(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: -)
مسائل لخصها الشيخ محمد بن عبد الوهاب من كلام بن تيمية (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثاني عشر) القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مسائل لخصها الشيخ محمد بن عبد الوهاب من كلام بن تيمية (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثاني عشر)
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
المحقق: -
الناشر: جامعة الأمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: -
عدد الصفحات: 199
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত মাসআলাসমূহ (শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত, দ্বাদশ খণ্ড) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত মাসআলাসমূহ (শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত, দ্বাদশ খণ্ড)
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃ. ১২০৬ হি.)
সম্পাদক: -
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم
بعد أن تقرر أن تعقد جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية مؤتمرا باسم الشيخ محمد بن عبد الوهاب، شكلت أمانة للإعداد لهذا المؤتمر وتقديم تصور مفصل عنه، ثم وضعه موضع التنفيذ.
وقد بدأت الأمانة عملها بتحديد الهدف العام للمؤتمر بأنه التعريف بالشيخ وتجلية حقيقة دعوته على مستوى العالم الإسلامي، وكشف الشبهات التي أثيرت حولها في بعض البلدان الإسلامية وفي ظل ظروف تاريخية معينة.
وفي سبيل تحقيق هذا الهدف – بصورة علمية صحيحة - رأت الأمانة ضرورة جمع كافة ما كتبه الشيخ من مؤلفات، وتحقيق نسبتها إليه، وتوثيقها ثم نشرها في طبعة خاصة باسم الجامعة، لترسل نسخ منها بعد ذلك إلى الهيئات والباحثين الذين ستوجه إليهم الدعوة للإسهام في المؤتمر.
وقد راعت الأمانة في ذلك أن كثيرا من الباحثين في البلدان الإسلامية لا تتوافر لديهم مؤلفات الشيخ وآثاره العلمية مما يكون له أثر واضح بلا شك في قصور أو نقص أو خطأ بعض ما قد يكتبونه عن دعوة الشيخ، ومن ثم
ভূমিকা…পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
উপস্থাপনা
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যখন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের নামে একটি সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন এই সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহণ, এর একটি বিস্তারিত রূপরেখা পেশ করা এবং পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সচিবালয় গঠন করা হয়।
সচিবালয় সম্মেলনের সাধারণ লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু করেছে। সেই লক্ষ্যটি হলো—শেখ সম্পর্কে সঠিক পরিচয় তুলে ধরা, সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা এবং নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে কিছু মুসলিম দেশে তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে যে সকল সংশয় উত্থাপন করা হয়েছে তা নিরসন করা।
সঠিক বৈজ্ঞানিক পন্থায় এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সচিবালয় শেখের রচিত সকল গ্রন্থ সংগ্রহ করা, তাঁর প্রতি সেগুলোর সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়টি যাচাই করা এবং সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق) করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি বিশেষ সংস্করণে প্রকাশ করা আবশ্যক বলে মনে করে। যাতে করে পরবর্তীতে এই কপিগুলো সেই সব প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের নিকট পাঠানো যায় যাদেরকে সম্মেলনে অবদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সচিবালয় এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে যে, মুসলিম দেশগুলোর অনেক গবেষকের কাছে শেখের রচনাবলী ও তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সহজলভ্য নয়। ফলে শেখের দাওয়াত সম্পর্কে তারা যা কিছু লিখবেন, তাতে নিশ্চিতভাবেই কোনো সীমাবদ্ধতা, অপূর্ণতা বা ভুল থেকে যাওয়ার স্পষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আর সেই কারণেই—
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৪)
فلا بد أن تتوافر لديهم آثار الشيخ الصحيحة بصورة موثقة حتى يمكنهم التعرف على حقيقة دعوته والكتابة الموضوعية العلمية عنها.
ومن ثم انطلقت الأمانة تجمع كل ما تيسر لها من مؤلفات الشيخ المطبوعة والمخطوطة وتبحث عنها في كافة مظانها عند أفراد من أسرة الشيخ، وفي المكتبات العامة والخاصة في أنحاء المملكة وخارجها.
وفي هذا المجال نشير بصفة خاصة إلى المجموعة الكبيرة من مخطوطات مؤلفات الشيخ التي وجدت في المكتبة السعودية بدخنة بالرياض، وقد قامت الأمانة بتصوير هذه المخطوطات. كما قامت باستحضار نسخ من مؤلفات الشيخ المطبوعة وذلك بطريق الشراء والهبة، وبطريق الاتصال الشخصي والاستعارة من الأفراد والهيئات بالنسبة لبعض المطبوعات التي يقل وجودها أو يندر.
وأيضًا قامت بالاتصال الشخصي ببعض الأفراد الذين لهم اهتمام خاص بالشيخ ودعوته ومؤلفاته أو كتبوا فيها شيئا ذا قيمة.
كما قام بعض أعضاء الأمانة في إجازة صيف 1396هـ (1976م) بمراجعة المكتبات الهامة في مصر وغيرها للتعرف على ما قد يكون للشيخ فيها من مؤلفات، ثم العمل على استحضار ما ييسر للأمانة مهمتها من هذه المؤلفات.
শাইখের বিশুদ্ধ (صحيح) রচনাবলি ও নিদর্শনসমূহ প্রামাণ্যরূপে তাদের নিকট থাকা আবশ্যক, যাতে তারা তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং সে সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও লেখালেখি করতে পারেন।
ফলশ্রুতিতে, আমানত (সচিবালয়) শাইখের মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা সকল রচনাবলি যা সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল তা জমা করতে সচেষ্ট হয়। তারা শাইখের পরিবারের সদস্যদের নিকট এবং রাজ্যের অভ্যন্তরে ও বাইরের সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহের সম্ভাব্য সকল উৎসে তা অনুসন্ধান করে।
এক্ষেত্রে আমরা বিশেষভাবে রিয়াদের দাখনা অঞ্চলে অবস্থিত সৌদি লাইব্রেরিতে প্রাপ্ত শাইখের রচনাবলির পাণ্ডুলিপির এক বিশাল সংগ্রহের কথা উল্লেখ করছি; আমানত (সচিবালয়) উক্ত পাণ্ডুলিপিসমূহ চিত্রায়িত করেছে। তদ্রূপ তারা ক্রয় ও উপহারের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ধার গ্রহণের মাধ্যমে শাইখের মুদ্রিত রচনাবলির কপিগুলোও সংগ্রহ করেছে; বিশেষ করে সেই সব প্রকাশনার ক্ষেত্রে যেগুলো বর্তমান সময়ে পাওয়া দুষ্কর বা বিরল।
পাশাপাশি তারা এমন কিছু ব্যক্তিদের সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ করেছে যাদের শাইখ, তাঁর দাওয়াত ও তাঁর রচনাবলির বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে অথবা যারা এ বিষয়ে কোনো মূল্যবান গবেষণামূলক কাজ করেছেন।
তদ্রূপ, আমানতের (সচিবালয়ের) কিছু সদস্য ১৩৯৬ হিজরি (১৯৭৬ খ্রি.) সালের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মিশর ও অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরিসমূহ পর্যালোচনা করেন যাতে সেখানে শাইখের কোনো রচনা রয়েছে কি না তা শনাক্ত করা যায়। অতঃপর সেই সকল রচনাবলি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয় যা আমানতের (সচিবালয়ের) উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومن حصيلة ذلك كله تجمعت في أمانة المؤتمر نسخ كثيرة من مؤلفات الشيخ مطبوعة ومخطوطة وفي صورة ميكروفيلم. فألفت من بين أعضائها لجنة لتصنيف هذه المؤلفات، تضمنت مهمتها ما يلي:
(أ) النظر في كل مؤلف أو مخطوط والاستيثاق من أنه حقا من مؤلفات الشيخ.
(ب) حصر الموجود من نسخه المطبوعة والمخطوطة، ووصف كل نسخة.
(ج) تسجيل القسم الذي يوضع فيه (العقيدة – الفقه - السيرة – الرسائل
… ) .
وأيضا ألفت عدة لجان للتصحيح تضمنت مهمتها ما يلي:
(أ) مقابلة النسخ المخطوطة والمطبوعة من كل مؤلف بعضها على بعض، للحصول على نسخة كاملة متكاملة هي التي تعد للطبع.
(ب) ترقيم الآيات، وذكر سورها، وضبطها شكلا.
(ج) وضع علامات الترقيم والبدء بالفقرات وإبراز العناوين حسب النظام الحديث في الكتابة والطبع.
(د) تحقيق الأمر في صحة نسبة المؤلفات التي تقدم لجنة التصنيف شكًّا حول صحة نسبتها.
وقد حرصت أمانة المؤتمر على أن تؤلف كل لجنة من لجان التصحيح من العلماء المتخصصين ذوي الصلة الوثيقة بنوع وطبيعة المؤلف الذي يراجعونه،
এই সবকিছুর ফলশ্রুতিতে সম্মেলনের সচিবালয়ে শাইখের রচনাবলির অসংখ্য মুদ্রিত কপি (نسخة مطبوعة), পাণ্ডুলিপি (نسخة مخطوطة) এবং মাইক্রোফিল্ম আকারে সংগৃহীত হয়েছে। অতঃপর এর সদস্যদের মধ্য থেকে এই রচনাবলি শ্রেণিবিন্যাসের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল নিম্নরূপ:
(ক) প্রতিটি রচনা বা পাণ্ডুলিপি (مخطوط) পর্যালোচনা করা এবং তা প্রকৃতপক্ষে শাইখের রচনা কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া।
(খ) বিদ্যমান মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি কপিগুলো (نسخ) তালিকাভুক্ত করা এবং প্রতিটি কপির বিবরণ প্রদান করা।
(গ) কোন বিভাগে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে তা লিপিবদ্ধ করা (আকিদা, ফিকহ, সিরাত, পত্রাবলি
… )।
এছাড়াও সংশোধনের জন্য বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যাদের দায়িত্বে ছিল নিম্নরূপ:
(ক) মুদ্রণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও সংহত সংস্করণ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে প্রতিটি রচনার পাণ্ডুলিপি (نسخ مخطوطة) ও মুদ্রিত কপিগুলোর (نسخ مطبوعة) মধ্যে পারস্পরিক তুলনা (مقابلة) করা।
(খ) আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান, সূরার নাম উল্লেখ এবং এর যথাযথ হরকত (ضبط) প্রদান করা।
(গ) আধুনিক লিখন ও মুদ্রণ রীতি অনুযায়ী বিরামচিহ্ন বসানো, অনুচ্ছেদ বিন্যাস এবং শিরোনামগুলো স্পষ্ট করা।
(ঘ) শ্রেণিবিন্যাস কমিটি যেসব গ্রন্থের সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই (تحقيق) করা।
সম্মেলন সচিবালয় এই বিষয়ে সচেষ্ট ছিল যেন প্রতিটি সংশোধন কমিটি এমন বিশেষজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত হয়, যাদের পর্যালোচিত গ্রন্থের ধরন ও প্রকৃতির সাথে গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৬)
كما حرصت على أن تجمع كل لجنة عددًا من العلماء ذوي الخبرات المتكاملة في مجموعها من حيث صلتها بمهمة التصحيح وإتقانها قدر الاستطاعة. وفي هذا استعانت الأمانة ببعض العلماء ذوي الخبرة من غير أعضائها.
… وبعد فهذه مؤلفات الشيخ تقدمها أمانة المؤتمر متكاملة موثقة كأول ثمرة من ثمار تكوينها وعملها. وقد قصدتْ بجهودها فيها تجلية حقيقة دعوة الشيخ وتيسير الاطلاع عليها ومراجعتها من مجموع ما كتبه دون إضافة أو حذف أو تعليق، لتتيح للدارسين المنصفين الباحثين عن الحقيقة في ذاتها أن يصلوا بأوثق طريق، بعيدًا عن كل تزييف أو تشويه أو ادعاء باطل يحاول صاحبه أن يلبسه ثوب الحق.
وترجو الأمانة أن تكون قد وفقت في عملها هذا كفاء ما بذلته من جهود.
والله من وراء القصد، وهو الهادي إلى خير سبيل.
أمانة المؤتمر
প্রতিটি কমিটি যাতে এমন একদল আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করে যারা তাদের সামষ্টিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সংশোধন (تصحيح) এবং যথাসম্ভব নিখুঁত সম্পাদনার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকা হয়েছে। এক্ষেত্রে সচিবালয় তাদের সদস্যদের বাইরেও কিছু অভিজ্ঞ আলেমের সহায়তা গ্রহণ করেছে।
… অতপর, শেখের এই রচনাবলি সম্মেলনের সচিবালয় একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য (موثق) রূপ দান করে তাদের গঠন ও কর্মতৎপরতার প্রথম ফসল হিসেবে পেশ করছে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে লক্ষ্য ছিল শেখের দাওয়াতের প্রকৃত রূপটি স্পষ্ট করা এবং কোনো প্রকার সংযোজন, বিয়োজন বা টীকা ছাড়াই তাঁর সামগ্রিক রচনার ওপর দৃষ্টিপাত ও পর্যালোচনার বিষয়টি সহজতর করা; যাতে ইনসাফকারী গবেষক এবং সত্য সন্ধানীরা সত্যের মূল উৎস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق) উপায়ে, সকল প্রকার জালিয়াতি, বিকৃতি বা ভ্রান্ত দাবি থেকে মুক্ত হয়ে—যেখানে দাবিদার তার মিথ্যাকে সত্যের পোশাকে আবৃত করার চেষ্টা করে।
সচিবালয় আশা করে যে তারা তাদের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কর্ম সম্পাদনে সফল হয়েছে।
আল্লাহই মূল লক্ষ্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারি।
সম্মেলনের সচিবালয়
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৯)
(هذه
مسائل) لخصها الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية رحمهما الله تعالى
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد:
فقد كلفتنا الأمانة العامة لأسبوع الشيخ محمد بن عبد الوهاب بمراجعة كتاب الإمام المجدد شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب قدس الله روحه من كلام الإمام أبي العباس تقي الدين بن تيمية الحراني الدمشقي رحمه الله، وقد راجعنا النسخة المصورة من مكتبة الشيخ محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ، ويوجد أصلها في المكتبة السعودية بدخنة في المخطوطات برقم 678 / 86
والكتاب شامل لمسائل عديدة في التوحيد بجميع أنواعه وفي الفقه وأصوله والتفسير وعلومه، لخصها الإمام محمد بن عبد الوهاب من غالب كتب شيخ الإسلام. وقد تبين لنا من خلال قراءة الكتاب أنه غير منتظم العبارات، ويوجد فيه انقطاع في بعض الكلام، ويرجع ذلك والله أعلم إلى تصرف بعض الناسخين. وقد قمنا بإصلاح ما قدرنا على إصلاحه بمراجعة بعض كتب شيخ الإسلام، وجعلنا ذلك بين مربعين صغيرين، كما قمنا بترقيم الآيات، وبعض التعليقات اليسيرة.
(এগুলো হলো
মাসআলাসমূহ) যা ইমাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বাণী থেকে সংক্ষেপ করেছেন আল্লাহ তা'আলা তাঁদের প্রতি রহম করুন।
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। এরপর:
'শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব সপ্তাহ'-এর সাধারণ সচিবালয় আমাদের ইমাম মুজাদ্দিদ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন)-এর গ্রন্থটি পর্যালোচনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে যা তিনি ইমাম আবুল আব্বাস তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আদ-দিমাশকী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে চয়ন করেছেন। আমরা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল-আশ-শায়খ লাইব্রেরির অনুলিপিটি পর্যালোচনা করেছি, যার মূল পাণ্ডুলিপিটি (مخطوطات) সৌদি লাইব্রেরির দুখনাহ শাখায় ৬৭৮ / ৮৬ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
এই গ্রন্থটি তাওহীদের সকল প্রকার, ফিকহ ও এর মূলনীতি (أصول), তাফসীর ও এর জ্ঞান সংক্রান্ত বহু মাসআলা বা বিষয়ের সমাহার, যা ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব শায়খুল ইসলামের অধিকাংশ কিতাব থেকে সারসংক্ষেপ করেছেন। কিতাবটি পাঠ করার সময় আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এর বাক্যবিন্যাস সুশৃঙ্খল নয় এবং এর কিছু বক্তব্যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, সম্ভবত এটি কোনো কোনো অনুলিপিকারের হস্তক্ষেপের কারণে হয়েছে। আমরা শায়খুল ইসলামের কিছু কিতাব পর্যালোচনার মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব তা সংশোধন করার চেষ্টা করেছি এবং সংশোধিত অংশটুকু দুটি বর্গাকার বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি। সেই সাথে আমরা আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান করেছি এবং কিছু সংক্ষিপ্ত টীকা সংযোজন করেছি।
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১০)
والله نسأل أن يجعل عملنا خالصا لوجهه مقربا إليه وهو حسبنا ونعم الوكيل وصلى الله على محمد.
