(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: -)
مختصر طبقات الحنابلة - ط الترقي   (جميل الشطي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مختصر طبقات الحنابلة

جمع وترتيب: جميل أفندي الشطي

الناشر: مطبعة الترقى - دمشق

عام النشر: 1339 هـ - 1921 م

عدد الصفحات: 187

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1444

মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ - আত-তারাক্কি সংস্করণ   (জামিল আশ-শাত্তি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ (তাবাকাত)


গ্রন্থ: মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ

সংকলন ও বিন্যাস: জামিল এফেন্দি আশ-শাত্তি

প্রকাশক: মাতবাআহ আত-তারাক্কি - দামেস্ক

প্রকাশকাল: ১৩৩৯ হিজরি - ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقَدّمة

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين، أما بعد فيقول العبد الفقير محمد جميل ابن الفاضل الكامل الشيخ عمر أفندي إبن العالم المحقق المرحوم الشيخ محمد أفندي ابن العلامة الشهير المبرور الشيخ حسن أفندي إبن الحاج عمر جلبي المعروف بابن شطي البغدادي أصلا، الإمام الحنبلي في الجامع الأموي بدمشق الشام حالا، أحسن الله حاله، وسدد أقواله وأعماله، لا يخفى أن سير الرجال من علم التاريخ قد طالما شغلت الأفكار، وحلت محل الاعتبار، وما زالت أجلة العلماء في جميع الأمصار والأعصار، يصنفون الأسفار، في تلك الأخبار. ولكن مشاربهم مختلفة ومقاصدهم شتى. فمنهم من تقيدوا بالزمان فترجموا رجال القرون قرنًا بعد آخر. ومنهم من تقيدوا بالمكان فترجموا رجال بلدة دون أخرى. ومنهم من تقيدوا بالفنون فكان هؤلاء أحسن عملًا من أولئك. إذ لا ريب خدمة العلم المطلقة خير من خدمة الزمان والمكان مقيدين ومن هؤلاء المؤرخين من وضعوا طبقات المذاهب الأربعة وفي جملتهم طبقات السادة الحنابلة رحمهم الله تعالى فقد اطلعت على الطبقات التي وضعها الشيخ العلامة القاضي عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن العليمي المقدسي ووصل فيها إلى سنة تسعماية للهجرة. ثم وجدت أن العلامة الأديب السيد محمد كمال الدين ابن السيد محمد شرِيف ابن شمس الدين محمد الغزي العامري مفتي الشافعية بدمشق جزاه الله خيرًا قد

وضع على الطبقات المذكورة ذيلًا وصل فيه من الحد الذي وقف عليه العليمي إلى سنة سبع ومائتين وألف. وقد رأيت عندي تراجم متفرقة لبعض علماء مذهبنا الأحمد مذهب الإمام أحمد رضي الله عنه فجعلتها ذيلًا لطبقات الغزي المذكور ومن ثم أحببت أن أختصر شيئًا من طبقات العليمي والغزي أضيف إليه ذيلي الأنف ذكره ليجئ من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর, দরিদ্র বান্দা মুহাম্মদ জামিল ইবনুল ফাজিল আল-কামিল শেখ উমর এফেন্দি ইবনুল আলিম আল-মুহাক্কিক আল-মারহুম শেখ মুহাম্মদ এফেন্দি ইবনুল আল্লামাহ আশ-শাহির আল-মাবরুর শেখ হাসান এফেন্দি ইবনুল হাজ উমর জালাবি—যিনি ইবনে শাত্তি আল-বাগদাদি হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে সিরিয়ার দামেস্কের জামে উমাবীর হাম্বলি ইমাম—বলছেন (আল্লাহ তাঁর অবস্থা উত্তম করুন এবং তাঁর কথা ও কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন): এটি অস্পষ্ট নয় যে, ইতিহাস বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত মনীষীদের জীবনী দীর্ঘকাল ধরে চিন্তাশীলদের মনোযোগ আকর্ষণ করে আসছে এবং তা শিক্ষা গ্রহণের স্থানে পরিণত হয়েছে। যুগে যুগে সকল জনপদে বরেণ্য উলামায়ে কেরাম এই সকল সংবাদের বিষয়ে বড় বড় গ্রন্থ রচনা করে আসছেন। তবে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন এবং উদ্দেশ্যও নানাবিধ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সময়ের সীমারেখায় আবদ্ধ হয়েছেন, তাই তাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পর্যায়ক্রমে মনীষীদের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। আবার কেউ কেউ স্থানের সীমারেখায় আবদ্ধ হয়েছেন, ফলে তাঁরা অন্য কোনো জনপদ বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো এক জনপদের মনীষীদের জীবনী আলোচনা করেছেন। এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জ্ঞানের শাখা বা বিশেষ শাস্ত্রের অনুগামী হয়েছেন, আর তাঁদের কাজ অন্যদের তুলনায় অধিক উত্তম হয়েছে। কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধ খিদমতের চেয়ে নিঃস্বার্থ ইলম বা জ্ঞানের সেবা করাই অধিক কল্যাণকর। এসকল ইতিহাসবিদদের মধ্যে অনেকে চার মাযহাবের তবাকাত (স্তরভিত্তিক জীবনী) রচনা করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হাম্বলি মনীষীদের জীবনীগ্রন্থসমূহ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন)। আমি শেখ আল্লামাহ কাজী আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-উলাইমি আল-মাকদিসি কর্তৃক রচিত 'তবাকাত' গ্রন্থটি দেখেছি, যাতে তিনি হিজরি ৯০০ সাল পর্যন্ত পৌঁছেছেন। এরপর আমি লক্ষ্য করলাম যে, দামেস্কের শাফেয়ী মুফতি আল্লামাহ আদীব আস-সায়্যিদ মুহাম্মদ কামালুদ্দীন ইবনে আস-সায়্যিদ মুহাম্মদ শরীফ ইবনে শামসুদ্দীন মুহাম্মদ আল-গাযযি আল-আমিরি (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) উক্ত তবাকাত গ্রন্থের ওপর একটি পরিশিষ্ট রচনা করেছেন, যেখানে তিনি উলাইমির সমাপ্তি থেকে ১২০৭ হিজরি পর্যন্ত পৌঁছেছেন। আমার কাছে আমাদের আহমাদি মাযহাব—অর্থাৎ ইমাম আহমদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব—এর কিছু উলামায়ে কেরামের বিক্ষিপ্ত জীবনী সংরক্ষিত ছিল। তাই আমি সেগুলোকে উল্লিখিত গাযযি-র তবাকাত গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে নির্ধারণ করেছি। এরপর আমি পছন্দ করলাম যে, উলাইমি ও গাযযি-র তবাকাত থেকে কিছু অংশ সংক্ষেপ করব এবং তার সাথে আমার পূর্বে উল্লেখিত পরিশিষ্টটি যোগ করব, যাতে এটি এভাবে উপস্থাপিত হয় যে...

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৩)
ذلك كتاب يجمع أخبار المشاهير من علمائنا منذ عصر إمامنا إلى عصرنا هذا وأرجو أن يكون عملي مقبولا. وبعين الرضا مشمولًا، إن شاء الله تعالى.
এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমাদের ইমামের যুগ হতে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের বরেণ্য আলিমগণের বৃত্তান্তসমূহ সংকলন করে। আমি আশা রাখি যে আমার এই কর্মটি কবুল হবে এবং সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে পরিবেষ্টিত হবে, যদি মহান আল্লাহ চান।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌قال العليمي رحمه الله تعالى: الحمد لله على لطفه وإحسانه حمدًا يليق بجلال عظمته وعز سلطانه، والشكر له على فضله وامتنانه، شكرًا لا يحصيه كاتب بقلمه ولا ناطق بلسانه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له تعظيمًا لشأنه، وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده ورسوله أرسله إلى الثقلين وأيده بسلطانه صلى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه وأنصاره وأعوانه، صلاة وسلامًا دائمين ما تحرك فلك في دورانه أما بعد فهذا مختصر استخرت الله في جمعه وترتيبه وسألته المعونة لي بفضله في وضعه وتهذيبه يتضمن نبذة من ترجمة إمامنا المبجل والحبر المفضل الرباني عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني إمام أهل السنة وآخر المجتهدين من الأئمة رضي الله عنه وأرضاه وجعل الجنة منقلبه ومثواه وأحواله ومناقبه وذكر محنته وتاريخ مولده ووفاته وتراجم أصحابه رحمة الله عليهم فاذكر أولًا ما تيسر من مناقب الإِمام رضي الله عنه ثم أذكر أصحابه الذين عاصروه فابتدئ بذكر من توفي منهم قبله ثم أذكر من توفي بعده ثم أذكر من لم تؤرخ وفاته من الفقهاء الذين كانوا على مذهبه في الأصول والفروع ونقلوه عنه إلى من بعدهم إلي أن وصل الينا. وأسرد أسماءهم متوالية ليتميزوا عن غيرهم من أصحابه الذين قرأوا عليه في الحديث وغيره ورووا عنه من غير المشهورين بالتمذهب بمذهبه في فروع الفقه. ثم أذكر أسماء الأصحاب من بعد الطبقة الأولى مرتبًا على الطبقات والوفيات ومن لم أطلع على تاريخ وفاته ذكرت اسمه وما وقفت عليه من ترجمته والعصر الذي كان موجودًا فيه أن عملته وأوجزت لفظه حسب الامكان وحذفت الأسانيد مما رويته فيه من الأحاديث الشريفة في بعض التراجم طلبًا للاختصار وسميته بالمنهج الأحمد في تراجم

أصحاب الإِمام أحمد والله سبحانه المسؤول أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم وأن ينفع به إنه بعباده رؤوف رحيم.

 

*‌‌ الإِمام المبجّل أحمد بن محمد بن حنبل:

‌‌ذكر ما تيسر من مناقبه

هو الإِمام البارع المجمع على جلالته وإمامته وورعه وزهادته وحفظه ووفور عقله وعلمه وسيادته إمام المحدثين والناصر للدين عن السنة والصابر في المحنة ومن
‌‌আল-উলাইমি আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কারণে—এমন প্রশংসা যা তাঁর মহত্ত্বের মর্যাদা এবং তাঁর রাজত্বের প্রতাপের যোগ্য। তাঁর করুণা ও ইহসানের জন্য তাঁরই শুকরিয়া—এমন শুকরিয়া যা কোনো লেখক তাঁর কলম দ্বারা গণনা করতে পারে না এবং কোনো বক্তা তাঁর জিহ্বা দ্বারা বর্ণনা করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই; তাঁর সুমহান মর্যাদার ঘোষণা স্বরূপ আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে তিনি মানব ও জিন জাতির নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রমাণাদি দিয়ে তাঁকে শক্তিশালী করেছেন। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, সাহায্যকারী ও সহযোগীদের ওপর; এমন চিরস্থায়ী সালাত ও সালাম যা মহাকাশের কক্ষপথসমূহের আবর্তনকাল পর্যন্ত জারি থাকবে। অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ যা সংকলন ও বিন্যাসের জন্য আমি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি এবং এটি রচনা ও পরিমার্জনে তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করেছি। এতে আমাদের সম্মানিত ইমাম, শ্রেষ্ঠ আলিম ও রব্বানী ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী—যিনি আহলে সুন্নাহর ইমাম এবং ইমামদের মধ্যে সর্বশেষ মুজতাহিদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও আবাসস্থল করুন)—তাঁর জীবনীর কিঞ্চিৎ অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও এতে তাঁর অবস্থা, তাঁর গুণাবলী, তাঁর অগ্নিপরীক্ষার বর্ণনা, তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ এবং তাঁর সঙ্গীদের জীবনী (আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) স্থান পেয়েছে। সুতরাং আমি প্রথমে ইমামের (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) গুণাবলী থেকে যা সহজসাধ্য তা উল্লেখ করব, অতঃপর তাঁর সমসাময়িক সঙ্গীদের কথা বর্ণনা করব। শুরুতে তাঁদের কথা বলব যাঁরা তাঁর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন, এরপর তাঁদের কথা যাঁরা তাঁর পরে মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর আমি সেই সব ফকীহদের কথা উল্লেখ করব যাঁদের মৃত্যুর তারিখ সংরক্ষিত হয়নি, যাঁরা উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁর ইলমকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না তা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আমি তাঁদের নামসমূহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব যাতে তাঁরা ইমামের অন্যান্য সঙ্গীদের থেকে পৃথকভাবে পরিচিত হন; যাঁরা কেবল তাঁর কাছে হাদীস ও অন্যান্য বিষয় পাঠ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন কিন্তু ফিকহের শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব অনুসরণের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন না। এরপর আমি প্রথম স্তরের পরবর্তী সঙ্গীদের নামসমূহ স্তর ও মৃত্যুর তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে উল্লেখ করব। আর যাঁদের মৃত্যুর তারিখ আমি জানতে পারিনি, তাঁদের নাম এবং তাঁদের জীবনী সম্পর্কে যতটুকু অবগত হয়েছি তা উল্লেখ করব, আর সম্ভব হলে তিনি কোন যুগে বিদ্যমান ছিলেন তাও উল্লেখ করব; এবং আমি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত শব্দচয়ন করেছি। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে কিছু জীবনীর মধ্যে বর্ণিত হাদীসসমূহের সনদগুলো আমি বাদ দিয়েছি এবং আমি এই গ্রন্থের নাম রেখেছি 'আল-মানহাজুল আহমাদ ফী তারাজিমি আসহাবিল ইমাম আহমাদ'।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর দ্বারা উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।

 

*‌‌সম্মানিত ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল:

‌‌তাঁর গুণাবলীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

তিনি হলেন সেই প্রাজ্ঞ ইমাম, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, ইমামত, পরহেজগারি, জাহিদ হওয়া, মুখস্থ শক্তি, প্রখর বুদ্ধি, জ্ঞান এবং নেতৃত্বের বিষয়ে সকলে একমত; তিনি মুহাদ্দিসদের ইমাম, সুন্নাহর মাধ্যমে দ্বীনের সাহায্যকারী এবং কঠিন পরীক্ষায় ধৈর্যশীল ব্যক্তি এবং যিনি...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৪)
لم تر عين مثله علمًا وزهدًا وديانة وأمانة الإمام الذي لا يجارى والفحل الذي لا يبارى ومن أجمع أئمة الدين على تقدمه في شأنه ونبله وعلو مكانه والذي له من المناقب ما لا يعد ولا يحصى وقام الله مقامًا لولاه لضعف الإِسلام واندرس العلم ومشى الناس على أعقابهم القهقري. إمام الأئمة رباني الأمة عالي الهمة ناصر الإِسلام والسنة شجرة نسبه في الأصل خليلية وفي الفرع إسماعيلية وأوراقها ربيعية وعروقها شيبانية استنار ذكره في الأمصار استنارة الشمس في النهار فهو صيرفي الحديث ينتقد الطيب من الخبيث قيس في الزهد والعلم بالحسن البصري وفي الرقائق والدقائق بذي النون المصري وفي التفسير ومعانيه بإبن عباس وفي التشديد على أهل البدع بعمر بن الخطاب الشديد البأس قام بإحياء الدين ونصره دون جميع أهل عصره وذب عن حريم الملة بسيف الكتاب والسنة حين برز الشيطان بجنوده وافتخر بكثرة عديدة حتى أظهر السنة من بعد ما اختفت وأقام قواعد الدين من بعد ما عفت فهو إمام أئمة الإِسلام وحجة الله على الأنام عليه أفضل التحية والسلام.

فهو الإِمام أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد بن إدريس بن عبد الله بن حيان بن عبد الله بن أنسى بن عوف بن قاسط بن مازن بن شيبان بن ذهل بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أقصى بن عمن بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان بن أد بن أدد بن الهيسع بن حمل بن البت بن قيدار بن إسماعيل بن إبراهيم الخليل صلوات الله عليه وعَلَى جميع الأنبياء والمرسلين.

فهذا هو المروي عن عبد الله إبن الإِمام أحمد بن حنبل رضي الله عنهما ونقل ابن الجوزي وغير واحد من المؤرخين أن إبراهيم الخليل عليه السلام إبن تارح وهو آزر بن ناحور بن سارعوغ بن رعون بن فالغ بن عابر بن شالخ بن قينان بن أرفخشد بن سام بن نوح بن لامخ ويقال لأمل بن متشولخ بن خنوخ وهو إدريس بن يرد بن مهلابيل بن قينان بن انوش بن شيث بن آدم عليه السلام.

حملت به أمه بمرو وقدمت بغداد وهي حامل به فولدته في ربيع الأول سنة أربع وستين ومائة وكان أبوه محمد والي سرخس وكان من أبناء الدعوة العباسية توفي وله ثلاثون سنة وكانت وفاته سنة تسع وسبعين ومائة فكانت لوائح النجابة تظهر منه
কোনো চক্ষু জ্ঞান, দুনিয়াবিমুখতা, দ্বীনদারি এবং আমানতদারিতে তাঁর মতো কাউকে দেখেনি; তিনি এমন এক ইমাম যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই এবং এমন এক বীর পুরুষ যাকে অতিক্রম করা যায় না। দ্বীনের ইমামগণ যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, মহানুভবতা এবং সুউচ্চ মর্যদার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং যাঁর অসংখ্য ও অগণিত গুণাবলি রয়েছে। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন যে, তিনি না হলে ইসলাম দুর্বল হয়ে পড়ত, ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং মানুষ উল্টো পথে ফিরে যেত। তিনি ইমামদের ইমাম, উম্মাহর রব্বানী আলেম, সুউচ্চ হিম্মতের অধিকারী, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী। তাঁর বংশবৃক্ষ মূলে খলীলী (ইব্রাহিমী), শাখায় ইসমাইলী, পাতায় রবীঈ এবং শিকড়ে শাইবানী। বিভিন্ন জনপদে তাঁর আলোচনা দিনের সূর্যের ন্যায় আলোকিত হয়েছে। তিনি হাদিসের এমন এক জহুরি যিনি উত্তম থেকে মন্দকে পৃথক করেন। দুনিয়াবিমুখতা ও জ্ঞানে তাঁকে হাসান বসরীর সাথে, আধ্যাত্মিকতা ও সূক্ষ্ম তত্ত্বের বিষয়ে যুন-নুন মিসরীর সাথে, তাফসির ও তার মর্মার্থ অনুধাবনে ইবনে আব্বাসের সাথে এবং বিদআতিদের প্রতি কঠোরতায় অত্যন্ত শক্তিশালী উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে তুলনা করা হয়। তিনি তাঁর সমসাময়িক সকলের ঊর্ধ্বে উঠে দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত ও সাহায্য করার দায়িত্ব পালন করেছেন। যখন শয়তান তার বাহিনী নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল এবং সংখ্যাধিক্যের গর্ব করেছিল, তখন তিনি কিতাব ও সুন্নাহর তলোয়ার দিয়ে মিল্লাতের পবিত্রতা রক্ষা করেছেন। অবশেষে সুন্নাহ বিলীন হয়ে যাওয়ার পর তিনি তাকে প্রকাশ করেছেন এবং দ্বীনের ভিত্তিগুলো মিটে যাওয়ার পর পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ইসলামের ইমামদের ইমাম এবং সৃষ্টির উপর আল্লাহর হুজ্জত (প্রমাণ)। তাঁর ওপর সর্বোত্তম অভিবাদন ও শান্তি বর্ষিত হোক।

তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুল্লাহ বিন হাইয়ান বিন আব্দুল্লাহ বিন আনাস বিন আউফ বিন কাসিত বিন মাজিন বিন শায়বান বিন যুহল বিন সালাবা বিন উকাবা বিন সাব বিন আলী বিন বকর বিন ওয়াইল বিন কাসিত বিন হানাব বিন আকসা বিন আমান বিন জাদিলা বিন আসাদ বিন রাবিয়া বিন নিযার বিন মাআদ বিন আদনান বিন উদ বিন উদাদ বিন হাইসা বিন হামাল বিন বাত বিন কাইদার বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম খলিল, তাঁর ওপর এবং সমস্ত নবী ও রাসুলদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের পুত্র আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটিই বর্ণিত হয়েছে। আর ইবনুল জাওযী এবং আরও অনেক ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন যে, ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম) হলেন তারাহ-এর পুত্র—যিনি আযর বিন নাহুর বিন সারুগ বিন রাউ বিন ফালিজ বিন আবির বিন শালিহ বিন কাইনান বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ বিন লামিক (যাকে আমাল বিন মাতুশালাখও বলা হয়) বিন খানুখ—যিনি হলেন ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম)—বিন ইয়ারিদ বিন মাহলাবিল বিন কাইনান বিন আনুশ বিন শিথ বিন আদম (আলাইহিস সালাম)।

তাঁর মা মার্ভে গর্ভবতী হন এবং গর্ভবতী অবস্থায় বাগদাদে আসেন। অতঃপর ১৬৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে তিনি তাঁকে জন্ম দেন। তাঁর পিতা মুহাম্মদ ছিলেন সারখাস অঞ্চলের শাসক এবং তিনি আব্বাসীয় আন্দোলনের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ত্রিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মৃত্যু ১৭৯ হিজরি সালে হয়েছিল। শৈশব থেকেই তাঁর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পেতে থাকে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৫)
زمن الصبا وكان حفظه للعلم من ذلك الزمان غزيرًا وعلمه به متوفرًا وكان في الكتاب وهو غلام يعرف فضله وسافر في طلب العلم أسفارًا كثيرة إلى البلاد الكوفة والبصرة والحجاز ومكة والمدينة واليمن والشام والثغور والسواحل والمغرب والجزائر والعراقين جميعًا وأرض فارس وبلاد خراسان والجبال والأطراف وغير ذلك طلب الحديث وهو إبن ست عشرة سنة وخرج إلى الكوفة سنة مات هشيم سنة 183 وهو أول سفره وخرج إلى البصرة سنة 186 وخرج إلى سفيان بن عيينة إلى مكة سنة 187 وقد مات الفضل بن عياض وهي أول سنة حج فيها وخرج إلى عبد الرزاق بصنعاء اليمن سنة 197 ورافق يحيى بن معين وحج خمس حجات ثلاث حجج ماشيًا واثنتين راكبًا وكان من أصحاب الإِمام الشافعي رضي الله عنه وخواصه ولم يزل مصاحبه إلى أن ارتحل الشافعي إلى مصر وكان الإمام الشافعي يجله ويثني عليه ثناء حسنًا قال حرملة سمعت الشافعي رضي الله عنه يقول عند قدومه إلى مصر من العراق ما خلفت بالعراق أحدًا يشبه أحمد بن حنبل وقال الربيع بن سليمان قال لنا الشافعي رضي الله عنه أحمد بن حنبل إمام في ثمان خصال إمام في الحديث إمام في الفقه إمام في اللغة إمام في القرآن إمام في الفقر إمام في الزهد إمام في الورع إمام في السنة.

 

‌‌ذكر قوة فهمه وغزارة علمه

عن أحمد بن صعيد قال ما رأيت أسود رأس أحفظ لحديث رسول الله

صلى الله عليه وسلم ولا أعلم بفقهه ومعانيه من أبي عبد الله أحمد بن حنبل وعن إبراهيم الحربي قال رأيت أحمد بن حنبل فرأيت كأن الله جمع له علم الأولين والآخرين من كل صنف يقول ما شاء ويمسك عما شاء قال: أبو جعفر التستري قيل لأبي زرعة من رأيت من المشايخ المحدثين أحفظ فقال أحمد بن حنبل حزرت كتبه في اليوم الذي مات فيه فبلغت اثنى عشر حملًا وعدلًا وكل ذلك كان يحفظه عن ظهر قلبه.

