(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: -)
الإسلام والتوازن الاقتصادي بين الأفراد والدول القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإسلام والتوازن الاقتصادي بين الأفراد والدول
المؤلف: محمد شوقى الفنجرى (ت 1431هـ)
الناشر: وزارة الأوقاف
عدد الصفحات: 132
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলাম এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলাম এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য
লেখক: মুহাম্মদ শাওকি আল-ফানজারি (মৃত্যু ১৪৩১ হিজরি)
প্রকাশক: আওকাফ মন্ত্রণালয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة:على سبيل التقديم
أ. د/ عبد الصبور مرزوق
قضية الثروة في الإسلام تحكمها مجموعة من الضوابط الواقعية والأخلاقية العادلة التي تكفل لكل إنسان في أرض الله نصيبه -إلى مدار الكفاية- من رزق الله.
ونوجز هذه الضوابط فيما يلي:
أولا:
أن كل ما يدب على الأرض من خلق الله إنسانا أو حيوانا أو طيرا أو حشرا قد أخذ الحق سبحانه على نفسه أن يتكفل برزقه وذلك في قوله: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا} 1.
ومفهوم هذا العهد الإلهي بالرزق بالنسبة للإنسان أن
--------------------------------------------
ভূমিকা:উপস্থাপনা স্বরূপ
প্রফেসর ড. আব্দুল সবুর মারজুক
ইসলামে সম্পদের বিষয়টি কতগুলো বাস্তবধর্মী ও ইনসাফপূর্ণ নৈতিক নিয়মনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা আল্লাহর জমিনে প্রতিটি মানুষের জন্য আল্লাহর প্রদত্ত রিজিক থেকে তার অংশ—পর্যাপ্ততার সীমা পর্যন্ত—নিশ্চিত করে।
আমরা এই নিয়মাবলি নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
প্রথমত:
মানুষ, পশু, পাখি কিংবা পতঙ্গসহ আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল প্রত্যেকের রিজিকের দায়িত্ব মহান আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরশাদ করেন: {আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত নয়} ১।
মানুষের জন্য রিজিক সংক্রান্ত এই খোদায়ী অঙ্গীকারের মর্মার্থ হলো যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৪)
كل إنسان مسلما كان أو غير مسلم يصبح داخلا في هذا العهد ويكون له نصيب مشروع ومكفول في هذا الرزق بما يكفل استمرار حياته وبقائه في المستوى الذي جرى الاصطلاح عليه بأنه "حد الكفاية" والذي يختلف عن حد "الكفاف".
وحد الكفاية فيما يقرره الفقهاء هو ما يعني توفير الحاجات الأساسية للإنسان والتي تعني أن يكون للإنسان بيت يؤويه. وطعام يكفيه وخادم ودابة يقضي عليها حاجاته ثم زوجة تعفه عن الحرام.
يستوي في ذلك -كما أشرنا- المسلم وغير المسلم.
ورضي الله عن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه يوم رأى يهوديا شيخا يتكفف الناس فلما عرف حقيقة حاله أخذ بيده وضرب له سهما -أي قرر له راتبا- في بيت مال المسلمين.
প্রত্যেক মানুষ, সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এই জীবনোপকরণে তার একটি বৈধ ও সুনিশ্চিত অংশ বরাদ্দ থাকে যা তার জীবন ও অস্তিত্ব বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেয় এমন এক স্তরে, যাকে পরিভাষায় "পর্যাপ্ততার সীমা" (حد الكفاية) বলা হয় এবং যা "ন্যূনতম জীবনধারণের সীমা" (حد الكفاف) থেকে ভিন্ন।
ফকিহগণ (الفقهاء) যা নির্ধারণ করেছেন সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ততার সীমা (حد الكفاية) বলতে মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণ করাকে বোঝায়; যার অর্থ হলো মানুষের জন্য এমন একটি ঘর থাকা যা তাকে আশ্রয় দেবে, পর্যাপ্ত খাদ্য, একজন সেবক এবং একটি বাহন যার মাধ্যমে সে তার প্রয়োজন মেটাবে, অতঃপর একজন স্ত্রী যে তাকে নিষিদ্ধ (الحرام) বিষয় থেকে পবিত্র রাখবে।
এক্ষেত্রে—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—মুসলিম এবং অমুসলিম সমান।
আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.)-এর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন, যেদিন তিনি একজন বৃদ্ধ ইহুদীকে মানুষের কাছে ভিক্ষা করতে দেখলেন; অতঃপর যখন তিনি তার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারলেন, তখন তিনি তার হাত ধরলেন এবং মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার (بيت مال المسلمين) থেকে তার জন্য একটি অংশ—অর্থাৎ একটি নিয়মিত ভাতা—নির্ধারণ করে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫)
ثانيا:
لقد أعلن الإسلام في صريح آيات القرآن الكريم أن المال مال الله وأن الخلق جميعا مستخلفون فيه -أي في إنفاقه- وفق الضوابط الشرعية التي قررها الإسلام وذلك في مثل قوله سبحانه: {وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ} ثم قوله سبحانه: {وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيه} 2.
ومفهوم الاستخلاف يعني ما يشبه الوكالة عن الله منزل الرزق المالك الأصلي للمال وواجب الوكيل أن يلتزم أمر موكله ومستخلفه فيما أباحه وفيما حرمه.
وهنا نجد في آيات القرآن مجموعة الأحكام التي يجب التزامها في التعامل مع المال وجدير بالإشارة أنها في مجموعها تمثل إطارا أخلاقيا يضع المال في حجمه
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত:
ইসলাম পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াতের মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে, সম্পদ মূলত আল্লাহর এবং সমস্ত সৃষ্টি এতে প্রতিনিধি (مستخلفون) হিসেবে নিয়োজিত—অর্থাৎ এর ব্যয়ের ক্ষেত্রে—ইসলাম নির্ধারিত শরয়ি বিধিবিধান অনুযায়ী। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদেরকে আল্লাহর সেই সম্পদ থেকে দান করো যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন} অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি তোমাদের যাতে স্থলাভিষিক্ত (مستخلفين) করেছেন তা থেকে ব্যয় করো} ২।
প্রতিনিধিত্বের (الاستخلاف) ধারণাটির অর্থ হলো রিযিকদাতা ও সম্পদের মূল মালিক আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত কর্তৃত্বের (الوكالة) সদৃশ; আর প্রতিনিধির (الوكيل) কর্তব্য হলো যা কিছু তিনি বৈধ করেছেন এবং যা কিছু তিনি নিষিদ্ধ করেছেন সেই ক্ষেত্রে তার নিয়োগকর্তা (الموكل) তথা প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর নির্দেশ মেনে চলা।
এখানেই আমরা কুরআনের আয়াতসমূহে একগুচ্ছ বিধিবিধান দেখতে পাই যা সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেনে চলা আবশ্যক। এটি উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, এই বিধানগুলো সামগ্রিকভাবে একটি নৈতিক কাঠামো উপস্থাপন করে যা সম্পদকে তার প্রকৃত অবস্থানে আসীন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬)
الصحيح خادما للإنسان لا سيدا له كما تقول الآية: {الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} 1.
كما يلزم الإنسان في علاقته بما يؤتاه من مال أن يكون حريصا في اكتسابه على التزام الحلال حيث لا سرقة ولا غصب ولا أكلا لحقوق الضعفاء من المسلمين واليتامى.
وقبل هذا لا يكون مكتسبا من الربا أو احتكار أقوات الناس وحبسها حتى يرتفع أسعارها وغير ذلك مما حذرت منه الآيات الكريمة والأحاديث النبوية الشريفة في مثل قول الحق سبحانه عن الاستمتاع العادل بالمال: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} 2 وقوله سبحانه عن ضرورة التوازن في الإنفاق بين الإسراف والتبذير {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} 3 وقوله سبحانه: {وَلا تَجْعَلْ يَدَكَ
--------------------------------------------
সঠিক (صحيح) বিষয়টি হলো সম্পদ মানুষের সেবক, তার প্রভু নয়; যেমনটি আয়াতে বলা হয়েছে: {ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা} 1.