10 / 5 / 1398?
محمد بن عبد العزيز النمي
فهد بن حمين الفهد
আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন এবং একে তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানান। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর।
১০ / ৫ / ১৩৯৮?
মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন-নামি
ফাহাদ বিন হুমাইন আল-ফাহাদ
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
(1) إن قوله: "إنما الأعمال بالنيات" 1 عام
خلافا لما عليه أكثر الشراح.
(2) قوله في العزل: "لا عليكم" ثم ذكر القدر أن هذا لا حجة فيه على ترك السبب. لأن الحمل يحصل مع العزل.
(3) قوله: "لا يصيب المؤمن قضاء إلا كان خيرا له" 2
ورد عليه المعاصي، فأجاب بأن المراد ما أصاب العبد لا ما فعله، وأنه يصير بعد التوبة خير منه قبل الخطيئة.
(4) قوله: "من سعادة ابن آدم الاستخارة والرضاء
… إلخ" 3
مع ما تقدم قبله قال: الاستخارة قبله، والرضى بعده. وهذا أعلى من الضر والصبر. فلذلك ذكر فيه الرضى.
(5) ذكر أن الصدق لا يكون إلا بالإيمان النافي للريب والجهاد
قال: وهذا هو العهد المأخوذ على الأمم له صلى الله عليه وسلم "ليؤمنن به ولينصرنه."
(6) ذكر أن أصل الإيمان الصدق، وأصل النفاق الكذب
وذكر أنه يكون في الأقوال وفي الأعمال أيضا، كما يقال حملة صادقة.
(7) حديث محاجة آدم وموسى
…أن موسى إنما لام على المصيبة لا على الخطيئة.
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
(১) তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" ১ এটি সাধারণ (عام)
যা অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারীর মতের পরিপন্থী।
(২) আযল (عزل) প্রসঙ্গে তাঁর বাণী: "তোমাদের কোনো দোষ নেই", এরপর তিনি তাকদীরের (قدر) কথা উল্লেখ করেছেন যে, এতে উপকরণ (سبب) বর্জন করার কোনো দলিল নেই। কারণ আযল (عزل) করা সত্ত্বেও গর্ভধারণ হতে পারে।
(৩) তাঁর বাণী: "মুমিন যে ফয়সালার (قضاء) সম্মুখীন হয়, তা তার জন্য কল্যাণকরই হয়" ২
এর ওপর পাপসমূহের (معاصي) বিষয়টি প্রশ্ন হিসেবে এসেছে। তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা বান্দার ওপর আপতিত হয়, সে নিজে যা করে তা নয়। আর তওবার (توبة) পর অবস্থা পাপের (خطيئة) আগের অবস্থার চেয়ে উত্তম হয়ে যায়।
(৪) তাঁর বাণী: "আদম সন্তানের সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো ইস্তিখারা (استخارة) করা এবং সন্তুষ্টি (رضاء) ... ইত্যাদি" ৩
পূর্বে যা বলা হয়েছে তার সাথে তিনি বলেছেন: ইস্তিখারা (استخارة) হবে ঘটনার আগে, আর সন্তুষ্টি (رضى) হবে পরে। এটি বিপদ ও ধৈর্যের (صبر) চেয়েও উচ্চতর স্তর। এজন্যই এতে সন্তুষ্টির (رضى) কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
(৫) তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সত্যবাদিতা (صدق) কেবল সেই ঈমানের (إيمان) মাধ্যমেই অর্জিত হয় যা সন্দেহ (ريب) দূর করে এবং জিহাদের (جهاد) মাধ্যমে।
قال: এবং এটিই সেই অঙ্গীকার (عهد) যা উম্মতদের কাছ থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য নেওয়া হয়েছিল— "তারা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে।"
(৬) তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঈমানের (إيمان) মূল হলো সত্যবাদিতা (صدق), আর মুনাফিকির (نفاق) মূল হলো মিথ্যা (كذب)।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এটি কথার পাশাপাশি কাজের মধ্যেও হয়ে থাকে, যেমন বলা হয় 'সত্যনিষ্ঠ আক্রমণ'।
(৭) আদম ও মূসার বিতর্কের হাদিস ...
মূসা কেবল বিপদের (مصيبة) কারণে তিরস্কার করেছিলেন, পাপের (خطيئة) কারণে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১২)
(8) قوله "عصفور من عصافير الجنة" 1مع أن الأطفال المسلمين في الجنة
أن المراد الفرق بين المعين وغيره كما يقال: المؤمنون في الجنة ولا يشهد لمعين.
(9) بكاؤه صلى الله عليه وسلم عند موت الطفل، وضحك الفضيل عند موت ابنه
…الأكمل الصبر مع الرحمة.. بخلاف من يبكي على فوات حظه من الميت.
(10) قال: " إن السلف جعلوا سورة الإخلاص أصلا في الرد على المشبهة والمعطلة من قوله: {اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ} 2.
(11) قوله: "احرص على ما ينفعك، واستعن بالله.." 3 إلخ
الذي ينفع هو العبادة، أو مباح يستعان به عليها، وكذلك "إن الله يلوم على العجز" 4 إلخ.
(12) قراءته صلى الله عليه وسلم على أبي لم تكن قراءة إبلاغ له بخصوصه.
(13) اليهود تشبه الخالق بالمخلوق، والنصارى تشبه المخلوق بالخالق.
(14) ذكر أن محبة الله أكثر ما تجيء باسم العبادة
…وإلا فقد ذكر الله محبته في القرآن في مواضع، ومحبة الصالحين من محبته، وإن كانت المحبة التي لا يستحقها غيره، فلهذا جاءت مذكورة بما يختص به من العبادة والإنابة والتبتل ونحو ذلك. فكل هذه الأسماء تتضمن محبته، وكما أنها أصل الدين فكماله بكمالها، كقوله: "وذروة سنامه الجهاد" 5 وهو
--------------------------------------------
(8) তাঁর উক্তি "জান্নাতের চড়ুই পাখিদের মধ্যে একটি চড়ুই", যদিও মুসলিম শিশুরা জান্নাতেই থাকবে।
এর অর্থ হলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং অনির্দিষ্টের মধ্যে পার্থক্য করা। যেমন বলা হয়: মুমিনরা জান্নাতি, তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে (জান্নাতের) সাক্ষ্য দেওয়া হয় না।
(9) শিশুর মৃত্যুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্রন্দন এবং নিজ পুত্রের মৃত্যুতে ফুযাইল-এর হাস্য
…করুণার সাথে ধৈর্য ধারণ করাই অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। এটি সেই ব্যক্তির বিপরীত, যে মৃত ব্যক্তির বিয়োগে নিজের স্বার্থ হারানোর শোকে কাঁদে।
(10) তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই সালাফগণ সাদৃশ্যস্থাপনকারী (المشبهة) এবং গুণাবলী অস্বীকারকারী (المعطلة)-দের খণ্ডনে সুরা আল-ইখলাসকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ একক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী} ২ থেকে গৃহীত।"
(11) তাঁর উক্তি: "তোমার জন্য যা কল্যাণকর তা লাভে সচেষ্ট হও এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো.." ৩ ইত্যাদি।
কল্যাণকর বিষয় হলো ইবাদত, অথবা এমন কোনো বৈধ বিষয় যা ইবাদতের জন্য সহায়ক হয়। তদ্রূপ "নিশ্চয়ই আল্লাহ অক্ষমতার জন্য তিরস্কার করেন" ৪ ইত্যাদি।
(12) উবাই (রা.)-এর ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত কেবল তাঁর কাছে বিশেষভাবে পৌঁছে দেওয়ার (إبلاغ) উদ্দেশ্যে ছিল না।
(13) ইয়াহুদিরা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে এবং খ্রিষ্টানরা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করে।
(14) উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'ইবাদত' নামেই আসে
…অন্যথায়, আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন এবং নেককারদের ভালোবাসা তাঁরই ভালোবাসার অংশ। যদিও এটি এমন এক ভালোবাসা যার যোগ্য তিনি ব্যতীত আর কেউ নন, তাই এটি তাঁর সাথে সুনির্দিষ্ট ইবাদত, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (الإنابة), একাগ্রতা (التبتل) এবং এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই সমস্ত নাম তাঁর ভালোবাসাকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর যেহেতু এটি দ্বীনের মূল ভিত্তি, তাই এর পূর্ণতাও এগুলোর পূর্ণতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। যেমন তাঁর উক্তি: "আর এর সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ" ৫ এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لازم المحبة الكاملة، لقوله تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ} 1 الآية وقال في صفة المحبين: {يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ} 2.
وهم الذين يرضى الله لرضاهم، ويغضب لغضبهم، كما قال لأبي بكر: "لئن كنت أغضبتهم لقد أغضبت ربك" 3، إذ هم إنما يرضون لرضاه، ويغضبون لغضبه. وقال: "ما ترددت في شيء
… " 4 إلخ؛ لأن التردد تعارض إرادتين، وهو سبحانه يحب ما يحب عبده، ويكره ما يكره، وقد قضى بالموت وهو يريد إماتته، فسماه ترددا.
(15) كل مولود على الفطرة
فإنه سبحانه فطر القلوب على أنه ليس في محبوباتها ومراداتها ما تطمئن إليه وتنتهي إليه إلا الله (، وإلا فكل ما أحبه المحب يحبه في نفسه لكن قلبه يطلب سواه ويحب أمرا غيره يتألهه ويضمه إليه، ويطمئن إليه، ويرى ما يشبهه من أجناسه. ولهذا قال: {أَلا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} 5.
(16) "أين المتحابون بجلالي"
تنبيه على ما في قلوبهم من إجلال الله وتعظيمه مع التحاب، وهؤلاء هم الذين جاء فيهم "وجبت محبتي للمتحابين في والمتباذلين في. إلخ" 6 قاله: ردا على من ترك الخوف مع المحبة. 7
(17) رؤيته صلى الله عليه وسلم ربه بعيني رأسه،
لم يثبت عنه، ولا عن أحد من الصحابة، ولا الأئمة المشهورين لا أحمد ولا غيره، لكن ثبت
--------------------------------------------
পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসার অপরিহার্যতা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {বলুন, যদি তোমাদের পিতৃবর্গ এবং তোমাদের পুত্রগণ...} ১ আয়াতটি। এবং তিনি প্রেমিকদের গুণাবলী সম্পর্কে বলেছেন: {তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না} ২।
তারা হলেন তারাই যাদের সন্তুষ্টিতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং যাদের অসন্তুষ্টিতে তিনি রাগান্বিত হন, যেমনটি তিনি আবু বকরকে বলেছিলেন: "যদি তুমি তাদেরকে রাগান্বিত করে থাকো, তবে তুমি তোমার রবকেই রাগান্বিত করেছ" ৩, কেননা তারা তো কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর অসন্তুষ্টির জন্যই অসন্তুষ্ট হন। এবং তিনি বলেছেন: "আমি কোনো বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হইনি…" ৪ ইত্যাদি; কারণ দ্বিধাগ্রস্ততা হলো দুটি ইচ্ছার সংঘাত। আর তিনি মহাপবিত্র, তিনি তা-ই ভালোবাসেন যা তাঁর বান্দা ভালোবাসে এবং তা-ই অপছন্দ করেন যা সে অপছন্দ করে। অথচ তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেছেন এবং তিনি তাকে মৃত্যু দিতে চান, তাই একে দ্বিধাগ্রস্ততা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(১৫) প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) ওপর জন্মগ্রহণ করে
কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্তরসমূহকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তার ভালোবাসা ও কামনার বিষয়গুলোর মধ্যে আল্লাহ ছাড়া এমন কিছু নেই যার প্রতি সে প্রশান্তি লাভ করতে পারে এবং যার কাছে গিয়ে তার অন্বেষণ শেষ হতে পারে। অন্যথায়, প্রেমিক যা কিছু ভালোবাসে তা সে নিজের স্বার্থেই ভালোবাসে, কিন্তু তার অন্তর অন্য কিছু অন্বেষণ করে এবং অন্য কিছুকে ভালোবাসে যাকে সে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে ও নিজের সাথে যুক্ত করে, যার প্রতি প্রশান্তি লাভ করে এবং তার স্বজাতীয়দের মধ্যে যা তার অনুরূপ তা দেখতে পায়। একারণেই তিনি বলেছেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়} ৫।
(১৬) "আমার মহত্ত্বের খাতিরে পরস্পরকে ভালোবাসাকারীরা কোথায়?"
এটি তাদের অন্তরে ভালোবাসার পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি যে শ্রদ্ধা ও মহিমা রয়েছে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ। আর এরাই হলেন তারা যাদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: "আমার উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসাকারীদের এবং আমার উদ্দেশ্যে পরস্পরকে দানকারীদের জন্য আমার ভালোবাসা সাব্যস্ত হয়েছে... ইত্যাদি" ৬। তিনি এটি তাদের প্রতিবাদস্বরূপ বলেছেন যারা ভালোবাসার সাথে ভয়কে বর্জন করেছে। ৭
(১৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক চর্মচক্ষে তাঁর রবকে দর্শন করা,
এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়নি, সাহাবীদের কারো থেকে নয়, এমনকি বিখ্যাত ইমামদের থেকেও নয়—আহমদ কিংবা অন্য কারো থেকেও নয়। তবে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عن الصحابة كأبي ذر وابن عباس وغيرهما وأحمد بن حنبل أنه رآه بفؤاده كما في صحيح مسلم عن ابن عباس: "رأى محمد ربه بفؤاده مرتين". وثبت عن عائشة الإنكار، فمن العلماء من قال: أنكرت رؤية العين فلا منافاة، ومنهم من جعلها قولين، فمن قال: لا يرى في الآخرة فهو جهمي ضال، ومن قال يرى في الدنيا بالفؤاد لغيره صلى الله عليه وسلم فهو مبتدع ضال، ومن قال إنه صلى الله عليه وسلم رآه بعينه فهو غالط، والحلولية والاتحادية يجمعون بين النفي والإثبات.
(18) قال في الرد على متصوفة ينتسبون إلى التحقيق والتوحيد ويجرون مع القدر:
سبب ذلك أنه ضاق نطاقهم عن كون العبد يؤمر بما يقدَّر عليه خلافه، كما ضاق نطاق القدرية عنه، فأثبتوا الأمر والنهي فقط، وأولئك أثبتوا القضاء فقط. وفي حق من شهد القدر: وهؤلاء شر من القدرية، ولهذا لم يكن في السلف من هؤلاء أحد، ولا ريب أن المشركين يترددون بين بدعة تخالف الشرع وبين احتجاج بالقدر على مخالفة الأمر. فهؤلاء الأصناف فيهم شبه من المشركين، وفيهم من يجمع بين الأمرين، كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً} الآية.
وقد ذكر عن المشركين ما ابتدعوا من الدين الذي فيه تحليل الحرام، والعبادة التي لم تشرع في الأنعام والأعراف، وعمدة الكل اتباع آرائهم وأهوائهم، وجعلهم ذلك حقيقة، نظير جعل المتكلمين ما ابتدعوا حقائق عقلية. وأصل ضلال الكل تقديم القياس على النص، واختيار الهوى على اتباع الأمر.
