(খণ্ড: ১) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: -)
مشاهير علماء نجد وغيرهم - ط 1   (عبد الرحمن بن عبد اللطيف بن عبد الله آل الشيخ)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مشاهير علماء نجد وغيرهم

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد اللطيف بن عبد الله بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب

الناشر: طبع على نفقة المؤلف بإشراف دار اليمامة للبحث والترجمة والنشر، الرياض

الطبعة: الأولى، 1392 هـ / 1972 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাযদের প্রখ্যাত আলিমগণ এবং অন্যান্য - ১ম সংস্করণ   (আবদুর রহমান বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল্লাহ আল শেখ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: নাযদের প্রখ্যাত আলিমগণ এবং অন্যান্য

লেখক: আবদুর রহমান বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব

প্রকাশক: লেখকের নিজ অর্থায়নে মুদ্রিত, দারুল ইয়ামামাহ ফর রিসার্চ, ট্রান্সলেশন অ্যান্ড পাবলিশিং-এর তত্ত্বাবধানে, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯২ হিজরি / ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাহ লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة

‌‌تقديم الكتاب

…

تقديم الكتاب

"لحضرة صاحب المعالي الأستاذ الجليل الشيخ حسن بن عبد الله آل الشيخ، وزير المعارف"

تربطني بأخي مؤلف هذه التراجم وجامعها فضيلة الشيح عبد الرحمن بن عبد اللطيف بن عبد الله آل الشيخ رابطة قوية، فهو فضلا عن الصلة العائلية التي تجمعنا فنحن نلتقي دائما نتدارس كثيرا من الأمور العلمية، وعرفت فيه خلال سنوات كثيرة إلمامه الكبير بشتى العلوم، وبخاصة اللغة العربية والتاريخ، وتاريخ الجزيرة العربية بوجه خاص والتوحيد، وله ولع كبير بمطالعة الكتب العلمية وقدرة لا حد لها على سرعة مطالعة الكتب التاريخية، والعثور على ما قد تحتويه من أخطاء.

وبدافع من حبه لهذه الجزيرة وعلمائها فقد عطف منذ أكثر من عامين على جمع هذه التراجم "للعلماء" في محاولة للإبقاء علي ذكراهم، وتسجيل جهودهم وآثارهم العلمية وكفاحهم في الدعوة إلي الله، وإبلاغ شرعه للناس ولاقي في سبيل الحصول على المعلومات التي تحتويها هذه التراجم الكثير من الصعوبة والمشقة. لكنه كان يتقبل ذلك في سبيل تحقيق هدفه الذي آلي نفسه بلوغه …
ভূমিকা

গ্রন্থ নিবেদন

…

গ্রন্থ নিবেদন

"মান্যবর মহোদয়, সুমহান উস্তাদ শায়খ হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শায়খ, শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষ হতে"

এই জীবনীগ্রন্থের লেখক ও সংকলক আমার ভ্রাতা ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শায়খের সাথে আমার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মাঝে বিদ্যমান পারিবারিক সম্পর্কের বাইরেও আমরা সর্বদা সাক্ষাৎ করি এবং অনেক ইলমি বিষয়ে পাঠদান ও পর্যালোচনা করে থাকি। দীর্ঘ বহু বছর ধরে আমি তাঁর মাঝে বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় অগাধ পাণ্ডিত্য লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে আরবি ভাষা ও ইতিহাস; সুনির্দিষ্টভাবে আরব উপদ্বীপের ইতিহাস এবং তাওহীদ শাস্ত্রে। ইলমি কিতাব পাঠে তাঁর যেমন প্রবল অনুরাগ রয়েছে, তেমনি ঐতিহাসিক কিতাবসমূহ দ্রুত পাঠ করে তার মধ্যকার ভুলত্রুটি উদ্ঘাটনেও তাঁর রয়েছে অসীম সক্ষমতা।

এই উপদ্বীপ এবং এর আলেমগণের প্রতি ভালোবাসার তাড়নায় তিনি দুই বছরেরও বেশি সময় পূর্বে আলেমদের এই জীবনীসমূহ সংকলনে মনোনিবেশ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের স্মৃতি অম্লান রাখা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াত ও মানুষের কাছে তাঁর শরীয়ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা, ইলমি কীর্তি ও সংগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা। এই জীবনীগুলোতে বিদ্যমান তথ্যসমূহ সংগ্রহের পথে তাঁকে প্রচুর প্রতিকূলতা ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তিনি যে লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি হাসিমুখে এসকল কষ্ট বরণ করে নিয়েছেন …
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٨)
وأني إذ أقدم هذه المجموعة من تراجم علمائنا _ عليهم رحمة الله _ فإني أسجل بالشكر والعرفان الجهد الكبير الذي بذله فضيلة المؤلف.

وأسال الله أن يجعل في مؤلفه الفائدة التي نتوخاها جميعا وأن يهيأ _في كل زمان ومكان "لورثة الأنبياء" من يعتني بجهودهم ويبرز كفاحهم …

والله الموفق. وعليه الاتكال …

حسن بن عبد الله آل الشيخ
আর আমি যখন আমাদের ওলামায়ে কেরামের —আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন— এই জীবনী সংকলনটি পেশ করছি, তখন আমি শ্রদ্ধেয় লেখকের মহান প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর এই রচনায় সেই কল্যাণ নিহিত রাখেন যা আমরা সকলে প্রত্যাশা করি, এবং তিনি যেন সকল যুগে ও সকল স্থানে "নবীদের উত্তরসূরিদের" জন্য এমন কাউকে প্রস্তুত করেন, যিনি তাঁদের শ্রমের প্রতি যত্নবান হবেন এবং তাঁদের সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলবেন …

আর আল্লাহই তাওফিকদাতা। এবং তাঁর ওপরই ভরসা …

হাসান বিন আব্দুল্লাহ আলে শেখ
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مقدمة المؤلف

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله احمده وأستعينه واصلي واسلم نبيه محمد وأله وصحبه وبعد، لما رأيت حركة والتأليف، وبعث التراث العلمي الإسلامي في هد العهد الزاهر قائمة على قدم وساق، ورأيت هذه النهضة العلمية التي يتعهدها بعونه ويرعاها بتقديره إمام المسلمين الذي آزر العلم وناصر الإسلام جلالة الملك فيصل بن عبد العزيز آل سعود، أحببت المساهمة ولو بجهد المقل، فجمعت هذه الرسالة في تراجم مشاهير علماء نجد المتوقين1 ابتداء من الشيخ محمد ابن عبد الوهاب إلي هذه اليوم، ووضعت في أولها علماء آل الشيخ مرتبين على أقدمية الوفاة، ويليهم من عداهم من علماء نجد مرتبين أيضا على أقدمية الوفاة، ووضعت في آخرها تراجم بعض رجال النهضة من علماء الأمصار الذين تأثروا بدعوة الإسلام السلفية التي قام بتجديدها الشيخ محمد بن عبد الوهاب، فأعلنوها حربا شعواء على البدع والخرافات وهم صديق بن حسن خان وبشير السهسواني السيد محمود شكري الألوسي والسيد محمد رشيد رضا.

والله أساله الإعانة والتوفيق وهو حسبي ونعم الوكيل.

المؤلف
লেখকের ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমি তাঁর নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করছি। অতঃপর: যখন আমি এই সমৃদ্ধ যুগে গ্রন্থ রচনা এবং ইসলামি ইলমি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণের আন্দোলনকে পূর্ণ গতিতে চলতে দেখলাম এবং এই ইলমি রেনেসাঁ প্রত্যক্ষ করলাম—যার পৃষ্ঠপোষকতা আল্লাহর সাহায্যে ও নিজস্ব মূল্যায়নে মুসলিম উম্মাহর ইমাম করছেন, যিনি ইলমের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং ইসলামের সাহায্য করেছেন, তিনি হলেন মহামান্য কিং ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ—তখন আমি আমার সামান্য সামর্থ্যের মাধ্যমে হলেও এতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হলাম। তাই আমি নজদের প্রখ্যাত প্রয়াত আলেমদের জীবনী নিয়ে এই রিসালাতটি সংকলন করেছি, যার সূচনা হয়েছে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। এর শুরুতে আমি আলুশ শেখ (শেখ পরিবারের) আলেমদের নাম তাদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে রেখেছি। এরপর নজদের অন্যান্য আলেমদের জীবনীও মৃত্যুসনের ক্রমানুসারে সন্নিবেশিত করেছি। সর্বশেষে আমি বিভিন্ন অঞ্চলের সেইসব রেনেসাঁ পুরুষ আলেমদের জীবনী আলোচনা করেছি যারা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক পুনর্জাগরিত ইসলামি সালাফী দাওয়াতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তারা বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম ঘোষণা করেছিলেন; তারা হলেন সিদ্দিক হাসান খান, বশীর আল-সাহসাওয়ানী, সাইয়্যেদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি এবং সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা।

আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

লেখক
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌علماء نجد وغيرهم

‌‌الشيخ عمر بن حسن آل الشيخ

…

الشيخ عمر بن حسن آل الشيخ

أحببت في هذه المناسبة أن أتحف القراء بوضع ترجمة في أول هذا الكتاب العلامة الكبير سماحة الشيخ عمر بن الشيخ حسين آل الشيخ، فسجلت هذه الترجمة التالية وذلك بعد أذن من سماحته أمد الله عمره 1

سماحة الشيخ عمر بن الشيخ حسن آل الشيخ:

هو العلامة المحق الجليل المتقن شيخنا الشيخ عمر ابن الشيخ حسن ابن الشيخ حسين ابن الشيخ علي ابن الشيخ حسين ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رئيس هيئات الأمر بالمعروف في نجد والمنطقة الشرقية وخط "التابلاين""

مولده:

ولد سماحة هذا العالم الشهير بمدينة الرياض عام ألف وثلاثمائة وتسعة عشر من الهجرة ونشأ في كيف والده الشيخ حسن نشأة دينية علمية ولما بلغ السابعة من عمرة أدخله والده مدرسة تحفيظ القرآن عند مقريء بدعي إبراهيم بن عيسي بن رضيان من مشاهير حملة القرآن في زمنه، أتقن القرآن حفظا وتجويدا حيث قرأه على الشيخ البطيحي المشهور في وقته بالحفظ ومعرفة قواعد التجويد لقراءته علي الشيخ ابن سهل الذي تلقى علم القراءات والتجويد على العلامة الشيخ عبد الرحمن بن حسن ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب فقرأ

--------------------------------------------

1 بعد إلحاحي على سماحته المرة تعد المرة أذن لي مد الله في حياته بكتابة هذه الترجمة المتضمنة تاريخ حياته الحافل بجلائل الأعمال النافعة أطال الله عمر سماحته ذخرا للعلم وأهله.
নজদ ও অন্যান্য অঞ্চলের উলামাগণ

শায়খ উমর বিন হাসান আল আশ-শায়খ

...

শায়খ উমর বিন হাসান আল আশ-শায়খ

আমি এই উপলক্ষে মহান আল্লামা সামাহাতুশ শায়খ উমর বিন শায়খ হাসান আল আশ-শায়খের একটি জীবনী এই কিতাবের শুরুতে সন্নিবেশিত করে পাঠকদের উপহার দিতে পছন্দ করেছি। তাঁর অনুমতিক্রমে আমি এই জীবনীটি লিপিবদ্ধ করেছি, আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন। ১

সামাহাতুশ শায়খ উমর বিন শায়খ হাসান আল আশ-শায়খ:

তিনি হলেন বিজ্ঞ, সুপ্রতিষ্ঠিত ও মহান আল্লামা আমাদের শায়খ উমর ইবনুল শায়খ হাসান ইবনুল শায়খ হুসাইন ইবনুল শায়খ আলী ইবনুল শায়খ হুসাইন ইবনে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। তিনি নজদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং 'ট্যাপলাইন' অঞ্চলের সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ দানকারী সংস্থাসমূহের প্রধান।

তাঁর জন্ম:

এই প্রখ্যাত আলেম ১৩১৯ হিজরি সনে রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা শায়খ হাসানের তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে লালিত-পালিত হন। যখন তাঁর বয়স সাত বছর পূর্ণ হলো, তখন তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর সময়ের প্রসিদ্ধ কুরআন বহনকারীদের অন্যতম ক্বারী ইবরাহীম বিন ঈসা বিন রাদিয়ানের কুরআন হিফজ মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে তাজবিদসহ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। তিনি এটি তৎকালীন সময়ের প্রসিদ্ধ হাফেজ ও তাজবিদের নিয়মাবলীতে পারদর্শী শায়খ আল-বুতাইহির নিকট পাঠ করেন। উক্ত শায়খ (বুতাইহি) আবার শায়খ ইবনে সাহলের নিকট ক্বিরাত ও তাজবিদ শিক্ষা করেছিলেন, যিনি স্বয়ং আল্লামা শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান ইবনে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট থেকে ক্বিরাত ও তাজবিদ শিক্ষা লাভ করেছিলেন। অতঃপর তিনি পাঠ করেন...

--------------------------------------------

১ আমার পক্ষ থেকে বারবার পিড়াপিড়ি করার পর তিনি (আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন) আমাকে তাঁর এই জীবনীটি লেখার অনুমতি প্রদান করেন, যা তাঁর বহুবিধ উপকারী ও মহান কর্মময় জীবনের ইতিহাসের সমাহার। আল্লাহ সামাহাতুশ শায়খের হায়াত দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁকে ইলম ও আহলে ইলমের জন্য পাথেয় হিসেবে কবুল করুন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٢)
سماحته القرآن على هذا المقرئ المذكور ثم قرأه عن ظهر قلب وهو في الثامنة من عمره على والده الشيخ حسن رحمه الله.

ابتداء طلبه العلم ومشائخه:

شرع سماحته في طلب العلم وهو في السنة التاسعة من عمره فقرأ على والده العلامة كتاب التوحيد عن ظهر قلب وكشف الشبهات وكتاب آداب المشي إلي الصلاة وقرأ عليه متن الآجرومية في النحو وأرجوزة الرحبية في الفرائض وابتدأ بعد ذلك في القراءة على الشيخ العلامة عبد الله بن الشيخ عبد اللطيف فقرأ عليه مجموعة التوحيد غيبا من أولها إلي رسالة بيان النجاة والفكاك حيث وقف على هذه الرسالة بأمر شيخه ثم أعاد قراءة المجموعة على شيخه المذكور ثلاث مرات وعاود القراءة على والده الشيخ حسن فقرأ عليه قطر الندي وشرحه وقرأ عليه ألفية ابن مالك وشرح الرحبية في الفرائض وقرأ على الشيخ حمد بن فارس ملحة الأعراب للحريري وشرحها لبحرق وقرأ عليه ألفية ابن مالك في النحو وقرأ عليه مختصر المقنع وشرحه ثم قرأ على والده الشيخ حسن أصول الفقه ومختصر المقنع وشرحه من أوله إلي آخره _ ثلاث مرات وقرأ عليه رد الشيخ عبد اللطيف ابن الشيخ عبد الرحمن بن حسن على داود بن جرجيس _ ثم عاود القراءة على سماحة العلامة الشيخ عبد الله بن الشيخ عبد اللطيف فقرأ عليه صحيح الإمام البخاري وجامع الترمذي وتهذيب السنن للإمام ابن القيم وقرأ عليه متن الطحاوية وشرحها وقرأ على الشيخ العلامة سعد بن حمد بن عتيق تفسير العماد إسماعيل ابن كثير من أوله إلي آخره ومسند الإمام أحمد بن حنبل وقرأ عليه رد الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبي بطين على داود بن جرجيس وقرأ عليه فتاوى 1 شيخ الإسلام ابن تيمية وقرأ عليه مختصر المقنع وشرحه من أوله إلي الوقف وصحب سماحة أخيه الشيخ عبد الله إلي هجرة الارطاوية لإرشاد البوادي المقيمين بها وتعليمهم واجبات الإسلام والدين فقرأ

--------------------------------------------

1 هي المعروفة بالفتاوى المصرية التي طبعت على نفقة مقبل بن عبد الرحمن الذكير رحمه الله.
তিনি উক্ত ক্বারীর কাছে কুরআন পাঠ করেন, অতঃপর আট বছর বয়সে তাঁর পিতা শায়খ হাসান (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে তা মুখস্থ করেন।

তাঁর জ্ঞানার্জন শুরু এবং তাঁর উস্তাদগণ:

তিনি নয় বছর বয়সে জ্ঞানার্জন শুরু করেন। তিনি তাঁর পিতা আল্লামার কাছে ‘কিতাবুত তাওহীদ’ এবং ‘কাশফুশ শুবুহাত’ মুখস্থ পড়েন এবং ‘কিতাব আদাবিল মাশি ইলাস সালাত’ পড়েন। তিনি তাঁর কাছে নাহু শাস্ত্রে ‘মাতনুল আজুরুমিয়্যাহ’ এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে ‘উরজুযাতুর রাহবিয়্যাহ’ পড়েন। এরপর তিনি শায়খ আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে শায়খ আব্দুল লতিফের কাছে পড়া শুরু করেন। তিনি তাঁর কাছে ‘মাজমুআতুত তাওহীদ’ এর শুরু থেকে ‘রিসালাতু বায়ানিন নাজাত ওয়াল ফিকাক’ পর্যন্ত মুখস্থ পড়েন; তাঁর উস্তাদের নির্দেশে তিনি এই রিসালাহ পর্যন্ত পড়ে থেমেছিলেন। অতঃপর তিনি উক্ত উস্তাদের কাছে মাজমুআহটি তিনবার পুনরায় পড়েন। এরপর পুনরায় তাঁর পিতা শায়খ হাসানের কাছে পড়া শুরু করেন এবং তাঁর কাছে ‘কাতরুন্নাদা’ ও এর শরহ, ‘আলফিয়্যাহ ইবনু মালিক’ এবং ফারায়েজ শাস্ত্রে ‘শারহুর রাহবিয়্যাহ’ পাঠ করেন। তিনি শায়খ হামাদ বিন ফারিসের কাছে হারীরির ‘মুলহাতুল ইরাব’ ও বাহরাক কৃত এর শরহ পড়েন। তাঁর কাছে নাহু শাস্ত্রে ‘আলফিয়্যাহ ইবনু মালিক’ এবং ‘মুখতাসারুল মুকনি’ ও এর শরহ পড়েন। এরপর তিনি তাঁর পিতা শায়খ হাসানের কাছে উসূলুল ফিকহ এবং ‘মুখতাসারুল মুকনি’ ও এর শরহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনবার পড়েন। তাঁর কাছে দাউদ বিন জারজিসের বিপক্ষে শায়খ আব্দুল লতিফ বিন শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসানের লিখিত খণ্ডনমূলক গ্রন্থ পাঠ করেন। অতঃপর পুনরায় শায়খ আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে শায়খ আব্দুল লতিফের নিকট পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। তিনি তাঁর কাছে ‘সহীহুল ইমাম আল-বুখারী’, ‘জামে আত-তিরমিযী’ এবং ইমাম ইবনুল কায়্যিমের ‘তাহযীবুস সুনান’ পড়েন। এছাড়া তিনি তাঁর কাছে ‘মাতনুত তাহাবিয়্যাহ’ ও এর শরহ পাঠ করেন। তিনি শায়খ আল্লামা সা’দ বিন হামাদ বিন আতিকের কাছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল-ইমাদ ইসমাইল ইবনে কাসীরের তাফসীর এবং ‘মুসনাদু ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল’ পাঠ করেন। তাঁর কাছে দাউদ বিন জারজিসের বিপক্ষে শায়খ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবু বাতিনের লিখিত খণ্ডনমূলক গ্রন্থ পড়েন। তিনি তাঁর কাছে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ফাতাওয়া ১ এবং ‘মুখতাসারুল মুকনি’ ও এর শরহ শুরু থেকে ওয়াকফ অধ্যায় পর্যন্ত পাঠ করেন। তিনি তাঁর সম্মানিত ভাই শায়খ আবদুল্লাহর সাথে আরতাউইয়্যাহর হিজরত কেন্দ্রে গমন করেন সেখানকার অধিবাসী মরুচারীদের হেদায়েত এবং তাঁদেরকে ইসলামের আবশ্যিক বিধান ও দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। অতঃপর তিনি পড়েন...

