(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
المقدمات الأساسية في علوم القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المقدمات الأساسية في علوم القرآن
المؤلف: عبد الله بن يوسف بن عيسى بن يعقوب اليعقوب الجديع العنزي
الناشر: مركز البحوث الإسلامية ليدز - بريطانيا
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 591
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 محرم 1433
উলূমুল কুরআনের মৌলিক ভূমিকা বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর
বই: উলূমুল কুরআনের মৌলিক ভূমিকা
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন ঈসা বিন ইয়াকূব আল-ইয়াকূব আল-জুদি আল-আনাযী
প্রকাশক: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, লিডস - ব্রিটেন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ মুহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربّ العالمين، وأشهد أن لا إله إلّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمّدا عبده ورسوله، صلّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلّم تسليما كثيرا.
أمّا بعد ..
فإنّ أحسن الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمّد صلى الله عليه وسلم، وشرّ الأمور محدثاتها، وكلّ محدثة بدعة، وكلّ بدعة ضلالة، وكلّ ضلالة في النّار.
لقد كانت الرّغبة لديّ في تحرير مقدّمات مهمّة تتّصل بالكتاب العزيز قديمة، وذلك على سبيل المشاركة في تقريب العلوم الأساسيّة لفهم الكتاب والسّنّة، دون بخس لما سبق به أهل العلم في هذا الباب، ولكن بمنهج محرّر يجمع بين صحيح النّقل وصريح العقل دون تكلّف، مجانب الاستدلال بالضّعيف من الأخبار، غير جار على المعتاد من التّقليد لا في المضمون ولا في الأسلوب، إذ لو كنّا مجرّد نقلة لكان الإبقاء على مؤلّفات الأقدمين أولى من تكلّف التّصنيف.
وعلوم القرآن أولى وأوّل ما يشمّر له أصحاب الهمم العالية، إذ هي مفاتيح سائر علوم الإسلام، ولا يحسن بالطّالب أن يقدّم عليها سواها
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর অজস্র ধারায় রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর...
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
মহাগ্রন্থ কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রচনার আকাঙ্ক্ষা আমার দীর্ঘদিনের। এটি মূলত কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার জন্য মৌলিক জ্ঞানসমূহকে নিকটবর্তী করার ক্ষেত্রে একটি অংশীদারিত্বমূলক প্রচেষ্টা। এই ক্ষেত্রে আলেমগণ ইতিপূর্বে যা পেশ করেছেন তার গুরুত্ব বিন্দুমাত্র হ্রাস না করে, বরং এমন এক পরিমার্জিত পদ্ধতিতে এটি করা হয়েছে যা সঠিক বর্ণনা ও অকাট্য যুক্তির মধ্যে কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই সমন্বয় সাধন করে। এখানে দুর্বল বর্ণনার ভিত্তিতে দলিল প্রদান করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে এবং বিষয়বস্তু ও শৈলী কোনো ক্ষেত্রেই গতানুগতিক অন্ধ অনুকরণের পথ অনুসরণ করা হয়নি। কেননা আমরা যদি কেবল তথ্য স্থানান্তরকারীই হতাম, তবে নতুন করে গ্রন্থ রচনার কষ্টের চেয়ে পূর্বসূরিদের রচনাবলি অপরিবর্তিত রাখাই অধিক শ্রেয় হতো।
আর কুরআনের জ্ঞানসমূহ হচ্ছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের জন্য সেই প্রথম ও প্রধান বিষয় যার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা উচিত। কারণ এগুলো হলো ইসলামের অন্যান্য সমস্ত জ্ঞান অর্জনের চাবিকাঠি। কোনো শিক্ষার্থীর জন্য এগুলোর আগে অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
فيشتغل بحديث أو فقه أو غير ذلك، ولمّا يأخذ من علم القرآن قاعدته، وإنّي لأعجب من منتسب للعلم قد ذهب حظّه من علوم الكتاب، واقتصر سعيه على طرف من فتات المسائل، فاستبدل الّذي هو أدنى بالّذي هو خير، وأسوأ منه حالا من تدنّى تحصيله من ذلك إلى قدر لا يحسن معه تلاوة القرآن وهو يتصدّى لعظام الأمور!
وحيث لا يخفى أنّ علوم القرآن بمعناها العامّ لا حصر لها بأنواع معيّنة، فهو الكتاب الّذي قال الله تعالى فيه: وَنَزَّلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ تِبْياناً لِكُلِّ شَيْءٍ [النحل: 89]، فإنّ الكلام فيها إنّما هو من حيث النّظر إلى معرفة مقدّمات أساسيّة ينبغي الإلمام بها لكلّ راغب في دراسة هذا الكتاب العزيز، توضّح مزاياه، وتحقّق إسناده، وتهدي إلى معرفته وفهمه.
ومن خلال الدّراسة تحصّل لي أنّ البحث في ذلك يتناول معرفة المقدّمات السّتّ التّالية:
المقدّمة الأولى: نزول القرآن.
المقدّمة الثّانية: حفظ القرآن.
المقدّمة الثّالثة: نقل القرآن.
المقدّمة الرّابعة: النّسخ في القرآن.
المقدّمة الخامسة: تفسير القرآن.
المقدّمة السّادسة: أحكام قراءة القرآن.
ফলে সে হাদিস, ফিকহ বা অন্য কিছুতে মশগুল হয়, অথচ সে এখনও কুরআন বিজ্ঞানের মূল ভিত্তিই গ্রহণ করেনি। আমি ঐসব জ্ঞানান্বেষীদের ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করি যারা কিতাবের (কুরআনের) জ্ঞানসমূহ থেকে নিজেদের অংশ হারিয়ে ফেলেছে এবং তাদের প্রচেষ্টাকে নিছক কিছু গৌণ মাসআলার উচ্ছিষ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। ফলে তারা যা উত্তম তার বিনিময়ে তুচ্ছ বস্তুকে গ্রহণ করেছে। আর তাদের অবস্থা তো আরও শোচনীয়, যাদের অর্জিত জ্ঞান এমন পর্যায়ে নেমে গেছে যে তারা শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেও সক্ষম নয়, অথচ তারা বড় বড় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে!
যেহেতু এটি অস্পষ্ট নয় যে, কুরআনের জ্ঞানসমূহ এর ব্যাপক অর্থে নির্দিষ্ট কোনো প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সেই কিতাব যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আমি আপনার ওপর কিতাবটি অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি জিনিসের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা।" [আন-নাহল: ৮৯]। সুতরাং এর আলোচনা মূলত সেসব মৌলিক উপক্রমণিকা জানার প্রেক্ষিতে যা এই মহিমান্বিত কিতাবটি অধ্যয়নে আগ্রহী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জানা আবশ্যক; যা এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করে, এর সনদ বা বর্ণনা পরম্পরাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং এর জ্ঞান ও অনুধাবনের দিকে পথপ্রদর্শন করে।
আমার গবেষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বিষয়ের আলোচনা নিম্নোক্ত ছয়টি উপক্রমণিকা জানার ওপর আবর্তিত হয়:
প্রথম উপক্রমণিকা: কুরআন অবতরণ।
দ্বিতীয় উপক্রমণিকা: কুরআন সংরক্ষণ।
তৃতীয় উপক্রমণিকা: কুরআন বর্ণনা বা স্থানান্তর।
চতুর্থ উপক্রমণিকা: কুরআনে নাসখ বা রহিতকরণ।
পঞ্চম উপক্রমণিকা: কুরআনের তাফসির।
ষষ্ঠ উপক্রমণিকা: কুরআন তিলাওয়াতের বিধানসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وربّما أدرجت مباحث أخرى في جملة (علوم القرآن) كالكلام على خصائصه وأسلوبه اللّغويّ، وأسلوب القصّة فيه، وقوانين الجدل والمناظرة، وطريقة وأنواع الأحكام فيه، وشبه ذلك، ممّا ينقسم إجمالا إلى ثلاثة أقسام:
أوّلها: مباحث تتّصل بإبراز الإعجاز في القرآن، وهذا ليس علما تطبيقيّا من علوم القرآن، وقد قدّمت بالتّنبيه على أهمّه، والمقصود الاعتناء بالعلوم التأصيليّة العامّة الّتي سمّيتها ب (المقدّمات) لتكون قاعدة لغيرها، لا بالإنشائيّات الأدبيّة.
وثانيها: مباحث تندرج تحت علم التّفسير، والّذي يعنينا هنا هو ذكر مقدّمة تحتوي على أصول عامّة في هذا الفنّ العظيم، فالقصّة القرآنيّة والمثل في القرآن مثلا ممّا يعرف من تفاصيل ذلك الفنّ، ولا ينبغي إدراجه تحت المقدّمات في علوم القرآن.
وثالثها: ما يتّصل بمباحث الأحكام، فمحلّه تأصيلا علم (أصول الفقه)، وتفريعا (الفقه)، وأخذه من هناك أولى، خصوصا وأنّ السّنّة تشارك القرآن في ذلك من كلّ وجه، إذ طبيعة الأحكام فيهما واحدة.
واستثنيت من ذلك (موضوع النّسخ) فجعلته إحدى هذه (المقدّمات)، مع مشاركة السّنّة للقرآن فيه، وذلك لما له من الصّلة بسلامة القرآن.
كذلك، ليس من مباحث علوم القرآن المحضة: علم النّحو، وعلم
সম্ভবত আরও কিছু আলোচনাকে ‘উলুমে কুরআন’-এর (কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞান) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন এর বৈশিষ্ট্য ও ভাষাগত শৈলী, এতে গল্পের শৈলী, বিতর্ক ও যুক্তির নিয়মাবলী এবং এর বিধানসমূহের পদ্ধতি ও প্রকারভেদ এবং এর সদৃশ বিষয়াদি; যা মোটাদাগে তিনটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: কুরআনের অলৌকিকতা (ইজায) প্রকাশের সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনা। এটি উলুমে কুরআনের কোনো প্রায়োগিক বিদ্যা নয়। আমি এর গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করার মাধ্যমে একে অগ্রগণ্য করেছি। আর এর উদ্দেশ্য হলো সেই সাধারণ মৌলিক জ্ঞানসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়া যেগুলোকে আমি ‘ভূমিকা’ (আল-মুকাদ্দিমাত) হিসেবে অভিহিত করেছি, যাতে তা অন্য বিষয়ের ভিত্তি হতে পারে, সাহিত্যিক রচনা হিসেবে নয়।
দ্বিতীয়টি: সেই সব আলোচনা যা ইলমে তাফসীরের অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমাদের উদ্দেশ্য হলো এই মহান শিল্পের সাধারণ মূলনীতি সম্বলিত একটি ভূমিকা উল্লেখ করা। উদাহরণস্বরূপ, কুরআনের কাহিনী এবং কুরআনের উপমাসমূহ সেই শিল্পের বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে জানা যায়, তাই একে উলুমে কুরআনের ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন নয়।
তৃতীয়টি: যা বিধি-বিধান সংক্রান্ত আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। মৌলিকভাবে এর স্থান হলো ‘উসূলে ফিকহ’ এবং শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে ‘ফিকহ’। সেখান থেকেই তা গ্রহণ করা অধিকতর উত্তম, বিশেষ করে যেহেতু সুন্নাহ সব দিক থেকে কুরআনের সাথে এতে অংশীদার, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই বিধানের প্রকৃতি অভিন্ন।
আমি ‘নাসখ’ (রহিতকরণ) বিষয়টিকে এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছি এবং একে এই ‘ভূমিকা’ সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি, যদিও সুন্নাহ এতে কুরআনের সাথে অংশীদার। এর কারণ হলো কুরআনের বিশুদ্ধতার সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
অনুরূপভাবে, ইলমে নাহু (ব্যাকরণ) এবং... বিশুদ্ধভাবে উলুমে কুরআনের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الصّرف، وعلوم البلاغة، وإن اتّصلت به أو كان السّبب في وضعها وإنشائها؛ لأنّها صارت قوانين لعموم لغة العرب، واعتنى النّاس
بها على سبيل الاستقلال لهذه العلّة، فأغنت أبحاثها الخاصّة عن إقحامها في علوم القرآن المحضة.
