(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: -)
مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة   (المحلي، حسين بن محمد)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة

المؤلف: حسين بن محمد المحلي الشافعي المصري (ت 1170هـ)

المحقق: عبد الكريم بن صنيتان العمري

الناشر: -

الطبعة: -

عدد الصفحات: 331

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাজিদুন নি’মাহ লি-জাম’ই আকওয়ালিল আইম্মাহ   (আল-মাহাল্লি, হুসাইন বিন মুহাম্মাদ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: মাজিদুন নি’মাহ লি-জাম’ই আকওয়ালিল আইম্মাহ

লেখক: হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-মাহাল্লি আশ-শাফি’ঈ আল-মিসরি (মৃত্যু ১১৭০ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: আব্দুল কারিম বিন সানিতান আল-উমারি

প্রকাশক: -

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌القسم الدراسي

‌‌دراسة حياة المصنف

…

مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة

تأليف: حسين بن محمد المحلي الشافعي

القسم الدراسي

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمدا عبده ورسوله، أرسله الله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره الكافرون، صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

فبين أيدينا أحد المختصرات الفقهية، جمع فيه مصنفه أهم مسائل الفقه الخاصة بالعبادات، وقارن بين تلك المسائل بذكر أقوال الأئمة أصحاب المذاهب الأربعة المشهورة، فأحببت أن أسهم بهذا الجهد المتواضع لإخراج هذا الكتاب للقارئ الكريم.

أسأل الله تعالى أن يكون عملي خالصا لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
অ্যাকাডেমিক অধ্যায়

‌‌গ্রন্থকারের জীবনী পর্যালোচনা

…

মাজিদুন নি'মাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ

রচনা: হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-মাহাল্লি আল-শাফিয়ি

অ্যাকাডেমিক অধ্যায়

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।

অতঃপর:

আমাদের সম্মুখে ফিকহশাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ বিদ্যমান, যেখানে গ্রন্থকার ইবাদত সংক্রান্ত ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলো একত্রিত করেছেন এবং প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমামগণের মতামত উল্লেখ করে সেই মাসআলাগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন। তাই আমি এই গ্রন্থটি সম্মানিত পাঠকের সামনে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই নগণ্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবদান রাখতে আগ্রহী হলাম।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমার এই কাজ কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে সক্ষম। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
أولا: دراسة حياة المصنف

أولا: مصادر ترجمته:

وردت ترجمة المصنف في المصادر الآتية:

*عجائب الآثار في التراجم والأخبار (1/219-220)

*الخطط التوفيقية الجديدة (15/30)

*إيضاح المكنون في الذيل على كشف الظنون (1/108، 163) (2/354، 357، 365، 571، 643) .

*هدية العارفين أسماء المؤلفين وآثار المصنفين (1/326) .

*معجم المطبوعات العربية (1624-1625) .

*الأعلام (2/257) .

*معجم المؤلفين (4/57) .
প্রথমত: গ্রন্থকারের জীবন-বৃত্তান্ত অধ্যয়ন

প্রথমত: তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

গ্রন্থকারের জীবনী নিম্নোক্ত উৎসসমূহে বর্ণিত হয়েছে:

*আজাইবুল আসার ফিত তারাজিম ওয়াল আখবার (১/২১৯-২২০)

*আল-খিতাতুত তাওফিকিয়্যাহ আল-জাদিদাহ (১৫/৩০)

*ইজাহুল মাকনুন ফিজ জাইল আলা কাশফিজ জুনুন (১/১০৮, ১৬৩) (২/৩৫৪, ৩৫৭, ৩৬৫, ৫৭১, ৬৪৩)।

*হাদিয়্যাতুল আরিফিন আসমাউল মুয়াল্লিফিন ওয়া আসারুল মুসান্নিফিন (১/৩২৬)।

*মুজামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়্যাহ (১৬২৪-১৬২৫)।

*আল-আ’লাম (২/২৫৭)।

*মুজামুল মুয়াল্লিফিন (৪/৫৭)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ثانيا: اسمه ونسبه:

هو: حسين بن محمد المحلي الشافعي.

فحسين اسمه، وهو ما اتفقت عليه جل المصادر (1) ، إلا أنه قد ورد في بعضها أن اسمه (الحسين) بزيادة أداة التعريف (2) .

ومحمد اسم والده.

والمحلّي: نسبة إلى مكان ولادته، حيث ولد في مدينة (المحلة الكبرى) وهي إحدى مدن مصر الكبيرة، وتشتهر بصناعة الأقمشة والمنسوجات القطنية (3) .

وتقع هذه المدينة على طريق القاهرة ـ الإسكندرية ـ الزراعي، ويبعد عن القاهرة حوالي مائة وعشرين كيلا إلى الشمال منها.

والشافعي: نسبة إلى الإمام محمد بن إدريس الشافعي، صاحب المذهب المعروف، والذي تنسب إليه الشافعية كافة.

والمصنف واحد منهم، وقد ذكر ذلك من خلال تدوينه لكتابه هذا، حيث قال في (باب الأواني) من (كتاب الطهارة) في حكم اتخاذ أواني الذهب والفضة، قال: وهو الأصح من مذهب إمامنا الشافعي (4) ، وأورد مثل هذا في أثناء الكتاب كثيرا.

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (1/219) ، الخطط التوفيقية (15/30) ، معجم المطبوعات (1624) ، الأعلام (2/257) .

(2) هدية العارفين (1/326) ، معجم المؤلفين (4/57) .

(4) انظر صفحة 39 من هذا الكتاب.
দ্বিতীয়: তাঁর নাম ও বংশপরিচয় (نسبة):

তিনি হলেন: হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মাহাল্লি আশ-শাফিয়ি।

হুসাইন হলো তাঁর নাম, যার ওপর অধিকাংশ উৎসগ্রন্থ (১) একমত হয়েছে; তবে কোনো কোনোটিতে তাঁর নাম ‘আল-হুসাইন’ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যেখানে পদাশ্রিত নির্দেশক (أداة التعريف) যুক্ত করা হয়েছে (২)।

মুহাম্মদ হলো তাঁর পিতার নাম।

‘আল-মাহাল্লি’: এটি তাঁর জন্মস্থানের প্রতি নিসবত (نسبة), যেহেতু তিনি ‘আল-মাহাল্লা আল-কুবরা’ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। এটি মিসরের অন্যতম বৃহৎ শহর এবং কাপড় ও সুতিবস্ত্র শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ (৩)।

এই শহরটি কায়রো-আলেকজান্দ্রিয়া কৃষি সড়কের ওপর অবস্থিত এবং কায়রো থেকে উত্তর দিকে প্রায় একশ বিশ কিলোমিটার দূরে।

‘আশ-শাফিয়ি’: এটি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিয়ি-এর প্রতি নিসবত (نسبة), যিনি সুপ্রসিদ্ধ মাযহাব (مذهب)-এর ইমাম এবং যাঁর দিকে সকল শাফিয়ি মতাবলম্বীরা নিজেদের সম্বন্ধিত করেন।

গ্রন্থকার (المصنف) তাঁদেরই একজন। তিনি স্বীয় কিতাব রচনার সময় এটি উল্লেখ করেছেন; যেমন তিনি ‘পবিত্রতা অধ্যায়’-এর ‘পাত্র পরিচ্ছেদ’-এ সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহারের বিধান সম্পর্কে বলেছেন: “এটিই আমাদের ইমাম আশ-শাফিয়ি-এর মাযহাব (مذهب)-এর অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত” (৪)। তিনি কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এ জাতীয় বহু বক্তব্য পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আজাইবুল আসার (১/২১৯), আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ (১৫/৩০), মুজামুল মাতবুআত (১৬২৪), আল-আলাম (২/২৫৭)।

(২) হাদিয়াতুল আরিফিন (১/৩২৬), মুজামুল মুয়াল্লিফিন (৪/৫৭)।

(৪) এই কিতাবের ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ثالثا: ولادته:

لقد خلت جميع المصادر التي ترجمت له من ذكر تاريخ ولادته، وإنما ذكر بعضها مكان ولادته فقط (1) وهو (المحلة الكبرى) إحدى مدن مصر كما تقدم ذلك قبل قليل.

رابعا: شيوخه وتلاميذه:

لم تشر أي من المصادر التي ترجمت للمصنف إلى ذكر أحد من شيوخه، وقد قمت بعملية استقراء وتتبع لتراجم العلماء المشهورين في القرن الحادي عشر ممن هم مظنة لبث العلم ونشره عسى أن أجد من أشار إليه، أو ذكر أنه تتلمذ عليه، ولكنني لم أعثر على شيء من ذلك لا من قريب ولا من بعيد.

أما تلاميذه، فقد ذكر الجبرتي في كتابه عجائب الآثار (2) أن كثيرا من معاصرية قد تتلمذوا عليه، فقال:

تلقى عنه كثير من أشياخ العصر …

إلا أنه من خلال تتبعي لتراجم من عاصروه، ومن كانت وفاتهم بعده، لم أجد له تلميذا واحدا، سوى من ذكره الجبرتي، حيث أشار إلى أحد تلاميذه وهو: الشيخ محمد الشافعي الجناحي المالكي (3) ولم أقف على ترجمة له فيما اطلعت عليه من مصادر.

والذي يظهر لي ـ والله أعلم ـ أن إقبال طلاب العلم عليه لم يكن جيدا، وذلك إذا عرفنا أن المصنف ـ رحمه الله تعالى ـ كان شحيحا في بذل العلم وإيصاله إلى الآخرين، من خلال عدم سماحه لأحد بالإطلاع على مصنفاته وكتاباته، وعدم تعليمه لأحد جاء يسأله عن مسألة علمية إلا بعد مساومة حادة معه، ودفع الأموال مقابل ذلك.

--------------------------------------------

(1) الخطط التوفيقية (15/30) .

(2) عجائب الآثار (1/219)

(3) المصدر السابق (1/220)
তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম:

তাঁর জীবনী (ترجمة) লিপিবদ্ধকারী সকল উৎস তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছে, তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল তাঁর জন্মস্থানের উল্লেখ করেছেন (১), যা হলো ‘আল-মাহাল্লা আল-কুবরা’, মিসরের অন্যতম একটি শহর, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ (شيوخ) ও ছাত্রবৃন্দ (تلاميذ):

গ্রন্থকারের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছে এমন কোনো উৎসই তাঁর কোনো শিক্ষকের (شيخ) কথা উল্লেখ করেনি। আমি একাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেমদের জীবনীগ্রন্থের (تراجم) ওপর একটি আরোহী অনুসন্ধান (استقراء) ও পর্যালোচনা চালিয়েছি, যাদের জ্ঞান দান ও প্রসারের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, এই আশায় যে—হয়তো এমন কাউকে পাওয়া যাবে যিনি তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন অথবা উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আমি নিকট বা দূরবর্তী কোনো সূত্রেই এ সংক্রান্ত কোনো কিছুর সন্ধান পাইনি।

পক্ষান্তরে তাঁর ছাত্রবৃন্দের (تلاميذ) ব্যাপারে আল-জাবারতি তাঁর আজাইব আল-আসার (২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সমসাময়িকদের অনেকেই তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন:

“তৎকালীন যুগের অনেক শিক্ষক (أشياخ) তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন …”

তবে আমি তাঁর সমসাময়িক এবং যারা তাঁর পরে মৃত্যুবরণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم) অনুসন্ধানের মাধ্যমে আল-জাবারতির উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত তাঁর আর কোনো ছাত্রের (تلميذ) সন্ধান পাইনি। জাবারতি তাঁর যে ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন: শেখ মুহাম্মদ আল-শাফিঈ আল-জানাহি আল-মালিকি (৩)। আমি যেসকল উৎস অধ্যয়ন করেছি তাতে তাঁর কোনো জীবনী (ترجمة) পাইনি।

আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—জ্ঞানান্বেষীদের তাঁর প্রতি আগ্রহ খুব একটা ভালো ছিল না। এর কারণ স্পষ্ট হয় যখন আমরা জানতে পারি যে, গ্রন্থকার—রহিমাহুল্লাহ তায়ালা—অন্যদের নিকট জ্ঞান বিলিয়ে দিতে এবং তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কুণ্ঠিত ছিলেন। তিনি কাউকে তাঁর সংকলন ও লেখনিগুলো দেখার অনুমতি দিতেন না এবং তাঁর কাছে কোনো ইলমি মাসআলা নিয়ে আসা ব্যক্তিকে কঠোর দর কষাকষি এবং এর বিনিময়ে অর্থ প্রদান ব্যতীত শিক্ষা দিতেন না।

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ (১৫/৩০)।

(২) আজাইব আল-আসার (১/২১৯)

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (১/২২০)
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
يقول الجبرتي عن سيرة المصنف (1) :

وكان يكتب تآليف بخطه، ويبيعها لمن يرغب فيها، ويأخذ من الطالبين أجرة على تعليمهم، فإذا جاء من يريد التعلم، وطلب أن يقرأ عليه الكتاب الفلاني، تعزز عليه، وتمنّع، ويساومه على ذلك بعد جهد عظيم، ويقول: أنا لا أبذل العلم رخيصا.

فلعل صفة البخل هذه في بذل العلم التي كان يتصف بها المصنف ـ رحمه الله تعالى ـ هي السبب في نفور طلبة العلم عنه، وعدم إقبالهم عليه، والتصاقهم به، وملازمتهم له، كما هو دأب طلبة العلم مع شيوخهم.

خامسا: شخصيته العلمية:

لقد أثنى المترجمون على المصنف، وأبرزوا مكانته العلمية، وأشاروا إلى أنه كان واحدا من العلماء المرموقين البارزين، وخاصة في علوم الفقه والأصول والفرائض والحساب.

فقالوا عنه (2) : الإمام العلامة، الفريد الفقيه، الفرضي الحيسوبي، … كان وحيد دهره، وفريد عصره، فقها وأصولا، ومعقولا، جيد الاستحضار والحفظ للفروع الفقهية، وأما علم الحساب الهوائي، والغباري، والفرائض، وشباك ابن الهائم، والجبر والمقابلة، والمساحة، وحل الأعداد، فكان بحرا لا تشبهه البحار، ولا يدرك له قرار.

سادسا: مصنفاته:

يعتبر المحلي واحدا من المشتغلين في التأليف والمكثرين من التصنيف، وخاصة فيما يتعلق بعلم الفرائض والحساب، من خلال تتبعي لفهارس المكتبات والمخطوطات بحثا عن مؤلفاته، تبين لي أن معظم مؤلفاته موجودة محفوظة، وسأذكر فيما يلي أسماء مصنفاته، ونبذة موجزة عن كل منها، مع الإشارة إلى المطبوع منها والمخطوط، وإليك بيانها مرتبة على الحروف:

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (1/219) .

