(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: -)
المفتاح في الصرف القسم: النحو والصرف
الكتاب: المفتاح في الصرف
المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (ت 471هـ)
حققه وقدم له: الدكتور علي توفيق الحَمَد، كلية الآداب - جامعة اليرموك - إربد - عمان
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى (1407 هـ - 1987م)
عدد الصفحات: 120
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মিফতাহ ফিস সারফ বিভাগ: নাহু ও সারফ
বই: আল-মিফতাহ ফিস সারফ
লেখক: আবু বকর আবদুল কাহির ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-আসল, আল-জুরজানি আদ-দার (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)
সম্পাদনা ও ভূমিকা: ডক্টর আলী তৌফিক আল-হামাদ, কলা অনুষদ - ইয়ারমুক বিশ্ববিদ্যালয় - ইরবিদ - আম্মান
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম (১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: المفتاح في الصرف
المؤلف: أبوبكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (المتوفى: 471هـ)
حققه وقدم له: الدكتور علي توفيق الحَمَد، كلية الآداب - جامعة اليرموك - إربد - عمان
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى (1407 هـ - 1987م)
গ্রন্থ: আল-মিফতাহ ফিস সরফ
লেখক: আবু বকর আব্দুল কাহির ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারসি আল-আসল, আল-জুরজানি আদ-দার (মৃত্যু: ৪৭১ হিজরি)
সম্পাদনা ও ভূমিকা: ডক্টর আলী তৌফিক আল-হামাদ, কলা অনুষদ - ইয়ারমুক বিশ্ববিদ্যালয় - ইরবিদ - আম্মান
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম (১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
القسم الأول الدراسةأولاً: المؤلف
ثانياً: الكتاب
ثالثاً: معالم التحقيق
প্রথম অংশ: গবেষণাপ্রথমত: গ্রন্থকার
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থ
তৃতীয়ত: সম্পাদনার বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
أولًا: المؤلف (1)
هو الإمام أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد، ولد في جرجان - وهي مدينة معروفة بين طبرستان وخراسان - ونسب إليها، وكان ذلك في مطلع القرن الخامس الهجري.
أخذ علمه عن شيخه أبي الحسيين محمد بن عبد الوارث الفارسي ابن أخت الشيخ أبي علي الفارسي.
تكاد تجمع المصادر التي ترجمت له أنه إمام العربية واللغة والبيان، مع تديّن وورع وسكون وعفّة.
كان شافعي المذهب، متكلماً على مذهب الأشعريين.
قال عنه الفيروز أبادي "أول من دون علم المعاني (2) ".
ومن تلاميذه: يحيى بن علي الخطيب التبريزي، وعلي بن زيد الفصيحي، وأبو نصر أحمد بن إبراهيم بن محمد الشجري، وأحمد بن عبد الله المهاباذي (الضرير) صاحب شرح "اللمع " لابن جني (3) . دوّت شهرته في الآفاق، فعدّه أبو البركات الأنباري من أكابر النحويين (4) ، وعدّه الباخرزي - معاصره - من الأدباء، وقال فيه: "هو فرد في علمه الغزير، لا بل هو العلم المفرد في الأئمة والمشاهير، واتفقت على إمامته الألسنة (5) ". وقال فيه الفيروز أبادي: إمام العربية واللغة والبيان (6) . وقال عنه السيوطي:
--------------------------------------------
প্রথমত: লেখক (১)
তিনি হলেন ইমাম আবু বকর আব্দুল কাহের বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ। তিনি জুরজানে জন্মগ্রহণ করেন—যা তাবারুস্তান ও খুরাসানের মধ্যবর্তী একটি সুপরিচিত শহর—এবং এর দিকেই তাকে নিসবত করা হয়। এটি ছিল পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর সূচনালগ্নের ঘটনা।
তিনি তার উস্তাদ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়ারিস আল-ফারিসি—যিনি শায়খ আবু আলী আল-ফারিসির ভাগ্নে ছিলেন—তার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন।
তার জীবনী বর্ণনাকারী প্রায় সকল উৎস এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ছিলেন আরবি ভাষা, ভাষাতত্ত্ব এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম; এর পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ, পরহেজগার, ধীরস্থির ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী এবং আকিদার ক্ষেত্রে আশআরী মতাদর্শের কালামশাস্ত্রবিদ ছিলেন।
আল-ফিরোজাবাদি তার সম্পর্কে বলেছেন, "তিনিই সর্বপ্রথম ইলমুল মা'আনি (২) সংকলন করেন।"
তার ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইয়াহইয়া বিন আলী আল-খতিব আল-তবরিজি, আলী বিন জায়েদ আল-ফাসিহি, আবু নাসর আহমদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-শাজারি এবং ইবনে জিন্নির 'আল-লুমআ' গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাহাবাজি (আল-জারির বা অন্ধ) (৩)। তার খ্যাতি দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আবু আল-বারাকাত আল-আনবারি তাকে বড় মাপের নাহুবিদ বা ব্যাকরণবিদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন (৪)। তার সমসাময়িক আল-বাখারজি তাকে সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তার অগাধ জ্ঞানে অনন্য, বরং তিনি ইমাম ও খ্যাতিমানদের মাঝে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব; তার ইমামতির বিষয়ে সকলেই একমত (৫)"। আল-ফিরোজাবাদি তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি আরবি ভাষা, ভাষাতত্ত্ব এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম (৬)। আল-সুয়ুতী তার সম্পর্কে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
"وكان من كبار أئمة العربية والبيان (7) ، فهو أديب عالم لغوي عميق الفكر والثقافة، عمدة في البلاغة العربية (8) ، وإضافة إلى ذلك فله شعر كان ينفث فيه ما في نفسه من لواعج، لكن شعره - القليل - لم يَرْقَ به إلى مرتبة الشعراء، وفي ظني أنه لم يقصد ذلك، ولو قصد لأجاد، لتمكنه وموهبته وبيانه. وقد حفظت الكتب التي ترجمت له بعض أشعاره (9) .
سجل عبد القاهر في بعض شعره موقفه من الزمان، ونفاق أهله، وتكالبهم على الدنيا بكل الوسائل، وتفريطهم في العلم والتنكر له ولأهله، وأجتزئ ما يصور ذلك واضحاً، فهو يقول: هذا زمان ليس فيه سوى النذالة والجهالة
لم يَرْقَ فيه صاعدٌ إلاّ وسلّمه النذالة (10)
ويقول أيضاً:
كَبِّرْ على العلم يا خليلي
… ومِلْ إلى الجهل مَيْلَ هائم
وعش حماراً تعش سعيداً
… فالسعد في طالع البهائم (11)
مكانته العلمية (12)
لعلّ قول من ترجموا له "هو إمام العربية واللغة والبيان " شاهد له على علوّ منزلته العلمية، فإنْ نظرنا إليه من زاوية الأدب فهو أديب، ومن زاوية البلاغة فهو قمة في بلاغته وبيانه، وهو "أول من دوّن علم المعاني " ولو نظرنا إليه من زاوية الدراسات اللغوية لوجدنا جهوده ومؤلفاته - ما وصل إلينا منها وما لم يصل - ترفعه إلى مصافِّ الكبار، إضافة إلى نظراته التجديدية في "دلائل الإعجاز" وفي النظم تحديداً.
ولكن من يتتبع جهود النحويين والذين ترجموا لهم عبر القرون، يحسّ بأن القرن الخامس الذي عاش فيه عبد القاهر لم يُنْصَف، ففي القرن الثاني كان الخليل وسيبويه والكسائي ويونس، وفي القرن الثالث الفرّاء والأخفش الأوسط والمازني والمبرد، وفي
--------------------------------------------
তিনি আরবি ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بيان) মহান ইমামদের (أئمة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (৭)। তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, পণ্ডিত ও ভাষাবিদ, যাঁর চিন্তা ও সংস্কৃতি ছিল অত্যন্ত গভীর; তিনি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) একজন প্রধান স্তম্ভ (৮)। এ ছাড়াও তাঁর কিছু কবিতা ছিল যাতে তিনি তাঁর অন্তরের তীব্র আবেগ প্রকাশ করতেন, তবে তাঁর এই সল্পসংখ্যক কবিতা তাঁকে কবিদের স্তরে উন্নীত করতে পারেনি। আমার ধারণামতে, তিনি তা উদ্দেশ্যও করেননি; যদি করতেন তবে তাঁর দক্ষতা, প্রতিভা ও প্রাঞ্জলতার কারণে তিনি এতে পারদর্শী হতেন। যেসব গ্রন্থ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছে, সেগুলো তাঁর কিছু কবিতা সংরক্ষণ করেছে (৯)।