সাহাবী (صحابة) যেমন আবু যর ও ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্যদের থেকে এবং আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছিলেন, যেমনটি সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাসের সূত্রে এসেছে: "মুহাম্মদ তাঁর প্রতিপালককে তাঁর অন্তর দিয়ে দুইবার দেখেছেন।" আয়েশা (রা.)-এর পক্ষ থেকে এটি অস্বীকার করা প্রমাণিত হয়েছে। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: তিনি চক্ষু দ্বারা দর্শন করাকে অস্বীকার করেছেন, তাই কোনো বৈপরীত্য নেই। আবার কেউ কেউ একে দুটি ভিন্ন মত হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে যে, আখেরাতে তাঁকে দেখা যাবে না, সে পথভ্রষ্ট (ضال) জাহমি (جهمي)। আর যে ব্যক্তি বলে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কেউ দুনিয়াতে অন্তরের মাধ্যমে তাঁকে দেখতে পায়, সে পথভ্রষ্ট (ضال) বিদআতি (مبتدع)। আর যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চর্মচক্ষু দিয়ে দেখেছেন, সে ভুলকারী (غالط)। আর হুলুলিয়া ও ইত্তিহাদিয়্যাহ সম্প্রদায়গুলো নফি (نفي) ও ইসবাত (إثبات)-এর মধ্যে সমন্বয় করে।
(18) তিনি সেই সূফীদের খণ্ডনে বলেছেন যারা নিজেদের তাহকিক ও তাওহীদের দিকে নিসবত করে অথচ তাকদীরের ওপর চলে:
এর কারণ হলো, বান্দাকে এমন কিছুর নির্দেশ দেওয়া হবে যার বিপরীতে তার জন্য তাকদীর নির্ধারিত রয়েছে—এই বিষয়টি অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাদের পরিধি সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, যেমন কাদারিয়্যাহদের পরিধি এ ব্যাপারে সংকীর্ণ হয়েছিল। ফলে তারা কেবল আদেশ ও নিষেধকে সাব্যস্ত করেছিল, আর ওই দলটি কেবল ফয়সালাকে (قضاء) সাব্যস্ত করেছিল। আর যারা তাকদীরকে প্রত্যক্ষ করে (অর্থাৎ আদেশ-নিষেধ বর্জন করে) তাদের ব্যাপারে: এরা কাদারিয়্যাহদের চেয়েও নিকৃষ্ট, আর এ কারণেই সালাফদের (سلف) মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুশরিকরা শরিয়ত বিরোধী বিদআত (بدعة) এবং আদেশ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাকদীরের মাধ্যমে অজুহাত পেশ করার মাঝে দোদুল্যমান থাকে। সুতরাং এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মুশরিকদের সাদৃশ্য রয়েছে এবং তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা উভয় বিষয়কে একত্রিত করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে...} আয়াত।
মুশরিকদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা দ্বীনের মধ্যে যা উদ্ভাবন করেছিল যাতে হারামকে হালাল করা এবং এমন ইবাদত যা শরিয়তসম্মত নয়—এর বর্ণনা সূরা আন'আম ও আ'রাফে রয়েছে। আর এ সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো তাদের নিজস্ব মত (آراء) ও খেয়াল-খুশির (أهواء) অনুসরণ করা এবং সেটিকে তারা ‘হাকিকত’ (حقيقة) হিসেবে গণ্য করেছিল; যেমনটি ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলোকে যৌক্তিক বাস্তবতা (حقائق عقلية) হিসেবে সাব্যস্ত করেছিল। আর সবার পথভ্রষ্টতার মূল কারণ হলো অকাট্য দলিলের (نص) ওপর কিয়াসকে (قياس) অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নির্দেশ পালনের পরিবর্তে প্রবৃত্তিকে (هوى) বেছে নেওয়া।
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(19) عطف الخاص على العام
يكون لأسباب، تارة لكونه له خاصة ليست لسائر أفراد العام، كما في قوله: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ} 1 الآية. وتارة يكون العام فيه إطلاق قد لا يفهم منه العموم كقوله: {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} 2 ثم قال: {وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ} 3 الآية.
(20) العبادة يدخل فيها الدين كله
ولهذا كانت ربوبية الله سبحانه عامة وخاصة. ولهذا كان الشرك أخفى من دبيب النمل، وفي الصحيح: "تعس عبد الدينار". إلخ. ووصفه بأنه إذا أعطي رضي، وإن منع سخط. وهذا في المال والجاه والصور، وغير ذلك. قال الخليل عليه السلام: {فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ} 4الآية.
ودلت النصوص على الأمر بمسألة الخالق، والنهي عن مسألة المخلوق في غير موضع. وكلما قوي طمع العبد في فضل الله قويت عبوديته له، كما أن طمعه في المخلوق يوجب عبوديته له، ويأسه يوجب غنى قلبه عنه؛ وإعراض قلبه عن الطلب من الله يوجب انصراف قلبه عن العبودية لله، لا سيما من كان يرجو المخلوق ولا يرجو الخالق. وإذا ذاق طعم الإخلاص انقهر له هواه بلا علاج.
قال تعالى: {إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} 5. وإذا قلت6:
--------------------------------------------
(১৯) সাধারণের (عام) ওপর বিশেষকে (خاص) সংযুক্ত করা
এটি বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে; কখনও এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে যা সাধারণের (عام) অন্তর্ভুক্ত অন্য ব্যক্তিদের মাঝে নেই, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকেও...} ১ আয়াত। আবার কখনও সাধারণ (عام) শব্দের মধ্যে এমন ব্যাপকতা থাকে যা থেকে হয়তো সাধারণ অর্থ (العموم) অনুধাবন করা যায় না, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে} ২ অতঃপর তিনি বলেন: {এবং যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে} ৩ আয়াত।
(২০) ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হলো সমগ্র দ্বীন
এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রুবুবিয়্যাহ সাধারণ ও বিশেষ উভয় প্রকারের হয়ে থাকে। এই কারণেই শিরক পিঁপড়ার চলার শব্দের চেয়েও সূক্ষ্ম। সহীহ বর্ণনায় রয়েছে: "ধ্বংস হোক দিনারের গোলাম..." ইত্যাদি। সেখানে তাকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাকে কিছু প্রদান করা হলে সে সন্তুষ্ট হয়, আর তাকে বঞ্চিত করা হলে সে অসন্তুষ্ট হয়। এটি সম্পদ, পদমর্যাদা, বাহ্যিক রূপ এবং অন্যান্য সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। খলিল আলাইহিস সালাম বলেছেন: {অতএব আল্লাহর কাছেই রিযিক তালাশ করো} ৪ আয়াত।
দলিলসমূহ একাধিক স্থানে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার আদেশ এবং সৃষ্টির কাছে প্রার্থনা করা থেকে নিষেধ করার ওপর প্রমাণ দেয়। বান্দার মনে আল্লাহর অনুগ্রহের আকাঙ্ক্ষা যত প্রবল হয়, আল্লাহর প্রতি তার দাসত্বও তত শক্তিশালী হয়; একইভাবে সৃষ্টির প্রতি তার লালসা সৃষ্টির প্রতি তার দাসত্বকে অনিবার্য করে তোলে, আর সৃষ্টির প্রতি তার নিরাশা তার অন্তরকে সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা থেকে বিমুখতা আল্লাহর দাসত্ব থেকে তার অন্তর বিচ্যুত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; বিশেষ করে ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে সৃষ্টির কাছে আশা পোষণ করে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কাছে আশা করে না। আর যখন কেউ ইখলাসের স্বাদ আস্বাদন করে, তখন কোনো কৃত্রিম প্রচেষ্টা ছাড়াই তার প্রবৃত্তি তার অনুগত হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে} ৫। আর যখন আপনি বলেন ৬:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المحبة استلزمت إرادة المحبوبات، فإن قدر عليها حصلها، وإن فعل المقدور عليه. فله كأجر الفاعل (كمن دعي إلى هدر) . وكقوله: "إن بالمدينة رجالا ما سرتم مسيرا إلا وهم معكم، حبسهم العذر" 1.
فإذا ترك المقدور من الجهاد دل على ضعف المحبة، ومعلوم أن المحبوبات لا تنال إلا باحتمال المكروهات، كما في أهل الرياسة والمال.
ومن المعلوم أن المؤمن أشد حبا لله. والإسلام أن يستسلم العبد لله لا لغيره، فمن أسلم لله ولغيره فمشرك، ومن لم يسلم فمستكبر. والكبر ينافي العبودية كما قال: "العظمة إزاري، والكبرياء ردائي، فمن نازعني في واحد منهما عذبته". فهما من خصائص الربوبية، والكبرياء أعلى من العظمة.. فلهذا جعلها كالرداء.
والشرك غالب على النصارى، والكبر غالب على اليهود.
وفي الصحيح: "لو كنت متخذا من أهل الأرض خليلا" 2. إلخ قاله قبل موته بأيام، وذلك من تمام رسالته، فإن فيه من تمام تحقيق مخالته لله التي أصلها محبة الله العبد، خلافا للجهمية. ومن ذلك تحقيق توصية الله ردا على أشباه المشركين، وفيه رد على من بخس الصديق حقه 3 (وهم أضل) المنتسبين إلى القبلة، وهم شر البشر.
والحديث الذي فيه: "ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان" 4 إلخ. جعله بثلاثة أمور تكمل المحبة، وتفريغها، ودفع ضدها. وكره من كره من أهل
--------------------------------------------
ভালোবাসা প্রিয় বিষয়বস্তু হাসিল করার ইচ্ছাকে অনিবার্য করে। যদি ব্যক্তি তা লাভে সক্ষম হয় তবে সে তা অর্জন করে, আর যদি কেবল সাধ্য অনুযায়ী আমল করে তবে সে আমলকারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করবে (যেমন যাকে কোনো পণ্ড হওয়া বিষয়ের দিকে আহ্বান করা হয়েছে)। যেমন নবিজির বাণী: "নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যে পথেই চলেছ তারা তোমাদের সাথেই ছিল; ওজর (অপারগতা) তাদেরকে আটকে রেখেছে।"১
যদি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও জিহাদ পরিত্যাগ করা হয়, তবে তা ভালোবাসার দুর্বলতা প্রকাশ করে। এটি সুপরিজ্ঞাত যে, প্রিয় বস্তুসমূহ কেবল অপছন্দনীয় বিষয় ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়, যেমনটি নেতৃত্ব ও ধন-সম্পদ অর্জনকারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
এটি সুবিদিত যে, মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা পোষণ করে। আর ইসলাম হলো বান্দার কেবল আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, অন্য কারও নিকট নয়। সুতরাং যে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যের নিকট আত্মসমর্পণ করল সে মুশরিক, আর যে আত্মসমর্পণ করল না সে অহংকারী। অহংকার দাসত্বের পরিপন্থী, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মহানত্ব আমার ভূষণ আর শ্রেষ্ঠত্ব আমার চাদর; যে ব্যক্তি এর যেকোনো একটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করবে, আমি তাকে শাস্তি দেব।" এ দুটি গুণ রুবুবিয়্যতের (প্রভুত্বের) অনন্য বৈশিষ্ট্য। আর শ্রেষ্ঠত্ব মহানত্ব অপেক্ষা উচ্চতর; তাই আল্লাহ একে চাদরের ন্যায় করেছেন।
শিরক নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) মধ্যে প্রবল আর অহংকার ইহুদিদের মধ্যে প্রবল।
সহিহ (صحيح) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "আমি যদি পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম..." ইত্যাদি। তিনি তাঁর ইন্তেকালের কয়েকদিন পূর্বে এটি বলেছিলেন। এটি ছিল তাঁর রিসালাতের পূর্ণতার অংশ, কারণ এতে আল্লাহর সাথে তাঁর বন্ধুত্বের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিদ্যমান, যার মূল ভিত্তি হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা; এটি জাহমিয়াহ সম্প্রদায়ের মতের বিপরীত। এর মধ্যে মুশরিকদের অনুসারীদের খণ্ডন করে আল্লাহর অসিয়তের বাস্তবায়ন রয়েছে এবং এতে যারা সিদ্দিকের অধিকার খর্ব করেছে তাদেরও খণ্ডন রয়েছে। তারা আহলে কিবলার অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত৩ এবং তারা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।
আর সেই হাদিস যাতে বলা হয়েছে: "তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে..."৪ ইত্যাদি। তিনি একে তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল করেছেন যা ভালোবাসাকে পূর্ণ করে, একে একনিষ্ঠ করে এবং এর বিপরীত বিষয়কে প্রতিহত করে। আর একদল লোক যারা অপছন্দ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
العلم مجالسة أقوام يكثرون الكلام في المحبة بلا خشية.. ولهذا وجد في المتأخرين من (أفضى به) ذلك إلى ما ينافي العبودية، ومديد إلى نوع من الربوبية، ويدعي أحدهم ما يتجاوز حدود الأنبياء، ويطلب من غير الله ما لا يصلح إلا لله، وسببه ضعف تحقيق العبودية التي بينتها الرسل، وحررها الأمر والنهي الذي جاؤوا به، بل ضعف العقل الذي به يعرف العبد حقيقته، وهو شبيه بقول اليهود والنصارى {نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ} 1 فإن تعذيبهم بذنوبهم يقتضي أنهم غير محبوبين، لأن من أحبه الله استعمله فيما يحبه، لأن فعل الكبائر واحد، فإن الله يبغض منه ذلك، ومن ظن أن الذنوب لا تضره لكون الله يحبه، فهو كمن ظن أن السم لا يضره من مداومته عليه لصحة مزاجه. ولو تدبر الأحمق ما قصه الله في كتابه من توبة الأنبياء، وما جهر لهم من البلاء الذي فيه تطهير لهم (دل) على ضرر الذنوب بأصحابها، ولو كانوا أرفع الناس.
واتباع الشريعة والقيام بالجهاد من أعظم الفروق بين أهل محبة الله، وبين من يدعي محبة الله ناظرا إلى عموم ربوبيته أو متبعا لبعض البدع. فإن دعوى هذه محبة من جنس دعوى اليهود والنصارى، بل قد تكون شرا منها. بل فيهم من النفاق الذي يكون به في الدرك الأسفل من النار.
وفي التوراة والإنجيل من ذكر محبة الله ما هم متفقون عليه، حتى أن عندهم إذ ذلك أعظم وصايا الناموس. ففي الإنجيل أن المسيح قال: أعظم وصايا
--------------------------------------------
জ্ঞান হলো এমন সব সম্প্রদায়ের সাহচর্যে থাকা যারা খোদাভীতি ছাড়াই ভালোবাসা নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা বলে... একারণেই পরবর্তীদের মধ্যে এমন সব লোক পাওয়া যায় যাদেরকে (এই বিষয়টি) এমন পরিণতির দিকে নিয়ে গিয়েছে যা দাসত্বের হাকিকতের পরিপন্থী এবং তা এক প্রকার প্রভুত্বের দিকে ধাবিত করেছে। তাদের কেউ কেউ নবীদের সীমা লঙ্ঘন করে এমন কিছু দাবি করে এবং তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে এমন কিছু প্রার্থনা করে যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য সমীচীন নয়। এর মূলে রয়েছে রাসূলগণের বর্ণিত এবং তাঁদের আনীত আদেশ-নিষেধের মাধ্যমে সুনির্ধারিত দাসত্বের হাকিকত অর্জনে দুর্বলতা; বরং এটি সেই বিচারবুদ্ধির দুর্বলতা যার মাধ্যমে বান্দা তার নিজের বাস্তবতা চিনতে পারে। এটি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সেই উক্তির সদৃশ যে, {আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র} ১। কেননা তাদের পাপের কারণে তাদের শাস্তি হওয়া একথাই প্রমাণ করে যে তারা আল্লাহর প্রিয় নয়। কারণ আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে তাঁর পছন্দনীয় কাজেই নিয়োজিত করেন। যেহেতু কবিরা গুনাহর প্রকৃতি অভিন্ন, তাই আল্লাহ বান্দার পক্ষ থেকে তা অপছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন বলে গুনাহ তার কোনো ক্ষতি করবে না, সে ঐ ব্যক্তির মতো যে মনে করে যে তার মেজাজ বা শারীরিক গঠন সুস্থ হওয়ার কারণে নিয়মিত বিষ পান করলেও তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। নির্বোধ ব্যক্তি যদি মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে নবীদের তওবা এবং তাঁদের ওপর আপতিত যেসব পরীক্ষার কথা বর্ণনা করেছেন যা ছিল তাঁদের জন্য পবিত্রতাস্বরূপ, সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করত, তবে তা পাপের কর্তাদের জন্য পাপের অনিষ্টতাকে (নির্দেশ করত), যদিও তারা মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হন।
শরিয়ত অনুসরণ এবং জিহাদ পরিচালনা করা হলো আল্লাহর প্রকৃত ভালোবাসা পোষণকারী এবং ঐসব ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী যারা আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের ব্যাপকতার দিকে তাকিয়ে অথবা কোনো কোনো বিদআতের অনুসরণ করে আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে। নিশ্চয়ই এই ভালোবাসার দাবি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের দাবির মতোই, বরং এটি তার চেয়েও মন্দ হতে পারে। এমনকি তাদের মধ্যে এমন মুনাফিকি বিদ্যমান যার কারণে তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে নিক্ষিপ্ত হয়।
তওরাত ও ইঞ্জিলে আল্লাহর ভালোবাসার বর্ণনার বিষয়ে তারা একমত, এমনকি তাদের নিকট এটি বিধানের (নামুস) শ্রেষ্ঠ উপদেশের অন্তর্ভুক্ত। ইঞ্জিলে বর্ণিত আছে যে, মসীহ বলেছেন: শ্রেষ্ঠ উপদেশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المسيح أن تحب الله بكل قلبك وعقلك ونفسك. والنصارى يدعون قيامهم بهذه المحبة لما فيه من الزهد والعبادة، وهم برآء من محبة الله، إذ لم يتبعوا ما أحب الله، بل اتبعوا ما أسخط الله وكرهوا رضوانه فأحبط أعمالهم.
