(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: -)
الصحيح المسند من أسباب النزول   (مقبل بن هادي الوادعي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الصحيح المسند من أسباب النزول

المؤلف: مُقْبلُ بنُ هَادِي بنِ مُقْبِلِ بنِ قَائِدَةَ الهَمْدَاني الوادعِيُّ (ت 1422هـ)

الناشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة

الطبعة: الرابعة مزيدة ومنقحة، 1408هـ- 1987م

عدد الصفحات: 253

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আস-সহীহ আল-মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযূল   (মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিয়ী)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর


গ্রন্থ: আস-সহীহ আল-মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযূল

লেখক: মুকবিল বিন হাদী বিন মুকবিল বিন কায়িদাহ আল-হামদানী আল-ওয়াদিয়ী (মৃত্যু ১৪২২ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনু তাইমিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: চতুর্থ পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ, ১৪০৮ হি.- ১৯৮৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৩

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمات

‌‌مقدمة الطبعة الرابعة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الطبعة الرابعة:

الحمد لله وصلى الله علي نبينا محمد وآله وصحبه وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد: فهذه الطبعة الرابعة للصحيح المسند من أسباب النزول وهي تشتمل على بعض الزيادات وبعض التغييرات في التصحيح والتضعيف. وبعض الأحاديث كنت قد كتبتها بدون سند فيسر الله لنا الوقوف على أسانيدها فأحببنا إثباتها بأسانيدها.

وأما من حيث تضعيف بعض الأحاديث فإني كنت قبل مغترًّا بما قرره ابن الصلاح أن زيادة الثقة مقبولة ثم يسر الله لي الوقوف على شرح علل الترمذي للحافظ ابن رجب وعلى توضيح الأفكار للصنعاني وترجَّح لي أن زيادة الثقة لا تقبل إلا إذا لم يخالف من هو أرجح منه كما بسطت ذلك مع أمثلته من كتب المصطلح ومن كتب العلل في مقدمة الإلزامات والتتبع والحمد لله. هذا وقد أذنت للأخ عبد الفتاح الزيني صاحب مكتبة ابن تيمية بالقاهرة بهذه الطبعة.

فعلى هذا فهذه الطبعة هي المعتمدة ولم أشر ما خالفت فيه هذه الطبعة سابقاتها إذ يكفي عن هذا ما صرحت به أن هذه الطبعة هي المعتمدة والحمد لله على ما يسر وله الفضل كله وإليه المرجع والمآب.
ভূমিকা

‌‌চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: এটি 'আস-সহীহ আল-মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল' (নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত বিশুদ্ধ ও সূত্রযুক্ত বর্ণনাসমূহ) গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণ। এটি কিছু নতুন সংযোজন এবং হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইতিপূর্বে আমি কিছু হাদীস সনদ (সূত্র) ছাড়াই লিখেছিলাম, অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাদের সেগুলোর সনদের সন্ধান পাওয়ার তৌফিক দিয়েছেন, তাই আমি সেগুলোকে সনদসহ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি।

আর কিছু হাদীস দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়টি হলো—আমি পূর্বে ইবনুস সালাহ (রহ.)-এর নির্ধারিত এই মূলনীতির প্রতি আস্থাশীল ছিলাম যে, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (যিয়াদাতু সিকাহ) সর্বাবস্থায় গ্রহণযোগ্য। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা আমাকে হাফিজ ইবনে রজব-এর 'শারহু ইলালিত তিরমিযী' এবং সানআনীর 'তাওদীহুল আফকার' অধ্যয়ন করার তৌফিক দান করেন। ফলে আমার নিকট এটিই অগ্রগণ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না তা তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিরোধী হয়। যেমনটি আমি উসূলে হাদীস ও হাদীসের ত্রুটি (ইলাল) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ থেকে উদাহরণসহ 'আল-ইলযামাত ওয়াত তাতাব্বু' গ্রন্থের ভূমিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। কায়রোর মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহর স্বত্বাধিকারী ভ্রাতা আব্দুল ফাত্তাহ আয-যাইনীকে আমি এই সংস্করণটি প্রকাশের অনুমতি প্রদান করেছি।

সুতারং, এই সংস্করণটিই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর সাথে এই সংস্করণের কোথায় কোথায় ভিন্নতা রয়েছে তা আমি পৃথকভাবে নির্দেশ করিনি; কেননা এই সংস্করণটিই নির্ভরযোগ্য—আমার এই সুস্পষ্ট বক্তব্যই এ জন্য যথেষ্ট। যা কিছু সহজ হয়েছে তার জন্য আল্লাহরই প্রশংসা এবং সকল অনুগ্রহ কেবল তাঁরই; আর তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন ও শেষ গন্তব্য।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المؤلف:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه ونعود بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} . {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} .

أما بعد فقد اخترت أن يكون بحثي الذي أقدمه للجامعة الإسلامية في الصحيح1 المسند من أسباب النزول وذلك لأمور منها:

1- ارتباطه بفنين عظيمين وهما تفسير كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم اللذان هما أساس ديننا.

2- أن معرفة سبب نزول الآية يعين على فهم معناها فقد أشكلت بعض الآيات على بعض الصحابة فمن بعدهم حتى عرفوا سبب نزولها فمما أشكل عليهم {وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} حتى أخبرهم أبو أيوب الأنصاري رضي الله عنه بسبب نزولها كما سيأتي إن شاء الله تعالى فظهر لهم معناها. ومما

--------------------------------------------

1 أعني بالصحيح على اصطلاح الأولين ما يشمل الصحيح والحسن كما في تدريب الراوي ص21.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌লেখকের ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তবে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}।

অতঃপর, আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপনের জন্য আমার গবেষণার বিষয় হিসেবে ‘আসবাউন্নুযুল’ বা শানে নুযুল সংক্রান্ত ‘সহিহ১ মুসনাদ’ বর্ণনাগুলোকে নির্বাচন করেছি। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- এটি মহান দুটি শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত; যথা: আল্লাহর কিতাবের তাফসির এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ, যা আমাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি।

২- কোনো আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপট বা শানে নুযুল জানা থাকলে তার মর্মার্থ অনুধাবনে বিশেষ সহায়তা হয়। এমনকি কিছু আয়াতের অর্থ সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট অস্পষ্ট থেকে গিয়েছিল, যতক্ষণ না তাঁরা সেগুলোর শানে নুযুল জানতে পেরেছেন। তাঁদের নিকট যে আয়াতটি অস্পষ্ট ছিল তার একটি হলো: {তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না}। অবশেষে আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন তাঁদের নিকট এর শানে নুযুল বর্ণনা করলেন—যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে—তখন এর প্রকৃত অর্থ তাঁদের নিকট স্পষ্ট হলো। এবং যা থেকে...

--------------------------------------------

১ ‘সহিহ’ বলতে আমি পূর্বসূরিদের পরিভাষা অনুযায়ী এমন হাদীস বুঝিয়েছি যা সহিহ এবং হাসান উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি ‘তাদরীবুর রাবী’ গ্রন্থের ২১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৮)
أشكل عليهم قوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} حتى نزل –على رواية كما سيأتي إن شاء الله تعالى {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} وقد أشكل على عروة قوله: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} حتى أخبرته عائشة رضي الله عنها بسبب نزولها.

3- هذا ومما حدا بي إلى اختيار هذا الموضوع أن أسباب النزول قد دخلها الدخيل كغيرها من سائر الفنون قال الواحدي رحمه الله في مقدمة كتابه أسباب النزول بعد ذكره كلام عبيدة السلماني لما سئل عن آية من القرآن فقال: اتق الله وقل سدادا ذهب الذين يعلمون فيما أنزل القرآن:

"أما اليوم فكل أحد يخترع شيئا ويختلق إفكا وكذبا ملقيا زمامه إلى الجهالة غير مفكر في الوعيد للجاهل بسبب الآية، وذلك الذي حدا بي إلى إملاء هذا الكتاب الجامع للأسباب لينتهي إليه طالبو هذا الشأن والمتكلمون في نزول القرآن فيعرفوا الصدق ويستغنوا عن التمويه والكذب ويجدوا في تحفظه بعد السماع والطلب" إلى آخر كلامه رحمه الله ص5.

وقال السيوطي في الإتقان ج2 ص190 بعد ذكر جماعة ممن يذكرون التفسير بالأسانيد كابن جرير وابن أبي حاتم وغيرهما "ثم ألف في التفسير خلائق فاختصروا الأسانيد ونقلوا الأقوال تترى فدخل من هنا الدخيل والتبس الصحيح بالعليل ثم صار كل من يسنح له قول يورده ومن يخطر بباله شيء يعتمده ثم ينقل ذلك عنه من يجيء بعده ظانا أن له أصلا غير ملتفت إلى تحرير ما ورد عن السلف الصالح ومن يرجع إليهم في التفسير حتى رأيت من حكى في تفسير قوله تعالى: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ} نحو عشرة1 أقوال

--------------------------------------------

1 وأعظم من هذا ما حكاه الشوكاني في فتح القدير ج3 ص254 في تفسير {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الرُّوحِ} الآية وقد حكى بعض المحققين أن أقوال المختلفين في الروح بلغت إلى ثمانية عشر مائة قول فانظر إلى هذا الفضول الفارغ والتعب العاطل عن النفع بعد أن علموا أن الله قد استأثر بعلمه ولم يطلع عليه أنبياءه ولا أذن لهم بالسؤال عنه ولا البحث عن حقيقته فضلا عن أممهم المقتدين بهم إلى آخر كلامه رحمه الله فراجعه.
মহান আল্লাহর এই বাণীটি তাঁদের কাছে জটিল মনে হয়েছিল: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে অন্যায়ের সাথে মিশ্রিত করেনি", যতক্ষণ না অবতীর্ণ হলো—একটি বর্ণনা মতে যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে—"নিশ্চয়ই শিরক হলো এক মহা অন্যায়"। অনুরূপভাবে উরওয়াহর কাছে মহান আল্লাহর এই বাণীটি জটিল মনে হয়েছিল: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত", পরিশেষে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে এর নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত করেন।

৩- এছাড়া যে বিষয়টি আমাকে এই বিষয়বস্তু নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো, অন্যান্য জ্ঞানশাখার মতো আসবাবুন নুযুল বা শানে নুযুলের ক্ষেত্রেও বহু বহিরাগত ও ভিত্তিহীন বিষয় অনুপ্রবেশ করেছে। আল-ওয়াহিদি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আসবাবুন নুযুল' গ্রন্থের ভূমিকায় উবাইদাহ আস-সালমানির উক্তিটি উল্লেখ করার পর বলেছেন—যখন তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো; কুরআনের অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যারা অবগত ছিলেন তাঁরা গত হয়েছেন।"

"কিন্তু বর্তমানে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু উদ্ভাবন করছে এবং মিথ্যা ও অপবাদ রটনা করছে। তারা মূর্খতার হাতে নিজেদের লাগাম সঁপে দিয়েছে, আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে অজ্ঞদের জন্য যে শাস্তির হুমকি রয়েছে তা নিয়ে তারা চিন্তাই করে না। এই বিষয়টিই আমাকে শানে নুযুল বিষয়ক এই পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থটি সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে এই বিষয়ের শিক্ষার্থী ও কুরআন অবতরণ নিয়ে আলোচনাকারীরা এর ওপর নির্ভর করতে পারে, সত্য জানতে পারে, প্রতারণা ও মিথ্যা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে এবং শ্রবণ ও অনুসন্ধানের পর তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের উপায় খুঁজে পায়।" —তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত (রাহিমাহুল্লাহ), পৃষ্ঠা ৫।

আস-সুয়ূতী 'আল-ইতকান' গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ১৯০ পৃষ্ঠায় ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম ও অন্যান্যদের মতো সনদসহ তাফসীর বর্ণনাকারীদের একদলের কথা উল্লেখ করার পর বলেন: "এরপর বহু মানুষ তাফসীর রচনা করেছেন, কিন্তু তারা সনদগুলোকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন এবং একের পর এক বিভিন্ন মতামত উদ্ধৃত করেছেন। এখান থেকেই ভিত্তিহীন কথার অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং বিশুদ্ধ বর্ণনার সাথে ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার সংমিশ্রণ ঘটেছে। এরপর অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যার মনে যে কথা জেগেছে সে তাই বর্ণনা করেছে এবং যার মাথায় যা এসেছে তা-ই নির্ভরযোগ্য মনে করেছে। পরবর্তীতে যারা এসেছে তারা এগুলোকে ভিত্তিহীন মনে না করেই পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে নকল করেছে, অথচ তারা সালাফুত সালেহীন বা যাদের ব্যাখ্যা তাফসীরের ক্ষেত্রে প্রামাণ্য তাদের থেকে বর্ণিত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করার দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনি। এমনকি আমি এমন কাউকেও দেখেছি যিনি মহান আল্লাহর বাণী—'যাদের ওপর তোমার ক্রোধ বর্ষিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়'—এর তাফসীরে প্রায় দশটি১ মত উল্লেখ করেছেন।"

--------------------------------------------

১. এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যা আশ-শাওকানী 'ফাতহুল কাদীর'-এর ৩য় খণ্ডের ২৫৪ পৃষ্ঠায় 'এবং তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে'—এই আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন। জনৈক গবেষক বর্ণনা করেছেন যে, রূহ সম্পর্কে মতভেদকারীদের মতামতের সংখ্যা আঠারোশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সুতরাং এই অসার বাহুল্যতা ও নিরর্থক পরিশ্রমের দিকে লক্ষ্য করুন, অথচ তারা জানে যে আল্লাহ এর জ্ঞান কেবল নিজের কাছেই রেখেছেন, এমনকি তাঁর নবীদেরও তা জানাননি এবং তাঁদের এ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে বা এর হাকীকত অনুসন্ধান করতে অনুমতি দেননি; এমতাবস্থায় তাঁদের অনুসারী উম্মতদের তো প্রশ্নই আসে না। —তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত (রাহিমাহুল্লাহ), বিষয়টি দেখে নিন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৯)
وتفسيرها باليهود والنصارى هو الوارد عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وجميع التابعين وأتباعهم حتى قال ابن أبي حاتم لا أعلم في ذلك اختلافا بين المفسرين ا. هـ. المراد من الإتقان. قلت وهذا هو الذي حملني على ذكر الأسانيد ما وجدت إلى ذلك سبيلا وإن كان فيه من المشقة ما هو معروف لدى أهل هذا الفن.

وإليك مثالا واحدا يصدق ما قاله هذان الإمامان من أنه قد وقع التساهل في نقل ما لم يثبت في كتب التفسير، وهذا المثال هو قصة ثعلبة بن حاطب التي فيها "قليل تؤدي شكره خير من كثير لا تطيقه" وهذه القصة يذكرها المفسرون عنه تفسير قول الله سبحانه وتعالى {وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ آتَانَا مِنْ فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ} ويمكن أنه لا يوجد تفسير إلا وهي مذكورة فيه وقل من نبه على عدم صحتها. أما جهابذة علماء الحديث ونقاده فإليك ما قالوه فيها: قال الإمام أبو محمد بن حزم رحمه الله بعد ذكره لها من طريق مسكين بن بكير نا معان بن رفاعة السلمي عن علي بن يزيد عن القاسم بن عبد الرحمن عن أبي أمامة قال: جاء ثعلبة بن حاطب بصدقته إلى عمر فلم يقبلها وقال: لم يقبلها النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ولا أبو بكر ولا أقبلها. قال أبو محمد وهذا باطل بلا شك لأن الله تعالى أمر بقبض زكاة أموال المسلمين وأمر عليه السلام عند عند موته ألا يبقى في جزيزة العرب دينان فلا يخلو ثعلبة من أن يكون مسلما ففرض على أبي بكر وعمر قبض زكاته ولا بد ولا فسحة في ذلك وإن كان كافرا ففرض ألا يقر في جزيرة العرب فسقط هذا الأثر بلا شك وفي رواته معان بن رفاعة والقاسم بن عبد الرحمن وعلي بن يزيد وهو أبو عبد الملك الألهاني وكلهم ضعفاء ومسكين بن بكير ليس بالقوي ا. هـ. ج11من المحلى ص208 وقال السيوطي في لباب النقول إن سندها ضعيف وقال الحافظ في تخريج الكشاف إن في سندها علي بن يزيد الألهاني وهو واه وقال في الفتح ج3 ص8 بعد ذكر بعض القصة لكنه حديث ضعيف لا يحتج به ا. هـ. وقال الهيثمي في مجمع الزوائد ج7 ص32 رواه الطبراني وفيه علي بن يزيد الألهاني
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইহুদি ও নাসারাদের উদ্দেশ্য করা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম), সকল তাবেঈ ও তাদের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। এমনকি ইবনে আবি হাতেম বলেছেন: "মুফাসসিরগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই।" এটি আল-ইতকান-এর উদ্ধৃতি। আমি বলি: এ কারণেই যখনই সুযোগ পেয়েছি, আমি সনদসমূহ উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি, যদিও এতে এমন পরিশ্রম রয়েছে যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সুবিদিত।

