(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: -)
الشامل في زكاة الأسهم واستثمار أموال الزكاة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الشامل في زكاة الأسهم واستثمار أموال الزكاة
المؤلف: صالح بن زابن المرزوقي البقمي
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
عام النشر: 1443 هـ
عدد الصفحات: 194
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الأولى 1444
শেয়ারের যাকাত এবং যাকাত তহবিলের বিনিয়োগ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আলোচনা (আশ-শামিল ফি যাকাতিল আশহুম ওয়া ইস্তিসমারি আমওয়ালিল যাকাত) বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
গ্রন্থ: শেয়ারের যাকাত এবং যাকাত তহবিলের বিনিয়োগ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আলোচনা (আশ-শামিল ফি যাকাতিল আশহুম ওয়া ইস্তিসমারি আমওয়ালিল যাকাত)
লেখক: সালেহ বিন যাবিন আল-মারজুকি আল-বুকামি
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
প্রকাশকাল: ১৪৪৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمةالحمد لله القائل: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا (9) وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا (10)} (الشمس: 9 - 10)
والصلاة والسلام على نبينا وسيدنا محمد، القائل: «بني الإسلام على خمس؛ شهادة أن لا إله إلاّ الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، إيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت من استطاع إليه سبيلاً»
(1). وبعد:
فقد تناول هذا الكتاب موضوعين كل منهما في غاية الأهمية.
أولهما: الزكاة، وهي ركن من أركان الإسلام؛ فرضها الله على كل مسلم قادر.
وثانيهما: أسهم شركات المساهمة؛ وهي نوع جديد من المعاملات المالية، لم يسبق للفقه الإسلامي في عصور ازدهاره أن عرفها.
ولظني أنه اشتمل على معظم المسائل المهمة في موضوعه، إن لم يكن كلها سميته (الشامل في زكاة الأسهم واستثمار أموال الزكاة)
وأسهم الشركات، وما تعلق بها نازلة من النوازل الفقهية، ولها جوانب متعددة؛ ومن أهم هذه الجوانب زكاتها.
ومن أهم ما يتعلق بزكاة الأسهم معرفة من يجب عليه أداؤها، أهو المساهم أم الشركة، وقد تم بيان ذلك في الباب الأول وهو: (من تجب عليه زكاة أسهم الشركة المساهمة). وقد جاء في خمسة مباحث.
ولتنوع استثمارات أموال الشركات في هذا العصر تنوعاً كثيراً؛ كأن تكون شركة تجارية محضة، أو أن تكون زراعية، أو عقارية، أو خدمية، أو شركة نقل، أو مواشٍ، أو غير ذلك، وكل نوع من هذه الأنواع قد يتداخل مع نوع آخر.
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইরশাদ করেছেন: {সে-ই সফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে (৯) আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজেকে কলুষিত করেছে (১০)} (আশ-শামস: ৯-১০)
আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি ইরশাদ করেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর; এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করা»
(১)। অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই গ্রন্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
প্রথমটি হলো: জাকাত, যা ইসলামের অন্যতম একটি রুকন; আল্লাহ প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর এটি ফরজ করেছেন।
দ্বিতীয়টি হলো: অংশীদারি কারবারের শেয়ারসমূহ; যা এক প্রকারের নতুন আর্থিক লেনদেন, ইসলামের স্বর্ণযুগের ফিকহ শাস্ত্রে যার পরিচিতি ছিল না।
যেহেতু আমার ধারণা এই যে, এটি তার আলোচ্য বিষয়ের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা অন্তর্ভুক্ত করেছে—যদি সবগুলি না-ও হয়—তাই আমি এর নাম রেখেছি (আশ-শামিল ফি জাকাতিল আসহুম ওয়া ইস্তিসমারি আমওয়ালিজ জাকাত)।
কোম্পানির শেয়ার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি ফিকহ শাস্ত্রের সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলির (নাওয়াজিল) অন্তর্ভুক্ত, যার নানাবিধ দিক রয়েছে; আর এসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর জাকাত।
শেয়ারের জাকাতের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো—এটি আদায় করা কার ওপর আবশ্যক, শেয়ারহোল্ডারের ওপর নাকি কোম্পানির ওপর? প্রথম অধ্যায়ে তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে, যার শিরোনাম: (অংশীদারি কোম্পানির শেয়ারের জাকাত কার ওপর ওয়াজিব)। এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
বর্তমান যুগে কোম্পানির অর্থ বিনিয়োগের নানাবিধ বৈচিত্র্যের কারণে; যেমন—বিশুদ্ধ বাণিজ্যিক কোম্পানি, অথবা কৃষিভিত্তিক, স্থাবর সম্পত্তি, সেবা প্রদানকারী, পরিবহন কোম্পানি, গবাদি পশু বা অন্য কোনো ধরনের হতে পারে। আর এই প্রকারগুলোর প্রতিটি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولتباين وجهات نظر المعاصرين في مسائل كثيرة من زكاة أسهم الشركات؛ من حيث شمول الزكاة لرأس المال والأرباح، أو قصره على الأرباح؛ ومن حيث التسوية بين جميع الشركات، أو عدم ذلك مراعاة لنوع نشاطها. أو بناءً على الأصل المعهود من نشاط الأفراد فيما شابهها؛ ومن حيث إن صاحب الأسهم أعدها للتجارة أو للحصول على أرباحها؛ ومن حيث مقدار الواجب فيها، تناولت هذا الموضوع في الباب الثاني وهو: (تحرير القول في زكاة أسهم الشركات بالنظر إلى نوع نشاطها).
وقد أوردت للعلماء المعاصرين خمسة آراء، يختلف كل منها عن الآخر، وقد يلتقي بعضها في جزئية محددة أو أكثر.
ولما أثير بشأن (استثمار أموال الزكاة في مشاريع ذات ريع يعود على مستحقيها)؛ وذلك بأن تتولى إدارة معينة من قبل ولي الأمر استثمار جزء من موارد الزكاة؛ كإنشاء مصانع أو مزارع، أو متاجر لينمى هذا الجزء، وما ينتج عنه من أرباح يوزع على مستحقيها. تناولت هذا الموضوع في الباب الثالث، وجاء في أربعة فصول.
وقد أفردت مبحثاً خاصاً في كل باب أوضحت فيه رأيي مؤيداً ذلك بالأدلة، وبنقول عن أصحاب المذاهب الفقهية.
ولست أزعم أنني لم اُسبق بالكتابة في هذه الموضوعات، بل كُتبت فيها بحوث عديدة، وصدرت في شأنها قرارات من مجامع فقهية وهيئات شرعية. وبعض البحوث كانت جيدة وعميقة، لكنها لم تستوف كل جوانب الموضوع من جهة، ومن جهة أخرى لم يسلك معظمها منهج البحث العلمي؛ كما أن لي وجهة نظر
কোম্পানির শেয়ারের জাকাতের নানাবিধ মাসআলায় সমকালীন গবেষকদের মতভিন্নতার কারণে; জাকাত কি মূলধন ও মুনাফা উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করবে নাকি কেবল মুনাফার ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে; এবং সমস্ত কোম্পানিকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে নাকি তাদের কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী পার্থক্য করা হবে; অথবা অনুরূপ ক্ষেত্রে ব্যক্তিবর্গের কার্যক্রমের স্বীকৃত মূলনীতি (الأصل)-র ওপর ভিত্তি করে কি না; এবং শেয়ার মালিক কি তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করেছেন নাকি কেবল লভ্যাংশ লাভের জন্য; এবং তাতে ওয়াজিবের পরিমাণ কত হবে—এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছি, যার শিরোনাম হলো: (ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধরন বিবেচনায় কোম্পানির শেয়ারের জাকাত সংক্রান্ত বক্তব্যের তাত্ত্বিক পর্যালোচনা)।
আমি সমকালীন আলেমদের পাঁচটি অভিমত উল্লেখ করেছি, যার প্রতিটি অন্যটি থেকে ভিন্ন, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেগুলোর মধ্যে আংশিক বা অধিক মিল থাকতে পারে।
জাকাতের অর্থ এমন লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করার বিষয়ে যা থেকে অর্জিত আয় হকদারদের কল্যাণে ব্যয় হবে; আর তা হলো রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কোনো বিভাগ জাকাত তহবিলের একটি অংশ বিনিয়োগের দায়িত্ব গ্রহণ করবে; যেমন কলকারখানা, খামার বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাতে এই অংশটি বৃদ্ধি পায় এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা হকদারদের মধ্যে বণ্টন করা যায়। আমি এই বিষয়টি তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছি, যা চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত।
আমি প্রতিটি অধ্যায়ে একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছি যেখানে আমি আমার নিজস্ব অভিমত স্পষ্ট করেছি এবং তা দলিল (الأدلة) ও ফিকহি মাযহাবের ইমামদের উদ্ধৃতি দ্বারা সুসংহত করেছি।
আমি এমন দাবি করছি না যে এই বিষয়গুলোতে ইতিপূর্বে আর কোনো লেখালেখি হয়নি; বরং এ বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং ফিকহ একাডেমি ও শরিয়াহ বোর্ডগুলো থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জারি করা হয়েছে। কিছু কিছু গবেষণা বেশ মানসম্মত ও গভীর ছিল, কিন্তু একদিকে সেগুলো বিষয়ের সকল দিক পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে পারেনি, আবার অন্যদিকে সেগুলোর অধিকাংশই বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করেনি; পাশাপাশি এ বিষয়ে আমার নিজস্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لا تتوافق مع بعض آرائها، وبالنسبة لقرارات الهيئات الشرعية
(1). وإن كان فيها خير كثير، وكانت موفقة أيما توفيق، إلاّ أنها لم تتناول بعض الجوانب بوضوح.
وقد تجنبت ذكر الآراء الضعيفة والشاذة، أو الجزئيات غير المؤثرة، لأنها من جهة مستوفاة في كتب الفقه، ومن جهة أخرى ليست من أهداف البحث، ولأن من منهجي الإيجاز ما أمكن.
وفيما أرى أن الكتاب أثار مشكلات عديدة وأجاب عنها، مستفيداً ممن سبقني، ومن واقع التطبيق العملي، والاعتماد على الأدلة والاهتداء بمقاصد الشريعة الغراء، والأخذ في الحسبان أنا أمام قضايا لها جوانب متعددة وشائكة؛ لزاماً على الباحث أن يلتمس في هدي الشريعة وسماحتها ما يجلي الصورة، ويوضح الجواب، ونأمل أن الله جلت قدرته قد يسّر ذلك.
ومنهجي في ذلك على ما يلي:
1 - جمع أهم ما يتعلق بكل موضوع من المصادر الأصيلة القديمة، ومن بحوث المعاصرين، وعرضه عرضاً جديداً، مبوباً ومرتباً، يساعد على توضيحه، وعلى بيان الحكم الشرعي الذي يفضي البحث إليه.
2 - تمحيص ما ورد في الموضوع من خلافات كثيرة، واضحة حيناً، ومتشابكة أحياناً أخرى، وتصنيفها وضم كل صنف منها إلى صنفه؛ حتى تتجانس جزئياته مندرجة تحت كلياته.
3 - عرض آراء الهيئات الشرعية التي لها رأي في الموضوع، وآراء العلماء المعاصرين، وتخريج هذه الآراء على ما يمكن تخريجه عليه من أقوال العلماء السابقين والأئمة المتبوعين.
--------------------------------------------
এর কিছু মতামতের সাথে একমত হওয়া যায় না, এবং শরয়ী পর্ষদসমূহের
(১) সিদ্ধান্তের বিষয়েও একই কথা। যদিও তাতে অনেক কল্যাণ রয়েছে এবং তা অত্যন্ত সফল হয়েছে, তবে তা কিছু দিক স্পষ্টভাবে আলোচনা করেনি।
আমি দুর্বল (ضعيفة) এবং অস্বাভাবিক (شاذة) মতামতগুলো অথবা প্রভাবহীন খুঁটিনাটি বিষয়গুলো উল্লেখ করা এড়িয়ে চলেছি; কারণ একদিকে যেমন সেগুলো ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, অন্যদিকে এগুলো এই গবেষণার উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং আমার পদ্ধতি হলো যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করা।
আমি মনে করি যে, এই কিতাবটি অনেক সমস্যার অবতারণা করেছে এবং পূর্ববর্তীদের থেকে উপকৃত হয়ে, বাস্তব প্রয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে, দলিলের ওপর নির্ভর করে এবং মহিমান্বিত শরীয়াহর মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) দ্বারা পরিচালিত হয়ে সেগুলোর উত্তর প্রদান করেছে। এখানে বিবেচনায় রাখা হয়েছে যে, আমরা এমন সব সমস্যার সম্মুখীন যার বহুবিধ ও জটিল দিক রয়েছে; তাই গবেষকের জন্য আবশ্যক হলো শরীয়াহর হেদায়েত ও এর উদারতার মধ্যে এমন কিছু সন্ধান করা যা বিষয়টিকে পরিষ্কার করে এবং উত্তরকে সুস্পষ্ট করে। আমরা আশা করি যে, মহান আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে তা সহজ করে দিয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ:
১ - প্রতিটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাচীন মৌলিক উৎসসমূহ এবং সমকালীনদের গবেষণা থেকে সংগ্রহ করা এবং সেগুলোকে নতুনভাবে অধ্যায়ভিত্তিক ও সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করা, যা বিষয়টিকে স্পষ্ট করতে এবং গবেষণালব্ধ শরয়ী বিধান (حكم) বর্ণনায় সহায়ক হয়।
২ - এই বিষয়ে বর্ণিত বহুবিধ মতপার্থক্যগুলো—যা কখনো স্পষ্ট এবং কখনো জটিল—সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা এবং সেগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করে প্রতিটি শ্রেণীকে তার মূল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করা; যাতে এর আংশিক বিষয়গুলো সামগ্রিক মূলনীতির অধীনে একীভূত হয়।
৩ - এই বিষয়ে যেসকল শরয়ী পর্ষদ ও সমকালীন আলেমদের মতামত রয়েছে তা উপস্থাপন করা এবং পূর্ববর্তী আলেম ও অনুসরণীয় ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে এই মতামতগুলোর তাখরিজ (تخريج) করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
4 - تحرير محل النزاع، وذكر نصوص القرارات، ونقل نصوص بعض العلماء إذا دعت الحاجة.
