(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة فى المرابطة بالثغور أفضل أم المجاورة بمكة شرفها الله تعالى القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: مسألة فى المرابطة بالثغور أفضل أم المجاورة بمكة شرفها الله تعالى
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
الناشر: أضواء السلف
الطبعة: الأولى 1422هـ _ 2002م
عدد الصفحات: 84
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সীমান্তে পাহারা দেওয়া উত্তম নাকি মক্কায় (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন) অবস্থান করা উত্তম—সে বিষয়ে মাসআলা বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: সীমান্তে পাহারা দেওয়া উত্তম নাকি মক্কায় (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন) অবস্থান করা উত্তম—সে বিষয়ে মাসআলা
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ
সংস্করণ: প্রথম ১৪২২ হিজরি _ ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل الله ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد: فهذا سفر جديد ومؤلف نفيس ينشر لأول مرة، للعلامة القرآني والمجاهد المرابط1 الرباني، شيخ الإسلام والمسلمين أبي العباس أحمد بن تيمية رحمه الله، نقدمه للمجاهدين الصابرين المرابطين في كل مكان من ثغور الإسلام لا سيما بيت المقدس، الذي يمر بوقت عصيب تكالبت فيه كل قوى الشر لمساعدة أشد الناس عداوة للذين آمنوا اليهود في مؤامراتهم لإحكام السيطرة عليه ولهدم الأقصى وبناء الهيكل المزعوم!! وهذا هو سر مقولتهم المشهورة التي رددها أساطينهم في عصرنا2: "لا قيمة لإسرائيل بدون القدس ولا قيمة للقدس بدون الهيكل"!!
--------------------------------------------
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: এটি একটি নতুন গ্রন্থ ও এক মূল্যবান রচনা যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এটি কুরআনের প্রাজ্ঞ আল্লামা ও রব্বানি মুজাহিদ মুরাবিত শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর লেখনী। আমরা এটি ইসলামের সীমান্তের সকল প্রান্তে অবস্থানরত ধৈর্যশীল মুজাহিদ ও প্রহরীদের জন্য পেশ করছি, বিশেষ করে বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসীদের জন্য, যারা এক চরম সংকটকাল অতিবাহিত করছে। যেখানে সমস্ত অশুভ শক্তি মুমিনদের প্রতি চরম শত্রুতা পোষণকারী ইহুদিদের সাহায্য করতে একত্রিত হয়েছে, যাতে তারা এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং আল-আকসা ধ্বংস করে তাদের কথিত উপাসনালয় (হায়কাল) নির্মাণ করতে পারে!! আর এটাই হলো তাদের সেই বিখ্যাত উক্তির রহস্য যা বর্তমান যুগে তাদের বড় বড় নেতারা বারবার আউড়িয়েছে: "জেরুসালেম ছাড়া ইসরায়েলের কোনো মূল্য নেই, আর হায়কাল ছাড়া জেরুসালেমের কোনো মূল্য নেই"!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولا يزال العدوان مستمراً على القدس والأقصى الأسير، والمسلمون يغطون في سبات عميق!! فالأنفاق تحت أرض الأقصى تشق والحفريات تتواصل لتفريغ الأتربة والصخور من تحته ليكون على فراغ فيتعرض للسقوط والانهيار، والجماعات الصهيونية تدنس ساحاته يوميا"1.
ولن ينسى التاريخ ذلك الموقف البطولي للمرابطين بأكناف بيت المقدس في "انتفاضة القدس" وتصديهم لليهود الحاقدين!!
ولا أنسى هذا المشهد الذي شاهده العالم من خلال الفضائيات، عندما حاولت جماعة "أمناء الهيكل" اليهودية أن تضع حجر الأساس لهيكلهم المزعوم بعد أن حصلت على إذن من الحكومة الإسرائيلية فتصدى لهم المصلون المرابطون بالأقصى وقذفوهم ورجموهم بالأحذية والنعال!!
وأهل الإسلام اليوم بأشد الحاجة للصبر والمصابرة والرباط والمرابطة والثبات بثغور المسلمين في أرجاء الأرض كلها لا سيما الثغور الشامية وعلى رأسها: بيت المقدس، والأقصى الأسير!!
يقول العلامة ابن قدامة رحمه الله: "فأفضل الرباط المقام بأشد الثغور خوفا، لأنهم أحوج، ومقامه به أنفع، قال أحمد: أفضل الرباط أشدهم كلبا"2.
--------------------------------------------
জেরুসালেম ও বন্দি আল-আকসার ওপর আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে, আর মুসলিমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন!! আকসার মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে এবং এর নিচ থেকে মাটি ও পাথর সরিয়ে ফেলার জন্য খননকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে এটি শূন্যস্থানের ওপর অবস্থান করে এবং ধসে পড়ার বা বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। আর জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন এর প্রাঙ্গণকে অপবিত্র করছে ১।
ইতিহাস বাইতুল মাকদিসের আশপাশে অবস্থানকারী পাহারাদারদের সেই বীরত্বপূর্ণ অবস্থান এবং "জেরুসালেম ইন্তিফাদা"-য় বিদ্বেষী ইহুদিদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের কথা কখনোই ভুলবে না!!
আমি সেই দৃশ্যটি ভুলতে পারি না যা বিশ্ব স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে দেখেছে, যখন ইহুদি গোষ্ঠী "টেম্পল মাউন্ট ফেইথফুল" তাদের তথাকথিত মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেষ্টা করেছিল—ইসরায়েলি সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর—তখন আকসায় অবস্থানরত মুসুল্লি ও পাহারাদাররা তাদের প্রতিহত করেছিলেন এবং তাদের ওপর জুতো ও স্যান্ডেল নিক্ষেপ করেছিলেন!!
আজ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম সীমান্তের প্রহরায়, বিশেষ করে শামের সীমান্তগুলোতে এবং যার শীর্ষে রয়েছে বাইতুল মাকদিস ও বন্দি আল-আকসা—ধৈর্য, সহনশীলতা, পাহারা প্রদান ও অবিচল থাকার জন্য ইসলামি উম্মাহর প্রচণ্ড প্রয়োজন রয়েছে!!
আল্লামা ইবনে কুদামা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "সর্বোত্তম পাহারা (রিবাত) হলো সবচেয়ে ভীতিসঙ্কুল সীমান্তে অবস্থান করা, কারণ সেখানে পাহারাদারদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি এবং সেখানে অবস্থান করা ইসলামের জন্য অধিক উপকারী। ইমাম আহমাদ বলেন: সর্বোত্তম পাহারা হলো যা সবচেয়ে কঠিন ও বিপদজনক" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وصف النسخة:
فقد اعتمدت على نسخة وحيدة تقع ضمن "مجموع" لشيخ الإسلام، محفوظ بـ"دار الكتب المصرية" برقم 444 فقه تيمور.
وتقع هذه النسخة في 75 صفحة، كل صفحة بها 13 سطر. وبخط الناسخ: عبد الحميد الحكيم1 كما جاء بآخر أحد الرسائل بالمجموع وهي مكتوبة بخط رقعة جميل إلا أنها كثيرة السقط والأخطاء.