 

‌‌ذكر مصنفاته

صنف المسند وهو ثلاثون ألف حديث وكان ابتداؤه فيه سنة 180 وكان
বাল্যকাল থেকেই তাঁর ইলম সংরক্ষণের ক্ষমতা ছিল প্রভূত এবং এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল অগাধ। মকতবে থাকাকালীন বালক অবস্থাতেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত ছিল। ইলম অন্বেষণে তিনি কুফা, বসরা, হিজাজ, মক্কা, মদিনা, ইয়েমেন, সিরিয়া, সীমান্ত এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল, মাগরিব, জাজাইর, উভয় ইরাক (কুফা ও বসরা), পারস্য ভূমি, খোরাসান দেশ, পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রান্তিক এলাকাসহ বিভিন্ন জনপদে বহুবার সফর করেছেন। ষোলো বছর বয়স থেকে তিনি হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন। ১৮৩ হিজরিতে তিনি কুফায় যান, যে বছর হুশাইম ইন্তেকাল করেন; এটিই ছিল তাঁর প্রথম সফর। ১৮৬ হিজরিতে তিনি বসরায় যান। ১৮৭ হিজরিতে তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর নিকট মক্কায় যান, সে বছরই ফুদাইল ইবনে ইয়াদ ইন্তেকাল করেন এবং সেটি ছিল তাঁর প্রথম হজের বছর। ১৯৭ হিজরিতে তিনি ইয়েমেনের সানআয় আবদুর রাজ্জাকের নিকট গমন করেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মায়িনের সফরসঙ্গী ছিলেন। তিনি পাঁচবার হজ পালন করেন—তিনবার পায়ে হেঁটে এবং দুইবার আরোহী অবস্থায়। তিনি ইমাম শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অন্যতম বিশিষ্ট ও ঘনিষ্ঠ সাথী ছিলেন এবং শাফেয়ি মিশরে প্রস্থান করার পূর্ব পর্যন্ত সর্বদা তাঁর সংশ্রবে ছিলেন। ইমাম শাফেয়ি তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন। হারমালা বলেন, আমি শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইরাক থেকে মিশরে আগমনের সময় বলতে শুনেছি: "আমি ইরাকে আহমদ বিন হাম্বল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কাউকে রেখে আসিনি।" রাবি বিন সুলাইমান বলেন, শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের বলেছিলেন: "আহমদ বিন হাম্বল আটটি গুণে ইমাম; তিনি হাদিসে ইমাম, ফিকহে ইমাম, লুগাতে (ভাষাতত্ত্বে) ইমাম, কুরআনে ইমাম, দারিদ্র্যে ইমাম, যুহদে (দুনিয়াবিমুখতায়) ইমাম, পরহেজগারিতে ইমাম এবং সুন্নাহর ইমাম।"

 

‌‌তাঁর প্রখর ধীশক্তি ও অগাধ পাণ্ডিত্যের বর্ণনা

আহমদ বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস সংরক্ষণে আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বল অপেক্ষা অধিক দক্ষ এবং হাদিসের ফিকহ ও অর্থ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কোনো মানুষ দেখিনি।" ইবরাহিম আল-হারবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আহমদ বিন হাম্বলকে দেখেছি; মনে হচ্ছিল যেন আল্লাহ তাঁর মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল প্রকার ইলম একত্রিত করে দিয়েছেন, তিনি যা ইচ্ছা বলতেন আর যা ইচ্ছা তা থেকে বিরত থাকতেন।" আবু জাফর আত-তুস্তারি বলেন: আবু জুরআকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনি যে সকল মুহাদ্দিস শায়খদের দেখেছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফেজ কে?" তিনি উত্তরে বললেন, "আহমদ বিন হাম্বল।" তিনি আরও বলেন: "যেদিন তিনি ইন্তেকাল করেন, সেদিন আমি তাঁর কিতাবসমূহ অনুমান করেছিলাম, যা বারোটি উটের বোঝার সমান হয়েছিল এবং এই সবটুকুই তাঁর স্মৃতিস্থ ছিল।"

 

‌‌তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির বর্ণনা

তিনি 'মুসনাদ' সংকলন করেন, যা ত্রিশ হাজার হাদিস সম্বলিত। এটি সংকলনের সূচনা হয়েছিল ১৮০ হিজরিতে এবং...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৬)
يقول لابنه عبد الله احتفظ بهذا المسند فإنه سيكون للناس إمامًا وعن حنبل بن إسحاق قال جمعنا أحمد بن حنبل أنا وصالح وعبد الله وقرأ علينا المسند وما سمعه منه غيرنا وقال لنا هذا الكتاب قد جمعته وأتقنته من أكثر من سبعمائة ألف وخمسين ألفا فما اختلف المسلمون فيه من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فارجعوا إليه فإن وجدتموه فيه وإلا فليس بحجة - وصنف التفسير وهو مائة ألف وعشرون ألف حديث - وصنف التاريخ والناسخ والمنسوخ والمقدم والمؤخر في كتاب الله تعالى وجوابات القرآن والرد على الزنادقة في دعواهم التناقض في القرآن والرد على الجهمية وفضائل الصحابة والمناسك الكبير والصغير وكتاب الزهد وحديث شعبة وغير ذلك من الكتب.

 

‌‌ذكر بعض ما أنشده من الشعر له ولغيره

عن أحمد بن يحيى قال كنت أحب أن أرى أحمد بن حنبل فسرت إليه فلما دخلت عليه قال لي فيم جئت قلت في النحو والعربية فأنشد أحمد بن حنبل رضي الله عنه:

إذا ما خلوت الدهر يومًا فلا تقل … خلوت ولكن قل علي رقيب

ولا تحسبن الله يغفل ساعة … ولا أن ما يخفى عليه يغيب

لهونا عن الأعمال حتى تتابعت … ذنوب على آثارهن ذنوب

فيا ليت أن الله يغفر ما مضى … ويأذن في توباتنا فنتوب

إذا ما مضى القرن الذي أنت فيهم … وخلفت في قرن فأنت غريب

وعن علي بن خشرم أنه سمع أحمد بن حنبل يقول:

تفنى اللذاذة ممن نال صفوتها … من الحرام ويبقى الأثم والعار

تبقى عواقب سوء من مغبتها … لاخير في لذة من بعدها النار

وروي من قوله في علي بن المديني:

يا ابن المديني الذي عرضت له … دنيا فجاد بدينه لينالها

ماذا دعاك إلى انتحال مقالة … قد كنت تزعم كافرًا من قالها

أمر بدا لك رشده فتبعته … أم زهرة الدنيا أردت نوالها

ولقد عهدتك مرة متشددًا … صعب المفادة التي تدعى لها
তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে বলতেন, "তুমি এই মুসনাদটিকে সংরক্ষণ করো, কারণ এটি মানুষের জন্য ইমাম (পথপ্রদর্শক) হবে।" হাম্বল ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের অর্থাৎ আমাকে, সালিহ এবং আবদুল্লাহকে একত্রিত করলেন এবং আমাদের সামনে মুসনাদ পাঠ করলেন। আমাদের ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর কাছ থেকে এটি শোনেনি। তিনি আমাদের বললেন, "আমি এই কিতাবটি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি হাদিস থেকে সংকলন ও নিখুঁত করেছি। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস নিয়ে মুসলিমরা যখনই কোনো বিষয়ে মতভেদ করবে, তখন তোমরা এর দিকে ফিরে এসো। যদি তোমরা সেখানে তা পাও (তবে ভালো), অন্যথায় তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে না।" তিনি একটি তাফসীর গ্রন্থ রচনা করেন যা এক লক্ষ বিশ হাজার হাদিস সম্বলিত। তিনি ইতিহাস, নাসিখ ও মানসুখ (রহিত ও রহিতকারী), আল্লাহর কিতাবের মুকাদ্দাম ও মুয়াখখার (অগ্রবর্তী ও পশ্চাৎবর্তী), জাওয়াবাতুল কুরআন, যিন্দিকদের দাবিকৃত কুরআনের বৈপরীত্যের খণ্ডন, জাহমিয়াদের খণ্ডন, সাহাবীদের মর্যাদা, বড় ও ছোট হজ্জের নিয়মাবলী, যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) বিষয়ক কিতাব, শু’বাহর হাদিস এবং আরও অন্যান্য কিতাব রচনা করেছেন।

 

‌‌তাঁর নিজের এবং অন্যদের রচিত কিছু কবিতা আবৃত্তির উল্লেখ

আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতাম। তাই আমি তাঁর কাছে গেলাম। যখন আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম, তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি কী উদ্দেশ্যে এসেছ?' আমি বললাম, 'নাহু (ব্যাকরণ) এবং আরবী ভাষা শিক্ষার জন্য।' তখন আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবৃত্তি করলেন:"

যখন তুমি কখনো নির্জনে সময় কাটাবে, তখন বলো না যে … 'আমি নির্জনে আছি', বরং বলো যে 'আমার ওপর একজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন'

আর কখনো মনে করো না যে আল্লাহ এক মুহূর্তের জন্যও গাফেল হন … অথবা যা গোপন তা তাঁর কাছে অদৃশ্য থাকে

আমরা নেক আমল থেকে গাফেল হয়ে খেল-তামাশায় মগ্ন ছিলাম, যার ফলে … একের পর এক পাপ পুঞ্জীভূত হয়েছে

হায়, আল্লাহ যদি অতীতকে ক্ষমা করে দিতেন … এবং আমাদের তাওবা করার অনুমতি দিতেন তবে আমরা তাওবা করতাম

যখন তোমার সমসাময়িক প্রজন্ম বিদায় নেবে … এবং তুমি অন্য এক প্রজন্মের মাঝে রয়ে যাবে, তখন তুমি হবে একজন আগন্তুক

আলী ইবনে খাশরাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছেন:

যে ব্যক্তি হারাম থেকে নির্মল তৃপ্তি লাভ করে, তার সেই স্বাদ শেষ হয়ে যায় … কিন্তু পাপ ও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে

এর পরিণাম হিসেবে মন্দ পরিণতি থেকে যায় … সেই স্বাদে কোনো কল্যাণ নেই যার পরবর্তী পরিণতি হলো জাহান্নামের আগুন

আলী ইবনুল মাদীনীর ব্যাপারে তাঁর একটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে:

হে ইবনুল মাদীনী! যার সামনে দুনিয়া পেশ করা হয়েছিল … আর সে তা পাওয়ার জন্য নিজের দ্বীনকে বিলিয়ে দিল

কোন জিনিস তোমাকে এমন এক মতবাদ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করল … যার প্রবক্তাকে তুমি নিজেই একসময় কাফির বলতে?

তোমার কাছে কি এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যাকে তুমি সঠিক মনে করে অনুসরণ করেছ … নাকি তুমি দুনিয়ার চাকচিক্য লাভ করতে চেয়েছ?

আমি তোমাকে একসময় দেখেছি অত্যন্ত কঠোর হিসেবে … যার কাছে কোনো অযৌক্তিক দাবি নিয়ে যাওয়া ছিল দুঃসাধ্য
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৭)
إن المرزأ من يصاب بدينه … لا من يرزأ ناقة وفصالها

 

‌‌ذكر هيئته ووصفه

كان الإِمام أحمد رضي الله عنه شيخًا أسمر شديد السمرة طوالا وخضب رأسه ولحيته بالحناء وهو إبن ثلاث وستين سنة خضابا ليسى بالقاني وكان حسن الوجه في لحيته شعرات سود وثيابه كانت غلاظًا إلا أنها بيض وقال عبد الله ابَنه ما مشى أبى في سوق قط وكان رحمه الله أصبر الناس على الوحدة ولم يره أحد إلا في المسجد أو حضور جنازة أو عيادة مريض وعن الحسين بن إسماعيل قال سمعت أبي يقول كان يجتمع في مجلس أحمد زهاء خمسة ألاف أو يزيدون أقل من خمسمائة يكتبون والباقون يتعلمون منه حسن الأدب وحسن السمت وعن أبي بكر المطوعي قال اختلفت إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل اثنتي عشرة سنة وهو يقرأ المسند على أولاده فما كتبت منه حديثًا واحدًا إما كنت انظر إلى هديه وأخلاقه وآدابه.

 

‌‌ذكر حسن أخلاقه وعشرته

عن أبي داود السجستاني قال لم يكن أحمد بن حنبل يخوض في شيء مما يخوض فيه الناس من أمر الدنيا فإن ذكر العلم تكلم وقال مجالس أحمد بن حنبل مجالس الآخرة لا يذكر فيها شيء من أمر الدنيا ما رأيت أحمد بن حنبل ذكر الدنيا قط وعن الحسين بن المناوي قال سمعت جدي يقول كان أحمد من أحيى الناس وأكرمهم نفسًا وأحسنهم عشرة وأدبًا كثير الاطراق والغض معرضًا عن القبيح واللغو لا يسمع منه إلا المذاكرة بالحديث وذكر الصالحين والزهاد في وقار وسكون ولفظ حسن وإذا لقيه إنسان بشَ به وأقبل عليه وكان يتواضع للشيوخ تواضعًا شديدًا وكانوا يكرمونه ويعظمونه وسئل لم لا تصحب الناس قال لوحشة الفراق وعن إسحاق بن هانئ قال كنا عند أبي عبد الله أحمد بن حنبل في منزله ومعنا المروذي ومهنا بن يحيى الشامي فدق داق الباب وقال المروذي ها هنا وكان المروذي كره أن يعلم موضعه فوضع مهنا بن يحيى إصبعه في راحته وقال ليس المروذي ها هنا وما يصنع المروذي ها هنا فضحك أحمد ولم ينكر ذلك.

 

‌‌ذكر محنته رضي الله عنه

وسبب ذلك أنه لم تزل الناس على ما كان عليه السلف وقولهم أن القرآن غير
প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সেই, যে তার দ্বীনের ব্যাপারে বিপদে পড়ে … সে নয়, যে তার উষ্ট্রী ও তার শাবক হারায়।

 

‌‌তাঁর অবয়ব ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা

ইমাম আহমদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন অত্যন্ত শ্যামবর্ণের দীর্ঘদেহী এক শায়খ। তেষট্টি বছর বয়সে তিনি তাঁর মাথা ও দাড়িতে মেহেদি দিয়ে খেজাব লাগাতেন, যা খুব বেশি গাঢ় লাল ছিল না। তিনি সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিলেন, তাঁর দাড়িতে কিছু কালো চুল ছিল। তাঁর পোশাক ছিল মোটা কাপড়ের, তবে তা ছিল সাদা। তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ বলেন, আমার পিতা কখনো বাজারে হাঁটতেন না। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) একাকীত্বের ওপর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ছিলেন। তাঁকে মসজিদ, জানাজায় উপস্থিত হওয়া অথবা অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা ব্যতীত অন্য কোথাও দেখা যেত না। হুসাইন ইবনে ইসমাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আহমদের মজলিসে প্রায় পাঁচ হাজার বা তার চেয়েও বেশি মানুষ একত্রিত হতো। তাদের মধ্যে পাঁচশরও কম লোক লিখত, আর বাকিরা তাঁর কাছ থেকে উত্তম শিষ্টাচার ও গাম্ভীর্যপূর্ণ আচরণ শিখত। আবু বকর আল-মুতাওয়ি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারো বছর ধরে আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছে আসা-যাওয়া করেছি যখন তিনি তাঁর সন্তানদের কাছে 'মুসনাদ' পাঠ করে শোনাতেন। আমি সেখান থেকে একটি হাদিসও লিখিনি; বরং আমি শুধু তাঁর চালচলন, চরিত্র ও আদব লক্ষ্য করতাম।

 

‌‌তাঁর উত্তম চরিত্র ও মেলামেশার বর্ণনা

আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে হাম্বল দুনিয়াদারির সেই সব বিষয়ে লিপ্ত হতেন না যেগুলোতে মানুষ লিপ্ত হতো। যখন ইলম নিয়ে আলোচনা হতো, তখন তিনি কথা বলতেন। তিনি আরও বলেন, আহমদ ইবনে হাম্বলের মজলিসগুলো ছিল আখিরাতের মজলিস, সেখানে দুনিয়াবি কোনো বিষয় আলোচনা করা হতো না। আমি কখনো আহমদ ইবনে হাম্বলকে দুনিয়া নিয়ে আলোচনা করতে দেখিনি। হুসাইন ইবনুল মুনাওয়ি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার দাদাকে বলতে শুনেছি, আহমদ ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লজ্জাশীল, মহানুভব এবং সাহচর্যে ও আদবে সবচেয়ে উত্তম। তিনি অধিক সময় মাথা নিচু করে থাকতেন ও দৃষ্টি অবনমিত রাখতেন। তিনি মন্দ ও অসার বিষয় থেকে বিমুখ থাকতেন। তাঁর কাছ থেকে গাম্ভীর্য, প্রশান্তি ও সুন্দর ভাষায় কেবল হাদিসের আলোচনা এবং নেককার ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিদের কথা শোনা যেত। কোনো ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি হাসিমুখে তাঁর দিকে এগিয়ে আসতেন। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং তাঁরাও তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন মানুষের সাথে মেলামেশা করেন না? তিনি বললেন, বিচ্ছেদের আশঙ্কায়। ইসহাক ইবনে হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলের বাড়িতে ছিলাম। আমাদের সাথে মারওয়াজি এবং মুহান্না ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শামি ছিলেন। কেউ একজন দরজায় কড়া নেড়ে জিজ্ঞেস করল, মারওয়াজি কি এখানে আছেন? মারওয়াজি তাঁর অবস্থান প্রকাশ হওয়া অপছন্দ করছিলেন। তখন মুহান্না ইবনে ইয়াহইয়া তাঁর হাতের তালুতে আঙুল রেখে বললেন, মারওয়াজি এখানে নেই, মারওয়াজি এখানে কী করবেন? আহমদ তখন হাসলেন এবং বিষয়টি অপছন্দ করেননি।

 

‌‌তাঁর অগ্নিপরীক্ষার (মিহনা) বর্ণনা, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন

এর কারণ ছিল এই যে, মানুষ সর্বদা সালাফদের আদর্শের ওপর এবং তাদের এই কথার ওপর অটল ছিল যে, কুরআন সৃষ্টি নয়...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৮)
مخلوق حتى ظهرت المعتزلة الضالة وقالت يخلق القرآن وكان الناس في زمن أمير المؤمنين هارون الرشيد على ما كان عليه السلف كما روي عن محمد بن نوح قال سمعت هارون أمير المؤمنين يقول بلغني أن بشر المريسي زعم أن القرآن مخلوق على أن ظفرني الله به لأقتلنه قتلة ما قتلها أحد قط. واستمر الأمر كذلك في زمن الأمين محمد بن هارون الرشيد. ثم ولي المأمون أبو جعفر عبد الله بن هارون الرشيد وكانت ولايته في الحرم وقيل في رجب سنة ثمان وتسعين ومائة فصار إليه قوم من المعتزلة وأزاغوه عن طريق الحق إلى الباطل وحسنوا له قبيح القول بخلق القرآن فصار إلى مقالتهم وقدر أنه في آخر عمره خرج من بغداد لغزو بلاد الروم فعن له أن يكتب إلى إسحاق بن إبراهيم بن مصعب صاحب الشرطة ببغداد أن يدعو الناس إلى القول بخلق القرآن. فاستدعى جماعة من

العلماء والقضاة وأئمة الحديث ودعاهم إلى ذلك فامتنعوا فهددهم فأجاب أكثرهم مكرهين واستمر الإمام أحمد رضي الله عنه على الامتناع فلما أصر حمل على بعير وسيروه إلى الخليفة فبلغه توعد الخليفة له بالقتل إن لم يجب إلى القول بخلق القرآن فتوجه الإمام أحمد بالدعاء إلى الله تعالى أن لا يجمع بينه وبينه فبينما هو في الطريق قبل وصوله إليه إذ جاءهم الصريخ بموت المأمون وكان موته في شهر رجب سنة ثمان عشرة ومائتين. فرد الإِمام أحمد إلى بغداد وحبس - ثم ولي الخلافة المعتصم وهو أبو اسحاق محمد بن هارون الرشيد وقدم من بلاد الروم فدخل بغداد في مستهل شهر رمضان سنة ثمان عشرة ومائتين فامتحن الإِمام وضرب بين يديه في الشهر المذكور وكان ما كان. . . ثم أمر الخليفة بحبسه فبقي محبوسًا نحو ثمانية وعشرين شهرًا آخرها رمضان سنة عشرين ومائتين - ثم في ربيع الأول سنة سبع وعشرين ومائتين ولي الواثق وهو أبو جعفر هارون بن المعتصم فلم يتعرض للإِمام في شيء وإنما امره أن يختفي فاختفى الإمام إلى أن توفي الواثق - ولما ولي المتوكل وهو أبو الفضل جعفر بن المعتصم وكانت ولايته في ذي الحجة سنة اثنين وثلاثين ومائتين خالف ما كان عليه المأمون والمعتصم والواثق من الاعتقاد وطعن عليهم. فيما كانوا يقولونه من خلق القرآن ونهى عن الجدل والمناظرة في الآراء وعاقب عليه وأمر بإظهار الرواية للحديث فأظهر الله به السنة وأمات البدعة فاستبشر الناس بولايته وأمر بالقبض على
সৃষ্টি, যতক্ষণ না পথভ্রষ্ট মুতাজিলাদের আবির্ভাব ঘটল এবং তারা বলল কুরআন সৃষ্ট। আমীরুল মুমিনীন হারুন রশীদের যুগে মানুষ সেই আদর্শের ওপরই ছিল যার ওপর সালাফগণ ছিলেন। যেমন মুহাম্মাদ বিন নূহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি আমীরুল মুমিনীন হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে বিশর আল-মারীসী দাবি করেছে কুরআন সৃষ্ট। যদি আল্লাহ আমাকে তার ওপর বিজয় দান করেন, তবে আমি তাকে এমনভাবে হত্যা করব যা কেউ কখনো দেখেনি। হারুন রশীদের পুত্র আমীন মুহাম্মাদের যুগেও বিষয়টি এমনই ছিল। এরপর মামুন আবু জাফর আব্দুল্লাহ বিন হারুন রশীদ খিলাফত লাভ করেন। তাঁর ক্ষমতা লাভ হারাম শরীফ এলাকায় হয়েছিল, মতান্তরে একশত আটানব্বই হিজরীর রজব মাসে। তখন মুতাজিলাদের একটি দল তাঁর কাছে আসে এবং তারা তাঁকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করে বাতিলের দিকে ধাবিত করে। তারা কুরআন সৃষ্টির মতো নিকৃষ্ট বক্তব্যকে তাঁর সামনে সুশোভিত করে পেশ করে, ফলে তিনি তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করেন। তাঁর শেষ জীবনে তিনি রোম বিজয়ের উদ্দেশ্যে বাগদাদ ত্যাগ করার সময় মনস্থ করেন যে, তিনি বাগদাদের পুলিশ প্রধান ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মুসআবের কাছে একটি পত্র লিখবেন যাতে তিনি মানুষকে কুরআন সৃষ্টির মতবাদের দিকে আহ্বান করেন। তিনি একদল

আলেম, বিচারক এবং হাদীসের ইমামদের তলব করলেন এবং তাদেরকে সেই বিষয়ের দিকে আহ্বান জানালেন। তারা তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন তিনি তাদের হুমকি দিলেন, ফলে তাদের অধিকাংশ অনিচ্ছাসত্ত্বেও সায় দিলেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ (রাযিআল্লাহু আনহু) তা প্রত্যাখ্যান করার ওপর অটল থাকলেন। যখন তিনি জেদ ধরলেন, তখন তাকে একটি উটের ওপর আরোহণ করিয়ে খলীফার কাছে পাঠানো হলো। তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, খলীফা তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন যদি তিনি কুরআন সৃষ্টির মতবাদে সম্মতি না দেন। তখন ইমাম আহমাদ মহান আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যেন আল্লাহ তাঁকে ও খলীফাকে সামনাসামনি না করেন। পথিমধ্যে তাঁর কাছে পৌঁছানোর পূর্বেই মামুনের মৃত্যু সংবাদ সম্বলিত আর্তচিৎকার তাঁদের কানে এল। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল দুইশত আঠারো হিজরীর রজব মাসে। ইমাম আহমাদকে বাগদাদে ফিরিয়ে আনা হলো এবং কারারুদ্ধ করা হলো। এরপর মুতাসিম খিলাফতে আসলেন, তিনি হলেন আবু ইসহাক মুহাম্মাদ বিন হারুন রশীদ। তিনি রোম দেশ থেকে ফিরে এসে দুইশত আঠারো হিজরীর রমজান মাসের শুরুতে বাগদাদে প্রবেশ করলেন। এরপর ইমামকে পরীক্ষা করা হলো এবং উক্ত মাসে খলীফার সামনেই তাকে প্রহার করা হলো এবং যা ঘটার তাই ঘটল... এরপর খলীফা তাঁকে কারারুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। তিনি প্রায় আটাশ মাস বন্দী থাকলেন, যার শেষ সময় ছিল দুইশত বিশ হিজরীর রমজান মাস। এরপর দুইশত সাতাশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে ওয়াসিক খলীফা হলেন, তিনি হলেন আবু জাফর হারুন বিন মুতাসিম। তিনি ইমামের কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলেন না, বরং তাঁকে আত্মগোপন করে থাকতে নির্দেশ দিলেন। ফলে ওয়াসিকের মৃত্যু পর্যন্ত ইমাম আত্মগোপন করে থাকলেন। এরপর যখন মুতাওয়াক্কিল আবু ফজল জাফর বিন মুতাসিম খলীফা হলেন—তাঁর খিলাফত লাভ ছিল দুইশত বত্রিশ হিজরীর যিলহজ মাসে—তিনি মামুন, মুতাসিম ও ওয়াসিক যে বিশ্বাসের ওপর ছিলেন তার বিরোধিতা করলেন এবং কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যের নিন্দা করলেন। তিনি বিভিন্ন মতের বিষয়ে বিতর্ক ও মুনাজারা নিষিদ্ধ করলেন এবং এর জন্য শাস্তির বিধান দিলেন। তিনি হাদীস বর্ণনার প্রসারের নির্দেশ দিলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সুন্নাহকে বিজয়ী করলেন এবং বিদআতকে নির্মূল করলেন। এতে মানুষ তাঁর খিলাফত লাভে আনন্দিত হলো এবং তিনি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেন...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ৯)
وزيره الزيات فوضعه في تنور إلى أن مات. وذلك سنة ثلاث وثلاثين ومائتين وابتلي قاضي القضاة أحمد بن أبي داود بالفالج بعد موت الوزير بسبعة وأربعين يومًا فولي القضاء مكانه ولده محمد فلم تكن طريقته مرضية ثم سخط المتوكل عل أحمد بن أبي داود وولده في سنة 239 وأخذ جميع ضياع الأب وأمواله وأخذ من الولد مائة وعشرين ألف دينار وجوهرًا بأربعين ألف دينار وسيره إلى بغداد وولى القاضي يحيى بن أكتم قضاء القضاة وكان من أئمة الدين وعلماء السنة ثم مات ابن أبي داود بمرض الفالج في المحرم سنة أربعين ومائتين ومات ولده محمد قبله بعشرين يومًا وكان بشر المريسي قد أهلكه الله ومات في ذي الحجة سنة 218 وعن عمران بن موسى قال دخلت على أبي العروق الجلاد الذي ضرب الإمام أحمد

لانظر إليه فمكث خمسًا وأربعين يومًا ينبح كما ينبح الكلب وقد انتقم الله من كل خصومه المبتدعين الذين سعوا في أمره وخذلهم ونصره عليهم بحول الله وقوته وبركة كتابه العزيز وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وشرع المتوكل في الإحسان إلى الإِمام وتعظيمه وإكرامه وكتب إلى نائبه بغداد إسحاق بن إبراهيم أن يبعث إليه بالإِمام أحمد فبعث به معظمًا مكرمًا إلى الخليفة بسر من رأى قال عبد الله بن أحمد وبعث المتوكل يقول أحببت أن أراك وأن أتبرك بدعائك وأنزلنا دارًا والمتوكل يرانا من وراء الستر فأمر لأبي بثياب ودراهم وخلعة فبكى وقال أنسلم من هؤلاء منذ ستين سنة فلما كان آخر العمر ابتليت بهم ولما جاؤوا بالخلعة لم يمسها فجعلها على كتفيه فما زال يتحرك حتى رمى بها وأبى أن يقبل المال فقبل له أن رددتُه وجد عليك في نفسه ففرقه على مستحقيه ولم يأخذ منه شيئًا وكان كل يوم يرسل إليه من طعامه الخاص فلا يأكل منه لقمة قال صالح وأمر المتوكل أن يشرى له في دارًا فقال أبي يا صالح إن أقررت لهم بشراء دار لتكونن القطيعة بيني وبينك فلم يزل يدفع شراء الدار حتى اندفع ثم عاد إلى بغداد وكان المتوكل لا يولي احدًا إلا بمشورة الإمام أحمد ومكث الإمام إلى حين وفاته قل أن يأتي يوم إلا ورسالة الخليفة تنفذ إليه في أمور يشاوره فيها رحمهما الله تعالى.