5 - إيراد أدلة كل فريق، وعند عدم وفاء ما ذكروه فإني أفترض لهم أدلة وأوردها، أو أكملها، وأعمل على إيضاحها، وأبين وجه دلالتها، وأذكر مصادرها، وإن كانت الأدلة حديثية فإني أبين درجة الاحتجاج بها.
6 - مناقشة هذه الأدلة مناقشة أرجو أن تكون وافية، وفي حالة عدم وجود مناقشة لأي من الفريقين، فإني أفترض لهم مناقشة في ضوء رأيهم وأدلتهم.
7 - بعد ما سبق أقوم بترجيح الرأي الذي أراه أقوى دليلاً، مع بيان سبب الترجيح، وأُورد الأدلة، والتعليلات التي تؤيده، وربما افترضت ما يمكن أن يورد عليها، وأُجيب عن هذا الافتراض.
8 - اختيار سهولة العبارة، ووضوح الفكرة، مع البعد عن الإطناب.
9 - الاتصال ببعض الشركات في المملكة العربية السعودية؛ لمعرفة كيفية تزكيتها لأسهمها.
وكما اشتمل الكتاب على الأبواب الثلاثة المذكورة، فقد اشتمل على هذه المقدمة، وعلى مبحث تمهيدي، وخاتمة، وثبت للمراجع.
اللهم أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم.
4 - বিরোধপূর্ণ বিষয়ের বিশ্লেষণ (تحرير محل النزاع), সিদ্ধান্তের পাঠসমূহ উল্লেখ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কতিপয় আলেমদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি প্রদান।
5 - প্রতিটি পক্ষের দলীলসমূহ উপস্থাপন করা; আর যদি তাদের উল্লিখিত দলীলসমূহ অপর্যাপ্ত হয়, তবে আমি তাদের জন্য দলীল অনুমান করে তা উল্লেখ করেছি অথবা সেগুলোকে পূর্ণতা দান করেছি এবং তা ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পেয়েছি। সেই সাথে আমি দলীলের প্রয়োগরীতি (وجه دلالتها) বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোর উৎস উল্লেখ করেছি। আর যদি দলীলসমূহ হাদিস সংক্রান্ত হয়, তবে আমি তা দ্বারা দলীল গ্রহণের গ্রহণযোগ্যতার স্তর (درجة الاحتجاج) স্পষ্ট করেছি।
6 - এই দলীলসমূহের এমন বিস্তারিত পর্যালোচনা করা যা পূর্ণাঙ্গ হবে বলে আমি আশা করি। কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা বিদ্যমান না থাকলে, তাদের মত ও দলীলের আলোকে আমি একটি পর্যালোচনা অনুমান করে নিয়েছি।
7 - উপরোক্ত বিষয়াবলির পর, যে মতটিকে দলীলের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী মনে হয়েছে আমি সেটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছি এবং এই প্রাধান্য প্রদানের কারণও বর্ণনা করেছি। এছাড়া যে দলীল ও যুক্তিগুলো উক্ত মতকে সমর্থন করে তা উল্লেখ করেছি। ক্ষেত্রবিশেষে সেই মতের ওপর কী ধরনের আপত্তি আসতে পারে তাও অনুমান করেছি এবং সেই আপত্তির উত্তর প্রদান করেছি।
8 - বাহুল্য পরিহার করে সহজবোধ্য ভাষা ও চিন্তার স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
9 - সৌদি আরবের কিছু কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা; যাতে তাদের শেয়ারের জাকাত (تزكية) প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।
বইটি যেমন উল্লিখিত তিনটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তেমনি এটি এই ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ, উপসংহার এবং গ্রন্থপঞ্জির সমন্বয়ে গঠিত।
হে আল্লাহ, আপনিই আপনার বান্দাদের মাঝে সেই বিষয়ের ফয়সালা করবেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আপনার অনুগ্রহে আমাকে সত্যের দিশা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথের দিশা দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سائلاً المولى جلت قدرته أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله ذخراً لي يوم الدين، وأن ينفع به عموم المسلمين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيرا.
تم هذا الشامل بفضل الله
يوم الاثنين 07/ جمادى الآخرة/ 1443 هـ _ 10/ يناير/ 2022 م
في حي العوالي- بمكة المكرمة
মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি—যাঁর শক্তি ও সামর্থ্য সুমহান—তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং একে বিচার দিবসে আমার জন্য পাথেয় হিসেবে নির্ধারণ করেন, আর এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
আল্লাহর অনুগ্রহে এই পূর্ণাঙ্গ সংকলনটি সমাপ্ত হয়েছে
সোমবার ০৭/ জুমাদাল আখিরাহ/ ১৪৪৩ হিজরি _ ১০/ জানুয়ারি/ ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
মক্কা মুকাররমাহর আল-আওয়ালি এলাকায়
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأولمن تجب عليه زكاة أسهم الشركة المساهمة
প্রথম অধ্যায়যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের জাকাত যাদের ওপর ওয়াজিব (واجب)
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ملخص الباب الأولاختلف العلماء المعاصرون فيمن تجب عليه زكاة الأسهم أهو المساهم أم الشركة؟ على ثلاثة أقوال:
أ- تجب على المساهم.
ب- تجب على المساهم، وتخرجها إدارة الشركة نيابة عنه.
ج- تجب على الشركة.
والرأي الذي توصلت إليه هو أن وجوب الزكاة متوجه إلى الشركة لا إلى آحاد المساهمين، لأن الزكاة تكليف متعلق بالمال، ولذا فإنها تجب على الشخص الاعتباري حيث لا يشترط لها التكليف الذي أساسه العقل والبلوغ، كوجوب الزكاة في مال الصبي والمجنون، ويدفعها عنهما وليهما، هذا إذا كانت الشركة تقوم بإخراجها، أما إذا كانت لا تقوم بذلك فيجب على المساهم أن يخرج زكاة أسهمه. وما توصلت إليه هو للأدلة التي أُوردت في المبحث الخامس ومنها عموم حديث «لا يُجمعُ بين متفرِّقٍ ولا يُفرَّقُ بين مجتمعٍ خشيةَ الصَّدقةِ»
(1)، وكذلك أخذاً بمبدأ الخلطة في أموال التجارة، ولثبوت ملكية كل شريك فيما قدمه بقية الشركاء، وبناءً على شخصيتها المعنوية، فيجب على ذي السلطة فيها إخراجها، وعليه فإذا كانت الشركة في دولة إسلامية تطبق نظام الزكاة، أو كانت في دولة غير إسلامية، لكنها تتمكن من أداء الزكاة لمصارفها، لزم الشركة أن تقوم بحصر الزكاة، وتسليمها إلى الجهة المختصة بها، لتقوم بتوزيعها على مستحقيها.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদের সারসংক্ষেপশেয়ারের (stocks) জাকাত কার ওপর ওয়াজিব—শেয়ারহোল্ডার না কি কোম্পানির ওপর? এ বিষয়ে সমকালীন আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
ক- শেয়ারহোল্ডারের ওপর ওয়াজিব।
খ- শেয়ারহোল্ডারের ওপর ওয়াজিব, তবে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেবে।
গ- কোম্পানির ওপর ওয়াজিব।
আমি যে মতটিতে উপনীত হয়েছি তা হলো, জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি কোম্পানির ওপর বর্তায়, ব্যক্তিগতভাবে পৃথক কোনো শেয়ারহোল্ডারের ওপর নয়। কারণ জাকাত হলো সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিধান (تكليف)। তাই এটি একটি আইনি সত্তার ওপর ওয়াজিব হয়, যেখানে বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন বা বালেগ হওয়ার মতো শর্তারোপ করা হয় না; যেমন শিশু ও পাগলের সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়া এবং তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁদের অভিভাবক তা আদায় করা। এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন কোম্পানি স্বয়ং জাকাত আদায় করে; আর যদি কোম্পানি তা না করে, তবে শেয়ারহোল্ডারকে অবশ্যই তার শেয়ারের জাকাত আদায় করতে হবে। আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তা পঞ্চম পরিচ্ছেদে বর্ণিত দলিলসমূহের ভিত্তিতে। তার মধ্যে একটি হলো এই ব্যাপক (عام) হাদিসের সাধারণ অর্থ: "সদকার ভয়ে পৃথক মালকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিত মালকে পৃথক করা যাবে না"
(১)। তদ্রূপ ব্যবসায়িক সম্পদের ক্ষেত্রে মিশ্রণের (الخلطة) নীতি গ্রহণ করা এবং অন্যান্য অংশীদারদের জমাকৃত সম্পদের ওপর প্রত্যেক অংশীদারের মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কারণে এটি প্রযোজ্য। এছাড়া কোম্পানির আইনি ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে এর যথাযথ কর্তৃপক্ষের ওপর জাকাত আদায় করা ওয়াজিব হয়। অতএব, কোম্পানি যদি এমন কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে থাকে যেখানে জাকাত ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, অথবা যদি কোনো অমুসলিম রাষ্ট্রেও থাকে কিন্তু নির্ধারিত খাতে জাকাত প্রদানের সামর্থ্য রাখে, তবে কোম্পানির জন্য জাকাতের পরিমাণ নিরূপণ করা এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা আবশ্যক, যাতে তারা তা উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাঝে বণ্টন করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
مبحث تمهيديفي حكم الزكاة، وحكم من لم يؤدها جحوداً أو تهاوناً
المطلب الأوّل:حكم وجوب الزكاة:الزكاة هي الركن الثالث من أركان الإسلام، وفرضٌ من فروضه، وهي حق مالي، فُرضت للمواساة والإحسان، فتجب العناية بها، والحرص على أدائها كما أوجب الله، وقد جمع الله بينها وبين الصلاة في اثنين وثمانين موضعاً من كتابه الكريم، منها قول الله عز وجل {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ (43)} (البقرة: 43)، وقوله سبحانه: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (56)} (النور: 56)، وقوله تعالى {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} (البينة: 5)، وكذلك جمع بينهما الرسول صلى الله عليه وسلم في أحاديث كثيرة، منها قوله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذاً رضي الله عنه إلى اليمن: «ادْعُهُمْ إلى شَهَادَةِ أنْ لا إلَهَ إلَّا الله، وأَنِّي رَسولُ الله، فإنْ هُمْ أطَاعُوا لذلكَ، فأعْلِمْهُمْ أنَّ الله قَدِ افْتَرَضَ عليهم خَمْسَ صَلَوَاتٍ في كُلِّ يَومٍ ولَيْلَةٍ، فإنْ هُمْ أطَاعُوا لذلكَ، فأعْلِمْهُمْ أنَّ الله افْتَرَضَ عليهم صَدَقَةً في أمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أغْنِيَائِهِمْ وتُرَدُّ علَى فُقَرَائِهِمْ»
(1).
وبهذا تبين عظم شأن الزكاة، وأنها في كتاب الله، وفي سنة رسوله صلى الله عليه وسلم قرينة الصلاة، والصلاة لا يخفى عظم شأنها، فهي عمود الإسلام، وهي أعظم الأركان
--------------------------------------------
প্রাথমিক আলোচনাজাকাতের বিধান এবং যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে বা অবহেলার কারণে তা আদায় করেনি তার বিধান প্রসঙ্গে
প্রথম পরিচ্ছেদ:জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিধান:জাকাত হলো ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যে তৃতীয় রুকন এবং এর ফরয বিধানগুলোর একটি। এটি একটি আর্থিক অধিকার, যা পারস্পরিক সহানুভূতি ও অনুগ্রহের জন্য ফরয করা হয়েছে। সুতরাং এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা এবং আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে তা আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবের বিরাশিটি স্থানে জাকাত ও সালাতকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো (৪৩)} (সূরা আল-বাকারাহ: ৪৩), এবং তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও (৫৬)} (সূরা আন-নূর: ৫৬), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সঠিক দ্বীন} (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫)। তদ্রূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসংখ্য হাদিসে এই দুইটিকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী—যখন তিনি মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন: «তুমি তাদেরকে এই সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে আহ্বান জানাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা তা-ও মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া (বণ্টন করা) হবে»
(১)।
এর মাধ্যমে জাকাতের বিষয়ের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং তা আল্লাহর কিতাবে ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহতে সালাতের সমান্তরাল বিষয়। আর সালাতের মাহাত্ম্য তো কারো অজানা নয়; তা ইসলামের স্তম্ভ এবং রুকনসমূহের মধ্যে মহান রুকন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
بعد الشهادتين، والزكاة أختها وقرينتها، فمن بخل بها حُشر مع أعداء الله، الذين آثروا المال على طاعة الله ورسوله
(1).
