(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مصادر السيرة النبوية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مصادر السيرة النبوية
المؤلف: ضيف الله بن يحي الزهراني
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 69
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সীরাতুন নববীর উৎসসমূহ বিভাগ: সীরাতুন নববী
গ্রন্থ: সীরাতুন নববীর উৎসসমূহ
লেখক: দায়িফুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-যাহরানি
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র মুসহাফ মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহাজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم.
أما بعد:
فلرسول الله صلى الله عليه وسلم حق علينا باتباع سنته وهديه وإحياء سيرته العطرة التي هي لنا أسوة حسنة، فإحياء سيرته والعناية بها يجعلنا أكثر تقديراً لحقه علينا، فالله سبحانه وتعالى سجل الكثير من مشاهد السيرة النبوية من خلال الآيات القرآنية، ثم إن سنته وسيرته صلى الله عليه وسلم كانت توضيحاً لبعض ما ورد في القرآن، لذلك فالعلاقة وثيقة جداً بين القرآن وسيرته صلى الله عليه وسلم، ولاسيما إذا علمنا أن السيرة هي عهد النبوة والرسالة.
وتأتي كتابة السيرة النبوية في الأهمية بعد كتابة السنة النبوية أي الحديث النبوي، ولعل أول من بدأ بالكتابة لحياة الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم هو عروة بن الزبير (ت92 هـ) ، ثم أبان بن عثمان بن عفان (ت105هـ) ، ثم وهب بن منبه (ت110هـ) ، ثم شرحبيل بن سعد (ت123هـ) . ثم ابن شهاب الزهري (124هـ) . ثم بعد ذلك تنامى الاهتمام بكتابة السيرة النبوية إلى درجة الإتقان والوضوح والشمول وكان على رأس ذلك الجيل الفقيه محمد بن إسحاق (ت152هـ) ؛ لذلك يعد ابن إسحاق من أوثق من كتب في سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وقد ضاع قسم كبير من كتابه، إلا أن ابن هشام (ت218هـ) قدَّم لنا عملاً جليلاً بروايته للسيرة من خلال كتاب (المغازي) لابن إسحاق، فقدمها لنا مشروحةً ومهذبة ومنقحة، وهي السيرة المعروفة بسيرة ابن هشام.
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)।
অতঃপর:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও হিদায়াতের অনুসরণ এবং তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত (জীবনচরিত) পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে আমাদের ওপর তাঁর অধিকার রয়েছে, যা আমাদের জন্য এক সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর সীরাত পুনর্জীবিত করা এবং এর প্রতি যত্নশীল হওয়া আমাদের ওপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে সেটির প্রতি আমাদের আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে নবীজীর সীরাতের অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন। এছাড়া তাঁর সুন্নাহ ও সীরাত ছিল কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার অনেকটা ব্যাখ্যাস্বরূপ। তাই কুরআন এবং তাঁর সীরাতের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়, বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পারি যে সীরাত হলো নবুওয়াত ও রিসালাতেরই কালখণ্ড।
নবীজীর সুন্নাহ তথা হাদীস সংকলনের পরেই সীরাত লিখনের গুরুত্বের স্থান। সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত নিয়ে সর্বপ্রথম লেখা শুরু করেন উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের (মৃত্যু ৯২ হি.), তারপর আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান (মৃত্যু ১০৫ হি.), তারপর ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (মৃত্যু ১১০ হি.), তারপর শুরাহবিল ইবনে সা'দ (মৃত্যু ১২৩ হি.)। এরপর ইবনে শিহাব আল-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হি.)। অতঃপর সীরাত লিখনের প্রতি গুরুত্ব ও আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে তা নিপুণতা, স্পষ্টতা ও পূর্ণাঙ্গতার পর্যায়ে উন্নীত হয় এবং সেই প্রজন্মের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন ফকিহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (মৃত্যু ১৫২ হি.)। এই কারণে ইবনে ইসহাককে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর গ্রন্থের একটি বিরাট অংশ হারিয়ে গেলেও ইবনে হিশাম (মৃত্যু ২১৮ হি.) ইবনে ইসহাকের 'আল-মাগাজি' গ্রন্থটি বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের নিকট এক মহান কাজ উপহার দিয়েছেন। তিনি এটি আমাদের সামনে ব্যাখ্যাসহ, পরিমার্জিত ও সংশোধিত রূপে পেশ করেছেন, যা বর্তমানে 'সীরাতে ইবনে হিশাম' নামে সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
ومن هذا المنطلق جاء هذا البحث الذي بين أيدينا بعنوان <<مصادر السيرة النبوية دراسة تحليلية نقدية لبعض مصادر السيرة النبوية>>، إذ اشتملت هذه الدراسة على عدة محاور نذكر منها: أن الدراسة ركزت على المصادر الأساسية للسيرة وقسمتها إلى قسمين كبيرين، فكان القسم الأول عن المصادر الأساسية (المباشرة) .
ثم مرحلة التأليف المباشر في السيرة النبوية، وقد اشتمل هذا البحث على دراسة تتبعية مختصرة لبعض مصادر السيرة النبوية عبر القرون الإسلامية، واشتمل أيضاً على دراسة مختصرة عن حياة المؤلف ثم عرض موجز عن مكونات كتابه، ثم دراسة نقدية مختصرة لبعض إيجابيات ذلك الكتاب وسلبياته، وقد عرضت الدراسة في هذا البحث مجموعة مختارة من مصادر السيرة النبوية. أما مرحلة التأليف غير المباشر أو الثانوي، فقد عرضت الدراسة لمحة سريعة ومعلومات مفيدة ومهمة عن السيرة النبوية.
أما القسم الثاني من هذه الدراسة فقد خصص للدراسات التكميلية التي تناولت السيرة النبوية، مثل: كتب الأدب نثراً وشعراً، وكتب الرحلات، وكتب الجغرافيا التاريخية، وبعض المصنفات الأخرى.
وفي هذا البحث حسبنا أننا ساهمنا بجزء بسيط عن أهم مرحلة تاريخية في حياتنا وهي مرحلة التأليف في السيرة النبوية، والله الموفق.
এই প্রেক্ষাপট থেকেই আমাদের সামনে বিদ্যমান এই গবেষণাটি এসেছে, যার শিরোনাম হলো: "সীরাতুন্নবীর উৎসসমূহ: সীরাতুন্নবীর কতিপয় উৎসের একটি বিশ্লেষণধর্মী ও সমালোচনামূলক গবেষণা।" এই গবেষণায় বেশ কিছু মূল বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার মধ্যে আমরা উল্লেখ করছি যে: গবেষণাটি সীরাতের মৌলিক উৎসগুলোর ওপর আলোকপাত করেছে এবং সেগুলোকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রথম ভাগটি ছিল মৌলিক (সরাসরি) উৎসসমূহ সম্পর্কে।
অতঃপর সীরাতুন্নবী বিষয়ে সরাসরি রচনার পর্যায়। এই গবেষণাটি ইসলামী শতাব্দীগুলোতে সীরাতুন্নবীর কতিপয় উৎসের একটি সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক পর্যালোচনার ওপর নিবদ্ধ। এছাড়া এতে লেখকের জীবন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, তাঁর গ্রন্থের উপাদানসমূহের সারসংক্ষেপ এবং এরপর সেই গ্রন্থের কতিপয় ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই গবেষণায় সীরাতুন্নবীর উৎসসমূহের একটি নির্বাচিত সংকলন উপস্থাপন করা হয়েছে। আর পরোক্ষ বা গৌণ রচনার পর্যায়ের ক্ষেত্রে, গবেষণাটি সীরাতুন্নবী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা এবং দরকারী ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।
আর এই গবেষণার দ্বিতীয় অংশটি সেই সকল সম্পূরক অধ্যয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে যা সীরাতুন্নবী নিয়ে আলোচনা করেছে, যেমন: গদ্য ও পদ্যের সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, ভ্রমণকাহিনী, ঐতিহাসিক ভূগোল বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য কিছু সংকলন।
আর এই গবেষণায় আমরা মনে করি যে, আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যায় অর্থাৎ সীরাতুন্নবী রচনার পর্যায়ের ক্ষেত্রে সামান্য অবদান রাখতে পেরেছি। আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مصادر السيرة النبوية
أقسام مصادر السيرة النبوية:
تنقسم مصادر السيرة النبوية إلى قسمين كبيرين هما:
القسم الأول: مصادر أصلية، وتتمثل فيما يلي:
(أ) القرآن الكريم.
(ب) كتب الحديث النبوي.
(ج) كتب السيرة المختصة.
(د) كتب الشمائل والدلائل.
القسم الثاني: مصادر تكميلية، وتتمثل فيما يلي:
كتب التراجم، والرجال، والأنساب، وكتب الفقه، ودواوين الأدب وغيرها مما يورد عرضاً حديثاً عن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وإذا ما أردنا الحديث عن هذه المصادر جميعها، فإن الأمر يصعب حصره في كتابة بحث أو مقالة مختصرة.
সীরাতুন্নবীর উৎসসমূহ
সীরাতুন্নবীর উৎসসমূহের প্রকারভেদ:
সীরাতুন্নবীর উৎসসমূহ দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো:
প্রথম অংশ: মৌলিক উৎসসমূহ, যা নিম্নরূপ:
(ক) পবিত্র কুরআন।
(খ) হাদীস গ্রন্থসমূহ।
(গ) সীরাত বিষয়ক বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহ।
(ঘ) শামায়িল ও দালা-ইল বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পূরক উৎসসমূহ, যা নিম্নরূপ:
জীবনীগ্রন্থ (তরাজিম), রিজালশাস্ত্র, বংশলতিকা বিষয়ক গ্রন্থ, ফিকহ গ্রন্থ, সাহিত্য সংকলন এবং অন্যান্য উৎস যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সম্পর্কে প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা করে।
আমরা যদি এই সকল উৎস নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তবে একটি গবেষণা বা সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে তা সীমাবদ্ধ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
القسم الأول: مصادر أصلية
القرآن الكريم…مصادر السيرة النبوية "دراسة تحليلية نقدية لبعض مصادر السيرة النبوية"
الدكتور: ضيف الله بن يحيى الزهراني
بسم الله الرحمن الرحيم
القسم الأول: المصادر الأصلية
القرآن الكريم
يعرَّف القرآن الكريم بأنه هو كلام الله المنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم عن طريق الوحي (1) ، وهذا القرآن، عني " بالنبوة والرسالات والرسل، والذين يقرؤونه قراءة فهم وتدبر، وبحث متعمق في معانيه، وحقائقه الكونية، وعقائده، وتشريعاته، ونظمه الاجتماعية، وأخلاقياته.... فلا تكتمل حقيقة إيمان مؤمن، إلا بمعرفة النبوة والإيمان بها، وتقديرها حق قدرها" (2) .
وقد تعددت صور حياة الأنبياء في كثير من سور القرآن الكريم، وقد يمتد الحديث إلى الرسل والرسالات، وقد يطول وقد يقصر حسب مقتضيات الأحداث.
"والقرآن الكريم، وهو كتاب هداية وعبرة في وزنه للحياة، وتدبيره لحقائقها، يقصد في قصص الأنبياء والرسل فيما يقصد إليه من معان وحقائق إلى تنبيه العقول والأفكار إلى ما وقع في التاريخ البشري من غمط ظالم لأعظم حقائق الحياة" (3) .
وعندما نقول إن القران الكريم يعد مصدرا أصلياً في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم فإننا نعني بذلك أن القرآن الكريم "تضمن بيان العقيدة الإسلامية، والشريعة
--------------------------------------------
প্রথম অংশ: মৌলিক উৎসসমূহকুরআন মাজীদ...সীরাতুন নববীর উৎসসমূহ: "সীরাতুন নববীর কতিপয় উৎসের একটি বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক অধ্যয়ন"
ডক্টর: দাইফুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-যাহরানি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রথম অংশ: মৌলিক উৎসসমূহ
কুরআন মাজীদ
কুরআন মাজীদের সংজ্ঞা দেওয়া হয় এভাবে যে, এটি আল্লাহর কালাম যা ওহীর মাধ্যমে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে (১)। আর এই কুরআন "নবুওয়াত, রিসালাত ও রাসূলগণের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে; এবং যারা এটি অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণার সাথে পাঠ করেন এবং এর অর্থ, মহাজাগতিক বাস্তবতা, আকিদাহ, শরীয়াহ, সামাজিক ব্যবস্থা ও নৈতিকতা নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করেন... তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কোনো মুমিনের ঈমানের হাকিকত পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে নবুওয়াত সম্পর্কে অবগত হয়, তার ওপর ঈমান আনে এবং এর যথাযথ মর্যাদা প্রদান করে" (২)।
কুরআন মাজীদের অনেক সূরায় নবীদের জীবনের বিভিন্ন দিক চিত্রিত হয়েছে। রাসূলগণ ও রিসালাত নিয়ে আলোচনা কখনও দীর্ঘ হয়েছে আবার কখনও ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত হয়েছে।
"কুরআন মাজীদ হিদায়াত ও শিক্ষার কিতাব হিসেবে জীবনকে মূল্যায়ন ও এর বাস্তবতাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে নবী ও রাসূলগণের কাহিনীর মাধ্যমে অন্যান্য অর্থ ও হাকিকতের পাশাপাশি মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তাকে সেই দিকে ধাবিত করতে চায়, যা মানব ইতিহাসে জীবনের শ্রেষ্ঠতম সত্যগুলোকে চরম অবিচারের মাধ্যমে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়েছে" (৩)।
আমরা যখন বলি যে কুরআন মাজীদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের একটি মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত, তখন আমরা এর দ্বারা বোঝাই যে কুরআন মাজীদ "ইসলামী আকিদাহ ও শরীয়াহর বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإسلامية، وترد فيه آيات الأحكام ذات الأهمية الكبيرة في بيان النظم الإسلامية، ونشأتها، فهي تلقي ضوءاً على التشريعات الاجتماعية والاقتصادية، والسياسية، التي عمل بمقتضاها النبي صلى الله عليه وسلم في إدارة الدولة الإسلامية الأولى» (1) .