--------------------------------------------

১. এটি ‘আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ’ নামে পরিচিত, যা মুকবিল বিন আব্দুর রহমান আদ-দুকাইর (রহিমাহুল্লাহ)-এর অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٣)
عليه ألفية ابن مالك وصحيح الإمام وصحيح الإمام مسلم وسنن أبي داود وقرأ عليه الروض المربع شرح زاد المستقنع من أوله إلي أخره وبعد هذه القراءات الكثيرة قرأ على والده الشيخ حسن بمزاملة أخيه ال االشيخ عبد الله متن المنتهى وشرحه وذلك عام 1339 وكان يتولى القراءة أخوه سماحة الشيخ عبد الله وسماحة المترجم معه نسخة خطية يتابع فيها قراءة أخيه وهذه القراءة المذكورة آخر قراءة له على أشياخه.

إجازاته العلمية:

تحصل على إجازة من الشيخ أحمد الكتاني أثناء وجوده بمكة المكرمة بجميع مروياته وأسانيده المتصلة إلي مؤلفي الأمهات الست وتحصل على إجازة من الشيخ تقي الدين الهلالي بجميع مروياته.

أعمال سماحته:

تقلد وظيفة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر معاونا لابن عمه الشيخ عبد العزيز ابن الشيخ عبد اللطيف بتكليف من الإمام عبد الرحمن بن فيصل رحمه الله عام 1336 وعمر سماحته ذلك اليوم لا يتجاوز السابعة عشرة سنة وفي عام 1345 _ ولاه الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن بن فيصل آل سعود رئاسة هيئات الأمر بالمعروف بنجد، فقام بواجب ما وكل إليه خير قيام، حيث كان غيورا على محارم الله، قويا في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا تأخذه في الله جل وعلا لومة لائم يتتبع أهل الجرائم وينفذ فيهم بدون رأفة ولا هوادة حكم الشرع الشريف فهابه أهل الفسوق من العصاة وانزجروا _ وفي عام 1372 هـ ضمت إلي سماحته المنطقة الشرقية وخط التابلاين وجميع بلدان نجد وقريات الملح إلي وادي الدوائر فصارت جميع هيئات هذه المناطق والبلدان تابعة لسماحته من ذلك التاريخ إلي هذا اليوم متع الله بحياته وأمده بمزيد من الإعانة التوفيق.
তাঁর কাছে আলফিয়া ইবনে মালিক, সহীহ আল-ইমাম (বুখারী), সহীহ মুসলিম এবং সুনানে আবু দাউদ পাঠ করেন। এছাড়া তিনি তাঁর কাছে জাদুল মুস্তাকনির ব্যাখ্যাগ্রন্থ আর-রওদুল মুরবি' শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। এই ব্যাপক জ্ঞানার্জনের পর, ১৩৩৯ হিজরীতে তিনি তাঁর পিতা শায়খ হাসানের নিকট তাঁর ভাই শায়খ আব্দুল্লাহর সাথে একত্রে মাতনুল মুনতাহা ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন। সে সময় তাঁর ভাই শায়খ আব্দুল্লাহ পাঠ করতেন এবং জীবনীতে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব (মুতরজিম) একটি পাণ্ডুলিপি দেখে তাঁর ভাইয়ের পাঠ অনুসরণ করতেন। তাঁর শিক্ষকদের নিকট এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ পাঠ।

তাঁর ইলমি ইজাযতসমূহ (সনদ):

মক্কাতুল মোকাররমায় অবস্থানকালে তিনি শায়খ আহমদ আল-কাত্তানীর নিকট হতে তাঁর সকল বর্ণনা এবং কুতুবুস সিত্তাহর লেখকদের পর্যন্ত বিস্তৃত সকল সনদের ইজাযত লাভ করেন। এছাড়া তিনি শায়খ তাকীউদ্দীন আল-হিলালীর নিকট হতে তাঁর সকল বর্ণনার ইজাযত প্রাপ্ত হন।

তাঁর সম্মানীয় কার্যাবলি:

১৩৩৬ হিজরীতে ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর নির্দেশে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই শায়খ আব্দুল লতিফের পুত্র শায়খ আব্দুল আজিজের সহকারী হিসেবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স সতেরো বছরের বেশি ছিল না। ১৩৪৫ হিজরীতে বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল আল সউদ তাঁকে নজদ অঞ্চলের সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বিষয়ক সংস্থার প্রধান নিযুক্ত করেন। তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেন। আল্লাহর হারামকৃত বিষয় ও পবিত্র সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ছিলেন। তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে দৃঢ় ছিলেন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না। তিনি অপরাধীদের অনুসরণ করতেন এবং তাদের ওপর বিন্দুমাত্র করুণা বা শিথিলতা প্রদর্শন ছাড়াই শরীয়তের পবিত্র বিধান কার্যকর করতেন। ফলে পাপাচারী ও অবাধ্যরা তাঁকে ভয় পেত এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকত। ১৩৭২ হিজরীতে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, তাপলাইন অঞ্চল এবং নজদের সকল জনপদ ও কুরায়াতুল মিলহ থেকে ওয়াদিউদ দাওয়াইর পর্যন্ত সমস্ত এলাকা তাঁর আওতাভুক্ত করা হয়। সেই সময় থেকে আজ অবধি এই সকল অঞ্চলের সকল সংস্থা তাঁর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। আল্লাহ তাঁর জীবনকে বরকতময় করুন এবং তাঁকে আরও সাহায্য ও তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٤)
مؤلفاته:

له مجموع رسائل أجوبة علمية وجهت إليه من بلدان نجد وغيرها تبلغ ثلاثة مجلدات ونية سماحته متجهة إلي ترتيبها وطبعا إن شاء الله ولسماحته معرفة بالعروض ويقرض الشعر على طريقة العلماء _ له عدة قصائد منها قصيدة رثاء في العلامة الشيخ عبد الله ابن الشيخ عبد اللطيف تبلغ مائة بيت ومطلعها:

على الحبر بحر العلم شمس المعالم … وبدر الدجا فليبك كل العوالم

بكا بدموع وكفها مترادف … بعد هتون المد جنات السواجم

قصيدة رثاء في والده العلامة الشيخ حسن تبلغ ستعين بيتا ومطلعها:

على الحبر بحر العلم شيخي ووالدي … وقطب رحا ذا الدين جم المحامد

وقصيدة تهنئة للملك المرحوم عبد العزيز بن عبد الرحمن بن فيصل آل سعود بمناسبة دخول جلالته الحرمين عام 1343 هـ تبلغ أبياتها مئة وأثني عشر بيتا ومطلعها:

أنجم بدا في الأفق أم ذلك البدر … أم البار العالي أضاءت له المدر

أم الشمس أضحت ليس من دون أفقها … سحاب والاغيم هناك ولا قتر

بلى قد تبدى طالع السعد والمنى … فضاء فضاء الدين وأنفلق الفجر

وسماحته مشهور بالتقوى، يحيي غالب الليل قراءة وتهجدا، ويتابع بين الحج والعمرة كل عام، ويلتقي بكبار علماء الأمصار الوافدين للحج، ويقيم لهم المآدب ويكرمهم، ويناقشهم في مهام الشرع وأصول الدين وفروعه ويقنعهم عند النزاع بدلائل الكتاب والسنة وأقوال سلف الأمة، لأن الله وهبه الإحاطة والشمول وجمع له بين الحفظ والفهم وسعة الاطلاع وقوة الذاكرة، وسرعة البديهة في استحضار نصوص الكتاب والسنة وأقوال أهل العلم من المفسرين والفقهاء وغيرهم الشيء الذي لا يعرفه ويتصوره إلا من قدر له ارتياد
তাঁর রচনাবলী:

নাজদ ও অন্যান্য দেশ থেকে তাঁর কাছে আসা ইলমি জবাব ও পত্রাবলীর একটি সংকলন রয়েছে যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত। মহামান্য সেটি বিন্যস্ত ও মুদ্রণের নিয়ত করেছেন, ইনশাআল্লাহ। মহামান্যের ছন্দতত্ত্বে জ্ঞান রয়েছে এবং তিনি আলেমদের পদ্ধতিতে কবিতা রচনা করেন। তাঁর বেশ কিছু কাসিদা রয়েছে, তন্মধ্যে আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ বিন শাইখ আব্দুল লতিফের স্মরণে রচিত একটি শোকগাঁথা রয়েছে যা একশ চরণের এবং তার প্রারম্ভিক অংশটি হলো:

বিজ্ঞ আলিম, ইলমের সমুদ্র ও নিদর্শনের সূর্যের তরে … আর অন্ধকারের পূর্ণিমার তরে যেন রোদন করে নিখিল বিশ্ব

অশ্রুসিক্ত নয়নে যার প্রবাহ অবিরাম … মুষলধারে বৃষ্টির পর প্লাবিত উপত্যকার ন্যায়

তাঁর পিতা আল্লামা শাইখ হাসানের স্মরণে একটি শোকগাঁথা যা ষাট চরণের এবং তার প্রারম্ভিক অংশটি হলো:

বিজ্ঞ আলিম, ইলমের সাগর, আমার শাইখ ও পিতার তরে … যিনি দ্বীনের মূল মেরুদণ্ড ও অগণিত প্রশংসার অধিকারী

১৩৪৩ হিজরিতে মরহুম বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল আল সউদের হারামাইন শরিফাইনে প্রবেশের উপলক্ষে একটি অভিনন্দনমূলক কাসিদা, যার চরণ সংখ্যা একশ বারোটি এবং প্রারম্ভিক অংশটি হলো:

দিগন্তে কি নক্ষত্র উদিত হলো নাকি ওটি পূর্ণিমা চাঁদ? … নাকি সুউচ্চ আলোকবর্তিকা যার তেজে জনপদ আলোকিত হলো?

নাকি সূর্য প্রকাশিত হলো যার দিগন্তের নিচে … নেই কোনো মেঘ, নেই কুয়াশা আর না আছে ধূলিকণা

বরং সৌভাগ্য ও কামনার উদয় হলো … দ্বীনের আকাশ দীপ্তিময় হলো এবং প্রভাত উদ্ভাসিত হলো

মহামান্য তাঁর তাকওয়ার জন্য সুপ্রসিদ্ধ, তিনি রাতের অধিকাংশ সময় তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করেন। তিনি প্রতি বছর হজ্জ ও উমরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন এবং হজ্জে আগত বিভিন্ন ভূখণ্ডের বড় বড় আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁদের জন্য ভোজের আয়োজন করেন ও তাঁদের আপ্যায়ন করেন। তাঁদের সাথে শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করেন এবং মতভেদের সময় কুরআন-সুন্নাহর দলিল ও উম্মাহর সালাফদের বাণীর মাধ্যমে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। কারণ আল্লাহ তাঁকে ব্যাপকতা ও পূর্ণতা দান করেছেন এবং তাঁর মাঝে মুখস্থ শক্তি, প্রখর বোধশক্তি, বিশাল পড়াশোনা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছেন। কুরআন-সুন্নাহর নস (দলিল) এবং মুফাসসির, ফকীহ ও অন্যান্য আলেমদের বাণী তাৎক্ষণিক উপস্থাপনে তাঁর যে ক্ষিপ্রতা ছিল, তা কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারবেন যারা তাঁর সান্নিধ্যে ধন্য হয়েছেন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٥)
مجالس سماحته والاستماع إلي ما تمليه حفظا من النصوص والأحاديث ومسائل أصول الدين والفقه وغير ذلك من أشعار العرب وشواهد اللغة وأقوال المفسرين وغيرهم من أهل العلم هذا إلي جانب ما يتصف به سماحته من كرم الأخلاق والتواضع الجم فهو على هدي علماء السلف الصالح وسمتهم لا يعرف الكبر إلي قلبه العامر بالإيمان سبيلا.

أبناؤه:

أنعم الله على سماحته ببنين وحفدة حيث أنجب ستة أبناء هم: الشيخ حسن، الشيخ حسين وعبد الله وعبد العزيز ومحمد وعبد المجيد _ ولكل واحد من الشيخ حسن والشيخ حسين عدة أبناء.

مد الله في عمر سماحة المترجم الشيخ عمر وجعلهم قرة عين له ومتع المسلمين ببقائه - وصلي الله على محمد وآله وسلم.
তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার মজলিসসমূহ এবং তাঁর স্মৃতি থেকে পাঠ করে শোনানো বিভিন্ন মূলপাঠ, হাদিস, উসুলুদ্দিন ও ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ, এছাড়া আরব্য কবিতা, ভাষার নিদর্শন এবং মুফাসসিরগণ ও অন্যান্য আহলুল ইলমগণের বক্তব্যসমূহ শ্রবণ করা; এর পাশাপাশি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা উন্নত চরিত্র ও গভীর বিনয়ের অধিকারী। তিনি সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরী আলিমগণের হিদায়াত ও স্বভাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর ঈমানে ভরপুর হৃদয়ে অহংকারের কোনো প্রবেশাধিকার নেই।

তাঁর সন্তানসন্ততি:

আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুত্র ও পৌত্রাদি দ্বারা ধন্য করেছেন। তিনি ছয়জন পুত্র সন্তানের জনক, তাঁরা হলেন: শায়খ হাসান, শায়খ হুসাইন, আবদুল্লাহ, আবদুল আজিজ, মুহাম্মাদ এবং আবদুল মাজিদ। শায়খ হাসান ও শায়খ হুসাইন প্রত্যেকেরই একাধিক সন্তান রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা জীবনীতে উল্লিখিত ব্যক্তিত্ব শায়খ ওমরের হায়াত বৃদ্ধি করে দিন এবং তাঁদেরকে তাঁর চক্ষুশীতলকারী হিসেবে কবুল করুন এবং তাঁর অস্তিত্বের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌الشيخ محمد بن عبد الوهاب

هو الإمام العلامة الشهير والداعية الإسلامي الكبير، ظهر في أثناء القرن الثاني عشر بنجد فدعا إلي توحيد الله بالعمل والعبادة، وأفراده بالقصد والإرادة فجدد ما أندرس من أصول الملة وقواعد الدين ودعا إلي مذهب السلف الصالح والأئمة السابقين وما كانوا عليه في باب معرفة الله وصفاته من الإثبات ونفي التشبيه وعدم التكييف والتمثيل والتعطيل المصلح الديني الذي طال ما كتب عنه المؤرخون وأشاد بفضله ودعوته المنصفون شيخ الإسلام وعلم الهداة الأعلام صاحب النهضة الدينية والدعوة السلفية موقظ الجزيرة العربية من سبات الأوهام ومحررها _ رحمه الله من عقل البدع وعبادة الأصنام الشيخ محمد ابن الشيخ عبد الوهاب ابن الشيخ سليمان بن على بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن محمد بن مشرف بن عمر بن معضاد بن ريس بن زاخر بن محمد بن علوي بن وهيب قاسم بن موسى بن مسعود بن عقبة بن سنيع بن نهشل بن شداد بن زهير بن شهاب بن ربيعة بن أبي سود بن مالك بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة ابن تميم بن مر بن آد بن طابخة بن الياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

مولده نشأنه:

ولد - رحمة الله في بلد العيينة 1 من بلدان العارض بنجد سنة خمس عشرة ومائة

--------------------------------------------

1 بلدة العيينة تقع غربا شمالا عن مدينة الرياض وتبعد مسافة خمسة وأربعين كيلو متر وقد أصاب العيينة غور مياه حيث غارت قلبانها نحو ثمانين سنة حتى خربت وخلت من السكان ومن مدة عشرين سنة فاضت آبارها فجأة بالماء العذب الزلال وعمرت وأكتظت بالسكان المزارعين وصارت تمد أسواق الرياض 50% من الخضر يوميا.
‌শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

তিনি প্রখ্যাত ইমাম, সুবিখ্যাত আল্লামা এবং মহান ইসলামি দাঈ, যিনি দ্বাদশ শতাব্দীতে নজদ অঞ্চলে আবির্ভূত হন। তিনি আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর তাওহীদের দিকে এবং উদ্দেশ্য ও সংকল্পে কেবল তাঁকে একক করার দিকে আহ্বান জানান। তিনি মিল্লাতের মূলনীতি ও দ্বীনের নিয়মাবলীর যা কিছু বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা পুনরুজ্জীবিত করেন এবং সালাফে সালেহীন ও পূর্বসূরি ইমামগণের মাযহাবের দিকে এবং আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর গুণাবলীর (সিফাত) ক্ষেত্রে তাঁরা যে নীতির ওপর অটল ছিলেন—অর্থাৎ (গুণাবলী) সাব্যস্ত করা, সাদৃশ্য অস্বীকার করা এবং ধরণ নির্ধারণ, উপমা প্রদান ও অর্থহীন করার ঊর্ধ্বে থাকা—সেই পথের দিকে দাওয়াত দেন। তিনি সেই ধর্মীয় সংস্কারক, যাঁকে নিয়ে ঐতিহাসিকগণ দীর্ঘকাল ধরে লিখেছেন এবং ইনসাফকারী ব্যক্তিগণ যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও দাওয়াতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি শায়খুল ইসলাম, প্রখ্যাত হিদায়েতকারী ইমামগণের আলোকবর্তিকা, ধর্মীয় পুনর্জাগরণ ও সালাফি দাওয়াতের পথিকৃৎ। তিনি আরব উপদ্বীপকে ভ্রান্ত ধারণার মোহনিদ্রা থেকে জাগ্রতকারী এবং বিদআত ও মূর্তিপূজার শৃঙ্খল থেকে এর মুক্তিদাতা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে শায়খ সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে রাশিদ ইবনে বারীদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুশাররাফ ইবনে উমর ইবনে মিদদাদ ইবনে রইস ইবনে জাখির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলাওয়ী ইবনে ওয়াহীব কাসিম ইবনে মুসা ইবনে মাসউদ ইবনে উকবা ইবনে সানি’ ইবনে নাহশাল ইবনে শাদ্দাদ ইবনে জুহাইর ইবনে শিহাব ইবনে রাবিআ ইবনে আবি সাওদ ইবনে মালিক ইবনে হানজালা ইবনে মালিক ইবনে যায়েদ মানাত ইবনে তামীম ইবনে মুর ইবনে আদ ইবনে তাবিখা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা’আদ ইবনে আদনান।

তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—নজদের আরেদ অঞ্চলের উয়াইনা নামক জনপদে ১১১৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

১. উয়াইনা শহরটি রিয়াদ শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। এক সময় উয়াইনায় পানির স্তর নিচে নেমে গিয়েছিল এবং এর কূপগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল প্রায় আশি বছর যাবৎ, এমনকি শহরটি জনশূন্য ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। অতঃপর বিগত বিশ বছর যাবত এর কূপগুলো হঠাৎ সুপেয় ও স্বচ্ছ পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং এলাকাটি পুনরায় আবাদ হয়ে কৃষক ও বাসিন্দাদের দ্বারা জনাকীর্ণ হয়। বর্তমানে এটি রিয়াদের বাজারের প্রতিদিনের শাকসবজির চাহিদার ৫০ শতাংশ সরবরাহ করে।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وألف من الهجرة، فنشأ بها وقرأ القرآن حتى حفظه وأتقنه قبل بلوغه العشر ثم اشتغل بطلب العلم فقرأ مبادئ العلوم والفقه الحنبلي على والده الشيخ عبد الوهاب ابن الشيخ سليمان بن على وكان _ رحمه الله _ حاد الفهم سريع الإدراك والحفظ. قال عنه أخوه الشيخ سليمان بن عبد الوهاب: كان أبوه يتعجب من فهمه ويعترف بالاستفادة منه مع صغر سنه، ووالده الشيخ عبد الوهاب هو مفتي تلك البلاد وقاضيها، وجده الشيخ سليمان بن على هو مفتي جميع الديار النجدية، آثاره وتصانيفه وفتاواه تدل على غزارة علمه وفقهه، فهو مرجع أهل نجد في زمنه في الفتاوى وكان معاصرا للشيخ منصور بن يونس البهوتي الحنبلي اجتمع به في مكة المشرفة فهو من بيت علم وفضل. ولما بلغ سن الرشد قدمه والده الشيخ عبد الوهاب في إمامة الصلاة فأخذ رحمه الله يؤم الناس ويصلي بهم ثم طلب من والده الحج فأجابه إلى ذلك فأدى فريضة الحج واعتمر عمرة الإسلام وبعد فراغه من الحج والاعتمار قصد المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام وأقام بها قريبا من شهر ثم رجع إلي وطنه العيينة وتزوج بها وشرع في القراءة على والده في الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل الشيباني ثم بعد ذلك سافر إلي الحجاز في طلب العلم وأخذ بتردد على علماء مكة المشرفة والمدينة المنورة وأقام بها مدة يقرأ فيها على الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف النجدي ثم المدني وعلى العالم الشهير محمد حياة السندي المدني صاحب الحاشية المشهورة على صحيح الإمام البخاري ثم رجع إلي وطنه ومكث فيه سنة ثم رحل إلي البصرة وقرأ بها كثيرا من الحديث والفقه والنحو وكتب بها من الحديث والفقه اللغة ما شاء الله أن يكتب في ذلك الوقت ولازم في البصرة عالما من علمائها الإجلاء وهو الشيخ محمد المجموعي البصري وأخذ الشيخ مدة إقامته في البصرة يدعو إلي توحيد الله جل وعلا ونبذ الإشراك وهجر البدع وأخذ يصرح بذلك ويظهره لكثير من جلسائه بالبصرة قائلا لهم: إن العبادة كلها ولا يجوز صرف شيء منها لسواه وقد استحسن شيخه المجموعي ذلك فأخذ الشيخ محمد يقرر له توحيد العبادة ويوضح له