 

‌‌ذكر وفاته رضي الله عنه

مرض الإِمام ليلة الأربعاء لليلتين خلتا من شهر ربيع الأول فأقبل الناس لعيادته
তাঁর উজির আল-যাইয়াত তাকে একটি তন্দুরে (চুলায়) নিক্ষেপ করেন এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এটি ছিল ২৩৩ হিজরি সালের ঘটনা। উজিরের মৃত্যুর সাতচল্লিশ দিন পর প্রধান বিচারপতি আহমদ ইবনে আবি দুয়াদ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তাঁর স্থলে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর কর্মপন্থা সন্তোষজনক ছিল না। অতঃপর ২৩৯ হিজরি সালে খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল আহমদ ইবনে আবি দুয়াদ ও তাঁর পুত্রের ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং পিতার সকল স্থাবর সম্পত্তি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। তিনি পুত্রের নিকট থেকে এক লক্ষ বিশ হাজার দিনার এবং চল্লিশ হাজার দিনার মূল্যের রত্নরাজি গ্রহণ করে তাকে বাগদাদে পাঠিয়ে দেন। তিনি কাজী ইয়াহইয়া ইবনে আকসামকে প্রধান বিচারপতির পদে নিযুক্ত করেন, যিনি ছিলেন দ্বীনের ইমামগণের অন্যতম এবং সুন্নাহর আলেম। অতঃপর ২৪০ হিজরির মহররম মাসে পক্ষাঘাত রোগে ইবনে আবি দুয়াদ মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তাঁর বিশ দিন পূর্বে মারা যান। বিশর আল-মারিসীকে আল্লাহ ধ্বংস করেছিলেন এবং তিনি ২১৮ হিজরির জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। ইমরান ইবনে মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আল-আরুক জল্লাদের কাছে গিয়েছিলাম, যে ইমাম আহমদকে প্রহার করেছিল

তাকে দেখার জন্য। সে পঁয়তাল্লিশ দিন পর্যন্ত কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে করতে অতিবাহিত করে। আল্লাহ সেই সকল বিদআতি শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিলেন যারা তাঁর বিষয়ে চক্রান্ত করেছিল; আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেন এবং আল্লাহর শক্তি, সামর্থ্য, তাঁর মহান কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর বরকতে তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করেন। আল-মুতাওয়াক্কিল ইমামের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন, তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান শুরু করেন। তিনি বাগদাদে তাঁর প্রতিনিধি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমকে পত্র লিখলেন যেন তিনি ইমাম আহমদকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেন। অতঃপর অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে তাঁকে 'সুররা মান রাআ' (সামাররা) শহরে খলিফার নিকট পাঠানো হলো। আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ বলেন, আল-মুতাওয়াক্কিল এই বলে বার্তা পাঠালেন যে, 'আমি আপনাকে দেখতে চাই এবং আপনার দোয়ার মাধ্যমে বরকত লাভ করতে চাই'। তিনি আমাদের একটি বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন এবং আল-মুতাওয়াক্কিল পর্দার আড়াল থেকে আমাদের দেখতেন। তিনি পিতার জন্য পোশাক, দিরহাম এবং সম্মানসূচক পোশাকের (খেলাত) নির্দেশ দিলেন। পিতা কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, 'ষাট বছর কি এদের থেকে নিরাপদে থাকব? জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি এদের মাধ্যমে পরীক্ষায় পতিত হলাম'। যখন তারা খেলাত নিয়ে এল, তিনি তা স্পর্শও করলেন না, বরং সেটি তাঁর কাঁধের ওপর রাখলেন। তিনি অনবরত নড়াচড়া করতে থাকলেন যতক্ষণ না সেটি পড়ে যায়। তিনি অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। তাঁকে বলা হলো যে, যদি আপনি এটি ফিরিয়ে দেন তবে তিনি (খলিফা) মনে কষ্ট পাবেন; তাই তিনি তা হকদারদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন এবং নিজে কিছুই গ্রহণ করলেন না। প্রতিদিন খলিফার খাস খাবার থেকে তাঁর নিকট পাঠানো হতো, কিন্তু তিনি তা থেকে এক লোকমাও খেতেন না। সালেহ বলেন, আল-মুতাওয়াক্কিল নির্দেশ দিলেন যে তাঁর জন্য যেন একটি বাড়ি কেনা হয়। পিতা বললেন, 'হে সালেহ! তুমি যদি তাদের বাড়ি কেনার অনুমতি দাও তবে তোমার ও আমার মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে'। তিনি বাড়ি কেনা প্রতিহত করতে থাকলেন যতক্ষণ না সেটি স্থগিত হলো। এরপর তিনি বাগদাদে ফিরে এলেন। আল-মুতাওয়াক্কিল ইমাম আহমদের পরামর্শ ব্যতীত কাউকে কোনো পদে নিয়োগ দিতেন না। ইমামের মৃত্যু পর্যন্ত এমন দিন খুব কমই যেত যে দিন খলিফার পত্র তাঁর কাছে পৌঁছাত না, যেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

 

‌‌তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) মৃত্যুর আলোচনা

রবিউল আউয়াল মাসের দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার রাতে ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মানুষ তাঁকে দেখতে আসতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১০)
وكثروا ولزموا الباب بالليل والنهار وسمع السلطان بكثرة الناس فوكل ببابه وباب الزقاق المرابطة وأصحاب الأخبار فأغلق باب الزقاق وكان الناس بالشوارع والمساجد حتى تعطل بعض الباعة وكان ابن عطاء يتعاهده بالغداة والعشي ولم يجتمعا وجاء إليه حاجب ابن طاهر وقالا أن الأمير يقرئك السلام وهو يشتهي أن يراك فقال له هذا مما أكره وجاء بنو هاشم فدخلوا عليه وجعلوا يبكون وجاء قوم من القضاة وغيرهم فلم يؤذن لهم وكان يخدمه في أموره المروذي وكان قد كتب وصيته فقال اقرأوها فقرئت عليه ونسختها (بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما أوصى به أحمد بن محمد بن حنبل أوصى أنه يشهد أن لا

إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدًا عبده ورسوله أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره عَلَى الدين كله ولو كره المشركون وأوصى من أطاعه من أهله وقرابته أن يعبدوا الله تعالى في العابدين وأن يحمدوه في الحامدين وأن ينصحوا لجماعة المسلمين وإني رضيت بالله ربًا وبالإِسلام دينًا وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبيًا ورسولًا وأوصى أن لعبد الله فوران علي نحوًا من خمسين دينارًا وهو يصدق فيما قال فيقضى ماله على من غلة الدار إن شاء الله تعالى) انتهى. فلما مات أحله فوران من دينه ولم يأخذه فإنه كان من أعظم أصحابه ثم أن الإمام استدعى بالصبيان من ذريته فجعلوا ينضمون إليه وجعل يشمهم ويمسح بيده على رؤوسهم وعينه تدمع فقال له رجل لا تغتم لهم يا أبا عبد الله فأشار بيده أن لا وجعل يدعو لهم واشتدت به العلة يوم الخميس قال المروذي فلما كانت ليلة الجمعة ثقل وظننت أنه قبض وأردنا أن نمده فجعل يقبض قدميه وهو موجه وجعلنا نلقنه فيقول لا إله إلا الله وهو مستقبل القبلة بقدميه فلما كان يوم الجمعة اجتمع الناس حتى ملأوا السكك والشوارع فلما كان النهار من يوم الجمعة الثاني عشر من شهر ربيع الأول سنة إحدى وأربعين ومائتين قبض رحمه الله وله سبع وسبعون سنة وكان مرضه تسعة أيام وبعض العاشر فصاح الناس وعلت الأصوات بالبكاء حتى كأن الدنيا قد ارتجت وقعد الناس فخفنا أن ندع الجمعة فأشرفت عليهم فأخبرتهم أنا نخرجه بعد صلاة الجمعة قال المروذي فلما فرغنا من غسله وأردنا أن نكفنه غلبنا عليه بنو هاشم وجعلوا يبكون عليه ويأتون بأولادهم فيبكون عليه ويقبلونه وكان له ثلاث شعرات من شعر النبي صلى الله عليه وسلم فأوصى أن يجعل في كل عين شعرة وعلى لسانه شعرة
মানুষের ভিড় বৃদ্ধি পেল এবং তারা দিনরাত দরজায় লেগে থাকল। সুলতান মানুষের এই আধিক্যের কথা শুনে তাঁর দরজায় এবং গলির মুখে প্রহরী ও সংবাদ সংগ্রাহকদের নিযুক্ত করলেন। ফলে গলির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হলো। মানুষ রাস্তায় ও মসজিদে সমবেত হতে লাগল, এমনকি কিছু ব্যবসায়ীর কারবার বন্ধ হয়ে গেল। ইবনে আতা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর খোঁজ নিতেন, যদিও তাঁদের সাক্ষাৎ হয়নি। ইবনে তাহেরের দ্বাররক্ষী তাঁর কাছে এল এবং তারা বলল যে, আমির আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং তিনি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে ইচ্ছুক। তিনি তাকে বললেন, "এটি এমন বিষয় যা আমি অপছন্দ করি।" বনু হাশিমের লোকেরা এল এবং তাঁর নিকট প্রবেশ করে কাঁদতে লাগল। বিচারক ও অন্যান্যদের একটি দল এল, কিন্তু তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো না। আল-মাররূযী তাঁর কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন। ইমাম তাঁর অসিয়ত লিখেছিলেন এবং বললেন, "এটি পড়ো।" তাঁর সামনে তা পাঠ করা হলো এবং এর অনুলিপি ছিল নিম্নরূপ: (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি সেই অসিয়ত যা আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল করেছেন। তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য

ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যেন একে সমস্ত দীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপصন্দ করে। তিনি তাঁর পরিবার ও আত্মীয়দের মধ্য থেকে যারা তাঁর অনুগত তাদের অসিয়ত করছেন যে, তারা যেন ইবাদতকারীদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে, প্রশংসাকারীদের সাথে তাঁর প্রশংসা করে এবং মুসলিমদের জামাআতের কল্যাণ কামনা করে। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি। তিনি আরও অসিয়ত করছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে ফাওরানের আমার কাছে প্রায় পঞ্চাশ দিনার পাওনা রয়েছে। তিনি যা বলবেন তাতে যেন তাকে সত্যবাদী গণ্য করা হয়। অতএব গৃহের আয় থেকে তাঁর প্রাপ্য পরিশোধ করা হবে, ইনশাআল্লাহু তাআলা।) সমাপ্ত। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, ফাওরান তাঁকে ঋণ থেকে মুক্তি দিলেন এবং তা গ্রহণ করলেন না, কেননা তিনি ছিলেন তাঁর শ্রেষ্ঠ সাথীদের একজন। এরপর ইমাম তাঁর বংশের শিশুদের ডাকলেন এবং তারা তাঁর কাছে জড়ো হতে লাগল। তিনি তাদের ঘ্রাণ নিতে লাগলেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের মাথায় তাঁর হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতে লাগলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, "হে আবু আব্দুল্লাহ, তাদের জন্য চিন্তিত হবেন না।" তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন যে, না (তিনি চিন্তিত নন) এবং তাদের জন্য দুআ করতে লাগলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অসুস্থতা অত্যন্ত তীব্র হলো। মাররূযী বলেন, যখন জুমার রাত এল, তাঁর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলো এবং আমি মনে করলাম যে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমরা যখন তাঁর দেহ সোজা করতে চাইলাম, তিনি তাঁর পা দুটি গুটিয়ে নিচ্ছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি কিবলার দিকে মুখ করে ছিলেন। আমরা তাঁকে কালিমার তালকিন দিচ্ছিলাম, আর তিনি কিবলার দিকে পা রেখে বলছিলেন—"আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই"। যখন জুমার দিন এল, মানুষ সমবেত হয়ে গলি ও রাস্তাঘাট পূর্ণ করে ফেলল। ২৪১ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ জুমার দিন বেলা বাড়লে তিনি ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল সাতাত্তর বছর। তাঁর অসুস্থতা ছিল নয় দিন এবং দশম দিনের কিছু অংশ। তখন মানুষ চিৎকার করে উঠল এবং কান্নার রোল এমন উচ্চকিত হলো যেন পৃথিবী প্রকম্পিত হচ্ছে। মানুষ বসে পড়ল এবং আমাদের ভয় হলো যে আমরা হয়তো জুমার সালাত ছেড়ে দেব। তাই আমি তাদের সামনে গিয়ে অবহিত করলাম যে, জুমার সালাতের পর আমরা তাঁকে বের করব। মাররূযী বলেন, যখন আমরা গোসল শেষ করে তাঁকে কাফন পরাতে চাইলাম, তখন বনু হাশিমের লোকেরা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করল এবং তারা তাঁর জন্য কাঁদতে লাগল। তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে এল, তারাও তাঁর জন্য কাঁদল এবং তাঁকে চুম্বন করল। তাঁর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিনটি চুল ছিল। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর প্রতিটি চোখে একটি করে চুল এবং তাঁর জিহ্বার ওপর একটি চুল রাখা হয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১১)
ووضعناه على السرير وشددناه بالعمائم وحمل جنازته وصلى عليه محمد بن عبد الله بن طاهر وكانت الصفوف من الميدان إلى باب القطيعة وحزر من حضرها من الرجال بمائة ألف ومن النساء بستين ألفًا غير من كان في الطرق وفي السفن. وعلى السطوح وقيل أكثر من ذلك ودفن بباب حرب ببغداد وقبره ظاهر مشهور يزار ويتبرك به وما خلف إلا ستة قطع أو سبعة في خرقة كان يمسح بها وجهه وقال أمير المؤمنين المتوكل لمحمد بن عبد الله بن طاهر طوبى لك صليت على أحمد بن حنبل وعن

أبي الحسن التميمي عن أبيه عن جده أنه حضر جنازة الإمام أحمد قال فمكثت طول الأسبوع رجاء أن أصل إلى قبره فلم أصل من ازدحام الناس عليه وأسلم يوم مات أحمد بن حنبل عشرون ألفًا من اليهود والنصارى والمجوس ووقع عليه المآتم من جميع الطوائف وكان الإمام أحمد يقول بيننا وبينهم يوم الجنائز يعني أهل البدع - وكان له كرامات واضحة رضي الله عنه فمن كراماته ما روي عن ابنه عبد الله قال رأيت أبي حرج على النمل أن تخرج من داره ثم رأيت النمل قد خرجت نملًا سودًا فلم أرها بعد ذلك وقال أبو طالب علي بن أحمد دخلت يومًا على أبي عبد الله وهو يملي وأنا أكتب فاندق قلمي فأخذ قلمًا فأعطانيه فجئت بالقلم إلى أبي علي الجعفري فقلت هذا قلم أبي عبد الله أعطانيه فقال لغلامه خذ القلم فضعه في النخلة عسى تحمل فوضعه فيها فحملت النخلة - وروي عن قاضي القضاة ابن الحسين الزيني أن الحريق وقع في دارهم فاحترق ما فيها إلا كتاب كان فيه شيء بخط الإِمام أحمد وذكر الشيخ الإمام أبو الفرج بن الجوزي قال لما وقع الغريق ببغداد سنة أربع وخمسين وخمسمائة وغرقت كتبي سلم لي مجلد فيه ورقات من خط الإمام أحمد رضي الله تعالى عنه وعن الربيع بن سليمان قال كتب الشافعي كتابًا إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل ثم قال لي يا أبا سليمان انحدر بكتابي هذا إلى العراق إلى أحمد بن حنبل ولا تقرأه فأخذت الكتاب وخرجت من مصر حتى قدمت العراق فوافيت مسجد أحمد بن حنبل فصادفه يصلي الفجر فصليت معه وكنت لم أركع السنة فقمت أركع عقيب الصلاة فجعل ينظر إلي مليًا حتى عوفني فلما سلمت من صلاتي سلمت عليه وأوصلت كتابي إليه فجعل يسألني عن الشافعي طويلًا قبل أن ينظر في الكتاب ثم فضه وقرأه حتى إذا بلغ موضعًا منه بكى وقال أرجو من الله تعالى أن يحقق ما قاله الشافعي

আমরা তাকে খাটিয়ার ওপর রাখলাম এবং পাগড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে দিলাম। তার জানাজা বহন করা হলো এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহের তার জানাজা পড়ালেন। কাতারগুলো ময়দান থেকে বাবুিল কাতিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা এক লক্ষ এবং মহিলাদের সংখ্যা ষাট হাজার অনুমান করা হয়েছিল, যারা রাস্তায়, নৌকায় এবং ছাদে ছিল তাদের ব্যতীত। বলা হয় যে সংখ্যাটি এর চেয়েও বেশি ছিল। তাকে বাগদাদের বাবুিল হারবে দাফন করা হলো। তার কবর সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ, সেখানে জিয়ারত করা হয় এবং বরকত হাসিল করা হয়। তিনি মাত্র ছয় বা সাতটি রৌপ্যমুদ্রার বেশি কিছু রেখে যাননি, যা একটি ন্যাকড়ার মধ্যে ছিল যা দিয়ে তিনি তার মুখ মুছতেন। আমিরুল মুমিনীন আল-মুতাওয়াক্কিল মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তাহেরকে বললেন, "আপনার জন্য সুসংবাদ যে আপনি আহমদ বিন হাম্বলের জানাজা পড়েছেন।"

আবুল হাসান আত-তামিমী তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইমাম আহমদের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "আমি মানুষের ভিড়ের কারণে তার কবরের কাছে পৌঁছানোর আশায় পুরো এক সপ্তাহ অবস্থান করলাম, কিন্তু পৌঁছাতে পারিনি।" আহমদ বিন হাম্বল যে দিন মৃত্যুবরণ করেন, সে দিন বিশ হাজার ইহুদি, খ্রিস্টান এবং অগ্নিউপাসক ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তার জন্য শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। ইমাম আহমদ বলতেন, "আমাদের এবং বিদআতিদের মধ্যে জানাজার দিনই ফয়সালা হবে।" তার অনেক সুস্পষ্ট কারামত ছিল (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তার কারামতসমূহের মধ্যে একটি হলো যা তার পুত্র আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি আমার পিতাকে দেখলাম তিনি পিঁপড়াদের তার ঘর থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন, এরপর আমি দেখলাম কালো কালো পিঁপড়া বের হয়ে যাচ্ছে এবং এরপর আমি তাদের আর দেখিনি।" আবু তালিব আলী বিন আহমদ বলেন, "আমি একদিন আবু আব্দুল্লাহর কাছে প্রবেশ করলাম যখন তিনি শ্রুতলিখন দিচ্ছিলেন এবং আমি লিখছিলাম। তখন আমার কলমটি ভেঙে গেল, তিনি একটি কলম নিয়ে আমাকে দিলেন। আমি কলমটি নিয়ে আবু আলী আল-জাফরীর কাছে আসলাম এবং বললাম, এটি আবু আব্দুল্লাহর কলম যা তিনি আমাকে দিয়েছেন। তখন তিনি তার গোলামকে বললেন, কলমটি নিয়ে খেজুর গাছে রেখে দাও, হয়তো এটি ফলবতী হবে। সে সেটি সেখানে রাখল এবং খেজুর গাছটি ফলবতী হলো।" কাযিউল কুজাত ইবনুল হুসাইন আল-যাইনী থেকে বর্ণিত যে, তাদের বাড়িতে আগুন লেগেছিল এবং যা কিছু ছিল সব পুড়ে গিয়েছিল, কেবল একটি বই ছাড়া যাতে ইমাম আহমদের হাতের লেখা কিছু ছিল। শায়খ ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেছেন যে, যখন ৫৫৪ হিজরি সালে বাগদাদে প্লাবন দেখা দিল এবং আমার বইগুলো ডুবে গেল, তখন আমার একটি খাতা রক্ষা পেল যাতে ইমাম আহমদের হাতের লেখা কিছু পাতা ছিল (আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। রাবি বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম শাফিঈ আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বলের কাছে একটি পত্র লিখলেন এবং আমাকে বললেন, "হে আবু সুলাইমান! আমার এই পত্রটি নিয়ে ইরাকে আহমদ বিন হাম্বলের কাছে যাও এবং এটি পড়ো না।" আমি পত্রটি নিলাম এবং মিশর থেকে বের হয়ে ইরাকে পৌঁছালাম। আমি আহমদ বিন হাম্বলের মসজিদে উপস্থিত হলাম এবং তাকে ফজরের সালাত আদায় করতে দেখলাম। আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। আমি সুন্নাত পড়িনি বলে সালাতের পর তা আদায় করার জন্য দাড়ালাম। তিনি আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকাতে থাকলেন যতক্ষণ না আমাকে চিনতে পারলেন। যখন আমি সালাত শেষ করে তাকে সালাম দিলাম এবং তার কাছে পত্রটি পৌঁছালাম, তিনি পত্রে নজর দেওয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ আমার কাছে শাফিঈ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন। এরপর তিনি তা খুললেন এবং পড়লেন। যখন তিনি এর একটি বিশেষ স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি তিনি শাফিঈ যা বলেছেন তা সত্যে পরিণত করবেন।"

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১২)
قلت يا أبا عبد الله أي شيء قد كتب إليك قال أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم في نومه وهو يقول له يا ابن إدريس بشر هذا الفتى أبا عبد الله أحمد بن حنبل أنه سيمتحن في دين الله ويدعي أن يقول القرآن مخلوق فلا يفعل وأنه سيضرب بالسياط فإن الله عز وجل ينشر له بذلك علمًا لا ينطوي إلى يوم القيامة فقلت البشارة فأي شيء جائزتي عليها وكان عليه ثوبان فنزع

أحدهما فدفعه إلي وكان مما يلي جلده وأعطاني جواب الكتاب فخرجت حتى قدمت عَلَى الشافعي فأخبرته بما جرى قال فأين الثوب قلت هو ذا قال لا نبتاعه منك ولا نستهديك ولكن اغسله وجئنا به قال فغسلته وحملت مائه إليه فتركه في قنينة فكنت أراه في كل يوم يأخذ منه فيمسح على وجهه تبركًا بأحمد بن حنبل رضي الله عنهما. ومن ورعه أنه نهى ولديه وعمه عن أخذ العطاء من مال الخليفة فاعتذروا بالحاجة فهجرهم شهرًا وأجرى عليه المتوكل وعلى ولده وأهله أربعة آلاف درهم في كل شهر فبعث إليه أبو عبد الله أنهم في كفاية فبعث إليه المتوكل إنما هذا لولدك ما لك ولهذا وقال أحمد بن محمد التستري أتى على أحمد ثلاثة أيام ما طعم فيها شيئًا فبعث إلى صديق له فافترض منه شيئًا من دقيق فعرف أهله شدة حاجته إليه فخبزه عاجلًا فلما وضع بين يديه قال كيف خبزتم هذا بسرعة قالوا كان تنور صالح مسجورًا فخبزناه عاجلًا قال ارفعوه ولم يأكل منه لأن صالحًا ولي القضاء قال ابن عساكر لما ولي ابنه صالح القضاء كان بينه وبينه باب فسده الإمام أحمد وله غير ذلك شيء كثير رحمه الله تعالى.

