(খণ্ড: ১) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ البرزالي المقتفي لتاريخ أبي شامة - ت العثيمين   (علم الدين البرزالي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المقتفي لتاريخ أبي شامة

المؤلف: علم الدين القاسم بن محمد البرزالي (665 - 739 هـ)

حققه وعلق عليه: د عبد الرحمن بن سليمان العثيمين [ت 1436 هـ]- د تركي بن فهد بن عبد الله آل سعود - د بشار عواد معروف

[حقق عبد الرحمن العثيمين المجلد 1 - 2 (حتى عام 689 هـ) ثم توفي -رحمه الله-، وأكمل الكتاب بشار عواد]

الناشر: الآثار الشرقية للنشر والتوزيع (عمان - الأردن)، دار ابن حزم (بيروت - لبنان)

الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م

عدد الأجزاء: 6 (5 والفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الأولى 1444

আল-বিরজালী রচিত ইতিহাস যা আবু শামার ইতিহাসের অনুসারী - ওসাইমীনের সম্পাদনা   (আলামুদ্দিন আল-বিরজালী)

বিভাগ: জীবনী ও জীবনীগ্রন্থ


বই: আল-মুগতাফী লি-তারীখি আবী শামা

লেখক: আলামুদ্দিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-বিরজালী (৬৬৫ - ৭৩৯ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: ড. আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-ওসাইমীন [মৃত্যু ১৪৩৬ হিজরি]- ড. তুর্কি বিন ফাহাদ বিন আব্দুল্লাহ আল সৌদ - ড. বাশার আওয়াদ মারুফ

[আব্দুর রহমান আল-ওসাইমীন ১ম - ২য় খণ্ড (৬৮৯ হিজরি সাল পর্যন্ত) সম্পাদনা করেছেন, এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন-, এবং বাশার আওয়াদ বইটি সম্পন্ন করেন]

প্রকাশক: আল-আসার আল-শারকিয়্যাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (আম্মান - জর্ডান), দার ইবনে হাজম (বৈরুত - লেবানন)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৬ (৫ এবং সূচিপত্রসমূহ)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল উলা ১৪৪৪

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٦)
علمُ التّراجم والرجال من أعسَر فنُون التَّاريخ؛ لأنّ الإنسان يستطيع

أن يكون مؤرخًا إذا كان له هَوًى ودراسةٌ في التاريخ، ولَكنه لا يستطيع

أن يَكون محقِّقًا بارعًا متقنًا في علم الرِّجال والتَّراجم ما لم يَكن واسعَ الحفظِ،

حافِظَ الذِّكر، عالمًا بسِيَر الرِّجال، مطَّلعا على عُصُورهم، وصِلَاتِ بعضِهم

ببَعض ومن السُّهولة بمكانٍ أن يَكون محقِّقُ التَّراجم مؤرِّخًا، لأنَّ مَادَّتَهُ

أوسَع، وحافِظتَه أجْمَع، ومَيْدانَه أفسَح.

 

علّامَة العِراق

الدكتور مصطفى جَوادَ

يرحمه الله
জীবনী ও বর্ণনাকারী-বিজ্ঞান ইতিহাসের কঠিনতম শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ একজন মানুষ সক্ষম হতে পারেন

ঐতিহাসিক হতে যদি ইতিহাসের প্রতি তার অনুরাগ ও গবেষণা থাকে, কিন্তু তিনি সক্ষম হতে পারেন না

বর্ণনাকারী ও জীবনী-বিজ্ঞানে একজন দক্ষ, নিপুণ ও পারদর্শী গবেষক হতে যতক্ষণ না তিনি বিশাল স্মৃতির অধিকারী হন,

প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, ব্যক্তিদের জীবনচরিত সম্পর্কে প্রাজ্ঞ এবং তাঁদের যুগ ও একে অপরের সাথে তাঁদের সম্পর্কের

ব্যাপারে সম্যক অবগত হন। আর একজন জীবনী-গবেষকের পক্ষে ঐতিহাসিক হওয়া অত্যন্ত সহজ, কারণ তার উপাদান

অনেক ব্যাপক, তার স্মৃতিশক্তি অধিকতর সংগৃহীত এবং তার বিচরণক্ষেত্র অত্যন্ত প্রশস্ত।

 

ইরাকের প্রখ্যাত পণ্ডিত

ডক্টর মুস্তাফা জাওয়াদ

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন
(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة التحقيق

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله الذي هَدانا لهذا وما كُنّا لنَهتَديَ لولا أنْ هَدانا اللهُ، الحمدُ لله نَحْمَدُه ونَسْتَعينُهُ ونَسْتَغْفرُهُ، ونعوذُ بالله من شرورِ أنفسِنا ومن سيئات أعمالِنا، مَن يَهْدِه اللهُ فلا مُضِل له، ومن يُضْلِلْ فلا هاديَ له، وأشهدُ أن لا إلهَ إلا اللهُ وحدَهُ لا شريكَ له إلهًا صَمَدًا، وأشهدُ أن سيِّدَنا وإِمامَنا وقُدْوَتَنا وأُسوتَنا وشَفيعَا وحَبيبَنا محمدًا عبدُهُ ورسولُهُ، بعثَهُ اللهُ بالهدَى ودينِ الحَقِّ ليُظهِرَهُ على الدَّينِ كُلَّه ولو كَرِهَ المشركون.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد:

فهذه مقدمة وجيزة في علم الدين البِرْزالي وكتابه النافع "المقتفي لتاريخ أبي شامة"، الذي بدأ بتحقيقه صديقنا الصدوق العلامة النحرير المحقق المدقق الشيخ الأستاذ الدكتور عبد الرحمن بن سُليمان العثيمين، طيّب الله ثراه، ثم شاءَ اللهُ، ولا راد لمشيئته، أن يختاره إلى جواره قبل أن ينجز تحقيقه مع تلميذه النجيب سمو الأمير العالم الأستاذ الدكتور تركي بن فهد بن عبد الله بن عبد الرحمن آل سعود حفظه الله وأدام نعماه، فأتممناه أنا والدكتور تركي.
সম্পাদকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আল্লাহ যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা হেদায়াত পেতাম না। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের ইমাম, আমাদের আদর্শ, আমাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, আমাদের সুপারিশকারী এবং আমাদের প্রিয়তম মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

{হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সফলতা লাভ করবে।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর:

এটি ইলমুদ্দীন আল-বিরজালী এবং তাঁর উপকারী গ্রন্থ "আল-মুকতাফি লি-তারীখি আবি শামা" সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা। এর সম্পাদনার কাজ শুরু করেছিলেন আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, প্রাজ্ঞ আল্লামা, নিপুণ ও সূক্ষ্মদর্শী গবেষক শায়খ প্রফেসর ডক্টর আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উসাইমীন, আল্লাহ তাঁর মাটিকে সুগন্ধিময় করুন (কবরকে জান্নাতবাসী করুন)। অতঃপর আল্লাহ চাইলেন -আর তাঁর ইচ্ছাকে রদ করার কেউ নেই- যে, তিনি তাঁর মেধাবী ছাত্র মহামান্য আমির, আলেম, প্রফেসর ডক্টর তুর্কি বিন ফাহদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-সাউদ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর নেয়ামতসমূহ অব্যাহত রাখুন) এর সাথে এই সম্পাদনা সম্পন্ন করার পূর্বেই আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাবেন। অতঃপর আমি এবং ডক্টর তুর্কি এটি সম্পন্ন করেছি।
(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٨)
وقد جعلنا هذه المقدمة في ثلاثة فصول، أولها في علم الدين البرزالي، وهي سيرة مختصرة مُعْتَصرة تناولنا فيها اسمه ونسبه وسلفه، ثم مولده وعناية والده به، وحفظه للقرآن العظيم، وطلبه للعلم، ورحلاته، ونكبته بأولاده الذين قضوا جميعًا في حياته، ووفاته، ومنزلته العلمية المتمثلة بمؤلفاته وتكوينه الفكري، ووظائفه، وآراء العلماء فيه.

أما الفصل الثاني فتناول كتابه "المقتفي لتاريخ أبي شامة"، بحثنا فيه عنوان الكتاب، ونطاقه وعدد مجلداته، ومنهجه، وموارده، وأهمية هذا الكتاب من حيث صار المصدر الأول لهذه الفترة من تاريخ الإسلام، وتفرده بكثير من الحوادث والتراجم خاصة، وسجلًا متميزًا لمسيرة رفيق دربه الإمام المجدد شيخ الإسلام تقي الدين ابن تيمية رضي الله عنه.

وعُنِيَ الفصلُ الثالث بمنهجنا في تحقيق هذا الكتاب، فوصفنا نسخته الخطية، والدواعي التي دعت صديقنا العلامة العثيمين يرحمه الله إلى العناية به، وقيامه صحبة صديقه ووديده الأمير تركي بالبدء بتحقيقه فأنجزا منه ما يزيد قليلًا عن ربعه، ثم قيامنا أنا وسمو الأمير تركي بإنجاز بقيته، وشرحنا بإيجاز عملنا في الكتاب، وقدمنا نموذجًا من التصحيفات والتحريفات والسقطات الواقعات في ثلاث سنوات (690 - 692 هـ) فقط من طبعة المكتبة العصرية، لبيان فساد تلك الطبعة بحيث أصبحت الاستفادة منها منعدمة.

اللهم إنا نسألك أن تتقبل منا عملنا هذا وتجنبنا مواطن الزلل، وتمن علينا بالصحة والتمكين، وأن تثبتنا بقولك الثابت في الحياة الدنيا والآخرة، وأن تهب لنا من أمرنا رشدًا، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
আমরা এই ভূমিকাটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদটি ‘আলামুদ্দীন আল-বিরজালী সম্পর্কে, যা একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপিত জীবনী; যেখানে আমরা তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও পূর্বপুরুষদের কথা আলোচনা করেছি। এরপর তাঁর জন্ম, তাঁর প্রতি তাঁর পিতার বিশেষ যত্ন, সুমহান কুরআন হিফজ করা, জ্ঞান অন্বেষণ, সফরসমূহ এবং তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সকল সন্তানের ইন্তেকালজনিত মুসিবত, তাঁর মৃত্যু, তাঁর গ্রন্থাবলি ও চিন্তা-চেতনার আলোকে তাঁর ইলমী মাকাম, তাঁর কর্মজীবন এবং তাঁকে নিয়ে উলামায়ে কেরামের অভিমতগুলো আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘আল-মুকতাফী লি-তারীখি আবী শামাহ’ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে আমরা বইটির শিরোনাম, এর পরিধি ও খণ্ড সংখ্যা, লিখন পদ্ধতি, উৎসসমূহ এবং এই কিতাবটির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি; বিশেষ করে এটি ইসলামের ইতিহাসের এই সময়ের জন্য প্রধান উৎস হয়ে ওঠা এবং বিশেষ কিছু ঘটনা ও জীবনীর বর্ণনায় এর অনন্যতার কারণে। এছাড়া এটি তাঁর সফরসঙ্গী মুজাদ্দিদ ইমাম শাইখুল ইসলাম তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনযাত্রার এক অনন্য দলিলাদি হিসেবেও বিবেচিত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে এই কিতাবটি সম্পাদনায় (তাহকীক) আমাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে আমরা কিতাবটির পাণ্ডুলিপির বর্ণনা দিয়েছি এবং আমাদের বন্ধু আল্লামা উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) কেন এটির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন তার কারণ উল্লেখ করেছি। তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমির তুর্কি এর সম্পাদনার কাজ শুরু করেছিলেন এবং এর চারভাগের কিছুটা বেশি অংশ সম্পন্ন করেছিলেন। পরবর্তীতে আমি ও মহামান্য আমির তুর্কি মিলে কিতাবটির অবশিষ্টাংশ সম্পন্ন করি। আমরা বইটিতে আমাদের কাজের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি এবং মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ-এর সংস্করণে মাত্র তিন বছরের (৬৯০-৬৯২ হিজরি) মধ্যে সংঘটিত ভুল বানান, বিকৃতি এবং বাদ পড়ে যাওয়া অংশগুলোর কিছু নমুনা তুলে ধরেছি, যাতে সেই সংস্করণের অসারতা স্পষ্ট হয়; কারণ বর্তমানে সেটি থেকে উপকৃত হওয়া প্রায় অসম্ভব।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করি আপনি আমাদের এই কাজ কবুল করে নিন এবং আমাদের ভুলভ্রান্তি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমাদের সুস্থতা ও সক্ষমতা দান করুন। আপনি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে শাশ্বত বাণীর ওপর অবিচল রাখুন এবং আমাদের কার্যাবলিতে সঠিক দিকনির্দেশনা দান করুন। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌الفصل الأول علم الدين البرزالي 665 - 739 هـ

‌‌اسمه ونسبه:

هو علم الدين القاسم(1) بن محمد بن يوسف بن محمد بن يوسف بن محمد بن أبي يَدّاس(2) البِرْزاليُّ(3) الإشبيليُّ الدمشقيُّ الشافعيُّ.

وأول من قَدِمَ المشرق من هذه العائلة هو جد والده زكي الدين أبو عبد الله محمد بن يوسف بن محمد بن أبي يَدّاس البِرْزالي(4) (577 - 636 هـ).

--------------------------------------------

(1) ترجم الجم الغفير من القدماء والمعاصرين، وقد ترجمه رفاقه وتلامذته، ومن أبرزهم الذهبي في كتبه وأفضلها ما في معجم الشيوخ 2/ 115 (635)، وذيل سير أعلام النبلاء 359 - 363، وتذكرة الحفاظ 4/ 1501، وابن فضل الله العمري في مسالك الأبصار 5/ 547 - 553 (113)، والوادي آشي في برنامجه 96، والصفدي في الوافي بالوفيات 24/ 161 - 163، وأعيان العصر 4/ 49 - 54، وابن شاكر في فوات الوفيات 3/ 196 - 198، واليافعي في مرآة الجنان 4/ 303، وتاج الدين السبكي في طبقاته الكبرى 10/ 381 - 383 (1406)، ومعجم شيوخه 319 - 329 (بتحقيقنا)، وذيل التذكرة للحسيني 19، وطبقات الشافعية للإسنوي 1/ 292، والبداية والنهاية لابن كثير 16/ 288، وتذكرة النبيه لابن حبيب 2/ 301 - 303 وغيرهم، ولصديقا الدكتور معن العيساوي نزيل عرعر دراسة ماتعة عنه، نال بها الرتبة العلمية.

(2) قيده الزكي المنذري في ترجمة والد جده زكي الدين محمد بن بوسف البرزالي، فقال: "بفتح الياء آخر الحروف وتشديد الدال المهملة وفتحها وبعد الألف سين مهملة" (التكملة 3/ الترجمة 2893)، وكذا ضبطه ابن نقطة في إكمال الإكمال 6/ 53، وعنهما أخذ الناس.

(3) منسوب إلى برزالة - بكر الباء الموحدة - بطن من البربر، قيده السيد الزبيدي في تاج العروس 28/ 74، وقبله الصفدي في أعيان العصر 4/ 49.

(4) ترجمه في: إكمال الإكمال 6/ 53، والتكملة المنذرية 3/ الترجمة 2893، وذيل الروضتين 168، وتاريخ إربل 1/ 300، والتكملة الأبارية 2/ 350، والمستملح (302)، وتاريخ الإسلام 14/ 224، وسير أعلام النبلاء 23/ 55، وتذكرة الحفاظ 4/ 1423، والعبر 5/ 151، والوافي بالوفيات 5/ 252، والبداية والنهاية 13/ 153، ومرآة الجنان 4/ 94، والنجوم الزاهرة 6/ 314، ومقدمة "المشيخة البغدادية" لابن مسلمة؛ تحقيق الشيخ كامران الدلوي بإشرافنا (دار الغرب، بيروت 2002 م) وغيرها.

প্রথম পরিচ্ছেদ: আলামুদ্দিন আল-বারজালি ৬৬৫ - ৭৩৯ হিজরি

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আলামুদ্দিন আল-কাসিম(১) ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি ইয়াদাস আল-বারজালি আল-ইশবিলি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি।

এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম প্রাচ্যে আগমন করেন, তিনি হলেন তাঁর প্রপিতামহ জাকি উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি ইয়াদাস আল-বারজালি (৫৭৭ - ৬৩৬ হিজরি)।

--------------------------------------------

(১) প্রাচীন ও সমসাময়িকদের এক বিশাল দল তাঁর জীবনী রচনা করেছেন। তাঁর সহকর্মী ও ছাত্ররা তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আয-যাহাবি তাঁর গ্রন্থসমূহে; আর এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো মু'জামুশ শুয়ুখ ২/১১৫ (৬৩৫), যাইলু সিয়ারি আ'লামিন নুবালা ৩৫৯ - ৩৬৩, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৫০১। এছাড়াও ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি 'মাসালিকুল আবসার' ৫/৫৪৭ - ৫৫৩ (১১৩) গ্রন্থে, আল-ওয়াদি আশি তাঁর 'বারনামাজ' ৯৬ পৃষ্ঠায়, আস-সাফাদি 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' ২৪/১৬১ - ১৬৩ এবং 'আ'ইয়ানুল আসর' ৪/৪৯ - ৫৪ গ্রন্থে, ইবনে শাকির 'ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত' ৩/১৯৬ - ১৯৮ গ্রন্থে, আল-ইয়াফিয়ি 'মিরআতুল জিনান' ৪/৩০৩ গ্রন্থে, তাজউদ্দিন আস-সুবকি তাঁর 'তাবাকাতুল কুবরা' ১০/৩৮১ - ৩৮৩ (১৪০৬) এবং তাঁর 'মু'জামু শুয়ুখিহি' ৩১৯ - ৩২৯ (আমাদের সম্পাদনায়) গ্রন্থে, আল-হুসাইনি 'যাইলুত তাযকিরা' ১৯ পৃষ্ঠায়, আল-ইসনাভি 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' ১/২৯২ গ্রন্থে, ইবনে কাসির 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' ১৬/২৮৮ গ্রন্থে, ইবনে হাবিব 'তাযকিরাতুন নাবিহ' ২/৩০১ - ৩০৩ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা। আমাদের বন্ধু ডক্টর মা'ন আল-ঈসাউয়ি, যিনি আরআরের বাসিন্দা, তাঁর সম্পর্কে একটি চমৎকার গবেষণা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি উচ্চতর শিক্ষাগত ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

(২) জাকি আল-মুনযিরি তাঁর প্রপিতামহ জাকি উদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-বারজালির জীবনীতে এটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "ইয়াহ বর্ণে ফাতহা, দাল বর্ণে তাশদিদ ও ফাতহা, এরপর আলিফ এবং সবশেষে সিন বর্ণ।" (আত-তাকমিলা ৩/জীবনী ২৮৯৩)। একইভাবে ইবনে নুকতাহ 'ইকমালুল ইকমাল' ৬/৫৩ গ্রন্থে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁদের থেকেই পরবর্তীগণ তা গ্রহণ করেছেন।

(৩) এটি বারজালাহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত—বা বর্ণে কাসরা (জের) সহ—যা বার্বার জাতির একটি শাখা। আস-সাইয়্যিদ আয-যাবিদি 'তাজুল আরুস' ২৮/৭৪ গ্রন্থে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর আগে আস-সাফাদি 'আ'ইয়ানুল আসর' ৪/৪৯ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে: ইকমালুল ইকমাল ৬/৫৩, আত-তাকমিলা আল-মুনযিরিয়্যাহ ৩/জীবনী ২৮৯৩, যাইলুর রওদাতাইন ১৬৮, তারিখু ইর্বিল ১/৩০০, আত-তাকমিলা আল-আব্বারিয়্যাহ ২/৩৫০, আল-মুস্তামলিহ (৩০২), তারিখুল ইসলাম ১৪/২২৪, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২৩/৫৫, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪২৩, আল-ইবার ৫/১৫১, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৫/২৫২, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১৩/১৫৩, মিরআতুল জিনান ৪/৯৪, আন-নুজুমুজ যাহিরাহ ৬/৩১৪, এবং ইবনে মাসলামাহ রচিত 'আল-মাশইয়াহাতুল বাগদাদিয়্যাহ'-এর ভূমিকা; যা আমাদের তত্ত্বাবধানে শায়খ কামরান আদ-দিলউয়ি সম্পাদনা করেছেন (দারুল গারব, বৈরুত ২০০২ খ্রি.) এবং অন্যান্য গ্রন্থে।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
قرأ زكي الدين ببلده، وحين بلغ الخامسة والعشرين من عمره رحل في طلب العلم رحلة طويلة لم يعد بعدها إلى بلده الأندلس، وكان أول قدومه إلى الإسكندرية سنة 602 هـ(1) حيث اتصل بعالمها المالكي الكبير علي بن المفضل المقدسي المتوفى سنة 611 هـ(2) فلازمه مرافقًا للحافظ زكي الدين المنذري المتوفى سنة 656 هـ(3). كما سمع الحديث بالإسكندرية أيضًا من عبد الله بن عبد الجبار العثماني المتوفى سنة 614 هـ(4). وسمع بالقاهرة من القاضي عبد الله بن مجلي المتوفى سنة 613 هـ(5). وحج، وجاور بمكة سنة 604 هـ، وسمع بها من زاهر بن رستم المتوفى سنة 609 هـ(6)، ويونس بن يحيى الهاشمي المتوفى سنة 608 هـ(7)، وأبي الفتوح نصر بن محمد الحُصْري المتوفى سنة 619 هـ(8).