فهذا الكتاب قد أتيت فيه على تحرير تلك المقدّمات، مع التّقديم بين يديها بتمهيد لبيان الاعتقاد في القرآن وأسمائه وتعريف السّورة والآية، ولبيان ما يعود إليه إعجازه.
والله تبارك وتعالى أسأل أن يتقبّل هذا الجهد منّي، وأن يرفعني به ووالديّ وأهل بيتي، ومن بذل جهدا في مراجعته، ومن كان سببا في نشره، إلى منازل أوليائه
المقرّبين، وأن ينفع به جميع من وقف عليه، هو وليّ ذلك والقادر عليه، ولا حول ولا قوّة إلّا بالله العليّ العظيم.
وكتب أبو محمّد عبد الله بن يوسف الجديع في محرّم الحرام 1422 هـ
***
সরফ ও বালাগাত শাস্ত্র, যদিও তা কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত অথবা তা সংকলন ও রচনার মূল কারণও ছিল কুরআন; তবুও তা যেহেতু সামগ্রিকভাবে আরবি ভাষার নিয়মে পরিণত হয়েছে এবং মানুষ
এই বিশেষ কারণেই স্বতন্ত্রভাবে এগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, তাই এগুলোর বিশেষ আলোচনাগুলো একে বিশুদ্ধ উলূমুল কুরআনের ভেতর জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দিয়েছে।
আমি এই কিতাবটিতে সেই প্রস্তাবনাগুলো পরিমার্জনার সাথে উপস্থাপন করেছি এবং কিতাবটির শুরুতে একটি উপক্রমণিকা যোগ করেছি যেখানে কুরআন সংক্রান্ত আকিদা (বিশ্বাস), এর নামসমূহ, সূরা ও আয়াতের সংজ্ঞা এবং এর অলৌকিকত্বের উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং এর অছিলায় আমাকে, আমার পিতামাতাকে, আমার পরিবারকে, যারা এটি পর্যালোচনায় শ্রম দিয়েছেন এবং যারা এটি প্রকাশের কারণ হয়েছেন, তাদের সকলকে তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত বন্ধুদের (আউলিয়া)
স্তরে উন্নীত করেন। আর যারা এটি পড়বেন, তিনি যেন তাদের সকলকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
লিখেছেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুদিয়্যি, মুহাররমুল হারাম ১৪২২ হিজরি
***
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيد
القرآن وإعجازه
تعريف القرآن:القرآن في لغة العرب: مصدر كالقراءة، ومعناه الجمع، وسمّي القرآن الّذي أنزل الله على محمّد صلى الله عليه وسلم قرآنا؛ لأنّه يجمع السّور ويضمّها (1).
وهو اسم للكتاب العربي المنزل على محمّد صلى الله عليه وسلم والمكتوب في المصاحف، المبتدأ بالبسملة فسورة الفاتحة، والمختتم بسورة النّاس.
وهو ذاته المكتوب في اللّوح المحفوظ، كما قال الله تعالى:
بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ 21 فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ 22 [البروج: 21 - 22]، وفي الكتاب المكنون، كما قال تعالى: إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ (77) فِي كِتابٍ مَكْنُونٍ
(78) لا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ 79 [الواقعة: 77 - 79]، وفي الصّحف المكرّمة، كما قال الله عز وجل: كَلَّا إِنَّها تَذْكِرَةٌ (11) فَمَنْ شاءَ ذَكَرَهُ (55) فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ (13) مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ (14) بِأَيْدِي سَفَرَةٍ (15) كِرامٍ بَرَرَةٍ 16 [عبس: 11 - 16].
وهو غير التّوراة الّتي أنزل الله على موسى، وغير الإنجيل الّذي أنزل على عيسى.
--------------------------------------------
ভূমিকাকুরআন এবং এর অলৌকিকত্বকুরআনের সংজ্ঞা:আরবি ভাষায় কুরআন: এটি ‘কিরাআত’ (পড়া)-এর ন্যায় একটি মাসদার বা মূল শব্দ, যার অর্থ হলো একত্রিত করা। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যা নাজিল করেছেন তাকে কুরআন বলা হয়; কারণ এটি সূরাসমূহকে একত্রিত ও সন্নিবেশিত করে (১)।
এটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ সেই আরবি কিতাবের নাম যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে, যা বিসমিল্লাহ ও সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং সূরা নাস দিয়ে শেষ হয়েছে।
এটি হুবহু সেই সত্তা যা লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) লিপিবদ্ধ আছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, ২১ যা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ” ২২ [বুরুজ: ২১-২২], এবং তা এক সুরক্ষিত কিতাবে রয়েছে, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন (৭৭) যা রয়েছে এক সুরক্ষিত কিতাবে
(৭৮) পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না ৭৯” [ওয়াকিয়াহ: ৭৭-৭৯], এবং তা সম্মানিত সহীফাসমূহে রয়েছে, যেমনটি পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: “কখনো নয়, নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ বাণী (১১) অতএব যে ইচ্ছা করে সে এটি স্মরণ রাখে (৫৫) এটি রয়েছে সম্মানিত সহীফাসমূহে (১৩) যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র (১৪) যা লেখকদের হাতে থাকে (১৫) যারা সম্মানিত ও পুণ্যবান ১৬” [আবাসা: ১১-১৬]।
এটি সেই তাওরাত নয় যা আল্লাহ মূসার ওপর নাজিল করেছেন এবং এটি সেই ইঞ্জিলও নয় যা ঈসার ওপর নাজিল করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهو جميعه بسوره وآياته وكلماته كلام الله تعالى، تكلّم به، أسمعه لرسوله جبريل عليه السلام، فنزل به جبريل مبلّغا إيّاه كما سمعه لرسول الله محمّد صلى الله عليه وسلم، كما قال الله عز وجل: قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ [النحل: 102]، وقال: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ 192 نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ 194 [الشّعراء: 192 - 194].
فبلّغه محمّد صلى الله عليه وسلم كما أنزل عليه ما كتم منه حرفا، وبلّغه أصحابه للأمّة من بعده ما كتموا منه حرفا، وهو بأيدي النّاس في المصاحف مسطور، وفي قلوب الحفّاظ محفوظ، تعهّد الله تعالى بحفظه فما يقدر على تبديل شيء منه أحد حتّى يرفع من الصّدور والسّطور بإذنه تعالى.
كما قال الله عز وجل: وَلَئِنْ شِئْنا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنا إِلَيْكَ ثُمَّ لا تَجِدُ لَكَ بِهِ عَلَيْنا وَكِيلًا (86) إِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ إِنَّ فَضْلَهُ كانَ عَلَيْكَ كَبِيراً [الإسراء: 86 - 87]، فدلّ على أنّ القرآن يمكن أن يرفعه الله بقدرته إن شاء.
وقد صحّ من حديثي حذيفة بن اليمان وأبي هريرة، رضي الله
عنهما، عن النّبيّ صلى الله عليه وسلم قال: «ليسرى على كتاب الله عز وجل في ليلة، فلا يبقى في الأرض منه آية» (1).
--------------------------------------------
আর এটি এর সমস্ত সূরা, আয়াত ও শব্দসহ মহান আল্লাহর বাণী। তিনি এটি বলেছেন, তাঁর রাসূল জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে এটি শুনিয়েছেন। অতঃপর জিবরাঈল এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন এবং যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তা পৌঁছে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "বলুন, একে আপনার রবের নিকট থেকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন" [আন-নাহল: ১০২]। তিনি আরও বলেছেন: "আর নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল)। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন" [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৪]।
অতঃপর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা প্রচার করেছেন যেভাবে তাঁর ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে, তিনি এর থেকে একটি অক্ষরও গোপন করেননি। আর তাঁর সাহাবীগণ তাঁর পরে উম্মতের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরাও এর থেকে একটি অক্ষরও গোপন করেননি। এটি মানুষের হাতে মুসহাফসমূহে লিখিত রয়েছে এবং হাফেজদের অন্তরে সংরক্ষিত আছে। মহান আল্লাহ এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, ফলে তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ এর কোনো কিছু পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে না, যতক্ষণ না তা তাঁর অনুমতিতে অন্তর ও লিপি থেকে তুলে নেওয়া হবে।
যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আমি ইচ্ছা করলে আপনার প্রতি যা ওহী করেছি তা অবশ্যই তুলে নিতাম, তখন আপনি এ বিষয়ে আমার বিপক্ষে কোনো কর্মবিধায়ক পেতেন না। তবে আপনার রবের রহমত স্বরূপ; নিশ্চয় আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ অত্যন্ত বড়" [আল-ইসরা: ৮৬-৮৭]। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ চাইলে তাঁর কুদরত দ্বারা কুরআন তুলে নিতে পারেন।
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: «এক রাতে মহান আল্লাহর কিতাবকে তুলে নেওয়া হবে, ফলে যমীনে এর একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
وهو مضاف إلى الله تعالى إضافة صفة لا إضافة خلق، هذا اعتقاد أهل السّنّة والجماعة، وهو الّذي دلّت عليه البراهين النّقليّة والعقليّة (1).
و (القرآن) اسم لجميع الكتاب المنزل.
--------------------------------------------
আর এটি আল্লাহ তাআলার সাথে গুণবাচক সম্বন্ধ হিসেবে সম্পর্কিত, সৃষ্টির সম্বন্ধ হিসেবে নয়। এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা এবং এর পক্ষেই বর্ণিত ও বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণসমূহ নির্দেশ করে (১)।
আর (কুরআন) হলো অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ কিতাবের নাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
كما أنّ الجزء منه كآية أو نحوها يسمّى (قرآنا) أيضا، كما قال تعالى: وَإِذا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ 204 [الأعراف: 204]، وهذا مراد به بعض القرآن.
أسماء القرآن:سمّى الله تعالى القرآن العظيم بأسماء، ونعته بنعوت، فمن أسمائه:
1 - الكتاب، كما قال تعالى ذلِكَ الْكِتابُ لا رَيْبَ فِيهِ [البقرة: 2].
2 - كلام الله، كما قال تعالى: وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ [التّوبة: 6].
3 - الفرقان، كما قال عز وجل: تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ [الفرقان: 1].
4 - الذّكر، كما قال تعالى: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ 9 [الحجر: 9].
5 - المصحف، وهي تسمية ظهرت بعد أن جمع القرآن في عهد الصّدّيق، كما سيأتي شرحه، ولم يثبت حديث مرفوع إلى النّبيّ صلى الله عليه وسلم من قوله في إطلاق هذه التّسمية على القرآن المجموع فيما بين الدّفّتين؛ لأنّه لم يكن في عهده بين دفّتين على هيئة المصحف.
যেমন এর অংশবিশেষকেও (যেমন একটি আয়াত বা অনুরূপ কিছু) ‘কুরআন’ বলা হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়’ [আল-আরাফ: ২০৪]। আর এখানে কুরআনের একাংশই উদ্দেশ্য।
কুরআনের নামসমূহ:মহান আল্লাহ সুমহান কুরআনকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন এবং এর বিভিন্ন গুণাবলি বর্ণনা করেছেন। তার মধ্য থেকে কিছু নাম হলো:
১ - আল-কিতাব, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই’ [আল-বাকারাহ: ২]।
২ - কালামুল্লাহ (আল্লাহর বাণী), যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘আর মুশরিকদের মধ্যে যদি কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়’ [আত-তাওবাহ: ৬]।
৩ - আল-ফুরকান, যেমন মহিয়ান ও গরিয়ান আল্লাহ বলেছেন: ‘পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব) অবতীর্ণ করেছেন’ [আল-ফুরকান: ১]।
৪ - আয-যিকর, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘নিশ্চয় আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী’ [আল-হিজর: ৯]।
৫ - আল-মুসহাফ, এটি এমন একটি নাম যা আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে কুরআন একত্রিত করার পর আত্মপ্রকাশ করেছে, যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে। দুই মলাটের মাঝে একত্রিত কুরআনের ওপর এই নাম ব্যবহারের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি কোনো মারফু হাদিস সাব্যস্ত হয়নি; কারণ তাঁর যুগে কুরআন মুসহাফের আকৃতিতে দুই মলাটের মাঝে ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وتسمية (المصحف) جاءت من الصّحف الّتي جمع بعضها إلى بعض فأصبحت على هيئة الكتاب.