وقد ورد في القران الكريم ذكر لبعض غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم مثل غزوات بدر، وأحد، والخندق، وحنين.
ولتأكيد تلك الأحداث يجدر بنا أن نضرب أمثلة من الآيات القرآنية على ورود تلك الغزوات في القرآن الكريم.
فقد قال الله تعالى في غزوة بدر الكبرى التي وقعت في السنة الثانية من الهجرة: {وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى وَلِيُبْلِيَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْهُ بَلاءً حَسَناً إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [الأنفال: آية 17] .
وقال تعالى {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ، إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلاثَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُنْزَلِينَ، بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةُ مُسَوِّمِينَ، وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} [آل عمران آية: 123-126] .
وقال تعالى: {إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الْأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ} [الأنفال: آية 12]
--------------------------------------------
ইসলামি, আর এতে আহকামের আয়াতসমূহ বর্ণিত হয়েছে যা ইসলামি ব্যবস্থা ও তার উৎপত্তির বর্ণনায় অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এগুলো সেই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিধানাবলির ওপর আলোকপাত করে, যে অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনায় কাজ করেছিলেন। (১)
পবিত্র কুরআনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু যুদ্ধের (গাযওয়া) উল্লেখ এসেছে, যেমন বদর, উহুদ, খন্দক ও হুনাইনের যুদ্ধ।
সেই ঘটনাসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পবিত্র কুরআনে সেই যুদ্ধসমূহের বর্ণনার সপক্ষে কুরআনি আয়াত থেকে কিছু উদাহরণ পেশ করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে।
হিজরির দ্বিতীয় বর্ষে সংঘটিত ঐতিহাসিক বদরের মহাযুদ্ধ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন; এবং যাতে তিনি মুমিনদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-আনফাল: আয়াত ১৭]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ তো তোমাদের বদরে সাহায্য করেছিলেন যখন তোমরা হীনবল ছিলে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। যখন আপনি মুমিনদের বলছিলেন, ‘এটা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে প্রেরিত তিন হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবেন?’ হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা যদি অতর্কিতে তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের রব তোমাদেরকে চিহ্নিত পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবেন। আর আল্লাহ এটি কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ করেছেন এবং যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য তো কেবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়।} [আল ইমরান আয়াত: ১২৩-১২৬]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যখন আপনার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, ‘আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। যারা কুফরি করেছে আমি তাদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব; অতএব তোমরা তাদের ঘাড়ের ওপর আঘাত করো এবং তাদের প্রতিটি আঙুলের জোড়ায় আঘাত করো।’} [আল-আনফাল: আয়াত ১২]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال الله تعالى مصوراً بعض أحداث غزوة أحد التي وقعت في السنة الثالثة للهجرة النبوية، حيث قال: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ} [آل عمران: آية 155] .
وقال تعالى: {إِذْ تُصْعِدُونَ وَلا تَلْوُونَ عَلَى أَحَدٍ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ فِي أُخْرَاكُمْ فَأَثَابَكُمْ غَمّاً بِغَمٍّ لِكَيْلا تَحْزَنُوا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلا مَا أَصَابَكُمْ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} [آل عمران: آية 153] .
وقال تعالى: {ثُمَّ أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُعَاساً يَغْشَى طَائِفَةً مِنْكُمْ وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنْفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ} [آل عمران: آية 154] .
وقال تعالى: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: آية 169] .
وقال تعالى: {وَلا تَهِنُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [آل عمران: آية 139] .
وقال تعالى: {إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ} [آل عمران: آية 140] .
وقال الله تعالى مصوراً بعض أحداث غزوة الأحزاب التي وقعت في السنة الخامسة من الهجرة النبوية: {وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُوراً} [الأحزاب: آية 12] .
ولقد بينت سورة الأحزاب الموقف المشين للمنافقين في هذه الغزوة المباركة، وقد ذكر الله ذلك في تلك السورة من الآية (13 الى20) .
আল্লাহ তাআলা হিজরি তৃতীয় সনে সংঘটিত উহুদ যুদ্ধের কিছু ঘটনার চিত্র তুলে ধরে বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকে যারা দুই দল মুখোমুখি হওয়ার দিন পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তাদের কৃতকর্মের কারণেই শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। তবে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম ধৈর্যশীল।} [আলে ইমরান: ১৫৫] .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা (পাহাড়ে) উপরে উঠছিলে এবং কারও দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলে না, আর রাসূল তোমাদের পিছন থেকে ডাকছিলেন। ফলে তিনি তোমাদের দুঃখের ওপর দুঃখ দিলেন, যেন তোমরা যা হারিয়েছ এবং তোমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে সেজন্য তোমরা দুঃখিত না হও। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।} [আলে ইমরান: ১৫৩] .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতঃপর সেই দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি হিসেবে তন্দ্রা অবতীর্ণ করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করেছিল। আর অন্য একটি দল নিজেদের জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল; তারা আল্লাহ সম্পর্কে জাহেলিয়াত বা মূর্খতা যুগের ন্যায় অসত্য ধারণা পোষণ করছিল। তারা বলছিল: ‘আমাদের কি কোনো কর্তৃত্ব আছে?’ আপনি বলুন: ‘নিশ্চয়ই সব কর্তৃত্ব আল্লাহরই’।} [আলে ইমরান: ১৫৪] .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তোমরা তাদের মৃত মনে করো না। বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত; তারা রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছে।} [আলে ইমরান: ১৬৯] .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না; তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।} [আলে ইমরান: ১৩৯] .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তোমাদের যদি কোনো ক্ষত বা আঘাত লেগে থাকে, তবে সেই কওমকেও অনুরূপ আঘাত লেগেছে। আর এসব দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি।} [আলে ইমরান: ১৪০] .
আল্লাহ তাআলা হিজরি পঞ্চম সনে সংঘটিত আহযাব যুদ্ধের কিছু ঘটনার চিত্র তুলে ধরে বলেছেন: {এবং যখন মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলছিল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তো প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।} [আহযাব: ১২] .
সুরা আল-আহযাব এই বরকতময় যুদ্ধে মুনাফিকদের লজ্জাজনক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আল্লাহ তাআলা সেই সুরার ১৩ থেকে ২০ নম্বর আয়াতে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقال تعالى: {يَحْسَبُونَ الْأَحْزَابَ لَمْ يَذْهَبُوا وَإِنْ يَأْتِ الْأَحْزَابُ يَوَدُّوا لَوْ أَنَّهُمْ بَادُونَ فِي الْأَعْرَابِ يَسْأَلونَ عَنْ أَنْبَائِكُمْ وَلَوْ كَانُوا فِيكُمْ مَا قَاتَلُوا إِلَّا قَلِيلاً} [الأحزاب: آية 20] .
وقد وصف القرآن الكريم حال المسلمين في تلك الغزوة فقال عز وجل: {إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا، هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالاً شَدِيداً} [الأحزاب: آية10-11] .
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحاً وَجُنُوداً لَمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيراً} [الأحزاب: آية9] .
وقال تعالى: {وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْراً وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيّاً عَزِيزاً} [الأحزاب: آية25] .
وقال تعالى مصوراً بعض مشاهد من غزوة حنين التي وقعت في أواخر السنة الثامنة للهجرة النبوية: {وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئاً وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ} [سورة التوبة: آية 25] .
وقال تعالى: {ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْزَلَ جُنُوداً لَمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا} [سورة التوبة آية: 26] .
وبعد، فإن القرآن حفل بالكثير من الآيات حول غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم مثل فتح مكة، وغزوة تبوك وغيرها.
মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা মনে করে যে সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি। যদি সম্মিলিত বাহিনী আবার আসে, তবে তারা কামনা করবে যে তারা যদি মরুচারী বেদুঈনদের সাথে মরুভূমিতে থাকত এবং তোমাদের সংবাদ জিজ্ঞেস করত। আর তারা যদি তোমাদের সাথে থাকত, তবে তারা অল্পই লড়াই করত।} [সূরা আল-আহজাব: ২০]।
কুরআন কারীম সেই যুদ্ধে মুসলিমদের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেছে, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {যখন তারা তোমাদের ওপর দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে তোমাদের নিকট এসেছিল, আর যখন চোখগুলো স্থির হয়ে গিয়েছিল, প্রাণগুলো কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানাবিধ ধারণা পোষণ করছিলে। সেখানেই মুমিনদের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।} [সূরা আল-আহজাব: ১০-১১]।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকট এসেছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম এক প্রবল বায়ু এবং এমন এক বাহিনী যা তোমরা দেখতে পাওনি। তোমরা যা করো আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।} [সূরা আল-আহজাব: ৯]।
মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ কাফেরদেরকে তাদের ক্ষোভসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। আল্লাহ মুমিনদের জন্য যুদ্ধে যথেষ্ট হয়ে গেছেন এবং আল্লাহ শক্তিশালী, মহা পরাক্রমশালী।} [সূরা আল-আহজাব: ২৫]।
মহান আল্লাহ হিজরীর অষ্টম বর্ষের শেষ দিকে সংঘটিত হুনাইন যুদ্ধের কিছু দৃশ্যের চিত্রায়ণ করে বলেন: {এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যার আধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।} [সূরা আত-তাওবাহ: ২৫]।
মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর ও মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং এমন এক বাহিনী অবতীর্ণ করলেন যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফেরদেরকে শাস্তি প্রদান করলেন।} [সূরা আত-তাওবাহ: ২৬]।
পরিশেষে, কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধবিগ্রহ যেমন মক্কা বিজয়, তাবুক যুদ্ধ এবং অন্যান্য যুদ্ধের অনেক আয়াত দ্বারা সমৃদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثم نجد أن القرآن الكريم قد صور حال الرسول صلى الله عليه وسلم وما وجده من أذى وتعب في سبيل نشر العقيدة الإسلامية.
فقد قال تعالى: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ، وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تَعْمَلُونَ} [سورة الشعراء آية:214-216] .
وقال تعالى: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئينَ، الَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ} [الحجر: آية: 94-96] .
ولقد صور القرآن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم منذ بداية الدعوة إلى الله وقد ورد ذلك في سور العلق، والمدثر، والمزمل، والضحى. ولقد توجت هذه الصور الجميلة في القرآن الكريم عن سيرته صلى الله عليه وسلم بقوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [سورة القلم: آية4] .
এরপর আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা এবং ইসলামী আকিদা প্রচারের পথে তিনি যে কষ্ট ও ক্লেশ সহ্য করেছিলেন তার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন। এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করে তাদের প্রতি বিনয়ী হোন। অতঃপর যদি তারা আপনার অবাধ্য হয়, তবে বলুন, তোমরা যা করছ তা থেকে আমি অবশ্যই নির্লিপ্ত} [সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ২১৪-২১৬]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতএব আপনাকে যে আদেশ প্রদান করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। নিশ্চয়ই বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমরাই আপনার জন্য যথেষ্ট। যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ সাব্যস্ত করে, সুতরাং তারা শীঘ্রই জানতে পারবে} [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯৪-৯৬]।
কুরআন আল্লাহর পথে দাওয়াতের সূচনা লগ্ন থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনচরিতের চিত্র তুলে ধরেছে, যা সূরা আল-আলাক, আল-মুদ্দাসসির, আল-মুযযাম্মিল এবং আদ-দুহা-তে বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র কুরআনে তাঁর সীরাত সম্পর্কে এই সুন্দর চিত্রায়ণসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪]।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
كتب الحديث النبوي:كما نعلم أن السنة النبوية هي المصدر الثاني من مصادر التشريع، وهي التي جمعت أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وتقريراته، وصفاته الخلقية والخلقية، ونظرا للارتباط القوي بين السنة النبوية والسيرة النبوية، فإننا نجد عدداً كبيراً من كتب الأحاديث النبوية اهتمت بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، "والذين ألفوا في السنة لم تخل كتبهم غالباً من ذكر ما يتعلق بحياة الرسول صلى الله عليه وسلم ومغازيه، وخصائصه، ومناقبه
… " (1) .
