(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
أضواء على أوضاعنا السياسية   (عبد الرحمن بن عبد الخالق)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أضواء على أوضاعنا السياسية

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الخالق اليوسف

الناشر: دار القلم، الكويت

الطبعة: الأولى: 1398 هـ - 1978 م

عدد الصفحات: 218

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত   (আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল খালিক)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল খালিক আল-ইউসুফ

প্রকাশক: দারুল কলম, কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম: ১৩৯৮ হিজরি - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
أضواء على أوضاعنا السياسية

 

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتدي، ومن يضلل فلن تجد له ولياً مرشداً، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

وبعد

فإن أعداء الإسلام من الصليبيين، واليهود والملاحدة في هجمتهم الثانية على بلاد الإسلام لم يكتفوا بهزيمة المسلمين العسكرية، بل عمدوا إلى خلافة الإسلام فأزالوها، وكانت رمزاً تجمع شتات المسلمين، ثم عمدوا إلى أوطان المسلمين فمزقوها أوطاناً وأقاليم، وأقاموا في كل موطن وإقليم سلطاناً موالياً لنفوذهم ينفذ سياستهم بالترغيب والترهيب والحماية، ثم عمدوا إلى مناهج التعليم والتربية فصبغوها بصبغتهم في الإلحاد والكفر وأنشأوا بذلك أجيالاً من أبناء المسلمين يعادون دينهم، ويتنكرون لتاريخهم وأمتهم، ثم عمدوا إلى الدين والحق فحاصروه في نفوس أتباعه، وضيقوا الخناق عليه في كل مكان، واضطروا أهله إلى النجاة بأنفسهم أو تحمل صنوف
আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর

নিশ্চয়ই ইসলামের শত্রু ক্রুসেডার, ইহুদি এবং নাস্তিকরা মুসলিম দেশগুলোর ওপর তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের আক্রমণে কেবল মুসলিমদের সামরিক পরাজয় ঘটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা ইসলামের খিলাফত ব্যবস্থার মূলে আঘাত হেনে তা বিলুপ্ত করেছে, যা ছিল মুসলিমদের অনৈক্য ঘুচিয়ে একত্রিত করার একটি প্রতীক। অতঃপর তারা মুসলিমদের স্বদেশভূমিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সেগুলোকে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও অঞ্চলে খণ্ডবিখণ্ড করেছে। তারা প্রতিটি রাষ্ট্র ও অঞ্চলে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তির অনুগত এমন সব শাসক নিযুক্ত করেছে যারা প্রলোভন, ভীতি প্রদর্শন এবং সুরক্ষার বিনিময়ে তাদেরই রাজনীতি বাস্তবায়ন করে। এরপর তারা শিক্ষা ও দীক্ষার পাঠ্যক্রমের দিকে মনোনিবেশ করে সেগুলোকে নাস্তিক্যবাদ ও কুফরের রঙে রঞ্জিত করেছে। এর মাধ্যমে তারা মুসলিম সন্তানদের মধ্য থেকে এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলেছে যারা তাদের নিজেদের দ্বীনের সাথে শত্রুতা করে এবং তাদের ইতিহাস ও উম্মাহকে অস্বীকার করে। এরপর তারা দ্বীন ও সত্যকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এর অনুসারীদের অন্তরে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে এবং প্রতিটি স্থানে এর পথকে সংকুচিত করে দিয়েছে। তারা এর অনুসারীদেরকে বাধ্য করেছে হয় নিজেদের জান বাঁচিয়ে পালিয়ে যেতে অথবা বিভিন্ন প্রকারের...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
العذاب والبلاء، ثم شنوا بعد ذلك هجمة شرسة بأقلام وألسنة تقطر السم فشككوا في كل عقيدة من عقائد الدين، وأقاموا الشبه على كل فرعية من فرعياته، حتى أصبح الطريق إلى الله معوجاً للسالكين، فلا يكاد يهتدي إلى الإسلام أحد من أبنائه، حتى يقابل بسيل جارف من التشكيك والشبهات، ثم واصل الأعداء حملتهم على الجذور الإسلامية يريدون استئصالها والقضاء عليها حتى يسلم لهم فصل المسلمين عن أنفسهم وتاريخهم وبذلك يصبحون قطيعاً وراء كل ناعق.. وقد كان.

 

* ولن يستقيم للمسلمين أمرهم وترد إليهم مكانتهم وعزتهم إلا بإصلاح جذري كامل يستهدف تغيير العقلية الإسلامية، حيث ترتكز على الإيمان بالإسلام قولاً وعملاً، ويستنير بهدي القرآن والسنة في كل شأن من شؤون الحياة، وتكون أجيال هذه الأمة حلقات في سلسلة واحدة منذ محمد صلى الله عليه وسلم إلى أن يقاتل آخرهم الدجال.. ولابد أن يشمل هذا الإصلاح توافر الحياة كلها، وهذه المقالات محاولة للإصلاح السياسي الذي هو بمثابة الرأس في الأمة والذي يجب أن يتجه الإصلاح إليه قبل كل شيء فصلاح الراعي لصلاح الرعية، ونحن نرى أن إصلاح السياسة يكون بتقديم النصح للولاة، ووزن أعمالهم بميزان الكتاب والسنة وهما الحكم على كل شيء لأنهما معصومان، ولأن هذه الشعوب شعوب إسلامية تنتمي إلى الإسلام، ويجب أن تساس وفق مبادئه وعقائده، ومن حق هذه الشعوب أن تعلم الحق في أخطر قضاياها وهي القضايا السياسية حتى لا تقاد كما تقاد السائمة ليس لها من أمرها شيء، بل من حقها أن تستشار وتسأل عن إبرام أي شيء.

وقد كان لهذه المقالات التي نشرت تباعاً في مقالات
আযাব ও বালা-মুসিবত, অতঃপর তারা বিষাক্ত কলম ও জবান দিয়ে এক ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করে। ফলে তারা দ্বীনের প্রতিটি আকিদা বা বিশ্বাসের (عقيدة) ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে এবং এর প্রতিটি গৌণ বিষয়ের (فرعية) ওপর সংশয় আরোপ করে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পথ পথিকদের জন্য বক্র হয়ে যায়। এমনকি এই উম্মতের সন্তানদের মধ্যে কেউ ইসলামের হেদায়েত প্রাপ্ত হতে না হতেই সংশয় ও সন্দেহের এক প্রবল স্রোতের সম্মুখীন হয়। এরপর শত্রুরা ইসলামি মূলভিত্তিগুলোর ওপর তাদের অভিযান অব্যাহত রাখে; তারা এগুলোকে সমূলে উৎপাটন ও নিশ্চিহ্ন করতে চায় যাতে তারা মুসলমানদেরকে তাদের নিজ সত্তা ও ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং এর ফলে তারা যেন প্রতিটি উচ্চবাচ্যকারীর পেছনে পালের মতো চলতে শুরু করে.. আর তা-ই হয়েছে।

 

* আর মুসলমানদের অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না এবং তাদের মর্যাদা ও সম্মান ততক্ষণ ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না একটি পূর্ণাঙ্গ আমূল সংস্কার সাধিত হয়, যার লক্ষ্য হবে মুসলিম মানসকে পরিবর্তন করা। এই মানস কথা ও কাজে ইসলামের প্রতি ঈমানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর (السنة) হেদায়েতের আলোয় উদ্ভাসিত হবে। আর এই উম্মতের প্রজন্মসমূহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুরু করে তাদের শেষ ব্যক্তিটি দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন শিকলের কড়া হয়ে থাকবে। এই সংস্কার জীবনের সকল ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। আর এই প্রবন্ধগুলো মূলত রাজনৈতিক সংস্কারের একটি প্রচেষ্টা মাত্র, যা উম্মতের জন্য মস্তকস্বরূপ এবং সবকিছুর আগে এই সংস্কারের দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। কেননা শাসকের সংশোধনই প্রজাসাধারণের সংশোধনের পূর্বশর্ত। আমরা মনে করি যে, রাজনীতির সংস্কার হতে পারে শাসকদের নসিহত করার মাধ্যমে এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) মানদণ্ডে যাচাই করার মাধ্যমে। এই দুটিই হলো সবকিছুর ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী কারণ তারা উভয়ই অভ্রান্ত (معصوم)। যেহেতু এই জাতিগুলো ইসলামি জাতি যারা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের শাসন অবশ্যই ইসলামের মূলনীতি ও আকিদা বা বিশ্বাসের (عقيدة) আলোকে হতে হবে। আর এই জাতিগুলোর অধিকার আছে যে তারা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ রাজনৈতিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে সত্য জানবে, যাতে তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর (سائمة) মতো হাঁকিয়ে নেয়া না হয় যাদের কোনো এখতিয়ার নেই; বরং তাদের অধিকার আছে যে তাদের সাথে পরামর্শ করা হবে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে।

আর এই প্রবন্ধগুলো যা ধারাবাহিকভাবে নিবন্ধসমূহে প্রকাশিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
أسبوعية بعنوان "منبر الجمعة" في جريدة الوطن الكويتية أثر بالغ بحمد الله وتوفيقه في كشف كثير من قضايا السياسات الملتوية لأعداد هذه الأمة، وفي تبصير كثير من أبناء الإسلام بالسياسة الواجب اتباعها في هذه المرحلة الراهنة من حياة الأمة، ويأتي نشرها في كتاب تحقيقاً لفائدة أعظم والله نسأل أن يكون عملنا هذا خالصاً، وأن يوفقنا في جميع أعمالنا إلى ما يحبه ويرضاه.

12ربيع أول سنة 1398هـ

الموافق 20فبراير سنة 1978م

عبد الرحمن عبد الخالق
কুয়েতের ‘আল-ওয়াতান’ পত্রিকায় "মিনবারুল জুমুআহ" শিরোনামের সাপ্তাহিক কলামটি, আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে, এই উম্মতের শত্রুদের বহু কুটিল রাজনৈতিক চক্রান্ত উন্মোচনে এবং উম্মতের জীবনের বর্তমান এই পর্যায়ে ইসলামের বহু সন্তানকে যে রাজনীতি অনুসরণ করা আবশ্যক সে বিষয়ে সচেতন করার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। বৃহত্তর কল্যাণ সাধনের নিমিত্তে এগুলো এখন গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন আমাদের এই আমলটি একনিষ্ঠ (خالصاً) হয় এবং তিনি আমাদের সকল কাজে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক পথে চলার তাওফিক দান করেন।

১২ রবিউল আউয়াল, ১৩৯৮ হিজরি

২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ

আবদুর রহমান আবদুল খালিক
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الدين والحياة

مازال كثير من الناس يطلق كلمة "الدين" على أمور التعبد والتقرب كالصلاة والصيام والزكاة والحج ولا يعلم أن التعبد هذا جزء من الدين، وليس الدين كله، فالدين عند الله هو الإسلام، والإسلام هو الانقياد والإذعان لله سبحانه وتعالى في كل أوامره ونواهيه، وقد شملت أوامر الله ونواهيه لنا الحياة بأسرها، فليس من شأن من شؤون حياتنا إلا ولله سبحانه وتعالى له فيه حكم، فحياتنا الاجتماعية والاقتصادية والسياسية قد وضع الله لنا أصول التعامل فيها، وفصل بعض جوانبها تفصيلاً كاملاً، وإن كانت بعض جوانبها قد أجملها، وترك لنا التفريع والابتكار والتجديد، وهذه النواحي أعني الاجتماع والاقتصاد والسياسة هي أهم أمور البشر على ظهر هذه الدنيا وما كان الله ليتركها عبثاً أو سدى أو للتخبط والتجريب، وقد جهل الناس أحكام هذه الجوانب من جراء إزاحة الإسلام عنها واستبدلوا بأحكام الإسلام فيها أحكاماً أخرى من صنع البشر لاقى الناس منها الظلم والويلات.

 

ونحن بجهدنا المتواضع ومن هذا المنبر سنحاول جاهدين بحول الله وقوته جلاء أحكام الإسلام، في هذه الجوانب المهمة من جوانب حياة الناس، وليكون هذا إسهاماً في إعادة الإسلام
দীন ও জীবন

এখনও অনেক মানুষ "দীন" শব্দটি কেবল ইবাদত এবং নৈকট্য লাভের বিষয়াদি যেমন—নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে। তারা জানে না যে, এই ইবাদত দীনের একটি অংশ মাত্র, সমগ্র দীন নয়। আল্লাহর নিকট মনোনীত একমাত্র দীন হলো ইসলাম। আর ইসলাম হলো মহান আল্লাহর সকল আদেশ ও নিষেধের প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য (الانقياد والإذعان) করা। আল্লাহর আদেশ ও নিষেধসমূহ আমাদের সমগ্র জীবনকে পরিব্যপ্ত করে আছে। আমাদের জীবনের এমন কোনো বিষয় নেই যাতে মহান আল্লাহর কোনো বিধান (حكم) নেই। আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনেও আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য লেনদেনের মূলনীতি (أصول) নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং এর কিছু দিক পূর্ণাঙ্গভাবে বিস্তারিত (تفصيل) বর্ণনা করেছেন। যদিও কিছু দিক তিনি সংক্ষেপে (إجمال) বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের জন্য শাখা-প্রশাখা তৈরি, উদ্ভাবন ও সংস্কারের সুযোগ রেখেছেন। সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির এই ক্ষেত্রগুলোই দুনিয়ার বুকে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ তাআলা এগুলোকে বৃথা, উদ্দেশ্যহীন অথবা বিশৃঙ্খলা ও পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ছেড়ে দিতে পারেন না। এই ক্ষেত্রগুলো থেকে ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে মানুষ এগুলোর বিধান (أحكام) সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়েছে এবং ইসলামের বিধানের পরিবর্তে মানুষের তৈরি করা অন্যান্য বিধান গ্রহণ করেছে, যার ফলে মানুষ জুলুম ও চরম দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছে।

 

আমরা আমাদের বিনম্র প্রচেষ্টায় এবং এই মঞ্চ থেকে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে মানুষের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে ইসলামের বিধানসমূহ (أحكام) সুস্পষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করব, যাতে এটি ইসলামকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি অবদান হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
إلى هذه المواقع التي أزيح منها بفعل الاستعمار والجهل وسنرى أننا بالإسلام نحيا الحياة الحقيقية التي ملؤها الحرية والسعادة والعزة، وبدونه نحيا حياة أشبه بحياة الأنعام والدواب، وصدق الله القائل: {أو من كان ميتاً فأحييناه وجعلنا له نوراً يمشي به في الناس كمن مثله في الظلمات ليس بخارج منها} .. فالكافر والغافل ميت والمؤمن حي لأنه عرف ربه وعرف سبل السعادة الحقيقية في الدنيا والآخرة.
সেই সকল সুউচ্চ অবস্থানের দিকে, যেখান থেকে উপনিবেশবাদ ও অজ্ঞতার কারণে তা অপসারিত হয়েছিল। আমরা দেখতে পাব যে, ইসলামের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত জীবন যাপন করি যা স্বাধীনতা, সুখ ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ; আর ইসলাম ব্যতিরেকে আমরা এমন জীবন যাপন করি যা গবাদি পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর জীবনের সদৃশ। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবন দান করেছি এবং তার জন্য একটি আলো দান করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির ন্যায় হতে পারে যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না?} .. সুতরাং কাফির ও অসতর্ক (غافل) ব্যক্তি মৃত এবং মুমিন ব্যক্তি জীবিত; কারণ সে তার প্রতিপালককে চিনেছে এবং ইহকাল ও পরকালে প্রকৃত সুখের পথসমূহ অবগত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌فلنسم الأشياء بأسمائها

الأسماء هي العناوين التي نطلقها على المسميات ومن خلالها نتعرف على ما أطلقت عليه، فإذا سمعنا -مثلاً- لفظ الشجاعة فإننا نتصور في عقولنا صفة حميدة تعني الإقدام والجرأة، ورباطة الجأش، وعزيمة القلب، وإذا سمعنا لفظ الخيانة تصورنا معنى واضحاً محدداً، فإذا قلنا إن فلاناً شجاع وقع في نفوسنا إنصاف هذا المذكور بهذه الصفة، وهكذا في كل ما يوصف به الأفراد والأشياء، والمقصود إننا نتعرف على الأشياء من خلال الأسماء التي نطلقها نحن عليها، فما بالكم إذا أطلقنا أسماء مغايرة تماماً للمسميات التي نقصدها، فنطلق مثلاً على النار لفظ الماء وعلى البارد لفظ الحار، عل الخيانة لفظ الظرافة (وخفة الدم) ، وعلى الشجاعة لفظ التهور والجنون، لا شك أننا سنعيش في فوضى لا حد لها، بل سنعيش في عالم مختلط مضطرب.

