(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار - ط العلمية   (المقريزي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار

(المعروف بالخطط المقريزية)

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن علي بن عبد القادر العبيدي المقريزي (ت 845 هـ)

وضع حواشيه: خليل منصور

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার - আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (আল-মাকরিজি)

বিভাগ: দেশসমূহ ও সফরনামা


কিতাব: আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার

(যা খিতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ নামে পরিচিত)

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির আল-উবাইদী আল-মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি)

পাদটীকা বিন্যাস: খলিল মনসুর

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تقديم

بسم الله الرحمن الرحيم

ها نحن أيها القارئ العربي العزيز نضع بين يديك كتابا جليلا من كتب تراثنا العربي ليكون لك عونا في التعرف على ماضي من سبقوا ووضعوا لبنة في بناء الحضارة العالمية، وفي مهد الحضارات وأمّ الدنيا مصر العزيزة.

هذا الكتاب، كتاب المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار والمعروف بالخطط المقريزية، نسبة لمؤلفه العلامة الجليل تقي الدين أبي العباس أحمد بن علي المقريزي المتوفى سنة 845 هـ.

والذي يؤرخ فيه لأمّ الدنيا مصر العزيزة خلال الفترة الممتدة من سنة عشرين للهجرة النبوية الشريفة وحتى سنة ست وتسعمائة. مبينا فيه ما للنيل العظيم من أثر في حياة مصر، متعرضا لمناخها وطقسها، مؤرخا للكيفية التي تمّ بها إنشاء كل من مصر والقاهرة. القاهرة التي اختط أساسها القائد جوهر من الطوب النيء، مبتدئا بحارات القاهرة وظواهرها معددا سبعا وثلاثين حارة مبينا كيفية بناءها ومن قام على هذا البناء منطلقا إلى ما لا يطلق عليه اسم حارة أو درب بل يسمّى خطا، وهي كثيرة وكل قليل تتغير أسماؤها وقد أورد ما تيسّر له منها فكانت ثلاثون خطا، مبينا ما كان عليه كل خط وما آل إليه ومن أمر بإنشائه ومن قام على إنشائه وأسباب إنشائه. منتقلا إلى ذكر الدروب والأزقة مبينا أسماءها التي كانت وما ذا أصبحت وإلى من تنسب من الأشخاص وما فيها من محال ودكاكين، وكان عددها خمس وستون دربا وثمان أزقة. ثم يعدد الخوخ، والخوخة نافذة في باب كبير وعددها أربع عشرة خوخة. ثم ينتقل إلى الرحاب، والرحبة تعني الموضع الواسع والرحاب كثيرة لا تتغيّر إلاّ بأن يبنى فيها وقد ذكر تسع وأربعون رحبة ثم ينتقل إلى ذكر الدور الهامة وعددها ست وخمسون دارا مسمّيا إياها بأسماء أصحابها. ثم ينتقل إلى ذكر الحمامات والقياسر والفنادق والخانات والأسواق والسويقات والحكر أو الأحكار، مترجما لها وللأمراء والسلاطين الذين عملوا على بنائها.

ثم ينتقل إلى الخلجان والقناطر والبرك والجسور التي تمّ بناءها لجرّ مياه النيل إلى الحارات والخطط.
উপস্থাপনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে সম্মানিত পাঠক, আমরা আপনার সামনে আমাদের আরবি ঐতিহ্যের একটি মহান গ্রন্থ উপস্থাপন করছি, যা বিশ্ব সভ্যতার বিনির্মাণে যারা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন তাদের অতীত জানার ক্ষেত্রে এবং সভ্যতার সূতিকাগার ও বিশ্বের জননী আমাদের প্রিয় মিশরের ইতিহাস পরিচিতিতে আপনার জন্য সহায়ক হবে।

এই গ্রন্থটি হলো ‘কিতাবুল মাওয়ায়িজ ওয়াল ইতিবার বি যিকরিল খিতাত ওয়াল আসার’, যা এর লেখক মহান আল্লামা তকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আলী আল-মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি)-এর নামানুসারে ‘খিতাতুল মাকরিজি’ নামে পরিচিত।

এতে তিনি হিজরি বিশ সাল থেকে নয়শ ছয় সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের বিশ্বের জননী আমাদের প্রিয় মিশরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। এতে তিনি মিশরের জনজীবনে মহান নীল নদের প্রভাব বর্ণনা করেছেন, এর জলবায়ু ও আবহাওয়ার ওপর আলোকপাত করেছেন এবং মিশর ও কায়রো শহর কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার ইতিহাস সংকলন করেছেন। কায়রো শহর, যার ভিত্তি সেনাপতি জাওহার কাঁচা ইট দিয়ে স্থাপন করেছিলেন। তিনি কায়রোর বিভিন্ন মহল্লা এবং এর পারিপার্শ্বিক অবস্থা দিয়ে শুরু করে মোট সাইত্রিশটি মহল্লার কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর নির্মাণ পদ্ধতি ও নির্মাতাদের পরিচয় দিয়েছেন। এরপর তিনি এমন কিছু এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন যাকে মহল্লা বা গলি বলা হয় না, বরং ‘খিতাত’ (পরিকল্পিত বসতি) বলা হয়। এগুলোর সংখ্যা অনেক এবং সময়ের সাথে এগুলোর নাম পরিবর্তিত হয়। লেখক এর মধ্য থেকে সহজলভ্য ত্রিশটি বসতি বা ‘খিতাত’-এর বর্ণনা দিয়েছেন, যার প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থা, এর বর্তমান রূপ, কে এটি নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন, কে নির্মাণ করেছিলেন এবং নির্মাণের কারণসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। অতঃপর তিনি গলি এবং সরু পথগুলোর বর্ণনায় এগিয়ে গিয়েছেন, সেগুলোর পূর্বের ও বর্তমানের নাম এবং কাদের নামে সেগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল এবং সেখানে অবস্থিত দোকানপাটের পরিচয় দিয়েছেন। এগুলোর সংখ্যা ছিল পঁয়ষট্টিটি গলি এবং আটটি সরু পথ। এরপর তিনি ‘খাওখ’ গণনা করেছেন; ‘খাওখাহ’ হলো বড় দরজার মাঝে অবস্থিত ছোট দরজা বা পথ, এগুলোর সংখ্যা চৌদ্দটি। এরপর তিনি প্রশস্ত চত্বরসমূহের বর্ণনায় এসেছেন। চত্বর বলতে প্রশস্ত স্থানকে বোঝায়; চত্বর অনেক রয়েছে এবং সেখানে নতুন কিছু নির্মাণ না করা পর্যন্ত এগুলোর কোনো পরিবর্তন ঘটে না। তিনি উনপঞ্চাশটি চত্বরের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি গুরুত্বপূর্ণ বাড়িঘরের বর্ণনায় গেছেন, যার সংখ্যা ছাপ্পান্নটি এবং তিনি সেগুলো তাদের মালিকদের নামে নামাঙ্কিত করেছেন। এরপর তিনি গোসলখানা, বাণিজ্য কেন্দ্র, পান্থশালা, সরাইখানা, বড় বাজার ও ছোট বাজার এবং সংরক্ষিত এলাকাগুলোর বর্ণনায় গেছেন এবং সেগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও যেসকল আমির ও সুলতান এগুলো নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের জীবনী তুলে ধরেছেন।

অতঃপর তিনি সেই সকল খাল, কালভার্ট, জলাশয় এবং সেতুর বর্ণনা দিয়েছেন, যা নীল নদের পানি বিভিন্ন মহল্লা ও বসতি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ثم يؤرخ للملوك والسلاطين الذين تعاقبوا عليها منذ بناء قلعة الجبل مبتدئا بمن حكم من الأكراد، بدءا بالقائد أبو الحسن جوهر الذي قدم إلى إفريقيا بعساكر مولاه المعز لدين اللّه أبي تميم معدّ في سنة عشرين للهجرة، منتهيا بالملك الأشرف قانصوه الغوري الأشرفي قايتباي سنة ست وتسعمائة.

مترجما لحياتهم وكيفية وصولهم إلى السلطة وفتوحاتهم وغزواتهم وما قاموا به من خير أو شر لرعيتهم، وما بنوا وما هدموا وكان عددهم ست وخمسون سلطانا وملكا.

ثم انتقل إلى الجوامع ذاكرا بناتها والكيفية التي تمّ عليها البناء وعددها ثمان وثمانون جامعا. ثم ذكر مذاهب أهل مصر ونحلهم منذ افتتح عمرو بن العاص أرض مصر إلى أن صاروا إلى اعتقاد مذاهب الأئمة وما كان من الأحداث في ذلك.

ثم ذكر فرق الخليقة واختلاف عقائدها وتباينها، وفرق أهل الإسلام وانحصار الفرق المتهالكة في عشر طوائف هي: المعتزلة والمشبهة والقدرية والمجبرة والمرجئة والحرورية والبخارية والجهمية والروافض والخوارج، كما ذكر الحال في عقائد أهل الإسلام منذ ابتداء الملة الإسلامية إلى أن انتشر مذهب الأشعرية.

ثم انتقل إلى ذكر المدارس ومن قام على بنائها والأوقاف الموقوفة عليها وما حلّ بها من تبدّل وتغير وعددها ثلاث وسبعون مدرسة. ثم انتقل إلى ذكر المساجد والمارستانات والخوانك والربط والزوايا والمشاهد والمقابر والقرافات ومساجد القرافات والجواسق والمصليّات والمعابد.

ثم انتقل إلى ذكر الملل غير الإسلامية الموجودة في مصر والقاهرة وهم اليهود والنصارى وذكر أحوالهم وكنائسهم ودياراتهم وما كان منهم وعليهم وما آلوا إليه من فرق وخلافات فيما بينهم ومع المسلمين.

ورغم كل ما يقدمه هذا العالم الجليل يعترف بتقصيره عن إتمام الكمال الذي لا يصله إلاّ اللّه وحده.

ويختتم كتابه بحمد اللّه والاتكال عليه.
এরপর তিনি জাবাল দুর্গ নির্মাণের পর থেকে সেখানে একের পর এক শাসনকারী রাজা ও সুলতানদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি কুর্দি শাসকদের মাধ্যমে শুরু করেছেন, যার সূচনা হয়েছে সেনাপতি আবু আল-হাসান জাওহারের মাধ্যমে, যিনি তাঁর মনিব আল-মুইজ লি-দীনিল্লাহ আবু তামীম মাআদ্দ-এর সেনাবাহিনী নিয়ে হিজরি বিশ সালে আফ্রিকায় এসেছিলেন এবং এর সমাপ্তি ঘটেছে নয়শ ছয় হিজরি সালে রাজা আল-আশরাফ কানসুহ আল-গাউরি আল-আশরাফি কাইতবের বর্ণনার মাধ্যমে।

এখানে তিনি তাঁদের জীবনী, ক্ষমতায় আরোহণের পদ্ধতি, তাঁদের বিজয় ও যুদ্ধসমূহ এবং তাঁদের প্রজাদের কল্যাণে বা অকল্যাণে কৃত কর্মসমূহ, আর তাঁরা যা কিছু নির্মাণ বা ধ্বংস করেছেন তার বিবরণ দিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা ছিল ছাপ্পান্ন জন সুলতান ও রাজা।

এরপর তিনি জামে মসজিদসমূহের বর্ণনায় গিয়েছেন এবং এর নির্মাতাদের নাম ও যে পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন; এগুলোর সংখ্যা ছিল আটাশিটি। এরপর তিনি মিশরবাসীদের মাযহাব ও মতবাদসমূহ আলোচনা করেছেন—আমর ইবনুল আস কর্তৃক মিশর বিজয়ের সময় থেকে শুরু করে ইমামদের মাযহাবসমূহের অনুসরণে স্থিত হওয়া পর্যন্ত এবং এই পরিক্রমায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি সম্পর্কে।

তারপর তিনি সৃষ্টির বিভিন্ন দল, তাদের আকিদাগত মতভেদ ও বৈচিত্র্য এবং ইসলামের বিভিন্ন ফেরকা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি পথভ্রষ্ট দলগুলোকে দশটি গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ করেছেন, যথা: মুতাজিলা, মুশাব্বিহা, কাদারিয়া, মুজবিরা, মুরজিয়া, হারুরিয়া, বুখারিয়া, জাহমিয়া, রাফেজি ও খারিজি। এছাড়াও তিনি ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আশআরি মাযহাবের প্রচার ও প্রসার পর্যন্ত মুসলিমদের আকিদাগত অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি মাদরাসা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা, এর জন্য উৎসর্গকৃত ওয়াকফসমূহ এবং এতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন ও রূপান্তর সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; যার সংখ্যা ছিল তিয়াত্তরটি। এরপর তিনি মসজিদ, হাসপাতাল, খানকাহ, রিবাত, জাউইয়া, মাশহাদ বা মাজার, কবরস্থান, কারাফা (বিশাল সমাধি এলাকা), কারাফার মসজিদসমূহ, রাজপ্রাসাদ, মুসল্লা বা ঈদগাহ এবং ইবাদতখানাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি মিশর ও কায়রোতে বিদ্যমান অনৈসলামিক ধর্মাবলম্বীদের প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন, যারা হলেন ইহুদি ও খ্রিস্টান। তিনি তাদের অবস্থা, গির্জা, মঠ এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও তাদের ওপর আপতিত বিষয়াদি এবং তাদের অভ্যন্তরীণ ও মুসলমানদের সাথে বিদ্যমান নানা দল ও মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

এই মহান আলেম যা কিছু উপস্থাপন করেছেন, তা সত্ত্বেও তিনি সেই পূর্ণতা অর্জনে নিজের ত্রুটি ও অক্ষমতার কথা স্বীকার করেছেন, যে পূর্ণতায় একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ পৌঁছাতে পারে না।

তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর ওপর ভরসা করার মাধ্যমে তাঁর কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[مقدمة المؤلف]

الحمد للّه الذي عرّف وفهم، وعلم الإنسان ما لم يكن يعلم، وأسبغ على عباده نعما باطنة وظاهره، ووالى عليهم من مزيد آلائه مننا متظافرة متواترة، وبثهم في أرضه حينا يتقلبون، واستخلفهم في ماله فهم به يتنعمون، وهدى قوما إلى اقتناص شوارد المعارف والعلوم، وشوّقهم للتفنن في مسارح التدبر والركض بميادين الفهوم وأرشد قوما إلى الانقطاع من دون الخلق إليه، ووفقهم للاعتماد في كل أمر عليه وصرف آخرين عن كل مكرمة وفضيلة، وقيض لهم قرناء قادوهم إلى كل ذميمة من الأخلاق ورذيلة، وطبع على قلوب آخرين فلا يكادون يفقهون قولا، وثبطهم عن سبل الخيرات، فما استطاعوا قوّة ولا حولا، ثم حكم على الكل بالفناء ونقلهم جميعا من دار التمحيص والابتلاء إلى برزخ البيود والبلاء، وسيحشرهم أجمعين إلى دار الجزاء ليوفي كل عامل منهم عمله، ويسأله عما أعطاه وخوّله.

وعن موفقه بين يديه سبحانه وما أعدّ له لا يسأل عما يفعل وهم يسألون. أحمده سبحانه حمد من علم أنه إله لا يعبد إلا إياه، ولا خالق للخلق سواه حمدا يقتضي المزيد من النعماء، ويوالي المنن بتجدّد الآلاء، وصلى اللّه على سيدنا محمد وعبده ورسوله ونبيه وخليله سيد البشر وأفضل من مضى وغبر الجامع لمحاسن الأخلاق والسير، والمستحق لاسم الكمال على الإطلاق من البشر الذي كان نبيا وآدم بين الماء والطين، ورقم اسمه من الأزل في عليين، ثم تنقل من الأصلاب الفاخرة الزكية إلى الأرحام الطاهرة المرضية حتى بعثه اللّه عز وجل إلى الخلائق أجمعين، وختم به الأنبياء والمرسلين وأعطاه ما لم يعط أحدا من العالمين وعلى آله وصحابته والتابعين وسلم تسليما كثيرا إلى يوم الدين.

وبعد، فإنّ علم التاريخ من أجل العلوم قدرا، وأشرفها عند العقلاء مكانة وخطرا، لما يحويه من المواعظ والإنذار بالرحيل إلى الآخرة عن هذه الدار والاطلاع على مكارم الأخلاق ليقتدى بها، واستعلام مذامّ الفعال ليرغب عنها أولو النهي، لا جرم إن كانت الأنفس الفاضلة به وامقة والهمم العالية إليه مائلة وله عاشقة. وقد صنف فيه الأئمة كثيرا، وضمّن الأجلّة كتبهم منه شيئا كبيرا، وكانت مصر هي مسقط رأسي، وملعب أترابي ومجمع ناسي، ومغنى عشيرتي وحامتي، وموطن خاصتي وعامّتي، وجؤجؤي الذي ربى جناحي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌[লেখকের ভূমিকা]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরিচিতি করিয়েছেন ও সমঝ দান করেছেন, এবং মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর তাঁর নেয়ামতের আধিক্য নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে জারি রেখেছেন। তিনি তাঁদের তাঁর জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন যেখানে তারা বিচরণ করে এবং তাঁদেরকে তাঁর সম্পদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন যা দিয়ে তারা ভোগবিলাস করে। তিনি এক সম্প্রদায়কে বিরল জ্ঞান ও বিজ্ঞান আহরণের পথ দেখিয়েছেন এবং চিন্তাগবেষণার চারণভূমিতে নানামুখী বৈচিত্র্য অন্বেষণে এবং বোধের ময়দানে ধাবিত হতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি একদলকে সৃষ্টিজগত থেকে বিমুখ হয়ে তাঁর দিকে মনোনিবেশ করার পথ দেখিয়েছেন এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁর ওপর ভরসা করার তাওফিক দান করেছেন। আবার অন্য একদলকে প্রতিটি সম্মান ও মর্যাদা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য এমন সঙ্গী নির্ধারণ করেছেন যারা তাঁদেরকে প্রতিটি মন্দ চরিত্র ও হীন আচরণের দিকে পরিচালিত করেছে। তিনি আরও একদলের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা কোনো কথাই বুঝতে পারে না। তিনি তাঁদের কল্যাণের পথ থেকে নিবৃত্ত করেছেন, ফলে তাঁদের কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। এরপর তিনি সকলের ওপর নশ্বরতার ফয়সালা করেছেন এবং তাঁদের সবাইকে পরীক্ষা ও আসক্তির ঘর থেকে অবলুপ্তি ও বিনাশের বরজখে স্থানান্তরিত করেছেন। তিনি অচিরেই তাঁদের সকলকে প্রতিফল প্রদানের ঘরে একত্রিত করবেন যেন প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের প্রতিদান পূর্ণরূপে প্রদান করেন এবং তাকে যা দান করেছেন ও যা অর্পণ করেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।

এবং তাঁর পবিত্র সত্তার সামনে দণ্ডায়মান হওয়া এবং তার জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে সে সম্পর্কেও (জিজ্ঞাসা করবেন)। তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না, বরং তাঁরাই জিজ্ঞাসিত হবে। আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা ও প্রশংসা করছি এমন ব্যক্তির ন্যায় যে জানে যে, তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই এবং তিনি ছাড়া সৃষ্টির কোনো স্রষ্টা নেই—এমন প্রশংসা যা নেয়ামতের আধিক্য দাবি করে এবং নতুন নতুন নেয়ামতের মাধ্যমে অনুগ্রহের ধারা অব্যাহত রাখে। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর বান্দা, রাসূল, নবী ও খলীল এবং মানবজাতির সর্দার ও অতীত ও গত হওয়া সকলের মধ্যে সর্বোত্তমের ওপর; যিনি সুন্দর চরিত্র ও জীবনীর আধার এবং মানুষের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে পূর্ণতা নামের যোগ্য। যিনি নবী ছিলেন তখন যখন আদম পানি ও কাদার মাঝে ছিলেন এবং যাঁর নাম অনাদিকাল থেকে ইল্লিয়্যিনে লিপিবদ্ধ। এরপর তিনি মর্যাদাশীল ও পবিত্র পৃষ্ঠদেশ থেকে পূত-পবিত্র ও পছন্দনীয় জরায়ুতে স্থানান্তরিত হতে থাকেন, যতক্ষণ না মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁকে সমস্ত সৃষ্টির প্রতি প্রেরণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমে নবী ও রাসূলগণের সিলসিলা সমাপ্ত করেন এবং তাঁকে তা দান করেন যা জগতের আর কাউকে দান করেননি। তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও তাবেয়ীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের ওপর অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, নিশ্চয়ই ইতিহাস শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে অতি মহৎ এবং বুদ্ধিমানদের নিকট অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রয়েছে উপদেশ এবং এই নশ্বর জগত থেকে আখিরাতের দিকে প্রস্থানের সতর্কবাণী। এছাড়া এতে মহৎ চরিত্রসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় যেন তা অনুসরণ করা যায় এবং মন্দ কাজসমূহ সম্পর্কে জানা যায় যেন বিবেকবানরা তা থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহৎ প্রাণসমূহ এর প্রতি অনুরাগী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো এর প্রতি আসক্ত ও প্রেমাতুর। ইমামগণ এ বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বরেণ্য মনীষীগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এর বিশাল অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মিশর ছিল আমার জন্মভূমি, আমার শৈশবের খেলার মাঠ, আমার মানুষের মিলনস্থল, আমার বংশ ও আত্মীয়-স্বজনের আবাস এবং আমার আপন ও সাধারণের মাতৃভূমি। এটিই আমার সেই নীড় যেখানে আমার ডানা পুষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
في وكره وعش مأربي فلا تهوى الأنفس غير ذكره لا زلت مذ شذوت العلم وآتاني ربي الفطانة والفهم أرغب في معرفة أخبارها وأحبّ الأشراف على الاغتراف من آبارها، وأهوى مسائلة الركبان عن سكان ديارها فقيدت بخطى في الأعوام الكثيرة، وجمعت من ذلك فوائد قل ما يجمعها كتاب، أو يحويها لعزتها وغرابتها أهاب إلاّ أنها ليست بمرتبة على مثال ولا مهذبة بطريقة ما نسج على منوال، فأردت أن ألخص منها أنباء ما بديار مصر من الآثار الباقية، عن الأمم الماضية والقرون الخالية، وما بقي بفسطاط مصر من المعاهد غير ما كاد يفنيه البلى والقدم ولم يبق إلاّ أن يمحو رسمها الفناء والعدم، وأذكر ما بمدينة القاهرة من آثار القصور الزاهرة، وما اشتملت عليه من الخطط والأصقاع، وحوته من المباني البديعة الأوضاع، مع التعريف بحال من أسس ذلك من أعيان الأماثل، والتنويه بذكر الذي شادها من سراة الأعاظم والأفاضل وأنثر خلال ذلك نكتا لطيفة، وحكما بديعة شريفة من غير إطالة ولا إكثار، ولا إجحاف مخل بالغرض ولا اختصار، بل وسط بين الطرفين، وطريق بين بين.

فلهذا سميته (كتاب المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار)، وإني لأرجو أن يحظى إن شاء اللّه تعالى عند الملوك ولا ينبو عنه طباع العاميّ والصعلوك ويجله العالم المنتهي، ويعجب به الطالب المبتدي، وترضاه خلائق العابد الناسك، ولا يمجه سمع الخليع الفاتك ويتخذه أهل البطالة والرفاهية سمرا، ويعدّه أولو الرأي والتدبير موعظة وعبرا، يستدلون به على عظيم قدرة اللّه تعالى في تبديل الأبدال، ويعرفون به عجائب صنع ربنا سبحانه من تنقل الأمور إلى حال بعد حال، فإن كنت أحسنت فيما جمعت وأصبت في الذي صنعت ووضعت، فذلك من عميم منن اللّه تعالى وجزيل فضله وعظيم أنعمه عليّ، وجليل طوله، وإن أنا أسأت فيما فعلت وأخطأت إذ وضعت فما أجدر الإنسان بالإساءة والعيوب إذا لم يعصمه ويحفظه علام الغيوب:

وما أبرّئ نفسي أنني بشر … أسهو وأخطئ ما لم يحمني قدر

ولا ترى عذرا أولى بذي زلل … من أن يقول مقرّا أنني بشر

فليسبل الناظر في هذا التأليف على مؤلفه ذيل ستره إن مرّت به هفوة، وليغض تجاوزا وصفحا إن وقف منه على كبوة، أو نبوة فأيّ جواد وإن عنق ما يكبو، وأيّ عضب مهند لا يكل ولا ينبو لا سيما والخاطر بالأفكار مشغول، والعزم لالتواء الأمور وتعسرها فاتر محلول، والذهن من خطوب هذا الزمن القطوب كليل والقلب لتوالي المحن، وتواتر الإحن عليل:

يعاندني دهري كأني عدوّه … وفي كل يوم بالكريهة يلقاني

فإن رمت شيئا جاءني منه ضدّه … وإن راق لي يوما تكدّر في الثاني
তাঁর নিভৃত আশ্রয়ে এবং আমার বাসনায়, তাঁর জিকির ছাড়া আত্মা অন্য কিছুতে আসক্ত হয় না। যখন থেকে আমি জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছি এবং আমার প্রতিপালক আমাকে মেধা ও প্রজ্ঞা দান করেছেন, তখন থেকেই আমি ইতিহাসের সংবাদসমূহ জানার জন্য আগ্রহী হয়েছি এবং সেই জ্ঞান-কূপ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পছন্দ করেছি। আমি পর্যটকদের কাছে এই জনপদের অধিবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভালোবাসতাম। ফলে দীর্ঘ বহু বছর ধরে আমি তা নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করেছি এবং এমন সব বিরল ও অদ্ভুত উপকারিতা ও তথ্য সংগ্রহ করেছি যা খুব কম বইয়েই একত্রিত হয়েছে; এর দুর্লভ ও অদ্ভুত হওয়ার কারণে খুব কম গ্রন্থই তা ধারণ করতে পেরেছে। তবে সেগুলো কোনো নির্দিষ্ট আদর্শে সাজানো ছিল না বা কোনো সুসংগঠিত পদ্ধতিতে পরিমার্জিত ছিল না। তাই আমি চেয়েছি মিশরের অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহ, যা অতীত জাতি ও গত হওয়া শতাব্দীগুলোর স্মৃতি বহন করে, তার সংবাদ সংক্ষেপে তুলে ধরতে। ফাস্তাত শহরের সেই সকল স্মৃতিচিহ্ন যা জরাজীর্ণতা ও কালের বিবর্তনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে এবং যার চিহ্ন কেবল ধ্বংস ও অস্তিত্বহীনতাই মুছে দিতে বাকি আছে, সেগুলো বর্ণনা করতে চেয়েছি। এছাড়া কায়রো শহরের সেই দীপ্তিময় প্রাসাদসমূহ, এর পরিকল্পনা ও অঞ্চলসমূহ এবং এর অপূর্ব নির্মাণশৈলী সম্পর্কে আলোচনা করেছি। সাথে সাথে যারা এসব প্রতিষ্ঠা করেছেন সেই সকল বিশিষ্ট ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং যারা এগুলো নির্মাণ করেছেন সেই মহান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের পরিচয় তুলে ধরেছি। এর মাঝে আমি অতি দীর্ঘ বা বাহুল্য না করে এবং মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এমন সংক্ষিপ্ত না করে অতি চমৎকার কিছু সূক্ষ্ম বিষয় ও মহৎ প্রজ্ঞা আলোচনা করেছি। বরং দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ অবলম্বন করেছি।

এজন্য আমি এর নাম দিয়েছি (কিতাবুল মাওয়ায়েজ ওয়াল ইতিবার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার)। আমি আশা করি আল্লাহ তাআলা চাহেন তো এটি বাদশাহদের নিকট সমাদৃত হবে, সাধারণ মানুষ ও নিঃস্বদের স্বভাবের কাছেও তা অপছন্দনীয় হবে না। বিজ্ঞ পন্ডিত একে মর্যাদা দেবেন, শিক্ষানবিশ ছাত্র এতে মুগ্ধ হবে, ইবাদতকারী আবেদ এতে সন্তুষ্ট হবে এবং পাপাচারী ব্যক্তির কানেও এটি শ্রুতিকটু লাগবে না। অলস ও বিলাসীরা একে গল্পের আসরের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করবে এবং চিন্তাশীল ও দূরদর্শী ব্যক্তিরা একে উপদেশ ও শিক্ষা হিসেবে গণ্য করবে। এর মাধ্যমে তারা মানুষের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার মহান কুদরতের প্রমাণ পাবে এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় বিষয়সমূহের রূপান্তরের মাধ্যমে আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার সৃষ্টির অপার বিস্ময় সম্পর্কে জানতে পারবে। যদি আমি এই সংকলনে ভালো কিছু করে থাকি এবং আমার এই রচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহ তাআলার অশেষ অনুগ্রহ, তাঁর মহান দান ও আমার ওপর তাঁর বিশাল নিআমতের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আর যদি আমি আমার কর্মে মন্দ কিছু করে থাকি বা রচনায় ভুল করে থাকি, তবে মানুষের জন্য মন্দ ও ত্রুটি হওয়াই স্বাভাবিক যদি না গায়ব সম্পর্কে সম্যক অবগত সত্তা তাকে হিফাযত করেন:

আমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করি না কারণ আমি একজন মানুষ … ভাগ্য আমাকে রক্ষা না করলে আমি ভুল ও বিস্মৃতির শিকার হই।

স্খলনকারীর জন্য এর চেয়ে বড় কোনো ওজর নেই … যে সে অকপটে স্বীকার করে আমি একজন মানুষ।

অতএব এই রচনার পাঠকের দৃষ্টি যদি কোনো ভুলের ওপর পড়ে, তবে তিনি যেন লেখকের প্রতি ক্ষমার চাদর টেনে দেন এবং কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি দেখলে যেন তা মার্জনা ও উপেক্ষা করেন। কারণ যত দ্রুতগামীই হোক না কেন, কোন ঘোড়াটি হোঁচট খায় না? আর কোন ধারালো তরবারিটি ভোঁতা হয় না বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না? বিশেষ করে যখন চিন্তাগুলো বিভিন্ন ভাবনায় আচ্ছন্ন থাকে, পরিস্থিতি প্রতিকূল ও কঠিন হওয়ার কারণে সংকল্প যখন শিথিল হয়ে পড়ে এবং এই কঠোর সময়ের সংকটে মেধা যখন ক্লান্ত ও একের পর এক বিপদ ও বিদ্বেষের কারণে হৃদয় যখন রুগ্ন:

মহাকাল আমার সাথে এমন শত্রুতা করছে যেন আমি তার শত্রু … এবং প্রতিদিন সে আমাকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে।

যদি আমি কিছু চাই তবে তার বিপরীতটি আমার সামনে আসে … আর যদি কোনো দিন আমার কাছে আনন্দদায়ক মনে হয় তবে দ্বিতীয় দিনেই তা বিষণ্ণতায় ভরে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
اللهمّ غفرا ما هذا من التبرّم بالقضاء، ولا التضجر بالمقدور، بل إنه سقيم ونفثة مصدور يستروح أن أبدي التوجع والأنين، ويجد خفا من ثقله إذا باح بالشكوى والحنين:

ولو نظروا بين الجوانح والحشا … رأوا من كتاب الحب في كبدي سطرا

ولو جرّبوا ما قد لقيت من الهوى … إذا عذروني أو جعلت لهم عذرا

واللّه أسأل أن يحلي هذا الكتاب بالقبول عند الجلة والعلماء، كما أعوذ به من تطرّق أيدي الحساد إليه والجهلاء، وأن يهديني فيه وفيما سواه من الأقوال والأفعال إلى سواء السبيل، إنه حسبنا ونعم الوكيل وفيه جلّت قدرته لي سلوّ من كل حادث، وعليه عز وجل أتكل في جميع الحوادث، لا إله إلا هو ولا معبود سواه.
হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এটি ফয়সালার প্রতি কোনো অসন্তোষ নয়, আর না এটি তাকদিরের প্রতি কোনো বিরক্তি; বরং এটি একজন রুগ্ন ব্যক্তির দীর্ঘশ্বাস ও অন্তরের আর্তি, যে তার বেদনা ও হাহাকার প্রকাশ করার মাধ্যমে প্রশান্তি খোঁজে এবং যখন সে তার অভিযোগ ও ব্যাকুলতা ব্যক্ত করে, তখন সে ভারমুক্ত বোধ করে:

যদি তারা পাঁজরের হাড় ও বক্ষপিঞ্জরের মাঝে দৃষ্টি দিত … তবে তারা আমার কলিজায় প্রেমের কিতাবের একটি পঙ্ক্তি দেখতে পেত।

যদি তারা তা অনুভব করত যা আমি ভালোবাসায় পেয়েছি … তবে তারা আমাকে ক্ষমা করত অথবা আমি তাদের জন্য ক্ষমার অজুহাত খুঁজে নিতাম।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবটিকে বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও ওলামায়ে কিরামের নিকট গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে বিভূষিত করেন, যেমন আমি তাঁর নিকট আশ্রয় চাই হিংসুক ও মূর্খদের হাতের স্পর্শ থেকে; আর তিনি যেন আমাকে এতে এবং এ ছাড়া অন্য সকল কথা ও কাজে সঠিক পথের দিশা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর তাঁর মাঝেই—যাঁর কুদরত সুমহান—রয়েছে আমার প্রতিটি বিপদের সান্ত্বনা, এবং আমি তাঁরই ওপর—যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—সকল পরিস্থিতিতে ভরসা করি। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ذكر الرؤوس الثمانية

اعلم أنّ عادة القدماء من المعلمين قد جرت أن يأتوا بالرؤوس الثمانية قبل افتتاح كل كتاب، وهي: الغرض والعنوان والمنفعة، والمرتبة، وصحة الكتاب، ومن أيّ صناعة هو وكم فيه من أجزاء، وأيّ أنحاء التعاليم المستعملة فيه فنقول:

(أما الغرض) في هذا التأليف فإنه جمع ما تفرّق من أخبار أرض مصر، وأحوال سكانها كي يلتئم من مجموعها معرفة جمل أخبار إقليم مصر وهي التي إذا حصلت في ذهن إنسان اقتدر على أن يخبر في كل وقت بما كان في أرض مصر من الآثار الباقية والبائدة ويقص أحوال من ابتدأها، ومن حلها وكيف كانت مصائر أمورهم وما يتصل بذلك على سبيل الاتباع لها بحسب ما تحصل به الفائدة الكلية بذلك الأثر.

