(খণ্ড: ১)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: -)
بغية الطلب فى تاريخ حلب - ط الفرقان القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: بُغْيَة الطَّلَب في تاريخ حلب
المؤلف: كمال الدين عمر بن أحمد بن هبة الله العقيلي الحلبي ابن العديم (ت 660)
المحقق: المهدي عيد الرواضية
الناشر: مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي - مركز دراسات المخطوطات الإسلامية، لندن - إنجلترا
الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2016 م
عدد الأجزاء: 12 (11 والفهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الأولى 1444
বুগয়াতুত তলাব ফি তারিখি হালাব - আল-ফুরকান সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও ইতিহাস (তরাজিম ও তাবাকাত)
কিতাব: বুগয়াতুত তলাব ফি তারিখি হালাব
লেখক: কামালুদ্দীন উমর ইবন আহমদ ইবন হিবাতুল্লাহ আল-উকায়লী আল-হালাবী ইবনুল আদীম (মৃ. ৬৬০)
সম্পাদক: মাহদী ঈদ আর-রাওয়াদিয়া
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল ফুরকান লি-তুরাসিল ইসলামি - ইসলামিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট স্টাডিজ সেন্টার, লন্ডন - ইংল্যান্ড
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরী - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১২ (১১ এবং নির্ঘণ্ট)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল উলা ১৪৪৪
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١١)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
تصديرالحمد لله رب العالمين، حمدًا يليق بجلاله، ويُوافي جزيل فضله وإفضاله، وتحيّاته الطيبات على رسوله وخليله محمد الأمين، خاتم النبيين وسيد المرسلين صلوات الله عليه وسلامه، والتحية لأهل بيته الطاهرين الطيبين، ورضي الله عن صحابته والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد،
فيحْفل تراثنا الإسلامي والعربي بكنوز فكرية مؤسسة على القيم التي ترسخت بعد مبعث النبي الهاشمي صلى الله عليه وسلم، منها ما يتصل بعلوم الشرع وفقه الكتاب العزيز وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم، ومنها ما ينصرف إلى العلوم البحتة والتطبيقية، وعلوم الأدب واللغة واللسان، والتأريخ للأمم والشعوب والبلدان.
والكتاب، الذي بين أيدينا، الذي يُسعدني أن أتقدم به للعلماء المهتمين والباحثين في تراثنا الإسلامي، هو كتابٌ جامعٌ لجملة من العلوم والمعارف والفنون؛ وهو وإن كان موضوعه الأساسي الترجمة للأعلام والنَّابهين في شتَّى حقول المعرفة والآداب وأرباب الحُكم والسياسة ومن يجري مجراهم ممن اتصلت علاقتهم بإقليم حلب، إما بالسُّكني أو العبور منها، فإنه يشتمل على معارف متنوعة تتوزع بين علوم الدين ورواية الأحاديث وعلوم الأدب، منثوره ومنظومه، ومسالك البُلدان، خاصة ما يقع في شمال بلاد الشام، والتأريخ لحقبة ممتدة من تاريخنا الإسلامي.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মুখবন্ধসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর মহিমার জন্য উপযুক্ত এবং যা তাঁর অশেষ অনুগ্রহ ও দানের সমকক্ষ। তাঁর পবিত্র অভিবাদন বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল ও বন্ধু বিশ্বস্ত মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নবীগণের মোহর এবং রাসূলগণের সরদার; তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। এবং তাঁর পবিত্র ও উত্তম পরিবারবর্গের প্রতি অভিবাদন; আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর,
আমাদের ইসলামি ও আরবি ঐতিহ্য এমন সব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদে সমৃদ্ধ, যা হাশেমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পর প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু শরয়ী জ্ঞান এবং মহান কিতাব ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ফিকহ সংশ্লিষ্ট, আর কিছু বিশুদ্ধ ও ফলিত বিজ্ঞান, সাহিত্য, ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও দেশসমূহের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত।
আমাদের হাতে থাকা এই গ্রন্থটি, যা আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যে আগ্রহী আলেম ও গবেষকদের নিকট পেশ করতে পেরে আমি আনন্দিত, তা বিভিন্ন জ্ঞান, বিজ্ঞান ও শিল্পের এক সংকলন। যদিও এর মূল বিষয়বস্তু হলো জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, সাহিত্য, শাসন ও রাজনীতির কর্ণধার এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ—যাঁদের সাথে আলেপ্পো অঞ্চলের সম্পর্ক ছিল, হয় সেখানে বসবাসের কারণে অথবা সেখান দিয়ে গমনের কারণে—তাঁদের জীবনী আলোচনা করা; তবুও এটি ধর্মীয় জ্ঞান, হাদীস বর্ণনা, গদ্য ও পদ্য উভয় ধারার সাহিত্যচর্চা, দেশ-বিদেশের পথঘাট—বিশেষ করে উত্তর সিরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত স্থানসমূহ—এবং আমাদের ইসলামি ইতিহাসের এক দীর্ঘ কালপরিক্রমার বিবরণসহ বিভিন্ন জ্ঞানে সমৃদ্ধ।
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وفائدة الكتاب وأهميته بين أقرانه جليّة واضحة، يُدركها المشتغلون بالتاريخ جملة، لأصالة مادته وتفرده بكثير من المعلومات والأخبار التي لم ترد عند غيره، ومنهجه في نقد الروايات والنصوص وترجيح الصواب.
وينتمي كمال الدين بن العديم، مؤلف هذا الكتاب، إلى طبقة رفيعة من مؤرخي وكُتَّاب ذلك العصر، وهو أحد ثلاثة رفاق ساهموا - من غير قصد - في تهريب النُّصوص التُّراثيَّة وحمايتها من الضياع والتخريب إبان الأحداث التي تعرضت لها المنطقة بغزو التتار في منتصف القرن السابع الهجري، فقد ضمَّن ابن العديم وياقوت الحمويّ والوزير جمال الدين القفطيّ مُؤلّفاتهم وأعمالهم الأدبية ومدوناتهم - خاصّة في حقل التراجم - نصوصا طويلة ومقطوعات عديدة من كتب ضاعت وطوتها عوادي الدهر؛ فأعادت الاعتبار إليها، وعرَّفت بمحتوياتها ومضامينها.
وقد وجدَت مؤسّسة الفُرقان للتُّراث الإسلاميّ، ضمن دورها في نشر التراث وفهرسته ولَمّ شتاته، في هذا الكتاب ما يستوجب تبنّى تحقيقه ونشره كأحد المصادر التُّراثيّة المهمّة، وتقريب مادته وتيسيرها للدارسين والباحثين، فعهدت بهذا العمل إلى باحث كان قد درس المنطقة التي يتناولها هذا الكتاب، وكان موضوع أطروحته للدكتوراه يتصل بُجْند قنّسرين خلال القرون الثلاثة الأولى من عمر الدولة الإسلامية، وهو الجُنْد الضَّام لمدينة حلب وما يقع في حيزها.
واعتمدت هذه النشرة على أصول المؤلف الخطية المتبقية من هذا الكتاب، وهي النسخة التي لازمت المؤلف في آخر أيام حياته غِبَّ إقامته بالقاهرة، ويرد في دراسة المحقق الإشارة إلى أنها لا تمثل إلا نحو ثلث الكتاب، إضافة إلى نسخ متأخرة أعانت في الترجيح وفك المستغلق وتعمير السّقط.
এই গ্রন্থের উপকারিতা ও এর সমসাময়িক গ্রন্থাবলির মাঝে এর গুরুত্ব অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ও উজ্জ্বল, যা ইতিহাসবিদগণ সাধারণভাবে উপলব্ধি করে থাকেন। এর কারণ হলো এর উপাদানের মৌলিকত্ব এবং এমন অনেক তথ্য ও সংবাদে এর অনন্যতা যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। সেই সাথে বর্ণনা ও পাঠ্যসমূহের সমালোচনা এবং সঠিকটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এর অনুসৃত পদ্ধতি।
এই গ্রন্থের লেখক কামালুদ্দিন ইবনুল আদিম সেই যুগের ইতিহাসবিদ ও লেখকদের একটি উচ্চস্তরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন সেই তিন সঙ্গীর একজন যারা—অনিচ্ছাকৃতভাবে—সপ্তম হিজরি শতকের মাঝামাঝিতে তাতার আক্রমণের সময় এই অঞ্চলটি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল, তখন ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপিগুলো রক্ষা করতে এবং সেগুলোকে হারিয়ে যাওয়া ও ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচাতে অবদান রেখেছিলেন। ইবনুল আদিম, ইয়াকুত আল-হামাউয়ি এবং উজির জামালুদ্দিন আল-কিফতি তাঁদের রচনা, সাহিত্যকর্ম এবং সংকলনগুলোতে—বিশেষ করে জীবনীশাস্ত্রে—এমন অনেক হারিয়ে যাওয়া বইয়ের দীর্ঘ পাঠ ও বহু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা কালের আবর্তে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। ফলে এই কাজগুলো সেই হারানো গ্রন্থগুলোর গুরুত্ব পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু ও সারমর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
আল-ফুরকান ইসলামি ঐতিহ্য ফাউন্ডেশন, ঐতিহ্য প্রকাশ, সূচীকরণ এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার অংশ হিসেবে, এই বইটির মাঝে এমন কিছু খুঁজে পেয়েছে যার ফলে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী উৎস হিসেবে সম্পাদনা ও প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এর বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নিকট সহজবোধ্য ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন এই কাজটি এমন একজন গবেষকের হাতে ন্যস্ত করেছে যিনি এই বইটিতে আলোচিত অঞ্চলটি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম তিন শতাব্দীতে 'জুন্দু কিননাসরিন' সম্পর্কিত, যা মূলত আলেপ্পো শহর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি সামরিক প্রশাসনিক অঞ্চল।
বর্তমান এই সংস্করণটি লেখকের হাতে লেখা এই গ্রন্থের অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটি সেই কপি যা কায়রোতে অবস্থানের পর লেখকের জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাঁর সাথে ছিল। সম্পাদকের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি মূল গ্রন্থের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এর সাথে পরবর্তী সময়ের কিছু পাণ্ডুলিপির সহায়তা নেওয়া হয়েছে যা পাঠ্যের অগ্রাধিকার নির্ণয়ে, অস্পষ্টতা দূর করতে এবং বাদ পড়া অংশগুলো পূরণে সাহায্য করেছে।
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وأخيرًا، يطيبُ لي أن أتقدَّم بأجزل عبارات الشكر والثناء، وأخْلص كلمات التنويه والتقدير إلى المحقق الشاب الدكتور المهدي الرّواضية، الذي قام بتحقيق هذا السّفر الكبير، سائلا المولى عز وجل أن يجزيه خير الجزاء، ومتمنيا له مزيدا من التَّألّق والنّجاح في المستقبل.
وختاما، نسأل الله تبارك وتعالى أن يكون هذا العمل، وهو جهد المُقلّ، عونًا للباحثين وخالصا لوجهه الكريم، وأن يرزقنا التوفيق في المقاصد كلها إلى طاعته ومرضاته، وأن يهدينا إلى سواء السبيل.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
أحمد زكي يماني
رئيس
مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي
পরিশেষে, এই বৃহৎ গ্রন্থটি সম্পাদনা করার জন্য তরুণ গবেষক ড. আল-মাহদী আল-রাওয়াধিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার সুগভীর অভিব্যক্তি এবং আন্তরিক স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন জ্ঞাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর উত্তরোত্তর উজ্জ্বলতা ও সাফল্য কামনা করি।
উপসংহারে, আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন এই কাজ—যা একটি নগণ্য প্রচেষ্টা—গবেষকদের জন্য সহায়ক হয় এবং তা একান্তই তাঁর মহান চেহারার জন্য হয়। তিনি যেন আমাদের সকল উদ্দেশ্যকে তাঁর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আহমদ জাকি ইয়ামানি
সভাপতি
আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مُقَدِّمة منذ أن اتصلت معرفتي بابن العديم وكتابه الكبير في التاريخ، والأمل ملازمٌ لي في خدمته وتقريب مادَّته، وتوفير نَشْرتِه للباحثين، وكنت كلما قرأت فيه، أو راجعت ترجمة من تراجمه، أجد ما يدفعني إلى العمل على إخراجه، فأمضيت في ذلك نحو خمس سنين، امتدت فيها الصحبة بابن العديم، وازدادت الصلة والإعجاب بعمله، حتى يسر الله إتمامه - بقدر المَكِنةِ والاستطاعة - على هذه الهيئة التي أرجو لها حُسْنَ التلقي والقبول.
وتاريخ ابن العديم يؤرخ لحقبة طويلة من تاريخنا الإسلامي، تمتد إلى سبعة قرون، اتَّكأ في مادتها على مصادر فريدة يأتي الكلام عليها في موضعه، وقد يوهم عنوان الكتاب - كما يَشي بذلك - أنه تأريخ مقتصر على مدينة حلب، وكما هو حاصلٌ في الجزء الأول الذي خصصه لمدينة حلب وجوارها، إلا أن إفاداته في بقية أجزاء الكتاب تتجاوز ذلك لتشمل العالم الإسلامي من مشرقه إلى مغربه، قديمه وحديثه (زمن المؤلف)، مما تحاول هذه التَّقْدمَةُ التمهيدية إبرازه في الصفحات القليلة القادمة، وهي محاولة أَسَّستُها على نصوص المؤلف وإفاداته نفسه؛ استشهدت بها للتدليل على قيمته، ولتتبع حياته، وبيان منهجه في تأليف الكتاب، وجعلتها في مبحثين: تناولت في الأول منهما التعريف بالمؤلف، وأسرته، واستعراض مسيرته العلمية والعملية وتَعْداد مؤلفاته. وخصصت المبحث الثاني للكلام على كتابه "بُغْيَة الطَّلَب"، وبيان أهميته، وعرض أصوله الخطية، ومنهج عملي في إخراجه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা ইবনুল আদীম এবং ইতিহাসের ওপর তাঁর বিশাল গ্রন্থের সাথে যখন থেকে আমার পরিচয় হয়েছে, তখন থেকেই এটি সম্পাদনা করা, এর বিষয়বস্তুকে সহজবোধ্য করে তোলা এবং গবেষকদের জন্য এর একটি সংস্করণ প্রস্তুত করার আশা আমার সঙ্গী হয়ে আছে। যতবারই আমি এটি পড়েছি অথবা এর কোনো জীবনী পর্যালোচনা করেছি, ততবারই আমি এটি প্রকাশের কাজে আত্মনিয়োগ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এভাবে আমি প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত করেছি, যার মাধ্যমে ইবনুল আদীমের সাথে আমার দীর্ঘ সাহচর্য তৈরি হয়েছে এবং তাঁর কাজের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশেষে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে আমার সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী বর্তমান রূপে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা সুধী মহলে সমাদৃত ও গৃহীত হবে বলে আমি আশা করি।
ইবনুল আদীমের ইতিহাসগ্রন্থটি আমাদের ইসলামী ইতিহাসের দীর্ঘ সাত শতাব্দী ব্যাপী একটি সময়কালকে লিপিবদ্ধ করে। এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে তিনি এমন কিছু অনন্য উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, যার আলোচনা যথাস্থানে আসবে। গ্রন্থের শিরোনাম দেখে হয়তো কারো মনে হতে পারে—যেমনটি এর নাম থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়—যে এটি কেবল হালাব (আলেপ্পো) শহরের ইতিহাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গ্রন্থের প্রথম খণ্ডটি লেখক হালাব শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট করলেও, পরবর্তী খণ্ডগুলোর তথ্যসমূহ কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রাচীন ও সমসাময়িক (লেখকের সময়কাল পর্যন্ত) ইতিহাসকে ধারণ করে। এই প্রারম্ভিক ভূমিকাটি আগামী কয়েক পৃষ্ঠায় সেই দিকগুলোই ফুটিয়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা। এটি আমি লেখকের নিজস্ব উদ্ধৃতি ও তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করেছি; যা তাঁর গ্রন্থের মূল্য প্রমাণের জন্য, তাঁর জীবনীর সন্ধানে এবং গ্রন্থ রচনায় তাঁর পদ্ধতি স্পষ্ট করার জন্য উপস্থাপন করেছি। আমি এটিকে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদে লেখক ও তাঁর পরিবারের পরিচয়, তাঁর শিক্ষা ও কর্মময় জীবন এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির বিবরণ নিয়ে আলোচনা করেছি। আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি তাঁর রচিত "বুগইয়াতুত তলাব" গ্রন্থটির আলোচনা, এর গুরুত্ব বর্ণনা, এর মূল পাণ্ডুলিপি সমূহের উপস্থাপন এবং এটি সম্পাদনায় আমার কাজের পদ্ধতির বিবরণের জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أسرة بني العديم:يعود الفضل في التعريف بابن العديم، وأسرته، وأولية قدومهم إلى حلب في مطلع القرن الثالث الهجري، إلى الكتاب الذي ألفه ابن العديم نفسه بطلب من صديقه ياقوت الحموي، وهو كتاب "الأخبار المستفادة في ذكر بني أبي جرادة"، وحفظ لنا ياقوت عدة نصوص منه في ثنايا ترجمته لكمال الدين بن العديم، وعنه نقلت أغلب المصادر اللاحقة له
(1)، وعليه المعول في هذه الدراسة، إضافة إلى بعض الإشارات العارضة التي أوردها ابن العديم عن حياته أو أسفاره في ثنايا كتابه بغية الطلب
(2)، أُثْبتُها بنَصِّها لتَشْريك القارئ في الاستنتاج منها.