وأمّا ما ذكر الله عز وجل من نعوت كلامه المنزل على محمّد صلى الله عليه وسلم فكثير، فهو: هدى، وشفاء، ورحمة، وموعظة، وذكرى، وبشرى، ونذير، وبيان، وروح، ونور، ومبين، ومفصّل، ومبارك، وبصائر، وكريم، وعليّ، وحكيم، وعزيز، ومجيد، وقيّم، وأحسن الحديث، وغير ذلك من الصّفات الدّالّة على عظمته ومنزلته ورفيع قدره ممّا اقترن بذكره أو عند الإشارة إليه في كتاب الله تعالى وسنّة نبيّه صلى الله عليه وسلم.
تعريف السورة والآية:السّورة، قيل في معناها أقوال أعدلها ما يأتي:
الأوّل: يقال (سورة) للمنزلة من البناء، فسمّيت (السّورة) من القرآن بذلك؛ لأنّها منزلة بعد منزلة، مقطوعة عن الأخرى، أو لأنّها درجة إلى غيرها.
والثّاني: الشّرف والمنزلة، ومنه قول النّابغة:
ألم تر أنّ الله أعطاك سورة
… ترى كلّ ملك دونها يتذبذب
فسمّيت (السّورة) من القرآن بذلك لشرفها ومنزلتها.
'মুসহাফ' নামকরণটি এসেছে সেই সকল সহীফা বা পত্র হতে যেগুলোকে একটির সাথে অন্যটি একত্রিত করা হয়েছে, ফলে তা একটি কিতাব বা গ্রন্থের রূপ ধারণ করেছে।
আর মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ তাঁর বাণীর যে সকল গুণের কথা উল্লেখ করেছেন তা অনেক; তা হলো: হিদায়াত, আরোগ্য, রহমত, উপদেশ, স্মারক, সুসংবাদ, সতর্ককারী, বর্ণনা, রূহ, নূর, সুস্পষ্ট, বিস্তারিত, বরকতময়, চাক্ষুষ প্রমাণ, সম্মানিত, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময়, পরাক্রমশালী, মহিমান্বিত, সুপ্রতিষ্ঠিত, সর্বোত্তম বাণী এবং আরও অন্যান্য গুণাবলি যা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে এর উল্লেখ বা এর প্রতি ইশারা করার সময় এর মাহাত্ম্য, মর্যাদা ও উচ্চ মাকামের পরিচয় দেয়।
সূরা ও আয়াতের সংজ্ঞা:সূরা; এর অর্থের ব্যাপারে বিভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো নিম্নোক্ত মতসমূহ:
প্রথমত: ইমারত বা ভবনের স্তর বা ধাপকে ‘সূরা’ বলা হয়। কুরআনের ‘সূরা’কে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি এক স্তরের পর অন্য স্তর, যা অন্যটি হতে বিচ্ছিন্ন, অথবা এই কারণে যে এটি অন্য স্তরে উন্নীত হওয়ার একটি সোপান।
দ্বিতীয়ত: সম্মান ও মর্যাদা। এর উদাহরণ হলো কবি নাবিগার উক্তি:
তুমি কি দেখনি যে আল্লাহ তোমাকে এমন এক উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন
… যার সামনে অন্য সকল রাজাকে তুমি বিচলিত হতে দেখবে।
সুতরাং কুরআনের ‘সূরা’কে এর সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার কারণে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والثّالث: أصلها (سؤرة) وهي بقيّة الشّيء، ترك الهمز فيها تسهيلا لكثرتها في الكلام والقرآن، وعليه تكون (السّورة) بمعنى القطعة من القرآن (1).
والآية: العلامة، وسمّيت (الآية) من القرآن بذلك- فيما قيل-
لأنّها علامة لانقطاع كلام من كلام، أو لأنّها بمنزلة أعلام الطّريق المنصوبة للاهتداء بها (2).
وكذلك (الآية) الجماعة في قول بعض أهل العربيّة، وعليه فسمّيت (الآية) من القرآن بذلك لأنّها جماعة حروف (3).
القرآن المعجزة الباقية:إعجاز القرآن: إثباته عجز البشر عن الإتيان بمثله أو بمثل بعضه، في ألفاظه ومعانيه.
وهذه الخصوصيّة جعلت القرآن أعظم الأدلّة على صدق النّبيّ صلى الله عليه وسلم في رسالته، والحجّة الباقية على النّاس إلى أن تقوم السّاعة.
--------------------------------------------
এবং তৃতীয়ত: এর মূল উৎস হলো (সু'রাহ - হামজা সহ), যার অর্থ কোনো কিছুর অবশিষ্টাংশ; কথাবার্তা এবং কুরআনে এর অধিক ব্যবহারের কারণে সহজীকরণের উদ্দেশ্যে এখানে হামজা বর্জন করা হয়েছে। সেই হিসেবে 'সূরা'র অর্থ হলো কুরআনের একটি অংশ (১)।
এবং আয়াত: নিদর্শন। কুরআনের 'আয়াত'কে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে - যেমনটি বলা হয়ে থাকে -
কারণ এটি এক কথা থেকে অন্য কথা পৃথক হওয়ার নিদর্শন, অথবা এটি পথনির্দেশনার জন্য স্থাপিত রাস্তার চিহ্নসমূহের সমতুল্য (২)।
একইভাবে কোনো কোনো ভাষাবিদের মতে 'আয়াত' অর্থ সমষ্টি; সেই অনুসারে কুরআনের 'আয়াত'কে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি একগুচ্ছ অক্ষরের সমষ্টি (৩)।
কুরআন চিরস্থায়ী মুজিজা:কুরআনের অলৌকিকত্ব (ই'জায): এর শব্দ ও অর্থের দিক থেকে এর মতো অথবা এর কোনো অংশের মতো কিছু নিয়ে আসতে মানুষের অক্ষমতা প্রমাণ করা।
আর এই বৈশিষ্ট্যই কুরআনকে তাঁর রিসালাতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত মানুষের জন্য চিরস্থায়ী দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الله عز وجل: وَقالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آياتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّما أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ (50) أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ يُتْلى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ 51 [العنكبوت: 50 - 51].
وعن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال: قال النّبيّ صلى الله عليه وسلم:
«ما من الأنبياء نبيّ إلّا أعطي ما مثله آمن عليه البشر، وإنّما كان الّذي أوتيت وحيا أوحاه الله إليّ، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة» (1).
وقد كان الله عز وجل يجري على أيدي رسله وأنبيائه ويسوق لهم
من البراهين ما يدلّ على صدقهم أنّهم مبعوثون من عند الله، ممّا لا يقع مثله في العادة لغيرهم من البشر، وهو معجزاتهم، كعصا موسى، وإحياء عيسى للموتى، والإسراء والمعراج لنبيّنا صلى الله عليه وسلم، لكنّ تلك المعجزات كانت أدلّة لمن شهدها، ونصيب من لم يشهدها إنّما هو الخبر الواجب التّصديق، بخلاف القرآن، فإنّه المعجزة الباقية، الّتي لم تزل حيّة بين النّاس، لم يتبدّل ولم يتغيّر، ولن يكون ذلك في يوم من الدّهر.
تحدّى الله عز وجل أرباب الفصاحة والبيان، بل جميع بني الإنسان، بل حتّى لو ظاهرهم عليه الجانّ، ولم يزل يتحدّى: أن يأتوا بمثل هذا القرآن،
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা বলে, 'তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার নিকট নিদর্শনসমূহ কেন নাযিল করা হলো না?' বলো, 'নিদর্শনসমূহ তো কেবল আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।' তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? নিশ্চয় এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে।" [আনকাবুত: ৫০-৫১]।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী গত হননি যাকে এমন কিছু (নিদর্শন) প্রদান করা হয়নি, যার সদৃশ দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন অনুসারীর সংখ্যায় আমি তাঁদের সকলের চেয়ে বেশি হব» (১)।
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল ও নবীদের হাতের মাধ্যমে এমন সব প্রমাণাদি পরিচালনা ও প্রকাশ করতেন যা তাঁদের সত্যতার ওপর প্রমাণ বহন করে যে, তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। এগুলো এমন বিষয় যা সাধারণত অন্য কোনো মানুষের দ্বারা সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়; আর তা-ই হলো তাঁদের মুজিজা। যেমন মুসার লাঠি, ঈসা কর্তৃক মৃতকে জীবিত করা এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইসরা ও মিরাজ। কিন্তু সেই মুজিজাগুলো ছিল কেবল তাদের জন্য দলিল যারা তা প্রত্যক্ষ করেছিল। আর যারা তা প্রত্যক্ষ করেনি তাদের প্রাপ্য কেবল সেই সংবাদটুকুই যা সত্য বলে বিশ্বাস করা আবশ্যক। কিন্তু কুরআনের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা এটি এক চিরস্থায়ী মুজিজা, যা মানুষের মাঝে সর্বদা জীবন্ত রয়েছে। এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন ঘটেনি এবং মহাকালের কোনো দিনেই তা ঘটবে না।
মহান আল্লাহ বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতদের চ্যালেঞ্জ করেছেন, বরং সমগ্র মানবজাতিকে, এমনকি যদি জিন জাতিও তাদের সাহায্য করে তবুও। তিনি চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রেখেছেন: যেন তারা এই কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أو بمثل بعضه، فما فعلوا، ولن يفعلوا.
كما قال جلّ وعلا: قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً 88 [الإسراء: 88]، وقال عز وجل: أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَياتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (13) فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّما أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ [هود: 13 - 14]، وقال سبحانه:
وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ [البقرة: 23 - 24].
تحدّاهم بأن يأتوا بأقصر سورة من مثله، على مثاله في النّظم والتّأليف والإحكام، وفي المعاني والدّلالات والأحكام، فعجزوا عن معارضته في كلّ ذلك، عن مماثلته بعباراتهم، أو مجاراته ببيانهم، أو مسابقته بقوانينهم وشرائعهم.
ذلك؛ لأنّه كلام ربّ العالمين تبارك وتعالى، وكلامه سبحانه من
صفاته، وهو الّذي لا مثل له في ذاته ولا في صفاته، كما قال: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ [الشّورى: 11]، فكما لا مثل له في سمعه، ولا مثل له في بصره، ولا مثل له في سائر صفاته، فكذلك لا مثل له في كلامه.
অথবা এর অংশবিশেষের মতো কিছু আনার জন্য, কিন্তু তারা তা করতে পারেনি এবং কখনও পারবেও না।
যেমন মহান ও উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহ বলেছেন: বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। [আল-ইসরা: ৮৮], এবং মহা প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন: নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে রচনা করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর অনুরূপ দশটি সূরা বানিয়ে নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। এরপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই অবতীর্ণ করা হয়েছে। [হুদ: ১৩ - ১৪], এবং পবিত্র আল্লাহ বলেছেন:
আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তোমরা তা করতে না পারো—এবং তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। [আল-বাকারাহ: ২৩ - ২৪]।
তিনি তাদের এর মতো ক্ষুদ্রতম একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, যা শব্দবিন্যাস, রচনাশৈলী ও সুসংবদ্ধতায় এবং অর্থ, ইঙ্গিত ও বিধিবিধানের দিক থেকে এর অনুরূপ হবে। ফলে তারা এই সবকিছুর মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছে; তারা তাদের ভাষা দিয়ে এর সমকক্ষ হতে, তাদের বর্ণনা দিয়ে এর সাথে পাল্লা দিতে অথবা তাদের আইন ও শরয়ি বিধান দিয়ে এর থেকে এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে।
এটি এ কারণে যে, তা বিশ্বজগতের প্রতিপালক বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর বাণী। আর মহান আল্লাহর বাণী তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। তিনি এমন সত্তা যাঁর সত্তায় এবং গুণাবলিতে কোনো সমকক্ষ নেই, যেমন তিনি বলেছেন: কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। [আশ-শুরা: ১১]। সুতরাং যেমনিভাবে তাঁর শ্রবণে কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর দর্শনে কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর অন্য সকল গুণাবলিতে কোনো সমকক্ষ নেই, তেমনিভাবে তাঁর বাণীতেও কোনো সমকক্ষ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فهذه- والله- هي العلّة الّتي فارق بها كلامه سائر الكلام، وعجز لأجله الخلق عن معارضته، فليس كشعرهم ولا كنثرهم، ولا كقوانينهم وشرائعهم، مع أن حروفه من حروف كلامهم، ومفرداته من مفردات قاموسهم، فلم يجدوا له في ألسنتهم مع الفصاحة، ولا في عقولهم مع الرّجاحة، ما يمكنهم به أن يأتوا بمثل أقصر سورة منه، فقد أبت قوانين الشّعر وأساليب النّثر ولوائح الأنظمة أن يقايس بها ويجري عليها.