--------------------------------------------
নববী হাদিসের গ্রন্থসমূহ:আমরা যেমন জানি যে, সুন্নাহ নববী হলো শরীয়তের বিধানাবলির দ্বিতীয় উৎস। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি এবং তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলিকে সংকলন করেছে। সুন্নাহ নববী ও সিরাত নববীর মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের কারণে আমরা দেখতে পাই যে, বিপুল সংখ্যক হাদিস গ্রন্থ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। "আর যারা সুন্নাহর বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কিতাবগুলো সাধারণত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, তাঁর যুদ্ধাভিযান, বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদাবলি উল্লেখ করা থেকে খালি ছিল না
… " (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فلو نظرنا في المصنفات التي ألفت في السنة، والتي أعطت حيزاً كبيراً لسيرة الرسول، لوجدنا أن موطأ الإمام مالك (ت179هـ) ، يقع على رأس تلك المؤلفات، فقد ذكر طرفاً من أخبار الرسول صلى الله عليه وسلم، وأخبار غزواته وذكر طرفاً من حياته الشخصية.
وهناك الصحيحان للبخاري (ت256هـ) ومسلم (ت261هـ) ، فقد ذكرا في صححيهما قدراً كبيراً يتعلق بخصائص الرسول صلى الله عليه وسلم، وفضائله، وحياته قبل البعثة، والجهاد، والغزوات، والسرايا والبعوث وغير ذلك من حياته الشخصية صلى الله عليه وسلم. ثم ما ذكرته بقية الكتب الستة في الأحاديث الصحيحة عن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وهي: سنن أبي داود، وسنن الترمذي، وسنن ابن ماجه، وسنن النسائي، وهناك أيضا بعض كتب المسانيد التي أَوْلَتْ سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم قدراً مهماً من الأحاديث، مثل: مسند الإمام أحمد بن حنبل (ت241هـ) ، وسنن الدارمي (ت255هـ) . وغير ذلك من المؤلفات التي تخصصت في السنة النبوية الشريفة، إلا أن الأمر الذي يجب التنويه به، "أن مادة السيرة في كتب الحديث موثقة، يجب الاعتماد عليها، وتقديمها على روايات كتب المغازي، والتواريخ العامة، وخاصة إذا أوردتها كتب الحديث الصحيحة؛ لأنها ثمرة جهود جبارة قدمها المحدثون عند تمحيص الحديث، ونقده سنداً ومتناً، وهذا النقد والتدقيق الذي حظي به الحديث لم تحظ به الكتب التاريخية، ولكن ينبغي التفطن إلى أن كتب الحديث -بحكم عدم تخصصها-؛ لا تورد تفاصيل المغازي، وأحداث السيرة بل تقتصر على بعض ذلك، مما ينضوي تحت شرط المؤلف أو وقعت له روايته، وينبغي إكمال الصورة من كتب السيرة المختصة، وإلا فقد
সুন্নাহর ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ, যা রাসূলুল্লাহর সীরাতকে এক বিশাল পরিসর প্রদান করেছে—সেগুলোর দিকে যদি আমরা দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাব যে, ইমাম মালিকের (মৃত্যু ১৭৯ হি.) মুয়াত্তা সেই গ্রন্থগুলোর শীর্ষে অবস্থান করছে। তিনি সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদের একটি অংশ, তাঁর যুদ্ধসমূহের সংবাদ এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অংশ উল্লেখ করেছেন।
আর সেখানে রয়েছে বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হি.) ও মুসলিমের (মৃত্যু ২৬১ হি.) সহীহদ্বয়। তাঁরা তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যসমূহ, তাঁর ফযীলতসমূহ, নবুওয়াত-পূর্ব জীবন, জিহাদ, বড় যুদ্ধসমূহ (গাযওয়াত), ছোট যুদ্ধসমূহ (সারায়া) ও প্রতিনিধিদল প্রেরণ এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কিত বিশাল এক অংশ উল্লেখ করেছেন। এরপর রয়েছে কুতুবে সিত্তাহর বাকি গ্রন্থসমূহ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছে, সেগুলো হলো: সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ এবং সুনানে নাসাঈ। সেখানে আরও কিছু মুসনাদ গ্রন্থ রয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে হাদীসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা প্রদান করেছে, যেমন: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের (মৃত্যু ২৪১ হি.) মুসনাদ এবং দারেমীর (মৃত্যু ২৫৫ হি.) সুনান। এছাড়াও সুন্নাহর ওপর রচিত আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তবে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো, "হাদীসের কিতাবসমূহে সীরাতের উপাদানসমূহ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, যার ওপর নির্ভর করা আবশ্যক। এগুলোকে মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) ও সাধারণ ইতিহাসের বইগুলোর বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিতে হবে, বিশেষ করে যখন সেগুলো সহীহ হাদীস গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়। কারণ এগুলো হলো মুহাদ্দিসগণের সেই বিশাল পরিশ্রমের ফসল যা তাঁরা হাদীসের সনদ ও মতনের যাচাই-বাছাই ও সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন। হাদীস যে সমালোচনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মর্যাদা লাভ করেছে, ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহ তা পায়নি। তবে এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, হাদীসের গ্রন্থসমূহ—সীরাত বিষয়ে বিশেষায়িত না হওয়ার কারণে—মাগাযীর বিস্তারিত বিবরণ এবং সীরাতের ঘটনাবলী পুরোপুরি উল্লেখ করে না; বরং এগুলো কেবল সেই অংশটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে যা লেখকের শর্তের অন্তর্ভুক্ত হয় অথবা যা তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে বিশেষায়িত সীরাত গ্রন্থগুলোর সহায়তা নেওয়া উচিত, অন্যথায়...
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يؤدي ذلك إلى لبس كبير" (1) .
এটি এক বড় ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে" (১) ।
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كتب السيرة المختصة:وهذا القسم من مصادر السيرة النبوية مر بالمراحل التالية:
(أ) وهي مرحلة أولية من مراحل الاهتمام بالسيرة النبوية عن طريق الرواية الشفهية، ثم عن طريق التدوين الأولي للسيرة.
(ب) وهي مرحلة تالية من مراحل التأليف والتدوين في كتب خاصة، ومختصة بالسيرة النبوية، ومن أجل ذلك لابد أن نقف على كل مرحلة لنرى مدى الاهتمام بسيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
القسم الأول:
مرحلة اهتمام الصحابة وبعض التابعين بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم. لقد عاش صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم في كنف الرسول، فتأدبوا بآدابه، وتخلقوا بأخلاقه، وعايشوه في جميع أمور حياته القولية والفعلية، وشاركوه في بعوثه وسراياه، وغزواته، وعرفوا عن قرب منه سيرته الذاتية في أزواجه، وذراريه، ومسكنه، وملبسه، ومأكله، وفراشه، وفي نومه، وفي صلاته وعبادته، ونظافته وكل شؤون حياته، لذلك " فالصحابة على علم دقيق وواسع بالسيرة؛ لأنهم عاشوا أحداثها، وشاركوا فيها، وكانت محبتهم لرسول الله وتعلقهم به، ورغبتهم في اتباعه، وأخذهم بسنته في الأحكام، سبباً في ذيوع أخبار السيرة، ومذكراتهم فيها، وحفظهم لها
… فقد اشتهر عدد من الصحابة باهتمامهم
--------------------------------------------
বিশেষায়িত সীরাত গ্রন্থসমূহ:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের উৎসের এই বিভাগটি নিম্নোক্ত পর্যায়সমূহ অতিক্রম করেছে:
(ক) এটি সীরাতুন্নবীর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের একটি প্রাথমিক পর্যায় যা মৌখিক বর্ণনার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে সীরাতের প্রাথমিক লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
(খ) এটি সীরাতুন্নবীর জন্য নির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহে রচনা ও সংকলনের পরবর্তী পর্যায়। এই কারণে, আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের প্রতি গুরুত্বের মাত্রা দেখার জন্য আমাদের প্রতিটি পর্যায়ের ওপর দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।
প্রথম বিভাগ:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের প্রতি সাহাবীগণ ও কতিপয় তাবিঈর গুরুত্ব প্রদানের পর্যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ রাসূলের আশ্রয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন, ফলে তাঁরা তাঁর আদব বা শিষ্টাচারে শিক্ষিত হয়েছেন এবং তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছেন। তাঁরা তাঁর বাচনিক ও ব্যবহারিক জীবনের সকল বিষয়ে তাঁর সাথে সজীব সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। তাঁরা তাঁর প্রেরিত বাহিনী, সারায়া (ছোট অভিযান) ও গাযওয়াত (যুদ্ধ)-সমূহে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁরা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন তথা তাঁর স্ত্রীগণ, সন্তান-সন্ততি, বাসস্থান, পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার, শয্যা, নিদ্রা, সালাত ও ইবাদত, পরিচ্ছন্নতা এবং জীবনের সকল বিষয় সম্পর্কে খুব কাছ থেকে জেনেছেন। এই কারণে, "সাহাবীগণ সীরাত সম্পর্কে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ব্যাপক জ্ঞান রাখতেন; কারণ তাঁরা এর ঘটনাবলীর সাথে বসবাস করেছেন এবং তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও গভীর অনুরাগ, তাঁকে অনুসরণের আকাঙ্ক্ষা এবং বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহকে গ্রহণ করা ছিল সীরাতের সংবাদ প্রচার, এ বিষয়ক তাঁদের স্মৃতিচারণ এবং তা সংরক্ষণের অন্যতম কারণ
… বেশ কয়েকজন সাহাবী তাঁদের বিশেষ গুরুত্বের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الكبير بموضوع السيرة " (1) . ونذكر منهم على سبيل المثال (لا الحصر) :
1- عبد الله بن عباس، رضي الله عنه، فكان يروي للناس معازي الرسول صلى الله عليه وسلم (2) .
2- عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنه، " الذي كان من أبرز الصحابة اهتماماً بتدوين أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم حتى إنه كان يكتب كل ما يسمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم " (3) .
3- البراء بن عازب، رضي الله عنه، فقد أملى في مجلسه العلمي شيئاً كثيراً من مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وخاصة فيما يتعلق بالهجرة النبوية، وبعض الغزوات، كغزوة بدر وأحد، والخندق، والحديبية، وفتح مكة، وحنين (4) .
هؤلاء الثلاثة هم الذين ورد ذكرهم من حيث الاهتمام بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وإملاؤها على تلاميذهم، وأتباعهم، والناس كافة، فحفظوا لنا شطرا كبيرا ومهما من أخبار السيرة النبوية.
أما جيل التابعين، فقد برز منهم عدد غير قليل في الاهتمام بأحداث السيرة، ونذكر منهم على سبيل المثال (لا الحصر) .
1- عروة بن الزبير (ت 93هـ) ، أحد الفقهاء السبعة المشهورين في المدينة، وقد اهتم بأخبار السيرة النبوية اهتماماً كبيراً، وكان كثير الحديث، وقد نقل عنه الطبري في كتابه (تاريخ الرسل والملوك) . وابن حجر في كتابه (فتح الباري) .
--------------------------------------------
সীরাতের বিষয়ে মহান (১)। এবং আমরা তাদের মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ (সীমাবদ্ধ নয়) উল্লেখ করছি:
১- আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি মানুষের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ (মাগাযী) বর্ণনা করতেন (২)।
২- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), "যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য ছিলেন, এমনকি তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে যা শুনতেন তার সবকিছুই লিখে রাখতেন" (৩)।
৩- আল-বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি তাঁর ইলমী মজলিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ (মাগাযী) থেকে প্রচুর বর্ণনা শ্রুতিলিপি (ইমলা) করাতেন, বিশেষ করে নবুওয়াতী হিজরত সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী এবং কিছু যুদ্ধ, যেমন—বদর, ওহুদ, খন্দক, হুদায়বিয়া, মক্কা বিজয় ও হুনায়নের যুদ্ধ (৪)।
এই তিনজন হলেন তাঁরা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং তাদের ছাত্র, অনুসারী ও সাধারণ মানুষের নিকট তা শ্রুতিলিপি প্রদানের ক্ষেত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁরা আমাদের জন্য নবুওয়াতী সীরাতের সংবাদের একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষণ করেছেন।
আর তাবেঈদের প্রজন্মের মধ্য থেকেও সীরাতের ঘটনাবলীর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং আমরা তাদের মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ (সীমাবদ্ধ নয়) উল্লেখ করছি।
১- উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (ওফাত ৯৩ হিজরী), যিনি মদীনার প্রসিদ্ধ সাতজন ফকীহর অন্যতম। তিনি নবুওয়াতী সীরাতের সংবাদসমূহের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন এবং তিনি প্রচুর হাদীস বর্ণনা করতেন। আত-তাবারী তাঁর গ্রন্থ (তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলুক) এবং ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থ (ফাতহুল বারী)-তে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد امتدحه ابن كثير بقوله «كان عروة فقيهاً عالماً حافظاً ثبتاً حجة عالماً بالسير، وهو أول من صنف في المغازي " (1) .