এই দুই ইমাম যা বলেছেন, অর্থাৎ তাফসিরের গ্রন্থগুলোতে অনির্ভরযোগ্য বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যে শিথিলতা প্রদর্শিত হয়েছে, তার সত্যায়নে এখানে একটি উদাহরণ পেশ করছি। আর সেই উদাহরণটি হলো সা'লাবা ইবনে হাতিব-এর ঘটনা, যাতে বর্ণিত হয়েছে—"অল্প সম্পদ যার শুকরিয়া তুমি আদায় করো, তা এমন অধিক সম্পদ থেকে উত্তম যা বহন করার সামর্থ্য তোমার নেই।" মুফাসসিরগণ এই ঘটনাটি মহান আল্লাহর বাণী—"এবং তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তিনি যদি নিজ অনুগ্রহে আমাদের দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই সদকা করব এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হব"—এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করে থাকেন। সম্ভবত এমন কোনো তাফসির নেই যাতে এটি আলোচিত হয়নি, অথচ এর অসারতার ব্যাপারে খুব কম লোকই সতর্ক করেছেন। হাদিস শাস্ত্রের প্রাজ্ঞ বিশারদ ও সমালোচকগণ এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ: ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) মিসকিন ইবনে বুকাইর, মা'আন ইবনে রিফায়া আস-সুলামি, আলি ইবনে ইয়াজিদ, কাসেম ইবনে আব্দুর রহমান এবং আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর বলেন—সা'লাবা ইবনে হাতিব তার সদকা নিয়ে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলে তিনি তা গ্রহণ করেননি এবং বললেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তা গ্রহণ করেননি, আবু বকরও করেননি, সুতরাং আমিও তা গ্রহণ করব না।" আবু মুহাম্মদ বলেন: এটি নিঃসন্দেহে বাতিল; কারণ মহান আল্লাহ মুসলিমদের সম্পদের জাকাত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নবী (আলাইহিস সালাম) তাঁর ইন্তেকালের সময় নির্দেশ দিয়েছেন যেন আরব উপদ্বীপে দুই ধর্ম অবশিষ্ট না থাকে। সুতরাং সা’লাবা হয় মুসলিম ছিলেন—সেক্ষেত্রে আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ওপর তার জাকাত গ্রহণ করা ছিল বাধ্যতামূলক এবং এতে অন্য কোনো সুযোগ ছিল না—আর যদি তিনি কাফির হতেন, তবে আরব উপদ্বীপে তার অবস্থান করার কোনো অধিকার থাকতো না। সুতরাং এই বর্ণনাটি নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মা'আন ইবনে রিফায়া, কাসেম ইবনে আব্দুর রহমান এবং আলি ইবনে ইয়াজিদ—যিনি আবু আব্দুল মালিক আল-আলহানি—রয়েছেন, তারা সকলেই দুর্বল। আর মিসকিন ইবনে বুকাইর-ও শক্তিশালী নন। (আল-মুহাল্লা, ১১তম খণ্ড, ২০৮ পৃষ্ঠা)। সুয়ূতী ‘লুবাবুন নুকুল’ গ্রন্থে বলেছেন যে, এর সনদটি দুর্বল। হাফিজ ইবনে হাজার ‘তাখরিজুল কাশশাফ’-এ বলেছেন যে, এর সনদে আলি ইবনে ইয়াজিদ আল-আলহানি রয়েছে, যে অত্যন্ত দুর্বল। তিনি ‘ফাতহুল বারি’র ৩য় খণ্ড, ৮ম পৃষ্ঠায় ঘটনার কিছু অংশ উল্লেখ করে বলেন: "তবে এটি একটি দুর্বল হাদিস, যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়।" হাইসামি ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’-এর ৭ম খণ্ড, ৩২ পৃষ্ঠায় বলেন: তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে আলি ইবনে ইয়াজিদ আল-আলহানি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১০)
وهو متروك. وقال فيه الذهبي في تجريد أسماء الصحابة إنه حديث منكر بمرة. وقال المناوي في فيض القدير ج4 ص527 قال البيهقي في إسناد هذا الحديث نظر وهو مشهور بين أهل التفسير ا. هـ. وأشار في الإصابة إلى عدم صحة هذا الحديث فإنه ساق هذا الحديث في ترجمة ثعلبة هذا ثم قال وفي كونه صاحب هذه القصة إن صح الخبر –ولا أظنه يصح- هو البدري نظر. ا. هـ كلام المناوي وقال الحافظ العراقي في تخريج الإحياء ج3 ص338 سندها ضعيف وإنما مثلت1 بهذه القصة لشهرتها في كتب التفاسير ولأن كثيرا من إخواننا المشتغلين بالوعظ والإرشاد وفقني الله وإياهم يستحسنونها ويلقونها على العامة غير منتبهين مع عدم صحتها سندا فهي لا تصح معنى إذ فيها مخالفة لأصل من أصول الشريعة وهو أن التائب لو بلغت ذنوبه عنان السماء ثم تاب، تاب الله عليه.

4- ومن الدوافع لي على اختيار هذا الموضوع الرغبة في التعرف على أسرار هذا التشريع العظيم وما في أسباب النزول من العبر وحل المشاكل التي قد ضاق بها أصحابها ذرعا فيأتي الفرج الإلهي، وذلك كقصة الثلاثة الذين خُلِّفُوا، وكقصة الإفك وما حصل لنبي الهدى من الأذى بسببه وكذا لأم المؤمنين إذ بكت حتى ظن أبواها أن البكاء فالق كبدها. فيأتي الفرج بعد الشدة. وكقصة هلال بن أمية إذ رمى زوجته بالزنى فقال له الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم: البينة أو حد في ظهرك فقال: والذي بعثك بالحق إني لصادق ولينزلن الله ما يبرئ ظهري من الحد فأراد الرسول أن يأمر بضربه فأنزل الله آية اللعان وأبر قسمه وأتى بالعلاج بعد تفاقم الداء فخاب وخسر من ظن أنه يستطيع أن يستغني عن هذا التشريع الحكيم.

5- ومنها رجاء الاستفادة من مراحل التشريع فإننا في أمس الحاجة إلى أن

--------------------------------------------

1 ولها طريق آخر عند ابن جرير لكنه عن ابن عباس أنها نزلت في ثعلبة بن أبي حاطب وهو غير ثعلبة ابن حاطب إلا أنها مسلسلة بالعوفيين وهم ضعفاء فهي ضعيفة جدا.
এবং তিনি পরিত্যক্ত। ইমাম যাহাবি 'তাজরিদ আসমা আস-সাহাবা' গ্রন্থে এর সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি একটি সম্পূর্ণ মুনকার বা বর্জিত হাদিস। আল-মুনাউয়ি 'ফায়দুল কাদির' (৪র্থ খণ্ড, ৫২৭ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেছেন যে, আল-বাইহাকি উল্লেখ করেছেন এই হাদিসের সনদে ত্রুটি রয়েছে, তবে এটি মুফাসসিরগণের নিকট প্রসিদ্ধ। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আল-হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ইসাবা' গ্রন্থে এই হাদিসের বিশুদ্ধতাহীনতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; তিনি এই সা'লাবার জীবনীতে হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন: "যদি বর্ণনাটি সহিহ হয়ে থাকে—যদিও আমি মনে করি না এটি সহিহ হবে—তবে বদরি সাহাবি এই গল্পের মূল ব্যক্তি হওয়ার বিষয়ে সংশয় রয়েছে।" আল-মুনাউয়ির বক্তব্য সমাপ্ত। হাফেজ আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (৩য় খণ্ড, ৩৩৮ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ দুর্বল। আমি এই ঘটনাটি কেবল তাফসির গ্রন্থসমূহে এর প্রসিদ্ধির কারণে এবং ওয়াজ ও নসিহতের কাজে নিয়োজিত আমাদের অনেক ভাই—আল্লাহ আমাকে এবং তাদেরকে তাওফিক দান করুন—এটিকে পছন্দ করেন এবং এর সনদের অসারতা সম্পর্কে অসতর্ক থেকে সাধারণ মানুষের সামনে বর্ণনা করেন বলে উদাহরণ হিসেবে এনেছি। বস্তুত এটি অর্থের দিক থেকেও সঠিক নয়, কারণ এতে শরিয়তের একটি মূলনীতির বিরোধিতা রয়েছে; আর তা হলো: কোনো তওবাকারী ব্যক্তির গুনাহ যদি আকাশের সীমা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর সে তওবা করে, তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।

৪- এই বিষয়টি নির্বাচনের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো এই মহান বিধানের রহস্যসমূহ এবং শানে নুযুলের মধ্যকার শিক্ষণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষা; আর সেই সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছিল, অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তি এসেছিল। যেমন—পেছনে রয়ে যাওয়া সেই তিন ব্যক্তির ঘটনা, ইফক বা অপবাদের ঘটনা এবং এর কারণে হিদায়াতের নবীর যে কষ্ট হয়েছিল এবং উম্মুল মুমিনীন যা সহ্য করেছিলেন, যখন তিনি এত বেশি কেঁদেছিলেন যে তার পিতামাতা মনে করেছিলেন কান্নায় তার কলিজা ফেটে যাবে। অতঃপর কঠিন বিপদের পরে মুক্তি আসে। এবং হিলাল বিন উমাইয়া-র ঘটনা, যখন তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ এনেছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: "প্রমাণ পেশ করো নতুবা তোমার পিঠে হদ (শাস্তি) প্রয়োগ করা হবে।" তখন তিনি বললেন: "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী এবং আল্লাহ অবশ্যই এমন কিছু নাজিল করবেন যা আমার পিঠকে হদ থেকে রক্ষা করবে।" রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে প্রহারের নির্দেশ দিতে চাইলেন, এমন সময় আল্লাহ তাআলা লিয়ান-এর আয়াত নাজিল করলেন এবং তার শপথ সত্য প্রমাণ করলেন। এভাবে রোগের তীব্রতার পর তিনি নিরাময় দান করলেন। সুতরাং সেই ব্যক্তিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো যে মনে করে সে এই প্রজ্ঞাপূর্ণ শরিয়ত থেকে বিমুখ থাকতে পারবে।

৫- অন্যতম কারণ হলো শরিয়তের পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার আশা, কারণ আমরা এই বিষয়ে অত্যন্ত মুখাপেক্ষী যে—

--------------------------------------------

১ ইবনে জারিরের বর্ণনায় এর আরেকটি সূত্র রয়েছে, কিন্তু সেটি ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত যে এটি সা'লাবা বিন আবি হাতিব সম্পর্কে নাজিল হয়েছে—যিনি সা'লাবা ইবনে হাতিব থেকে ভিন্ন ব্যক্তি—তবে এর বর্ণনাকারীগণ সিলসিলাবদ্ধভাবে আওফি বংশীয়, যারা অত্যন্ত দুর্বল। সুতরাং এটি অত্যন্ত দুর্বল।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১১)
نعتبر أنفسنا مجددين وأن نبدأ الدعوة من جديد وفي أسباب النزول الكثير الطيب من بيان مراحل الدعوة والتوجيهات الإلهية كآية القتال فإنها لم تنزل إلا بعد أن علم الله أن لهم اقتدارا على القتال إلى غير ذلك من الفرق بين المكي والمدني كما هو معروف.

تنبيه:

قد حاولت بقدر الاستطاعة أن أجمع طرق الحديث لما فيه من الفوائد من معرفة وصل الحديث وإرساله وصحته وإعلاله1 فرب حديث ظاهر سنده الصحة في كتاب ويكون في كتاب آخر معلولا وقد قال ابن الصلاح في علوم الحديث ص82: وروى عن علي بن المديني قال: الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين خطؤه ا. هـ. وإليك المثال على ذلك: قال الحاكم رحمه الله ج2 ص324 حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب حدثنا أحمد بن عبد الجبار ثنا يونس بن بكير عن ابن إسحاق ثنا يحيى بن عباد بن عبد الله بن الزبير عن أبيه عن عائشة قالت:

لما جاء أهل مكة في فداء أساراهم بعثت زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فداء أبي العاص وبعثت فيه بقلادة كانت خديجة أدخلتها بها على أبي العاص حين بنى عليها فلما رآها رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم رق لها رقة شديدة وقال:

"إن رأيتم أن تطلقوا لها أسيرها وتردوا عليها الذي لها فافعلوا" قالوا نعم يا رسول الله وردوا عليها الذي لها قال: وقال العباس يا رسول الله إني كنت مسلما فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: "الله أعلم بإسلامك فإن يكن كما تقول فالله يجزيك فافد نفسك وبني أخويك نوفل بن الحارث بن عبد المطلب وعقيل بن أبي طالب بن عبد المطلب وحليفك عتبة بن عمرو بن جحدم أخا بني الحارث بن فهر". فقال: ما ذاك عندي يا رسول الله قال: "فأين المال الذي دفنت أنت وأم الفضل فقلت لها إن أصبت فهذا المال لبني الفضل وعبد الله وقثم" فقال والله يا رسول الله إني أشهد أنك رسول الله إن هذا الشيء

--------------------------------------------

1 وله فوائد أُخَر منها أنه يصرح المدلس بالسماع في بعض الطرق ومنها بيان المبهم ومنها متابعة الضعيف.
আমরা নিজেদেরকে সংস্কারক হিসেবে গণ্য করি এবং নতুন করে দাওয়াত শুরু করতে চাই। আর শানে নুযূল বা কুরআন অবতীর্ণের প্রেক্ষাপটের মধ্যে দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায় এবং ঐশী নির্দেশনাবলির বহু উত্তম বর্ণনা রয়েছে। যেমন যুদ্ধের আয়াত; এটি ততক্ষণ পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়নি যতক্ষণ না আল্লাহ জানলেন যে তাদের যুদ্ধের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এভাবেই মাক্কী ও মাদানী সূরার মধ্যকার পার্থক্যসমূহ সুপরিচিত।

সতর্কীকরণ:

আমি সাধ্যমতো হাদীসের বিভিন্ন সূত্র বা সনদসমূহ একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। কারণ এতে হাদীসের সংযোগ, বিচ্ছিন্নতা, বিশুদ্ধতা এবং ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করার মতো বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। কেননা অনেক হাদীস এমন আছে যার সনদ কোনো একটি কিতাবে বাহ্যিকভাবে সহীহ মনে হলেও অন্য কিতাবে তা ত্রুটিযুক্ত বা মা'লূল হিসেবে প্রমাণিত হয়। ইবনুস সালাহ তার 'উলূমুল হাদীস' গ্রন্থের ৮২ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আলী ইবনুল মাদীনী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "একটি হাদীসের বিভিন্ন সূত্র বা তুরুক যদি একত্রিত করা না হয়, তবে তার ভুল স্পষ্ট হয় না।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আপনার জন্য এর একটি উদাহরণ পেশ করছি: ইমাম হাকেম (রহ.) ২য় খণ্ড, ৩২৪ পৃষ্ঠায় বলেন—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন আব্দুল জব্বার, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবন বুকাইর, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন আব্বাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়ের থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

মক্কাবাসীরা যখন তাদের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির পণ নিয়ে আসল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কন্যা জয়নব (রা.) আবুল আসের মুক্তির জন্য পণ পাঠালেন। তিনি সেই পণের সাথে একটি হারও পাঠিয়েছিলেন, যা খাদিজা (রা.) তাকে আবুল আসের সাথে বাসর রাতে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম যখন হারটি দেখলেন, তখন তার মনে অত্যন্ত দয়ার উদ্রেক হলো এবং তিনি বললেন:

"তোমরা যদি সঙ্গত মনে করো তবে তার বন্দীকে মুক্তি দিতে পারো এবং তার পাঠানো সম্পদ তাকে ফেরত দিতে পারো।" তারা বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!" অতঃপর তারা তার সম্পদ তাকে ফেরত দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আব্বাস (রা.) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মুসলিমই ছিলাম।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমার ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। যদি তোমার দাবি সত্য হয় তবে আল্লাহ তোমাকে এর প্রতিদান দেবেন। তবে এখন তুমি নিজের পক্ষ থেকে এবং তোমার দুই ভ্রাতুষ্পুত্র নওফেল ইবনুল হারিস ইবন আব্দুল মুত্তালিব ও আকীল ইবন আবি তালিব ইবন আব্দুল মুত্তালিবের পক্ষ থেকে এবং তোমার মিত্র বনু হারিস ইবন ফিহর গোত্রের সদস্য উতবা ইবন আমর ইবন জাহদামের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দাও।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে তো কিছুই নেই।" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "সেই সম্পদটি কোথায় যা তুমি এবং উম্মুল ফজল মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলে এবং তুমি তাকে বলেছিলে যে, 'যদি আমার কোনো বিপদ হয় তবে এই সম্পদ ফজল, আব্দুল্লাহ ও কুসামের জন্য'?" তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল! কারণ এই বিষয়টি..."

--------------------------------------------

১. এর আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে, যেমন: কোনো কোনো সূত্রে মুদাল্লিস রাবীর সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়, অস্পষ্ট রাবীর পরিচয় প্রকাশিত হয় এবং দুর্বল রাবীর সমর্থক বর্ণনা (মুতাবায়াত) পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১২)
ما علمه أحد غيري وغير أم الفضل فاحسب لي يا رسول الله ما أصبتم مني عشرين أوقية من مال كان معي فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "أفعل". ففدى العباس نفسه وبني أخويه وحليفه وأنزل الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِمَنْ فِي أَيْدِيكُمْ مِنَ الْأَسْرَى إِنْ يَعْلَمِ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمْ خَيْرًا يُؤْتِكُمْ خَيْرًا مِمَّا أُخِذَ مِنْكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} فأعطاني مكان العشرين الأوقية في الإسلام عشرين عبدا كلهم في يده مال يضرب به مع ما أرجو من مغفرة الله عز وجل. هذا حديث صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه وأقره الذهبي ا. هـ.