 

‌‌ذكر ما قيل فيه من الأشعار والمراثي

قال إسماعيل الترمذي في قصيدة أنشدها أحمد بن حنبل رحمه الله وهو في سجن المحنة:

إذا ذكر الأشياخ يومًا وحرروا … فاحمد من بين المشايخ جوهر

دقيق أديم الوجه حلو مهذب … لدى كل ذي علم وتقوى موقر

لعمرك ما يهوى لأحمد نكبة … من الناس إلا ناقص العقل مغور

هو المحنة اليوم الذي يبتلى به … فيعتبر السني فينا ويسبر

شجى في حلوق الملحدين وقرة … لا عين أهل النسك عف مشمر
আমি বললাম, হে আবু আবদিল্লাহ, আপনার নিকট কী লেখা হয়েছে? তিনি বললেন, তিনি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন যে তিনি তাকে বলছেন, "হে ইবন ইদ্রিস, এই যুবক আবু আবদিল্লাহ আহমদ ইবন হাম্বলকে সুসংবাদ দাও যে, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাকে পরীক্ষা করা হবে এবং তাকে এই কথা বলার জন্য আহ্বান জানানো হবে যে কুরআন সৃষ্ট, কিন্তু তিনি তা করবেন না। আর তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করা হবে, যার ফলে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার জন্য এমন ইলম বা জ্ঞান প্রচার করবেন যা কিয়ামত পর্যন্ত শেষ হবে না।" আমি বললাম, এটি সুসংবাদ, এর বিনিময়ে আমার পুরস্কার কী? তখন তাঁর পরনে দুটি কাপড় ছিল, তিনি খুলে নিলেন

তাদের একটি এবং সেটি আমাকে প্রদান করলেন। সেটি ছিল তাঁর শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাক। তিনি আমাকে চিঠির উত্তরও প্রদান করলেন। আমি বেরিয়ে পড়লাম এবং অবশেষে শাফিঈর নিকট উপস্থিত হয়ে যা ঘটেছে তা তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বললেন, সেই কাপড়টি কোথায়? আমি বললাম, এই তো সেটি। তিনি বললেন, আমি এটি তোমার থেকে ক্রয় করব না এবং উপহার হিসেবেও গ্রহণ করব না, তবে এটি ধুয়ে তার পানি আমাদের নিকট নিয়ে এসো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেটি ধুয়ে তার পানি তাঁর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি তা একটি কাঁচের পাত্রে রাখলেন। আমি প্রতিদিন তাঁকে দেখতাম যে তিনি তা থেকে পানি নিয়ে আহমদ ইবন হাম্বল (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর বরকত লাভের উদ্দেশ্যে নিজ মুখমণ্ডলে মাখতেন। তাঁর পরহেজগারীর অন্যতম দিক হলো তিনি তাঁর দুই সন্তান ও চাচাকে খলিফার পক্ষ থেকে উপঢৌকন বা সম্পদ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন। তাঁরা অভাবের কথা বলে ক্ষমা চাইলে তিনি এক মাস তাঁদের সাথে কথা বলা বন্ধ রাখেন। খলিফা মুতাওয়াক্কিল তাঁর জন্য এবং তাঁর সন্তান ও পরিবারের জন্য প্রতি মাসে চার হাজার দিরহাম বরাদ্দ করেছিলেন। তখন আবু আবদিল্লাহ (আহমদ) তাঁর কাছে বার্তা পাঠালেন যে তাঁরা সচ্ছল আছেন। মুতাওয়াক্কিল তাঁকে লিখে পাঠালেন, এটি তো আপনার সন্তানদের জন্য, আপনার এতে বাধা দেওয়ার কী আছে? আহমদ ইবন মুহাম্মদ আত-তুস্তারি বলেন, আহমদের ওপর এমন তিন দিন অতিবাহিত হলো যখন তিনি কিছুই আহার করেননি। তখন তিনি তাঁর এক বন্ধুর নিকট লোক পাঠালেন এবং তাঁর নিকট থেকে কিছু আটা ঋণ চাইলেন। তাঁর পরিবার তাঁর তীব্র অভাব বুঝতে পেরে দ্রুত রুটি তৈরি করে ফেলল। যখন তা তাঁর সামনে রাখা হলো, তিনি বললেন, তোমরা এত দ্রুত এটি কীভাবে প্রস্তুত করলে? তাঁরা বলল, সালেহর চুলা প্রজ্বলিত ছিল, তাই আমরা দ্রুত রুটি সেঁকে নিয়েছি। তিনি বললেন, এটি সরিয়ে নাও। তিনি তা থেকে কিছুই আহার করলেন না, কারণ সালেহ কাজির (বিচারক) দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ইবন আসাকির বলেন, যখন তাঁর ছেলে সালেহ বিচারপতির পদ গ্রহণ করলেন, তখন আহমদের ও সালেহর কক্ষের মাঝে একটি দরজা ছিল যা ইমাম আহমদ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাঁর এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

‌‌তাঁর শানে রচিত কবিতা ও শোকগাথার বর্ণনা

ইসমাঈল তিরমিজি একটি কবিতায় বলেন যা তিনি আহমদ ইবন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এর পরীক্ষার সময় কারাগারে থাকাকালীন আবৃত্তি করেছিলেন:

যদি কোনোদিন শায়খদের আলোচনা করা হয় এবং তাঁদের মর্যাদা লিপিবদ্ধ করা হয় … তবে শায়খদের মাঝে আহমদ হলেন এক উজ্জ্বল রত্ন।

দীপ্ত মুখমণ্ডল, মিষ্টভাষী ও সুসংস্কৃত … সকল জ্ঞানবান ও পরহেজগার ব্যক্তির নিকট তিনি অত্যন্ত সম্মানিত।

তোমার জীবনের কসম! মানুষের মাঝে কেবল বুদ্ধিহীন ও পথভ্রষ্টরাই … আহমদের কোনো বিপদ বা অমঙ্গল কামনা করে।

তিনিই আজকের দিনের সেই পরীক্ষা যার মাধ্যমে মানুষকে যাচাই করা হয় … ফলে আমাদের মাঝে কে প্রকৃত সুন্নি তা চেনা যায় এবং পরখ করা হয়।

তিনি নাস্তিকদের কণ্ঠনালীর কাঁটা এবং চোখের বিষ … আর ইবাদতগুজারদের নয়নজুড়ানো শীতলতা, যিনি সদা পবিত্র ও অটল।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৩)
جرى سابقًا في حلبة الصدق والتقى … كما طبق الطرف الجواد المضمر

إذا افتخر الأقوام يومًا بسيد … ففيه لنا والحمد لله مفخر

فقل للأولى يشنونه لصلاحه … وعفته والمرء بالجهل يعذر

جُعلتم فداء أجمعين لنعله … فإنكم منها أذل وأحقر

لريحانه القراء تبغون عثرة … وكلكم من جيفة الكلب أقذر

فيا أيها الساعي ليدرك شأوه … رويدك عن إدراكه سنقصر

تمسك بالعلم الذي كان قد وعى … ولم يلهه عنه الخبيص المزعفر

ولا بغلة هملاجة مغربية … ولا حلة تطوى سرارًا وتنشر

ولا منزل بالساج والكلس متقن … ينقش فيه جصه ويصور

ولا أمة براقة الجيد حلوة … بمنطقها تصمي الحكيم وتسحر

حمى نفسه الدنيا وقد سنحت له … فمنزله إلا من القوت مقفر

فإن يك في الدنيا مقلا فإنه … من الأرب المحمود والعلم مكثر

ومما ينسب للإمام الشافعي:

أضحى ابن حنبل حجة مبرورة … ويحب أحمد يعرف المتنسك

وإذا رأيت لأحمد متنقصًا … فاعلم بأن ستوره ستهتك

ومما ينسب له أيضًا:

قالوا يزورك أحمد وتزوه … قلت الفضائل لا تفارق منزله

إن زارني فبفضله أو زرته … فلفضله فالفضل في الحالين له

وحكى أن الإِمام رضي الله عنه قال في حق الشافعي:

إن نختلف نسبًا يؤلف بيننا … أدب أقمناه مقام الوالد

أو يفترق ماء البلاد فوردنا … عذب تحدر من إناء واحد
সত্য ও তাকওয়ার ময়দানে তিনি পূর্বেই অগ্রসর হয়েছেন … যেমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তেজস্বী ঘোড়া লক্ষ্যপানে ধাবিত হয়।

যখন কোনো জাতি একদিন তাদের কোনো নেতাকে নিয়ে গর্ব করবে … তখন আল্লাহর প্রশংসায় আমাদের জন্য তার মাঝে রয়েছে গর্ব করার মতো অনেক কিছু।

সুতরাং সেই অগ্রবর্তীদের বলুন যারা তার সততা ও চারিত্রিক পবিত্রতার কারণে তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে … আর মানুষকে তো মূর্খতার কারণে ক্ষমা করা হয়।

তোমাদের সকলকে তার জুতার বিনিময়ে উৎসর্গ করা হোক … কারণ তোমরা তার চেয়েও অধিক লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ।

কারীবৃন্দের এই সুগন্ধি ফুলের মাঝে তোমরা ভুল তালাশ করছ … অথচ তোমাদের প্রত্যেকেই কুকুরের মৃতদেহের চেয়েও অধিক অপবিত্র।

হে সেই ব্যক্তি যে তার সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে সচেষ্ট! … সংযত হও, তার স্তরে পৌঁছাতে আমাদের অনেক ঘাটতি রয়েছে।

তিনি সেই ইলমকে আঁকড়ে ধরেছেন যা তিনি অর্জন করেছিলেন … জাফরান মিশ্রিত সুস্বাদু খাবার তাকে ইলম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

না কোনো দ্রুতগামী মরক্কান খচ্চর, … আর না কোনো রেশমি পোশাক যা গোপনে ভাঁজ করা হয় ও খোলা হয় তাকে প্রলুব্ধ করেছে।

না কোনো উন্নত কাষ্ঠ ও চুন দিয়ে নির্মিত সুদৃঢ় গৃহ, … যাতে নকশা খোদাই করা হয় এবং ছবি আঁকা হয়।

না কোনো লাবণ্যময়ী ও মিষ্টিভাষী দাসী, … যে তার বাকপটুতা দিয়ে জ্ঞানীদের কুপোকাত করে এবং মোহিত করে।

দুনিয়া তার সামনে উপস্থাপিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে দুনিয়া থেকে রক্ষা করেছেন … তাই তার ঘর সামান্য খাদ্য ছাড়া একেবারেই শূন্য।

তিনি যদি পার্থিব সম্পদে নিঃস্বও হন, তবে তিনি … প্রশংসনীয় প্রজ্ঞা ও ইলমে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর দিকে যা সম্বন্ধ করা হয়:

ইবন হাম্বল এক নেককার দলিলে পরিণত হয়েছেন … আর আহমাদের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমেই প্রকৃত ইবাদতগুজার ব্যক্তিকে চেনা যায়।

যখন আপনি কাউকে আহমাদের মানহানি করতে দেখবেন, … তখন জেনে রাখুন যে শীঘ্রই তার গোপনীয়তা ও দোষসমূহ উন্মোচিত হয়ে যাবে।

তার দিকে আরও যা সম্বন্ধ করা হয়:

লোকেরা বলল, "আহমাদ আপনাকে দেখতে আসেন এবং আপনিও তাকে দেখতে যান"; … আমি বললাম, "শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি তো তার ঘর ছেড়ে যায় না।"

যদি তিনি আমাকে দেখতে আসেন তবে তা তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ, আর যদি আমি তাকে দেখতে যাই … তবে তাও তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে; সুতরাং উভয় অবস্থাতেই শ্রেষ্ঠত্ব তারই প্রাপ্য।

বর্ণিত আছে যে, ইমাম (আহমাদ) রাদিয়াল্লাহু আনহু ইমাম শাফেয়ী সম্পর্কে বলেছেন:

যদিও বংশের দিক থেকে আমাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তবুও আমাদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে … সেই শিষ্টাচার যাকে আমরা পিতার স্থলাভিষিক্ত করেছি।

অথবা যদি বিভিন্ন ভূখণ্ডের পানি পৃথকও হয়, তবে আমাদের পানের উৎস হলো … একটি পাত্র থেকে নেমে আসা মিষ্ট পানি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الطبقة الأولى: فيمن عاصروه وأخذ عنهم وأخذوا عنه ممن لم يكن متمذهبًا بمذهبه

*‌‌ الشيخ معروف الكرخي

معروف بن الفيرزوان أبو محفوظ العابد المعروف بالكرخي منسوب إلى كرخ بغداد وكان أحد المشهورين بالزهد والعزوف عن الدنيا يغشاه الصالحون ويتبرك بمقامه العارفون وكان يوصف بأنه مجاب الدعوة وحكى عنه كرامات وأسند عنه أحاديث كثيرة عن بكر بن حنيس والربيع بن صبيح وغيرهما روى عنه خلف بن هشام البزار وزكريا بن يحيى المروزدي ويحيى بن أبي طالب وحكى عن إمامنا قال رأيت أحمد بن حنبل فتى عليه آثار النسك سمعته يقول كلامًا جمع فيه الخير وسمعته يقول من علم أنه إذا مات نسي أحسن ولم يسي وكان أحمد بن حنبل يقول معروف الكرخي من الابدال وهو مجاب الدعوة وذكر في مجلس أحمد أمر معروف الكرخي فقال بعض من حضر هو قصير العلم فقال أحمد امسك عافاك الله وهل يراد من العلم إلا ما وصل إليه معروف وحكى إسماعيل بن شداد قال: قال لنا سفيان بن عيينة من أين أنتم قلنا من أهل بغداد فقال ما فعل ذلك الحبر الذي فيكم قلنا من هو قال أبو محفوظ معروف قال قلنا بخير قال لا يزال أهل تلك المدينة بخير ما بقي فيهم وقال إبراهيم الحربي قبر معروف الترياق المجرب وقال رجل لمعروف أوصني فقال توكل على الله وأكثر ذكر الموت حتى لا يكون لك جليس غيره واعلم أن الناس لا ينفعونك ولا يضرونك ولا يمنعونك وقال معروف أني لأجد ألم الندم بعد الموت منذ الساعة وقال إذا أراد الله

بعبد خيرًا فتح عليه باب العمل وأغلق عنه باب الجدل وإذا أراد الله بعبد شرًا فتح له باب الجدل وأغلق عنه باب العمل وقال معروف بلغني أن من لعن إمامًا حرم عدله وقال معروف من صلى ست ركعات بعد المغرب غفر له ذنوب أربعين سنة وقال صدقة المقابري رأيت معروفًا في النوم وكأن أهل القبور جلوس وهو يختلف بينهم بالزيحان فقلت يا أبا محفوظ اليس قدمت فقال:

موت التقي حياة لا نفاد لها … قد مات قوم وهم في الناس أحياء

ومات معروف سنة مائتين رحمه الله تعالى ونفعنا به آمين.
‌‌প্রথম স্তর: যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং যাঁদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং যারা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু যারা তাঁর মাযহাব অনুসারী ছিলেন না

*‌‌ শায়খ মারুফ আল-কারখী

মারুফ বিন আল-ফায়রুওয়ান আবু মাহফূজ আল-আবিদ, যিনি কারখী নামে পরিচিত। তিনি বাগদাদের কারখ এলাকার অধিবাসী। তিনি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং সংসারবিরাগের জন্য বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। নেককার ব্যক্তিরা তাঁর কাছে সমবেত হতেন এবং আরিফগণ তাঁর সান্নিধ্যে বরকত লাভ করতেন। তাঁকে 'মুজাবুদ দাওয়াহ' (যার দুআ কবুল হয়) হিসেবে বর্ণনা করা হতো এবং তাঁর সম্পর্কে অনেক কারামত বর্ণিত হয়েছে। তিনি বকর বিন হুনাইস, রাবি বিন সাবিহ এবং অন্যদের থেকে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে খালাফ বিন হিশাম আল-বায্যার, যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী এবং ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাদের ইমাম সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে যুবক অবস্থায় দেখেছি, তাঁর ওপর ইবাদত-বন্দেগির চিহ্ন ফুটে উঠছিল। আমি তাঁকে এমন কথা বলতে শুনেছি যা সমস্ত কল্যাণকে একত্রিত করেছে। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি—যে ব্যক্তি জানে যে সে মারা গেলে বিস্মৃত হয়ে যাবে, সে আমল সংশোধন করে এবং মন্দ কাজ করে না। আর আহমাদ বিন হাম্বল বলতেন, মারুফ আল-কারখী আবদালদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি মুজাবুদ দাওয়াহ। আহমাদের মজলিসে মারুফ আল-কারখীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলে উপস্থিত এক ব্যক্তি বললেন, তাঁর ইলম তো সামান্য। তখন আহমাদ বললেন, চুপ করো, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন! ইলমের উদ্দেশ্য তো সেটাই যা মারুফ অর্জন করেছেন। ইসমাঈল বিন শাদ্দাদ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ আমাদের বললেন, তোমরা কোথা থেকে এসেছ? আমরা বললাম, বাগদাদ থেকে। তিনি বললেন, তোমাদের সেই পণ্ডিতের কী খবর? আমরা বললাম, তিনি কে? তিনি বললেন, আবু মাহফূজ মারুফ। আমরা বললাম, তিনি ভালো আছেন। তিনি বললেন, ঐ শহরের অধিবাসীরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তিনি তাদের মাঝে থাকবেন। ইব্রাহিম আল-হারবী বলেছেন, মারুফের কবর হচ্ছে পরীক্ষিত মহৌষধ। এক ব্যক্তি মারুফকে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো এবং মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, এমনকি মৃত্যু যেন তোমার একমাত্র সাথী হয়ে যায়। আর জেনে রাখো যে, মানুষ তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না, কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং তোমাকে কোনো কিছু থেকে বিরতও রাখতে পারবে না। মারুফ বলেন, আমি এখন থেকেই মৃত্যুর পরের অনুশোচনার বেদনা অনুভব করছি। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ

কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাঁর জন্য আমলের দরজা খুলে দেন এবং তর্কের দরজা বন্ধ করে দেন। আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দার অমঙ্গল চান, তখন তাঁর জন্য তর্কের দরজা খুলে দেন এবং আমলের দরজা বন্ধ করে দেন। মারুফ বলেন, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি কোনো ইমামকে লানত দেয়, সে তাঁর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। মারুফ বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত সালাত আদায় করবে, তার চল্লিশ বছরের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সাদাকা আল-মাকাবরী বলেন, আমি মারুফকে স্বপ্নে দেখেছি যে, কবরের অধিবাসীরা যেন বসে আছেন এবং তিনি সুগন্ধি ফুল হাতে তাদের মাঝে আসা-যাওয়া করছেন। আমি বললাম, হে আবু মাহফূজ, আপনি কি ইন্তেকাল করেননি? তিনি বললেন:

মুত্তাকীর মৃত্যু হলো এক অবিনশ্বর জীবন … এমন অনেক সম্প্রদায় আছে যারা মৃত অথচ মানুষের মাঝে জীবিত।

মারুফ ২০০ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন। আমীন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৫)
*‌‌ الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي

محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السايب بن عبيد بن عبد يزيد بن هاشم بن المطلب بن عبد مناف القرشي يجتمع مع النبي عليه السلام في عبد مناف. أبو عبد الله الشافعي الإِمام الأعظم والحبر المكرم أحد الأئمة المجتهدين الأعلام إمام أهل السنة ركن الإسلام لقي جد شافع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مترعرع وكان أبوه السايب صاحب راية بني هاشم يوم بدر فأسر وفدى نفسه ثم أسلم فقيل له لم لم تسلم قبل أن تفدي نفسك فقال ما كنت لأحرم المؤمنين طمعًا لهم في ولد الشافعي بغزة من الشام على الأصع سنة خمسين ومائة سنة وفاة الإِمام أبي حنيفة وقيل في اليوم الذي مات فيه ونشأ بمكة وكتب العلم بها وبالمدينة وقدم بغداد مرتين وخرج إلى مصر فنزلها وكان وصوله إليها سنة تسع وتسعين ومائة ولم يزل بها إلى وفاته سمع مالك بن أنس وإبراهيم بن سعد وسفيان بن عيينة واجتمع مع إمامنا وسمع منه وذاكره ونقل عنه وحاضره ذكره الأئمة الحفاظ منهم أبو حاتم الرازي وقال تعلم الإِمام الشافعي أشياء من معرفة الحديث من أحمد بن حنبل وقال إسحاق بن حنبل كان الشافعي يأتي أبا عبد الله عندنا عامة النهار يتذاكران الفقه وما أخرج الشافعي في كتبه حدثني بعض أصحابنا عن إسماعيل وأبي معاوية والعراقيين فهو عن أبي عبد الله أحمد بن حنبل وقال فضل بن زياد عن أحمد أنه جالس الشافعي بمكة

فأخذ عنه التفتيق وكلام قريش وأخذ الشافعي عنه معرفة الحديث قال عبد الله وسمعت أبي وذكر الشافعي يقول ما استفاد منا أكثر مما استفدناه عنه وقال الخطيب في أول كتاب السابق واللاحق حدث عن أحمد بن حنبل أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي وأبو القاسم البغوي فتوفي الشافعي سنة أربع ومائتين وتوفى البغوي سنة سبع عشرة وثلاثمائة وقال الربيع كان الشافعي يختم في كل ليلة ختمة فإذا كان شهر رمضان ختم في كل ليلة ختمة وفي كل يوم ختمة وقال أحمد بن حنبل ستة أدعو لهم سحرًا أحدهم الشافعي رضي الله عنه قال الشافعي حفظت القرآن وأنا ابن سبع سنين وحفظت الموطأ وأنا ابن عشر سنين قال الربيع بن سليمان كان الشافعي يفتي وهو ابن خمس عشرة سنة قال إسحاق بن راهويه لقيني أحمد بن حنبل بمكة فقال
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদريس আশ-শাফিঈ