* وهذا الذي افترضه ليس فرضاً بعيداً، وإنا هو واقع نمارسه الآن ونعيشه، إننا نعيش الآن عصراً يصح أن نسميه عصر فوضى الأسماء، فلست واجداً شيئاً قد تسمى باسمه -الذي يجب أن يتسمى به- إلا القليل النادر وهاكم البيان:

إذا طالعنا قاموسنا السياسي بكل ألفاظه المتداولة بين
আসুন আমরা বিষয়সমূহকে তাদের প্রকৃত নামে অভিহিত করি

নাম হলো সেই শিরোনাম যা আমরা বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করি এবং এর মাধ্যমেই আমরা সেই নামকৃত বিষয় সম্পর্কে পরিচিত হই। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা 'সাহস' শব্দটি শুনি, তখন আমাদের মনে এক প্রশংসনীয় গুণের চিত্র ফুটে ওঠে, যার অর্থ হলো সাহসিকতা, নির্ভীকতা, ধৈর্য এবং হৃদয়ের দৃঢ়তা। আর যখন আমরা 'বিশ্বাসঘাতকতা' শব্দ শুনি, তখন আমাদের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অর্থ প্রতিভাত হয়। সুতরাং যখন আমরা বলি অমুক ব্যক্তি সাহসী, তখন আমাদের অন্তরে এই বিশ্বাস জন্মায় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই গুণের যথার্থ অধিকারী। ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি বর্ণনার বেলাতেই এটি প্রযোজ্য। সারকথা হলো, আমরা যে নামগুলো প্রদান করি তার মাধ্যমেই আমরা বিষয়সমূহকে চিনতে পারি। কিন্তু আমরা যদি বিষয়বস্তুর সংজ্ঞার সম্পূর্ণ বিপরীত কোনো নাম প্রদান করি, তবে বিষয়টি কেমন দাঁড়াবে? উদাহরণস্বরূপ, আগুনের নাম যদি দিই 'পানি' আর শীতল বস্তুর নাম দিই 'উষ্ণ'; কিংবা যদি বিশ্বাসঘাতকতার নাম দিই 'চাতুর্য' (ও রসিকতা) আর সাহসের নাম দিই 'উন্মাদনা ও হঠকারিতা'। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা এক সীমাহীন বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিপতিত হব, বরং আমরা এক জগাখিচুড়ি ও অস্থির পৃথিবীতে বসবাস করব।

* আমি এখানে যে বিষয়টি কল্পনা করছি তা কোনো অমূলক ধারণা নয়, বরং এটিই বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি যা আমরা চর্চা করছি এবং যার মধ্য দিয়ে আমরা অতিবাহিত করছি। আমরা বর্তমানে এমন এক যুগে বাস করছি যাকে 'নামকরণের বিশৃঙ্খলার যুগ' বলে অভিহিত করা যথার্থ। অতি সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া আমি এমন কোনো বিষয় খুঁজে পাচ্ছি না যা তার যথার্থ নামে অভিহিত হচ্ছে। এর বর্ণনা নিম্নরূপ:

আমরা যদি আমাদের রাজনৈতিক অভিধান এবং সেখানে প্রচলিত সকল শব্দাবলির দিকে দৃষ্টিপাত করি যা মূলত...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أيدينا وجدنا أنها موضوعة في غير مواضعها ومنطوقة على غير معانيها وفي غير أماكنها، فالهزيمة المنكرة نكسة والهاء الشعوب ترفيه، والاستبداد حزم، وإفساد الناشئة تربية، ومحاربة الفساد تعني في هذا القاموس قمع الذين يأمرون بالقسط والعدل من الناس والكذب والخيانة سياسة وذكاء.

 

ألسنا يا قوم نسمي الإذعان للعدو والاستسلام له والرضى بالذل حلاً!! وسلمياً أيضاً، وقد نتصافح فنسميه صلحاً، والحال هذا لا يجوز أن يسمى حلاً ولا سلماً، ولا صلحاً ولا شيئاً من هذا أصلاً، والمثال واضح وسهل، فأنت لو جاءك عدو فلطمك على وجهك وأخرجك من منزلك الذي تملكه، ثم أراد منك أن توقع أمام الناس وثيقة تثبت تنازلك عن دارك، وفعلت هذا الذي أراده ثم قابلت الناس فسألوك عما صنعت مع عدوك فقلت لهم: تصالحت معه، وحللت قضيتي معه سلمياً.. لضحك الناس منك (وهنأوك على شجاعتك) آسف لوبخوك على جبنك هذا إذا لم تكن لك مقدرة على إخراجه، وأما إذا كنت قادراً على إخراجه وقلت ذلك لبصقوا في وجهك ولعجبوا من وقاحتك.

وحالنا مع أعدائنا من اليهود ليس بعيداً عن ذلك، فهم مغتصبون والذين أخرجوا من ديارهم وملكها اليهود بعدهم لم يموتوا بعد، ونحن إما أن نكون غير قادرين على إخراجهم فمن (العبث) أن نقرهم على الباطل وآسف لاستعمالي كلمة العبث وهي والله كلمة في غير موضعها!! وأما أن نكون قادرين على إخراجهم.. فهل نسمي ما نفعله الآن معهم سلماً وصلحاً وحلاً.. حرام عليكم لا تظلموا الكلمات.

وإن تركنا القاموس السياسي وجئنا إلى قاموسنا الاجتماعي وجدنا العجب: هذه التفاهة التي تطالعنا كل يوم
আমাদের হাতে যা এসেছে, তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে শব্দগুলোকে তাদের সঠিক প্রেক্ষাপটের বাইরে রাখা (موضوع) হয়েছে এবং সেগুলোর মূল অর্থ ও স্থান পরিবর্তন করে প্রয়োগ করা হচ্ছে। চরম অগ্রহণযোগ্য (منكر) পরাজয়কে বলা হচ্ছে 'বিপর্যয়', জাতিসমূহকে বিভ্রান্ত রাখাকে বলা হচ্ছে 'বিনোদন', স্বৈরাচারকে বলা হচ্ছে 'দৃঢ়তা' এবং নতুন প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় ঘটানোকে বলা হচ্ছে 'প্রতিপালন বা শিক্ষা'। এই অভিধানে 'দুর্নীতি দমন'-এর অর্থ হলো সেই সব মানুষকে দমন করা যারা ন্যায় ও ইনসাফ (عدل) কায়েমের আদেশ দেয়, আর মিথ্যা ও খেয়ানতকে বলা হচ্ছে 'রাজনীতি' ও 'বুদ্ধিমত্তা'।

 

হে আমার জাতি! আমরা কি শত্রুর কাছে নতিস্বীকার, আত্মসমর্পণ এবং লাঞ্ছনা মেনে নেওয়াকে 'সমাধান' বলছি না!! এমনকি একে 'শান্তিপূর্ণ'ও বলছি। কখনো আমরা করমর্দন করি এবং তাকে 'সন্ধি' হিসেবে অভিহিত করি; অথচ এই অবস্থাকে কোনোভাবেই সমাধান, শান্তি কিংবা সন্ধি বলা বৈধ নয় এবং আদতে এর কোনোটিই এটি নয়। উদাহরণটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সহজ: মনে করুন, কোনো শত্রু আপনার কাছে এসে আপনার গালে চড় মারল এবং আপনার মালিকানাধীন ঘর থেকে আপনাকে বের করে দিল। এরপর সে চাইল আপনি লোকসমক্ষে এমন এক দলিলে স্বাক্ষর করুন যা আপনার ঘরের ওপর থেকে আপনার অধিকার ত্যাগের প্রমাণ দেয়। আপনি তার চাওয়া অনুযায়ী কাজ করলেন এবং এরপর লোকজনের সাথে দেখা হলে তারা যখন আপনার শত্রুর সাথে আপনার আচরণের বিষয়ে জিজ্ঞেস করল, তখন আপনি বললেন: "আমি তার সাথে সন্ধি করেছি এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমার সমস্যার সমাধান করেছি।" তবে মানুষ আপনাকে দেখে হাসবে; (আপনার সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন জানাবে)—দুঃখিত, তারা আপনার কাপুরুষতার জন্য আপনাকে তিরস্কার করবে, যদি তাকে বের করে দেওয়ার সামর্থ্য আপনার না থাকে। আর যদি তাকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আপনি এমনটি বলতেন, তবে তারা আপনার মুখে থুতু দিত এবং আপনার নির্লজ্জতা দেখে বিস্মিত হতো।

ইহুদি শত্রুদের সাথে আমাদের অবস্থাও এর থেকে ভিন্ন কিছু নয়। তারা জবরদখলকারী; আর যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং যাদের সহায়-সম্পদ এখন ইহুদিদের দখলে, তারা এখনও মৃত্যুবরণ করেনি। এখন হয় আমরা তাদের বের করে দিতে অপরাগ, আর এমতাবস্থায় এই বাতিলের ওপর তাদের স্বীকৃতি দেওয়াটা 'অর্থহীন' ছাড়া আর কিছুই নয়। আল্লাহর কসম! আমি এই 'অর্থহীন' শব্দটি ব্যবহার করার জন্য দুঃখিত, কারণ এটিও এখানে একটি অনুপযুক্ত শব্দ!! আর যদি আমরা তাদের বের করে দিতে সক্ষম হই, তবে বর্তমানে আমরা তাদের সাথে যা করছি তাকে কি আমরা শান্তি, সন্ধি বা সমাধান বলতে পারি? আপনাদের ওপর আক্ষেপ! দয়া করে শব্দের ওপর অন্তত জুলুম করবেন না।

আমরা যদি রাজনৈতিক অভিধান ছেড়ে আমাদের সামাজিক অভিধানের দিকে লক্ষ্য করি, তবে সেখানেও বিস্ময়কর কিছু দেখতে পাব: এই সেই তুচ্ছতা যা প্রতিদিন আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
على صفحات الجرائد من أن فلانة أعدت العدة لاستقبال زوجها، وتلك احتفلت ودعت الصديقات لأنها عزمت على مذاكرة دروسها، والثالثة عزمت على تغيير فراش بيتها وذلك الطرطور دعا الأصدقاء ليهنئوا زوجته بعيد ميلادها، كل هذا ومثله كثير يقزز النفس كان ينبغي أن يوضع تحت عنوان: أخبار التافهين والتافهات، وهكذا وجدنا في مصطلحنا الاجتماعي الدياثة (وتعني رضا الرجل بالفاحشة على أهله) رقياً وواقعيه، والخيانة في الأهل والمال صداقة وزمالة، ووجدنا ويا لداهية!! كل هذا الخنا والفجور والتفاهة في التأليف والتمثيل والإخراج فناً، وكل أولئك التافهين والتافهات أبطالاً.. أرثي لهذه الكلمة (البطل) كيف رضيت بأن توضع في غير موضعها.

وإذا جئنا إلى قاموسنا الديني فالعجب لا ينقطع فالتمسك بالإسلام أضحى تعصباً، والكفر بكل ما جاء به الرسول أضحى تطوراً، ورد أحكام الله والتعقيب عليه أمسى تفكراً وتعقلاً، ولفظ المسلم يدل على كل هذا السقط من الناس الذي لا يعرف ولا يعمل ولا يؤمن بإسلام أصلاً، وأما الكفر فهو عتقاء مغرب (شيء لا وجود له) في كل بلاد الضاد والحال أنه يطالعك مجسماً أينما توجهت، وهل الكفر إلا رد الحق بعد بيانه؟

 

وهؤلاء الذين يتأكلون بالدين، ويقولون على الله ورسوله ما لم يقله الله ورسوله، ويفتون كل إنسان بما يشتهي، ويلوكون كلمات يرددونها كالببغاوات بلا فقه ولا عمل نسميهم -زوراً- علماء الإسلام.

قال أحد الصحابة في عهد بني أمية: لو خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يعرف مما كان يعهد شيئاً إلا أنكم تصلون جميعاً، فكيف لو خرج رسول الله الآن، هل تجد شيئاً من دينه
সংবাদপত্রের পাতায় পাতায় দেখা যায় অমুক নারী তার স্বামীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যজন উদযাপন করছেন এবং বান্ধবীদের দাওয়াত দিচ্ছেন কারণ তিনি তার পড়াশোনা ঝালিয়ে নেওয়ার সংকল্প করেছেন, তৃতীয় জন তার ঘরের বিছানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর সেই নির্বোধ ব্যক্তিটি তার স্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তাকে অভিনন্দন জানাতে বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছে; এই সবকিছু এবং এর মতো আরও অনেক কিছু যা মনকে বিষিয়ে তোলে, তার শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল: "অপদার্থ নর-নারীদের সংবাদ"। এভাবেই আমরা আমাদের সামাজিক পরিভাষায় দাইয়ুসি (الدياثة) (যার অর্থ নিজের পরিবারের অশ্লীলতায় পুরুষের সন্তুষ্ট থাকা)-কে আভিজাত্য ও বাস্তবতা হিসেবে পেয়েছি; আর পরিবার ও সম্পদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকে পেয়েছি বন্ধুত্ব ও সহকর্মী হিসেবে। আমরা পেয়েছি—হায় কী বিড়ম্বনা!—রচনা, অভিনয় ও পরিচালনার এই সমস্ত অশ্লীলতা, পাপাচার ও অসারতাকে ‘শিল্প’ হিসেবে, আর সেইসব অসার ব্যক্তিদের ‘বীর’ হিসেবে। আমি ‘বীর’ শব্দটির জন্য শোক প্রকাশ করছি, কীভাবে এটি তার অনুপযুক্ত স্থানে ব্যবহৃত হতে রাজি হলো!