وأما تحقيق نسبة الكتاب للمؤلف:
لم أجد أحدا ممن ترجم لشيخ الإسلام ذكر هذا المصنف؛ لكن الذي يطالع كلامه في مصنفاته الأخرى يراه قد أكثر الكلام على مسائل الكتاب وتلخيصها مع تطابق كبير بين كلامه هنا وهناك2.
وأما عنوان الكتاب فقد أثبته كما سماه المصنف رحمه الله في أوله حيث قال: "مسألة في المرابطة بالثغور أفضل أم المجاورة بمكة شرفها الله تعالى".
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:
আমি শাইখুল ইসলামের একটি "সংকলন"-এর অন্তর্ভুক্ত একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা "দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ"-তে ৪৪৪ নম্বর ফিকহ তায়মুর হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি ৭৫ পৃষ্ঠার, যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৩টি লাইন রয়েছে। এটি লিপিকার আব্দুল হামিদ আল-হাকিমের হস্তাক্ষরে লিখিত (১), যেমনটি এই সংকলনের অন্যতম একটি পত্রের শেষে এসেছে। এটি চমৎকার রুকআ লিপিতে লেখা হলেও এতে প্রচুর শব্দ বাদ পড়া ও ভুলত্রুটি রয়েছে।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সত্যতা যাচাই প্রসঙ্গে:
শাইখুল ইসলামের জীবনী যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে কাউকে এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করতে আমি দেখিনি; কিন্তু যে ব্যক্তি তাঁর অন্যান্য রচনাবলীতে তাঁর বক্তব্যগুলো পাঠ করবেন, তিনি দেখবেন যে তিনি এই কিতাবের মাসআলাগুলো নিয়ে প্রচুর আলোচনা ও সেগুলোর সারসংক্ষেপ প্রদান করেছেন, যেখানে এখানকার ও সেখানকার বক্তব্যের মধ্যে প্রবল মিল রয়েছে (২)।
গ্রন্থের শিরোনামের ক্ষেত্রে আমি তা সেভাবেই রেখেছি যেভাবে লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) এর শুরুতে নামকরণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "সীমান্তে পাহারায় নিয়োজিত থাকা উত্তম নাকি মক্কায় (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন) অবস্থান করা উত্তম, সে বিষয়ক মাসআলা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأما عملنا في التحقيق:
فقد اتخذت هذه النسخة أصلا؛ وصوبت ما فيها من أخطاء وسقط بالرجوع إلى كلام المصنف في كتبه الأخرى.
كما قمت بضبط فقرات الكتاب كلها، ونسقت عباراتها ورقمت فقراتها برقم مسلسل ووضعت لها عناوين جانبية.
كما قمت بعزو الآيات ووضع العزو بجوار الآيات، وخرجت الأحاديث والآثار وبينت مرتبتها من حيث القبول والرد.
كما وضعت بعض التعليقات المهمة وأكثرها من كلام شيخ الإسلام من كتبه الأخرى، وبعض المصادر من كتب الفقه.
كما صنعت له فهارس للآيات والأحاديث والآثار والموضوعات. هذا وقد اجتهدت في ذلك حسب الوسع والطاقة.
والله تعالى أسأل أن ينصر الإسلام، وأن يحفظ ثغور المسلمين وأن يجعلنا من المرابطين الصابرين الثابتين، إنه نعم المولى ونعم النصير. ولا حول ولا قوة إلا بالله، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
الإسماعيلية في 1رجب 1422هـ
أبو محمد أشرف بن عبد المقصود غفر الله له
আর আমাদের সম্পাদনার কর্মপদ্ধতি হলো:
আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি; এবং লেখকের অন্যান্য কিতাবের বক্তব্যের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এতে থাকা ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতিসমূহ সংশোধন করেছি।
একইভাবে আমি কিতাবটির সকল অনুচ্ছেদ বিন্যস্ত করেছি, এর বাক্যসমূহ সুসংহত করেছি, অনুচ্ছেদগুলোতে ক্রমানুযায়ী নম্বর প্রদান করেছি এবং সেগুলোতে পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি।
সেই সাথে আমি আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং আয়াতের পাশেই তা সন্নিবেশ করেছি; হাদিস ও আসারসমূহের তাখরীজ করেছি এবং গ্রহণ ও বর্জনের নিরিখে সেগুলোর মান স্পষ্ট করেছি।
এছাড়াও আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টীকা যোগ করেছি, যার অধিকাংশই লেখকের অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত শাইখুল ইসলামের বক্তব্য থেকে নেওয়া, এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে কিছু উৎস উল্লেখ করেছি।
একইভাবে আমি এর জন্য আয়াত, হাদিস, আসার এবং বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি। আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ কাজে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন ইসলামকে বিজয় দান করেন, মুসলিমদের সীমান্তসমূহ হিফাজত করেন এবং আমাদের ধৈর্যশীল ও অবিচল অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
ইসমাইলিয়া, ১লা রজব ১৪২২ হিজরি
আবু মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসূদ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৯)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (آل عمران:200) .
{হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের মুকাবিলায় দৃঢ়তা অবলম্বন করো, সীমানা পাহারায় সদা প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} (আল ইমরান: ২০০) ।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১১)
صور المخطوطة
পাণ্ডুলিপির ছবিসমূহ
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
p13
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
p14
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "রাহমান আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা ত্বহা: ৫]। এটি কুরআনের সাতটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে: সূরা আল-আ’রাফ-এ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা আল-আ’রাফ: ৫৪]। তিনি সূরা ইউনুস-এ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা ইউনুস: ৩]। তিনি সূরা আর-রা’দ-এ বলেন: "আল্লাহই আসমানসমূহকে কোনো স্তম্ভ ছাড়াই উচ্চে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা আর-রা’দ: ২]। তিনি সূরা ত্বহা-তে বলেন: "রাহমান আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা ত্বহা: ৫]। তিনি সূরা আল-ফুরকান-এ বলেন: "তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন, তিনি পরম দয়াময়; সুতরাং তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত তাকে জিজ্ঞাসা করো।" [সূরা আল-ফুরকান: ৫৯]। তিনি সূরা আস-সাজদাহ-তে বলেন: "আল্লাহই আসমানসমূহ, জমিন ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা আস-সাজদাহ: ৪]। এবং তিনি সূরা আল-হাদীদ-এ বলেন: "তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা আল-হাদীদ: ৪]।।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে ইবলিস! আমি আমার দুই হাতে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" [সূরা সাদ: ৭৫]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর ইহুদিরা বলে: আল্লাহর হাত রুদ্ধ। তাদের হাতই রুদ্ধ হোক এবং তাদের উক্তির কারণে তারা অভিশপ্ত হোক; বরং আল্লাহর উভয় হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন।" [সূরা আল-মায়েদাহ: ৬৪]।।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর সবর করো তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়, কারণ তুমি আমার চোখের সামনেই আছো।" [সূরা আত-তূর: ৪৮]। এবং তাঁর বাণী: "যা আমার চোখের সামনে চলত, তার জন্য পুরস্কারস্বরূপ যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।" [সূরা আল-কামার: ১৪]। এবং তাঁর বাণী: "যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও।" [সূরা ত্বহা: ৩৯]।।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অবশ্যই আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল; আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন।" [সূরা আল-মুজাদালাহ: ১]। এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছিল: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী’।" [সূরা আলে-ইমরান: ১৮১]।।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন কথা ও গোপন পরামর্শ শুনি না? অবশ্যই শুনি, আর আমার প্রেরিত রসূলগণ (ফেরেশতারা) তাদের নিকটেই অবস্থান করে তা লিখে রাখে।" [সূরা আয-যুখরুফ: ৮০]। এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি।" [সূরা ত্বহা: ৪৬]।।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "সে কি জানে না যে আল্লাহ দেখেন?" [সূরা আল-আলাক: ১৪]। এবং তাঁর বাণী: "যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (সালাতে) দাড়াও এবং সাজদাকারীদের মধ্যে তোমার নড়াচড়া দেখেন।" [সূরা আশ-শুআরা: ২১৮-২১৯]। এবং তাঁর বাণী: "এবং বলো, তোমরা আমল করো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও।" [সূরা আত-তাওবাহ: ১০৫]।।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
النص المحقق للكتاب…مسألة في المرابطة بالثغور أفضل أم المجاورة بمكة شرفها لله تعالى
تأليف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية
المتوفى سنة 728هـ رحمه الله تعالى
تحقيق وتعليق: أبي محمد أشرف بن عبد المقصود
গ্রন্থের সম্পাদিত মূল পাঠ…সীমান্তে পাহারারত থাকা (রিবাত) অধিকতর উত্তম নাকি মক্কায় অবস্থান করা—যাকে আল্লাহ তাআলা সম্মানিত করেছেন—সেই বিষয়ক মাসআলা
রচনায়: শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়্যাহ
ওফাত: ৭২৮ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
সম্পাদনা ও টীকা: আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وهو حسبي ونعم الوكيل
مسألة المرابطة بالثغور أفضل أم المجاورة بمكة شرفها الله تعالى؟!
الجواب
اتفاق الأئمة والسلف على أفضلية المرابطة على المجاورة بالحرمين
1- الحمد لله، المرابطة في ثغور المسلمين – وهو المقام فيها بنية الجهاد – أفضل من المجاورة في الحرمين باتفاق أئمة المسلمين وأهل المذاهب الأربعة وغيرهم1.
من البدع تعظيم الأماكن بغير دليل شرعي
2- وليست هذه المسألة من المشكلات عند من يعرف دين الإسلام؛ ولكن لكثرة ظهور البدع في العبادات وفساد2
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
মাসআলা: সীমান্তে পাহারারত থাকা কি অধিক উত্তম, নাকি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্মানিত মক্কায় অবস্থান করা?
উত্তর
হারামাইন শরীফাইনে অবস্থানের চেয়ে সীমান্তে পাহারারত থাকার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে ইমামগণ ও পূর্বসূরিদের (সালাফ) ঐকমত্য।
১- সকল প্রশংসা আল্লাহর। মুসলিমদের সীমান্তে পাহারারত থাকা—যা জিহাদের নিয়তে সেখানে অবস্থান করা—হারামাইন শরীফাইনে অবস্থান করার চেয়ে অধিক উত্তম। এটি মুসলিমদের ইমামগণ, চার মাযহাবের ফকীহগণ এবং অন্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।১
শরয়ি দলীল ব্যতীত বিভিন্ন স্থানকে অতিমূল্যায়ন করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত
২- যারা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অবগত, তাদের নিকট এই বিষয়টি কোনো জটিল বিষয় নয়; কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদআতের প্রাদুর্ভাব এবং বিপর্যয়ের২ কারণে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
النيات في الأعمال الشرعيات صار يخفى مثل هذه المسألة على كثير من الناس حتى صاروا يعظمون الأماكن التي كان المسلمون يعظمونها لكونها ثغورا ظانين أن تعظيمها لأمور مبتدعة في دين الإسلام، فاستبدلوا بشريعة الإسلام بدعة ما أنزل الله بها من سلطان.
3- فإنه يوجد في كلام السلف وحكاياتهم في ذكر "غزة" و"عسقلان" و"الإسكندرية" و"جبل لبنان" و"مكة" و"قزوين"، ومن أمثال ذلك، ومن وجود الصالحين بها ما يوجب شرف هذه البقاع1.
فضل بعض الأماكن بكونه ثغرا لا لأجل خاصية ذلك المكان
4- وإنما كان ذلك؛ لكونها كانت ثغور المسلمين، فكانوا صالحوا المسلمين يتناوبونها، لأجل المرابطة بها لا لأجل الاعتزال عن الناس وسكنى "الغيران"2 و"الكهوف"، أو نحو ذلك مما
--------------------------------------------
শরয়ি আমলসমূহের নিয়ত বিষয়ক এই ধরনের মাসয়ালা অনেক মানুষের কাছে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এমনকি তারা সেই সব স্থানকে সম্মান করতে শুরু করেছে যেগুলোকে মুসলিমগণ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে সম্মান করতেন, অথচ তারা মনে করে যে এই সম্মান প্রদর্শন ইসলামি শরিয়তে কোনো নব উদ্ভাবিত বিষয়। ফলে তারা ইসলামের শরিয়তের বদলে এমন বিদাতকে গ্রহণ করেছে যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।
৩- পূর্বসূরিদের বক্তব্য ও তাদের বর্ণনাসমূহ যা "গাজা", "আসকালান", "আলেকজান্দ্রিয়া", "লেবানন পর্বত", "মক্কা" ও "কাজভিন" এবং এই জাতীয় স্থানগুলোর আলোচনায় পাওয়া যায়, এবং সেখানে পুণ্যবান ব্যক্তিদের অবস্থানের কারণে এই ভূখণ্ডগুলোর যে মর্যাদা সাব্যস্ত হয়েছে তা এই কারণেই।১
কিছু স্থানের ফজিলত তা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে, ওই স্থানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়।
৪- আর তা কেবল এজন্যই ছিল যে, সেগুলো ছিল মুসলিমদের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার স্থান, ফলে মুসলিমদের নেককার ব্যক্তিরা সেখানে পর্যায়ক্রমে অবস্থান করতেন পাহারাদারির উদ্দেশ্যে; লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে "গুহা"২ বা "গহ্বর" অথবা এই জাতীয় স্থানে বসবাসের জন্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يظنه الجهال أهل البدع والضلال1.
جبل لبنان وما جرى فيه
5- ثم إن من هذه البقاع ما غلب عليه العدو، أو سكنه أهل البدع والفساق؛ ففسد حال أهله، مثل ما جرى على "لبنان" ونحوه2.
