(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: -)
اللواء الركن محمود شيت خطاب   (عبد الله محمود الطنطاوي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: اللِّواء الرّكن مَحمُودْ شيْت خَطَّابْ المُجَاهِدُ الَّذِي يَحمِلُ سَيْفَهُ في كُتُبِهِ

المؤلف: عبد الله بن محمود الطنطاوي

الناشر: دار القلم - دمشق، الدار الشامية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 163

أعده للشاملة: مهاجي جمال

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 محرم 1433

মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব   (আবদুল্লাহ মাহমুদ আল-তানতাভী)

বিভাগ: জীবনী ও চরিত-সংগ্রহ


বই: মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব: সেই মুজাহিদ যিনি তার বইসমূহে তার তলোয়ার বহন করেন

লেখক: আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ আল-তানতাভী

প্রকাশক: দারুল কলম - দামেস্ক, আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: মাহাজি জামাল

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ মহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১)
اللِّواء الرّكن

مَحمُودْ شيْت خَطَّابْ

المُجَاهِدُ الَّذِي يَحمِلُ سَيْفَهُ في كُتُبِهِ

(1337 - 1419 هـ)

(1919 - 1998 م)

 

تَألِيفُ

عبد الله محْمود
মেজর জেনারেল

মাহমুদ শিত খাত্তাব

সেই মুজাহিদ, যিনি তাঁর কিতাবসমূহের মাঝে নিজের তলোয়ার বহন করেন

(১৩৩৭ - ১৪১৯ হিজরি)

(১৯১৯ - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ)

 

রচনায়

আবদুল্লাহ মাহমুদ
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৩)
اللِّواء الرّكن

مَحمُودْ شيْت خَطَّابْ
মেজর জেনারেল

মাহমুদ শিত খাত্তাব
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৪)
الطّبعَة الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

حُقوق الطَّبْع مَحفُوظَة

 

تطلب جميع كتبنا من:

دَارْ القَلمْ - دمَشق: صَ بْ: 4523 - ت: 2229177

الدّار الشاميَّة - بَيْروت - ت: 653655/ 653666

صَ بْ: 6501/ 113

 

توزّع جميع كتبنا في السّعوديّة عَن طريق

دَارْ البَشير - جدّة: 21461 - ص بْ: 2895

ت: 6608904/ 6657621
প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

আমাদের সকল কিতাব পাওয়ার ঠিকানা:

দারুল কলাম - দামেস্ক: পি.ও. বক্স: ৪৫২৩ - ফোন: ২২২৯১৭৭

আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - বৈরুত - ফোন: ৬৫৩৬৫৫/ ৬৫৩৬৬৬

পি.ও. বক্স: ৬৫০১/ ১১৩

 

সৌদি আরবে আমাদের সকল কিতাব বিতরণ করা হয় এর মাধ্যমে:

দারুল বাশির - জেদ্দা: ২১৪৬১ - পি.ও. বক্স: ২৮৯৫

ফোন: ৬৬০৮৯০৪/ ৬৬৫৭৬২১
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقَدّمَة

عرفت اللواء محمود شيت خطاب في كتابه الرائد (الرسول القائد) صلى الله عليه وسلم، ثمّ في كتبه ومقالاته التي كانت تملأ فراغاً كبيراً ما ملأه غيرها، ثم كان التعارف في بغداد عام 1983 م ومذ عرفته والتقيته ما فارقته إلا لماماً ومضطراً، فكنت أجلس إليه، وأستمع منه، وأحاوره في شؤوننا، وهو العسكري المجرِّب الخبير، فأفدت منه علماً، وديناً، وأخلاقاً، وجِدّاً، واكتسبت من خبراته، وأطلعني على كثير من أسراره وأسرار مَنْ حوله، وقد يأتي يوم قريب - إن شاء الله تعالى - أكتب فيه عن تلك المعارف والأسرار التي دوّنتها في لحظتها، بعد عودتي إلى بيتي، وحرصتُ عليها وعلى سرّيّتها، حتى لا يؤذى الرجل الذي ما كان يحسب حساباً لغير الله والحقيقة والتاريخ، ولكني أحسب ..

كان أستاذي الثالث، بعد شيخنا السباعي، وأستاذي الرائع أحمد مظهر العظمة، رحمهم الله جميعاً رحمة واسعة.

وهذا الكتاب تعريف موجز بحياته الخصبة، وتعريف ببعض كتبه القيّمة، جاء بهذا الحجم الصغير، ليكون إلى جانب إخوته في سلسلة: (علماء ومفكرون معاصرون) التي تحرص أن تكون هكذا .. تقدّم لمحات من حياة المترجَم له، وتعريفات بكتبه، في صفحات معلومات .. وسوف يليه كتاب كبير يليق به إن شاء الله.

أرجو من الله الكريم أن يأجر صاحب فكرتها الأستاذ الكاتب،
ভূমিকা

আমি মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাবকে তাঁর পথপ্রদর্শক গ্রন্থ ‘সেনাপতি রাসূল’ (আর-রাসূলুল কায়িদ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে চিনি, অতঃপর তাঁর সেই সকল কিতাব ও প্রবন্ধের মাধ্যমে যা এমন এক বিশাল শূন্যতা পূরণ করেছিল যা অন্য কেউ করতে পারেনি। এরপর ১৯৮৩ সালে বাগদাদে আমাদের মধ্যে পরিচয় হয় এবং যেদিন থেকে আমি তাঁকে চিনেছি ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, সেদিন থেকে একান্ত প্রয়োজন ও নিরুপায় হওয়া ছাড়া আমি তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করিনি। আমি তাঁর কাছে বসতাম, তাঁর কথা শুনতাম এবং আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করতাম, আর তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব। ফলে আমি তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান, দ্বীন, চরিত্র এবং ঐকান্তিকতা অর্জন করেছি এবং তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে সমৃদ্ধ হয়েছি। তিনি আমাকে তাঁর অনেক গোপন বিষয় এবং তাঁর চারপাশের লোকদের অনেক রহস্য সম্পর্কে অবগত করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এমন একদিন আসবে যখন আমি সেই সকল জানাশোনা ও রহস্যগুলো সম্পর্কে লিখব যা আমি (তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর) ঘরে ফেরার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে লিখে রেখেছিলাম। আমি সেগুলো ও সেগুলোর গোপনীয়তা রক্ষায় সচেষ্ট ছিলাম, যাতে সেই ব্যক্তির কোনো ক্ষতি না হয় যিনি আল্লাহ, সত্য এবং ইতিহাস ছাড়া আর কাউকে পরোয়া করতেন না; তবে আমি পরোয়া করি...

আমাদের শায়খ সিবায়ী এবং আমার অনন্য শিক্ষক আহমদ মাযহার আল-আযমার পরে তিনি ছিলেন আমার তৃতীয় উস্তাদ, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।

আর এই বইটি তাঁর বৈচিত্র্যময় জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং তাঁর কিছু মূল্যবান গ্রন্থের পরিচয়। এটি এই ক্ষুদ্র কলেবরে প্রকাশ করা হয়েছে যেন তা ‘সমকালীন উলামা ও চিন্তাবিদ’ (উলামা ওয়া মুফাককিরুনা মুআসিরুন) সিরিজের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বইগুলোর অনুরূপ হয়, যে সিরিজটি এভাবেই প্রকাশিত হতে আগ্রহী। এটি জীবনীপ্রদত্ত ব্যক্তির জীবনের কিছু ঝলক এবং তথ্যবহুল পৃষ্ঠায় তাঁর বইগুলোর পরিচিতি তুলে ধরে। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তীতে তাঁর যোগ্য একটি বৃহৎ গ্রন্থ প্রকাশিত হবে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সিরিজের ভাবনার উদ্গাতা লেখক উস্তাদকে প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৬)
والأخ الحبيب محمد علي دولة، مؤسس دار القلم بدمشق، حفظه الله لها، وحفظها له، وحفظهما لخدمة الإسلام ورجالاته في القديم والحديث.

وصلّى الله وسلم وبارك على مولاي وسيِّدي وقائدي محمد وعلى آله وصحبه، والحمد لله أولاً وآخراً.

 

عمّان: 21/ 12/ 1421 هـ

........ 16/ 3/ 2001 م

 

عبد الله محمود
এবং প্রিয় ভাই মুহাম্মদ আলী দাওলাহ, দামেস্কের দারুল কলাম-এর প্রতিষ্ঠাতা, আল্লাহ তাকে এর জন্য হিফাজত করুন, একে তার জন্য হিফাজত করুন এবং ইসলামের ও এর প্রাচীন ও বর্তমান মনীষীদের খিদমতের জন্য উভয়কে হিফাজত করুন।

আল্লাহ দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমার অভিভাবক, আমার সরদার ও আমার নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর; আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে।

 

আম্মান: ২১/ ১২/ ১৪২১ হিজরি

........ ১৬/ ৩/ ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

 

আবদুল্লাহ মাহমুদ
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৭)
الفصْل الأوّل

 

لمحات من حياته
প্রথম পরিচ্ছেদ

 

তাঁর জীবনের সংক্ষিপ্ত আলোকপাত
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصْل الأوّل لمحات من حياته

‌‌عصره:

عاش اللواء خطاب عصراً متفجّراً من أعنف العصور عنفاً، وأمرِّها مرارات .. فعلى مستوى العالم، تفجّرت حربان عالميتان فاجرتان أكلتا عشرات الملايين من الأرواح، ودمّرتا ما لم تدمّره الحروب الأخرى منذ أول حرب نشبت بين بني البشر، من بدء الخليقة حتى اليوم .. وتفجّرت ثورات حمراء داميات في كل أرجاء المعمورة.

وعلى مستوى العالم الإسلامي كانت الحرائق في بيوتات ذلك العالم التعيس البائس، قد أتت على أخضره وهشيمه، وتركته مِزَقاً وأنقاضاً بمعاول أعدائه في الداخل والخارج، وكانت معاول الداخل أضرى ضراوة، وأشدّ بأساً، لأن (الخارج) كان قد أعدَّها، وأحدَّها، لتكون فتّاكة تأتي على بنيان العروبة والإسلام من الجذور، وباسم العروبة هنا، وباسم الإسلام هناك وهنالك، والعروبة والإسلام من هؤلاء وأولئك براء.

وكان نصيب العراق كبيراً من تلك الحرائق والمعاول، وكان الأبأسَ والأتعسَ بعد فلسطين الذبيحة، وشعبها المجاهد الذي قدّم وشعبَ العراق ما لم تقدّمه سائر الشعوب العربية والإسلامية الأخرى ..

وكان خطّاب شاهد القرن على تلك الكوارث والمآسي التي اجتاحت عراقه الحبيب الغالي الذي بذل من أجل إنهاضه الكثير، وكان العقوق جزاءه.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনের কিছু আলোকপাত

তাঁর যুগ:

মেজর জেনারেল খাত্তাব এক চরম উত্তাল যুগে বসবাস করেছেন, যা ছিল ইতিহাসের অত্যন্ত সহিংস এবং তিক্ততম সময়গুলোর অন্যতম। বিশ্ব পরিমণ্ডলে, দুটি নৃশংস বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যা কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এবং এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল যা সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে সংঘটিত অন্য কোনো যুদ্ধ দেখেনি। বিশ্বের আনাচে-কানাচে রক্তক্ষয়ী লাল বিপ্লব ছড়িয়ে পড়েছিল।

মুসলিম বিশ্বের প্রেক্ষাপটে, সেই দুর্ভাগা ও শোচনীয় জগতের ঘরে ঘরে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছিল যা সব কিছুকে ভস্মীভূত করে দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রুদের কুঠারাঘাতে একে ছিন্নভিন্ন ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল। আর অভ্যন্তরীণ কুঠারগুলো ছিল অধিকতর হিংস্র ও শক্তিশালী; কারণ 'বহিরাগতরা' সেগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত ও শাণিত করেছিল যাতে তা আরবীয় ও ইসলামী কাঠামোর মূলে চরম আঘাত হানতে পারে। কোথাও আরবীয় জাতীয়তাবাদের নামে, আবার কোথাও ইসলামের নামে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলত, যদিও আরবীয় জাতিসত্তা ও ইসলাম এই উভয় থেকেই সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল।

সেই অগ্নিকাণ্ড ও কুঠারাঘাতের একটি বড় অংশ ইরাকের ভাগে পড়েছিল। মজলুম ফিলিস্তিনের পর এটিই ছিল সবচেয়ে দুর্ভাগা ও শোচনীয় রাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের সংগ্রামী জনতা এবং ইরাকের জনগণ যে আত্মত্যাগ করেছিল, তা অন্য কোনো আরব বা মুসলিম জাতি করেনি।

খাত্তাব ছিলেন সেই শতাব্দীর এই সমস্ত দুর্যোগ ও ট্র্যাজেডির প্রত্যক্ষ সাক্ষী, যা তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ইরাককে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। ইরাকের পুনরুত্থানের জন্য তিনি অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে তিনি কেবল অকৃতজ্ঞতাই লাভ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১০)
فتح عينيه على الكيانات التي خَلَفَتْ دولةَ الخلافة، وشهد الصراعات غير البريئة بينها، وميلاد الكيان الصهيوني من بين براثنها، والاستعمار يحطّ بكلكله الثقيل على أرضها، وشعوبها، وعقيدتها وثقافتها، وفكرها، والثورات التي تريد الإطاحة به، ووقودُها شعوب مؤمنة، والمستفيدون زعامات لا تهمّها إلا مصالحها، وكان هو من بين ذلك الوقود في ثورة رشيد عالي الكيلاني، وحرب فلسطين، ومحارق العملاء والمشبوهين والطواغيت ..

