(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفتاوى اليومية من المسائل الفقهية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الفتاوى اليومية من المسائل الفقهية
في (الطهارة - الصلاة - الزكاة - الصيام - الحج - الهدي والأضحية والعقيقة وتسمية المولود) للإمام وجماعة المسجد
اختيار وترتيب: أحمد بن صالح بن عمر بن مرشد
الناشر: دار طيبة الخضراء - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1444 هـ
عدد الصفحات: 249
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الأولى 1444
ফিকহি মাসআলাসমূহের প্রাত্যহিক ফতোয়া বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ফিকহি মাসআলাসমূহের প্রাত্যহিক ফতোয়া
ইমাম ও মসজিদের মুসল্লিদের জন্য (পবিত্রতা - নামাজ - জাকাত - রোজা - হজ - হাদি, কুরবানি, আকিকা এবং নবজাতকের নামকরণ) বিষয়ক
সংকলন ও বিন্যাস: আহমদ বিন সালিহ বিন উমর বিন মুরশিদ
প্রকাশক: দার তাইয়্যিবাহ আল-খাদরা - মক্কা আল-মুকাররামা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على عبد الله ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد:
فنظرًا للحاجة الماسة لنشر العلم الشرعي وتقريبه لعامة الناس بطرق موجزة ميسرة، فقد مَنَّ الله عليَّ باختيار جملة من الفتاوى المتعلقة بفقه العبادات (الطهارة - الصلاة - الزكاة - الصيام - الحج - الهدي والأضحية والعقيقة وتسمية المولود) واقتصرت على نقل الإجابة دون السؤال غالبًا، وفي حال وجود أسئلة متشابهة عن موضوع واحد اقتصرت على اختيار واحد منها راعيت فيه أن يكون أشملها وأكثرها تفصيلاً، وأحيانًا اقتصر على نقل ما تدعو الحاجة لمعرفته دون ذكر تفاصيل أخرى قد لا يحتاجها عامة الناس، ورقمت هذه الفتاوى بأرقام تسلسلية وأتبعت كل فتوى بذكر رقم الجزء والصفحة الموجودة فيها، وكان مصدري الوحيد في ذلك هو فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والافتاء والطبعة التي تم الاختيار منها هي الطبعة الأولى الصادرة في عام 1417 هـ، وقد بلغ مجموع ما تم اختياره من الفتاوى في هذا الكتاب (843) فتوى.
وأسميت هذا الكتاب: (الفتاوى اليومية من المسائل الفقهية) في (الطهارة، الصلاة، الزكاة، الصوم، الحج، الهدي والأضحية والعقيقة وتسمية المولود) للإمام وجماعة المسجد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:
শরয়ী ইলম প্রচারের তীব্র প্রয়োজনীয়তা এবং সংক্ষিপ্ত ও সহজ পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে আল্লাহ তাআলা আমাকে ইবাদতের ফিকহ (পবিত্রতা, সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, হাদি, কুরবানি, আকিকা এবং নবজাতকের নামকরণ) সংক্রান্ত একগুচ্ছ ফতোয়া নির্বাচনের তৌফিক দান করেছেন। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশ্নের পরিবর্তে কেবল উত্তরটি উদ্ধৃত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। একই বিষয়ে একাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ প্রশ্ন থাকলে, আমি সেগুলোর মধ্য থেকে এমন একটি নির্বাচন করেছি যা অধিকতর ব্যাপক ও বিস্তারিত। কখনো কখনো কেবল ততটুকু অংশই উদ্ধৃত করেছি যা জানা প্রয়োজন, সাধারণ মানুষের অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত বিবরণ পরিহার করেছি। আমি এই ফতোয়াগুলোকে ক্রমানুসারে নম্বর প্রদান করেছি এবং প্রতিটি ফতোয়ার শেষে সংশ্লিষ্ট খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার একমাত্র উৎস ছিল ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা এবং যে সংস্করণ থেকে ফতোয়াগুলো নির্বাচন করা হয়েছে তা হলো ১৪১৭ হিজরিতে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণ। এই গ্রন্থে নির্বাচিত মোট ফতোয়ার সংখ্যা ৮৪৩টি।
আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি: (আল-ফাতাওয়া আল-ইয়াউমিয়্যাহ মিনাল মাসায়িল আল-ফিকহিয়্যাহ) যা (পবিত্রতা, সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, হাদি, কুরবানি, আকিকা এবং নবজাতকের নামকরণ) বিষয়ক এবং ইমাম ও মসজিদের মুসল্লিদের জন্য সংকলিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بحيث يقرأ إمام المسجد كل يوم على جماعة مسجده صفحة واحدة فقط، أو نصف صفحة أو يقتصر على قراءة فتوى واحدة إذا كانت طويلة، ويحرص على القراءة بتؤدة، ولو دعت الحاجة لإعادة قراءة الصفحة مرة أخرى قرأها لأن المقصود إفادة المستمع واستيعابه ولو كان المقروء قليلاً، وختامًا أسأل الله تعالى أن يجعل عملنا كله صالحًا ولوجهه خالصًا والحمد لله أولاً وأخرًا وظاهرًا وباطنًا.
ثم أزجي جزيل الشكر وأوفاه لمن دعم طبع هذا الكتاب غفر الله لهم ولوالديهم وجعل ذلك في ميزان حسناتهم وأسعد بتلقي أي ملاحظة أو استفسار أو اقتراح على البريد الالكتروني:ahmd577@gmile.com
أحمد بن صالح بن عمر بن مرشد
في مدينة الرياض 3/ 8/ 1443 هـ.
وبالله التوفيق، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، والحمد لله رب العالمين.
যাতে মসজিদের ইমাম প্রতিদিন তাঁর মসজিদের জামাতের নিকট মাত্র এক পৃষ্ঠা, অথবা আধা পৃষ্ঠা পাঠ করেন, কিংবা ফতোয়াটি দীর্ঘ হলে কেবল একটি ফতোয়া পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তিনি ধীরস্থিরভাবে পাঠ করার বিষয়ে যত্নবান হবেন; আর যদি পৃষ্ঠাটি পুনরায় পাঠ করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তিনি তা পাঠ করবেন। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রোতাকে উপকৃত করা এবং বিষয়টি তাঁর আত্মস্থ করা, যদিও পঠনটি পরিমাণে অল্প হয়। পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকল আমলকে সৎ কর্মে পরিণত করেন এবং তা একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
অতঃপর যারা এই গ্রন্থটি মুদ্রণে সহায়তা করেছেন, আমি তাদের প্রতি আন্তরিক ও পূর্ণাঙ্গ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাদের এবং তাদের পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং বিষয়টিকে তাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন। যেকোনো মন্তব্য, জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ এই ইমেইল ঠিকানায়: ahmd577@gmile.com গ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত হব।
আহমদ বিন সালিহ বিন উমর বিন মুরশিদ
রিয়াদ শহর, ৩/ ৮/ ১৪৪৩ হিজরি।
আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়। আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সকলের ওপর। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - كل من تعلم مسألة من مسائل الشريعة الإسلامية بدليلها ووثق من نفسه فيها فعليه إبلاغها وبيانها عند الحاجة (5/ 48).
2 - مدرسة دين متخرجة من الكلية المتوسطة قسم دراسات إسلامية وقد اطلعت على مجموعة من الكتب الفقهية فما هو الحكم حين أسأل من قبل الطالبات فأجاوبهن على حسب معرفتي
… ؟ عليك مراجعة الكتب والاجتهاد ثم الاجابة بما غلب على ظنك أنه الصواب ولا حرج عليك في ذلك أما إذا شككت في الجواب ولم يتبين لك الصواب فقولي: لا أدري وعديهن بالبحث ثم أجيبهن بعد المراجعة أو سؤال أهل العلم للاهتداء إلى الصواب حسب الأدلة الشرعية (5/ 49).
3 - لا يجوز للمسلم أن يفتي بغير علم لقوله تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [الأسراء: 36]، وقوله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] وبناء على ذلك فالواجب عليك إذا سئلت أسئلة ولم تتأكد من صحة الإجابة عنها فقل: الله أعلم أو لا أدري وفي ذلك سلامة لدينك وعرضك وعمل بالأدب الشرعي (5/ 51).
1 - ইসলামি শরিয়তের মাসআলাসমূহের (مسائل) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো একটি মাসআলা (مسألة) তার দলীলসহ (بدليلها) শিক্ষা করবে এবং সে বিষয়ে নিজের ওপর আস্থা রাখবে, তার কর্তব্য হলো প্রয়োজনে তা পৌঁছে দেওয়া এবং বর্ণনা করা (৫/ ৪৮)।
2 - ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ইসলামি শিক্ষা বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ একজন দ্বীনি শিক্ষিকা, যিনি বেশ কিছু ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব অধ্যয়ন করেছেন; এমতাবস্থায় যখন ছাত্রীরা আমাকে কোনো প্রশ্ন করে এবং আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী উত্তর দেই, তখন এর বিধান কী
… ? আপনার কর্তব্য হলো কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করা এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করা, অতঃপর আপনার নিকট যা সঠিক হওয়ার বিষয়ে প্রবল ধারণা (غلب على ظنك) হবে সেই অনুযায়ী উত্তর প্রদান করা। এতে আপনার কোনো অসুবিধা নেই। তবে যদি আপনি উত্তরের ব্যাপারে সন্দিহান হন এবং সঠিকটি আপনার নিকট স্পষ্ট না হয়, তবে বলুন: 'আমি জানি না'। তাদের সাথে ওয়াদা করুন যে আপনি এটি নিয়ে গবেষণা (بالبحث) করবেন, এরপর তা পর্যালোচনা করে অথবা আহলে ইলম (أهل العلم) বা বিজ্ঞ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসার মাধ্যমে শরয়ী দলীলসমূহের (الأدلة الشرعية) আলোকে সঠিক দিশা লাভ করে তাদের উত্তর দিন (৫/ ৪৯)।
3 - কোনো মুসলিমের জন্য ইলম (علم) ব্যতীত ফতোয়া (يفتي) প্রদান করা বৈধ নয়। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না} [আল-ইসরা: ৩৬]। তিনি আরও বলেন: {বলুন, আমার পালনকর্তা কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন—আর হারাম করেছেন গুনাহ, অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} [আল-আরাফ: ৩৩]। এর ওপর ভিত্তি করে, আপনাকে যখন কোনো প্রশ্ন করা হয় এবং উত্তরের সঠিকতা (صحة) সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত না হন, তখন আপনার কর্তব্য হলো বলা: 'আল্লাহ সর্বজ্ঞ' অথবা 'আমি জানি না'। এর মধ্যেই আপনার দ্বীন ও সম্মানের নিরাপত্তা রয়েছে এবং এটি শরয়ী আদব (الأدب الشرعي) অনুযায়ী আমল করা (৫/ ৫১)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
4 - إذا كان السائل من طلبة العلم ولديه قوة على المشاركة في فهم الأدلة يسأل العالم عن الدليل ويناقشه فيه ليطمئن قلبه ويكون على بينة وبصيرة من الحكم ودليله وإلا اكتفى بجواب العالم (5/ 53).
5 - لا يجب على أحد اتباع مذهب بعينه من هذه المذاهب بل عليه أن يجتهد في معرفة الحق إن أمكنه أو يستعين في ذلك بالله ثم بالثروة العلمية التي خلفها السابقون من علماء المسلمين لمن بعدهم ويسروا لهم بها طريق فهم النصوص وتطبيقها ومن لم يمكنه استنباط الأحكام من النصوص ونحوها لأمر ما عاقه عن ذلك سأل أهل العلم الموثوق بهم عما يحتاجه من أحكام الشريعة لقوله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} وعليه أن يتحرى في سؤاله من يثق به من المشهورين بالعلم والفضل والتقوى والصلاح (5/ 57).
4 - যদি প্রশ্নকারী ইলম অন্বেষী হন এবং তাঁর দলীলসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সক্ষমতা থাকে, তবে তিনি আলেমকে দলীল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং এ বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করবেন যাতে তাঁর অন্তর প্রশান্ত হয় এবং তিনি বিধান ও তার দলীল সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর থাকতে পারেন; অন্যথায় তিনি আলেমের উত্তরের ওপরই যথেষ্ট করবেন (৫/ ৫৩)।
5 - এই মাযহাবগুলোর মধ্য হতে নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব অনুসরণ করা কারো ওপর আবশ্যক নয়; বরং তাঁর উচিত সত্য অনুধাবনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো যদি তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়, অথবা এ ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং পরবর্তীতে মুসলিম উলামায়ে কেরাম যে ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন তার সাহায্য গ্রহণ করা, যার মাধ্যমে তাঁরা নসসমূহ অনুধাবন ও তা প্রয়োগের পথ সহজ করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে নসসমূহ থেকে বিধান আহরণ করতে সক্ষম নন, তিনি শরীয়তের প্রয়োজনীয় বিধান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য (الموثوق بهم) আলেমদের জিজ্ঞাসা করবেন; মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।" আর প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর উচিত এমন ব্যক্তির অনুসন্ধান করা যাকে তিনি ইলম, মর্যাদা, তাকওয়া ও সততার জন্য নির্ভরযোগ্য (يثق به) বলে মনে করেন (৫/ ৫৭)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الطهارة6 - الأصل في الماء الطهارة فإذا تغير لونه أو طعمه أو ريحه بنجاسة فهو نجس سواء كان قليلاً أو كثيرًا وإذا لم تغيره النجاسة فهو طهور لكن إذا كان قليلاً جدًا فينبغي عدم التطهر به احتياطًا وخروجًا من الخلاف وعملاً بحديث أبي هريرة مرفوعًا: "إذا ولغ الكلب في إناء أحدكم فليرقه" الحديث (5/ 69).