তেমনিভাবে মানুষের জন্য তাকে প্রদত্ত সম্পদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবশ্যিক হলো তা উপার্জনে হালাল মেনে চলার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া; যেখানে কোনো চুরি, জবরদখল কিংবা মুসলিমদের মধ্যে যারা দুর্বল এবং এতিম তাদের অধিকার হরণ করা হবে না।
আর এর আগে, সম্পদ যেন সুদ কিংবা মানুষের খাদ্যশস্য মজুতদারি ও তা আটকে রাখার মাধ্যমে উপার্জিত না হয়—যাতে সেগুলোর দাম বৃদ্ধি পায়—এবং এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় যা থেকে সম্মানিত আয়াতসমূহ এবং মর্যাদাপূর্ণ নববী হাদিসসমূহ সতর্ক করেছে। যেমন সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ভোগ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও পবিত্র রিযিক বের করেছেন, তা কে হারাম করেছে?} 2 এবং ব্যয় করার ক্ষেত্রে অপচয় ও অপব্যয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা পানাহার করো ও অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} 3 এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তুমি তোমার হাতকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭)
مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا} 1.
وهذه التوجيهات ليست مجرد مواعظ أخلاقية ولكنها ضوابط وقواعد اقتصادية تحدد بوضوح ما ينبغي للإنسان الفرد أن يأخذ من المال. لأن ما يزيد على الحاجات يدخله مع المسرفين. والمسرفون ومعهم المترفون يكون سرفهم وترفهم كأنه سرقة حق لفقير ومحتاج على نحو ما روي عن الإمام علي رضي الله عنه أنه قال: "ما أتخم غني إلا بعدوان على حق فقير".
أما تحريم الربا في المعاملات المالية فهو قضية اقتصادية واجتماعية وأخلاقية معا لعدة اعتبارات.
أولها: أنها محرمة تحريما قاطعا ينصوص القرآن
--------------------------------------------
{...তোমার হাত তোমার গলার সাথে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিতও করো না, নতুবা তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে।} ১।
এই নির্দেশনাগুলো কেবল নৈতিক উপদেশ নয়, বরং এগুলো হলো অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা যা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয় একজন ব্যক্তির সম্পদ থেকে কতটুকু গ্রহণ করা উচিত। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা কিছু আছে, তা মানুষকে অপচয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত করে। আর অপচয়কারী ও বিলাসীদের এই অপচয় ও বিলাসিতা যেন কোনো অভাবী ও দরিদ্র ব্যক্তির হকের ওপর চুরিতুল্য, যেমনটি ইমাম আলী (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "দরিদ্রের হকের ওপর সীমালঙ্ঘন করা ছাড়া কোনো ধনী ব্যক্তি অতিভোজন করে না।"
আর্থিক লেনদেনে সুদের (ربا) নিষিদ্ধকরণ (تحريم) বেশ কিছু কারণে একই সাথে একটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক বিষয়।
প্রথমত: এটি কুরআনের অকাট্য (قطعي) নস (نصوص) সমূহের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৮)
الكريم حيث يقول: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} 1 وقوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لا تَظْلِمُونَ} 2.
فهذه الآيات ونظائرها تحدد الحكم الشرعي القاطع بتحريم الربا وإنذار المرابين بحرب من الله والرسول.
وحكمة التحريم فيما تؤدي إليه من الظلم والخراب الاقتصادي تعيشها جميع دول العالم المتخلف المسمى بالعالم الثالث -والذي نحن المسلمين جزء كبير منه- ويتضح الظلم ويتحقق الخراب في عجز الدول المدينة عن الوفاء بالفائدة التي هي عين الربا والتي تدفع بعض دول عالمنا
--------------------------------------------
কুরআন মাজিদে যেখানে তিনি বলেন: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই, আর তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট ন্যস্ত। আর যারা পুনরায় তা করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে} ১ এবং তাঁর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। তবে যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর যদি তোমরা তাওবাহ করো, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না} ২।
এই আয়াতসমূহ এবং এর সমজাতীয় অন্যান্য বর্ণনা সুদের হারামের ব্যাপারে অকাট্য শরয়ি বিধান নির্ধারণ করে এবং সুদখোরদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি প্রদান করে।
আর এই হারাম করার হিকমত বা প্রজ্ঞা সেই জুলুম ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের মধ্যে নিহিত, যা তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত অনুন্নত দেশগুলো প্রত্যক্ষ করছে—আমরা মুসলিমরা যে বিশ্বের একটি বড় অংশ। আর ঋণগ্রস্ত দেশগুলো যখন সুদ—যা মূলত সুদেরই নির্যাস—পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন এই জুলুম ও ধ্বংস স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা আমাদের বিশ্বের কিছু দেশকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৯)
مجمل دخلها ليس لسداد بعض الدين ولكن لسداد هذه الفائدة.
ولقضية الربا حديث يطول ولا يتسع المقام.
ونعود إلى حقوق عباد الله في رزق الله الذي يختصر في اللغة المعاصرة بلفظ المال فأقول: إن هذا الحق متعلق بضمان عدالة التوزيع بحيث يحصل كل مستحق على حقه.
وغني عن البيان أننا لا نعني هنا مطلق المساواة بين جميع الناس كما زعمت الشيوعية ذلك في فلسفتها المادية.
أولا: لأن الشيوعية لم تحقق أبدا مطلق المساواة بل كانت -وحتى انهيار الاتحاد السوفييتي- تضم في مجتمعها أربع طبقات متميزة لأبعد الحدود هي: طبقة اللجنة المركزية للحزب الشيوعي وطبقة العلماء المتخصصين في الشئون النووية وبحوث الفضاء ثم طبقة جنرالات الجيش وأخيرا طبقة الفنانين من راقصات البالية وغيرهم
এর মোট আয় ঋণের কিছু অংশ পরিশোধের জন্য নয়, বরং এই সুদ পরিশোধের জন্য।
সুদ সংক্রান্ত আলোচনার ব্যাপ্তি দীর্ঘ এবং এখানে সেই পরিসর নেই।
আমরা পুনরায় আল্লাহর দেয়া রিজিকে আল্লাহর বান্দাদের অধিকারের প্রসঙ্গে ফিরে আসি, যা সমসাময়িক পরিভাষায় ‘সম্পদ’ শব্দ দ্বারা সংক্ষেপে ব্যক্ত করা হয়। আমি বলব: এই অধিকারটি বণ্টনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সাথে সংশ্লিষ্ট, যাতে প্রত্যেক হকদার তার প্রাপ্য অধিকার লাভ করতে পারে।
বলা বাহুল্য যে, আমরা এখানে সকল মানুষের মধ্যে নিরঙ্কুশ সমতা বোঝাচ্ছি না, যেমনটি কমিউনিজম তাদের বস্তুবাদী দর্শনে দাবি করেছিল।
প্রথমত: কারণ কমিউনিজম কখনোই নিরঙ্কুশ সমতা অর্জন করতে পারেনি; বরং—সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন পর্যন্ত—তাদের সমাজে চরমভাবে বিভক্ত চারটি স্বতন্ত্র শ্রেণি বিদ্যমান ছিল: কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রেণি, পারমাণবিক বিষয় ও মহাকাশ গবেষণায় বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের শ্রেণি, এরপর সেনাবাহিনীর জেনারেলদের শ্রেণি এবং পরিশেষে ব্যালে নৃত্যশিল্পী ও অন্যান্য শিল্পীদের শ্রেণি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১০)
ممن تقوم عليهم مهمة الدعاية للمبادئ الماركسية واللينينية.