আবদুল কাহের তাঁর কিছু কবিতায় সমকালীন যুগ, যুগের মানুষের মুনাফেকি, পার্থিব জগতের প্রতি তাদের সর্বাত্মক লালসা এবং ইলম বা জ্ঞানের প্রতি তাদের অবহেলা ও জ্ঞানীদের সাথে বিমুখ আচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। আমি এর স্পষ্ট চিত্রায়ণকারী কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি, তিনি বলেন: এটি এমন এক যুগ যেখানে নীচতা ও মূর্খতা ব্যতীত আর কিছুই নেই।
এতে কোনো আরোহীই উন্নতি করতে পারে না, যতক্ষণ না নীচতা তাকে মই হিসেবে সাহায্য করে (১০)।
তিনি আরও বলেন:
হে আমার বন্ধু! ইলমের ওপর তাকবির পড়ো (অর্থাৎ তাকে বিদায় দাও) এবং মূর্খতার দিকে উদভ্রান্তের মতো ঝুঁকে পড়ো।
… গাধার মতো বেঁচে থাকো তবেই সুখে থাকবে, কারণ সুখ তো চতুষ্পদ জন্তুদের ভাগ্যলিপিতেই রয়েছে (১১)।
তাঁর ইলমি মর্যাদা (১২)
সম্ভবত তাঁর জীবনীকারদের এই উক্তি— "তিনি আরবি ভাষা, সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম (إمام)"—তাঁর উচ্চ ইলমি মকামেরই সাক্ষ্য দেয়। আমরা যদি সাহিত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর দিকে তাকাই তবে তিনি একজন সাহিত্যিক; অলঙ্কারশাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তিনি তাঁর বালাগাত ও বয়ানের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় এবং তিনিই সর্বপ্রথম 'ইলমুল মা'আনি' (معاني) সংকলন করেন। আমরা যদি ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার প্রেক্ষাপটে তাঁকে দেখি, তবে তাঁর প্রচেষ্টা ও রচনাবলি—যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং যা পৌঁছায়নি—তাঁকে বড় বড় ইমামদের (أئمة) কাতারে শামিল করে। এর সাথে 'দালাইলুল ই'জায' গ্রন্থে তাঁর সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ করে তাঁর 'নাজম' বা বাক্য বিন্যাসতত্ত্ব উল্লেখযোগ্য।
তবে যারা যুগ যুগ ধরে ব্যাকরণবিদদের প্রচেষ্টা এবং তাঁদের জীবনীকারদের অনুসরণ করেন, তারা অনুভব করেন যে পঞ্চম হিজরি শতাব্দী, যে সময়ে আবদুল কাহের জীবিত ছিলেন, তার প্রতি সুবিচার করা হয়নি। কারণ দ্বিতীয় শতাব্দীতে ছিলেন খলীল, সিবওয়াইহ, কিসায়ি ও ইউনুস; তৃতীয় শতাব্দীতে ছিলেন ফাররা, আখফাশ আল-আওসাত, মাজিনি ও মুবাররাদ এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
القرن الرابع ابن السراج والزجّاج والزجّاجي والسيرافي والفارسي وابن جني. وفي السادس الزمخشري والأنباري، وفي السابع ابن مالك. . .، فنكاد نحسّ بأنهم أرادوا أن يقولوا إنّ القرن الخامس خالٍ من المشاهير- وأقول إنّ عبد القاهر سار في خط النحو التقليدي، وله كتاب عظيم وهو "المغني في شرح الإيضاح " (13) - إيضاح الفارسي -، وهو في ثلاثين مجلداً، واختصره في كتاب "المقتصد في شرح الإيضاح (14) وله أيضاً: الإيجاز- وهو مختصر لإيضاح الفارسي (15) ، وكتاب التكملة أو التتمة (16) ، والجمل (17) ، والعوامل المائة (18) وغيرها. وهو في الوقت نفسه مجدد في مجال الدراسات اللغوية (النحوية والصرفية) ، فهو يربط الشكل بالمعنى، وقد ربط بين علم النحو وعلم المعنى، وهذا ملحظ راقٍ متقدم، تنزع إليه الدراسات اللغوية الحديثة، ولو أحسن استثماره وتبنيّه منذ عهد عبد القاهر لتقدمت الدراسات اللغوية العربية تقدّماً كبيراً. ونستطيع القول إِنّ جهود عبد القاهر العلمية تشعّبت وتنوعّت، وأبدع في كل مجال خاضه وصنّف فيه، فهو إمام في اللغة، كما هو إمام في الدراسات النقدية والبلاغية، والأدبية والأسلوبية، والدراسات القرآنية وإعجاز القرآن، والعروض (19) . ويليق أن نذكر ما قاله طاش كبري زاده فيه: "ولو لم يكن له سوى كتاب أسرار البلاغة ودلائل الإعجاز لكفاه شرفاً وفخراً (20) . ولعلّ ما يوضح منزلته العلمية وأصالته ما كتب عنه وعن كتبه في الماضي والحاضر (21) ، فهو رجل شغل الناس بعلمه، فهو أمّة برأسه ونسيج وحده.
--------------------------------------------
চতুর্থ শতাব্দীতে ইবনে আল-সাররাজ, আল-যাজ্জাজ, আল-যাজ্জাজি, আল-সিরাফি, আল-ফারিসি এবং ইবনে জিন্নি। এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে আল-যামাখশারি ও আল-আনবারি, এবং সপ্তম শতাব্দীতে ইবনে মালিক... যেন আমরা অনুভব করতে পারি যে তারা বলতে চেয়েছেন পঞ্চম শতাব্দী প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ থেকে শূন্য—অথচ আমি বলব যে, আব্দুল কাহের জুরজানি ঐতিহ্যবাহী ব্যাকরণ শাস্ত্রের ধারাতেই চলেছেন, এবং তার একটি মহান গ্রন্থ রয়েছে যা হলো "আল-মুগনি ফি শারহিল ইদাহ" (১৩)—এটি আল-ফারিসির 'ইদাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যা—যা ত্রিশ খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি নিজেই এটিকে "আল-মুকতাসিদ ফি শারহিল ইদাহ" (১৪) গ্রন্থে সংক্ষেপ করেছেন। এছাড়াও তার রয়েছে: "আল-ঈজায"—যা আল-ফারিসির 'ইদাহ' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার (১৫), "কিতাবুত তাকমিলা" বা "তাতিম্মাহ" (১৬), "আল-জুমাল" (১৭), "আল-আওয়ামিল আল-মিআহ" (১৮) ও অন্যান্য। একই সাথে তিনি ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব) ক্ষেত্রে একজন সংস্কারক; কারণ তিনি শব্দের কাঠামোর সাথে অর্থের সংযোগ ঘটিয়েছেন এবং ব্যাকরণ শাস্ত্র ও অর্থবিজ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। এটি একটি উচ্চতর ও অগ্রসর পর্যবেক্ষণ, যার দিকে আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণাগুলো ধাবিত হচ্ছে। যদি আব্দুল কাহেরের সময় থেকেই এই চিন্তাধারার সঠিক প্রয়োগ ও চর্চা হতো, তবে আরবি ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা অনেক দূর অগ্রসর হতো। আমরা বলতে পারি যে, আব্দুল কাহেরের জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রচেষ্টা বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় ছিল। তিনি যে বিষয়ের ওপরই কাজ করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন, সেখানেই স্বকীয়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। তিনি যেমন ভাষাবিজ্ঞানের ইমাম, তেমনি তিনি সাহিত্য সমালোচনা, অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য ও শৈলীবিজ্ঞান, কুরআন গবেষণা, কুরআনের অলৌকিকত্ব এবং ছন্দবিজ্ঞানেরও (১৯) ইমাম। এই প্রসঙ্গে তাশ কুবরি যাদেহ তার সম্পর্কে যা বলেছেন তা উল্লেখ করা সংগত: "যদি তার 'আসরারুল বালাগাহ' এবং 'দালাইলুল ই'জায' গ্রন্থদ্বয় ছাড়া আর কিছু না থাকত, তবে তার সম্মান ও গৌরবের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট হতো" (২০)। সম্ভবত অতীত ও বর্তমানে তাকে এবং তার গ্রন্থাবলী নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তা থেকেই তার জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা ও মৌলিকতা স্পষ্ট হয় (২১)। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তার জ্ঞান দ্বারা মানুষকে আবিষ্ট করে রেখেছেন; তিনি একাধারে নিজেই একটি জাতি এবং স্বকীয়তায় অনন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولكن، يبقى سؤال محير قائماً، وهو: ما سرّ ذمّه زمانه وعصره وأهل عصره؟ في رأي أن الشيخ لم ينل ما كان يستحقه من الفهم والتقدير لعلمه، فهو ذو نزعات تجديدية مخالفة - نوعاً ما - للموروث في زمانه، فكأني به أنه كان يحسّ أنه في واد وأهل زمانه في واد، ولم تُجْدِ صرخاته التجديدية التي كان يأمل لها أن تجد آذاناً صاغية، وأن يتفهمها معاصروه ويسيروا على خطاها. إضافة إلى شدة ورعه وعفته وتديّنه، مما ولّد لديه عزوفاً عن الدنيا التي فتنت - وتفتن - الناس، وحساسية زائدة مما كان يجري حوله. أما مذهبه في دراساته اللغوية، فأميل إلى أنه كان على خطّ مدرسة فكرية مستنيرة خاصة، ربما تبدأ بيونس فالأخفش الأوسط، فالجرمي، فالمبرد، فابن السراج فالفارسي - أبي علي - فابن جني، إذ إن آراء هؤلاء تكشف عمقهم وفكرهم، ومخالفتهم معاصريهم وسابقيهم، ونزوعهم إلى التجديد نوعاً ما.
أما مصنفاته وآثاره العلمية فقد حاول حصرها الدكتور أحمد مطلوب في كتابه "عبد القاهر الجرجاني - بلاغته ونقده "، والدكتور البدراوي زهران في كتابه "عاِلم اللغة - عبد القاهر الجرجاني - المفتنٌ في العربية ونحوها" (22) وتوفي سنة 471 هـ، وقيل سنة 474 هـ (23) .
ثانياً: الكتاب(1) عنوانه: اختار عبد القاهر عنواناً مناسبا دالاًّ على موضوعات الكتاب، فسماه "المفتاح " وهو مفتاح لعلم الصرف إذ هو كتاب موجز، وقد وصفه وصفاً معبّراً في الخطبة بقوله: "هذا كتاب قليل الإفاض، كثير المعاني، سهل للحفظ، قريب التناول " (24) .