--------------------------------------------
বনু আল-আদিম পরিবার:ইবনুল আদিম, তাঁর পরিবার এবং তৃতীয় হিজরি শতকের শুরুতে আলেপ্পোতে (হালাব) তাঁদের আগমনের প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে পরিচিতি প্রদানের কৃতিত্ব সেই বইটির, যা ইবনুল আদিম স্বয়ং তাঁর বন্ধু ইয়াকুত আল-হামাভির অনুরোধে রচনা করেছিলেন। বইটি হলো "আল-আখবারুল মুস্তাফাদা ফি জিকর বানি আবি জারাদা"। ইয়াকুত কামালুদ্দিন ইবনুল আদিমের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে এই বই থেকে বেশ কিছু উদ্ধৃতি আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর পরবর্তী অধিকাংশ উৎসসমূহ সেখান থেকেই তথ্য গ্রহণ করেছে
(১), এবং এই গবেষণায় সেটির ওপরই নির্ভর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইবনুল আদিম তাঁর "বুগইয়াতুত তলাব"
(২) গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে নিজের জীবন বা সফর সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কিছু ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। আমি সেগুলো হুবহু উদ্ধৃত করছি যাতে পাঠক এ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদার হতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وسِيَاقةُ نَسَبه من كتاب الأخبار المستفادة، ومن غيره، على النحو الآتي:
عمر بن أحمد بن أبي الفضل هبة الله بن أبي غانم محمد بن هبة الله بن أبي الحسن أحمد بن يحيى بن زهير بن هارون بن موسى بن عيسى بن عبد الله بن محمد بن أبي جرادة عامر بن ربيعة بن خويلد بن عوف بن عامر بن عقيل بن كعب بن عامر بن صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن بن منصور بن عكرمة بن خصفة بن قيس بن عيلان بن مُضَر بن نِزار بن معدّ بن عدنان، الصاحب كمال الدين أبو القاسم العقيلي الحلبي، المعروف بابن العديم.
كان أجداده؛ عَقِبُ بني أبي جرادة، يسكنون البصرة في محلة بني عقيل حتى مطلع القرن الثالث الهجري، عندما ارتحل عن البصرة من بينهم موسى بن عيسى بن عبد الله بن محمد بن عامر أبي جرادة، وقدم إلى حلب بعد المائتين للهجرة، وكان ارتحاله لأحد سببين: أنه قدم في تجارة إلى الشام فاستوطن حلب، أو بسبب طاعون وقع في البصرة ارتحل على إثره جماعة من بني عقيل فيهم جده موسي فسكن حلب، وكان لموسى ثلاثة أولاد: محمد، وهارون، وعبد الله، فأما محمد فأعقب عبد الله، ولا يعرف إن كان لعبد الله عقب أم لا، وأما ما تناسل من الأسرة فكان من عقب هارون جد كمال الدين بن العديم، وعبد الله، وهم أعمامه
(1).
وترجم ابن العديم في كتابه الأخبار المستفادة لمن تناسل من عقب هارون وعبد الله، وجميعهم من الأعيان والعلماء الذين حفلت بذكرهم كتب التراجم، ونوهت بفضلهم في العلم والأدب والجاه، يجمعهم قول ابن الشعار: "وبيت أبي جرادة كله أدباء، فضلاء، شعراء، رؤساء، فقهاء، نُبَهاء، مُحَدِّثون، مُقَدَّمون، عُبَّاد، زُهَّاد، قضاة، يتوارثون الفضل كابرا عن كابر، وتاليا عن غابر"
(2).
--------------------------------------------
তাঁর বংশপরম্পরার বর্ণনা 'আল-আখবার আল-মুস্তাফাদা' গ্রন্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে নিম্নরূপ:
উমর বিন আহমদ বিন আবিল ফজল হিবাতুল্লাহ বিন আবি গানিম মুহাম্মদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবিল হাসান আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন যুহাইর বিন হারুন বিন মুসা বিন ঈসা বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি জারাদাহ আমির বিন রাবিআ বিন খুয়াইলিদ বিন আউফ বিন আমির বিন উকাইল বিন কাব বিন আমির বিন সা'সা' বিন মুয়াবিয়া বিন বকর বিন হাওয়াযিন বিন মানসুর বিন ইকরিমাহ বিন খাসফাহ বিন কায়েস বিন আইলান বিন মুদার বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনান, আস-সাহিব কামালুদ্দিন আবুল কাসিম আল-উকাইলি আল-হালাবি, যিনি ইবনুল আদিম নামে পরিচিত।
তাঁর পূর্বপুরুষগণ তথা বনু আবি জারাদাহর বংশধররা হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত বসরার বনু উকাইল মহল্লায় বসবাস করতেন। সেই সময়ে তাদের মধ্য থেকে মুসা বিন ঈসা বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আমির আবি জারাদাহ বসরা ত্যাগ করেন এবং হিজরি দুইশত সালের পরে হালবে আগমন করেন। তাঁর বসরা ত্যাগের পেছনে দুটি কারণের যেকোনো একটি থাকতে পারে: হয় তিনি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় এসেছিলেন এবং পরে হালবে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, অথবা বসরায় মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটলে বনু উকাইলের একটি দল বসরা ত্যাগ করেছিল যাদের মধ্যে তাঁর দাদা মুসাও ছিলেন এবং তিনি হালবে বসতি স্থাপন করেন। মুসার তিন পুত্র ছিল: মুহাম্মদ, হারুন এবং আবদুল্লাহ। মুহাম্মদের পুত্র ছিল আবদুল্লাহ, তবে আবদুল্লাহর কোনো বংশধর ছিল কি না তা জানা যায় না। আর এই পরিবারের পরবর্তী বংশধারা কামালুদ্দিন ইবনুল আদিমের দাদা হারুন এবং আবদুল্লাহর বংশধরদের মাধ্যমে অব্যাহত থাকে, যারা ছিলেন তাঁর পিতৃব্য
(১)।
ইবনুল আদিম তাঁর 'আল-আখবার আল-মুস্তাফাদা' গ্রন্থে হারুন ও আবদুল্লাহর বংশধরদের জীবনী আলোচনা করেছেন। তাঁরা সকলেই ছিলেন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও আলিম, যাদের কথা জীবনীগ্রন্থগুলোতে গুরুত্বের সাথে এসেছে এবং তাদের জ্ঞান, সাহিত্য ও মর্যাদার কথা উচ্চকিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনুশ শা'আরের উক্তি তাদের সকলকে এভাবে একত্রিত করে: "আবু জারাদাহর পুরো পরিবারটিই ছিল সাহিত্যিক, বিদগ্ধ পণ্ডিত, কবি, নেতা, ফকিহ, মেধাবী, মুহাদ্দিস, অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, ইবাদতগুজার, দুনিয়াবিপমুখ এবং বিচারক; তারা শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকে বংশপরম্পরায় উত্তরসূরি থেকে পূর্বসূরি পর্যন্ত উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করেছিলেন"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وهذا مُشَجَّرُ نسبهم منذ أولهم حتى أولاد كمال الدين بن العديم وبعض أحفاده مجمعًا من المصادر:
أبو جرادة (عامر بن ربيعة)

|
আর এটি হলো বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তাদের বংশলতিকার একটি চিত্র, যা তাদের আদিপুরুষ থেকে শুরু করে কামালুদ্দিন ইবনুল আদিমের সন্তানাদি এবং তাঁর কিছু বংশধর পর্যন্ত বিস্তৃত:
আবু জারাদাহ (আমির বিন রাবিয়াহ)

(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وابن العديم من بيت جاه وثروة ومال
(1)، يلتمس هذا من كلام ابن العديم في بعض المواضع من كتابه؛ ففي كلامه على مَعَرَّة مَصْريْن يقول (الجزء الأول):
"ويقال إنها هي التي تُعْرفُ بذات القصور، وكان أكابر حلب وأعيانها يرغبون في اقتناء الأملاك بها، واتخاذ الدور والمنازل فيها، وكان فيها لسلفنا أملاك وافرة، خرج عنا بعضها، وبقي البعض".
وكانت لهم قُرَىً وضِياعٌ أخرى في العديد من مناطق حلب، يقول (الجزء الأول):
"وبناحية الجَزْر من أعمال حلب، بالقرب من مَعَرَّة مَصْرِيْن، قرية يقال لها يَحْمُول، ولنا فيها ملكٌ نتوارثه عن أجدادنا من حدود الثلاثمائة للهجرة".
وذكر في الجزء الأول أيضا:
"ومن بني بُحْتُر فرقةٌ بأُوْرِم الكبرى من قرى حلب، وكان بأُوْرِمَ مزرعة يقال لها البُحْتُرِيَّة منسوبة إليهم، وقد دَثَرتْ وانضافت إلى أُوْرِم. رأيت كتابا من كتب أجدادنا وقد اشتري حصة في هذه البُحْتُرِيَّة من بعضهم".
ويذكر ابن العديم في موضع آخر أن سند الملكية الذي وجده في أوراق أسرته، والمتضمن حصة في قرية أُوْرِم، يعود إلى جده زهير بن هارون، وأنه أوقف حصته من القرية المذكورة على الجهاد في سبيل الله، يقول (الجزء الأول):
"ووقفت على كتاب وقف، كتبه جدُّ جدّ جَدِّي زهير بن هارون بن أبي جرادة، بحصة من ملكه بأُوْرِم الكبرى من ضياع حلب، على أن تستغل ويشترى من مَغُلّها فَرَسٌ تكون مقيمة بثغر طرسوس بدار السبيل المعروفة بزهير بن الحارث، وتقام لها
--------------------------------------------
এবং ইবনুল আদিম এক প্রতিপত্তি, প্রাচুর্য ও সম্পদের অধিকারী পরিবারের সন্তান ছিলেন
(১); এটি তাঁর কিতাবের কিছু স্থানে ইবনুল আদিমের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়। যেমন, মা'আররাত মাসরিন সম্পর্কে আলোচনায় তিনি বলেন (প্রথম খণ্ড):
"বলা হয় যে, এটিই 'জাতুল কুসুর' (প্রাসাদসমৃদ্ধ) নামে পরিচিত ছিল। আলেপ্পোর বড় বড় ব্যক্তিবর্গ ও অভিজাতরা সেখানে সম্পত্তি অর্জন করতে এবং ঘরবাড়ি ও আবাসন গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলেন। সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রচুর সম্পদ ছিল, যার কিছু অংশ আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে এবং কিছু অবশিষ্ট আছে।"
আলেপ্পোর অনেক এলাকায় তাঁদের আরও গ্রাম ও ভূসম্পত্তি ছিল। তিনি বলেন (প্রথম খণ্ড):
"আলেপ্পোর অন্তর্ভুক্ত জাযর অঞ্চলে মা'আররাত মাসরিনের কাছে 'ইয়াহমুল' নামে একটি গ্রাম রয়েছে। সেখানে আমাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি রয়েছে যা হিজরি তিনশ সালের কাছাকাছি সময় থেকে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের নিকট হতে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে আসছি।"
তিনি প্রথম খণ্ডে আরও উল্লেখ করেছেন:
"বনু বুহতুর গোত্রের একটি দল আলেপ্পোর গ্রামগুলোর মধ্যে উরুমুল কুবরায় বসবাস করত। উরুমে 'আল-বুহতুরিয়্যাহ' নামে একটি খামার ছিল যা তাদের নামানুসারে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা বিলুপ্ত হয়ে উরুমের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। আমি আমাদের পূর্বপুরুষদের একটি দলিল দেখেছি যেখানে তাদের কারও কাছ থেকে এই বুহতুরিয়্যাহর একটি অংশ ক্রয় করা হয়েছিল।"
ইবনুল আদিম অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে যে মালিকানা দলিলটি পেয়েছেন—যাতে উরুম গ্রামের একটি অংশের বর্ণনা রয়েছে—তা তাঁর পূর্বপুরুষ যুহাইর বিন হারুনের। তিনি আরও জানান যে, তিনি উক্ত গ্রামের নিজের অংশটি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। তিনি বলেন (প্রথম খণ্ড):
"আমি একটি ওয়াকফনামা প্রত্যক্ষ করেছি যা আমার প্রপিতামহের পিতা যুহাইর বিন হারুন বিন আবি জারাদা লিখেছিলেন। এতে আলেপ্পোর গ্রামগুলোর অন্তর্ভুক্ত উরুমুল কুবরায় তাঁর মালিকানাধীন অংশের কথা উল্লেখ আছে। এই শর্তে যে, এর লভ্যাংশ কাজে লাগানো হবে এবং এর আয় থেকে একটি ঘোড়া কেনা হবে যা তারসুস সীমান্তে যুহাইর বিন আল-হারিস নামে পরিচিত মুসাফিরখানায় সংরক্ষিত থাকবে, এবং তার পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
العُلُوْفَة وأجرة من يخدمها، ويقام عليها فارس يكون مقيما بالدار المذكورة، يجاهد عليها عن زهير بن هارون، وما فَضُلَ من المَغُلّ يعد لنائبة إن لحقت هذه الفرس".
فمصدر تَوفُّرِ بني العديم على هذه الأملاك يعود إلى زمن جده الأول الذي تنحدر الأسرة منه، وهو زهير بن هارون بن موسى بن عيسى بن عبد الله بن محمد بن عامر أبي جرادة العقيلي الحلبي (ت نحو: 340 هـ)، قال ابن العديم (الجزء التاسع):
"وأكثر الأملاك التي كانت لسلفنا بحلب: أُوْرَم الكبرى، ويَحْمُول، وأقْذَار، ولُؤْلُؤة، والسِّبْن، هو الذي اشتراها".
وانتقلت هذه الضياع والقرى بالتوارث حتى وصلت إلى يد والد الكمال، ثم إلى ابنه كمال الدين، ومن هذه القرى قرية تعرف بأقْذَار، كانت في ملك والده أبي الحسن أحمد، حسبما ذكر ابن العديم في كتابه (الجزء الثامن)، وحدد موضعها، وعرَّفَ بها بقوله (الجزء الرابع):
وهي قرية أيضا من قرى حلب، من ناحيتها القبلية، من أعمال السهول والنهريات والقبلية، وأكثر هذه القرية جارٍ في ملكي، والآن تسمى أقْذَار، وتسمى التي في وادي بُطْنَان أقذَارَان".
وقد نزل بهذه القرية وبات بها الأديب الكاتب يحيى بن خالد بن محمد القَيْسَرانيّ، فكتب منها إلى ابن العديم قصيدة يتشوَّقَهُ ويثني عليه
(1).
وإضافة لما انتقل إلى ابن العديم بالمُوارثة من الأملاك، فقد تحصل، لاتصاله وقربه من الملوك والأمراء، على إقطاعات، وهو يشير في الجزء الأول من كتابه إلى قرية الهوتة، وأنها أقطعت له، وبقيت في يده حتى وقع استيلاء التتار
--------------------------------------------
পশুর খাদ্য এবং তার দেখাশোনাকারীর মজুরি, আর উল্লিখিত আবাসে একজন অশ্বারোহী নিয়োজিত থাকবেন যিনি যুহাইর বিন হারুনের পক্ষ থেকে জিহাদ করবেন। আর উপার্জিত আয়ের যা কিছু অতিরিক্ত থাকবে, তা এই ঘোড়াটির কোনো প্রয়োজনে ব্যয়ের জন্য জমা রাখা হবে।"
বনু আদিমের এই সমস্ত সহায়-সম্পত্তির প্রাচুর্যের উৎস তাদের আদি পিতামহের সময়কাল পর্যন্ত বিস্তৃত, যাঁর থেকে এই বংশের উৎপত্তি। তিনি হলেন যুহাইর বিন হারুন বিন মুসা বিন ঈসা বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আমির আবু জারাদা আল-উকায়লি আল-হালাবি (মৃত্যু আনুমানিক: ৩৪০ হিজরি)। ইবনুল আদিম (নবম খণ্ড) বলেন:
"আলেপ্পোতে আমাদের পূর্বপুরুষদের অধিকাংশ সম্পদ ছিল: উরাম আল-কুবরা, ইয়াহমুল, আকযার, লু'লুআ এবং সিবন; তিনি (যুহাইর) এগুলো ক্রয় করেছিলেন।"
এই ভূসম্পত্তি ও গ্রামসমূহ উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হতে হতে কামালের পিতার হাতে পৌঁছায়, অতঃপর তাঁর পুত্র কামালুদ্দীনের নিকট আসে। এই গ্রামগুলোর মধ্যে 'আকযার' নামক একটি গ্রাম ছিল যা তাঁর পিতা আবুল হাসান আহমাদের মালিকানাধীন ছিল, যেমনটি ইবনুল আদিম তাঁর কিতাবে (অষ্টম খণ্ড) উল্লেখ করেছেন। তিনি এর অবস্থান নির্দিষ্ট করেছেন এবং এর পরিচয় দিতে গিয়ে (চতুর্থ খণ্ড) বলেছেন:
"এটিও আলেপ্পোর গ্রামগুলোর মধ্যে একটি, এর দক্ষিণ দিকে, যা সমতল ভূমি, নদীমাতৃক এলাকা এবং দক্ষিণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রামের অধিকাংশ আমার মালিকানাধীন। বর্তমানে একে 'আকযার' বলা হয়, আর বুতনান উপত্যকায় যেটি অবস্থিত সেটিকে 'আকযারান' বলা হয়।"
সাহিত্যিক ও লেখক ইয়াহইয়া বিন খালিদ বিন মুহাম্মাদ আল-কায়সারানি এই গ্রামে অবস্থান করেছিলেন এবং রাত্রিযাপন করেছিলেন। সেখান থেকে তিনি ইবনুল আদিমের নিকট একটি কবিতা লিখে পাঠান যেখানে তিনি তাঁর প্রতি ব্যাকুলতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন
(১)।
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি ইবনুল আদিম রাজা ও আমিরদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের কারণে কিছু জায়গির লাভ করেছিলেন। তিনি তাঁর কিতাবের প্রথম খণ্ডে 'আল-হুতাহ' গ্রামের কথা উল্লেখ করেছেন যে, সেটি তাঁকে জায়গির হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল এবং তাতারীদের আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত তা তাঁর দখলেই ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
على حلب
(1)، وهي قرية لا تزال إلى الآن تحمل الاسم نفسه بمنطقة جبل سِمْعان.