(2) عجائب الآثار (1/219) ، معجم المطبوعات (1624-1625) .
আল-জাবর্তি গ্রন্থকারের জীবনী (১) সম্পর্কে বলেন:

তিনি স্বহস্তে পাণ্ডুলিপি লিখতেন এবং যারা সেগুলো গ্রহণে আগ্রহী ছিল তাদের নিকট বিক্রি করতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে পাঠদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন। যখন কোনো শিক্ষার্থী তাঁর কাছে শিখতে আসত এবং অমুক কিতাবটি পাঠের আবদার করত, তিনি তার সাথে দম্ভ প্রকাশ করতেন এবং অসম্মতি জানাতেন। অনেক চেষ্টার পর তিনি তার সাথে দরদাম করতেন এবং বলতেন: "আমি ইলম সস্তায় বিলিয়ে দিই না।"

সম্ভবত ইলম বিতরণে কার্পণ্যের এই স্বভাব—যার মাধ্যমে গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বিশেষিত ছিলেন—তা-ই শিক্ষার্থীদের তাঁর থেকে বিমুখ হওয়া এবং তাঁর প্রতি আগ্রহী না হওয়া, তাঁর সাথে সম্পৃক্ত না থাকা ও তাঁর সান্নিধ্যে না থাকার কারণ ছিল; যেমনটি উস্তাদদের সাথে তালিবে ইলমদের চিরাচরিত স্বভাব হয়ে থাকে।

পঞ্চম: তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্ব:

জীবনীকারগণ গ্রন্থকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ইলমি মর্যাদাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁরা ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি ছিলেন একজন বরেণ্য ও বিশিষ্ট আলেম, বিশেষ করে ফিকহ, মূলনীতি (أصول), উত্তরাধিকার বিজ্ঞান (فرائض) এবং গণিতশাস্ত্রে।

তাঁরা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন (২): তিনি ছিলেন ইমাম, আল্লামা, অনন্য ফকিহ বা ফিকহবিদ (فقيه), উত্তরাধিকার বিজ্ঞান (فرائض) ও গণিতশাস্ত্রে পারদর্শী, … তিনি তাঁর জামানায় অদ্বিতীয় এবং নিজ যুগে অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন; ফিকহ, মূলনীতি (أصول) এবং যুক্তিভিত্তিক (معقول) শাস্ত্রে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফিকহি শাখা বিধানের (فروع) উপস্থাপন ও মুখস্থের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। আর মানসিক গণিত, ধূলি গণিত, উত্তরাধিকার বিজ্ঞান (فرائض), ইবনুল হাইয়্যামের ছক পদ্ধতি, বীজগণিত, ভূমি পরিমাপ পদ্ধতি এবং সংখ্যাতত্ত্বের বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন এমন এক বিশাল সমুদ্র যার সাথে অন্য কোনো সমুদ্রের তুলনা হয় না এবং যার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না।

ষষ্ঠ: তাঁর রচনাবলি:

আল-মাহাল্লিকে গ্রন্থ রচনায় নিবেদিতপ্রাণ এবং প্রচুর কিতাব প্রণেতাদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে উত্তরাধিকার বিজ্ঞান (فرائض) এবং গণিত শাস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে। তাঁর রচনাবলির সন্ধানে বিভিন্ন গ্রন্থাগারের তালিকা ও পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থই সংরক্ষিত রয়েছে। নিম্নে আমি তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম এবং প্রত্যেকটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করব; সেই সাথে কোনটি মুদ্রিত আর কোনটি পাণ্ডুলিপি আকারে আছে তাও নির্দেশ করব। আপনার সামনে বর্ণানুক্রমিক ভাবে এর বিবরণ তুলে ধরা হলো:

--------------------------------------------

(১) আজায়িবুল আসার (১/২১৯)।

(২) আজায়িবুল আসার (১/২১৯), মুজামুল মাতবুআত (১৬২৪-১৬২৫)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
(1) إغاثة الملهوف إلى مسألة الملفوف

وهو رسالة صغيرة تتضمن شرحا له على منظومة له وهي في خمس ورقات، محفوظة بالمكتبة الأزهرية بمصر، تحت رقم [504/42413] (1)

(2) الإفصاح عن عقد النكاح (2) :

وهو كتاب ذكر فيه الأحكام المتعلقة بالنكاح خاصة، على المذاهب الأربعة، والذي يبدو لي أن هذا الكتاب قد حقق، فقد اطلعت على بيان بالرسائل الجامعية المسجلة في كلية الشريعة بجامعة الأزهر، حيث ورد ذكر هذا الكتاب، وأنه مسجل باسم أحد الطلاب الباحثين، لينال به درجة الماجستير، وذلك عام (1978م) .

(3) شرح القلصادي (3) :

هذا ورد نسبة مؤلف بهذا العنوان للمصنف، وترجح لدي ثبوت هذه النسبة، وذلك لأن القلصادي هذا ـ واسمه علي بن محمد بن علي القرشي القلصادي المالكي المتوفى سنة (891هـ) (4) ـ أحد البارزين في علم الحساب والجبر والفرائض، وله الكثير من المصنفات في هذا (5) ، والمصنف واحد ممن اشتهروا في هذا العلوم.

(4) فتح رب البرية على متن السخاوية (6) :

وهو كتاب شرح فيه أحد المتون الخاصة ببعض المسائل الحسابية والهندسية، وقد طبع هذا الكتاب بمصر سنة (1310هـ) بهامش كتاب (روضة الحساب في علم الحساب) لأحمد خطيب الجاوي (7) .

--------------------------------------------

(1) فهرس الأزهرية (2/658) .

(2) إيضاح المكنون (1/108) ، هدية العارفين (1/326) ، معجم المؤلفين (4/57) .

(3) عجائب الآثار (1/219) ، هداية العارفين (1/326) .

(4) الأعلام (5/10) .

(5) المصدر السابق، وهدية العارفين (1/738) .

(6) إيضاح المكنون (1/163) ، هدية العارفين (1/326) ، عجائب الآثار (1/219) ، الأعلام (2/257) ، معجم المؤلفين (4/57) .

(7) معجم المطبوعات العربية (162) .
(1) ইগাসাতুল মালহুফ ইলা মাসআলাতিল মালফুফ

এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা, যাতে তাঁর নিজের রচিত একটি কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি পাঁচটি পত্র সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি, যা মিশরের মাকতাবাতুল আযহারিয়ায় [504/42413] নম্বরাধীনে সংরক্ষিত রয়েছে। (১)

(2) আল-ইফসাহ আন আকদিন নিকাহ (২) :

এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে বিশেষভাবে বিবাহ সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী চার মাযহাবের আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এই গ্রন্থটি সম্পাদিত হয়েছে; কেননা আমি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদে নিবন্ধিত উচ্চতর গবেষণাপত্রসমূহের একটি তালিকায় এই গ্রন্থটির উল্লেখ পেয়েছি। সেখানে এটি একজন গবেষক ছাত্রের নামে ১৯৭৮ সালে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।

(3) শারহুল কালসাদি (৩) :

এই শিরোনামে গ্রন্থকারের একটি রচনার তথ্য পাওয়া যায় এবং আমার নিকট এই সম্পৃক্ততার সত্যতা অগ্রগণ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ এই কালসাদি—যার নাম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুরাশি আল-কালসাদি আল-মালিকি, মৃত্যু (৮৯১ হিজরি) (৪)—হিসাব বিজ্ঞান, বীজগণিত এবং ফারায়িয (উত্তরাধিকার শাস্ত্র) শাস্ত্রে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং এই বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে (৫)। আর অত্র গ্রন্থকার নিজেও এই সকল শাস্ত্রে প্রসিদ্ধদের অন্যতম ছিলেন।

(4) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ আলা মাতনিস সাখাভিয়্যাহ (৬) :

এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে তিনি গাণিতিক ও জ্যামিতিক কিছু মাসআলা বিষয়ক একটি মূলপাটের (متن) ব্যাখ্যা করেছেন। এই গ্রন্থটি ১৩১০ হিজরিতে মিশরে আহমদ খতিব আল-জাভির 'রাওদাতুল হিসাব ফি ইলমিল হিসাব' গ্রন্থের পার্শ্বটীকা বা হাশিয়ায় মুদ্রিত হয়েছে (৭) ।

--------------------------------------------

(১) ফিহরিস্তুল আযহারিয়া (২/৬৫৮) ।

(২) ইযাহুল মাকনুন (১/১০৮) , হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬) , মুজামুল মুআল্লিফীন (৪/৫৭) ।

(৩) আজাইবাল আসার (১/২১৯) , হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬) ।

(৪) আল-আলাম (৫/১০) ।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস এবং হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৭৩৮) ।

(৬) ইযাহুল মাকনুন (১/১৬৩) , হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬) , আজাইবাল আসার (১/২১৯) , আল-আলাম (২/২৫৭) , মুজামুল মুআল্লিফীন (৪/৫৭) ।

(৭) মুজামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়া (১৬২) ।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
(5) كتاب حافل في الفروع الفقهية على مذهب الإمام الشافعي (1) .

ولم يذكر اسمه، وهو كتاب ضخم في مجلدين، معتبر مشهور، معتمد الأقوال في الإفتاء، كذا قال الجبرتي (2) .

(6) كشف الأستار عن مسألة الإقرار (3) :

وهو شرح على مسألة الإقرار المشهورة بمسألة الإمام الحوفي، ويقع هذا الشرح في ثماني ورقات، وهو محفوظ بالمكتبة الأزهرية تحت رقم (614/48828) (4) .

(7) كشف الأستار عن نزهة الغبار (5) :

وهو كتاب شرح فيه المصنف رسالة (نزهة النظار في علم الغبار) (6) ، في علم الحساب لمؤلفها: أحمد بن محمد ابن الهائم، المتوفى سنة (815هـ) (7) .

ويقع هذا الكتاب في (122) ورقة، في المكتبة الأزهرية، بالقاهرة (8) .

(8) الكشف التام عن إرث ذوي الأرحام (9) :

وهي رسالة بيّن المصنف فيها كيفية توريث ذوي الأرحام، وأصنافهم، وقد أشار الزركلي إلى أنها مطبوعة (10) .

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (1/220) هدية العارفين (1/326) معجم المطبوعات (1625) .

(2) عجائب الآثار. الصفحة السابقة.

(3) إيضاح المكنون (1/254) ، هدية العرفين (1/326) ، الأعلام (2/257) .

(4) فهرس الأزهرية (2/712) .

(5) إيضاح المكنون (2/354) ، هدية العارفين (1/326) ، معجم المؤلفين (4/57) .

(6) إيضاح المكنون (2/643) ، الأعلام (1/226) .

(7) الأعلام. الصفحة السابقة.

(8) فهرس الأزهرية (6/153) .

(9) إيضاح المكنون (2/357) ، هدية العارفين (1/326) ، الأعلام (2/357) ، معجم المؤلفين (4/57) .

(10) الأعلام (2/357) .
(5) ইমাম শাফিঈর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ (১)।

এর নাম উল্লেখ করা হয়নি; এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত একটি বিশালাকার গ্রন্থ, যা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য (معتبر) ও প্রসিদ্ধ (مشهور)। এটি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (معتمد) বক্তব্য সংবলিত; আল-জাবারতী (২) এমনই বলেছেন।

(6) কাশফুল আস্তার আন মাসআলাতিল ইকরার (৩):

এটি ইমাম আল-হাউফীর মাসআলা হিসেবে প্রসিদ্ধ 'মাসআলাতুল ইকরার'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এই ব্যাখ্যাটি আট পৃষ্ঠায় সমাপ্ত এবং এটি আল-আজহার লাইব্রেরিতে ৬১৪/৪৮৮২৮ নম্বরাধীনে সংরক্ষিত রয়েছে (৪)।

(7) কাশফুল আস্তার আন নুযহাতিল গুবর (৫):

এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে লেখক পাটীগণিত বিষয়ক 'নুযহাতুন নুজ্জার ফি ইলমিল গুবর' (৬) নামক পুস্তিকাটির ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এর মূল লেখক হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল হাইম, যিনি ৮১৫ হিজরি সনে (৭) মৃত্যুবরণ করেন।

এই গ্রন্থটি (১২২) পৃষ্ঠা সংবলিত এবং কায়রোর আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে (৮)।

(8) আল-কাশফুত তাম আন ইরসি যাবিল আরহাম (৯):

এটি একটি পুস্তিকা যাতে লেখক জাবিল আরহামদের (দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়) উত্তরাধিকারের পদ্ধতি ও তাদের শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা করেছেন। আল-যিরিকলী উল্লেখ করেছেন যে এটি মুদ্রিত হয়েছে (১০)।

--------------------------------------------

(1) অজায়িবুল আসার (১/২২০), হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬), মু'জামুল মাতবুয়াত (১৬২৫)।

(2) অজায়িবুল আসার। পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা।

(3) ঈযাহুল মাকনুন (১/২৫৪), হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬), আল-আ'লাম (২/২৫৭)।

(4) ফাহরাসুল আজহারিয়া (২/৭১২)।

(5) ঈযাহুল মাকনুন (২/৩৫৪), হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬), মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (৪/৫৭)।

(6) ঈযাহুল মাকনুন (২/৬৪৩), আল-আ'লাম (১/২২৬)।

(7) আল-আ'লাম। পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা।

(8) ফাহরাসুল আজহারিয়া (৬/১৫৩)।

(9) ঈযাহুল মাকনুন (২/৩৫৭), হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩২৬), আল-আ'লাম (২/৩৫৭), মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (৪/৫৭)।

(10) আল-আ'লাম (২/৩৫৭)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ولها عشر نسخ خطية في المكتبة الأزهرية (1) ، كما اطلعت على عدة نسخ خطية منها في مركز الملك فيصل للأبحاث بالرياض.

(9) كشف اللثام عن أسئلة الأنام (2) :

وهو كتاب يشتمل على فتاوى للمصنف في جميع أبواب الفقه، ويسمى بالفروع الفقهية للمحلي (3) ، والكتاب مخطوط، ومحفوظ في المكتبة الأزهرية، وله عشر نسخ خطية فيها، منها واحدة تقع في (763) ورقة (4) .

(10) مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة:

وهو هذا الكتاب الذي بين أيدينا، وسيأتي الكلام عليه بالتفصيل إن شاء الله تعالى.

(11) منتهى الإيرادات لجدول المناسخات (5) .

وهو كتاب شرح فيه المصنف أحد مؤلفات ابن الهائم في الفرائض، وهو مخطوط ومحفوظ بالمكتبة الأزهرية، وله ثلاث نسخ خطية فيها، واحدة منها تقع في (136) ورقة (6) .

--------------------------------------------

(1) فهرس الأزهرية (2/713) .

(2) إيضاح المكنون (2/365) ، هدية العارفين (1/326) ، الأعلام (2/357) .

(3) انظر: هدية العارفين، الصفحة السابقة.

(4) فهرس الأزهرية (2/598) .

(5) إيضاح المكنون (2/571) ، هدية العارفين (1/326) ، الأعلام (2/257) ، معجم المؤلفين (4/57) .