ومنهجه في كتابه (المغازي) ، يتمثل فيما يلي: "الاستشهاد بالآيات القرآنية، ويستعمل الأشعار لكن بقلة، ويهتم كثيراً بالأنساب وله عناية بإيراد الوثائق والكتب التي كتبها رسول الله صلى الله عليه وسلم كما أنه قليل الاستعمال للأسانيد" (2) .
2- عامر بن شراحيل الشعبي (ت103هـ) . وهو محدث ثقة، ألف كتاب (المغازي) ، وكان يحدث الناس من خلاله وقد مر على مجلسه عبد الله ابن عمر فقال: " قد شهدت القوم فهو أحفظ لها وأعلم بها " (3) . وكان ينقل أخبار سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم بكل صدق وأمانة، فقد وصف بأنه محدث ثقة (4) .
3- أبان بن عثمان بن عفان، رضي الله عنه (ت105هـ) . تولى ولاية المدينة المنورة مدة سبع سنوات في خلافة عبد الملك بن مروان وقد اهتم بأخبار غزواته وسراياه وقد أخذ عنه المغيرة بن عبد الرحمن مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان أبان بن عثمان يعلمها للناس ويأمرهم بتعليمها (5) .
4- شرحبيل بن سعد المدني (ت123هـ) ، وهو محدث، صدوق قال ابن عيينة: "لم يكن أحد أعلم بالمغازي والبدريين منه" (6) ، ولم تصرح
--------------------------------------------
ইবনে কাসীর তাকে এই বলে প্রশংসা করেছেন যে, “উরওয়াহ ছিলেন একজন ফকীহ, আলিম, হাফিয, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, হুজ্জাত (দলীল স্বরূপ) এবং সীরাত শাস্ত্রে পণ্ডিত। তিনি সর্বপ্রথম মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন।” (১)।
তার রচিত (মাগাযী) গ্রন্থের পদ্ধতি নিম্নরূপ: “কুরআনের আয়াত দ্বারা দলীল প্রদান, কবিতার ব্যবহার তবে তা সামান্য, বংশপরম্পরার বিষয়ের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর লিখিত নথিপত্র ও চিঠিসমূহ উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ যত্নশীলতা। এছাড়া তিনি সনদ বা বর্ণনাসূত্র কম ব্যবহার করতেন।” (২)।
২- আমির বিন শারাহীল আশ-শা'বী (মৃত্যু ১০৩ হিজরী)। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস, তিনি (মাগাযী) বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন এবং তিনি এর মাধ্যমে মানুষকে হাদীস শোনাতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর তার মজলিস অতিক্রম করার সময় বলেছিলেন: “আমি সেই লোকদের সাথে উপস্থিত ছিলাম, অথচ তিনি তাদের ঘটনাবলী সম্পর্কে অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং তাদের সম্পর্কে আমার চেয়েও বেশি জানেন।” (৩)। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের সংবাদসমূহ পূর্ণ সত্যনিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে বর্ণনা করতেন, তাকে একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে (৪)।
৩- আবান বিন উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (মৃত্যু ১০৫ হিজরী)। তিনি আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের খিলাফতকালে সাত বছর মদীনা মুনাওয়ারার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাসুলুল্লাহর যুদ্ধাভিযান ও সারাইয়া (ছোট যুদ্ধ)-এর সংবাদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। মুগীরাহ বিন আব্দুর রহমান তার নিকট থেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাগাযী বা যুদ্ধাভিযানের বর্ণনা গ্রহণ করেন। আবান বিন উসমান তা মানুষকে শিক্ষা দিতেন এবং তা শিক্ষা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন (৫)।
৪- শুরাহবীল বিন সা'দ আল-মাদানী (মৃত্যু ১২৩ হিজরী)। তিনি একজন মুহাদ্দিস ও সত্যবাদী। ইবনে উয়াইনাহ বলেন: “মাগাযী এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আর কেউ ছিল না।” (৬), তবে তিনি তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المصادر بأن شرحبيل قد ألف في السيرة ولكنه احتفظ بقوائم فيها أسماء أهل بدر، وأسماء المهاجرين الأوائل (1) .
5- محمد بن مسلم بن شهاب الزهري (ت124هـ) ، وهو من كبار المحدِّثين الذين اهتموا بالمغازي وبسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهو ثقة، "وهو أول من استخدم طريقة جمع الأسانيد ليكتمل السياق وتتصل الأحداث دون أن تقطعها الأسانيد" (2) ، وتعد كتاباته أول كتابات في السيرة (3) "وهي من أوثق السير وأهمها، ويعتمد عليه ابن إسحاق كثيرا في السيرة" (4) .
6- عاصم بن عمر بن قتادة الأنصاري (ت129هـ) ، تربى في بيت علم وأدب، فجده كان من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووالده من العلماء الأفذاذ، وهو نقل عن جده ووالده، "فكان راوياً للعلم، وله علم بالمغازي والسير، كان يجلس في مسجد دمشق، ويعلم الناس بالمغازي، وكان من المصادر المهمة التي اعتمد عليها ابن إسحاق والواقدي" (5) .
7- موسى بن عقبة (ت140هـ) ، له كتاب في (المغازي) يقع في مجلد مختصر، ويعده العلماء من أصح كتب المغازي (6) وهو محدث ثقة،
--------------------------------------------
উৎসসমূহ হতে জানা যায় যে, শুরাহবিল সীরাত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, কিন্তু তিনি বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীদের নাম এবং প্রাথমিক পর্যায়ের মুহাজিরদের নামের তালিকাগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন (১)।
৫- মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (মৃত্যু ১২৪ হিজরী), তিনি বড় মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযান (মাগাযী) এবং সীরাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী। "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সনদসমূহকে একত্রিত করার পদ্ধতি ব্যবহার করেন যাতে প্রেক্ষাপট পূর্ণতা পায় এবং সনদসমূহের কারণে বিচ্ছিন্ন না হয়ে ঘটনাবলী নিরবচ্ছিন্ন থাকে" (২)। তাঁর লেখনীগুলোকে সীরাতের প্রথম লেখনী হিসেবে গণ্য করা হয় (৩)। "সেগুলো সীরাতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং ইবনে ইসহাক সীরাতের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন" (৪)।
৬- আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদা আল-আনসারী (মৃত্যু ১২৯ হিজরী), তিনি জ্ঞান ও শিষ্টাচারের (আদব) পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর দাদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন এবং তাঁর পিতা ছিলেন অনন্যসাধারণ আলেমদের একজন। তিনি তাঁর দাদা ও পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। "তিনি জ্ঞানের একজন বর্ণনাকারী ছিলেন এবং মাগাযী ও সীরাত সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি দামেস্কের মসজিদে বসতেন এবং মানুষকে মাগাযী শিক্ষা দিতেন। তিনি সেই গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর অন্যতম ছিলেন যার ওপর ইবনে ইসহাক এবং ওয়াকিদী নির্ভর করেছিলেন" (৫)।
৭- মূসা ইবনে উকবা (মৃত্যু ১৪০ হিজরী), তাঁর (আল-মাগাযী) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে যা একটি সংক্ষিপ্ত খণ্ডে রচিত। আলেমগণ একে মাগাযী বিষয়ক সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন (৬)। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يعد من تلاميذ الزهري، لذلك فقد استفاد منه فائدة كبيرة (1) .
8- سليمان بن طرخان التيمي (ت143هـ) ، يعد من علماء الجرح والتعديل، وهو محدث، ثقة من التابعين له كتاب"السيرة الصحيحة" وهو مفقود إلا بعض أجزائه (2) .
9- محمد بن إسحاق (ت151هـ) ، أصله فارسي، تربى وتلقى العلم في المدينة المنورة، ويعد من أعلم الناس بالمغازي، "لكن مروياته لاترقى إلى درجة الصحيح، بل الحسن بشرط أن يصرح بالتحديث لأنه مدلس " (3) ، وقد ذكر أكرم العمري في شأن حجية ابن إسحاق ما ورد عن ابن عدي قوله"وقد فتشت أحاديثه، فلم أجد في أحاديثه ما يتهيأ أن يقطع عليه بالضعيف، وربما أخطأ، أو وهم، كما يخطئ غيره، ولم يتخلف في الرواية عنه الثقات والأئمة وهو لا بأس به" (4) .
وقد ألف ابن إسحاق كتاباً في السيرة النبوية اشتمل على "حياة الرسول صلى الله عليه وسلم قبل البعثة، وشيء من أخبار الجاهلية، ثم سيرته صلى الله عليه وسلم بعد البعثة حتى الهجرة، ثم حياته في المدينة، ومغازيه، وبعوثه حتى وفاته" (5) ، وكتابه في السيرة النبوية مفقود، إلا أن ابن هشام قام بتهذيب ذلك الكتاب، محافظاً على النصوص التي أوردها ابن إسحاق.
--------------------------------------------
তিনি আয-যুহরী-এর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাই তিনি তাঁর কাছ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছেন (১)।
৮- সুলাইমান বিন তারখান আত-তৈমী (মৃত্যু ১৪৩ হি.), তিনি আল-জারহ ওয়াত-তা'দীল শাস্ত্রের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং একজন নির্ভরযোগ্য তাবিঈ মুহাদ্দিস। তাঁর 'আস-সিরাত আস-সহিহাহ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা কিছু অংশ ছাড়া বর্তমানে বিলুপ্ত (২)।
৯- মুহাম্মদ বিন ইসহাক (মৃত্যু ১৫১ হি.), তাঁর মূল বংশপরিচয় পারস্যের, তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় লালিত-পালিত হয়েছেন এবং সেখানে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী হিসেবে পরিগণিত। "তবে তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলো সহিহ-এর পর্যায়ে উন্নীত হয় না, বরং তা হাসান পর্যায়ের, শর্ত থাকে যে তিনি স্পষ্টভাবে শ্রবণের (তাহদীস) কথা উল্লেখ করবেন, কারণ তিনি মুদাল্লিস ছিলেন" (৩)। ইবনে ইসহাকের প্রামাণিকতা সম্পর্কে আকরাম আল-উমারী ইবনে আদীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, "আমি তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং তাঁর হাদিসগুলোর মধ্যে এমন কিছু পাইনি যা তাঁকে নিশ্চিতভাবে দুর্বল হিসেবে সাব্যস্ত করে। সম্ভবত তিনি ভুল করেছেন অথবা ভ্রান্তিতে পড়েছেন, যেমনটি অন্যরাও ভুল করেন। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করা ত্যাগ করেননি এবং তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই" (৪)।
ইবনে ইসহাক সীরাতে নববী সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা "নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন এবং জাহিলী যুগের কিছু খবরাখবর, অতঃপর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর থেকে হিজরত পর্যন্ত সীরাত, এরপর মদিনার জীবন, তাঁর মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর প্রেরিত বাহিনীসমূহের বিবরণ" (৫) অন্তর্ভুক্ত করে। সীরাতে নববী বিষয়ক তাঁর এই মূল গ্রন্থটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তবে ইবনে হিশাম সেই গ্রন্থটিকে পরিমার্জন করেছেন এবং ইবনে ইসহাক কর্তৃক বর্ণিত মূল পাঠসমূহ সংরক্ষণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومنهج ابن إسحاق يقوم في جملته على"إيراد الأخبار بالأسانيد التي وصلته، وهذه الأسانيد منها الموصول، ومنها المنقطع والمنفصل، في حين أن بعض الأخبار يوردها بدون إسناد، ويظهر هذا على نحو واضح في القسم الأول من السيرة" (1) ، ويمكن الاطلاع على ذلك في كتابه فتجده يقول: حدثني بعض أهل مكة
… إلخ.
ولأن الكتاب لازال مفقوداً (2) فلن نسترسل في الحديث عنه ونكتفي بهذه الإلماحه.
وقد أورد أكرم العمري مجموعة من أسماء العلماء والفقهاء الذين كان لهم النصيب الأكبر في إيضاح سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وهذه الفئة السابق ذكرها لم نجد لمؤلفاتهم ذكراً إلا من خلال التراجم والسير الخاصة بهم، وهي في غالب الأمر مفقودة، ومن أولئك نذكر ما يلي:
1/ أبو معشر السندي (ت171هـ) ، له كتاب المغازي (3) .
2/ عبد الله بن محمد بن أبي بكر المدني (176هـ) صنف في المغازي (4) .
