(খণ্ড: ১)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: -)
اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم القسم: العقيدة
الكتاب: اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: ناصر عبد الكريم العقل
الناشر: دار عالم الكتب، بيروت، لبنان
الطبعة: السابعة، 1419هـ - 1999م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাহান্নামীদের বিরোধিতা করার জন্য সরল পথের আবশ্যকতা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: জাহান্নামীদের বিরোধিতা করার জন্য সরল পথের আবশ্যকতা
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)
সম্পাদক: নাসের আব্দুল কারীম আল-আকল
প্রকাশক: দার আলামুল কুতুব, বৈরুত, লেবানন
সংস্করণ: সপ্তম, ১৪১৯ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١)
[تقديم بقلم معالي الدكتور الوزير عبد الله بن عبد المحسن التركي]اقتضاء الصراط المستقيم
لمخالفة أصحاب الجحيم
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم بقلم معالي الدكتور
عبد الله بن عبد المحسن التركي
وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد الحمد لله الذي هدانا للإسلام، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، والصلاة والسلام على رسوله النبي الأمي، الذي أرسله بالهدى ودين الحق، ليظهره على الدين كله، وعلى آله وصحابته، ومن سلك سبيلهم إلى يوم الدين. أما بعد:
فإن من أعظم مقاصد الدين وأصوله، تمييز الحق وأهله عن الباطل وأهله، وبيان سبيل الهدى والسنة، والدعوة إليه، وكشف سبل الضلالة والبدعة، والتحذير منها.
وقد اشتملت نصوص القرآن والسنة، على كثير من القواعد والأحكام التي تبين هذا الأصل العظيم والمقصد الجليل.
ومن ذلك، أن قواعد الشرع ونصوصه اقتضت وجوب مخالفة المسلمين للكافرين، في عقائدهم وعباداتهم وأعيادهم وشرائعهم، وأخلاقهم الفاسدة، وكل ما هو من خصائصهم وسماتهم التي جانبوا فيها الحق والفضيلة.
وقد عني سلفنا الصالح- رحمهم الله ببيان هذا الأمر، وكان من أبرز من صنف فيه، شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية المتوفى سنة 728هـ رحمه الله.
[মান্যবর ডক্টর মন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কীর উপস্থাপনা]সিরাত আল-মুস্তাকিমের দাবি
জাহান্নামবাসীদের বিরোধিতার ক্ষেত্রে
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
মান্যবর ডক্টরের উপস্থাপনা
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী
ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ এবং নির্দেশনা মন্ত্রী। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের পথ দেখিয়েছেন, আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা হেদায়েত পেতাম না। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল উম্মী নবীর ওপর, যাকে তিনি হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন যেন তিনি তাকে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:
দ্বীনের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য ও মূলনীতি হলো, সত্য ও সত্যপন্থীদের বাতিল ও বাতিলপন্থীদের থেকে পৃথক করা, এবং হেদায়েত ও সুন্নাহর পথ বর্ণনা করা ও সেদিকে আহ্বান করা, এবং গোমরাহি ও বিদআতের পথগুলো উন্মোচন করা ও সে সম্পর্কে সতর্ক করা।
কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ এমন অনেক নীতি ও বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে যা এই মহান মূলনীতি ও মহান উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো, শরীয়তের মূলনীতি ও ভাষ্যসমূহ মুসলমানদের জন্য কাফেরদের আকিদা, ইবাদত, উৎসব, শরীয়ত, ভ্রষ্ট চরিত্র এবং তাদের সেসব বৈশিষ্ট্য ও চিহ্নসমূহের বিরোধিতা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক করেছে যেগুলোতে তারা সত্য ও সচ্চরিত্র থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
আমাদের সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) এই বিষয়টি বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আর এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রথিতযশা হলেন শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী), আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٢)
وذلك في كثير من مصنفاته، لاسيما كتابه الشهير: "اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم".
وقد عالج هذا الكتاب مسائل كثيرة تهم المسلمين اليوم، كما كان الحال في زمانه. ومن جملة هذه المسائل، بيان أن الأدلة القطعية من الكتاب والسنة والإجماع، توافرت على الأمر بمخالفة غير المسلمين، والنهي عن موافقتهم، وأن في مخالفتهم مصالح ظاهرة، كما أن في موافقتهم مفاسد ظاهرة كذلك، وأن النصوص وآثار السلف بينت أصناف الذين أمرنا بمخالفتهم، ونهينا عن التشبه بهم، كأهل الكتاب والمشركين والمنافقين وأهل الجاهلية، والأعراب الجفاة الذين لم يتفقهوا في الدين، والأعاجم من الفرس والروم، الذين لم يدخلوا الإسلام، ولم يلتزموا شرائعه، وأهل الفسق والفجور والفساد ونحوهم؛ لأن هؤلاء كلهم في سبيل الضلالة والغواية.
وقد فصل شيخ الإسلام- رحمه الله في هذا الكتاب القيم جملة من الأمور التي جاء النهي الشديد عن التشبه بغير المسلمين فيها، وعن متابعتهم في شيء منها، وبخاصة مسألة الأعياد حيث بيّن أن الإسلام شرع للمسلمين عيدين في السنة، هما عيد الفطر وعيد الأضحى فحسب، ونهى أشد النهي عن متابعة الكافرين وأهل البدع في أعيادهم.
وعرض كذلك مسائل أخرى جاءت النصوص الشرعية وآثار السلف الصالح بالنهي عن متابعة غير المسلمين فيها، كالبناء على القبور واتخاذها مساجد، وكالغلو في الصالحين، واتخاذ المشاهد والمزارات، وسائر البدع والمحدثات في الدين، وكالافتتان بالنساء، والتفرق في
এটি তাঁর অনেক রচনার মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম"।
এই গ্রন্থটি এমন অনেক বিষয়ের সমাধান করেছে যা বর্তমান যুগের মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক যেমনটি তাঁর সময়েও ছিল। এই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো এটি স্পষ্ট করা যে, কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা হতে অকাট্য দলীলসমূহ অমুসলিমদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিতে এবং তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করার ব্যাপারে পর্যাপ্তভাবে বিদ্যমান রয়েছে। তাদের বিরোধিতা করার মধ্যে সুস্পষ্ট কল্যাণ রয়েছে, ঠিক তেমনি তাদের অনুসরণের মধ্যে সুস্পষ্ট অকল্যাণও রয়েছে। শরয়ি প্রমাণাদি এবং সালাফদের বর্ণনা অনুযায়ী ঐসব শ্রেণির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে এবং যাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। যেমন: আহলে কিতাব, মুশরিক, মুনাফিক, জাহেলিয়াত যুগের লোক, সে সমস্ত রূঢ় স্বভাবের বেদুঈন যারা দ্বীনের সঠিক বুঝ লাভ করেনি, পারস্য ও রোমের অনারব জাতি যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং ইসলামের বিধানসমূহ মেনে চলেনি এবং পাপাচারী, দুরাচারী ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিগণ; কারণ এরা সবাই পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর পথে রয়েছে।
শাইখুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহ- এই মূল্যবান গ্রন্থে এমন অনেক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন যেগুলোতে অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে এবং কোনো বিষয়েই তাদের অনুকরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের বিষয়টি, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ইসলাম মুসলমানদের জন্য বছরে মাত্র দুটি ঈদ নির্ধারণ করেছে, তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। তিনি কাফির এবং বিদাতীদের উৎসবে তাদের অনুকরণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
তিনি আরও কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছেন যেগুলোতে অমুসলিমদের অনুকরণ করতে শরয়ি দলিল ও সালাফে সালেহীনের বর্ণনা অনুযায়ী নিষেধ করা হয়েছে। যেমন: কবরের উপর ইমারত নির্মাণ করা ও সেগুলোকে মসজিদে পরিণত করা, নেককার লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা, মাজার ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা এবং দ্বীনের মধ্যে অন্যান্য সমস্ত বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, নারীদের দ্বারা প্রলুব্ধ হওয়া এবং অনৈক্যে লিপ্ত হওয়া।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣)
الدين، والعصبيات والتحزبات والشعارات، والطرق والمناهج المحدثة في الدين، المستمدة من أعداء الإسلام والمسلمين، وغير ذلك من المسائل المهمة التي عرضها المؤلف، والتي تعالج الكثير من الأمراض التي ابتليت بها بعض المجتمعات الإسلامية المعاصرة، ويعد منهج شيخ الإسلام في عرض هذه المسائل أنموذجًا لمنهج السلف في العرض والاستدلال والمناقشة والرد.
وبالجملة: فإن هذا الكتاب "اقتضاء الصراط المستقيم" يعد بحق من أجود الكتب التي صنفها السلف في هذا الباب.
لذا فقد حرصت وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد على طبعه ونشره وتوزيعه، مشاركة منها في معالجة مشكلات المسلمين اليوم، وانطلاقًا من رسالتها التي أوجبها الله عليها، ثم ناطتها بها حكومة خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود التي ما فتئت- بحمد الله- تحرص على نشر العلم والدعوة إلى السنة، والإسهام في معالجة أحوال الأمة الإسلامية، وحل مشكلاتها في ضوء العقيدة السليمة، ونهج السلف القويم، وتخليصها من البدع والمحدثات، وجمع كلمتها على الحق والهدى.
نسأل الله أن يحفظ خادم الحرمين الشريفين، وسمو ولي عهده، وسمو النائب الثاني، ويجزيهم خيرًا على جهودهم في سبيل جمع المسلمين على الحق، وهدايتهم إلى صراط الله المستقيم، وأن ينصر بهم دينه، ويعلي كلمته، ويعز بهم السنة وأهلها، ويقمع البدعة وأنصارها.
وإني لأشكر للأخ الفاضل الأستاذ الدكتور ناصر بن عبد الكريم العقل، محقق هذا الكتاب، جهده الذي بذله في خدمته، وحرصه على
দ্বীন, গোঁড়ামি, দলাদলি ও স্লোগান এবং ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুদের থেকে আমদানিকৃত দ্বীনের মাঝে উদ্ভাবিত নতুন পথ ও পদ্ধতি এবং এ জাতীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা লেখক উপস্থাপন করেছেন, যা বর্তমান মুসলিম সমাজের অনেক ব্যাধির প্রতিকার করে। এই বিষয়গুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলামের অনুসৃত পদ্ধতিটি উপস্থাপন, প্রমাণাদি পেশ, আলোচনা ও খণ্ডনের ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের একটি আদর্শ নমুনা হিসেবে বিবেচিত।
সারকথা হলো: ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম’ নামক এই গ্রন্থটি প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ে সালাফদের রচিত সর্বোত্তম কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
এ কারণেই ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় বর্তমান সময়ের মুসলিমদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত ও খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সরকারের পক্ষ থেকে ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এর মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। এই সরকার—আল্লাহর শুকরিয়া যে—সর্বদা ইলম প্রচার, সুন্নাহর প্রতি দাওয়াত, মুসলিম উম্মাহর অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা, সঠিক আকিদা ও সালাফদের সঠিক মানহাজের আলোকে তাদের সমস্যা সমাধান এবং তাদেরকে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদি থেকে মুক্ত করে সত্য ও হেদায়েতের পথে ঐক্যবদ্ধ করতে সচেষ্ট।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন, যুবরাজ এবং দ্বিতীয় উপ-প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করেন এবং মুসলিমদেরকে সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করার ও তাদেরকে আল্লাহর সরল পথের (সিরাতিল মুস্তাকিম) দিকে হেদায়েত করার প্রচেষ্টার জন্য তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ যেন তাদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন, তাঁর দ্বীনের বাণীকে সমুন্নত করেন, সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের সম্মানিত করেন এবং বিদআত ও বিদআতপন্থীদের দমন করেন।
আমি এই কিতাবের মুহাক্কিক (গবেষক-সম্পাদক) মহৎ ভাই প্রফেসর ডক্টর নাসির বিন আব্দুল কারিম আল-আকলকে তাঁর এই সেবামূলক পরিশ্রম এবং এর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٤)
أن ينتفع الناس به، وإذنه للوزارة في نشره وتوزيعه، سائلًا الله تعالى أن يوفقه إلى مزيد من العلم النافع والعمل الصالح، وأن يثيبه ويجازيه أحسن الجزاء.
كما أسأله سبحانه أن يوفق طلاب العلم، والحريصين على معرفة الحق بدليله من كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وبخاصة من يتصدى لدعوة الناس إلى دين الله المستقيم، للاستفادة من هذا الكتاب القيم، وغيره من مؤلفات العلامة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وجزاه عن الإسلام والمسلمين خيرًا.
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
د. عبد الله بن عبد المحسن التركي
وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
মানুষ যেন এর মাধ্যমে উপকৃত হয় এবং এটি প্রকাশ ও বিতরণের জন্য মন্ত্রণালয়কে তাঁর অনুমতি প্রদানের জন্য; মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে আরও উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল করার তাওফীক দান করেন এবং তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও পুরস্কার প্রদান করেন।
তেমনিভাবে আমি মহান পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন ইলম অন্বেষণকারী এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে দলীলসহ সত্য জানার জন্য আগ্রহীদের তাওফীক দান করেন, বিশেষ করে যারা মানুষকে আল্লাহর সরল দ্বীনের পথে দাওয়াত দেওয়ার কাজে নিয়োজিত, যাতে তারা এই মূল্যবান কিতাব এবং আল্লামা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ-এর অন্যান্য রচনা থেকে উপকৃত হতে পারেন। আল্লাহ তাঁকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী
ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রী।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٥)
[مقدمة]مقدمة إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ به من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، القائل في كتابه الكريم: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153] (1) . والقائل: {قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ - قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} [الأنعام: 161 - 163] (2) .
ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله، بلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة ونصح الأمة، وحذرها من التشبه بالكفار، فقال: «لتتبعن سنن من كان قبلكم» (3) وبشَّر ببقاء هذا الدين وبقاء أهل السنة على الحق، فقال: «لا تزال طائفة من أمتي قائمة بأمر الله لا يضرهم من خذلهم أو خالفهم، حتى يأتي أمر الله وهم ظاهرون على الناس» (4) . صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم، ومن اهتدى بهديه واقتفى أثره إلى يوم الدين.
--------------------------------------------
[ভূমিকা]ভূমিকা। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।" [সূরা আল-আনআম: ১৫৩] (১)। এবং তিনি আরও বলেছেন: "বলো, নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দীন এবং ইবরাহীমের আদর্শ, যে ছিল একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বলো, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের রব আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই, আর আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম।" [সূরা আল-আনআম: ১৬১-১৬৩] (২)।
আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। তিনি তাদের কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে।" (৩) আর তিনি এই দীন টিকে থাকা এবং আহলুস সুন্নাহর সত্যের ওপর অটল থাকার সুসংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে, আর তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে।" (৪) আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং তাদের ওপরও যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٦)
وبعد:
فإنه من أوجب الواجبات على العلماء وطلاب العلم، العناية بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، دراسة، وحفظًا، واستنباطًا، وتحليلًا، وتعليمًا، وتطبيقًا، جمعًا بين العلم والعمل؛ لأنهم مؤتمنون على ذلك كله، وقد وضعت فيهم الأمة ثقتها وائتمنتهم على دينها، وقبل ذلك كله وبعده، هم مسؤولون أمام الله تعالى عن هذه الأمانة: أمانة العلم والعمل به، وتبليغه، وحفظه، والدعوة إليه، حتى تتم بهم القدوة والأسوة إلى الخير.
وإن مما ائتمنوا عليه هذا التراث العلمي الثمين، الذي تركه أئمة الإسلام، أسلافنا الأماجد في شتى صنوف العلم، وإن الكثير من هذا التراث لا يزال مخطوطًا، ومكنوزًا في زوايا المكتبات في شتى بقاع العالم، رغم شدة حاجة المسلمين إليه، وإني لأرى أنه من أول واجبات طالب العلم في هذا العصر العناية بهذه الكنوز، وخدمتها، بإخراجها للناس، محققة صافية يانعة، لتكون نبراسًا لكل مسلم في خضم الثقافات الغازية والأفكار الهدامة التي روجها أعداء الإسلام بين المسلمين اليوم.
وإن من أجدر تلك المخطوطات بالعناية، وأجودها وأنفعهما للمسلمين اليوم: كتب شيخ الإسلام أحمد بن تيمية رحمه الله، وإن كانت بحمد الله لقي الكثير منها شيئًا من العناية من المحققين وطلاب العلم، لكن بقي الأكثر يحتاج إلى عناية وإخراج وإعداد وتحقيق ودراسة.
وانطلاقًا من هذا الواجب، وقع اختياري على كتاب من كتب الشيخ وهو:
পরবর্তী কথা:
নিশ্চয়ই আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর সবচেয়ে অপরিহার্য কর্তব্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়া; অধ্যয়ন, মুখস্থকরণ, তত্ত্ব উদ্ঘাটন, বিশ্লেষণ, শিক্ষাদান এবং প্রয়োগের মাধ্যমে জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয় ঘটানো। কারণ তারা এই সবকিছুর জন্য আমানতদার। উম্মাহ তাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং তাদের কাছে নিজেদের দ্বীনকে আমানত হিসেবে সোপর্দ করেছে। এর আগে ও পরে তারা মহান আল্লাহর নিকট এই আমানতের জন্য দায়বদ্ধ: অর্থাৎ ইলম অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করা, তা পৌঁছে দেওয়া, সংরক্ষণ করা এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়া, যাতে তাদের মাধ্যমে কল্যাণের পথপ্রদর্শক ও উত্তম আদর্শের পূর্ণতা ঘটে।
তারা যে বিষয়ের ওপর আমানতদার, তার মধ্যে রয়েছে এই মূল্যবান জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, যা ইসলামের ইমামগণ এবং আমাদের মহান পূর্বসূরিগণ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রেখে গেছেন। যদিও মুসলিমদের এর প্রতি তীব্র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবুও এই ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ এখনো পান্ডুলিপি আকারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাইব্রেরিগুলোর কোণে জমা হয়ে আছে। আমি মনে করি যে, বর্তমান যুগে একজন ইলম অন্বেষণকারীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো এই অমূল্য রত্নভাণ্ডারের যত্ন নেওয়া এবং এগুলোকে সম্পাদিত, পরিচ্ছন্ন ও ফলপ্রসূ রূপে মানুষের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে এর সেবা করা, যাতে আজ মুসলিমদের মাঝে ইসলামের শত্রুদের দ্বারা প্রচারিত আগ্রাসী সংস্কৃতি ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার গোলকধাঁধায় এগুলো প্রতিটি মুসলিমের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে।
আর সেসব পান্ডুলিপির মধ্যে যত্নের জন্য সবচেয়ে যোগ্য এবং বর্তমান সময়ের মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও উপকারী হলো শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর গ্রন্থসমূহ। যদিও আল্লাহর প্রশংসায় এগুলোর অনেকগুলোই গবেষক ও ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে কিছুটা যত্ন পেয়েছে, তবুও অধিকাংশ কিতাবই এখনো যত্ন, প্রকাশ, প্রস্তুতি, সম্পাদনা ও গবেষণার দাবি রাখে।
এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি শাইখের গ্রন্থাবলীর মধ্য থেকে একটি গ্রন্থ নির্বাচন করেছি, আর তা হলো:
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٧)
"اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم" للعناية به تحقيقًا وتعليقًا، وإخراجه للناس موثقًا قدر الاستطاعة، وذلك في أطروحة الدكتوراه (1) .
هذا مع العلم أن هذا الكتاب سبق أن طُبع عدة طبعات، من أمثلها تلكم التي أخرجها الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله، الذي كان له الجهد المشكور في خدمة كتب شيخ الإسلام ابن تيمية، وكتب الإمام أحمد بن حنبل، وسواهما من السلف.
لكن الكتاب لا يزال بحاجة إلى مزيد من الخدمة: من تحقيق، ودراسة، وتخريج لأحاديثه، وآثاره التي لم تخرَّج، وإلى توثيق لنصوصه، وترجمة لأعلامه.
وهذا لا يعني أن أدَّعي بأني سأقوم بأفضل من عمل الشيخ حامد الفقي رحمه الله، لكني سأشاركه بجهد المقل، وأعتذر سلفًا عن التقصير، وأسال الله العفو والمغفرة.
والله هو وحده المعين والهادي إلى سواء السبيل، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
--------------------------------------------
"ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম" গ্রন্থটি গবেষণামূলক সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের মাধ্যমে যত্ন নেওয়া এবং যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের কাছে পেশ করার জন্য ডক্টরেট থিসিসের (১) বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই বইটি এর আগে বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্করণ হলো শাইখ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকি (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণটি। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্য সালাফদের কিতাবসমূহের খিদমতে তাঁর প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তবে গ্রন্থটি এখনও অধিকতর খিদমতের মুখাপেক্ষী: যেমন এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, বিস্তারিত অধ্যয়ন, এর হাদিস ও আছারসমূহের (যা আগে করা হয়নি) উৎস নির্দেশ, মূল পাঠের প্রামাণিকরণ এবং এতে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী বর্ণনা করা।
এর অর্থ এই নয় যে, আমি শাইখ হামিদ আল-ফিকি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাজের চেয়ে উত্তম কিছু করার দাবি করছি; বরং আমি আমার সামান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে এতে শরিক হচ্ছি। আমি আমার ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য আগাম ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা ভিক্ষা করছি।
আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী এবং সঠিক পথের দিশারি। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٩)
[القسم الأول: الدراسة]القسم الأول ويشمل:
* ترجمة موجزة للمؤلف.
* وصف النسخ المخطوطة.
* الكتاب المحقَّق: اسمه وتاريخ تأليفه.
* منهج تحقيق الكتاب والتعليق عليه.
* دراسة تحليلية لبعض موضوعات الكتاب.
[প্রথম অংশ: গবেষণা]প্রথম অংশ যা যা অন্তর্ভুক্ত করে:
* লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী।
* পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ।
* সম্পাদিত গ্রন্থ: এর নাম এবং রচনার তারিখ।
* গ্রন্থটি সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের পদ্ধতি।
* গ্রন্থের কিছু বিষয়ের বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١١)
[ترجمة موجزة للمؤلف]ترجمة موجزة للمؤلف 1 - نسبه: هو شيخ الإسلام الإمام: أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن محمد بن الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله بن تيمية، الحراني، ثم الدمشقي. كنيته: أبو العباس.
2 - مولده ونشأته: وُلد يوم الاثنين العاشر من ربيع الأول بحران سنة (661هـ) ، ولما بلغ من العمر سبع سنين انتقل مع والده إلى دمشق هربًا من وجه الغزاة التتار، وقد نشأ في بيت علم وفقه ودين، فأبوه وأجداده وإخوته وكثير من أعمامه كانوا من العلماء المشاهير، منهم جده الأعلى (الرابع) محمد بن الخضر، ومنهم عبد الحليم بن محمد بن تيمية، وعبد الغني بن محمد بن تيمية، وجده الأدنى عبد السلام بن عبد الله بن تيمية مجد الدين أبو البركات صاحب التصانيف التي منها: المنتقى من أحاديث الأحكام، والمحرر في الفقه، والمسودة في الأصول وغيرها، وكذلك أبوه عبد الحليم بن عبد السلام الحراني، وأخوه عبد الرحمن وغيرهم.
ففي هذه البيئة العلمية الصالحة كانت نشأة صاحب الترجمة، وقد بدأ بطلب العلم أولًا على أبيه وعلماء دمشق، فحفظ القرآن وهو صغير، ودرس
[লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী]লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী ১ - তাঁর বংশপরিচয়: তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম ইমাম: আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খিদর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খিদর বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন তাইমিয়াহ, আল-হাররানী, অতঃপর আদ-দিমাশকী। তাঁর উপনাম: আবুল আব্বাস।
২ - তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা: তিনি ৬৬১ হিজরীর ১০ই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররানে জন্মগ্রহণ করেন। যখন তাঁর বয়স সাত বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি তাতার আক্রমণকারীদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাঁর পিতার সাথে দামেস্কে স্থানান্তরিত হন। তিনি একটি জ্ঞান, ফিকহ এবং দ্বীনদার পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা, পিতামহগণ, ভাইগণ এবং তাঁর অনেক চাচা প্রখ্যাত আলেম ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহ (চতুর্থ) মুহাম্মাদ বিন আল-খিদর, এবং আব্দুল হালীম বিন মুহাম্মাদ বিন তাইমিয়াহ, আব্দুল গনি বিন মুহাম্মাদ বিন তাইমিয়াহ। তাঁর নিকটতম পিতামহ হলেন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন তাইমিয়াহ মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত, যিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা; যার মধ্যে রয়েছে: আল-মুন্তাকা মিন আহাদিসিল আহকাম, আল-মুহাররার ফিল ফিকহ, আল-মুসাওয়াদাহ ফিল উসুল এবং অন্যান্য। তদ্রূপ তাঁর পিতা আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম আল-হাররানী, তাঁর ভাই আব্দুর রহমান এবং অন্যান্যরা। এই নেককার ও জ্ঞানদীপ্ত পরিবেশে এ জীবনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেড়ে ওঠা। তিনি প্রথমত তাঁর পিতা এবং দামেস্কের আলেমদের নিকট জ্ঞান অর্জন শুরু করেন। তিনি ছোটবেলাতেই কুরআন মুখস্থ করেন এবং পড়াশোনা করেন...
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
الحديث والفقه والأصول والتفسير، وعُرف بالذكاء وقوة الحفظ والنجابة منذ صغره، ثم توسع في دراسة العلوم وتبحر فيها، واجتمعت فيه صفات المجتهد منذ شبابه، فلم يلبث أن صار إمامًا يعترف له الجهابذة بالعلم والفضل والإمامة، قبل بلوغ الثلاثين من عمره.
3 - إنتاجه العلمي: وفي مجال التأليف والإنتاج العلمي، فقد ترك الشيخ للأمة تراثًا ضخمًا ثمينًا، لا يزال العلماء والباحثون ينهلون منه معينًا صافيًا، توفرت منه الآن المجلدات الكثيرة، من المؤلفات والرسائل والفتاوى والمسائل وغيرها، هذا من المطبوع، وما بقي مجهولًا أو مكنوزًا في عالم المخطوطات كثير.
