(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
الاعتصام بالإسلام   (عمر العرباوي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الاعتصام بالإسلام

المؤلف: عمر العرباوي الحملاوي (ت 1405هـ)

الناشر: مطبعة اللغتين

الطبعة: الأولى، 1402 هـ - 1982 م

عدد الصفحات: 259

أعده للمكتبة الشاملة/ أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو الحجة 1434

আল-ইতিসাম বিল ইসলাম   (ওমর আল-আরবাওয়ী)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: আল-ইতিসাম বিল ইসলাম

লেখক: ওমর আল-আরবাওয়ী আল-হামলাওয়ী (মৃত্যু ১৪০৫ হিজরি)

প্রকাশক: মাতবাআত আল-লুগাতাইন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৯

মাকতাবা আশ-শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ জিলহজ ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
{وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا}

الاعتصام بالإسلام

عمر العرباوي
{আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না}

ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা

উমর আল-আরবাউয়ি
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله المتفرد بالبقاء والقهر الواحد الأحد الفرد الصمد ذي العزة والجبروت، والجلال والكمال، الذي لا ند له فيبارى ولا معارض له فيند عن حكمه، ولا شريك له فيمارى، كتب الفناء على خلقه وجعل ثواب الذين اتقوا الجنة وعقبى الكافرين النار.

أحمده على حلو القضاء ومره، وأعوذ به من سطوته ومكره، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إلها لم يزل عظيما جبارا قهارا قويا جل عن الشبيه والنظير، وتعالى عن الشريك والظهير وتقدس عن التعطيل وتنزه عن المثيل.

وأشهد أن سيدنا محمد عبده ورسوله الذي أرسله الله رحمة للعالمين صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه الطاهرات وسلم تسليما كثيرا متصلا ما تعاقب الليل والنهار.

وبعد لم يشهد التاريخ عصرا كهذا العصر الذي نعيش فيه من حيث الهياج الفكري الذي استبد بالناس حول الدين، فكان في كل عقل بليال ووسوسة، وفي كل مجتمع تدافع وجذب، فدخل سلطان العقل على كل قضية من قضايا الدين، فلم يدع واجبا ولا خاطرا يمر في كيان الإنسان إلا أمسك به وعالجه معالجة الكيمائي، ونقده نقد الصيرفي حتى المسلمات التي رضي الناس بها واطمأنوا إليها فأدخل عليها الشك.

وقد كان للدين الإسلامي النصيب الأوفر من هذه الثورة الملحدة عليه، فأصبح الناس ينظرون إليه كآفة مزعج مقلق عائق عن التقدم، لأن هؤلاء (الملحدين) يقولون (الله خرافة، والدين وهم وخداع وعملية تخدير لسقام العقول، وضعفاء الأحلام، والمتدينون به جهلاء أغبياء واقعون تحت تأثير هذا المخدر) هذا بعض ما يقولون عن الدين، ولا يزالون يقولون إلى الآن وإلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অবিনশ্বরতা ও আধিপত্যে অদ্বিতীয়, এক, একক ও অমুখাপেক্ষী; যিনি সম্মান ও প্রতাপ এবং মহিমা ও পূর্ণতার অধিকারী। তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই যে তাঁর সাথে প্রতিযোগিতা করবে, তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই যে তাঁর বিধান থেকে বিচ্যুত হবে এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই যার সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া যায়। তিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য নশ্বরতা লিখে দিয়েছেন এবং মুত্তাকীদের পুরস্কার হিসেবে জান্নাত আর কাফিরদের শেষ পরিণাম হিসেবে জাহান্নাম নির্ধারণ করেছেন।

আমি ভাগ্যের মিষ্টতা ও তিক্ততা উভয় অবস্থায় তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কঠোরতা ও কৌশল থেকে তাঁরই নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং অদ্বিতীয়। তিনি এমন এক ইলাহ যিনি সর্বদা মহান, পরাক্রমশালী, বিজয়ী ও শক্তিশালী। তিনি সাদৃশ্য ও উপমা থেকে ঊর্ধ্বে, শরিক ও সাহায্যকারী থেকে মহান, সকল গুণাবলি অস্বীকার (تعطيل) থেকে পবিত্র এবং তুলনীয় বস্তু থেকে মুক্ত।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও পবিত্র সহধর্মিণীগণের ওপর দিন ও রাতের আবর্তনের ন্যায় অব্যাহতভাবে অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, মানুষের মাঝে ধর্ম নিয়ে যে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, ইতিহাস বর্তমান যুগের মতো এমন কোনো সময় প্রত্যক্ষ করেনি। প্রতিটি মনে ছিল সংশয় ও কুমন্ত্রণা (وسوسة), এবং প্রতিটি সমাজে ছিল দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। ধর্মের প্রতিটি বিষয়ে যুক্তির আধিপত্য এমনভাবে প্রবেশ করেছে যে, মানুষের সত্তায় উদিত হওয়া কোনো কর্তব্য বা ভাবনাকেই তা ছেড়ে দেয়নি; বরং একে ধরে রাসায়নিকের ন্যায় বিশ্লেষণ করেছে এবং স্বর্ণকারের ন্যায় চুলচেরা বিচার করেছে। এমনকি যেসব ধ্রুব সত্যকে মানুষ সানন্দে গ্রহণ করেছিল এবং যাতে তারা প্রশান্তি লাভ করেছিল, সেগুলোতেও সন্দেহ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই নাস্তিক্যবাদী বিপ্লবের ফলে ইসলাম ধর্মই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, ফলে মানুষ একে প্রগতির পথে এক বিরক্তিকর, উদ্বেগজনক ও প্রতিবন্ধক ব্যাধি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। কেননা এই নাস্তিকরা বলে থাকে, 'আল্লাহ একটি রূপকথা, ধর্ম একটি বিভ্রম ও প্রতারণা এবং এটি রুগ্ন মস্তিষ্ক ও দুর্বল চিত্তের অধিকারীদের মোহগ্রস্ত করার একটি প্রক্রিয়া; আর ধার্মিকরা হলো এই মোহাচ্ছন্নতায় আক্রান্ত মূর্খ ও নির্বোধ।' ধর্মের ব্যাপারে তারা এগুলোই বলে থাকে এবং তারা বর্তমান সময় পর্যন্ত তা বলে যাচ্ছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
الغد، إنه لقول يدير الرؤوس ويزعج مواطن السكينة في قلوب المؤمنين.

أما العلماء المفكرون المنصفون من الأجانب فبحثوه بحثا دقيقا بحيث وضعوه تحت المجاهر الفاحصة، فوجدوه ميزانا. عادلا في الأخلاق والاستقامة والأحكام، والمساواة بين الناس مؤيدا للعقل سائرا على الفطرة السليمة التي فطر الله الناس عليها.

الدين مبناه وأساسه على الحكم ومصالح العباد في المعاش والمعاد وهو عدل كله ورحمة كلها، ومصالح كلها، وحكمة كلها، فكل مسألة خرجت من العدل إلى الجور، وعن الرحمة إلى القسوة وعن المصلحة إلى المفسدة وعن الحكمة إلى العبث فليست من الدين في شيء وإن أدخلت فيها التأويلات، الدين عدل الله بين عباده ورحمته بين خلقه، وظله في أرضه وحكمته الدالة عليه وعلى صدق رسوله صلى الله عليه وآله وسلم أتم دلالة وأصدقها، وهو نوره الذي أبصر به المبصرون، وهداه الذي اهتدى به المهتدون، وشفاؤه التام الذي هو دواء لكل عليل، وطريقه المستقيم الذي من استقام عليه فقد استقام على سواء السبيل فهو قرة العيون وحياة القلوب ولذة الأرواح، به الحياة والغذاء، والدواء والنور والشفاء والعصمة، وكل خير في الوجود فإنه مستفاد منه وخاص به، وكل نقص في الوجود فبعدم الأخذ به ولولا رسم قد بقي منه لخربت الدنيا وطوى العالم، وبه يمسك الله السموات والأرض أن تزولا، فإذا أراد الله سبحانه وتعالى خراب الدنيا وطي العالم رفع الله ما بقي من رسمه فالدين هو الذي بعث به رسوله الكريم وهو قطب الفلاح والسعادة في الدنيا والأخرى.

القانون الطبيعي للأمم هو كل أمة تستعمل ما أتاها الله من قوى الفكر والعقل إلا العالم الإسلامي فإنه اليوم خليط من بقايا موروثة من عصور الظلام بسبب جلب ثقافات حديثة من تيار حركة أوربية، وهي خليط لم تصدر - كما رأينا - عن توجيه، علمي مدروس مبني على أسس أخلاقنا وعوائدنا، وإنما هي مجموعة من رواسب قديمة لم تصف من طابع القدم،
আগামীকাল; এটি এমন এক উক্তি যা মস্তককে আন্দোলিত করে এবং মুমিনদের হৃদয়ের প্রশান্তির স্থানগুলোকে বিচলিত করে।

পক্ষান্তরে বিদেশি ন্যায়নিষ্ঠ চিন্তাবিদ ও আলিমগণ একে গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং একে সূক্ষ্মবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে স্থাপন করেছেন। অতঃপর তারা একে নৈতিকতা, অটলতা, বিধিবিধান এবং মানুষের মাঝে সমতা স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি ইনসাফপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে পেয়েছেন, যা বিচারবুদ্ধির সমর্থক এবং সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) অনুসারী যার ওপর আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন।

দ্বীনের ভিত্তি ও মূল হলো হিকমত এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে বান্দাদের কল্যাণের ওপর। দ্বীন সম্পূর্ণটাই ইনসাফ, সম্পূর্ণটাই রহমত, সম্পূর্ণটাই কল্যাণ এবং সম্পূর্ণটাই হিকমত। সুতরাং যে মাসআলাই ইনসাফ থেকে জুলুমের দিকে, রহমত থেকে কঠোরতার দিকে, কল্যাণ থেকে অকল্যাণের দিকে এবং হিকমত থেকে অসারতার দিকে ধাবিত হয়, তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও তাতে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা (تأويل) অনুপ্রবেশ করানো হয়। দ্বীন হলো তাঁর বান্দাদের মাঝে আল্লাহর ইনসাফ, তাঁর সৃষ্টির মাঝে রহমত, যমীনে তাঁর ছায়া এবং তাঁর নিজের ওপর ও তাঁর রাসূলের (সা.) সত্যতার ওপর সর্বোত্তম ও সত্যতম প্রমাণবহ হিকমত। এটিই সেই নূর যার দ্বারা চক্ষুষ্মানরা সত্য অবলোকন করে এবং সেই হিদায়াত যার মাধ্যমে পথপ্রাপ্তরা পরিচালিত হয়। এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য যা প্রতিটি রুগ্ন সত্তার জন্য মহৌষধ এবং সেই সরল পথ (صراط مستقيم), যার ওপর যে অবিচল থাকল সে মূলত সঠিক পথে চলল। এটিই চক্ষুর শীতলতা, হৃদয়ের জীবন এবং আত্মার স্বাদ। এর মাধ্যমেই জীবন, খোরাক, ওষুধ, নূর, নিরাময় এবং সুরক্ষা (عصمة) লাভ হয়। জগতের সকল কল্যাণ এটি থেকেই উৎসারিত এবং এর সাথে সুনির্দিষ্ট। আর জগতের সকল অপূর্ণতা হলো একে গ্রহণ না করার ফল। যদি এর সামান্যতম চিহ্নও অবশিষ্ট না থাকত, তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত এবং জগত গুটিয়ে যেত। এর মাধ্যমেই আল্লাহ আসমান ও জমিনকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করেন। যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুনিয়া ধ্বংস ও জগত গুটিয়ে ফেলার ইচ্ছা করবেন, তখন দ্বীনের অবশিষ্ট চিহ্নটুকুও তুলে নেবেন। সুতরাং দ্বীনই হলো সেই জীবনব্যবস্থা যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং এটিই ইহকাল ও পরকালের সাফল্য ও সৌভাগ্যের মূলকেন্দ্র।

জাতিসমূহের স্বাভাবিক নিয়ম হলো যে, প্রতিটি জাতি তাদের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে ব্যবহার করে, যা আল্লাহ তাদের দান করেছেন; কিন্তু বর্তমান মুসলিম বিশ্ব এর ব্যতিক্রম। এটি আজ অন্ধকার যুগের উত্তরাধিকার এবং ইউরোপীয় আন্দোলনের স্রোত থেকে আমদানিকৃত আধুনিক সংস্কৃতির এক সংমিশ্রণ। আমরা যেমনটি দেখেছি, এই সংমিশ্রণ কোনো পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা থেকে উৎসারিত হয়নি যা আমাদের নৈতিকতা ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, বরং এটি প্রাচীন কিছু অবশেষের সমষ্টি যা এখনও তার প্রাচীনত্বের ছাপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
ومستحدثات لم تتم تنقيتها، هذا التلفيق لعناصر من عصور مختلفة ومن ثقافات متتانية من أدنى غير ربط طبيعي أو منطقي يربط بينهما عالم متضارب منطوي على ألوان من التناقض والتنافر التي تجمعت وتراكمت في المسلمين اليوم لا هم شرقيون ولا هم غربيون، فهضم العناصر المستوردة يقتضي تميزا دقيقا وفكرا ناقدا يقظا محدد الشروط التي يلزم توافرها في الاستعمالات الضرورية أعني شروط توافقها وتفهمها ولياقتها، لقد وجد المجتمع الإسلامي الأول نسفه مرات كثيرة في مواجهة مشكلات من هذا النوع فحلها في كل مرة بطريقة واعية موفقة لا سيما حين حاول اختيار طريقة الدعوة إلى الصلاة، ففكر بعض الصحابة رضي الله عنهم، في الجرس، أو البوق، أو إشعال النار عند وقت الصلاة، ولكن النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته قد اختاروا بعد تفكر وتأمل طريقة أصيلة في النداء وهو صوت الإنسان فنشأت حينئذ وظيفة المؤذن وبذلك تحاشوا مشكلة استيراد الأجراس وغيرها (1).