3/ يحيى بن سعيد الأموي (ت194هـ) صنف في المغازي (5) .
4/ الوليد بن مسلم الدمشقي (ت196هـ) (6) .
--------------------------------------------
ইবনে ইসহাকের পদ্ধতি সামগ্রিকভাবে তাঁর নিকট পৌঁছানো সনদগুলোর মাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সনদগুলোর কোনটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত), কোনটি মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন) এবং কোনটি মুনফাসিল (বিযুক্ত); আবার কখনো কখনো তিনি কিছু সংবাদ কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। এটি সীরাতের প্রথম অংশে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় (১)। তাঁর কিতাবে এটি দেখা সম্ভব, যেখানে তিনি বলেন: মক্কার কিছু লোক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন
... ইত্যাদি।
যেহেতু কিতাবটি এখনো বিলুপ্ত (২), তাই আমরা এটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করব না এবং এই ইশারাটুকুর ওপরই ক্ষান্ত থাকব।
আকরাম আল-উমারী এমন একদল আলেম ও ফকিহদের নাম উল্লেখ করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। পূর্বে উল্লিখিত এই শ্রেণির আলেমদের রচিত গ্রন্থগুলোর উল্লেখ কেবল তাদের জীবনী ও জীবনবৃত্তান্তের মাধ্যমেই পাওয়া যায় এবং সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিলুপ্ত। তাদের মধ্য থেকে আমরা নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করছি:
১/ আবু মা'শার আস-সিন্দি (মৃত্যু ১৭১ হিজরি), তাঁর 'কিতাবুল মাগাজি' (৩) রয়েছে।
২/ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাদানি (১৭৬ হিজরি), তিনি মাগাজি বিষয়ক কিতাব সংকলন করেছেন (৪)।
৩/ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাওয়ি (মৃত্যু ১৯৪ হিজরি), তিনি মাগাজি বিষয়ক কিতাব সংকলন করেছেন (৫)।
৪/ আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৯৬ হিজরি) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5/ يونس بن بكير (ت199هـ) أحد رواة سيرة ابن إسحاق (1) .
6/ محمد بن عائذ الدمشقي (234هـ) ، صنف في المغازي (2) .
7/ علي بن محمد المدائني (ت235هـ) ، صنف موضوعًا في السيرة (3) .
8/ صالح بن إسحاق الجرمي النحوي (ت235هـ) له "كتاب في السيرة عجيب" (4) .
9/ إسماعيل بن جميع (ت277هـ) له كتاب "أخبار النبي ومغازيه وسراياه" (5) .
10/ سعيد بن يحيى بن سعيد الأموي (ت249هـ) صنف في المغازي (6) .
11/ أحمد بن الحارث الخراز (ت258هـ) له كتاب "مغازي النبي وسراياه وأزواجه" (7) .
12/ عبد الملك بن محمد الرقاشي (ت276هـ) له كتاب "المغازي" (8) .
13/ إبراهيم بن إسماعيل العنبري (ت280هـ) له كتاب "المغازي" (9) .
--------------------------------------------
৫/ ইউনুস ইবনে বুকাইর (মৃত্যু ১৯৯ হিজরি), ইবনে ইসহাকের সীরাতের অন্যতম বর্ণনাকারী (১)।
৬/ মুহাম্মদ ইবনে আইজ আদ-দামেশকি (২৩৪ হিজরি), মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন (২)।
৭/ আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদায়িনি (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি), সীরাত বিষয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ রচনা করেছেন (৩)।
৮/ সালিহ ইবনে ইসহাক আল-জারমি আন-নাহবি (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি), তাঁর একটি "সীরাত বিষয়ক চমৎকার কিতাব" রয়েছে (৪)।
৯/ ইসমাইল ইবনে জামি' (মৃত্যু ২৭৭ হিজরি), তাঁর "আখবারুন নবী ওয়া মাগাজিহি ওয়া সারায়াহু" (নবীজির সংবাদ, যুদ্ধাভিযান ও সারায়া সংক্রান্ত) নামক একটি কিতাব রয়েছে (৫)।
১০/ সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাবি (মৃত্যু ২৪৯ হিজরি), মাগাজি বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন (৬)।
১১/ আহমদ ইবনে হারিস আল-খাররাজ (মৃত্যু ২৫৮ হিজরি), তাঁর "মাগাজিন নবী ওয়া সারায়াহু ওয়া আজওয়াজুহু" (নবীজির যুদ্ধাভিযান, সারায়া ও তাঁর সহধর্মিনীগণ সংক্রান্ত) নামক একটি কিতাব রয়েছে (৭)।
১২/ আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আর-রাকাশি (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি), তাঁর "আল-মাগাজি" নামক একটি কিতাব রয়েছে (৮)।
১৩/ ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল আল-আনবারি (মৃত্যু ২৮০ হিজরি), তাঁর "আল-মাগাজি" নামক একটি কিতাব রয়েছে (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
14/ إسماعيل بن إسحاق القاضي (ت282هـ) له كتاب "المغازي" (1) .
ثم هناك مجموعة أخرى من التابعين وأتباعهم ذكرتهم المصادر في ثنايا المعلومات باهتمامهم بالسيرة وبأخبار الرسول صلى الله عليه وسلم، وهؤلاء لم تصرح المصادر بتأليفهم في السيرة بل أشارت إلى عنايتهم، واهتمامهم بالتحديث بها. ونذكر منهم معتمدين على ما أورده أكرم العمري في ذلك (2) .
1- عكرمة مولى ابن عباس (ت107هـ) .
2- أبو إسحاق عمرو بن عبد الله السبيعي (ت127هـ) .
3- يعقوب بن عتبة بن المغيرة (ت128هـ) .
4- داود بن الحسين الأموي (ت135هـ) .
5- عبد الرحمن بن عبد العزيز الحنيفي (ت162هـ) .
6- محمد بن صالح بن دينار (ت168هـ) .
7- عبد الله بن جعفر المخرمي المدني (ت170هـ) .
وبذلك نقف على نهاية المرحلة الأولى من مراحل تدوين السيرة والاهتمام بها في عهد الصحابة، والتابعين ومن تبعهم من تلاميذهم وغيرهم، وقد أكدت جل المصادر أن مؤلفات هؤلاء العلماء الذين سبق ذكرهم يعد معظمها أو كلها مفقوداً، إلا ما ندر من بعض الأجزاء الصغيرة، أو الوريقات المبعثرة في بعض كتب من ألف في السيرة أو في كتب التاريخ العام.
وهذه المرحلة السابق ذكرها، تميز علماؤها بأمرين هما،: (العدالة، والضبط) ، وهما شرطان عند العلماء لتوثيق الرواة، وإن كانوا قد وثقوا عند
--------------------------------------------
১৪/ ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-কাজী (মৃত্যু ২৮২ হিজরি), তাঁর "আল-মাগাযী" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে (১)।
এরপর তাবেয়ী এবং তাঁদের অনুসারীদের আরও একটি দল রয়েছে যাদের কথা বিভিন্ন তথ্যের মাঝে সীরাত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদের প্রতি তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কারণে উৎসগ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎসগ্রন্থগুলো সীরাত বিষয়ে তাঁদের কোনো গ্রন্থ রচনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি, বরং সীরাত চর্চার ক্ষেত্রে তাঁদের যত্ন ও আগ্রহের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। এ বিষয়ে আকরাম আল-উমরীর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে আমরা তাঁদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি (২)।
১- ইকরিমা, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস (মৃত্যু ১০৭ হিজরি)।
২- আবু ইসহাক আমর বিন আব্দুল্লাহ আস-সাবিঈ (মৃত্যু ১২৭ হিজরি)।
৩- ইয়াকুব বিন উতবা বিন আল-মুগীরা (মৃত্যু ১২৮ হিজরি)।
৪- দাউদ বিন আল-হুসাইন আল-উমাবী (মৃত্যু ১৩৫ হিজরি)।
৫- আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-হুনায়ফী (মৃত্যু ১৬২ হিজরি)।
৬- মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন দীনার (মৃত্যু ১৬৮ হিজরি)।
৭- আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-মাখরামী আল-মাদানী (মৃত্যু ১৭০ হিজরি)।
এর মাধ্যমে আমরা সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাঁদের ছাত্র ও অন্যদের যুগে সীরাত লিপিবদ্ধকরণ এবং এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের প্রথম পর্যায়ের শেষ সীমায় উপনীত হলাম। অধিকাংশ উৎসগ্রন্থ নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বে উল্লেখিত এই আলেমদের রচনাবলির অধিকাংশ বা প্রায় সবটুকুই বিলুপ্ত হয়ে গেছে; কেবল কিছু বিরল ক্ষুদ্র অংশ বা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত পাতা ছাড়া, যা সীরাত বিষয়ক গ্রন্থকারদের বইয়ে অথবা সাধারণ ইতিহাসের বইগুলোতে পাওয়া যায়।
এই পূর্বে উল্লেখিত স্তরের আলেমগণ দুইটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ছিলেন, আর তা হলো: (আদালত বা ন্যায়পরায়ণতা এবং জাবত বা স্মৃতিশক্তির প্রখরতা)। বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের জন্য আলেমদের নিকট এই দুটি শর্ত আবশ্যক, যদিও তাঁদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المحدثين رغم دقة شروطهم في التوثيق، ورغم نظرتهم لهم بأنهم محدثون مادتهم الأحاديث، وليسوا إخباريين مادتهم الأخبار، والنقاد يتشددون في مادة الحديث كثيراً، ويتساهلون في قبول الأخبار، فإن هذا التوثيق يعطي كتاباتهم في السيرة قيمة علمية كبيرة.
لقد حفظ الله تعالى سيرة نبيه صلى الله عليه وسلم من الضياع والتحريف، والمبالغة والتهويل، بأن هيأ لها جهابذة المحدثين ليعنوا بها، ويدونوا أصولها الأولى، قبل أن تتناولها أقلام المؤرخين، والقصاصين. وهذه ميزة لمصادر السيرة لم تتوافر لغيرها من كتب التاريخ والأخبار وتبرز هذه الميزة لكون المحدثين ثقات مأمونين في الرواية، لكونهم علماء لهم مناهج واضحة في نقد الروايات سنداً ومتناً، ولهم أسلوب يتسم بالجدية والبعد عن الحشو والمبالغة (1) حقاً لقد كانت المرحلة الأولى من مراحل الاهتمام بالسيرة النبوية، مرحلة التأسيس العلمي الأصيل لمصادر وأوعية معلومات السيرة النبوية، واتسمت هذه المرحلة بالرواية الشفهية، وبث أخبار السيرة عن طريق التلقي في الكتاتيب أو في المساجد أو في المجالس العلمية. ثم تلت هذه المرحلة مرحلة التأليف المبكر في السيرة، والتي فقدت أغلب مؤلفاتها، ولكن جاءت مرحلة تالية حفظت لنا سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
القسم الثاني:
مرحلة التأليف في السيرة النبوية، وهذه المرحلة تنقسم إلى قسمين كبيرين ومهمين، هما:
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণ তাদের নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণের শর্তাবলির সূক্ষ্মতা সত্ত্বেও, এবং তাঁদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও যে তাঁরা হলেন এমন মুহাদ্দিস যাঁদের মূল বিষয়বস্তু হলো হাদিস, এবং তাঁরা সংবাদ সংগ্রাহক নন যাঁদের বিষয়বস্তু হলো সাধারণ সংবাদ; আর যেহেতু সমালোচকগণ হাদিসের বিষয়ের ক্ষেত্রে অনেক কঠোরতা অবলম্বন করেন এবং সাধারণ সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন, তাই এই প্রামাণিকতা সীরাত বিষয়ে তাঁদের রচনাবলিকে এক বিশাল বৈজ্ঞানিক মূল্য প্রদান করে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতকে হারিয়ে যাওয়া, বিকৃতি, অতিরঞ্জন ও অসংলগ্নতা থেকে রক্ষা করেছেন। এর জন্য তিনি প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসদের প্রস্তুত করেছেন যাতে তাঁরা এর প্রতি যত্নবান হন এবং ইতিহাসবিদ ও গল্পকারদের কলম এতে নিপতিত হওয়ার আগেই এর প্রাথমিক মূলনীতিসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। এটি সীরাতের উৎসসমূহের এমন এক বৈশিষ্ট্য যা অন্যান্য ইতিহাস ও সংবাদের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই। এই বৈশিষ্ট্যটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কারণ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং তাঁরা ছিলেন এমন আলিম যাঁদের সনদ ও মতন পর্যালোচনায় সুস্পষ্ট মানদণ্ড ছিল। তাঁদের লিখনশৈলী ছিল গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং তা অসারতা ও অতিরঞ্জন থেকে মুক্ত ছিল (১)। প্রকৃতপক্ষে সীরাতুন্নবীর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের পর্যায়গুলোর মধ্যে প্রথম পর্যায়টি ছিল সীরাতুন্নবীর তথ্য ও উপাত্তের উৎসসমূহের মৌলিক তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপনের পর্যায়। এই পর্যায়টি মৌখিক বর্ণনা এবং মক্তব, মসজিদ বা জ্ঞানতাত্ত্বিক মজলিসে শ্রবণের মাধ্যমে সীরাতের সংবাদ প্রচারের দ্বারা চিহ্নিত ছিল। এরপর এই পর্যায়ের অনুগামী হয় সীরাত বিষয়ক প্রাথমিক রচনার পর্যায়, যার অধিকাংশ রচনাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে এর পরবর্তী এক পর্যায় এসেছে যা আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতকে সংরক্ষিত রেখেছে।
দ্বিতীয় অংশ:
সীরাতুন্নবী রচনার পর্যায়; এই পর্যায়টি দুটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ভাগে বিভক্ত, তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أ - مرحلة التأليف المباشر.
