(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
حاشية الصبان على شرح الأشمونى لألفية ابن مالك القسم: النحو والصرف
الكتاب: حاشية الصبان على شرح الأشمونى لألفية ابن مالك
المؤلف: أبو العرفان محمد بن علي الصبان الشافعي (ت 1206هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية بيروت-لبنان
الطبعة: الأولى 1417 هـ -1997م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর আল-আশমুনীর শারহের ওপর আস-সাব্বানের হাশিয়া বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর আল-আশমুনীর শারহের ওপর আস-সাব্বানের হাশিয়া
লেখক: আবু আল-ইরফান মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সাব্বান আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ১২০৬ হি.)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত-লেবানন
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৭ হি. -১৯৯৭ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[কিতাবের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১)
المجلد الأول
المقدمات بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة الصبان 1:
هو أبو العرفان الشيخ محمد بن علي الصبان الشافعي، ولد بمصر وحفظ القرآن والمتون واجتهد في طلب العلم وحضر على أشياخ عصره وجهابذة مصر وشيوخه، ولم يزل الشيخ الصبان يخدم العلم ويدأب في تحصيله حتى تمهر في العلوم العقلية والنقلية وقرأ الكتب المعتبرة في حياة أشياخه، وربى التلاميذ واشتهر بالتحقيق والتدقيق والمناظرة والجدل وشاع ذكره وفضله بين العلماء بمصر والشام.
ومن مؤلفاته: حاشيته على الأشموني التي سارت بها الركبان وشهد بدقتها أهل الفضائل والعرفان، وهو هذا الكتاب الذي بين أيدينا، وحاشية على شرح العصام على السمرقندية، وحاشية على شرح الملوي على السلم، ورسالة في علم البيان، ورسالة عظيمة في آل البيت، ومنظومة في علم العروض وشرحها، ونظم أسماء أهل بدر، وحاشية على آداب البحث، ومنظومة في مصطلح الحديث ستمائة بيت، ومثلثات في اللغة، ورسالة في الهيئة، وحاشية على السعد في المعاني والبيان، ورسالتان على البسملة صغرى وكبرى، ورسالة في مفعل، ومنظومة في ضبط رواة البخاري ومسلم.
توفي الشيخ الصبان في جمادى الأولى سنة 1206هـ، بعد أن توعك بالسعال وقصبة الرئة، وصلي عليه بالأزهر في مشهد حافل ودفن بالبستان.
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
সাব্বানের পরিচিতি ১:তিনি হলেন আবুল ইরফান শেখ মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সাব্বান আশ-শাফিয়ী। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং কুরআন ও মূল গ্রন্থসমূহ (মুতুন) হিফজ করেন। তিনি জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং তাঁর সমকালীন শায়খ ও মিশরের প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের সান্নিধ্য লাভ করেন। শেখ সাব্বান ইলমের সেবা এবং তা অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না তিনি আকলি (যৌক্তিক) ও নাকলি (বিবরণমূলক) শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং তাঁর শায়খদের জীবদ্দশাতেই প্রামাণ্য কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন। তিনি বহু ছাত্র তৈরি করেন এবং তাহকিক (গবেষণা), সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, মুনাজারা (বিতর্ক) ও জাদাল (যুক্তিবিদ্যা)-এর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। মিশর ও শামের উলামাদের মাঝে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আশমুনীর ওপর তাঁর হাশিয়া (টীকা), যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং যার সূক্ষ্মতার সাক্ষ্য দিয়েছেন জ্ঞান ও গুণের অধিকারীরা; আর এটিই সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সামারকান্দিয়ার ওপর ইসামের ব্যাখ্যার হাশিয়া, সুলাম-এর ওপর মাল্লাভী-র ব্যাখ্যার হাশিয়া, ইলমে বায়ান-এর ওপর একটি রিসালা (পুস্তিকা), আহলে বায়ত সম্পর্কে একটি মহৎ রিসালা, ইলমে আরুয-এর ওপর একটি মানজুমা (কাব্যগ্রন্থ) ও তার ব্যাখ্যা, বদরি সাহাবীদের নামের কাব্যরূপ, আদাবুল বাহাস-এর ওপর হাশিয়া, মুস্তালাহুল হাদিসের ওপর ছয়শ পঙক্তির একটি মানজুমা, ভাষাবিজ্ঞানের ওপর মুসাল্লাসাত, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর একটি রিসালা, ইলমে মাআনি ও বায়ান-এর ক্ষেত্রে সা’দ-এর ওপর হাশিয়া, বিসমিল্লাহর ওপর ছোট ও বড় দুটি রিসালা, 'মাফআল' শব্দের ওপর একটি রিসালা এবং বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের ওপর একটি মানজুমা।
শেখ সাব্বান ১২০৬ হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি সর্দি-কাশি ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন। আল-আজহারে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং তাঁকে আল-বুস্তানে দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২)
ترجمة الأشموني 1:
هو علي بن محمد بن عيسى بن محمد الأشموني الأصل ثم القاهري الشافعي نور الدين أبو الحسن. فقيه، أصولي، مقرئ، نحوي، متكلم، ناظم. من تصانيفه: شرح ألفية ابن مالك، ونظم منهاج الدين للحليمي في شعب الإيمان، ونظم جمع الجوامع في الأصول، والينبوع في شرح المجموع في فروع الفقه، ونظم إيساغوجي في المنطق، وتعليقة على الأنوار لعمل الأبرار للأردبيلي في فروع الفقه الشافعي.
اختلف في وفاته، فقيل نحو سنة 900هـ، وقيل: سنة 918هـ، وقيل: سنة 929هـ، وقيل غير ذلك.
--------------------------------------------
আল-আশমুনীর জীবনী ১:
তিনি হলেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ, বংশগতভাবে আশমুনী এবং পরবর্তীতে কায়রোবাসী, শাফিঈ, নূরুদ্দীন আবুল হাসান। তিনি একাধারে ফকীহ, উসূলবিদ, ক্বারী, ব্যাকরণবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ ও কাব্য রচয়িতা ছিলেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ঈমানের শাখা-প্রশাখা বিষয়ে হালীমীর মিনহাজুদ্দীনের কাব্যরূপ, উসূল শাস্ত্রের জামউল জাওয়ামির কাব্যরূপ, ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক আল-মাজমু'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ইয়ানবু, যুক্তিবিদ্যার ঈসাগুজীর কাব্যরূপ এবং শাফিঈ ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক আরদাবীলীর আল-আনওয়ার লি-আমালিল আবরারের ওপর টিকা (তালীকা)।
তাঁর মৃত্যু সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় প্রায় ৯০০ হিজরি নাগাদ, আবার বলা হয় ৯১৮ হিজরি, কেউ বলেছেন ৯২৯ হিজরি, এছাড়াও অন্যান্য মত বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة المؤلف:بسم الله الرحمن الرحيم
أما بعد حمد لله على ما منح من أسباب البيان. وفتح من أبواب التبيان. والصلاة
ــ
بسم الله الرحمن الرحيم
نحمدك اللهم على ما وجهت نحونا من سوابغ النعم. ونشكرك على ما أظهرت لنا من مبهمات الأسرار ومضمرات الحكم. ونشهد أن لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك الفاعل لكل مبتدأ ومبتدع، ونشهد أن سيدنا محمدا عبدك ورسولك المفرد العلم والإمام المتبع. اللهمّ صلِّ وسلم عليه وعلى آله وصحبه ما رفعت منصب المنخفض لجلالك. وجبرت بالسكون إليك كسر الجازم بوحدتك في ذاتك وصفاتك وأفعالك.
أما بعد فيقول راجي الغفران "محمد بن علي الصبان" غفر الله ذنوبه وستر في الدارين عيوبه. هذه حواش شريفة. وتقريرات جليلة منيفة. وتحقيقات فائقة. وتدقيقات رائقة. خدمت بها شرح العلامة نور الدين أبي الحسن "علي بن محمد الأشموني" الشافعي على ألفية الإمام "ابن مالك" كل الخدمة. وصرفت في تحرير مبانيها وتهذيب معانيها جميع الهمة. ملخصا فيها زبد ما كتبه عليه المشايخ الأعيان. منبها على كثير مما وقع لهم من أسقام الأفهام وأوهام الأذهان. ضاما إلى ذلك من نفائس المسطور ما ينشرح به الخاطر. مضيفا إليه من عرائس بنات فكري ما تقر به عين الناظر. وحيث أطلقت شيخنا فمرادي به شيخنا العلامة المدابغي. أو قلت شيخنا السيد فمرادي به شيخنا المحقق السيد البليدي. أو قلت البعض فمرادي به الفهامة الفاضل سيدي يوسف الحنفي رحمهم الله وجزاهم عنا خيرا. وما كان زائدا على ما في حواشيهم وليس معزوا لأحد فهو غالبا مما ظهر لي وربما نسبته إليّ صريحا. وعلى الله الاعتماد إنه ولي السداد.
قوله: "أما بعد حمد الله إلخ" اعترض بأن هذه العبارة إنما تفيد سبق حمد وصلاة وسلام منه وهذه الإفادة لا يحصل بها المطلوب من الإتيان بالثلاثة في ابتداء التأليف. ويجاب أولا بأنا لا نسلم تلك الإفادة لأن القصد من قوله حمد الله إنشاء الحمد. وقوله حمد الله وإن لم يكن جملة في قوة الجملة فكأنه قال أما بعد قولي أحمد الله منشئا للحمد. وثانيا بأنا سلمنا تلك الإفادة لكن لا نسلم أن المطلوب لا يحصل بها لأن إفادة سبق الحمد منه تتضمن أن المحمود أهل لأن يحمد وهو وصف بالجميل فقد حصل الحمد ضمنا بهذه العبارة الواقعة في ابتداء التأليف ولا يضر عدم حصوله صريحا إذ المطلوب حصول الحمد مطلقا في الابتداء ومثل ذلك يقال في الصلاة والسلام بناء على أن المقصود بهما التعظيم وهو حاصل بإفادة سبقهما كما أفاده العلامة ابن قاسم في نكته عند قول المصنف: أحمد ربي الله خير مالك مصليا الخ وبه يعرف ما في كلام البعض وما أجاب به هو وشيخنا من أن الشارح أتى بالثلاثة لفظا لا يحسم مادة
লেখকের ভূমিকা:পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
অতঃপর, প্রকাশের উপকরণসমূহ দান করার জন্য এবং বিবৃতির দরজাসমূহ উন্মুক্ত করার জন্য আল্লাহর প্রশংসার পর। আর সালাত...
—
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রশংসা করি আপনি আমাদের প্রতি যে প্রচুর নেয়ামত পাঠিয়েছেন সেজন্য। আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করি আপনি আমাদের কাছে যে গূঢ় রহস্য এবং গোপন হিকমতসমূহ প্রকাশ করেছেন সেজন্য। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই, আপনিই প্রতিটি সূচনাকারী ও উদ্ভাবনকারীর প্রকৃত কর্তা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল, যিনি অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব এবং অনুসরণযোগ্য ইমাম। হে আল্লাহ, আপনি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন, যতক্ষণ আপনি আপনার মহিমার জন্য অবনত ব্যক্তির মর্যাদা উন্নত করবেন এবং আপনার সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলির একত্ববাদে দৃঢ় বিশ্বাসীর ভগ্নতাকে আপনার সান্নিধ্যের প্রশান্তি দ্বারা দূর করবেন।
অতঃপর, ক্ষমা প্রত্যাশী "মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সাব্বান" বলেন—আল্লাহ তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং উভয় জগতে তাঁর দোষত্রুটি গোপন রাখুন। এগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ টীকা, মহান ও উন্নত ব্যাখ্যা এবং উৎকৃষ্ট ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। এর মাধ্যমে আমি ইমাম ইবনে মালিক-এর 'আলফিয়্যাহ'-এর উপর আল্লামা নূরুদ্দীন আবুল হাসান "আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-আশমুনি" আশ-শাফিয়ি-র শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এর পূর্ণ খেদমত করেছি। এর গাঠনিক কাঠামো সংশোধন এবং অর্থের পরিমার্জনে আমি আমার পূর্ণ মনোযোগ ব্যয় করেছি। এতে আমি বিশিষ্ট মাশায়েখগণ যা লিখেছেন তার সারসংক্ষেপ করেছি এবং তাঁদের উপলব্ধিতে আসা অনেক ত্রুটি ও চিন্তার বিভ্রান্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছি। সাথে সাথে কিতাবপত্র থেকে এমন সব চমৎকার বিষয় এতে যুক্ত করেছি যা হৃদয়কে প্রফুল্ল করে, আর নিজের চিন্তা থেকে এমন সব নতুন বিষয় যোগ করেছি যা পাঠকের চক্ষুকে শীতল করে। যখন আমি 'আমাদের শায়খ' বলব, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে আমাদের আল্লামা আল-মুদাবিগি। আর যখন আমি 'আমাদের শায়খ সাইয়্যেদ' বলব, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে গবেষক আল্লামা সাইয়্যেদ আল-বুলাইদি। অথবা যখন আমি 'কেউ কেউ' বলব, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে অত্যন্ত বিজ্ঞ ও ফাজিল সাইয়্যেদ ইউসুফ আল-হানাফি—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। আর তাঁদের টীকাসমূহের অতিরিক্ত যা কিছু আছে এবং কারো দিকে সম্বন্ধ করা হয়নি, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমার নিজের চিন্তাপ্রসূত, তবে কখনো কখনো আমি তা স্পষ্টভাবে নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছি। আল্লাহর ওপরই ভরসা, তিনিই সঠিক পথপ্রদর্শক।
তাঁর বক্তব্য: "অতঃপর আল্লাহর প্রশংসার পর ইত্যাদি" - এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এই অভিব্যক্তিটি কেবল তাঁর পক্ষ থেকে পূর্বে সম্পাদিত প্রশংসা, সালাত ও সালামের তথ্য প্রদান করে। অথচ কিতাব রচনার শুরুতে এই তিনটি বিষয় সরাসরি সম্পাদন করার যে উদ্দেশ্য থাকে, তা কেবল তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত হয় না। এর প্রথম উত্তর হলো, আমরা এই দাবিটি স্বীকার করি না; কারণ তাঁর বক্তব্য "আল্লাহর প্রশংসা" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রশংসার সূচনা করা। যদিও "আল্লাহর প্রশংসা" শব্দগুলো সরাসরি একটি পূর্ণ বাক্য নয়, কিন্তু তা বাক্যের শক্তি রাখে। সুতরাং বিষয়টি যেন এমন যে তিনি বলছেন—প্রশংসার সূচনা হিসেবে আমার "আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি" বলার পর। দ্বিতীয়ত, যদি আমরা আপনার দাবি মেনেও নিই (যে এটি কেবল সংবাদ দিচ্ছে), তবুও আমরা এটি মানি না যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। কারণ তাঁর পক্ষ থেকে প্রশংসা সম্পাদিত হওয়ার সংবাদ দেওয়ার মাঝে এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, যাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে তিনি প্রশংসার যোগ্য এবং এটি একটি উত্তম গুণ বর্ণনা। সুতরাং কিতাব রচনার শুরুতে এই অভিব্যক্তির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রশংসা অর্জিত হয়ে গেছে। প্রশংসা স্পষ্টভাবে না থাকলেও কোনো ক্ষতি নেই, যেহেতু শুরুতে সাধারণভাবে প্রশংসা হওয়াই কাম্য। সালাত ও সালামের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, কারণ সেগুলোর উদ্দেশ্য হলো সম্মান প্রদর্শন করা, যা সেগুলোর সংবাদ প্রদানের মাধ্যমেই অর্জিত হয়ে যায়। যেমনটি আল্লামা ইবনে কাসিম তাঁর 'নুকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন মুসান্নিফের এই বক্তব্যের অধীনে: "আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি সর্বোত্তম মালিক, সালাত পাঠরত অবস্থায় ইত্যাদি"। এর মাধ্যমেই 'কারো কারো' বক্তব্যের অসারতা এবং তিনি ও আমাদের শায়খ যে উত্তর দিয়েছেন—অর্থাৎ শারহকারী এই তিনটি বিষয় মুখে উচ্চারণ করেছেন—তা যে বিষয়টি পুরোপুরি মীমাংসা করে না, তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
والسلام على من رفع بماضي العزم قواعد الإيمان. وخفض بعامل الجزم كلمة البهتان.
ــ
الاعتراض لبقاء المؤاخذة بعدم كتابتها المطلوبة أيضا والجواب بحصول الحمد بالبسملة غير نافع في الصلاة والسلام. فإن قلت لا نسلم عدم حصول الحمد صريحا هنا لما تقرر من أن الإخبار عن الحمد حمد أي صريح. قلت ما تقرر إنما هو في الإخبار عن الحمد بثبوته لله بالجملة الاسمية أعني الحمد لله لأنه ثناء بجميل صراحة فهو حمد صريح بخلاف الإخبار عن الحمد بسبق وقوعه، ومثله الإخبار بأنه يقع كما في أحمد ربي الله على أنه خبر لفظا ومعنى فتنبه.
قوله: "على ما منح من أسباب البيان" على تعليلية وما موصول اسمي أو نكرة موصوفة فمن بيانية والعائد محذوف. ويظهر لي عند عدم استدعاء المقام أحد الوجهين ترجح الثاني لأن النكرة هي الأصل ولأن شرط الموصول إذا لم يكن للتعظيم أو التحقير عهد الصلة وقد لا يحصل عهدها إلا بتكلف فاحفظه، أو موصول حرفي ويقوّي هذا أن الحمد يكون حينئذٍ على الفعل والحمد على الفعل أمكن من الحمد على أثره لأن الحمد على الفعل بلا واسطة وعلى أثره بواسطته. ومن زائدة على مذهب الأخفش وبعض الكوفيين أو تبعيضية نكتتها الإشارة إلى أنه تعالى يستحق الحمد على بعض نعمه كما يستحق الحمد على الكل بالأولى. والمنح الإعطاء وبابه قطع وضرب، والمنحة بالكسر العطية كذا في المختار. والبيان يطلق بمعنى الظهور وبمعنى الفصاحة وبمعنى المنطق الفصيح المعرب عما في الضمير أي المنطوق به لا المعنى المصدري لأنه لا يوصف بالفصاحة حقيقة وهذا هو المراد هنا. والمراد بأسبابه جميع ما له دخل في حصوله كسلامة اللسان من العيّ والفهاهة وسلامة القلب من موانع الإدراك لا خصوص ما يلزم من وجوده الوجود ومن عدمه العدم لذاته لقصوره. قوله: "وفتح من أبواب التبيان" قياس ما كان على التفعال فتح التاء كالتكرار والتذكار وشذ كسر تاء التبيان والتلقاء بعكس الفعلال، وورد الفتح أيضا في التبيان كما في القاموس وإن كان كسره أكثر. والتبيان كما قاله الخطابي أبلغ من البيان لأنه بيان مع دليل وبرهان فهو جار على الأصل من زيادة المعنى لزيادة المبنى. والمراد بأبوابه كل ما له دخل في حصوله كالإدراكات القوية وجودة اللسان والقلب فالأبواب استعارة مصرحة والفتح ترشيح أو في التبيان استعارة بالكناية والأبواب تخييل والفتح ترشيح. وذكر المنح والأسباب في جانب البيان والفتح والأبواب في جانب التبيان لأن التبيان أبلغ كما مر فالوصول إليه أصعب يحتاج إلى فتح أبواب مغلقة.
قوله: "والصلاة والسلام" مجروران عطفا على حمد الله. قوله: "على من رفع" متعلق بمحذوف صفة للصلاة والسلام أي الكائنين على من رفع، أو حال منهما. وقال شيخنا تبعا للمصرح متعلق بالسلام لقربه وهو مطلوب أيضا للصلاة من جهة المعنى على سبيل التنازع. ا. هـ. ومراده كما قاله الفاضل الروداني محشي التصريح التنازع المعنوي الذي هو مجرد الطلب في المعنى لا العملي بدليل كلامه فقوله متعلق بالسلام لقربه يعني مع حذف متعلق الصلاة فسقط ما اعترض به البعض من أن التنازع لا يكون إلا في فعلين متصرفين أو اسمين يشبهانهما كما سيأتي
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এবং তাঁর প্রতি সালাম, যিনি দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে ঈমানের ভিত্তিগুলোকে উচ্চকিত করেছেন এবং অটল সিদ্ধান্তের দ্বারা মিথ্যার বাণীকে অবনমিত করেছেন।
—
আপত্তি হলো, প্রার্থিত প্রশংসা ও দরুদ না লেখার কারণে জবাবদিহিতার অবকাশ থেকে যায়। আর বিসমিল্লাহর মাধ্যমে প্রশংসা অর্জিত হওয়ার উত্তরটি দরুদ ও সালামের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ নয়। যদি আপনি বলেন: আমরা স্বীকার করি না যে এখানে স্পষ্টভাবে প্রশংসা অর্জিত হয়নি; কেননা এটি প্রতিষ্ঠিত যে, প্রশংসা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়াও একটি স্পষ্ট প্রশংসা। আমি বলব: যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো জুমলা ইসমিয়ার (নামবাচক বাক্য) মাধ্যমে আল্লাহর জন্য প্রশংসা সাব্যস্ত করার সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ ‘আলহামদু লিল্লাহ’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। কারণ এটি স্পষ্টভাবে সুন্দর গুণকীর্তন, ফলে তা স্পষ্ট প্রশংসা। পক্ষান্তরে প্রশংসা পূর্বে সংঘটিত হওয়ার সংবাদ দেওয়া এর বিপরীত। অনুরূপভাবে তা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে বলে সংবাদ দেওয়াও একই পর্যায়ভুক্ত, যেমন: ‘আহমাদু রাব্বিয়াল্লাহ’ (আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি), এই যুক্তিতে যে এটি শব্দ ও অর্থের দিক থেকে সংবাদ। সুতরাং বিষয়টি লক্ষ্য করুন।
তাঁর উক্তি: “বক্তব্যের উপকরণসমূহ থেকে যা তিনি দান করেছেন তার জন্য”—এখানে ‘আলা’ কারণ দর্শানোর জন্য এবং ‘মা’ হলো ইসম মাওসুল অথবা নাকেরা মাওসুফাহ। আর ‘মিন’ বর্ণনা প্রদানের জন্য এবং এর প্রত্যাবর্তিত সর্বনাম উহ্য। আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রেক্ষিত যদি কোনো একটি দিককে দাবি না করে তবে দ্বিতীয় দিকটিই অগ্রগণ্য। কেননা নাকেরা হওয়াটাই মূল। আর মাওসুলের শর্ত হলো যখন তা সম্মান বা তুচ্ছতা প্রদর্শনের জন্য না হয়, তখন তাতে ‘আহদে সিলাহ’ থাকতে হয়, যা অনেক সময় কষ্টকল্পনা ছাড়া অর্জিত হয় না; তাই এটি মনে রাখুন। অথবা এটি মাওসুল হারফি হতে পারে। এই মতটিকে শক্তিশালী করে যে, সেক্ষেত্রে প্রশংসা হবে সরাসরি কাজের ওপর। আর কাজের ওপর প্রশংসা করা তার প্রভাবের ওপর প্রশংসা করার চেয়ে অধিক সংগত; কারণ কাজের ওপর প্রশংসা সরাসরি হয় এবং তার প্রভাবের ওপর প্রশংসা হয় মাধ্যমের সাহায্যে। আর ‘মিন’ শব্দটি আখফাশ এবং কতিপয় কুফীবাসীর মতে অতিরিক্ত, অথবা এটি আংশিক অর্থবোধক। এর নিগূঢ় রহস্য হলো এই ইশারা করা যে, মহান আল্লাহ তাঁর কিছু নিআমতের ওপর প্রশংসার দাবিদার যেমনটি তিনি প্রাথমিকভাবে সকল নিআমতের ওপর প্রশংসার দাবিদার। ‘মানাহ’ অর্থ দান করা, এর পরিচ্ছেদ হলো ‘কাতাআ’ এবং ‘দারাযা’। ‘মিনহাহ’ অর্থ উপহার বা অনুদান, যেমনটি ‘মুখতার’ গ্রন্থে রয়েছে। ‘বায়ান’ শব্দটির প্রয়োগ ‘প্রকাশ পাওয়া’, ‘সাবলীলতা’ এবং ‘এমন প্রাঞ্জল ভাষা যা মনের ভাব প্রকাশ করে’ অর্থে হয়। অর্থাৎ যা উচ্চারিত হয় তা উদ্দেশ্য, মূল অর্থ (মাসদার) নয়; কারণ মাসদারকে প্রকৃত অর্থে সাবলীলতা দ্বারা বিশেষিত করা যায় না। আর এখানে এটাই উদ্দেশ্য। আর ‘আসবাব’ বলতে ওইসব বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যার বক্তব্য অর্জনে ভূমিকা রয়েছে, যেমন—জিহ্বা জড়তা ও অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত থাকা এবং অন্তর উপলব্ধির অন্তরায়সমূহ থেকে মুক্ত থাকা। এখানে নির্দিষ্টভাবে ওইসব বিষয় উদ্দেশ্য নয় যার অস্তিত্বে বায়ান বিদ্যমান থাকে এবং অনুপস্থিতিতে বায়ান অবিদ্যমান থাকে, কারণ তা অপূর্ণাঙ্গ। তাঁর উক্তি: “এবং সুস্পষ্ট বর্ণনার দ্বারসমূহ উন্মোচিত করেছেন”— ‘তাফআল’ ওজনের শব্দগুলোতে ‘তা’ বর্ণে ফাতহা হওয়া নিয়ম, যেমন— ‘তাকরার’ ও ‘তাজকার’। আর ‘তিবইয়ান’ ও ‘তিলকা’ শব্দে ‘তা’ বর্ণে কাসরা হওয়া বিরল, যা ‘ফি’লাল’ ওজনের বিপরীত। অবশ্য ‘কামূস’ গ্রন্থে তিবইয়ান শব্দে ফাতহা হওয়ার উল্লেখও রয়েছে, যদিও কাসরা হওয়াই অধিক প্রচলিত। খাত্তাবী যেমনটি বলেছেন, ‘তিবইয়ান’ শব্দটি ‘বায়ান’ অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। কারণ এটি হলো দলিল ও প্রমাণের সাথে বর্ণনা। ফলে এটি শব্দ বাড়লে অর্থ বাড়ে—এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। আর তিবইয়ানের ‘আবওয়াব’ বলতে ওই সব বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যার এই বর্ণনা অর্জনে ভূমিকা রয়েছে, যেমন—তীব্র বোধশক্তি এবং জিহ্বা ও অন্তরের সুস্থতা। সুতরাং ‘দ্বারসমূহ’ শব্দটি এখানে ইস্তিয়ারা মুসাররাহা এবং ‘উন্মোচন’ হলো তার সহযোগী। অথবা ‘তিবইয়ান’ শব্দটিতে ইস্তিয়ারা বিল কিনায়া রয়েছে এবং ‘দ্বারসমূহ’ হলো তার রূপক কল্পনা এবং ‘উন্মোচন’ হলো তার সহযোগী। ‘বায়ান’-এর ক্ষেত্রে ‘দান’ ও ‘উপকরণ’ এবং ‘তিবইয়ান’-এর ক্ষেত্রে ‘উন্মোচন’ ও ‘দ্বারসমূহ’ উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তিবইয়ান অধিক অর্থবহ, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; ফলে তা অর্জন করা অধিক কঠিন এবং এর জন্য রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মোচন করার প্রয়োজন পড়ে।
তাঁর উক্তি: “সালাত ও সালাম”—এ দুটি ‘হামদুল্লাহ’ শব্দের ওপর আতফ হওয়ার কারণে মাজরুর হয়েছে। তাঁর উক্তি: “তাঁর প্রতি যিনি উন্নীত করেছেন”—এটি সালাত ও সালামের উহ্য সিফাতের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ এমন সালাত ও সালাম যা ওই ব্যক্তির প্রতি যিনি উন্নীত করেছেন। অথবা এটি ঐ দুটি থেকে হাল হতে পারে। আমাদের শায়খ ‘মুসাররিহ’ এর অনুসরণ করে বলেছেন যে, নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এটি সালামের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অর্থের দিক থেকে ‘তানাযু’ পদ্ধতিতে এটি সালাতের জন্যও কাম্য। আল-ফাদিল আর-রূদানী ‘আত-তাসরীহ’-এর টীকায় যেমনটি বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য হলো ‘তানাযুয়ে মানাউয়ী’ যা কেবল অর্থগতভাবে দাবি করা, আমলগতভাবে নয়; যার প্রমাণ তাঁর বক্তব্য। সুতরাং তাঁর বক্তব্য ‘নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সালামের সাথে সংশ্লিষ্ট’—এর অর্থ হলো সালাতের সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উহ্য রাখা। ফলে কেউ কেউ যে আপত্তি করেছেন যে—তানাযু কেবল দুটি রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়া অথবা তাদের সদৃশ দুটি ইসিমের ক্ষেত্রেই হয়—তা খণ্ডিত হয়ে গেল, যা সামনে আসছে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
"محمد" المنتخب من خلاصة معد ولباب عدنان. وعلى آله وأصحابه الذين أحرزوا
ــ
وما ذكر ليس كذلك أي لأن الصلاة والسلام اسما مصدرين جامدان على أنه سيأتي أن المراد اسمان يشبهانهما في العمل لا في التصرف بدليل تمثيلهم باسم الفعل والمصدر. وممن وافق على ذلك هذا البعض وحينئذٍ لا يدل ما سيأتي على عدم جريان التنازع الاصطلاحي بين اسمي المصدر بل على جريانه بينهما كالمصدرين فيتلاشى الاعتراض من أصله. والرفع الإعلاء والمراد به هنا الإظهار والإعزاز. قوله: "بماضي العزم" من إضافة الصفة إلى الموصوف أي العزم الماضي قال في المصباح: عزم على الشيء وعزمه عزما من باب ضرب عقد ضميره على فعله. ا. هـ. لكن سيذكر الشارح قبيل باب التنازع أن عزم لا يتعدّى بنفسه وإن قوله تعالى: {وَلا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاح} [البقرة: 235] على تضمين معنى تنووا والماضي إما بمعنى النافذ يقال مضى الأمر أي نفذ، وإما بمعنى القاطع يقال سيف ماض أي قاطع فيكون قد شبه في النفس العزم بالسيف والماضي بمعنى القاطع تخييل. قوله: "قواعد الإيمان" يحتمل وهو الظاهر أن يراد بالإيمان التصديق القلبي فتكون إضافة القواعد إليه من إضافة المتعلق بفتح اللام إلى المتعلق بكسرها والمراد بالقواعد جميع ما وجب الإيمان به مما ينبني عليه غيره كعقائد التوحيد وضوابط الفقه المجمع عليهما، أو جميع ما وجب الإيمان به سواء بنى عليه غيره أو لا فيكون في التعبير بالقواعد تغليب، أو البراهين الدالة على حقيقة الإيمان، ويحتمل أن يراد به الإسلام لتلازم الإيمان والإسلام الكاملين فالإضافة من إضافة الأجزاء إلى الكل. والمراد بالقواعد الأركان الخمسة المذكورة في حديث: "بني الإسلام على خمس" وعليه ففي الكلام تلميح إلى هذا الحديث.
قوله: "وخفض بعامل الجزم" الجزم القطع وعامله آلته كالسيف ووصفها بالعمل مجاز عقلي من وصف آلة عمل الشيء به. فإن قلت عامل الجزم لا يخفض في العربية فلا تتم التورية قلت التورية لا تتوقف على خفضه في العربية وإنما روي بخفضه الذي لا يقع في العربية للإشارة إلى أن ما وقع منه صلى الله عليه وسلم أمر فوق ما ألفه البشر خارج عن طوقهم. قوله: "كلمة البهتان" البهتان الكذب والمراد به هنا الكفر أو مطلق الباطل والمراد بالكلمة الكلام وإضافتها إلى البهتان استغراقية. قوله: "محمد" بدل من أو عطف بيان وقوله المنتخب أي المختار نعت لمحمد لا لمن لئلا يلزم تقديم البدل أو عطف البيان على النعت مع أن النعت هو المقدم على بقية التوابع عند اجتماعها. قوله: "من خلاصة معد ولباب عدنان" خلاصة الشيء بضم الخاء وكسرها ما خلص منه وبمعناه اللباب ففي عبارته تفنن. ومعد بفتح الميم والعين ولد عدنان لصلبه قال الجوهري وهو أبو العرب. وعدنان آخر النسب الصحيح لرسول الله صلى الله عليه وسلم. وهو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان، فعلم وجه ذكر معد وعدنان. ويحتمل أنه أراد بمعد وعدنان ذرية معد وذرية عدنان المسماتين باسمي أبويهما. وإنما أخر عدنان ذكرا مع تقدمه وجودا لأنه لو قدمه لم يكن لذكر معد
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
"মুহাম্মাদ", যিনি মা’আদ-এর নির্যাস এবং আদনানের সারভাগ হতে মনোনীত। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা অর্জন করেছেন—
—
এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সেরূপ নয়, অর্থাৎ সালাত ও সালাম হলো দুটি ইসম মাসদার (ক্রিয়ামূলীয় বিশেষ্য) যা পরিবর্তনহীন; তবে সামনে আসবে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন দুটি বিশেষ্য যা আমলের (ক্রিয়ার প্রভাব) ক্ষেত্রে এগুলোর সদৃশ, রূপান্তরের ক্ষেত্রে নয়। এর প্রমাণ হলো 'ইসম ফিল' ও 'মাসদার' দ্বারা তাদের উদাহরণ প্রদান করা। যারা এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে এই অংশটিও রয়েছে; এমতাবস্থায় সামনে যা আসবে তা দুটি 'ইসম মাসদার'-এর মধ্যে পারিভাষিক 'তানাযু' (বিরোধ) না হওয়ার ওপর দালালত করে না, বরং এটি দুই মাসদারের ন্যায় তাদের মধ্যেও কার্যকর হওয়ার ওপর দালালত করে। ফলে মূল আপত্তিটিই অসার হয়ে যায়। আর 'রাফ' মানে হলো উচ্চাসীন করা, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রকাশ করা ও সম্মানিত করা। তাঁর উক্তি: "দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা" এটি মাওসূফের (বিশেষিত) দিকে সিফাতের (গুণ) ইযাফাত (সম্বন্ধ), অর্থাৎ সুদৃঢ় সংকল্প। 'মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোনো কিছুর ওপর আযম করা বা সংকল্প করা মানে হলো তা করার জন্য মনে দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা। (সংক্ষেপিত)। তবে ব্যাখ্যাকার 'তানাযু' অধ্যায়ের ঠিক আগে উল্লেখ করবেন যে, 'আযম' ক্রিয়াটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে না; আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর বিয়ের বন্ধনের সংকল্প করো না} [বাক্বারাহ: ২৩৫] এখানে 'সংকল্প করা' শব্দটি 'নিয়ত করা'র অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর 'মাযী' (অতীত/কার্যকর) হয় 'নাফিয' (প্রভাবশালী) অর্থে—বলা হয় যে, বিষয়টি 'মাযী' হয়েছে অর্থাৎ কার্যকর হয়েছে; অথবা এটি 'ক্বাতি' (কর্তনকারী) অর্থে—বলা হয় তলোয়ারটি 'মাযী' অর্থাৎ ধারালো। এক্ষেত্রে মনের সংকল্পকে তলোয়ারের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'মাযী' শব্দটি কর্তনকারী অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর উক্তি: "ঈমানের মূলভিত্তি"; সম্ভাবনা রয়েছে—আর এটিই প্রকাশ্য—যে এখানে ঈমান দ্বারা অন্তরের বিশ্বাস উদ্দেশ্য। ফলে 'কাওয়ায়েদ' (মূলভিত্তি)-কে এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে কোনো কিছুর আধারের সাথে আধেয়ের সম্বন্ধের মতো। আর 'কাওয়ায়েদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সমস্ত বিষয় যার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং যার ওপর অন্যান্য বিষয়গুলো নির্মিত হয়, যেমন তাওহীদের আকিদা এবং ফিকহের সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহ। অথবা সেই সমস্ত বিষয় যার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, চাই তার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হোক বা না হোক; সেক্ষেত্রে 'কাওয়ায়েদ' শব্দটি দ্বারা ব্যাপকতা বোঝানো হয়েছে। অথবা ঈমানের হাকীকতের ওপর দালালতকারী প্রমাণসমূহ। এটিও সম্ভাবনা রাখে যে, এর দ্বারা 'ইসলাম' উদ্দেশ্য, যেহেতু পূর্ণাঙ্গ ঈমান ও ইসলাম একে অপরের পরিপূরক। সেক্ষেত্রে এটি হবে আসলের সাথে তার অংশের সম্বন্ধ। আর 'কাওয়ায়েদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই পাঁচটি রুকন যা এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর নির্মিত"। সে অনুযায়ী এই বক্তব্যে উক্ত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে।
তাঁর উক্তি: "এবং জাযম (কর্তন) করার আমিল দ্বারা অবনমিত করেছেন"; 'জাযম' মানে হলো কর্তন করা এবং এর আমিল হলো এর যন্ত্র যেমন তলোয়ার। একে 'আমল' বা কাজ করার গুণে গুণান্বিত করা একটি আকলি মাজায (বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক), যেখানে কাজের যন্ত্রকে কাজের কর্তার গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে। যদি আপনি বলেন যে, আরবি ব্যাকরণে 'জাযম' প্রদানকারী আমিল কোনো শব্দকে 'খাফদ' (জের) প্রদান করে না, ফলে এখানে 'তাওরিয়া' (দ্ব্যর্থবোধকতা) পূর্ণ হয় না; আমি বলব যে, 'তাওরিয়া' ব্যাকরণে তার 'খাফদ' করার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এটি ব্যাকরণে সচরাচর ঘটে না এমনভাবে 'খাফদ' সহকারে বর্ণনা করা হয়েছে এই ইশারা করতে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা মানুষের পরিচিত গণ্ডির উর্ধ্বে এবং তাদের সাধ্যের অতীত। তাঁর উক্তি: "মিথ্যাচারের বাণী"; 'বুহতান' মানে হলো মিথ্যা। এখানে এর দ্বারা কুফর বা নিরঙ্কুশ বাতিল উদ্দেশ্য। আর 'কালিমা' দ্বারা বক্তব্য উদ্দেশ্য এবং এর ইযাফাতটি ব্যাপকতা বোধক। তাঁর উক্তি: "মুহাম্মাদ"; এটি বদল বা আতফে বায়ান। আর তাঁর উক্তি "আল-মুনতাখাব" অর্থাৎ মনোনীত; এটি মুহাম্মাদ-এর বিশেষণ, 'মান' (যিনি)-এর নয়; যাতে সিফাতের আগে বদল বা আতফে বায়ান চলে আসার জটিলতা তৈরি না হয়, অথচ অনুসর্গগুলো একত্রে আসলে সিফাতই সবার আগে আসে। তাঁর উক্তি: "মা’আদ-এর নির্যাস এবং আদনানের সারভাগ হতে"; কোনো জিনিসের 'খুলাসা' (খ-এর পেশ বা যের যোগে) মানে হলো তার খাঁটি অংশ, আর 'লুবাব' অর্থও একই। সুতরাং তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে বৈচিত্র্য রয়েছে। মা’আদ (মীম ও আইন-এর যবর যোগে) হলেন আদনানের ঔরসজাত পুত্র। জাওহারী বলেন, তিনি হলেন আরবদের পিতা। আর আদনান হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ বংশপরম্পরার সর্বশেষ স্তর। তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কা’ব বিন লুওয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর বিন কিনানাহ বিন খুযাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিযার বিন মা’আদ বিন আদনান। এর মাধ্যমেই মা’আদ ও আদনানকে উল্লেখ করার কারণ জানা গেল। আর এটিও সম্ভাবনা রাখে যে, তিনি মা’আদ ও আদনান দ্বারা তাদের বংশধরদের বুঝিয়েছেন যাদের তাদের পিতার নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর আদনান অস্তিত্বের দিক থেকে অগ্রগামী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে পরে উল্লেখ করেছেন কারণ তাঁকে আগে আনলে মা’আদ-এর উল্লেখের প্রয়োজন থাকত না।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
قصبات السبق في مضمار الإحسان. وأبرزوا ضمير القصة والشأن بسنان اللسان ولسان السنان. فهذا شرح لطيف بديع على ألفية ابن مالك. مهذب المقاصد واضح المسالك.
ــ
فائدة لأنه يلزم من كونه عليه الصلاة والسلام منتخبا من لباب عدنان كونه منتخبا من خلاصة معد ولا عكس. قوله: "أحرزوا" أي حازوا وقوله قصبات السبق الخ كان من عادة العرب أن تغرز قصبة في آخر ميدان تسابق الفرسان فمن أعدى فرسه إليها وأخذها عد سابقا ففي الكلام استعارة تمثيلية إن شبه حال الصحابة في غلبتهم لمن قاواهم في الإحسان بحال السابقين على الخيل في الميدان في سبقهم إلى قصبة السبق بجامع مطلق حوز ما به الشرف، أو استعارة مكنية إن شبه في النفس الإحسان بساحة ذات ميدان وجعل إثبات المضمار أي الميدان تخييلا وإحراز قصبات السبق ترشيحا، أو استعارة مصرحة إن شبهت مراتب العلو بقصبات السبق وجعل المضمار ترشيحا والإحسان تجريدا والمراد بالإحسان إما معناه الشرعي المبين في حديث جبريل بقوله عليه الصلاة والسلام: "أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك" أو مطلق الطاعة وهذا أقرب.