وفي سنة 605 هـ توجه إلى دمشق فسمع بها من العلامة أبي اليُمن زيد بن الحسن الكندي المتوفى 613 هـ(9)، وقاضي القضاة عبد الصمد بن محمد بن أبي الفضل الأنصاري المعروف بابن الحرستاني المتوفى سنة 614 هـ(10)، والخضر بن كامل بن سالم بن سبيع الخاتوني الدلال المعبر المتوفى سنة

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام 14/ 224، وسير أعلام النبلاء 23/ 55.

(2) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1354.

(3) التكملة المنذرية 3/ الترجمة 2893.

(4) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1569.

(5) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1511.

(6) التقييد لابن نقطة 273، وذيل تاريخ مدينة السلام لابن الدبيثي 273.

(7) سير أعلام النبلاء 22/ 12.

(8) تاريخ الإسلام 13/ 588.

(9) سير أعلام النبلاء 22/ 34.

(10) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1568، وتاريخ الإسلام 13/ 364.

জাকিউদ্দীন তার নিজ দেশে পড়াশোনা করেন, এবং যখন তার বয়স পঁচিশ বছর হয়, তখন তিনি ইলম অন্বেষণে দীর্ঘ সফরে বের হন। এরপর তিনি আর তার নিজ দেশ আন্দালুসে ফিরে যাননি। ৬০২ হিজরিতে তিনি সর্বপ্রথম আলেকজান্দ্রিয়ায় আগমন করেন(১) যেখানে তিনি সেখানের প্রখ্যাত মালিকি আলিম আলি বিন আল-মুফাযযাল আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬১১ হি.)-এর সংস্পর্শে আসেন(২)। সেখানে তিনি হাফিজ জাকিউদ্দীন আল-মুনজিরি (মৃত্যু: ৬৫৬ হি.)-এর সঙ্গী হিসেবে তাঁর নিকট অবস্থান করেন(৩)। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় আবদুল্লাহ বিন আবদুল জাব্বার আল-উসমানি (মৃত্যু: ৬১৪ হি.)-এর কাছ থেকেও হাদিস শ্রবণ করেন(৪)। আর কায়রোতে তিনি কাজী আবদুল্লাহ বিন মুজাল্লি (মৃত্যু: ৬১৩ হি.)-এর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন(৫)। তিনি হজ পালন করেন এবং ৬০৪ হিজরিতে মক্কায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি যাহির বিন রুস্তম (মৃত্যু: ৬০৯ হি.)(৬), ইউনুস বিন ইয়াহইয়া আল-হাশিমী (মৃত্যু: ৬০৮ হি.)(৭) এবং আবুল ফুতুহ নাসর বিন মুহাম্মদ আল-হুসরি (মৃত্যু: ৬১৯ হি.)-এর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন(৮)।

৬০৫ হিজরিতে তিনি দামেস্কের পথে রওনা হন। সেখানে তিনি আল্লামা আবুল ইয়ুমন যায়িদ বিন হাসান আল-কিন্দি (মৃত্যু: ৬১৩ হি.)(৯) এবং প্রধান বিচারপতি আবদুস সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবুল ফযল আল-আনসারী—যিনি ইবনুল হারাসতানি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬১৪ হি.)(১০)—ও আল-খিজর বিন কামিল বিন সালিম বিন সুবাই আল-খাতুনি আদ-দাল্লাল আল-মুআব্বির, যাঁর মৃত্যু...

--------------------------------------------

(১) তারিখুল ইসলাম ১৪/২২৪ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/৫৫।

(২) আত-তাকমিলাতুল মুনজিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১৩৫৪।

(৩) আত-তাকমিলাতুল মুনজিরিয়্যাহ ৩/ জীবনী ২৮৯৩।

(৪) আত-তাকমিলাতুল মুনজিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১৫৬৯।

(৫) আত-তাকমিলাতুল মুনজিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১৫১১।

(৬) আত-তাকয়িদ লি-ইবনি নুকতাহ ২৭৩ এবং যাইলে তারিখু মদিনাতিস সালাম লি-ইবনিদ দুবাইসী ২৭৩।

(৭) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১২।

(৮) তারিখুল ইসলাম ১৩/৫৮৮।

(৯) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/৩৪।

(১০) আত-তাকমিলাতুল মুনজিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১৫৬৮ এবং তারিখুল ইসলাম ১৩/৩৬৪।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١١)
608 هـ(1)، وعبد الجليل بن أبي غالب بن أبي المعالي الأصبهاني السريجاني المتوفى سنة 610 هـ(2)، وداود بن أحمد ابن ملاعب البغدادي الأزجي المتوفى سنة 616 هـ(3) وموسى ابن الشيخ عبد القادر بن أبي صالح الجيلي المتوفى سنة 618 هـ(4).

ثم عاد البرزالي إلى مصر، ومنها توجه إلى بغداد عاصمة الدنيا العربية الإسلامية، وموطن العلم والعلماء، فسمع بها من الحافظ أبي محمد عبد العزيز بن الأخضر المتوفى سنة 611 هـ وطبقته(5). وتوجه من بغداد في رحلة إلى المشرق دامت خمس سنوات، سمع فيها من عشرات من متعيني الرواة، فسمع بنيسابور من أبي الحسن المؤيد بن محمد الطوسي المتوفى سنة 617 هـ(6)، وأبي بكر القاسم بن عبد الله بن عمر الصفار المتوفى سنة 618 هـ(7)، وغيرهما. وسمع بهراة من أبي رَوْح عبد المعز بن محمد بن أبي الفضل الهَرَوي المتوفى شهيدًا سنة 618 هـ(8) وغيره. وسمع بأصبهان من تلاميذ زاهر بن طاهر الشَّحّامي، مثل عين الشمس بنت أحمد بن أبي الفرج الثقفية المتوفاة سنة 616 هـ(9)، وغيرها. وسمع بمرو من أبي المظفر

--------------------------------------------

(1) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1213، وتاريخ الإسلام 13/ 1190

(2) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1298، وسير أعلام النبلاء 22/ 21.

(3) تاريخ الإسلام 13/ 467، وسير أعلام النبلاء 22/ 90.

(4) تاريخ الإسلام 13/ 564، وسير أعلام النبلاء 22/ 150.

(5) التكملة المنذرية 3/ الترجمة 1893، وسير أعلام النبلاء 22/ 31.

(6) التكملة المنذرية 3/ الترجمة 1765، وسير أعلام النبلاء 22/ 104.

(7) تاريخ الإسلام 13/ 552، وسير أعلام النبلاء 22/ 109.

(8) تاريخ الإسلام 13/ 547، والعبر 5/ 74.

(9) التكملة المنذرية 2/ الترجمة 1288، وسير أعلام النبلاء 22/ 33.

৬০৮ হিজরি(১), এবং আব্দুল জলীল বিন আবি গালিব বিন আবিল মা'আলি আল-আসবাহানি আস-সুরিজানি, যিনি ৬১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(২), এবং দাউদ বিন আহমাদ ইবনে মুলায়িব আল-বাগদাদি আল-আযজি, যিনি ৬১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৩) এবং শায়খ আব্দুল কাদির বিন আবি সালিহ আল-জিলির পুত্র মুসা, যিনি ৬১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৪)।

অতঃপর আল-বারযালি মিসরে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে আরব-ইসলামি বিশ্বের রাজধানী এবং ইলম ও আলেমদের আবাসস্থল বাগদাদের দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আল-আখদার (মৃত্যু ৬১১ হিজরি) এবং তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন(৫)। তিনি বাগদাদ থেকে প্রাচ্যের অভিমুখে এমন এক সফরে বের হন যা পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল, সেখানে তিনি বহু সংখ্যক বিশিষ্ট বর্ণনাকারীর নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তিনি নিশাপুরে আবুল হাসান আল-মুয়াইয়াদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসি (মৃত্যু ৬১৭ হিজরি)(৬) এবং আবু বকর আল-কাসিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর আস-সাফফার (মৃত্যু ৬১৮ হিজরি)(৭) ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি হেরাতে আবু রাওহ আব্দুল মুয়িয বিন মুহাম্মদ বিন আবিল ফজল আল-হারাউয়ি—যিনি ৬১৮ হিজরিতে শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন—(৮) এবং অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি আসবাহানে যাহির বিন তাহির আশ-শাহহামির ছাত্রদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন, যেমন আইনুশ শামস বিনতে আহমাদ বিন আবিল ফারাজ আস-সাকাফিয়্যাহ (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি)(৯) এবং অন্যান্যরা। তিনি মার্ভে আবু আল-মুযাফফর...

--------------------------------------------

(১) আত-তাকমিলাহ আল-মুনযিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১২১৩, এবং তারিখুল ইসলাম ১৩/ ১১৯০

(২) আত-তাকমিলাহ আল-মুনযিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১২৯৮, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ২১।

(৩) তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৪৬৭, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ৯০।

(৪) তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৫৬৪, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ১৫০।

(৫) আত-তাকমিলাহ আল-মুনযিরিয়্যাহ ৩/ জীবনী ১৮৯৩, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ৩১।

(৬) আত-তাকমিলাহ আল-মুনযিরিয়্যাহ ৩/ জীবনী ১৭৬৫, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ১০৪।

(৭) তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৫৫২, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ১০৯।

(৮) তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৫৪৭, এবং আল-ইবার ৫/ ৭৪।

(৯) আত-তাকমিলাহ আল-মুনযিরিয়্যাহ ২/ জীবনী ১২৮৮, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ৩৩।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
عبد الرحيم بن عبد الكريم ابن السمعاني المفقود سنة 618 هـ(1) وجماعة. وسمع بهمذان من عبد البر بن أبي العلاء الهمذاني المتوفى سنة 624 هـ(2)، وغيره. وسمع في أكثر البلدان التي رحل إليها، مثل الري، والموصل، وتكريت، وإربل، وحلب، وحران حتى قال الذهبي(3): "وكتب عمن دَبَّ ودرج بخطه المليح".

وقد عاد زكي الدين البرزالي إلى دمشق ليتخذها موطنًا إلى جمن وفاته، فصار إمامًا في مسجد فلوس الذي كان يقع في طرف ميدان الحصى، وسكن هناك، وولي مشيخة الحديث بمشهد عروة(4). ولم يفتر عن السماع وطلب العلم كما هو شأن العلماء الذين وقفوا حياتهم وأوقاتهم على طلب العلم الذي يبتغون به مرضاة الله تعالى.

وقد احتل البرزالي منزلة علمية متميزة بين علماء عصره، فقد ذكره رفيقه الزكي المنذري في التكملة، وقال: "وكتب الكثير، وجمع مجاميع حسنة، وخرّج على جماعة من الشيوخ، وكان يحفظ ويذاكر مذاكرة حسنة، وصحبنا مدة عند شيخنا الحافظ أبي الحسن المقدسي بالقاهرة، وحدث، سمعت منه وسمع مني"(5).

وقال الحافظ معين الدين ابن نقطة الحنبلي المتوفى قبله بسبع سنوات: "وكان ثقةً يحفظ ويذاكر"(6).

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام 13/ 505، وسير أعلام النبلاء 22/ 107.

(2) تاريخ الإسلام 13/ 767، وسير أعلام النبلاء 22/ 263.

(3) تاريخ الإسلام 14/ 225، وسير أعلام النبلاء 23/ 56.

(4) تاريخ الإسلام 14/ 225.

(5) التكملة 3/ الترجمة 2893.

(6) إكمال الإكمال 6/ 53 ونقله عنه ابن الأبار في التكملة 2/ 351.

আবদুর রহীম বিন আবদুল করীম ইবনে আল-সামআনী, যিনি ৬১৮ হিজরীতে নিখোঁজ হন(১) এবং আরও একদল। তিনি হামাদানে আবদুল বার বিন আবুল আলা আল-হামাদানী (মৃত্যু ৬২৪ হিজরী)(২) এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন। তিনি যে সকল দেশ ও শহরে সফর করেছিলেন তার অধিকাংশতেই হাদিস শ্রবণ করেছিলেন, যেমন আর-রায়, মসুল, তিকরীত, ইরবিল, আলেপ্পো এবং হাররান; এমনকি আয-যাহাবী(৩) বলেছেন: "তিনি প্রতিটি বিচরণকারী ও পদচারণকারীর (তথা সমসাময়িক ছোট-বড় সকলের) নিকট থেকে তার সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখেছিলেন।"

যাকী উদ্দীন আল-বিরযালী দামেস্কে ফিরে আসেন এবং তাঁর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত একে স্থায়ী আবাস হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে তিনি 'মসজিদে ফুলুস'-এর ইমাম হন যা 'ময়দানুল হাসা'র এক প্রান্তে অবস্থিত ছিল, সেখানে বসবাস করেন এবং 'মাশহাদে উরওয়াহ'-তে হাদিসের শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন(৪)। তিনি হাদিস শ্রবণ এবং ইলম অন্বেষণে কখনও শিথিল হননি, যেমনটি সেই সকল আলেমদের বৈশিষ্ট্য যারা তাদের জীবন ও সময়কে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণে উৎসর্গ করেছেন।

আল-বিরযালী তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র ইলমী মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁর সহকর্মী যাকী আল-মুনযিরী 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি প্রচুর লিখেছেন, উত্তম সংকলনসমূহ প্রস্তুত করেছেন এবং একদল শায়খের নিকট থেকে তাখরীজ করেছেন। তিনি মুখস্থ রাখতেন এবং উত্তমরূপে মুযাকারা (আলোচনা) করতেন। কায়রোতে আমাদের শায়খ হাফেজ আবুল হাসান আল-মাকদিসীর নিকট তিনি দীর্ঘকাল আমাদের সাথে ছিলেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন; আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি এবং তিনিও আমার নিকট থেকে শুনেছেন"(৫)।

হাফেজ মুঈন উদ্দীন ইবনে নুকতাহ আল-হাম্বলী, যিনি তাঁর সাত বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন, বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, মুখস্থ রাখতেন এবং মুযাকারা করতেন"(৬)।

--------------------------------------------

(১) তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৫০৫, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/ ১০৭।

(২) তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৭৬৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/ ২৬৩।

(৩) তারিখুল ইসলাম ১৪/ ২২৫, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ৫৬।

(৪) তারিখুল ইসলাম ১৪/ ২২৫।

(৫) আত-তাকমিলা ৩/ জীবনী ২৮৯৩।

(৬) ইকমালুল ইকমাল ৬/ ৫৩ এবং ইবনুল আব্বার তাঁর থেকে 'আত-তাকমিলা' ২/ ৩৫১ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
وقال الحافظ أبو شامة المقدس المتوفى سنة 665 هـ: "وكان رحمه الله معتنيًا بعلم الحديث، مفيدًا لأصحابه، متواضعًا"(1).

ووصفه الإمام الذهبي بأنه: "الإمام المحدث الحافظ الرحال مفيد الجماعة"(2). وقال في موضع آخر: "وكان مطبوعًا، حسن الأخلاق، بشوش الوجه، متواضعًا، سهل العارية، كثير الاحتمال"(3). وامتدح خطه، فقال: "ونسخ الكثير لنفسه وللناس، بخط حلو مغربي"(4). وذكر المقريزي أنه كتب نسخة من "تاريخ مدينة السلام" للخطيب البغدادي، ونسخة من "تاريخ دمشق" لحافظ الشام أبي القاسم ابن عساكر، وقال: "وجمع مجاميع وذيّل على تاريخ ابن عساكر"(5).

ومن أجل كل ذلك تلمذ عليه جملة من الطلبة صار بعضهم فيما بعد من كبار العلماء، نذكر منهم على سبيل المثال لا الحصر جمال الدين ابن الصابوني المتوفى سنة 680 هـ صاحب كتاب "تكملة إكمال الإكمال"، ومجد الدين ابن العديم المتوفى سنة 677 هـ، وعمر بن يعقوب الإربلي المتوفى سنة 673 هـ، وجمال الدين ابن واصل الحموي المتوفى سنة 697 هـ صاحب كتاب "مفرج الكروب في أخبار بني أيوب" وغيرهم(6).

وفي سنة 636 هـ سافر الزكي البرزالي إلى حلب(7)، فأدركه أجله عند عودته منها في حماة ليلة الرابع عشر من رمضان، ودفن بها(8).

--------------------------------------------

(1) ذيل الروضتين 168.

(2) سير أعلام النبلاء 23/ 55.

(3) تاريخ الإسلام 14/ 225.

(4) سير أعلام النبلاء 23/ 56.

(5) المقتفى 7/ 511 (ط. الثانية).

(6) تاريخ الإسلام 14/ 225، وسير أعلام النبلاء 23/ 56 وغيرهما.

(7) المقتفي 4/ 41.

(8) التكملة المنذرية 3/ الترجمة 2893.