رضي أن يكون عبدَ الله المقتول، كسائر أبناء شعبه، ودافع بدمه ومستقبله وبكل ما يملك للتخفيف عن ذلك الشعب، ولكن حجم التحدّي كان كبيراً، والذين يتربّصون به وبأمثاله من الرجال المؤمنين المخلصين، أكثر عدداً وأقوى عُدّة ..

شاهد مصارع أحرار ومصارع أنذال، وأفول أنظمة وقيام أخرى، وضياع أخلاق ومروءات ومبادئ في متاهات المصالح والأهواء والشهوات، فانكفأ على نفسه، ولزم بيته، واستلّ قلمه، فكان سيفَه في تلك الكتب المقاتلة، وهي الأبقى على الدهر، سيوفاً مشرعة في وجوه الظلم والظلام والظالمين، ومنارات هدى للسائرين في وضح النهار، وتحت شمس الظهيرة، أو في ظلام الأنفاق المعتمة، في قرن كان أشدَّ هولاً من سائر القرون ..

شهد هزيمة الأنظمة العربية في حرب حزيران، بعد أن (طُهِّرت) جيوشها من أعدائها وخصومها الافتراضيين، وهم من أصحاب الخبرات والكفايات، وكتب ونصح، وحذّر وأنذر، ولا سميع ..

وشهد حربين ضاريتين بين عراقه الحبيب، وبين أشقّاء يعزّ عليه أن
তিনি চোখ মেলেছিলেন সেই সমস্ত সত্তার মাঝে যা খিলাফত রাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাদের মধ্যকার কলুষিত দ্বন্দ্বসমূহ এবং তাদেরই নখর থেকে জায়নবাদী সত্তার জন্ম। এমতাবস্থায় উপনিবেশবাদ তার ভারী বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছিল এর ভূমি, জনগোষ্ঠী, আকিদাহ, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার ওপর। তিনি দেখেছিলেন সেই সব বিপ্লব যা একে উৎখাত করতে চেয়েছিল, যার জ্বালানি ছিল মুমিন জনগোষ্ঠী, আর সুবিধাবাদী ছিল এমন কিছু নেতৃত্ব যাদের কাছে নিজের স্বার্থ বৈ অন্য কিছুর গুরুত্ব ছিল না। তিনি নিজেও রশিদ আলি আল-কিলানির বিপ্লবে, ফিলিস্তিন যুদ্ধে এবং দালাল, সন্দেহভাজন ও তাগুতদের অগ্নিকুণ্ডে সেই জ্বালানির অংশ হিসেবে ছিলেন...

তিনি নিজের জাতির অন্যান্য সন্তানদের ন্যায় আল্লাহর একজন নিহত বান্দা হওয়াকেই পছন্দ করেছিলেন। তিনি আপন রক্ত, ভবিষ্যৎ এবং যা কিছু তাঁর কাছে ছিল তা দিয়ে এই জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘবে প্রতিরক্ষা করেছিলেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জের মাত্রা ছিল বিশাল, আর যারা তাঁর এবং তাঁর মতো একনিষ্ঠ মুমিন পুরুষদের বিরুদ্ধে ওত পেতে ছিল, তারা সংখ্যায় ছিল অধিক এবং শক্তিতে ছিল প্রবল...

তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন স্বাধীনচেতাদের পতন এবং নীচদের আস্ফালন, প্রত্যক্ষ করেছেন এক ব্যবস্থার বিলুপ্তি ও অন্য ব্যবস্থার উত্থান। স্বার্থ, কুপ্রবৃত্তি ও নফসের লালসার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যেতে দেখেছেন আখলাক, মনুষ্যত্ব ও মূলনীতিসমূহকে। ফলে তিনি আপন সত্তায় গুটিয়ে নিলেন এবং গৃহকোণ আঁকড়ে ধরলেন। তিনি আপন কলমকে কোষমুক্ত করলেন, যা তাঁর সেই সংগ্রামী কিতাবসমূহে তলোয়ার হিসেবে কাজ করেছিল। সেই কিতাবগুলোই কালের আবর্তে টিকে থাকবে; যা জুলুম, অন্ধকার ও জালেমদের সামনে উন্মুক্ত তলোয়ার এবং দিনের আলোতে, দ্বিপ্রহরের প্রখর সূর্যতলে কিংবা অন্ধকার সুড়ঙ্গের আঁধারে পথচলা মুসাফিরদের জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা। এটি এমন এক শতাব্দীতে ছিল যা অন্য সকল শতাব্দীর চেয়ে অধিক ভয়াবহ ছিল...

তিনি জুন যুদ্ধে আরব শাসনব্যবস্থাগুলোর পরাজয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যখন তাদের সেনাবাহিনী থেকে তাদের (কল্পিত) শত্রু ও প্রতিপক্ষদের 'পরিষ্কার' করা হয়েছিল, যারা ছিলেন অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি এ বিষয়ে লিখেছেন, নসিহত করেছেন, সতর্ক ও সাবধান করেছেন, কিন্তু কেউ তা শোনার ছিল না...

তিনি তাঁর প্রিয় ইরাক এবং ভ্রাতৃপ্রতিমদের মধ্যে দুটি ভয়াবহ যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল যে...
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১১)
يهانوا أو يُقتلوا، وبكى في الحرب الثانية كما لم تبك ثكلى .. بكى على الجيش الذي كان يعدّه للملمّات .. لتحرير فلسطين .. وإذا هو لقمة سائغة تتناهشها أنياب ثلاث وثلاثين دولة، بين شقيقة وعدوّة .. ولقد سمعته يقول، ودموعه السخينة تحرق وجنتيه:

- هل رأيت أشلاء جيشنا يا عبد الله؟ هل سمعت بالانسحاب الكيفي أمام لؤم أمريكة المتوحشة، وطيرانها المتغوّل؟ هل هذا هو المصير الذي كنّا نُعِدُّ جيش العراق له؟ هل خُلق جيش العراق ليكون طعاماً لجنازير الدبابات والصواريخ؟

ثم أنشد باكياً والله بنشيج يقطّع القلوب:

لمْ يبقَ شيءٌ مِنَ الدُّنيا بأيْدينَا … إلَاّ بقيّة دَمْعٍ في مَآقينَا

وكان يقابل هذه الظلماتِ المدلهمّة، وعيٌ إسلاميٌّ، وصحوة إسلاميّة، كان لها أعداء من الداخل والخارج بالمرصاد .. وكان يفرح لها، ويحزن لمصائر قادتها .. ولما يُبَيَّتُ لها .. ولضعف قياداتها، وارتجاليتهم، أمام التحدّيات الشرسة التي تواجههم، وتريد استئصالهم .. كان يقول:

- هذا عصر الأئمة: حسن البنا، وأبي الأعلى المودودي، ومصطفى السباعي، وسيد قطب، وعبد القادر عودة، ومحمد فرغلي ..

كان خطّاب يعرف الكثير عنهم، ويعرف المؤامرات التي دُبِّرت لهم، والعجز الذي شلَّ أتباعهم ..

كان عصر خطّاب مزيجاً من نار ونور، ولكن وهج النار وتأثيرها أكبر من النور المحاصَر، وأعظم من ضياء الأيدي المتوضّئة.

عاش خطّاب عصره بكل ما فيه، وناله الكثير مما فيه، وعاه بعقله
তারা লাঞ্ছিত হবে কিংবা নিহত হবে; আর তিনি দ্বিতীয় যুদ্ধে এমনভাবে কেঁদেছিলেন যেমন কোনো সন্তানহারা মা-ও কাঁদেনি... তিনি সেই সেনাবাহিনীর জন্য কেঁদেছিলেন যাকে তিনি কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন... ফিলিস্তিন স্বাধীন করার জন্য... অথচ সেটি হয়ে গেল এক সহজ গ্রাস, যাকে তেত্রিশটি দেশের নখদন্ত ছিঁড়ে খাচ্ছিল, যাদের মধ্যে ছিল আপন ভাই এবং শত্রু রাষ্ট্রও... আর আমি তাকে বলতে শুনেছি, যখন তার তপ্ত অশ্রু তার গাল দুটিকে দগ্ধ করছিল:

- হে আবদুল্লাহ, তুমি কি আমাদের সেনাবাহিনীর ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ দেখেছ? তুমি কি বন্য আমেরিকার নীচতা আর তাদের দানবীয় বিমান বাহিনীর সামনে লক্ষ্যহীন পিছুহটার কথা শুনেছ? এটিই কি সেই নিয়তি যার জন্য আমরা ইরাকি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করেছিলাম? ইরাকি বাহিনীকে কি ট্যাংক আর মিসাইলের চেইনের খাদ্য হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল?

তারপর তিনি আল্লাহর কসম করে হৃদবিদারক হাহাকারের সাথে কাঁদতে কাঁদতে আবৃত্তি করলেন:

আমাদের হাতে ইহজগতের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই … কেবল চোখের কোণে জমে থাকা কিছু অশ্রু ছাড়া।

এই ঘোর অন্ধকারের বিপরীতে ছিল এক ইসলামী সচেতনতা ও ইসলামী জাগরণ, যার বিরুদ্ধে দেশি ও বিদেশি শত্রুরা ওঁৎ পেতে ছিল... তিনি এই জাগরণে আনন্দিত হতেন এবং এর নেতাদের ভাগ্যের জন্য ও তাদের বিরুদ্ধে কৃত ষড়যন্ত্রের জন্য ব্যথিত হতেন... আর তাদের সামনে আসা সেই ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর মুখে নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অপরিপক্কতার কারণেও তিনি কষ্ট পেতেন, যা ছিল তাদের সমূলে উৎপাটনের লক্ষ্য। তিনি বলতেন:

- এটি ইমামদের যুগ: হাসান আল-বান্না, আবুল আলা মওদুদী, মোস্তফা আস-সিবায়ী, সাইয়্যেদ কুতুব, আব্দুল কাদির আওদাহ এবং মুহাম্মদ ফারগালী...

খাত্তাব তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন, তাদের বিরুদ্ধে করা ষড়যন্ত্রগুলো বুঝতেন এবং তাদের অনুসারীদের পঙ্গু করে দেওয়া অক্ষমতা সম্পর্কেও অবগত ছিলেন...

খাত্তাবের যুগ ছিল আগুন আর আলোর এক মিশ্রণ, তবে আগুনের উত্তাপ ও প্রভাব ছিল অবরুদ্ধ আলোর চেয়েও প্রখর এবং অজু করা হাতগুলোর দ্যুতির চেয়েও প্রবল।

খাত্তাব তার যুগকে তার সবটুকু দিয়েই যাপন করেছেন, এর বহু ঘাত-প্রতিঘাত তাকে সইতে হয়েছে এবং স্বীয় প্রজ্ঞা দিয়ে তা উপলব্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১২)
وذكاء قلبه، وأسهم في إطفاء بعض الحرائق، وإيقاد بعض الشموع، ليكشط ما يستطيع من ظلام المادّة الثقيلة الوطأة، ويخفّف من غلواء النفوس المادية، ويكسر الحصار عن النور .. ولكنها ظلمات بعضها فوق بعض ..

 

‌‌اسمه ونسبه ونشأته:

محمود بن شيت خطّاب ولد في مدينة الموصل - شمال العراق - عام 1919 م من أبوين عربيين، فأبوه من قبيلة الدليم - فرع الصقور الذين يتصل نسبهم بالنبيّ صلى الله عليه وسلم من جهة الحسن بن عليّ رضي الله عنهما، وأمّه قيسية، وهي بنت الشيخ مصطفى بن خليل، من علماء الموصل.

لم يلبث في حضن أمه إلا عاماً أو بعض عام، ثم زاحمه أخوه الذي وُلد بعده بأشهر، فانتقل إلى حضن جدّته لوالده، وهي امرأة تقيّة نقيّة، تقضي أكثر ساعات ليلها في تهجّد وتسبيح وبكاء من خشية الله تعالى، وهي حسينية النسب، تتصف بالعقل والكرم والصدق وحبّ الناس، فانغرست هذه الفضائل في نفس الطفل، ونمتْ بنموّه، فشبّ الطفل على الوفاء لمن أحسن إليه، وعلى حبّ الناس، والعطف على الضعفاء والفقراء والمساكين ..

روى خطّاب لنا في بعض كتبه - عن جدّته الصالحة أنها " آثرت أن تبقى جائعة تقدّم طعامها إلى ضيف قدم على غير ميعاد.

" وأنها قدّمت طعامها الذي كانت تتناوله إلى فقير طرق الباب، وهي تقول فرحة مستبشرة: حصَّتي في الجنة.

" وجاءها - مرة - فقير يرتدي أسمالاً بالية، فخلعت ثوبها، وكسته به. وحين عادت إلى غرفتها لترتدي ثوباً آخر، كانت مسرورة بعملها سروراً لا يوصف.
এবং তাঁর হৃদয়ের প্রখরতা; তিনি কিছু আগুন নেভাতে এবং কিছু মোমবাতি জ্বালাতে অবদান রেখেছিলেন, যাতে ভারী প্রভাব বিস্তারকারী জড়বাদের অন্ধকার থেকে যতটা সম্ভব মুছে ফেলা যায়, এবং বস্তুবাদী আত্মাসমূহের বাড়াবাড়ি প্রশমিত করা যায়, আর নূরের উপর থেকে অবরোধ ভেঙে ফেলা যায়.. কিন্তু এ তো অন্ধকার, যার ওপর পুঞ্জীভূত আরও অন্ধকার..