قوله: "وأبرزوا" أي أظهروا. وقوله ضمير القصة والشأن يحتمل أن المراد المضمر المستور الذي كان له قصة وشأن عظيمان وهو دين الإسلام فيكون تسميته مضمرا باعتبار ما كان. ويحتمل أن المراد ضمير القصة والشأن الاصطلاحي الواقع في قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّه} [محمد: 19] ففي الكلام حذف مضاف أي مفسر ضمير الخ لأن الذي أظهروه مفسره وهو لا إله إلا الله، أو مجاز مرسل علاقته المجاورة حيث سمي المفسر بكسر السين باسم المفسر بفتحها. قوله: "بسنان اللسان ولسان السنان" السنان نصل الرمح، والتركيبان إما من إضافة المشبه به إلى المشبه أي اللسان الذي كالسنان في التأثير والسنان الذي كاللسان في كثرة استعماله، أو من الاستعارة بأن يكون شبه في التركيب الأول كلام اللسان بالسنان في التأثير وشبه في النفس السنان في التركيب الثاني بالإنسان في صدور الفعل العظيم عن كل وأثبت له اللسان تخييلا، أو شبه طرف السنان الذي به الجرح باللسان في كثرة استعماله، وجعل شيخنا إطلاق لسان السنان على طرفه الجارح لا تجوز فيه ممنوع لأنه ليس من معاني اللسان الحقيقية كما يؤخذ من القاموس وغيره. وفي قوله بسنان الخ من أنواع البديع العكس وهو تقديم المؤخر وتأخير المقدم كقولهم عادات السادات سادات العادات. وقد اشتملت خطبته على أنواع أخر كبراعة الاستهلال والتورية في الفتح والرفع والماضي ونحوها. والطباق في الرفع والخفض والإيمان والبهتان والإفراط والتفريط. والجناس اللاحق في الأسد والجسد والتحقيق والتدقيق والمخل والممل، وكذا بين الأدراج والأبراج كما قاله شيخنا والبعض وإن جعل شيخنا السيد الجناس بينهما مضارعا لما سيأتي والجناس المضارع في خلا وعلا. والفرق بين الجناسين أن الاختلاف إن كان بحرف بعيد المخرج فاللاحق أو قريبه فالمضارع. ومعنى بعد المخرج أن يختلف الحرفان في جنس المخرج ومعنى قربه أن يتحدا في جنسه ويختلفا في شخصه.
قوله: "فهذا" اسم الإشارة راجع إلى الألفاظ الذهنية المخصوصة الدالة على المعاني المخصوصة على أرجح الأوجه فهو مستعار مما وضع له، وهو المبصر الحاضر للمعقول لشبهه به
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
তারা ইহসানের (নিষ্ঠা ও সদাচরণ) ময়দানে অগ্রগামীতার শিরোপা অর্জন করেছেন। তারা গল্পের নিগূঢ় রহস্য ও বিষয়বস্তুকে জবানের ফলা এবং ফলার জবানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর একটি চমৎকার ও অনুপম ব্যাখ্যা। এটি উদ্দেশ্যসমূহকে পরিমার্জিত এবং পথসমূহকে স্পষ্টকারী।
—
একটি উপকারিতা: কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদনানের বংশের মূল নির্যাস থেকে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এটি আবশ্যকীয় হয়ে যায় যে, তিনি মা’আদ-এর সারাংশ থেকেও নির্বাচিত, তবে এর বিপরীতটি আবশ্যক নয়। তাঁর বাণী: "তারা অর্জন করেছেন" অর্থাৎ তারা লাভ করেছেন। আর তাঁর বাণী "অগ্রগামীতার শিরোপা" ইত্যাদি—আরবদের প্রথা ছিল যে, ঘোড়দৌড়ের ময়দানের শেষ প্রান্তে একটি নল বা কাঠি পুঁতে রাখা হতো; যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে সেখানে সবার আগে নিয়ে যেত এবং সেটি গ্রহণ করত, তাকে বিজয়ী গণ্য করা হতো। সুতরাং এখানে একটি রূপক অলংকার (ইস্তিয়ারা তামসিলিয়াহ) রয়েছে, যেখানে সাহাবায়ে কেরামের সেই অবস্থাকে—যারা ইহসানের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিপক্ষদের ওপর বিজয়ী হয়েছেন—ঘোড়দৌড়ের ময়দানে বিজয়ীদের সেই অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়েছে যারা অগ্রগামীতার শিরোপা লাভে সক্ষম হন; আর এর সাধারণ যোগসূত্র হলো যা কিছু সম্মান বয়ে আনে তা অর্জন করা। অথবা এটি একটি উহ্য রূপক (ইস্তিয়ারা মাকনিইয়াহ), যদি মনের ভেতর ইহসানকে একটি বিশাল ময়দানের সাথে তুলনা করা হয় এবং 'মিজমার' বা ময়দান শব্দটি উল্লেখ করাকে কাল্পনিক (তাখয়িল) ধরা হয় এবং শিরোপা অর্জন করাকে অলংকারিক পুষ্টি (তারশিহ) ধরা হয়। অথবা এটি একটি স্পষ্ট রূপক (ইস্তিয়ারা মুসাররাহাহ), যদি উচ্চ মর্যাদাকে অগ্রগামীতার শিরোপার সাথে তুলনা করা হয় এবং ময়দানকে অলংকারিক পুষ্টি ও ইহসানকে মূল বিষয় (তাজরিদ) হিসেবে ধরা হয়। আর ইহসান দ্বারা এখানে হয় এর শরয়ী অর্থ উদ্দেশ্য যা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে: "তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে জেনে রেখো তিনি তোমাকে দেখছেন।" অথবা এর দ্বারা সাধারণ আনুগত্য উদ্দেশ্য হতে পারে, আর এটিই অধিকতর নিকটবর্তী।
তাঁর বাণী: "তারা প্রকাশ করেছেন" অর্থাৎ তারা ফুটিয়ে তুলেছেন। আর তাঁর বাণী "গল্পের নিগূঢ় রহস্য ও বিষয়বস্তু"—এখানে সম্ভাব্য অর্থ হতে পারে সেই গোপন ও লুকায়িত বিষয় যার একটি মহৎ গল্প ও শান ছিল, আর তা হলো ইসলাম ধর্ম। সুতরাং একে 'গোপন' (দামির) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে যা পূর্বে ছিল সেই বিবেচনায়। অথবা এর দ্বারা পারিভাষিক 'দামিরুল কাসসা ওয়াশ শান' উদ্দেশ্য হতে পারে যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: "অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।" [মুহাম্মদ: ১৯]। এমতাবস্থায় এখানে একটি উহ্য শব্দ রয়েছে, অর্থাৎ "দামিরের ব্যাখ্যাকারী" ইত্যাদি। কারণ তারা যা প্রকাশ করেছেন তা হলো এর ব্যাখ্যাকারী, আর তা হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। অথবা এটি একটি পরোক্ষ অলংকার (মাজাযে মুরসাল) যার সম্পর্ক হলো নৈকট্য, যেখানে ব্যাখ্যাকারীকে ব্যাখ্যার নাম দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাণী: "জবানের ফলার এবং ফলার জবানের মাধ্যমে"—সিনান মানে বল্লমের ফলা। এই শব্দসমষ্টি দুটি হয় উপমানকে উপমেয়ের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে অর্থাৎ এমন জবান যা প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে বল্লমের ফলার মতো এবং এমন ফলা যা অধিক ব্যবহারের কারণে জবানের মতো। অথবা এটি রূপক অলংকার হতে পারে, যেখানে প্রথম বিন্যাসে জবানের কথাকে প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে বল্লমের ফলার সাথে তুলনা করা হয়েছে, এবং দ্বিতীয় বিন্যাসে মনে মনে ফলার অবস্থাকে মানুষের সাথে তুলনা করা হয়েছে যে তার থেকে মহৎ কাজ প্রকাশ পায় এবং তার জন্য একটি জবান সাব্যস্ত করা হয়েছে রূপক হিসেবে। অথবা বল্লমের ফলার অগ্রভাগ যা জখম করে, তাকে অধিক ব্যবহারের কারণে জবানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আমাদের শায়েখ বল্লমের ধারালো অগ্রভাগকে 'সিনানের জবান' বলাকে রূপক নয় বলে যে মত দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি কামুস ও অন্যান্য অভিধান অনুযায়ী জবানের প্রকৃত অর্থ নয়। তাঁর বক্তব্য "বল্লমের ফলার মাধ্যমে" ইত্যাদিতে অলংকার শাস্ত্রের (বাদী) একটি প্রকার 'আকস' (বিপরীতকরণ) বিদ্যমান, যা হলো পরের অংশকে আগে আনা এবং আগের অংশকে পরে নেওয়া, যেমন তাদের প্রবাদ: "নেতৃস্থানীয়দের অভ্যাসই হলো অভ্যাসের নেতৃত্ব দানকারী"। তাঁর এই খুতবায় আরও অনেক প্রকারের অলংকার রয়েছে যেমন: সূচনার চমৎকারিত্ব (বারাআতুল ইস্তিহলাল) এবং 'ফাতহ', 'রাফা' ও 'মাদি' ইত্যাদি শব্দের দ্ব্যর্থবোধকতা (তাওরিয়াহ)। আবার 'রাফা' (উন্নতি/পেশ), 'খাফদ' (নমনীয়তা/জের), 'ইমান' (বিশ্বাস), 'বুহতান' (মিথ্যা অপবাদ) এবং 'ইফরাত' (বাড়াবাড়ি) ও 'তাফরিত' (ছেড়ে দেওয়া)-এর মধ্যে বৈপরীত্য (তিবাক)। 'আসাদ' (সিংহ) ও 'জাসাদ' (দেহ), 'তাহকীক' ও 'তাদিক', 'মুখিল' ও 'মুমিল'-এর মধ্যে পরবর্তী অনুপ্রাস (জিনাসে লাহিক), একইভাবে 'আদরাজ' ও 'আবরাক'-এর মধ্যেও, যেমনটি আমাদের শায়েখ ও অন্য কেউ বলেছেন। যদিও আমাদের শায়েখ সাইয়্যেদ এই দুটির মধ্যে অনুপ্রাসকে 'জিনাসে মুদারি' বলেছেন যা সামনে আসবে। আর 'খালা' এবং 'আলা'-এর মধ্যে 'জিনাসে মুদারি' রয়েছে। এই দুই জিনাসের মধ্যে পার্থক্য হলো, অক্ষরের উচ্চারণের স্থান (মাখরাজ) যদি দূরে হয় তবে তা 'লাহিক', আর যদি কাছে হয় তবে তা 'মুদারি'। মাখরাজ দূরে হওয়ার অর্থ হলো দুটি অক্ষর ভিন্ন শ্রেণির মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হওয়া, আর কাছে হওয়ার অর্থ হলো তারা একই শ্রেণির মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হবে কিন্তু সুনির্দিষ্ট স্থানে ভিন্নতা থাকবে।
তাঁর বাণী: "সুতরাং এটি"—এখানে নির্দেশক সর্বনামটি সেই নির্দিষ্ট মানসিক শব্দমালার দিকে ফিরছে যা নির্দিষ্ট অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে, এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী মত। সুতরাং এটি এমন বিষয়ের জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার জন্য এটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল, আর তা হলো সাদৃশ্যের কারণে বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও উপস্থিত বস্তুর নির্দেশক শব্দ ব্যবহার করা।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
يمتزج بها امتزاج الروح بالجسد. ويحل منها محل الشجاعة من الأسد. تجد نشر التحقيق
ــ
في كمال إتقان المشير أو السامع إياه حتى كأنه مبصر عنده، وهل استعارة اسم الإشارة ونحوه أصلية أو تبعية خلاف بيناه في رسالتنا في المجازات. والفاء واقعة في جواب إما وجواب الشرط لا بد أن يكون مستقبلا وكون الألفاظ المشار إليها شرحا لطيفا بديعا غير مستقبل فلا بد من تقدير أقول بعد الفاء كما أفاده في التصريح، نعم إن كانت الخطبة قبل التأليف وجعل الشرح بالمعنى اللغوي على أنه مصدر بمعنى الشارح أي خارجا لم يحتج إلى التقدير لأن الشرح الخارجي المدلول على هذا الشرح الذي هو محط الجزاء مستقبل حينئذٍ بل قال الروداني في حواشيه على التصريح إنما يحتاج إلى التقدير لو أريد بالشرط الذي تضمنته أما التعليق مع أن المراد منه مجرد استلزام شيء لشيء، ولو سلم فالتعليق قد يكون في الاستقبال وقد يكون في الماضي كما في شرط لو فليكن هذا منه. ا. هـ. نعم قال يس: يندفع بتقدير القول إشكال آخر وهو أن كون هذه الألفاظ شرحا لطيفا بديعا ثابت حمد أو لم يحمد فما معنى كونه بعد الحمد، فإذا جعل الجزاء القول كان هو المقيد بالبعدية. ا. هـ. وهو مبني على أن الظرف من متعلقات الجزاء كما هو الأحسن مع أن هذا الإشكال الآخر يندفع بجعل شرح بمعنى شارح مرادا منه المعنى اللغوي لصحة تقييده بالبعدية على أنه يرد على تقدير القول أن حذف القول يوجب حذف الفاء معه كما سيصرح به الشارح، لكن في الهمع ما يدل على أن بعضهم يجوز حذف القول مع بقاء الفاء كما سيأتي بسطه في محله فتنبه.
قوله: "لطيف" يعني لا يحجب ما وراءه من المعاني مجازا عما لا يحجب ما وراءه من المحسوسات. قوله: "بديع" فعيل بمعنى المفعول أي مبتدع أي مخترع لا على مثال سابق فإنه بهيئته المخصوصة لم يسبق له مثال والمراد أنه فائق في الحسن على غيره من الشروح ويجيء بديع بمعنى مبدع ومنه بديع السموات والأرض. قوله: "على ألفية ابن مالك" متعلق بمحذوف خاص دل عليه السياق أي دال على ألفية ابن مالك أي على معانيها، أو على بمعنى لام التقوية متعلقة بشرح بمعنى شارح أي كاشف كما قاله البعض، وفيه أنه يلزم على هذا نعت المصدر قبل استيفاء معموله أو بمعنى لام الاختصاص متعلقة بمحذوف صفة لشرح فيكون على استعارة تبعية أو شبه الشرح والمتن بجسم مستعل وجسم مستعلى عليه وذكر على تخييلا. قوله: "مهذب إلخ" التهذيب التنقية، والمقاصد المعاني، والمسالك الألفاظ، وهما مجروران بإضافة الوصف إليهما أو منصوبان على التشبيه بالمفعول به. قوله: "يمتزج بها إلخ" في الكلام مبالغة وإلا فالمزج الخلط بلا تمييز مع أن الشرح والمتن متمايزان، وأشار بهذه السجعة إلى ما في شرحه مما لا بد منه في بيان المتن وبالسجعة الثانية إلى ما زاد على ذلك والمقصود منهما وصف شرحه بجودة السبك وحسن التركيب مع ألفاظ المتن. قوله: "امتزاج الروح" أي امتزاجا كامتزاج الروح بالجسد. لا يقال عبارته تفهم أن شرحه للمتن كالروح للجسد وأن المتن بدونه كالجسد بدون الروح وفي هذا تنقيص لبقية الشروح لأنا نقول مقام المدح لا ينظر فيه إلى أمثال هذه المفاهيم. قوله:
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এটি তার সাথে মিশে যায় যেমন আত্মা শরীরের সাথে মিশে যায়। এবং এটি তার মাঝে এমন স্থান দখল করে যেমন সিংহের মাঝে সাহসিকতা থাকে। তুমি এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের প্রসার পাবে নির্দেশক বা শ্রোতার পূর্ণাঙ্গ নিপুণতার মাঝে, এমনকি মনে হবে যেন বিষয়টি তার সামনে দৃশ্যমান। আর ইশারাবাচক বিশেষ্য এবং এই জাতীয় শব্দের রূপক ব্যবহার কি মৌলিক নাকি অনুগামী—এটি এমন একটি মতপার্থক্য যা আমরা আমাদের রূপক বিষয়ক পত্রে বর্ণনা করেছি। আর ‘ফা’ বর্ণটি ‘আম্মা’ এর জবাবে এসেছে, এবং শর্তের জবাব অবশ্যই ভবিষ্যৎকালীন হতে হয়। অথচ নির্দেশিত শব্দগুলো একটি সূক্ষ্ম ও চমৎকার ব্যাখ্যা হওয়া বিষয়টি ভবিষ্যৎকালীন নয়, তাই ‘ফা’ এর পরে ‘আমি বলছি’ ক্রিয়াটি উহ্য ধরা আবশ্যক, যেমনটি ‘তাসরীহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে। হ্যাঁ, যদি ভূমিকাটি গ্রন্থ রচনার পূর্বেই লিখিত হয় এবং ব্যাখ্যাকে (শরহ) আভিধানিক অর্থে ‘ব্যাখ্যাকারী’ বা ‘বহির্ভূত’ অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে উহ্য ধরার প্রয়োজন নেই। কারণ তখন এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্দেশিত বাহ্যিক ব্যাখ্যাটি শর্তের জবাব হিসেবে ভবিষ্যৎকালীন হবে। বরং রওদানী ‘তাসরীহ’ এর টীকায় বলেছেন যে, উহ্য ধরার প্রয়োজনীয়তা কেবল তখনই দেখা দেয় যখন ‘আম্মা’ এর অন্তর্ভুক্ত শর্তের মাধ্যমে ঝুলন্ত অবস্থা (তালিক) উদ্দেশ্য হয়, অথচ এখানে উদ্দেশ্য হলো কেবল এক বস্তুর জন্য অন্য বস্তুর অপরিহার্যতা। আর যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও ঝুলন্ত অবস্থা বা শর্ত কখনও ভবিষ্যতে হয় আবার কখনও অতীতে হয়, যেমন ‘লাও’ এর শর্তের ক্ষেত্রে হয়। সুতরাং এটিকেও সেই পর্যায়ভুক্ত ধরা উচিত। হ্যাঁ, ইয়াসীন বলেছেন: ‘আমি বলছি’ উহ্য ধরার মাধ্যমে অন্য একটি সমস্যার সমাধান হয়, আর তা হলো: এই শব্দগুলো সূক্ষ্ম ও চমৎকার ব্যাখ্যা হওয়া তো প্রশংসা করা হোক বা না হোক উভয় অবস্থাতেই সাব্যস্ত, তাহলে আল্লাহর প্রশংসার পরে হওয়ার অর্থ কী? সুতরাং যখন ‘বলা’ ক্রিয়াটিকে জবাব হিসেবে নির্ধারণ করা হবে, তখন সেটিই ‘পরবর্তী’ হওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ হবে। এটি এই ভিত্তির ওপর যে, সময়বাচক পদটি (যরফ) জবাবের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা অধিক উত্তম। তবে এই দ্বিতীয় সমস্যাটি ‘শরহ’ শব্দটিকে ‘ব্যাখ্যাকারী’ বা আভিধানিক অর্থে গ্রহণ করার মাধ্যমেও নিরসন হয়, কারণ তখন এটিকে ‘পরবর্তী’ হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করা সঠিক হবে। যদিও উহ্য ধরার ক্ষেত্রে এই আপত্তি আসে যে, ‘আমি বলছি’ উহ্য রাখলে তার সাথে ‘ফা’ বর্ণটিও বিলুপ্ত হওয়া আবশ্যক, যা ব্যাখ্যাকার অচিরেই স্পষ্টভাবে বলবেন। তবে ‘হাম’ গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় আছে যা নির্দেশ করে যে, কেউ কেউ ‘ফা’ বহাল রেখে ‘আমি বলছি’ উহ্য রাখা জায়েয মনে করেন, যা যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। অতএব সতর্ক হোন।
তাঁর উক্তি: "সূক্ষ্ম" (লতীফ) অর্থাৎ এটি তার অন্তরালে থাকা অর্থসমূহকে রূপকভাবে আড়াল করে না; যেমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহের ক্ষেত্রে যা তার অন্তরালে থাকা বিষয়কে আড়াল করে না। তাঁর উক্তি: "চমৎকার" (বাদী’) এটি কর্মবাচ্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ যা অভিনব বা কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই উদ্ভাবিত। কেননা এই বিশেষ কাঠামোর কোনো পূর্ব উদাহরণ নেই। আর উদ্দেশ্য হলো এটি অন্যান্য ব্যাখ্যার তুলনায় সৌন্দর্যে অনন্য। আবার ‘বাদী’ শব্দটি ‘উদ্ভাবক’ অর্থেও আসে, যা থেকে ‘আসমান ও জমিনের উদ্ভাবক’ শব্দটি এসেছে। তাঁর উক্তি: "ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর" এটি প্রেক্ষাপট অনুযায়ী একটি উহ্য বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর অর্থসমূহের নির্দেশক। অথবা ‘আলা’ বর্ণটি এখানে সবলতাদায়ক ‘লাম’ এর অর্থে যা ‘শরহ’ তথা ব্যাখ্যাকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন। তবে এতে একটি সমস্যা হলো যে, মূল ক্রিয়ামূলের কর্ম পূর্ণ হওয়ার আগেই তার গুণ বর্ণনা করা হয়। অথবা এটি বিশেষত্ব প্রকাশক ‘লাম’ এর অর্থে যা ‘শরহ’ এর বিশেষণ হিসেবে উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এমতাবস্থায় এটি ‘ইস্তিআরা তাবাঈয়া’ বা অনুগামী রূপক হবে। অথবা ব্যাখ্যা (শরহ) এবং মূল পাঠকে (মাতন) এমন দুটি দেহের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার একটি অন্যটির উপরে অবস্থিত এবং ‘আলা’ শব্দটি রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর উক্তি: "পরিশোধিত ইত্যাদি" ‘তাহযীব’ মানে হলো পরিচ্ছন্ন করা, ‘মাকাসিদ’ মানে উদ্দেশ্য বা অর্থসমূহ এবং ‘মাসালিক’ মানে পথ বা শব্দসমূহ। এই দুটি শব্দই বিশেষণের সাথে ইযাফাত হওয়ার কারণে মাজরুর হয়েছে অথবা কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে মানসুব হয়েছে। তাঁর উক্তি: "এর সাথে মিশে যায় ইত্যাদি" এখানে অতিরঞ্জন করা হয়েছে, নতুবা ‘মিশে যাওয়া’ মানে হলো পার্থক্যহীনভাবে মিশ্রিত হওয়া, অথচ ব্যাখ্যা এবং মূল পাঠ পৃথক হয়ে থাকে। তিনি এই অন্ত্যমিলের মাধ্যমে তাঁর ব্যাখ্যায় মূল পাঠের বর্ণনায় যা অপরিহার্য তা ইঙ্গিত করেছেন এবং দ্বিতীয় অন্ত্যমিলের মাধ্যমে এর অতিরিক্ত যা আছে তা বুঝিয়েছেন। এ দুটির উদ্দেশ্য হলো মূল পাঠের শব্দের সাথে তাঁর ব্যাখ্যার চমৎকার গাঁথুনি এবং উত্তম গঠন বর্ণনা করা। তাঁর উক্তি: "আত্মার মিশ্রণ" অর্থাৎ এমন মিশ্রণ যেমন শরীরের সাথে আত্মার মিশ্রণ হয়। এমনটি বলা যাবে না যে, তাঁর এই বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে তাঁর ব্যাখ্যাটি মূল পাঠের জন্য আত্মার মতো এবং তাঁর ব্যাখ্যা ছাড়া মূল পাঠটি আত্মা ছাড়া শরীরের মতো—যার ফলে অন্যান্য ব্যাখ্যার অমর্যাদা হয়। কারণ আমরা বলি যে, প্রশংসার ক্ষেত্রে এই ধরণের নেতিবাচক অর্থ গ্রহণ করা হয় না। তাঁর উক্তি:
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
من أدراج عبارته يعبق. وبدر التدقيق من أبراج إشاراته يشرق. خلا من الإفراط الممل.
ــ
"ويحل" بضم الحاء وكسرها لأن حل بمعنى نزل يجوز في حاء مضارعه الوجهان كما في القاموس وبهما قرئ في السبع قوله تعالى: {فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي} [طه: 81] فاقتصار البعض كشيخنا على الضم تقصير. وأما حل ضد حرم فجاء مضارعه بالكسر فقط. وحل بمعنى فك فجاء مضارعه بالضم فقط. قوله: "منها" قال شيخنا السيد: حال أي كائنا منها لأن حل لا يتعدى بمن وكذا قوله من الأسد أي كائنة من الأسد. ولعل معنى كائنا منها وكائنة من الأسد منتسبا إليها ومنتسبة إلى الأسد ولا يبعد أن من في الموضعين بمعنى في. لا يقال الظرفية في الأول غير ظاهرة لأنا نقول لما امتزج بها كأنه حل فيها. وقوله محل الشجاعة أي حلولها فمحل مصدر ميمي أي حلولا كحلول الشجاعة والمراد بالشجاعة الجراءة لا الملكة المخصوصة لاختصاص الملكات بذوي العلم. قوله: "تجد نشر التحقيق إلخ" النشر الرائحة الطيبة. والتحقيق يطلق على ذكر الشيء على الوجه الحق ويطلق على إثبات المسألة بدليلها مع رد قوادحه. والأدراج بفتح الهمزة جمع درج بفتح الدال وسكون الراء أو فتحها ما يكتب فيه كما في القاموس ويعبق بفتح الباء مضارع عبق الطيب بكسرها عبقا بالتحريك من باب فرح ظهرت رائحته ولا يكون إلا للذكية كما في المصباح، ففي كلامه استعارة مكنية وتخييل وترشيح حيث شبه التحقيق في نفاسته بنحو المسك والنشر تخييل ويعبق ترشيح قال شيخنا السيد: وفي العبارة قلب أي من عبارات أدراجه. ا. هـ. ونكتة القلب الإشارة إلى قوة النشر حتى سرى من العبارات إلى محلها المكتوبة فيه.
قوله: "وبدر التدقيق إلخ" البدر القمر ليلة كماله. والتدقيق يطلق على إثبات المسألة بدليلين أو أكثر وعلى إثبات دليل المسألة بدليل، وعلى ذكر الشيء على وجه فيه دقة. والأبراج جمع برج وهو أحد أقسام الفلك الإثني عشر المسماة بالبروج، وعبر بالأبراج وهو جمع قلة مع أنها اثنا عشر لمزاوجة أدراج. ويشرق بضم أوله وكسر ثالثه مضارع أشرق أي أضاء أو بفتح أوله وضم ثالثه مضارع شرق كطلع وزنا ومعنى، وعلى كل ففي كلامه عيب السناد وهو اختلاف حركة ما قبل الروي. وفي كلامه استعارة مكنية وتخييل وترشيحان حيث شبه التدقيق بالليلة المقمرة كمال الإقمار بجامع الكمال والبدر تخييل والإشراق والأبراج ترشيحان قاله شيخنا السيد. وجعل شيخنا التدقيق مشبها بالسماء في العلوّ. والمتانة ولك أن تجعل الأبراج استعارة مصرحة لعبارات الإشارات أي المعاني الدقيقة إن شبهت بالأبراج في أن كلا محل لما ينتفع به إذ العبارات محل للمعاني والأبراج محل للكواكب، أو تخييلا لاستعارة مكنية إن شبهت الإشارات بالسموات في الرفعة والمتانة ثم ذكر شيخنا السيد أن هنا أيضا قلبا أي من إشارات أبراجه ولا حاجة إليه كما لا يخفى. قوله: "خلا من الإفراط إلخ" الإفراط مجاوزة الحد، والتفريط التقصير أي خلا من الإفراط في التطويل وعلا عن التفريط في تأدية المعاني. وعبر في جانب الإفراط بخلا وفي جانب التفريط بعلا لأن التفريط أفحش فهو أحق بالتباعد عنه الذي هو المراد من علا. وأخر هاتين السجعتين مع أنهما من باب التخلية وما قبلهما من باب التحلية التفاتا إلى تقدم الإثبات على النفي وشرف الوجود على العدم. والممل والمخل وصفان لازمان لأن المراد الذي
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
তার অভিব্যক্তির ভাঁজগুলো থেকে সুগন্ধ বিচ্ছুরিত হয়। তার ইঙ্গিতসমূহের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের পূর্ণচন্দ্র উদিত হয়। এটি বিরক্তিকর বাহুল্য থেকে মুক্ত।
—
"ইউহাল্লু" শব্দটি হা বর্ণের পেশ এবং জের উভয় যোগেই পড়া যায়। কারণ 'হাল্লা' যখন 'নাযালা' (অবতরণ করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালবাচক রূপের (মুদারে) হা বর্ণে উভয় হরকতই বৈধ, যেমনটি 'কামুস' অভিধানে উল্লেখ রয়েছে। এই দুই পদ্ধতিতেই সাত কিরাআতের অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর এই বাণীটি পঠিত হয়েছে: {যাতে তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ আপতিত হয়} [সূরা ত্বহা: ৮১]। সুতরাং আমাদের শাইখের মতো কেবল পেশের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা একটি অপূর্ণতা। আর 'হাল্লা' যখন হারামের বিপরীত (হালাল হওয়া) অর্থে আসে, তখন এর মুদারে কেবল জের যোগেই আসে। আবার 'হাল্লা' যখন 'খোলা' বা 'মুক্ত করা' অর্থে আসে, তখন এর মুদারে কেবল পেশ যোগেই আসে। তাঁর উক্তি: "তা থেকে"—আমাদের শাইখ আস-সাইয়্যিদ বলেছেন: এটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ "তা থেকে উদ্ভূত"। কারণ 'হাল্লা' ক্রিয়াটি 'মিন' অব্যয় দ্বারা সকর্মক হয় না। অনুরূপভাবে "সিংহ থেকে" কথাটির অর্থ হলো "সিংহ থেকে উদ্ভূত"। সম্ভবত "তা থেকে উদ্ভূত" এবং "সিংহ থেকে উদ্ভূত" এর অর্থ হলো তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এমন হওয়াও অসম্ভব নয় যে, উভয় স্থানে 'মিন' অব্যয়টি 'ফি' (মধ্যে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে 'আধার হওয়া' স্পষ্ট নয়—এমন আপত্তি করা চলবে না; কারণ আমরা বলব, যখন এটি তাতে মিশে যায়, তখন মনে হয় যেন তাতেই অবস্থান করছে। আর তাঁর উক্তি "বীরত্বের স্থান" বলতে বীরত্বের অবস্থানকে বোঝানো হয়েছে। এখানে 'মাহাল্ল' শব্দটি হলো মাসদারে মিমি, অর্থাৎ বীরত্বের অবস্থানের ন্যায় অবস্থান। আর বীরত্ব বলতে এখানে সাহস ও নির্ভীকতা বোঝানো হয়েছে, বিশেষ কোনো অর্জিত স্বভাবজাত গুণ নয়; কারণ স্বভাবজাত গুণগুলো কেবল জ্ঞানসম্পন্নদের সাথেই নির্দিষ্ট। তাঁর উক্তি: "তুমি তাহক্বীকের সুবাস পাবে ইত্যাদি"—'নশর' মানে সুগন্ধ। আর 'তাহক্বীক' বলতে কোনো বিষয়কে তার সঠিক রূপে উল্লেখ করাকে বোঝায়। আবার কোনো মাসআলাকে তার দালিলিক প্রমাণসহ সাব্যস্ত করা এবং তার ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো খণ্ডন করাকেও তাহক্বীক বলা হয়। 'আদরাজ' শব্দটি হামজার ফাতহাহ যোগে 'দরাজ'-এর বহুবচন, যা ডাল-এর ফাতহাহ ও রা-এর সুকুন বা ফাতহাহ যোগে গঠিত; এর অর্থ হলো যাতে কিছু লেখা হয়। আর 'ইয়াবিকু' শব্দটি বা-এর ফাতহাহ যোগে 'আবিক্বা' এর মুদারে। বা-এর কাসরাহ যোগে এটি 'ফারাহা' পরিচ্ছেদ থেকে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ সুগন্ধ প্রকাশ পাওয়া। 'মিসবাহ' গ্রন্থে আছে যে, এটি কেবল তীব্র সুগন্ধের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তাঁর বক্তব্যে ইস্তিয়ারায়ে মাকানিয়্যাহ, তাখয়ীল এবং তারশীহ অলঙ্কার রয়েছে। এখানে তাহক্বীক বা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণকে তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে কস্তুরীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। 'নশর' শব্দটি এখানে তাখয়ীল এবং 'ইয়াবিকু' শব্দটি তারশীহ। শাইখ আস-সাইয়্যিদ বলেন: এই বাক্যে 'ক্বলব' (শব্দের স্থান পরিবর্তন) হয়েছে, অর্থাৎ "তার পাণ্ডুলিপির ইবারতসমূহ থেকে"। এই পরিবর্তনের রহস্য হলো সুগন্ধের তীব্রতার দিকে ইঙ্গিত করা, যা ইবারত থেকে তার লিখিত স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।
তাঁর উক্তি: "তাদাক্বীকের পূর্ণচন্দ্র ইত্যাদি"—'বদর' হলো পূর্ণিমার চাঁদ। 'তাদাক্বীক' বলতে কোনো মাসআলাকে দুই বা ততোধিক দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত করাকে বোঝায়, অথবা কোনো বিষয়ের দলিলকে অন্য দলিল দ্বারা সাব্যস্ত করাকে বোঝায়, কিংবা কোনো বিষয়কে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বর্ণনা করাকে বোঝায়। 'আবরাজি' হলো 'বুরজ'-এর বহুবচন, যা আকাশের বারোটি রাশির একটি। এখানে 'আবরাজি' (অল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন) ব্যবহার করা হয়েছে যদিও রাশি বারোটি, মূলত 'আদরাজ' শব্দের সাথে ছন্দ মিলানোর জন্য। 'ইউশরিকু' শব্দটি প্রথম বর্ণের পেশ এবং তৃতীয় বর্ণের জের যোগে 'আশরাক্বা' (আলোকিত হওয়া) থেকে মুদারে। অথবা প্রথম বর্ণের ফাতহাহ এবং তৃতীয় বর্ণের পেশ যোগে 'শারাক্বা' (উদিত হওয়া) থেকে মুদারে। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর বক্তব্যে 'আইব আস-সিনাদ' নামক ছন্দের ত্রুটি রয়েছে, যা অন্ত্যমিলের আগের বর্ণের হরকতের ভিন্নতা। শাইখ আস-সাইয়্যিদ বলেন, তাঁর বক্তব্যে ইস্তিয়ারায়ে মাকানিয়্যাহ, তাখয়ীল এবং দুটি তারশীহ রয়েছে। এখানে 'তাদাক্বীক'কে পূর্ণিমার রাতের সাথে পূর্ণতার গুণের কারণে তুলনা করা হয়েছে; 'বদর' শব্দটি তাখয়ীল, আর 'ইশরাক্ব' ও 'আবরাজি' শব্দ দুটি তারশীহ। আমাদের শাইখ 'তাদাক্বীক'কে উচ্চতা ও দৃঢ়তার দিক থেকে আকাশের সাথে তুলনা করেছেন। আপনি চাইলে 'আবরাজি' শব্দটিকে ইবারত বা সূক্ষ্ম অর্থের জন্য ইস্তিয়ারায়ে মুসাররাহ হিসেবেও ধরতে পারেন। অর্থাৎ সূক্ষ্ম অর্থগুলোকে নক্ষত্রপুঞ্জের সাথে তুলনা করা হয়েছে এই দিক থেকে যে, উভয়টিই উপকারী জিনিসের আধার; কারণ ইবারত হলো অর্থের আধার আর নক্ষত্রপুঞ্জ হলো গ্রহ-নক্ষত্রের আধার। অথবা এটিকে ইস্তিয়ারায়ে মাকানিয়্যাহ-এর তাখয়ীল বলা যায়, যদি ইঙ্গিতগুলোকে উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে আকাশের সাথে তুলনা করা হয়। অতঃপর শাইখ আস-সাইয়্যিদ উল্লেখ করেছেন যে, এখানেও শব্দের স্থান পরিবর্তন হয়েছে, অর্থাৎ "তার নক্ষত্রপুঞ্জের ইঙ্গিতসমূহ থেকে"; যদিও বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় এর কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁর উক্তি: "বাড়াবাড়ি থেকে মুক্ত ইত্যাদি"—'ইফরাত' মানে সীমালঙ্ঘন করা, আর 'তাফরীত্ব' মানে অবহেলা বা সংক্ষেপ করা। অর্থাৎ এটি দীর্ঘায়নের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি থেকে মুক্ত এবং অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ঘাটতি থেকে উর্ধ্বে। বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে 'খালা' (মুক্ত হওয়া) এবং ঘাটতির ক্ষেত্রে 'আলা' (উর্ধ্বে থাকা) শব্দ ব্যবহার করেছেন; কারণ ঘাটতি বা সংক্ষেপ করা অধিকতর নিন্দনীয়, তাই এটি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বেশি বাঞ্ছনীয়, যা 'আলা' শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে। তিনি এই দুটি ছন্দোবদ্ধ বাক্যকে শেষে এনেছেন, যদিও এগুলো বর্জনীয় বিষয় থেকে মুক্ত হওয়ার পর্যায়ের এবং এর আগেরগুলো ভূষণ গ্রহণ করার পর্যায়ের। এর কারণ হলো অভাবাত্মক বিষয়ের আগে ইতিবাচক বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া এবং অনস্তিত্বের চেয়ে অস্তিত্বের শ্রেষ্ঠত্বের দিকে লক্ষ্য রাখা। আর 'মুমিল্ল' (বিরক্তিকর) এবং 'মুখিল্ল' (ত্রুটিপূর্ণ) শব্দ দুটি এখানে অপরিহার্য বিশেষণ হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
وعلا من التفريط المخل. {وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} [الفرقان: 67] وقد لقبته "بمنهج السالك إلى ألفية ابن مالك" ولم آل جهدًا في تنقيحه وتهذيبه وتوضيحه وتقريبه. والله أسأل أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم. وأن ينفع به من تلقاه بقلب سليم. إنه قريب مجيب.
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
ــ
شأنه الإملال والذي شأنه الإخلال. قوله: "وكان بين ذلك قواما" أي عدلا. وأفرد اسم الإشارة مع رجوعه إلى اثنين الإفراط والتفريط لتأوله بالمذكور والمرجح للإفراد حصول الاقتباس. قوله: "وقد لقبته" أي سميته وإنما آثر التعبير بالتلقيب
لما في هذا الاسم من الإشعار بالمدح كاللقب. قوله: "ولم آل" مضارع مبدوء بهمزة تكلم تليها ألف منقلبة عن همزة ساكنة كما هو القاعدة عند اجتماع همزتين ثانيتهما ساكنة حذف منه الجازم لامه التي هي واو، وماضيه ألا كعلا، ومصدره إن كان بمعنى التقصير أو الترك أو الاستطاعة: ألو كدلو وألوّ كعلوّ كما في القاموس، وإن كان بمعنى المنع ألو كدلو كما في حاشية شيخنا السيد لكن في حاشية ابن قاسم على المختصر وحاشية خسرو على المطول أن المنع معنى مجازي مشهور للألو لا حقيقي ويصح هنا ما عدا الاستطاعة فعلى الأول قوله جهدا أي اجتهادا منصوب على التمييز محول عن الفاعل والتقدير لم يقصر اجتهادي على الإسناد المجازي، أو نزع الخافض أي في اجتهادي أو حال بمعنى مجتهدا، وعلى الثاني مفعول به وعلى الأخير مفعوله الثاني وحذف مفعول الأول لعدم تعلق الغرض بذكره والتقدير ولم أمنع أحدا جهدا. وعن أبي البقاء أن لم آل من الأفعال الناقصة بمعنى لم أزل، فجهدا خبر بمعنى جاهدا والذي يؤخذ من القاموس والمختار أن الجهد بمعنى الاجتهاد أو المشقة بفتح الجيم لا غير وبمعنى الطاقة بالفتح والضم.
قوله: "وتهذيبه" عطف تفسير قاله شيخنا. قوله: "وتقريبه" عطف لازم. قوله: "والله أسأل إلخ" سأل إن كان بمعنى استعطى كما هنا تعدى لمفعولين بنفسه فالله مفعول قدم لإفادة الحصر أو للاهتمام لعظمته، وأن يجعله مفعول ثان. وإن كان بمعنى استفهم تعدى للأول بنفسه وللثاني بعن نحو {يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَنْفَال} أو ما بمعناها نحو فاسأل به خبيرا أي عنه. قوله: "سليم" أي سالم من الحقد والحسد ونحوهما. قوله: "وما توفيقي إلا بالله" استقبح أهل اللسان نسبة الفعل إلى الفاعل بالباء لأنه يوهم الآلة فلا يحسن ضربي بزيد إذا كان زيد ضاربا والحسن ضربي من زيد. وفاعل التوفيق هو الله تعالى فالحسن وما توفيقي إلا من الله. وتوجيهه على ما يستفاد من الكشاف في تفسير سورة هود أنه على تقدير مضاف وأن التوفيق مصدر المبني للمجهول حيث قال أي وما كوني موفقا إلا بمعونته وتوفيقه أفاده ابن قاسم. قوله: "عليه توكلت" أي اعتمدت في جميع أموري كما يؤخذ من حذف المعمول أو في الأقدار على تأليف هذا الشرح كما يؤخذ من القيام. وتقديم الجار والمجرور لإفادة الحصر لأن الاعتماد في جميع الأمور والأقدار على تأليف هذا الشرح لا يكون إلا عليه تعالى وإن كان قد يعتمد في بعض الأمور على غيره. قوله: "أنيب" أي أرجع.