ثانيا: لأن كتابنا الكريم الذي لم يخلق عباده متساوين في كل شيء بل يتمايزون بالقدرات الفردية الخاصة في الذكاء والعلم والمقومات الشخصية وغيرها مما يستحيل معه أن يتساوى الناس لأن مطلق المساواة يخل بتكوين المجتمع المدني الذي جعل عماده التوزع الهرمي والتنوع في الخبرات لتسير عجلة الحياة بهذا التنوع والتمايز الذي يضع كل فرد في درجات هذا الهرم الذي يكمل بعضه بعضا وهذا ما أشار إليه القرآن الكريم في قوله: {أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} 1.
--------------------------------------------
যারা মার্ক্সীয় ও লেনিনীয় আদর্শের প্রচারের দায়িত্বে নিয়োজিত।
দ্বিতীয়ত: কারণ আমাদের পবিত্র কিতাব অনুযায়ী, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সব বিষয়ে সমান করে সৃষ্টি করেননি; বরং তারা মেধা, জ্ঞান, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে একে অপরের থেকে আলাদা হয়। এমতাবস্থায় মানুষের মধ্যে পরম সমতা অর্জন অসম্ভব, কারণ নিরঙ্কুশ সমতা নাগরিক সমাজের গঠনতন্ত্রকে বিঘ্নিত করে, যার ভিত্তি হলো স্তরভিত্তিক বিন্যাস এবং অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য ও পার্থক্যের মাধ্যমেই জীবনের চাকা সচল থাকে, যা প্রতিটি ব্যক্তিকে এই পিরামিডের এমন বিভিন্ন স্তরে স্থাপন করে যেখানে একে অপরকে পূর্ণতা দান করে। পবিত্র কুরআনের এই বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: "তারা কি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ বণ্টন করে? আমিই পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নত করি, যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। তারা যা জমা করে, তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ তা অপেক্ষা অনেক উত্তম।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فالإسلام هنا لا يسوي بين الناس لاستحالة ذلك بحكم عدم تساوى الخلق في المواهب والقدرات، وهو أيضا لا يعترف بالطبقية البغيضة التي يحتلها بعض المحظوظين أو بعض الانتهازيين الذين أتيحت لهم فرص غير مشروعة لثراء غير مشروع.
كل ذلك لا يقره الإسلام ولا يعترف به، وإنما يدعو إلى التقريب بين الطبقات بحيث لا يكون ثمة أغنياء يتخمهم الترف وفقراء لا يجدون ما ينفقون.
وكل هذا وفق التوجيهات القرآنية والنبوية التي اعتمدت إطارا أخلاقيا للعلاقة بين الأغنياء والفقراء في مثل قوله سبحانه: {وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا، إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلا شُكُورًا} 1 وقوله: {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 2.
--------------------------------------------
ইসলাম এখানে মানুষের মাঝে সমতা বিধান করে না, কারণ মেধা ও সক্ষমতায় সৃষ্টির অসমতার কারণে তা অসম্ভব; তদ্রূপ ইসলাম এমন জঘন্য শ্রেণীবিভেদকেও স্বীকৃতি দেয় না, যা কিছু ভাগ্যবান বা কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিরা দখল করে থাকে, যাদের জন্য অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অবৈধ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইসলাম এসবের কোনোটিকেই সমর্থন বা স্বীকৃতি দেয় না, বরং এটি বিভিন্ন শ্রেণীর মাঝে ব্যবধান কমিয়ে আনার আহ্বান জানায়, যাতে এমন কোনো ধনীর সৃষ্টি না হয় যারা বিলাসিতায় মত্ত থাকে এবং এমন কোনো দরিদ্র না থাকে যাদের ব্যয় করার মতো কিছুই নেই।
আর এই সবকিছুই কুরআন ও নববী নির্দেশনার অনুসারী যা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নৈতিক কাঠামো নির্ধারণ করেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার টানে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীদের আহার দান করে। (তারা বলে) আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার্য দান করি, আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না} ১ এবং তাঁর বাণী: {তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১২)
إضافة إلى ما حثت عليه السنة النبوية من مثل قول الرسول صلوات الله وسلامه عليه: "ليس منا من بات شبعان وجاره طاو جائع وهو يعلم". وغير ذلك مما امتلأت به كتب السنة والسيرة من حث على الإنفاق -فوق فريضة الزكاة.
على أن ثمة ملحظا تجدر العناية به وهو أنه عندما تطرأ على المجتمع المسلم حالة يستحيل فيها على الناس أن يجدوا ما ينفقون فهنا يصبح من حق ولي الأمر أن يفرض ما يشاء من أوجه التكافل بين الأغنياء والفقراء حتى ولو كان الأغنياء قد دفعوا الزكاة فيكون له أن يأخذ من أغنيائهم ليرد على فقرائهم حتى يكتفوا.
ولعل تجربة "المؤاخاة" التي أقامها الرسول صلوات الله وسلامه عليه بعد الهجرة إلى المدينة بين المهاجرين والأنصار أوضح نماذج التكافل الاجتماعي كما يراه الإسلام وهنا لا تفوتنا الإشارة إلى أن تحقيق الإسلام للعدل الاجتماعي -عدالة التوزيع- لا يستند إلى القهر أو المصادرة
সুন্নাহর নির্দেশনার পাশাপাশি যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "সে ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে তৃপ্ত অবস্থায় রাত কাটায় অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত ও ক্ষুধার্ত এবং সে তা জানে।" এছাড়া সুন্নাহ ও সীরাতের গ্রন্থসমূহ ফরয যাকাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের উৎসাহে পরিপূর্ণ।
তবে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, যখন মুসলিম সমাজে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যেখানে মানুষের পক্ষে ব্যয় করার মতো সামর্থ্য থাকে না, তখন রাষ্ট্রপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অধিকার রয়েছে ধনী ও দরিদ্রদের মাঝে সামাজিক সংহতির যে কোনো রূপ নির্ধারণ করার। এমনকি ধনীরা যাকাত প্রদান করে থাকলেও শাসক তাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত সম্পদ গ্রহণ করে অভাবীদের মাঝে বণ্টন করতে পারেন যতক্ষণ না তারা সচ্ছল হয়।
সম্ভবত মদিনায় হিজরতের পর মুহাজির ও আনসারদের মাঝে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ভ্রাতৃত্বের ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, তা ইসলামের দৃষ্টিতে সামাজিক সংহতির উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইসলামের সামাজিক ন্যায়বিচার—অর্থাৎ বণ্টনমূলক ইনসাফ—জুলুম বা জবরদস্তিমূলক বাজেয়াপ্তকরণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أو التأميم وما إلى ذلك لمنافاته لاحترام الإسلام للملكية الشخصية وحمايتها إلى حد أن يقول الرسول صلوات الله وسلامه عليه: "ومن قتل دون ماله فهو شهيد".
وإنما يستند إلى منهج تربوي وإعداد نفسي ضخم قوامه العمل على تخليص النفوس من شحها وتأهيلها للخلاص من العبودية للمال إلى التعامل معه باعتباره وسيلة لخدمة الإنسان في الحصول على مرضاة الله وقضاء حقوق الآخرين فيه حتى يعتاد الإيثار ويكون ممن يصف القرآن سلوكهم ومواقفهم مع المال بقوله:
{وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 1.