ولم يترك الشيخ مجالًا من مجالات العلم والمعرفة التي تنفع الأمة، وتخدم الإسلام، إلا كتب فيه وأسهم بجدارة وإتقان، وتلك خصلة قلما توجد إلا عند العباقرة النوادر في التاريخ.
فلقد شهد له أقرانه وأساتذته وتلاميذه وخصومه بسعة الاطلاع، وغزارة العلم، فإذا تكلم في علم من العلوم أو فن من الفنون ظن السامع أنه لا يتقن غيره، وذلك لإحكامه له وتبحره فيه، وإن المطلع على مؤلفاته وإنتاجه، والعارف بما كان يعمله في حياته من الجهاد باليد واللسان، والذب عن الدين، والعبادة والذكر، ليعجب كل العجب من بركة وقته، وقوة تحمله وجلده، فسبحان من منحه تلك المواهب.
4 - جهاده ودفاعه عن الإسلام: الكثير من الناس يجهل الجوانب العملية من حياة الشيخ، فإنهم عرفوه عالمًا ومؤلفًا ومفتيًا، من خلال مؤلفاته المنتشرة، مع أن له مواقف مشهودة في مجالات أخرى عديدة أسهم فيها إسهامًا قويًّا في نصرة الإسلام وعزة
হাদিস, ফিকহ, উসুল এবং তাফসির; তিনি শৈশব থেকেই বুদ্ধিমত্তা, মুখস্থ শক্তি এবং শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় ব্যাপক পড়াশোনা ও গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। যৌবনকাল থেকেই তাঁর মধ্যে মুজতাহিদের গুণাবলি একত্রিত হয়েছিল। অনতিবিলম্বে তিনি এমন এক ইমামে পরিণত হন, যাঁর জ্ঞান, মর্যাদা ও ইমামতকে বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ তাঁর ত্রিশ বছর বয়সের পূর্বেই স্বীকার করে নেন।
৩ - তাঁর ইলমি অবদান: গ্রন্থনা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানের ক্ষেত্রে শাইখ উম্মাহর জন্য এক বিশাল ও মূল্যবান ঐতিহ্য রেখে গেছেন, যা থেকে আলেম ও গবেষকগণ আজও এক স্বচ্ছ ঝরনার ন্যায় জ্ঞান আহরণ করছেন। বর্তমানে তাঁর গ্রন্থাবলি, রিসালাহ, ফতোয়া, মাসায়েল ইত্যাদি বহু খণ্ডে লভ্য রয়েছে; আর এটি তো কেবল মুদ্রিত অংশের অবস্থা, যা আজও পাণ্ডুলিপি আকারে অজ্ঞাত বা সংরক্ষিত রয়ে গেছে তার পরিমাণও অনেক।
শাইখ উম্মাহর কল্যাণকর এবং ইসলামের খিদমত হয় এমন ইলম ও মারেফাতের কোনো ক্ষেত্রই বাকি রাখেননি যেখানে তিনি দক্ষতা ও নিপুণতার সাথে অবদান রাখেননি এবং কিছু লিখেননি। আর এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা ইতিহাসের বিরল প্রতিভাধর ব্যক্তিদের মধ্যেই কেবল দেখা যায়।
তাঁর সমসাময়িকগণ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ এমনকি তাঁর প্রতিপক্ষরাও তাঁর অধ্যয়নের ব্যাপকতা এবং ইলমের গভীরতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি যখন কোনো ইলম বা কোনো শিল্প নিয়ে কথা বলতেন, শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি এটি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পারদর্শী নন; এর কারণ ছিল সেই বিষয়ে তাঁর দৃঢ়তা ও গভীর বুৎপত্তি। যে ব্যক্তি তাঁর গ্রন্থাবলি ও ইলমি কাজগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁর জীবনে হাত ও জিহ্বা দ্বারা জিহাদ, দ্বীনের প্রতিরক্ষা, ইবাদত ও জিকিরের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানেন, তিনি তাঁর সময়ের বরকত এবং সহনশীলতা ও ধৈর্যের শক্তি দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাবেন। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁকে এই প্রতিভাগুলো দান করেছেন।
৪ - তাঁর জিহাদ ও ইসলামের প্রতিরক্ষা: অনেক মানুষ শাইখের জীবনের ব্যবহারিক বা কর্মময় দিকগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ। তারা কেবল তাঁর ছড়িয়ে থাকা গ্রন্থাবলির মাধ্যমে তাঁকে একজন আলেম, লেখক ও মুফতি হিসেবেই চেনে। অথচ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেও তাঁর এমন কিছু অবিস্মরণীয় অবস্থান রয়েছে, যেখানে তিনি ইসলামের বিজয় ও মর্যাদার জন্য শক্তিশালী অবদান রেখেছেন।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
المسلمين، فمن ذلك: جهاده بالسيف وتحريضه المسلمين على القتال، بالقول والعمل، فقد كان يجول بسيفه في ساحات الوغى مع أعظم الفرسان الشجعان، والذين شاهدوه في القتال أثناء فتح عكا عجبوا من شجاعته وفتكه بالعدو (1) .
أما جهاده بالقلم واللسان، فإنه رحمه الله وقف أمام أعداء الإسلام من أصحاب الملل والنحل والفرق والمذاهب الباطلة والبدع كالطود الشامخ، بالمناظرات حينًا وبالردود أحيانًا، حتى فند شبهاتهم ورد الكثير من كيدهم بحمد الله، فقد تصدى للفلاسفة، والباطنية، من صوفية وإسماعيلية ونصيرية وسواهم، كما تصدى للروافض والملاحدة، وفند شبهات أهل البدع التي تقام حول المشاهد والقبور ونحوها، كما تصدى للجهمية والمعتزلة وناقش المتكلمين والأشاعرة.
والمطلع على هذا الجانب من حياة الشيخ يكاد يجزم بأنه لم يبق له من وقته فضلة، فقد حورب وطورد وأُوذي وسُجن مرات في سبيل الله، وقد وافته منيته مسجونًا في سجن القلعة بدمشق.
ولا تزال بحمد الله ردود الشيخ سلاحًا فعَّالًا ضد أعداء الحق والمبطلين، لأنها إنما تستند إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، وهدي السلف الصالح، مع قوة الاستنباط، وقوة الاستدلال والاحتجاج الشرعي والعقلي، وسعة العلم، التي وهبها الله له.
وأكثر المذاهب الهدامة التي راجت اليوم بين المسلمين هي امتداد لتلك الفرق والمذاهب التي تصدى لها الشيخ وأمثاله من سلفنا الصالح، لذلك ينبغي للدعاة المصلحين أن لا يغفلوا هذه الناحية، ليستفيدوا مما سبقهم به سلفنا الصالح.
--------------------------------------------
মুসলিমদের জন্য, এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তলোয়ারের মাধ্যমে তাঁর জিহাদ এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মুসলিমদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করা। তিনি রণাঙ্গনে শ্রেষ্ঠ সাহসী বীরদের সাথে নিজ তলোয়ার নিয়ে বিচরণ করতেন। এক্কা (Acre) বিজয়ের সময় যারা তাঁকে যুদ্ধ করতে দেখেছিলেন, তাঁরা তাঁর সাহসিকতা এবং শত্রুর ওপর তাঁর প্রচণ্ড আক্রমণ দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন (১)।
আর কলম ও জিহ্বার মাধ্যমে তাঁর জিহাদের কথা বলতে গেলে, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইসলামের শত্রু—ভ্রান্ত ধর্মাদর্শ, দল-উপদল, বাতিল মাযহাব ও বিদআতিদের সামনে এক সুউচ্চ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। কখনো বিতর্কের মাধ্যমে আবার কখনো খণ্ডনমূলক লেখনীর মাধ্যমে, শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করেছেন এবং আল্লাহর প্রশংসায় তাদের অনেক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছেন। তিনি দার্শনিক এবং বাতেনী—যেমন সুফি, ইসমাইলি, নুসাইরি ও অন্যদের মোকাবিলা করেছেন। তেমনিভাবে তিনি রাফেযী ও নাস্তিকদের প্রতিরোধ করেছেন এবং মাজার ও কবরের চারপাশে প্রচলিত বিদআতিদের সংশয়গুলো খণ্ডন করেছেন। এছাড়া তিনি জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মোকাবিলা করেছেন এবং ইলমুল কালামের পণ্ডিত ও আশআরীদের সাথে বিতর্ক করেছেন।
শাইখের জীবনের এই দিকটি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে, তাঁর সময়ের সামান্য অংশও অবশিষ্ট ছিল না। আল্লাহর পথে তাঁকে যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হয়েছে, বিতাড়িত হতে হয়েছে, কষ্ট সইতে হয়েছে এবং বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। অবশেষে দামেস্কের কেল্লার কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আল্লাহর প্রশংসায় শাইখের খণ্ডনমূলক কাজগুলো আজও সত্যের শত্রু এবং বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে এক কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ এগুলো আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে রচিত। সেই সাথে এতে রয়েছে তীক্ষ্ণ উদ্ভাবনী শক্তি, বলিষ্ঠ শরয়ি ও যৌক্তিক প্রমাণাদি এবং জ্ঞানের বিশাল পরিধি, যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছিলেন।
বর্তমানে মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত অধিকাংশ ধ্বংসাত্মক মতাদর্শ হলো সেই সব দল ও মাযহাবের ধারাবাহিকতা, যেগুলোর মোকাবিলা শাইখ এবং আমাদের পূর্ববর্তী সালাফে সালেহীনরা করেছিলেন। তাই সংশোধনকামী দাঈদের উচিত হবে এই দিকটির প্রতি উদাসীন না হওয়া, যাতে তাঁরা আমাদের সালাফে সালেহীনের রেখে যাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ولست مبالغًا حينما أقول: إنه لا تزال كتب الشيخ وردوده هي أقوى سلاح للتصدي لهذه الفرق الضالة والمذاهب الهدامة التي راجت وبدأت تخرج أعناقها اليوم من جديد، والتي هي امتداد للماضي، لكن منها تلك التي تزينت بأزياء العصر، وغيرّت أسماءها فقط، مثل البعثية، والاشتراكية، والقومية، والقاديانية، والبهائية، وسواها من الفرق والمذاهب، ومنها ما بقي على شعاره القديم كالشيعة، والرافضة، والنصيرية، والإسماعيلية، والخوارج ونحو ذلك.
5 - خصاله: بالإضافة إلى ما اشتهر به هذا الإمام من العلم والفقه في الدين، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، قد وهبه الله خصالًا حميدة، اشتهر بها وشهد له بها الناس، فكان سخيًّا كريمًا يؤثر المحتاجين على نفسه في الطعام واللباس وغيرهما، وكان كثير العبادة والذكر وقراءة القرآن، وكان ورعًا زاهدًا لا يكاد يملك شيئًا من متاع الدنيا سوى الضروريات، وهذا مشهور عنه عند أهل زمانه حتى بين عامة الناس، وكان متواضعًا في هيئته ولباسه ومعاملته مع الآخرين، فما كان يلبس الفاخر ولا الرديء من اللباس، ولا يتكلف لأحد يلقاه، واشتهر أيضًا بالمهابة والقوة في الحق، فكانت له هيبة عظيمة عند السلاطين والعلماء وعامة الناس، فكل من رآه أحبه وهابه واحترمه، إلا من سيطر عليهم الحسد من أصحاب الأهواء ونحوهم.
كما عرف بالصبر وقوة الاحتمال في سبيل الله، وكان ذا فراسة، وكان مستجاب الدعوة، وله كرامات مشهودة. رحمه الله رحمة واسعة، وأسكنه فسيح جناته.
আমি অতিরঞ্জিত করছি না যখন বলি যে: এই পথভ্রষ্ট দল এবং ধ্বংসাত্মক মতবাদগুলো যা একসময় বিস্তার লাভ করেছিল এবং আজ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য শাইখের কিতাবসমূহ এবং তাঁর খণ্ডনগুলো এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। এগুলো মূলত অতীতের ধারাবাহিকতা মাত্র, তবে এগুলোর মধ্যে কিছু মতবাদ বর্তমান যুগের পোশাকে সজ্জিত হয়েছে এবং কেবল নিজেদের নাম পরিবর্তন করেছে, যেমন: বাথবাদ, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, কাদিয়ানি মতবাদ, বাহাউল্লাহ মতবাদ এবং এই জাতীয় অন্যান্য দল ও মতবাদ। আর কিছু দল তাদের পুরনো স্লোগানেই অটল রয়েছে, যেমন: শিয়া, রাফেজি, নুসাইরি, ইসমাইলি, খারেজি এবং এই জাতীয় অন্যান্য দল।
৫ - তাঁর গুণাবলি: এই ইমাম দ্বীনি ইলম ও ফিকহ এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের জন্য যেভাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন, তার পাশাপাশি আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু প্রশংসনীয় গুণ দান করেছিলেন যার জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন এবং মানুষ তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও উদার ছিলেন; খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের ওপর অভাবীদের অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি প্রচুর ইবাদত, জিকির ও কুরআন তেলাওয়াত করতেন। তিনি অত্যন্ত পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ ছিলেন, দুনিয়ার আসবাবপত্রের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় বস্তু ছাড়া তাঁর মালিকানায় প্রায় কিছুই ছিল না। তাঁর সমসাময়িক আলেম ও সাধারণ মানুষ—সকলের কাছেই বিষয়টি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিল। তিনি তাঁর বেশভূষা, পোশাক এবং অন্যের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে বিনয়ী ছিলেন। তিনি অত্যধিক জাঁকজমকপূর্ণ বা একেবারে নিম্নমানের পোশাক পরিধান করতেন না এবং কারো সাথে সাক্ষাতের সময় কোনো প্রকার কৃত্রিমতা অবলম্বন করতেন না। তিনি তাঁর গাম্ভীর্য এবং হকের ওপর অটল থাকার জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। সুলতান, আলেম এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর এক বিশাল ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব ছিল। যে কেউ তাঁকে দেখত, সে-ই তাঁকে ভালোবাসত, শ্রদ্ধা করত এবং সমীহ করত; কেবল তারা ব্যতীত যাদের ওপর হিংসা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ প্রবল হয়েছিল।
তিনি আল্লাহর পথে ধৈর্য ও সহনশীলতার জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। তিনি প্রখর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর দোয়া কবুল হতো। তাঁর বহু কারামত প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে স্থান দান করুন।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
6 - عصره: لقد عاش المؤلف رحمه الله في عصر كثرت فيه البدع والضلالات، وسادت كثير من المذاهب الباطلة، واستفحلت الشبهات، وانتشر الجهل والتعصب والتقليد الأعمى، وغزيت بلاد المسلمين من قبل التتار والصليبيين (الإفرنج) .