(وأمّا عنوان هذا الكتاب) أعني الذي وسمته به فإني لما فحصت عن أخبار مصر وجدتها مختلطة متفرّقة فلم يتهيأ لي إذ جمعتها أن أجعل وضعها مرتبا على السنين لعدم ضبط وقت كل حادثة لا سيما في الأعصر الخالية، ولا أن أضعها على أسماء الناس لعلل أخر تظهر عند تصفح هذا التأليف فلهذا فرّقتها في ذكر الخطط والآثار، فاحتوى كل فصل منها على ما يلائمه ويشاكله، وصار بهذا الاعتبار قد جمع ما تفرّق وتبدّد من أخبار مصر، ولم أتحاش من تكرار الخبر إذا احتجت إليه بطريقة يستحسنها الأريب، ولا يستهجنها الفطن الأديب كي يستغني مطالع كل فصل بما فيه عما في غيره من الفصول، فلذلك سميته:

(كتاب المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار).

(وأما منفعة هذا الكتاب) فإنّ الأمر فيها يتبين من الغرض في وضعه، ومن عنوانه أعني أنّ منفعته هي أن يشرف المرء في زمن قصير على ما كان في أرض مصر من الحوادث والتغييرات في الأزمنة المتطاولة والأعوام الكثيرة، فتتهذب بتدبر ذلك نفسه وترتاض أخلاقه فيحب الخير ويفعله، ويكره الشرّ ويتجنبه، ويعرف فناء الدنيا فيحظى بالإعراض عنها، والإقبال على ما يبقى.

(وأما مرتبة هذا الكتاب) فإنه من جملة أحد قسمي العلم اللذين هما العقليّ والنقليّ، فينبغي أن يتفرّغ لمطالعته وتدبر مواعظه بعد إتقان ما تجب معرفته من العلوم النقلية والعقلية، فإنه يحصل بتدبره لمن أزال اللّه أكنة قلبه وغشاوة بصره نتيجة العلم بما صار إليه
আটটি প্রারম্ভিক বিষয়ের আলোচনা

জেনে রাখুন যে, প্রাচীন শিক্ষকদের রীতি ছিল প্রতিটি কিতাব শুরুর পূর্বে আটটি প্রারম্ভিক বিষয় উপস্থাপন করা। সেগুলো হলো: উদ্দেশ্য, শিরোনাম, উপকারিতা, মর্যাদা, কিতাবটির বিশুদ্ধতা, এটি কোন শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, এতে কতটি অংশ রয়েছে এবং এতে শিক্ষাদানের কোন পদ্ধতিগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং আমরা বলছি:

(উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে) এই রচনার উদ্দেশ্য হলো মিশর ভূখণ্ডের বিক্ষিপ্ত সংবাদসমূহ এবং এর অধিবাসীদের অবস্থাসমূহ একত্রিত করা, যাতে সেই সমষ্টি থেকে মিশর অঞ্চলের সংবাদের সামগ্রিক জ্ঞান অর্জিত হয়। যা অর্জিত হলে একজন মানুষ যেকোনো সময় মিশর ভূমিতে বিদ্যমান এবং বিলুপ্ত নিদর্শনাদি সম্পর্কে সংবাদ দিতে সক্ষম হবে এবং যারা এর সূচনা করেছিল ও যারা এখানে বসবাস করেছিল তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে পারবে। সেই সাথে সেই নিদর্শনের মাধ্যমে অর্জিত সামগ্রিক উপকারিতা অনুযায়ী তাদের ঘটনাবলি অনুসরণ করে তাদের পরিণাম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বর্ণনা করতে পারবে।

(এই কিতাবের শিরোনাম প্রসঙ্গে) অর্থাৎ যে নামে আমি একে অভিহিত করেছি। আমি যখন মিশরের সংবাদসমূহ অনুসন্ধান করলাম, তখন সেগুলোকে এলোমেলো ও বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পেলাম। তাই যখন আমি সেগুলো একত্রিত করলাম, তখন প্রতিটি ঘটনার সময়কাল সংরক্ষিত না থাকার কারণে—বিশেষ করে প্রাচীন যুগের—সেগুলোকে বছর অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজানো আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। আবার অন্যান্য কিছু কারণে মানুষের নামের ক্রমানুসারেও তা সাজানো সম্ভব হয়নি, যা এই কিতাবটি পাঠ করলে স্পষ্ট হবে। এই কারণে আমি এগুলোকে 'খিতাত' (বসতি ও পরিকল্পনা) এবং 'আসার' (নিদর্শনসমূহ) বর্ণনায় বিভক্ত করেছি। এর প্রতিটি পরিচ্ছেদ তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই বিবেচনায় এটি মিশরের সংবাদসমূহের মধ্য থেকে যা কিছু বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন ছিল তাকে একত্রিত করেছে। আমি কোনো সংবাদ পুনরাবৃত্তি করতে দ্বিধাবোধ করিনি যখন কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যে পদ্ধতিটি পছন্দ করবেন তার প্রয়োজনে সেটি এসেছে এবং কোনো চতুর সাহিত্যিক তা অপছন্দ করবেন না, যাতে প্রতিটি পরিচ্ছেদের পাঠক তাতে যা আছে তা দ্বারাই অন্য পরিচ্ছেদের মুখাপেক্ষীহীন হতে পারেন। এই কারণেই আমি এর নাম দিয়েছি:

(উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ সম্বলিত কিতাব: মিশরের বসতি ও নিদর্শনাদির বর্ণনা)।

(এই কিতাবের উপকারিতা প্রসঙ্গে) এর বিষয়টি এর রচনার উদ্দেশ্য এবং শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ এর উপকারিতা হলো এই যে, একজন ব্যক্তি স্বল্প সময়ে মিশর ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল ও বহু বছর ধরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি ও পরিবর্তনসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারবেন। ফলে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার মাধ্যমে তার আত্মা মার্জিত হবে এবং তার চরিত্র অনুশীলিত হবে, ফলে সে কল্যাণকে ভালোবাসবে ও তা সম্পাদন করবে এবং অকল্যাণকে ঘৃণা করবে ও তা থেকে বিরত থাকবে। সে দুনিয়ার নশ্বরতা সম্পর্কে জানতে পারবে, ফলে দুনিয়া বিমুখতা ও চিরস্থায়ী বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করার সৌভাগ্য লাভ করবে।

(এই কিতাবের মর্যাদা প্রসঙ্গে) এটি জ্ঞানের দুটি প্রকার—যুক্তিভিত্তিক ও বর্ণনানির্ভর—এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বর্ণনানির্ভর ও যুক্তিভিত্তিক জ্ঞানের মধ্য থেকে যা জানা আবশ্যক তা সুনিপুণভাবে অর্জনের পর এটি পাঠ করার জন্য এবং এর উপদেশসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য মনোনিবেশ করা উচিত। কারণ যার অন্তরের পর্দা এবং চোখের আবরণ আল্লাহ সরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য এটি চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে সেই পরিণতির জ্ঞান অর্জিত হবে যার দিকে সবকিছু ধাবিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أبناء جنسه بعد التخوّل في الأموال والجنود من الفناء والبيود، فإذا مرتبته بعد معرفة أقسام العلوم العقلية والنقلية ليعرف منه كيف كان عاقبة الذين كانوا من قبل.

(وأما واضع هذا الكتاب ومرتّبه) فاسمه أحمد بن عليّ بن عبد القادر بن محمد، ويعرف بالمقريزيّ رحمه اللّه تعالى ولد بالقاهرة المعزية من ديار مصر بعد سنة ستين وسبعمائة من سني الهجرة المحمدية، ورتبته من العلوم ما يدل عليه هذا الكتاب وغيره مما جمعه وألفه.

(وأما من أيّ علم هذا الكتاب) فإنه من علم الأخبار وبها عرفت شرائع اللّه تعالى التي شرعها، وحفظت سنن أنبيائه ورسله، ودوّن هداهم الذي يقتدى به من وفقه اللّه تعالى إلى عبادته، وهداه إلى طاعته، وحفظه من مخالفته، وبها نقلت أخبار من مضى من الملوك والفراعنة وكيف حل بهم سخط اللّه تعالى لما أتوا ما نهوا عنه، وبها اقتدر الخليقة من أبناء البشر على معرفة ما دوّنوه من العلوم والصنائع، وتأتي لهم على ما غاب عنهم من الأقطار الشاسعة، والأمصار النائية وغير ذلك مما لا ينكر فضله، ولكل أمّة من أمم العرب والعجم على تباين آرائهم واختلاف عقائدهم أخبار عندهم معروفة مشهورة ذائعة بينهم، ولكل مصر من الأمصار المعمورة حوادث قد مرّت به يعرفها علماء ذلك المصر في كل عصر ولو استقصيت ما صنف علماء العرب والعجم في ذلك لتجاوز حدّ الكثرة، وعجزت القدرة البشرية عن حصره.

(وأما أجزاء هذا الكتاب فإنها سبعة): أولها: يشتمل على جمل من أخبار أرض مصر، وأحوال نيلها وخراجها وجبالها.

وثانيها: يشتمل على كثير من مدنها وأجناس أهلها.

وثالثها: يشتمل على أخبار فسطاط مصر ومن ملكها.

ورابعها: يشتمل على أخبار القاهرة وخلائقها وما كان لهم من الآثار.

وخامسها: يشتمل على ذكر ما أدركت عليه القاهرة وظواهرها من الأحوال.

وسادسها: يشتمل على ذكر قلعة الجبل وملوكها.

وسابعها: يشتمل على ذكر الأسباب التي نشأ عنها خراب إقليم مصر.

وقد تضمن كل جزء من هذه الأجزاء السبعة عدّة أقسام.

وأما أيّ أنحاء التعاليم التي قصدت في هذا الكتاب، فإني سلكت فيه ثلاثة أنحاء، وهي النقل من الكتب المصنفة في العلوم، والرواية عمن أدركت من شيخه العلم وجلة الناس، والمشاهدة لما عاينته ورأيته. فأما النقل من دواوين العلماء التي صنفوها في أنواع العلوم فإني أعزو كل نقل إلى الكتاب الذي نقلته منه لأخلص من عهدته، وأبرأ من جريرته فكثيرا ممن ضمني وإياه العصر، واشتمل علينا المصر صار لقلة إشرافه على العلوم وقصور
ধন-সম্পদ ও সৈন্য-সামন্তের পরিবর্তনের পর ধ্বংস ও বিলুপ্ত হওয়া তার সমজাতীয়দের অবস্থা; সুতরাং আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) ও নাকলি (ঐতিহ্যগত) শাস্ত্রসমূহের প্রকারভেদ জানার পর তার মর্যাদা হলো এর মাধ্যমে এটি জানা যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন ছিল।

(আর এই গ্রন্থের প্রণেতা ও বিন্যাসকারী প্রসঙ্গে): তাঁর নাম আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ, যিনি আল-মাকরিজি নামে পরিচিত, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। তিনি হিজরি সাতশ ষাট সালের পর মিশরের কায়রো (আল-মুইজ্জিয়্যাহ)-তে জন্মগ্রহণ করেন। বিজ্ঞানে তাঁর মর্যাদা এই গ্রন্থ এবং তাঁর সংকলিত ও রচিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়।

(আর এই গ্রন্থটি কোন শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত): এটি মূলত ইতিহাস (আখবার) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার প্রবর্তিত শরিয়তসমূহ জানা গেছে, তাঁর নবী ও রাসুলগণের সুন্নাহ সংরক্ষিত হয়েছে, এবং তাঁদের হিদায়েত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে—যাকে তারা অনুসরণ করেন যাদেরকে আল্লাহ তাঁর ইবাদতের তাওফিক দিয়েছেন, আনুগত্যের পথে পরিচালিত করেছেন এবং নাফরমানি থেকে রক্ষা করেছেন। এর মাধ্যমেই অতীত রাজন্যবর্গ ও ফেরাউনদের সংবাদ বর্ণিত হয়েছে এবং কীভাবে তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার ক্রোধ আপতিত হয়েছিল যখন তারা নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়েছিল, তাও জানা গেছে। এর মাধ্যমেই মানবজাতি তাদের লিপিবদ্ধ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলা সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমেই তাদের কাছে দূর-দূরান্তের ভূখণ্ড, জনপদ এবং অন্যান্য অনেক বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যার শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। আরব ও অনারব প্রতিটি জাতির ভিন্ন ভিন্ন মত ও আকিদা থাকা সত্ত্বেও তাদের কাছে সুপরিচিত ও প্রচারিত ইতিহাস রয়েছে। প্রতিটি আবাদি জনপদের নিজস্ব ঘটনাবলি রয়েছে যা প্রতিটি যুগের সেই জনপদের আলেমগণ জানেন। যদি আরব ও অনারব আলেমগণ এ বিষয়ে যা কিছু রচনা করেছেন তা অনুসন্ধান করা হতো, তবে তা আধিক্যের সীমা ছাড়িয়ে যেত এবং মানবীয় শক্তি তা গণনা করতে অক্ষম হতো।

(আর এই গ্রন্থের খণ্ডসমূহ সাতটি): প্রথম খণ্ড: মিশরের ভূমির সংবাদ, নীল নদের অবস্থা, এর রাজস্ব ও পাহাড়সমূহের বিবরণ সংবলিত।

দ্বিতীয় খণ্ড: এর অনেক শহর এবং অধিবাসীদের প্রকারভেদ সংবলিত।

তৃতীয় খণ্ড: ফুস্তাত-মিশরের সংবাদ এবং এর শাসকদের বিবরণ সংবলিত।

চতুর্থ খণ্ড: কায়রোর সংবাদ, এর জনসমষ্টি এবং তাদের রেখে যাওয়া নিদর্শনসমূহ সংবলিত।

পঞ্চম খণ্ড: কায়রো এবং এর আশপাশের বর্তমান অবস্থা ও ঘটনাবলির বিবরণ সংবলিত।

ষষ্ঠ খণ্ড: কেল্লাতুল জাবাল (পাহাড়ের দুর্গ) এবং এর রাজন্যবর্গের বিবরণ সংবলিত।

সপ্তম খণ্ড: মিশর ভূখণ্ডের ধ্বংসের কারণসমূহের বিবরণ সংবলিত।

এই সাতটি খণ্ডের প্রতিটি আবার বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত।

এই গ্রন্থে আমি যে শিক্ষা পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার সংকল্প করেছি, তা হলো তিনটি পদ্ধতি: ক. বিভিন্ন শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ, খ. সমকালীন আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা লাভ, এবং গ. নিজ চোখে দেখা ও প্রত্যক্ষ করা বিষয়সমূহ। আলেমদের রচিত বিভিন্ন শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি প্রতিটি উদ্ধৃতিকে মূল গ্রন্থের দিকে নিসবত (সম্পর্কিত) করেছি যেখান থেকে আমি তা গ্রহণ করেছি, যাতে আমি এর দায়ভার থেকে মুক্ত হতে পারি এবং এর ভুলত্রুটির দায়িত্ব থেকে পবিত্র থাকতে পারি। কারণ আমার সমসাময়িক এবং এই জনপদে বসবাসকারী অনেকেরই বিজ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্য না থাকা এবং অক্ষমতার কারণে...
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
باعه في معرفة علوم التاريخ، وجهل مقالات الناس يهجم بالإنكار على ما لا يعرفه ولو أنصف لعلم أن العجز من قبله وليس ما تضمنه هذا الكتاب من العلم الذي يقطع عليه، ولا يحتاج في الشريعة إليه وحسب العالم أن يعلم ما قيل في ذلك ويقف عليه.

وأما الرواية عمن أدركت من الجلة والمشايخ فإني في الغالب والأكثر أصرح باسم من حدّثني إلا أن لا يحتاج إلى تعيينه، أو أكون قد أنسيته وقلّ ما يتفق مثل ذلك.

وأمّا ما شاهدته فإني أرجو أن أكون وللّه الحمد غير متهم ولا ظنين، وقد قلت في هذه الرءوس الثمانية ما فيه قنع وكفاية، ولم يبق إلا أن أشرع فيما قصدت، وعزمي أن أجعل الكلام في كل خط من الأخطاط وفي كل أثر من الآثار على حدة ليكون العلم بما يشتمل عليه من الأخبار أجمع وأكثر فائدة وأسهل تناولا واللّه يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم وفوق كلّ ذي علم عليم.

(فصل): أوّل من رتب خطط مصر وآثارها، وذكر أسبابها في ديوان جمعه: أبو عمر محمد بن يوسف الكنديّ(1)، ثم كتب بعده القاضي أبو عبد اللّه محمد بن سلامة القضاعيّ(2) كتابه المنعوت بالمختار في ذكر الخطط والآثار، ومات في سنة سبع وخمسين وأربعمائة قبل سني الشدّة، فدثر أكثر ما ذكر اه.

ولم يبق إلا يلمع وموضع بلقع بما حل بمصر من سني الشدّة المستنصرية من سنة سبع وخمسين إلى سنة أربع وستين وأربعمائة من الغلاء والوباء، فمات أهلها وخربت ديارها وتغيرت أحوالها، واستولى الخراب على عمل فوق من الطرفين بجانبي الفسطاط الغربيّ والشرقيّ. فأما الغربيّ فمن قنطرة بني وائل حيث الوراقات الآن قريبا من باب القنطرة خارج مدينة مصر إلى الشرف المعروف الآن بالرصد، وأنت مار إلى القرافة الكبرى. وأما الشرقيّ فمن طرف بركة الحبش التي تلي القرافة إلى نحو جامع أحمد بن طولون، ثم دخل أمير الجيوش بدر الجمالي مصر في سنة ست وستين وأربعمائة، وهذه المواضع خاوية على عروشها خالية من سكانها وأنيسها قد أبادهم الوباء والتباب، وشتتهم الموت والخراب ولم يبق بمصر إلا بقايا من الناس كأنهم أموات قد اصفرّت وجوههم وتغيرت سحنهم من غلاء الأسعار، وكثرة الخوف من العسكرية، وفساد طوائف العبيد والملحية، ولم يجد من يزرع الأراضي. هذا والطرقات قد انقطعت بحرا وبرّا إلا بخفارة وكلفة كثيرة، وصارت القاهرة

--------------------------------------------

(1) أبو عمر محمد بن يوسف الكندي المؤرخ الكبير صاحب كتاب (ولاة مصر وقضاتها) المتوفى سنة 350 هـ. وبعض المؤرخين يخطئ في نسبة كتابه (فضائل مصر) له. علما أنّ كتاب فضائل مصر هو لابنه عمر بن محمد بن يوسف الكندي وهو أيضا مؤرخ. النجوم الزاهرة ج 51/ 1.

(2) مؤرخ مفسر كان كاتبا للوزير الجرجرائي أيام الفاطميين له عدة مؤلفات منها (تفسير القرآن) عشرون مجلدا و (خطط مصر) و (تاريخ الخلفاء). توفي سنة 454 هـ. الأعلام ج 146/ 6.
ইতিহাসের বিজ্ঞানে তার পরিধি এবং মানুষের মতামত সম্পর্কে তার অজ্ঞতা তাকে এমন কিছুর প্রতিবাদ করতে প্ররোচিত করে যা সে জানে না। যদি সে ইনসাফ করত, তবে সে জানত যে অক্ষমতা তার নিজের পক্ষ থেকে। আর এই কিতাবটি এমন কোনো জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করে না যা তার জন্য অনিবার্য, কিংবা শরিয়তের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজন নেই। একজন আলেমের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা তিনি জানবেন এবং সে সম্পর্কে অবগত হবেন।

আর আমি যেসব মহান ব্যক্তি ও মাশায়েখদের সান্নিধ্য পেয়েছি তাদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় আমার কাছে বর্ণনাকারীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি; যদি না তাকে নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন থাকে অথবা আমি তার নাম ভুলে গিয়ে থাকি। আর এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে থাকে।

আর আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি, সে বিষয়ে আমি আশা করি যে—আল্লাহর প্রশংসা—আমি কোনো অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন নই। এই আটটি প্রধান বিষয়ে আমি এমন কিছু বলেছি যা যথেষ্ট ও সন্তোষজনক। এখন আমার মূল উদ্দেশ্য শুরু করা ছাড়া আর কিছু বাকি নেই। আমার সংকল্প হলো প্রতিটি অঞ্চল এবং প্রতিটি নিদর্শনের বর্ণনা আলাদাভাবে প্রদান করা, যাতে এর অন্তর্ভুক্ত সংবাদসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, অধিক উপকারী এবং সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন।

(পরিচ্ছেদ): মিসরের অঞ্চলসমূহ ও তার নিদর্শনাদি সর্বপ্রথম সুবিন্যস্ত করেছেন এবং তার কারণসমূহ একটি সংকলিত দিওয়ানে উল্লেখ করেছেন: আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দি(১)। অতঃপর তার পরে কাজি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-কুদায়ি(২) তার কিতাব লিখেছেন যা 'আল-মুখতার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার' নামে পরিচিত। তিনি চারশত সাতান্ন হিজরিতে দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর আগে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তিনি যা উল্লেখ করেছিলেন তার অধিকাংশ আজ বিলুপ্ত। সমাপ্ত।

মুসতানসিরি দুর্ভিক্ষের কারণে মিসরে যা আপতিত হয়েছিল—যা চারশত সাতান্ন থেকে চারশত চৌষট্টি হিজরি পর্যন্ত স্থায়ী ছিল—সেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মহামারীর ফলে কেবল কিছু অবশিষ্টাংশ এবং পরিত্যক্ত প্রান্তর ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এর ফলে মিসরের অধিবাসীরা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ফুসতাতের পশ্চিম ও পূর্ব উভয় পার্শ্বের উপরের অঞ্চলের ওপর ধ্বংসযজ্ঞ আধিপত্য বিস্তার করে। পশ্চিম দিকটি হলো বনু ওয়ায়েল সেতু থেকে—যেখানে এখন আল-ওয়ারাকাত অবস্থিত, যা মিসর শহরের বাইরে বাবুল কানতারার নিকটবর্তী—এখন আল-রাসাদ নামে পরিচিত শারাফ পর্যন্ত, যখন আপনি বড় কারাফার দিকে অগ্রসর হন। আর পূর্ব দিকটি হলো কারাফার পার্শ্ববর্তী বিরকাতুল হাবাশের প্রান্ত থেকে আহমাদ বিন তুলুন জামে মসজিদ পর্যন্ত। অতঃপর চারশত ৬৬ হিজরিতে সেনাপতি বদর আল-জামালি মিসরে প্রবেশ করেন, তখন এই স্থানগুলো জনশূন্য ও বিরাণ অবস্থায় ছিল, সেখানে কোনো অধিবাসী বা সঙ্গী ছিল না। মহামারী ও বিনাশ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। মিসরে মানুষের সামান্য কিছু অবশিষ্টাংশ ছাড়া আর কেউ বাকি ছিল না, তারা যেন মৃতদেহ; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সেনাবাহিনীর প্রতি প্রচণ্ড ভয় এবং দাস ও অরাজক গোষ্ঠীর ফিতনার কারণে তাদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের আকৃতি বদলে গিয়েছিল। জমি চাষ করার মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এছাড়া জলপথ ও স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, কেবল উচ্চমূল্য ও প্রহরার মাধ্যমেই যাতায়াত সম্ভব ছিল। আর কায়রো হয়ে গিয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দি, প্রখ্যাত ঐতিহাসিক, 'উলাতু মিসর ওয়া কুদাতুহা' কিতাবের লেখক, ৩৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক তার কিতাব 'ফাদায়িলু মিসর' তার দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভুল করেন। জেনে রাখা উচিত যে, 'ফাদায়িলু মিসর' কিতাবটি তার পুত্র উমর বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দির, তিনিও একজন ঐতিহাসিক ছিলেন। আন-নুজুমুজ জাহেরা, খণ্ড ৫১/১।

(২) ঐতিহাসিক ও মুফাসসির, ফাতেমিদের আমলে উজির আল-জারজারায়ির লেখক ছিলেন। তার বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ খণ্ডের 'তাফসীরুল কুরআন', 'খিতাতু মিসর' এবং 'তারিখুল খুলাফা'। তিনি ৪৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আ'লাম, খণ্ড ১৪৬/৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أيضا يبابا داثرة، فأباح للناس من العسكرية والملحية والأرض، وكل من وصلت قدرته إلى عمارة أن يعمر ما شاء في القاهرة مما خلا من دور الفسطاط بموت أهلها فأخذ الناس في هدم المساكن ونحوها بمصر، وعمروا بها في القاهرة، وكان هذا أوّل وقت اختط الناس فيه بالقاهرة.

ثم كان المنبه بعد القضاعي على الخطط والتعريف بها تلميذه أبو عبد اللّه محمد بن بركات النحويّ في تأليف لطيف نبه فيه الأفضل أبا القاسم شاهنشاه بن أمير الجيوش بدر الجمالي على مواضع قد اغتصبت وتملكت بعد ما كانت أحباسا ثم كتب الشريف محمد بن أسعد الجواني(1) (كتاب النقط بعجم ما أشكل من الخطط) نبه فيه على معالم قد جهلت وآثار قد دثرت، وآخر من كتب في ذلك القاضي تاج الدين محمد بن عبد الوهاب بن المتوّج(2) (كتاب إيعاظ المتأمّل وإيقاظ المتغفل) في الخطط بيّن فيه جملا من أحوال مصر وخططها إلى أعوام بضع وعشرين وسبعمائة قد دثرت بعده معظم ذلك في وباء سنة تسع وأربعين وسبعمائة ثم في وباء سنة إحدى وستين ثم في غلاء سنة ست وسبعين وسبعمائة.