(6) فهرس الأزهرية (2/718) .
আল-আজহার লাইব্রেরিতে (১) এর দশটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, এবং আমি রিয়াদের কিং ফয়সাল রিসার্চ সেন্টারেও এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি দেখেছি।

(৯) কাশফুল লিসাম আন আসইলাতিল আনাম (২) :

এটি এমন একটি গ্রন্থ যা ফিকহের সমস্ত অধ্যায়ে গ্রন্থকারের ফতোয়াগুলো অন্তর্ভুক্ত করে এবং একে আল-মাহাল্লির 'আল-ফুরু আল-ফিকহিয়্যাহ' (৩) নামেও অভিহিত করা হয়। গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি আকারে আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে এর দশটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার মধ্যে একটি (৭৬৩) পৃষ্ঠা (৪) সম্বলিত।

(১০) মাজিদুন নি'মাহ লি-জাম'ই আকওয়ালিল আইম্মাহ:

এটিই সেই গ্রন্থ যা বর্তমানে আমাদের সামনে রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা এটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

(১১) মুনতাহাল ইরাদাত লি-জাদওয়ালিল মুনাসখাত (৫)।

এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে গ্রন্থকার মিরাস (ফারায়েজ) বিষয়ে ইবনুল হাইয়্যেমের একটি রচনার ব্যাখ্যা করেছেন। এটি পাণ্ডুলিপি আকারে আল-আজহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে এবং সেখানে এর তিনটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার মধ্যে একটি (১৩৬) পৃষ্ঠা (৬) বিশিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) আল-আজহারিয়া ক্যাটালগ (২/৭১৩)।

(২) ইদাহুল মাকনুন (২/৩৬৫), হিদায়াতুল আরিফিন (১/৩২৬), আল-আলাম (২/৩৫৭)।

(৩) দেখুন: হিদায়াতুল আরিফিন, পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা।

(৪) আল-আজহারিয়া ক্যাটালগ (২/৫৯৮)।

(৫) ইদাহুল মাকনুন (২/৫৭১), হিদায়াতুল আরিফিন (১/৩২৬), আল-আলাম (২/২৫৭), মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (৪/৫৭)।

(৬) আল-আজহারিয়া ক্যাটালগ (২/৭১৮)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
سابعا: وفاته:

توفي المصنف ـ رحمه الله تعالى ـ بمصر سنة (1170هـ) ، وقد أجمعت المصادر التي ترجمت له على تاريخ وفاته هذا، إلا أنها لم تشر إلى اليوم أو الشهر الذي توفي فيه (1) .

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (1/219) ، إيضاح المكنون (1/108) ، هدية العارفين (1/326) ، الأعلام (2/257) ، معجم المؤلفين (4/57) .
সপ্তম: তাঁর মৃত্যু (وفاة):

গ্রন্থকার —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— ১১৭০ হিজরি সনে মিশরে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছে এমন উৎসসমূহ (مصدر) তাঁর মৃত্যুর এই তারিখের বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছে, তবে সেগুলোতে তাঁর মৃত্যুর দিন বা মাস সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত করা হয়নি (১)।

--------------------------------------------

(১) আজায়িব আল-আসার (১/২১৯), ইজাহুল মাকনুন (১/১০৮), হাদিয়াতুল আরিফিন (১/৩২৬), আল-আ’লাম (২/২৫৭), মু’জামুল মুয়াল্লিফিন (৪/৫৭)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثانيا:‌‌ دراسة الكتاب

أولا: نسبة الكتاب إلى المصنف:

كتاب (مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة) الذي بين أيدينا، هو واحد من مؤلفات المصنف: حسين بن محمد المحلي الشافعي، ونسبته إليه ثابتة ثبوتا أكيدا دون أدنى شك أو احتمال.

فقد نسبه إليه أكثر من واحد ممن كتبوا عن حياته، وترجموا له، فقد وردت نسبة الكتاب إليه في المصادر التالية:

إيضاح المكنون (2/471) .

هدية العارفين (1/326) .

الأعلام (2/257) .

ثانيا: موضوع الكتاب:

أشار المصنف في مقدمة كتابه هذا أنه قد ألفه بناء على طلب بعض تلاميذه في أن يجمع أقوال العلماء في ربع العبادات على المذاهب الأربعة، حيث قال:

فقد سألني بعض الأحباب، وفقه الله للصواب، وحماه من الزيغ والارتياب، أن أجمع له ربع العبادات في هذا الكتاب على المذاهب الأربعة حسب الأبواب، فأجبته لذلك مستعينا بالله القادر المالك، وسميته بـ (مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة) .

وقد رتب المصنف كتابه هذا على خمسة أبواب، جاءت كما يلي:

الباب الأول

كتاب الطهارة

وقد تحدث في بدايته عن أحكام المياه، وما يتعلق بها، ثم ذكر الأبواب التالية:

باب الأواني.

باب السواك.

باب النجاسة.

باب الاستنجاء.

باب الوضوء.

باب نواقض الوضوء.
দ্বিতীয়:‌‌ গ্রন্থ পর্যালোচনা

প্রথমত: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা (نسبة):

আমাদের হাতে থাকা (মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ) গ্রন্থটি লেখক হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মাহাল্লি আশ-শাফিয়ি-এর অন্যতম রচনা। তাঁর প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা (نسبة) কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয় ছাড়াই সুনিশ্চিতভাবে (ثبوت) প্রমাণিত।

যাঁরা তাঁর জীবনকাল নিয়ে লিখেছেন এবং তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি একে তাঁর রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিম্নোক্ত উৎসগুলোতে (مصادر) গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা (نسبة) বর্ণিত হয়েছে:

ইদাহুল মাকনুন (২/৪৭১)।

হাদিয়্যাতুল আরিফিন (১/৩২৬)।

আল-আ’লাম (২/২৫৭)।

দ্বিতীয়ত: গ্রন্থের বিষয়বস্তু:

লেখক তাঁর এই গ্রন্থের ভূমিকায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি চার মাযহাবের (المذاهب الأربعة) আলোকে ইবাদত অধ্যায়ে ওলামায়ে কেরামের মতামতসমূহ সংকলনের জন্য তাঁর জনৈক ছাত্রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এটি রচনা করেছেন। তিনি বলেন:

জনৈক প্রিয়জন—আল্লাহ তাঁকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন এবং বিচ্যুতি ও সংশয় থেকে রক্ষা করুন—আমার নিকট অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য এই গ্রন্থে চার মাযহাবের (المذاهب الأربعة) আলোকে ইবাদত অধ্যায়টি পরিচ্ছেদ অনুযায়ী সংকলন করি। তাই আমি সর্বশক্তিমান ও অধিপতি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে তাঁর সেই অনুরোধ রক্ষা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি (মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ)।

লেখক তাঁর এই গ্রন্থটিকে পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন, যা নিম্নরূপ:

প্রথম অধ্যায়

পবিত্রতা (الطهارة) বিষয়ক কিতাব

এর শুরুতে তিনি পানির বিধানাবলি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন, এরপর নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো উল্লেখ করেছেন:

পাত্র বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

মেসওয়াক বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

অপবিত্রতা (النجاسة) বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

এস্তেঞ্জা বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

অজু বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

অজু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل: في مس المصحف وحمله.

باب التيمم.

باب المسح على الخفين.

باب الغسل.

باب الحيض.

الباب الثاني

كتاب الصلاة

وقد أشار في أوله إلى أهمية الصلاة، وحكم تاركها، وتحدث عن أحكام الأذان والإقامة، وما يتعلق بهما.

ثم أعقب ذلك بذكر (فصل) : في الأوقات.

وتلا ذلك بيان أحكام الصلاة، وأركانها، وما يتعلق بذلك.

ثم جاء بعده (فصل) : في الأوقات المنهي عن الصلاة فيها.

وأردف ذلك بذكر الأبواب التالية:

باب صلاة الجماعة.

باب صلاة المسافر.

باب الجمعة.

باب صلاة العيد.

باب صلاة الكسوف.

باب الاستسقاء.

باب الجنائز.

الباب الثالث

كتاب الزكاة

وقد بين المصنف في مقدمته أحكام الزكاة، وفرضيتها، والأصناف الواجبة فيها، ومقدار كل، ثم أعقب ذلك بذكر الأبواب التالية:
পরিচ্ছেদ: মুসহাফ স্পর্শ করা ও তা বহন করা প্রসঙ্গে।

তায়াম্মুম অধ্যায়।

মোজার ওপর মাসেহ করা অধ্যায়।

গোসল অধ্যায়।

ঋতুস্রাব অধ্যায়।

দ্বিতীয় বিভাগ

সালাত অধ্যায়

এর শুরুতে তিনি সালাতের গুরুত্ব এবং তা পরিত্যাগকারীর বিধানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং আজান ও ইকামত এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

অতঃপর তিনি সময় বা ওয়াক্তসমূহ সম্পর্কিত একটি (পরিচ্ছেদ) উল্লেখ করেছেন।

এরপর সালাতের বিধানসমূহ, এর রোকনসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বর্ণনা এসেছে।

এরপর সালাত নিষিদ্ধ হওয়ার ওয়াক্তসমূহ সম্পর্কে একটি (পরিচ্ছেদ) এসেছে।

এর পরপরই তিনি নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো উল্লেখ করেছেন:

জামাতে সালাত আদায়ের অধ্যায়।

মুসাফিরের সালাত অধ্যায়।

জুমা অধ্যায়।

ঈদের সালাত অধ্যায়।

সূর্যগ্রহণের সালাত অধ্যায়।

বৃষ্টির প্রার্থনার সালাত অধ্যায়।

জানাজা অধ্যায়।

তৃতীয় বিভাগ

যাকাত অধ্যায়

গ্রন্থকার এর ভূমিকায় যাকাতের বিধানসমূহ, এর আবশ্যকতা, যেসব খাতে যাকাত প্রদান আবশ্যক এবং প্রত্যেকটির পরিমাণ বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
باب زكاة الماشية.

باب زكاة الزروع.

باب زكاة الذهب والفضة.

باب زكاة التجارة.

باب زكاة الفطر.

فصل: في مصارف الزكاة.

الباب الرابع

كتاب الصيام

وقد ذكر في بدايته حكم الصيام، وعلى من يجب، وأحكام الرؤية وما يتعلق بها، وأحكام الإفطار، وما يتعلق بالقضاء، وكل ما يتصل بالصيام من أحكام، وختمه بذكر (فصل) في الاعتكاف وأحكامه.

الباب الخامس

كتاب الحج والعمرة

بين المصنف في أول هذا الكتاب حكم الحج والعمرة، وما يتعلق بأحكام الإحرام وأقسامه وأفضل تلك الأقسام.

ثم أردف ذلك بذكر الفصول الآتية:

(فصل) : في المواقيت.

(فصل) : في محظورات الإحرام

(فصل) : في دخول مكة المكرمة.

(فصل) : في أفعال يوم النحر.

(فصل) : في طواف الإفاضة.
গবাদি পশুর জাকাত পরিচ্ছেদ।

শস্যের জাকাত পরিচ্ছেদ।

স্বর্ণ ও রৌপ্যের জাকাত পরিচ্ছেদ।

ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত পরিচ্ছেদ।

জাকাতুল ফিতর পরিচ্ছেদ।

অনুচ্ছেদ: জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সিয়াম অধ্যায়

এর শুরুতে সিয়ামের বিধান, কার ওপর তা আবশ্যক, চাঁদ দেখার বিধান ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, ইফতারের বিধান, কাজা সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং সিয়াম সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিধিবিধান আলোচনা করা হয়েছে। পরিশেষে ইতিকাফ ও এর বিধানাবলি বিষয়ক একটি (অনুচ্ছেদ) উল্লেখ করে এটি সমাপ্ত করা হয়েছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

হজ ও উমরাহ অধ্যায়

লেখক এই অধ্যায়ের শুরুতে হজ ও উমরাহর বিধান এবং ইহরামের বিধানাবলি, এর প্রকারভেদ ও সেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম প্রকারটি বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো সংযোজন করেছেন:

(অনুচ্ছেদ): মিকাতসমূহ প্রসঙ্গে।

(অনুচ্ছেদ): ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে।

(অনুচ্ছেদ): মক্কা মুকাররমায় প্রবেশ প্রসঙ্গে।

(অনুচ্ছেদ): কুরবানির দিনের আমলসমূহ প্রসঙ্গে।

(অনুচ্ছেদ): তাওয়াফে ইফাদাহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد بين المصنف في تلك الأبواب أقوال الأئمة الأربعة، أصحاب المذاهب المعروفة في أهم المسائل من كل باب، حيث يذكر ما اتفقوا عليه أولا إن وجد ذلك، ثم يتبع ذلك بذكر أقوالهم في المسائل التي اختلفوا فيها ويشير إلى الروايات عن كل واحد منهم إن كان هناك روايتان أو أكثر، ويشير أحيانا إلى الأصح من تلك الروايات.

كما يذكر أحيانا أقوال فقهاء الصحابة والتابعين، والمجتهدين من كل مذهب في المسائل التي خالفوا فيها أئمتهم.

وقد ذكر المصنف جميع المسائل في هذه الأبواب مجردة عن الأدلة إذ لم يذكر دليلا واحد لمسألة ما.

ويلاحظ عليه أنه يخطىء في بعض الأحيان في نسبة القول إلى قائله، بحيث يعكس الأقوال، أو يشير إلى أن هذا هو الأصح، والواقع عكسه، وقد صححت ذلك كله، وأشرت إليه، ونبهت على ما وقع فيه من أخطاء في نسبة الأقوال إلى الأئمة الأربعة.

ثالثا: وصف النسختين المعتمدتين في التحقيق:

لقد وقع نظري بادئ ذي بدء على هذا الكتاب أثناء زيارتي لقسم المخطوطات بجامعة الملك سعود بالرياض، وفي أثناء استعراضي للفهارس الخاصة بالمخطوطات عثرت على عنوان هذا الكتاب (مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة) ، لمؤلفه حسين بن محمد المحلي الشافعي، فطلبت إخراج الكتاب، واطلعت على نسخته الخطية وقرأتها، فإذا هي واضحة تماما وقد كتبت بخط نسخ جميل، فعقدت العزم على تحقيقها.