وكثير من الذين اتبعوا أشياء من الزهد والعبادة وقعوا في بعض ذلك من دعوى المحبة مع مخالفة الشريعة وترك الجهاد، ويتمسكون في الدين الذي يتقربون به إلى الله بنحو ما تمسك به النصارى من الكلام المتشابه، والحكايات التي لا يعرف صدق قائلها ولو صدق لم يكن معصوما، وكل عمل أريد به غير الله لم يكن لله، وكل عمل لم يوافق شرعه، لم يكن له، بل لا يكون لله إلا ما جمع الوصفين.
قال تعالى: {بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ} 1 الآية. وقال صلى الله عليه وسلم: "من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد" 2، وقال: "إنما الأعمال بالنيات" 3. وهذا الأصل هو أصل الدين، وبحسب تحقيقه يكون تحقيق الدين، وبه أرسل الله الرسل، وأنزل الكتب، وهي قطب الدين الذي تدور عليه رحاه.
والشرك غالب على النفوس، كما في الحديث: أخفى من دبيب النمل، وكثير ما يخالط النفوس من الشهوات ما يفسد عليها تحقيق ذلك، كما قال شداد بن أوس: "أخوف ما أخاف عليكم الرياء والشهوة الخفية" 4 قال أبو داود: هي حب الرياسة، وفي الحديث:"ما ذئبان جائعان أرسلا في غنم بأفسد لها من حرص المرء على المال والشرف لدينه" 5
--------------------------------------------
মসীহ (আলাইহিস সালাম) শিক্ষা দিয়েছেন যে, তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, বিবেক এবং আত্মা দিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসবে। খ্রিষ্টানরা বৈরাগ্য ও ইবাদতের দোহাই দিয়ে এই ভালোবাসার দাবি করে, অথচ তারা আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা থেকে মুক্ত। কারণ তারা আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা অনুসরণ করেনি, বরং তারা তা অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে ক্রুদ্ধ করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে; ফলে তিনি তাদের আমলসমূহকে নিষ্ফল করে দিয়েছেন।
বৈরাগ্য ও ইবাদতের পথে চলা অনেক লোকও এই ধরণের ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে, যেখানে তারা শরিয়তের বিরোধিতা এবং জিহাদ বর্জন করা সত্ত্বেও ভালোবাসার দাবি করে। তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দ্বীনের এমন সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমনটি খ্রিষ্টানরা করত—যেমন অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) কথা এবং এমন সব গল্প-কাহিনী যার বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। আর বর্ণনাকারী সত্যবাদী হলেও তিনি তো নিষ্পাপ (معصوم) নন। প্রতিটি আমল যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর উদ্দেশ্যে করা হয় তা আল্লাহর জন্য কবুল হয় না, এবং প্রতিটি আমল যা তাঁর শরিয়ত অনুযায়ী হয় না তাও তাঁর জন্য গৃহীত হয় না। বরং কোনো আমল আল্লাহর জন্য হতে হলে তাতে এই উভয় গুণের সমন্বয় থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করে এবং সে সৎকর্মশীল (محسن)} ১। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" ২। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" ৩। এই মূলনীতিটিই দ্বীনের ভিত্তি, আর এর বাস্তবায়নের ওপরই দ্বীনের যথার্থতা নির্ভর করে। এর জন্যই আল্লাহ রাসুলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন; এটিই দ্বীনের সেই কেন্দ্রবিন্দু যার ওপর ভিত্তি করে সবকিছু আবর্তিত হয়।
আর মানুষের মনের ওপর অংশীদারিত্ব বা শিরক (شرك) প্রবল থাকে, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: এটি পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও সূক্ষ্ম। প্রায়শই কুপ্রবৃত্তি মানুষের মনের সাথে মিশে যায় যা এই একনিষ্ঠতা নষ্ট করে দেয়। যেমন শাদ্দাদ বিন আউস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো লোকদেখানো ইবাদত বা রিয়া (رياء) এবং প্রচ্ছন্ন কুপ্রবৃত্তি" ৪। আবু দাউদ বলেন: এটি হলো নেতৃত্বের মোহ। হাদিসে আরও এসেছে: "দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়েকে ছাগলের পালে ছেড়ে দিলে তারা পালের যতটা না ক্ষতি করে, তার চেয়েও বেশি দ্বীনের ক্ষতি করে মানুষের সম্পদ ও পদমর্যাদার প্রতি লালসা" ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يبين أن الدين السليم لا يكون فيه هذا الحرص، وذلك أن القلب إذا ذاق حلاوة الإخلاص لم يكن شيء أحب إليه منه، فيصير القلب منيبا إلى الله خائفا منه، كما قال تعالى: {مَنْ خَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُنِيبٍ} 1.
وإذا أخلص العبد اجتباه ربه فأحيا قلبه، وجذبه إليه، بخلاف القلب الذي لم يخلص، فإن فيه طلبا وإرادة، تارة إلى الرياسة فترضيه الكلمة ولو كانت باطلا، وتغيظه الكلمة ولو كانت حقا، وتارة إلى الدرهم والدينار، وأمثال ذلك، فيتخذ إلهه هواه. ومن لم يكن مخلصا لله بحيث يكون أحب إليه مما سواه، (وإلا) استعبدته الكائنات واستولت على قلبه الشياطين. وهذا أمر ضروري لا حيلة فيه، فالقلب إن لم يكن حنيفا وإلا كان مشركا {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفاً} 2 الآيتين. وقد جعل الله آل إبراهيم أئمة للحنفاء، كما جعل آل فرعون أئمة للمشركين المتبعين أهواءهم.
(21) بعث الله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى ذوي أهواء متفرقة
وقلوب متشتتة، فألف الله به بين القلوب، وجمع به الشمل، ثم إنه سبحانه بين أن هذا الأصل وهو الجماعة عماد دينه، فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ
--------------------------------------------
এটি বর্ণনা করে যে, সঠিক দ্বীনের মধ্যে এই প্রকার লালসা থাকে না; আর তা এজন্য যে, অন্তর যখন একনিষ্ঠতার (إخلاص) স্বাদ আস্বাদন করে, তখন তার কাছে এর চেয়ে প্রিয় আর কিছু থাকে না। ফলে অন্তর আল্লাহর প্রতি অনুগামী ও তাঁকে ভয়কারী হয়ে যায়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যে দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে এবং বিনীত (منيب) হৃদয়ে উপস্থিত হয়} 1.
আর যখন কোনো বান্দা একনিষ্ঠ (إخلاص) হয়, তখন তার রব তাকে মনোনীত করেন, ফলে তার অন্তরকে পুনর্জীবিত করেন এবং তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করেন। এর বিপরীত হলো সেই অন্তর যা একনিষ্ঠ নয়; কেননা তাতে যাঞ্চা ও আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান থাকে—কখনো নেতৃত্বের প্রতি, ফলে কোনো কথা বাতিল (باطل) হলেও তা তাকে সন্তুষ্ট করে, আবার কোনো কথা সত্য (حق) হলেও তা তাকে রাগান্বিত করে; আবার কখনো দিরহাম ও দিনার বা এই জাতীয় জিনিসের প্রতি, ফলে সে নিজের প্রবৃত্তিকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এমনভাবে একনিষ্ঠ (مخلص) হয় না যে, আল্লাহ তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হন, তবে সৃষ্টিজগত তাকে দাসে পরিণত করে এবং শয়তানরা তার অন্তরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। এটি একটি অনিবার্য বিষয় যাতে কোনো বিকল্প নেই; সুতরাং অন্তর যদি একনিষ্ঠ (حنيف) না হয়, তবে সে অংশীবাদী (مشرك) হবে। {অতএব তুমি একনিষ্ঠ (حنيف) হয়ে দ্বীনের ওপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখ} 2 আয়াতদ্বয়। আল্লাহ ইব্রাহিমের (আ.) বংশধরদের একনিষ্ঠদের (حنفاء) জন্য ইমাম বানিয়েছেন, যেমন তিনি ফেরাউনের অনুসারীদের মুশরিকদের (مشركين) ইমাম বানিয়েছেন যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছিল।
(21) আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে বিচ্ছিন্ন প্রবৃত্তি
এবং বিভক্ত হৃদয়ের অধিকারীদের নিকট প্রেরণ করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্তরসমূহের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করেছেন এবং বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত করেছেন। এরপর সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন যে, এই মূলনীতিটি অর্থাৎ জামাত (الجماعة) হলো তাঁর দ্বীনের স্তম্ভ। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (مسلمون) হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২০)
اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} 1 إلى قوله {وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا} 2 إلى قوله {خَالِدُونَ} وفي الآية الأخرى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعاً لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} 3.
فبرأ الله نبيه منهم. وقد كره صلى الله عليه وسلم من المجادلة ما يفضي إلى الاختلاف والتفرق، فخرج على قوم من أصحابه وهم يتجادلون في القدر فكأنما فقئ في وجهه حب الرمان وقال: "أبهذا أمرتم أم إلى هذا دعيتم؟ " إلخ.
ثم ذكر ثلاثا وسبعين فرقة، ثم قال: في وصف الفرقة الناجية بأنهم المستمسكون بسنته وأنهم هم الجماعة.
(22) مسألة رؤية الكفار ربهم في القيامة
انتشر الكلام فيها بعد الثلاثمائة من الهجرة، وأمسك عن الكلام فيها قوم من العلماء، وتكلم فيها آخرون؛ فاختلفوا على ثلاثة أقوال، والكلام فيها قريب من مسألة محاسبة الكفار. هل يحاسبون أم لا؟ والحساب يراد به عرض الأعمال على الكفار وتوبيخهم وزيادة العذاب ونقصه بزيادة الكفر ونقصه، فهذا ثابت بالاتفاق. ويراد به وزن الحسنات والسيئات ليتبين أيهما أرجح. فالكافر لا حسنات له، وإنما توزن أعماله لتظهر خفة موازينه؛ هذا المراد بالحساب.
هل الله يكلمهم أم لا؟ فالقرآن والحديث يدل على أنه يكلمهم كلام توبيخ، فيكاد الخلاف يرتفع. والأقوال الثلاثة في رؤية الكفار:
أحدها: أن الكفار لا يرونه بحال، لا المُظْهِر ولا المُسِرّ، وهو قول أكثر المتأخرين.
الثاني: أنه يراه من أظهر التوحيد من مؤمن ومنافق، قاله
--------------------------------------------
...আল্লাহর রজ্জুকে সবাই মিলে (শক্তভাবে ধর) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না} ১ তাঁর বাণী {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে} ২ তাঁর বাণী {চিরস্থায়ী হবে} পর্যন্ত। এবং অপর আয়াতে রয়েছে: {নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডিত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই} ৩।
অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে তাদের থেকে দায়মুক্ত করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বিতর্ক অপছন্দ করতেন যা মতভেদ ও বিচ্ছিন্নের দিকে নিয়ে যায়। একবার তিনি তাঁর সাহাবীদের এক দলের কাছে আসলেন যখন তারা তাকদির (ভাগ্য) নিয়ে বিতর্ক করছিল, তখন তাঁর চেহারা মোবারক রাগে এমন লাল হয়ে গেল যেন তাঁর মুখে ডালিমের দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: "তোমাদের কি একাজে আদেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি এর দিকেই তোমাদের ডাকা হয়েছে?" ইত্যাদি।
অতঃপর তিনি তিয়াত্তরটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) বর্ণনায় বলেছেন যে, তারা হলো তারাই যারা তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে এবং তারাই হলো জামাত (الجماعة)।
(২২) কিয়ামতের দিন কাফিরদের মহান রবকে দেখার মাসআলা (বিষয়)
হিজরি তিনশত সালের পর এ বিষয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। একদল আলেম এ নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকেন এবং অন্য দল এ নিয়ে আলোচনা করেন; ফলে তারা তিনটি মতে বিভক্ত হন। এ বিষয়টি কাফিরদের হিসাব (محاسبة) সংক্রান্ত মাসআলার কাছাকাছি। তারা কি হিসাবের সম্মুখীন হবে নাকি হবে না? হিসাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাফিরদের সামনে আমলসমূহ পেশ করা, তাদের তিরস্কার করা এবং কুফরির হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে আজাব কমানো বা বাড়ানো; এটি ঐকমত্যের (الاتفاق) ভিত্তিতে সাব্যস্ত। আবার এটি দ্বারা নেকি ও গুনাহের ওজন করাও বোঝানো হয় যাতে বোঝা যায় কোনটি ভারী। তবে কাফিরের কোনো নেকি নেই, তার আমলসমূহ কেবল তার মিজানের হালকা হওয়া প্রকাশ করার জন্য ওজন করা হবে; হিসাব (الحساب) দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য।
আল্লাহ কি তাদের সাথে কথা বলবেন কি না? কুরআন ও হাদিস একথাই নির্দেশ করে যে, তিনি তাদের সাথে তিরস্কারমূলক কথা বলবেন, তাই এ মতভেদটি প্রায় নিরসন হয়ে যায়। কাফিরদের আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে:
প্রথমটি: কাফিররা কোনো অবস্থাতেই তাঁকে দেখতে পাবে না, চাই সে বাহ্যিকভাবে প্রকাশকারী (المظهر) হোক কিংবা গোপনকারী (المسر); আর এটিই অধিকাংশ পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) অভিমত।
দ্বিতীয়টি: যারা তাওহিদ প্রকাশ করে—চাই তারা মুমিন হোক বা মুনাফিক—তারা তাঁকে দেখতে পাবে; এই কথাটি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২১)
ابن خزيمة وغيره.
الثالث: أن الكفار يرونه رؤية تعذيب كاللص إذا رأى السلطان، ثم يحتجب عنهم ليعظم عذابهم، وهذا مقتضى قول من فسر اللقاء في كتاب الله بالرؤية. ومن أقوى ما يتمسكون به ما روى مسلم عن أبي هريرة: "قال الناس: يا رسول الله هل نرى ربنا يوم القيامة؟ فذكره. وفيه: فيلقى العبد فيقول: أفظننت أنك ملاقي؟ قال: لا. وفيه: ثم ينادي مناد: ألا تتبع كل أمة ما كانت تعبد" 1 فيقال: ظاهره أن الخلق كلهم يرونه، لكن قال ابن خزيمة: اللقاء هنا غير الترائي، وهؤلاء يقولون أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أن الكافر يلقى ربه فيوبخه، ثم تتبع كل أمة ما كانت تعبد، ثم يراه المؤمنون، يبينه ما في الصحيحين من حديث أبي هريرة وأبي سعيد وفيه: "فيأتيهم في صورته التي يعرفون، وليس فيه الرؤية إلا بعد تتبع كل أمة" 2 إلخ.
وفي حديث ابن مسعود الطويل: "أن المؤمنين يقولون: إن لنا ربا ما رأيناه بعد"، ففيه أنهم لم يروه قبلها، والآخرون يقولون معناه لم نره في هؤلاء الآلهة التي يتبع الناس، ويدل عليه أن في الصحيحين أيضا عن أبي سعيد: "فيأتيهم الجبار في صورة غير الصورة التي رأوه فيها أول مرة" 3 ففيه أنهم رأوه قبل ذلك، وهي الرؤية العامة.