এবং হাফেজ আবু শামা আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) বলেছেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইলমে হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন, তাঁর সঙ্গীদের জন্য উপকারী ছিলেন এবং বিনয়ী ছিলেন"(১)।

ইমাম আল-জাহাবি তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "তিনি ছিলেন ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফেজ, পরিব্রাজক এবং জামায়াতের জন্য উপকারী ব্যক্তি"(২)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন: "তিনি ছিলেন সুরুচিসম্পন্ন, সচ্চরিত্রবান, হাসিখুশি চেহারার অধিকারী, বিনয়ী, বই ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে উদার এবং অত্যন্ত ধৈর্যশীল"(৩)। তিনি তাঁর হস্তাক্ষরের প্রশংসা করে বলেছেন: "তিনি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য মাগরেবি শৈলীর সুন্দর হস্তাক্ষরে প্রচুর অনুলিপি তৈরি করেছিলেন"(৪)। আল-মাকরিজি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি খতিব আল-বাগদাদির 'তারিখু মাদিনাতিস সালাম' এবং শামের হাফেজ আবু কাসিম ইবনে আসাকিরের 'তারিখু দিমাস্ক'-এর অনুলিপি তৈরি করেছিলেন। তিনি আরও বলেন: "তিনি অনেক সংকলন প্রস্তুত করেছিলেন এবং ইবনে আসাকিরের তারিখের ওপর একটি পরিশিষ্ট (যাইল) লিখেছিলেন"(৫)।

এসব গুণের কারণে তাঁর কাছে একদল ছাত্র ইলম অর্জন করেছিলেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীকালে বড় আলিম হয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ (তবে সীমাবদ্ধ নয়) জামালুদ্দিন ইবনুস সাবুনি (মৃত্যু ৬৮০ হিজরি), যিনি 'তাকমিলাতু ইকমালিল ইকমাল' গ্রন্থের রচয়িতা; মাজদুদ্দিন ইবনুল আদিম (মৃত্যু ৬৭৭ হিজরি); উমর বিন ইয়াকুব আল-ইরবিলি (মৃত্যু ৬৭৩ হিজরি); জামালুদ্দিন ইবনে ওয়াসিল আল-হামাউয়ি (মৃত্যু ৬৯৭ হিজরি), যিনি 'মুফাররিজুল কুরুব ফি আখবারি বনি আইয়ুব' গ্রন্থের রচয়িতা এবং আরও অনেকে(৬)।

৬৩৬ হিজরিতে আজ-জাকি আল-বিরজালি আলেপ্পো সফর করেন(৭)। সেখান থেকে ফেরার পথে হামাতে রমজান মাসের চৌদ্দ তারিখ রাতে তাঁর মৃত্যু হয় এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়(৮)।

--------------------------------------------

(১) যাইলে আর-রওদাতাইন ১৬৮।

(২) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২৩/ ৫৫।

(৩) তারিখুল ইসলাম ১৪/ ২২৫।

(৪) সিয়ারু আ'লামিন নুbaলা ২৩/ ৫৬।

(৫) আল-মুকতাফা ৭/ ৫১১ (দ্বিতীয় সংস্করণ)।

(৬) তারিখুল ইসলাম ১৪/ ২২৫, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২৩/ ৫৬ সহ অন্যান্য।

(৭) আল-মুকতাফি ৪/ ৪১।

(৮) আত-তাকমিলা আল-মুনজিরিয়্যাহ ৩/ জীবনী ২৮৯৩।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌جده:

وقد أعقب زكي الدين ولدًا سماه يوسف وكنّاه أبا المحاسن، عُني بالعلم منذ صغره، وتميز، وصار إمامًا بعد أبيه في مسجد فلوس، وتزوج من ابنة العالم المعروف علم الدين القاسم بن أحمد اللورقي الأندلسي، فخلف منها ولدًا سماه محمدًا، وهو والد المؤلف علم الدين البرزالي، قال الذهبي في تاريخ الإسلام: "يوسف بن محمد بن يوسف بن محمد بن أبي يَدّاس المقرئ الفقيه أبو محمد ابن الحافظ زكي الدين البرزالي الإشبيلي الدمشقي الشاهد. سَمَّعه والده الكثير من أبي القاسم ابن صَصْرى، وزين الأمناء، وأبي عبد الله ابن الزَّبيدي، وخلق. ومات ولم يحدث، فإنه مات شابًّا وله إحدى وعشرون سنة أو نحوها، وخلّف ولده العدل بهاء الدين أبا الفضل وله خمس سنين فكفله جده لأمه الشيخ علم الدين أبو محمد القاسم الأندلسي. توفي في جمادى الآخرة"(1) سنة 643 هـ.

وأشار المؤلف إلى جده يوسف هذا في ترجمة العلامة تاج الدين أبي الثناء محمود بن عابد بن الحسين بن محمد بن علي التميمي الصرخدي الحنفي المتوفى في ربيع الآخر من سنة 674 هـ، فقال: "وقرأ عليه جدي شيئًا من كلامه في سنة سبع وعشرين وست مئة"(2).

 

‌‌والده:

وقد ترجم المؤلف لوالده محمد في وفيات سنة 699 هـ وذكر أنه ولد في ثاني عشر رجب سنة 638 هـ(3). ولما كان والده يوسف قد توفي وله خمس سنوات، فقد تولى جده لأمه الشيخ علم الدين القاسم بن أحمد الأندلسي رعايته،

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام 14/ 191.

(2) المقتفي 1/ 473 (423).

(3) المقتفي 3/ 543 (2418).

‌তাঁর পিতামহ:

জাকিউদ্দিনের এক পুত্রসন্তান ছিল যার নাম তিনি রেখেছিলেন ইউসুফ এবং তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) ছিল আবুল মাহাসিন। তিনি শৈশব থেকেই ইলম অর্জনে মনোযোগী ছিলেন এবং বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি তাঁর পিতার পর ফুলুস মসজিদে ইমাম নিযুক্ত হন এবং প্রখ্যাত আলিম আলামুদ্দিন আল-কাসিম ইবন আহমাদ আল-লাওরাকি আল-আন্দালুসির কন্যার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের ঘরে মুহাম্মাদ নামে এক পুত্র জন্মগ্রহণ করে, যিনি গ্রন্থকার আলামুদ্দিন আল-বিরজালির পিতা। আয-যাহাবি ‘তারিখুল ইসলাম’-এ বলেছেন: "ইউসুফ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবি ইয়াদদাস আল-মুকরি আল-ফকিহ আবু মুহাম্মাদ ইবনুল হাফিয জাকিউদ্দিন আল-বিরজালি আল-ইশবিলি আদ-দিমাশকি আশ-শাহিদ। তাঁর পিতা তাঁকে আবুল কাসিম ইবন সাসরা, যাইনুল উমানা, আবু আব্দুল্লাহ ইবন আয-যাবাইদি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে প্রচুর ইলম শ্রবণ করিয়েছিলেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন, কেননা তিনি মাত্র একুশ বছর বা এর কাছাকাছি বয়সে যুবক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তিনি তাঁর ন্যায়পরায়ণ পুত্র বাহাউদ্দিন আবুল ফযলকে রেখে যান, যার বয়স তখন ছিল পাঁচ বছর। ফলে তাঁর মাতামহ শেখ আলামুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম আল-আন্দালুসি তাঁর লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেন। তিনি ৬৪৩ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন।"(১) বছর।

গ্রন্থকার তাঁর এই পিতামহ ইউসুফের কথা আল্লামা তাজউদ্দিন আবুল সানা মাহমুদ ইবন আবিদ ইবনুল হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলি আত-তামিমি আস-সারখাদি আল-হানাফি (যিনি ৬৭৪ হিজরির রবিউল আখের মাসে ইন্তেকাল করেন)-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "আমার পিতামহ ৬২৭ হিজরি সনে তাঁর নিকট তাঁর রচনার কিছু অংশ পাঠ করেছিলেন।"(২)।

 

‌‌তাঁর পিতা:

গ্রন্থকার ৬৯৯ হিজরির মৃত্যুসংবাদ অংশে তাঁর পিতা মুহাম্মাদের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৬৩৮ হিজরির ১২ই রজব জন্মগ্রহণ করেন।(৩)। যেহেতু তাঁর পিতা ইউসুফ তাঁর পাঁচ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছিলেন, তাই তাঁর মাতামহ শেখ আলামুদ্দিন আল-কাসিম ইবন আহমাদ আল-আন্দালুসি তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন,

--------------------------------------------

(১) তারিখুল ইসলাম ১৪/১৯১।

(২) আল-মুকতাফি ১/৪৭৩ (৪২৩)।

(৩) আল-মুকতাফি ৩/৫৪৩ (২৪১৮)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
وهو أحد العلماء الكبار ترجمه العلامة ياقوت الحموي في "معجم الأدباء" وتوفي قبله بخمسة وثلاثين عامًا، فقال: "القاسم بن أحمد بن الموفق أبو محمد الأندلسي اللورقي: يلقب علم الدين، مولده فيما أخبرني عن نفسه في حدود سنة إحدى وستين وخمس مئة. وهو إمام في العربية وعالم بالقرآن والقراءة، اشتغل بالأندلس في صباه، وأتعب نفسه حتى بلغ من العلم مناه، فصار عينًا للزمان ينظر به إلى حقائق الفضائل، فما من علم إلا وقد أخذ منه بأوفر نصيب وحصل منه على أعلى ذروة، وكنت لقيته بمحروسة حلب في سنة ثماني عشرة وست مئة ففزت من لقائه بالأمنية، واقتضبتُ من فوائده كلَّ فضيلةٍ شهية، وحدثني أنه قرأ القرآن بمرسية من بلاد الأندلس على الشيخ أبي عبد الله محمد بن سعيد بن محمد المرادي المرسي وعلى أبي الحسن علي بن يوسف بن الشريك الداني بمرسية، وببلنسية على أبي عبد الله محمد بن أيوب بن محمد بن نوح الغافقي الفقيه وعلى الشيخ المقرئ أبي العباس أحمد بن علي بن محمد بن عون الله الأندلسي، وقرأ النحو على أبي الحسن علي بن الشريك المذكور وابن نوح المذكور. ثم خرج إلى مصر في سنة إحدى وست مئة، فقرأ بها القرآن على الشيخ أبي الجود غياث بن فارس بن مكي اللخمي، وبدمشق على الشيخ الإمام تاج الدين أبي اليمن الكندي قرأ عليه القرآن جميعه بكتاب "المُبهج" تصنيف أبي محمد المقرئ وكتاب سيبويه وكثيرًا من كتب الأدب، وسمع منه أكثر سماعاته كـ "تاريخ الخطيب" و"الحجة" و"أدب الكاتب" وغير ذلك، وكان وروده إلى دمشق سنة ثلاث وست مئة، وببغداد على الشيخ أبي البقاء الحسين بن عبد الله العكبراوي، وسمع الحديث على جماعة منهم.

وأما معرفته بالفقه والأصول وعلوم الأوائل كالمنطق وغيره فهو الغاية فيه.
তিনি ছিলেন অন্যতম একজন মহান আলেম, আল্লামা ইয়াকুত আল-হামাভি তাঁর জীবনী "মুজামুল উদাবা" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইয়াকুতের পঁয়ত্রিশ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন। ইয়াকুত বলেন: "আল-কাসিম ইবনে আহমাদ ইবনে আল-মুওয়াফফাক আবু মুহাম্মাদ আল-আন্দালুসি আল-লাওরাকি: তাঁর উপাধি ছিল আলম উদ্দিন। তিনি আমাকে নিজের সম্পর্কে যা জানিয়েছেন, সেই অনুযায়ী তাঁর জন্ম হয়েছিল পাঁচশত একষট্টি হিজরির কাছাকাছি সময়ে। তিনি ছিলেন আরবি ভাষার একজন ইমাম এবং কুরআন ও কিরাত শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ। শৈশব থেকেই তিনি আন্দালুসে জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং জ্ঞানরাজ্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত নিজেকে কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত রাখেন। ফলে তিনি সময়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হন, যার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের স্বরূপ উন্মোচিত হতো। এমন কোনো জ্ঞান ছিল না যেখান থেকে তিনি পর্যাপ্ত অংশ গ্রহণ করেননি এবং যার সর্বোচ্চ শিখরে তিনি পৌঁছাননি। ৬১৮ হিজরিতে সুরক্ষিত আলেপ্পো শহরে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাঁর সাথে সেই সাক্ষাতের মাধ্যমে আমার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় এবং তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা থেকে আমি প্রতিটি চমৎকার শ্রেষ্ঠত্ব ও কল্যাণ অর্জন করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি আন্দালুসের মুর্সিয়া অঞ্চলে শেখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুরাদি আল-মুরসি এবং মুর্সিয়াতে আবু হাসান আলি ইবনে ইউসুফ ইবনে আশ-শারিক আদ-দানির নিকট কুরআন পাঠ করেছেন। এছাড়া বালেনসিয়া শহরে ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুহ আল-গাফেকি এবং শাইখুল মুকরি আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আউনুল্লাহ আল-আন্দালুসির কাছেও পাঠ গ্রহণ করেছেন। আর তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র পড়েছেন উল্লিখিত আবু হাসান আলি ইবনে আশ-শারিক এবং ইবনে নুহের কাছে। অতঃপর ৬০১ হিজরিতে তিনি মিসরে গমন করেন এবং সেখানে শেখ আবু আল-জুদ গিয়াস ইবনে ফারিস ইবনে মাক্কি আল-লাখমির কাছে কুরআন পাঠ করেন। দামেস্কে তিনি শাইখুল ইমাম তাজউদ্দিন আবু আল-ইয়ামান আল-কিন্দি-এর নিকট আবু মুহাম্মাদ আল-মুকরি রচিত 'আল-মুবহিজ' কিতাব অনুসারে পূর্ণ কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তাঁর কাছে কিতাব সিবওয়াইহ এবং সাহিত্যের অসংখ্য কিতাব পাঠ করেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে অধিকাংশ কিতাব শ্রবণের মাধ্যমে আয়ত্ত করেন, যার মধ্যে ছিল 'তারিখে খাতিব', 'আল-হুজ্জাহ', 'আদাবুল কাতিব' এবং আরও অনেক কিছু। ৬০৩ হিজরিতে তিনি দামেস্কে আগমন করেন। বাগদাদে তিনি শেখ আবু আল-বাকা আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উকবারাভির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং সেখানে একদল আলেমের কাছে হাদিস শ্রবণ করেন।

আর ফিকহ, উসুল এবং প্রাচীনদের জ্ঞান যেমন যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অনন্য ও চূড়ান্ত পর্যায়ের।
(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٦)
وله من التصانيف: كتاب شرح المفصل في عشر مجلدات. وكتاب في شرح قصيدة الشاطبي، وكتاب شرح مقدمة الجزولي مجلدان"(1).

وذكره عز الدين الحسيني في وفيات سنة 661 هـ من صلة التكملة فقال: "وفي السابع من شهر رجب توفي الشيخ الإمام العالم أبو القاسم محمد، ويسمى أيضًا القاسم، ابن أحمد بن الموفق بن جعفر الأندلسي المُرْسيُّ اللُّورقيُّ المقرئ النحويُّ، المنعوتُ بالعَلَم، بدمشق، ودفن من الغد بمقابر باب تُوما.

ومولدُه في سنة خمس وسبعين وخمس مئة.

سمع ببغداد من الحافظ أبي محمد عبد العزيز بن محمود بن الأخضر، وغيره، وبدمشق من العلَّامة أبي اليُمْن زيد بن الحن الكِنْدي، وغيره، وبحلب من الشريف أبي هاشم عبد المطَّلب بن الفَضْل الهاشمي. واشتغلَ بالعربية ببغداد على الشيخ أبي البقاء عبد الله بن الحُسين العكبري، وبدمشق على العلَّامة أبي اليُمْن الكِنْدي. وبرع في ذلك، وشرح كتاب "المُفضَّل" و"مقدِّمة" الجُزُولي وقصيدة الشّاطبي. وكان أحد الفُضلاء المعروفين والعُلماء المشهورين"(2).

وقال الإمام الذهبي في وفيات سنة 661 هـ من تاريخ الإسلام:

"ولد سنة خمس وسبعين وخمس مئة. وقرأ القراءات سنة ثمان وتسعين وبعدها على أبي جعفر أحمد بن علي بن يحيى بن عَوْن الله الحصّار، وأبي عبد الله محمد بن سعيد المُرادي المُرْسي، والقاضي أبي عبد الله محمد بن نوح الغافقي البَلَنْسي، عن قراءتهم على ابن هُذَيْل. وقرأ بمصر القراءات على أبي الجود. وبدمشق على الكِنْدي، وابن باسُوية. وأحكم العربية وبرع

--------------------------------------------

(1) معجم الأدباء 5/ 2188 - 2189.

(2) صلة التكملة 1/ 488 (892).

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: দশ খণ্ডে 'শারহুল মুফাসসাল' গ্রন্থ। শাতীবিয়া কাসিদার ব্যাখ্যামূলক একটি গ্রন্থ এবং 'মুকাদ্দিমাতুল জুজুলি'র ব্যাখ্যা গ্রন্থ দুই খণ্ডে।(১).

ইজ্জুদ্দীন আল-হুসাইনী ৬৬১ হিজরীর মৃত্যু তালিকায় 'সিলাতুত তাকমিলা' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেন: "রজব মাসের সাত তারিখে দামেস্কে শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ -যাঁকে আল-কাসিমও বলা হয়- ইবনে আহমদ ইবনে আল-মুওয়াফফাক ইবনে জাফর আল-আন্দালুসি আল-মুরসি আল-লুরাকি আল-মুকরি আন-নাহবি ইন্তেকাল করেন, যিনি 'আল-আলাম' উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। পরদিন তাঁকে 'বাব তুমা' কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তাঁর জন্ম ছিল পাঁচশত পঁচাত্তর হিজরীতে।

তিনি বাগদাদে হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে মাহমুদ ইবনুল আখদার ও অন্যদের নিকট, দামেস্কে আল্লামা আবু আল-ইয়ুমন যায়েদ ইবনুল হাসান আল-কিন্দি ও অন্যদের নিকট এবং হালাবে শরীফ আবু হাশিম আবদুল মুত্তালিব ইবনুল ফজল আল-হাশিমীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি বাগদাদে শাইখ আবু আল-বাকা আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-উকবারীর নিকট এবং দামেস্কে আল্লামা আবু আল-ইয়ুমন আল-কিন্দির নিকট আরবি ভাষা চর্চা করেন। তিনি এতে বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং 'আল-মুফাসসাল', 'মুকাদ্দিমাতুল জুজুলি' ও শাতীবিয়ার কাসিদার ব্যাখ্যা করেন। তিনি অন্যতম বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতিমান আলেমদের একজন ছিলেন।"(২).

ইমাম আয-যাহাবী তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে ৬৬১ হিজরীর মৃত্যু তালিকায় বলেন:

"তিনি পাঁচশত পঁচাত্তর সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কিরাতসমূহ পাঁচশত আটানব্বই সাল এবং তার পরবর্তী সময়ে আবু জাফর আহমদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আওনুল্লাহ আল-হাসসার, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মুরাদি আল-মুরসি এবং বিচারক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নুহ আল-গাফিকি আল-বালানসির নিকট পাঠ করেন, যারা ইবনে হুযাইলের নিকট কিরাত পাঠ করেছিলেন। তিনি মিশরে আবুল জুদ এবং দামেস্কে আল-কিন্দি ও ইবনে বাসুয়াহ-এর নিকট কিরাত পাঠ করেন। তিনি আরবি ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

--------------------------------------------

(১) মু'জামুল উদাবা ৫/ ২১৮৮ - ২১৮৯।

(২) সিলাতুত তাকমিলা ১/ ৪৮৮ (৮৯২)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٧)
فيها، واجتمع بالجُزُولي وسأله عن مسألة من مقدمته. وسمع ببغداد من أبي محمد ابن الأخضر، وبحلب من الافتخار الهاشمي. وبدمشق من الكِنْدي، وقرأ عليه "كتاب سيبوية" بكماله. واشتغل ببغداد أيضًا على الشيخ أبي البَقَاء. وقرأ علم الكلام والأصلَيْن والفلسفة. وكان خبيرًا بهذه العلوم، قائمًا عليها، مقصودًا بإقرائها.

