬১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২১)
16 - معجم البلدان 6/ 376.
17 - مفتاح السعادة 1/ 171 - 172.
18 - ميزان الاعتدال 1/ 223.
19 - النجوم الزاهرة 4/ 151.
25 - نزهة الألباء 387 - 389.
21 - وفيات الأعيان لابن خلكان 1/ 163 - 164.
১৬ - মুজামুল বুলদান ৬/ ৩৭৬।
১৭ - মিফতাহুস সা’আদাহ ১/ ১৭১ - ১৭২।
১৮ - মিযানুল ইতিদাল ১/ ২২৩।
১৯ - আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ৪/ ১৫১।
২৫ - নুযহাতুল আলিব্বা ৩৮৭ - ৩৮৯।
২১ - ইবনে খাল্লিকান রচিত ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান ১/ ১৬৩ - ১৬৪।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الأولدراسة فِي الكتابتتضمن:
1 - سبب التأليف وتاريخه.
2 - مصادر التكملة:
(أ) البصريون.
(ب) الكوفيون.
(ج) آخرون.
3 - موضوعات الكتاب وأبوابه.
4 - كتب الشروح وشروح الشواهد ومؤلفوها.
প্রথম পরিচ্ছেদগ্রন্থ বিষয়ক গবেষণাযা অন্তর্ভুক্ত করে:
১ - রচনার কারণ ও ইতিহাস।
২ - তাকমিলাহ (পরিশিষ্ট)-এর উৎসসমূহ:
(ক) বসরার ভাষাবিদগণ।
(খ) কুফার ভাষাবিদগণ।
(গ) অন্যান্যরা।
৩ - গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও এর পরিচ্ছেদসমূহ।
৪ - ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, কাব্য-উদ্ধৃতিসমূহের ব্যাখ্যা এবং তাদের রচয়িতাগণ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
1 - سبب التأليف وتاريخهيتطلب الحديث عن كتاب "التكملة" ومحاولة تحديد تأليفه، وأسباب هذا التأليف، بالضرورة الحديث عن كتاب "الإيضاح". فكثيرًا ما عدهما المؤرخون كتابًا واحدًا، أطلقوا عليه كتاب الإيضاح. وإن كَانَ عدد غير قليل منهم ينص على ذكر اسميهما مستقلين، فالقفطي مثلًا قَالَ فِي ترجمة عبد القاهر الجرجاني:
"فمن تصانيفه كتاب المقتصد فِي شرح الإِيضاح، وهو مقتصد من مثله على ما سماه، لم يأت فِي "الإيضاح" بشيء له مقدار، ولَمَّا تبرع فِي "التكملة"، لم يقصر بنسبته إلى ما عهد منه، فلو شاء لأطال"
(1)، وابن كثير يعرف أبا علي بأنه "صاحب المصنفات منها الإِيضاح، والتكملة"
(2)، وذكر صاحب كشف الظنون أن أبا العباس أحمد بن علي الحمصي المتوفى سنة 644 هـ نظم الإِيضاح والتكملة شعرًا
(3)، وكذلك نص على ذكرهما ابن الجزري
(4)، وذكر بروكلمان عندما عدد مواضع نسخ الكتابين شرح الإِيضاح والتكملة لعبد القاهر الجرجاني
(5)، وأفرد العاملي كتاب التكملة مستقلًا
--------------------------------------------
১ - রচনার কারণ ও ইতিহাস"আত-তাকমিলা" গ্রন্থ এবং এর রচনার সময়কাল নির্ধারণের প্রচেষ্টা ও এই রচনার কারণসমূহ সম্পর্কে আলোচনার জন্য অবধারিতভাবে "আল-ঈজাহ" গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন পড়ে। কেননা ঐতিহাসিকগণ প্রায়শই এই দুটিকে একটি গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একে "কিতাবুল ঈজাহ" নামে অভিহিত করেছেন। যদিও তাঁদের মধ্যে অনেকের লেখায় উভয় গ্রন্থের নাম স্বতন্ত্রভাবে এসেছে। যেমন, কিফতী আব্দুল কাদির আল-জুরজানির জীবনীতে বলেছেন:
"তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'আল-মুকতাসিদ ফি শারহিল ঈজাহ' গ্রন্থটি; এটি তাঁর নামকরণ অনুযায়ী একটি পরিমিত গ্রন্থ। তিনি 'আল-ঈজাহ'-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়ে আসেননি, কিন্তু যখন তিনি 'আত-তাকমিলা'-তে মনোনিবেশ করেন, তখন তিনি তাঁর পরিচিত পাণ্ডিত্য প্রদর্শনে কোনো কার্পণ্য করেননি; তিনি চাইলে এটি আরও দীর্ঘ করতে পারতেন"
(১), এবং ইবনে কাসির আবু আলীকে এভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি "সেইসব গ্রন্থের রচয়িতা যার মধ্যে রয়েছে আল-ঈজাহ ও আত-তাকমিলা"
(২), এবং 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আবু আব্বাস আহমদ বিন আলী আল-হিমসি (মৃ. ৬৪৪ হিজরি) 'আল-ঈজাহ' ও 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থদ্বয়কে কাব্যরূপে সংকলন করেছেন
(৩), একইভাবে ইবনুল জাযারিও এ দুটির কথা উল্লেখ করেছেন
(৪), এবং ব্রোকলম্যান যখন আব্দুল কাদির আল-জুরজানির 'শারহুল ঈজাহ' ও 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থ দুটির পাণ্ডুলিপির অবস্থানগুলো বর্ণনা করছিলেন, তখন এগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন
(৫), আর আমিলি 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থটিকে স্বতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فيقول: "من مؤلفات أبي علي التكملة فِي التصريف"
(1). وسوف نرى عند الكلام على أثر التكملة فيما بعده من المصنفات أن ابن الشجري نص على الأخذ من كتاب التكملة، كما نصت بعض النسخ الأصول على اسم التكملة عند ابتدائها
(2).
ووجدت أن جميع النسخ تفصل بين الإِيضاح والتكملة بنهايات تنص على انتهاء الأول وابتداء الثاني، بل أن أبا علي نفسه وضع مقدمة مستقلة لكلا الكتابين.
إن النظرة المتفحصة فِي أبواب الكتابين توضح جليًا أن كلا منهما مستقل فِي موضوعاته عن الآخر استقلالًا بَيَّنَّا، فجميع أبواب الإِيضاح فِي النحو بينما وضعت جميع أبواب التكملة فِي اللغة والصرف. ولم يتعرض أَبُو. علي للنحو إلَّا مرات ضئيلة وبإشارات عارضة من باب الاستدلال على قضايا صرفية
(3).
ويدعم القول عن استقلال الكتابين أن كلا منهما يحمل اسمًا خاصًا به، فلا يكفي أن يكونا لمؤلف واحد أو أهديا لشخص واحد دليلًا على كونهما كتابًا واحدًا. وقد تكلم قبل أبي علي فِي الصرف علماء أمثال سيبويه فِي كتابه، والمبرد فِي المقتضب، وابن السراج فِي الأصول، لكن هؤلاء جميعًا لم يقسموا كتبهم أقسامًا مستقلة يحمل كلّ منها اسمًا خاصًا مختلفًا، أو وضعوا أكثر من مقدمة أو خطبة لهذه الأقسام.