وهناك عادات وتقاليد كثيرة أخدها العالم الإسلامي الأول، كانت بعد اختيار مشدد، واختيار بين وسيلة وأخرى وبين الطرق والأفكار، فالخطأ الذي وقع فيه المحدثون ودعاة الإصلاح اليوم ناتج على أن كليهما لم يتجه إلى مصدر إلهامه الحق، فالإصلاحيون لم يتجهوا حقيقة إلى أصول الفكر الإسلامي كما أن المحدثين لم يعمدوا إلى أصول الفكر الغربي. يجب على العالم الإسلامي في هذا العصر أن يوفق بين العلم والضمير وبين الأخلاق والصناعة وبين الطبيعة وما وراء الطبيعة ولو أنه سائر في الطريق إليها يجب على المسلمين اليوم أن يمضوا قدما في طريق البحث والتحقيق والاكتشاف حتى يصلوا إلى جانب رقيهم الفكري والمادي وكل أمة تتقاعد عن السباق في حلبة الفكر والتعمق في العلم تصاب مع انحطاطها العقلي بالتقهقر والاضمحلال المادي كذلك ولما كانت الغلبة نتيجة القوى، والهزيمة عاقبة الضعف فإن الأمم المتخلفة من الجهتين المعنوية والمادية كلها تهبط في دركات

--------------------------------------------

(1) الظاهرة القرآنية

এবং এমন সব নব্য উদ্ভাবন যা পরিশোধিত করা হয়নি; বিভিন্ন যুগের উপাদানের এই সংমিশ্রণ এবং পর্যায়ক্রমিক বিভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে কোনো স্বাভাবিক বা যৌক্তিক যোগসূত্র ছাড়াই যা যুক্ত হয়েছে। এটি একটি পরস্পরবিরোধী জগত, যা বর্তমান মুসলমানদের মধ্যে পুঞ্জীভূত ও স্তূপীকৃত বিচিত্র সব বৈপরীত্য ও অসঙ্গতিকে ধারণ করে আছে। তারা এখন না প্রাচ্যের, না প্রতীচ্যের। তাই আমদানিকৃত উপাদানগুলোকে আত্মস্থ করার জন্য প্রয়োজন সূক্ষ্ম স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং এক জাগ্রত সমালোচনামূলক চিন্তা, যা প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবশ্যিক শর্তসমূহ নির্ধারণ করবে—অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি তাদের মধ্যকার সামঞ্জস্য, অনুধাবন এবং যোগ্যতার শর্তাবলী। আদি ইসলামি সমাজ এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে বহুবার নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছে এবং প্রতিবারই অত্যন্ত সচেতন ও সফলভাবে তার সমাধান করেছে। বিশেষ করে যখন তারা সালাতের জন্য আহ্বানের পদ্ধতি নির্বাচনের চেষ্টা করেছিল। তখন কতিপয় সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঘণ্টা, শিঙা বা সালাতের সময় আগুন জ্বালানোর কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ গভীর চিন্তা ও ধ্যানের পর আহ্বানের একটি মৌলিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন, আর তা হলো মানুষের কণ্ঠস্বর। তখনই মুয়াজ্জিনের পদের উদ্ভব ঘটে এবং এর মাধ্যমে তারা ঘণ্টা বা অন্য কিছু আমদানির সমস্যা এড়িয়ে যান (১)।

সেখানে এমন অনেক রীতিনীতি ও ঐতিহ্য ছিল যা আদি ইসলামি বিশ্ব গ্রহণ করেছিল, তবে তা ছিল অত্যন্ত কঠোর বাছবিচারের পর এবং এক মাধ্যম ও অন্য মাধ্যমের মধ্যে কিংবা এক পথ ও অন্য চিন্তার মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার ফল। বর্তমানে আধুনিকতাপ্রয়াসী এবং সংস্কারবাদী দাঈদের ভুলের কারণ হলো তারা কেউই তাদের প্রকৃত অনুপ্রেরণার উৎসের দিকে ধাবিত হয়নি। সংস্কারবাদীরা প্রকৃতপক্ষে ইসলামি চিন্তাধারার মূলনীতির দিকে দৃষ্টি দেয়নি, ঠিক যেমন আধুনিকতাপ্রয়াসীগণ পশ্চিমা চিন্তাধারার মূল উৎসসমূহকে অবলম্বন করেনি। বর্তমান যুগে ইসলামি বিশ্বের উচিত বিজ্ঞান ও বিবেক, নৈতিকতা ও শিল্প এবং প্রকৃতি ও পরাবিদ্যার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। মুসলিম উম্মাহ যদিও সেই পথেই অগ্রসর হচ্ছে, তবুও আজকের মুসলমানদের গবেষণা, যাচাইকরণ (تحقيق) এবং আবিষ্কারের পথে আরও এগিয়ে যেতে হবে যাতে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। যে জাতিই চিন্তা-চেতনার প্রতিযোগিতার ময়দানে পিছিয়ে পড়ে এবং বিজ্ঞানের গভীরতা অর্জনে অনাগ্রহী হয়, তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অধঃপতনের সাথে সাথে বস্তুগত পশ্চাৎপদতা ও বিলুপ্তির শিকার হয়। যেহেতু বিজয় শক্তির পরিণাম এবং পরাজয় দুর্বলতার পরিণতি, তাই আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত—উভয় দিক থেকে পিছিয়ে পড়া জাতিসমূহ পতনের নিম্নস্তরে নিপতিত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-জাহিরতুল কুরআনিয়া
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
الضعف والفتور، وتصبح صالحة للعبودية وأكثرها استعدادا للخنوع، إن المسلمين يعانون اليوم من هذه العبودية المضاعفة، فبعضهم توجد فيهم العبودية بنوعيها جميعا، وفي البعض الآخر يقل فيه جانب العبودية السياسية وتوجد فيه جانب العبودية المعنوية، ومن سوء الحظ أنه ليست لهم على ظهر الأرض رقعة إسلامية. واحدة مستقلة تمام الاستقلال من الوجهتين السياسية والمعنوية (1).

ويعتبر المسلمون اليوم أن الحق هو ما عند الغرب، والباطل ما يعده الغرب باطلا، والقياس الصحيح للحق والصدق والآداب والأخلاق والإنسانية والتهذيب هو ما يقرره الغرب، ولذلك أصبحوا يقيسون العقيدة الإسلامية والإيمان بالله عز وجل، وأحكام الإسلام بمقياس الغرب، فكل ما يطابق منها مقياس الغرب يطمئنون إليه، أما ما لا يطابقه فيظنونه خطأ وباطلا.

وأن الغلبة والاستيلاء يقوم بنيانه في الحقيقة على الاجتهاد والتحقيق العلمي فكل أمة تسبق غيرها إليه تتولى قيادة العالم وزعامة الأمم وتستولي أفكارها على العقول، وأما الأمة التي تتخلف في هذا الطريق فلا تجد مناصا من اتباع الغير وتقليده إذ لا تبقى في أفكارها ومعتقداتها من القوة والأصالة ما يكسبها السيطرة على الأدهان فيجر فيها تيار الأفكار القوية والمعتقدات الراسخة التي تتقدم بها الأمة الباحثة المجتهدة، كان الفكر الإسلامي غالبا على أفكار النوع الإنساني بأجمعه وكل ما اتخذه الإسلام من المقياس للخير والشر والحسن والقبيح والخطأ والصحيح يكون مقياسا صحيحا عند جميع أهل الأرض.

كل الحضارات التي كانت على وجه الأرض ذابت بكل سهولة في الحضارة الغربية وتلونت بلونها بدون أن يقع بين هذه وتلك كبير احتكاك، ولكن المسلمين كانت حالهم غير حال تلك الأمم جميعا لأنهم حاملو حضارة مستقلة ذات دستور واضح متكامل شامل لجميع شعب الحياة الإنسانية من ناحيتي الفكر والعمل،

--------------------------------------------

(1) مالك بن النبي
দুর্বলতা ও শৈথিল্য দেখা দেয় এবং তা দাসত্বের উপযোগী হয়ে ওঠে এবং নতি স্বীকারের জন্য অধিকতর প্রস্তুত হয়। নিশ্চয়ই মুসলিমরা আজ এই দ্বিগুণ দাসত্বের যন্ত্রণায় ভুগছে। তাদের কারো কারো মধ্যে উভয় প্রকার দাসত্বই বিদ্যমান, আবার অন্য কারো মাঝে রাজনৈতিক দাসত্বের দিকটি কম থাকলেও আত্মিক দাসত্বের দিকটি বিদ্যমান রয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, পৃথিবীর বুকে এমন একটি ইসলামি ভূখণ্ডও নেই যা রাজনৈতিক ও আত্মিক উভয় দিক থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন (১)।

আজ মুসলিমরা মনে করে যে, সত্য (الحق) হলো তা-ই যা পাশ্চাত্যের নিকট রয়েছে, আর যা পাশ্চাত্য বাতিল বলে গণ্য করে তাই মিথ্যা (الباطل)। সত্য, সততা, আদব, আখলাক, মানবতা ও সংস্কৃতির সঠিক (الصحيح) মানদণ্ড হলো তা-ই যা পাশ্চাত্য নির্ধারণ করে। আর একারণেই তারা ইসলামি আকিদা (العقيدة) ও মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান (الإيمان) এবং ইসলামের বিধানসমূহকে পাশ্চাত্যের মানদণ্ডে বিচার করতে শুরু করেছে। ফলে যা কিছু পাশ্চাত্যের মানদণ্ডের সাথে মিলে যায় তাতেই তারা আশ্বস্ত হয়, আর যা তার সাথে মেলে না সেটিকে তারা ভুল (خطأ) ও মিথ্যা (الباطل) বলে ধারণা করে।

প্রকৃতপক্ষে বিজয় ও আধিপত্যের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের (التحقيق العلمي) ওপর। অতএব যে জাতি এই পথে অন্যের চেয়ে এগিয়ে যায়, তারাই বিশ্ব নেতৃত্ব ও জাতিসমূহের নেতৃত্ব গ্রহণ করে এবং তাদের চিন্তাধারা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির ওপর জয়ী হয়। আর যে জাতি এই পথে পিছিয়ে পড়ে, তাদের জন্য অন্যকে অনুসরণ ও অনুকরণ করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। কারণ তাদের চিন্তাধারা ও বিশ্বাসের মাঝে এমন কোনো শক্তি ও মৌলিকত্ব অবশিষ্ট থাকে না যা দিয়ে তারা মানুষের মন জয় করতে পারে। ফলে গবেষক ও মুজতাহিদ (المجتهدة) জাতি যে শক্তিশালী চিন্তাধারা ও সুদৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে এগিয়ে যায়, তার স্রোতে তারা ভেসে যায়। একসময় ইসলামি চিন্তা সমগ্র মানবজাতির চিন্তাধারার ওপর প্রবল ছিল এবং ইসলাম ভালো-মন্দ, সৌন্দর্য-কদর্য এবং ভুল (الخطأ) ও সঠিকের (الصحيح) যে মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল, তা বিশ্বের সকল মানুষের কাছে সঠিক (الصحيح) মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হতো।

পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান সকল সভ্যতা অতি সহজেই পাশ্চাত্য সভ্যতায় বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং বড় কোনো সংঘাত ছাড়াই তাদের রঙে রঞ্জিত হয়েছে। কিন্তু মুসলিমদের অবস্থা সেই সকল জাতির মতো ছিল না, কারণ তারা এমন এক স্বতন্ত্র সভ্যতার ধারক যার রয়েছে একটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সংবিধান, যা চিন্তা ও কর্মের দিক থেকে মানবজীবনের সকল শাখাকে পরিব্যপ্ত করে।

--------------------------------------------

(১) মালিক বিন নবী
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
تختلف اختلافا كليا عن مبادئ الحضارة الغربية فكانت بطبيعة الحال - أن هاتين الحضارتين تتزاحمان في كل مجال.

وتصطدمان على كل صعيد، ولا يزال هذا الصدام قائما بين القوتين إلى هذا اليوم، يؤثر في كل شعبة من شعب حياة المسلمين العلمية والعقائدية أسوأ الآثار.

من القواعد الكلية التي أثبتها القرآن، أن الله تعالى {لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} حتى يهلك أمة بلا سبب، وهي تعمل صالحا {وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ} (1)، وليس المراد بهذا الهلاك أن تنقلب الأرض على أهلها، بل تتشتت الأمم وتكسر قوتها الاجتماعية، وتضرب عليها الذلة والعبودية والخزي، وحسب القاعدة القرآنية لا يصيب هذا العذاب أمة من الأمم إلا إذا تركت منهج الخير والصلاح، وأخذت تسلك مناهج الشر والفساد، والعتو والطغيان وبذلك ظلمت نفسها بنفسها، وأن الله ما ذكر أمة أصيبت بعذاب إلا وذكر جريمتها ثباتا لتلك القاعدة القرآنية حتى يتبين للناس أن وبال أعمالهم السيئة هو الذي يفسد دنياهم وآخرتهم {فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا} سورة العنكبوت، ولا يكون هو الفساد الفردي بل هو الفساد الجماعي فالعناية الإلهية هي التي تتصرف في هذه الأمة، ويبدأ المجتمع الفاسد في الهبوط من علياء عزه إلى درك الهوان حتى تحين الساعة التي يهيج فيها غضب الله فيدمرها تدميرا هذا هو سبب الهلاك، إذا أراد المسلمون أن يكون لهم نصر مؤزر وغير هزيل، ومصحوب بالدوام والاستمرار فيحافظوا على الإسلام، وعلى ما جاء به من الوحدة وغيرها، لأن توجيهات القرآن وإرشاداته صريحة في هذا المعنى، ومن خلال انتصار المسلمين في الماضي كانت موافقة لما أمر به القرآن الكريم رغم نقصهم في العدة والعدد، لأن هذه الانتصارات الرائعة التي وقعت للمسلمين على أعدائهم سواء كانت في الماضي

--------------------------------------------

(1) سورة هود عليه السلام
पश्चিমা সভ্যতার মূলনীতির সাথে এটি সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন, তাই স্বাভাবিকভাবেই এই দুই সভ্যতা প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

এবং প্রতিটি স্তরে তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই দুই শক্তির মধ্যকার এই সংঘাত আজও বিদ্যমান, যা মুসলমানদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আকিদাগত জীবনের প্রতিটি শাখায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কুরআনের প্রতিষ্ঠিত একটি সর্বজনীন মূলনীতি হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর {বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারকারী নন} যে কোনো কারণ ছাড়াই কোনো জাতিকে ধ্বংস করবেন অথচ তারা সৎকর্মশীল, {আর আপনার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে কোনো জনপদকে ধ্বংস করে দেবেন অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী} (১)। আর এই ধ্বংসের অর্থ কেবল যমীন তার অধিবাসীদের ওপর উল্টে যাওয়া নয়, বরং এর অর্থ হলো জাতিসমূহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া, তাদের সামাজিক শক্তি ভেঙে পড়া এবং তাদের ওপর লাঞ্ছনা, দাসত্ব ও অবমাননা চেপে বসা। কুরআন নির্দেশিত মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো জাতির ওপর এই আযাব ততক্ষণ আপতিত হয় না যতক্ষণ না তারা কল্যাণ ও সংস্কারের পথ ত্যাগ করে এবং মন্দ, বিপর্যয়, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের পথ অনুসরণ করতে শুরু করে; আর এভাবেই তারা নিজেরা নিজেদের ওপর জুলুম করে। আর আল্লাহ যে কোনো জাতির আযাবে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তার সাথে অবশ্যই তাদের অপরাধের কথাও বর্ণনা করেছেন যাতে কুরআনের সেই মূলনীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তাদের মন্দ কর্মের অশুভ পরিণতিই তাদের দুনিয়া ও আখেরাতকে ধ্বংস করে দেয়। {অতঃপর আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি; তাদের কারো প্রতি আমি পাঠিয়েছি পাথরকুঁচিসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে আঘাত করেছে মহানাদ, কাউকে আমি যমীনে ধসিয়ে দিয়েছি এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত} (সূরা আল-আনকাবুত)। এটি কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিপর্যয় নয় বরং এটি হলো সামষ্টিক বিপর্যয়। সুতরাং ঐশ্বরিক পরিচালনা এই জাতির ওপর কার্যকর থাকে এবং যখন কোনো কলুষিত সমাজ তার সম্মানের উচ্চশিখর থেকে লাঞ্ছনার অতল গহ্বরে পতিত হতে শুরু করে, তখন এমন এক সময় আসে যখন আল্লাহর ক্রোধ প্রজ্জ্বলিত হয় এবং তিনি তাকে সমূলে ধ্বংস করে দেন। এটিই হলো ধ্বংসের কারণ। মুসলমানরা যদি চায় যে তাদের বিজয় হোক সুদৃঢ় ও শক্তিশালী এবং তা হোক স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন, তবে তাদের উচিত ইসলামকে এবং এর বর্ণিত ঐক্য ও অন্যান্য বিষয়গুলোকে আঁকড়ে ধরা। কারণ কুরআনের দিকনির্দেশনা ও উপদেশসমূহ এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট। অতীতে মুসলমানদের বিজয়ের ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সমরাস্ত্র ও লোকবলের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও তা ছিল পবিত্র কুরআনের নির্দেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা শত্রুদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের অর্জিত এই গৌরবময় বিজয়সমূহ, চাই তা অতীতে হোক...

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ আলাইহিস সালাম
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
أو الحاضر فهي وعد من الله للمسلمين إن هم داموا سائرين على خط الإسلام، فلا بد من تحقيق هذا الوعد قال: الله عز وجل: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (1) فما بال المسلمين لم ينتصروا عدة قرون وهم منهزمون، أترى أن الله يخلف وعده كلا.