আর যদি আমাদের ধর্মীয় অভিধানের দিকে আসি, তবে বিস্ময় শেষ হয় না। ইসলামের ওপর অবিচল থাকা আজ গোঁড়ামিতে পরিণত হয়েছে, আর রাসুল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি কুফরি (الكفر) করা আজ প্রগতিতে রূপ নিয়েছে। আল্লাহর বিধানসমূহ প্রত্যাখ্যান করা এবং সেগুলোর ওপর সমালোচনা করা আজ চিন্তাশীলতা ও বিচারবুদ্ধি বলে গণ্য হচ্ছে। আর ‘মুসলিম’ শব্দটি এখন এমন এক নিম্নমানের জনসমষ্টির ওপর প্রযুক্ত হয় যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না, আমল করে না এবং মূলত ইসলামে বিশ্বাসও করে না। অন্যদিকে কুফরি (الكفر) যেন ‘মগরিবের মুক্ত দাস’ (এমন কিছু যার অস্তিত্ব নেই) হয়ে দাঁড়িয়েছে সমস্ত আরবিভাষী ভূখণ্ডে, অথচ বাস্তবতা হলো আপনি যেখানেই মুখ ফেরাবেন এটি মূর্ত হয়ে আপনার সামনে হাজির হবে। সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করার নামই কি কুফরি (الكفر) নয়?

 

আর যারা ধর্মকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম বানায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নামে এমন সব কথা বলে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল বলেননি, প্রত্যেক মানুষকে তার প্রবৃত্তি অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) প্রদান করে এবং কোনো প্রকার গভীর প্রজ্ঞা বা ফিকহ (فقه) ও আমল ছাড়াই তোতাপাখির মতো কিছু বুলি আওড়াতে থাকে, আমরা তাদের মিথ্যাবশত ইসলামের আলেম (علماء) বলে ডাকি।

উমাইয়া যুগে জনৈক সাহাবি (صحابي) বলেছিলেন: "যদি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখন বের হতেন, তবে তিনি তোমাদের মাঝে পরিচিত কোনো কিছুই চিনতে পারতেন না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে তোমরা সকলে মিলে সালাত আদায় করছ।" তাহলে এখন যদি রাসুলুল্লাহ বের হতেন, তবে কি তিনি তাঁর ধর্মের কোনো কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পেতেন?
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بقي كما هو، بل هل تجد حقيقة شرعية واحدة يفهمها الناس كما أراد هو لا كما فسروها أولوها وأطلقوها في غير موضعها؟

نحن مهددون باندثار حضارتنا لأننا زيفنا أعظم عملة نتعامل بها وهي الكلام، وإني لأعجب والله كيف نثور ونغضب ونسجن من زيف دينارا وغاية ما فعل أنه سرق من جيب الأمة ديناراً، ولا نثور ونغضب ممن يزيف الكلام وقد يكون في تزييف كلمة واحدة هلاك أمة بأسرها، وقد شرحنا هذا آنفاً، فأعد قراءة المقال، كلنا يشكو من الفوضى وما ذلك إلا أننا ألبسنا اللص لباس الشرف، وأعطينا المغتصب حق الملك، وخلعنا على الديوث لباس العصر وجعلنا كل التافهين أبطالاً، وكل المتشبهين رجالاً وكل الذين خانوا أمانة العلم علماء، وكل الذين باعوا أمتهم وأوطانهم قادة وزعماء فماذا بقي لنا؟! بقي أن نعيد ترتيب اللغة من جديد، وأن نتعلم من الصفر كيف نسمي الأشياء بأسمائها.

14 ديسمبر 1976م.
এটি যেমন আছে তেমনই রয়ে গেছে, বরং আপনি কি এমন একটি শরীয়াহগত বাস্তবতা (حقيقة شرعية) খুঁজে পাবেন যা মানুষ সেভাবেই বোঝে যেভাবে তিনি চেয়েছেন, তেমনটি নয় যেভাবে তারা একে ব্যাখ্যা করেছে, অপব্যাখ্যা করেছে এবং এর অনুপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করেছে?

আমরা আমাদের সভ্যতার বিলুপ্তির হুমকির মুখে রয়েছি, কারণ আমরা আমাদের লেনদেনের সবচেয়ে বড় মুদ্রা তথা 'বক্তব্যকে' জাল করেছি। আল্লাহর কসম, আমি অত্যন্ত বিস্ময়বোধ করি যে, কীভাবে আমরা সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও রাগান্বিত হই এবং তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করি যে একটি দিনার জাল করেছে, অথচ তার সর্বোচ্চ কাজ ছিল উম্মাহর পকেট থেকে একটি দিনার চুরি করা। কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও রাগান্বিত হই না যারা কথার জালিয়াতি করে, অথচ একটি শব্দের জালিয়াতির মধ্যে নিহিত থাকতে পারে সমগ্র জাতির বিনাশ। আমরা ইতিপূর্বেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছি, তাই প্রবন্ধটি পুনরায় পাঠ করুন। আমরা সকলেই বিশৃঙ্খলার অভিযোগ করি, অথচ এর কারণ তো কেবল এটাই যে আমরা চোরকে সম্মানের পোশাক পরিয়েছি, জবরদখলকারীকে মালিকানার অধিকার দিয়েছি, দাইউসকে (ديوث) আধুনিকতার পোশাক দান করেছি, সকল তুচ্ছ ব্যক্তিকে বীরের মর্যাদা দিয়েছি, সকল অনুকরণকারীকে পুরুষ সাব্যস্ত করেছি এবং যারা ইলমের আমানতের খেয়ানত করেছে তাদের আলেম হিসেবে গ্রহণ করেছি। আর যারা তাদের উম্মাহ ও স্বদেশকে বিক্রি করে দিয়েছে তাদের নেতা ও অধিনায়ক বানিয়েছি। তবে আমাদের জন্য আর কী অবশিষ্ট রইল?! এখন কেবল ভাষাকে নতুনভাবে সুবিন্যস্ত করা এবং একদম শূন্য থেকে প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক নামে অভিহিত করতে শেখাই অবশিষ্ট আছে।

১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌لماذا يظلم الإنسان أخاه؟

كان عجباً أن يقص الله علينا في كتابه أن أول أخوين عاشا على ظهر هذه الأرض قتل أحدهما الآخر عندما تعارضت مصالحهما، إذ يتصور من لا يعرف النفس البشرية -حق المعرفة- أن الأخ يفي أخاه بما ملكت يداه، وأنه لا يتصور أن يؤثر أخ شقيق منفعة مادية مهما عظمت على أخوة أخيه وبقائه بجواره وبخاصة إذا لم يكن في الأرض غيرهما، ولكن هذا حدث ولذلك رتب الله على هذا شريعة القصاص ليكون هذا مانعاً من الظلم، فالحدود جعلها الله إذن زواجر عن الظلم والإثم والعدوان، وعلى كل المسلم مدعو أولاً إلى أن يعرف حق أخيه الإنسان، وذلك للاشتراك في الأصل الواحد والرب الواحد، وأعني بالرب هنا الخالق سبحانه وتعالى، وهذا لا يمنع أن للمسلم حقوقاً أخرى غير الحقوق الإنسانية وذلك للاشتراك في الغاية والهدف الواحد.. وهذه الحقوق الإضافية للمسلم على المسلم لا تتنافى مع الحقوق الإنسانية، ولذلك أمر المسلمون بالعدل مع أعدائهم كما قال تعالى: {يا أيها الذين أمنوا كونوا قوامين لله شهداء بالقسط ولا يجرمنكم شنآن قوم على تعدلوا، اعدلوا هو أقرب للتقوى} الآية، والعدل المأمور به هنا هو العدل مع
মানুষ কেন তার ভাইয়ের ওপর জুলুম করে?

এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, এই পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রথম দুই ভাইয়ের একজন অন্যজনকে হত্যা করেছিল যখন তাদের স্বার্থের সংঘাত ঘটেছিল। যারা মানবাত্মা সম্পর্কে—যথাযথভাবে—জ্ঞাত নয় তারা হয়তো কল্পনা করবে যে, একজন ভাই তার সাধ্যের সবকিছু দিয়ে তার ভাইকে তুষ্ট রাখবে এবং এটিও অকল্পনীয় যে, একজন সহোদর ভাই কোনো পার্থিব সুবিধাকে—তা যতই বড় হোক না কেন—ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এবং ভাইয়ের সান্নিধ্যের ওপর প্রাধান্য দেবে, বিশেষ করে যখন পৃথিবীতে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিন্তু এটিই ঘটেছিল, আর সেই কারণেই আল্লাহ এর ওপর প্রতিবিধানের (قصاص) বিধান সুবিন্যস্ত করেছেন যাতে তা জুলুমের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়। সুতরাং নির্ধারিত দণ্ডবিধিগুলোকে (حدود) আল্লাহ জুলুম, পাপ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত রাখার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তদুপরি, প্রত্যেক মুসলিমকে সর্বপ্রথম তার মানব ভাইয়ের অধিকার সম্পর্কে জানার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে, যেহেতু উভয়ের মূল উৎস এবং প্রতিপালক এক। আর আমি এখানে প্রতিপালক বলতে মহান স্রষ্টাকেই বোঝাচ্ছি। এটি কোনোভাবেই মুসলিমের জন্য মানবিক অধিকারের অতিরিক্ত অন্যান্য অধিকার থাকাকে বাধাগ্রস্ত করে না, যা অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কারণে সাব্যস্ত হয়। মুসলিমের ওপর মুসলিমের এই অতিরিক্ত অধিকারসমূহ মানবিক অধিকারের সঙ্গে বৈপরিত্য রাখে না। এই কারণেই মুসলিমদের তাদের শত্রুদের সঙ্গেও সুবিচার (عدل) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে অটল থেকো; কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ না করার বিষয়ে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার (تقوى) নিকটবর্তী} আয়াত (آية)। আর এখানে যে সুবিচারের (عدل) আদেশ দেওয়া হয়েছে তা হলো...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأعداء الذين يبغضهم المسلمون وقد يحملهم بغضهم لهم على ظلمهم فنهاهم الله عن ذلك.

واليوم يتناسى المسلمون هذه الآداب، بل يهملونها وتتحول مجتمعاتنا دون وعي منا إلى مجتمعات تختفي منها الرحمة تدريجياً، ويحل مكانها الظلم والعدوان، أو على الأقل الغفلة والنسيان: الغفلة عما يعانيه الآخرون بسبب غرورنا وجشعنا، وحبنا لأنفسنا، وأثرتنا.

يعاني الناس اليوم ألواناً من الظلم الخفي الذي قد لا يحس به الكثيرون لما أحاطوا به أنفسهم من البهرج والزخرف والأموال والمشاغل:

ظلم التاجر الجشع الذي لا هم له إلا الربح والربح الفاحش عن طريق الاحتكار والتلاعب بالأسواق.

وظلم المالك باستغلال حاجة المحتاج..

وظلم صاحب العمل بامتصاص جهد العامل واستنفاد طاقته، وبخس حقه.

وظلم رب المال بالتسلط والقهر وامتصاص أموال الناس وجهدهم عن طريق الربا والمضاربة.

وإذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم يقول: [الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء] ، فإنه أيضاً قد أمر بالضرب على يد الظالم، ومنعه من الظلم، والحكومة مدعوة للحل الثاني عندما تعجز الكلمات الطيبة والمواعظ الحسنة أن تفعل فعلها في القلوب الصماء.

5 نوفمبر 1976م
সেই শত্রুরা যাদেরকে মুসলিমরা ঘৃণা করে এবং তাদের প্রতি এই ঘৃণা হয়তো তাদের ওপর জুলুম করতে প্ররোচিত করতে পারে, তাই আল্লাহ তাদের এ থেকে বারণ করেছেন।

আর আজ মুসলিমরা এই শিষ্টাচারগুলো ভুলে যাচ্ছে, বরং তারা এগুলোকে অবহেলা করছে এবং আমাদের অজান্তেই আমাদের সমাজগুলো এমন এক সমাজে পরিণত হচ্ছে যেখান থেকে দয়া-মায়া ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে জুলুম ও আগ্রাসন, অথবা অন্ততপক্ষে উদাসীনতা ও বিস্মৃতি: আমাদের অহংকার, লোভ, আত্মপ্রীতি ও স্বার্থপরতার কারণে অন্যরা যে কষ্টের শিকার হচ্ছে, সে সম্পর্কে এক প্রকার অসচেতনতা।

আজ মানুষ এমন নানাবিধ প্রচ্ছন্ন জুলুমের শিকার হচ্ছে যা অনেকে হয়তো অনুভব করতে পারে না, কারণ তারা নিজেদেরকে বাহ্যিক জাঁকজমক, অলঙ্কার, ধন-সম্পদ এবং বিবিধ ব্যস্ততা দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে:

সেই লোভী ব্যবসায়ীর জুলুম, যার একমাত্র লক্ষ্য হলো মুনাফা এবং মজুতদারি ও বাজার কারসাজির মাধ্যমে অত্যধিক মুনাফা অর্জন করা।

আর অভাবগ্রস্তের অভাবের সুযোগ নিয়ে মালিকের জুলুম...

আর শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে, তার শক্তি নিংড়ে নিয়ে এবং তার প্রাপ্য অধিকার খর্ব করে কর্মদাতার জুলুম।

আর আধিপত্য ও জবরদস্তি করে এবং সুদ ও ফাটকা কারবারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ ও শ্রম শুষে নিয়ে পুঁজিপতির জুলুম।

যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: [দয়াকারীদের ওপর পরম করুণাময় দয়া করেন; তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন], সেখানে তিনি জালিমের হাত টেনে ধরতেও (প্রতিহত করতে) এবং তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। যখন উত্তম বাণী ও সদুপদেশ বধির হৃদয়গুলোতে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়, তখন সরকারকে দ্বিতীয় সমাধানটি গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।

৫ নভেম্বর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أيها الزعماء … متى ستبدأون الرحلة الجديدة

وإلى أين
؟!