এবং হিজরতের এক হাজার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সেখানেই জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং দশ বছর বয়সে পৌঁছানোর পূর্বেই তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মুখস্থ ও আয়ত্ত করেন। এরপর তিনি ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে শায়খ সুলাইমান বিন আলীর কাছে প্রাথমিক জ্ঞান ও হাম্বলী ফিকহ অধ্যয়ন করেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত প্রখর মেধা, দ্রুত উপলব্ধি ও মুখস্থ করার ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর ভাই শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর সম্পর্কে বলেন: তাঁর পিতা তাঁর প্রজ্ঞা দেখে বিস্মিত হতেন এবং তাঁর অল্প বয়স সত্ত্বেও তাঁর থেকে ইলমী উপকার লাভ করার কথা স্বীকার করতেন। তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব ছিলেন সেই অঞ্চলের মুফতি ও বিচারক এবং তাঁর দাদা শায়খ সুলাইমান বিন আলী ছিলেন সমগ্র নজদ ভূখণ্ডের মুফতি। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী ও ফতওয়াসমূহ তাঁর ইলমের গভীরতা ও ফিকহী প্রজ্ঞার সাক্ষ্য দেয়। তিনি নিজ সময়ের নজদবাসীদের জন্য ফতওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন ছিলেন। তিনি শায়খ মনসুর বিন ইউনুস আল-বাহুতী আল-হাম্বলীর সমসাময়িক ছিলেন এবং পবিত্র মক্কায় তাঁর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন; মূলত তিনি এক ইলম ও ফযীলতপূর্ণ পরিবার থেকে আগত। যখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তখন তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব তাঁকে সালাতের ইমামতির দায়িত্ব প্রদান করেন। ফলে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মানুষের ইমামতি করতে ও তাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে শুরু করেন। এরপর তিনি তাঁর পিতার কাছে হজ্জ পালনের অনুমতি প্রার্থনা করলে পিতা তাতে সম্মতি প্রদান করেন। অতঃপর তিনি হজ্জের ফরজ আদায় করেন এবং ইসলামের উমরা পালন করেন। হজ্জ ও উমরা সমাপ্ত করে তিনি মদিনা মুনাওয়ারার দিকে যাত্রা করেন—যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। সেখানে তিনি প্রায় এক মাস অবস্থান করেন এবং এরপর নিজ জন্মভূমি উয়াইনাহ-তে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ বিষয়ে পুনরায় তাঁর পিতার কাছে অধ্যয়ন শুরু করেন। এরপর তিনি ইলম অন্বেষণে হিজাজ সফর করেন এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনা মুনাওয়ারার আলেমদের নিকট যাতায়াত করতে থাকেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন এবং শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আন-নাজদি (যিনি পরবর্তীতে মাদানি হিসেবে পরিচিত হন)-এর কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্ধি আল-মাদানি—যিনি সহীহ ইমাম বুখারীর প্রসিদ্ধ টীকাকার—তাঁর কাছেও অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি পুনরায় নিজ দেশে ফিরে এক বছর অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বসরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানে প্রচুর হাদিস, ফিকহ ও ব্যাকরণ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। বসরায় অবস্থানকালে তিনি হাদিস, ফিকহ ও ভাষা বিজ্ঞানের ওপর অনেক কিছু লিপিবদ্ধ করেছিলেন। সেখানে তিনি বসরার বিশিষ্ট আলেমদের অন্যতম শায়খ মুহাম্মাদ আল-মجموعী আল-বসরীর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। বসরায় অবস্থানকালে শায়খ মহান আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান করতে এবং শিরক ও বিদআত বর্জন করার দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তিনি তাঁর মজলিসের অনেকের কাছে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে লাগলেন এবং তাদের বলতেন: সকল ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইবাদতের কোনো অংশ উৎসর্গ করা বৈধ নয়। তাঁর উস্তাদ আল-মجموعী এই বিষয়টি অত্যন্ত পছন্দ করলেন। ফলে শায়খ মুহাম্মাদ তাঁর কাছে ইবাদতের তাওহীদ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ও তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন।

(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٨)
معني لا إله الله فقبل منه شيخه وانتفع به غير أن أعداء التوحيد وأنصار البدع والتقليد من علماء السوء وأحبار الضلال سعوا فيه عند ملأ البصرة وأعيانها فأخرجوه منها وقت الهاجرة في يوم صائف شديد الحر فخرج _ رحمه الله _ ماشيا على قدميه فلما توسط الدرب بين البصرة والزبير أدركه العطش وأشرف من شدة الظمأ ولهيب الحر على الهلاك والموت فوافاه رجل يقال له أبا حميدان من أهل يلده الزبير وكان معه حمار فرأى على الشيخ الهيبة والوقار ورآه مشرفا على الهلاك فسقاه ماء وحمله على حماره حتى أوصله بلدة الزبير فمكث الشيخ فيها أياما وأراد السفر منها إلي الشام فقصرت به النفقة فانثنى عزمه عن المسير إلي الشام فرجع إلي نجد ومر في طريقه إليها ببلدة الأحساء وحل ضيفا على الشيخ عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف الشافعي الأحسائي، ثم رجع إلي وطنه حاملا زادا كثيرا من العلم وسلاحا قويا من المعرفة وقصد بلدة حريملاء لعلمه أن والده الشيخ عبد الوهاب انتقل إليها وذلك بعدما مات عبد الله بن معمر أمير العيينة سنة 1139 هـ وتولي بعده حفيده محمد بن حمد بن عبد الله بن معمر الملقب خرفاش فوقع بينه وبين الشيخ عبد الوهاب نزاع فعزله عن القضاء وولى الشيخ محمد إلي بلدة حريملاء جلس عند والده وأخذ يقرأ عليه وبعد فراغه من القراءة على والده يخلو بنفسه ويعكس على دراسة الكتاب والسنة وتفاسير علماء السلف الإجلاء وشروحهم للحديث والسنة وذلك بتدبر وإمعان، فبلغ رحمه الله _ الغاية القصوى والطريقة المثلي في معرقة معاني الكتاب والسنة واستنباط ما فيهما من الأسرار الشرعية والأحكام الدينية وأكب معهما على مطالعة مؤلفات شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية ومؤلفات تلميذه محمد بن قيم الجوزية، فازداد بهما علما وتحقيقا وعرفانا وقد كتب بخط يده _ رحمة الله _ كثيرا من مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية لا يزال بعضها موجودا بالمتحف البريطاني بلندن وكثر منه وهو مقيم في حريملاء الإنكار
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ; তার উস্তাদ তা তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করেন এবং এর দ্বারা উপকৃত হন। তবে তাওহীদের শত্রু এবং বিদআত ও অন্ধ-তাকলীদের অনুসারী অসৎ আলিম ও পথভ্রষ্ট ধর্মীয় নেতারা বসরা শহরের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনা চালায়। ফলে তারা তাঁকে প্রচণ্ড গ্রীষ্মের এক তপ্ত দুপুরে সেখান থেকে বের করে দেয়। তখন তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—পদব্রজে যাত্রা শুরু করেন। যখন তিনি বসরা ও যুবাইরের মধ্যবর্তী পথের মাঝামাঝি পৌঁছালেন, তখন তিনি ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। প্রচণ্ড পিপাসা ও আগুনের মতো উত্তাপের কারণে তিনি ধ্বংস ও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলেন। এমতাবস্থায় যুবাইর শহরের অধিবাসী আবু হুমাইদান নামক এক ব্যক্তির সাথে তাঁর দেখা হয়, যাঁর সাথে একটি গাধা ছিল। তিনি শাইখের মধ্যে গাম্ভীর্য ও মর্যাদা দেখতে পেলেন এবং তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি দেখে পানি পান করালেন ও নিজের গাধার পিঠে চড়িয়ে যুবাইর শহরে পৌঁছে দিলেন। শাইখ সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করলেন এবং সেখান থেকে সিরিয়া ভ্রমণের ইচ্ছা পোষণ করলেন। কিন্তু পাথেয় বা অর্থের স্বল্পতার কারণে সিরিয়া যাওয়ার সংকল্প ত্যাগ করে নজদে ফিরে আসলেন। পথে তিনি আল-আহসা শহরে যাত্রা বিরতি করেন এবং শাইখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল লতিফ আশ-শাফিঈ আল-আহসায়ীর আতিথ্য গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ইলমের বিপুল পাথেয় এবং জ্ঞানের শক্তিশালী হাতিয়ার নিয়ে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। তিনি হুরয়াইমিলা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, কারণ তিনি জানতেন যে তাঁর পিতা শাইখ আবদুল ওয়াহহাব সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। এটি ছিল ১১৩৯ হিজরিতে উয়াইনাহর আমির আবদুল্লাহ বিন মুয়াম্মারের মৃত্যুর পর। তাঁর পরে তাঁর নাতি মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুয়াম্মার (যিনি খুরফাশ উপাধিতে পরিচিত ছিলেন) শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁর সাথে শাইখ আবদুল ওয়াহহাবের বিবাদ সৃষ্টি হলে তিনি তাঁকে বিচারকের পদ থেকে অপসারণ করেন। শাইখ হুরয়াইমিলা শহরে পৌঁছে তাঁর পিতার কাছে অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করতে থাকেন। পিতার কাছে পাঠদান সমাপ্ত করার পর তিনি নির্জনে কিতাব ও সুন্নাহ এবং সালাফদের মহান আলিমগণের তাফসীর ও হাদীস-সুন্নাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ গভীর মনোযোগ ও চিন্তার সাথে অধ্যয়ন করতে থাকেন। ফলে তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—কিতাব ও সুন্নাহর অর্থ উপলব্ধি এবং সেখান থেকে শরয়ি রহস্য ও দ্বীনি বিধানসমূহ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষ্য ও সর্বোত্তম পন্থায় উপনীত হন। এর পাশাপাশি তিনি শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র মুহাম্মাদ বিন কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি পাঠে নিবিষ্ট হন। এর মাধ্যমে তাঁর ইলম, পাণ্ডিত্য ও প্রজ্ঞা আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—নিজ হাতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অনেক কিতাব অনুলিপি করেছিলেন, যার কিছু আজও লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বিদ্যমান আছে। হুরয়াইমিলায় অবস্থানকালে তাঁর পক্ষ থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ ও বর্জন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ١٩)
للبدع والشركيات الموجودة في حريملاء والمنتشرة في دلك الزمن بنجد حتى وقع بينه وبين والده كلام ووقع بينه وبين أهل بلدة حريملاء جدال وخصام ولكنه لم يصدع بالدعوة ويصرح بإنكار الشرك إلا بعد وفاة والده الشيخ عبد الوهاب سنة ألف ومائة وثلاث وخمسين من الهجرة فأشتد إنكاره على الشرك والبدع وأخذ يعلن دعوة التوحيد الذي دعت إليه الرسل من أولهم إلي آخرهم وأخذ ينشر شرائع الإسلام ويكاتب أهل بلدان نجد يأمرهم بعبادة الله وينهاهم عن التعلق على غير الله نم الأولياء والصالحين والأشجار والأصنام وأخذ يأمر بالمعروف وينهى هن المكر ويعاقب عليه وذلك بعد ما تبعه على الحق أناس من أهل حريملاء شدوا أزره وقاموا بامتثال أمره ونصرته فذاع خيره في بلدان نجد فتوافد عليه أناس كثيرون من أهل العارض وغيرهم من قرى نجد فأخذوا يقرأون عليه كتب الحديث والسيرة التفسير والفقه1 وصنف كتاب التوحيد فقرئ عليه في حريملاء ودرس فيه وانتشرت نسخه في نجد غير أنه حدث له _ رحمة الله تعالى _ ما أوجب انتقاله من بلدة حريملاء وذلك أنه خشي وخاف على نفسه الاغتيال بها لان رؤساء هذه البلدة قبيلتان ترجعان إلي أصل واحد من وائل وكل واحدة من هاتين القبيلتين تدعي لنفسها القوة والغلبة والكلمة النافذة ولم يكن لهم رئيس واحد يزع الجميع ويحترمون أمره ويخشونه وكان في البلدة موال لإحدى القبيلتين يسمون آل حمين كثر تعديهم وفسقهم فأراد الشيخ _ رحمه الله _ أن يمنعوا عن الفساد وينفذ فيهم الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فلما علم هؤلاء الموالي المفسدون بذلك هموا إن يفتكوا بالشيخ ويقتلوه سرا بالليل فجاءوا إليه وتسوروا عليه الجدار فعلم الناس بهم فصاحوا فيهم فهربوا فلم يطمئن الشيخ بعد هذه الحادثة إلي الإقامة في بلدة حريملاء فانتقل منها إلي بلدة العيينة فتلقاه أميرها عثمان بن حمد بن معمر بالقبول والمناصره وأكرمه غاية الإكرام وألزم الخاصة والعامة إن يمتثلوا أمره ويقبلوا

--------------------------------------------

1 ذكر الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب جده أن الشيخ محمدا صنف كتابه التوحيد في البصرة.
হুরয়মিলায় বিদ্যমান এবং সেই সময়ে নজদে ছড়িয়ে পড়া বিদআত ও শিরকসমূহের কারণে তাঁর ও তাঁর পিতার মধ্যে বাদানুবাদ এবং তাঁর ও হুরয়মিলাবাসীর মধ্যে বিতর্ক ও বিবাদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু হিজরি এক হাজার একশত তিপান্ন সালে তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাবের মৃত্যুর আগে তিনি স্পষ্টভাবে দাওয়াতের ঘোষণা দেননি এবং শিরকের প্রকাশ্য প্রতিবাদ করেননি। অতঃপর তিনি শিরক ও বিদআতের কঠোর প্রতিবাদ শুরু করেন এবং তাওহীদের দাওয়াতের ঘোষণা দেন, যার দিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল রাসূল দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের বিধানসমূহ প্রচার করতে শুরু করেন এবং নজদের বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের নিকট পত্র লিখতে থাকেন। তিনি তাদের একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার আদেশ দেন এবং ওলী, নেককার ব্যক্তি, বৃক্ষ ও মূর্তির ন্যায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে নিষেধ করেন। তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে শুরু করেন এবং তার ওপর শাস্তি প্রদান করেন। এটি তখনই সম্ভব হয় যখন হুরয়মিলার একদল মানুষ সত্যের পথে তাঁর অনুসারী হন, যারা তাঁকে শক্তিশালী করেন এবং তাঁর আদেশ পালন ও তাঁকে সহযোগিতার জন্য দণ্ডায়মান হন। ফলে নজদের বিভিন্ন জনপদে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং আল-আরীজ ও নজদের অন্যান্য গ্রাম থেকে বহু মানুষ তাঁর নিকট আসতে থাকেন। তাঁরা তাঁর নিকট হাদীস, সীরাত, তাফসীর ও ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পাঠ করতে শুরু করেন।১ তিনি 'কিতাবুত তাওহীদ' রচনা করেন, যা হুরয়মিলায় তাঁর নিকট পঠিত হয় ও পাঠদান করা হয় এবং নজদে এর পাণ্ডুলিপি ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাঁর সাথে—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—এমন এক ঘটনা ঘটে যা তাঁকে হুরয়মিলা ত্যাগ করতে বাধ্য করে। তা হলো, তিনি সেখানে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা করেছিলেন। কারণ এই শহরের প্রধানগণ ছিলেন দুটি গোত্রভুক্ত যারা ওয়াইল-এর একই বংশোদ্ভূত ছিল। এই দুটি গোত্রের প্রত্যেকেই নিজেদের শক্তি, প্রভাব ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি করত। তাদের এমন কোনো একক নেতা ছিল না যিনি সকলকে নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং সকলে যাঁর আদেশ মান্য করবে ও যাঁকে ভয় করবে। এই জনপদে একটি গোত্রের অনুগত কিছু লোক ছিল যাদের 'আলে হুমাইন' বলা হতো; তাদের সীমালঙ্ঘন ও পাপাচার বেড়ে গিয়েছিল। শায়খ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—চেয়েছিলেন তাদের ফাসাদ থেকে বিরত রাখতে এবং তাদের ওপর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিধান কার্যকর করতে। যখন এই ফাসাদকারী ব্যক্তিরা বিষয়টি জানতে পারল, তখন তারা রাতের আঁধারে গোপনে শায়খকে আক্রমণ ও হত্যা করার ষড়যন্ত্র করল। তারা তাঁর নিকট এসে দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করল, কিন্তু লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর শায়খ হুরয়মিলায় অবস্থানের ব্যাপারে আর নিরাপদ বোধ করলেন না। ফলে তিনি সেখান থেকে উইয়াইনাহ শহরে চলে যান। সেখানকার আমীর উসমান বিন হামাদ বিন মুয়াম্মার তাঁকে গ্রহণ ও সহযোগিতা করেন এবং তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বিশিষ্ট ও সাধারণ ব্যক্তিবর্গকে শায়খের আদেশ পালন ও তা গ্রহণ করতে বাধ্য করেন।

--------------------------------------------

১. শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নাতি শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ মুহাম্মাদ তাঁর 'কিতাবুত তাওহীদ' বসরায় থাকাকালীন রচনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
قوله وتزوج الشيخ عند عثمان بالجوهرة1 بنت عبد الله بن معمر وكان في العيينة وما حولها كثير من القباب والأوثان والمشاهد على قبور الصحابة ولأولياء وبها كثير من الأشجار ولأحجار التي يعظمونها ويذبحون لها كقبة زيد2 بن الخطاب في الجبيلة وشجرة قريوه وشجرة أبي دجانة والذيبي فأخذ الشيخ _ رحمه الله _ يقرر للأمير عثمان توحيد العبادة ويفسر له معنى لا إله إلا الله وما اشتملت عليه وتضمنته من نفي وإثبات ومضى يبين له الإسلام الصحيح قبل ظهور الشرك وسرب البدع ويطلب منه محو الأوثان وقطع الأشجار وهدم القباب وأزاله المشاهد فأجابه الأمير عثمان إلي ذلك فخرج الشيخ _ رحمه الله _ وخرج معه لأمير عثمان _ عفا الله عنه _ وخرج معهما رجال كثيرون من جند عثمان فأتوا إلي تلك الأماكن المذكورة فقطوا الأشجار وهدموا المشاهد والقباب وكان الشيخ – رحمه الله هو الذي تولى هدم قبة زيد بن الخطاب بيده فلم يبق بعد ذلك وثن في هذه البلاد التي تحت ولاية عثمان بن معمر.

وبعد هذا أتت امرأة إلي الشيخ واعترفت عنده بما يوجب الرجم وتكرر منها الاعتراف الإقرار، فسأل عنها فوجدها صحيحة القوى كاملة العقل فلقنها الشيخ الإكراه فأقرت واعترفت فأمر عليها فرجمت، فلما حصل ذلك وشاع وتناقلته الأخبار أنزعج ولاة السوء من المترفين وعلماء الضلال وهالهم محو ما ألفوه من المعابد والأوثان وإقامة ما عطلوه من الحدود الشرعية فشنعوا على الشيخ ورموه بالزور والبهتان ففند أقوالهم وأدحض حججهم بأدلة قاطعة من السنة والقرآن، فلما أعيتهم الحجة وأعجزهم البرهان عمدوا إلي المكر والحيلة فأرادوا أن يدركوا بالسيف والسنان ما عجزوا عن إدراكه من قبل

--------------------------------------------

1هي الجوهرة بنت عبد الله بن معمر التي نزل محمد بن سعود بن محمد مقرن في أمانها هو ومن معه بعد ما طلب ذلك، كما ذكر ذلك المؤرخ ابن بشر في سابقة 1139 من تاريخه وهي عمة الأمير عثمان بن حمد عفا الله عنه.