ومن ثم اجتهدت في البحث عن نسخ أخرى للكتاب، وبعون من الله وتوفيق، وفي أثناء إحدى قراءاتي في فهرس مخطوطات دار الكتب المصرية بالقاهرة، وقع نظري على اسم الكتاب واسم مؤلفه، مدونا بالقسم الخاص بالفقه الشافعي، فدونت رقم تسجيلها هنالك، وبعثت طالبا تصويرها، فتم ذلك ولله الحمد، وحصلت على نسخة أخرى للكتاب، وإليك وصفا شاملا للنسختين المذكورتين:
গ্রন্থকার উক্ত পরিচ্ছেদসমূহে প্রতিটি পরিচ্ছেদের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মাজহাব (مذاهب) সমূহের ইমামগণ তথা চার ইমামের মতামতসমূহ বর্ণনা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রথমে যে বিষয়গুলোতে তারা একমত হয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন (যদি তেমন কিছু থেকে থাকে), অতঃপর যে বিষয়গুলোতে তারা মতভেদ করেছেন সেগুলোতে তাদের মতামতসমূহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন। যদি কোনো ইমামের পক্ষ থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনা (روايات) থাকে, তবে তিনি সেগুলোর প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন এবং মাঝে মাঝে সেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন।

অনুরূপভাবে তিনি মাঝে মাঝে সাহাবি ও তাবেয়িদের মধ্য থেকে যারা ফকিহ (فقهاء) ছিলেন এবং প্রতিটি মাজহাবের সেই সকল মুজতাহিদ (المجتهدين) যারা নিজ নিজ ইমামের মতের বিরোধিতা করেছেন, তাদের মতামতও উল্লেখ করেছেন।

গ্রন্থকার এই পরিচ্ছেদসমূহে সকল মাসআলা দলিল (أدلة) বিহীনভাবে উল্লেখ করেছেন, কেননা তিনি কোনো একটি মাসআলার জন্যও কোনো একক দলিল (دليلا) উল্লেখ করেননি।

তার ব্যাপারে এটি পরিলক্ষিত হয় যে, তিনি মাঝে মাঝে কোনো বক্তব্যকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভুল করেন, ফলে তিনি বক্তব্যগুলোকে উল্টে ফেলেন অথবা কোনোটিকে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) বলে উল্লেখ করেন অথচ বাস্তবতা তার বিপরীত। আমি এই সব বিষয় সংশোধন করেছি এবং সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি, আর চার ইমামের দিকে বক্তব্য সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি যে ভুলগুলো করেছেন সে ব্যাপারে সতর্ক করেছি।

তৃতীয়ত: সম্পাদনা (تحقيق) কার্যে নির্ভরকৃত অনুলিপি দুটির বিবরণ:

রিয়াদের কিং সাউদ ইউনিভার্সিটির পাণ্ডুলিপি (المخطوطات) বিভাগে আমার সফরের সময় সর্বপ্রথম এই বইটির ওপর আমার দৃষ্টি পড়ে। পাণ্ডুলিপি (المخطوطات) সংক্রান্ত ক্যাটালগগুলো পর্যালোচনার সময় আমি এই কিতাবটির শিরোনাম 'মজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকলিল আইম্মাহ' দেখতে পাই, যার লেখক হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মাহাল্লি আশ-শাফিয়ি। আমি বইটি বের করার আবেদন করি এবং এর হস্তলিখিত অনুলিপি (نسخته الخطية) পর্যবেক্ষণ ও পাঠ করি। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং চমৎকার নাসখ লিপিতে লিখিত ছিল, তাই আমি এটি সম্পাদনা (تحقيق) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

অতঃপর আমি কিতাবটির অন্যান্য অনুলিপি (نسخ) খোঁজার চেষ্টা করি। আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে কায়রোর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) ক্যাটালগ পাঠের সময় কিতাবটির নাম এবং লেখকের নাম শাফিয়ি ফিকহ (فقه) বিভাগে লিপিবদ্ধ দেখতে পাই। আমি সেখানকার রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি টুকে নিই এবং এর একটি ফটোকপি চেয়ে পাঠাই। আলহামদুলিল্লাহ, তা সম্পন্ন হয় এবং আমি কিতাবটির আরেকটি অনুলিপি (نسخة) লাভ করি। নিম্নে উল্লিখিত অনুলিপি দুটির বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أولا: نسخة دار الكتب المصرية:

هذه النسخة هي إحدى المخطوطات المحفوظة في دار الكتب المصرية تحت رقم 2991/فقه شافعي (1) .

وعدد أوراق هذه النسخة اثنتان وتسعون ورقة، في كل ورقة أحد عشر سطرا، في كل سطر حوالي تسع كلمات.

وقد كتبت بخط عادي لا يخلو من الأخطاء الإملائية والنحوية.

وتاريخ نسخها: في يوم الأربعاء، الرابع والعشرون من شهر ذي الحجة سنة إحدى وثمانين ومائة وألف للهجرة، كما جاء ذلك مدونا في آخرها، حيث قال ناسخها: (كان الفراغ من تبييض هذه النسخة في يوم الأربعاء المبارك في شهر الحجة 24 من شهور سنة 1181، واحد وثمانين بعد الألف مائة، نقلت من خط المؤلف وقوبلت عليه أيضا، والله أعلم) .

وقد جعلتُ هذه النسخة هي الأصل نظرا لقرب تاريخ نسخها من وفاة المؤلف إذ أن وفاته كانت سنة 1170هـ وتاريخ نسخها 1181هـ، فبينهما إحدى عشرة سنة تقريبا، ولأن هذه النسخة منقولة من نسخة المؤلف ومقابلة عليها.

ثانيا: نسخة جامعة الملك سعود:

هذه النسخة محفوظة بجامعة الملك سعود / قسم المخطوطات، تحت رقم 937 العبادات (2) .

وقد كتبت هذه النسخة بخط نسخ جميل وواضح، وعدد أوراقها إحدى وأربعين ورقة، في كل ورقة ثلاثة وعشرون سطرا، في كل سطر حوالي سبع كلمات.

وتاريخ نسخها هو يوم الرابع عشر من شهر رجب سنة خمس عشرة وثلاثمائة وألف هجرية، كما ورد ذلك في آخرها مقيدا بخط ناسخها، حيث قال:

--------------------------------------------

(1) فهرس الكتب العربية المخطوطة بالكتبخانة المصرية (3/274-275) .

(2) فهرس مخطوطات جامعة الملك سعود (186-187) (الفقه وأصوله) .
প্রথমত: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার সংস্করণ (نسخة):

এই সংস্করণটি (النسخة) দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ায় সংরক্ষিত ২৯৯১/শাফেয়ী ফিকহ (১) নম্বরের অধীনে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর (المخطوطات) অন্যতম।

এই সংস্করণের (النسخة) পত্র সংখ্যা ৯২টি, প্রতিটি পত্রে ১১টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ৯টি শব্দ রয়েছে।

এটি সাধারণ হস্তলিপি (خط) দ্বারা লিখিত যা বানান ও ব্যাকরণগত ভুল থেকে মুক্ত নয়।

এটি প্রতিলিপির (نسخ) তারিখ: ১১৮১ হিজরি সনের ২৪শে জিলহজ, বুধবার; যেমনটি এর শেষে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সেখানে এর লিপিকার (ناسخ) বলেছেন: (এই সংস্করণটির পরিষ্কার অনুলিপি প্রস্তুতকরণ (تبييض) শেষ হয়েছে ১১৮১ সনের ২৪শে জিলহজ, বরকতময় বুধবার। এটি লেখকের হস্তলিপি (خط) থেকে অনুলিপি (نقلت) করা হয়েছে এবং তার সাথে যাচাইও (قوبلت) করা হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ)।

আমি এই সংস্করণটিকে (النسخة) মূল ভিত্তি (الأصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ লেখকের ইন্তেকালের সময়ের সাথে এর প্রতিলিপির (نسخ) তারিখের নিকটবর্তিতা; যেহেতু তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে ১১৭০ হিজরিতে আর এটি প্রতিলিপির (نسخ) তারিখ ১১৮১ হিজরি। ফলে এই দুয়ের মাঝে ব্যবধান প্রায় এগারো বছর। তাছাড়া এই সংস্করণটি (النسخة) লেখকের পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকে অনুলিপি করা এবং সেটির সাথে যাচাইকৃত (مقابلة)।

দ্বিতীয়ত: কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্করণ (نسخة):

এই সংস্করণটি (النسخة) কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি (المخطوطات) বিভাগে '৯৩৭ ইবাদাত' (২) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।

এই সংস্করণটি (النسخة) অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ লিপিতে (خط نسخ) লিখিত। এর পত্র সংখ্যা ৪১টি, প্রতিটি পত্রে ২৩টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ৭টি শব্দ রয়েছে।

এটি প্রতিলিপির (نسخ) তারিখ হলো ১৩১৫ হিজরি সনের ১৪ই রজব। এটি পাণ্ডুলিপির শেষে এর লিপিকারের (ناسخ) হস্তলিপিতে (خط) এভাবে নিবন্ধিত আছে, যেখানে তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ফিহরিসুল কুতুব আল-আরাবিয়া আল-মাখতুতা বিল কুতুবখানাহ আল-মিসরিয়াহ (৩/২৭৪-২৭৫)।

(২) ফিহরিসু মাখতুতাত জামিআতি আল-মালিক সাউদ (১৮৬-১৮৭) (আল-ফিকহ ওয়া উসুলুহু)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
(وكان الفراغ من كتابة هذه النسخة المباركة 14 رجب الفرد سنة 1315 هجرية على يد كاتبها الفقير إلى ربه الغنى، محمد عبد رب النبي، غفر الله له ولوالديه وللمسلمين أجمعين. آمين) .

وقد رمزت لهذه النسخة أثناء التحقيق بالرمز (س) .

رابعا: عنوان الكتاب:

إذا دققنا النظر في عنوان الكتاب المثبت على غلاف المخطوطتين، وبين ما ذكره المصنف، أو من نسب الكتاب إليه لوجدنا اختلافا بسيطا في اسم الكتاب.

فقد ورد على غلاف نسخة دار الكتب المصرية أن اسم الكتاب [مزيد النعمة في جميع أقوال الأئمة] .

وأُثبِت على غلاف نسخة جامعة الملك سعود باسم [مزيد النعمة في جمع أقوال الأئمة] .

ولكن المصنف في مقدمة الكتاب عندما ذكر سبب تأليفه الكتاب، قال: وسميته بـ (مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة) .

وهكذا أثبته إسماعيل باشا في كتابيه (إيضاح المكنون) (1) ، و (هدية العارفين) (2) كما أثبته الزركلي بنفس الاسم الذي ذكره المصنف.

وبذلك يتبين أن صحة العنوان هو كما أورده المصنف، وما أثبته هؤلاء، لا كما ورد على غلاف المخطوطين، لذلك رأيت إثباته باسم (مزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة) لأن المثبت على الغلافين ـ قطعا ـ هو خطأ من النساخ.

--------------------------------------------

(1) (2/471) .

(2) (1/326) .
(এই বরকতময় অনুলিপিটি (نسخة) লেখার কাজ সমাপ্ত হয়েছে ১৪ রজব আল-ফারদ, ১৩১৫ হিজরি সনে, এর লেখক তাঁর অভাবমুক্ত রবের প্রতি মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা মুহাম্মাদ আবদ রাব্বিন নবী-এর হাতে; আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। আমিন)।

তাহকিক (تحقيق) করার সময় আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে (س) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

চতুর্থত: গ্রন্থের শিরোনাম:

যদি আমরা পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) দুটির মলাটে অঙ্কিত বইয়ের শিরোনাম এবং গ্রন্থকার যা উল্লেখ করেছেন অথবা যারা বইটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ (نسبة) করেছেন তাদের বক্তব্যের মাঝে গভীরভাবে লক্ষ্য করি, তবে বইটির নামে সামান্য পার্থক্য দেখতে পাব।

দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপির মলাটে বর্ণিত হয়েছে যে বইটির নাম: [মাজিদুন নিমাহ ফি জামিই আকওয়ালিল আইম্মাহ]।

এবং কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় পাণ্ডুলিপির মলাটে [মাজিদুন নিমাহ ফি জামই আকওয়ালিল আইম্মাহ] নামে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

কিন্তু গ্রন্থকার যখন বইটির ভূমিকার (مقدمة) শুরুতে এটি রচনার কারণ উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: "আমি এর নামকরণ করেছি— (মাজিদুন নিমাহ লি-জামই আকওয়ালিল আইম্মাহ)।"

একইভাবে ইসমাইল পাশা তাঁর ইজাহুল মাকনুন (১) ও হাদিয়াতুল আরিফিন (২) গ্রন্থদ্বয়ে এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং যিরিকলিও গ্রন্থকারের উল্লিখিত একই নামে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, শিরোনামের সঠিকতা হলো গ্রন্থকার যা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা যা সাব্যস্ত করেছেন সেটিই; পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) দুটির মলাটে যা বর্ণিত হয়েছে তা নয়। তাই আমি একে (মাজিদুন নিমাহ লি-জামই আকওয়ালিল আইম্মাহ) নামে বহাল রাখা সমীচীন মনে করেছি; কারণ মলাটদ্বয়ের ওপর যা লিপিবদ্ধ রয়েছে তা নিশ্চিতভাবেই অনুলিপিকারীদের (نساخ) ভুল।

--------------------------------------------

(১) (২/৪৭১) ।

(২) (১/৩২৬) ।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
خامسا: منهج التحقيق

يتلخص عملي في تحقيق هذا الكتاب بالآتي:

أولا: نسخت الكتاب متبعا بذلك قواعد الإملاء والخط الحديثة.

ثانيا: إن وجد في الأصل تصحيف، أو خطأ إملائي، أو نحوي، صححته، وقد أشير في الحاشية أحيانا إلى ما صححته.

ثالثا: جعلت نسخة دار الكتب المصرية هي الأصل لقربها الشديد من تاريخ وفاة المصنف، وقابلت نسخة جامعة الملك سعود عليها، مشيرا إليها بالرمز (س) ، وأشير في الحاشية إلى ما بين النسختين من فروق واختلافات.

رابعا: قد يخطئ المصنف أحيانا في نسبة القول إلى أحد الأئمة الأربعة، فأصحح ذلك الخطأ بالإشارة في الحاشية إلى القول المعتمد في المذهب.

خامسا: عزوت جميع المسائل الفقهية التي أوردها المصنف في هذا الكتاب، إلى مصادرها الأصلية، وذلك بتوثيقها من الكتب المعتمدة في كل مذهب، منبها إلى أن في المذهب روايتين أو أكثر، إن وجد ذلك، وبينت الرواية المعتمدة في المذهب.

سادسا: وضعت إشارة (*) عند بداية كل مسألة يذكرها المصنف، للتمييز بين بداية كل مسألة ومسألة.

سابعا: شرحت الألفاظ الغريبة الواردة في الكتاب، معتمدا على الكتب التي تهتم بهذا الشأن.

ثامنا: ترجمت لجميع الأعلام الذين أوردهم المصنف ترجمة مختصرة عند ذكر العلم أول مرة، ووثقت التراجم من مصادرها.

تاسعا: وضعت فهارس عامة في نهاية الكتاب، فاشتملت على الآتي:

1 ـ فهرس الآية القرآنية الوحيدة التي وردت في الكتاب.