7 - إقدام الجنب على الاغتسال في الماء الدائم الذي لا يجري لا يجوز لما رواه مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "لا يغتسل أحدكم في الماء الدائم وهو جنب" فقيل: كيف يفعل يا أبا هريرة قال: يتناوله تناولاً (5/ 70).
8 - إذا بلغ الماء الدائم قلتين فأكثر ولم يتغير لونه أو طعمه أو ريحه بالاغتسال فيه من الجنابة أجزأ الوضوء والغسل منه وصلح لتطهير الأخباث والأحداث، وإن تغير بنجاسة لم يصح استعماله في طهارة أحداث ولا أخباث إجماعًا، وإن تغير بمجرد تتابع الاغتسال من الجنابة فيه لا بنجاسة ففي طهوريته خلاف والأحوط ترك استعماله في الطهارة خروجًا من الخلاف. وإن كان أقل من قلتين واغتسل فيه جنب فإن تغير بنجاسة جنب كانت على بدنه لم يصح التطهر به من الأحداث ولا الأخباث وإن لم يتغير بنجاسة ففي صحة التطهر به من الأحداث والأخباث خلاف والأحوط ترك استعماله في الطهارات عند تيسر غيره. (5/ 70).
পবিত্রতা6 - পানির মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা; সুতরাং অপবিত্রতার কারণে যদি এর রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অপবিত্র বলে গণ্য হবে, চাই পানির পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি। আর যদি অপবিত্রতার কারণে তা পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্রকারী হিসেবেই থাকবে। তবে পানি যদি পরিমাণে অত্যন্ত কম হয়, তবে সতর্কতা অবলম্বনে এবং মতভেদ পরিহার করার লক্ষ্যে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন না করাই সমীচীন; আর এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মারফূ (مرفوع) হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা ঢেলে ফেলে।" হাদিস (৫/ ৬৯)।
7 - জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য আবদ্ধ পানি—যা প্রবাহিত নয়—তাতে নেমে গোসল করা জায়েজ নয়। কারণ ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু হুরায়রা, তবে সে কী করবে? তিনি বললেন: সে তা হাতে তুলে নিয়ে ব্যবহার করবে। (৫/ ৭০)।
8 - আবদ্ধ পানি যদি দুই কুল্লা বা তার বেশি হয় এবং তাতে জানাবাতের গোসল করার কারণে তার রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত না হয়, তবে তা দিয়ে অজু ও গোসল করা যথেষ্ট হবে এবং তা নাপাকি ও অশুচিতা দূর করার উপযুক্ত বলে গণ্য হবে। আর যদি তা অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে ইজমা (إجماع) বা সর্বসম্মতিক্রমে তা দিয়ে অশুচিতা বা নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন করা শুদ্ধ হবে না। কিন্তু যদি তা অপবিত্রতার কারণে নয়, বরং স্রেফ একাদিক্রমে জানাবাতের গোসল করার ফলে পরিবর্তিত হয়, তবে এর পবিত্রকারী গুণের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; আর মতভেদ থেকে বাঁচতে পবিত্রতা অর্জনে তা ব্যবহার না করাই অধিকতর সতর্কতামূলক। আর পানি যদি দুই কুল্লার কম হয় এবং তাতে কোনো জুনুবী ব্যক্তি গোসল করে, এমতাবস্থায় যদি তার শরীরে লেগে থাকা অপবিত্রতার কারণে পানি পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে অশুচিতা বা নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন করা সঠিক হবে না। আর যদি তা অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত না হয়, তবে তা দিয়ে অশুচিতা ও নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের শুদ্ধতার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; এমতাবস্থায় অন্য পানি সহজলভ্য থাকলে পবিত্রতা অর্জনে এর ব্যবহার বর্জন করাই অধিকতর সতর্কতামূলক। (৫/ ৭০)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
9 - الأصل في الماء أنه طهور بنفسه مطهر لغيره إلا إذا تغير لونه أو طعمه أو ريحه بنجاسة تحدث فيه (5/ 73).
10 - مياه المجاري
… فإن المجلس يرى طهارتها بعد تنقيتها التنقية الكاملة بحث تعود إلى خلقتها الأولى لا يرى فيها تغير بنجاسة في طعم ولا لون ولا ريح ويجوز استعمالها في إزالة الأحداث والأخباث وتحصل الطهارة بها منها كما يجوز شربها إلا إذا كانت هناك أضرار صحية تنشأ عن استعمالها فيمتنع ذلك محافظة على النفس وتفاديًا للضرر لا لنجاستها. والمجلس إذ يقرر ذلك يستحسن الاستغناء عنها في استعمالها للشرب متى وجد إلى ذلك سبيل احتياطًا للصحة واتقاء للضرر وتنزها عما تستقذره النفوس وتنفر منه الطباع (5/ 80).
11 - الأصل أن يبول الرجل وهو جالس اقتداء بالنبي صلى الله عليه وآله وسلم فقد روى النسائي والترمذي وابن ماجه عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: "من حدثكم أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بال قائمًا فلا تصدقوه ما كان يبول إلا جالسًا"، وقال الترمذي وهو أحسن شيء في هذا الباب وأصح، ولكن إذا دعت الحاجة إلى بوله قائمًا جاز لما رواه أحمد والبخاري ومسلم وأصحاب السنن عن حذيفة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم انتهى إلى سباطة قوم فبال قائمًا فتنحيت فقال: "ادنه فدنوت حتى قمت عند عقبيه فتوضأ ومسح على خفيه"، والسباطة ملقى التراب والزبالة، ولو بال قائمًا لغير حاجة لم يأثم لكنه خالف في قضاء حاجته الأفضل والأكثر من فعله صلى الله عليه وآله وسلم وبذلك يجمع بين الحديثين المذكورين أو يحمل حديث عائشة رضي الله عنها بأنها لم تعلم ما اطلع عليه حذيفة رضي الله عنه (5/ 89).
9 - পানির মূল প্রকৃতি হলো তা স্বয়ং পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী, যতক্ষণ না এতে সৃষ্ট কোনো অপবিত্রতার কারণে এর রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয় (৫/ ৭৩)।
10 - নর্দমার পানি
… কাউন্সিল মনে করে যে, এই পানি পূর্ণাঙ্গরূপে পরিশোধনের পর যখন তা তার আদি অবস্থায় ফিরে আসে এবং এতে অপবিত্রতার দরুন স্বাদ, রঙ বা গন্ধে কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না, তখন তা পবিত্র। এটি দিয়ে হদস (অজু-গোসল ভঙ্গকারী অপবিত্র অবস্থা) ও নাপাকি (শারীরিক অপবিত্রতা) দূর করা জায়েজ এবং এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হয়। একইভাবে এটি পান করাও জায়েজ, তবে ব্যবহারের ফলে যদি স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে প্রাণ রক্ষা ও ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে তা পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে, তা অপবিত্রতার কারণে নয়। কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত প্রদানের পাশাপাশি পরামর্শ দেয় যে, স্বাস্থ্যগত সতর্কতা, ক্ষতি থেকে সুরক্ষা এবং মনের ঘৃণা ও স্বভাবগত অরুচি পরিহারের লক্ষ্যে যখনই বিকল্প কোনো উপায় পাওয়া যাবে, তখন পান করার ক্ষেত্রে এই পানি বর্জন করাই শ্রেয় (৫/ ৮০)।
11 - মূল নিয়ম হলো, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে বসে প্রস্রাব করা। নাসায়ি, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি তোমাদের বলবে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন, তাকে সত্য মনে করো না; তিনি কেবল বসেই প্রস্রাব করতেন।" ইমাম তিরমিজি বলেন, এই প্রসঙ্গে এটিই সবচেয়ে উত্তম (حسن) এবং সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনা। তবে যদি প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার দরকার হয় তবে তা জায়েজ, কারণ আহমদ, বুখারি, মুসলিম ও সুনান গ্রন্থকারগণ হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এক সম্প্রদায়ের আবর্জনা ফেলার স্থানে এসে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। আমি দূরে সরে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "কাছে এসো।" আমি কাছে গেলাম এমনকি তাঁর পায়ের গোড়ালি বরাবর দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসেহ করলেন। 'সুবাতাহ' হলো মাটি ও ময়লা ফেলার জায়গা। যদি কেউ প্রয়োজন ছাড়া দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে তবে সে গুনাহগার হবে না, কিন্তু সে প্রাকৃতিক হাজত পূরণের ক্ষেত্রে যা উত্তম এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ সময়ের আমলের পরিপন্থী কাজ করল। এর মাধ্যমে উল্লিখিত দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করা যায় অথবা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে, হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু যা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তা তাঁর জানা ছিল না (৫/ ৮৯)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
12 - يكره أن يذكر الله تعالى نطقًا داخل الحمام الذي تقضى فيه الحاجة تنزيها لاسمه واحترامًا له لكن تشرع له التسمية عند بدء الوضوء لأنها واجبة مع الذكر عند جمع من أهل العلم (5/ 94).
13 - لا يجوز دخول الحمام بالمصحف الشريف أما الشريط ونحوه المسجل عليه قرآن وكذا كتب العلم مسجلة أو غير مسجلة مما فيه ذكر الله فمكروه عند عدم الحاجة أما إذا احتاج لذلك فلا كراهية (5/ 95).
14 - الصحيح من أقوال العلماء أنه يحرم استقبال القبلة -الكعبة-واستدبارها عند قضاء الحاجة في الخلاء ببول أو غائط وأنه يجوز ذلك في البنيان وفيما إذا كان بينه وبين الكعبة ساتر قريب أمامه في استقبالها أو خلفه في استدبارها كرحل أو شجرة أو جبل أو نحو ذلك وهو قول كثير من أهل العلم (5/ 97).
15 - يجوز استعمال المناديل والأوراق ونحوهما في الاستجمار وتجزئ إذا أنقت ونظفت المحل من قُبُلٍ أو دُبُر والأفضل أن يكون استعمال ما يستجمر به وترًا ويجب ألا ينقص عن ثلاث مسحات ولا يجب استعمال الماء بعده لكنه سنة (5/ 107).
12 - যে শৌচাগারে হাজত পূরণ করা হয়, সেখানে আল্লাহ তাআলার নামের পবিত্রতা রক্ষা এবং তাঁর প্রতি সম্মানের খাতিরে মৌখিকভাবে তাঁর জিকির করা অপছন্দনীয় (مكروه)। তবে ওজু শুরুর প্রাক্কালে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা) শরীয়তসম্মত (مشروع); কারণ একদল বিজ্ঞ আলেমের মতে স্মরণে থাকা অবস্থায় এটি আবশ্যক (واجب)। (৫/৯৪)
13 - পবিত্র মুসহাফ (কুরআন) নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা বৈধ নয়। তবে কুরআন রেকর্ড করা আছে এমন ফিতা বা অনুরূপ বস্তু এবং ইলমি কিতাবসমূহ—যাতে আল্লাহর জিকির রয়েছে—প্রয়োজন ব্যতীত তা নিয়ে প্রবেশ করা অপছন্দনীয় (مكروه)। কিন্তু যদি প্রয়োজন থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় নয়। (৫/৯৫)
14 - আলেমদের বক্তব্যসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) হলো—খোলা জায়গায় পেশাব বা পায়খানার সময় কিবলার (কাবা) দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়া নিষিদ্ধ (حرام)। তবে ভবনের ভেতরে কিংবা যদি কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করার সময় সামনে বা পেছনে জিন, গাছ, পাহাড় বা অনুরূপ কোনো নিকটবর্তী আড়াল থাকে, তবে তা বৈধ। এটি অনেক বিজ্ঞ আলেমের অভিমত। (৫/৯৭)
15 - ইসতিজমার (পাথর বা কুলুখ ব্যবহার) করার ক্ষেত্রে টিস্যু, কাগজ বা এই জাতীয় বস্তু ব্যবহার করা বৈধ এবং যদি তা সম্মুখ বা পশ্চাৎপথকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে তবে তা যথেষ্ট হবে। কুলুখ হিসেবে ব্যবহৃত বস্তু বিজোড় সংখ্যায় হওয়া উত্তম এবং এটি তিনবারের কম হওয়া যাবে না। এরপর পানি ব্যবহার করা আবশ্যক (واجب) নয়, বরং এটি সুন্নত (سنة)। (৫/১০৭)
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
16 - الختان من سنن الفطرة وهو للذكور والإناث إلا أنه واجب في الذكور وسنة ومكرمة في حق النساء (5/ 113).
17 - السنة قص الشارب لا حلقه لقول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "قصوا الشوارب واعفوا اللحى خالفوا المشركين" متفق عليه. ولو حلقه فلا شيء عليه، أما اللحية فيجب اعفاؤها وتوفيرها لقوله صلى الله عليه وآله وسلم: "قصوا الشوارب ووفروا اللحى خالفوا المشركين" (5/ 132).
18 - تغيير الشيب بصبغ شعر الرأس واللحية بالحناء والكتم ونحوهما جائز بل مستحب وتغييره بالصبغ الأسود لا يجوز (5/ 165).
19 - يجب غسل ظاهر اللحية الكثيفة ولا يجب غسل باطنها ولا البشرة التي تحته ولكن يشرع تخليلها .. وأما اللحية الخفيفة التي تبين منها البشرة فإنه يجب غسل باطنها وظاهرها (5/ 207).