وَلِيَ مَشْيخة التُّربة العادلية التي شَرْطها القراءات والنَّحو، ودَرَّس بالعزيزية نيابة. وصنَّف شرحًا مختصرًا "للشاطبية"، وشرح "المُفصَّل" للزمخشري في عدة مجلدات وما قَصَّر فيه. وشرحًا "للجُزُولية"، وغير ذلك. وكان مليحَ الشَّكل، حَسَنَ البِزّة، إمامًا كيرًا، مَهِيبًا، مُتَفنِّنًا. وقد عزم على الرِّحلة إلى الفخر ابن الخطيب فبلغه موته. وكان له حَلْقة إشغال.

وهو كان الحَكَم بين أبي شامة والشَّمس أبي الفتح في أيهما أولى بمَشْيخة التُّربة الصّالحية، والقصّة معروفة، فرجَّح أبا الفتح بعض الشيء. وقيل: لم يُرجِّحه، بل قال: هذا رجل يدري القراءات، وقال عن أبي شامة: هذا إمامٌ. فوقعت العناية بأبي الفتح.

وقد ذكره أبو شامة في "تاريخه" وما أنصفه، فقال(1): في سابع رجب توفي العَلَم أبو محمد القاسم بن أحمد بن أبي السَّداد المغربيُّ النَّحويُّ، وكان معمَّرًا، مُشتغلًا بأنواع من العلوم على خلل في ذهنه"(2).

وما قاله أبو شامة لم يتابعه عليه أحد، فقد ترجمه الجم الغفير وأثنوا عليه بما هو أهله من العلم والفضل وتنوع المعارف، منهم: اليونيني(3)،

--------------------------------------------

(1) ذيل الروضتين 226 - 227.

(2) تاريخ الإسلام 15/ 44 - 45.

(3) ذيل مرآة الزمان 2/ 221.

সেখানে তিনি আল-জুজুলির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর 'মুকাদ্দিমা' থেকে একটি মাসআলা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বাগদাদে আবু মুহাম্মাদ ইবনুল আখদার থেকে, হালবে আল-ইফতিখার আল-হাশিমী থেকে এবং দামেস্কে আল-কিন্দি থেকে পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি আল-কিন্দির নিকট পূর্ণাঙ্গ 'কিতাবু সিবওয়াইহ' পাঠ করেন। তিনি বাগদাদে শেখ আবু আল-বাকার নিকটও জ্ঞানার্জন করেন। তিনি ইলমুল কালাম, উসুলায়ন (উসুলুল ফিকহ ও উসুলুদ দ্বীন) এবং দর্শনশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি এই সকল বিদ্যায় পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন এবং এগুলো শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিশেষজ্ঞ ও মানুষের গন্তব্যস্থল।

তিনি তুরবাহ আল-আদিলিয়ার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন, যার শর্ত ছিল কিরাত ও নাহু শাস্ত্রে পারদর্শী হওয়া। তিনি আল-আজিজিয়া মাদরাসায় প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষকতা করেন। তিনি 'আশ-শাতবিয়্যাহ'-এর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া তিনি জামাখশারীর 'আল-মুফাসসাল'-এর কয়েক খণ্ডের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যাতে তিনি কোনো ত্রুটি রাখেননি। তিনি 'আল-জুজুলিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ আরও অনেক কিছু রচনা করেন। তিনি সুশ্রী, পরিপাটি বেশভূষার অধিকারী, একজন মহান ইমাম, মর্যাদাবান ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ফখর ইবনুল খাতিবের নিকট সফরের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তাঁর নিকট তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছায়। তাঁর পাঠদানের একটি বিশাল পাঠচক্র ছিল।

আবু শামা এবং আশ-শামস আবু আল-ফাতহ-এর মধ্যে তুরবাহ আস-সালিহিয়্যাহর প্রধান হওয়ার বিষয়ে কে বেশি যোগ্য, সে ব্যাপারে তিনি বিচারক ছিলেন। ঘটনাটি সুপরিচিত; তিনি আবু আল-ফাতহকে কিছুটা অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলেন: তিনি তাকে অগ্রাধিকার দেননি, বরং বলেছিলেন: "এই ব্যক্তি কিরাত শাস্ত্র জানেন," আর আবু শামা সম্পর্কে বলেছিলেন: "ইনি একজন ইমাম।" ফলে আবু আল-ফাতহর প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শিত হয়।

আবু শামা তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাঁর প্রতি ইনসাফ করেননি। তিনি বলেন(১): "রজব মাসের সাত তারিখে নাহুবিদ আল-আলাম আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম বিন আহমাদ বিন আবিস সাদাদ আল-মাগরিবী ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘজীবী ছিলেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় নিয়োজিত ছিলেন, তবে তাঁর মস্তিস্কে কিছুটা গোলযোগ ছিল"(২)।

আবু শামা যা বলেছেন, সে ব্যাপারে অন্য কেউ তাঁর সাথে একমত হননি। বরং এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর জ্ঞান, শ্রেষ্ঠত্ব ও বিবিধ জ্ঞানরাজ্যের জন্য তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ইউনীনী(৩)।

--------------------------------------------

(১) যাইলুর রওদাতাইন ২২৬ - ২২৭।

(২) তারীখুল ইসলাম ১৫/ ৪৪ - ৪৫।

(৩) যাইলে মিরআতুষ যামান ২/ ২২১।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٨)
وابن الفوطي(1)، والذهبي في كتبه الأخرى(2)، والصفدي(3)، وابن شاكر الكتبي(4)، واليافعي(5)، وابن كثير(6)، وابن الجزري(7)، والمقريزي(8)، والعيني(9)، والسيوطي(10)، وابن العماد الحنبلي(11)، والمَقرّي(12) وغيرهم.

وقد اعتنى هذا الجد بسبطه عناية فائقة، فأقرأه القراءات وشيئًا من الفقه والنحو، وعَلّمه الخط، فكتب الخط المنسوب وبرع فيه، ونَسخَ جملة من الكتب. واستجاز له طائفة من شيوخ بغداد من أصحاب ابن البطي وشُهْدَة الكاتبة، وابن المُقَيّر وجماعة من أصحاب السلفي من ديار مصر(13)، وبعض علماء الشام، فتميّز الشاب لا سيما وأن أباه كان قد أحضرَهُ على مجموعة من متعيني علماء عصره مثل علم الدين السخاوي (ت 643 هـ)(14)، وكريمة بنت

--------------------------------------------

(1) تلخيص مجمع الآداب 4/ الترجمة 890 بتحقيق شيخنا الدكتور مصطفى جواد.

(2) معرفة القراء الكبار 2/ 660، والعبر 5/ 266.

(3) الوافي بالوفيات 2/ 102 و 24/ 112.

(4) عيون التواريخ 20/ 291.

(5) مرآة الجنان 4/ 160.

(6) البداية والنهاية 15/ 395 (ط. ابن كثير).

(7) غاية النهاية 2/ 15.

(8) السلوك 1/ 503.

(9) عقد الجمان 1/ 368.

(10) بغية الوعاة 2/ 250.

(11) شذرات الذهب 7/ 532.

(12) نفح الطيب 2/ 256.

(13) ينظر المقتفي 3/ 543، وتاريخ الإسلام 15/ 937، ومعجم شيوخ الذهبي 2/ 307، وتذكرة الحفاظ 4/ 187، ومعرفة القراء الكبار 2/ 738، وبرنامج الوادي آشي 133، وأعيان العصر 264، والوافي بالوفيات 5/ 252، وعيون التواريخ 23/ 289.

(14) ترجمته في سير أعلام النبلاء 23/ 122.

ইবনুল ফুওয়াতী(১), আয-যাহাবী তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে(২), আস-সাফাদী(৩), ইবনে শাকের আল-কুতুবী(৪), আল-ইয়াফিয়ী(৫), ইবনে কাসীর(৬), ইবনুল জাযারী(৭), আল-মাকরীযী(৮), আল-আইনী(৯), আস-সুয়ূতী(১০), ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী(১১), আল-মাক্বরী(১২) এবং অন্যান্যরা।

এই দাদা তাঁর নাতির অত্যন্ত সুনিপুণভাবে যত্ন নিয়েছিলেন; তিনি তাঁকে ক্বিরাআতসমূহ এবং ফিকহ ও নাহুর (ব্যাকরণ) কিছু অংশ পড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে হস্তলিপি বিদ্যা শিক্ষা দিয়েছিলেন। ফলে তিনি ‘আল-খাত্তুল মানসুব’ পদ্ধতিতে অত্যন্ত পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং এতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন, এমনকি বেশ কিছু কিতাব অনুলিপি করেন। তিনি তাঁর জন্য বাগদাদের একদল শাইখ থেকে ইজাযাহ (অনুমতি) গ্রহণ করেছিলেন, যাঁরা ইবনুল বাত্তী ও নারী ক্যালিগ্রাফার শুহদাহ্‌-র ছাত্র ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইবনুল মুক্বাইয়ার এবং মিশরের আস-সিলাফীর একদল ছাত্র থেকে এবং সিরিয়ার কিছু আলেমের থেকেও ইজাযাহ সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে এই যুবক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়ে ওঠেন, বিশেষ করে যেহেতু তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর সময়ের একদল প্রখ্যাত আলেমের মজলিসে উপস্থিত করেছিলেন, যেমন আলামুদ্দিন আস-সাখাবী (মৃ. ৬৪৩ হিজরি)(১৪) এবং কারীমা বিনতে...

--------------------------------------------

(১) তালখিস মাজমাউল আদাব ৪/ জীবনী ৮৯০, আমাদের শাইখ ডক্টর মুস্তফা জাওয়াদের তাহক্বীক্বসহ।

(২) মারিফাতুল কুররা আল-কিবার ২/ ৬৬০ এবং আল-ইবার ৫/ ২৬৬।

(৩) আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ২/ ১০২ এবং ২৪/ ১১২।

(৪) উয়ুনুত তাওয়ারিখ ২০/ ২৯১।

(৫) মিরআতুল জানান ৪/ ১৬০।

(৬) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৫/ ৩৯৫ (ইবনে কাসীর সংস্করণ)।

(৭) গায়াতুন নিহায়া ২/ ১৫।

(৮) আস-সুলুক ১/ ৫০৩।

(৯) ইকদুল জুমান ১/ ৩৬৮।

(১০) বুগয়াতুল উয়াত ২/ ২৫০।

(১১) শাযারাতুয যাহাব ৭/ ৫৩২।

(১২) নাফহুত তীব ২/ ২৫৬।

(১৩) দ্রষ্টব্য: আল-মুক্বতাফী ৩/ ৫৪৩, তারিখুল ইসলাম ১৫/ ৯৩৭, মুজামু শুয়ূখিয যাহাবী ২/ ৩০৭, তাযকিরাতুল হুফফায ৪/ ১৮৭, মারিফাতুল কুররা আল-কিবার ২/ ৭৩৮, বারনামাজ আল-ওয়াদী আশী ১৩৩, আ'য়ানুল আসর ২৬৪, আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ৫/ ২৫২, উয়ুনুত তাওয়ারিখ ২৩/ ২৮৯।

(১৪) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২৩/ ১২২-এ তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٩)
عبد الوهاب بن علي القرشية الزُّبيرية الدمشقية بنت الحَبَقْبَق (ت 641 هـ)(1)، وابن الصلاح الفقيه المشهور صاحب المقدمة في الحديث (ت 643 هـ)(2)، وعتيق بن أبي الفضل بن سلامة بن عبد الكريم السلماني (ت 643 هـ)(3)، ومخلص الدين عبد الواحد بن عبد الرحمن بن هلال الأزدي الدمشقي (ت 641 هـ)(4)، وعفيف الدين المُرَجَّى بن الحسن بن علي الواسطي (ت 656 هـ)(5) وغيرهم(6).

وفي هذا الجو العلمي تميّز الشاب، فصار من الشهود المُعَدَّلين المشار إليهم بالدقة والأمانة وطهارة القلم بحيث استدعي في سنة 688 هـ إلى الديار المصرية في شهادة سلطانية، قال ابنه علم الدين في حوادث سنة 689 هـ: "وفي سَلْخ المحرم وصل الركب الشامي. وفي هذا التاريخ وصل والدي إلى دمشق من الديار المصرية، وكان قد توجه إليها في شهادة سُلطانية هو وعز الدين الحموي وشمس الدين ابن المحدث وعماد الدين ابن البالسي، وكانت مدة غيبة والدي عن دمشق مدة غيبتي؛ كنت أنا بالحجاز وهو بالديار المصرية. وحدث هناك بمشيخة كريمة، وجزء ابن أبي ثابت وغير ذلك. سمع منه الشيخ فخر الدين التوزري وسعد الدين الحارثي، والشهاب ابن الدفوفي وغيرهم"(7). وفي سنة 696 هـ سافر إلى صرخد واجتمع بالملك العادل كَتْبُغا وشهد عليه بالقلعة(8).

--------------------------------------------

(1) ترجمتها في السير 23/ 92.

(2) ترجمته في السير 140/ 23.

(3) ترجمته في السير 23/ 221.

(4) ترجمته في تاريخ الإسلام 14/ 385.

(5) ترجمته في السير 23/ 329.

(6) المقتفي 3/ 543.

(7) المقتفي 2/ 441.

(8) المقتفي 3/ 355.

আবদুল ওয়াহহাব বিন আলি আল-কুরাশিয়া আয-যুবাইরিয়া আদ-দিমাশকিয়া বিনতে আল-হাবাকবাক (মৃ. ৬৪১ হি.)(১), এবং ইবনুস সালাহ, প্রসিদ্ধ ফকিহ এবং হাদিস শাস্ত্রের মুকাদ্দিমার লেখক (মৃ. ৬৪৩ হি.)(২), এবং আতিক বিন আবিল ফাদল বিন সালামা বিন আব্দুল কারিম আস-সালমানি (মৃ. ৬৪৩ হি.)(৩), এবং মুখলিসুদ্দিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুর রহমান বিন হিলাল আল-আযদি আদ-দিমাশকি (মৃ. ৬৪১ হি.)(৪), এবং আফিফুদ্দিন আল-মুরাজ্জা বিন আল-হাসান বিন আলি আল-ওয়াসিতি (মৃ. ৬৫৬ হি.)(৫) ও অন্যান্যরা(৬)।

এই জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে যুবকটি বিশিষ্টতা অর্জন করেন এবং এমন একজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন যাঁকে নির্ভুলতা, বিশ্বস্ততা ও লেখনীর স্বচ্ছতার জন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হতো। ফলশ্রুতিতে ৬৮৮ হিজরি সালে তাকে সুলতানি সাক্ষ্য প্রদানের জন্য মিশরীয় ভূখণ্ডে তলব করা হয়েছিল। তার পুত্র আলমউদ্দীন ৬৮৯ হিজরি সালের ঘটনাবলীতে বলেন: "মুহাররম মাসের শেষে সিরীয় কাফেলা এসে পৌঁছায়। আর এই তারিখে আমার পিতা মিশরীয় ভূখণ্ড থেকে দামেস্কে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি সেখানে ইজ্জুদ্দিন আল-হামাভি, শামসুদ্দিন ইবনুল মুহাদ্দিস এবং ইমাদুদ্দিন ইবনুল বালসির সাথে রাজকীয় সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন। দামেস্ক থেকে আমার পিতার অনুপস্থিতির কাল ছিল আমার দামেস্কে অনুপস্থিতির সমসাময়িক; আমি তখন হিজাজে ছিলাম আর তিনি ছিলেন মিশরে। সেখানে তিনি মাশয়াখাতু কারিমা, জুযউ ইবনে আবি সাবিত এবং অন্যান্য গ্রন্থ বর্ণনা করেন। তার নিকট থেকে শায়খ ফখরুদ্দিন আত-তাওযারি, সাআদুদ্দিন আল-হারিসি, শিহাব ইবনুল দাফুফি এবং আরও অনেকে শ্রবণ করেছেন"(৭)। ৬৯৬ হিজরি সালে তিনি সারখাদ সফর করেন এবং সুলতান আল-মালিকুল আদিল কাতবুগার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দুর্গে তার উপস্থিতিতে সাক্ষ্য প্রদান করেন(৮)।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী আস-সিয়ার ২৩/৯২ এ রয়েছে।

(২) তার জীবনী আস-সিয়ার ২৩/১৪০ এ রয়েছে।

(৩) তার জীবনী আস-সিয়ার ২৩/২২১ এ রয়েছে।

(৪) তার জীবনী তারিখুল ইসলাম ১৪/৩৮৫ এ রয়েছে।

(৫) তার জীবনী আস-সিয়ার ২৩/৩২৯ এ রয়েছে।

(৬) আল-মুকতাফি ৩/৫৪৩।

(৭) আল-মুকতাফি ২/৪৪১।

(৮) আল-মুকতাফি ৩/৩৫৫।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقد أجمع المؤرخون على تميزه وعدالته وفضله، فترجمه ابنه في وفيات سنة 699 هـ، قال: "وتوفي والدي الشيخ بهاء الدين أبو الفضل محمد بن يوسف بن محمد بن يوسف بن محمد البرزالي الإشبيلي ثم الدمشقي في يوم الجمعة بعد الصلاة العشرين من شوال، وصُلّي عليه عصر النهار المذكور بالجامع المعمور، ودفن بمقبرة الباب الشرقي إلى جانب قبر والده، رحمهما الله تعالى، وحضر جنازته جمع كبير، وصُلِّي عليه ثلاث مرات، وكان مرضه حُمّى حادة دموية بلغت به أربعة عشر يومًا ومات. روى عن السخاوي، وكريمة، وابن الصلاح، وعتيق السلماني، والمخلص ابن هلال، ومرجى الواسطي وجماعة حضورًا. وأجاز له جماعة من أصحاب ابن البطي وشهدة من بغداد، وأجاز له ابن المقيّر وجماعة من أصحاب السلفي من ديار مصر. قرأتُ عليه كثيرًا، ومما قرأت عليه الكتب الستة. وحدث بالحجاز والشام والديار المصرية، وكان من عدول دمشق. وكان مشكور السيرة ملازمًا لوظيفته، معروفًا بالصيانة والتحري، وحسن الكتابة. وكان محبًّا لأهل الخير والصلاح. وتقدم له اشتغال بالعلم. وقرأ القراءات السبعة على جده لأمه الشيخ علم الدين القاسم بن أحمد الأندلسي. ومولده في ثاني عشر رجب سنة ثمان وثلاثين وست مئة"(1).

وقال الإمام الذهبي في "سير أعلام النبلاء": "الإمام العدل المرتضى بهاء الدين أبو الفضل محمد بن يوسف ابن مفيد الشام زكي الدين محمد بن يوسف البرزالي الدمشقي الشروطي … وحصل له من جده مال، ثم تزوج وتفقه ونزل في الشامية وغيرها. وكُتب له محضر عدالة شهد له فيه ابن مالك والشيخ حسن الصقلي وقطب الدين ابن أبي عصرون وابن شعيب، وجلس بالعقيبة، ثم انتقل إلى حضرة الأشراف، وخدمَ موقعًا قبل ذلك عند ابن وداعة، ونسخ

--------------------------------------------

(1) المقتفي 3/ 543 - 544.