وَما كانَ هذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعالَمِينَ (37) أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (38) بَلْ كَذَّبُوا بِما لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ
… [يونس: 37 - 39].
وعن أبي ذرّ الغفاريّ، رضي الله عنه، قال:
خرجنا من قومنا غفار، وكانوا يحلّون الشّهر الحرام، فخرجت أنا وأخي أنيس وأمّنا، (فذكر قصّة إسلامه)، وفيها قال أبو ذرّ:
فقال أنيس: إنّ لي حاجة بمكّة فاكفني، فانطلق أنيس حتّى أتى مكّة، فراث (1) عليّ ثمّ جاء، فقلت: ما صنعت؟ قال: لقيت رجلا بمكّة على دينك، يزعم أنّ الله أرسله، قلت: فما يقول النّاس؟ قال:
يقولون: شاعر، كاهن، ساحر، وكان أنيس أحد الشّعراء، قال أنيس:
لقد سمعت قول
--------------------------------------------
আর আল্লাহর শপথ—এটাই সেই নিগূঢ় কারণ যার ফলে তাঁর কালাম (বাণী) অন্য সকল কথা থেকে পৃথক হয়েছে এবং যার কারণে সৃষ্টিজগত এর মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছে। কাজেই তা তাদের কবিতার মতো নয়, তাদের গদ্যের মতোও নয় এবং তাদের নিয়ম-কানুন ও শরীয়তের মতোও নয়; যদিও এর প্রতিটি বর্ণ তাদেরই কথার বর্ণ এবং এর শব্দসমূহ তাদেরই অভিধানের শব্দ। সুতরাং বাগ্মিতা থাকা সত্ত্বেও তাদের জিহ্বায় এবং বিচক্ষণতা থাকা সত্ত্বেও তাদের বুদ্ধিতে এমন কিছু তারা পায়নি যা দিয়ে তারা এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরার সমকক্ষ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। কেননা কবিতার নিয়মাবলী, গদ্যের শৈলী এবং রীতিনীতির রূপরেখা এর সাথে তুলনা হতে বা এর ওপর প্রয়োগ হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আর এই কুরআন এমন নয় যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে তা রচিত হতে পারে; বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিশদ ব্যাখ্যা, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যা জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে। (৩৭) তবে কি তারা বলে যে, তিনি এটি নিজে রচনা করেছেন? বলুন: তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (সাহায্যের জন্য) ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (৩৮) বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা বলেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা এখনও তাদের কাছে আসেনি... [ইউনুস: ৩৭-৩৯]।
আবু যর আল-গিফারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমরা আমাদের গিফার গোত্র থেকে বের হলাম, তারা নিষিদ্ধ মাসকে হালাল মনে করত। আমি, আমার ভাই উনাইস এবং আমাদের মা বের হলাম, (অতঃপর তিনি তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করেন), তাতে আবু যর বলেন:
উনাইস বলল: মক্কায় আমার একটি বিশেষ কাজ আছে, তুমি আমার দায়িত্বটুকু পালন করো। উনাইস চলে গেল এবং মক্কায় পৌঁছাল। সে আমার কাছে আসতে বিলম্ব করল, তারপর ফিরে এল। আমি বললাম: তুমি কী করলে? সে বলল: মক্কায় আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি যিনি তোমার দ্বীনের ওপর আছেন, তিনি দাবি করেন যে আল্লাহ তাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম: মানুষ কী বলে? সে বলল:
তারা বলে: তিনি একজন কবি, গণক, জাদুকর। আর উনাইস ছিল কবিদের অন্যতম একজন। উনাইস বলল:
আমি তাঁর কথা শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الكهنة، فما هو بقولهم، ولقد وضعت قوله على أقراء (1) الشّعر، فما يلتئم على لسان أحد بعدي أنّه شعر، والله إنّه لصادق، وإنّهم لكاذبون (2).
أنواع الإعجاز في القرآن:يعسر أن تحدّ وجوه الإعجاز في القرآن العظيم، فكلّ شيء منه لا نظير له، فهو باهر في ألفاظه وأسلوبه، في تأليفه ونظمه، في بيانه وبلاغته، في تشريعه وحكمه الّتي
حيّرت الألباب، في أنبائه وأخباره، في تاريخه وحفظه، في علومه الّتي لا تنقطع ولا تقف عند غاية.
وقد أجمل وصفه وأحسنه من قال:
«فيه نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبّار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضلّه الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذّكر الحكيم، وهو الصّراط المستقيم، هو الّذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة (3)، ولا يشبع منه العلماء،
--------------------------------------------
গণকগণ; এটি তাদের কথা নয়। আমি তার কথাকে কবিতার ছন্দসমূহের (১) সাথে মিলিয়ে দেখেছি, কিন্তু আমার পরে আর কারো পক্ষে এটি কবিতা বলা সম্ভব নয়। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (২)।
কুরআনের আলৌকিকত্বের প্রকারভেদ:মহান কুরআনের আলৌকিকত্বের দিকগুলো সীমাবদ্ধ করা দুঃসাধ্য। এর প্রতিটি বিষয়ই অতুলনীয়। এটি তার শব্দচয়ন ও শৈলীতে, এর বিন্যাস ও সংহতিতে, এর বর্ণনাভঙ্গি ও অলঙ্কারশাস্ত্রে, এর বিধান ও হিকমতে—যা জ্ঞানীদের বুদ্ধিকেও দিশেহারা করে দেয়—এর ভবিষ্যদ্বাণী ও সংবাদে, এর ইতিহাস ও সংরক্ষণে এবং এর সেই জ্ঞানভাণ্ডারে যা কখনো শেষ হয় না এবং কোনো সীমায় গিয়ে থেমে যায় না, সব দিক দিয়েই বিস্ময়কর।
এর বর্ণনায় সবচেয়ে সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত কথা তিনি বলেছেন যিনি বলেছেন:
«এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়াবলির ফয়সালা। এটি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কোনো কৌতুক নয়। কোনো অহংকারী ব্যক্তি একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন। আর যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি হিকমতপূর্ণ যিকর এবং এটিই সরল পথ। এটি এমন কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তিগুলো বিপথগামী হয় না, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষা বিভ্রান্তিতে পড়ে না (৩) এবং আলিমগণ এটি থেকে কখনো তৃপ্ত হন না,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا يخلق على كثرة الرّدّ (1)، ولا
تنقضي عجائبه، هو الّذي لم تنته الجنّ إذ سمعته حتّى قالوا: إِنَّا سَمِعْنا قُرْآناً عَجَباً يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ [الجنّ: 1 - 2]، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم» (2).
والتّنبيه هاهنا على أربعة أنواع للإعجاز القرآني:
النّوع الأوّل: الإعجاز اللّغويّ:هذا النّوع هو أبرز ما تحدّى به القرآن العرب في حياة النّبيّ صلى الله عليه وسلم، وهو التّحدّي في أبرز خصائصهم، فمع أنّه بلسانهم، وأتى بما لا يخرج عن وجوه فصاحتهم وأساليب بيانهم، وهم يومئذ في الذّروة في ذلك نثرا ونظما،
--------------------------------------------
বারংবার পাঠেও এটি পুরনো হয় না (১), এবং
এর বিস্ময়কর বিষয়সমূহ শেষ হয় না; এটি সেই কালাম যা শোনার পর জিনেরা বিরত হতে পারেনি যতক্ষণ না তারা বলেছিল: 'নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে' [আল-জিন: ১-২]। যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে পুরস্কৃত হয়, যে এর দ্বারা ফয়সালা করে সে ন্যায়বিচার করে এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল সঠিক পথের দিশা পায় (২)।
এখানে কুরআনের মুজিযার (অলৌকিকত্বের) চারটি প্রকারের দিকে আলোকপাত করা হয়েছে:
প্রথম প্রকার: ভাষাগত অলৌকিকত্ব:এটি সেই প্রকার যার মাধ্যমে কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছিল, এবং এটি ছিল তাদের সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। কারণ এটি তাদের ভাষাতেই নাযিল হয়েছিল এবং এটি তাদের বাগ্মিতা ও বর্ণনাশৈলীর পদ্ধতির বাইরে কিছু ছিল না, অথচ তারা সে সময় গদ্য ও পদ্যের ক্ষেত্রে চরম শিখরে অবস্থান করছিল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
لكنّهم عجزوا عن معارضته ولو بسورة من مثله، فصاروا يتخبّطون، فتارة يقولون: (هو شعر)، وتارة: (قول كاهن)، وتارة: (أساطير الأوّلين)، لا يثبتون على شيء؛ لأنّهم يعلمون أنّه ليس كما يقولون، وما كان لهم ليغفلوا عن صفة الشّعر ولا صيغة النّثر، وهم أهل ذلك وعباقرته، وإنّما شأنهم شأن من قال الله فيهم:
فَلَمَّا جاءَتْهُمْ آياتُنا مُبْصِرَةً قالُوا هذا سِحْرٌ مُبِينٌ (13) وَجَحَدُوا بِها وَاسْتَيْقَنَتْها أَنْفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوًّا [النّمل: 13 - 14].
وهكذا قال أولئك المشركون عن القرآن: هذا سِحْرٌ مُبِينٌ [الأحقاف: 7]، وقالوا: إِنْ هَذا إِلَّا إِفْكٌ افْتَراهُ وَأَعانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جاؤُ ظُلْماً وَزُوراً (4) وَقالُوا أَساطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَها فَهِيَ تُمْلى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا (5) [الفرقان: 4 - 5]، وقالوا: أَضْغاثُ أَحْلامٍ بَلِ افْتَراهُ بَلْ هُوَ شاعِرٌ [الأنبياء: 5].
فهو سبيل من سبق، وحجّة من لا برهان له، كَذلِكَ ما أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قالُوا ساحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ 52 [الذّاريات: 52]، إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جاءَهُمْ وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (41) لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42) ما يُقالُ لَكَ إِلَّا ما قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِنْ قَبْلِكَ [فصّلت: 41 - 43].
أعيتهم الحيل، وضاقت بهم السّبل، فلجئوا إلى وصف القرآن بما لا يشكّون لو أنصفوا أنّهم فيه مبطلون، لكن أعمتهم الأهواء فأنّى يبصرون.