20 - الأفضل أن يقدم المتوضيء المضمضة والاستنشاق على غسل الوجه لعمل النبي صلى الله عليه وآله وسلم ولإجماع العلماء على استحباب تقديمها على غسل الوجه فإن قَدَّم غسل الوجه عليهما فوضوءه صحيح (5/ 207).
16 - খতনা করা স্বভাবজাত সুন্নাত (سنن الفطرة) এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য; তবে এটি পুরুষদের জন্য ওয়াজিব (واجب) এবং নারীদের ক্ষেত্রে সুন্নাত (سنة) ও সম্মানজনক (৫/ ১১৩)।
17 - সুন্নাত (السنة) হলো মোচ ছোট করা, মুণ্ডন করা নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: "তোমরা মোচ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো, মুশরিকদের বিরোধিতা করো।" হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। যদি কেউ মোচ মুণ্ডন করে তবে তার ওপর কোনো দায় নেই। তবে দাড়ির ক্ষেত্রে তা ছেড়ে দেওয়া এবং বৃদ্ধি করা ওয়াজিব (واجب); কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: "তোমরা মোচ ছোট করো এবং দাড়ি বাড়াও, মুশরিকদের বিরোধিতা করো" (৫/ ১৩২)।
18 - মেহেদি, কাতাম বা অনুরূপ রঞ্জক দ্বারা মাথা ও দাড়ির সাদা চুল পরিবর্তন করা জায়েজ (جائز), বরং এটি মুস্তাহাব (مستحب); তবে কালো রঙের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করা বৈধ নয় (৫/ ১৬৫)।
19 - ঘন দাড়ির বহিরাংশ ধৌত করা ওয়াজিব (واجب) এবং এর অভ্যন্তর ভাগ বা এর নিচের চামড়া ধৌত করা ওয়াজিব (واجب) নয়, তবে দাড়ি খিলাল করা শরয়ি বিধানসম্মত (يشرع)। আর পাতলা দাড়ি যার ভেতর থেকে চামড়া দেখা যায়, সেটির ভেতর ও বাহির উভয় অংশ ধৌত করা ওয়াজিব (واجب) (৫/ ২০৭)।
20 - ওজুকারীর জন্য কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়াকে মুখমণ্ডল ধৌত করার আগে সম্পন্ন করা উত্তম (الأفضل); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর আমল এবং মুখমণ্ডল ধৌত করার আগে এ দুটি কার্য সম্পাদন মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) থাকার কারণে। তবে কেউ যদি এই দুটির আগে মুখমণ্ডল ধৌত করে ফেলে, তবে তার ওজু সহিহ (صحيح) হবে (৫/ ২০৭)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
21 - الاستنشاق واجب في الوضوء لما ثبت من فعل النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأمره بقوله: "من توضأ فليستنثر" وقوله: "من توضأ فليستنشق" ومن لم يستنشق فوضوءه غير صحيح والواجب عليك إعادة الوضوء والصلاة (5/ 209).
22 - يجب المسح على الرأس في الوضوء مرة واحدة ومن توضأ ونسي المسح وجب عليه إعادة الوضوء إذا طال الفصل لأن الموالاة واجبة فإن ذكر في الحال مسح الرأس وأعاد غسل الرجلين (5/ 213).
23 - من غصب ماء وتوضأ به للصلاة أو ثوبًا وصلى فيه أو مالاً وحج به فكل من وضوئه وصلاته وحجه صحيح في أصح قولي العلماء وعليه التوبة إلى الله من ذلك (5/ 216).
24 - يجب على المسلم أن يمس الماء بشرته عند الوضوء وعليه إزالة ما يمنع وصول الماء إلى البشرة وبإمكان العاملين في الدهانات والبويه ونحوها لبس ما يقي أيديهم من وصول الدهان إليها (5/ 222).
25 - إذا توضأت فالأصل الطهارة ولا تلتفت إلى ما يعرض لك من الشكوك والوساوس فإن ذلك من ا لشيطان، نعم إن تيقنت أنه خرج منك شيء بعد الوضوء بطل وضوءك وعليك أن تتوضأ ثانية وهكذا ما تحس به في الصلاة من بقايا شيء من البول في القضيب عليك أن تتشاغل عنه وتبني على أصل الطهارة ولا حاجة إلى التفتيش بعد ذلك مما يسبب بقاء الوسوسة (5/ 228).
21 - ওযুর সময় নাকে পানি দেওয়া (استنشاق) ওয়াজিব (واجب); যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্ম এবং তাঁর নির্দেশ থেকে তা সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করবে সে যেন নাক ঝেড়ে পরিষ্কার করে" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি ওযু করবে সে যেন নাকে পানি দেয়"। যে ব্যক্তি নাকে পানি দিবে না তার ওযু সহিহ (صحيح) হবে না এবং আপনার জন্য ওযু ও সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক (واجب)। (৫/ ২০৯)।
22 - ওযুতে একবার মাথা মাসেহ করা ওয়াজিব (واجب)। যে ব্যক্তি ওযু করল কিন্তু মাসেহ করতে ভুলে গেল, যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তবে তার ওপর ওযু পুনরায় করা ওয়াজিব (واجب), কারণ ওযুর অঙ্গসমূহ বিরতিহীনভাবে ধারাবাহিকভাবে ধৌত করা (موالاة) ওয়াজিব (واجب)। আর যদি তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ে, তবে মাথা মাসেহ করবে এবং পুনরায় উভয় পা ধৌত করবে (৫/ ২১৩)।
23 - যে ব্যক্তি পানি আত্মসাৎ করে তা দিয়ে সালাতের জন্য ওযু করল, অথবা কোনো পোশাক আত্মসাৎ করে তাতে সালাত আদায় করল, কিংবা কোনো অর্থ আত্মসাৎ করে তা দিয়ে হজ করল, তবে আলেমদের বিশুদ্ধতর (أصح) মতানুসারে তার ওযু, সালাত এবং হজ সবই সহিহ (صحيح) হবে। তবে এ কাজের জন্য তাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে (৫/ ২১৬)।
24 - একজন মুসলিমের জন্য ওযুর সময় ত্বকে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব (واجب) এবং ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু অপসারণ করা তার জন্য আবশ্যক (واجب)। যারা রঙ বা বার্নিশ জাতীয় কাজে নিয়োজিত, তারা হাতে এমন কিছু পরিধান করতে পারেন যা তাদের হাতে রঙ লাগা থেকে রক্ষা করবে (৫/ ২২২)।
25 - আপনি যখন ওযু করবেন, তখন মূল ভিত্তি হলো পবিত্রতা (طهارة)। আপনার মনে যেসব সন্দেহ (شكوك) ও কুমন্ত্রণা (وساوس) দেখা দেয় সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করবেন না, কারণ তা শয়তানের পক্ষ থেকে। হ্যাঁ, যদি আপনি নিশ্চিত হন যে ওযুর পর আপনার শরীর থেকে কিছু নির্গত হয়েছে, তবে আপনার ওযু বাতিল হয়ে যাবে এবং আপনাকে পুনরায় ওযু করতে হবে। অনুরূপভাবে, সালাতের মধ্যে যদি লিঙ্গে প্রস্রাবের অবশিষ্টাংশ থাকার কোনো কিছু অনুভব করেন, তবে তা উপেক্ষা করবেন এবং পবিত্রতার (طهارة) মূল অবস্থার ওপর ভিত্তি করবেন। এর পর আর তল্লাশি করার প্রয়োজন নেই, কারণ তা কুমন্ত্রণা (وسوسة) বজায় থাকার কারণ হয়ে দাঁড়ায় (৫/ ২২৮)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
26 - للمتوضئ أن يمسح فوق الجورب وحده وفوق الكندرة وحدها إن كانت ساترة الكعبين لا ترى من وراءه بشرة القدمين وإن كانت غير ساترة للكعبين مسح عليها إذا كانت ملبوسة فوق جورب ساتر للكعبين وعلى ما ظهر من الجوربين فوق محل الغسل وصلى فيهما جميعًا ومتى خلع أحدهما خلع الآخر إذا كان المسح عليهما جميعًا أما إن كان المسح على الجوربين وحدهما فلا مانع من خلع الكندرة وبقاء الجوربين حتى تتم مدة المسح وهي يوم وليلة للمقيم وثلاثة أيام بلياليها للمسافر إذا كان لبسهما على طهارة وابتداء المدة من المسح بعد الحدث (5/ 238).
27 - ظهر ما يشبه الدمامل في رجلي وكان العلاج أن ألف مكان الدمل بلصقة بحيث لا يصلها الماء أثناء الوضوء ما حكم الوضوء في هذه الحالة؟
جـ: وضوءك صحيح إذا مسحت على اللصقة أو مر الماء عليها (5/ 248).
28 - لا نعلم دليلاً شرعيًا يدل على أن خروج الدم من غير الفرج من نواقض الوضوء والأصل أنه ليس ناقض والعبادات مبناها على التوقيف فلا يجوز لأحد أن يقول هذه العبادة مشروعة إلا بدليل وقد ذهب بعض أهل العلم إلى نقض الوضوء بخروج الدم الكثير عرفًا من غير الفرج فإذا توضأ من خرج منه ذلك احتياطًا وخروجًا من الخلاف فهو حسن لقول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "دع ما يريبك إلى مالا يريبك" (5/ 261).
26 - ওযুকারীর জন্য অনুমতি রয়েছে যে সে চাইলে শুধুমাত্র মোজা (الجورب) অথবা শুধুমাত্র জুতোর (الكندرة) ওপর মাসেহ (المسح) করবে, যদি তা উভয় টাখনুকে আবৃতকারী (ساترة الكعبين) হয় এবং যার নিচ থেকে পায়ের চামড়া দেখা না যায়। আর যদি তা টাখনুদ্বয়কে আবৃতকারী (غير ساترة للكعبين) না হয়, তবে যদি তা টাখনু পর্যন্ত আবৃতকারী মোজার ওপর পরিহিত থাকে, তবে সেই জুতোর ওপর এবং মোজার যে অংশ প্রকাশিত থাকে তার ওপর মাসেহ (مسح) করবে এবং উভয়টি পরিহিত অবস্থায় নামাজ আদায় করবে। আর যখনই একটি খুলে ফেলবে তখন অন্যটিও খুলে ফেলবে যদি মাসেহ (المسح) উভয়টির ওপর হয়ে থাকে। কিন্তু যদি মাসেহ (المসح) শুধুমাত্র মোজার ওপর করা হয়, তবে জুতো খুলতে কোনো বাধা নেই এবং মাসেহ’র (المسح) সময়কাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোজা অবশিষ্ট থাকবে। মাসেহ’র (المسح) সময়কাল হলো মুকিম (للمقيم) বা স্থানীয় ব্যক্তির জন্য একদিন এক রাত এবং মুসাফির (للمسافر) বা সফরকারীর জন্য তিন দিন ও তিন রাত, যদি তা পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের পর পরিধান করা হয়; আর মেয়াদের শুরু হবে অপবিত্র (الحدث) হওয়ার পর প্রথম মাসেহ (المسح) থেকে। (৫/ ২৩৮)।
27 - আমার পায়ে ফোঁড়ার মতো কিছু প্রকাশ পেয়েছে এবং এর চিকিৎসা হলো ফোঁড়ার স্থানটি প্লাস্টার (بلصقة) দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা যাতে ওযুর সময় সেখানে পানি না পৌঁছায়; এমতাবস্থায় ওযুর হুকুম (حكم) কী?
উত্তরঃ তোমার ওযু সহিহ (صحيح) হবে যদি তুমি প্লাস্টারের ওপর মাসেহ (مسحت) করো অথবা তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করো। (৫/ ২৪৮)।
28 - আমরা এমন কোনো শরিয়তসম্মত দলিল (دليلاً شرعيًا) জানি না যা প্রমাণ করে যে, লজ্জাস্থান (الفرج) ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে রক্ত নির্গত হওয়া ওযু ভঙ্গকারী (نواقض الوضوء) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। মূলনীতি হলো এটি ওযু ভঙ্গকারী (ناقض) নয় এবং ইবাদতসমূহের ভিত্তি হলো তাওকীফী (التوقيف) বা অহি-র বিধানের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং দলিল (دليل) ব্যতীত কারো জন্য এটি বলা বৈধ নয় যে এই ইবাদতটি বিধিবদ্ধ। তবে কোনো কোনো আলেম লজ্জাস্থান (الفرج) ব্যতীত অন্য স্থান থেকে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অধিক পরিমাণে রক্ত নির্গত হওয়াকে ওযু ভঙ্গকারী (نقض الوضوء) বলে গণ্য করেছেন। সুতরাং যদি কেউ সতর্কতা (احتياطًا) হিসেবে এবং মতভেদ থেকে উত্তরণের (خروجًا من الخلاف) লক্ষ্যে ওযু করে নেয়, তবে তা উত্তম; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে নিঃসন্দগ্ধ বিষয়টি গ্রহণ করো।" (৫/ ২৬১)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
29 - المر الذي يخرج عند شرب أو أكل أي شيء وهو قليل لا يملأ الفم أو قد يحصل أعلى الحلق ثم يرجع هل يقطع الوضوء؟
جـ: لا يقطع الوضوء ولا ينقضه (5/ 262).
30 - النوم الخفيف الذي لا يزول معه الشعور لا ينقض الوضوء فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يؤخر صلاة العشاء بعض الأحيان حتى كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم تخفق رؤوسهم ثم يصلون ولا يتوضئون (5/ 263).