.. এবং ক্ষতিকর অবহেলা থেকে তিনি উচ্চে। {এবং তারা এর মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল} [আল-ফুরকান: ৬৭]। আর আমি এর নামকরণ করেছি "মানহাজুস সালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক" (ইবনে মালিকের আলফিয়্যার দিকে পথিকের পদ্ধতি)। আমি এর সংশোধন, পরিমার্জন, স্পষ্টীকরণ এবং সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টায় ত্রুটি করিনি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং যারা সুস্থ অন্তরে এটি গ্রহণ করবে তাদের যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী, প্রার্থনা কবুলকারী।
আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যে; তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর কাছেই আমি ফিরে যাই।
--
যার প্রকৃতি হলো একঘেয়েমি সৃষ্টি করা এবং যার প্রকৃতি হলো ত্রুটিযুক্ত করা। তাঁর উক্তি: "এবং তারা এর মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল" অর্থাৎ ন্যায়সংগত। এখানে ইশারা সূচক শব্দটি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে অথচ এটি দুইটির দিকে (বাড়াবাড়ি ও শিথিলতা) প্রত্যাবর্তন করছে, কারণ এর দ্বারা উক্ত বিষয়টিকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর একবচনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাওয়ার কারণ হলো কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি (ইকতিবাস) রক্ষা করা। তাঁর উক্তি: "আর আমি এর নামকরণ করেছি" অর্থাৎ আমি এর নাম রেখেছি। তিনি লকব (উপাধি) শব্দটি ব্যবহার করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন
কারণ এই নামের মধ্যে উপাধির মতো প্রশংসার ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর উক্তি: "আমি ত্রুটি করিনি" এটি উত্তম পুরুষবাচক মুজারি ক্রিয়া যা একটি হামজা দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর সাকিন হামজা থেকে পরিবর্তিত একটি আলিফ এসেছে; এটি সেই নিয়ম অনুযায়ী যখন দুটি হামজা একত্রিত হয় এবং দ্বিতীয়টি সাকিন হয়। জাযেম প্রদানকারী অব্যয়ের কারণে এর শেষ বর্ণ 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয়েছে। এর অতীতকাল হলো 'আলা' যেমন 'আলা'। এর মূলধাতু যদি ত্রুটি করা বা ত্যাগ করা বা সামর্থ্যের অর্থে হয় তবে তা হবে 'আলউন' যেমন 'দালউন' অথবা 'উলুউন' যেমন 'উলুউন', যেমনটি কামুস গ্রন্থে রয়েছে। আর যদি এটি বাধা প্রদানের অর্থে হয় তবে তা হবে 'আলউন' যেমন 'দালউন', যা আমাদের শায়খ আস-সাইয়্যিদের হাশিয়ায় বর্ণিত। তবে মুখতাসারের ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়ায় এবং মুতাওয়ালের ওপর খুসরুর হাশিয়ায় বলা হয়েছে যে, বাধা প্রদানের অর্থটি 'আলু' শব্দের জন্য রূপক অর্থ হিসেবে প্রসিদ্ধ, প্রকৃত অর্থ নয়। এখানে সামর্থ্য ব্যতীত অন্য সকল অর্থই সঠিক হতে পারে। প্রথম অর্থ অনুযায়ী 'জাহদান' (প্রচেষ্টা) শব্দটি প্রচেষ্টা অর্থে 'তাময়িয' হিসেবে জবরপ্রাপ্ত হয়েছে যা ফায়েল থেকে পরিবর্তিত। এর মূল রূপ হবে 'আমার প্রচেষ্টা ত্রুটি করেনি'—এটি রূপক সম্পর্কের ভিত্তিতে। অথবা এটি অব্যয় বিলুপ্ত হওয়ার কারণে, অর্থাৎ 'আমার প্রচেষ্টায়'। অথবা এটি বর্তমান অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে অর্থাৎ 'প্রচেষ্টাকারী হিসেবে'। দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী এটি কর্মপদ (মাফউলে বিহি) হবে। শেষ অর্থ অনুযায়ী এটি দ্বিতীয় কর্মপদ হবে এবং প্রথম কর্মপদটি উহ্য রাখা হয়েছে যেহেতু সেটি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই; এর মূল রূপ হবে 'আমি কাউকে কোনো প্রচেষ্টায় বাধা দেইনি'। আবু আল-বাকা থেকে বর্ণিত যে, 'লাম আলু' শব্দটি 'নাগিস' ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয় যার অর্থ 'লাম আযাল' (অবিরাম থাকা)। এমতাবস্থায় 'জাহদান' শব্দটি খবর হবে এবং 'জাহেদান' (প্রচেষ্টাকারী) অর্থ প্রকাশ করবে। কামুস এবং আল-মুখতার গ্রন্থ থেকে যা জানা যায় তা হলো 'জাহদ' অর্থ হলো প্রচেষ্টা বা কষ্ট—এটি 'জিম' বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে পড়তে হয়। আর সামর্থ্য অর্থে ফাতহা এবং যম্মাহ (পেশ) উভয়টি হতে পারে।
তাঁর উক্তি: "এবং পরিমার্জন" এটি হলো ব্যাখ্যাসূচক সংযোজন, যেমনটি আমাদের শায়খ বলেছেন। তাঁর উক্তি: "এবং সহজবোধ্য করা" এটি একটি অপরিহার্য সংযোজন। তাঁর উক্তি: "আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি ইত্যাদি" প্রার্থনা করা যদি কোনো কিছু চাওয়ার অর্থে হয় তবে তা সরাসরি দুটি কর্মপদ (মাফউল) গ্রহণ করে। এখানে 'আল্লাহ' শব্দটি কর্মপদ যা সীমাবদ্ধতা বোঝাতে বা তাঁর মহান সত্তার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে আগে আনা হয়েছে। আর 'যেন তিনি একে করেন' অংশটি দ্বিতীয় কর্মপদ। আর যদি এটি জিজ্ঞাসা করার অর্থে হয়, তবে প্রথম কর্মপদটি সরাসরি এবং দ্বিতীয়টি 'আন' অব্যয়ের মাধ্যমে আসে। যেমন: {তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}। অথবা অনুরূপ কোনো অর্থ, যেমন: "অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন" অর্থাৎ তাঁর সম্পর্কে। তাঁর উক্তি: "সুস্থ" অর্থাৎ বিদ্বেষ, হিংসা এবং অনুরূপ বিষয়গুলো থেকে মুক্ত। তাঁর উক্তি: "আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যে" ভাষাবিদরা 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে কর্তার দিকে ক্রিয়া সম্পৃক্ত করাকে অপছন্দ করেছেন, কারণ এতে যন্ত্র বা মাধ্যমের ধারণা তৈরি হয়। তাই যদি জায়েদ প্রহারকারী হয় তবে 'আমার প্রহার জায়েদের দ্বারা' বলা সুন্দর নয়, বরং 'আমার প্রহার জায়েদের পক্ষ থেকে' বলা সুন্দর। এখানে তাওফিকের কর্তা হলেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা, তাই 'আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে' বলাই সুন্দর। সূরা হুদের তাফসীরে 'কাশশাফ' থেকে যা বোঝা যায় তার ব্যাখ্যা হলো—এখানে একটি শব্দ উহ্য রয়েছে এবং তাওফিক শব্দটি এখানে কর্মবাচ্য বা 'মাবনি লিল মাজহুল'-এর মাসদার। সেখানে বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: "আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিক ব্যতীত আমি তাওফিকপ্রাপ্ত হতে পারি না"। এটি ইবনে কাসিম উল্লেখ করেছেন। তাঁর উক্তি: "তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি" অর্থাৎ আমি আমার সকল বিষয়ে তাঁর ওপর নির্ভর করেছি—যেমনটি কর্মপদ উহ্য থাকা থেকে বোঝা যায়। অথবা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সামর্থ্য লাভের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর নির্ভর করেছি—যেমনটি প্রাসঙ্গিকতা থেকে বোঝা যায়। অব্যয় এবং এর পরবর্তী পদকে (তাঁর ওপর) আগে আনা হয়েছে সীমাবদ্ধতা বোঝানোর জন্য; কারণ সকল বিষয়ে এবং এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সামর্থ্যের ক্ষেত্রে নির্ভরতা কেবল মহান আল্লাহর ওপরই হতে পারে, যদিও কোনো কোনো বিষয়ে অন্যের ওপরও নির্ভর করা হতে পারে। তাঁর উক্তি: "আমি ফিরে যাই" অর্থাৎ আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
خطبة الكتاب:بسم الله الرحمن الرحيم
قال محمد هو ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك
ــ
بسم الله الرحمن الرحيم
"قال محمد هو" الإمام العلامة أبو عبد الله جمال الدين بن عبد الله "ابن مالك"
ــ
قوله: "قال محمد" فيه التفات من التكلم إلى الغيبة إن روعي متعلق البسملة المقدر بنحو أؤلف أو تأليفي فإن لم يراع كان فيه التفات على مذهب السكاكي المكتفي بمخالفة التعبير مقتضى الظاهر. وأتى بجملة الحكاية ولم يتركها خوفا من الرياء لقصد الترغيب في كتابه بتعيين مؤلفه المشهور بالجلالة في العلم والإخلاص فيه وبالانتفاع بكتبه وهذا أرجح من مراعاة الحذر من الرياء خصوصا مع الأمن من ذلك كما هو حال المصنف، ولم يقدمها على البسملة أيضا ليحصل لها بركة البسملة ولئلا يفوت الابتداء الحقيقي بالبسملة ولم يؤخرها عن الحمدلة ليقع اسمه بين الجملتين الشريفتين فتحيط به بركتهما فاحفظه.
قوله: "العلامة" معناه لغة كثير العلم جدا لأن الصيغة للمبالغة والتاء لزيادتها وكثرة العلم جدا تحصل بالتبحر في أنواع من الفنون فما اشتهر من أنه الجامع بين المعقولات والمنقولات لعله اصطلاح لبعضهم. قوله: "جمال الدين" هذا لقبه أي مجمل أهل الدين. فإن قيل كل من جمال الدين ومحمد يشعر بالمدح فجعل أحدهما اسما والآخر لقبا تحكم، قلت يؤخذ جواب ذلك مما بحثه بعض المتأخرين ونصه: والذي يظهر أن الاسم ما وضعه الأبوان ونحوهما ابتداء كائنا ما كان، وأن ما استعمل في ذلك المسمى بعد وضع الاسم فإن كان مشعرا بمدح كشمس الدين فيمن اسمه محمد أو ذمّ كأنف الناقة فيمن اسمه ذلك فلقب، أو كان مصدرا بأب كأبي عبد الله فيمن اسمه ذلك أو أمّ كأمّ عبد الله فيمن اسمها عائشة فكنية، وعلى هذا يصح ما حكاه ابن عرفة فيمن اعترض عليه أمير إفريقية في تكنيته بأبي القاسم مع النهي عنه فأجاب بأنه اسمه لا كنيته نقله شيخنا عن الشنواني. وحاصل الجواب أن اعتبار الأشعار والتصدير أما يكون بعد وضع الدال على الذات ابتداء. والظاهر أن الموضوع للذات ابتداء محمد فهو الاسم والموضوع ثانيا مشعرا جمال الدين فهو اللقب. قوله: "ابن عبد الله بن مالك" قد يتوهم من صنيع الشارح أنه جر ابن مالك صفة لعبد الله وليس كذلك لأنه يلزم عليه تغيير إعراب المتن وحذف ألف ابن مع أنها واجبة الثبوت في المتن بل هو باق على رفعه فيكون بالنظر إلى كلام الشارح خبرا آخر لهو فاعرفه. فإن قلت في قول المصنف هو ابن مالك الباس لإيهامه أن مالكا أبوه. قلت هذا الإلباس لا يضر هنا لأنه ليس المقصود هنا بيان نسبه بل تمييزه عمن شاركه في اسمه وهو إنما يتم بهذه الكنية لغلبتها عليه دون غيرها قاله سم، وأيضا فيها تفاؤل بملكه رقاب العلوم. والأكثر حذف ألف مالك العلم وإن كان رسمها أيضا جيدا ومنه رسمها في: {وَنَادَوْا يَا مَالِك} [الزخرف: 77] في المصحف العثماني ويجب رسم ألف مالك الصفة كالذي آخر
কিতাবের খুতবা:পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
মুহাম্মাদ ইবনে মালিক বলেন
… আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক।
—
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
"মুহাম্মাদ বলেন, তিনি হলেন" ইমাম, মহাজ্ঞানী আবু আব্দুল্লাহ জামালুদ্দিন ইবনে আব্দুল্লাহ "ইবনে মালিক"।
—
তাঁর উক্তি: "মুহাম্মাদ বলেন" - এতে উত্তম পুরুষ থেকে নাম পুরুষে রূপান্তর (ইলতিফাত) রয়েছে, যদি বিসমিল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট উহ্য শব্দ যেমন "আমি রচনা করছি" বা "আমার রচনা" বিবেচনা করা হয়। আর যদি তা বিবেচনা করা না হয়, তবে সাক্কাকীর মাযহাব অনুযায়ী এতে রূপান্তর রয়েছে, যিনি বাহ্যিক দাবির বিপরীতে প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতাকেই যথেষ্ট মনে করেন। তিনি বর্ণনামূলক বাক্যটি এনেছেন এবং লোকদেখানোর (রিয়া) ভয়ে তা বর্জন করেননি, বরং তাঁর কিতাবের প্রতি আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে এটি করেছেন। কারণ এর লেখক ইলমের বিশালতা ও ইখলাসের জন্য এবং তাঁর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য সুপরিচিত। এটি লোকদেখানোর ভয় থেকে বেঁচে থাকার চেয়ে অধিক প্রাধান্যযোগ্য, বিশেষ করে যখন লেখকের ন্যায় ব্যক্তি তা থেকে নিরাপদ থাকেন। আর তিনি একে বিসমিল্লাহর আগে নিয়ে আসেননি যেন বিসমিল্লাহর বরকত অর্জিত হয় এবং যেন বিসমিল্লাহর মাধ্যমে প্রকৃত সূচনা হাতছাড়া না হয়। আবার একে হামদালার (আল্লাহর প্রশংসা) পরে আনেননি যেন তাঁর নাম দুটি সম্মানিত বাক্যের মাঝখানে থাকে এবং উভয়টির বরকত তাঁকে পরিবেষ্টন করে রাখে। সুতরাং এটি স্মরণ রাখুন।
তাঁর উক্তি: "মহাজ্ঞানী (আল্লামা)" - আভিধানিক অর্থে এর অর্থ অতিশয় জ্ঞানী, কারণ এই শব্দটি আধিক্য বোঝায় এবং শেষে যুক্ত 'তা' অক্ষরটি আধিক্য ও পূর্ণতা বৃদ্ধির জন্য। অত্যন্ত ব্যাপক জ্ঞান অর্জিত হয় বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতার মাধ্যমে। সুতরাং এটি যে যুক্তিবিদ্যা ও উদ্ধৃতিমূলক বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার সমষ্টি হিসেবে প্রসিদ্ধ, তা সম্ভবত কারোর কারোর পরিভাষা। তাঁর উক্তি: "জামালুদ্দিন" - এটি তাঁর লকব (উপাধি), যার অর্থ দ্বীনদারদের সৌন্দর্যমণ্ডিতকারী। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, "জামালুদ্দিন" এবং "মুহাম্মাদ" উভয়টিই প্রশংসার অর্থ বহন করে, তবে একটিকে নাম এবং অন্যটিকে উপাধি নির্ধারণ করা তো স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত হবে। আমি বলব, এর উত্তর পরবর্তীকালীন গবেষকদের আলোচনা থেকে পাওয়া যায়, যার ভাষ্য হলো: "যা স্পষ্ট হয় তা হলো—পিতামাতা বা সমজাতীয় কেউ শুরুতে যে নাম রাখেন তাই 'নাম'। আর নাম রাখার পর যা সেই ব্যক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়, তা যদি প্রশংসাসূচক হয় যেমন 'শামসুদ্দিন' (যার নাম মুহাম্মাদ) অথবা নিন্দাসূচক হয় যেমন 'আনফুন নাকাহ' (উটপাখির নাক), তবে তা 'লকব' (উপাধি)। আর যদি শুরুতে 'আবু' (পিতা) যুক্ত থাকে যেমন 'আবু আব্দুল্লাহ' বা 'উম্মু' (মাতা) যুক্ত থাকে যেমন আয়েশার ক্ষেত্রে 'উম্মু আব্দুল্লাহ', তবে তা 'কুনিয়া' (উপনাম)। এর ভিত্তিতে ইবনে আরাফা যা বর্ণনা করেছেন তা সঠিক হয় যে, ইফ্রিকিয়ার আমির তাঁকে 'আবু কাসিম' উপনাম ব্যবহারে নিষেধ করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, এটি তাঁর নাম, উপনাম নয়। আমাদের শায়খ শানওয়ানি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।" উত্তরের সারকথা হলো—প্রশংসা বা উপনামের বিবেচনা তখনই হয় যখন সত্তার জন্য শুরুতে একটি নির্দেশক নাম রাখা হয়। এখানে স্পষ্ট যে, সত্তার জন্য শুরুতে রাখা নাম হলো 'মুহাম্মাদ', তাই এটি নাম; আর দ্বিতীয়বার প্রশংসাসূচক হিসেবে রাখা নাম 'জামালুদ্দিন' হলো উপাধি। তাঁর উক্তি: "ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক" - ব্যাখ্যাকারীর উপস্থাপন থেকে কেউ ভুল বুঝতে পারেন যে, 'ইবনে মালিক' শব্দটি 'আব্দুল্লাহ' শব্দের সিফাত হিসেবে মাজরুর (জেরযুক্ত) হবে। বিষয়টি তেমন নয়, কারণ এর ফলে মূল পাঠের ব্যাকরণিক রূপ (ইরাব) পরিবর্তন হয়ে যায় এবং 'ইবন' শব্দের আলিফটি বিলুপ্ত করতে হয়, অথচ মূল পাঠে এটি থাকা আবশ্যক। বরং এটি ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্য অনুযায়ী 'হুয়া' (তিনি) এর দ্বিতীয় খবর হিসেবে রফ-যুক্ত (পেশযুক্ত) থাকবে, তাই এটি জেনে রাখুন। যদি আপনি বলেন যে, গ্রন্থকারের উক্তি "তিনি ইবনে মালিক"-এ বিভ্রান্তির সুযোগ রয়েছে যে মালিকই তাঁর পিতা। আমি বলব, এই বিভ্রান্তি এখানে ক্ষতিকর নয়, কারণ এখানে তাঁর বংশ পরিচয় দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং তাঁকে তাঁর সমনামীদের থেকে পৃথক করাই উদ্দেশ্য। আর এটি এই উপনামের মাধ্যমেই অর্জিত হয় কারণ এটিই তাঁর ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। সাম্মি এ কথা বলেছেন। এছাড়া এতে ইলমের রাজত্বের মালিক হওয়ার শুভলক্ষণ রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাম হিসেবে ব্যবহৃত 'মালিক' শব্দের আলিফ বিলুপ্ত করা হয় যদিও তা লেখা উত্তম। উসমানী মুসহাফে "হে মালিক! তারা ডাক দিবে" আয়াতে এভাবেই আলিফসহ লেখা হয়েছে। আর গুণবাচক শব্দ হিসেবে 'মালিক' এর আলিফ লেখা আবশ্যক যেমন পরবর্তী শব্দে...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
الطائي نسبًا، الشافعي مذهبًا، الجياني منشأ، الأندلسي إقليمًا، الدمشقي دارا ووفاة لاثنتي عشرة ليلة خلت من شعبان عام اثنتين وسبعين وستمائة وهو ابن خمس وسبعين سنة "أحمد ربي الله خير مالك" أي أثني عليه الثناء الجميل اللائق بجلال عظمته وجزيل نعمته التي
ــ
البيت. وأما رسم مالك يوم الدين بدونها فيه فلأن الخط العثماني لا يقاس عليه مع أنه لا يرد على قراءته بدون ألف. قوله: "الطائي نسبا" سيأتي في المتن أن قولهم الطائي من شواذ النسب. قوله: "الجياني منشأ" نسبة إلى جيان بلد من بلاد الأندلس فكان الأولى تأخيره عن قوله الأندلسي إقليما ليكون للمتأخر فائدة، وجواب شيخنا السيد بأنه قدم الجياني اهتماما بالأخص غير نافع وقد يجاب بأن الفائدة حاصلة على تأخير قوله الأندلسي إقليما لمن لا يعلم كون جيان من بلاد الأندلس. والأندلس بفتح الهمزة وسكون النون وفتح الدال وضم اللام كذا في شرح ميارة على متن العاصمية في فصل المزارعة. ثم قال وهي جزيرة متصلة بالبر الطويل والبر الطويل متصل بالقسطنطينية. وإنما قيل للأندلس جزيرة لأن البحر محيط بها من جهاتها إلا الجهة الشمالية. وحكي أن أول من عمرها بعد الطوفان أندلس بن يافث بن نوح عليه السلام فسميت باسمه. ا. هـ. من مختصر ابن خلكان. ونقل صاحب المعيار عن القاضي عياض أن الأندلس كانت للنصارى دمرهم الله تعالى ثم أخذها المسلمون فمنها ما أخذ عنوة ومنها ما أخذ صلحا ثم أسلم بعض أولئك النصارى وسكنوها مع المسلمين. ا. هـ. ما قاله ميارة ببعض حذف، أي ثم بعد مدة طويلة أخذها النصارى ثانيا. هذا ونقل بعض الطلبة أنه رأى نصا بضم الهمزة والدال أيضا.
قوله: "ووفاة" كذا في بعض النسخ وفي بعضها ووفاته والأولى أحسن لإفادتها محل الوفاة دون الثانية. وقبره بسفح قاسيون ظاهر يزار والتمييزات المذكورة من تمييز النسبة غير المحول بناء على ما ذهب إليه كثير كابن هشام أن تحويل تمييز النسبة أغلبي لا المحول عن الفاعل كما زعم لعدم صحته في الجميع ولا من تمييز المفرد وإن قاله شيخنا لأن تمييز المفرد عين مميزه في المعنى والأمر هنا ليس كذلك. قوله: "عام اثنين إلخ" أي عام تمام اثنين إلخ. قوله: "أحمد" بفتح الميم مضارع حمد بكسرها قال المعرب وتبعه شيخنا والبعض: كان مقتضى الظاهر أن يقول يحمد بياء الغيبة لكنه التفت من الغيبة إلى التكلم. ا. هـ. وهو غير صحيح لأن مقتضى الظاهر أن يعبر المتكلم عن فعله أو قوله بما للمتكلم، فلفظ أحمد هو المقول للمصنف فهو الذي يحكى بقال، وشرط الالتفات أن يكون التعبير الثاني خلاف مقتضى الظاهر كما في المطوّل والمختصر وغيرهما فلا التفات في نحو قال إني عبد الله ونحو أنا زيد فاعرفه ولا تكن أسير التقليد. قوله: "ربي الله خير مالك" ذكر في عبارة حمده الفعل والذات والصفة إشارة إلى أنه تعالى يستحق الحمد لفعله وذاته وصفته وإنما قدم الأول لأنه إنعام فالحمد عليه كما هو مقتضى تعليق الحكم بالمشتق يقع واجبا لكن هذا لا يناسب تفسير الشارح الرب بالمالك وإنما يناسب تفسيره بالمربي وهو أولى هنا لذلك ولأن المالكية مذكورة في قوله خير مالك، إلا أن يقال تفسيره بالمالك باعتبار الأشهر وقطع النظر عن خصوص كلام المصنف. وخير أفعل تفضيل حذفت همزته تخفيفا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
বংশে তায়ি, মাযহাবে শাফেয়ি, জন্মসূত্রে জিয়ানি, অঞ্চলে আন্দালুসি এবং নিবাস ও মৃত্যুর দিক থেকে দামেশকি; তিনি ৬৭২ হিজরি সালের শাবান মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর পঁচাত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। "আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি সর্বোত্তম মালিক" অর্থাৎ আমি তাঁর সেই সুন্দর প্রশংসা করছি যা তাঁর মহিমার গরিমা এবং নেয়ামতের প্রাচুর্যের জন্য উপযুক্ত—যা...
—
কবিতা। আর এখানে 'মালিকি ইয়াওমিদ্দীন' শব্দটিতে আলিফ ছাড়া যে লিখনরীতি রয়েছে, তা এই কারণে যে উসমানি লিপির ওপর অন্য কিছুর তুলনা (কিয়াস) চলে না, যদিও আলিফ ছাড়াও এর পাঠরীতি (কিরাত) বর্ণিত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য: "বংশে তায়ি" — মূল পাঠে (মাতন) সামনে আসবে যে, তাদের 'তায়ি' বলা বংশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী প্রয়োগ। তাঁর বক্তব্য: "জন্মসূত্রে জিয়ানি" — এটি আন্দালুসের শহরগুলোর মধ্য থেকে 'জিয়ান' নামক একটি শহরের দিকে সম্পৃক্ত। তাই "অঞ্চলে আন্দালুসি" শব্দটির পরে এটি উল্লেখ করা অধিক উত্তম ছিল যাতে পরবর্তী শব্দটি থেকে অতিরিক্ত তথ্যগত ফায়দা লাভ করা যায়। আর আমাদের শাইখ সাইয়্যিদ যে উত্তর দিয়েছেন যে, বিশেষত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করে 'জিয়ানি' শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে, তা ফলপ্রসূ নয়। তবে এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, "অঞ্চলে আন্দালুসি" শব্দটিকে পরে আনার মাধ্যমে ফায়দা তখনই অর্জিত হবে যখন কেউ জানবে না যে জিয়ান আন্দালুসেরই একটি শহর। আর আন্দালুস শব্দের হামযা ও দাল-এ ফাতহাহ (যবর), নুন-এ সুকুন এবং লাম-এ যম্মাহ (পেশ) হবে; আসিমিয়্যাহ-র মূল পাঠের ওপর মিয়ারার ব্যাখ্যাগ্রন্থের 'বর্গাচাষ' পরিচ্ছেদে এমনটিই বলা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেছেন যে, এটি একটি দ্বীপ যা মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত এবং সেই মূল ভূখণ্ডটি কনস্টান্টিনোপলের সাথে যুক্ত। আন্দালুসকে দ্বীপ বলা হয় কারণ উত্তর দিক ব্যতীত বাকি সব দিক থেকেই এটি সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত। বর্ণিত আছে যে, মহাপ্লাবনের পর একে প্রথম আবাদ করেছিলেন আন্দালুস ইবনে ইয়াফিস ইবনে নুহ (আলাইহিস সালাম), তাই তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। (সংক্ষিপ্ত ইবনে খাল্লিকান থেকে)। 'আল-মিয়ার' গ্রন্থের লেখক কাজি আইয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আন্দালুস ছিল খ্রিস্টানদের অধীনে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন; অতঃপর মুসলমানরা তা জয় করেন। এর কিছু অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে এবং কিছু অংশ সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়। এরপর সেই খ্রিস্টানদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করে এবং মুসলমানদের সাথে সেখানে বসবাস করতে থাকে। (মিয়ারার বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত), অর্থাৎ সুদীর্ঘকাল পর খ্রিস্টানরা পুনরায় তা দখল করে নেয়। উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো শিক্ষার্থী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হামযা ও দাল-এ যম্মাহ (পেশ) সম্বলিত রূপও দেখেছেন।
তাঁর বক্তব্য: "এবং মৃত্যুতে" — কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আবার কোনোটিতে "এবং তাঁর মৃত্যু" রয়েছে। প্রথমটিই অধিক উত্তম কারণ এটি মৃত্যুর স্থানকে সুস্পষ্ট করে, যা দ্বিতীয়টি থেকে বোঝা যায় না। তাঁর কবর 'কাসিউন' পর্বতের পাদদেশে বিদ্যমান এবং তা যিয়ারত করা হয়। উল্লিখিত তামীযগুলো (প্রভেদক) হলো 'তামীযে নিসবাত' যা রূপান্তরিত নয়—এমন মতের ভিত্তিতে যা ইবনে হিশামের মতো অনেক আলেম পোষণ করেছেন যে, তামীযে নিসবাতের রূপান্তরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে (সর্বদা নয়)। এটি ফায়িল (কর্তা) থেকে রূপান্তরিত নয় যেমনটি দাবি করা হয়েছে, কারণ সবার ক্ষেত্রে এটি সঠিক হয় না। এটি 'তামীযে মুফরাদ'ও নয়, যদিও আমাদের শাইখ এমনটি বলেছেন; কারণ তামীযে মুফরাদ অর্থের দিক থেকে তার মুমাইয়ায-এর হুবহু হয়ে থাকে, অথচ এখানে বিষয়টি সেরকম নয়। তাঁর বক্তব্য: "৭২ সালে ইত্যাদি" অর্থাৎ ৭২ সাল পূর্ণ হওয়ার বছরে। তাঁর বক্তব্য: "আহমাদু" — মিম-এ ফাতহাহ সহ এটি 'হামিদা' (মিম-এ কাসরাহ সহ) থেকে মুজারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)। ব্যাকরণবিদগণ এবং তাঁদের অনুসরণ করে আমাদের শাইখ ও অন্য অনেকে বলেছেন: বাহ্যত এখানে নামপুরুষের ক্রিয়া ব্যবহার করা সংগত ছিল, কিন্তু তিনি নামপুরুষ থেকে উত্তম পুরুষে (ইলতিফাত) প্রত্যাবর্তন করেছেন। তবে এটি সঠিক নয়; কারণ নিয়ম হলো বক্তা নিজের কাজ বা কথা উত্তম পুরুষের মাধ্যমেই ব্যক্ত করবেন। সুতরাং 'আহমাদু' শব্দটি গ্রন্থকারের উক্তি যা 'ক্বলা' (তিনি বলেছেন) ক্রিয়ার মাধ্যমে বর্ণিত হচ্ছে। আর 'ইলতিফাত'-এর শর্ত হলো দ্বিতীয় প্রকাশভঙ্গিটি বাহ্যিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া, যেমনটি 'মুতাউওয়াল' ও 'মুখতাসার' এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাই "তিনি বলেছেন আমি আল্লাহর বান্দা" বা "আমি যায়েদ, আমাকে চেনো এবং অন্ধ অনুকরণের দাসে পরিণত হয়ো না" এই জাতীয় বাক্যে কোনো 'ইলতিফাত' নেই। তাঁর বক্তব্য: "আমার প্রতিপালক আল্লাহ সর্বোত্তম মালিক" — তিনি প্রশংসার বাক্যে ক্রিয়া, সত্তা এবং গুণের উল্লেখ করেছেন; এটি এই ইশারা দেয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কর্ম, সত্তা এবং গুণের কারণে প্রশংসার যোগ্য। তিনি কর্মকে (অনুগ্রহ) আগে এনেছেন কারণ অনুগ্রহের ওপর প্রশংসা করা ওয়াজিব হয়ে থাকে—যেমনটি কোনো হুকুমকে তার বুৎপত্তিগত বিশেষণের সাথে সম্পৃক্ত করার দাবি। তবে এটি শারহকার (ব্যাখ্যাকার) কর্তৃক 'রব' শব্দের অর্থ 'মালিক' করার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং 'রব' অর্থ 'প্রতিপালক' করার সাথেই অধিক মানানসই। এখানে সেটিই অধিক উত্তম, কারণ 'মালিক' হওয়ার বিষয়টি তো "সর্বোত্তম মালিক" অংশেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেউ বলতে পারেন যে, 'মালিক' অর্থটি অধিক প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে এবং গ্রন্থকারের শব্দের বিশেষত্বের দিকে লক্ষ্য না করেই গ্রহণ করা হয়েছে। 'খাইর' শব্দটি এখানে 'আফআলুত তাফদীল' (অধিকতর শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষণ), যার হামযাটি উচ্চারণ সহজ করার জন্য বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
هذا النظم من آثارها واختار صيغة المضارع المثبت لما فيها من الأشعار بالاستمرار التجددي وقصد بذلك الموافقة بين الحمد والمحمود عليه أي كما أن آلاءه تعالى لا تزال
ــ
لكثرة الاستعمال كشر ويظهر لي أنه من الخير مصدر خار يخير أي تلبس بالخير أو من الخير بكسر الخاء وهو الكرم والشرف. وبين مالك الأول ومالك الثاني الجناس التام اللفظي لا الخطي إن رسم الأول بغير ألف كما هو الأكثر في مالك العلم فإن رسم بها كما هو أيضا جيد كان لفظيا خطيا فإطلاق البعض كونه لفظيا خطيا محمول على الحالة الثانية. قوله: "الجميل" صفة كاشفة أو مخصصة على الخلاف بين الجمهور القائلين باختصاص الثناء بالخير والعز بن عبد السلام القائل بعمومه للخير والشر. قوله: "بجلال عظمته" لا يبعد أنه إشارة إلى قوله خير مالك وأن قوله وجزيل نعمته إشارة إلى قوله ربي، لكن يعكر على هذا تفسيره فيما بعد الرب بالمالك إلا أن يقال ما تقدم. والجلال العظمة ولا يتعين كون إضافته إلى ما بعده من إضافة الصفة إلى الموصوف كما يوهمه كلام البعض بل ولا يترجح لأنه وإن اقتضته مشاكلة قوله وجزيل نعمته يحوج إلى تأويل الجلال بالجليل. قوله: "وجزيل نعمته" من إضافة الصفة للموصوف قال البعض وأشار إليه شيخنا المراد بالنعمة الإنعام بقرينة قوله التي هذا النظم أثر من آثارها لأنه ليس أثرا للنعمة بمعنى المنعم به بل هو فرد من أفراده. ا. هـ. ولا يتعين ذلك بل يصح أن تكون النعمة بمعنى المنعم به ويترتب عليها ذلك الأثر كنعمة العلم والفهم والقدرة على التأليف فإنه يترتب عليها هذا الأثر.
قوله: "واختار صيغة المضارع" أي على الجملة الاسمية والماضوية. قوله: "المثبت" لا حاجة إليه بل هو لبيان الواقع إذ المنفي لا يتأتى هنا. قوله: "لما فيها من الأشعار" أي بواسطة غلبة الاستعمال. وقوله بالاستمرار التجددي أي الذي هو المناسب هنا كما بينه بعد بقوله وقصد إلخ وقوله التجددي أي الحاصل من تجدد الحمد مرة بعد أخرى وهكذا أو الموصوف به تجدده كذلك أي وكل من الاسمية والماضوية لا يفيد الاستمرار التجددي أصلا، فإن الأولى لا تفيد التجدد وإن كانت تفيد الاستمرار بواسطة العدول كما سيذكره الشارح تبعا لبعضهم أو بواسطة غلبة الاستعمال كما هو الأرجح، والثانية لا تفيد الاستمرار أصلا بل ولا التجدد بمعنى الحصول مرة بعد أخرى وهكذا وإن أفادت التجدد بمعنى الوجود بعد العدم. وقد اختلف هل الاسمية أبلغ أو المضارعية والتحقيق أن كلا أبلغ من الأخرى من بعض الوجوه، فالاسمية أبلغ من حيث تعيين الصفة المحمود بها فيها وهي ثبوت الحمد له تعالى إذ معنى الحمد لله الحمد ثابت لله والمعين أوقع في النفس، والمضارعية أبلغ من حيث صدق المحمود به فيها بجميع الصفات وببعضها الأعم من تلك الصفة لأن معنى أحمدك أثني عليك بالجميل وصفاته تعالى جميلة كلها وبعضها، فالمضارعية أكثر فائدة. قوله: "والمحمود عليه" يعني التربية المفهومة من قول ربي على ما تقدم فاندفع ما اعترض به البعض هنا بناء على ظاهر تفسير الشارح الرب بالمالك من أن كلام الشارح ربما يقتضي أن المصنف أوقع حمده في مقابلة نعمه مع أنه لم يذكر ذلك، ولا حاجة إلى اعتذاره بأنه يمكن أن يقال مراده المحمود عليه الذي يغلب وقوع الحمد في مقابلته. قوله:
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এই কাব্যিক বিন্যাসটি তাঁর সেই নিদর্শনেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ইতিবাচক বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ারূপটি বেছে নিয়েছেন, কারণ এর মধ্যে ধারাবাহিক নবায়নযোগ্যতার ইঙ্গিত রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি প্রশংসা এবং যার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে (উদ্দেশ্য) উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, যেমন মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অবিরাম...
—
অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এটি 'শার' (মন্দ) শব্দের মতো। আমার কাছে এটি স্পষ্ট যে, এটি 'খাইর' শব্দ থেকে এসেছে যা 'খারা-ইয়াখিরু' ধাতুর মূল, অর্থাৎ কল্যাণমণ্ডিত হওয়া; অথবা এটি 'খাইর' (খ এর নিচে কাসরা দিয়ে) শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মহানুভবতা ও মর্যাদা। প্রথম 'মালিক' এবং দ্বিতীয় 'মালিক' শব্দের মধ্যে পূর্ণ শাব্দিক মিল রয়েছে কিন্তু লৈখিক নয়, যদি প্রথমটি আলিফ ছাড়া লেখা হয় যেমনটি নামবাচক 'মালিক' শব্দের ক্ষেত্রে অধিক প্রচলিত। আর যদি তা আলিফসহ লেখা হয়—যা সুন্দর—তবে তা শাব্দিক ও লৈখিক উভয় প্রকারের মিল হবে। সুতরাং কারো কারো এটিকে শাব্দিক ও লৈখিক বলা দ্বিতীয় অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাঁর কথা: "সুন্দর" শব্দটি একটি ব্যাখ্যামূলক বিশেষণ অথবা একটি বিশেষত্ব প্রদানকারী বিশেষণ। এটি জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেম, যারা প্রশংসাকে কেবল কল্যাণের সাথে নির্দিষ্ট করেন এবং ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম, যিনি একে কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রে ব্যাপক অর্থ প্রদান করেন—তাঁদের মধ্যকার মতভেদের ওপর ভিত্তি করে। তাঁর কথা: "তাঁর মহান মহিমার সাথে" এটি সম্ভব যে এটি তাঁর কথা "উত্তম মালিক"-এর দিকে ইঙ্গিত এবং তাঁর কথা "তাঁর প্রচুর নেয়ামত" তাঁর কথা "আমার রব"-এর দিকে ইঙ্গিত। তবে পরবর্তীকালে 'রব' শব্দের অর্থ 'মালিক' করা এই ব্যাখ্যায় কিছুটা জটিলতা তৈরি করে, যদি না পূর্বে যা বলা হয়েছে তা গ্রহণ করা হয়। আর 'জালাল' অর্থ মহানত্ব। এর পরবর্তী শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকে 'গুণবাচক শব্দের বিশেষ্যের প্রতি সম্বন্ধ' হওয়া আবশ্যক নয়, যদিও কারো কারো কথা এমন ধারণা দেয়। বরং এটি অগ্রাধিকারযোগ্যও নয়; কারণ যদিও তাঁর কথা "তাঁর প্রচুর নেয়ামত"-এর সাথে সামঞ্জস্যতা এটি দাবি করে, তবুও এটি 'জালাল' শব্দটিকে 'জালিল' (মহান) অর্থে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন সৃষ্টি করে। তাঁর কথা: "এবং তাঁর প্রচুর নেয়ামত" এটি গুণের বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ। কেউ কেউ বলেছেন এবং আমাদের শাইখ সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে, 'নেয়ামত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'অনুগ্রহ দান করা', যার প্রমাণ হলো তাঁর কথা "যা (নেয়ামত) থেকে এই কাব্যিক বিন্যাসটি নিসৃত হয়েছে"। কারণ এটি 'প্রদত্ত নেয়ামত' অর্থে নেয়ামতের ফলাফল নয়, বরং এটি তার একটি অংশ মাত্র। সমাপ্ত। তবে এটিই নির্ধারিত নয়, বরং নেয়ামত শব্দটি 'প্রদত্ত বস্তু' অর্থেই হওয়া সঠিক হতে পারে এবং তার ওপর এই প্রভাবটি পর্যবসিত হতে পারে; যেমন জ্ঞান, বুঝশক্তি এবং গ্রন্থ রচনার সক্ষমতার নেয়ামত, যার ফলে এই প্রভাবটি (গ্রন্থ) সৃষ্টি হয়।
তাঁর কথা: "এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ারূপ (মুদারী) পছন্দ করেছেন" অর্থাৎ বিশেষ্যমূলক বাক্য এবং অতীতকালীন বাক্যের পরিবর্তে। তাঁর কথা: "ইতিবাচক" এর আলাদা প্রয়োজন ছিল না, বরং এটি বাস্তব পরিস্থিতি বর্ণনার জন্য, যেহেতু এখানে নেতিবাচক হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর কথা: "এর মধ্যে যে ইঙ্গিত রয়েছে তার জন্য" অর্থাৎ ব্যবহারের আধিক্যের কারণে। তাঁর কথা "ধারাবাহিক নবায়নযোগ্যতা" অর্থাৎ যা এখানে উপযুক্ত, যেমনটি তিনি পরে তাঁর কথা "এবং তিনি ইচ্ছা করেছেন..." ইত্যাদির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। আর "নবায়নযোগ্যতা" অর্থ যা প্রশংসার বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় অথবা যার বৈশিষ্ট্যই হলো পুনরায় ঘটা। অর্থাৎ বিশেষ্যমূলক ও অতীতকালীন বাক্য—উভয়ের কোনটিই মূলত এই ধারাবাহিক নবায়নযোগ্যতার অর্থ প্রদান করে না। কারণ প্রথমটি নবায়নের অর্থ দেয় না, যদিও এটি পরিবর্তনের মাধ্যমে ধারাবাহিকতার অর্থ দেয় যেমনটি ব্যাখ্যাকার কারো কারো অনুসরণ করে উল্লেখ করবেন অথবা ব্যবহারের আধিক্যের মাধ্যমে যা অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত। আর দ্বিতীয়টি মোটেও ধারাবাহিকতার অর্থ দেয় না, এমনকি বারবার ঘটার অর্থে নবায়নের অর্থও দেয় না, যদিও এটি অনস্তিত্বের পর অস্তিত্বে আসার অর্থে নবায়নের অর্থ প্রদান করে। এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যে, বিশেষ্যমূলক বাক্য অধিক অলঙ্কারপূর্ণ নাকি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন (মুদারী) বাক্য? সঠিক বিশ্লেষণ হলো যে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো দিক থেকে অন্যের চেয়ে অধিক অলঙ্কারপূর্ণ। বিশেষ্যমূলক বাক্য প্রশংসিত গুণের সুনিশ্চিতকরণের দিক থেকে অধিক অলঙ্কারপূর্ণ, আর তা হলো মহান আল্লাহর জন্য প্রশংসার সাব্যস্ত হওয়া। কারণ 'সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য' এর অর্থ হলো আল্লাহর জন্য প্রশংসা স্থায়ী, আর সুনিশ্চিত বিষয় অন্তরে অধিক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন (মুদারী) বাক্য প্রশংসার বিষয়ের সত্যতা প্রকাশের ক্ষেত্রে সকল গুণাবলী অথবা সেই গুণের চেয়েও সাধারণ কোনো গুণের মাধ্যমে প্রশংসার দিক থেকে অধিক অলঙ্কারপূর্ণ। কারণ 'আমি আপনার প্রশংসা করছি' এর অর্থ হলো 'আমি আপনার সুন্দর গুণাবলীর প্রশংসা করছি', আর মহান আল্লাহর সকল গুণাবলীই সুন্দর। সুতরাং মুদারী রূপটি অধিক অর্থবহ। তাঁর কথা: "এবং যার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে" অর্থাৎ লালন-পালন যা পূর্বে উল্লেখিত 'রব' শব্দ থেকে বোঝা যায়। এর মাধ্যমে কারো কারো সেই আপত্তি খণ্ডন হয়ে গেল যা ব্যাখ্যাকার কর্তৃক 'রব' শব্দের অর্থ 'মালিক' করার বাহ্যিক দিক থেকে করা হয়েছিল। আপত্তিটি ছিল এই যে, ব্যাখ্যাকারকের কথা সম্ভবত এটি দাবি করে যে গ্রন্থকার তাঁর প্রশংসা আল্লাহর নেয়ামতের বিনিময়ে করেছেন, অথচ তিনি তা উল্লেখ করেননি। তাই এই ওজর পেশ করার প্রয়োজন নেই যে, এটি বলা সম্ভব যে তাঁর উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় যার বিনিময়ে প্রশংসা করা সাধারণত অধিক হয়ে থাকে। তাঁর কথা:
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
تتجدد في حقنا دائمًا كذلك نحمده بمحامد لا تزال تتجدد. وأيضًا فهو رجوع إلى الأصل إذ أصل الحمد لله أحمد أو حمدت الله فحذف الفعل اكتفاء بدلالة مصدره عليه. ثم عدل إلى الرفع لقصد الدلالة على الدوام والثبوت. ثم أدخلت عليه أل لقصد الاستغراق. والرب
ــ
"دائما" توكيد لقوله: لا تزال تتجدد. وقوله: كذلك تأكيد لقوله: كما. قوله: "نحمده بمحامد لا تزال تتجدد" اعترضه البعض كشيخنا بأنه سيصرح بأن الجملة إنشائية معنى، وعليه لا يظهر ما ذكره لأن الحمد الإنشائي ينقطع بانقطاع التلفظ به فأين التجدد وإنما يظهر ذلك على جعلها خبرية لفظا ومعنى. ويمكن دفعه بأن إشعارها بالتجدد باعتبار حالها الأصلي الثابت لها قبل نقلها إلى الإنشاء، وكأنه لم يقطع النظر بعد النقل عما كان قبله بقرينة مناسبة المقام، ولعل هذا مراد شيخنا من الاعتذار بأن ذلك الإشعار على سبيل التوهم والتخيل فافهم.