--------------------------------------------
তবে একটি বিস্ময়কর প্রশ্ন থেকেই যায়, আর তা হলো: তাঁর নিজ সময়, যুগ এবং সমসাময়িক ব্যক্তিদের নিন্দা করার রহস্য কী? আমার মতে, শায়খ তাঁর ইলমের জন্য যে পরিমাণ অনুধাবন ও মূল্যায়ন পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তা তিনি পাননি। তাঁর মধ্যে এমন কিছু সংস্কারমূলক (تجديدية) প্রবণতা ছিল যা তাঁর যুগের প্রচলিত ঐতিহ্যের কিছুটা পরিপন্থী ছিল। আমার মনে হয়, তিনি অনুভব করতেন যে তিনি এক পথে চলছেন আর তাঁর সমসাময়িকরা অন্য পথে। তাঁর সংস্কারমূলক আহ্বানগুলো কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারেনি, অথচ তিনি আশা করেছিলেন যে এগুলো মনোযোগী কর্ণকুহরে পৌঁছাবে এবং তাঁর সমসাময়িকরা তা অনুধাবন করে সেই পথে অগ্রসর হবে। এর পাশাপাশি তাঁর প্রবল খোদাভীতি, চারিত্রিক পবিত্রতা ও ধর্মপরায়ণতা তাঁর মাঝে দুনিয়ার প্রতি এক প্রকার বিমুখতা তৈরি করেছিল, যা মানুষকে মোহগ্রস্ত করে রাখে—এবং রাখছে—এবং তাঁর চারপাশে যা ঘটছিল সে সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন। তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার পদ্ধতির বিষয়ে আমি মনে করি যে, তিনি একটি বিশেষ আলোকিত চিন্তাধারার অনুসারী ছিলেন, যা সম্ভবত ইউনুস, অতঃপর আখফাশ আল-আওসাত, জারমি, মুবাররাদ, ইবনুল সাররাজ, ফারসি (আবু আলি) এবং ইবনু জিন্নি-র মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। কেননা এদের মতামতগুলো তাদের গভীরতা ও চিন্তাশীলতা, সমসাময়িক ও পূর্বসূরিদের সাথে তাদের ভিন্নমত এবং সংস্কারের (تجديد) প্রতি তাদের ঝোঁককে প্রকাশ করে।
তাঁর রচনাবলি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানের ক্ষেত্রে ডক্টর আহমদ মাতলুব তাঁর "আব্দুল কাহির আল-জুরজানি - বালাগাতুহু ওয়া নাকদুহু" গ্রন্থে এবং ডক্টর বদরাবি জাহরান তাঁর "আলিমুল লুগাহ - আব্দুল কাহির আল-জুরজানি - আল-মুফাততিনু ফিল আরাবিয়্যাহ ওয়া নাহউইহা" গ্রন্থে সেগুলোর একটি পরিসংখ্যান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন (২২)। তিনি ৪৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৪৭৪ হিজরিতে (২৩)।
দ্বিতীয়ত: কিতাবটি(১) শিরোনাম: আব্দুল কাহির কিতাবটির বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নাম নির্বাচন করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "আল-মিফতাহ"। এটি ইলমুত সারফের একটি চাবিকাঠি, কারণ এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। তিনি কিতাবের ভূমিকায় এর একটি চমৎকার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "এটি শব্দে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থে সমৃদ্ধ একটি কিতাব, যা মুখস্থ করা সহজ এবং আয়ত্ত করা নিকটবর্তী" (২৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وموضوعاته وإيجازه يدلاّن على أنه مفتاح لعلم الصرف، فهو على إيجازه ضمّ موضوعات تعد أصولاً في هذا العلم، واقتصر فيها على الأصول والأسسِ في كل باب، ولم يسهب، أو يستشهد بشواهد قرآنية أو شعرية أو أقوال إلا قليلاً جدّاَ، فهو في هذا يشبه المختصرات أو الكتب الموجزة كالملوكي في التصريف لابن جني، ونزهة الطرف في علم الصرف للميداني، وشافية ابن الحاجب.
(2) نسبته:
للكتاب مخطوطة وحيدة - في ما أعلم -محفوظة بدار الكتب الوطنية الظاهرية في دمشق، وكتب على ورقة الغلاف: "المفتاح في الصرف للجرجاني رحمه الله ". وقد ذكرته كتب الطبقات والتراجم ضمن آثار عبد القاهر الجرجاني (25) ، وما يؤنس - أيضاً - أن الكتاب لعبد القاهر، ما ورد في شرح الشافية: أنّ عبد القاهر يجيز الوزن في المبدل عن الحرف الأصلي بالبدل (26) ، وهذا يوافق ما ورد في هذا الكتاب - المفتاح -، إذ قال: "وفي البدل من الأصل جاز فيه المثالان، فمثل كِساء: فِعال أو فِعاء، أصله كِساو، قلبت الواو همزة لتطرّفها (27) ". (3) مادته:
تضمن الكتاب اثني عشر بابا موجزا، علاوة على خطبة قصيرة في صدر الكتاب، وختمه بباب خصّصه لبحث مسائل وقضايا صرفية متفرقة، أطلق عليه باب العقد (28) . أما الأبواب الأساسية فهي: باب التصريف، أبنية الأسماء، أبنية الأفعال، والمعاني في الأفعال، والمصدر، والفعل، والاشتقاق، وأبنية المصادر، والأمثلة - وهو يقابل تصريف الأفعال -، ثم باب الزيادة، فالإبدال، ثم الحذف.
--------------------------------------------
এর বিষয়বস্তু এবং সংক্ষিপ্ততা নির্দেশ করে যে, এটি ইলমুস সরফের (আরবি রূপতত্ত্ব) একটি চাবিকাঠি। কারণ এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এমন সব বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করেছে যা এই শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول) হিসেবে বিবেচিত। এতে প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক ভিত্তি ও মূল বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে এবং দীর্ঘ আলোচনা করা হয়নি। আর এতে কুরআনের উদ্ধৃতি, কাব্যিক উদাহরণ কিংবা উক্তি খুব কমই ব্যবহার করা হয়েছে। এই দিক থেকে এটি ইবন জিন্নির 'আল-মুলুকি ফি আত-তাসরিফ', ময়দানীর 'নুযহাতুত তারাফ ফি ইলমিস সরফ' এবং ইবনুল হাজিবের 'শাফিয়া'র মতো সংক্ষিপ্ত বা সারসংক্ষেপ গ্রন্থগুলোর সদৃশ।
(২) এর সম্বন্ধ বা নিসবত:
আমার জানামতে, এই গ্রন্থটির একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান, যা দামেস্কের 'দারুল কুতুব আল-ওয়াতানিয়্যাহ আজ-জাহিরিয়্যাহ'-তে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মলাটের পাতায় লেখা আছে: "আল-মিফতাহ ফিস সরফ - জুরজানি (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বিরচিত"। জীবনী (تراجم) ও স্তরায়ন (طبقات) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে এটিকে আব্দুল কাহের আল-জুরজানির (২৫) রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রন্থটি যে আব্দুল কাহেরের বিরচিত, তার আরেকটি নিদর্শন হলো 'শারহুশ শাফিয়া'-তে যা বর্ণিত হয়েছে: আব্দুল কাহের মূল বর্ণের পরিবর্তে আসা পরিবর্তিত বর্ণের ওজনে মূলানুসারী করাকেও বৈধ মনে করেন (২৬)। এটি বর্তমান গ্রন্থ—আল-মিফতাহ-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে তিনি বলেছেন: "মূল থেকে পরিবর্তিত বর্ণের ক্ষেত্রে উভয় প্রকার উদাহরণই বৈধ। যেমন 'কিসাউ': 'ফি'আল' বা 'ফি'আ', এর মূল ছিল 'কিসাউ', যেখানে 'ওয়াও' বর্ণটি শেষে আসার কারণে 'হামজা'য় রূপান্তরিত হয়েছে (২৭)।" (৩) এর বিষয়বস্তু:
গ্রন্থটিতে বারোটি সংক্ষিপ্ত অধ্যায় রয়েছে, এর সাথে গ্রন্থের শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা রয়েছে। তিনি গ্রন্থটি এমন একটি অধ্যায়ের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন যা বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত রূপতাত্ত্বিক মাসআলা ও বিষয়াবলি পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং একে তিনি 'বাবুল আকদ' (২৮) হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধান অধ্যায়গুলো হলো: রূপান্তর অধ্যায়, বিশেষ্যের গঠন, ক্রিয়ার গঠন, ক্রিয়ার অর্থসমূহ, মূলক্রিয়া, ক্রিয়া, ব্যুৎপত্তি, মূলক্রিয়ার গঠন, উদাহরণ—যা ক্রিয়ার রূপান্তরের সমার্থক—এরপর অতিরিক্ত বর্ণ অধ্যায়, তারপর বর্ণ পরিবর্তন এবং এরপর বর্ণ বিলোপ অধ্যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وهذه الأبواب هي جملة الأبواب الأصول الرئيسة التي يتناولها علم الصرف. وثمة تشابه واضح بين أبواب الكتاب ومادته من جهة، وما جاء في الملوكي لابن جني وشافية ابن الحاجب ونزهة الطرف للميداني، وقد أشرنا إلى ذلك في موضعه من التحقيق.
واعتمد- إلى حد بعيد في بعض الأبواب - على ما جاء في كتاب التكلمة للفارسي. ومن أهم القضايا التي ضمها الكتاب إجازته الوزن على البدل، فكِساء وزنه فِعال أو فِعاء (29) ، وقد أشرنا إليه في موضع سابق.
(4) منهجه:
اعتمد الجرجاني في هذا الكتاب طريقه الإيجاز، فهو يكتفي بإيراد القاعدة، والتمثيل لها بمثال أو اثنين، شأنه في ذلك شأن الكتب الموجزة كالملوكي في التصريف لابن جني، والشافية لابن الحاجب. فقد خلا الكتاب من الشواهد الشعرية، وضم ثلاثة شواهد قرآنية فقط، إضافة إلى ذكر أربعة أعلام فقط، وهذا أمر يبرّره منهجه الذي ارتضى الإيجاز واختاره. ونلاحظ خلوّ الكتاب من المسائل المعقدة الغريبة التي لم يقصد بها سوى الترويض والمعاياة، كما نلاحظ خلوّه من مسائل التمرين التي اختتمت بها بعض كتب الصرف الأخرى (30) .
(5) مصطلحاته وآراؤه: استخدم عبد القاهر الجرجاني مصطلحات قلّما نعثر عليها في كتب أخرى، فكأنه تميز باستخدامها. ومن هذه المصطلحات:
أ - أطلق لقب المُطابِق على الفعل المضاعف، ولقب النبر على المهموز العين، والهمزة على المهموز اللام، والقطع على المهموز الفاء (31) .