وقد وجبت بالكتاب والسنة والإجماع
(2)، وقد سبق ذكر بعض آياته الدالة على ذلك، أما السنة فمنها حديث معاذ الذي سبق ذكره، ومنها قوله صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإسْلَامُ علَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أنْ لا إلَهَ إلَّا الله وأنَّ مُحَمَّدًا رَسولُ الله، وإقَامِ الصَّلَاةِ، وإيتَاءِ الزَّكَاةِ، والحَجِّ، وصَوْمِ رَمَضَان »
(3). وأما الإجماع فقد أجمع المسلمون في جميع الأعصار على وجوبها، واتفق الصحابة على قتال مانعها
(4).
فيجب على كل مسلم مكلّف، إحصاء ما لديه من المال الزكوي، وإخراج زكاته إذا حال عليه الحول، وبلغ نصاباً، ويكون طيب النفس بذلك، أداءً لما أوجبه الله، وشكراً لنعمته، وإحساناً إلى عباده، وإذا فعل المسلم ذلك، ضاعف الله له الأجر، وأخلف عليه ما أنفق
(5)، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} (سورة البقرة: 277). {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} (سورة سبأ: 39) وبارك له في الباقي، قال صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا وَيَقُولُ الْآخَرُ اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا»
(6). وزكاه وطهره، كما قال الله سبحانه: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (التوبة: 103).
--------------------------------------------
কালিমায়ে শাহাদাতদ্বয়ের পর যাকাত হলো এর বোন এবং সঙ্গিনী। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে কার্পণ্য করবে, সে আল্লাহর শত্রুদের সাথে হাশরকৃত হবে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের চেয়ে সম্পদকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে
(1).
যাকাত কুরআন, সুন্নাহ (السنة) এবং ঐক্যমত্যের (الإجماع) মাধ্যমে অপরিহার্য (واجب) হয়েছে
(2)। এই বিষয়ের নির্দেশক কিছু আয়াত ইতোমধ্যে উল্লিখিত হয়েছে। আর সুন্নাহ (السنة) থেকে এর প্রমাণ হলো মুআয (রা.)-এর হাদিস যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা পালন করা»
(3)। আর ঐক্যমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে সকল যুগের মুসলিমগণ এর অপরিহার্যতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং সাহাবীগণ যাকাত অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন
(4).
সুতরাং প্রত্যেক শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) মুসলিমের ওপর আবশ্যক হলো তার নিকট থাকা যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব করা এবং যদি তা নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয় এবং এক বছর পূর্ণ (حول) হয়, তবে তার যাকাত আদায় করা। এটি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে, তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে প্রফুল্ল চিত্তে প্রদান করতে হবে। যখন কোনো মুসলিম এটি করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান বৃদ্ধি করবেন এবং যা সে ব্যয় করেছে তার বিনিময় দান করবেন
(5), মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সালাত কায়েম করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তাদের প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না} (সূরা আল-বাকারা: ২৭৭)। {তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, তিনি তার বিনিময় দেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা} (সূরা সাবা: ৩৯)। এছাড়া আল্লাহ তার অবশিষ্ট সম্পদে বরকত দান করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রতিদিন সকালে যখন বান্দারা জাগ্রত হয়, তখন দুইজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। তাদের একজন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি দানকারীকে বিনিময় দান করুন। আর অপরজন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি কৃপণকে ধ্বংস দান করুন»
(6)। এটি তাকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে, যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {তাদের সম্পদ থেকে সাদাকাহ (صدقة) গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন। আর তাদের জন্য দোয়া করুন, নিশ্চয় আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} (সূরা আত-তাওবাহ: ১০৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ويجب على المسلم أن يعظم حرمات الله، وأن يحذر من التساهل في أداء الزكاة، للأدلة التي سبق ذكرها، أما غير المكلف من المسلمين؛ كالصغير والمجنون، فالواجب على وليّه إخراج زكاة ماله
(1)، كلما حال عليه الحول، لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ابتَغُوا في مالِ اليتامى لا تأكُلُها الزكاةُ»
(2)، ولعموم الأدلة من الكتاب والسنة الدالة على وجوب الزكاة في مال المسلم مكلفاً أو غير مكلف.
ويرى الحنفية أنها لا تجب على الصبي والمجنون، وعّللوا ذلك بأنها عبادة محضة، وليسا مخاطبين بها
(3).
والراجح هو رأي الجمهور لعموم الأدلة الشاملة للمسلم مكلّفاً أو غير مكلّف، وليس في أيٍ منها استثناء للصبي والمجنون، بل ورد الحديث المحتج به مؤيداً لعموم الأحاديث الأخرى. كما يؤيد ذلك ما أخرجه ابن زنجويه بسنده إلى الحكم ابن أبي العاص الثقفي قال: إن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال لي: هل قبلكم متجر؟ فإن في يدي مالاً ليتيم، قد كادت الصدقة أن تأتي عليه.
(4)--------------------------------------------
प्रत्यেক মুসলিমের ওপর কর্তব্য হলো আল্লাহর পবিত্র বিধানাবলির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত দলিলসমূহের ভিত্তিতে জাকাত আদায়ে শিথিলতা প্রদর্শনের ব্যাপারে সতর্ক থাকা। আর মুসলিমদের মধ্যে যারা শরয়ি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতার (তাকলিফ) আওতাভুক্ত নয়; যেমন শিশু এবং অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি, তাদের সম্পদের বছর পূর্ণ হলে তার জাকাত আদায় করা অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব
(১)। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা এতিমদের সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করো, যাতে জাকাত তা গ্রাস করে না ফেলে»
(২)। এছাড়া কুরআন ও সুন্নাহর সাধারণ দলিলসমূহ মুসলিমের সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, সে শরয়ি বিধান পালনের উপযুক্ত (মুকাল্লাফ) হোক বা না হোক।
হানাফি মাযহাবের মতে, শিশু এবং অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়। তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, জাকাত একটি খাঁটি ইবাদত এবং তারা এর সম্বোধিত পাত্র নয়
(৩)।
অধিকাংশ আলেম বা জমহুরের মতটিই এখানে গ্রহণযোগ্য (রাজহ), কারণ দলিলসমূহের ব্যাপকতা শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি নির্বিশেষে সকল মুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর কোনোটিতেই তাদের জন্য কোনো ব্যতিক্রম উল্লেখ নেই। বরং এখানে উল্লিখিত দলিলটি অন্যান্য সাধারণ হাদিসগুলোর সমর্থক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এর সমর্থনে ইবনে জানজুওয়াইহ তার নিজস্ব সনদ (إسناد) সহকারে হাকাম ইবনে আবি আল-আস আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছিলেন: ‘তোমাদের ওখানে কি ব্যবসার কোনো সুযোগ আছে? কারণ আমার হাতে একজন এতিমের সম্পদ রয়েছে, যা সদকা (জাকাত) দিতে দিতে প্রায় শেষ হয়ে আসার উপক্রম হয়েছে।’
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الثاني:حكم من لم يؤد الزكاة جحوداً أو بخلاً أو تهاوناً
الفرع الأول: حكم من لم يؤد الزكاة جحوداً لوجوبهافي حكم تارك الزكاة تفصيل، فإن تركها جاحداً لوجوبها مع توافر شروط وجوبها عليه كفر بذلك إجماعاً، ولو زكّى ما دام جاحداً لوجوبها
(1)، وهو مرتد تجري عليه أحكام المرتدين
(2).
فالجاحدون لوجوب الزكاة حكمهم حكم الكفرة، ويحشرون معهم إلى النار، وعذابهم فيها مستمر أبد الآباد كسائر الكفرة؛ لقول الله عز وجل في حقهم وأمثالهم: {كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ} البقرة: (167). وقال {يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ} (المائدة: 37). والأدلة في ذلك كثيرة، ومن السنة حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أُمِرْتُ أنْ أُقاتِلُ النَّاسَ حتَّى يَشْهَدُوا أنْ لا إلَهَ إلَّا الله، ويُؤْمِنُوا بي، وبِما جِئْتُ به، فإذا فَعَلُوا ذلكَ، عَصَمُوا مِنِّي دِماءَهُمْ، وأَمْوالَهُمْ إلَّا بحَقِّها، وحِسابُهُمْ علَى اللَّهِ»
(3) فدّل هذا الحديث، وما جاء في معناه، على أن الذي يمتنع من أداء الزكاة، يُباح قتاله، كما قاتل الصديق مانعيها؛ لأنه لا يكون معصوم الدم إلاّ بإقام الصلاة وإيتاء الزكاة، ولهذا لما توفي النبي صلى الله عليه وسلم امتنع بعض العرب من أداء الزكاة، وارتدوا عن الإسلام، وتنوعت ردتهم، فبعضهم قال: لو كان نبياً ما مات، وجهل أن الأنبياء ماتوا قبله عليه الصلاة والسلام. وبعضهم قال: هذه الزكاة لن نؤديها، وبعضهم ارتد بأنواع أخرى، فقام أبو بكر في الناس خطيباً رضي الله عنه وأرضاه، وحث الصحابة على قتالهم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:অস্বীকার, কার্পণ্য বা অবহেলার কারণে জাকাত প্রদান না করার বিধান
প্রথম অনুচ্ছেদ: জাকাতের আবশ্যকতা অস্বীকার করার কারণে জাকাত প্রদান না করার বিধানজাকাত ত্যাগকারীর বিধানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে; যদি কেউ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এর আবশ্যকতা অস্বীকার করার কারণে তা ত্যাগ করে, তবে সর্বসম্মত ঐক্যমত্যের (إجماعاً) ভিত্তিতে সে কুফরি করল। এমনকি সে যদি জাকাত প্রদানও করে কিন্তু এর আবশ্যকতাকে অস্বীকার করতে থাকে, তবুও সে কাফির
(১)। সে একজন মুরতাদ এবং তার ওপর মুরতাদের বিধানাবলি জারি হবে
(২)।
জাকাতের আবশ্যকতা অস্বীকারকারীদের বিধান কাফিরদের বিধানের অনুরূপ এবং তাদের কাফিরদের সাথেই জাহান্নামে হাশর করা হবে। অন্যান্য কাফিরদের মতো সেখানে তাদের আজাব চিরস্থায়ী হবে; কারণ মহান আল্লাহ তাদের এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিদের সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: {এভাবে আল্লাহ তাদের কার্যাবলিকে তাদের জন্য আক্ষেপ হিসেবে দেখাবেন এবং তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না} আল-বাকারাহ: (১৬৭)। এবং তিনি বলেছেন: {তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আজাব} (আল-মায়িদাহ: ৩৭)। এ বিষয়ে অসংখ্য দলিল রয়েছে। সুন্নাহ থেকে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মানুষের সাথে লড়াই করার জন্য, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর থাকবে»
(৩)। এই হাদিস এবং এ অর্থে বর্ণিত অন্যান্য হাদিস প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ; যেমনিভাবে সিদ্দিক (আবু বকর) রাদিয়াল্লাহু আনহু জাকাত দিতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। কারণ সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান ব্যতীত কারো রক্ত নিরাপদ হয় না। একারণেই যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন কিছু আরব জাকাত দিতে অস্বীকার করল এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত (মুরতাদ) হয়ে গেল। তাদের এই ধর্মত্যাগের ধরন ছিল বিচিত্র; তাদের কেউ কেউ বলেছিল: যদি তিনি নবী হতেন তবে মারা যেতেন না, তারা জানত না যে তাঁর আগে অনেক নবী ইন্তেকাল করেছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কেউ কেউ বলেছিল: আমরা এই জাকাত প্রদান করব না। আবার কেউ অন্যভাবে ধর্মত্যাগী হয়েছিল। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং সাহাবীদের তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حتى يدخلوا في الإسلام كما خرجوا منه، فراوده عمر في ذلك
(1) جاء في صحيح البخاري: «لمّا توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان أبوبكر رضي الله عنه، وكفر من كفر من العرب، فقال عمر رضي الله عنه كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلاّ الله، فمن قالها فقد عصم منّي ماله ونفسه إلاّ بحقها وحسابه على الله»
(2). فقال: «والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة، فإن الزكاة حق المال، واللهِ لو مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إلى رَسولِ الله صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ علَى مَنْعِهَا»
(3) وفي لفظ (عِقالاً).
قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: «فَما هو إلَّا أنْ رَأَيْتُ أنَّ الله شَرَحَ صَدْرَ أبِي بَكْرٍ رضي الله عنه بالقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أنَّه الحَقُّ»
(4). فأجمع الصحابة على هذا، وقاتلوا المرتدين، وجاهدوهم جهاداً عظيماً، حتى أدخلوهم في الإسلام كما خرجوا منه، إلاّ من سبقت له الشقاوة فقُتل على ردته؛ كمسيلمة الكذاب وآخرون. وهدى الله من هدى منهم من بقاياهم
(5).
وإذا طلبها ولي الأمر وجب أن تؤدى إليه، فإن لم يطلبها وزعها المسلم بين المستحقين لها. وقد ذهب جمهور الفقهاء إلى أن مانع الزكاة إذا أُخذت منه قهراً لا يؤخذ معها من ماله شيء.
وذهب الشافعي في القديم
(6)، وإسحاق بن راهويه، وأبو بكر عبد العزيز من أصحاب أحمد إلى أن مانع الزكاة يؤخذ شطر ماله عقوبةً له، مع أخذ الزكاة منه
(7).