قوله: "وأيضا" هو مصدر آض إذا رجع، وهو إما مفعول مطلق حذف عامله أو بمعنى اسم الفاعل حال حذف عاملها وصاحبها، فالتقدير هنا على الأول أرجع إلى التعليل رجوعا، وعلى الثاني أقول راجعا إلى التعليل، وإنما تستعمل مع شيئين بينهما توافق ويغني كل منهما عن الآخر فلا يجوز جاء زيد أيضا، ولا جاء زيد ومضى عمرو أيضا، ولا اختصم زيد وعمرو أيضا، قاله شيخ الإسلام زكريا. قوله: "فهو" الفاء للتعليل كما علم مما مر آنفا والضمير للاختيار المفهوم من قوله واختار لكن هذا التعليل إنما ينهض لاختيار المضارعية على الاسمية دون اختيارها على الماضوية بخلاف الأول ولهذا قدمه على هذا. قوله: "إلى الأصل" أي أصل الجملة الاسمية. قوله: "فحذف الفعل" أي وجوبا إن ذكر بعده وشكرا، وشرط بعضهم في الوجوب ذكر لا كفرا بعدهما وجوازا إن ذكر وحده كما سيأتي في باب المفعول المطلق، وإطلاق شيخنا الوجوب في غير محله. قوله: "ثم عدل إلى الرفع إلخ" هذا يقتضي أنه لو لم يعدل إلى الرفع لانتفت الدلالة على الدوام وهو كذلك كما صرح به الرضي في باب المبتدأ لأن بقاء النصب صريح في ملاحظة الفعل وتقديره وهو يدل على التجدد فلا يستفاد الدوام إلا بالعدول إلى الرفع، ولا يكفي في إفادته وجوب حذف العامل مع النصب وإن صرح به الرضي في باب المصدر، وحمل شيخنا السيد ما صرح به في باب المبتدأ على حالة جواز حذف العامل ليوافق كلامه في باب المصدر، لكن الأوجه إبقاؤه على إطلاقه كما يقتضيه التعليل السابق. لا يقال الاسمية هنا خبرها ظرف متعلق إما بفعل وإما باسم فاعل بمعنى الحدوث بقرينة عمله في الظرف فيكون في حكم الفعل، والاسمية التي خبرها فعل تفيد التجدد والحدوث لا الدوام، لأنا نقول: لا نسلم كون اسم الفاعل هنا للحدوث حتى يكون في حكم الفعل ويكفي لعمله في الظرف رائحة الفعل فيعمل فيه بمعنى الثبوت أيضا، ولئن سلمناه فمحل إفادة الاسمية التي خبرها فعل للتجدد إذا لم يوجد داع إلى الدوام، والعدول المذكور داع إليه ذكره الغزي. قوله: "لقصد الدلالة" أي لمقصود هو الدلالة ولو حذف قصد لكان أخصر، هذا أريد بمدخول اللام العلة الغائية، فإن أريد السبب المتقدم على المسبب فقصد على حقيقته ومحتاج إليه. قوله: "والثبوت" إن أراد به ثبوت المسند للمسند إليه
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
আমাদের জন্য যেমন সর্বদা নতুন নতুন নিআমত অবতীর্ণ হয়, তেমনি আমরা তাঁর প্রশংসা করি এমন প্রশংসার মাধ্যমে যা সর্বদা নবায়ন হতে থাকে। এছাড়াও, এটি মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন; কেননা 'আলহামদুলিল্লাহ' এর মূল রূপ ছিল 'আহমাদু' (আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি) অথবা 'হামিদতু' (আমি আল্লাহর প্রশংসা করেছি)। অতঃপর ক্রিয়াটি উহ্য রাখা হয়েছে তার মাসদারের (ক্রিয়ামূলের) নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে। এরপর স্থায়ীত্ব ও দৃঢ়তা প্রকাশের উদ্দেশ্যে একে 'রাফ' (পেশ) অবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। এরপর ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য এর শুরুতে 'আলিফ-লাম' যুক্ত করা হয়েছে। আর 'রব' (প্রতিপালক)—
ــ
'দাইমান' (সর্বদা) শব্দটি তাঁর উক্তি 'যা সর্বদা নবায়ন হতে থাকে' এর তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য। আর 'কাযালিকা' (অনুরূপভাবে) শব্দটি 'কামা' (যেমন) এর তাকিদ। তাঁর উক্তি: "আমরা তাঁর প্রশংসা করি এমন প্রশংসার মাধ্যমে যা সর্বদা নবায়ন হতে থাকে"—এর ওপর আমাদের শায়খের মতো কেউ কেউ আপত্তি করেছেন এই বলে যে, তিনি (লেখক) অচিরেই স্পষ্ট করবেন যে বাক্যটি অর্থের দিক থেকে 'ইনশায়ি' (উৎপাদনমূলক)। এমতাবস্থায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা প্রকাশ পায় না; কারণ ইনশায়ি প্রশংসা উচ্চারণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, তবে নবায়ন কোথায়? এটি কেবল তখনই প্রকাশ পায় যদি বাক্যটিকে শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে 'খাবারি' (বিবৃতিমূলক) ধরা হয়। তবে এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, এই নবায়নের বিষয়টি এর মূল অবস্থার প্রেক্ষিতে ধরা হয়েছে, যা একে ইনশায়ি হিসেবে ব্যবহারের পূর্বে সাব্যস্ত ছিল। যেন উপযুক্ত প্রেক্ষাপটের কারণে স্থানান্তরের পরেও আগের অবস্থার বিবেচনা ত্যাগ করা হয়নি। সম্ভবত আমাদের শায়খের ওজরখাহির উদ্দেশ্য এটাই ছিল যে, এই ইঙ্গিতটি কল্পনাপ্রসূত ও অনুমান নির্ভর, বিষয়টি অনুধাবন করুন।
তাঁর উক্তি: "আইদান" (আরও): এটি 'আ-দ্বা' ক্রিয়ার মাসদার, যার অর্থ 'প্রত্যাবর্তন করা'। এটি হয় এমন 'মাফউল মুতলাক' যার আমিল (ক্রিয়া) উহ্য আছে, অথবা এটি 'ইসম ফায়িল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়ে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে গণ্য হয়েছে যার আমিল ও সাহিবুল হাল উহ্য। সুতরাং প্রথম মতানুসারে এখানে প্রাক্কলিত রূপ হবে 'আমি পুনরায় কারণ দর্শানোর দিকে প্রত্যাবর্তন করছি', আর দ্বিতীয় মতানুসারে 'আমি কারণ দর্শানোর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী হয়ে বলছি'। এটি কেবল এমন দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাদের মধ্যে পারস্পরিক মিল রয়েছে এবং একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। এমতাবস্থায় 'যায়েদও এসেছে' বলা জায়েজ নেই (যদি আগে কারও আসার কথা উল্লেখ না থাকে), আবার 'যায়েদ এসেছে এবং আমরও চলে গেছে'—এমন বলাও সঠিক নয়, কিংবা 'যায়েদ এবং আমরও ঝগড়া করেছে'—বলাও ঠিক নয়; যা শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া (রহ.) উল্লেখ করেছেন। তাঁর উক্তি: "فهو" (অতঃপর এটি): এখানে 'ফা' বর্ণটি কারণ দর্শানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে জানা গেছে। আর সর্বনামটি সেই 'ইখতিয়ার' বা পছন্দের দিকে ফিরছে যা তাঁর উক্তি 'তিনি পছন্দ করেছেন' থেকে বোঝা যায়। তবে এই কারণ দর্শানোটি ক্রিয়াবাচক বাক্যকে বিশেষ্যবাচক বাক্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, অতীতকালীন ক্রিয়ার ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নয়; প্রথমটির বিপরীত। এজন্যই তিনি একে আগেরটির ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর উক্তি: "মূলের দিকে": অর্থাৎ জুমলা ইসমিয়া বা নামবাচক বাক্যের মূল ভিত্তি। তাঁর উক্তি: "ক্রিয়াটি বিলুপ্ত করা হয়েছে": অর্থাৎ এটি ওয়াজিব বা আবশ্যকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে যদি এরপর 'শুকরান' (ধন্যবাদস্বরূপ) শব্দটি উল্লেখ করা হয়। কেউ কেউ এই আবশ্যিকতার জন্য শর্তারোপ করেছেন যে, এরপরে 'লা কুফরান' (অকৃতজ্ঞতা নয়) কথাটি থাকতে হবে। আর যদি এটি একা উল্লেখ করা হয় তবে তা বিলুপ্ত করা জায়েজ (ঐচ্ছিক), যেমনটি মাফউল মুতলাক অধ্যায়ে আসবে। আমাদের শায়খের ঢালাওভাবে একে ওয়াজিব বলা সঠিক নয়। তাঁর উক্তি: "এরপর পেশ (রাফ) অবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে ইত্যাদি": এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যদি রাফ অবস্থায় রূপান্তর না করা হতো, তবে স্থায়িত্বের অর্থ প্রকাশ পেত না। বিষয়টি তেমনই যেমনটি ইমাম রাদ্বী 'মুবতাদা' অধ্যায়ে স্পষ্ট করেছেন। কারণ নসব (যবর) অবস্থায় থাকা ক্রিয়াকে উপস্থিত রাখার নামান্তর, যা কেবল কোনো কাজ নতুনভাবে ঘটা (তাজাদদুদ) বুঝায়। সুতরাং রাফ অবস্থায় রূপান্তর করা ছাড়া স্থায়িত্বের অর্থ লাভ করা সম্ভব নয়। নসব অবস্থায় আমিল বা ক্রিয়াকে আবশ্যকভাবে বিলুপ্ত করাও স্থায়িত্বের অর্থ প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয়, যদিও ইমাম রাদ্বী মাসদার অধ্যায়ে এমনটি উল্লেখ করেছেন। আমাদের শায়খ সাইয়্যেদ শরীফ জুরজানি মুবতাদা অধ্যায়ের বক্তব্যকে আমিল বিলুপ্ত করার ঐচ্ছিক অবস্থার ওপর প্রয়োগ করেছেন যাতে মাসদার অধ্যায়ের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা হয়। কিন্তু অধিকতর সঠিক হলো একে তার সাধারণ অবস্থার ওপর রাখা, যা পূর্বোক্ত কারণ দর্শানোর দাবি। এমনটি বলা যাবে না যে, এখানে নামবাচক বাক্যের খবরটি একটি যার-মাজরুর (অব্যয়) যা হয় কোনো ক্রিয়ার সাথে অথবা কোনো ইসম ফায়িলের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার অর্থ হবে নতুনভাবে ঘটা; যেহেতু তা যার-মাজরুরের ওপর আমল করছে, তাই এটি ক্রিয়ার হুকুমে হবে। আর যে নামবাচক বাক্যের খবর ক্রিয়া হয়, তা স্থায়িত্ব নয় বরং নতুনভাবে ঘটা বুঝায়। এর উত্তরে আমরা বলব: আমরা এখানে ইসম ফায়িলটি নতুনভাবে ঘটার অর্থে হওয়াকে স্বীকার করি না যা একে ক্রিয়ার হুকুমে নিয়ে যায়। বরং যার-মাজরুরের ওপর আমল করার জন্য ক্রিয়ার সামান্য ঘ্রাণ থাকাই যথেষ্ট, যা স্থায়িত্বের অর্থেও আমল করতে পারে। আর যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও যে নামবাচক বাক্যের খবর ক্রিয়া হয়, তা কেবল তখনই নতুনভাবে ঘটা বুঝায় যখন স্থায়িত্বের কোনো প্রমাণ না থাকে। আর এখানে (নসব থেকে রাফ অবস্থায়) এই রূপান্তরটিই স্থায়িত্বের বড় প্রমাণ, যা আল্লামা গাজ্জি উল্লেখ করেছেন। তাঁর উক্তি: "ইঙ্গিত করার উদ্দেশ্যে": অর্থাৎ এমন এক উদ্দেশ্য যা হলো ইঙ্গিত প্রদান করা। যদি 'কাসদ' (উদ্দেশ্য) শব্দটি না থাকতো তবে বাক্যটি আরও সংক্ষিপ্ত হতো। এখানে লাম বর্ণটি দ্বারা 'ইল্লাত গায়িয়্যাহ' বা চূড়ান্ত লক্ষ্য উদ্দেশ্য। আর যদি ফলাফল আসার পূর্ববর্তী কারণ বুঝানো হয়, তবে 'কাসদ' শব্দটি তার প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর উক্তি: "এবং দৃঢ়তা": এর দ্বারা যদি তিনি মুসনাদ ইলাইহির জন্য মুসনাদের সাব্যস্ত হওয়া বুঝাতে চান...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
المالك. والله علم على الذات الواجب الوجود أي لذاته المستحق لجميع المحامد ولم يسم به سواه قال تعالى: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65] أي هل تعلم أحد تسمى الله غير الله. وهو عربي عند الأكثر، وعند المحققين أنه اسم الله الأعظم: وقد ذكر في القرآن.
في ألفين وثلاثمائة وستين موضعًا واختار الإمام النووي تبعًا لجماعة أنه الحي القيوم قال: ولهذا لم يذكر في القرآن إلا في ثلاثة مواضع: في البقرة وآل عمران وطه والله أعلم.
تنبيه: أوقع الماضي موقع المستقبل تنزيلًا لمقولة منزلة ما حصل إما اكتفاء
ــ
وهو المتبادر فهو حاصل قبل العدول فكان الواجب حذفه، وإن أراد به الاستمرار فهو مستغنى عنه بقوله الدوام فكان الأخصر حذفه. قوله: "لقصد الاستغراق" أي مثلا وإلا فقد يكون لقصد العهد أو الجنس. قوله: "والله علم" أي بالوضع لا بالغلبة التقديرية على التحقيق كما بيناه في رسالتنا الكبرى في البسملة. وسيأتي في المعرف بأداة التعريف الفرق بين الغلبة التحقيقية والتقديرية.
قوله: "الواجب الوجود" وصف الذات بالواجب الوجود والمستحق لجميع المحامد لإيضاح الذات المسمى لا لاعتبارها فيه وإلا كان المسمى مجموع الذات والصفة مع أنه الذات المعينة فقط على الصحيح. وتخصيص هذين الوصفين بالذكر لأن وجوب الوجود للذات مبني كل كمال. واستحقاق جميع المحامد هو وجه حصر الحمد في كونه لله. قوله: "أي لذاته" يحتمل وجهين: الأول أنه تفسير لواجب الوجود والمعنى حينئذٍ أي الموجود لذاته. والثاني: أنه تقييد للوجوب أي الواجب الوجود لذاته أي ليس وجوب وجوده لغيره كما في الحوادث المتعلق علم الله بوجودها. قوله: "وهو عربي عند الأكثر" وقيل معرب وأصله بالسريانية. وقيل بالعبرانية لاها فعرّب بحذف ألفه الأخيرة وإدخال أل. قوله: "وقد ذكر إلخ" مسوق لتعليل كونه الاسم الأعظم، ووجه الدلالة أن من أحب شيئا أكثر من ذكره. قوله: "قال ولهذا لم يذكر في القرآن إلا في ثلاثة مواضع" اعترض الناس عليه بأن القلة لو كانت علة الأعظمية لكان اسمه المهيمن أولى بها لأنه لم يذكر إلا مرة واحدة، وفيه بحث لأنه لم يجعل القلة الأعظمية بل جعل الأعظمية علة الذكر في المواضع الثلاثة فقط لأنه لم يقل لأنه لم يذكر إلخ بل قال ولهذا لم يذكر إلخ، ولئن سلم أنه قال لأنه لم يذكر في القرآن إلا في ثلاثة مواضع قلنا ليس قصده التعليل بالذكر في المواضع الثلاثة فقط من حيث القلة بل من حيث ورود خبر بأنه في الثلاثة وهو ما روي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "هو في ثلاث سور البقرة وآل عمران وطه" لكنه لا يرد على الجمهور القائلين بأعظمية اسم الجلالة لأنه متكلم فيه فاعرفه. قوله: "والله أعلم" أي بالاسم الأعظم أو بكل شيء.
قوله: "تنبيه" الذي حققه العصام في شرح الرسالة الوضعية أن أسماء الكتب من علم الشخص وأنها من الوضع الشخصي الخاص بموضوع له خاص. قال إذ الكتاب الذي هو عبارة عن الألفاظ والعبارات المخصوصة لا يتعدد إلا بتعدد التلفظ وذلك التعدد تدقيق فلسفي لا يعتبره
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
মালিক। আর 'আল্লাহ' শব্দটি সেই সত্তার জন্য নির্ধারিত নাম যার অস্তিত্ব অপরিহার্য, অর্থাৎ তিনি স্বীয় সত্তাগতভাবেই বিদ্যমান এবং সকল প্রশংসার যোগ্য। তিনি ব্যতীত আর কাউকে এই নামে নামকরণ করা হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানেন?" [মারইয়াম: ৬৫] অর্থাৎ আপনি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে জানেন যার নাম 'আল্লাহ' রাখা হয়েছে? অধিকাংশ আলিমের মতে এটি একটি আরবি শব্দ। আর গবেষকগণের মতে এটি আল্লাহর মহান নাম (ইসমে আজম), যা পবিত্র কুরআনে
দুই হাজার তিনশত ষাটটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম নববী একদল আলিমের অনুসরণ করে এই মত গ্রহণ করেছেন যে, 'আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম' (চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক) হলো সেই মহান নাম। তিনি বলেন: এই কারণেই এটি কুরআনে মাত্র তিনটি স্থান ব্যতীত উল্লেখিত হয়নি: সূরা আল-বাকারা, আল-ইমরান এবং তহা-তে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
সতর্কতা: এখানে ভবিষ্যৎকালের স্থলে অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে যা বলা হয়েছে তাকে যা ঘটে গেছে তার স্থলাভিষিক্ত ধরে নিয়ে। হয় এটি যথেষ্ট মনে করার কারণে যা দ্রুত বোধগম্য হয়, ফলে তা পরিবর্তনের আগেই অর্জিত হয়ে যায়, তাই এটি বাদ দেওয়া আবশ্যক ছিল। আর যদি তিনি এর দ্বারা ধারাবাহিকতা বোঝাতে চান, তবে 'দাওয়াম' (স্থায়িত্ব) শব্দের মাধ্যমেই তা বোঝা যায়, তাই এটি বাদ দেওয়াটাই অধিক সংক্ষেপ হতো। তাঁর কথা: "পরিপূর্ণতা বা ব্যাপকতা বোঝানোর উদ্দেশ্যে" অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ, অন্যথায় এটি পরিচিতি বা জাতি বোঝানোর উদ্দেশ্যেও হতে পারে। তাঁর কথা: "আর আল্লাহ হলো একটি নাম" অর্থাৎ এটি সরাসরি নামকরণের মাধ্যমে হয়েছে, কোনো সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠত্বের কারণে নয়, যেমনটি আমরা বিসমিল্লাহর ওপর রচিত আমাদের বৃহৎ গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি। সুনির্দিষ্টকারী অব্যয় (আলিফ-লাম) এর আলোচনায় প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য সামনে আসবে।
তাঁর কথা: "যার অস্তিত্ব অপরিহার্য"। সত্তাকে অস্তিত্বের অপরিহার্যতা এবং সকল প্রশংসার যোগ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে নামযুক্ত সত্তাকে স্পষ্ট করার জন্য, সেই গুণাবলিকে নামের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য নয়। অন্যথায় নামযুক্ত সত্তাটি হতো সত্তা ও গুণের সমষ্টি, অথচ সঠিক মত অনুযায়ী এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সত্তাকেই বোঝায়। এই দুটি গুণকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, সত্তার অস্তিত্বের অপরিহার্যতা সকল পূর্ণতার ভিত্তি। আর সকল প্রশংসার অধিকারী হওয়া হলো কেবল আল্লাহর জন্যই প্রশংসা নির্দিষ্ট হওয়ার কারণ। তাঁর কথা: "অর্থাৎ তাঁর সত্তার জন্য" এর দুটি অর্থ হতে পারে: প্রথমটি হলো এটি 'অস্তিত্বের অপরিহার্যতা'র ব্যাখ্যা, তখন এর অর্থ হবে স্বীয় সত্তায় বিদ্যমান। দ্বিতীয়টি হলো এটি অপরিহার্যতাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য, অর্থাৎ তাঁর অস্তিত্বের অপরিহার্যতা স্বীয় সত্তার কারণে, অন্য কারো কারণে নয়, যেমনটি নশ্বর সৃষ্টিসমূহের ক্ষেত্রে হয় যাদের অস্তিত্ব আল্লাহর জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাঁর কথা: "অধিকাংশের মতে এটি আরবি" কেউ কেউ বলেন এটি অন্য ভাষা থেকে এসেছে এবং এর মূল সুরিয়ানি ভাষায়। আবার কেউ বলেন এটি হিব্রু ভাষায় ছিল 'লাহা', যা শেষ আলিফ বাদ দিয়ে এবং 'আল' যুক্ত করে আরবি করা হয়েছে। তাঁর কথা: "এবং এটি উল্লেখ করা হয়েছে ইত্যাদি" এটি কেন মহান নাম (ইসমে আজম) তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। এর প্রমাণের দিকটি হলো, যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসে সে তা অধিক পরিমাণে স্মরণ করে। তাঁর কথা: "তিনি বলেছেন, এই কারণেই এটি কুরআনে মাত্র তিনটি স্থানে উল্লেখিত হয়েছে" লোকেরা এর ওপর আপত্তি তুলেছেন যে, যদি স্বল্পতা মহান নাম হওয়ার কারণ হতো, তবে 'আল-মুহাইমিন' (রক্ষক) নামটি এর জন্য অধিক যোগ্য হতো, কারণ এটি মাত্র একবার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে আলোচনার অবকাশ আছে, কারণ তিনি স্বল্পতাকে মহান নাম হওয়ার কারণ বানাননি, বরং মহান নাম হওয়াকেই মাত্র তিনটি স্থানে উল্লেখ করার কারণ বানিয়েছেন। কারণ তিনি বলেননি যে 'যেহেতু এটি উল্লেখ করা হয়নি ইত্যাদি', বরং তিনি বলেছেন 'এই কারণে এটি উল্লেখ করা হয়নি ইত্যাদি'। আর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে তিনি বলেছেন এটি কুরআনে মাত্র তিনটি স্থানে উল্লেখিত হয়েছে, তবে আমরা বলব যে তাঁর উদ্দেশ্য স্বল্পতার দিক থেকে কেবল তিনটি স্থানে উল্লেখ করার কারণ দর্শানো নয়, বরং এই তিনটি স্থানে হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা আসার কারণে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "এটি তিনটি সূরায় আছে: সূরা আল-বাকারা, আল-ইমরান এবং তহা।" তবে এটি আল্লাহর মহান নামের শ্রেষ্ঠত্ব দানকারী জমহুর আলিমদের মতের পরিপন্থী নয়, কারণ বিষয়টি নিয়ে মতভেদ আছে, তাই এটি জেনে রাখুন। তাঁর কথা: "আর আল্লাহই ভালো জানেন" অর্থাৎ মহান নাম সম্পর্কে অথবা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে।
তাঁর কথা: "সতর্কতা" ইমাম ইসসাম 'শারহুর রিসালাতুল ওয়াদয়িয়্যাহ' গ্রন্থে যা সুনিশ্চিত করেছেন তা হলো, বইয়ের নামসমূহ ব্যক্তিগত নামের (আলমে শাখস) অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, যেহেতু বই বিশেষ কিছু শব্দ ও বাক্যের সমষ্টি, তাই উচ্চারণের আধিক্য ছাড়া এটি বহুত্ব লাভ করে না এবং সেই বহুত্ব হলো একটি দার্শনিক সূক্ষ্মতা যা ধর্তব্য নয়।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
بالحصول الذهني أو نظرًا إلى ما قوي عنده من تحقق الحصول وقربه نحو: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلا تَسْتَعْجِلُوهُ} [النحل: 1] وجملة هو ابن مالك معترضة بين قال ومقوله لا محل لها من
ــ
أرباب العربية، ألا ترى أنهم يجعلون وضع الضرب والقتل وضعا شخصيا لا نوعيا لجعل الموضوع أمرا متعينا لا متعددا. ا. هـ. ومثل أسماء الكتب أسماء التراجم بكسر الجيم كالخواتم والعوالم وكثير من الناس يضمها لحنا، بل وأسماء العلوم لأن مسمياتها وهي الأحكام المعقولة المخصوصة إنما تتعدد بتعدد التعقل. وهذا التعدد تدقيق فلسفي لا يعتبره أيضا أرباب العربية، هذا هو المتجه عندي وإن اشتهر الفرق فتأمل. والتنبيه لغة الإيقاظ، واصطلاحا جملة دالة على بحث يفهم إجمالا من البحث السابق قيل أو على بحث بديهي، فالترجمة به لما لم يفهم مما سبق ولم يكن بديهيا غير جارية على الاصطلاح كما هنا بل غالب تنبيهات الشارح من هذا القبيل فالمراد بها مطلق الإيقاظ الذي هو المعنى اللغوي. قوله: "أوقع الماضي موقع المستقبل" أي على سبيل المجاز. وقرينة هذا المجاز الخطبة على المقصود بدليل وأستعين الله. وكون المراد وأستعين الله على إظهار ألفية أو الانتفاع بها فلا ينافي تأخر الخطبة عن المقصود خلاف المتبادر وقوله تنزيلا لمقوله أي الذي سيحصل في الخارج منزلة ما حصل أي في الخارج. وعلل هذا التنزيل بعلتين ذكر الأولى بقوله أما اكتفاء أي في التنزيل بالحصول الذهني يعني أنه لما حصل في الذهن قوله نزله منزلة ما حصل في الخارج، فالجامع على هذه العلة مطلق الحصول، وذكر الثانية بقوله أو نظرا أي في التنزيل إلى ما قوي عنده إلخ يعني أنه لما قوي ما عنده من تحقق حصول قوله خارجا في المستقبل وقربه نزله منزلة الحاصل في الخارج فالجامع على هذه العلة تحقق الحصول، لكن لو قال الشارح في العلتين أما لحصول مقوله ذهنا أو لتحقق حصوله خارجا عنده لكان أخصر وأظهر. والذي أراه أن التنزيل في كلام النحاة بمعنى التشبيه في كلام البيانيين وأنه لا خلاف بينهما إلا في العبارة بل كثيرا ما يعبر البيانيون بالتنزيل والنحاة بالتشبيه، وأن التنزيل عند النحاة في مثل ما نحن بصدده لا يكفي عن التجوّز في اللفظ بل يقتضيه وإلا لزم أنهم يقولون بحقيقة كل لفظ استعمل في غير ما وضع له لتنزيله منزلة ما وضع له كالأسد في الرجل الشجاع المنزل منزلة الحيوان المفترس وهو في غاية البعد أو باطل. وبهذا مع ما قررنا به أولا كلام الشارح يبطل اعتراض البعض على الشارح بما حاصله: أن قوله أوقع إلخ لا يصح لا على طريقة النحاة لأن التجوز في مثل ذلك على طريقتهم إنما هو في التنزيل، ولا تجوز في الماضي فهو واقع موقعه لا موقع المستقبل، ولا على طريقة البيانيين لأنه لا تنزيل في مثل ذلك على طريقتهم بل فيه تشبيه أحد المصدرين بالآخر واستعارة الفعل، إلا أن يراد بالتنزيل التشبيه على المسامحة، واعتراضه بأن قول الشارح أما اكتفاء إلخ لا يصح أيضا لأن الاكتفاء المذكور لا يحتاج معه إلى التنزيل والعكس.
قوله: "من تحقق الحصول" أي وجوده وثبوته، وليس المراد بالتحقق التيقن لأنه لا يناسب قوله ما قوي عنده فتأمل. قوله: "معترضة" بكسر الراء وبفتحها على الحذف والإيصال
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
মানসিক অর্জনের মাধ্যমে অথবা তাঁর কাছে যা প্রবল হয়েছে সেই অর্জনের নিশ্চয়তা এবং এর নিকটবর্তী হওয়ার প্রেক্ষিতে; যেমন: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না} [আন-নাহল: ১]। আর "তিনি ইবনে মালিক" বাক্যটি "قال" (তিনি বলেছেন) এবং তাঁর "مقول" (উক্তি)-এর মাঝে একটি মধ্যবর্তী বাক্য (জুমলা মু’তারিযাহ), যার কোনো স্থান নেই...
ــ
আরবি ভাষার পণ্ডিতবর্গ। আপনি কি দেখছেন না যে, তারা "আঘাত করা" এবং "হত্যা করা"-র প্রয়োগকে ব্যক্তিগত প্রয়োগ হিসেবে গণ্য করেন, প্রকারগত নয়; যাতে বিষয়বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করা যায়, একাধিক নয়। (সমাপ্ত)। আর বইয়ের নামের মতোই হলো শিরোনামের নামগুলো (তারাজিম—'জিম' অক্ষরে কাসরা দিয়ে), যেমন "খাওয়াতীম" এবং "আওয়ালিম"। অনেক মানুষ ভুলবশত এতে যম্মাহ (পেশ) দিয়ে থাকে। এমনকি বিজ্ঞান বা শাস্ত্রের নামসমূহও এমন, কারণ এগুলোর নামকরণকৃত বিষয়াবলি—যা মূলত নির্দিষ্ট বুদ্ধিগ্রাহ্য আহকাম বা বিধান—কেবল চিন্তাধারার বহুত্বেই বহুত্ব লাভ করে। আর এই বহুত্ব হলো একটি দার্শনিক সূক্ষ্মতা যা আরবি ভাষার পণ্ডিতগণও বিবেচনা করেন না। আমার মতে এটিই সঠিক অভিমত, যদিও পার্থক্যটি প্রসিদ্ধ, সুতরাং আপনি চিন্তা করে দেখুন। আর "তানবীহ" (সতর্কীকরণ) শাব্দিক অর্থে হলো জাগিয়ে তোলা, এবং পারিভাষিক অর্থে এমন একটি বাক্য যা এমন কোনো আলোচনা নির্দেশ করে যা পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে সংক্ষেপে বোঝা যায়, অথবা বলা হয়েছে এটি কোনো স্বতসিদ্ধ আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে যা বোঝা যায়নি এবং যা স্বতসিদ্ধও নয়, সেটিকে এই পরিভাষা দ্বারা শিরোনাম দেওয়া পারিভাষিক পদ্ধতি অনুযায়ী সমীচীন নয়, যেমনটি এখানে ঘটেছে। বরং ব্যাখ্যাকারকের অধিকাংশ "তানবীহ" এই পর্যায়ের, তাই এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিরঙ্কুশ জাগিয়ে তোলা, যা এর শাব্দিক অর্থ। তাঁর কথা: "তিনি অতীত কালকে ভবিষ্যৎ কালের স্থলাভিষিক্ত করেছেন" অর্থাৎ রূপক অর্থে। আর এই রূপক ব্যবহারের লক্ষণ (কারীনাহ) হলো উদ্দেশ্যের ওপর খুতবা প্রদান করা, যার প্রমাণ হলো "আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি"। আর উদ্দেশ্য হলো আলফিয়্যাহ প্রকাশে বা এর দ্বারা উপকৃত হতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা, সুতরাং এটি খুতবা বা ভূমিকা উদ্দেশ্য থেকে পিছিয়ে থাকাকে নাকচ করে না, যা সাধারণ ধারণার পরিপন্থী। আর তাঁর কথা "তাঁর উক্তিকে রূপদান করার মাধ্যমে" অর্থাৎ যা বাস্তবে অর্জিত হবে তাকে এমন কিছুর মর্যাদায় নামানো যা বাস্তবে অর্জিত হয়ে গেছে। তিনি এই রূপদানের (তানযীল) দুটি কারণ বর্ণনা করেছেন। প্রথমটি উল্লেখ করেছেন তাঁর এই কথার মাধ্যমে: "হয়তোবা যথেষ্ট মনে করে" অর্থাৎ মানসিক অর্জনকে রূপদানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করে। এর অর্থ হলো, যখন তাঁর উক্তিটি মনে অর্জিত হয়েছে, তখন তিনি একে বাস্তবে অর্জিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। সুতরাং এই কারণ অনুযায়ী সাধারণ যোগসূত্র হলো "নিরঙ্কুশ অর্জন"। দ্বিতীয় কারণটি উল্লেখ করেছেন তাঁর এই কথার মাধ্যমে: "অথবা দৃষ্টিপাত করে" অর্থাৎ রূপদানের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে যা প্রবল হয়েছে সেটির প্রতি, ইত্যাদি। এর অর্থ হলো, যখন ভবিষ্যতে বাস্তবে তাঁর উক্তির অর্জন নিশ্চিত হওয়া এবং এর নিকটবর্তী হওয়া তাঁর কাছে প্রবল হয়েছে, তখন তিনি একে বাস্তবে অর্জিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। সুতরাং এই কারণ অনুযায়ী সাধারণ যোগসূত্র হলো "অর্জনের নিশ্চয়তা"। কিন্তু ব্যাখ্যাকারক যদি উভয় কারণে বলতেন "হয়তোবা তাঁর উক্তি মনে অর্জিত হওয়ার কারণে অথবা তাঁর কাছে বাস্তবে এর অর্জন নিশ্চিত হওয়ার কারণে", তবে তা আরও সংক্ষিপ্ত এবং স্পষ্ট হতো। আমার অভিমত হলো, ব্যাকরণবিদদের (নাহুবিদ) পরিভাষায় "তানযীল" (রূপদান) অলংকারশাস্ত্রবিদদের (বালাগাতবিদ) পরিভাষায় "তাশবীহ" (উপমা)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। উভয়ের মধ্যে শব্দগত বৈচিত্র্য ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই; বরং অনেক সময় বালাগাতবিদগণ "তানযীল" এবং নাহুবিদগণ "তাশবীহ" শব্দ ব্যবহার করেন। আর আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি, সেখানে নাহুবিদদের নিকট "তানযীল" কেবল শব্দের রূপক ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নয় বরং এটি তাকে দাবি করে। অন্যথায় এটি মেনে নিতে হতো যে, তারা প্রতিটি শব্দকে তার মূল অর্থের বাইরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ বলেন, কারণ তাকে মূল অর্থের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে; যেমন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে "সিংহ" শব্দটি ব্যবহার করা, যাকে শিকারি পশুর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে—আর এটি অত্যন্ত দূরবর্তী কথা বা বাতিল। এর মাধ্যমে এবং আমরা প্রথমে যা প্রতিষ্ঠা করেছি তার ভিত্তিতে, ব্যাখ্যাকারকের ওপর কারো কারো করা এই আপত্তি বাতিল হয়ে যায় যার সারমর্ম হলো: তাঁর কথা "স্থলাভিষিক্ত করেছেন" ইত্যাদি সঠিক নয়; নাহুবিদদের পদ্ধতি অনুযায়ী নয়, কারণ তাদের মতে এই জাতীয় ক্ষেত্রে রূপক ব্যবহার কেবল রূপদানের (তানযীল) মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর অতীত কালের শব্দের মধ্যে কোনো রূপক নেই, কারণ এটি তার নিজ স্থানেই ব্যবহৃত হয়েছে, ভবিষ্যতের স্থানে নয়। আবার বালাগাতবিদদের পদ্ধতি অনুযায়ীও নয়, কারণ তাদের পদ্ধতিতে এই জাতীয় ক্ষেত্রে কোনো "তানযীল" নেই বরং সেখানে একটি মাসদারকে অন্যটির সাথে উপমা দেওয়া এবং ক্রিয়াকে ধার (ইস্তি’আরাহ) করা হয়েছে। তবে যদি তানযীল দ্বারা শিথিলভাবে তাশবীহ উদ্দেশ্য নেওয়া হয় তবে ভিন্ন কথা। আর তাঁর এই আপত্তি যে ব্যাখ্যাকারকের কথা "হয়তোবা যথেষ্ট মনে করে" ইত্যাদিও সঠিক নয়, কারণ উক্ত যথেষ্ট মনে করার ক্ষেত্রে রূপদানের প্রয়োজন নেই এবং এর বিপরীতটাও সত্য।
তাঁর কথা: "অর্জনের নিশ্চয়তা থেকে" অর্থাৎ এর অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব। এখানে "নিশ্চয়তা" (তাহাক্কুক) দ্বারা পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি তাঁর কথা "তাঁর কাছে যা প্রবল হয়েছে"-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সুতরাং চিন্তা করুন। তাঁর কথা: "মু’তারিযাহ" (মধ্যবর্তী), 'রা' অক্ষরে কাসরা (যের) দিয়ে অথবা কোনো কিছু বিলোপ করে পুনরায় সংযোগ করার ভিত্তিতে ফাতহা (যবর) দিয়ে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مصليا على النبي المصطفى
… وآله المستكملين الشرفا
ــ
الإعراب. ولفظ رب نصب تقديرًا على المفعولية، والباء في موضع الجر بالإضافة. والله نصب بدل من رب أو بيان وخير نصب أيضًا بدل أو حال على حد دعوت الله سميعا، وموضع الجملة نصب مفعول لقال ولفظها خبر ومعناها الإنشاء أي أنشئ الحمد "مصليًا"
ــ
والأصل معترض بها، وفائدة الاعتراض بها تمييز المصنف عن غيره ممن شاركه في اسمه، وتجويز جماعة كونها استئنافا بيانيا لا يخرجها عن كونها معترضة، وجوز بعضهم كونها نعتا لمحمد بتقدير تنكيره وهو بعيد، وبعضهم كونها حالا لازمة من محمد فمحلها على هذا نصب وعلى ما قبله رفع ولا محل لها على كونها معترضة. واندفع بكون الجملة معترضة غير مقصود بها قطع النعت أو نعتا أو حالا ما أورد على المصنف من أنها من قطع النعت وهو إنما يجوز إذا تعين المنعوت بدونه، ولو سلم أنها من قطع النعت نقول يكفي في جوازه تعين المنعوت ادعاء كما هنا. ولا يرد عليه وجوب حذف عامل النعت المقطوع لأن محله إذا كان النعت لمدح أو ذم أو ترحم.
فائدة: يصح اقتران الجملة المعترضة بالواو والفاء لا بثم. قوله: "ولفظ رب نصب" أي منصوب ويصح قراءته بلفظ الماضي المجهول وكذا يقال فيما بعد. قوله: "تقديرا إلخ" فقد اجتمع في أحمد ربي الإعراب اللفظي في أحمد والتقديري في ربي والمحلي في الياء. والفرق بين التقديري والمحلي أن المانع في الأول من ظهور الإعراب قائم بآخر الكلمة وفي الثاني قائم بالكلمة بتمامها قاله الشيخ خالد. قوله: "بدل من رب" وكون المبدل منه في نية الطرح أغلبي كما قاله جماعة، أو بحسب العمل لا المعنى كما قاله آخرون، أو معناه كما قاله الدماميني، أنه مستقل بنفسه لا متمم لمتبوعه كالنعت والبيان. وقوله أو بيان أي لرب لأنه أوضح منه ورجح ابن قاسم كونه بدلا من جهة أن البدل على نية تكرار العامل فيكون حامدا في عبارته مرتين، ورجح المعرب الثاني من جهة أن المبدل منه توطئة للبدل وفي حكم الطرح غالبا. قوله: "بدل أو حال" كونه بدلا لا يخلو عن ضعف لأن بدلية المشتق قليلة بل مقتضى كلام ابن هشام الذي نقله عنه المعرب امتناعها مع ما في جعله بدلا من ربي أن جعل الله بدلا من مخالفة الجمهور المانعين تعدد البدل وما في جعله بدلا من الله أن جعل الله بدلا من مخالفتهم في منعهم الإبدال من البدل. وكونه حالا أي لازمة فيه كما قاله ابن قاسم إيهام تقييد الحمد ببعض الصفات فالأولى جعله منصوبا بنحو أمدح. قوله: "وموضع الجملة" أي جملة أحمد ربي الله خير مالك أي والجمل بعدها معطوفة عليها كما سيصرح به الشارح عند قوله: وأستعين الله في ألفية. وعبارة السندوبي وجملة أحمد ربي إلى آخر الكتاب في محل نصب لأنها محكية بالقول. ا. هـ. ويظهر لي حمل الأول على حالة ملاحظة العاطف من الحكاية وجعل كل جملة مقولا مستقلا، وحمل الثاني على حالة ملاحظة العاطف من المحكي واعتبار كون المقول مجموع الجمل وجعل كل جملة جزء المقول فاحفظه فإنه نفيس. وإنما لم يقل مفعول به ليجري على القولين كونه مفعولا به وكونه مفعولا مطلقا وإن كان الراجح الأول.