ونجد صورة عصره جلية واضحة من خلال مؤلفاته التي بين أيدينا؛ لأنه اهتم بأجلِّ أمور المسلمين وأخطرها، وساهم في علاجها بقلمه ولسانه ويده، فالمتأمل في مؤلفات الشيخ يجد الصورة التالية لعصره:
- كثرة البدع والشركيات خاصة حول القبور والمشاهد والمزارات المزعومة، والاعتقادات الباطلة في الأحياء والموتى، وأنهم ينفعون ويضرون، ويُدعون من دون الله.
- انتشار الفلسفات والإلحاد والجدل.
- هيمنة التصوف والطرق الصوفية الضالة على العامة من الناس، ومن ثم انتشار المذاهب والآراء الباطنية.
- توغل الروافض في أمور المسلمين، ونشرهم للبدع والشركيات، وتثبيطهم للناس عن الجهاد، ومساعدتهم للتتار، أعداء المسلمين.
- وأخيرًا نلاحظ تَقَوِّي أهل السنة والجماعة بالشيخ وحفزه لعزائمهم، مما كان له الأثر الحميد على المسلمين إلى اليوم، في التصدي للبدع والمنكرات، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والنصح لأئمة المسلمين وعامتهم.
وقد وقف الشيخ رحمه الله في عصره إزاء هذه الانحرافات موقفًا مشهودًا، آمرًا وناهيًا، وناصحًا، ومبينًا، حتى أصلح الله على يديه الكثير من أوضاع المسلمين، ونصر به السنة وأهلها، والحمد لله.
৬ - তাঁর যুগ: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এমন এক যুগে বসবাস করেছেন যেখানে বিদআত ও বিভ্রান্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল, বহু বাতিল মতবাদ প্রাধান্য লাভ করেছিল, সংশয় ও সন্দেহ প্রকট হয়ে উঠেছিল এবং অজ্ঞতা, গোঁড়ামি ও অন্ধ তাকলিদ ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতার ও ক্রুসেডারদের (ইউরোপীয় খ্রিস্টান) দ্বারা মুসলিম ভূখণ্ড আক্রান্ত হয়েছিল।
আমাদের হাতে থাকা তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে আমরা তাঁর যুগের এক উজ্জ্বল ও স্পষ্ট চিত্র খুঁজে পাই; কারণ তিনি মুসলিমদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং নিজের কলম, জবান ও হাতের মাধ্যমে সেগুলোর প্রতিকারে অবদান রেখেছেন। শাইখের রচনাবলি পর্যবেক্ষণ করলে তাঁর যুগের নিম্নোক্ত চিত্র ফুটে ওঠে:
- বিদআত ও শিরকের আধিক্য, বিশেষ করে কবর, মাজার ও তথাকথিত জিয়ারতগাহগুলোকে কেন্দ্র করে। এছাড়া জীবিত ও মৃতদের ব্যাপারে ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস পোষণ করা যে, তারা উপকার বা ক্ষতি করতে পারে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের নিকট দুআ করা।
- দর্শন, নাস্তিকতা ও তর্কাচারের বিস্তার।
- সাধারণ মানুষের ওপর তাসাউফ ও বিভ্রান্ত সুফি তরীকাগুলোর আধিপত্য এবং এর ফলে বাতেনি মতবাদ ও মতাদর্শের প্রসার।
- মুসলিমদের বিষয়ে রাফেজিদের অনুপ্রবেশ, তাদের বিদআত ও শিরক প্রচার, মানুষকে জিহাদ থেকে নিরুৎসাহিত করা এবং মুসলিমদের শত্রু তাতারদের সহযোগিতা করা।
- পরিশেষে আমরা লক্ষ করি যে, শাইখের মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত শক্তিশালী হওয়া এবং তাদের সংকল্পকে তিনি উজ্জীবিত করেছিলেন, যার প্রশংসনীয় প্রভাব বিদআত ও অন্যায়ের মোকাবিলা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং মুসলিমদের শাসক ও সাধারণ জনগণের প্রতি কল্যাণকামিতার ক্ষেত্রে আজ অবধি বিদ্যমান।
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর যুগে এই সকল বিচ্যুতির বিরুদ্ধে এক অবিস্মরণীয় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন; তিনি ছিলেন আদেশদাতা, নিষেধকারী, নসিহতকারী এবং সত্যের সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী। অবশেষে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের অনেক অবস্থার সংশোধন করেন এবং তাঁর দ্বারা সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের বিজয় দান করেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
7 - وفاته: إن من علامات الخير للرجل الصالح، وقبوله لدى المسلمين: إحساسهم بفقده حين يموت، لذلك كان السلف يعدون كثرة المصلين على جنازة الرجل من علامات الخير والقبول له، لذلك قال الإمام أحمد: "قولوا لأهل البدع: بيننا وبينكم يوم الجنائز" (1) أي أن أئمة السنة يفقدهم الناس إذا ماتوا ويكونون أكثر مشيعين يوم يموتون، ولقد شهد الواقع بذلك، فما سمع الناس بمثل جنازتي الإمامين: أحمد بن حنبل، وأحمد بن تيمية، حين ماتا، من كثرة من شيعهما وخرج مع جنازة كل منهما، وصلى عليهما، فالمسلمون هم شهداء الله في أرضه.
هذا وقد توفي الشيخ رحمه الله، وهو مسجون بسجن القلعة بدمشق، ليلة الاثنين 20 من شهر ذي القعدة سنة (728هـ) ، فهبَّ كل أهل دمشق ومن حولها للصلاة عليه وتشييع جنازته، وقد أجمعت المصادر التي ذكرت وفاته أنه حضر جنازته جمهور كبير جدًّا يفوق الوصف.
رحمه الله وجزاه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء (2) .
--------------------------------------------
৭ - তাঁর মৃত্যু: একজন নেককার ব্যক্তির জন্য কল্যাণের অন্যতম নিদর্শন এবং মুসলিমদের নিকট তাঁর গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হলো: তাঁর মৃত্যুতে তাদের অভাববোধ করা। একারণে সালাফগণ কোনো ব্যক্তির জানাজায় মুসল্লিদের আধিক্যকে তাঁর জন্য কল্যাণ ও গ্রহণযোগ্যতার আলামত হিসেবে গণ্য করতেন। একারণেই ইমাম আহমাদ বলেছিলেন: "তোমরা বিদআতপন্থীদের বলো: আমাদের এবং তোমাদের মাঝে ফয়সালা হবে জানাজার দিনে।" (১) অর্থাৎ, সুন্নাহর ইমামগণ যখন মারা যান, মানুষ তাঁদের অভাব গভীরভাবে অনুভব করে এবং তাঁদের মৃত্যুর দিনে অনুসারীদের ভিড় হয় সবচেয়ে বেশি। বাস্তব ঘটনাও এর সাক্ষ্য দেয়; কেননা মানুষ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইমাম আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহর জানাজার মতো বিশাল জানাজার কথা আর শোনেনি। যখন তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁদের জানাজায় অংশগ্রহণকারী ও জানাজার সাথে গমনকারীদের আধিক্য ছিল নজিরবিহীন। বস্তুত মুসলিমগণ জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) দামেস্কের দুর্গের কারাগারে বন্দী অবস্থায় ৭২৮ হিজরি সনের ২০শে জিলকদ সোমবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাজা ও দাফনকার্যে অংশগ্রহণের জন্য সমগ্র দামেস্কবাসী ও এর আশপাশের মানুষ দলে দলে ছুটে আসে। তাঁর মৃত্যু সংবাদ উল্লেখকারী সকল উৎস একমত যে, তাঁর জানাজায় এত বিশাল জনসমাগম হয়েছিল যা বর্ণনাতীত।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
[وصف النسخ المخطوطة للكتاب]وصف النسخ المخطوطة للكتاب تم تحقيق هذا الكتاب من خمس نسخ مخطوطة، منها نسختان قديمتان إحداهما كتبت سنة (715هـ) أي قبل وفاة المؤلف بثلاث عشرة سنة، والثانية سنة (781هـ) أي بعد وفاة المؤلف، أما الثلاث النسخ الباقية فهي متأخرة على ما سأبينه إن شاء الله. وقد رمزتُ لكل نسخة برمز، وسميتها برموزها في الهامش وهي: (أ) و (ب) و (ج) و (د) و (ط) ، وأردفتها بالمطبوعة التي أخرجها الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله، وقد لاحظت كثرة الفروق بينها وبين المخطوطات المتوفرة لدي، مما جعلني أرجح بأنها نسخت عن مخطوطة لم ترد إليَّ. وعلى هذا جعلتها بمثابة النسخة السادسة.
1 - النسخة الأولى، ورمزها (أ) : وجدتها ضمن مخطوطات مكتبة (شستربتي) التي ابتاعتها جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وتوجد الآن بمكتبتها المركزية بالرياض، برقم (4160) (1) وهي نسخة قديمة يرجع تاريخها إلى ما قبل وفاة المؤلف بثلاثة عشر عامًا فقد كتبت سنة (715هـ) ، كما هو منصوص في آخرها، وناسخها هو: هلال بن علي بن هلال بن زامل الجعفري، وهي نسخة مقابلة بالأصل كما أشار ناسخها في آخرها.
--------------------------------------------
[গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ]গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ: এই গ্রন্থটি পাঁচটি পাণ্ডুলিপি থেকে তাহকীক করা হয়েছে। যার মধ্যে দুটি হলো প্রাচীন পাণ্ডুলিপি; এর একটি (৭১৫ হিজরি) সনে অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর তেরো বছর আগে লেখা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি (৭৮১ হিজরি) সনে অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর পরে লেখা হয়েছে। আর অবশিষ্ট তিনটি পাণ্ডুলিপি পরবর্তী সময়ের, যা আমি ইনশাআল্লাহ সামনে বর্ণনা করব। আমি প্রতিটি পাণ্ডুলিপির জন্য একটি সংকেত নির্ধারণ করেছি এবং হাশিয়া বা পাদটীকায় সেগুলোকে সংকেত দ্বারা নামকরণ করেছি, আর সেগুলো হলো: (আলিফ), (বা), (জীম), (দাল) এবং (ত্ব)। এর সাথে আমি শায়খ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সম্পাদিত মুদ্রিত সংস্করণটিকেও যুক্ত করেছি। আমি উক্ত মুদ্রিত সংস্করণ এবং আমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রচুর পার্থক্য লক্ষ্য করেছি, যা আমাকে এই প্রবল ধারণার দিকে নিয়ে গেছে যে, এটি এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা আমার হস্তগত হয়নি। এই ভিত্তিতে আমি এটিকে ষষ্ঠ পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি।
১ - প্রথম পাণ্ডুলিপি, যার সংকেত হলো (আলিফ): এটি আমি ‘চেস্টার বিটি’ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পেয়েছি যা ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ক্রয় করেছে। এটি বর্তমানে রিয়াদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ৪১৬০ (১) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি যার ইতিহাস লেখকের মৃত্যুর তেরো বছর পূর্বের; এটি (৭১৫ হিজরি) সনে লিখিত হয়েছে, যেমনটি এর শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর অনুলিপিকার হলেন: হিলাল বিন আলী বিন হিলাল বিন জামিল আল-জা‘ফারি। এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (মুকাবিলা করা) একটি সংস্করণ, যেমনটি অনুলিপিকার এর শেষে ইঙ্গিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وعدد أوراقها (246) ورقة (492) صفحة، في كل صفحة (19) سطرًا من القطع المتوسط.
وخطها متوسط، وتكثر فيها الأغلاط الإملائية، ويوجد فيها سقط أحيانًا، وطمس لكنه قليل.