وأبين من هذا كله أن الرؤية الأولى عامة كما في حديث أبي رزين: "فتنظرون إليه وينظر إليكم، فقلت: كيف وهو شخص واحد ونحن ملء الأرض؟ " 4 إلخ. ففيه أنه لعموم الخلق كما دل عليه السياق. والرؤية متباينة تباينا عظيما لا يكاد ينضبط طرفاها، ولا يجوز إطلاق القول بأن الكفار يرونه من غير تقييد، لأن الرؤية قد صار يفهم منها الكرامة، ففي إطلاقها إيهام، وليس لأحد أن يطلق ما يوهم خلاف الحق إلا أن يكون مأثورا..
--------------------------------------------
ইবনে খুজাইমা এবং অন্যান্যরা।
তৃতীয় মত: কাফেররা তাঁকে আযাব বা শাস্তিস্বরূপ দেখতে পাবে, ঠিক যেমন চোর যখন সুলতানকে দেখে; এরপর তিনি তাদের থেকে পর্দা করবেন (অদৃশ্য হয়ে যাবেন), যাতে তাদের আযাব আরও বৃদ্ধি পায়। আর আল্লাহর কিতাবে যারা 'সাক্ষাৎ' (اللقاء)-কে 'দর্শন' (الرؤية) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, এটি তাদের মতের অনুসারী। তারা যে সকল প্রমাণের ওপর সবচেয়ে মজবুতভাবে নির্ভর করেন তার মধ্যে একটি হলো ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে যা বর্ণনা করেছেন: "লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত দিবসে কি আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাব?" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তাতে রয়েছে: "অতঃপর বান্দার সাথে সাক্ষাৎ হবে এবং তিনি বলবেন: তুমি কি মনে করেছিলে যে তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে? সে বলবে: না।" তাতে আরও আছে: "অতঃপর এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে: সাবধান! প্রত্যেক উম্মত যেন তার অনুসরণ করে যার সে ইবাদত করত" (১)। তখন বলা হয়: এর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ হলো সমস্ত সৃষ্টিই তাঁকে দেখতে পাবে। কিন্তু ইবনে খুজাইমা বলেছেন: এখানে সাক্ষাৎ (اللقاء) সাধারণ দর্শনের (الترائي) মতো নয়। তারা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে কাফের তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তাকে তিরস্কার করবেন, এরপর প্রত্যেক উম্মত যার ইবাদত করত তার অনুসরণ করবে, অতঃপর মুমিনরা তাঁকে দেখবে। সহীহাইনে আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিস এটি স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে রয়েছে: "অতঃপর তিনি তাদের নিকট সেই আকৃতিতে আসবেন যা তারা চেনে, আর তাতে প্রত্যেক উম্মতের অনুসরণের পরেই দর্শনের (الرؤية) কথা রয়েছে" (২) ইত্যাদি।
ইবনে মাসউদের দীর্ঘ হাদিসে আছে: "মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের একজন রব আছেন যাকে আমরা এখনও দেখিনি।" এতে প্রতীয়মান হয় যে তারা এর আগে তাঁকে দেখেনি। তবে অন্যরা বলেন, এর অর্থ হলো মানুষেরা যেসব উপাস্যের অনুসরণ করছিল তাদের মধ্যে আমরা তাঁকে দেখিনি। এর প্রমাণ হলো সহীহাইনে আবু সাঈদ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর মহাপরাক্রমশালী তাদের নিকট এমন এক আকৃতিতে আসবেন যা সেই আকৃতি থেকে ভিন্ন যাতে তারা তাঁকে প্রথমবার দেখেছিল" (৩)। এতে প্রমাণিত হয় যে তারা এর আগে তাঁকে দেখেছিল, আর সেটি হলো সাধারণ দর্শন (الرؤية العامة)।
এসবের চেয়েও স্পষ্ট হলো যে প্রথম দর্শনটি সবার জন্য সাধারণ (عامة), যেমন আবু রাজিনের হাদিসে রয়েছে: "তোমরা তাঁর দিকে তাকাবে এবং তিনিও তোমাদের দিকে তাকাবেন। আমি বললাম: এটি কীভাবে সম্ভব যখন তিনি একজন আর আমরা সারা পৃথিবী জুড়ে?" (৪) ইত্যাদি। এতে বোঝা যায় যে এটি সকল সৃষ্টির জন্য সাধারণ (عموم), যা প্রসঙ্গের (السياق) দ্বারা প্রমাণিত। আর দর্শনের (الرؤية) স্তরসমূহের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে যার দুই প্রান্ত নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই কোনো সীমাবদ্ধতা (تقييد) ছাড়াই কাফেররা তাঁকে দেখবে—একথা সাধারণভাবে বলা বৈধ নয়। কারণ 'দর্শন' বলতে বর্তমানে সম্মান ও মর্যাদা বুঝায়, ফলে এটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করলে ভ্রান্ত ধারণার (إيهام) উদ্রেক হতে পারে। আর বর্ণিত (مأثور) কোনো বর্ণনা ব্যতীত কারও জন্য এমন কিছু বলা উচিত নয় যা সত্যের বিপরীত ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولأن الحكم إذا كان عاما وفي تخصيص بعضه خروجا عن القول الجميل لم يُقَل؛ فإن الله خالق كل شيء ولا يقال: يا خالق الكلاب مثلا، فلا يخرج أحد عن الألفاظ المأثورة، وإن وقع نزاع في بعض معناها فإن هذا لا بد منه في الأمة كما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم.
(23) وإذا اشتبه عليه هل هذا الفعل مما يهجر المسلم عليه أم لا.
فالواجب ترك العقوبة لقوله: "أدرؤوا الحدود بالشبهات، فإنك أن تخطئ في العفو خير لك من أن تخطئ في العقوبة". (24) ذكر في حديث الإفك نفقة أبي بكر على مسطح
لأن أمه بنت خالته وقال تعالى: {وَلا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ} 1 الآية.
فجعله من ذوي القربى وهو من بعد من ذوي الأرحام الذين ليس لهم فرض ولا تعصيب.
فيستدل به على أحد القولين في مذهب أحمد أن ذوي الأرحام يستحقون النفقة.
فإن سبب النفقة القرابة المورثة، وكل قرابة مورثة على المشهور، لكن أصلا أو بدلا، فمن لا فرض له ولا تعصيب ورث بدلا، والحديث نص في أنهم من ذوي القربى، فيدخلون في قوله: {وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ} 2 ونظائرها، وأقل ذلك النفقة على المحتاج. وقد ذكر الله الوفاء بالعهد وصلة الرحم في آيات متعددة، فهذه العمومات توجب صلة كل رحم قريبة أو بعيدة، كما أن قوله: {وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ} 3 يعم ميراث كل ذي رحم، ولا فرق، بل في الإحسان
--------------------------------------------
কারণ হুকুম যখন সাধারণ হয় এবং তার কোনো অংশকে সুনির্দিষ্ট করতে গিয়ে যদি শিষ্টাচারবহির্ভূত কোনো উক্তি চলে আসে, তবে তা বলা উচিত নয়। কেননা আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা, কিন্তু উদাহরণস্বরূপ এ কথা বলা যায় না যে: 'হে কুকুরসমূহের স্রষ্টা'। সুতরাং কেউ যেন বর্ণিত শব্দাবলির (الألفاظ المأثورة) বাইরে না যায়। যদিও এর কোনো কোনো অর্থের ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে উম্মতের মধ্যে এটি ঘটা অনিবার্য যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন।
(23) আর যদি তার নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই কাজের জন্য কোনো মুসলিমকে বর্জন করা (يهجر) হবে কি হবে না।
তবে ওয়াজিব হলো শাস্তি প্রদান বর্জন করা, তাঁর এই বাণীর কারণে: "তোমরা সংশয়ের (الشبهات) মাধ্যমে নির্ধারিত দণ্ডসমূহ (الحدود) রহিত করো। কেননা ক্ষমা করতে গিয়ে ভুল করা তোমার জন্য শাস্তি দিতে গিয়ে ভুল করার চেয়ে উত্তম।" (24) ইফকের হাদিসে মিস্তাহর প্রতি আবু বকরের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে
কেননা তার মা ছিলেন আবু বকরের খালাতো বোন, আর মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ না করে...} ১ (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।
অতএব, তিনি তাকে নিকটাত্মীয়দের (ذوي القربى) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথচ সে দূর সম্পর্কের সাধারণ আত্মীয়দের (ذوي الأرحام) অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদের জন্য কোনো নির্ধারিত অংশ (فرض) বা অবশিষ্টভোগী (تعصيب) হিসেবে মিরাস নেই।
এর মাধ্যমে ইমাম আহমদের মাজহাবের দুটি মতের একটির পক্ষে দলিল পেশ করা হয় যে, সাধারণ আত্মীয়রা (ذوي الأرحام) ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।
কেননা ভরণপোষণের কারণ হলো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য আত্মীয়তা, আর প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী প্রতিটি উত্তরাধিকারযোগ্য আত্মীয়তার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য, তা মূলগতভাবে হোক বা স্থলাভিষিক্ত হিসেবে। সুতরাং যার কোনো নির্ধারিত অংশ (فرض) বা অবশিষ্টভোগী (تعصيب) হওয়ার সুযোগ নেই, সে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মিরাস পায়। আর এই হাদিসটি একটি সুস্পষ্ট পাঠ (نص) যে তারা নিকটাত্মীয়দের (ذوي القربى) অন্তর্ভুক্ত, ফলে তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়: {এবং নিকটাত্মীয়কে তার হক প্রদান করো} ২ এবং এর সমজাতীয় আয়াতসমূহ। আর এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো অভাবীকে ভরণপোষণ প্রদান করা। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে অঙ্গীকার পূরণ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই সাধারণ নির্দেশাবলি (العمومات) প্রত্যেক নিকট বা দূরবর্তী আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাকে আবশ্যক করে। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {আর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক হকদার} ৩ প্রত্যেক সাধারণ আত্মীয়র (ذي رحم) মিরাসকে অন্তর্ভুক্ত করে, এতে কোনো পার্থক্য নেই, বরং ইহসানের ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والنفقة أولى. وعلى هذا ما ورد من حمل الخال للعقل، وقوله: (ابن أخت القوم منهم) . وقوله: (مولى القوم منهم) . ونحن في أحد القولين نورث المولى من أسفل إذا عدم من هو أولى منه، ونظيره في الولاء قولنا في أحد القولين بالتوريث بالعهد عند انتفاء الرحم كما كان صلى الله عليه وسلم يورث بين المهاجرين والأنصار، ثم نسخ تقديمهم على ذوي الرحم. فأما مع عدمهم فليس في الكتاب والسنة ما ينسخ ذلك.. بل قوله: {وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ} 1 يقتضي توريثهم، وهو قول كثير من فقهاء العراق وغيرهم، فعقد المؤاخاة نظير عقد النكاح، وإسلامه على يديه نظير إعتاقه له، واشتراكهم في الديوان وهو التناصر والجهاد كاشتراكهم في النسب.
(25) اتفق على أن الأرض لا تخلو عن خراج وعشر
لكن قال أبو حنيفة: لا يجتمعان، والجمهور يقولون: العشر حق الزرع لقوله تعالى: {وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الأَرْضِ} 2؛ والخراج عند أبي حنيفة هي التي يملك بيعها وهبتها وتورث.. والجندي لا يملك ذلك اليوم في أرض مصر، فمن قال أنها خراجية لا عشر عليها فقد أخطأ على أبي حنيفة وخالف الإجماع، ومن أفتى بخلو الأرض عن العشر والخراج استتيب، فإن تاب وإلا قتل.
ومن زعم أن الجهاد الذي على الجند يعوض عن الخراج فقد أخطأ؛ لأنهم لا يملكون بيعها ولا هبتها، وأيضا ما يعطونه ليس خراجا ولا أجرة بل لجندهم
--------------------------------------------
এবং ভরণপোষণই অধিকতর অগ্রগণ্য। এরই ওপর ভিত্তি করে মামার দিয়ত বা রক্তপণ (عقل) বহন করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর বাণী: "কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" এবং তাঁর বাণী: "কোনো সম্প্রদায়ের আযাদকৃত দাস (مولى) তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" আমরা দুটি মতের একটি অনুযায়ী অধস্তন আযাদকৃত দাসকে (المولى من أسفل) উত্তরাধিকার প্রদান করি যখন তার চেয়ে অধিক নিকটবর্তী কেউ না থাকে। আনুগত্যের সম্পর্কের (ولاء) ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মতের একটি হলো, রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়ের অনুপস্থিতিতে চুক্তির ভিত্তিতে উত্তরাধিকার প্রদান করা, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করতেন। পরবর্তীতে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি রহিত (نسخ) করা হয়। তবে তাদের অনুপস্থিতিতে কিতাব বা সুন্নাহতে এমন কিছু নেই যা একে রহিত (نسخ) করে... বরং আল্লাহর বাণী: {যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ, তাদেরকে তাদের অংশ প্রদান করো} তাদের উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হওয়ার দাবি রাখে। এটি ইরাকের বহু ফকিহ ও অন্যদের মত। সুতরাং ভ্রাতৃত্বের চুক্তি হলো বিবাহের চুক্তির সদৃশ, আর কারো হাতে ইসলাম গ্রহণ করা তাকে আযাদ করার সদৃশ। আর দীওয়ানে তাদের অংশগ্রহণ অর্থাৎ পারস্পরিক সহযোগিতা ও জিহাদ হলো বংশীয় সম্পর্কের অংশীদারত্বের ন্যায়।
(25) এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) হয়েছে যে, ভূমি খেরাজ (خراج) ও উশর (عشر) থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
তবে ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: এ দুটি একত্রে জমা হতে পারে না। আর জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ফকিহগণ বলেন: উশর হলো ফসলের হক, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি}; আর ইমাম আবু হানিফার নিকট খেরাজি ভূমি হলো সেটি, যার ক্রয়-বিক্রয় ও দান করা বৈধ এবং যা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায়। অথচ বর্তমান মিশরের ভূমিতে সৈনিকরা এর মালিকানা রাখে না। অতএব যে ব্যক্তি বলে যে, এটি খেরাজি ভূমি এবং এতে উশর নেই, সে ইমাম আবু হানিফার ওপর ভুল আরোপ করল এবং ইজমা বা ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী কাজ করল। আর যে ব্যক্তি ভূমি উশর ও খেরাজ থেকে মুক্ত হওয়ার ফতোয়া দেবে, তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।
আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সৈনিকদের ওপর যে জিহাদ অর্পিত তা খেরাজের বিনিময়স্বরূপ, সে ভুল করেছে; কারণ তারা জমির ক্রয়-বিক্রয় বা দানের মালিক নয়। অধিকন্তু তারা যা প্রদান করে তা খেরাজ (خراج) বা ভাড়া নয়, বরং তা তাদের সৈনিক হওয়ার কারণে প্রদেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المستحقون للخراج. وإن قيل الإمام أسقط عنهم لقتالهم، قيل هذا لا يسقط الزكاة لوجوه:
منها أن ذلك لو جعلها كالخراجية لملكوا بيعها وهبتها، ومنها أن غايتهم أن يكونوا بمنْزلة الملاك، ومعلوم أن كل أرض أسلم عليها أهلها أنه لا خراج عليهم مع وجوب العشر وتعيين الجهاد عليهم من تلك الأموال، كما تعين الجهاد على الأنصار، وكان صلى الله عليه وسلم يوجب عليهم العشر في الزرع والثمار، ويوجب عليهم الجهاد بأموالهم وأنفسهم، ولم يكن لهم رزق من بيت المال، فإذا كان جهادهم بأموالهم لا يسقط عنهم العشر الواجب لأهل الصدقات، فكيف يسقط عن هؤلاء؟ ولو أسقط الجهاد العشر لكانوا أحق، لما كانوا فيه من قلة المال وكثرة العدو وتعدد المغازي.
(26) صلاته صلى الله عليه وسلم بالأنبياء ببيت المقدس
قيل إنها اللغوية، وهي الدعاء والذكر، وقيل الصلاة المعروفة، وهذا أصح؛ لأن اللفظ يحمل على حقيقته الشرعية.
وكانت الصلاة واجبة قبل الإسراء، وكان واجبا قيام بعض الليل، كما في سورة المزمل، ثم نسخ بعد سنة بما ذكر الله في آخر السورة: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ} 1. ثم نسخ قيام الليل ليلة الإسراء ووجبت الخمس.