وأورد ياقوت أبياتا غزلية لابن العديم يذكر فيها الفقر والعوز، والحاجة إلى طلب الرزق، وعَقَّبَ عليها ياقوت بالقول
(2): "لا يظن الناظر في هذه الأبيات أن قائلها فقير وَقِيرٌ، فإن الأمر بعكس ذلك، لأنه - والله يَحُوطُه - رب ضياع واسعة، وأملاك جَمَّةٍ، ونِعْمةٍ كثيرة، وعبيد كثيرة، وإماء، وخيل ودواب، وملابس فاخرة وثياب، ومن ذلك أنه بعد موت أبيه، اشتري دارا كانت لأجداده قديما بثلاثين ألف درهم، ولكن نفسه واسعة، وهمته عالية، والرغبات في الدنيا بالنسبة إلى الراغبين، والشهوة لها على قدر الطالبين".
حياته ونشأته:ولد كمال الدين عمر بمدينة حلب
(3)، واختلف في سنة مولده بين من يقول سنة 586 هـ
(4)، وقائل - وهم الأكثر - في العشر الأول من ذي الحجة سنة 588 هـ
(5)، وهي السنة التي قيدها ابن العديم لمولده في الترجمة التي صنعها بنفسه
--------------------------------------------
হলাব-এর উপরে
(১), এটি একটি গ্রাম যা এখন পর্যন্ত জাবাল সিমআন অঞ্চলে একই নাম ধারণ করে আছে।
ইয়াকুত ইবনুল আদিমের কিছু গজল বা কাব্য পঙ্ক্তি উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি দারিদ্র্য, অভাব এবং রিযিক সন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। ইয়াকুত এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন
(২): "এই পঙ্ক্তিগুলো দেখে পাঠকের যেন মনে না হয় যে, এর প্রণেতা অত্যন্ত দরিদ্র বা নিঃস্ব ছিলেন। বরং বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—বিশাল ভূসম্পত্তি, প্রচুর স্থাবর সম্পত্তি, অঢেল নিয়ামত, অনেক দাস-দাসী, ঘোড়া ও গবাদিপশু এবং দামী পোশাক-আশাকের মালিক ছিলেন। এর একটি উদাহরণ হলো, তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের একটি প্রাচীন বাড়ি ত্রিশ হাজার দিরহাম দিয়ে কিনেছিলেন। তবে তাঁর মন ছিল উদার এবং হিম্মত ছিল উচ্চ। দুনিয়াদারদের নিকট দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা যেমন থাকে, দুনিয়া অন্বেষণকারীদের নিকট দুনিয়ার লালসা ঠিক তেমনি হয়।"
তাঁর জীবন ও লালন-পালন:কামালুদ্দীন উমর হলাব শহরে জন্মগ্রহণ করেন
(৩)। তাঁর জন্মসাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন ৫৮৬ হিজরি
(৪), আবার কেউ বলেন ৫৮৮ হিজরির যিলহজ মাসের প্রথম দশকে
(৫)—এবং অধিকাংশের মত এটাই। এটিই সেই বছর যা ইবনুল আদিম তাঁর নিজের প্রস্তুতকৃত জীবনীতে তাঁর জন্মসাল হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
لياقوت، وسأله الشريف عزُّ الدين الحُسَيْنيّ عن مولده فقال بمثله
(1)، بينما أورد الذهبي القولين وأضاف لهما قولا آخر: "ولد سنة ثمان أو ست أو ثلاث وثمانين وخمسمائة"
(2)، وشَذَّ المَقْريزيُّ عن الجميع فأرَّخَ مولده في سنة 589 هـ
(3).
وفي سن السابعة من عمره، ألحقه والده بالمكتب ليتلقى تعليمه الأوَّليَّ مع أقرانه
(4)، فختم القرآن حفظا وعمره تسع سنين، وقرأه بالعشر عندما بلغ السنة العاشرة من عمره
(5)، وذكر ابن العديم في ترجمة شيخه أبي اليمن الكندي - الآتية في الجزء التاسع من هذا الكتاب - شيئا من أوَّليَّاتِ تعليمه، يقول:
"وكان سألني - أي الكِنْدِيُّ - وأنا أقرأ عليه: كم كان عمرك حين ختمت القرآن؟ فقلت له: تسع سنين، فتعجب من ذلك، وقال: كذلك أنا ختمته ولي تسع سنين! وأخرج إلى مفردات للشيخ أبي محمد وعليها خطه بقراءته عليها، وأراني خط الشيخ أبي محمد له، على بعضها أنه ختم القرآن عليه وهو ابن تسع، وجمعه بالعشر وهو ابن عشر، فذكرت له أني جمعته بالعشر ولي عشر سنين! ".
وكان لوالده الشيخ أحمد بن هبة الله - وهو قاض وخطيب - تأثير كبير في تعليمه الأوَّليِّ، وكان يأمل له أن يكون مدرسا لا قاضيا
(6)، فتعلم على والده الذي كان يُرَغِّبُهُ في حفظ المتون الفقهية بما يرغب به أمثاله من الصغار كالدراهم وخلافه، فحفظ كتاب اللُّمَعِ في أصول الفقه لأبي إسحاق الشِّيرازيّ (ت 476 هـ)، وقرأه على شيخ حلب وقتها ضياء الدين الحسين بن هبة الله المعروف بابن دُهْن الحَصَى (ت 608 هـ)، وحفظ في مدة يسيرة مختصر الإمام القُدُوريّ (ت 428 هـ)
(7).
--------------------------------------------
ইয়াকুতকে, এবং শরীফ ইজ্জুদ্দিন আল-হুসাইনি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি অনুরূপ কথা বলেছিলেন
(১)। অন্যদিকে আয-যাহাবী উভয় মতামত উল্লেখ করেছেন এবং তাদের সাথে আরও একটি মত যুক্ত করেছেন: "তিনি পাঁচশত তিরাশি, ছিয়াশি বা আশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন"
(২)। আর আল-মাকরিজি সবার থেকে ভিন্নমত পোষণ করে তার জন্ম সাল ৫৮৯ হিজরি হিসেবে উল্লেখ করেছেন
(৩)।
তার সাত বছর বয়সে, তার পিতা তাকে তার সমবয়সীদের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য মক্তবে ভর্তি করে দেন
(৪)। ফলে তিনি নয় বছর বয়সে হিফজসহ কুরআন খতম করেন এবং দশ বছর বয়সে পৌঁছালে তিনি দশ কিরাআতে কুরআন পাঠ করেন
(৫)। ইবনুল আদিম তার শাইখ আবু আল-ইয়ামান আল-কিন্দি-এর জীবনীতে—যা এই গ্রন্থের নবম খণ্ডে আসবে—তার প্রাথমিক শিক্ষার কিছু বিবরণ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন:
"তিনি (অর্থাৎ আল-কিন্দি) আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যখন আমি তার কাছে পাঠ করছিলাম: তুমি যখন কুরআন খতম করেছিলে তখন তোমার বয়স কত ছিল? আমি তাকে বললাম: নয় বছর। এতে তিনি বিস্মিত হলেন এবং বললেন: আমিও নয় বছর বয়সে কুরআন খতম করেছিলাম! অতঃপর তিনি শাইখ আবু মুহাম্মাদের কিছু মুফরাদাত (একক বর্ণনা) বের করলেন যার উপর শাইখ আবু মুহাম্মাদের কাছে তার পাঠের স্বাক্ষর ছিল। তিনি তার কাছে থাকা শাইখ আবু মুহাম্মাদের সেই হস্তাক্ষর আমাকে দেখালেন, যার কিছু অংশে লেখা ছিল যে তিনি নয় বছর বয়সে তার কাছে কুরআন খতম করেছেন এবং দশ বছর বয়সে দশ কিরাআত সম্পন্ন করেছেন। তখন আমি তাকে উল্লেখ করলাম যে, আমিও দশ বছর বয়সে দশ কিরাআত সম্পন্ন করেছি!"।
তার পিতা শাইখ আহমাদ ইবনে হিবাতুল্লাহ—যিনি একজন কাজী ও খতিব ছিলেন—তার প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। তিনি আশা করতেন যেন তার ছেলে একজন মুদাররিস (শিক্ষক) হন, কাজী নয়
(৬)। তিনি তার পিতার কাছে শিক্ষা লাভ করেন, যিনি তাকে দিরহাম বা অনুরূপ জিনিসের লোভ দেখিয়ে ফিকহ শাস্ত্রের মূল পাঠসমূহ (মুতুন) মুখস্থ করতে উৎসাহিত করতেন যা তার মতো ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। ফলে তিনি আবু ইসহাক আশ-শিরাজি (মৃত্যু ৪৭৬ হি.) রচিত উসুলে ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-লুমা’ মুখস্থ করেন এবং তৎকালীন আলেপ্পোর শাইখ জিয়াউদ্দিন আল-হুসাইন ইবনে হিবাতুল্লাহ, যিনি ইবনে দুহন আল-হাসা (মৃত্যু ৬০৮ হি.) নামে পরিচিত ছিলেন, তার কাছে এটি পাঠ করেন। এছাড়া তিনি অল্প সময়ের মধ্যে ইমাম আল-কুদুরি (মৃত্যু ৪২৮ হি.) রচিত ‘মুখতাসার’ মুখস্থ করেন
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وتعلم أيضا في أوَّليَّاتِه على عمه أبي غانم محمد بن هبة الله، وسمع منه الحديث، وسمع على جماعة من أهل حلب والطارئين عليها والواردين إليها، فسمع من الشيخ الإمام افتخار الدين عبد المطلب بن الفضل الهاشمي، كبير الحنفية، وعمر بن طَبَرزد، وأبي القاسم بن الحَرَسْتانيّ، وهبة الله بن طاوس، والشمس أحمد بن عبد الله العطار، وأبي عبد الله بن البناء، وثابت بن مُشَرَّف، وأبي منصور بن عساكر الفقيه، وبَهْرام الأتابكيّ، وأحمد بن أبي اليُسْر، وأبي محمد بن البُن، وابن صَصْرَي، وابن راجح، والشيخ العماد إبراهيم بن عبد الواحد، والشيخ فخر الدين بن تيمية، وعبد العزيز بن هِلَالة، ومحمد بن عمر العثماني، وأبي على الأوقي، وأبي محمد بن علوان، وخلق كثير بحلب، ودمشق، والقدس، والحجاز، والعراق
(1).
ورحل به والده إلى بيت المقدس مرتين: سنة 603 هـ، وسنة 608 هـ، فمر في طريقه على دمشق، والتقى فيها ببعض علماء ذلك الوقت، كالشيخ تاج الدين الكِنْدِيّ (ت 613 هـ) وغيره؛ كان التقاه بدمشق في النَّوبتَيْن
(2). وقال في ترجمته (الجزء التاسع):
"دخلت إليه داره بدمشق في سنة ثلاث وستمائة مع والدي، وقرأت عليه المقامات الحَرِيرِيَّة وغيرها من كتب الأدب، ولما شرعت في قراءة المقامات عليه أعجبته قراءتي، وسألني: أتحفظها؟ فقلت له: لا، فمال إلى واعتنى بأمري، وكان يأذن لي كلما جئت إليه. ولما عزمت على العود إلى حلب قال لي: اجعل في نفسك أن تعود إلينا، فأثَّر كلامه عندي، وآثرت الرِّحْلَةَ إليه، وكان والدي رحمه الله لا يسمح بمفارقتي، إلى أن سمح بأن يزور البيت المقدس فاستصحبني
--------------------------------------------
এবং তিনি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা তাঁর চাচা আবু গানিম মুহাম্মদ বিন হিবাতুল্লাহর কাছে লাভ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি আলেপ্পোর একদল অধিবাসী এবং সেখানে বহিরাগত ও আগমনকারীদের কাছেও হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি শায়খ ইমাম ইফতিখারুদ্দিন আব্দুল মুত্তালিব বিন ফাদল আল-হাশিমী—যিনি হানাফীদের প্রধান ছিলেন—উমর বিন তাবারজাদ, আবুল কাসিম বিন আল-হারাসতানি, হিবাতুল্লাহ বিন তাউস, শামস আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-াত্তার, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বান্না, সাবিত বিন মুশাররাফ, ফকিহ আবু মানসুর বিন আসাকির, বাহরাম আল-াতাবাকি, আহমাদ বিন আবিল ইউসর, আবু মুহাম্মদ বিন আল-বুন, ইবনে সাসরা, ইবনে রাজীহ, শায়খ ইমাদ ইব্রাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ, শায়খ ফখরুদ্দিন ইবনে তাইমিয়া, আব্দুল আজিজ বিন হিলালাহ, মুহাম্মদ বিন উমর আল-উসমানি, আবু আলী আল-আওয়াকি, আবু মুহাম্মদ বিন আলওয়ান এবং আলেপ্পো, দামেস্ক, কুদস, হিজাজ ও ইরাকের অসংখ্য লোকের কাছে হাদিস শ্রবণ করেন।
(১)তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে দুইবার বায়তুল মাকদিসে সফর করেন: ৬০৩ হিজরিতে এবং ৬০৮ হিজরিতে। পথিমধ্যে তিনি দামেস্ক অতিক্রম করেন এবং সেখানে সে সময়ের কিছু আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যেমন শায়খ তাজউদ্দীন আল-কিন্দি (মৃত্যু ৬১৩ হিজরি) ও অন্যান্যদের সাথে; এই দুই সফরের প্রতিবারই তিনি দামেস্কে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
(২) এবং তিনি তাঁর জীবনী গ্রন্থে (নবম খণ্ড) বলেছেন:
"আমি ৬০৩ হিজরিতে আমার পিতার সাথে দামেস্কে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করি এবং তাঁর কাছে 'মাকামাতে হারিরি' ও আদব শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাব পাঠ করি। যখন আমি তাঁর কাছে 'মাকামাত' পাঠ করা শুরু করি, তখন আমার পাঠ তাঁর পছন্দ হয় এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কি এটি মুখস্থ পারো? আমি তাঁকে বললাম: না। তখন তিনি আমার প্রতি আগ্রহী ও যত্নবান হলেন এবং আমি যখনই তাঁর কাছে যেতাম, তিনি আমাকে আসার অনুমতি দিতেন। এরপর যখন আমি আলেপ্পোতে ফিরে যাওয়ার সংকল্প করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: তোমার মনে আবার আমাদের কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা রেখো। তাঁর কথা আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করল এবং আমি তাঁর কাছে পুনরায় সফরের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিলাম। আমার পিতা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আমাকে ছেড়ে থাকতে রাজি হচ্ছিলেন না, শেষ পর্যন্ত তিনি বায়তুল মাকদিস যিয়ারত করতে সম্মত হলেন এবং আমাকে সাথে নিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
معه، ووصلت معه إلى دمشق، ودخل إلى الشيخ رحمه الله، فقرأت عليه عدة من كتب الأدب والحديث في سنة ثمان وستمائة، ثم عدت من البيت المقدس، وكنت أتردد إليه وأسمع منه بقراءاتي وقراءة غيري في سنة تسع وستمائة".
وتفَقَّه على الشيخ محمد بن يوسف بن الخَضر الحلبي المعروف بقاضي العَسْكر (ت 614 هـ)
(1)، وفي كتابه البُغْيَة ذِكْرٌ للكثير من مشايخه، وبيَانٌ لما أخذه عنهم، وخبر اجتماعه بهم.
وكان ابتداء طلبه للحديث وسماعه في سنة 604 هـ، حسبما يذكر في ترجمة حنبل بن عبد الله الرُّصَافيّ (الجزء السادس):
"دخلت دمشق زائرا البيت المُقَدَّسَ في سنة ثلاث وستمائة، وحنبل بها، فلم أسمع منه شيئا لأنني لم أكن طلبت الحديث حينئذ؛ لأن أول طلبي الحديث كان سنة أربع وستمائة".