31 - الراجح من أقوال العلماء .. قول الجمهور وهو نقض وضوء من مس ذكره لأن حديث "ما هو إلا بضعة منك" ضعيف لا يقوى على معارضة الأحاديث الصحيحة الدالة على أن من مس ذكره فعليه الوضوء والأصل أن الأمر للوجوب وعلى تقدير عدم ضعفه فهو منسوخ بحديث "من مس ذكره فليتوضأ" (5/ 264).
32 - لمس العورة بدون حائل ينقض الوضوء سواء كان الملموس صغيرًا أو كبيرًا لما ثبت أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "من مس فرجه فليتوضأ" وفرج الممسوس مثل فرج الماس (5/ 265).
29 - কোনো কিছু পান বা আহার করার সময় যে তিক্ত স্বাদ নির্গত হয় এবং তা যদি পরিমাণে অল্প হয় যা মুখ ভর্তি করে না, অথবা তা যদি কণ্ঠনালীর উপরের অংশে এসে পুনরায় ফিরে যায়, তবে কি তা অজু ভঙ্গ করবে?
উত্তর: তা অজু ভঙ্গ করে না এবং তা বিনষ্টকারীও নয় (৫/ ২৬২)।
30 - হালকা ঘুম যার ফলে অনুভূতি লোপ পায় না, তা অজু ভঙ্গ করে না। কেননা এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো ইশার সালাত বিলম্বিত করতেন, যার ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মাথা (তন্দ্রায়) ঝুঁকে পড়ত, অতঃপর তারা সালাত আদায় করতেন এবং পুনরায় অজু করতেন না (৫/ ২৬৩)।
31 - আলেমদের মতামতের মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) হলো জমহুর (الجمهور) তথা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মত; আর তা হলো লিঙ্গ স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হওয়া। কারণ "এটি তো তোমার শরীরের একটি অংশ মাত্র" হাদিসটি দুর্বল (ضعيف); এটি সেই সকল বিশুদ্ধ (الصحيحة) হাদিসের বিরোধিতা করার শক্তি রাখে না যা প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে তার ওপর অজু করা আবশ্যক। আর মূলনীতি হলো, নির্দেশ মূলত আবশ্যিকতা (الوجوب) বুঝানোর জন্য আসে। আর যদি একে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য না-ও করা হয়, তবে তা "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে সে যেন অজু করে" এই হাদিস দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে (৫/ ২৬৪)।
32 - কোনো প্রকার অন্তরায় ব্যতীত লজ্জাস্থান স্পর্শ করা অজু ভঙ্গ করে, স্পর্শকৃত ব্যক্তি ছোট হোক বা বড় হোক। কারণ এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে সে যেন অজু করে।" আর যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার লজ্জাস্থান স্পর্শকারীর লজ্জাস্থানের মতোই গণ্য (৫/ ২৬৫)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
33 - الصحيح من أقوال العلماء أن لمس المرأة أو مصافحتها لا ينقض الوضوء مطلقًا سواء كانت أجنبية أم زوجة أم محرمًا لأن الأصل استصحاب الوضوء حتى يثبت من الشرع ما يدل على نقضه ولم يثبت ذلك في حديث صحيح، وأما الملامسة في قوله تعالى: {أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ} الآية من سورة المائدة فالمراد بها الجماع على الصحيح من أقوال العلماء (5/ 268).
34 - القبلة لا تنقض الوضوء على الصحيح من أقوال العلماء ولو وجد لذة إذا لم ينزل ولا تفسد الصوم (5/ 269).
35 - .. فإن المجلس يرى جواز تشريح جثة الآدمي في الجملة إلا أنه نظرًا إلى عناية الشريعة الإسلامية بكرامة المسلم ميتًا كعنايتها بكرامته حيًا وذلك لما روى أحمد وأبو داود وابن ماجه عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "كسر عظم الميت ككسره حيا" ونظرًا إلى أن التشريح فيه امتهان لكرامته وحيث أن الضرورة إلى ذلك منتفية بتيسير الحصول على جثث أموات غير معصومة فإن المجلس يرى الاكتفاء بتشريح مثل هذه الجثث وعدم التعرض لجثث أموات معصومين والحال ما ذكر.
ثانيا: لا يوجب التشريح وضوءا ولا غسلاً (5/ 272).
33 - ওলামায়ে কেরামের অভিমতসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো এই যে, নারীকে স্পর্শ করা বা তার সাথে মুসাফাহা করা কোনো অবস্থাতেই অজু ভঙ্গ করে না; চাই সে পরনারী হোক কিংবা স্ত্রী অথবা মাহরাম। কারণ মূলনীতি হলো অজু বহাল থাকা, যতক্ষণ না শরিয়ত থেকে এমন কিছু প্রমাণিত হয় যা অজু ভঙ্গের দলিল হিসেবে গণ্য হবে। আর এ ব্যাপারে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিসে কিছু প্রমাণিত হয়নি। আর মহান আল্লাহর বাণী: {أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ} - সূরা আল-মায়িদার এই আয়াতে 'স্পর্শ' বলতে ওলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী সহবাস বোঝানো হয়েছে (৫/ ২৬৮)।
34 - ওলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ (الصحيح) অভিমত অনুযায়ী চুম্বন অজু ভঙ্গ করে না, যদিও তাতে তৃপ্তি অনুভূত হয় কিন্তু বীর্যপাত না ঘটে; এবং এটি রোজা নষ্ট করে না (৫/ ২৬৯)।
35 - .. পরিষদ সামগ্রিকভাবে মানবদেহের ব্যবচ্ছেদ বৈধ বলে মনে করে। তবে জীবিতাবস্থায় একজন মুসলিমের মর্যাদার প্রতি ইসলামি শরিয়ত যেভাবে যত্নশীল, মৃতাবস্থায়ও তার মর্যাদার প্রতি একইভাবে যত্নশীল হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে—কেননা আহমদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙা জীবিত অবস্থায় তার হাড় ভাঙার মতোই"—এবং যেহেতু ব্যবচ্ছেদের মধ্যে লাশের অবমাননা পরিলক্ষিত হয় এবং শরিয়ত কর্তৃক সংরক্ষিত নয় এমন মৃতদেহ প্রাপ্তি সহজ হওয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা দূরীভূত হয়েছে, তাই পরিষদ মনে করে যে, এ জাতীয় মৃতদেহের ব্যবচ্ছেদই যথেষ্ট এবং উল্লিখিত পরিস্থিতিতে শরিয়ত কর্তৃক সংরক্ষিত ব্যক্তিদের লাশের ক্ষেত্রে এমনটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত: ব্যবচ্ছেদের কারণে অজু বা গোসল কোনোটিই ওয়াজিব হয় না (৫/ ২৭২)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
36 - من أكل لحم جزور لزمه الوضوء للصلاة فريضة كانت الصلاة أم نافلة لقول صلى الله عليه وآله وسلم: "لما سئل عن الوضوء من لحوم الإبل قال نعم ولما سئل عن الوضوء من لحوم الغنم قال: إن شئت" رواه الإمام مسلم في صحيحه وقد قال العلامة ابن القيم رحمه الله في حكمة ذلك: إن الإبل معروفة بالحقد الشديد وإضمار الكيد لمن آذاها والحرص على الانتقام منه ولو طالت المدة وذكر أن الإنسان يكسب طبعه مما يتغذى به فشرع الوضوء لمن أكل لحم جزور لإزالة ما قد ينشأ عنه من الحقد والضغينة والواجب التسليم في الأحكام الشرعية كلها لله وإن لم تعرف الحكمة (5/ 273).
37 - شحوم الإبل وأحشائها ومصرانها هل تلحق بلحومها؟ لا ينتقض الوضوء إلا باللحم حسب ما جاء في الحديث الصحيح وهو قوله صلى الله عليه وآله وسلم: "توضأوا من لحوم الإبل" (5/ 276).
38 - لا ينتقض الوضوء بشرب ألبان الإبل على الصحيح من قولي العلماء (5/ 277).
39 - إذا شكيت في الحدث بعد الطهارة فاطرح الشك وابن على الطهارة فإن اليقين لا يزول بالشك (5/ 280).
36 - যে ব্যক্তি উটের মাংস আহার করবে, তার নামাজের জন্য অজু করা আবশ্যক হবে, নামাজটি ফরজ (فريضة) হোক কিংবা নফল (نافلة); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কে যখন উটের মাংস ভক্ষণের পর অজুর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: "হ্যাঁ", আর যখন ছাগলের মাংসের পর অজুর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "তুমি যদি চাও"। এটি ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এর হিকমত বা প্রজ্ঞা (حكمة) সম্পর্কে বলেছেন: উট অত্যন্ত হিংসুক এবং যে তাকে কষ্ট দেয় তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ ও প্রতিশোধ গ্রহণের লালসার জন্য পরিচিত, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ যা আহার করে তা থেকে তার স্বভাব ও চরিত্র প্রভাবিত হয়। তাই উটের মাংস ভক্ষণকারীর জন্য অজুর বিধান দেওয়া হয়েছে যাতে এর ফলে উৎপন্ন হতে পারে এমন হিংসা ও বিদ্বেষ দূরীভূত হয়। আর সমস্ত শরয়ী বিধানের (أحكام شرعية) ক্ষেত্রে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা ওয়াজিব (واجب), যদিও তার হিকমত বা প্রজ্ঞা (حكمة) জানা না থাকে (৫/ ২৭৩)।
37 - উটের চর্বি, নাড়িভুঁড়ি এবং অন্ত্র কি তার মাংসের পর্যায়ভুক্ত হবে? সহিহ (صحيح) হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী মাংস ব্যতীত অজু ভঙ্গ হবে না; আর তা হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা উটের মাংস খাওয়ার পর অজু করো" (৫/ ২৭৬)।
38 - ওলামায়ে কেরামের দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী উটের দুধ পান করলে অজু ভঙ্গ হয় না (৫/ ২৭৭)।
39 - পবিত্রতা অর্জনের পর যদি তোমার অপবিত্রতা (حدث) সম্পর্কে সন্দেহ হয়, তবে সেই সন্দেহ ত্যাগ করো এবং পবিত্রতার ওপর ভিত্তি করো। কেননা নিশ্চিত জ্ঞান (يقين) সন্দেহ (شك) দ্বারা অপসারিত হয় না (৫/ ২৮০)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
40 - يشرع لمن أسلم أن يغتسل لأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم "أمر بذلك قيس بن عاصم لما أسلم" رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي والنسائي وصححه ابن السكن (5/ 317).
41 - أما اغتسال المرأة من الحيض فقد اختلف في وجوب نقضها شعرها للغسل منه والصحيح أنها لا يجب عليها نقضه لذلك .... لكن الأفضل أن تنقض شعرها في الغسل من الحيض احتياطًا وخروجًا من الخلاف وجمعًا بين الأدلة (5/ 321).
42 - الصحيح من قولي العلماء أن دلك البدن والأعضاء ليس بفرض في الوضوء ولا في غسل الجنابة فيجزئ أن يفيض الجنب الماء على بدنه حتى يعمه وأن يصب الماء على أعضاء الوضوء حتى يعمها الماء لكنه ينبغي في غسل الجنابة أن يغسل أولاً ما على فرجه من النجاسة ثم يتوضأ مثل وضوئه للصلاة ثم يفيض الماء على سائر جسده حتى يعمه (5/ 323).
43 - يكفي الغسل من الجنابة عن الغسل والوضوء للصلاة جميعًا إن نواهما ويصلي به مالم ينتقض الوضوء بأي ناقض من نواقضه وإن نوى الغسل فقط لم يجزئه عن الوضوء على الصحيح من أقوال العلماء (5/ 326).
40 - যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাঁর জন্য গোসল করা বিধিসম্মত, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) "কায়েস বিন আসিমকে ইসলাম গ্রহণকালে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।" এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ এবং ইবনুল সাকান একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (৫/ ৩১৭)।
41 - আর ঋতুস্রাব থেকে মহিলার গোসলের ক্ষেত্রে, গোসলের জন্য তাঁর চুল খোলার আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সহিহ (صحيح) মত হলো যে, এর জন্য তাঁর চুল খোলা আবশ্যক নয়... তবে সতর্কতা হিসেবে, মতভেদ থেকে নিরসন পেতে এবং দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ঋতুস্রাবের গোসলে চুল খুলে ফেলা উত্তম (৫/ ৩২১)।
42 - আলেমদের দুটি মতের মধ্যে সহিহ (صحيح) মত হলো যে, অজু বা জানাবাতের গোসলে শরীর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মর্দন করা ফরজ নয়। অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তার শরীরে পানি প্রবাহিত করা যথেষ্ট যাতে তা পুরো শরীরকে আবৃত করে, এবং অজুর অঙ্গগুলোর ওপর পানি ঢালা যথেষ্ট যাতে পানি সেগুলোকে আবৃত করে। তবে জানাবাতের গোসলের ক্ষেত্রে প্রথমে লজ্জাস্থানে লেগে থাকা নাপাকি ধুয়ে নেওয়া উচিত, এরপর নামাজের অজুর মতো অজু করতে হবে, তারপর বাকি সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করতে হবে যাতে তা পূর্ণাঙ্গরূপে আবৃত হয় (৫/ ৩২৩)।
43 - যদি কেউ গোসল ও অজু উভয়ের নিয়ত করে, তবে জানাবাতের গোসল নামাজ পড়ার জন্য গোসল ও অজু উভয়ের পক্ষ থেকেই যথেষ্ট হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত অজুর কোনো ভঙ্গকারী কারণ দ্বারা অজু নষ্ট না হয়, ততক্ষণ তা দিয়ে নামাজ পড়া যাবে। আর যদি সে শুধু গোসলের নিয়ত করে, তবে আলেমদের সহিহ (صحيح) মত অনুযায়ী তা অজুর জন্য যথেষ্ট হবে না (৫/ ৩২৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
44 - إذا توفر الماء لديكم فالواجب أن تتطهروا منه الطهارة الكبرى والصغرى وإذا لم يتوفر جاز التيمم عند بعد الماء ومشقة إحضاره وقت الصلاة (5/ 334).