 

‌‌তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও বেড়ে ওঠা:

মাহমুদ বিন শিত খাত্তাব ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ইরাকের মসুল শহরে আরব পিতা-মাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দুলাইম গোত্রের সুকুর শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের বংশধারা হাসান বিন আলী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাধ্যমে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাথে গিয়ে মিলেছে। তাঁর মাতা কায়সিয়া গোত্রের, তিনি মসুলের আলেমদের অন্যতম শায়খ মুস্তাফা বিন খলিলের কন্যা।

তিনি তাঁর মায়ের কোলে মাত্র এক বছর বা বছরের কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন, এরপর কয়েক মাস পর জন্ম নেওয়া তাঁর ভাই তাঁর জায়গা দখল করে নেয়। ফলে তিনি তাঁর পিতার দিককার দাদির কোলে স্থানান্তরিত হন। তিনি ছিলেন একজন মুত্তাকী ও পবিত্র হৃদয়ের নারী, যিনি তাঁর রাতের অধিকাংশ সময় তাহাজ্জুদ, তাসবিহ এবং মহান আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতেন। তিনি হোসাইনী বংশীয় ছিলেন এবং তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল প্রজ্ঞা, উদারতা, সত্যবাদিতা ও মানবপ্রেম। ফলে এই গুণাবলি শিশুটির হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে যায় এবং তাঁর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে এগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে। শিশুটি বেড়ে ওঠে তাঁর প্রতি ইহসানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দুর্বল, দরিদ্র ও মিসকিনদের প্রতি দয়ার অনুভূতির সাথে..

খাত্তাব তাঁর কিছু কিতাবে তাঁর পুণ্যবতী দাদি সম্পর্কে আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি নিজে ক্ষুধার্ত থাকাকে অগ্রাধিকার দিতেন যাতে নিজের খাবারটুকু এমন মেহমানকে দেওয়া যায় যে বিনা দাওয়াতে চলে আসত।

" এবং তিনি নিজের আহাররত খাবারও দরজায় কড়া নাড়া এক দরিদ্র ব্যক্তিকে দিয়ে দিতেন এবং অত্যন্ত আনন্দ ও উল্লাসের সাথে বলতেন: এটি জান্নাতে আমার অংশ।

" একবার জীর্ণবস্ত্র পরিহিত এক দরিদ্র ব্যক্তি তাঁর নিকট এল, তখন তিনি নিজের পরিহিত কাপড় খুলে তাকে পরিয়ে দিলেন। এরপর যখন তিনি অন্য একটি কাপড় পরিধানের জন্য নিজের কামরায় ফিরে এলেন, তখন তিনি তাঁর এই কর্মে অবর্ণনীয় আনন্দ অনুভব করছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
" وكانت تردّد - كلما أكلت وشبعت -: اللهمّ كما أطعمتني، فأطعم كل فقير " (1).

وقال عنها: " كانت تصحبني إلى المسجد القريب لصلاة المغرب، فإذا قُضيت الصلاة، أصغيت معها من مقصورة النساء إلى مواعظ الملك داود، ذي الأسلوب المؤثر، حتى تنهض لصلاة العشاء … فإذا أوينا إلى النوم، أخذت بذكر الله والاستغفار، ثم لا تدعني حتى تتحقق من نومي، فتتسلل لصلاة القيام.

ولطالما استيقظتُ على نشيجها أثناء ذلك، فإذا ما شعرتْ بي، عادتْ لتحنو عليّ.

واستمرّ هذا دأبها حتى توفّاها الله، وأنا في السادسة عشرة، فكان لوفاتها وقعٌ لا ينسى " (2).

وأبوه كان صالحاً، يعمل في التجارة وتربية المواشي، وكان يتطلع إلى ولد صالح يرزقه الله إياه، فيتعلم علوم الدين والعربية، ويؤمّه في الصلاة، فرُزق محموداً، فوجّهه الوجهة التي يريد، فانطلق إلى مشايخ الموصل، يتعلم منهم القرآن والحديث واللغة العربية.

وهكذا نشأ الفتى في بيت علم وفضل ودين، يُتلى فيه القرآن في الأمساء والأصباح، وتقام فيه الصلوات، ويلتزم كلُّ مَنْ فيه بالدين الحنيف، ويتعاونون على البرّ والتقوى، ويضمّ في جنباته مكتبة عامرة بالكتب والمصادر المطبوعة والمخطوطة.

--------------------------------------------

(1) الإسلام والنصر، ص 81.

(2) محمد المجذوب، علماء ومفكرون عرفتهم: 1/ 328.
"এবং তিনি যখনই খেতেন এবং তৃপ্ত হতেন, তখনই বারবার বলতেন: হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে আমাকে খাইয়েছেন, সেভাবে প্রত্যেক দরিদ্রকে খাওয়ান" (১)।

এবং তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মাগরিবের নামাজের জন্য আমাকে কাছের মসজিদে নিয়ে যেতেন। নামাজ শেষ হলে, আমি তার সাথে মহিলাদের কক্ষ থেকে মালেক দাউদের—যার শৈলী অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ছিল—উপদেশগুলো শুনতাম, যতক্ষণ না তিনি এশার নামাজের জন্য উঠে দাঁড়াতেন … এরপর যখন আমরা ঘুমাতে যেতাম, তিনি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফারে রত হতেন। তারপর যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হতেন যে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, ততক্ষণ তিনি আমাকে ছেড়ে যেতেন না; এরপর তিনি কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য চুপিচুপি উঠে যেতেন।

এবং অনেক সময় আমি সেই সময়ে তার কান্নার শব্দে জেগে উঠতাম। তিনি যখনই আমার জেগে ওঠা অনুভব করতেন, তখনই ফিরে এসে আমাকে আদর করতেন।

এবং তার এই নিয়ম চলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ তার মৃত্যু ঘটান, তখন আমার বয়স ছিল ষোলো বছর। তার মৃত্যু এমন এক প্রভাব ফেলেছিল যা ভোলা যায় না" (২)।

এবং তার পিতা ছিলেন একজন নেককার মানুষ, যিনি ব্যবসা এবং গবাদি পশু পালনের কাজ করতেন। তিনি এমন একজন নেক সন্তান প্রত্যাশা করতেন যাকে আল্লাহ তাকে দান করবেন, যে দ্বীনি ইলম ও আরবি ভাষা শিখবে এবং নামাজে তার ইমামতি করবে। এরপর তিনি মাহমুদকে সন্তান হিসেবে লাভ করেন। ফলে তিনি তাকে সেই দিকেই পরিচালিত করেন যে দিকে তিনি চেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি মোসেলের শায়খদের কাছে যেতে শুরু করেন, তাদের কাছ থেকে কুরআন, হাদিস এবং আরবি ভাষা শিক্ষা করার জন্য।

এভাবেই যুবকটি জ্ঞান, মর্যাদা এবং দ্বীনদারির এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যেখানে সকাল-সন্ধ্যায় কুরআন তিলাওয়াত করা হতো, নামাজ কায়েম করা হতো এবং এর প্রতিটি সদস্য হানিফ দ্বীনের ওপর অবিচল ছিল। তারা একে অপরকে নেক কাজ এবং তাকওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করত। আর এই ঘরটি তার এক কোণে বইপুস্তক এবং মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি উৎসে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি ধারণ করত।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসলাম ওয়ান নাসর, পৃ. ৮১।

(২) মুহাম্মাদ আল-মাজজুব, উলামা ওয়া মুফাককিরুনা আরাফতুহুম: ১/ ৩২৮।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌دراسته:

تلقّى دروسه الأولى في تلاوة القرآن وحفظه على يد أبيه ولسان جدّته التي كانت تُعنى بتحفيظه ما تحفظ من قصار السور، ثم في الكُتّاب، ومشايخ الموصل، ثم دخل المدرسة الابتدائية، فالإعدادية، والثانوية، وكان متفوقاً في مراحل دراسته في الموصل، وكان يتلقى العلوم الشرعية والعربية على أيدي بعض مشايخ الموصل في المساجد، وفي أثناء شهور العطل الصيفية. كما كان لمجلس الحيّ أثر في تكوين شخصيته، فقد كان يصحبه أبوه إليه وهو تلميذ صغير، ثم صار هو الذي يقرأ لذلك المجلس كتب التاريخ، ولعل هذا وسواه، مكّنه من اللغة العربية، وحبَّبه في التاريخ.

 

‌‌في الجيش:

كان الفتى محمود يحلم بدراسة الحقوق، وشاء الله أن يدخل الكلية العسكرية، ليكون لنا منه ضابط قائد مغوار، ومؤرّخ عسكريّ فذّ.

في سنة 1937 م انتسب الفتى محمود إلى الكلية العسكرية في بغداد، وتخرج فيها برتبة ملازم، حاملاً شهادة الليسانس في العلوم العسكرية سنة 1938 م بدرجة جيد جداً.

وفي سنة 1947 م حصل على شهادة الماجستير بدرجة جيد جداً من كلية الأركان والقيادة، حيث تخرج برتبة نقيب ركن.

وفي سنة 1954 م تخرج في كلية الضباط الأقدمين في العراق (دراسات عسكرية عليا) بدرجة جيد جداً.

وأوفد إلى بريطانية عام 1955 م إلى كلية الضباط الأقدمين،
তাঁর শিক্ষা:

তিনি কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ করার প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন তাঁর পিতার নিকট এবং তাঁর দাদীর মুখে, যিনি তাঁকে তাঁর মুখস্থ থাকা ছোট ছোট সূরাগুলো মুখস্থ করাতেন। অতঃপর তিনি মক্তবে এবং মোসেলের শায়খদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি প্রাথমিক, নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং মোসেলে তাঁর শিক্ষা জীবনের সকল স্তরেই তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি মসজিদের মোসেলের কিছু শায়খদের নিকট এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির মাসগুলোতে শরয়ী ও আরবি বিজ্ঞান শিক্ষা করতেন। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে স্থানীয় মজলিসের প্রভাব ছিল; তাঁর পিতা ছোটবেলায় তাঁকে সেখানে নিয়ে যেতেন। পরবর্তীকালে তিনি সেই মজলিসে ইতিহাসের কিতাবগুলো পড়ে শোনাতেন। সম্ভবত এটি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো তাঁকে আরবি ভাষায় দক্ষ করে তুলেছিল এবং ইতিহাসের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সৃষ্টি করেছিল।

 

‌‌সেনাবাহিনীতে:

তরুণ মাহমুদ আইন বিষয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল তিনি সামরিক কলেজে প্রবেশ করবেন, যাতে আমরা তাঁর কাছ থেকে একজন বীর সেনাপতি অফিসার এবং একজন অনন্য সামরিক ইতিহাসবিদ পেতে পারি।

১৯৩৭ সালে তরুণ মাহমুদ বাগদাদের সামরিক কলেজে যোগ দেন এবং ১৯৩৮ সালে সামরিক বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে অত্যন্ত ভালো মানে (ভেরি গুড গ্রেডে) সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে উত্তীর্ণ হন।

১৯৪৭ সালে তিনি স্টাফ অ্যান্ড কমান্ড কলেজ থেকে অত্যন্ত ভালো মানে (ভেরি গুড গ্রেডে) মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন, যেখান থেকে তিনি ক্যাপ্টেন (রুকন) পদে উত্তীর্ণ হন।

১৯৫৪ সালে তিনি ইরাকের সিনিয়র অফিসার্স কলেজ (উচ্চতর সামরিক শিক্ষা) থেকে অত্যন্ত ভালো মানে (ভেরি গুড গ্রেডে) উত্তীর্ণ হন।

এবং ১৯৫৫ সালে তাঁকে যুক্তরাজ্যের সিনিয়র অফিসার্স কলেজে পাঠানো হয়।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
دراسات عسكرية عليا، وكان الأول على دورته، وتخرج بدرجة ممتاز .. كانت الدورة تحتوي على مئة طالب من جنسيات مختلفة ..

و" شهد أربعاً وعشرين دورة تدريبية عسكرية في العراق، وشمالي إفريقية، وإنكلترة، والتحق بالوحدات البريطانية في أثناء تدريبها الإجمالي في الصحراء الغربية في شمالي إفريقية سنة 1953 م، وفي إنكلترة سنة 1955 م وكان تقديره في جميع تلك الدورات بدرجة جيد جداً، ودرجة ممتاز. ومن هذه الدورات، دورات الفروسية والأسلحة، ودورات التعبية … إلخ " (1).

ومع احتفاظه بشارة الفرسان، شغل واجبات الأركان والقيادة في عدد من القطعات العسكرية، وكان قائداً متميزاً بانضباطه، وجدّيته، آلفاً مألوفاً، يحبه مرؤوسه وعناصره، ولكن بعض رؤسائه التافهين كانوا يكرهون فيه تديُّنه، وبُعْدَه عن الفجور والموبقات، وتمسُّكه بالفضيلة والأخلاق والإسلام.

" ويتحدّث - اللواء خطاب - عن واقع الحياة في الجيش العراقي آنئذ، فيرينا العجب العجاب من آثار التوجيه الاستعماري؛ إذ كان كلّ شيء هناك، يسير بالضابط في طريق التميع والانحلال، فلا يجد عاصماً إلا أن يكون مزوّداً بالحصانة القادرة على الثبات في وجه الأعاصير.

كان من تقاليد الجيش أن تولم الوحدات لضباطها الجدد وليمة يُطلق عليها (وليمة التعارف والاستقبال)، تقدم فيها الخمر مع ما لذَّ وطاب من الأطعمة، وقد يصاحب ذلك أنغام الموسيقى والرقص، زيادة في الحفاوة والتكريم.

--------------------------------------------

(1) حياة محمود شيت خطاب بخط يده - مخطوط عندي.
উচ্চতর সামরিক শিক্ষা, এবং তিনি তার কোর্সে প্রথম ছিলেন, এবং মমতাজ (চমৎকার) গ্রেড নিয়ে উত্তীর্ণ হন... কোর্সে বিভিন্ন দেশের একশ জন শিক্ষার্থী ছিল...