ঐতিহাসিকগণ তাঁর অনন্যতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ফযীলতের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁর পুত্র ৬৯৯ হিজরীর মৃত্যু-সংবাদে তাঁর জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন: "আমার পিতা শায়খ বাহাউদ্দীন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-বিরজালি আল-ইশবিলি অতঃপর আদ-দিমাশকি ২০ শে শাওয়াল শুক্রবার জুমুআর নামাযের পর ইন্তেকাল করেন। উল্লিখিত দিনে আসরের সময় জামে মামুরে তাঁর জানাযার নামায পড়া হয় এবং তাঁকে তাঁর পিতার কবরের পাশে পূর্ব ফটকের (বাব শারকি) গোরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁর জানাযায় বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল এবং তাঁর জানাযার নামায তিনবার পড়া হয়েছিল। তাঁর অসুখ ছিল তীব্র রক্তজ্বর, যা চৌদ্দ দিন স্থায়ী হওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সাখাভী, কারীমা, ইবনেস সালাহ, আতিক আস-সালমানি, আল-মুখলিস ইবনে হিলাল, মুরজা আল-ওয়াসিতি এবং উপস্থিত একদল লোকের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। বাগদাদের ইবনুল বাত্তি ও শুহদাহ এর একদল শাগরেদ তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছেন। এছাড়া ইবনুল মুকাইয়ির এবং মিশরের আস-সালাফী এর একদল শাগরেদও তাঁকে ইজাজত দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে অনেক কিছু পড়েছি, যার মধ্যে ‘কুতুবে সিত্তা’ (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি হিজাজ, শাম ও মিশরে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দামেস্কের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি প্রশংসিত চরিত্রের অধিকারী ও নিজ কর্মে নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি চারিত্রিক পবিত্রতা, সূক্ষ্মদর্শিতা এবং সুন্দর হস্তাক্ষরের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি পুণ্যবান ও নেককার লোকদের ভালোবাসতেন। ইলম অর্জনে তাঁর দীর্ঘ পদচারণা ছিল। তিনি তাঁর মাতামহ শায়খ আলমউদ্দীন কাসিম বিন আহমদ আল-আন্দালুসি-এর কাছে সাবআ কিরাত (সাত পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ) সম্পন্ন করেছেন। তাঁর জন্ম ৬৩৮ হিজরীর ১২ ই রজব"(১).

ইমাম আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেছেন: "ন্যায়পরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য ইমাম বাহাউদ্দীন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ ইবনে মুফিদুশ শাম জাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বিরজালি আদ-দিমাশকি আশ-শুরুতি … তিনি তাঁর দাদা থেকে সম্পদ লাভ করেছিলেন। অতঃপর তিনি বিবাহ করেন এবং ফিকহশাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি শামিয়াহ ও অন্যান্য স্থানে বসবাস করেছেন। তাঁর জন্য একটি ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্যনামা লেখা হয়েছিল যাতে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ইবনে মালিক, শায়খ হাসান আস-সাকালি, কুতুবুদ্দীন ইবনে আবি আসরুন এবং ইবনে শুআইব। তিনি উকাইবায় অবস্থান করেন, এরপর হাযরাতুল আশরাফে স্থানান্তরিত হন। এর আগে তিনি ইবনে ওয়াদাআর নিকট দাপ্তরিক কাজ করেছেন এবং প্রতিলিপি তৈরি করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ৩/ ৫৪৩ - ৫৪৪।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢١)
كتبًا كثيرة، من ذلك عدة نسخ لـ "محرر" الرافعي، وصحب محيي الدين ابن قاضي القضاة وجاوره في العزيزية وعادله في الحج. وبلغ في كتابة الإسجالات مع التصون(1) والدين والحياء والتهجد، وحدث وله خمس وثلاثون سنة، وكتب لابن الصائغ ومَن بعده، واشهر وحَصّل، واحتسب جماعة من أولاده. وقرأ عليه ولده الحافظ علم الدين شيئًا كثيرًا، من ذلك الكتب الستة. وسمع منه ابن تيمية وابن سامة، وابن مسلّم، والمزي، وابن مظفر، والذهبي (كذا) و عدة"(2).

وقال في تاريخ الإسلام: "ورزق حظوة مع التصون والديانة والتقوى والتحري والنزاهة والوقار والتعبد. وكان قليل المثل في فنه. تفضّل وزكاني مرة عند القاضي جمال الدين الزرعي"(3).

وقال في معجم شيوخه: "الإمام المقرئ العدل الرضي المأمون الخيّر الصالح كبير الشهود بهاء الدين … كاتب الحكم العزيز … عالج الشروط فساد فيها على أهل زمانه لحسن خطه وجودة معرفته وكمال عدالته وتصوّنه … وكان ديِّنًا خيِّرًا وقورًا متعبِّدًا صاحب أوراد ومحبة السنن والآثار"(4).

وتزوج الشيخ بهاء الدين محمد، وهو في السادسة والعشرين من عمره سنة 664 هـ، بزينب بنت سعيد بن علي بن يعلى الأندلسي الغرناطي(5)،

--------------------------------------------

(1) في المطبوع: "التصوف"، خطأ.

(2) تكملة السير 1/ 461.

(3) تاريخ الإسلام 15/ 937 - 938.

(4) معجم الشيوخ 2/ 307.

(5) لم نقف على ترجمة له، والظاهر أنه لم يكن من أهل العلم أو الوظائف ليؤرخ، لكن ذكر المؤلف أن رفيقه الحاج علي بن محمد بن ملزوز البلنسي المغربي المتوفى في محرم سنة 687 هـ قد دفن "إلى جانب رفيقه الحاج سعيد بن علي بن يعلى الغرناطي جدي لأمي بمقابر باب الصغير" (المقتفي 2/ 375).

তিনি অনেক গ্রন্থ লিখেছেন, যার মধ্যে রাফেয়ীর "মুহাররার"-এর বেশ কিছু অনুলিপি রয়েছে; তিনি কাযি আল-কুযাতের পুত্র মুহিউদ্দিনের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং আজিজিয়াতে তার প্রতিবেশী ছিলেন এবং হজ্জের সফরে তার সফরসঙ্গী ছিলেন। তিনি আত্মসংযম, দ্বীনদারি, লজ্জা ও তাহাজ্জুদের সাথে সাথে আইনি দলিলপত্র লেখায় সুখ্যাতি অর্জন করেন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে সাইগ ও তার পরবর্তী ব্যক্তিদের জন্য লিখেছেন, তিনি খ্যাতি অর্জন করেন ও জ্ঞান আহরণ করেন এবং তার সন্তানদের একটি দলকে হারান (যাদের মৃত্যুতে তিনি ধৈর্য ধারণ করে সওয়াবের আশা করেন)। তার পুত্র হাফেজ ইলমুদ্দিন তার কাছে অনেক কিছু পাঠ করেছেন, যার মধ্যে কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) অন্যতম। তার থেকে ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনে সামাহ, ইবনে মুসলিম, আল-মিজ্জি, ইবনে মুজাফফর, আয-যাহাবি (এভাবেই বর্ণিত) এবং আরও অনেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন(1)।

তিনি 'তারিখুল ইসলাম'-এ বলেছেন: "তিনি আত্মসংযম, দ্বীনদারি, তাকওয়া, সূক্ষ্মদর্শিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা, গাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির সাথে সাথে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তিনি তার কর্মক্ষেত্রে প্রায় অতুলনীয় ছিলেন। তিনি অনুগ্রহ করেছিলেন এবং একবার কাযি জামালুদ্দিন আল-জারয়ীর কাছে আমার প্রশংসা করেছিলেন"(3)।

তিনি তার 'মু'জামুশ শুয়ুখ'-এ বলেছেন: "ইমাম, কারী, ন্যায়পরায়ণ, সন্তোষভাজন, বিশ্বস্ত, কল্যাণকামী, নেককার, সাক্ষীদের প্রধান বাহাউদ্দিন … রাজকীয় আদালতের লেখক … তিনি আইনি চুক্তিপত্রের কাজ করতেন এবং তার সুন্দর হস্তাক্ষর, চমৎকার জ্ঞান এবং পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা ও আত্মসংযমের কারণে তিনি তার সমসাময়ীকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন … তিনি ধর্মপ্রাণ, নেককার, গম্ভীর ও ইবাদতগুজার ছিলেন; তিনি নিয়মিত যিকির-আযকার (আওরাদ) পালন করতেন এবং সুন্নাহ ও আসার (পূর্বসূরীদের বর্ণনা) পছন্দ করতেন"(4)।

শেখ বাহাউদ্দিন মুহাম্মদ ৬৬৪ হিজরি সালে ছাব্বিশ বছর বয়সে সাঈদ বিন আলী বিন ইয়ালা আল-আন্দালুসি আল-গারনাতির কন্যা জয়নাবকে বিয়ে করেন(5)।

--------------------------------------------

(1) মুদ্রিত কপিতে: "আত-তাসাউউফ" (সুফিবাদ), এটি ভুল (মূল পাঠ হবে: আত-তাসাউউন বা আত্মসংযম)।

(2) তাকমিলাতুস সিয়ার ১/৪৬১।

(3) তারিখুল ইসলাম ১৫/৯৩৭ - ৯৩৮।

(4) মু'জামুশ শুয়ুখ ২/৩০৭।

(5) আমরা তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। স্পষ্টতই তিনি এমন কোনো আলেম বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ছিলেন না যার জীবনী সংরক্ষিত হবে, তবে লেখক উল্লেখ করেছেন যে তার সাথী হাজি আলী বিন মুহাম্মদ বিন মালজুয আল-বালানসি আল-মাগরিবি, যিনি ৬৮৭ হিজরির মহররম মাসে মারা যান, তাকে "তার সাথী হাজি সাঈদ বিন আলী বিন ইয়ালা আল-গারনাতি—যিনি আমার মাতামহ—তার পাশে বাবুস সগির কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে" (আল-মুকতাফি ২/৩৭৫)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وذكر المؤلف أنّ مولدها سنة 651 هـ تقريبًا(1)، فتكون في الثالثة عشرة من عمرها.

وزينب هذه أندلسية الأبوين، فأمها هي حبونة بنت إبراهيم بن محمد الأندلسية أيضًا، ذكرها المؤلف في وفيات سنة 695 هـ من كتابه فقال: "وفي لية الأحد تاسع ذي القعدة توفيت أم عبد الله حبونة بنت إبراهيم بن محمد الأندلسية، وهي جدتي لأمي، وكانت وفاتها بسفح قاسيون، ودفنت بمقابر باب الصغير يوم الأحد بعد الظهر. وكانت امرأة صالحة خيِّرة مباركة كثيرة الصلاة والتسبيح"(2).

 

‌‌مولده:

في هذه الأجواء العلمية التي عرف بها جد والده ووالده، واليسرة المادية، ولد المؤلف علم الدين القاسم في ليلة عاشر جمادى الأولى سنة 665 هـ(3) بدمشق، والظاهر أن أباه سَمّاه باسم جده العلّامة القاسم اللورقي الذي عُني بتربيته وتنشئته(4).

واستجاز له والده جملة من المشايخ في عام مولده وهلم جرًّا على عادة العوائل العلمية المعنية بالرواية، فمنهم: الشيخ العدل عز الدين أبو محمد الحسن بن الحسين بن أبي البركات بن المُهير البغدادي التاجر الحنبلي المتوفى في السابع والعشرين من رجب سنة 666 هـ، قال المؤلف: "أجاز لي هذا الشيخ في صفر من هذه السنة"(5)، ومعنى ذلك أنه لم يكمل سنته الأولى.

--------------------------------------------

(1) المقتفي 4/ 112، وقد ترجم لها في تاريخه وذكر أنها توفيت سنة 702 هـ.

(2) المقتفي 3/ 302 - 303 (1936).

(3) معجم شيوخ السبكي 321، وأما ما ذكر في بعض المصادر من أنه ولد في جمادى الآخرة فخطأ بلا ريب.

(4) وصَرّح بذلك الرادي آشي في برنامجه 96.

(5) المقتفي 1/ 247 (57).

লেখক উল্লেখ করেছেন যে তাঁর জন্ম আনুমানিক ৬৫১ হিজরি সনে(১), ফলে তিনি তখন তেরো বছর বয়সের ছিলেন।

এই যয়নাব ছিলেন পিতা-মাতা উভয় দিক থেকেই আন্দালুসীয়। তাঁর মা ছিলেন হাবুনা বিনতে ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-অন্দালুসিয়া। লেখক তাঁর গ্রন্থের ৬৯৫ হিজরির মৃত্যুসংবাদ অংশে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "জিলকদ মাসের নয় তারিখ রবিবার দিবাগত রাতে উম্মে আব্দুল্লাহ হাবুনা বিনতে ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-অন্দালুসিয়া ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ছিলেন আমার নানি। কাশিউন পাহাড়ের পাদদেশে তাঁর মৃত্যু হয় এবং রবিবার জোহরের নামাজের পর বাব আস-সগির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি একজন পুণ্যবতী, কল্যাণকামী, বরকতময় এবং অধিক সালাত ও তাসবিহ পাঠকারী নারী ছিলেন"(২)।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

যে জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে তাঁর প্রপিতামহ ও পিতা পরিচিত ছিলেন এবং আর্থিক সচ্ছলতার মাঝে, ৬৬৫ হিজরি সনের দশই জুমাদাল উলা রাতে(৩) দামেস্কে লেখক আলামুদ্দিন আল-কাসেম জন্মগ্রহণ করেন। স্পষ্টত যে, তাঁর পিতা তাঁর নামকরণ করেছিলেন তাঁর পিতামহ প্রখ্যাত আলিম আল-কাসেম আল-লোরকির নামানুসারে, যিনি তাঁর লালন-পালন ও গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেছিলেন(৪)।

তাঁর পিতা তাঁর জন্মের বছর থেকেই এবং ধারাবাহিকভাবে রেওয়ায়েতের প্রতি আগ্রহী ইলমি পরিবারগুলোর রীতি অনুযায়ী একদল শায়খের কাছ থেকে তাঁর জন্য ইজাযত (বর্ণনার অনুমতি) গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: শায়খ আদল ইযযুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন আবিল বারাকাত বিন আল-মুহাইর আল-বাগদাদি আত-তাজির আল-হাম্বলি, যিনি ৬৬৬ হিজরি সনের সাতাশে রজব ইন্তেকাল করেন। লেখক বলেন: "এই শায়খ আমাকে এই বছরের সফর মাসে ইজাযত দিয়েছিলেন"(৫), যার অর্থ হলো তখন তাঁর বয়স এক বছরও পূর্ণ হয়নি।

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ৪/১১২; তিনি তাঁর ইতিহাসে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৭০২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

(২) আল-মুকতাফি ৩/৩০২-৩০৩ (১৯৩৬)।

(৩) মু'জামু শুয়ুখিস সুবকি ৩২১; আর কিছু উৎসে যে তিনি জুমাদাল আখিরা মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ভুল।

(৪) আর-রাদি আশি তাঁর বারনামাজ-এর ৯৬ পৃষ্ঠায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(৫) আল-মুকতাফি ১/২৪৭ (৫৭)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومنهم: الشريف أبو عبد الله محمد بن أبي طالب بن أبي عبد الله بن أبي البركات الحسيني الموسوي الوكيل المتوفى في الرابع من شعبان سنة 666 هـ أيضًا، قال المؤلف: "أجاز لي جميع ما يرويه"(1).

وشجاع الدين أبو الحسن علي بن خليل بن عبد الواحد الكاملي المتوفى في العشر الأول من شعبان سنة 666 هـ أيضًا(2).

وأبو بكر عبد الله بن أحمد بن ناصر بن طِعان الطريفي الصفار المتوفى في السادس والعشرين من شوال سنة 666 هـ أيضًا، قال المؤلف: "أجاز لي هذا الشيخ في ربيع الأول من هذه السنة"(3).

والشيخ شرف الدين أبو الفداء إسماعيل ابن القاضي جمال الدين عبد الله بن عمر بن عبد الله ابن قاضي اليمن الشافعي المتوفى بدمشق في الخامس والعشرين من ذي قعدة سنة 666 هـ أيضًا، قال المؤلف: "أجاز لي هذا الشيخ في ربيع الأول من هذه السنة"(4).

وممن أجازه في هذه السنة أيضًا الشيخ تاج الدين أبو الغياث مظفر ابن شهاب الدين عبد الكريم بن نجم ابن شرف الإسلام عبد الوهاب ابن الشيخ أبي الفرج عبد الواحد الشيرازي الحنبلي المتوفى بدمشق في الثالث من صفر سنة 667 هـ، قال المؤلف: "أجاز لي ما يرويه في صفر من سنة ست وستين وست مئة"(5).

--------------------------------------------

(1) المقتفى 1/ 248 (58).

(2) المقتفي 1/ 249 (59).

(3) المقتفي 1/ 253 - 254 (62).

(4) المقتفي 1/ 254 - 255 (64).

(5) المقتفي 1/ 265 (76).

তাদের মধ্যে রয়েছেন: শরীফ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি তালিব বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন আবিল বারাকাত আল-হুসাইনি আল-মুসাভি আল-ওয়াকিল, যিনি ৬৬৬ হিজরি সনের ৪ঠা শাবান মৃত্যুবরণ করেছেন। লেখক বলেন: "তিনি তাঁর বর্ণিত সমস্ত বিষয়ের জন্য আমাকে অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন"(১)।

এবং শুজাউদ্দীন আবু আল-হাসান আলী বিন খলিল বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কামিলি, যিনি ৬৬৬ হিজরি সনের শাবান মাসের প্রথম দশকেও মৃত্যুবরণ করেছেন(২)।

এবং আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন নাসির বিন তিয়ান আত-তুরিফি আস-সাফফার, যিনি ৬৬৬ হিজরি সনের ২৬শে শাওয়াল মৃত্যুবরণ করেছেন। লেখক বলেন: "এই শায়খ আমাকে এই বছরের রবিউল আউয়াল মাসে অনুমতি প্রদান করেছেন"(৩)।

এবং শায়খ শারফুদ্দিন আবু আল-ফিদা ইসমাইল ইবনুল কাজী জামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ ইবনু কাজিল ইয়ামান আশ-শাফিয়ি, যিনি ৬৬৬ হিজরি সনের ২৫শে জিলকদ দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেছেন। লেখক বলেন: "এই শায়খ আমাকে এই বছরের রবিউল আউয়াল মাসে অনুমতি প্রদান করেছেন"(৪)।

এবং যারা এই বছর তাঁকে অনুমতি প্রদান করেছেন তাদের মধ্যে শায়খ তাজউদ্দীন আবুল গিয়াস মুজাফফর ইবনু শিহাবুদ্দীন আব্দুল কারিম বিন নাজমু ইবনু শারাফুল ইসলাম আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুশ শায়খ আবিল ফারাজ আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শিরাজি আল-হাম্বলিও রয়েছেন, যিনি ৬৬৭ হিজরি সনের ৩রা সফর দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেছেন। লেখক বলেন: "তিনি ৬৬৬ হিজরি সনের সফর মাসে তাঁর বর্ণিত বিষয়ের জন্য আমাকে অনুমতি প্রদান করেছেন"(৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফা ১/ ২৪৮ (৫৮)।

(২) আল-মুকতাফা ১/ ২৪৯ (৫৯)।

(৩) আল-মুকতাফা ১/ ২৫৩ - ২৫৪ (৬২)।

(৪) আল-মুকতাফা ১/ ২৫৪ - ২৫৫ (৬৪)।

(৫) আল-মুকতাফা ১/ ২৬৫ (৭৬)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ومنهم الشيخ الفاضل بدر الدين أبو محمد منصور بن محمد بن علي بن محمد بن علي بن منصور ابن البالسي المتوفى بالشقيف مستهل ربيع الأول سنة 668 هـ، قال المؤلف: "أجاز لي ما يرويه في ربيع الآخر سنة ست وستين وست مئة"(1).