… فالله سبحانه وتعالى يقول: {وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} (2) وإنما المسلمون نقضوا الشرط الذي شرطه الله عليهم في الآية المتقدمة.

إذا تركت الشعوب الإسلامية الدين بعيدا عن حياتها، كما هو الآن - في أوطان المسلمين، ولم تجعله أساسا لشؤونها، فإنها لن تستطيع أن تقوم بنهضة قوية وعندئذ لا يقدر أي مبدأ من المبادئ المستوردة أن يوحد بينها، فتنا بها عوامل الضعف والتخاذل والتفرقة، وهذا ما وقع في الماضي، وكان السبب في سقوطها فريسة بين أيدي أعدائها، ولازال هذا التفرق إلى الآن بكل أسف.

الأمة الإسلامية - في تاريخها الطويل العريض - لم تحارب أعداءها باسم أي مبدأ من المبادئ الوضعية، وإنما حاربت باسم الإسلام ولهذا كانت تخرج من المعارك ظافرة ومنتصرة.

ونأتي بمثال واحد - من بين الأمثلة الكثيرة - شاهدا على ذلك يلمسه كل من باشر ثورة الجزائر الكبرى، حين وصل الإيمان بالله عز وجل إلى قلوب الشباب عن طريق الدعوة فسرعان ما تناسى حظوظه الشخصية واتحد، وبرز يكافح ويناضل، ويجاهد في سبيل الله في كل مكان لاسترجاع كرامته المهدورة وحقوقه المهضومة. وسيادته المغصوبة ولو دعى باسم مبدأ آخر خلاف الإسلام لما لبى النداء أبدا، ولهذا ضرب

--------------------------------------------

(1) سورة النور

(2) الروم
অথবা বর্তমানের ক্ষেত্রে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য একটি অঙ্গীকার যদি তারা ইসলামের পথে অবিচল থাকে। সুতরাং এই অঙ্গীকার অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আল্লাহ আজযা ওয়া জাল্লা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান (إيمان) এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরিক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই পাপাচারী (فاسق)} (১)। তবে কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলমানদের কী হলো যে তারা বিজয়ী হতে পারল না এবং তারা পরাজিত অবস্থায় রয়েছে? আপনি কি মনে করেন যে আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন? কখনোই নয়।

… আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব} (২)। প্রকৃতপক্ষে মুসলমানরাই সেই শর্ত ভঙ্গ করেছে যা আল্লাহ পূর্বোক্ত আয়াতে তাদের ওপর আরোপ করেছিলেন।

যদি মুসলিম জাতিসমূহ তাদের জীবন থেকে দ্বীনকে দূরে সরিয়ে রাখে—যেমনটি বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে—এবং একে তাদের বিষয়াবলির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ না করে, তবে তারা শক্তিশালী কোনো জাগরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে না। তখন আমদানিকৃত কোনো মতাদর্শই তাদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করতে পারবে না, ফলে তাদের মধ্যে দুর্বলতা, সাহসহীনতা ও বিভক্তির কারণসমূহ জেঁকে বসবে। অতীতেও এটিই ঘটেছিল এবং এটিই ছিল শত্রুদের শিকারে পরিণত হয়ে তাদের পতনের কারণ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই বিভক্তি আজও বিদ্যমান।

মুসলিম উম্মাহ—তার দীর্ঘ ও বিস্তৃত ইতিহাসে—কোনো মানবরচিত মতাদর্শের নামে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি, বরং তারা ইসলামের নামেই লড়াই করেছে। আর এ কারণেই তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সফল ও বিজয়ী হয়ে ফিরে আসত।

আমরা এর সপক্ষে অনেক উদাহরণের মধ্য থেকে একটি উদাহরণ পেশ করছি যা আলজেরিয়ার মহান বিপ্লবে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই উপলব্ধি করেছেন। যখন দাওয়াত (دعوة)-এর মাধ্যমে তরুণদের অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান (إيمان) প্রবেশ করল, তখন তারা অত্যন্ত দ্রুত তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা ভুলে গেল এবং ঐক্যবদ্ধ হলো। তারা তাদের ভুলুণ্ঠিত মর্যাদা, আত্মসাৎকৃত অধিকার ও অপহৃত সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বত্র সংগ্রাম ও আল্লাহর পথে জিহাদ (جهاد) করার জন্য আত্মপ্রকাশ করল। যদি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো মতাদর্শের নামে তাদের আহ্বান করা হতো, তবে তারা কখনোই সেই ডাকে সাড়া দিত না। আর এ কারণেই...

--------------------------------------------

(১) সুরা আন-নূর

(২) আর-রূম
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
الأمثال الرائعة في الشجاعة والتضحية والفداء، فصمد في وجه أكبر قوة غاشمة، وهي قوة الغرب الطاغية المستبدة على شعوب العالم كما صمد أجداده من قبل في وجه الفرس والرومان.

ما هي إلا لحظات من لحظات الدهر الحاسمة، صبر فيها المجاهدون الأبرار حتى نزل النصر من عند الله، وتغيرت الأوضاع والمعالم، ولاذ الغاصبون بالفرار، ولم تغن عنهم قوتهم، ولا سلاحهم المتطور، بهذه العقيدة الربانية انتهى عهد الظلام بطلوع فجر صادق تتلألأ أشعته في الآفاق، .... كم كان يحمل جسم الأمة الإسلامية المثخن بالجراح من حصانة ومناعة ومقاومة على مر الأزمات والاحقاب، ولولا الإسلام لانقرضت هذه الأمة من الوجود كما انقرضت عاد وثمود في الزمن الغابر، وكيف تتقرض وهي من بقيت السلف الصالح، ومن حملة العقائد الصحيحة والمبادئ السامية .... كان قادة الثورة الجزائرية أيام حرب التحرير يحثون الشعب بصفة عامة والمجاهدين بصفة خاصة على تطبيق أوامر الإسلام والعمل بها واجتناب نواهيه، وكانوا يعاقبون كل من يتعد حدوده.

لقد أثار كفاح الجزائريين الهامدين ونيه النائمين والغافلين فكان المجاهد الجزائري حاضرا للعمل مهيأ للبذل والعطاء مستعدا للفداء مدربا على خوض المعارك معتزما الاستشهاد في سبيل الله حمل السلاح ومضى إلى ميادين القتال، فبدأ هجوماته على العدو بكلمة (الله أكبر) فكان النصر حليفه، لم يشهد العالم الإسلامي ثورة مسلمة مسلحة مثلها في العصور الأخيرة من عصور المسلمين أكثر ضحايا وأطول مدة لم تقتصر هذه الثورة على الجزائريين وحدهم، بل فتحت الطريق لشعوب آسيا وافريقيا لمحاربة الاستعمار الذي كان جاثما على صدرها ومند اندلاع الثورة في الجزائر، وهذه الشعوب تكافح وتناضل حتى تحررت نهائيا، ولما دعي الشعب الجزائري إلى الثورة، لم يعد كفاحهم هتافا
বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং জীবন উৎসর্গের চমৎকার উদাহরণ; তারা বৃহত্তম পৈশাচিক শক্তির সামনে অটল ছিল, যা বিশ্বের জাতিগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া পশ্চিমা স্বৈরশাসক ও অত্যাচারী শক্তি, ঠিক যেমন তাদের পূর্বপুরুষরা পূর্বে পারস্য ও রোমানদের বিরুদ্ধে অটল ছিল।

এটি ছিল সময়ের ইতিহাসের এমন কিছু চূড়ান্ত মুহূর্ত, যাতে পুণ্যবান মুজাহিদরা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য অবতীর্ণ হয়, এবং পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতা পরিবর্তিত হয়, আর দখলদাররা পলায়ন করে। তাদের শক্তি বা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র তাদের কোনো কাজে আসেনি। এই ঐশী আকিদার মাধ্যমে অন্ধকার যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং দিগন্তে সুবহে সাদিকের উদয় ঘটে যার আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। .... ক্ষতবিক্ষত মুসলিম উম্মাহর দেহ সংকট ও যুগের পর যুগ ধরে কতটা সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তি ধারণ করেছিল! ইসলাম না থাকলে এই উম্মাহ অস্তিত্ব থেকে বিলীন হয়ে যেত যেমনটি অতীত কালে আদ ও সামুদ জাতি বিলীন হয়ে গিয়েছিল। আর কেনই বা তারা বিলীন হবে, অথচ তারাই তো পুণ্যবান পূর্বসূরি (السلف الصالح) এর অবশিষ্টাংশ এবং বিশুদ্ধ (صحيح) আকিদা ও সুমহান আদর্শের বাহক। .... আলজেরীয় বিপ্লবের নেতারা স্বাধীনতা যুদ্ধের দিনগুলোতে সাধারণ জনগণকে এবং বিশেষ করে মুজাহিদদের ইসলামের আদেশসমূহ বাস্তবায়ন ও পালন করতে এবং এর নিষেধসমূহ বর্জন করতে উৎসাহিত করতেন। যারা এর সীমা লঙ্ঘন করত তারা তাদের শাস্তি দিতেন।

আলজেরীয়দের সংগ্রাম স্থবিরদের জাগিয়ে তুলেছিল এবং ঘুমন্ত ও উদাসীনদের সজাগ করেছিল। ফলে আলজেরীয় মুজাহিদ কর্মের জন্য উপস্থিত, উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত, আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত, যুদ্ধের ময়দানে লড়াইয়ের জন্য প্রশিক্ষিত এবং আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অগ্রসর হলেন এবং ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে শত্রুর ওপর আক্রমণ শুরু করলেন, ফলে বিজয় তার সঙ্গী হলো। মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন কোনো সশস্ত্র মুসলিম বিপ্লব দেখা যায়নি যা এত অধিক আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘস্থায়ী ছিল। এই বিপ্লব কেবল আলজেরীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি এশিয়া ও আফ্রিকার জাতিগোষ্ঠীর জন্য তাদের বুকের ওপর চেপে বসা উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। আলজেরিয়ায় বিপ্লব শুরু হওয়ার পর থেকে এই জাতিগুলো সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়েছে যতক্ষণ না তারা চূড়ান্তভাবে স্বাধীন হয়েছে। যখন আলজেরীয় জনগণকে বিপ্লবের ডাক দেওয়া হলো, তখন তাদের সংগ্রাম আর কেবল স্লগানে সীমাবদ্ধ থাকল না।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
وتصفيقا بل كان عملا وتضحية ولم يعد جهادهم دعاية وتهريجا، بل كان فداء واستشهادا. وتعذيبا وتنكيلا، هذه الثورة كلفت الشعب الجزائري ثمنا باهضا من التضحيات الجسيمة فسقط ما يربو عن مليون شهيد في الاشتباكات على مستوى الوطن، تحت قنابل المدافع والنبالم والطائرات وأزيز الرصاص وعلى أعواد المشانق وشفرات المقاصل وتحت الهدم، أما العذاب الذي أنزل على رأس الأمة الغالب لم ينجو منه أحد، والتخريب ودك الدور والمنازل وهتك الأعراض والشرف فحدث عن ذلك ولا حرج.

وامتازت مقاومة الجزائر لجيش الاحتلال الفرنسي ببطولة نادرة لم يكن هذا الاحتلال نزهة عسكرية كما يقولون، بل اصطدم بأناس أقوياء في إيمانهم صلب في عزائمهم لا كما كان يظن الاستعمار أنهم أناس متأخرون وهذا ما شهد به قائد الاحتلال (الجنرال بيجو) قال: (إن العرب كلهم أهل حرب وبأس يخوضون غمار الحروب من الشيخ الهرم البالغ من العمر ثمانين سنة إلى الطفل البالغ خمسة عشرة سنة) واعترف المؤرخون الفرنسيون بشخصية الجزائر المسلمة كوحدة قومية تنتمي إلى المجموعة الإسلامية، وهذا ما شهد به المؤرخ الفرنسي (لورد ليو) في كتابه الجزائر وتونس قال: (إن فرنسا استولت سنة 1930 على قطر عامر غني زرعا وذرعا يذود عن حوضه سكان عديدون يحبون الحرب ولا يعرفون للفشل ولا للملل معنى، إن هؤلاء السكان من جنس عريق استوطنوا افريقيا منذ زمن عتيق، توالت عليهم في هذا القطر قرون وأجيال، فهم أصحاب مدينة رائعة، يكونون هيئة اجتماعية منظمة، تتوفر فيها شروط الحياة والقوة، تعتز بوطنيتها كل اعتزاز، وبفضل أخلاقها وعاداتها ودياناتها، كانت تنفر من الاندماج إلى أي جنس ما، ومما يزيد في الطين بلة، هو دين هذا الجنس دين عزيز لا يغلب ولا يقهر، قوه دافعة جبارة يستمدها من بساطة مبادئه ووضوحها إلى غير ذلك من شهادة المؤرخين الأجانب.
এবং তালি বাজানো নয়, বরং তা ছিল কর্ম ও আত্মত্যাগ; তাদের জিহাদ কোনো নিছক প্রচার-প্রপাগান্ডা বা হট্টগোল ছিল না, বরং তা ছিল জীবন উৎসর্গ ও শাহাদাত লাভের সংগ্রাম। আর ছিল নির্যাতন ও লাঞ্ছনা; এই বিপ্লব আলজেরীয় জনগণের ওপর বিশাল আত্মত্যাগের এক চড়া মূল্য চাপিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে সারা দেশে সংঘর্ষের সময় কামানের গোলা, নাপাম বোমা, বিমান হামলা, বুলেটের গর্জন, ফাঁসির কাষ্ঠ, গিলোটিন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে দশ লক্ষেরও বেশি শহিদ প্রাণ হারিয়েছেন। আর জাতির ওপর যে আযাব নেমে এসেছিল, তা থেকে কেউই রেহাই পায়নি; ধ্বংসলীলা, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইজ্জত ও আব্রু লুণ্ঠনের কথা যত বলা যায় ততই কম।