التَّدْريس والقضاء والإفتاء والوزارة:زاول ابن العديم التدريس في سن مبكرة من عمره، بعد أن توفرت فيه الأهليَّةُ والمَقْدرةُ على إلقاء الدروس، وربما نال تزكية من بعض شيوخه في ذلك، فبعد وفاة والده بقى مدةً، وصاقَبَ أن توفي شيخه ابن الأبْيَض
(2)؛ مدرس مدرسة شاذْبَخْت، وهي من أجلِّ مدارس حلب، كان أنشأها الأمير جمال الدين شاذْبَخْت الهندي الأتابكيّ، وكان نائبا عن نور الدين بحلب، فبقى مَنْصبُ مُتَولِّيها شاغرًا، فوَلِيَ ابن العديم التدريس بها في ذي الحجة سنة 616 هـ، وعمره يومئذ
--------------------------------------------
আমি তাঁর সাথে ছিলাম এবং তাঁর সাথে দামেস্কে পৌঁছালাম। তিনি শাইখের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিকট প্রবেশ করলেন। আমি ৬০৮ হিজরি সালে তাঁর নিকট সাহিত্য ও হাদিসের বেশ কিছু কিতাব পাঠ করি। অতঃপর আমি বাইতুল মাকদিস থেকে ফিরে আসি। ৬০৯ হিজরি সালে আমি তাঁর নিকট যাতায়াত করতাম এবং নিজের পাঠের মাধ্যমে ও অন্যদের পাঠের মাধ্যমে তাঁর নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করতাম।
তিনি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনুল খাজর আল-হালাবি, যিনি কাজিল আসকার (মৃ. ৬১৪ হি) নামে পরিচিত, তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন
(১)। তাঁর 'আল-বুগইয়াহ' গ্রন্থে তাঁর অনেক শিক্ষকের উল্লেখ রয়েছে এবং তিনি তাঁদের নিকট থেকে যা কিছু গ্রহণ করেছেন তার বিবরণ ও তাঁদের সাথে তাঁর সাক্ষাতের সংবাদ রয়েছে।
তাঁর হাদিস অন্বেষণ ও শ্রবণের সূচনা হয়েছিল ৬০৪ হিজরি সালে, যেমনটি তিনি হাম্বল ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুসাফির জীবনবৃত্তান্তে (ষষ্ঠ খণ্ড) উল্লেখ করেছেন:
"আমি ৬০৩ হিজরি সালে বাইতুল মাকদিস জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দামেস্কে প্রবেশ করি। হাম্বল তখন সেখানে ছিলেন, কিন্তু আমি তাঁর নিকট থেকে কিছু শুনিনি; কারণ আমি তখনো হাদিস অন্বেষণ শুরু করিনি। কেননা আমার হাদিস অন্বেষণের সূচনা হয়েছিল ৬০৪ হিজরি সালে।"
অধ্যাপনা, বিচার বিভাগ, ফতোয়া প্রদান ও মন্ত্রিত্ব:ইবনুল আদিম তাঁর বয়সের শুরুর দিকেই অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন, যখন তাঁর মাঝে পাঠদানের যোগ্যতা ও সক্ষমতা অর্জিত হয়েছিল। সম্ভবত এ বিষয়ে তিনি তাঁর কিছু শিক্ষকের সমর্থনও লাভ করেছিলেন। তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তিনি কিছুদিন অতিবাহিত করেন। কাকতালীয়ভাবে তখন তাঁর শিক্ষক ইবনুল আবইয়াজ ইন্তেকাল করেন
(২); যিনি শাজবাখত মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। এটি আলেপ্পোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা, যা আমির জামালুদ্দিন শাজবাখত আল-হিন্দি আল-আতাবেকি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যিনি আলেপ্পোতে নুরুদ্দিনের প্রতিনিধি ছিলেন। ফলে সেই মাদ্রাসার পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। অতঃপর ইবনুল আদিম ৬১৬ হিজরি সালের জিলহজ মাসে সেখানে অধ্যাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ثمان وعشرون سنة
(1)، وكانت حلب في ذلك الوقت من حواضر العلم والأدب، "وهي أعْمَرُ ما كانت بالعلماء والمشايخ والفضلاء الرَّوَاسخ، إلا أنه رؤي أهلا لذلك دون غيره، وتصدر وألقى الدرس بجنان قويّ، ولسان لوذعي، فأبهر العالم، وأعجب الناس"
(2). ولم يزل ابن العديم مدرسا بهذه المدرسة سنوات عديدة، ثم ناب عنه ابنه مَجْدُ الدين عبد الرحمن، ثم استقل بها أخوه جمال الدين محمد ولد الصاحب كمال الدين حتى كائنة التتار سنة 658 هـ
(3).
وفي أوائل سنة 634 هـ فُوِّض إليه تدريس المدرسة النورية المعروفة بمدرسة الحلاويِّين مضافا إلى مدرسة شاذْبَخْت
(4)، وذلك بعد وفاة مُدَرِّسها الإمام تاج الدين أبي المعالي الفضل بن عبد المطلب بن الفضل الهاشمي (ت 633 هـ)، وبقي مواظبا على التدريس بها إلى أن توجه إلى دمشق في خدمة الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب، فاستقل بها بعده ابنه مجد الدين عبد الرحمن
(5).
وأنشأ ابن العديم مدرسة في شرقي حلب، وهي المدرسة الكَماليَّةُ العديمية، وكان ابتداء عمارتها في سنة 637 هـ، وكَمُلَتْ في سنة 649 هـ، وبنى إلى جوارها تُرْبَةً وجَوْسَقًا (قصرا) وبستانا، ولم يدرس بها أحد لانقراض الدولة الناصرية
(6). وأشار ابن العديم إلى هذه المدرسة - عرضا - في ترجمة أبي الفتح بن محمد بن عمر الأَبِيْوَرْدِيّ الصُّوْفيّ الحلبي (ت 649 هـ)، قال (الجزء العاشر):
"ودفن بالتربة التي جددتها إلى جانب المدرسة التي أنشأتها ظاهر حلب، خارج باب العراق، رحمه الله".
--------------------------------------------
আটাশ বছর
(১), এবং সেই সময়ে আলেপ্পো ছিল জ্ঞান ও সাহিত্যের অন্যতম কেন্দ্র, "এটি আলেম, মাশায়েখ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত বিদগ্ধ ব্যক্তিদের দ্বারা তখন সবচেয়ে বেশি আবাদ ছিল, তবে তাকেই (ইবনুল আদীমকে) অন্যের তুলনায় এর উপযুক্ত বলে মনে করা হয়েছিল। তিনি শক্তিশালী হৃদয়ে এবং বাগ্মিতাপূর্ণ জিহ্বায় পাঠদান শুরু করেন, যা আলেম সমাজকে অভিভূত করেছিল এবং মানুষকে মুগ্ধ করেছিল"
(২)। ইবনুল আদীম বহু বছর এই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পরে তাঁর পুত্র মাজদুদ্দীন আব্দুর রহমান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর তাঁর ভাই জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে সাহেব কামালুদ্দীন সেখানে স্বতন্ত্রভাবে দায়িত্ব পালন করেন ৬৫৮ হিজরীর তাতারদের বিপর্যয় পর্যন্ত
(৩)।
এবং ৬৩৪ হিজরীর শুরুর দিকে তাঁকে 'শাযবাখত' মাদরাসার পাশাপাশি 'হাল্লাউয়ীন মাদরাসা' হিসেবে পরিচিত 'নূরিয়া মাদরাসা'র শিক্ষকতার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়
(৪)। এটি ছিল এর শিক্ষক ইমাম তাজউদ্দীন আবুল মাআলী ফাদল ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনুল ফাদল আল-হাশিমীর (মৃত্যু ৬৩৩ হি.) ইন্তেকালের পর। তিনি সেখানে শিক্ষকতায় নিয়মিত নিয়োজিত থাকেন যতক্ষণ না তিনি মালিক আন-নাসির সালাহুদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুবের সেবায় দামেস্কে গমন করেন। এরপর তাঁর পুত্র মাজদুদ্দীন আব্দুর রহমান সেখানে স্বতন্ত্রভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন
(৫)।
ইবনুল আদীম আলেপ্পোর পূর্ব দিকে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা 'কামালিয়া আল-আদীমিয়া মাদরাসা' নামে পরিচিত। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ৬৩৭ হিজরীতে এবং সম্পন্ন হয়েছিল ৬৪৯ হিজরীতে। তিনি এর পাশে একটি সমাধিস্থল, একটি প্রাসাদ এবং একটি বাগান নির্মাণ করেন। তবে নাসিরিয়া রাজবংশের বিলুপ্তির কারণে সেখানে কেউ পাঠদান করেননি
(৬)। ইবনুল আদীম এই মাদরাসা সম্পর্কে প্রাসঙ্গিকভাবে আবুল ফাতহ বিন মুহাম্মাদ বিন উমর আল-আবিওয়ার্দী আস-সূফী আল-হালাবীর (মৃত্যু ৬৪৯ হি.) জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন (দশম খণ্ড):
"এবং তাঁকে সেই সমাধিস্থলে দাফন করা হয়েছে যা আমি নবায়ন করেছি, সেই মাদরাসার পাশে যা আমি আলেপ্পোর বাইরে ইরাক ফটকের পার্শ্বে প্রতিষ্ঠা করেছি, আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وبالرغم من تولي خمسة من آباء ابن العديم القضاء بحلب على التتابع
(1)، إضافة إلى من تولى القضاء من أبناء عمومته ومن المنتمين إلى أسرة بني الديم، على مثال أسرة بني أبي الشَّواربِ والذين بقى القضاء مترددا فيما بينهم في البصرة سنين طويلة، فلم يرد ذكر لتولي ابن العديم منصب القضاء أو قضاء القضاة
(2) إلا ما ورد في ذيل مرآة الزمان لليُونِيْنيّ من "أن منشورا جاء من هولاكو في 26 ربيع الأول 658 هـ للقاضي كمال الدين عمر بن العديم بتفويض قضاء القضاة إليه بمدائن الشام والموصل ومَاردِين ومَيّافارِقِين والأكْراد وغير ذلك، وتفويض جميع الأوقاف إلى نظره، ووقف الجامع وغيره. وكان القاضي قبله صدر الدين أحمد بن سَنيّ الدولة من جمادى 643 هـ، وكان كمال الدين ينوب عنه في الحكم بدمشق"
(3).
وهذا وَهْمٌ وقع فيه ناسِخُ بعض أصول كتاب اليُونِيْنيّ وتسرب إلى المطبوعة؛ اشتبه عليه الاسم، وصوابه: كمال الدين عمر بن بُنْدَار التَّفْليسيّ (ت 672 هـ)، كما هو في بقية المصادر التي أرَّختْ لغزو التتار أو تلك التي ترجمت للقاضي التَّفْليسيّ
(4). وأشار ابن العديم نفسه إلى عدم توليه القضاء في ترجمة والده أحمد (الجزء الثالث)، يقول:
"وكان رحمه الله "أي والده" يقول لي: يا بني، والله ما أُوْثرُ لك أن تتولى القضاء، فإن عُرِضَ عليك لا تتوله؛ فإنني ما استرحت منذ وُليتُه حتى تركتُه، ولكني أُوْثر
--------------------------------------------
ইবনে আল-আদীমের পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে পাঁচজন ধারাবাহিকভাবে হালবে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও
(১), এছাড়া তাঁর চাচাতো ভাইদের মধ্য থেকে যারা বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বনু আদীম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিচারপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি—যেমনটি ছিল বনু আবি শওয়ারিব পরিবারের উদাহরণ, যাদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বসরার বিচার বিভাগীয় পদটি আবর্তিত ছিল—ইবনে আল-আদীমের বিচারপতির পদ বা প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না
(২); কেবল আল-ইউনীনীর 'জাইলু মিরআতিল জামান'-এ যা বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া। সেখানে উল্লেখ আছে যে, "৬৫8 হিজরীর ২৬শে রবিউল আউয়াল তারিখে হালাকু খানের পক্ষ থেকে কাজী কামালুদ্দীন উমর ইবনে আল-আদীমের নামে একটি ফরমান আসে, যার মাধ্যমে সিরিয়ার শহরসমূহ, মসুল, মারদিন, মাইয়াফারিকিন, কুর্দিস্তান এবং অন্যান্য অঞ্চলের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব তাঁকে অর্পণ করা হয়। এছাড়া সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং জামে মসজিদ ইত্যাদির তত্ত্বাবধানও তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়। তাঁর পূর্বে ৬৪৩ হিজরীর জামাদিউল আউয়াল থেকে কাজী ছিলেন সদরুদ্দীন আহমাদ ইবনে সানিয়্যুদ দাওলা, এবং কামালুদ্দীন দামেস্কে বিচারের কাজে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন"
(৩)।
এটি একটি ভ্রম, যা আল-ইউনীনীর গ্রন্থের কিছু পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারের মাধ্যমে ঘটেছে এবং পরবর্তীতে মুদ্রিত সংস্করণেও ঢুকে পড়েছে; নামের ক্ষেত্রে তাঁর বিভ্রান্তি ঘটেছে। সঠিক নামটি হলো: কামালুদ্দীন উমর ইবনে বুন্দার আত-তিফলিসী (মৃত্যু ৬৭২ হি.), যেমনটি তাতারদের আক্রমণের ইতিহাস বিষয়ক অন্যান্য উৎস এবং কাজী তিফলিসীর জীবনী সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে পাওয়া যায়
(৪)। খোদ ইবনে আল-আদীমও তাঁর পিতা আহমাদের জীবনীতে (তৃতীয় খণ্ড) বিচারপতির পদ গ্রহণ না করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন:
"তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)—অর্থাৎ তাঁর পিতা—আমাকে বলতেন: হে বৎস, আল্লাহর কসম, আমি তোমার জন্য বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা পছন্দ করি না। যদি তোমাকে এই পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণ করো না। কেননা আমি যেদিন থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত শান্তিতে ছিলাম না। তবে আমি পছন্দ করি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
لك أن تكون مدرسا، وأن تتولى مدرسة الحَلاوِيِّين، فقدر الله تعالى أن وفقني لما كان يؤثره لي بعد وفاته".
لقد أوقع هذا التحريف في اسم القاضي بعض المحدثين أمثال برنارد لويس
(1) Lewis B.، وكارل بروكلمان
(2) Carl Brockelmann، وفؤاد سزكين
(3) وآخرين؛ منهم من تخصص في دراسة ابن العديم ونشر تراثه
(4)، إلى اعتباره أحد من تولى القضاء!
وتولى ابن العديم الوزارة مرتين: الأولى للملك العزيز بن الملك الظاهر غازي، والثانية للناصر آخر ملوك بني أيوب
(5)، وأقام بدمشق مدة في الدولة الناصرية المتأخرة أيام الملك الناصر يوسف بن أيوب
(6).
وتشير المصادر إلى أن ابن العديم "كان محدثا حافظا، مؤرخا صادقا فقيها حنفيا، مفتيا، منشئا بليغا، كاتبا مجودا، درَّسَ وأفتى، وصَنَّفَ، وتَرَسَّلَ عن الملوك"
(7)، "وكان جليل المقدار، كثير العلوم، ولم يكن في رؤساء حلب مثله"
(8)،
--------------------------------------------
"আপনার শিক্ষক হওয়া এবং হালাউয়্যিন মাদরাসার দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত। অতঃপর মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে সেই কাজে তাওফীক দান করেন যা তিনি (আমার পিতা) মৃত্যুর পর আমার জন্য পছন্দ করতেন।"
বিচারকের নামের এই বিকৃতি বার্নার্ড লুইস
(১) Lewis B. , কার্ল ব্রোকলম্যান
(২) Carl Brockelmann, ফুয়াদ সেজগিন
(৩) এবং আরও অনেকের মতো কিছু আধুনিক গবেষককে এই বিভ্রান্তিতে ফেলেছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইবনুল আদীম-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণায় এবং তাঁর ঐতিহ্য প্রকাশে বিশেষজ্ঞ
(৪), যে তাঁরা তাঁকে বিচারকের পদ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে গণ্য করেছেন!
ইবনুল আদীম দুইবার উজিরের (মন্ত্রীর) দায়িত্ব পালন করেন: প্রথমবার আল-মালিক আল-আজিজ বিন আল-মালিক আজ-জাহির গাজীর শাসনামলে, এবং দ্বিতীয়বার আইয়ুবী বংশের শেষ সুলতান আন-নাসিরের সময়ে
(৫)। তিনি মালিক আন-নাসির ইউসুফ বিন আইয়ুবের শাসনামলে পরবর্তী নাসিরিয়া রাষ্ট্রের সময় দামেস্কে কিছুদিন অবস্থান করেন
(৬)।
উৎসসমূহ ইঙ্গিত দেয় যে ইবনুল আদীম "একজন হাফেজ মুহাদ্দিস, সত্যনিষ্ঠ ঐতিহাসিক, হানাফি ফকিহ, মুফতি, সুবক্তা গদ্যকার এবং দক্ষ লেখক ছিলেন; তিনি অধ্যাপনা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং রাজন্যবর্গের পক্ষ থেকে দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন"
(৭), "তিনি ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী; আলেপ্পোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে তাঁর সমতুল্য কেউ ছিল না"
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ولُقِّبَ برَئيسِ الأصْحَابِ
(1)، أو رَئيسِ الشَّام
(2). وكان جَيَّدَ المعرفةِ بالحَديث
(3)، وأجْمَلَ ابنُ الشَّعَّار المَوصِليّ الفُنَونَ والمَعارفَ الَّتي تلقَّاها ابن العَدِيْم وأتْقَنَها بقَوْله: "فقد درَّسَ الفقْهَ فأحْسَنهُ، وعُنِيَ بفَنِّ الأدَبِ فأتْقَنهُ، ونَظَمَ القَريْضَ فجوَّدَهُ، وأنْشَأ النَّثْر فسَدَّدَه، وقَرأ حَدِيثَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وعَرفَ عِلَلَهُ ورِجَالَهُ وتأْويلَه وفُروعَهُ وأُصُولَهُ، والجَرْحَ والتَّعْديلَ، والعِلْمَ بالخِلَافِ والجَدَل وغيرَ ذلك من العُلُوم"
(4). وهذا الَّذي ذَكَرهُ ابنُ الشَّعَّارِ يَتَبيَّنه القَارئ لكتابهِ هذا منذ الصَّفحاتِ الأُولَى.
عَلَاقتُه بعُلَماء عَصْره:ويَظْهرُ في تَضاعِيْفِ التَّراجم الَّتي تضمَّنها كتابُ ابنِ العَدِيْم اهْتمامٌ منه في لقاءَ العُلَماءِ والأدَباءِ والمَشايخ، سواءً في حَلَب أو في الحَواضِرِ الَّتي سافرَ إليها، أو بالمُكاتَبَةِ والمُراسَلة، وجَمَعَتْهُ بهؤلاءِ الأعْلَامِ مَجالسُ عِلْمٍ ومُحاضرةٍ ومُحادَثة، وضَّمَن كتابَه تفاصِيْلَ بعض هذه المَجالس.
ونَشَأتْ بينه وبينَ ياقُوت الحَمَويّ صَدَاقةٌ وصُحْبةٌ طَويلةٌ، وأَثنى كُلُّ منهما على الآخرِ في كُتُبهما، وكان ياقُوت قد أقامَ بحَلَب في آخر سِتِّ سَنواتٍ من حَياتِه بعد رَحْلةٍ طَويلةٍ من التَّقَلُّبِ في البِلَاد، فتَوطَّدَتْ بينهما صُحْبةٌ مُمتدَّةٌ، وكان ياقُوت يترَدَدُ إلى مَنْزلِهِ
(5).