وممن أجازه مسند الشام زين الدين أبو العباس أحمد بن عبد الدائم بن نعمة بن أحمد بن محمد بن إبراهيم بن أحمد بن بكير المقدسي النابلسي المتوفى بدمشق في التاسع من رجب سنة 668 هـ، قال المؤلف: "أجاز لي جميع ما يرويه"(2).

وقاضي القضاة محيي الدين أبو المفضَّل يحيى بن محمد بن علي بن محمد بن يحيى القرشي المعروف بابن الزكي المتوفى بمصر في الرابع عشر من رجب سنة 668 هـ(3).

وبدر الدين أبو حفص عمر بن محمد بن أبي سعد بن أحمد الكرماني المتوفى بدمشق في الحادي والعشرين من رجب سنة 668 هـ(4).

وعماد الدين أبو الحسين يحيى بن تمام بن يحيى بن عباس الحميري الدمشقي المتوفى بدمشق في العشرين من شعبان سنة 668 هـ(5).

والشيخ العدل الفقيه تاج الدين أبو إسحاق إبراهيم بن خسروشاه بن الحَسَن بن عمر الخلخالي المتوفى بدمشق في السادس عشر من شهر رمضان سنة 668 هـ(6).

--------------------------------------------

(1) المقتفي 1/ 286 (109).

(2) المقتفي 1/ 292 (117).

(3) المقتفي 1/ 293 (118).

(4) المقتفي 1/ 294 (119).

(5) المقتفي 1/ 296 (123).

(6) المقتفي 1/ 298 (127).

এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন ফাজেল শায়খ বদরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ মানসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মানসুর ইবনুল বালিসি, যিনি ৬৬৮ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে শাকীফে মৃত্যুবরণ করেন। লেখক বলেন: "তিনি ৬৬৬ হিজরীর রবিউল আখির মাসে তার বর্ণিত বিষয়গুলোর জন্য আমাকে অনুমতি প্রদান করেছেন"(১)।

এবং যাদের নিকট থেকে তিনি অনুমতি লাভ করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন মুসনিদুশ শাম যাইনুদ্দীন আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল দায়িম ইবনে নি'মাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে বুকাইর আল-মাকদিসি আন-নাবলুসি, যিনি ৬৬৮ হিজরীর ৯ই রজব দামেশকে মৃত্যুবরণ করেন। লেখক বলেন: "তিনি তার বর্ণিত সকল বিষয়ের আমাকে অনুমতি প্রদান করেছেন"(২)।

এবং প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুযাত) মুহিউদ্দীন আবুল মুফাদ্দাল ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরাশি, যিনি ইবনুল যাকি নামে পরিচিত, তিনি ৬৬৮ হিজরীর ১৪ই রজব মিসরে মৃত্যুবরণ করেন(৩)।

এবং বদরুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাদ ইবনে আহমদ আল-কিরমানি, যিনি ৬৬৮ হিজরীর ২১শে রজব দামেশকে মৃত্যুবরণ করেন(৪)।

এবং ইমাদুদ্দীন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে তাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-হিমইয়ারি আদ-দিমাশকি, যিনি ৬৬৮ হিজরীর ২০শে শাবান দামেশকে মৃত্যুবরণ করেন(৫)।

এবং ন্যায়পরায়ণ শায়খ ও ফকিহ তাজুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে খুসরোশাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে উমর আল-খালখালি, যিনি ৬৬৮ হিজরীর ১৬ই রমজান মাসে দামেশকে মৃত্যুবরণ করেন(৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ১/ ২৮৬ (১০৯)।

(২) আল-মুকতাফি ১/ ২৯২ (১১৭)।

(৩) আল-মুকতাফি ১/ ২৯৩ (১১৮)।

(৪) আল-মুকতাফি ১/ ২৯৪ (১১৯)।

(৫) আল-মুকতাফি ১/ ২৯৬ (১২৩)।

(৬) আল-মুকতাফি ১/ ২৯৮ (১২৭)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
والشيخ شرف الدين أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن بن سلامة بن نصر بن مقدام المقدسي المعروف بالسَّرّاج المتوفى بدمشق في التاسع من ذي القعدة سنة 668 هـ(1).

والشريف العدل علاء الدين أبو الحسن علي بن أبي طالب بن أبي عبد الله الموسوي الحسيني المتوفى بدمشق في الثامن والعشرين من ذي القعدة سنة 668 هـ، قال: "أجاز لي جميع ما يرويه، وروى لنا عنه والدي، وكان رفيقه في الشهادة"(2).

والشيخ عماد الدين أبو سليمان داود بن سليمان بن علي بن سالم، ابن الحموي المتوفى بدمشق في السادس من ذي الحجة سنة 668 هـ(3).

ومثل هذا كثير يفوق الحصر، مما يشير إلى شدة عناية والده بتوجهه المستقبلي إلى طلب العلم، وهو ما تحقق بحمد الله ومَنّه.

 

‌‌حفظ القرآن العظيم:

وعلى عادة أهل البلاد يُرسل الطفل ليتلقن القرآن العظيم على أحد المشايخ، والظاهر أنَّ علم الدين تلقنه على غير واحد، فقد ذكر في ترجمة أبي العباس أحمد بن عثمان بن سياووش الخلاطي المقرئ إمام الكلّاسة بجامع دمشق المتوفى في رمضان سنة 671 هـ أنه تلقن عليه شيئًا من أول القرآن العظيم(4).

وقال في ترجمة الشيخ أبي الفتح المنبجي المقرئ بالرباط الناصري المتوفى سنة 695 هـ: "وكان رجلًا صالحًا مباركًا، قرأتُ عليه بعض القرآن العظيم"(5).

--------------------------------------------

(1) المقتفي 1/ 302 (134).

(2) المقتفي 1/ 302 (135).

(3) المقتفي 1/ 303 (137).

(4) المقتفي 1/ 387 (262).

(5) المقتفي 3/ 261 (1826).

এবং শায়খ শরফুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন সালামাহ বিন নাসর বিন মিকদাম আল-মাকদিসি, যিনি আস-সাররাজ নামে পরিচিত, ৬৬৮ হিজরি সালের ৯ই জিলকদ তারিখে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন(১).

এবং আশ-শরিফ আল-আদল আলাউদ্দিন আবু আল-হাসান আলি বিন আবি তালিব বিন আবি আবদুল্লাহ আল-মুসাউয়ি আল-হুসাইনি, যিনি ৬৬৮ হিজরি সালের ২৮শে জিলকদ তারিখে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন; তিনি বলেন: "তিনি আমাকে তাঁর বর্ণিত সকল বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন, এবং আমার পিতা তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গী ছিলেন"(২).

এবং শায়খ ইমাদুদ্দিন আবু সুলাইমান দাউদ বিন সুলাইমান বিন আলি বিন সালিম, ইবনুল হামাউয়ি, যিনি ৬৬৮ হিজরি সালের ৬ই জিলহজ তারিখে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন(৩).

এই জাতীয় উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে যা গণনার অতীত, যা ইলম বা জ্ঞান অর্জনে তাঁর ভবিষ্যৎ অভিমুখের প্রতি তাঁর পিতার গভীর মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়; আর আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে তা বাস্তবায়িত হয়েছিল।

 

‌‌মহাগ্রন্থ কুরআন মুখস্থকরণ:

সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের রীতি অনুযায়ী, কোনো শিশুকে কোনো একজন শায়খের নিকট মহাগ্রন্থ কুরআন পাঠ শিখতে পাঠানো হতো। আর এটি স্পষ্ট যে, আলামুদ্দিন একাধিক শায়খের নিকট তা পাঠ করেছেন। দামেস্কের জামে মসজিদের কাল্লাসাহ-এর ইমাম, ৬৭১ হিজরি সালের রমজান মাসে মৃত্যুবরণকারী কারী আবুল আব্বাস আহমদ বিন উসমান বিন সিয়াউশ আল-খিলাতির জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তাঁর নিকট মহাগ্রন্থ কুরআনের প্রথম দিকের কিছু অংশ পাঠ করেছেন(৪).

এবং ৬৯৫ হিজরি সালে মৃত্যুবরণকারী রিবাত আন-নাসিরির কারী শায়খ আবুল ফাতহ আল-মানবিজির জীবনীতে তিনি বলেন: "তিনি একজন নেককার ও বরকতময় ব্যক্তি ছিলেন, আমি তাঁর নিকট মহাগ্রন্থ কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করেছি"(৫).

--------------------------------------------

(১) আল-মুক্তাফি ১/৩০২ (১৩৪)।

(২) আল-মুক্তাফি ১/৩০২ (১৩৫)।

(৩) আল-মুক্তাফি ১/৩০৩ (১৩৭)।

(৪) আল-মুক্তাফি ১/৩৮৭ (২৬২)।

(৫) আল-মুক্তাফি ৩/২৬১ (১৮২৬)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أما شيخه الذي لقنه القرآن العظيم كاملًا فهو الشيخ المقرئ الصالح حسن السّرّاج الحلبي المُلَقِّن بالكلاسة والمتوفى في ربيع الأول سنة 703 هـ قال المؤلف: "وكان صالحًا مجتهدًا في التلاوة، ومواظبًا على الإقراء، وقراءة الختم في ليالي الجمع بمكانه بالكلاسة، وعُمِّر، وولي في آخر عمره مشيخة الخانكاه الشهابية، وهو شيخي الذي لقنني القرآن العظيم"(1).

ويظهر لي أنه لم يسمع حضورًا، إذ لا توجد إشارة في التراجم المتقدمة إلى إحضاره مجالس السماع، فالظاهر أن والده لم يكن معنيًا بذلك مع حرصه على استجازة العلماء له من عام مولده وهلم جرًّا كما أشرنا قبل قليل، فضلًا عن عنايته به في بيته، فقد ذكر المؤلف أنه قرأ عليه كثيرًا، ومما قرأ عليه الكتب الستة(2)، مما يشير إلى أن الوالد قد تولّى تعليمه الأول بنفسه. وذكر الذهبي أنه حفظ "القرآن" و"التنبيه" و"مقدمة" في صغره، وأنَّه سمع من أبيه ومن عز الدين محمد بن عبد القادر ابن الصائغ سنة 673 هـ(3).

 

‌‌طلب العلم:

وابتداءً من سنة 677 هـ بدأ يحضر مجالس السماع بنفسه، فقد قال في ترجمة الشيخ الأديب نجم الدين أبي المعالي محمد بن سوار بن إسرائيل بن الخضر الشيباني الدمشقي المتوفى في ربيع الآخر سنة 677 هـ: "سمعت منه قصيدته النبوية التي أولها: غَنّها باسم من إليه سراها"(4)، ولا ندري متى

--------------------------------------------

(1) المقتفي 4/ 154 (2805).

(2) المقتفي 2/ 544 (2418).

(3) ذيل سير أعلام النبلاء (المسمى غلطًا ذيل تاريخ الإسلام) 360 وعنه التاج السبكي في معجم شيوخه 320. ولكن يلاحظ أن المؤلف لم يذكر شيئًا من مسموعاته في ترجمة عز الدين ابن الصائغ، وهو الحريص على مثل هذه الأمور (المقتفي 2/ 270 - 271).

(4) المقتفي 3/ 84 (621).

আর তাঁর যে শায়খ তাঁকে পূর্ণ কুরআনুল কারীম শিখিয়েছেন, তিনি হলেন ক্বারী ও সালেহ ব্যক্তি শায়খ হাসান আস-সাররাজ আল-হালাবি, যিনি কাল্লাসায় তিলাওয়াত শেখাতেন এবং ৭০৩ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। লেখক বলেন: "তিনি একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন এবং তিলাওয়াতে অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি নিয়মিত তিলাওয়াত শেখাতেন এবং জুমার রাতে কাল্লাসায় তাঁর নিজ স্থানে খতম পড়তেন। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং জীবনের শেষভাগে খানকাহ শাহাবিইয়ার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই আমার সেই শায়খ যিনি আমাকে মহান কুরআন শিখিয়েছেন"(১)।

আমার কাছে মনে হয় যে, তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে হাদীস শ্রবণ করেননি; কারণ পূর্ববর্তী জীবনীগুলোতে তাঁকে শ্রবণের মজলিসে উপস্থিত করার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। সম্ভবত তাঁর পিতা এ ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না, যদিও তিনি তাঁর পুত্রের জন্মের বছর থেকে আলেমদের নিকট থেকে তার জন্য 'ইজাযত' সংগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন, যা আমরা কিছুক্ষণ আগে উল্লেখ করেছি। তাছাড়া তিনি বাড়িতেও তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতার কাছে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর কাছে যা পড়েছেন তার মধ্যে 'কুতুবে সিত্তাহ' অন্যতম(২)। এতে বোঝা যায় যে, পিতা নিজেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শৈশবেই 'কুরআন', 'আত-তানবিহ' এবং 'মুকাদ্দিমাহ' মুখস্থ করেছিলেন এবং তিনি ৬৭৩ হিজরীতে তাঁর পিতা ও ইযযুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনাস সাইগ-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন(৩)।

 

‌‌জ্ঞান অন্বেষণ:

৬৭৭ হিজরী থেকে তিনি সশরীরে শ্রবণের মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতে শুরু করেন। তিনি শায়খ আদীব নাজমুদ্দীন আবুল মাআলি মুহাম্মাদ ইবনে সাওয়ার ইবনে ইসরাঈল ইবনুল খিদর আশ-শায়বানি আদ-দিমাশকি (যিনি ৬৭৭ হিজরীর রবিউল আখির মাসে ইন্তেকাল করেন)-এর জীবনীতে বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে তাঁর সেই নবুওয়াত বিষয়ক কাসিদাটি শুনেছি যার শুরু হলো: 'তার নামে এটি গাও যার দিকে এটি নৈশভ্রমণ করেছে'"(৪), আমরা জানি না কখন

--------------------------------------------

(১) আল-মুক্তাফি ৪/১৫৪ (২৮০৫)।

(২) আল-মুক্তাফি ২/৫৪৪ (২৪১৮)।

(৩) যায়লু সিয়ারি আলামিন নুবালা (ভুলবশত যার নাম দেওয়া হয়েছে যায়লু তারিখিল ইসলাম) ৩৬০ এবং তাঁর সূত্রে তাজ সুবকি তাঁর 'মুজামু শুয়ুখিহি' ৩২০-এ এটি বর্ণনা করেছেন। তবে লক্ষণীয় যে, লেখক ইযযুদ্দীন ইবনাস সাইগ-এর জীবনীতে তাঁর নিকট থেকে শ্রুত বিষয়ের কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি, অথচ তিনি এ জাতীয় বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন (আল-মুক্তাফি ২/২৭০-২৭১)।

(৪) আল-মুক্তাফি ৩/৮৪ (৬২১)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
سمع منه إذ لم يذكر تاريخ سماعه، على أنه كان في حين وفاة المذكور ابن اثني عشر عامًا، ولعله سمع منه في سنة وفاته.

وقال في ترجمة الشيخ زين الدين أبي العباس أحمد بن سلامة بن إبراهيم الحداد الحنبلي المتوفى يوم عاشوراء من سنة 678 هـ: "كان رجلًا مباركًا … حدث بكتاب الحلية والمستخرج ومعجم الطبراني وجملة كثيرة من الأجزاء … سمعت منه عدة أجزاء بقراءة ابن جعوان والمزي وبقراءتي أيضًا"(1)، فالمؤلف عند وفاته لم يكن قد اكمل الثلاثة عشر عامًا، ولا بد أنه سمع منه في أواخر عمره بحيث سُمِحَ له أن يقرأ على الشيخ بنفسه، مع أنَّ رفيقه جمال الدين المزي أسن منه بأحد عشر عامًا، إذ ولد سنة 654 هـ(2).

وابتداءً من وفيات الشيوخ في سنة 677 هـ وهلم جرًّا بدأ المؤلف الإشارة إلى حضوره مجالس السماع، كما تقدم، وقد قال في ترجمة الشيخ رشيد الدين أبي عمرو عثمان بن أبي الفضل بن إسماعيل بن المحبر الدمشقي المتوفى في بكرة الثلاثاء منتصف صفر سنة 678 هـ: "روى لنا عن ابن اللَّتَّي وابن الزَّبِيدي، ومُكْرَم. وكان رجلًا مباركًا عدلًا مُعَمرًا سمعت عليه أجزاء قبل موته بنحو ثلاثة أشهر"(3).

وقال في ترجمة الشيخ تقي الدين أبي محمد عبد الله ابن الإمام تقي الدين أحمد ابن الحافظ عز الدين محمد بن عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي المتوفى يوم الجمعة السادس والعشرين من صفر سنة 678 هـ: "سمعتُ عليه جزءًا من حديث أبي الشيخ الأصبهاني بسماعه له من جعفر الهَمْداني"(4).

--------------------------------------------

(1) المقتفي 2/ 110 - 111 (672).

(2) تنظر مقدمتي لكتابه: تهذيب الكمال.

(3) المقتفي 4/ 112 (677).

(4) المقتفي 2/ 115 (678).