45 - إذا لم يجد من أصابته جنابة ماء يكفي للغسل فإنه يتوضأ بما وجده من الماء القليل ويتيمم للجنابة إذا ضاق الوقت ولا يؤخر الصلاة عن وقتها (5/ 338).
46 - يكفيه تيمم واحد لصلاة أكثر من فرض أو فرض ونافلة ما دام على الطهارة ولم يجد الماء على الصحيح من قولي العلماء (5/ 344).
47 - المرض الذي يشرع عند حصوله التيمم هو المرض الذي يخشى منه مع استعمال الماء زيادة المرض أو تأخر برء الجرح (5/ 345).
48 - يجب عليك أن تتيمم بتراب طاهر إذا لم يوجد الماء أو تعذر استعماله لقوله تعالى: {فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ}، فإن عجزت عن التراب أجزأك التيمم بضرب الأرض الطاهرة كيف ما كانت وإن لم يكن فيها غبار لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} (5/ 351).
44 - যদি আপনাদের নিকট পানি পাওয়া যায়, তবে তার মাধ্যমে বড় পবিত্রতা (الطهارة الكبرى) এবং ছোট পবিত্রতা (الطهارة الصغرى) অর্জন করা আবশ্যক (الواجب)। আর যদি পানি পাওয়া না যায়, তবে পানি দূরে থাকা এবং নামাজের সময়ে তা সংগ্রহ করতে কষ্টসাধ্য হলে তায়াম্মুম (التيمم) করা বৈধ (جاز)। (5/ 334)।
45 - যার ওপর জানাবাত (جنابة) অর্জিত হয়েছে, সে যদি গোসলের (الغسل) জন্য পর্যাপ্ত পানি না পায়, তবে যে অল্প পানি পাওয়া যায় তা দিয়ে সে অজু (يتوضأ) করবে এবং জানাবাতের জন্য তায়াম্মুম (يتيمم) করবে যদি সময় সংকীর্ণ হয়; আর সে নামাজকে তার নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্ব করবে না। (5/ 338)।
46 - আলেমদের দুটি মতের মধ্যে সঠিক (الصحيح) মত অনুযায়ী, যতক্ষণ কেউ পবিত্রতার (الطهارة) ওপর থাকে এবং পানি না পায়, ততক্ষণ একটি তায়াম্মুমই তার জন্য একাধিক ফরজ (فرض) নামাজ অথবা একটি ফরজ ও নফল (نافلة) নামাজের জন্য যথেষ্ট। (5/ 344)।
47 - যে রোগের কারণে তায়াম্মুম (التيمم) করা শরয়িভাবে বিধিবদ্ধ (يشرع) হয়, তা হলো এমন রোগ যার ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করলে রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার অথবা ক্ষত নিরাময় বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (5/ 345)।
48 - পানি পাওয়া না গেলে অথবা পানির ব্যবহার অসম্ভব হলে আপনার জন্য পবিত্র (طاهر) মাটি (تراب) দ্বারা তায়াম্মুম করা আবশ্যক (يجب); মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো এবং তা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো}। অতঃপর আপনি যদি মাটি সংগ্রহ করতে অক্ষম হন, তবে পবিত্র ভূমিতে আঘাত করার মাধ্যমেই আপনার তায়াম্মুম যথেষ্ট হবে তা যেমনই হোক না কেন, যদিও তাতে ধুলাবালি না থাকে। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যানুযায়ী} (5/ 351)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
49 - إذا كان في موضع من مواضع الوضوء جرح ولا يمكن غسله ولا مسحه لأن ذلك يؤدي إلى أن هذا الجرح يزداد أو يتأخر برؤه فالواجب على هذا الشخص هو التيمم (5/ 357).
50 - الأصل في الأشياء الطهارة فلا يحكم على شيء أو محل بأنه نجس إلا بدليل يدل على أن هذا الشيء نجس وأن هذه النجاسة المنصوص عليها موجودة في هذا المحل وإذا لم يتحقق هذان الأمران فإن المسلم يصلي وتكون صلاته صحيحة (5/ 365).
51 - دم مأكول اللحم مثل الشاة والبقرة إذا كان مسفوحًا فهو نجس وما بقي في عروق الذبيحة ولحمها فهو طاهر (5/ 375).
52 - بول ما يؤكل لحمه طاهر فإذا استعمله في البدن لحاجة فلا حرج من الصلاة به (5/ 378).
53 - الراجح طهارة سؤر البغل والحمار الأهلي وسباع البهائم كالذئب والنمر والأسد وجوارح الطير كالصقر والحدأة وهذا هو الذي صححه أبو محمد ابن قدامة رحمه الله في المغني وهو الموافق للأدلة الشرعية (5/ 380).
49 - যদি ওযুর কোনো অঙ্গে ক্ষত থাকে এবং তা ধৌত করা কিংবা মাসেহ করা সম্ভব না হয়, কারণ এর ফলে ক্ষত বৃদ্ধি পাওয়ার অথবা আরোগ্য হতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে এমতাবস্থায় উক্ত ব্যক্তির ওপর তায়াম্মুম করা ওয়াজিব (واجب)। (৫/ ৩৫৭).
50 - বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো পবিত্রতা। সুতরাং কোনো বস্তু বা স্থানকে অপবিত্র বলে গণ্য করা যাবে না যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে বস্তুটি অপবিত্র এবং দলিলে উল্লিখিত সেই অপবিত্রতা ঐ স্থানে বিদ্যমান রয়েছে। যদি এই উভয় বিষয় নিশ্চিত না হয়, তবে মুসলিম ব্যক্তি নামাজ আদায় করবেন এবং তার নামাজ সহিহ (صحيح) হবে (৫/ ৩৬৫).
51 - ভক্ষণযোগ্য পশুর রক্ত—যেমন ছাগল ও গরু—যদি তা প্রবাহিত হয়, তবে তা অপবিত্র; আর জবাইকৃত পশুর শিরায় এবং গোশতে যা অবশিষ্ট থাকে তা পবিত্র (৫/ ৩৭৫).
52 - যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় সেগুলোর প্রস্রাব পবিত্র। সুতরাং প্রয়োজনে শরীরে তা লাগলে এমতাবস্থায় নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই (৫/ ৩৭৮).
53 - অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মতানুসারে খচ্চর, গৃহপালিত গাধা এবং হিংস্র পশু যেমন নেকড়ে, চিতা ও সিংহ এবং শিকারি পাখি যেমন বাজ ও চিল ইত্যাদির উচ্ছিষ্ট পবিত্র। এটিই আবু মুহাম্মদ ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) আল-মুগনি গ্রন্থে বিশুদ্ধ (صححه) বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিই শরিয়তের দলিলসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ (৫/ ৩৮০).
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
54 - اختلف الفقهاء في الحامل هل تحيض وهي حامل أو لا والصحيح من القولين أنها لا تحيض أيام حملها وذلك أن الله سبحانه جعل من أنواع عدة المطلقة أن تحيض ثلاث حيض ليتبين بذلك براءة رحمها من الحمل ولو كانت الحامل تحيض ما صح أن يجعل الحيض عدة لإثبات براءة الرحم (5/ 392).
55 - أكثر مدة النفاس في قول أكثر أهل العلم أربعون يومًا بلياليها .. وحكم جماع النفساء والدم نازل حرام كجماع الحائض ومن فعل ذلك فعليه أن يستغفر الله ويتوب إليه وعليه أيضًا أن يتصدق بدينار أو نصفه كفارة لما حصل منه .. ومقدار الدينار أربعة أسباع الجنيه السعودي فإذا كان صرف الجنيه السعودي مثلاً سبعين ريالاً فعليك أن تخرج أربعين ريالاً أو عشرين ريالاً سعوديًا تتصدق بها على الفقراء (5/ 415).
56 - لا يكون ما تراه من الدم بعد الأربعين نفاسًا بل دم استحاضة فتغتسل بعد الأربعين وتصلي وتصوم وتتوضأ لكل صلاة (5/ 416).
57 - إذا رأت المرأة النفساء الطهر قبل تمام الأربعين فإنها تغتسل وتصلي وتصوم ولزوجها جماعها (5/ 417).
54 - গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। তবে দুটি মতের মধ্যে সঠিক (الصحيح) মতটি হলো, গর্ভকালীন দিনগুলোতে তার ঋতুস্রাব হয় না। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দতের অন্যতম প্রকার নির্ধারণ করেছেন তিনবার ঋতুস্রাব হওয়াকে, যাতে এর মাধ্যমে জরায়ু গর্ভমুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। যদি গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব হতো, তবে জরায়ুর গর্ভমুক্ততা প্রমাণের জন্য ঋতুস্রাবকে ইদ্দত হিসেবে নির্ধারণ করা সঠিক হতো না (৫/৩৯২)।
55 - অধিকাংশ আলেমগণের মতে নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো দিন-রাতসহ চল্লিশ দিন। নিফাসের রক্ত প্রবাহিত হওয়া অবস্থায় সহবাস করা ঋতুস্রাবকালীন সহবাসের মতোই হারাম। কেউ এমন কাজ করলে তার উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তওবা করা; সেই সাথে তার কৃতকর্মের কাফফারা হিসেবে এক দিনার বা অর্ধেক দিনার সদকা করা আবশ্যক। এক দিনারের পরিমাণ হলো সৌদি গিনির সাত ভাগের চার ভাগ। যদি সৌদি গিনির বিনিময় হার উদাহরণস্বরূপ সত্তর রিয়াল হয়, তবে আপনাকে চল্লিশ বা বিশ সৌদি রিয়াল দরিদ্রদের মাঝে সদকা করতে হবে (৫/৪১৫)।
56 - চল্লিশ দিনের পর আপনি যে রক্ত দেখবেন তা নিফাস নয়, বরং তা ইস্তিহাযা (استحاضة)। সুতরাং চল্লিশ দিনের পর আপনি গোসল করবেন এবং সালাত ও রোজা পালন করবেন এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য অযু করবেন (৫/৪১৬)।
57 - যদি কোনো নিফাসগ্রস্ত নারী চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই পবিত্রতা (الطهر) দেখতে পান, তবে তিনি গোসল করবেন, সালাত ও রোজা পালন করবেন এবং তার স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা বৈধ (৫/৪১৭)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
58 - إذا أسقطت المرأة علقة أو مضغة لم يظهر فيها خلق الإنسان فلا نفاس عليها وما خرج منها من الدم قبيل الإسقاط وبعده يعتبر دم فساد تصوم وتصلي مع وجوده وتتوضأ لكل صلاة وتتحفظ منه بقطن ونحوه. أما إن سقط منها ما تبين فيه خلق إنسان فحكمها حكم النفساء (5/ 419).
59 - إذا أسقطت المرأة في الشهر الرابع ما فيه خلق الإنسان فدمها دم نفاس فلا تصلي ولا تصوم حتى تطهر وكذلك لا يطؤها زوجها وأما في الشهور الثلاثة فليس دمها دم نفاس وعليه فتصوم وتصلي ويطؤها زوجها إذا كان الجنين لم يتبين فيه خلق الإنسان (5/ 426).
৫৮ - যদি কোনো নারী এমন রক্তপিণ্ড (علقة) বা মাংসপিণ্ড (مضغة) গর্ভপাত করেন যাতে মানুষের কোনো অবয়ব বা আকৃতি প্রকাশ পায়নি, তবে তার ওপর নিফাস (نفاس) প্রযোজ্য হবে না। গর্ভপাতের ঠিক আগে বা পরে তার যে রক্ত নির্গত হয়, তা ত্রুটিপূর্ণ রক্ত (دم فساد) হিসেবে গণ্য হবে। এই রক্ত থাকা অবস্থাতেই তিনি রোজা রাখবেন ও নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুনভাবে অজু করবেন ও তুলা বা এজাতীয় কিছু ব্যবহার করে রক্ত থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন। তবে যদি এমন কিছু পতিত হয় যাতে মানুষের আকৃতি স্পষ্ট হয়েছে, তবে তার বিধান নিফাসগ্রস্ত (نفساء) নারীর বিধানের মতোই হবে (৫/৪১৯)।
৫৯ - যদি কোনো নারী চতুর্থ মাসে এমন কিছু গর্ভপাত করেন যাতে মানুষের আকৃতি প্রকাশ পেয়েছে, তবে তার নির্গত রক্ত নিফাস (نفاس) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তিনি পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়বেন না এবং রোজা রাখবেন না। একইভাবে তার স্বামীও তার সাথে সহবাস করবেন না। আর প্রথম তিন মাসের ক্ষেত্রে যদি ভ্রূণের মাঝে মানুষের আকৃতি স্পষ্ট না হয়ে থাকে, তবে তার রক্ত নিফাস (نفاس) নয়। এমতাবস্থায় তিনি রোজা রাখবেন ও নামাজ পড়বেন এবং তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবেন (৫/৪২৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الصَّلاة60 - إذا بلغ الولد سبع سنين يأمره وليه بالصلاة ليعتادها لما روى الإمام أحمد وأبو داود والحاكم أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين واضربوهم عليها وهم أبناء عشر سنين وفرقوا بينهم في المضاجع" وبهذا يعلم أن المراد كمال السبع لا البدء فيها (6/ 26).