ফরাসি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার প্রতিরোধ এক বিরল বীরত্বের মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করেছিল। এই দখলদারিত্ব তারা যেমনটা বলেছিল তেমন কোনো সামরিক প্রমোদভ্রমণ ছিল না, বরং তারা এমন সব মানুষের মুখোমুখি হয়েছিল যারা তাদের ঈমানে শক্তিশালী এবং সংকল্পে অটল ছিল; সাম্রাজ্যবাদীরা যেমনটা ভেবেছিল যে তারা এক অনগ্রসর জাতি, তারা মোটেও তেমন ছিল না। দখলদার বাহিনীর কমান্ডার (জেনারেল বিউজু) নিজেই এই সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: (নিশ্চয়ই আরবরা সবাই যুদ্ধ ও সাহসিকতার লোক, তারা যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যার মধ্যে আশি বছর বয়সী অতি বৃদ্ধ থেকে শুরু করে পনের বছর বয়সী কিশোরও অন্তর্ভুক্ত)। ফরাসি ইতিহাসবিদরা আলজেরিয়ার মুসলিম বৈশিষ্ট্যকে একটি জাতীয় একক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যা ইসলামী উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত। ফরাসি ইতিহাসবিদ (লর্ড লিও) তার আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া গ্রন্থে এ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: (নিশ্চয়ই ফ্রান্স ১৯৩০ সালে এমন একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করেছিল যা কৃষি ও গবাদি পশুতে ছিল পরিপুষ্ট, যেখানকার অসংখ্য অধিবাসী তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় সচেষ্ট ছিল, যারা যুদ্ধ ভালোবাসত এবং যাদের কাছে ব্যর্থতা বা অবসাদের কোনো অর্থ ছিল না। এই অধিবাসীরা এক প্রাচীন বংশের লোক যারা সুদূর অতীত থেকে আফ্রিকায় বসবাস করে আসছে; এই ভূখণ্ডে তাদের ওপর দিয়ে শতাব্দী ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে। তারা এক চমৎকার সভ্যতার অধিকারী এবং একটি সুসংগঠিত সামাজিক কাঠামো গঠন করে, যাতে জীবন ও শক্তির সকল শর্ত বিদ্যমান। তারা তাদের দেশপ্রেম নিয়ে পূর্ণ গর্ববোধ করত এবং তাদের নৈতিকতা, ঐতিহ্য ও ধর্মের প্রভাবে তারা অন্য কোনো জাতির সাথে বিলীন হওয়া অপছন্দ করত। পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন করে তুলল এই যে, এই জাতির ধর্ম একটি অপরাজেয় ধর্ম যা পরাজিত বা দমিত হয় না; এর মূলনীতির সরলতা ও স্বচ্ছতা থেকে এটি এক প্রবল চালিকাশক্তি লাভ করে)। এছাড়া অন্যান্য বিদেশী ঐতিহাসিকদের আরও সাক্ষ্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
كتبت عدة كتب عن الثورة الجزائرية، كان أكثر الكتاب غربيين من صحافيين ومؤلفين، تناولت بعض الأحداث الظاهرة في الثورة التي نجمت عنها. وعلى الحرب المدمرة وإبادة السكان وعلى العذاب والتنكيل، والقتل الجماعي الذى كان يستعمله الجيش الفرنسي، واندفاع الشعب الجزائري ومغامرته بحياته في هذه الحرب القذرة، وعلى المؤتمرات التي كانت تعقد في الشرق والغرب من أجل انتهائها، وعلى المناضل الجزائري وما كان يحمل بين طياته من شجاعة وعبقرية فذة، وصور إنسانية حية سليقة فيه، هذا كله تكلموا عنه لكنهم أهملوا العنصر الأساسي الذي قامت عليه الثورة، والذي أمدها بقوة غلابة وقادها حتى النصر النهائي، وسواء أكان ذلك عن قصد أم عن غير قصد؟ فالدين هو الذى كان سببا في جميع كلمة الأمة، وبعث فيها روح الجهاد والتضحية، وقادة الثورة جعلوه دستورا لها سارت عليه من بدايتها إلى نهايتها، ولولاه لما اجتمعت الأمة على مقاومة الاستعمار، والعالم كله يشهد بذلك، أفبعد هذا الانتصار الرائع يتنكر الشعب من بعد الاستقلال للإسلام ويتهمه بالرجعية وعدم مسايرته للتطور الحضاري؟ اللهم فإنها لا تعمى الأبصار ولكن تعمى القلوب التي في الصدور، ولما رأيت أن الكتاب عن الثورة لم يشيروا إلى الدين الذي هو عنصر فعال فيها لا من قريب ولا من بعيد، عزمت على أن أكتب على هذا الجانب الروحي الذي سرى تياره في هذه الأمة منذ زمن بعيد وما كادت تسمع صوته من الدعاة حتى صارت تتسابق إلى ميادين الجهاد - وإني أثبت الحقائق الناصعة في هذا الكتاب وأرفع الالتباس والغموض تحقيقا للواقع التاريخي، مبينا في ذلك للشعوب الإسلامية عامة وللشعوب العربية خاصة وموضحا للأجيال الصاعدة أنهم إذا حادوا عن الإسلام، ولم يجعلوه أساسا لحياتهم لم يكتب لهم النصر والتوفيق أبدا في هذا الوجود، ويبقوا تابعين لا متبوعين …
আলজেরীয় বিপ্লব সম্পর্কে বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার অধিকাংশ লেখকই ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিকসহ পশ্চিমা ব্যক্তিবর্গ। এসকল গ্রন্থে তারা বিপ্লবের ফলে উদ্ভূত কিছু বাহ্যিক ঘটনাবলী আলোচনা করেছেন। তাঁরা ফরাসি সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ, জনপদ নিধন, অকথ্য নির্যাতন ও নিপীড়ন এবং গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বর্ণনা করেছেন; সেইসাথে এই কলঙ্কিত যুদ্ধে আলজেরীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও জীবন বাজি রাখার দুঃসাহসিকতার কথা তুলে ধরেছেন। এছাড়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে আয়োজিত বিভিন্ন সম্মেলন এবং আলজেরীয় যোদ্ধাদের অতুলনীয় সাহস, বিরল মেধা ও তাদের মজ্জাগত জীবন্ত মানবিক গুণাবলীর চিত্রও এতে উঠে এসেছে। তাঁরা এসকল বিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা করলেও সেই মূল উপাদানটিকে উপেক্ষা করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, যা বিপ্লবকে এক অজেয় শক্তি যুগিয়েছিল এবং চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারে পৌঁছে দিয়েছিল। এ উপেক্ষা কি সচেতনভাবে করা হয়েছে নাকি অবচেতনভাবে? প্রকৃতপক্ষে ইসলামই ছিল জাতির ঐক্যের মূল কারণ এবং এটিই তাদের মধ্যে জিহাদ (جهاد) ও আত্মত্যাগের চেতনা জাগ্রত করেছিল। বিপ্লবের নেতৃবৃন্দ ইসলামকেই বিপ্লবের মূলনীতি বা দস্তুর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যার ওপর ভিত্তি করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিপ্লব পরিচালিত হয়েছিল। ইসলাম না থাকলে এই জাতি উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে পারত না এবং সমগ্র বিশ্ব এর সাক্ষ্য দেয়। এই বিস্ময়কর বিজয়ের পর স্বাধীনতার উত্তরকালে জনগণ কি ইসলামের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং একে পশ্চাদপদতা ও আধুনিক সভ্যতার সাথে তাল মেলাতে অক্ষম বলে অভিযুক্ত করবে? হে আল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে মানুষের চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত অন্তরসমূহ অন্ধ হয়ে যায়। যখন আমি দেখলাম যে, এই বিপ্লব সম্পর্কে রচিত গ্রন্থসমূহে লেখকগণ দ্বীন বা ধর্মের প্রতি সামান্যতম ইঙ্গিতও করেননি—যা ছিল বিপ্লবের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর অনুষঙ্গ—তখন আমি এই আধ্যাত্মিক দিকটি নিয়ে লেখার সংকল্প করলাম, যার প্রভাব দীর্ঘকাল ধরে এই জাতির হৃদয়ে প্রবাহমান ছিল। দাঈদের (دعاة) মুখে এই দ্বীনের আহ্বান শোনার সাথে সাথেই তারা জিহাদের (جهاد) ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় মেতে উঠত। আমি এই গ্রন্থে ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে স্বচ্ছ সত্যসমূহ প্রতিষ্ঠিত করছি এবং সকল অস্পষ্টতা ও সংশয় দূর করছি। এর মাধ্যমে আমি সাধারণভাবে মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষভাবে আরব জাতিসমূহের নিকট সত্য প্রকাশ করছি এবং উদীয়মান প্রজন্মের সামনে সুস্পষ্ট করছি যে, তারা যদি ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয় এবং একে নিজেদের জীবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ না করে, তবে এই পৃথিবীতে তাদের জন্য কখনও বিজয় ও সফলতা অবধারিত হবে না; বরং তারা সর্বদা অন্যের অনুসারী হয়েই থাকবে, অনুসরণীয় হতে পারবে না …
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
أشرت في هذا الكتاب إلى الخلاف المستحكم الحلقات بين المسلمين والأنانية الطاغية في بعض الأفراد - ولا سيما الحكام - حتى عصفت بما كان لهم من تسامح وعدالة ووحدة.

وبدأ هذا الخلاف من بعد ما التحق صاحب الرسالة صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى.

ومن بعد ذلك قامت الأحزاب والفرق التي نجمت من بعد حياة الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين - والكوارث التي أصابت المسلمين - سواء كانت داخلية أو خارجية هي التي كانت سببا في سقوط الخلافة الشرعية ومن بعدها هبت المحن على العالم الإسلامي، فتفرق شر مذر لأنه ترك الحبل الذي كان يربطه ومن ذلك الحين لم يكن للمسلمين وحدة إلى الآن، وأصبحوا يخرجون من سيء إلى أسوأ.

وأشرت إلى حرب الأمير عبد القادر مع الجيش الفرنسي والثوارات التي وقعت في عهد الاستعمار إلى ثورة 1954م، وكذلك ثورة العالم الإسلامي إشارة عابرة، لأن الذى يكتب عن الثورة الجزائرية لا يستطيع أن يفصلها عنه بحكم الروابط الدينية والتاريخية والمصيرية والحضارية.

وأشرت إلى الأسباب التي قامت عليها ثورة الجزائر الكبرى، وهي: الأحزاب الوطنية، والهيئات الدينية. كانت تبث الوعي الديني والوطني فاستجاب الشعب إلى هذا الوعي. وصمد في وجه قوة الغرب، وغالب الجزء الأول من هذا الكتاب عرض تاريخي للحوادث الكبرى التي انتابت المسلمين وجعلتهم طوائف متناحرة ودولا متحاربة حتى ضعفوا وفشلوا. فطمع فيهم أعداؤهم فأصبحوا تحت رحمتهم بسبب تفكك وحدتهم وتفرق كلمتهم لأنهم خالفوا الإسلام الذي يأمرهم بالاعتصام بحبل الله جميعا ولا يتفرقوا.
এই গ্রন্থে আমি মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান সুগভীর মতভেদ এবং কিছু ব্যক্তির—বিশেষ করে শাসকদের—প্রবল স্বার্থপরতার প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যা তাদের সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও ঐক্যকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

আর এই মতভেদের সূচনা হয়েছিল রিসালাতের অধিকারী (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান রফিকের (আল্লাহর) সাথে মিলিত হওয়ার পর থেকে।

এরপর সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর জীবনাবসানের পর বিভিন্ন দল ও উপদলের সৃষ্টি হয়। মুসলমানদের ওপর আপতিত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিপর্যয়গুলোই ছিল শরয়ী খিলাফতের পতনের কারণ। এরপর মুসলিম বিশ্বে ফিতনা ও পরীক্ষার ঝড় বয়ে যায়, ফলে তারা চরমভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কারণ তারা সেই রজ্জুকে ছিন্ন করেছিল যা তাদের ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছিল। তখন থেকে এখন পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই এবং তারা দিন দিন খারাপ থেকে আরও খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আমি ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে আমির আব্দুল কাদিরের যুদ্ধ এবং ঔপনিবেশিক যুগে সংঘটিত বিপ্লবসমূহ থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের বিপ্লব পর্যন্ত আলোচনা করেছি। সেই সাথে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিপ্লবের প্রতিও সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত করেছি। কেননা আলজেরীয় বিপ্লব সম্পর্কে যিনি লিখবেন, তিনি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক, ভাগ্যলব্ধ ও সভ্যতার সম্পর্কের কারণে একে মুসলিম বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেন না।

আলজেরিয়ার মহান বিপ্লবের কারণগুলোর প্রতিও আমি ইঙ্গিত করেছি, যা হলো: জাতীয়তাবাদী দলসমূহ এবং ধর্মীয় সংস্থাসমূহ। তারা ধর্মীয় ও জাতীয় সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছিল এবং জনগণ সেই জাগরণে সাড়া দিয়েছিল। তারা পশ্চিমা শক্তির মোকাবিলায় অটল ছিল। এই গ্রন্থের প্রথম অংশের অধিকাংশ হলো মুসলমানদের ওপর আপতিত সেই বড় বড় ঘটনাপ্রবাহের ঐতিহাসিক উপস্থাপন, যা তাদের পরস্পরবিরোধী উপদল ও যুদ্ধরত রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল; এমনকি তারা দুর্বল ও ব্যর্থ হয়ে পড়ে। ফলে তাদের শত্রুরা তাদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয় এবং তাদের ঐক্যের ফাটল ও সংহতির অভাবের কারণে তারা শত্রুদের করুণার পাত্রে পরিণত হয়। কারণ তারা ইসলামের সেই আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল যা তাদের আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধারণ করার এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হওয়ার নির্দেশ দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
من هنا يجب أن يعتبر المسلمون بالماضي القريب والبعيد ليتداركوا أخطاءهم، ويلطفوا من أنانيتهم وعداوتهم لبعضهم بعضا ويلتفوا حول الدين الحنيف حتى يصبحوا أمة قوية مرهوبة الجانب تقف في وجه أعدائها المتكالبين عليها من كل ناحية {إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ} (1).

لأن المسلمين عندما يتنكرون للإسلام، ويتحللون من أوامره وأخلاقه يفشوا فيهم الضعف عن المقاومة والتخاذل فيما بينهم والترف الممقوت، فيعرضون أنفسهم وشعوبهم إلى احتلال أوطانهما من طرف أعدائهم.

وذكرت بعض التعاليم الإسلامية لتكون حجة للمناوئين لها فكل من يعارض الإسلام لا يعرف مبادئه، ولا درسه دراسة واسعة حتى يتمكن من معرفة حقائقه، وسميته ـ[الاعتصام بالإسلام]ـ.

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء
এখান থেকে মুসলমানদের উচিত নিকট ও দূর অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, যাতে তারা নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করতে পারে এবং নিজেদের স্বার্থপরতা ও পারস্পরিক শত্রুতা পরিহার করে একনিষ্ঠ দ্বীনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে; যেন তারা একটি শক্তিশালী ও সমীহ জাগানিয়া জাতিতে পরিণত হয়, যারা চতুর্দিক থেকে হিংস্রভাবে ধাবমান শত্রুদের মোকাবিলা করবে। "নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত আর আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।" (১)।

কারণ মুসলমানরা যখন ইসলামকে বর্জন করে এবং এর নির্দেশাবলী ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হয়, তখন তাদের মধ্যে প্রতিরোধের দুর্বলতা, পারস্পরিক অসহযোগিতা এবং ঘৃণ্য বিলাসিতা ছড়িয়ে পড়ে; ফলে তারা নিজেদের এবং তাদের জাতিসমূহকে শত্রুদের মাধ্যমে স্বদেশ দখলের মুখে ঠেলে দেয়।

আমি কিছু ইসলামি শিক্ষা উল্লেখ করেছি যাতে তা বিরোধীদের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে গণ্য হয়; কেননা যারা ইসলামের বিরোধিতা করে তারা না এর মূলনীতিগুলো জানে, না একে নিয়ে কোনো ব্যাপক ও গভীর অধ্যয়ন করেছে যাতে এর প্রকৃত সত্যগুলো অবগত হতে পারে। আমি কিতাবটির নামকরণ করেছি — [আল-ইতিসাম বিল ইসলাম] —।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الإيمان بالله عز وجل صنع رجالا

كانوا أغمارا في الجاهلية فأصبحوا سادة العالم

بعث محمد صلى الله عليه وسلم، والعالم مبعثر ومشتت كل شيء فيه، فهو في غير محله، نظر محمد صلى الله عليه وسلم إلى الناس فرأى كل واحد هانت عليه نفسه رآه يسجد للحجر والشجر والنهر، وكل ما لا يملك لنفسه النفع والضر، كان الناس يتحاكمون إلى قانون الغاب، رأى مجتمعا كل شيء فيه في غير شكله، أصبح المجرم فيه سعيدا، والصالح شقيا، لا أنكر في هذا المجتمع من المعروف، ولا أعرف من المنكر. ورأى عادات فاسدة تستعجل فناء البشرية وتسوقها إلى هوة الهلال ورأى معاقرة الخمر إلى حد الإدمان، والخلاعة، والفجور الى حد الاستهتار، وتعاطى الربا الى حد الاغتصاب، واستلاب الأموال، ورأى الطمع وشهوة المال الى حد الجشع والنهامة ورأى القسوة والظلم الى حد الوأد وقتل الاولاد، ورأى ملوكا اتخذوا بلاد الله دولا، وعباد الله خولا، ورأى أحبارا ورهبانا أصبحوا أربابا من دون الله يأكلون أموال الناس بالباطل ويصدون عن سبيل الله.