(27) زين الشيطان لأهل الضلالة اتخاذ عاشوراء مأتما
لإثارة الفتن والفساد، ولم يعرف في طوائف الإسلام أكثر كذبا وفتنا ومعاونة للكفار على المسلمين من الرافضة. وهم شر من الخوارج، وهؤلاء قال فيهم صلى الله عليه وسلم "يقتلون أهل الإسلام ويدعون أهل الأوثان" 2 وأولئك يعاونون اليهود والنصارى على أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
খরাজ (خراج) প্রাপ্তির অধিকারীরা। আর যদি বলা হয় যে, ইমাম তাদের যুদ্ধের কারণে তাদের ওপর থেকে তা রহিত করে দিয়েছেন, তবে বলা হবে যে, এটি কয়েকটি কারণে জাকাতকে রহিত করে না:
তার মধ্যে একটি হলো, যদি সেটিকে খরাজি (خراجية) জমির মতো গণ্য করা হতো, তবে তারা তা বিক্রি ও দান করার মালিক হতো। আরেকটি হলো যে, তাদের সর্বোচ্চ অবস্থা এই হতে পারে যে তারা মালিকদের স্থলাভিষিক্ত হবে। আর এটি সবার জানা যে, যে কোনো ভূখণ্ডের অধিবাসীরা যখন ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তাদের ওপর খরাজ (خراج) থাকে না, যদিও সেই সম্পদ থেকে তাদের ওপর দশমাংশ (العشر) প্রদান করা এবং জিহাদ (جهاد) নির্ধারণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যেমনটি আনসারদের ওপর জিহাদ (جهاد) নির্ধারিত হয়েছিল। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ওপর শস্য ও ফলের ক্ষেত্রে দশমাংশ (العشر) ফরজ করতেন এবং তাদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ (جهاد) করা তাদের ওপর আবশ্যক করতেন। বায়তুল মাল থেকে তাদের জন্য কোনো ভাতার ব্যবস্থা ছিল না। সুতরাং তাদের জান-মাল দিয়ে জিহাদ (جهاد) করা যদি সদকা (صدقات) গ্রহণকারী অভাবী লোকদের জন্য প্রাপ্য ওয়াজিব (الواجب) দশমাংশকে (العشر) রহিত না করে, তবে এদের ক্ষেত্রে কীভাবে তা রহিত হবে? আর জিহাদ (جهাদ) যদি দশমাংশকে (العشر) রহিতকারীই হতো, তবে তারাই এর অধিক হকদার হতো; কারণ তাদের সম্পদের স্বল্পতা, শত্রুর আধিক্য এবং যুদ্ধের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
(২৬) বাইতুল মাকদিসে নবীদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত
বলা হয়েছে যে, এটি ছিল শাব্দিক (اللغوية) অর্থের সালাত, যা হলো দুআ ও জিকির। আবার বলা হয়েছে যে, এটি ছিল সুপরিচিত সালাত, আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح); কারণ শব্দকে তার শরিয়তগত প্রকৃত অর্থের (حقيقته الشرعية) ওপর প্রয়োগ করা হয়।
ইসরার পূর্বেই সালাত ফরজ (واجبة) ছিল এবং রাতের কিছু অংশ দণ্ডায়মান থাকা আবশ্যক (واجبًا) ছিল, যেমনটি সূরা আল-মুজ্জাম্মিলে রয়েছে। এরপর এক বছর পর সূরাটির শেষে আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন তা দ্বারা এটি রহিত (نسخ) করা হয়: {অতঃপর তোমরা তা থেকে যতটুকু সহজসাধ্য হয় ততটুকু পাঠ করো}। এরপর ইসরার রাতে কিয়ামুল লাইল (রাতের সালাত) রহিত (نسخ) করা হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়।
(২৭) শয়তান বিভ্রান্ত লোকদের জন্য আশুরাকে শোকের অনুষ্ঠানে (مأتما) পরিণত করাকে সুশোভিত করেছে
ফিতনা (فتن) ও ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। ইসলামের বিভিন্ন দলের মধ্যে রাফেযীদের চেয়ে অধিক মিথ্যাচারী (كذبا), ফিতনা (فتن) সৃষ্টিকারী এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফেরদের অধিক সহায়তাকারী আর কাউকে জানা যায় না। তারা খারেজীদের চেয়েও নিকৃষ্ট। আর এদের সম্পর্কেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তারা ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দেবে"। আর তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহলে বাইতের বিরুদ্ধে ইহুদি ও নাসারাদের সহায়তা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأمته المؤمنين كما أعانوا المشركين من الترك على ما فعلوه ببغداد وغيرها بأهل البيت من ولد العباس وغيرهم، فعارضهم قوم إما من النواصب المتعصبين على الحسين، وإما من الجهال الذين قابلوا الفاسد بالفاسد، فوضعوا آثارا في توسيع النفقة على العيال وغير ذلك، وإن كان أولئك أشر قصدا، وأعظم جهلا وأظهر ظلما، لكن الله يأمر بالعدل والإحسان.
(28) المطالبة في الآخرة لصاحب المال المغصوب منه
لا لورثته، كما في الصحيح "من كان عنده لأخيه مظلمة في دم أو مال أو عرض فللورثة يخلفونه في الدنيا، فما أمكن استيفاؤه في الدنيا فالورثة، وما لم يمكن فليتحلله منه" إلخ، فبين أن المطالبة للمظلوم نفسه ولم يجعلها لورثته، فالطلب للمظلوم نفسه.
(29) ثبوت الشيء في العلم والتقدير ليس هو ثبوت عينه في الخارج،
بل العالم يعلم الشيء ويكتبه ويتكلم به وليس لذاته في الخارج وجود، وهذا هو تقدير الله السابق لخلقه المذكور في حديث عبد الله بن عمرو عند مسلم، وغير ذلك، وهو معنى قوله "كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد" 1 أي: كنت نبيا حينئذ. وهذا والله أعلم لأن هذه الحال فيها يقع التقدير الذي يكون بأيدي ملائكة الخلق قبل نفخ الروح، كما في حديث ابن مسعود. فلما أخبر أن الملك يكتب رزقه وأجله وعمله وشقي أو سعيد حينئذ، وآدم هو أبو البشر، كان من المناسب أن يكتب بعد خلق جسده ما يكون منه ومحمد سيد ولده. وقد جاء هذا المعنى مفسرا في حديث العرباض: "إني عند الله مكتوب خاتم النبيين وإن آدم لمنجدل في طينته، وسأخبركم بأول أمري دعوة إبراهيم
--------------------------------------------
এবং তাঁর মুমিন উম্মতকেও, যেমন তারা তুর্কি মুশরিকদের সাহায্য করেছিল সেই সব কর্মকাণ্ডে যা তারা বাগদাদ ও অন্যান্য স্থানে আব্বাসের বংশধর আহলে বাইত এবং অন্যদের সাথে করেছিল। এর বিপরীতে একদল লোক দাঁড়িয়েছিল—হয় তারা ছিল হোসাইনের (রা.) প্রতি বিদ্বেষী চরমপন্থী নাসিবি (النواصب), অথবা তারা ছিল এমন মূর্খ যারা বাতিলের মোকাবিলা বাতিল দিয়ে করেছিল। ফলে তারা পরিবার-পরিজনের ওপর অকাতরে ব্যয় করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে জাল বর্ণনা (آثار) তৈরি (وضعوا) করেছিল। যদিও তাদের উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত মন্দ, মূর্খতা ছিল চরম এবং জুলুম ছিল প্রকাশ্য; কিন্তু আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।
(28) পরকালে পাওনা দাবি করার অধিকার আত্মসাৎকৃত মালের প্রকৃত মালিকের
তার উত্তরাধিকারীদের নয়। যেমনটি সহিহ (الصحيح) বর্ণনায় এসেছে: "যার কাছে তার ভাইয়ের রক্ত, সম্পদ বা সম্মান সংক্রান্ত কোনো জুলুম (مظلمة) পাওনা থাকে, তবে তার উত্তরাধিকারীরা দুনিয়াতে তার স্থলাভিষিক্ত হয়। সুতরাং দুনিয়াতে যা আদায় করা সম্ভব তা উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য, আর যা সম্ভব নয় সে জন্য তার নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে" ইত্যাদি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দাবি করার অধিকার মজলুমের নিজের এবং তিনি তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য সাব্যস্ত করেননি; সুতরাং দাবি মজলুমেরই।
(29) ইলম (জ্ঞান) ও তকদিরে কোনো কিছু সাব্যস্ত হওয়া আর বাস্তবে তার অস্তিত্ব থাকা এক কথা নয়,
বরং আলিম (জ্ঞানী) কোনো বিষয় জানেন, তা লিপিবদ্ধ করেন এবং তা নিয়ে কথা বলেন, অথচ বাস্তবে তার সত্তাগত কোনো অস্তিত্ব থাকে না। আর এটিই হলো সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর সেই পূর্বনির্ধারিত তকদির যা মুসলিম-এ সংকলিত আবদুল্লাহ ইবনে আমর বর্ণিত হাদিসে এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এটিই তাঁর এই বাণীর অর্থ: "আমি তখনই নবী (نبيا) ছিলাম যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন" অর্থাৎ আমি সেই সময়েই নবী ছিলাম। আর আল্লাহই ভালো জানেন, এর কারণ হলো এই অবস্থায় সেই তকদির সম্পন্ন হয় যা রুহ ফুঁক দেওয়ার আগে সৃষ্টির দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাদের মাধ্যমে ঘটে থাকে, যেমনটি ইবনে মাসউদের হাদিসে এসেছে। যখন তিনি সংবাদ দিলেন যে, ফেরেশতা তখনই ব্যক্তির রিজিক, আয়ু, আমল এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান তা লিখে ফেলে, আর আদম যেহেতু মানবজাতির পিতা, তাই তাঁর দেহ সৃষ্টির পর তাঁর থেকে যা কিছু ঘটবে এবং তাঁর সন্তানদের সরদার মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে যা হবে তা লিপিবদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত। এই বিষয়টি ইরবাযের হাদিসে ব্যাখ্যাসহ এসেছে: "আমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী (خاتم النبيين) হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম আপন মাটিতে লুটিয়ে ছিলেন। আমি তোমাদেরকে আমার সূচনার সংবাদ দেব, তা হলো ইব্রাহিমের দোয়া"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وبشارة عيسى ورؤيا أمي" 1 إلخ
…وقوله منجدل أي: مطروح على وجه الأرض، وهذا العلم والكتاب هو الذي ينكره القدرية الذين كفرهم الأئمة 2، وقد بينه الكتاب والسنة، وأجاب النبي صلى الله عليه وسلم عن السؤل الوارد عليه، وهو ترك العمل لأجله.
(30) لكل شيء أربع مراتب:
وجود في الأعيان، ووجود في الأذهان، ووجود في اللسان، ووجود في البنان، ولهذا أول ما نزل {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} 3 إلخ.
فذكر الجميع بوجودها العيني عموما، ثم خصوصا، ثم قال: {اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} 4 إلخ.
فخص التعليم للإنسان بعد تعميم التعليم بالقلم وهو الخط، وهو مستلزم التعليم للفظ؛ فإن الخط يطابق، وتعليم اللفظ هو البيان، وهو مستلزم لتعليم العلم، لأن العبارة تطابق المعنى، فصار تعليمه بالقلم مستلزما للمراتب الثلاث الرسمي واللفظي والعلم، بخلاف ما لو أطلق التعليم وذكر تعليم العلم فقط لم يكن مستوعبا للمراتب.
(31) اعلم أن المذهب إذا كان باطلا في نفسه لم يمكن الناقل أن ينقله على وجه متصور تصورا حقيقيا
فإن هذا لا يكون إلا للحق، فأما القول الباطل فبيانه يظهر فساده، حتى يقال: كيف اشتبه على أحد؟ ويتعجب من اعتقاده، ولا ينبغي للإنسان أن يتعجب، فما من شيء يتخيل من أنواع الباطل إلا وذهب إليه فريق، ولهذا وصف الله أهل الباطل بأنهم أموات، وأنهم صم بكم، وأنهم في قول مختلف، وأنهم لا يعقلون.
--------------------------------------------
"এবং ঈসার সুসংবাদ ও আমার মাতার স্বপ্ন" ১ ইত্যাদি
...এবং তাঁর উক্তি 'মুনজাদিল' অর্থ: জমিনের ওপর নিক্ষিপ্ত হওয়া। আর এই জ্ঞান ও কিতাব সেই বিষয় যা কাদারিয়া সম্প্রদায় অস্বীকার করে, যাদেরকে ইমামগণ ২ কাফির বলেছেন। আর কুরআন ও সুন্নাহ তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট উত্থাপিত এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যে, এর কারণে আমল বর্জন করা যাবে কি না।
(৩০) প্রত্যেকটি জিনিসের চারটি স্তর রয়েছে:
বাস্তব সত্তায় অস্তিত্ব, মানসপটে অস্তিত্ব, বাচনিক অস্তিত্ব এবং লৈখিক অস্তিত্ব। এই কারণেই সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} ৩ ইত্যাদি।
অতঃপর তিনি সাধারণভাবে এবং পরে বিশেষভাবে তাদের বাস্তব অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: {পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক মহা মহিমান্বিত} ৪ ইত্যাদি।
কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দানকে সাধারণীকরণের পর তিনি মানুষের শিক্ষার বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করেছেন; আর তা হলো লিপি বা লিখন। এটি বাচনিক শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; কেননা লিখন উচ্চারণের অনুরূপ হয়। আর বাচনিক শিক্ষা হলো বর্ণনা, যা জ্ঞান শিক্ষার অপরিহার্য অংশ; কারণ অভিব্যক্তি অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুতরাং কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া তিনটি স্তরকে—অর্থাৎ লৈখিক, বাচনিক ও জ্ঞানীয় স্তরকে—অপরিহার্য করে তোলে। পক্ষান্তরে যদি সাধারণভাবে শিক্ষার কথা বলা হতো এবং শুধু জ্ঞান অর্জনের কথা উল্লেখ করা হতো, তবে তা এই স্তরগুলোকে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করত না।
(৩১) জেনে রাখুন যে, কোনো মতবাদ যদি স্বয়ং বাতিল (باطل) হয়, তবে বর্ণনাকারীর পক্ষে তা প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করার মতো করে বর্ণনা করা সম্ভব হয় না।
কারণ এটি কেবল সত্যের ক্ষেত্রেই সম্ভব। পক্ষান্তরে ভ্রান্ত (باطل) কথার স্পষ্টীকরণই তার অসারতা প্রকাশ করে দেয়, এমনকি বলা হয়: এটি কারও কাছে অস্পষ্ট রইল কীভাবে? এবং তার বিশ্বাসের ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। তবে মানুষের বিস্মিত হওয়া উচিত নয়; কেননা কল্পনা করা যায় এমন সব ধরণের ভ্রান্ত (باطل) মতবাদেরই কোনো না কোনো অনুসারী দল রয়েছে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা ভ্রান্তপন্থীদের মৃত, বধির ও বোবা হিসেবে এবং তারা পরস্পর বিরোধী উক্তিতে লিপ্ত এবং তারা অনুধাবন করে না বলে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(32) قوله: "مثل أمتي كمثل الغيث" إلخ.
تكلم في إسناده، وبتقدير صحته أنه يكون في آخرها من يقارب أولها حتى يشتبه على بعض الناس أيهما خير، كطرفي الثوب، (مع القطع) بأن الأول خير من الآخر، ولهذا قال: (لا يدرى) ، ومعلوم أن هذا السلب ليس عاما، فإنه لابد أن يكون معلوما أيهما أفضل. (33) الآية مثل العلامة، والدلالة.
أخبر أنه جعل في هذه المصنوعات آيات، وتارة يسميها أنفسها آية كقوله: {وَآيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ} 1. فإذا قيل: تجلى بها وظهر بها كما يقال علم وعرف، كان صحيحا، ولكنه غير مأثور، وفيه إبهام وإجمال، فإن الظهور والتجلي يفهم منه الظهور العيني وهو مذهب الاتحادية، فالذي في القرآن هو الحق.
(34) قوله تعالى: {أَلا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} 2 دلت على علمه بالأشياء
من وجوه تضمنت البراهين المذكورة لأهل النظر العقلي:
أحدها: أنه خالق لها، والخلق هو الإبداع بتقدير، فتضمن تقديرها في العلم قبل تكوينها.