--------------------------------------------
তাকে 'আসহাবদের প্রধান'
(১) অথবা 'শামের প্রধান'
(২) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তিনি হাদীস শাস্ত্রে অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন
(৩)। ইবনুল আদীয়ম যে সকল শিল্প ও জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং যেগুলোতে পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন, ইবনুশ শা'আর আল-মাওসিলি তার সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে বলেন: "তিনি ফিকহ পাঠদান করেছেন এবং তাতে উৎকর্ষ লাভ করেছেন, সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেছেন এবং তাতে পারদর্শী হয়েছেন, কাব্য রচনা করেছেন এবং তা চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছেন, গদ্য রচনা করেছেন এবং তা নিখুঁত করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস অধ্যয়ন করেছেন এবং এর ত্রুটি-বিচ্যুতি, বর্ণনাকারী, ব্যাখ্যা, শাখা ও মূলনীতি, জারহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও সংশোধন), ইখতিলাফ ও বিতর্কের জ্ঞান এবং অন্যান্য জ্ঞান সম্পর্কে অবগত ছিলেন"
(৪)। ইবনুশ শা'আর যা উল্লেখ করেছেন, তা এই গ্রন্থের পাঠক প্রথম পৃষ্ঠাগুলো থেকেই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।
সমসাময়িক আলেমদের সাথে তাঁর সম্পর্ক:ইবনুল আদীয়মের গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত জীবনীগুলোর ভাঁজে ভাঁজে আলেম, সাহিত্যিক ও শায়খদের সাথে তাঁর সাক্ষাতের গভীর আগ্রহ ফুটে ওঠে; হোক তা হালাবে কিংবা অন্য কোনো জনপদে যেখানে তিনি সফর করেছেন, অথবা চিঠিপত্র ও পত্রালাপের মাধ্যমে। এই সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের সাথে ইলমি মজলিস, আলোচনা ও কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞান বিনিময় হয়েছে এবং তিনি তাঁর গ্রন্থে এই সব মজলিসের কিছু বিস্তারিত বিবরণও অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তাঁর এবং ইয়াকুত আল-হামাভীর মধ্যে দীর্ঘ বন্ধুত্ব ও সাহচর্য বিদ্যমান ছিল এবং তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রন্থে একে অপরের প্রশংসা করেছেন। ইয়াকুত বিভিন্ন দেশে দীর্ঘকাল ভ্রমণের পর জীবনের শেষ ছয় বছর হালাবে অবস্থান করেন, ফলে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব সুদৃঢ় হয় এবং ইয়াকুত প্রায়ই তাঁর বাড়িতে যাতায়াত করতেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وجَمَعتْهُ كذلك عَلاقةٌ وَطِيدةٌ بالمُبارَكِ بن أحمد المَعْرُوف بابن الشَّعَّار المَوصِليّ (ت 654 هـ) - وكان ابنُ الشَّعَّارِ كَثيرَ التَّردُّدِ إلى حَلَب، وتُوفِّيَ بها - وزَارَهُ في مَنْزلِه بحَلَب في 18 ربيع الآخر سَنة 634 هـ، وسنة 635 هـ، وسنة 640 هـ
(1).
وفي عام 643 هـ، وأثْناءَ إقامَةِ ابن العَدِيْم في القَاهِرهِ رَسُولًا من المَلِك النَّاصِر صَلَاح الدِّين يُوسُف صاحِب الشَّام إلى السُّلْطانِ الصَّالحِ نَجْمِ الدِّين أيُّوب، تَعرَّفَ إلى ابن سَعِيد المَغْربيِّ، ونَشَأتْ بينهما الصَّدَاقةُ، وعَرف كُلٌّ منهما فَضْلَ الآخرِ، فعَرَضَ عليه ابن العَدِيْم مُرافَقتَهُ إلى حَلَب، ولقاءَ صاحِبها المَلِك النَّاصِر، فاسْتجابَ لدَعْوتِه
(2)، وأقامَ بحَلَب من سَنة 644 هـ حتَّى رَحِيلِه عنها سَنَة 647 هـ مُتوجِّهًا إلى دِمَشْق، واسْتَفادَ من خِزَانَةِ كُتُبهِ الغَنِيَّةِ في بَعْضِ ما أَوْردَه في إكْمالِه لكتابِ المُغْرِب، وهو الكتابُ الَّذي تَعاوَرَ على تأْلِيفه في مُدَّةِ 115 سَنة ستَّةُ مُؤلِّفين كان آخرَهُم ابنُ سَعِيْد، وكَتَبَ ابنُ سَعِيد لخِزَانَة الصَّاحِبِ ابن العَدِيْم بين عامي 645 - 647 هـ نُسْخةً بخَطِّهِ من كتابِ المُغْرِب، وقَيَّدَ على غِلَافِ كُلِّ جُزءٍ من أجْزائِها: "نَسَخَهُ بخَطِّه برَسْم الخِزَانَة الجلَيلَة الصَّاحِبيَّة الكَماليَّة، عَمَّرَها اللهُ بدَوام مَالِكها، سَيِّدِ الأصْحابِ، رَئيس صُدُور الشَّام، عَلَم العُلَمَاء، الصَّاحِبِ الكَبير كَمال الدِّين بن أبي القَاسِم بن أبي جَرادَة
--------------------------------------------
একইভাবে মুবারক বিন আহমদ, যিনি ইবনেুশ শাআ'র আল-মাওসিলি (মৃ. ৬৫৪ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর সাথেও তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ইবনেুশ শাআ'র প্রায়ই আলেপ্পোতে আসা-যাওয়া করতেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৮ই রবিউস সানি ৬৩৪ হি., ৬৩৫ হি. এবং ৬৪০ হিজরিতে আলেপ্পোতে তাঁর (ইবনুল আদিমের) বাসভবনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন
(১)।
৬৪৩ হিজরিতে, শাম বা সিরিয়ার অধিপতি মালিকুন নাসির সালাহউদ্দীন ইউসুফের পক্ষ থেকে সুলতান সালিহ নাজমুদ্দীন আইয়ুবের নিকট দূত হিসেবে ইবনুল আদিমের কায়রোতে অবস্থানকালে ইবনে সাঈদ আল-মাগরিবির সাথে তাঁর পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা একে অপরের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করেন। ফলে ইবনুল আদিম তাঁকে আলেপ্পোতে তাঁর সঙ্গী হওয়ার এবং সেখানকার অধিপতি মালিকুন নাসিরের সাথে সাক্ষাৎ করার প্রস্তাব দেন। তিনি এই আমন্ত্রণে সাড়া দেন
(২) এবং ৬৪৪ হিজরি থেকে ৬৪৭ হিজরিতে দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আলেপ্পোতে অবস্থান করেন। তিনি তাঁর (ইবনুল আদিমের) সমৃদ্ধ কুতুবখানা বা গ্রন্থাগার থেকে 'আল-মুগরিব' গ্রন্থটি সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে কিছু তথ্য গ্রহণ করে উপকৃত হন। এটি সেই গ্রন্থ যা ১১৫ বছর সময়কাল ধরে পর্যায়ক্রমে ছয়জন লেখক রচনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন ইবনে সাঈদ। আর ইবনে সাঈদ ৬৪৫ থেকে ৬৪৭ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে সাহেব ইবনুল আদিমের গ্রন্থাগারের জন্য নিজ হাতে 'আল-মুগরিব' গ্রন্থের একটি প্রতিলিপি তৈরি করেন। তিনি এর প্রতিটি খণ্ডের মলাটে লিখেছিলেন: "এটি নিজ হাতে প্রতিলিপি করেছেন মহিমান্বিত সাহিবিয়্যাহ কামালিয়্যাহ গ্রন্থাগারের জন্য, আল্লাহ একে এর মালিকের দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে আবাদ রাখুন; যিনি সুহৃদদের নেতা, শামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রধান, উলামায়ে কেরামের শিরোমণি, মহান সাহেব কামালুদ্দীন বিন আবিল কাসিম বিন আবি জারাদাহ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
العُقَيِليّ، خلَّدَ اللهُ إحْسانه، وعَطَّرَ شُكْره زَمانه، مُكمل تَصْنيفه عليّ بن مُوسَى بن مُحمَّد بن عَبْد المَلِك بن سَعِيْد"
(1).
ويقولُ الإمامُ شَرَفُ الدِّين الدِّمْياطِي: "صَحِبتُه بضْعَةَ عَشرَ عامًا، مَقامًا وحَضَرًا، وانْتِقالًا وسَفَرًا، ورَافقتُه من بغداد إلى دمَشْقَ كَرَّتين، وأخَذْتُ عنه في البلَادِ والمنازِل من حَدِيثِه وعِلْمِه ونَثْرِه ونَظْمِه، وَأخَذَ عنِّي أيضًا بسُرَّ مَن رَأى وغيرها، وأَرْدَفني على بَغْلتِه
… وكان بارًّا بي، مُحْسنًا، يُؤثُرني على أقْرَاني، ويُقدِّمني على أبناءِ [
… ]، وعَدَّلني تَعْديلًا ما عُدِّله أحدٌ من أمْثالي؛ ذلك أنَّ قاضيَ القُضَاةِ بدمَشْق الْتَمَسَني منه، فامْتَنعَ امْتناعًا شَدِيدًا، لسببٍ جَرَى من القاضي، فطَفَقَ الرَّسُولُ يتَضرَّعُ إليه ويَسْألُه حتَّى أَذِنَ"
(2).
وكانت له صِلَةٌ بالمُلُوك والأُمَراءِ ببلَادِ الشَّام والدِّيَارِ المِصْريَّة، وكان يَغْشَى مَجالسَهم في سِنٍّ مُبَكِّرةٍ، يَذكُرُ وهو يُتَرْجِم لنَفْسِه عن سِنيّ العِشْرينيَّات من عُمرِه: "وكان المَلِكُ الظَّاهِرُ غَازِي بن صَلَاح الدِّين صَاحِبُ حَلَب كثيرَ الإكرام لي، وما حَضَرتُ مَجْلسَهُ قطّ فما أقْبَلَ على أحَد إقْبَالَهُ عليَّ مع صِغَرِ السِّنِّ"
(3)، ورَوَى عن المَلِكِ الظَّاهِر غازي بن يُوسُف بن أَيُّوب (ت 613 هـ) بقراءتِه عليه بقَلْعةِ حَلَب، حَدِيثًا مُسْندًا، أَوْردَهُ في الجُزءِ الأوَّلِ من كتابِهِ عندَ الكَلامِ على فَضائلِ الشَّامِ وحَلَب، وعَاصَرَ ثلاثةَ مُلُوكٍ من بني أيُّوبَ ممَّن مَلَكُوا حَلَب: المَلِكَ الظَّاهِر غازي (ت 613 هـ)، ثُمَّ ابنهُ المَلك العَزِيز غِيَاث الدِّين مُحمَّد (ت 634 هـ)، وآخرَ مُلُوكِهم المَلِك النَّاصِر صَلَاح الدِّيَن يُوسُف (ت 658 هـ)، وكان له اتِّصالٌ أيضًا
--------------------------------------------
আল-উকাইলি—আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহকে চিরস্থায়ী করুন এবং তাঁর কৃতজ্ঞতার সুবাস দ্বারা কালকে সুশোভিত করুন—তিনি হলেন তাঁর রচনার সম্পূরক আলী বিন মুসা বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন সাঈদ
(১)।
ইমাম শারাফউদ্দীন আদ-দিমইয়াতি বলেন: "আমি আবাসে ও প্রবাসে এবং ভ্রমণে ও যাত্রায় এক দশকেরও বেশি সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম। আমি বাগদাদ থেকে দামেস্কে দুইবার তাঁর সঙ্গী হয়েছিলাম। আমি বিভিন্ন জনপদে এবং যাত্রাবিরতিস্থলে তাঁর নিকট থেকে তাঁর বর্ণিত হাদীস, জ্ঞান, গদ্য ও পদ্য গ্রহণ করেছি। তিনিও সামাররা ও অন্যান্য স্থানে আমার নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাকে তাঁর খচ্চরে নিজের পেছনে বসাতেন
… তিনি আমার প্রতি অতিশয় সদাশয় ও অনুগ্রহকারী ছিলেন; তিনি আমাকে আমার সমসাময়িকদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন এবং [
… ]-এর সন্তানদের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি আমাকে এমন উচ্চমর্যাদায় ভূষিত করেছিলেন যা আমার সমপর্যায়ের আর কাউকে করা হয়নি। এর কারণ ছিল এই যে, দামেস্কের প্রধান বিচারক তাঁর কাছে আমাকে পেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কঠোরভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন—যা বিচারকের কোনো একটি আচরণের কারণে ঘটেছিল। এরপর দূত তাঁর কাছে বিনয়াবনত হয়ে অনুনয়-বিনয় করতে লাগল যতক্ষণ না তিনি অনুমতি দিলেন"
(২)।
শাম ও মিসর ভূখণ্ডের রাজাবাদশাহ ও আমিরদের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। তিনি অল্প বয়সেই তাঁদের মজলিসে যাতায়াত করতেন। তিনি নিজের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর বিশের দশকের কথা উল্লেখ করে বলেন: "হালাবের শাসক মালিক আল-জাহির গাজী বিন সালাহউদ্দীন আমাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। আমি যখনই তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়েছি, আমার অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্যের তুলনায় আমার প্রতি অধিক মনোযোগী হতেন"
(৩)। তিনি মালিক আল-জাহির গাজী বিন ইউসুফ বিন আইয়ুবের (মৃত্যু ৬১৩ হিজরি) নিকট থেকে হালাব দুর্গে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে একটি মুসনাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তাঁর কিতাবের প্রথম খণ্ডে শাম ও হালাবের ফজিলত আলোচনার সময় উল্লেখ করেছেন। তিনি হালাবের শাসনকর্তা বনু আইয়ুবের তিনজন রাজার সমসাময়িক ছিলেন: মালিক আল-জাহির গাজী (মৃত্যু ৬১৩ হিজরি), অতঃপর তাঁর পুত্র মালিক আল-আজিজ গিয়াসউদ্দীন মুহাম্মদ (মৃত্যু ৬৩৪ হিজরি), এবং তাঁদের শেষ রাজা মালিক আন-নাসির সালাহউদ্দীন ইউসুফ (মৃত্যু ৬৫৮ হিজরি)। এছাড়াও তাঁর যোগাযোগ ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣١)
بمُلُوكِ دِمَشْقَ وحِمْصَ وحَمَاة وغيرِهم منِ مُلُوكِ الأطرافِ والنَّواحِي، وتَرَسَّلَ فيما بينهم، وعندما تولَّى المَلِكُ النَّاصِرُ المُلْكَ سَنَةَ 643 هـ أرْسَلهُ إلى أخيهِ المَلِكِ الصَّالح أحمد ابن المَلِك الظَّاهِر صاحِب عَيْنَتاب يَسْتَحلفُهُ لابْنه بعدَ نفسه
(1). وأشارَ ابنُ العَدِيْم لهذه الزِّيارةِ في كَلامهِ على ما وَرَدَ من الكتابةِ القَديْمةِ على الأحْجَارِ بحَلَب (الجزء الأوَّل):
"وحَضَرْتُ بقَلْعَة الرَّاوَنْدَان عندَ المَلِكِ الصَّالح أحمد ابن المَلِك الظَّاهِر غَازِي بن يُوسُف بن أيُّوب، فحَكَى أنَّ عندَه ببلد الرَّاوَنْدَان قَرْيَة، وأشارَ سيدِه نحو الغَرْب
… ".