--------------------------------------------
যাতে তারা ইসলামে পুনরায় প্রবেশ করে যেমনিভাবে তারা তা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল, এ ব্যাপারে উমর (রা.) তাকে (আবু বকরকে) সম্মত করার চেষ্টা করেছিলেন
(১) সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে: «যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) খলিফা নিযুক্ত হলেন, আর আরবদের মধ্যে যারা কুফরি করার ছিল তারা কুফরি করল, তখন উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) বললেন, আপনি কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। সুতরাং যে ব্যক্তি তা বলল, সে আমার পক্ষ থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়»
(২)। তিনি (আবু বকর) বললেন: «আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ, তারা যদি আমাকে একটি ছাগলছানা দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রদান করত, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করব»
(৩)। আর অন্য পাঠে এসেছে (উটের রশি)।
উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন: «আল্লাহর শপথ, আমি যখন দেখলাম যে আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের জন্য আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সত্য»
(৪)। অতঃপর সাহাবীগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করলেন এবং তারা মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। তারা তাদের বিরুদ্ধে এক মহান জিহাদ পরিচালনা করলেন যাতে তারা ইসলামে পুনরায় প্রবেশ করে যেমনিভাবে তা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল; তবে যার কপালে দুর্ভাগ্য ছিল সে তার ধর্মত্যাগের ওপরই নিহত হলো, যেমন মিথ্যাবাদী (كذاب) মুসায়লিমা এবং আরও অনেকে। আর আল্লাহ তাদের অবশিষ্টাংশের মধ্যে যাদের চাইলেন হিদায়াত দান করলেন
(৫)।
আর যখন রাষ্ট্রপ্রধান যাকাত দাবি করবেন, তখন তা তাকে প্রদান করা ওয়াজিব। যদি তিনি তা দাবি না করেন, তবে মুসলিম ব্যক্তি তা যাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন করে দেবেন। জমহুর ফকীহগণ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, যাকাত অস্বীকারকারীর নিকট থেকে যদি তা জোরপূর্বক আদায় করা হয়, তবে তার সম্পদ থেকে যাকাত ব্যতিরেকে অতিরিক্ত আর কিছু গ্রহণ করা হবে না।
ইমাম শাফেয়ী তার পুরাতন মতে
(৬), ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং আহমাদ (রাহ.)-এর অনুসারীদের মধ্য থেকে আবু বকর আব্দুল আজিজ এই মত পোষণ করেছেন যে, যাকাত অস্বীকারকারীর নিকট থেকে যাকাত আদায়ের সাথে সাথে দণ্ডস্বরূপ তার সম্পদের অর্ধেক অংশ গ্রহণ করা হবে
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يُستدل لقول الجمهور بحديث «ليس في المالِ حقٌّ سوَى الزَّكاةِ»
(1) وبأن الصحابة رضي الله عنهم لم يأخذوا نصف أموال الأعراب الذين منعوا الزكاة.
واستدل أصحاب القول الثاني: بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «في كلِّ إبلٍ سائمةٍ في كلِّ أربعينَ ابنةُ لبونٍ لا يفرَّقُ إبلٌ عن حسابِها من أعطاها مؤتَجرًا فلَهُ أجرُها ومن أبى فإنَّا آخذوها وشطرَ إبلِهِ عزمةٌ من عزماتِ ربِّنا لا يحلُّ لآلِ محمَّدٍ منْها شيءٌ»
(2).
والراجحُ قول الجمهور لقوة أدلتهم، وأُجيب عن حديث «فإنَّا آخِذوها وشَطْرَ مالِهِ» بما قاله البيهقي وغيره: بأنّ حديث بهز منسوخ
(3)، وبما أجاب به إبراهيم الحربي (بأن: لفظه وهم فيه الراوي، وإنما هو: «فإنّا آخذوها من شطر ماله» أي نجعل ماله شطرين، فيتخير عليه المصدّق، ويأخذْ الصدقة من خير الشطْرين عقوبةً لمنعه الزكاة، فأمّا ما لا يلْزمه فلا)
(4).
ومن كان مقراً بوجوب الزكاة، ومنعها وهو خارج عن قبضة الإمام، فعلى الإمام أن يقاتله، لأن الصحابة قاتلوا الممتنعين من أدائها، فإن ظفر به أخذها منه من غير زيادة على قول الجمهور كما تقدم.
ومانع الزكاة المنكر لوجوبها، إن كان جاهلاً ومثله يجهل ذلك، لحداثة عهده بالإسلام، أو لأنه نشأ ببادية بعيدة عن الأمصار، أو نحو ذلك، فإنه يعرَّف وجوبها ولا يُحكم بكفره، لأنه معذور، وإن كان مسلماً ناشئاً ببلاد الإسلام بين
--------------------------------------------
জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণের মতের সপক্ষে «সম্পদে জাকাত ব্যতীত অন্য কোনো হক নেই»
(১) এই হাদিসটি দ্বারা এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গণ জাকাত প্রদানে অস্বীকারকারী বেদুইনদের সম্পদের অর্ধেক গ্রহণ না করার ঘটনা দ্বারা দলিল পেশ করা হয়।
দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: «প্রতিটি বিচরণকারী উটের পালে, প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন (তিন বছরে পদার্পণকারী মাদী উট) জাকাত দিতে হবে; গণনার সময় উটগুলোকে আলাদা করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তা প্রদান করবে সে তার প্রতিদান পাবে। আর যে অস্বীকার করবে আমি তা এবং তার উটের অর্ধেক অংশ গ্রহণ করব; এটি আমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি সুনিশ্চিত আদেশ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের জন্য এর কোনো কিছু হালাল নয়»
(২)।
দলিলসমূহের শক্তিশালী হওয়ার কারণে জমহুরের মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح)। আর «আমি তা এবং তার মালের অর্ধেক গ্রহণ করব» হাদিসটির উত্তরে ইমাম বায়হাকী ও অন্যান্যগণ যা বলেছেন তা হলো: বাহয-এর হাদিসটি রহিত (منسوخ)
(৩)। এছাড়া ইব্রাহিম হারবী যে উত্তর দিয়েছেন তা হলো: (এর শব্দে রাবী (الراوي) ভ্রান্তি (وهم) করেছেন; মূলত শব্দটি হবে: «আমি তার মালের একটি অংশ থেকে তা গ্রহণ করব», অর্থাৎ তার মালকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হবে এবং জাকাত উসুলকারী সেই দুই ভাগের মধ্যে যেটি উত্তম সেটি নির্বাচন করে নেবেন। জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর শাস্তি হিসেবে এই উত্তম অংশটি নেওয়া হবে, তবে যা তার ওপর আবশ্যক নয় তা নেওয়া হবে না)
(٤)।
যে ব্যক্তি জাকাতের আবশ্যকতা স্বীকার করে কিন্তু তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় এবং সে যদি ইমামের (শাসকের) নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তবে ইমামের দায়িত্ব হলো তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। কারণ সাহাবীগণ জাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। যদি তাকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়, তবে জমহুরের পূর্বোক্ত মত অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু না নিয়ে কেবল জাকাতটুকুই গ্রহণ করা হবে।
জাকাতের আবশ্যকতা অস্বীকারকারী ব্যক্তি যদি অজ্ঞ হয় এবং নও-মুসলিম হওয়া অথবা লোকালয় থেকে দূরে মরু অঞ্চলে বসবাস করার কারণে তার মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন অজ্ঞতা স্বাভাবিক হয়, তবে তাকে এর আবশ্যকতা সম্পর্কে জানানো হবে এবং তাকে কাফির বলে গণ্য করা হবে না; কারণ সে ওজরসম্পন্ন। কিন্তু সে যদি মুসলিম ভূখণ্ডে বেড়ে ওঠা কোনো মুসলিম হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أهل العلم فيُحكم بكفره، ويكون مرتداً، وتجري عليه أحكام المرتد، لكونه أنكر معلوماً من الدين بالضرورة
(1).
الفرع الثاني: حكم من لم يؤدها بخلاً أو تهاوناً أو تأولاًإن تركها المسلم بخلاً أو تهاوناً أو تأولاً، فإنه يعتبر بذلك فاسقاً، قد ارتكب كبيرة عظيمة من كبائر الذنوب، وهو تحت مشيئة الله إن مات على ذلك؛ لقول الله سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا} (النساء: 48). ولا يحكم بكفره، ولذا فإن مات في قتاله عليها، ورثه المسلمون من أقاربه وصُلى عليه.
وفي رواية عن أحمد يحكم بكفره ولا يُورثْ ولا يُصلى عليه، لما روي أن أبا بكر لما قاتل مانعي الزكاة، وعضتهم الحرب قالوا: نؤديها، قال: لا أقبلها حتى تشهدوا أن قتلانا في الجنة وقتلاكم في النار، ووافقه عمر. ولم ينقل إنكار ذلك عن أحدٍ من الصحابة فدّل على كفرهم
(2).
وكل مالٍ لا تُؤدى زكاته فهو كنز، يعذب به صاحبه يوم القيامة، وقد دل القرآن الكريم والسنة المتواترة على أن تارك الزكاة يعذب يوم القيامة بأمواله التي ترك زكاتها، ثم يُرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار. وهذا الوعيد في حق من ليس جاحداً لوجوبها. قال سبحانه وتعالى: {وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} (التوبة: 34) وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما مِنْ صاحِبِ ذَهَبٍ ولا فِضَّةٍ، لا يُؤَدِّي مِنْها حَقَّها، إلَّا إذا كانَ يَوْمُ القِيامَةِ، صُفِّحَتْ له صَفائِحُ مِنْ نارٍ، فَأُحْمِيَ عليها في نارِ جَهَنَّمَ، فيُكْوَى بها جَنْبُهُ وجَبِينُهُ وظَهْرُهُ، كُلَّما بَرَدَتْ أُعِيدَتْ له، في يَومٍ كانَ مِقْدارُهُ خَمْسِينَ
--------------------------------------------
বিজ্ঞ আলেমগণ তার ওপর কুফরের হুকুম দিয়েছেন এবং সে ধর্মত্যাগী (مرتد) হিসেবে গণ্য হবে। তার ওপর ধর্মত্যাগীদের (مرتد) বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে, কারণ সে দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধভাবে জ্ঞাত (معلوماً من الدين بالضرورة) কোনো বিষয় অস্বীকার করেছে।
(১).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কৃপণতা, অবহেলা বা ভুল ব্যাখ্যার কারণে জাকাত আদায় নাকারীর বিধানযদি কোনো মুসলিম কৃপণতা, অবহেলা বা ভুল ব্যাখ্যার কারণে জাকাত ত্যাগ করে, তবে সে এর মাধ্যমে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে এক বড় গুনাহে লিপ্ত হবে। এই অবস্থায় সে মারা গেলে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, সে এক মহাপাপ রচনা করে} (আন-নিসা: ৪৮)। তাকে কাফের গণ্য করা হবে না, তাই জাকাত আদায়ের লড়াইতে সে নিহত হলে তার মুসলিম আত্মীয়রা তার মিরাস পাবে এবং তার জানাজা পড়া হবে।
ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) তাকে কাফের গণ্য করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সে মিরাস পাবে না এবং তার জানাজাও পড়া হবে না। কারণ বর্ণিত আছে যে, আবূ বকর (রা.) যখন জাকাত প্রদান অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং যুদ্ধের তীব্রতা তাদের গ্রাস করে, তখন তারা বলেছিল: ‘আমরা জাকাত দেব’। তিনি বলেছিলেন: ‘আমি তা কবুল করব না যতক্ষণ না তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আমাদের নিহতরা জান্নাতে এবং তোমাদের নিহতরা জাহান্নামে’। উমর (রা.) তাঁর সাথে একমত হয়েছিলেন। সাহাবিদের কারো পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিবাদ বর্ণিত হয়নি, যা তাদের কুফরের প্রমাণ দেয়।
(২).
যে সম্পদের জাকাত আদায় করা হয় না তা পুঞ্জীভূত সম্পদ (كنز), কিয়ামতের দিন এর মালিককে তা দিয়ে আজাব দেওয়া হবে। কুরআন কারিম এবং অবিচ্ছিন্ন (متواترة) সুন্নাহ প্রমাণ করেছে যে, জাকাত বর্জনকারীকে কিয়ামতের দিন তার সেই সম্পদ দিয়ে আজাব দেওয়া হবে যার জাকাত সে দেয়নি, অতঃপর তার পথ হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে নির্ধারিত হবে। এই ধমক তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারকারী নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা সোনা ও রুপা পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন} (আত-তাওবাহ: ৩৪)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে কোনো সোনা বা রুপার মালিক তার হক আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের কতগুলো পাত তৈরি করা হবে। অতঃপর সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তার পার্শ্বদেশ, ললাট ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। যখনই তা শীতল হবে, পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ألْفَ سَنَةٍ، حتَّى يُقْضَى بيْنَ العِبادِ).
(1) كما دلّت على تعذيب من لم يزك ما عنده من بهيمة الأنعام - الإبل والبقر والغنم - وأنه يعذب بها نفسها يوم القيامة. وإذا بخل بالزكاة وتهاون بأمرها، غضب الله عليه، ونزع بركة ماله، وسلط عليه أسباب التلف والإنفاق في غير الحق، وعذبه به يوم القيامة قَالَ صلى الله عليه وسلم: «تَأْتِي الْإِبِلُ عَلَى صَاحِبِهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا هُوَ لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا وَتَأْتِي الْغَنَمُ عَلَى صَاحِبِهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا تَطَؤُهُ بِأَظْلَافِهَا وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَقَالَ وَمِنْ حَقِّهَا أَنْ تُحْلَبَ عَلَى الْمَاءِ قَالَ وَلَا يَأْتِي أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِشَاةٍ يَحْمِلُهَا عَلَى رَقَبَتِهِ لَهَا يُعَارٌ فَيَقُولُ يَا مُحَمَّدُ فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ وَلَا يَأْتِي بِبَعِيرٍ يَحْمِلُهُ عَلَى رَقَبَتِهِ لَهُ رُغَاءٌ فَيَقُولُ يَا مُحَمَّدُ فَأَقُولُ لَا أَمْلِكُ لَكَ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ»
(2)، وقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ شُجَاعاً أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثم يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ -يَعْنِي شِدْقَيْهِ- ثم يَقُولُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ» ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: {وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} (آل عمران: 180)
(3).