এবং "তিনি ইরাক, উত্তর আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডে চব্বিশটি সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ১৯৫৩ সালে উত্তর আফ্রিকার পশ্চিম মরুভূমিতে ব্রিটিশ ইউনিটগুলোর সাধারণ প্রশিক্ষণে এবং ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডে যোগ দেন। এই সমস্ত কোর্সে তার মূল্যায়ন ছিল 'খুব ভালো' এবং 'মমতাজ' (চমৎকার) গ্রেডের। এই কোর্সগুলোর মধ্যে অশ্বচালনা, অস্ত্র চালনা এবং রণকৌশল সংক্রান্ত কোর্সসমূহ ... ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত" (১)।

অশ্বারোহী বাহিনীর ব্যাজ ধারণ করার পাশাপাশি, তিনি বেশ কয়েকটি সামরিক ইউনিটে স্টাফ এবং কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার শৃঙ্খলা ও গুরুত্বের জন্য এক বিশিষ্ট নেতা ছিলেন, ছিলেন অমায়িক ও সুপরিচিত, তার অধস্তনরা এবং সদস্যরা তাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তার তুচ্ছ পর্যায়ের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার ধর্মপরায়ণতা, পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে দূরত্ব এবং সচ্চরিত্র, নৈতিকতা ও ইসলামের প্রতি তার অবিচলতাকে অপছন্দ করতেন।

"মেজর জেনারেল খাত্তাব তৎকালীন ইরাকি সেনাবাহিনীর জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি আমাদের ঔপনিবেশিক নির্দেশনার প্রভাবে সৃষ্ট বিস্ময়কর সব বিষয় দেখান; কারণ সেখানে সবকিছুই একজন কর্মকর্তাকে চারিত্রিক শিথিলতা ও অবক্ষয়ের পথে নিয়ে যেত। ফলে এই ঝড়ের মুখে অবিচল থাকার মতো সক্ষম সুরক্ষা কবচ না থাকলে নিজেকে রক্ষা করার কোনো উপায় থাকত না।"

সেনাবাহিনীর অন্যতম ঐতিহ্য ছিল যে, ইউনিটগুলো তাদের নতুন কর্মকর্তাদের জন্য ভোজের আয়োজন করত, যাকে বলা হতো 'পরিচিতি ও অভ্যর্থনা ভোজ'। সেখানে সুস্বাদু সব খাবারের সাথে মদ পরিবেশন করা হতো এবং আতিথেয়তা ও সম্মান প্রদর্শনের আতিশয্যে বাদ্যযন্ত্রের সুর ও নাচও এর সাথে যুক্ত হতে পারত।

--------------------------------------------

(১) মাহমুদ শিত খাত্তাবের জীবন চরিত তার নিজ হাতে লেখা - আমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
دراسات عسكرية عليا، وكان الأول على دورته، وتخرج بدرجة ممتاز .. كانت الدورة تحتوي على مئة طالب من جنسيات مختلفة ..

و" شهد أربعاً وعشرين دورة تدريبية عسكرية في العراق، وشمالي إفريقية، وإنكلترة، والتحق بالوحدات البريطانية في أثناء تدريبها الإجمالي في الصحراء الغربية في شمالي إفريقية سنة 1953 م، وفي إنكلترة سنة 1955 م وكان تقديره في جميع تلك الدورات بدرجة جيد جداً، ودرجة ممتاز. ومن هذه الدورات، دورات الفروسية والأسلحة، ودورات التعبية … إلخ " (1).

ومع احتفاظه بشارة الفرسان، شغل واجبات الأركان والقيادة في عدد من القطعات العسكرية، وكان قائداً متميزاً بانضباطه، وجدّيته، آلفاً مألوفاً، يحبه مرؤوسه وعناصره، ولكن بعض رؤسائه التافهين كانوا يكرهون فيه تديُّنه، وبُعْدَه عن الفجور والموبقات، وتمسُّكه بالفضيلة والأخلاق والإسلام.

" ويتحدّث - اللواء خطاب - عن واقع الحياة في الجيش العراقي آنئذ، فيرينا العجب العجاب من آثار التوجيه الاستعماري؛ إذ كان كلّ شيء هناك، يسير بالضابط في طريق التميع والانحلال، فلا يجد عاصماً إلا أن يكون مزوّداً بالحصانة القادرة على الثبات في وجه الأعاصير.

كان من تقاليد الجيش أن تولم الوحدات لضباطها الجدد وليمة يُطلق عليها (وليمة التعارف والاستقبال)، تقدم فيها الخمر مع ما لذَّ وطاب من الأطعمة، وقد يصاحب ذلك أنغام الموسيقى والرقص، زيادة في الحفاوة والتكريم.

--------------------------------------------

(1) حياة محمود شيت خطاب بخط يده - مخطوط عندي.
উচ্চতর সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং নিজের ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি ‘মুমতাজ’ (চমৎকার) গ্রেড নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। উক্ত ব্যাচে বিভিন্ন দেশের একশ জন ছাত্র ছিল।

তিনি ইরাক, উত্তর আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডে চব্বিশটি সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে উত্তর আফ্রিকার পশ্চিম মরুভূমিতে ব্রিটিশ ইউনিটগুলোর সম্মিলিত প্রশিক্ষণে এবং ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডে তিনি তাদের সাথে যোগদান করেন। ওই সকল কোর্সের সবগুলোতে তার মূল্যায়ন ছিল ‘জায়্যিদ জিদ্দান’ (খুব ভালো) এবং ‘মুমতাজ’ (চমৎকার) স্তরের। এই কোর্সগুলোর মধ্যে ছিল অশ্বারোহণ, অস্ত্র চালনা এবং রণকৌশল বিষয়ক কোর্স ... ইত্যাদি (১)।

অশ্বারোহী বাহিনীর চিহ্ন (ব্যাজ) অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু সামরিক ইউনিটে স্টাফ ও কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন তার শৃঙ্খলা ও গুরুত্বের জন্য এক বিশিষ্ট সেনাপতি, অমায়িক ও সদ্ভাবপূর্ণ ব্যক্তিত্ব; তার অধস্তন ও সদস্যরা তাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তার তুচ্ছ ও অসার উচ্চপদস্থদের কেউ কেউ তার ধার্মিকতা, পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা এবং সচ্চরিত্র, নীতি ও ইসলামের ওপর অটল থাকাকে অপছন্দ করত।

মেজর জেনারেল খাত্তাব তৎকালীন ইরাকি সেনাবাহিনীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আমাদের ঔপনিবেশিক নির্দেশনার প্রভাবের বিস্ময়কর সব চিত্র দেখান; কারণ সেখানে প্রতিটি বিষয় একজন কর্মকর্তাকে নৈতিক শিথিলতা ও অবক্ষয়ের পথে নিয়ে যেত। ফলে এই ঝড়ের মুখে অটল থাকার মতো সুরক্ষা কবজ ছাড়া আত্মরক্ষার আর কোনো উপায় ছিল না।

সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য ছিল যে, ইউনিটগুলো তাদের নতুন কর্মকর্তাদের সম্মানে ভোজের আয়োজন করত, যাকে বলা হতো 'পরিচয় ও অভ্যর্থনা ভোজ'। সেখানে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি মদ পরিবেশন করা হতো। অভ্যর্থনা ও সম্মান প্রদর্শনের মাত্রা বাড়াতে এর সাথে বাদ্যযন্ত্রের সুর ও নাচের আয়োজনও যোগ করা হতো।

--------------------------------------------

(১) মাহমুদ শীত খাত্তাব-এর জীবনকথা, তার নিজ হাতে লেখা - পাণ্ডুলিপিটি আমার নিকট সংরক্ষিত।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
العلمية، كما هو معروف في الأوساط العسكرية، والسياسية، ولهذا كان يدعى إلى تلك الهيئات والجمعيات العلمية، فقد كان عضواً في المجمع العلمي العراقي منذ عام 1963 م وعضواً في مجمع البحوث الإسلامية في الأزهر (1968 م)، وعضواً في مجمع اللغة العربية في القاهرة (1966 م)، وعضواً في مجمع اللغة العربية بدمشق (1966 م)، وعضواً في مجمع اللغة العربية الأردني (1979 م)، وعضواً في المجلس التأسيسي لرابطة العالم الإسلامي (1964 م)، وعضواً في المجلس الأعلى للمساجد في مكة المكرمة (1975 م).

 

‌‌في الصحافة:

كان اللواء خطاب يكتب في عدد من الصحف والمجلات والدوريات الجادّة، مثل: مجلة المجمع العلمي العراقي (1954 م)، ومجمع اللغة العربية المصري (1966 م)، ومجلة مجمع اللغة العربية السوري (1966 م)، ومجلة العربي الكويتية (1966 م)، ومجلة الوعي الإسلامي الكويتية (1966 م)، ومجلة الأزهر (1966 م)، ومجلة الفيصل (1975 م)، ومجلة الحرس الوطني/ السعودية (1980 م)، ومجلة الأمة القطرية (1980 م)، ومجلة الدوحة/ القطرية (1980 م)، ومجلة دعوة الحق/ المغربية (1978 م)، ومجموعة بحوث مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر (1968 م)، ومجموعة بحوث مجمع اللغة العربية المصري (1966 م)، ومجلة الفكر الإسلامي البيروتية (1964 م)، ومجلة المورد العراقية (1973 م)، ومجلة رسالة الخليج العربي (1983 م)، ومجلة معهد البحوث والدراسات العربية (1983 م)، ومجلة التربية الإسلامية في بغداد (1961 م)، ومجلة الرسالة/ المصرية (1964 م)، ومجلة حضارة الإسلام الدمشقية، ومجلة التمدن الإسلامي الدمشقية، وسواها وسواها من الصحف العربية والإسلامية.
বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে, যেমনটি সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত, এবং এই কারণেই তাঁকে সেই সব বৈজ্ঞানিক সংস্থা ও সমিতিতে আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য ছিলেন, ১৯৬৮ সালে আল-আযহারের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সদস্য, ১৯৬৬ সালে কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য, ১৯৬৬ সালে দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য, ১৯৭৯ সালে জর্ডান আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য, ১৯৬৪ সালে রাবিতাতুল আলম আল-ইসলামির (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ) প্রতিষ্ঠাতাকালীন পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৫ সালে মক্কা মুকাররামায় অবস্থিত মাসজিদসমূহের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ছিলেন।

 

‌‌সংবাদমাধ্যমে:

মেজর জেনারেল খাত্তাব বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং গবেষণাপত্রে লিখতেন, যেমন: ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমি সাময়িকী (১৯৫৪ খ্রি.), মিশরীয় আরবি ভাষা একাডেমি (১৯৬৬ খ্রি.), সিরীয় আরবি ভাষা একাডেমি সাময়িকী (১৯৬৬ খ্রি.), কুয়েতি আল-আরবি সাময়িকী (১৯৬৬ খ্রি.), কুয়েতি আল-ওয়ায়িল ইসলামি সাময়িকী (১৯৬৬ খ্রি.), আল-আযহার সাময়িকী (১৯৬৬ খ্রি.), আল-ফয়সাল সাময়িকী (১৯৭৫ খ্রি.), সৌদি ন্যাশনাল গার্ড সাময়িকী (১৯৮০ খ্রি.), কাতারি আল-উম্মাহ সাময়িকী (১৯৮০ খ্রি.), কাতারি আদ-দোহা সাময়িকী (১৯৮০ খ্রি.), মরক্কোর দাওয়াতুল হক সাময়িকী (১৯৭৮ খ্রি.), আল-আযহারের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির গবেষণা সংকলন (১৯৬৮ খ্রি.), মিশরীয় আরবি ভাষা একাডেমির গবেষণা সংকলন (১৯৬৬ খ্রি.), বৈরুতের আল-ফিকরুল ইসলামি সাময়িকী (১৯৬৪ খ্রি.), ইরাকি আল-মাওয়রিদ সাময়িকী (১৯৭৩ খ্রি.), রিসালাতুল খালিজ আল-আরাবি সাময়িকী (১৯৮৩ খ্রি.), ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ সাময়িকী (১৯৮৩ খ্রি.), বাগদাদের আত-তারবিয়াতুল ইসলামিয়া সাময়িকী (১৯৬১ খ্রি.), মিশরীয় আর-রিসালা সাময়িকী (১৯৬৪ খ্রি.), দামেস্কের হাদারাতুল ইসলাম সাময়িকী, দামেস্কের আত-তামাদ্দুনুল ইসলামি সাময়িকী এবং এ ছাড়াও আরও অসংখ্য আরবি ও ইসলামি সংবাদপত্রে তিনি লিখতেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌في الإذاعة والتلفزيون:

قدّم اللواء خطاب عدداً من الأحاديث في الإذاعات العربية المسموعة والمرئية .. منها - على سبيل المثال - برنامج (نور على نور) في إذاعة القاهرة عام 1970 م لمدة ساعتين عن غزوة بدر الكبرى، وساعتين عن دروس في الكتمان من الرسول القائد صلى الله عليه وسلم، وكذلك الأمر في إذاعة العراق سنة 1966 م عن التاريخ العربي العسكري، وفي إذاعة دولة الإمارات عن التاريخ العسكري الإسلامي، وفي الإذاعة السعودية عن قادة الفتح الإسلامي، وفي إذاعة المغرب عن العدو الصهيوني والأسلحة المتطورة، وعن اللغة العسكرية، والدفاع عن اللغة العربية، والإسلام دين ودنيا، وسواها من الموضوعات المهمة.

 

‌‌أهم الموضوعات التي كان يكتب فيها:

1 - قادة الفتح الإسلامي، وقادة استعادة الفتح الإسلامي.

2 - معارك الفتح الإسلامي، ومعارك استعادة الفتح الإسلامي.

3 - الفن العسكري العربي الإسلامي.

4 - اللغة العسكرية، وتطهير العربية من الألفاظ الدخيلة.

5 - العسكرية الإسرائيلية.

6 - الدفاع عن العربية لغة، والإسلام ديناً.

7 - القصص الهادفة.

8 - تحقيق التراث العربي الإسلامي العسكري.