নির্বাচিত নবীর প্রতি এবং তাঁর মহানুভবতা পূর্ণকারী পরিবারবর্গের প্রতি দরূদ পাঠকারী অবস্থায় …
—
ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ): ‘রব্ব’ শব্দটি মাফউলিয়া বা কর্ম হওয়ার ভিত্তিতে উহ্যভাবে মানসুব (নসবযুক্ত) হয়েছে এবং ‘বা’ বর্ণটি ইদাফতের (সম্বন্ধ) কারণে জারের স্থানে রয়েছে। ‘আল্লাহ’ শব্দটি ‘রব্ব’-এর বদল (বিকল্প) অথবা বয়ান (ব্যাখ্যা) হিসেবে মানসুব হয়েছে। ‘খায়র’ শব্দটি একইভাবে বদল অথবা হাল (অবস্থা) হিসেবে মানসুব হয়েছে, যেমন ‘আমি আল্লাহকে শ্রবণকারী হিসেবে ডেকেছি’ বাক্যটিতে হয়। পুরো বাক্যটির স্থান ‘ক্বলা’ (তিনি বলেছেন) ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে মানসুবের স্থলাভিষিক্ত। এর শব্দগুলো সংবাদ জ্ঞাপক হলেও অর্থ হলো ইনশা বা আরম্ভ করা, অর্থাৎ ‘আমি প্রশংসা নিবেদন করছি’। ‘মুসাল্লিয়ান’...
—
মূল বাক্যটি এর মাধ্যমে মধ্যবর্তী বাক্য (জুমলা মু’তারিযা) হিসেবে এসেছে। একে মধ্যবর্তী বাক্য হিসেবে আনার উপকারিতা হলো গ্রন্থকারকে তাঁর সমনামধারী অন্যদের থেকে পৃথক করা। একদল আলিম একে ‘ইস্তিনাফে বায়ানি’ (ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভ) বললেও তা একে মধ্যবর্তী বাক্য হওয়া থেকে বের করে দেয় না। কেউ কেউ একে ‘মুহাম্মাদ’ শব্দের নাত (গুণবাচক বিশেষণ) হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এই উহ্য ধারণায় যে শব্দটি অনির্দিষ্ট (নাকিরা), তবে এই মতটি দুর্বল। আবার কেউ কেউ একে ‘মুহাম্মাদ’ শব্দ থেকে ‘হালে লাযিমা’ (অনিবার্য অবস্থা) হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, এই মতানুসারে এর স্থান নসবের হবে এবং পূর্ববর্তী মতানুসারে রফ’ এর হবে। আর যদি একে মধ্যবর্তী বাক্য ধরা হয় তবে এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান (মাহাল) থাকবে না। বাক্যটি মধ্যবর্তী হওয়ার মাধ্যমে গ্রন্থকারের উপর উত্থাপিত সেই আপত্তি দূর হয়ে যায় যে এটি ‘ক্বতউন্নাত’ (বিশেষণ বিচ্ছিন্নকরণ) এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ক্বতউন্নাত তখনই বৈধ হয় যখন বিশেষণ ছাড়াই বিশেষিত ব্যক্তি সুনির্দিষ্টভাবে পরিচিত হয়। যদি মেনেও নেওয়া হয় যে এটি ‘ক্বতউন্নাত’, তবে আমরা বলব যে এখানে দাবির ভিত্তিতে বিশেষিত ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট হওয়াটাই এর বৈধতার জন্য যথেষ্ট। এছাড়া ‘ক্বতউন্নাত’-এর আমিল (ক্রিয়া) বিলুপ্ত করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি এখানে প্রযোজ্য হবে না, কারণ তা তখনই হয় যখন বিশেষণটি প্রশংসা, নিন্দা বা দয়া প্রকাশের জন্য হয়।
ফায়দা (উপকারিতা): মধ্যবর্তী বাক্যটি ‘ওয়াও’ এবং ‘ফা’ দ্বারা যুক্ত হওয়া সঠিক, তবে ‘সুম্মা’ দ্বারা নয়। গ্রন্থকারের কথা: “‘রব্ব’ শব্দটি নসব হয়েছে” অর্থাৎ তা মানসুব। একে মাজি মাজহুল (অতীতকাল বাচ্য) হিসেবে পড়াও সঠিক এবং পরবর্তী শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। গ্রন্থকারের কথা: “উহ্যভাবে ইত্যাদি”, এখানে ‘আহমাদু রব্বী’ বাক্যে তিনটি ইরাব একত্রিত হয়েছে: ‘আহমাদু’ শব্দে শাব্দিক (লাফযি) ইরাব, ‘রব্বী’ শব্দে উহ্য (তাকদিরি) ইরাব এবং ‘ইয়া’ (সর্বনাম) এ স্থানীয় (মাহাল্লি) ইরাব। উহ্য এবং স্থানীয় ইরাবের মধ্যে পার্থক্য হলো—শেখ খালিদ যেমনটি বলেছেন—প্রথমটিতে ইরাব প্রকাশে বাধা শব্দের শেষে বিদ্যমান থাকে, আর দ্বিতীয়টিতে পুরো শব্দ জুড়েই বাধা বিদ্যমান থাকে। গ্রন্থকারের কথা: “‘রব্ব’ থেকে বদল হওয়া”, আর একদল আলিম যেমনটি বলেছেন যে এক্ষেত্রে ‘মুবদাল মিনহু’ (যার থেকে বদল করা হয়েছে) অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য বলে গণ্য হয়। অথবা অন্য একদলের মতে এটি আমল বা ব্যাকরণিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অর্থের ক্ষেত্রে নয়। আদ-দামামিনি যেমনটি বলেছেন, এর অর্থ হলো এটি নিজেই স্বতন্ত্র এবং এটি ‘নাত’ (বিশেষণ) বা ‘বয়ান’ (ব্যাখ্যা) এর মতো তার অনুষঙ্গী শব্দের পরিপূরক নয়। গ্রন্থকারের কথা: “অথবা বয়ান” অর্থাৎ ‘রব্ব’ শব্দের বয়ান, কারণ এটি ‘রব্ব’ শব্দের চেয়ে অধিক স্পষ্ট। ইবনে কাসিম একে ‘বদল’ হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন এই দিক থেকে যে, বদল হলো আমিলকে (ক্রিয়া) পুনরাবৃত্তি করার নামান্তর, ফলে তিনি তাঁর বাক্যে যেন দুইবার প্রশংসা করেছেন। আর দ্বিতীয় বিশ্লেষক একে ‘বয়ান’ হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন এই দিক থেকে যে, মুবদাল মিনহু সাধারণত বদলের জন্য ভূমিকা স্বরূপ এবং তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য হওয়ার হুকুমে থাকে। গ্রন্থকারের কথা: “বদল অথবা হাল”, একে বদল বলাটা দুর্বলতা মুক্ত নয় কারণ ‘মুশতাক’ বা উদ্ভূত শব্দের বদল হওয়া বিরল। বরং ইবনে হিশামের বক্তব্যের মর্ম অনুযায়ী—যা ব্যাখ্যাকারী বর্ণনা করেছেন—এটি অসম্ভব। এছাড়া ‘রব্বী’ থেকে বদল ধরার ক্ষেত্রে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের সেই মতের বিরোধিতা হয় যারা একাধিক বদল হওয়াকে নিষেধ করেন। আবার ‘আল্লাহ’ শব্দ থেকে একে বদল ধরলে তাদের সেই মতের বিরোধিতা হয় যারা বদল থেকে পুনরায় বদল হওয়াকে নিষেধ করেন। আর একে ‘হাল’ বা অবস্থা ধরা হলে ইবনে কাসিম যেমনটি বলেছেন—তা প্রশংসাকে কোনো বিশেষ গুণের সাথে সীমাবদ্ধ করার সংশয় তৈরি করে, তাই একে ‘আদাহু’ (আমি তাঁর প্রশংসা করছি) জাতীয় কোনো উহ্য ক্রিয়ার মাধ্যমে মানসুব ধরাই অধিক উত্তম।
গ্রন্থকারের কথা: “বাক্যটির স্থান” অর্থাৎ ‘আহমাদু রব্বি আল্লাহা খাইরা মালিকিন’ বাক্যটি এবং এর পরবর্তী বাক্যগুলো এর উপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, যেমনটি ব্যাখ্যাকারী ‘আমি আলফিইয়াহ শাস্ত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি’ কথার অধীনে স্পষ্ট করবেন। আস-সানদুবির ভাষ্য হলো: ‘আহমাদু রব্বী’ থেকে শুরু করে কিতাবের শেষ পর্যন্ত পুরো বাক্যটি মানসুবের স্থলাভিষিক্ত কারণ এগুলো ‘ক্বওল’ বা উক্তি হিসেবে বর্ণিত। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম মতটি সেই অবস্থার ওপর প্রযোজ্য যখন বর্ণনার দিক থেকে সংযোজক অব্যয়কে বিবেচনা করে প্রতিটি বাক্যকে স্বতন্ত্র বক্তব্য ধরা হয়। আর দ্বিতীয় মতটি সেই অবস্থার ওপর প্রযোজ্য যখন বর্ণিত বিষয়ের দিক থেকে সংযোজক অব্যয়কে বিবেচনা করে পুরো বাক্যসমষ্টিকে একটি বক্তব্য ধরা হয় এবং প্রতিটি বাক্যকে বক্তব্যের অংশ বিবেচনা করা হয়। সুতরাং এটি মনে রাখুন, কারণ এটি একটি মূল্যবান সূক্ষ্ম বিষয়। গ্রন্থকার এখানে ‘মাফউলে বিহি’ না বলে শুধু ‘মাফউল’ বলেছেন যাতে তা দুটি মতকেই শামিল করে—এটি ‘মাফউলে বিহি’ হওয়া অথবা ‘মাফউলে মুতলাক’ হওয়া, যদিও প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
أي طالبًا من الله صلاته أي رحمته "على النبي" بتشديد الياء من النبوة أي الرفعة لرفعة رتبته على غيره من الخلق أو بالهمز من النبأ وهو الخير لأنه مخبر عن الله تعالى فعلى الأول هو فعيل بمعنى مفعول، وعلى الثاني بمعنى فاعل. ومصليًا حال من فاعل أحمد منوية لاشتغال مورد الصلاة بالحمد أي ناويًا الصلاة على النبي "المصطفى" مفتعال من الصفوة
ــ
قوله: "ومعناها الإنشاء" قد عرفت في الكلام على قول الشارح أما بعد حمد الله أنه يصح كونها خبرية معنى ويكون حامدا ضمنا. قوله: "مصليا" هذه الحال وإن كانت مفردة إلا أنها في قوة جملة إنشائية أو خبرية على ما مر عند قول الشارح أما بعد حمد الله إلخ أفاده ابن قاسم. ويلزم على الوجه الأول وقوع الإنشاء حالا وهو ممنوع فتأمل. وإنما لم يأت بجملة صريحة إشارة إلى الفرق بين ما يتعلق به تعالى وما يتعلق به صلى الله عليه وسلم. ولم يذكر السلام جريا على عدم كراهة إفراد أحدهما عن الآخر بل إذا صلى في مجلس وسلم في مجلس ولو بعد مدة طويلة كان آتيا بالمطلوب وهذا هو المختار عندي وفاقا للحافظ ابن حجر وغيره. والآية لا تدل على طلب قرنهما لأن الواو لا تقتضي ذلك. قوله: "أي رحمته" أي اللائقة بمقامه فالإضافة للعهد. قوله: "بتشديد الياء من النبوة إلخ" هكذا اشتهر تخصيص المشدد بكونه من النبوة والمهموز بكونه من النبأ بالتحريك وهو الخبر. وأنا أقول يصح أن يكون المهموز من النبء بسكون الباء وهو الارتفاع على ما ذكره صاحب القاموس أنه يقال نبأ بالهمز كمنع أي ارتفع بل هذا أولى لكون الساكن مصدرا بخلاف المتحرك، وأن يكون المشدد مسهلا من المهموز فيكون من النبأ بفتح الباء أو سكونها فاعرف ذلك. وعلى كون النبي من النبوة يكون واوي اللام وأصله نبيو اجتمعت الواو والياء وسبقت إحداهما بالسكون فقلبت الواو ياء وأدغمت الياء في الياء. قوله: "أي الرفعة" فيه مسامحة إذ النبوة المكان المرتفع وكأنه على حذف مضاف وموصوف أي المكان ذي الرفعة. قوله: "لأنه مخبر عن الله" أي ولو بكونه نبأه فلا يرد أن النبي على الأصح لا يشترط فيه أن يؤمر بتبليغ الشرع الموحى إليه. قوله: "فعلى الأول إلخ" يصح على كل من الأول والثاني أن يكون بمعنى اسم الفاعل وأن يكون بمعنى اسم المفعول ففي كلامه احتباك. قوله: "حال" اعترض بأن الحالية تقتضي تقييد حمده بهذه الحالة ويدفع بأنها إنما تقتضي تقييد حمده في هذا المتن بهذه الحالة لا تقييد مطلق حمده ولا ضرر في ذلك بل هو الواقع.
قوله: "منوية" هي المقدرة ودفع بهذا الاعتراض بأن الصلاة غير ممكنة في حال الحمد لاشتغال موردها حينئذٍ بالحمد. وفيه أنه حينئذٍ لا يكون مصليا بالفعل لأن نية الصلاة ليست صلاة فالأولى أنها مقارنة والمقارنة في كل شيء بحسبه، فمقارنة لفظ للفظ وقوعه عقبه، فاندفع الاعتراض، ودفعه بعضهم بحمل الحمد بناء على خبرية جملته على العرفي لكن يرد عليه أن المأمور بالابتداء به الحمد اللغوي لا العرفي لحدوثه بعذر منه صلى الله عليه وسلم: وتوجيه كونها مقارنة بأن المعنى أحمده بلساني وأصلي بقلبي يرد عليه أن الصلاة بالقلب من غير تلفظ لا ثواب فيها. قوله: "من الصفوة" كذا بالتاء في نسخ وعليها فتذكير الضمير في قوله بعد وهو الخلوص من الكدر لما قاله ابن الحاجب من أن كل لفظتين وضعتا لشيء واحد وإحداهما مؤنثة والأخرى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
অর্থাৎ আল্লাহর কাছে তাঁর রহমত প্রার্থনা করছি "নবী"-র ওপর। 'নবী' শব্দটি 'ইয়া' বর্ণে তাশদীদসহ 'নুবুওয়াহ' থেকে উৎপন্ন হতে পারে, যার অর্থ উচ্চতা; কারণ অন্যান্য সৃষ্টির তুলনায় তাঁর মর্যদা অতি উচ্চ। অথবা এটি হামযাহ্ সহযোগে 'নাবাউ' শব্দ থেকে হতে পারে, যার অর্থ সংবাদ; কারণ তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী। প্রথম ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী এটি 'মাফঊল' (কর্মবাচ্য)-এর অর্থে 'ফাঈল' ছন্দ, আর দ্বিতীয় ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী এটি 'ফায়িল' (কর্তৃবাচ্য)-এর অর্থে। আর "মুসাল্লিয়ান" (দরূদ পাঠরত অবস্থায়) শব্দটি "আহমাদু" (আমি প্রশংসা করছি) ক্রিয়ার উহ্য কর্তার অবস্থা (হাল) বর্ণনা করছে, যেহেতু প্রশংসার স্থলটি প্রশংসার মাধ্যমেই ব্যতিব্যস্ত। অর্থাৎ নবী "আল-মুস্তফা"-র ওপর দরূদ পাঠের সংকল্পকারী হয়ে। 'মুস্তফা' শব্দটি 'সাফওয়াহ' (স্বচ্ছতা বা বাছাই করা) থেকে 'মুফতায়াল' ছন্দে গঠিত।
—
তাঁর কথা: "আর এর অর্থ হলো ইনশা (সৃষ্টিবাচক বাক্য)"; আপনি ইতঃপূর্বে ব্যাখ্যাকারকের কথা "আল্লাহর প্রশংসার পর" এর আলোচনায় জেনেছেন যে, এটি অর্থগতভাবে সংবাদবাচক (খবরিয়্যাহ) হওয়াও শুদ্ধ, আর সেক্ষেত্রে তিনি পরোক্ষভাবে প্রশংসাকারী হবেন। তাঁর কথা: "মুসাল্লিয়ান"; এই অবস্থাটি (হাল) যদিও একবচন, তবুও এটি একটি ইনশায়িয়্যাহ বা খবরিয়্যাহ বাক্যের শক্তিতে রয়েছে, যা ব্যাখ্যাকারকের উক্তি "আল্লাহর প্রশংসার পর" ইত্যাদির আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। ইবনে কাসিম এটি বর্ণনা করেছেন। তবে প্রথম সম্ভাবনা অনুযায়ী 'ইনশা' হাল হিসেবে আপতিত হয়, যা ব্যাকরণগতভাবে নিষিদ্ধ, তাই বিষয়টি গভীরভাবে ভাবুন। তিনি (লেখক) কেন সুস্পষ্ট বাক্য ব্যবহার করেননি, তার কারণ হলো মহান আল্লাহর সাথে যা সংশ্লিষ্ট এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যা সংশ্লিষ্ট—এই দুইটির মধ্যে পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর তিনি 'সালাম'-এর উল্লেখ করেননি এই রীতি অনুসরণ করে যে, সালাত ও সালামের কোনো একটিকে অপরটি থেকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা মাকরূহ নয়। বরং যদি কেউ এক মজলিসে সালাত এবং অন্য মজলিসে সালাম পাঠ করে, এমনকি দীর্ঘ সময় পরেও হয়, তবুও সে কাঙ্ক্ষিত সুন্নাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে। হাফেজ ইবনে হাজার এবং অন্যদের অনুসরণে আমার নিকট এটিই অগ্রগণ্য মত। আর (কুরআনের) আয়াতটি এই দুইটিকে একত্রে করার নির্দেশ প্রদান করে না, কারণ 'ওয়াও' বর্ণটি একত্রে করা অপরিহার্য করে না। তাঁর কথা: "অর্থাৎ তাঁর রহমত"; অর্থাৎ যা তাঁর মর্যদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এখানে সম্বন্ধটি (ইদাফাহ) পরিচিত কোনো বিশেষ রহমতের দিকে। তাঁর কথা: "নবুওয়াহ থেকে 'ইয়া' বর্ণের তাশদীদসহ ইত্যাদি"; প্রসিদ্ধ মত হলো তাশদীদযুক্ত শব্দটি 'নবুওয়াহ' থেকে আর হামযাহযুক্ত শব্দটি হরকতযুক্ত 'নাবাউ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সংবাদ। আমি বলি, হামযাহযুক্ত শব্দটি 'বা' বর্ণের সুকুনসহ 'নাবউ' থেকেও হওয়া সম্ভব, যার অর্থ হলো উচ্চতা; যেমনটি কামূস অভিধানের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, 'নাবাআ' (হামযাহসহ) শব্দটি 'মানাআ' ক্রিয়ার ওজনে ব্যবহৃত হয় যার অর্থ 'উঁচু হওয়া'। বরং সুকুনযুক্ত শব্দটিকে মূল ধরা অধিক উত্তম কারণ এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যা হরকতযুক্ত শব্দের বিপরীত। আর তাশদীদযুক্ত শব্দটি হামযাহযুক্ত শব্দের সহজ রূপ হতে পারে, যা 'বা' বর্ণের ফাতহাহ বা সুকুনসহ 'নাবাউ' বা 'নাবউ' থেকে হতে পারে, সুতরাং এটি জেনে রাখুন। আর 'নবী' শব্দটি যদি 'নুবুওয়াহ' থেকে হয়, তবে এর শেষ মূলবর্ণটি হবে 'ওয়াও'। এর মূল রূপ ছিল 'নাবিইউন'। এখানে 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' একত্রিত হয়েছে এবং তাদের একটির পূর্বে সুকুন থাকায় 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এক 'ইয়া' অপর 'ইয়া'-র মধ্যে ইদগাম করা হয়েছে। তাঁর কথা: "অর্থাৎ উচ্চতা"; এতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, কারণ 'নবুওয়াহ' অর্থ হলো উচ্চ স্থান। যেন এখানে একটি মুদাফ (সম্বন্ধ পদ) এবং মাওসূফ (বিশেষ্য) উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ "উচ্চতা বিশিষ্ট স্থান"। তাঁর কথা: "যেহেতু তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী"; অর্থাৎ যদিও আল্লাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন—এই হিসেবে। ফলে এই আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না যে, বিশুদ্ধ মতানুযায়ী নবীর জন্য তাঁর কাছে ওহী করা শরীয়ত প্রচারের আদেশ প্রাপ্ত হওয়া শর্ত নয়। তাঁর কথা: "প্রথমটি অনুযায়ী ইত্যাদি"; প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় সম্ভাবনা অনুযায়ী 'ইসমু ফায়িল' (কর্তৃবাচক) এবং 'ইসমু মাফঊল' (কর্মবাচক) হওয়ার অর্থ নেওয়া শুদ্ধ, তাই তাঁর বক্তব্যে 'ইতিবাক' অলঙ্কার রয়েছে। তাঁর কথা: "হাল বা অবস্থা"; এই মর্মে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, একে 'হাল' ধরলে তাঁর প্রশংসাকে এই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, এটি কেবল এই মূল পাঠে তাঁর প্রশংসাকে এই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করে, তাঁর সামগ্রিক প্রশংসাকে নয়। আর এতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং বাস্তবে এটিই ঘটেছে।
তাঁর কথা: "মানউইয়্যাহ" (সংকল্পিত); এটি 'মুকাদ্দারাহ' বা উহ্য সংকল্পের অর্থে। এই আপত্তির উত্তর এর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে যে, প্রশংসারত অবস্থায় দরূদ পাঠ সম্ভব নয়, কারণ তখন প্রশংসার অঙ্গটি প্রশংসার কাজে নিয়োজিত। তবে এতে খটকা থেকে যায় যে, এমতাবস্থায় তিনি প্রকৃতপক্ষে দরূদ পাঠকারী হবেন না, কারণ দরূদ পাঠের নিয়ত করা দরূদ পাঠ নয়। তাই উত্তম হলো একে 'মুকারানাহ' বা সমসাময়িক ধরা। আর প্রত্যেক বিষয়ের সমসাময়িকতা তার ধরন অনুযায়ী হয়; যেমন এক শব্দের সাথে অপর শব্দের সমসাময়িকতা হলো একের পরপরই অপরের অবস্থান। ফলে আপত্তিটি দূর হলো। কেউ কেউ এর উত্তর দিয়েছেন 'হামদ' বাক্যটিকে এর প্রচলিত (উরফী) অর্থে প্রয়োগ করে। কিন্তু এর বিপরীতে কথা হলো, শুরুতে যে প্রশংসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা হলো শাব্দিক (লুগাভী) প্রশংসা, প্রচলিত প্রশংসা নয়। আর সমসাময়িক হওয়ার এই ব্যাখ্যা যে—আমি জিহ্বা দিয়ে প্রশংসা করছি আর অন্তর দিয়ে দরূদ পাঠ করছি—এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, মুখে উচ্চারণ ছাড়া কেবল অন্তরের দরূদ পাঠে কোনো সওয়াব নেই। তাঁর কথা: "সাফওয়াহ থেকে"; পাণ্ডুলিপিগুলোতে এটি 'তা' যোগে এভাবেই আছে। সেই অনুযায়ী, এর পরবর্তী কথা— "আর তা হলো কলুষতা থেকে মুক্ত হওয়া"—এখানে পুংলিঙ্গ সর্বনাম ব্যবহারের কারণ হলো ইবনুল হাজিব যা বলেছেন যে, যখন দুটি শব্দ একই বস্তুর জন্য নির্ধারণ করা হয় এবং তাদের একটি স্ত্রীলিঙ্গ ও অন্যটি পুংলিঙ্গ হয়...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
وهو الخلوص من الكدر قلبت تاؤه طاء لمجاورة الصاد ولامه ألفًا لانفتاح ما قبلها ومعناه المختار "وآله" أي أقاربه من بني هاشم والمطلب "المستكملين" باتباعه "الشرفا" أي العلو.
تنبيه: أصل آل أهل قلبت الهاء همزة كما قلبت الهمزة هاء في هراق الأصل أراق،
ــ
مذكرة وتوسطهما ضمير جاز تأنيث الضمير وتذكيره. وفي نسخ من الصفو بلا تاء وتذكير الضمير بعد ظاهر عليها. قوله: "وهو الخلوص من الكدر" هذا يفيد أن معنى المصطفى في الأصل الخالص من الكدر فقوله ومعناه المختار أي معناه المراد هنا. قوله: "لمجاورة الصاد" أي لأنها من حروف الأطباق الأربعة الصاد والضاد والطاء والظاء والتاء إذا وقعت بعد أحدها تقلب طاء. قوله: "أي أقاربه" الأنسب هنا تفسيره بأتباعه في العمل الصالح وحينئذٍ يدخل الصحب فلا يلزم على المصنف إهمالهم بل يكون فيه من أنواع البديع التورية لا خصوص الأقارب ولا عموم الأتباع ولو في أصل الإيمان لعدم ملاءمته لقوله: "المستكملين الشرفا" وما اشتهر من أن اللائق في مقام الدعاء تفسير الآل بعموم الاتباع لست أقول بإطلاقه بل المتجه عندي التفصيل: فإن كان في العبارة المدعو بها ما يستدعي تفسير الآل بأهل بيته حمل عليهم نحو اللهم صل على محمد وعلى آل محمد الذين أذهبت عنهم الرجس وطهرتهم تطهيرا، أو ما يستدعي تفسير الآل بالأتقياء حمل عليهم نحو اللهم صلّ على محمد وعلى آل محمد الذين ملأت قلوبهم بأنوارك وكشفت لهم حجب أسرارك، فإن خلت مما ذكر حمل على الأتباع نحو اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، ونحو اللهم صل على محمد وعلى آل محمد سكان جنتك وأهل دار كرامتك.
قوله: "المستكملين" صفة لازمة لآل. والسين والتاء إما للطلب والمطلوب كمال زائد على الكمال الحاصل عندهم فالشرف بفتح الشين مفعول المستكملين، أو زائدتان للتأكيد والمعنى الكاملين فهو منصوب على التشبيه بالمفعول به أو على نزع الخافض بناء على القول بأنه قياسي. ومما يدل على أن ثم قولا بقياسيته قول الشمس الشوبري في حواشيه على التحرير الفقهي: الراجح أن النصب بنزع الخافض سماعي. ا. هـ. أو يقال إن المصنفين نزلوه منزلة القياسي لكثرة ما سمع منه فاعرف ذلك. أو للصيرورة كاستحجر الطين أي الذين صاروا كاملين فهو كذلك. واستشكل كلامه بأنهم لم يبلغوا شرف الأنبياء فكيف تصح دعوى استكمالهم الشرف. وقد يقال المراد الشرف اللائق بهم، أو الكلام محمول على المبالغة إشارة إلى أنهم لعلوّ مراتبهم في الشرف كأنهم استكملوه. ومنهم من ضبطه بضم الشين فيكون جمع شريف صفة ثانية ويكون معمول المستكملين محذوفا أي كل شرف أو كل مجد مثلا. وجعل البعض هذا أولى بما في الحذف من الإيذان بالعموم الأنسب بمقام المدح وفيه نظر لأن ذكر المعمول هنا مساو لحذفه لأن المعمول المذكور الشرف بأل الاستغراقية فهو مساو للمحذوف مع أن ذكر الشرفا بالضم بعد المستكملين ليس فيه كبير فائدة لانفهام الثاني من الأول. قوله: "قلبت الهاء همزة" أي توصلا لقلبها ألفا فلا يرد أن الهمزة أثقل من الهاء مع أنها قلبت همزة باقية في ماء وشاء، ولعل وجهه
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
আর তা হলো পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়া। ‘সদ’ বর্ণের সান্নিধ্যের কারণে এর ‘তা’ বর্ণটি ‘ত্ব’ বর্ণে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহা (যবর) থাকার কারণে এর ‘লাম’ বর্ণটি ‘আলিফ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। আর এর পারিভাষিক অর্থ হলো ‘মনোনীত’। "এবং তাঁর পরিজনগণ" অর্থাৎ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের অন্তর্ভুক্ত তাঁর আত্মীয়স্বজন, যারা তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে "পূর্ণতা দানকারী" হয়েছে "মর্যাদাকে" অর্থাৎ উচ্চতাকে।
সতর্কতা: ‘আল’ (পরিজন) শব্দের মূল হলো ‘আহল’। এখানে ‘হা’ অক্ষরটি ‘হামজা’য় রূপান্তরিত হয়েছে, যেমন ‘আরাকা’ শব্দে ‘হামজা’ অক্ষরটি ‘হা’ অক্ষরে রূপান্তরিত হয়ে ‘হারাফা’ হয়েছে। যার মূল ছিল ‘আরাকা’।
—
পুংলিঙ্গ এবং এই দুটির মাঝখানে সর্বনাম থাকার কারণে সর্বনামটিকে স্ত্রীলিঙ্গ বা পুংলিঙ্গ উভয়ই করা বৈধ। ‘আস-সাফউ’ এর কিছু পাণ্ডুলিপিতে ‘তা’ ছাড়াই রয়েছে এবং এরপর সর্বনামটি পুংলিঙ্গ হওয়া সেখানে সুস্পষ্ট। তাঁর উক্তি: "আর তা হলো পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়া" - এটি একথাই প্রকাশ করে যে, ‘আল-মুস্তফা’ শব্দের মূল অর্থ হলো পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়া। সুতরাং তাঁর কথা "এর অর্থ হলো মনোনীত" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এখানে যা অভিপ্রেত। তাঁর উক্তি: "সদ-এর সান্নিধ্যের কারণে" - অর্থাৎ যেহেতু এটি চারটি ইত্ববাক (জিহ্বা তালুসংলগ্ন হওয়া) বর্ণের একটি (সদ, দদ, ত্ব, জো), আর এই বর্ণগুলোর কোনো একটির পর ‘তা’ আসলে তা ‘ত্ব’ অক্ষরে রূপান্তরিত হয়। তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ তাঁর আত্মীয়স্বজন" - এখানে উপযুক্ত হলো এর ব্যাখ্যা সৎকর্মে তাঁর অনুসারীদের দ্বারা করা। এমতাবস্থায় সাহাবীরাও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে তাঁদের উপেক্ষা করার আবশ্যকতা থাকবে না। বরং এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের ‘তাওরিয়া’ নামক কৌশলটি ফুটে উঠবে; এটি কেবল নির্দিষ্ট আত্মীয়দের জন্য নয়, আবার কেবল ঈমানের ভিত্তিতে সাধারণ অনুসারীদের জন্যও নয়। কেননা এটি "মর্যাদাকে পূর্ণকারী" কথাটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। দোয়ার ক্ষেত্রে ‘আল’ শব্দের ব্যাখ্যা সাধারণ অনুসারীদের দ্বারা করাই সমীচীন বলে যা প্রসিদ্ধ রয়েছে, আমি তা ঢালাওভাবে বলি না। বরং আমার নিকট এক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যাই অধিকতর সঠিক: যদি দোয়ার বাক্যে এমন কিছু থাকে যা ‘আল’ শব্দটিকে তাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবে সাব্যস্ত করতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে তাঁদের অর্থেই গ্রহণ করা হবে। যেমন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিজনদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাদের থেকে আপনি অপবিত্রতা দূর করেছেন এবং তাঁদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করেছেন।" অথবা যদি এমন কিছু থাকে যা ‘আল’ শব্দটিকে মুত্তাকী বা ধর্মভীরু অর্থে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে তাঁদের অর্থেই গ্রহণ করা হবে। যেমন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিজনদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাদের অন্তরকে আপনি আপনার নূর দ্বারা পূর্ণ করেছেন এবং তাঁদের নিকট আপনার রহস্যের পর্দাগুলো উন্মোচন করেছেন।" আর যদি উল্লিখিত বিষয়ের কোনোটিই না থাকে, তবে তা অনুসারীদের অর্থে গ্রহণ করা হবে। যেমন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিজনদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন," এবং যেমন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিজনদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যারা আপনার জান্নাতের অধিবাসী এবং আপনার সম্মানগৃহের বাসিন্দা।"
তাঁর উক্তি: "আল-মুস্তাকমিলিন" (পূর্ণতা দানকারী) হলো ‘আল’ (পরিজন) শব্দের একটি আবশ্যকীয় গুণবাচক শব্দ। আর এখানে ‘সিন’ ও ‘তা’ বর্ণ দুটি হয় কোনো কিছু চাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং যা চাওয়া হচ্ছে তা হলো তাঁদের অর্জিত পূর্ণতার ওপর অতিরিক্ত পূর্ণতা; এক্ষেত্রে ‘আশ-শরাফা’ (শিন বর্ণে ফাতহা বা যবর সহকারে) শব্দটি ‘আল-মুস্তাকমিলিন’ এর কর্ম বা মাফউল হবে। অথবা এগুলো আধিক্য বা তাকিদ বোঝানোর জন্য অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে এসেছে এবং এর অর্থ হবে ‘আল-কামিলিন’ বা পূর্ণতা প্রাপ্তগণ; এমতাবস্থায় এটি মাফউল হওয়ার সাদৃশ্যে মানসুব (যবরযুক্ত) হবে অথবা ‘হারফে জার’ বিলুপ্ত হওয়ার কারণে মানসুব হবে—যদি আমরা একে কিয়াসী বা নিয়মতান্ত্রিক বলি। হারফে জার বিলুপ্ত হয়ে মানসুব হওয়ার নিয়মটি যে কিয়াসী হওয়ার একটি মত রয়েছে তার প্রমাণ হলো শামস আশ-শওবারীর বক্তব্য, যা তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ‘আত-তাহরীর’ গ্রন্থের টীকায় উল্লেখ করেছেন: "সঠিক মত হলো হারফে জার বিলুপ্ত হয়ে মানসুব হওয়া একটি সিমাঈ (শোনা কথার ওপর নির্ভরশীল) বিষয়।" অথবা বলা যেতে পারে যে, গ্রন্থকারগণ এই বিষয়ের প্রচুর ব্যবহারের কারণে একে কিয়াসী হিসেবে গণ্য করেছেন, তাই এটি জেনে রাখুন। অথবা এটি পরিবর্তনের অর্থে হতে পারে, যেমন মাটি পাথরে পরিণত হওয়া; অর্থাৎ যারা পূর্ণতা লাভ করেছে, তখন এটিও একই অর্থ প্রদান করবে। তাঁর কথার ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, তাঁরা নবীদের মর্যাদায় পৌঁছাতে পারেননি, সুতরাং তাঁদের ক্ষেত্রে মর্যাদা পূর্ণ করার দাবি কীভাবে সঠিক হতে পারে? উত্তরে বলা যেতে পারে, এখানে উদ্দেশ্য হলো তাঁদের জন্য উপযুক্ত মর্যাদা। অথবা এই কথাটি অতিরঞ্জনের (মুবালগা) ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁদের সুউচ্চ অবস্থানের কারণে মনে হয় যেন তাঁরা একে পূর্ণতা দান করেছেন। কারো মতে ‘শিন’ বর্ণে পেশ (যম্মাহ) যোগে এর পাঠ হবে ‘আশ-শুরাফা’ যা ‘শরীফ’ শব্দের বহুবচন এবং এটি হবে দ্বিতীয় বিশেষণ, এমতাবস্থায় ‘মুস্তাকমিলিন’ এর কর্ম বা মাফউলটি উহ্য থাকবে, যেমন—সমস্ত মর্যাদা অথবা সমস্ত গৌরব। কেউ কেউ এই মতটিকেই অগ্রগণ্য মনে করেছেন কারণ উহ্য রাখার মাধ্যমে ব্যাপকতা প্রকাশ পায় যা প্রশংসার ক্ষেত্রে অধিকতর উপযোগী। তবে এতেও সংশয় রয়েছে, কারণ কর্ম উল্লেখ করা আর উহ্য রাখা এখানে সমান; যেহেতু এখানে ‘আশ-শরাফ’ শব্দটি আলিফ-লাম যোগে উল্লেখ করা হয়েছে যা ব্যাপকতা প্রকাশ করে এবং উহ্য রাখলেও একই অর্থ হয়। তাছাড়া ‘মুস্তাকমিলিন’ এর পর পেশযুক্ত ‘আশ-শুরাফা’ উল্লেখ করার মাঝে বড় কোনো উপকারিতা নেই, কারণ দ্বিতীয়টি প্রথমটি থেকেই বোঝা যায়। তাঁর উক্তি: "হা অক্ষরটি হামজায় রূপান্তরিত হয়েছে" - অর্থাৎ একে আলিফে রূপান্তর করার পথ সহজ করার জন্য। সুতরাং এখানে এই আপত্তি আসবে না যে হামজা তো ‘হা’ অপেক্ষা অধিক ভারী, অথচ এটি ‘মাউন’ ও ‘শাআ’ শব্দে অবশিষ্ট থাকা হামজা হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। সম্ভবত এর কারণ...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
واستعين الله في ألفية
… مقاصد النحو بها محوية
ــ
ثم قلبت الهمزة ألفًا لسكونها وانفتاح ما قبلها كما في آدم وآمن هذا مذهب سيبويه. وقال الكسائي: أصله أول كجمل من آل يئول تحركت الواو وانفتح ما قبلها ألفًا وقد صغروه على أهيل وهو يشهد للأول، وعلى أويل وهو يشهد للثاني ولا يضاف إلا إلى ذي شرف بخلاف أهل فلا يقال آل الأسكاف ولا ينتقض بآل فرعون فإن له شرفًا باعتبار الدنيا. واختلف في جواز إضافته إلى المضمر فمنعه الكسائي والنحاس، وزعم أبو بكر الزبيدي أنه من لحن العوام والصحيح جوازه قال عبد المطلب:
1- وانصر على آل الصليـ
… ـب وعابديه اليوم آلك
وفي الحديث: "اللهم صل على محمد وآله" "وأستعين الله في" نظم قصيدة
ــ
أنهم قصدوا بقلب هائهما همزة جبر ضعفهما الحاصل بقلب عينهما ألفا لأن الهمزة أقوى من الهاء فتأمل. ولم تقلب الهاء ابتداء ألفا لعدم مجيئه في موضع آخر حتى يقاس عليه. قوله: "كما قلبت الهمزة هاء" أشار بهذا التنظير إلى أن الحرفين تعارضا. قوله: "كما في آدم وآمن" مثل بمثالين من الاسم والفعل. قوله: "وقد صغروه على أهيل" ضعف باحتمال أنه تصغير أهل لا آل فلا يشهد للأول، وأجيب بأن حسن الظن بالنقلة يقتضي أنهم لا يقدمون على التعيين إلا بدليل. قوله: "وهو يشهد للأول" إن قيل الاستدلال بالتصغير فيه دور لأن المصغر فرع المكبر فهو متوقف عليه وقد توقف العلم بأصل ذلك الحرف في المكبر على وجود الأصل في المصغر أجيب بأن توقف المصغر على المكبر توقف وجود وهو غير توقف العلم بالأصالة فجهة التوقف مختلفة فلا دور. قوله: "ولا يضاف إلا إلى ذي شرف" لا ينافي هذا تصغير آل المقتضي الحقارة لأن شرف المضاف إليه لا ينافي تصغير المضاف. ولو سلم أن شرف المضاف إليه يقتضي شرف المضاف نقول الشرف باعتبار يجامع الحقارة باعتبار آخر. وقوله إلى ذي شرف أي معرف مذكر ناطق. وسمع آل المدينة وآل البيت وآل الصليب وآل فلانة. قوله: "الإسكاف" بكسر الهمزة اسم جنس لمن يصلح النعال، والأسكوف لغة فيه والجمع، أساكفة. قوله: "فمنعه الكسائي والنحاس" لعل شبهتهم أن الآل إنما يضاف إلى الأشراف والمفصح عنهم هو الظاهر لا الضمير، والحجب منع الحصر لأن الضمير كمرجعه في الدلالة. ا. هـ. نجاري على المحلي. قوله: "أنه" أي المذكور من الإضافة. قوله: "قال عبد المطلب" أي حين قدم أبرهة بالفيل إلى مكة لتخريب الكعبة.