ب - مرحلة التأليف غير المباشر، (أو التأليف الثانوي) . وبعون الله وتوفيقه نبدأ بالحديث عن مرحلة التأليف المباشر.
أ. مرحلة التأليف المباشر: ونقصد بذلك أن مؤلفات من سنذكرهم وصلت إلينا مباشرة، وكانت مباشرتها في السيرة النبوية، ولم تتناول تلك المؤلفات أي موضوعات أخرى سوى مغازي الرسول صلى الله عليه وسلم وأخباره في جميع أمور حياته الخاصة والعامة، وسوف نذكر تلك المؤلفات على النحو التالي مع التأكيد أن السرد القادم ليس حصراً، وإنما هو مجرد أمثلة لواقع التأليف في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم:
ـ كتاب "المغازي" لمحمد بن عمر الواقدي (ت207هـ) .
ولد بالمدينة المنورة، وطلب العلم في الحجاز والشام والعراق، وعاش في كنف الدولة العباسية في عصرها الأول، وتولى منصب القضاء في عهد الخليفة هارون الرشيد، وكذا في عهد الخليفة المأمون، كان من العلماء المرموقين، ألف ما يربو على ثلاثين كتاباً في التاريخ والحوادث (1) ، وقد انتقده غير واحد في منهجيته في تأليف كتبه، فقال عنه الذهبي "جمع فأوعى، وخلط الغث بالسمين، والخرز بالورد الثمين، فاطرحوه لذلك، ومع هذا فلا يستغنى عنه في المغازي وأيام الصحابة وأخبارهم....وقد تقرر أن الواقدي ضعيف، يحتاج إليه في الغزوات والتاريخ، ونورد آثاره من غير احتجاج
… " (2) .
--------------------------------------------
ক - প্রত্যক্ষ রচনা পর্যায়।
খ - পরোক্ষ রচনা পর্যায় (বা মাধ্যমিক রচনা)। আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে আমরা প্রত্যক্ষ রচনা পর্যায় নিয়ে আলোচনা শুরু করছি।
ক. প্রত্যক্ষ রচনা পর্যায়: এর দ্বারা আমরা বুঝাচ্ছি যে, যাদের কথা আমরা উল্লেখ করব তাদের রচনাবলি সরাসরি আমাদের নিকট পৌঁছেছে। আর এগুলোর মূল বিষয়বস্তু ছিল নবীজির সীরাত বা জীবনী। এই গ্রন্থগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের সকল খবরাখবর ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেনি। আমরা সেই রচনাবলি নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করব, তবে এটি নিশ্চিত করে বলছি যে, নিম্নের বর্ণনাটি কোনো সীমাবদ্ধ তালিকা নয়, বরং এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত রচনার বাস্তব চিত্রের কেবল কিছু উদাহরণ মাত্র:
— মুহাম্মাদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) রচিত "আল-মাগাজি" গ্রন্থ।
তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজাজ, সিরিয়া ও ইরাকে ইলম অন্বেষণ করেন। তিনি আব্বাসীয় খিলাফতের প্রথম যুগে তাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বসবাস করেন এবং খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, একইভাবে খলিফা মামুনের আমলেও। তিনি প্রথিতযশা আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইতিহাস ও ঘটনাবলি বিষয়ে ত্রিশটিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন (১)। গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তার কর্মপদ্ধতির জন্য একাধিক ব্যক্তি তার সমালোচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেছেন, "তিনি প্রচুর সংগ্রহ করেছেন এবং তা সযত্নে জমা রেখেছেন, তবে তিনি অসার কথার সাথে সারগর্ভ কথার এবং সস্তা পুতির সাথে মূল্যবান মণির মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। তাই এই কারণে তাকে বর্জন করো। তবে এতদসত্ত্বেও যুদ্ধাভিযান এবং সাহাবীদের ইতিহাস ও খবরাখবরের ক্ষেত্রে তাকে ছাড়া উপায় নেই... আর এটি স্থির হয়েছে যে ওয়াকিদী দুর্বল, তবে যুদ্ধাভিযান ও ইতিহাসের বর্ণনায় তার প্রয়োজন পড়ে। আমরা তার বর্ণনাগুলো দলিল হিসেবে পেশ করা ছাড়াই উল্লেখ করি..." (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال ابن كثير: "الواقدي عنده زيادات حسنة، وتاريخ محرر غالبا؛ فإنه من أئمة هذا الشأن الكبار، وهو صدوق في نفسه مكثار" (1) ، وقال عنه ابن سيد الناس، "إن سعة العلم مظنة لكثرة الإغراب، وكثرة الإغراب مظنة للتهمة، والواقدي غير مدفوع عن سعة العلم، فكثرت غرائبه" (2) .
أما كتاب الواقدي في السيرة النبوية فقد أسماه "المغازي" (3) فهو مصدر أساس في السيرة النبوية، تحدث الواقدي في كتابه هذا عن غزوات الرسول وسراياه، يذكر تاريخ معظم الغزوات والسرايا، واسم قائدها، والوجهة التي ذهبت إليها، وذكر ذلك بقوله في كتابه"فكانت مغازي النبي صلى الله عليه وسلم التي غزاها بنفسه سبعاً وعشرين غزوة، وقاتل في تسع ثم ساقها، وكانت السرايا سبعاً وأربعين سرية" (4) .
أما منهجه في كتابه، فإنه"يذكر أحياناً الأسانيد مجموعة في أول كل غزوة أو سرية، وأحياناً لا يذكرها اعتماداً على ما ذكره في أول الكتاب، ويكتفي بقوله: قالوا" (5) ، ومن منهجه أيضاً عنايته واهتمامه"بالضبط التاريخي للوقائع والغزوات، كما أنه يعتني بذكر الرجال الذين لهم إسهامات معينة في الغزوة من إنفاق وبذل، أو مشورة ورأي، أو موقف بطولي، ويذكر الأسرى، والشهداء من المسلمين، والقتلى من الكفار ويرتبهم حسب
--------------------------------------------
ইবনে কাসীর বলেন: "ওয়াকিদীর কাছে চমৎকার কিছু তথ্য-সংযোজন রয়েছে এবং তার ইতিহাস সাধারণত সুবিন্যস্ত; কেননা তিনি এই শাস্ত্রের অন্যতম মহান ইমাম, আর তিনি ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী ও প্রচুর বর্ণনাকারী।" (১), এবং ইবনে সাইয়্যেদুন নাস তার সম্পর্কে বলেন, "নিশ্চয়ই জ্ঞানের প্রশস্ততা অদ্ভুত বর্ণনার আধিক্যের কারণ হতে পারে, আর অদ্ভুত বর্ণনার আধিক্য সন্দেহের কারণ হতে পারে; ওয়াকিদীর জ্ঞানের প্রশস্ততা অনস্বীকার্য, তাই তার মাঝে অদ্ভুত বর্ণনাও অনেক।" (২)।
নবীজীর সীরাত বিষয়ে ওয়াকিদীর গ্রন্থের নাম তিনি দিয়েছেন "আল-মাগাযী" (৩)। এটি সীরাতুন নবীর একটি মৌলিক উৎস। ওয়াকিদী তার এই গ্রন্থে রাসূলুল্লাহর যুদ্ধ (গাযওয়াত) ও ছোট যুদ্ধ অভিযানসমূহ (সারায়া) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি অধিকাংশ যুদ্ধ ও অভিযানের তারিখ, সেনাপতির নাম এবং যে গন্তব্যে তা গিয়েছিল তা উল্লেখ করেন। তিনি তার গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে সাতাশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নয়টি যুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছেন, এরপর তিনি সেগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেন। আর ছোট যুদ্ধ অভিযান ছিল সাতচল্লিশটি।" (৪)।
তার গ্রন্থের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি "কখনও কখনও প্রতিটি যুদ্ধ বা অভিযানের শুরুতে সনদসমূহ একত্রে উল্লেখ করেন, আবার কখনও কখনও গ্রন্থের শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে তা উল্লেখ করেন না এবং কেবল 'তারা বলেছেন' এটুকু বলেই ক্ষান্ত হন।" (৫)। তার পদ্ধতির আরও একটি দিক হলো ঘটনা ও যুদ্ধসমূহের নির্ভুল ঐতিহাসিক কালক্রমের প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান। একইভাবে তিনি সেই সব ব্যক্তিদের বর্ণনার প্রতিও যত্নশীল যারা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রেখেছেন—যেমন অর্থ ব্যয় ও দান, অথবা পরামর্শ ও মতামত প্রদান, কিংবা বীরত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা। তিনি যুদ্ধবন্দী, মুসলমানদের মধ্যে শহীদ এবং কাফেরদের মধ্যে নিহতদের কথা উল্লেখ করেন এবং তাদের বিন্যস্ত করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قبائلهم" (1) ، وقد انفرد الواقدي عن ابن إسحاق الذي سبق في التأليف في المغازي، بروايات في وصف سير المعارك العسكرية، وفي وصف السرايا، وبعض الحوادث الجانبية (2) .
وكذلك خالف الواقدي ابن إسحاق في الابتعاد عن طريقة المحدثين، وعدم الالتزام بالأسانيد، وألفاظ الرواة، وساق المغازي في نسق واحد مترابط الأحداث في أسلوب قصصي واضح العبارة مما ييسر حفظها على عامة الناس (3) .
وقد ذكر الخطيب البغدادي بأن الواقدي يركب الأسانيد (4) ، ومن هنا يتضح سبب اتهام المحدثين النقاد له بالكذب والوضع، وحكمهم عليه بأنه متروك (5) ، فمغازي الواقدي من المصادر الأساسية في دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم.
ـ كتاب "السيرة النبوية" لأبي محمد، عبد الله بن هشام الحميري المعافري (ت218هـ) .
نشأ ابن هشام في البصرة، ثم رحل إلى مصر (6) ، ويعد من أعلام النحو واللغة، وله من الكتب «شرح ما وقع في أشعار السيرة من الغريب» ، وكتاب «أنساب حمير وملوكها» (7) ، والكتاب الذي اشتهر به هو كتاب
--------------------------------------------
"তাদের গোত্রসমূহ" (১), এবং আল-ওয়াকিদি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) রচনার ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাক—যিনি গ্রন্থ রচনায় অগ্রজ ছিলেন—তাঁর থেকে সামরিক যুদ্ধসমূহের গতিপ্রকৃতির বর্ণনা, সারিয়া (ছোট অভিযান) সমূহের বিবরণ এবং কিছু আনুষঙ্গিক ঘটনার বর্ণনার ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেছেন (২)।
একইভাবে আল-ওয়াকিদি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি থেকে দূরে থাকা এবং সনদ (সূত্রপরম্পরা) ও বর্ণনাকারীদের শব্দমালার বাধ্যবাধকতা রক্ষা না করার ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মাগাজি বা যুদ্ধাভিযানসমূহকে একটি সুসংবদ্ধ ধারাবাহিকতায় এবং স্পষ্ট বাচনিক শৈলীতে গল্পের ঢঙে উপস্থাপন করেছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য তা মুখস্থ রাখা সহজ করে দেয় (৩)।
খতিব আল-বাগদাদি উল্লেখ করেছেন যে, আল-ওয়াকিদি সনদ জাল করতেন (৪), এবং এখান থেকেই সমালোচক মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও হাদীস জাল করার অভিযোগ আনার কারণ স্পষ্ট হয়। ফলে তাঁরা তাঁর ব্যাপারে 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত) হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন (৫)। তবে আল-ওয়াকিদির 'মাগাজি' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত অধ্যয়নের অন্যতম মৌলিক উৎস হিসেবে গণ্য।
— আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম আল-হিময়ারি আল-মাআফিরি (মৃ. ২১৮ হিজরি) রচিত "আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ" গ্রন্থ।
ইবনে হিশাম বসরায় লালিত-পালিত হন, এরপর তিনি মিসরে পাড়ি জমান (৬)। তিনি নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষাতত্ত্বের অন্যতম দিকপাল হিসেবে গণ্য হন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শারহু মা ওয়াকাআ ফি আশআরিস সিরাহ মিনাল গারিব’ এবং ‘আনসাব হিমইয়ার ওয়া মুলুকুহা’ (৭)। তবে যে গ্রন্থের কারণে তিনি সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
"السيرة النبوية"، وهو تنقيح وتهذيب، وتصويب لكتاب (المغازي) لابن إسحاق."حيث حذف ابن هشام كثيراً من الإسرائيليات والأشعار المنتحلة، وأضاف معلومات في اللغة والأنساب
… ومعظم المؤلفات بعده أخذت منه. والحق أن الصورة التي تعطيها مغازيه عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم تقترب إلى حدٍ كبير مما أوردته كتب الحديث الصحيحة مما يعطي سيرته توثيقاً كبيراً" (1) ، ويقع الكتاب في أربعة أجزاء، يبدأ في ذكر نسب الرسول صلى الله عليه وسلم، وينتهي بمرثية حسان بن ثابت في الرسول صلى الله عليه وسلم، وقد توافر على تحقيقه مجموعة من الباحثين، والذي يقع بين أيدينا من الكتاب الطبعة الثانية1375هـ/1955م.