وقال الهيثمي في مجمع الزوائد ج7 ص28 رواه الطبراني في الكبير والأوسط ورجال الأوسط رجال الصحيح غير ابن إسحاق وقد صرح بالسماع ا. هـ. ثم بعد الاطلاع على سنن البيهقي ج6 ص322 ظهر أن قصة العباس مدرجة على هذا السند. قال البيهقي رحمه الله: كذا فيما حدثنا به شيخنا أبو عبد الله في كتاب المستدرك ثم ذكره الحافظ البيهقي على الصواب مبينا أن قصة العباس لها سند آخر وأنها مرسلة وقال الحافظ في الفتح ج9 ص382 بعد ذكره هذه القصة وفي طريق عطاء محمد بن إسحاق، وليست هذه القصة عنده مسندة بل معضلة وصنيع إسحاق يعني ابن راهوية وتبعه الطبراني وابن مردويه يقتضي أنها موصولة والعلم عند الله ا. هـ.

وقال في المطالب العالية ج3 ص337 وأظن ذلك مدرجا في الخبر من كلام ابن إسحاق وحديث عباس على هذا معضل وأما على ظاهر السياق أولا فهو مسند وهو على ذلك عمل إسحاق ا. هـ. والأمثلة على هذا كثيرة.

اعتذار: لم آل جهدا في الحرص على العزو إلى أئمة الحديث وكتبهم وقد يضيق علي الوقت بالعزو إلى بعضهم وربما اكتفيت بعزو بعض المؤلفين إليه وهذا قليل وربما صعب علي الوقوف على سند الحديث إذا كان في الكتب المفقودة أو العزيزة الوجود فإن صححه إمام تطمئن النفس إلى تصحيحه كتبته بدون سند وإلا توقفت فيه حتى يسهل الله بالعثور على سنده. والله سبحانه أسأل أن يجعل عملي خالصا لوجهه الكريم وأن ينفع بهذا المؤلف الإسلام والمسلمين آمين.
আমি এবং উম্মুল ফাদল ব্যতীত কেউ তা জানত না। সুতরাং হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার কাছ থেকে যে বিশ উকিয়া সম্পদ পেয়েছেন, তা আমার পক্ষ থেকে (মুক্তিপণ হিসেবে) গণনা করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি তাই করব।" অতঃপর আব্বাস নিজের জন্য, তাঁর দুই ভ্রাতুষ্পুত্রের জন্য এবং তাঁর মিত্রের জন্য মুক্তিপণ প্রদান করলেন। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: {হে নবী, তোমাদের অধীনে যে যুদ্ধবন্দীরা রয়েছে তাদের বলো, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কোনো কল্যাণ দেখেন তবে তোমাদের থেকে যা নেওয়া হয়েছে তার চেয়ে উত্তম কিছু তোমাদের দান করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন; আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} এরপর ইসলাম গ্রহণের পর তিনি (আব্বাস) আমাকে সেই বিশ উকিয়ার পরিবর্তে বিশজন দাস প্রদান করেন, যাদের প্রত্যেকের কাছে এমন সম্পদ ছিল যা দিয়ে তারা ব্যবসা করত; এর পাশাপাশি আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমার আশা রাখি। এটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী একটি সহীহ হাদীস, তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি এবং ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। সমাপ্ত।

হায়সামি 'মাজমাউজ যাওয়াইদ' এর ৭ম খণ্ড, ২৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: এটি তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর' এবং 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং 'আল-আওসাত'-এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে ইবনে ইসহাক ব্যতীত; আর তিনি স্পষ্টভাবে শ্রবণের (সামা') কথা উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত। অতঃপর 'সুনানে বায়হাকী'র ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩২২ পৃষ্ঠা পর্যালোচনার পর প্রতীয়মান হয় যে, আব্বাসের এই কাহিনীটি এই সনদে 'মুদরাজ' (অনুপ্রবিষ্ট)। বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের শায়খ আবু আবদুল্লাহ তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আমাদের কাছে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। এরপর হাফেজ বায়হাকী সঠিক বিষয়টি উল্লেখ করে স্পষ্ট করেছেন যে, আব্বাসের কাহিনীর জন্য অন্য একটি সনদ রয়েছে এবং তা 'মুরসাল'। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ্'-এর ৯ম খণ্ড, ৩৮২ পৃষ্ঠায় এই কাহিনীটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: আতার সূত্রে বর্ণিত পথে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রয়েছেন, এবং এই কাহিনীটি তাঁর কাছে 'মুসনাদ' নয় বরং 'মু'দাল'। আর ইসহাক অর্থাৎ ইবনে রাহওয়াইহের কর্মপদ্ধতি এবং তাবারানি ও ইবনে মারদুইয়াহ কর্তৃক তাঁর অনুসরণ এটাই দাবি করে যে এটি 'মাওসুল', তবে প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। সমাপ্ত।

তিনি 'আল-মাতালিবুল আলিয়া'র ৩য় খণ্ড, ৩৩৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আমি মনে করি এটি ইবনে ইসহাকের কথা থেকে খবরের মধ্যে 'মুদরাজ' বা অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে এবং আব্বাসের হাদীসটি এই বিচারে 'মু'দাল'। তবে বাহ্যিক প্রেক্ষাপটে প্রথমে এটি 'মুসনাদ' এবং এই অনুযায়ীই ইসহাক আমল করেছেন। সমাপ্ত। এর উদাহরণ অনেক রয়েছে।

ক্ষমা প্রার্থনা: হাদীসের ইমামগণ এবং তাঁদের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি কোনো প্রচেষ্টায় ত্রুটি করিনি। তবে কখনও কখনও সময়ের স্বল্পতার কারণে কারো কারো উদ্ধৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি, আবার কখনও কোনো লেখকের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি—যদিও এমনটি খুব কমই হয়েছে। আবার কখনও হাদীসের সনদ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে যদি তা কোনো হারানো বা দুষ্প্রাপ্য কিতাবে থেকে থাকে। এমতাবস্থায় যদি এমন কোনো ইমাম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন যার ওপর মন আশ্বস্ত হয়, তবে আমি তা সনদ ছাড়াই লিখেছি; অন্যথায় আমি তাতে বিরত থেকেছি যতক্ষণ না আল্লাহ সেটির সনদ পাওয়া সহজ করে দেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এই গ্রন্থের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমীন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌قواعد أصولية:

لأسباب النزول قواعد أصولية نشير إلى بعضها حسبما رسمه شيخنا محمود بن عبد الوهاب فائد حفظه الله مقتصرين على المشهور منها وما لا بد منه رغبة في الاختصار:

1- تعريف سبب النزول: سبب النزول يكون قاصرا على أمرين:

أحدهما: أن تحدث حادثة فينزل القرآن الكريم بشأنها كما في سبب نزول {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ} كما سيأتي إن شاء الله.

الثاني: أن يُسْأل الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم عن شيء فينزل القرآن ببيان الحكم فيه كما في سبب نزول آية اللعان كما سيأتي إن شاء الله.

2- طريقة معرفته: أما طريقة معرفته فالعلماء يعتمدون في معرفة سبب النزول على صحة الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أو عن الصحابي فإن إخبار الصحابي عن مثل هذا له حكم الرفع قال ابن الصلاح رحمه الله في كتابه علوم الحديث:

الثالث: ما قبل إن تفسير الصحابي حديث مسند فإنما ذلك في تفسير يتعلق بسبب نزول الآية يخبر به الصحابي أو نحو ذلك كقول جابر رضي الله عنه: كانت اليهود تقول من أتى امرأته من دبرها في قبلها جاء الولد أحول1 فأنزل الله عز وجل {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ} الآية فأما سائر تفاسير الصحابة التي لا تشتمل على إضافة شيء إلى رسول اله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فمعدود في الموقوفات. والله أعلم ا. هـ. ص46.

--------------------------------------------

1 سيأتي تخريجه إن شاء الله.
উসূলী মূলনীতিসমূহ:

শানে নুযূল বা আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট বিষয়ে কিছু উসূলী মূলনীতি রয়েছে। আমাদের শায়খ মাহমুদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফায়েদ (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ী আমরা এখানে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে কেবল প্রসিদ্ধ ও অপরিহার্য বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করছি:

১- শানে নুযূলের সংজ্ঞা: শানে নুযূল মূলত দুটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ:

প্রথমত: কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়া এবং সে বিষয়ে আল-কুরআনুল কারীম নাযিল হওয়া। যেমন: "আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক" নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা এবং সেই বিষয়ের বিধান বর্ণনা করে কুরআন নাযিল হওয়া। যেমন: লি'আনের আয়াত নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

২- এটি জানার পদ্ধতি: শানে নুযূল জানার পদ্ধতির ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে অথবা সাহাবী থেকে বর্ণিত সহীহ বর্ণনার ওপর নির্ভর করেন। কেননা এ জাতীয় বিষয়ে সাহাবীর সংবাদ প্রদান 'হুকমান মারফূ' (রাসূলুল্লাহ সা.-এর বাণীর পর্যায়ভুক্ত) হিসেবে গণ্য হয়। ইবনে আস-সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'উলূমুল হাদীস' গ্রন্থে বলেছেন:

তৃতীয়ত: সাহাবীর তাফসীরকে যে 'মুসনাদ হাদীস' বলা হয়েছে, তা মূলত আয়াতের শানে নুযূল সংশ্লিষ্ট তাফসীরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা সাহাবী বর্ণনা করেন অথবা অনুরূপ বিষয়। যেমন জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: ইহুদিরা বলত, যদি কেউ তার স্ত্রীর যোনিপথে পিছন দিক থেকে সহবাস করে, তবে সন্তান টেরা চোখ নিয়ে জন্মাবে। তখন আল্লাহ তাআলা "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র" আয়াতটি নাযিল করেন। তবে সাহাবীদের অন্যান্য তাফসীর যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দিকে কোনো কিছু সম্বন্ধ করা হয়নি, সেগুলো 'মাওকূফ' বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত, পৃষ্ঠা ৪৬।

--------------------------------------------

১. এর উৎস বা তাখরীজ ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما قول التابعي نزلت في كذا فهو مرسل فإن تعددت طرقُه قُبِلَ وإلا فلا على الراجح عند المحدثين.

3- العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب والدليل على ذلك أن الأنصاري الذي قبل الأجنبية ونزلت فيه {إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ} الآية، قال للنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ألِيَ هذا وحدي يا رسول الله؟ ومعنى هذا هل حكم هذه الآية يختص بي لأني سبب نزولها فأفتاه النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بأن العبرة بعموم اللفظ فقال "بل لأمتي كلهم".

أما صورة السبب فجمهور أهل الأصول أنها قطعية الدخول في العام فلا يجوز إخراجها منه بمخصص وهو التحقيق وروي عن مالك أنها ظنية الدخول كغيرها من أفراد العام. ا. هـ. من مذكرة أصول الفقه للشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله باختصار ص206 و210.

4 قد تتعدد الأسباب والنازل واحد كما في آية اللعان وغيرها من الآيات كما ستجده إن شاء الله في مواضعه وكذا قد تتعدد الآيات النازلة والسبب واحد كما في حديث المسيب رضي الله عنه في شأن وفاة أبي طالب وقول النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم "لأستغفرن لك ما لم أنه عنه" فأنزل الله {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} . ونزل في أبي طالب {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} والأمثلة على ذلك كثيرة ستمر بك إن شاء الله.

5- صيغة سبب النزول إما أن تكون صريحة في السببية وإما أن تكون محتملة. فتكون نصا صريحا إذا قال الراوي سبب نزول هذه الآية كذا أو إذا أتى بفاء تعقيبية داخلة على مادة النزول بعد ذكر الحادثة أو السؤال كما إذا قال حدث كذا أو سئل رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم عن كذا فنزلت الآية.
আর কোনো তাবেয়ীর উক্তি যে, 'এটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে', তা 'মুরসাল' হিসেবে গণ্য। যদি এর সূত্র বা বর্ণনাপথ একাধিক হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে; অন্যথায় মুহাদ্দিসগণের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী তা গৃহীত হবে না।

৩- বিধানের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যাপকতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, প্রেক্ষাপটের বিশেষত্বকে নয়। এর প্রমাণ হলো সেই আনসারী সাহাবী, যিনি একজন বেগানা নারীকে চুম্বন করেছিলেন এবং যার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছিল- "নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়" (আয়াত), তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি কেবল আমার জন্য?' এর অর্থ হলো, এই আয়াতের বিধান কি কেবল আমার জন্য নির্দিষ্ট যেহেতু আমি এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বা প্রেক্ষাপট? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাকে এই ফতোয়া দিলেন যে, বিধান শব্দের ব্যাপকতার ওপর নির্ভরশীল; তিনি বললেন, "বরং তা আমার উম্মতের সকলের জন্য।"

তবে যে প্রেক্ষাপট বা ঘটনার কারণে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, উসূলবিদগণের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে তা 'আম' বা ব্যাপক হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া অকাট্য; সুতরাং কোনো বিশেষায়কের মাধ্যমে তাকে সেই হুকুম থেকে বের করা বৈধ নয়; আর এটিই হলো সূক্ষ্ম ও যাচাইকৃত মত। ইমাম মালিক (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, আম-এর অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় এটিও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ধারণাপ্রসূত। শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকীতী (রহ.)-এর 'মুযাক্কিরাহ উসূলিল ফিকহ' থেকে সংক্ষেপে সংকলিত, পৃষ্ঠা ২০৬ ও ২১০।

৪- কখনো একাধিক প্রেক্ষাপটের বিপরীতে একটি মাত্র আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে, যেমনটি 'লিআন' সংক্রান্ত আয়াতে এবং অন্যান্য আয়াতের ক্ষেত্রে ঘটেছে, যা ইনশাআল্লাহ আপনি নিজ নিজ স্থানে পাবেন। তদ্রূপ কখনো একটি মাত্র প্রেক্ষাপটে একাধিক আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে; যেমন আবু তালিবের মৃত্যু সংক্রান্ত মুসাইয়িব (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর উক্তি- "আপনার জন্য আমি অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করব যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়"। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন- "নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী"। আর আবু তালিবের ব্যাপারে অবতীর্ণ হলো- "নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন"। এর উদাহরণ অনেক যা ইনশাআল্লাহ আপনি সামনে পাবেন।

৫- শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার কারণের বর্ণনাভঙ্গি কখনো কারণ হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট হয়, আবার কখনো সম্ভাবনাময় হয়। এটি সুস্পষ্ট দলিল হবে তখন, যখন বর্ণনাকারী বলেন, 'এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো অমুক' অথবা যখন কোনো ঘটনা বা প্রশ্নের বর্ণনার পর অবতরণ সংক্রান্ত শব্দের সাথে অনুবর্তী 'ফা' (অতঃপর) অব্যয় যুক্ত করেন। যেমন এভাবে বলা যে- 'এই ঘটনাটি ঘটল' অথবা 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে অমুক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, অতঃপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো'।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
فهاتان صيغتان صريحتان في السببية وسيأتي لهما أمثلة إن شاء الله وتكون الآية محتملة للسببية ولما تضمنته الآية من الأحكام إذا قال الراوي نزلت هذه الآية في كذا فذلك يراد به تارة أنه سبب النزول وتارة أنه داخل في معنى الآية.

وكذا إذا قال أحسب هذه الآية نزلت في كذا أو ما أحسب هذه الآية إلا نزلت في كذا فإن الراوي بهذه الصيغة لا يقطع بالسبب فهاتان صيغتان تحتملان السببية وغيرها وسيأتي لها أمثلة إن شاء الله ا. هـ. مختصرا من كتاب مباحث في علوم القرآن لمناع القطان.
সুতরাং এই দু'টি হলো শানে নুযূল বা অবতরণের প্রেক্ষাপট বর্ণনার ক্ষেত্রে দু'টি সুস্পষ্ট শব্দশৈলী এবং অচিরেই এগুলোর উদাহরণ আসবে ইনশাআল্লাহ। আর যখন বর্ণনাকারী বলেন যে, 'এই আয়াতটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে', তখন আয়াতটি প্রেক্ষাপট বর্ণনা এবং আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বিধান—উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে; অর্থাৎ কখনও তা দ্বারা শানে নুযূল উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনও তা আয়াতের অর্থ বা মর্মের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে বুঝায়।

অনুরূপভাবে যখন বর্ণনাকারী বলেন, 'আমি মনে করি এই আয়াতটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে' কিংবা 'আমি মনে করি এই আয়াতটি অমুক বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে অবতীর্ণ হয়নি', তখন এই শব্দশৈলীর মাধ্যমে বর্ণনাকারী প্রেক্ষাপটের ব্যাপারে অকাট্য নিশ্চয়তা প্রদান করেন না। সুতরাং এই দু'টি এমন শব্দশৈলী যা শানে নুযূল এবং অন্যান্য বিষয়েরও সম্ভাবনা রাখে; অচিরেই ইনশাআল্লাহ এগুলোর উদাহরণ আসবে। মান্না আল-কাত্তান রচিত 'মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন' গ্রন্থ হতে সংক্ষেপে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
"‌‌فائدة":

من القرآن ما نزل لسبب ومنه ما نزل ابتداء بعقائد الإيمان وواجبات الإسلام وغير ذلك من التشريع وإنما ذكرت هذا لأن بعضهم طالبني في ذات مرة أن أذكر سببا آخر لقوله تعالى {وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ} الآية – عندما قلت له إن القصة التي وردت في ثعلبة ضعيفة. وكذا قوله تعالى {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا} إلى آخر الآيات عندما قلت لبعضهم إن ما ورد أنها نزلت في علي وفاطمة ليس بصحيح وقد ذكرها ابن الجوزي في الموضوعات1 ووافقه السيوطي فأحببت التنبيه على هذا لئلا يظن من لم يمارس سبب النزول أن لكل آية سببا.