وحُكم من ترك زكاة العملة الورقية، أو عروض التجارة، ومنها الأسهم حكم من ترك زكاة الذهب والفضة؛ لأنها حلت محلها وقامت مقامها.
--------------------------------------------
এক হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করা হবে)।
(1) যেমন এটি প্রমাণ করে যে, যার নিকট গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু—উট, গরু ও ছাগল—আছে কিন্তু সেগুলোর জাকাত আদায় করেনি, তাকে শাস্তি দেওয়া হবে; আর কিয়ামতের দিন সেগুলোকে দিয়েই তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে। যদি কেউ জাকাত দানে কার্পণ্য করে এবং এর বিধানের ব্যাপারে অবহেলা করে, তবে আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন, তার সম্পদের বরকত উঠিয়ে নেন, তার ওপর ধ্বংসের উপকরণ ও অনর্থক পথে ব্যয় করার পথ চাপিয়ে দেন এবং কিয়ামতের দিন এর দ্বারা তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «উট তার মালিকের নিকট অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট অবস্থায় আসবে যদি সে তার হক আদায় না করে থাকে, তবে সেটি তাকে পায়ের খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। আর ছাগল তার মালিকের নিকট অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট অবস্থায় আসবে যদি সে তার হক আদায় না করে থাকে, তবে সেটি তাকে ক্ষুর দিয়ে মাড়াবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দেবে। তিনি আরও বলেছেন: এর একটি হক হলো জলাশয়ের পাড়ে অবস্থানকালে দোহন করা। তিনি বলেন: তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় না আসে যে, সে তার ঘাড়ে একটি ছাগল বহন করছে যা ভ্যা ভ্যা করে ডাকছে, আর সে বলছে: হে মুহাম্মদ! তখন আমি বলব: আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না, আমি তো পৌঁছে দিয়েছি। আর সে যেন এমন অবস্থায় না আসে যে, ঘাড়ে একটি উট বহন করছে যা চিৎকার করছে, আর সে বলছে: হে মুহাম্মদ! তখন আমি বলব: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য কিছুরই মালিক নই, আমি তো পৌঁছে দিয়েছি»
(2), এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার জন্য সেই সম্পদকে একটি অত্যন্ত বিষধর ও টেকো মাথায় দুটি কালো বিন্দু বিশিষ্ট সাপের রূপ দেওয়া হবে, যা তার গলায় বেষ্টনী হয়ে থাকবে। অতঃপর সাপটি তার গালের দুই প্রান্ত—অর্থাৎ তার দুই চোয়াল—কামড়ে ধরে বলবে: আমিই তোমার সম্পদ, আমিই তোমার সঞ্চিত ধন»। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে, তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে এটি তাদের জন্য মঙ্গলজনক; বরং এটি তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তারা যা নিয়ে কার্পণ্য করছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে। আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই এবং তোমরা যা আমল করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত} (আলে ইমরান: ১৮০)
(3).
আর কাগুজে মুদ্রা বা ব্যবসায়িক পণ্য—যার মধ্যে শেয়ারও অন্তর্ভুক্ত—এর জাকাত ত্যাগকারীর বিধান স্বর্ণ ও রৌপ্যের জাকাত ত্যাগকারীর বিধানের অনুরূপ; কারণ এগুলো বর্তমানে সেগুলোর স্থলাভিস্থিক্ত হয়েছে এবং সমমর্যাদা ধারণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الأول في تعريف الزكاة، والشركة، والأسهم
المطلب الأول: تعريف الزكاةالزكاة لغة: مصدر زكا الشيء إذا نما وزاد؛ يقال زكا الزرع يزكو زكاءً، والمال يزكو إذا كثر وزاد
(1).
وأصل الزكاة في اللغة: الطهارة، والنماء، والبركة، والمدح
(2). قال أبو الحسن الواحدي: والأظهر أن أصلها من الزيادة
(3)، وقد جاء لفظ الزكاة بجميع هذه المعاني في القرآن الكريم. قال تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (التوبة: 103)، وقال الله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا} أي طهرها من الأدناس، وقال تعالى: {فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ
أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى} (النجم: 32) أي لا تمدحوها. وقال ابن فارس: الأصل في الزكاة: رجوعها إلى هذين المعنيين، وهما النماء والطهارة
(4).
فالزكاة في اللغة تطلق على النماء، وتطلق على المدح والصلاح والطهارة والبركة، فإن من يخرج الزكاة يحصل لنفسه المدح والثناء الجميل.
قال أبو علي: الزكاة: صفوة الشيء
(5).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: জাকাত, অংশীদারিত্ব এবং শেয়ারের সংজ্ঞা প্রসঙ্গেপ্রথম অনুচ্ছেদ: জাকাতের সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থে জাকাত: এটি ‘যাকা’ (زكا) ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত, যখন কোনো বস্তু বৃদ্ধি পায় ও বর্ধিত হয়। বলা হয়ে থাকে, ফসল বৃদ্ধি পেয়েছে, আর সম্পদ বৃদ্ধি পায় যখন তা পরিমাণে বেড়ে যায়
(১)।
অভিধানে জাকাতের মূল অর্থ হলো: পবিত্রতা, প্রবৃদ্ধি, বরকত ও প্রশংসা
(২)। আবু আল-হাসান আল-ওয়াহিদি বলেন: অধিক স্পষ্ট মত হলো এর মূল অর্থ বৃদ্ধি থেকে এসেছে
(৩)। কুরআন মাজিদে জাকাত শব্দটি এই সমস্ত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা গ্রহণ করুন, যা দিয়ে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন এবং তাদের জন্য দোয়া করবেন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} (আত-তাওবা: ১০৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সেই সফল হয়েছে যে একে (আত্মাকে) পরিশুদ্ধ করেছে} অর্থাৎ একে পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করেছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {কাজেই তোমরা নিজেদের প্রশংসা করো না। তিনি অধিক অবগত যে কে মুত্তাকি}
(আন-নাজম: ৩২) অর্থাৎ নিজেদের গুণকীর্তন করো না। ইবনে ফারিস বলেন: জাকাতের মূল অর্থ এই দুটি বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, আর তা হলো—প্রবৃদ্ধি ও পবিত্রতা
(৪)।
সুতরাং আভিধানিক অর্থে জাকাত শব্দটি প্রবৃদ্ধি, প্রশংসা, সংশোধন, পবিত্রতা ও বরকত অর্থে ব্যবহৃত হয়। কেননা, যে ব্যক্তি জাকাত প্রদান করে সে নিজের জন্য প্রশংসা ও উত্তম সুখ্যাতি অর্জন করে।
আবু আলী বলেন: জাকাত হলো কোনো বস্তুর নির্যাস বা শ্রেষ্ঠ অংশ
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
واصطلاحاً: للعلماء اتجاهان في تعريف الزكاة، فمنهم من يعرفها بالمعنى الاسمي، أي باعتبار القدر المخرج، ومنهم من يعرفها بالمعنى المصدري، أي باعتبار الإخراج.
فمن تعريف الزكاة بالمعنى الاسمي، أنها «اسم لقدر مخصوص يجب صرفه لأصناف مخصوصة بشرائط»
(1).
ومن تعريفها بالمعنى المصدري، أنها: «إخراج جزء مخصوص من مال مخصوص بلغ نصاباً إن تم الملك وحال الحول»
(2).
وقد عرف ابن عرفة الزكاة بالاعتبارين، فقال: «الزكاة اسماً: جزء من المال شرط وجوبه لمستحقه بلوغ المال نصاباً، ومصدراً: إخراج جزء
… الخ»
(3).
إذاً فهي تطلق شرعاً على إخراج مال الزكاة، كما تطلق على القدر المخرَج من المال، ولذلك عرفها ابن قدامة بأنها: «حق يجب في المال»
(4)؛ والحق يشمل الإخراج والقدر المخرج معاً.
وترد شرعاً بالاعتبارين معاً؛ أما الأول؛ فلأن إخراجها سبب للنماء في المال، أو بمعنى أن الأجر يكثر بسببها، أو بمعنى أن تعلق أهلها بالأموال ذات النماء كالتجارة، والزراعة، كما جاء أن الله تعالى يربي الصدقة
(5). قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَصَدَّقَ بعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، ولَا يَقْبَلُ اللهُ إلَّا الطَّيِّبَ، وإنَّ اللهَ يَتَقَبَّلُهَا بيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ، كما يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ، حتَّى تَكُونَ مِثْلَ الجَبَلِ» (متفق عليه)
(6).
--------------------------------------------
পারিভাষিক অর্থে: জাকাতের সংজ্ঞায় আলেমদের দুটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ একে নামবাচক অর্থে সংজ্ঞায়িত করেছেন, অর্থাৎ প্রদানকৃত পরিমাণের বিবেচনায়, আর কেউ একে ক্রিয়ামূলীয় অর্থে সংজ্ঞায়িত করেছেন, অর্থাৎ প্রদানের ক্রিয়ার বিবেচনায়।
নামবাচক অর্থে জাকাতের একটি সংজ্ঞা হলো, এটি «এমন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের নাম যা নির্দিষ্ট শর্তাবলীতে নির্দিষ্ট শ্রেণীসমূহের (খাতসমূহের) জন্য ব্যয় করা ওয়াজিব»
(1)।
ক্রিয়ামূলীয় অর্থে এর সংজ্ঞা হলো: «মালিকানা পূর্ণ হলে এবং বছর অতিক্রান্ত হলে নিসাব পরিমাণ নির্দিষ্ট মাল থেকে একটি বিশেষ অংশ বের করা»
(2)।
ইবনে আরাফাহ উভয় বিবেচনায় জাকাতের সংজ্ঞা দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: «নামবাচক অর্থে জাকাত হলো: মালের সেই অংশ যার হকদারের জন্য ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো মাল নিসাবে পৌঁছানো; আর ক্রিয়ামূলীয় অর্থে: একটি অংশ বের করা... ইত্যাদি»
(3)।
সুতরাং শরীয়তের পরিভাষায় এটি যেমন জাকাতের মাল প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তেমনি এটি মাল থেকে বের করা পরিমাণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এই কারণে ইবনে কুদামা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: «এটি এমন এক অধিকার যা মালের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হয়»
(4); আর এই অধিকার শব্দটি প্রদান এবং প্রদানকৃত পরিমাণ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি উভয় বিবেচনাতেই ব্যবহৃত হয়; প্রথমত, কারণ জাকাত প্রদান মালের প্রবৃদ্ধির কারণ, অথবা এর অর্থ হলো এর মাধ্যমে সওয়াব বৃদ্ধি পায়, অথবা এর অর্থ হলো এর হকদারদের প্রবৃদ্ধি ঘটে এমন সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, যেমন ব্যবসা ও কৃষি; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহ তাআলা সদকাকে বৃদ্ধি করেন
(5)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ সদকা করে—আর আল্লাহ তো কেবল হালাল বস্তুই গ্রহণ করেন—নিশ্চয়ই আল্লাহ তা তাঁর ডান হাতে গ্রহণ করেন, অতঃপর তা দাতার জন্য লালন-পালন করে বৃদ্ধি করেন, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে, এমনকি তা পাহাড়ের সমান হয়ে যায়» (ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه))
(6)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أما الثاني؛ فلأنها طهرة للنفس من رذيلة البخل، وطهرة من الذنوب، كما أن معنى الثناء والبركة والصلاح مراد شرعاً.
والمناسبة بين المعنى اللغوي والشرعي للزكاة ظاهرة، قال ابن عابدين: وكلها توجد في المعنى الشرعي؛ لأنها تطهر مؤديها من الذنوب ومن صفة البخل بإنفاق بعضه؛ ولذا كان المدفوع مستقذراً
… وتنميه بالخلف
(1) قال الله تعالى: {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ (39)} (سبأ: 39)، ويمدح بها الدافع، ويثني عليه بالجميل
(2) قال تعالى: {وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ (4)} (المؤمنون: 4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত; কারণ এটি আত্মাকে কৃপণতার হীনতা থেকে পবিত্র করে এবং পাপাচার থেকে পরিচ্ছন্ন করে। এছাড়া শরীয়তের পরিভাষায় প্রশংসা, বরকত ও শুদ্ধতাও এর দ্বারা উদ্দেশ্য।
জাকাতের শাব্দিক ও শরয়ি অর্থের মধ্যকার সামঞ্জস্য অত্যন্ত স্পষ্ট। ইবনে আবিদিন বলেন: শরয়ি অর্থের মধ্যে এর সবকটিই বিদ্যমান; কেননা জাকাত প্রদানকারীকে তার গোনাহ থেকে এবং স্বীয় সম্পদের একাংশ ব্যয়ের মাধ্যমে কৃপণতার স্বভাব থেকে পবিত্র করে। আর একারণেই যা প্রদান করা হয় তা ময়লা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে
… এবং আল্লাহ এর বিপরীতে প্রতিদান প্রদানের মাধ্যমে একে বৃদ্ধি করেন
(১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দান করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা (৩৯)} (সাবা: ৩৯), এবং এর মাধ্যমে দানকারীর প্রশংসা করা হয় এবং উত্তমভাবে তার গুণকীর্তন করা হয়
(২)। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা জাকাত প্রদানে সক্রিয় (৪)} (আল-মুমিনুন: ৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المطلب الثاني: تعريف الشركة:تعريفها لغة: للشركة في اللغة ثلاثة معان وهي:
المخالطة
(1)، والاختلاط
(2)، والخلط
(3).