ولعلَّ أبا علي أراد أن يؤلف كتابًا مستقلًا يتعرض فِيهِ لآرائه اللغوية
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "আবু আলীর রচনাবলির মধ্যে 'আত-তাকমিলা ফিত-তাসরিফ' (সরফ শাস্ত্রের পরিশিষ্ট) অন্তর্ভুক্ত"
(১)। পরবর্তী গ্রন্থসমূহে 'আত-তাকমিলা'-এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনার সময় আমরা দেখতে পাব যে, ইবনুল শাজরি 'কিতাবুত তাকমিলা' থেকে তথ্য গ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তেমনিভাবে কিছু মূল পাণ্ডুলিপিও এর শুরুতে 'আত-তাকমিলা' নামটির কথা উল্লেখ করেছে
(২)।
আমি লক্ষ্য করেছি যে, সকল পাণ্ডুলিপিই 'আল-ইজাহ' এবং 'আত-তাকমিলা'-এর মাঝে এমন কিছু সমাপ্তি নির্দেশক বাক্যের মাধ্যমে পার্থক্য করেছে, যা প্রথমটির সমাপ্তি এবং দ্বিতীয়টির সূচনার কথা স্পষ্ট করে। এমনকি আবু আলী নিজেই উভয় গ্রন্থের জন্য পৃথক পৃথক ভূমিকা লিখেছেন।
উভয় গ্রন্থের পরিচ্ছেদগুলোর ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করলে এটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বিষয়বস্তুর দিক থেকে এদের প্রতিটি অপরটি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। কারণ 'আল-ইজাহ'-এর সকল পরিচ্ছেদ নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক, যেখানে 'আত-তাকমিলা'-এর সকল পরিচ্ছেদ ভাষা ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) বিষয়ক। আবু আলী সরফ সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে দলিল প্রদানের খাতিরে প্রাসঙ্গিকভাবে যৎসামান্য ইঙ্গিত দেওয়া ছাড়া নাহুর বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি
(৩)।
উভয় গ্রন্থের স্বতন্ত্র হওয়ার বিষয়টিকে এই যুক্তিটিও জোরালো করে যে, এদের প্রত্যেকের নিজস্ব নাম রয়েছে। কেবল একই লেখকের হওয়া বা একই ব্যক্তিকে উৎসর্গ করা—এ দুটি গ্রন্থকে একটি গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করার জন্য যথেষ্ট দলিল নয়। আবু আলীর পূর্বেও সীবাওয়াইহ তাঁর 'কিতাব'-এ, মুবাররাদ 'আল-মুকতাদাব'-এ এবং ইবনুস সাররাজ 'আল-উসুল'-এ সরফ নিয়ে আলোচনা করেছেন; কিন্তু তাঁদের কেউ তাঁদের গ্রন্থগুলোকে এমন স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত করেননি যার প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন নাম বহন করে, কিংবা এই অংশগুলোর জন্য একাধিক ভূমিকা বা প্রারম্ভিক ভাষণ প্রদান করেননি।
সম্ভবত আবু আলী এমন একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করতে চেয়েছিলেন যেখানে তিনি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক মতামতগুলো তুলে ধরবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والصرفية، ويكمل فِيهِ ما فعله حين عرض لطرح آرائه النحوية فِي كتاب الإِيضاح. وليس هذا الأمر جديدًا بالنسبة لعصر أبي علي فقد تقدمه بأكثر من قرن من الزمان من وضع فِي الصرف كتابًا مستقلًا وهوأَبُو عثمان المازني المتوفى سنة 249 هـ، ولا بد أن يكون بين الرجلين كثير غيرهم فعل ذلك.
لكن أبا علي رغب فِي أن يعيد إِلَى ذهن عضد الدولة فكرة أَنَّهُ سبق أن قدم له فِي النحو كتابًا، لهذا أطلق على الكتاب الصرفي اسم "التكملة" ليتمم به ما بدأه من التأليف لخزانة عضد الدولة امتنانًا لحدب هذا الملك عليه، وعرفانًا بجميله له. وبالفعل فقد أشار فِي كتاب التكملة إِلَى كتاب الإِيضاح
(1)، وأشار أيضًا إِلَى أَنَّهُ سبق أن قدم لخزانة عضد الدولة كتاب المقصور والممدود
(2)، والمعروف أن كتاب الحجة قد قدم لعضد الدولة كذلك
(3).
وسوف يظهر لنا عند الحديث عن زمن التأليف أن الكتابين لم يؤلفا فِي وقت واحد، ولا مدينة واحدة، ويبدو أن وضعهما فِي كتاب واحد هو الإِيضاح قد تم فيما بعد على أيدي طلبة الفارسي نظرًا لكونهما قد ألفًا لحاكم واحد، وارتباط الحديث عنهما بقولين أبداهما عضد الدولة عند قراءة كلّ منهما وسنعرض لمناقشة هذين القولين قريبًا -مِمَّا عزز الاعتقاد بأنهما كتاب واحد يكمل الثاني منهما الأول.
ومهما يكن من أمر، فقد استنسخ الكتابان فِي أغلب الأحيان معًا، وتداولهما النّاس معًا، كما أن ما حفظته لنا مكتبات المخطوطات من نسخهما
--------------------------------------------
এবং রূপতত্ত্ব; আর এতে তিনি সেই কাজ পূর্ণ করেছেন যা তিনি 'আল-ঈযাহ' গ্রন্থে তাঁর ব্যাকরণগত মতামত উপস্থাপনের সময় করেছিলেন। আবু আলীর যুগের জন্য বিষয়টি নতুন কিছু ছিল না; কারণ তাঁর এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে আবু উসমান আল-মাযিনী (মৃত্যু ২৪৯ হি.) রূপতত্ত্বের ওপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। আর এটা নিশ্চিত যে, এই দুই ব্যক্তির মাঝে আরও অনেকেই এমন কাজ করেছেন।
কিন্তু আবু আলী আযুদুদ্দাওলার মনে এই ধারণাটি পুনরায় জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন যে, তিনি ইতিপূর্বে তাঁর নিকট ব্যাকরণ বিষয়ক একটি গ্রন্থ পেশ করেছিলেন। একারণেই তিনি রূপতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থটির নাম রেখেছেন 'আত-তাকমিলা' (পরিশিষ্ট), যাতে এই রাজার অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এবং তাঁর সদাচরণের স্বীকৃতির নিদর্শন হিসেবে আযুদুদ্দাওলার পাঠাগারের জন্য তাঁর শুরু করা সংকলন কর্মটি এর মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। প্রকৃতপক্ষে তিনি 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে 'আল-ঈযাহ' গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন
(১), এবং এটাও উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইতিপূর্বে আযুদুদ্দাওলার পাঠাগারের জন্য 'আল-মাকসুর ওয়াল মামদুদ' গ্রন্থটি পেশ করেছিলেন
(২)। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, 'আল-হুজ্জাহ' গ্রন্থটিও আযুদুদ্দাওলার নিকট পেশ করা হয়েছিল
(৩)।
রচনার সময়কাল নিয়ে আলোচনার সময় আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, গ্রন্থ দুটি একই সময়ে বা একই শহরে রচিত হয়নি। প্রতীয়মান হয় যে, উভয় গ্রন্থকে 'আল-ঈযাহ' নামে একটি গ্রন্থে বিন্যস্ত করার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে আল-ফারিসীর ছাত্রদের হাতে সম্পন্ন হয়েছে; যেহেতু গ্রন্থ দুটি একই শাসকের জন্য রচিত হয়েছিল। তদুপরি, প্রতিটি গ্রন্থ পাঠকালে আযুদুদ্দাওলার ব্যক্ত করা দুটি মন্তব্যের সাথে এদের আলোচনার সংশ্লিষ্টতাও ছিল—আমরা শীঘ্রই এই মন্তব্য দুটি নিয়ে আলোচনার অবতারণা করব—যা এই বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে যে গ্রন্থ দুটি মূলত একটিই বই, যার দ্বিতীয় অংশটি প্রথমটির পরিপূরক।
বিষয়টি যাই হোক না কেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রন্থ দুটি একসাথেই অনুলিপি করা হয়েছে এবং মানুষ সেগুলো একসাথেই আদান-প্রদান করেছে। তদ্রূপ পাণ্ডুলিপি পাঠাগারগুলো এদের যে অনুলিপিগুলো আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أو نسخ شروحهما أو شروح شواهدهما يشمل جميع موضوعات الكتابين، وإن كَانَ هذا الأمر غير مطرد تمامًا
(1).