তিনি তাঁর থেকে শুনেছিলেন যদিও তিনি তাঁর শোনার তারিখ উল্লেখ করেননি, তবে এটি নিশ্চিত যে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল বারো বছর, এবং সম্ভবত তিনি তাঁর মৃত্যুর বছরেই তাঁর থেকে শুনেছিলেন।

এবং তিনি শেখ জয়নুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে সালামাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-হাদ্দাদ আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৬৭৮ হিজরীর আশুরা দিবসে) এর জীবনীতে বলেছেন: "তিনি একজন বরকতময় ব্যক্তি ছিলেন … তিনি আল-হিলইয়া, আল-মুস্তাখরাজ এবং মু'জামুত তাবারানি সহ আরও অনেক জুয বর্ণনা করেছেন … আমি ইবনে জা'ওয়ান এবং আল-মিযযির পাঠে এবং আমার নিজের পাঠের মাধ্যমেও তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু জুয শুনেছি"(১)। সুতরাং লেখক তাঁর মৃত্যুর সময় তেরো বছর পূর্ণ করেননি, এবং অবশ্যই তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে তাঁর থেকে শুনেছিলেন এমনভাবে যে তাঁকে শায়খের নিকট নিজে পাঠ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যদিও তাঁর সাথী জামালুদ্দীন আল-মিযযি তাঁর থেকে এগারো বছরের বড় ছিলেন, যেহেতু তিনি ৬৫৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন(২)।

এবং ৬৭৭ হিজরীতে শায়খদের মৃত্যু এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ থেকে লেখক তাঁর শ্রবণের মজলিসগুলোতে উপস্থিত থাকার বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা শুরু করেছেন, যেমনটি আগে বর্ণিত হয়েছে। তিনি শেখ রশিদউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে আবিল ফজল ইবনে ইসমাইল ইবনুল মুহাব্বার আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৬৭৮ হিজরীর সফর মাসের মাঝামাঝি মঙ্গলবার ভোরে) এর জীবনীতে বলেছেন: "তিনি আমাদের নিকট ইবনুল লাত্তি, ইবনুয যাবীদি এবং মাকরামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন বরকতময়, ন্যায়পরায়ণ এবং দীর্ঘজীবী ব্যক্তি ছিলেন। আমি তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পূর্বে তাঁর নিকট বেশ কিছু জুয শুনেছি"(৩)।

এবং তিনি শেখ তাকীয়ুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম তাকীয়ুদ্দীন আহমদ ইবনুল হাফেজ ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৭৮ হিজরীর ২৬শে সফর শুক্রবার) এর জীবনীতে বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট আবুশ শায়খ আল-আসফাহানির হাদিসের একটি জুয শুনেছি, যা তিনি জা'ফর আল-হামদানির নিকট শুনেছিলেন"(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ২/ ১১০ - ১১১ (৬৭২)।

(২) তাঁর রচিত কিতাব 'তাহযীবুল কামাল'-এর প্রতি আমার ভূমিকা দ্রষ্টব্য।

(৩) আল-মুকতাফি ৪/ ১১২ (৬৭৭)।

(৪) আল-মুকতাফি ২/ ১১৫ (৬৭৮)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال في ترجمة الشيخ شمس الدين أبي محمد عبد الله بن محمد بن عبد الله الزبيري القرشي الحنفي المعروف بابن الأوحد المتوفى في رابع شوال سنة 678 هـ: "سمعت منه جزء الوخشي فقط، وكان يروي الشمائل للترمذي أيضًا"(1).

وقال في ترجمة الشيخ ضياء الدين أبي الفضل يوسف بن تمام بن إسماعيل السُّلمي الحنفي المتوفى في عاشر ربيع الأول سنة 678 هـ: "أجاز لي، وقصدته للسماع عليه فامتنع، وكان معروفًا بذلك"(2).

وقال في ترجمة شيخ الشيوخ شرف الدين أبي بكر بن عبد الله ابن الشيخ تاج الدين عبد الله ابن حَمُّويَة الجويني المتوفى في ثامن شوال سنة 678 هـ: "سمعت منه جُزءًا من حديث النجّاد بسماعه من الحُسين ابن صَصْرَى"(3).

وقال في ترجمة الشيخ الفاضل صفي الدين أبي محمد إسحاق بن إبراهيم بن يحيى الشقراوي الحنبلي المتوفى في تاسع عشر ذي الحجة سنة 678 هـ: "سمعت منه وقرأت عليه. روى لنا عن ابن الزَّبِيدي وابن اللَّتِّي وغيرهما"(4).

وقال في ترجمة الشيخة الصالحة أم عمر صفيّة بنت مسعود بن أبي بكر بن شكر بن علّان المقدسي المتوفاة في رابع عشر ذي الحجة سنه 679 هـ: "سمعت منها المنتقى الصغير من الغيلانيات وأحاديث ابن أبي الدنيا منها، ومجلس ابن البُسْري، وحديث أبي عمر الزاهد، والثالث من حديث الكتاني، وأربعة مجالس من أمالي الجوهري من تخريج الخطيب، والمجلس الأول

--------------------------------------------

(1) المقتفي 2/ 129 (704).

(2) المقتفي 6/ 112 (680).

(3) المقتفي 2/ 130 (706).

(4) المقتفي 2/ 135 (716).

এবং তিনি ইবনুল আওহাদ নামে পরিচিত শাইখ শামসুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জুবাইরি আল-কুরাশি আল-হানাফি (যিনি ৬৭৮ হিজরির ৪ঠা শাওয়াল ইন্তেকাল করেন)-এর জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর কাছ থেকে কেবল আল-ওয়াখশির অংশটি শুনেছি, এবং তিনি তিরমিযীর আশ-শামায়েলও বর্ণনা করতেন।"(১).

এবং তিনি ৬৭৮ হিজরির ১০ই রবিউল আউয়াল ইন্তেকালকারী শাইখ জিয়াউদ্দীন আবুল ফজল ইউসুফ ইবনে তামাম ইবনে ইসমাইল আস-সুলামি আল-হানাফির জীবনীতে বলেন: "তিনি আমাকে ইজাজত প্রদান করেছেন, এবং আমি তাঁর কাছে শ্রবণের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম কিন্তু তিনি অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, আর তিনি এই বিষয়ের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।"(২).

এবং তিনি ৬৭৮ হিজরির ৮ই শাওয়াল ইন্তেকালকারী শাইখুশ শুয়ুখ শরফুদ্দীন আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শাইখ তাজউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মুয়াহ আল-জুওয়াইনির জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে হুসাইন ইবনে সসরার সূত্রে আল-নাজ্জাদের হাদিসের একটি অংশ শুনেছি।"(৩).

এবং তিনি ৬৭৮ হিজরির ১৯শে জিলহজ ইন্তেকালকারী শাইখ ফাজেল সফিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শাকরাওয়ি আল-হাম্বলির জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর নিকট শ্রবণ করেছি এবং তাঁর নিকট পাঠ করেছি। তিনি আমাদের নিকট ইবনুল জাবাইদি, ইবনুল লাত্তি এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।"(৪).

এবং তিনি ৬৭৯ হিজরির ১৪ই জিলহজ ইন্তেকালকারী নেককার বিদুষী উম্মে উমর সফিয়া বিনতে মাসউদ ইবনে আবু বকর ইবনে শুকর ইবনে আল্লান আল-মাকদিসিয়ার জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে আল-গাইলানিয়াত থেকে আল-মুন্তাকা আস-সগির এবং তাঁর মাধ্যমে ইবনে আবিদ দুনিয়ার হাদিসসমূহ, ইবনুল বুসরির মজলিস, আবু উমর আজ-জাহিদের হাদিস, আল-কাত্তানির হাদিসের তৃতীয় অংশ, খতিব কর্তৃক তাখরিজকৃত আল-জওহরির আমালির চারটি মজলিস এবং প্রথম মজলিসটি

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ২/১২৯ (৭০৪)।

(২) আল-মুকতাফি ৬/১১২ (৬৮০)।

(৩) আল-মুকতাফি ২/১৩০ (৭০৬)।

(৪) আল-মুকতাফি ২/১৩৫ (৭১৬)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
من أمالي الضبي، وحديث البغوي وابن صاعد رواية المُخَلِّص عنهما، وغير ذلك "(1).

وقال في ترجمة القاضي نفيس الدين أبي القاسم هبة الله بن محمد بن هبة الله الحارثي الزبداني المتوفى في تاسع صفر سنة 770 هـ: "حدث القاضي النفيس المذكور بالجزء الأول من حديث بشر بن مطر عن ابن ملاعب، قرأه عليه الوجيه السبتي سنة سبع وستين وست مئة، وقُرئ عليه بعد ذلك مرات، وسمعته عليه بدمشق قبل موته بشهرين"(2).

وقال في ترجمة الشيخ مجد الدين أبو محمد عبد العزيز بن الحسين بن الحسن بن إبراهيم الخليلي الداري المتوفى في ثالث عشر ربيع الآخر سنة 680 هـ: "سمعت منه المئة لشيخ الإسلام (أبي إسماعيل الهروي) بسماعه من ابن الخبازة عن أبي الوقت، وجزء ابن نجيد بإجازته من أبي روح والمؤيد وزينب الشعرية، وغير ذلك"(3).

وقال في ترجمة الشيخ أمين الدين أبي محمد القاسم بن أبي بكر بن قاسم بن غنيمة الإربلي التاجر المتوفى في ثاني جمادى الأولى سنة 770 هـ: "سمعت عليه صحيح مسلم بكماله بقراءة شمس الدين ابن أبي الفتح البعلبكي بإفادة والدي وحضوره"(4).

وقال في ترجمة الشيخ شمس الدين أبي بكر بن عمر بن يونس المزي الحنفي المتوفى في ثاني شعبان سنة 680 هـ: "روى صحيح البخاري عن ابن

--------------------------------------------

(1) المقتفي 2/ 165 (761).

(2) المقتفي 2/ 174 (770).

(3) المقتفي 2/ 180 (774).

(4) المقتفي 2/ 182 (775).

আয-যাব্বীর আমালী হতে, এবং আল-বাগাভী ও ইবনু সা'ইদ এর হাদীস যা আল-মুখাল্লিস তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং আরও অন্যান্য উৎস।(১)

এবং তিনি কাযী নাফিসুদ্দীন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হিবাতুল্লাহ আল-হারিসী আয-যাবদানী—যিনি ৭৭০ হিজরীর ৯ই সফর ইন্তেকাল করেছেন—তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "উল্লিখিত কাযী নাফিস ইবনু মুলা'ইব-এর সূত্রে বিশর ইবনু মাতার-এর হাদীসের প্রথম অংশ বর্ণনা করেছেন। ৬৬৭ হিজরীতে আল-ওয়াজিহ আস-সাবতী এটি তাঁর নিকট পাঠ করেছেন এবং এরপরও বারবার এটি তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে। আমি তাঁর ইন্তেকালের দুই মাস পূর্বে দামেস্কে এটি তাঁর থেকে শুনেছি।"(২)

এবং তিনি শায়খ মাজদুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান ইবনু ইবরাহীম আল-খালীলী আদ-দারী—যিনি ৬৮০ হিজরীর ১৩ই রবিউল আখির ইন্তেকাল করেছেন—তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট হতে শায়খুল ইসলাম (আবু ইসমাঈল আল-হারাভী)-র 'আল-মিআহ' শুনেছি, যা তিনি আবু আল-ওয়াকত-এর সূত্রে ইবনুল খাব্বাযাহ থেকে শুনেছেন। এছাড়াও আমি ইবনু নুজায়দ-এর অংশ বিশেষ (জুয) শুনেছি যা তিনি আবু রুহ, আল-মুওয়াইয়্যাদ এবং যায়নাব আশ-শা'রিয়্যাহর ইজাযত প্রাপ্তিতে বর্ণনা করেছেন, এবং আরও অনেক কিছু।"(৩)

এবং তিনি শায়খ আমীনুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম ইবনু আবু বকর ইবনু কাসিম ইবনু গানিমাহ আল-ইরিবলী আত-তাজির—যিনি ৭৭০ হিজরীর ২রা জুমাদাল উলা ইন্তেকাল করেছেন—তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট শামসুদ্দীন ইবনু আবুল ফাতহ আল-বা'লাবাক্কীর কিরাআতে এবং আমার পিতার দিকনির্দেশনায় ও উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ সহীহ মুসলিম শুনেছি।"(৪)

এবং তিনি শায়খ শামসুদ্দীন আবু বকর ইবনু উমর ইবনু ইউনুস আল-মিযযী আল-হানাফী—যিনি ৬৮০ হিজরীর ২রা শা'বান ইন্তেকাল করেছেন—তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "তিনি ইবনু ... এর সূত্রে সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফী ২/ ১৬৫ (৭৬১)।

(২) আল-মুকতাফী ২/ ১৭৪ (৭৭০)।

(৩) আল-মুকতাফী ২/ ১৮০ (৭৭৪)।

(৪) আল-মুকতাফী ২/ ১৮২ (৭৭৫)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
مندوية والعطار، وروى صحيح مسلم عن ابن الحرستاني؛ سمعت عليه الصحيحين"(1).

وقال في ترجمة الشيخ شمس الدين أبي الفداء إسماعيل بن أحمد بن إبراهيم بن يعيش القيسي المالكي المتوفى في ثالث عشر شعبان سنة 680 هـ: "سمعت منه الجزء الأول من حديث الإخميمي"(2).

وذكر أنه سمع من الشيخ أبي محمد عبد الله بن أبي العز بن صدقة الحراني المتوفى في الثالث والعشرين من شعبان سنة 680 هـ(3)، وعدة أجزاء من الشريف العدل فخر الدين أبي عبد الله محمد بن محمد بن عبد الوهاب الحسيني المنقذي المتوفى في ليلة الثالث والعشرين من شعبان من السنة، ومن الشيخ المعمر الأديب المنجم علاء الدين أبي الحسن علي بن محمود بن الحسن بن نبهان الربعي اليشكري المتوفى في السابع والعشرين من رمضان من السنة أيضًا(4).

وسمع جميع المعجم الكبير للطبراني على الشيخ الصالح المقرئ برهان الدين أبي إسحاق إبراهيم بن إسماعيل بن إبراهيم ابن الدرجي الحنفي المتوفى في سابع صفر سنة 681 هـ بقراءة رفيقه جمال الدين أبي الحجاج يوسف المزي(5).

 

‌‌رحلاته:

وجَدَّ البرزالي بالطلب، ودار على الشيوخ حياته كلها، وقد أحب الحديث وأهله فسمع مئات الكتب والأجزاء، ولم يكتف بشيوخ بلده الذي كان يومئذٍ

--------------------------------------------

(1) المقتفي 2/ 203 (808).

(2) المقتفي 2/ 205 (810).

(3) المقتفي 2/ 206 (814).

(4) المقتفي 2/ 212 (824).

(5) المقتفي 2/ 227 (852).

মানদাবিয়্যাহ ও আল-আত্তার, এবং ইবনুল হুরস্তানি থেকে সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন; আমি তার নিকট সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) শ্রবণ করেছি(১)।

এবং তিনি শায়খ শামসুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াইশ আল-কাইসি আল-মালিকি-এর জীবনীতে বলেছেন, যিনি ৬৮০ হিজরির ১৩ই শাবান ইন্তেকাল করেছেন: "আমি তার নিকট থেকে হাদিসে ইখমিমি-র প্রথম অংশ শ্রবণ করেছি"(২)।

এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শায়খ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবিল ইজ্জ ইবনে সাদাকা আল-হাররানি (যিনি ৬৮০ হিজরির ২৩শে শাবান ইন্তেকাল করেছেন) এর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন(৩), এবং শরীফ আদল ফখরুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-হুসাইনি আল-মানকিযি (যিনি সেই বছরেরই ২৩শে শাবান দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেছেন) এর নিকট থেকে বেশ কিছু অংশ শ্রবণ করেছেন, এবং দীর্ঘজীবী শায়খ, সাহিত্যিক ও জ্যোতির্বিদ আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে মাহমুদ ইবনে হাসান ইবনে নাবহান আল-রিবঈ আল-ইয়াশকিরি (যিনি সেই বছরেরই ২৭শে রমজান ইন্তেকাল করেছেন) এর নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন(৪)।

এবং তিনি ইমাম তাবারানির সম্পূর্ণ 'আল-মু'জাম আল-কাবীর' শ্রবণ করেছেন সৎ শায়খ ও কারী বুরহানুদ্দিন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনুদ দারজি আল-হানাফি (যিনি ৬৮১ হিজরির ৭ই সফর ইন্তেকাল করেছেন) এর নিকট, তাঁর সহপাঠী জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিযযির পাঠের মাধ্যমে(৫)।

 

‌‌তাঁর সফরসমূহ:

বারজালি জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সারা জীবন শায়খদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তিনি হাদিস এবং হাদিস বিশারদদের ভালোবাসতেন, ফলে তিনি শত শত কিতাব ও ক্ষুদ্র সংকলন শ্রবণ করেছেন। তিনি সে সময়ের নিজ শহরের শায়খদের ওপরই কেবল ক্ষান্ত হননি
(১) আল-মুকতাফি ২/২০৩ (৮০৮)।

(২) আল-মুকতাফি ২/২০৫ (৮১০)।

(৩) আল-মুকতাফি ২/২০৬ (৮১৪)।

(৪) আল-মুকতাফি ২/২১২ (৮২৪)।

(৫) আল-মুকতাফি ২/২২৭ (৮৫২)।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣١)
معدن العلماء، فشدّ الرحال إلى البلدان للقاء المشايخ وأخذ ما عندهم، وكانت أولى سفراته مع والده إلى بعلبك وهو في السادسة عشرة من عمره سنة 681 هـ، قال في ترجمة الشيخ محمود بن سلطان المتوفى في رمضان سنة 681 هـ: "زرته في يوم الجمعة بعد العصر ثامن عشر ربيع الأول سنة إحدى وثمانين وست مئة بمنزله ببعلبك مع والدي وجماعة، ودعا لنا"(1)، وذكر أنّه دخل إلى بعبك أربع مرات(2)، كان منها سنة 685 هـ حيث ذكر في ترجمة الشيخ ناصر الدين ابن قرقين البعلبكي المتوفى سنة 692 هـ: "قرأت عليه في سنة خمس وثمانين ببعلبك الأربعين التي انتقاها الشيخ شمس الدين ابن أبي الفتح من كتاب شرح السنة للبغوي بسماعه من القزويني"(3) سنة 697 هـ، قال: "وسافرت إلى بعلبك في الثامن والعشرين من ذي القعدة، فأقمت بها جمعة قرأت على خمسة عشر شيخًا، ومما قرأته مشد الإمام الشافعي رضي الله عه، والثقفيات عشرة أجزاء، ومشيخة الشيخ شرف الدين اليونيني ثلاثة عشر جزءًا، وأكثر من ستين جزءًا، ووصلت إلى دمشق في ثامن ذي الحجة"(4).

ومن ذلك سفره إليها في آخر جمادى الآخرة سنة 700 هـ حيث سمع بها نحوًا من عشرين جزءا على عشرين شيخًا، وكانت مدة غيبته عن دمشق ستة أيام(5).

--------------------------------------------

(1) المقتفي 2/ 239، وقال في ترجمة الشيخ ناصر الدين أبي الحسن علي بن محمود ابن فرقين البعلبكي: "سمعت علبه بدمشق جزءًا من حديث أبي القاسم إبراهم بن محمد المناديلي … في ذي القعدة سنة ثمانين وست مئة بقراءة الشيخ تقي الدين ابن تيمية، ثم قرأته عليه بعد أربعة أشهر ببعلبك" (المقتفي 3/ 140).

(2) المقتفي 4/ 85.

(3) المقتفى 3/ 140.

(4) المقتفي 3/ 401 - 402.

(5) المقتفي 4/ 38.