2 - النسخة الثانية، ورمزها (ط) : صورتها عن نسخة موجودة في المكتبة الظاهرية بدمشق، تحت رقم (2982) عام، ورقم (86) في التوحيد وعلم الكلام. وقد كتبت أيضًا قديمًا (781هـ) أي بعد وفاة المؤلف بثلاث وخمسين سنة فقط، وناسخها محمد بن محمد بن علي بن أحمد بن محمد اليونيني الحنبلي. وعدد أوراقها (208) ورقة، أي (416) صفحة، في كل صفحة (19) سطرًا من القطع المتوسط، وهي نسخة أيضًا مقابلة، وفيها شبه كبير بالنسخة الأولى (أ) مما يرجح أنهما قوبلتا على نسخة واحدة، فهما كثيرًا ما تتفقان في الأخطاء والسقط، إلَّا أن الثانية (ط) أجود من الأولى (أ) في الخط والإملاء، أما ما عدا ذلك فهما تتفقان في الغالب.
3 - النسخة الثالثة، ورمزها (ب) : وقد صورتها من قسم المخطوطات بجامعة الملك سعود بالرياض برقم (27) ، وقد صورتها جامعة الملك سعود عن نسخة موجودة بالمكتبة السعودية التابعة لرئاسة البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، تحت رقم (564 / 86) .
وقد كتبت سنة (1223) ، وناسخها اسمه مصطفى المدعو بالشوراني، وهي نسخة واضحة وجيدة الحفظ، وفيها بعض التعليقات الهامشية، وحرفها صغير، وعدد أوراقها (216) ورقة (432) صفحة من القطع المتوسط في كل صفحة (15) سطرًا.
এবং এর পত্র সংখ্যা (২৪৬)টি পত্র (৪৯২) পৃষ্ঠা, প্রতি পৃষ্ঠায় মাঝারি আকারের (১৯)টি করে লাইন রয়েছে।
এবং এর হস্তাক্ষর মাঝারি মানের, এতে বানান ভুল অনেক বেশি, মাঝে মাঝে শব্দ বা বাক্য বাদ পড়েছে এবং কিছু স্থানে অস্পষ্টতা রয়েছে তবে তা সামান্য।
২ - দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি, এর সংকেত (ত্ব): এটি দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপি, যার সাধারণ নম্বর (২৯৮২) এবং তাওহীদ ও ইলমুল কালাম বিভাগে নম্বর (৮৬)। এবং এটিও প্রাচীনকালে (৭৮১ হিজরি) অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর মাত্র তিপ্পান্ন বছর পরে লেখা হয়েছে এবং এর অনুলিপিকারক হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ইউনিনি আল-হাম্বলি। এবং এর পত্র সংখ্যা (২০৮)টি পত্র অর্থাৎ (৪১৬) পৃষ্ঠা, প্রতি পৃষ্ঠায় মাঝারি আকারের (১৯)টি করে লাইন রয়েছে। এটিও একটি তুলনামূলক যাচাইকৃত পাণ্ডুলিপি এবং প্রথম পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এর সাথে এর অনেক মিল রয়েছে, যা থেকে প্রবল ধারণা হয় যে উভয়টি একই পাণ্ডুলিপি থেকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ফলে ভুল ও বাদ পড়া অংশের ক্ষেত্রে এদের মধ্যে অনেক মিল দেখা যায়। তবে হস্তাক্ষর ও বানানের দিক থেকে দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি (ত্ব) প্রথমটির (আলিফ) চেয়ে উন্নত; এছাড়া বাকি সব বিষয়ে এ দুটি পাণ্ডুলিপি সাধারণত একমত।
৩ - তৃতীয় পাণ্ডুলিপি, এর সংকেত (বা): এটি রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ থেকে (২৭) নম্বর অধীনে সংগ্রহ করা হয়েছে। কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ প্রেসিডেন্সির অধীনস্থ সৌদি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছে, যার নম্বর হলো (৫৬৪ / ৮৬)।
এটি (১২২৩) সালে লেখা হয়েছে এবং এর অনুলিপিকারকের নাম হলো মুস্তফা, যাকে আশ-শৌরানি নামে ডাকা হয়। এটি একটি স্পষ্ট ও ভালোভাবে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি, এতে কিছু প্রান্তিক টীকা রয়েছে, এর হরফগুলো ছোট এবং এর পত্র সংখ্যা (২১৬)টি পত্র (৪৩২) পৃষ্ঠা, প্রতি পৃষ্ঠায় মাঝারি আকারের (১৫)টি করে লাইন রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وهي أجود النسخ إتقانًا، وأقلها أخطاء، ويندر فيه السقط، وقد قوبلت بأصول كما هو منصوص في آخرها وفي أثنائها.
4 - النسخة الرابعة، ورمزها (ج) : وقد وصلتني من دار الكتب بالقاهرة مصورة بالميكروفلم، وهي بدار الكتب المصرية تحت رقم (4155) تصوف.
وهي مجهولة التاريخ، ولم يكتب عليها اسم الناسخ، ولكن يظهر لي من شكلها أنها متأخرة النسخ. عدد أوراقها (270) ورقة (540) صفحة من القطع المتوسط، كل صفحة تتكون من (23) سطرًا، وحرفها كبير، وخطها جميل وواضح، وهي قليلة الأخطاء والسقط، كما أنها نسخة مقابلة أيضًا.
5 - النسخة الخامسة، ورمزها (د) : وقد وصلتني أيضًا مصورة بالميكروفلم من دار الكتب المصرية بالقاهرة تحت الرقم (2540) تصوف وأخلاق.
وهي مجهولة الناسخ وتاريخ النسخ، لكن يظهر لي أنها حديثة النسخ كسابقتها، وعدد أوراقها (240) ورقم (480) صفحة من القطع المتوسط في كل صفحة (23) سطرًا، وحرفها متوسط وخطها جميل وواضح جدًّا، وقليلة الأخطاء والسقط وهي مقابلة أيضًا، وكثيرًا ما تتفق مع النسخة (ج) ، بل يقل الاختلاف بينهما مما جعلني أرجح أنهما كُتبتا عن أصل واحد.
* كما توجد لدي نسختان أخريان كنت أستأنس بهما عند اختلاف النسخ، لكني لم أعتمدهما؛ لأن الأولى- وهي نسخة وصلتني من مكتبة برلين بألمانيا- كانت ناقصة ولا يوجد منها إلا أقل من النصف الأخير منها، ونصفها الأول وجزء من آخرها مفقود، ويظهر أنها كتبت في حدود سنة (800هـ) ، وهي في مكتبة برلين تحت رقم (2086) .
এটি সবচেয়ে নিখুঁত পাণ্ডুলিপি, এতে ভুল সবচেয়ে কম এবং শব্দ বাদ পড়ার ঘটনা বিরল। এটি মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, যা এর শেষে এবং মাঝখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
৪ - চতুর্থ পাণ্ডুলিপি, যার সংকেত (জ): এটি কায়রোর দারুল কুতুব থেকে মাইক্রোফিল্ম আকারে আমার কাছে এসেছে এবং এটি মিশরের দারুল কুতুবের তাসাউফ বিভাগে ৪১৫৫ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
এর অনুলিপির তারিখ অজ্ঞাত এবং এতে অনুলিপিকারের নাম লেখা নেই, তবে এর গঠন দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি পরবর্তী সময়ের অনুলিপি। এর পত্র সংখ্যা ২৭০টি (৫৪০ পৃষ্ঠা), যা মাঝারি আকারের; প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে। এর অক্ষরগুলো বড় এবং হাতের লেখা সুন্দর ও স্পষ্ট। এতে ভুল এবং শব্দ বাদ পড়ার পরিমাণ কম এবং এটিও অন্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধিত।
৫ - পঞ্চম পাণ্ডুলিপি, যার সংকেত (দ): এটিও কায়রোর মিশরের দারুল কুতুব থেকে মাইক্রোফিল্ম আকারে আমার কাছে এসেছে, যার নম্বর ২৫৪০ (তাসাউফ ও আখলাক বিভাগ)।
এর অনুলিপিকার এবং অনুলিপির তারিখ অজ্ঞাত, তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে এটিও পূর্ববর্তীটির মতো আধুনিক সময়ের অনুলিপি। এর পত্র সংখ্যা ২৪০টি (৪৮০ পৃষ্ঠা), যা মাঝারি আকারের; প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে। এর অক্ষরগুলো মাঝারি এবং হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্ট। এতে ভুল এবং শব্দ বাদ পড়ার পরিমাণ কম এবং এটিও মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এটি প্রায়ই 'জ' পাণ্ডুলিপির সাথে মিলে যায়, এমনকি এ দুটির মধ্যে পার্থক্য এতটাই কম যে, আমার ধারণা এ দুটি একই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে।
* এছাড়াও আমার কাছে আরও দুটি পাণ্ডুলিপি ছিল যা আমি পাঠান্তরের সময় সহায়িকা হিসেবে ব্যবহার করতাম, কিন্তু আমি সেগুলোর ওপর নির্ভর করিনি। কারণ প্রথমটি—যা জার্মানির বার্লিন লাইব্রেরি থেকে আমার কাছে এসেছে—ছিল অসম্পূর্ণ; এর কেবল শেষ অর্ধেকেরও কম অংশ পাওয়া যায় এবং এর প্রথমার্ধ ও শেষের কিছু অংশ নিখোঁজ। প্রতীয়মান হয় যে এটি ৮০০ হিজরি সালের দিকে লেখা হয়েছে এবং এটি বার্লিন লাইব্রেরিতে ২০৮৬ নম্বরে রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
والثانية يكثر فيها التحريف والتصحيف، وهي مصورة بقسم المخطوطات بجامعة الملك سعود، تحت رقم (1203) وترجَّح لدي أنها مصورة عن مخطوطة توجد بمكتبات الأوقاف ببغداد، وهي متأخرة النسخ فقد كتبت سنة (1304هـ) .
* أما المطبوعة- فهي تلك التي أخرجها الشيخ محمد حامد الفقي - طبعت بمطبعة السنة المحمدية- وهي الطبعة الثانية سنة (1369هـ) علمًا بأن الكتاب طبع مرات، لكن هذه الطبعة من أجودها وأكثرها تداولًا في الأسواق وبين الناس، ولم تخرّج أحاديثها وآثارها، ولم يترجم أعلامها، إنما كتب عليها بعض التعليقات، كما أن الشيخ محمد حامد رحمه الله لم يشر إلى النسخة المخطوطة التي استنسخ عنها الكتاب.
وقد قابلتها مع النسخ المخطوطة، تتميمًا للفائدة، وخدمة للقارئ والكتاب؛ لأنها نسخة متداولة ومشهورة وستبقى كذلك، لذلك رأيت أنه لزامًا عليَّ أن أنبه على فروقها في ضوء المخطوطات.
আর দ্বিতীয়টিতে প্রচুর বিকৃতি ও লিখনপ্রমাদ রয়েছে। এটি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগে ১২০৩ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। আমার নিকট এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয় যে, এটি বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি অপেক্ষাকৃত পরবর্তী সময়ের অনুলিপি, যা ১৩০৪ হিজরি সালে লিখিত হয়েছে।
* আর মুদ্রিত সংস্করণের কথা বলতে গেলে, এটি শায়খ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণ, যা মাতবাআতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এটি ১৩৬৯ হিজরি সালের দ্বিতীয় সংস্করণ। উল্লেখ্য যে, বইটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, তবে এই সংস্করণটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং বাজারে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত। এর হাদিস ও আছারসমূহের তাখরীজ করা হয়নি এবং এর ব্যক্তিবর্গের জীবনীও প্রদান করা হয়নি; কেবল এতে কিছু টীকা সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া শায়খ মুহাম্মদ হামিদ (রাহিমাহুল্লাহ) যে পাণ্ডুলিপি থেকে বইটি অনুলিপি করেছেন, সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি।
উপযোগিতা বৃদ্ধি এবং পাঠক ও কিতাবের খিদমতের উদ্দেশ্যে আমি এটিকে পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছি; যেহেতু এটি একটি বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ সংস্করণ এবং ভবিষ্যতেও তা বহাল থাকবে। তাই আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর আলোকে এর পাঠগত পার্থক্যসমূহ চিহ্নিত করা আমার জন্য আবশ্যক বলে মনে করেছি।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
[الكتاب المحقق اسمه وتاريخ تأليفه]الكتاب المحقق
اسمه وتاريخ تأليفه 1 - اسمه وعنوانه: اختلفت النسخ في اسم الكتاب اختلافًا طفيفًا:
ففي النسخ: (ب ج د) : (اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم) .
وفي (أ) : لم أستطع أن أتبين العنوان كله؛ لأن آخره مطموس، فالواضح منه (كتاب اقتضاء) فقط.
وفي (ط) : (اقتضاء الصراط المستقيم في الرد على أصحاب الجحيم) .
وفي نسخة برلين: (اقتضاء الصراط المستقيم ومجانبة أصحاب الجحيم) .
وفي نسخة جامعة الملك سعود رقم (1203) : (اقتضاء الصراط المستقيم في مخالفة أهل الجحيم) .
وفي المطبوعة: (اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم) .
كما أن المؤلف رحمه الله قد أشار إلى الكتاب في كتبه الأخرى، ففي المجلد الثاني والعشرين (ص154) من مجموع الفتاوى أشار إلى الكتاب وسماه: (اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم) ، ولذلك رجحت هذا العنوان للكتاب، ولأن أكثر النسخ المخطوطة اتفقت عليه.