رأى المواهب البشرية ضائعة لم ينتفع بها أحد، ولم توجه التوجيه الصحيح، فعادت وبالا على الانسانية، فقد تحولت الشجاعة فتكا وهمجية، والجود تبذيرا وإسرافا، والانفة حمية جاهلية والذكاء شطارة وخديعة والعقل وسيلة لابتكار الجنايات، والابداع في ارضاء الشهوات رأى هذا كله وأكثر منه في بيئته الخاصة وفي العالم، ولم يكن الرسول صلى الله عليه وسلم رجلا اقليميا أو زعيما وطنيا، أو مصلحا لناحية من نواحي المجتمع اذ مجال العمل في بلاد العرب فسيح، لو كان رجلا إقليميا لسار في قومه سيرة القادة السياسيين والزعماء الوطنيين، ولكنه صلى الله عليه وسلم لم يبعث لينسخ باطلا بباطل ويبدل عدوانا بعدوان، ويحرم شيئا في مكان ويحله في مكان آخر، لم يبعث زعيما وطنيا، أو قائدا سياسيا، وإنما أرسل الى الناس كافة بشيرا ونذيرا وداعيا الى الله بإذنه وسراجا منيرا وأرسل ليخرج عباد الله جميعا
‌‌মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান একদল আদর্শ মানুষ তৈরি করেছিল

জাহিলিয়্যাত যুগে যারা ছিল অখ্যাত, ঈমানের পরশে তারাই হয়েছিল বিশ্বের পথপ্রদর্শক

মুহাম্মদ (সা.) এমন এক সময়ে প্রেরিত হয়েছিলেন যখন পৃথিবী ছিল ছিন্নভিন্ন এবং সবকিছু ছিল বিশৃঙ্খল; প্রতিটি বিষয়ই তার আপন স্থান থেকে বিচ্যুত ছিল। মুহাম্মদ (সা.) মানুষের অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখলেন যে, প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাছেই তুচ্ছ হয়ে গেছে। তিনি দেখলেন মানুষ পাথর, গাছপালা ও নদীর সামনে সিজদা করছে—এমন সবকিছুর উপাসনা করছে যা নিজের উপকার বা ক্ষতি করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখে না। মানুষ তখন জংলি আইনের মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করত। তিনি এমন এক সমাজ দেখলেন যেখানে সবকিছুই তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে; সেখানে অপরাধীরা ছিল সুখী আর পুণ্যবানরা ছিল দুর্ভাগা। সেই সমাজে প্রচলিত কোনো সৎকাজেরই স্বীকৃতি ছিল না এবং বর্জনীয় (منكر) কাজের ক্ষেত্রেও কারো কোনো আপত্তি ছিল না। তিনি এমন কিছু কলুষিত প্রথা দেখলেন যা মানবজাতির বিনাশকে ত্বরান্বিত করছিল এবং তাদের ধ্বংসের গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। তিনি আসক্তি পর্যন্ত মদ্যপান, চরম নির্লজ্জতা এবং বেপরোয়া পাপাচার প্রত্যক্ষ করলেন। সুদের কারবারের মাধ্যমে সম্পদ লুণ্ঠন ও জবরদখল দেখলেন। তিনি সম্পদের প্রতি এমন মোহ ও লালসা দেখলেন যা মানুষকে অতিভোজী ও লোভী করে তুলেছিল। তিনি কন্যাসন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত করা ও হত্যার মতো নিষ্ঠুরতা ও জুলুম দেখলেন। তিনি এমন সব রাজা দেখলেন যারা আল্লাহর জমিনকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং আল্লাহর বান্দাদের নিজেদের দাসে পরিণত করেছিল। তিনি এমন সব ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসী দেখলেন যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেরাই রবে পরিণত হয়েছিল; তারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করত এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দিত।

তিনি দেখলেন মানুষের মেধা ও প্রতিভা অপচয় হচ্ছে, যা থেকে কেউ উপকৃত হচ্ছে না এবং সেগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করা হচ্ছে না, ফলে তা মানবতার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাহস তখন রক্তপাত ও বর্বরতায়, দানশীলতা অপব্যয় ও অপচয়ে, আত্মমর্যাদা জাহিলিয়্যাতের গোঁড়ামিতে, বুদ্ধিমত্তা ধূর্ততা ও প্রতারণায় এবং বিবেক-বুদ্ধি নতুন নতুন অপরাধ উদ্ভাবন ও কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উপায়ে পরিণত হয়েছিল। তিনি নিজের বিশেষ পরিবেশে এবং গোটা বিশ্বে এই সমস্ত বিষয় এবং এর চেয়েও ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো আঞ্চলিক ব্যক্তি, জাতীয়তাবাদী নেতা কিংবা সমাজের কেবল একটি দিকের সংস্কারক ছিলেন না; যদিও আরব ভূখণ্ডে কাজের ক্ষেত্র ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত। তিনি যদি কেবল একজন আঞ্চলিক নেতা হতেন, তবে তিনি তাঁর জাতির মাঝে প্রচলিত রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী নেতাদের মতো পথ অনুসরণ করতেন। কিন্তু তিনি (সা.) কোনো বাতিলকে অন্য বাতিল দ্বারা পরিবর্তন করতে কিংবা এক জুলুমের বদলে অন্য জুলুম প্রতিস্থাপন করতে প্রেরিত হননি। তিনি এক স্থানে কিছু হারাম করে অন্য স্থানে তা হালাল করার জন্যও আসেননি। তিনি কোনো জাতীয়তাবাদী নেতা বা রাজনৈতিক সেনাপতি হিসেবে প্রেরিত হননি; বরং তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁকে পাঠানো হয়েছিল যাতে তিনি আল্লাহর সকল বান্দাকে ভ্রান্তির পথ থেকে বের করে আনতে পারেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
من عبادة العباد الى عبادة الله وحده ويخرج الناس جميعا من ضيق الدنيا الى سعتها ومن جور الاديان الى عدل الاسلام {يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} (1) فلم يكن خطابه لأمة دون أمة ووطن دون وطن، ولكن كان خطابه للنفس البشرية والمصير الإنساني، وكانت أم القرى لموقعها الجغرافي واستقلالها السياسي خير مركز لرسالته وكانت الأمة العربية بخصائصها النفسية ومزاياها الأدبية خير محل لدعوته وخير داعية لرسالته.

لم يكن صلى الله عليه وسلم من عامة المصلحين فحسب، بل أتى بالإصلاح الشامل لجميع نواحي الانسانية، أتى بالإيمان بالله وحده، ورفض الأوثان والشرك والكفر والطاغوت والظلم والبغي بكل معانى الكلمة، وقام في القوم ينادى (أيها الناس قولوا لا إله إلا الله تفلحوا) ودعاهم إلى الايمان برسالته والايمان باليوم الآخر.

أدرك عباد الاوثان والشهوة والمادة عندما قرع أسماعهم صوت النبي صلى الله عليه وسلم أن دعوته الى الايمان بالله وحده سهم مسدد الى كبد الجاهلية، فقامت قيامتها ودافعت عن تراثها، وقاتلت في سبيلها قتال المستميت {وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوا وَاصْبِرُوا عَلَى آلِهَتِكُمْ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ يُرَادُ} (1) ووجد كل واحد من هذا المجتمع الجاهلي نفسه مهددة، وحياته في خطر، وهنا وقع ما تحدث عنه التاريخ من حوادث الاضطهاد والتعذيب، وكان ذلك آية للنبي صلى الله عليه وسلم لأنه أصاب الغرض، وضرب على الوتر الحساس، وأصاب الكفر في صميمه، وثبت النبي صلى الله عليه وسلم على دعوته ثبوتا دونه ثبوت الراسيات لا يثنيه أذى ولا يلويه كيد ولا يلتفت الى اغراء مكث صلى الله عليه وسلم ثلاثة عشر حجة يدعو الى الله وحده، والايمان برسالته واليوم الآخر لا يكنى ولا يلوح ولا يلين، ولا يستكين، ولا يحابى. ولا يداهن ويرى في ذلك دواء لكل داء.

--------------------------------------------

(1) الأعراف
বান্দার ইবাদত হতে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে এবং সকল মানুষকে দুনিয়ার সংকীর্ণতা হতে তার প্রশস্ততার দিকে এবং ধর্মসমূহের জুলুম হতে ইসলামের ইনসাফের দিকে বের করে আনার জন্য। {তিনি তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করেন, আর তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের ওপর হারাম করেন, আর তাদের ওপর থেকে তাদের বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর ছিল} (১)। সুতরাং তাঁর সম্বোধন কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য অন্য জাতির পরিবর্তে বা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য অন্য ভূখণ্ডের পরিবর্তে ছিল না, বরং তাঁর সম্বোধন ছিল মানবসত্তা ও মানবিক পরিণতির প্রতি। আর উম্মুল কুরা তার ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কারণে তাঁর রিসালতের জন্য সর্বোত্তম কেন্দ্র ছিল এবং আরব জাতি তাদের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর দাওয়াতের জন্য সর্বোত্তম ক্ষেত্র এবং তাঁর রিসালতের সর্বোত্তম প্রচারক ছিল।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল সাধারণ সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি মানবতার সকল দিকের জন্য এক ব্যাপক সংস্কার নিয়ে এসেছিলেন। তিনি একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান নিয়ে এসেছিলেন এবং মূর্তিপূজা, শিরক, কুফর, তাগুত, জুলুম ও অন্যায়কে শব্দের প্রতিটি অর্থে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি কওমের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন: (হে লোকসকল, তোমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো, তবেই তোমরা সফল হবে) এবং তাদের তাঁর রিসালতের প্রতি ঈমান ও পরকালের প্রতি ঈমানের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মূর্তি, প্রবৃত্তি ও বস্তুবাদের উপাসকরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, তখন তারা উপলব্ধি করল যে, একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমানের দিকে তাঁর এই আহ্বান জাহিলিয়াতের হৃদয়ে বিদ্ধ একটি অব্যর্থ তীর। ফলে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল এবং তাদের ঐতিহ্যের পক্ষ নিল এবং এর জন্য মরণপণ লড়াই করল। {তাদের মধ্যকার প্রধানরা এই বলে প্রস্থান করল যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের ওপর অবিচল থাকো; নিশ্চয়ই এটি এমন কিছু যা চাওয়া হচ্ছে} (১)। এই জাহেলি সমাজের প্রত্যেকেই নিজেকে হুমকির মুখে এবং নিজের জীবনকে বিপন্ন মনে করল। আর এখানেই ইতিহাসের সেই নিগ্রহ ও নির্যাতনের ঘটনাবলী সংঘটিত হলো যা নিয়ে ইতিহাস আলোচনা করে। এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি নিদর্শন, কারণ তিনি মূল লক্ষ্যে আঘাত করেছিলেন, স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করেছিলেন এবং কুফরের মূলে আঘাত হেনেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াতের ওপর পাহাড়ের মতো অটল রইলেন; কোনো কষ্ট তাঁকে দমাতে পারেনি, কোনো চক্রান্ত তাঁকে বিচ্যুত করতে পারেনি এবং কোনো প্রলোভন তাঁকে আকর্ষণ করতে পারেনি। তিনি তেরো বছর একমাত্র আল্লাহর দিকে, তাঁর রিসালতের প্রতি ঈমান ও পরকালের প্রতি ঈমানের দাওয়াত দিতে থাকলেন। তিনি কোনো রূপক বা অস্পষ্টতা অবলম্বন করেননি, নরম হননি, দমে যাননি, পক্ষপাতিত্ব করেননি এবং কোনো তোষামোদ করেননি। তিনি এতেই প্রতিটি রোগের ওষুধ দেখতে পেয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-আরাফ
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
فكان الايمان بالله والانحياز اليه جد الجد لا يتقدم اليه الا جاد مخلص هانت عليه نفسه، وعزم على أن يقتحم خط النيران ويمشى اليه ولو على حسك السعدان، فتقدم اليه فتية لا يستخفهم طيش الشباب، ولا يستهويهم مطمح من مطامح الدنيا وانما همهم الأخرة وبغيتهم الجنة.

سمعوا مناديا ينادي للإيمان أن أمنوا بربكم، فضاقت عليهم الحياة الجاهلية بما رحبت، وضاقت عليهم أنفسهم فرأوا أنهم لا يسعهم الا الايمان بالله ورسوله فأمنوا وتقدموا الى النبي صلى الله عليه وسلم ووضعوا أيديهم في يديه، وأسلموا أنفسهم وأرواحهم اليه، وهم من حياتهم على خطر، ومن البلاء والمحنة على يقين، سمعوا القرآن يقول {الم * أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ * وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} (1) وسمعوا قوله تعالى {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ} (2) فما كان من قريش الا ما توقعوه، قد نتروا كنانتهم وأطلقوا عليهم كل سهم من سهامها فما زادهم كل ذلك الا ثقة وتجلدا وقالوا: {هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا} (3) ولم يزدهم هذا البلاء والاضطهاد في الدين الا متانة في عقيدتهم وحمية لدينهم ومقتا للكفر وأهله واشتعالا لعاطفتهم وتمحيصا لنفوسهم فاصبحوا كالتبر المسبوك واللجين الصافي. وخرجوا من كل محنة وبلاء خروج السيف بعد الجلاء.

وكان الرسول صلى الله عليه وسلم يغذى أرواحهم بالقرآن ويربي نفوسهم بالإيمان ويحثهم على الخضوع أمام رب العالمين خمس مرات في اليوم عن طهارة بدن وخشوع قلب وخضوع جسم وحضور عقل فيزدارون كل يوم سمو روح ونقاء قلب ونظافة

--------------------------------------------

(1) سورة العنكبوت

(2) سورة البقرة

(3) سورة الأحزاب
আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর দিকে ধাবিত হওয়া ছিল অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয়। এতে কেবল সেই একনিষ্ঠ সাধকই অগ্রসর হতেন, যার কাছে নিজের জীবন তুচ্ছ ছিল এবং যিনি আগুনের সীমানা পাড়ি দেওয়ার এবং কণ্টকাকীর্ণ পথে চলার সংকল্প করেছিলেন। ফলে এমন কিছু যুবক এগিয়ে এলেন, যাদেরকে যৌবনের চপলতা বিচ্যুত করতে পারেনি এবং দুনিয়াবি কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রলুব্ধ করতে পারেনি; বরং তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল আখিরাত এবং একমাত্র লক্ষ্য ছিল জান্নাত।

তারা ঈমানের দিকে আহ্বানকারীর ডাক শুনতে পেলেন যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনো। ফলে জাহেলি জীবন তার সকল প্রশস্ততা সত্ত্বেও তাদের কাছে সংকীর্ণ হয়ে উঠল এবং তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হলো। তারা দেখতে পেলেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা ছাড়া তাদের জন্য আর কোনো গন্তব্য নেই। তাই তারা ঈমান আনলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে অগ্রসর হয়ে তাঁর হাতে হাত রাখলেন। তারা তাদের জীবন ও প্রাণ তাঁর কাছে সঁপে দিলেন, যদিও তাদের জীবন ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা বিপদ ও পরীক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন। তারা কুরআনকে বলতে শুনলেন: {আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী} (১) এবং তারা মহান আল্লাহর বাণী শুনলেন: {নাকি তোমরা মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনও তোমাদের নিকট তাদের অবস্থা আসেনি যারা তোমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে? অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যাধি তাদের স্পর্শ করেছিল এবং তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, এমনকি রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা বলে উঠেছিল, 'আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?' জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।} (২) কুরাইশদের পক্ষ থেকে তা-ই ঘটল যা তারা আশঙ্কা করেছিলেন। তারা তাদের তূণ খালি করে ফেলল এবং তাদের ওপর প্রতিটি তীর নিক্ষেপ করল। কিন্তু এই সবকিছু তাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও দৃঢ়তাই বৃদ্ধি করল এবং তারা বলল: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এটি তা-ই, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। এটি তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি করল।} (৩) দ্বীনের পথে এই বালা-মসিবত ও নিপীড়ন তাদের আকিদাকে আরও সুদৃঢ় করল, দ্বীনের প্রতি তাদের আত্মমর্যাদা বোধ বাড়িয়ে দিল, কুফর ও কুফরি শক্তির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করল, তাদের আবেগকে প্রজ্জ্বলিত করল এবং তাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করল। ফলে তারা বিগলিত স্বর্ণ ও খাঁটি রূপার মতো হয়ে উঠলেন। তারা প্রতিটি পরীক্ষা ও বিপদ থেকে এমনভাবে বেরিয়ে এলেন যেমন পালিশ করার পর তরবারি ঝকঝকে হয়ে বের হয়ে আসে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের মাধ্যমে তাদের রূহকে পুষ্ট করতেন, ঈমানের মাধ্যমে তাদের নফসকে গড়ে তুলতেন এবং দিনে পাঁচবার শরীরের পবিত্রতা, অন্তরের বিনয়, দেহের আনুগত্য ও মনের একাগ্রতার সাথে রাব্বুল আলামীনের সামনে মস্তক অবনত করতে উৎসাহিত করতেন। ফলে প্রতিদিন তাদের রূহের উচ্চতা, হৃদয়ের স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি পেতে লাগল।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনকাবুত

(২) সূরা আল-বাকারাহ

(৩) সূরা আল-আহজাব
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
خلق وتحررا من سلطان الماديات، ومقاومة الشهوات نزوعا الى رب الأرض والسموات، فكان يأخذهم بالصبر على الاذى والصفح الجميل، وقهر النفس لقد رضعوا حب الحرب. وكأنهم ولدوا مع السيف، وكيف لا؟ وهم من أمة اشتهرت بالهمة والشجاعة والفصاحة والنبل وحسن الشيم، ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يقهر همتهم الحربية، ويكبح نخوتهم العربية ويقول لهم: {كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} فانقهروا لأمره وكفوا أيديهم وتحملوا من قريش ما تسبل به النفوس في غير حين وفي غير عجز، ولم يسجل التاريخ حادثة دفع فيها مسلم في مكة عن نفسه بالسيف مع كثرة الدواعي إلى أن أذن الله لرسوله بالهجرة مع أصحابه.