هذا ما تيسر لي وإن كنت تريد المزيد فعليك بمراجعة الإتقان للحافظ السيوطي رحمه الله والله أسأل أن يثبت شيخنا المشرف على حسن توجيهه وتنبيهه على ما وقع مني من الأخطاء فإنه حفظه الله قد أتعب نفسه ولاحظ ملاحظة دقيقة فجزاه الله خيرا وبارك له في عمله وولده وماله آمين.

--------------------------------------------

1 هذا الحديث وأمثاله من الأحاديث الضعيفة والموضوعة في فضائل أهل بيت النبوة قد أودعناها في كتابنا رياض الجنة وقد أغنى الله أهل بيت النبوة عن هذه الأباطيل.
একটি বিশেষ জ্ঞাতব্য:

কুরআনের এমন কিছু অংশ রয়েছে যা কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে, আবার এমন কিছু অংশও রয়েছে যা ঈমানের আকিদা, ইসলামের আবশ্যিক বিধানাবলি এবং অন্যান্য শরিয়ত সংক্রান্ত বিষয়ের বর্ণনায় প্রাথমিকভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। আমি এটি এজন্য উল্লেখ করেছি যে, এক ব্যক্তি একবার আমার কাছে মহান আল্লাহর বাণী—'তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল...' (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)—এই আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার অন্য কোনো প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার দাবি করেছিলেন; যখন আমি তাঁকে বলেছিলাম যে, ছালাবাহ সম্পর্কে বর্ণিত ঘটনাটি দুর্বল। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী—'তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুদূরপ্রসারী'—থেকে আয়াতের শেষ পর্যন্ত; যখন আমি তাঁদের বলেছিলাম যে, এই আয়াতগুলো আলী এবং ফাতিমার শানে অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনাটি সহীহ নয়। ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওযুআত' (জাল হাদীস সংকলন) কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম সুয়ূতী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাই আমি এই বিষয়ে সতর্ক করা সমীচীন মনে করেছি যাতে শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যার গভীর জ্ঞান নেই, সে যেন এমনটি মনে না করে যে কুরআনের প্রতিটি আয়াতের পেছনেই কোনো না কোনো সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট রয়েছে।

এটিই আমার জন্য যতটুকু সম্ভব ছিল তা পেশ করলাম। যদি আপনি আরও অধিক জানতে চান, তবে হাফেজ সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আল-ইতকান' কিতাবটি অধ্যয়ন করতে পারেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ক শাইখকে তাঁর সুন্দর দিকনির্দেশনা এবং আমার ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেওয়ার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন। তিনি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) যথেষ্ট কষ্ট স্বীকার করে সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর আমল, সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। আমীন।

--------------------------------------------

১. এই হাদীসটি এবং আহলে বায়তের ফযীলত সম্পর্কিত এই জাতীয় অন্যান্য দুর্বল ও জাল হাদীসসমূহ আমরা আমাদের 'রিয়াযুল জান্নাহ' কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। মহান আল্লাহ নবুওয়াতের পবিত্র পরিবারকে এই সকল মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বর্ণনা থেকে অমুখাপেক্ষী রেখেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

"‌‌سورة البقرة":

قوله تعالى:

{فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ} الآية 79.

قال الإمام البخاري رحمه الله في كتابه خلق أفعال العباد ص54 حدثنا يحيى ثنا وكيع عن سفيان عن عبد الرحمن بن علقمة عن ابن عباس رضي الله عنه {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ} قال نزلت في أهل الكتاب.

الحديث رجاله رجال الصحيح إلا عبد الرحمن بن علقمة وقد وثقه النسائي وابن حبان والعجلي وقال ابن شاهين قال ابن مهدي كان من الأثبات الثقات ا. هـ. تهذيب التهذيب.

قوله تعالى:

{مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} الآية 97.

قال الإمام أحمد: ج1 ص274 حدثنا أبو أحمد1 ثنا عبد الله بن الوليد العجلي وكانت له هيئة رأيناه عند حسن عن بكير بن شهاب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: أقبلت يهود إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فقالوا: يا أبا القاسم إنا نسألك عن خمسة أشياء فإن أنبأتنا بهن عرفنا أنك نبي واتبعناك فأخذ عليهم ما أخذ إسرائيل على بنيه إذ قالوا الله على ما نقول وكيل، قال: "هاتوا".

--------------------------------------------

1 أبو أحمد هو محمد بن عبد الله الزبيري.
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।

"‌‌সূরা আল-বাকারা":

মহান আল্লাহর বাণী:

{সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং নগণ্য মূল্য পাওয়ার আশায় বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের দুর্ভোগ এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও তাদের দুর্ভোগ।} আয়াত ৭৯।

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'খালকু আফ'আলিল ইবাদ' গ্রন্থের ৫৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়াকি' থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আলকামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, {সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে}—এই আয়াতটি আহলে কিতাবদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহ বুখারীর বর্ণনাকারী পর্যায়ের, তবে আবদুর রহমান বিন আলকামা ব্যতীত; আর নাসাঈ, ইবনে হিব্বান এবং ইজলী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে শাহীন বলেন, ইবনে মাহদী বলেছেন: তিনি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সমাপ্ত—তাহযীবুত তাহযীব।

মহান আল্লাহর বাণী:

{যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হবে (সে জেনে রাখুক যে), তিনি আল্লাহর নির্দেশে তোমার অন্তরে এই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ।} আয়াত ৯৭।

ইমাম আহমাদ বলেন (১ম খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট আবু আহমাদ১ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন আল-ওয়ালিদ আল-ইজলী থেকে (তাঁর বিশেষ গাম্ভীর্যপূর্ণ মর্যাদা ছিল, আমরা তাঁকে হাসানের নিকট দেখেছি), তিনি বুকাইর বিন শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: একদল ইহুদী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল: হে আবুল কাসিম! আমরা আপনাকে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব, যদি আপনি আমাদের তা জানিয়ে দেন, তবে আমরা নিশ্চিত হব যে আপনি একজন নবী এবং আপনার অনুসরণ করব। তখন তিনি তাদের নিকট থেকে তেমন অঙ্গীকার নিলেন, যেমন ইসরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সন্তানদের নিকট থেকে নিয়েছিলেন যখন তারা বলেছিল ‘আমরা যা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী’। অত:পর তিনি বললেন: "তোমাদের প্রশ্নগুলো পেশ করো।"

--------------------------------------------

১ আবু আহমাদ হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-যুবাইরী।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
قالوا: أخبرنا عن علامة النبي، قال: "تنام عيناه ولا ينام قلبه"، قالوا: أخبرنا كيف تؤنث المرأة وكيف تذكر قال: "يلتقي الماءان فإذا علا ماء الرجل ماء المرأة أذكرت، وإذا علا ماء المرأة ماء الرجل أنثت"، قالوا: أخبرنا ما حرم إسرائيل على نفسه قال: "كان يشتكي عرق النسا فلم يجد شيئا يلائمه إلا ألبان كذا وكذا"، قال عبد الله قال أبي، قال بعضهم: يعني الإبل فحرم لحومها قالوا: صدقت؛ أخبرنا ما هذا الرعد قال: "ملك من ملائكة الله عز وجل موكل بالسحاب بيده أو في يده مخراق من نار يزجر به السحاب يسوقه حيث أمر الله"، قالوا: فما هذا الصوت الذي يسمع. قال: "صوته"، قالوا: صدقت، إنما بقيت واحدة وهي التي نبايعك إن أخبرتنا بها فإنه ليس من نبي إلا له ملك يأتيه بالخبر فأخبرنا من صاحبك. قال: "جبريل عليه السلام". قالوا: جبريل ذاك الذي ينزل بالحرب والقتال والعذاب عدونا، لو قلت ميكائيل الذي ينزل بالرحمة والنبات والقطر لكان.

فأنزل الله عز وجل {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ} إلى آخر الآية.

قال الهيثمي في مجمع الزوائد ج8 ص242 رواه أحمد والطبراني ورجاله ثقات وأخرجه أبو نعيم في الحلية ج4 ص305 والحديث في سنده بكير بن شهاب قال الحافظ في التقريب مقبول يعني إذا توبع وإلا فلين كما نبه عليه في المقدمة لكن الحديث له طرق إلى ابن عباس كما في تفسير ابن جرير منها ما أخرجه الإمام أحمد ج1 ص278 والطيالسي ج2 ص11 وابن جرير ج1 ص431 وابن سعد ج1 ق1 ص116 من طريق شهر بن حوشب عن ابن عباس نحوه وقد حكى ابن جرير الإجماع أنها نزلت جوابا لليهود من بني إسرائيل إذ زعموا أن جبريل عدو لهم وأن ميكائيل ولي لهم ا. هـ. فيكون الإجماع مؤيدا لهاتين الطريقتين على ما بهما من الضعف أما الأولى فلأن بكير بن شهاب قد خولف كما في التاريخ الكبير للبخاري ج2 ص114 و115 فرواه
তারা বলল: আপনি আমাদের নবীর নিদর্শন সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "তাঁর চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যায়, কিন্তু তাঁর অন্তর নিদ্রা যায় না।" তারা বলল: আমাদের বলুন কীভাবে নারী কন্যা সন্তান প্রসব করে এবং কীভাবে পুত্র সন্তান প্রসব করে? তিনি বললেন: "উভয় পানি (বীর্য) যখন মিলিত হয়; তখন যদি পুরুষের বীর্য নারীর বীর্যের ওপর প্রবল হয়, তবে পুত্র সন্তান হয়। আর যদি নারীর বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রবল হয়, তবে কন্যা সন্তান হয়।" তারা বলল: আমাদের বলুন ইসরাঈল (আলাইহিস সালাম) নিজের জন্য কী হারাম করেছিলেন? তিনি বললেন: "তিনি সায়াটিকা (ইরাকুন্ নিসা) ব্যথায় ভুগছিলেন, তখন তিনি উটের দুধ ছাড়া নিজের জন্য উপযোগী আর কিছু পাচ্ছিলেন না (তাই তিনি তা গ্রহণ করতেন)।" আব্দুল্লাহ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো উট, তাই তিনি উটের গোশত হারাম করেছিলেন। তারা বলল: আপনি সত্য বলেছেন। আমাদের বলুন এই বজ্র আসলে কী? তিনি বললেন: "এটি মহান আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা, যিনি মেঘমালার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁর হাতে আগুনের একটি চাবুক রয়েছে যা দিয়ে তিনি মেঘমালাকে তাড়না করেন এবং আল্লাহর নির্দেশিত স্থানে নিয়ে যান।" তারা বলল: তাহলে এই যে শব্দ শোনা যায় তা কী? তিনি বললেন: "তা হলো তাঁর কণ্ঠস্বর।" তারা বলল: আপনি সত্য বলেছেন। এখন কেবল একটি বিষয় বাকি আছে, যদি আপনি আমাদের তা বলে দেন তবে আমরা আপনার আনুগত্য স্বীকার করব। কেননা প্রত্যেক নবীর নিকট একজন ফেরেশতা সংবাদ নিয়ে আসেন, সুতরাং আপনার নিকট কে আসেন তা আমাদের জানান। তিনি বললেন: "জিবরাঈল আলাইহিস সালাম।" তারা বলল: জিবরাঈল তো সেই যে যুদ্ধ, বিগ্রহ আর আযাব নিয়ে অবতীর্ণ হয়, সে আমাদের শত্রু। যদি আপনি মিকাইল (আলাইহিস সালাম) এর কথা বলতেন, যিনি রহমত, উদ্ভিদ ও বৃষ্টি নিয়ে অবতীর্ণ হন, তবে (আমরা আপনার অনুসরণ করতাম)।

অতঃপর মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হবে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

হায়সামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ২৪২ পৃষ্ঠায় বলেছেন, এটি আহমাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আবু নুআইম 'হিলয়া' গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ৩০৫ পৃষ্ঠায় এটি উদ্ধৃত করেছেন। এই হাদীসের সনদে বুকাইর বিন শিহাব রয়েছেন। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব' গ্রন্থে তাকে 'মাকবুল' (গ্রহণযোগ্য) বলেছেন, অর্থাৎ যদি অন্য কোনো বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত হয় তবে গ্রহণযোগ্য, নতুবা তিনি দুর্বল (লাইয়িন), যেমনটি তিনি কিতাবের মুকাদ্দিমায় সতর্ক করেছেন। তবে ইবনে আব্বাসের সূত্রে হাদীসটির আরও বিভিন্ন সূত্র রয়েছে যেমনটি ইবনে জারীরের তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে ইমাম আহমাদ (১ম খণ্ড ২৭৮ পৃ.), তায়ালিসি (২য় খণ্ড ১১ পৃ.), ইবনে জারীর (১ম খণ্ড ৪৩১ পৃ.) এবং ইবনে সাদ (১ম খণ্ড ১১৬ পৃ.) কর্তৃক শাহর বিন হাওশাব-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর এ বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি বনী ইসরাঈলের ইহুদীদের জবাবে নাযিল হয়েছে, যখন তারা দাবি করেছিল যে জিবরাঈল তাদের শত্রু এবং মিকাইল তাদের বন্ধু। সুতরাং এই ঐক্যমত বা ইজমা বর্ণনা দুটির দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে সমর্থন জোগায়। প্রথম বর্ণনার ক্ষেত্রে কারণ হলো, বুকাইর বিন শিহাবের বর্ণনায় ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়েছে যেমনটি বুখারীর 'তারীখুল কাবীর' গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ১১৪ ও ১১৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে, সেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
سفيان الثوري عن حبيب عن سعيد –عن ابن عباس قوله. وأما الثانية فلما في شهر من الكلام.

قوله تعالى:

{فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} الآية 109.

قال أبو الشيخ في كتاب الأخلاق: أخبرنا ابن أبي عاصم ثنا عمرو بن عثمان بن بشر بن سعيد1 عن أبيه عن الزهري عن عروة عن أسامة بن زيد أنه أخبره أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ركب على حمار فقال لسعد: "ألم تسمع ما قال أبو الحباب –يريد عبد الله بن أبي- قال كذا وكذا" فقال سعد بن عبادة اعف عنه واصفح فعفا عنه رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وكان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وأصحابه يعفون عن أهل الكتاب والمشركين فأنزل الله عز وجل {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} .

الحديث رجاله ثقات فابن أبي عاصم حافظ كبير ترجمته في تذكرة الحفاظ ج2 ص640 والباقون في تهذيب والتهذيب والحديث في الصحيح من طريق شعيب بن أبي حمزة بهذا السند لكن ليس في الصحيح سبب النزول هكذا في تفسير ابن أبي حاتم كما في تفسير ابن كثير ج1 ص135.

قوله تعالى:

{وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} الآية 115.

قال الإمام مسلم في صحيحه ج5 ص209 حدثنا عبيد الله بن عمر القواريري حدثنا يحيى بن سعيد عن عبد الملك بن أبي سليمان قال: حدثنا سعيد بن جبير عن ابن عمر قال: كان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يصلي وهو مقبل من

--------------------------------------------

1 كذا في الأصل وصوابه بشر بن شعيب هو ابن أبي حمزة راوي الحديث عن الزهري كما في البخاري ج9 ص299 وعمدة القاري 18-155.
সুফিয়ান সাওরি হাবিব থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের উক্তি বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে, শাহর (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে আপত্তির কারণে।

মহান আল্লাহর বাণী:

{অতএব তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।} আয়াত ১০৯।

আবুশ শাইখ তাঁর ‘কিতাবুল আখলাক’-এ বলেছেন: ইবনে আবি আসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর বিন উসমান বিন বিশর বিন সাঈদ১ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়া থেকে, তিনি উসামা বিন জায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহণ করেছিলেন এবং সাদ-কে বললেন: "তুমি কি শোনোনি আবু আল-হুবাব—অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন উবাই—কী বলেছে? সে এমন এমন কথা বলেছে।" তখন সাদ বিন উবাদা বললেন: "আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন।" ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাকে ক্ষমা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ আহলে কিতাব ও মুশরিকদের ক্ষমা করতেন। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন: {অতএব তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।}।

এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। কেননা ইবনে আবি আসিম একজন প্রখ্যাত হাফেজ, তাঁর জীবনী ‘তাজকিরাতুল হুফফাজ’-এর ২য় খণ্ডের ৬৪০ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। বাকি বর্ণনাকারীদের পরিচয় ‘তাহজিবুত তাহজিব’-এ রয়েছে। হাদিসটি ‘সহিহ’ গ্রন্থে শুআইব বিন আবি হামজার সূত্রে এই সনদে বর্ণিত হয়েছে, তবে ‘সহিহ’ গ্রন্থে শানে নুযূল এভাবে আসেনি। এটি ইবনে আবি হাতিমের তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে কাসিরের তাফসিরে (১ম খণ্ড, ১৩৫ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহর বাণী:

{আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর সত্তা বিদ্যমান।} আয়াত ১১৫।

ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ২০৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারিরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন আবি সুলাইমান থেকে, তিনি বলেন: সাঈদ বিন জুবাইর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে উমর থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন যখন তিনি ফিরছিলেন...