الثاني: أنه مستلزم للإرادة والمشيئة فيلزم تصور المراد، وهذه الطريقة المشهورة عند أكثر أهل الكلام.
الثالث: أنها صادرة عنه وهو
--------------------------------------------
(32) তাঁর বাণী: "আমার উম্মতের উদাহরণ বৃষ্টির মতো" ইত্যাদি।
এর সনদ (إسناد)-এর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। তবে এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নিলেও এর অর্থ এই যে, উম্মতের শেষভাগে এমন কিছু লোক থাকবে যারা প্রথম যুগের লোকদের কাছাকাছি হবে, এমনকি কোনো কোনো মানুষের কাছে এ বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হবে যে কোনটি বেশি উত্তম—যেমন কাপড়ের দুই প্রান্তের ন্যায়। যদিও এটি নিশ্চিত (مع القطع) যে প্রথম অংশ শেষ অংশের চেয়ে উত্তম; আর একারণেই তিনি বলেছেন: (জানা যায় না)। এটি সুপরিচিত যে, এই নেতিবাচকতাটি সর্বজনীন নয়; কারণ কোনোটি অধিক শ্রেষ্ঠ তা অবশ্যই জানা থাকতে হবে। (33) আয়াত (آية) হলো চিহ্ন বা প্রমাণের ন্যায়।
তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, এই সৃষ্টিসমূহের মাঝে তিনি অনেক নিদর্শন (آيات) স্থাপন করেছেন। আবার কখনও কখনও তিনি বস্তুগুলোকে সরাসরি আয়াত (آية) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: "তাদের জন্য একটি নিদর্শন (آية) হলো মৃত ভূমি।" সুতরাং যদি বলা হয় যে, তিনি এগুলোর মাধ্যমে প্রকাশিত ও জাহির হয়েছেন—যেমনটি বলা হয় 'তিনি জেনেছেন ও চিনেছেন'—তবে তা সঠিক হবে। কিন্তু এটি বর্ণিত (مأثور) কোনো শব্দ নয় এবং এর মধ্যে অস্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততা রয়েছে। কারণ প্রকাশ ও বিচ্ছুরণ বলতে বাহ্যিক বা চাক্ষুষ প্রকাশও বোঝা যেতে পারে, যা মূলত সর্বেশ্বরবাদীদের (الاتحادية) মতবাদ। অতএব, কুরআনে যা আছে তাই সত্য।
(34) মহান আল্লাহর বাণী: "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" এটি বস্তুসমূহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের বিষয়টি এমন কিছু দিক থেকে প্রমাণ করে, যা যৌক্তিক চিন্তাবিদদের বর্ণিত প্রমাণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: তিনি এগুলোর স্রষ্টা। আর সৃষ্টি হলো কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপে উদ্ভাবন করা; যা অস্তিত্বে আসার আগেই ইলম বা জ্ঞানের মধ্যে তার পরিমাপ থাকাকে আবশ্যক করে।
দ্বিতীয়ত: এটি ইচ্ছা (إرادة) ও আকাঙ্ক্ষার (مشيئة) দাবি রাখে, ফলে যা সৃষ্টি করা হবে তার একটি রূপরেখা থাকা আবশ্যক। ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের (أهل الكلام) অধিকাংশের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ পদ্ধতি।
তৃতীয়ত: এগুলো তাঁর থেকেই উৎসারিত এবং তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
سببها التام، والعلم بالأصل يوجب العلم بالفرع، فعلمه بنفسه يستلزم العلم بكل ما يصدر عنه،
الرابع: أنه لطيف يدرك الدقيق، خبير يدرك الخفي، وهذا هو المقتضي للعلم بالأشياء؛ فيجب وجود المقتضي لوجود السبب التام.
(35) قوله: "حجابه النور" إلخ.
فمَن سُبُحَاته تحرق السموات والأرض لولا الحجاب، أيكون نوره يحفظ بالسماء؟. 1
(36) قوله: {إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ} إلخ.
وذكر آيات، ثم قال: وقد ثبت في الصحاح أنه يقبض السموات والأرض بيده، فمن يكونان في قبضته وكرسيه وُسْعهما، {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ} 2 فبأمره يقومان، وهو الذي يمسكهما أن تزولا، أيكون محتاجا إليهما؟.
(37) قوله: {قُلْ أَنَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَنْفَعُنَا وَلا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَى أَعْقَابِنَا} 3 إلخ.
هكذا يريد هؤلاء المتحيرون أن يفعلوا بالمؤمنين، فيدعون من دون الله ما لا ينفع ولا يضر من كل عبد من دون الله، ويريدون أن يرتد المؤمنون على أعقابهم عن الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، ويصيرون حائرين كالذي استهوته الشياطين في الأرض حيران.
--------------------------------------------
এর পূর্ণ কারণ; আর মূল সম্পর্কে জ্ঞান থাকা শাখা সম্পর্কে জ্ঞান থাকাকে অবধারিত করে। সুতরাং তাঁর (আল্লাহর) নিজ সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান তাঁর থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভকেও আবশ্যক করে।
চতুর্থ: নিশ্চয়ই তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী (لطيف) যিনি অতি সূক্ষ্ম বিষয় উপলব্ধি করেন এবং তিনি সম্যক অবহিত (خبير) যিনি গোপন বিষয় উপলব্ধি করেন। আর এটিই হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভের দাবিদার (مقتضي); অতএব পূর্ণ কারণের (السبب التام) উপস্থিতির জন্য এই দাবিদারের (مقتضي) উপস্থিতি আবশ্যক।
(৩৫) তাঁর বাণী: "তাঁর পর্দা হলো নূর (আলো)" ইত্যাদি।
সুতারং যাঁর সুবহাত (سُبُحَات - মহিমা বা নূরের ছটা) পর্দা না থাকলে আসমান ও জমিনকে জ্বালিয়ে দিত, তাঁর নূর কি আসমান দ্বারা সংরক্ষিত হওয়া সম্ভব?
(৩৬) তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিনকে ধারণ করে আছেন} ইত্যাদি।
তিনি কিছু আয়াত উল্লেখ করলেন, অতঃপর বললেন: সহিহ গ্রন্থসমূহে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি আসমান ও জমিনকে স্বীয় হাতে মুষ্টিবদ্ধ করবেন। সুতরাং যা কিছু তাঁর মুষ্টির (قبضة) অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর কুরসি যা উভয়কে পরিবেষ্টন করে আছে, (সে সম্পর্কে তিনি বলেছেন:) {তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আসমান ও জমিন দণ্ডায়মান থাকে}। অতএব তাঁরই আদেশে এ দুটি দণ্ডায়মান থাকে এবং তিনিই এ দুটিকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করেন। তবে কি তিনি এ দুটির প্রতি মুখাপেক্ষী হতে পারেন?
(৩৭) তাঁর বাণী: {বলুন, আমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুকে আহ্বান করব যা আমাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না? আর আমাদের কি পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে...} ইত্যাদি।
এই বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা মুমিনদের সাথে এরূপই করতে চায়। তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর উপাসনা করতে আহ্বান জানায় যা আল্লাহর কোনো বান্দার উপকার বা অপকার করতে পারে না। তারা চায় মুমিনরা যেন আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনার পর পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় এবং তারা যেন ওই ব্যক্তির ন্যায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে যাকে শয়তানরা জমিনের বুকে পথভ্রষ্ট করে উদভ্রান্ত করে ছেড়ে দিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(38) تكليم الله للعباد على ثلاثة أوجه:
1. من وراء حجاب كموسى.
2. وبإرسال رسول كما أرسل الملائكة إلى الأنبياء.
3. وبالإيحاء، وهذا للأولياء فيه نصيب والمرتبتان الأوليان للأنبياء خاصة.
(39) قوله: {إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا} 1 إلخ.
أخبر أنهم ابتدعوا أسماء لا حقيقة لها؛ فيعبدون أسماء لا مسميات لها؛ لأنه ليس في المسمى من الألوهية ولا العزة ولا التقدير شيء، ولم ينزل الله سلطانا بهذه الأسماء.
(40) قوله: "كان الله ولا شيء معه، وكان عرشه على الماء، وكتب في الذكر كل شيء" 2
ينفي وجود المخلوقات من السموات والأرض وما فيهما، لا ينفي وجود العرش، ولهذا ذهب كثير من السلف إلى أن العرش متقدم على اللوح والقلم، مستدلين بهذا الحديث، وحملوا قوله: "أول ما خلق الله القلم فقال له: اكتب" 3 إلخ. على هذا الخلق المذكور في قوله: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ} 4. هذا نظير حديث أبي رزين: "أين كان ربنا قبل أن يخلق خلقه؟ قال: كان في عماء، ما فوقه هواء، وما تحته هواء، ثم خلق عرشه على الماء" 5 فالخلق المذكور في هذا الحديث لم يدخل فيه العماء؛ وذكر بعضهم أن هذا
--------------------------------------------
(৩৮) বান্দাদের সাথে আল্লাহর কথোপকথন তিন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে:
১. পর্দার আড়াল থেকে, যেমন মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে হয়েছিল।
২. বার্তাবাহক প্রেরণের মাধ্যমে, যেমন তিনি নবীদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠিয়েছেন।
৩. ওহী বা প্রত্যাদেশের (إيحاء) মাধ্যমে; এতে ওলিদেরও অংশ রয়েছে, তবে প্রথম দুটি স্তর নবীদের জন্য নির্দিষ্ট।
(৩৯) তাঁর বাণী: {এগুলো তো কেবল কতগুলো নাম, যা তোমরা রেখেছ...} ১ ইত্যাদি।
তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা এমন সব নাম উদ্ভাবন করেছে যার কোনো বাস্তবতা নেই। ফলে তারা এমন সব নামের ইবাদত করে যার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা মউजूद নেই। কারণ, সেই নামধারী বস্তুগুলোর মধ্যে উপাস্য হওয়ার গুণ বা উলুহিয়্যাত (ألوهية), মর্যাদা কিংবা ফয়সালার কোনো ক্ষমতা নেই। আর আল্লাহ এই নামগুলোর স্বপক্ষে কোনো দলিল (سلطان) অবতীর্ণ করেননি।
(৪০) তাঁর বাণী: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুই ছিল না, তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর এবং তিনি যিকরে (মূল কিতাব বা লাওহে মাহফুজ) সবকিছু লিখে রেখেছেন" ২
এটি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এদের মধ্যে যা কিছু আছে তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, কিন্তু আরশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না। এ কারণেই সালাফদের (سلف) অনেকেই এই হাদিস থেকে দলিল (مستدلين) গ্রহণ করে অভিমত দিয়েছেন যে, আরশ লাওহ ও কলমের পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছে। তারা তাঁর বাণী: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, অতঃপর তাকে বললেন: লেখো" ৩ ইত্যাদি বর্ণনাটিকে সেই সৃষ্টির ওপর প্রয়োগ করেছেন যা এই আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে: {আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর} ৪। এটি আবু রাজিন বর্ণিত হাদিসের সদৃশ (نظير): "আমাদের রব তাঁর সৃষ্টিসমূহ সৃষ্টির পূর্বে কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি ছিলেন 'আমা'-তে (মেঘমালায়), যার ওপরেও কোনো বাতাস ছিল না এবং নিচেও কোনো বাতাস ছিল না, অতঃপর তিনি পানির ওপর তাঁর আরশ সৃষ্টি করেন" ৫। এই হাদিসে উল্লিখিত সৃষ্টির মধ্যে 'আমা' অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هو السحاب المذكور في قوله: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ} 1 إلخ. وفيه آثار معروفة.
(41) العبد مأمور بالصبر على المقدور، وأن يطيع المأمور، وإذا أذنب استغفر
كما قال تعالى {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ} 2 الآية. فمن احتج بالقدر على ترك الأمر، وجزع مما يكره من القدر، فقد عكس الإيمان والدين، وإن ادعى أنه من أكبر الأولياء المحققين. تجد أحدهم أجبر الناس إذا قدر، وأذل الناس إذا قهر، وأعظمهم جزعا، لما جربه الناس من أصناف الناس، والمؤمن إذا قدر عدل وأحسن، وإذا قهر صبر واحتسب، كما قال كعب:
ليسوا مفاريحا إن نالت رماحهم. وقال تعالى: {وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئاً} 3 الآية، وكذلك في آخر السورة وفي وسطها وفي يوسف: {إِنَّهُ مَنْ يَتَّقِ وَيَصْبِرْ} 4 الآية. فالصبر يدخل فيه الصبر على المقدور، والتقوى فعل المأمور وترك المحظور، فمن جمع هذا وهذا فقد جمع له الخير، بخلاف من عكس.
(42) لأهل التعطيل شبهات في العلو
يعارضون بها الكتاب والسنة، والإجماع والفطر، والدلائل العقلية؛ فإنها متفقة على أنه سبحانه فوق
--------------------------------------------
এটি সেই মেঘমালা যা আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত হয়েছে: {তারা কি কেবল এ অপেক্ষায় আছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় তাদের কাছে উপস্থিত হবেন} ১ ইত্যাদি। আর এ বিষয়ে সুপরিচিত আছার (آثار) রয়েছে।
(৪১) বান্দা নির্ধারিত তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করতে এবং যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করতে আদিষ্ট। আর যখন সে গুনাহ করে, তখন সে ক্ষমা প্রার্থনা করে;
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসার তাসবিহ পাঠ করুন} ২ আয়াতাংশ। সুতরাং যে ব্যক্তি আদেশ পালনের পরিবর্তে তাকদিরের দোহাই দেয় এবং তাকদিরে নির্ধারিত কোনো অপ্রীতিকর বিষয়ে বিলাপ করে, সে প্রকৃত ঈমান ও দ্বীনকেই উল্টে দিল; যদিও সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মুহাক্কিক (المحققين) অলিদের একজন বলে দাবি করে। আপনি তাদের কাউকে এমন পাবেন যে, সামর্থ্যবান হলে মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি জবরদস্তি করে, আর পরাজিত হলে সবচেয়ে হীন হয়ে পড়ে এবং মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির অভিজ্ঞতার আলোকে সে-ই হয় সবচেয়ে বেশি বিলাপকারী। পক্ষান্তরে মুমিন ব্যক্তি যখন সামর্থ্যবান হয়, তখন সে ইনসাফ ও ইহসান করে, আর যখন পরাভূত হয় তখন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে। যেমন কাব (রা.) বলেছেন:
"তাদের বর্শা লক্ষ্যভেদ করলে তারা অতি উল্লাসে মেতে ওঠে না।" আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না} ৩ আয়াতাংশ। একইভাবে এ সূরার শেষে ও মাঝখানে এবং ইউসুফ সূরায় বলা হয়েছে: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধারণ করে} ৪ আয়াতাংশ। সুতরাং তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করা সবরের অন্তর্ভুক্ত, আর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জন করা তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত। ফলে যে ব্যক্তি এই দুটি গুণের সমন্বয় করল, তার জন্য যাবতীয় কল্যাণ একত্রিত হলো; আর যে এর বিপরীত করল তার বিষয়টি ভিন্ন।
(৪২) যারা সিফাত অস্বীকারকারী (أهل التعطيل), আল্লাহর ঊর্ধ্বমুখিতা (العلو) প্রসঙ্গে তাদের কিছু সংশয় রয়েছে
যার মাধ্যমে তারা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ঐকমত্য (إجماع), স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং যৌক্তিক প্রমাণের বিরোধিতা করে। অথচ এই প্রমাণাদি এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উপরে (فوق)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مخلوقاته، وقد فطر الله على ذلك العجايز والصبيان، كما فطرهم على الإقرار بالخالق، قال صلى الله عليه وسلم "كل مولود يولد على الفطرة" 1 إلخ. هذا معنى قول عمر بن عبد العزيز: عليك بدين الأعراب والصبيان في الكتاب، أي: أن الله فطرهم على الحق، والرسل بعثوا بتكميل الفطرة، وتقديرها، وأعداؤهم يريدون تغييرها، ويوردون شبهات لا يفهمها كثير من الناس.
(43) ليس لأحد أن يتبع عورات العلماء،
ولا له أن يتكلم فيهم؛ فمن عدل عن الحجة إلى الظن والهوى فهو ظالم، وكذلك كل من آذى المؤمنين والمؤمنات بغير ما اكتسبوا. ومن عظم حرمات الله، وأحسن إلى عباد الله، فهو من أولياء الله.