--------------------------------------------
জাহেল, বিদআতী ও পথভ্রষ্টরা যা ধারণা করে১।
লেবানন পাহাড় এবং তাতে যা ঘটেছে
৫- অতঃপর, এই ভূখণ্ডসমূহের মধ্যে এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে শত্রু বিজয় লাভ করেছে অথবা বিদআতী ও ফাসেকরা বসবাস করেছে; ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের অবস্থা কলুষিত হয়েছে, যেমনটি ঘটেছে "লেবানন" ও অনুরূপ স্থানসমূহে২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২০)
كون المكان ثغرا مثل كونه دارا للإسلام
6- وكون1 المكان ثغرا هو مثل كونه دارا لإسلام ودارا لكفر2 مثل كون الرجل مؤمنا وكافرا، هو من الصفات التي تعرض وتزول:
7- فقد كانت "مكة" شرفها الله أم القرى قبل فتحها دار كفر وحرب تجب الهجرة منها ثم تغير هذا الحكم لما فتحت3.
حتى قال صلى الله عليه وسلم: "لا هجرة بعد الفتح ولكن جهاد ونية" 4.
8- وقد كان "البيت المقدس" بأيدي العدو تارة، وبأيدي المسلمين أخرى5.
--------------------------------------------
কোনো স্থান সীমান্ত হওয়ার বিষয়টি সেটি দারুল ইসলাম হওয়ার মতোই
৬- কোনো স্থান সীমান্ত হওয়া হলো সেটি দারুল ইসলাম বা দারুল কুফর হওয়ার মতো, যেমন কোনো ব্যক্তির মুমিন বা কাফির হওয়ার বিষয়টি; এটি এমন গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত যা প্রকাশ পায় এবং আবার দূর হয়ে যায়:
৭- আল্লাহ মক্কাকে সম্মানিত করুন—বিজয়ের পূর্বে 'উম্মুল কুরা' (মক্কা) দারুল কুফর ও দারুল হারব ছিল যেখান থেকে হিজরত করা ওয়াজিব ছিল। অতঃপর যখন এটি বিজিত হলো তখন এই বিধান পরিবর্তিত হয়ে গেল।
এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে।"
৮- বায়তুল মাকদিস কখনো শত্রুদের দখলে ছিল, আবার কখনো মুসলিমদের হাতে ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২১)
تعريف الثغور وحكم المرابطة بها
9- فالثغور هي: البلاد المتاخمة1 للعدو من المشركين وأهل الكتاب التي يخيف العدو أهلها ويخيف2 أهلها العدو والمرابطة بها أفضل من المجاورة بالحرمين باتفاق المسلمين.
10- كيف والمرابطة بها فرض على المسلمين إما على الأعيان3 وإما على الكفاية.
حكم المجاورة
11- وأما المجاورة فليست واجبة باتفاق المسلمين، بل العلماء متنازعون هل هي مستحبة أم مكروهة؟
12- فستحبها طائفتان4 من العلماء من أصحاب مالك والشافعي5، وكرهها آخرون كأبي حنيفة وغيره6.
أدلة من قال بالكراهة
--------------------------------------------
সীমান্তের সংজ্ঞা এবং সেখানে পাহারারত থাকার বিধান
৯- সীমান্ত হলো: মুশরিক ও আহলে কিতাব শত্রুদের সংলগ্ন ওই সকল ভূখণ্ড, যেখানকার অধিবাসীদেরকে শত্রু পক্ষ আতঙ্কিত করে এবং শত্রু পক্ষকে যেখানকার অধিবাসীরা আতঙ্কিত করে। আর মুসলিমদের ঐকমত্যে সেখানে পাহারারত থাকা (রিবাত) হারামাইন (মক্কা ও মদীনা)-এ অবস্থানের চেয়ে উত্তম।
১০- হবে না-ই বা কেন, অথচ সেখানে পাহারারত থাকা মুসলিমদের ওপর হয় ফরজে আইন অথবা ফরজে কিফায়া হিসেবে ফরজ।
হারামাইনে অবস্থানের বিধান
১১- পক্ষান্তরে (হারামাইনে) অবস্থান করা মুসলিমদের ঐকমত্যে ওয়াজিব নয়; বরং আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি মুস্তাহাব নাকি মাকরুহ?
১২- ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ীর অনুসারী আলেমদের দুটি দল এটিকে মুস্তাহাব বলেছেন, আর ইমাম আবু হানিফা ও অন্যান্যরা এটিকে মাকরুহ বলেছেন।
যারা মাকরুহ বলেছেন তাদের দলিলসমূহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২১)
أدلة من قال بكراهة المجاورة…13- قالوا: لأن المقام بها يفضي إلى الملك لها.
وأنه لا يأمن من مواقعة المحظور؛ فيتضاعف عليه العذاب. ولأنه يضيق على أهل البلد.
যারা (হারাম শরীফে) অবস্থান করাকে অপছন্দনীয় মনে করেন তাদের দলিলসমূহ...১৩- তারা বলেন: কারণ সেখানে বসবাস করা সেটির মালিকানা লাভের দিকে পরিচালিত করে।
আর এই কারণে যে, সেখানে অবস্থানকারী নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ নয়; ফলে তার ওপর শাস্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তদুপরি এটি সংশ্লিষ্ট শহরবাসীর ওপর সংকীর্ণতা তৈরি করে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২২)
14- قالوا: وكان عمر يقول عقب المواسم: "يا أهل الشام شامكم يا أهل اليمن يمنكم، يا أهل العراق [عراقكم] 1".
15- ولأن المقيم بها يفوته الحج التام والعمرة التامة؛ فإن العلماء متفقون على أنه إن أنشأ سفر العمرة من دويرة أهله كان هذا أفضل أنواع الحج والعمرة.
16- وهم متفقون على أنه أفضل من التمتع والقران والإفراد الذي يعتمر عقب الحج.
تصحيح خطأ في الاعتمار
17- وأما ما يضنه بعض الناس من أن الخروج بأهل مكة في رمضان أو في غيره إلى الجبل للاعتمار؛ وهو المراد بقوله صلى الله عليه وسلم: "عمرة في رمضان تعدل حجة معي" 2 حتى صار المجاورون وغيرهم يحافظون على الاعتمار من أدنى الحل أو أقصاه كاعتمارهم من التنعيم التي بها المساجد التي يقال لها "مساجد عائشة"، أو من "الحديبية" وعمرة "الجعرانة"؛ فكل ذلك غلط عظيم مخالف للسنة النبوية، ولإجماع الصحابة.
18- فإنه لم يعتمر النبي صلى الله عليه وسلم ولا أبو بكر ولا عمر ولا عثمان ولا علي ولا أمثالهم من مكة قط لا قبل الهجرة ولا بعدها.