ومَدَحَهُ الكثيرُ من الشُّعَراءِ والأُدَباءِ، وقِيْلَتْ فيه قَصائدُ مُفْردةٌ، فمَّن مَدحَهُ: أمينُ الدِّينِ ياقُوتُ العالِم
(2)، وياقُوتُ بن عَبْد الله الحَمَويّ
(3)، وعليُّ بن عُثمان الإرْبليّ
(4)، وعَبْدُ الرَّحمن بن أحمد بن القَصْريّ
(5)، وعليُّ بن مَحْمُود بن أبي الشُّكْر البَغْداديّ السَّرْخسِيّ
(6)، والقَاسِمُ بن القَاسِمِ بن عُمَر الوَاسِطيّ
(7)، ويَحْيَى بن خالِد بن مُحمَّد القَيْسَرانيّ
(8)، وأبو زَكَريَّاء يَحْيَى بن غَانِم الخَزْرجيّ
(9)، وإسْحاق بن عليّ الكاتِب الحَمَويّ
(10)، وأبو الوَليد مُحمَّد بن سَعِيد بن مُحمَّد بن الجَنَّان الشَّاطِبيّ
(11)، وعَلَمُ الدِّين يُوسُف بن عَبْد العَزِيز بن المُرَصِّص في قَصائدَ عَدِيدةٍ
--------------------------------------------
দামেস্ক, হিমস, হামাহ এবং অন্যান্য প্রান্তিক ও আঞ্চলিক রাজন্যবর্গের সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং তিনি তাদের মধ্যে দূতিয়ালি করতেন। যখন মালিক আন-নাসির ৬৪৩ হিজরীতে রাজত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাকে তাঁর ভাই মালিক আজ-জহিরের পুত্র এবং আইনতাবের অধিপতি মালিক আস-সালিহ আহমদের নিকট প্রেরণ করেন, যেন তিনি তাঁর নিজের পরে তাঁর পুত্রের জন্য তাঁর নিকট থেকে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন
(১)। ইবনুল আদিম হালাবের পাথরের গায়ে খোদাই করা প্রাচীন লিপি সম্পর্কে তাঁর আলোচনায় (প্রথম খণ্ড) এই সফরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:
"আমি রাওয়ান্দান দুর্গে মালিক আজ-জহির গাজি ইবনে ইউসুফ ইবনে আইয়ুবের পুত্র মালিক আস-সালিহ আহমদের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বর্ণনা করেন যে, রাওয়ান্দান অঞ্চলে তাঁর একটি গ্রাম রয়েছে এবং তাঁর মনিব পশ্চিম দিকে ইশারা করলেন
… "।
অগণিত কবি ও সাহিত্যিক তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নিয়ে অনেক স্বতন্ত্র কাসিদা রচিত হয়েছে। যাঁরা তাঁর প্রশংসা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আমিনুদ্দিন ইয়াকুত আল-আলিম
(২), ইয়াকুত বিন আব্দুল্লাহ আল-হামাউয়ি
(৩), আলী বিন উসমান আল-ইরবিলি
(৪), আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-কাসরি
(৫), আলী বিন মাহমুদ বিন আবিশ শুকর আল-বাগদাদি আস-সারখাসি
(৬), আল-কাসিম বিন আল-কাসিম বিন উমর আল-ওয়াসিতি
(৭), ইয়াহইয়া বিন খালিদ বিন মুহাম্মদ আল-কায়সারানি
(৮), আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন গানিম আল-খাজরাজি
(৯), ইসহাক বিন আলী আল-কাতিব আল-হামাউয়ি
(১০), আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-জান্নান আশ-শাতিবি
(১১) এবং আলামুদ্দিন ইউসুফ বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-মুরাসসিস অনেকগুলো কাসিদায় তাঁর প্রশংসা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وطَويلَةٍ
(1)، ويَحْيَى بن عَبْد العَظِيم الجَزَّار الَّذي مَدَحَهُ بَرائيَّة طَويلة، وانْتَخَبَ لهُ ومن مُخْتارِ شِعْرِه ممَّا انْتَقاهُ من ديوانِه وسَمَّاهُ تَقْطِيف الجَزَّار، وأهْدَاهُ لخِزانة كَمال الدِّين بن العَدِيْم
(2)، والبَهاء زُهَيْر
(3)، وابن سَعِيد المَغْربيّ في عدَّة قَصائد
(4).
رَحَلاتُهُ وأسْفارُهُ:خُصَّ ابنُ العَدِيْم بمَزِيدِ التَّكْرمَةِ والحُظْوةِ من لَدُنِ الأُمَراءَ والمُلُوك في نَواحي الشَّام، وخَلَطُوه بمَجَالسِهم، وسَفَرَ فيما بينهم، "وصارَتْ له مَنْزلةٌ رَفِيعةٌ من الدَّوْلَةِ النَّاصِريَّةِ الصّلاحيَّة"
(5). ووجَدَ فيه صاحِبُ حَلَب وصَاحِبُ الشَّام المُؤهِّلات الكافيَة للسّفَارةِ عنهما متى اقْتَضَتِ الحاجةُ إلى ذلك، فتَرسَّل إلى الخلفاءِ والمُلُوكِ مرارًا عَديدة
(6)، "اعْتمادًا على وُفُورِ عَقْلِه ورَزانَتِه"
(7)؛ وكانتْ أُوْلَى سفاراتِه إلى سِنْجار في سَنَة 624 هـ عن المَلِكِ النَّاصِرِ دَاود بن عِيْسَى، حَسْبما ذَكَرَ ذلك في تَرْجَمتِه (الجزء السَّابِع)، أرْسَلَهُ إلى المَلك الأشرَفِ، ليَعْتَضدَ به على عَمِّه المَلِك الكَامِل مُحمَّد بن أبي بَكْر بن أَيُّوب. ثُمَّ أُنفِذَ بعدَ ذلك رَسُولًا إلى عاصمةِ الخِلافَة بَغْداد، والدِّيَار المِصْريَّة، وبلادِ الرُّوم، إضافةً إلى العَديدِ من السِّفَارات الدّاخليّةِ في بلادِ الشَّام والجَزيرة
(8).
--------------------------------------------
...এবং একটি দীর্ঘ (কবিতা)
(১); আর ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল আজিম আল-জাজ্জার, যিনি একটি দীর্ঘ 'রা' অন্ত্যমিলের কাসিদার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁর জন্য তাঁর কাব্যসমগ্র (দিওয়ান) থেকে কিছু নির্বাচিত কবিতা চয়ন করেছিলেন এবং এর নামকরণ করেছিলেন 'তাকতিফ আল-জাজ্জার' এবং তা কামালুদ্দিন ইবনুল আদিমের পাঠাগারে উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন
(২)। আরও প্রশংসা করেছেন আল-বাহা জুহাইর
(৩) এবং ইবনে সাঈদ আল-মাগরিবি বেশ কিছু কাসিদার মাধ্যমে
(৪)。
তাঁর সফর ও ভ্রমণসমূহ:শাম অঞ্চলের আমির ও রাজন্যবর্গের নিকট থেকে ইবনুল আদিম বিশেষ সম্মান ও আনুকূল্য লাভ করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে তাঁদের মজলিসে অন্তর্ভুক্ত করতেন এবং তাঁদের মধ্যে দূতিয়ালির কাজে নিয়োজিত করতেন। "নাসিরিয়্যাহ সালাহিয়্যাহ রাষ্ট্রে তাঁর এক উচ্চমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল"
(৫)। আলেপ্পো ও শামের অধিপতি তাঁর মধ্যে রাষ্ট্রদূতের জন্য প্রয়োজনীয় সকল যোগ্যতা খুঁজে পেয়েছিলেন যখনই এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। ফলে তিনি বারবার খলিফা ও বাদশাহদের নিকট দূত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন
(৬), যা ছিল "তাঁর প্রখর বুদ্ধি ও গাম্ভীর্যের ওপর আস্থাশীল হয়ে"
(৭)। তাঁর প্রথম দূতিয়ালি ছিল হিজরি ৬২৪ সালে মালিক আন-নাসির দাউদ ইবনে ঈসার পক্ষ থেকে সিনজারে; যেমনটি তিনি তাঁর জীবনীগ্রন্থে (সপ্তম খণ্ড) উল্লেখ করেছেন। তাঁকে মালিক আল-আশরাফের নিকট পাঠানো হয়েছিল তাঁর চাচা মালিক আল-কামিল মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুবের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনার জন্য। এরপর তিনি খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ, মিশরীয় ভূখণ্ড এবং রুম দেশে দূত হিসেবে প্রেরিত হন। এর পাশাপাশি শাম ও জাজিরা অঞ্চলে অসংখ্য অভ্যন্তরীণ দূতিয়ালিও তিনি সম্পন্ন করেন
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
بَغْداد:يَذكُر الزَّرْكَشِيُّ أنَّ المَلِكَ النَّاصِرَ يُوسُفَ بن مُحمَّد بن غَازِي، صاحِبَ حَلَب، أرْسَلَ ابنِ العَدِيْم إلى الخَلِيفة ببَغْدادَ مِرارًا
(1)، ولَم يُفصِّلْ في مَضامين سِفاراتِه هذه ولا متى وَقَعت.
وأقْدَمُ ما يَردُ عن رَحَلاتِه إلى بَغْدَادَ، هي تلك الرِّحْلةُ الَّتي تَرَافَقَ فيها ابنُ العَدِيْم وابنُ سَعِيدٍ الأنْدَلسُيّ
(2)، وكان وصُولُهم إلى بَغدادَ في شَهْر شَعْبان سَنَة 648 هـ
(3)، ونَجِدُ أوْفَى التَّفاصِيل عن هذه السِّفارةِ في كتابِ النُّوَيْريّ، نَقَلهُ من تاريخ عليّ بن أنْجَبَ ابن السَّاعِيّ الَّذي كان حاضِرًا في حَفْل تَسْليم الرِّسَالة.
جاءَتْ هذه السِّفارةُ في أعْقابِ اسْتيلاءِ المَلِكِ النَّاصِر يوسُف ابن المَلِك العَزِيز مُحمَّد بنِ غازي على دِمَشْق سَنة 648 هـ، بعد مَقْتل اللَكِ تُورَانشاه، وكان الهَدَفُ من ورءِها تقديمَ وَاجِبِ الوَلاء والطَّاعة للخَلِيفةِ المُسْتَعصِم بالله، والْتِماسَ رِضَاه ومُبارَكتَهُ لصَاحِبِ دِمَشْق الجديد.
كان وصُولُ ابن العَدِيْم إلى بَغْدادَ في شَهْرِ شَعْبانَ من السَّنَةِ المَذْكُورةِ، وخرَجَ إلى لقائِهِ مَوْكبُ الدِّيوانِ العَزِيزيّ على جاري العادة، يتقدَّمُهم عَارضُ الجَيْش، وإلى جانِبَيه خادِمَانِ من خَدَمِ دِيوانِ الخلَافة، وحَضَرَ إلى بابِ النُّوبيّ لتَقْبيلِ العَتَبَة
(4)، وأُخْرجَتْ له سَجَّادةٌ وبُسِطَت وأمَرُوه أنْ يُصَلِّي رَكْعتَيْن زيادةً قي إكْرامِه، وعُلوًّا لقَدْره وفَضِيلَته، ثُمَّ قيلَ له: "نحنُ نُعظِّم الرُّسُل لأجْلِ مُرْسِليها، ونحقُ نُعَظِّم مُرْسلك لأجْلك، فاحْتُرِم غاية الاحْتِرام"
(5).
--------------------------------------------
বাগদাদ:জারকাশি উল্লেখ করেছেন যে, হালাব বা আলেপ্পোর অধিপতি আল-মালিকুন নাসির ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গাজি, ইবনুল আদীমকে বারবার বাগদাদে খলিফার কাছে পাঠিয়েছিলেন
(১), তবে তিনি এই কূটনৈতিক মিশনগুলোর বিষয়বস্তু বা এগুলো কখন সংঘটিত হয়েছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো বর্ণনা দেননি।
বাগদাদে তাঁর সফরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন যে তথ্যটি পাওয়া যায়, তা হলো সেই সফর যাতে ইবনুল আদীম এবং ইবনে সাঈদ আল-আন্দালুসি একত্রে ছিলেন
(২)। তাঁরা ৬৪৮ হিজরির শাবান মাসে বাগদাদে পৌঁছান
(৩)। এই কূটনৈতিক মিশনের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আমরা নুওয়াইরির গ্রন্থে পাই, যা তিনি আলী ইবনে আনজাব ইবনুল সাঈ-র ইতিহাস থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যিনি পত্র হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সুলতান তুরানশাহ নিহত হওয়ার পর ৬৪৮ হিজরিতে আল-মালিকুন নাসির ইউসুফ ইবনে আল-মালিকুল আজিজ মুহাম্মদ ইবনে গাজি দামেস্ক দখল করার পরপরই এই কূটনৈতিক মিশনটি প্রেরিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও বশ্যতা প্রদর্শন করা এবং দামেস্কের নতুন অধিপতির জন্য তাঁর সন্তুষ্টি ও দোয়া প্রার্থনা করা।
উল্লিখিত বছরের শাবান মাসে ইবনুল আদীম বাগদাদে পৌঁছান। প্রথা অনুযায়ী রাজকীয় দেওয়ানি কাফেলা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বের হয়, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন সেনাপ্রধান এবং তাঁর দুই পাশে ছিলেন খেলাফত দেওয়ানের দুইজন খাদেম। চৌকাঠ চুম্বনের জন্য তাঁকে 'বাবুন নুবি'-তে নিয়ে আসা হয়
(৪)। তাঁর সম্মানে একটি জায়নামাজ বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের খাতিরে অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তাঁকে সেখানে দুই রাকাত নামাজ পড়ার অনুরোধ করা হয়। এরপর তাঁকে বলা হলো: "আমরা দূতদের সম্মান করি তাদের প্রেরকদের কারণে, আর আমরা আপনার প্রেরককে সম্মান করছি আপনার কারণে।" ফলে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হলো
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وفي اليَوْم الثَّالث من وصُولِه، حَضَرَ إلى دارِ الوَزير مُؤيَّد الدِّين بن العَلْقميّ، وقَرأ القُرَّاءُ، ثُمّ نَهَضَ ابنُ العَدِيْم وأدَّى الرَّسالةَ، وألْقَى في الدِّيِوانِ خُطْبةً بَليغَةً من إِنْشَائِه
(1)، وكان معه من جُمْلَةِ الهَدايا مُصْحَفٌ كَريم بخَطِّ ابن الخاَزِن
(2)، فلمَّا عرَضَهُ، كَتَبَ معه رُقْعَة فيها: [من الكامل]
وعليكُمُ نَزَلَ الكِتابُ وفيكُم
… وإلى رُبُوعِكُمُ يَحنّ ويَرْجعُ"
(3)وبعد أنْ أنْهَى ابنُ العَدِيْم إلْقاءَ خُطْبَتِه (الرِّسالة)، أذِنَ الوَزيُر ابن العَلْقَميّ بإدْخالِ الهَدَايا، تَعْبيرًا عن القَبُول والرِّضا، وعادَ ابنُ العَدِيْم إلى حيثُ يُقِيم ببَغْدادَ بعد أنْ زيْدَ في احْتِرامِه، وبُولغَ في إكْرامه
(4).
وذكَرَ ابنُ العَدِيْم في ثنايا بعضِ التَّراجم تَوَجُّهَهُ رَسُولًا عن الملك النَّاصِر يُوسُف بن مُحمَّد إلى الخلَيفةِ المُسْتَعْصِمِ بالله، وأنَّه كانَ في شَوَّال وذي الحِجَّة من سَنَة 650 هـ مُقيمًا ببَغْدادَ، ولَم يُبَيِّن الهَدَف من هذه السِّفارةِ، ففي تَرْجَمَة أحْمد بن أبي الكَرَم بن هِبَة الله الفَقِيه الحَنَفيّ، يقولُ (الجزء الثَّالث):
"وتُوفِّيَ بالمَوْصِل في شَوَّال سَنَة خَمسين وسِتِّمائة، وبَلَغتني وَفاتُه وأنا ببَغْدَادَ في هذا التَّاريخ".
وفي تَرْجَمَة أَسْعَد بن إبْراهيم بن النُشَّابِيّ الإرْبليّ (الجزء الرَّابع):
--------------------------------------------
পৌঁছানোর তৃতীয় দিনে, তিনি উজির মুয়াইয়াদ উদ্দীন ইবনুল আলকামীর বাসভবনে উপস্থিত হলেন। পাঠকরা (কুরআন) পাঠ করলেন, অতঃপর ইবনুল আদিম উঠে দাঁড়ালেন এবং পয়গাম পেশ করলেন। তিনি দরবারে নিজের রচিত একটি সাবলীল ও বাগ্মিতাপূর্ণ ভাষণ প্রদান করলেন
(১)। উপহারসামগ্রীর মধ্যে ইবনুল খাজিনের হস্তলিপিতে লিখিত একটি পবিত্র মুসহাফ ছিল
(২)। যখন তিনি এটি উপস্থাপন করলেন, তখন এর সাথে একটি চিরকুট লিখে দিলেন যাতে ছিল: [কামিল ছন্দে]
"আপনাদের উপরই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনাদের মাঝেই... আর আপনাদের আঙিনার প্রতিই এটি ব্যাকুল হয় এবং প্রত্যাবর্তন করে।"
(৩)ইবনুল আদিম তাঁর ভাষণ (পয়গাম) প্রদান শেষ করার পর, উজির ইবনুল আলকামী গ্রহণ ও সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপহারগুলো ভেতরে আনার অনুমতি দিলেন। ইবনুল আদিম বাগদাদে তাঁর অবস্থানস্থলে ফিরে গেলেন, ইত্যবসরে তাঁর সম্মান বৃদ্ধি করা হয়েছিল এবং তাঁকে অত্যন্ত মর্যাদাদান করা হয়েছিল
(৪)।
ইবনুল আদিম কিছু জীবনীর বর্ণনার ফাঁকে মালিকুন নাসির ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদের পক্ষ থেকে খলিফা আল-মুসতাসিম বিল্লাহর নিকট দূত হিসেবে তাঁর গমনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ৬৫০ হিজরি সনের শাওয়াল ও জিলহজ মাসে বাগদাদে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি এই দূত-মিশনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেননি। হানাফি ফকিহ আহমদ ইবনে আবিল করম ইবনে হিবাতুল্লাহর জীবনীতে তিনি বলেন (তৃতীয় খণ্ড):
"তিনি ৬৫০ হিজরির শাওয়াল মাসে মোসেলে মৃত্যুবরণ করেন এবং আমি বাগদাদে থাকা অবস্থায় সেই তারিখে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আমার কাছে পৌঁছায়।"
আর আসআদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুন নুশাবি আল-ইরবিলির জীবনীতে (চতুর্থ খণ্ড):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
"وحَضَرتُ دارَ الوَزِير أبي طَالِب بن العَلقَميِّ في سَنَة خَمْسِين وسِتمائة، وكُنْتُ قد توجَّهتُ رَسُولًا عن المَلِكِ النَّاصِر صَلاح الدِّين يُوسُف بن مُحَمَّد، في أيَّامِ المُسْتَعْصِم بالله، إلى دارِ الخِلَافَةِ، فسَمِعتُه يُنْشدُ بين يَدي الوَزِير قَصِيدَةً في مَدْح المُسْتَعْصِم في الحادي عَشر من ذِي الِحجَّة
… ".