(هذه العبارات كل منها له معنى خاص، فالمخالطة مفاعلة تدل على خلط من كل من الشريكين، والخلط يدل على وجوده من أحدهما، والاختلاط هو أثر الخلط، سواء تم بصنع الشريكين، أو بدون صنعهما، بأن اختلط المالان بعامل خارج عن إرادتهما
(4).
(فمن عبر بالخلط، أو المخالطة راعى الفعل الصادر من الشريكين، ومن عبر بالاختلاط راعى أثره. لكن لما كانت الشركة تحصل تارة في رأس المال، وتارة في الربح، كان التعبير بالاختلاط أعم؛ لأنه يشمل ما حصل بخلط، أو بدونه؛ كالحاصل في ربح المضاربة، وشركة الأبدان)
(5).
تعريفها اصطلاحاً:
عرف الحنفية شركة العقد بأنها: (عقد بين المتشاركين في الأصل والربح)
(6).
وعرفها الدردير من المالكية بأنها: (عقد مالكَيْ مالين فأكثر على التجر فيهما معاً، أو عقد على عمل بينهما والربح بينهما بما يدل عليه عرفاً)
(7).
وعرفها الشافعية بأنها: (ثبوت الحق في شيء لاثنين فأكثر على جهة الشيوع)
(8).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অংশীদারিত্বের (شركة) সংজ্ঞা:এর আভিধানিক সংজ্ঞা: আভিধানিক দৃষ্টিতে 'শিরকাহ' বা অংশীদারিত্বের তিনটি অর্থ রয়েছে, সেগুলো হলো:
পারস্পরিক মেলামেশা (المخالطة)
(১), মিশ্রিত হওয়া (الاختلاط)
(২) এবং মিশ্রণ (الخلط)
(৩)।
(এই শব্দগুলোর প্রত্যেকটির বিশেষ অর্থ রয়েছে। 'মুখালাতাহ' (المخالطة) শব্দটি 'মুফা’আলাহ' (مفاعلة) ওজনের, যা উভয় অংশীদারের পক্ষ থেকে মিশ্রণকে নির্দেশ করে। 'খালত' (الخلط) বলতে তাদের যেকোনো একজনের পক্ষ থেকে মিশ্রণকে বোঝায়। আর 'ইখতিলাত' (الاختلاط) হলো মিশ্রণের প্রভাব বা ফল; চাই তা উভয় অংশীদারের কর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হোক অথবা তাদের কর্ম ব্যতিরেকেই কোনো বাহ্যিক কারণে উভয় সম্পদ মিলে যাওয়ার মাধ্যমে হোক, যেখানে সম্পদ দুটি তাদের ইচ্ছার বাইরে কোনো কারণ দ্বারা মিশ্রিত হয়ে যায়)
(৪)।
(যারা 'খালত' (الخلط) বা 'মুখালাতাহ' (المخالطة) শব্দ ব্যবহার করেছেন, তারা অংশীদারদের পক্ষ থেকে সম্পাদিত কাজের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। আর যারা 'ইখতিলাত' (الاختلاط) শব্দ ব্যবহার করেছেন, তারা এর প্রভাব বা ফলাফলের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। তবে যেহেতু অংশীদারিত্ব কখনো মূলধনের ক্ষেত্রে আবার কখনো মুনাফার ক্ষেত্রে অর্জিত হয়, তাই 'ইখতিলাত' (الاختلاط) শব্দটি ব্যবহার করা অধিক ব্যাপক; কারণ এটি এমন সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা মিশ্রণের মাধ্যমে অর্জিত হয় কিংবা মিশ্রণ ছাড়াই অর্জিত হয়; যেমন মুদারাবাহ-এর মুনাফায় অর্জিত অংশীদারিত্ব এবং শারীরিক শ্রমের অংশীদারিত্ব (شركة الأبدان))
(৫)।
এর পারিভাষিক সংজ্ঞা:
হানাফীগণ চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বের (شركة العقد) সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি হলো: (মূলধন ও মুনাফায় অংশীদারদের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি)
(৬)।
মালিকী মাযহাবের আল-দারদীর একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: (এটি দুই বা ততোধিক সম্পদের মালিকের মধ্যে সেই উভয় সম্পদ দ্বারা একত্রে ব্যবসা করার একটি চুক্তি, অথবা তাদের মধ্যকার কোনো কাজের চুক্তি এবং প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাদের মাঝে মুনাফা বন্টন হওয়া)
(৭)।
শাফেয়ীগণ এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (অবিভক্তভাবে (شيوع) দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জন্য কোনো বস্তুতে অধিকার সাব্যস্ত হওয়া)
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعرفها الحنابلة بأنها: (اجتماع في تصرف)
(1).
وقد أضفنا لتعريف الحنابلة قيد «للكسب لهما»، فصار التعريف: «اجتماع في تصرف للكسب لهما»
(2). وفائدة هذا القيد بيان للغرض الذي تنعقد الشركة من أجله، وهو طلب الكسب. ولتخرج الوكالة، فإنه قد يجتمع اثنان في التصرف في الوكالة.
ولعل أجمعها وأدقها عبارة تعريف المالكية.
المطلب الثالث: تعريف شركة المساهمة، والأسهم:
الفرع الأول: تعريف شركة المساهمة: (عقد يلتزم بمقتضاه شخصان، أو أكثر بأن يساهم كل منهم في مشروع يستهدف الربح، بتقديم حصة من مال، أو عمل، أو منهما معاً، لاقتسام ما ينشأ عن هذا المشروع من ربح، أو خسارة)
(3).
تناول التعريف شركات العقد، وهي التي تتم بطريق التعاقد بين أطرافها، وبين أركان الشركة، فأشار بقوله: (عقد) إلى الصيغة، وبقوله: (شخصان فأكثر) إلى العاقدين، وبقوله: (بتقديم حصة من مال، أو عمل) إلى المحل المعقود عليه.
وحيث إن الصيغة هي التي تنبئ عن رضا الأطراف، بوصفها الإرادة الظاهرة المعول عليها في إنشاء العقد، فالإشارة إليها تدل على أنه يجب أن يكون هناك تراضٍ على رأس مال الشركة، وشروطها، ومجال نشاطها، حتى يصح العقد ويترتب عليه أثره.
(4)ثم ذكر التعريف أهم أحكام الشركة، وهو الاشتراك في الربح والخسارة
(5).
--------------------------------------------
হাম্বলিগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: (পরিচালনায় অংশগ্রহণ)
(1).
আমরা হাম্বলিদের সংজ্ঞায় 'উভয়ের উপার্জনের জন্য' শর্তটি যুক্ত করেছি, ফলে সংজ্ঞাটি দাঁড়িয়েছে: ‘উভয়ের উপার্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালনায় অংশগ্রহণ’
(2)। এই শর্তের উপযোগিতা হলো অংশীদারিত্ব যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয় তা স্পষ্ট করা, আর তা হলো উপার্জন অন্বেষণ। এর মাধ্যমে ওকালত (প্রতিনিধিত্ব) বাদ পড়ে যায়, কারণ ওকালতের ক্ষেত্রেও দু'জন ব্যক্তি পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
সম্ভবত মালিকি মাযহাবের সংজ্ঞার শব্দচয়নই সবচেয়ে ব্যাপক ও নির্ভুল।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যৌথ মূলধনী কোম্পানি এবং শেয়ারের সংজ্ঞা:
প্রথম অনুচ্ছেদ: যৌথ মূলধনী কোম্পানির সংজ্ঞা: (এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো মুনাফা অর্জনকারী প্রকল্পে নিজেদের সম্পদ, শ্রম অথবা উভয়ের সমন্বয়ে অংশ প্রদানের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তারা উক্ত প্রকল্প থেকে উদ্ভূত লাভ বা লোকসান নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেবে)
(3)।
এই সংজ্ঞাটি চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং অংশীদারিত্বের রুকনগুলোকে নির্দেশ করে। এখানে ‘চুক্তি’ শব্দের মাধ্যমে সিগাহ (চুক্তির আবেদন), ‘দুই বা ততোধিক ব্যক্তি’ শব্দের মাধ্যমে চুক্তিকারী পক্ষদ্বয় এবং ‘সম্পদ বা শ্রমের অংশ প্রদানের মাধ্যমে’ শব্দসমষ্টির দ্বারা চুক্তির বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
যেহেতু সিগাহ বা চুক্তির ভাষা পক্ষগুলোর সম্মতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়—যা চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য দৃশ্যমান ইচ্ছা—তাই এর দিকে ইঙ্গিত করার অর্থ হলো কোম্পানির মূলধন, শর্তাবলি এবং কার্যক্রমের পরিধির ব্যাপারে পারস্পরিক সন্তুষ্টি থাকা আবশ্যক, যাতে চুক্তিটি সহিহ (صحيح) হয় এবং এর ফলাফল কার্যকর হয়।
(4)এরপর সংজ্ঞায় অংশীদারিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যা হলো লাভ ও লোকসানে অংশীদার হওয়া।
(5)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الفرع الثاني: تعريف الأسهم:الأسهم لغة: جمع سهم، أي النصيب والحظ. والسهم في الأصل واحد السهام التي يضرب بها في الميسر، وهي القداح، ثم سمي به ما يفوز به الفالج سهمه، ثم كثر حتى سمي كل نصيب سهما، ويجمع على أسهم، وسهام وسُهْمان
(1).
السهم في الاصطلاح: اختلف الكتَّاب من فقهاء وقانونيين في تعريف السهم؛ بناءً على اختلافهم في المراد منه. وذلك على ثلاثة أقوال:
الأول: الحصة التي يقدمها الشريك في شركة المساهمة
(2).
الثاني: الصك الذي يعطى للمساهم
(3).
الثالث: هناك من جعله للاثنين؛ أي للصك، ولحق الشريك في الشركة
(4).
والذي نراه أن السهم هو حصة المساهم في رأس مال الشركة، وكل ما ينتج منه من أرباح، واحتياطات، وحقوق. ولذا فإن التعريف المختار لدينا في تعريف السهم اصطلاحاً: (هو الجزء الذي ينقسم على قيمته مجموع رأس مال الشركة، المثبت في صك له قيمة اسمية، وتمثل الأسهم في مجموعها رأس مال الشركة، وتكون متساوية القيمة)
(5).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শেয়ারের সংজ্ঞা:শেয়ার আভিধানিক অর্থে: এটি সাহম শব্দের বহুবচন, যার অর্থ অংশ ও ভাগ্য। মূলগতভাবে ‘সাহম’ হলো লটারিতে ব্যবহৃত সেই তীরগুলোর একটি, যেগুলোকে কিদাহ বলা হয়। পরবর্তীতে বিজয়ী ব্যক্তি তার তীরের বিনিময়ে যা লাভ করত তাকে সাহম বলা শুরু হয়। এরপর এর ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করে এবং প্রতিটি অংশকেই সাহম বলা হতে থাকে। এর বহুবচন হিসেবে আস-হুম, সিহাম ও সুহমান শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়।
(১)পারিভাষিক অর্থে শেয়ার: শেয়ারের উদ্দেশ্য কী—এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ফকিহ ও আইনবিদগণ শেয়ারের সংজ্ঞায় মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে তিনটি প্রধান অভিমত রয়েছে:
প্রথম: জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে কোনো অংশীদার কর্তৃক প্রদানকৃত অংশ।
(২)দ্বিতীয়: শেয়ারহোল্ডারকে প্রদানকৃত সনদ বা সার্টিফিকেট।
(৩)তৃতীয়: এমন একদল বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যারা এই উভয় বিষয়কেই শেয়ার হিসেবে গণ্য করেছেন; অর্থাৎ সনদ এবং কোম্পানিতে অংশীদারের প্রাপ্য অধিকার উভয়ই শেয়ার।
(৪)আমাদের নিকট অধিকতর সঠিক অভিমত হলো, শেয়ার হলো কোম্পানির মূলধনে শেয়ারহোল্ডারের অংশ এবং তা থেকে উৎপন্ন সকল লভ্যাংশ, সঞ্চিতি ও অধিকার। অতএব, পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আমাদের নির্বাচিত সংজ্ঞা হলো: (এটি এমন একটি অংশ যা দ্বারা কোম্পানির মোট মূলধনকে তার মূল্য অনুপাতে বিভক্ত করা হয় এবং যা একটি নামিক মূল্যবিশিষ্ট সনদে লিপিবদ্ধ থাকে। শেয়ারগুলো সামগ্রিকভাবে কোম্পানির মূলধন গঠন করে এবং এগুলোর মান সমান হয়)।
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أما الورقة التي تسمى صك السهم، فليست هي السهم، ولكنها وسيلة لإثباته، وهي وثيقة مستقلة تعطى للمساهم، وتتضمن المعلومات الخاصة بالشركة، مثل اسم الشركة، ومقدار رأس مالها، وجنسيتها، ومركزها الرئيس، ورقم السهم، وقيمته، واسم صاحبه إن كان سهماً اسمياً، أو يكتب فيه أنه لحامله
(1).