وأخيرًا فإن النظرة الموضوعية تحتم علينا أن نقرر أَنَّهُ طالما لم نعثر على شروح الذين ذكرت كتب التراجم أو الفهارس أنهم شرحوا الإِيضاح، فإننا لا نستطيع أن نجزم أن هؤلاء قد شرحوا فِي كتبهم هذه الإِيضاح أو التكملة أو كِلَيْهِما. ولكننا سنثبت أسماءهم عند ذكر شراح الكتاب على الرغم من أنْ موضوعنا هو كتاب التكملة، من باب الحكم على ما بين أيدينا من هذه الشروح.
وقد ربط أكثر الذين ترجموا لابي علي بين عضد الدولة وتأليف كلّ من "الإِيضاح" و "التكملة"، وانفرد الزبيدي بالقول: "إن عضد الدولة استقدم أبا علي من حلب إِلَى بغداد ليعلم أبناء أخيه "خسره"
(2).
وذكر هؤلاء المؤرخون أن أبا علي قدم لعضد الدولة كتاب "الإِيضاح"، وهنا تبرز روايتان بينهما اختلاف بيَّن.
الأولى: أن عضد الدولة استحسن الكتاب وكان ضنينًا به ومحبًا للاختصار بقراءته دون أحد، ويذكر أَبُو طالب العبدي - تلميذ الفارسي - أن رجلًا توصل إِلَى كتبه بخطه بحيلة، فأمر عضد الدولة بقطع يده لنفاسة الكتاب فِي نفسه وحلاوته فِي قلبه حَتَّى سئل فِي أمره، فعفا عنه
(3).
الثانية: أن أبا علي عندما صنف كتاب الإِيضاح لعضد الدولة، وأتاه به
--------------------------------------------
অথবা সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা সেগুলোর দলিলের ব্যাখ্যাগুলোর অনুলিপি উভয় কিতাবের সকল বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও এই বিষয়টি সর্বদা একইভাবে ঘটেনি
(১)।
পরিশেষে, বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এটি স্থির করতে বাধ্য করে যে, যতক্ষণ না আমরা সেই ব্যক্তিদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ খুঁজে পাচ্ছি যাদের সম্পর্কে জীবনীগ্রন্থ বা ক্যাটালগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা 'আল-ঈজাহ' এর ব্যাখ্যা করেছেন, ততক্ষণ আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে তারা তাদের এই কিতাবগুলোতে 'আল-ঈজাহ' নাকি 'আত-তাকমিলা' নাকি উভয়টিরই ব্যাখ্যা করেছেন। তবে কিতাবের ব্যাখ্যাকারীদের আলোচনার সময় আমরা তাদের নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করব, যদিও আমাদের মূল বিষয়বস্তু হলো 'আত-তাকমিলা' কিতাবটি; এটি করা হবে আমাদের কাছে বিদ্যমান ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের খাতিরে।
আবু আলীর জীবনীকারদের অধিকাংশই 'আদুদুদ দাওলা' এবং 'আল-ঈজাহ' ও 'আত-তাকমিলা' উভয় গ্রন্থ রচনার মাঝে একটি যোগসূত্র স্থাপন করেছেন। জুবাইদী এককভাবে উল্লেখ করেছেন যে: "আদুদুদ দাওলা তার ভাইয়ের সন্তান 'খুসরাহ' কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আবু আলীকে হালব থেকে বাগদাদে নিয়ে এসেছিলেন"
(২)।
এই ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে আবু আলী আদুদুদ দাওলাকে 'আল-ঈজাহ' কিতাবটি উপহার দিয়েছিলেন এবং এখানে এমন দুটি বর্ণনা পাওয়া যায় যেগুলোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
প্রথমটি হলো: আদুদুদ দাওলা কিতাবটিকে অত্যন্ত পছন্দ করেছিলেন এবং তিনি এটি অন্যের কাছে হস্তান্তরের ব্যাপারে অত্যন্ত কৃপণ ছিলেন; তিনি অন্য কাউকেও এটি পড়তে না দিয়ে একান্তে এর সংক্ষিপ্ত পাঠ পছন্দ করতেন। ফারসীর ছাত্র আবু তালিব আল-আবদী উল্লেখ করেন যে, এক ব্যক্তি কৌশলে লেখকের স্বহস্তে লিখিত কিতাবটি একটি কৌশলের মাধ্যমে হাসিল করেছিল। কিতাবটির উচ্চমূল্য এবং তার হৃদয়ে এর প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে আদুদুদ দাওলা লোকটির হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাপারে সুপারিশ করা হলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন
(৩)।
দ্বিতীয়টি হলো: আবু আলী যখন আদুদুদ দাওলার জন্য 'আল-ঈজাহ' কিতাবটি রচনা করেন এবং তা নিয়ে তার কাছে আসেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قَالَ له: "هذا الذي صنعته يصلح للصبيان"
(1). وزاد بعضهم
(2) أن عضد الدولة استقصره وقال له: "ما زدت على ما أعرف شيئًا وإنَّما يصلح هذا للصبيان"، فمضى أَبُو علي وصنف "التكملة" وحملها إليه، فلَمَّا وقف عليها عضد الدولة قَالَ: "غضب الشيخ وجاء بما لا نفهمه نحن ولا هو"
(3).
ويقف أكثر دارسي أبي علي المعاصرين توسعًا فِي حياته وآثاره وهو الدكتور عبد الفتاح شلبي موقفًا غير واضح تمامًا من هاتين الروايتين، فعلى الرغم من أنْه يميل إِلَى الرواية الأولى، ويرفض الثانية، إلَّا أن حججه فِي رفضها لا تخلو من التعارض فيما بينها. فهوأخذ رواية الزبيدي وبنى عليها حكمًا فقال: "إنه من المحتمل أن يكون الإِيضاح قد ألف لأبناء أخي عضد الدولة، يرجعون إليه ويقرؤون فِيهِ
(4)، وقرر سهولة كتاب "الإِيضاح" وصعوبة "التكملة"، "لأنَّ الإِيضاح كتاب تعليمي وضع للمبتدئين وكتاب التكملة يخالفه فِي ذلك"، ثم قَالَ: "ليس بضائر ولا يغض من قدر لكتاب أَنَّهُ وضع للمتعلمين، فمن قبل وضع كلّ من الجرمي وابن درستويه وابن السراج مختصرات فِي النحو للمتعلمين"
(5)، لكنه مع تسليمه بهذه الحقائق ينفي ويدفع عن عضد الدولة أن يقول ما قاله فِي كتاب الإِيضاح من أنه كتاب يصلح للصبيان كما يدفع بشكل أقوى قول عضد الدولة بعد قراءته التكملة، فيقول الدكتور الفاضل: "بعيد أن يغضب أبو علي من ولي نعمته الذي كَانَ يعد أمره حكمًا وطاعته غنمًا، وإن كَانَ هناك توجيه من عضد الدولة فما على
--------------------------------------------
তিনি তাকে বলেছিলেন: "আপনি যা তৈরি করেছেন তা শিশুদের জন্য উপযুক্ত"
(১)। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আরও উল্লেখ করেছেন যে
(২) আযুদুদ্দৌলা একে অপর্যাপ্ত মনে করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: "আমি যা জানি তার ওপর আপনি নতুন কিছুই যোগ করেননি; এটি কেবল শিশুদের জন্যই উপযুক্ত।" অতঃপর আবু আলী চলে গেলেন এবং "আত-তাকমিলা" রচনা করলেন এবং তা তাঁর কাছে নিয়ে এলেন। যখন আযুদুদ্দৌলা এটি দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "শায়খ রাগান্বিত হয়েছেন এবং এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যা আমরাও বুঝি না আর তিনিও বুঝেন না"
(৩)।
আবু আলীর জীবন ও কর্ম নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করা সমসাময়িক গবেষকদের মধ্যে ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ শালবী এই দুটি বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি অস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছেন। যদিও তিনি প্রথম বর্ণনার দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন এবং দ্বিতীয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও এটি প্রত্যাখ্যান করার পেছনে তাঁর যুক্তিগুলো পারস্পরিক বিরোধমুক্ত নয়। তিনি জুবায়দীর বর্ণনাটি গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "সম্ভবত 'আল-ইজাহ' গ্রন্থটি আযুদুদ্দৌলার ভাইয়ের ছেলেদের জন্য রচিত হয়েছিল, যাতে তারা এর দিকে ফিরে আসতে পারে এবং এটি পড়তে পারে"
(৪)। তিনি 'আল-ইজাহ' গ্রন্থের সহজবোধ্যতা এবং 'আত-তাকমিলা'র কঠিন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, "কেননা আল-ইজাহ হলো একটি শিক্ষামূলক গ্রন্থ যা নবীনদের জন্য লেখা হয়েছে, আর আত-তাকমিলা এর বিপরীত।" অতঃপর তিনি বলেন: "কোনো গ্রন্থ শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত হওয়াটা ক্ষতিকর নয় এবং তা গ্রন্থের মর্যাদাও কমায় না; কারণ এর আগে জারমি, ইবন দুরুস্তাওয়াইহ এবং ইবনুস সাররাজ সকলেই শিক্ষার্থীদের জন্য নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের ওপর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছিলেন"
(৫)। কিন্তু এই তথ্যগুলো স্বীকার করা সত্ত্বেও, তিনি আযুদুদ্দৌলা কর্তৃক 'আল-ইজাহ' সম্পর্কে "এটি শিশুদের জন্য উপযুক্ত" বলাকে অস্বীকার ও খণ্ডন করেন। একইভাবে তিনি 'আত-তাকমিলা' পড়ার পর আযুদুদ্দৌলার করা উক্তিটিকেও জোরালোভাবে খণ্ডন করেন। এই বিজ্ঞ ডক্টর বলেন: "আবু আলী তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবকের ওপর রাগান্বিত হবেন—যাঁর নির্দেশকে তিনি আইন মনে করতেন এবং যাঁর আনুগত্যকে তিনি লাভজনক মনে করতেন—তা অত্যন্ত সুদূরপরাহত। আর যদি আযুদুদ্দৌলার পক্ষ থেকে কোনো দিকনির্দেশনা থেকেও থাকে, তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الشيخ إلَّا أن يصدع بما يؤمر عن رضا وارتياح"
(1).