مضت أربع سنوات الآن على حرب رمضان 1393 هـ - 1973م ورحلة السلم التي قادها الزعماء في هذه السنوات الأربع انتهت إلى فراغ - وهذا في حد ذاته رحمة من الله العلي العظيم، ولقد تغير الوضع في إسرائيل تماماً، وأصبحت الآن من حيث الاستعداد العسكري غير ما كانت، فإذا كان زعماؤنا السياسيون الذين وضعوا آمالهم على السلم وحده، لم يستعدوا للحرب، فإن هذا يعني الكارثة، واليوم علينا أن نبدأ رحلة جديدة فكيف؟ وإلى أين؟..

أظن أولاً أنه لم يصبح هناك مجال لتنازلات جديدة لأن إسرائيل لم تتنازل عن شيء ففلسطين (الجغرافية) اختلت تماماً وأعلنت إسرائيل أنها أرض يهوذا والناصرة، ومعنى ذلك أن شعار (حق شعوب المنطقة في العيش بسلام داخل حدود معترف بها) لا يشمل الفلسطينيين لأنهم في نظر اليهود ليسوا شعباً من شعوب المنطقة!! وكارتر الذي ادعى أنه سيفاوض الفلسطينيين إذا اعترفوا بحق إسرائيل بالبقاء أنبته إسرائيل
‌হে নেতৃবৃন্দ … আপনারা কখন নতুন যাত্রা শুরু করবেন

এবং কোন দিকে
?!

১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের রমজান যুদ্ধের পর এখন চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এই চার বছরে নেতৃবৃন্দের পরিচালিত শান্তির যাত্রা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে - আর এটি স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি রহমত। ইসরায়েলের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং সামরিক প্রস্তুতির দিক থেকে তারা এখন আগের মতো নেই। সুতরাং আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যারা কেবল শান্তির ওপর আশা স্থাপন করেছিলেন, তারা যদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ না করে থাকেন, তবে এর অর্থ হলো বিপর্যয়। আজ আমাদের এক নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে; কিন্তু কীভাবে? আর কোন দিকে?..

আমি প্রথমত মনে করি যে, নতুন কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই; কারণ ইসরায়েল কোনো কিছুতেই ছাড় দেয়নি। (ভৌগোলিক) ফিলিস্তিন সম্পূর্ণভাবে অধিকৃত হয়েছে এবং ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে এটি জুডিয়া ও নাসরতের ভূমি। এর অর্থ হলো, (স্বীকৃত সীমানার অভ্যন্তরে শান্তিতে বসবাসের জন্য এ অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীর অধিকার) এই স্লোগানটি ফিলিস্তিনিদের অন্তর্ভুক্ত করে না, কারণ ইহুদিদের দৃষ্টিতে তারা এ অঞ্চলের কোনো জাতিই নয়!! আর কার্টার, যিনি দাবি করেছিলেন যে ফিলিস্তিনিরা যদি ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকার স্বীকার করে নেয় তবে তিনি তাদের সাথে আলোচনা করবেন, তাকে ইসরায়েল তিরস্কার করেছে।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
تأنيباً عظيماً، وأخبروه بأن منظمة التحرير لا تعدو أن تكون كالمنظمات النازية التي يجب أن يكون مأواها هو السجون والمعتقلات، وسحب كارتر كل وعوده السابقة أو ابتلعها وقد تنبأنا بذلك.

واليوم أهداف إسرائيل واضحة وهي معاهدات جزئية مع كل من مصر وسوريا، يرد لكل منهما جزء من أراضيهما المحتلة في مقابل السلام الدائم ونسيان شيء اسمه قضية فلسطين، وشيء آخر اسمه الفلسطينيين والتكرم بإسكانهم في الدول العربية كمواطنين لا كلاجئين، وتصفية الضفة الغربية أولاً بأول من أهلها.. ولهذا نقول انتهت رحلة السلام إلى فراغ، ويجب أن نفكر في رحلة جديدة؟!

* بالطبع لا يمكن أن نقول بأن قواد الرحلة كانوا يريدون أن يصلوا إلى هذه النهاية، وربما كانوا يعلمونها، وإذا كانوا يعلمونها فلماذا ساروا فيها طيلة هذه المدة.. أربع سنوات.. العلم عند الله.

* نحن الآن أمام رحلتين لا ثالث لهما:

* الرحلة الأولى رحلة إنهاك وإشغال والهاء بمعارك بين الدول العربية الإسلامية تستنفذ فيها الطاقة، ويشغل الناس فيها لا عن إسرائيل فقط، بل حتى عن أنفسهم والنفوس العربية المليئة بالشقوق والأحزان هي أرض صالحة تماماً لهذا وقد تستمر هذه الرحلة سنوات أربع أو خمس حتى تكون إسرائيل قد أقامت هيكلها وأنهت بأسلوب أو آخر وجود العرب في أراضيها وتكون المقاومة في الخارج قد طوقت تماماً، وفقدت مضمونها ومبرر وجودها، وهذا بالطبع إذا لم يتق الزعماء ربهم ويفكروا في حاضر هذه الأمة البائس.

* والرحلة الثانية أن نبدأ بتجميع صفوفنا، ولم
কঠোর তিরস্কার করা হলো এবং তাকে জানানো হলো যে, মুক্তি সংস্থা (পিএলও) নাৎসি সংগঠনগুলোর চেয়ে বেশি কিছু নয়, যাদের ঠিকানা হওয়া উচিত কারাগার ও বন্দিশিবির। কার্টার তার পূর্ববর্তী সকল প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নিলেন অথবা তা গিলে ফেললেন; আর আমরা আগেই এমন ভবিষ্যৎবাণী করেছিলাম।

আজ ইসরায়েলের লক্ষ্যসমূহ স্পষ্ট, আর তা হলো মিসর ও সিরিয়া—উভয়ের সাথেই আংশিক চুক্তি সম্পাদন করা। স্থায়ী শান্তির বিনিময়ে তাদের প্রত্যেকের দখলকৃত ভূখণ্ডের একটি অংশ ফেরত দেওয়া হবে এবং ‘ফিলিস্তিন সমস্যা’ নামক বিষয়টি আর ‘ফিলিস্তিনি’ নামক কোনো জাতিসত্তার অস্তিত্বকে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে দেওয়া হবে। আর আরব দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে নয় বরং নাগরিক হিসেবে তাদের পুনর্বাসিত করার ‘বদান্যতা’ দেখানো হবে এবং ধাপে ধাপে পশ্চিম তীরকে এর অধিবাসীদের থেকে মুক্ত করা হবে। একারণেই আমরা বলছি যে, শান্তির যাত্রা শূন্যতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং আমাদের এখন একটি নতুন যাত্রার কথা ভাবা উচিত কি?!

* অবশ্যই আমরা বলতে পারি না যে, এই যাত্রার চালকরা এই পরিণতিতেই পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। তবে সম্ভবত তারা এটি জানতেন; আর যদি তারা তা জেনেও থাকেন, তবে কেন দীর্ঘ এই সময়—চার বছর ধরে—এই পথে চললেন... এর জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

* আমরা এখন এমন দু’টি যাত্রার সামনে দাঁড়িয়ে আছি যার তৃতীয় কোনো বিকল্প নেই:

* প্রথমটি হলো ক্লান্তি, ব্যস্ত রাখা এবং আরব-ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে রাখার একটি সফর, যেখানে শক্তি ক্ষয় করা হবে। আর সেখানে মানুষকে কেবল ইসরায়েল থেকেই নয়, বরং নিজেদের থেকেও বিমুখ করে রাখা হবে। ফাটল ও শোকে পরিপূর্ণ আরব হৃদয়গুলো এই কাজের জন্য একদম উপযুক্ত ক্ষেত্র। এই সফর চার বা পাঁচ বছর ধরে চলতে পারে যতক্ষণ না ইসরায়েল তার ‘হায়কাল’ নির্মাণ সম্পন্ন করে এবং কোনো না কোনোভাবে তাদের ভূখণ্ডে আরবদের অস্তিত্ব নির্মূল করে দেয়। আর বাইরের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের সারবস্তু ও টিকে থাকার যৌক্তিকতা হারিয়ে ফেলে। অবশ্য এটি তখনই ঘটবে যদি নেতারা তাদের প্রতিপালককে ভয় না করেন এবং এই দুর্ভাগা উম্মাহর বর্তমান অবস্থা নিয়ে চিন্তা না করেন।

* আর দ্বিতীয় সফরটি হলো, আমাদের কাতারগুলোকে একত্রিত করা শুরু করা এবং...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
شعثنا ونستعد لتحرير أرضنا استعدادا حقيقيا، وندخل مع اليهود القتلة معركة حياة أو موت نملأ فيها الأرض والبحر والجو على إسرائيل موتاً ودماراً، وهذا الكلام ليس قطعة من خطبة حماسية وإنما هو الحق إذا أردنا الحياة والنجاة، ومازلنا ولن نزال نقول إسرائيل باطل صنعه العرب بأنفسهم.

 

لقد انتظرنا طويلاً حقاً حتى جرب الزعماء زراعة السلام في أرض إسرائيل التي لا تنبت إلا الحرب والدمار والفساد، وكانت هذه المدة الطويلة كافية لتسترد إسرائيل أنفاسها وترمم جيشها وتبني قوتها بعد أن أشرفت على النهاية ولم يبق إلا التسليم باعترافهم بعد حرب رمضان، ولقد صدقنا في ذلك المخادع كيسنجر، وألقينا ثقلنا مع أمريكا المحكومة بالمعادلات الصهيونية المعقدة وعلينا الآن أن نتخذ قرارنا الجديد من أرضنا ومن داخل نفوسنا، ومن آمال شعوبنا، ومما يمليه علينا ولاؤنا لأمتنا، وقبل ذلك من امتثالنا بديننا الإسلام الذي يفرض علينا أن لا نقبل الذل وأن لا نرضى بالهوان.

* والأمة كلها أمانة في يد من يملكون اتخاذ القرار السياسي، وما الشعوب إلا كركاب في قاطرة أو حافلة يقودها الزعماء، فإما أوصلوهم إلى أهدافهم وغاياتهم، وإما خانوهم وانحرفوا بهم إلى مهاوي الدمار فمتى يا قواد القاطرة ستبدأون الرحلة الجديدة وإلى أين؟!

26 أغسطس 1977م
আমরা আমাদের বিশৃঙ্খলা সংশোধন করি এবং আমাদের ভূমি মুক্ত করার জন্য প্রকৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করি; আমরা ঘাতক ইহুদিদের সাথে এমন এক জীবন-মরণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হই, যেখানে আমরা ইসরায়েলের ওপর স্থল, জল ও আকাশপথে মৃত্যু ও ধ্বংসের জোয়ার বইয়ে দেব। এই কথাগুলো কোনো আবেগপ্রসূত বক্তৃতার অংশ নয়, বরং জীবন ও মুক্তি কামনায় এটাই ধ্রুব সত্য। আমরা অতীতেও বলেছি এবং ভবিষ্যতেও বলব যে, ইসরায়েল একটি বাতিল (باطل) শক্তি যা আরবরা নিজেরাই তৈরি করেছে।

 

আমরা সত্যিই দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছি যতক্ষণ না নেতৃবৃন্দ ইসরায়েলের মাটিতে শান্তির চাষ করার চেষ্টা করেছেন, যে মাটি যুদ্ধ, ধ্বংস ও বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই উৎপন্ন করে না। এই দীর্ঘ সময়টি ইসরায়েলের জন্য নিশ্বাস পুনরুদ্ধারের, তাদের সেনাবাহিনী সংস্কার করার এবং শক্তি পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল; অথচ রমজান যুদ্ধের পর তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল এবং তাদের নিজেদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। আমরা সেই প্রতারক কিসিঞ্জারকে বিশ্বাস করেছি এবং আমেরিকার ওপর নির্ভর করেছি, যা জটিল জায়নবাদী সমীকরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখন আমাদের নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের নিজ ভূমি থেকে, আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে, আমাদের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে এবং আমাদের উম্মাহর প্রতি আনুগত্যের দাবি অনুযায়ী। সর্বোপরি আমাদের দ্বীন ইসলামের আনুগত্য থেকে, যা আমাদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করে যে আমরা যেন হীনতা ও অবমাননা মেনে না নেই।

* আর সমগ্র উম্মাহ্ তাদের হাতে আমানত যারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার অধিকারী। জনগণ তো কেবল একটি রেলগাড়ি বা বাসের যাত্রীর মতো যা নেতৃবৃন্দ চালনা করেন; হয় তারা যাত্রীদের লক্ষ্য ও গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন, নতুবা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন এবং ধ্বংসের গহ্বরে নিয়ে যাবেন। হে ট্রেনের চালকগণ, আপনারা কবে নতুন যাত্রা শুরু করবেন এবং কোন দিকে?!

২৬ আগস্ট ১৯৭৭ ইং
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌أمانة الكلمة

من أعظم الأمانات التي سنسأل عنها بين يدي الله سبحانه وتعالى: "أمانة الكلمة" كما قال سبحانه وتعالى: {ما يلفظ من قول إلا لديه رقيب عتيد} فالإحصاء الكامل لكل ما نطق به الإنسان ومحاسبته عليه إحدى عقائد الإيمان ومسائله التي يجب على المسلم استحضارها وتعظيم شأنها.

والكلمة المكتوبة شأنها تماماً شأن الكلمة المنطوقة، فالكتابة وسيلة لإيصال المعنى المراد إلى الغير شأن النطق تماماً، وقد تكون الكلمة المكتوبة أعظم أثراً وأوسع انتشاراً وأطول عمراً من الكلمة المنطوقة، ولذلك كانت جريرتها -في الإثم- أعظم، وثوابها -في الخير- أكبر وأكثر، كما قال صلى الله عليه وسلم إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له، وهل العلم المنتفع به إلا كلمة حفظت بعد موت صاحبها في الصدور أو السطور وتناقلتها الألسنة أو الأقلام.