--------------------------------------------
এই অধ্যায়গুলো হলো ইলমুস সরফ (শব্দতত্ত্ব)-এর প্রধান মূলনীতিমূলক অধ্যায়গুলোর সমষ্টি। একদিকে এই গ্রন্থের অধ্যায় ও বিষয়বস্তুর সাথে ইবনে জিন্নীর ‘আল-মুলুকি’, ইবনুল হাজিবের ‘শাফিয়া’ এবং মায়দানীর ‘নুযহাতুত ত্বরাফ’-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে; এবং আমরা সম্পাদনার (تحقيق) যথাযথ স্থানে তা উল্লেখ করেছি।
তিনি কিছু অধ্যায়ে অনেকাংশেই ফারিসীর ‘কিতাবুত তাকমিলা’-তে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করেছেন। এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিকল্পের ভিত্তিতে ওযন বা পরিমাপ করার বৈধতা প্রদান; যেমন 'কিসাউন' শব্দটির ওযন হলো 'ফি'আলুন' অথবা 'ফি'আউন', যা আমরা ইতিপূর্বে নির্দেশ করেছি।
(৪) তাঁর পদ্ধতি (منهج):
জুরজানী এই গ্রন্থে সংক্ষিপ্তকরণের (إيجاز) পথ অবলম্বন করেছেন; তিনি কেবল মূলনীতি উল্লেখ এবং তার বিপরীতে একটি বা দুটি উদাহরণ প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বৈশিষ্ট্য ইবনে জিন্নীর 'আল-মুলুকি ফিত তাসরিফ' এবং ইবনুল হাজিবের 'আশ-শাফিয়া'-র মতো সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর মতোই। এই গ্রন্থটি কাব্যিক উদ্ধৃতি থেকে মুক্ত, এতে কেবল তিনটি কুরআনিক উদ্ধৃতি রয়েছে এবং মাত্র চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা তাঁর গৃহীত ও নির্বাচিত সংক্ষিপ্তকরণ (إيجاز) পদ্ধতির (منهج) যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। আমরা লক্ষ্য করি যে, এই গ্রন্থটি এমন সব জটিল ও বিরল (غريب) মাসআলা থেকে মুক্ত যা কেবল মেধা চর্চা ও বাকচাতুরীর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তেমনিভাবে আমরা এটি অনুশীলনীমূলক মাসআলা থেকেও মুক্ত দেখতে পাই, যা দ্বারা সরফের অন্যান্য কিছু গ্রন্থ সমাপ্ত করা হয়েছে।
(৫) তাঁর পরিভাষা (مصطلحات) ও অভিমতসমূহ: আব্দুল কাহের আল-জুরজানী এমন কিছু পরিভাষা (مصطلحات) ব্যবহার করেছেন যা অন্যান্য গ্রন্থে খুব কমই পাওয়া যায়, যেন তিনি এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন। এই পরিভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ক - তিনি দ্বিত্ব (المضاعف) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে 'আল-মুতাবিক' (المطابق) উপাধি ব্যবহার করেছেন; আর যার আইন-কালিমা হামযাযুক্ত তাকে 'আন-নাবর' (النبر), যার লাম-কালিমা হামযাযুক্ত তাকে 'আল-হামযাহ' (الهمزة) এবং যার ফা-কালিমা হামযাযুক্ত তাকে 'আল-কাত' (القطع) নামে অভিহিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ب - أطلق لقب ذي الثلاثة على الفعل الأجوف، لصيرورته على ثلاثة أحرف في المتكلم، نحو: قلت (32) .
ج - أطلق لقب ذي الأربعة على الفعل المعتل الناقص لصيرورته على أربعة أحرف في المتكلم، وهو: دعوت ورميت (33) .
د - استخدم مصطلح القلب المستوي، وهو أن تكون حروف الثاني مثل حروف الأول، ويختلفان في ترتيب حروف الكلمتين فقط، كما في قوله تعالى "وربّك فكبّر" (34) .
هـ - استخدم مصطلح الأفعال المنشعبة، ويعني بها المزيدة على الأصول الثلاثية أو الرباعية (35) .
و استخدم مصطلح الفعل الواقع والمجاوز للفعل المتعدي، وغير الواقع والمطاوع للفعل اللازم (36) .
ز - استخدم مصطلح "مصدر للنوع " ويعني به اسم الهيئة (37) . ومن الآراء التي وضّحها وتبناها، وقلّما تشيع في كتب الصرف:
أ - فرّق في الاستخدام بين الجحد والنفي (38) .
ب - يرى أن لاسم الفاعل صيغ مبالغة خاصة، تختلف عن تلك التي تستخدم لاسم المفعول، فبعد اسم الفاعل ذكر المبالغة منه: نصّار ونَصر مُطلقاً، وبعد اسم المفعول ذكر المبالغة منه: مِنْصار ومِنْصر مطلقاً (39) .
--------------------------------------------
খ - ‘যি আল-সালাসা’ (ذي الثلاثة) উপাধিটি মধ্য-বর্ণ দুর্বল ক্রিয়া (الفعل الأجوف) এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, কারণ উত্তম পুরুষ (المتكلم) এর ক্ষেত্রে এটি তিনটি অক্ষরে রূপান্তরিত হয়, যেমন: ‘ক্বুলতু’ (قلت) (৩২)।
গ - ‘যি আল-আরবা’আ’ (ذي الأربعة) উপাধিটি শেষ-বর্ণ দুর্বল ক্রিয়া (الفعل المعتل الناقص) এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, কারণ উত্তম পুরুষ (المتكلم) এর ক্ষেত্রে এটি চারটি অক্ষরে রূপান্তরিত হয়, যেমন: ‘দাওয়াতু’ (دعوت) ও ‘রামাইতু’ (رميت) (৩৩)।
ঘ - তিনি সমমুখী রূপান্তর (القلب المستوي) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ হলো দ্বিতীয় শব্দের অক্ষরগুলো প্রথম শব্দের অক্ষরের অনুরূপ হওয়া এবং শব্দ দুটির অক্ষরের বিন্যাসে কেবল পার্থক্য থাকা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমার রবেরই শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো" (وربّك فكبّر) (৩৪)।
ঙ - তিনি শাখা-প্রশাখাযুক্ত ক্রিয়া (الأفعال المنشعبة) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন এবং এর দ্বারা তিনি ত্রি-মূল বা চতুর্-মূল বিশিষ্ট ক্রিয়ার অতিরিক্ত রূপ (المزيدة على الأصول الثلاثية أو الرباعية) বুঝিয়েছেন (৩৫)।
চ - তিনি সকর্মক ক্রিয়া (الفعل المتعدي) বুঝাতে ‘ওয়াকি’ (واقع) ও ‘মুজাবিয’ (مجاوز) পরিভাষা এবং অকর্মক ক্রিয়া (الفعل اللازم) এর ক্ষেত্রে ‘গাইর ওয়াকি’ (غير واقع) ও ‘মুতাবি’ (مطاوع) পরিভাষা ব্যবহার করেছেন (৩৬)।
ছ - তিনি ‘ধরণবাচক মূলধাতু’ (مصدر للنوع) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন এবং এটি দ্বারা তিনি অবস্থা বা ধরণবাচক বিশেষ্য (اسم الهيئة) বুঝিয়েছেন (৩৭)। তাঁর স্পষ্টকৃত ও গৃহীত মতামতের মধ্যে যা সরফ বা রূপতত্ত্বের বইগুলোতে খুব কমই দেখা যায়:
ক - তিনি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অস্বীকার (الجحد) এবং না-বোধক (النفي) এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন (৩৮)।
খ - তিনি মনে করেন যে, কতৃবাচক বিশেষ্যের (اسم الفاعل) জন্য নির্দিষ্ট কিছু আতিশয্যবোধক রূপ (صيغ مبالغة) রয়েছে যা কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم المفعول) জন্য ব্যবহৃত রূপগুলো থেকে ভিন্ন। কতৃবাচক বিশেষ্যের (اسم الفاعل) আলোচনার পর তিনি এর আতিশয্যবোধক রূপ হিসেবে ‘নাসসার’ (نصّار) এবং ‘নাসর’ (نصر) সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন এবং কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم المفعول) আলোচনার পর এর আতিশয্যবোধক রূপ হিসেবে ‘মিনসার’ (مِنْصار) এবং ‘মিনসার’ (مِنْصر) সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন (৩৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ج- يرى أن عين "قلت وبعت" ثابت تقديراً لا سقاط، أي أنه أصلي انماز من الزائد.
د- تبنى رأي الأخفش والفراء في أصل أشياء ووزنها فأصلها أشيئاء على وزن
أفعلاء، ثم حذفت الهمزة التي هي لام الكلمة من وسط "أشياء" لكثرتها، وانفتحت
الياء لأجل الألف، فصار وزنها أفعاء (40) .
وما في الكتاب يوافق بشكل عام ما جاء في الكتب المتخصصة السابقة
واللاحقة، والفرق بين كتاب وآخر في الإيجاز أو الإسهاب، ووفرة الشواهد أو قلتها.
ثالثاً: معالم التحقيق(1) وصف المخطوطة:
كتاب "المفتاح في الصرف " كتاب صغير الحجم، فهو يقع في سبع عشرة ورقة،
من القطع الصغير، في كل صفحة 19 سطراً، وفي السطر ما بين 8 كلمات -11
كلمة تقريباً، وهو مكتوب بخط فارسي معجم مشكول أحياناً قليلة، حيث يكون
الشكل لازما جداً -. وللكتاب نسخة وحيدة محفوظة في دار الكتب الوطنية الظاهرية
بدمشق.
وعلى صفحة الغلاف نجد العنوان:
"المفتاح في الصرف للجرجاني رحمه الله".
ونجد ختماً لدار الكتب الوطنية الظاهرية بدمشق، ورقم التصنيف:
"الهدايا رقم 10603 عام " وقد وضعت أرقام (من 1 -18) في أعلى
الصحائف، في وقت يبدوا أنه لاحق ومتأخر.
ولم يذكر اسم الناسخ، ولا تاريخ النسخ أيضاً.
(2) مظاهر النسخ
الكتاب ذو حواشي على جوانب الصحائف وأسفلها، وبين الأسطر أحياناً،
وهذا واضح في ظ 1 و 2، ظ2، و3. وهذه الحواشي بقلم مخالف وخط
مختلف تقريباً، وقد أشرت إليها في هامش التحقيق في أماكن ورودها.