وهذا البناء التربوي والنفسي على الخلاص من شح النفس والإيثار عليها هو ما دفع القادرين من
--------------------------------------------
...বা জাতীয়করণ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো; কারণ এগুলো ব্যক্তিগত মালিকানার প্রতি ইসলামের সম্মান ও সুরক্ষার পরিপন্থী। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হন, তিনি শহীদ (شهيد)।"
বরং এটি একটি সুবৃহৎ শিক্ষামূলক পদ্ধতি এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যার মূল কাজ হলো আত্মাকে কৃপণতা থেকে মুক্ত করা এবং সম্পদের দাসত্ব থেকে ছাড়িয়ে একে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও অন্যের হক আদায়ে মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার যোগ্য করে তোলা। এর ফলে মানুষ পরার্থপরতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের সম্পদের প্রতি আচরণ ও অবস্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে:
“এবং তারা নিজেদের ওপর (অন্যকে) অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত। আর যাদেরকে হৃদয়ের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” ১।
আত্মার কার্পণ্য থেকে মুক্তি এবং পরার্থপরতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা এই শিক্ষামূলক ও মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোই সামর্থ্যবানদের উদ্বুদ্ধ করেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الصحابة على التضحية الضخمة بأموالهم في سبيل الله فنرى عثمان بن عفان "ذو النورين" وعبد الرحمن بن عوف رضي الله عنهما يجهزان جيش "العسرة" لغزوة تبوك من مالهما الخاص. كما نرى أبا بكر وعمر رضوان الله عليهما يضربان في الأمر ذاته مثلا عليا في البذل والعطاء.
بل نرى أحدهم لا يملك إلا درهما واحدا فيقدمه لرسول الله صلى الله عليه وسلم فيقول الرسول معلقا على ذلك: "سبق درهم مائة ألف درهم".
وحديث التعامل مع "الثروة" أو المال أو الرزق في منظور الإسلام شامخ وعظيم ومشرف وعادل وتنفرد الرؤية الإسلامية -في ضبط علاقة الإنسان بالمال- تنفرد بتميز وتوازن عظيم يجمع بين حقوق الأفراد وحقوق المجتمع، الأمر الذي تفتقده النظريتان
সাহাবিগণ আল্লাহর পথে তাঁদের সম্পদের এক বিশাল আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন। আমরা দেখতে পাই উসমান বিন আফফান "যুন নুরাইন" এবং আবদুর রহমান বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁদের নিজস্ব সম্পদ থেকে তাবুক যুদ্ধের জন্য "আসরা" (সংকটকালীন) বাহিনী সজ্জিত করছেন। একইভাবে আমরা আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কেও দান ও ত্যাগের ক্ষেত্রে এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে দেখি।
বরং আমরা এমনও কাউকে দেখি যার নিকট মাত্র একটি দিরহাম ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তবুও তিনি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে পেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "একটি দিরহাম এক লক্ষ দিরহামের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে।"
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদ, অর্থ বা জীবিকা সংক্রান্ত আলোচনা অত্যন্ত সুউচ্চ, মহান, গৌরবময় ও ন্যায়নিষ্ঠ। সম্পদের সাথে মানুষের সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরিতে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি এক অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব ও ভারসাম্যের অধিকারী, যা ব্যক্তির অধিকার ও সমাজের অধিকারের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় সাধন করে। এটি এমন একটি বিষয় যা অন্য দুটি তত্ত্বে অনুপস্থিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الرأسمالية والاشتراكية.
وذلك لأن نظرية الإسلام تقوم على قاعدة عظمى قوامها، خصوصية الملكية وعمومية المنفعة.
من هنا يرحب المجلس الأعلى للشئون الإسلامية بنشر هذه الدراسة القيمة عن "الإسلام والتوازن الاقتصادي بين الأغنياء والفقراء للأستاذ الدكتور محمد شوقي الفنجري أستاذ الاقتصاد والوكيل الأسبق لمجلس الدولة".
راجين أن يفيد بهذه الدراسة كل دارسي الاقتصاد بوصف خاص لينقضوا على العطاء السباق للإسلام في ميادين العدل الاجتماعي والتوازن المنصف في مسائل "التنظير" الذي لم يره "المنظرون" في الشرق والغرب فاشتطوا ذات اليمين وذات الشمال مما شقيت به البشرية بين أهل "الربا" وأهل الإلحاد.
পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র।
কারণ ইসলামের তত্ত্ব এক মহান ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মূল নির্যাস হলো মালিকানার ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এবং উপযোগের সর্বজনীনতা।
এ প্রেক্ষাপটে, 'মজলিসুল আলা লিশ-শুউনিল ইসলামিয়া' (ইসলামি বিষয়ক উচ্চতর পরিষদ) অর্থনীতিবিদ্যার অধ্যাপক ও রাষ্ট্রীয় পরিষদের সাবেক প্রতিনিধি অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ শাওকি আল-ফানজারি রচিত "ইসলাম ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য" শীর্ষক এই মূল্যবান গবেষণাটি প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।
আমরা আশাবাদী যে, বিশেষ করে অর্থনীতির সকল শিক্ষার্থী এই গবেষণার মাধ্যমে উপকৃত হবেন; যাতে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার ও ইনসাফপূর্ণ ভারসাম্যের ক্ষেত্রে ইসলামের অগ্রগামী অবদানের স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারেন—তাত্ত্বিক গবেষণার এমন সব দিক যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের "তত্ত্ববিদরা" অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তারা ডানে-বামে বিচ্যুত হয়েছেন, যার দরুণ "সুদখোর" ও নাস্তিক্যবাদীদের মাঝে পড়ে মানবজাতি চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وراجين أيضا أن يفيد منها المعنيون بدراسة الاقتصاد في الإسلام ليقفوا منها على صواب الحكم ودقة البحث.
والله أسأل أن يجعل ما نقدمه وما يقدمه كل العلماء العاملين خالصا لوجهه وعلى الله اعتمادنا وهو دائما حسبي.
أ. د/ عبد الصبور مرزق
আমরা আরও আশাবাদী যে, ইসলামি অর্থনীতি গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ এ থেকে উপকৃত হবেন, যাতে তারা এর মাধ্যমে বিধানের (الحكم) সঠিকতা এবং গবেষণার সূক্ষ্মতা অনুধাবন করতে পারেন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই উপস্থাপনা এবং সকল কর্মনিষ্ঠ আলেমদের অবদানকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। আল্লাহর ওপরই আমাদের পূর্ণ নির্ভরতা এবং তিনিই সর্বদা আমার জন্য যথেষ্ট।
প্রফেসর ড. আবদুস সবুর মারজুক
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تمهيد:1-
التوزيع النظري أو الشخصي والتوزيع العملي أو الوظيفي:كل عملية إنتاجية تصاحبها عملية أخرى هي التوزيع، أي توزيع الناتج على من اشتركوا في تكوينه في صورة دخول. وهذه الدخول ليست إلا أثمان أو قيمة خدمات عناصر الإنتاج التي أسهمت في العملية الإنتاجية.