ولقد نالت السيرة النبوية لابن هشام -التي هي في الأصل كتاب المغازي لابن إسحاق -عناية بعض العلماء، فتناولوها بالشرح والتعليق ونذكر منهم:
السهيلي، عبد الرحمن بن عبد الله، أبو القاسم (ت581هـ) نشأ في الأندلس، ورحل إلى مراكش، وشرح السيرة النبوية لابن هشام في كتاب أسماه «الروض الأنف» (2) .
أما الشخصية الثانية التي تناولت سيرة ابن هشام فهو: أبو ذر الخشني واسمه: مصعب بن محمد المعروف بابن أبي الركب، الجياني، نسبة إلى بلدة واسعة بالأندلس (المتوفى سنة604هـ) له كتاب مطبوع أسماه" شرح غريب سيرة ابن إسحاق" (3) . واللافت للنظر أن الذين اهتموا بسيرة ابن هشام هما من علماء الأندلس.
--------------------------------------------
"আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ", যা হলো ইবনে ইসহাকের (আল-মাগাজি) গ্রন্থের একটি পরিমার্জন, সংস্কার ও সংশোধন। "যেখানে ইবনে হিশাম অনেক ইসরাঈলি বর্ণনা ও জাল কবিতা বর্জন করেছেন এবং ভাষা ও বংশপরম্পরা বিষয়ক তথ্য যুক্ত করেছেন
… এবং তাঁর পরবর্তী অধিকাংশ রচনাই তাঁর কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করেছে। সত্যি বলতে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সম্পর্কে তাঁর 'মাগাজি' যে চিত্র তুলে ধরে, তা সহিহ হাদিস গ্রন্থসমূহে বর্ণিত বর্ণনার সাথে অনেকাংশেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা তাঁর সিরাত গ্রন্থটিকে ব্যাপক নির্ভরযোগ্যতা দান করে" (১), গ্রন্থটি চার খণ্ডে বিন্যস্ত, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে হাসসান বিন সাবিতের শোকগাঁথা দিয়ে শেষ হয়েছে। একদল গবেষক এর তাহকিক (সম্পাদনা) সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদের হাতে গ্রন্থটির যে সংস্করণটি রয়েছে তা হলো দ্বিতীয় মুদ্রণ ১৩৭৫ হিজরি/১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ।
ইবনে হিশামের 'আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ'—যা মূলত ইবনে ইসহাকের 'আল-মাগাজি' গ্রন্থ—কিছু আলিমের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে; তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও টীকা লিখেছেন। তাঁদের মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি:
আস-সুহাইলি, আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ, আবু কাসিম (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি)। তিনি আন্দালুসে বেড়ে ওঠেন এবং মারাকেশে সফর করেন। তিনি ইবনে হিশামের 'আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ' এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন 'আর-রাওদুল উনুফ' (২)।
দ্বিতীয় যে ব্যক্তিত্ব ইবনে হিশামের সিরাত নিয়ে কাজ করেছেন তিনি হলেন: আবু যার আল-খুশানি, তাঁর নাম: মুসআব বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনে আবিল রুকাব আল-জায়ানি হিসেবে পরিচিত, যা আন্দালুসের একটি বিস্তীর্ণ শহরের দিকে সম্পৃক্ত (মৃত্যু ৬০৪ হিজরি)। তাঁর একটি মুদ্রিত গ্রন্থ রয়েছে যার নাম "শারহু গারিব সিরাতি ইবনি ইসহাক" (৩)। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, যারা ইবনে হিশামের সিরাত নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, তাঁরা উভয়েই আন্দালুসের আলিম ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
-كتاب "أزواج النبي صلى الله عليه وسلم " لمحمد بن الحسن بن زَبَالة (ت199هـ) (1) ، رواية، الزبير بن بكار (2) (ت256هـ) .
وابن زَبَالة من أهل المدينة المنورة، ذو باع طويل في حفظ الأخبار ووصف الأماكن والديار، اعتمد عليه السمهودي في تأليف كتابه "وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى" (3) ، وخاصة فيما يتعلق بخطط المدينة المنورة.
أما كتاب ابن زبالة هذا الذي يعدُّ من مصادر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، فهو يتحدث عن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم (4) وهو كتاب صغير الحجم وردنا من طريق رواية الزبير بن بكار عن طريق مجموعة من الأسانيد، ذكرها محقق الكتاب (5) وقد عرض ابن زبالة في كتابه هذا لأزواج النبي صلى الله عليه وسلم بدءاً من أم المؤمنين خديجة رضي الله عنها، وقد أفاض المؤلف في الحديث عنها، وكذا أفاض في حديثه عن قصة زواج عائشة بنت أبي بكر الصديق، رضي الله عنها، واستمر المؤلف في سرد قصة زواج كل زوجة من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم حتى
(1) يلاحظ أن هذا المصدر جاء خلاف ما جرى عليه تنظيم هذا البحث من حيث السياق التاريخي لسرد المصادر الوارد ذكرها والسبب في ذلك يعود لكون كتاب ابن زَبَالة (الأصل) مفقود واعتمدنا رواية الزبير بن بكار المتوفى 256هـ، وهذا يأتي ضمن السياق التاريخي للبحث، باعتبار أن الزبير بن بكار هو الذي أخرج الكتاب إلى النور، ومن هنا اعتمدنا تاريخ وفاته وهو الأصل في السياق التاريخي.
(2) الزبير بن بكار القرشي الأسدي (172-256هـ) ، هو أحد كبار الأدباء والإخباريين والنسابين، له كتاب"جمهرة نسب قريش وأخبارها" وله بعض المؤلفات الأخرى. انظر: ابن زبالة: أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، مقدمة التحقيق، ص.30
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে জাবালা (মৃত্যু ১৯৯ হিজরী) (১) রচিত "আযওয়াজুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" কিতাব, বর্ণনায়: যুবাইর ইবনে বাক্কার (২) (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী)।
ইবনে জাবালা মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসী ছিলেন; তিনি ইতিহাস সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন স্থান ও জনপদ বর্ণনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী ছিলেন। আস-সামহুদী তাঁর "ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা" (৩) কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে মদিনা মুনাওয়ারার নগর পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়ে।
ইবনে জাবালার এই কিতাবটি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত, এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের (৪) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এটি একটি ছোট আয়তনের কিতাব যা যুবাইর ইবনে বাক্কারের বর্ণনায় একদল সূত্রের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যা কিতাবটির গবেষক (৫) উল্লেখ করেছেন। ইবনে জাবালা তাঁর এই কিতাবে উম্মুল মুমিনীন খাদিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে শুরু করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের কথা উপস্থাপন করেছেন। লেখক তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, একইভাবে তিনি আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিবাহের ঘটনার বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। লেখক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেক স্ত্রীর বিবাহের ঘটনা বর্ণনা করা অব্যাহত রেখেছেন যতক্ষণ না...
(১) লক্ষ্য করা যায় যে, বর্ণিত উৎসগুলোর ঐতিহাসিক পর্যায়ক্রমিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে এই উৎসটি এই গবেষণার সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে। এর কারণ হলো ইবনে জাবালার মূল কিতাবটি হারিয়ে গেছে এবং আমরা যুবাইর ইবনে বাক্কার (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী) এর বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি। এটি গবেষণার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অন্তর্ভুক্ত, কারণ যুবাইর ইবনে বাক্কারই কিতাবটিকে জনসমক্ষে এনেছেন। এই কারণেই আমরা তাঁর মৃত্যুর তারিখকে গ্রহণ করেছি, যা ঐতিহাসিক পর্যায়ক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়েছে।
(২) যুবাইর ইবনে বাক্কার আল-কুরাশী আল-আসাদী (১৭২-২৫৬ হিজরী) হলেন একজন অন্যতম বড় সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ এবং বংশবিদ। তাঁর "জামহারাতু নাসাবি কুরাইশ ওয়া আখবারিহা" নামক গ্রন্থসহ আরও কিছু কিতাব রয়েছে। দেখুন: ইবনে জাবালা: আযওয়াজুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সম্পাদকের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
آخر امرأة ذكرها وهي مارية القبطية، وختم ابن زبالة كتابه بموضوع «ما جاء فيما أوتي النبي صلى الله عليه وسلم من القوة في الجماع» (1) .
والملاحظ على هذا الكتاب كثرة الأسانيد، وقلة المعلومات، فكان يوثق معلوماته بهذه الأسانيد، وقد أفاض في الشرح في زواج أمهات المؤمنين (خديجة وعائشة، وميمونة بنت الحارث) ، والكتاب يعول عليه في دراسة أزواج النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه أقدم كتاب وصل إلينا عن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم.
ـ كتاب "تركة النبي صلى الله عليه وسلم والسبل التي وجهها فيها" (2) . ألفه، حماد بن إسحاق بن إسماعيل (ت 267هـ) . وهذا العالم ينتمي إلى أسرة علمية عاشت في العراق «وقد اشتهر العديد من رجالات هذا البيت بالعلم وجلالة القدر والسؤدد في الدين والدنيا» (3) . فقد تولى القضاء في مدينة بغداد، وحدث بها، وألف مجموعة من الكتب، فقدت ما عدا هذا الكتاب الذي بين أيدينا، ومن كتبه المفقودة (كتاب المهادنة، كتاب الرد على الشافعي) (4) . وكانت علاقاته جيدة مع دار الخلافة، ما عدا الخليفة المهتدي العباسي الذي جرى بينهما خلاف لم تذكره المصادر، إذ جرت عليه محنة، وضُرب بالسياط.
أما كتاب "تركة النبي صلى الله عليه وسلم " فهو من أجلِّ مصادر السيرة النبوية، اعتمد المؤلف في تأليفه على ثمانية وعشرين شيخاً أغلبهم من مشاهير العلماء
--------------------------------------------
সর্বশেষ যে মহিলার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন মারিয়া আল-কিবতিয়া। ইবনে জুবাল্লা তার কিতাবটি ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সহবাসের ক্ষেত্রে যে শক্তি প্রদান করা হয়েছিল সে প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে’ (১)-এই বিষয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন।
এই কিতাবটিতে যা লক্ষণীয় তা হলো সনদের আধিক্য এবং তথ্যের স্বল্পতা। তিনি এই সনদগুলোর মাধ্যমে তার তথ্যসমূহকে প্রামাণ্য করেছেন। তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনদের (খাদিজা, আয়েশা এবং মাইমুনা বিনতে আল-হারিস) বিয়ের আলোচনায় বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের সম্পর্কে গবেষণার ক্ষেত্রে এই কিতাবটির ওপর নির্ভর করা হয়; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের সম্পর্কে আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম কিতাব।
— কিতাব "তারিকাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াস সুবুলুল্লাতি ওয়াজ্জাহাহা ফিহা" (২)। এটি রচনা করেছেন হাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইসমাইল (মৃত্যু ২৬৭ হিজরি)। এই আলেম ইরাকে বসবাসকারী একটি বিদগ্ধ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, "এই পরিবারের অনেক ব্যক্তিবর্গ জ্ঞান, সুউচ্চ মর্যাদা এবং দ্বীন ও দুনিয়ার নেতৃত্বের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন" (৩)। তিনি বাগদাদ শহরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটি ব্যতীত বাকিগুলো হারিয়ে গেছে। তার হারিয়ে যাওয়া কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে (কিতাবুল মুহাদানা, কিতাবুর রাদ্দ আলাশ শাফিয়ি) (৪)। খিলাফাতের দরবারের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল, তবে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুহতাদির ব্যতিক্রম ছিলেন, যাঁর সাথে তাঁর এমন এক বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল যা উৎসগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি, ফলে তাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এবং চাবুক দ্বারা প্রহার করা হয়।
আর "তারিকাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" কিতাবটি সিরাতে নববীর অন্যতম মহৎ উৎস। লেখক এটি রচনার ক্ষেত্রে আটাশ জন শায়খের ওপর নির্ভর করেছেন, যাদের অধিকাংশই প্রসিদ্ধ আলেম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من أئمة الحديث، والكتاب في جملته صغير الحجم، لكنه عظيم الفائدة فهو يتحدث عن خيل الرسول صلى الله عليه وسلم، ودوابه، وسلاحه، وكسوته، وسريره، ومنائحه ولقاحه وخدمته. وعندما تقرأ هذه الموضوعات تجد فيها الزهد والتواضع، وعدم حب الدنيا ومظاهرها فكان يسأل ربه الكفاف، وأخذ البلغة من الدنيا، والزهد فيما فوق ذلك رغبة في توفير نعيم الآخرة، وإيثاراً لما يبقى على ما يفنى (1) .