--------------------------------------------
গ- তিনি মনে করেন যে, "ক্বুলতু ও বি'তু" এর 'আইন' বর্ণটি অনুমিতভাবে বিদ্যমান, বিলুপ্ত নয়; অর্থাৎ এটি একটি মূল বর্ণ যা অতিরিক্ত বর্ণ থেকে স্বতন্ত্র।
ঘ- তিনি 'আশইয়া' শব্দের মূল ও ওজনের ক্ষেত্রে আখফাশ ও ফাররা-এর মত গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে এর মূল রূপ ছিল 'আশয়িআউ' যা 'আফ'িলাউ' ওজনে ছিল, অতঃপর শব্দের 'লাম' বর্ণস্বরূপ হামযাহটি 'আশইয়া'-এর মধ্যস্থল থেকে আধিক্যবশত বিলুপ্ত হয়েছে এবং আলিফের কারণে
ইয়া বর্ণটিতে ফাতহা প্রদান করা হয়েছে, ফলে এর ওজন দাঁড়িয়েছে 'আফ'আউ' (৪০)।
বইটিতে যা রয়েছে তা সাধারণত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; আর এক গ্রন্থ থেকে অন্য গ্রন্থের পার্থক্য কেবল সংক্ষেপণ বা বিস্তারিত আলোচনা এবং উদাহরণের প্রাচুর্য বা স্বল্পতার ক্ষেত্রে।
তৃতীয়: সম্পাদনার বৈশিষ্ট্যসমূহ(১) পাণ্ডুলিপির বিবরণ:
"আল-মিফতাহ ফিস সারফ" বইটি আকারে ছোট, এটি সতেরোটি পত্র সম্বলিত,
যা ছোট আকৃতির। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ৮ থেকে ১১টি
শব্দ রয়েছে। এটি ফারসি লিপিতে লিখিত যা মাঝে মাঝে হরকতযুক্ত, বিশেষত যেখানে
হরকত প্রদান করা অত্যন্ত আবশ্যক। বইটির একমাত্র অনুলিপি দামেস্কের
আল-জাহিরিয়া ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।
প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় আমরা শিরোনামটি পাই:
"আল-মিফতাহ ফিস সারফ, লেখক: আল-জোরজানি (রহিমাহুল্লাহ)"।
সেখানে দামেস্কের আল-জাহিরিয়া ন্যাশনাল লাইব্রেরির একটি সীলমোহর এবং শ্রেণিবিন্যাস নম্বর রয়েছে:
"আল-হাদায়া নং ১০৬০৩ আম"। পৃষ্ঠাগুলোর উপরে (১-১৮) পর্যন্ত নম্বর দেওয়া হয়েছে,
যা দেখে মনে হয় পরবর্তী কোনো সময়ে যুক্ত করা হয়েছে।
এতে লিপিকারের নাম বা অনুলিপির তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
(২) অনুলিপির বৈশিষ্ট্যসমূহ
বইটির পৃষ্ঠাগুলোর পার্শ্বে, নিচে এবং কখনো লাইনের মাঝে পার্শ্বটীকা রয়েছে,
যা ১ ও ২ পৃষ্ঠার বিপরীত পিঠ এবং ২ ও ৩ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট। এই পার্শ্বটীকাগুলো ভিন্ন কলমে এবং
সম্ভবত ভিন্ন হাতের লেখায় লিখিত। আমি সম্পাদনার পাদটীকাগুলোতে এগুলো যেখানে এসেছে সেখানে উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد سار الناسخ على طريقة التعقيبة، وأعني بها كتابة الكلمة الأولى من أول الصحيفة الجديدة في أسفل الصحيفة التي تسبقها.
- على المخطوطة ثلاثة أختام لدار الكتب الوطنية الظاهرية: الأول على صحيفة العنوان، والثاني في أعلى الصحيفة الأولى، والثالث في الزاوية اليمنى العلوية من ظ 5.
- خلط الناسخ في رسم الألفات، فرسم كلمة "دعا" بألف مقصورة كالياء (ظ 3، ظ 14) ، ورسم "أمسجا" بألف كالياء أيضاً (و 16) .
- حدث تصحيف في الفعل "وفى: وَفَيا: وَفَوْا، وَفَتْ وَفَتا: وَفَيْن، فِ "، فجاءت هذه الأفعال مصحّفة بالقاف المثنّاة بدلاً من الفاء الموحدة، ولو كانت هذه الأفعال بالقاف لكانت سليمة جائزة، لكن شكل الفاء واضح متميّز في صيغة الأمرِ فِ، ممّا يدل على أنّ الفعل المقصود بالفاء لا بالقاف.
- أسقط الناسخ الفاء من جواب الشرط وجواب أمّا (ظ 14، و15) .
-حدث خطأ في كتابة الهمزات، من ذلك: هناء يهنئ، وسباء يسباء، وصدء يصدء وجَرُء يَجْرُء (و 3، ظ 3) تبتداء (ظ 5) ، النسأ (و 9) ، التأ واليأ (ظ 5) ، ادّرا، والصواب ادّراء (و 16) .
- حدث خلط وخطأ في كتابة التاء بين المربوطة والمبسوطة (المفتوحة) ، مثل النوناة (و 9) ، جماعات (ظ 8) ، همزت، والصواب همزة (ظ 10) ، قسمت، والصواب قسمة (ظ 0 1، ظ 17) ، الاضافة (ظ 11) ، لالالتقاء، وصوابها لالتقاء (و10) .
- عرّف الناسخ العدد وتمبيزه معاً - على مذهب الكوفيين -، وذلك في قوله: العشرة الأبنية (و 2) .
ومن مظاهر النسخ الملحوظة الممّيزة أن الناسخ كان يضع في آخر كل فقرة هذه العلامة (51) ، وكأنه يعني بها "انتهى": "ا. هـ ". وكذلك فقد كان يضع خطاً أفقياً فوق الكلمة أو العبارة التي يريدها عنواناً لباب أو فصل أو بحث جديد مستقل عن سابقه، مثل:
পাণ্ডুলিপি লেখক ‘তাকিবা’ (تعقيبة) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো, পরবর্তী নতুন পৃষ্ঠার প্রথম শব্দটি এর পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার নিচের দিকে লিখে রাখা।
- পাণ্ডুলিপিটিতে ‘দারুল কুতুব আল-ওয়াতানিয়্যাহ আজ-জাহিরিয়্যাহ’-এর তিনটি সিলমোহর রয়েছে: প্রথমটি শিরোনামের পাতায়, দ্বিতীয়টি প্রথম পৃষ্ঠার উপরিভাগে এবং তৃতীয়টি ৫-এর ‘খ’ পৃষ্ঠার উপরের ডান কোণায়।
- লেখক ‘আলিফ’ (ألف) লিখনের ক্ষেত্রে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন; যেমন তিনি ‘দাআ’ শব্দটি ‘ইয়া’-এর মতো ‘আলিফ মাকসুরা’ (ألف مقصورة) দিয়ে লিখেছেন (পৃষ্ঠা ৩-খ, ১৪-খ), এবং ‘আমসাজা’ শব্দটিও ‘ইয়া’ (ياء)-এর ন্যায় আলিফ দিয়ে লিখেছেন (পৃষ্ঠা ১৬-ক)।
- ‘ওয়াফা: ওয়াফায়া: ওয়াফাও, ওয়াফাত ওয়াফাতা: ওয়াফাইনা, ফি’ ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে ‘তাশহিফ’ বা শব্দবিভ্রম (تصحيف) ঘটেছে। এখানে একক নুকতাযুক্ত ‘ফা’ (الفاء الموحدة)-এর পরিবর্তে দুই নুকতাযুক্ত ‘কাফ’ (القاف المثنّاة) দিয়ে লেখা হয়েছে। যদি এই ক্রিয়াগুলো ‘কাফ’ দিয়ে হতো তবে তাও ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হতো, কিন্তু ‘ফা’ (فِ) এর আমর বা অনুজ্ঞাসূচক রূপটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বতন্ত্র, যা নির্দেশ করে যে উদ্দিষ্ট ক্রিয়াটি ‘ফা’ বর্ণ দিয়ে গঠিত, ‘কাফ’ দিয়ে নয়।
- লেখক ‘জাওয়াব-উশ-শর্ত’ (جواب الشرط) এবং ‘আম্মা’ (أمّا)-এর উত্তর থেকে ‘ফা’ (فاء) বর্ণটি বিলোপ করেছেন (পৃষ্ঠা ১৪-খ, ১৫-ক)।
- ‘হামজা’ (همزة) লিখনের ক্ষেত্রে ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে, যেমন: ‘হানাউন ইয়ুহানিউ’, ‘সাবাহুন ইয়াসবাউ’, ‘সাদউন ইয়াসদাউ’ এবং ‘জারুআ ইয়াজরুউ’ (পৃষ্ঠা ৩-ক, ৩-খ); ‘তাতাদাউ’ (পৃষ্ঠা ৫-খ); ‘আন-নাসউ’ (পৃষ্ঠা ৯-ক); ‘আত-তা’ এবং ‘আল-ইয়া’ (পৃষ্ঠা ৫-খ); এবং ‘ইদ্দারা’—যার সঠিক রূপ হলো ‘ইদ্দারাউ’ (পৃষ্ঠা ১৬-ক)।
- গোল ‘তা’ (التاء المربوطة) এবং লম্বা বা খোলা ‘তা’ (التاء المبسوطة)-এর মধ্যে লিখনে গোলযোগ ও ভুল হয়েছে। যেমন: ‘আন-নুনাহ’ (পৃষ্ঠা ৯-ক); ‘জামাআত’ (পৃষ্ঠা ৮-খ); ‘হামজাত’—যার সঠিক রূপ হলো ‘হামজাহ’ (পৃষ্ঠা ১০-খ); ‘কিসমাত’—যার সঠিক রূপ হলো ‘কিসমাহ’ (পৃষ্ঠা ১০-খ, ১৭-খ); ‘আল-ইদাফাহ’ (পৃষ্ঠা ১১-খ); ‘লালি’লতিক্বা’—যার সঠিক রূপ হলো ‘লিলতিক্বা’ (পৃষ্ঠা ১০-ক)।
- লেখক কুফী ব্যাকরণবিদদের মতানুযায়ী সংখ্যা এবং তার ‘তাময়িজ’ (تمييز) তথা বিশেষিত পদ—উভয়কেই নির্দিষ্টবাচক করেছেন; যেমন তার উক্তি: ‘আল-আশরাতুল আবনিয়াহ’ (পৃষ্ঠা ২-ক)।
পাণ্ডুলিপিটি নকল করার ক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, লেখক প্রতি অনুচ্ছেদের শেষে এই চিহ্নটি (৫১) ব্যবহার করতেন; যেন এর দ্বারা তিনি ‘সমাপ্ত’ (انتهى) তথা ‘ইন্তাহা’ (ا. هـ) বুঝাতে চেয়েছেন। অনুরূপভাবে, তিনি যে শব্দ বা বাক্যাংশকে কোনো অনুচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ বা পূর্ববর্তী আলোচনার চেয়ে স্বতন্ত্র কোনো নতুন গবেষণার শিরোনাম করতে চাইতেন, তার উপরে একটি আনুভূমিক রেখা টেনে দিতেন। যেমন:
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- المثال، الأجوف، المقرون، المفروق (ظ 3) .
- بناء المعاني في الأفعال، والمتعدي إلى واحد،. . . (ظ 4) .
- اسم الآلة، الاشتقاق. (و 7) .
- مصادر الأفعال المنشعبة (و 8) .
- اسم الفاعل، اسم المفعول (و 10) .
- أمر الحاضر، اسم المفعول (ظ 11) .
- المهموز الفاء (و 12) .
- المهموز العين (ظ 12) .
- المنشعبة (و 13) .
- الأمر، ومن المضاعف، الزيادة (ظ 13) .
- فأمّا الواو والياء (ظ 14) .