ثم يقول أيضًا: "بعيد بعد ذلك أن يعترف عضد الدولة بأنه لا يفهم ما يقوله الشيخ، وأبعد من ذلك أن يقول عن أبي علي وهو مؤلف الكتاب: "إنه لم يفهمه هو كذلك".
ومجمل القول فِي هذه الآراء أن الدكتور شلبي لا ينفي أن الإِيضاح قد وضع لأبناء أخي عضد الدولة، وهم صبيان بحاجة إِلَى من يعلمهم بيسر وسهولة لكنه ينفي "أن يكون عضد الدولة قد قَالَ عن الإِيضاح أَنَّهُ كتاب يصلح للصبيان. إن هذا التعارض لا يوصله إِلَى النتيجة التي وصل إليها فِي هذا الأمر وهي قولُه: "والذي أراه - فِي هذه الروايات المتضاربة - أن الرواة قد تزيدوا وأسندوا إِلَى عضد الدولة ما لم يكن منه، ولم يتحدث به"
(2).
ورواية الزبيدي المتقدمة منفردة وسنناقش مدى صحتها، فِي حين أن أكئر التراجم أكدت القول بأن عضد الدولة استقصر الإِيضاح لسهولته واستصعب التكملة وهما أمران أشار لهما الدكتور شلبي أيضًا.
إن أوَّلَ من استوقفته أقوال عضد الدولة فِي "الإِيضاح" و "التكملة" هو أَبُو البركات ابن الأنباريّ وعلق عليها بقوله: "ولو صدر هذا الكلام من بعض أئمة النحويين، لكان كبيرًا فكيف من بعض الملوك؟ " لكنه لم ينف أقوال عضد الدولة فِي الكتابين، ولا يحمل كلامه على الوجه الذي حمله عليه دارس أبي علي المتقدم ذكره.
والذي أريد أن أصل إليه أَنَّهُ ليس من المستبعد أن يقول عضد الدولة ما قاله للبون الشاسع الذي رآه بين كلّ من "الإيضاح" و"التكملة"، وإن
--------------------------------------------
শেখ কেবল সন্তুষ্টি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই যা তাকে আদেশ করা হয় তা প্রকাশ করেন।"
(১).
এরপর তিনি আরও বলেন: "এর পরে এটা সুদূরপরাহত যে, আযুদুদ্দৌলাহ স্বীকার করবেন যে তিনি শেখ যা বলছেন তা বুঝছেন না; আর তার চেয়েও বেশি সুদূরপরাহত হলো বইটির লেখক আবু আলী সম্পর্কে এই কথা বলা যে: 'তিনি নিজেও এটা বোঝেননি'।"
এই মতামতের সারকথা হলো, ডক্টর শালবী অস্বীকার করেন না যে 'আল-ঈযাহ' গ্রন্থটি আযুদুদ্দৌলাহর ভ্রাতুষ্পুত্রদের জন্য রচিত হয়েছিল, যারা ছিল অল্পবয়স্ক বালক এবং তাদের সহজ ও সাবলীলভাবে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে তিনি এটি অস্বীকার করেন যে, "আযুদুদ্দৌলাহ 'আল-ঈযাহ' সম্পর্কে বলেছিলেন যে এটি বালকদের উপযুক্ত একটি বই।" এই বৈপরীত্য তাকে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না যে সিদ্ধান্তে তিনি এই বিষয়ে উপনীত হয়েছেন, যা হলো তার বক্তব্য: "এই পরস্পরবিরোধী বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো— বর্ণনাকারীরা অতিরঞ্জন করেছেন এবং আযুদুদ্দৌলাহর দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ করেছেন যা তার পক্ষ থেকে ঘটেনি এবং তিনি তা বলেননি।"
(২).
যুবাইদীর পূর্বোক্ত বর্ণনাটি একক, এবং আমরা এর বিশুদ্ধতার মাত্রা নিয়ে আলোচনা করব; যেখানে অধিকাংশ জীবনীগ্রন্থে এই উক্তির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আযুদুদ্দৌলাহ 'আল-ঈযাহ'কে এর সহজবোধ্যতার কারণে সংক্ষিপ্ত মনে করতেন এবং 'আত-তাকমিলাহ'কে কঠিন মনে করতেন—এই দুটি বিষয়ের প্রতি ডক্টর শালবীও ইঙ্গিত করেছেন।
আযুদুদ্দৌলাহর 'আল-ঈযাহ' ও 'আত-তাকমিলাহ' বিষয়ক বক্তব্যগুলো প্রথম যার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তিনি হলেন আবুল বারাকাত ইবনুল আম্বারী। তিনি এর ওপর মন্তব্য করে বলেছিলেন: "যদি এই কথাটি কোনো ব্যাকরণবিদ ইমামের পক্ষ থেকে আসত, তবেই তা হতো অনেক বড় বিষয়, তাহলে কোনো রাজার পক্ষ থেকে হলে তা কেমন হবে?" তবে তিনি গ্রন্থদ্বয় সম্পর্কে আযুদুদ্দৌলাহর বক্তব্যকে অস্বীকার করেননি এবং তিনি তার কথাকে সেই অর্থে গ্রহণ করেননি যেভাবে আবু আলীর পূর্বোক্ত গবেষক গ্রহণ করেছেন।
আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই তা হলো, আযুদুদ্দৌলাহ যা বলেছিলেন তা বলা অস্বাভাবিক কিছু নয়; কারণ তিনি 'আল-ঈযাহ' এবং 'আত-তাকমিলাহ'-এর মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান দেখেছিলেন, আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
غضب أبي علي الذي أشار إليه عضد الدولة ليس غضباً منه وإنما هو غضب لمنزلة أبي علي العلمية ولا يغض من قدر عضد الدولة بأية حال، كما لا يستوجب نفوراً بين هذا العالم الكبير وهذا الملك المتعلم الذي يصف نفسه بأنه غلام لأبي علي في النحو، وعن فكرة استبعاد أن يكون عضد الدولة قد وصف أبا علي بأنه لم يفهم كتابه هو، بسبب كونه مؤلف الكتاب، فنحن لا نناقشها لأن فهم الشيخ لكتابه تحصيل حاصل.