2 هو زيد بن الخطاب أخو عمر بن الخطاب رضي الله عنهما.
তাঁর উক্তি: শাইখ উসমানের নিকট থাকাকালীন আবদুল্লাহ ইবন মুয়াম্মারের কন্যা জাওহারা ১-কে বিবাহ করেন। সে সময় উয়ায়নাহ ও তার আশপাশে অনেক গম্বুজ, মূর্তিবৎ স্থাপত্য এবং সাহাবী ও ওলীদের কবরের ওপর মাজার বিদ্যমান ছিল। সেখানে অনেক গাছ ও পাথরও ছিল যেগুলোকে তারা সম্মান করত এবং সেগুলোর উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করত; যেমন জুবাইলায় অবস্থিত যাইদ ২ ইবনুল খাত্তাবের গম্বুজ, কারইয়ুহ গাছ, আবু দুজানাহ গাছ এবং দীবী গাছ। অতঃপর শাইখ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আমীর উসমানের নিকট ইবাদতের তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন এবং তাঁর কাছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর মর্মার্থ এবং এতে যে অস্বীকৃতি (নাফি) ও স্বীকৃতি (ইসবাত) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি তাঁর কাছে শিরকের প্রকাশ ও বিদআতের প্রসারের পূর্ববর্তী সঠিক ইসলাম বর্ণনা করতে থাকেন এবং তাঁর নিকট মূর্তি নির্মূল, গাছ কাটা, গম্বুজ ধ্বংস এবং মাজারগুলো অপসারণের দাবি জানান। আমীর উসমান তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিলেন। অতঃপর শাইখ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—বের হলেন এবং তাঁর সাথে আমীর উসমান—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বের হলেন। তাঁদের সাথে উসমানের বাহিনীর অনেক লোকও বের হলেন। তাঁরা উল্লিখিত স্থানগুলোতে পৌঁছালেন এবং গাছগুলো কেটে ফেললেন এবং মাজার ও গম্বুজগুলো গুঁড়িয়ে দিলেন। শাইখ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—নিজে নিজ হাতে যাইদ ইবনুল খাত্তাবের গম্বুজটি ভাঙার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর উসমান ইবন মুয়াম্মারের শাসনাধীন এই অঞ্চলে আর কোনো মূর্তিবৎ উপাস্য অবশিষ্ট রইল না।

এরপর এক নারী শাইখের নিকট আসল এবং নিজের এমন অপরাধ স্বীকার করল যার ফলে রজম (পাথর ছুড়ে মৃত্যু দণ্ড) করা ওয়াজিব হয়। সে বারবার নিজের অপরাধ স্বীকার করল। শাইখ তার সম্পর্কে খোঁজ নিলেন এবং তাকে সুস্থ ও পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন পেলেন। শাইখ তাকে এটি অস্বীকার করার জন্য প্ররোচিত করতে চাইলেন (যাতে দণ্ড মওকুফ হয়), কিন্তু সে বারবার স্বীকারোক্তি দিল। ফলে শাইখ তার ওপর দণ্ড জারির নির্দেশ দিলেন এবং তাকে রজম করা হলো। যখন এটি সংঘটিত হলো এবং সংবাদটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, তখন বিলাসপ্রিয় অসৎ শাসক ও বিভ্রান্ত আলেমরা বিচলিত হয়ে পড়ল। তাদের অভ্যস্ত মাবুদ ও মূর্তিগুলোর বিলুপ্তি এবং তাদের দ্বারা পরিত্যক্ত শারঈ দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়া দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তারা শাইখের নিন্দা করতে শুরু করল এবং তাঁর ওপর মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ করল। কিন্তু তিনি সুন্নাহ ও কুরআনের অকাট্য দলীলের মাধ্যমে তাদের কথাগুলোকে অসার প্রমাণ করলেন এবং তাদের যুক্তিগুলোকে খণ্ডন করলেন। যখন তারা দলিল ও প্রমাণ পেশ করতে অপারগ হয়ে পড়ল, তখন তারা ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের আশ্রয় নিল। তারা তলোয়ার ও বল্লমের মাধ্যমে তা অর্জন করতে চাইল যা তারা ইতিপূর্বে অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন জাওহারা বিনতে আবদুল্লাহ ইবন মুয়াম্মার, যাঁর আশ্রয়ে মুহাম্মদ ইবন সাউদ ইবন মুহাম্মদ মুকরিন এবং তাঁর সঙ্গীরা আরজি জানানোর পর অবস্থান নিয়েছিলেন—যেমনটি ইতিহাসবিদ ইবন বিশর তাঁর ইতিহাসের ১১৩৯ হিজরির ঘটনায় উল্লেখ করেছেন। তিনি আমীর উসমান ইবন হামাদের ফুফু ছিলেন, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

২ তিনি হলেন যাইদ ইবনুল খাত্তাব, উমর ইবনুল খাত্তাবের ভাই, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢١)
بالزور والبهتان فشكوه إلي شيخهم وزعيمهم سليمان بن محمد بن عريعر الحميدي حاكم الأحساء والقطيف في ذلك الزمان فأغروه به وصاحوا عنده وقالوا إن هذا يريد أن يخرجكم من ملككم ويسعى في قطع ما أنتم عليه من الأمور ويبطل المكوس والعشور فخشي ابن عريعر الحميدي أن يستفحل أمر هذا الدعوة السلفية فتلوي بحكمه وتطيح بسلطانه فكتب إلي عثمان بن معمر كتابا يأمره فيه بإخراج الشيخ من بلدته ويهدده فيه إذا هو لم يخرجه بغزوه وقطع مرتبه وكان ابن عريعر قد أجرى لابن معمر مخصصا شهريا فأنصاع ابن معمر لأمره وأمر على الشيخ بمغادرة بلدته.

خروج الشيخ من العيينة:

فخرج الشيخ منها وولي وجهه شطر الدرعية فوصلها وحل ضيفا بها على أحد تلامذته وهو الشيخ أحمد بن سو يلم العريني وذلك سنة 1158 هـ فلما علم بمقدمه أمير الدرعية محمد بن سعود بن محمد بن مقرن أسرع بالمسير إليه ودخل عليه في دار الشيخ أحمد بن سو يلم وقابله بالبشر والحفاوة العظيمة والإكرام وقال له بعد السلام أبشر أيها الشيخ بالنصر والمنعة فقال الشيخ وأنا أبشرك _ إن شاء الله _ بالأجر والعز والتمكين والغلبة وهذه كلمة لا إله إلا الله من تمسك بها ونصرها غنم في الدنيا وربح في الآخرة وهي كلمة التوحيد الذي دعت إليه الرسل وأنزلت به الكتب ثم أخذ الشيخ يخبر الأمير محمد بن سعود بحقيقة الإسلام قبل حدوث الشرك وتسرب البدع ويبين له ما دعا إليه الرسول صلى عليه وسلم من توحيد الله وإفراده جل وعلا بالعبادة دون ما سواه، ويخبره بما نهى عنه الرسول من عباده المخلوقين من البشر وغيرهم من الأشجار والأصنام والأحجار ويذكر له إن ما عليه اليوم أهل نجد من البدع والإشراك ودعاء الأموات هو عين ما كان عليه أهل الجاهلية الأولي قبل بعثة سيد المرسلين من التعلق على غير الله من الأولياء والصالحين وغيرهم من الأصنام والأحجار ولأشجار وقد كان أهل نجد في زمن الشيخ خلعوا ربقة الإسلام والدين وعادوا إلي
তারা মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে তাদের শাইখ ও নেতা সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন উরাইআর আল-হুমাইদির কাছে অভিযোগ করল, যিনি সেই সময়ে আল-আহসা ও আল-কাতিফের শাসক ছিলেন। তারা তাকে উস্কানি দিল এবং তার কাছে চিৎকার করে বলল যে, এই ব্যক্তি আপনাদের রাজত্ব থেকে আপনাদের বের করে দিতে চায় এবং আপনাদের বর্তমান রীতিনীতিগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছে এবং শুল্ক ও কর বাতিল করতে চায়। ফলে ইবনে উরাইআর আল-হুমাইদি আশঙ্কা করলেন যে, এই সালাফি দাওয়াতের বিষয়টি যদি শক্তিশালী হয়ে ওঠে তবে তা তার শাসনকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং তার ক্ষমতাকে উৎখাত করবে। তাই তিনি উসমান বিন মুয়াম্মারকে একটি পত্র লিখলেন এবং তাতে শাইখকে তার এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে এই হুমকিও দিলেন যে, যদি তিনি তাকে বের না করেন তবে তিনি তার ওপর আক্রমণ করবেন এবং তার ভাতা বন্ধ করে দেবেন। ইবনে উরাইআর ইতিপূর্বে ইবনে মুয়াম্মারের জন্য একটি মাসিক বরাদ্দ নির্ধারণ করেছিলেন, ফলে ইবনে মুয়াম্মার তার আদেশের বশ্যতা স্বীকার করলেন এবং শাইখকে তার এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিলেন।

আল-উয়াইনা থেকে শাইখের প্রস্থান:

অতঃপর শাইখ সেখান থেকে বের হয়ে দিরয়্যাহর অভিমুখে রওনা হলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি তার জনৈক ছাত্র শাইখ আহমদ বিন সুয়াইলাম আল-উরাইনির অতিথি হলেন; এটি ছিল ১১৫৮ হিজরি সনের ঘটনা। যখন দিরয়্যাহর আমির মুহাম্মদ বিন সাউদ বিন মুহাম্মদ বিন মুকরিন তার আগমনের খবর পেলেন, তিনি দ্রুত তার সাথে সাক্ষাতের জন্য চললেন এবং শাইখ আহমদ বিন সুয়াইলামের ঘরে তার কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দ, আন্তরিকতা ও মহান সম্মানের সাথে তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। সালাম বিনিময়ের পর তিনি তাকে বললেন, "হে শাইখ, সাহায্য ও নিরাপত্তার সুসংবাদ গ্রহণ করুন।" শাইখ বললেন, "আমিও আপনাকে ইনশাআল্লাহ সওয়াব, মর্যাদা, প্রতিষ্ঠা ও বিজয়ের সুসংবাদ দিচ্ছি। এটিই হচ্ছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বাণী; যে ব্যক্তি এটি আঁকড়ে ধরবে এবং একে সাহায্য করবে, সে দুনিয়াতে সফল হবে এবং আখিরাতে লাভবান হবে। এটিই সেই তাওহিদের বাণী যার দিকে রসূলগণ আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার মাধ্যমে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে।" এরপর শাইখ আমির মুহাম্মদ বিন সাউদকে শিরক ও বিদআতের অনুপ্রবেশের পূর্বে ইসলামের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবহিত করতে শুরু করলেন। তিনি তার কাছে ব্যাখ্যা করলেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর তাওহিদ এবং একমাত্র আল্লাহ মহিমান্বিত ও মহানকে ইবাদতের জন্য একক সাব্যস্ত করার বিষয়ে কী আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাকে আরও জানালেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টি যেমন গাছপালা, মূর্তি ও পাথরের ইবাদত থেকে কী কী নিষেধ করেছেন। তিনি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, বর্তমান নজদবাসী যে বিদআত, শিরক এবং মৃত ব্যক্তিদের ডাকার মধ্যে লিপ্ত রয়েছে, তা ঠিক জাহেলি যুগের প্রথম দিকের মানুষের অবস্থার মতোই, যারা সাইয়্যিদুল মুরসালিনের প্রেরিত হওয়ার পূর্বে আল্লাহকে বাদ দিয়ে আউলিয়া, নেককার লোক এবং অন্যান্য মূর্তি, পাথর ও গাছপালার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। শাইখের সময়ে নজদবাসীরা ইসলামের রশি ছিঁড়ে ফেলেছিল এবং তারা ফিরে গিয়েছিল...
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ما كان عليه مشركوا العرب الأولين من التعلق على غير الله من الأولياء والصالحين وغيرهم من لأوثان والأصنام الأحجار ينتابون قبر زيد بن الخطاب يسألونه قضاء الحاجات وتفريج الكربات وقبرا يزعمونه قبر ضرار 1 ابن الازور وشجرة تسمى الطرفية يعتقدون فيها كما أعتقد قبلهم في ذات أنواط مشركوا الجاهلية ومغارة يسمونها مغارة بنت الأمير لها قصة زعمهم تاريخية وطاغوتا عندهم يسمى تاجا وثانيا يسمى يوسف وثالثا يسمى شمسانا2 يعبدونهم زاعمين أن لهم تصرفا ونفعا وفحال نخل يختلف إليه نساؤهم إذا لم يلدن أو لم يتزوجن يقلن له يا فحل الفحول نريد ولدا أو زوجا قبل الحول بل كانوا شرا مما ذكرنا وأسوأ حالا مما إليه أشرنا كانوا في جاهلية جهلاء وضلالة نكراء فيهم من كفر الإتحادية3 والحلولية وملاحدة الصوفية ما يرون أنه من الشعب

--------------------------------------------

1 هو ضرار بن الأزور الأسدي قدم على النبي صلى الله عليه وسلم فأسلم وهو الذي قتل فيما بعد مالك بن نويرة بأمر خالد بن الوليد. أستشهد ضرار بن الأزور يوم اليمامة وقيل مكث في اليمامة مجروحا ثم مات قبل أن يرتحل خالد بن الوليد عن اليمامة بيوم وكان ضرار قاتل يوم اليمامة قتالا شديدا حتى قطعت ساقاه جميعا فجعل يحبو على ركبتيه ويقاتل وتطؤه الخليل حتى غلبه الموت وقيل إنه قتل يوم أجنادين وقيل أنه لم يقتل بل توفي في الكوفة في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه ولكن الأرجح والأصح أنه قتل باليمامة. راجع لذلك طبقات ابن سعد ج 6 / ص 39 والإصابة ج 3/ ص 1269 وأسد الغابة ج 2 / ص 39 والاستيعاب لابن عبد البر ج 2/ ص 502 والكامل لابن الأثير ج 2 / ص 136.

2 وفي بلدة الرياض آنذاك طاغوت يسمى طالب الحمضي وسيرد له ذكر في رسالة الشيخ محمد بن عبد الوهاب التي كتبها إلي سليمان بن سحيم وذكر الرواة عن طالب الحمضي فضائح لا يليق ذكرها هنا.

3 والدليل على ذلك ما ذكره الشيخ محمد بن عبد الوهاب في رسالته التي كتبها إلي أهل الرياض وأهل منفوحة حيث يقول بالحرف الواحد ما نصه: "وكذلك أيضا من أعظم الناس ضلال متصوفة في معكال وغيره مثل ولد موسى بن جوعان وسلامة بن مانع وغيرهما يتبعون مذهب ابن عربي وابن الفارض وقد ذكر أهل العلم أن ابن عربي من أئمة أهل مذهب الاتحادية وهم أغلظ كفرا من اليهود والنصارى فكل من لم يدخل في دين محمد صلى الله عليه ويتبرأ من دين الاتحادية فهو كافر بريء من الإسلام ولا تصح الصلاة خلفه ولا تقبل شهادته" انتهى ما ذكره شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب نقلا عن تاريخ ابن غنام طبعة المدني ص 344
প্রথম যুগের আরব মুশরিকরা যেভাবে আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করত—চাই তারা আউলিয়া, নেককার ব্যক্তি, কিংবা প্রতিমা ও পাথর হোক না কেন—তৎকালীন লোকেরাও একইভাবে জায়েদ ইবনুল খাত্তাবের কবরে যাতায়াত করত এবং সেখানে তাঁর কাছে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করত। তারা একটি কবরকে দিরার ইবনুল আযওয়ারের (১) কবর বলে দাবি করত এবং 'তরফিয়্যাহ' নামক একটি বৃক্ষের ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করত, যেমনটি জাহেলিয়াতের মুশরিকরা তাদের পূর্ববর্তী 'জাতু আনওয়াত' নামক বৃক্ষ সম্পর্কে পোষণ করত। তারা একটি গুহার ব্যাপারে ঐতিহাসিক কাহিনীর দাবি করত এবং সেটিকে 'আমীরের মেয়ের গুহা' বলে ডাকত। তাদের কাছে এক তাগুত ছিল যাকে তারা 'তাজ' বলত, দ্বিতীয় একজনকে 'ইউসুফ' এবং তৃতীয় একজনকে 'শামসান' (২) নামে ডাকত। তারা এদের ইবাদত করত এবং মনে করত যে এদের কোনো কিছুর পরিবর্তন ঘটানোর বা উপকার করার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তাদের নারীরা যখন সন্তান লাভে ব্যর্থ হতো বা বিবাহ হতো না, তখন তারা পুং-খেজুর গাছের কাছে গিয়ে বলত: "হে পুরুষদের পুরুষ! আমরা বছরের শেষ হওয়ার আগেই সন্তান বা স্বামী চাই।" বরং তারা আমরা যা উল্লেখ করেছি তার চেয়েও বেশি মন্দ এবং যে অবস্থার দিকে ইশারা করেছি তার চেয়েও নিকৃষ্ট অবস্থায় ছিল। তারা এক চরম মূর্খতা ও জঘন্য গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। তাদের মধ্যে ইত্তিহাদিয়া (৩), হুলুলিয়া এবং নাস্তিক সুফিদের এমন কুফরি বিদ্যমান ছিল, যাকে তারা দ্বীনের অংশ মনে করত।

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন দিরার ইবনুল আযওয়ার আল-আসাদি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি খালিদ বিন ওয়ালীদের নির্দেশে মালিক বিন নুয়াইরাকে হত্যা করেছিলেন। দিরার ইবনুল আযওয়ার ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইয়ামামায় আহত অবস্থায় অবস্থান করেন এবং খালিদ বিন ওয়ালীদ ইয়ামামা ত্যাগ করার একদিন আগে মারা যান। দিরার ইয়ামামার যুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিলেন, এমনকি তাঁর দুই পা-ই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তিনি তখন তাঁর হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে যুদ্ধ করতে থাকেন এবং ঘোড়াগুলো তাঁকে পিষ্ট করে ফেলে, অবশেষে মৃত্যু তাঁকে গ্রাস করে। কেউ কেউ বলেছেন তিনি আজনদাইনের যুদ্ধে নিহত হন, আবার কেউ বলেন তিনি নিহত হননি বরং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে কুফায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও সঠিক মত হলো তিনি ইয়ামামায় নিহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে দ্রষ্টব্য: তাবাকাতে ইবনে সাদ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৯; আল-ইসাবাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৬৯; উসদুল গাবাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯; ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইসতিআব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫০২; ইবনুল আসির রচিত আল-কামিল, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬।

২. তৎকালীন সময়ে রিয়াদ শহরে 'তালিব আল-হামদি' নামক এক তাগুত ছিল। শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সুলাইমান বিন সুহাইমের কাছে লেখা চিঠিতে তার উল্লেখ আসবে। বর্ণনাকারীরা তালিব আল-হামদি সম্পর্কে এমন সব ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন যা এখানে বর্ণনা করা সমীচীন নয়।

৩. এর প্রমাণ হলো শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সেই চিঠি যা তিনি রিয়াদ ও মানফুহাহবাসীদের প্রতি লিখেছিলেন, যেখানে তিনি হুবহু এভাবে বলেছেন: "একইভাবে সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট মানুষদের মধ্যে মা’কাল এবং অন্যান্য জায়গার সুফিরা অন্যতম, যেমন ইবনে মুসা বিন জু’আন ও সালামাহ বিন মানে’ এর অনুসারীরা। তারা ইবনে আরাবি ও ইবনে ফারিদের মতবাদ অনুসরণ করে। আলেম সমাজ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আরাবি হলো ইত্তিহাদিয়া (অদ্বৈতবাদী) মতবাদের ইমামদের একজন, যাদের কুফর ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও ভয়াবহ। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনে প্রবেশ করবে না এবং ইত্তিহাদিয়াদের দ্বীন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না, সে কাফের এবং ইসলামের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার পেছনে নামাজ পড়া বৈধ নয় এবং তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য নয়।" শেখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের এই বক্তব্য সমাপ্ত হলো, যা ইবনে ঘান্নামের ইতিহাসের মাদানি সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৩৪৪ থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الإيمانية والطريقة المحمدية وفيهم من إضاعة الصلوات وشرب المسكرات ما هو معروف مشهور، فلهذا، لما أن بين الشيخ محمد بن عبد الوهاب للأمير محمد بن سعود حقيقة الإسلام والإيمان وأخبره ببطلان ما عليه أهل نجد من عبادة الأوثان والأصنام والأشجار قال له: يا شيخ لاشك عندي أن ما دعوت إليه أنه دين الله الذي أرسل به رسله وأنزل به كتبه وأن ما عليه اليوم أهل نجد من هذه العبادات الباطلة هو كما ذكرت نفس ما كان عليه المشركون الأولون من الكفر بالله والإشراك فابشر بنصرتك وحمايتك وقيام بدعوتك، ولكن أريد أن أشترط عليك شرطين نحن إذا قمنا بنصرتك وجاهدنا معك ودان أهل نجد بالإسلام وقبلوا دعوة التوحيد أخاف أن ترتحل عنا وتستبدل بنا غيرنا والثاني أن لي على أهل الدرعية قانوتا آخذه منهم وقت حصاد الثمار وأخاف أن تقول لا تأخذ منهم شيئا فقال الشيخ أما الشرط الأول فابسط يدك أعاهدك الدم بالدم والهدم بالهدم، وأما الثاني فلعل الله أن يفتح عليك الفتوحات فيعوضك من الغنائم والزكوات ما هو خير منه، فتم التعاهد والاتفاق بينهما رحمهما لله تعالى _ في ذلك المجلس على إظهار دين الله والجهاد في سبيله وطمس مظاهر الإشراك ومحو آثاره واقتلاع جذوره وتصحيح العقائد وتطهير الإسلام وتخليصه مما علق به من الاشراك وألصق به من الخرافات وتعاهدا مع هذا على جمع كلمة أهل نجد وإصلاح فسادهم ولم شعثهم لأن نجدا لم تكن في زمنهما خاضعة لإمارة واحدة يحترمها الجميع وينضوون تحت لوائها بل كانت مفككة الأجزاء كل واحد أمير بلدته وكل واحد يرى الزعيم من في بردته وقد أدى هذا التفرق بأهل نجد إلي الفوضى واضطراب الأمن وسفك الدماء فعمل هذان الإمامان على جمع كلمة أهل نجد وتوحيد صفهم كما عملا على هدايتهم.