2 ـ فهرس لبعض الأحاديث التي ذكرتها في الحاشية.
পঞ্চম: সম্পাদনা পদ্ধতি (منهج التحقيق)

এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমার কাজ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

প্রথম: আমি আধুনিক বানান ও লিপি পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রন্থটি প্রতিলিপি করেছি।

দ্বিতীয়: যদি মূল কপিতে কোনো লিখন-ভ্রান্তি (تصحيف), বানান ভুল অথবা ব্যাকরণগত ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে আমি তা সংশোধন করেছি এবং কখনও কখনও ফুটনোটে আমার সংশোধিত বিষয়টি উল্লেখ করেছি।

তৃতীয়: আমি 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-এর পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ এটি লেখকের মৃত্যু-তালিকের অত্যন্ত নিকটবর্তী সময়ের। এর সাথে আমি 'কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি'-এর পাণ্ডুলিপিটির তুলনা করেছি এবং সেটিকে (س) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এই দুই পাণ্ডুলিপির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য ও ভিন্নতাসমূহ আমি ফুটনোটে উল্লেখ করেছি।

চতুর্থ: লেখক কখনো কখনো চার ইমামের কোনো একজনের প্রতি বক্তব্য আরোপের ক্ষেত্রে ভুল করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (معتمد) মতটি ফুটনোটে উল্লেখ করার মাধ্যমে সেই ভুল সংশোধন করেছি।

পঞ্চম: লেখক এই গ্রন্থে যে সকল ফিকহি মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (معتمد) গ্রন্থসমূহ থেকে সেগুলো যাচাই করা হয়েছে এবং কোনো মাযহাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনা (رواية) থাকলে আমি সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (معتمد) বর্ণনাটি স্পষ্ট করেছি।

ষষ্ঠ: লেখক কর্তৃক বর্ণিত প্রতিটি মাসয়ালার শুরুতে আমি একটি চিহ্ন (*) প্রদান করেছি, যাতে একটি মাসয়ালা থেকে অন্য মাসয়ালার সূচনাটি পৃথকভাবে চেনা যায়।

সপ্তম: গ্রন্থে আগত দুর্বোধ্য শব্দগুলোর (الألفاظ الغريبة) ব্যাখ্যা আমি এ সংক্রান্ত বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করেছি।

অষ্টম: লেখক যে সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের (أعلام) নাম উল্লেখ করেছেন, প্রথমবার নাম আসার সময় আমি তাঁদের প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) প্রদান করেছি এবং জীবনীসমূহ মূল উৎস হতে সংকলন করেছি।

নবম: আমি গ্রন্থের শেষে সাধারণ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

১ ـ গ্রন্থে উল্লিখিত একমাত্র কুরআনি আয়াতের নির্ঘণ্ট।

২ ـ ফুটনোটে আমি যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছি তার মধ্য হতে কিছু হাদিসের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
3 ـ فهرس للأعلام المترجم لهم، حيث حصرت جميع المسائل التي ورد فيها العلم، وأشرت إلى رقم كل صفحة مقابلة، مع ملاحظة ان ترجمة العلم موجودة في أول صفحة ورد رقمها أول مرة.

4 ـ فهرس الكلمات الغريبة والمشروحة.

5 ـ فهرس المصادر والمراجع التي اعتمدت عليها في التحقيق، ورتبها على أنواع العلوم.

6 ـ فهرس تفصيلي لجميع الأبواب والفصول والمسائل الواردة في الكتاب.

هذا ما أردت الإشارة إليه، وأسأل الله تعالى أن يجعل عملي خالصا لوجهه الكريم، وأن يرزقني حسن النية، والاستقامة في العمل، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

كتبه: الفقير إلى عفو ربه

عبد الكريم بن صنيتان العمري

المدينة المنورة
৩. বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট যাদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে (مترجم لهم), যেখানে আমি সেই সকল মাসআলা বা বিষয় একত্র করেছি যাতে উক্ত ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে এবং প্রতিটি সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার নম্বর নির্দেশ করেছি। উল্লেখ্য যে, কোনো ব্যক্তির জীবনী সেই পৃষ্ঠায় বিদ্যমান যেখানে তার নাম প্রথমবার এসেছে।

৪. দুর্বোধ্য (غريب) এবং ব্যাখ্যাত শব্দাবলির নির্ঘণ্ট।

৫. পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও গবেষণার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি যেসব মূল উৎস ও সহায়ক গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি তার তালিকা; যা শাস্ত্রের প্রকারভেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।

৬. গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত সকল অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও মাসআলার একটি বিস্তারিত সূচি।

এই বিষয়গুলোই আমি উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাকে নেক নিয়ত ও কাজে অবিচলতা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের সর্বশেষ নিবেদন এই যে, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন: তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

আব্দুল কারীম বিন সানিতান আল-উমারি

মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌القسم التحقيق

‌‌كتاب الطهارة

…

القسم التحقيق

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أكرم هذه الأمة باختلاف الأئمة 1 وجعله سبيلا لنجاتهم وهدى ورحمة، فمن اقتدى بهم نجا، ومن خالف باء بالنقمة، أحمده حمدا يكون لنا في الدارين نعمة، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وهو رب العظمة، وأشهد أن سيدنا ونبينا محمدا عبده ورسوله المبعوث بالحكمة، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه المخرجين لنا من الظلمة. 2

أما بعد: فقد سألني بعض الأحباب وفقه الله للصواب، وحماه من الزيغ والارتياب، أن أجمع له ربع العبادات في هذا الكتاب، على المذاهب الأربعة بحسب الأبواب، فأجبته لذلك، مستعينا بالله القادر المالك، وسميته بمزيد النعمة لجمع أقوال الأئمة.

والله أسأل أن ينفع به من تلقاه بالإنصاف، وعفى عن عثرات الأقلام بلا اعتساف فقل أن ينجو 3 مؤلف من عثرات 4، ويخلص مصنف من هفوات، وإن الإنسان محل النسيان، لا سيما في هذا الزمان، وإني معترف بالعجز والتقصير، وعدم العلم باليسير، فضلا عن / 5 الكثير، فإن تُلقي هذا

--------------------------------------------

1 مراد المصنف رحمه الله الاختلاف في الفروع، وقد وقع بين العلماء خلاف كبير في كون اختلاف الأئمة رحمة، وقد بين العلامة الشيخ محمد رشيد رضا هذه المسألة بيانا شافيا في مقدمة كتاب المغني لابن قدامة، فليراجع.

2 أي أن الصحابة أخرج الله تعالى بهم الناس من الظلام إلى نور الإسلام، وذلك بملازمتهم للنبي صلى الله عليه وسلم، ومرافقتهم له، ونقلهم لمن بعدهم سنته، وشريعته، فوضحوها للناس واهتدوا بها، وأنارت لهم الطريق للوصول إلى الحق.

3 في الأصل: (ينجوا) .

4 في الأصل: (عشرات) .

5 نهاية لـ (2) من الأصل.
গবেষণা বিভাগ

পবিত্রতা অধ্যায়

…

গবেষণা বিভাগ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতকে ইমামগণের মতপার্থক্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন ১ এবং একে তাদের নাজাতের পথ, হিদায়াত ও রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের অনুসরণ করল সে মুক্তি পেল, আর যে তাঁদের বিরোধিতা করল সে বিপদে পতিত হলো। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা আমাদের জন্য উভয় জগতে নেয়ামত স্বরূপ হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি সুমহান রব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি হিকমতসহ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক, যাঁরা আমাদের অন্ধকার থেকে বের করে এনেছেন। ২

অতঃপর: আমার জনৈক প্রিয়জন—আল্লাহ তাঁকে সঠিক পথের তাওফিক দান করুন এবং বিচ্যুতি ও সংশয় থেকে রক্ষা করুন—আমাকে অনুরোধ করেছেন যে, আমি যেন এই কিতাবে তাঁর জন্য ইবাদত অংশের এক-চতুর্থাংশ অধ্যায় অনুযায়ী চার মাযহাবের আলোকে সংকলন করি। আমি তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী অধিপতি আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়ে এবং এর নামকরণ করেছি 'মাযিদুন নি'মাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ' (ইমামগণের অভিমত সংকলনের অতিরিক্ত নেয়ামত)।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যে একে ইনসাফের সাথে গ্রহণ করবে এবং অযথা জোর-জবরদস্তি না করে লেখনীর ভুলভ্রান্তিগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। কেননা খুব কম লেখকই ভুল থেকে রক্ষা পান এবং খুব কম সংকলকই পদস্খলন থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। আর মানুষ তো বিস্মৃতি ও ভুলের আধার, বিশেষ করে এই জামানায়। আমি আমার অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং সামান্যতম জ্ঞানের অভাবের কথা স্বীকার করছি, প্রভূত জ্ঞানের কথা তো বলাই বাহুল্য। যদি এটি গৃহীত হয়...

--------------------------------------------

১. লেখকের (রহ.) উদ্দেশ্য হলো শাখা-প্রশাখাগত (ফুরু) বিষয়ের মতপার্থক্য। ইমামগণের মতপার্থক্য রহমত কি না, এ নিয়ে উলামায়ে কিরামের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে। আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ রশিদ রিদা ইবনু কুদামার আল-মুগনি কিতাবের মুকাদ্দামায় এ বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

২. অর্থাৎ সাহাবীগণের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা মানুষকে অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোর দিকে বের করে এনেছেন। আর তা হয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁদের সার্বক্ষণিক সান্নিধ্য, তাঁর সাহচর্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর সুন্নাহ ও শরীয়ত পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে। তাঁরা মানুষের কাছে তা সুস্পষ্ট করেছেন এবং মানুষ এর মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করেছে, যা তাদের জন্য সত্যে পৌঁছানোর পথকে আলোকিত করেছে।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে (ينجوا) রয়েছে।

৪. মূল পাণ্ডুলিপিতে (عشرات) রয়েছে।

৫. মূল পাণ্ডুলিপির ২ নং পৃষ্ঠার সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الكتاب بالقبول، فذلك هو المطلوب والمأمول، وإلا فكم مُصَنّف في زوايا الإهمال، وصاحبه من فحول الرجال، فكيف بحسين المحلي الحقير المعترف بالجهل والتقصير، فإن كان ناشئا عن إخلاص، نفع الله به الناس الخواص، وإن كان ناشئا عن طلب الاشتهار، فالله يجعله في احتقار، وهذا أول الشروع في المقصود، بعون الملك المعبود، فأقول:

যদি কিতাবটি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে, তবে সেটিই হবে কাঙ্ক্ষিত ও আশাপ্রদ। অন্যথায় কত গ্রন্থই তো অবহেলার আস্তাকুঁড়ে পড়ে থাকে, অথচ সেগুলোর রচয়িতাগণ ছিলেন বিজ্ঞ ও শ্রেষ্ঠ পুরুষ। এমতাবস্থায় নিজের অজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকারকারী অধম হুসাইন আল-মাহাল্লীর অবস্থা কী হবে? সুতরাং যদি এই কাজ নিষ্ঠার সাথে হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ এর মাধ্যমে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে উপকৃত করবেন। আর যদি তা প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ যেন একে তুচ্ছ ও লাঞ্ছিত করেন। মাবুদ মালিকের সাহায্যে এখন মূল উদ্দেশ্য শুরু করছি। আমি বলছি:

(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
(كتاب الطهارة)

*الماء المستعمل في فرض الطهارة طاهر 1 غير مطهر عند الثلاثة 2.

وقال مالك 3: هو مطهر ما دام باقيا على خلقته 4.

--------------------------------------------

1 في الأصل: طاهرة.

2 هذا الذي ذكره المصنف هو أشهر الروايات عن الثلاثة، وعن أبي حنيفة روايتان أخريان،

الأولى: أنه نجس نجاسة مغلظة، والثانية، أنه نجس نجاسة مخففة.

وقال الشافعي في القديم: هو طهور.

وعن أحمد روايتان أخريان الأولى: أنه طاهر مطهر، والثانية: أنه نجس.

وانظر: ملتقى الأبحر (1/25) ، الاختيار (1: 16) ، الهداية للمرغيناني (1/20) ، المجموع (1/151، 153) ، مغني المحتاج (1/20) ، روضة الطالبين (1/7) ، المغني (1/19) ، المحرر (1/2) ، الكافي لابن قدامة (1/5) .

3 مالك بن أنس بن مالك الأصبحي، المدني، الإمام المشهور، إمام دار الهجرة، وأحد الأئمة الأربعة أصحاب المذاهب المشهورة، وهو من تابعي التابعين، أجمعت طوائف العلماء على إمامته وجلالته، وتبجيله وتوقيره، وعلو كعبه في الفقه والحديث، سأله الخليفة المنصور أن يضع كتاباً للناس يحملهم على العمل به، فصنف الموطأ، مات بالمدينة المنورة سنة (179هـ) .

ترجمته في: الديباج المذهب (17) ، المعارف (498) ، وفيات الأعيان (4/135) ، تذكرة الحفاظ (1/207) ، طبقات الحفاظ للسيوطي (96) ، كشف الظنون (2/1907) ، الأعلام (5/258) .

4 المشهور من مذهب مالك أنه طاهر مطهر ولكن يكره مع وجود غيره، فإنه روي عنه أنه قال: لا خير فيه، ولا أحب لأحد أن يتوضأ به، فإن فعل وصلى لم أر عليه إعادة الصلاة، وقيل: إنه طاهر غير مطهر.

وانظر المدونة (2/4) ، القوانين الفقهية (25) ، سراج السالك (1/54) ، الجامع للقرطبي (13/48) .
(কিতাবুত তাহারাহ)

পবিত্রতার (طهارة) ফরজ আদায়ে ব্যবহৃত পানি তিন ইমামের নিকট পবিত্র (طاهر) কিন্তু পবিত্রকারী (غير مطهر) নয়।

ইমাম মালিক বলেন: এটি পবিত্রকারী (مطهر) যতক্ষণ পর্যন্ত তা তার মূল প্রকৃতিতে অবশিষ্ট থাকে।

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে: طاهرة (পবিত্র)।

২. লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা তিন ইমামের নিকট থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। ইমাম আবু হানিফা থেকে আরও দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে— প্রথমটি হলো: এটি গুরুতর অপবিত্রতা (نجاسة مغلظة) এবং দ্বিতীয়টি হলো: এটি লঘু অপবিত্রতা (نجاسة مخففة)।

ইমাম শাফেঈ তাঁর পুরাতন (قديم) মতে বলেছেন: এটি অতি পবিত্র/পবিত্রকারী (طهور)।

ইমাম আহমাদ থেকে আরও দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে— প্রথমটি হলো: এটি পবিত্র ও পবিত্রকারী (طاهر مطهر) এবং দ্বিতীয়টি হলো: এটি অপবিত্র (نجس)।

দেখুন: মুলতাকাল আবহুর (১/২৫), আল-ইখতিয়ার (১: ১৬), আল-মারগিনানি রচিত আল-হিদায়া (১/২০), আল-মাজমু (১/১৫১, ১৫৩), মুগনি আল-মুহতাজ (১/২০), রাওদাতুত তালিবিন (১/৭), আল-মুগনি (১/১৯), আল-মুহাররার (১/২), ইবনে কুদামা রচিত আল-কাফি (১/৫)।

৩. মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক আল-আসবাহি, আল-মাদানি; তিনি সুপ্রসিদ্ধ ইমাম, দারুল হিজরাহর ইমাম এবং প্রসিদ্ধ মাযহাব চতুষ্টয়ের ইমামগণের অন্যতম। তিনি তাবে-তাবেয়িদের (تابعي التابعين) অন্তর্ভুক্ত। ওলামায়ে কেরামের সকল গোষ্ঠী তাঁর ইমামত, শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম্য, সম্মান এবং ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। খলিফা আল-মনসুর তাঁকে মানুষের জন্য এমন একটি কিতাব সংকলন করতে অনুরোধ করেন যা পালনে তিনি তাদের বাধ্য করবেন; ফলে তিনি মুয়াত্তা সংকলন করেন। তিনি ১৭৯ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দিবাজুল মাজহাব (১৭), আল-মাআরিফ (৪৯৮), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৪/১৩৫), তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/২০৭), সুয়ুতি রচিত তাবাকাতুল হুফফাজ (৯৬), কাশফুয যুনুন (২/১৯০৭), আল-আলাম (৫/২৫৮)।

৪. মালিকি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এটি পবিত্র ও পবিত্রকারী (طاهر مطهر), তবে অন্য পানির উপস্থিতিতে এর ব্যবহার অপছন্দনীয় (يكره)। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "এতে কোনো কল্যাণ নেই এবং আমি পছন্দ করি না যে কেউ এটি দিয়ে ওজু করুক। তবে যদি কেউ তা করে সালাত আদায় করে ফেলে, তবে আমি তার ওপর পুনরায় সালাত আদায় করা আবশ্যক মনে করি না।" আবার বলা হয়েছে যে: এটি পবিত্র (طاهر) কিন্তু পবিত্রকারী (غير مطهر) নয়।

দেখুন: আল-মুদাওয়ানা (২/৪), আল-কাওয়ানিনুল ফিকহিয়্যাহ (২৫), সিরাজুস সালিক (১/৫৪), কুরতুবি রচিত আল-জামি (১৩/৪৮)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال أبو يوسف 1 بنجاسته 2.