التقى أهل مكة بأهل يترب لا يجمع بينهما الا الدين الجديد، فكان أروع منظر لسلطان شهده التاريخ فألف الإسلام بين قلوبهم، ولو أنفقا احد ما في الأرض جميعا ما ألف بين قلوبهم، ثم آخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بينهم وبين المهاجرين، فكانت تزرى بأخوة الأشقاء.

كانت هذه الجماعة نواة للأمة الإسلامية الكبيرة التي أخرجت للناس ومادة للإسلام في كل زمان ومكان. وكانت وقاية للعالم من الانحلال الذي كان يهددها وعصمة للإنسانية من الغش والأخطار لذا قال الله سبحانه وتعالى: في حق هذه الجماعة {إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ} (1).

لم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يربيهم تربية عميقة، ولم يزل القرآن يسمو بأنفسهم ويذكى جمرة قلوبهم، ولم تزل مجالس الرسول صلى الله عليه وسلم تزيدهم رسوخا في الدين وعزوفا عن الشهوات وتفانيا في سبيل مرضاة الله، وحنينا الى الجنة، وحرصا على العلم وفقها في الدين، ومحاسبة للنفس يطيعون الرسول في المنشط والمكره، وينفرون في سبيل الله خفافا وثقالا، قد خرجوا مع الرسول صلى الله عليه وسلم للقتال سبعا وعشرين مرة في ظرف عشر سنين، وخرجوا بأمره لقتال

--------------------------------------------

(1) سورة الأنفال
চরিত্র গঠিত হয়েছিল এবং তারা জড়বাদী শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত হয়েছিল। পৃথিবী ও আকাশের রবের প্রতি ব্যাকুলতার কারণে তারা প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল। ফলে তিনি তাদের কষ্টের ওপর ধৈর্য (صبر), সুন্দর ক্ষমা এবং নফস দমনের মাধ্যমে তরাবিয়ত প্রদান করতেন। তারা যুদ্ধের ভালোবাসাকে লালন করেই বেড়ে উঠেছিল; যেন তারা তরবারির সাথেই জন্মগ্রহণ করেছিল। আর কেনই বা হবে না? তারা তো এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত যারা হিম্মত, বীরত্ব, বাগ্মিতা, মহানুভবতা এবং সচ্চরিত্রের জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের যুদ্ধংদেহী হিম্মতকে সংযত করতেন এবং তাদের আরবীয় আভিজাত্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি তাদের বলতেন: {তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো এবং সালাত (صلاة) কায়েম করো}। ফলে তারা তাঁর আদেশের প্রতি মস্তক অবনত করল, নিজেদের হাত গুটিয়ে নিল এবং কুরাইশদের পক্ষ থেকে এমন সব নির্যাতন সহ্য করল যা সাধারণত মানুষ সহ্য করে না এবং তারা অক্ষমও ছিল না। ইতিহাস এমন কোনো ঘটনার নজির রাখেনি যেখানে মক্কায় অবস্থানকালে মুসলিমরা আত্মরক্ষার্থে তরবারি ধারণ করেছে, অথচ এর পেছনে অনেক কারণ ও পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল; অবশেষে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁর সাহাবীদের নিয়ে হিজরতের অনুমতি দিলেন।

মক্কাবাসী এবং ইয়াসরিববাসীরা একত্রিত হলো, যাদের মাঝে নতুন দ্বীন (دين) ব্যতীত অন্য কোনো বন্ধন ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের এক অনন্য দৃশ্য যা ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেছে। ইসলাম তাদের হৃদয়ের মাঝে প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিল; যদি কেউ পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও ব্যয় করত, তবুও তাদের হৃদয়ে এই প্রীতি সঞ্চার করতে পারত না। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন, যা সহোদর ভাইদের ভ্রাতৃত্বকেও ম্লান করে দিচ্ছিল।

এই দলটি ছিল সেই বিশাল উম্মতে ইসলামিয়ার মূল কেন্দ্র (نواة), যা মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত হয়েছে এবং যা সর্বকাল ও সর্বস্থানের ইসলামের মূল উপজীব্য। এটি ছিল বিশ্বকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষার ঢাল এবং মানবতাকে প্রতারণা ও বিপদ থেকে বাঁচানোর রক্ষাকবচ। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই দলটির প্রসঙ্গে বলেছেন: {যদি তোমরা তা না করো, তবে জমিনে বিশৃঙ্খলা (فتنة) ও বড় বিপর্যয় সৃষ্টি হবে} (১)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিরন্তর তাদের গভীর তরাবিয়তে গড়ে তুলতে থাকলেন এবং কুরআন তাদের নফসকে উন্নত করতে ও হৃদয়ের স্ফুলিঙ্গকে প্রজ্বলিত করতে থাকল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসগুলো দ্বীনের ওপর তাদের অবিচলতা বাড়িয়ে দিচ্ছিল এবং তাদের প্রবৃত্তির প্রতি বিমুখতা, আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আত্মত্যাগ, জান্নাতের প্রতি ব্যাকুলতা, ইলম অর্জনের প্রতি আগ্রহ, দ্বীনের সম্যক জ্ঞান (فقه) এবং নফসের হিসাব গ্রহণের তাড়না বৃদ্ধি করছিল। তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কিংবা প্রতিকূলতায় রাসূলের আনুগত্য করত এবং আল্লাহর পথে হালকা বা ভারী যেকোনো অবস্থায় বেরিয়ে পড়ত। দশ বছরের ব্যবধানে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাতাশ বার যুদ্ধে বের হয়েছিল এবং তাঁর আদেশে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনফাল
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
العدو أكثر من مائة مرة فهان عليهم التخلي عن الدنيا، وهانت عليهم رزئة أولادهم ونسائهم في نفوسهم، ونزلت الآيات التي تأمر بإنفاق الأموال والجهاد بالنفس والولد والعشيرة، فنشطوا وخضعوا لامتثال أمرها.

انحلت العقدة الكبرى - عقدة الشرك والكفر - فانحلت جميع العقد فانتصر الاسلام فكانوا لا يشاقون الرسول من بعد ما تبين لهم الهدى ولا يجدون في أنفسهم حرجا مما قضى، ولا تكون لهم الخيرة من بعد ما أمر ونهى حدثوا الرسول عما اختانوا به أنفسهم وعرضوا أجسادهم للعذاب الشديد اذا فرطت منهم زلة استوجبت الحد وأنصفوا من نفوسهم انصافهم من غيرهم وأصبحوا في الدنيا رجال الآخرة لا تجزعهم مصيبة ولا تبطرهم نعمة، ولا يشغلهم فقر، ولا يطفهم غنى ولا تلهيهم تجارة، ولا تستخفهم قوة، ولا يريدون علوا في الأرض ولا فسادا، وأصبحوا للناس القسطاس المستقيم قوامين بالقسط شهداء لله ولو على أنفسهم أو الوالدين والأقربين، وطالهم أكناف الأرض وأصبحوا عصمة للبشرية، ووقاية للعالم، وداعية الى دين الله، واستخلفهم رسول الله في عمله، ولحق بالرفيق الأعلى قرير العين من أمته ورسالته.

انتقل العرب والذين أسلموا عن معرفة الجاهلية العليلة الغامضة الميتة الى معرفة عميقة واضحة روحية ذات سلطان على الروح والنفس والقلب والجوارح ذات تأثير في الأخلاق والاجتماع ذات سيطرة على الحياة وما يتصل بها.

آمنوا بالله الذى له الاسماء الحسنى والمثل الأعلى، آمنوا برب العالمين الرحمن الرحيم ملك يوم الدين الملك القدوس السلام المؤمن المهيمن العزيز الجبار المتكبر الخالق البارئ المصور العزيز الحكيم الغفور الودود الرؤف الرحيم، له الخلق والأمر بيده ملكوت كل شيء، يجير ولا يجار عليه الى آخر ما جاء في القرآن من وصفه يثيب بالجنة ويعذب بالنار، ويبسط الرزق لمن يشاء ويقدر.

يعلم الخب في السموات والأرض ويعلم خائنة العيون وما تخفى الصدور الى آخر ما جاء في القرآن من قدرته وتصرفه وعمله، فانقلبت أنفسهم بهذا الإيمان الواسع انقلابا عجيبا، فإذا آمن
তারা শতবারেরও বেশি শত্রুর মোকাবেলা করেছেন, ফলে দুনিয়া ত্যাগ করা তাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল এবং নিজেদের মাঝে তাদের সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীদের বিয়োগব্যথা তুচ্ছ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন সব আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল যা সম্পদ ব্যয় করার এবং জান, সন্তান ও বংশের বিনিময়ে জিহাদ করার নির্দেশ দিচ্ছিল; ফলে তারা সক্রিয় হলেন এবং সেই নির্দেশ পালনে অনুগত হলেন।

প্রধান গ্রন্থিটি—শিরক ও কুফরের গ্রন্থি—উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে সমস্ত জটিলতা কেটে গেল এবং ইসলাম বিজয়ী হলো। তাদের সামনে সত্য পথ স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা আর রাসূলের বিরোধিতা করেননি এবং তাঁর কোনো ফয়সালার ব্যাপারে মনে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা বোধ করেননি। তিনি কোনো আদেশ বা নিষেধ করার পর তাদের নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অবকাশ থাকল না। তারা রাসূলের কাছে নিজেদের সেইসব খিয়ানতের কথা ব্যক্ত করে দিতেন যা তারা নিজেদের নফসের ওপর করেছিলেন এবং যদি তাদের এমন কোনো বিচ্যুতি ঘটত যার ফলে দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়া আবশ্যক হতো, তবে তারা নিজেদের শরীরকে কঠোর শাস্তির জন্য পেশ করতেন। তারা অন্যের প্রতি যেরূপ ইনসাফ করতেন, নিজের নফসের প্রতিও তদ্রূপ ইনসাফ করতেন। তারা দুনিয়াতে থেকেও পরকালের মানুষে পরিণত হয়েছিলেন; কোনো বিপদ তাদের বিচলিত করত না, কোনো নিয়ামত তাদের মোহগ্রস্ত করত না, দারিদ্র্য তাদের কর্মব্যস্ততা থেকে ফিরিয়ে রাখত না, সচ্ছলতা তাদের দাম্ভিক করত না, ব্যবসা-বাণিজ্য তাদের গাফেল করত না এবং কোনো শক্তি তাদের তুচ্ছজ্ঞান করতে পারত না। তারা যমীনে কোনো ঔদ্ধত্য বা বিপর্যয় কামনা করতেন না। তারা মানুষের জন্য সঠিক মানদণ্ড এবং ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হয়ে গিয়েছিলেন, এমনকি তা যদি তাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধেও যায়। পৃথিবীর দিগন্ত জোড়া প্রান্তরে তাদের পদচারণা বিস্তৃত হয়েছিল এবং তারা মানবজাতির জন্য রক্ষাকবচ, বিশ্বের জন্য নিরাপত্তা ও আল্লাহর দ্বীনের আহ্বায়ক হয়ে উঠেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কার্যভারের জন্য তাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং নিজ উম্মত ও রিসালাতের ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়ে মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমালেন।

আরব জাতি এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা জাহিলিয়াতের সেই রুগ্ন, অস্পষ্ট ও মৃত জ্ঞান থেকে এক গভীর, সুস্পষ্ট ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দিকে ধাবিত হলেন, যা রুহ, নফস, কলব ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর কর্তৃত্ব বিস্তারকারী। নৈতিকতা ও সমাজব্যবস্থার ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল এবং জীবন ও জীবনসংশ্লিষ্ট সবকিছুর ওপর এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।

তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিলেন, যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সর্বোচ্চ গুণাবলি। তারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক, পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক, অধিপতি, অত্যন্ত পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, মহা প্রতাপশালী, প্রবল পরাক্রমশালী, মহিমান্বিত, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান, ক্ষমাশীল, অতি স্নেহময়, অত্যন্ত দয়ালু ও পরম দাতা সত্তার ওপর। সৃষ্টি ও আদেশ কেবল তাঁরই; সবকিছুর রাজত্ব তাঁরই হাতে। তিনি আশ্রয় দান করেন কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে আশ্রয় দেওয়া হয় না—এভাবে কুরআনে বর্ণিত তাঁর সকল গুণাবলির ওপর তারা বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি জান্নাতের মাধ্যমে পুরস্কৃত করেন এবং জাহান্নামের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করেন; আর তিনি যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা তা সীমিত করেন।

তিনি আসমান ও যমীনের লুকায়িত সবকিছু জানেন এবং চোখের খেয়ানত ও অন্তরের গোপন রহস্য সম্পর্কে তিনি অবগত—এভাবে কুরআনে বর্ণিত তাঁর কুদরত, কর্তৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের ওপর তারা ঈমান আনলেন। এই সুদূরপ্রসারী ঈমানের বদৌলতে তাদের নফস এক বিস্ময়কর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হলো। অতঃপর যখন তারা ঈমান আনলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
أحد بالله وشهد أن لا اله الا الله انقلبت حياته ظهرا لبطن، وتغلغل الإيمان في أحشائه، وتسرب الى جميع عروقه ومشاعره وجرى منه مجرى الروح والدم، وغمر العقل والقلب بفيضانه وجعل منه رجلا غير الرجل الأول وأظهر من روائع الايمان واليقين والصبر والشجاعة ومن خوارق الأفعال والأخلاق ما جبر العقل والفلسفة وتاريخ الأخلاق ولا يزال موضع الحيرة والدهشة منه الى الأبد.

ظهر المسلمون وتزعموا العالم، وعزلوا الطغاة عن الأمم، وساروا بالإنسانية سيرا حثيثا متزنا عدلا، وقد توفرت فيهم الصفات لقيادة الامم، لأنهم أصحاب كتاب منزل وشريعة الهية فلا يشرعون من عند أنفسهم لأن ذلك منبع الجهل والخطأ والظلم، قد جعل الله لهم نورا يمشون به في الناس وشريعة يحكمون بها بين الناس {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا} (1).