কিন্তু তারা এর মোকাবিলা করতে অক্ষম হলো, এমনকি এর মতো একটি সূরার মাধ্যমেও নয়। ফলে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল। তারা কখনো বলে: (এটি কবিতা), কখনো বলে: (গণকের কথা), আবার কখনো বলে: (পূর্ববর্তীদের উপকথা)। তারা কোনো একটি বিষয়ে স্থির হতে পারছিল না; কারণ তারা জানত যে এটি তাদের দাবি অনুযায়ী কোনো কিছু নয়। কবিতার বৈশিষ্ট্য কিংবা গদ্যের রীতি সম্পর্কে তারা মোটেও অনবহিত ছিল না, অথচ তারা ছিল এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিভাধর। তাদের অবস্থা তো ঠিক তাদের মতোই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন:
“অতঃপর যখন তাদের কাছে আমাদের চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ এল, তখন তারা বলল, ‘এটি তো স্পষ্ট জাদু’ (১৩) এবং তারা অন্যায় ও অহংকারবশত তা প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর তা ধ্রুব সত্য বলে দৃঢ় বিশ্বাস করেছিল।” [আন-নামল: ১৩-১৪]।
আর এভাবেই সেই মুশরিকরা কুরআন সম্পর্কে বলেছিল: “এটি স্পষ্ট জাদু” [আল-আহক্বাফ: ৭]। তারা আরও বলেছিল: “এটি এক মিথ্যা বৈ কিছু নয়, যা সে নিজে উদ্ভাবন করেছে এবং অন্য এক সম্প্রদায় তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে।” বস্তুত তারা বড় জুলুম ও চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে (৪)। তারা আরও বলেছিল: “এগুলো তো পূর্ববর্তীদের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে পাঠ করা হয়” (৫) [আল-ফুরক্বান: ৪-৫]। তারা আরও বলেছিল: “বরং এগুলো এলোমেলো স্বপ্নের সংকলন; না, সে তা নিজে উদ্ভাবন করেছে; বরং সে একজন কবি” [আল-আম্বিয়া: ৫]।
এটি তো পূর্ববর্তীদেরই পথ এবং প্রমাণহীনদেরই অজুহাত। “এভাবেই, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসূল এসেছেন, তারা কেবল বলেছে, ‘জাদুকর অথবা উন্মাদ’” [আয-যারিয়াত: ৫২]। “নিশ্চয়ই যারা উপদেশ (কুরআন) আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে (তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে)। আর এটি অবশ্যই এক মহিমান্বিত কিতাব (৪১)। এতে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না এর সম্মুখ থেকেও নয় এবং এর পেছন থেকেও নয়। এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪২)। আপনাকে তাই বলা হচ্ছে যা আপনার পূর্ববর্তী রাসূলগণকেও বলা হয়েছিল” [ফুসসিলাত: ৪১-৪৩]।
তাদের সকল ফন্দি-ফিকির ব্যর্থ হলো এবং সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। ফলে তারা কুরআনকে এমন সব বিশেষণে বিশেষিত করার আশ্রয় নিল যে বিষয়ে তারা নিজেরাও নিশ্চিত ছিল যে—যদি তারা ন্যায়বিচার করত—তবে তারা জানত যে তারা মিথ্যাচার করছে। কিন্তু কুপ্রবৃত্তি তাদের অন্ধ করে দিয়েছিল, তাই তারা সত্য দেখবে কীভাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
فَذَكِّرْ فَما أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِكاهِنٍ وَلا مَجْنُونٍ (29) أَمْ يَقُولُونَ شاعِرٌ نَتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ (30) قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُتَرَبِّصِينَ (31) أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلامُهُمْ بِهذا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طاغُونَ (32) أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَلْ لا يُؤْمِنُونَ (33) فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كانُوا صادِقِينَ 34 [الطّور: 29 - 34].
ويبقى القرآن يتحدّى ولا يرجع الكفّار جوابا، فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّما أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ 14 [هود: 14]، وأنّى لهم الجواب، والله يقول وهو أعلم بهم: وَلَنْ تَفْعَلُوا [البقرة: 24].
قال الأديب الرّافعيّ: «فقطع أنّهم لن يفعلوا، وهي كلمة يستحيل أن تكون إلّا من الله، ولا يقولها عربيّ في العرب أبدا، وقد سمعوها واستقرّت فيهم ودارت على الألسنة، وعرفوا أنّها تنفي عنهم الدّهر نفيا، وتعجزهم آخر الأبد، فما فعلوا ولا طمعوا أن يفعلوا، وطارت الآية بعجزهم وأسجلته عليهم ووسمتهم على ألسنتهم، فلمّا رأوا هممهم لا
تسمو إلى ذلك، ولا تقارب المطمعة فيه، وقد انقطعت بهم كلّ سبيل إلى المعارضة، بذلوا له السّيف، وانصرفوا عن توهّن حجّته إلى تهوينها على أنفسهم بكلام من الكلام، فقالوا: ساحر، وشاعر، ومجنون، ورجل يكتتب أساطير الأوّلين، وإنّما يعلّمه بشر، وأمثال ذلك، ممّا أخذت به الحجّة عليهم، وكان إقرارا منهم بالعجز، إذ جنحوا فيه إلى سياسة الطّباع والعادات» (1).
--------------------------------------------
অতএব আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি গণক নন এবং উন্মাদও নন। (২৯) তারা কি বলে যে, সে একজন কবি, আমরা তার জন্য সময়ের পরিবর্তনের প্রতীক্ষা করছি? (৩০) বলুন, তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (৩১) তাদের বুদ্ধি কি তাদের এ নির্দেশ দেয়? নাকি তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি? (৩২) তারা কি বলে যে, সে এটি নিজে বানিয়ে বলেছে? বরং তারা ঈমান আনবে না। (৩৩) অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক। ৩৪ [আত্ব-তূর: ২৯ - ৩৪]।
কুরআন এভাবেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে থাকে এবং কাফেররা কোনো উত্তর দেয় না, 'অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রেখো যে, এটি আল্লাহর ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমেই নাযিল করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হবে?' ১৪ [হূদ: ১৪]। আর তারা উত্তর দেবেই বা কীভাবে, অথচ আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে বলছেন: 'আর তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না' [আল-বাকারা: ২৪]।
সাহিত্যিক রাফি’য়ী বলেছেন: «তিনি চূড়ান্তভাবে বলে দিয়েছেন যে তারা কখনোই তা করতে পারবে না। আর এটি এমন এক কথা যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষ থেকে হওয়া অসম্ভব। কোনো আরব ব্যক্তি আরবদের সম্পর্কে কখনোই এমন কথা বলবে না। তারা এটি শুনেছে, এটি তাদের হৃদয়ে গেঁথে গেছে এবং তাদের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে এটি চিরকালের জন্য তাদের থেকে সক্ষমতাকে নাকচ করে দিয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের অপদস্থ ও অক্ষম করে দিয়েছে। ফলে তারা তা করতে পারেনি এবং করার আশাও করেনি। এই আয়াত তাদের অক্ষমতাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর তা লিপিবদ্ধ করেছে এবং তাদের জিহ্বার ওপর তা অঙ্কিত করে দিয়েছে। যখন তারা দেখল যে তাদের মনোবল সে পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না এবং এর ধারেকাছে যাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই, আর বিরোধিতার সমস্ত পথ তাদের জন্য রুদ্ধ হয়ে গেছে, তখন তারা তরবারি হাতে নিল। তারা কুরআনের দলিলের অসারতা প্রমাণের পরিবর্তে নিজেদের কাছে একে তুচ্ছ করার জন্য আজেবাজে কথায় লিপ্ত হলো। তারা বলল: সে একজন জাদুকর, কবি, উন্মাদ এবং এমন একজন ব্যক্তি যে পূর্ববর্তীদের রূপকথা লিখে নেয় এবং তাকে কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়—এই জাতীয় কথা। এসবের মাধ্যমেই তাদের বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটিই ছিল তাদের অক্ষমতার স্বীকৃতি, কারণ তারা এর মাধ্যমে স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও অভ্যাসের রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وإنّما حالهم كما قال الله عز وجل: انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثالَ فَضَلُّوا فَلا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا [الفرقان: 9].
ثمّ إنّ هذا القرآن قد اشتمل من القاموس العربيّ على أحسن الكلمات وأفصحها، اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ [الزّمر: 23]، أمّا في تركيب جمله، وتناسق عباراته، ومقاطع آياته، فهو الفرد الّذي لا نظير له.
كِتابٌ فُصِّلَتْ آياتُهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ 3 [فصّلت: 3]، وَلَقَدْ ضَرَبْنا لِلنَّاسِ فِي هذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ 27 قُرْآناً عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ 28 [الزّمر: 28].
فكم ترى يكون في الكلام من المعاني أو البيان أو البديع، فإنّ
القرآن في ذروة ذلك، بل به عرف كلّ ذلك، فما وضعت علوم البلاغة إلّا بسببه، طريقا إلى فهمه، وإبرازا لعظيم قدره، وتأصيلا ليبنى سائر الكلام على قاعدته ونهجه.
وأهل التّفسير في القديم والحديث يراعون هذه الخصوصيّة للقرآن، فلم يتكلّم أحد في تفسير هذا الكتاب وبيان دلائله ومعانيه من لدن أصحاب النّبيّ صلى الله عليه وسلم وإلى اليوم إلّا وهو يراعي الجوانب البلاغيّة فيه، وأسرار ذلك لا تنتهي، ولن تنتهي.
وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً [النّساء: 82].
তাদের অবস্থা ঠিক তেমন যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "দেখুন তারা আপনার জন্য কেমন সব উপমা পেশ করছে, ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না" [আল-ফুরকান: ৯]।
অতঃপর নিশ্চয়ই এই কুরআন আরবি অভিধানের শ্রেষ্ঠ ও প্রাঞ্জলতম শব্দসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, "আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন" [আয-যুমার: ২৩]। আর এর বাক্য বিন্যাস, শব্দমালার সামঞ্জস্য এবং আয়াতের যতিচিহ্নসমূহের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য কিতাব যার কোনো সমকক্ষ নেই।
"এটি একটি কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, এমন এক আরবি কুরআন সেই কওমের জন্য যারা জানে" [ফুসসিলাত: ৩], "এবং নিশ্চয়ই আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরণের উপমা পেশ করেছি যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে। বক্রতাহীন এক আরবি কুরআন, যেন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে" [আয-যুমার: ২৭-২৮]।
আপনি কথায় যত প্রকার অর্থগত গাম্ভীর্য, বর্ণনাভঙ্গি কিংবা অলঙ্কারই দেখেন না কেন, কুরআন তার শিখরে অবস্থান করছে; বরং এসব তো এর মাধ্যমেই পরিচিত হয়েছে। বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্র কেবল এই কুরআনের কারণেই উদ্ভাবিত হয়েছে—একে অনুধাবনের পথ হিসেবে, এর সুমহান মর্যাদা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এবং একটি ভিত্তি হিসেবে যেন অন্যান্য সকল কথা এর মূলনীতি ও পদ্ধতির ওপর গড়ে তোলা যায়।
প্রাচীন ও আধুনিক যুগের তাফসীরবিদগণ কুরআনের এই বিশেষত্ব রক্ষা করে চলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই কিতাবের তাফসীর এবং এর দলিল ও অর্থ বর্ণনায় এমন কেউ কথা বলেননি যিনি এর অলঙ্কারিক দিকসমূহ বিবেচনা করেননি। এর রহস্যসমূহ শেষ হওয়ার নয় এবং কখনো শেষ হবেও না।
"যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরিত্য খুঁজে পেত" [আন-নিসা: ৮২]।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
النّوع الثّاني: الإعجاز الإخباريّ:وهذا هو الإعجاز فيما تضمّنه القرآن من الأنباء، وهو أربعة أشياء:
أوّلها: الإخبار عن الغيب المطلق، كالخبر عن الله عز وجل وأسمائه وصفاته، والملائكة، وصفة الجنّة وصفة النّار.
وقد أتى القرآن في هذا الأمر بما لا يدركه بشر من تلقاء نفسه، إذ طريقه لا يكون من جهة العقول، إنّما طريقه السّمع الّذي لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ [فصّلت: 42].
وثانيها: الإخبار عن الأمور السّابقة، كالخبر عن بدء الخلق، وعن الأمم السّالفة.
وقد قصّ علينا القرآن من ذلك عجبا، وأتى من الأنباء بما لم يملك المنصفون من أهل الكتاب والعلم إلّا تصديقه، كما قال الله عز وجل: وَالَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ [الأنعام: 114]، وقال تعالى:
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كانَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَكَفَرْتُمْ بِهِ وَشَهِدَ شاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائِيلَ عَلى مِثْلِهِ فَآمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ [الأحقاف: 10]، وقال سبحانه: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195) وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ (196) أَوَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ آيَةً أَنْ يَعْلَمَهُ عُلَماءُ بَنِي إِسْرائِيلَ 197 [الشّعراء: 192 - 197].