وتعتبر مشكلة توزيع الثروة بين الناس من أهم مشاكل المجتمع لا سيما في العصر الحديث؛ وذلك لما ترتب عليها من انقسام المجتمع إلى فريق الأغنياء القادرين على إشباع مختلف حاجاتهم أو تحقيق مختلف رغباتهم وفريق الفقراء العاجزين عن إشباع أو تحقيق تلك الحاجات والرغبات، بل واستطاعة الأغنياء بما لديهم من ثروة أن يكونوا أصحاب النفوذ والسيطرة. لذلك اختلفت المذاهب والنظم الاقتصادية اختلافا أساسيا في الحلول التي وضعتها لحل مشكلة التوزيع، ويرجع اختلاف تلك الحلول إلى اختلافها الأيديولوجي أي المذهبي في أسس التوزيع،
ভূমিকা:১- তাত্ত্বিক বা ব্যক্তিগত বণ্টন এবং ব্যবহারিক বা বৃত্তিমূলক বণ্টন:প্রতিটি উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে অন্য একটি প্রক্রিয়া অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে, যা হলো বণ্টন; অর্থাৎ উৎপাদনের অর্জিত ফলাফলকে যারা এর উৎপাদনে অংশীদার ছিল তাদের মধ্যে আয়ের আকারে বণ্টন করে দেওয়া। আর এই আয়গুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখা উৎপাদন-উপাদানসমূহের সেবামূল্য বা দাম ছাড়া আর কিছু নয়।
মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টনের সমস্যাটি সমাজের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত, বিশেষ করে আধুনিক যুগে; কারণ এর ফলে সমাজ এমন এক ধনী শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যারা তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে বা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম, এবং এমন এক দরিদ্র শ্রেণিতে যারা সেই প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষাগুলো মেটাতে অক্ষম। এমনকি ধনীরা তাদের অর্জিত সম্পদের মাধ্যমে প্রভাব ও প্রতিপত্তির অধিকারী হতে সক্ষম হয়। এ কারণেই বণ্টনের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক মতবাদ ও ব্যবস্থাসমূহ মৌলিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন সমাধান পেশ করেছে। এই সমাধানগুলোর ভিন্নতার মূল কারণ হলো বণ্টনের মূলনীতির ক্ষেত্রে তাদের আদর্শিক তথা তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য,
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وما يستتبع ذلك من اختلافها في مكافأة عناصر أو عوامل الإنتاج وتحديد ما يخص كل عنصر أو عامل في التوزيع.
ويترتب على ذلك أن للتوزيع مظهرين:
أولهما: نظري يتصل بالفلسفة التي يقوم عليها النظام الاقتصادي رأسماليا كان، أو اشتراكيا، أو إسلاميا، ويمكن أن نعبر عنه باصطلاح "التوزيع المذهبي أو الأيدلوجي"، ويعبر عنه الكثير من علماء الاقتصاد باصطلاح "التوزيع النظري"، ويعبر عنه الاقتصاديون التقليديون باصطلاح "التوزيع الشخصي".
ثانيهما: عملي يتصل بمكافأة عناصر أو عوامل الإنتاج أي نظرية القيمة أو أثمان العوامل الإنتاجية، ويعبر عنه الكثير من علماء الاقتصاد باصطلاح "التوزيع العملي".
ويعبر عنه الاقتصاديون التقليديون باصطلاح "التوزيع الوظيفي". وهو بدوره يتوقف على التوزيع النظري أو ما أسميناه بالتوزيع الأيديولوجي أو المذهبي1.
--------------------------------------------
এর ফলশ্রুতিতে উৎপাদন উপাদানসমূহের প্রতিদান এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপাদানের অংশ নির্ধারণের যে ভিন্নতা তৈরি হয়, এটি তারই অনুবর্তী বিষয়।
এর ফলে বণ্টনের দুটি দিক পরিলক্ষিত হয়:
প্রথমত: তাত্ত্বিক দিক, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল দর্শনের সাথে সংশ্লিষ্ট—তা পুঁজিবাদী, সমাজতান্ত্রিক বা ইসলামী যাই হোক না কেন। আমরা একে "মতাদর্শিক বা মাযহাবী বণ্টন" পরিভাষায় ব্যক্ত করতে পারি। অনেক অর্থনীতিবিদ একে "তাত্ত্বিক বণ্টন" এবং সনাতনী অর্থনীতিবিদগণ একে "ব্যক্তিগত বণ্টন" হিসেবে অভিহিত করেন।
দ্বিতীয়ত: ব্যবহারিক দিক, যা উৎপাদন উপাদানসমূহের প্রতিদানের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ মূল্যতত্ত্ব বা উৎপাদন উপাদানের দাম। অনেক অর্থনীতিবিদ একে "ব্যবহারিক বণ্টন" পরিভাষায় ব্যক্ত করেন।
সনাতনী অর্থনীতিবিদগণ একে "কার্যভিত্তিক বণ্টন" পরিভাষায় ব্যক্ত করেন। এটি মূলত তাত্ত্বিক বণ্টন বা আমরা যাকে মতাদর্শিক বণ্টন হিসেবে অভিহিত করেছি, তার ওপর নির্ভরশীল।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2-
ارتباط التوزيع بأشكال الإنتاج:وإذا كانت الاقتصاديات الوضعية رأسمالية كانت أو اشتراكية تجعل التوزيع على أساس أشكال الإنتاج السائدة، فهو الذي يحدد أساس التوزيع وكيفيته.
فإن الإسلام على نحو ما سنبينه، يرفض تلك التبعية أو الحتمية فنراه يقرر منذ البدء، أنه أيا كانت أشكال الإنتاج السائدة في المجتمع، فإنه يتعين أولا ضمان الحاجات الأساسية لكل فرد بوصفه إنسانا، مما عبر عنه فقهاء الشريعة القدامى باصطلاح "حد الكفاية" أي المستوى اللائق للمعيشة تمييزا له عن "حد الكفاف" أي المستوى الأدنى للمعيشة. حتى إذا توافر لكل مسلم "حد الكفاية" الذي هو في الشرع الإسلامي التزام على الدولة وحق الله الذي يعلوا فوق كل الحقوق، فإنه لا مانع أن تتفاوت الثروات والدخول لكل بحسب عمله وجهده، وفي حدود ما هو مقرر أو معترف به شرعا، وفي الظروف الاستثنائية التي تشح فيها موارد المجتمع، بحيث لا يتوافر فيها حد الكفاية لكل مواطن، فإنه يتأسى
2-
উৎপাদনের রূপরেখার সাথে বণ্টনের সম্পর্ক:প্রচলিত অর্থনৈতিক মতবাদসমূহ, পুঁজিবাদ হোক বা সমাজতন্ত্র, যদি বিদ্যমান উৎপাদন ব্যবস্থার ভিত্তিতে বণ্টন পদ্ধতি নির্ধারণ করে, তবে সেই ব্যবস্থাই বণ্টনের ভিত্তি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে।
তবে ইসলাম, যা আমরা বর্ণনা করব, এই ধরনের অনুসারিতা বা অনিবার্যতাকে প্রত্যাখ্যান করে। আমরা দেখি যে ইসলাম শুরু থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, সমাজে উৎপাদনের রূপরেখা যেমনই হোক না কেন, প্রথমত একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রাচীন শরিয়াহ ফকিহগণ একে 'পর্যাপ্ততার সীমা' (حد الكفاية) পরিভাষা দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, যার অর্থ হলো জীবনধারণের সম্মানজনক মান; যা 'ন্যূনতম জীবনধারণের সীমা' (حد الكفاف) বা জীবনধারণের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ভিন্ন। এমনকি যখন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য 'পর্যাপ্ততার সীমা' (حد الكفاية) নিশ্চিত হবে—যা ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্রের একটি বাধ্যবাধকতা এবং আল্লাহর হক (حق الله) যা অন্য সকল হকের ঊর্ধ্বে—তখন প্রত্যেকের কর্ম ও প্রচেষ্টার ভিত্তিতে সম্পদ ও আয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে কোনো বাধা নেই, তবে তা শরিয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত বা স্বীকৃত সীমার মধ্যে হতে হবে। আর যখন সমাজের সম্পদ সংকীর্ণ হয়ে পড়ার মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ততার সীমা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, তখন তা সহমর্মিতার রূপ নেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২০)
الجميع في "حد الكفاف"، بحيث لا يحصل أحد أيا كان مركزه أو مكانته في المجتمع على أكثر من احتياجاته الضرورية.
ومؤدى ذلك على نحو ما سنبينه، أنه أيا كانت أشكال الإنتاج السائدة، وأيا كانت درجة تطور المجتمع من تقدم أو تخلف، فإن الإسلام لا يعترف بالملكية الخاصة إلا بعد القضاء على الحاجة وضمان "حد الكفاف"، كما لا يسمح بالثروة والغنى إلا بعد القضاء على الفقر وضمان "حد الكفاية" لكل فرد1.