وفي تَرْجَمَة إسْمَاعِيْلَ بن حَامِد بن عبدِ الرَّحْمن القُوصِيّ، وفيها ما قد يُفْهِمُ أنَّ القاضي نَجْم الدِّين عَبْد الله بن مُحمَّد البَادرائيّ (ت 655 هـ)، هو مَن حَمَل جَواب الرِّسالةِ (الجزء الرَّابع):
"أنْشَدَنا أبو المَحَامِد القُوصِيّ بدِمَشْق، وهو أوَّلُ اجْتِمَاعي به، بحَضْرَة نَجْم الدِّين البَادَرَائِيّ رسُولِ بَغْدَاد، وكُنْتُ قَدِمتُها رَسُولًا، قال: أنْشدَنا أبو جَعْفَر بن حَوَاري المَعَرِّيّ
… ".
ونُقَدِّرُ أنَّ ابنَ العَدِيْم أمْضَى في سِفَارتِه هذه نحو أرْبَعة أشْهُرٍ، إذا كان ببَغْدادَ في شَوَّال من عام 650 هـ، ثُمَّ مرَّ بالمَوْصِلِ في مُحَرَّم سَنَة 651 هـ، حَسْبما ذَكَرَ في ترجَمَة أحمدَ بن مُحَمَّد بن أبي الوَفَاء الرَّبَعِيِّ، أبي الطَّيِّب المَعْرُوف بابنِ الحَلَاوِيّ المَوصِليّ (الجزء الثَّالث):
"ثمّ عادَ - أي ابن الحَلَاويّ - إلى المَوْصِل وأقامَ بها
… واجْتَمَعْتُ به فيها، وأنْشدَني مَقَاطِيعَ من شِعْرِه، وكانَ حينئذٍ قد غَيَّر مَلْبُوسَهُ وتَزَيَّا بزيّ الأجْنَاد، وكان اجْتِمَاعي بهِ بالموصل بمَشْهَدِ البَرَمَةِ يَوْمَ التَّاسِعِ من مُحَرَّم سَنَة إحْدَى وخَمْسِين وستِّمائة".
وكانتْ سِفَارتُه الثَّالثةُ إلى بَغْدَادَ في سَنَةِ 654 هـ؛ أرْسَلهُ السُّلْطانُ المَلِكُ النَّاصِرُ يُوسُف صاحِبُ حَلَبَ ودِمَشْقَ (الدِّيَار الشَّاميَّة)، رَسُولًا إلي الخليفةِ المُسْتَعصِم بالله، وصُحْبَتهُ تقدمة جَليلة، وطَلَبَ ابنُ العَدِيْم خِلْعَةً من الخليفة للمَلِك
"৬৫০ হিজরি সনে আমি উজির আবু তালিব ইবনুল আলকামি-র বাসভবনে উপস্থিত ছিলাম। আমি বাদশাহ আন-নাসির সালাহ উদ্দিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহর আমলে খিলাফতের সদর দপ্তরে দূত হিসেবে গিয়েছিলাম। আমি জিলহজ মাসের এগারো তারিখে উজিরের সামনে তাকে আল-মুস্তাসিমের প্রশংসায় রচিত একটি কাসিদা আবৃত্তি করতে শুনেছি
… ".
ইসমাইল বিন হামিদ বিন আব্দুর রহমান আল-কুসির জীবনীতে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা থেকে বোঝা যায় যে, কাজী নাজমুদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-বাদরায়ি (মৃত্যু ৬৫৫ হিজরি) পত্রের উত্তর নিয়ে গিয়েছিলেন (চতুর্থ খণ্ড):
"আবু আল-মাহামিদি আল-কুসি দামেস্কে আমাদের শুনিয়েছেন—এটি ছিল তাঁর সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ—বাগদাদের দূত নাজমুদ্দিন আল-বাদরায়ির উপস্থিতিতে। আমিও সেখানে দূত হিসেবে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন: আবু জাফর বিন হাওয়ারি আল-মাআরি আমাদের শুনিয়েছেন
… ".
আমরা ধারণা করছি যে, ইবনুল আজিম তাঁর এই দূতকার্যে প্রায় চার মাস সময় অতিবাহিত করেছিলেন; কারণ তিনি ৬৫০ হিজরির শাওয়াল মাসে বাগদাদে ছিলেন এবং এরপর ৬৫১ হিজরির মহররম মাসে মসুল অতিক্রম করেন। যেমনটি তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবুল ওয়াফা আর-রাবায়ি, আবু তৈয়ব—যিনি ইবনুল হালাবি আল-মসুলি নামে পরিচিত—তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন (তৃতীয় খণ্ড):
"তারপর তিনি—অর্থাৎ ইবনুল হালাবি—মসুলে ফিরে আসেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন
… সেখানে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় এবং তিনি আমাকে তাঁর কবিতার কিছু অংশ শুনিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর পোশাক পরিবর্তন করেছিলেন এবং সৈনিকদের পোশাকে সজ্জিত ছিলেন। মসুলে 'মাশহাদুল বারামাহ' নামক স্থানে ৬৫১ হিজরির মহররম মাসের নয় তারিখে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল"।
বাগদাদে তাঁর তৃতীয় দৌত্য সফর ছিল ৬৫৪ হিজরি সনে; তখন আলেপ্পো ও দামেস্কের (শাম দেশীয় অঞ্চল) অধিপতি সুলতান আল-মালিক আন-নাসির ইউসুফ তাঁকে খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহর নিকট দূত হিসেবে প্রেরণ করেন। তাঁর সাথে ছিল এক মহিমান্বিত উপঢৌকন। ইবনুল আজিম খলিফার নিকট বাদশাহর জন্য একটি সম্মানসূচক রাজকীয় পোশাক (খিলআত) প্রার্থনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
النَّاصِر، "فأعْطاهُ سِكِّينًا كَبيرة من اليَشَم، علامةً منه في أنَّ له خِلْعة في وَقْتٍ آخرَ، فأخَذَها كَمالُ الدِّين وعادَ إلى النَّاصِرِ بغير خِلْعة"
(1).
وكان بصُحْبةِ ابنِ العَدِيْم في سِفارتين من رَحَلاتِه إلى العِرَاقِ الشَّيخُ شَرَفُ الدِّين الدِّمْياطِيُّ (ت 705 هـ)، وقرأ عليه ببَغْداد وفي سامَّراءَ وهم قافِلُونَ من بَغْداد
(2).
وإضافةً إلى ما تقَدَّم، فقد أشارَ ابنُ العَدِيْم في الجزء الأوَّل من كتابِه (المُقَدِّمة) إلى بعضِ المَصادرِ الَّتي اعْتَمدَ عليها، ونَقَلَ عنها، ممَّا طالَعَهُ ببَغْدادَ في بعض هذه الأسْفار؛ مثاله قوله:
"وقَعَ إليَّ بَغْدَادَ كتابٌ من تأليفِ أحْمَد بن مُحمَّد بن إسْحَاق الزَّيَّات الهَمَذَانِيّ الفَقِيه، فنَقَلْتُ منه
… ".
"وقَعَ إليَّ بَغْدَاد من تَصْنيف أحمد بن مُحمَّد بن إسْحَاق الزَّيَّات، مُؤلِّف كِتاب البُدْان، قال فيه:
… ".
"ولوَلدِه - أي عُبيد الرأيِ - نَصْر المذكُور أبياتٌ يَرْثي والدَهُ، ويَذكرُ ما جَرَى من اخْتلافِ عَشِيْرته، أنْشَدَناها ببَغْدَادَ أبو الحَسَن المُبارَكُ بن أبي بَكْر مُحمَّد بن مَزْيَد الخَوَّاص عنهُ
… ".
مِصر:سافرَ ابنُ العَدِيْم إلى مِصْرَ عدَّةَ مرَّاتٍ في مهمَّاتٍ ورَسائلَ سُلْطانيَّة، فقد توجَّه إليها في سَنةِ 637 هـ رَسُولًا من قِبَل والدةِ المَلِك العَزِيز والسُّلْطان المَلِك
--------------------------------------------
আন-নাসির, "অতঃপর তিনি তাকে একটি বড় ইয়াশাম পাথরের (জেড) ছুরি উপহার দিলেন, যা ছিল অন্য এক সময়ে তাকে সম্মানসূচক পোশাক (খিলআত) প্রদানের একটি নিদর্শন। কামাল উদ্দিন সেটি গ্রহণ করলেন এবং কোনো সম্মানসূচক পোশাক ছাড়াই আন-নাসিরের কাছে ফিরে আসলেন"
(১).
ইরাকে ইবনুল আদিমের দুটি কূটনৈতিক সফরের সময় তার সঙ্গে ছিলেন শাইখ শরাফ উদ্দিন আদ-দুমইয়াতি (মৃত ৭০৫ হি.)। তিনি বাগদাদে এবং বাগদাদ থেকে ফেরার পথে সামাররায় তার কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন
(২).
পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইবনুল আদিম তার গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে (মুকাদ্দিমা) এমন কিছু উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যার ওপর তিনি নির্ভর করেছেন এবং যা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, যা তিনি এই সফরগুলোতে বাগদাদে থাকাকালীন পাঠ করেছিলেন; উদাহরণস্বরূপ তার বক্তব্য:
"বাগদাদে আমার হাতে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আজ-জায়্যাত আল-হামাদানি আল-ফকিহ্-এর রচিত একটি গ্রন্থ আসে, অতঃপর আমি তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করি..."
"বাগদাদে কিতাবুল বুলদান-এর লেখক আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আজ-জায়্যাতের একটি রচনা আমার হাতে আসে, তাতে তিনি বলেছেন: ..."
"এবং তার পুত্র—অর্থাৎ উবাইদ আর-রাঈ—উল্লিখিত নসরের কিছু পঙক্তি রয়েছে যাতে তিনি তার পিতার শোকগাথা গেয়েছেন এবং তার গোত্রের মধ্যে ঘটে যাওয়া মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। বাগদাদে আবুল হাসান আল-মুবারক বিন আবি বকর মুহাম্মদ বিন মাজয়াদ আল-খাওওয়াস তার পক্ষ থেকে এগুলো আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন..."
মিশর:ইবনুল আদিম বিভিন্ন রাজকীয় মিশন ও পত্র নিয়ে বেশ কয়েকবার মিশরে সফর করেছিলেন। তিনি ৬৩৭ হিজরিতে মালিক আল-আজিজের মাতা এবং সুলতান মালিকের পক্ষ থেকে দূত হিসেবে সেখানে গমন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
النَّاصِر صَلَاِح الدِّين يُوسُف بن مُحمَّد بن غازي، وأقامَ فيها نحو ستّةَ أشهُرٍ
(1)، وعادَ في أوَائِل سَنة 638 هـ. وهو يَذكُرُ (الجزء الثاني) أنَّه كان في سَنَة 637 هـ رَسُولًا بمِصْر، فمرَّ في طَرِيقِه على بَيْتِ المقدِس، وزارَ مِحْرابَ دَاوُد، ووَصفهُ (الجزء السَّابِع):
"زُرْتُ بُرْجَ المِحْرَابِ الّذي من بناء دَاوُد، وكان بُرْجًا عَظيْمًا بحِجَارَةٍ عَظِيمَةٍ هَائِلَةٍ، وكان ثلاثَ طَبَقَاتٍ، والمحرَابُ في الطَّبَقَةِ الوُسْطَى، وكان شَاهِقًا، وكان عَاليًا على المَسْجِدِ وعلى جميع أبْنيةِ البيتِ المُقَدَّس، وهَدَمَهُ المَلِكُ النَّاصِر دَاوُد ابن المَلِك المُعَظَّم في سَنَةِ سَبْعٍ وثَلاثين وسِتِّمائة، وحَفَرْتُ في البيت المُقَدَّس وَقْتَ هَدْمِه، وكُنْتُ مُتَوَجِّهًا إلى الدِّيَارِ المِصْريَّة في رِسَالَةٍ".
وزارَ ببَيْتِ المَقْدِسِ أيضًا قبَرَ شَيخِه أبي عليّ الحَسَن بن أحْمَد بن يُوسُف الأَوَقِيّ الصُّوْفيّ، قال (الجزء الخامس):
"وزرْتُ قَبْرَهُ بمقبَرَةٍ دُفِنَ فيها الشَّيْخُ رَبيعُ بن مَحْمُود المَارِدِيْنِيّ وغيرُه من الصَّالِحين حين تَوَجَّهْتُ إلى الدِّيَارِ المِصْرِيَّة رَسُولًا في سَنَة سَبع وثَلاثين وستِّمائة".
وقال في تَرْجَمَةِ القاضي أحمد بن الخلِيل بن سَعادَة بن جَعْفَر بن عِيسَى الشَّافِعيّ، أبي العبَّاس الخُوَيّيّ (الجزء الثاني):
"ومَرضَ مَرْضةً بُحمَّى السِّلّ، وتُوفِّي بدِمَشق في سَنَةِ سَبْعٍ وثَلاثين وستِّمائة، وكنتُ إذ ذاك رَسُولًا بمِصْر، فبلَغَتني وفاتُه وأنا بها".
وقال في تَرْجَمَةِ المَلِكِ الصَّالح إسْمَاعِيْل بن مُحَمَّد بن أَيُّوب بن شَاذِي، أبي الفِدَاءِ عِمَاد الدِّين ابن المَلِك العادِل (الجزء الرَّابع):
--------------------------------------------
আন-নাসির সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন গাজি; সেখানে তিনি প্রায় ছয় মাস অবস্থান করেন
(১) এবং ৬৩৮ হিজরির শুরুর দিকে ফিরে আসেন। তিনি উল্লেখ করেন (দ্বিতীয় খণ্ড) যে, তিনি ৬৩৭ হিজরিতে মিসরে দূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। সেই সফরে তিনি পথিমধ্যে বাইতুল মাকদিসে যাত্রাবিরতি করেন এবং দাউদ (আ.)-এর মেহরাব যিয়ারত করেন। তিনি এর বর্ণনা দিয়ে বলেন (সপ্তম খণ্ড):
"আমি মেহরাবের সেই বুরুজটি যিয়ারত করেছি যা দাউদ (আ.) নির্মাণ করেছিলেন। সেটি বিশাল ও ভয়ংকর সব পাথর দিয়ে নির্মিত একটি সুউচ্চ বুরুজ ছিল। সেটি ছিল তিন স্তরবিশিষ্ট এবং মেহরাবটি ছিল মধ্যবর্তী স্তরে। বুরুজটি অত্যন্ত উঁচু ছিল এবং এটি মসজিদ ও বাইতুল মাকদিসের সকল ভবনের ওপর উচ্চতায় অবস্থান করছিল। আল-মালিকুল মুয়ায্যামের পুত্র আল-মালিকুন নাসির দাউদ ৬৩৭ হিজরিতে এটি ধ্বংস করেন। যখন এটি ধ্বংস করা হচ্ছিল, তখন আমি বাইতুল মাকদিসে অবস্থান করছিলাম এবং আমি দূত হিসেবে মিসরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম।"
তিনি বাইতুল মাকদিসে তাঁর শাইখ আবু আলি আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আল-আওয়াকী আস-সুফীর কবরও যিয়ারত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন (পঞ্চম খণ্ড):
"আমি সেই কবরস্থানে তাঁর কবর যিয়ারত করেছি যেখানে শাইখ রাবী বিন মাহমুদ আল-মারিদিনী এবং অন্যান্য নেককার ব্যক্তিগণ সমাহিত রয়েছেন। এটি ছিল ৬৩৭ হিজরির ঘটনা, যখন আমি দূত হিসেবে মিসরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম।"
তিনি কাজী আহমাদ বিন আল-খলীল বিন সাআদাহ বিন জাফর বিন ঈসা আশ-শাফিয়ী আবুল আব্বাস আল-খুওয়াইয়্যী-এর জীবনীতে বলেন (দ্বিতীয় খণ্ড):
"তিনি যক্ষ্মা জ্বরে আক্রান্ত হন এবং ৬৩৭ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। আমি তখন মিসরে দূত হিসেবে অবস্থান করছিলাম এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আমার কাছে পৌঁছায়।"
তিনি আল-মালিকুস সালিহ ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন শাযী, আবুল ফিদা ইমাদউদ্দীন ইবনুল মালিকুল আদিল-এর জীবনীতে বলেন (চতুর্থ খণ্ড):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
"وخَرَجَ العَادِلُ إلى بُلْبَيْسَ في عَسْكَرٍ كثيرٍ، وكُنْتُ إذ ذاك عندَهُ رَسُولًا بالقَاهِرَة، فقَبَضَ العَسْكَرُ على العادِلِ
(1)، وتَسَلَّمَ الصَّالِحُ أيُّوب الدِّيَار المِصْرِيَّة".
وبَيَّنَ فِي كتابِه زُبْدَة الحَلْب بعضَ تَفاصِيلِ رِحْلتِه ومَضْمُونَ الرِّسالةِ الَّتي حَمَلَها إلى المَلِك العادِل سنة 637 هـ، يقول
(2):
"وكُنتُ إذ ذاكَ بالقَاهِرةِ، رَسُولًا إلى المَلِكِ العادِل، أُهَنئُه بكَسْرِ عَسْكره الإفْرنجَ على غرَّة، وأَطْلبُ أنْ يُسَيِّر عمَّاتِه بناتِ المَلِكِ العادِل، معي إلى أُختِهنَّ المَلِكه إلى حَلَب، فاسْتَحْضرَني المَلِكُ الصَّالِحُ أيُّوب، يومَ الثُّلاثاءِ حادي عَشر ذي الحِجَّة، وقال لي: تُقَبِّلُ الأرْضَ بين يَدي السّترِ العالي، وتُعرفُها أنَّني مَمْلُوكها، وإنَّها عندي في مَحَلِّ المَلِكِ الكَامِل، وأنا أعْرِضُ نَفْسي لخِدْمتها، وامْتِثالِ أمْرِها فيما تأمُر به، وحَمَّلَني مثلَ هذا القَولِ إلى السُّلْطانِ المَلِك النَّاصِر.