"ولو كان العوز وضيق ذات اليد سبب زهده، لتغير حاله عندما جاء الله بالغنى، ولكنه آثر الزهد وخشونة العيش، وقلة الطعام لنفسه وآل بيته؛ تجافياً، وترفعاً، وإيثاراً وكراهة للشبع" (2) .
وقد اعتمد في تأليفه كتابه هذا على أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم استفاد أيضا من كتاب (المغازي) للواقدي، وحماد بن إسحاق لم يأخذ الحديث عن الواقدي؛ لأنه متروك في ذلك، ولكن أخذ عنه بعض المعلومات في الأخبار، وكذا المعلومات التي لم يجدها عند المحدثين" فروايات الواقدي تتناول ما اتخذه رسول الله صلى الله عليه وسلم من الملابس والإبل والغنم والخيل والسراج، وما يشبه ذلك مما يتساهل في روايته
… وقد اعتمد حماد بصورة أساسية على الواقدي في هذا القسم من كتابه" (3) .
وكتاب تركة النبي صلى الله عليه وسلم كتاب جليل القدر عظيم المنفعة، لا يستغني عنه من أراد الاطلاع على سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
তিনি হাদিস বিশারদগণের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি সামগ্রিকভাবে আকারে ছোট হলেও এর উপকারিতা অপরিসীম। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোড়া, বাহনসমূহ, অস্ত্রশস্ত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিছানা, দানকৃত দুগ্ধবতী পশু এবং তাঁর খাদেমদের সম্পর্কে আলোচনা করে। আপনি যখন এই বিষয়গুলো পাঠ করবেন, তখন তাতে যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), বিনয় এবং দুনিয়া ও এর চাকচিক্যের প্রতি অনাসক্তি খুঁজে পাবেন। তিনি তাঁর রবের নিকট কেবল জীবনধারণের উপযোগী ন্যূনতম রিযিক প্রার্থনা করতেন এবং দুনিয়া থেকে শুধু প্রয়োজনটুকু গ্রহণ করতেন। আখিরাতের নেয়ামত লাভের আকাঙ্ক্ষায় এবং নশ্বর বিষয়ের ওপর অবিনশ্বর বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এর অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা বর্জনের মাধ্যমে তিনি যুহদ অবলম্বন করতেন (১)।
"যদি অভাব ও অস্বচ্ছলতা তাঁর যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার কারণ হতো, তবে আল্লাহ যখন সচ্ছলতা দান করেছিলেন তখন তাঁর অবস্থার পরিবর্তন হতো। কিন্তু তিনি নিজের এবং তাঁর পরিবারের জন্য যুহদ, কঠোর জীবনযাপন এবং স্বল্প আহারকেই বেছে নিয়েছিলেন; যা ছিল দুনিয়ার প্রতি নির্লিপ্ততা, শ্রেষ্ঠত্ববোধ, পরকালীন অগ্রাধিকার এবং উদরপূর্তির প্রতি অনীহার বহিঃপ্রকাশ" (২)।
তিনি তাঁর এই গ্রন্থটি রচনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন। এরপর তিনি ওয়াকিদির 'আল-মাগাযী' গ্রন্থ থেকেও উপকৃত হয়েছেন। হাম্মাদ ইবনে ইসহাক হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে ওয়াকিদি থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি; কারণ এ ক্ষেত্রে তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)। তবে তিনি তাঁর নিকট থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংবাদ এবং এমন কিছু তথ্য গ্রহণ করেছেন যা তিনি মুহাদ্দিসগণের নিকট পাননি। ওয়াকিদির বর্ণনাগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত পোশাক, উট, বকরি, ঘোড়া এবং জিন বা প্রদীপের মতো বিষয়গুলো আলোচনা করে, যে ধরনের বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়
… এবং হাম্মাদ তাঁর গ্রন্থের এই অংশে মূলত ওয়াকিদির ওপরই বিশেষভাবে নির্ভর করেছেন" (৩)।
'তারিকাতুন নবী' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকার) গ্রন্থটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং মহান উপকারের আধার। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য গ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ـ كتاب "جوامع السيرة"، للإمام الحافظ، أبي محمد، علي بن أحمد بن سعيد بن حزم (ت 456هـ) . وهو ابن حزم الظاهري ولد في قرطبة بالأندلس، وفيها عاش وتربى تربية دينية فحفظ الحديث والفقه، واستنبط الأحكام من الكتاب والسنة، وكان متفنناً في علوم جمة، عاملاً بعلمه، زاهداً في الدنيا (1) ، وكان طبيباً، شاعراً له في مجال الطب والأدب عدة رسائل.
وقد ألف مجموعة كبيرة من المصنفات العلمية منها:
1- الإيصال إلى فهم كتاب الخصال الجامعة لحمل شرائع الإسلام في الواجب والحلال والحرام والسنة والإجماع.
2- الإحكام في أصول الأحكام.
3- الفصل في الملل والأهواء والنحل.
4- مراتب العلوم.
قال عنه ابن بشكوال: "كان أبو محمد أجمع أهل الأندلس قاطبة لعلوم الإسلام، وأوسعهم معرفة مع توسعة في علم اللسان، ووفور حظه من البلاغة والشعر، والمعرفة بالسير والأخبار" (2) . وقال عنه ابن خلكان: "ما رأينا مثله فيما اجتمع له من الذكاء وسرعة الحفظ، وكرم النفس والتدين" (3) .
أما كتابه"جوامع السيرة" فهو كتاب محقق، ومطبوع، وقام بتحقيقه مجموعة من الباحثين (4) . وقد اشتمل الكتاب على موضوعات في السيرة بدءاً
--------------------------------------------
— ইমাম হাফিজ, আবু মুহাম্মদ, আলী বিন আহমদ বিন সাইদ বিন হাজম (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি)-এর গ্রন্থ "জাওয়ামি আস-সিরাহ"। তিনি ইবনে হাজম আল-জাহিরি, আন্দালুসের কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি লালিত-পালিত হন এবং ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হাদিস ও ফিকহ মুখস্থ করেন এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধান আহরণ করেন। তিনি বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী, স্বীয় জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী এবং দুনিয়া বিমুখ ছিলেন (১)। তিনি একজন চিকিৎসক ও কবিও ছিলেন; চিকিৎসা ও সাহিত্য বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাপত্র রয়েছে।
তিনি বিপুল সংখ্যক জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১- আল-ঈসাল ইলা ফাহমি কিতাবিল খিসাল আল-জামিয়া লি-হামলি শারাঈল ইসলাম ফিল ওয়াজিব ওয়াল হালাল ওয়াল হারাম ওয়াস সুন্নাহ ওয়াল ইজমা।
২- আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম।
৩- আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল।
৪- মারাতিবুল উলুম।
ইবনে বাশকুওয়াল তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আবু মুহাম্মদ ছিলেন সমগ্র আন্দালুসীয়দের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সংগ্রাহক এবং ভাষাবিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তির পাশাপাশি সবচেয়ে প্রশস্ত জ্ঞানের অধিকারী। অলঙ্কারশাস্ত্র, কবিতা এবং সীরাত ও ইতিহাস বিষয়েও তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল" (২)। ইবনে খাল্লিকান তাঁর সম্পর্কে বলেন: "মেধা, প্রখর স্মৃতিশক্তি, চরিত্রের মহানুভবতা এবং ধর্মপরায়ণতার যে বিরল সমন্বয় তাঁর মধ্যে দেখেছি, তেমনটি আর দেখিনি" (৩)।
তাঁর "জাওয়ামি আস-সিরাহ" গ্রন্থটি একটি সম্পাদিত ও মুদ্রিত গ্রন্থ। একদল গবেষক এটি সম্পাদনা করেছেন (৪)। এই গ্রন্থটি সীরাতের বিভিন্ন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা শুরু হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من نسبه صلى الله عليه وسلم، ومولده وحجه، وغزواته وصفاته ونسائه، وأولاده وأخلاقه، إضافة إلى الهجرة وأعماله صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة، وتفاصيل كثيرة في سراياه وغزواته. إضافةً إلى الحديث عن إسلام بعض الوفود التي وفدت على الرسول صلى الله عليه وسلم وهو بالمدينة، ثم انتهى حديث ابن حزم عن حجة الوداع، ثم وفاة الرسولصلى الله عليه وسلم (1) .
والمتأمل لكتاب السيرة لابن حزم يلمس أن المؤلف مال إلى الاختصار لكي يسهل على طلاب العلم الإفادة من علمه على نحو كبير، لذلك نجده جرد كتابه من ذكر الأسانيد ما عدا روايات محدودة نقلها عن ابن عبد البر، وخليفة بن الخياط، وأبي حسان الزيادي، وكذلك جرد كتابه من الأشعار والقصص (2) ، ونجده غالباً ما يرجح بين الروايات، ويحقق في تواريخ الأحداث (3) . ولقد تميز كتابه هذا بالعناية البالغة في فصلين هامين هما:
أعلام الرسول، وخلقه وشمائله؛ لأن ذلك يمثل الجانب العملي في الكمال الخلقي للرسول صلى الله عليه وسلم (4) .
وقد اشتمل كتاب "جوامع السيرة" على معلومات جيدة من كتب مختصة بالسيرة النبوية، وقد امتاز الكتاب بالدقة البالغة في تحليل النص المنقول (5) ، كما امتاز بالشرح والتحليل لغزوات الرسول صلى الله عليه وسلم فعقد لها فصولاً مطولة، وأدلة بينة وواضحة.
--------------------------------------------
রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়, তাঁর জন্ম, হজ, যুদ্ধসমূহ, গুণাবলি, সহধর্মিণীগণ, সন্তানসন্ততি ও তাঁর উত্তম চরিত্র; সেই সঙ্গে হিজরত এবং মদিনা মুনাওয়ারায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কার্যাবলি এবং তাঁর পরিচালিত ছোট অভিযান ও যুদ্ধসমূহের অনেক বিস্তারিত বিবরণ এতে রয়েছে। এ ছাড়াও মদিনায় অবস্থানকালে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আগত বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের ইসলাম গ্রহণের আলোচনা, অতঃপর বিদায় হজ সম্পর্কে ইবনে হাজমের আলোচনা এবং সবশেষে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল পর্যন্ত এতে বর্ণিত হয়েছে (১)।
ইবনে হাজমের সিরাত গ্রন্থের পর্যালোচক লক্ষ্য করবেন যে, লেখক সংক্ষেপণের দিকে ঝুঁকেছেন যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তাঁর জ্ঞান থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। এজন্য আমরা দেখতে পাই যে, তিনি ইবনে আবদিল বারর, খলিফা ইবনে খাইয়াত এবং আবু হাসান আল-জিয়াদি থেকে বর্ণিত সীমিত কিছু বর্ণনা ব্যতীত তাঁর গ্রন্থটিকে সনদ বা বর্ণনাসূত্র উল্লেখ করা থেকে মুক্ত রেখেছেন। একইভাবে তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে কবিতা ও উপাখ্যান থেকেও মুক্ত রেখেছেন (২)। আমরা তাঁকে প্রায়শই বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দিতে এবং ঘটনাবলির তারিখ যাচাই-বাছাই করতে দেখি (৩)। তাঁর এই গ্রন্থটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদে অত্যন্ত যত্নশীলতার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, সেগুলো হলো:
রাসুলের নবুওয়তের নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি; কারণ এটি রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারিত্রিক পূর্ণতার প্রায়োগিক দিকটিকে উপস্থাপন করে (৪)।
"জাওয়ামিউস সিরাত" গ্রন্থটি সিরাত সংক্রান্ত বিশেষায়িত কিতাবসমূহ থেকে চমৎকার তথ্যাবলি ধারণ করেছে। উদ্ধৃত পাঠ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গ্রন্থটি চরম সূক্ষ্মতার পরিচয় দিয়েছে (৫)। তেমনি রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধসমূহের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও এটি অনন্য, যার জন্য তিনি দীর্ঘ পরিচ্ছেদ এবং সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন।
--------------------------------------------