وكلمة الحق والعدل من أعظم الجهاد والدعوة إلى الله سبحانه وتعالى منطوقة أو مكتوبة، كما قال صلى الله عليه وسلم: [أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر] ، وطالما كان
বাণীর আমানত

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সমীপে আমরা যে সকল মহান আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হব, তার মধ্যে অন্যতম হলো: "বাণীর আমানত"; যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য একজন তৎপর প্রহরী তার পাশেই থাকে}। সুতরাং মানুষের প্রতিটি উচ্চারিত শব্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ এবং তজ্জন্য তাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করা ঈমানের অন্যতম আকিদা ও বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে জাগ্রত রাখা এবং এর গুরুত্বকে অনুধাবন করা আবশ্যক।

আর লিখিত বাণীর বিষয়টিও হুবহু উচ্চারিত বাণীর মতোই। কেননা লিখন হলো অন্যের নিকট কাঙ্ক্ষিত অর্থ পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম, যা হুবহু উচ্চারণের অনুরূপ। অনেক ক্ষেত্রে লিখিত বাণী উচ্চারিত বাণীর তুলনায় অধিক প্রভাবশালী, ব্যাপক বিস্তৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এই কারণেই পাপাচারের ক্ষেত্রে এর অপরাধের দায় যেমন গুরুতর হতে পারে, তেমনি কল্যাণের ক্ষেত্রে এর সওয়াবও অধিক ও বিশাল হতে পারে। যেমনটি নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আদম সন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি মাধ্যম ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" আর এই 'উপকারী জ্ঞান' কি সেই বাণী ব্যতীত অন্য কিছু, যা তার প্রবক্তার মৃত্যুর পর মানুষের অন্তরে কিংবা কিতাবের পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত থাকে এবং যা জিহ্বা কিংবা কলমের মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে যায়?

আর সত্য ও ন্যায়ের বাণী হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পথে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিহাদ ও দাওয়াত, তা উচ্চারিত হোক কিংবা লিখিত। যেমনটি নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: [অত্যাচারী শাসকের সামনে ন্যায়ের কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ], আর দীর্ঘকাল যাবত...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
لهذه الكلمة الطيبة أثر في الأرض وثمار في النفوس كان لصاحبها أجر بذلك، كما قال سبحانه وتعالى: {ومثل كلمة طيبة كشجرة طيبة أصلها ثابت وفرعها في السماء تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها} الآية، وكذلك الشأن في كلمة الباطل والزور كلما عملت إفسادها في الأرض والنفوس كلما ازداد قائلها أو كاتبها إثماً كما قال صلى الله عليه وسلم: [ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من اتبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئاً] (رواه مسلم) وبعد..

 

هل الكفر إلا كلمة تسير بصاحبها إلى النار، وهل الإيمان إلا كلمة تفتح الطريق إلى الجنة!

وإذا كان في الناس من يظن أن الكلمة الآثمة التي تلقى على عواهنها لا تضر صاحبها فهو يخطئ، وكذلك لا تنقص أجر الكلمة الطيبة أن صاحبها لم يكن يظن أنها ستبلغ في الخير ما بلغت فقد يرفعه الله بها في الجنة مائة درجة، وهو يوم قالها أو كتبها لم يكن يتصور ذلك كما جاء بذلك الحديث.

وقد يظن بعد هذا الإيضاح بعض الناس أن الكلمة الطيبة التي ترفع صاحبها في الجنة هذا المقدار أمرها هين ويستطيع كل إنسان ملك لساناً أو قلماً أن يفعلها ولكن لنعلم أن من شروط الكلمة الطيبة ما يأتي:

أولاً: أن تكون كلمة صدق، فالزور والباطل والكذب لا يمكن أن يكون طيباً، وما أقل الصدق في أيامنا هذه.

ثانياً: أن يكون صاحبها عاملاً بها فلا يكفي أن نأمر الناس بالخير وننسى أنفسنا والله يمقت على ذلك كما قال سبحانه وتعالى: {يا أيها الذين آمنوا لم تقولون ما لا تفعلون، كبر مقتاً عند الله أن تقولوا ما لا تفعلون} .
এই উত্তম বাণীর পৃথিবীতে প্রভাব এবং মানুষের অন্তরে ফলশ্রুতি রয়েছে, যার ফলে এর প্রবক্তা সওয়াব প্রাপ্ত হন; যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর একটি উত্তম বাণীর উদাহরণ হলো একটি উত্তম বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত। তা তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে} (আয়াত)। তদ্রূপ বাতিল ও মিথ্যা বাণীর ব্যাপারটিও এমন যে, তা যখনই পৃথিবী ও মানুষের অন্তরে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তখনই তার প্রবক্তা বা লেখকের গুনাহ বৃদ্ধি পেতে থাকে; যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: [আর যে ব্যক্তি কোনো ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার ওপর সেই পরিমাণ গুনাহ বর্তাবে যারা তার অনুসরণ করবে তাদের সবার গুনাহের সমান, এতে তাদের গুনাহ বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না] (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)। অতঃপর...

 

কুফর কি কেবল একটি শব্দ ছাড়া আর কিছু যা তার প্রবক্তাকে আগুনের দিকে নিয়ে যায়? আর ঈমান কি কেবল একটি শব্দ ছাড়া আর কিছু যা জান্নাতের পথ খুলে দেয়!

মানুষের মধ্যে যদি কেউ এমন ধারণা করেন যে, খামখেয়ালিভাবে নিক্ষিপ্ত পাপপূর্ণ বাক্য তার কোনো ক্ষতি করবে না, তবে তিনি ভুল করছেন। একইভাবে, কোনো উত্তম বাণীর সওয়াবও কমে যায় না যদি তার প্রবক্তা ধারণা না করেন যে এটি কল্যাণের ক্ষেত্রে এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে এটি পৌঁছেছে। বস্তুত আল্লাহ এর মাধ্যমে জান্নাতে তার মর্যাদা একশত স্তর বৃদ্ধি করে দিতে পারেন, অথচ যেদিন তিনি এটি বলেছিলেন বা লিখেছিলেন, সেদিন তিনি তা কল্পনাও করেননি, যেমনটি হাদিসে এসেছে।

এই ব্যাখ্যার পর কিছু লোক হয়তো মনে করতে পারেন যে, যে উত্তম বাক্য জান্নাতে তার প্রবক্তাকে এই পরিমাণ উচ্চতায় উন্নীত করে, তার বিষয়টি অত্যন্ত সহজ এবং জিহ্বা বা কলমের অধিকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই তা করতে সক্ষম। তবে আমাদের জানা প্রয়োজন যে, উত্তম বাণীর শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:

প্রথমত: তা হতে হবে সত্য বাণী। কেননা মিথ্যাচার, বাতিল ও মিথ্যা কখনোই ‘উত্তম’ হতে পারে না। আর বর্তমান সময়ে সত্যের কতই না অভাব!

দ্বিতীয়ত: তার প্রবক্তাকে সেই অনুযায়ী আমলকারী হতে হবে। কেননা অন্যকে কল্যাণের আদেশ দেওয়া এবং নিজেদের ভুলে যাওয়া যথেষ্ট নয়। আল্লাহ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত অপছন্দ করেন, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের উদ্রেককারী}।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ثالثاً: أن يكون المراد من وراء الكلمة هو الله والدار الآخرة، كما قال سبحانه وتعالى: {لا خير في كثير من نجواهم إلا من أمر بصدقة أو معروف أو إصلاح بين الناس ومن يفعل ذلك ابتغاء مرضاة الله فسوف نؤتيه أجراً عظيماً} ، فقيد سبحانه وتعالى الأجر العظيم بابتغاء مرضاة الله سبحانه، هذه الشروط التي نرجو أن نلتزم بها ونوصي إخواننا بالالتزام بها عند بذل كلماتهم، وبذلك نحقق شيئاً من أمانة الكلمة التي كلفنا الله سبحانه وتعالى بها.

وبهذا نفسح المجال لتأخذ الكلمة الطيبة طريقها إلى إصلاح القلوب والنفوس والمجتمعات ومحاربة الشر والرذيلة والظلم، وإذا فسح المجال للكلمة الطيبة الصادقة المخلصة فأثمرت العمل الطيب الصالح فإن الكلمة الخبيثة الشريرة الكاذبة يفتضح أمرها ويتوارى أهلها لأنها تصبح بعد ذلك كلمة منكرة معلوم كذبها وزورها.

ونحن في زمان كثر زوره وكذبه وقل صدقه وإخلاصه ولكن الكلمة الطيبة لا يقف أمامها الكلام الخبيث الكاذب، كما قال سبحانه وتعالى: {بل نقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق ولكم الويل مما تصفون} .

عندما عرض على الأخ جاسم المطوع أن أشرف على هاتين الصفحتين المتخصصتين في الشؤون الدينية، علمت أنني أمام مسؤولية صعبة فليس المطلوب الآن هو ملء صفحتين بكلام منسوب إلى الدين أياً كان هذا الكلام، ولكن المطلوب هو تقديم الكلمة الطيبة الصادقة الحكيمة التي تعالج ما تشكوه الآن من آلام وأسقام في هذه الفترة السيئة من تاريخها، ونحن نوجِّه نداءنا إلى أهل الكلمة النظيفة أن يشاركونا هذه المسؤولية، ولن نفسح المجال إلا لمثل هؤلاء ما استطعنا إلى ذلك سبيلاً، ونبشر القارئ أن وقته لن يضيع سدى وهو
তৃতীয়ত: বাণীর অন্তরালে মূল উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহ এবং পরকাল, যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে দান-সদকা, সৎকাজ বা মানুষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের নির্দেশ দেয় (তা স্বতন্ত্র)। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এসব করবে, তাকে আমি অবশ্যই মহা পুরস্কার দান করব}। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহা পুরস্কারকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধানের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। এগুলোই সেই শর্তাবলি যা আমরা মেনে চলার আশা রাখি এবং আমাদের ভাইদেরও তাদের বাণী প্রদানের সময় তা মেনে চলার অসিয়ত করি। এর মাধ্যমেই আমরা বাণীর সেই আমানত কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারব, যার দায়িত্ব মহান আল্লাহ আমাদের ওপর অর্পণ করেছেন।

এর মাধ্যমে আমরা উত্তম বাণীর জন্য পথ প্রশস্ত করব যাতে তা অন্তর, আত্মা ও সমাজের সংশোধনের এবং মন্দ, অনৈতিকতা ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ সুগম করে। যখন উত্তম, সত্য ও একনিষ্ঠ বাণীর জন্য পথ উন্মুক্ত হবে এবং তা নেক আমলের ফল দেবে, তখন খবিস বা মন্দ, অনিষ্টকর ও মিথ্যা বাণীর স্বরূপ উন্মোচিত হবে এবং এর প্রবক্তারা আড়ালে চলে যাবে। কারণ তখন এটি একটি অগ্রহণযোগ্য (منكرة) বাণীতে পরিণত হবে যার মিথ্যা ও অলীকতা সুষ্পষ্ট।

আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে মিথ্যা ও প্রতারণা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সত্যবাদিতা ও ইখলাস কমে গেছে। তবে উত্তম বাণীর সামনে খবিস ও মিথ্যা কথা টিকতে পারে না, যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তোমরা যা বলছ তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ}।

যখন ভাই জাসিম আল-মুতাওয়ার পক্ষ থেকে আমাকে দ্বীনি বিষয়াবলীতে বিশেষায়িত এই দুই পৃষ্ঠা তত্ত্বাবধানের প্রস্তাব দেওয়া হলো, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে আমি এক কঠিন দায়িত্বের সামনে দাঁড়িয়েছি। কারণ এখনকার দাবি কেবল দ্বীনের নামে যা-তা কথা দিয়ে দুই পৃষ্ঠা পূরণ করা নয়, বরং এখনকার দাবি হলো এমন উত্তম, সত্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী উপস্থাপন করা যা বর্তমান সময়ের দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যাধিগুলোর চিকিৎসা করবে। আমরা পরিচ্ছন্ন বাণীর অধিকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা আমাদের এই দায়িত্বে শরিক হন। আমরা সাধ্যমতো কেবল তাদের জন্যই এই সুযোগ উন্মুক্ত রাখব। আর আমরা পাঠকদের এই সুসংবাদ দিচ্ছি যে, তাদের সময় বৃথা যাবে না এবং তিনি (বা তারা) এটি পাঠ করে...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
يقرأ في يوم أجازته ما يكتب في هذه الزاوية، بل سيجد إن شاء الله أننا سنلتزم بأمانة الكلمة وسنحافظ جاهدين على شرف هذه الرسالة التي شرفنا الله بحملها وسيتعرف على إخوان له في الله يقدمون له النصح خالصاً ويتقبلون منه كل نقد وتوجيه وسيشاركونه آلامه وآماله في سعادة هذه الأمة وإعلاء شأنها.

8 أكتوبر 1977م.
তিনি তাঁর ছুটির দিনে এই কলামে যা লেখা হয় তা পাঠ করবেন; বরং ইনশাআল্লাহ তিনি দেখতে পাবেন যে, আমরা লেখনীর আমানতদারিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব এবং আল্লাহ আমাদের যে সুমহান বার্তা বহনের সম্মান দান করেছেন, তার মর্যাদা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়োজিত এমন কিছু ভাইদের সাথে পরিচিত হবেন, যারা তাঁকে একনিষ্ঠ উপদেশ প্রদান করবেন এবং তাঁর প্রতিটি সমালোচনা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন; আর তাঁরা এই উম্মাহর কল্যাণ ও মর্যাদা সমুন্নত করার লক্ষ্যে তাঁর দুঃখ এবং আশার অংশীদার হবেন।

৮ অক্টোবর ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌السلمي.. عبث وسراب

سيأتي اليوم الذي يتحقق فيه للساعين إلى حل سلمي بين الأمة الإسلامية وبين اليهود أنهم كانوا يركضون خلف السراب، والذي يتبين لهم فيه أيضاً أنهم كانوا عابثين.. وذلك للأسباب الآتية:

 

أولاً: المسلمون واليهود أمتان مختلفتان عقيدة ومنهجاً وأهدافاً وسلوكاً، وتقوم كل منهما على تراث طويل من الحقد والكراهية وهذا التراث الطويل المتوارث بمعاهدات صلح فوقية تفرضها دول تنظر فقط إلى تحقيق مصالحها الشخصية الآنية وتبديل هذا التراث في حكم المستحيل، فقد أثبت اليهود لليوم أنهم شعب تراثي يعيش على أحكام التوراة، ويؤمن بأخبارها ويفاوض العالم المعاصر على أساس وعودها وما زال اليهود لليوم يشكلون حياتهم وثقافة صغارهم على أساس هذه العقيدة، وينفخون الحقد الأسود في قلوب أبنائهم للشعوب الإسلامية التي يتهمون أسلافهم بأنهم من أسباب شتاتهم وتشريدهم، وإذا كان اليهود يريدون من الدول الإسلامية أن تتخلى عن تراثها ليستسيغ أبناؤها قبول اليهود في هذه الأرض، فإن اليهود أنفسهم لم يفعلوا ذلك بتراثهم ليشعروا نحو شعوب هذه المنطقة بالأمن والسلام.