قوله: "وانصر على آل الصليب" يدل بظاهره على جواز إضافته إلى غير الناطق فينافي ما تقدم، ويجاب بأنه بمنزلة الناطق عند أهله أو شاذ ارتكب للمشاكلة. قوله: "وأستعين الله" أي أطلب منه الإعانة. والمراد بالإعانة هنا الأقدار وسماه إعانة لأنه بصورة الإعانة من حيث كون المقدور بين قدرتين: قدرة العبد كسبا بلا تأثير وقدرة الله تعالى إيجادا وتأثيرا إذ لا يصدق على
--------------------------------------------
আমি একটি আলফিয়্যাহ রচনায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি
… যার মধ্যে নাহুর (ব্যাকরণের) উদ্দেশ্যসমূহ সংকলিত হয়েছে।
ــ
অতঃপর হামযাটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের বর্ণটি ফাতহা (যবর) বিশিষ্ট হওয়ার কারণে তাকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমনটি আদম এবং আমান শব্দে হয়েছে; এটি সিবওয়াইহ-এর মাযহাব। কিসায়ী বলেছেন: এর মূল হলো ‘আওয়াল’ (অবল), যেমন ‘আলা ইয়াউলু’ (ফিরে আসা) থেকে ‘জামাল’ ওজনে; এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি হরকতবিশিষ্ট হওয়ায় এবং তার পূর্বের বর্ণটি ফাতহা হওয়ায় সেটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। তারা একে ‘উহাইইল’ শব্দে তাসগির (ক্ষুদ্রার্থ রূপ) করেছে, যা প্রথম মতের সাক্ষ্য দেয়, এবং ‘উওয়াইইল’ শব্দে যা দ্বিতীয় মতের সাক্ষ্য দেয়। এটি কেবল মর্যাদাশালী ব্যক্তির দিকেই সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা হয়, যা ‘আহল’ শব্দের বিপরীত; তাই ‘আলুল ইসকাফ’ (মুচির বংশ) বলা হয় না। ফেরাউনের বংশের (আল-এ-ফেরাউন) ক্ষেত্রে এটি নিয়ম লঙ্ঘন করে না, কারণ পার্থিব বিবেচনায় তার মর্যাদা ছিল। সর্বনামের (দমির) দিকে এর সম্বন্ধ করার বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কিসায়ী এবং আন-নাহহাস একে নিষেধ করেছেন। আবু বকর আয-যুবাইদী দাবি করেছেন যে এটি সাধারণ মানুষের ভুল, তবে সঠিক মত হলো এটি বৈধ। আব্দুল মুত্তালিব বলেছেন:
1- আর আজ ক্রুশধারীদের দল
… ও এর পূজারীদের বিরুদ্ধে আপনার পরিবারকে (আপনার খাস বান্দাদের) সাহায্য করুন।
হাদিসে এসেছে: "হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।" এবং "আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি" একটি কাসিদা (কবিতা) রচনায়।
ــ
তারা তাদের (উভয় শব্দের) 'হা' বর্ণকে 'হামযা' দ্বারা পরিবর্তন করার সংকল্প করেছেন যাতে তাদের 'আইন' বর্ণকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করার ফলে সৃষ্ট দুর্বলতা দূর করা যায়, কারণ হামযা বর্ণটি হা বর্ণের চেয়ে শক্তিশালী; সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করো। প্রাথমিকভাবে 'হা' বর্ণকে আলিফে পরিবর্তন করা হয়নি কারণ অন্য কোনো স্থানে এর নজির পাওয়া যায় না যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (অনুমান) করা যায়। তাঁর উক্তি: "যেভাবে হামযাকে হা-তে পরিবর্তন করা হয়েছে" - এই উদাহরণের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্ণ দুটির মধ্যে বৈপরীত্য ঘটেছে। তাঁর উক্তি: "যেমনটি আদম এবং আমান-এ রয়েছে" - তিনি বিশেষ্য এবং ক্রিয়া থেকে দুটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তাঁর উক্তি: "এবং তারা একে উহাইইল রূপে তাসগির করেছে" - এই যুক্তিটি দুর্বল করা হয়েছে এই সম্ভাবনার মাধ্যমে যে এটি 'আহল' শব্দের তাসগির, 'আল' শব্দের নয়; সুতরাং এটি প্রথম মতের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় না। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, বর্ণনাকারীদের প্রতি সুধারণা এটাই দাবি করে যে তারা কোনো দলিল ছাড়া নির্দিষ্টকরণের দিকে অগ্রসর হন না। তাঁর উক্তি: "এবং এটি প্রথম মতের সাক্ষ্য দেয়" - যদি বলা হয় যে তাসগিরের মাধ্যমে দলিল পেশ করা চক্রকার যুক্তির (দাওর) দোষে দুষ্ট, কারণ ক্ষুদ্রার্থ রূপ হলো মূল রূপের একটি শাখা, ফলে তা তার ওপর নির্ভরশীল, অথচ মূল শব্দের সেই বর্ণের জ্ঞান ক্ষুদ্রার্থ রূপে মূলের অস্তিত্বের ওপর নির্ভর করছে - তবে এর উত্তর হলো: মূলের ওপর ক্ষুদ্রার্থ রূপের নির্ভরতা হলো অস্তিত্বগত নির্ভরতা, যা মৌলিকত্ব সম্পর্কে জানার নির্ভরতা থেকে ভিন্ন। সুতরাং নির্ভরতার দিকটি ভিন্ন হওয়ার কারণে এখানে কোনো চক্রকার যুক্তি নেই। তাঁর উক্তি: "এবং তা কেবল মর্যাদাশালী ব্যক্তির দিকেই সম্বন্ধ করা হয়" - এটি 'আল' শব্দের ক্ষুদ্রার্থ রূপের পরিপন্থী নয় যা তুচ্ছতা বা ছোট হওয়া বোঝায়; কারণ যার দিকে সম্বন্ধ করা হচ্ছে তার মর্যাদা সম্বন্ধযুক্ত শব্দের ক্ষুদ্রার্থ রূপ হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে যার দিকে সম্বন্ধ করা হয় তার মর্যাদা সম্বন্ধযুক্ত শব্দের মর্যাদাকেই দাবি করে, তবে আমরা বলব: মর্যাদা এক দিক থেকে এবং ক্ষুদ্রতা অন্য দিক থেকে একত্রে অবস্থান করতে পারে। আর 'মর্যাদাশীল' বলতে এখানে পরিচিত, পুরুষ এবং বাকশক্তিসম্পন্ন সত্তা উদ্দেশ্য। আবার আলুল মদিনা (মদিনাবাসী), আলুল বাইত (ঘরের লোক), আলুস সলিব (ক্রুশধারী দল) এবং আলু ফুলানাহ (অমুকের বংশ) শব্দগুলোও ব্যবহারের ক্ষেত্রে শোনা গেছে। তাঁর উক্তি: "ইসকাফ" হামযার নিচে যের সহ, এটি সেই শ্রেণীর নাম যারা জুতো মেরামত করে। 'উসকুফ'ও এর একটি রূপ এবং এর বহুবচন হলো 'আসা কিফাহ'। তাঁর উক্তি: "কিসায়ী এবং আন-নাহহাস একে নিষেধ করেছেন" - সম্ভবত তাদের সংশয় ছিল যে 'আল' শব্দ কেবল মর্যাদাশীলদের দিকেই সম্বন্ধ হয় এবং মর্যাদা প্রকাশকারী হলো স্পষ্ট বিশেষ্য, সর্বনাম নয়। তবে এই বাধা সীমাবদ্ধতাকে প্রতিহত করে কারণ সর্বনাম তার নির্দেশিত শব্দের মতোই অর্থ প্রকাশে সক্ষম। আল-মাহাল্লির ওপর নাজারীর হাশিয়া সমাপ্ত। তাঁর উক্তি: "যে এটি" অর্থাৎ উল্লিখিত সম্বন্ধ করার বিষয়টি। তাঁর উক্তি: "আব্দুল মুত্তালিব বলেছেন" অর্থাৎ যখন আবরাহা হাতি নিয়ে কাবা ঘর ধ্বংস করার জন্য মক্কায় এসেছিল।
তাঁর উক্তি: "এবং ক্রুশধারীদের দলের ওপর সাহায্য করুন" - এটি বাহ্যত বাকশক্তিহীন বস্তুর দিকে সম্বন্ধ করার বৈধতা প্রমাণ করে, যা পূর্বে যা বলা হয়েছে তার বিরোধী। এর উত্তর দেওয়া হয় যে, এটি তার অনুসারীদের কাছে বাকশক্তিসম্পন্নের মর্যাদায় অথবা এটি একটি বিরল ব্যবহার যা শব্দের সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য করা হয়েছে। তাঁর উক্তি: "এবং আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি" অর্থাৎ আমি তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করছি। এখানে সাহায্য বলতে সামর্থ্য দান করা উদ্দেশ্য। একে সাহায্য বলা হয়েছে কারণ এটি সাহায্যের অবয়ব ধারণ করে, যেহেতু যা সম্পাদিত হয় তা দুটি ক্ষমতার মধ্যবর্তী: বান্দার ক্ষমতা অর্জন (কাসব) হিসেবে যার কোনো প্রভাব নেই, আর আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা সৃষ্টি ও প্রভাবের দিক থেকে। কারণ এটি প্রযোজ্য হয় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
"ألفية" أي عدة أبياتها ألف أو ألفان بناء على أنها من كامل الرجز أو مشطوره، ومحل هذه الجملة أيضًا نصب عطفًا على جملة أحمد، والظاهر أن في بمعنى على لأن الاستعانة
ــ
هذه الإعانة الإعانة الحقيقية التي هي المشاركة في الفعل ليسهل أفاده الشيخ يحيى في حواشيه على المرادي. وأصل أستعين أستعون بكسر الواو نقلت كسرتها إلى ما قبلها فقلبت الواو ياء لسكونها وانكسار ما قبلها. وإنما لم يقدم اسم الجلالة على أستعين ليفيد الحصر مع صحة الوزن على تقديمه أيضا للاهتمام بالاستعانة في نحو هذا المقام كما قالوه في: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّك} [العلق: 1] ، على بعض التقادير. قوله: "في نظم قصيدة" قدر نظم لأن الاستعانة إنما تكون على الفعل، وقصيدة لتجري عليه الصفة أعني ألفية لكن في تسميته هذه الألفية قصيدة ما ستعرفه. قوله: "ألف" نقل شيخنا السيد أن بعضهم أخبر بأنها تنقص عن الألف ستة أبيات فلينظر فإن جماعة ممن أثق بهم أخبروني بعد التحري في عدها بأنها ألف. قوله: "أو ألفان" لا يخفى بعده ولا يرد عليه أنه كان عليه حينئذٍ أن يقول ألفينية لأن علامة التثنية والجمع يجب حذفها عند النسبة. قوله: "بناء على أنها إلخ" فيه لف ونشر مرتب. قوله: "من كامل الرجز" وزنه مستفعلن ست مرات. والشطر حذف النصف بأن يكون البيت على مستفعلن ثلاث مرات فعلى أنها من كامله يكون مثلا:
قال محمد هو ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك
بيتا مصرعا أعني مجعولة عروضه موافقة لضربه، ويكون كل بيت شعرا مستقلا. وعلى أنها من مشطوره يكون مثلا قال محمد هو ابن مالك بيتا، وأحمد ربي الله خير مالك بيتا ويكون كل بيتين شعرا مزدوجا مستقلا فعلى كل لا يسمى مثل هذه الأرجوزة قصيدة لأنهم لا يلتزمون بناء قوافيها على حرف واحد ولا على حركة واحدة، فلو جعلنا مجموع الأبيات قصيدة للزم وجود الأكفاء والاجازة والأقواء والأصراف في القصيدة الواحدة وتلك عيوب يجب اجتنابها، وهم لا يعدون ذلك في هذه الأراجيز عيبا ولا نجد نكيرا لذلك من العلماء كذا في الدماميني على الخزرجية. ومنه يعلم ما في قول الشارح قصيدة. ويمكن أن يقال سماها قصيدة من حيث مشابهتها للقصيدة في تعلق بعضها ببعض وفي كونها من بحر واحد فتدبر. قوله: "والظاهر أن في بمعنى على" فتكون لفظة في استعارة تبعية لمعنى على كما في: {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْل} [طه: 71] ومقابل الظاهر قوله أو أنه ضمن إلخ فهو معطوف على قوله والظاهر. وإنما كان الأول ظاهرا لأن الاستخارة قبل الفعل للمتردد والمصنف جازم لشروعه في الفعل ولأن ارتكاب التجوّز في الحرف أخف منه في الفعل لا على قوله إن في بمعنى على إذ ليس ثم غير هذين الوجهين حتى يكون مقابل الظاهر. لا يقال المتبادر من كلامه التضمين النحوي وهو أشراب كلمة معنى أخرى بحيث تؤدي المعنيين فيكون مقابل الظاهر التضمين البياني وهو تقدير حال تناسب الحرف لأنا نمنع كون التضمين النحوي ظاهرا عن البياني للخلاف في كون النحوي قياسيا وإن كان الأكثرون على أنه قياسي كما في ارتشاف أبي حيان دون البياني فاعرفه. قوله:
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
"আলফিয়্যাহ" অর্থাৎ এর শ্লোক বা পঙক্তি সংখ্যা এক হাজার অথবা দুই হাজার, এই ভিত্তিতে যে এটি কামিল রাজায নাকি এর অর্ধেক (মাশতুর) থেকে রচিত। এই বাক্যটির অবস্থানও নসবের অবস্থায়, যা 'আহমাদু' বাক্যের ওপর আতফ (সংযুক্ত)। আর বাহ্যত স্পষ্ট যে, এখানে 'ফি' (في) অব্যয়টি 'আলা' (على) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ সাহায্য প্রার্থনা করা...
—
এই সাহায্য হলো প্রকৃত সাহায্য, যা হলো কোনো কাজকে সহজ করার জন্য তাতে অংশগ্রহণ করা; যেমনটি শায়খ ইয়াহইয়া আল-মুরাদির ওপর তার টীকায় উল্লেখ করেছেন। 'আস্তাইন' (أستعين) এর মূল রূপ হলো 'আস্তাউইন' (أستعون) ওয়াও বর্ণে কাসরা (জের) সহ। ওয়াও-এর কাসরাকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং ওয়াও সাকিন ও তার পূর্ববর্ণে কাসরা থাকার কারণে ওয়াও-কে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। মহান আল্লাহর নামকে 'আস্তাইন' এর আগে আনা হয়নি যাতে সীমাবদ্ধতা (হাসর) বোঝানো যায়, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপের জন্য মহান আল্লাহর নাম আগে আনা ছন্দগতভাবে সঠিক ছিল, যেমনটি তারা "তোমার প্রতিপালকের নামে পাঠ করো" [আল-আলাক: ১] আয়াতের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাখ্যায় বলেছেন। তার উক্তি: "একটি কাসিদাহ রচনার ক্ষেত্রে" এখানে 'রচনা' শব্দটিকে ঊহ্য ধরা হয়েছে কারণ সাহায্য প্রার্থনা কোনো কাজের ওপরই হয়ে থাকে। আর "কাসিদাহ" বলা হয়েছে যাতে এর ওপর 'আলফিয়্যাহ' গুণটি প্রয়োগ করা যায়, তবে এই আলফিয়্যাহকে কাসিদাহ বলা সম্পর্কে আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন। তার উক্তি: "এক হাজার" আমাদের শায়খ আস-সাইয়্যিদ বর্ণনা করেছেন যে, কেউ কেউ জানিয়েছেন এটি এক হাজার থেকে ছয়টি শ্লোক কম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ একদল বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমাকে সূক্ষ্ম গণনার পর জানিয়েছেন যে এটি পূর্ণ এক হাজার। তার উক্তি: "অথবা দুই হাজার" এর সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়া গোপন কিছু নয়। এর ওপর এই আপত্তি আসবে না যে, তবে তো তাকে 'আলফিয়্যাহ' না বলে 'আলফিনিইয়্যাহ' বলা উচিত ছিল, কারণ নিসবত বা সম্বন্ধ করার সময় দ্বিবচন ও বহুবচনের আলামত বিলুপ্ত করা ওয়াজিব। তার উক্তি: "এই ভিত্তিতে যে ইত্যাদি" এতে ক্রমানুসারে লফ ও নাশর রয়েছে। তার উক্তি: "কামিল রাজায থেকে" এর ওজন হলো 'মুস্তাফইলুন' ছয় বার। আর অর্ধেক (শাতর) হলো এর অর্ধেক বিলুপ্ত করা, অর্থাৎ শ্লোকটি 'মুস্তাফইলুন' তিন বার হওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং এটি যদি পূর্ণ রাজায থেকে হয় তবে উদাহরণস্বরূপ হবে:
মুহাম্মদ বললেন, যিনি ইবনে মালিক
… আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক।
এটি একটি অন্ত্যমিলযুক্ত শ্লোক, যার অর্থ এর আরূদ (ছন্দের শেষাংশ) তার যারব (অন্তিম অংশ) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি শ্লোক একটি স্বতন্ত্র কবিতা হিসেবে গণ্য হবে। আর এটি যদি অর্ধেক রাজায (মাশতুর) থেকে হয়, তবে উদাহরণস্বরূপ হবে—'মুহাম্মদ বললেন, যিনি ইবনে মালিক' একটি শ্লোক, এবং 'আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক' আরেকটি শ্লোক। এভাবে প্রতি দুই শ্লোক মিলে একটি স্বতন্ত্র জোড়া কবিতা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই এই জাতীয় উরজুযাহকে 'কাসিদাহ' বলা হয় না, কারণ তারা এর অন্ত্যমিলগুলো (কাফিয়া) এক বর্ণের ওপর বা এক হারাকাতের ওপর রাখা আবশ্যক মনে করেন না। যদি আমরা সমস্ত শ্লোকের সমষ্টিকে একটি কাসিদাহ ধরি, তবে একই কাসিদাহর মধ্যে আকফা, ইজাযাহ, আকওয়া এবং আসরাফ এর মতো দোষগুলো বিদ্যমান থাকা আবশ্যক হয়ে পড়বে, অথচ সেই দোষগুলো পরিহার করা ওয়াজিব। আর এই উরজুযাহগুলোর ক্ষেত্রে তারা এগুলোকে দোষ হিসেবে গণ্য করেন না এবং উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকেও এর কোনো প্রতিবাদ পাওয়া যায় না, যেমনটি আদ-দামামিনি আল-খাযরাজিয়্যাহর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। এ থেকে মূল ব্যাখ্যাকারীর (শারহে) একে 'কাসিদাহ' বলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে এটাও বলা সম্ভব যে, তিনি একে কাসিদাহ বলেছেন কাসিদাহর সাথে এর সাদৃশ্যের কারণে—পরস্পরের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা এবং একই ছন্দের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক থেকে, সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন। তার উক্তি: "আর বাহ্যত স্পষ্ট যে 'ফি' অব্যয়টি 'আলা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে" ফলে 'ফি' শব্দটি 'আলা' এর অর্থের জন্য ইস্তিয়ারা তাবাঈয়্যাহ (রূপক ব্যবহার) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "এবং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ করব" [ত্বহা: ৭১]। 'বাহ্যত স্পষ্ট' এর বিপরীত হলো তার উক্তি 'অথবা তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছেন ইত্যাদি', যা তার উক্তি 'আর বাহ্যত স্পষ্ট' এর ওপর আতফ করা হয়েছে। প্রথমটি বাহ্যত স্পষ্ট হওয়ার কারণ হলো, কাজের পূর্বে ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করা হয় দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে, অথচ গ্রন্থকার তার কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাছাড়া অক্ষরের ক্ষেত্রে রূপক অর্থ গ্রহণ করা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে রূপক অর্থ গ্রহণের চেয়ে সহজ। তবে এটি তার 'ফি' অব্যয়টি 'আলা' এর অর্থে হওয়ার ওপর প্রযোজ্য নয়, কারণ এই দুটি দিক ছাড়া অন্য কোনো দিক সেখানে নেই যা বাহ্যত স্পষ্টের বিপরীতে হতে পারে। এটা বলা যাবে না যে, তার কথা থেকে ব্যাকরণগত তজমিন (একটি শব্দের মাঝে অন্য শব্দের অর্থ প্রদান) উদ্দেশ্য, যা একটি শব্দকে অন্য শব্দের অর্থ প্রদান করা যাতে তা উভয় অর্থই প্রদান করে, এবং বাহ্যত স্পষ্টের বিপরীতে আল-বয়ানি তজমিন উদ্দেশ্য যা অক্ষরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা কল্পনা করা। কারণ ব্যাকরণগত তজমিন বাহ্যত স্পষ্ট হওয়াকে আমরা অস্বীকার করি, যেহেতু ব্যাকরণগত তজমিন কিয়াসি (নিয়মসিদ্ধ) হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, যদিও অধিকাংশের মতে এটি কিয়াসি; যেমনটি আবু হাইয়্যানের ইরতিশাফ-এ রয়েছে, যা বয়ানি তজমিনের ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং বিষয়টি জেনে রাখুন। তার উক্তি:
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
وما تصرف منها إنما جاءت متعدية بعلى قال تعالى: {وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ} [الفرقان: 4] ، {وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُون} [يوسف: 18] أو أنه ضمن أستعين معنى أستخير ونحوه مما يتعدى بفي أي وأستخير الله في ألفية "مقاصد النحو" أي أغراضه وجل مهماته "بها" أي فيها "محوية" أي محوزة
ــ
قوله: "لأن الاستعانة" أي أصل هذه المادة فلا يرد أن أعانه في الآية من تصاريف الإعانة لا الاستعانة. قوله: "إنما جاءت" لم يثن الضمير مراعاة لمعنى ما وهو المتصرفات بعد مراعاة لفظها في تصرف، أو الضمير للاستعانة وخبر ما محذوف لعلمه من هذا. وقوله متعدية أي إلى المستعان عليه لا المستعان لتعديها إليه بنفسها كما هنا وبالباء كما في قوله تعالى: {قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّه} [الأعراف: 128] . قوله: "قال تعالى إلخ" استشهاد على التعدية بعلى لا استدلال على المدعي من الحصر المذكور لأن الآية لا تدل عليه. قوله: "معنى أستخير ونحوه" أحسن منه معنى أرجو ونحوه لما عرفت من أن الاستخارة قبل الفعل للمتردد. قوله: "أي أغراضه" هذا تفسير بحسب اللغة. وقوله وجل مهماته عطف تفسير للمراد أشار به إلى أن مراده بالمقاصد المهمات التي عبر بها في آخر الكتاب وأن في كلامه حذف. مضاف ودفع بذلك التنافي بين ما هنا وقوله آخر الكتاب:
نظما على جل المهمات اشتمل
وقد أجيب بأجوبة غير هذا: منها أن ما هنا في حيز الطلب وما يأتي إخبار بما تيسر له. وأما الجواب بأن المقاصد اسم كتاب للمصنف فباطل من وجوه ذكرها السيوطي في آخر نكته، وصرفوا ما هنا إلى ما يأتي دون العكس لأن ما يأتي هو المطابق للواقع لأنه ترك من المقاصد باب القسم وباب التقاء الساكنين وغيرهما. قوله: "بها أي فيها" من ظرفية المدلول في الدال لأن الألفية اسم للألفاظ المخصوصة الدالة على المعاني المخصوصة والمقاصد تلك المعاني. ويصح أن تكون الباء سببية وصلة محوية محذوفة أي محوية لمتعاطيها بسببها. قوله: "محوية" اسم مفعول أصله محووية اجتمعت الواو الثانية والياء وسبقت إحداهما بالسكون قلبت الواو ياء وأدغمت الياء في الياء وكسرت الواو الأولى التي قبل الياء المدغمة للمناسبة. قوله: "النحو في الاصطلاح إلخ" تعريف الفن أحد الأمور التي يتوقف الشروع فيه على بصيرة عليها. ومنها موضوعه وغايته وفائدته: فموضوع هذا الفن الكلمات العربية من حيث عروض الأحوال لها حال أفرادها كالإعلال والإدغام والحذف والإبدال أو حال تركيبها كحركات الإعراب والبناء. وغايته الاستعانة على فهم كلام الله ورسوله والاحتراز عن الخطأ في الكلام. وفائدته معرفة صواب الكلم من خطئه كذا في شرح الخطيب على المتن. وفي كلام البعض جعل الاحتراز عن الخطأ هو الفائدة وله أيضا وجه. وفي الاصطلاح إما مستقر متعلق بمقدر معرف صفة للنحو أو منكر حال منه على تجويز بعض النحاة مجيء الحال من المبتدأ، وإما لغو متعلق بمعنى النسبة التي اشتملت
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এবং এ থেকে যা কিছু রূপান্তরিত হয়েছে তা 'আলা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং অন্য এক সম্প্রদায় তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে" [আল-ফুরকান: ৪], "তোমরা যা বর্ণনা করছ সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল" [ইউসুফ: ১৮]। অথবা এটি হতে পারে যে, তিনি 'আস্তাইনু' (আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি) শব্দটির মধ্যে 'আস্তাখিরু' (আমি কল্যাণ প্রার্থনা করছি) বা এই জাতীয় শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা 'ফি' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, আমি আলফিয়্যার মধ্যে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। "মাকাসিদুন নাহব" অর্থাৎ এর লক্ষ্যসমূহ এবং এর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি। "বিহা" অর্থাৎ তাতে। "মাহউইয়্যাহ" অর্থাৎ সংগৃহীত বা অন্তর্ভুক্ত।
—
তাঁর উক্তি: "কেননা ইস্তিয়ানা" অর্থাৎ এই মূল ধাতুটি। ফলে এই আপত্তি উত্থাপিত হবে না যে, আয়াতে বর্ণিত 'আ-আ-নাহু' শব্দটি 'ইআ-নাহ' থেকে রূপান্তরিত, 'ইস্তিয়ানা' থেকে নয়। তাঁর উক্তি: "তা এসেছে" - এখানে সর্বনামটিকে দ্বিবচন করা হয়নি 'মা' এর অর্থের প্রতি লক্ষ রেখে যা দ্বারা রূপান্তরসমূহ উদ্দেশ্য, যদিও 'তাসাররুফ' শব্দে এর শব্দের প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে। অথবা সর্বনামটি 'ইস্তিয়ানা'র দিকে ফিরছে এবং 'মা' এর খবরটি উহ্য রয়েছে যা এখান থেকেই বোধগম্য। তাঁর উক্তি "মুতাআদ্দিয়াহ" (অকর্মক) অর্থাৎ যা 'মুস্তাইন আলাইহি' (যে বিষয়ে সাহায্য চাওয়া হয়েছে) তার দিকে, 'মুস্তাইন' (যার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে) তার দিকে নয়; কারণ যার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে তার দিকে এটি সরাসরি ব্যবহৃত হয় যেমনটি এখানে হয়েছে, অথবা 'বা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো" [আল-আরাফ: ১২৮]। তাঁর উক্তি: "মহান আল্লাহ বলেন..." - এটি 'আলা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে এসেছে, দাবিকৃত সীমাবদ্ধতার প্রমাণ হিসেবে নয়, কারণ আয়াতটি তা নির্দেশ করে না। তাঁর উক্তি: "'আস্তাখিরু' বা এ জাতীয় অর্থ" - এর চেয়ে উত্তম হলো 'আরজু' (আমি আশা করি) বা এ জাতীয় অর্থ গ্রহণ করা, কারণ আপনি জানেন যে ইস্তিখারা হলো কোনো কাজের পূর্বে দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য। তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ এর লক্ষ্যসমূহ" - এটি আভিধানিক ব্যাখ্যা। আর তাঁর উক্তি "অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি" হলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যামূলক সংযোজন, যার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে 'মাকাসিদ' দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যা তিনি কিতাবের শেষে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যে একটি সম্বন্ধ পদ উহ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি এখানে এবং কিতাবের শেষে তাঁর উক্তির মধ্যে যে আপাত বৈপরীত্য রয়েছে তা নিরসন করেছেন:
এমন এক কাব্য যা অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এছাড়া আরও কিছু উত্তর দেওয়া হয়েছে: এর মধ্যে একটি হলো, এখানে যা আছে তা প্রার্থনার পর্যায়ে এবং সামনে যা আসছে তা যা সহজসাধ্য হয়েছে তার সংবাদ প্রদান। আর 'মাকাসিদ' গ্রন্থকারের কোনো কিতাবের নাম - এই উত্তরটি বিভিন্ন কারণে অসার, যা সুয়ূতী তাঁর 'নুকাআত' এর শেষে উল্লেখ করেছেন। তাত্ত্বিকগণ এখানকার বক্তব্যকে পরবর্তী বক্তব্যের দিকে ফিরিয়েছেন, এর বিপরীত নয়; কারণ পরবর্তী বক্তব্যটিই বাস্তবসম্মত, যেহেতু তিনি লক্ষ্যসমূহের মধ্য থেকে কসমের অধ্যায়, দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার অধ্যায় এবং অন্যান্য বিষয় বাদ দিয়েছেন। তাঁর উক্তি: "বিহা অর্থাৎ ফিহা" - এটি দলীল বা শব্দের মধ্যে অর্থের আধারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ আলফিয়্যা হলো নির্দিষ্ট অর্থের পরিচায়ক নির্দিষ্ট শব্দাবলির নাম, আর 'মাকাসিদ' হলো সেই অর্থসমূহ। এটিও শুদ্ধ হতে পারে যে 'বা' অব্যয়টি কারণবাচক এবং 'মাহউইয়্যাহ' এর সাথে যুক্ত উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ তা অধ্যয়নকারীর জন্য এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তাঁর উক্তি: "মাহউইয়্যাহ" - এটি একটি কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাফউল), এর মূল রূপ ছিল 'মাহউউইয়্যাহ'। এখানে দ্বিতীয় 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' একত্রিত হয়েছে এবং তাদের একটি সাকিন হওয়ায় 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং 'ইয়া'-কে 'ইয়া'-র মধ্যে সন্ধি করা হয়েছে। আর সন্ধিকৃত 'ইয়া'-র সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য তার পূর্ববর্তী প্রথম 'ওয়াও'-কে কাসরা (জের) দেওয়া হয়েছে। তাঁর উক্তি: "পারিভাষিক অর্থে নাহব ইত্যাদি" - কোনো শাস্ত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান নিয়ে তা শুরু করার জন্য যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন, শাস্ত্রটির সংজ্ঞা তার অন্যতম। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে এর আলোচ্য বিষয়, লক্ষ্য ও উপকারিতা। এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো আরবি শব্দাবলি, একক অবস্থায় সেগুলোর অবস্থার পরিবর্তন (যেমন: ইলাল, ইদগাম, হজফ ও ইবদাল) অথবা বাক্য গঠনে সেগুলোর অবস্থা (যেমন: ই’রাব ও বিনার হরকতসমূহ) এর দিক থেকে। এর লক্ষ্য হলো আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের বাণী বোঝার ক্ষেত্রে সহায়তা লাভ করা এবং কথাবার্তায় ভুল থেকে বেঁচে থাকা। আর এর উপকারিতা হলো সঠিক শব্দ ও ভুল শব্দের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা; যেমনটি মতনের ওপর খতীবের ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে। কারো কারো মতে, ভুল থেকে বেঁচে থাকাকেই উপকারিতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এরও যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। "পারিভাষিক অর্থে" (ফিল ইস্তিলাহ) - এটি হয় 'মুস্তাকার' হয়ে কোনো উহ্য মারেফা শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট যা 'নাহব' শব্দের বিশেষণ, অথবা এটি উহ্য নাকেরা শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে 'হাল' হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা কিছু নাহববিদের মতে মুবতাদা থেকে 'হাল' আসার বৈধতার ওপর ভিত্তি করে। অথবা এটি 'লাগউ' হয়ে সেই সম্পর্কের অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
تنبيه: النحو في الاصطلاح هو العلم المستخرج بالمقاييس المستنبطة من استقراء كلام العرب الموصلة إلى معرفة أحكام أجزائه التي ائتلف منها. قاله صاحب المقرب فعلم
ــ
عليها الجملة. قوله: "العلم" أي القواعد المعلومة أي التي من شأنها أن تعلم لا ما علم بالفعل لأن النحو له حقيقة في نفسه سواء علم أو لم يعلم فهو مجاز على مجاز بحسب اللغة، والعلاقة في الأول التعلق بين المصدر وما اشتق منه، وفي الثاني الأول، وإن كان مجازا فقط بحسب العرف علاقته الأول لأن إطلاقه على القواعد المعلومة بالفعل حقيقة عرفية كإطلاقه على الملكة أي الكيفية الراسخة في النفس التي يقتدر بها على استحضار ما كانت علمته واستحصال ما لم تعلمه. وأما إطلاقه على الإدراك فحقيقة لغة وعرفا. وأما إطلاقه على فروع القواعد أي المسائل الجزئية المستخرجة منها بجعل القاعدة كبرى لصغرى سهلة الحصول هكذا زيد من قام زيد فاعل وكل فاعل مرفوع فزيد من قام زيد مرفوع فمجاز عند الحكماء. حقيقة عرفية عند علماء الشريعة والأدب كما نقله البعض عن سري الدين. والمجاز على المجاز جائز عند البيانيين والأصوليين إلا الآمدي كما في البحر المحيط في الأصول للزركشي فنقل شيخنا السيد المنع عن الأصوليين فيه نظر. والباء في قوله بالمقاييس للتصوير. وما ذكرناه من أن العلم هنا بمعنى القواعد والباء للتصوير هو اللائق هنا لا الإدراك ولا الملكة سواء جعلنا الباء للسببية متعلقة بالمستخرج إذ لا يستخرجان بالمقاييس المذكورة، أو جعلناها للتصوير إذ لا يتصوران بها ولا الفروع وإن قال به البعض لأنه يلزم عليه كما قاله شيخنا أن لا تسمى تلك القواعد نحوا وفيه ما فيه بل الظاهر أنها هي النحو فتأمل. وخرج بالمستخرج العلم المنصوص في الكتاب أو السنة.
قوله: "بالمقاييس" بغير همز لأصالة الياء الأولى كما في معايش جمع مقياس وهو ما يقاس عليه الشيء ويوافق به من القواعد الكلية. قوله: "من استقراء كلام العرب" من إضافة الصفة إلى الموصوف أي من كلام العرب المستقرأ أي من أحوال أجزائه ففي العبارة حذف مضافين وإن أوّلت الكلام بالكلمات كان فيها حذف مضاف واحد وخرج بهذا القيد المستخرج من الكتاب والسنة والطب ونحوه. قوله: "الموصلة" صفة للمقاييس وتوصيلها لمن بعد الصدر الأول كما أن استنباطها من الصدر الأول. فاندفع ما يقال: استنباط المقاييس من أحوال أجزاء كلامهم يقتضي سبق معرفة تلك الأحوال على استنباط المقاييس وتوصيلها إلى معرفة تلك الأحوال يقتضي تأخرها عنه وفي هذا تناقض وهو ظاهر ودور لتوقف المعرفة على المقاييس المتوقفة على المعرفة مع أن هذا إنما يرد إذا جعل الضمير في قوله أجزائه راجعا إلى عين كلام العرب، أما إذا جعل راجعا إلى جنس كلامهم لأن أحكام ما تكلموا به عرفت بنطقهم فلا تناقض ولا دور أصلا لأن السابق معرفة غير المتأخر معرفته حينئذٍ. وحاصل الدفع الأول اختلاف المعرفة باختلاف العارف. وحاصل الثاني اختلافها باختلاف المعروف وخرج بهذا القيد علم المعاني والبيان ونحوهما. قوله: "أحكام أجزائه" المراد بالأحكام ما يشمل الأحكام التصريفية والأحكام النحوية. قوله: "التي ائتلف منها" صفة للأجزاء والضمير في ائتلف يرجع إلى الكلام فالصلة جرت على غير ما هي له، ولم يبرز
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
সতর্কতা: পরিভাষায় নাহু হলো সেই জ্ঞান যা আরবদের বক্তব্যের আরোহ পদ্ধতি থেকে উদ্ভূত মানদণ্ডগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়, যা তার গঠনকারী অংশসমূহের বিধানাবলি জানার পথে নিয়ে যায়। 'আল-মুকাররিব' গ্রন্থের লেখক এটি বলেছেন, ফলে জানা গেল
—
বাক্যটি তার ওপর ভিত্তি করে। তার কথা: "জ্ঞান" অর্থ হলো সেই পরিচিত নিয়মাবলি যা জানার যোগ্য, যা বাস্তবে জানা হয়েছে শুধু তা নয়; কারণ নাহু শাস্ত্রের নিজস্ব একটি সত্তা বা বাস্তবতা রয়েছে, তা কেউ জানুক বা না জানুক। সুতরাং ভাষার দিক থেকে এটি রূপকের ওপর রূপক। প্রথম ক্ষেত্রে সম্পর্ক হলো মূল ধাতু (মাসদার) এবং তা থেকে যা নির্গত হয়েছে তার মধ্যকার সম্পর্ক; আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সম্পর্ক হলো প্রথমটি। যদিও পরিভাষার দিক থেকে এটি কেবল রূপক হয়, তবে এর সম্পর্ক হলো প্রথমটি। কারণ বাস্তবে জানা নিয়মাবলির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ পারিভাষিক সত্য, যেমন এটি 'মালাকা' বা সামর্থ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। 'মালাকা' হলো আত্মার গভীরে প্রোথিত এমন এক গুণ যার মাধ্যমে মানুষ যা শিখেছে তা উপস্থিত করতে এবং যা শেখেনি তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। আর উপলব্ধির অর্থে এর প্রয়োগ আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় দিক থেকেই সত্য। আর নিয়মাবলির শাখা-প্রশাখা অর্থাৎ সেই আংশিক বিষয়াবলি যা নিয়মাবলী থেকে বের করা হয়েছে—যেখানে মূল নিয়মকে প্রধান ভিত্তি (কুবরা) এবং সহজলভ্য বিষয়কে গৌণ ভিত্তি (সুগরা) হিসেবে ধরা হয়, যেমন: 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে' বাক্যে যায়েদ হলো কর্তা (ফায়েল), আর প্রত্যেক কর্তাই পেশযুক্ত (মারফু), সুতরাং 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে' বাক্যে যায়েদ মারফু—এক্ষেত্রে একে নাহু বলা দার্শনিকদের মতে রূপক। আর শরিয়ত ও সাহিত্যিকদের মতে এটি পারিভাষিক সত্য, যেমনটি কেউ কেউ সানিউদ্দীন থেকে বর্ণনা করেছেন। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও উসুলবিদদের মতে রূপকের ওপর রূপক জায়েয, তবে আমেদি ভিন্ন মত পোষণ করেছেন যেমনটি যারকাশির 'আল-বাহরুল মুহিত ফিল উসুল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আমাদের শায়খ আস-সায়্যিদ যে উসুলবিদদের পক্ষ থেকে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। 'মানদণ্ডসমূহ দ্বারা' বাক্যে 'দ্বারা' অংশটি চিত্রায়নের জন্য। আমরা যা উল্লেখ করেছি যে, এখানে জ্ঞান মানে নিয়মাবলি এবং 'দ্বারা' চিত্রায়নের জন্য, তা-ই এখানে উপযুক্ত; উপলব্ধি বা সামর্থ্য অর্থ এখানে সংগত নয়। চাই আমরা 'দ্বারা' শব্দটিকে কারণবাচক ধরি যা 'উদ্ভূত' এর সাথে সংশ্লিষ্ট—যেহেতু উপলব্ধি বা সামর্থ্য উক্ত মানদণ্ডগুলোর মাধ্যমে আহরণ করা যায় না—অথবা একে চিত্রায়নের জন্য ধরি, যেহেতু এগুলো দ্বারা সেগুলোর চিত্রায়ন সম্ভব নয়। শাখা-প্রশাখার অর্থও এখানে সংগত নয়, যদিও কেউ কেউ তা বলেছেন। কারণ আমাদের শায়খ যেমনটি বলেছেন, এর ফলে সেই মূল নিয়মগুলোকে নাহু বলা যাবে না, অথচ এতে আপত্তির অবকাশ আছে। বরং স্পষ্টত সেগুলোই হলো নাহু, সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখুন। আর 'উদ্ভূত' বলার মাধ্যমে কুরআন বা সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত জ্ঞান বাদ পড়ে গেছে।
তার কথা: "মানদণ্ডসমূহ দ্বারা" শব্দটি হামযা ছাড়া, কারণ এর প্রথম 'ইয়া' অক্ষরটি মূলগত, যেমনটি 'মায়ায়িশ' শব্দে হয়। এটি 'মিকইয়াস' এর বহুবচন, যার অর্থ এমন বস্তু যার ওপর ভিত্তি করে কোনো কিছু পরিমাপ করা হয় এবং যার সাথে সামগ্রিক নিয়মাবলির মিল থাকে। তার কথা: "আরবদের বক্তব্যের আরোহ পদ্ধতি থেকে"—এটি বিশেষ্য ও বিশেষণের সম্বন্ধ, অর্থাৎ আরবদের বক্তব্য থেকে যা আরোহন করা হয়েছে, তথা তার অংশসমূহের অবস্থা থেকে। সুতরাং এখানে দুটি উহ্য শব্দ রয়েছে। আর যদি 'বক্তব্য' শব্দটিকে 'শব্দরাজি' অর্থে ধরা হয়, তবে একটি উহ্য শব্দ থাকবে। এই শর্তের মাধ্যমে কুরআন, সুন্নাহ, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং এই জাতীয় বিষয় থেকে সংগৃহীত জ্ঞান বাদ পড়ে গেল।
তার কথা: "পৌঁছিয়ে দেয় এমন"—এটি মানদণ্ডগুলোর বিশেষণ। প্রথম যুগের পরবর্তী লোকদের কাছে এটি পৌঁছানোর কাজ করে, ঠিক যেমন প্রথম যুগের লোকেরা তা উদ্ভাবন করেছিলেন। এর মাধ্যমে সেই আপত্তির অবসান হলো যেখানে বলা হয়: আরবদের বক্তব্যের অংশবিশেষের অবস্থা থেকে মানদণ্ডগুলো উদ্ভাবন করার অর্থ হলো সেই অবস্থাগুলো সম্পর্কে জ্ঞান মানদণ্ড উদ্ভাবনের আগে থাকা জরুরি। আবার মানদণ্ডগুলো সেই অবস্থাগুলো জানার পথে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান পরে অর্জিত হওয়া। এতে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য ও চক্রক ত্রুটি দেখা দেয়, কারণ জ্ঞান নির্ভর করছে মানদণ্ডের ওপর, আর মানদণ্ড নির্ভর করছে জ্ঞানের ওপর। তবে এই আপত্তি তখনই আসবে যদি 'তার অংশসমূহ' বলতে আরবদের বক্তব্যের মূল রূপকে বোঝানো হয়। কিন্তু যদি তাদের বক্তব্যের ধরণকে বোঝানো হয়, তবে কোনো সমস্যা নেই। কারণ তারা যা বলেছেন তার বিধান তাদের উচ্চারণ থেকেই জানা গেছে। ফলে এখানে কোনো বৈপরীত্য বা চক্রক ত্রুটি নেই, কারণ সেক্ষেত্রে আগের জ্ঞান আর পরের জ্ঞান এক নয়। প্রথম উত্তরের সারকথা হলো, ব্যক্তির ভিন্নতার কারণে জ্ঞানের ভিন্নতা হয়। আর দ্বিতীয় উত্তরের সারকথা হলো, জ্ঞাত বিষয়ের ভিন্নতার কারণে জ্ঞানের ভিন্নতা হয়। এই শর্তের মাধ্যমে ইলমে মা'আনি, বায়ান এবং এই জাতীয় শাস্ত্রসমূহ বাদ পড়ে গেল। তার কথা: "তার অংশসমূহের বিধানাবলি"—বিধান বলতে এখানে শব্দতাত্ত্বিক বিধান এবং বাক্যতাত্ত্বিক বিধান উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। তার কথা: "যা থেকে তা গঠিত হয়েছে"—এটি অংশগুলোর বিশেষণ। 'গঠিত হয়েছে' ক্রিয়াটির সর্বনাম 'বক্তব্য'-এর দিকে ফিরবে। এখানে সম্বন্ধটি অন্য কিছুর দিকে করা হয়েছে এবং তা প্রকাশ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
أن المراد هنا بالنحو ما يرادف قولنا علم العربية لا قسيم الصرف، وهو مصدر أريد به اسم المفعول أي المنحو كالخلق بمعنى المخلوق، وخصته غلبة الاستعمال بهذا العلم وإن كان علم منحوا أي مقصودًا كما خصت الفقه بعلم الأحكام الشرعية الفرعية وإن كان كل علم فقها أي مفقوها أي مفهومًا. وجاء في اللغة لمعان خمسة: القصد يقال نحوت نحوك أي قصدت قصدك، والمثل نحو مررت برجل نحوك أي مثلك، والجهة نحو توجهت نحو البيت أي جهة البيت، والمقدار نحو له عندي نحو ألف أي مقدار ألف، والقسم نحو هذا على أربعة أنحاء أي أقسام. وسبب تسمية هذا العلم بذلك ما روي أن عليًّا رضي الله
ــ
الضمير جريا على مذهب الكوفيين من جواز عدم إبرازه عند أمن اللبس. وقال البعض نقل الراعي في باب المبتدأ والخبر كما أفاده البهوتي أن البصريين فصلوا في وجوب إبراز الضمير بين ما إذا كان المتحمل للضمير وصفا أو فعلا فأوجبوه في الأول دون الثاني. ا. هـ. وهو مخالف لما في الهمع والتصريح من أن الفعل كالوصف في الخلاف المذكور.