فجاء ما آتاه الله من ذلك تصديقا لما بين يديه، وما تعلّم من أحد من
দ্বিতীয় প্রকার: সংবাদ সংক্রান্ত অলৌকিকত্ব:আর এটি হলো কুরআনে বিদ্যমান সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে অলৌকিকত্ব, যা চারটি বিষয় নিয়ে গঠিত:
প্রথমটি: নিরঙ্কুশ অদৃশ্যের সংবাদ দান, যেমন আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহান এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি, ফেরেশতাকুল এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ সংক্রান্ত সংবাদ।
আর কুরআন এই বিষয়ে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা কোনো মানুষ নিজ থেকে অনুধাবন করতে সক্ষম নয়, কারণ এর পথ কেবল যুক্তি-বুদ্ধি নয়, বরং এর একমাত্র পথ হলো শ্রবণ (অহি); যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না, এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ [ফুসসিলাত: ৪২]।
দ্বিতীয়টি: পূর্ববর্তী বিষয়াবলি সম্পর্কে সংবাদ দান, যেমন সৃষ্টির সূচনা এবং অতীত জাতিসমূহের সংবাদ।
কুরআন আমাদের নিকট এ বিষয়ে বিস্ময়কর কাহিনী বর্ণনা করেছে এবং এমন সংবাদ নিয়ে এসেছে যা আহলে কিতাব ও জ্ঞানীদের মধ্য হতে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা সত্য বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। যেমন আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহান বলেছেন: "আর যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা জানে যে এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে" [আল-আন'আম: ১১৪]। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:
"বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তোমরা তাতে অবিশ্বাস করো, অথচ বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিয়েছে এবং সে ঈমান এনেছে আর তোমরা অহংকার করেছ" [আল-আহকাফ: ১০]। সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আরও বলেন: "নিশ্চয় এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল)। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়। আর নিশ্চয় এটি পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে রয়েছে। তাদের জন্য কি এটি নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাঈলের আলেমগণ তা জানেন?" [আশ-শু'আরা: ১৯২ - ১৯৭]।
অতএব, আল্লাহ যা নিয়ে এসেছেন তা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী হিসেবে এসেছে, আর তিনি (রাসূল) এটি কারো কাছ থেকে শেখেননি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إنس ولا جنّ، وَما كُنْتَ تَتْلُوا مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتابٍ وَلا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذاً لَارْتابَ الْمُبْطِلُونَ [العنكبوت: 48].
وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنا ما كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتابُ وَلَا الْإِيمانُ [الشّورى: 52].
إِنَّا أَنْزَلْناهُ قُرْآناً عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (2) نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِما أَوْحَيْنا إِلَيْكَ هذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغافِلِينَ [يوسف: 2 - 3].
فقصّ الله سبحانه قصّة نوح، ثمّ قال لنبيّه صلى الله عليه وسلم: تِلْكَ مِنْ أَنْباءِ الْغَيْبِ نُوحِيها إِلَيْكَ ما كُنْتَ تَعْلَمُها أَنْتَ وَلا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هذا [هود: 49].
وفصّل قصّة يوسف، ثمّ قال: ذلِكَ مِنْ أَنْباءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ أَجْمَعُوا أَمْرَهُمْ وَهُمْ يَمْكُرُونَ [يوسف: 102].
وقصّ طرفا من نبأ موسى، ثمّ قال: وَما كُنْتَ بِجانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنا إِلى مُوسَى الْأَمْرَ وَما كُنْتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ (44) وَلكِنَّا أَنْشَأْنا قُرُوناً فَتَطاوَلَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ وَما كُنْتَ ثاوِياً فِي أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِنا
وَلكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ (45) وَما كُنْتَ بِجانِبِ الطُّورِ إِذْ نادَيْنا وَلكِنْ رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ [القصص: 44 - 46].
وقال بعد ذكر قصّة مريم: ذلِكَ مِنْ أَنْباءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ
মানুষ বা জিন কেউ নয়, এবং এর পূর্বে আপনি কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং আপনার ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না; তেমন হলে বাতিলপন্থীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত [আল-আনকাবুত: ৪৮]।
আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রত্যাদেশ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী [আশ-শূরা: ৫২]।
নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো। (২) আমি আপনার কাছে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, এই কুরআন আপনার প্রতি ওহী করার মাধ্যমে; যদিও এর আগে আপনি এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন [ইউসুফ: ২ - ৩]।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নূহের কাহিনী বর্ণনা করেছেন, তারপর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনার প্রতি ওহী করছি; এর আগে না আপনি তা জানতেন, আর না আপনার কওম জানত [হূদ: ৪৯]।
আর তিনি ইউসুফের কাহিনী বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তারপর বলেছেন: এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনার প্রতি ওহী করছি এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না যখন তারা তাদের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল এবং তারা ষড়যন্ত্র করছিল [ইউসুফ: ১০২]।
আর তিনি মূসার সংবাদের একাংশ বর্ণনা করেছেন, তারপর বলেছেন: আর আপনি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন না যখন আমি মূসাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (৪৪) কিন্তু আমি বহু প্রজন্ম সৃষ্টি করেছিলাম, তারপর তাদের ওপর দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হয়েছিল এবং আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থানকারী ছিলেন না যে তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন।
কিন্তু আমিই ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী। (৪৫) আর আপনি তূর পাহাড়ের পার্শ্বদেশে ছিলেন না যখন আমি আহ্বান করেছিলাম, বরং এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ [আল-কাসাস: ৪৪ - ৪৬]।
এবং মারইয়ামের কাহিনী উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন: এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনার প্রতি ওহী করছি এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে কে মারইয়ামের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে, এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না যখন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يَخْتَصِمُونَ [آل عمران: 44].
ما أعظمها من منّة يمتنّ الله عز وجل بها على نبيّه صلى الله عليه وسلم! وما أعظمها من معجزة خرقت جميع قوانين الخلق في التّعلّم والتّلقّي! يبلغ صلى الله عليه وسلم الأربعين من عمره وهو بين قومه، يعرفونه بالأمّيّة، لا يقرأ ولا يكتب، ولم يعرفوه بمجالسة معلّم، ثمّ يظهر للنّاس بما لا طاقة لهم بمثله.
وحين افتروا فقالوا: إِنَّما يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ، قال الله عز وجل:
لِسانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهذا لِسانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ [النّحل: 103].
ويستمرّ التّحدّي، فيجعل الله عز وجل من الواقع المشاهد دليلا على صدق ما جاء به نبيّه صلى الله عليه وسلم: وَإِنْ يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَعادٌ وَثَمُودُ (42) وَقَوْمُ إِبْراهِيمَ وَقَوْمُ لُوطٍ (43) وَأَصْحابُ مَدْيَنَ وَكُذِّبَ مُوسى فَأَمْلَيْتُ لِلْكافِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كانَ نَكِيرِ (44) فَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْناها وَهِيَ ظالِمَةٌ فَهِيَ خاوِيَةٌ عَلى عُرُوشِها وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ (45) أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِها أَوْ آذانٌ يَسْمَعُونَ بِها فَإِنَّها لا تَعْمَى الْأَبْصارُ وَلكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ 46 [الحج: 42 - 46].
وثالثها: الإخبار عمّا يكون في مستقبل الزّمان، كالإخبار عن الشّيء قبل وقوعه في عهد النّبيّ صلى الله عليه وسلم، أو عمّا سيكون بعد ذلك.
كما في قوله عز وجل: الم (1) غُلِبَتِ الرُّومُ (2) فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ
...তারা বাদানুবাদ করছিল [আল-ইমরান: ৪৪]।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর কতই না মহান অনুগ্রহ করেছেন! এবং এটি কতই না মহান এক মুজিজা যা শিক্ষা গ্রহণ ও জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে সৃষ্টির সমস্ত জাগতিক নিয়মকে ভঙ্গ করেছে! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কওমের মাঝে চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তারা তাঁকে নিরক্ষর হিসেবেই জানত, তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না এবং কোনো শিক্ষকের সান্নিধ্যে বসার ব্যাপারেও তারা তাঁর সম্পর্কে জানত না। অতঃপর তিনি মানুষের নিকট এমন কিছু নিয়ে উপস্থিত হলেন যার অনুরূপ কিছুর সক্ষমতা তাদের ছিল না।
আর যখন তারা মিথ্যা রটনা করে বলল: ‘নিশ্চয়ই তাকে কোনো মানুষ শিক্ষা দেয়’, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বললেন:
তারা যার দিকে বাঁকা ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারবি, অথচ এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষা [আন-নাহল: ১০৩]।
এবং চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকে, আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা দৃশ্যমান বাস্তবতাকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনীত বার্তার সত্যতার প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন: আর তারা যদি আপনাকে অস্বীকার করে তবে তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়, আদ ও সামুদ জাতিও অস্বীকার করেছিল (৪২) এবং ইবরাহিমের সম্প্রদায় ও লূতের সম্প্রদায় (৪৩) এবং মাদইয়ানবাসীরাও। আর মুসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল, তখন আমি কাফিরদেরকে অবকাশ দিয়েছিলাম, অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম; সুতরাং কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যানের শাস্তি? (৪৪) আর কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যখন তারা ছিল জালিম, ফলে সেগুলো তাদের ছাদের ওপর বিধ্বস্ত হয়ে আছে এবং কত পরিত্যক্ত কূপ ও সুউচ্চ প্রাসাদও! (৪৫) তারা কি যমিনে ভ্রমণ করেনি? যাতে তাদের এমন হৃদয় থাকত যা দিয়ে তারা উপলব্ধি করতে পারত অথবা এমন কান থাকত যা দিয়ে তারা শুনতে পারত। বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত হৃদয়ই অন্ধ হয় (৪৬) [আল-হাজ্জ: ৪২ - ৪৬]।
তৃতীয়ত: ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে কোনো বিষয় ঘটার আগে তা নিয়ে সংবাদ দেওয়া অথবা পরবর্তীতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে জানানো।
যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণীতে রয়েছে: আলিফ লাম মীম (১) রোমানরা পরাজিত হয়েছে (২) নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ (3) فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ (4) بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ 5 [الرّوم: 1 - 5].
وقد صحّت الرّواية بتحقّق ما أخبرت به هذه الآيات عن غير واحد من أصحاب النّبيّ صلى الله عليه وسلم، فمن ذلك حديث نيار بن مكرم الأسلميّ، قال:
لمّا نزلت الم (1) غُلِبَتِ الرُّومُ (2) فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ (3) فِي بِضْعِ سِنِينَ فكانت فارس يوم نزلت هذه الآية قاهرين للرّوم، وكان المسلمون يحبّون ظهور الرّوم عليهم؛ لأنّهم وإيّاهم أهل كتاب، وفي ذلك قول الله تعالى: وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ (4) بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ 5، فكانت قريش تحبّ ظهور فارس؛ لأنّهم وإيّاهم ليسوا بأهل كتاب ولا إيمان ببعث، فلمّا أنزل الله تعالى هذه الآية، خرج أبو بكر الصّدّيق يصيح في نواحي مكّة: الم (1) غُلِبَتِ الرُّومُ (2) فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ (3) فِي بِضْعِ سِنِينَ، قال ناس من قريش لأبي بكر: فذلك بيننا وبينكم، زعم صاحبكم أنّ الرّوم ستغلب فارسا في بضع سنين، أفلا نراهنك على ذلك؟ قال: بلى، وذلك قبل تحريم الرّهان، فارتهن أبو بكر والمشركون وتواضعوا الرّهان، وقالوا لأبي بكر: كم تجعل البضع ثلاث سنين إلى تسع سنين، فسمّ بيننا وبينك
وسطا تنتهي إليه، قال: فسمّوا بينهم ستّ سنين، قال: فمضت السّت سنين قبل أن يظهروا، فأخذ المشركون رهن أبي بكر، فلمّا دخلت السّنة السّابعة
তাদের পরাজয়ের পর তারা শীঘ্রই বিজয়ী হবে (৩) কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বাপর সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে (৪)। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু ৫ [আর-রুম: ১-৫]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী থেকে এই আয়াতগুলোর সংবাদ বাস্তবায়িত হওয়ার বর্ণনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তন্মধ্যে নিয়ার বিন মাকরাম আল-আসলামী (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখযোগ্য, তিনি বলেন:
যখন অবতীর্ণ হলো: আলিফ-লাম-মীম (১) রোমানরা পরাজিত হয়েছে (২) নিকটবর্তী এলাকায়। এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে (৩) কয়েক বছরের মধ্যে। এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হলো তখন পারস্য রোমানদের ওপর প্রবল ছিল। আর মুসলিমরা রোমানদের বিজয় কামনা করতেন; কারণ তারা এবং রোমানরা উভয়েই আহলে কিতাব ছিলেন। এ সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলার বাণী: “আর সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে (৪) আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু ৫।” অন্যদিকে কুরাইশরা পারস্যের বিজয় কামনা করত; কারণ তারা এবং পারস্যবাসীরা কেউই কিতাবধারী ছিল না এবং পুনরুত্থানেও বিশ্বাসী ছিল না। যখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মক্কার চারদিকে এই বলে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে বের হলেন: আলিফ-লাম-মীম (১) রোমানরা পরাজিত হয়েছে (২) নিকটবর্তী এলাকায়। এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে (৩) কয়েক বছরের মধ্যে। কুরাইশদের কিছু লোক আবু বকরকে বলল: তবে এটিই আমাদের ও তোমাদের মাঝে মীমাংসার বিষয় হোক। তোমাদের সাথী দাবি করছেন যে রোমানরা কয়েক বছরের মধ্যে পারস্যের ওপর বিজয়ী হবে, তবে কি আমরা এ নিয়ে তোমার সাথে বাজি ধরব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আর এটি ছিল বাজি ধরা হারাম হওয়ার পূর্বের ঘটনা। সুতরাং আবু বকর ও মুশরিকরা বাজি ধরলেন এবং বাজি বা পণের পরিমাণ নির্ধারণ করলেন। তারা আবু বকরকে বলল: তুমি ‘বিদ্ব’ (কয়েক বছর) বলতে তিন থেকে নয় বছরের মধ্যে কত বছর নির্দিষ্ট করবে? আমাদের ও তোমার মাঝে একটি মধ্যবর্তী সময়সীমা নির্ধারণ করো যার ওপর বিষয়টি সমাপ্ত হবে।
তিনি বলেন: তারা নিজেদের মধ্যে ছয় বছর সময় নির্ধারণ করল। বর্ণনাকারী বলেন: কিন্তু রোমানদের বিজয়ী হওয়ার পূর্বেই ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেল, ফলে মুশরিকরা আবু বকরের বাজির মাল গ্রহণ করল। কিন্তু যখন সপ্তম বছর শুরু হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ظهرت الرّوم على فارس، فعاب المسلمون على أبي بكر تسمية ستّ سنين؛ لأنّ الله تعالى قال: فِي بِضْعِ سِنِينَ، قال:
وأسلم عند ذلك ناس كثير (1).