আলেমদের খনি, তিনি শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং তাঁদের নিকট থাকা জ্ঞান অর্জনের জন্য দেশ-দেশান্তরে সফর করেন। তাঁর প্রথম সফর ছিল তাঁর পিতার সাথে বালবাক অভিমুখে, যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর, ৬৮১ হিজরি সনে। তিনি ৬৮১ হিজরির রমজান মাসে মৃত্যুবরণকারী শায়খ মাহমুদ বিন সুলতানের জীবনীতে বলেন: "আমি ৬৮১ হিজরির ১৮ই রবিউল আউয়াল জুমার দিন আসরের পর আমার পিতা ও একদল সাথীসহ বালবাকে তাঁর বাসভবনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তিনি আমাদের জন্য দোয়া করেন।"(১) তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বালবাকে চারবার প্রবেশ করেছেন(২), যার মধ্যে একটি ছিল ৬৮৫ হিজরিতে। সেখানে তিনি ৬৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শায়খ নাসিরুদ্দিন ইবনে কুরকিন আল-বালবাকির জীবনীতে উল্লেখ করেন: "আমি ৬৮৫ হিজরিতে বালবাকে তাঁর নিকট সেই 'চল্লিশ হাদিস' পাঠ করেছি যা শায়খ শামসুদ্দিন ইবনে আবিল ফাতহ বাগভী রহ.-এর 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থ থেকে সংকলন করেছেন, তাঁর আল-কাযউইনি থেকে শ্রবণের মাধ্যমে।"(৩) ৬৯৭ হিজরি সনে তিনি বলেন: "আমি জিলকদ মাসের আটাশ তারিখে বালবাকের উদ্দেশ্যে সফর করি এবং সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করি। আমি পনেরো জন শায়খের কাছে পাঠ গ্রহণ করি। আমি যা পাঠ করেছি তার মধ্যে রয়েছে ইমাম শাফিয়ী (রা.)-এর মুসনাদ, আস-সাকাফিয়াত দশ খণ্ড, শায়খ শরফুদ্দিন আল-ইউনিনির মাশইয়াহ তেরো খণ্ড এবং ষাটেরও বেশি খণ্ড। আমি ৮ই জিলহজ দামেস্কে পৌঁছাই।"(৪)

এর মধ্যে ৭০০ হিজরির জমাদিউস সানি মাসের শেষে তাঁর সেই সফরও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি বিশ জন শায়খের নিকট প্রায় বিশটি খণ্ড শ্রবণ করেন। দামেস্ক থেকে তাঁর অনুপস্থিতির সময়কাল ছিল ছয় দিন।(৫)

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ২/ ২৩৯; এবং তিনি শায়খ নাসিরুদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মাহমুদ ইবনে ফুরকিন আল-বালবাকির জীবনীতে বলেন: "আমি দামেস্কে তাঁর নিকট আবুল কাসিম ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মুনাদিলির হাদিসের একটি খণ্ড শুনেছি... ৬৮০ হিজরির জিলকদ মাসে শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়ার পাঠের মাধ্যমে। অতঃপর চার মাস পর বালবাকে আমি তা পুনরায় তাঁর নিকট পাঠ করি" (আল-মুকতাফি ৩/ ১৪০)।

(২) আল-মুকতাফি ৪/ ৮৫।

(৩) আল-মুকতাফি ৩/ ১৪০।

(৪) আল-মুকতাফি ৩/ ৪০১ - ৪০২।

(৫) আল-মুকতাফি ৪/ ৩৮।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ورحل في سنة 685 هـ إلى حلب(1)، وسمع على جُملة من شيوخها، ثم توجه بعدها إلى الديار المصرية يوم الاثنين رابع عشر شوال من السنة نفسها "لأجل سماع الحديث وتحصيل الشيوخ والروايات العالية"(2)، وأول ما قصد محدث الديار المصرية جمال الدين أحمد بن محمد بن عبد الله الظاهري (ت 696 هـ)، قال: "روى لنا عن أكثر من مئة شيخ، منهم ابن اللَّتِّي، والإربلي، وابن رواحة، وابن خيل، وابن الجميزي، والساوي، وابن قميرة، والنشتبري، والموفق يعيش النحوي، وشعيب الزعفراني، وأحمد ابن الجبّاب، وكريمة القرشية وأختها صفية؛ سمعت عليه أكثر من مئتي جزء"(3)، وسمع على عدد من مشايخ القاهرة(4)، وتجوّل في البلاد المصرية فسمع بالإسكندرية(5) وبلبيس(6).

 

‌‌حجه:

وحج البرزالي سنة 688 هـ، ودوَّن ذلك في كتابه، فقال في حوادث سنة 681 هـ: "وفي سلخ المحرم وصل الركب الشامي إلى دمشق من الحجاز الشريف … وكنت أنا معهم في هذه السنة، وسمعت الحديث على خمسة وعشرين شيخًا"(7)، وذكر الإمام الذهبي أنه حج أربعًا بعد ذلك(8)، ففي

--------------------------------------------

(1) المقتفي 5/ 79، ومعجم شيوخ السبكي 320، وانظر سماعه في حلب التراجم: 1184، 1366، 1588، 2028، 2195 وغيرها.

(2) المقتفي 2/ 334.

(3) المقتفي 345/ 3.

(4) تنظر التراجم 1415، 1418، 1448، 1732، 1995، 2115، 3149 وغيرها.

(5) المقتفي 2/ 392 و 2/ 401، 421 و 3/ 105.

(6) المقتفي 2/ 450 و 3/ 390.

(7) المقتفي 2/ 441.

(8) ذيل سير أعلام النبلاء 36.

তিনি ৬৮৫ হিজরিতে আলেপ্পোর(১) উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানকার একদল শায়খের নিকট (হাদিস) শ্রবণ করেন। অতঃপর একই বছরের ১৪ই শাওয়াল সোমবার তিনি "হাদিস শ্রবণ এবং উচ্চ সনদসম্পন্ন শায়খ ও বর্ণনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে"(২) মিসরের ভূখণ্ডের দিকে রওনা হন। সেখানে তিনি প্রথমেই মিসরের হাদিস বিশারদ জামালুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-জাহিরি (মৃত ৬৯৬ হি.)-এর নিকট গমন করেন। তিনি বলেন: "তিনি আমাদের নিকট একশরও বেশি শায়খের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল লাত্তি, আল-ইরবিলি, ইবনু রাওয়াহা, ইবনু খাইল, ইবনুল জুমায়যি, আস-সাউয়ি, ইবনু কুমায়রা, আন-নাশতাবারি, আল-মুওয়াফফাক ইয়াইশ আন-নাহবি, শুআইব আজ-জাফরানি, আহমদ ইবনুল জাব্বাব এবং কারিমা আল-কুরাশিয়্যাহ ও তাঁর বোন সাফিয়্যাহ; আমি তাঁর নিকট দুইশরও বেশি জুয (হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলন) শ্রবণ করেছি"(৩)। তিনি কায়রোর বেশ কিছু শায়খের নিকটও হাদিস শ্রবণ করেন(৪) এবং মিসরের বিভিন্ন শহর সফর করেন। ফলে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া(৫) ও বিলবাইসেও(৬) হাদিস শ্রবণ করেন।

 

‌‌তাঁর হজ সম্পাদন:

আল-বিরজালি ৬৮৮ হিজরিতে হজ পালন করেন এবং তিনি তাঁর কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ৬৮১ হিজরির ঘটনাবলিতে বলেন: "মুহাররম মাসের শেষ ভাগে শামী (সিরীয়) কাফেলা পবিত্র হিজাজ থেকে দামেস্কে পৌঁছেছে … এবং এই বছর আমি তাঁদের সাথেই ছিলাম এবং পঁচিশ জন শায়খের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছি"(৭)। ইমাম আয-যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এরপর আরও চারবার হজ করেছেন(৮), সুতরাং...

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ৫/ ৭৯, এবং মু'জামু শুইউখিস সুবকি ৩২০, এবং আলেপ্পোর জীবনীগুলোতে তাঁর শ্রবণের ব্যাপারে দেখুন: ১১৮৪, ১৩৬৬, ১৫৮৮, ২০২৮, ২১৯৫ ইত্যাদি।

(২) আল-মুকতাফি ২/ ৩৩৪।

(৩) আল-মুকতাফি ৩/ ৩৪৫।

(৪) জীবনীসমূহ দেখুন: ১৪১৫, ১৪১৮, ১৪৪৮, ১৭৩২, ১৯৯৫, ২১১৫, ৩১৪৯ ইত্যাদি।

(৫) আল-মুকতাফি ২/ ৩৯২ এবং ২/ ৪০১, ৪২১ এবং ৩/ ১০৫।

(৬) আল-মুকতাফি ২/ ৪৫০ এবং ৩/ ৩৯০।

(৭) আল-মুকতাফি ২/ ৪৪১।

(৮) যাইল সিয়ার আলামিন নুবালা ৩৬।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
سنة 703 هـ قضى فريضة الحج عن أمه(1)، وفي سنة 710 هـ حج مع ابنه محمد، قال في حوادث السنة المذكورة: "وخرج الركب الشامي من دمشق يوم الاثنين تاسع شوال … وتوجهت معهم أنا وابني محمد، فقضى فريضة الحج، وأسمعته على ثمانين نفسًا نحوًا من ستين جزءًا في سبعين مكانًا من البلدان والقرى والمنازل المعروفة"(2). كما توجه إلى الحج سنة 728 هـ(3)، وسنة 733 هـ(4)، وسنة 739 هـ حيث توفي بخُليص في توجهه إلى مكة المكرمة كما سيأتي. وقد سمع المؤلف على الجم الغفير في رحلاته.

لقد أصيب علم الدين البرزالي بالشَّرَه في طلب الحديث، وقد بلغ ثبته بضعةً وعشرين مجلدًا، وأثبت فيه مَن كان يسمع معه، وبلغ عدد مشايخه بالسماع أزيد من ألفين، وبالإجازة أكثر من ألف، رَتّب ذلك كلّه وترجمهم في مسودات متقنة، كما قال الذهبي في ذيل السير(5)، وكثير منهم مذكور في هذا الكتاب، ولو كان الكتاب وصل إلينا كاملًا كان يمكن إعادة جمعهم منه.

 

‌‌نكبته بأولاده:

تزوج المؤلف من ابنة أحد أبناء الأمراء الأتراك هو بدر الدين حسن ابن الأمير حسام الدين ببان التركي، السلوقي جده، المتوفى في رمضان سنة 706 هـ، فقد ترجمه في وفيات السنة المذكورة فقال: "وفي يوم الجمعة ثاني عشر رمضان توفي بدر الدين أبو أحمد حسن ابن حسام الدين بلبان بن عبد الله

--------------------------------------------

(1) المقتفي 4/ 173.

(2) المقتفي 4/ 442.

(3) البداية والنهاية، لابن كثير 16/ 209 (طـ. ابن كثير)، وتاريخ ابن الجزري 2/ 268.

(4) تاريخ ابن الجزري 2/ 469.

(5) ذيل السير 360، ونقله السبكي في معجم شيوخه 320 - 321.

৭০৩ হিজরি সনে তিনি তাঁর মায়ের পক্ষ থেকে হজের ফরজ পালন করেন(১), এবং ৭১০ হিজরি সনে তিনি তাঁর পুত্র মুহাম্মাদের সাথে হজ পালন করেন। উক্ত বছরের ঘটনাবলীতে তিনি বলেন: "আর সিরীয় কাফেলা শাওয়ালের নয় তারিখ সোমবার দামেস্ক থেকে বের হয়... আমি এবং আমার পুত্র মুহাম্মাদ তাদের সাথে রওনা হলাম, সে হজের ফরজ আদায় করল। আমি তাকে আশিজন ব্যক্তির নিকট বিভিন্ন দেশ, গ্রাম ও পরিচিত মনজিলের সত্তরটি স্থানে প্রায় ষাটটি জুয (অংশ) শ্রবণ করালাম"(২)। একইভাবে তিনি ৭২৮ হিজরি সনে(৩), ৭৩৩ হিজরি সনে(৪) এবং ৭৩৯ হিজরি সনে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, যেখানে মক্কা মুকাররমার পথে খুলাইস নামক স্থানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। লেখক তাঁর সফরগুলোতে এক বিশাল জনসমষ্টির নিকট (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।

আলম উদ্দিন আল-বিরজালি হাদিস অন্বেষণের প্রতি প্রবল অনুরাগী ছিলেন। তাঁর 'সাবাত' (উস্তাদ ও বর্ণনার তালিকা) বিশটিরও বেশি খণ্ডে পৌঁছেছিল এবং তাতে তিনি তাদের নামও লিপিবদ্ধ করেছেন যারা তাঁর সাথে (হাদিস) শ্রবণ করত। শ্রবণ করার মাধ্যমে তাঁর উস্তাদের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি হয়েছিল এবং ইজাজতের (অনুমতি) মাধ্যমে এক হাজারের বেশি। তিনি এই সমস্ত কিছু বিন্যস্ত করেছেন এবং নিপুণ পাণ্ডুলিপিতে তাদের জীবনী আলোচনা করেছেন, যেমনটি যাহাবি 'যাইলুস সিয়ার'-এ বলেছেন(৫)। তাদের অনেকের উল্লেখ এই কিতাবে রয়েছে; যদি কিতাবটি আমাদের নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছাত, তবে এখান থেকেই তাদের পুনরায় সংকলন করা সম্ভব হতো।

 

‌‌সন্তানদের নিয়ে তাঁর মুসিবত:

লেখক জনৈক তুর্কি আমিরের পুত্রের কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি হলেন বদর উদ্দিন হাসান ইবনে আমির হুসাম উদ্দিন বালবান আল-তুর্কি; তাঁর দাদা ছিলেন সালুকি, যিনি ৭০৬ হিজরির রমজান মাসে ইন্তেকাল করেন। লেখক উক্ত বছরের মৃত্যু সংবাদে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: "আর রমজানের বারো তারিখ শুক্রবার বদর উদ্দিন আবু আহমদ হাসান ইবনে হুসাম উদ্দিন বালবান ইবনে আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন।"

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ৪/১৭৩।

(২) আল-মুকতাফি ৪/৪৪২।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির ১৬/২০৯ (ইবনে কাসির সংস্করণ), এবং তারিখ ইবনে আল-জাযারি ২/২৬৮।

(৪) তারিখ ইবনে আল-জাযারি ২/৪৬৯।

(৫) যাইলাস সিয়ার ৩৬০, এবং সুবকি তাঁর 'মু'জামু শুইউখ'-এ এটি ৩২০ - ৩২১ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত করেছেন।

(খণ্ড: ١) তারিখুল বিরযালি আল-মুকতাফী লি-তারিখি আবী শামাহ - তাহকীক আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
المعروف بابن السَّلُوقي، بالدار الموقوفة عليه قبالة المدرسة المعينية بدمشق، ودفن ضحى نهار السبت بتربتهم بسفح قاسيون بالقرب من الجامع، وكان قد قارب الستين ولم يبلغها. ووجدت سماعه سنة أربع وستين على ابن هامل في جزء ابن كرامة. وكان له صيام كثير وعمل صالح، ويجالس الفقراء، ولازم الشيخ شمس الدين ابن الكمال مدةً وربّاه الشيخ إبراهيم الأُرموي، وهو جد ابني محمد لأمه"(1).

وزوجته اسمها دُنيا، ولدت سنة 678 هـ(2)، ولعله تزوجها سنة 693 هـ أو أوائل سنة 694 هـ، فقد ولدت له محمدًا في العشرين من محرم سنة 695 هـ(3)، وعاشت بعده ثلاثين عامًا حيث توفيت يوم الأحد السادس والعشرين من جمادى الأولى سنة 759 هـ، وكانت قد سمعت من يوسف ابن الغسولي وغيره وحدثت(4).

وخلف علم الدين منها عدة أولاد توفوا جميعًا في حياته إما صغارًا، وإما شبابًا، وأولهم ابنه محمد المولود في العشرين من محرم سنة 695 هـ والمتوفى في ليلة التاسع والعشرين من المحرم سنة 713 هـ وهو في الثامنة عشر من عمره، وقد عني به عناية فائقة وسجل في كتابه مولده(5)، وخَتْمه القرآن العظيم، قال في حوادث سنة 703 هـ: "وفي يوم الجمعة ثامن جمادى الآخرة ختم ابني محمد القرآن العظيم، واجتمع لذلك جماعة بالجامع المعمور، وصلى التراويح في رمضان من هذه السنة بمشهد ابن عروة، وختم

--------------------------------------------

(1) المقتفي 4/ 262 - 263 (3033).

(2) الوفيات، لابن رافع 2/ 210 (716).

(3) المقتفي 3/ 244.

(4) ترجمه في وفيات ابن رافع 2/ 210 (716)، وذيل التقييد 2/ 365، والدرر الكامنة 2/ 229.

(5) المقتفي 3/ 244.

ইবনে আস-সালুকি নামে পরিচিত, দামেস্কের মুঈনিয়া মাদরাসার বিপরীতে তার জন্য ওয়াকফকৃত বাড়িতে (তিনি ইন্তেকাল করেন); এবং শনিবার পূর্বাহ্নে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে জামে মসজিদের নিকটবর্তী তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার বয়স ষাটের কাছাকাছি হয়েছিল কিন্তু ষাট পূর্ণ হয়নি। আমি ইবনে হামেলের নিকট চৌষট্টি সালে 'জুজ ইবনে কারামাহ'-তে তার শ্রবণ (সামা') বিদ্যমান পেয়েছি। তিনি অনেক রোজা রাখতেন এবং নেক আমল করতেন, দরিদ্রদের সাথে উঠাবসা করতেন। তিনি দীর্ঘকাল শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুল কামাল-এর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং শায়খ ইব্রাহিম আল-উরমাউই তাকে লালন-পালন করেছেন। তিনি আমার পুত্র মুহাম্মাদের মাতামহ"(১)।

তার স্ত্রীর নাম দুনিয়া, তিনি ৬৭৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন(২)। সম্ভবত তিনি তাকে ৬৯৩ হিজরি অথবা ৬৯৪ হিজরির শুরুর দিকে বিবাহ করেন। তিনি তার গর্ভে ৬৯৫ হিজরির ২০শে মহররম মুহাম্মাদকে জন্ম দেন(৩)। তিনি স্বামীর মৃত্যুর পর আরও ত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন এবং ৭৫৯ হিজরির ২৬শে জুমাদাল উলা, রবিবার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইউসুফ ইবনুল গাসুলি ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছিলেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন(৪)।

আলামুদ্দিন তার থেকে বেশ কজন সন্তান লাভ করেন যারা সবাই তার জীবদ্দশাতেই শৈশবে অথবা যৌবনে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন তার পুত্র মুহাম্মাদ, যিনি ৬৯৫ হিজরির ২০শে মহররম জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭১৩ হিজরির ২৯শে মহররম রাতে ১৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন এবং তার গ্রন্থে তার জন্ম(৫) ও মহান কুরআন খতমের কথা লিখে রেখেছেন। তিনি ৭০৩ হিজরির ঘটনাবলীতে বলেন: "জুমাদাল আখিরা মাসের আট তারিখ, শুক্রবার আমার পুত্র মুহাম্মাদ মহান কুরআন খতম সম্পন্ন করে এবং এ উপলক্ষ্যে জামে মামুরে একদল লোক সমবেত হয়। সে এই বছরের রমজানে ইবনে উরওয়াহ-এর মাশহাদে তারাবিহ পড়িয়েছে এবং খতম করেছে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুকতাফি ৪/২৬২ - ২৬৩ (৩০৩৩)।

(২) আল-ওয়াফায়াত, ইবনে রাফি কৃত ২/২১০ (৭১৬)।

(৩) আল-মুকতাফি ৩/২৪৪।

(৪) ইবনে রাফি তার 'ওয়াফায়াত' গ্রন্থে (২/২১০, নং ৭১৬), 'যাইলুত তাকিদ' গ্রন্থে (২/৩৬৫) এবং 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে (২/২২৯) তার জীবনী উল্লেখ করেছেন।

(৫) আল-মুকতাফি ৩/২৪৪।