والشعوب الإسلامية والعربية خاصة وإن كانوا أقل
শান্তিপ্রক্রিয়া... নিরর্থকতা ও মরীচিকা

অচিরেই এমন দিন আসবে যখন ইসলামি উম্মাহ এবং ইহুদিদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অন্বেষণকারীদের নিকট এটি প্রতীয়মান হবে যে, তারা আসলে একটি মরীচিকার পেছনে ছুটছিল। সেদিন তাদের কাছে এটিও স্পষ্ট হবে যে, তারা মূলত নিরর্থক কাজে লিপ্ত ছিল। এর কারণগুলো নিম্নরূপ:

 

প্রথমত: মুসলিম ও ইহুদিরা আকীদা, মানহাজ, লক্ষ্য ও আচরণের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জাতি। তাদের প্রত্যেকের ভিত্তি গড়ে উঠেছে ঘৃণা ও বিদ্বেষের এক দীর্ঘ ঐতিহ্যের ওপর। রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে কেবল তাদের সাময়িক ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এই দীর্ঘ পরম্পরাগত ঐতিহ্য পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। ইহুদিরা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করেছে যে, তারা একটি ঐতিহ্যবাদী জনগোষ্ঠী যারা তাওরাতের বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করে, এর সংবাদসমূহের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং এর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সমসাময়িক বিশ্বের সাথে আলোচনা চালায়। ইহুদিরা আজও এই আকীদার আলোকেই তাদের জীবন এবং সন্তানদের সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। তারা তাদের সন্তানদের হৃদয়ে মুসলিম জাতিসমূহের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা ও বিদ্বেষ গেঁথে দিচ্ছে, যাদের পূর্বপুরুষদেরকে তারা তাদের উচ্ছেদ ও দেশান্তরের অন্যতম কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করে থাকে। ইহুদিরা যদি ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর নিকট থেকে এই প্রত্যাশা করে যে তারা তাদের ঐতিহ্য পরিত্যাগ করবে—যাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই ভূখণ্ডে ইহুদিদের মেনে নিতে পারে—তবে ইহুদিরা নিজেরা তাদের ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে এমন কিছু করেনি যার ফলে তারা এই অঞ্চলের জাতিসমূহের প্রতি নিরাপত্তা ও শান্তি অনুভব করতে পারে।

আর মুসলিম এবং বিশেষ করে আরব জাতিগোষ্ঠী, যদিও তারা সংখ্যার দিক থেকে কম...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
من اليهود تمسكاً بالتراث ونزوعاً إلى القديم، فإن العقيدة الإسلامية مازالت حية في نفوس سواد الناس، وهذه العقيدة الإسلامية عقيدة استعلاء فوقية لا ترضى لأصحابها بالذل والدنية ولا تحصرهم فقط في إطار الشعائر الدينية العبادية، وإنما تأمرهم بصبغ حياتهم السياسية والعملية والاجتماعية بأحكام الإسلام وهذه الأحكام تتناقض جذرياً مع الرضوخ لذل اليهود والاستكانة لاحتلالهم والرضا معهم بالذل والعار.. وبالرغم من أن المحاولات مستمرة لصرف الناس عن هذه العقيدة تمهيداً لاستقرار اليهود في هذه الأرض وتوطئة لأمنهم وسلامهم فيها، فإن المشاهد أن هذه المحاولات فاشلة وستفشل وذلك أن التجارب أثبتت أن الأمة الإسلامية تزداد مع التحدي شدة وصلابة، ويدفعها التحدي دائماً إلى الاعتصام بالدين والتمسك به.

هذا وما زال الخلق العربي القديم من الشعور بالنخوة والهبوب لنجدة المظلوم والدفع عن الضعفاء حباً في نفوس أبناء الإسلام من العرب هذا الشعور الذي استثاره الإسلام ونماه كما قال تعالى: {وما لكم لا تقاتلون في سبيل الله والمستضعفين من الرجال والنساء والولدان الذين يقولون ربنا أخرجنا من هذه القرية الظالم أهلها واجعل لنا من لدنك ولياً واجعل لنا من لدنك نصيراً} ، وهذا الشعب الفلسطيني المظلوم المضطهد المخرج من أرضه مازال مثالاً حياً يستثير الهمم العربية ومشاعر المسلمين، والعمل على تبغيض الفلسطينيين لسائر العرب وإيجاد التناقض بينهم وبين إخوانهم، وإن كان قد آتى ببعض ثماره لدى ضعفاء النفوس، فإنه لاشك منته وسائر إلى بوار، وذلك يتكشف الحقائق ولا بد يوماً أن تتكشف..

المهم أن قيام أمتين متجاورتين وبينهما هذا التناقض
ইহুদিদের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যের প্রতি আসক্তি এবং প্রাচীনতার প্রতি প্রবণতা থাকলেও, জনসাধারণের (سواد الناس) অন্তরে ইসলামী আকিদা (عقيدة) এখনও জীবন্ত। এই ইসলামী আকিদা (عقيدة) হলো এক সুউচ্চ শ্রেষ্ঠত্বের চেতনা যা তার অনুসারীদের জন্য হীনম্মন্যতা ও লাঞ্ছনা মেনে নেয় না এবং তাদেরকে কেবল ধর্মীয় ইবাদত-বন্দেগির কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং তাদের রাজনৈতিক, ব্যবহারিক ও সামাজিক জীবনকে ইসলামের বিধান (أحكام) দ্বারা রঞ্জিত করার নির্দেশ দেয়। আর এই বিধানসমূহ (أحكام) ইহুদিদের অবমাননাকর বশ্যতা স্বীকার করা, তাদের দখলদারিত্বের কাছে নতি স্বীকার করা এবং তাদের সাথে লাঞ্ছনা ও কলঙ্ক মেনে নেওয়ার সাথে আমূল সাংঘর্ষিক। যদিও মানুষকে এই আকিদা (عقيدة) থেকে বিচ্যুত করার নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে—যাতে এই ভূমিতে ইহুদিদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয় এবং তাদের নিরাপত্তা ও শান্তির পথ সুগম হয়—তবে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, এই প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। কারণ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি উম্মাহ চ্যালেঞ্জের মুখে আরও কঠোর ও সুদৃঢ় হয় এবং এই চ্যালেঞ্জ তাদেরকে সর্বদা দ্বীনকে আঁকড়ে ধরতে ও তার ওপর অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।

তদুপরি, মজলুমের সাহায্যে এগিয়ে আসা এবং দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো প্রাচীন আরবীয় বীরত্বগাথা ও সহজাত বোধ মুসলমানদের অন্তরে এখনও প্রোথিত। ইসলাম এই চেতনাকে জাগ্রত ও বিকশিত করেছে, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছ না? অথচ অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে—হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে নিন যার অধিবাসীরা জালিম। এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক ও একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।” এই মজলুম ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জাতি, যারা নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত, তারা আজও আরবদের হিম্মত ও মুসলমানদের অনুভূতি জাগ্রত করার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। ফিলিস্তিনিদের প্রতি অন্যান্য আরবদের মনে ঘৃণা তৈরি করা এবং তাদের ও তাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির চেষ্টা যদিও দুর্বল চিত্তের মানুষদের ক্ষেত্রে কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছে, তবে নিঃসন্দেহে তা অচিরেই শেষ হয়ে যাবে এবং ধ্বংসের মুখে পড়বে। কারণ সত্য উন্মোচিত হচ্ছে এবং একদিন তা অবশ্যই পুরোপুরি প্রকাশিত হবে।

সারকথা হলো, পাশাপাশি দুটি জাতির অবস্থান যাদের মধ্যে এই জাতীয় মৌলিক বৈপরীত্য বিদ্যমান...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
العقائدي والفكري والاجتماعي الهائل أمر مستحيل فكيف يرجى أيضاً أن يكون مع هذا التجاور سلم وصلح وسلام!!؟ الذين يظنون إمكان هذا في عالم الواقع يعيشون في غيبوبة كاملة عن الواقع، ويناقضون حركة التاريخ وأخلاق الأمم.

ثانياً: لا يقف المسلمون واليهود على هذا التراث الهائل من الكراهية والحقد والتناقض فقط، وهذا أمر ماض ربما نقول فيه كما قال كيسنجر: "اللي فات مات"، وإنما الأهداف (المستقبلية) للأمتين تختلفان وتتناقضان تناقضاً جذرياً، فبينما يسعى المسلمون بعد التمزيق الذي أحدثته الحرب العالمية الأولى والثانية إلى جمع شتاتهما وإيجاد نوع من الوحدة والتناسق بين الأقاليم المختلفة وبروزهما كقوة محايدة بين القوى العالمية المتنازعة وإحياء دورهم التاريخي الذي اختارهم الله سبحانه وتعالى بأن يكونوا أمة مهتدية هادية تعدو إلى الله سبحانه وتعالى، أقول بالرغم من وضوح هذه الأهداف في حث أبناء الأمة الإسلامية وسعيهم إلى ذلك فإن الأمة اليهودية تسعى بما لديها من قوة لتكون هي القوة الثالثة في العالم في هذه المنطقة ولتكون سنداً وامتداداً لقوة أمريكا واصبعاً ومخلباً لها في هذه الأرض، ولتعيش على ثروات هذه الأمة وتستغل تناقضها وتمتص جهدها وقوت أبنائها ولتشفي غيظها من حقدها التاريخي نحوها، وما التوسع اليهودي الدائم والاستيطان الدائم، واستجلاب اليهود من كل مكان في الأرض نحو فلسطين إلا بدايات لهذه الأهداف التي يسعى اليهود إليها، فكيف تتجاور أمتان وتتصالحان وينشأ بينهما صلح وسلام، وهما تحملان هذه الأفكار والأهداف للمستقبل؟!

وأخيراً فالوهم الكبير الذي يريد الساسة وضع الأمة فيه أصبح مكشوفاً لكل ذي عينين، والإصرار على بث هذا
আকিদাগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা অতিক্রম করা অসম্ভব; এমতাবস্থায় এই সহাবস্থানের সাথে সন্ধি, সমঝোতা ও শান্তি কীভাবে আশা করা যায়?! যারা বাস্তব জগতে এটি সম্ভব বলে মনে করেন, তারা বাস্তববিবর্জিত ঘোরের মধ্যে বাস করছেন এবং তারা ইতিহাসের গতিধারা ও জাতিসমূহের নৈতিক চরিত্রের বিরোধিতা করছেন।

দ্বিতীয়ত: মুসলিম ও ইহুদিরা কেবল ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বৈপরিত্যের এই বিশাল ঐতিহ্যের ওপরই দাঁড়িয়ে নেই—যা একটি অতীত বিষয় এবং যে সম্পর্কে আমরা কিসিঞ্জারের মতো বলতে পারি যে, "যা গত হয়েছে তা মরে গেছে"—বরং উভয় জাতির (ভবিষ্যৎ) লক্ষ্যসমূহ সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং একে অপরের সাথে আমূল সাংঘর্ষিক। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্ট ছিন্নভিন্ন অবস্থার পর মুসলমানরা যেখানে তাদের হারানো অংশগুলো একত্র করতে, বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে একতা ও সমন্বয় তৈরি করতে, বিবদমান বিশ্বশক্তিগুলোর মাঝে একটি নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক মনোনীত তাদের সেই ঐতিহাসিক ভূমিকা—অর্থাৎ একটি হেদায়াতপ্রাপ্ত ও হেদায়াতকারী উম্মাহ হিসেবে আল্লাহর দিকে আহ্বান করার দায়িত্ব—পুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট। ইসলামি উম্মাহর সন্তানদের এই লক্ষ্য ও প্রচেষ্টার স্পষ্টতা সত্ত্বেও, ইহুদি জাতি তাদের সর্বশক্তি দিয়ে এই অঞ্চলে বিশ্বের তৃতীয় শক্তি হওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে তারা এই ভূখণ্ডে আমেরিকার শক্তির একনিষ্ঠ সহযোগী ও সম্প্রসারিত অংশ এবং তাদের হাতের আঙুল ও নখর (হাতিয়ার) হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা এই উম্মাহর সম্পদের ওপর বেঁচে থাকতে চায়, এর অভ্যন্তরীণ অনৈক্যকে কাজে লাগাতে চায় এবং এর শ্রম ও সন্তানদের অন্ন শোষণ করতে চায়, যাতে এই উম্মাহর প্রতি তাদের ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পারে। অবিরত ইহুদি সম্প্রসারণ, স্থায়ী বসতি স্থাপন এবং বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সমবেত করা তাদের সেই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যেরই সূচনা মাত্র। এমতাবস্থায় দুটি জাতি কীভাবে প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করবে এবং তাদের মাঝে কীভাবে সন্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন তারা ভবিষ্যতের জন্য এ ধরনের চিন্তাধারা ও লক্ষ্য পোষণ করে?!

পরিশেষে, রাজনীতিবিদরা উম্মাহকে যে বিশাল মোহের মধ্যে নিমজ্জিত রাখতে চান, তা আজ চাক্ষুষভাবে স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং এই বিভ্রান্তি প্রচারের ক্ষেত্রে অবিচলতা...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الوهم وزرعه في النفوس إصرار على الخطأ، ويجب على الأمة أن تصحح مسارها من جديد وأن تسعى حثيثاً إلى الوحدة والعزة والقوة، وإخراج الرجس من هذه الأرض الطيبة المباركة، وهذا هو المنطق الصحيح والحركة الصحيحة للتاريخ، وأما ما سوى ذلك فوهم وباطل.

30 سبتمبر 1977م
বিভ্রান্তি (الوهم) এবং মানুষের অন্তরে তা রোপণ করা হলো ভুলের ওপর অটল থাকা। উম্মাহর জন্য আবশ্যক হলো পুনরায় নিজেদের পথ সংশোধন করা এবং ঐক্য, মর্যাদা ও শক্তির অভিমুখে দ্রুততার সাথে সচেষ্ট হওয়া; সেই সাথে এই পবিত্র ও বরকতময় ভূমি থেকে পঙ্কিলতা দূর করা। এটিই হলো ইতিহাসের সঠিক (صحيح) যুক্তি ও সঠিক (صحيح) গতিধারা; এর বাইরে যা কিছু আছে তা কেবল বিভ্রান্তি (الوهم) ও বাতিল (باطل)।

৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌من ذا الذي يستطيع أن يعبر فوق هذا التراث

الحرب والصراع بين المسلمين واليهود حرب وصراع أبديان وجدا منذ بدأت الدعوة الأولى إلى الإسلام، وسيستمران طالما بقي مسلم يؤمن بالقرآن، ويهودي يؤمن بالديانة اليهودية ويصدق بوعودها.