ونَزَلْتُ من مِصْر، فاجْتَمعتُ بالمَلِك الصَّالِح إسْماعِيْل ابن المَلِك العادِل، في رابع مُحَرَّم سَنَة ثَمان وثلاثين، وحَمَّلني رسالةً إلى المَلِكةِ الخاتُون، يَطْلبُ منها مُعاضَدَته، ومُساعَدتَهُ على المَلِكِ الصَّالِح صاحبِ مِصْر إنْ قَصَدَهُ، فلم تُجِبْهُ إلى ذلك في ذلك الوَقْت".
وسافرَ إلى مِصْر في سَنة 640 هـ حسْبَما ذكَرَ ذلك عَرَضًا في تَرْجَمَةِ الشَّيخ أحمد بن يُوسُف بن عليّ، أبي العبَّاس الشَّريف العَلَويّ الحَسَنيّ المُلَقَّب عِمَاد الدِّين المَوْصِلِيّ (648 هـ)، ولم يُفْصِح عن طَبِيعة الرَّحلة وهَدفها، ولَم يَذْكرْ في كتابِه زُبْدَة الحَلْب خَبَرَ رحْلتِه في أحْداثِ تلكَ السَّنَةِ، غير أنَّ مَنْطقةَ شَمال سُوريا والجَزِيرة كانتْ تُواجهُ زَحْفَ التَّتَارِ في ذلك الوَقْتِ، فلعلّ سِفارتَهُ كانت عن المَلِك النَّاصِر لغاياتٍ تتَّصل بهذا الشَّأن، قال (الجزء الثَّالث):
--------------------------------------------
"আদিল একটি বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে বিলবাইসের উদ্দেশ্যে বের হলেন। আমি সে সময় কায়রোতে তাঁর কাছে দূত হিসেবে ছিলাম। এরপর সৈন্যরা আদিলকে বন্দি করল
(১) এবং সালিহ আইয়ুব মিশরীয় ভূখণ্ডের শাসনভার গ্রহণ করলেন।
তিনি তাঁর 'জুবদাতুল হালাব' গ্রন্থে তাঁর সফরের কিছু বিবরণ এবং ৬৩৭ হিজরিতে মালিক আদিলের নিকট যে পত্রটি বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বিষয়বস্তু বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন
(২):
"আমি সে সময় মালিক আদিলের কাছে দূত হিসেবে কায়রোতে ছিলাম। আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলাম তাঁর সেনাবাহিনী কর্তৃক অতর্কিত আক্রমণে ইউরোপীয় বাহিনীকে পরাজিত করার জন্য। আমি এই আবেদনও করেছিলাম যে, তিনি যেন তাঁর ফুফুদের—মালিক আদিলের কন্যাদের—তাঁদের বোন রানীর কাছে আলেপ্পোতে আমার সাথে পাঠিয়ে দেন। এরপর মালিক সালিহ আইয়ুব যুলহিজ্জা মাসের ১১ তারিখ মঙ্গলবার আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তুমি উচ্চ মর্যাদাসীনা নারীর সামনে গিয়ে ভূমিচুম্বন করবে এবং তাঁকে জানাবে যে আমি তাঁরই গোলাম। আমার কাছে তাঁর মর্যাদা মালিক কামিলের সমতুল্য। আমি তাঁর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করছি এবং তিনি যা আদেশ করবেন তা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুলতান মালিক নাসিরের প্রতিও তিনি আমাকে এই ধরনের বার্তা দিলেন।
আমি মিশর থেকে প্রস্থান করলাম এবং ৬৩৮ হিজরির ৪ঠা মহররম মালিক আদিলের পুত্র মালিক সালিহ ইসমাইলের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে দিয়ে রানী খাতুনের কাছে একটি পত্র পাঠালেন, যাতে তিনি তাঁর নিকট সমর্থন ও সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন মালিক সালিহ (মিশরের অধিপতি)-এর বিরুদ্ধে, যদি তিনি তাঁর ওপর চড়াও হন। কিন্তু সে সময় রানী তাঁর এই আবেদনে সাড়া দেননি।"
তিনি ৬৪০ হিজরিতে মিশরে সফর করেছিলেন, যেমনটি তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে শায়খ আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী, আবুল আব্বাস আশ-শারিফ আল-আলাওয়ি আল-হাসানি—যিনি ইমাদুদ্দিন আল-মাওসিলি (৬৪৮ হি.) নামে পরিচিত—তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এই সফরের প্রকৃতি বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তাঁর 'জুবদাতুল হালাব' গ্রন্থেও সেই বছরের ঘটনাবলীতে এই সফরের কোনো খবর উল্লেখ করেননি। তবে সে সময়ে উত্তর সিরিয়া ও জাজিরা অঞ্চল তাতারদের আক্রমণের সম্মুখীন ছিল। সম্ভবত তাঁর এই কূটনৈতিক মিশনটি মালিক নাসিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে ছিল। তিনি বলেন (তৃতীয় খণ্ড):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
"ثُمَ خَرَجَ - أي عماد الدِّين المَوصِليّ - من حَلَب إلى مِصْر حينَ وصلَ التَّتَارُ إلى بلادِ الرُّوم سَنَة أرْبعين وسِتِّمائة، وكنتُ بمِصْر في هذه السَّنَة، وهو بها، وحَدَّثَ بها عن شَيْخنا أبي هاشِم المَذْكُور، وعُدتُ إلى حَلَب وهو بالدِّيَار المِصْرِيَّة".
وسافرَ إلى مِصْر في السَّنَة الَّتي تَليها، وتَحْديدًا في شهر رَبيع الأوَّل من سَنة 641 هـ، مرسَلًا في مَهمَّةٍ رَسْميَّةٍ لَم يُفْصِحْ عن ماهيَّتِها، ولعلَّها كسَابقَتها، ذكَرَ ذلك عَرَضًا في ثنايا تَرْجَمتين من كتابِه البُغْيَة، ولم يُشِرْ إلى سَفْرتِه هذه في مُخْتَصره الزُّبْدَة
(1)، ففي تَرْجَمَة القَاضِي خَلِيل بن عليّ بن الحُسَين بن علي، أبي عليّ الحَمَويّ الحَنَفيّ، يقول (الجزء السَّابِع):
"تُوفِّي القَاضِي نَجْمُ الدِّين أبو عليّ خِليل قاضي العَسْكَرِ فجأةً يَوْم الثّلاثَاء بعد العَصْرِ سَلْخ صَفَر من سَنَةِ إحْدَى وأرْبَعين وسِتِّمائة، ودُفِنَ ضَحْوَةَ يَوْم الأرْبَعَاء، ووَصَلْتُ إلى عَذْرَاء لَيْلَة السَّبْت الرَّابِع من شَهْر ربيع الأوَّل مُتَوَجِّهًا إلى الدِّيَار المِصْرِيَّة في رِسَالَةٍ، فَخَرجَ إليَّ من دِمَشْق مَنْ أخْبَرَني بوَفَاتهِ على الوَجْه المَذْكُور".
وفي تَرْجَمَةِ رَاجِح بن أبي بَكْر بن إبْراهيم بن مُحَمَّد، أبي الوَفَاء العَبْدَرِيّ القُرَشِيّ المَيُّورْقِيّ (الجزء الثَّامن):
"
… إلى أنْ كَسَرَ التَّتَارُ مَلِكَ الرُّوم غِيَاثَ الدِّين، فخَاف - أي الميُّورْقيّ - من التَّتَارِ، وخَرَجَ من صَلَبَ في سَنَةِ إحْدَى وأرْبَعين وستِّمائة، وتَوَجَّه إلى الدِّيَارِ المِصْرِيَّة، ورَافقتُهُ من دِمَشْق إلى مِصْر، وكُنْتُ إذ ذاكَ قد سُيِّرتُ رَسُولًا إلى مِصْر".
وسَيَّرهُ المَلكُ النَّاصِر إلى مِصْر في عام 643 هـ برسالةٍ إلى السُّلْطانِ نَجْمِ الدِّين أيُّوب صاحبِ مِصْر، وعند عَوْدتِه إلي حَلَب، اصْطَحبَ معه ابنَ سَعِيد الأنْدلسُيّ،
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি—অর্থাৎ ইমাদউদ্দীন আল-মাওসিলি—৬৪০ হিজরি সনে তাতাররা রোম ভূখণ্ডে পৌঁছালে আলেপ্পো থেকে মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আমি সেই বছর মিশরে ছিলাম এবং তিনিও সেখানে ছিলেন। তিনি সেখানে আমাদের উল্লেখিত শায়খ আবু হাশিমের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি মিশরীয় ভূখণ্ডে থাকা অবস্থাতেই আমি আলেপ্পোতে ফিরে আসি।
তিনি পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ৬৪১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে একটি দাপ্তরিক মিশনে প্রেরিত হয়ে মিশরে সফর করেন, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য তিনি প্রকাশ করেননি; সম্ভবত এটি পূর্বেরটির মতোই ছিল। তিনি তাঁর 'আল-বুগইয়াহ' গ্রন্থের দুটি জীবনী আলোচনার ফাঁকে প্রাসঙ্গিকভাবে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ 'আয-যুবদাহ'-তে এই সফরের কথা উল্লেখ করেননি।
(১) কাজী খলিল বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী আবু আলী আল-হামাউয়ি আল-হানাফির জীবনীতে তিনি বলেন (সপ্তম খণ্ড):
"সেনাপ্রধানের কাজী নজমউদ্দীন আবু আলী খলিল ৬৪১ হিজরির সফর মাসের শেষ দিনে মঙ্গলবার আসরের পর হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন এবং বুধবার চাশতের সময় তাঁকে দাফন করা হয়। আমি একটি পত্র নিয়ে মিশরীয় ভূখণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ৪ঠা রবিউল আউয়াল শনিবার রাতে 'আজরা' নামক স্থানে পৌঁছাই। তখন দামেস্ক থেকে এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে উল্লেখিত উপায়ে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানান।"
আর রাজিহ বিন আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আবু আল-ওয়াফা আল-আবদারি আল-কুরাশি আল-মায়ুরকির জীবনীতে রয়েছে (অষ্টম খণ্ড):
"
... যতক্ষণ না তাতাররা রোম সম্রাট গিয়াসউদ্দীনকে পরাজিত করল। তখন তিনি—অর্থাৎ আল-মায়ুরকি—তাতারদের ভয়ে ভীত হলেন এবং ৬৪১ হিজরিতে আলেপ্পো ত্যাগ করে মিশরীয় ভূখণ্ডের দিকে যাত্রা করলেন। দামেস্ক থেকে মিশর পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গী ছিলাম এবং তখন আমি দূত হিসেবে মিশরে প্রেরিত হয়েছিলাম।"
এবং আল-মালিকুন নাসির তাঁকে ৬৪৩ হিজরিতে মিশরের অধিপতি সুলতান নজমউদ্দীন আইয়ুবের কাছে একটি পত্রসহ মিশরে পাঠিয়েছিলেন। আলেপ্পোতে ফেরার সময় তিনি ইবনে সাঈদ আল-আন্দালুসিকে তাঁর সঙ্গে নিয়ে আসেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
বুগইয়াতুত তলাব ফী তারিখি হালাব - তাবা আল-ফুরকান
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وكان قد الْتَقاهُ في القَاهِرة في شَهْر ربيع الأوَّل سَنة 643 هـ
(1)، وارْتَحلَ عن مِصْر قافلًا إلى الشَّام في سَنَة 644 هـ
(2).
وذكَرَ ابنُ العَدِيْم جانبًا من غَرَضِ سِفارتِه هذه، وذلك في ثنايا تَرْجَمَةِ المَلِك الصَّالِح إسْماعِيْل بن مُحمَّد بن أيُّوب، عند ذِكْر خَبَرِ اسْتيلاءِ ابنِ أخيه المَلِك نَجْم الدِّين أيُّوب على دِمَشْق، وأخْذِها من يَده، قال بعد ذِكْرِ أحْداثٍ وَقَعَتْ للمَلِكِ الصَّالِح إسْماعِيْل (الجزء الرَّابع):
"وخافَ إسْمَاعِيْلُ فاتَّفَقَ مع الفِرنْج. وسيَّرَ المَلِك المَنْصُور إبْراهيم بن شِيرْكُوه صاحب حِمْص مُقدَّمًا على عَسْكَره إلى غَرَّة ومعه الفِرِنْجُ، وبها عَسْكَرُ مِصْرَ، فالْتَقَى الجَيْشانِ، فانْهَزَمَ المَلِكُ المَنْصُورُ والفِرنْجُ، وتقدَّمَ العَسْكَرُ المِصْرِيُّ بعد ذلك إلى بَيْسَان، وتحالَفَ المَلِكُ الصَّالِحُ أيُّوب، والسُّلْطانُ المَلِكُ النَّاصِر يُوسُفُ ابن المَلِك العَزِيز صاحبُ حَلَب، ونَزَلَ العَسْكَرُ المِصْرِيُّ ومُقَدَّمُه الوَزِيرُ مُعِيْنُ الدِّين ابن الشَّيْخ ابن حَمُّوْيَه مُحَاصِرًا دِمَشْق، ووصَلَتْ إليه نَجْدَةُ حَلَب، وكنتُ أنا الرَّسُولَ إلى مِصْر في المُحَالَفة، ففَتَحَ العَسْكَرُ المِصْرِيُّ دِمَشْقَ، وسلَّمَها الصَالِحُ إسْمَاعِيْل إلى ابنِ الشَّيْخ ومَضَى إلى بعلَبَك
… ".
وسافرَ ابن العَديم إلى مِصْر في سَنَة 644 هـ، ولَم تكنْ سِفارتُه في هذه المرَّةِ بغَرضِ التَّحالُفِ ضَدَّ المَلِكِ الصَّالِح إسْماعِيْل، بل ليَشْفَعَ في إسْماعِيْلَ عندَ صاحبِ مِصْر، بعد أنْ طَرَحَ نفْسَهُ على المَلِكِ النَّاصِر يُوسُف، وإسْماعِيْلُ هو خالُ أبيه المَلِكِ العَزِيز، قال ابنُ العَدِيْم في تَرْجَمَة إسْماعِيْلَ أيضًا (الجزء الرَّابع):
"وهَرَبَ المَلِكُ الصَّالِحُ إسْمَاعِيْلُ، وقَدِمَ إلى حَلَبَ مُسْتَجيْرًا بالسُّلْطانِ المَلِكِ النَّاصِر ابن المَلِك العَزِيز، ومُلْقيًا نَفسهِ إليه فأنْزَله بدَارِ جَمَالِ الدَّوْلَةِ، وجَعَلَ عليه تَوكْيلًا طَلبًا
--------------------------------------------
তিনি তাঁর সাথে ৬৪৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে কায়রোতে সাক্ষাৎ করেছিলেন
(১), এবং ৬৪৪ হিজরি সনে মিশর থেকে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন
(২)।
ইবনুল আদীয়ম তাঁর এই দূতিয়ালির উদ্দেশ্যের একটি অংশ বর্ণনা করেছেন মালিক আস-সালিহ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুবের জীবনীর আলোচনায়, যখন তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মালিক নাজমুদ্দিন আইয়ুবের দামেস্ক দখল এবং তা তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার সংবাদ উল্লেখ করেন। মালিক আস-সালিহ ইসমাইলের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি উল্লেখ করার পর তিনি বলেন (চতুর্থ খণ্ড):
"ইসমাইল ভীত হলেন এবং ক্রুসেডারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন। হিমসের অধিপতি মালিক মানসুর ইব্রাহিম ইবনে শিরকুহকে তাঁর সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী বাহিনী হিসেবে গাজার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর সাথে ক্রুসেডাররা ছিল। সেখানে মিশরের সেনাবাহিনী অবস্থান করছিল। দুই বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হলো, এতে মালিক মানসুর ও ক্রুসেডাররা পরাজিত হলো। এরপর মিশরীয় বাহিনী বায়সানের দিকে অগ্রসর হলো। মালিক আস-সালিহ আইয়ুব এবং হালব-এর অধিপতি সুলতান মালিক আন-নাসির ইউসুফ ইবনে মালিক আল-আজিজ পরস্পরের সাথে মৈত্রী চুক্তি করলেন। উজির মুঈনুদ্দিন ইবনুল শায়খ ইবনে হামমুইয়াহর নেতৃত্বে মিশরীয় বাহিনী দামেস্ক অবরোধ করল। তাঁর কাছে হালব থেকে সাহায্যকারী বাহিনী পৌঁছাল। আমি ছিলাম সেই মৈত্রী চুক্তির জন্য মিশরে প্রেরিত দূত। অতঃপর মিশরীয় বাহিনী দামেস্ক জয় করল এবং আস-সালিহ ইসমাইল তা ইবনুল শায়খের কাছে সমর্পণ করে বালবাক-এর দিকে চলে গেলেন..."।
ইবনুল আদীয়ম ৬৪৪ হিজরি সনে মিশরের উদ্দেশ্যে সফর করেন। তবে তাঁর এবারের সফর মালিক আস-সালিহ ইসমাইলের বিরুদ্ধে মৈত্রী চুক্তির উদ্দেশ্যে ছিল না; বরং মালিক আন-নাসির ইউসুফের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার পর, মিশরের অধিপতির কাছে ইসমাইলের জন্য সুপারিশ করার জন্য ছিল। ইসমাইল ছিলেন মালিক আন-নাসিরের পিতা মালিক আল-আজিজের মামা। ইবনুল আদীয়ম ইসমাইলের জীবনীতে আরও বলেন (চতুর্থ খণ্ড):
"মালিক আস-সালিহ ইসমাইল পলায়ন করলেন এবং সুলতান মালিক আন-নাসির ইবনে মালিক আল-আজিজের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে ও তাঁর শরণাপন্ন হয়ে হালবে আসলেন। তিনি তাঁকে জামালুদ্দৌলার প্রাসাদে থাকার ব্যবস্থা করলেন এবং তাঁর সন্ধানে বা পাহারায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন..."
--------------------------------------------