وكتب القاضي محيي الدين عبد اللّه بن عبد(3) الظاهر (كتاب الروضة البهية الزاهرة في خطط المعزية القاهرة) ففتح فيه بابا كانت الحاجة داعية إليه، ثم تزايدت العمارة من بعده في الأيام الناصرية محمد بن قلاوون بالقاهرة وظواهرها إلى أن كادت تضيق على أهلها حتى حل بها وباء سنة تسع وأربعين وسنة إحدى وستين ثم غلاء سنة ست وسبعين فخربت بها عدّة أماكن فلما كانت الحوادث والمحن من سنة ست وثمانمائة شمل الخراب القاهرة ومصر وعامّة الإقليم، وسأورد من ذكر الخطط ما تصل إليه قدرتي إن شاء اللّه تعالى.

--------------------------------------------

(1) عالم بالأنساب أصله من الموصل ومولده ووفاته بمصر له مؤلفات عديدة منها: (تاج الأنساب) و (طبقات الطالبيين). ولد سنة 525 هـ وتوفي سنة 588 هـ. الأعلام ج 31/ 6.

(2) مؤرخ مصري كتب عن أحوال مصر وخططها إلى سنة 725 هـ. ولد سنة 639 هـ وتوفي سنة 730 هـ. الأعلام ج 256/ 6.

(3) أبو الفضل ابن رشيد الدين: قاض أديب مؤرخ من أهل مصر مولدا ووفاة كان كاتب الإنشاء في الديار المصرية. له عدة مؤلفات. ولد سنة 620 هـ وتوفي سنة 692 هـ. الأعلام ج 98/ 4.
একইভাবে সেগুলো জনশূন্য ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। অতঃপর তিনি সামরিক বাহিনী, সাধারণ মানুষ এবং ভূমির ক্ষেত্রে লোকেদের অনুমতি দিলেন যে, যারই আবাদ করার সামর্থ্য আছে, সে কায়রোর ঐসব স্থানে যা ইচ্ছা আবাদ করতে পারে যেগুলো ফাসতাতের অধিবাসীদের মৃত্যুর কারণে খালি হয়ে গিয়েছিল। ফলে মানুষ মিসরের (ফাসতাত) ঘরবাড়ি ইত্যাদি ভাঙতে শুরু করল এবং তা দিয়ে কায়রোতে আবাদ করল। কায়রোতে মানুষের বসতি স্থাপনের এটাই ছিল প্রথম সময়।

আল-কুযায়ির পর বসতি ও তার পরিচিতির বিষয়ে যিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি হলেন তার ছাত্র আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বারাকাত আন-নাহবী। তিনি একটি চমৎকার রচনায় আল-আফদাল আবুল কাসিম শাহানশাহ বিন আমিরুল জুইউশ বদর আল-জামালিকে এমন কিছু স্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেন যা ওয়াকফ থাকার পর জোরপূর্বক দখল ও মালিকানাভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর শরীফ মুহাম্মদ বিন আসআদ আল-জাওয়ানি(১) (কিতাবুন নুকাতি বিআজমি মা উশকিলা মিনাল খিতাত) রচনা করেন, যাতে তিনি অজ্ঞাত হয়ে যাওয়া নিদর্শন এবং বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্নগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই বিষয়ে সর্বশেষ যিনি লিখেছেন তিনি হলেন কাজী তাজউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন আল-মুতাওয়াজ(২) (কিতাবু ইজিল মুতাম্মিল ওয়া ইকজিল মুতাগাফফিল) নামক বসতি বিষয়ক গ্রন্থে। এতে তিনি সাতশত বিশের দশকের বছরগুলো পর্যন্ত মিসরের অবস্থা ও বসতিসমূহের বিবরণ তুলে ধরেন। এর বেশিরভাগই সাতশত ঊনপঞ্চাশ হিজরীর মহামারি, এরপর সাতশত একষট্টি হিজরীর মহামারি এবং সাতশত ছিয়াত্তর হিজরীর দুর্মূল্যের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এবং কাজী মুহিউদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল(৩) জাহির (কিতাবুর রওদাতিল বাহিয়্যাতিয যাহিরাতি ফী খিতাতিল মুয়িজ্জিয়াতিল কাহিরা) রচনা করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি অধ্যায় উন্মোচন করেন যার প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য। এরপর আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের শাসনামলে কায়রো ও এর আশপাশে আবাদ বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি তা অধিবাসীদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়। অবশেষে সাতশত ঊনপঞ্চাশ ও সাতশত একষট্টি হিজরীর মহামারি এবং সাতশত ছিয়াত্তর হিজরীর দুর্মূল্য দেখা দেয়, ফলে অনেক স্থান ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর যখন আটশত ছয় হিজরী থেকে বিপর্যয় ও পরীক্ষাগুলো শুরু হয়, তখন কায়রো, মিসর ও সমগ্র অঞ্চলে ধ্বংসলীলা ছড়িয়ে পড়ে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি বসতিসমূহের বর্ণনায় আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তথ্যাদি উল্লেখ করব।

--------------------------------------------

(১) বংশবিদ্যা বিশারদ, তার মূল বাড়ি ছিল মসুল। তার জন্ম ও মৃত্যু মিসরে। তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে: (তাজুল আনসাব) ও (তাবাকাতুত তালিবিয়্যিন) অন্যতম। তিনি ৫২৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আল-আলাম, খণ্ড ৩/ ৩১ (বা ৬/ ৩১)।

(২) একজন মিসরীয় ঐতিহাসিক যিনি ৭২৫ হিজরী পর্যন্ত মিসরের অবস্থা ও বসতি সম্পর্কে লিখেছেন। তিনি ৬৩৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আল-আলাম, খণ্ড ৬/ ২৫৬।

(৩) আবুল ফজল ইবনে রুশাইদউদ্দীন: একজন কাজী, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক। জন্ম ও মৃত্যুসূত্রে তিনি মিসরীয়। তিনি মিসরের রাষ্ট্রীয় সচিবালয়ের লেখক ছিলেন। তার বেশ কিছু রচনা রয়েছে। তিনি ৬২০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আল-আলাম, খণ্ড ৪/ ৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ذكر طرف من هيئة الأفلاك

اعلم أنه لما كانت مصر قطعة من الأرض تعيّن قبل التعريف بموقعها من الأرض وتبيين موضع الأرض من الفلك أن أذكر طرفا من هيئة الأفلاك، ثم أذكر صورة الأرض وموضع الأقاليم منها، وأذكر محل مصر من الأرض، وموضعها من الأقاليم وأذكر حدودها واشتقاقها وفضائلها وعجائبها وكنوزها وأخلاق أهلها، وأذكر نيلها وخلجانها وكورها ومبلغ خراجها، وغير ذلك ممّا يتعلق بها قبل الشروع في ذكر خطط مصر والقاهرة فأقول: علم النجوم ثلاثة أقسام: (الأوّل): معرفة تركيب الأفلاك، وكمية الكواكب، وأقسام البروج، وأبعادها وعظمها وحركتها ويقال لهذا القسم: علم الهيئة. (والقسم الثاني): علم الزيج، وعلم التقويم. (والقسم الثالث): معرفة كيفية الاستدلال بدوران الفلك وطوالع البروج على الحوادث قبل كونها ويسمى هذا القسم علم الأحكام، والغرض هنا إيراد نبذ من علم الهيئة تكون توطئة لما يأتي ذكره. اعلم أن الكواكب أجسام كريات والذي أدرك منها الحكماء بالرصد ألف كوكب وتسعة وعشرون كوكبا، وهي على قسمين: سيارة، وثابتة. فالسيارة سبعة وهي: زحل، والمشتري، والمرّيخ، والشمس، والزهرة، وعطارد، والقمر، وقد نظمت في بيت واحد وهو:

زحل شرى مرّيخه من شمسه … فتزاهرت بعطارد الأقمار

ويقال لهذه السبعة: الخنّس، وقيل: إنها التي عناها اللّه تعالى بقوله: {فَلا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ * اَلْجَوارِ اَلْكُنَّسِ} [التكوير/ 15] والتي عناها اللّه تعالى بقوله: {فَالْمُدَبِّراتِ أَمْراً} [النازعات/ 5]، وقيل لها: الخنس لاستقامتها في سيرها ورجوعها، وقيل لها: الكنس لأنها تجري في البروج ثم تكنس أي تستتر كما يكنس الظبي، وقيل: الكنس والخنس منها خمسة وهي: ما سوى الشمس والقمر سميت بذلك من الانحناس وهو الانقباض، وفي الحديث:

«الشيطان يوسوس للعبد فإذا ذكر اللّه خنس» أي انقبض ورجع فيكون الخنس على هذا في الكواكب بمعنى الرجوع وسميت بالكنس من قولهم: كنس الظبي إذا دخل الكناس وهو مقرّة فالكنس على هذا في الكواكب بمعنى اختفائها تحت ضوء الشمس ويقال لهذه الكواكب المتحيرة لأنها ترجع أحيانا عن سمت مسيرها بالحركة الشرقية وتتبع الغربية في رأي العين فيكون هذا الارتداد لها شبه التحير، وهذه الأسماء التي لهذه الكواكب يقال: إنها مشتقة من صفاتها.
জ্যোতির্মণ্ডলসমূহের আকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

জেনে রাখুন যে, যেহেতু মিশর ভূখণ্ডের একটি অংশ, তাই পৃথিবীতে এর অবস্থান নির্ধারণ এবং জ্যোতির্মণ্ডলে পৃথিবীর স্থান স্পষ্ট করার আগে জ্যোতির্মণ্ডলসমূহের আকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা আবশ্যক। এরপর আমি পৃথিবীর মানচিত্র, সেখানে বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থান, পৃথিবীর বুকে মিশরের অবস্থান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সাপেক্ষে এর স্থান উল্লেখ করব। সেই সাথে মিশরের সীমানা, এর নামের ব্যুৎপত্তি, এর মর্যাদা, বিস্ময়কর বিষয়াদি, ধনভাণ্ডার এবং অধিবাসীদের স্বভাব-চরিত্র বর্ণনা করব। নীল নদ, এর শাখা-প্রশাখা, প্রদেশসমূহ, রাজস্বের পরিমাণ এবং মিশর ও কায়রোর নগরপরিকল্পনা বর্ণনার আগে এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করব। আমি বলছি: জ্যোতির্বিজ্ঞান তিন প্রকার: (প্রথম): জ্যোতির্মণ্ডলসমূহের গঠন বিন্যাস, নক্ষত্রের সংখ্যা, রাশিচক্রের বিভাজন, সেগুলোর দূরত্ব, বিশালতা ও গতিবিধি সম্পর্কে জানা। এই অংশকে জ্যোতির্বিজ্ঞান (ইলমুল হাইয়াহ) বলা হয়। (দ্বিতীয় প্রকার): জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি ও পঞ্জিকা বিষয়ক জ্ঞান। (তৃতীয় প্রকার): জ্যোতির্মণ্ডলের আবর্তন এবং উদিত রাশিচক্রের মাধ্যমে ঘটনা ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে অনুমানের পদ্ধতি জানা; এই অংশকে জ্যোতিষ শাস্ত্র (ইলমুল আহকাম) বলা হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে এমন কিছু অংশ উল্লেখ করা যা পরবর্তী আলোচনার জন্য ভূমিকা স্বরূপ হবে। জেনে রাখুন যে, নক্ষত্রসমূহ গোলাকার বস্তু। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মনীষীরা এর মধ্যে এক হাজার উনত্রিশটি নক্ষত্র সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এগুলো দুই প্রকার: পরিভ্রমণকারী এবং স্থির। পরিভ্রমণকারী গ্রহ সাতটি, সেগুলো হলো: শনি, বৃহস্পতি, মঙ্গল, সূর্য, শুক্র, বুধ এবং চাঁদ। এগুলোকে একটি পঙ্ক্তিতে ছন্দবদ্ধ করা হয়েছে, যা হলো:

শনি তার মঙ্গলকে সূর্যের থেকে ক্রয় করেছে … অতঃপর বুধের কারণে চাঁদগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে

এই সাতটি গ্রহকে 'খুন্নাস' বলা হয়। বলা হয় যে, মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এগুলোকেই বুঝিয়েছেন: {অতঃপর আমি শপথ করছি পশ্চাৎপসরণকারী নক্ষত্ররাজির, যা চলমান ও অদৃশ্য হয়} [আত-তাকওয়ির: ১৫]। এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমেও এগুলোকে উদ্দেশ্য করেছেন: {এবং যারা সকল বিষয় পরিচালনা করে} [আন-নাজিআত: ৫]। এগুলোকে 'খুন্নাস' বলা হয় কারণ এগুলো তাদের গতিপথে সরাসরি চলে এবং আবার পশ্চাৎমুখী হয়। এগুলোকে 'কুন্নাস' বলা হয় কারণ এগুলো রাশিচক্রে বিচরণ করে এবং পরে অদৃশ্য হয়, যেমন হরিণ তার আবাসে গিয়ে আত্মগোপন করে। কেউ কেউ বলেছেন: 'কুন্নাস' এবং 'খুন্নাস' হলো এই সাতটির মধ্যে পাঁচটি; সূর্য ও চাঁদ ব্যতীত। এগুলো 'ইনহিনাস' শব্দ থেকে নামকরণ করা হয়েছে যার অর্থ সংকুচিত হওয়া। হাদিসে এসেছে:

«শয়তান বান্দার মনে কুমন্ত্রণা দেয়, যখন সে আল্লাহর জিকির করে তখন সে পিছু হটে» অর্থাৎ সংকুচিত হয় এবং পিছু হটে। এই অর্থ অনুযায়ী নক্ষত্রের ক্ষেত্রে 'খুন্নাস' অর্থ হবে পশ্চাৎমুখী হওয়া। আর এগুলোকে 'কুন্নাস' বলা হয় মানুষের কথা থেকে যে, 'হরিণ তার আবাসে প্রবেশ করেছে' যখন সে তার নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করে। এই অর্থ অনুযায়ী নক্ষত্রের ক্ষেত্রে 'কুন্নাস' অর্থ হবে সূর্যের আলোর নিচে সেগুলোর অদৃশ্য হওয়া। এই গ্রহগুলোকে 'মুতাহাইয়্যিরাহ' (বিস্মিত) বলা হয়, কারণ এগুলো কখনো কখনো তাদের পূর্বমুখী গতির পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে চোখের দেখায় পশ্চিমমুখী গতি অনুসরণ করে, ফলে এই পশ্চাৎমুখী হওয়া তাদের জন্য এক প্রকার বিস্ময়ের মতো মনে হয়। আর এই গ্রহগুলোর যে নাম রয়েছে, বলা হয় যে সেগুলো তাদের বৈশিষ্ট্য থেকেই উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فزحل مشتق من زحل فلان إذا أبطأ سمي بذلك لبطء سيره، وقيل: للزحل والزحل الحقد، وهو بزعمهم يدل على ذلك ويقال: إنه المراد في قوله تعالى: {وَاَلسَّماءِ وَاَلطّارِقِ * وَما أَدْراكَ مَا اَلطّارِقُ * اَلنَّجْمُ اَلثّاقِبُ} [الطارق/ 1 - 3]. والمشتري سمي بذلك لحسنه كأنه اشترى الحسن لنفسه، وقيل: لأنه نجم الشراء والبيع، ودليل الريح والمال في قولهم.

والمرّيخ مأخوذ من المرخ وهو شجر يحتك بعض أغصانه ببعض فيوري نارا سمي بذلك لاحمراره، وقيل: المرّيخ سهم لا ريش له إذا رمي به لا يستوي في ممرّه، وكذا المرّيخ فيه التواء كثير في سيره ودلالته بزعمهم تشبه ذلك، والشمس لما كانت واسطة بين ثلاثة كواكب علوية لأنهم من فوقها، وثلاثة سفلية لأنهم من تحتها سميت بذلك لأنّ الواسطة التي في المخنقة تسمى شمسة، والزهرة من الزاهر وهو الأبيض النير من كل شيء، وعطارد هو النافذ في كل الأمور ولذلك يقال له أيضا الكاتب فإنه كثير التصرّف مع ما يقارنه ويلابسه من الكواكب، والقمر مأخوذ من القمرة وهي البياض والأقمر الأبيض.

ويقال لزحل كيوان، وللمشتري تبر والبرجيس أيضا، وللمرّيخ بهرام، وللشمس مهر، وللزهرة أياهيد وسدحت أيضا، ولعطارد هرمس، وللقمر ماه، وقد جمعت في بيت واحد وهو هذا:

لا زلت تبقى وترقى للعلى أبدا … ما دام للسبعة الأفلاك أحكام

مهر وماه وكيوان وتبر معا … وهرمس وأياهيد وبهرام

ويقال: لما عدا هذه الكواكب السبعة من بقية نجوم السماء الكواكب الثابتة.

سميت بذلك لثباتها في الفلك بموضع واحد، وقيل: لبطء حركتها فإنها تقطع الفلك بزعمهم بعد كل ستة وثلاثين ألف سنة شمسية مرّة واحدة.

ولكل كوكب من الكواكب السبعة السيارة فلك من الأفلاك يخصه، والأفلاك أجسام كريات مشقات بعضها في جوف بعض وهي تسعة أقربها إلينا فلك القمر، وبعده فلك عطارد، ثم بعده فلك الزهرة، وبعده فلك الشمس، وفوقه فلك المريخ، ثم فلك المشتري، وفوقه فلك زحل، ثم فلك الثوابت وفيه كل كوكب يرى في السماء سوى السبعة السيارة، ومن فوق فلك الثوابت الفلك المحيط وهو الفلك التاسع، ويسمى الأطلس، وفلك الأفلاك، وفلك الكل، وقد اختلف في الأفلاك فقيل: هي السماوات، وقيل: بل السماوات غيرها، وقيل: بل هي كرية، وقيل غير ذلك. وقيل: الفلك الثامن هو الكرسي، والفلك التاسع هو العرش، وقيل غير ذلك. وهذا الفلك التاسع دائم الدوران كالدولاب ويدور في كل أربعة وعشرين ساعة مستوية دورة واحدة، ودورانه يكون أبدا من المشرق إلى المغرب، ويدور بدورانه جميع الأفلاك الثمانية وما حوته من الكواكب دورانا حركته قسرية لإدارة
জুহাল (শনি) শব্দটি 'জাহালা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো ব্যক্তির ধীরগতি হওয়া। এর গতির ধীরতার কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: জুহাল অর্থ বিদ্বেষ; তাদের ধারণা অনুযায়ী এটি সেই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। আরও বলা হয় যে, মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ আকাশের এবং রাতের আগন্তুকের। আপনি কি জানেন রাতের আগন্তুক কী? তা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।} [আত-তারিক: ১-৩]-তে একেই বোঝানো হয়েছে। মুশতারি (বৃহস্পতি) এর সৌন্দর্যের কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে, যেন সে নিজেই নিজের জন্য সৌন্দর্য ক্রয় করেছে। আরও বলা হয়: কারণ এটি কেনা-বেচার নক্ষত্র এবং তাদের মতে এটি বায়ু ও সম্পদের পরিচায়ক।

মিররিখ (মঙ্গল) শব্দটি 'মারখ' থেকে নেওয়া হয়েছে, যা এমন এক প্রকার বৃক্ষ যার এক ডাল অন্য ডালের সাথে ঘর্ষণ করলে আগুন উৎপন্ন হয়। এর লাল বর্ণের কারণে একে এই নামে ডাকা হয়। আরও বলা হয়: 'মিররিখ' হলো এমন তীর যাতে কোনো পালক নেই; যখন তা নিক্ষেপ করা হয়, তখন তা তার পথে সোজা থাকে না। তদ্রূপ মিররিখ নক্ষত্রটি তার চলনপথে অত্যন্ত আঁকাবাঁকা এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী এর প্রভাবও অনুরূপ। সূর্য যখন তিনটি ঊর্ধ্বমুখী গ্রহ (কারণ সেগুলো সূর্যের উপরে) এবং তিনটি নিম্নমুখী গ্রহের (কারণ সেগুলো সূর্যের নিচে) মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবস্থান করে, তখন একে এই নামে নামকরণ করা হয়। কারণ কণ্ঠহারের মাঝখানের অলংকারকে 'শামসাহ' বলা হয়। যুহরাহ (শুক্র) শব্দটি 'জাহির' থেকে এসেছে, যার অর্থ অত্যন্ত সাদা ও উজ্জ্বল বস্তু। আতারিদ (বুধ) হলো সকল বিষয়ে অনুপ্রবেশকারী, এজন্য একে 'কাতিব' (লেখক) বলা হয়। কারণ এটি তার নিকটবর্তী ও সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রগুলোর সাথে অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। কামার (চাঁদ) শব্দটি 'কুমরাহ' থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ শুভ্রতা; আর 'আকমারি' মানে অত্যন্ত সাদা।

জুহালকে কিওয়ান বলা হয়, মুশতারিকে তাবার ও বিরজিস বলা হয়, মিররিখকে বাহরাম, সূর্যকে মেহর, যুহরাহকে আইয়াহিদ ও সাদখাত, আতারিদকে হরমিস এবং চাঁদকে মাহ বলা হয়। এগুলোকে একটি কবিতায় এভাবে একত্রিত করা হয়েছে:

আপনি সর্বদা শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করতে থাকুন… যতদিন এই সাত কক্ষপথের বিধান বিদ্যমান থাকবে

মেহর, মাহ, কিওয়ান এবং তাবার একত্রে… হরমিস, আইয়াহিদ এবং বাহরাম

এই সাতটি বিচরণশীল গ্রহ ব্যতীত আকাশের অবশিষ্ট নক্ষত্রপুঞ্জকে স্থির নক্ষত্র বলা হয়।

কক্ষপথের এক স্থানে স্থির থাকার কারণে এদের এই নামকরণ করা হয়েছে। আবার বলা হয়: এদের গতির ধীরতার কারণে এই নাম দেওয়া হয়েছে; কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী এরা প্রতি ছত্রিশ হাজার সৌর বছরে মাত্র একবার কক্ষপথ পরিভ্রমণ সম্পন্ন করে।

সাতটি বিচরণশীল গ্রহের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষপথ রয়েছে। কক্ষপথগুলো হলো গোলাকার বস্তু যা একটির ভেতর অন্যটি প্রবিষ্ট অবস্থায় থাকে। এগুলো সংখ্যায় নয়টি। আমাদের সবচেয়ে কাছের হলো চন্দ্রের কক্ষপথ, তারপর আতারিদের কক্ষপথ, তারপর যুহরাহর কক্ষপথ, তারপর সূর্যের কক্ষপথ, তার উপরে মিররিখের কক্ষপথ, তারপর মুশতারির কক্ষপথ, তার উপরে জুহালের কক্ষপথ। এরপর স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথ, যেখানে সাতটি বিচরণশীল গ্রহ ব্যতীত আকাশের প্রতিটি দৃশ্যমান নক্ষত্র অবস্থিত। স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথের উপরে রয়েছে পরিবেষ্টনকারী কক্ষপথ, যা নবম কক্ষপথ। একে আল-আটলাস, কক্ষপথের কক্ষপথ এবং সর্বজনীন কক্ষপথ বলা হয়। কক্ষপথগুলো নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেন: এগুলোই হলো আকাশসমূহ, আবার কেউ বলেন: আকাশসমূহ এগুলো থেকে ভিন্ন। কেউ বলেন: এগুলো গোলাকার, আবার কেউ অন্য কথা বলেন। আরও বলা হয়েছে যে: অষ্টম কক্ষপথ হলো কুরসি এবং নবম কক্ষপথ হলো আরশ; এছাড়া অন্য মতও রয়েছে। এই নবম কক্ষপথটি চড়কির ন্যায় সর্বদা ঘূর্ণনশীল এবং প্রতি চব্বিশটি সমান ঘণ্টায় এটি একবার আবর্তিত হয়। এর ঘূর্ণন সর্বদা পূর্ব থেকে পশ্চিমে হয়ে থাকে। এর ঘূর্ণনের ফলে অন্য আটটি কক্ষপথ এবং এতে বিদ্যমান নক্ষত্ররাজিসহ সবকিছু একটি বাধ্যবাধকতামূলক গতিতে আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
التاسع لها وعن حركة التاسع المذكور يكون الليل والنهار فالنهار مدّة بقاء الشمس فوق أفق الأرض والليل مدّة غيبوبة الشمس تحت أفق الأرض، وفلك الكواكب الثابتة مقسوم باثني عشر قسما كحجز البطيخة كل قسم منها يقال له: برج وهي: الحمل، والثور، والجوزاء، والسرطان، والأسد، والسنبلة، والميزان، والعقرب، والقوس، والجدي، والدلو، والحوت. وكل برج من هذه البروج الاثني عشر ينقسم ثلاثين قسما يقال: لكل قسم منها درجة، وكل درجة من هذه الثلاثين مقسومة ستين قسما يقال لكل قسم منها دقيقة وكل دقيقة من هذه الستين مقسومة ستين قسما يقال لكل قسم منها ثانية وهكذا إلى الثوالث والروابع والخوامس إلى الثواني عشر وما فوقها من الأجزاء وكل ثلاثة بروج تسمى فصلا. فالزمان على ذلك أربعة فصول: وهي الربيع، والصيف، والخريف، والشتاء. وجهات الأقطار أربعة: الشرق، والغرب، والشمال، والجنوب. والأركان أربعة: النار، والهواء، والماء، والتراب. والطبائع أربعة: الحرارة، والبرودة، والرطوبة، واليبوسة. والأخلاط أربعة:

الصفراء، والسوداء، والبلغم، والدم. والرياح أربعة: الصبا، والدبور، والشمال، والجنوب.

فالبروج منها ثلاثة ربيعية صاعدة في الشمال زائدة النهار على الليل وهي: الحمل، والثور، والجوزاء، وثلاثة صيفية هابطة في الشمال آخذة الليل من النهار وهي: السرطان، والأسد، والسنبلة، وثلاثة خريفية هابطة في الجنوب زائدة الليل على النهار وهي: الميزان، والعقرب، والقوس، وثلاثة شتوية صاعدة في الجنوب آخذة النهار من الليل وهي: الجدي، والدلو، والحوت، والفلك المحيط كما تقدم دائم الدوران كالدولاب يدور أبدا من المشرق إلى المغرب فوق الأرض، ومن المغرب إلى المشرق تحتها فيكون دائما نصف الفلك، وهو ستة بروج بمائة وثمانين درجة فوق الأرض ونصفه الآخر وهو ستة بروج بمائة وثمانين درجة تحت الأرض، وكلما طلعت من أفق المشرق درجة من درجات الفلك التي عدّتها ثلثمائة وستون درجة غرب نظيرها في أفق المغرب من البرج السابع فلا يزال دائما ستة بروج طلوعها بالنهار، وستة بروج طلوعها بالليل، والأفق عبارة عن الحدّ الفاصل من الأرض بين المرئيّ والخفيّ من السماء، والفلك يدور على قطبين شماليّ وجنوبيّ كما يدور الحق على قطبي المخروطة، ويقسم الفلك خط من دائرة تقسمه نصفين متساويين بعدهما من كلا القطبين سواء، وتسمى هذه الدائرة دائرة معدّل النهار فهي تقاطع فلك البروج ودائرة فلك البروج تقاطع دائرة معدّل النهار، ويميل نصفها إلى الجانب الشمالي بقدر أربع وعشرين درجة تقريبا وهذا النصف فيه قسمة البروج الستة الشمالية وهي من أوّل الحمل إلى آخر السنبلة ويميل نصفها الثاني عنها إلى الجنوب بمثل ذلك وفيه قسمة البروج الستة الجنوبية.