9 - ترجمة الكتب العسكرية التي تفيد الفكر العسكري.

10 - مناقشة المشكلات العربية الإسلامية، ومحاولة إيجاد الحلول لها.
বেতার ও টেলিভিশনে:

মেজর জেনারেল খাত্তাব বিভিন্ন আরব বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলে বেশ কিছু আলোচনা পেশ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ—১৯৭০ সালে কায়রো বেতারে ‘নূর আলা নূর’ অনুষ্ঠানে মহান বদর যুদ্ধ সম্পর্কে দুই ঘণ্টা এবং সেনাপতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষা সম্পর্কে দুই ঘণ্টা বক্তব্য প্রদান করেন। একইভাবে ১৯৬৬ সালে ইরাক বেতারে আরব সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বেতারে ইসলামী সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে, সৌদি আরব বেতারে ইসলামী বিজয়ের সেনাপতিদের সম্পর্কে এবং মরক্কো বেতারে জায়নবাদী শত্রু ও উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক ভাষা, আরবি ভাষার প্রতিরক্ষা এবং ইসলাম একটি দ্বীন ও দুনিয়া (ধর্ম ও জীবন বিধান) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

 

‌যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি লিখতেন:

১ - ইসলামী বিজয়ের সেনাপতিগণ এবং ইসলামী বিজয় পুনরুদ্ধারের সেনাপতিগণ।

২ - ইসলামী বিজয়ের যুদ্ধসমূহ এবং ইসলামী বিজয় পুনরুদ্ধারের যুদ্ধসমূহ।

৩ - আরব ইসলামী সামরিক শিল্প।

৪ - সামরিক ভাষা এবং আরবি ভাষাকে বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত করা।

৫ - ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা।

৬ - ভাষা হিসেবে আরবি এবং দ্বীন হিসেবে ইসলামের প্রতিরক্ষা।

৭ - উদ্দেশ্যমূলক গল্পসমূহ।

৮ - আরব ইসলামী সামরিক ঐতিহ্যের পাণ্ডুলিপি সম্পাদন ও গবেষণা।

৯ - সামরিক চিন্তাধারার জন্য উপকারী সামরিক গ্রন্থসমূহের অনুবাদ।

১০ - আরব ইসলামী সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা এবং সেগুলোর সমাধানের প্রচেষ্টা।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
11 - تربية الشباب وتصحيح الانحرافات لديهم.

12 - تعريب المصطلحات العسكرية الأجنبية الحديثة ..

13 - توحيد المصطلحات العسكرية وغير العسكرية في البلاد العربية.

 

‌‌هذا وقد كتب ما كتب ضمن المحاور الأربعة التالية:

‌‌1 - محور التاريخ العربي الإسلامي العسكري: وله في هذا المجال:

الرسول القائد صلى الله عليه وسلم قادة فتح العراق والجزيرة - قادة فتح فارس - قادة فتح بلاد الشام ومصر - قادة فتح المغرب العربي - الفاروق القائد - الصدّيق القائد - خالد بن الوليد - عقبة بن نافع - قادة فتح السند وأفغانستان - قادة النبي صلى الله عليه وسلم قادة فتح أرمينية - قادة فتح بلاد الروم (جزءان) - قادة فتح بلاد ما وراء النهر (جزءان) - قادة فتح بلاد الأندلس (جزءان) … إلخ.

وقد كان المؤلف " في بداية حياته العسكرية، يقرأ عن القادة الأجانب الذين غزوا البلاد العربية، ومعارك الأجانب التي استعمروا بها البلاد العربية، ولم تكن المدارس والمعاهد والكليات العسكرية العربية تدرّس تلاميذها وطلاّبها العرب عن قادة الفتح الإسلامي، ولا عن معارك الفتوح الإسلامية، ولا عن غزوات النبيّ صلى الله عليه وسلم.

وبعد مثابرته التي بدأت قبل أربعين سنة، واستمرت، دون كلل ولا ملل، حتى اليوم، تبدّل الحال غير الحال، والحمد لله، فأصبحت المدارس والمعاهد والجامعات العسكرية تعجّ بنشاطها المثمر في دراسة قادة الفتح الإسلامي، ومعارك الفتوح، وغزوات الرسول القائد عليه الصلاة والسلام " (1).

--------------------------------------------

(1) مخطوطة حياته بخط يده، ص 14.
১১ - যুবকদের লালন-পালন এবং তাদের মধ্যকার বিচ্যুতিসমূহ সংশোধন করা।

১২ - আধুনিক বিদেশি সামরিক পরিভাষাগুলোকে আরবীকরণ করা...

১৩ - আরব দেশগুলোতে সামরিক ও অ-সামরিক পরিভাষাগুলোর একীকরণ করা।

 

‌‌তিনি যা কিছু লিখেছেন, তা নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত:

‌‌১ - আরব-ইসলামী সামরিক ইতিহাসের বিষয়: এই ক্ষেত্রে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:

সেনাপতি হিসেবে রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) - ইরাক ও আল-জাজিরা বিজয়ের সেনাপতিগণ - পারস্য বিজয়ের সেনাপতিগণ - শাম ও মিসর বিজয়ের সেনাপতিগণ - মাগরেব বিজয়ের সেনাপতিগণ - সেনাপতি আল-ফারুক - সেনাপতি আস-সিদ্দিক - খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ - উকবা বিন নাফি - সিন্ধু ও আফগানিস্তান বিজয়ের সেনাপতিগণ - নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সেনাপতিগণ - আরমেনিয়া বিজয়ের সেনাপতিগণ - রোম সাম্রাজ্য বিজয়ের সেনাপতিগণ (দুই খণ্ড) - মা ওয়ারাউন নহর বিজয়ের সেনাপতিগণ (দুই খণ্ড) - আন্দালুস বিজয়ের সেনাপতিগণ (দুই খণ্ড) … ইত্যাদি।

লেখক তাঁর সামরিক জীবনের শুরুতে সেইসব বিদেশি সেনাপতিদের সম্পর্কে পড়তেন যারা আরব দেশগুলো আক্রমণ করেছিল এবং বিদেশিদের সেইসব যুদ্ধ সম্পর্কে পড়তেন যার মাধ্যমে তারা আরব দেশগুলোতে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। তখন আরব সামরিক বিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও কলেজগুলো তাদের আরব ছাত্র ও শিক্ষার্থীদের ইসলামী বিজয়ের সেনাপতিগণ, ইসলামী বিজয়ের যুদ্ধসমূহ কিংবা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কে পাঠদান করত না।

চল্লিশ বছর আগে শুরু হওয়া তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা আজ পর্যন্ত কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই অব্যাহত থাকার ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখন সামরিক বিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইসলামী বিজয়ের সেনাপতিগণ, বিজয়ের যুদ্ধসমূহ এবং সেনাপতি রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর যুদ্ধবিগ্রহ অধ্যয়নের ফলপ্রসূ কার্যক্রমে মুখরিত।" (১)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর নিজ হাতে লেখা তাঁর জীবনের পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ১৪।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌2 - محور اللغة العسكرية: وله في هذا المجال من الكتب:

المصطلحات العسكرية في القرآن الكريم (جزءان) - المصطلحات العسكرية في كتاب (المخصّص) لابن سيده.

وكان اقترح توحيد المصطلحات العسكرية للجيوش العربية، ثم وضع هذا الاقتراح في حيّز التنفيذ، فأصدر المعجمات العسكرية الموحِّدة الأربعة، فشاعت لغة القرآن الكريم في الجيوش العربية، بدلاً من اللغات الأجنبية والدخيلة.

 

‌‌3 - محور العدو الصهيوني: في محاولة منه أن يعرف العرب والمسلمون عدوّهم على حقيقته، لا كما يحلو للعدو الصهيوني أن يعرف العرب والمسلمون عنه.

لقد كانت المعلومات عن العدو الصهيوني قليلة، ومضلّلة، فكان هذا الجهل بالعدوّ من أهمّ أسباب نكسة حزيران 1967 م فقاتل العرب عدواً لا يعرفون عنه إلا القليل.

ولهذا قرّر أن يحاضر ويؤلف في العسكرية الإسرائيلية، فكان له في هذا المجال: الوجيز في العسكرية الإسرائيلية - العسكرية الإسرائيلية - أهداف العدو الصهيوني في البلاد العربية - العدو الصهيوني والأسلحة المتطورة … إلخ.

 

‌‌4 - محور الدعوة الإسلامية، والدفاع عن الإسلام ديناً، والعربية لغة، وله فيه: بين العقيدة والقيادة - رسالة المسجد العسكرية - عدالة السماء - تدابير القدر …

والمحاور الأربعة السابقة، تصبّ في بحر الدعوة.
২ - সামরিক ভাষার ক্ষেত্র: এই ক্ষেত্রে তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পবিত্র কুরআনে সামরিক পরিভাষা (দুই খণ্ড) - ইবনে সীদাহর ‘আল-মুখাস্সাস’ গ্রন্থে সামরিক পরিভাষা।

তিনি আরব সেনাবাহিনীগুলোর জন্য সামরিক পরিভাষা একীভূত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, অতঃপর এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত করা হয়। তিনি চারটি সমন্বিত সামরিক অভিধান প্রকাশ করেন, যার ফলে বিদেশি ও আগন্তুক ভাষার পরিবর্তে আরব সেনাবাহিনীগুলোতে পবিত্র কুরআনের ভাষা প্রচলিত হয়।

 

৩ - জায়নিস্ট শত্রু সংক্রান্ত ক্ষেত্র: আরব ও মুসলিমরা যেন তাদের শত্রুর প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারে, সেজন্য এটি ছিল তাঁর একটি প্রচেষ্টা; জায়নিস্ট শত্রুরা আরব ও মুসলিমদের কাছে নিজেদের যেভাবে তুলে ধরতে পছন্দ করে তেমনটি নয়।

জায়নিস্ট শত্রু সম্পর্কে তথ্য ছিল অতি সামান্য এবং বিভ্রান্তিকর। শত্রু সম্পর্কে এই অজ্ঞতাই ছিল ১৯৬৭ সালের জুন যুদ্ধের বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ; আরবরা এমন এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল যাদের সম্পর্কে তারা খুব কমই জানত।

এই কারণে তিনি ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা ও গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত নেন। এই ক্ষেত্রে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো: ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা সংক্ষেপ - ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা - আরব দেশগুলোতে জায়নিস্ট শত্রুর লক্ষ্যসমূহ - জায়নিস্ট শত্রু ও উন্নত সমরাস্ত্র … ইত্যাদি।

 

৪ - ইসলামী দাওয়াহ এবং দ্বীন হিসেবে ইসলাম ও ভাষা হিসেবে আরবির প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষেত্র, এই ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে: আকিদাহ ও নেতৃত্বের মাঝে - মসজিদের সামরিক ভূমিকা - আসমানি ন্যায়বিচার - তাকদিরের ব্যবস্থাপনা …

উল্লিখিত চারটি ক্ষেত্রই দাওয়াহর সমুদ্রে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المؤتمرات العلميّة:

كان اللواء خطاب يدعى إلى الكثير من المؤتمرات والندوات العلميّة، فكان يحضر بعضها، ويعتذر عن بعضها الآخر، لأسباب تتعلق به حيناً، وأسباب أخرى خارجة عن إرادته، وخاصة في ربع القرن الأخير من حياته في بغداد.

من هذه المؤتمرات ما كان في بغداد، كتلك التي كان يعقدها المجمع العلمي العراقي خاصة، ومؤتمرات مجمع اللغة العربية في القاهرة، ومؤتمرات مجمع البحوث الإسلامية في الأزهر الشريف، ومؤتمرات رابطة العالم الإسلامي في مكة المكرمة، والمؤتمرات الإسلاميّة على نطاق البلاد العربيّة. وكان له في كل مؤتمر محاضرة، أو بحث، مثل بحث: (أهمية توحيد المصطلحات العسكرية في الجيوش العربية)، و (أسد بن الفرات: فاتح صقلية)، و (الأمثال العسكرية في مجمع الأمثال للميداني)، و (تاريخ المعجمات العسكرية في البلاد العربية)، و (المصطلحات العسكرية في القرآن الكريم)، و (حاضر المسلمين ومستقبلهم بين الآمال والآلام)، و (الحرب الإجماعية في الإسلام)، و (أمّ الخبائث)، و (رسالة المسجد العسكرية)، و (إرادة القتال في الجهاد الإسلامي)، و (أهداف إسرائيل التوسّعية في البلاد العربية)، و (دروس في الكتمان من الرسول القائد) صلى الله عليه وسلم، و (أهمية الدعوة)، وسواها من الأبحاث القيمة التي كادت تكون محور تلك المؤتمرات.