(44) الذين استحلوا الدرهم بدرهمين يدا بيد، أجل قدرا ممن استحل النبيذ
فهؤلاء فهموا من الربا نوعا، وهؤلاء فهموا من الخمر نوعا، وهكذا من فهم من الميسر نوعا، وشمول الميسر لأنواعه كشمول الربا والخمر لأنواعهما.
(45) رجح رحمه الله فعل ذوات الأسباب في أوقات النهي.
الأمر بتحية المسجد عام، ونهيه عن الصلاة فيه عموم، لكن رأيناه نهى عن الصلاة عند الخطبة وهو متفق عليه، وهذا أشد من النهي في الأوقات، فأمره بعد أن قعد أن يقوم ويركع ركعتين ثم بين العموم بقوله: "إذا جاء أحدكم والإمام يخطب فليركع ركعتين وليتجوز فيهما" 2 والمنازع من أصحاب 3 يوافق عليهما، ولكن أصحاب أبي حنيفة ومالك طردوا قولهم فمنعوهما
--------------------------------------------
...তাঁর সৃষ্টিসমূহকে। আল্লাহ বৃদ্ধা ও শিশুদের এই স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন, যেমন তিনি তাদের মহান স্রষ্টাকে স্বীকার করে নেওয়ার স্বভাবজাত ধর্মের ওপর সৃষ্টি করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবজাত ধর্মের (ফিতরাত) ওপর জন্মলাভ করে" ১ ইত্যাদি। এটিই উমর বিন আব্দুল আজিজের এই বাণীর অর্থ: "তোমার জন্য মক্তবের বেদুঈন ও শিশুদের দ্বীন অবলম্বন করা আবশ্যক"; অর্থাৎ আল্লাহ তাদেরকে সত্যের ওপর সৃষ্টি করেছেন। আর রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন স্বভাবজাত ধর্মকে পূর্ণতা দান এবং তা সুসংহত করার জন্য। পক্ষান্তরে তাঁদের শত্রুরা তা পরিবর্তন করতে চায় এবং এমন সব সংশয় উত্থাপন করে যা সাধারণ অনেক মানুষ বুঝতে পারে না।
(৪৩) কারো জন্য আলেমদের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ানো বৈধ নয়,
কিংবা তাঁদের সমালোচনা করাও উচিত নয়। যে ব্যক্তি অকাট্য দলিল থেকে বিমুখ হয়ে ধারণা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে জালিম। অনুরূপভাবে ওই ব্যক্তিও জালিম যে মুমিন নর-নারীদেরকে তাদের কৃতকর্ম ব্যতিরেকে কষ্ট দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পবিত্র বিষয়সমূহকে সম্মান করে এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি ইহসান করে, সে আল্লাহর বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত।
(৪৪) যারা হাতে হাতে এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম নেওয়াকে হালাল মনে করেছে, তাদের মর্যাদা সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি যে 'নাবিজ' (এক প্রকার পানীয়) হালাল মনে করেছে। কেননা প্রথমোক্তরা সুদের একটি প্রকার বুঝেছে এবং শেষোক্তরা মদের একটি প্রকার বুঝেছে। অনুরূপভাবে যারা জুয়ার কোনো একটি প্রকারকে বুঝেছে; আর জুয়ার প্রকারভেদের ব্যাপকতা সুদ ও মদের প্রকারভেদের ব্যাপকতার মতোই।
(৪৫) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নিষিদ্ধ সময়ে কারণসংশ্লিষ্ট সালাত আদায় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তাহিয়াতুল মাসজিদের নির্দেশটি সাধারণ (عام), এবং ওই সময়ে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞাটিও ব্যাপক (عموم)। কিন্তু আমরা দেখেছি তিনি খুতবার সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন এবং এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। এটি নির্দিষ্ট সময়ের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও কঠোর। তা সত্ত্বেও জনৈক ব্যক্তি বসে পড়ার পর তিনি তাকে উঠে দাঁড়াতে এবং দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি এর ব্যাপকতা (عموم) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেন: "তোমাদের কেউ যখন আসে এমতাবস্থায় যে ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং তা সংক্ষেপে সম্পন্ন করে।" ২ [ইমাম আহমদের] অনুসারীদের ৩ মধ্য থেকে যারা দ্বিমত পোষণ করেন তারা এই দুই রাকাতের ব্যাপারে একমত, কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের অনুসারীরা তাদের সাধারণ মূলনীতি অনুযায়ী তা করতে নিষেধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولكن كلام الرسول صلى الله عليه وسلم حجة لكل أحد وعليه، بنصه وشبيهه، فدل نصه على التحية وقت الخطبة، وقياس الأولى على التحية بعد البردين، 1 وعلى أن الأمر بالركعتين مخصص كما خصص هنا وأولى، وفي الصحيحين أنه قال: لجابر "صل ركعتين" 2 أي تحية المسجد، فقد أمره بالصلاة ولم يعلله بالقعود، وقوله في الآخر فلا يقعد لأن العادة أنه يقعد، واحتج النسائي على عدم وجوبهما بحديث كعب بن مالك، وفيه: فلما سلمت قال: "تعال فجئت فجلست" إلخ، ثم ذكر حديث الرجلين اللذين لم يعيدا في مسجد الخيف، وهذا يبين أن هذا متأخر، وأنه ليس بمنسوخ، بل لو قدر التعارض لكان هو الناسخ، ويبين أن قوله: مسجد جماعة المراد به الجماعة الراتبة، سواء كانت تفعل في ذلك المكان دائما أو أحيانا، فإن مسجد الخيف إنما يصلى فيه في الموسم، فهذا نص صحيح صريح خاص أنه أمره بالإعادة وأخبر أنها نافلة، كما أمر الداخل وهو يخطب أن يصلي، والإمام أحمد أعلمهم بالنصوص، وأتبعهم لها، فلا يكاد يخالف نصا صريحا، وإنما قوله حيث فقد ذلك فقضى بالعامة على الخاصة من غير نزاع، واختلف فيما عدا ذلك، بخلاف غيره الذين لم يبلغهم ما بلغه، وقوله لا صلاة في يوم مرتين يؤكد ما قلنا، فإنه إذا نهى عن ذلك، وثبت عنه في الأحاديث الصحيحة الكثيرة أن إعادة الصلاة نافلة لسبب، وأمره بإعادتها لسبب، وجب اتباع أمره كله، ولم يجز أن نؤمن ببعضه، ونكفر ببعضه، فنجعل السنة عضين.
--------------------------------------------
কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী প্রত্যেকের জন্য এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একটি দলিল (حجة), তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) এবং এর অনুরূপ দলিলের মাধ্যমে। সুতরাং তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) খুতবার সময় (মসজিদে প্রবেশের) অভিবাদনের (তাহিয়াতুল মাসজিদ) ওপর প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং বারদাইন (ফজর ও আসর)-এর পরের অভিবাদনের ওপর অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য সাদৃশ্য (قياس الأولى) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এবং এটিও প্রমাণ করে যে দুই রাকাতের নির্দেশটি সাধারণ নিয়ম থেকে নির্দিষ্ট (مخصص), যেমনটি এখানে এবং আরও জোরালোভাবে নির্দিষ্ট (خصص) করা হয়েছে। সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জাবির (রা.)-কে বলেছিলেন: "দুই রাকাত সালাত আদায় করো," অর্থাৎ তাহিয়াতুল মাসজিদ; তিনি তাকে সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বসার কারণে একে কোনো কারণ দ্বারা স্থগিত করেননি। এবং অন্য বর্ণনায় তাঁর উক্তি "সে যেন না বসে", কারণ সাধারণত মানুষ বসেই থাকে। ইমাম নাসায়ি কাব ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস দ্বারা এই দুই রাকাত ওয়াজিব না হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন, যাতে রয়েছে: "যখন আমি সালাম দিলাম, তিনি বললেন: 'কাছে এসো', তখন আমি এসে বসলাম..." ইত্যাদি। এরপর তিনি সেই দুই ব্যক্তির হাদিস উল্লেখ করেছেন যারা মাসজিদুল খাইফে পুনরায় সালাত আদায় করেননি। এটি প্রমাণ করে যে এই ঘটনাটি পরবর্তী সময়ের এবং এটি রহিত (منسوخ) নয়। বরং যদি কোনো বৈপরীত্য (تعارض) কল্পনা করা হয়, তবে এটিই হবে রহিতকারী (ناسخ)। আর এটি আরও স্পষ্ট করে যে, তাঁর বাণী "জামাতের মসজিদ" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত (راتبة) জামাত, চাই তা সেই স্থানে সর্বদা অনুষ্ঠিত হোক বা মাঝে মাঝে। কারণ মাসজিদুল খাইফে কেবল হজের মৌসুমেই সালাত আদায় করা হয়। সুতরাং এটি একটি সহিহ (صحيح), সুস্পষ্ট (صريح) এবং সুনির্দিষ্ট (خاص) দলিল (نص) যে, তিনি তাকে পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে নফল (نافلة) হিসেবে অভিহিত করেছেন; যেমনটি তিনি খুতবা চলাকালীন প্রবেশকারী ব্যক্তিকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর ইমাম আহমাদ দলিলসমূহের (نصوص) ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং সেগুলোর সর্বাধিক অনুসরণকারী ছিলেন। তিনি সুস্পষ্ট কোনো দলিলের (نص) বিরোধিতা করতেন না। তাঁর অভিমত সেখানেই ছিল যেখানে সুনির্দিষ্ট দলিলের অভাব ছিল, তাই তিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই সাধারণ (عامة) দলিলকে বিশেষ (خاصة) দলিলের ওপর প্রাধান্য দিতেন। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে, অন্যদের তুলনায় যাদের কাছে সেই দলিলগুলো পৌঁছায়নি যা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। "দিনে দুবার সালাত নেই" - এই উক্তিটি আমাদের বক্তব্যকেই সমর্থন করে। কেননা তিনি যখন তা নিষেধ করেছেন, আবার অনেকগুলো সহিহ হাদিসের মাধ্যমে তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে কোনো বিশেষ কারণে সালাত পুনরায় আদায় করা নফল (نافلة), এবং তিনি কোনো কারণে পুনরায় সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন; তখন তাঁর সমস্ত নির্দেশের অনুসরণ করা ওয়াজিব (وجب) হয়ে পড়ে। আমাদের জন্য এটি জায়েজ নয় যে আমরা সুন্নাহর কিছু অংশ বিশ্বাস করব আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করব, যার ফলে সুন্নাহকে খণ্ডবিখণ্ড করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসাইল লাখখসাহাশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মিন কালামি ইবনু তাইমিয়্যাহ (মাতবু দিমনু মুআল্লাফাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানি আশার)
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(46) المنهي عنه من العادات والعبادات ثلاثة أنواع:
أحدها: ما لا يباح بحال كالكفر بالقلب، ومن هذا لو أكره على محرم كالميتة، وقلنا يباح كقول الأكثر وهو الأصلح، وقيل لا تباح الأفعال المحرمة بالإكراه، وقال تعالى: {وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مِنْ بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 1 أي لمن يكره على الفاحشة، لكن اعتقاد التحريم والكراهة للفعل لا بد منها، فإن إنكاره للمنكر من فعل غيره - بالقلب لا بد منه، فكيف فعله؟ ولهذا يكره الإنسان ابتداء على ذلك ثم يفعلها باختياره، كما في الإكراه على الحق؛ فإن الحربي يقاتل حتى يسلم، ثم ينشرح صدره للإسلام، فينفعه هذا دون الأول. كذلك الإكراه على المعاصي وهذا أصل عظيم يجب مراعاته. الثاني: ما يباح عند الضرورة كالميتة، وليس له أن يعتقد تحريمها حينئذ، ولا يكرهها.
الثالث: المباح للحاجة كالحرير للنساء، ويسيره للرجال، والله أرسل رسوله رحمة للناس، فإذا كان من المحرمات ما يحتاج إليه ورجحت المصلحة أبيح، فالصلاة وقت النهي من هذا القسم؛ فإن جنسها مباح بالإجماع، كالعصر عند الغروب، والجنايز بعد الفجر والعصر، فامتنع أنه من الذي لا يباح بحال، أو يباح ضرورة، فإذا كانت الحاجة لمصلحة دنيوية يكون حاجة، فالدينية أولى، فإن ما يفوت الزوجة من عدم لباسها الحرير لا نسبة إلى ما يفوته من مصالح هذه العبادات، قال تعالى: {انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} 2 الآية، وبهذا يظهر الفرق بين ذات السبب
--------------------------------------------
(46) নিষিদ্ধ (المنهي عنه) অভ্যাস ও ইবাদত (العبادات) তিন প্রকার:
প্রথমত: যা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়, যেমন অন্তরে কুফরি পোষণ করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো হারাম (محرم) কাজে বাধ্য করা, যেমন মৃত জন্তু (الميتة)। আমরা বলি যে, এটি বৈধ—যেমনটি অধিকাংশ ফকিহ বলেছেন এবং এটিই অধিকতর সঠিক; কেউ কেউ বলেছেন যে, জবরদস্তির মাধ্যমেও হারাম (محرم) কাজ বৈধ হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা তাদেরকে বাধ্য করে, তাদের সেই জবরদস্তির পর আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} ১ অর্থাৎ যাকে অশ্লীল কাজে বাধ্য করা হয় তার জন্য। তবে সেই কাজের প্রতি অন্তরে হারামের বিশ্বাস ও ঘৃণা থাকা অপরিহার্য। কেননা অন্যের মন্দ কাজকে অন্তরে ঘৃণা (إنكار المنكر) করা যদি আবশ্যক হয়, তবে নিজের কৃত কাজের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে? এই কারণেই মানুষকে প্রাথমিকভাবে কোনো কাজের ওপর বাধ্য করা হয়, অতঃপর সে নিজ ইচ্ছায় তা সম্পাদন করে; যেমনটি সত্যের ওপর বাধ্য করার ক্ষেত্রে ঘটে। যেমন কোনো হারবি (الحربي) ব্যক্তি ততক্ষণ লড়াই করে যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে, অতঃপর ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মোচিত হয়। ফলে এটি তার উপকারে আসে, যা পূর্বের অবস্থার ক্ষেত্রে হতো না। পাপকাজের (المعاصي) ওপর বাধ্য করার বিষয়টিও তদ্রূপ। এটি একটি মহান মূলনীতি যা লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত: যা নিরুপায় অবস্থায় (ضرورة) বৈধ হয়, যেমন মৃত জন্তু (الميتة)। এমতাবস্থায় সেটিকে হারাম (تحريم) মনে করা বা ঘৃণা করা তার জন্য সংগত নয়।
তৃতীয়ত: যা সাধারণ প্রয়োজনে (حاجة) বৈধ, যেমন নারীদের জন্য রেশমি কাপড় এবং পুরুষদের জন্য এর সামান্য পরিমাণ। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মানুষের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছেন। সুতরাং যখন হারাম (محرم) বিষয়গুলোর মধ্যে এমন কিছু থাকে যার প্রয়োজন দেখা দেয় এবং জনকল্যাণের (المصلحة) দিকটি প্রবল হয়, তখন তা বৈধ করা হয়। নিষিদ্ধ সময়ে সালাত আদায় করা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর মূল ধরনটি সর্বসম্মতভাবে (الإجماع) বৈধ, যেমন সূর্যাস্তের সময় আসরের সালাত এবং ফজর ও আসরের পর জানাজা। সুতরাং এটি এমন বিষয় নয় যা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়, অথবা যা কেবল নিরুপায় অবস্থায় (ضرورة) বৈধ। যদি পার্থিব কোনো কল্যাণ অর্জনের বিষয়কে ‘প্রয়োজন’ (حاجة) হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে ধর্মীয় কল্যাণ তো অধিকতর অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। কারণ রেশমি কাপড় পরিধান করতে না পারার কারণে একজন স্ত্রীর যে ক্ষতি হয়, তা এই ইবাদতগুলোর (العبادات) কল্যাণ (المصلحة) হাতছাড়া হওয়ার তুলনায় নগণ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {দেখুন, আমি তাদের একদলকে অপরের ওপর কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।} ২ আয়াতটি। এর মাধ্যমেই নির্দিষ্ট কারণবিশিষ্ট (ذات السبب) বিষয়ের পার্থক্য স্পষ্ট হয়।
--------------------------------------------