القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: مختصر طبقات الحنابلة
جمع وترتيب: جميل أفندي الشطي
الناشر: مطبعة الترقى - دمشق
عام النشر: 1339 هـ - 1921 م
عدد الصفحات: 187
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1444
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ (তাবাকাত)
গ্রন্থ: মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ
সংকলন ও বিন্যাস: জামিল এফেন্দি আশ-শাত্তি
প্রকাশক: মাতবাআহ আত-তারাক্কি - দামেস্ক
প্রকাশকাল: ১৩৩৯ হিজরি - ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৪৪
আমরা তাকে খাটিয়ার ওপর রাখলাম এবং পাগড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে দিলাম। তার জানাজা বহন করা হলো এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহের তার জানাজা পড়ালেন। কাতারগুলো ময়দান থেকে বাবুিল কাতিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা এক লক্ষ এবং মহিলাদের সংখ্যা ষাট হাজার অনুমান করা হয়েছিল, যারা রাস্তায়, নৌকায় এবং ছাদে ছিল তাদের ব্যতীত। বলা হয় যে সংখ্যাটি এর চেয়েও বেশি ছিল। তাকে বাগদাদের বাবুিল হারবে দাফন করা হলো। তার কবর সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ, সেখানে জিয়ারত করা হয় এবং বরকত হাসিল করা হয়। তিনি মাত্র ছয় বা সাতটি রৌপ্যমুদ্রার বেশি কিছু রেখে যাননি, যা একটি ন্যাকড়ার মধ্যে ছিল যা দিয়ে তিনি তার মুখ মুছতেন। আমিরুল মুমিনীন আল-মুতাওয়াক্কিল মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহেরকে বললেন, "আপনার জন্য সুসংবাদ যে আপনি আহমদ বিন হাম্বলের জানাজা পড়েছেন।"
আবুল হাসান আত-তামিমী তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইমাম আহমদের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "আমি মানুষের ভিড়ের কারণে তার কবরের কাছে পৌঁছানোর আশায় পুরো এক সপ্তাহ অবস্থান করলাম, কিন্তু পৌঁছাতে পারিনি।" আহমদ বিন হাম্বল যে দিন মৃত্যুবরণ করেন, সে দিন বিশ হাজার ইহুদি, খ্রিস্টান এবং অগ্নিউপাসক ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তার জন্য শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। ইমাম আহমদ বলতেন, "আমাদের এবং বিদআতিদের মধ্যে জানাজার দিনই ফয়সালা হবে।" তার অনেক সুস্পষ্ট কারামত ছিল (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তার কারামতসমূহের মধ্যে একটি হলো যা তার পুত্র আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি আমার পিতাকে দেখলাম তিনি পিঁপড়াদের তার ঘর থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন, এরপর আমি দেখলাম কালো কালো পিঁপড়া বের হয়ে যাচ্ছে এবং এরপর আমি তাদের আর দেখিনি।" আবু তালিব আলী বিন আহমদ বলেন, "আমি একদিন আবু আব্দুল্লাহর কাছে প্রবেশ করলাম যখন তিনি শ্রুতলিখন দিচ্ছিলেন এবং আমি লিখছিলাম। তখন আমার কলমটি ভেঙে গেল, তিনি একটি কলম নিয়ে আমাকে দিলেন। আমি কলমটি নিয়ে আবু আলী আল-জাফরীর কাছে আসলাম এবং বললাম, এটি আবু আব্দুল্লাহর কলম যা তিনি আমাকে দিয়েছেন। তখন তিনি তার গোলামকে বললেন, কলমটি নিয়ে খেজুর গাছে রেখে দাও, হয়তো এটি ফলবতী হবে। সে সেটি সেখানে রাখল এবং খেজুর গাছটি ফলবতী হলো।" কাযিউল কুজাত ইবনুল হুসাইন আল-যাইনী থেকে বর্ণিত যে, তাদের বাড়িতে আগুন লেগেছিল এবং যা কিছু ছিল সব পুড়ে গিয়েছিল, কেবল একটি বই ছাড়া যাতে ইমাম আহমদের হাতের লেখা কিছু ছিল। শায়খ ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেছেন যে, যখন ৫৫৪ হিজরি সালে বাগদাদে প্লাবন দেখা দিল এবং আমার বইগুলো ডুবে গেল, তখন আমার একটি খাতা রক্ষা পেল যাতে ইমাম আহমদের হাতের লেখা কিছু পাতা ছিল (আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। রাবি বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম শাফিঈ আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বলের কাছে একটি পত্র লিখলেন এবং আমাকে বললেন, "হে আবু সুলাইমান! আমার এই পত্রটি নিয়ে ইরাকে আহমদ বিন হাম্বলের কাছে যাও এবং এটি পড়ো না।" আমি পত্রটি নিলাম এবং মিশর থেকে বের হয়ে ইরাকে পৌঁছালাম। আমি আহমদ বিন হাম্বলের মসজিদে উপস্থিত হলাম এবং তাকে ফজরের সালাত আদায় করতে