وهي من أوّل برج الميزان إلى آخر برج الحوت، وموضع تقاطع هاتين الدائرتين أعني دائرة معدّل النهار، ودائرة فلك البروج من الجانبين هما: نقطتا الاعتدالين أعني رأس الحمل
এর জন্য নবম স্তর এবং উক্ত নবম স্তরের গতির ফলেই দিবা ও রাত্রি সংঘটিত হয়। দিবা হলো পৃথিবীর দিগন্তের উপরে সূর্যের অবস্থানের সময়কাল এবং রাত্রি হলো পৃথিবীর দিগন্তের নিচে সূর্যের অদৃশ্য থাকার সময়কাল। আর স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথ তরমুজের ফালির ন্যায় বারোটি অংশে বিভক্ত, যার প্রতিটি অংশকে রাশি বলা হয়। সেগুলো হলো: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ এবং মীন। এই বারোটি রাশির প্রতিটি আবার ত্রিশটি ভাগে বিভক্ত, যার প্রতিটি ভাগকে ডিগ্রি বলা হয়। এই ত্রিশ ডিগ্রির প্রতিটি আবার ষাট ভাগে বিভক্ত যাকে মিনিট বলা হয় এবং এই ষাট মিনিটের প্রতিটি আবার ষাট ভাগে বিভক্ত যাকে সেকেন্ড বলা হয়। এভাবে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম পর্যায় থেকে দ্বাদশ পর্যায় এবং তার পরবর্তী অংশসমূহ পর্যন্ত চলতে থাকে। আর প্রতি তিনটি রাশিকে একটি ঋতু বলা হয়। সেই অনুযায়ী কাল বা সময় চারটি ঋতুতে বিভক্ত: বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত। দিগন্তের দিকসমূহ চারটি: পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ। মৌলিক উপাদান চারটি: আগুন, বাতাস, পানি ও মাটি। প্রকৃতি বা গুণাগুণ চারটি: উষ্ণতা, শীতলতা, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা। শারীরিক রস চারটি:

পিত্ত, কৃষ্ণপিত্ত, কফ ও রক্ত। বায়ু চারটি: পুবালি বাতাস, পশ্চিমা বাতাস, উত্তুরে বাতাস ও দক্ষিণা বাতাস।

রাশিগুলোর মধ্যে তিনটি হলো বসন্তকালীন যা উত্তর দিকে আরোহণ করে এবং যাতে দিবা রাত্রির চেয়ে বর্ধিত হয়, সেগুলো হলো: মেষ, বৃষ ও মিথুন। তিনটি হলো গ্রীষ্মকালীন যা উত্তর দিকে অবতরণ করে এবং যাতে রাত্রি দিবা থেকে সময় নিয়ে বর্ধিত হয়, সেগুলো হলো: কর্কট, সিংহ ও কন্যা। তিনটি হলো শরৎকালীন যা দক্ষিণ দিকে অবতরণ করে এবং যাতে রাত্রি দিবা অপেক্ষা বর্ধিত হয়, সেগুলো হলো: তুলা, বৃশ্চিক ও ধনু। এবং তিনটি হলো শীতকালীন যা দক্ষিণ দিকে আরোহণ করে এবং যাতে দিবা রাত্রি থেকে সময় নিয়ে বর্ধিত হয়, সেগুলো হলো: মকর, কুম্ভ ও মীন। আর পরিবেষ্টনকারী আকাশমন্ডল পূর্বে বর্ণিত হওয়ার ন্যায় সর্বদা চড়কার ন্যায় ঘূর্ণায়মান, যা পৃথিবীর উপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং পৃথিবীর নিচ দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে অবিরাম ঘুরে চলেছে। ফলে সর্বদা আকাশমন্ডলের অর্ধেক অংশ অর্থাৎ একশত আশি ডিগ্রি সম্বলিত ছয়টি রাশি পৃথিবীর উপরে থাকে এবং বাকি অর্ধেক অংশ অর্থাৎ একশত আশি ডিগ্রি সম্বলিত অপর ছয়টি রাশি পৃথিবীর নিচে থাকে। আকাশমন্ডলের মোট তিনশত ষাটটি ডিগ্রির মধ্যে যখনই একটি ডিগ্রি পূর্ব দিগন্তে উদিত হয়, সপ্তম রাশি থেকে তার প্রতিরূপ ডিগ্রিটি পশ্চিম দিগন্তে অস্তমিত হয়। সুতরাং সর্বদা ছয়টি রাশি দিনে উদিত থাকে এবং ছয়টি রাশি রাতে উদিত থাকে। দিগন্ত বলতে পৃথিবীর সেই সীমারেখাকে বোঝায় যা আকাশের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অংশের মধ্যে পার্থক্য করে। আকাশমন্ডল উত্তর ও দক্ষিণ নামক দুটি মেরুর উপর ভর করে ঘোরে, যেমন নাটাই তার মেরুর উপর ঘোরে। আকাশমন্ডলকে একটি বৃত্তাকার রেখা দুটি সমান অংশে বিভক্ত করেছে যার দূরত্ব উভয় মেরু থেকে সমান, আর এই বৃত্তকে বিষুবরেখা বলা হয়। এটি রাশিচক্রের কক্ষপথকে ছেদ করে এবং রাশিচক্রের কক্ষপথ বিষুবরেখাকে ছেদ করে। এর অর্ধেক অংশ উত্তর দিকে প্রায় চব্বিশ ডিগ্রি হেলে থাকে এবং এই অর্ধাংশে উত্তর গোলার্ধের ছয়টি রাশির অবস্থান, যা মেষ রাশির শুরু থেকে কন্যা রাশির শেষ পর্যন্ত। আর এর অপর অর্ধাংশ দক্ষিণ দিকে একইভাবে হেলে থাকে এবং সেখানে দক্ষিণ গোলার্ধের ছয়টি রাশির অবস্থান রয়েছে।

সেগুলো হলো তুলা রাশির শুরু থেকে মীন রাশির শেষ পর্যন্ত। এই দুটি বৃত্ত অর্থাৎ বিষুবরেখা এবং রাশিচক্রের কক্ষপথের উভয় দিকের ছেদবিন্দু দুটি হলো বিষুববিন্দু, অর্থাৎ মেষ রাশির শুরু।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ورأس الميزان، ومدار الشمس والقمر، وسائر النجوم على محاذاة دائرة فلك البروج دون دائرة معدّل النهار وتمرّ الشمس على دائرة معدّل النهار عند حلولها بنقطتي الاعتدالين فقط لأنها موضع تقاطع الدائرتين، وهذا هو خط الاستواء الذي لا يختلف فيه الزمان بزيادة الليل على النهار ولا النهار على الليل. لأنّ ميل الشمس عنه إلى كلا الجانبين الشماليّ والجنوبيّ سواء فالشمس تدور الفلك وتقطع الاثني عشر برجا في مدّة ثلثمائة وخمسة وستين يوما وربع يوم بالتقريب. وهذه هي: مدّة السنة الشمسية وتقيم في كل برج ثلاثين يوما وكسرا من يوم، وتكون أبدا بالنهار ظاهرة فوق الأرض، وبالليل بخلاف ذلك وإذا حلت في البروج الستة الشمالية التي هي: الحمل، والثور، والجوزاء، والسرطان، والأسد، والسنبلة فإنها تكون مرتفعة في الهواء قريبة من سمت رؤوسنا وذلك زمن فصل الربيع وفصل الصيف، وإذا حلت في البروج الجنوبية وهي: الميزان، والعقرب، والقوس، والجدي، والدلو، والحوت، كان فصل الخريف وفصل الشتاء، وانحطت الشمس وبعدت عن سمت الرءوس.

وزعم وهب بن منبه أن أوّل ما خلق اللّه تعالى من الأزمنة الأربعة الشتاء فجعله باردا رطبا، وخلق الربيع فجعله حارا رطبا، وخلق الصيف فجعله حارا يابسا، وخلق الخريف فجعله باردا يابسا، وأوّل الفصول عند أهل زماننا الربيع ويكون فصل الربيع عندما تنتقل الشمس من برج الحوت، وقد اختلف القدماء في البداية من الفصول فمنهم من اختار فصل الربيع وصيّره أوّل السنة، ومنهم من اختار تقديم الانقلاب الصيفيّ، ومنهم من اختار تقديم الاعتدال الخريفيّ، ومنهم من اختار تقديم الانقلاب الشتويّ، فإذا حلت أوّل جزء من برج الحمل استوى الليل والنهار واعتدل الزمان وانصرف الشتاء ودخل الربيع، وطاب الهواء، وهبّ النسيم، وذاب الثلج، وسالت الأودية، ومدّت الأنهار فيما عدا مصر، ونبت العشب، وطال الزرع، ونما الحشيش وتلألأ الزهر وأوراق الشجر، وتفتح النور، واخضرّ وجه الأرض ونتجت البهائم، ودرت الضروع، وأخرجت الأرض زخرفها، وازينت وصارت كصبية شابة قد تزينت للناظرين وللّه درّ القائل، وهو الحافظ جمال الدين يوسف بن أحمد اليعمريّ رحمه اللّه تعالى:

واستنشقوا لهوا الربيع فإنه … نعم النسيم وعنده ألطاف

يغذي الجسوم نسيمه وكأنه … روح حواها جوهر شفاف

وقال ابن قتيبة: ومن ذلك الربيع يذهب الناس إلى أنه الفصل الذي يتبع الشتاء ويأتي فيه النور، والورد، ولا يعرفون الربيع غيره، والعرب تختلف في ذلك فمنهم من يجعل الربيع الفصل الذي تدرك فيه الثمار، وهو الخريف وفصل الشتاء بعده ثم فصل الصيف بعد الشتاء وهو الوقت الذي تدعوه العامّة الربيع ثم فصل القيظ وهو الذي تدعوه العامّة الصيف، ومن العرب من يسمي الفصل الذي يعتدل وتدرك فيه الثمار وهو الخريف الربيع الأوّل، ويسمى الفصل الذي يتلوه الشتاء ويأتي فيه الكمام والنور الربيع الثاني وكلهم مجتمعون على
তুলা রাশির শীর্ষবিন্দু, সূর্য ও চন্দ্রের কক্ষপথ এবং অন্যান্য নক্ষত্রপুঞ্জ নিরক্ষীয় বৃত্তের পরিবর্তে রাশিচক্রের বৃত্তের সমান্তরালে অবস্থিত। সূর্য কেবল দুই বিষুব বিন্দুতে পৌঁছানোর সময় নিরক্ষীয় বৃত্ত অতিক্রম করে, কারণ এটিই দুই বৃত্তের ছেদবিন্দু। আর এটিই হলো বিষুবরেখা, যেখানে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের কোনো তারতম্য হয় না এবং দিন রাতের চেয়ে বড় হয় না কিংবা রাত দিনের চেয়ে বড় হয় না। কারণ এখান থেকে সূর্যের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকের ঝোঁক সমান থাকে। সূর্য রাশিচক্র পরিভ্রমণ করে এবং প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টায় বারোটি রাশি অতিক্রম করে। এটিই হলো সৌরবর্ষের স্থায়িত্বকাল এবং সূর্য প্রতিটি রাশিতে ত্রিশ দিন ও দিনের কিছু অংশ অবস্থান করে। দিনের বেলা এটি সর্বদা পৃথিবীর উপরে দৃশ্যমান থাকে এবং রাতে এর বিপরীত ঘটে। যখন সূর্য উত্তরদিকের ছয়টি রাশিতে—যথা: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যা—অবস্থান করে, তখন এটি আকাশের উঁচুতে আমাদের মাথার ঠিক উপরে (সুউচ্চ বিন্দুতে) থাকে এবং এটি হলো বসন্তকাল ও গ্রীষ্মকাল। আর যখন সূর্য দক্ষিণদিকের রাশিগুলোতে—যথা: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন—অবস্থান করে, তখন শরৎকাল ও শীতকাল হয়; সূর্য নিচু হয়ে যায় এবং মাথার উপর থেকে দূরে সরে যায়।

ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা চারটি ঋতুর মধ্যে সর্বপ্রথম শীতকাল সৃষ্টি করেছেন এবং একে শীতল ও আর্দ্র করেছেন। তারপর বসন্তকাল সৃষ্টি করে একে উষ্ণ ও আর্দ্র করেছেন। তারপর গ্রীষ্মকাল সৃষ্টি করে একে উষ্ণ ও শুষ্ক করেছেন এবং শরৎকাল সৃষ্টি করে একে শীতল ও শুষ্ক করেছেন। আমাদের সমসাময়িকদের মতে প্রথম ঋতু হলো বসন্তকাল, আর বসন্তকাল তখন শুরু হয় যখন সূর্য মীন রাশি থেকে স্থানান্তরিত হয়। প্রাচীন মনীষীরা ঋতুচক্রের শুরু সম্পর্কে মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ বসন্তকালকে বছরের প্রথম ঋতু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কেউ গ্রীষ্মকালীন অয়নকালকে এগিয়ে রেখেছেন, কেউ শরৎকালীন বিষুবকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আবার কেউ শীতকালীন অয়নকালকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সূর্য যখন মেষ রাশির প্রথম অংশে প্রবেশ করে, তখন দিন ও রাত সমান হয়, আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হয়, শীত বিদায় নেয় এবং বসন্তের আগমন ঘটে। বাতাস মনোরম হয়, বসন্তের মৃদু হাওয়া প্রবাহিত হয়, বরফ গলে যায়, মিশর ব্যতীত অন্যান্য অঞ্চলের উপত্যকাগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যায় এবং নদীগুলো পূর্ণ হয়। ঘাস জন্মায়, শস্য দীর্ঘ হয়, তৃণলতা বৃদ্ধি পায়, ফুল ও গাছের পাতা উজ্জ্বল হয়, কলি বিকশিত হয় এবং পৃথিবীর উপরিভাগ সবুজে ছেয়ে যায়। চতুষ্পদ জন্তুগুলো শাবক প্রসব করে, ওলান দুধে ভরে ওঠে, পৃথিবী তার রূপ-লাবণ্য প্রকাশ করে এবং সুসজ্জিত হয়। এটি এমন এক তরুণীর মতো হয়ে ওঠে যে দর্শকদের জন্য নিজেকে সুসজ্জিত করেছে। কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার, যিনি হলেন হাফিজ জামালুদ্দিন ইউসুফ বিন আহমদ আল-ইয়া’মুরি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন):

বসন্তের নির্মল বাতাস গ্রহণ করো, কারণ এটি … কতই না চমৎকার সমীরণ এবং তাতে রয়েছে কতই না অনুগ্রহ

এর মৃদু বাতাস দেহকে পুষ্ট করে, যেন এটি … এক আত্মা যা স্বচ্ছ মণি ধারণ করে আছে

ইবনে কুতাইবা বলেন: বসন্ত (রাবি') সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা হলো, এটি সেই ঋতু যা শীতের পরে আসে এবং এতে নতুন কলি ও গোলাপ ফোটে। তারা এর বাইরে অন্য কোনো বসন্ত চেনে না। তবে আরবদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই ঋতুকে 'রাবি' (বসন্ত) বলে অভিহিত করেন যখন ফল পাকে, যা মূলত শরৎকাল; এরপর আসে শীতকাল, তারপর শীতের পরের ঋতুটি আসে যা হলো গ্রীষ্মকাল, যাকে সাধারণ মানুষ বসন্ত বলে থাকে। এরপর আসে প্রচণ্ড গরমের কাল (কাইত), যাকে সাধারণ মানুষ গ্রীষ্মকাল বলে। আরবদের মধ্যে আবার এমনও কেউ আছেন যারা সেই ঋতুকে 'প্রথম বসন্ত' (রাবিউল আউয়াল) বলেন যাতে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হয় এবং ফল পাকে, অর্থাৎ শরৎকাল। আর তার পরবর্তী ঋতুকে, যা শীতের অনুগামী এবং যাতে কলি ও ফুল ফুটে, তাকে 'দ্বিতীয় বসন্ত' (রাবিউস সানি) বলেন। তারা সবাই এই বিষয়ে একমত যে...
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أن الربيع هو الخريف فإذا حلت الشمس آخر برج الجوزاء، وأوّل برج السرطان تناهي طول النهار، وقصر الليل وابتدأ نقص النهار وزيادة الليل وانصرم فصل الربيع، ودخل فصل الصيف، واشتدّ الحرّ، وحمى الهواء، وهبت السمائم، ونقصت المياه إلا بمصر، ويبس العشب، واستحكم الحب، وأدرك حصاد الغلال، ونضجت الثمار، وسمنت البهائم، واشتدّت قوّة الأبدان، ودرت أخلاف النعم، وصارت الأرض كأنها عروس فإذا بلغت آخر برج السنبلة وأوّل برج الميزان تساوى الليل والنهار مرّة ثانية وأخذ الليل في الزيادة والنهار في النقصان وانصرم فصل الصيف ودخل فصل الخريف فبرد الهواء، وهبت الرياح، وتغير الزمان، وجفت الأنهار، وغارت العيون، واصفرّ ورق الشجر، وصرّمت الثمار، ودرست البيادر، واختزن الحبّ، واقتنى العشب، واغبرّ وجه الأرض إلا بمصر، وهزلت البهائم، وماتت الهوامّ، وانحجرت الحشرات، وانصرف الطير والوحش يريد البلاد الدافئة، وأخذ الناس يخزنون القوت للشتاء وصارت الدنيا كأنها امرأة كهلة قد أدبرت وأخذ شبابها يولي وللّه درّ القائل وهو الإمام عز الدين أبو الحسن أحمد بن عليّ ابن معقل الأزديّ المهلبيّ الحمصيّ حيث يقول:

للّه فصل الخريف المستلذ به … برد الهواء لقد أبدى لنا عجبا

أهدى إلى الأرض من أوراقه ذهبا … والأرض من شأنها أن تهدي الذهبا

وقال أيضا:

للّه فصل الخريف فصلا … رقت حواشيه فهو رائق

فالماء يجري بقلب سال … والدمع يبدو بوجه عاشق

فبرد هذا ولون هذا … يلذه ذائق ووامق

وقال أيضا:

أتى فصل الخريف بكل طيب … وحسن معجب قلبا وعينا

أرانا الدوح مصفرّا نضارا … وصافي الماء مبيضا لجينا

فأحسن كلّ إحسان إلينا … وأنعم كلّ إنعام علينا

وقال آخر يذم الخريف:

خذ في التدثر في الخريف فإنه … مستو بل ونسيمه خطاف

يجري مع الأجسام جري حياتها … كصديقا ومن الصديق يخاف

وقال آخر:

يا عائبا فصل الخريف وغائبا … عن فضله في ذمه لزمانه

لا شيء ألطف منه عندي موقعا … أبدا يعرّي الغصن من قمصانه
যখন সূর্য মিথুন রাশির শেষ প্রান্তে এবং কর্কট রাশির শুরুতে উপনীত হয়, তখন দিনের দৈর্ঘ্য শেষ সীমায় পৌঁছায় এবং রাত ছোট হয়ে যায়। দিনের হ্রাস পাওয়া এবং রাতের বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয় এবং বসন্তকাল সমাপ্ত হয়ে গ্রীষ্মকাল প্রবেশ করে। তখন গরম তীব্র হয়, বাতাস উত্তপ্ত হয়, লু হাওয়া প্রবাহিত হয়। মিশরের নদনদী ব্যতীত অন্যান্য স্থানের পানি কমে যায়। ঘাস শুকিয়ে যায়, শস্যদানা শক্ত ও মজবুত হয়, ফসল কাটার সময় উপনীত হয়, ফল পেকে যায়, গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট হয়, দেহের শক্তি বৃদ্ধি পায়, গবাদি পশুর ওলান দুধে ভরে ওঠে এবং জমিন যেন এক নববধূর মতো হয়ে যায়। অতঃপর সূর্য যখন কন্যা রাশির শেষ এবং তুলা রাশির শুরুতে পৌঁছায়, তখন দ্বিতীয়বারের মতো দিন ও রাত সমান হয়। এরপর রাত বড় হতে থাকে এবং দিন ছোট হতে থাকে। গ্রীষ্মকাল শেষ হয় এবং শরৎকাল প্রবেশ করে। ফলে বাতাস ঠান্ডা হয়ে আসে, বায়ু প্রবাহিত হয়, ঋতু পরিবর্তিত হয়, নদনদী শুকিয়ে যায়, ঝরনাধারাগুলো গভীরে চলে যায়, গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়, ফল সংগ্রহ শেষ হয়, খামারের কাজ সমাপ্ত হয়, শস্য গুদামজাত করা হয়, শুকনো ঘাস সংগ্রহ করা হয়, মিশর ব্যতীত পৃথিবীর উপরিভাগ ধূলিময় হয়ে ওঠে। গবাদি পশু কৃশ হয়ে যায়, কীটপতঙ্গ মারা যায়, পোকামাকড় গর্তে লুকিয়ে পড়ে, পাখি ও বন্যপ্রাণী উষ্ণ অঞ্চলের দিকে যাত্রা করে। মানুষ শীতের জন্য খাদ্য মজুত করতে শুরু করে এবং পৃথিবী যেন এমন এক বৃদ্ধা মহিলার মতো হয়ে যায় যার যৌবন বিদায় নিচ্ছে। আর কতই না চমৎকার বলেছেন ইমাম ইজ্জুদ্দীন আবু হাসান আহমদ বিন আলী ইবনে মাকাল আল-আজদী আল-মুহাল্লাবী আল-হিমসী, যখন তিনি বলেন:

আল্লাহর জন্যই শরৎকাল, যা অত্যন্ত উপভোগ্য … বাতাসের শীতলতা আমাদের মাঝে এক বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

সে তার ঝরা পাতা থেকে জমিনকে স্বর্ণ উপহার দিয়েছে … আর জমিনের বৈশিষ্ট্যই হলো স্বর্ণ উপহার দেওয়া।

তিনি আরও বলেন:

আল্লাহর জন্যই শরৎকাল এক অনন্য ঋতু … যার চারপাশ কোমল এবং তা অত্যন্ত স্বচ্ছ।

পানি বয়ে চলে প্রশান্ত হৃদয়ে … আর অশ্রু ফুটে ওঠে প্রেমিকের চোখে।

এর শীতলতা এবং এর বর্ণ … আস্বাদনকারী ও প্রেমিক উভয়ের জন্যই আনন্দদায়ক।

তিনি আরও বলেন:

শরৎকাল সকল পবিত্রতা নিয়ে হাজির হয়েছে … এবং এমন সৌন্দর্য যা অন্তর ও চক্ষুকে মুগ্ধ করে।

সে আমাদের বড় গাছগুলোকে হলুদ বর্ণের স্বর্ণের মতো দেখিয়েছে … আর স্বচ্ছ পানিকে দেখিয়েছে শুভ্র রূপার মতো।

সে আমাদের প্রতি সবটুকু অনুগ্রহ করেছে … এবং আমাদের ওপর সকল নেয়ামত পূর্ণ করেছে।

অন্য একজন কবি শরৎকালের নিন্দা করে বলেন:

শরৎকালে চাদর মুড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নাও, কারণ তা … অস্বাস্থ্যকর এবং এর বাতাস অনিষ্টকারী।

শরীরে তা প্রাণের মতো বয়ে চলে … বন্ধুর মতো, অথচ বন্ধুকেও কখনো কখনো ভয় করতে হয়।

অন্য একজন কবি বলেন:

হে শরৎকালের দোষ অন্বেষণকারী, যে কি না তার নিন্দা করতে গিয়ে … তার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বেখবর রয়েছো।

আমার কাছে এর চেয়ে মনোরম আর কিছু নেই … যা সর্বদা বৃক্ষশাখাকে তার পোশাক (পাতা) থেকে মুক্ত করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وتراه يفرش تحته أثوابه … فأعجب لرأفته وفرط حنانه

وألذ ساعات الوصال إذا دنا … وقت الرحيل وحان حين أوانه

فإذا حلّت الشمس آخر برج القوس وأوّل برج الجدي تناهى طول الليل وقصر النهار، وأخذ النهار في الزيادة والليل في النقصان، وانصرم فصل الخريف، وحلّ فصل الشتاء، واشتدّ البرد، وخشن الهواء، وتساقط ورق الشجر، ومات أكثر النبات، وغارت الحيوانات، في جوف الأرض وضعف قوى الأبدان وعري وجه الأرض من الزينة، ونشأت الغيوم وكثرت الأنداء، وأظلم الجوّ وكلح وجه الأرض إلا بمصر، وامتنع الناس من التصرّف، وصارت الدنيا كأنها عجوز هرمة قد دنا منها الموت. فإذا بلغت آخر برج الحوت وأوّل برج الحمل عاد الزمان كما كان عام أوّل وهذا دأبه ذلك تقدير العزيز العليم وتدبير الخبير الحكيم لا إله إلاّ هو. وقد شبه بطليموس فصل الربيع بزمان الطفولية، وفصل الصيف بالشباب، والخريف بالكهولة، والشتاء بالشيخوخة، وعن حركة الشمس وتنقلها في البروج الاثني عشر المذكورة تكون أزمان السنة وأوقات اليوم من الليل والنهار وساعاتهما، وعن حركة القمر في البروج الاثني عشر تكون الشهور القمرية والسنة القمرية، فالقمر يدور البروج الاثني عشر ويقطع الفلك كله في مدّة ثمانية وعشرين يوما وبعض يوم، ويقيم في كل برج يومين وثلث يوم بالتقريب، ويقيم في كلّ منزلة من منازل القمر الثمانية والعشرين منزلة يوما وليلة، فيظهر عند إهلاله من ناحية الغرب بعد غروب جرم الشمس، ويزيد نوره في كل ليلة قدر نصف سبع حتى يكمل نوره، ويمتلئ في ليلة الرابع عشر من إهلاله، ثم يأخذ من الليلة الخامسة عشر في النقصان فينقص من نوره في كلّ ليلة نصف سبع كما بدا إلى أن يمحق نوره في آخر الثمانية وعشرين يوما من إهلاله ويمرّ في هذه المدّة منذ يفارق الشمس، ويبدو في ناحية الغرب، ويستمرّ إلى أن يجامعها بثمانية وعشرين منزلة وهي: السرطان(1)، والبطين، والثريا، والدبران، والهقعة، والهنعة، والذراع، والنثرة، والطرف، والجبهة، والزبرة، والصرفة، والعوّا، والسماك، والغفر، والزبانا، والإكليل، والقلب، والشولة، والنعائم، والبلدة، وسعد الذابح، وسعد بلع، وسعد السعود، وسعد الأخبية، والفرغ المقدّم، والفرغ المؤخر، وبطن الحوت. ولحساب ذلك كتب موضوعة وفيما ذكر كفاية واللّه يعلم وأنتم لا تعلمون.

 

‌‌ذكر صورة الأرض وموضع الأقاليم منها

ولما تقدّم في الأفلاك من القول ما يتبين به لمن ألهمه اللّه تعالى كيف تكون الحركة التي بها الليل والنهار، وتركب الشهور والأعوام منهما جاز حينئذ الكلام على الأرض.

--------------------------------------------

(1) السرطان: في بعض المراجع: الشرطين. سر الأسرار لأرسطوطاليس.
এবং তুমি তাকে দেখবে সে তার নিচে তার বস্ত্র বিছিয়ে দিচ্ছে … অতএব তার দয়া এবং অত্যধিক মমতায় আশ্চর্য হও।

এবং মিলনের সবচেয়ে সুস্বাদু মুহূর্ত হলো যখন প্রস্থানের সময় ঘনীয় আসে … এবং তার নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়।

যখন সূর্য ধনু রাশির শেষে এবং মকর রাশির শুরুতে পৌঁছায়, তখন রাতের দৈর্ঘ্য চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দিন ছোট হয়ে যায়। দিন বাড়তে থাকে এবং রাত কমতে থাকে, শরৎকাল শেষ হয় এবং শীতকাল উপস্থিত হয়। শীত তীব্র হয়, বাতাস রুক্ষ হয়, গাছের পাতা ঝরে যায়, অধিকাংশ উদ্ভিদ মরে যায় এবং প্রাণিকুল মাটির গভীরে লুকিয়ে পড়ে। শরীরের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, পৃথিবীর চেহারা অলঙ্কারহীন হয়ে যায়, মেঘের সৃষ্টি হয় এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং পৃথিবীর মুখ মলিন হয়ে যায়, কেবল মিশর ব্যতীত। মানুষ কাজকর্ম ও চলাফেরা থেকে বিরত থাকে এবং পৃথিবী এমন এক জরাগ্রস্ত বৃদ্ধার ন্যায় হয়ে যায় যার মৃত্যু নিকটবর্তী। অতঃপর যখন সূর্য মীন রাশির শেষে এবং মেষ রাশির শুরুতে পৌঁছায়, তখন কাল আবার আগের বছরের ন্যায় ফিরে আসে এবং এটাই এর চিরাচরিত নিয়ম। এটি পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞের নির্ধারণ এবং প্রজ্ঞাবান ও অভিজ্ঞের সুনিপুণ ব্যবস্থা। তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। টলেমি বসন্তকালকে শৈশবকালের সঙ্গে, গ্রীষ্মকালকে যৌবনকালের সঙ্গে, শরৎকালকে প্রৌঢ়ত্বের সঙ্গে এবং শীতকালকে বার্ধক্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সূর্যের গতি এবং উল্লিখিত বারোটি রাশিতে তার পরিবর্তনের মাধ্যমেই বছরের ঋতুসমূহ এবং দিন ও রাতের সময় ও ঘণ্টাসমূহ নির্ধারিত হয়। আর বারোটি রাশিতে চন্দ্রের গতির মাধ্যমে চান্দ্র মাস এবং চান্দ্র বছর নির্ধারিত হয়। চন্দ্র বারোটি রাশি প্রদক্ষিণ করে এবং সম্পূর্ণ কক্ষপথ আটাশ দিন ও দিনের কিছু অংশের মধ্যে অতিক্রম করে। এটি প্রতিটি রাশিতে আনুমানিক দুই দিন এবং দিনের এক-তৃতীয়াংশ অবস্থান করে এবং চন্দ্রের আটাশটি মনজিলের প্রতিটিতে একদিন ও একরাত অবস্থান করে। এটি উদিত হওয়ার সময় সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে দৃশ্যমান হয় এবং পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত প্রতি রাতে তার আলো এক-সপ্তমাংশের অর্ধেক পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। চন্দ্রোদয়ের চতুর্দশ রাতে এটি পূর্ণতা লাভ করে। অতঃপর পঞ্চদশ রাত থেকে এটি কমতে শুরু করে এবং প্রতি রাতে এর আলো এক-সপ্তমাংশের অর্ধেক করে হ্রাস পায়, যতক্ষণ না চন্দ্রোদয়ের আটাশতম দিনে এর আলো সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। সূর্য থেকে পৃথক হওয়ার পর এই সময়ের মধ্যে এটি আটাশটি মনজিল অতিক্রম করে যা পশ্চিম দিক থেকে শুরু হয় এবং সূর্যের সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে। মনজিলগুলো হলো: আল-সারাতান(১), আল-বুতাইন, আল-সুরাইয়া, আল-দাবরান, আল-হাকআহ, আল-হানআহ, আল-যিরা, আল-নাসরাহ, আল-তারফ, আল-জাবহা, আল-যুবরাহ, আল-সারফাহ, আল-আউওয়া, আল-সিমাক, আল-গাফর, আল-যাবানা, আল-ইকলিল, আল-কালব, আল-শাওলাহ, আল-নাআইম, আল-বালদাহ, সা'দ আল-যাবিহ, সা'দ বুলা, সা'দ আল-সুউদ, সা'দ আল-অখবিয়াহ, আল-ফারগ আল-মুকাদ্দাম, আল-ফারগ আল-মুয়াখখার এবং বাতন আল-হুত। এর গণনার জন্য সুনির্দিষ্ট কিতাবসমূহ রচিত হয়েছে এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা-ই যথেষ্ট। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।

 

‌‌পৃথিবীর গঠন এবং এতে বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থানের বর্ণনা

আকাশমণ্ডল সম্পর্কে ইতিপূর্বে যে আলোচনা করা হয়েছে, তার মাধ্যমে মহান আল্লাহ যাকে ইলহাম দান করেছেন তার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, দিন ও রাতের গতির প্রকৃতি কেমন এবং এই দুইয়ের সমন্বয়ে কীভাবে মাস ও বছর গঠিত হয়; সুতরাং এখন পৃথিবী সম্পর্কে আলোচনা করা সমীচীন।

--------------------------------------------

(১) আল-সারাতান: কিছু তথ্যসূত্রে এটি 'আল-শরাতাইন'। এরিস্টটলের 'সিররুল আসরার'।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فأقول: الجهات من حيث هي ست: الشرق وهو حيث تطلع الشمس. والقمر، وسائر الكواكب في كل قطر من الأفق، والغرب وهو حيث تغرب، والشمال وهو حيث مدار الجدي والفرقدين، والجنوب وهو حيث مدار سهيل، والفوق وهو مما يلي السماء، والتحت وهو مما يلي مركز الأرض.