فلما تم التعاقد والاتفاق بين الشيخ محمد والأمير محمد بن سعود، قام الشيخ 1 ودخل مع ابن سعود البلد واستقر عبده محترما معززا، فلما استقر

--------------------------------------------

1 لأن دار مضيفه أحمد بن سو يلم خارج بلدة الدرعية
ঈমানী ও মুহাম্মাদী তরীকা এবং তাদের মধ্যে সালাত বিনষ্ট করা ও মাদকদ্রব্য পান করার বিষয়টি যেমনটি সুবিদিত ও সুপরিচিত। এই কারণেই, যখন শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমীর মুহাম্মাদ বিন সাউদের নিকট ইসলাম ও ঈমানের হাকিকত বর্ণনা করলেন এবং নজদবাসীরা যে মূর্তি, প্রতিমা ও বৃক্ষপূজায় লিপ্ত ছিল তার অসারতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন, তখন আমীর তাকে বললেন: 'হে শাইখ, আমার এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনি যা কিছুর দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন তা সেই আল্লাহর দীন, যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। আর নজদবাসীরা বর্তমানে যে সকল বাতিল উপাসনায় লিপ্ত রয়েছে, তা আপনার বর্ণনা অনুযায়ী ঠিক তেমনই যেমনটি প্রাচীন মুশরিকরা আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরকে লিপ্ত ছিল। সুতরাং আপনার বিজয় ও সাহায্য এবং আপনার দাওয়াত কায়েমের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কিন্তু আমি আপনার কাছে দুটি শর্ত রাখতে চাই। আমরা যখন আপনার সাহায্যে দণ্ডায়মান হব এবং আপনার সাথে জিহাদ করব আর নজদবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করে তাওহীদের দাওয়াত মেনে নেবে, তখন আমার ভয় হয় যে আপনি আমাদের ছেড়ে প্রস্থান করবেন এবং আমাদের পরিবর্তে অন্য কাউকে গ্রহণ করবেন। আর দ্বিতীয়টি হলো, দিরইয়াহবাসীদের ওপর আমার একটি কর ধার্য রয়েছে যা আমি ফসল কাটার সময় তাদের থেকে গ্রহণ করি, আমি আশঙ্কা করছি যে আপনি হয়ত বলবেন তাদের থেকে কিছুই গ্রহণ না করতে।' তখন শাইখ বললেন, 'প্রথম শর্তের ব্যাপারে আপনার হাত প্রসারিত করুন; আমি আপনার সাথে অঙ্গীকার করছি যে, রক্তের বদলে রক্ত এবং ধ্বংসের বদলে ধ্বংস। আর দ্বিতীয় শর্তের ব্যাপারে আশা করা যায় যে, আল্লাহ আপনার জন্য বহু বিজয় দান করবেন, ফলে তিনি আপনাকে গনীমত ও যাকাত থেকে এমন কিছু দান করবেন যা এর চেয়েও উত্তম হবে।' অতঃপর সেই মজলিসেই মহান আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করা, তাঁর পথে জিহাদ করা, শিরকের নিদর্শনসমূহ মিটিয়ে দেওয়া, এর প্রভাব মুছে ফেলা, এর শিকড় উপড়ে ফেলা, আকীদা সংশোধন করা এবং ইসলামকে শিরক ও কুসংস্কারের কালিমা থেকে মুক্ত করার বিষয়ে তাঁদের উভয়ের মধ্যে (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অঙ্গীকার ও চুক্তি সম্পন্ন হলো। এর সাথে তাঁরা নজদবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের মধ্যকার অনৈক্য সংশোধন করা এবং তাদের সংহত করার বিষয়েও অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন। কারণ তাঁদের সময়ে নজদ অঞ্চল এমন কোনো একক নেতৃত্বের অধীনে ছিল না যাকে সবাই সম্মান করত এবং যার পতাকাতলে সবাই সমবেত হতো, বরং তা ছিল খণ্ড-বিখণ্ড; প্রতিটি জনপদের জন্য আলাদা আমীর ছিল এবং প্রত্যেকেই নিজেকেই নেতা মনে করত। এই বিচ্ছিন্নতা নজদবাসীদের চরম বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা এবং রক্তপাতের দিকে ধাবিত করেছিল। ফলে এই দুই ইমাম নজদবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং তাদের কাতার সুসংহত করার পাশাপাশি তাদের হেদায়াতের জন্য প্রচেষ্টা চালান।

যখন শাইখ মুহাম্মাদ এবং আমীর মুহাম্মাদ বিন সাউদের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা সম্পন্ন হলো, তখন শাইখ উঠে দাঁড়ালেন এবং ইবনে সাউদের সাথে শহরে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে অবস্থান করতে লাগলেন।

--------------------------------------------

১ কারণ তাঁর মেজবান আহমদ বিন সুয়াইলামের ঘর দিরইয়াহ শহরের বাইরে ছিল।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
في الدرعية توافد عليه أنصاره الذين كانوا في العيينة ومعهم أناس من رؤساء المعامرة معا كسين لعثمان بن معمر وهاجر إلي الدرعية أناس غيرهم من بلدان نجد وقراها وذلك لما علموا أن الشيخ أقام بالدرعية وعلموا مع هذا أنه منع ونصر، ولما أستوطن الشيخ الدرعية ومكث بها وجد أهلها مثل عامة قرى نجد وبلدانها قد وقعوا في الشرك والبدع والتهاون بالصلاة والزكاة وسائر شعائر الإسلام وأركانه فتصدى لهم الشيخ _ رحمه الله _ بالمناصحة والتذكير وأخذ يأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر وأمرهم وأمرهم بتعلم معني لا إله إلا الله وأخبرهم أنها تنفي جميع ما يعبد من دون الله وتثبت العبادة لله وحده دون ما سواه ثم أمرهم بتعلم ثلاثة الأصول ومعرفة معنى الإسلام وأركانه الخمسة التي بني عليها ومعرفة النبي - محمد صلي الله عليه وسلم _ ومعرفة اسمه ونسبة ومبعثه وهجرته ومعرفة ما دعا إليه من الإسلام الصحيح والتوحيد، فلما ذاقوا طعم الإسلام واستقر في قلوبهم معرفة التوحيد بعد جهلهم به وبعدهم عن معرفته أسرب في قلوبهم محبة الشيخ ومحبة من هاجر إليه في الدرعية فأخذ الشيخ _ رحمة الله _ يكاتب الناس وهو مقيم في الدرعية وعلى الأخص الرؤساء والعلماء يوضح لهم معني الإسلام وحقيقة التوحيد ويحضهم على أتباع شرع الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ويأمرهم بنبذ البدع والإشراك والإقلاع عن أخذ الرشا وأكل السحت وأخذ يزيل ما وقع في نفوسهم وقام بها من الشبهات وذلك عن طريق المراسلات والمكاتبات، فمنهم من قبل من الشيخ ودان له بدعوة الإسلام الصحيح والدين فثاب إلي الرشد وهجر البدع وتخلى عن عبادة الأوثان والأصنام ومنهم من استكبر وأبى وألب وعادى وأفتى بحل دم الشيخ ودم إخوانه الموحدين وأنصاره ووجوب غزوهم في أرضهم وعقر دارهم.

الجهاد:

فعند ذلك أمر الشيخ محمد بن عبد الوهاب بالجهاد دفاعا عن النفس والأهل والمال وردا لعادية الشرك وطغيان الضلال فحينئذ شمر الإمام محمد بن سعود
দিরইয়ায় তাঁর কাছে তাঁর সেই সমর্থকরা আসতে শুরু করলেন যারা উয়াইনাহ-তে ছিলেন এবং তাঁদের সাথে মুআমারা গোত্রের কিছু প্রধান ব্যক্তিও ছিলেন যারা উসমান বিন মুআমমারের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন। নজদের অন্যান্য শহর ও গ্রাম থেকেও লোকজন দিরইয়ায় হিজরত করলেন, কারণ তাঁরা জানতে পেরেছিলেন যে শেখ দিরইয়ায় অবস্থান করছেন এবং তাঁরা এও জানতে পেরেছিলেন যে তিনি সেখানে নিরাপত্তা ও সাহায্য লাভ করেছেন। যখন শেখ দিরইয়ায় বসতি স্থাপন করলেন এবং সেখানে অবস্থান করতে লাগলেন, তিনি দেখতে পেলেন যে এখানকার অধিবাসীরাও নজদের অন্যান্য গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষের মতোই শিরক, বিদআত এবং সালাত, জাকাতসহ ইসলামের অন্যান্য নিদর্শন ও রুকনগুলোর ব্যাপারে উদাসীনতায় নিমজ্জিত। অতঃপর শেখ -রহিমাহুল্লাহ- উপদেশ ও স্মারক প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের সংশোধনে সচেষ্ট হলেন এবং তাঁদের সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে শুরু করলেন। তিনি তাঁদেরকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ শেখার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁদের অবহিত করলেন যে, এই বাণী আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব উপাস্যকে অস্বীকার করে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই ইবাদতকে সাব্যস্ত করে। এরপর তিনি তাঁদেরকে তিনটি মূলনীতি (উসুলুস সালাসা), ইসলামের অর্থ ও এর পাঁচটি স্তম্ভ এবং নবী মুহাম্মাদ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- সম্পর্কে জানা—তাঁর নাম, বংশপরিচয়, নবুওয়াত প্রাপ্তি ও হিজরত এবং তিনি যে সহীহ ইসলাম ও তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন—সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার নির্দেশ দিলেন। যখন তাঁরা ইসলামের স্বাদ আস্বাদন করলেন এবং দীর্ঘ অজ্ঞতা ও বিমুখতার পর তাঁদের অন্তরে তাওহীদের জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তাঁদের হৃদয়ে শেখের প্রতি এবং যারা দিরইয়ায় হিজরত করে এসেছিলেন তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সঞ্চারিত হলো। এরপর শেখ -রহিমাহুল্লাহ- দিরইয়ায় অবস্থানকালেই মানুষের কাছে, বিশেষ করে নেতা ও আলেমদের কাছে পত্র লিখতে শুরু করলেন। তিনি তাঁদের কাছে ইসলামের অর্থ ও তাওহীদের হাকিকত স্পষ্ট করলেন এবং তাঁদেরকে আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহিত করলেন। তিনি তাঁদেরকে বিদআত ও শিরক বর্জন করার এবং ঘুস গ্রহণ ও হারাম সম্পদ ভক্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন এবং চিঠিপত্র ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের মনে গেঁথে থাকা সংশয়সমূহ দূর করতে শুরু করলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শেখের দাওয়াত গ্রহণ করলেন এবং সহীহ ইসলাম ও দ্বীনের অনুসারী হলেন; ফলে তাঁরা সুপথপ্রাপ্ত হলেন, বিদআত ত্যাগ করলেন এবং প্রতিমা ও মূর্তিপূজা বর্জন করলেন। আবার কেউ কেউ অহংকার করল, প্রত্যাখ্যান করল, উসকানি দিল এবং শত্রুতা পোষণ করল। তারা শেখ ও তাঁর মুওয়াহিদ ভাই ও সমর্থকদের রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ হওয়ার এবং তাঁদের ভূখণ্ডে আক্রমণ করা আবশ্যক হওয়ার ফতোয়া প্রদান করল।

জিহাদ:

এমতাবস্থায় শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব নিজের জান, মাল ও পরিবার রক্ষার তাগিদে এবং শিরকের আক্রমণ ও গোমরাহীর সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করতে জিহাদের নির্দেশ দিলেন। ঠিক সেই সময়ে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ তৎপরতা শুরু করলেন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ابن محمد بن مقرن عن ساعد الجد ولبي نداء الواجب واستجاب الداعي الجهاد فحمل علم الإسلام ورفع راية التوحيد فأخذ يغزو أنصار الشرك ويجاهد أحزاب الضلال إحدى وعشرين سنة فما ضعف ولا استكان فأعز الله به الدين وأظهر به دعوة الإسلام والتوحيد فأبصر أهل نجد طريق الخير ولرشد ورجعوا عن الغي ودخلوا في دين الله أفواجا فأصبحوا بفضل الله ثم بفضل هذا الدعوة والجهاد المقدس بعد أن كانوا أحزابا متفرقين وأعداء متقاطعين إخوانا متآلفين تجمعهم كلمة لا إله إلا الله محمد رسول الله تحت راية الإسلام الصحيح ولواء التوحيد المطهر فصاروا بعد ذلك مضرب المثل في الوفاء والاستقامة والدين وبعد ذلك أستأثر الله ب الإمام المجاهد العظيم محمد بن سعود بن محمد بن مقرن فتوفاه سنة ألف ومائة وتسع وسبعين من الهجرة فقام بعده في الإمامة وخلفه في مؤزرة الشيخ محمد ومناصرته ابنه الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود فسار سير والده في الدفاع عن الإسلام وحماية الدعوة ومتابعة الجهاد والغزو، ففتح الله عليه الرياض وخرج منه ابن دواس هاربا خائفا لا يلوى على أحد فدخله الإمام عبد العزيز واستولى عليه رحمة الله وملكة وذلك سنة ألف ومائة وسبع وثمانين من الهجرة، وبعد هذا الفتح دانت له نجد كلها واتسع ملكه إلي ما ورائها فملك الأحساء والقطيف والزبارة1 وملك تهامة وما يليها من اليمن والحجار ما عدا الحرمين الشريفين، فأقام العدل رحمة الله تعالى في ربوع هذه الولايات كلها وأقر الأمن فيها ورجع بأهلها إلي الإسلام الصحيح الذي يأمر بعبودية الله وحده وينهي نهيا باتا عن اتخاذ الوسائط والشفعاء وبعد مضي سبع وعشرين سنة من ولاية الإمام عبد العزيز ابن الإمام محمد بن سعود توفى الله المصلح الإسلام العظيم الشيخ محمد بن عبد الوهاب وذلك سنة ألف ومائتين وست من الهجرة عن واحد وتسعين عاما قضاها في تحصيل العلم ونشره والقيام بدعوة الإسلام الصحيح والتوحيد، فقد أخذ عنه _ رحمة الله _

--------------------------------------------

1 الزبارة تقع بين قطر والبحرين وكانت مقر حكام البحرين من آل خليقة في ذلك الوقت.
ইবনে মুহাম্মদ বিন মুকরিন কর্মতৎপরতায় কোমর বেঁধেছিলেন এবং কর্তব্যের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন ও জিহাদের ডাক কবুল করেছিলেন। ফলে তিনি ইসলামের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন এবং তাওহীদের পতাকা সমুন্নত করেছিলেন। এরপর তিনি শিরকের সহযোগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শুরু করেন এবং ভ্রান্ত দলগুলোর বিরুদ্ধে একুশ বছর ধরে জিহাদ করেন। তিনি দুর্বল হননি এবং দমে যাননি। ফলে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে শক্তিশালী করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলাম ও তাওহীদের দাওয়াতকে বিজয়ী করেন। তখন নজদবাসী কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশা পায় এবং তারা ভ্রষ্টতা থেকে ফিরে আসে ও দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করে। ফলে আল্লাহর অনুগ্রহে এবং পরবর্তীতে এই দাওয়াত ও পবিত্র জিহাদের বদৌলতে তারা—বিচ্ছিন্ন দল এবং পরস্পর শত্রু হওয়ার পর—এমন এক মৈত্রীপূর্ণ ভ্রাতৃত্বে পরিণত হয় যাদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ কালিমাটি সঠিক ইসলামের ছায়াতলে এবং তাওহীদের পবিত্র পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ করে। অতঃপর তারা বিশ্বস্ততা, অটলতা এবং দ্বীনদারির ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য হয়ে ওঠেন। এরপর আল্লাহ মহান মুজাহিদ ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিন মুহাম্মদ বিন মুকরিনকে নিজের কাছে তুলে নেন এবং হিজরি এগারোশ উনআশি সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরে ইমামতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং শাইখ মুহাম্মদের সহযোগিতা ও সমর্থনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র ইমাম আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদ। তিনি ইসলাম রক্ষা, দাওয়াতের সুরক্ষা এবং জিহাদ ও যুদ্ধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পিতার পথ অনুসরণ করেন। ফলে আল্লাহ তাঁর হাতে রিয়াদ বিজয় দান করেন এবং ইবনে দাওয়াস সেখান থেকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পলায়ন করেন, কারো দিকে ফিরে না তাকিয়েই। ইমাম আব্দুল আজিজ সেখানে প্রবেশ করেন এবং হিজরি এগারোশ সাতাশি সালে তা নিজের অধিকারে আনেন ও রাজত্ব কায়েম করেন—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক। এই বিজয়ের পর সমগ্র নজদ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে এবং তাঁর রাজ্য এর বাইরেও বিস্তৃতি লাভ করে। তিনি আল-আহসা, কাতিফ ও জুবারা১-এর অধিপতি হন এবং তিহামাহ ও এর পার্শ্ববর্তী ইয়ামেন ও হিজাযের অংশবিশেষের (পবিত্র হারামাইন শরিফাইন ব্যতীত) মালিকানা লাভ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি এই সমস্ত অঞ্চলের চারদিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের সেই সঠিক ইসলামের দিকে ফিরিয়ে আনেন যা কেবল একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেয় এবং মধ্যস্থতাকারী ও সুপারিশকারী গ্রহণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করে। ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদের পুত্র ইমাম আব্দুল আজিজের শাসনামলের সাতাশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর, মহান ইসলামি সংস্কারক শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব হিজরি বারোশ ছয় সালে একানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি এই দীর্ঘ সময় জ্ঞান অর্জন, তার প্রসার এবং সঠিক ইসলাম ও তাওহীদের দাওয়াতের কাজে অতিবাহিত করেন। তাঁর থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—

--------------------------------------------

১ জুবারা কাতার ও বাহরাইনের মাঝামাঝি অবস্থিত এবং এটি সেই সময়ে আল খলিফা বংশীয় বাহরাইনের শাসকদের আবাসস্থল ছিল।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
العلم عدد كثير نذكر في هذه الترجمة المختصرة بعض أعيانهم وهم أبناؤه الأربعة الشيخ عبد الله والشيخ حسين والشيخ علي والشيخ إبراهيم وحفيده الشيخ عبد الرحمن بن حسن والشيخ حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر والشيخ عبد العزيز بن عبد الله الحصين والشيخ عبد الرحمن بن نامي والشيخ عبد الرحمن بن خميس الفرضي والشيخ عبد العزيز "أبا" حسين الوهيبي التميمي والشيخ حسن بن عيدان والشيخ عبد العزيز بن سو يلم والشيخ حمد بن راشد العريني والشيخ محمد بن سلطان العوسجي، وأخذ عنه غير هؤلاء خلق كثير تولوا مناصب القضاء والإفتاء والتدريس وقاموا بواجب العلم ونشر دعوة الإسلام والتوحيد في زمنهم _ رحمه الله.