قوله: "فعلم" أي من تعريف النحو بما يشمل التصريف. قوله: "ما يرادف قولنا علم العربية" أي المراد به ما يشمل النحو والصرف فقط لتخصيص غلبة الاستعمال علم العربية بهما وإن أطلق على ما يشمل اثني عشر علما: اللغة والصرف والاشتقاق والنحو والمعاني والبيان والعروض والقافية وقرض الشعر والخط وإنشاء الخطب والرسائل والمحاضرات ومنه التواريخ، وجعلوا البديع ذيلا لا قسما برأسه. وإضافة علم إلى العربية من إضافة العام إلى الخاص. قوله: "لا قسيم الصرف" هذا اصطلاح القدماء واصطلاح المتأخرين تخصيصه بفن الإعراب والبناء وجعله قسيم الصرف، وعليه فيعرّف بأنه علم يبحث فيه عن أحوال أواخر الكلم إعرابا وبناء وموضوعة الكلم العربية من حيث ما يعرض لها من الإعراب والبناء. قوله: "وهو مصدر إلخ" قال البهوتي انظر هل يجوز استعمال اسم المصدر بمعنى اسم المفعول كما استعملوا المصدر كذلك أولا. قال البعض لا مانع من الجواز فكان عليه أن يقول هل وقع استعماله كذلك أولا. ا. هـ. وأقول وقع في قوله تعالى: {هَذَا عَطَاؤُنَا} [ص: 39] كما يفيده كلام البيضاوي. قوله: "وخصته غلبة الاستعمال بهذا العلم" أي صار علما بالغلبة عليه والباء داخلة على المقصور عليه. قوله: "وجاء في اللغة لمعان خمسة" زاد شيخ الإسلام سادسا وهو البعض كأكلت نحو السمكة. وذكر أن أظهر معانيه وأكثرها تداولا القصد ولهذا صدر به الشارح، قيل لما كان اللغوي متعددا أخره عن الاصطلاحي وإن كان الأنسب تقديم اللغوي. قوله: "وسبب تسمية هذا العلم بذلك" أي سبب إطلاقه عليه بالغلبة لا بالوضع فلا ينافي ما مر. قوله: "الديلي" ضبطه بعضهم بكسر الدال وسكون التحتية وبعضهم بضم الدال وفتح الهمزة. واسمه ظالم بن عمرو. قال في التصريح: وقد تظافرت الروايات على أن أول من وضع النحو أبو الأسود وأنه أخذه أولا عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وكان أبو الأسود كوفي الدار بصري المنشأ ومات وقد أسن. واتفقوا على أن أول من وضع التصريف معاذ بن مسلم الهراء بفتح الهاء وتشديد الراء نسبة إلى بيع الثياب الهروية. قوله:
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এখানে ‘নাহব’ (ব্যাকরণ) বলতে আমাদের ‘আরবি ভাষা শিক্ষা’ (ইলমুল আরাবিয়্যাহ) কথাটির সমার্থক উদ্দেশ্য, এটি ‘সরফ’ (শব্দরূপ)-এর প্রতিপক্ষ নয়। এটি এমন একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) যা ইসমুল মাফউল (কর্মপদ) বা ‘মানহু’ (উদ্দিষ্ট) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন ‘খালক’ (সৃষ্টি) শব্দ দ্বারা ‘মাখলুক’ (সৃষ্ট বস্তু) বোঝানো হয়। ব্যবহারের আধিক্যের কারণে একে এই বিশেষ শাস্ত্রের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদিও আভিধানিক অর্থে এটি একটি ‘মানহু’ বা অভীষ্ট বিষয়। যেমন ‘ফিকহ’ শব্দটিকে ‘শরয়ী ফিকহি আহকাম’ বা শাখা সংক্রান্ত বিধিবিধানের শাস্ত্রের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদিও আভিধানিক অর্থে প্রতিটি শাস্ত্রই ‘ফিকহ’ অর্থাৎ মফকুহ বা উপলব্ধি করা বিষয়। অভিধানে এর পাঁচটি অর্থ এসেছে: ইচ্ছা (কাসদ), যেমন বলা হয় ‘নাহাউতু নাহওয়াকা’ অর্থাৎ আমি তোমার ইচ্ছা করেছি; সদৃশ (মিসল), যেমন ‘মারারতু বি-রাজুলিন নাহওয়াকা’ অর্থাৎ আমি তোমার মতো একজন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি; দিক (জিহাহ), যেমন ‘তাওয়াজ্জাহতু নাহওয়াল বাইতি’ অর্থাৎ আমি ঘরের দিকে মুখ করেছি; পরিমাণ (মিকদার), যেমন ‘লাহু ইনদি নাহওয়ু আলফিন’ অর্থাৎ আমার কাছে তার প্রায় এক হাজার পরিমাণ পাওনা আছে; এবং প্রকার (কিসম), যেমন ‘হাজা আলা আরবাআতি আনহা’ অর্থাৎ এটি চার প্রকার। এই শাস্ত্রের এমন নামকরণের কারণ হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, আলী রাদিয়াল্লাহু...
—
সর্বনামটি কুফীদের মাযহাব অনুযায়ী আনা হয়েছে যাতে অস্পষ্টতার ভয় না থাকলে তা প্রকাশ না করা জায়েজ। কেউ কেউ বলেছেন, রাঈ ‘মুবতাদা ও খবর’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং বাহুতীও উল্লেখ করেছেন যে, বসরীরা সর্বনাম প্রকাশ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে সর্বনাম বহনকারী শব্দটি ‘ওয়াসফ’ (গুণবাচক শব্দ) নাকি ‘ফে’ল’ (ক্রিয়া) তার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা প্রথমটির ক্ষেত্রে প্রকাশ করা ওয়াজিব বলেছেন কিন্তু দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নয়। সমাপ্ত। তবে এটি ‘হাম’ এবং ‘তাসরিহ’ গ্রন্থে যা আছে তার বিরোধী যে, উল্লিখিত বিরোধের ক্ষেত্রে ক্রিয়া গুণবাচক শব্দের মতোই।
তাঁর বক্তব্য: "ফলে জানা গেল" অর্থাৎ নাহবের সংজ্ঞা থেকে যা তাসরিফকেও (শব্দরূপ) অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর বক্তব্য: "যা আমাদের 'ইলমুল আরাবিয়্যাহ' কথাটির সমার্থক" অর্থাৎ এর দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য যা কেবল নাহব এবং সরফকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ ব্যবহারের আধিক্যের কারণে 'ইলমুল আরাবিয়্যাহ' শব্দটিকে এই দুটির জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদিও এটি বারোটি শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে: লুগাহ (অভিধান), সরফ (শব্দরূপ), ইশতিকাক (শব্দমূল তত্ত্ব), নাহব (ব্যাকরণ), মাআনী, বয়ান, আরূয (ছন্দতত্ত্ব), কাফিয়া (অন্ত্যমিল), কারযুল শির (কবিতা রচনা), খত (হস্তলিপি), ইনশা আল-খুতাব ওয়া আল-রাসায়েল (ভাষণ ও পত্র রচনা) এবং মুহাফারাত (উপস্থাপনা) যার অন্তর্ভুক্ত হলো ইতিহাস। আর তাঁরা 'বাদী' শাস্ত্রকে একটি স্বতন্ত্র শাখা না করে পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য করেছেন। আর 'ইলম' শব্দকে 'আরাবিয়্যাহ' এর দিকে ইযাফত করা হয়েছে সাধারণ বিষয়কে বিশেষ বিষয়ের দিকে ইযাফত করার নিয়মে। তাঁর বক্তব্য: "সরফের প্রতিপক্ষ নয়" এটি প্রাচীনদের পরিভাষা; আর পরবর্তীদের পরিভাষা হলো একে ই'রাব (কারক বিভক্তি) এবং বিনা (অপরিবর্তনীয় অবস্থা) শাস্ত্রের সাথে নির্দিষ্ট করা এবং একে সরফের প্রতিপক্ষ বানানো। সেই অনুযায়ী এর সংজ্ঞা হলো এমন শাস্ত্র যেখানে শব্দের শেষাবস্থার ই'রাব ও বিনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং এর আলোচ্য বিষয় হলো আরবি শব্দসমূহ—সেগুলোতে যে ই'রাব ও বিনা ঘটে সেই দিক থেকে। তাঁর বক্তব্য: "এটি একটি মাসদার ইত্যাদি" বাহুতী বলেছেন, লক্ষ্য করুন ইসমুল মাসদারকে ইসমুল মাফউলের অর্থে ব্যবহার করা জায়েজ কি না যেমনটি তারা মাসদারকে সেভাবে ব্যবহার করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, তাই তাঁর বলা উচিত ছিল এর এমন ব্যবহার ঘটেছে কি না। সমাপ্ত। আমি বলছি, এটি মহান আল্লাহর বাণীতে ঘটেছে: {এটি আমাদের দান} [সূরা সদ: ৩৯], যেমনটি বায়যাবীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। তাঁর বক্তব্য: "ব্যবহারের আধিক্য একে এই শাস্ত্রের সাথে নির্দিষ্ট করেছে" অর্থাৎ ব্যবহারের আধিক্যের কারণে এটি এই শাস্ত্রের পারিভাষিক নামে পরিণত হয়েছে এবং 'বা' অক্ষরটি যার ওপর সীমাবদ্ধ করা হয়েছে তার ওপর দাখিল হয়েছে। তাঁর বক্তব্য: "অভিধানে পাঁচটি অর্থ এসেছে" শায়খুল ইসলাম ষষ্ঠ একটি অর্থ যোগ করেছেন, আর তা হলো 'কিছু অংশ' (বা’য), যেমন 'আমি মাছের কিছু অংশ খেয়েছি'। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর সবচেয়ে স্পষ্ট এবং প্রচলিত অর্থ হলো 'ইচ্ছা' (কাসদ), এই কারণেই ব্যাখ্যাকারক এটি দিয়ে শুরু করেছেন। বলা হয়েছে, আভিধানিক অর্থ একাধিক হওয়ায় তিনি একে পারিভাষিক অর্থের পরে এনেছেন, যদিও আভিধানিক অর্থ আগে আনা অধিক সংগত ছিল। তাঁর বক্তব্য: "এই শাস্ত্রের এমন নামকরণের কারণ" অর্থাৎ ব্যবহারের আধিক্যের কারণে একে এই নামে ডাকার কারণ, এটি 'ওয়াদ' বা মৌলিক নামকরণের কারণ নয়; সুতরাং এটি পূর্ববর্তী কথার পরিপন্থী নয়। তাঁর বক্তব্য: "আদ-দাইয়্যালী" কেউ কেউ একে দাল-এর নিচে যের এবং ইয়া-এর সুকুন দিয়ে পড়েছেন, আবার কেউ দাল-এর উপর পেশ এবং হামযার উপর যবর দিয়ে পড়েছেন। তাঁর নাম যালিম বিন আমর। 'তাসরিহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: বর্ণনাগুলো একমত যে, সর্বপ্রথম নাহব শাস্ত্র প্রবর্তন করেন আবু আসওয়াদ এবং তিনি এটি প্রথমে আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে গ্রহণ করেছেন। আবু আসওয়াদ কূফায় বসবাস করতেন কিন্তু বসরায় লালিত-পালিত হয়েছেন এবং বার্ধক্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সবাই একমত যে, সর্বপ্রথম তাসরিফ (শব্দরূপ) শাস্ত্র প্রবর্তন করেন মুয়ায বিন মুসলিম আল-হাররা (হা-এর উপর যবর এবং রা-এর উপর তাশদীদসহ), এটি 'হিরাবিয়্যাহ' কাপড় বিক্রির সাথে সম্পর্কিত নিসবত। তাঁর বক্তব্য:
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تقرب الأقصى بلفظ موجز
… وتبسط البذل بوعد منجز
ــ
تعالى عنه لما أشار على أبي الأسود الديلي أن يضعه وعلمه الاسم والفعل، والحرف وشيئًا من الإعراب قال: انح هذا النحو يا أبا الأسود "تقرب" هذه الألفية للأفهام "الأقصى" أي الأبعد. من المعاني "بلفظ موجز" الباء بمعنى مع أي تفعل ذلك مع وجازة اللفظ أي اختصاره "وتبسط" أي توسع "البذل" بالمعجمة أي العطاء وهو إشارة إلى ما تمنحه لقارئها
ــ
"وشيئا من الإعراب" أي حيث قال الأشياء ظاهر ومضمر وغيرهما وهو الذي يتفاوت في معرفته. قال السيرافي يعني اسم الإشارة. قوله: "انح هذا النحو يا أبا الأسود" روي أن مما ذكره أبو الأسود حكم إن وأن وكأن وليت ولعل ولم يذكر لكنّ فأمره الإمام كرم الله وجهه أن يزيدها فزادها. قوله: "تقرب إلخ" إسناد التقريب إليها مجاز عقلي من باب الإسناد إلى الآلة إذ الفاعل في الحقيقة الله تعالى وفي الظاهر المصنف. قوله: "أي الأبعد من المعاني" تفسير بحسب ظاهر اللفظ فلا ينافي أن المناسب جعل أفعل التفضيل هنا على غير بابه ليشمل بالمطابقة الأبعد والبعيد لأن البعد مقول بالتشكيك. وما قيل من أنه على ظاهره وتقريب البعد يفهم بالأولى ضعف بأنه لا يلزم ذلك لأنها قد تهتم بالأبعد لشدة خفائه ولا تقرب البعد. قوله: "الباء بمعنى مع" لم يجعلها سببية لأن المعهود سببا للتقريب البسط لا الإيجاز. قال سم: ويصح كونها للسببية ويكون فيه غاية المدح للمصنف حيث اتصف بالقدرة على توضيح المعاني بالألفاظ الوجيزة التي من شأنها تبعيدها. ولا إشكال في كون الإيجاز قد يكون سببا للإيضاح إذا بولغ في تهذيب الوجيز وتنقيحه وترتيبه. ا. هـ. وقد يقال السبب حينئذٍ هذه المبالغة لا الإيجاز.
قوله: "مع وجازة اللفظ" دفع بتقدير المضاف اتحاد المصاحب والمصاحب وعليه ففي الكلام وضع الظاهر موضع المضمر والأصل مع وجازتها. وأنت خبير بأن الاتحاد إنما يأتي إذا جعلت المعية حالا من فاعل تقرب ويصح أن تكون من الأقصى فيكون أحد المتصاحبين المعنى والآخر اللفظ فلا اتحاد. وما نقله البعض هنا عن ابن قاسم فيه ما فيه فانظره. قوله: "أي اختصاره" ظاهره ترادف الإيجاز والاختصار وهو ما عليه جماعة. وفي المصباح أن الإيجاز تقليل اللفظ مع عذوبته وسهولة معناه فهو أخص من الاختصار على هذا. قوله: "وتبسط البذل" فسره الشارح بتوسع العطاء أي الإعطاء يعني تكثر إفادة المعاني، ففيه استعارة إما تمثيلية بأن يكون شبه حال الألفية في كثرة إفادتها المعاني عند سماعها بحال الكريم في كثرة إعطائه ووفائه بما يعد، أو مصرحة حيث شبه إفادة المعاني ببذل المال والوعد ترشيح، أو مكنية حيث شبه الألفية بكريم والبذل تخييل والوعد ترشيح. قوله: "وهو" أي البذل إشارة إلى ما تمنحه أي إلى منح ما تمنحه ليوافق تفسيره أولا البذل بالعطاء أي الإعطاء. ويحتمل أن هذا إشارة إلى أن المراد بالبذل المبذول وأن تفسيره أولا بالعطاء بالنظر إلى معناه الأصلي. وقوله من كثرة الفوائد أي من الفوائد الكثيرة. قوله: "بوعد منجز" الباء بمعنى مع أو سببية. فإن قلت الإعطاء بدون وعد أبلغ في المدح فلم قيد بالوعد؟ قلت كأنه لأنه الواقع لأن فهم المعاني منها لا يحصل بمجرد وجودها بل لا بد من
এটি দূরবর্তী (গূঢ়) বিষয়সমূহকে সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে নিকটবর্তী করে
… এবং দান বা প্রদানের বিষয়কে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রশস্ত করে।
—
আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—যখন তিনি আবু আল-আসওয়াদ আদ-দিলীকে এটি (ব্যাকরণ) সংকলনের নির্দেশ দিলেন এবং তাকে বিশেষ্য, ক্রিয়া, অব্যয় এবং ইরাবের (কারক বিভক্তি) কিছু অংশ শেখালেন, তখন তিনি বললেন: "হে আবু আল-আসওয়াদ! এই পথ অনুসরণ করো।" "নিকটবর্তী করে" অর্থাৎ এই আলফিয়্যাহ বুদ্ধিবৃত্তির জন্য নিকটবর্তী করে। "সবচেয়ে দূরবর্তী" অর্থাৎ অর্থের দিক থেকে অত্যন্ত গূঢ় বিষয়সমূহকে। "সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে" এখানে 'বা' অব্যয়টি 'সহ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ এটি শব্দের সংক্ষিপ্ততার সাথেই এই কাজটি সম্পাদন করে। "এবং প্রশস্ত করে" অর্থাৎ প্রসারিত করে। "দান" অর্থ প্রদান করা; এটি তার পাঠকদের যা প্রদান করা হয় সেদিকে ইঙ্গিত।
—
"ইরাবের কিছু অংশ" অর্থাৎ যেখানে তিনি প্রকাশ্য, প্রচ্ছন্ন এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন, যার জ্ঞান লাভে মানুষের মধ্যে তারতম্য ঘটে। আস-সিরাফী বলেন, এর অর্থ হলো নির্দেশক সর্বনাম। তাঁর উক্তি: "হে আবু আল-আসওয়াদ! এই পথ অনুসরণ করো"—বর্ণিত আছে যে, আবু আল-আসওয়াদ যা উল্লেখ করেছিলেন তার মধ্যে ইন্না, আন্না, কা-আন্না, লাইতা এবং লা-আল্লা-এর বিধান ছিল, কিন্তু তিনি লাকিন্না উল্লেখ করেননি। তখন ইমাম (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন) তাকে সেটি যোগ করার নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তা যোগ করলেন। তাঁর উক্তি: "নিকটবর্তী করে ইত্যাদি"—এখানে নিকটবর্তী করার সম্বন্ধটি আলফিয়্যাহর দিকে করা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (মাজাযে আক্লী), যা মূলত উপকরণের দিকে সম্বন্ধ করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ প্রকৃতগতভাবে কর্তা হলেন মহান আল্লাহ তাআলা এবং বাহ্যিকভাবে হলেন গ্রন্থকার। তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ অর্থের দিক থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী"—এটি শব্দের বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা। সুতরাং এটি এই বিষয়ের পরিপন্থী নয় যে, এখানে আধিক্যবোধক বিশেষণকে (আফআলুত তাফযীল) তার মূল ব্যাকরণগত নিয়মের বাইরে রাখা অধিক উপযোগী, যাতে তা দূরবর্তী এবং অতি দূরবর্তী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। কারণ দূরত্বের বিষয়টি তারতম্যযুক্ত। আর যা বলা হয়েছে যে, এটি তার বাহ্যিক অর্থেই থাকবে এবং অতি দূরবর্তীকে নিকটবর্তী করা থেকে সাধারণ দূরবর্তীকে নিকটবর্তী করা স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়—তা দুর্বল বলে গণ্য। কারণ এমনটি হওয়া আবশ্যক নয়; কেননা গ্রন্থকার তার অতি গোপনীয়তার কারণে অতি দূরবর্তী বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে পারেন, অথচ সাধারণ দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী নাও করতে পারেন। তাঁর উক্তি: "'বা' অব্যয়টি 'সহ' অর্থে"—তিনি এটিকে কারণবাচক করেননি, কারণ পরিচিত নিয়ম অনুযায়ী নিকটবর্তী করার কারণ হলো বিস্তারিত বর্ণনা, সংক্ষিপ্তকরণ নয়। ইবনুল কাসিম বলেন: এটি কারণবাচক হওয়াও সঠিক হতে পারে, এবং এর মাধ্যমে গ্রন্থকারের চূড়ান্ত প্রশংসা প্রকাশ পাবে। কেননা তিনি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে গূঢ় অর্থসমূহ স্পষ্ট করার সক্ষমতা অর্জন করেছেন, অথচ সংক্ষিপ্ত শব্দের স্বভাব হলো অর্থকে জটিল বা দূরবর্তী করে তোলা। সংক্ষিপ্তকরণ স্পষ্ট করার কারণ হতে পারে—এতে কোনো সংশয় নেই, যদি সেই সংক্ষিপ্ত বয়ানকে অত্যন্ত মার্জিত, সুশৃঙ্খল এবং বিন্যস্ত করা হয়। সমাপ্ত। তবে এটিও বলা যেতে পারে যে, তখন এই চরম সতর্কতা ও বিন্যাসই কারণ হবে, কেবল সংক্ষিপ্তকরণ নয়।
তাঁর উক্তি: "শব্দের সংক্ষিপ্ততার সাথে"—এখানে একটি ঊহ্য শব্দ ধরে নিয়ে সঙ্গী ও সঙ্গদাতার অভিন্নতাকে দূর করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, এই বক্তব্যে সর্বনামের পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করা হয়েছে, যার মূল রূপ ছিল "তার সংক্ষিপ্ততার সাথে"। আর আপনি অবগত আছেন যে, অভিন্নতা তখনই আসে যখন 'সহাবস্থানকে' নিকটবর্তী করে ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা (হাল) হিসেবে ধরা হয়। এটি 'দূরবর্তী' শব্দ থেকেও অবস্থা হওয়া সম্ভব, ফলে সহাবস্থানকারী দুটির একটি হবে অর্থ এবং অন্যটি হবে শব্দ; এমতাবস্থায় কোনো অভিন্নতা থাকে না। আর ইবন কাসিম থেকে কেউ কেউ এখানে যা বর্ণনা করেছেন তাতে ত্রুটি রয়েছে, সুতরাং তা ভেবে দেখুন। তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ তার সংক্ষিপ্তকরণ"—এর বাহ্যিক দিক হলো 'ইজায' ও 'ইখতিসার' সমার্থক, যা একদল আলিমের অভিমত। তবে আল-মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ইজায হলো শব্দের মিষ্টতা ও অর্থের সহজবোধ্যতার সাথে শব্দের সংক্ষেপণ; এই মতানুসারে এটি ইখতিসার অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট। তাঁর উক্তি: "এবং দানের ভাণ্ডারকে প্রশস্ত করে"—ব্যাখ্যাকার একে ব্যাখা করেছেন প্রদানের প্রশস্ততা হিসেবে, অর্থাৎ এটি প্রচুর অর্থ প্রদান করে। এখানে রূপক অলংকার (ইস্তিআরাহ) রয়েছে; হয় এটি উপমামূলক, যেখানে আলফিয়্যাহ শ্রবণের সময় এর অর্থ প্রদানের আধিক্যকে একজন দাতা ব্যক্তির দান ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার আধিক্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে; অথবা এটি মুসাররাহাহ, যেখানে অর্থ প্রদানকে অর্থ-সম্পদ ব্যয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'প্রতিশ্রুতি' শব্দটি সেই রূপককে শক্তিশালী করেছে; অথবা এটি মাকনিয়্যাহ, যেখানে আলফিয়্যাহকে একজন দাতার সাথে তুলনা করা হয়েছে, 'দান' শব্দটি কল্পনাপ্রসূত এবং 'প্রতিশ্রুতি' শব্দটি শক্তিশালীকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর উক্তি: "এবং তা" অর্থাৎ দান—এটি যা প্রদান করা হয় সেটির দিকে ইঙ্গিত, অর্থাৎ তার প্রদানের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যাতে দানে প্রদানের অর্থ করার প্রথম ব্যাখ্যার সাথে মিল থাকে। এবং এটিও সম্ভাবনা রাখে যে, এখানে 'দান' দ্বারা 'প্রদত্ত বস্তু' উদ্দেশ্য, আর প্রথমত একে 'প্রদান' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে এর মূল আভিধানিক অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে। আর তাঁর উক্তি "উপকারের আধিক্য থেকে" অর্থাৎ অনেক উপকার থেকে।
তাঁর উক্তি: "চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে"—এখানে 'বা' অব্যয়টি 'সহ' অর্থে অথবা কারণবাচক অর্থে ব্যবহৃত। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: প্রতিশ্রুতি ছাড়াই দান করা প্রশংসার ক্ষেত্রে অধিক বলিষ্ঠ, তবে একে প্রতিশ্রুতির সাথে কেন সীমাবদ্ধ করা হলো? আমি বলব: কারণ এটিই বাস্তবসম্মত; কেননা কেবল আলফিয়্যাহ বিদ্যমান থাকলেই এর অর্থ বোঝা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وتقتضي رضا بغير سخط
… فائقة ألفية ابن معطي
ــ
من كثرة الفوائد "بوعد منجز" أي موفى سريعًا.
تنبيه: قال الجوهري أوعد عند الإطلاق يكون للشر ووعد للخير وأنشد:
2- وإني وإن أوعدته أو وعدته
… لمخلف إيعادي ومنجز موعدي
"وتقتضي" أي تطلب لما اشتملت عليه من المحاسن "رضا" محضًا "بغير سخط" يشوبه "فائقة ألفية" الإمام العلامة أبي الحسن يحيى "ابن معطي" بن عبد النور الزواوي الحنفي الملقب زين الدين سكن دمشق طويلًا واشتغل عليه خلق كثير ثم سافر إلى مصر
ــ
الالتفات إليها وتصور ألفاظها فكأنها لتهيئها للفهم منها وتوقف الفهم منها على ذلك تعد وعدا ناجزا قاله سم. ويمكن أن يوجه أيضا التقييد بالوعد بأنه للإشارة إلى عزة معانيها لأن الموعود به تتشوف إليه النفس فتكون أحرص عليه ويكون هو أعز عليها. وبين موجز ومنجز الجناس اللاحق وإن قال بعضهم مضارع. قوله: "ووعد للخير" أي عند الإطلاق وحذفه اكتفاء. قوله: "لمخلف إيعادي إلخ" فيه لف ونشر مرتب. قوله: "وتقتضي أي تطلب" أي من الله أو من قارئها أو منهما معا وإسناد الطلب إليها مجاز عقلي من الإسناد إلى السبب إذ الطالب في الحقيقة ناظمها. ويحتمل أنه شبه الألفية بعاقل تشبيها مضمرا في النفس على طريق الاستعارة المكنية وإثبات الطلب تخييل ويحتمل أنه أراد بالاقتضاء الاستلزام على التجوّز. قوله: "رضا" كسر رائه سماعي كضم سين سخط وسكون خائه والقياس الفتح لأن فعلهما كفرح يفرح. قوله: "محضا" كأنه زاد تمهيدا لقوله بغير سخط يشوبه ليقع قوله بغير سخط يشوبه تفسيرا لمحضا. وقوله يشوبه أي يتخلل بين أزمنة الرضا. أو المراد يشوبه من وجه آخر غير وجه الرضا. وعلى كل علم أن قوله وتقتضي رضا لا يغني عن قوله بغير سخط، والسخط تغير النفس وانقباضها لأخذ الثأر والمراد منه في حقه تعالى لازمه وهو إرادة الانتقام أو الانتقام. قوله: "فائقة" أي عالية في الشرف. وإنما فاقتها لأنها من بحر واحد وألفية ابن معطي من بحرين فإن بعضها من السريع وبعضها من الرجز، ولأنها أكثر أحكاما من ألفية ابن معطي. قوله: "الحنفي" في حواشي الشيخ يحيى أنه كان مالكيا وتفقه بالجزائر على أبي موسى الجزولي ثم تشفع كابن مالك وأبي حيان حين الخروج من الغرب. ا. هـ. ويمكن أنه تحنف بعد أن تشفع. قوله: "الملقب زين الدين" يؤخذ منه مع قوله في الديباجة وقد لقبته بمنهج السالك أن لقب يتعدى بنفسه وبالحرف كسمى. قوله: "بالجامع العتيق" هو جامع عمرو بن العاص. قوله: "لأقراء الأدب" اسم لما يشمل الاثني عشر علما المتقدمة فهو مرادف للعربية بالمعنى الشامل لها. قوله: "في سلخ" أي آخر. قوله: "على شفير الخندق" أي حرف الخليج الذي حفره عمرو بن العاص بأمر عمر بن الخطاب ليحمل على السفن فيه الغلال إلى
--------------------------------------------
এবং এটি এমন এক সন্তুষ্টির দাবি রাখে যা কোনো অসন্তুষ্টির দ্বারা কলুষিত নয়... যা ইবনে মু’তির আলফিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে।
—
অসংখ্য উপকারের কারণে এটি ‘এক দ্রুত বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতির’ মতো, অর্থাৎ যা দ্রুত পূর্ণ করা হয়েছে।
সতর্কীকরণ: জাওহারী বলেছেন, ‘আওআদা’ শব্দটি সাধারণত অমঙ্গল বা শাস্তির ক্ষেত্রে এবং ‘ওয়াদা’ শব্দটি কল্যাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি পাঠ করেছেন:
২- আমি যদি তাকে শাস্তির ভয় দেখাই অথবা কোনো কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিই... তবে আমি আমার শাস্তির হুমকি ভঙ্গ করি আর আমার কল্যাণের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করি।
‘এবং এটি দাবি রাখে’ অর্থাৎ এটি নিজের মধ্যে বিদ্যমান সৌন্দর্যমণ্ডিত বিষয়গুলোর কারণে কামনা করে একটি ‘নিখাদ সন্তুষ্টি’, যা কোনো ‘অসন্তুষ্টির’ দ্বারা কলুষিত নয়। এটি ইমাম আল্লামা আবু হাসান ইয়াহইয়া ‘ইবনে মু’তি’ বিন আব্দুল নূর আয-যাওয়াওয়ী আল-হানাফীর ‘আলফিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়া’ (একটি কিতাব)। তার উপাধি ছিল যিনুদ্দীন; তিনি দীর্ঘকাল দামেস্কে বসবাস করেছেন এবং অসংখ্য মানুষ তার নিকট ইলম অর্জন করেছেন। অতঃপর তিনি মিসরে সফর করেন।
—
এর দিকে মনোনিবেশ করা এবং এর শব্দাবলি কল্পনা করা; যেন এটি সহজে বোঝার উপযোগী হওয়া এবং এর উপলব্ধি সেই শব্দাবলির ওপর নির্ভর করার কারণে একে ‘দ্রুত বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে—একথা ‘সীন’ (সম) বলেছেন। একে প্রতিশ্রুতির সাথে সীমাবদ্ধ করার আরেকটি কারণ হতে পারে এর দুর্লভ ও মূল্যবান অর্থাবলির প্রতি ইঙ্গিত করা। কেননা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের মন লালায়িত থাকে, ফলে সেটির প্রতি সে অধিক যত্নবান হয় এবং তা তার কাছে অধিক মর্যাদাপূর্ণ হয়। ‘মউজিজ’ (সংক্ষিপ্ত) এবং ‘মুনজিজ’ (বাস্তবায়িত) শব্দ দুটির মাঝে ‘জিনা-সে লাহেক’ নামক অলঙ্কার রয়েছে, যদিও কেউ কেউ একে ‘মুদারে’ বলেছেন। তাঁর উক্তি: ‘ওয়াদা কল্যাণের জন্য’ অর্থাৎ সাধারণভাবে এটি কল্যাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; আর এখানে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে পরের অংশটি উহ্য রাখা হয়েছে। তাঁর উক্তি: ‘আমার শাস্তির হুমকি ভঙ্গকারী ইত্যাদি’ এতে ‘লফ্ফ ওয়া নাশর মুরত্তাব’ নামক অলঙ্কার রয়েছে। তাঁর উক্তি: ‘এবং এটি দাবি রাখে অর্থাৎ কামনা করে’ অর্থাৎ আল্লাহর নিকট থেকে অথবা এর পাঠকের নিকট থেকে কিংবা উভয়ের নিকট থেকেই। এর প্রতি এই কামনার সম্বন্ধ করা ‘মাজাযে আকলি’ (রূপক সম্বন্ধ), যা কারণের দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে; কারণ প্রকৃতপক্ষে এই কামনার অধিকারী হলেন এর রচয়িতা। এটিও সম্ভব যে, এখানে আলফিয়াকে একজন বুদ্ধিমান সত্তার সাথে মনে মনে তুলনা করা হয়েছে (ইস্তিআরা মাকনিয়া), আর ‘কামনা করা’ বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে রূপকভাবে। আবার এটিও হতে পারে যে, ‘দাবি রাখা’ (ইকতিদা) শব্দ দ্বারা রূপকার্থে ‘অপরিহার্য হওয়া’ বোঝানো হয়েছে। তাঁর উক্তি: ‘রিদা’ (সন্তুষ্টি), এর ‘রা’ বর্ণে কাসরা (ই-কার) হওয়া শ্রুতিসাধ্য (সামাঈ), যেমন ‘সাখাত’ (অসন্তুষ্টি) শব্দের ‘সীন’ বর্ণে পেশ এবং ‘খা’ বর্ণে সাকিন হওয়া। তবে ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী উভয়টিতে ফাতহা (আ-কার) হওয়া উচিত ছিল, কারণ এই শব্দ দুটির ক্রিয়ামূল ‘ফারিহা-ইয়াফরাহু’ এর ওজনে। তাঁর উক্তি: ‘নিখাদ’, যেন তিনি ‘যাতে কোনো অসন্তুষ্টির সংমিশ্রণ নেই’—একথার অনুকূলে এটি ভূমিকা হিসেবে যোগ করেছেন, যাতে ‘যাতে কোনো অসন্তুষ্টির সংমিশ্রণ নেই’ কথাটি ‘নিখাদ’ শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে পরিগণিত হয়। আর ‘সংমিশ্রণ হওয়া’ বলতে সন্তুষ্টির সময়ের মাঝে অন্য কোনো অবস্থার অনুপ্রবেশ বোঝানো হয়েছে। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সন্তুষ্টির দিক ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে সংমিশ্রণ ঘটা। সব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে, ‘সন্তুষ্টির দাবি রাখে’ একথাই যথেষ্ট ছিল না ‘অসন্তুষ্টি ব্যতীত’ কথাটি ছাড়া। ‘সাখাত’ বা অসন্তুষ্টি হলো প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে মনের পরিবর্তন ও সঙ্কুচিত হওয়া। আল্লাহর ক্ষেত্রে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এর অনিবার্য ফল, অর্থাৎ ‘প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা’ অথবা স্বয়ং ‘প্রতিশোধ’। তাঁর উক্তি: ‘ফাইকা’ অর্থাৎ মর্যাদায় উচ্চতর। এটি ইবনে মু’তির আলফিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণ হলো, এটি একটি মাত্র ছন্দে রচিত, কিন্তু ইবনে মু’তির আলফিয়া দুটি ছন্দে (সারী ও রাজায) রচিত। তদুপরি, এতে ইবনে মু’তির আলফিয়ার তুলনায় অধিক মাসআলা বা বিধিবিধান রয়েছে। তাঁর উক্তি: ‘আল-হানাফী’, শেখ ইয়াহইয়ার টীকাগ্রন্থে রয়েছে যে, ইবনে মু’তি মালেকী ছিলেন এবং আলজেরিয়ায় আবু মুসা আল-জাযুলীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। অতঃপর ইবনে মালিক ও আবু হাইয়ানের মতো তিনি মাগরেব ত্যাগ করার সময় শাফেঈ মাযহাব গ্রহণ করেন। তবে সম্ভবত তিনি পরবর্তীতে হানাফী হয়েছিলেন। তাঁর উক্তি: ‘যিনুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত’, ভূমিকাভাগে লেখকের বক্তব্য ‘আমি একে মানহাজুস সালিক উপাধি দিয়েছি’ এর সাথে মিলিয়ে এটি বোঝা যায় যে, ‘লাক্কাবা’ (উপাধি দেওয়া) ক্রিয়াটি সরাসরি বা অব্যয়ের মাধ্যমে উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তাঁর উক্তি: ‘প্রাচীন জামে মসজিদে’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমর ইবনুল আস জামে মসজিদ। তাঁর উক্তি: ‘সাহিত্য পাঠদানের জন্য’, এটি এমন একটি পরিভাষা যা পূর্বে উল্লিখিত বারোটি শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এটি ব্যাপক অর্থে ‘আরবি সাহিত্য’ শব্দের সমার্থক। তাঁর উক্তি: ‘সিলখ’ অর্থাৎ শেষে। তাঁর উক্তি: ‘খন্দকের কিনারায়’ অর্থাৎ সেই খালের পাড়ে যা ওমর ইবনুল খাত্তাবের নির্দেশে আমর ইবনুল আস খনন করেছিলেন, যাতে জাহাজে করে শস্য বহন করে নিয়ে যাওয়া যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو بسبق حائز تفضيلًا
… مستوجب ثنائي الجميلا
ــ
وتصدر بالجامع العتيق لإقراء الأدب إلى أن توفي بالقاهرة في سلخ ذي القعدة سنة ثمان وعشرين وستمائة ودفن من الغد على شفير الخندق وبقرب تربة الإمام الشافعي رضي الله تعالى عنه ومولده سنة أربع وستين وخمسمائة.
تنبيه: يجوز في فائقة النصب على الحال من فاعل تقتضي والرفع خبر المبتدأ محذوف والجر نعتًا لألفية على حد {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَك} في النعت بالمفرد بعد النعت بالجملة والغالب العكس وأوجبه بعضهم "وهو" أي ابن معطي "بسبق" الباء للسببية أي بسبب سبقه إياي "حائز تفضيلًا" على "مستوجب" على "ثنائي الجميلا" عليه لما يستحقه السلف من ثناء الخلف وثنائي مصدر مضاف إليه فاعله وهو الياء والجميل إما
ــ
الحرمين متصلا بالبحر المالح. قوله: "ومولده سنة" بنصب سنة على الظرفية متعلق بمحذوف إن جعل مولده مصدرا ميميا بمعنى الولادة أي كائن في سنة، وبرفعها على الخبرية إن جعل اسم زمان. قوله: "في فائقة" أي في هذا اللفظ بقطع النظر عن حركة آخره. قوله: "من فاعل تقتضي" لم يجعلها من ألفية لأنها وإن كانت نكرة تخصصت بالوصف، أو من فاعل تقرب أو تبسط لقرب تقتضي.
قوله: "خبر المبتدأ محذوف" أي والجملة حالية أو استئنافية. قوله: "بالجملة" أي جنسها فيصدق بما زاد على واحدة كما في المتن. قوله: "وأوجبه بعضهم" قال شيخنا والبعض لعل القائل بالوجوب يجعل مبارك في الآية خبر مبتدأ محذوف. ا. هـ. وأحسن منه أن يجعل خبرا ثانيا لهذا. قوله: "بسبق" أي علي في الزمن والإفادة وفي تقديم المعمول إشارة إلى أنه لم يحز الفضل على المصنف إلا بالسبق، والجار والمجرور مرتبط بكل من حائز ومستوجب. قوله: "حائز تفضيلا" أي فضلا من إطلاق المسبب على السبب، أو هو مصدر المبني للمفعول فاندفع الاعتراض بأن التفضيل صفة المفضل بالكسر فكيف يحوزه المفضل بالفتح ويمكن أن يدفع أيضا بأن الحيازة في كل شيء بحسبه. فمعنى حيازة التفضيل تعلقه به على وجه التعظيم له. ولا يرد على الجواب الثاني والثالث أنه لا يلزم من التفضيل له على غيره أنه فاضل في نفسه عليه حتى يكون فيه كبير مدح لأن المراد التفضيل ممن يعتد بتفضيله. قوله: "مستوجب" قال سم أي مستحق. ا. هـ. ويحتمل أن السين والتاء للتصيير أي مصير الثناء واجبا عليّ. قوله: "لما يستحقه السلف إلخ" لا يظهر أنه علة لمستوجب لتقديم المصنف علته وهي السبق بناء على ارتباط قوله بسبق بقوله مستوجب أيضا بل هو علة للعلية أي لكون السبق علة للاستيجاب، لكن لا يظهر التعليل إلا بتقدير مضاف أي لوجوب ما يستحقه إلخ ولو قال لاستحقاق السلف ثناء الخلف لكان أخصر وأوضح. قوله: "مصدر" فيه مسامحة لأن الثناء اسم مصدر اثني، ويمكن أن يجعل كلامه على حذف المضاف. قوله: "أما صفة" أي لازمة أو مخصصة على القولين في الثناء وعلى الوصفية يحتاج إلى تعليق قول الشارح عليه بمحذوف حال من ثنائي أو بدل منه أي كائنا عليه أو ثنائي عليه، لا بثنائي
এবং তিনি অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী
... আমার সুন্দর প্রশংসার দাবিদার।
ــ
তিনি প্রাচীন জামে মসজিদে সাহিত্য পড়ানোর জন্য প্রধান হিসেবে আসীন ছিলেন, যে পর্যন্ত না তিনি কায়রোতে ৬২৮ হিজরীর জিলকদ মাসের শেষ দিনে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে পরদিন খন্দকের পাড়ে এবং ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর কবরের নিকটে দাফন করা হয়। তাঁর জন্ম ৫৬৪ হিজরীতে।
সতর্কতা: 'ফাইকাহ' শব্দটিতে 'তাকতাদী' ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা (হাল) হিসেবে নসব হওয়া বৈধ, এবং উহ্য মুক্তাদার খবর হিসেবে রফ হওয়া বৈধ, এবং 'আলফিয়্যাহ' শব্দের গুণ (সিফাত) হিসেবে জর হওয়া বৈধ। এটি "এবং এটি একটি কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, বরকতময়" আয়াতের মতো, যেখানে বাক্যরূপী গুণের পর একক শব্দ দ্বারা গুণ বর্ণনা করা হয়েছে, যদিও সচরাচর এর উল্টোটি ঘটে এবং কেউ কেউ এটিকে আবশ্যক বলেছেন। "তিনি" অর্থাৎ ইবনে মু'তি, "অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে" এখানে 'বা' অক্ষরটি কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ আমার চেয়ে অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে তিনি "শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী" এবং "দাবিদার" কিসের? "আমার সুন্দর প্রশংসার" তাঁর ওপর, কারণ উত্তরসূরিদের প্রশংসার যা পূর্বসূরিদের প্রাপ্য। "আমার প্রশংসা" (সানা-ঈ) এখানে মাসদার (ক্রিয়ামূল) যা তার কর্তার (ইয়া মুতাকাল্লিম) দিকে ইদাফাত হয়েছে। আর 'সুন্দর' (জামিল) শব্দটি হয়...