--------------------------------------------
সবাই "ন্যূনতম জীবনধারণের মানের (حد الكفاف)" অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে সমাজে কারো অবস্থান বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, সে তার মৌলিক প্রয়োজনীয় চাহিদার অতিরিক্ত কিছু লাভ না করে।
এর তাৎপর্য হলো, যা আমরা পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করব, উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতিগুলো যা-ই হোক না কেন এবং সমাজের উন্নয়নের স্তর (অগ্রগতি বা পশ্চাৎপদতা) যাই হোক না কেন, ইসলাম অভাব দূরীকরণ এবং "ন্যূনতম জীবনধারণের মান (حد الكفاف)" নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ব্যক্তিগত মালিকানাকে স্বীকৃতি দেয় না। একইভাবে, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য "পর্যাপ্ত জীবনধারণের মান (حد الكفاية)" নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইসলাম ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের অনুমতি দেয় না।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২১)
3-
عدالة التوزيع في حفظ التوازن الاقتصادي:وإذا كانت سمة الإسلام في التوزيع هي العدالة بقوله تعالى: {اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} 1، فإن أبرز صور هذه العدالة حفظ التوازن الاقتصادي سواء بين الأفراد على مستوى الوطن الواحد أو بين الدول على المستوى العالمي2.
--------------------------------------------
3-
অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় বণ্টনের ন্যায়বিচার (عدالة):আর যদি বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামের বৈশিষ্ট্য হয় ন্যায়বিচার (عدالة), মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: {তোমরা ন্যায়বিচার করো; এটি তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী} ১, তবে এই ন্যায়বিচারের (عدالة) সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ হলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা, চাই তা একক দেশের স্তরে ব্যক্তিদের মধ্যে হোক বা বৈশ্বিক স্তরে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে হোক ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২২)
فالإسلام على نحو ما سنبينه، يحث ويدعو إلى الثروة والغنى، ولكن بشرط ألا يكون المال متداولا بين فئة قليلة من الناس أو قاصرا على دولة معينة. وبعبارة أخرى ألا يكون هناك تفاوت شديد في توزيع الثروات تستأثر من خلاله فئة معينة من الأفراد أو دولة معينة بالخير كله. بل أن يعم الخير الجميع بأن يكون التفاوت منضبطا أو متوازنا بحيث لا يكون هناك ثراء فاحش وبجواره فقر مدقع أو أن تختص قلة بالتمر وكثرة بالنوى.
ومن هنا يختلف الاقتصاد الإسلامي عن الاقتصاديات الوضعية السائدة، فهو لا يقر التفاوت الشديد أو تسلط
--------------------------------------------
ইসলাম, আমরা যেভাবে বর্ণনা করব, সম্পদ ও প্রাচুর্য অর্জনে উৎসাহিত করে ও সেদিকে আহ্বান জানায়, তবে এই শর্তে যে, অর্থ যেন কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের মাঝে আবর্তিত না হয় অথবা কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। অন্য কথায়, সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে যেন এমন চরম বৈষম্য না থাকে যার ফলে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র সমস্ত কল্যাণ কুক্ষিগত করে নেয়। বরং কল্যাণ যেন সকলের জন্য ব্যাপক হয়, যাতে বৈষম্যটি নিয়ন্ত্রিত বা ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, ফলে একদিকে যেমন লাগামহীন বিলাসিতা থাকবে না, তেমনি তার পাশে চরম দারিদ্র্যও থাকবে না; অথবা মুষ্টিমেয় লোক খেজুরের শাঁস খাবে আর বিশাল জনগোষ্ঠী কেবল তার আঁটি পাবে—এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।
এখান থেকেই ইসলামী অর্থনীতি প্রচলিত মানবরচিত অর্থনীতিসমূহ থেকে পৃথক হয়, কারণ এটি চরম বৈষম্য বা আধিপত্যকে সমর্থন করে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أقلية على مقدرات الجماعة كما هو شأن المذهب الفردي والنظم المتفرعة عنه كالرأسمالية، كما لا يقر إذابة أو إزالة الفوارق وإقامة المساواة الفعلية أو المطلقة كما هو شأن المذهب الجماعي والنظم المتفرعة عنه كالاشتراكية والشيوعية، وإنما هو يحترم التباين والتفاوت تبعا لاختلاف المواهب والقدرات، مع تقريب الفوارق أو الفجوة بين أفراد المجتمع أو دول العالم، بما يحقق لها التعاون والتكامل لا السيطرة والاستغلال.
এটি সমষ্টির সম্পদের ওপর মুষ্টিমেয় কয়েকজনের আধিপত্যকে অনুমোদন করে না, যেমনটি ব্যক্তিতান্ত্রিক মতবাদ এবং এর থেকে উদ্ভূত পুঁজিবাদ-এর মতো ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য; আবার এটি বৈষম্য বিলোপ বা নিরসন এবং বাস্তব বা নিরঙ্কুশ সাম্য প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতিও দেয় না, যেমনটি সমষ্টিবাদী মতবাদ এবং এর থেকে উদ্ভূত সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের মতো ব্যবস্থার রীতি। বরং এটি মানুষের প্রতিভা ও যোগ্যতার ভিন্নতা অনুযায়ী বৈচিত্র্য ও তারতম্যকে সম্মান করে এবং সেইসাথে সমাজের ব্যক্তিবর্গ বা বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার ব্যবধান বা দূরত্ব কমিয়ে আনে, যাতে তাদের মধ্যে আধিপত্য ও শোষণের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরিপূরকতা অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
4-
التفاوت المنضبط أو المتوازن:فالتفاوت في توزيع الثروات والدخول، هو أمر طبيعي يقره الإسلام تبعا لاختلاف المواهب والقدرات، بل يعتبره ضرورة لخلق الحوافز وتحقيق التعاون والتكامل سواء على المستوى المحلي أو العالمي. ولكن الذي يرفضه الإسلام بشدة، هو التفاوت الفاحش في توزيع الثروات والدخول، والذي تستأثر من خلاله فئة معينة من الأفراد أو دول معينة بالخير كله، مما يؤدي إلى تهميش Marginilijation الأغلبية وسلبيتها أو إلى اغترابها Alienation وإثارة حقدها وثورتها فضلا عن كافة المساوئ.
ومن ثم فإنه على نحو ما سنبينه، يتطلب الإسلام التدخل دائما لتحقيق العدالة من خلال إعادة التوازن الاقتصادي عند افتقاده، وضبط التفاوت والتباين في توزيع الثروات والدخول، وذلك كله بالقدر الذي يحقق هدفه وهو التكافؤ والتعاون والتكامل لا الاستغلال والصراع والتناقض.