وقد ألف الشيخ محمد _ رحمه الله _ مؤلفات كثيرة مفيدة منها: كتاب التوحيد وكتاب كشف الشبهات ومفيد المستفيد في حكم تارك التوحيد وكتاب الكبائر وكتاب أصول الإيمان وفضائل الإسلام وكتاب أحاديث الفتن ومختصر السيرة النبوية ومختصر زاد المعاد ومختصر الإنصاف والشرح الكبير ومسائل الجاهلية1 ومجموع الحديث رتبة ورحمه الله على أبواب الفقه وكتاب آداب المشي إلي الصلاة واستنباط القرآن وكتاب نصيحة المسلمين بأحاديث خاتم المرسلين وكتب _ رحمة الله _ رسائل كثيرة في تقرير التوحيد وتوضيحه تبلغ مجلدا كبيرا أورد البعض منها الشيخ حسين بن غنام في تأريخه هذا وقد رثاه الشيخ حسين بن غنام بقصيدة مؤثرة تبلغ أبياتها زهاء تسعة وثلاثين بيتا ومطلعها:

إلي الله في كشف الشدائد نفزع … وليس إلى غير المهيمين مفزع

وكذلك الإمام محمد بن علي الشوكاني لما بلغه نعي الشيخ رثاه بقصيدة طويلة تبلغ أبياتها زهاء مائة بيت ومطلعها:

مصاب دهي قلبي فأذكي غلائلي … وأصمي بسهم الافتجاع مقاتلي

--------------------------------------------

1 أي المسائل التي خالف رسول الله صلي الله عليه وسلم أهل الجاهلية.
বিদ্বানগণের সংখ্যা অনেক। আমরা এই সংক্ষিপ্ত জীবনীতে তাঁদের মধ্য থেকে বিশিষ্ট কয়েকজনের কথা উল্লেখ করব। তাঁরা হলেন তাঁর চার পুত্র: শায়খ আবদুল্লাহ, শায়খ হুসাইন, শায়খ আলী ও শায়খ ইবরাহিম; এবং তাঁর পৌত্র শায়খ আবদুর রহমান বিন হাসান, শায়খ হামাদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুয়াম্মার, শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-হুসাইন, শায়খ আবদুর রহমান বিন নামি, শায়খ আবদুর রহমান বিন খামিস আল-ফারাদি, শায়খ আবদুল আজিজ "আবা" হুসাইন আল-উহাইবি আত-তামিমি, শায়খ হাসান বিন আইদান, শায়খ আবদুল আজিজ বিন সুওয়াইলাম, শায়খ হামাদ বিন রাশিদ আল-উরাইনি এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন সুলতান আল-আওসাজি। এঁরা ছাড়াও অসংখ্য লোক তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যারা বিচার বিভাগ, ফতোয়া প্রদান ও শিক্ষকতার পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের যুগে ইলমের দায়িত্ব পালনসহ ইসলাম ও তাওহীদের দাওয়াত প্রচারের কাজ আঞ্জাম দিয়েছিলেন — আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

শায়খ মুহাম্মদ — আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন — অনেক উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কিতাবুত তাওহীদ, কিতাবু কাশফিশ শুবুহাত, মুফিদুল মুস্তাফিদ ফী হুকমি তারিকিত তাওহীদ, কিতাবুল কাবায়ের, কিতাবু উসুলিল ঈমান, ফাদায়িলুল ইসলাম, কিতাবু আহাদিসিল ফিতান, মুখতাসারুস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ, মুখতাসারু জাদিল মা'আদ, মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াশ শারহুল কাবীর, মাসায়িলুল জাহিলিয়্যাহ ১, মাজমু'উল হাদিস (যা তিনি ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন — আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), কিতাবু আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাহ, ইস্তিনবাতুল কুরআন এবং কিতাবু নাসিহাতিল মুসলিমিনা বি-আহাদিসি খাতামিল মুরসালিন। এবং তিনি — আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক — তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও তা স্পষ্টীকরণে অনেক পত্রাবলি লিখেছেন যা একটি বিশাল খণ্ড হবে; শায়খ হুসাইন বিন ঘান্নাম তাঁর এই ইতিহাসে সেগুলোর কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। শায়খ হুসাইন বিন ঘান্নাম তাঁর মৃত্যুতে একটি মরমী শোকগাথা রচনা করেছেন, যার পঙক্তি সংখ্যা প্রায় উনচল্লিশ এবং তার প্রারম্ভিক চরণটি হলো:

বিপদ-আপদ দূরীকরণে আমরা আল্লাহর দিকেই ধাবিত হই … আর সেই মহান রক্ষাকর্তা ব্যতীত অন্য কোনো আশ্রয়স্থল নেই।

অনুরূপভাবে ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি যখন শায়খের ইন্তেকালের সংবাদ পেলেন, তখন তিনি একটি দীর্ঘ শোকগাথা রচনা করেন যার পঙক্তি সংখ্যা প্রায় একশ। তার সূচনা হলো:

এক বিপদ আমার অন্তরকে আচ্ছন্ন করেছে যা আমার অন্তর্জালাকে প্রজ্বলিত করেছে … আর শোকের তীরের আঘাতে আমার মর্মস্থলকে বিদ্ধ করেছে।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ সেসব বিষয় যেগুলোতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়ার অধিবাসীদের বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وكان الشيخ _ رحمه الله _ متعبدا يحيي غالب الليل صلاة قراءة وتهجدا وكان _ رحمه الله _ مع هذا متعففا متورعا لا يأكل من بيت المال إلا بالمعروف، وبيت المال في يده ورهن تصرفه، وكان سخيا جوادا توفي _ رحمة الله _ ولم يخلف شيئا من المال ولا العقار غير دارة التي كان يسكنها في حياته رحمه الله بل كان عليه دين كثير أقترضه في إنفاقه على الغرباء والمعوزين من أهل العلم وغيرهم وقد أوفى الله عنه هذا الدين. وقد أنجب الشيخ رحمه الله تعالى ستة أبناء علماء فضلاء هم المشايخ على وحسين وعبد الله وحسن وإبراهيم وعبد العزيز رحم الله الشيخ ورضي عنه وأرضاه وجعل جنة الخلد منزله ومأواه.

وقد بارك الله في ذريته فبلغوا عددا كثيرا وهذه الذرية الكثيرة المباركة جميعهم من أبناء الشيخ الأربعة وهم الشيخ علي والشيخ حسين والشيخ عبد الله والشيخ حسن، وأما الشيخ إبراهيم والشيخ عبد العزيز أبنا الشيخ محمد بن عبد الوهاب فليس لهما ذرية ولا عقب، فآل الشيخ الموجودون اليوم منحدر ون عن أبناء1 الشيخ محمد الأربعة الذين ذكرناهم آنفا رحم الله الشيخ محمد بن عبد الوهاب وبارك في ذريته وأحفاده وجعلهم قادة خير وهذى وصلى الله على محمد وآله وسلم.

--------------------------------------------

1 وضعنا بآخر الكتاب بيانا يتضمن بيان ذرية الشيخ محمد بن عبد الوهاب المنحدرين عن أبنائه الأربعة المذكورين أعلاه رحم الله الجميع إنه سميع مجيب.
শায়খ —আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন— অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন। তিনি রাতের অধিকাংশ সময় সালাত, তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদের মাধ্যমে অতিবাহিত করতেন। এর পাশাপাশি তিনি —আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন— ছিলেন অত্যন্ত সংযমী ও পরহেযগার। তিনি ন্যায়সঙ্গত পন্থা ব্যতীত বাইতুল মাল থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না, যদিও বাইতুল মাল তাঁর হাতে এবং তাঁরই নিয়ন্ত্রণে ছিল। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও উদার ছিলেন। তিনি —আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক— ইন্তেকাল করেন এবং কোনো ধন-সম্পদ বা স্থাবর সম্পত্তি রেখে যাননি, শুধুমাত্র সেই ঘরটি ছাড়া যেখানে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বসবাস করতেন; বরং তাঁর ওপর প্রচুর ঋণ ছিল, যা তিনি আগন্তুক মুসাফির এবং আলিম সমাজসহ অন্যান্য অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে গিয়ে গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে সেই ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। শায়খ —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন— ছয়জন বিদ্বান ও ফযীলতপূর্ণ পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। তাঁরা হলেন শায়খ আলী, শায়খ হুসাইন, শায়খ আবদুল্লাহ, শায়খ হাসান, শায়খ ইবরাহীম এবং শায়খ আবদুল আযীয। আল্লাহ শায়খের প্রতি দয়া করুন, তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতুল খুলদকে তাঁর আবাস ও আশ্রয়স্থল বানান।

আল্লাহ তাঁর বংশধরের মধ্যে বরকত দান করেছেন, ফলে তাঁরা সংখ্যায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অসংখ্য ও বরকতময় বংশধরগণ সকলেই শায়খের চার পুত্রের ধারা থেকে এসেছেন; তাঁরা হলেন শায়খ আলী, শায়খ হুসাইন, শায়খ আবদুল্লাহ এবং শায়খ হাসান। আর শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের অন্য দুই পুত্র শায়খ ইবরাহীম ও শায়খ আবদুল আযীযের কোনো বংশধর বা উত্তরসূরি নেই। সুতরাং বর্তমানে বিদ্যমান ‘আলে শায়খ’ পরিবারটি শায়খের সেই চার পুত্রেরই বংশধর যাদের কথা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আল্লাহ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের প্রতি দয়া করুন এবং তাঁর বংশধর ও নাতি-নাতনিদের মধ্যে বরকত দান করুন এবং তাঁদেরকে কল্যাণ ও হিদায়াতের নেতা বানান। আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১. আমরা বইয়ের শেষে একটি বিবরণ যুক্ত করেছি যাতে উপরে বর্ণিত শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের চার পুত্রের ধারা থেকে আগত বংশধরদের পরিচয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল্লাহ সকলের প্রতি দয়া করুন, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌الشيخ حسين ابن الشيخ محمد بن عبد الوهاب

هو الشيخ العالم الجليل حسين ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب ولد بمدينة الدرعية ونشأ بها وقرأ العلم على والده الشيخ محمد بن عبد الوهاب. تولى القضاء في بلدة الدرعية زمن الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود، وكان يصلي بالناس الجمعة في مسجد جامع الدرعية الكبير الواقع في محلة الطريف تحت منازل آل سعود في الجهة الغربية، ويصلي بالناس الفروض الخمسة في مسجد البجيري، وكان جهوري الصوت كفيف البصر. "وقد ورد له ذكر في كتاب لمع الشهاب".

أخذ عنه العلم جماعة منهم أبناه الشيخ على بن حسين والشيخ عبد الرحمن بن حسين والشيخ أحمد الوهيبي والشيخ سعيد بن حجي، توفي _ رحمه الله _ في شهر ربيع الآخر سنة 1224 هـ في وباء أصاب الدرعية. وخلف خمسة أبناء هم الشيخ على بن الشيخ حسين، والشيخ عبد الرحمن ابن الشيخ حسين، والشيخ حمد ابن الشيخ حسين، والشيخ عبد الملك ابن الشيخ حسين وحسن ابن الشيخ حسين، وأحفاده يعرفون اليوم على انفراد هم بآل حسين نسبة إلي جدهم المترجم الشيخ حسين ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمهم الله وغفر لهم وبارك في أحفادهم وذريتهم إنه سميع مجيب.
শেখ হুসাইন ইবনে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

তিনি হলেন সম্মানিত আলেম শেখ হুসাইন ইবনে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। তিনি দিরইয়াহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং তাঁর পিতা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট ইলম অর্জন করেন। তিনি ইমাম আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদের আমলে দিরইয়াহ জনপদে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পশ্চিম দিকে আল-সাউদ পরিবারের বাসভবনের নিচে অবস্থিত আত-তুরাইফ মহল্লার দিরইয়াহ জামে মসজিদে মানুষের জুমার নামাজে ইমামতি করতেন এবং আল-বুজাইরি মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজে মানুষের ইমামতি করতেন। তিনি উচ্চকণ্ঠের অধিকারী ও দৃষ্টিহীন ছিলেন। "লামউশ শিহাব গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।"

একদল ব্যক্তি তাঁর নিকট ইলম অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে তাঁর দুই পুত্র শেখ আলী বিন হুসাইন ও শেখ আব্দুর রহমান বিন হুসাইন এবং শেখ আহমদ আল-উহাইবি ও শেখ সাঈদ বিন হাজ্জি অন্যতম। তিনি —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— ১২২৪ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে দিরইয়াহতে হানা দেওয়া এক মহামারীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি পাঁচজন পুত্র রেখে গেছেন, তাঁরা হলেন শেখ আলী বিন শেখ হুসাইন, শেখ আব্দুর রহমান বিন শেখ হুসাইন, শেখ হামাদ বিন শেখ হুসাইন, শেখ আব্দুল মালিক বিন শেখ হুসাইন এবং হাসান বিন শেখ হুসাইন। তাঁর বংশধরেরা আজ স্বতন্ত্রভাবে 'আলে হুসাইন' নামে পরিচিত, যা তাঁদের পিতামহ এই জীবনীর আলোচ্য ব্যক্তি শেখ হুসাইন ইবনে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন, তাঁদের ক্ষমা করুন এবং তাঁদের বংশধর ও সন্তানদের মধ্যে বরকত দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌الشيخ سليمان ابن الشيخ عبد الله

هو العالم النحرير، والعلامة الذكي الشهير، الفقيه المحدث الأصولي، الشيخ سليمان ابن الشيخ العلامة عبد الله ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب ولد هذا العالم المتبحر الفقيه سنة ألف ومائتين من الهجرة في بلدة الدرعية، وكانت الدرعية ذلك اليوم في أيام سعدها، وأوج عزها زاخرة بالعلماء الكبار، والجهابذة الحفاظ، من تلاميذ الشيخ محمد بن عبد الوهاب وغيرهم من الوافدين على الدرعية والمقيمين بها من العلماء الإعلام، فنشأ هذا العالم في هذا الوسط العلمي فقرأ القرآن حتى حفظه، ثم أقبل برغبته الشديدة على العلم والطلب، فقرأ على أبيه الشيخ عبد الله، وعلى الشيخ حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر، وعلى الشيخ عبد الله فاضل من علماء الدرعية، وعلى الشيخ محمد بن علي بن غريب. وأخذ علم الفرائض عن الشيخ عبد الرحمن بن خميس.

وكان _ رحمة الله _ نادرة في العلم والحفظ والذكاء له المعرفة المتناهية بالحديث، ورجاله وحسنه وضعيفة، يسامي في ذلك أكابر المتقدمين من الحفاظ والمحدثين، عالم بالتفسير وفقه والأصول والنحو، حسن الخط، ليس في زمنه من يخط بالقلم مثله بنجد، وقد تصدى للتدريس1 بالدرعية.

--------------------------------------------

1 جلس لطلبة العلم في فنون العلم وكان يجلس بعد صلاة المغرب في قصر الإمام سعود ويدرس درسا عاما في صحيح الإمام البخاري يحضره الإمام سعود ومعه إخوانه وبنو عمه وبنوه وخلق لا يحصون قال الشيخ عثمان بن بشر وهو يتحدث عن سيرة الإمام سعود فإذا كان بعد صلاة الغرب أجتمع الناس الدرس عنده داخل القصر في سطح مسجد الظهر المذكور وجاء إخوانه وبنو عمه وبنوه وخواصه على عادتهم ثم يأتي سعود على عادته فإذا جلس شرع القارئ في صحيح البخاري وكان العالم الجالس للتدريس سليمان بن عبد الله ابن الشيخ محمد بن عبد بن الوهاب فياله من عالم نحرير وحافظ متقن خبير إذا جلس يتكلم عن الأحاديث وطرقها ورواياتها فكأنه لم يعرف غيرها من إتقانه وحفظه.
শায়খ সুলাইমান ইবনুল শায়খ আব্দুল্লাহ

তিনি হলেন প্রাজ্ঞ আলিম, খ্যাতিমান মেধাবী আল্লামা, ফকিহ, মুহাদ্দিস ও উসুলবিদ, শায়খ সুলাইমান ইবনুল শায়খ আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব। এই অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ফকিহ হিজরি বারোশো সালে দিরইয়াহ জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময়ে দিরইয়াহ ছিল তার সৌভাগ্যের দিনগুলোতে এবং মর্যাদার শিখরে; যা শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের ছাত্র এবং দিরইয়াহতে আগত ও তথায় বসবাসরত প্রথিতযশা আলিমদের মধ্য থেকে বড় বড় আলিম এবং বিজ্ঞ হাফিজদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। এই আলিম এমন এক ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, ফলে তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং তা মুখস্থ করেন। অতঃপর তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি পাঠ গ্রহণ করেন তার পিতা শায়খ আব্দুল্লাহ, শায়খ হামাদ ইবনে নাসির ইবনে উসমান ইবনে মুয়াম্মার, দিরইয়াহর আলিমদের অন্যতম শায়খ আব্দুল্লাহ ফাদিল এবং শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে গরিবের নিকট। আর তিনি ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে খামিসের নিকট।

তিনি —রহিমাহুল্লাহ— ইলম, হিফয (স্মৃতিশক্তি) এবং মেধার ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। হাদিসশাস্ত্র, রাবি (বর্ণনাকারী) এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ের বিষয়ে তার পরিপক্ব জ্ঞান ছিল, যা তাকে এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মহান হাফিজ ও মুহাদ্দিসদের সমপর্যায়ে উন্নীত করেছিল। তিনি তাফসির, ফিকহ, উসুল ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি চমৎকার হস্তাক্ষরের অধিকারী ছিলেন, তার সময়ে নজদ অঞ্চলে কলম দিয়ে তার মতো সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখার কেউ ছিল না। তিনি দিরইয়াহতে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন।১

--------------------------------------------

১ তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় ইলম অন্বেষণকারীদের পাঠদানের জন্য বসতেন। তিনি মাগরিবের নামাজের পর ইমাম সাউদের প্রাসাদে বসতেন এবং ইমাম বুখারির সহিহ গ্রন্থের ওপর একটি সাধারণ দরস প্রদান করতেন, যেখানে ইমাম সাউদ, তার ভাইগণ, চাচাতো ভাইগণ, পুত্রগণ এবং অগণিত মানুষ উপস্থিত থাকতেন। শায়খ উসমান ইবনে বিশর ইমাম সাউদের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: মাগরিবের নামাজের পর মানুষ প্রাসাদের অভ্যন্তরে উল্লেখিত মসজিদের ছাদে তার নিকট দরসের জন্য একত্রিত হতো। তার ভাইগণ, চাচাতো ভাইগণ, পুত্রগণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রথা অনুযায়ী আসতেন। অতঃপর সাউদ তার রীতি অনুযায়ী আসতেন। তিনি যখন বসতেন, তখন পাঠক সহিহ বুখারি পাঠ শুরু করতেন। সেখানে পাঠদানের জন্য উপবিষ্ট আলিম ছিলেন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নাতি সুলাইমান ইবনে আব্দুল্লাহ। তিনি কতই না প্রাজ্ঞ আলিম এবং সুনিপুণ বিশেষজ্ঞ হাফিজ ছিলেন! তিনি যখন হাদিস, তার বিভিন্ন সূত্র এবং বর্ণনাধারা সম্পর্কে আলোচনা করতে বসতেন, তখন তার নিপুণতা ও মুখস্থের গভীরতা দেখে মনে হতো তিনি যেন এটি ছাড়া অন্য কিছু জানেনই না।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
مع وجود والده وأعمامه فأخذ عنه العلم خلق كثير من أهل نجد وغيرهم من الوافدين على الدرعية، في ذلك الحين، ولكن مع الأسف لم يقدر لي الإطلاع على أسمائهم وقد ذكر المؤرخ الشهير عثمان بن عبد الله بن بشر في صحيفة 183 من الجزء الأول من تاريخه عنوان المجد. أن الإمام سعود بن عبد العزيز بن محمد ابن سعود، أرسل المترجم له الشيخ سليمان قاضيا لمكة بالمشاركة مع قضاتها السابقين، الذين أقرهم الإمام سعود بن عبد العزيز على قضاء مكة، بعد ما استولى عليها وذكر ابن بشر: أن الشيخ سليمان أقام مدة يقضي بمكة ثم رجع إلي الدرعية.