 

‌‌في الكليات العسكرية:

كان اللواء خطاب يدعى إلى إلقاء العديد من المحاضرات في الكليات العسكرية، وكليات القيادة والأركان، وجامعات الدراسات العسكرية العليا، والجامعات والجمعيات غير العسكرية، في العراق وفي
বৈজ্ঞানিক সম্মেলনসমূহ:

মেজর জেনারেল খাত্তাবকে অনেক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও সেমিনারে আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি সেগুলোর কোনো কোনোটিতে উপস্থিত হতেন এবং অন্যগুলোতে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করতেন; কখনো ব্যক্তিগত কারণে, আবার কখনো তাঁর ইচ্ছার বাইরের অন্যান্য কারণে, বিশেষ করে বাগদাদে তাঁর জীবনের শেষ পঁচিশ বছরে।

এই সম্মেলনগুলোর মধ্যে কিছু ছিল বাগদাদে, বিশেষ করে ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত সম্মেলনসমূহ। এছাড়াও কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমি, আল-আযহার আল-শরিফের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি, মক্কা মুকাররামায় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামি)-এর সম্মেলনসমূহ এবং আরব দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ইসলামিক সম্মেলন উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি সম্মেলনে তাঁর একটি ভাষণ বা গবেষণাপত্র থাকত, যেমন: (আরব সেনাবাহিনীগুলোতে সামরিক পরিভাষার ঐক্যের গুরুত্ব), (আসাদ ইবনে আল-ফুরাত: সিসিলি বিজয়ী), (আল-মাইদানির 'মাজমাউল আমসাল'-এ সামরিক প্রবাদসমূহ), (আরব দেশগুলোতে সামরিক অভিধানের ইতিহাস), (পবিত্র কুরআনে সামরিক পরিভাষাসমূহ), (আশা ও বেদনার মাঝে মুসলমানদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ), (ইসলামে সামষ্টিক যুদ্ধ), (সকল মন্দের জননী), (মসজিদের সামরিক বার্তা), (ইসলামি জিহাদে যুদ্ধের সংকল্প), (আরব দেশগুলোতে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্যসমূহ), (সেনানায়ক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা), (দাওয়াতের গুরুত্ব), এবং অন্যান্য মূল্যবান গবেষণাপত্র যা প্রায় ঐ সম্মেলনগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠত।

 

সামরিক কলেজসমূহে:

মেজর জেনারেল খাত্তাবকে ইরাক এবং অন্যান্য স্থানের বিভিন্ন সামরিক কলেজ, কমান্ড ও স্টাফ কলেজ, উচ্চতর সামরিক শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সমিতিগুলোতে অসংখ্য ভাষণ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতো।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২২)
الأردن، والسعودية، ودول الخليج العربي، وليبية، والمغرب، ومصر .. ومن تلك المحاضرات: (العدو الصهيوني والسلاح النووي)، و (العدو الصهيوني والأسلحة المتطورة)، و (البلاد العربية في الحرب العالمية الثانية)، و (أهمية البلاد العربية سَوْقيّاً)، و (أسباب نكسة حزيران 1967 م)، و (طريق النصر على الصهاينة)، وسواها من المحاضرات ذات القيمة الاستراتيجية.

بل إن اللواء خطاباً كان أول من أقدم على تدريس العسكرية الإسرائيلية في المعهد العالي التابع لجامعة الدول العربية، في الوقت الذي كان يحجم فيه كبار القادة والضباط عن الحديث في تلك الموضوعات ..

كان شعاره: (اعرف عدوَّك تأمن مكره، وتنتصر عليه).

وكان يأبى إلا أن يدرِّس ويحاضر باللغة العربية التي تجمع الشعوب العربية ولا تفرّقها كتلك اللهجات العاميّة.

 

‌‌في الوزارة:

لم يكن اللواء خطاب يفكر في الوزارة، بل كان يتحاشاها، ولكنّ صديقه المشير عبد السلام عارف - رحمه الله تعالى- أصرَّ عليه أن يكون إلى جانبه في الحكم، وأن يأتيه بناس صالحين، من الإخوان وغير الإخوان، ولكن الإخوان المسلمين رفضوا المشاركة في الحكم، لأن تجربتهم القاسية مع عبد الناصر ما تزال ماثلة للعيان، وضحايا عبد الناصر منهم فاقت مجموع ضحاياهم وشهدائهم في فلسطين، والقنال، وجرائم القصر والأحزاب التابعة له بكثير.

نزولاً عند إصرار المشير عبد السلام الذي خوّفه بالله، وحمّله مسؤولية عدم المشاركة أمام الله والتاريخ، شارك اللواء خطاب في عدّة وزارات، ولكنه انتهز أول فرصة سنحت له، فاستقال، وآلى على نفسه أن
জর্ডান, সৌদি আরব, আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ, লিবিয়া, মরক্কো এবং মিশর... আর সেই বক্তৃতাগুলোর মধ্যে ছিল: (জায়নবাদী শত্রু ও পারমাণবিক অস্ত্র), (জায়নবাদী শত্রু ও উন্নত সমরাস্ত্র), (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আরব দেশসমূহ), (কৌশলগত দিক থেকে আরব দেশসমূহের গুরুত্ব), (১৯৬৭ সালের জুনের বিপর্যয়ের কারণসমূহ), এবং (জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে বিজয়ের পথ), এ ছাড়াও কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন আরও অনেক বক্তৃতা।

বস্তুত মেজর জেনারেল খাত্তাবই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আরব লীগের অধিভুক্ত উচ্চতর ইনস্টিটিউটে ইসরায়েলি সামরিক বিদ্যা পাঠদানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এমন এক সময়ে যখন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং কর্মকর্তারা সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করতেন...

তাঁর মূলমন্ত্র ছিল: (তোমার শত্রুকে জানো, তবেই তুমি তার চক্রান্ত থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার ওপর বিজয়ী হবে)।

তিনি কেবল ধ্রুপদী আরবি ভাষাতেই পাঠদান ও বক্তৃতা দেওয়ার ব্যাপারে অবিচল ছিলেন, যা আরব জাতিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং আঞ্চলিক উপভাষাগুলোর মতো তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে না।

 

‌‌মন্ত্রণালয়ে:

মেজর জেনারেল খাত্তাব মন্ত্রণালয়ের কথা চিন্তা করেননি, বরং তিনি এটি এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু ফিল্ড মার্শাল আবদুস সালাম আরিফ -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- তাঁর সাথে শাসনকার্যে থাকার জন্য এবং ইখওয়ান ও ইখওয়ান বহির্ভূত সৎ ব্যক্তিদের নিয়ে আসার জন্য তাঁকে পীড়াপীড়ি করেন। কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুড শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করে, কারণ জামাল আবদুন নাসেরের সাথে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তখনো সবার স্মৃতিতে অম্লান ছিল। নাসেরের হাতে তাদের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ও শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে, তা ফিলিস্তিন ও সুয়েজ খাল এবং রাজপ্রাসাদ ও এর অনুগত দলগুলোর অপরাধের ফলে হওয়া মোট ক্ষয়ক্ষতি ও শহিদের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

ফিল্ড মার্শাল আবদুস সালামের পীড়াপীড়িতে, যিনি তাঁকে আল্লাহর ভয় দেখিয়েছিলেন এবং এই অংশগ্রহণে অসম্মতির জন্য আল্লাহ ও ইতিহাসের সামনে দায়ী করেছিলেন, মেজর জেনারেল খাত্তাব বেশ কয়েকটি মন্ত্রিসভায় অংশ নেন। তবে তিনি প্রথম সুযোগ পাওয়া মাত্রই পদত্যাগ করেন এবং নিজের কাছে এই অঙ্গীকার করেন যে—
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
يكون بعيداً عنها، وعن أيّ مسؤولية، وتفرّغ للعلم وللعلم وحده. وقد عُرضت عليه المشاركة في كل حكومة شكلت بعد عام 1964 م ولكنه كان يعتذر باستمرار.

وفي 17 من تموز 1968 م عُيِّن وزيراً للمواصلات، وكان يومها في مصر، يعمل رئيساً للجنة توحيد المصطلحات العسكرية للجيوش العربية التي أعدّت المعجمات العسكرية الأربعة الموحِّدة، فاعتذر عن قبول هذا المنصب، وآثر العمل في المجالات العلميّة، على العمل في المناصب الحكومية، وبقي في القاهرة، حتى أخرج المعجمات آنفة الذكر، وكان هو الذي اقترح توحيد هذه المصطلحات، وهو الذي وضعها في حيّز التنفيذ.

ومن طريف ما حدّثني به، أن أخاه المستشار في محكمة النقض ذهب إلى قيادة الجيش ليأخذ راتب أخيه، ويرسله إليه، فأجابوه:

أخوك لم يعد في الجيش، صار وزيراً، فراجع الوزارة ..

وذهب المستشار إلى الوزارة ليقبض الراتب، فقيل له:

أخوك اللواء اعتذر عن قبول الوزارة، وهو من ملاك الجيش، فاذهب إلى هناك.

وهكذا ضاع اللواء محمود بين الجيش والوزارة، وهو في مصر، ولا يملك إلا راتبه لينفق منه، ولولا أصدقاؤه الكرام في مصر، من أمثال: الشيخ محمد أبو زهرة، والشيخ عبد الحليم محمود، وسواهما، لجاع هو وأسرته في القاهرة.

وعندما عاد من مصر إلى بغداد عام 1973 م عرض عليه صديقه أحمد حسن البكر رئيس الجمهورية، عدة مناصب حكومية رفيعة، ولكنه اعتذر عن قبولها، وتفرّغ كلياً لبحوثه ودراساته ومحاضراته في المعاهد والمدارس والكليات العسكرية العربية.
তিনি এ থেকে এবং যেকোনো দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে চাইতেন এবং নিজেকে ইলম তথা জ্ঞানের জন্য, এবং কেবল জ্ঞানের জন্যই উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৬৪ সালের পর গঠিত প্রতিটি সরকারে অংশগ্রহণের প্রস্তাব তাকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ক্রমাগত ক্ষমা প্রার্থনা করে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।

১৯৬৮ সালের ১৭ জুলাই তাকে যোগাযোগ মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। সেদিন তিনি মিশরে অবস্থান করছিলেন এবং আরব সেনাবাহিনীসমূহের সামরিক পরিভাষা একত্রীকরণ কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন, যা চারটি সমন্বিত সামরিক অভিধান প্রস্তুত করেছিল। তিনি এই পদ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং সরকারি পদের চেয়ে জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে কাজ করাকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি কায়রোতেই অবস্থান করেন যতক্ষণ না উল্লিখিত অভিধানগুলো প্রকাশিত হয়। তিনিই এই পরিভাষাগুলো একত্র করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তিনিই সেগুলো বাস্তবায়নের রূপ দিয়েছিলেন।

তিনি আমাকে যে কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনী শুনিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি হলো, আপিল আদালতের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত তার ভাই তার বেতন গ্রহণ করে তাকে পাঠানোর জন্য সেনা সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন। তারা তাকে উত্তর দিল:

আপনার ভাই এখন আর সেনাবাহিনীতে নেই, তিনি মন্ত্রী হয়েছেন, তাই মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন...

উপদেষ্টা মহোদয় বেতন সংগ্রহের জন্য মন্ত্রণালয়ে গেলেন, তখন তাকে বলা হলো:

আপনার ভাই মেজর জেনারেল মন্ত্রীত্ব গ্রহণে অপারগতা জানিয়েছেন এবং তিনি সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তাই আপনি সেখানেই যান।

এভাবেই মেজর জেনারেল মাহমুদ সেনাবাহিনী ও মন্ত্রণালয়ের মাঝখানে হারিয়ে গেলেন। তিনি তখন মিশরে ছিলেন এবং ব্যয় করার মতো তার বেতন ছাড়া আর কিছুই ছিল না। মিশরে তার সম্মানিত বন্ধুগণ—যেমন শায়খ মুহাম্মদ আবু জাহরা, শায়খ আব্দুল হালিম মাহমুদ এবং অন্যান্যরা—যদি না থাকতেন, তবে তাকে এবং তার পরিবারকে কায়রোতে অনাহারে থাকতে হতো।

১৯৭৩ সালে যখন তিনি মিশর থেকে বাগদাদে ফিরে আসেন, তখন তার বন্ধু প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি আহমদ হাসান আল-বকর তাকে বেশ কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি পদের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি সেগুলো গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং আরব সামরিক ইনস্টিটিউট, স্কুল ও কলেজগুলোতে তার গবেষণা, অধ্যয়ন এবং বক্তৃতার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌وفاته:

في صباح اليوم الثالث عشر من كانون الأول 1998 م كان يجلس اللواء خطاب في مجلسه المعتاد: تحت درج منزله على كرسيّ عتيق، وجاءت ابنته تودّعه، وقبل أن تغادر المنزل إلى الجامعة، طلب منها أن تجلس معه، لتقرأ معه سورة (يَس) حاولت الطالبة الاعتذار من أجل حضور المحاضرات، فأشار إليها: أن اجلسي، فجلست، وجاءت زوجته الصالحة الصابرة، وجلست، وقرأت (آمنة) سورة (يَس)، وكان الوالد يقرأ معها، فأحسّ بجفاف في حلقه، بعد الانتهاء من قراءة السورة، فطلب من زوجته أن تأتيه بكأس من الشراب، وأسرعت الزوجة إلى المطبخ، وهي تسمع زوجها يردّد: أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً رسول الله .. وكرّرها مرة وثانياً وثالثاً ورابعاً وخامساً ثم سكت، وابنتُه تنظر إليه، وتردّد معه شهادة الحقّ، فأسرعت زوجته إليه، لتراه كالنائم، قد أسلم روحه لبارئها .. رحمه الله رحمة واسعة.

وحُملت جنازته، ودُفن، دون أن يدري بوفاته ودفنه أكثر أصحابه ومحبّيه الكثر من أبناء الشعب العراقي، ولو علموا لكانت من الجنازات المشهودة في تاريخ بغداد.