- وأما الهمزة (و15) .
(3) دواعي التحقيق:
هو الكتاب المتخصص الوحيد في علم الصرف للجرجاني، أمّا رسالته "العمدة في التصريف " فرسالة موجزة لم تتضمّن الأبواب الموجودة في كتاب المفتاح، كأبنية الأسماء والزيادة والاشتقاق والمصدر وأبنية المصادر والإبدال، والحذف.
والجرجاني نفسه يقول في خطبة "العمدة في التصريف ": "هذه جمل من القول في التصريف. . . . . ".
إضافة إلى أنّ الجزء الخاص الذي يتناول الأبواب الصرفية في كتابه المقتصد على شرح الإيضاح، لم يحقق أو يطبع بعد. إضافة إلى شهرة عبد القاهر في الدراسات التي صنّف فيها، وفوق هذا كله، فهو كتاب من كتب التراث الذي نتحمل واجب تحقيقه ونشره.
(4) منهج التحقيق:
نهجت في التحقيق المنهج العلمي السائد، وكان غرضي أن أخرج النص المخطوط، وأنشره في أضبط شكل وأدّق صورة، وأقربها إلى الصورة التي وضعها المصنف.
- আল-মিসাল (المثال), আল-আজওয়াফ (الأجوف), আল-মাকরুন (المقرون), আল-মাফরুক (المفروق) (পৃষ্ঠা ৩ খ) ।
- ক্রিয়াপদে অর্থের গঠন, এবং এক-কর্মক সকর্মক (المتعدي) ক্রিয়া, . . . (পৃষ্ঠা ৪ খ) ।
- যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (اسم الآلة), ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق)। (পৃষ্ঠা ৭ ক) ।
- শাখায়িত (المنشعبة) ক্রিয়াগুলোর ক্রিয়ামূল (مصادر) (পৃষ্ঠা ৮ ক) ।
- কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل), কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) (পৃষ্ঠা ১০ ক) ।
- মধ্যম পুরুষ অনুজ্ঞা (أمر الحاضر), কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) (পৃষ্ঠা ১১ খ) ।
- ফা-বর্ণে হামযাহযুক্ত (المهموز الفاء) (পৃষ্ঠা ১২ ক) ।
- আইন-বর্ণে হামযাহযুক্ত (المهموز العين) (পৃষ্ঠা ১২ খ) ।
- শাখায়িত (المنشعبة) ক্রিয়া (পৃষ্ঠা ১৩ ক) ।
- অনুজ্ঞা (الأمر), এবং দ্বিত্ব বর্ণযুক্ত (المضاعف) ক্রিয়া থেকে, অতিরিক্ত বর্ণযোগ (الزيادة) (পৃষ্ঠা ১৩ খ) ।
- আর 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' বর্ণদ্বয়ের ক্ষেত্রে (পৃষ্ঠা ১৪ খ) ।
- আর হামযাহর ক্ষেত্রে (পৃষ্ঠা ১৫ ক) ।
(৩) সম্পাদনার (تحقيق) কারণসমূহ:
এটি জুরজানির ইলমুস সরফের একমাত্র বিশেষায়িত গ্রন্থ, অন্যদিকে তাঁর রিসালা "আল-উমদাহ ফিত তাসরিফ" একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা "কিতাবুল মিফতাহ" গ্রন্থে বিদ্যমান অধ্যায়গুলো যেমন— বিশেষ্যের গঠন, অতিরিক্ত বর্ণযোগ (الزيادة), ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق), ক্রিয়ামূল (المصدر), ক্রিয়ামূলের গঠন, বর্ণ পরিবর্তন (الإبدال) এবং বর্ণ বিলোপ (الحذف)-কে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
জুরজানি নিজেই "আল-উমদাহ ফিত তাসরিফ"-এর ভূমিকায় বলেন: "এগুলো রূপান্তরশাস্ত্র (تصريف) সম্পর্কে কিছু বক্তব্য . . . . ."।
তাছাড়া তাঁর 'আল-মুকতাসিদ আলা শারহিল ইদাহ' গ্রন্থের সরফ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো নিয়ে গঠিত বিশেষ অংশটি এখনো সম্পাদিত (محقق) বা মুদ্রিত হয়নি। সেইসাথে আব্দুল কাহিরের প্রসিদ্ধি যে সকল বিষয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সর্বোপরি এটি ঐতিহ্যের (تراث) একটি গ্রন্থ যার সম্পাদনা (تحقيق) ও প্রকাশের দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তায়।
(৪) সম্পাদনা (تحقيق) পদ্ধতি:
আমি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং আমার উদ্দেশ্য ছিল পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) এমনভাবে উপস্থাপন ও প্রকাশ করা যা হবে সর্বাধিক সুসংবদ্ধ ও সঠিক এবং গ্রন্থকারের মূল রচনার সবচেয়ে কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فقمت بتحرير النص، والتزمت الدقة والأناة والأمانة العلمية، فصوّبت بعض الأخطاء الإملائية وفق قواعد الإملاء الحديثة السائدة.
وضعت الزيادة الضرورية لإتمام المعنى بين حاصرتن، هكذا [. . . . . .] ، ثم قمت بوضع علامات الترقيم المناسبة، للمساعدة في الكشف عن المعنى. ضبطت ما رأيت ضبطه ضروريّاً لازماً كالأمثلة، والشواهد - وهي قليلة -. وأثبت الحواشي في هوامش الكتاب، وأشرت إلى مواضعها. ووضعت خطاً مائلاً عند نهاية كلّ صحيفة من صحائف المخطوطة، هكذالله، وأثبتّ مقابله في هامش الصفحة المطبوعة رقم الصحيفة في المخطوطة، هكذا: و 1، ظ 1، و 2، ظ 2، و 3...................
علّقت على آراء المصنف وشرحتها، وقابلتها بآراء الصرفيين في كتبهم، وشرحت ما يحتاج إلى شرح وتوضيح. وختمت الكتاب المخطوط - بعد إتمام تحقيقه - بوضع مسارد (فهارس) فنية كاشفة، تساعد في الرجوع إلى الكتاب والاستفادة منه. فوضعت مسرداً للآيات القرآنية الكريمة وهي ثلاث آيات فقط، ومسرداً للأمثال والأقوال، وهي مثل وثلاثة أقوال، ومسرداً للأعلام، وهي أربعة، ومسرداً لموضوعات الكتاب، وأخيراً وضعت مسرداً - قائمة - بمصادر التحقيق ومراجعه.
وأودّ أن أنوّه بأن الأخ د. طارق نجم عبد الله من جامعة الملك عبد العزيز في جدّة قد كتب لي - مشكوراً - أنه يشكّ في نسبة هذا الكتاب إلى عبد القاهر لأسباب عديدة، أهمها في نظري: أنّه عثر على نقول نحوية في مخطوطة "عرائس المحصل من نفائس المفصّل "المنسوب للرازي، ذكر الرازي أنها من "مفتاح " عبد القاهر، ومخطوطنا هذا خاصّ بالصرف، خالٍ من مسائل النحو. وكذلك فهو يشكّ بأن اسم عبد القاهر المثبت على غلاف المخطوطة من الخطوط الحديثة ومختلف عن خطّ المخطوطة. وأن لعبد القاهر كتابا خاصّاً بالصرف اسمه "العمدة"، وله شرح على "التكملة" للفارسي. وقد آثرت التنويه بذلك في هذه المقدمة عرفاناً للزميل وخلقه الكريم، ووفاء له وللأمانة العلمية، لكي تكون كلّ الحقيقة بين يدي القارئ.
ولا بدّ من تسجيل شكري للأخ الأستاذ رضوان دعبول ومؤسسة الرسالة وموظفيها والقائمين عليها، لاهتمامهم بنشر التراث العربي وعنايتهم به، ودقّتهم وإجادتهم. كما أشكر للسيد بلال فتحي - الطالب في برنامج الماجستير في دائرة
আমি পাঠ্যটি সম্পাদনা করেছি এবং এতে নির্ভুলতা, ধৈর্য ও বৈজ্ঞানিক সততা (الأمانة العلمية) বজায় রেখেছি; প্রচলিত আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী কিছু বানানগত ভুল সংশোধন করেছি।
অর্থ পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অংশগুলো আমি থার্ড ব্র্যাকেট বা হাশরিয়ার [ . . . . . . ] মধ্যে রেখেছি। এরপর অর্থ অনুধাবনে সহায়তার জন্য যথাযথ বিরামচিহ্ন ব্যবহার করেছি। উদাহরণ ও উদ্ধৃতি—যা সংখ্যায় খুব কম—সেগুলোর ক্ষেত্রে যেখানে স্বরচিহ্ন প্রদান করা আবশ্যক মনে হয়েছে, সেখানে আমি তা দিয়েছি। বইয়ের পাদটীকাগুলো মার্জিনে যুক্ত করেছি এবং সেগুলোর স্থান নির্দেশ করে দিয়েছি। পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠার শেষে আমি একটি তির্যক রেখা (/) টেনেছি এবং মুদ্রিত পৃষ্ঠার মার্জিনে পাণ্ডুলিপির সেই পৃষ্ঠা নম্বরটি এভাবে উল্লেখ করেছি: ও ১, জো ১, ও ২, জো ২, ও ৩...।
আমি গ্রন্থকারের মতামতের ওপর টীকা লিখেছি ও ব্যাখ্যা করেছি এবং ইলমুস সরফের (صرف) পণ্ডিতদের কিতাবসমূহে বর্ণিত মতামতের সাথে এই মতগুলোর তুলনা করেছি; এছাড়া যা কিছু ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন ছিল, তা সম্পন্ন করেছি। পাণ্ডুলিপিটির সম্পাদনার (تحقيق) কাজ শেষ করার পর আমি এতে নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করে সমাপ্ত করেছি, যা কিতাবটি থেকে উপকৃত হতে এবং তথ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের একটি সূচি তৈরি করেছি (যেখানে মাত্র তিনটি আয়াত রয়েছে), প্রবাদ ও প্রবচনের সূচি (একটি প্রবাদ ও তিনটি প্রবচন), বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সূচি (চারজন), কিতাবের বিষয়বস্তুর সূচি এবং পরিশেষে সম্পাদনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উৎস ও সহায়ক গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা প্রদান করেছি।
আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তারিক নাজম আব্দুল্লাহ আমাকে লিখেছেন—যাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ—যে তিনি কিতাবটি আব্দুল কাহিরের প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধিত হওয়ার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। আমার দৃষ্টিতে এর প্রধান কারণগুলো হলো: তিনি রাজির প্রতি নিসবতকৃত "আরাইসুল মুহাসসাল মিন নাফাইসিল মুফাসসাল" নামক পাণ্ডুলিপিতে কিছু নাহু বিষয়ক উদ্ধৃতি পেয়েছেন যা রাজির বক্তব্য অনুযায়ী আব্দুল কাহিরের "মিফতাহ" নামক কিতাব থেকে নেওয়া। অথচ আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি কেবল সরফ (صرف) শাস্ত্রের এবং এতে নাহুর কোনো মাসয়ালা নেই। তদুপরি, তিনি সন্দেহ করছেন যে পাণ্ডুলিপির মলাটে আব্দুল কাহিরের যে নামটি রয়েছে তা আধুনিক হস্তলিপিতে লেখা এবং তা মূল পাণ্ডুলিপির লিপি থেকে ভিন্ন। এছাড়া আব্দুল কাহিরের সরফ শাস্ত্রের ওপর "আল-উমদাহ" নামে একটি স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে এবং আল-ফারিসির "আত-তাকমিলা" কিতাবের ওপর তাঁর একটি শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থও রয়েছে। সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক সততা (الأمانة العلمية) বজায় রাখার স্বার্থে আমি এই মুখবন্ধে বিষয়টি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি, যাতে সত্যটি পাঠকের সামনে পরিষ্কার থাকে।
পরিশেষে জনাব রিদওয়ান দাবুল, মুআসসাসাতুর রিসালাহ এবং এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আরবি ঐতিহ্য বা তুরাস (تراث) প্রকাশে তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ও নিপুণতার জন্য। সেই সাথে মাস্টার্স প্রোগ্রামের ছাত্র বেলাল ফাতহীকেও ধন্যবাদ জানাই...