والأرض جسم مستدير كالكرة، وقيل: ليست بكرية الشكل وهي واقفة في الهواء بجميع جبالها وبحارها وعامرها وغامرها، والهواء محيط بها من جميع جهاتها كالمحّ في جوف البيضة وبعدها من السماء متساو من جميع الجهات وأسفل الأرض ما تحقيقه هو عمق باطنها مما يلي مركزها من أيّ جانب كان. ذهب الجمهور إلى أن الأرض كالكرة موضوعة في جوف الفلك كالمح في البيضة، وأنها في الوسط وبعدها في الفلك من جميع الجهات على التساوي.

وزعم هشام بن الحكم: أن تحت الأرض جسما من شأنه الارتفاع وهو المانع للأرض من الانحدار، وهو ليس محتاجا إلى ما بعده، لأنه ليس يطلب الانحدار بل الارتفاع، وقال:

إن اللّه تعالى وقفها بلاد عماد.

وقال ديمقراطس: أنها تقوم على الماء، وقد حصر الماء تحتها حتى لا يجد مخرجا فيضطرّ إلى الانتقال، وقال آخر: هي واقفة على الوسط على مقدار واحد من كلّ جانب والفلك يجذبها من كل وجه فلذلك لا تميل إلى ناحية من الفلك دون ناحية، لأنّ قوة الأجزاء متكافئة، وذلك كحجر المغناطيس في جذبه الحديد فإنّ الفلك بالطبع مغناطيس الأرض، فهو يجذبها فهي واقفة في الوسط، وسبب وقوفها في الوسط سرعة تدوير الفلك ودفعه إياها من كل جهة إلى الوسط.

كما إذا وضعت ترابا في قارورة وأدرتها بقوّة فإنّ التراب يقوم في الوسط.

وقال محمد بن أحمد الخوارزمي(1): الأرض في وسط السماء، والوسط هو السفلى بالحقيقة، وهي مدوّرة مضرسة من جهة الجبال البارزة والوهاد الغائرة، وذلك لا يخرجها عن الكرية إذا اعتبرت جملتها لأنّ مقادير الجبال وإن شمخت يسيرة بالقياس إلى كرة الأرض، فإن الكرة التي قطرها ذراع، أو ذراعان مثلا إذا أنتأ منها شيء أو غار فيها لا يخرجها عن الكرية، ولا هذه التضاريس لإحاطة الماء بها من جميع جوانبها وغمرها، بحيث لا يظهر منها شيء. فحينئذ تبطل الحكمة المؤدّية المودعة في المعادن، والنبات والحيوان، فسبحان من لا يعلم أسرار حكمه إلا هو. وأما سطحها الظاهر المماس للهواء من جميع

--------------------------------------------

(1) باحث من أهل خراسان له كتاب (مفاتيح العلوم) ويعد كتابه من أقدم ما صنفه العرب على الطريقة الموسوعية. توفي سنة 387 هـ. الأعلام ج 312/ 5.
আমি বলি: দিকসমূহ মূলত ছয়টি: পূর্ব, যেখান থেকে সূর্য উদিত হয়। এবং চাঁদ ও দিগন্তের প্রতিটি প্রান্তে অবশিষ্ট নক্ষত্রসমূহ; পশ্চিম, যেখানে সেগুলো অস্ত যায়; উত্তর, যেখানে আল-জাদি (ধ্রুবতারা) ও আল-ফারকাদাইন-এর কক্ষপথ অবস্থিত; দক্ষিণ, যেখানে সুহাইল (ক্যানোপাস)-এর কক্ষপথ অবস্থিত; উপর, যা আসমান সংলগ্ন; এবং নিচ, যা পৃথিবীর কেন্দ্রের অভিমুখী।

পৃথিবী গোলকের মতো এক গোলাকার বস্তু, এবং কেউ কেউ বলেছেন: এটি গোলাকার নয়। এটি এর সমস্ত পর্বত, সমুদ্র, জনবসতি ও জনশূন্য প্রান্তরসহ শূন্যে অবস্থান করছে। বাতাস ডিমের কুসুমের মতো সব দিক থেকে একে ঘিরে রেখেছে। আসমান থেকে এর দূরত্ব সব দিক থেকে সমান। পৃথিবীর নিচের অংশ মূলত এর অভ্যন্তরের গভীরতা যা এর কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত, তা যেকোনো দিক থেকেই হোক না কেন। জমহুর (অধিকাংশ আলেম) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, পৃথিবী গোলকের মতো এবং তা মহাকাশের অভ্যন্তরে ঠিক সেভাবেই স্থাপিত যেভাবে ডিমের ভেতরে কুসুম থাকে। এটি কেন্দ্রে অবস্থিত এবং মহাকাশে সব দিক থেকে এর দূরত্ব সমান।

হিশাম বিন আল-হাকাম দাবি করেছেন: পৃথিবীর নিচে এমন একটি বস্তু রয়েছে যার প্রকৃতি হলো উপরে ওঠা, যা পৃথিবীকে নিচে নামা থেকে বাধা প্রদান করে। সেই বস্তুটি তার পরবর্তী কিছুর মুখাপেক্ষী নয়, কারণ সেটি নিচে নামতে চায় না বরং উপরে উঠতে চায়। তিনি আরও বলেছেন:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা একে কোনো স্তম্ভ ছাড়াই স্থির রেখেছেন।

ডেমোক্রিটাস বলেছেন: এটি পানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং পানিকে এর নিচে এমনভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে যে তা বের হওয়ার কোনো পথ পায় না, ফলে তা স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়। অন্য একজন বলেছেন: এটি সব দিক থেকে সমান দূরত্বে কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং মহাকাশ একে সব দিক থেকে আকর্ষণ করছে, ফলে তা মহাকাশের এক দিকের চেয়ে অন্য দিকে হেলে পড়ে না। কারণ এর অংশগুলোর শক্তি সমান। এটি লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে চুম্বক পাথরের মতো; কারণ মহাকাশ প্রকৃতিগতভাবে পৃথিবীর জন্য একটি চুম্বক, যা একে আকর্ষণ করে ফলে এটি কেন্দ্রে স্থির থাকে। এর কেন্দ্রে স্থির থাকার কারণ হলো মহাকাশের ঘূর্ণন গতি এবং এটি সব দিক থেকে একে কেন্দ্রের দিকে ঠেলে দেয়।

যেমন যদি আপনি একটি বোতলে কিছু মাটি রাখেন এবং জোরে তা ঘোরাতে থাকেন, তবে মাটিগুলো মাঝখানে চলে আসে।

মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-খাওয়ারিজমি(১) বলেছেন: পৃথিবী আসমানের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং কেন্দ্রই মূলত প্রকৃত নিচ। এটি গোলাকার তবে উঁচু পর্বত এবং গভীর খাদের কারণে অসমতল। সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে এটি একে গোলাকার হওয়া থেকে বের করে দেয় না। কারণ পর্বতগুলো যতই উঁচু হোক না কেন, পৃথিবীর গোলকের তুলনায় তা নগণ্য। যেমন ধরুন, এক বা দুই হাত ব্যাসের একটি গোলক থেকে যদি কোনো কিছু সামান্য উঁচু হয় বা নিচু হয়, তবে তা একে গোলাকার হওয়া থেকে খারিজ করে দেয় না। আর এই অসমতলতা পানি দ্বারা সব দিক থেকে পরিবেষ্টিত ও নিমজ্জিত থাকার কারণেও বাধাগ্রস্ত হয় না যে সেখান থেকে কিছুই দৃশ্যমান হবে না। সে ক্ষেত্রে খনিজ সম্পদ, উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের মধ্যে নিহিত প্রজ্ঞা বা উদ্দেশ্য ব্যাহত হতো। অতএব পবিত্রতা সেই সত্তার, যার হিকমতের রহস্যসমূহ তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এর বাহ্যিক পৃষ্ঠ যা সব দিক থেকে বাতাসের সংস্পর্শে রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) খুরাসানের একজন গবেষক, তাঁর রচিত গ্রন্থ হলো (মাফাতিহুল উলুম)। তাঁর গ্রন্থটি আরবদের দ্বারা বিশ্বকোষীয় পদ্ধতিতে রচিত প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য হয়। তিনি ৩৮৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আলাম, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩১২।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الجهات فإنه فوق، والهواء فوق الأرض يحيط بها ويجذبها من سائر الجهات، وفوق الهواء الأفلاك المذكورة فيما تقدّم واحدا فوق آخر إلى الفلك التاسع الذي هو أعلى الأفلاك، ونهاية المخلوقات بأسرها، وقد اختلف فيما وراء ذلك فقيل: خلا.

وقيل: ملاء، وقيل: لا خلاء ولا ملاء وكل موضع يقف فيه الإنسان من سطح الأرض فإنّ رأسه أبدا يكون مما يلي السماء إلى فوق، ورجلاه أبدا تكون أسفل مما يلي مركز الأرض، وهو دائما يرى من السماء: نصفها ويستر عنه النصف الآخر حدبة الأرض، وكلما انتقل من موضع إلى آخر ظهر له من السماء بقدر ما خفي عنه.

والأرض غامرة بالماء كعنبة طافية فوق الماء قد انحسر عنها نحو النصف، وانغمر النصف الآخر في الأرض، وصار المنكشف من الأرض نصفين، كأنما قسم بخط مسامت لخط معدّل النهار يمرّ تحت دائرته، وجميع البلاد التي على هذا الخط، لا عرض لها البتة، والقطبان غير مرتبين فيها، ويكونان هناك على دائرة الأفق من الجانبين.

وكلما بعد موضع بلد عن هذا الخط إلى ناحية الشمال قدر درجة ارتفع القطب الشماليّ الذي هو: الجدي على أهل ذلك البلد درجة، وانخفض القطب الجنوبيّ الذي هو: سهيل درجة، وهكذا ما زاد ويكون الأمر فيما بعد من البلاد الواقعة في ناحية الجنوب كذلك من ارتفاع القطب الجنوبيّ، وانحطاط القطب الشماليّ، وبهذا عرف عرض البلدان، وصار عرض البلد عبارة عن ميل دائرة معدّل النهار عن سمت رؤوس أهله، وارتفاع القطب عليهم، وهو أيضا بعد ما بين سمت رؤوس أهل ذلك البلد، وسمت رؤوس أهل بلد لا عرض له، فأمّا ما انكشف من الأرض مما يلي الجنوب من خط الاستواء، فإنه خراب، والنصف الآخر الذي يلي الشمال من خط الاستواء، فهو الربع العامر، وهو المسكون من الأرض، وخط الاستواء لا وجود له في الخارج، وإنما هو فرض بوهمنا أنه خط ابتداؤه من المشرق إلى المغرب تحت مدار رأس الحمل، وسمي بذلك من أجل أنّ النهار، والليل هناك أبدا سواء لا يزيد ولا ينقص أحدهما عن الآخر شيئا البتة في سائر أوقات السنة كلها، ونقطتا هذا الخط ملازمتان للأفق إحداهما على مدار سهيل في ناحية الجنوب، والأخرى مما يلي الجدي في ناحية الشمال.

والعمارة من المشرق إلى المغرب مائة وثمانون درجة من الجنوب إلى الشمال من خط أريس إلى بنات نعش: ثمان وأربعون درجة، وهو مقدار ميل الشمس مرّتين، وخلف خط أريس، وهو مقدار: ستة عشر درجة، وجملة معمور الأرض نحو من: سبعين درجة لاعتدال مسير الشمس في هذا الوسط، ومرورها على ما وراء الحمل والميزان مرّتين في السنة، وأما الشمال والجنوب، فالشمس لا تحاذيهما إلاّ مرّة واحدة، ولأنّ أوج الشمس مرّتين في جهة الشمال، كانت العمارة فيه لارتفاعها وانتفاء ضرر قربها عن ساكنيه، ولأن
দিকসমূহ সম্পর্কে কথা হলো এই যে, তা উপরে অবস্থিত। আর পৃথিবীর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডল একে চারপাশ থেকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং একে সব দিক থেকে আকর্ষণ করছে। এই বায়ুর উপরে ইতিপূর্বে উল্লিখিত আকাশমণ্ডলসমূহ একটির ওপর অন্যটি হিসেবে নবম আকাশ পর্যন্ত বিদ্যমান, যা সকল আকাশের ঊর্ধ্বে এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের শেষ সীমা। এর বাইরে কী আছে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে যে তা শূন্যস্থান।

আবার বলা হয়েছে যে তা পূর্ণতা, অথবা সেখানে শূন্যস্থান বা পূর্ণতা কোনটিই নেই। ভূপৃষ্ঠের যেখানেই মানুষ দাঁড়াক না কেন, তার মাথা সর্বদা আকাশের দিকে অর্থাৎ ওপরের দিকে থাকে এবং তার পা সর্বদা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ নিচের দিকে থাকে। সে সর্বদা আকাশের অর্ধেক অংশ দেখতে পায় এবং বাকি অর্ধেক অংশ পৃথিবীর বক্রতার কারণে তার দৃষ্টির আড়ালে থাকে। সে যখনই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়, আকাশের যতটা অংশ তার থেকে আড়ালে চলে যায়, ঠিক ততটা অংশই তার সামনে নতুন করে প্রকাশ পায়।

আর পৃথিবী পানির ওপর ভাসমান আঙুর ফলের মতো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে, যার প্রায় অর্ধেক অংশ পানি থেকে জেগে আছে এবং অন্য অর্ধেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে আছে। পৃথিবীর এই উন্মুক্ত স্থলভাগটি দুই ভাগে বিভক্ত, যেন দিনের সমতা রেখার (মাদালুন নাহার) নিচ দিয়ে তার কক্ষপথ বরাবর একটি রেখা কল্পনা করে একে ভাগ করা হয়েছে। এই রেখার ওপর অবস্থিত সকল জনপদের কোনো অক্ষাংশ নেই এবং মেরুদ্বয় সেখানে সুবিন্যস্ত নয়, বরং সেগুলো দিগন্তরেখার উভয় পাশে অবস্থান করে।

এই রেখা থেকে উত্তর দিকে কোনো জনপদের অবস্থান যত ডিগ্রি দূরে সরে যায়, সেই জনপদের অধিবাসীদের জন্য উত্তর মেরু অর্থাৎ আল-জাদি তারা তত ডিগ্রি উপরে উঠে যায় এবং দক্ষিণ মেরু অর্থাৎ সুহাইল তারা তত ডিগ্রি নিচে নেমে যায়। একইভাবে দক্ষিণ দিকের জনপদগুলোর ক্ষেত্রেও দক্ষিণ মেরুর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উত্তর মেরুর অবনমন ঘটে। এভাবেই দেশসমূহের অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়েছে। কোনো জনপদের অক্ষাংশ বলতে বোঝায় অধিবাসীদের মাথার ওপরের বিন্দু (সমতুল রাস) থেকে দিনের সমতা রেখার বিচ্যুতি এবং তাদের ওপর মেরুর উচ্চতা। এটি মূলত কোনো অক্ষাংশহীন জনপদের অধিবাসীদের মাথার ওপরের বিন্দু এবং সংশ্লিষ্ট জনপদের অধিবাসীদের মাথার ওপরের বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব। বিষুবরেখা (খত-ই-ইসতিওয়া) থেকে দক্ষিণ দিকে যে ভূখণ্ড উন্মুক্ত হয়েছে তা জনমানবহীন। আর বিষুবরেখার উত্তর দিকের অন্য অর্ধেক অংশটি হলো আবাদি চতুর্থাংশ, যা পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ এলাকা। বাস্তবে বিষুবরেখার কোনো অস্তিত্ব নেই, এটি কেবল একটি কাল্পনিক রেখা যা মেষ রাশির কক্ষপথের নিচ দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত। এর এই নামকরণের কারণ হলো সেখানে দিন ও রাত সর্বদা সমান থাকে, সারা বছরের কোনো সময়েই একটি অপরটি থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। এই রেখার প্রান্তবিন্দু দুটি সর্বদা দিগন্তের সাথে সংলগ্ন থাকে; যার একটি দক্ষিণ দিকে সুহাইল তারার কক্ষপথে এবং অন্যটি উত্তর দিকে আল-জাদি তারার কক্ষপথে।

আবাদি ভূখণ্ডের বিস্তার পূর্ব থেকে পশ্চিমে একশ আশি ডিগ্রি এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে খত-ই-আরিস থেকে বানাতু নাশ (সপ্তর্ষি মন্ডলী) পর্যন্ত আটচল্লিশ ডিগ্রি। এটি সূর্যের বিচ্যুতির পরিমাণের দ্বিগুণ। খত-ই-আরিসের পেছনে আরও ষোল ডিগ্রি পর্যন্ত আবাদি এলাকা বিস্তৃত। সর্বমোট আবাদি ভূখণ্ড প্রায় সত্তর ডিগ্রি পর্যন্ত, কারণ এই মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের গতিপথ পরিমিত এবং বছরে দুই বার তা মেষ ও তুলা রাশির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের ক্ষেত্রে সূর্য কেবল একবার সেগুলোর সামনাসামনি হয়। যেহেতু উত্তর দিকে সূর্যের উচ্চতা (আওজ) দুই বার ঘটে, তাই সেখানে বসতি বা আবাদি এলাকা গড়ে উঠেছে, কারণ উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সূর্যের অতি নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে এখানকার অধিবাসীরা মুক্ত থাকে। কারণ...
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
حضيضها في الجنوب، عدمت العمارة هنالك.

وقد اختلف الناس في مسافة الأرض، فقيل: مسافتها خمسمائة عام ثلث عمران، وثلث خراب، وثلث بحار، وقيل: المعمور من الأرض مائة وعشرون سنة: تسعون ليأجوج ومأجوج، واثنا عشر: للسودان، وثمانية للروم، وثلاثة للعرب، وسبعة لسائر الأمم.

وقيل: الدنيا سبعة أجزاء: ستة ليأجوج ومأجوج، وواحد لسائر الناس، وقيل:

الأرض خمسمائة عام: البحار ثلثمائة، ومائة خراب، ومائة عمران، وقيل: الأرض أربعة وعشرون ألف فرسخ: للسودان اثنا عشر ألف، وللروم ثمانية آلاف، ولفارس ثلاثة آلاف، وللعرب ألف.

وعن وهب بن منبه: ما العمارة من الدنيا في الخراب إلا كفسطاط في الصحراء.

وقال أزدشير بن بابك: الأرض أربعة أجزاء: جزء منها للترك، وجزء للعرب، وجزء للفرس، وجزء للسودان، وقيل: الأقاليم سبعة: والأطراف أربعة، والنواحي خمسة وأربعون، والمدائن عشرة آلاف، والرساتيق مائتا ألف وستة وخمسون ألفا، وقيل: المدن والحصون أحد وعشرون ألفا وستمائة مدينة وحصن، ففي الإقليم الأوّل ثلاثة آلاف ومائة مدينة كبيرة، وفي الثاني ألفان وسبعمائة وثلاثة عشر مدينة وقرية كبيرة، وفي الثالث ثلاثة آلاف وتسع وسبعون مدينة وقرية، وفي الرابع وهو بابل ألفان وتسعمائة وأربع وسبعون مدينة، وفي الخامس ثلاثة آلاف مدينة وست مدائن، وفي السادس ثلاثة آلاف وأربعمائة وثمان مدن، وفي السابع ثلاثة آلاف وثلاثمائة مدينة في الجزائر.

وقال الخوارزميّ: قطر الأرض سبعة آلاف فرسخ، وهو نصف سدس الأرض والجبال والمفاوز والبحار، والباقي خراب يباب لا نبات فيه ولا حيوان، وقيل: المعمور من الأرض مثل: طائر، رأسه الصين، والجناح الأيمن الهند والسند، والجناح الأيسر الخزر، وصدره مكة والعراق والشام ومصر، وذنبه الغرب، وقيل: قطر الأرض سبعة آلاف وأربعمائة وأربعة عشر ميلا ودورها عشرون ألف ميل وأربعمائة ميل، وذلك جميع ما أحاطت به من برّ وبحر.

وقال أبو زيد أحمد بن سهل البلخيّ(1): طول الأرض من أقصى المشرق إلى أقصى المغرب نحو أربعمائة مرحلة، وعرضها من حيث العمران الذي من جهة الشمال، وهو مساكن يأجوج ومأجوج إلى حيث العمران الذي من جهة الجنوب، وهو مساكن السودان

--------------------------------------------

(1) أحمد بن سهل أبو زيد البلخي: أحد الكبار الأفذاذ من علماء الإسلام جمع بين الشريعة والأدب والفلسفة والفنون ولد سنة 235 هـ وتوفي سنة 322 هـ. له عدة مؤلفات منها: (الأسماء والكنى والألقاب). الأعلام ج 134/ 1.
এর নিম্নভাগ দক্ষিণে, সেখানে জনবসতি নেই।

পৃথিবীর আয়তন সম্পর্কে মানুষের মাঝে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: এর আয়তন পাঁচশ বছরের পথ; এক-তৃতীয়াংশ আবাদি, এক-তৃতীয়াংশ অনাবাদী এবং এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্র। আবার বলা হয়েছে: পৃথিবীর বসতিপূর্ণ অঞ্চল একশ বিশ বছরের পথ: নব্বই বছর ইয়াজুজ ও মাজুজের জন্য, বারো বছর সুদানীদের জন্য, আট বছর রোমানদের জন্য, তিন বছর আরবদের জন্য এবং সাত বছর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জন্য।

আরও বলা হয়েছে: পৃথিবী সাতটি ভাগে বিভক্ত: ছয়টি ভাগ ইয়াজুজ ও মাজুজের জন্য এবং একটি ভাগ বাকি সকল মানুষের জন্য। বলা হয়েছে:

পৃথিবী পাঁচশ বছরের পথ: সমুদ্র তিনশ বছর, অনাবাদী একশ বছর এবং আবাদি একশ বছর। বলা হয়েছে: পৃথিবী চব্বিশ হাজার ফারসাখ: সুদানীদের জন্য বারো হাজার, রোমানদের জন্য আট হাজার, পারস্যবাসীদের জন্য তিন হাজার এবং আরবদের জন্য এক হাজার ফারসাখ।

ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত: ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অনাবাদী অঞ্চলের তুলনায় দুনিয়ার আবাদি অঞ্চল মরুভূমিতে একটি তাঁবুর মতো মাত্র।

আরদাশির ইবনে বাবাক বলেছেন: পৃথিবী চার ভাগে বিভক্ত: এক ভাগ তুর্কিদের জন্য, এক ভাগ আরবদের জন্য, এক ভাগ পারস্যবাসীদের জন্য এবং এক ভাগ সুদানীদের জন্য। বলা হয়েছে: অঞ্চল সাতটি, প্রান্তীয় এলাকা চারটি, পার্শ্ববর্তী এলাকা পঁয়তাল্লিশটি, শহর দশ হাজার এবং পল্লী এলাকা দুই লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার। আরও বলা হয়েছে: শহর ও দুর্গ সংখ্যা একুশ হাজার ছয়শ। প্রথম অঞ্চলে তিন হাজার একশটি বড় শহর রয়েছে। দ্বিতীয় অঞ্চলে দুই হাজার সাতশ তেরোটি বড় শহর ও গ্রাম। তৃতীয় অঞ্চলে তিন হাজার ঊনআশিটি শহর ও গ্রাম। চতুর্থ অঞ্চলে—যা হলো বাবেল—দুই হাজার নয়শ চুয়াত্তরটি শহর। পঞ্চম অঞ্চলে তিন হাজার ছয়টি শহর। ষষ্ঠ অঞ্চলে তিন হাজার চারশ আটটি শহর। সপ্তম অঞ্চলে দ্বীপপুঞ্জসমূহে তিন হাজার তিনশটি শহর রয়েছে।

আল-খাওয়ারিজমি বলেছেন: পৃথিবীর ব্যাস সাত হাজার ফারসাখ, যা পৃথিবী, পাহাড়-পর্বত, মরুভূমি ও সমুদ্রের বারো ভাগের এক ভাগ। বাকি অংশ জনশূন্য বিরান ভূমি, যেখানে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। বলা হয়েছে: পৃথিবীর বসতিপূর্ণ অংশ একটি পাখির মতো: যার মাথা হলো চীন, ডান ডানা হিন্দ ও সিন্ধু, বাম ডানা খাযার অঞ্চল, বুক হলো মক্কা, ইরাক, সিরিয়া ও মিশর এবং লেজ হলো পশ্চিম দেশসমূহ। বলা হয়েছে: পৃথিবীর ব্যাস সাত হাজার চারশ চৌদ্দ মাইল এবং এর পরিধি বিশ হাজার চারশ মাইল। এটি স্থল ও জলভাগ যা কিছু ঘিরে আছে তার সামগ্রিক পরিমাপ।

আবু যায়েদ আহমাদ ইবনে সাহল আল-বালখি(১) বলেছেন: পৃথিবীর দৈর্ঘ্য সুদূর পূর্ব থেকে সুদূর পশ্চিম পর্যন্ত প্রায় চারশ মানজিল। আর এর প্রস্থ উত্তর দিকের জনপদ—যা ইয়াজুজ ও মাজুজের আবাসস্থল—থেকে দক্ষিণ দিকের জনপদ—যা সুদানীদের আবাসস্থল—পর্যন্ত বিস্তৃত।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ ইবনে সাহল আবু যায়েদ আল-বালখি: ইসলামী স্কলারদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। তিনি শরীয়াহ, সাহিত্য, দর্শন ও বিভিন্ন শিল্পকলার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি ২৩৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা ওয়াল আলকাব’ অন্যতম। আল-আ’লাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مائتان وعشرون مرحلة وما بين براري يأجوج ومأجوج إلى البحر المحيط في الشمال، وما بين براري السودان، والبحر المحيط في الجنوب خراب ليس فيه عمارة، ويقال: إن مسافة ذلك: خمسة آلاف فرسخ، وهذه أقوال لا دليل على صدقها.

والطريق في معرفة مساحة الأرض أنّا لو سرنا على خط نصف النهار من الجنوب إلى الشمال بقدر ميل دائرة معدّل النهار عن سمت رؤوسنا إلى الجنوب درجة من درج الفلك التي هي جزء من ثلاثمائة وستين جزءا، وارتفع القطب علينا درجة نظير تلك الدرجة فإنا نعلم أنا قد قطعنا من محيط جرم الأرض جزءا من ثلاثمائة وستين جزءا، وهو نظير ذلك الجزء من الفلك، فلو قسنا من ابتداء مسيرنا إلى انتهاء مكاننا الذي وصلنا إليه حيث ارتفع القطب علينا درجة، فإنا نجد حقيقة الدرجة الواحدة من الفلك قد قطعت من الأرض ستة وخمسين ميلا، وثلثي ميل عنها خمسة وعشرون فرسخا فإذا ضربنا حصة الدرجة الواحدة، وهو ما ذكر من الأميال في ثلاثمائة وستين خرج من الضرب عشرون ألفا، وأربعمائة ميل، وذلك مساحة دور الأرض فإذا قسمنا هذه الأميال التي هي مساحة دور الأرض على ثلاثة وسبع خرج من القسمة ستة آلاف وأربعمائة، وأربعون ميلا، وهي مساحة قطر الأرض، فلو ضربنا هذا القطر في مبلغ دور الأرض، لبلغت مساحة بسط الأرض بالتكسير مائة ألف ألف واثنين وثلاثين ألف ألف وستمائة ألف ميل بالتقريب. فعلى هذا مساحة ربع الأرض المسكون بالتكسير ثلاثة وثلاثون ألف ألف ميل ومائة وخمسون ألف ميل، وعرض المسكون من هذا الربع بقدر بعد مدار السرطان عن القطب، وهو خمسة وخمسون جزءا وسدس جزء، وهذا هو سدس الأرض وانتهاؤه إلى جزيرة تولي في برطانية، وهي آخر المعمور من الشمال، وهو من الأميال ثلاثة آلاف وسبعمائة وأربعة وستون ميلا، فإذا ضربنا هذا السدس الذي هو مساحة عرض الأرض في النصف، وهو مقدار الطول، كان المعمور من الشمال قدر نصف سدس الأرض. وأما الطول فإنه يقل لتضايق أقسام كرة الأرض، ومقداره مثل خمس الدور، وهو بالتقريب أربعة آلاف وثمانون ميلا، وفي الربع المسكون من الأرض: سبعة أبحر كبار، وفي كل بحر منها عدة جزائر، وفيه خمسة عشر بحيرة منها ملح وعذب، وفيه مائتا جبل طوال، ومائتا نهر، وأربعون نهرا طوالا، ويشتمل على سبعة أقاليم تحتوي على سبعة عشر ألف مدينة كبيرة.