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই রয়েছে। তবে সঠিক হলো বিশর বিন শুআইব, যিনি জুহরি থেকে হাদিস বর্ণনাকারী ইবনে আবি হামজার পুত্র, যেমনটি বুখারি (৯ম খণ্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা) এবং উমদাতুল কারি-তে (১৮/১৫৫) বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২০)
مكة إلى المدينة على راحلته حيث كان وجهه وفيه نزلت {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} .

الحديث أخرجه الترمذي في التفسير ج4 ص68، والنسائي ج1 ص196، وأحمد في المسند ج2 ص20، وابن جرير ج1 ص503، وقال الترمذي حديث حسن صحيح.

قوله تعالى: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} الآية 125.

قال الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه ج2 ص51 حدثنا عمرو بن عون حدثنا هشيم عن حميد عن أنس قال عمر وافقت ربي في ثلاث قلت يا رسول الله لو اتخذنا من مقام إبراهيم مصلى فنزلت: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً} ، وآية الحجاب. قلت: يا رسول الله لو أمرت نساءك أن يحتجبن، فإنه يكلمهن البر والفاجر. فنزلت آية الحجاب، واجتمع نساء النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم في الغيرة عليه فقلت لهن: عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجا خيرا منكن. فنزلت هذه الآية. ثم ذكره الإمام البخاري في التفسير ج9 ص235 وفي متابعة يحيى بن سعد لهشيم وذكره في الموضعين تعليقا في التصريح بسماع حميد من أنس قال الحافظ في الفتح ج2 ص51: فأمن من تدليسه.

الحديث أخرجه الترمذي ج4 ص69 وقال هذا حديث حسن صحيح وفي الباب عن ابن عمر واقتصر على قوله {وَاتَّخِذُوا} الآية. وعزاه الحافظ ابن كثير في التفسير 1 ص169 إلى النسائي، وابن ماجه، وأخرجه ج1 ص24 وص36، والطبري ج1 ص534 بمثل ما عند الترمذي.

وقد أخرج مسلم في المناقب من حديث ابن عمر نحوه فذكر مقام إبراهيم وأسارى بدر والحجاب.
মক্কা থেকে মদীনার পথে তাঁর বাহনে থাকাবস্থায় যেদিকেই তাঁর মুখ ফিরত (সেদিকেই তিনি নফল সালাত আদায় করতেন), এবং এ বিষয়েই অবতীর্ণ হয়েছে: {অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সেখানেই আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) বিদ্যমান}।

হাদিসটি তিরমিজি তাফসির অধ্যায়ে ৪র্থ খণ্ড ৬৮ পৃষ্ঠায়, নাসাঈ ১ম খণ্ড ১৯৬ পৃষ্ঠায়, আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে ২য় খণ্ড ২০ পৃষ্ঠায় এবং ইবনে জারির ১ম খণ্ড ৫০৩ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহিহ হাদিস বলেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} আয়াত ১২৫।

ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৫১ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন: আমর ইবনুল আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুশাইম থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, আর তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) বলেছেন, ‘আমি তিনটি বিষয়ে আমার রবের (পক্ষ হতে অবতীর্ণ ওহীর) সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যদি মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতাম! এরপর অবতীর্ণ হলো: {আর তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর স্থানকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} এবং পর্দার বিধানের আয়াত। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি আপনার স্ত্রীদের পর্দার আদেশ দিতেন, কারণ তাঁদের সাথে সৎ ও অসৎ সব ধরনের মানুষই কথা বলে। এরপর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হলো। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ তাঁর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ বা ঈর্ষা থেকে একত্রিত হয়েছিলেন, তখন আমি তাঁদের বললাম: হতে পারে তাঁর রব যদি তোমাদের তালাক দিয়ে দেন তবে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এরপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।’ এরপর ইমাম বুখারি তাফসির অধ্যায়ে ৯ম খণ্ড ২৩৫ পৃষ্ঠায় ইয়াহইয়া ইবনে সাআদ কর্তৃক হুশাইমের অনুসরণে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি উভয় স্থানে হুমাইদের আনাস থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করতঃ এটি ঝুলে থাকা (তালিক) বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (২য় খণ্ড ৫১ পৃষ্ঠা) বলেছেন: ফলে এর মাধ্যমে তাঁর ‘তাদলিস’ (বর্ণনা গোপন করা) এর আশঙ্কা দূর হয়েছে।

হাদিসটি তিরমিজি ৪র্থ খণ্ড ৬৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান সহিহ হাদিস বলেছেন। এই পরিচ্ছেদে ইবনে উমর (রা.) থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি কেবল {আর তোমরা গ্রহণ করো...} এই আয়াতাংশের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন। হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থের ১ম খণ্ড ১৬৯ পৃষ্ঠায় একে নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আহমদ এটি ১ম খণ্ড ২৪ ও ৩৬ পৃষ্ঠায় এবং তবারি ১ম খণ্ড ৫৩৪ পৃষ্ঠায় তিরমিজির অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম ‘মানাকিব’ (মর্যাদা) অধ্যায়ে ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস হতে এর সদৃশ বর্ণনা করেছেন, যেখানে মাকামে ইবরাহিম, বদরের বন্দি এবং পর্দার বিধানের কথা উল্লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২১)
قوله تعالى:

{وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا} الآية 89.

قال ابن إسحاق وحدثني عاصم بن عمر بن قتادة عن رجال من قومه قالوا: إن مما دعانا إلى الإسلام مع رحمة الله تعالى وهداه لنا لما كنا نسمع من رجال يهود، وكنا أهل شرك أصحاب أوثان، وكانوا أهل كتاب عندهم علم ليس لنا، وكانت لا تزال بيننا وبينهم شرور فإذا نلنا منهم بعض ما يكرهون قالوا إنه قد تقارب زمان نبي يبعث الآن نقتلكم معه قتل عاد وإرم فكنا كثيرا ما نسمع ذلك منهم فلما بعث الله رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أجبناه حين دعانا إلى الله تعالى وعرفنا ما كانوا يتوعدوننا به فبادرناهم إليه فآمنا به وكفروا به ففينا وفيهم نزل الآيات من البقرة {وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ} ا. هـ من سيرة ابن هشام ج1 ص211، وهو حديث حسن، فإن ابن إسحاق إذا صرح بالتحديث فحديثه حسن كما ذكره الحافظ الذهبي في الميزان.

قوله تعالى:

{سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا} الآية 142.

قال ابن إسحاق: حدثني إسماعيل بن أبي خالد عن أبي إسحاق عن البراء قال كان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يصلي نحو بيت المقدس ويكثر النظر إلى السماء ينتظر أمر الله فأنزل الله {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} فقال رجال من المسلمين وددنا لو علمنا علم من مات قبل أن نصرف إلى القبلة فأنزل الله {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} وقال السفهاء من الناس ما ولاهم عن قبلتهم التي كانوا عليها فأنزل
মহান আল্লাহর বাণী:

“আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক কিতাব আসল যা তাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী, অথচ এর আগে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত...” আয়াত ৮৯।

ইবনে ইসহাক বলেন, আসেম বিন উমর বিন কাতাদা তাঁর কওমের একদল লোকের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেছেন: আল্লাহ তাআলার রহমত এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের হিদায়াত লাভের পাশাপাশি ইসলামের প্রতি আমাদের আকৃষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সেই সব কথা যা আমরা ইহুদিদের কাছ থেকে শুনতাম। আমরা ছিলাম শিরককারী মূর্তিপূজক, আর তারা ছিল আহলে কিতাব; তাদের কাছে এমন জ্ঞান ছিল যা আমাদের ছিল না। আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকত। যখনই আমরা তাদের উপর জয়ী হতাম বা এমন কিছু ঘটত যা তারা অপছন্দ করত, তারা বলত, “এখন একজন নবীর আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তিনি শীঘ্রই প্রেরিত হবেন; আমরা তাঁর সাথে মিলে তোমাদেরকে আদ ও ইরাম জাতির মতো হত্যা করব।” আমরা তাদের কাছ থেকে প্রায়ই এই কথা শুনতাম। অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করলেন, তিনি যখন আমাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন, আমরা তাতে সাড়া দিলাম এবং তারা আমাদের যে ভয় দেখাত, তা আমরা চিনতে পারলাম। ফলে আমরা তাদের আগেই তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম, আর তারা তাঁকে অস্বীকার করল। আমাদের ও তাদের ব্যাপারেই সূরা বাকারার এই আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে: “আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক কিতাব আসল যা তাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী, অথচ এর আগে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত; অতঃপর যখন তাদের কাছে সেই পরিচিত বিষয়টি আসল, তারা তা অস্বীকার করল। সুতরাং কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত।” সীরাতে ইবনে হিশাম (১ম খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা) থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত। এটি একটি হাসান হাদিস; কারণ ইবনে ইসহাক যখন সরাসরি বর্ণনার শব্দ ব্যবহার করেন, তখন তাঁর হাদিস হাসান পর্যায়ের হয়, যেমনটি হাফেজ যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী:

“অচিরেই নির্বোধ লোকেরা বলবে যে, কিসের প্রভাবে তারা তাদের পূর্ববর্তী কিবলা থেকে বিচ্যুত হলো?” আয়াত ১৪২।

ইবনে ইসহাক বলেন: ইসমাঈল বিন আবি খালিদ আবু ইসহাকের সূত্রে বারা (রা.) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় বারবার আসমানের দিকে তাকাতেন। তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: “আমি অবশ্যই আপনার মুখমণ্ডল বারবার আকাশের দিকে ঘুরতে দেখছি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরান।” তখন মুসলমানদের মধ্যে কিছু লোক বলল, আমরা যদি সেই সব লোকদের পরিণাম সম্পর্কে জানতে পারতাম যারা কিবলা পরিবর্তনের আগে ইন্তেকাল করেছেন! তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: “আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন।” আর মানুষের মধ্যে যারা নির্বোধ তারা বলল, কিসের প্রভাবে তারা তাদের সেই কিবলা থেকে বিচ্যুত হলো যেটির ওপর তারা ছিল? তখন আল্লাহ নাজিল করলেন—
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২২)
الله {سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ} إلى آخر الآية ا. هـ منقولا من لباب النقول في أسباب النزول للحافظ السيوطي ومن تفسير الحافظ ابن كثير.

قوله تعالى:

{وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} الآية 143.

قال الإمام البخاري رحمه الله في التفسير ج9 ص237 حدثنا أبو نعيم سمع زهيرا عن أبي إسحاق عن البراء رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم صلى إلى بيت المقدس ستة عشر شهرا أو سبعة عشر شهرا. وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت وأنه صلى أو صلاها صلاة العصر وصلى معه قوم فخرج رجل ممن كان صلى معه فمر على أهل المسجد وهم راكعون قال: أشهد بالله لقد صليت مع النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قبل مكة فداروا كما هم قبل البيت وكان الذي مات على القبلة قبل البيت رجال قتلوا فلم ندر ما نقول فيهم فأنزل الله {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .

الحديث أخرجه البخاري أيضا في كتاب الإيمان ج1 ص103 وقال الحافظ في الفتح ج1 ص104 والمصنف في التفسير من طريق الثوري عن أبي إسحاق سمعت البراء فأمن ما يخشى من تدليس أبي إسحاق. وأخرجه أبو داود الطيالسي ج1 ص85 وابن سعد قسم 2 من المجلد 1 ص5 وابن جرير من حديث البراء وابن عباس ج2 ص17.

ومن حديث ابن عباس أخرجه الترمذي ج4 ص70 وقال حسن صحيح وأبو داود ج4 ص354 والطيالسي ج2 ص12 والحاكم ج2 ص269 وقال صحيح الإسناد وأقره الذهبي.

قوله تعالى:

{قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ} الآية 144.
মহান আল্লাহ বলেন, {মানুষের মধ্যে যারা নির্বোধ তারা বলবে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এটি হাফিজ সুয়ুতী রচিত 'লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল' এবং হাফিজ ইবনে কাসীরের তাফসীর থেকে সংকলিত।

মহান আল্লাহর বাণী:

{আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন} আয়াত ১৪৩।

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাফসীর অধ্যায়ে (খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৩৭) বলেন: আবু নুআয়ম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহাইর থেকে শুনেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) ষোলো মাস বা সতেরো মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। আর তিনি পছন্দ করতেন যে তাঁর কিবলা যেন কা’বা ঘরের দিকে হয়। তিনি (একবার) আসরের সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সাথে একদল লোকও সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তাঁর সাথে সালাত আদায়কারীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে একদল মুসল্লির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা রুকুতে ছিলেন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মক্কার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি। তখন তারা যেভাবে ছিলেন সেভাবেই কা’বা ঘরের দিকে ঘুরে গেলেন। আর যারা কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বায়তুল মাকদিসের দিকে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন বা নিহত হয়েছিলেন, তাদের ব্যাপারে আমরা কী বলব তা বুঝতে পারছিলাম না। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু ও অতিশয় দয়াবান}।

এই হাদীসটি বুখারী তাঁর ‘কিতাবুল ঈমান’-এও (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৩) বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৪) এবং গ্রন্থকার তাফসীর অধ্যায়ে সাওরী-এর সূত্রে আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি", ফলে আবু ইসহাকের ‘তাদলিস’ (বর্ণনাসূত্র গোপন করার) যে আশঙ্কা ছিল তা নিরসন হয়েছে। হাদীসটি আরও বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তায়ালিসী (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৫), ইবনে সা’দ (১ম খণ্ডের ২য় অংশ, পৃষ্ঠা ৫), এবং ইবনে জারীর বারা ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণনা থেকে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭)।

আর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণনা থেকে এটি তিরমিযী (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৭০) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে ‘হাসান সহীহ’ বলেছেন। এছাড়াও আবু দাউদ (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৫৪), তায়ালিসী (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২) এবং হাকেম (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৯) এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম একে ‘সহীহুল ইসনাদ’ (সূত্রের দিক থেকে সহীহ) বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী:

{অবশ্যই আমি আপনার চেহারা আকাশের দিকে বারবার ফিরে তাকানো লক্ষ্য করছি} আয়াত ১৪৪।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه ج2 ص48 حدثنا عبد الله بن رجاء قال حدثنا إسرائيل عن أبي إسحاق عن البراء بن عازب قال كان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم صلى نحو بيت المقدس ستة عشر شهرا أو سبعة عشر شهرا وكان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يحب أن يوجه إلى الكعبة فأنزل الله عز وجل {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ} فتوجه نحو الكعبة وقال السفهاء من الناس وهم اليهود ما ولاهم عن قبلتهم التي كانوا عليها، {قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} فصلى مع النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم رجل ثم خرج بعدما صلى فمر على قوم من الأنصار في صلاة العصر نحو بيت المقدس فقال: هو يشهد أنه صلى مع رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وأنه توجه نحو الكعبة فتحرف القوم حتى توجهوا نحو الكعبة.

الحديث أخرجه الترمذي ج4 ص79 وقال حسن صحيح وابن ماجه رقم 1010 وفيه سبب نزول {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} والإمام أحمد ج4 ص274 والدارقطني ج1 ص274 وابن أبي حاتم كما في تفسير ابن كثير وابن سعد في الطبقات مجلد 4 قسم 2 وعندهما زيادة وقال السفهاء من الناس ما ولاهم عن قبلتهم التي كانوا عليها فأنزل الله {قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} .

وأخرجه مسلم ج5 ص11 من حديث أنس وكذا أخرجه ابن سعد قسم 2 من المجلد الأول ص4.

قوله تعالى:

{إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} الآية 158.

قال الإمام البخاري في صحيحه ج4 ص244 حدثنا أبو اليمان أخبرنا شعيب عن الزهري قال عروة سألت عائشة رضي الله عنها فقلت لها أرأيت قول الله تعالى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} فوالله ما على أحد جناح ألا يطوف بالصفا

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থের ২য় খণ্ড, ৪৮ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল আমাদের নিকট আবু ইসহাক এর সূত্রে বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ষোল বা সতের মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পছন্দ করতেন যে তাঁকে যেন কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখ বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখছি}। অতঃপর তিনি কাবার দিকে মুখ ফেরালেন। আর নির্বোধ লোকেরা—অর্থাৎ ইহুদিরা—বলল: কিসে তাদেরকে তাদের সেই কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিল যার ওপর তারা ছিল? {বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন}। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে বেরিয়ে গেলেন। তিনি আসরের সালাতরত একদল আনসার সাহাবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ) কাবার দিকে মুখ ফিরিয়েছেন। তখন সেই লোকগুলো (সালাত অবস্থাতেই) ঘুরে গেলেন এবং কাবার দিকে মুখ করলেন।

হাদীসটি তিরমিযী (৪র্থ খণ্ড, ৭৯ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন এবং একে ‘হাসান সহীহ’ বলেছেন। ইবনে মাজাহ (হাদীস নং ১০১০) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে {আল্লাহ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন না} আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ উল্লেখ রয়েছে। ইমাম আহমাদ (৪র্থ খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা), দারা কুতনী (১ম খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা), ইবনে আবি হাতিম (যেমনটি ইবনে কাসীরের তাফসীরে রয়েছে) এবং ইবনে সা’দ তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ২য় অংশে এটি বর্ণনা করেছেন। শেষোক্ত দুই বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে: আর নির্বোধ লোকেরা বলল, কিসে তাদেরকে তাদের সেই কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিল যার ওপর তারা ছিল? তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন}।

ইমাম মুসলিম এটি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন (৫ম খণ্ড, ১১ পৃষ্ঠা)। অনুরূপভাবে ইবনে সা’দ এটি প্রথম খণ্ডের ২য় অংশের ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী:

{নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত} আয়াত ১৫৮।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন: আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের নিকট যুহরী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ বর্ণনা করেছেন যে, আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে আপনার অভিমত কী—{নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি কাবা গৃহের হজ বা উমরা সম্পন্ন করে, তার জন্য এই উভয়ের মাঝে তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) করাতে কোনো দোষ নেই}। আল্লাহর কসম, তবে তো কারো জন্য সাফা ও মারওয়ায় তাওয়াফ না করাতে কোনো দোষ বা গুনাহ থাকার কথা নয়...