 

***
তাঁর ইন্তেকাল:

১৯৯৮ সালের ১৩ই ডিসেম্বরের সকালে মেজর জেনারেল খাত্তাব তাঁর চিরাচরিত বসার স্থানে বসেছিলেন: তাঁর গৃহের সিঁড়ির নিচে একটি প্রাচীন চেয়ারে। তাঁর কন্যা তাঁকে বিদায় জানাতে আসলেন এবং ঘর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পূর্বে তিনি তাঁকে তাঁর সাথে বসার অনুরোধ করলেন, যাতে তিনি তাঁর সাথে সূরা ইয়াসীন পাঠ করতে পারেন। ছাত্রীটি ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশের চেষ্টা করলে তিনি তাঁকে বসতে ইশারা করলেন, ফলে তিনি বসলেন। তাঁর পুণ্যবতী ও ধৈর্যশীল স্ত্রীও আসলেন এবং বসলেন। আমিনা সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করলেন এবং পিতাও তাঁর সাথে পড়ছিলেন। সূরাটি তিলাওয়াত শেষ করার পর তিনি তাঁর গলায় শুষ্কতা অনুভব করলেন, ফলে তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এক গ্লাস পানীয় চাইলেন। স্ত্রী দ্রুত রান্নাঘরের দিকে গেলেন, এমতাবস্থায় তিনি শুনতে পেলেন তাঁর স্বামী বারবার পাঠ করছেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল... তিনি এটি একবার, দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার, চতুর্থবার এবং পঞ্চমবার পুনরাবৃত্তি করলেন, অতঃপর নীরব হয়ে গেলেন। তাঁর কন্যা তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং তাঁর সাথে সত্যের সাক্ষ্য পাঠ করছিলেন। তাঁর স্ত্রী দ্রুত তাঁর নিকট ফিরে এসে দেখলেন তিনি যেন ঘুমিয়ে আছেন, তিনি তাঁর রূহকে তাঁর স্রষ্টার সমীপে সমর্পণ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।

তাঁর জানাজা বহন করা হলো এবং তাঁকে দাফন করা হলো, অথচ ইরাকি জনগণের মধ্যে তাঁর অসংখ্য বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অধিকাংশই তাঁর মৃত্যু ও দাফন সম্পর্কে জানতে পারেননি। যদি তাঁরা জানতে পারতেন, তবে এটি বাগদাদের ইতিহাসের অন্যতম এক স্মরণীয় জানাজা হতো।

 

***
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌مواقفه

‌‌1 - مواقفه في نصرة دعاة الإسلام:

‌‌أ - مع سيد قطب:

حدّثني اللواء خطّاب أنه زار القاهرة، بصحبة رئيس الجمهورية العراقية المشير عبد السلام عارف. وهناك في القاهرة، طلب من المشير عارف أن يتوسّط لدى صديقه عبد الناصر للإفراج عن سيد قطب. وتحدّث عارف مع ناصر بحضور خطاب، ووافق ناصر على الإفراج عن سيّد.

عندها طلب خطاب من عبد الناصر أن يسمح له بزيارة سيد في سجنه، ليبشّره بقرار الرئيس، فسمح بذلك، وجاءت سيارة من القصر حملت خطاباً إلى سجن سيّد. وفرح سيّد بلقاء خطاب، وحمّله سلامه إلى المشير عارف، فقال له خطاب:

- أبشرك بالإفراج عنك قريباً جداً.

تساءل سيّد: كيف؟

فقصّ عليه خطّاب قصّة وساطة المشير عبد السلام الذي يكنّ له حبّاً ومودّة وتقديراً وإعجاباً بجهاده، وفكره، وقوة إيمانه وصموده في وجه الأعاصير.

فسأل سيّد، وقد علت وجهه كآبة: يعني .. كلمتم الرئيس، وانتهى الأمر؟

أجاب خطاب بسرور: نعمْ والحمد لله.
তাঁর অবস্থানসমূহ

১ - ইসলামের দাওয়াতদানকারীদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানসমূহ:

ক - সাইয়্যেদ কুতুবের সাথে:

মেজর জেনারেল খাত্তাব আমাকে বলেছেন যে, তিনি ইরাক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আবদুস সালাম আরিফের সাথে কায়রো সফর করেছিলেন। সেখানে কায়রোতে, তিনি ফিল্ড মার্শাল আরিফের নিকট অনুরোধ করেন যেন তিনি তাঁর বন্ধু আবদুল নাসেরের কাছে সাইয়্যেদ কুতুবের মুক্তির জন্য মধ্যস্থতা করেন। খাত্তাবের উপস্থিতিতেই আরিফ নাসেরের সাথে কথা বলেন এবং নাসের সাইয়্যেদকে মুক্তি দিতে সম্মত হন।

তখন খাত্তাব আবদুল নাসেরের নিকট অনুরোধ করেন যেন তাকে কারাগারে সাইয়্যেদের সাথে সাক্ষাত করার অনুমতি দেওয়া হয়, যাতে তিনি তাকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সুসংবাদ দিতে পারেন। নাসের অনুমতি দিলেন এবং রাজপ্রাসাদ থেকে একটি গাড়ি এসে খাত্তাবকে সাইয়্যেদের কারাগারে নিয়ে গেল। খাত্তাবের সাথে সাক্ষাতে সাইয়্যেদ আনন্দিত হলেন এবং ফিল্ড মার্শাল আরিফের নিকট তাঁর সালাম পৌঁছে দিতে বললেন। তখন খাত্তাব তাঁকে বললেন:

- আমি আপনাকে খুব শীঘ্রই আপনার মুক্তির সুসংবাদ দিচ্ছি।

সাইয়্যেদ বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন করলেন: কীভাবে?

তখন খাত্তাব তাঁর কাছে ফিল্ড মার্শাল আবদুস সালামের মধ্যস্থতার কাহিনী বর্ণনা করলেন, যিনি তাঁর প্রতি ভালোবাসা, হৃদ্যতা, সম্মান ও তাঁর জিহাদ, চিন্তা, ঈমানের দৃঢ়তা এবং ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে তাঁর অবিচলতার প্রতি মুগ্ধতা পোষণ করতেন।

তখন সাইয়্যেদ প্রশ্ন করলেন, এমতাবস্থায় তাঁর চেহারায় বিষণ্ণতা ফুটে উঠল: অর্থাৎ... আপনারা প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছেন, আর বিষয়টি এখানেই শেষ?

খাত্তাব আনন্দের সাথে উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال سيّد في حزن: سامحكم الله .. لو أنكم شاورتموني.

قال خطاب في دهشة: وهل كان سيكون لك رأي آخر؟

قال سيّد: نعمْ .. لو شاورتموني لرفضت الوساطة، ولما خرجت بهذه الصورة.

قال خطّاب في حزن وسهوم: ولكنها كريمة .. إخراج كريم ..

الرسول القائد صلى الله عليه وسلم قال معلّقاً على إباء يوسف الخروج من السجن حتى يسأل الملك النسوة اللواتي قطّعن أيديهنّ: رحم الله أخي يوسف.

لو خُيّرت - مكانه - لاخترت الخروج على المكث في السجن.

قال سيّد:

- على أيّ حال .. سبق السيف العذل، وشكر الله لكم مسعاكم النبيل، ونيّتكم الحسنة في الإفراج عن أخيكم، وأطيب تحياتي لكم وللأخ عبد السلام عارف .. الرجل الصالح.

" وخرج سيّد من السجن، وقدّم لي وللمشير عارف كتبه كلّها مجلّدة تجليداً فاخراً، وكتب على الظلال إهداء لطيفاً لكلٍّ منا ".

ثم اصطحبني اللواء خطّاب إلى مكتبته العامرة، وأراني كتب الشهيد العظيم، وقرأت إهداءه بخط يده على المجلد الأول من الظلال، واللواء خطّاب يدندن بهذين البيتين في تأثّر ثائر:

ذلك المؤمن المجاهد يغشى … غمرة الحرب، والرَّدَى يخشاه

تحت ظلِّ السيوف ماضٍ قويٌّ … درْعُه: لا إله إلا الله

ثم التفت إليّ، وقد أخذ الحزن مأخذه في وجهي وعينيّ، وقال في حزن:
সাইয়্যিদ ব্যথিত চিত্তে বললেন: আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করুন... যদি আপনারা আমার সাথে পরামর্শ করতেন।

খাত্তাব বিস্ময়ভরে বললেন: তবে কি আপনার অন্য কোনো মত থাকত?

সাইয়্যিদ বললেন: হ্যাঁ... যদি আপনারা আমার সাথে পরামর্শ করতেন, তবে আমি এই মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করতাম এবং এভাবে বের হতাম না।

খাত্তাব বিষণ্ণ ও বিমর্ষ মনে বললেন: কিন্তু এটি তো সম্মানজনক... এক সম্মানজনক মুক্তি...

সেনাপতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউসুফ আলাইহিস সালামের কারাগার থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানানো প্রসঙ্গে—যতক্ষণ না রাজা সেই নারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যারা তাদের হাত কেটেছিল—মন্তব্য করে বলেছিলেন: আল্লাহ আমার ভাই ইউসুফের প্রতি দয়া করুন।

আমাকে যদি তাঁর স্থানে সুযোগ দেওয়া হতো, তবে আমি কারাগারে অবস্থান করার চেয়ে বের হয়ে আসাকেই বেছে নিতাম।

সাইয়্যিদ বললেন:

- যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। আপনাদের এই মহৎ প্রচেষ্টার জন্য আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনাদের ভাইয়ের মুক্তির জন্য আপনাদের এই সদিচ্ছার জন্য শুকরিয়া। আপনার প্রতি এবং ভাই আবদুস সালাম আরিফের প্রতি—যিনি একজন নেককার মানুষ—আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।

"অতঃপর সাইয়্যিদ কারাগার থেকে বের হলেন এবং তিনি আমাকে ও ফিল্ড মার্শাল আরিফকে তাঁর সকল বইয়ের চমৎকারভাবে বাঁধানো সংকলন উপহার দিলেন এবং 'জিললাল' (ফী জিলালিল কুরআন) গ্রন্থের ওপর আমাদের প্রত্যেকের জন্য সুন্দর একটি উৎসর্গবাণী লিখে দিলেন।"

এরপর মেজর জেনারেল খাত্তাব আমাকে তাঁর সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে নিয়ে গেলেন এবং মহান শহীদের বইগুলো আমাকে দেখালেন। আমি 'জিললাল'-এর প্রথম খণ্ডে তাঁর নিজ হাতের লেখা উৎসর্গবাণী পড়লাম। তখন মেজর জেনারেল খাত্তাব আবেগাপ্লুত হয়ে এই দুটি পঙক্তি গুঞ্জন করছিলেন:

সেই মুমিন মুজাহিদ ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধের ভয়াবহতায়, স্বয়ং মৃত্যুও তাকে ভয় পায় … তরবারির ছায়াতলে তিনি এক শক্তিশালী অগ্রপথিক, যাঁর বর্ম হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

অতঃপর তিনি আমার দিকে তাকালেন—তখন আমার চোখেমুখে বিষাদের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল—এবং দুঃখভরা মনে বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهوِّن عليك، فإن الأمور … بكفّ الإله مقاديرها

فليس يؤاتيك مَنْهيُّها … ولا قاصرٌ عنك مأمورها

 

‌‌ب - مع المودودي:

وتابع اللواء خطاب حديثه، فقال:

في العام نفسه: (1964 م) زرت باكستان بصحبة الأخ المشير عبد السلام عارف، وهناك حدثته عن اعتقال الأستاذ أبي الأعلى المودودي، فأبدى امتعاضه وأسفه لتصرف الحكام مع قادة الفكر الإسلامي، وقال:

- سوف أكلّم أيوب خان - رئيس الجمهورية - بشأنه.

قال خطّاب:

- وتذكّرتُ عتاب الأستاذ سيد قطب، لأننا لم نشاوره قبل التوسّط لدى عبد الناصر للإفراج عنه، فقلت للأخ المشير:

- لا تكلّمه - أيوب خان - قبل أن أزور الأستاذ في سجنه، وأرى رأيه في ذلك.

وعندما التقينا الجنرال أيوب خان، استأذنتُه في زيارة الأستاذ المودودي، فأذن بذلك وقال:

- الأستاذ المودودي عالم كبير، وإنسان مفكّر عاقل، ولكنه يكرهني .. لماذا؟ لا أدري. فأنا هنا الرئيس - يا سيادة الرئيس - وكلما أصدرت قانوناً، أو اتخذت قراراً، أو رسمت مرسوماً، بادر الأستاذ المودودي إلى تفنيده، والتنديد به.

ثم التفتَ إليَّ وقال:
নিজে শান্ত হোন, কেননা সকল বিষয়ের … নির্ধারণ আল্লাহর হাতে রয়েছে

যা আপনার জন্য নির্ধারিত নয় তা আপনার কাছে আসবে না … আর যা আপনার জন্য নির্ধারিত তা আপনার থেকে বিচ্যুত হবে না

 

‌‌খ - মওদুদীর সাথে:

মেজর জেনারেল খাত্তাব তাঁর আলোচনা চালিয়ে গেলেন এবং বললেন:

একই বছরে (১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ) আমি ভাই ফিল্ড মার্শাল আবদুস সালাম আরিফের সাথে পাকিস্তান সফর করি এবং সেখানে তাঁকে উস্তাদ আবুল আলা মওদুদীর কারাবরণ সম্পর্কে অবহিত করি। এতে তিনি ইসলামী চিন্তাধারার নেতৃবৃন্দের সাথে শাসকদের এই আচরণে তাঁর অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন:

- আমি তাঁর ব্যাপারে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সাথে কথা বলব।

খাত্তাব বলেন:

- আমি উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুবের তিরস্কারের কথা স্মরণ করলাম, কেননা জামাল আবদুন নাসেরের নিকট তাঁর মুক্তির মধ্যস্থতা করার পূর্বে আমরা তাঁর সাথে কোনো পরামর্শ করিনি। তাই আমি ভাই ফিল্ড মার্শালকে বললাম:

- কারাগারে গিয়ে উস্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করার এবং এই বিষয়ে তাঁর মতামত জানার আগে আপনি আইয়ুব খানের সাথে কথা বলবেন না।

যখন আমরা জেনারেল আইয়ুব খানের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, আমি উস্তাদ মওদুদীর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলাম। তিনি অনুমতি দিলেন এবং বললেন:

- উস্তাদ মওদুদী একজন বড় আলেম এবং বুদ্ধিমান চিন্তাশীল মানুষ, কিন্তু তিনি আমাকে ঘৃণা করেন... কেন? আমি জানি না। হে মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আমি এখানে প্রেসিডেন্ট, অথচ যখনই আমি কোনো আইন জারি করি, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি কিংবা কোনো অধ্যাদেশ জারি করি, তখনই উস্তাদ মওদুদী তা খণ্ডন করতে এবং তার নিন্দা জানাতে শুরু করেন।

এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
- زره - يا حضرة الأخ خطاب - وافهمْ منه ماذا يريد، حتى نتفاهم ونتعاون.