ــ
হারামাইন যা লোনা সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত। তাঁর উক্তি: "এবং তাঁর জন্ম বছর" - এখানে 'সানাহ' (বছর) শব্দটি সময় (যরফ) হিসেবে নসব হয়েছে যা একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যদি 'মাওলাদ' শব্দটিকে জন্মের অর্থে মিমি মাসদার ধরা হয়, অর্থাৎ "তা বছরে সংঘটিত হয়েছে"। আর এটি খবর হিসেবে রফ হবে যদি একে সময়ের নাম (ইসমে যামান) ধরা হয়। তাঁর উক্তি: "ফাইকাহ শব্দে" অর্থাৎ এই শব্দটিতে, এর শেষ হরফের হরকতের বিবেচনা ছাড়াই। তাঁর উক্তি: "তাকতাদী এর কর্তা থেকে" - তিনি একে 'আলফিয়্যাহ' থেকে ধরেননি কারণ এটি অনির্দিষ্ট শব্দ হলেও গুণের মাধ্যমে নির্দিষ্টতা লাভ করেছে, অথবা এটি 'তাকরাবু' বা 'তাবসুতু' এর কর্তা থেকেও হতে পারে কারণ তা 'তাকতাদী' এর নিকটে।
তাঁর উক্তি: "উহ্য মুক্তাদার খবর" অর্থাৎ বাক্যটি অবস্থা (হাল) বা প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফিয়া)। তাঁর উক্তি: "বাক্য দ্বারা" অর্থাৎ এর প্রকার দ্বারা, যা একের অধিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেমন মূলে রয়েছে। তাঁর উক্তি: "এবং তাঁদের কেউ কেউ একে আবশ্যক করেছেন" - আমাদের শায়খ বলেছেন, সম্ভবত যিনি আবশ্যক হওয়ার কথা বলেছেন তিনি আয়াতের 'মুবারাক' শব্দটিকে উহ্য মুক্তাদার খবর হিসেবে ধরেছেন। (সমাপ্ত)। আর এর চেয়ে উত্তম হলো এটিকে 'হাযা' (এটি) এর দ্বিতীয় খবর হিসেবে গণ্য করা। তাঁর উক্তি: "অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে" অর্থাৎ সময় এবং উপকারের দিক থেকে আমার চেয়ে অগ্রগামী। আর কর্মকে (মামউল) আগে আনার মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তিনি গ্রন্থকারের ওপর কেবল অগ্রবর্তী হওয়ার কারণেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। এই হরফে জর ও মাজরুর ' অর্জনকারী' (হায়েয) এবং 'দাবিদার' (মুস্তাওজিব) উভয়ের সাথেই সম্পৃক্ত। তাঁর উক্তি: "শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী" অর্থাৎ ফযীলত অর্জনকারী; এখানে কারণের স্থলে ফলাফলকে উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা এটি কর্মবাচ্যের মাসদার, ফলে এই আপত্তি দূর হয়ে যায় যে 'শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া' (তাফদীল) হলো যিনি শ্রেষ্ঠত্ব দেন তাঁর গুণ, তাহলে যাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে (মুফাদদাল) সে তা কীভাবে অর্জন করবে? এর উত্তর এভাবেও দেওয়া সম্ভব যে, প্রতিটি জিনিসের অর্জন তার ধরন অনুযায়ী হয়। সুতরাং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের অর্থ হলো তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এটি তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উত্তরের ক্ষেত্রে এই আপত্তি আসবে না যে, অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিলেই তিনি নিজে শ্রেষ্ঠ হওয়া আবশ্যক নয় যাতে বড় কোনো প্রশংসা হয়, কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব দান ধর্তব্য। তাঁর উক্তি: "দাবিদার" - সিম বলেছেন অর্থাৎ পাওনাদার। (সমাপ্ত)। এবং সম্ভবত 'সিন' ও 'তা' বর্ণদ্বয় রূপান্তরের অর্থে এসেছে, অর্থাৎ প্রশংসাকে আমার ওপর আবশ্যককারী। তাঁর উক্তি: "যেহেতু পূর্বসূরিদের প্রাপ্য..." - এটি 'দাবিদার' (মুস্তাওজিব) এর কারণ হওয়া স্পষ্ট নয় কারণ গ্রন্থকার এর কারণ 'অগ্রবর্তী হওয়া'কে আগে উল্লেখ করেছেন; যদি ধরা হয় যে "অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে" কথাটি 'মুস্তাওজিব' এর সাথেও সংশ্লিষ্ট। বরং এটি কারণের কারণ, অর্থাৎ অগ্রবর্তী হওয়া কেন পাওনা হওয়ার কারণ হলো তার ব্যাখ্যা। তবে এই কারণ দর্শানো স্পষ্ট হয় না একটি অতিরিক্ত শব্দ (মুদাফ) উহ্য ধরা ছাড়া, অর্থাৎ "যা প্রাপ্য তার আবশ্যকতা হেতু"। যদি তিনি বলতেন "পূর্বসূরিদের ওপর উত্তরসূরিদের প্রশংসা প্রাপ্য হওয়ার কারণে" তবে তা আরও সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট হতো। তাঁর উক্তি: "মাসদার" - এতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে কারণ 'সানা' হলো 'আসনা' এর ইসমে মাসদার। তাঁর কথাকে উহ্য মুদাফ হিসেবেও ধরা যেতে পারে। তাঁর উক্তি: "হয় গুণ" অর্থাৎ প্রশংসার ক্ষেত্রে দুটি মত অনুযায়ী অপরিহার্য (লাযিমা) বা বিশেষায়নকারী (মুখাসসিসা)। গুণের সুরতে ব্যাখ্যাদাতার "তার ওপর" কথাটিকে "আমার প্রশংসা" থেকে উহ্য 'অবস্থা' (হাল) বা 'পরিবর্ত' (বাদল) হিসেবে সংশ্লিষ্ট করার প্রয়োজন হবে, অর্থাৎ "তার ওপর নিপতিত" বা "আমার প্রশংসা যা তার ওপর", সরাসরি প্রশংসার সাথে নয়।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والله يقضي بهبات وافره
… لي وله في درجات الآخرة
ــ
صفة للمصدر أو معمول له "والله يقضي" أي يحكم "بهبات" جمع هبة وهي العطية أي عطيات "وافره" أي تامة "لي وله في درجات الآخرة" الدرجات. قال في الصحاح: هي الطبقات من المراتب. وقال أبو عبيدة: الدرج إلى أعلى والدرك إلى أسفل والمراد مراتب السعادة في الدار الآخرة، ولفظ الجملة خبر ومعناها الطلب.
تنبيه: وصف هبات وهو جمع بوافرة وهو مفرد لتأوله بجماعة وإن كان الأفصح وافرات لأن هبات جمع قلة والأفصح في جمع القلة مما لا يعقل وفي جمع العاقل مطلقًا
ــ
المذكور لاستلزامه وصف المصدر قبل تمام عمله. وقوله أو معمول له أي على أنه صفة لمفعول مطلق لهذا المصدر حذف وأنيب هو منابة أي ثنائي الثناء الجميل، أو على أنه مفعول به على التوسع بإسقاط الخافض والأول أولى لأن الثاني سماعي على الأصح. قوله: "أي يحكم" فسر القضاء في كلامه بالحكم كما هو معناه لغة لأن معناه عند الأشاعرة -كما في شرح المواقف- إرادته الأزلية المتعلقة بالأشياء على ما هي عليه فيما لا يزال وهذا لا يناسب الطلب. قال: وتقديره إيجاده إياها فيما لا يزال على ما هي عليه فيه. ا. هـ. والمراد بالحكم هنا التعلق التنجيزي فيرجع إلى التقدير.
قوله: "أي عطيات" أتى به مع علمه من تفسير المفرد تحسينا لسبك قول المصنف وافرة مع ما قبله من كلام الشارح. قوله: "أي تامة" أفاد به أن وافرة اسم فاعل وفر اللازم لا المتعدي يقال وفر الشيء يفر وفورا أي تم، ووفرته أفره وفرا أي أتممته. قوله: "لي وله في درجات الآخرة" الظرفان صفتان لهبات. وخص درجات الآخرة بالذكر لأنها المهم عند العاقل ولأن الدعاء لابن معطي بعد موته إنما يتأتى بها دون درجات الدنيا. قوله: "قال في الصحاح" بفتح الصاد ومعناه في الأصل الصحيح ومنهم من يكسر على صيغة الجمع. قوله: "هي الطبقات من المراتب" أي علية أو دنية فهو أعم من تفسير أبي عبيدة قاله البعض ورد جعل بعضهم كلام أبي عبيدة بيانا لما في الصحاح. قوله: "والمراد" أي من درجات الآخرة وأشار بهذا إلى أن الإضافة في درجات الآخرة على معنى في. قوله: "وصف هبات إلخ" هذا تصحيح لوصف الجمع بالمفرد وحاصله أن المطابقة في الافراد حاصلة تأويلا فقوله لتأوله بجماعة أي وهو مفرد لفظا وإن كان جمعا معنى. قوله: "وإن كان الأفصح وافرات" أي محافظة على المطابقة اللفظية والواو للحال وإن زائدة ويظهر لي في الجواب عن المصنف أن الإفراد لاستعماله جمع القلة في الكثرة كما هو المناسب لمقام الدعاء فهو جمع كثرة بحسب المعنى فاحفظه فإنه نفيس.
قوله: "لأن هبات جمع قلة" أي بناء على مذهب سيبويه أن جمعي السلامة للقلة. والذي ارتضاه السعد التفتازاني والدماميني أن جمعي القلة والكثرة مبدؤهما ثلاثة ومنتهى جمع القلة ولا منتهى لجمع الكثرة فهما مشتركان في المبدأ مختلفان في المنتهى. والمشهور أن مبدأ جمع
এবং আল্লাহ পর্যাপ্ত দানসমূহ ফয়সালা করবেন
... আমার জন্য এবং তার জন্য পরকালের মর্যাদাসমূহে।
—
এটি মাসদারের (ক্রিয়ামূল) বিশেষণ অথবা তার আমলকৃত পদ। "এবং আল্লাহ ফয়সালা করেন" অর্থাৎ বিচার করেন। "দানসমূহ" (বে-হিবাতিন) শব্দটি হিবাহ-এর বহুবচন, যার অর্থ উপহার অর্থাৎ দানসমূহ। "পর্যাপ্ত" (ওয়াফিরাহ) অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ। "আমার জন্য এবং তার জন্য পরকালের মর্যাদাসমূহে" মর্যাদাসমূহ। আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি হলো পদমর্যাদার স্তরসমূহ। আবু উবাইদাহ বলেছেন: 'দারজ' উপরের দিকে এবং 'দারাক' নিচের দিকে হয়। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো পরকালীন জগতের সৌভাগ্যের স্তরসমূহ। বাক্যটির শব্দবিন্যাস সংবাদসূচক হলেও এর অর্থ হলো প্রার্থনা।
সতর্কীকরণ: 'হিবাত' বহুবচন হওয়া সত্ত্বেও এর বিশেষণ হিসেবে 'ওয়াফিরাহ' একবচন ব্যবহৃত হয়েছে। এর কারণ হলো শব্দটিকে 'জামাআত' (সমষ্টি) অর্থে বিবেচনা করা হয়েছে, যদিও এর অধিকতর বিশুদ্ধ রূপ হলো 'ওয়াফিরাত'; কারণ 'হিবাত' হলো স্বল্পতাবোধক বহুবচন (জামউ কিল্লাত)। আর বিবেকহীন বস্তুর স্বল্পতাবোধক বহুবচনের ক্ষেত্রে এবং বিবেকসম্পন্নদের বহুবচনের ক্ষেত্রে সাধারণত অধিকতর বিশুদ্ধ নিয়ম হলো—
—
উল্লিখিত বিষয়টি মাসদারের কাজ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই মাসদারের বিশেষণের আবশ্যকতাকে তুলে ধরে। তাঁর বক্তব্য "অথবা তার আমলকৃত পদ" অর্থাৎ এটি এমন একটি উহ্য মাফউলে মুতলাক-এর বিশেষণ যা ঐ মাসদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, অর্থাৎ আমার সুন্দর প্রশংসায় প্রশংসা করা। অথবা এটি হরফে জার বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সম্প্রসারণের ভিত্তিতে মাফউলে বিহি হয়েছে; তবে প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য, কারণ দ্বিতীয়টি বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী শ্রুতি-নির্ভর। তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ তিনি বিচার করেন"—এখানে তিনি 'কাদা' (ফয়সালা)-কে 'হুকুম' (বিচার) দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন যা এর আভিধানিক অর্থ। কারণ আশআরিদের মতে—যেমনটি শারহুল মাওয়াকিফ-এ বর্ণিত হয়েছে—'কাদা' হলো আল্লাহর অনাদি ইচ্ছা যা সৃষ্টির অস্তিত্বের পূর্ব থেকেই তাদের প্রকৃত অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত। আর এটি দোয়ার বা প্রার্থনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেছেন: এর ব্যাখ্যা হলো বস্তুকে তার চিরস্থায়ী অবস্থার ওপর সৃষ্টি করা। এখানে হুকুম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সম্পৃক্ততা (তাজনিযি), যা মূলত তাকদির বা পূর্বনির্ধারণের দিকেই ফিরে যায়।
তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ দানসমূহ"—একবচনের ব্যাখ্যা জানা থাকা সত্ত্বেও লেখক এটি উল্লেখ করেছেন যাতে মূল লেখকের "ওয়াফিরাহ" শব্দটির সাথে তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যের সমন্বয় সুন্দর হয়। তাঁর উক্তি: "অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ"—এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, "ওয়াফিরাহ" শব্দটি অকর্মক ক্রিয়া 'ওয়াফুরা' থেকে ইসমে ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), সকর্মক থেকে নয়। বলা হয়, বস্তুটি পূর্ণ হয়েছে (ওয়াফুরা), আর আমি একে পূর্ণ করেছি (ওয়াফারতুহু)। তাঁর উক্তি: "আমার জন্য এবং তার জন্য পরকালের মর্যাদাসমূহে"—এই অব্যয়যুক্ত পদ দুটি (যার-মাজরুর) 'হিবাত'-এর বিশেষণ। পরকালের মর্যাদাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটিই প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ইবনুল মুতির মৃত্যুর পর তাঁর জন্য দোয়া করা কেবল পরকালীন মর্যাদার মাধ্যমেই সম্ভব, দুনিয়ার মর্যাদা দিয়ে নয়। তাঁর উক্তি: "আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে"—এখানে 'সিহাহ' শব্দে সীন বর্ণে জবর হবে এবং এর মূল অর্থ হলো সঠিক। কেউ কেউ একে বহুবচনের ওজনে যের দিয়েও পড়েন। তাঁর উক্তি: "এটি পদমর্যাদার স্তরসমূহ"—তা উচ্চ হোক বা নিম্ন, এটি আবু উবাইদাহর সংজ্ঞার চেয়েও ব্যাপক। কেউ কেউ আবু উবাইদাহর কথাকে 'আস-সিহাহ'-এর বক্তব্যের ব্যাখ্যাকার হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁর উক্তি: "আর উদ্দেশ্য"—অর্থাৎ পরকালীন স্তরসমূহ, এর দ্বারা তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে 'আখিরাতের স্তর'—এখানে সম্বন্ধটি (ইদাফাত) 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর উক্তি: "হিবাত-এর বর্ণনা ইত্যাদি"—এটি বহুবচনের জন্য একবচন বিশেষণ ব্যবহারের ব্যাকরণগত বৈধতা প্রদান করে। এর সারমর্ম হলো, শাব্দিকভাবে একবচনের সাথে সামঞ্জস্যতা এখানে ব্যাখ্যাগতভাবে অর্জিত হয়েছে। তাঁর উক্তি "জামাআত অর্থে বিবেচনা করা" অর্থাৎ শব্দটি শাব্দিকভাবে একবচন হলেও অর্থের বিচারে বহুবচন। তাঁর উক্তি: "যদিও অধিকতর বিশুদ্ধ রূপ ওয়াফিরাত"—অর্থাৎ শাব্দিক সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে। এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি অবস্থা (হাল) বর্ণনার জন্য এবং 'ইন' শব্দটি অতিরিক্ত। আমার নিকট মূল লেখকের ব্যবহারের উত্তর হলো, এখানে একবচন ব্যবহার করা হয়েছে স্বল্পতাবোধক বহুবচনকে আধিক্য বা প্রাচুর্য অর্থে ব্যবহারের জন্য, যা দোয়ার বা প্রার্থনার স্থানের সাথে অধিক মানানসই। সুতরাং এটি অর্থের বিচারে আধিক্যবোধক বহুবচন (জামউ কাসরাত)। এটি মনে রাখুন, কারণ এটি একটি মূল্যবান সূক্ষ্ম বিষয়।
তাঁর উক্তি: "কারণ হিবাত হলো স্বল্পতাবোধক বহুবচন"—এটি সিবওয়াইহ-এর মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে, যিনি মনে করেন 'জামে সালামত' (সুরক্ষিত বহুবচন) স্বল্পতার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে সা'দ তাফতাজানি এবং দামামিনি যেটিকে পছন্দ করেছেন তা হলো, স্বল্পতাবোধক এবং আধিক্যবোধক উভয় বহুবচনের শুরু হয় তিন থেকে; স্বল্পতাবোধক বহুবচনের একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা আছে, কিন্তু আধিক্যবোধক বহুবচনের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। সুতরাং তারা শুরুতে এক হলেও সমাপ্তিতে ভিন্ন। আর প্রসিদ্ধ মতে বহুবচনের শুরু—
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الكلام وما يتألف منه:كلامنا لفظ مفيد كاستقم
… واسم وفعل ثم حرف الكلم
ــ
المطابقة نحو الأجذاع انكسرت ومنكسرات والهندات والهنود انطلقن ومنطلقات والأفصح في جمع الكثرة مما لا يعقل الإفراد نحو الجذوع وانكسرت ومنكسرة.
خاتمة: بدأ بنفسه لحديث "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دعا بدأ بنفسه" رواه أبو داود وقال تعالى حكاية عن نوح عليه السلام: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ} [نوح: 28] وعن موسى عليه السلام: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي} [الأعراف: 151] وكان الأحسن أن يقول رحمه الله تعالى:
والله يقضي بالرضا والرحمة
… دلي وله ولجميع الأمة
لما عرفت ولأن التعميم مطلوب.
الكلام وما يتألف منه:
الأصل هذا باب شرح الكلام وشرح ما يتألف الكلام منه اختصر للوضوح
ــ
الكثرة أحد عشر فيكونان مختلفين في المبدأ والمنتهى. وعلى هذا يأتي استشكال القرافي الذي ذكر أن له عشرين سنة يطلب جوابه ولم يجده وهو أنه إذا قال عليّ دراهم كان إقرارا بثلاثة إجماعا وحقه بأحد عشر لأنه أقل جمع الكثرة فلم قدم المجاز مع إمكان الحقيقة. وإن أجيب عنه ببناء الأقارير على العرف وأما على ما مر عن السعد والدماميني فلا مجاز ولا استشكال. قوله: "والأفصح في جمع القلة إلخ" وجه ذلك بأن العاقل منظور إليه فاعتنى بشأنه في المطابقة بخلاف غيره. وطوبق جمع القلة لغير العاقل جبرا للقلة. وقال شيخنا السيد المطابقة في جمعي العاقل وجمع القلة لغيره على الأصل وعدمها في جمع الكثرة لغيره لأنه لانحطاطه عن العاقل في حكم المفرد بالنسبة إليه ولم يراع ذلك في جمع القلة جبرا للقلة. قوله: "مما لا يعقل" أي من جموع ما لا يعقل. قوله: "وقال تعالى إلخ" لما لم يصلح دليلا لكونه شرع من قبلنا وهو ليس شرعا لنا وإن ورد في شرعنا ما يقرره على ما رجحوه في مذهبنا معاشر الشافعية لم يقل وقوله عطفا على مجرور اللام وإنما ذكره استئناسا. قوله: "لما عرفت" أي من ارتكاب خلاف الأفصح. قوله: "ولأن التعميم مطلوب" قال سم: لعله عمم في اللفظ دون الكتابة ويبقى الكلام في أنه هل يطلب التعميم في الكتابة أيضا وهو محل نظر. ا. هـ. أقول الأقرب الطلب قياسا على طلب كتابة البسملة والحمدلة والصلاة والسلام فتأمل.
الكلام وما يتألف منه:
أي والكلم بمعنى الكلمات العربية الثلاث التي يتألف الكلام منها، وذكر الضمير مراعاة للفظ ما. قوله: "أي هذا باب شرح الكلام إلخ" لا شك أنه شرح الكلام وما يتألف منه على
কালাম (বাক্য) এবং যা থেকে এটি গঠিত হয়:আমাদের কালাম হলো ‘ইস্তাকিম’ (অটল থাকো)-এর মতো উপকারী শব্দ
… আর ইসিম, ফে’ল এবং হারফ—এই নিয়ে গঠিত হয় কালিম
–
সংগতি বিধান যেমন— ‘আল-আজযা’উ ইনকাসারাত’ (কাণ্ডগুলো ভেঙে গেছে) এবং ‘মুনকাসিরাত’ (ভঙ্গুর), এবং ‘আল-হিন্দাতু’ ও ‘আল-হুনুদু ইনতালাকনা’ (হিন্দগণ চলে গেছে) এবং ‘মুনতালিকাত’ (প্রস্থানকারিণী)। আর বিবেকবুদ্ধিহীন (গায়রে আকেল) বস্তুর আধিক্যবোধক বহুবচনের (জম’উ কাসরাত) ক্ষেত্রে একবচন ব্যবহার করাই অধিক বিশুদ্ধ, যেমন— ‘আল-জুযু’উ ইনকাসারাত’ ও ‘মুনকাসিরাহ’।
উপসংহার: তিনি নিজের মাধ্যমে শুরু করেছেন এই হাদিসের কারণে যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোয়া করতেন, তখন নিজের মাধ্যমেই শুরু করতেন।” এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: {হে আমার রব, আমাকে এবং আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন} [নূহ: ২৮]। আর মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন: {হে আমার রব, আমাকে এবং আমার ভাইকে ক্ষমা করুন} [আ’রাফ: ১৫১]। আর আল্লাহ তাআলা রহম করুন, লেখকের জন্য এমনটি বলা অধিক উত্তম হতো:
আর আল্লাহ সন্তুষ্টি ও রহমতের ফয়সালা করুন
… আমার জন্য, তাঁর জন্য এবং সমগ্র উম্মতের জন্য
যেহেতু আপনি কারণটি জেনেছেন এবং যেহেতু ব্যাপকতা (সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা) কাম্য।
কালাম এবং যা থেকে এটি গঠিত হয়:
মূলত এটি কালামের ব্যাখ্যা এবং যা থেকে কালাম গঠিত হয় তার ব্যাখ্যার অধ্যায়, স্পষ্টতার খাতিরে যা সংক্ষেপ করা হয়েছে।
–
আধিক্যবোধক বহুবচন এগারোটি, তাই সূচনা ও সমাপ্তির ক্ষেত্রে উভয়টি ভিন্ন হবে। এর ওপর ভিত্তি করে আল-কারাফির সেই সংশয়টি আসে যা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ বছর যাবৎ তিনি এর উত্তর খুঁজছেন কিন্তু পাননি। তা হলো, যদি কেউ বলে “আমার জিম্মায় দিরহামসমূহ (দ্রাহিম) রয়েছে”, তবে সর্বসম্মতভাবে এটি তিনটি দিরহামের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয়, অথচ তার প্রাপ্য ছিল এগারোটি হওয়া; কারণ এটিই আধিক্যবোধক বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা। এমতাবস্থায় প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও কেন রূপক অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া হলো? যদিও এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, স্বীকারোক্তি বা ইকরারের ভিত্তি হলো সামাজিক রীতিনীতি (উর্ফ)। আর আল্লামা সাদ ও দামামিনির বর্ণনা অনুযায়ী, এখানে কোনো রূপক বা সংশয় নেই। তাঁর উক্তি: “স্বল্পতাবোধক বহুবচনের ক্ষেত্রে অধিক বিশুদ্ধ হলো ইত্যাদি” এর কারণ হলো, বিবেকসম্পন্ন সত্তা বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে, তাই সংগতি বিধানের ক্ষেত্রে তার বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অন্যের ক্ষেত্রে হয়নি। আর বিবেকহীন বস্তুর স্বল্পতাবোধক বহুবচনে সংগতি বিধান করা হয়েছে স্বল্পতাকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য। আমাদের শায়খ আস-সায়্যিদ বলেছেন, বিবেকসম্পন্নদের বহুবচন এবং বিবেকহীনদের স্বল্পতাবোধক বহুবচনের ক্ষেত্রে সংগতি বিধান করা মূল নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। আর বিবেকহীনদের আধিক্যবোধক বহুবচনের ক্ষেত্রে সংগতি রাখা হয়নি, কারণ বিবেকসম্পন্নদের তুলনায় এটি একবচনের হুকুমে গণ্য হয়। স্বল্পতাবোধক বহুবচনের ক্ষেত্রে স্বল্পতাকে পূর্ণতা দেওয়ার কারণে এটি বিবেচনা করা হয়নি। তাঁর উক্তি: “যা বিবেক রাখে না” অর্থাৎ বিবেকহীন বস্তুর বহুবচনসমূহ থেকে। তাঁর উক্তি: “আর আল্লাহ তাআলা বলেন ইত্যাদি” যেহেতু এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত হওয়ার কারণে দলিল হওয়ার যোগ্য নয় এবং এটি আমাদের জন্য শরিয়ত নয়, যদিও আমাদের শরিয়তে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা এটিকে সাব্যস্ত করে—যেমনটি আমাদের শাফেয়ি মাযহাবের উলামাগণ প্রাধান্য দিয়েছেন—তাই তিনি “ওয়া কাউলুহু” (তাঁর কথা) বলেননি যা ‘লাম’ বর্ণ দ্বারা মাজরুর শব্দের ওপর আতফ হতো, বরং তিনি এটি কেবল উদাহরণের খাতিরে উল্লেখ করেছেন। তাঁর উক্তি: “যেহেতু আপনি জেনেছেন” অর্থাৎ অধিক বিশুদ্ধ নিয়মের পরিপন্থী হওয়া। তাঁর উক্তি: “এবং যেহেতু ব্যাপকতা কাম্য” শায়খ সাম বলেছেন: সম্ভবত তিনি মৌখিক উচ্চারণে ব্যাপকতা রক্ষা করেছেন, লিখনীতে নয়; এবং এই বিষয়ে আলোচনা বাকি থাকে যে লিখনীতেও কি ব্যাপকতা কাম্য কি না, যা পর্যালোচনার বিষয়। সমাপ্ত। আমি বলি: বিসমিল্লাহ, হামদালাহ এবং সালাত ও সালাম লেখার নির্দেশের ওপর কিয়াস করে লিখনীতেও ব্যাপকতা কাম্য হওয়াই অধিক নিকটবর্তী। বিষয়টি ভেবে দেখুন।
কালাম এবং যা থেকে এটি গঠিত হয়:
অর্থাৎ ‘কালিম’, যা তিনটি আরবি শব্দের অর্থ প্রদান করে যা থেকে কালাম গঠিত হয়। আর এখানে ‘মা’ (যা) শব্দটির প্রতি লক্ষ রেখে একবচনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর উক্তি: “অর্থাৎ এটি কালামের ব্যাখ্যার অধ্যায় ইত্যাদি” এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি কালাম এবং যা থেকে কালাম গঠিত হয় তার ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি লি-আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
"كلامنا" أيها النحاة "لفظ" أي صوت مشتمل على بعض الحروف تحقيقًا كزيد أو تقديرًا
ــ
هذا الترتيب. فشرح الكلام أولا بتعريفه والكلم الثلاث التي يتألف منها ثانيا بذكر أسمائها وعلاماتها فالشرح مختلف، وللإشارة إلى اختلافه صرح بلفظ شرح في المعطوف، على أنه كما قال الروداني تقدير معنى لا تقدير إعراب وإن أوهمه صنيع الشارح لأن شرح المضاف إلى المعطوف عليه متسلط على المعطوف أيضا عند عدم إعادته معه لأن الصحيح أن العامل في المعطوف نفس العامل في المعطوف عليه لا مقدر مثله. وما أشار إليه من أن الكلام خبر مبتدأ محذوف تبعا للموضح غير متعين إذ يجوز كما قاله الشنواني رفعه على أنه مبتدأ حذف خبره أي باب الكلام هذا الآتي، ونصبه على المفعولية بنحو خذ مقدرا لا هاك كما وقع لبعضهم لأن اسم الفعل لا يعمل محذوفا. وفي قوله ما يتألف الكلام إشارة إلى رجوع ضمير يتألف في كلام المصنف إلى الكلام فالصلة جارية على غير ما هي له ولم يبرز الضمير لأمن اللبس المجوز لعدم إبرازه عند الكوفيين. قوله: "اختصر للوضوح" قيل على التدريج لأنه أنسب بالقواعد وأوقع في النفس بأن حذف المبتدأ ثم خبره وأنيب عنه شرح، ثم شرح وأنيب عنه الكلام. وقيل دفعة واحدة لأنه أقل عملا وعليه يحتمل أن الكلام نائب عن الخبر فقط أو عن الخبر والمضاف إليه. ورفع لشرف الرفع على الجر لكونه حكم العمد فلم ينب الكلام عن المبتدأ على هذا القول أصلا كما لم ينب عنه على القول الأول، بل هو على القولين حال في مكانه مقدر ملحوظ فيه لم يقم مقامه شيء، فتجويز البعض نيابته عن المبتدأ على الثاني غير صحيح فتدبر.
قوله: "كلامنا" أتى بالإضافة وإن كان مستغنى عنها بكون التأليف في النحو كما صرح به في الخطبة للإشارة إلى اختلاف الاصطلاحات في الكلام وللإشارة إلى أن المصنف من مجتهدي النحاة. قوله: "أيها النحاة" أي مبنية على الضم في محل نصب بأخص محذوفا. وها للتنبيه والنحاة نعت له على اللفظ. ويظهر لي أن معنى قولهم على اللفظ أنه ضم اتباعا لضم لفظ أي، فتكون ضمته ضمة اتباع ويكون منصوبا بفتحة مقدرة منع من ظهورها اشتغال المحل بحركة الاتباع ضرورة أن النعت موافق للمنعوت في إعرابه ثم رأيته عن بعض المحققين كما سيأتي في محله فاحفظه. قوله: "صوت" يستعمل مصدرا لصات يصوت فيكون معناه فعل الشخص الصائت، ويستعمل بمعنى الكيفية المسموعة الحاصلة من المصدر وهو المراد هنا أفاده يس. وهو قائم بالهواء وقيل الصوت الهواء المتكيف بالكيفية المسموعة. قوله: "مشتمل على بعض الحروف" من اشتمال الكل على جزئه المادي كما قاله البعض لكن هذا ظاهر إذا كان اللفظ حرفين أو أكثر فإن كان حرفا واحدا كواو العطف كان من اشتمال المطلق على المقيد أو العام على الخاص. قوله: "تحقيقا إلخ" تعميم في الصوت فالمنصوب مفعول مطلق لمحذوف أي محقق تحقيقا أو مقدر تقديرا أو بمعنى محققا أو مقدرا حال، ويعلم من هذا التعميم أن لماهية اللفظ أفرادا محققة وأفرادا مقدرة. قال الروداني: واستعماله في كل منهما حقيقة لا أنه في المقدرة مجاز. ا. هـ. ومن التحقيقي المحذوف على ما قاله البعض لتيسر النطق به صراحة وكذا كلامه تعالى اللفظي قبل التلفظ به لا كلامه القديم على قول جمهور أهل السنة أنه ليس بحرف ولا صوت، فالتحقيقي إما
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
হে ব্যাকরণবিদগণ, "আমাদের কালাম" হলো "লফজ" বা উচ্চারিত শব্দ, অর্থাৎ এমন ধ্বনি যা প্রকৃতরূপে (যেমন: যায়িদ) অথবা অনুমিতরূপে কিছু বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
—
এই বিন্যাস। কালামের ব্যাখ্যা (শারহ) প্রথমে তার সংজ্ঞার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে যে তিনটি বিষয় দ্বারা এটি গঠিত হয় তার নাম ও আলামত উল্লেখের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে, ফলে ব্যাখ্যাটি ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। এই ভিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত করার জন্যই তিনি পরবর্তী অংশে 'শারহ' শব্দটিকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। রুদানি যেমনটি বলেছেন, এটি অর্থের দিক থেকে অনুমিত হওয়া, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (ইরাব) দিক থেকে নয়; যদিও ব্যাখ্যাকারীর উপস্থাপন পদ্ধতি সেটিরই বিভ্রম তৈরি করে। কারণ 'মা'তুফ আলাইহি' (যার ওপর যুক্ত করা হয়েছে) এর সাথে যুক্ত 'মুদাফ' (শারহ শব্দটি) 'মা'তুফ' (যা যুক্ত করা হয়েছে) এর ওপরও প্রভাব বিস্তার করে যখন তাকে পুনরায় উল্লেখ করা হয় না। কেননা বিশুদ্ধ মতানুসারে, 'মা'তুফ' এর ক্ষেত্রে আমিল বা সক্রিয় শব্দ সেটিই যা 'মা'তুফ আলাইহি' এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান, তার সমজাতীয় কোনো অনুমিত শব্দ নয়। ব্যাখ্যাকারী 'মুওয়াদিহ' এর অনুকরণে 'কালাম' শব্দটিকে উহ্য 'মুবতাদা' এর 'খবর' হিসেবে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তা সুনিশ্চিত নয়। শানওয়ানি যেমনটি বলেছেন, এটিকে 'মুবতাদা' হিসেবে পেশ (রাফ') করাও জায়েজ যার খবর উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: 'এটি কালামের পরিচ্ছেদ'। আবার একে উহ্য 'খুজ' (গ্রহণ করো) ক্রিয়ার 'মাফউল' হিসেবে জবর (নাসব) দেওয়াও সম্ভব, তবে 'হাকা' (নাও) এর মাধ্যমে নয়—যেমনটি কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন—কারণ 'ইসমুল ফিয়ল' উহ্য অবস্থায় আমল বা প্রভাব বিস্তার করে না। মূল লেখকের 'যা দ্বারা কালাম গঠিত হয়' কথাটিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, 'ইয়া’তালাফু' (গঠিত হয়) এর সর্বনাম (দমির) 'কালাম' এর দিকে ফিরেছে। ফলে সম্বন্ধটি তার প্রকৃত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর প্রযোজ্য হয়েছে এবং দ্ব্যর্থতার অবকাশ না থাকায় সর্বনামটি প্রকাশ করা হয়নি, যা কুফাবাসীদের নিকট সর্বনাম প্রকাশ না করার একটি বৈধ কারণ। তাঁর উক্তি: "স্পষ্টতার জন্য সংক্ষেপ করা হয়েছে"। বলা হয়েছে এটি পর্যায়ক্রমে হয়েছে, কারণ এটি উসূল বা মূলনীতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং হৃদয়ে অধিক প্রভাব বিস্তার করে। যেমন—প্রথমে মুবতাদা বিলুপ্ত করা হয়েছে, এরপর খবর এবং তার পরিবর্তে 'শারহ' শব্দটিকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। অতঃপর 'শারহ' বিলুপ্ত করে তার স্থলে 'কালাম' আনা হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন এটি একসাথেই হয়েছে কারণ এতে পরিশ্রম কম। সেই মতে সম্ভাবনা থাকে যে, 'কালাম' শব্দটি কেবল 'খবর' এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে অথবা 'খবর' ও 'মুদাফ ইলাইহি' উভয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর 'রাফ' বা পেশের মর্যাদা 'জার' বা জেরা এর চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে একে পেশ দেওয়া হয়েছে, যেহেতু এটি প্রধান অংশের (উমদাহ) বিধান। এই মতানুসারে 'কালাম' মোটেও মুবতাদা এর স্থলাভিষিক্ত হয়নি, যেমনটি প্রথম মতানুসারেও হয়নি। বরং উভয় মতেই এটি নিজ স্থানে স্থির রয়েছে এবং একে অনুমিত ও লক্ষ্য রাখা হয়েছে, অন্য কিছু তার স্থলাভিষিক্ত হয়নি। সুতরাং দ্বিতীয় মতানুসারে কারও কারও একে মুবতাদা এর স্থলাভিষিক্ত ধরা সঠিক নয়, বিষয়টি অনুধাবন করুন।
তাঁর উক্তি: "আমাদের কালাম"। তিনি সম্বন্ধ (ইদাফাত) ব্যবহার করেছেন যদিও এর প্রয়োজন ছিল না, কারণ ব্যাকরণ শাস্ত্রের কিতাব হিসেবে এটি স্পষ্ট ছিল যেমনটি তিনি খুতবায় বলেছেন। এটি করা হয়েছে কালামের সংজ্ঞায় বিভিন্ন পরিভাষার পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত দিতে এবং মূল লেখক যে ব্যাকরণবিদদের মধ্যে একজন গবেষক (মুজতাহিদ) সেদিকে ইশারা করতে। তাঁর উক্তি: "হে ব্যাকরণবিদগণ"। এখানে 'আইয়ুহা' শব্দটি পেশের (দম) ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং উহ্য 'আমি উদ্দেশ্য করছি' (আখাসসু) ক্রিয়ার কারণে এটি জবরের (নাসব) স্থানে রয়েছে। 'হা' বর্ণটি সতর্কীকরণের জন্য এবং 'ব্যাকরণবিদগণ' (আন-নুহাত) শব্দটি শব্দের উচ্চারণ অনুযায়ী তার বিশেষণ। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, "শব্দের উচ্চারণ অনুযায়ী" কথাটির অর্থ হলো—এটি 'আইয়ুহা' এর পেশের অনুকরণে পেশযুক্ত হয়েছে। সুতরাং এর পেশটি হবে অনুকরণমূলক এবং এটি মূলত অনুমিত জবর (ফাতহা) দ্বারা মানসুব হবে। অনুকরণমূলক হরকতের কারণে মূল জবরটি প্রকাশ পেতে বাধা পেয়েছে। কারণ বিশেষণ অবশ্যই বিশেষিত শব্দের ব্যাকরণিক অবস্থার অনুসারী হতে হয়। পরবর্তীতে আমি এই বিষয়টি কয়েকজন গবেষক আলেমের বক্তব্যেও দেখেছি যেমনটি যথাস্থানে আসবে, তাই এটি স্মরণে রাখুন। তাঁর উক্তি: "ধ্বনি"। এটি 'সাতা-ইয়াসুতু' এর ক্রিয়ামূল (মাসদার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হবে ধ্বনিকারীর কাজ। আবার এটি মাসদার থেকে অর্জিত 'শ্রুত গুণ' অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আর এখানে এটিই উদ্দেশ্য—যেমনটি ইয়াস বর্ণনা করেছেন। এটি বায়ুর সাথে বিদ্যমান থাকে। কেউ বলেছেন, ধ্বনি হলো এমন বায়ু যা শ্রুত গুণে রূপান্তর লাভ করেছে। তাঁর উক্তি: "কিছু বর্ণ সম্বলিত"। কেউ যেমনটি বলেছেন—এটি সামগ্রিক জিনিসের তার বস্তুগত অংশের ওপর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর্যায়ভুক্ত। কিন্তু এটি তখনই স্পষ্ট হয় যখন শব্দটি দুই বা ততোধিক বর্ণবিশিষ্ট হয়। কিন্তু যদি শব্দটি একটি মাত্র বর্ণ হয়, যেমন 'ওয়াও আতিফাহ', তবে এটি সাধারণের বিশেষের ওপর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর্যায়ভুক্ত হবে। তাঁর উক্তি: "প্রকৃতরূপে ইত্যাদি"। এটি ধ্বনির সাধারণ রূপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এই জবরযুক্ত শব্দটি উহ্য ক্রিয়ার 'মাফউলে মুতলাক' হবে, অর্থাৎ—'প্রকৃতভাবে সাব্যস্ত' অথবা 'অনুমিতভাবে সাব্যস্ত'। অথবা এটি অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই সাধারণীকরণ থেকে জানা যায় যে, শব্দের মূল সত্তার কিছু সদস্য প্রকৃত এবং কিছু সদস্য অনুমিত। রুদানি বলেছেন: উভয়ের ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার প্রকৃত, অনুমিত বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি রূপক বা অলঙ্কারিক নয়। প্রকৃত উচ্চারিত শব্দের মধ্যে উহ্য শব্দও শামিল—যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন—যাতে করে তা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা সহজ হয়। তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলার কালাম যা উচ্চারণের পূর্বের শাব্দি রূপ, তাঁর অনাদি বা কাদীম কালাম নয়—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুসারে যা বর্ণ বা ধ্বনি নয়। সুতরাং প্রকৃত হলো হয়...