(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمروة. فقالت: بئس ما قلت يا ابن أختي إن هذه الآية لو كانت كما أولتها عليه كانت لا جناح عليه ألا يتطوف بهما، ولكنها أنزلت في الأنصار كانوا قبل أن يسلموا يهلون لمناة الطاغية التي كانوا يعبدونها بالمشلل فكان من أَهَلَّ يتحرج أن يطوف بالصفا والمروة فلما أسلموا سألوا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم عن ذلك قالوا: يا رسول الله إنا كنا نتحرج أن نطوف بالصفا والمروة فأنزل الله تعالى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} الآية. قالت عائشة رضي الله عنها وقد سن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم الطواف بينهما فليس لأحد أن يترك الطواف بينهما ثم أخبرت أبا بكر بن عبد الرحمن فقال: إن هذا العلم ما كنت سمعته ولقد سمعت رجالا من أهل العلم يذكرون أن الناس –إلا من ذكرت عائشة ممن كان يهل بمناة- كانوا يطوفون كلهم بالصفا والمروة فلما ذكر الله تعالى الطواف بالبيت ولم يذكر الصفا والمروة في القرآن قالوا يا رسول الله كنا نطوف بالصفا والمروة وإن الله أنزل الطواف بالبيت فلم يذكر الصفا والمروة فهل علينا من حرج أن نطوف بالصفا والمروة فأنزل الله تعالى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} الآية. قال أبو بكر فأسمع هذه الآية نزلت في الفريقين كليهما في الذين كانوا يتحرجون أن يطوفوا بالجاهلية بالصفا والمروة والذين يطوفون ثم تحرجوا أن يطوفوا بهما في الإسلام من أجل أن الله تعالى أمر بالطواف بالبيت ولم يذكر الصفا حتى ذكر ذلك بعد ما ذكر الطواف بالبيت.

الحديث أخرجه أيضا البخاري ج4 ص364 ولم يذكر فيه أبا بكر بن عبد الرحمن وما قاله وج10 ص236 مختصرا وأخرجه مسلم ج9 ص21 و22 و23و 24 وأخرجه الترمذي وفيه التصريح بأن قائل فأخبرت هو الزهري ج4 ص70 وقال هذا حديث حسن صحيح وأخرجه أبو داود ج2 ص121 وليس فيه ما قاله الزهري لأبي بكر بن عبد الرحمن، والنسائي ج5 ص190 بمثل ما عند أبي داود وابن ماجه رقم 2986 وأخرجه الإمام أحمد ج6
...সাফা ও মারওয়া। তখন তিনি বললেন: হে ভাগ্নে! তুমি যা বললে তা কতই না মন্দ! যদি এই আয়াতটি তোমার ব্যাখ্যা অনুযায়ী হতো, তবে এর অর্থ দাঁড়াত—এই দুই পাহাড়ে তাওয়াফ না করলে কোনো পাপ নেই। কিন্তু আয়াতটি আনসারদের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লালে অবস্থিত 'মানাত' নামক যে মূর্তির উপাসনা করত, তার উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করত। যারা তার জন্য তালবিয়া পাঠ করত, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করাকে পাপ মনে করত। অতঃপর যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল, তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতে সংকোচ বোধ করতাম। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করেন: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ করার বিধান প্রবর্তন করেছেন, সুতরাং কারো জন্য তা বর্জন করা বৈধ নয়। অতঃপর আমি বিষয়টি আবু বকর ইবনে আবদুর রহমানকে জানালাম। তখন তিনি বললেন: এই জ্ঞানটুকু ইতিপূর্বে আমার জানা ছিল না। আমি অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, আয়িশা (রা.) যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তারা ছাড়া অন্য সকল মানুষ জাহেলিয়াত যুগে সাফা ও মারওয়ায় তাওয়াফ করত। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলা কুরআনে কেবল বাইতুল্লাহর তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন এবং সাফা ও মারওয়ার উল্লেখ করলেন না, তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো সাফা ও মারওয়ায় তাওয়াফ করতাম, অথচ আল্লাহ বাইতুল্লাহর তাওয়াফের বিধান নাযিল করেছেন কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি; এমতাবস্থায় সাফা ও মারওয়ায় তাওয়াফ করলে কি আমাদের কোনো পাপ হবে? তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত।" আবু বকর বলেন: আমি শুনলাম যে, এই আয়াতটি উভয় দলের প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে—যারা জাহেলিয়াত যুগে সাফা ও মারওয়া তাওয়াফ করতে সংকোচ বোধ করত, এবং যারা আগে তাওয়াফ করত কিন্তু ইসলাম আসার পর এই কারণে তাওয়াফ করতে সংকোচ বোধ করল যে, আল্লাহ তাআলা বাইতুল্লাহর তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি, যতক্ষণ না বাইতুল্লাহর তাওয়াফের বর্ণনার পরে আল্লাহ বিষয়টি উল্লেখ করলেন।

হাদিসটি ইমাম বুখারিও বর্ণনা করেছেন (৪র্থ খণ্ড, ৩৬৪ পৃষ্ঠা), তবে সেখানে আবু বকর ইবনে আবদুর রহমানের বক্তব্যটি উল্লেখ নেই। এছাড়া ১০ম খণ্ড, ২৩৬ পৃষ্ঠায় সংক্ষেপে এটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ৯ম খণ্ড, ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ পৃষ্ঠায়। ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন ৪র্থ খণ্ড, ৭০ পৃষ্ঠায় এবং সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সংবাদ প্রদানকারী ব্যক্তি হলেন যুহরি; তিনি বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ। ইমাম আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন ২য় খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠায়, তবে সেখানে আবু বকর ইবনে আবদুর রহমানের প্রতি যুহরির বক্তব্যের অংশটি নেই। ইমাম নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন ৫ম খণ্ড, ১৯০ পৃষ্ঠায়, যা আবু দাউদের বর্ণনার অনুরূপ। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ২৯৮৬) এবং ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন ৬ষ্ঠ খণ্ডে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
ص144 وص162 وص227 والإمام مالك في الموطأ ج1 ص338 والحميدي ج1 ص107.

وأخرج البخاري في صحيحه ج9 ص242 ومسلم ج9 ص24 والترمذي وصححه ج4 ص71 عن أنس رضي الله عنه أنه سئل عن الصفا والمروة فقال كنا نرى أنهما من أمر الجاهلية فلما كان الإسلام أمسكنا عنهما فأنزل الله تعالى: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} ولا مانع من أن الآية نزلت في الجميع.

قوله تعالى:

{أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} إلى قوله: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} الآية 187.

قال الإمام البخاري رحمه الله ج5 ص31 حدثنا عبيد الله بن موسى عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن البراء رضي الله عنه قال كان أصحاب محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم إذا كان الرجل صائما فحضر الإفطار فنام قبل أن يفطر لم يأكل ليلته ولا يومه حتى يمسي وإن قيس بن صرمه الأنصاري كان صائما فلما حضر الإفطار أتى امرأته فقال لها أعندك طعام؟ قالت: لا ولكن أنطلق فأطلب لك. وكان يومه يعمل فغلبته عيناه فقالت: خيبة لك، فلما انتصف النهار غشى عليه فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فنزلت هذه الآية: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} ففرحوا بها فرحا شديدا، ونزلت {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} .

الحديث أعاده الإمام البخاري في كتاب التفسير مع تغيير في بعض السند وفي تصريح أبي إسحاق بالسماع ولفظ متنه لما نزل صوم رمضان كانوا لا يقربون النساء رمضان كله وكان رجال يخونون أنفسهم فأنزل الله تعالى: {عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ} الآية. وظاهرهما
পৃষ্ঠা ১৪৪, পৃষ্ঠা ১৬২ ও পৃষ্ঠা ২২৭ এবং ইমাম মালিক তাঁর আল-মুয়াত্তা গ্রন্থের ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৮-এ এবং আল-হুমাইদি ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৭-এ।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের ৯ খণ্ড, ২৪২ পৃষ্ঠায়, মুসলিম ৯ খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠায় এবং তিরমিযী (তিনি একে সহীহ বলেছেন) ৪ খণ্ড, ৭১ পৃষ্ঠায় আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, আমরা এগুলোকে জাহিলিয়াত যুগের কাজ বলে মনে করতাম। অতঃপর যখন ইসলাম আসলো, আমরা এগুলো থেকে বিরত থাকলাম। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" আর এই আয়াতটি সকলের উদ্দেশ্যেই অবতীর্ণ হতে কোনো বাধা নেই।

মহান আল্লাহর বাণী:

"রোযার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস হালাল করা হয়েছে" হতে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "এবং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে (ভোরের) সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়" - আয়াত ১৮৭।

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) ৫ খণ্ড, ৩১ পৃষ্ঠায় বলেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের কাছে ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের নিয়ম ছিল যে, যখন কোনো ব্যক্তি রোযা রাখতেন এবং ইফতারের সময় উপস্থিত হতো, কিন্তু ইফতার করার আগেই তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তিনি সেই রাতে এবং পরবর্তী দিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কিছু খেতেন না। কায়েস বিন সিরমাহ আল-আনসারী রোযাদার ছিলেন। ইফতারের সময় হলে তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে কি কোনো খাবার আছে? তিনি বললেন, না, তবে আমি গিয়ে তোমার জন্য খাবার খুঁজে আনছি। তিনি সারাদিন কাজ করেছিলেন বিধায় তাঁর চোখে ঘুম চলে এল। স্ত্রী ফিরে এসে বললেন, আফসোস তোমার জন্য! অতঃপর যখন দুপুর হলো, তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করা হলো। তখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: "রোযার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস হালাল করা হয়েছে।" এতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। আরও নাযিল হলো: "এবং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে (ভোরের) সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়।"

ইমাম বুখারী হাদীসটি তাফসীর অধ্যায়ে পুনরায় উল্লেখ করেছেন সানাদের কিছু পরিবর্তনসহ এবং সেখানে আবু ইসহাকের সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে আছে। সেই বর্ণনার ভাষ্য হলো: যখন রমজানের রোযা (এর বিধান) নাযিল হলো, তখন তারা পুরো রমজান মাস স্ত্রীদের নিকটবর্তী হতো না। কিন্তু কিছু লোক নিজেদের প্রতি খেয়ানত করছিলেন। তখন মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: "আল্লাহ জানেন যে তোমরা নিজেদের প্রতি খেয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করলেন" - আয়াতাংশ। আর উভয়টির বাহ্যিক রূপ...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
التغاير لكن لا مانع من أن تكون نزلت في هؤلاء وفي هؤلاء.

ورواه أبو دواد ج2 ص265 والنسائي ج4 ص121 وقد جمع حديثي البخاري فعلمنا أن القضيتين معا كانتا سبب النزول والإمام أحمد ج4 ص295 والدارمي ج2 ص5.

قوله تعالى:

{مِنَ الْفَجْرِ} الآية 187.

قال الإمام البخاري رحمه الله ج5 ص35 حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا ابن أبي حازم عن أبيه عن سهل بن سعد ح وحدثني سعيد بن أبي مريم حدثنا أبو غسان محمد بن مطرف قال حدثني أبو حازم عن سهل بن سعد قال أنزلت: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} ولم ينزل {مِنَ الْفَجْرِ} فكان رجال إذا أرادوا الصوم ربط أحدهم في رجله الخيط الأبيض والأسود ولم يزل يأكل حتى يتبين له رؤيتها فأنزل بعد: {مِنَ الْفَجْرِ} فعلموا أنه يعني الليل والنهار.

الحديث أعاده في التفسير من حديث ابن أبي مريم بالسند الأخير وهو من الأحاديث النادرة التي أعادها بدون تغيير وأخرجه مسلم ج7 ص220.

قوله تعالى:

{وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا} الآية 189.

قال الإمام البخاري ج4 ص370 حدثنا أبو الوليد حدثنا شعبة عن أبي إسحاق قال: سمعت البراء يقول نزلت هذه الآية فينا كانت الأنصار إذا حجوا فجاءوا لم يدخلوا من قبل أبواب بيوتهم ولكن من ظهورها فجاء رجل من الأنصار فدخل من قبل بابه فكأنه عير بذلك فنزلت {وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا} .
ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই আয়াতটি উভয় দলের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৫) এবং নাসাঈ (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১২১)। তিনি বুখারীর দুটি হাদিসকে একত্রিত করেছেন, ফলে আমরা জানতে পারলাম যে উভয় ঘটনাই সম্মিলিতভাবে নাজিল হওয়ার কারণ ছিল। ইমাম আহমাদ (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৫) এবং দারেমীও (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী:

“ফজর পর্যন্ত” (আয়াত ১৮৭)।

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫): সাঈদ ইবনে আবি মারিয়াম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আবি হাযেম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। (অন্য সনদে) সাঈদ ইবনে আবি মারিয়াম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে মুতাররিফ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আবু হাযেম আমার কাছে সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো— “তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে সাদা সুতা কালো সুতা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়”, তখনো “ফজর পর্যন্ত” অংশটি নাজিল হয়নি। ফলে কিছু লোক যখন রোজা রাখার ইচ্ছা করত, তখন তাদের কেউ কেউ নিজের পায়ে সাদা সুতা এবং কালো সুতা বেঁধে রাখত এবং ততক্ষণ পর্যন্ত পানাহার করত যতক্ষণ না সেই সুতা দুটি স্পষ্ট দেখা যেত। এরপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: “ফজর পর্যন্ত”; তখন তারা বুঝতে পারলেন যে, এখানে রাত ও দিন বোঝানো হয়েছে।

তিনি (ইমাম বুখারী) তাফসির অধ্যায়ে ইবনে আবি মারিয়ামের শেষোক্ত সনদে হাদিসটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন। এটি সেই বিরল হাদিসগুলোর অন্যতম যা তিনি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পুনরায় বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম মুসলিমও বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২২০)।

মহান আল্লাহর বাণী:

“তোমরা ঘরে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করো” (আয়াত ১৮৯)।

ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৭০): আবুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শু'বা আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বারা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, এই আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে নাজিল হয়েছিল। আনসাররা যখন হজ্জ পালন করে ফিরে আসতেন, তখন তারা ঘরের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন না, বরং পেছনের দিক দিয়ে প্রবেশ করতেন। একদা জনৈক আনসারী সাহাবী আসলেন এবং তার ঘরের দরজা দিয়েই প্রবেশ করলেন। বিষয়টি নিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করা হলে এই আয়াতটি নাজিল হয়: “আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্যবান তো সেই ব্যক্তি যে তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা ঘরে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।”
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
الحديث أعاده البخاري رحمه الله في كتاب التفسير فقال حدثنا عبيد الله بن موسى عن إسرائيل عن أبي إسحاق به ج9 ص249 وأخرجه مسلم ج18 ص161 وأخرجه الطيالسي ج2 ص12 وأخرجه الحاكم في المستدرك ج1 ص483 من حديث جابر وفيه كانت الأنصار والعرب –أي غير الحمس- وفيه بيان المبهم في حديث البراء أنه قطبة بن عامر وقال الحاكم صحيح على شرط الشيخين وأقره الذهبي وليس كما قالا فإن أبا الجواب وهو الأحوص بن جواب وعمار بن رزيق1 لم يخرج لهما البخاري شيئا كما في تهذيب التهذيب فهو على شرط مسلم فقط.

قوله تعالى:

{وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ} الآية 195.

وقال الإمام البخاري رحمه الله ج9 ص251 حدثنا إسحاق حدثنا النضر حدثنا شعبة عن سليمان قال سمعت أبا وائل عن حذيفة- {وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} قال نزلت في النفقة.