মুহাম্মদ ইবনে ইদريس ইবনুল আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফি’ ইবনুস সাইব ইবনে উবাইদ ইবনে আবদু ইয়াযিদ ইবনে হাশিম ইবনুল মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফ আল-কুরাশি; তিনি আবদে মানাফে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধারার সাথে মিলিত হয়েছেন। আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ হলেন মহান ইমাম এবং সম্মানিত বিদগ্ধ পণ্ডিত, বরেণ্য মুজতাহিদ ইমামদের অন্যতম, আহলে সুন্নাতের ইমাম এবং ইসলামের স্তম্ভ। শাফি’র দাদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন যখন তিনি কিশোর ছিলেন। তাঁর পিতা সাইব বদরের দিন বনু হাশিমের পতাকাবাহী ছিলেন, পরে তিনি বন্দী হন এবং নিজের মুক্তিপণ প্রদান করেন। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁকে বলা হলো, আপনি মুক্তিপণ দেওয়ার আগে কেন ইসলাম গ্রহণ করলেন না? তিনি বললেন, আমি মুমিনদেরকে আমার জন্য প্রাপ্তব্য গণিমতের অংশ থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি। শাফিঈ শাম দেশের গাজা নামক স্থানে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতে ১৫০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন, যা ছিল ইমাম আবু হানিফার ইন্তেকালের বছর। কারো মতে, তিনি যে দিন মারা যান সে দিনই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানে ও মদিনায় ইলম অন্বেষণ করেন। তিনি দুইবার বাগদাদে আগমন করেন এবং মিশরে হিজরত করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাঁর আগমন ছিল ১৯১ হিজরি সনে এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। তিনি মালেক ইবনে আনাস, ইব্রাহিম ইবনে সাদ এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর কাছে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি আমাদের ইমামের (আহমদ ইবনে হাম্বল) সাথে একত্রিত হয়েছেন, তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন, তাঁর সাথে ইলমি আলোচনা করেছেন, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন। হাফেয ইমামগণ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে আবু হাতিম আর-রাজি অন্যতম। তিনি বলেন, ইমাম শাফিঈ হাদীসের জ্ঞানের অনেক বিষয় আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে শিখেছেন। ইসহাক ইবনে হাম্বল বলেন, শাফিঈ আমাদের এখানে দিনের অধিকাংশ সময় আবু আব্দুল্লাহর (আহমদ ইবনে হাম্বল) কাছে আসতেন এবং তাঁরা উভয়ে ফিকহ নিয়ে আলোচনা করতেন। শাফিঈ তাঁর কিতাবসমূহে যা কিছু 'আমাদের কিছু সাথী ইসমাইল, আবু মুয়াবিয়া এবং ইরাকিদের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন' বলে উল্লেখ করেছেন, তা মূলত আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল থেকেই বর্ণিত। ফজল ইবনে যিয়াদ আহমদের সূত্রে বলেন যে, তিনি মক্কায় শাফিঈর সাথে একত্রে বসেছিলেন।

অতঃপর তিনি তাঁর থেকে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও কুরাইশদের বাচনভঙ্গি গ্রহণ করেন, আর শাফিঈ তাঁর থেকে হাদীসের জ্ঞান অর্জন করেন। আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে শাফিঈর কথা উল্লেখ করে বলতে শুনেছি যে, তিনি আমাদের থেকে যা উপকৃত হয়েছেন, আমরা তাঁর থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি। খতিব বাগদাদি তাঁর ‘আস-সাবিক ওয়াল-লাহিক’ কিতাবের শুরুতে বলেন, আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদريس আশ-শাফিঈ এবং আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী বর্ণনা করেছেন। শাফিঈ ২০৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং বাগাওয়ী ৩১৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। রাবী’ বলেন, শাফিঈ প্রতি রাতে একবার কুরআন খতম করতেন, আর রমজান মাস হলে প্রতি রাতে একবার এবং প্রতি দিনে একবার করে খতম করতেন। আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, ছয়জন ব্যক্তির জন্য আমি শেষ রাতে দোয়া করি, তাদের একজন হলেন শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। শাফিঈ বলেন, আমি সাত বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করি এবং দশ বছর বয়সে মুওয়াত্তা মুখস্থ করি। রাবী’ ইবনে সুলাইমান বলেন, শাফিঈ পনের বছর বয়সেই ফতোয়া দিতেন। ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেন, মক্কায় আহমদ ইবনে হাম্বলের সাথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৬)
تعال حتى أريك رجلًا لم تر عيناك مثله فأراني الشافعي وكان رضي الله عنه كثير المناقب جم المفاخر منقطع القرين اجتمعت فيه من العلوم بكتاب الله تعالى وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم وكلام الصحابة وآثارهم واختلاف أقاويل العلماء وغير ذلك من معرفة كلام العرب واللغة والعربية والشعر ما لم يجتمع في غيره حتى أن الأصمعي مع جلالة قدره في هذا الشأن قرأ عليه أشعار المذللين ومناقب الشافعي وفضائله كثيرة لا يمكن حصرها وتحتمل الأفراد بالتأليف وهو اول من تكلم في اصول الفقه وهو الذي استنبطه وقال أبو ثور من زعم أنه رأى مثل محمد بن إدريس في علمه وفصاحته ومعرفته وثباته وتمكينه فقد كذب وقال الإمام أحمد بن حنبل ما أحد ممن بيده محبرة أو ورق إلا وللشافعي في رقبته منه. ومن أولاد الشافعي أبو عثمان محمد كان قاضي مدينة حلب وتوفي الإِمام الشافعي بمصر يوم الجمعة ودفن من يومه بعد العصر آخر يوم من رجب سنة أربع ومائتين بالقرافة الصغرى وقبره مشهور بزار نفعنا الله به وحكى الزعفراني قال سمعت أحمد بن حنبل يقول رأيت في المنام كأن النبي صلى الله عليه وسلم قد مات وكأن الناس قد أقبلوا إلى جنازته قال فأصبحت ونظرنا فإذا الشافعي قد مات في ذلك اليوم.

- تم المختصر من الطبقة الأولى -

 

*‌‌ إسحاق عم الإِمام أحمد

إسحاق بن حنبل بن هلال بن أسد أبو يعقوب الشيباني عم إمامنا أحمد سمع يزيد بن هارون والحسين بن محمد المروذي روى عنه ابنه حنبل ومحمد بن يوسف الجوهري وكان ثقة ولد سنة إحدى وستين ومائة وكان ملازمًا في أكثر أوقاته مجلس أحمد ونقل عنه أشياء كثيرة قال المروذي سمعت أبا عبد الله وقال له عمه لو دخلت إلى الخليفة فإنك تكرم عليه قال إنما غمي من كرامتي عليه توفي إسحاق بن حنبل سنة ثلاث وخمسين ومائتن عن اثنتين وتسعين سنة رحمه الله.

 

*‌‌ صالح ابن الإمام أحمد

أبو الفضل صالح أكبر أولاد الإِمام ولد سنة ثلاث ومائتين سمع أباه وأبا علي المديني وأبا الوليد الطيالسي وإبراهيم بن الفضل الدارع روى عنه ابنه زهير وابن
এসো, আমি তোমাকে এমন এক ব্যক্তিকে দেখাব যার মতো কেউ তোমার দুই চোখ দেখেনি। তারপর তিনি আমাকে শাফিঈকে দেখালেন। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বহু গুণের অধিকারী, প্রচুর গৌরবের অধিকারী এবং অতুলনীয় ছিলেন। আল্লাহর কিতাব, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ, সাহাবীদের বাণী ও তাঁদের নিদর্শনসমূহ এবং আলেমদের মতভেদপূর্ণ বক্তব্য ছাড়াও আরবের কালাম, ভাষা, ব্যাকরণ ও কবিতার এমন জ্ঞান তাঁর মধ্যে একত্রিত হয়েছিল যা অন্য কারও মধ্যে ঘটেনি। এমনকি আসমাঈ, এই বিষয়ে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর কাছে হুযাইল গোত্রের কবিতা পড়েছেন। শাফিঈর গুণাবলী ও শ্রেষ্ঠত্ব এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয় এবং তা স্বতন্ত্র কিতাবে রচনার দাবি রাখে। তিনি উসূলে ফিকহ বিষয়ে প্রথম কথা বলেছেন এবং তিনিই এটি উদ্ভাবন করেছেন। আবু সাওর বলেন: যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে মুহাম্মদ ইবনে ইদরিসের মতো জ্ঞান, বাগ্মিতা, প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা ও যোগ্যতায় অন্য কাউকে দেখেছে, সে মিথ্যা বলেছে। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: যার হাতে কালির পাত্র বা কাগজ আছে, এমন কেউ নেই যার ঘাড়ে শাফিঈর অনুগ্রহের ঋণ নেই। শাফিঈর সন্তানদের মধ্যে আবু উসমান মুহাম্মদ ছিলেন হালাব শহরের বিচারক। ইমাম শাফিঈ মিসরে জুমআর দিনে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেই দিনেই আসরের পর দুই শত চার হিজরীর রজব মাসের শেষ দিনে কারাফা আস-সুগরাতে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর কবর প্রসিদ্ধ, যা জিয়ারত করা হয়; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। যাফরানী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এবং মানুষ তাঁর জানাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন: সকালে উঠে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখলাম যে শাফিঈ সেদিনই ইন্তেকাল করেছেন।

- প্রথম স্তরের সংক্ষিপ্তসার সমাপ্ত -

 

*‌‌ ইসহাক, ইমাম আহমাদের চাচা

ইসহাক ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আবু ইয়াকুব আশ-শায়বানী, আমাদের ইমাম আহমাদের চাচা। তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন এবং হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযীর কাছে শুনেছেন। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র হাম্বল এবং মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-জাওহারী বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি একশত একষট্টি হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং অধিকাংশ সময় আহমাদের মজলিসে উপস্থিত থাকতেন। তিনি তাঁর থেকে অনেক বিষয় বর্ণনা করেছেন। মারওয়াযী বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁর চাচা তাঁকে বলেছিলেন: আপনি যদি খলিফার নিকট যেতেন তবে তিনি আপনাকে সম্মান করতেন। তিনি (আহমাদ) বললেন: খলিফার পক্ষ থেকে আমার প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনই তো আমার দুশ্চিন্তার কারণ। ইসহাক ইবনে হাম্বল দুইশত তিপ্পান্ন হিজরীতে বিরানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

*‌‌ সালিহ, ইমাম আহমাদের পুত্র

আবু আল-ফাদল সালিহ, ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি দুইশত তিন হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা, আবু আলী আল-মাদীনী, আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি এবং ইব্রাহিম ইবনে আল-ফাদল আদ-দারি’র কাছে শুনেছেন। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র যুহাইর এবং ইবনে...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৭)
القاسم البغوي ومحمد بن جعفر الخرائطي ويحيى بن صاعد ومحمد بن مخلد وعبد الرحمن بن أبي حاتم وأبو الحسين بن المناوي وأبو الحسن بن بشار وأبو بكر الخلال وقال كان الناس يكتبون إليه من المواضع يسأل لهم عن المسائل فوقعت إليه مسائل جياد وكان معيلا على حداثته وكان سخيًا بطول ذكر سخائه أن يرسم في كتاب ولي قضاء أصفهان ودخل إليها فبدأ بالمسجد فدخله وصلى ركعتين واجتمع الناس والشيوخ وجلس وقرئ عهده الذي كتب له الخليفة فجعل يبكي فبكى الشيوخ الذين قربوا منه فلما فرغ من قراءة العهد جعل المشايخ يدعون له ويقولون ما في بلدنا أحد الا وهو يحب أبا عبد الله ويميل إليك فقال لهم ما تدرون ما الذي أبكاني ذكرت أبي رحمه الله أن يراني في مثل هذا الحال كان يبعث خلفي إذا جاء رجل زاهد أو رجل صالح متقشف لأنظر إليه يحب أن أكون مثلهم ولكن الله يعلم ما دخلت في هذا الأمر إلا لدين قد غلبني وكثر عيالي وكان صالح قد ولي القضاء بطرسوس قبل أصبهان وتوفي بأصبهان ودفن إلى قرب قبر حمامة الدوسي صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم في شهر رمضان سنة ست وستين ومائتين وله ثلاث وستون سنة وله أولاد منهم زهير وأحمد رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ حنبل ابن عم الإمام

حنبل بن إسحاق بن حنبل أبو علي الشيباني ابن عم إمامنا وأبا نعيم الفضل بن ركين وأبا غسان مالك بن إسماعيل وعفان بن مسلم وسعيد بن سليمان وعازم بن الفضل وسليمان بن حرب حدث عنه ابنه وقد اختلف في اسم ابنه فقوم قالوا عبيد الله وقوم قالوا عبد الله ويحيى بن صاعد وأبو بكر الخلال وغيرهم وكان ثقة ثبتًا وسئل عنه الدارقطني فقال كان صدوقًا قال حنبل سمعت أبا عبد الله يقول من زعم أن الله لا يرى في الآخرة فقد كفر بالله وكذب بالقرآن ورد على الله أمره يستتاب فإن تاب وإلا قتل والله تعالى لا يرى في الدنيا ويرى في الآخرة توفى بأواسط جمادي الأولى سنة ثلاث وسبعين ومائتين رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ أبو بكر المروذي

أحمد بن محمد بن الحجاج بن عبد العزيز أبو بكر المروذي كانت أمه مروذية وأبوه خوارزميا وهو المقدم من أصحاب أحمد لورعه وفضله وكان إمامنا يأنس به وينبسط إليه
আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী, মুহাম্মদ বিন জাফর আল-খারাতি, ইয়াহইয়া বিন সায়েদ, মুহাম্মদ বিন মাখলাদ, আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম, আবুল হোসেন বিন আল-মুনাউয়ী, আবুল হাসান বিন বাশার এবং আবু বকর আল-খাল্লাল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তাকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করে চিঠি লিখত এবং তার কাছে চমৎকার সব মাসআলা আসত। অল্প বয়সেও তিনি পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি এতটাই দানশীল ছিলেন যে, তার দানশীলতার বর্ণনা কিতাবে লিপিবদ্ধ করা দীর্ঘসাধ্য। তাকে ইসফাহানের বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। এরপর মানুষ ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ সমবেত হলেন এবং তিনি বসলেন। খলিফার পক্ষ থেকে তার জন্য লেখা নিয়োগপত্র পাঠ করা হলে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, যা দেখে তার নিকটস্থ প্রবীণরাও কেঁদে ফেললেন। পাঠ শেষ হলে শায়েখরা তার জন্য দুআ করতে লাগলেন এবং বললেন, আমাদের শহরে এমন কেউ নেই যে আবু আবদুল্লাহকে ভালোবাসে না এবং আপনার প্রতি অনুরাগী নয়। তিনি তাদের বললেন, আপনারা জানেন না কিসে আমাকে কাঁদিয়েছে। আমি আমার মরহুম পিতার কথা স্মরণ করেছি যে, তিনি যদি আমাকে এই অবস্থায় দেখতেন! যখনই কোনো জাহিদ (দুনিয়াত্যাগী) বা কোনো সৎকর্মশীল পরহেজগার ব্যক্তি আসতেন, তিনি আমাকে তাদের কাছে পাঠাতেন যাতে আমি তাদের মতো হতে পারি। কিন্তু আল্লাহ জানেন যে, আমি এই পদে কেবল ঋণের বোঝা এবং অধিক সন্তান-সন্ততির কারণেই যুক্ত হয়েছি। সালেহ ইসফাহানের আগে তারসুসের বিচারক ছিলেন এবং ইসফাহানেই ইন্তেকাল করেন। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী হামামা আদ-দাওসীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। ২৬৬ হিজরীর রমজান মাসে ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার সন্তানদের মধ্যে জুহাইর ও আহমদ রয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ইমামের চাচাতো ভাই হাম্বল

হাম্বল বিন ইসহাক বিন হাম্বল আবু আলী আশ-শায়বানী, আমাদের ইমামের চাচাতো ভাই। তিনি আবু নুয়াইম আল-ফজল বিন দুকাইন, আবু গাসসান মালিক বিন ইসমাইল, আফফান বিন মুসলিম, সাঈদ বিন সুলাইমান, আজিম বিন আল-ফজল এবং সুলাইমান বিন হারব থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে তার পুত্র বর্ণনা করেছেন, তবে পুত্রের নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে—একদল বলেছেন উবাইদুল্লাহ এবং অন্যদল বলেছেন আবদুল্লাহ। এছাড়াও ইয়াহইয়া বিন সায়েদ, আবু বকর আল-খাল্লাল ও অন্যান্যরা তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন। দারাকুতনীকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি সত্যবাদী ছিলেন। হাম্বল বলেন, আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহকে আখিরাতে দেখা যাবে না, সে আল্লাহর সাথে কুফরি করল, কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং আল্লাহর নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করল। তাকে তাওবা করতে বলা হবে; যদি সে তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। আল্লাহ তাআলাকে দুনিয়াতে দেখা যায় না, তবে আখিরাতে দেখা যাবে।" তিনি ২৭৩ হিজরীর জুমাদাল উলার মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌আবু বকর আল-মাররুযী

আহমদ bin মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ বিন আবদুল আজিজ আবু বকর আল-মাররুযী। তার মা ছিলেন মার্ভের এবং পিতা ছিলেন খাওয়ারিজমের। তিনি তার পরহেজগারিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আহমদ (ইবনে হাম্বল)-এর সঙ্গীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং আমাদের ইমাম তার সাথে হৃদ্যতা ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৮)
روي عنه مسائل كثيرة منها قال سمعت أبا عبد الله يقول يكره للرجل أن ينام بعد العصر ويخاف على عقله قال أبو بكر الخلال خرج أبو بكر المروذي إلى الغرف فشيعه الناس إلى سامرا فجعل يردهم فحزروا فإذا هم بسامرا سوى من رجع نحو خمسين ألفا فقيل له يا أبا بكر أحمد الله فهذا علم قد نشر لك قال فبكى ثم قال ليس هذا العلم لي إنما هذا علم أحمد بي حنبل توفي المروذي في جمادي الأولى سنة خمس وسبعين ومائتين ودفن عند رجل قبر الإِمام رحمه الله تعالى.

 

* عبد الله ابن الإِمام

‌‌عبد الله ابن الإمام أحمد بن محمد بن حنبل أبو عبد الرحمن حدث عن أبيه وعن عبد الأعلى بن حماد. وكامل بن طلحة ويحيى بن معين وخلق كثير روى عنه أبو القاسم البغوي وعبد الله بن إسحاق المدايني وأبو بكر الخلال وغيرهم وكان

ثقة ثبتًا فهمًا ولد في جمادي الآخرة سنة ثلاث عشرة ومائتين روى عبد الله عن أبيه قال أرواح الكفار في النار وأرواح المؤمنين في الجنة والأبدان في الدنيا يعذب الله من يشاء ويرحم من يشاء ولا نقول إنهما يفنيان بل هما عند الله عز وجل باقيان وقال عبد الله بن أحمد سألت أبي متى يجوز سماع الصبي في الحديث قال إذا عقل وضبط وسمعت أبي وسئل عن القراءة بالالحان فقال محدث قال القاضي أبو الحسين قرأت في كتاب أبي الحسين بن المناوي وذكر عبد الله وصالحًا فقال كان صالح قليل الكتاب عن أبيه فأما عبد الله فلم يكن في الدنيا أحدا روى منه عن أبيه رحمهما الله سمع منه المسند وهو ثلاثون ألفًا والتفسير وهو مائة وعشرون ألفًا سمع منها ثمانين ألفًا والباقي وجادة وسمع الناسخ والمنسوخ والتاريخ وحديث شعبة والمقدم والمؤخر من كتاب الله تعالى وجوابات القرآن والمناسك الكبير والصغير وغير ذلك قال عبد الله كل شيء أقول قاله أبي فقد سمعته مرتين وثلاثًا وأقله مرة وقال عبد الله قال أبي قبور أهل السنة من أهل الكبائر روضة وقبور أهل البدع من الزهاد حفرة فساق أهل السنة أولياء الله وزهاد أهل البدعة أعداء الله وقال عبد الله قال أبي قال أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل رمضان فتحت أبواب الرحمة وسلسلت فيه الشياطين وأغلقت أبواب جهنم قلت لأبي قد نرى المجنون يصرع في رمضان فقال هكذا الحديث ولا نتكلم في هذا وقال عبد الله سئل
তাঁর থেকে অনেক মাসআলা বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, আসরের পর ঘুমানো মাকরূহ এবং এতে জ্ঞান হারানোর ভয় থাকে। আবু বকর আল-খলাল বলেন, আবু বকর আল-মাররুযী কামরাগুলোর দিকে বের হলেন, তখন মানুষ তাঁকে সামাররা পর্যন্ত বিদায় জানাতে এলো। তিনি তাদের ফেরত পাঠাতে লাগলেন। আন্দাজ করা হলো যে, যারা ফিরে গিয়েছিল তারা বাদেও সামাররায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ ছিল। তাঁকে বলা হলো, হে আবু বকর! আল্লাহর প্রশংসা করুন, কারণ এটি এমন জ্ঞান যা আপনার জন্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি কেঁদে দিলেন এবং বললেন, এই জ্ঞান আমার নয়, বরং এটি আহমাদ ইবনে হাম্বলের জ্ঞান। আল-মাররুযী ২৭৫ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইমামের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কবরের পায়ের দিকে তাঁকে দাফন করা হয়।

 

* ইমামের পুত্র আব্দুল্লাহ

‌‌ইমামের পুত্র আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আবু আব্দুর রহমান। তিনি তাঁর পিতা এবং আব্দুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ, কামিল ইবনে তালহা, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আরও অনেক বড় এক দলের কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী, আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-মাদায়িনী, আবু বকর আল-খলাল এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও প্রজ্ঞাবান। তিনি ২১৩ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে জন্মগ্রহণ করেন। আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, কাফিরদের আত্মা জাহান্নামে এবং মুমিনদের আত্মা জান্নাতে থাকে, আর দেহগুলো থাকে দুনিয়াতে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা দয়া করেন। আমরা বলি না যে তারা নিঃশেষ হয়ে যায়, বরং তারা মহান আল্লাহর কাছে অবশিষ্ট থাকে। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছি, শিশুর হাদিস শ্রবণ কখন জায়েজ? তিনি বললেন, যখন সে অনুধাবন করতে পারে এবং তা সংরক্ষণ করতে পারে। আমি আমার পিতাকে সুর করে কুরআন পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতে শুনেছি, তিনি বললেন, এটি নব উদ্ভাবিত বিষয়। কাযী আবু আল-হুসাইন বলেন, আমি আবু আল-হুসাইন ইবনুল মুনাউয়ীর কিতাবে পড়েছি, তিনি আব্দুল্লাহ ও সালেহর কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, সালেহ তাঁর পিতার কাছ থেকে খুব কম কিতাব লিখেছিলেন। কিন্তু আব্দুল্লাহর চেয়ে দুনিয়ায় এমন কেউ ছিল না যে তাঁর পিতার কাছ থেকে বেশি বর্ণনা করেছে, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি তাঁর থেকে 'মুসনাদ' শুনেছেন যা ত্রিশ হাজার হাদিস সম্বলিত, এবং 'তাফসির' শুনেছেন যা এক লক্ষ বিশ হাজার হাদিস সম্বলিত। এর মধ্যে আশি হাজার তিনি সরাসরি শুনেছেন এবং বাকিগুলো পাণ্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া তিনি নাসিখ-মানসুখ, ইতিহাস, শু'বার হাদিসসমূহ, মহান আল্লাহর কিতাবের মুকাদ্দাম ও মুয়াখখার বিষয়াদি, কুরআনের উত্তরসমূহ, মানাসিক কাবীর ও সাগীর এবং আরও অনেক কিছু শুনেছেন। আব্দুল্লাহ বলেন, আমি যা কিছুই বলি যে এটি আমার পিতা বলেছেন, তা আমি কমপক্ষে দুইবার বা তিনবার শুনেছি এবং সর্বনিম্ন একবার হলেও শুনেছি। আব্দুল্লাহ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আহলে সুন্নাতের কবীরা গুনাহগারদের কবরও হলো জান্নাতের বাগান, আর বিদআতিদের মধ্যে যারা দুনিয়াত্যাগী পরহেযগার তাদের কবরও হলো আগুনের গর্ত। আহলে সুন্নাতের পাপাচারীরা আল্লাহর ওলী, আর বিদআতি পরহেযগাররা আল্লাহর শত্রু। আব্দুল্লাহ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন রমজান প্রবেশ করে, তখন রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমি আমার পিতাকে বললাম, আমরা তো দেখি রমজান মাসেও পাগল ব্যক্তি মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়? তিনি বললেন, হাদিসটি এভাবেই এসেছে এবং আমরা এ নিয়ে কোনো কথা বলি না। আব্দুল্লাহ বলেন, জিজ্ঞাসা করা হলো...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ১৯)
أبي لم لا تصحب الناس قال لوحشة الفراق توفي عبد الله بن أحمد في يوم الأحد ودفن في آخر النهار لتسع بقين من جمادي الآخرة سنة تسعين ومائتين ودفن في مقابر باب التبن وصلى عليه زهير بن صالح بن أحمد وكان يصبغ بالحمرة كثيف اللحية وعاش سبعًا وسبعين سنة رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ أحمد حفيد الإِمام

أحمد بن صالح بن أحمد بن محمد بن حنبل روى عن جده الإِمام أحمد قال حدثنا جدي أحمد بن حنبل حدثنا روح بن عبادة عن مالك بن أنس عن سفيان الثوري عن ابن جريج عن عطاء عن عائشة قالت كنت أغتسل انا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء واحد رحمه الله.