61 - الصبي يؤجر على صلاته إذا بلغ سن التمييز وأتى بفروض الوضوء وبالصلاة على وجهها (6/ 27).
62 - يشرع للمؤذن الذي يؤذن في غير مكرفون أن يلتفت يمينًا وشمالاً عند الحيعلة مع ثبوت قدميه لأن ذلك ثبت من فعل مؤذن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بحضرته صلى الله عليه وآله وسلم ولأنه أبلغ في إسماع النداء للصلاة لمن بعد عن المسجد (6/ 58).
63 - يشرع الأذان للصلاة في أي مكان من الأرض سواء داخل البلدة أو خارجها، ويجزئ الأذان ولو لم يسمعه بعض المصلين لكن من فاتته صلاة الجماعة فإنه يقيم للصلاة فقط (6/ 71).
64 - المشروع في الإقامة أن تكون جهرًا فمن أقام الصلاة فليجهر بها سواء كان منفردًا أم غير منفرد (6/ 76).
সালাত60 - যখন কোনো সন্তান সাত বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন তার অভিভাবক তাকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেবেন যাতে সে এতে অভ্যস্ত হয়। কেননা ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের নির্দেশ দাও যখন তাদের বয়স সাত বছর এবং তাদের দশ বছর বয়সে সালাতের জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও।" এর মাধ্যমে জানা যায় যে, এখানে সাত বছর পূর্ণ হওয়া উদ্দেশ্য, শুরু হওয়া নয় (৬/ ২৬)।
61 - শিশু তার সালাতের জন্য সওয়াব লাভ করবে যদি সে পার্থক্যের বয়সে (سن التمييز) উপনীত হয় এবং ওজুর ফরজসমূহ ও সালাত যথাযথভাবে আদায় করে (৬/ ২৭)।
62 - যে মুয়াজ্জিন মাইক্রোফোন ব্যতীত আজান দেন, তার জন্য হাইয়ালা বলার সময় পা স্থির রেখে ডানে ও বামে মুখ ফেরানো বিধিসম্মত; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে তাঁর মুয়াজ্জিনের আমল থেকে এটি সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে এবং যেহেতু এটি মসজিদ থেকে দূরে অবস্থানকারীদের সালাতের আহ্বান শোনানোর ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর (৬/ ৫৮)।
63 - জনপদের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে, জমিনের যেকোনো স্থানে সালাতের জন্য আজান দেওয়া বিধিসম্মত। আজান পর্যাপ্ত হবে যদিও কোনো কোনো মুসল্লি তা না শোনেন, তবে যার জামাতের সালাত ছুটে গেছে তিনি কেবল সালাতের জন্য একামত প্রদান করবেন (৬/ ৭১)।
64 - একামতের ক্ষেত্রে বিধিসম্মত পদ্ধতি হলো তা উচ্চৈঃস্বরে হওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাতের একামত দেবেন তিনি যেন তা উচ্চৈঃস্বরে প্রদান করেন, চাই তিনি একাকী সালাত আদায়কারী হোন বা না হোন (৬/ ৭৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
65 - السنة أن المستمع للإقامة يقول كما يقول المقيم لأنها أذان ثان فتجاب كما يجاب الأذان ويقول المستمع عند قول المقيم حي على الصلاة حي على الفلاح: لا حول ولا قوة إلا بالله ويقول عند قوله: قد قامت الصلاة مثل قوله ولا يقول: أقامها الله وأدامها لأن الحديث في ذلك ضعيف، وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: "إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول" وهذا يعم الأذان والإقامة لأن كلا منهما يسمى أذانًا (6/ 89).
66 - لما كان الدعاء عبادة مشروعة ولم يثبت في مسح الوجه بالكفين عقبه سنة قولية أو عملية بل روي ذلك من طرق ضعيفة فالأولى تركه عملاً بالأحاديث الصحيحة التي لم يذكر فيها المسح (6/ 92).
67 - لا نعلم دعاء مشروعًا بعد الإقامة وقبل تكبيرة الإحرام لكن المشروع أن يقول مثل ما يقول المؤذن في إقامته ويصلي على الرسول صلى الله عليه وآله وسلم ويسأل له الوسيلة ثم ينتظر حتى يكبر الإمام ثم يكبر بعده (6/ 94).
68 - التقويم من الأمور الاجتهادية فالذين يضعونه بشر يخطئون ويصيبون ولا ينبغي أن تناط به أوقات الصلاة والصيام من جهة الابتداء والانتهاء لأن ابتداء هذه الأوقات وانتهائها جاء في القرآن والسنة فينبغي الاعتماد على مادلت عليه الأدلة الشرعية ولكن هذه التقاويم الفلكية قد يستفيد منها المؤذنون والأئمة في أوقات الصلاة على سبيل التقريب أما في الصوم والإفطار فلا يعتمد عليها من جميع الوجوه لأن الله سبحانه علق الحكم بطلوع الفجر إلى الليل ولأن الرسول صلى الله عليه وآله وسلم قال: "صوموا لرؤيته وافطروا لرؤيته فإن غم عليكم فأكملوا العدة" (6/ 141).
65 - সুন্নাহ (سنة) হলো ইকামাত শ্রবণকারী ব্যক্তি ইকামাত প্রদানকারীর অনুরূপ বলবে, কেননা এটি দ্বিতীয় আজান, তাই আজানের মতোই এর জবাব দিতে হবে। ইকামাত প্রদানকারী যখন "হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ" বলবে, তখন শ্রবণকারী বলবে: "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"। আর যখন সে "কদ ক্বামাতিস সালাহ" বলবে, তখন শ্রবণকারী তার অনুরূপই বলবে। সে "আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা" বলবে না, কারণ এ সংক্রান্ত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো।" এটি আজান ও ইকামাত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ এদের প্রত্যেকটিকেই আজান বলা হয় (৬/ ৮৯)।
66 - যেহেতু দোয়া একটি বিধিবদ্ধ (مشروعة) ইবাদত এবং দোয়ার পর দুই হাতের তালু দিয়ে মুখমণ্ডল মাসাহ করার ব্যাপারে কোনো মৌখিক বা ব্যবহারিক সুন্নাহ (سنة) প্রমাণিত হয়নি, বরং এটি দুর্বল (ضعيفة) সূত্রসমূহ (طرق) থেকে বর্ণিত হয়েছে; তাই সেই বিশুদ্ধ (الصحيحة) হাদিসগুলোর ওপর আমল করে এটি বর্জন করাই শ্রেয় যেগুলোতে মাসাহ করার কথা উল্লেখ নেই (৬/ ৯২)।
67 - ইকামাতের পর এবং তাকবিরে তাহরিমার পূর্বে কোনো বিধিবদ্ধ (مشروعًا) দোয়া আমাদের জানা নেই। তবে বিধিবদ্ধ (المشروع) আমল হলো মুয়াজ্জিন তার ইকামাতে যা বলে শ্রবণকারীও তদ্রূপ বলবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে ও তাঁর জন্য 'অসিলাহ' প্রার্থনা করবে; এরপর ইমাম তাকবির বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং তাঁর পর সে তাকবির বলবে (৬/ ৯৪)।
68 - ক্যালেন্ডার বা সময়সূচি হলো ইজতিহাদভিত্তিক (اجتهادية) বিষয়। যারা এটি প্রস্তুত করেন তারা মানুষ, তারা ভুলও করতে পারেন আবার সঠিকও হতে পারেন। নামাজ ও রোজার শুরু এবং শেষের সময়ের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, কারণ এই সময়গুলোর শুরু ও শেষ কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং শরিয়তের দলিলসমূহ যা নির্দেশ করে তার ওপর নির্ভর করা আবশ্যক। তবে এই জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত ক্যালেন্ডারগুলো থেকে মুয়াজ্জিন ও ইমামগণ নামাজের সময়ের ক্ষেত্রে আনুমানিক ধারণা লাভের জন্য উপকৃত হতে পারেন। কিন্তু রোজা রাখা এবং ইফতারের ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে এর ওপর নির্ভর করা যাবে না। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিধানটিকে ফজর উদয় হওয়া থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো; যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে সংখ্যা পূর্ণ করো" (৬/ ১৪১)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
69 - إذا طهرت المرأة من الحيض أو النفاس قبل خروج وقت الصلاة الضروري لزمتها تلك الصلاة وما يجمع إليها قبلها فمن طهرت قبل غروب الشمس لزمتها صلاة العصر والظهر، ومن طهرت قبل طلوع الفجر الثاني لزمتها صلاة العشاء والمغرب ومن طهرت قبل طلوع الشمس لزمتها صلاة الفجر (6/ 158).
70 - قضاء الفوائت يجب أن يكون على الفور وأن تكون مرتبة كما فرضها الله سبحانه بحيث يصلي الفجر ثم يصلي الظهر ثم يصلي العصر (6/ 159).
71 - الصحيح من أقوال العلماء أن عورة الرجل ما بين السرة والركبة (6/ 164).
72 - لا يجوز .... أن يصلي في ملابس فيها صور ذوات الأرواح من إنسان أو طيور أو أنعام أو غيرها من ذوات الأرواح ولا يجوز للمسلم لبسها في غير الصلاة وتصح صلاة من صلى في ثوب فيه صور مع الإثم في حق من علم الحكم الشرعي ولا يجوز كتابة اسم الله على الثوب وكره دخول بيت الخلاء به إلا لحاجة لما في ذلك من امتهان اسمه تعالى (6/ 179).
69 - যদি কোনো নারী নামাজের জরুরি সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে ঋতুস্রাব বা প্রসূতি অবস্থা থেকে পবিত্র হন, তবে তাঁর ওপর সেই নামাজ এবং এর সাথে যে নামাজটি একত্র করা হয়, তা আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়। সুতরাং, যে নারী সূর্যাস্তের পূর্বে পবিত্র হবেন, তাঁর ওপর আসর ও জোহর নামাজ আদায় করা আবশ্যক। আর যে নারী দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার পূর্বে পবিত্র হবেন, তাঁর ওপর এশা ও মাগরিব নামাজ আদায় করা আবশ্যক এবং যিনি সূর্যোদয়ের পূর্বে পবিত্র হবেন, তাঁর ওপর ফজর নামাজ আদায় করা আবশ্যক (৬/ ১৫৮)।
70 - ছুটে যাওয়া নামাজসমূহ (কাজা) অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব এবং তা ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে হবে যেভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তা ফরজ করেছেন; যেমন—প্রথমে ফজর নামাজ পড়বে, তারপর জোহর পড়বে, অতঃপর আসর নামাজ পড়বে (৬/ ১৫৯)।
71 - আলেমগণের অভিমতসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো এই যে, পুরুষের সতর হচ্ছে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত (৬/ ১৬৪)।
72 - মানুষ, পাখি, গবাদি পশু বা অন্য যেকোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয় এবং একজন মুসলিমের জন্য নামাজের বাইরেও এ ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়েজ নয়। তবে ছবিযুক্ত পোশাকে নামাজ আদায়কারীর নামাজ শুদ্ধ (صحيح) হবে, যদিও শরয়ি বিধান সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে। পোশাকে আল্লাহর নাম লেখা জায়েজ নয় এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তা পরিধান করে শৌচাগারে প্রবেশ করা অপছন্দনীয়, কারণ এতে মহান আল্লাহর নামের অমর্যাদা হয় (৬/ ১৭৯)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
73 - يجب على من صلى وعليه ثوب نجس وذكر أثناء الصلاة أن يقطع صلاته ويغير الثوب النجس بثوب طاهر أو يغسل النجاسة لكن إن كان عليه ثوب طاهر تحت الثوب النجس كفى خلع الثوب النجس ويستمر في صلاته لأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لما نبهه جبرائيل عليه السلام على وجود خبث في نعليه خلعها واستمر في صلاته (6/ 207).
74 - الأرجح أن المضاعفة للثواب تعم الحرم كله لأنه كله يطلق عليه المسجد الحرام في القرآن والسنة، أما السيئات فلا تضاعف عددًا لا في الحرم ولا غيره وإنما تضاعف من جهة الكيفية وذلك باختلاف شدة الإثم وعظم الجريمة بسبب الزمان والمكان في رمضان والحرم الشريف والمدينة المنورة وأشباه ذلك لقول الله سبحانه: {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا} وللأحاديث الصحيحة الواردة في ذلك (6/ 223).
75 - مسجده صلى الله عليه وآله وسلم كان أصغر مما هو اليوم لكن زاد فيه الخلفاء الراشدون ومن بعدهم وحكم الزيادة حكم المزيد عليه في جميع الأحكام (6/ 225).
76 - لا مانع من هدم المسجد القديم .... وتعميره على الطراز الحديث لما في ذلك من المصلحة العامة لأهل القرية وغيرهم وأما الذين بنوا الأول فأجرهم كامل ولا ينقطع بتجديده (6/ 233).