وأخرجه الترمذي ج4 ص73 وقال حديث حسن غريب صحيح من حديث أبي أيوب، ولفظه قال أسلم أبو عمران التجيبي قال: كنا بمدينة الروم، فأخرجوا إلينا صفا عظيما من الروم، فخرج إليهم من المسلمين مثلهم أو أكثر، وعلى أهل مصر عقبة بن عامر، وعلى الجماعة فضالة بن عبيد، فحمل رجل من المسلمين على صف الروم حتى دخل فيهم فصاح الناس وقالوا سبحان الله يلقي بنفسه إلى التهلكة فقام أبو أيوب الأنصاري فقال: يا أيها الناس إنكم لتؤولون هذه الآية هذا التأويل، وإنما نزلت هذه الآية فينا معشر الأنصار لما أعز الله الإسلام، وكثر ناصروه، فقال بعضنا لبعض سرا دون

--------------------------------------------

1 بتقديم الراء مصغرا كما في التقريب.
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসটি তাফসির অধ্যায়ে পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবন মুসা আমাদের নিকট ইসরাঈলের সূত্রে, তিনি আবু ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন (৯ম খণ্ড, ২৪৯ পৃষ্ঠা)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১৮তম খণ্ড, ১৬১ পৃষ্ঠা)। তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন (২য় খণ্ড, ১২ পৃষ্ঠা)। হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক'-এ জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (১ম খণ্ড, ৪৮৩ পৃষ্ঠা), যাতে আনসার ও আরবরা—অর্থাৎ হুমস গোত্র ব্যতীত—ছিল। এতে বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের অস্পষ্ট ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায় যে, তিনি ছিলেন কুতবাহ ইবন আমির। হাকিম বলেছেন: এটি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ, আর যাহাবিও তা সমর্থন করেছেন। তবে বিষয়টি তাদের বক্তব্যের মতো নয়, কারণ আবুল জওয়াব—যিনি আল-আহওয়াস ইবন জওয়াব—এবং আম্মার ইবন রুজাইক১; বুখারি তাদের থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি যেমনটি 'তাজিবুত তাজহিব'-এ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এটি কেবল মুসলিমের শর্তানুযায়ী।

মহান আল্লাহর বাণী:

{আর তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো} আয়াত ১৯৫।

ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৯ম খণ্ড, ২৫১ পৃষ্ঠা): ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ সুলাইমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ওয়াইলকে হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বলতে শুনেছি— {আর তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না}। তিনি বলেন: এটি ব্যয়ের (ইনফাক) বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (৪র্থ খণ্ড, ৭৩ পৃষ্ঠা) এবং আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে একে হাসান গরিব সহিহ বলেছেন। এর পাঠ হলো— আসলাম আবু ইমরান আত-তুজিবি বলেন: আমরা রোমীয়দের একটি শহরে ছিলাম। তারা আমাদের বিরুদ্ধে রোমীয়দের এক বিশাল সৈন্যবাহিনী বের করল। মুসলমানদের মধ্য থেকে তাদের সমসংখ্যক বা তার চেয়ে বেশি সৈন্য বের হলো। মিশরীয়দের নেতৃত্বে ছিলেন উকবা ইবন আমির এবং পুরো দলের নেতৃত্বে ছিলেন ফাদালা ইবন উবায়েদ। তখন মুসলমানদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রোমীয় বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের ভেতরে ঢুকে পড়লেন। তখন লোকজন চিৎকার করে বলে উঠল: সুবহানাল্লাহ! সে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তখন আবু আইয়ুব আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে বললেন: হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতের এরূপ ব্যাখ্যা করছ, অথচ এই আয়াতটি আমাদের আনসারদের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী করলেন এবং এর সাহায্যকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন আমরা একে অপরকে গোপনে বললাম...

--------------------------------------------

১. 'রা' বর্ণটি আগে হবে এবং শব্দরূপটি ক্ষুদ্রতাবাচক হিসেবে হবে, যেমনটি 'আত-তাকরিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم إن أمولنا قد ضاعت، وإن الله قد أعز الإسلام وكثر ناصروه فلو أقمنا في أموالنا فأصلحنا ما ضاع منها فأنزل الله على نبيه صلى الله عليه وعلى آله وسلم يرد علينا ما قلناه {وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} فكانت التهلكة الإقامة على الأموال وإصلاحها وتركنا الغزو فما زال أبو أيوب شاخصا في سبيل الله حتى دفن بأرض الروم.

وأخرجه أبو دواد بمثل حديث الترمذي إلا أنه قال وعلى الجماعة عبد الرحمن بن خالد بن الوليد، وأخرج حديث الترمذي ابن حبان ص401 من موارد الظمآن، وأخرجه الطيالسي ج2 ص13 وأخرجه الحاكم ج2 ص275 وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه وأقره الذهبي لكن أسلم أبو عمران لم يخرجا له شيئا فهو ليس على شرطهما وهو ثقة كما في تهذيب التهذيب.

وفي مجمع الزوائد ج6 ص317 وعن أبي جبيرة بن الضحاك قال كانت الأنصار يتصدقون ويعطون ما شاء الله فأصابتهم مصيبة فأمسكوا فأنزل الله عز وجل {وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} رواه الطبراني في الكبير والأوسط ورجالهما رجال الصحيح وزاد في الأوسط {وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} .

وعن النعمان بن بشير في قوله: {وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} قال: كان الرجل يذنب فيقول لا يغفر الله لي فأنزل الله تعالى: {وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} . رواه الطبراني في الكبير والأوسط ورجالهما رجال الصحيح ا. هـ.

وفي الفتح ج9 ص251 من حديث البراء نحوه قال الحافظ: وسنده صحيح ثم قال والأول أظهر لتصدير الآية بذكر النفقة فهو المعتمد في نزولها ا. هـ.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমরা আরজ করলাম যে, আমাদের সম্পদসমূহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করেছেন এবং এর সাহায্যকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। অতএব আমরা যদি আমাদের সম্পদের দেখাশোনা করতে এবং যা নষ্ট হয়েছে তা সংস্কার করতে ফিরে যেতাম (তবে ভালো হতো)। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর আমাদের কথার প্রত্যুত্তরে অবতীর্ণ করলেন: "তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।" সুতরাং এখানে 'ধ্বংস' বলতে সম্পদে নিমগ্ন হওয়া, তার সংস্কারে লিপ্ত থাকা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ বর্জন করাকে বোঝানো হয়েছে। আবু আইয়ুব (রা.) আমৃত্যু আল্লাহর পথে লড়াই চালিয়ে যান, এমনকি তিনি রোম ভূমিতে সমাহিত হন।

আবু দাউদ এটি তিরমিযীর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে সেনাদলের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ। ইবনে হিব্বান তাঁর 'মাওয়ারিদুজ জামআন' এর ৪০১ পৃষ্ঠায় তিরমিযীর হাদিসটি সংকলন করেছেন। তায়ালিসি ২য় খণ্ড ১৩ পৃষ্ঠায় এবং হাকিম ২য় খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন: এটি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুসারে সহিহ হলেও তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী এর সাথে একমত পোষণ করেছেন, তবে আসলাম আবু ইমরান সম্পর্কে শায়খাইন কোনো বর্ণনা করেননি, তাই এটি তাঁদের শর্তানুসারে পূর্ণ হয় না; তবে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী, যেমনটি 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

'মাজমাউয যাওয়াইদ' এর ৬ষ্ঠ খণ্ড ৩১৭ পৃষ্ঠায় আবু জুবায়রা ইবনে যাহহাক থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আনসারগণ আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী অকাতরে দান-সদকা করতেন। অতঃপর তাদের ওপর বিপদ বা অভাব আসলে তারা হাত গুটিয়ে নেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: "তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।" তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' এবং 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী। 'আল-আওসাত'-এ অতিরিক্ত এসেছে: "এবং তোমরা সদাচরণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাচারীদের ভালোবাসেন।"

নুমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী: "তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না" এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি পাপ করত এবং বলত যে আল্লাহ আমাকে আর ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: "তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না এবং তোমরা ইহসান করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন।" তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' এবং 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

'ফাতহুল বারী' এর ৯ম খণ্ড ২৫১ পৃষ্ঠায় বারা (রা.) থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এর সনদ সহিহ। এরপর তিনি বলেন, প্রথম প্রেক্ষাপটটিই অধিকতর সঠিক, কারণ আয়াতের শুরুতে ব্যয়ের উল্লেখ রয়েছে; সুতরাং আয়াতের শানে নুযুলের ক্ষেত্রে এটিই নির্ভরযোগ্য। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأقول: لا داعي لإلغاء الروايتين أعني رواية النعمان والبراء مع صحتهما فالآية تشمل من ترك الجهاد وبخل وتشمل من أذنب وظن أن الله لا يغفر له ولا مانع من أن تكون الآية نزلت في الجميع. والله أعلم.

قوله تعالى:

{وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} الآية 196. قال الطبراني كما في مجمع البحرين من زوائد المعجمين مخطوط ج2 ص141:

حدثنا أحمد1 حدثنا محمد بن سابق ثنا إبراهيم بن طهمان عن أبي الزبير عن عطاء بن أبي رباح عن صفوان بن يعلى بن أمية عن أبيه قال: جاء إلى رسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم وقال: كيف تأمرني في عمرتي، فأنزل الله عز وجل {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: "من السائل عن العمرة" فقال: أنا. فقال: "ألق ثيابك واغتسل واستنشق ما استطعت وما كنت صانعا في حجتك فاصنع في عمرتك".

لم يروه عن أبي الزبير إلا إبراهيم ولم يدخل أبو الزبير بين عطاء وصفوان أحدا. ورواه مجاهد عن عطاء عن صفوان عن أبيه قلت هذا في الصحيح سوى قوله {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} ا. هـ.

وقال: في مجمع الزوائد ج3 ص205 وعن يعلى بن أمية قال جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم متضمخ بالخلوق عليه مقطعات قد أحرم بعمرة وذكر الحديث ثم قال: رواه الطبراني في الأوسط ورجاله رجال الصحيح ا. هـ. وذكره الحافظ في الفتح وسكت عليه.

وأما استغراب ابن كثير رحمه الله له في تفسيره فلا وجه له لأن قوله عند الطبراني فنزل عليه {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} مبين لحديث الصحيحين

--------------------------------------------

1 في الأصل بياض بين حدثنا أحمد وحدثنا محمد.
আমি বলি: নুমান ও বারা-এর বর্ণিত দুটি বর্ণনা সহীহ হওয়া সত্ত্বেও এগুলোকে নাকচ করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ আয়াতটি ওই ব্যক্তিকে যেমন অন্তর্ভুক্ত করে যে জিহাদ বর্জন করেছে ও কার্পণ্য করেছে, তেমনি ওই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে পাপ করেছে এবং ধারণা করেছে যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। আর আয়াতটি এই সকলের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হওয়াতে কোনো বাধা নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

আল্লাহ তাআলার বাণী:

{আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ করো} আয়াত ১৯৬। তাবারানী 'মাজমাউল বাহরাইন মিন যাওয়াইদিল মুজামাইন' (পাণ্ডুলিপি, ২য় খণ্ড, ১৪১ পৃষ্ঠা)-এ বলেছেন:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ১, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন সাবিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন তাহমান, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন ইয়ালা বিন উমাইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (পিতা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে আরজ করলেন: আপনি আমাকে আমার উমরার ব্যাপারে কী আদেশ দেন? তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন {আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ করো}। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কোথায়?" তিনি বললেন: আমি। তখন তিনি বললেন: "তোমার (অতিরিক্ত) পোশাক খুলে ফেলো, গোসল করো এবং যথাসম্ভব নাকে পানি দাও; আর তোমার হজের ক্ষেত্রে তুমি যা করতে, তোমার উমরার ক্ষেত্রেও তাই করো।"

ইব্রাহিম ব্যতীত অন্য কেউ আবু যুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেননি এবং আবু যুবায়ের আতা ও সাফওয়ানের মাঝে কাউকে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেননি। মুজাহিদ এটি আতা থেকে, তিনি সাফওয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি বলি: {আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ করো} - এই অংশটুকু ব্যতীত হাদিসটির বাকি অংশ সহীহ গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে। (সমাপ্ত)

এবং তিনি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৩য় খণ্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা)-এ বলেছেন: ইয়ালা বিন উমাইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট এমন অবস্থায় এলেন যে, তিনি সুগন্ধি মাখা ছিলেন এবং তাঁর গায়ে সেলাই করা কাপড় ছিল, অথচ তিনি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন। বর্ণনাকারী এরপর হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন: তাবারানী এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। (সমাপ্ত)। হাফেজ (ইবনে হাজার) এটি 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর নীরব থেকেছেন।

আর ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে এই বর্ণনার ব্যাপারে যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই; কারণ তাবারানীর বর্ণনায় "অতঃপর তাঁর ওপর 'আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ করো' আয়াতটি অবতীর্ণ হলো" - এই উক্তিটি মূলত সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর হাদিসেরই ব্যাখ্যা স্বরূপ।

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ' এবং 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ'-এর মাঝে শূন্যস্থান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৩০)
الذي فيه، فنزل عليه الوحي وأما كونه عند ابن أبي حاتم عن صفوان بن أمية فالظاهر أنها سقطت منه عن أبيه ويكون الحديث عن صفوان بن يعلى بن أمية عن أبيه كما في الصحيحين والأوسط والطبراني وغيرهما من كتب الحديث.

قوله تعالى:

{مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} الآية 196 قال الإمام البخاري في صحيحه ج4 ص387 حدثنا أبو نعيم حدثنا سيف قال: حدثني مجاهد قال: سمعت عبد الرحمن بن أبي ليلى أن كعب بن عجرة حدثه قال: وقفت على رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم بالحديبية ورأسي يتهافت قملا فقال:

"يؤذيك هوامك" قلت نعم قال: "فاحلق رأسك أو احلق" قال: فيَّ نزلت هذه الآية {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ} إلى آخرها، فقال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: "صم ثلاثة أيام أو تصدق بفرق بين ستة أو انسك مما تيسر".

الحديث أخرجه أيضا الإمام البخاري في كتاب التفسير ج9 ص252 وفي المغازي ج8 ص451 وص463 ومسلم ج8 ص119 و120 والترمذي ج4 ص73.

وقال حديث حسن صحيح وأبو داود ج2 ص111 وابن ماجه رقم 3079 والإمام أحمد ج4 ص231 و242 و243 والطيالسي ج2 ص13 والدارقطني ج2 ص298 وابن جرير ج2 من طرق إلى كعب بن عجرة.

قوله تعالى:

{وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى} الآية 197.
যা তার মধ্যে রয়েছে, অতঃপর তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হলো। আর ইবনে আবি হাতিমের বর্ণনায় সাফওয়ান ইবনে উমাইয়্যাহ থেকে হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে প্রতীয়মান হয় যে, সেখানে 'তাঁর পিতা থেকে' অংশটি বাদ পড়েছে এবং হাদিসটি মূলত সাফওয়ান ইবনে ইয়ালা ইবনে উমাইয়্যাহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি সহিহাইন, আল-আওসাত, তাবারানি এবং হাদিসের অন্যান্য কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

মহান আল্লাহর বাণী:

{তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা যার মাথায় কষ্টদায়ক কোনো ব্যাধি রয়েছে, তবে রোজা অথবা সদকা কিংবা কোরবানির মাধ্যমে ফিদইয়া দিতে হবে} আয়াত ১৯৬। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ড ৩৮৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাইফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে শুনেছি যে, কাব ইবনে উজরা তাঁকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হুদায়বিয়ায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম, তখন আমার মাথা থেকে উকুন ঝরছিল। তিনি বললেন:

"তোমার মাথার কীটপতঙ্গ (উকুন) কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে?" আমি বললাম "হ্যাঁ", তিনি বললেন: "তবে তোমার মাথা মুণ্ডন করো অথবা কামিয়ে ফেলো।" কাব বলেন: আমার ব্যাপারেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা যার মাথায় কষ্টদায়ক কোনো ব্যাধি রয়েছে} শেষ পর্যন্ত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তিন দিন রোজা রাখো অথবা ছয়জন মিসকিনের মাঝে এক ফারাক সদকা করো অথবা যা সহজসাধ্য হয় এমন একটি পশু কোরবানি করো।"

হাদিসটি ইমাম বুখারি তাফসির অধ্যায়ে (৯ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা) এবং মাগাজি অধ্যায়েও (৮ম খণ্ড, ৪৫১ ও ৪৬৩ পৃষ্ঠা) এবং মুসলিম (৮ম খণ্ড, ১১৯ ও ১২০ পৃষ্ঠা) ও তিরমিযি (৪র্থ খণ্ড, ৭৩ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন।

তিনি (তিরমিযি) বলেন হাদিসটি হাসান সহিহ। এছাড়াও আবু দাউদ (২য় খণ্ড, ১১১ পৃষ্ঠা), ইবনে মাজাহ (হাদিস নম্বর ৩০৭৯), ইমাম আহমদ (৪র্থ খণ্ড, ২৩১, ২৪২ ও ২৪৩ পৃষ্ঠা), তায়ালিসি (২য় খণ্ড, ১৩ পৃষ্ঠা), দারা কুতনি (২য় খণ্ড, ২৯৮ পৃষ্ঠা) এবং ইবনে জারির (২য় খণ্ড) বিভিন্ন সূত্রে কাব ইবনে উজরা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

মহান আল্লাহর বাণী:

{এবং তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া} আয়াত ১৯৭।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الإمام البخاري رحمه الله ج4 ص127 حدثنا يحيى بن بشر حدثنا شبابة عن ورقاء عن عمرو بن دينار عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان أهل اليمن يحجون ولا يتزودون ويقولون نحن المتوكلون فإذا قدموا المدينة سألوا الناس فأنزل الله تعالى {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى} ورواه ابن عيينة عن عمرو عن عكرمة مرسلا.

الحديث أخرجه أبو دواد ج2 ص75 وعزاه ابن كثير والشوكاني إلى عبد بن حميد والنسائي وأخرجه ابن جرير في تفسيره ج2 ص279.

قوله تعالى:

{لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ} الآية 198.

قال الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه ج5 ص224 حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كانت عكاظ ومجنة وذو المجاز أسواقا في الجاهلية فلما كان الإسلام تأثموا من التجارة فأنزل الله تعالى: "لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ" قرأ ابن عباس هكذا.