 

*‌‌ أحمد ابن عم الإِمام

أحمد بن عبد الله بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني ابن عم إمامنا جالس إمامنا وسمع منه أشياء وحدث عن محمد بن الصباح الدولابي وروى عنه عبد الله ابن إمامنا أحمد وغيره رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ عباسة بنت الفضل زوجة الإِمام وأم ابنه صالح

كان أحمد يثني عليها وسمعت منه أشياء وماتت في حياته قال زهير بن صالح بن أحمد تزوج جدي أم أبي عباسة بنت الفضل وهي من العرب من المربض ولم يولد له منها غير أبي ثم توفيت قال أحمد أقامت أم صالح عندي عشرين سنة فما اختلفت أنا وهي في كلمة.

 

*‌‌ ريحانة بنت عم الإِمام وزوجته وأم ابنه عبد الله

تزوجها الإِمام لما ماتت أم صالح وكانت بفرد عين فأقام معها سبعًا وقالت له بعدما دخلت بأيام هل تنكر مني شيئًا فقال لا إلا هذه النعل التي تلبسينها لم تكن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فباعتها واشترت مقطوعًا فكانت تلبسه ولم يولد له منها غير عبد الله سمعت من الإِمام أحمد أشياء رحمها الله تعالى.

- تم المختصر من ذيل الطبقة الأولى -

قال المؤلف العليمي رحمه الله: قد بلغ عدد أصحاب الإِمام الذي عاصروه وروى
'বাবা, আপনি কেন মানুষের সংস্রব ত্যাগ করেছেন?' তিনি বললেন, 'বিচ্ছেদের যাতনার কারণে।' আবদুল্লাহ বিন আহমাদ রবিবারে মৃত্যুবরণ করেন এবং দিনের শেষভাগে তাঁকে দাফন করা হয়; দিনটি ছিল দুইশত নব্বই হিজরি সনের জমাদিউল আখিরাত মাসের নয় দিন বাকি থাকতে। তাঁকে বাবুত তিবন গোরস্থানে দাফন করা হয় এবং তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান যুহাইর বিন সালিহ বিন আহমাদ। তিনি লাল রঙের খিযাব ব্যবহার করতেন, তাঁর দাড়ি ছিল ঘন এবং তিনি সাতাত্তর বছর জীবিত ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ আহমাদ, ইমামের নাতি

আহমাদ বিন সালিহ bin আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল। তিনি তাঁর দাদা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার দাদা আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ বিন উবাদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আমি ও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম।" আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ আহমাদ, ইমামের চাচাতো ভাই

আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শায়বানি, আমাদের ইমামের চাচাতো ভাই। তিনি আমাদের ইমামের সাথে বসতেন এবং তাঁর থেকে অনেক কিছু শ্রবণ করেছেন। তিনি মুহাম্মাদ বিন সাবাহ আদ-দুলাবি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ আব্বাসাহ বিনতে ফাদল, ইমামের স্ত্রী ও তাঁর পুত্র সালিহের মা

ইমাম আহমাদ তাঁর প্রশংসা করতেন। তিনি ইমামের থেকে অনেক কিছু শুনেছেন এবং ইমামের জীবদ্দশাতেই মৃত্যুবরণ করেন। যুহাইর বিন সালিহ বিন আহমাদ বলেন: আমার দাদা আমার পিতার মা আব্বাসাহ বিনতে ফাদলকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন মারবায এলাকার একজন আরব নারী। তাঁর গর্ভে আমার পিতা ব্যতীত ইমামের আর কোনো সন্তান জন্মায়নি। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করেন। ইমাম আহমাদ বলেন: সালিহের মা আমার কাছে বিশ বছর ছিলেন, কিন্তু একটি কথার ব্যাপারেও আমার ও তাঁর মধ্যে কখনো মতভেদ হয়নি।

 

*‌‌ রাইহানা, ইমামের চাচাতো বোন, তাঁর স্ত্রী ও তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর মা

সালিহের মা মারা যাওয়ার পর ইমাম তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি একচোখা ছিলেন। ইমাম তাঁর সাথে সাত বছর অতিবাহিত করেন। বাসর রাতের কয়েকদিন পর তিনি ইমামকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি আমার কোনো কিছু অপছন্দ করেন?" তিনি বললেন, "না, কেবল তোমার পরিহিত এই পাদুকা জোড়া ছাড়া; কারণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এরূপ ছিল না।" তখন তিনি সেটি বিক্রি করে দেন এবং একটি সাধারণ পাদুকা কিনে সেটিই পরিধান করতেন। তাঁর গর্ভে আবদুল্লাহ ব্যতীত ইমামের আর কোনো সন্তান জন্মায়নি। তিনি ইমাম আহমাদ থেকে অনেক কিছু শুনেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

- প্রথম স্তরের পরিশিষ্টাংশের সংক্ষেপ সমাপ্ত -

গ্রন্থকার আল-উলাইমি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমামের সেই সকল সাথীদের সংখ্যা যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২০)
عنهم ورووا عنه ثمانية وسبعين وخمسمائة فمنهم من كانوا على مذهبه في الأصول والفروع ونقل الفقه عنهم إلى من بعدهم حتى وصل إلينا وقد بلغ عدد هؤلاء مائة وثلاثة وثلاثين نفسًا وهم:

أحمد بن جعفر الوكيعي. محمد بن الحكم. أحمد بن نصر الخزاعي. عبيد الله بن سعيد السرخسي. أحمد بن الحسن الترمذي. هارون بن عبد الله الحمال. أحمد أبو طالب المشكاتي. أحمد بن منيع البغوي. عصمة بن أبي

عصمة. أحمد بن إبراهيم الدورقي. أخوه يعقوب. أحمد بن صالح المصري. الحسن بن الصباح الواسطي. هارون المستملي. إسحاق بن منصور الكوسج. عبد الوهاب بن عبد الحكم الوراق. زياد بن أيوب دلونه. إسحاق بن حنبل عم الإِمام. يوسف بن موسى بن راشد. محمد بن صاعقة. عبد الله فوران. الحسن بن عبد العزيز بن الوزير. أبو علي الجدامي. أحمد بن الفرات الضبي. إسحاق بن إبراهيم البغوي. أيوب بن إسحاق أخو يحيى. أبو بكر الأثرم. خطاب بن بشر. عبد الله أبو زرعة الرازي. أحمد بن منور الزمادي. إبراهيم بن هاني صالح وعبد الله ولدا الإِمام الحسن بن ثواب محمد بن إبراهيم البوشنجي إسماعيل أبو النصر العجلي العباس بن محمد الدوري محمد بن حبيب البزاز محمد أبو جعفر الوراق الجرجاني أحمد بن سعيد الزهري أحمد بن محمد بن واصل المقري حنبل بن إسحاق ابن عم الإِمام عبد الملك الميمون أبو بكر المروذي إسحاق بن إبراهيم بن هاني أحمد بن ملاعب أحمد بن بشر الطيالسي. أبو داود السجستاني أحمد بن يحيى الحلواني أحمد بن مطين محمد بن حماد صاحب خلف محمد بن إدريس أبو حاتم الحنظلي عبد الكريم بن الهيثم أحمد بن خيثمة. جعفر بن محمد الصايغ عبد الرحمن أبو زرعة الدمشقي محمد بن إسماعيل الترمذي. أبو بكر بن أبي الدنيا أبو بكر بن المنذر إبراهيم بن إسحاق السراج محمد بن ماهان إسحاق بن حسن الحربي زكريا بن يحيى الناقد أهدم بن أحرم المزني محمد بشر أخو خطاب بشر بن موسى الأسدي أحمد بن يحيى ثعلب أحمد بن محمد بن عبد الله بن صدقة موسى بن هارون الحمال إبراهيم بن هاشم البغوي أحمد بن محمد البراثي محمد بن الحسن بن بدينا عبد الله أبو القاسم ابن بنت أحمد بن منيع
তাদের থেকে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাঁর থেকে পাঁচশত আটাত্তর জন বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে একদল এমন ছিলেন যাঁরা মূলনীতি (উসুল) এবং শাখা-প্রশাখা (ফুরু) উভয় ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই ফিকহ পরবর্তী প্রজন্মের নিকট স্থানান্তরিত হয়ে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাঁদের সংখ্যা একশত তেত্রিশ জনে পৌঁছেছে এবং তাঁরা হলেন:

আহমাদ বিন জাফর আল-ওয়াকিঈ। মুহাম্মদ বিন আল-হাকাম। আহমাদ বিন নাসর আল-খুযাঈ। উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ আস-সারখাসি। আহমাদ বিন আল-হাসান আত-তিরমিযী। হারুন বিন আব্দুল্লাহ আল-হাম্মাল। আহমাদ আবু তালিব আল-মিশকাতি। আহমাদ বিন মানি আল-বাগাওয়ি। ইসমা বিন আবি

ইসমা। আহমাদ বিন ইবরাহিম আদ-দাওরাকি। তাঁর ভাই ইয়াকুব। আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরি। আল-হাসান বিন আস-সাব্বাহ আল-ওয়াসিতি। হারুন আল-মুস্তামলি। ইসহাক বিন মানসুর আল-কাউসাজ। আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল হাকাম আল-ওয়াররাক। যিয়াদ বিন আইয়ুব দালওয়াইহ। ইমামের চাচা ইসহাক বিন হাম্বল। ইউসুফ বিন মুসা বিন রাশিদ। মুহাম্মদ বিন সাঈকা। আব্দুল্লাহ ফাওরান। আল-হাসান বিন আব্দুল আযীয বিন আল-ওয়াযীর। আবু আলী আল-জিদামি। আহমাদ বিন আল-ফুরাত আদ-দাব্বি। ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-বাগাওয়ি। ইয়াহইয়ার ভাই আইয়ুব বিন ইসহাক। আবু বকর আল-আছরাম। খাত্তাব বিন বিশর। আব্দুল্লাহ আবু যুরআ আর-রাযী। আহমাদ বিন মুনাওয়ার আয-যামাদি। ইবরাহিম বিন হানি, ইমামের দুই পুত্র সালিহ ও আব্দুল্লাহ, আল-হাসান বিন সাওয়াব, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-বুশানজি, ইসমাঈল আবু আন-নাসর আল-ইজলি, আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দাওরি, মুহাম্মদ বিন হাবীব আল-বাযযায, মুহাম্মদ আবু জাফর আল-ওয়াররাক আল-জুরজানি, আহমাদ বিন সাঈদ আয-যুহরি, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ওয়াসিল আল-মুকরি, ইমামের চাচাতো ভাই হাম্বল বিন ইসহাক, আব্দুল মালিক আল-মাইমুনি, আবু বকর আল-মারওয়াযি, ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন হানি, আহমাদ বিন মুলাইব, আহমাদ বিন বিশর আত-তায়ালিসি। আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি, আহমাদ বিন মুতাইন, খালাফ-এর সাথী মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ, মুহাম্মদ বিন ইদরিস আবু হাতিম আল-হানযালি, আব্দুল কারিম বিন আল-হাইসাম, আহমাদ বিন খাইছামাহ। জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সায়িগ, আব্দুর রহমান আবু যুরআ আদ-দিমাশকি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আত-তিরমিযী। আবু বকর বিন আবিদ দুনইয়া, আবু বকর বিন আল-মুনযির, ইবরাহিম বিন ইসহাক আস-সাররাজ, মুহাম্মদ বিন মাহান, ইসহাক বিন হাসান আল-হারবি, যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আন-নাকিদ, আহদাম বিন আহরাম আল-মুযানী, খাত্তাবের ভাই মুহাম্মদ বিশর, বিশর বিন মুসা আল-আসাদি, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া ছা'লাব, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাদাকা, মুসা বিন হারুন আল-হাম্মাল, ইবরাহিম বিন হাশিম আল-বাগাওয়ি, আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-বারাছি, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন বাদাইনা, আহমাদ বিন মানি-এর দৌহিত্র আব্দুল্লাহ আবু আল-কাসিম।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২১)
البغوي محمد بن داود المصيصي محمد بن عبد العزيز السؤددي محمد بن موسى بن مشيش محمد بن موسى بن أبي موسى محمد بن هبيرة البغوي محمد بن يحيى الكحال محمد بن يزيد أبو بكر المستملي أحمد بن إبراهيم الكوفي أحمد بن سعيد الدارمي أحمد بن صالح ابن الإِمام أحمد بن عبد الله بن حنبل ابن عم الإِمام أحمد أبو بكر البواري قاضي تكريت أحمد بن القاسم صاحب أبي عبيد أحمد بن محمد المزني أحمد أبو الحارث

الصايغ أحمد بن محمد بن عبد ربه أحمد بن محمد بن يحيى الكحال أحمد بن نصر أبو حامد الخفاف أحمد بن هاشم الأنطاكي. أحمد بن أبي عبده إبراهيم بن الحارث الطرسوسي إبراهيم بن زياد الصائغ إبراهيم بن عبد الله بن مهران إبراهيم بن محمد بن الحارث الأصبهاني إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني إسماعيل الشالنجي إسحاق بن الجراح بكر بن محمد النسائي جعفر بن محمد النسائي الحسن بن زياد الحسن بن علي الإسكافي الحسن بن محمد الأنماطي الحسين بن إسحاق الخرقي حرب الكرماني حبيش بن سندي زياد بن يحيى بن عبد الملك بن مروان سلمة بن شبيب النيسابوري سندي بن أبي بكر الخواتيمي طاهر بن محمد التميمي عبيد الله بن أحمد بن عبيد ابن أخي الإمام عبيد الله بن محمد الفقيه المروذي عبد الرحمن أبو الفضل المتطيب علي بن أحمد الأنماطي علي بن أحمد بن ابنة معاوية علي بن الحسين المصري علي بن الحسن بن زياد علي بن سعيد النسوي علي بن عبد الصمد الطيالسي عبدوس بن مالك العطار الفضل بن زياد القطان الفرج بن الصباح البرزاطي موسى بن عيسى الجصاص ميمون بن الأصبغ مثني بن جامع مهنا بن يحيى الشامي يحيى بن زكريا صاحب إسحاق بن راهويه يحيى بن يزداد أبو الصقر يعقوب بن بختان يعقوب بن العباس الهاشمي يوسف بن موسى العطاب الحربي.

فهؤلاء هم الحنبليون من أصحاب الإِمام أحمد ممن ذكرت تراجمهم في هذا الكتاب فمنهم المقل عنه ومنهم المكثر وهم أيضًا متفاوتون في المنزلة عند الإِمام أحمد والنقل عنه والضبط والحفظ. ولنذكر الآن أسماء فقهاء الحنابلة من بعد الطبقة الأولى مرتبين على الطبقات والوفيات كما تقدم الوعد به في أول الكتاب ونجعل كل طبقة
আল-বাগাওয়ী, মুহাম্মদ ইবন দাউদ আল-মাসিসি, মুহাম্মদ ইবন আবদিল আজিজ আস-সুদাদি, মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবন মিশিশ, মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবন আবি মুসা, মুহাম্মদ ইবন হুবাইরা আল-বাগাওয়ী, মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আল-কাহহাল, মুহাম্মদ ইবন ইয়াজিদ আবু বকর আল-মুস্তামলি, আহমাদ ইবন ইবরাহিম আল-কুফি, আহমাদ ইবন সাঈদ আদ-দারিমি, আহমাদ ইবন সালিহ, ইমাম আহমাদের পুত্র, আহমাদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন হাম্বল, ইমাম আহমাদের চাচাতো ভাই, আবু বকর আল-বুওয়ারি (তিকরিতের বিচারক), আহমাদ ইবন আল-কাসিম (আবু উবাইদের সঙ্গী), আহমাদ ইবন মুহাম্মদ আল-মুজানি, আহমাদ আবু আল-হারিস

আস-সায়িগ, আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদ রাব্বিহি, আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আল-কাহহাল, আহমাদ ইবন নাসর আবু হামিদ আল-খাফফাফ, আহমাদ ইবন হাশিম আল-আন্তাকি, আহমাদ ইবন আবি আবদাহ, ইবরাহিম ইবন আল-হারিস আত-তারসুসি, ইবরাহিম ইবন জিয়াদ আস-সায়িগ, ইবরাহিম ইবন আবদিল্লাহ ইবন মিহরান, ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হারিস আল-আসবাহানি, ইবরাহিম ইবন ইয়াকুব আল-জাওযাজানি, ইসমাঈল আশ-শালানজি, ইসহাক ইবন আল-জাররাহ, বকর ইবন মুহাম্মদ আন-নাসায়ি, জাফর ইবন মুহাম্মদ আন-নাসায়ি, আল-হাসান ইবন জিয়াদ, আল-হাসান ইবন আলী আল-ইস্কাফি, আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ আল-আনমাতি, আল-হুসাইন ইবন ইসহাক আল-খিরাকি, হারব আল-কিরমানি, হুবাইশ ইবন সিন্দী, জিয়াদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদিল মালিক ইবন মারওয়ান, সালামাহ ইবন শাবীব আন-নাইসাবুরি, সিন্দী ইবন আবি বকর আল-খাওয়াতিমি, তাহির ইবন মুহাম্মদ আত-তামিমি, উবাইদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন উবাইদ (ইমামের ভ্রাতুষ্পুত্র), উবাইদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-ফকিহ আল-মারওয়াজি, আবদুর রহমান আবু আল-ফজল আল-মুতাতায়্যিব, আলী ইবন আহমাদ আল-আনমাতি, আলী ইবন আহমাদ ইবন ইবনাত মুয়াবিয়া, আলী ইবন আল-হুসাইন আল-মিসরি, আলী ইবন আল-হাসান ইবন জিয়াদ, আলী ইবন সাঈদ আন-নাসাওয়ি, আলী ইবন আবদিস সামাদ আত-তায়ালিসি, আবদুস ইবন মালিক আল-আত্তার, আল-فضل ইবন জিয়াদ আল-কাত্তান, আল-ফারাজ ইবন আস-সাবাহ আল-বারজাতি, মুসা ইবন ঈসা আল-জাসসাস, মায়মুন ইবন আল-আসবাহ, মুসান্না ইবন জামি', মুহান্না ইবন ইয়াহইয়া আশ-শামি, ইয়াহইয়া ইবন জাকারিয়া (ইসহাক ইবন রাহওয়াইহর সঙ্গী), ইয়াহইয়া ইবন ইয়াজদাদ আবু আস-সাকর, ইয়াকুব ইবন বাখতান, ইয়াকুব ইবন আল-আব্বাস আল-হাশিমী, ইউসুফ ইবন মুসা আল-াত্তাব আল-হারবি।

এঁরাই ইমাম আহমাদের সেই সকল হাম্বলি সঙ্গী, যাদের জীবনী আমি এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁর থেকে অল্প বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ অধিক বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদের নিকট তাঁদের মর্যাদা, তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ, নির্ভুলতা এবং হেফজ বা মুখস্থ শক্তির ক্ষেত্রেও তাঁদের মাঝে তারতম্য রয়েছে। এখন আমরা প্রথম স্তরের পরবর্তী হাম্বলি ফকিহগণের নাম তাঁদের স্তর এবং মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব, যেমনটি গ্রন্থের শুরুতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আমরা প্রতিটি স্তরকে—
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২২)
منهم على مرتبتين فأقول وبالله العصمة والتوفيق وهو حسبي ونعم الوكيل. انتهى.

 

*‌‌ زهير بن صالح ابن الإِمام أحمد

حدث عن جماعة منهم والده روى عنه جماعة منهم ابن أخيه محمد بن أحمد بن صالح وأبو بكر النجار و‌‌أبو بكر الخلال قال الخلال حدثني زهير بن

صالح قال حدثنا أبي قال قلت لأبي الصلاة بوضوء واحد أحب اليك أم تتوضأ لكل صلاة قال أن قوي أن يصلي بوضوء واحد فلا بأس به ليت أنا قوينا عليه ما لروحه قال أحمد بن كامل ومات زهير بن صالح بن أحمد سنة ثلاث وثلاثمائة رحمه الله.

 

* أبو بكر الخلال

أحمد بن محمد بن هارون أبو بكر المعروف بالخلال له التفاسير الدائرة والكتب السائرة من ذلك الجامع لعلوم الإِمام أحمد لم يصنف في المذهب مثله والعلل والسنة والطبقات والعلم وتفسير الغريب والأدب وأخلاق أحمد وغير ذلك سمع من جماعة من أصحاب إمامنا وغيرهم ممن يكثر تعدادهم ويشق إحصاؤهم منهم صالح وعبد الله ابنا الإِمام وحنبل ابن عمه وإبراهيم الحربي وأبو داود السجستاني ورحل إلى أقاصي البلاد في جمع مسائل أحمد وسماعها ممن سمعها من أحمد فسبق إلى ما لم يسبق إليه سابق ولم يلحقه بعده لاحق وسئل الخلال عن طير وقع في قدر فقال إن كانت القدر تغلي فاللحم وما فيها يجذب النجاسة فيراق كله وإن كانت قد هدأت غسل اللحم وما فيها وأهريق الماء وقال بلغني أن أحمد سئل عن الزاهد يكون زاهدًا ومعه مائة دينار قال نعم على شريطة أنه إذا زادت لم يفرح وإذا نقصت لم يحزن وكانت حلقة الخلال بجامع المهدي وتوفي يوم الجمعة قبل الصلاة ليومين خليا من شهر ربيع الآخر سنة إحدى عشرة وثلاثمائة ودفن إلى جنب المروذي عند رجلي أحمد رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ أبو بكر بن أبي داود السجستاني

عبد الله بن سليمان بن الأشعث السجستاني أبو بكر بن أبي داود رحل به أبوه من سجستان فطوف به شرقًا وغربًا وأسمعه من علماء ذلك الوقت واستوطن بغداد وصنف المسند والسنن والتفسير والقرائات والناسخ والمنسوخ وغير ذلك وكان فهما عالما حافظا سمع جماعة من أب الإِمام أحمد وغيرهم وحدث عنه جماعة منهم الدارقطني ونصب له السلطان المنبر
তাদের মধ্যে তারা দুটি স্তরে বিভক্ত। আমি বলছি, আর আল্লাহর নিকটই সুরক্ষা ও তাওফিক প্রার্থনা করছি, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। সমাপ্ত।

 

*‌‌জুহাইর বিন সালিহ ইবনুল ইমাম আহমাদ

তিনি তাঁর পিতাসহ একদল আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন সালিহ, আবু বকর আল-নাজ্জার এবং ‌আবু বকর আল-খাল্লাল একদল বর্ণনা করেছেন। আল-খাল্লাল বলেন, জুহাইর বিন সালিহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে (ইমাম আহমাদকে) জিজ্ঞেস করলাম: এক ওজুতে একাধিক সালাত আদায় করা কি আপনার নিকট অধিক প্রিয়, নাকি আপনি প্রত্যেক সালাতের জন্য ওজু করবেন? তিনি বললেন: যদি কেউ এক ওজুতে সালাত আদায় করতে সক্ষম হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আফসোস, যদি আমরা এর সামর্থ্য রাখতাম! আহমাদ বিন কামিল বলেন, জুহাইর বিন সালিহ বিন আহমাদ তিনশ তিন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

 

* আবু বকর আল-খাল্লাল

আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আবু বকর, যিনি আল-খাল্লাল নামে পরিচিত। তাঁর রয়েছে বহুল প্রচলিত তাফসিরসমূহ এবং প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ; এর মধ্যে ইমাম আহমাদের ইলম সংক্রান্ত 'আল-জামে' গ্রন্থটি অন্যতম, যার সমতুল্য কোনো গ্রন্থ এই মাযহাবে রচিত হয়নি। এছাড়া আল-ইলাল, আস-সুন্নাহ, আত-তাবাকাত, আল-ইলম, তাফসিরুল গারিব, আল-আদাব, আখলাকু আহমাদ এবং আরও অনেক কিতাব তিনি রচনা করেছেন। তিনি আমাদের ইমামের একদল সঙ্গী এবং আরও অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন যাদের সংখ্যা অধিক এবং গণনা করা কঠিন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমামের দুই পুত্র সালিহ ও আব্দুল্লাহ, তাঁর চাচাতো ভাই হাম্বল বিন ইসহাক, ইব্রাহিম আল-হারবি এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি। তিনি ইমাম আহমাদের মাসআলাসমূহ সংগ্রহ করার জন্য এবং যারা আহমাদের কাছ থেকে শুনেছেন তাঁদের থেকে সরাসরি শোনার জন্য পৃথিবীর দূর-দূরান্তে সফর করেছেন। তিনি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যেখানে তাঁর পূর্বে কেউ পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর পরেও কেউ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। খাল্লালকে একটি পাত্রে পড়ে যাওয়া পাখি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: যদি পাত্রটি ফুটন্ত অবস্থায় থাকে, তবে মাংস এবং এর ভেতরে যা আছে তা অপবিত্রতা শোষণ করে নেয়, তাই সবটুকু ঢেলে দিতে হবে। আর যদি পাত্রটি ঠান্ডা হয়ে থাকে, তবে মাংস এবং এর ভেতরের বস্তু ধুয়ে নিতে হবে এবং পানি ঢেলে দিতে হবে। তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তার কাছে একশ দিনার থাকা সত্ত্বেও কি সে জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) হতে পারে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এই শর্তে যে, যদি সম্পদ বৃদ্ধি পায় তবে সে আনন্দিত হবে না এবং যদি কমে যায় তবে সে দুঃখিত হবে না। আল-খাল্লালের পাঠদান চক্রটি জামে আল-মাহদিতে অনুষ্ঠিত হতো। তিনি তিনশ এগারো হিজরি সনের রবিউল আখির মাসের দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন সালাতের পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে আল-মারওয়াযির পাশে ইমাম আহমাদের পায়ের কাছে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