[সম্পাদিত গ্রন্থ: এর নাম এবং রচনার তারিখ]সম্পাদিত গ্রন্থ
এর নাম এবং রচনার তারিখ ১ - এর নাম ও শিরোনাম: পাণ্ডুলিপিগুলোতে গ্রন্থের নামের ক্ষেত্রে সামান্য ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে:
পাণ্ডুলিপি (বা, জিম, দাল)-এ রয়েছে: (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম)।
আর (আলিফ) পাণ্ডুলিপিতে: আমি পুরো শিরোনামটি স্পষ্ট করতে পারিনি; কারণ এর শেষাংশ অস্পষ্ট হয়ে গেছে, তার মধ্যে কেবল (কিতাবুল ইকতিদা) কথাটিই স্পষ্ট বোঝা যায়।
আর (তা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ফির-রাদ্দি আলা আসহাবিল জাহিম)।
আর বার্লিন পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ওয়া মুজানাবাতি আসহাবিল জাহিম)।
আর কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০৩ নম্বর পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ফি মুখালাফাতি আহলিল জাহিম)।
আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম)।
তেমনিভাবে লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও এই বইটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-র ২২তম খণ্ডের (পৃষ্ঠা ১৫৪) তিনি এই বইটির উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম)। এই কারণেই আমি গ্রন্থের জন্য এই শিরোনামটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি, আর যেহেতু অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি এই নামের ওপর একমত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
كما أشار المؤلف إلى الكتاب مرة أخرى في مجموع الفتاوى (10 / 371) لكنه ذكر صدر العنوان (اقتضاء الصراط المستقيم) فقط، وهذا قد أجمعت عليه جميع النسخ.
2 - تاريخ تأليفه: أما عن تاريخ تأليف الكتاب، فإن هناك ما يدل على أن الكتاب ألف قبل سنة (715هـ) ، وهذا هو تاريخ نسخ المخطوطة (أ) التي أشرت إليها آنفًا.
ولم يتبين لي بالتحديد في أي سنة تم تأليف الكتاب، إنما في الكتاب وأثنائه ما يدل على أنه لم يكن من أقدم كتب الشيخ؛ لأن كثيرًا ما يحيل أثناء عرضه لموضوعات الكتاب على كتاباته وبحوثه السابقة، وذلك في مواضع كثيرة جدًّا خاصة في آخر الكتاب، مما يشير إلى أنه سبقته للمؤلف بحوث ومؤلفات كثيرة، والله أعلم.
ঠিক তেমনিভাবে লেখক 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১০/৩৭১) গ্রন্থে পুনরায় কিতাবটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তবে তিনি কেবল শিরোনামের প্রথমাংশ (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম) উল্লেখ করেছেন, এবং সকল পাণ্ডুলিপি এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে।
২ - এটি রচনার ইতিহাস: কিতাবটি রচনার ইতিহাসের ব্যাপারে বলা যায় যে, সেখানে এমন প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে কিতাবটি ৭১৫ হিজরি সালের পূর্বে রচিত হয়েছে। আর এটিই হলো (ক) নং পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার তারিখ, যার কথা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
কিতাবটি সুনির্দিষ্টভাবে কোন সালে রচিত হয়েছে তা আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি, তবে কিতাবটির আলোচনার ভেতরে এমন বিষয় রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটি শাইখের প্রাথমিক জীবনের কোনো কিতাব নয়; কেননা তিনি কিতাবের বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সময় প্রায়শই তাঁর পূর্ববর্তী লেখা ও গবেষণার উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এটি অনেক স্থানেই ঘটেছে, বিশেষ করে কিতাবের শেষাংশে, যা নির্দেশ করে যে এর পূর্বে লেখকের অনেক গবেষণা ও রচনা অতিবাহিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
[منهج تحقيق الكتاب والتعليق عليه]منهج تحقيق الكتاب والتعليق عليه سلكت في تحقيق الكتاب والتعليق عليه المنهج التالي:
1 - تحقيق نص الكتاب: سلكت في تحقيق النص مسلك انتخاب النص الأصح عندي، وذلك بعد إجراء المقابلة بين جميع النسخ، فإذا اختلفت النسخ فإني في الغالب أختار النص الذي يقتضيه السياق، فإن لم يظهر لي مرجح من السياق اخترت ما تتفق عليه غالب النسخ، وأشير إلى النص المرجوح في الهامش، وإذا كان الاختلاف بين النسخ له تأثير في المعنى فإني أعلل وأفسر الاختلاف والترجيح إذا اتضح لي ذلك.
أما المطبوعة فإنها إذا انفردت بعبارة أو اختلاف فإني لا أثبت ما انفردت به في صلب الكتاب، وإنما أشير إليه في الهامش، وذلك لأمرين:
1 - كثرة أخطائها وزياداتها والتصرف فيها، وأظن ذلك راجع للنسخة التي طبعت عنها.
2 - أن النسخة التي كتبت عنها غير معروفة لدي.
2 - تخريج الأحاديث والآثار، وإثبات النصوص: في تخريج الأحاديث حاولت- بقدر الإمكان- أن أختصر وأقتصر على القدر الضروري في تخريج الحديث تفاديًا لتطويل الكتاب وإثقاله بالحواشي.
[গ্রন্থের তাহকীক ও এর ওপর টীকা প্রদানের পদ্ধতি]গ্রন্থের তাহকীক ও এর ওপর টীকা প্রদানের পদ্ধতি: গ্রন্থের তাহকীক ও এর ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - গ্রন্থের পাঠ যাচাই: পাঠ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমি আমার কাছে অধিকতর সঠিক পাঠটি নির্বাচন করার পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা সকল পাণ্ডুলিপির মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করার পর সম্পন্ন হয়েছে। যদি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই পাঠটিই নির্বাচন করি যা প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী সমীচীন। আর যদি প্রসঙ্গের মাধ্যমে কোনোটি অগ্রাধিকারযোগ্য না হয়, তবে অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি যে বিষয়ে একমত হয়েছে আমি সেটিই নির্বাচন করেছি এবং কম নির্ভরযোগ্য পাঠটির কথা টীকায় উল্লেখ করেছি। পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যের কারণে যদি অর্থের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে, তবে বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হলে আমি সেই পার্থক্যের কারণ ও প্রাধান্য প্রদানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি।
মুদ্রিত সংস্করণের ক্ষেত্রে যদি তাতে একক কোনো বক্তব্য বা ভিন্নতা থাকে, তবে আমি সেই একক পাঠটি মূল গ্রন্থে স্থায়ী করিনি, বরং টীকায় তার প্রতি ইঙ্গিত করেছি। আর এটি দুটি কারণে:
১ - এতে ভুল, পরিবর্ধন ও পরিবর্তনের আধিক্য রয়েছে; আমার ধারণা এটি যে পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রিত হয়েছে তার কারণে এমন হয়েছে।
২ - যে পাণ্ডুলিপি থেকে এটি লেখা হয়েছে সেটি আমার কাছে অজ্ঞাত।
২ - হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ এবং পাঠের প্রামাণিকতা: হাদিস তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করেছি এবং হাদিস তাখরিজের প্রয়োজনীয় সীমার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, যাতে গ্রন্থটি দীর্ঘ হওয়া এবং টীকা দ্বারা ভারাক্রান্ত হওয়া এড়ানো যায়।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
فالأحاديث الموجودة في الصحيحين، أو أحدهما، فإني في الغالب أكتفي ببيان مكانها منهما أو من أحدهما؛ لأن المقصود هو الاطمئنان على درجة الحديث، وذلك حاصل بعزوه للصحيحين أو أحدهما.
وكذلك إذا أشار المؤلف إلى درجة الحديث، فإني قد أكتفي بذلك، بعد ما أشير إلى مكانه في كتب الحديث.
وأما ما سوى ذلك من الأحاديث التي ليست في الصحيحين، ولم يشر المؤلف إلى درجتها من الصحة والضعف، فإني اجتهدت قدر استطاعتي ببيان درجتها، إما بالإشارة إلى ما قاله بعض العلماء المعتبرين فيها، وإحالة القارئ على المراجع، أو- إذا لم أجد في الحديث كلامًا لأحد الأئمة- أجتهد في دراسة سنده بنفسي، ثم أذكر ما توصلت إليه، وهذا قليل جدًّا.
أما الآثار والنصوص الأخرى التي ينقلها المؤلف، فإني بذلت ما أستطيعه في تخريجها وعزوها إلى مصادرها الموجودة، أما إذا نقل المؤلف من مصدر أو كتاب لم أجده، كالجامع للخلال، وأكثر سنن سعيد بن منصور، والمستخرج للحافظ المقدسي، وغيرها، فإني حاولت البحث عن تلك النصوص في المراجع المشابهة لها، كالسنن الكبرى للبيهقي، ومستدرك الحاكم، ومصنف عبد الرزاق ونحوها، فأخرجها منها؛ لأن المقصود التوثق من النص من المصادر المعتبرة، وهذا حاصل بذلك إن شاء الله.
أما الآراء الفقهية والأحكام، ونحوها مما نسبه المؤلف إلى العلماء والأئمة، فإنها لكثرتها وتكررها، اكتفيت بتوثيق القدر الذي أراه أهم من مراجعه.
ومع ذلك كله، فإن هناك مسائل لم أجد لها مراجع، من نصوص ونقول، أو آراء ونحوها، وحسبي أني بحثت وبذلك الجهد في البحث والاستقصاء. والله الموفق.
যে সকল হাদিস সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা তাদের যেকোনো একটিতে রয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি কেবল সেগুলোর উৎস উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি; কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো হাদিসের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, আর সহিহাইন বা তাদের যেকোনো একটির উদ্ধৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়।
একইভাবে লেখক যদি হাদিসের মানের দিকে ইঙ্গিত করে থাকেন, তবে হাদিসের কিতাবসমূহে এর স্থান নির্দেশ করার পর আমি অনেক সময় তার ওপরই নির্ভর করেছি।
আর এছাড়া অন্য যে সকল হাদিস সহিহাইনের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং লেখকও সেগুলোর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার (সহিহ বা জয়িফ হওয়ার) ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি, সেক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্যমতো সেগুলোর মান বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। হয় এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের বক্তব্য উল্লেখ করে পাঠককে মূলগ্রন্থের দিকে নির্দেশ করেছি, অথবা যদি হাদিসটি সম্পর্কে কোনো ইমামের বক্তব্য না পেয়ে থাকি, তবে নিজেই তার সনদ (বর্ণনাপরম্পরা) পর্যালোচনায় শ্রম প্রদান করেছি এবং এরপর আমার প্রাপ্ত ফলাফল উল্লেখ করেছি; তবে এ রকম ঘটনা খুবই বিরল।
লেখক কর্তৃক উদ্ধৃত অন্যান্য আসার (সাহাবি বা তাবেয়িদের উক্তি) ও মূল পাঠের (নস) ক্ষেত্রে আমি সেগুলোর তাখরিজ ও বিদ্যমান উৎসগ্রন্থের দিকে সম্পৃক্ত করার জন্য আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। তবে লেখক যদি এমন কোনো উৎস বা কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন যা আমি খুঁজে পাইনি—যেমন খলাল-এর ‘আল-জামে’, সাঈদ ইবনে মানসুরের অধিকাংশ ‘সুনান’, হাফেজ মাকদিসির ‘আল-মুস্তাখরাজ’ ইত্যাদি—সেক্ষেত্রে আমি সেই পাঠগুলো অনুরূপ অন্যান্য তথ্যসূত্রে খোঁজার চেষ্টা করেছি, যেমন বায়হাকির ‘আস-সুনানুল কুবরা’, হাকিমের ‘মুস্তাদরাক’, আবদুর রাজ্জাকের ‘মুসান্নাফ’ ইত্যাদি এবং সেখান থেকেই তা উদ্ধৃত করেছি; কেননা উদ্দেশ্য হলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পাঠটির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা, আর ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়েছে।
লেখক আলেম ও ইমামগণের দিকে যে সকল ফিকহি অভিমত, বিধিবিধান বা এ জাতীয় বিষয়গুলো সম্পৃক্ত করেছেন, সেগুলো সংখ্যায় অনেক এবং বারবার আসার কারণে আমি কেবল সেই পরিমাণ বিষয় মূল সূত্র থেকে প্রামাণ্য করার ওপর ক্ষান্ত হয়েছি যেটুকু আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি।
এতৎসত্ত্বেও এমন কিছু মাসআলা, মূল পাঠ, উদ্ধৃতি বা অভিমত রয়ে গেছে যেগুলোর কোনো সূত্র আমি খুঁজে পাইনি; আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি সেগুলো অনুসন্ধান ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ে যথাসাধ্য শ্রম ব্যয় করেছি। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
3 - تنبيهات مهمة للقارئ: * فيما يتعلق بالمراجع حرصت كل الحرص على أن أوحد النسخة والطبعة لكل مرجع، ليسهل على القارئ والباحث الرجوع إلى المراجع التي عزوت إليها عند الحاجة، لذلك لم أشر إلى الطبعات في الهامش تفاديًا للتطويل، واكتفاء بفهرس المراجع.