--------------------------------------------
১৪- তাঁরা বলেন: উমর (রা.) হজের মৌসুম শেষে বলতেন: "হে সিরিয়াবাসী, তোমরা তোমাদের সিরিয়ায় ফিরে যাও; হে ইয়েমেনবাসী, তোমরা তোমাদের ইয়েমেনে ফিরে যাও; হে ইরাকবাসী, তোমরা তোমাদের [ইরাকে] ফিরে যাও ১।"
১৫- আর যেহেতু মক্কায় বসবাসকারী ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ হজ এবং পূর্ণাঙ্গ ওমরাহ থেকে বঞ্চিত হয়; তাই আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, কেউ যদি নিজের গৃহ থেকে ওমরাহর সফর শুরু করে, তবে তা হজ ও ওমরাহর সর্বোত্তম প্রকার হিসেবে গণ্য হবে।
১৬- এবং তাঁরা একমত যে, এটি তামাত্তু, কিরান এবং সেই ইফরাদ হজ অপেক্ষা উত্তম যার পরে ওমরাহ করা হয়।
ওমরাহর বিষয়ে একটি ভুল সংশোধন
১৭- আর কিছু মানুষ যা ধারণা করে যে, রমজান মাসে বা অন্য সময়ে মক্কাবাসীদের নিয়ে ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের (হারাম এলাকার বাইরের) দিকে বের হওয়া; এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: "রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ করার সমতুল্য" ২ দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য; যার ফলে মক্কায় অবস্থানকারী ও অন্যান্যরা হারামের নিকটতম বা দূরতম সীমানা থেকে ওমরাহ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে, যেমন তানঈম থেকে ওমরাহ করা যেখানকার মসজিদগুলোকে "আয়েশার মসজিদ" বলা হয়, অথবা "হুদায়বিয়া" ও "জিরানা" থেকে ওমরাহ করা—এসবই সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের ইজমার (ঐক্যমত্যের) পরিপন্থী এক বিশাল ভুল।
১৮- কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের কেউ কখনোই মক্কা থেকে ওমরাহ করেননি—হিজরতের পূর্বেও নয় এবং পরেও নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لم يعتمر أحد من المسلمين على عهد النبي صلى الله عليه وسلم من مكة إلا عائشة فقط
19- بل لم يعتمر أحد من المسلمين على عهد النبي صلى الله عليه وسلم من مكة إلا عائشة فقط، فإنها قدمت متمتعة؛ فحاضت، فمنعها الحيض من الطواف قبل الوقوف بعرفة، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم أن يعمرها بعد الحج1، ثم بعد ذلك بنيت هذه المساجد التي هناك، وقيل لها: "مساجد عائشة".
20- وأما "عمرة الحديبية": فإن النبي صلى الله عليه وسلم هل هو وأصحابه من "ذي الحليفة" ثم حلوا بـ"الحديبية" لما صدهم المشركون عن البيت فكانت "الحديبية" حلهم لا ميقات إحرامهم.
وهذا متواتر يعلمه عامة العلماء وخاصتهم، وفي ذلك أنزل الله: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ} 2 الآيات باتفاق العلماء3.
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মক্কা থেকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছাড়া মুসলমানদের মধ্যে আর কেউই উমরাহ করেননি।
১৯- বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মক্কা থেকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত মুসলমানদের কেউ উমরাহ করেননি। কারণ তিনি মুতামাত্তি' হিসেবে (উমরাহ ও হজ্জের নিয়তে) এসেছিলেন; এরপর তিনি ঋতুবতী হন। ফলে ঋতুস্রাব তাঁকে আরাফায় অবস্থানের আগে তওয়াফ করতে বাধা দেয়। তাই তিনি হজ্জের পর উমরাহ করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন ১, এরপর সেখানে এই মসজিদগুলো নির্মিত হয় এবং সেগুলোকে "আয়েশার মসজিদ" বলা হয়।
২০- আর "হুদায়বিয়ার উমরাহ"-এর কথা বললে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ "যুল হুলাইফা" থেকে ইহরাম বেঁধেছিলেন। অতঃপর যখন মুশরিকরা তাঁদেরকে বায়তুল্লাহর যিয়ারত থেকে বাধা প্রদান করল, তখন তাঁরা "হুদায়বিয়া"-তে ইহরাম ত্যাগ করেন। সুতরাং হুদায়বিয়া ছিল তাঁদের ইহরাম ত্যাগের স্থান, ইহরাম বাঁধার মীকাত নয়।
এটি মুতাওয়াতির (সুপ্রসিদ্ধ) যা সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল আলেমই জানেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ করো} ২ আলেমদের ঐকমত্যে এই আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
21- وأما "عمرة الجعرانة": فإن النبي صلى الله عليه وسلم لما قاتل هوازن بوادي حنين الذي قال الله فيها: {لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئاً وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْزَلَ جُنُوداً لَمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (التوبة:25-27) .
22- وحاصر "الطائف" ونصبت عليها بالمنجنيق، ولم يفتحها وقسم غنائم حنين بـ "الجعرانة" فلما قسمها دخل إلى مكة ثم خرج منها؛ لم يكن بمكة فخرج منها إلى الحل ليعتمر كما يفعل ذلك من يفعله من أهل "مكة".
23- بل الصحابة رضي الله عنهم وأئمة التابعين لم يستحبوا لمن كان بمكة ذلك، بل رأوا أن طوافه بالبيت أفضل من خروجه لأجل العمرة، بل كرهوا له ذلك كما قد بسطنا هذه المسألة في غير هذا الموضع1.
--------------------------------------------
২১- আর "জি'রানা উমরাহ"-এর ব্যাপারে কথা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হুনাইন উপত্যকায় হাওয়াযিন গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক যুদ্ধক্ষেত্রে এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তারপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে। তারপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর ও মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং এমন সেনাবাহিনী অবতীর্ণ করলেন যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং কাফিরদের শাস্তি দিলেন। আর এটিই হলো কাফিরদের প্রতিদান। এরপর আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা তাওবা কবুল করবেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (আত-তাওবাহ: ২৫-২৭)।
২২- এবং তিনি "তায়েফ" অবরোধ করেছিলেন এবং তার ওপর মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা জয় করতে পারেননি এবং "জি'রানা" নামক স্থানে হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করেছিলেন। এরপর যখন তিনি তা বণ্টন শেষ করলেন, তখন মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং এরপর সেখান থেকে বের হলেন; তিনি তখন মক্কার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সেখানে ছিলেন না, বরং তিনি উমরাহ করার উদ্দেশ্যে হারামের সীমানার বাইরে হালাল এলাকায় গমন করেছিলেন, যেমনটি মক্কাবাসীদের মধ্যে যারা উমরাহ করতে চায় তারা করে থাকে।
২৩- বরং সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাবিঈ ইমামগণ মক্কায় অবস্থানকারীদের জন্য এমনটি করা মুস্তাহাব মনে করতেন না। বরং তারা মনে করতেন যে উমরাহর উদ্দেশ্যে বাইরে যাওয়ার চেয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা অধিক উত্তম। এমনকি তারা তাদের জন্য এটি অপছন্দ করতেন, যেমনটি আমরা এই মাসআলাটি অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
استحباب الجمهور للمجاورة بشروط
24- والمقصود هنا: أن من العلماء من كره المجاورة بمكة، لما ذكر من الأسباب وغيرها لكن الجمهور يحبونها في الجملة إذا وقعت على الوجه المشروع الخالي عن المفسدة المكافئة للمصلحة أو الراجحة عليها.