73 - যে ব্যক্তি অপবিত্র (نجس) পোশাক পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করে এবং সালাত চলাকালীন তা স্মরণ করে, তার জন্য ওয়াজিব হলো সালাত বন্ধ করা এবং অপবিত্র (نجس) পোশাকটি পবিত্র (طاهر) পোশাক দ্বারা পরিবর্তন করা অথবা অপবিত্রতা (نجاسة) ধৌত করা। তবে যদি অপবিত্র পোশাকের নিচে তার কোনো পবিত্র (طاهر) পোশাক থাকে, তবে অপবিত্র (نجس) পোশাকটি খুলে ফেলাই যথেষ্ট এবং সে তার সালাত চালিয়ে যাবে। কারণ, নবি (সা.)-কে যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর জুতোদ্বয়ে অপবিত্রতার (خبث) অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন, তখন তিনি তা খুলে ফেলেছিলেন এবং সালাত চালিয়ে গিয়েছিলেন (6/ 207)।
74 - অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো, সওয়াব বা প্রতিদান বৃদ্ধি পুরো হারাম এলাকাকেই অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ কুরআন ও সুন্নাহতে পুরোটাকেই মসজিদুল হারাম হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে পাপের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না—চাই তা হারাম এলাকায় হোক বা অন্য কোথাও; বরং পাপের ভয়াবহতা এবং অপরাধের গুরুত্বের কারণে গুণগত মানের (كيفية) দিক থেকে তা বৃদ্ধি পায়, যা রমজান মাস, হারাম শরিফ, মদিনা মুনাওয়ারা এবং এই জাতীয় স্থান ও সময়ের পার্থক্যের কারণে হয়ে থাকে। মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তার দশ গুণ প্রতিদান পাবে; আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে কেবল তার সমান শাস্তিই দেওয়া হবে} এবং এ বিষয়ে বর্ণিত সঠিক (صحيحة) হাদিসসমূহের ভিত্তিতে এটিই প্রমাণিত (6/ 223)।
75 - নবি (সা.)-এর মসজিদ বর্তমানের তুলনায় ছোট ছিল, তবে খুলাফায়ে রাশিদিন এবং তাঁদের পরবর্তীগণ এতে সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন। আর এই বর্ধিত অংশের বিধান সকল বিধিবদ্ধ বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে মূল মসজিদের বিধানের মতোই গণ্য হবে (6/ 225)।
76 - পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলা এবং আধুনিক শৈলীতে তা পুনর্নির্মাণে কোনো বাধা নেই... যেহেতু এতে গ্রামবাসী ও অন্যদের জন্য জনকল্যাণ (المصلحة العامة) নিহিত রয়েছে। আর যারা প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন, তাঁদের প্রতিদান পূর্ণাঙ্গ থাকবে এবং নতুন করে নির্মাণের ফলে তা বিচ্ছিন্ন হবে না (6/ 233)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
77 - الصلاة في المسجد الذي بني ابتغاء وجه الله تعالى وقد خلط مال بنائه بمال ربا والصلاة في المسجد الذي بني من التبرعات ومنها مال مسروق تجوز الصلاة في كل منهما وإثم كل من المرابي والسارق على نفسه (6/ 241).
78 - لا يجوز الخروج من المسجد بعد سماع الأذان لغير الوضوء وقضاء الحاجة وما تدعو إليه الضرورة حتى يصلي لحديث أبي هريرة أنه رأى رجلاً خرج بعد الأذان فقال: "أما هذا فقد عصى أبا القاسم صلى الله عليه وآله وسلم " رواه مسلم في صحيحه (6/ 271).
79 - لا يجوز إنشاد الضالة في داخل المسجد سواء كان الضال متاعًا أو حيوانًا أو إنسانًا لعموم النهي عن إنشاد الضالة في المسجد (6/ 282).
80 - لا يجوز البيع والشراء في المساجد فقد خرج الترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "إذا رأيتم من يبيع ويبتاع في المسجد فقولوا لا أربح الله تجارتك وإذا رأيتم من ينشد فيه ضالة فقولوا: لا ردها الله عليه" (6/ 284).
77 - মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এমন মসজিদে নামাজ আদায় করা যার নির্মাণ ব্যয়ের সাথে সুদের অর্থ মিশ্রিত হয়েছে এবং এমন মসজিদে নামাজ আদায় করা যা দান-সদকার অর্থে নির্মিত হয়েছে যাতে চুরির মালও শামিল রয়েছে—এই উভয় প্রকার মসজিদেই নামাজ আদায় করা জায়েজ। আর সুদখোর এবং চোরের পাপ তাদের নিজেদের ওপরই বর্তাবে (৬/ ২৪১)।
78 - অজু করা, প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ এবং অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আযান শোনার পর নামাজ না পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ নয়। এর ভিত্তি হলো আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস যে, তিনি এক ব্যক্তিকে আযানের পর মসজিদ থেকে বের হতে দেখে বলেছিলেন: "এই ব্যক্তি তো আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অবাধ্যতা করল।" এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৬/ ২৭১)।
79 - মসজিদের ভেতরে হারানো জিনিসের ঘোষণা দেওয়া জায়েজ নয়; চাই সেই হারানো বিষয়টি কোনো আসবাবপত্র হোক, পশু হোক কিংবা কোনো মানুষ। কেননা মসজিদে হারানো জিনিসের ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (৬/ ২৮২)।
80 - মসজিদে কেনা-বেচা করা জায়েজ নয়। ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা যখন কাউকে মসজিদে বেচা-কেনা করতে দেখবে, তখন বলবে: আল্লাহ তোমার ব্যবসায় লাভ না দিন। আর যখন কাউকে দেখবে সেখানে হারানো জিনিসের ঘোষণা দিচ্ছে, তখন বলবে: আল্লাহ যেন তা তোমাকে ফিরিয়ে না দেন" (৬/ ২৮৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
81 - لا يجوز التصفيق إلا للنساء في الصلاة إذا ناب الإمام شيء في صلاته لقول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "من نابه شيء في صلاته فليسبح الرجال وتصفق النساء"، ولأن تصفيق الرجال من عمل أهل الجاهلية كما في قوله سبحانه: {وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً} وقد فسر أهل العلم المكاء بالتصفيق والتصدية بالصفير (6/ 307).
82 - يجوز للمنفرد في الصلاة أن ينتقل من نيته منفردًا إلى الإمامة إذا دخل معه من يصلي معه مؤتمًا به حيث صرح أهل العلم بذلك (6/ 323).
83 - الصحيح من أقوال العلماء أن المصلي يقرأ البسملة سرًا قبل قراءة الفاتحة في كل ركعة من صلاته سواء كانت الصلاة سرية أم جهرية (6/ 379).
84 - الصحيح من أقوال العلماء وجوب قراءة الفاتحة في الصلاة على المنفرد والإمام والمأموم في الصلاة الجهرية والسرية لصحة الأدلة على ذلك وخصوصها (6/ 384).
85 - من السنة أن يقرأ في الأولى من الركعتين الأوليين بعد الفاتحة بأطول مما يقرأه في الثانية (6/ 388).
81 - নামাজে ইমামের কোনো ভুল বা সমস্যার সৃষ্টি হলে কেবল নারীদের জন্য তালি দেওয়া বৈধ। নবী করীম (সা.)-এর বাণীর কারণে: "কারো নামাজে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে পুরুষরা যেন তাসবিহ পাঠ করে এবং মহিলারা যেন তালি দেয়।" এছাড়া পুরুষদের তালি দেওয়া জাহেলিয়াতের যুগের লোকেদের কাজ, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণীতে এসেছে: "বাইতুল্লাহর (কাবার) নিকট তাদের নামাজ তালি দেওয়া এবং শিষ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না।" আলেমগণ 'মুকা' (مكاء) শব্দটিকে তালি দেওয়া এবং 'তাসদিয়া' (تصدية) শব্দটিকে শিষ দেওয়া বলে ব্যাখ্যা করেছেন (৬/ ৩০৭)।
82 - একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য তার একাকী নামাজের নিয়ত থেকে ইমামতির নিয়তে পরিবর্তন করা বৈধ, যদি অন্য কেউ তার সাথে মুক্তাদি হিসেবে নামাজে শরিক হয়। আলেমগণ স্পষ্টভাবে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন (৬/ ৩২৩)।
83 - আলেমদের অভিমতসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) হলো, নামাজি ব্যক্তি নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠের পূর্বে বিসমিল্লাহ নীরবে পাঠ করবেন; নামাজটি নিঃশব্দ হোক বা সশব্দ (৬/ ৩৭৯)।
84 - আলেমদের অভিমতসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) হলো, একাকী নামাজ আদায়কারী, ইমাম এবং মুক্তাদি—সবার জন্যই সশব্দ ও নিঃশব্দ নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব। কারণ এ সংক্রান্ত দলিলসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং সুনির্দিষ্টতার কারণে (৬/ ৩৮৪)।
85 - সুন্নাত হলো, (নামাজের) প্রথম দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর দ্বিতীয় রাকাতের তুলনায় দীর্ঘ কেরাত পাঠ করা (৬/ ৩৮৮)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
86 - قراءة الفاتحة ركن في جميع ركعات الصلاة في حق الإمام والمنفرد واجبة في حق المأموم ويقرأ كل منهم في الركعتين الأخيرتين في الصلاة الرباعية والأخيرة في المغرب الفاتحة فقط إلا في الظهر فيستحب له في بعض الأحيان أن يقرأ في الأخيرتين زيادة على الفاتحة بمقدارها أو ما يقارب ذلك لأنه قد صح عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم من حديث أبي سعيد رضي الله عنه ما يدل على ذلك (6/ 390).
87 - تجوز قراءة القرآن في الصلاة من المصحف في رمضان وفي غيره في الفريضة وفي النافلة أثناء الصلاة الجهرية إذا دعت الحاجة إلى ذلك (6/ 396).
88 - .. والعاجز عن حفظ الفاتحة يؤمر بأن يقول: سبحان الله والحمد لله والله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله لحديث عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنه قال: "جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم فقال: إني لا أستطيع أن آخذ من القرآن شيئًا فعلمني ما يجزئني منه قال: قل: سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم" الحديث رواه أحمد وأبو داود والنسائي وصححه ابن حبان والدارقطني والحاكم (6/ 397).
89 - من فاتته الركعتان الأوليان من المغرب والعشاء كان ما أدركه مع الإمام أول الصلاة بالنسبة له على الصحيح من أقوال العلماء (6/ 405).
86 - সুরা ফাতিহা পাঠ করা ইমাম এবং একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রে নামাজের সকল রাকাতে একটি রোকন (ركن) এবং মুক্তাদির ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجبة)। চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের শেষ দুই রাকাতে এবং মাগরিবের শেষ রাকাতে তাদের প্রত্যেকে কেবল সুরা ফাতিহা পাঠ করবে। তবে জোহরের নামাজের ক্ষেত্রে কখনো কখনো শেষ দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার অতিরিক্ত তার সমপরিমাণ বা তার কাছাকাছি কিরাত পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ নবী (সা.) হতে আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসে এমন বর্ণনা সহিহ (صح) প্রমাণিত যা এর স্বপক্ষে দলিল প্রদান করে (৬/ ৩৯০)।
87 - রমজান এবং রমজান ব্যতীত অন্য সময়ে, ফরজ ও নফল নামাজের উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠের সময় যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে মুসহাফ দেখে কুরআন পাঠ করা জায়েজ (৬/ ৩৯৬)।
88 - .. আর যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা মুখস্থ করতে অক্ষম, তাকে 'সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' বলার নির্দেশ দেওয়া হবে। এর দলিল হলো আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বলল: আমি কুরআনের কোনো অংশই আয়ত্ত করতে পারছি না, তাই আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমার জন্য যথেষ্ট হবে। তিনি বললেন: তুমি বলো: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।" হাদিসটি আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান, দারা কুতনি ও হাকেম একে সহিহ (صححه) বলে আখ্যায়িত করেছেন (৬/ ৩৯৭)।
89 - যার মাগরিব ও এশার নামাজের প্রথম দুই রাকাত ছুটে গেছে, ইমামের সাথে সে যতটুকু পেয়েছে আলেমদের বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী সেটিই তার নামাজের প্রথমাংশ হিসেবে গণ্য হবে (৬/ ৪০৫)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
90 - أداء الصلوات الخمس المكتوبة مع الجماعة واجب على الصحيح من أقوال العلماء (6/ 421).
91 - المشروع للمأمومين أن يؤمنوا إذا قال الإمام (ولا الضالين) سواء أمن الإمام أم لم يؤمن وأن التأمين سنة في حق الجميع ولا يلزمهم مراعاة تأمين الإمام (6/ 424).
92 - ذهب الجمهور إلى أن الأفضل أن يضع المصلي ركبتيه قبل يديه عند النزول للسجود وأن يرفع يديه عن الأرض قبل ركبتيه عند القيام للركعة التي بعد ذلك وذهب آخرون إلى استحباب وضع اليدين قبل الركبتين عند الهبوط للسجود
… والمسألة اجتهادية والأمر فيها واسع، ولذا خير بعض الفقهاء المصلي بين الأمرين إما لضعف الأحاديث من الجانبين وإما لتعارضهما وعدم رجحان بعضهما على بعض في نظره ونتيجة هذا: السعة والتخيير بين الهيئتين (6/ 434).
93 - إذا كان الواقع كما ذكرت من أن جبهته وأنفه لا يصلان إلى الأرض في السجود فصلاته باطلة لما ثبت من قول ا لنبي صلى الله عليه وآله وسلم: "أمرت أن أسجد على سبعة أعظم: الجبهة - وأشار إلى أنفه"
… الحديث، والأصل في الأمر الوجوب اللهم إلا إذا كان معذورًا عذرًا يمنعه من وضعهما على الأرض فصلاته صحيحة (6/ 436).