وإذا كان قد مرت فترات من الزمن هدأ فيها هذا الصراع، وكان هناك سلم وأمان، فذلك حيث تكون الكلمة العليا لله، واليد العليا للمسلمين، وأما في اليوم الذي تكون فيه اليد العليا، والكلمة العليا لليهود فهم كما قال الله تعالى: {لا يرقبون في مؤمن إلاً ولا ذمة} ، بل أعملوا التقتيل حقداً وكراهية وبقروا البطون وقتلوا النساء والأطفال وحشية وهمجية.

وعلى كل حال فليس المسلمون وحدهم هم الذين حملوا حملاً ودفعوا دفعاً إلى قتال اليهود وقتلهم، فكل الشعوب والأمم الذين احتكوا باليهود وعرفوا مكرهم وخبثهم حاربهم اليهود وقتلوهم، وأذلوهم، وإذا كانت النازية تتهم بإبادة عدد منهم، فما فعله اليهود بألمانيا قبل وبعد هتلر أضعاف أضعاف ما فعله النازيون بهم.
কে এই ঐতিহ্যের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে সক্ষম?

মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘাত হলো এক চিরন্তন সংগ্রাম, যা ইসলামের প্রথম দাওয়াত শুরু হওয়ার সময় থেকেই বিদ্যমান। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলিম কোরআনের ওপর ঈমান রাখবে এবং একজন ইহুদি তার ধর্মের ওপর বিশ্বাস রাখবে ও তার প্রতিশ্রুতিগুলোকে সত্য বলে গণ্য করবে।

যদি ইতিহাসের এমন কিছু পর্যায় অতিবাহিত হয়ে থাকে যখন এই সংঘাত স্তিমিত ছিল এবং সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজমান ছিল, তবে তা ছিল তখনই যখন আল্লাহর বাণী সমুন্নত ছিল এবং মুসলিমদের হাত শক্তিশালী ছিল। কিন্তু যেদিন ইহুদিদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, সেদিন তারা ঠিক তেমনটিই করে যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা কোনো মুমিনের ব্যাপারে না কোনো আত্মীয়তার বন্ধন, আর না কোনো চুক্তির মর্যাদা রক্ষা করে।" বরং তারা বিদ্বেষ ও ঘৃণাবশত নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়, পেট চিরে ফেলে এবং পাশবিকতা ও বর্বরতার সাথে নারী ও শিশুদের হত্যা করে।

যাই হোক, কেবল মুসলিমরাই ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তাদের প্রতিরোধ করতে বাধ্য হয়নি; বরং যে সকল জাতি ও গোষ্ঠী ইহুদিদের সংস্পর্শে এসেছে এবং তাদের চক্রান্ত ও খিয়ানত সম্পর্কে অবগত হয়েছে, ইহুদিরা তাদের সাথেও যুদ্ধ করেছে, তাদের হত্যা করেছে এবং তাদের লাঞ্ছিত করেছে। যদি নাৎসিবাদকে তাদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে নির্মূল করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়, তবে হিটলারের আগে এবং পরে ইহুদিরা জার্মানির সাথে যা করেছে, তা নাৎসিরা তাদের সাথে যা করেছে তার তুলনায় বহুগুণ বেশি।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والمسلمون هم الأمة الوحيدة الذين نعم اليهود في رحابهم بالعدل والمرحمة مع معرفتهم لمكرهم وخبثهم، وأما الشعوب الأخرى فإنهم ما كانوا يكادون الوقوف على مكرهم حتى يعملوا فيهم الإبادة والتقتيل والتشريد.

 

وإذا كان اليهود ينعمون في عالم اليوم بالأمن والتأييد من دول المعسكر الشيوعي والمعسكر الرأسمالي، فإنما هو إلى حين، وذلك أن إجادة التباكي من اليهود على المآسي القديمة التي حلت بهم وإتقان التخفي والحيطة والحذر والظهور بمظهر الحملان الوادعة كل هذا لن يدوم طويلاً، وقد بدت تباشيره الآن بين الشعب الأمريكي والشعوب الأوروبية بصرف النظر عن موقف هذه الحكومات التي لا يصل رؤساؤها إلا مناصبهم إلا على أجنحة الدعاية اليهودية وأموال المؤسسات اليهودية، ولا يبقى وزراء هذه الدول في مناصبهم إلا بالحيل اليهودية والتسهيلات الصهيونية التي جندت النساء والأموال واشترت الذمم والضمائر في وقت انعدم فيه الضمير والذمة، ومع كل هذا فحبل الباطل قصير، والكذابون الغشاشون لا بد وأن يظهر الله كذبهم وغشهم.

واليهود الذين يكنون للعالم كله حقداً أسود تراكم في صدورهم عبر القرون، ويحملون في رؤوسهم أفكاراً يؤمنون بها، وهي أنهم شعب الله المختار، وأمته المحبوبة المباركة، وينتظرون المسيح المخلص الذي يضع العالم كله تحت أقدامهم، وبنو البشر جميعاً عبيداً لهم، يعملون لهذا بكل ما أوتوا من قوة، وإذا كانوا يمدون إلينا نحن المسلمين اليوم يداً ملطخة بدماء الأبرار منا، ويطلبون العيش الآمن والسلم الدائم، في أرض نجسوها بدنسهم ودقوا أوتادهم فيها على عظام شهدائنا والمخلصين من أمتنا، فإنهم لم يطلبوا سلماً طيلة حياتهم وتاريخهم وإنما طلبوا الحرب بكل سبيل، وما
মুসলিমরাই একমাত্র জাতি যাদের ছত্রছায়ায় ইহুদিরা তাদের চক্রান্ত ও খবাছত (দুষ্টুমি) সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকা সত্ত্বেও ন্যায়বিচার ও মমতা উপভোগ করেছে। পক্ষান্তরে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা ছিল এমন যে, তারা ইহুদিদের চক্রান্ত সম্পর্কে আঁচ করতে পারা মাত্রই তাদের ওপর গণহত্যা, নিধনযজ্ঞ এবং উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিত।

 

বর্তমানে ইহুদিরা যদি বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্ট ও পুঁজিবাদী শিবিরের রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা ও সমর্থন ভোগ করে থাকে, তবে তা কেবল সাময়িক সময়ের জন্য। এর কারণ হলো, নিজেদের ওপর অতীতে ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডিগুলোর জন্য বিলাপ করার পারদর্শিতা, অত্যন্ত নিপুণভাবে আত্মগোপন করার কৌশল, সতর্কতা অবলম্বন এবং নিরীহ মেষশাবকের বেশে আত্মপ্রকাশ করার এই যে অভিনয়—এসব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। মার্কিন ও ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে ইতিমধ্যে এর শুভলক্ষণগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে—যদিও সেসব দেশের সরকারগুলোর অবস্থান ভিন্ন। কারণ ওই সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কেবল ইহুদি প্রোপাগান্ডা ও ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের ডানায় ভর করেই ক্ষমতায় আরোহণ করতে পারেন। আর সেই সব দেশের মন্ত্রীরা তাদের পদে টিকে থাকেন ইহুদিদের কূটকৌশল ও জায়নবাদী সুযোগ-সুবিধার বদৌলতে, যারা নারী ও অর্থকে কাজে লাগিয়ে মানুষের বিবেক ও নৈতিকতাকে কিনে নিয়েছে এমন এক সময়ে যখন মানুষের মাঝে নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকবোধ বিলুপ্তপ্রায়। এতদসত্ত্বেও মিথ্যার দাপট ক্ষণস্থায়ী, আর যারা মিথ্যাবাদী (كذابون) ও প্রতারক, আল্লাহ অবশ্যই তাদের মিথ্যা ও প্রতারণা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেবেন।

ইহুদিরা সারা বিশ্বের প্রতি তাদের অন্তরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পুঞ্জীভূত এক কালো বিদ্বেষ পোষণ করে। তারা তাদের মস্তিষ্কে এমন কিছু চিন্তাধারা লালন করে যাতে তারা দৃঢ় বিশ্বাসী; আর তা হলো—তারা আল্লাহর মনোনীত জাতি এবং তাঁর প্রিয় ও বরকতময় উম্মত। তারা এমন এক মুক্তিদাতা মাসীহ-এর অপেক্ষায় রয়েছে যিনি সারা বিশ্বকে তাদের পায়ের নিচে এনে দেবেন এবং সমস্ত মানবজাতিকে তাদের দাসে পরিণত করবেন। তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে এই লক্ষ্য অর্জনেই কাজ করে যাচ্ছে। আজ যদি তারা আমাদের মুসলমানদের দিকে আমাদের নেককার ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের রক্তে রঞ্জিত হাত প্রসারিত করে এবং এমন এক ভূমিতে নিরাপদ বসবাস ও স্থায়ী শান্তি কামনা করে যে ভূমিকে তারা তাদের অপবিত্রতা দিয়ে নাপাক করেছে এবং আমাদের উম্মতের শহীদ ও মুখলিস ব্যক্তিদের হাড়ের ওপর তাদের খুঁটি গেড়েছে, তবে তারা আসলে তাদের সমগ্র জীবন ও ইতিহাসে কখনোই শান্তি কামনা করেনি; বরং তারা সর্বতোভাবে যুদ্ধই অন্বেষণ করেছে। وما...
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
طلبهم السلم الآن إلا خدعة كالخدع التي سلفت من قبل، ومتى سالم اليهود غيرهم حتى يسالمونا؟ متى سالموا الناس؟.. ولا يعرفون إلا الضحك على غيرهم والاستهزاء بهم واقرأوا إن شئتم ما فعلوه ويفعلونه الآن بالعالم في كل مكان يحلون فيه.

هذا التراث الأسود الذي يقف اليهود عليه ويجابهون به هذه الأمة، وتراث أمتنا المليء بالمرحمة والانصاف وكذلك بالشهداء الأبرار الذين سقطوا بنيران غدر اليهود وخياناتهم وهذه الحضارة الإسلامية الشامخة بقوانينها في العدل والمرحمة والأخذ على يد الظالم، وقتال أهل البغي والفساد، وحضارة اليهود بكل ما فيها من حقد وغدر هذا وذاك ضدان لا يلتقيان.

قال صديقي وهو يتألم مما يسمع من أناشيد السلام المعسولة التي يتبادلها العرب واليهود، والشروط المطروحة لسلم مزعوم كيف يحصل السلام مع اليهود وقد فعلوا كل هذا؟

فقلت: هوِّن عليك يا أخي فإن الفرد الذي يستطيع أن يعبر فوق هذا التراث لم يولد بعد! ولن يولد قط!

10 ديسمبر 1976م
বর্তমানে তাদের শান্তির আবেদন কেবল একটি প্রতারণা মাত্র, যা পূর্বের প্রতারণাগুলোর মতোই। ইহুদিরা কখন অন্যদের সাথে শান্তি বজায় রেখেছে যে তারা আমাদের সাথে রাখবে? তারা কখন মানুষের সাথে শান্তি বজায় রেখেছে? তারা অন্যদের নিয়ে উপহাস এবং বিদ্রূপ করা ছাড়া আর কিছুই জানে না। আপনারা চাইলে তারা বিশ্বের যে প্রান্তেই অবস্থান করেছে, সেখানে তারা অতীতে কী করেছে এবং বর্তমানে কী করছে তা পড়ে দেখতে পারেন।

এই সেই কৃষ্ণ ঐতিহ্য যার ওপর ইহুদিরা দাঁড়িয়ে আছে এবং এই উম্মাহর মোকাবিলা করছে; আর আমাদের উম্মাহর ঐতিহ্য রহমত ও ইনসাফে (انصاف) ভরপুর, সেইসাথে রয়েছে সেইসব পুণ্যবান শহীদদের রক্ত যারা ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রবঞ্চনার আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন। আর এই সুউচ্চ ইসলামি সভ্যতা যা ন্যায়বিচার, করুণা, জালেমের হস্ত রোধ এবং বিদ্রোহী (أهل البغي) ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের (الفساد) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিধানে সমৃদ্ধ; পক্ষান্তরে ঘৃণা ও প্রতারণায় পূর্ণ ইহুদি সভ্যতা—এই দুটি বিষয় এমন পরস্পরবিরোধী যা কখনো এক হতে পারে না।

আরব ও ইহুদিদের মাঝে বিনিময়কৃত শান্তির সুমিষ্ট সুর এবং তথাকথিত শান্তির জন্য পেশকৃত শর্তাবলি শুনে আমার এক বন্ধু অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, "ইহুদিরা যখন এত সব অপকর্ম করেছে, তখন তাদের সাথে শান্তি কীভাবে সম্ভব?"

আমি বললাম, "হে আমার ভাই, শান্ত হোন! কারণ এমন ব্যক্তি যে এই কৃষ্ণ ঐতিহ্য মাড়িয়ে যেতে পারবে, সে এখনও জন্ম নেয়নি এবং কখনও জন্মাবেও না!"

১০ ডিসেম্বর ১৯৭৬ খ্রি.
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌أي إسلام تريدون؟

الإسلام المستأنس؟ أم إسلام الخوارج؟ أم إسلام الكتاب والسنة؟

 

* لأن الإسلام من عند الله الذي لا يحابي أحداً، ولا تكريم عنده إلا للتقي، ولأن التقوى منزلة عزيزة المطلب، ولأن السلطان بيد البشر، ولا يتخلص إلا القليل منهم من نوازع نفسه وحب ذاته، ولأن الآية والحديث سيف في يد قائلهما.. بكل ذلك كان لابد للسلطان الذي يحكم الهوى أن يستأنس إسلاماً يسانده في سلطانه، ويحقق منافعه ويستخدمه سلاحاً ضد أعدائه.

وعملية استئناس الإسلام عملية قديمة قدم الانحراف عن منهج الكتاب والسنة، وستستمر ما بقي سلطان في الأرض يحكم بالإسلام اسماً، وبالقرآن رسماً، وبالمصالح والأهواء عملاً وواقعاً.

والإسلام المستأنس إسلام عجيب، يتلون بلون السلطان ويلبس جلبابه، ويحمل صولجانه وأختامه، فإذا كان السلطان يطبق النظام الشيوعي كان الإسلام المستأنس شيوعياً، وإذا كان النظام اشتراكياً كان كذلك، وأصبحت لا ترى ولا تسمع إلا أحاديث المساواة
আপনারা কোন ইসলাম চান?

গৃহপালিত (المستأنس) ইসলাম? নাকি খারেজিদের (الخوارج) ইসলাম? নাকি কিতাব ও সুন্নাহর ইসলাম?