وقال في كتاب هروشيوس: لما استقامت طاعة بوليس الملقب قيصر الملك في عامّة الدنيا، تخير أربعة من الفلاسفة سماهم، فأمرهم أن يأخذوا له وصف خدود الدنيا، وعدّة بحارها، وكورها أرباعا فولّى أحدهم أخذ وصف جزء المشرق، وولى آخر أخذ وصف جزء المغرب، وولى الثالث أخذ وصف جزء الشمال. وولى الرابع أخذ وصف جزء الجنوب، فتمت كتابة الجميع على أيديهم في نحو من ثلاثين سنة، فكانت جملة البحار المسماة في الدنيا تسعة وعشرين بحرا قد سمّوها: منها بجزء الشرق ثمانية، وبجزء الغرب ثمانية،
দুইশত বিশটি মারহালা। ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রান্তর থেকে উত্তরের বেষ্টনকারী সমুদ্র পর্যন্ত এবং সুদানের প্রান্তর থেকে দক্ষিণের বেষ্টনকারী সমুদ্র পর্যন্ত এলাকাটি জনশূন্য ধ্বংসস্তূপ, সেখানে কোনো আবাদ নেই। বলা হয়ে থাকে যে, এর দূরত্ব পাঁচ হাজার ফারসাখ। তবে এগুলো এমন বক্তব্য যার সত্যতার কোনো প্রমাণ নেই।

পৃথিবীর ক্ষেত্রফল জানার উপায় হলো এই যে, আমরা যদি দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে মধ্যাহ্ন রেখা বরাবর আকাশমণ্ডলের তিনশত ষাট ভাগের এক ভাগ (ডিগ্রি) পরিমাণ পরিভ্রমণ করি—যেখানে আমাদের মাথার ওপর থেকে বিষুবরেখা দক্ষিণ দিকে এক ডিগ্রি পরিমাণ হেলে থাকে, যা আকাশমণ্ডলের তিনশত ষাটটি ভাগের একটি ভাগ—এবং আমাদের উপরে মেরু এক ডিগ্রি পরিমাণ উচ্চে দৃশ্যমান হয়, তবে আমরা নিশ্চিত হব যে আমরা পৃথিবীর গোলকপৃষ্ঠের তিনশত ষাট ভাগের এক ভাগ অতিক্রম করেছি, যা আকাশমণ্ডলের সেই এক ভাগের অনুরূপ। অতঃপর আমরা যদি আমাদের যাত্রার শুরু থেকে সেই গন্তব্য পর্যন্ত পরিমাপ করি যেখানে মেরু আমাদের দৃষ্টিসীমায় এক ডিগ্রি উপরে উঠেছে, তবে আমরা দেখতে পাব যে আকাশমণ্ডলের সেই এক ডিগ্রির বিপরীতে পৃথিবীতে প্রকৃতপক্ষে ছাপান্ন মাইল এবং এক মাইলের দুই-তৃতীয়াংশ দূরত্ব অতিক্রম করা হয়েছে, যা পঁচিশ ফারসাখের সমতুল্য। সুতরাং আমরা যদি এক ডিগ্রির এই প্রাপ্য অংশকে, যা মাইলের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনশত ষাট দিয়ে গুণ করি, তবে গুণফল হবে বিশ হাজার চারশত মাইল। আর এটিই হলো পৃথিবীর পরিধি। এরপর যদি আমরা পৃথিবীর পরিধির এই মাইলসমূহকে তিন পূর্ণ সাতের এক দিয়ে ভাগ করি, তবে ভাগফল হবে ছয় হাজার চারশত চল্লিশ মাইল, যা পৃথিবীর ব্যাস। আর যদি আমরা এই ব্যাসকে পৃথিবীর পরিধির মোট পরিমাণ দিয়ে গুণ করি, তবে পরিমাপ অনুযায়ী পৃথিবীর উপরিভাগের ক্ষেত্রফল দাঁড়াবে প্রায় তেরো কোটি ছাব্বিশ লক্ষ মাইল। এই হিসেবে পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ চতুর্থাংশের ক্ষেত্রফল হলো তিন কোটি একত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মাইল। এই চতুর্থাংশের জনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রস্থ হলো মেরু থেকে কর্কটক্রান্তি রেখার দূরত্বের সমান, যা পঞ্চান্ন পূর্ণ এক-ষষ্ঠাংশ ডিগ্রি। আর এটি হলো পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ, যার শেষ সীমা ব্রিটেন সংলগ্ন তুলি (Thule) দ্বীপ পর্যন্ত, যা উত্তরের জনবসতির শেষ প্রান্ত। এটি মাইলের হিসেবে তিন হাজার সাতশত চৌষট্টি মাইল। সুতরাং আমরা যদি এই ষষ্ঠাংশকে—যা পৃথিবীর প্রস্থের পরিমাণ—অর্ধেক (যা দৈর্ঘ্যের পরিমাণ) দিয়ে গুণ করি, তবে উত্তর গোলার্ধের জনবসতি হবে পৃথিবীর এক-ষষ্ঠাংশের অর্ধেক পরিমাণ। আর দৈর্ঘ্য কমে আসে পৃথিবীর গোলকের ভাগগুলো সংকুচিত হওয়ার কারণে, যার পরিমাণ হলো পরিধির পাঁচ ভাগের এক ভাগ, যা প্রায় চার হাজার আশি মাইল। পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ চতুর্থাংশে সাতটি বড় সমুদ্র রয়েছে এবং এর প্রতিটি সমুদ্রে বেশ কিছু দ্বীপ আছে। এতে পনেরোটি হ্রদ রয়েছে যার মধ্যে লোনা ও মিঠা উভয় প্রকার বিদ্যমান। এতে দুইশতটি দীর্ঘ পাহাড় এবং দুইশত চল্লিশটি দীর্ঘ নদী রয়েছে। এটি সাতটি মহাদেশকে (ইকলিম) অন্তর্ভুক্ত করে যা সতেরো হাজার বড় শহরকে ধারণ করে।

হরুশিউসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: যখন কায়সার উপাধিতে ভূষিত রাজা পলিসের আনুগত্য গোটা বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তিনি চারজন দার্শনিককে মনোনীত করে তাদের নাম উল্লেখ করলেন। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তারা তার জন্য পৃথিবীর সীমানার বিবরণ, এর সমুদ্রসমূহের সংখ্যা এবং এর জনপদসমূহের চার ভাগের বর্ণনা প্রস্তুত করে। তাদের মধ্যে একজনকে তিনি পূর্ব অংশের বিবরণ সংগ্রহের দায়িত্ব দিলেন, অন্য একজনকে পশ্চিম অংশের, তৃতীয়জনকে উত্তর অংশের এবং চতুর্থজনকে দক্ষিণ অংশের বিবরণ সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পণ করলেন। প্রায় ত্রিশ বছরে তাদের সকলের মাধ্যমে এই লিখনী সম্পন্ন হলো। বিশ্বে নামকৃত সমুদ্রের মোট সংখ্যা ছিল উনত্রিশটি। তারা সেগুলোর নামকরণ করেছিলেন: এর মধ্যে পূর্ব অংশে আটটি এবং পশ্চিম অংশে আটটি...
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وبجزء الشمال أحد عشر، وبجزء الجنوب اثنان، وعدّة الجزائر المعروفة الأمهات: إحدى وسبعون جزيرة منها: في الشرق ثمان، وفي الغرب ست عشرة، وفي جهة الشمال إحدى وثلاثون، وفي جهة الجنوب ست عشرة. وعدّة الجبال الكبار المعروفة في جميع الدنيا ستة وثلاثون وهي أمّهات الجبال وقد سموها فيما فسروه منها: في جهة الشرق سبعة، وفي جهة المغرب خمسة عشر، وفي الشمال اثنا عشر، وفي الجنوب اثنان، والبلدان الكبار ثلاثة وستون منها: في المشرق سبعة، وفي المغرب خمسة وعشرون، وفي الشمال تسعة عشر، وفي الجنوب اثنا عشر. وقد سموها، والكور الكبار المعروفة تسع ومائتان منها: في المشرق خمس وسبعون، وفي المغرب ست وستون، وفي الشمال ست، وفي الجنوب اثنان وستون. والأنهار الكبار المعروفة في جميع الدنيا ستة وخمسون منها: لجزء الشرق سبعة عشر، ولجزء الغرب ثلاثة عشر، ولجزء الشمال تسعة عشر، ولجزء الجنوب سبعة.

والأقاليم السبعة كل إقليم منها كأنه بساط مفروش قد مدّ طوله من الشرق إلى الغرب، وعرضه من الشمال إلى الجنوب وهذه الأقاليم مختلفة الطول والعرض. فالإقليم الأوّل منها يمرّ وسطه بالمواضع التي طول نهار الأطول ثلاثة عشر ساعة والسابع منها يمرّ وسطه بالمواضع التي طول نهارها الأطول ست عشر ساعة لأنّ ما حاذى حدّ الإقليم الأوّل إلى نحو الجنوب يشتمل عليه البحر ولا عمارة فيه وما حاذى الإقليم السابع إلى الشمال لا يعلم فيه عمارة فجعل طول الأقاليم السبعة من الشرق إلى الغرب مسافة اثنتي عشرة ساعة من دور الفلك وصارت عروضها تتفاضل نصف ساعة من ساعات النهار الأطول فأطولها وأعرضها الإقليم الأوّل وطوله من المشرق إلى المغرب نحو ثلاثة آلاف فرسخ، وعرضه من الشمال إلى الجنوب مائة وخمسون فرسخا.

وأقصرها طولا وعرضا الإقليم السابع وطوله من الشرق إلى الغرب ألف وخمسمائة فرسخ، وعرضه من الشمال إلى الجنوب نحو من سبعين فرسخا، وبقية الأقاليم الخمسة فيما بين ذلك، وهذه الأقاليم خطوط متوهمة لا وجود لها في الخارج وضعها القدماء الذين جالوا في الأرض ليقفوا على حقيقة حدودها، ويتيقنوا مواضع البلدان منها، ويعرفوا طرق مسالكها هذا حال الربع المسكون، وأما الثلاثة الأرباع الباقية فإنها خراب، فجهة الشمال واقعة تحت مدار الجدي قد أفرط هناك البرد، وصارت ستة أشهر ليلا مستمرّا، وهي مدّة الشتاء عندهم لا يعرف فيها نهار، ويظلم الهواء ظلمة شديدة، وتجمد المياه لقوّة البرد، فلا يكون هناك نبات ولا حيوان، ويقابل هذه الجهة الشمالية ناحية الجنوب حيث مدار سهيل، فيكون النهار ستة أشهر بغير ليل، وهي مدّة الصيف عندهم، فيحمي الهواء ويصير سموما محرقا يهلك بشدّة حرّه الحيوان والنبات، فلا يمكن سلوكه ولا السكنى فيه، وأما ناحية الغرب، فيمنع البحر المحيط من السلوك فيه لتلاطم أمواجه وشدّة ظلماته وناحية الشرق تمنع من سلوكها الجبال الشامخة، وصار الناس أجمعهم قد انحصروا في الربع المسكون من
উত্তর অংশে এগারোটি এবং দক্ষিণ অংশে দুটি। প্রধান পরিচিত দ্বীপের সংখ্যা একাত্তরটি; যার মধ্যে পূর্বে আটটি, পশ্চিমে ষোলোটি, উত্তর দিকে একত্রিশটি এবং দক্ষিণ দিকে ষোলোটি। সমগ্র পৃথিবীতে পরিচিত বড় পাহাড়ের সংখ্যা ছত্রিশটি, এগুলো হলো মূল পাহাড়; তারা সেগুলোর যে বর্ণনা দিয়েছে তাতে এগুলোর নামকরণও করেছে: পূর্ব দিকে সাতটি, পশ্চিম দিকে পনেরোটি, উত্তরে বারোটি এবং দক্ষিণে দুটি। বড় বড় শহরের সংখ্যা তেষট্টিটি; যার মধ্যে পূর্বে সাতটি, পশ্চিমে পঁচিশটি, উত্তরে উনিশটি এবং দক্ষিণে বারোটি। তারা সেগুলোর নামকরণও করেছে। আর পরিচিত বড় প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ দুইশত নয়টি; যার মধ্যে পূর্বে পাত্তরটি, পশ্চিমে ছেষট্টিটি, উত্তরে ছয়টি এবং দক্ষিণে বাষট্টিটি। সমগ্র পৃথিবীতে পরিচিত বড় নদীর সংখ্যা ছাপ্পান্নটি; যার মধ্যে পূর্ব অংশে সতেরোটি, পশ্চিম অংশে তেরোটি, উত্তর অংশে উনিশটি এবং দক্ষিণ অংশে সাতটি।

আর সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের (ইকলিম) প্রতিটি যেন একটি বিছানো গালিচা, যা লম্বায় পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রসারিত এবং প্রস্থে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। এই অঞ্চলগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে প্রথম অঞ্চলের মধ্যভাগ এমন সব স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য তেরো ঘণ্টা। আর সপ্তম অঞ্চলের মধ্যভাগ এমন সব স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য ষোলো ঘণ্টা। কারণ প্রথম অঞ্চলের সীমানা থেকে দক্ষিণ অভিমুখী অংশ সমুদ্রবেষ্টিত এবং সেখানে কোনো জনবসতি নেই। আর সপ্তম অঞ্চলের সীমানা থেকে উত্তর অভিমুখী অংশেও কোনো জনবসতি আছে বলে জানা যায় না। ফলে সাতটি অঞ্চলের দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে মহাকাশ আবর্তনের বারো ঘণ্টার দূরত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এগুলোর প্রস্থ দীর্ঘতম দিনের সময়ের আধা ঘণ্টার ব্যবধানে হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। এগুলোর মধ্যে দীর্ঘতম ও প্রশস্ততম হলো প্রথম অঞ্চল, যার দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় তিন হাজার ফারসাখ এবং প্রস্থ উত্তর থেকে দক্ষিণে একশত পঞ্চাশ ফারসাখ।

আর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ক্ষুদ্রতম হলো সপ্তম অঞ্চল, যার দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে এক হাজার পাঁচশত ফারসাখ এবং প্রস্থ উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় সত্তর ফারসাখ। বাকি পাঁচটি অঞ্চল এর মাঝামাঝি। এই অঞ্চলগুলো কাল্পনিক রেখা মাত্র, বাস্তবে বহিস্থ জগতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রাচীন পণ্ডিতরা এটি প্রণয়ন করেছেন যারা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করেছিলেন যাতে এর সীমানার বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন, শহরগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেন এবং যাতায়াতের পথগুলো চিনতে পারেন। এটি হলো পৃথিবীর বসতিযোগ্য এক-চতুর্থাংশের অবস্থা। আর অবশিষ্ট তিন-চতুর্থাংশ জনমানবহীন বিরাণ ভূমি। উত্তর দিকটি মকরক্রান্তির নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে শীতের তীব্রতা চরম। সেখানে একটানা ছয় মাস রাত থাকে, যা তাদের শীতকাল; তখন দিনের কোনো দেখা মেলে না। বাতাস অত্যন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানি জমে যায়, ফলে সেখানে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী থাকে না। এই উত্তর দিকের বিপরীতে হলো দক্ষিণ দিক যেখানে সুহাইল তারকার কক্ষপথ অবস্থিত। সেখানে রাত ছাড়াই ছয় মাস দিন থাকে, যা তাদের গ্রীষ্মকাল। ফলে বাতাস উত্তপ্ত হয়ে দাহ্য বিষাক্ত বায়ুতে পরিণত হয়, যা তীব্র গরমে প্রাণী ও উদ্ভিদকে ধ্বংস করে ফেলে। তাই সেখানে যাতায়াত বা বসবাস করা সম্ভব নয়। আর পশ্চিম দিক সম্পর্কে বলা যায় যে, মহাসাগর সেখানে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে এর উত্তাল তরঙ্গমালা এবং প্রচণ্ড অন্ধকারের কারণে। আর পূর্ব দিকে যাতায়াতে বাধা দেয় সুউচ্চ পর্বতমালা। ফলে সমস্ত মানুষ এই বসতিযোগ্য এক-চতুর্থাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأرض ولا علم لأحد منهم بالأرض أي بالثلاثة الأرباع الباقية، والأرض كلها بجميع ما عليها من الجبال، والبحار نسبتها إلى الفلك كنقطة في دائرة، وقد اعتبرت حدود الأقاليم السبعة بساعات النهار، وذلك أن الشمس إذا حلت برأس الحمل، تساوى طول النهار والليل في سائر الأقاليم كلها، فإذا انتقلت في درجات برج الحمل والثور والجوزاء اختلفت ساعات نهار كل إقليم، فإذا بلغت آخر الجوزاء وأوّل برج السرطان، بلغ طول النهار في وسط الإقليم الأوّل ثلاث عشرة ساعة سواء، وصارت في وسط الإقليم الثاني ثلاث عشرة ساعة ونصف ساعة، وفي وسط الإقليم الثالث أربع عشرة ساعة، وصارت في وسط الإقليم الثاني ثلاث عشرة ساعة ونصف ساعة، وفي وسط الإقليم الثالث أربع عشرة ساعة، وفي وسط الإقليم الرابع أربع عشرة ساعة ونصف ساعة، وفي وسط الإقليم الخامس خمس عشرة ساعة، وفي وسط الإقليم السادس خمس عشرة ساعة ونصف ساعة، وفي وسط الإقليم السابع ست عشرة ساعة سواء، وما زاد على ذلك إلى عرض تسعين درجة يصير نهارا كلّه.

ومعنى طول البلد: هو بعدها من أقصى العمارة في الغرب، وعرضها هو بعدها عن خط الاستواء، وخط الاستواء كما تقدّم هو الموضع الذي يكون فيه الليل والنهار طول الزمان سواء، فكل بلد على هذا الخط لا عرض له، وكل بلد في أقصى الغرب لا طول له، ومن أقصى الغرب إلى أقصى الشرق، مائة وثمانون درجة، وكل بلد يكون طوله تسعين درجة، فإنه في وسط ما بين الشرق والغرب، وكل بلد كان طوله أقل من تسعين درجة فإنه أقرب إلى الغرب وأبعد من الشرق، وما كان طوله من البلاد أكثر من تسعين درجة، فإنه أبعد عن الغرب، وأقرب إلى الشرق.

وقد ذكر القدماء أن العالم السفليّ مقسوم سبعة أقسام، كل قسم يقال له: إقليم، فإقليم الهند لزحل، وإقليم بابل للمشتري، وإقليم الترك للمرّيخ، وإقليم الروم للشمس، وإقليم مصر لعطارد، وإقليم الصين للقمر.

وقال قوم: الحمل والمشتري لبابل، والجدي وعطارد للهند، والأسد والمريخ للترك، والميزان والشمس للروم، ثم صارت القسمة على اثني عشر برجا، فالحمل ومثلاه للمشرق، والثور ومثلاه للجنوب، والجوزاء ومثلاها للمغرب، والسرطان ومثلاه للشمال، قالوا وفي كل إقليم مدينتان عظيمتان بحسب بيتي كل كوكب إلا إقليم الشمس، وإقليم القمر فإنه ليس في كل إقليم منهما سوى مدينة واحدة عظيمة. وجميع مدائن الأقاليم السبعة، وحصونها أحد وعشرون ألف مدينة، وستمائة مدينة وحصن بقدر دقائق درج الفلك.

وقال هرمس: إذا جعلت هذه الدقائق روابع كانت أناس هذه الأقاليم، وإذا مات أحد ولد نظيره ويقال: إن عدد مدن الإقليم الأول من مطلع الشمس وقراها ثلاثة آلاف ومائة
পৃথিবী সম্পর্কে এবং অবশিষ্ট তিন-চতুর্থাংশ সম্পর্কে তাদের কারো কোনো জ্ঞান নেই। সমগ্র পৃথিবী এবং এর ওপর বিদ্যমান পাহাড় ও সমুদ্রসমূহের অনুপাত মহাকাশের তুলনায় একটি বৃত্তের মাঝে একটি বিন্দুর মতো। সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের (ইকলিম) সীমানা দিনের ঘণ্টার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা এভাবে যে, সূর্য যখন মেষ রাশির শুরুতে উপনীত হয়, তখন সমস্ত অঞ্চলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়। অতঃপর যখন তা মেষ, বৃষ ও মিথুন রাশির ডিগ্রিসম্মূহে স্থানান্তরিত হয়, তখন প্রতিটি অঞ্চলের দিনের ঘণ্টা ভিন্ন ভিন্ন হয়। যখন তা মিথুন রাশির শেষ এবং কর্কট রাশির শুরুতে পৌঁছায়, তখন প্রথম অঞ্চলের মধ্যভাগে দিনের দৈর্ঘ্য ঠিক তেরো ঘণ্টা হয়। দ্বিতীয় অঞ্চলের মধ্যভাগে তা হয় সাড়ে তেরো ঘণ্টা, এবং তৃতীয় অঞ্চলের মধ্যভাগে চৌদ্দ ঘণ্টা হয়। আবার দ্বিতীয় অঞ্চলের মধ্যভাগে সাড়ে তেরো ঘণ্টা এবং তৃতীয় অঞ্চলের মধ্যভাগে চৌদ্দ ঘণ্টা হয়। চতুর্থ অঞ্চলের মধ্যভাগে তা সাড়ে চৌদ্দ ঘণ্টা হয়। পঞ্চম অঞ্চলের মধ্যভাগে পনেরো ঘণ্টা, ষষ্ঠ অঞ্চলের মধ্যভাগে সাড়ে পনেরো ঘণ্টা এবং সপ্তম অঞ্চলের মধ্যভাগে ঠিক ষোলো ঘণ্টা হয়। এর চেয়ে বেশি নব্বই ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত পুরোটাই দিন হয়ে যায়।

কোনো জনপদের দ্রাঘিমাংশের অর্থ হলো পশ্চিমের শেষ জনবসতি থেকে তার দূরত্ব, আর তার অক্ষাংশ হলো বিষুবরেখা থেকে তার দূরত্ব। বিষুবরেখা হলো—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—এমন এক স্থান যেখানে সারা বছর দিন ও রাত সমান থাকে। সুতরাং এই রেখার ওপর অবস্থিত কোনো জনপদের কোনো অক্ষাংশ নেই। আর পশ্চিমের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কোনো জনপদের কোনো দ্রাঘিমাংশ নেই। পশ্চিমের শেষ প্রান্ত থেকে পূর্বের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত একশ আশি ডিগ্রি। যে জনপদের দ্রাঘিমাংশ নব্বই ডিগ্রি, সেটি পূর্ব ও পশ্চিমের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। যে জনপদের দ্রাঘিমাংশ নব্বই ডিগ্রির কম, সেটি পশ্চিমের অধিক নিকটবর্তী এবং পূর্ব থেকে অধিক দূরবর্তী। আর যেসব জনপদের দ্রাঘিমাংশ নব্বই ডিগ্রির বেশি, সেগুলো পশ্চিম থেকে অধিক দূরবর্তী এবং পূর্বের অধিক নিকটবর্তী।

প্রাচীন পণ্ডিতগণ উল্লেখ করেছেন যে, নিম্নজগত সাতটি ভাগে বিভক্ত, প্রতিটি ভাগকে 'ইকলিম' (অঞ্চল) বলা হয়। হিন্দের অঞ্চলটি শনি গ্রহের জন্য, বাবেলের অঞ্চলটি বৃহস্পতির জন্য, তুর্কিদের অঞ্চলটি মঙ্গলের জন্য, রোমের অঞ্চলটি সূর্যের জন্য, মিশরের অঞ্চলটি বুধের জন্য এবং চীনের অঞ্চলটি চন্দ্রের জন্য নির্ধারিত।

একদল লোক বলেছেন: মেষ রাশি ও বৃহস্পতি বাবেলের জন্য, মকর ও বুধ হিন্দের জন্য, সিংহ ও মঙ্গল তুর্কিদের জন্য এবং তুলা ও সূর্য রোমের জন্য। অতঃপর এই বিভাজন বারোটি রাশিতে বিন্যস্ত হয়েছে। মেষ ও তার সদৃশ রাশিগুলো পূর্ব দিকের জন্য, বৃষ ও তার সদৃশগুলো দক্ষিণ দিকের জন্য, মিথুন ও তার সদৃশগুলো পশ্চিম দিকের জন্য এবং কর্কট ও তার সদৃশগুলো উত্তর দিকের জন্য। তারা বলেন, প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিটি গ্রহের দুটি ঘর অনুযায়ী দুটি করে বড় শহর রয়েছে, কেবল সূর্য ও চন্দ্রের অঞ্চল ছাড়া; কারণ এই দুই অঞ্চলের প্রতিটিতে একটির বেশি বড় শহর নেই। সাতটি অঞ্চলের সমস্ত শহর ও দুর্গের সংখ্যা হলো একুশ হাজার ছয়শটি, যা মহাকাশের ডিগ্রির মিনিটের সংখ্যার সমান।

হারমিস বলেছেন: যদি এই মিনিটগুলোকে চার ভাগে ভাগ করা হয় তবে তা হবে এই অঞ্চলগুলোর মানুষ। যখন কেউ মারা যায়, তখন তার অনুরূপ কেউ জন্ম নেয়। বলা হয় যে, সূর্যোদয়ের দিক থেকে প্রথম অঞ্চলের শহর ও গ্রামের সংখ্যা তিন হাজার একশটি।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مدينة وقرية كبيرة، وأنّ في الثاني ألفان وسبعمائة وثلاث عشرة مدينة وقرية كبيرة، وفي الثالث ثلاثة آلاف وتسع وسبعون، وفي الرابع وهو بابل ألفان وتسعمائة وأربع وسبعون، وفي الخامس ثلاثة آلاف وست مدن، وفي السادس ثلاثة آلاف وأربعمائة وثمان مدن، وفي السابع ثلاثة آلاف وثلاثمائة مدينة وقرية كبيرة في الجزائر.

فالإقليم الأوّل يمرّ وسطه بالمواضع التي طول نهارها الأطول ثلاث عشرة ساعة، ويرتفع القطب الشماليّ فيها عن الأفق ست عشرة درجة وثلثا درجة، وهو العرض وانتهاء عرض هذا الإقليم من حيث يكون طول النهار الأطول فيه ثلاث عشرة ساعة وربع ساعة، وارتفاع القطب الشماليّ، وهو العرض عشرون درجة ونصف درجة، وهو مسافة أربعمائة وأربعين ميلا، وابتداؤه من أقصى بلاد الصين، فيمرّ فيها إلى ما يلي الجنوب، ويمرّ بسواحل الهند، ثم ببلاد السند، ويمرّ في البحر على جزيرة العرب وأرض اليمن، ويقع بحر القلزم فيمرّ ببلاد الحبشة، ويقطع نيل مصر إلى بلاد الحبشة، ومدينة دنقلة من أرض النوبة، ويمرّ في أرض المغرب على جنوب بلاد البربر إلى نحو البحر المحيط، وفي هذا الإقليم عشرون جبلا فيها ما طوله من عشرين فرسخا إلى ألف فرسخ، وفيه ثلاثون نهرا طويلا منها ما طوله ألف فرسخ إلى عشرين فرسخا، وفيه خمسون مدينة كبيرة، وعامّة أهل هذا الإقليم سود الألوان، ولهذا الإقليم من البروج الحمل والقوس، وله من الكواكب السيارة المشتري، وهو مع فرط حرارته كثير المياه كثير المروج وزرع أهله الذرة والأرز إلاّ أنّ الاعتدال عندهم معدوم، فلا يثمر عندهم كرم ولا حنطة، والبقر عندهم كثير لكثرة المروج، وفي مشرقه البحر الخارج وراء خط الاستواء، بثلاث عشرة درجة، وفي مغربه النيل، وبحر الغرب ومن هذا الإقليم يأتي نيل مصر، وشرقهم معمور بالبحر الشرقيّ الذي هو بحر الهند واليمن.

والإقليم الثاني: حيث يكون طول النهار الأطول ثلاث عشرة ساعة ونصف، ويرتفع القطب الشماليّ فيه قدر أربعة وعشرين جزءا وعشر جزء، وعرضه من حدّ الإقليم الأوّل إلى حيث يكون النهار الأطول ثلاث عشرة ساعة ونصف وربع ساعة، وارتفاع القطب الشماليّ، وهو العرض سبعة وعشرون درجة ونصف درجة، ومساحة هذا الإقليم أربعمائة ميل ويبتدئ من بلاد الشرق مارّا ببلاد الصين إلى بلاد الهند والسند، ثم بملتقى البحر الأخضر وبحر البصرة، ويقطع جزيرة العرب في أرض نجد وتهامة، فيدخل في هذا الإقليم اليمامة، والبحران، وهجر، ومكة، والمدينة، والطائف، وأرض الحجاز، ويقطع بحر القلزم، فيمرّ بصعيد مصر الأعلى ويقطع النيل، فيصير فيه مدينة قوص، واخميم وأسنى وأنصنا وأسوان، ويمرّ في أرض المغرب على وسط بلاد إفريقية، فيمرّ على بلاد البربر إلى البحر في المغرب، وفي هذا الإقليم سبعة عشر جبلا، وسبعة عشر نهرا طوالا وأربعمائة وخمسون مدينة كبيرة، وألوان أهل هذا الإقليم ما بين السمرة والسواد، وله من البروج الجدي، ومن السيارة زحل، ويسكن هذا الإقليم الرحالة، ففي المغرب منهم حدا له وصنهاجة ولمتونة
...শহর এবং বড় গ্রাম রয়েছে; দ্বিতীয়টিতে রয়েছে দুই হাজার সাতশত তেরোটি শহর ও বড় গ্রাম; তৃতীয়টিতে তিন হাজার উনআশিটি; চতুর্থটিতে—যা হলো ব্যবিলন—দুই হাজার নয়শত চুয়াত্তরটি; পঞ্চমটিতে তিন হাজার ছয়টি শহর; ষষ্ঠটিতে তিন হাজার চারশত আটটি শহর; এবং সপ্তমটিতে তিন হাজার তিনশত শহর ও বড় গ্রাম রয়েছে দ্বীপপুঞ্জসমূহে।

প্রথম জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যভাগ এমন সব স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য তেরো ঘণ্টা। সেখানে উত্তর মেরু দিগন্ত থেকে ষোলো ডিগ্রি এবং এক ডিগ্রির দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় অবস্থিত, যা এর অক্ষাংশ নির্দেশ করে। এই অঞ্চলের অক্ষাংশের পরিসমাপ্তি সেখানে, যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য তেরো ঘণ্টা পনেরো মিনিট এবং উত্তর মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ সাড়ে বিশ ডিগ্রি। এর দূরত্ব চারশত চল্লিশ মাইল। এর শুরু চীনের দূরবর্তী অঞ্চল থেকে; তা চীনের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করে এবং ভারতের উপকূলরেখা দিয়ে পার হয়ে সিন্ধু দেশে পৌঁছায়। এরপর সমুদ্রপথে আরব উপদ্বীপ ও ইয়েমেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। এটি লোহিত সাগরে পতিত হয় এবং আবিসিনিয়া অঞ্চল দিয়ে পার হয়ে মিশরের নীল নদ অতিক্রম করে আবিসিনিয়া ও নুবা অঞ্চলের দুঙ্কুলা শহর পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর মাগরিব ভূখণ্ডে বারবার জাতির দক্ষিণ দিক দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই অঞ্চলে বিশটি পাহাড় রয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য বিশ ফারসাখ থেকে এক হাজার ফারসাখ পর্যন্ত। এতে ত্রিশটি দীর্ঘ নদী রয়েছে, যেগুলোর কোনো কোনোটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ফারসাখ থেকে বিশ ফারসাখ পর্যন্ত। এতে পঞ্চাশটি বড় শহর রয়েছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী কৃষ্ণবর্ণের। এই অঞ্চলের রাশি হলো মেষ ও ধনু এবং গ্রহ হলো বৃহস্পতি। এটি অত্যধিক উষ্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রচুর পানি ও চারণভূমি রয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা ভুট্টা ও ধান চাষ করে, তবে তাদের আবহাওয়ায় সমভাবাপন্নতা নেই। তাদের সেখানে আঙুর বা গম ফলে না। চারণভূমি বেশি হওয়ার কারণে তাদের গবাদি পশু অনেক বেশি। এর পূর্ব দিকে বিষুবরেখার তেরো ডিগ্রি পেছনে বহিস্থ সমুদ্র অবস্থিত এবং পশ্চিমে নীল নদ ও পশ্চিমের সাগর অবস্থিত। মিশরের নীল নদ এই অঞ্চল থেকেই প্রবাহিত হয়। তাদের পূর্ব দিকটি পূর্ব সাগর তথা ভারত ও ইয়েমেনের সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।

দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চল: যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য সাড়ে তেরো ঘণ্টা। এখানে উত্তর মেরু দিগন্ত থেকে চব্বিশ ডিগ্রি এবং এক ডিগ্রির দশমাংশ পরিমাণ উপরে থাকে। এর অক্ষাংশ প্রথম অঞ্চলের সীমানা থেকে শুরু করে সেখানে শেষ হয়েছে যেখানে দীর্ঘতম দিন তেরো ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট এবং উত্তর মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ সাড়ে সাতাশ ডিগ্রি। এই অঞ্চলের আয়তন চারশত মাইল। এটি প্রাচ্যের দেশসমূহ থেকে শুরু হয়ে চীন হয়ে ভারত ও সিন্ধু দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর এটি সবুজ সাগর ও বসরা সাগরের সংযোগস্থলে পৌঁছায় এবং নজদ ও তিহামা অঞ্চল দিয়ে আরব উপদ্বীপকে অতিক্রম করে। ফলে ইয়ামামা, বাহরাইন, হাজার, মক্কা, মদিনা, তায়েফ এবং হিজাজ অঞ্চল এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি লোহিত সাগর অতিক্রম করে উচ্চ মিশরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং নীল নদকে অতিক্রম করে, যার ফলে কুস, আখমিম, আসনা, আনসিনা এবং আসওয়ান শহরগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হয়। মাগরিব ভূখণ্ডে এটি আফ্রিকার মধ্যাঞ্চল দিয়ে বারবারদের দেশ হয়ে পশ্চিমের সাগর পর্যন্ত চলে গেছে। এই অঞ্চলে সতেরোটি পাহাড় এবং সতেরোটি দীর্ঘ নদী রয়েছে। এখানে বড় শহরের সংখ্যা চারশত পঞ্চাশটি। এখানকার মানুষের গায়ের রং শ্যামলা ও কালোর মাঝামাঝি। এই অঞ্চলের রাশি হলো মকর এবং গ্রহ হলো শনি। এই অঞ্চলে যাযাবর জাতিগুলো বসবাস করে; মাগরিব অঞ্চলে তাদের মধ্যে রয়েছে হাদ্দালা, সানহাজা ও লামতুনা গোত্র।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومسوفة، ويتصل بهم رحالة مصر من ألواح وفي هذا الإقليم يكون يحل، وفيه مكة والمدينة ومنه السماوة من أهل العراق إلى رحالة الترك.