وقد قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ}. (2)

لأنهم لم يتولوا الحكم والقيادة بدون تربية خلقية وتزكية نفس بل مكثوا زمنا طويلا تحت تربية محمد صلى الله عليه وسلم واشرافه الدقيق يزكيهم ويؤديهم ويأخذهم بالزهد والورع والعفاف والأمانة والايثار على النفس وخشية الله وعدم الاستشراف للإمارة والحرص عليها يقول (إنا والله لا نولى هذا العمل أحدا سأله، أو أحدا حرص عليه) حديث متفق عليه ويجعلون دائما نصب أعينهم قوله عز وجل {تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا} فكانوا لا يتهافتون على الوظائف والمناصب تهافت الفراش على الضوء، بل كانوا يتدافعون في قبولها، ويتحرجون من تقليدها.

--------------------------------------------

(1) سورة الانعام

(2) سورة المائدة
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি একত্ববাদ পোষণ করে এবং সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তার জীবন আমূল পরিবর্তিত হয়ে যায়। তার অন্তরাত্মায় ঈমান বদ্ধমূল হয় এবং তা তার প্রতিটি শিরা-উপশিরা ও অনুভূতিতে মিশে গিয়ে আত্মা ও রক্তের ন্যায় প্রবহমান হয়। এটি তার বুদ্ধি ও হৃদয়কে আপন প্লাবনে প্লাবিত করে তাকে পূর্বের তুলনায় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষে রূপান্তরিত করে। সে ঈমান, সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين), ধৈর্য ও বীরত্বের এমন সব বিস্ময়কর নিদর্শন এবং কর্ম ও চরিত্রের এমন সব অলৌকিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে যা বুদ্ধি, দর্শন ও নৈতিকতার ইতিহাসকে হতবাক করে দিয়েছে এবং যা চিরকাল বিস্ময় ও বিমুগ্ধতার উৎস হয়ে থাকবে।

মুসলিমদের আবির্ভাব ঘটল এবং তারা বিশ্বকে নেতৃত্ব প্রদান করল; তারা জাতিসমূহ থেকে অত্যাচারী শাসকদের বিতাড়িত করল এবং মানবতাকে এক দ্রুতগামী, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়নিষ্ঠ পথে পরিচালিত করল। জাতিসমূহের নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল, কেননা তারা এক অবতীর্ণ কিতাব ও খোদায়ী শরীয়তের অনুসারী। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো বিধান প্রণয়ন করত না, কারণ তা মূর্খতা, ভুল ও জুলুমের উৎস। আল্লাহ তাদের জন্য এক নূর প্রদান করেছেন যার মাধ্যমে তারা মানুষের মাঝে বিচরণ করে এবং এমন এক শরীয়ত দিয়েছেন যার দ্বারা তারা মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করে। {আর সেই ব্যক্তি যে মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলে; সে কি ঐ ব্যক্তির মত হতে পারে যে অন্ধকারে রয়েছে, যা থেকে সে বের হতে পারছে না?} (১)।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ও ইনসাফের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হও। কোনো কওমের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমন উত্তেজিত না করে যে, তোমরা ইনসাফ করবে না। ইনসাফ করো, এটা তাকওয়ার (تقوى) অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত।} (২)

কেননা তারা নৈতিক শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধি (تزكية) ব্যতিরেকে শাসন ও নেতৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি; বরং তারা দীর্ঘকাল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুনিপুণ তত্ত্বাবধান ও তরবিয়তের অধীনে অবস্থান করেছেন। তিনি তাদের পরিশুদ্ধ করেছেন, আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদেরকে দুনিয়াবিমুখতা (زهد), পরহেযগারিতা (ورع), চারিত্রিক পবিত্রতা (عفاف), আমানতদারি, আত্মত্যাগ ও আল্লাহভীতির দীক্ষা দিয়েছেন। নেতৃত্ব ও পদের প্রতি লালসা কিংবা আকাঙ্ক্ষা না রাখার শিক্ষা দিয়ে তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম! আমরা এই কাজের দায়িত্বে এমন কাউকে নিযুক্ত করি না যে তা প্রার্থনা করে কিংবা যে এর প্রতি লালায়িত।" এটি একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিস। তারা সর্বদা মহান আল্লাহর এই বাণীকে নিজেদের চোখের সামনে রাখতেন: {পরকালের সেই আবাস আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, যারা পৃথিবীতে অহংকার করতে চায় না এবং ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না।} সুতরাং তারা পদ-পদবি ও পজিশনের ওপর পতঙ্গের আগুনের দিকে ঝাপিয়ে পড়ার ন্যায় ঝাপিয়ে পড়তেন না; বরং তারা তা গ্রহণে একে অপরকে অনুরোধ করতেন এবং এর দায়িত্বভার গ্রহণ করতে অত্যন্ত সঙ্কোচবোধ করতেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনআম

(২) সূরা আল-মায়েদা
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
بهذا الايمان الواسع والتعليم النبوي المتقن وبهذه التربية الحكيمة الدقيقة وبشخصيته الفذة، وبفضل هذا الكتاب السماوي المعجز الذى لا تنقضي عجائبه ولا تخلق جدته، بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم في الانسانية المحتضرة حياة جديدة فأوجد فيها - بإذن الله - الايمان والعقيدة وبعث فيها روحا جديدة وأثار من دفاتها وأشعل مواهبها، ثم وضع كل واحد منهم في محله فكأنما خلق له. وكأنما كان المكان شاغرا لم يزل ينتظره، فما لبث العالم أن رأى منهم نوابغ كانوا من عجائب الدهر وسوانح التاريخ. فأصبح عمر الذى كان يرعى الابل لأبيه الخطاب وينتهره، وكان من أوسط قريش جلادة وصرامة اذا به يفجأ العالم بعبقريته وعصاميته، ويدحر كسرى وقيصر عن عروشهما ويؤسس دولة اسلاميه تجمع بين تفوقها في الادارة وحسن النظام فضلا عن التقوى والورع والعدل الذى لا يزال فيه المثل السائر.

وهذا ابن الوليد كان أحد فرسان قريش إذا به يلمع سيفا الهيا في الاسلام لا يقوم له شيء الا حصده وينزل كصاعقة على الروم ويترك ذكرا خالدا في التاريخ وهذا أبو عبيدة كان موصوفا بالصلاح والأمانة والرفق اذا به يتولى القيادة العليا للمسلمين ويطرد هرقل من ربوع الشام ومروجها الخضراء ويلقى عليها نظرة الوداع ويقول: (سلام على سريا سلاما لا لقاء بعده) الى غير ذلك من الأفذاذ الذين تلقوا معلوماتهم وتكوينهم في مدرسة الايمان، ولا زالت هذه المدرسة تخرج لنا من العباقرة والشخصيات العظيمة البارزة في كل ميدان من ميادين الحياة الى الآن والى الغد ان شاء الله.
এই সুপ্রশস্ত ঈমান, নিপুণ নববী শিক্ষা, হিকমতপূর্ণ ও সূক্ষ্ম তরবিয়ত এবং তাঁর অনুপম ব্যক্তিত্বের প্রভাবে এবং এই মুজিযাপূর্ণ আসমানি কিতাবের বরকতে—যার বিস্ময়াবলি কখনো শেষ হয় না এবং যার অভিনবত্ব কখনো ম্লান হয় না—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমূর্ষু মানবতার মাঝে এক নতুন জীবনের সঞ্চার করলেন। ফলে তিনি আল্লাহর হুকুমে তাদের মাঝে ঈমান ও আকিদা সৃষ্টি করলেন, তাদের মাঝে এক নতুন রুহ ফুঁকে দিলেন এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত ও বিকশিত করলেন। অতঃপর তিনি তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ উপযুক্ত স্থানে আসীন করলেন যেন তারা সেই কাজের জন্যই সৃজিত হয়েছিলেন এবং সেই শূন্যস্থানটি যেন দীর্ঘকাল তাদেরই প্রতীক্ষায় ছিল। অচিরেই বিশ্ববাসী তাদের মধ্য থেকে এমন সব প্রতিভাবান মনীষীদের প্রত্যক্ষ করল যারা ছিল মহাকালের বিস্ময় ও ইতিহাসের অনন্য উদাহরণ। ফলে সেই ওমর, যিনি একদা তাঁর পিতা খাত্তাবের উট চরাতেন এবং পিতার ধমক খেতেন এবং যিনি কঠোরতা ও দৃঢ়তার দিক থেকে কুরাইশদের গড়পড়তা স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি অকস্মাৎ তাঁর অতুলনীয় প্রতিভা ও স্বনির্ভর শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে বিমোহিত করে ফেললেন। তিনি কিসরা ও কায়সারের সিংহাসন চূর্ণ-বিচূর্ণ করলেন এবং এমন এক ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলেন যা প্রশাসনিক উৎকর্ষ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তাকওয়া, পরহেযগারি ও ইনসাফের এক অনন্য সমন্বয় ছিল, যা আজও এক চিরন্তন প্রবাদতুল্য আদর্শ হিসেবে বিদ্যমান।

আর এই ইবনুল ওয়ালিদ, যিনি কুরাইশদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী বীর ছিলেন, ইসলামের ছায়াতলে তিনি আল্লাহর এক দীপ্ত তরবারি হিসেবে উদ্ভাসিত হলেন, যার সম্মুখে কোনো কিছুই টিকতে পারল না। তিনি রোমানদের ওপর বজ্রের ন্যায় আপতিত হলেন এবং ইতিহাসে এক অমর কীর্তি রেখে গেলেন। আর এই আবু উবাইদাহ, যিনি তাঁর নেক আমল, বিশ্বস্ততা ও নম্রতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তিনি মুসলিমদের প্রধান সেনাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন এবং হিরাক্লিয়াসকে সিরিয়ার শস্যশ্যামল প্রান্তর থেকে বিতাড়িত করলেন। হিরাক্লিয়াস সিরিয়া ত্যাগ করার সময় বিদায়ী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলেছিল: (হে সিরিয়া, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—এমন এক বিদায় যার পর আর কোনোদিন সাক্ষাৎ হবে না)। এভাবেই আরও বহু অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছিলেন যারা ঈমানের মাদরাসায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন। আর এই মাদরাসা অদ্যাবধি জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে আমাদের এমন সব যুগশ্রেষ্ঠ প্রতিভা ও মহান ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়ে যাচ্ছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও দিয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌تعاليم الاسلام قوة روحية ومادية معا

وعدالة اجتماعية ورحمة، لجميع الناس

ما أعظم نعم الله على المسلم الذى هداه الى الطريق المستقيم والوصول به الى معرفة الخالق جل وعلا، ولما فتح هذا المخلوق عينيه على الكون العجيب الصنع والاتقان ابهر عقله، وحرك ذهنه في كل ما يحيط به من الأشياء الدالة على عظم قدرة الله فاذ عن له، وأقر لربوبيته بالكمال المطلق.

ولقد كرم الله الانسان بنعم لا تعد ولا تحصى، وفضله على كثير من المخلوقات قال تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} (1).

الايمان بالله سبحانه وتعالى هو المبدأ الوحيد في هذا العالم أخذ به المؤمنون قديما وحديثا، وفي جميع الأزمنة والأمكنة واعتصموا بحبله جميعا فهداهم الى ما فيه خيرهم وسعادتهم.

الايمان بالله هو التصديق بالحقيقة الكبرى، والاعتراف بالوجود الأعلى بواسطة مخلوقاته الكثيرة العجيبة الصنع والابداع، الايمان بالله هو شعور الانسان بمنزلته المحدودة أمام رب عظيم بيده ملكوت السماوات والأرض، وكل شيء في هذا الوجود.

الايمان بالله هو القوة الباعثة على العمل الصالح القوة التي توجه الانسان الى الله فيما يفعل وفيما يترك في جميع شؤون الحياة كلها.

الاسلام مبدأ الهى عام لا يفرق بين جنس وجنس، ولا بين لون ولون ولا بين وطن ووطن، بل هو هداية من الله الى الخلق

--------------------------------------------

(1) سورة الاسراء
ইসলামের শিক্ষা একাধারে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক শক্তি

এবং সকল মানুষের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও রহমত

সেই মুসলিমের ওপর আল্লাহর নিআমত কতই না মহান, যাকে তিনি সরল পথের দিশা দিয়েছেন এবং মহান স্রষ্টাকে জানার সৌভাগ্য দান করেছেন। যখন এই সৃষ্টি বিস্ময়কর নিপুণতা ও কারুকার্যে ভরা এই মহাবিশ্বের দিকে চোখ মেলে তাকালো, তখন তার বুদ্ধি অভিভূত হলো এবং তার পারিপার্শ্বিক সকল বস্তু—যা আল্লাহর মহান কুদরতের প্রমাণ দেয়—তার মনোজগতকে আলোড়িত করলো। ফলে সে তাঁর নিকট নতি স্বীকার করলো এবং তাঁর নিরঙ্কুশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রভুত্বকে স্বীকার করে নিল।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে অগণিত নিআমত দিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং বহু সৃষ্টির ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও সমুদ্রে তাদের বহন করেছি আর তাদের দিয়েছি উত্তম রিযিক এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের দিয়েছি শ্রেষ্ঠত্ব।} (১)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি বিশ্বাসই হলো এই জগতের একমাত্র মূলনীতি, যা প্রাচীন ও বর্তমান কালের মুমিনগণ গ্রহণ করেছেন। সকল যুগে ও সকল স্থানে তাঁরা আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন, ফলে তিনি তাঁদের সেই পথের দিশা দিয়েছেন যাতে তাঁদের কল্যাণ ও সৌভাগ্য নিহিত।

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হলো পরম সত্যকে মনেপ্রাণে মেনে নেওয়া এবং তাঁর বিচিত্র ও বিস্ময়কর সৃষ্টির মাধ্যমে সেই মহান সত্তার অস্তিত্বকে স্বীকার করা। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হলো একজন মহান রবের সামনে মানুষের নিজের সীমাবদ্ধ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হওয়া, যাঁর হাতে আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং এই অস্তিত্বের প্রতিটি জিনিসের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বিদ্যমান।

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হলো সৎকর্মে উদ্বুদ্ধকারী এমন এক শক্তি যা জীবনের যাবতীয় ক্ষেত্রে মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলোকে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী করে তোলে।

ইসলাম হলো একটি সার্বজনীন খোদায়ী আদর্শ যা কোনো জাতিতে জাতিতে, বর্ণে বর্ণে কিংবা ভৌগোলিক সীমারেখায় পার্থক্য করে না; বরং এটি সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পথনির্দেশ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
أجمعين، وهو قوة روحية دافعة، ودعوة عامة، هو نظام كامل يقدم للإنسانية فكرة شاملة عن الكون والحياة، ويجعل العنصر الأخلاقي أصيلا في بناء المجتمع ليكون عقلية متشبعة بالروح لتنبعث الحياة من داخل النفس، الاسلام دين تعاوني في جميع مظاهره أعلن حقوق الانسان منذ أربعة عشر قرنا، واذا كانت المذاهب المختلفة في العالم تدعو الى سلام الانسان مع الانسان وسلام الانسان مع الحيوان، وسلامه مع النبات حتى مع الجماد لأنه حث على عمارة الارض، ونشر المعاني والقيم الالهية فيها فهذه الأشياء مخلوقات لله، والانسان خلقه الله ليكون خليفة له في الأرض، وقد سخر له الأرض ولا عليها، ومن هنا وجدنا الحقوق ليست قاصرة على الانسان واذا كانت الدول المتحضرة في العصر الحديث تحاول أن تثبت حقوق الانسان فان الاسلام قد فرغ منها منذ زمن بعيد … الاسلام حين يرعى حقوق الانسان، يرعى أولا حقوق الضعفاء.