দেখলাম। আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। আমি সুন্নাত পড়িনি বলে সালাতের পর তা আদায় করার জন্য দাড়ালাম। তিনি আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকাতে থাকলেন যতক্ষণ না আমাকে চিনতে পারলেন। যখন আমি সালাত শেষ করে তাকে সালাম দিলাম এবং তার কাছে পত্রটি পৌঁছালাম, তিনি পত্রে নজর দেওয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ আমার কাছে শাফিঈ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন। এরপর তিনি তা খুললেন এবং পড়লেন। যখন তিনি এর একটি বিশেষ স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি তিনি শাফিঈ যা বলেছেন তা সত্যে পরিণত করবেন।"
পূর্বনির্ধারিত তাকদীরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করুন, কারণ এটি … দ্বীনের আকিদার স্তম্ভ এবং দ্বীন অত্যন্ত সুপ্রশস্ত।
প্রকাশ্যে মুনকার ও নাকীরকে অস্বীকার করবেন না … আর না হাউয ও মীযানকে; তবেই আপনি কল্যাণকামী হিসেবে গণ্য হবেন।
আর বলুন, মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে বের করবেন … জাহান্নাম থেকে এমন সব দেহ যাদেরকে তথায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
জান্নাতুল ফিরদাউসের নহরের তীরে তারা সেই পানি দ্বারা পুনরুজ্জীবিত হবে … ঠিক যেমন বন্যার স্রোতে ভেসে আসা শস্যদানা সতেজ হয়ে ওঠে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সৃষ্টির জন্য সুপারিশকারী … আর কবরের আযাব সত্য ও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
নামাযীদের কাফির বলবেন না যদিও তারা গুনাহ করে … কেননা সবাই পাপাচার করে কিন্তু আরশের অধিপতি ক্ষমা করে দেন।
আর বলুন, ঈমান কেবল কথা ও নিয়ত … এবং কাজের সমষ্টি, যা নবী (সা.)-এর সুষ্পষ্ট বাণীর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এটি পাপাচারের কারণে কখনো হ্রাস পায় এবং কখনো … আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় ও মীযানের পাল্লায় ভারী হয়।
খারেজীদের মতবাদ পোষণ করবেন না, কারণ এটি … এমন এক উক্তি যা এর অনুসারীকে ধ্বংস ও অপদস্থ করে।
দ্বীন নিয়ে খেলাকারী মুরজিয়া হবেন না … সাবধান! নিশ্চয়ই মুরজিয়ারা দ্বীন নিয়ে কেবল তামাশাই করে।
সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যারা তাদের দ্বীন নিয়ে খেলা করে … ফলে তারা আহলে হাদীসদের প্রতি নিন্দা ও অপবাদ দেয়।
মানুষের ব্যক্তিগত রায় ও উক্তি বর্জন করুন … কেননা আল্লাহর রাসূলের বাণী অধিকতর পবিত্র ও সুস্পষ্ট।
হে বন্ধু! আপনি যদি আজীবন এই বিশ্বাসগুলো পোষণ করেন … তবে আপনি কল্যাণের সাথেই সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করবেন।
ইবনে বাত্তাহ বলেন, ইবনে আবু দাউদ বলেছেন: এটিই আমার কথা, আমার পিতার কথা, আহমদ বিন হাম্বলের কথা এবং আমরা যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি সেই সব আলেমদের কথা; আর যাদের আমরা সরাসরি পাইনি তাদের মধ্যে হতে যাদের কথা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তাদেরও কথা এটি। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলবে সে মিথ্যাচার করল। তাঁর জন্ম ২৩০ হিজরীতে। তিনি বলেন, তিনি প্রথম লেখা শুরু করেন ২৪১ হিজরীতে এবং ৮৬ বছর ৬ মাস কয়েক দিন বয়সে ইন্তেকাল করেন। বর্ণিত আছে যে, তাঁর জানাযার নামায আশি বার পড়া হয়েছিল, এমনকি আল-মুকতাদির বিল্লাহ একটি দল পাঠান যারা তাঁর জানাযা রক্ষা করেন এবং তাঁরা তাঁকে ৩১৬ হিজরীর যিলহজ মাসের বারো দিন বাকি থাকতে রবিবার দাফন করেন। তাঁকে ফজরের নামাযের পর বের করা হয়েছিল এবং যোহরের নামাযের পর দাফন করা হয়। তিনি আটজন সন্তান রেখে গেছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহম করুন।
* আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালেহ ইবনুল ইমাম
আবু জাফর; তিনি তাঁর পিতার চাচা ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ এবং তাঁর চাচা আহমদ বিন সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া তাঁর চাচা যুহাইর বিন সালেহ এবং অন্যান্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে একদল রাবী বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আবু কাসেম আল-ওয়াররাক ও আদ-দারাকুতনী অন্যতম। তিনি ৩৩০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।