وقد ألف _ رحمه الله _ مؤلفات نافعة الجليلة تدل على تضلعه رسوخ قدمه في العلم، منها: "تسير العزيز الحميد شرح كتاب التوحيد" لجده شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب، وهذا الشرح من الله بطبعه ونشره بعد ما كان مخطوطا لا يرى إلا نادرا، وألف الشيخ الدلائل في عدم موالاة أهل الإشراك ورسالة في بيان عدد الجمعة، وحيدة في بابها، لم ينسج أحد على منوالها. وحاشية على المقنع في الفقه لموفق الدين محمد بن عبد الله بن قدامة المقدسي تقع في ثلاث مجلدات ضخام، وقد طبعت هذه الحاشية على نفقة صاحب السمو الشيخ علي ابن الشيخ عبد الله قاسم آل ثاني حاكم قطر سابقا. وألف كتابا سماه "التوضيح عن توحيد الخلاق في جواب أهل العراق "1 رد به على عبد الله أفندي الراوي خطيب مسجد سليمان باشا، وله غير ذلك رسائل كثيرة طبعت مفرقة في مجا ميع الرسائل والمسائل النجدية التي طبعت بمطبعة المنار بمصر أولا، وثانيا بمطبعة أم القرى.

--------------------------------------------

1 طبع كتاب التوضيح عن توحيد الخلاق في جواب أهل العراق بالمطبعة العامرة الشرقية بمصر عام 1319 هـ
তাঁর পিতা ও চাচাদের উপস্থিতিতেও সেই সময়ে নজদ এবং দিরইয়াহতে আগত অন্যান্যদের মধ্য থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের নামগুলো অবগত হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশর তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ 'উনওয়ানুল মাজদ' এর প্রথম খণ্ডের ১৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম সউদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সউদ আলোচ্য ব্যক্তি শেখ সুলাইমানকে মক্কার পূর্ববর্তী বিচারকদের সাথে যৌথভাবে মক্কার বিচারক হিসেবে নিয়োগ করে পাঠিয়েছিলেন, যাদেরকে ইমাম সউদ ইবনে আব্দুল আজিজ মক্কা বিজয়ের পর স্বপদে বহাল রেখেছিলেন। ইবনে বিশর আরও উল্লেখ করেছেন: শেখ সুলাইমান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মক্কায় বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং এরপর দিরইয়াহতে ফিরে আসেন।

তিনি — আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন — অনেকগুলো অত্যন্ত উপকারী ও মহিমান্বিত গ্রন্থ রচনা করেছেন যা ইলমের ময়দানে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও সুদৃঢ় অবস্থানের পরিচয় দেয়। এর মধ্যে রয়েছে: তাঁর দাদা শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ "তায়সিরুল আজিজিল হামিদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ"। আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ হিসেবে এই ব্যাখ্যা গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে দুষ্প্রাপ্য থাকার পর বর্তমানে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শেখ মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব বর্জনের বিষয়ে "আদ-দালা ইল" নামক গ্রন্থ এবং জুমার সংখ্যা বর্ণনায় একটি রিসালাহ রচনা করেন, যা এই বিষয়ে এক অনন্য রচনা এবং এর আগে কেউ এমন শৈলীতে তা রচনা করতে পারেনি। এছাড়া মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসির ফিকাহ শাস্ত্রের গ্রন্থ 'আল-মুকনি'-এর ওপর একটি টীকা (হাশিয়া) যা তিনটি বিশাল খণ্ডে বিন্যস্ত। এই টীকাটি কাতারের সাবেক শাসক শেখ আলী ইবনে শেখ আব্দুল্লাহ কাসিম আল থানি-এর অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছে। তিনি "আত-তাওদিহ আন তাওহিদিল খাল্লাক ফি জাওয়াবি আহলিল ইরাক" নামক একটি কিতাবও রচনা করেছেন যার মাধ্যমে তিনি সুলাইমান পাশা মসজিদের খতিব আব্দুল্লাহ আফান্দি আর-রাবীর প্রতিবাদ করেছেন। এছাড়া তাঁর আরও অনেক রিসালাহ রয়েছে যা নজদি রিসালাহ ও মাসআলা সমূহের সংকলনে (মাজমু'আতুর রাসায়েল ওয়াল মাসায়েল আন-নাজদিয়্যাহ) বিচ্ছিন্নভাবে মুদ্রিত হয়েছে। এটি প্রথমে মিশরের আল-মানার প্রেসে এবং পরবর্তীতে উম্মুল কুরা প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ "আত-তাওদিহ আন তাওহিদিল খাল্লাক ফি জাওয়াবি আহলিল ইরাক" কিতাবটি ১৩১৯ হিজরিতে মিশরের আল-মাতবাআ আল-আমিরাহ আশ-শারকিয়্যাহ-তে মুদ্রিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣١)
وكان _ رحمه الله _ مع ما ذكرنا عنه من الفضل والعلم، شديد الغيرة على حرمات الإسلام والدين، أمارا بالمعروف نهاءا عن المنكر، لا تأخذه في الله لومة لائم، وقد أكرمه الله تعالى بالشهادة سنة ألف ومائتين وثلاث وثلاثين من الهجرة، وذلك عندما وشى به بعض المنافقين، إلي إبراهيم بن محمد علي باشا، عندما إ ستولى على مدينة الدرعية سنة ألف ومائتين وثلاث وثلاثين، فأحضره إبراهيم باشا، وتكلم عليه وأنبه تأنيا شديدا، وأحضر آلات اللهو والمنكر1 بين يديه إغاظة له، ثم أخرجه إلي المقبرة وأمر الجند أن يطلقوا عليه رصاص بنادقهم دفعة واحدة، فأطلقوه عليه فمزق جسمه وفاضت 2 روحه إلي ربه تشكو الظلم، فنعوذ بالله من هذه الوحشية، والقسوة المجردة عن الإنسانية والرحمة.

ونسأل الله أن يتغمد ذلك الشيخ الصابر المجاهد بالرحمة والغفران، وأن يجعله مع الصديقين والشهداء والصالحين، وحسن أولئك رفيقا وصلي الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

--------------------------------------------

1 ذكر غير واحد من مؤرخي الخروب الوقائع النجدية المصرية. أن إبراهيم باشا بن محمد علي باشا أخذ معه في غزوه للحجاز ونجد المغنيات وأخذ معه جميع آلات اللهو من المعازف والمنكرات واستصحب معه بعض الضباط الفرنسيين الماجنين، الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر. هذا وقد ذكر الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في كتابه الذي سماه "المقامات" بالحرف الواحد ما نصه / فأنتهي الأمر إلي الصلح وأعطاهم العهد والميثاق _ يعني بذلك إبراهيم باشا _ على ما في البلد من الرجال والمال. حتى الثمرة التي على النخل. لكن لم يف لهم بما صالحهم عليه لكن الله وفي شره عن أناس في قلبه عليهم حنانه _ أي حنق _ بلغة أهل نجد الدارجة بسبب أناس من أهل نجد. يكتبون فيهم عنده فكف الله يده ويد العسكر وغدروا بسليمات بن عبد الله هو الشيخ المترجم له – وابن كثير عبد الله وآل سو يلم بسبب البغدادي الخبيث. حداه عليهم فاختار الله لهم / انتهى كلام الشيخ عبد الرحمن بن حسن. ونحن لا ندري من هو هذا البغدادي الذي أثر على إبراهيم باشا هذا التأثير. وأملى عليه هذه الشدة والقسوة المجردة عن الإنسانية والرحمة وليت أن الشيخ عبد الرحمن ذكر اسم هذا البغدادي. ولقبه وعرفه لنا.

2 وليس له رحمه الله اليوم عقب.
তিনি — আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন — তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলম সম্পর্কে আমরা যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি তার পাশাপাশি ইসলামের পবিত্রতা ও দ্বীনের বিষয়ে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ছিলেন। তিনি সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারী ছিলেন; আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিজরি এক হাজার দুইশ তেত্রিশ সালে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। তা ঘটেছিল তখন যখন জনৈক মুনাফিক তাঁর বিরুদ্ধে ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ আলি পাশার কাছে চোগলখোরি করেছিল, যখন সে ১২৩৩ হিজরিতে দিরিয়াহ শহর দখল করে। অতঃপর ইব্রাহিম পাশা তাঁকে উপস্থিত করে তাঁর সাথে কথা বলে এবং তাঁকে অত্যন্ত কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে। তাঁকে ক্রোধান্বিত করার জন্য সে তাঁর সামনে বাদ্যযন্ত্র ও নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ উপস্থিত করে। এরপর তাঁকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সৈন্যদের নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা একযোগে তাদের বন্দুকের গুলি তাঁর ওপর বর্ষণ করে। ফলে তারা তাঁর ওপর গুলি ছুড়ে এবং তাঁর শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তাঁর রূহ তাঁর রবের কাছে জুলুমের অভিযোগ নিয়ে চলে যায়। আমরা এই পাশবিকতা এবং মানবতা ও করুণাবর্জিত নিষ্ঠুরতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন সেই ধৈর্যশীল মুজাহিদ শাইখকে রহমত ও মাগফিরাত দিয়ে ঢেকে দেন এবং তাঁকে সত্যবাদী, শহীদ ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করেন; আর তাঁরা কতই না উত্তম সঙ্গী। মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

১. নজদ ও মিশরের যুদ্ধের ইতিহাসবেত্তাদের একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, ইব্রাহিম পাশা ইবন মুহাম্মদ আলি পাশা হিজাজ ও নজদ অভিযানে তাঁর সাথে নারী সংগীতশিল্পী এবং বাদ্যযন্ত্র ও পাপকাজের সকল সরঞ্জাম নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সাথে ছিল কিছু পাপাচারী ফরাসি অফিসার, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখত না। শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহাবের নাতি শাইখ আব্দুর রহমান ইবন হাসান তাঁর 'আল-মাক্বামাত' নামক কিতাবে হুবহু যা উল্লেখ করেছেন তার ভাষ্য হলো: / অতঃপর বিষয়টি সন্ধিতে গিয়ে পৌঁছে এবং সে (অর্থাৎ ইব্রাহিম পাশা) তাঁদের জান-মাল এমনকি খেজুর গাছের ফলের ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার প্রদান করে। কিন্তু সে তাঁদের সাথে যে বিষয়ের ওপর সন্ধি করেছিল তা রক্ষা করেনি। তবে আল্লাহ এমন কিছু মানুষের থেকে তাঁর অনিষ্ট দূর করেছেন যাদের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল — নজদের প্রচলিত ভাষায় একে 'হানানাহ' বলা হয়। এটি নজদের কিছু লোকের কারণে ঘটেছিল যারা তাঁর কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে কুৎসা লিখে পাঠাত। ফলে আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর সৈন্যদের হাতকে নিবৃত্ত রাখেন। তবে তারা সুলাইমান ইবন আব্দুল্লাহ — যিনি বর্তমান আলোচিত শাইখ — এবং আব্দুল্লাহ ইবন কাসীর ও সুয়াইলিম পরিবারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সেই খবীস বাগদাদীর কারণে সে তাঁদের ওপর চড়াও হয়, অতঃপর আল্লাহ তাঁদের জন্য যা (শাহাদাত) পছন্দ করেছিলেন তা-ই হলো। / শাইখ আব্দুর রহমান ইবন হাসানের বক্তব্য সমাপ্ত। আমরা জানি না এই বাগদাদী কে ছিল, যে ইব্রাহিম পাশার ওপর এমন প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং তাঁকে মানবতা ও করুণাবর্জিত এই কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতার প্ররোচনা দিয়েছিল। আক্ষেপ যে শাইখ আব্দুর রহমান যদি এই বাগদাদীর নাম ও উপাধি উল্লেখ করতেন এবং আমাদের কাছে তাঁর পরিচয় তুলে ধরতেন।

২. আজ তাঁর — আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন — কোনো বংশধর অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌الشيخ عبد الله ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب

هو الإمام العلامة الأوحد، الثقة الثبت، التقي الورع المجاهد المحتسب، ذو الهمة العالية والشجاعة المتناهبة، الذي خلف والده شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في مؤازرة الإمام1 عبد العزيز بن محمد بن سعود، وخلفه في بث العلم والقيام بدعوة التوحيد ونشرها، والدفاع عنها بالقلم واللسان، والحجة والبيان، عالم نجد بعد أبيه ومفتيها، من له الفتاوى السديدة والأجوبة العديدة، والردود العظيمة من ضربت إليه أكباد الإبل من سائر بلدان نجد وتوالت عليه الأسئلة من جميع قرى نجد ومدنها الشيخ عبد الله ابن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب.

ولد هذا العالم الكبير في الدعية سنة 1165 هـ ونشأ بها في كنف والده نشأة دينية صالحة، وقرأ القرآن حتى حفظة ثم شرع في القراءة على والده شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب فتفقه في المذاهب الإسلامية، ومهر في علمي الفروع والأصول، وكان مع هذا عالما بارزا في علم التفسير والعقائد وأصول الدين، عارفا بالحديث ومعانيه، وبالفقه وأصوله وعلم النحو واللغة.

--------------------------------------------

1 بعد مضي سبع وعشرين سنة من ولاية الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود توفي المصلح المجدد الشيخ محمد بن عبد الوهاب سنة 1206هـ فخلفه في مؤازرة الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود، وفي القيام بدعوة التوحيد ونشرها المترجم له ابنه الشيخ عبد الله ابن الشيخ محمد بن عبد الوهاب.
শেখ আব্দুল্লাহ ইবন শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব

তিনি হলেন অদ্বিতীয় ইমাম ও আল্লামা, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ব্যক্তিত্ব, মুত্তাকী, পরহেযগার, মুজাহিদ ও নিষ্ঠাবান সাধক, সুউচ্চ হিম্মত ও অসীম সাহসিকতার অধিকারী। তিনি ইমাম আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ বিন সাউদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বীয় পিতা শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তিনি জ্ঞান প্রচার, তাওহীদের দাওয়াত প্রদান ও তা প্রসারে এবং কলম, যবান, দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তা রক্ষায় তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করেছেন। পিতার পর তিনি ছিলেন নজদ অঞ্চলের আলেম ও প্রধান মুফতী; যাঁর রয়েছে সঠিক ফতোয়াসমূহ, অগণিত উত্তর এবং মহান সব প্রতিবাদী লেখনী। নজদের সকল অঞ্চল থেকে যাঁর উদ্দেশ্যে জ্ঞানপিপাসুরা বাহন ছুটিয়ে আসতেন এবং নজদের সমস্ত গ্রাম ও শহর থেকে যাঁর নিকট ক্রমাগত প্রশ্ন আসত—তিনিই হলেন শায়খ আব্দুল্লাহ ইবন শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব।

এই মহান আলেম ১১৬৫ হিজরীতে দিরইয়াহতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই স্বীয় পিতার তত্ত্বাবধানে এক নেককার ধর্মীয় পরিবেশে লালিত-পালিত হন। তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং তা মুখস্থ সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর পিতা শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবের নিকট পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। তিনি ইসলামী মাযহাবসমূহে গভীর ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং ফুরু (শাখা জ্ঞান) ও উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এর পাশাপাশি তিনি তাফসীর, আকিদা ও উসুলুদ্দীন (দীনের মূলনীতি) শাস্ত্রে একজন প্রখ্যাত আলেম ছিলেন এবং হাদীস ও তার মর্মার্থ, ফিকহ ও তার উসুল এবং নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞ ছিলেন।

--------------------------------------------

১. ইমাম আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ বিন সাউদের শাসনের সাতাশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ১২০৬ হিজরীতে সংস্কারক ও মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব ইন্তেকাল করেন। অতঃপর ইমাম আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ বিন সাউদের সহযোগিতা এবং তাওহীদের দাওয়াত কায়েম ও তা প্রসারের কাজে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র শায়খ আব্দুল্লাহ ইবন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব, যাঁর জীবনী এখানে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وله اليد الطولي في جميع العلوم والفنون، كرس جهده وأوقف حياته على تحصيل العلم وتعليمه ونشره تدريسا وتأليفا، فأخذ عنه العلم خلق كثير من فطاحلة علماء تجد وجهابذتهم، نذكر منهم في هذه الترجمة الموجزة أبناءه الثلاثة: الشيخ الإمام سليمان والشيخ عبد الرحمن والشيخ علي، وابن أخيه الشيخ عبد الرحمن بن حسن ابن شيخ الإسلام محمد بن الوهاب والشيخ علي ابن أخيه الشيخ حسين ابن شيخ الإسلام محمد بن الوهاب، والشيخ محمد بن سلطان والشيخ عثمان بن عبد الجبار بن شبانة، والقاضي عبد العزيز بن حمد بن إبراهيم الوهيبي التميمي، والشيخ أحمد الوهيبي نزيل الأحساء، والشيخ عبد العزيز بن حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر صاحب منحة القريب المجيب في الرد على عباد الصليب، والشيخ سعيد بن حجي، والشيخ جمعان بن ناصر، ومسفر بن عبد الرحمن بن جعيلان نزيل فرية العرين من عسير بوادي أبها1 والشيخ إبراهيم بن سيف ومحمد بن الشيخ عبد الله بن أحمد بن عبد القادر الأحسائي.

وكان إلي جانب قيامه بتعليم العلم وبثه ونشر مذهب السلف ودعوة التوحيد والإسلام، مرجع قضاة المملكة السعودية في عهد الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود، وابنه الإمام سعود وابنه الإمام عبد الله، فكان في ذلك الوقت بمثابة رئيس قضاة ومفت وقد ألف مؤلفات كثيرة، منها جواب أهل السنة النبوية في نقض كلام الشيعة والزيدية، رد به _ رحمه الله _ على بعض علماء الزيدية فيما أعترض على دعوة التوحيد السلفية، وألف مختصر السيرة النبوية في مجلد ضخم، والكلمات النافعة في المكفرات والواقعة، طبعت مرارا، وآخرها بالمطبعة السلفية بمصر، وألف منسكا صغيرا للحج، وكتب رسائل وفتاوى كثيرة، لو أفردت على حدة وجمعت لبلغت مجلدا ضخما كبيرا، ولكنها.

--------------------------------------------

1 أصله من وادي الدواسر ونزح منها إلي عسير ونزل قرية العرين بفتح العين وكسر الراء. توفي بها.
সমস্ত জ্ঞান ও বিদ্যায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ইলম অর্জন, শিক্ষা দান এবং পাঠদান ও রচনার মাধ্যমে তা প্রসারে নিজের শ্রম উৎসর্গ করেছিলেন এবং জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। নজদ অঞ্চলের বহু বিজ্ঞ ও বরেণ্য আলেম তাঁর নিকট হতে ইলম গ্রহণ করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত জীবনচরিতে আমরা তাদের মধ্য থেকে তাঁর তিন পুত্র: শাইখ ইমাম সুলাইমান, শাইখ আব্দুর রহমান ও শাইখ আলীর কথা উল্লেখ করছি। এছাড়া তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের পৌত্র শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান এবং শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের অপর পৌত্র শাইখ আলী বিন হুসাইন। আরও আছেন শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলতান, শাইখ উসমান বিন আব্দুল জাব্বার বিন শাবানা, কাজী আব্দুল আজিজ বিন হামাদ বিন ইবরাহিম আল-উহাইবি আত-তামিমি, আল-আহসার নিবাসী শাইখ আহমাদ আল-উহাইবি, এবং ‘মিনহাতুল কারিবিল মুজীব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলীব’ গ্রন্থের রচয়িতা শাইখ আব্দুল আজিজ বিন হামাদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুয়াম্মার। আরও রয়েছেন শাইখ সাঈদ বিন হাজ্জি, শাইখ জুমান বিন নাসির এবং আসিরের আবহা উপত্যকার আল-আরিন গ্রামের নিবাসী মুসফির বিন আব্দুর রহমান বিন জুয়াইলান [১], শাইখ ইবরাহিম বিন সাইফ এবং মুহাম্মাদ বিন শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির আল-আহসায়ি।

ইলম শিক্ষা দান, এর প্রচার এবং সালাফদের মাযহাব ও তাওহীদ ও ইসলামের দাওয়াত প্রসারের পাশাপাশি তিনি ইমাম আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ বিন সউদ, তাঁর পুত্র ইমাম সউদ এবং তাঁর পুত্র ইমাম আব্দুল্লাহর শাসনামলে সৌদি রাজ্যের বিচারপতিদের প্রধান মারজা বা নির্ভরস্থল ছিলেন। সেই সময়ে তিনি প্রধান বিচারপতি ও মুফতির সমতুল্য ছিলেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘জওয়াবু আহলিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়াহ ওয়াজ জাইদিয়্যাহ’; এর মাধ্যমে তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—সালাফী তাওহীদের দাওয়াতের ওপর জনৈক জাইদিয়া আলেমদের করা কিছু আপত্তির খণ্ডন করেছেন। তিনি এক বিশাল খণ্ডে ‘মুখতাসারুস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ’ রচনা করেছেন এবং ‘আল-কালিমাতুন নাফিয়াহ ফিল মুকাফফিরাতিল ওয়াকিয়াহ’ গ্রন্থটিও লিখেছেন যা বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং সর্বশেষ মিশরের আস-সালাফিয়্যাহ ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি হজ্জের ওপর একটি ছোট মানাসিক (নির্দেশিকা) রচনা করেছেন এবং অসংখ্য পত্র ও ফতোয়া লিখেছেন, যা যদি আলাদা করে সংগ্রহ করা হতো তবে তা একটি বিশাল ও বৃহৎ খণ্ডে পরিণত হতো, কিন্তু সেগুলো...