الأدلة على استحباب المجاورة بمكة.
25- قال الإمام أحمد1، وقد سئل عن الجوار بمكة؟ فقال: وكيف لنا [به] 2، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنك لأحب البقاع إلى الله، وإنك لأحب إلي".
26- وجابر جاور مكة، وابن عمر كان يقيم بمكة3.
27- وقال أيضا:"ما أسهل العبادة بمكة، النظر إلى البيت عبادة"4.
--------------------------------------------
শর্তসাপেক্ষে মক্কায় অবস্থানের বিষয়ে জুমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত
২৪- এখানে উদ্দেশ্য হলো: কোনো কোনো আলেম উল্লিখিত কারণ ও অন্যান্য সংগত কারণে মক্কায় অবস্থান (মুজাওয়ারা) করাকে অপছন্দ করেছেন। তবে জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ সাধারণভাবে এটিকে পছন্দনীয় মনে করেন, যদি তা শরয়ি পদ্ধতি অনুযায়ী হয় এবং এমন কোনো ফাসাদ বা অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকে যা এর কল্যাণকে ছাপিয়ে যায় কিংবা কল্যাণের সমতুল্য হয়।
মক্কায় অবস্থানের মুস্তাহাব হওয়ার স্বপক্ষে দলিলসমূহ।
২৫- ইমাম আহমদ (১) বলেছেন—তাঁকে মক্কায় অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমাদের জন্য তা কীভাবে সম্ভব হবে [তা লাভ করা] (২), অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড এবং আমার নিকটও সবচেয়ে প্রিয়'।"
২৬- জাবির (রা.) মক্কায় অবস্থান করেছিলেন এবং ইবনে উমর (রা.) মক্কায় অবস্থান করতেন (৩)।
২৭- তিনি আরও বলেছেন: "মক্কায় ইবাদত করা কতই না সহজ, বায়তুল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকাও ইবাদত" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأدلة على استحباب المجاورة بمكة…28- واحتج هؤلاء بما رواه عبد الله بن عدي ابن حمراء الزهري أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول، وهو واقف بالحزورة
মক্কায় অবস্থানের মুস্তাহাব হওয়ার দলীলসমূহ...২৮- তারা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যা আবদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে হামরা আল-জুহরি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাজওয়ারা নামক স্থানে দণ্ডায়মান অবস্থায় বলতে শুনেছেন,
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
في سوق مكة: "والله إنك لخير أرض الله، وأحب أرض الله إلى الله، ولولا أني أخرجت منك ما خرجت" رواه الإمام أحمد وهذا لفظه، والنسائي، وابن ماجه، والترمذي، وقال:"حديث حسن صحيح"1.
29- ورواه أحمد من حديث أبي هريرة أيضا2.
ومن الأدلة على استحباب المجاورة
30- وعن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما أطيبك من بلد وأحبك إلي، ولولا أن قومي أخرجوني منك ما سكنت غيرك" رواه الترمذي، وقال: "حديث حسن صحيح غريب"3.
--------------------------------------------
মক্কার বাজারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না।" ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁরই শব্দচয়ন। এছাড়াও নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস"।
২৯- এবং ইমাম আহমাদ এটি আবু হুরাইরাহ এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন।
মক্কায় অবস্থানের (মুজাওয়ারাত) মুস্তাহাব হওয়ার দলিলসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম:
৩০- এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শহর হিসেবে তুমি কতই না চমৎকার এবং আমার নিকট কতই না প্রিয়! যদি আমার কওম আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তবে আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করতাম না।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "এটি একটি হাসান সহীহ গারীব হাদিস"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن الأدلة على استحباب المجاورة
31- قالوا: فإذا كانت أحب البلاد إلى الله ورسوله ولولا ما وجب عليه من الهجرة لما كان يسكن إلا إياها، علم أن المقام بها أفضل إذا لم يعارض ذلك مصلحة راجحة كما كان في حق النبي صلى الله عليه وسلم والمهاجرين؛ فإن مقامهم بالمدينة كان أفضل من مقامهم بمكة لأجل الهجرة والجهاد بل ذلك كان واجب عليهم، وكان مقامهم بمكة حراما حتى بعد الفتح، وإنما رخص للمهاجر أن يقيم فيها ثلاثا.
32- كما في "الصحيحين"1 عن العلاء بن الحضرمي أن النبي صلى الله عليه وسلم أرخص للمهاجر أن يقيم بمكة بعد قضاء نسكه ثلاثا.
33- وكان المهاجرون يكرهون أن يكونوا [مقيمين بدار، هاجروا منها وتركوها] 2؛ لكونهم هاجروا عنها، وتركوها لله.
--------------------------------------------
এবং পবিত্র স্থানসমূহের নিকট বসবাসের (মুজাওয়ারা) মুস্তাহাব হওয়ার দলিলসমূহের মধ্যে একটি হলো—
৩১- তারা বলেন: যদি এই শহরটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড না হতো এবং যদি হিজরতের বিধান তাঁর ওপর অবধারিত না হতো, তবে তিনি এটি (মক্কা) ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করতেন না। এ থেকে জানা যায় যে, সেখানে অবস্থান করা অধিক উত্তম যদি তার বিপরীতে অধিকতর কোনো কল্যাণ বা স্বার্থ বিদ্যমান না থাকে, যেমনটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মুহাজিরদের ক্ষেত্রে। কারণ হিজরত ও জিহাদের খাতিরে মদীনায় তাদের অবস্থান মক্কায় অবস্থানের চেয়ে উত্তম ছিল, বরং সেটি তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এমনকি মক্কা বিজয়ের পরেও সেখানে অবস্থান করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল; মুহাজিরদের জন্য হজ-ওমরার কার্যাদি সম্পন্ন করার পর সেখানে কেবল তিন দিন অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
৩২- যেমনটি "সহীহাইন"-এ আলা ইবনে আল-হাদরামি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাজিরদেরকে তাদের হজের কার্যাদি শেষ করার পর মক্কায় তিন দিন অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন।
৩৩- আর মুহাজিরগণ সেই ঘরে [বসবাস করা যা থেকে তারা হিজরত করেছেন এবং যা তারা বর্জন করেছেন] অপছন্দ করতেন; কারণ তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা ত্যাগ করে হিজরত করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
34- حتى قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق عليه1؛ لما عاد سعد بن أبي وقاص، وكان قد مرض بمكة في حجة الوداع فقال يا رسول [الله] 2 أخلف عن هجرتي؟
فقال: "لعلك أن تخلف حتى ينتفع بك أقوام، ويضر بك آخرون، اللهم أمض لأصحابي هجرتهم، ولا تردهم على أعقابهم، لكن البائس سعد بن خولة"، يرثي له رسول الله صلى الله عليه وسلم أن مات بمكة.