وفي حالات نادرة جدًّا اضطررت إلى الرجوع إلى غير الطبعة المعتادة، فأشرت إلى الطبعة المغايرة في الهامش.
* أما عن التراجم، فإني أترجم لكل علم في أول مرة يذكر المؤلف اسمه إلا في حالات نادرة، وعندها أشير إلى مكان الترجمة- فإذا أراد القارئ التعرف على علم من الأعلام ولم يجد ترجمته أمامه، فعليه الرجوع إلى فهرس الأعلام ليتعرف على موقع الترجمة من الكتاب.
* عند الإشارة إلى أرقام الأحاديث في صحيح مسلم، فالمقصود الرقم العام لأحاديث صحيح مسلم، لا الرقم الخاص بكل كتاب، وذلك حسب ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي.
* عند الإحالة إلى بعض كتب الأعلام والرجال أضع رمز (ت) ثم يأتي بعده رقم، والمقصود- كما هو معروف في اصطلاح الباحثين وكتب التراجم- رقم الترجمة للعلم المذكور في المصدر المشار إليه عنده.
* أحيانًا أكرر التخريج للحديث الواحد في أكثر من موضع، إذا رأيت أن للاستدلال به أهمية، وكان تخريجه في موضع بعيد من الكتاب، وذلك تتميمًا للفائدة.
৩ - পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্যসমূহ: * তথ্যসূত্রসমূহের ক্ষেত্রে আমি প্রতিটি উৎসের সংস্করণ ও মুদ্রণ অভিন্ন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যাতে পাঠক ও গবেষকের পক্ষে প্রয়োজনে আমার উদ্ধৃত সূত্রগুলোতে ফিরে যাওয়া সহজ হয়। একারণে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং কেবল তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্টের ওপর নির্ভর করে আমি টীকায় মুদ্রণসমূহের উল্লেখ করিনি।
অতি বিরল কিছু ক্ষেত্রে আমি সাধারণ সংস্করণ ব্যতীত অন্য সংস্করণের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছি, সেক্ষেত্রে আমি টীকায় সেই ভিন্ন মুদ্রণের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
* জীবনীসমূহের বিষয়ে, বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত লেখক কোনো ব্যক্তিত্বের নাম যখন প্রথমবার উল্লেখ করেছেন, আমি তখনই তার জীবনী উল্লেখ করেছি এবং সেক্ষেত্রে আমি জীবনীর অবস্থান নির্দেশ করেছি। সুতরাং পাঠক যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চান এবং সেখানে তার জীবনী খুঁজে না পান, তবে কিতাবটিতে জীবনীর অবস্থান জানার জন্য তাকে ব্যক্তিত্বের নির্ঘণ্ট দেখতে হবে।
* সহীহ মুসলিমের হাদীস নম্বরের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো হাদীসের সাধারণ নম্বর, প্রতিটি অধ্যায়ের বিশেষ নম্বর নয়; আর এটি মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর সংখ্যায়ন অনুযায়ী।
* জীবনীগ্রন্থ ও রিজাল শাস্ত্রের কিছু কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় আমি (ত) সংকেত ব্যবহার করে তার পরে একটি সংখ্যা উল্লেখ করেছি। গবেষকদের পরিভাষা ও জীবনীগ্রন্থসমূহে এটি সুপরিচিত—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উল্লেখিত উৎসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনী নম্বর।
* উপকারের পূর্ণতা সাধনার্থে কখনো কখনো আমি একই হাদীসের তাখরীজ একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছি, যদি আমি মনে করি যে এর দ্বারা দলিল পেশ করা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিপূর্বে কিতাবের অন্য কোনো দূরবর্তী স্থানে এর তাখরীজ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
[دراسة تحليلية لبعض موضوعات الكتاب]
[أولا الموضوع الرئيس للكتاب]دراسة تحليلية لبعض موضوعات الكتاب أولًا
الموضوع الرئيس للكتاب الموضوع الرئيس للكتاب يتضح للقارئ من عنوانه، وقد أشار المؤلف رحمه الله في مستهل الكتاب إلى أنه أراد التنبيه على قاعدة عظيمة من قواعد الإسلام وأصوله، وهي: النهي عن التشبه بالكفار، والأمر بمجانبة هديهم على العموم، وأعيادهم على الخصوص، وبيان حكمة ذلك، وما جاءت به الشريعة من مخالفة أهل الكتاب والأعاجم (1) ونحوهم، وأصل هذه المسألة في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وهدي السلف الصالح، واستقراء الآثار في ذلك.
وقبل أن أدخل في دراسة موضوعاته أحب أن أنبه القارئ على ثلاثة أمور مهمة عن هذا الكتاب:
الأمر الأول: أن هذا الكتاب بجملته يعتبر دراسة تفصيلية فريدة لهذا الموضوع المهم والخطير في حياة المسلمين- الذي يعتبر أصلًا من أصول العقيدة الإسلامية- فإن المؤلف رحمه الله استوفى مسألة النهي عن مشابهة
--------------------------------------------
[গ্রন্থের কিছু বিষয়ের বিশ্লেষণমূলক আলোচনা][প্রথমত: গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু]গ্রন্থের কিছু বিষয়ের বিশ্লেষণমূলক আলোচনা—প্রথমত
গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু পাঠকদের কাছে এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) গ্রন্থের শুরুতেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি ইসলামের অন্যতম মহান মূলনীতি ও ভিত্তির বিষয়ে সতর্ক করতে চেয়েছেন, আর তা হলো: কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার নিষেধাজ্ঞা, এবং সাধারণভাবে তাদের জীবনপদ্ধতি এবং বিশেষভাবে তাদের উৎসবসমূহ বর্জন করার নির্দেশ। এছাড়া এর হিকমত বা যৌক্তিকতা বর্ণনা করা এবং আহলে কিতাব, অনারব (১) ও তাদের ন্যায় অন্যদের বিরোধিতা করার বিষয়ে শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তা স্পষ্ট করা। এই মাসআলার ভিত্তি নিহিত রয়েছে আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আদর্শে এবং এই সংক্রান্ত আসার বা বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনায়।
গ্রন্থের বিষয়বস্তুসমূহ পর্যালোচনার গভীরে প্রবেশের পূর্বে আমি পাঠককে এই কিতাব সম্পর্কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই:
প্রথম বিষয়: এই গ্রন্থটি সামগ্রিকভাবে মুসলিমদের জীবনে এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ের একটি অনন্য বিস্তারিত গবেষণা হিসেবে বিবেচিত—যা ইসলামী আকিদার অন্যতম মূলভিত্তি হিসেবে গণ্য—কেননা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষেধাজ্ঞার মাসআলাটি পরিপূর্ণভাবে আলোচনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
الكفار، من أصولها وفروعها، وأدلتها العقلية والنقلية، وما ورد فيها من آثار ومواقف عن سلف الأمة، بأسلوب علمي رصين، يشبع القارئ ويجعله يشعر أنه أمام قضية واضحة المعالم، بينة المسالك، جلية الدليل والحكم، فلا يخرج من مسألة بحثها المؤلف إلا وقد فهمها واقتنع بأدلتها وما توصل فيها من حكم.
الأمر الثاني: أن هذا القاعدة التي أصَّلها المؤلف، رغم أنها من أهم أصول عقيدة السلف الصالح في القرون الثلاثة الفاضلة، وأن الصحابة والتابعين وتابعيهم، يحذرون الأمة من التهاون بها، والوقوع فيما نهى عنه الله ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم من مشابهة الكفار والأعاجم ونحوهم، وبرغم وضوح أدلة هذا الأصل في الكتاب والسنة وتحذير الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم أمته من الوقوع في ذلك، رغم هذا كله كاد هذا الأصل العظيم أن يمَّحي من أذهان أكثر المسلمين، بعد القرون الثلاثة الفاضلة، فوقعوا في المحذور، وأخذوا بسنن الأمم حذو القذة بالقذة.
فمما وقعوا فيه- على سبيل المثال- البناء على القبور واتخاذ المساجد عليها، وهذه مسألة واضحة في السنة، فقد حذر الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم أمته من الوقوع فيها أشد التحذير- كما سيأتي بيانه أثناء الكتاب- ومع ذلك وقعت فيه طوائف من الأمة.
فجاء المؤلف رحمه الله فجلَّى هذا الأمر وبيَّنه، وأعلنه على الملأ بلسانه وقلمه، فكتب وناظر وأمر ونهى، وأثمرت دعوته بحمد الله.
وكتابه هذا جزء مما قام به في بيان الحق في ذلك.
الأمر الثالث: أني وجدت الكتاب من خلال دراستي له، كأنما أُلِّف للمسلمين في هذا العصر، سواء في موضوعاته، وطريقة بحثها وعلاجها، أو في أسلوبه، وذلك يرجع في نظري لأسباب منها:
কাফিরদের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা, এর বুদ্ধিভিত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক দলিলসমূহ, এবং উম্মতের সালাফদের থেকে এ বিষয়ে বর্ণিত আছার ও অবস্থানসমূহ একটি সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচিত হয়েছে, যা পাঠককে পরিতৃপ্ত করে এবং তাকে এমন এক বিষয়ের সামনে দাঁড় করায় যার বৈশিষ্ট্যসমূহ সুস্পষ্ট, পথসমূহ পরিষ্কার এবং দলিল ও বিধান উজ্জ্বল। ফলে লেখক যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা বোঝা এবং এর দলিল ও প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া পাঠক তা থেকে বের হন না।
দ্বিতীয় বিষয়: লেখক যে মূলনীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা যদিও মর্যাদাপূর্ণ তিন যুগের সালাফে সলেহীনের আকিদাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ছিল এবং সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারীরা উম্মতকে এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) যা থেকে নিষেধ করেছেন—অর্থাৎ কাফির ও অনারবদের সদৃশ হওয়া—সে বিষয়ে সতর্ক করতেন। কুরআন ও সুন্নাহতে এই মূলনীতির দলিলসমূহ সুস্পষ্ট থাকা এবং রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর উম্মতকে এতে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও, এই মহান মূলনীতিটি মর্যাদাপূর্ণ তিন যুগের পর অধিকাংশ মুসলমানের মন থেকে প্রায় মুছে গিয়েছিল। ফলে তারা নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় এবং অন্যান্য জাতির রীতিনীতিকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে শুরু করে।
উদাহরণস্বরূপ তারা যে বিষয়গুলোতে লিপ্ত হয়েছে তা হলো— কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করা এবং সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করা। এটি সুন্নাহর একটি সুস্পষ্ট বিষয়, কারণ রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন—যেমনটি কিতাবটির আলোচনার মধ্যে আসবে—তা সত্ত্বেও উম্মতের বিভিন্ন দল এতে লিপ্ত হয়েছে।
অতঃপর লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এসে এই বিষয়টি সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করলেন এবং তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী ও কলমের মাধ্যমে তা জনসমক্ষে ঘোষণা করলেন। তিনি লিখলেন, বিতর্ক করলেন, আদেশ করলেন এবং নিষেধ করলেন। আল্লাহর প্রশংসায় তাঁর দাওয়াত ফলপ্রসূ হয়েছে।
তাঁর এই কিতাবটি এ বিষয়ে সত্য স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তাঁর সম্পাদিত কাজেরই একটি অংশ।
তৃতীয় বিষয়: কিতাবটি অধ্যয়ন করে আমি যা পেয়েছি তা হলো, এটি যেন বর্তমান যুগের মুসলমানদের জন্যই লেখা হয়েছে—তা এর বিষয়বস্তু, সেগুলো নিয়ে আলোচনার পদ্ধতি ও সমাধানের দিক থেকে হোক কিংবা এর রচনার শৈলীর দিক থেকেই হোক। আমার দৃষ্টিতে এর কারণসমূহ হলো:
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
* تشابه عصرنا بعصر المؤلف، في كثرة البدع وظهورها، وفي ضعف المسلمين وقوة الكفار، وانتشار عقائدهم وأفكارهم وأخلاقهم وعاداتهم وأزيائهم بين المسلمين، بالإضافة إلى ظهور الفرق الضالة، واستعلائها بين المسلمين، خاصة الروافض، والباطنية، والصوفية. .
ففي عصر المؤلف تغلب الكفار: من الفرنجة، والتتار على أكثر بلاد المسلمين، وفي هذا العصر كذلك تغلب الفرنج سياسيًّا وفكريًّا أيضًا على أكثر بلاد المسلمين، رغم رحيل عسكرهم عنها.
* ومنها أيضًا بُعد نظر المؤلف رحمه الله، وسعة علمه وإدراكه، مما جعله يعالج هذه الأمور بأسلوب عام، يناسب المسلمين في كل مكان وكل زمان.
ويتضح لنا ذلك لو استعرضنا أهم الموضوعات التي بحثها المؤلف وهي موجودة في زمنه، وتجدها أيضًا بين المسلمين اليوم:
من التشبه بالكفار والأعاجم- غير المسلمين- في الزي واللباس، والعادات، والتقاليد، واللغة، والأعياد، والاحتفالات ونحوها.
انتشار البدع الاعتقادية والعملية، من التعلق بالمقبورين ودعائهم من دون الله، وما تروِّجه الطرق الصوفية بين مريديها وغيرهم من البدع والخرافات.
إحياء شعائر الجاهلية وعاداتها وآثارها ومآثرها التي محاها الإسلام.