وأرى أن عضد الدولة عبر أبلغ تعبير عن الجهد الذي يبذله المرء في قراءة "التكملة"، وعن العجز الذي يعانيه في محاولة تتبع تلك الأحكام والأفكار الموجزة والشاملة للمسائل اللغوية والصرفية التي اشتمل عليها هذا الكتاب الفريد، وقد أقر الدكتور شلبي هذه الصعوبة وقدم لها أربعة أسباب ذكرها في كتابه
(1).
ولنتجاوز هذا الأمر إلى أمر يتعلق به، وهو كيف تم الاتصال بين عضد الدولة وأبي علي الذي كان تأليف "الإِيضاح" ثم "التكملة" بعد ذلك من نتائجه؟ ومتى كان ذلك؟ لعلنا نحدد وقت تأليفهما، ولو بشكل استنتاجي حسب. إن الوصول إلى أجوبة للأسئلة المتقدمة يثير أسئلة أخرى وهي:
1 - هل سبق لأبي علي الاتصال بعضد الدولة قبل سفر الشيخ إلى حلب؟
2 - هل استقدم عضد الدولة حقاً أبا علي إلى بغداد أم أنه هو الذي رجع إليها بعد أَن لم يلق الحظوة التى سعى إليها في بلاط سيف الدولة؟
3 - هل كان السبب في استقدام أبي علي - لو حصل مثل هذا الاستقدام - من أجل أن يعلم أبناء "خسره" أخي عضد الدولة؟
--------------------------------------------
আদুদুদ্দৌলা আবু আলীর যে রাগের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল না; বরং তা ছিল আবু আলীর ইলমি মর্যাদাবোধের বহিঃপ্রকাশ। এটি কোনোভাবেই আদুদুদ্দৌলার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না, তেমনিভাবে এই মহান আলেম এবং এই শিক্ষিত বাদশাহর মধ্যে কোনো বিরাগেরও সৃষ্টি করে না, যিনি নাহু শাস্ত্রে নিজেকে আবু আলীর গোলাম হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর আদুদুদ্দৌলা আবু আলী সম্পর্কে এ কথা বলেছেন যে, তিনি নিজের কিতাবই বোঝেননি—যেহেতু তিনি নিজেই কিতাবটির লেখক, তাই এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করব না; কারণ শাইখের নিজের কিতাব বোঝা তো একটি স্বত:সিদ্ধ বিষয়।
আমি মনে করি যে, 'আত-তাকমিলা' পাঠ করার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে যে শ্রম ব্যয় করতে হয় এবং এই অনন্য কিতাবটিতে অন্তর্ভুক্ত ভাষাগত ও রূপতাত্ত্বিক মাসআলাগুলোর সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক বিধিবিধান ও চিন্তাগুলো অনুসরণ করার প্রচেষ্টায় যে অক্ষমতার সম্মুখীন হতে হয়, আদুদুদ্দৌলা সে সম্পর্কে অত্যন্ত সাবলীল অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। ডক্টর শালবীও এই কাঠিন্যের কথা স্বীকার করেছেন এবং এর জন্য চারটি কারণ দর্শিয়েছেন যা তিনি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন
(১)।
এবার এই বিষয়টি অতিক্রম করে আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি বিষয়ে আসি, আর তা হলো—কীভাবে আদুদুদ্দৌলা ও আবু আলীর মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে প্রথমে 'আল-ঈযাহ' এবং পরবর্তীতে 'আত-তাকমিলা' রচিত হয়েছিল? এবং তা কখন ছিল? সম্ভবত আমরা এগুলোর রচনার সময় নির্ধারণ করতে পারব, যদিও তা কেবল অনুমাননির্ভর হয়। পূর্বোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরও কিছু প্রশ্ন উঁকি দেয়, সেগুলো হলো:
১ - শাইখের হালবে সফরের আগে কি আদুদুদ্দৌলার সাথে আবু আলীর যোগাযোগ হয়েছিল?
২ - আদুদুদ্দৌলা কি সত্যিই আবু আলীকে বাগদাদে তলব করেছিলেন, নাকি তিনি নিজেই সেখানে ফিরে এসেছিলেন যখন তিনি সাইফুদ্দৌলার দরবারে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা লাভ করতে পারেননি?
৩ - আবু আলীকে তলব করার কারণ কি—যদি সত্যিই এ জাতীয় কিছু ঘটে থাকে—আদুদুদ্দৌলার ভাই 'খুসরাহ'-এর সন্তানদের শিক্ষা দান করা ছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أما عن السؤال الأول فقد أكد ابن الجزري اتصالهما قبل سفر أبي علي إلى حلب إذ قال: "إنه - أي أبا علي - صحب عضد الدولة، فعظمه كثيرًا، ثم لحق بسيف الدولة"
(1). لكن الدكتور شلبي نفى هذه الرواية واستبعدها مستدلًا بنصوص لابن جني في الخصائص والمحتسب يؤكد فيها التقاء ابن جني بالفارسي في الموصل سنة 341 هـ
(2)، وأرى أنه ليس هناك ما يمنع أَن يكون الفارسي قد عرف عضد الدولة قبل أَن يمر بمدن العراق وآخرها الموصل التي التقى فيها بابن جني، ثم ذهبا معاً إلى حلب. إن معجم زامبارو
(3) يبين الفترة التي حكم فيها عضد الدولة وهي بين 338 - 372 هـ منها الفترة التي حكم شيراز تحت وصاية أبيه ركن الدولة وتقع بين 338 - 367 هـ وفي سنة 367 هـ دخل بغداد منتصراً على ابن عمة عز الدولة بختيار بن عز الدولة، فليس من المستبعد إذاً أَن يكون أبو علي على صلة بعضد الدولة في شيراز قبل أَن يتوجه إلى حلب التي أخفق في التقرب فيها من سيف الدولة حيث وجد أَن ابن خالويه قد سد عليه هذا الطريق، كما قدمنا عند الحديث عن حياته فرجع إلى بغداد، ثم إلى شيراز ليتصل من جديد بعضد الدولة.
وعن السؤال الثاني فالقول فيه أنه سواء استقدم عضد الدولة أبا علي أم أَن الشيخ عزف عن البقاء في الشام، فهو قد وجد أن من الأوفق له أن يلحق بعضد الدولة لا سيما أنه على صلة به قبل ذلك.