35- ولهذا لما مات عبد الله بن عمر بمكة أوصى أن لا يدفن في الحرم3 بل يخرج إلى الحل لأجل ذلك لكنه كان يوما شديد الحر فخالفوا وصيته4 وكان قد توفي عام قدم الحجاج فحاضر ابن الزبير وقتله لما كان للناظرين من الفتنة بينه وبين عبد الملك بن مروان.
--------------------------------------------
৩৪- এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীসে বলেছেন ১; যখন তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে দেখতে গেলেন, আর তিনি বিদায় হজের সময় মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার হিজরত থেকে পেছনে রয়ে যাব?
তিনি বললেন: "সম্ভবত তুমি পেছনে থেকে যাবে যাতে তোমার মাধ্যমে কোনো কোনো সম্প্রদায় উপকৃত হয় এবং অন্য কোনো সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হে আল্লাহ! আপনি আপনার সাহাবীদের হিজরত পূর্ণ করে দিন এবং তাদেরকে পেছনে ফিরিয়ে দেবেন না। কিন্তু দুর্ভাগা হলো সাদ বিন খাওলাহ", রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করেছিলেন কারণ তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
৩৫- আর এ কারণেই আবদুল্লাহ বিন ওমর যখন মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁকে হারামের সীমানার ভেতর দাফন না করা হয় ৩ বরং এ উদ্দেশ্যে যেন হারামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দিনটি ছিল প্রচণ্ড গরমের, ফলে তাঁরা তাঁর অসিয়তের বিপরীতে কাজ করলেন ৪। তিনি সেই বছর ইন্তেকাল করেন যে বছর হাজ্জাজ এসেছিলেন এবং ইবনুল জুবায়েরকে অবরোধ করেছিলেন ও হত্যা করেছিলেন, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট তাঁর এবং আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের মধ্যকার ফিতনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن الأدلة على استحباب المجاورة
36- قالوا: ولأن في المجاورة بها من تحصيل العبادات وتضعيفها ما لا يكون في بلد آخر؛ فإن الطواف بالبيت لا يمكن إلا بمكة وهو من أفضل الأعمال، ولآن الصلاة بها تضاعف هي وغيرها من الأعمال.
37- وقد قال تعالى: {وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ} (الحج: من الآية26) .
38- روي: "أنه ينزل على البيت في كل يوم مائة وعشرون رحمة ستون للطائفين وأربعون للمصلين [وعشرون للناظرين] "1.
39- ولهذا قال العلماء: إن الصلاة بمكة أفضل من الصلاة بالثغر مع قولهم: إن المرابطة بالثغر أفضل وتضاعف السيئات فيه وإذا كان المكان دواعي الخير فيه أقوى، ودواعي الشر فيه أضعف كان المقام فيه [أفضل] 2 مما ليس كذلك.
--------------------------------------------
এবং মক্কায় অবস্থানের (মাজাওয়ারাহ্) মুস্তাহাব হওয়ার দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে
৩৬- তাঁরা বলেছেন: কারণ সেখানে অবস্থানের মাধ্যমে ইবাদত অর্জন ও তা বহু গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার এমন সুযোগ রয়েছে যা অন্য কোনো শহরে নেই; কেননা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ মক্কা ব্যতীত অন্য কোথাও সম্ভব নয় এবং এটি সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি সেখানে সালাত এবং অন্যান্য আমলসমূহ বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।
৩৭- আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আমার ঘরকে পবিত্র করো তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে, যারা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে এবং যারা রুকু ও সিজদাহ করে।" (আল-হজ: ২৬ নং আয়াতের অংশবিশেষ)।
৩৮- বর্ণিত হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই প্রতিদিন বায়তুল্লাহর ওপর একশ বিশটি রহমত নাজিল হয়; ষাটটি তাওয়াফকারীদের জন্য, চল্লিশটি সালাত আদায়কারীদের জন্য [এবং বিশটি দর্শকদের জন্য]।"১
৩৯- এ কারণেই উলামায়ে কিরাম বলেছেন: মক্কায় সালাত আদায় করা সীমান্ত এলাকায় সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম, যদিও তাঁরা বলেন যে সীমান্তে পাহারা দেওয়া (রিবাত) অধিক ফযিলতপূর্ণ এবং সেখানে গুনাহও বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। আর কোনো স্থানে যখন কল্যাণের উদ্দীপকসমূহ অধিক শক্তিশালী হয় এবং মন্দের উদ্দীপকসমূহ দুর্বল হয়, তখন সেখানে অবস্থান করা অন্য স্থানের তুলনায় [অধিক উত্তম] হয়।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
40- ولا نزاع بين المسلمين في أنه يشرع قصدها لأجل العبادات المشروعة فيها وإن ذلك واجب أو مستحب.
41- وأما النزاع في المجاورة؛ فلما فيه من تعارض للمصلحة والمفسدة كما تقدم1.
42- وحينئذ فمن كانت مجاورته فيما يكثر حسناته ويقل سيئاته فمجاورته فيها أفضل من بلد لا يكون حاله فيه كذلك.
أفضل البلد في حق كل شخص
فأفضل البلاد في حق كل شخص: حيث كان أبر وأتقى، وإن أكرم الخلق عند الله أتقاهم.
43- ولهذا لما كتب أبو الدرداء إلى سلمان الفارسي، وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد آخا بينهما، وكان أبو الدرداء بالشام وسلمان بالعراق فكتب إليه أبو الدرداء: "أن هلم إلى الأرض المقدسة" فكتب إليه سلمان: "إن الأرض لا تقدس أحدا؛ وإنما يقدس الرجل عمله الصالح2".
--------------------------------------------
৪০- মুসলমানদের মধ্যে এতে কোনো মতভেদ নেই যে, সেখানে অনুমোদিত ইবাদত-বন্দেগির উদ্দেশ্যে গমনের সংকল্প করা শরিয়তসম্মত এবং এটি ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাব।
৪১- আর সেখানে বসবাসের (মুজাওয়ারা) ব্যাপারে যে মতভেদ রয়েছে, তা মূলত এর মধ্যকার কল্যাণ ও অকল্যাণের পারস্পরিক সংঘাতের কারণে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে১।
৪২- এমতাবস্থায় যার বসবাস সেখানে তার নেক আমল বৃদ্ধি এবং পাপাচার হ্রাস পাওয়ার কারণ হয়, তার জন্য সেখানে অবস্থান করা এমন কোনো শহর অপেক্ষা উত্তম হবে যেখানে তার অবস্থা এরূপ হয় না।
প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শহর
প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই শহরই সর্বোত্তম যেখানে সে অধিক পুণ্যবান ও মুত্তাকি হতে পারে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সৃষ্টিজীবের মধ্যে সেই সর্বাধিক সম্মানিত যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।
৪৩- এ কারণেই যখন আবু দারদা সালমান ফারসির নিকট পত্র লিখলেন—অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন, আর তখন আবু দারদা সিরিয়ায় এবং সালমান ইরাকে অবস্থান করছিলেন—আবু দারদা তাঁকে লিখেছিলেন: "পবিত্র ভূমির দিকে চলে আসুন।" তখন সালমান তাঁকে লিখে পাঠালেন: "নিশ্চয়ই কোনো ভূমি কাউকে পবিত্র করে দেয় না; বরং মানুষকে তার সৎকর্মই পবিত্র করে২।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
44- ومقصوده بذلك: أنه قد يكون بالأرض المفضولة من يكون عمله صالحا أو أصلح بما يحبه الله ورسوله1.