৪-
সুসংহত বা ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবধান:সম্পদ ও উপার্জনের বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যবধান একটি স্বাভাবিক বিষয় যা মেধা ও সক্ষমতার পার্থক্যের প্রেক্ষিতে ইসলাম সমর্থন করে। বরং ইসলাম একে উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং স্থানীয় বা বৈশ্বিক উভয় পর্যায়ে সহযোগিতা ও পরিপূরকতা অর্জনের জন্য একটি আবশ্যকতা হিসেবে গণ্য করে। তবে ইসলাম যা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তা হলো সম্পদ ও উপার্জনের বণ্টনে চরম বৈষম্য, যার মাধ্যমে একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কিছু দেশ সমস্ত সম্পদ ও কল্যাণ কুক্ষিগত করে। এর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ প্রান্তিকীকরণের (Marginalization) শিকার হয় এবং তাদের মধ্যে নেতিবাচকতা তৈরি হয়, অথবা তারা বিচ্ছিন্নতাবোধ (Alienation), বিদ্বেষ ও বিপ্লবের দিকে ধাবিত হয়, যা আরও নানাবিধ সমস্যার জন্ম দেয়।
অতএব, আমরা যেভাবে বিষয়টি বর্ণনা করব, ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবসময় হস্তক্ষেপের দাবি রাখে। এটি করা হয় অর্থনৈতিক ভারসাম্য হারিয়ে গেলে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এবং সম্পদ ও উপার্জনের বণ্টনে ব্যবধান ও বৈষম্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। আর এই নিয়ন্ত্রণ কেবল সেই মাত্রা পর্যন্ত হবে যা ইসলামের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সমতা, সহযোগিতা ও পরিপূরকতা নিশ্চিত করে; এটি কোনোভাবেই শোষণ, সংঘাত বা বৈপরীত্য সৃষ্টির জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
5-
الإسلام والطبقية أو التحكم:على أن إقرار الإسلام للتفاوت في توزيع الثروات والدخول -سواء على مستوى الأفراد والدول، وذلك من حيث المبدأ وإن ضبطه من حيث التطبيق- لا يعني كما يتصور البعض خطأ، أن الإسلام يقر الطبقية بين الأفراد أو يسلم بسيطرة أو تحكم جماعة أو دولة على المجتمعات والدول الأخرى.
والواقع أن مشكلة الاقتصاد الوطني، هي في اختلال التوازن في توزيع الثروات والدخول بين أفراد المجتمع.
৫-
ইসলাম এবং শ্রেণিভেদ বা আধিপত্য:সম্পদ ও আয়ের বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের ব্যাপারে ইসলামের স্বীকৃতি—ব্যক্তি বা রাষ্ট্র উভয় পর্যায়েই, যা মূলত নীতিগত বিষয় যদিও ইসলাম প্রয়োগের ক্ষেত্রে একে নিয়ন্ত্রণ করে—এর অর্থ এই নয় যে, কেউ কেউ ভুলবশত যেমনটি ধারণা করে থাকেন, ইসলাম ব্যক্তিদের মাঝে শ্রেণিভেদকে সমর্থন করে কিংবা অন্য কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের ওপর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণকে মেনে নেয়।
প্রকৃতপক্ষে জাতীয় অর্থনীতির মূল সমস্যা হলো সমাজের সদস্যদের মধ্যে সম্পদ ও আয়ের বণ্টনের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كما أن مشكلة الاقتصاد العالمي اليوم، هي في الهوة المتزايدة بين الدول النامية والدول المتقدمة. ولا يستهدف أي تغيير أو إصلاح أو أي نظام اقتصادي جديد، سوى تحقيق التوازن الاقتصادي بين أفراد المجتمع على المستوى المحلي، وتحقيق التوازن الاقتصادي بين دول العالم على المستوى العالمي. الأمر الذي نبه إليه الإسلام منذ أربعة عشر قرنا بقوله تعالى: {كَيْ لا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ} 1، بمعنى ألا يكون المال متداولا بين فئة تستأثر به دون غيرها سواء على مستوى أفراد المجتمع أو دول العالم.
وإذا كان الاقتصاد الإسلامي يسمح بوجود أثرياء ممن يطلق عليهم بأصحاب الملايين شأنه في ذلك شأن كافة الاقتصاديات الوضعية السائدة: رأسمالية كانت أو اشتراكية. إلا أنه يختلف عن سائر هذه الاقتصاديات بأنه ثري أو مليونير من "نوع خاص"؛ إذ هو على نحو ما سنبينه، ليس كأي ثري أو مليونير رأسمالي أو
--------------------------------------------
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির সংকট হলো উন্নয়নশীল ও উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান। যেকোনো পরিবর্তন, সংস্কার বা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অভীষ্ট লক্ষ্যই হলো স্থানীয় পর্যায়ে সমাজের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা। ইসলাম চৌদ্দশ বছর পূর্বেই মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করেছে: "যাতে সম্পদ তোমাদের মধ্যকার কেবল বিত্তবানদের মাঝেই আবর্তিত না হয়" ১। অর্থাৎ সম্পদ যেন কেবল এমন একটি শ্রেণির হাতে আবর্তিত না থাকে যারা অন্যদের বঞ্চিত করে তা এককভাবে ভোগ করে, চাই তা সমাজের ব্যক্তিবর্গের পর্যায়ে হোক বা বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের পর্যায়ে।
ইসলামী অর্থব্যবস্থায় যদি তথাকথিত 'কোটিপতি' বিত্তবানদের অস্তিত্বের অবকাশ থাকে—যেমনটি পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক সকল প্রচলিত মানবরচিত অর্থব্যবস্থায় পরিলক্ষিত হয়—তবুও এটি অন্যান্য সকল অর্থব্যবস্থা থেকে এই দিক দিয়ে স্বতন্ত্র যে, এখানকার বিত্তবান বা কোটিপতিগণ এক "বিশেষ প্রকৃতির"; কেননা আমরা সামনে যেমনটি স্পষ্ট করব, তিনি কোনো সাধারণ পুঁজিবাদী বিত্তবান বা কোটিপতির মতো নন অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اشتراكي، حرا في استعمال ماله كيفما شاء بل إنه بنص القرآن لا يملك أن يعيش عيشة مترفة، وإنه ملزم بإنفاق كل مال زائد عن حاجته الشخصية في سبيل الله سواء في صورة إنفاق مباشر على المحتاجين أم استثمار يعود نفعه على المجتمع.
সামাজিক দায়বদ্ধতাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে সে তার সম্পদ যেভাবে খুশি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে স্বাধীন নয়; বরং কুরআনের অকাট্য বর্ণনা (نص) অনুযায়ী বিলাসী জীবন যাপন করার কোনো অধিকার তার নেই। সে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের অতিরিক্ত সমস্ত সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতে দায়বদ্ধ, চাই তা অভাবগ্রস্তদের নিকট সরাসরি ব্যয়ের মাধ্যমে হোক কিংবা এমন কোনো বিনিয়োগের মাধ্যমে যার সুফল সমাজের ওপর বর্তায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خطة البحث
مدخل…خطة البحث:
وعلى ضوء ما تقدم نعالج موضوعنا "الإسلام وعدالة التوزيع"، في الفروع الآتية:
الفرع الأول: التوزيع النظري أو الشخصي أو المذهبي.
الفرع الثاني: التوزيع العملي أو الوظيفي أو مكافأة عناصر الإنتاج.
الفرع الثالث: العلاقة بين شكل الإنتاج وكيفية التوزيع أو أثر تطور أساليب الإنتاج على التوزيع.
الفرع الرابع: حفظ التوازن الاقتصادي أو التفاوت المنضبط.
الفرع الخامس: الإسلام والطبقات الاجتماعية.
ونشير بأن موضوع "الإسلام وعدالة التوزيع"، يتطلب عدة بحوث ويتسع لعدة كتب ومجلدات، ولكننا نعرض له في إيجاز غير مخل مركزين على النقاط الرئيسية التي تبرز لنا المذهب الاقتصادي الإسلامي في مجال التوزيع.