*وماء الورد الخِلَاف 3 لا يتطهر به اتفاقا 4.

* والماء المتغير بالزعفران ونحوه تغيرا يمنع 5 إطلاق اسم الماء عليه لا يتطهر به عند الثلاثة 6.

--------------------------------------------

1 يعقوب بن إبراهيم بن حبيب الأنصاري، أبو يوسف القاضي، صاحب أبي حنيفة، ومن كبار تلاميذه، وإليه يرجع الفضل - بعد الله تعالى – في نشر فقه شيخه في سائر الأمصار، وثقه النسائي وأبو حاتم وغيرهما، وقال عنه يحيى بن معين: ما رأيت في أصحاب الرأي أثبت في الحديث ولا أحفظ ولا أصح رواية من أبي يوسف، وقال الإمام أحمد: كان منصفا في الحديث، ولي القضاء للهادي والمهدي والرشيد، من مصنفاته: الخراج، الآثار، أدب القاضي. مات ببغداد سنة (182هـ) .

ترجمته في: المعارف (499) ، تاريخ بغداد (14/242) ، الجواهر المضيئة (2/220) ، وفيات الأعيان (6/218) ، طبقات الحفظ للسيوطي (127) ، هدية العارفين (2/536) ، الأعلام (8/193) .

2 انظر مجمع الأنهر (1/30) ، البحر الرائق (1/99) .

3 الخِلَاف على وزن كتاب، واحده خلافة، وهو نوع من شجر الصفصاف ينبت بأرض العرب، ويسمى السوجر، وهو شجر عظام، وأصنافه كثيرة، وقيل: إنه سمي خلافاً لأن السيل جاء ببذره واحتمله من بلد إلى آخر.

وانظر: لسان العرب (9/97) ، القاموس المحيط (3/142) ، الصحاح (4/1357) .

4 الإجماع (19) ، مراتب الإجماع (17) ، بدائع الصنائع (1/15) ، الشرح الصغير (1/13) ، المهذب (1/4) ، المغني (1/11) .

5 في النسختين: (لا يمنع) وما أثبته هو الصواب.

6 التفريع (1/216) ، مغني المحتاج (1/18) ، المغني (1/11) .
এবং আবু ইউসুফ ১ এটি নাপাক হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন ২।

*এবং গোলাপজল ও খিঁলাফ ৩ (গাছ)-এর পানি দ্বারা সর্বসম্মতভাবে ৪ পবিত্রতা অর্জন করা যায় না।

* আর জাফরান ও তদ্রূপ অন্য কোনো বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত পানি, যার পরিবর্তন একে সাধারণভাবে 'পানি' বলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় ৫, তা দ্বারা তিন ইমামের ৬ মতে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না।

--------------------------------------------

১ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাবিব আল-আনসারী, আবু ইউসুফ আল-কাদি, তিনি ইমাম আবু হানিফার সহচর এবং তাঁর অন্যতম প্রধান ছাত্র। আল্লাহ তাআলার পর তাঁর দিকেই সব জনপদে তাঁর উস্তাদের ফিকহ ছড়িয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব বর্তায়। নাসাঈ, আবু হাতিম এবং অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আসহাবুর রায়ের মধ্যে আমি আবু ইউসুফের চেয়ে হাদিসের ক্ষেত্রে অধিক সুদৃঢ় (أثبت), অধিক হাফেজ (أحفظ) এবং অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনাকারী (أصح رواية) আর কাউকে দেখিনি।" ইমাম আহমদ বলেন: "তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন।" তিনি হাদি, মাহদি ও রশিদের শাসনামলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-খারাজ, আল-আসার, আদাবুল কাদি। তিনি ১৮২ হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাআরিফ (৪৯৯), তারিখ বাগদাদ (১৪/২৪২), আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ (২/২২০), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৬/২১৮), সুয়ূতী রচিত তাবাকাতুল হুফফাজ (১২৭), হাদিয়াতুল আরিফীন (২/৫৩৬), আল-আলাম (৮/১৯৩)।

২ দেখুন: মাজমাউল আনহুর (১/৩০), আল-বাহরুর রায়েক (১/৯৯)।

৩ 'খিঁলাফ' শব্দটি 'কিতাব'-এর ওজনে, এর একবচন 'খিঁলাফাহ'। এটি এক প্রকার উইলো (Willow) গাছ যা আরব ভূখণ্ডে জন্মে, একে 'সাওজার'ও বলা হয়। এগুলো বিশাল আকৃতির গাছ এবং এর অনেক প্রজাতি রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, একে 'খিঁলাফ' (ভিন্নতা) নামকরণ করা হয়েছে কারণ স্রোত এর বীজ এক দেশ থেকে বহন করে অন্য দেশে নিয়ে গিয়েছিল।

আরও দেখুন: লিসানুল আরব (৯/৯৭), আল-কামুসুল মুহীত (৩/১৪২), আস-সিহাহ (৪/১৩৫৭)।

৪ আল-ইজমা (১৯), মারাতিবুল ইজমা (১৭), বাদায়েউস সানায়ে (১/১৫), আশ-শারহুস সাগীর (১/১৩), আল-মুহাজ্জাব (১/৪), আল-মুগনী (১/১১)।

৫ মূল উভয় পাণ্ডুলিপিতে ছিল: (বাধা দেয় না), তবে আমি যা সাব্যস্ত করেছি সেটিই সঠিক।

৬ আত-তাফরী (১/২১৬), মুগনী আল-মুহতাজ (১/১৮), আল-মুগনী (১/১১)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأجاز ذلك أبو حنيفة 1 ما لم يطبخ به، أو يغلب على أجزائه فيكون غير مطهر بالاتفاق 2.

* والماء المتغير بطول المكث، أو بطين، أو طُحْلُب 3، أو ملح، ماء مطهر بالاتفاق 4.

--------------------------------------------

1 هو النعمان بن ثابت بن زوطى، التيمي بالولاء، الكوفي، أبو حنيفة، فقيه العراق، وإمام أصحاب الرأي، وصاحب المذهب المعروف، وأحد الأئمة الأربعة المشهورين، كان قوي الحجة من أحسن الناس منطقاً، قال عنه الإمام مالك: رأيت رجلا لو كلمته في هذه السارية أن يجعلها ذهبا لقام بحجته، وكان كريما في أخلاقه، جواداً، وقال عنه الإمام الشافعي: الناس في الفقه عيال عليه، وأكره على القضاء، فحبس إلى أن مات سنة (150هـ) .

ترجمته في: الجواهر المضيئة (1/49) ، (طبقات ابن سعد (6/386) ، تاريخ بغداد (13/323) ، وفيات الأعيان (5/405) ، تهذيب الأسماء واللغات (3/216) ، هدية العارفين (2/495) ، الأعلام (8/36) .

2 البحر الرائق (1/71 – 72) ، مجمع الأنهر (1/27) .

3 الطُلُحب: نبات أحضر يخرج من أسفل الماء حتى يعلوه، وقيل: هو الذي يكون على الماء كأنه نسج العنكبوت، ويقال له العَرْمض.

انظر: اللسان (1/556) ، تهذيب الأسماء واللغات (3/185) ، (المطلع (6) .

4 الإجماع (19) ،المختار (1/14) ، الشرح الصغير (1/14) ، المهذب (1/5) ، المقنع (1/15) .
আবু হানিফা ১ এটিকে বৈধতা দিয়েছেন যতক্ষণ না তা দ্বারা কিছু রান্না করা হয়, অথবা তা পানির উপাদানের ওপর প্রবল হয়ে যায়; এমতাবস্থায় তা সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) পবিত্রকারী থাকে না ২।

* দীর্ঘকাল স্থির থাকার কারণে, অথবা কাদা, শৈবাল ৩ বা লবণের কারণে পরিবর্তিত পানি সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) পবিত্রকারী ৪।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন নুমান ইবনে সাবিত ইবনে জুতা, আত-তাইমি (আল-ওয়ালা সূত্রে), আল-কুফি, আবু হানিফা; তিনি ইরাকের ফকিহ এবং আসহাবুর রায়ের (أصحاب الرأي) ইমাম, সুপরিচিত মাযহাবের প্রবর্তক এবং প্রসিদ্ধ চার ইমামের একজন। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী দলিলের অধিকারী ও মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাগ্মিতার অধিকারী ছিলেন। ইমাম মালিক তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছি, তিনি যদি এই স্তম্ভটিকে সোনায় রূপান্তর করার বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করতেন, তবে তিনি নিজ যুক্তিবলে তা প্রমাণ করে দিতেন।" তিনি উন্নত চরিত্রের অধিকারী ও অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। ইমাম শাফেয়ী তাঁর সম্পর্কে বলেন: "ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।" তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে বন্দি করা হয় এবং ১৫০ হিজরিতে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বন্দি ছিলেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ (১/৪৯), তাবাকাত ইবনে সাদ (৬/৩৮৬), তারিখু বাগদাদ (১৩/৩২৩), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৫/৪০৫), তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (৩/২১৬), হাদিয়্যাতুল আরিফিন (২/৪৯৫), আল-আলাম (৮/৩৬)।

২ আল-বাহরুর রায়িক (১/৭১–৭২), মাজমাউল আনহুর (১/২৭)।

৩ শৈবাল (طحلب): এটি পানির নিচে উৎপন্ন হওয়া সবুজ উদ্ভিদ যা পানির ওপর ভেসে থাকে। কেউ কেউ বলেন: এটি পানির ওপর মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে থাকে এবং একে আরমাদও বলা হয়।

দেখুন: লিসানুল আরব (১/৫৫৬), তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (৩/১৮৫), আল-মুতলি (৬)।

৪ আল-ইজমা (১৯), আল-মুখতার (১/১৪), আশ-শারহুস সাগির (১/১৪), আল-মুহাযযাব (১/৫), আল-মুকনি (১/১৫)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقال ابن سيرين 1: غير مطهر 2.

* ويكره الوضوء بماء زمزم عند مالك 3، وبما شربت منه هرة أو دجاجة مخلاة 4 عند أبي حنيفة 5.

* وإذا /6 كان الماء قليلا تنجس بملاقاة النجاسات وإن لم يتغير 7.

--------------------------------------------

1 محمد بن سيرين، أبو بكر الأنصاري البصري، مولى أنس بن مالك رضي الله، تابعي جليل، سمع من أبي هريرة، وأنس بن مالك، وابن عباس رضي الله عنهم، وغيرهم. وحدث عنه قتادة، ويونس بن عبيد، وجرير بن حازم وآخرون، وقد وثقه غير واحد، كان إمام وقته في الفقه والحديث والتفسير وسائر العلوم، واشتهر بالورع والزهد وتعبير الرؤيا، مات بالبصرة سنة (110هـ) .

ترجمته في: طبقات ابن سعد (7/193) ، حلية الأولياء (2/263) ، سير أعلام النبلاء (4/606) .

2 انظر قوله في: مصنف ابن أبي شيبة (1/42) ، حلية العلماء (1/67) ، المغني (1/14) ، بداية المجتهد (1/38) .

3 سراج السالك (1/52) ، حاشية العدوي (1/138) .

4 هي التي تأكل القاذورات، انظر: بدر المتقي (1/35) .

5 تبيين الحقائق (1/33) ، ملتقى الأبحر (1/28) .

6 نهاية لـ (3) من الأصل.

7 في الأصل: (لم يكن يتغير) .
এবং ইবনে সিরিন ১ বলেছেন: তা পবিত্রকারী নয় (غير مطهر) ২।

* এবং ইমাম মালিক ৩-এর নিকট জমজমের পানি দ্বারা অজু করা অপছন্দনীয় (مكروه), আর ইমাম আবু হানিফা ৫-এর নিকট বিড়াল অথবা বিচরণশীল (যেসব মুরগি নোংরা জিনিস খায়) মুরগির ৪ উচ্ছিষ্ট পানি দ্বারা অজু করা অপছন্দনীয় (مكروه)।

* আর যখন /৬ পানি অল্প হয়, তখন নাপাকির সংস্পর্শে তা অপবিত্র (تنجس) হয়ে যায়, যদিও তার কোনো পরিবর্তন ৭ না ঘটে।

--------------------------------------------

১ মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, আবু বকর আল-আনসারি আল-বাসরি, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্ত দাস (مولى), তিনি একজন মহান তাবেয়ি (تابعي)। তিনি আবু হুরায়রা, আনাস ইবনে মালিক, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং অন্যান্যদের থেকে শুনেছেন। তাঁর থেকে কাতাদাহ, ইউনুস ইবনে উবাইদ, জারির ইবনে হাযিম এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। একাধিক ইমাম তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। তিনি ফিকহ, হাদিস, তাফসির এবং অন্যান্য বিজ্ঞানে তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর পরহেজগারি (ورع), দুনিয়াবিমুখতা (زهد) এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ১১০ হিজরি সনে বসরায় ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ (৭/১৯৩), হিলইয়াতুল আউলিয়া (২/২৬৩), সিয়ারু আলামিন নুবালা (৪/৬০৬)।

২ তাঁর বক্তব্য দেখুন: মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ (১/৪২), হিলইয়াতুল উলামা (১/৬৭), আল-মুগনি (১/১৪), বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/৩৮)।

৩ সিরাজুস সালিক (১/৫২), হাশিয়াতুল আদুয়ি (১/১৩৮)।

৪ এটি সেই মুরগি যা অপবিত্র বস্তু ভক্ষণ করে, দেখুন: বদরুল মুত্তাকি (১/৩৫)।

৫ তাবয়িনুল হাকায়িক (১/৩৩), মুলতাকাল আবহুর (১/২৮)।

৬ মূল পাণ্ডুলিপির ৩ নং পৃষ্ঠার সমাপ্তি।

৭ মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (পরিবর্তন হয়নি)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عند أبي حنيفة 1 والشافعي 2 3 وأحمد 4 في إحدى 5 الروايتين عنه 6.