--------------------------------------------
আর যে কাগজটিকে শেয়ার সার্টিফিকেট বলা হয়, সেটি স্বয়ং শেয়ার নয়, বরং এটি মালিকানা প্রমাণের একটি মাধ্যম। এটি একটি স্বতন্ত্র দলিল যা অংশীদারকে প্রদান করা হয় এবং এতে কোম্পানি সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন: কোম্পানির নাম, মূলধনের পরিমাণ, জাতীয়তা, প্রধান কার্যালয়, শেয়ার নম্বর, এর মূল্য এবং শেয়ারটি যদি নামীয় হয় তবে মালিকের নাম, অথবা এতে লেখা থাকে যে এটি বাহকের জন্য
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الثانيآراء العلماء في من تجب عليه زكاة أسهم الشركات المساهمةاتفق معظم العلماء المعاصرين- لا سيما بعد أن اتضحت صورة الأسهم، وأنواعها وخصائصها، وأمعنوا في بحثها- على جواز إنشاء الأسهم، وتداولها بالبيع والشراء، ونحوهما، بشرط أن تكون الأسهم خالية من أي مخالفة شرعية، وأن تكون الشركة خالية من الربا، أو التعامل في المحرمات.
(1)أما وجوب الزكاة في الأسهم فيكاد يكون إجماعاً
(2).
ولكن العلماء المعاصرين اختلفوا فيمن تجب عليه زكاة الأسهم، أهو المساهم أم الشركة؟ ويمكن حصر أقوالهم في ثلاثة آراء، هي:
الرأي الأول: أن زكاة الأسهم تجب على المساهم، ويجب عليه إخراجها، وهذا هو رأي مجمع البحوث الإسلامية. جاء في توصيات مؤتمره الثاني: (في الشركات التي يسهم فيها عدد من الأفراد لا ينظر في تطبيق هذه الأحكام إلى مجموع أرباح الشركات وإنما ينظر إلى ما يخص كل شريك على حدة)
(3). وممن قال بوجوب زكاة الأسهم على المساهم الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن البسام، والشيخ محمد المختار السلامي، والشيخ سالم عبد الودود، والدكتور محمد سعيد رمضان البوطي، والدكتور فاضل الدبو.
(4)--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদজয়েন্ট স্টক কোম্পানির শেয়ারের জাকাত কার ওপর ওয়াজিব সে বিষয়ে আলেমগণের অভিমতঅধিকাংশ সমকালীন আলেম—বিশেষ করে শেয়ারের রূপরেখা, এর প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হওয়ার এবং এ বিষয়ে গভীর গবেষণার পর—শেয়ার ইস্যু করা এবং ক্রয়-বিক্রয় বা অনুরূপ উপায়ে লেনদেনের বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে শর্ত হলো, শেয়ারগুলো শরয়ি কোনো বিধানের পরিপন্থী হওয়া থেকে মুক্ত হতে হবে এবং কোম্পানিটি সুদ কিংবা হারাম কোনো কারবার থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
(১)আর শেয়ারের ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি প্রায় সর্বসম্মত ঐকমত্যের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
(২)তবে সমকালীন আলেমগণ শেয়ারের জাকাত কার ওপর ওয়াজিব হবে—শেয়ারহোল্ডার নাকি কোম্পানির ওপর—সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মতামতগুলোকে তিনটি প্রধান অভিমতে সীমাবদ্ধ করা যায়, সেগুলো হলো:
প্রথম মত: শেয়ারের জাকাত শেয়ারহোল্ডারের ওপর ওয়াজিব, এবং এটি আদায় করা তাঁর ওপর আবশ্যক। এটি মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি গবেষণা পরিষদ)-এর অভিমত। তাদের দ্বিতীয় সম্মেলনের সুপারিশমালায় বলা হয়েছে: (যেসব কোম্পানিতে একাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে, সেখানে এই বিধানগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মোট মুনাফার দিকে লক্ষ্য করা হবে না, বরং প্রতিটি অংশীদারের নির্দিষ্ট অংশের দিকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করা হবে)
(৩)। শেয়ারহোল্ডারের ওপর শেয়ারের জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে মত দিয়েছেন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বাসসাম, শায়খ মুহাম্মদ আল-মুখতার আস-সালামি, শায়খ সালেম আব্দুল ওয়াদুদ, ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি এবং ডক্টর ফাজিল আদ-দাব্বু।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الرأي الثاني: إن زكاة الأسهم تجب على المساهم، وتخرجها إدارة الشركة نيابة عنه، وهذا هو قرار مجمع الفقه الإسلامي بجدة.
(1)وممن قال به الدكتور الصديق محمد الأمين الضرير.
(2)والمجمع وإن قال بوجوبها على المساهم، إلا أنه فصل في ذلك؛ حيث يرى إخراجها من قبل الشركة بناءً على خِلطة الأموال في الحالات التي بينها، فنص على أنه:
(أولاً: تجب زكاة الأسهم على أصحابها، وتخرجها إدارة الشركة نيابة عنهم، إذا نص في نظامها الأساسي على ذلك، أو صدر به قرار من الجمعية العمومية، أو كان قانون الدولة يلزم الشركات بإخراج الزكاة، أو حصل تفويض من صاحب الأسهم لإخراج إدارة الشركة زكاة أسهمه.
ثانياً: تخرج إدارة الشركة زكاة الأسهم كما يخرج الشخص الطبيعي زكاة أمواله، بمعنى أن تعد جميع أموال المساهمين أموال شخص واحد وتفرض عليها الزكاة بهذا الاعتبار، من حيث نوع المال الذي تجب فيه الزكاة، ومن حيث النصاب، ومن حيث المقدار الذي يؤخذ، وغير ذلك مما يراعى في زكاة الشخص الطبيعي، وذلك أخذاً بمبدأ الخِلطة عند من يعممه من الفقهاء في جميع الأموال. ويطرح نصيب الأسهم التي لا تجب فيها الزكاة، ومنها أسهم الخزانة العامة، وأسهم الوقف الخيري، وأسهم الجِهات الخيرية، وكذلك أسهم غير المسلمين.
ثالثاً: إذا لم تزك الشركة أموالها لأي سبب من الأسباب، فالواجب على المساهمين زكاة أسهمهم
… ) وقد توافق قول الدكتور الصديق محمد الأمين الضرير مع ما جاء في قرار المجمع من قيود بشأن إخراج الشركة للزكاة نيابة عن المساهمين
(3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মত: শেয়ারের জাকাত অংশীদারের ওপর ওয়াজিব, এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা তার পক্ষ থেকে তা আদায় করবে, এবং এটি জেদ্দায় অবস্থিত ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত।
(১)যাঁরা এই মতটি পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে ডক্টর আস-সিদ্দিক মুহাম্মদ আল-আমিন আদ-দারীর অন্যতম।
(২)একাডেমি যদিও এটি অংশীদারের ওপর ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছে, তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছে; যেখানে তারা বর্ণিত ক্ষেত্রগুলোতে 'মালের সংমিশ্রণ' (খিলাতাহ) নীতির ভিত্তিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে জাকাত প্রদানের অভিমত ব্যক্ত করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে:
(প্রথমত: শেয়ারের জাকাত এর মালিকদের ওপর ওয়াজিব, এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা তাদের পক্ষ থেকে তা আদায় করবে, যদি কোম্পানির উপবিধিতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, অথবা সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, অথবা রাষ্ট্রীয় আইন কোম্পানিগুলোকে জাকাত আদায়ে বাধ্য করে, অথবা শেয়ারের মালিকের পক্ষ থেকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনাকে তার শেয়ারের জাকাত আদায়ের অনুমতি প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয়ত: কোম্পানির ব্যবস্থাপনা শেয়ারের জাকাত সেভাবেই আদায় করবে যেভাবে একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি তার মালের জাকাত আদায় করে। অর্থাৎ, সকল অংশীদারের সম্পদকে একজন ব্যক্তির সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই বিবেচনায় তার ওপর জাকাত ধার্য করা হবে—জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদের ধরন, নিসাব, জাকাতের পরিমাণ এবং একজন স্বাভাবিক ব্যক্তির জাকাতের ক্ষেত্রে বিবেচ্য অন্যান্য বিষয়াবলির নিরিখে। এটি মূলত সেই সমস্ত ফকিহদের অনুসৃত 'মালের সংমিশ্রণ' (খিলাতাহ) নীতি গ্রহণের ভিত্তিতে যারা এটিকে সকল প্রকার সম্পদের ক্ষেত্রে সাধারণ বা প্রযোজ্য মনে করেন। আর যেসব শেয়ারের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয় সেগুলোর অংশ বাদ দেওয়া হবে; যেমন: সরকারি কোষাগারের শেয়ার, ওয়াকফকৃত শেয়ার, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এবং অমুসলিমদের শেয়ার।
তৃতীয়ত: যদি কোনো কারণে কোম্পানি তার সম্পদের জাকাত আদায় না করে, তবে অংশীদারদের ওপর তাদের শেয়ারের জাকাত আদায় করা ওয়াজিব
… ) আর ডক্টর আস-সিদ্দিক মুহাম্মদ আল-আমিন আদ-দারীরের বক্তব্য শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে কোম্পানির জাকাত আদায়ের সীমাবদ্ধতা বা শর্তাবলির বিষয়ে একাডেমির সিদ্ধান্তের সাথে সংগতিপূর্ণ।
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ومجمع الفقه الإسلامي بجدة والشيخ صديق الضرير يرون الأخذ بمبدأ الخِلطة في زكاة الأسهم؛ من حيث بلوغ مجموعها نصاباً وإن قل نصيب بعض الملاك عن النصاب، وأن الأسهم المباعة حولها حول أصلها
(1)، ولا تأثير لما يباع من الأسهم في أثناء الحول، وتضمن قرار المجمع رقم 3 د 4/ 8/ 88، أن الأسهم المضافة في أثناء العام تضم إلى موجودات الشركة ولا يستقبل بها عام جديد
(2).
الرأي الثالث: تجب زكاة الأسهم على الشركة، وهي التي تتولى إخراجها، وقال بهذا مؤتمر الزكاة الأول في الكويت بقيود تأتي قريبا إن شاء الله
(3). وقال الشيخ أبو الأعلى المودودي: (نرى أن تقوم الشركات بعد طرح المساهمين الذين لم تبلغ أسهمهم قدر النصاب، أو الذين لم يحل حول كامل على امتلاكهم السهم بأداء زكاة سائر المساهمين مجتمعين، لما في ذلك من تسهيلات إدارية، ولعدم منافاته أي أصل من أصول الشريعة)
(4).
وقال بوجوب الزكاة على الشركة الدكتور وهبة الزحيلي والدكتور عبد اللطيف صالح الفرفور والدكتور عمر الأشقر
(5). والدكتور علي السالوس
(6) ومن الجدير بالذكر أن الدكتور وهبة الزحيلي كان له رأي سابق وهو أنه يدفع مالك الأسهم الزكاة، أو الشركة
(7)، ويظهر لنا أنه رجع عن هذا القول إلى ما بيناه؛ لأن ما نسبناه إليه هو آخر القولين.
--------------------------------------------
জেদ্দা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি এবং শেখ সিদ্দিক আদ-দারির শেয়ারের জাকাতের ক্ষেত্রে 'মিশ্রণ' নীতি গ্রহণের অভিমত পোষণ করেন; এই দিক থেকে যে, শেয়ারের সমষ্টি নেসাব পরিমাণ পৌঁছালে জাকাত ওয়াজিব হবে, যদিও কোনো কোনো অংশীদারের শেয়ার নেসাব পরিমাণের চেয়ে কম হয়। আর বিক্রিত শেয়ারের জাকাত আদায়ের বছর বা সময়সীমা তার মূল (أصل) এর সময়সীমার অনুগামী হবে
(1)। বছরের মাঝখানে শেয়ার বিক্রির ফলে জাকাতের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। একাডেমির ৩ নং সিদ্ধান্ত (ডি ৪/ ৮/ ৮৮) অনুযায়ী বছরের মাঝখানে যুক্ত হওয়া শেয়ারগুলো কোম্পানির বিদ্যমান সম্পদের সাথে যুক্ত হবে এবং এগুলোর জন্য নতুন করে বছর গণনার প্রয়োজন নেই
(2)।
তৃতীয় মত: কোম্পানির ওপর শেয়ারের জাকাত প্রদান করা ওয়াজিব, এবং কোম্পানিই তা আদায় করার দায়িত্ব পালন করবে। কুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম জাকাত সম্মেলন কিছু শর্তসাপেক্ষে এই মত প্রদান করেছে, যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই বর্ণিত হবে
(3)। শেখ আবুল আলা মওদুদী বলেন: (আমাদের অভিমত হলো, যেসব শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার নেসাব পরিমাণ পৌঁছায়নি অথবা যাদের শেয়ারের মালিকানার ওপর পূর্ণ বছর অতিবাহিত হয়নি, তাদের বাদ দেওয়ার পর কোম্পানি অবশিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের জাকাত সম্মিলিতভাবে আদায় করবে। কারণ এতে প্রশাসনিক সহজসাধ্যতা রয়েছে এবং এটি শরিয়তের কোনো মূলনীতির (أصل) পরিপন্থী নয়)
(4)।
ডক্টর ওয়াহবা আল-জুহাইলি, ডক্টর আব্দুল লতিফ সালেহ আল-ফারফুর এবং ডক্টর ওমর আল-আশকার কোম্পানির ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন
(5)। ডক্টর আলী আল-সালুসও একই মত দিয়েছেন
(6)। উল্লেখ্য যে, ডক্টর ওয়াহবা আল-জুহাইলির একটি পূর্ববর্তী মত ছিল যে, শেয়ার মালিক নিজে অথবা কোম্পানি জাকাত প্রদান করবে
(7)। তবে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ওই মত থেকে ফিরে এসে আমাদের বর্ণিত মতটি গ্রহণ করেছেন; কারণ আমরা তাঁর প্রতি যা নিসবত করেছি সেটিই তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وقد بنى أصحاب الرأي الثالث قولهم: على أن للشركة شخصية معنوية، مستقلة عن أشخاص الشركاء
(1). جاء في فتوى المؤتمر الأول للزكاة المنعقد في الكويت (تربط الزكاة على الشركات المساهمة نفسها؛ لكونها شخصاً اعتبارياً، وذلك في كل من الحالات الآتية:
1 - صدور نص قانوني ملزم بتزكية أموالها.