كذلك ما تضمّنه القرآن من الإخبار عن أشراط السّاعة، والبعث بعد الموت، والحشر والحساب، والمصير إلى الجنّة أو إلى النّار، بما لا سبيل للبشر إلى معرفته إلّا بوحي الله عز وجل، جميعه برهان على أنّ القرآن كلام الله.
ورابعها: الإخبار عمّا تكنّه النّفوس وتخفيه الضّمائر، ممّا لا يمكن أن يعلمه إلّا الله، ولا يصل إلى علم النّبيّ صلى الله عليه وسلم إلّا بوحي الله.
كالّذي تراه في سورة التّوبة من ذكر أسرار المنافقين، حتّى خاف النّاس أن ينزل القرآن بأسمائهم يظهر حقائق ما في نفوسهم.
كما قال سعيد بن جبير: قلت لابن عبّاس: سورة التّوبة، قال:
التّوبة؟، قال: بل هي الفاضحة، ما زالت تنزل: وَمِنْهُمْ، وَمِنْهُمْ، حتّى ظنّوا أن لا يبقى منّا أحد إلّا ذكر فيها (2).
--------------------------------------------
রোমানরা পারসিকদের ওপর বিজয় লাভ করল, তখন মুসলিমরা আবু বকরের ছয় বছর সময় নির্ধারণ করার সমালোচনা করলেন; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘কয়েক বছরের মধ্যে (বিদ্উন)’। তিনি বলেন:
আর সে সময় অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করল (১)।
একইভাবে কুরআন কিয়ামতের লক্ষণসমূহ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হাশর ও হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত বা জাহান্নামের পরিণাম সম্পর্কে যেসব সংবাদ অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা মহান আল্লাহর ওহী ব্যতীত জানার কোনো উপায় মানুষের নেই, সেগুলোর প্রতিটিই কুরআন আল্লাহর কালাম হওয়ার প্রমাণ।
এবং চতুর্থত: অন্তরে যা সংগুপ্ত থাকে এবং বিবেকে যা গোপন রাখা হয় সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয় এবং মহান আল্লাহর ওহী ব্যতিরেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জ্ঞানেও তা পৌঁছাত না।
যেমনটি আপনি সূরা আত-তাওবায় মুনাফিকদের গোপন রহস্যের আলোচনার ক্ষেত্রে দেখতে পান, এমনকি মানুষ আশঙ্কা করতে শুরু করেছিল যে তাদের নামসহ কুরআন নাজিল হবে যা তাদের অন্তরের প্রকৃত সত্যগুলো প্রকাশ করে দেবে।
যেমনটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: সূরা আত-তাওবা। তিনি বললেন:
তাওবা? তিনি বললেন: বরং এটি তো ‘ফাদিহা’ (গোপন রহস্য উন্মোচনকারী), এটি অবতীর্ণ হতেই থাকল: ‘এবং তাদের মধ্যে এমনও আছে’, ‘এবং তাদের মধ্যে এমনও আছে’, এমনকি তারা ধারণা করতে লাগল যে আমাদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না যার কথা এতে উল্লেখ করা হবে না (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
النّوع الثّالث: الإعجاز التّشريعيّ:ويكمن فيما أودع الله في كتابه من القوانين الّتي تشهد في استقامتها وعدلها وصلاحها لكلّ زمان أنّها من عند الله، وأن لا طاقة للخلق أن يوجدوا لها نظيرا، مهما بلغت العقول.
ذلك أنّ التّشريع مبنيّ على تحقيق مصالح العباد في الدّارين، ولا يحيط بتلك المصالح أحد من خلق الله؛ لقصور العلم، والنّقص بالطّبع، لكنّ الله سبحانه هو الخالق، فهو أعلم
بخلقه وحاجتهم وما يكون به صلاحهم وفسادهم، أَلا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ [الملك: 14].
فلذا جاء تشريعه موصوفا بالحسن المطلق وبالحقّ المطلق، كما قال عز وجل: وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ [المائدة: 50]، وقال:
وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْناكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً 33 [الفرقان: 33]، وقال تعالى: اللَّهُ الَّذِي أَنْزَلَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ وَالْمِيزانَ [الشّورى: 17]، وقال عز وجل: إِنَّا أَرْسَلْناكَ بِالْحَقِّ بَشِيراً وَنَذِيراً [البقرة: 119]، وقال سبحانه: وَكَذَّبَ بِهِ قَوْمُكَ وَهُوَ الْحَقُّ [الأنعام: 66]، وقال تعالى:
وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْناهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ [الإسراء: 105]، وقال عز وجل: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِما أَنْزَلَ اللَّهُ وَلا تَتَّبِعْ أَهْواءَهُمْ عَمَّا جاءَكَ مِنَ الْحَقِّ [المائدة: 48].
ولو كان من عند غير الله لما صحّ في العقول أن يكون هو الحقّ المطلق،
তৃতীয় প্রকার: বিধানিক অলৌকিকত্ব:আর এটি নিহিত রয়েছে আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে সকল আইন-কানুন গচ্ছিত রেখেছেন তার মধ্যে, যা নিজ দৃঢ়তা, ন্যায়বিচার এবং সকল যুগের জন্য উপযোগী হওয়ার মাধ্যমে এই সাক্ষ্য দেয় যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। আর সৃষ্টির পক্ষে এর কোনো সমতুল্য কিছু তৈরি করা সম্ভব নয়, তাদের বুদ্ধি-বিবেক যতই উৎকর্ষ লাভ করুক না কেন।
তা এই কারণে যে, বিধান প্রণয়ন দুনিয়া ও আখেরাতে বান্দাদের কল্যাণ সাধনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য থেকে কেউই সেই কল্যাণসমূহকে পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করতে পারে না; কারণ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং স্বভাবগত অপূর্ণতা। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা হলেন স্রষ্টা, তাই তিনি অধিক পরিজ্ঞাত
তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে, তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে এবং কিসে তাদের সংশোধন হবে ও কিসে তাদের বিপর্যয় ঘটবে সে সম্পর্কে। তিনি কি জানেন না যিনি সৃষ্টি করেছেন? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত। [আল-মূলক: ১৪]।
ফলে তাঁর প্রবর্তিত বিধান নিরঙ্কুশ সৌন্দর্য এবং নিরঙ্কুশ সত্যের গুণে গুণান্বিত হয়ে এসেছে, যেমনটি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ অপেক্ষা আর কে শ্রেষ্ঠতর?" [আল-মায়িদাহ: ৫০]। এবং তিনি বলেছেন:
"তারা আপনার কাছে কোনো উপমা নিয়ে আসলে আমি আপনাকে তার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি।" [আল-ফুরকান: ৩৩]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আল্লাহই সত্যসহ কিতাব এবং মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন।" [আশ-শুরা: ১৭]। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ আরও বলেছেন: "নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।" [আল-বাকারাহ: ১১৯]। তিনি আরও বলেছেন: "আপনার জাতি একে অস্বীকার করেছে, অথচ তা পরম সত্য।" [আল-আনআম: ৬৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন:
"আমি সত্যসহই এটি অবতীর্ণ করেছি এবং সত্যসহই তা অবতীর্ণ হয়েছে।" [আল-ইসরা: ১০৫]। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর সংরক্ষক। সুতরাং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী আপনি তাদের বিচার নিষ্পত্তি করুন এবং আপনার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না।" [আল-মায়িদাহ: ৪৮]।
আর যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তা নিরঙ্কুশ সত্য হওয়া বুদ্ধি-বিবেচনায় সংগত হতো না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أو يكون أحسن قانون وتشريع، مهما رجحت عقول مقنّنيه، فإنّه ما من قوم إلّا ولهم من الشّرائع والقوانين ما يسيّرون به شئون حياتهم، لكنّهم لا يفتئون يغيّرون ويصلحون، ولو وصفوا قانونهم
بالحقّ المطلق لتعذّر عليهم تبديله والاستدراك عليه، وإنّما هذه أوصاف لا تكون إلّا لما هو خارج عن قدرات المخلوقين.
كِتابٌ أُحْكِمَتْ آياتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ [هود: 1].
وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (41) لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ 42 [فصّلت: 41 - 42].
فأنزل القرآن حين أنزل، وهو إلى اليوم، وسيبقى إلى آخر الدّهر، لا يجد النّاس سبيلا إلى نقض شيء من أحكامه وشرائعه، مهما سعى الكفّار والّذين في قلوبهم مرض لإبطال ما جاء به من الحقّ والعدل والهدى، كما لا يجدون سبيلا للإتيان بما هو أحسن منه، إذ لا أحسن منه.