هيمنة الأفكار والمفاهيم والثقافات غير الإسلامية على أذهان الكثير من المسلمين، وانتشار الفلسفة والإلحاد ونحو ذلك.
وهذا عن الكتاب في عمومه، والآن سأعرض بالدراسة والتحليل لبعض موضوعات الكتاب.
* আমাদের যুগের সাথে লেখকের যুগের সাদৃশ্য রয়েছে; বিদআতের আধিক্য ও প্রকাশ, মুসলিমদের দুর্বলতা ও কাফিরদের শক্তি বৃদ্ধি এবং মুসলিমদের মধ্যে কাফিরদের আকিদা, চিন্তা-চেতনা, চরিত্র, আচার-আচরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদের প্রসারের ক্ষেত্রে। এছাড়া বিভ্রান্ত দলগুলোর আত্মপ্রকাশ ও মুসলিমদের মাঝে তাদের প্রাধান্য লাভ, বিশেষ করে রাফেজি, বাতিনি ও সুফিদের ক্ষেত্রেও এই সাদৃশ্য বিদ্যমান। .
লেখকের যুগে কাফিররা—যেমন ইউরোপীয় ক্রুসেডার ও তাতাররা—অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর বিজয় লাভ করেছিল। বর্তমান যুগেও ইউরোপীয়রা রাজনৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক দিক থেকে অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে, যদিও তাদের সেনাবাহিনী সেখান থেকে বিদায় নিয়েছে।
* এর মধ্যে আরও রয়েছে লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর দূরদর্শিতা এবং তাঁর জ্ঞান ও উপলব্ধির ব্যাপকতা, যা তাঁকে এই বিষয়গুলোকে এমন একটি সার্বজনীন পদ্ধতিতে সমাধান করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা প্রতিটি স্থান ও কালের মুসলিমদের জন্য উপযোগী।
আমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হবে যদি আমরা লেখকের আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করি, যা তাঁর সময়ে বিদ্যমান ছিল এবং আজও মুসলিমদের মধ্যে তা দেখতে পাওয়া যায়:
পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ, রীতিনীতি, ভাষা, উৎসব ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে কাফির ও অনারব—অমুসলিমদের—অনুকরণ করা।
আকিদাগত ও আমলগত বিদআতের বিস্তার, যেমন কবরবাসীদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ও আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের কাছে দুআ করা এবং সুফি তরিকাসমূহ তাদের মুরিদ ও অন্যদের মাঝে যেসব বিদআত ও কুসংস্কার প্রচার করে।
জাহেলিয়াতের ধর্মীয় নিদর্শন, রীতিনীতি, নিদর্শন ও ঐতিহ্যসমূহের পুনর্জাগরণ, যা ইসলাম মিটিয়ে দিয়েছিল।
বহু মুসলিমের চিন্তাধারায় অনৈসলামিক চিন্তাভাবনা, ধারণা ও সংস্কৃতির প্রাধান্য এবং দর্শন, নাস্তিকতা ইত্যাদির প্রসার।
বইটির সাধারণ পরিচয় ছিল এ পর্যন্তই। এখন আমি এই কিতাবের কিছু বিষয়ের ওপর পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করব।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
[ثانيا دراسة لبعض موضوعات الكتاب]
[الموضوع الأول تنبيه المؤلف على أصلين مهمين]ثانيًا
دراسة لبعض موضوعات الكتاب
الموضوع الأول
تنبيه المؤلف على أصلين مهمين استهل المؤلف كتاب (اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم) بمدخل مهم، وجدير بالتأمل والدراسة؛ لأنه يشكل الأساس لفهم مشكلة تشبُّه المسلمين بغيرهم، ثم علاجها، وتجنب أخطارها على بصيرة وهدى.
وذلك: أنه نبه على أصلين من أصول الدين، لا غنى للمسلم عن فهمها، ولكل واحد منهما علاقة بالآخر.
الأصل الأول: إخبار الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم القاطع الأكيد، بأن أمته ستتبع سنن الأمم التي سبقتها من اليهود والنصارى، وفارس والروم، ونحوهم، شبرًا بشبر وذراعًا بذراع، وهذا يعني أن طوائف من هذه الأمة سوف تتشبه بالكفار قطعًا.
الأصل الثاني: إخباره صلى الله عليه وعلى آله وسلم القاطع والأكيد أيضًا، بأن الله تعالى تكفل بحفظ الدين، وأنه لا تزال طائفة من المسلمين على الحق ظاهرين حتى تقوم الساعة، وأن الأمة لا تجتمع على ضلالة.
[দ্বিতীয়ত: গ্রন্থের কিছু বিষয়ের আলোচনা][প্রথম বিষয়: লেখক কর্তৃক দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির প্রতি সতর্কীকরণ]দ্বিতীয়ত
গ্রন্থের কিছু বিষয়ের আলোচনা
প্রথম বিষয়
লেখক কর্তৃক দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির প্রতি সতর্কীকরণ। লেখক তার 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম' গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন, যা গভীর অনুধাবন ও পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা এটি অমুসলিমদের সাথে মুসলমানদের সাদৃশ্য গ্রহণের সমস্যাটি বোঝার, অতঃপর তা প্রতিকার করার এবং প্রজ্ঞা ও হেদায়াতের আলোকে এর বিপদসমূহ এড়িয়ে চলার ভিত্তি তৈরি করে।
আর তা এই যে: তিনি দ্বীনের এমন দুটি মূলনীতির প্রতি সতর্ক করেছেন, যা অনুধাবন করা একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য এবং এ দুটির প্রত্যেকটির সাথে অপরের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
প্রথম মূলনীতি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অকাট্য ও নিশ্চিত সংবাদ যে, তাঁর উম্মত অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ—ইহুদি, নাসারা, পারস্য ও রোম এবং তাদের অনুরূপ জাতিদের রীতিনীতি বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাত ধরে অনুসরণ করবে। এর অর্থ হলো, এই উম্মতের বিভিন্ন গোষ্ঠী নিশ্চিতভাবেই কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে।
দ্বিতীয় মূলনীতি: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে আরও একটি অকাট্য ও নিশ্চিত সংবাদ যে, মহান আল্লাহ এই দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী ও অটল থাকবে এবং এই উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
ثم يوازن بين هذين الأصلين بعد أن أورد الأحاديث الواردة عن الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم في اتباع المسلمين سنن من كان قبلهم، فيقول:
"فأخبر أنه سيكون في أمته مضاهاة لليهود والنصارى وهم أهل الكتاب، ومضاهاة لفارس والروم، وهم الأعاجم".
وقد كان صلى الله عليه وعلى آله وسلم ينهى عن التشبه بهؤلاء وهؤلاء، وليس هذا إخبارًا عن جميع الأمة، بل قد تواتر عنه أنه: «لا تزال طائفة من أمته ظاهرة على الحق حتى تقوم الساعة» (1) وأخبر صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «أن الله لا يجمع هذه الأمة على ضلالة (2) وأن الله لا يزال يغرس في هذا الدين غرسًا يستعملهم فيه بطاعته» (3) .
فعُلم بخبره الصدق: "أنه في أمته قوم مستمسكون بهديه الذي هو دين الإسلام محضًا، وقوم منحرفون إلى شُعبة من شُعب اليهود، أو إلى شُعبة من شُعب النصارى، وإن كان الرجل لا يكفر بكل انحراف، بل وقد لا يفسق أيضًا، بل قد يكون الانحراف كفرًا، وقد يكون فسقًا، وقد يكون معصية، وقد يكون خطيئة" (4) .
وعليه: فإنه بالرغم من أن ما وقعت فيه الأمة، وما ستقع فيه، من التشبه بالأمم الأخرى، إنما هو قدر من أقدار الله وقضائه الذي لا يرد، فإن هذا لا يعني أن المسلم سيستسلم لهذا القدر، بل إنه مطالب بفعل الأسباب الواقية، فإن الله تعالى حذَّرنا سبيل الكافرين، وأمرنا بالاستمساك بالعروة الوثقى، وبالإصلاح والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، كما أن وقوع فئة من
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি এই দুই মূলনীতির মধ্যে ভারসাম্য বিধান করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি মুসলিমদের অনুসরণ করার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করার পর। তিনি বলেন:
"তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে ইহুদি ও নাসারাদের—যারা আহলে কিতাব—সাদৃশ্য অবলম্বনকারী থাকবে এবং পারস্য ও রোমকদের—যারা অনারব—সাদৃশ্য অবলম্বনকারী থাকবে।"
আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এদের সবার সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন। এটি পুরো উম্মতের ব্যাপারে সংবাদ নয়, বরং তাঁর থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়» (১) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ করবেন না (২) এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দ্বীনের মধ্যে সর্বদা এমন চারা রোপণ করবেন, যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত করবেন» (৩)।
তাঁর সত্য সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে: "নিশ্চয়ই তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোক থাকবে যারা তাঁর নির্দেশনার ওপর সুদৃঢ় থাকবে, যা হলো বিশুদ্ধ ইসলাম ধর্ম। আর একদল লোক ইহুদিদের কোনো শাখার দিকে অথবা নাসারাদের কোনো শাখার দিকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। যদিও কোনো ব্যক্তি প্রতিটি বিচ্যুতির কারণেই কাফির হয়ে যায় না, বরং ফাসিকও নাও হতে পারে। তবে বিচ্যুতি কখনো কুফর হতে পারে, কখনো ফিসক হতে পারে, কখনো নাফরমানি হতে পারে, আবার কখনো ভুলও হতে পারে" (৪)।
সুতারং: উম্মত অন্য জাতিগোষ্ঠীর সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে অতীতে যা কিছুতে লিপ্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যা কিছুতে লিপ্ত হবে, তা আল্লাহর অমোঘ ফয়সালা ও তাকদীরেরই অংশ যা খণ্ডন করা যায় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, একজন মুসলিম এই তাকদীরের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, বরং সে এর থেকে বেঁচে থাকার উপায়গুলো অবলম্বন করতে আদিষ্ট। কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের কাফিরদের পথ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং আমাদের মজবুত রজ্জু আঁকড়ে ধরার, সংস্কার করার এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন একদলের পতন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
المسلمين، أو حتى أكثرهم- لا قدَّر الله ذلك- في التشبه بالكافرين، فإن هذا لا يعني أن الأمة هلكت كلها، فإن الله تعالى وعد المؤمنين بالنصر والتثبيت، والظهور على الحق إلى قيام الساعة، فوعده تعالى صادق نافذ، كما أن قضاءه في وقوع بعض المسلمين في اتباع سنن غيرهم نافذ أيضًا.
كما أن إخبار الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم، بأن أمته ستتبع سنن الذين من قبلها، جاء بمعرض النهي والتحذير، واتخاذ أسباب الوقاية، وذلك بالتمسك بكتاب الله تعالى، واتباع سنة رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، واقتفاء أثر السلف الصالح، والحذر من الابتداع في الدين، واتقاء أسباب الضلالة والغواية.
وهكذا نجد المؤلف رحمه الله، بأسلوبه العلمي الرصين، واستدلاله القوي الواضح، استطاع أن يستجلي هذين الأصلين، ثم يوفق بينهما، مما يجعل القارئ على بينة ووضوح، وهذا مدخل أساسي ومهم لفهم واستيعاب بقية مباحث الكتاب التي تدور كلها حول موضوع تشبُّه المسلمين بغيرهم، وما ورد فيه جملةً وتفصيلًا، وبيان آثاره ونتائجه، وطرق الوقاية منه.
মুসলমানরা, এমনকি তাদের অধিকাংশও—আল্লাহ তাআলা এমনটি না করুন—যদি কাফিরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, তবে এর অর্থ এই নয় যে সমগ্র উম্মত ধ্বংস হয়ে গেছে। কেননা আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়, অবিচলতা এবং সত্যের ওপর বিজয়ী থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুতরাং তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য ও কার্যকর, ঠিক তেমনিভাবে কিছু মুসলমানের অন্য জাতির রীতি-নীতি অনুসরণে লিপ্ত হওয়া সংক্রান্ত আল্লাহর ফয়সালাও কার্যকর।
একইভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই সংবাদ প্রদান করা যে, তাঁর উম্মত পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি অনুসরণ করবে—এটি মূলত নিষেধ, সতর্কীকরণ এবং প্রতিরোধের উপায় অবলম্বনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। আর সেই উপায় হলো মহান আল্লাহর কিতাবকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করা, সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করা, দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন (বিদআত) থেকে সতর্ক থাকা এবং ভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতির কারণসমূহ থেকে বেঁচে থাকা।
এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুদৃঢ় ইলমি শৈলী এবং বলিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে এই দুটি মূলনীতিকে স্পষ্ট করতে এবং এ দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি পাঠককে এক স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ধারণা প্রদান করে। এটি এই গ্রন্থের অবশিষ্ট অধ্যায়গুলো বোঝার ও অনুধাবনের জন্য একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার, যার সবটুকুই আবর্তিত হয়েছে মুসলিমদের অন্যদের সাদৃশ্য গ্রহণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে—এবং এ বিষয়ে যা কিছু সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, এর প্রভাব ও ফলাফল এবং তা থেকে বাঁচার উপায়সমূহের বর্ণনায়।