وعن السؤال الثالث، فلقد انفرد الزبيدي بالقول: إن استقدام أَبي علي كان لتعليم أبناء "خسره" أخي عضد الدولة وتابعه في ذلك الدكتور عبد الفتاح شلبي
(4). غير أن صاحب النجوم الزاهرة
(5) لم يذكر لنا أخًا لعضد الدولة
--------------------------------------------
প্রথম প্রশ্নের ক্ষেত্রে, ইবনুল জাযারি আবু আলীর আলেপ্পো সফরের পূর্বেই তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন: "তিনি—অর্থাৎ আবু আলী—আদুদুদ দাওলার সাহচর্যে ছিলেন এবং তিনি তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন, অতঃপর তিনি সাইফুদ্দাওলার সাথে যুক্ত হন"
(১)। তবে ডক্টর শালবি এই বর্ণনাটি অস্বীকার ও বর্জন করেছেন। তিনি 'আল-খাসাইস' ও 'আল-মুহতাসিব' গ্রন্থে ইবনু জিন্নি-র উদ্ধৃতি দিয়ে এর প্রমাণ দিয়েছেন, যেখানে ৩৪১ হিজরিতে মসুলে ইবনু জিন্নি ও আল-ফারিসীর সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে
(২)। আমি মনে করি, ইরাকের বিভিন্ন শহর এবং সর্বশেষ মসুলে ইবনু জিন্নি-র সাথে সাক্ষাতের পূর্বেই আল-ফারিসীর পক্ষে আদুদুদ দাওলার সাথে পরিচিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়; এরপর তাঁরা উভয়ে একসাথে আলেপ্পো গমন করেন। 'জাম্বাউর' অভিধান
(৩) আদুদুদ দাওলার শাসনকাল ৩৩৮-৩৭২ হিজরি হিসেবে উল্লেখ করেছে; যার মধ্যে ৩৩৮-৩৬৭ হিজরি পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতা রুকনুদ্দাওলার অভিভাবকত্বে শিরাজ শাসন করেছিলেন। অতঃপর ৩৬৭ হিজরিতে তিনি তাঁর ফুফাতো ভাই ইজ্জুদ্দাওলা বখতিয়ার বিন ইজ্জুদ্দাওলার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাগদাদে প্রবেশ করেন। সুতরাং এটি অসম্ভব নয় যে, আবু আলী আলেপ্পোতে যাওয়ার পূর্বেই শিরাজ শহরে আদুদুদ দাওলার সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন। তবে আলেপ্পোতে গিয়ে তিনি সাইফুদ্দাওলার নৈকট্য লাভে ব্যর্থ হন, কারণ ইবনু খালুয়াইহ তাঁর সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন—যেমনটি আমরা তাঁর জীবনী আলোচনার সময় উল্লেখ করেছি—ফলে তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং পুনরায় আদুদুদ দাওলার সাথে সাক্ষাতের জন্য শিরাজে গমন করেন।
দ্বিতীয় প্রশ্নের ব্যাপারে কথা হলো—আদুদুদ দাওলা আবু আলীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন কি না, অথবা শায়খ নিজেই সিরিয়ায় অবস্থান করতে অনাগ্রহী ছিলেন কি না—তা যাই হোক না কেন, তিনি আদুদুদ দাওলার সাথে যুক্ত হওয়াকেই নিজের জন্য অধিক উপযোগী মনে করেছিলেন; বিশেষ করে ইতিপূর্বেই তাঁর সাথে আল-ফারিসীর সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।
তৃতীয় প্রশ্নের বিষয়ে আয-যুবাইদী এককভাবে দাবি করেছেন যে, আবু আলীকে মূলত আদুদুদ দাওলার ভাই "খুসরাহ"-র সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল এবং ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ শালবিও তাঁর এই মত সমর্থন করেছেন
(৪)। তবে 'আন-নুজুম আয-যাহিরা'
(৫) গ্রন্থের লেখক আদুদুদ দাওলার কোনো ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
اسمه "خسره" إنما إخوته هم: مؤيد الدولة أَبو منصور بوية، وفخر الدولة أبو الحسن علي، وأخ صغير اسمه أبو العباس جعله أَبوه في كنف عضد الدولة فقد ذكر له ابنا هو مجد الدولة، واسمه أبو طالب رستم. وأرجح أن المقصود بـ "خسره" هو "فنّاخسره" وهو ليس أخاً لعضد الدولة بل الجد البعيد له
(1). وهنالك سؤال يرد بهذا الخصوص لماذا لا يكون عضد الدولة استقدمه لتعليم أبنائه هو وقد ذكر صاحب النجوم الزاهرة أن له ثلاثة أبناء هم: بهاء الدولة، وصمصام الدولة، وشرف الدولة
(2).
أما عن مكان تأليف الإِيضاح فهو مدينة شيراز كما ذكر الدكتور شلبي
(3)، ولكن الاختلاف معه في الزمن الذي حدده لتأليفه إذ قال: أنه ألفه في المدة الواقعة بين 348 - 366 هـ، وعلى الرغم من أنه لم يستطع أن يجزم في أية منها أَلف الكتاب لكنه قال: إنه يميل إلى أن يكون الإِيضاح وتكملته قد ألفا في صدر هذه المدة
(4).
وقد ذكر أمرين يدعمان افتراضه هذا:
أولهما: احتمال تأليفه لأبناء أخي عضد الدولة وقد تبين ألا دليل على هذا، وسهولته ويسره لا يقطعان بذلك لا سيما أن أبا علي أراد أن يأخذ بمأخذ علماء سبقوه في هذا المضمار وهم: ابن درستويه والجرمي وابن السراج، على حد قول الدكتور نفسه.
وثانيهما: أن عضد الدولة أراد أن يفيد بصدر هذه الصلة لا بآخرتها وقد تقدم القول بأن الصلة بينهما قديمة تعود إلى ما قبل سفر أبي علي إلى
--------------------------------------------
তার নাম "খুসরা", তবে তার ভাইয়েরা হলেন: মুআইয়িদ আদ-দাওলা আবু মানসুর বুয়াহ, ফাখর আদ-দাওলা আবুল হাসান আলী এবং এক ছোট ভাই যার নাম আবু আল-আব্বাস, যাকে তার পিতা আদুদ আদ-দাওলার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। তার একজন পুত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যিনি হলেন মাজদ আদ-দাওলা, আর তার নাম আবু তালিব রুস্তম। আমি মনে করি "খুসরা" বলতে "ফান্না খুসরাও"-কে বোঝানো হয়েছে এবং তিনি আদুদ আদ-দাওলার ভাই নন বরং তার দূরবর্তী কোনো পূর্বপুরুষ
(১)। এ বিষয়ে একটি প্রশ্ন আসে যে, কেন এমন হতে পারে না যে আদুদ আদ-দাওলা তাকে তার নিজের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছিলেন? অথচ 'আন-নুজুম আয-যাহিরা'-র লেখক উল্লেখ করেছেন যে তার তিন পুত্র ছিল: বাহাউদ দাওলা, সামসাম আদ-দাওলা এবং শারাফ আদ-দাওলা
(২)।
'আল-ঈজাহ' গ্রন্থটি রচনার স্থান সম্পর্কে ডক্টর শালাবি উল্লেখ করেছেন যে এটি শিরাজ নগরীতে রচিত হয়েছিল
(৩), তবে এর রচনার সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার সাথে দ্বিমত রয়েছে। তিনি বলেছেন যে: এটি ৩৪৮ - ৩৬৬ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয়েছে। যদিও তিনি গ্রন্থটি ঠিক কোন সময়ে রচিত হয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে তিনি বলেছেন যে: তিনি মনে করেন 'আল-ঈজাহ' এবং এর পরিশিষ্ট এই সময়কালের শুরুতেই রচিত হয়েছে
(৪)।
তিনি তার এই অনুমানের সপক্ষে দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন:
প্রথমত: আদুদ আদ-দাওলার ভাইয়ের সন্তানদের জন্য এটি রচনার সম্ভাবনা, তবে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এর কোনো প্রমাণ নেই। বইটির সহজবোধ্যতা ও সাবলীলতা এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ নয়, বিশেষ করে যেহেতু আবু আলী এই অঙ্গনে তার পূর্বসূরি আলেমদের পথ অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন, যারা হলেন: ইবনে দুরুসতাওয়াইহ, আল-জারমি এবং ইবনে আস-সাররাজ—স্বয়ং ডক্টরের কথা অনুযায়ী।
দ্বিতীয়ত: আদুদ আদ-দাওলা এই সম্পর্কের শেষ দিকে নয় বরং শুরুর দিকেই উপকৃত হতে চেয়েছিলেন। পূর্বে বলা হয়েছে যে, তাদের মধ্যকার সম্পর্কটি পুরনো, যা আবু আলীর সফরেরও আগে থেকে শুরু হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حلب كما أكد ابن الجزري، ورغبة الإِفادة من أبى علي لا تلزم بالضرورة أن تكون بتأليف كتاب الإِيضاح بالذات فقد تكون بكتاب أو كتب أخرى، وأبرز دليل على ذلك هو أن أبا علي أشار في كتاب "التكملة" إلى كتاب المقصور والممدود؛ إذ قال في بداية باب المقصور والممدود: "قد كنت كتبت للخزانة أدام الله عمارتها كتاباً مبسوطاً في مقاييس المقصور والممدود وذكرت طرفاً من ذلك في هذا الكتاب ليكون مستقلاً بنفسه"
(1).
وعلى هذا فإني أخالفه في افتراضه أن الإِيضاح قد ألف في صدر الفترة الواقعة بين 348 - 366 هـ وأفترض أمراً آخر هو أن الإِيضاح قد ألف في آخرها لا أولها، يدعم افتراضي هذا أمور ثلاثة ذكرت أولها وهو إشارة أبي علي في كتاب التكملة إلى تاليفه كتاب المقصور والممدود.