النّوع الرّابع: الإعجاز العلميّ:وذلك فيما بيّن الله في هذا الكتاب ودلّ عليه من الآيات في السّماوات والأرض والأنفس، ممّا لم يكن ليحيط به علم بشر في عهد النّبيّ صلى الله عليه وسلم من تلقاء نفسه، ثمّ يبقى النّاس يكتشفون أسراره في الكون، والقرآن قد سبق به منذ دهر بعيد تصريحا وتلويحا، كان يتلوه على النّاس نبيّ أمّيّ، لم يدرس علوم الفضاء ولا البيئة ولا البحار ولا طبقات الأرض ولا الأجنّة، لينبئ
অথবা তা সর্বোত্তম আইন ও বিধান হওয়া, এর প্রণেতাদের মেধা ও বুদ্ধি যত প্রখরই হোক না কেন। কারণ এমন কোনো জাতি নেই যাদের জীবনযাত্রা পরিচালনার জন্য কোনো না কোনো বিধান বা আইন নেই, কিন্তু তারা তা পরিবর্তন ও সংশোধন করতে বিরত থাকে না। তারা যদি তাদের আইনকে পরম সত্য হিসেবে অভিহিত করত, তবে তাদের পক্ষে তা পরিবর্তন করা বা এর ভুল সংশোধন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। মূলত, এই গুণাবলি কেবল তারই হতে পারে যা সৃষ্টির সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে।
এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে তা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। [হূদ: ১]
নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কিতাব। (৪১) এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই মিথ্যা এতে আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। ৪২ [ফুসসিলাত: ৪১-৪২]
সুতরাং কুরআন যখন অবতীর্ণ হয়েছিল এবং আজ অবধি এবং মহাকালের শেষ পর্যন্ত তা এভাবেই থাকবে। মানুষ এর কোনো বিধান বা শরয়ি নির্দেশনার কোনো কিছু খণ্ডন করার কোনো পথ পাবে না; চাই কাফির এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা এর আনীত সত্য, ন্যায় ও হিদায়াতকে বাতিল করার জন্য যত চেষ্টাই করুক না কেন। ঠিক তেমনিভাবে, তারা এর চেয়ে উত্তম কিছু আনয়ন করার কোনো পথ পাবে না, কারণ এর চেয়ে উত্তম আর কিছুই নেই।
চতুর্থ প্রকার: বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব:আর এটি হলো সেই বিষয় যা আল্লাহ এই কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও মানুষের নিজেদের মাঝে বিদ্যমান যেসব নিদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কোনো মানুষের পক্ষে নিজ থেকে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব ছিল না। অতঃপর মানুষ মহাবিশ্বে এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করতে থাকে, অথচ কুরআন বহু পূর্বেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তা ব্যক্ত করে রেখেছে। এটি মানুষের নিকট তিলাওয়াত করতেন একজন নিরক্ষর নবি, যিনি মহাকাশ বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, সমুদ্র বিজ্ঞান, ভূ-স্তরবিদ্যা কিংবা ভ্রূণতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করেননি, যাতে তিনি সংবাদ দিতে পারেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
العالم أنّه رسول ربّ العالمين، وأنّ هذا القرآن من علم الله الّذي أحاط بكلّ شيء.
فتأمّل مثاله في الأنفس في قول الله عز وجل: ما لَكُمْ لا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقاراً (13) وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْواراً 14 [نوح: 13 - 14]، ثمّ تأمّل تفسير تلك الأطوار في قوله تعالى: وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسانَ مِنْ سُلالَةٍ مِنْ طِينٍ (12) ثُمَ
جَعَلْناهُ نُطْفَةً فِي قَرارٍ مَكِينٍ (13) ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظاماً فَكَسَوْنَا الْعِظامَ لَحْماً ثُمَّ أَنْشَأْناهُ خَلْقاً آخَرَ فَتَبارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخالِقِينَ [المؤمنون: 12 - 14].
وتأمّل مثاله في الكون في قول الله عز وجل: أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّماواتِ وَالْأَرْضَ كانَتا رَتْقاً فَفَتَقْناهُما وَجَعَلْنا مِنَ الْماءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلا يُؤْمِنُونَ 30
… الآيات [الأنبياء: 30 - 33]، أو في قوله سبحانه:
وَآيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهارَ فَإِذا هُمْ مُظْلِمُونَ (37) وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَها ذلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (38) وَالْقَمَرَ قَدَّرْناهُ مَنازِلَ حَتَّى عادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ (39) لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَها أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سابِقُ النَّهارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ 40 [يس: 37 - 40].
ألا تكفي هذه الآيات باحثا عن الحقيقة ليشهد أنّه الحقّ من ربّه؟
أترى يكون هذا من بشر من أهل مكّة يأتي به من تلقاء نفسه قبل خمسة عشر قرنا من الزّمان؟ كلّا، وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى (4) عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوى 5 [النّجم: 3 - 5]، تِلْكَ آياتُ اللَّهِ نَتْلُوها عَلَيْكَ بِالْحَقِّ
বিশ্ববাসী জানবে যে তিনি বিশ্বজগতের রবের রাসূল, এবং এই কুরআন আল্লাহর সেই জ্ঞান থেকে প্রাপ্ত যা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
সুতরাং মানুষের নিজ সত্তার মধ্যে এর দৃষ্টান্ত নিয়ে চিন্তা করুন মহান আল্লাহর এই বাণীতে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছ না? (১৩) অথচ তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন বিভিন্ন স্তরে স্তরে। ১৪ [নূহ: ১৩ - ১৪], অতঃপর সেই স্তরসমূহের ব্যাখ্যা নিয়ে চিন্তা করুন মহান আল্লাহর এই বাণীতে: আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। (১২) অতঃপর
আমি তাকে বীর্যরূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। (১৩) এরপর আমি বীর্যকে রক্তপিণ্ডে পরিণত করেছি, অতঃপর রক্তপিণ্ডকে গোশতপিণ্ডে পরিণত করেছি, অতঃপর গোশতপিণ্ডকে হাড়ে পরিণত করেছি, এরপর হাড়কে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি; সবশেষে আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে দাঁড় করিয়েছি। অতএব অতি বরকতময় আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা। [আল-মুমিনুন: ১২ - ১৪]।
আর মহাবিশ্বে এর দৃষ্টান্ত নিয়ে চিন্তা করুন মহান আল্লাহর এই বাণীতে: কাফিররা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন পরস্পর মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? ৩০
… আয়াতসমূহ [আল-আম্বিয়া: ৩০ - ৩৩], অথবা মহান আল্লাহর এই বাণীতে:
তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত, আমি তা থেকে দিন অপসারিত করি, অমনি তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। (৩৭) আর সূর্য পরিভ্রমণ করে তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে, এটা মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ। (৩৮) আর চাঁদের জন্য আমি বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারণ করেছি, অবশেষে তা খেজুরের শুষ্ক পুরাতন ডালপালার মতো হয়ে যায়। (৩৯) সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে ধরে ফেলা, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়া। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। ৪০ [ইয়াসিন: ৩৭ - ৪০]।
সত্যের অন্বেষণকারীর জন্য কি এই আয়াতসমূহ যথেষ্ট নয় এটা সাক্ষ্য দিতে যে, তা তার রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য?
আপনি কি মনে করেন যে, আজ থেকে পনেরো শতাব্দী আগে মক্কার কোনো মানুষ এটি নিজ থেকে নিয়ে আসতে পারে? কক্ষনো না, আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না (৩) এটি তো কেবল ওহী, যা তার প্রতি অবতীর্ণ করা হয় (৪) তাকে শিক্ষা দিয়েছেন এক শক্তিশালী সত্তা ৫ [আন-নাজম: ৩ - ৫], এগুলো আল্লাহর আয়াত যা আমি আপনার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ [البقرة: 252].
والعلم الحديث يظهر على النّاس بعجائب في خلق الله، فيبهر النّاس بها، وحقّ لهم، لكنّ الأعجب أن يكون القرآن قد نبّه على اعتبارها ودلّ عليها منذ دهر بعيد، ولم يكن للنّاس يومئذ من وسائل النّظر والاكتشاف ما لأهل زماننا، إنّه استمرار شهادة الحقّ، أنّ هذا القرآن من عند الله:
سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ [فصّلت: 53].
أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَما خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ [الأعراف: 185].
إنّ الله سبحانه أراد لهذا القرآن أن يكون حجّته على الأمم إلى قيام السّاعة، وما كان ليصحّ ذلك إلّا والدّليل على أنّه من عند الله باق مستمرّ، فتارة لغته وفصاحته وتأليفه ونظمه، وتارة عصمته من التّحريف وبقاؤه غضّا طريّا كما لو أنزل السّاعة، وتارة ما جاء به من القوانين والشّرائع العادلة الّتي استغرقت جميع مصالح العباد، وتارة ما فيه من التّنبيه على الآيات الكونيّة، والدّلائل العلميّة، وهكذا، إلى براهين لا تنقطع ولا تتناهى، كلّها تشهد أنّه كلام ربّ العالمين.
***
নিশ্চয়ই আপনি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত। [আল-বাকারাহ: ২৫২]।
আধুনিক বিজ্ঞান আল্লাহর সৃষ্টির নানাবিধ বিস্ময় মানুষের সামনে প্রকাশ করছে, যা দেখে মানুষ অভিভূত হচ্ছে এবং এটি তাদের জন্য স্বাভাবিক। তবে এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো, পবিত্র কুরআন অনেক আগে থেকেই এগুলোর প্রতি বিবেচনা ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সুদূর অতীত থেকেই সেগুলোর প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। অথচ তখনকার মানুষের কাছে বর্তমান যুগের মতো পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কারের কোনো উপায়-উপকরণ ছিল না। প্রকৃতপক্ষে এটি এই সত্যের ধারাবাহিক সাক্ষ্য যে, এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ:
অচিরেই আমি তাদেরকে দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটিই সত্য। আপনার প্রতিপালক কি যথেষ্ট নন যে, তিনি প্রতিটি বিষয়ের ওপর প্রত্যক্ষদর্শী? [ফুসসিলাত: ৫৩]।
তারা কি আসমান ও যমীনের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করে দেখে না? আর এটিও যে, সম্ভবত তাদের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে? সুতরাং এর পরে আর কোন কথার ওপর তারা ঈমান আনবে? [আল-আরাফ: ১৮৫]।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চেয়েছেন এই কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সকল জাতির জন্য তাঁর প্রমাণ হয়ে থাকুক। আর এটি তখনই সম্ভব যখন এটি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে—তার প্রমাণ অবিনশ্বর ও নিরন্তর থাকবে। কখনও তার ভাষা, প্রাঞ্জলতা, বিন্যাস ও শৈলী দ্বারা; আবার কখনও বিকৃতি থেকে তার সুরক্ষা এবং এমন সজীব ও সতেজ থাকার মাধ্যমে—যেন মনে হয় এখনই অবতীর্ণ হলো। কখনও এতে বর্ণিত ইনসাফপূর্ণ আইন ও শরীয়ত দ্বারা—যা বান্দাদের সকল কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আবার কখনও মহাজাগতিক নিদর্শনাবলী ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতি এর ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে। এভাবেই নিরবচ্ছিন্ন ও অশেষ প্রমাণের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, এসবই রব্বুল আলামীনের বাণী।
***
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المقدمة الأولى نزول القرآنالفصل الأول: كيفية نزول القرآن
الفصل الثاني: أسباب نزول القرآن
الفصل الثالث: معرفة المكي والمدني
الفصل الرابع: أول ما نزل وآخر ما نزل
الفصل الخامس: الأحرف السبعة
***
প্রথম ভূমিকা: কুরআন অবতরণপ্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন অবতরণের পদ্ধতি
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন অবতরণের কারণসমূহ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মক্কী ও মাদানী সংক্রান্ত জ্ঞান
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সাত হরফ
***
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাসিয়্যাহ ফী উলূমিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الفصل الأول: كيفية نزول القرآن
المبحث الأول: كيف أنزل القرآن؟
المقطوع به من دين الإسلام أنّ القرآن لم ينزل على نبيّنا محمّد صلى الله عليه وسلم جملة واحدة كما هو الشّأن في الكتب السّالفة كالتّوراة والإنجيل، إنّما نزل بحسب الوقائع منذ البعثة حتّى آخر حياة النّبيّ صلى الله عليه وسلم، كما يثبّت هذه الحقيقة قوله تعالى: وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً واحِدَةً كَذلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤادَكَ وَرَتَّلْناهُ تَرْتِيلًا [الفرقان: 32]، وقوله: وَقُرْآناً فَرَقْناهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلى مُكْثٍ وَنَزَّلْناهُ تَنْزِيلًا 106 [الإسراء: 106] (1).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন কীভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল?ইসলামি দ্বীনের অকাট্য বিষয় এই যে, কুরআন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর একবারে অবতীর্ণ হয়নি, যেমনটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলের ক্ষেত্রে হয়েছিল। বরং এটি নবুওয়াত থেকে শুরু করে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর কাফেররা বলে, ‘তাঁর ওপর কুরআন কেন একবারে অবতীর্ণ হলো না?’ আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি যাতে এর মাধ্যমে আপনার অন্তরকে মজবুত করতে পারি এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে সুস্পষ্টভাবে পাঠ করেছি।" [আল-ফুরকান: ৩২], এবং তাঁর বাণী: "আমি কুরআনকে ভাগে ভাগে নাযিল করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি।" [আল-ইসরা: ১০৬] (১)।
--------------------------------------------