 

*‌‌আবু বকর বিন আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি

আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশ-আস আস-সিজিস্তানি আবু বকর বিন আবি দাউদ। তাঁর পিতা তাঁকে সিজিস্তান থেকে নিয়ে দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ করেন এবং সে যুগের আলেমদের থেকে ইলম শ্রবণ করান। তিনি বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং আল-মুসনাদ, আস-সুনান, আত-তাফসির, আল-কিরাত, আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ এবং আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ, আলেম এবং হাফেজ। তিনি ইমাম আহমাদের একদল সঙ্গী ও অন্যদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর থেকে আদ-দারাকুতনিসহ একদল আলেম বর্ণনা করেছেন এবং সুলতান তাঁর জন্য মিম্বর স্থাপন করে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৩)
فحدث عليه ورحل إلى

سجستان فأملى عليهم من حفظه ثلاثين ألف حديث روى على المحدث عن عبيد الله الفقيه قال أنشدنا أبو بكر بن أبي داود من حفظه لنفسه:

تمسك بحبل واتبع الهدى … ولا تك بدعيًا لعلك تفلح

ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله تنجو وتربح

وقل غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأتقياء وافصحوا

ولا تقل بالقرآن بالوقف قائلا … كما قال اتباع لجهم واسجحوا

ولا تقل القرآن خلق قرائة … فإن كلام الله باللفظ يوضح

وقل يتجلى الله للخلق جهرة … كما البدر لا يخفى وربك أوضح

وليس بمولود وليس بوالد … وليس له شبه تعالى المسبح

وقد ينكر الجهمي هذا وعندنا … بمصداق ما قلنا حديث مصحح

رواه جرير عن مقال محمد … فقل مثل ما قد قال في ذاك تنجح

وقد ينكر الجهمي أيضًا يمينه … وكلتا يديه بالفواضل تنفح

وقل ينزل الجبار في كل ليلة … بلا كيف جل الواحد المتمدح

إلى طبق الدنيا يمن بفضله … فتفرج أبواب السماء وتفتح

يقول ألا مستغفر أنا غافر … ومستمنح خيرا ورزقًا فأمنح

روى ذاك قوم لا يرد حديثهم … الا خاب قوم كذبوهم وقبحوا

وقل أن خير الناس بعد محمد … وزيراه قدمًا ثم عثمان الأرجح

ورابعهم خير البرية بعدهم … علي حليف الخير بالخير منجح

وإنهم والرهط لا ريب فيهم … على نجب الفردوس في الخلد تسرح

سعيد وسعد وابن عوف وطلحة … وعامر فهرٍ والزبير الممدح

وعائش أم المؤمنين وخالنا … معاوية أكرم به فهو مصلح

وأنصاره والهاجرون ديارهم … بنصرهم عن ظلمة النار زحزحوا

ومن بعدهم والتابعون بحسن ما … حذوا حذوهم قولًا وفعلا فافلحوا

وقل خير قول في الصحابة كلهم … ولا تك طعانًا تعيب وتجرح

فقد نطق الوحي المبين بفضلهم … وفي الفتح آي في الصحابة تمدح
অতঃপর তাঁর নিকট বর্ণনা করা হলো এবং তিনি সিজিস্তানে ভ্রমণ করলেন। সেখানে তিনি নিজের স্মৃতি থেকে তাদের কাছে ত্রিশ হাজার হাদিস বর্ণনা করলেন। মুহাদ্দিস উবায়দুল্লাহ আল-ফকিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আবি দাউদ আমাদের কাছে তাঁর নিজের স্মৃতি থেকে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেছেন:

তুমি আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং হিদায়াতের অনুসরণ করো … আর বিদআতি হয়ো না, যাতে তুমি সফল হতে পারো।

আর আল্লাহর কিতাব ও সেই সকল সুন্নাহকে নিজের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করো যা … আল্লাহর রাসূল থেকে বর্ণিত হয়েছে; তবেই তুমি মুক্তি পাবে ও লাভবান হবে।

আর বলো যে, আমাদের রাজাধিরাজের কালাম (কুরআন) অজাত বা সৃষ্টি নয় … পরহেজগারগণ এভাবেই বিশ্বাস করেছেন এবং তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আর কুরআনের ব্যাপারে ‘ওয়াকফ’ (থামিয়ে দেওয়া বা অস্পষ্ট রাখা) নীতি অবলম্বন করে এমন কথা বলো না … যেমনটি জাহম-এর অনুসারীরা বলেছিল এবং তারা শিথিলতা প্রদর্শন করেছিল।

আর বলো না যে, কুরআনের তিলাওয়াত সৃষ্টি … কেননা আল্লাহর কালাম শব্দের মাধ্যমেই পরিস্ফুট হয়।

আর বলো যে, আল্লাহ সৃষ্টির সামনে প্রকাশ্যভাবে আত্মপ্রকাশ করবেন … যেমন পূর্ণিমার চাঁদ অস্পষ্ট থাকে না, আর তোমার রব তো অধিকতর স্পষ্ট।

তিনি জন্ম নেননি এবং তিনি জন্ম দেননি … এবং তাঁর কোনো সদৃশ নেই; মহান ও পবিত্র সত্তা তিনি।

জাহমিরা হয়তো একে অস্বীকার করবে, কিন্তু আমাদের কাছে … আমাদের কথার সত্যতা প্রমাণে বিশুদ্ধ হাদিস বিদ্যমান।

যা মুহাম্মাদের বাণী থেকে জারির বর্ণনা করেছেন … অতএব তিনি যা বলেছেন তুমিও তেমনটিই বলো, তবেই তুমি সফল হবে।

জাহমিরা হয়তো আল্লাহর ডান হাতকেও অস্বীকার করবে … অথচ আল্লাহর উভয় হাতই দানে পরিপূর্ণ।

আর বলো যে, প্রতাপশালী আল্লাহ প্রতি রাতে নেমে আসেন … কোনো ধরন ছাড়াই; মহান সেই একক সত্তা যিনি প্রশংসিত।

দুনিয়ার আসমানে তিনি স্বীয় অনুগ্রহে নেমে আসেন … অতঃপর আসমানের দরজাসমূহ উন্মোচিত ও খুলে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন: ‘আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করব’ … ‘এবং আছে কি কোনো কল্যাণ ও রিজিক অন্বেষণকারী? আমি তাকে দান করব’।

এমন এক জামাত এটি বর্ণনা করেছেন যাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয় না … সাবধান! সেই সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা তাদের মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে এবং মন্দ সাব্যস্ত করেছে।

আর বলো যে, মুহাম্মাদের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন … তাঁর আদি দুই উজির (আবু বকর ও উমর) এবং এরপর অগ্রগণ্য উসমান।

আর তাঁদের পর সৃষ্টির সেরা চতুর্থ ব্যক্তি হলেন … আলী, যিনি কল্যাণের সাথী এবং কল্যাণের মাধ্যমেই সফল।

তাঁরা এবং সেই দলটি (দশজন জান্নাতি), যাদের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই … তাঁরা চিরস্থায়ী জান্নাতুল ফিরদাউসের শ্রেষ্ঠ বাহনে বিচরণ করবেন।

সাঈদ, সাদ, ইবনে আউফ এবং তালহা … এবং আমের বিন ফিহর ও প্রশংসিত জুবায়ের।

এবং উম্মুল মুমিনিন আয়েশা ও আমাদের মামা … মুয়াবিয়া; কতই না সম্মানিত তিনি, তিনি তো সংশোধনকারী ছিলেন।

এবং তাঁর আনসার ও মুহাজিরগণ যারা নিজ গৃহ ত্যাগ করেছিলেন … তাঁদের সহযোগিতার কারণে তাঁরা জাহান্নামের অন্ধকার থেকে দূরে সরে গিয়েছেন।

এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়িগণ, যারা উত্তমভাবে … কথা ও কাজে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, ফলে তাঁরা সফল হয়েছেন।

আর সমস্ত সাহাবীর ব্যাপারে সর্বোত্তম কথা বলো … এবং তুমি দোষারোপকারী হয়ো না যে দোষ খোঁজে ও আঘাত হানে।

কেননা সুস্পষ্ট ওহী তাঁদের ফজিলত বর্ণনা করেছে … এবং সূরা আল-ফাতহে সাহাবীদের প্রশংসা করে আয়াতসমূহ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৪)
وبالقدر المقدور أيقن فإنه … دعامة عقد الدين والدين أقبح

ولا تنكرن جهرًا نكيرًا ومنكرًا … ولا الخوض والميزان أنك تنصح

وقل يخرج الله العظيم بفضله … من النار أجسادًا من اللحم تطرح

على النهر في الفردوس تحيي بمائة … كحبة حمل السيل إذ جاء يطفح

وإن رسول الله للخلق شافع … وإن عذاب القبر بالحق موضح

ولا تكفرن أهل الصلاة وإن عصوا … فكلهم يعصي وذو العرش يصفح

وقل إنما الإيمان قول ونية … وفعل على قول النبي مصرح

وينقص طورًا بالمعاصي وتارة … بطاعته ينمو وفي الوزن يرجح

ولا تعتقد رأي الخوارج أنه … مقال لمن يهواه يردي ويفضح

ولا تك مرجيا لعوبا بدينه … ألا إنما المرجي بالدين يمرح

ولا تك من قوم تلهوا بدينهم … فتطعن في أهل الحديث وتقدح

ودع عنك آراء الرجال وقولهم … فقول رسول الله أزكى وأشرح

إذا ما اعتقدت الدهر يا صاح هذه … فأنت على خير تبيت وتصبح

قال ابن بطة قال ابن أبي داود هذا قولي وقول أبي وقول أحمد بن حنبل وقول من أدركنا من أهل العلم ومن لم ندرك فيما بلغنا عنه فمن قال غير هذا فقد كذب مولده سنة ثلاثين ومائتين قال وأول ما كتبت سنة إحدى وأربعين ومائتين وتوفي وهو ابن ست وثمانين وستة أشهر وأيام قيل صلى عليه ثمانين مرة حتى أنفذ المقتدر بالله جماعة فخلصوا جنازته ودفنوه يوم الأحد لاثنتي عشرة بقيت من ذي الحجة سنة ست عشرة وثلاثمائة أخرج بعد صلاة الغداة ودفن بعد صلاة الظهر وخلف ثمانية أولاد رحمهم الله تعالى.

 

*‌‌ أحمد بن محمد بن صالح ابن الإِمام

أبو جعفر حدث عن عم أبيه عبد الله ابن الإِمام أحمد وعن عمه أحمد بن صالح. وعن عمه زهير بن صالح وغيرهم روى عنه جماعة منهم أبو القاسم الوراق والدارقطني وغيرهما وتوفي سنة ثلاثين وثلاثمائة رحمه الله تعالى.

পূর্বনির্ধারিত তাকদীরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করুন, কারণ এটি … দ্বীনের আকিদার স্তম্ভ এবং দ্বীন অত্যন্ত সুপ্রশস্ত।

প্রকাশ্যে মুনকার ও নাকীরকে অস্বীকার করবেন না … আর না হাউয ও মীযানকে; তবেই আপনি কল্যাণকামী হিসেবে গণ্য হবেন।

আর বলুন, মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে বের করবেন … জাহান্নাম থেকে এমন সব দেহ যাদেরকে তথায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

জান্নাতুল ফিরদাউসের নহরের তীরে তারা সেই পানি দ্বারা পুনরুজ্জীবিত হবে … ঠিক যেমন বন্যার স্রোতে ভেসে আসা শস্যদানা সতেজ হয়ে ওঠে।

নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সৃষ্টির জন্য সুপারিশকারী … আর কবরের আযাব সত্য ও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

নামাযীদের কাফির বলবেন না যদিও তারা গুনাহ করে … কেননা সবাই পাপাচার করে কিন্তু আরশের অধিপতি ক্ষমা করে দেন।

আর বলুন, ঈমান কেবল কথা ও নিয়ত … এবং কাজের সমষ্টি, যা নবী (সা.)-এর সুষ্পষ্ট বাণীর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এটি পাপাচারের কারণে কখনো হ্রাস পায় এবং কখনো … আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় ও মীযানের পাল্লায় ভারী হয়।

খারেজীদের মতবাদ পোষণ করবেন না, কারণ এটি … এমন এক উক্তি যা এর অনুসারীকে ধ্বংস ও অপদস্থ করে।

দ্বীন নিয়ে খেলাকারী মুরজিয়া হবেন না … সাবধান! নিশ্চয়ই মুরজিয়ারা দ্বীন নিয়ে কেবল তামাশাই করে।

সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যারা তাদের দ্বীন নিয়ে খেলা করে … ফলে তারা আহলে হাদীসদের প্রতি নিন্দা ও অপবাদ দেয়।

মানুষের ব্যক্তিগত রায় ও উক্তি বর্জন করুন … কেননা আল্লাহর রাসূলের বাণী অধিকতর পবিত্র ও সুস্পষ্ট।

হে বন্ধু! আপনি যদি আজীবন এই বিশ্বাসগুলো পোষণ করেন … তবে আপনি কল্যাণের সাথেই সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করবেন।

ইবনে বাত্তাহ বলেন, ইবনে আবু দাউদ বলেছেন: এটিই আমার কথা, আমার পিতার কথা, আহমদ বিন হাম্বলের কথা এবং আমরা যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি সেই সব আলেমদের কথা; আর যাদের আমরা সরাসরি পাইনি তাদের মধ্যে হতে যাদের কথা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তাদেরও কথা এটি। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলবে সে মিথ্যাচার করল। তাঁর জন্ম ২৩০ হিজরীতে। তিনি বলেন, তিনি প্রথম লেখা শুরু করেন ২৪১ হিজরীতে এবং ৮৬ বছর ৬ মাস কয়েক দিন বয়সে ইন্তেকাল করেন। বর্ণিত আছে যে, তাঁর জানাযার নামায আশি বার পড়া হয়েছিল, এমনকি আল-মুকতাদির বিল্লাহ একটি দল পাঠান যারা তাঁর জানাযা রক্ষা করেন এবং তাঁরা তাঁকে ৩১৬ হিজরীর যিলহজ মাসের বারো দিন বাকি থাকতে রবিবার দাফন করেন। তাঁকে ফজরের নামাযের পর বের করা হয়েছিল এবং যোহরের নামাযের পর দাফন করা হয়। তিনি আটজন সন্তান রেখে গেছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহম করুন।

 

*‌‌ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালেহ ইবনুল ইমাম

আবু জাফর; তিনি তাঁর পিতার চাচা ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ এবং তাঁর চাচা আহমদ বিন সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া তাঁর চাচা যুহাইর বিন সালেহ এবং অন্যান্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে একদল রাবী বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আবু কাসেম আল-ওয়াররাক ও আদ-দারাকুতনী অন্যতম। তিনি ৩৩০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৫)
*‌‌ أبو بكر غلام الخلال

عبد العزيز بن جعفر بن أحمد بن يزداد بن معروف أبو بكر المعروف بغلام الخلال حدث عن جماعة منهم أبو القاسم البغوي وعبد الله بن أحمد وأبو بكر بن أبي داود روى عنه جماعة منهم أبو عبد الله بن حامد وكان من أهل العلم والديانة والعبادة وله المصنفات في العلوم المختلفات وهي الشافي والمقنع وتفسير القرآن والخلاف مع الشافعي وكتاب القولين وزاد المسافر والتنبيه وغير ذلك وله اختيارات خالف فيها شيخه الخلال منها أن المرأة إذا وقفت إلى جنب الرجل بطلت صلاة من يليلها من الرجال ومنها أن الكفر ملل وذكره القاضي أبو يعلى فقال كان ذا دين وأخا ورع علامة بارعًا في علم مذهب أحمد بن حنبل وذكر تصانيفه وتعظيمه في النفوس وتقدمه عند السلطان ووقعت له كرامات نفيسة وكان مع تصانيفه في الأصول والفروع له قدم في تفسير القرآن ومعرفة معانيه وتوفي في شوال لعشر بقين من يوم الجمعة بعد الصلاة سنة ثلاث وستين وثلاثمائة ونقل عنه أنه قال وهو في علته أنا عندكم إلى يوم الجمعة فقيل له يعافيك الله فقال سمعت أبا بكر الخلال يقول سمعت أبا بكر المروذي يقول عاش أحمد بن حنبل ثمانيًا وسبعين سنة ومات يوم الجمعة ودفن بعد الصلاة وعاش أبو بكر المروذي ثمانيا وسبعين سنة ومات يوم الجمعة ودفن بعد الصلاة وعاش أبو بكر الخلال ثمانيا وسبعين سنة ومات يوم الجمعة ودفن بعد الصلاة وأنا عندكم إلى يوم الجمعة ولي ثمان وسبعون سنة فلما كان يوم الجمعة مات ودفن بعد الصلاة وهذه كرامة حسنة وكان يوم موته عظيمًا لكثرة الجمع رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ أبو القاسم الخرقي

عمر بن الحسين بن عبد الله بن أحمد أبو القاسم الخرقي قرأ العلم على أبيه الحسين وغيره ممن قرأه عَلَى أبي بكر المروذي وحرب الكرماني وصالح وعبد الله ابني إمامنا له المصنفات الكبيرة في المذهب لم ينتشر منها إلا المختصر في الفقه لأنه خرج عن مدينة السلام لما ظهر سب الصحابة رضي الله عنهم وأودع كتبه في

درب سليمان فاحترقت الدار التي كانت فيها ولم تكن انتشرت لبعده عن البلد قرأ عليه جماعة من شيوخ المذهب منهم عبد الله بن بطة وأبو الحسين التميمي وأبو الحسين بن سمعون قال القاضي
আবু বকর গোলাম আল-খাল্লাল

আবদুল আজিজ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজদাদ ইবনে মারুফ আবু বকর, যিনি গোলাম আল-খাল্লাল নামে পরিচিত। তিনি আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ এবং আবু বকর ইবনে আবি দাউদসহ একদল মনীষীর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু আবদুল্লাহ ইবনে হামিদসহ একদল আলেম বর্ণনা করেছেন। তিনি ইলম, দ্বীনদারি ও ইবাদতগুজারির অধিকারী ছিলেন। বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আল-শাফী, আল-মুকনি, তাফসিরুল কুরআন, আল-খিলাফ মা‘আশ শাফি‘ঈ, কিতাবুল কাওলাইন, জাদুল মুসাফির, আত-তানবীহ এবং আরও অনেক। তাঁর এমন কিছু ব্যক্তিগত ইজতিহাদ বা মত রয়েছে যাতে তিনি তাঁর উস্তাদ আল-খাল্লালের বিরোধিতা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো—যদি কোনো নারী পুরুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে তার পার্শ্ববর্তী পুরুষদের সালাত বাতিল হয়ে যাবে। অন্যটি হলো—কুফর একাধিক মিল্লাত বা আদর্শের সমষ্টি। কাজী আবু ইয়ালা তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ এবং অত্যন্ত পরহেজগার; আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের একজন সুদক্ষ ও বিজ্ঞ পণ্ডিত। তিনি তাঁর রচনাবলি, মানুষের হৃদয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা এবং সুলতানের নিকট তাঁর উচ্চমর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে অনেক মূল্যবান কারামত প্রকাশিত হয়েছে। উসুল ও ফুরু‘ শাস্ত্রে তাঁর রচনার পাশাপাশি তাফসিরুল কুরআন এবং এর অর্থ অনুধাবনে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ৩৬৩ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের দশ দিন বাকি থাকতে জুমার দিন সালাতের পর ইন্তেকাল করেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি অসুস্থ থাকাকালীন বলেছিলেন, ‘আমি জুমার দিন পর্যন্ত তোমাদের মাঝে আছি।’ তাঁকে বলা হলো, ‘আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন।’ তিনি বললেন, ‘আমি আবু বকর আল-খাল্লালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবু বকর আল-মাররুজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আহমদ ইবনে হাম্বল আটাত্তর বছর বেঁচে ছিলেন এবং জুমার দিন ইন্তেকাল করেন ও সালাতের পর দাফন করা হয়। আবু বকর আল-মাররুজি আটাত্তর বছর বেঁচে ছিলেন এবং জুমার দিন ইন্তেকাল করেন ও সালাতের পর দাফন করা হয়। আবু বকর আল-খাল্লাল আটাত্তর বছর বেঁচে ছিলেন এবং জুমার দিন ইন্তেকাল করেন ও সালাতের পর দাফন করা হয়। আর আমিও জুমার দিন পর্যন্ত তোমাদের মাঝে আছি এবং আমার বয়সও আটাত্তর বছর।’ অতঃপর যখন জুমার দিন এলো, তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং সালাতের পর তাঁকে দাফন করা হলো। এটি একটি চমৎকার কারামত ছিল। তাঁর জানাজায় মানুষের বিশাল উপস্থিতির কারণে দিনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ আবু আল-কাসিম আল-খিরাকি

উমর ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আবু আল-কাসিম আল-খিরাকি। তিনি তাঁর পিতা আল-হুসাইন এবং অন্যদের কাছে ইলম অর্জন করেছেন, যাঁরা আবু বকর আল-মাররুজি, হারব আল-কিরমানি এবং আমাদের ইমামের (আহমদ ইবনে হাম্বল) দুই পুত্র সালিহ ও আবদুল্লাহর নিকট ইলম পড়েছেন। মাযহাবের ওপর তাঁর বড় বড় অনেক রচনা ছিল, তবে ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-মুখতাসার’ ব্যতীত সেগুলো সেভাবে ছড়ায়নি। কারণ যখন (বাগদাদে) সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে গালিগালাজ করার প্রথা প্রকাশ পায়, তখন তিনি মদিনাতুস সালাম (বাগদাদ) ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর কিতাবগুলো দর্ব সুলাইমানে আমানত হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। সেখানে যে ঘরে কিতাবগুলো ছিল সেটি আগুনে পুড়ে যায়। শহর থেকে তাঁর দূরে থাকার কারণে সেগুলো তখনো ছড়িয়ে পড়েনি। মাযহাবের একদল শায়খ তাঁর নিকট ইলম পড়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ, আবু আল-হুসাইন আত-তামিমি এবং আবু আল-হুসাইন ইবনে সামউন। কাজী বলেন—
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৬)
قرأت بخط أبي إسحاق البرمكي أن عدد مسائل المختصر ألفان وثلاثمائة مسألة - قال وقال أبو عبد الله بن القفاعي وجدت بخط شيخنا أبي حفص العكبري قال سمعت الشيخ أبا عبد الله بن بطة يقول توفي أبو القاسم سنة أربع وثلاثين وثلاثمائة ودفن بدمشق وزرت قبره رحمه الله رحمة واسعة آمين.