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
اللغة العربية في جامعة اليرموك - لمساعدته في رقن الكتاب - نسخه على الآلة الكاتبة ومراجعته وضبط مادته بالشكل. وبعد، فهذا عمل متواضع أقدمه على هذه الصورة، راجياً أن أكون قد وفقت في الدراسة والتحقيق والتحشية والفهرسة -، حتى يكون الإسهام مقبولاً. وقد أفرغت من جهدي ما استطعت، واجتهدت أن يكون هذا العمل دقيقاً نافعاً إن شاء الله، فإن أصبت فالحمد لله، وإن كانت الأخرى فالحمد لله أيضاً، ولا حول ولا قوة إلا باللهّ، وأدرك أنّ الكمال لله سبحانه، وما أنا إلا بشر، طالبا من المولى عز وجل ألا يحرمني أجر المجتهد، فلكل مجتهد نصيب، وأن يكتب لي هذا العمل عنده، وأن يكون من باب العلم الذي ينتفع به، وأن يزيد في حسناتنا يوم لا ينفع مال ولا بنون، إلاّ من أتى الله بقلب سليم. وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على رسوله وآله وأصحابه أجمعن.
الجمعة: التاسع والعشرون من ذي القعدة 1405 هـ.
الموافق: السادس عشر من آب 1985 م.
المحقق
ইয়ারমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগকে — পাণ্ডুলিপি টাইপ করা, টাইপরাইটারে এর অনুলিপি তৈরি করা, সংশোধন এবং স্বরচিহ্ন প্রদানের মাধ্যমে এর বিষয়বস্তু বিন্যস্ত করতে সহায়তার জন্য। অতঃপর, এটি একটি বিনম্র প্রয়াস যা আমি এই রূপে উপস্থাপন করছি, এই প্রত্যাশায় যে আমি গবেষণা, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, টীকা প্রদান এবং সূচি প্রণয়নে সফল হয়েছি — যাতে এই অবদানটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) হয়। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং ইনশাআল্লাহ এই কাজটিকে নির্ভুল ও ফলপ্রসূ করার জন্য যথাযথ ইজতিহাদ বা গবেষণা (اجتهاد) করেছি। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই তবে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আর যদি ত্রুটি হয় তবে সেক্ষেত্রেও সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। আমি উপলব্ধি করি যে পূর্ণতা কেবল মহান আল্লাহরই প্রাপ্য, আর আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে মুজতাহিদের (مجتهد) সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করেন, কারণ প্রত্যেক মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য একটি অংশ রয়েছে। তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর নিকট কবুল করেন এবং একে এমন এক উপকারী ইলম হিসেবে গণ্য করেন যা মানুষের উপকারে আসে, আর আমাদের নেক আমল বৃদ্ধি করেন সেই দিন — যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হবে। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর।
শুক্রবার: ২৯ জিলকদ ১৪০৫ হিজরি।
মোতাবেক: ১৬ আগস্ট ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ।
গবেষক ও সম্পাদক (المحقق)
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صورة مخطوط
পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
صورة مخطوط
পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
صورة مخطوط
পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فارغ
ফাঁকা
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القسم الثاني: كتاب المفتاح في الصرفنص التحقيق
দ্বিতীয় অংশ: কিতাবুল মিফতাহ ফিস সারফসম্পাদিত মূল পাঠ
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فراغ
শূন্যস্থান
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المفتاح في الصرف للجرجاني رحمه الله
আল-জুরজানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বিরচিত ইলমুস সরফ বিষয়ক গ্রন্থ আল-মিফতাহ
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[خطبة الكتاب]/ بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
الحمد لله المفيض الخيرات، الواهب البركات، والصلاة على محمد خاتم الرسالات صلّى الله عليه وعلى آله الطيِّبينَ والطيِّبات، صلاة دائمة دوام الأرض والسموات، وبعد:
هذا كتاب قليل الإِفاض، كثير المعاني، سهل للحفظ، قريب التناول، وسمّيته بِـ "المِفْتَاحِ " رجاء أن اذكر في صالح دعاءِ المؤمنين.
***
[التصريف] اعلمْ أنَّ التصريفَ "تَفْعيلٌ " مِنَ الصَّرْفِ، وهو أنْ تُصرِّفَ الكلمةَ المُفْرَدَةَ (1) ، فَتَتَوَلَّد منها ألْفَاظ مُخْتَلِفَةٌ، ومعانٍ مُتَفَاوِتَة.
--------------------------------------------
[গ্রন্থের ভূমিকা]/ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কল্যাণসমূহ বর্ষণকারী ও বরকতসমূহ দানকারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রিসালাতের সমাপ্তিদানকারী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও উত্তম পরিবার-পরিজনের ওপর—এমন এক চিরন্তন দরুদ যা আসমান ও জমিনের স্থায়িত্বের ন্যায় অক্ষয়। অতঃপর:
এটি একটি স্বল্প কলেবরের গ্রন্থ, যার অর্থ অতি ব্যাপক, যা মুখস্থ করা সহজ এবং আয়ত্ত করা সহজবোধ্য। আমি এর নামকরণ করেছি "আল-মিফতাহ" এই আশায় যে, মুমিনদের নেক দোয়ায় আমি স্মরণীয় হয়ে থাকব।
***
[শব্দরূপান্তর] জেনে রেখো যে, শব্দরূপান্তর বা 'তাসরিফ' হলো 'সরফ' ধাতু থেকে 'তাফয়ীল' ওজনে নিষ্পন্ন। আর তা হলো একক শব্দকে রূপান্তর করা, যার ফলে তা থেকে বিভিন্ন শব্দরূপ ও ভিন্ন ভিন্ন অর্থ উৎপন্ন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الكَلِمُ مُرَكَبٌ مِنَ الحُروفِ البَسيطةِ بِمُرَاعاةِ الوَلاءِ بين ترتيبِ حُروفِهِ، وإلَاّ صَارَ "مُلْكاً" بآلقَلْبِ المُسْتَوِي (2) .
ثُمَّ إِنَّه مُشْتَرك بين الأسْمَاءِ والأفْعالِ في الصِّحَّةِ والإعْلالِ، والقَلْبِ، والإِبْدالِ، والوَزْنِ، والتَّمْثِيلِ. وهُوَ أنْ تقَابِلَ حُرُوفَ الكَلِمَةِ الثلاثِيَةِ (3) : بِالفَاءِ، والعَيْنِ، وَآللامِ، وتُكَرِّرَ اللَاّمَ فِي الرُّبَاعِيِّ مُطْلَقاً (4) ، وَكَذَا فِي الاسْمِ الخُمَاسِيِّ، إِذْ لاخُمَاسِيَّ فِي الفِعْلِ لِثَقَلِهِ أصْلِيًّا (5) ، وَفِي
--------------------------------------------
শব্দ গঠিত হয় মৌলিক বর্ণমালার সমন্বয়ে, যেখানে বর্ণগুলোর বিন্যাসে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়; অন্যথায় তা সমান্তরাল পরিবর্তন (القلب المستوي)-এর ফলে "মুলকান" (ملكا) হয়ে যেত। (২)
অতঃপর এটি সুস্থতা (الصحة), বর্ণ-রূপান্তর (الإعلال), অক্ষর-বিপর্যয় (القلب), অক্ষর-প্রতিস্থাপন (الإبدال), ওজন (الوزن) এবং উপমা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয় পদের মধ্যেই অংশীদার। আর তা হলো তিন বর্ণবিশিষ্ট (الثلاثية) (৩) শব্দের বর্ণগুলোকে ‘ফা’, ‘আইন’ এবং ‘লাম’ বর্ণের বিপরীতে স্থাপন করা; এবং চার বর্ণবিশিষ্ট (الرباعي) শব্দের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে ‘লাম’ বর্ণটিকে দ্বিত্ব করা (৪), অনুরূপভাবে পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট (الخماسي) বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও। কেননা ওজনে ভারী হওয়ার কারণে ক্রিয়ার মধ্যে মূলগতভাবে (أصليا) (৫) কোনো পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট শব্দ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[و 2]
آلمُنْشَعِبَةِ بِمِثْلِهَا (6) ، إلا: اضْطَرَبَ / وازْدَجَرَ، فَوَزْنُهُمَا " افْتَعَلَ " بِالتَّاءِ لا بالطَّاءِ والدَّالِ (7) فَنَقُولُ: ضَرَبَ على وَزْنِ "فَعَلَ " وبنائِهِ وَوِزَانِهِ، ودَحْرَجَ مِثَالُ "فَعْلَلَ "، وسَفَرْجَلٌ "فَعَلَّلٌ " بِتَشْدِيدِ اللَاّمِ الأوْلى، وَأخْرَجَ مِثَالَ "أفْعَلَ ".