 

* যেহেতু ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত, যিনি কারো প্রতি পক্ষপাত করেন না এবং তাঁর নিকট তাকওয়া (التقوى) ব্যতীত অন্য কোনো সম্মান নেই; আর যেহেতু তাকওয়া (التقوى) অর্জন করা একটি অত্যন্ত দুরুহ লক্ষ্য, এবং যেহেতু ক্ষমতা মানুষের হাতে থাকে আর তাদের মধ্যে খুব সামান্য সংখ্যক লোকই নফসের তাড়না ও আত্মপ্রেম থেকে মুক্ত থাকতে পারে, আর যেহেতু আয়াত ও হাদিস বক্তার হাতের তলোয়ার স্বরূপ—এই সব কারণেই যে শাসক প্রবৃত্তির (الهوى) অনুসারী হয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করে, তার জন্য এমন একটি গৃহপালিত (المستأنس) ইসলাম থাকা অপরিহার্য ছিল যা তার রাজত্বে তাকে সমর্থন জোগাবে, তার স্বার্থসিদ্ধি করবে এবং যা সে তার শত্রুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।

ইসলামকে গৃহপালিত করার এই প্রক্রিয়াটি কিতাব ও সুন্নাহর মানহাজ (المنহج) থেকে বিচ্যুত হওয়ার মতোই প্রাচীন। পৃথিবীতে যতক্ষণ এমন শাসক অবশিষ্ট থাকবে যে নামমাত্র ইসলাম দিয়ে এবং কাগজে-কলমে কুরআন দিয়ে শাসন করবে, কিন্তু বাস্তবে নিজ স্বার্থ ও খেয়াল-খুশির (الأهواء) প্রতিফলন ঘটাবে, ততক্ষণ এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

আর এই গৃহপালিত (المستأنس) ইসলাম এক অদ্ভুত বিষয়; এটি শাসকের রঙে রঞ্জিত হয়, শাসকের পোশাক পরিধান করে এবং শাসকের রাজদণ্ড ও সিলমোহর বহন করে। ফলে শাসক যদি সাম্যবাদী ব্যবস্থা প্রয়োগ করে, তবে গৃহপালিত (المستأنس) ইসলাম সাম্যবাদী হয়ে যায়; আর যদি ব্যবস্থাটি সমাজতান্ত্রিক হয়, তবে এটিও তদ্রূপ হয়ে যায়। তখন আপনি সাম্য বিষয়ক হাদিস ব্যতীত আর কিছুই দেখতে বা শুনতে পাবেন না।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وآيات الإنفاق، وإذا كان السلطان يطبق النظام الرأسمالي بكل احتكاراته وظلمه وغشمه لم تسمع إلا: [إن دماءكم وأموالكم عليكم حرام] ، و {فامشوا في مناكبها وكلوا من رزقه} ، وإذا كان السلطان يعادي اليهود كانت الأبواق تنادي بأنهم شر الخلق والخليقة، وأن الله لعنهم ومقتهم، وضرب عليهم الذلة والمسكنة، وأما إذا كان يدعو إلى سلمهم والصلح معهم كان اليهود هم أبناء العم وأهل الإيمان وكانت السياسة {وإن جنحوا للسلم فاجنح لها} ، وكان اليهود هم الذين قال الله فيهم: {وإني فضلتكم على العالمين} .

وباختصار الإسلام المستأنس هو إسلام السلطة التي ترى لزاماً عليها أن تستأنس رجالاً يتزينون بزي الدين فينقذونهم حيث يريدون، ويسكتونهم حيث يشاؤون، ويصنع هؤلاء لهم من الفتاوى ما يناسب أذواقهم وأهواءهم ويفصلون لهم من الدين أثواباً على قياسهم.

وفي مقابل هذا الانحراف يقوم رجال آخرون يغلق عليهم الفهم وتتشابه أمامهم النصوص، ويظلم أمامهم الواقع ويرون مجافاته للدين فيخرجون على المجتمع برمته ويكفرون الناس إلا أنفسهم، ويلجأون إلى المغارات والفلوات ويجابهون الناس بما في أيديهم من سلاح.. والفكر الخارجي فكر قديم نشأ في المسلمين عندما اختلفوا ووقع السيف بينهم، وأشكل على كثيرين معرفة الحق والصواب فقالوا بكفر علي ومعاوية، ومن معهما وضربوا بسيوفهم في كل واد.

واليوم حيث تتشابك السبل، وتتشابه النصوص، وتقل المعرفة، ويستأنس علماء الإسلام بالترغيب تارة، وبالترهيب أخرى ويصنع لكل سلطان في كل بلد جبة إسلامية تناسبه في الشكل والموضوع يخرج الفكر الخارجي
ব্যয় (ইনফাক) সংক্রান্ত আয়াতসমূহ; আর যখন শাসক তার যাবতীয় একচেটিয়া আধিপত্য, জুলুম ও নিপীড়নসহ পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা কায়েম করেন, তখন কেবল এ কথাগুলোই শোনা যায়: [নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য পবিত্র/হারাম (حرام)], এবং {তোমরা জমিনের দিকবিদিক বিচরণ করো এবং আল্লাহর রিযিক ভক্ষণ করো}। আবার শাসক যখন ইহুদিদের সাথে শত্রুতা করেন, তখন প্রচারযন্ত্রগুলো এই বলে চিৎকার করে যে, তারা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব, আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিয়েছেন ও তাদের ওপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য চাপিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু শাসক যখন তাদের সাথে সন্ধি ও শান্তির আহ্বান জানান, তখন ইহুদিরাই হয়ে যায় চাচাতো ভাই ও মুমিন সম্প্রদায়, আর রাজনৈতিক কৌশল হয়— {যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ুন}। ইহুদিরাই তখন সেই জাতি হয়ে যায় যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আমি তোমাদেরকে বিশ্ববাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি}।

সংক্ষেপে, 'পোষা ইসলাম' হলো সেই রাষ্ট্রীয় ইসলাম যা এমন কিছু লোককে বশ করা আবশ্যক মনে করে যারা দ্বীনি পোশাক পরিহিত থাকে, যাতে শাসক গোষ্ঠী তাদের ইচ্ছামতো চালিত করতে পারে এবং যখন ইচ্ছা তখন চুপ করিয়ে দিতে পারে। এই লোকেরা তাদের শাসকের রুচি ও খেয়াল-খুশি অনুযায়ী ফতোয়া তৈরি করে এবং দ্বীন থেকে শাসকের মাপে পোশাক বানিয়ে দেয়।

এই বিচ্যুতির বিপরীতে এমন একদল লোকের উদ্ভব ঘটে যাদের বোধশক্তি রুদ্ধ হয়ে যায় এবং মূল পাঠসমূহ (نصوص) তাদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। তাদের সামনে বাস্তবতা অন্ধকার হয়ে আসে এবং একে দ্বীন-পরিপপন্থী মনে করে তারা পুরো সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং নিজেদের ছাড়া বাকি সকলকে কাফের (كافر) ঘোষণা করে। তারা পাহাড়ে ও মরুপ্রান্তরে আশ্রয় নেয় এবং হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে মানুষের মোকাবিলা করে। খারেজি (خارجي) মতাদর্শ একটি প্রাচীন চিন্তাধারা, যার উদ্ভব হয়েছিল মুসলমানদের মধ্যে মতবিরোধ ও যুদ্ধের সময়। অনেকের জন্য সত্য ও সঠিক পথ চেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল, ফলে তারা আলী ও মুয়াবিয়া (রা.) এবং তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের কুফরি (كفر) সাব্যস্ত করে এবং সর্বত্র তলোয়ার নিয়ে বিচরণ করে।

আজকের এই সময়ে যখন পথসমূহ জটিল হয়ে পড়েছে, মূল পাঠসমূহ (نصوص) অস্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং জ্ঞানের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, আর যখন আলেম সমাজকে কখনও প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনও ভয় দেখিয়ে বশ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি দেশের প্রত্যেক শাসকের জন্য আকার ও বিষয়ের দিক দিয়ে মানানসই এক একটি ইসলামী জুব্বা তৈরি করা হচ্ছে, তখনই খারেজি (خارجي) চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
من معاقله فنسمع عن "جماعات التكفير والهجرة" وعلى شاكلتها كثير..

* وإسلام الكتاب والسنة ليس هذا ولا ذاك إنه إسلام مهتد ينطق بالحق ولا يبرر الواقع، ويصدع بالنص كما يريده الله ورسوله ولا يلوي عنقه ليوافق أهواء الناس، وصولجان السلطان، إسلام الكتاب والسنة هو الإسلام الكامل الذي أنزله الله لا يجامل أحداً، ولا يركبه أحد، وذلك أن حاملي هذا الإسلام عفروا جباههم لله فأعزهم وتواضعوا له فرفعهم، وأخلصوا نياتهم فأشرقت قلوبهم بنور الوحي فعرفوا طريقهم، وعظموا الله فدل كل جبار في أعينهم، وتواصوا بالمرحمة فعلموا الجاهل، وأرشدهم الحائر وصبروا على إساءة الظالم طمعاً في هداية الخلق ورغبة في ثواب الخالق، فأي إسلام تريدون؟!.
এর দুর্গসমূহ হতে আমরা "জামাআতুত তাকফির ওয়াল হিজরাহ" এবং এই ঘরানার আরও অনেক গোষ্ঠী সম্পর্কে শুনতে পাই...

* আর কুরআন ও সুন্নাহর ইসলাম এটি বা ওটি কোনটিই নয়; বরং এটি হলো এমন এক হিদায়াতপ্রাপ্ত ইসলাম যা সত্য উচ্চারণ করে এবং বাস্তবতাকে অযৌক্তিক বৈধতা দেয় না। এটি নস (النص) বা অকাট্য পাঠকে সেভাবেই জোরালোভাবে ব্যক্ত করে যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চেয়েছেন এবং মানুষের খেয়াল-খুশি কিংবা সুলতানের ক্ষমতার সাথে সংগতিপূর্ণ করার জন্য এর অপব্যাখ্যা করে না। কুরআন ও সুন্নাহর ইসলাম হলো সেই পূর্ণাঙ্গ ইসলাম যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন, যা কাউকে তোষামোদ করে না এবং কেউ একে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। আর তা এ কারণে যে, এই ইসলামের বাহকগণ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের ললাট ধূলিধূসরিত করেছেন, ফলে তিনি তাদের সম্মানিত করেছেন এবং তারা তাঁর সমীপে বিনয়াবনত হয়েছেন বিধায় তিনি তাদের উচ্চমর্যাদা দান করেছেন। তারা তাদের নিয়তকে একনিষ্ঠ করেছেন, ফলে ওহীর (الوحي) আলোতে তাদের অন্তরসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে এবং তারা তাদের সঠিক পথ চিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর মহিমা অনুধাবন করেছেন, ফলে প্রতিটি স্বৈরাচারী তাদের চোখে তুচ্ছ হয়ে গেছে। তারা পরস্পরকে দয়ার উপদেশ দিয়েছেন, ফলে তারা মূর্খকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং বিভ্রান্তকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তারা সৃষ্টির হিদায়াতের প্রত্যাশায় এবং স্রষ্টার সওয়াবের আশায় জালেমের অন্যায়ের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছেন। অতএব, আপনারা কোন ইসলাম চান?!
(খণ্ড: ১) আদওয়াউন আলা আওদাই নাস-সিয়াসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌لا حضارة دون سلاح

نعلم أن صوتنا نشاز في معزوفة السلم التي باتت تعزفها وسائل الإعلام العربية من المحيط إلى الخليج، هذه الوسائل التي باتت تصور الصلح والسلم مع إسرائيل على أنه المفتاح السحري الذي سينهي جميع مشاكلنا والبلسم الشافي لكل جروحنا وآلامنا.. فهو الذي سيخرج مصر من ضائقتها الاقتصادية، وهو الذي سيوفر نقود النفط التي تذهب "هدراً" في شراء السلاح وهو الذي سيقضي على المشاكل الداخلية، وهو الذي سيبني منا أمة عظيمة تضارع أمريكا واليابان، وهو الذي سيجعل حكوماتنا تنصرف إلى بناء الاقتصاد والمساكن و.. الخ.

 

وهذا الكلام يشبه تماماً من يقول إن الشمس لا تشرق، ولا يوجد شيء يسمى الليل، والقمر أكذوبة، أو هو كمن يقول إن السم يقوي العضلات ويقتل الجراثيم من الجسم، أو هو كمن يقول: غداً سترى الذئاب والخراف في مكان واحد، وسيمرح الفأر مع القط، وستختفي الحروب من العالم، وسينسى الروس والأمريكان صراع البقاء الذي يمارسونه في الأرض والسماء.

أقول إن الذي يقول لنا ألقوا السلاح واصطلحوا مع اليهود واهتموا بالاعمار تماماً كالذي يريد أن يحول طبائع
অস্ত্র ব্যতিরেকে কোনো সভ্যতা নেই

আমরা জানি যে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আরব গণমাধ্যমগুলো শান্তির যে সুর তুলে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের কণ্ঠস্বর এক বেসুরো ধ্বনি হিসেবে গণ্য। এই মাধ্যমগুলো ইসরায়েলের সাথে সন্ধি ও শান্তিকে এমন এক জাদুকরী চাবিকাঠি হিসেবে চিত্রিত করছে, যা আমাদের সকল সমস্যার সমাধান করবে এবং আমাদের সকল ক্ষত ও বেদনার এক উপশমকারী মলম হিসেবে কাজ করবে। তাদের ভাষ্যমতে, এটিই মিশরকে তার অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাবে; এটিই তেলের সেই অর্থ সাশ্রয় করবে যা অস্ত্র ক্রয়ের পেছনে "অপচয়" হচ্ছে; এটিই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অবসান ঘটাবে; এটিই আমাদের এমন এক মহান জাতি হিসেবে গড়ে তুলবে যা আমেরিকা ও জাপানের সমকক্ষ হবে; এবং এটিই আমাদের সরকারগুলোকে অর্থনীতি ও আবাসন নির্মাণে মনোনিবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

 

এই ধরনের বক্তব্য ঠিক তেমন ব্যক্তির মতো, যে বলে যে সূর্য উদিত হয় না, রাত বলতে কিছু নেই এবং চাঁদ একটি অলীক কল্পনা; অথবা এটি এমন ব্যক্তির কথার মতো, যে দাবি করে বিষ পেশিকে শক্তিশালী করে এবং শরীর থেকে জীবাণু ধ্বংস করে; অথবা এটি এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে বলে: আগামীকাল তুমি নেকড়ে ও মেষপালকে এক স্থানে দেখতে পাবে, ইঁদুর বিড়ালের সাথে আমোদ-প্রমোদ করবে, পৃথিবী থেকে যুদ্ধ বিদায় নেবে এবং রুশ ও আমেরিকানরা যমীন ও আসমানে চলমান তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের কথা ভুলে যাবে।

আমি বলি, যে আমাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে বলে, ইহুদিদের সাথে সন্ধি করার পরামর্শ দেয় এবং কেবল উন্নয়নের প্রতি মনোযোগ দিতে বলে, সে ঠিক ঐ ব্যক্তির মতো যে সৃষ্টিগত স্বভাবকে পরিবর্তন করতে চায়...