 

*‌‌ ابن حامد الوراق

الحسن بن حامد بن علي بن مروان أبو عبد الله البغدادي إمام الحنابلة في زمانه ومدرسهم ومفتيهم له المصنفات في العلوم المختلفات له الجامع في المذهب نحو أربعمائة جزء وله تهذيب الأجوبة وشرح الخرقي وشرح أصول الدين وأصول الفقه ناظر أبا أحمد الإسفرائيني في وجوب الصيام ليلة الغمام في دار الإِمام القائم بأمر الله بحيث يسمع الخليفة الكلام فخرجت الجائزة السنية له من أمير المؤمنين فردها مع حاجة إلى بعضها فضلًا عن جميعها تعففًا وتنزهًا وكان ينسخ بيده ويقتات من أجرته فسمي ابن حامد الوراق وكان كثير الحج قال أبو بكر الخياط سألت الشيخ أبا عبد الله بن حامد إمام الحنبلية في وقته عند خروجه إلى الحج في سنة اثنتين وأربعمائة فقلت على من ندرس وإلى من نجلس فقال إلى هذا الفتى وأشار إلى القاضي أبي بعلي توفي راجعًا من مكة بقرب واقصة سنة ثلاث وأربعمائة رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ القاضي الكبير أبو يعلي

محمد بن الحسين بن محمد بن خلف بن أحمد بن الفرا إمام الحنابلة كان عالم زمانه وفريد عصره مولده في محرم سنة ثمانين وثلاثمائة وعنه انتشر مذهب الإِمام أحمد وكان له في الأصول والفروع القدم العالي والخطر الرفيع عند الإِمامين القادر بالله والقائم بأمر الله وكان على متن الإِمام أحمد رضي الله عنه

ولم يزل على طول الزمان يزداد جلالة وعلمًا وأما شيوخه فكثيرة ومنهم من سمع عن البغوي عن الإِمام كأبي القاسم بن جبارة وأبي القاسم موسى بن عيسى السراج وأما أصحابه فكثيرة أيضًا ولما توفي ابن مأكولا قاضي القضاة روسل المترجم ليلي القضاء بدار الخلافة والحريم فامتنع فلما لم يجد بدًا اشترط عليهم شرائط منها أنه لا يحضر المواكب ولا يخرج للاستقبالات ولا يقصد دار السلطان ويستخلف من ينوب عنه في الحريم
আমি আবু ইসহাক আল-বারমাকীর হস্তাক্ষরে পড়েছি যে, মুখতাসারের মাসআলার সংখ্যা দুই হাজার তিনশটি। তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-কাফাঈ বলেছেন, আমি আমাদের শাইখ আবু হাফস আল-উব্বরীর হস্তাক্ষরে পেয়েছি যে, তিনি বলেছেন, আমি শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বিন বাত্তাহকে বলতে শুনেছি যে, আবু আল-কাসিম তিনশ চৌত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কে সমাধিস্থ হন। আমি তাঁর কবর যিয়ারত করেছি। আল্লাহ তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন। আমীন।

 

*‌‌ ইবনে হামিদ আল-ওয়াররাক

হাসান বিন হামিদ বিন আলী বিন মারওয়ান আবু আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদী, তাঁর সময়ের হাম্বলিদের ইমাম, তাদের শিক্ষক এবং মুফতি। বিভিন্ন বিজ্ঞানে তাঁর অনেক রচনা রয়েছে। মাযহাবের ওপর তাঁর 'আল-জামি' গ্রন্থটি প্রায় চারশ খণ্ডে সমাপ্ত। তাঁর আরও রয়েছে 'তাহযীবুল আজউবা', 'শারহুল খিরাকী', 'শারহু উসুলিদ দ্বীন' এবং 'উসুলুল ফিকহ'। তিনি মেঘাচ্ছন্ন রাতে রোজা রাখা ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে আবু আহমদ আল-ইসফিরায়িনীর সাথে ইমাম আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহর দরবারে বাহাস করেন, যেখানে খলিফা স্বয়ং তাঁদের বিতর্ক শুনছিলেন। আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য একটি বিশাল পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, যদিও তাঁর সামান্য কিছুর প্রয়োজন ছিল এবং পুরোটির তো কথাই নেই। তিনি পবিত্রতা ও আত্মসম্মানবোধের কারণে তা গ্রহণ করেননি। তিনি নিজ হাতে কিতাব অনুলিপি করতেন এবং সেই পারিশ্রমিক দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাই তাঁকে 'ইবনে হামিদ আল-ওয়াররাক' বলা হতো। তিনি অনেকবার হজ করেছেন। আবু বকর আল-খাইয়্যাত বলেন, চারশ দুই হিজরিতে যখন সে সময়ের হাম্বলিদের ইমাম শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদ হজে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমরা কার কাছে ইলম অর্জন করব এবং কার মজলিসে বসব? তিনি জনৈক যুবকের দিকে ইশারা করে বললেন, এই যুবকের কাছে; আর তিনি ছিলেন কাজী আবু ইয়া'লা। তিনি চারশ তিন হিজরিতে মক্কা থেকে ফেরার পথে ওয়াকিসার নিকটবর্তী স্থানে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

*‌‌ আল-কাজী আল-কাবীর আবু ইয়া'লা

মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আহমদ বিন আল-ফাররা, হাম্বলিদের ইমাম। তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম এবং আপন যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর জন্ম তিনশ আশি হিজরির মহররম মাসে। তাঁর মাধ্যমেই ইমাম আহমদের মাযহাব ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থান ছিল সুউচ্চ এবং ইমাম আল-কাদির বিল্লাহ ও আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহর নিকট তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও উচ্চ সম্মান ছিল। তিনি ইমাম আহমদের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আদর্শের ওপর অটল ছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় তাঁর মহিমা ও জ্ঞান কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছিল। তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবু আল-কাসিম বিন জাব্বারাহ এবং আবু আল-কাসিম মুসা বিন ঈসা আস-সাররাযের মতো ইমাম আল-বাগাওয়ীর মাধ্যমে ইমাম আহমদের হাদীস শুনেছেন। তাঁর অনুসারীদের সংখ্যাও প্রচুর। যখন প্রধান বিচারপতি ইবনে মাকুলা ইন্তেকাল করেন, তখন এই জীবনীকারকে (আবু ইয়া'লা) খিলাফত ও রাজকীয় হারেমের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে যখন তিনি দেখলেন যে এ থেকে নিষ্কৃতি নেই, তখন তিনি তাঁদের নিকট কিছু শর্ত আরোপ করেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল—তিনি কোনো রাজকীয় শোভাযাত্রায় উপস্থিত হবেন না, কাউকে অভ্যর্থনা জানাতে বের হবেন না, সুলতানের দরবারে যাবেন না এবং হারেমের বিচারকার্যের জন্য নিজের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৭)
فأجيب إلى ذلك ثم أضيف إلى الحريم قضاء حران وحلوان فاستتاب فيهما وامتدحه أهل العلم بأبيات منها:

الحنبليون قوم لا شبيه لهم … في الدين والزهد والتقوى إذا ذكروا

أحكامهم بكتاب الله مذ خلقوا … وبالحديث وما جاءت به النذر

إن الإِمام أبا يعلي فقيههم … حبر عروق بما يأتي وما يذر

حضر الناس مجلسه وهو يملي حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الجمعة بجامع المنصور على كرسي عبد الله بن الإِمام أحمد وما رأى الناس في زمانهم مجلسًا للحديث اجتمع فيه ذلك الجم الغفير من الأعيان وأماثل الزمان وكان يومًا مشهودًا وأما مصنفاته فكثيرة جدًا منها أحكام القرآن ومسائل الإيمان والمعتمد والمقتبس وعيون المسائل والرد على المجسمة وأربع مقدمات في أحوال الديانات وإثبات إمامة الخلفاء الأربعة وتبرئة معاوية وفضائل أحمد ومقدمة في الأدب وتفضيل الفقر على المعنى وشرح الخرقي وكتاب الروايتين والخلاف الكبير والخصال والأقسام وفيه يقول بعضهم:

قد نظرنا مصنفات الإِمام … فسبرنا شريعة الإسلام

ما رأينا مصنفًا جمع العـ … ــــلم مع الاختصار والإفهام

مثل ما صنف الإِمام أبو يعـ … ـــــــلى كتاب الخصال والاقسام

توفي ليلة الاثنين بعد العشائين تاسع عشر رمضان سنة ثمان وخمسين وأربعمائة ورثي بقصائد وفي جملتها:

عش ما بدا لك في الدنيا فلست ترى … في الناس منه ولا من علمه خلفا

أثنى عليه ابن الجوزي ولم تزل العلماء تثني عليه طبقة بعد طبقة إلى يومنا

هذا رحمه الله تعالى - يقول المختصر: إن صاحب الترجمة هو أول من وضع طبقات الحنابلة وجميع من ذيلوا وجمعوا وصنفوا من بعدهم عيال عليه وإن اختلفت عباراتهم وفي المكتبة الظاهرية بدمشق الآن نسخة قديمة من الطبقات المذكورة.

 

*‌‌ جعفر السراج

جعفر بن أحمد بن الحسين بن أحمد بن جعفر السراج المقري المحدث الأديب
এরপর তাকে সেই পদে নিয়োগ দেওয়া হলো, তারপর হারিম (অঞ্চল)-এর সাথে হাররান ও হালওয়ানের বিচারিক দায়িত্ব যুক্ত করা হলো। তিনি সেখানে ইনসাফ কায়েম করলেন এবং ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ (আলেমগণ) তাঁর প্রশংসায় কবিতা পাঠ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

হাম্বলিরা এমন এক জাতি যাদের কোনো সমতুল্য নেই … দ্বীনদারী, দুনিয়াবিমুখতা এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে যখন তাদের আলোচনা করা হয়।

তাদের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই তাদের বিধানসমূহ আল্লাহর কিতাব … এবং হাদিস ও সতর্ককারীদের নিয়ে আসা বাণীর ওপর ভিত্তি করে।

নিশ্চয়ই ইমাম আবু ইয়ালা তাদের ফকীহ … এমন এক অভিজ্ঞ পণ্ডিত যিনি জানেন কী গ্রহণ করতে হবে আর কী বর্জন করতে হবে।

মানুষ তাঁর মজলিসে সমবেত হতো, যখন তিনি মনসুর জামে মসজিদে ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহর আসনে বসে জুমার নামাজের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করতেন। তৎকালীন যুগের মানুষ হাদিসের এমন কোনো মজলিস দেখেনি যেখানে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের এত বিশাল সমাবেশ ঘটেছিল। সেটি ছিল এক স্মরণীয় দিন। আর তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি সংখ্যায় অত্যন্ত বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আহকামুল কুরআন, মাসায়িলুল ঈমান, আল-মু'তামাদ, আল-মুকতাবাস, উইয়ুনুল মাসায়িল, আর-রাদ্দু আলাল মুজাসসিমা, ধর্মসমূহের অবস্থার ওপর চারটি ভূমিকা, চার খলিফার ইমামতের প্রমাণ, মুয়াবিয়ার নির্দোষিতা প্রমাণ, আহমদের গুণাবলি, শিষ্টাচারের ওপর একটি ভূমিকা, অর্থের ওপর দারিদ্র্যের শ্রেষ্ঠত্ব, শারহুল খিরাকি, কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন, আল-খিলাফুল কাবির এবং আল-খিসাল ওয়াল আকসাম। এই গ্রন্থটি সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন:

আমরা ইমামের গ্রন্থগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি … এবং ইসলামের শরীয়তকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি।

আমরা এমন কোনো গ্রন্থ দেখিনি যা জ্ঞানকে একত্রিত করেছে … সংক্ষিপ্তসার ও বোধগম্যতার সাথে,

যেমনটি ইমাম আবু ইয়ালা তাঁর গ্রন্থ 'আল-খিসাল ওয়াল আকসাম'-এ সংকলন করেছেন।

তিনি চারশত আটান্ন হিজরি সনের উনিশে রমজান সোমবার রাতে এশার নামাজের পর ইন্তেকাল করেন। তাঁর শোকে অনেক কবিতা রচিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

দুনিয়াতে তোমার যেমন ইচ্ছা জীবন অতিবাহিত করো, কিন্তু তুমি মানুষের মধ্যে … তাঁর মতো কাউকে অথবা তাঁর ইলমের কোনো স্থলাভিষিক্ত দেখতে পাবে না।

ইবনুল জাওযী তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং আলেম সমাজ আজ পর্যন্ত বংশপরম্পরায় তাঁর প্রশংসা করে আসছেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন — সারসংক্ষেপকারী বলেন: এই জীবনীগ্রন্থের লেখকই সর্বপ্রথম হাম্বলিদের জীবনীগ্রন্থ (তবাকাত) প্রবর্তন করেন এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে যারা জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন, সংকলন করেছেন বা সংযোজন করেছেন, তারা সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল, যদিও তাদের বর্ণনাভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। বর্তমানে দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে উক্ত তবাকাত-এর একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

 

*‌‌ জাফর আস-সাররাজ

জাফর বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন জাফর আস-সাররাজ, তিনি ছিলেন একজন কারী, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৮)
أبو محمد ولد سنة سبع عشرة وأربعمائة وقرأ القرآن بالروايات واقرأ سنين سافر إلى البلاد وسمع خلقًا كثيرًا خرج له الخطيب خمسة أجزاء تعرف بالسراجيات وكان أدبيًا شاعرًا لطيفًا صدوقًا ثقة مأمونًا عالمًا فهما صالحا حسن الطريقة مع ظرفه ولطف أخلاقه وصنف كتبًا حسانًا منها مصارع العشاق وحكم الصبيان ومناقب السودان وشعره مطبوع نظم كتبًا كثيرة منها المبتدأ ومناسك الحج والخرقي والتنبيه ومن شعره:

بان الخليط فادمعي … وجدًا عليهم تستهل

وحدا بهم حادي الفرا … ق عن المنازل فاستقلوا

قل للذين ترحلوا … عن ناظري والقلب حلوا

ودمي بلا جرم أتيـ … ــــت غداة بينهم استحلوا

ما ضرهم لو انهلوا … من ماء وصلهم وعلوا

ومن شعره أيضًا:

قل للذين بجهلهم … اضحوا يعيبون المحابر

لولا المحابر والمعا … لم والصحايف والدفاتر

والحافظون شريعة الـ … ــــمبعوث من خير العشائر

والناقلون حديثه … عن كابر ثبت فكابر

لرأيت من شبع الضلا … ل عساكرًا قتلوا عساكر

كل يقول بجهله … والله للمظلوم ناصر

قال ابن الجوزي توفي ليلة الأحد العشرين من صفر سنة خمسمائة رحمه الله تعالى.

 

*‌‌ أبو الخطاب الكلوذاني.

محفوظ بن أحمد بن الحسن بن أحمد الكلوذاني البغدادي الفقيه أحد أئمة المذهب وأعيانه ولد سنة اثنين وثلاثين وأربعمائة وسمع الحديث من القاضي أبي يعلي وطبقته ودرس الفقه عليه ولزمه حتى برع في المذهب والخلاف وقرأ الفرائض على الوني وبرع فيها وصار في الفقه فريد عصره ودرس وأفتى وصنف كتبًا حسانًا في الفقه والفرائض والأصول والخلاف ومنها الهداية في الفقه والخلاف الكبير
আবু মুহাম্মদ চারশত সতেরো হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে (কিরাআতে) কুরআন পাঠ করেন। তিনি দীর্ঘ বছর পাঠদান করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেন এবং বহু লোকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। খতিব (আল-বাগদাদি) তাঁর নিকট থেকে পাঁচটি খণ্ড সংকলন করেন যা 'সিরাজিয়্যাত' নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, কবি, অমায়িক, সত্যবাদী, নির্ভরযোগ্য, আমানতদার, পণ্ডিত ও ধীমান একজন সৎ ব্যক্তি। সুন্দর আচরণের পাশাপাশি তাঁর রুচিবোধ ছিল অত্যন্ত মার্জিত। তিনি বেশ কিছু উত্তম গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে 'মাসারিউল উশশাক', 'হিকামুস সিবইয়ান' ও 'মানাকিবুস সুদান'। তাঁর কবিতাগুলো মুদ্রিত হয়েছে। তিনি অনেকগুলো কিতাবকে কাব্যরূপ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে 'আল-মুবতাদা', 'মানাসিকুল হাজ্জ', 'আল-খিরাকি' ও 'আত-তানবিহ'। তাঁর কিছু কবিতা:

সাথীরা পৃথক হয়ে গেল, আর অশ্রু … তাদের বিরহে ব্যাকুল হয়ে ঝরছে।

বিচ্ছেদের ঘোষক আবাসস্থল থেকে তাদের নিয়ে … রওনা হলো, ফলে তারা প্রস্থান করল।

তাদের বলো যারা বিদায় নিয়েছে … আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে, অথচ তারা হৃদয়ে গেঁথে আছে।

নিরাপরাধ থাকা সত্ত্বেও আমার রক্ত … ঝরানো হলো সেই সকালে যখন তারা বিচ্ছেদকে বৈধ করে নিল।

তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা তাদের মিলনের বারিধারা … পান করত এবং পরিতৃপ্ত হতো।

তাঁর আরও কিছু কবিতা:

তাদের বলো যারা নিজেদের মূর্খতাবশত … দোয়াতদানির (কালির পাত্রের) নিন্দা করে।

যদি না থাকত কালির পাত্র, নিদর্শনসমূহ, … সহীফা ও দপ্তরগুলো—

এবং সর্বোত্তম বংশে প্রেরিত মহাপুরুষের … শরিয়ত হিফাজতকারীরা—

এবং তাঁর হাদিস বর্ণনাকারীরা … যারা নির্ভরযোগ্য বড়দের থেকে ক্রমান্বয়ে বর্ণনা করেছেন—

তবে তুমি দেখতে পেতে পথভ্রষ্টতায় মত্ত … এক বিশাল বাহিনী অন্য বাহিনীকে হত্যা করছে।

প্রত্যেকেই নিজ অজ্ঞতাবশত বলত … নিশ্চয়ই আল্লাহ মজলুমের সাহায্যকারী।

ইবনুল জাওযী বলেন: তিনি পাঁচশত হিজরির ২০শে সফর রবিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

*‌‌ আবু আল-খাত্তাব আল-কালওয়াযানি।

মাহফুজ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-কালওয়াযানি আল-বাগদাদি। তিনি একজন ফকিহ এবং মাযহাবের অন্যতম ইমাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি চারশত বত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাজী আবু ইয়ালা ও তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ পাঠ করেন। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নিবিষ্ট থাকেন যতক্ষণ না মাযহাব ও খিলাফ (মতপার্থক্যমূলক মাসআলা) শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি আল-ওয়ানির নিকট ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) পড়েন এবং তাতে পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে নিজ যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন এবং পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান করেন। তিনি ফিকহ, ফারায়েয, উসুল ও খিলাফ বিষয়ে চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-হিদায়াহ' এবং 'আল-খিলাফ আল-কাবির'।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ - তাবা আত-তারাক্কি (পৃষ্ঠা: ২৯)
المسمى بالانتصار في المسائل الكبار والخلاف الصغير المسمى برؤوس المسائل والتهذيب في الفرائض والتمهيد في أصول الفقه والعبادات الخمس ومناسك الحج وكانت له يد حسنة في الأدب وله قصيدة دالية في السنة معروفة أولها:

دع عنك تذكار الخليط المنجد … والسوق نجو الآنسات الخرد

وله من قصيدة:

يا من يخاف الأثم في وصل أما … تخاف في صفك دمي المآثم

وجاءت له فتوى في بيتي شعر وهما:

قل للإِمام أبي الخطاب مسألة … جائت إليك وما يرجى سواك لها

ماذا على رجل أم الصلاة فمذ … لاحت لناظره ذات الجمال لها

فكتبت عليها:

قل للأديب الذي وافى بمسألة … سرت فؤادي لما أن أصخت لها

إن الذي فتنته عن عبادته … خريدة ذات حسن فانثني ولها

إن تاب ثم قضى عنه عبادته … فرحمة الله تغشى من عصى لها

وله مقطوعات عديدة وكان حسن الأخلاق ظريفًا مليح النادرة سريع

الجواب وكان مع ذلك كامل الدين غزير العقل جميل السيرة مرضي الفعل محمود الطريقة قرأ عليه الفقه جماعة من أئمة المذهب منهم الشيخ عبد القادر الجيلي وكان الكيا الهرايسي إذا رأى الشيخ أبا الخطاب مقبلًا قال جاء الفقه وكان فقيهًا عظيمًا كثير الفقه وله مسائل انفرد بها عن الأصحاب توفى يوم الأربعاء ثالث جمادي الآخرة سنة عشر وخمسمائة وترك يوم الخميس ودفن يوم الجمعة في جمع عظيم وحشد كبير ودفن قريبًا من قبر الإمام أحمد رحمه الله تعالى.

- يقول المختصر محمد جميل الشطي قد وفقت ولله الحمد فطبعت القصيدة الدالية المنوه عنها في دمشق سنة 326 برسالة لطيفة وهي عبارة عن 43 بيتًا.

 

*‌‌ أبو الوفاء بن عقيل

علي بن عقيل بن محمد بن عقيل بن أحمد البغدادي الظفري المقري الفقيه الأصولي الواعظ المتكلم أبو الوفاء أحد الأعلام وشيخ الإسلام ولد سنة إحدى
'আল-ইনতিসার ফিল মাসাইল আল-কিবার', 'রুউসুল মাসাইল' নামক 'আল-খিলাফ আস-সাগির', ফারায়েজ শাস্ত্রের 'আত-তাহজিব', উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের 'আত-তামহিদ', 'আল-ইবাদাতুল খামস' এবং 'মানাসিকুল হজ' তার রচিত গ্রন্থ। সাহিত্যে তার চমৎকার হাত ছিল এবং সুন্নাহর বিষয়ে তার একটি সুপরিচিত 'দালিয়া' কাসিদা রয়েছে, যার প্রারম্ভ হলো:

নজদ অভিমুখী বন্ধুর স্মৃতিচারণ বর্জন করো … আর সুন্দরী কুমারীদের অন্বেষণে যাত্রা করা ত্যাগ করো।

তার অপর একটি কাসিদা থেকে বর্ণিত:

হে ঐ ব্যক্তি, যে পরনারীর মিলনে পাপকে ভয় পাও … তুমি কি তোমার পাপের পাল্লায় আমার রক্তপাতের বিষয়ে ভীত নও?

দুইটি কাব্য পঙক্তিতে তার নিকট একটি ফতোয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল:

ইমাম আবু আল-খাত্তাবকে এই মাসআলাটি সম্পর্কে বলুন … যা আপনার নিকট এসেছে এবং আপনি ব্যতীত এর সমাধানের জন্য আর কারো নিকট প্রত্যাশা নেই।

ঐ ব্যক্তির বিধান কী হবে যে সালাতে ইমামতি করছিল, এমতাবস্থায় … তার দৃষ্টির সামনে এক রূপবতী নারী প্রকাশ পেল?

অতঃপর তিনি এর উত্তরে লিখলেন:

ঐ সাহিত্যিককে বলুন যে মাসআলাটি নিয়ে এসেছেন … যা যখন আমি কর্ণপাত করলাম তখন আমার অন্তরকে আনন্দিত করল।

নিশ্চয়ই যাকে তার ইবাদত থেকে মোহাচ্ছন্ন করেছে … সে হলো এক সুন্দরী রূপসী নারী, যার মোহে সে আসক্ত হয়েছে।

সে যদি তওবা করে এবং তার ইবাদত কাজা করে … তবে আল্লাহর রহমত তাকে পরিবেষ্টন করবে যে তার অবাধ্য হয়েছিল।

তার অনেক ক্ষুদ্র কবিতা রয়েছে। তিনি সচ্চরিত্রবান, রসিক, চমৎকার রসবোধের অধিকারী এবং দ্রুত উত্তর দাতা ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি পূর্ণাঙ্গ দ্বীনদার, প্রখর বুদ্ধিমান, সুন্দর জীবনচরিত সম্পন্ন, পছন্দনীয় কর্ম ও প্রশংসনীয় কর্মপন্থার অনুসারী ছিলেন। মাযহাবের একদল ইমাম তার নিকট ফিকহ পাঠ করেছেন, যাদের মধ্যে শেখ আব্দুল কাদির জিলানী রহ. অন্যতম। আল-কিয়া আল-হাররাসি যখনই শেখ আবু আল-খাত্তাবকে আসতে দেখতেন, বলতেন: "ফিকহ আসছে।" তিনি এক মহান ফকিহ ছিলেন এবং প্রভূত ফিকহী জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। মাযহাবের অন্যান্য ফকিহদের থেকে ভিন্ন তার কিছু একক মাসআলা রয়েছে। তিনি ৫১০ হিজরি সালের ৩রা জুমাদাল আখিরা, বুধবার ইন্তেকাল করেন। বৃহস্পতিবার তাকে রাখা হয় এবং জুমুআর দিনে এক বিশাল জনসমাবেশে তাকে দাফন করা হয়। তাকে ইমাম আহমাদ রহ.-এর কবরের নিকটেই দাফন করা হয়।

- সংক্ষেপক মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি বলেন: আল্লাহর প্রশংসায় আমি তাওফিক লাভ করেছি এবং দামেস্কে ১৩২৬ হিজরি সালে একটি পুস্তিকা আকারে উল্লিখিত দালিয়া কাসিদাটি মুদ্রিত করেছি, যা ৪৩টি পঙক্তি বিশিষ্ট।

 

*‌‌ আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল

আলী বিন আকিল বিন মুহাম্মদ বিন আকিল বিন আহমাদ আল-বাগদাদি আজ-জাফারি আল-মুকরি, ফকিহ, উসুলবিদ, উপদেশক, মুতাকাল্লিম, আবু আল-ওয়াফা। তিনি অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব এবং শায়খুল ইসলাম। তিনি চারশ এক সালে জন্মগ্রহণ করেন।