والإقليم الثالث: وسطه حيث يكون طول النهار الأطول أربع عشرة ساعة وارتفاع القطب، وهو العرض ثلاثون درجة ونصف وخمس درجة، وعرض هذا الإقليم من حدّ الإقليم الثاني إلى حيث يكون النهار الأطول أربع عشرة ساعة وربع ساعة، وارتفاع القطب وهو العرض ثلاث وثلاثون درجة ومسافته ثلاثمائة وخمسون ميلا ويبتدئ من الشرق، فيمر بشمال الصين، وبلاد الهند، وفيه مدينة الهندهار ثم بشمال السند، وبلاد كابل، وكرمان، وسجستان إلى سواحل بحر البصرة، وفيه اصطخر وسابور، وشيراز وسيراف ويمرّ بالأهواز والعراق، والبصرة، وواسط، وبغداد، والكوفة، والأنبار وهيت، ويمرّ ببلا الشام إلى سلمية وصور وعكا، ودمشق وطبرية وقيسارية وبيت المقدس وعسقلان وغزة ومدين والقلزم ويقطع أسفل أرض مصر من شمال انصنا إلى فسطاط مصر، وسواحل البحر، وفيه الفيوم والإسكندرية والعرما وتنيس ودمياط ويمرّ ببلاد برقة إلى إفريقية فيدخل فيه القيروان وينتهي في البحر إلى الغرب وبهذا الإقليم ثلاث وثلاثون جبلا كبارا واثنان وعشرون نهرا طوالا ومائة وثمانية وعشرون مدينة وأهله سمر الألوان ومن له من البروج العقرب، ومن السيارة الزهرة، وفي هذا الإقليم العمائر المتواصلة من أوّله إلى آخره اه.

والإقليم الرابع: وسطه حيث يكون النهار الأطول أربع عشرة ساعة ونصف ساعة، وارتفاع القطب الشماليّ، وهو العرض ست وثلاثون درجة وخمس درجة، وحدّ هذا الإقليم من حدّ الإقليم الثالث إلى حيث يكون النهار الأطول أربع عشرة ساعة ونصف وربع ساعة، والعرض تسعا وعشرين درجة وثلث درجة، ومسافة هذا الإقليم: ثلاثمائة ميل ويبتدئ من الشرق فيمر ببلاد التبت، وخراسان وخجندة وفرغانة وسمرقند وبخارى وهراة ومرو الروذ وسرخس وطوس ونيسابور وجرجان وقومس وطبرستان وقزوين والديلم والريّ وأصفهان وهمذان ونهاوند ودينور والموصل ونصيبين وآمد ورأس العين وشميساط والرقة ويمرّ ببلاد الشام فيدخل فيه بالس، ومسح وملطية وحلب وأنطاكية وطرابلس والمصيصة وحماه وصيدا وطرسوس وعمورية واللاذقية، ويقطع بحر الشام على جزيرة قبرس ورودس، ويمرّ ببلاد طنجة، فينتهي إلى بحر المغرب، وفي هذا الإقليم: خمسة وعشرون جبلا كبارا وخمسة وعشرون نهرا طوالا ومائتا مدينة واثنتا عشرة مدينة، وألوان أهله ما بين السمرة والبياض، وله من البروج الجوزاء، ومن السيارة عطارد، وفيه البحر الرومي من مغربه إلى القسطنطينية، ومن هذا الإقليم ظهرت الأنبياء والرسل صلوات اللّه عليهم أجمعين، ومنه انتشر الحكماء والعلماء فإنه وسط الأقاليم، ثلاثة جنوبية، وثلاثة شمالية، وهو في قسم الشمس، وبعده في الفضيلة الإقليم الثالث والخامس فإنهما على جنبيه، وبقية الأقاليم منحطة أهلوها ناقصون ومنحطون عن الفضيلة لسماجة صورهم وتوحش أخلاقهم كالزنج،
এবং মাসুফাহ, এবং তাদের সাথে মিশরের মুসাফিররা আলওয়াহ হতে সংযুক্ত হয়েছে। আর এই জলবায়ু অঞ্চলে তারা অবস্থান করে, এতেই মক্কা ও মদিনা অবস্থিত। এর একটি অংশ হলো ইরাকবাসীদের থেকে সামাওয়া হতে তুর্কি মুসাফিরদের এলাকা পর্যন্ত।

তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চল: এর মধ্যভাগ সেখানে যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য চৌদ্দ ঘণ্টা এবং মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ হলো সাড়ে ত্রিশ ও এক-পঞ্চমাংশ ডিগ্রি। এই অঞ্চলের প্রশস্ততা দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চলের সীমা হতে শুরু করে সেখানে পর্যন্ত যেখানে দীর্ঘতম দিন চৌদ্দ ঘণ্টা পনের মিনিট এবং মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ হলো তেত্রিশ ডিগ্রি। এর দূরত্ব হলো সাড়ে তিনশ মাইল। এটি পূর্ব দিক থেকে শুরু হয় এবং উত্তর চীন ও হিন্দুস্তান ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে; এতে হিন্দহার শহর অবস্থিত। এরপর উত্তর সিন্ধু, কাবুল ভূখণ্ড, কিরমান ও সিজিস্তান হয়ে বসরা সমুদ্রের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে ইস্তাখর, সাবুর, শিরাজ ও সিরাফ অবস্থিত। এটি আহওয়াজ, ইরাক, বসরা, ওয়াসিত, বাগদাদ, কুফা, আনবার ও হিত-এর ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়। এরপর শাম ভূখণ্ড অতিক্রম করে সালামিয়া, সুর, আক্কা, দামেস্ক, তাবরিয়া, কায়সারিয়া, বায়তুল মুকাদ্দাস, আসকালান, গাজা, মাদইয়ান ও কুলজুম পর্যন্ত পৌঁছে। এটি মিশরের নিম্নভূমিকে উত্তর আনসিনা থেকে মিশরের ফুস্তাত পর্যন্ত ছেদ করে সমুদ্র উপকূলের দিকে চলে যায়; এতে ফায়উম, আলেকজান্দ্রিয়া, আরমা, তিন্নীস ও দমইয়াত অবস্থিত। এটি বারকাহ ভূখণ্ড হয়ে আফ্রিকা পর্যন্ত অতিক্রম করে কায়রাওয়ান পর্যন্ত প্রবেশ করে এবং পশ্চিমে সমুদ্রে গিয়ে শেষ হয়। এই জলবায়ু অঞ্চলে তেত্রিশটি বড় পাহাড়, বাইশটি দীর্ঘ নদী এবং একশ আটাশটি শহর রয়েছে। এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং তামাটে। রাশিচক্রের মধ্যে এর রাশি হলো বৃশ্চিক এবং গ্রহের মধ্যে এর গ্রহ হলো শুক্র। এই জলবায়ু অঞ্চলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন জনপদ ও স্থাপনা বিদ্যমান। সমাপ্ত।

চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চল: এর মধ্যভাগ সেখানে যেখানে দীর্ঘতম দিন সাড়ে চৌদ্দ ঘণ্টা এবং উত্তর মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ ছত্রিশ ও এক-পঞ্চমাংশ ডিগ্রি। এই অঞ্চলের সীমা তৃতীয় অঞ্চলের সীমা হতে শুরু করে সেখানে পর্যন্ত যেখানে দীর্ঘতম দিন চৌদ্দ ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট এবং অক্ষাংশ উনত্রিশ ও এক-তৃতীয়াংশ ডিগ্রি। এই অঞ্চলের দূরত্ব তিনশ মাইল। এটি পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে তিব্বত, খুরাসান, খুজান্দা, ফারগানা, সমরকন্দ, বুখারা, হেরাত, মার্ভুর রুজ, সারাখস, তুস, নিশাপুর, জুরজান, কুমিস, তাবারিস্থান, কাজভিন, দাইলাম, রাই, ইসফাহান, হামদান, নেহাওয়ান্দ, দিনাওয়ার, মসুল, নুসাইবিন, আমিদ, রাসুল আইন, শামিসাত ও রাক্কার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। এটি শাম ভূখণ্ড অতিক্রম করে এর মধ্যে বালিস, মাসাহ, মালাতিয়া, আলেপ্পো, আন্তাকিয়া, ত্রিপোলি, মাসিসাহ, হামাহ, সিদা, তারসুস, আমুরিয়া ও লাতাকিয়া অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি সাইপ্রাস ও রোডস দ্বীপপুঞ্জ হয়ে শাম সাগরকে ছেদ করে এবং তাঞ্জিয়ার ভূখণ্ড হয়ে পশ্চিম সমুদ্রে গিয়ে শেষ হয়। এই জলবায়ু অঞ্চলে পঁচিশটি বড় পাহাড়, পঁচিশটি দীর্ঘ নদী এবং দুইশ বারোটি শহর রয়েছে। এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং তামাটে ও ফর্সার মাঝামাঝি। রাশিচক্রের মধ্যে এর রাশি হলো মিথুন এবং গ্রহের মধ্যে এর গ্রহ হলো বুধ। এতে এর পশ্চিম হতে কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত রোমীয় সাগর অবস্থিত। এই জলবায়ু অঞ্চল থেকেই সমস্ত নবী ও রাসূলগণের (তাদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) আবির্ভাব হয়েছে। এখান থেকেই প্রজ্ঞাবান ও উলামাগণ ছড়িয়ে পড়েছেন, কারণ এটি জলবায়ু অঞ্চলগুলোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত—এর দক্ষিণে তিনটি এবং উত্তরে তিনটি অঞ্চল রয়েছে এবং এটি সূর্যের অংশে পড়েছে। শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে এর পরেই হলো তৃতীয় ও পঞ্চম জলবায়ু অঞ্চল, কেননা এ দুটি এর উভয় পাশে অবস্থিত। অবশিষ্ট অঞ্চলগুলো এবং তাদের অধিবাসীরা শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে নিম্নমানের ও অপূর্ণাঙ্গ; তাদের আকৃতির কদর্যতা এবং স্বভাবের বন্যতার কারণে, যেমন জাঞ্জরা।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
والحبشة وأكثر أمم الإقليم الأوّل والثاني والسادس والسابع يأجوج ومأجوج، والتغرغر والصقالبة ونحوهم.

والإقليم الخامس: وسطه حيث يكون النهار الأطول خمس عشرة ساعة، وارتفاع القطب الشمالي، وهو العرض إحدى وأربعون درجة وثلث درجة، وابتداؤه من نهاية عرض الإقليم الرابع إلى حيث يكون النهار الأطول خمس عشرة ساعة ونصف ساعة، والعرض ثلاثا وأربعين درجة، ومسافته خمسون ومائتا ميل ويبتدئ من المشرق إلى بلاد يأجوج ومأجوج، ويمرّ بشمال خراسان، وفيه خوارزم واسبيجاب وأذربيجان وبردعة وسجستان وأردن وخلاط ويمرّ على بلاد الروم إلى رومية الكبرى والأندلس، حتى ينتهي إلى البحر الذي في المغرب وفي هذا الإقليم من الجبال الطوال: ثلاثون جبلا، ومن الأنهار الكبار خمسة عشر نهرا، ومن المدائن الكبار مائتا مدينة، وأكثر أهله بيض الألوان وله من البروج الدلو، ومن السيارة القمر.

والإقليم السادس: وسطه حيث يكون النهار الأطول خمس عشرة ساعة ونصف ساعة، وارتفاع القطب الشماليّ، وهو العرض خمسا وأربعين درجة وخمسي درجة، وابتداؤه من حدّ نهاية عرض الإقليم الخامس إلى حيث يكون النهار الأطول خمس عشرة ساعة ونصف وربع ساعة، والعرض سبعا وأربعين درجة وربع درجة.

ومسافة هذا الإقليم مائتا ميل وعشرة أميال، ويبتدي من المشرق، فيمرّ بمساكن الترك من أبحر خير والتغرغر إلى بلاد الخزر من شمال نجومهم على اللان والشرير، وأرض برحان والقسطنطينية، وشمال الأندلس إلى البحر المحيط الغربي، وفي هذا الإقليم من الجبال الطوال: اثنان وعشرون جبلا، ومن الأنهار الطوال: اثنان وثلاثون نهرا، ومن المدن الكبار تسعون مدينة وأكثر أهل هذا الإقليم ألوانهم ما بين الشقرة والبياض، وله من البروج السرطان، ومن السيارة المرّيخ.

والإقليم السابع: وسطه حيث يكون النهار الأطول ست عشرة ساعة سواء، وارتفاع القطب الشمالي وهو العرض ثمانيا وأربعين درجة وثلثي درجة، وابتداء هذا الإقليم من حدّ نهاية الإقليم السادس إلى حيث يكون النهار الأطول ست عشرة ساعة وربع ساعة، والعرض خمسين درجة ونصف درجة، ومسافته مائتا وخمسة وثمانون ميلا، فتبين أن ما بين أوّل حدّ الإقليم الأوّل، وآخر حدّ الإقليم السابع ثلاث ساعات ونصف، وأن ارتفاع القطب الشماليّ ثمانية وثلاثون درجة تكون من الأميال، ألفين ومائة وأربعين ميلا، ويبتدي الإقليم السابع من المشرق على بلاد يأجوج ومأجوج، ويمرّ ببلاد الترك على سواحل بحر جرجان مما يلي الشمال، ويقطع بحر الروم على بلاد جرجان والصقالبة إلى أن ينتهي إلى البحر المحيط في المغرب، وبهذا الإقليم عشرة جبال طوال وأربعون نهرا طوالا، واثنتان وعشرون مدينة
হাবশা এবং প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অঞ্চলের অধিকাংশ জাতিসমূহ হলো ইয়াজুজ ও মাজুজ, তাগযগুয, সাকালিবা (স্লাভ) এবং তাদের অনুরূপ গোষ্ঠীগুলো।

পঞ্চম অঞ্চল: এর মধ্যভাগ হলো সেখানে যেখানে দীর্ঘতম দিন পনেরো ঘণ্টা হয় এবং উত্তর মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ হলো একচল্লিশ ডিগ্রি ও এক-তৃতীয়াংশ ডিগ্রি। এর শুরু চতুর্থ অঞ্চলের অক্ষাংশের শেষ সীমা থেকে সেই পর্যন্ত যেখানে দীর্ঘতম দিন পনেরো ঘণ্টা ৩০ মিনিট হয় এবং অক্ষাংশ হয় তেতাল্লিশ ডিগ্রি। এর দূরত্ব হলো দুইশ পঞ্চাশ মাইল। এটি পূর্ব দিক থেকে ইয়াজুজ ও মাজুজের দেশ পর্যন্ত শুরু হয়েছে এবং খোরাসানের উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করেছে। এতে রয়েছে খাওয়ারিজম, ইশবিজাব, আজারবাইজান, বারদা'আ, সিজিস্তান, উর্দুন ও খালাত। এটি রোমীয় দেশসমূহ হয়ে বৃহত্তর রোম ও আন্দালুস পর্যন্ত অতিক্রম করে পশ্চিমে অবস্থিত সমুদ্রে গিয়ে শেষ হয়েছে। এই অঞ্চলে দীর্ঘ পাহাড়সমূহের মধ্যে রয়েছে ত্রিশটি পাহাড়, বড় নদীসমূহের মধ্যে পনেরোটি নদী এবং বড় শহরগুলোর মধ্যে দুইশটি শহর। এখানকার অধিকাংশ মানুষের গায়ের রং ফর্সা। রাশিচক্রের মধ্যে এর জন্য রয়েছে কুম্ভ রাশি এবং গ্রহের মধ্যে রয়েছে চন্দ্র।

sixth অঞ্চল: এর মধ্যভাগ হলো সেখানে যেখানে দীর্ঘতম দিন পনেরো ঘণ্টা ৩০ মিনিট হয় এবং উত্তর মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ হলো পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি ও দুই-পঞ্চমাংশ ডিগ্রি। এর শুরু পঞ্চম অঞ্চলের অক্ষাংশের শেষ সীমা থেকে সেই পর্যন্ত যেখানে দীর্ঘতম দিন পনেরো ঘণ্টা ৪৫ মিনিট হয় এবং অক্ষাংশ হয় সাতচল্লিশ ডিগ্রি ও এক-চতুর্থাংশ ডিগ্রি।

এই অঞ্চলের দূরত্ব দুইশ দশ মাইল। এটি পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে তুর্কিদের আবাসস্থল, আবহার খায়ের ও তাগযগুয হয়ে খাজারদের দেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা তাদের নক্ষত্রের উত্তর দিক দিয়ে লান ও শারীরের ওপর দিয়ে গিয়েছে। আরও রয়েছে বারহান ভূমি, কনস্টান্টিনোপল এবং আন্দালুসের উত্তর দিক থেকে পশ্চিমের মহাসাগর পর্যন্ত। এই অঞ্চলে দীর্ঘ পাহাড়ের মধ্যে রয়েছে বাইশটি পাহাড়, দীর্ঘ নদীর মধ্যে বত্রিশটি নদী এবং বড় শহরের মধ্যে নব্বইটি শহর। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের গায়ের রং লালচে-সাদাটে। রাশিচক্রের মধ্যে এর জন্য রয়েছে কর্কট রাশি এবং গ্রহের মধ্যে রয়েছে মঙ্গল।

সপ্তম অঞ্চল: এর মধ্যভাগ হলো সেখানে যেখানে দীর্ঘতম দিন ঠিক ষোলো ঘণ্টা হয় এবং উত্তর মেরুর উচ্চতা তথা অক্ষাংশ হলো আটচল্লিশ ডিগ্রি ও দুই-তৃতীয়াংশ ডিগ্রি। এই অঞ্চলের শুরু ষষ্ঠ অঞ্চলের শেষ সীমা থেকে সেই পর্যন্ত যেখানে দীর্ঘতম দিন ষোলো ঘণ্টা ১৫ মিনিট হয় এবং অক্ষাংশ হয় পঞ্চাশ ডিগ্রি ও ৩০ মিনিট। এর দূরত্ব দুইশ পঁচাশি মাইল। ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, প্রথম অঞ্চলের শুরুর সীমা থেকে সপ্তম অঞ্চলের শেষ সীমার মধ্যবর্তী সময় সাড়ে তিন ঘণ্টা। আর উত্তর মেরুর উচ্চতা আটত্রিশ ডিগ্রি হলে মাইলের হিসাবে তা হয় দুই হাজার একশ চল্লিশ মাইল। সপ্তম অঞ্চলটি পূর্ব দিকে ইয়াজুজ ও মাজুজের দেশ থেকে শুরু হয়েছে এবং উত্তর দিকের জুরজান সাগরের উপকূলীয় তুর্কি দেশসমূহ অতিক্রম করেছে। এটি রোমীয় সাগর পাড়ি দিয়ে জুরজান ও সাকালিবা দেশসমূহের ওপর দিয়ে গিয়ে পশ্চিমে মহাসাগরে গিয়ে শেষ হয়েছে। এই অঞ্চলে দশটি দীর্ঘ পাহাড়, চল্লিশটি দীর্ঘ নদী এবং বাইশটি শহর রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
كبيرة، وأهله شقر الألوان، وله من البروج الميزان، ومن السيارة الشمس، وفي كل إقليم من هذه الأقاليم السبعة أمم مختلفة الألسن، والألوان، وغير ذلك من الطبائع والأخلاق والآراء والديانات والمذاهب، والعقائد والأعمال والصنائع، والعادات والعبادات لا يشبه بعضهم بعضا، وكذلك الحيوانات والمعادن والنبات مختلفة في الشكل والطعم واللون والريح بحسب اختلاف أهوية البلدان، وتربة البقاع، وعذوبة المياه وملوحتها على ما اقتضته طوالع كل بلد من البروج على أفقه وممرّ الكواكب على مسامته البقاع من الأرض، ومطارح شعاعاتها على المواضع كما هو مقرّر في مواضعه من كتب الحكمة ليتدبر أولو النهي، ويعتبر ذوو الحجى بتدبير اللّه في خلقه، وتقديره لما يشاء وفعله لما يريد لا إله إلاّ هو ومع ذلك فإن الربع المسكون من الأرض على تفاوت أقطاره مقسوم بين سبع أمم كبار: وهم الصين، والهند، والسودان، والبربر، والروم، والترك، والفرس، فجنوب مشرق الأرض في يد الصين وشماله في يد الترك ووسط جنوب الأرض في يد الهند وفي وسط شمال الأرض الروم وفي جنوب مغرب الأرض السودان وفي شمال مغرب الأرض البربر وكانت الفرس في وسط هذه الممالك قد أحاطت بهم الأمم الست.

 

‌‌ذكر محل مصر من الأرض وموضعها من الأقاليم السبعة

وإذ يسر اللّه سبحانه بذكر جمل أحوال الأرض، ومعرفة ما في كل إقليم من أقاليم الأرض، فلنذكر محل مصر من ذلك فنقول:

ديار مصر بعضها واقع في الإقليم الثاني، وبعضها واقع في الإقليم الثالث، فما كان منها في الصعيد الأعلى كقوص، واخميم وأسنى وأنصنا وأسوان، فإنّ ذلك واقع في أقسام الإقليم الثاني، وما كان من ديار مصر في جهة الشمال من أنصنا، وهو الصعيد الأدنى من أسيوط إلى فسطاط مصر، والفيوم والقاهرة والإسكندرية والفرما وتنيس ودمياط فإن ذلك من أقسام الإقليم الثالث، وطول مدينة مصر الفسطاط والقاهرة، وهو بعدهما من أوّل العمارة في جهة المغرب: خمس وخمسون درجة، والعرض وهو البعد من خط الاستواء ثلاثون درجة، وطول النهار الأطول أربع عشرة ساعة، وغاية ارتفاع الشمس في الفلك بها ثلاث وثمانون درجة وثلث وربع درجة، وفسطاط مصر مع القاهرة من مكة شرّفها اللّه تعالى واقعان في الربع الجنوبيّ الشرقيّ، والصعيد الأعلى أشدّ تشريقا لبعده عن مدينة الفسطاط بأيام عديدة في جهة الجنوب، فيكون على ذلك مقابلا لمكة من غربيها، ومصر لا يتوصل إليها إلا من مفازة، ففي شرقيها بحر القلزم من وراء الجبل الشرقي، وفي غربيها صحراء المغرب، وفي جنوبها مفازة النوبة والحبشة، وفي شمالها البحر الشامي، والرمال التي فيها بين بحر الروم، وبحر القلزم وبين مصر وبغداد على ما ذكره ابن خرداذبه(1) في كتاب

--------------------------------------------

(1) ابن خرداذبه: عبيد اللّه بن أحمد بن خرداذبة أبو القاسم مؤرخ جغرافي فارسي الأصل له كتاب
বৃহৎ, এবং এর অধিবাসীরা ফর্সা বর্ণের; এর রাশিচক্রের মধ্যে রয়েছে তুলা রাশি এবং গ্রহের মধ্যে রয়েছে সূর্য। এই সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের প্রত্যেকটিতে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, বর্ণ এবং অন্যান্য প্রকৃতি, চরিত্র, অভিমত, ধর্ম, মাযহাব, আকিদা, কর্ম, শিল্প ও রীতিনীতি সম্পন্ন জাতি রয়েছে, যাদের একজন অন্যজনের সদৃশ নয়। অনুরূপভাবে, বিভিন্ন অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলের ভিন্নতা, ভূমির মাটি এবং পানির মিষ্টতা ও লবণাক্ততার কারণে পশুপাখি, খনিজ এবং উদ্ভিদরাজি আকৃতি, স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; যা প্রতিটি জনপদের দিগন্তের উপর উদিত রাশিচক্রের প্রভাব, পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানসমূহের উপর নক্ষত্ররাজির অবস্থান এবং নির্দিষ্ট স্থানসমূহে তাদের রশ্মি বিকিরণের ফলস্বরূপ ঘটে থাকে, যেমনটি হিকমতের কিতাবসমূহে এর নিজ নিজ স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যাতে প্রজ্ঞাবানরা চিন্তা-গবেষণা করতে পারেন এবং বুদ্ধিমানরা সৃষ্টির ওপর আল্লাহর ব্যবস্থাপনা, তাঁর ইচ্ছানুযায়ী নির্ধারণ এবং যা ইচ্ছা তা করার সক্ষমতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তা সত্ত্বেও, পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ এক-চতুর্থাংশ ভূমি তার বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্নতা সত্ত্বেও সাতটি বৃহৎ জাতির মধ্যে বিভক্ত: তারা হলো চীন, ভারত, সুদান, বারবার, রোম, তুর্কি এবং পারস্য। পৃথিবীর দক্ষিণ-পূর্ব ভাগ চীনের অধীনে, উত্তর ভাগ তুর্কিদের অধীনে, পৃথিবীর দক্ষিণ মধ্যভাগ ভারতের অধীনে, উত্তর মধ্যভাগে রোম, দক্ষিণ-পশ্চিম ভাগে সুদান এবং উত্তর-পশ্চিম ভাগে বারবার জাতি রয়েছে। আর পারস্য ছিল এই রাজ্যগুলোর কেন্দ্রস্থলে, যাদেরকে উক্ত ছয়টি জাতি পরিবেষ্টন করে রেখেছিল।

 

‌‌পৃথিবীতে মিসরের অবস্থান এবং সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে এর স্থান পরিচ্ছেদ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন পৃথিবীর সাধারণ অবস্থা এবং পৃথিবীর প্রতিটি জলবায়ু অঞ্চলের পরিচয় প্রদান সহজ করে দিয়েছেন, তখন আমরা এই প্রেক্ষিতে মিসরের অবস্থান উল্লেখ করব এবং বলব:

মিসরের কিছু অংশ দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চলে এবং কিছু অংশ তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। উচ্চ মিসরের যে অংশগুলো যেমন: কুস, আখমিম, আসনা, আনসিনা এবং আসওয়ান—এগুলো দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আর মিসরের যে অংশগুলো আনসিনার উত্তর দিকে অবস্থিত, যা আসিউত থেকে মিসরের ফুসতাত পর্যন্ত নিম্ন মিসর হিসেবে পরিচিত, এবং ফাইয়ুম, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, আল-ফারামা, তিন্নীস ও দমিয়ত—এগুলো তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। মিসর শহর অর্থাৎ ফুসতাত ও কায়রোর দ্রাঘিমাংশ, যা পশ্চিম প্রান্তের জনবসতির শুরু থেকে দূরত্ব হিসেবে গণ্য: তা হলো পঞ্চান্ন ডিগ্রি। আর অক্ষাংশ বা নিরক্ষরেখা থেকে এর দূরত্ব হলো ত্রিশ ডিগ্রি। দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য চৌদ্দ ঘণ্টা। সেখানে আসমানে সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতা হলো তিরাশি এবং এক-তৃতীয়াংশ ও এক-চতুর্থাংশ ডিগ্রি। ফুসতাত ও কায়রো মক্কা (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন) থেকে দক্ষিণ-পূর্ব চতুর্থাংশে অবস্থিত। উচ্চ মিসর ফুসতাত শহর থেকে দক্ষিণ দিকে কয়েক দিনের দূরত্বে অবস্থিত হওয়ার কারণে আরও বেশি পূর্ব দিকে অবস্থিত; ফলে এটি মক্কার পশ্চিম দিক থেকে তার মুখোমুখি হয়। মিসরে পৌঁছাতে হলে মরুভূমি পাড়ি দিয়েই আসতে হয়। এর পূর্ব দিকে পূর্ব পাহাড়ের ওপাশে লোহিত সাগর, পশ্চিম দিকে মাগরিবের মরুভূমি, দক্ষিণে নুবিয়া ও হাবশার মরুভূমি এবং উত্তর দিকে শামি সাগর, আর রোম সাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে এবং মিসর ও বাগদাদের মধ্যবর্তী স্থানে যে বালুকাময় মরুভূমি রয়েছে সে সম্পর্কে ইবনে খুরদাদবিহ(১) তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে খুরদাদবিহ: ওবায়দুল্লাহ বিন আহমদ বিন খুরদাদবিহ আবু কাসিম, পারস্য বংশোদ্ভূত একজন ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদ, তাঁর একটি কিতাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الممالك والمسالك: ألف وسبعمائة وعشرة أميال، يكون خمسمائة وسبعين فرسخا، ومائة وبعضا وأربعين بريدا، وبين مصر والشام أعني دمشق: ثلاثمائة وخمسة وستون ميلا تكون من الفراسخ مائة وإحدى وعشرين فرسخا وثلثي فرسخ، عنها ثلاثون بريدا وكسر.