--------------------------------------------
৪৪- এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাপূর্ণ ভূমিতে এমন ব্যক্তি থাকতে পারে যার আমল সৎ অথবা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন সে অনুযায়ী অধিকতর উত্তম।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأدلة على أن جنس المرابطة أفضل من جنس المجاورةوهذا مما يبين أن جنس المرابطة أفضل من جنس المجاورة بالحرمين كما اتفق عليه الأئمة.
45- فإذا كانت نية العبد في هذا خالصة، ونيته في هذا خالصة ولم يكن ثمة عمل مفضل، يفضل به أحدهما، فالمرابطة أفضل؛ فإنها من جنس الجهاد، وتلك من جنس الحج وجنس الجهاد أفضل من جنس الحج2.
46- ولهذا قال أبو هريرة: "لأن أرابط ليلة في سبيل الله أحب إلي من أن أقوم ليلة القدر عند الحجر الأسود"3.
--------------------------------------------
সীমান্ত পাহারা দেওয়ার বিষয়টি (হারামাইনে) অবস্থানের বিষয়ের চেয়ে উত্তম হওয়ার দলীলসমূহএটি এমন একটি বিষয় যা স্পষ্ট করে যে, সীমান্ত পাহারা দেওয়ার বিষয়টি দুই হারামে অবস্থানের চেয়ে উত্তম, যেমনটি ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
৪৫- সুতরাং যদি এই কাজেও বান্দার নিয়ত বিশুদ্ধ হয় এবং ওই কাজেও নিয়ত বিশুদ্ধ হয় এবং সেখানে অন্য কোনো শ্রেষ্ঠ আমল না থাকে যার কারণে একটি অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পায়, তবে সীমান্ত পাহারা দেওয়াই শ্রেষ্ঠ; কেননা তা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত, আর অন্যটি হজ্জের অন্তর্ভুক্ত। আর জিহাদের বিষয়টি হজ্জের বিষয়ের চেয়ে উত্তম।
৪৬- এই কারণেই আবু হুরায়রা বলেছেন: "আল্লাহর পথে এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া আমার নিকট হাজরে আসওয়াদের পাশে লাইলাতুল কদরে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়েও অধিক প্রিয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
47- وفي لفظ رواه سعيد بن منصور في "سننه" عن عطاء الخراساني عن أبي هريرة قال: "رباط يوم في سبيل الله أحب إلي من أقوم ليلة القدر في أحد المسجدين – مسجد الحرام ومسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن رابط أربعين يوما في سبيل الله فقد استكمل الرباط"1.
48- وقد قال تعالى: {أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُقِيمٌ} (التوبة:19-21) .
49- وفي "صحيح مسلم"2 عن النعمان قال: كنت عند منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال رجل: لا أبالي ألا أعمل عملا بعد الإسلام إلا أن أسقي الحاج. وقال آخر: إلا أن أعمر المسجد الحرام. وقال آخر: الجهاد في سبيل الله أفضل مما
--------------------------------------------
47- অন্য এক বর্ণনায়, যা সাঈদ বিন মানসুর তাঁর "সুনান"-এ আতা আল-খুরাসানি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর পথে একদিনের পাহারাদারি আমার কাছে দুই মসজিদের কোনো একটিতে—মসজিদুল হারাম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে—লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান হওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে চল্লিশ দিন পাহারাদারি করল, সে পাহারাদারির পূর্ণ সওয়াব লাভ করল।"১
48- আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমতুল্য গণ্য করেছ, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? আল্লাহর কাছে তারা সমান নয়। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা অত্যন্ত বড় এবং তারাই সফলকাম। তাদের রব তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে দয়া, সন্তুষ্টি এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী নিয়ামত।} (আত-তাওবাহ: ১৯-২১)।
49- এবং "সহীহ মুসলিম"২-এ নুমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বরের কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলল: ইসলাম গ্রহণের পর হাজীদের পানি পান করানো ছাড়া অন্য কোনো আমল না করলে আমি পরোয়া করি না। অন্যজন বলল: বরং মসজিদুল হারাম আবাদ করা (সর্বোত্তম কাজ)। অপর একজন বলল: আল্লাহর পথে জিহাদ করা এর চেয়েও উত্তম যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাহ ফিল মুরাবাতাহ বিস-সুগুরি আফদালু আমিল মুজাওয়ারাহ বি-মাক্কাতা শাররাফাহাল্লাহু তায়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قلتم فزجرهم عمر بن الخطاب، وقال: لا ترفعوا أصواتكم عند منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو يوم الجمعة، ولكن إذا صليت الجمعة دخلت فاستفتيته فيما اختلفتم فيه فأنزل الله {أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} الآية (التوبة:19) .
50- وعن عثمان بن عفان قال، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " [رباط] 1 يوم في سبيل الله خير من ألف يوم فيما سواه".
رواه الإمام أحمد، والنسائي وهذا لفظه، والترمذي وقال: "حديث حسن غريب من هذا الوجه"، وأبو حاتم بن حبان البستي في "صحيحه"2.
51- ولفظ الإمام أحمد3: عن أبي صالح مولى عثمان بن عفان قال سمعت عثمان يقول على المنبر: أيها الناس! إني كتمتكم حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم، كراهية تفرقكم
--------------------------------------------
তোমরা বললে, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব তাদের ধমক দিলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বরের কাছে তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করো না, আর আজ জুমার দিন। তবে যখন আমি জুমার নামাজ আদায় করব, তখন আমি ভেতরে গিয়ে তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ সে সম্পর্কে তাঁর কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করব। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {তোমরা কি হাজিদের পানি পান করানো এবং মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমান গণ্য করেছ যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে?} - আয়াত (আত-তাওবা: ১৯)।
৫০- এবং উসমান ইবনে আফফান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর পথে একদিন [সীমান্ত পাহারা দেওয়া] অন্য যেকোনো স্থানের এক হাজার দিন অপেক্ষা উত্তম।"
এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ও নাসায়ি এবং এটি তাঁর শব্দ চয়ন, এবং তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই সূত্রে এটি একটি হাসান গরিব হাদিস", এবং আবু হাতেম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি তাঁর "সহিহ"-তে এটি বর্ণনা করেছেন।
৫১- ইমাম আহমাদের শব্দ চয়ন হলো: উসমান ইবনে আফফানের মুক্ত দাস আবু সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উসমানকে মিম্বরের উপরে বলতে শুনেছি: হে লোকসকল! আমি তোমাদের কাছে একটি হাদিস গোপন রেখেছিলাম যা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তোমাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায়।
--------------------------------------------