وفي البدَلِ مِنَ الأصْلِ جَازَ فِيْهِ المِثَالَانِ، فَمِثْلُ كِسَاءٍ: "فِعَالٌ أوْ فِعَاءٌ "، أصْلُهُ "كِسَاو" قُلِبَتْ الوَاوُ هَمْزَةً لَتَطَرُّفِهَا.
--------------------------------------------
[ও ২]
প্রসারিত রূপগুলো (المنشعبة) তার অনুরূপ বর্ণ দ্বারা ওজন করতে হয় (৬), তবে: ইজতরাবা (اضْطَرَبَ) এবং ইজদাজারা (وازْدَجَرَ) এর ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য। এই দুটির ওজন (وزن) হলো "ইফতাআলা" (افْتَعَلَ), যা 'তা' (ت) বর্ণ যোগে গঠিত, 'তা' (ط) বা 'দাল' (د) দ্বারা নয় (৭)। সুতরাং আমরা বলব: ধরাবা (ضَرَبَ) শব্দটি "ফায়ালা" (فَعَلَ) এর ওজনে (وزن), তার গঠন ও ছাঁদ অনুযায়ী গঠিত। দাহরাজা (دَحْرَجَ) শব্দটি "ফায়লালা" (فَعْلَلَ) এর উদাহরণ এবং সাফারজাল (سَفَرْجَلٌ) হলো "ফায়াল্লাল" (فَعَلَّلٌ) এর ওজনে, যেখানে প্রথম 'লাম' (ل) বর্ণটি দ্বিত্ব বা তাশদীদযুক্ত। আর আখরাজা (أخْرَجَ) শব্দটি "আফয়ালা" (أفْعَلَ) এর উদাহরণ।
মূল বর্ণের পরিবর্তে (البدل) যা আসে, সেক্ষেত্রে উভয় প্রকার ওজনই বৈধ। যেমন কিসাউন (كِسَاءٌ) এর ওজন: "ফিয়ালুন" (فِعَالٌ) অথবা "ফিয়াউন" (فِعَاءٌ) হতে পারে। এর মূল রূপ ছিল "কিসাউ" (كِسَاو), কিন্তু শেষে অবস্থিত হওয়ার কারণে 'ওয়াও' (و) বর্ণটি 'হামজা' (ء) তে রূপান্তরিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[أبْنِيَةُ الأسْمَاء"]
أبْنِيَةُ الأسْمَاءِ: ثُلاثِي، وَرُبَاعِي، وخُمَاسِيٌّ.
فَلِلثُّلاثِيِّ عَشَرَةُ أبْنِيَةٍ، والقِسْمَةُ تَقْتَضِي اثْنَيْ عَشَرَ بِنَاءً (1) ، سَقَطَ (2)
--------------------------------------------
[বিশেষ্যের গঠনসমূহ]বিশেষ্যের গঠনসমূহ হলো: ত্রিমৌলিক (ثلاثي), চতুর্মৌলিক (رباعي) এবং পঞ্চামৌলিক (خماسي)।
ত্রিমৌলিকের জন্য দশটি গঠন রয়েছে; যদিও গাণিতিক বিন্যাস অনুযায়ী বারোটি গঠন হওয়া আবশ্যক (১), তবে বিলুপ্ত হয়েছে (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
"فِعُل " بِكَسْرِ الفَاءِ وضَمِّ العَيْنِ، و"فُعِل " بِضمِّ الفَاءِ وَكَسْرِ العَيْنِ، وقَدْ جَاءَ حِبُك ودُئِل (3) ، وهُمَا نَادِرَانِ، فَلا يَكُونَانِ أصْلاً في الوَزْنِ.
فَالعَشَرَة الأبْنِيَة في الاسْمِ وَالصِّفَةِ، على:
[1]- فَعْل: كَلْبٌ فِي الاسْمِ، وَسَهْلٌ فِي الصِّفَةِ.
--------------------------------------------
"ফি'উল" (فِعُل) ফাউ-এর নিচে কাসরাহ এবং আইন-এর ওপর দম্মাহ বিশিষ্ট, এবং "ফু'ইল" (فُعِل) ফাউ-এর ওপর দম্মাহ এবং আইন-এর নিচে কাসরাহ বিশিষ্ট; এই ছাঁচে 'হিবুক' এবং 'দুয়িল' শব্দ দুটি এসেছে (৩), তবে এই দুটি অত্যন্ত বিরল (نادر)। তাই ওজনের (وزن) ক্ষেত্রে এগুলো মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গণ্য হয় না।
বিশেষ্য (اسم) এবং বিশেষণের (صفة) দশটি রূপ কাঠামো (بناء) নিম্নরূপ:
[১]- ফা'ল (فَعْل): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে যেমন 'কালবুন' (কুকুর), এবং বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে যেমন 'সাহলুন' (সহজ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[2]- وفَعَل: كَفَرَسِ فِي الاسْمِ، وحَسَن فِي الصِّفَةِ.
[3]-وفَعُل: كَرَجُل في الاسْمِ، ونَطُق فِي الصِّفَةِ.
[4]- وفَعِل: كَكَبِد فِي الاسْمِ، وحَذِر فِي الصِّفَةِ.
[5]-وفُعُل: كعُنُق في الاسْمِ، وجُنُب فِي الصِّفَةِ.
[6]- وفُعَل: كصُرَد (4) في الاسم، وخُتَع (5) في الصفة.
[7]-[وفُعْل: كقُفْل وبُرْد وقُرْط في الاسم، وحُلْوٌ ومُر في الصفة] (6)
[8]- وفِعْل: كحِمْل في الاسم، ونقْض في الصفة.
[9]- وفِعِل: كإِبِل في الاسم، وإِبِد (7) في الصفة.
--------------------------------------------
[2]- ফায়াল: বিশেষ্য হিসেবে 'ফারাস' (ঘোড়া) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে উত্তম (حسن)-এর মতো।
[3]- ফাউল: বিশেষ্য হিসেবে 'রাজুল' (ব্যক্তি) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'নাতুক' (বাগ্মী)-এর মতো।
[4]- ফাইল: বিশেষ্য হিসেবে 'কাবিদ' (কলিজা) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'হাযির' (সতর্ক)-এর মতো।
[5]- ফুউল: বিশেষ্য হিসেবে 'উনুক' (ঘাড়) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'জুনুব' (অপবিত্র)-এর মতো।
[6]- ফুয়াল: বিশেষ্য হিসেবে 'সুরাদ' (৪) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'খুতা' (৫)-এর মতো।
[7]- [ফুল: বিশেষ্য হিসেবে 'কুফল', 'বুরদ' ও 'কুরত'-এর মতো এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'হুলউ' (মিষ্টি) ও 'মুর' (তিতো)-এর মতো] (৬)
[8]- ফিল: বিশেষ্য হিসেবে 'হিমল' (বোঝা) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'নিকদ' (চুক্তিভঙ্গ)-এর মতো।
[9]- ফিয়িল: বিশেষ্য হিসেবে 'ইবিল' (উট) এবং গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'ইবিদ' (৭)-এর মতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
[10]- وفِعَل: كعِنَب في الاسم، وسِوَى (8) في الصفة. وللرباعي خمسةُ أبنية في الاسم والصفة، على:
[1]-فَعْلَل: كثَعْلَب في الاسم، وسَهْلَبْ (9) في الصفة.
[2]- وفِعْلِل: كزِبْرِج (10) في الاسم، وخِزْمِل (11) في الصفة.
[3]- وفِعْلَل: كدِرْهَم في الاسم، وهِجْرَع (12) في الصفة.
[4]- وفُعْلُل: كبُرْثُن (13) في الاسم، وجُرْشع (14) في الصفة.
[5]- وفِعَلّ: كَقِمَطْر (1) في الاسم.
--------------------------------------------
[10]- এবং ফিয়াল (فِعَل): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে 'ইনাব' (عِنَب)-এর মতো, এবং বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে 'সিওয়া' (سِوَى) (৮)-এর মতো। চতুরক্ষরবিশিষ্ট শব্দের জন্য বিশেষ্য (اسم) ও বিশেষণের (صفة) পাঁচটি গঠনরীতি রয়েছে:
[1]- ফাল্লাল (فَعْلَل): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে 'সা'লাব' (ثَعْلَب)-এর মতো, এবং বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে 'সাহলাব' (سَهْلَبْ) (৯)-এর মতো।
[2]- এবং ফিল্লিল (فِعْلِل): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে 'যিবরিজ' (زِبْرِج) (১০)-এর মতো, এবং বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে 'খিযমিল' (خِزْمِل) (১১)-এর মতো।
[3]- এবং ফিলাল (فِعْلَل): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে 'দিরহাম' (دِرْهَم)-এর মতো, এবং বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে 'হিজরা' (هِجْرَع) (১২)-এর মতো।
[4]- এবং ফুল্লাল (فُعْلُل): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে 'বুরসুন' (بُرْثُن) (১৩)-এর মতো, এবং বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে 'জুরশা' (جُرْشع) (১৪)-এর মতো।
[5]- এবং ফিয়াল্ল (فِعَلّ): বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে 'কিমাতর' (قِمَطْر) (১)-এর মতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিফতাহ ফিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وزاد الأخفش (16) بناءً / سادساً، وهو " فُعْلَل ".كجُنْدَب.
وللخماسي أربعةُ أبنية في الاسم والصفة، على:
[1]- فِعْلَلّ: كقِرْطَعْب (17) في الاسم، وجِرْدَحْل (18) .
[2]-وفَعْلَلِل: كقَهْبَلِس في الاسم، وجَحْمَرِش (19) في الصفة.
--------------------------------------------
এবং আল-আখফাশ (১৬) ষষ্ঠ একটি কাঠামো (بناء) বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো "ফুরলাল" (فُعْلَل); যেমন: জুনদাব (جُنْدَب)।
আর পঞ্চাক্ষরবিশিষ্ট (খুমাসি) শব্দের জন্য বিশেষ্য ও বিশেষণে চারটি কাঠামো রয়েছে:
[১]- ফিরলাল্ল (فِعْلَلّ): যেমন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে কিরতাব (قِرْطَعْب) (১৭) এবং জিরদাহল (جِرْدَحْل) (১৮)।
[২]-এবং ফারালালিল (فَعْلَلِل): যেমন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে কাহবালিস (قَهْبَلِس) এবং বিশেষণের ক্ষেত্রে জাহমারিশ (جَحْمَرِش) (১৯)।
--------------------------------------------