وقال ابن خرداذبه: أرض الحبشة والسودان مسيرة سبع سنين، وأرض مصر جزءا واحد من ستين جزءا من أرض السودان، وأرض السودان جزء واحد من الأرض كلها.

وفي كتاب هردوشيش: بلد مصر الأدنى شرقه فلسطين، وغربه أرض ليبية، وأرض مصر الأعلى تمتدّ إلى ناحية الشرق، وحدّه في الشمال خليج الغرب، وفي الجنوب البحر المحيط، وفي الغرب مصر الأدنى، وفي الشرق بحر القلزم، وفيه من الأجناس ثمانية وعشرون جنسا.

--------------------------------------------

= (المسالك والممالك) و (الندماء والجلساء) توفي سنة 280 هـ. الأعلام ج 190/ 4.
আল-মামালিক ওয়াল-মাসালিক: এক হাজার সাতশত দশ মাইল, যা পাঁচশত সত্তর ফারসাখ এবং একশত চল্লিশের কিছু বেশি বারিদ হয়। আর মিসর ও শামের—অর্থাৎ দামেস্কের—মধ্যবর্তী দূরত্ব তিনশত পঁয়ষট্টি মাইল, যা একশত একুশ ও দুই-তৃতীয়াংশ ফারসাখ এবং তা ত্রিশ বারিদ ও কিছু ভগ্নাংশ।

ইবনে খুরদাদবিহ বলেছেন: হাবশা ও সুদান ভূমি সাত বছরের পথ এবং মিসর ভূমি সুদান ভূমির ষাট ভাগের এক ভাগ, আর সুদান ভূমি সমগ্র পৃথিবীর এক ভাগ।

হিরোডোটাসের কিতাবে রয়েছে: নিম্ন মিসর ভূখণ্ডের পূর্বে ফিলিস্তিন এবং পশ্চিমে লিবীয় ভূমি। আর উচ্চ মিসর ভূখণ্ড পূর্ব দিকে বিস্তৃত; এর উত্তর সীমানা পশ্চিম উপসাগর, দক্ষিণে মহাসাগর, পশ্চিমে নিম্ন মিসর এবং পূর্বে কুলজুম সাগর। এতে আটাশ প্রকারের জাতিগোষ্ঠী রয়েছে।

--------------------------------------------

= (আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক) এবং (আন-নুদামা ওয়াল-জুলাসা), মৃত্যু ২৮০ হিজরি। আল-আলাম ৪/১৯০।
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ذكر حدود مصر وجهاتها

اعلم أن التحديد هو صفة المحدود على ما هو عليه، والحدّ هو نهاية الشيء، والحدود تكثر وتقل بحسب المحدود والجهات التي تحدّ بها المساكن.

والبقاع أربع جهات وهي: جهة الشمال: التي هي إشارة إلى موضع قطب الفلك الشماليّ المعروف من كواكبه الجدي، والفرقدان، ويقابل جهة الشمال الجهة الجنوبية، والجنوب عبارة: عن موضع قطب الفلك الجنوبيّ الذي يقرب منه سهيل، وما يتبعه من كواكب السفينة، والجهة الثالثة: جهة المشرق وهو مشرق الشمس في الاعتدالين اللذين هما رأس الحمل أوّل فصل الربيع، ورأس الميزان أوّل فصل الخريف، والجهة الرابعة: جهة المغرب وهو مغرب الشمس في الاعتدالين المذكورين، فهذه الجهات الأربع ثابتة بثبوت الفلك غير متغيرة بتغير الأوقات وبها تحدّ الأراضي ونحوها من المساكن، وبها يهتدي الناس في أسفارهم وبها يستخرجون سمت محاريبهم.

فالمشرق والمغرب معروفان، والشمال والجنوب جهتان مقاطعتان لجهتي المشرق والمغرب على تربيع الفلك، فالخط المار بنقطتي الشمال والجنوب يسمى: خط نصف النهار، وهو مقاطع للخط المار بنقطتي المشرق والمغرب المسمى: بخط الاستواء على زوايا قائمة، وأبعاد ما بين هذين الخطين متساوية فالمستقبل للجنوب يكون أبدا مستدبرا للشمال، ويصير المغرب عن يمينه، والمشرق عن يساره، وهذه الجهات الأربع هي التي ينسب إليها ما يحد من البلاد، والأراضي والدور إلا أن أهل مصر يستعملون في تحديدهم بدلا من الجهة الجنوبية لفظة القبلية، فيقولون الحدّ القبليّ ينتهي إلى كذا، ولا يقولون الحدّ الجنوبيّ، وكذلك يقولون الحدّ البحريّ ينتهي إلى كذا، ويريدون بالبحريّ الحدّ الشماليّ، وقد يقع في هاتين الجهتين الغلط في بعض البلاد وذلك أن البلاد التي توافق عروضها عرض مكة إذا كانت أطوالها أقل من طول مكة، فإن القبلة تكون في هذه البلاد نفس الشرق بخلاف التي توافق عروضها عرض مكة، إلا أن أطوالها أطول من طول مكة، فإنّ القبلة في هذه البلاد تكون نفس الغرب، فمن حدّد في شيء من هذه البلاد أرضا أو مسكنا بحدود أربعة، فإنه يصير حدّان منها حدّا واحدا، وكذلك جهة البحر لما جعلوها قبالة جهة القبلة، وحدّدوا ما بينهما من الأراضي، والدور بما يسامتها منه، فإنهم أيضا ربما غلطوا، وذلك أن
মিশরের সীমানা এবং এর দিকসমূহের বর্ণনা

জেনে রাখুন যে, সীমা নির্ধারণ হলো কোনো সীমিত বস্তুর প্রকৃত অবস্থার বিবরণ। আর সীমা (হদ্দ) হলো কোনো বস্তুর শেষ প্রান্ত। সীমিত বস্তু এবং যে দিকসমূহ দ্বারা আবাসস্থলগুলো নির্ধারিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করে সীমানা সংখ্যায় কম বা বেশি হয়ে থাকে।

আর ভূখণ্ডের দিক চারটি, সেগুলো হলো: উত্তর দিক: যা আসমানি মেরুর উত্তর প্রান্তের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে, যার পরিচিত নক্ষত্রপুঞ্জ হলো আল-জাদি এবং আল-ফারকাদান। উত্তর দিকের বিপরীতে দক্ষিণ দিক অবস্থিত। আর দক্ষিণ দিক বলতে আসমানি মেরুর দক্ষিণ প্রান্তের অবস্থানকে বোঝায়, যার নিকটবর্তী হলো সুহাইল এবং সাফিনাহ নক্ষত্রপুঞ্জের অন্যান্য নক্ষত্র। তৃতীয় দিকটি হলো: পূর্ব দিক, যা দুই বিষুবকালে সূর্যোদয়ের স্থান; আর এই দুই সময় হলো বসন্তকালের শুরুতে মেষ রাশির (হামাল) প্রথম বিন্দু এবং শরৎকালের শুরুতে তুলা রাশির (মিজান) প্রথম বিন্দু। চতুর্থ দিকটি হলো: পশ্চিম দিক, যা উল্লেখিত দুই বিষুবকালে সূর্যাস্তের স্থান। এই চারটি দিক আসমানের স্থায়িত্বের সাথে স্থায়ী, সময়ের পরিবর্তনে এগুলো পরিবর্তিত হয় না। এগুলোর মাধ্যমেই ভূমি ও অন্যান্য আবাসস্থলের সীমানা নির্ধারণ করা হয়, মানুষ তাদের ভ্রমণে পথ খুঁজে পায় এবং এগুলোর সাহায্যেই তারা তাদের মেহরাবের দিক নির্ণয় করে।

পূর্ব ও পশ্চিম দিক সুপরিচিত। উত্তর ও দক্ষিণ হলো এমন দুটি দিক যা মহাকাশীয় চতুর্থাংশ অনুযায়ী পূর্ব ও পশ্চিম দিকের সাথে আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে। উত্তর ও দক্ষিণ বিন্দুর মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী রেখাকে বলা হয়: মধ্যাহ্ন রেখা, যা পূর্ব ও পশ্চিম বিন্দুর মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী রেখা—যাকে বিষুবরেখা বলা হয়—তার ওপর সমকোণে অবস্থান করে। এই দুই রেখার মধ্যবর্তী দূরত্ব সমান। সুতরাং যে ব্যক্তি দক্ষিণমুখী হবে, তার পিঠ সর্বদা উত্তর দিকে থাকবে, তার ডানে হবে পশ্চিম দিক এবং বামে হবে পূর্ব দিক। দেশ, ভূমি ও গৃহের সীমানা নির্ধারণে এই চারটি দিকই নির্দেশ করা হয়। তবে মিশরের অধিবাসীরা তাদের সীমানা নির্ধারণে দক্ষিণ দিকের পরিবর্তে 'কিবলি' শব্দটি ব্যবহার করে। তারা বলে: কিবলি সীমানা অমুক পর্যন্ত শেষ হয়েছে, তারা 'দক্ষিণ সীমানা' বলে না। একইভাবে তারা বলে: 'বাহরি' সীমানা অমুক পর্যন্ত শেষ হয়েছে, এবং বাহরি বলতে তারা উত্তর সীমানা বোঝায়। কোনো কোনো দেশে এই দুই দিকের ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে; আর তা হলো যেসব দেশের অক্ষাংশ মক্কার অক্ষাংশের সমান কিন্তু দ্রাঘিমাংশ মক্কার দ্রাঘিমাংশের চেয়ে কম হলে, সেসব দেশে কিবলা ঠিক পূর্ব দিকে হয়। এর বিপরীত হলো সেইসব দেশ যাদের অক্ষাংশ মক্কার অক্ষাংশের সমান কিন্তু দ্রাঘিমাংশ মক্কার চেয়ে বেশি, কারণ সেসব দেশে কিবলা ঠিক পশ্চিম দিকে হয়। সুতরাং কেউ যদি এইসব দেশের কোনো ভূমি বা আবাসস্থলকে চারটি সীমানা দ্বারা নির্ধারণ করতে চায়, তবে তার দুটি সীমানা একটি সীমানায় পরিণত হবে। একইভাবে যখন তারা সমুদ্রের দিককে কিবলার দিকের বিপরীতে ধরে নেয় এবং এর মধ্যবর্তী ভূমি ও ঘরবাড়ির সীমানা নির্ধারণ করে, তখনও তারা সম্ভবত ভুল করে; আর তা হলো:
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
القبلة والبحر يكونان في بعض البلاد في جهة واحدة، فإذا عرفت ذلك فاعلم أن أرض مصر: لها حدّ يأخذ من بحر الروم ومن الإسكندرية، وزعم قوم من برقة في البرّ حتى ينتهي إلى ظهر الواحات، ويمتدّ إلى بلد النوبة، ثم يعطف على حدود النوبة في حدّ أسوان على حدّ أرض السبخة في قبليّ أسوان حتى ينتهي إلى بحر القلزم، ثم يمتدّ على بحر القلزم ويجاوز القلزم إلى طور سينا، ويعطف على تيه بني إسرائيل مارا إلى بحر الروم في الجفار خلف العريش ورفح، ويرجع إلى الساحل مارّا على بحر الروم إلى الإسكندرية، ويتصل بالحدّ الذي قدمت ذكره من نوحي برقة.

وقال أبو الصلت أمية بن عبد العزيز في رسالته المصرية: أرض مصر بأسرها واقعة في المعمورة في قسمي الإقليم الثاني، والإقليم الثالث، ومعظمها في الثالث، وحكى المعتنون بأخبارها وتواريخها أنّ حدّها في الطول من مدينة برقة التي في جنوب البحر الروميّ إلى أيلة من ساحل الخليج الخارج من بحر الحبشة والزيج والهند والصين، ومسافة ذلك قريب من أربعين يوما، وحدّها في العرض من مدينة أسوان وما سامتها من الصعيد الأعلى المتآخم لأرض النوبة إلى رشيد، وما حاذاها من مساقط النيل في البحر الروميّ ومسافة ذلك قريب من ثلاثين يوما، ويكتنفها في العرض إلى منتهاها جبلان أحدهما في الضفة الشرقية من النيل، وهو المقطم، والآخر في الضفة الغربية منه، والنيل متسرب فيما بينهما، وهما جبلان أجردان غير شامخين يتقاربان جدّا في وضعهما من لدن أسوان إلى أن ينتهيا إلى الفسطاط، ثم يتسع ما بينهما، وينفرج قليلا، ويأخذ المقطم منهما مشرّقا والآخر مغرّبا على وراب في مأخذيهما، وتفريج في مسلكيهما، فتتسع أرض مصر من الفسطاط إلى ساحل البحر الرومي الذي عليه الفرماء وتنيس ودمياط ورشيد والإسكندرية، فهناك تتقطع في عرضها الذي هو مسافة ما بين أوغلها في الجنوب، وأوغلها في الشمال، وإذا نظرنا بالطريق البرهانية في مقدار هذه المسافة من الأميال لم تبلغ ثلاثين ميلا، بل تنقص عنها نقصانا ما له قدر، وذلك لأن فضل ما بين عرض مدينة أسوان التي هي أوغلها في الجنوب، وعرض مدينة تنيس التي هي أوغلها في الشمال تسعة أجزاء ونحو سدس جزء وليس بين طوليها فضل له قدر يعتدّ به، وينوب ذلك نحو خمسمائة وعشرين ميلا بالتقريب، وذلك مسافة عشرين يوما أو قريب منها وفي هذه المدّة من الزمان تقطع السفار ما بين البلدين بالسير المعتدل أو أكثر من ذلك لما في الطريق من التعويج وعدم الاستقامة.

وقال القضاعي: الذي يقع عليه اسم مصر من العريش إلى آخر لوبية ومراقيه وفي آخر أرض مراقيه تلقى أرض انطابلس وهي برقة، ومن العريش فصاعدا يكون ذلك مسيرة أربعين ليلة، وهو ساحل كله على البحر الرومي، وهو بحريّ أرض مصر، وهو مهب الشمال منها إلى القبلة شيئا ما فإذا بلغت آخر أرض مراقيه عدّت ذات الشمال، واستقبلت الجنوب، وتسير في الرمل وأنت متوجه إلى القبلة يكون الرمل من مصبه عن يمينك إلى إفريقة وعن
কিছু দেশে কিবলা এবং সমুদ্র একই দিকে অবস্থিত। এটি জানার পর জেনে রাখুন যে, মিশর ভূমির একটি সীমানা রয়েছে যা ভূমধ্যসাগর এবং আলেকজান্দ্রিয়া থেকে শুরু হয়। একদল দাবি করেন যে, এটি বারকা থেকে স্থলপথে মরুদ্যোনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এবং নুবিয়া দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর তা নুবিয়ার সীমানা ঘুরে আসওয়ানের সীমানায় এবং আসওয়ানের দক্ষিণে লোনা মাটির ভূমির সীমানায় গিয়ে ঠেকে এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর তা লোহিত সাগর বরাবর বিস্তৃত হয়ে কুলজুম অতিক্রম করে সিনাই পর্বত পর্যন্ত যায়। অতঃপর বনী ইসরাঈলের তিয়াহ মরুভূমি ঘুরে আরিশ ও রাফাহর পেছনে জাফ্ফারের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে মোড় নেয় এবং আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর উপকূল বরাবর ফিরে আসে। এটি বারকা অঞ্চলের সেই সীমানার সাথে যুক্ত হয় যা আমি আগে উল্লেখ করেছি।

আবু আল-সালত উমাইয়া ইবনে আবদুল আজিজ তার 'রিসালাতুল মিসরিয়্যাহ'-তে বলেছেন: মিশরের সমগ্র ভূমি জনবসতিপূর্ণ বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যার অধিকাংশ তৃতীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এর সংবাদ ও ইতিহাসের প্রতি যত্নবান ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন যে, দৈর্ঘ্যে এর সীমানা ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত বারকা শহর থেকে শুরু করে হাবশা, জাঞ্জ, ভারত ও চীন সাগর থেকে নির্গত উপসাগরের উপকূলবর্তী আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দূরত্ব প্রায় চল্লিশ দিনের পথ। আর প্রস্থে এর সীমানা আসওয়ান শহর এবং উচ্চ মিশরের সমান্তরাল নুবিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রশিদ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা ভূমধ্যসাগরে নীল নদের মোহনার সমান্তরাল। এই দূরত্ব প্রায় ত্রিশ দিনের পথ। এর প্রস্থের শেষ সীমা পর্যন্ত দুটি পাহাড় একে বেষ্টন করে আছে; একটি নীল নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত, যা মুকাত্তাম পাহাড়, এবং অন্যটি পশ্চিম তীরে। নীল নদ এই দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত। এই দুটি পাহাড় বৃক্ষহীন ও খুব একটা উঁচু নয়। আসওয়ান থেকে শুরু করে ফুসতাত পর্যন্ত এদের অবস্থান অত্যন্ত কাছাকাছি। এরপর পাহাড় দুটির মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত হতে থাকে এবং কিছুটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। মুকাত্তাম পাহাড়টি পূর্ব দিকে চলে যায় এবং অন্যটি পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে সরে যায়। ফলে ফুসতাত থেকে ভূমধ্যসাগরের উপকূল পর্যন্ত মিশরের ভূমি প্রশস্ত হয়ে যায়, যেখানে ফারমা, তেনিস, দমিয়ত্তা, রশিদ এবং আলেকজান্দ্রিয়া অবস্থিত। সেখানে এর প্রস্থ বিভক্ত হয়ে যায়, যা দক্ষিণের গভীরতম প্রান্ত থেকে উত্তরের গভীরতম প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা যদি গাণিতিক পদ্ধতিতে মাইলের হিসেবে এই দূরত্বের পরিমাণ দেখি, তবে তা ত্রিশ মাইলের কাছে পৌঁছায় না, বরং এর চেয়ে অনেক কম হয়। কারণ দক্ষিণের শেষ প্রান্তের শহর আসওয়ানের অক্ষাংশ এবং উত্তরের শেষ প্রান্তের শহর তেনিসের অক্ষাংশের মধ্যে পার্থক্য নয় ডিগ্রি এবং প্রায় এক ডিগ্রির ছয় ভাগের এক ভাগ। আর তাদের দ্রাঘিমাংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই। এটি আনুমানিক ৫২০ মাইলের সমান। এটি প্রায় বিশ দিনের বা তার কাছাকাছি সময়ের পথ। সাধারণ গতিতে বা পথের আঁকাবাঁকা ও অসরলতার কারণে ভ্রমণকারীরা এই সময়ে দুই শহরের মধ্যবর্তী পথ অতিক্রম করে।

আল-কুদায়ী বলেছেন: মিশর নামটি যে অঞ্চলের ওপর প্রযোজ্য তা আরিশ থেকে লুবিয়া ও মারাকিয়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। মারাকিয়া ভূমির শেষে আন্তাবুলুস বা বারকা অঞ্চল শুরু হয়। আরিশ থেকে এই পর্যন্ত চল্লিশ রাতের পথ। এর পুরোটা ভূমধ্যসাগর উপকূলের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মিশরের উত্তর দিকে অবস্থিত। উত্তর দিক থেকে কিবলার দিকে কিছুটা বায়ু প্রবাহিত হয়। যখন আপনি মারাকিয়া ভূমির শেষ প্রান্তে পৌঁছাবেন, তখন তা বাম দিকে বাঁক নিয়ে দক্ষিণ মুখী হবে। আপনি বালুকাময় পথ দিয়ে কিবলার দিকে অগ্রসর হবেন, তখন আপনার ডান দিকের মোহনা থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত বালু থাকবে এবং...
(খণ্ড: ১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি-জিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - তবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
يسارك من أرض مصر إلى أرض الفيوم منها وأرض الواحات الأربعة فذلك غربيّ مصر، وهو ما استقبلته منه ثم تعوج من آخر أرض الواحات، وتستقبل المشرق سائرا إلى النيل تسير ثماني مراحل إلى النيل، ثم على النيل فصاعدا وهي آخر أرض الإسلام هناك، ويليها بلاد النوبة ثم ينقطع النيل فتأخذ من أسوان في المشرق منكبا عن بلد أسوان إلى عيداب ساحل البحر الحجازيّ، فمن أسوان إلى عيداب خمس عشرة مرحلة، وذلك كله قبليّ أرض مصر ومهب الجنوب منها ثم ينقطع البحر الملح من عيداب إلى أرض الحجاز فينزل الحوراء أوّل أرض مصر وهي متصلة بأعراض مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم وهذا البحر المحدود: هو بحر القلزم، وهو داخل في أرض مصر بشرقيه وغربيه وبحريه فالشرقيّ منه أرض الحوراء وطنسه والنبك وأرض مدين وأرض أيلة فصاعدا إلى المقطم بمصر، والغربيّ منه ساحل عيداب إلى بحر النعام إلى المقطم، والبحريّ منه مدينة القلزم وجبل الطور ومن القلزم إلى الفرماء مسيرة يوم وليلة وهو الحاجز فيما بين البحرين طحر الحجاز وبحر الروم وهذا كله شرقيّ أرض مصر من الحوراء إلى العريش، وهو مهب الصبا منها فهذا المحدود من أرض مصر، وما كان بعد هذا من الحدّ الغربيّ، فمن فتوح أهل مصر، وثغورهم من البرقة إلى الأندلس.

 

‌‌ذكر بحر القلزم (1)

القلازم: الدواهي والمضايقة ومنه بحر القلزم لأنه مضيق بين جبال، ولما كانت أرض مصر منحصرة بين بحرين هما بحر القلزم من شرقيها وبحر الروم من شماليها، وكان بحر القلزم داخلا في أرض مصر كما تقدّم صار من شرط هذا الكتاب التعريف به.

فنقول: هذا البحر إنما عرف في ناحية ديار مصر: بالقلزم لأنه كان بساحله الغربيّ في شرقيّ أرض مصر مدينة تسمى: القلزم وقد خربت كما ستقف عليه إن شاء اللّه تعالى في موضعه من هذا الكتاب عند ذكرى قرى مصر ومدنها فسمّى هذا البحر باسم تلك المدينة، وقيل له: بحر القلزم على الإضافة، ويقال له بالعبرانية: (ثم تسوب) وهذا البحر إنما هو خليج يخرج من البحر الكبير المحيط بالأرض الذي يقال له: بحر اقيانس ويعرف أيضا:

ببحر الظلمات لتكاثف البخار المتصاعد منه، وضعف الشمس عن حله فيغلظ وتشتدّ الظلمة، ويعظم موج هذا البحر، وتكثر أهواله، ولم يوقف من خبره إلاّ على ما عرف من بعض سواحله، وما قرب من جزائره، وفي جانب هذا البحر الغربيّ الذي يخرج منه البحر الرومي الآتي ذكره إن شاء اللّه.

الجزائر الخالدات وهي فيما يقال: ست جزائر يسكنها قوم متوحشون، وفي جانب

--------------------------------------------

(1) بحر القلزم: المقصود به هو البحر الأحمر.
আপনার বাম দিক দিয়ে মিসর ভূমি থেকে তার অন্তর্ভুক্ত ফাইয়ুম ভূমি এবং চারটি মরুদ্যানের ভূমি পর্যন্ত যা বিস্তৃত, তা হলো মিসরের পশ্চিমাঞ্চল; আর তা হলো আপনার সম্মুখস্থ অংশ। এরপর মরুদ্যান ভূমির শেষ প্রান্ত থেকে তা বাঁক নেয় এবং নীল নদের দিকে চলতে চলতে আপনি পূর্বমুখী হবেন। নীল নদ পর্যন্ত আটটি মনজিল (যাত্রা বিরতি) পথ চলতে হবে। অতঃপর নীল নদ বরাবর উপরের দিকে, আর তা সেখানে ইসলামের শেষ সীমানা। তার পরেই নুবিয়া ভূখণ্ড। এরপর নীল নদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে আপনি আসওয়ান থেকে পূর্ব দিকে আসওয়ান শহরকে একপাশে রেখে হিজাজি সমুদ্র উপকূলস্থ আইদাব অভিমুখে অগ্রসর হবেন। আসওয়ান থেকে আইদাব পর্যন্ত পনেরো মনজিলের পথ। এ সবটুকুই মিসর ভূমির দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ সমীরণ প্রবাহের স্থল। এরপর আইদাব থেকে হিজাজ ভূমি পর্যন্ত লোনা সমুদ্র বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে তা হুরওয়া নামক স্থানে গিয়ে শেষ হয় যা মিসর ভূমির প্রারম্ভিক অংশ এবং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের উপকণ্ঠের সাথে সংযুক্ত। আর এই সীমাবদ্ধ সমুদ্রটি হলো কুলজুম সাগর, যা তার পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক দিয়ে মিসর ভূমির অন্তর্ভুক্ত। এর পূর্বাঞ্চল হলো হুরওয়া ভূমি, ত্বানসাহ, নাবাক, মাদইয়ান ভূমি এবং আয়লা ভূমি থেকে মিসরের মুকাত্তাম পর্যন্ত। এর পশ্চিমাঞ্চল হলো আইদাব উপকূল থেকে নাহাম সাগর হয়ে মুকাত্তাম পর্যন্ত। আর এর উত্তরাঞ্চল হলো কুলজুম শহর ও তূর পর্বত। কুলজুম থেকে আল-ফারামা পর্যন্ত একদিন এক রাতের পথ; আর এটিই হিজাজ সাগর ও রুম সাগরের মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধক। এই সবটুকুই হুরওয়া থেকে আল-আরিশ পর্যন্ত মিসর ভূমির পূর্বাঞ্চল, যা পূর্বাবায়ু প্রবাহের স্থল। এটিই মিসর ভূমির নির্ধারিত সীমানা। আর এই পশ্চিম সীমান্তের বাইরে যা কিছু রয়েছে, তা হলো মিসরবাসীদের বিজয়লব্ধ অঞ্চল এবং বারকা থেকে আন্দালুস পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকা।

 

‌‌কুলজুম সাগরের বর্ণনা (১)

কালাজিম: এর অর্থ হলো বিপদ-আপদ ও সংকীর্ণতা। এ থেকেই ‘কুলজুম সাগর’ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি পাহাড়সমূহের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ পথ। যেহেতু মিসর দেশ দুটি সাগরের মাঝে অবস্থিত—তার পূর্ব দিকে কুলজুম সাগর এবং উত্তর দিকে রুম সাগর—আর কুলজুম সাগর মিসর ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তাই এই কিতাবের শর্তানুযায়ী এর পরিচিতি তুলে ধরা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

আমরা বলি: দিয়ার-এ-মিসরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই সমুদ্রটি ‘কুলজুম’ নামেই পরিচিত। কারণ এর পশ্চিম উপকূলে অর্থাৎ মিসর ভূমির পূর্ব দিকে একটি শহর ছিল যার নাম ‘কুলজুম’। সেটি বর্তমানে ধ্বংস হয়ে গেছে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা এই কিতাবের যথাযথ স্থানে মিসরের গ্রাম ও শহরসমূহের বর্ণনার সময় আপনি জানতে পারবেন। সুতরাং ওই শহরের নামানুসারেই এই সমুদ্রের নামকরণ করা হয়েছে এবং সম্বন্ধযুক্ত করে একে ‘কুলজুম সাগর’ বলা হয়। হিব্রু ভাষায় একে বলা হয়: (থাম সুব)। এই সমুদ্রটি মূলত একটি খাঁড়ি যা পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী বিশাল সমুদ্র থেকে বের হয়েছে, যাকে ‘উকিয়ানুস’ বলা হয়। একে আরও বলা হয়:

অন্ধকারাচ্ছন্ন সমুদ্র; কারণ সেখান থেকে উত্থিত বাষ্প অত্যন্ত ঘন এবং সূর্যের তেজ তা দূর করার ক্ষেত্রে দুর্বল। ফলে সমুদ্রের পানি ঘোলাটে হয়ে যায় এবং অন্ধকার ঘনীভূত হয়। এই সমুদ্রের ঢেউ অনেক বিশাল এবং এর বিভীষিকা অনেক বেশি। এর কিছু উপকূল এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহ সম্পর্কে যা জানা গেছে, তা ব্যতীত এর অন্য কোনো খবর নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয়নি। এই সমুদ্রের পশ্চিম দিকে সেই অংশটি অবস্থিত যেখান থেকে রুম সাগর বের হয়েছে, যার বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

আল-জাযাইরুল খালিদাত (চিরস্থায়ী দ্বীপপুঞ্জ), যা বলা হয়ে থাকে যে, ছয়টি দ্বীপ এবং সেখানে এক বন্য জাতি বসবাস করে। আর এক পাশে

--------------------------------------------

(১) কুলজুম সাগর: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লোহিত সাগর।