গবেষণা পরিকল্পনাউপক্রমণিকা…গবেষণা পরিকল্পনা:
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে আমরা আমাদের আলোচ্য বিষয় "ইসলাম ও বণ্টনের ন্যায়বিচার"-কে নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে আলোচনা করব:
প্রথম শাখা: তাত্ত্বিক, ব্যক্তিগত বা আদর্শিক বণ্টন।
দ্বিতীয় শাখা: প্রায়োগিক বা কার্যভিত্তিক বণ্টন অথবা উৎপাদন উপকরণের বিনিময়।
তৃতীয় শাখা: উৎপাদনের রূপরেখা ও বণ্টন পদ্ধতির মধ্যকার সম্পর্ক অথবা বণ্টনের ওপর উৎপাদন পদ্ধতির বিবর্তনের প্রভাব।
চতুর্থ শাখা: অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা বা নিয়ন্ত্রিত ব্যবধান।
পঞ্চম শাখা: ইসলাম ও সামাজিক স্তরসমূহ।
আমরা উল্লেখ করছি যে, "ইসলাম ও বণ্টনের ন্যায়বিচার" বিষয়টি বহু গবেষণার দাবি রাখে এবং এটি একাধিক গ্রন্থ ও খণ্ডের জন্য বিস্তৃত, তবে আমরা বিষয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করছি, যেখানে বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামি অর্থনৈতিক মতাদর্শকে ফুটিয়ে তোলে এমন মূল বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفرع الأول: التوزيع النظرى أو الشخصى أو المذهبى
مدخل…الفرع الأول: التوزيع النظري أو الشخصي أو المذهبي
1- الاقتصاد الرأسمالي:
يقوم هذا الاقتصاد أساسًا على الملكية الخاصة. ومن ثم فإن أساس التوزيع الرأسمالي هو الملكية الخاصة، فهي في آن واحد أداة "إنتاج" وأداة "توزيع". وفي مثل هذا الاقتصاد الرأسمالي تكون الظاهرة الأساسية هو التفاوت الشديد في الدخول، بحسب التفاوت الشديد في ملكية أدوات ووسائل الإنتاج. ومن الطبيعي أن ينشأ في ظل هذا الاقتصاد الراسمالي أقلية مليونيرات يعيشون في ترف وبذخ استفزازي، ويعملون على زيادة التضخم وانتشار السلع الترفية، بينما الأكثرية الكادحة تعاني في معيشتها وبعضها يسحقها الحرمان والفقر المدقع.
প্রথম শাখা: তাত্ত্বিক, ব্যক্তিগত বা মাযহাবগত (المذهبي) বণ্টনউপক্রমণিকা…প্রথম শাখা: তাত্ত্বিক, ব্যক্তিগত বা মাযহাবগত (المذهبي) বণ্টন
১- পুঁজিবাদী অর্থনীতি:
এই অর্থনীতি মূলত ব্যক্তিগত মালিকানার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে পুঁজিবাদী বণ্টনের মূল ভিত্তি হলো ব্যক্তিগত মালিকানা; যা একই সাথে "উৎপাদন" ও "বণ্টন"-এর হাতিয়ার। এই ধরণের পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে মূল বৈশিষ্ট্য হলো আয়ের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য, যা মূলত উৎপাদনের হাতিয়ার ও উপকরণসমূহের মালিকানায় ব্যাপক অসমতার কারণে সৃষ্টি হয়। এটা স্বাভাবিক যে, এই পুঁজিবাদী অর্থনীতির ছত্রছায়ায় এমন এক সংখ্যালঘু পুঁজিপতি গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে যারা উস্কানিমূলক বিলাসিতা ও আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও বিলাসদ্রব্য বিস্তারে ভূমিকা রাখে; পক্ষান্তরে কঠোর পরিশ্রমী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জীবনধারণের কষ্টে ভোগে এবং কেউ কেউ বঞ্চনা ও চরম দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2- الاقتصاد الاشتراكي:
يقوم هذا الاقتصاد أساسا على الملكية العامة سواء في صورة ملكية الدولة كما هو الشأن في روسيا، أو ملكية الجماعة كما هو الشأن في يوغوسلافيا حيث إن ملكية المصانع أو المزارع هي للعاملين فيها بهذه الصفة لا بصفتهم الشخصية. ومن ثم فإن أساس التوزيع الاشتراكي هو العمل، فهو في آن واحد أداة "إنتاج" وأداة "توزيع".
وفي مثل هذا الاقتصاد الاشتراكي تتفاوت الدخول، ولكن بسبب اختلاف القدرات والمواهب الإنسانية لا بسبب الملكية. ويصح أن يكون هذا التفاوت كبير، ولكن من غير الطبيعي كما هو الشأن في روسيا وسائر دول الكتلة الشرقية أن يتواجد بها أصحاب ملايين من قادة الأحزاب الشيوعية يعيشون في بذخ وترف بينما الأغلبية الكادحة تعاني في معيشتها، فضلا عن مكابدة هذه الشعوب لتحكم الأقلية ممثلة في قادة الأحزاب الشيوعية المتألهة والتي تصادر حرياتها وتصوغها بالإرهاب والبطش وفق هواها لتستغلها في تحقيق
২- সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা:
এই অর্থব্যবস্থা মূলত রাষ্ট্রীয় মালিকানার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, চাই তা রাশিয়ার ন্যায় রাষ্ট্রীয় মালিকানা ভিত্তিক হোক অথবা যুগোস্লাভিয়ার ন্যায় সামষ্টিক মালিকানা ভিত্তিক হোক, যেখানে কলকারখানা বা খামারসমূহের মালিকানা তাতে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের হয়ে থাকে—তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয় বরং কর্মী হিসেবে। ফলশ্রুতিতে সমাজতান্ত্রিক বণ্টনের মূল ভিত্তি হলো শ্রম; এটি একইসাথে 'উৎপাদন' এবং 'বণ্টন'-এর হাতিয়ার।
এজাতীয় সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় আয়ের ক্ষেত্রে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়, তবে তা মালিকানার কারণে নয় বরং মানবিক যোগ্যতা ও মেধার পার্থক্যের কারণে। এই তারতম্য ব্যাপক হওয়া সম্ভব, কিন্তু রাশিয়া ও পূর্ব ব্লকের অন্যান্য দেশগুলোর ন্যায় এটি মোটেও স্বাভাবিক নয় যে, সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের মাঝে এমন সব কোটিপতিদের উপস্থিতি থাকবে যারা চরম বিলাসিতা ও আভিজাত্যে জীবন যাপন করবেন অথচ শ্রমজীবী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী জীবনধারণের কষ্টে ভুগবেন। তদুপরি, এই জাতিগুলোকে কমিউনিস্ট পার্টির সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দের স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হয় যারা নিজেদের উপাস্যতুল্য মনে করে এবং মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে ও সন্ত্রাস ও নিপীড়নের মাধ্যমে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো তাদের পরিচালিত করে যাতে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে তাদের ব্যবহার করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াত তাওয়াযুনুল ইকতিসাদি বাইনাল আফরাদ ওয়াদ দুওয়াল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نزعاتها الخبيثة في التسلط والسيطرة على العالم أجمع1.
3- الاقتصاد الشيوعي:
وهو حلم المذهب الجماعي وأغلب النظم الاشتراكية المتفرعة عنه، يقوم هذا الاقتصاد على أساس تحقيق الوفرة في الإنتاج بحيث يكفي جميع حاجات الناس شأن الهواء والماء. ومن ثم فإن أساس التوزيع الشيوعي هو الحاجة فلكل تبعا لحاجته.
--------------------------------------------
সমগ্র বিশ্বের উপর আধিপত্য ও কর্তৃত্ব বিস্তারের এর অশুভ প্রবণতা১।
৩- সাম্যবাদী অর্থনীতি:
এটি হলো সামষ্টিক মতবাদ এবং এর থেকে উদ্ভূত অধিকাংশ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বপ্ন। এই অর্থনীতি উৎপাদনের প্রাচুর্য অর্জনের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যাতে তা বায়ু ও পানির ন্যায় মানুষের সকল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়। ফলস্বরূপ, সাম্যবাদী বণ্টনের ভিত্তি হলো প্রয়োজন; সুতরাং প্রত্যেকের জন্য তার প্রয়োজন অনুযায়ী।
--------------------------------------------