--------------------------------------------

1 مختصر الطحاوي (16) .

2 محمد بن إدريس بن العباس الهاشمي القرشي، أبو عبد الله المطلبي، أحد الأئمة الأربعة المجتهدين المشهورين، ،إمام المذهب المعروف، وإليه تنسب الشافعية كافة، ومناقبه كثيرة مشهورة، ولد بغزة بفلسطين، وحمل منها إلى مكة وهو في الثانية من عمره، وزار بغداد مرتين، وكان من أشعر الناس، قال عنه الإمام أحمد: ما أحد ممن بيده محبرة أو ورقة إلا وللشافعي في رقبته منة، كان ذكيا مفرطا، وكان الحميدي يقول: حدثنا سيد الفقهاء الشافعي. من مصنفاته: الأم، الرسالة، أحكام القرآن، اختلاف الحديث، وغيرها، مات بمصر سنة (204هـ) .

ترجمته في: حلية الأولياء (9/63) ، تاريخ بغداد (2/56) ، تهذيب الأسماء واللغات (1/44) ، وفيات الأعيان (4/163) ، تذكرة الحفاظ (1/364) ، الأعلام (6/26) .

3 الأم (1/17) ، الروضة (1/20) .

4 أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال الشيباني، أبو عبد الله إمام المذهب المعروف، كان من كبار الحفاظ، ومن أخيار هذه الأمة، مجمع على جلالته وزهده، وحفظه ووفور علمه، قال عنه أبو حاتم: كان بارع الفهم بمعرفة صحيح الحديث وسقيمه، وقال أيضا: إذا رأيت الرجل يحب أحمد بن حنبل فاعلم أنه صاحب سنة، وقال عنه الإمام الشافعي: خرجت من بغداد فما خلفت بها أفقه ولا أزهد ولا أورع ولا أعلم منه، له العديد من المصنفات منها: المسند، فضائل الصحابة، المسائل، العلل والرجال، والزهد، وغيرها. مات ببغداد سنة (241هـ) .

ترجمته في: الجرح والتعديل (1/92) ، حلية الأولياء (9/161) ، تاريخ بغداد (4/412) ، وفيات الأعيان (1/63) ، تذكرة الحفاظ (2/431) ، سير أعلام النبلاء (11/177- 358) ، المنهج الأحمد (1/51) ، الأعلام (1/203) .

5 في النسختين: (أحد) .

6 وهي أصح الروايتين وأظهرهما. وانظر: المذهب الأحمد (3) ، الإنصاف (1/55- 56) .
আবু হানিফা ১, শাফেয়ী ২ ৩ এবং আহমদ ৪-এর নিকট তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনা (الروايتين) দুটির একটিতে ৫ ৬।

--------------------------------------------

১ মুখতাসারুত তাহাবি (১৬)।

২ মুহাম্মদ ইবন ইদ্রিস ইবন আব্বাস আল-হাশেমি আল-কুরাশি, আবু আবদুল্লাহ আল-মুত্তালিবি; প্রসিদ্ধ চার মুজতাহিদ (المجتهدين) ইমামের একজন এবং সুপরিচিত মাজহাবের ইমাম। সমস্ত শাফেয়ী মাজহাব তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত। তাঁর অসংখ্য ও সুপ্রসিদ্ধ গুণাবলি রয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনের গাজায় জন্মগ্রহণ করেন এবং দুই বছর বয়সে সেখান থেকে মক্কায় স্থানান্তরিত হন। তিনি দুইবার বাগদাদ ভ্রমণ করেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিপ্রতিভার অধিকারী ছিলেন। ইমাম আহমদ তাঁর সম্পর্কে বলেন: যার হাতেই কালির দোয়াত বা কাগজ রয়েছে, তার ঘাড়েই শাফেয়ীর অনুগ্রহ রয়েছে। তিনি অত্যন্ত প্রখর মেধাবী ছিলেন। আল-হুমাইদি বলতেন: ফকিহগণের সরদার (سيد الفقهاء) শাফেয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-উম্ম, আর-রিসালাহ, আহকামুল কুরআন, ইখতিলাফুল হাদিস ইত্যাদি। তিনি ২০৪ হিজরিতে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দ্রষ্টব্য: হিলইয়াতুল আউলিয়া (৯/৬৩), তারিখ বাগদাদ (২/৫৬), তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/৪৪), ওফায়াতুল আইয়ান (৪/১৬৩), তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/৩৬৪), আল-আলাম (৬/২৬)।

৩ আল-উম্ম (১/১৭), আর-রাওদাহ (১/২০)।

৪ আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাম্বল ইবন হিলাল আশ-শাইবানি, আবু আবদুল্লাহ; সুপরিচিত মাজহাবের ইমাম। তিনি বড় মাপের হাফেজ (الحفاظ) এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মর্যাদা, দুনিয়াবিমুখতা, মুখস্থশক্তি এবং অগাধ ইলমের ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আবু হাতিম তাঁর সম্পর্কে বলেন: সহিহ (صحيح) হাদিস এবং তার ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) অবস্থা নিরূপণে তিনি অনন্য প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। তিনি আরও বলেন: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে আহমদ ইবন হাম্বলকে ভালোবাসতে দেখবে, তখন জেনে রেখো সে সুন্নাহর অনুসারী (صاحب سنة)। ইমাম শাফেয়ী তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি বাগদাদ ত্যাগ করেছি অথচ আমি সেখানে তাঁর চেয়ে অধিক বিজ্ঞ ফকিহ (أفقه), অধিক দুনিয়াবিমুখ (أزهد), অধিক পরহেজগার (أورع) এবং অধিক জ্ঞানী কাউকে রেখে আসিনি। তাঁর রচিত অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-মুসনাদ, ফাদায়িলুস সাহাবাহ, আল-মাসায়িল, আল-ইলাল ওয়ার-রিজাল, আজ-জুহদ ইত্যাদি। তিনি ২৪১ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দ্রষ্টব্য: আল-জারহ ওয়াত তাদিল (১/৯২), হিলইয়াতুল আউলিয়া (৯/১৬১), তারিখ বাগদাদ (৪/৪১২), ওফায়াতুল আইয়ান (১/৬৩), তাযকিরাতুল হুফফাজ (২/৪৩১), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১১/১৭৭-৩৫৮), আল-মানহাজুল আহমাদ (১/৫১), আল-আলাম (১/২০৩)।

৫ উভয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আহাদ)।

৬ আর এটিই হলো বর্ণনা দুটির মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) এবং অধিক সুস্পষ্ট (أظهر)। দেখুন: আল-মাজহাবুল আহমাদ (৩), আল-ইনসাফ (১/৫৫-৫৬)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وفي الرواية الأخرى عنه 1: أنه طاهر ما لم يتغير 2.

وهي رواية عن مالك 3.

* والمراد بالقليل عند الشافعي 4: دون القلتين 5.

وعند أبي حنيفة: ما لم يبلغ عشراً 6 في عشر 7.

--------------------------------------------

(عنه) : ساقط من الأصل.

2 انظر المصدرين السابقين، والكافي لابن قدامة (1/7) .

3 عن مالك – رحمه الله – روايتان، الأولى ذكرها المصنف وهي رواية المدنيين عنه، والثانية: كقول أبي حنيفة، وهي رواية المصرين عنه، وانظر: المقدمات (1/86) . والجامع للقرطبي (13/42) .

4 الأم (1/ 18) ، المهذب (1/6) .

5 القلة في اللغة: الجرة العظيمة، سميت بذلك لأن الرجل العظيم يقلها بيديه: أي يرفعها، وسيذكر المصنف بعد قليل مقدارها.

6 في الأصل: (عشرٌ) .

7 أي عشر أذرع في عشر أذرع، والمراد بالذراع هنا ذراع الكرباس (ثوب غليظ من القطن) وهو يساوي (2، 46سم) .

وانظر تبيين الحقائق (1/21) ، بدر المتقي (1/29) ، اللسان (6/195) ، معجم لغة الفقهاء (379- 380، 450) .
এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনায় (رواية) ১: নিশ্চয়ই তা পবিত্র যতক্ষণ না তা পরিবর্তিত হয় ২।

এটি ইমাম মালিক থেকে একটি বর্ণনা (رواية) ৩।

* আর ইমাম শাফিয়ীর নিকট ‘অল্প’ বলতে উদ্দেশ্য ৪: দুই মটকা (قلتين) এর কম ৫।

এবং ইমাম আবু হানিফার নিকট: যতক্ষণ না দশ ৬ বাই দশ ৭-এ পৌঁছায়।

--------------------------------------------

(তাঁর থেকে): মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

২ পূর্বোক্ত উৎসদ্বয় এবং ইবনু কুদামার আল-কাফি (১/৭) দেখুন।

৩ ইমাম মালিক —রাহিমাহুল্লাহ— থেকে দুটি বর্ণনা (رواية) বর্ণিত রয়েছে; প্রথমটি লেখক উল্লেখ করেছেন এবং সেটি তাঁর থেকে মদিনাবাসীদের বর্ণনা (رواية), আর দ্বিতীয়টি: ইমাম আবু হানিফার মতের অনুরূপ, যা তাঁর থেকে মিশরীয়দের বর্ণনা (رواية); দেখুন: আল-মুকাদ্দিমাত (১/৮৬) এবং আল-জামি' লিল কুরতুবি (১৩/৪২)।

৪ আল-উম্ম (১/১৮), আল-মুহাজ্জাব (১/৬)।

৫ শাব্দিক অর্থে আল-কুল্লাহ (القلة): বিশাল মটকা; একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ শক্তিশালী ব্যক্তি এটি তার দুই হাত দিয়ে বহন করে: অর্থাৎ এটি উত্তোলন করে; লেখক অচিরেই এর পরিমাণ উল্লেখ করবেন।

৬ মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আশরুন)।

৭ অর্থাৎ দশ হাত (ذراع) বাই দশ হাত (ذراع); আর এখানে হাত (ذراع) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কারবাস (এক প্রকার মোটা সুতি কাপড়) পরিমাপের হাত (ذراع), যা ৪৬.২ সেন্টিমিটারের সমান।

এবং দেখুন: তাবয়ীনুল হাকাইক (১/২১), বদরুল মুত্তাকী (১/২৯), আল-লিসান (৬/১৯৫), মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা (৩৭৯-৩৮০, ৪৫০)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فإن بلغ قلتين – وهما خمسمائة رطل بغدادي 1 تقريبا في الأصح عند الشافعي 2، وعند الإمام أحمد أربعمائة رطل وستة وأربعون رطلا 3 وثلاثة أسباع 4 رطل 5، وبالدمشقي مائة رطل وثمانية أرطال 6 – لم ينجس إلا بتغير 7 8.

--------------------------------------------

1 الرطل: بكسر الراء وفتحها والكسر أفصح، واختلف في رطل بغداد، فقيل (128 وأربعة أسباع الدرهم) ، وقيل (128 درهما فقط) ، وقيل: 130 درهما) ، فيكون الرطل بالجرام الحالي على القول الأول: (695 ر407 غراما) ، وعلى الثاني (880 ر405 غراما) ، وعلى الأخير (23ر412غراما) .

وانظر: تهذيب الأسماء واللغات (3/123) ، تحرير ألفاظ التنبيه (110) ، معجم لغة الفقهاء (223) .

2 للشافعية ثلاثة أوجه في مقدار القلتين، الأول: - وهو الأصح – ذكره المصنف، والثاني: أنهما ستمائة رطل، والثالث: أنهما ألف رطل، فيكون مقدارهما بالكيلوجرام على القول الأول: (84 ر 203كجم) ، وعلى الثاني (61ر 244كجم) ، وعلى الثالث 695ر 407كجم) .

وانظر: المجموع (1/221) ، تحرير ألفاظ التنبيه (32، 110) ، معجم لغة الفقهاء (449) .

3 في الأصل: (رطل) .

4 في الأصل: (أسبع) .

5 ظاهر مذهب أحمد أن القلتين خمسمائة رطل بالبغدادي (5ر 160ليتراً) ، وهذه الرواية هي المذهب، وعليها جماهير أصحابه، وعنه رواية ثانية أنها أربعمائة رطل (61ر 128 ليتراً) ، وعنه رواية ثالثة: أنها ستمائة رطل (61ر 244ليتراً) .

وانظر: الهداية لأبي الخطاب (1/10) ، الإنصاف (1/68) ، المحرر (1/2) ، المذهب الأحمد (3) ، معجم لغة الفقهاء (449- 450) .

6 انظر: الإنصاف (1/69) ، المطلع (8) .

7 في س: (بالتغير) .