90 - আলেমদের উক্তিগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী জামায়াতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত আদায় করা ওয়াজিব (واجب) (৬/ ৪২১)।
91 - মুক্তাদিদের জন্য শরিয়তসম্মত বিধান হলো, ইমাম যখন (ওয়ালাদ দল্লীন) বলবেন তখন তারা ‘আমীন’ বলবে; চাই ইমাম ‘আমীন’ বলুন বা না বলুন। ‘আমীন’ বলা সকলের ক্ষেত্রে সুন্নাত (سنة) এবং ইমামের ‘আমীন’ বলার বিষয়টি অনুসরণ করা তাদের জন্য আবশ্যক নয় (৬/ ৪২৪)।
92 - জমহুর বা সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলেমদের মতে, সিজদায় যাওয়ার সময় হাতের আগে হাঁটু রাখা এবং পরবর্তী রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় মাটি থেকে হাঁটুর আগে হাত উঠানোই উত্তম। অন্যদিকে অন্যান্যেরা সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটুর আগে হাত রাখাকে মুস্তাহাব (استحباب) মনে করেন
… বিষয়টি ইজতিহাদ-সাপেক্ষ (اجتهادية) এবং এক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। এই কারণে কিছু ফকিহ মুসল্লিকে উভয় পদ্ধতির মধ্য থেকে যেকোনোটি গ্রহণের স্বাধীনতা দিয়েছেন; যার কারণ হলো হয় উভয় পক্ষের হাদিসগুলোর দুর্বলতা (ضعف), অথবা তাদের দৃষ্টিতে হাদিসগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) থাকা এবং একটিকে অপরটির ওপর প্রাধান্য (رجحان) দিতে না পারা। এর ফলাফল হলো: প্রশস্ততা এবং উভয় পদ্ধতির মধ্য থেকে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার (৬/ ৪৩৪)।
93 - বাস্তবতা যদি আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এমন হয় যে, সিজদাহ করার সময় তার কপাল ও নাক মাটিতে পৌঁছে না, তবে তার সালাত বাতিল (باطلة)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী দ্বারা এটি প্রমাণিত: “আমাকে সাতটি অস্থির ওপর সিজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এবং তিনি তাঁর নাকের দিকে ইশারা করলেন”
… হাদিস। আর নির্দেশের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো ওয়াজিব (الوجوب) হওয়া; তবে যদি কেউ এমন কোনো ওজরের কারণে অপারগ হন যা তাকে তা মাটিতে রাখা থেকে বিরত রাখে, তবে তার সালাত সহিহ (صحيحة) (৬/ ৪৩৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
94 - يقول الساجد في سجود السهو والتلاوة مثل ما يقول في سجوده في صلاته (سبحان ربي الأعلى) والواجب في ذلك مرة واحدة وأدنى الكمال ثلاث ويستحب الدعاء في السجود بما يسر الله من الأدعية الشرعية (6/ 443).
95 - المشروع في التكبيرات في الصلاة عند الانتقال من ركن إلى ركن أن يكون التكبير بينهما فيبدأ التكبير عند بداية الانتقال من الركن إلى نهاية الانتقال منه (7/ 18).
96 - الأصل هو عدم التمييز بين التكبيرات في الصلاة ونحن لا نعلم دليلاً شرعيًا يدل على التمييز وتكبيرات الصلاة من العبادات والعبادات مبنية على التوقيف ومن ادعى التمييز بينهما فهو مطالب بالدليل ولكن لا نعلم حرجًا في التمييز من أجل المصلحة التي ذكرت عملاً بعمومات الأدلة الشرعية الدالة على فضل ا لتيسير والتسهيل والإعانة على الخير (7/ 19).
97 - ينبغي أن يضع المصلي بصره في موضع سجوده إلا في حالة التشهد فينظر موضع إشارته وأما التغميض فغير مشروع في الصلاة بل مكروه (7/ 24).
94 - সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) এবং তিলাওয়াতের সিজদায় (سجود التلاوة) সিজদাকারী তাই বলবে যা সে তার নামাজের সিজদায় বলে থাকে (সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা)। এক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) হলো একবার বলা এবং পূর্ণতার সর্বনিম্ন মাত্রা হলো তিনবার। আর সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহ সহজ করে দেন এমন শরয়ি দোয়াসমূহ দ্বারা দোয়া করা মুস্তাহাব (مستحب)। (৬/ ৪৪৩)।
95 - নামাজের তাকবিরসমূহের ক্ষেত্রে বিধান হলো, এক রোকন (ركن) থেকে অন্য রোকনে (ركن) স্থানান্তরের সময় তাকবির এই দুইয়ের মাঝখানে হবে। সুতরাং এক রোকন (ركن) থেকে স্থানান্তরের শুরুতে তাকবির শুরু করবে এবং স্থানান্তর শেষ হওয়া পর্যন্ত তা প্রলম্বিত করবে। (৭/ ১৮)।
96 - মূল নীতি হলো নামাজের তাকবিরগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য না করা। আমাদের জানামতে এমন কোনো শরয়ি দলিল (دليل شرعي) নেই যা এই পার্থক্যের ওপর প্রমাণ পেশ করে। নামাজের তাকবিরসমূহ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, আর ইবাদতসমূহ 'তাওকিফ' (التوقيف) বা অহি-নির্ভরতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যে ব্যক্তি এগুলোর মধ্যে পার্থক্যের দাবি করবে, তাকেই দলিল (دليل) পেশ করতে হবে। তবে উল্লেখিত জনস্বার্থের খাতিরে পার্থক্যের মধ্যে আমরা কোনো অসুবিধা দেখি না, যা সহজীকরণ ও কল্যাণের কাজে সহায়তার ফজিলত নির্দেশক সাধারণ শরয়ি দলিলসমূহের (الأدلة الشرعية) ওপর আমল করার অন্তর্ভুক্ত। (৭/ ১৯)।
97 - মুসল্লির উচিত হবে সিজদার জায়গার দিকে নজর রাখা, তবে তাশাহহুদের সময় ব্যতীত; তখন সে তার ইশারা করার জায়গার দিকে তাকাবে। আর চোখ বন্ধ রাখা নামাজে বিধিসম্মত নয়, বরং তা মাকরুহ (مكروه)। (৭/ ২৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
98 - لا يجوز للمسلم أن يصلي وهو يدافع البول والغائط لقول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "لا صلاة بحضرة الطعام ولا وهو يدافعه الأخبثان" أخرجه مسلم في صحيحه (7/ 25).
99 - يقطع صلاته ويقتل الثعبان أو العقرب لقول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "اقتلوا الأسودين في الصلاة الحية والعقرب" أخرجه أهل السنن وصححه ابن حبان وإن أمكن قتلهما وهو في صلاته من دون عمل كثير فلا بأس وصلاته صحيحه (7/ 28).
100 - من عطس أو تثاءب في الصلاة يحمد الله للعطاس ولا يستعيذ بالله من الشيطان لتثاؤبه لعدم ورود ذلك ولا يجيب من شمته لعطاسه حال كونه في صلاته ولا يرد السلام على من سلم عليه وهو في الصلاة إلا بالإشارة لعموم ما ثبت من قوله صلى الله عليه وآله وسلم: "إن في الصلاة لشغلاً" (7/ 30).
101 - يشرع للمسلم أن يبدأ بالسلام أخاه المسلم وهو يصلي ولكنه لا يرد عليه السلام وهو في صلاته إلا بالإشارة محافظة على صلاته لما ثبت عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قلت لبلال: "كيف كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يرد عليهم حين كانوا يسلمون عليه وهو في الصلاة قال: يشير بيده" رواه الخمسة وثبت عنه أيضًا عن صهيب رضي الله عنهم أنه قال: "مررت برسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وهو يصلي فسلمت فرد إلي إشارة" وقال: لا أعلم إلا أنه قال (إشارة بأصبعه) رواه الخمسة إلا ابن ماجة وقال الترمذي: كلا الحديثين عندي صحيح (7/ 31).
98 - একজন মুসলিমের জন্য প্রস্রাব ও পায়খানার বেগ চেপে রেখে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "খাবার উপস্থিত হলে কোনো সালাত নেই এবং এমন অবস্থায়ও (সালাত) নেই যখন সে দুটি নাপাক বস্তু (প্রস্রাব ও পায়খানা) চেপে রাখে।" এটি মুসলিম তার সহিহ-তে (৭/২৫) বর্ণনা করেছেন।
99 - সে তার সালাত ছেড়ে দিবে এবং সাপ বা বিচ্ছু মেরে ফেলবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা সালাতরত অবস্থায় দুটি কালো প্রাণী অর্থাৎ সাপ ও বিচ্ছুকে হত্যা করো।" এটি সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন (صححه)। যদি সালাত অবস্থায় অতিরিক্ত কাজ করা ব্যতিরেকেই সে দুটিকে হত্যা করা সম্ভব হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই এবং তার সালাত সঠিক (صحيح) হবে (৭/২৮)।
100 - সালাতের মধ্যে কেউ হাঁচি দিলে বা হাই তুললে হাঁচির জন্য আল্লাহর প্রশংসা করবে, কিন্তু হাই তোলার জন্য শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে না; কারণ এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা আসেনি। সালাতরত অবস্থায় কেউ তার হাঁচির জবাব দিলে সে তার প্রতিউত্তর করবে না এবং সালাত অবস্থায় কেউ তাকে সালাম দিলে ইশারা ব্যতিরেকে সালামের জবাব দিবে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সাব্যস্ত হওয়া সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "নিশ্চয়ই সালাতে অন্য কোনো কাজের অবকাশ নেই (সালাত একটি ব্যস্ততা)" (৭/৩০)।
101 - একজন মুসলিমের জন্য তার সালাতরত মুসলিম ভাইকে আগে সালাম দেওয়া বিধেয়। তবে সালাত হেফাযত করার নিমিত্তে সালাতরত ব্যক্তি ইশারা করা ছাড়া সালামের জবাব দিবে না। কারণ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি বিলালকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সালাতরত অবস্থায় তাদের সালামের জবাব কীভাবে দিতেন? তিনি বললেন: "তিনি হাত দিয়ে ইশারা করতেন।" এটি পাঁচজন (সুনান ও মুসনাদ সংকলক) বর্ণনা করেছেন। সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি ইশারার মাধ্যমে আমার জবাব দিলেন।" বর্ণনাকারী বলেন: আমার জানা মতে তিনি বলেছেন "(আঙুল দিয়ে ইশারা)।" এটি ইবনে মাজাহ ছাড়া বাকি পাঁচজন বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: "আমার নিকট উভয় হাদিসই সহিহ (صحيح)" (৭/৩১)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতাওয়াল ইয়াওমিয়্যাহ মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
102 - لا يجوز تشمير الأكمام بكفها أو ثنيها لئلا تقع على الأرض عند السجود في أثناء الصلاة ولا قبل الصلاة لقول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "أمرت أن أسجد على سبعة أعظم وأن لا أكف شعرًا ولا ثوبًا" رواه البخاري ومسلم (7/ 35).
103 - السنة أن القنوت يكون بعد الركوع لمجيء الأحاديث الصحيحة بذلك هذا في قنوت الوتر أما القنوت في صلاة الصبح فإنه يشرع عند النوازل أما القنوت فيها دائمًا فبدعة ويكون بعد الركوع ولا يختص بالصبح بل هو مشروع في جميع الصلوات عند الحاجة إليه (7/ 48).
104 - يشرع التأمين على الدعاء في القنوت؛ وعند الثناء على الله سبحانه يكفيه السكوت وإن قال سبحانك أو سبحانه فلا بأس ويرفع يديه في دعاء القنوت وتكبيرات الجنازة والعيدين لأنه قد ورد ما يدل على ذلك (7/ 48).
105 - القنوت في النازلة يجوز أكثر من شهر تبعًا لحال النازلة شدة واستمرارًا (7/ 49).
106 - صلاته مع ترك التشهد الأخير لا تصح على الصحيح من أقوال العلماء لأنه ترك ركنًا فيجب عليه القضاء (7/ 52).
102 - জামার হাতা গোটানো বা ভাঁজ করা জায়েজ নেই, যাতে সিজদাহ করার সময় তা ভূমিতে না পড়ে; এটি সালাতের মধ্যে কিংবা সালাতের আগে কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমি যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না রাখি।" এটি বুখারী ও মুসলিম (7/ 35) বর্ণনা করেছেন।
103 - সুন্নাহ হলো রুকুর পরে কুনুত পাঠ করা, কারণ এ বিষয়ে সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এটি বিতরের কুনুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর ফজরের সালাতে কুনুত কেবল বিশেষ বিপদের সময় বিধিবদ্ধ। তবে এতে স্থায়ীভাবে কুনুত পড়া একটি বিদআত (بدعة)। এটি রুকুর পরে পড়তে হয় এবং এটি কেবল ফজরের সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং প্রয়োজনের সময় সকল সালাতেই তা বিধিবদ্ধ (7/ 48)।
104 - কুনুতের দোয়ায় 'আমিন' বলা বিধিবদ্ধ; আর যখন মহান আল্লাহর প্রশংসা করা হয়, তখন নিরব থাকাই যথেষ্ট। তবে যদি কেউ 'সুবহানাকা' বা 'সুবহানাহু' বলে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কুনুতের দোয়া, জানাযার তাকবির এবং দুই ঈদের তাকবিরে হাত উত্তোলন করতে হয়, কেননা এ মর্মে প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে (7/ 48)।
105 - বিশেষ বিপদের সময় কুনুত পড়া এক মাসের বেশি সময় ধরেও জায়েজ হতে পারে, যা সেই বিপদের তীব্রতা ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল (7/ 49)।
106 - শেষ তাশাহহুদ বর্জন করে সালাত আদায় করা আলেমদের বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী শুদ্ধ হবে না। কারণ তিনি সালাতের একটি রুকন (ركنًا) বর্জন করেছেন, তাই তার ওপর পুনরায় সালাত আদায় করা ওয়াজিব (7/ 52)।