والأمر الثاني: أن معظم
(2) الذين أَرخوا لأبي علي وعلاقته بعضد الدولة ذكروا محاورة دارت بينهما لم يستطع فيها أبو علي إقناع عضد الدولة برأيه، فشرحه في الإيضاح بعدئذ.
أَما المحاورة فقد حصلت بين عضد الدولة وأَبي علي في الميدان، وهي أَن عضد الدولة سأل أَبا علي بماذا ينتصب الاسم المستثنى في نحو قام القوم إلا زيداً؟ فأجابه أبو علي: إنه ينتصب بتقدير "استثنى زيداً" فرد عليه عضد الدولة: لم قدرت "أستثني زيداً" فنصبت؟ هلا قدرت "امتنع زيد"؟، فقال له أبو علي: هذا الذي ذكرته جواب ميداني، فإذا رجعت قلت لك الجواب الصحيح.
والجواب الصحيح الذي ألمح إليه أبو علي ذكره في الإِيضاح وهوأنّ المستثنى انتصب بالفعل المتقدم بتقوية إلا.
--------------------------------------------
হালাব, যেমনটি ইবনে আল-জাযারি নিশ্চিত করেছেন; এবং আবু আলীর নিকট থেকে উপকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা যে আবশ্যিকভাবে কেবল 'আল-ইযাহ' গ্রন্থ রচনার মাধ্যমেই হতে হবে এমনটি নয়, বরং তা অন্য কোনো কিতাব বা একাধিক কিতাবের মাধ্যমেও হতে পারে। এর উজ্জ্বলতম প্রমাণ হলো, আবু আলী তার 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে 'আল-মাকসুর ওয়াল মামদুদ' কিতাবটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কেননা তিনি 'আল-মাকসুর ওয়াল মামদুদ' অধ্যায়ের শুরুতে বলেন: "আমি রাজকীয় গ্রন্থাগারের জন্য—আল্লাহ সেটিকে চিরকাল আবাদ রাখুন—মাকসুর ও মামদুদ এর নিয়মাবলির ওপর একটি বিস্তারিত কিতাব লিখেছিলাম এবং এই কিতাবে তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছি যাতে এটি আপন সত্তায় স্বতন্ত্র হতে পারে"
(১)।
এর ওপর ভিত্তি করে আমি তার এই অনুমানের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি যে, 'আল-ইযাহ' গ্রন্থটি ৩৪৮ - ৩৬৬ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ের প্রথম ভাগে রচিত হয়েছে; বরং আমি ভিন্ন একটি অনুমান করছি, আর তা হলো 'আল-ইযাহ' এর শেষ দিকে রচিত হয়েছে, প্রথমে নয়। আমার এই অনুমানকে তিনটি বিষয় সমর্থন করে, যার প্রথমটি আমি উল্লেখ করেছি—আর তা হলো 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে আবু আলীর পক্ষ থেকে তার 'আল-মাকসুর ওয়াল মামদুদ' গ্রন্থটি রচনার প্রতি ইঙ্গিত।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: আবু আলী এবং আদুদ আদ-দাওলার সম্পর্কের ইতিহাস যারা বর্ণনা করেছেন, তাদের অধিকাংশ
(২) একটি সংলাপের কথা উল্লেখ করেছেন যা তাদের উভয়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। সেখানে আবু আলী আদুদ আদ-দাওলাকে নিজের মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করতে পারেননি, ফলে তিনি পরবর্তীতে 'আল-ইযাহ' গ্রন্থে তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আর সংলাপটি আদুদ আদ-দাওলা এবং আবু আলীর মধ্যে ময়দানে সংঘটিত হয়েছিল। সেটি হলো, আদুদ আদ-দাওলা আবু আলীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'ক্বামাল ক্বাওমু ইল্লা যাইদান'-এর মতো বাক্যে মুস্তাসনা (ব্যতিক্রমকৃত) বিশেষ্যটি কীসের মাধ্যমে নসব (যবর) প্রাপ্ত হয়? আবু আলী তাকে উত্তর দিলেন: এটি 'আস্তাসনি যাইদান' (আমি যায়েদকে আলাদা করছি) উজ্জ্ব থাকার কারণে নসব হয়েছে। তখন আদুদ আদ-দাওলা তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন: আপনি কেন 'আস্তাসনি যাইদান' উজ্জ্ব ধরে নসব করলেন? কেন 'ইমতানাআ যাইদুন' (যায়েদ বিরত থাকল) উজ্জ্ব ধরলেন না? তখন আবু আলী তাকে বললেন: আপনি যা বললেন তা হলো ময়দানি (তাৎক্ষণিক) জবাব, আমি যখন ফিরে যাব তখন আপনাকে সঠিক জবাবটি বলব।
আবু আলী যে সঠিক জবাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, তা তিনি 'আল-ইযাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো: মুস্তাসনা শব্দটি 'ইল্লা'-এর শক্তির সাহায্যে পূর্ববর্তী ক্রিয়া (ফেল) দ্বারা নসব প্রাপ্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقد ذكر ياقوت
(1) هذين الأمرين دون أي فاصل بينهما، وفي سياق واحد. وهكذا فعل ابن خلكان الذي نص على أن هذه المحاورة حدثت في ميدان شيراز
(2) مما يدل على أن الإِيضاح ألف في شيراز. فأبو علي ألف كتاب الإيضاح بعد هذه المحاورة التي تؤكد عمق الصلة بين الاثنين بحيث إنهما يتحاوران في الميدان بلا كلفة ويثبت هذا الأمر أنهما قطعا فترة طويلة في علاقتهما وهذا يرجح أن الإيضاح لم يؤلف في أول صلتهما.
الأمر الثالث: افتراض يدعم هذا الذي سقته وحاولت التدليل عليه وهو افتراض يتعلق بموضوع بحثنا - تأليف التكملة - فالأرجح أن التكملة ألفت في بغداد وليس في شيراز وأن تأليفها قد تم بعد أن لحق أبو علي بعضد الدولة في بغداد عندما استقرت له الأمور بها عقب انتصاره في الحرب التي درات بينه وبين ابن عمة عز الدولة بختيار سنة 366 هـ، تلك الحرب التي كان من نتائجها أن قرب الخليفة الطائع عضد الدولة وتزوج من ابنته، وأخذ يلقب بالملك (شاهنشاه).