--------------------------------------------

১. তাঁর আদি নিবাস ওয়াদি আদ-দাওয়াসির। তিনি সেখান থেকে আসিরে হিজরত করেন এবং আল-আরিন (আইন অক্ষরে ফাতহা ও রা অক্ষরে কাসরা যোগে) গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
طبعت مفرقة في مجاميع الرسائل والنجدية التي طبعت سابقا بمصر وأخيرا بمطبعة أم القرى وكلا الطبعتين المذكورتين الملك المغفور له عبد العزيز بن عبد الرحمن بن فيصل آل سعود _ رحمه الله _ تعالى.

وكان له دروس خاصة يحضرها الإمام سعود عبد العزيز وابنه الإمام عبد الله بن سعود في الدرعية، وقد صحب الأمير1 سعود بن الإمام عبد العزيز بن الإمام محمد بن سعود، بن محمد بن مقرن في دخوله مكة المكرمة في حياة والده الإمام عبد العزيز _ رحمه الله _ وذلك في يوم السبت ثامن شهر محرم الحرام 1218 سنة ألف ومائتين وثماني عشرة من الهجرة.

وكتب حال دخوله مكة المكرمة مع الأمير سعود رسالة وإجابة منه لمن سأله عما يعتقدونه ويدينون الله به، ونحن نوردها بكاملها في هذا الموضع من الترجمة لعظيم فائدتها ولاشتمالها على معاني دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ودحضها كذب أعداء الإسلام ودعاة الأباطيل من أنصار الشرك وأعداء التوحيد.

قال_ رحمه الله _ ما نصه:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد2 لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد الأمين، وعلى آله وصحبه والتابعين..

--------------------------------------------

1 لقد تخل عن مكة بعدما دخلها بشهر ولم بدخلها بعد إلا سنة 1220 هـ وذلك بعد وفاة والده واستقرت ولايته عليها وعلى جميع الحجاز إلي سنة 1228 هـ عندما ظهر عليه طوسون بن محمد علي باشا وحصل ما حصل من الوقائع والحروب المذكورة في محلها من التواريخ.

2 قال محمد كرد علي في كتابه القديم والحديث الطبعة الأولي سنة 1343 هـ ص166 سطر 6 عن هذه الرسالة ما نصه "ورسالة عبد بن محمد بن عبد الوهاب التي كتبها حين فتح الحرمين الشريفين شاهدة عدل على أنه بريء من تلك الافتراءات التي افتروها على عقائده وعقائد أبيه وبنوا عليها تلك الزلازل والقلاقل وأن مذهبه عين مذهب الأئمة المحدثين والسلف الصالحين وتلك الرسالة منقولة في إتحاف النبلاء من شاء الإطلاع عليها فلير جع إليها" انتهى.
এটি বিভিন্ন সময়ে মাজমু'আতুর রাসাইল আন-নাজদিয়্যাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে, যা পূর্বে মিসরে এবং পরবর্তীতে উম্মুল কুরা প্রেস থেকে ছাপা হয়েছিল। উভয় সংস্করণই মরহুম বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান বিন ফয়সাল আল সৌদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিল।

দিরঈয়াহতে তাঁর বিশেষ পাঠদান কর্মসূচি ছিল, যেখানে ইমাম সাউদ বিন আব্দুল আজিজ এবং তাঁর পুত্র ইমাম আব্দুল্লাহ বিন সাউদ উপস্থিত থাকতেন। তিনি তাঁর পিতা ইমাম আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর জীবদ্দশায় ১২১৮ হিজরি সনের ৮ই মহররম রোজ শনিবার মক্কাতুল মোকাররমায় প্রবেশের সময় আমির সাউদ বিন ইমাম আব্দুল আজিজ বিন ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিন মুহাম্মদ বিন মুকরিনের সঙ্গী হয়েছিলেন।

আমির সাউদের সাথে মক্কাতুল মোকাররমায় প্রবেশের সময় তিনি একটি পত্র এবং যারা তাঁদের আকিদাহ ও দ্বীনি বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য একটি উত্তর লিখেছিলেন। এর গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং এতে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের মূলকথা অন্তর্ভুক্ত থাকায় এবং এটি ইসলামের শত্রু ও শিরকের সমর্থকদের মিথ্যা অপবাদ এবং বাতিলের দিকে আহ্বানকারীদের অপচেষ্টা খণ্ডন করায়, আমরা জীবনীগ্রন্থের এই অংশে তা পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরছি।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও অনুসারীদের ওপর..

--------------------------------------------

১. তিনি মক্কায় প্রবেশের এক মাস পর সেখান থেকে চলে যান এবং ১২২০ হিজরি সনের আগে আর প্রবেশ করেননি। তখন তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছিল এবং মক্কাসহ সমগ্র হিজাজের ওপর তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১২২৮ হিজরি পর্যন্ত তাঁর এই শাসনকাল স্থায়ী হয়, যতক্ষণ না মুহাম্মদ আলী পাশার পুত্র তুসুন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান চালায় এবং ইতিহাসে বর্ণিত সেই সব ঘটনাবলী ও যুদ্ধসমূহ সংঘটিত হয়।

২. মুহাম্মদ কুর্দ আলী তাঁর 'আল-কাদীম ওয়াল-হাদীস' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ (১৩৪৩ হি.), ১৬৬ পৃষ্ঠার ৬ষ্ঠ লাইনে এই পত্র সম্পর্কে বলেছেন: "আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব হারামাইন শরিফাইন বিজয়ের সময় যে পত্রটি লিখেছিলেন, তা এই সত্যের সাক্ষী যে, তাঁর এবং তাঁর পিতার আকিদাহর বিরুদ্ধে যেসব অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল—যার ওপর ভিত্তি করে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছিল—তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। বরং তাঁর মাযহাব ছিল মূলত মুহাদ্দিস ইমামগণ ও সালাফে সালেহীনেরই মাযহাব। এই পত্রটি 'ইতহাফুন নুবালা' গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে, কেউ বিস্তারিত দেখতে চাইলে সেখানে তা দেখে নিতে পারেন।" (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
أما بعد فإنا معاشر غزو الموحدين لما من الله علينا _ وله الحمد _ بدخول مكة المشرفة، نصف النهار يوم السبت ثامن شهر محرم الحرام سنة 1318 هـ بعد أن طالب أشراف مكة وعلماؤها وكافة العامة من أمير الغزو سعود حماه الله الأمان. وقد كانوا تواطؤا مع أمراء الحجيج وأمير مكة على قتاله والإقامة في الحرم، لصدروه عن البيت، فلما زحفت أجناد الموحدين ألقى الله الرعب في قلوبهم فتفرقوا شذر مذر، كل واحد يعد الإياب غنيمة له، وبذل حينئذ الأمير الأمان لمن بالحرم الشريف، ودخلنا شعارنا التلبية آمنين محلقين رؤوسنا مقصرين غير خائفين من أحد من المخلوقين، بل من مالك يوم الدين، ومن حين دخل الجند الحرم، وهم على كثرتهم مضبوطون متأدبون، لم يعضدوا شجرا ولم ينفروا به صيدا ولم يريقوا دما الأدم الهدي، أو ما أحل الله من بهيمة الأنعام، على الوجه المشروع، ولما تمت عمرتنا جمعنا الناس ضحوة الأحد وعرض الأمير _ عافاه الله _ على العلماء ما نطلب من الناس ويدعوهم إليه، وهو إخلاص التوحيد لله تعالى وحده، وعرفهم أنه لم يكن بيننا وبينهم خلاف له وقع إلا في أمرين:

أحدهما: إخلاص التوحيد لله تعالى ومعرفة أنواع العبادة وأن الدعاء من جملتها تحقيق معني الشرك، الذي قاتل الناس عليه نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، واستمر دعاؤه برهة من الزمان بعد النبوة إلي ذلك التوحيد، وترك الإشراك، قبل أن تفرض عليه أركان الإسلام الأربعة.

والثاني: الأمر بالمعروف والنهي عن المكر الذي لم يبق عندهم إلا اسم، وانمحى أثره ورسمه، فوافقونا على استحسان ما نحن عليه جملة وتفصيلا، وبايعوا الأمير على الكتاب والسنة، وقبل منهم وعفا عنهم كافة، فلم يحصل على أحد منهم أدنى مشقة، ولم يزل يرفق بهم غاية الرفق لاسيما العلماء ويقرر لهم حال اجتماعهم _ وحال انفرادهم _ لدينا ما نحن عليه، ويطلب منهم المناصحة والمذاكرة وبيان الحق وعرفناهم بأن صرح لهم الأمير حال.
অতঃপর, আমরা একত্ববাদী যোদ্ধাদের দল, যখন আল্লাহ আমাদের ওপর অনুগ্রহ করলেন - এবং সকল প্রশংসা তাঁরই - মক্কা মুশাররাফায় প্রবেশের মাধ্যমে, ১৩১৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের আট তারিখ শনিবার মধ্যাহ্নে; মক্কার আশরাফ (অভিজাত), উলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ জনগণ যুদ্ধের আমির সৌদ - আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন - এর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করার পর। তারা ইতিপূর্বে হজের আমিরগণ এবং মক্কার আমিরের সাথে তাকে (সৌদকে) হত্যা করার এবং বাইতুল্লাহ থেকে তাকে বাধা দেওয়ার জন্য হারামে অবস্থানের বিষয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু যখন একত্ববাদীদের সেনাবাহিনী অগ্রসর হলো, আল্লাহ তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন, ফলে তারা চারদিকে ছিন্নভিন্ন হয়ে পালিয়ে গেল। প্রত্যেকেই ফিরে যেতে পারাকেই গনিমত (লাভ) মনে করছিল। তখন আমির হারাম শরিফে অবস্থানকারীদের নিরাপত্তা প্রদান করলেন। আমরা তালবিয়া পাঠ করতে করতে নিরাপদ অবস্থায় প্রবেশ করলাম; আমাদের মাথা মুণ্ডনকারী ও চুল ছোটকারী অবস্থায়, কোনো মাখলুককে (সৃষ্টিকে) ভয় না করে, বরং কেবল বিচার দিবসের মালিককে ভয় করে। সৈন্যদল হারামে প্রবেশের সময় থেকে, বিপুল সংখ্যায় হওয়া সত্ত্বেও তারা সুশৃঙ্খল ও আদব রক্ষা করে ছিল; তারা কোনো গাছ কাটেনি, কোনো শিকার তাড়িয়ে দেয়নি এবং হাদির পশু বা চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা শরিয়তসম্মত পদ্ধতি ব্যতিরেকে কোনো রক্তপাত করেনি। যখন আমাদের উমরাহ সম্পন্ন হলো, আমরা রবিবার চাশতের সময় লোকজনকে সমবেত করলাম এবং আমির - আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করুন - উলামায়ে কেরামের সামনে তা পেশ করলেন যা আমরা মানুষের কাছে দাবি করি এবং যার দিকে তাদের আহ্বান জানাই; আর তা হলো একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য তাওহিদকে একনিষ্ঠ করা। তিনি তাদের অবহিত করলেন যে, আমাদের ও তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মতপার্থক্য নেই কেবল দুটি বিষয় ছাড়া:

প্রথমটি: মহান আল্লাহর জন্য তাওহিদকে একনিষ্ঠ করা এবং ইবাদতের প্রকারভেদগুলো জানা; আর এটি জানা যে দোয়াও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। সেই সাথে শিরকের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করা, যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামের বাকি চারটি রুকন ফরজ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর দাওয়াত এই তাওহিদের দিকে এবং শিরক বর্জনের দিকেই অব্যাহত ছিল।

দ্বিতীয়টি: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, যার কেবল নামটুকুই তাদের কাছে অবশিষ্ট ছিল, কিন্তু এর প্রভাব ও চর্চা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তারা আমাদের এই অবস্থানের ভালোত্বের ব্যাপারে সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে ঐকমত্য পোষণ করলেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর ওপর আমিরের কাছে বায়আত গ্রহণ করলেন। তিনি তাদের বায়আত কবুল করলেন এবং তাদের সকলকে ক্ষমা করে দিলেন। ফলে তাদের কারো ওপর সামান্যতম কষ্টও আপতিত হয়নি। তিনি তাদের সাথে, বিশেষ করে উলামায়ে কেরামের সাথে অত্যন্ত সদয় আচরণ অব্যাহত রাখলেন এবং তাদের সাথে সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন। তিনি তাদের কাছ থেকে সদুপদেশ, পারস্পরিক আলোচনা ও সত্য প্রকাশের আহ্বান জানালেন এবং আমরা তাদের অবহিত করলাম যে আমির তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١) মাশাহীরু উলামাই নাজদি ওয়া গইরিহিম - তবা ১ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
اجتماعهم، بأنا قابلون ما أوضحوا برهانه من برهانه من كتاب أو سنة أو أثر عن السلف الصالح كالحلفاء الراشدين المأمورين باتباعهم، لقوله صلى الله عليه وسلم: "فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي" وعن الأئمة الأربعة المجتهدين ومن تلقى العلم عنهم، إلي آخر القرن الثالث، لقوله صلى الله عليه وسلم: "خير كم قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم" وعرفناهم أنا دائر ون مع الحق أينما دار، وتابعون للدليل الجلي الواضح، ولا نبالي حينئذ بمخالفة ما سلف عليه من قبلنا فلم ينقموا علينا أمرا.

فألحينا عليهم في مسألة طلب الحاجات من الأموات أن بقي لديهم شبهة فذكر بعضهم شبهة أو شبهتين، فرددها بالدلائل القاطعة من الكتاب والسنة، حتى أذعنوا، ولم يبق عند أحد منهم شك ولا ارتياب، فيما قاتلنا الناس عليه أنه الحق الجلي الذي لا غبار عليه وحلفوا لنا الإيمان المعقدة من دون استحلاف لهم على انشراح صدورهم وحزم ضمائرهم، انه لم ببق لديهم شك فيمن قال: يا رسول الله. أو قال: يا ابن عباس. أو عبد القادر أو غيرهم من المخلوقين طاليا بذلك دفع شر أو جلب خير من كل ما لا بقدر عليه إلا الله سبحانه وتعالى، من شفاء المريض والنصر على العدو، والحفظ من المكروه ونحو ذلك، انه مشرك الشرك الأكبر الذي يهدر دمه ويبيح ماله وان كان يعقد أن الفاعل المؤثر في تصريف الكون هو الله وحده، لكنه قصد المخلوقين بالدعاء، متشفعا بهم ومتقربا لهم بقضاء حاجته من الله، بسرهم وبشفاعتهم له فيها أيام البرزخ، وأن ما وضح من البناء على قبور الصالحين صار في هذه الأزمان أصناما تقصد الطلب الحاجات ويتضرع عيدها ويهتف بأهلها في الشدائد كما كانت تفعله الجاهلية الأولى.

وكان من جملتهم مفتي الحنفية الشيخ عبد الملك القلعي وحسين المغربي وعقيل بن يحيى العلوي، فبعد ذلك أزلنا جميع ما كان يعبد بالتعظيم والاعتقاد فيه، ورجاء النفع ودفع الضر بسببه من جميع البناء على القبور وغيرها حتى لم يبق
তাদের সমাবেশ, এই বিষয়ে যে আমরা গ্রহণ করি যা তারা কিতাব, সুন্নাহ বা সালাফ আস-সালেহীন—যেমন খুলাফায়ে রাশেদিন যাদের অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে—তাদের থেকে পাওয়া বর্ণনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।" আরও গ্রহণ করি চার মুজতাহিদ ইমাম এবং তৃতীয় শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত যারা তাঁদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের থেকে, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, এরপর তাদের পরবর্তী যারা, এরপর তাদের পরবর্তী যারা।" আমরা তাঁদের জানিয়েছি যে, সত্য যেদিকেই আবর্তিত হয় আমরা সেদিকেই থাকি এবং আমরা সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার দলিলের অনুসারী। এমতাবস্থায় আমাদের পূর্ববর্তীরা কিসের ওপর ছিলেন তার বিরোধিতা করতে আমরা পরোয়া করি না, ফলে তারা আমাদের ওপর কোনো বিষয়ে ক্ষুব্ধ হননি।

এরপর আমরা মৃতদের কাছে হাজত বা প্রয়োজন চাওয়ার বিষয়ে তাদের ওপর গুরুত্বারোপ করলাম যে, তাদের নিকট কোনো সংশয় অবশিষ্ট আছে কি না। তখন তাদের কেউ কেউ একটি বা দুটি সংশয় উল্লেখ করলেন, যা কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল দিয়ে খণ্ডন করা হলো, এমনকি তারা তা মেনে নিলেন। তাদের মধ্যে এমন কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা অবশিষ্ট থাকল না সে বিষয়ে যার ওপর ভিত্তি করে আমরা মানুষের সাথে লড়াই করেছি যে, এটিই ধুলোবালিহীন সুস্পষ্ট সত্য। তারা আমাদের নিকট সুদৃঢ় শপথ করলেন—যদিও তাদের শপথ করতে বাধ্য করা হয়নি—তাদের অন্তরের প্রশান্তি ও মনের দৃঢ়তার সাথে যে, তাদের কাছে আর কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট নেই এই বিষয়ে যে: যে ব্যক্তি বলবে "হে আল্লাহর রাসূল" অথবা বলবে "হে ইবনে আব্বাস" অথবা "আবদুল কাদির" অথবা অন্য কোনো সৃষ্টিকে আহ্বান করবে বিপদ দূর করা বা কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ করার ক্ষমতা রাখে না—যেমন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া, শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করা, অপছন্দনীয় বিষয় থেকে সুরক্ষা পাওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি এমন শিরকে আকবার বা বড় শিরককারী যা তার রক্ত ও সম্পদকে বৈধ করে দেয়। যদিও সে বিশ্বাস করে যে মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে একমাত্র প্রভাব বিস্তারকারী কর্তা হচ্ছেন আল্লাহ, কিন্তু সে সৃষ্টির কাছে দোয়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্য পোষণ করেছে, তাদের মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করে এবং তাদের উসিলায় ও বরজখ জীবনে তাদের সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট তার প্রয়োজন পূরণের জন্য তাদের নৈকট্য অন্বেষণ করে। আর নেককারদের কবরের ওপর যা কিছু নির্মাণ করা হয়েছে, তা এই যুগে মূর্তিতে পরিণত হয়েছে যেগুলোর কাছে প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করা হয়, এগুলোর পাশে বিনয় প্রকাশ করা হয় এবং বিপদে এদের অধিবাসীদের উচ্চস্বরে ডাকা হয়, ঠিক যেমনটি প্রথম জাহেলিয়াতের যুগে করা হতো।

তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন হানাফি মুফতি শেখ আব্দুল মালিক আল-কালা’ই, হুসাইন আল-মাগরিবী এবং আকীল বিন ইয়াহইয়া আল-আলাউয়ী। এরপর আমরা সেই সমস্ত কিছু অপসারণ করলাম যেগুলোর সম্মান ও বিশ্বাসের সাথে ইবাদত করা হতো এবং যেগুলোর কারণে উপকার লাভ ও ক্ষতি দূর হওয়ার আশা করা হতো, যার মধ্যে কবরের ওপর নির্মিত সকল স্থাপনা ও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, এমনকি কিছুই বাকি থাকল না।