قلت لأيوب خان:

- يريد الإسلام حاكماً لباكستان، فباكستان ما انفصلت عن الهند إلا من أجل الإسلام، وأن يحكم الإسلام، ويكون الدستور الباكستانيّ إسلامياً.

قال أيوب خان:

- ونحن معه، ولكنه يتعجل الأمور .. يحرّض على الانقلاب عليّ …

وزرت الأستاذ المودودي في سجنه، ففرح بلقائي، واختلطت مشاعر الفرح والحزن بلقائه .. فرحت بلقاء هذا العالم المجاهد العظيم، وحزنت أن يكون فى السجن، وليس فى قمة السلطة، يخطّط لباكستان المسلمة وينظِّر.

وبعد تبادل التحيات، وسؤاله عن أحوالنا، وسؤالي عن أحواله وأحوال جماعته، وأحوال المسلمين في باكستان، قلت له:

- المشير عبد السلام عارف يحبّك، ويحترمك، ويقرأ كتبك، ويتأثر بها جداً، وهو يعدّ نفسه من تلاميذك، ويريد أن يخدمك، ويسعى للإفراج عنك.

فقاطعني المودودي:

- هل كلّم أيوب خان بشأني؟

أجبت: ليس بعد.
- তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করুন - হে জনাব আখ খাত্তাব - এবং তিনি কী চান তা তাঁর নিকট থেকে বোঝার চেষ্টা করুন, যাতে আমরা পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা করতে পারি।

আমি আইয়ুব খানকে বললাম:

- তিনি ইসলামের অনুসারী একজন ব্যক্তিকে পাকিস্তানের শাসক হিসেবে দেখতে চান, কেননা পাকিস্তান তো ভারত থেকে পৃথক হয়েছে একমাত্র ইসলামের স্বার্থে; যাতে সেখানে ইসলামি শাসন কায়েম হয় এবং পাকিস্তানের সংবিধান ইসলামি হয়।

আইয়ুব খান বললেন:

- আমরাও তাঁর সঙ্গেই আছি, কিন্তু তিনি সব বিষয়ে বড় তাড়াহুড়ো করছেন... তিনি আমার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের উস্কানি দিচ্ছেন …

আমি উস্তাদ মওদুদীর সাথে তাঁর কারাগারে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমার আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর আনন্দ ও বেদনার এক মিশ্র অনুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করল... এই মহান মুজাহিদ আলিমের সাথে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত হলাম, আবার তিনি ক্ষমতার শীর্ষে থেকে মুসলিম পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রণয়ন করার পরিবর্তে কারাগারে বন্দি আছেন দেখে আমি ব্যথিত হলাম।

কুশল বিনিময় এবং আমাদের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জিজ্ঞাসা এবং তাঁর নিজের, তাঁর দল ও পাকিস্তানের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে আমার জিজ্ঞাসার পর আমি তাঁকে বললাম:

- ফিল্ড মার্শাল আবদুস সালাম আরিফ আপনাকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন এবং আপনার বইসমূহ পাঠ করেন; তিনি সেগুলোর দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত। তিনি নিজেকে আপনার শিষ্যদের একজন গণ্য করেন এবং আপনার খেদমত করতে চান। তিনি আপনার মুক্তির ব্যাপারে সচেষ্ট আছেন।

মওদুদীর আমার কথায় বাধা দিয়ে বললেন:

- তিনি কি আমার বিষয়ে আইয়ুব খানের সাথে কথা বলেছেন?

আমি উত্তর দিলাম: এখনো বলেননি।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
فتنفّس الصُّعداء وقال بحرارة يكاد شواظها يلفحني:

- الحمد لله.

قلت: على ماذا تحمد الله؟

قال: لو توسّط لدى أيوب خان، لرفضت الوساطة، وما خرجت من السجن، فالحمد لله أنكم لم تكلموا ذلك الطاغية بشأني.

قلت: ولكنّ الأستاذ سيّد قطب قبل وساطة الأخ المشير.

قال: أظنكم أحرجتموه فقبل هذه الوساطة الكريمة .. الأستاذ سيّد رجل حيي .. أمّا أنا، فما كنت لأقبلها، حتى لو أحرجتكم ..

ثم ودّعته محمَّلاً بدعواته وتحياته للأخ عبد السلام.

 

‌‌2 - موقفه من اللهجة العاميّة:

يتلخص في أن عواقب انتشارها خطيرة، وكلّ الدعوات إليها مريبة، وكلّ الداعين إليها مشبوهون، وكثير منهم ماسونيون يريدون تقسيم الدولة العربية الواحدة إلى دويلات، أو دولة فيها عدة لهجات تقوم مقام اللغات، وفي النهاية، يريدون أن يصبح القرآن الكريم غير مفهوم، ومن يريد فهمه، فليترجمه إلى عاميته، أو أن يتعلم لغة أجنبية، كاللغة العربية، ليفهمه، لأن تلك اللهجات بعيدة عن العربية الفصيحة، أو يفهمونه مترجماً إلى إحدى اللغات (1) .. إنه يحذر من استخدامها ومن الداعين إليها من المستشرقين والمستغربين.

 

‌‌3 - موقفه من شعر التفعيلة:

قَرَنَ اللواء خطاب بين الدعوة إلى استخدام العامية بالدعوة إلى

--------------------------------------------

(1) مجلة لواء الإسلام: 24/ 5 لعام 1970.
তিনি স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং এমন উত্তাপের সাথে কথা বললেন যার আঁচ যেন আমাকে স্পর্শ করছিল:

- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আমি বললাম: আপনি কিসের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছেন?

তিনি বললেন: যদি আইয়ুব খানের কাছে কোনো মধ্যস্থতা করা হতো, তবে আমি সেই মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করতাম এবং কারাগার থেকে বের হতাম না। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর যে, আপনারা আমার ব্যাপারে সেই জালিমের সাথে কোনো কথা বলেননি।

আমি বললাম: কিন্তু উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব তো ভাই মুশিরের মধ্যস্থতা গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি বললেন: আমার মনে হয় আপনারা তাঁকে লজ্জায় ফেলেছিলেন, তাই তিনি এই সম্মানজনক মধ্যস্থতা গ্রহণ করেছিলেন। উস্তাদ সাইয়্যেদ ছিলেন একজন অত্যন্ত লাজুক মানুষ। কিন্তু আমি হলে, আপনারা আমাকে লজ্জায় ফেললেও আমি তা গ্রহণ করতাম না।

অতঃপর আমি ভাই আবদুস সালামের প্রতি তাঁর দোয়া ও অভিবাদন নিয়ে বিদায় নিলাম।

 

‌‌২ - আঞ্চলিক উপভাষার (আম্মিয়্যাহ) প্রতি তাঁর অবস্থান:

এর সারকথা হলো, এর প্রসারের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর প্রতি প্রতিটি আহ্বানই সন্দেহজনক। এর সকল আহ্বানকারীই সংশয়াচ্ছন্ন এবং তাদের অনেকেই ফ্রিম্যাসন, যারা একক আরব রাষ্ট্রকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে অথবা এমন এক রাষ্ট্রে বিভক্ত করতে চায় যেখানে ভাষার পরিবর্তে বিভিন্ন উপভাষা স্থান করে নেবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পবিত্র কুরআনকে অবোধ্য করে তোলা; যাতে কেউ এটি বুঝতে চাইলে হয় তাকে নিজের উপভাষায় অনুবাদ করতে হয় অথবা আরবি ভাষাকে একটি বিদেশি ভাষা হিসেবে শিখতে হয়, কারণ এই উপভাষাগুলো বিশুদ্ধ আরবি থেকে বহু দূরে। অথবা তারা অনূদিত কোনো ভাষার মাধ্যমে এটি বুঝবে (১)। তিনি এই উপভাষা ব্যবহার করা এবং এর দিকে আহ্বানকারী প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যঘেঁষাদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

 

‌‌৩ - মুক্তক ছন্দের কবিতার (শি'রুত তাফইলাহ) প্রতি তাঁর অবস্থান:

জেনারেল খাত্তাব আঞ্চলিক উপভাষা ব্যবহারের আহ্বানের সাথে এই আহ্বানকে যুক্ত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতু লিওয়াইল ইসলাম: ১৯৭০ সালের ২৪/৫ সংখ্যা।
(খণ্ড: ১) আল-লিওয়া আর-রুকন মাহমুদ শিত খাত্তাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
استخدام الشعر الحر، وقال:

" فالشعر الموزون المقفَّى هو من دعائم اللغة العربية، والدعوة إلى الشعر الحرّ أصلها صهيوني من إسرائيل " (1).

وعندما أطلعته على مقالي الذي نشرته في مجلة (الآداب) البيروتية عام 1969 م - العدد التاسع، وأثبتّ فيه أن الشاعر الإسلامي علي أحمد باكثير- رحمه الله هو أول من بدأ هذا النمط من الشعر، قبل السياب ونازك وغيرهما من الشعراء، قرأ المقال بإمعان، ثم قال:

" جهد غير مشكور .. ليتك لم تكتب هذا الكلام، وتتعب نفسك، وتبرئ ساحة أعداء العربية الذين يدعون إليه، وتلصق هذه التهمة بالشاعر والأديب الرائع باكثير الذي كتب صدفة أو قدراً مثل ذلك الكلام الذي هو ترجمة لباكثير، وكتبه تحدّياً، وليس ابتداعاً من عندياته ".

 

‌‌4 - موقفه من اللغة العربية:

هي أحسن لغة في العالم، كما أن عقيدتنا أحسن عقيدة (2).

وقد آلى على نفسه أن يكون الذائد عن حياض اللغة العربية ما عاش، ولهذا تراه في كل مناسبة يدعو إلى استخدامها، والتعمق فيها، ويندّد بأولئك الخونة الجهلة الذين يطلقون عليها أوصاف (لغة الكهوف - لغة أهل القبور - اللغة التي لا تستطيع أن تجهر بالعلم) ويجرون استفتاءات عما إذا كانت تستطيع النهوض بالعلوم الحديثة في القرن العشرين (3).

ويرى أنّ اللغة العربية عالمية، متغلغلة في العالم شرقاً وغرباً، وقد

--------------------------------------------

(1) مجلة لواء الإسلام: 24/ 5 لعام 1970.

(2) مجلة لواء الإسلام: 24/ 5 لعام 1970.

(3) المرجع السابق.
মুক্তছন্দের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন:

"ছন্দোবদ্ধ ও অন্ত্যমিলযুক্ত কাব্য হলো আরবি ভাষার অন্যতম ভিত্তি। মুক্তছন্দের প্রতি আহ্বানের মূল উৎস হলো ইসরায়েল থেকে আগত জায়নবাদী ষড়যন্ত্র।" (১)।

যখন আমি তাকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে বৈরুতের 'আল-আদাব' সাময়িকীর নবম সংখ্যায় প্রকাশিত আমার নিবন্ধটি দেখালাম, যাতে আমি প্রমাণ করেছিলাম যে ইসলামি কবি আলী আহমদ বাকাসীর—রাহিমাহুল্লাহ—হলেন এই ধারার কবিতার প্রথম প্রবর্তক, যা তিনি সাইয়্যাব, নাজিক ও অন্যান্য কবিদের আগেই শুরু করেছিলেন; তখন তিনি নিবন্ধটি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পাঠ করলেন এবং বললেন:

"এটি একটি অকৃতজ্ঞ শ্রম... আফসোস! তুমি যদি এই কথাগুলো না লিখতে, নিজেকে কষ্ট না দিতে এবং আরবি ভাষার সেই শত্রুদের দায়মুক্ত না করতে যারা এই ধারার আহ্বান জানায়! তুমি এই অপবাদটি চমৎকার কবি ও সাহিত্যিক বাকাসীর-এর ওপর লেপন করেছ, যিনি কেবল ঘটনাচক্রে বা তকদিরবশত এমন কিছু লিখেছিলেন যা ছিল তাঁর একটি অনুবাদকর্ম; তিনি তা লিখেছিলেন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে, নিজের পক্ষ থেকে কোনো নতুন উদ্ভাবন হিসেবে নয়।"

 

‌‌৪ - আরবি ভাষার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি:

এটি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষা, যেমন আমাদের আকীদাহ হলো শ্রেষ্ঠ আকীদাহ (২)।

তিনি আমৃত্যু আরবি ভাষার সীমানা রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার শপথ নিয়েছিলেন। এই কারণেই তাকে প্রতিটি সুযোগে এই ভাষা ব্যবহারের ও এতে গভীরতা অর্জনের আহ্বান জানাতে দেখা যায়। তিনি সেই সব অজ্ঞ ও বিশ্বাসঘাতকদের নিন্দা করতেন যারা এই ভাষাকে 'গুহাবাসীদের ভাষা', 'কবরবাসীদের ভাষা' বা 'বিজ্ঞানের কথা বলতে অক্ষম ভাষা' বলে অভিহিত করে এবং বিশ শতকের আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে এই ভাষা তাল মিলিয়ে চলতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমত যাচাইয়ের আয়োজন করে (৩)।

তিনি মনে করতেন যে আরবি ভাষা একটি আন্তর্জাতিক ভাষা, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত এবং এটি...

--------------------------------------------

(১) লিওয়াউল ইসলাম সাময়িকী: ২৪/ ৫, ১৯৭০ সাল।

(২) লিওয়াউল ইসলাম সাময়িকী: ২৪/ ৫, ১৯৭০ সাল।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র।