والدليل على هذا الافتراض مأخوذ من مقدمة كتاب التكملة التي وضعها أبو علي إذ يصف فيها عضد الدولة بالملك العادل فيقول: "الحمد لله رب العالمين الذي جعل حمده فاتحة كتابه، وخاتمة دعوى أوليائه في جنته فقال تعالى: {وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} وصلى الله على محمد آخر النبيين وعلى أنبيائه المرسلين، وعباده الصالحين، وإياه نسأل، وإليه نرغب في إيزاع الشكر، وإلهام الحمد على ما منح الأنام، وشمل الخاص والعام من النعمة بالملك العادل عضد الدولة، أطال الله بقاءه، وأسبغ عليه نعماءه"
(3). فهو يخاطبه هنا بالملك العادل بينما خاطبه في مقدمة الإيضاح
--------------------------------------------
ইয়াকুত
(১) এই বিষয় দুটি কোনো ব্যবধান ছাড়াই একই প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন। ইবনে খাল্লিকানও অনুরূপ করেছেন, যিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই কথোপকথনটি শিরাজের ময়দানে
(২) অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা নির্দেশ করে যে 'আল-ঈজাহ' শিরাজে রচিত হয়েছে। সুতরাং আবু আলী এই কথোপকথনের পর 'আল-ঈজাহ' গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, যা তাঁদের দুইজনের সম্পর্কের গভীরতাকে নিশ্চিত করে; কেননা তাঁরা কোনো লৌকিকতা ছাড়াই ময়দানে কথোপকথন করছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে তাঁদের সম্পর্কের একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছিল এবং এটি এই সম্ভাবনাকে জোরালো করে যে 'আল-ঈজাহ' তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিকে রচিত হয়নি।
তৃতীয় বিষয়: একটি অনুমান যা আমার উপস্থাপিত ও প্রমাণিত বিষয়ের সপক্ষে যায়, আর এই অনুমানটি আমাদের গবেষণার বিষয়—'আত-তাকমিলা' রচনা—এর সাথে সংশ্লিষ্ট। অধিকতর সঠিক মত হলো 'আত-তাকমিলা' বাগদাদে রচিত হয়েছিল, শিরাজে নয়। এর রচনা সম্পন্ন হয়েছিল ৩৬৬ হিজরিতে আদুদুদ্দৌলা এবং তাঁর ফুফাতো ভাই ইজ্জুদ্দৌলা বখতিয়ারের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে জয়ের পর যখন বাগদাদে তাঁর শাসন সুসংহত হয় এবং আবু আলী তাঁর সাথে সেখানে যোগ দেন। এই যুদ্ধের একটি ফলাফল ছিল যে খলিফা আত-তাঈ' আদুদুদ্দৌলাকে তাঁর নিকটবর্তী করেন এবং তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেন, আর আদুদুদ্দৌলা 'মালিক' (শাহেনশাহ) উপাধিতে ভূষিত হন।
এই অনুমানের প্রমাণ আবু আলীর লিখিত 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থের ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি আদুদুদ্দৌলাকে 'ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রশংসাকে তাঁর কিতাবের প্রারম্ভ এবং জান্নাতে তাঁর বন্ধুদের শেষ প্রার্থনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তাদের শেষ প্রার্থনা হলো যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}। সালাত বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ এবং অন্যান্য প্রেরিত নবী ও নেককার বান্দাদের ওপর। আমরা তাঁরই কাছে প্রার্থনা করি এবং তাঁরই সমীপে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের তাওফিক ও প্রশংসা করার অনুপ্রেরণা কামনা করি ঐসব নিআমতের ওপর যা তিনি সৃষ্টিজগতকে দান করেছেন এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ আদুদুদ্দৌলার মাধ্যমে বিশেষ ও সাধারণ সকলকে ধন্য করেছেন। আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ হায়াত দান করুন এবং তাঁর ওপর তাঁর নিআমতসমূহ পূর্ণ করুন"
(৩)। এখানে তিনি তাঁকে 'ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ' বলে সম্বোধন করেছেন, অথচ 'আল-ঈজাহ' এর ভূমিকায় তিনি তাঁকে সম্বোধন করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকমিলাতু লিল-ফারিসি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بالأمير الجليل قال: "فإني جمعت في هذا الكتاب أبواباً من العربية متحرياً جمعها على ما أَمر به الأمير الجليل عضد الدولة"
(1).
ووصف صاحب النجوم الزاهرة عضد الدولة بعد دخوله بغداد فقال: "فبلغ من سعة المملكة والاستيلاء على الممالك ما لم يبلغه أحد من بني بويه، ودالت البلاد والعباد، وهو أول من خوطب بالملك (شاهنشاه) في الإِسلام وأول من خطب له على منابر بغداد بعد الخلفاء، وأول من ضربت الدبادب على باب داره"
(2).
وهذا الوصف يتفق مع ما ورد في مقدمة التكملة (كما أفاض في البلاد عدله، وأوسع العباد فضله، وبث فيهم عرفه وطوله، وقبض عنهم الآراء الجائرة، وكف عنهم الأيدي الغاشمة، حتى ما نجد إلا فقيراً محبوراً أو غنياً موفوراً، فإلى الله نبتهل في امتاعه بما خوله وخول به من هذه النعم، وإبقائه عماداً للدين وجمالاً للدنيا)
(3).
وكل هذا كلام يوجه لملك يجلس في بغداد "يفيض في البلاد عدله" "ويوسع العباد فضله" لا لأمير يجلس في شيراز، وهي مهما يتسع نفوذه فيها ليست إلا جزءاً يتبع بغداد، يضاف إلى ذلك أن الفارسي ذكر أن عضد الدولة لم يخاطب بالملك "شاهنشاه" إلا في آخر أيامه أي بعد وصوله إلى بغداد وقد ذكر هذا صاحب النجوم الزاهرة: "قال أبو علي الفارسي: منذ تلقب - أي عضد الدولة - شاهنشاه تضعضع أمره، وما كفاه ذلك حتى مدح نفسه فقال:
عضد الدولة وابن ركينها
… ملك الأملاك غلّاب القدر
(4)--------------------------------------------
মহান আমীর সম্পর্কে তিনি বলেন: "আমি এই বইটিতে আরবির বিভিন্ন অধ্যায় সংকলন করেছি, মহান আমীর আদুদুদ্দৌলার নির্দেশ অনুযায়ী তা নিখুঁতভাবে একত্রিত করার চেষ্টা করেছি"
(১).
'আন-নুজুমুজ জাহেরা' এর লেখক বাগদাদে প্রবেশের পর আদুদুদ্দৌলার বর্ণনা দিয়ে বলেন: "তিনি সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি এবং রাজ্য জয়ের ক্ষেত্রে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যেখানে বনু বুওয়াইহের আর কেউ পৌঁছাতে পারেনি। দেশ ও জনগণ তাঁর অনুগত হয়েছিল। ইসলামে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁকে 'শাহানশাহ' (রাজাধিরাজ) উপাধিতে সম্বোধন করা হয়েছিল, এবং খলিফাদের পর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর জন্য বাগদাদের মিম্বরগুলোতে খুতবা পাঠ করা হয়েছিল। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর গৃহদ্বারে দামামা বাজানো হয়েছিল"
(২).
এই বর্ণনাটি 'আত-তাকমিলা'র ভূমিকার সাথে সংগতিপূর্ণ (যেভাবে তিনি দেশে তাঁর ইনসাফ ছড়িয়ে দিয়েছেন, জনগণের ওপর তাঁর অনুগ্রহ প্রশস্ত করেছেন, তাদের মধ্যে তাঁর দান ও উদারতা বিস্তৃত করেছেন, তাদের থেকে যালিমদের চিন্তা-ভাবনা প্রতিহত করেছেন এবং তাদের ওপর থেকে অত্যাচারীদের হাত সরিয়ে নিয়েছেন; ফলে এখন আমরা কেবল হয় সুখী দরিদ্র অথবা প্রাচুর্যময় ধনী ব্যক্তিই খুঁজে পাই। তাই আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে এই নেয়ামতসমূহ দ্বারা উপকৃত করেন যা তিনি তাঁকে দান করেছেন, এবং তাঁকে দ্বীনের খুঁটি ও দুনিয়ার সৌন্দর্য হিসেবে টিকিয়ে রাখেন)
(৩).
এই সকল কথা এমন একজন রাজার জন্য প্রযোজ্য যিনি বাগদাদে অবস্থান করেন, যিনি "দেশে তাঁর ইনসাফ ছড়িয়ে দেন" এবং "জনগণের ওপর তাঁর অনুগ্রহ প্রশস্ত করেন"; সিরাজ শহরে অবস্থানরত কোনো আমীরের জন্য নয়। সিরাজে তাঁর প্রভাব যতই থাকুক না কেন, তা বাগদাদের অধীনস্থ একটি অংশ মাত্র। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, আল-ফারসি উল্লেখ করেছেন যে, আদুদুদ্দৌলাকে তাঁর জীবনের শেষভাগের আগে 'শাহানশাহ' উপাধিতে সম্বোধন করা হয়নি, অর্থাৎ বাগদাদে পৌঁছানোর পর। 'আন-নুজুমুজ জাহেরা'র লেখক এটি উল্লেখ করেছেন: "আবু আলী আল-ফারসি বলেন: আদুদুদ্দৌলা যখন থেকে 'শাহানশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন, তখন থেকেই তাঁর প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে। এতেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং নিজের প্রশংসা করে তিনি বলেন:
আদুদুদ্দৌলা এবং রুকনুদ্দৌলার পুত্র
… রাজাধিরাজ, ভাগ্যের বিজয়ী
(৪)--------------------------------------------