8 الروضة (1/20) ، المغني (1/23) .
সুতরাং যদি তা দুই কুল্লায় পৌঁছায়—যা ইমাম শাফিঈর নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মতানুসারে প্রায় পাঁচশত বাগদাদি রতল, এবং ইমাম আহমদের নিকট চারশত ছেচল্লিশ রতল এবং এক রতলের তিন-সপ্তমাংশ, আর দামেস্কি মাপে একশত আট রতল—তবে তা (স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধে) পরিবর্তন হওয়া ছাড়া অপবিত্র হয় না।

--------------------------------------------

১. রতল: 'রা' বর্ণে কাসরাহ (জের) এবং ফাতহাহ (জবর) উভয় যোগে পড়া যায়, তবে কাসরাহ যোগে পড়া অধিক সাবলীল। বাগদাদি রতলের পরিমাপে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে (১২৮ এবং দিরহামের চার-সপ্তমাংশ), আবার বলা হয়েছে (মাত্র ১২৮ দিরহাম), এবং বলা হয়েছে (১৩০ দিরহাম)। ফলে বর্তমানের গ্রাম হিসেবে প্রথম মতানুসারে রতলের ওজন হবে (৪০৭.৬৯৫ গ্রাম), দ্বিতীয় মতানুসারে (৪০৫.৮৮০ গ্রাম) এবং শেষ মতানুসারে (৪১২.২৩ গ্রাম)।

আরও দেখুন: তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (৩/১২৩), তাহরির আলফাজ আত-তানবিহ (১িও), মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা (২২৩)।

২. দুই কুল্লার পরিমাণের ব্যাপারে শাফিঈগণের তিনটি অভিমত রয়েছে, প্রথমটি:—আর এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح)—যা লেখক উল্লেখ করেছেন; দ্বিতীয়টি: তা ছয়শত রতল; এবং তৃতীয়টি: তা এক হাজার রতল। ফলে কিলোগ্রাম হিসেবে প্রথম মতানুসারে এর পরিমাণ হবে (২০৩.৮৪ কেজি), দ্বিতীয় মতানুসারে (২৪৪.৬১ কেজি) এবং তৃতীয় মতানুসারে (৪০৭.৬৯৫ কেজি)।

আরও দেখুন: আল-মাজমু' (১/২২১), তাহরির আলফাজ আত-তানবিহ (৩২, ১১০), মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা (৪৪৯)।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (রিল)।

৪. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আসবু')।

৫. ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রকাশ্য মত হলো দুই কুল্লা বাগদাদি মাপে পাঁচশত রতল (১৬০.৫ লিটার), আর এই বর্ণনা (رواية) টিই মাযহাব হিসেবে স্বীকৃত এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এর ওপরই রয়েছেন। তাঁর থেকে দ্বিতীয় একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে তা চারশত রতল (১২৮.৬১ লিটার), এবং তাঁর থেকে তৃতীয় একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে তা ছয়শত রতল (২৪৪.৬১ লিটার)।

আরও দেখুন: আল-হিদায়াহ লি-আবিল খাত্তাব (১/১০), আল-ইনসাফ (১/৬৮), আল-মুহাররার (১/২), আল-মাযহাবুল আহমাদ (৩), মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা (৪৪৯-৪৫০)।

৬. দেখুন: আল-ইনসাফ (১/৬৯), আল-মুতলি' (৮)।

৭. 'স' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (পরিবর্তনের দ্বারা)।

৮. আর-রাওদাহ (১/২০), আল-মুগনি (১/২৩)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وقال مالك: ليس للماء الذي حلته نجاسة حد 1 ينتهي إليه، فإن تغير طعما أو لونا أو ريحا تنجس قليلا كان أو كثيراً 2 3.

[وقال أبو حنيفة: إذا اختلط الماء بالنجاسة ينجس إلا إذا كان كثيراً] 4 وهو ما بلغ عشرا 5 في عشر 6.

* والماء الجاري كالراكد 7 الكثير عند أبي حنيفة 8 وأحمد 9.

وقال مالك: الجاري لا ينجس إلا بالتغير قليلا كان أو كثيراً 10.

وهو المختار عند الشافعي 11.

* * * * *

--------------------------------------------

1 في س: (حداً) .

2 في الأصل: (كثير) .

3 سبقت الإشارة إلي قول مالك في أول المسألة، وانظر التمهيد (1/328) .

4 ما بين القوسين أسقط من: (س) .

5 في الأصل: (عشر) .

6 سبقت الإشارة إلى قول أبي حنيفة في أول المسألة، وانظر: فتح باب العناية (1/107) .

7 في الأصل: (كاراكد اكثير) .

8 اللباب (1/21) ، ملتقى الأبحر (1/25) .

9 هذا هو الأشهر عن أحمد.

وانظر: الكافي لابن قدامة (1/9) ، الشرح الكبير لأبي الفرج المقدسي (1/27) ، الإنصاف (1/57) .

10 سراج السالك (1/53) ، الكافي لابن عبد البر (1/130) .

11 الروضة (1/26) ، مغني المحتاج (1/24- 25) .
ইমাম মালিক বলেন: যে পানিতে অপবিত্রতা (نجاسة) মিশেছে তার জন্য এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা (حد) নেই যেখানে পৌঁছালে তা অপবিত্র হবে। বরং যদি তার স্বাদ, বর্ণ বা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অল্প হোক বা বেশি, অপবিত্র (تنجس) হয়ে যাবে।

[ইমাম আবু হানিফা বলেন: যখন পানির সাথে অপবিত্রতা (نجاسة) মিশে যায়, তখন তা অপবিত্র (نجس) হয়ে যায়, যদি না তা পরিমাণে অধিক (كثيراً) হয়] আর তা হলো যা পরিমাণে দশ হাত বাই দশ হাত পর্যন্ত পৌঁছেছে।

* ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আহমাদ-এর নিকট প্রবহমান পানিও স্থির বা বদ্ধ (الراكد) অধিক পানির সমতুল্য।

ইমাম মালিক বলেন: প্রবহমান পানি পরিবর্তন হওয়া ছাড়া অপবিত্র (نجس) হয় না, চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি।

আর এটিই ইমাম শাফিয়ী-এর নিকট মনোনীত (المختار) মত।

* * * * *

--------------------------------------------

১. পাণ্ডুলিপি 'সীন'-এ রয়েছে: (حدًا) ।

২. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (كثير) ।

৩. মাসআলার শুরুতে ইমাম মালিকের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, দেখুন: আত-তামহিদ (১/৩২৮) ।

৪. বন্ধনীভুক্ত অংশটি পাণ্ডুলিপি 'সীন' থেকে বাদ পড়েছে।

৫. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (عشر) ।

৬. মাসআলার শুরুতে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, দেখুন: ফাতহ বাবিল ইনায়াহ (১/১০৭) ।

৭. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (كاراكد اكثير) ।

৮. আল-লুবাব (১/২১), মুলতাকাল আবহুর (১/২৫) ।

৯. এটিই ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত সর্বাধিক প্রসিদ্ধ বর্ণনা।

দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-কাফি (১/৯), আবুল ফারাজ মাকদিসি রচিত আশ-শারহুল কাবির (১/২৭), আল-ইনসাফ (১/৫৭) ।

১০. সিরাজুস সালিক (১/৫৩), ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-কাফি (১/১৩০) ।

১১. আর-রওদাহ (১/২৬), মুগনি আল-মুহতাজ (১/২৪-২৫) ।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
(باب الأواني)

* استعمال أواني الذهب والفضة للرجال والنساء حرام بالاتفاق 1.

* ويحرم الاتخاذ عند الثلاثة 2، وهو الأصح من مذهب إمامنا الشافعي 3 / 4.

* والمضبب 5 بالذهب حرام بالاتفاق 6، وبالفضة حرام عند الثلاثة إذا كانت كثيرة 7 لغير حاجة 8، خلافا لأبي حنيفة مطلقا 9.

* * * * *

--------------------------------------------

1الاختيار (1/159) ، القوانين الفقهية (26) ، المجموع (1/250) ، المغني (1/75) ، المحلى (2/223) .

2 الاختيار (4/159) ، التمهيد (16/104- 105) ، الكافي لابن قدامة (1/17) .

3 انظر: حلية العلماء (1/101) ، الروضة (1/44) .

4 نهاية لـ (4) من الأصل.

5 المضبب: الإناء الذي عمل فيه ضَبَّة، وهي قطعة تسمر في الإناء وتلصق به.

انظر: اللسان (1/542) ، تحرير ألفاظ التنبيه (33) ، المطلع (9) .

6 الشرح الصغير (1/25) ، مغني المحتاج (1/30) ، المغني (1/77) .

7 في س: (كبيرة) .

8 الشرح الكبير للدردير (1/36) ، كفاية الأخيار (1/10) ، العدة (7) .

9 ملتقى الأبحر (1/234) ، مختصر الطحاوي (437) .
(পাত্র সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ)

* পুরুষ ও নারীদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার করা সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) হারাম ১।

* এবং তিন ইমামের মতে (তা) সংগ্রহে রাখাও হারাম ২, আর এটিই আমাদের ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের অধিকতর সঠিক (الأصح) মত ৩ / ৪।

* আর স্বর্ণ দ্বারা জোড়া লাগানো (المضبب) পাত্র ব্যবহার করা সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) হারাম ৬, এবং রৌপ্য দিয়ে জোড়া লাগানো পাত্রের ক্ষেত্রে যদি তা পরিমাণে অধিক হয় ৭ এবং প্রয়োজন ব্যতীত হয় ৮, তবে তিন ইমামের নিকট তা হারাম; যা ইমাম আবু হানিফার সাধারণ (مطلقا) মতের পরিপন্থী ৯।

* * * * *

--------------------------------------------

১. আল-ইখতিয়ার (১/১৫৯), আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ (২৬), আল-মাজমু' (১/২৫০), আল-মুগনি (১/৭৫), আল-মুহাল্লা (২/২২৩)।

২. আল-ইখতিয়ার (৪/১৫৯), আত-তামহিদ (১৬/১০৪- ১০৫), ইবনে কুদামাহ-র আল-কাফি (১/১৭)।

৩. দেখুন: হিলয়াতুল উলামা (১/১০১), আর-রাওদাহ (১/৪৪)।

৪. মূল পাণ্ডুলিপির ৪ নং চিহ্নের সমাপ্তি।

৫. মুদাব্বাব (المضبب): এমন পাত্র যাতে তালি বা জোড়া (ضبة) লাগানো হয়েছে; আর তা হলো একটি ধাতব খণ্ড যা পাত্রে পেরেকের সাহায্যে আটকানো বা সংযুক্ত করা হয়।

দেখুন: লিসানুল আরব (১/৫৪২), তাহরির আলফাজ আত-তানবিহ (৩৩), আল-মুতলি' (৯)।

৬. আশ-শারহুস সাগির (১/২৫), মুগনি আল-মুহতাজ (১/৩০), আল-মুগনি (১/৭৭)।

৭. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (বড়)।

৮. আদ-দারদির কৃত আশ-শারহুল কাবীর (১/৩৬), কিফায়াতুল আখইয়ার (১/১০), আল-উদ্দাহ (৭)।

৯. মুলতাকাল আবহুর (১/২৩৪), মুখতাসারুত তহাবী (৪৩৭)।
(খণ্ড: ১) মাজিদুন নিমাহ লি-জাময়ি আকওয়ালিল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
(باب السواك)

* هو سنة بالاتفاق 1.

وقال داود 2 الظاهري: واجب 3.

وقال إسحاق 4: إن تركه عامداً بطلت صلاته 5.

--------------------------------------------

1 ملتقى الأبحر (1/13) ، بلغة السالك (1/48) ، الأم (1/39) ، عمدة الأحكام (7) .

2 داود بن علي بن خلف، أبو سليمان الأصبهاني، الحافظ الفقيه، أحد الأئمة المجتهدين، وإليه ينسب الظاهرية، انتهت إليه رئاسة العلم ببغداد في عصره، كان أكثر الناس تعصبا للإمام الشافعي، وكان بصيرا بالحديث صحيحه وسقيمه، إماما ورعا ناسكا زاهدا مات سنة (270هـ) .

ترجمته في: تاريخ بغداد (8: 396) ، وفيات الأعيان (2/255) ، تهذيب الأسماء (1/182) ، الأعلام (2/333) .

3 إلا أن الصلاة لا تبطل بتركه، وانظر قوله في:

حلية العلماء (1/105) ، المنتقى (1/130) ، المغني (1/95) ، الشرح الكبير للمقدسي (1/40) ، المجموع (1/271) ، شرح صحيح مسلم للنووي (3/142) ، طرح التثريب (2/63) ، نيل الأوطار (1/103) .

4 إسحاق بن إبراهيم بن مخلد الحنظلي، أبو يعقوب المروزي، أحد أئمة المسلمين، وعلمائهم الكبار، اجتمع له الحديث والفقه والحفظ والصدق والورع والزهد، ورحل إلى عدة بلدان طلبا للعلم، وأخذ عنه الإمام أحمد والبخاري ومسلم وغيرهم، مات سنة (238هـ) .

ترجمته في: المنهج الأحمد (1/173) ، سير أعلام النبلاء (11/358) ، حلية الأولياء (9/234) ، طبقات الحفاظ (191) .

5 قول إسحاق في:

حلية العلماء (1/105) ، المجموع (1/271) ، المغني (1/95) ، الشرح الكبير للمقدسي (1/40) ، طرح التثريب (2/63) ، شرح صحيح مسلم للنووي (3/142) ، نيل الأوطار (1/103) .
(মিসওয়াক অধ্যায়)

* এটি সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নাহ (سنة) ১।

দাউদ ২ জাহিরি বলেছেন: ওয়াজিব (واجب) ৩।

এবং ইসহাক ৪ বলেছেন: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ত্যাগ করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে ৫।

--------------------------------------------

১ মুলতাকা আল-আবহার (১/১৩), বুলগাত আস-সালিক (১/৪৮), আল-উম্ম (১/৩৯), উমদাতুল আহকাম (৭)।

২ দাউদ বিন আলি বিন খালাফ, আবু সুলাইমান আল-আসফাহানি, হাফিজ (حافظ) ও ফকিহ (فقيه), মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামগণের অন্যতম, এবং তাঁর দিকেই জাহিরি মাযহাবকে নিসবত করা হয়, তাঁর যুগে বাগদাদে ইলমের প্রধান নেতৃত্ব তাঁর নিকট গিয়ে পৌঁছেছিল, তিনি ইমাম শাফেয়ির প্রতি সর্বাধিক অনুরাগী ছিলেন এবং তিনি হাদিস এবং হাদিসের সহিহ (صحيح) ও জয়িফ (سقيم) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন, তিনি একজন ইমাম, মুত্তাকি (ورع), ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ছিলেন, ২৭০ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখ বাগদাদ (৮/৩৯৬), ওফায়াতুল আইয়ান (২/২৫৫), তাহজিবুল আসমা (১/১৮২), আল-আলাম (২/৩৩৩)।

৩ তবে এটি ত্যাগের কারণে সালাত বাতিল হবে না, তাঁর এই বক্তব্য দেখুন:

হিলয়াতুল উলামা (১/১০৫), আল-মুনতাকা (১/১৩০), আল-মুগনি (১/৯৫), আল-শারহুল কবির লিল মাকদিসি (১/৪০), আল-মাজমু (১/২৭১), নববীর শারহু সহিহ মুসলিম (৩/১৪২), তারহুত তাসরিব (২/৬৩), নাইলুল আওতার (১/১০৩)।

৪ ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মাখলাদ আল-হানজালি, আবু ইয়াকুব আল-মারওয়াযি, মুসলিমদের ইমামগণের অন্যতম এবং তাঁদের বড় আলেমদের মধ্যে একজন, তাঁর মাঝে হাদিস, ফিকহ (فقه), মুখস্থ শক্তি (حفظ), সততা (صدق), তাকওয়া (ورع) এবং দুনিয়াবিমুখতা (زهد) এর সমন্বয় ঘটেছিল, তিনি ইলম অন্বেষণে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যেরা ইলম গ্রহণ করেছেন, ২৩৮ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মানহাজ আল-আহমাদ (১/১৭৩), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১১/৩৫৮), হিলয়াতুল আউলিয়া (৯/২৩৪), তাবাকাতুল হুফফাজ (১৯১)।

৫ ইসহাকের উক্তিটি রয়েছে:

হিলয়াতুল উলামা (১/১০৫), আল-মাজমু (১/২৭১), আল-মুগনি (১/৯৫), আল-শারহুল কবির লিল মাকদিসি (১/৪০), তারহুত তাসরিব (২/৬৩), নববীর শারহু সহিহ মুসলিম (৩/১৪২), নাইলুল আওতার (১/১০৩)।