الحديث أخرجه أيضا في كتاب التفسير ج9 ص252 عن شيخه محمد عن ابن عيينة وأخرجه أبو داود ج2 ص75 والحاكم ج1 ص449 وج2 ص277 وقال صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه1 وأقره الذهبي وأخرجه ابن جرير ج2 ص273.

وأخرج أبو داود ج2 ص75 والإمام أحمد ج2 ص155 والدارقطني ج2 ص292 وابن جرير ج2 ص282 من حديث ابن عمر نحوه وسنده صحيح.

--------------------------------------------

1 قول الحاكم "ولم يخرجاه" وهمٌ، فقد أخرجه البخاري كما رأيت.
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন (৪র্থ খণ্ড, ১২৭ পৃষ্ঠা): ইয়াহইয়া ইবনে বিশর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি শাবাবাহ থেকে, তিনি ওয়ারকা থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইয়েমেনের অধিবাসীরা হজ করতে আসত কিন্তু তারা কোনো পাথেয় বা রসদ সাথে নিয়ে আসত না এবং বলত যে, "আমরা আল্লাহর ওপর ভরসাকারী"। অতঃপর যখন তারা মদিনায় পৌঁছাত তখন মানুষের কাছে সাহায্য চাইত। ফলে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করলেন: {তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া}। এটি ইবনে উয়াইনাহ আমর থেকে এবং তিনি ইকরিমাহ থেকে মুরসাল হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

হাদীসটি আবু দাউদ (২য় খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে কাসীর ও শাওকানী একে আবদ ইবনে হুমাইদ ও নাসায়ীর সংকলনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এছাড়া ইবনে জারীর তাঁর তাফসীর গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ২৭৯ পৃষ্ঠা) এটি উদ্ধৃত করেছেন।

আল্লাহ তাআলার বাণী:

{তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই যদি তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করো} আয়াত ১৯৮।

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা) বলেন: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উকায, মাজান্নাহ ও যুল-মাজায জাহেলী যুগে প্রচলিত বাজার ছিল। যখন ইসলাম এল, তখন তারা (হজের সময়) ব্যবসা করাকে পাপ মনে করতে লাগল। ফলে আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: "হজের মৌসুমে (ব্যবসা করায়) তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই"। ইবনে আব্বাস এভাবেই পাঠ করতেন।

হাদীসটি তিনি (বুখারী) পুনরায় কিতাবুত তাফসীরে (৯ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা) তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ থেকে এবং তিনি ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া এটি আবু দাউদ (২য় খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা) এবং হাকেম (১ম খণ্ড, ৪৪৯ পৃষ্ঠা ও ২য় খণ্ড, ২৭৭ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি১; যাহাবী তাঁর এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন। ইবনে জারীরও (২য় খণ্ড, ২৭৩ পৃষ্ঠা) এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ (২য় খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা), ইমাম আহমাদ (২য় খণ্ড, ১৫৫ পৃষ্ঠা), দারা কুতনী (২য় খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা) এবং ইবনে জারীর (২য় খণ্ড, ২৮২ পৃষ্ঠা) ইবনে উমর থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ।

--------------------------------------------

১. হাকেমের উক্তি "তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি" একটি ভ্রান্তি; কারণ ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি আপনি ইতঃপূর্বে দেখেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
قوله تعالى:

{ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} الآية 199.

قال الإمام البخاري رحمه الله ج3 ص515 طبعة سلفية مع الفتح: حدثنا فروة بن أبي المغراء حدثنا علي بن مسهر عن هشام بن عروة قال عروة كان الناس يطوفون في الجاهلية عراة إلا الحمس –والحمس قريش وما ولدت- وكانت الحمس يحتسبون على الناس يعطي الرجل الرجل الثياب يطوف فيها وتعطي المرأة المرأة الثياب تطوف فيها فمن لم يعطه الحمس طاف بالبيت عريانا وكان يفيض جماعة الناس من عرفات ويفيض الحمس من جمع. قال وأخبرني أبي عن عائشة رضي الله عنها أن هذه الأية نزلت في الحمس {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} قال كانوا يفيضون من جمع فدفعوا إلى عرفات.

وقال البخاري رحمه الله ج8 ص186 حدثنا علي بن عبد الله حدثنا محمد بن حازم حدثنا هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها كانت قريش ومن يدينون دينها يقفون بالمزدلفة وكانوا يسمون الحمس وكان سائر العرب يقفون بعرفات فلما جاء الإسلام أمر الله نبيه صلى الله عليه وعلى آله وسلم أن يأتي عرفات ثم يقف بها ثم يفيض منها فذلك قوله تعالى {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} .

الحديث أخرجه مسلم ج8 ص197 وأبو داود ج2 ص132 والترمذي ج3 ص625 والنسائي ج5 ص255 والطيالسي ج2 ص13 وابن حبان كما في موارد الظمآن ص425 وابن جرير ج2 ص291اوأخرج ابن جرير ج2 ص292 من حديث ابن عباس نحوه ولكنه من حديث ابن عباس ضعيف لأنه من طريق حسين بن عبد الله بن عبيد الله بن العباس بن عبد المطلب وهو ضعيف وقد نسب هنا إلى جده والمعتمد على حديث عائشة السابق والله أعلم.
মহান আল্লাহর বাণী:

"অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন করো সেখান থেকে যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে।" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৯)।

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংকলনের ৩য় খণ্ড, ৫১৫ পৃষ্ঠায় (ফাতহুল বারীসহ সালাফিয়্যাহ সংস্করণ) উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ফারওয়াহ বিন আবি আল-মাগরা, তিনি আলী বিন মুশহির থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, উরওয়াহ বর্ণনা করেন যে, জাহেলী যুগে হুমস গোষ্ঠী ব্যতীত অন্য সকল মানুষ উলঙ্গ অবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করত। আর ‘হুমস’ হলো কুরাইশ এবং তাদের বংশোদ্ভূতরা। হুমসরা লোকদের প্রতি ইহসান করত; কোনো পুরুষ অন্য কোনো পুরুষকে কাপড় দান করত যাতে সে তা পরিধান করে তাওয়াফ করতে পারে, আবার কোনো নারী অন্য কোনো নারীকে কাপড় দিত যাতে সে তা পরিধান করে তাওয়াফ করতে পারে। আর হুমস যাদের কাপড় দিত না, তারা উলঙ্গ অবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করত। সাধারণ মানুষ আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করত, কিন্তু হুমসরা মুযদালিফা (জাম‘) থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তিনি (উরওয়াহ) বলেন, আমার পিতা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এই আয়াতটি হুমসদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে: "অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন করো সেখান থেকে যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে।" তিনি বলেন, তারা মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত, অতঃপর তাদের আরাফাতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) ৮ম খণ্ড, ১৮৬ পৃষ্ঠায় পুনরায় উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল্লাহ, তিনি মুহাম্মদ বিন হাযিম থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, কুরাইশ এবং যারা তাদের ধর্ম অনুসরণ করত তারা মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং তাদের ‘হুমস’ বলা হতো। অপরদিকে অন্যান্য আরবরা আরাফাতে অবস্থান করত। যখন ইসলামের আগমন ঘটল, তখন মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি আরাফাতে যান এবং সেখানে অবস্থান করেন, অতঃপর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীর উদ্দেশ্য: "অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন করো সেখান থেকে যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে।"

হাদীসটি ইমাম মুসলিম (৮ম খণ্ড, ১৯৭ পৃষ্ঠা), আবু দাউদ (২য় খণ্ড, ১৩২ পৃষ্ঠা), তিরমিযী (৩য় খণ্ড, ৬২৫ পৃষ্ঠা), নাসাঈ (৫ম খণ্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠা), তায়ালিসি (২য় খণ্ড, ১৩ পৃষ্ঠা), ইবনে হিব্বান (মাওয়ারিদুজ জামআন, ৪২৫ পৃষ্ঠা অনুসারে) এবং ইবনে জারীর (২য় খণ্ড, ২৯১ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর (২য় খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে আব্বাসের বর্ণনাটি দুর্বল; কারণ এর সূত্রে হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। এখানে তাকে তাঁর দাদার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সুতরাং পূর্বোক্ত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণিত হাদীসটিই নির্ভরযোগ্য। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قوله تعالى:

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ} الآية 207.

قال الإمام أبو عبد الله الحاكم في مستدركه ج3 ص398 حدثنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الزاهد حدثنا إسماعيل بن إسحاق القاضي ثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن أيوب عن عكرمة قال: لما خرج صهيب مهاجرا تبعه أهل مكة، فنثل كنانته، فأخرج منها أربعين سهما فقال: لا تصلون إليَّ حتى أضع في كل رجل منكم سهما ثم أصير بعده إلى السيف فتعلمون أني رجل وقد خلفت بمكة قينتين فهما لكم قال: وحدثنا حماد بن سلمة بن ثابت عن أنس نحوه ونزلت على النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ} الآية فلما رآه النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: "أبا يحيى ربح البيع" قال وتلا عليه الآية.

صحيح على شرط مسلم ولم يخرجه.

الحديث له طرق أخر أغلبها مراسيل كما في الإصابة ج2 ص188 وفي الطبقات لابن سعد ج3 ص163 و163 من القسم الأول وهي بمجموعها تزيد الحديث قوة وتدل على ثبوته.

قوله تعالى:

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ} الآية 219: يأتي حديثها في المائدة.

ثم وجدته من طريق أبي ميسرة عمرو بن شرحبيل عن عمر وقد قال أبو رزعة إنه لم يسمع من عمر فتركته.

قوله تعالى:

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ}
মহান আল্লাহর বাণী:

“আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ (বিক্রি) করে।” (আয়াত ২০৭)।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থের ৩য় খণ্ড, ৩৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-যাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন ইসহাক আল-ক্বাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবন যায়দ আমাদের নিকট আইয়ুব থেকে এবং তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ইকরিমাহ) বলেছেন: যখন সুহাইব হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন মক্কাবাসীরা তাঁর পিছু নিল। তিনি তাঁর তূণীর ঝেড়ে তা থেকে চল্লিশটি তীর বের করলেন এবং বললেন: ‘তোমরা আমার নাগাল পাবে না যতক্ষণ না আমি তোমাদের প্রত্যেকের শরীরে একটি করে তীর বিদ্ধ করি। এরপর আমি তলোয়ার নিয়ে লড়াই করব, তখন তোমরা জানতে পারবে যে আমি কেমন যোদ্ধা। আর মক্কায় আমি দুজন দাসী রেখে এসেছি, তারা তোমাদের জন্য।’ বর্ণনাকারী বলেন: হাম্মাদ ইবন সালামাহ, সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এই আয়াত নাযিল হলো: “আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করে।” যখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখলেন, তখন বললেন: “হে আবু ইয়াহইয়া! তোমার সওদা (ব্যবসা) লাভজনক হয়েছে।” এবং তিনি তাঁর সামনে আয়াতটি পাঠ করলেন।

এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, তবে তিনি এটি বর্ণনা করেননি।

হাদিসটির আরও অন্যান্য সূত্র রয়েছে যার অধিকাংশ ‘মুরসাল’ (সূত্রবিচ্ছিন্ন), যেমনটি ‘আল-ইসাবাহ’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৮) এবং ইবন সা’দের ‘আত-তাবাকাত’ (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৩ এবং প্রথম ভাগের ১৬৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এই সূত্রসমূহ সমষ্টিগতভাবে হাদিসটিকে শক্তিশালী করে এবং এর প্রামাণিকতার সাক্ষ্য দেয়।

মহান আল্লাহর বাণী:

“তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।” (আয়াত ২১৯): এর সংশ্লিষ্ট হাদিস সূরা আল-মা’ইদাহ-এর আলোচনায় আসবে।

অতঃপর আমি এটি আবু মাইসারাহ আমর ইবন শারহাবিলের সূত্রে ওমর থেকে বর্ণিত পেয়েছি, তবে আবু যুরআহ বলেছেন যে, তিনি ওমর থেকে সরাসরি কোনো বর্ণনা শুনেননি, তাই আমি এটি বর্জন করেছি।

মহান আল্লাহর বাণী:

“তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন: তা অশুচি; সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীগণ থেকে পৃথক থাক।”
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিন আসবাবিন নুযুল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الآية 222.

قال الإمام مسلم رحمه الله: وحدثني زهير بن حرب حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا حماد بن سلمة حدثنا ثابت عن أنس أن اليهود كانوا إذا حاضت المرأة فيهم لم يواكلوها ولم يجامعوهن في البيوت فسأل أصحاب النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فأنزل الله تعالى:

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ} فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: "اصنعوا كل شيء إلا النكاح" فبلغ ذلك اليهود فقالوا: ما يريد هذا الرجل أن يدع من أمرنا شيئا إلا خالفنا فيه فجاء أسيد بن حضير وعباد بن بشر فقالا يا رسول الله إن اليهود تقول كذا وكذا فلا نجامعهن فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم حتى ظننا أن قد وجد عليهما فخرجا فاستقبلهما هدية من لبن إلى النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فأرسل في آثارهما فعرفا أن لم يجد عليهما.

أخرجه الترمذي ج4 ص74 وقال هذا حديث حسن صحيح وأبو داود ج1 ص107 والنسائي ج1 ص125 وص135 وابن ماجه رقم 644 وأحمد ج3 ص246 والطيالسي ج2 ص14.

{نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} الآية 223.

قال الإمام البخاري رحمه الله ج9 ص257 حدثنا أبو نعيم حدثنا سفيان عن ابن المنكدر سمعت جابر بن عبد الله قال: كانت اليهود تقول إذا جامعها من ورائها جاء الولد أحول فنزلت {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} .

الحديث أخرجه مسلم ج10 ص6 و7 وفيه زيادة إن شاء مجبية1 وإن

--------------------------------------------

1 هذه الزيادة ضعيفة لأن الراوي لها النعمان بن راشد وهو ضعيف وقال الحافظ في الفتح وهذه الزيادة يشبه أن تكون من تفسير الزهري لخلوها من رواية غيره من أصحاب ابن المنكدر مع كثرتهم ا. هـ وأقول معناها مستفاد من أدلة أخرى كما في الفتح.
আয়াত ২২২।

ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যুহাইর ইবনে হারব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদিদের নিয়ম ছিল যখন তাদের কোনো মহিলার ঋতুস্রাব হতো, তখন তারা তার সাথে একত্রে আহার করত না এবং ঘরের মধ্যে তাদের সাথে একত্রে অবস্থান করত না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। ফলে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন:

{তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা একটি কষ্টদায়ক বস্তু। সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো।} তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সহবাস ব্যতীত তোমরা অন্য সব কিছুই করতে পারো।" এ কথা ইহুদিদের কাছে পৌঁছালে তারা বলল: "এই ব্যক্তি আমাদের কোনো বিষয়ই এমন রাখছেন না যেটিতে তিনি আমাদের বিরোধিতা করছেন না।" এরপর উসাইদ ইবনে হুদাইর এবং আব্বাদ ইবনে বিশর এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদিরা তো এই এই বলছে; তবে কি আমরা তাদের (ঋতুবতী স্ত্রীদের) সাথে সহবাস করব না? এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার রং বদলে গেল, এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি তাঁদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন। তাঁরা বেরিয়ে গেলেন এবং পথিমধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য নিয়ে আসা দুধের একটি উপহারের সাথে তাঁদের দেখা হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের পেছনে লোক পাঠালেন (তাঁদের ডাকার জন্য)। তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন যে তিনি তাঁদের ওপর রাগান্বিত হননি।

এটি তিরমিজি (৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৭৪) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এই হাদিসটি হাসান সহিহ; এছাড়াও আবু দাউদ (১ম খণ্ড, পৃ. ১০৭), নাসায়ি (১ম খণ্ড, পৃ. ১২৫ ও ১৩৫), ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ৬৪৪), আহমাদ (৩য় খণ্ড, পৃ. ২৪৬) এবং তায়ালিসি (২য় খণ্ড, পৃ. ১৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

{তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} আয়াত ২২৩।

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৯ম খণ্ড, পৃ. ২৫৭), আমাদের কাছে আবু নুয়াইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে সুফিয়ান ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: ইহুদিরা বলত যে যদি স্ত্রীর পেছন দিক থেকে (যোনিপথে) সহবাস করা হয় তবে সন্তান টেরা চোখ বিশিষ্ট হয়। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো}।

হাদিসটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন (১০ম খণ্ড, পৃ. ৬ ও ৭) এবং সেখানে "যদি সে চায় উপুড় হয়ে শোয়া অবস্থায়"১ অতিরিক্ত অংশটি রয়েছে এবং যদি

--------------------------------------------

১. এই বর্ধিত অংশটি দুর্বল, কারণ এর বর্ণনাকারী নুমান ইবনে রাশিদ একজন দুর্বল রাবী। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেছেন: এই বর্ধিত অংশটি ইমাম যুহরী-র নিজস্ব ব্যাখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ ইবনুল মুনকাদিরের অন্য অসংখ্য ছাত্র থাকা সত্ত্বেও এটি অন্য কারো বর্ণনায় পাওয়া যায় না। সমাপ্ত। আমি (লেখক) বলব: এর মর্মার্থ অন্যান্য দলিল থেকে প্রমাণিত হয়, যেমনটি ফাতহুল বারী গ্রন্থে উল্লেখ আছে।