2 - أن يتضمن النظام الأساسي ذلك.
3 - صدور قرار الجمعية العمومية للشركة بذلك.
4 - رضا المساهمين شخصياً.
والطريق الأفضل -وخروجاً من الخلاف- أن تقوم الشركة بإخراج الزكاة، فإن لم تفعل فاللجنة توصي الشركات بأن تحسب زكاة أموالها، وتلحق بميزانيتها السنوية بياناً بحصة السهم الواحد من الزكاة)
(2).
وجاء فيه: (إذا قامت الشركة بتزكية أموالها فلا يجب على المساهم إخراج زكاة أخرى عن أسهمه منعاً للازدواج.
أما إذا لم تقم الشركة بإخراج الزكاة فإنه يجب على مالك السهم تزكية أسهمه
… ).
يقول الدكتور وهبة الزحيلي: (وبما أن الزكاة تكليف متعلق بالمال نفسه، فإنها تجب على الشخص الاعتباري، حيث لا يشترط لها التكليف الذي أساسه البلوغ مع العقل)
(3).
--------------------------------------------
তৃতীয় মতের প্রবক্তারা তাদের বক্তব্যকে এই ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন যে, কোম্পানির একটি আইনগত সত্তা (شخصية معنوية) রয়েছে, যা অংশীদারদের ব্যক্তিসত্তা থেকে স্বতন্ত্র
(১)। কুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম জাকাত সম্মেলনের ফতোয়ায় বলা হয়েছে: (যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর ওপরই জাকাত ধার্য করা হবে; যেহেতু এটি একটি আইনগত সত্তা (شخصاً اعتبارياً), আর তা নিম্নোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে:
১ - কোম্পানির সম্পদ থেকে জাকাত প্রদানের বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক আইনি বিধান জারি হওয়া।
২ - কোম্পানির মূল নীতিমালায় তা অন্তর্ভুক্ত থাকা।
৩ - কোম্পানির সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়া।
৪ - শেয়ারহোল্ডারদের ব্যক্তিগত সম্মতি থাকা।
আর সর্বোত্তম পদ্ধতি—এবং মতভেদ থেকে বাঁচার উপায়—হলো কোম্পানি নিজেই জাকাত আদায় করা। যদি কোম্পানি তা না করে, তবে কমিটি কোম্পানিগুলোকে এই পরামর্শ দিচ্ছে যে, তারা যেন তাদের সম্পদের জাকাত হিসাব করে এবং বার্ষিক ব্যালেন্স শিটে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে জাকাতের পরিমাণের একটি বিবরণ যুক্ত করে)
(২)।
এতে আরও বলা হয়েছে: (যদি কোম্পানি তার সম্পদের জাকাত আদায় করে দেয়, তবে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে শেয়ারহোল্ডারের ওপর তার শেয়ারের জন্য পুনরায় জাকাত আদায় করা ওয়াজিব নয়।
আর যদি কোম্পানি জাকাত আদায় না করে, তবে শেয়ারের মালিকের ওপর তার শেয়ারের জাকাত আদায় করা ওয়াজিব
… )।
ড. ওয়াহবাহ আয-জুহায়লী বলেন: (যেহেতু জাকাত সরাসরি সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি আর্থিক বিধান, তাই এটি আইনগত সত্তার (الشخص الاعتباري) ওপর ওয়াজিব হবে। কারণ জাকাতের জন্য এমন কোনো শরয়ি দায়বদ্ধতার (تكليف) শর্ত নেই যার ভিত্তি হলো বালেগ হওয়া ও বিবেকসম্পন্ন হওয়া)
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
ويقول الدكتور الفرفور: (يجب على الشركة بوصفها شخصية اعتبارية أن تخرج الزكاة عن كل الأسهم
… دون أن يعطى هذا الحق للشريك المالك للسهم، ما دام هذا السهم ذائباً في الشركة فلا سلطان له عليه)
(1).
ويتخرج القول بوجوب الزكاة على الشركة على مذهب الإمام الشافعي
(2)، قال النووي: المذهب الجديد الصحيح إن الخِلطة تؤثر في غير الماشية، كما يتخرج على إحدى الروايتين عن الإمام أحمد، بناءً على قوله بتأثير الخِلطة في كثير من الأموال الزكوية؛ كعروض التجارة والزروع والثمار
(3). وهو قول إسحاق والأوزاعي في الحب والثمر
(4)، وهذه الرواية عن الإمام أحمد اختارها الآجري، وصححها ابن عقيل، قال أبو الخطاب في خلافه الصغير: هذا أقيس.
قال المرداوي: فعلى هذه الرواية تؤثر خِلطة الأعيان
(5) بلا نزاع، وكذلك خِلطة الأوصاف. قال الزركشي: وهو ظاهر كلام الأكثرين؛ لإطلاقهم الرواية
(6).
--------------------------------------------
ويقول الدكتور الفرفور: (يجب على الشركة بوصفها شخصية اعتبارية أن تخرج الزكاة عن كل الأسهم
… دون أن يعطى هذا الحق للشريك المالك للسهم، ما دام هذا السهم ذائباً في الشركة فلا سلطان له عليه)
(1).
কোম্পানির ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার এই মতটি ইমাম শাফেয়ির মাজহাব অনুযায়ী ইস্তিম্বাত করা হয়েছে
(2)। ইমাম নববী বলেছেন: সঠিক (صحيح) নতুন মতটি হলো, একত্রীকরণ (الخلطة) গবাদি পশু ছাড়াও অন্য সম্পদে প্রভাব ফেলে। যেমনটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) একটি থেকেও ইস্তিম্বাত করা হয়, যা অনেক জাকাতযোগ্য সম্পদে যেমন- বাণিজ্যিক পণ্য (عروض التجارة), শস্য ও ফলের ক্ষেত্রে একত্রীকরণের (الخلطة) প্রভাব থাকার বিষয়ে তাঁর মতের ওপর ভিত্তি করে
(3)। এটি শস্য ও ফলের ক্ষেত্রে ইসহাক এবং আওজায়িরও মত
(4)। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি (رواية) আল-আজুরি গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে আকিল এটিকে বিশুদ্ধ (صححها) বলেছেন। আবু আল-খাত্তাব তাঁর 'খিলাফে সাগির' গ্রন্থে বলেছেন: এটি কিয়াসের সাথে অধিকতর সংগতিপূর্ণ (أقيس)।
আল-মারদাউয়ি বলেন: এই বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী সম্পদের একত্রীকরণ (خلطة الأعيان) কোনো বিতর্ক ছাড়াই প্রভাব বিস্তার করে
(5), ঠিক তেমনি বৈশিষ্ট্যের একত্রীকরণও (خلطة الأوصاف)। আল-যারকাশি বলেন: এটিই অধিকাংশ আলিমের বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ; কারণ তাঁরা বর্ণনাটিকে (رواية) সাধারণ বা নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করেছেন
(6)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
المبحث الثالثالأدلة
أدلة الرأي الأول:استدل القائلون بأن زكاة الأسهم تجب على المساهم لا على الشركة، بما يلي:
1 - إن وجوب الزكاة خطاب تكليفي متوجه إلى المكلف، ويتعلق به الثواب والعقاب، والشركة ليست أهلاً لخطاب التكليف، ولا يتعلق بها الثواب والعقاب، فلا يجب عليها شيء
(1).
2 - إن الشركة مملوكة للمساهمين؛ لأن كل سهم يمثل جزءًا من الشركة، فالقول بوجوب الزكاة على الشركة يؤدي إلى أن تكون هي المالكة للأسهم، بينما هي مملوكة لأصحاب الأسهم، وفي ذلك من التناقض ما لا يخفى
(2).
3 - إن الأسهم تنتقل من مالك إلى آخر في أثناء الحول، فإذا أوجبنا زكاة الأسهم على الشركة أدى ذلك إلى إخراج الزكاة قبل أن يحول عليها الحول عند المالك الجديد للأسهم، وفي ذلك ظلم له
(3)، ومخالفة صريحة لقول الرسول صلى الله عليه وسلم «لا زكاة في مال حتى يحول عليه الحول»
(4).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদপ্রমাণসমূহপ্রথম মতের সপক্ষে প্রমাণসমূহ:শেয়ারের জাকাত শেয়ারহোল্ডারের ওপর ওয়াজিব, কোম্পানির ওপর নয়—যাঁরা এই মত পোষণ করেন তাঁরা নিম্নোক্ত বিষয়াদি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
১ - জাকাত ওয়াজিব হওয়া একটি বিধানগত সম্বোধন (خطاب تكليفي) যা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির প্রতি নির্দেশিত, এবং এর সাথে সওয়াব ও আজাব সংশ্লিষ্ট। কিন্তু কোম্পানি কোনো শরয়ি বিধান গ্রহণের (تكليف) উপযুক্ত পাত্র নয় এবং এর সাথে সওয়াব বা আজাবও সম্পৃক্ত নয়, তাই এর ওপর কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না
(১)।
২ - কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন; কারণ প্রতিটি শেয়ার কোম্পানির একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং কোম্পানির ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার কথা বললে তা এই অর্থ প্রকাশ করে যে, কোম্পানিই শেয়ারগুলোর মালিক, অথচ কোম্পানি তো শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন। এর মধ্যে যে স্ববিরোধিতা রয়েছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট
(২)।
৩ - বছরের মধ্যবর্তী সময়ে শেয়ার এক মালিক থেকে অন্য মালিকের হাতে হস্তান্তরিত হয়। সুতরাং আমরা যদি কোম্পানির ওপর শেয়ারের জাকাত ওয়াজিব করি, তবে তা শেয়ারের নতুন মালিকের কাছে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জাকাত আদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতে তার ওপর জুলুম করা হবে
(৩) এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সুস্পষ্ট বিরোধিতা হবে, যেখানে তিনি বলেছেন: «কোনো সম্পদে জাকাত নেই যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফী যাকাতিল আসহুম ওয়া ইসতিসমারি আমওয়ালিয যাকাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وعن أم سعد الأنصارية امرأة زيد بن ثابت قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليسَ على منِ استفادَ مالًا زكاةٌ حتى يَحُولَ عليه الحَوْلُ». رواه الطبراني
(1)، وفيه عنبسة بن عبد الرحمن وهو ضعيف
(2).
4 - يقول ابن رشد: (إلا أنه لما كان مفهوم اشتراط النصاب إنما هو الرفق، فوجب أن يكون النصاب من شرطه أن يكون لمالك واحد، وهو الأظهر والله أعلم
(3). فلو قلنا إن الشركة هي التي تجب عليها زكاة الأسهم لأدى ذلك إلى إخراج الزكاة ممن لا تبلغ أسهمه نصاباً، وفي ذلك مخالفة صريحة للحديث الشريف، وظلم على المالك الجديد
(4). قال صلى الله عليه وسلم: «ليس فيما دون خمسِ أواقٍ من الورِقِ صدقةٌ»
(5).
5 - قال صلى الله عليه وسلم: «فأَعْلِمْهُم أنَّ اللهَ افترضَ عليهم صدقةً في أموالِهم تُؤخذُ من أغنيائِهم وتُرَدُّ على فقرائِهم»
(6). وحد الفقر والغنى هو ملك النصاب، فغير مالك النصاب لا يعد غنياً، بل هو صالح لأن يتقبل الزكاة، وهو مصرف من مصارف الزكاة
(7).
أدلة الرأي الثاني:استدل القائلون بأن زكاة الأسهم تجب على المساهم وتخرجها الشركة نيابة عنه، بما يلي:
--------------------------------------------
যায়েদ ইবনে সাবিত-এর স্ত্রী উম্মে সাদ আল-আনসারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো সম্পদ লাভ করেছে, তার ওপর যাকাত নেই যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়।» এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন
(১), এবং এর সনদে আনবাসা বিন আবদুর রহমান রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)
(২).
৪ - ইবনে রুশদ বলেন: (তবে নিসাব বা ন্যূনতম পরিমাণের শর্তারোপ করার মূল উদ্দেশ্য হলো সহজ করা, তাই নিসাবের জন্য শর্ত হওয়া আবশ্যক যে এটি একজন মালিকের হতে হবে, আর এটাই অধিকতর স্পষ্ট মত, আল্লাহই ভালো জানেন
(৩)। সুতরাং আমরা যদি বলি যে কোম্পানির ওপর শেয়ারের যাকাত ওয়াজিব হবে, তবে এর ফলে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকেও যাকাত আদায় করা হবে যার শেয়ারের পরিমাণ নিসাব পর্যন্ত পৌঁছেনি। এতে পবিত্র হাদিসের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নতুন মালিকের প্রতি জুলুম হবে
(৪)। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «পাঁচ উকিয়া (এক প্রকার পরিমাপ) এর কম রূপার ক্ষেত্রে কোনো সদকা (যাকাত) নেই»
(৫)।
৫ - রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে»
(৬)। দারিদ্র্য ও সচ্ছলতার সীমা হলো নিসাবের মালিক হওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি নিসাবের মালিক নয় সে ধনী হিসেবে গণ্য হবে না, বরং সে যাকাত গ্রহণ করার যোগ্য এবং সে যাকাতের অন্যতম খাত
(৭)।
দ্বিতীয় মতের দলীলসমূহ:যারা মনে করেন যে শেয়ারের যাকাত শেয়ারহোল্ডারের ওপর ওয়াজিব এবং কোম্পানি তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে তা আদায় করবে, তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন:
--------------------------------------------