يقول الرسول الكريم: (ابغوني الضعفاء فإنما تنصرون وترزقون بضعفائكم) (1)، والله سبحانه وتعالى يطلب الدفاع عنهم، والقتال في سبيل حمايتهم فقال: {وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا} (1).

ويحذر الرسول الكريم صلوات الله وسلامه عليه (من أن يقف أحد المسلمين موقفا يضرب فيه رجل ظلما بأن اللعنة تتنزل على من حضره ولم يدافعوا عنه) كما يحذر من الظلم بصفة عامة.

فيقول: (اتقوا الظلم، فإن الظلم ظلمات يوم القيامة) (2)، وينذر القرآن الكريم الظالمين بأنه لن يكون لهم يوم القيامة حميم ولا شفيع يطاع، وينذر الرسول الكريم صلى الله عليه وعلى آله وسلم بأعلى صوته في حجة الوداع (ألا إن دماءكم

--------------------------------------------

(1) سورة النساء

(2) رواه مسلم
[সকলের ওপর], এটি একটি আধ্যাত্মিক চালিকাশক্তি এবং একটি সার্বজনীন আহ্বান। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা যা মানবতার সামনে মহাবিশ্ব ও জীবন সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা উপস্থাপন করে এবং সমাজ বিনির্মাণে নৈতিক উপাদানকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে, যাতে এমন এক মানসিকতা তৈরি হয় যা আধ্যাত্মিকতায় সিক্ত এবং যার ফলে অন্তরাত্মা থেকে জীবনের স্পন্দন সঞ্চারিত হয়। ইসলাম তার সকল দিক থেকে একটি সহযোগিতামূলক ধর্ম, যা চৌদ্দশ বছর আগেই মানবাধিকার ঘোষণা করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন মতবাদ যেখানে মানুষের সাথে মানুষের, মানুষের সাথে প্রাণীর, এমনকি উদ্ভিদ ও জড় পদার্থের সাথেও শান্তির আহ্বান জানায়—কেননা ইসলাম পৃথিবী আবাদ করার এবং এতে ঐশ্বরিক অর্থ ও মূল্যবোধ প্রচারের উৎসাহ দিয়েছে—কারণ এসব কিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। আর আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তার জন্য জমিন ও তার উপরিভাগকে অনুগত করে দিয়েছেন। এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, অধিকার কেবল মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক যুগের সভ্য রাষ্ট্রগুলো যখন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, ইসলাম অনেক আগেই তা সম্পন্ন করেছে … ইসলাম যখন মানবাধিকার রক্ষা করে, তখন সে সর্বাগ্রে দুর্বলদের (الضعفاء) অধিকার রক্ষা করে।

রাসূল করীম বলেন: (তোমরা আমাকে তোমাদের দুর্বলদের (الضعفاء) মাঝে তালাশ করো, কারণ তোমাদের দুর্বলদের (بضعفائكم) অসিলাতেই তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়) (১)। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা এবং তাদের সুরক্ষায় লড়াই করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছো না? অথচ দুর্বল (المستضعفين) পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, হে আমাদের রব! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে নিন যার অধিবাসীরা জালেম} (১)।

রাসূল করীম (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এই মর্মে সতর্ক করেছেন যে, কোনো মুসলিম যেন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে না থাকে যেখানে কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে প্রহার করা হচ্ছে, কেননা যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত থাকে অথচ তাকে রক্ষা করে না, তার ওপর লানত বা অভিশাপ বর্ষিত হয়। একইভাবে তিনি সাধারণভাবে জুলুম বা অন্যায়ের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন: (তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে) (২)। পবিত্র কুরআন জালেমদের এই মর্মে সতর্ক করে যে, কিয়ামতের দিন তাদের কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু বা এমন কোনো সুপারিশকারী থাকবে না যার কথা মান্য করা হবে। রাসূল করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজের ভাষণে উচ্চকণ্ঠে সতর্ক করে বলেন (জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত (رواه)
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأموالكم حرام عليكم الى أن تلقوا ربكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا) (1).

ويقول أيضا (في كل ذات كبد رطبة صدقة) وما حديث المرأة التي عذبت هرة لها فحبستها، ليست ببعيدة عنا وكذلك حديث الرجل الذى سقى الكلب من البئر وجده عطشان فغفر الله له، والإباحة في ذبح الحيوان إنما هي مرهونة بمصلحة الإنسان، فالإسلام يمنع من عقر الحيوان الا للأكل، ومن هنا كان النحر باسم الله الذى أباح لنا هذه الحيوانات، والتعذيب للحيوان أو للطير غير جائز، والاسلام يحرم على أن يطأ بقدميه كسرة خبز أو ما يؤكل مما يفيد الانسان أو غيره من مخلوقات الله، لأن في ذلك امتهانا للنعمة التي حماها الله فاحترامها والمحافظة عليها من الآداب السامية لأنها مخلوقة من مخلوقات الله وقد انتفع بها المخلوقون، ومنع الاسراف والفساد فيها، والاسلام حين يعلن هذه الحقوق، فإنما يعلنها بأسلوبه الخاص، ثم يطبقها التطبيق السليم، لأن هذا الاعلان صادر من رب العالمين، وهو أدرى بهم، وما يصلح لهم لأنه خالقهم وليس بينه وبين أحدهم صلة الا العمل الصالح. والمسلمون حين يطبقون أوامر الاسلام يبدأون من داخل النفس ليتقربوا بها الى الله، وهو اعلم بما يسرون وما يعلنون.

الاسلام ينطلق من وحدانية الله تعالى الذى خلق البشر جميعا، ورسم لهم الدين منهجا يسيرون عليه لتحقيق رسالتهم في هذه الحياة، والفوز والنجاة في الدار الأخرى، وطلب منهم أن يطيعوا الله ورسوله وأولي الأمر منهم في الحدود التي رسمها لهم، قال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} (2).

فأساس التفاضل في الاسلام هو العمل الصالح لا الغنى، ولا الوطن، ولا الحسب والنسب الى غير ذلك من معاني الجاهلية، لان هذه الاخلاق الفاضلة بها تظهر طبيعة الانسان الكامل، فالقرآن حث عليها لأنه كتاب تربية وتثقيف. وليس كل ما فيه

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري

(2) سورة النساء
এবং তোমাদের সম্পদসমূহ তোমাদের নিকট হারাম (حرام), যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে; যেমনটি হারাম (حرام) তোমাদের এই দিনে, তোমাদের এই মাসে এবং তোমাদের এই শহরে। (১)

তিনি আরও বলেন: "প্রত্যেক প্রাণীর (সজীব সত্তা) প্রতি দয়া প্রদর্শনে সদকা (صدقة) রয়েছে।" আর সেই মহিলার হাদিসটি আমাদের নিকট অপরিচিত নয়, যে একটি বিড়ালকে কষ্ট দিয়েছিল এবং সেটিকে বন্দি করে রেখেছিল; অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তির হাদিসটিও (স্মরণীয়), যে একটি কুকুরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পেয়ে কুপ থেকে পানি পান করিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। আর পশু জবেহ করার বৈধতা মূলত মানুষের কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট; তাই ইসলাম কেবল আহারের উদ্দেশ্য ব্যতীত পশু হত্যা করা থেকে নিষেধ করে। আর এ কারণেই আল্লাহর নামে কোরবানি বা জবেহ করার বিধান রাখা হয়েছে, যিনি আমাদের জন্য এই পশুগুলোকে বৈধ করেছেন। পশু বা পাখিকে কষ্ট দেওয়া বৈধ (جائز) নয়। ইসলাম রুটির টুকরো কিংবা মানুষ অথবা আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টির জন্য উপকারী কোনো খাদ্যবস্তুর ওপর পা রাখা হারাম (حرام) করেছে। কারণ এটি সেই নেয়ামতের অবমাননা যা আল্লাহ রক্ষা করেছেন; তাই নেয়ামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তা সংরক্ষণ করা উচ্চতর আদব বা শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে সৃষ্টিজগত উপকৃত হয়। ইসলাম এতে অপচয় ও বিপর্যয় সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম যখন এই অধিকারগুলো ঘোষণা করে, তখন তা নিজস্ব স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে করে এবং পরবর্তীতে তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে। কারণ এই ঘোষণা রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে এসেছে, যিনি তাদের সম্পর্কে এবং কিসে তাদের কল্যাণ রয়েছে সে সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত; কেননা তিনি তাদের স্রষ্টা এবং তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে সৎকর্ম (عمل صالح) ব্যতীত অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। মুসলমানরা যখন ইসলামের বিধানসমূহ পালন করে, তখন তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকেই তা শুরু করে, আর তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত।

ইসলাম মহান আল্লাহর একত্ববাদ (توحيد) থেকে উৎসারিত, যিনি সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য দ্বীনকে একটি জীবনপদ্ধতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যেন তারা এর ওপর ভিত্তি করে পার্থিব জীবনে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে এবং পরকালে মুক্তি ও সাফল্য লাভ করে। তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাদের উলুল আমর (أولي الأمر) তথা দায়িত্বশীলদের আনুগত্য করে সেই সীমার মধ্যে যা তিনি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (أولي الأمر)-দের আনুগত্য করো" (২)।

সুতরাং ইসলামে শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি হলো সৎকর্ম (عمل صالح); ধন-সম্পদ, স্বদেশ কিংবা বংশমর্যাদা বা জাহেলি যুগের অন্য কোনো বিষয় নয়। কারণ এই সকল মহৎ চরিত্রের মাধ্যমেই একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। কুরআন এসকল বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছে কারণ এটি একটি শিক্ষা ও শিষ্টাচার বিকাশের কিতাব। আর এতে যা কিছু আছে তার সবকিছুই...

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন।

(২) সূরা আন-নিসা
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
كلاما عن الفرائض والشعائر، وأن الفضائل التي يحث عليها من أجمل الفضائل وأرجحها في موازين الأخلاق وتتجلى هداية الإسلام في نواهيه.

والمسلمون في الوقت الحاضر متأثرون بالمفاهيم القومية البعيدة عن تعاليم الاسلام وعن تربية القرآن وهذا التأثير جزء من الثقافة والحضارة المستوردة، وكل انسان، مسؤول عن عمله {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ} {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} هكذا يكون المسلم في ظلال القرآن.

الاسلام يعلن حرية العقيدة للناس جميعا، فيها بواعث الروعة والجمال، وما تحدثه في الخواطر من دواعي الشعور والتأثير، فيقول الله في كتابه الكريم: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا} (1).

ويبين مهمة الرسول صلى الله عليه وسلم بقوله: {إِنْ أَنْتَ إِلَّا نَذِيرٌ}.

ويطلب منه ألا يحزن على الذين يسارعون في الكفر بقوله عز وجل: {يأيها يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ} (2).

ويعاتبه لشدة حرصه على ايمان الناس فيقول: {لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا} (3)، ثم يقول له بعد ذلك: {وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ} (4)، ثم طلب منه أن يعلن للناس جميعا أنه بشر مثلهم يوحى اليه: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} (5).

الاسلام مع المجتمعات الأخرى يدعو الى الحوار الهادي الخالي من الأغراض والمعاندة قال تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات

(2) سورة المائدة

(3) سورة الكهف

(4) سورة الكهف

(5) سورة الكهف
ফরজ বিধানসমূহ ও ধর্মীয় নিদর্শনাবলি সম্পর্কে আলোচনা, আর যে সকল সচ্চরিত্রের প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করে তা নৈতিকতার মানদণ্ডে অত্যন্ত চমৎকার ও অগ্রগণ্য এবং ইসলামের দিকনির্দেশনা এর নিষিদ্ধ বিষয়াবলির মাঝে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বর্তমান সময়ে মুসলমানরা ইসলামের শিক্ষা ও কুরআনি লালন-পালন থেকে দূরে থাকা জাতীয়তাবাদী ধারণাসমূহ দ্বারা প্রভাবিত, আর এই প্রভাব আমদানিকৃত সংস্কৃতি ও সভ্যতার অংশ। প্রতিটি মানুষ তার নিজ কর্মের জন্য দায়বদ্ধ; {প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ} {কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না} কুরআনের ছায়াতলে একজন মুসলিম এভাবেই অবস্থান করে।

ইসলাম সকল মানুষের জন্য বিশ্বাসের স্বাধীনতা ঘোষণা করে, যার মধ্যে রয়েছে চমৎকারিত্ব ও সৌন্দর্যের উৎসসমূহ এবং এটি চিন্তাজগতে অনুভূতি ও প্রভাবের যেসব কারণ সৃষ্টি করে সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গ্রন্থে বলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ছিন্ন হবার নয়} (১)।

আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব বর্ণনা করে বলেন: {আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী}।

আর মহান আল্লাহ তাঁকে তাদের জন্য ব্যথিত না হতে নির্দেশ দিয়েছেন যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়। তিনি বলেন: {হে রাসূল, আপনাকে যেন তারা ব্যথিত না করে যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়—তাদের মধ্য থেকে যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি} (২)।

আর মানুষের ঈমান গ্রহণের প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণে আল্লাহ তাঁকে অনুযোগ করে বলেন: {তারা যদি এই হাদিসের প্রতি ঈমান না আনে, তবে তাদের পশ্চাতে আপনি কি দুঃখে নিজের প্রাণ বিনাশ করবেন} (৩), অতঃপর তিনি তাঁকে বলেন: {বলুন, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে; সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক} (৪), এরপর আল্লাহ তাঁকে সকল মানুষের নিকট এটি ঘোষণা করতে নির্দেশ দেন যে, তিনি তাদেরই মতো একজন মানুষ যার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়: {বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে} (৫)।

ইসলাম অন্যান্য সমাজের সাথে উদ্দেশ্যহীনতা ও হঠকারিতামুক্ত শান্ত আলোচনার আহ্বান জানায়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, হে আহলে কিতাব, তোমরা এমন এক কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করব না এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত

(২) সূরা আল-মায়িদাহ

(৩) সূরা আল-কাহফ

(৪) সূরা আল-কাহফ

(৫) সূরা আল-কাহফ
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (1).

طلب الاسلام من كل داعية أن يكون هادئ الطبع لين العريكة، فيقول الله لنبيه الكريم: {وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ}.

وقد حرم الاسلام القتال من أجل الاكراه في الدين ضمانا لحرية الاعتقاد، ولكنه أعلن الجهاد من أجل حرية عمل الخير وكلمة الحق، والاسلام يطلب من المسلم أن يصدع بكلمة الحق أين ما كان وفي كل وقت، وجعلها الرسول عليه الصلاة والسلام أفضل الجهاد عند سلطان جائر فيقول عليه الصلاد والسلام: (أفضل الجهاد كلمة الحق عند سلطان جائر) أخرجه أبوا داود.

ويجب أن تكون كلمة الحق في إطارها الصحيح الذى يبني ولا يهدم ويخدم الانسانية من حيث هي قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} (2). ويجب أن يكون الأمر في أحسن لفظ وأعصاب هادئة، فالمسلم ليس بالسباب ولا باللعان. ولا بالفاحش البذيء، كما يقول الرسول صلى الله عليه وسلم: (المؤمنون الذين يرضى الله عنهم من صفاتهم أنهم يقولون قولا طيبا) قال تعالى: {وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ} (3)، والكلمة الطيبة تؤثر في القلوب وتلين المشاعر.

المساواة في الاسلام مشكلة حار الناس فيها، ولكن الاسلام حلها بكل سهولة وطبقها بين الناس جميعا، وبين لهم أنهم من أب واحد. وأم واحدة. وإذا جعلهم شعوبا وقبائل فذلك للتعاون لا ليطغى بعضهم على بعض ولا يستعبد بعضهم بعضا، وهذا يقتضى المساواة التامة في الحقوق والواجبات بين الناس قال تعالى: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (4)

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران

(2) سورة الأحزاب

(3) سورة الحج

(4) سورة البقرة
...আমাদের একে অপরকে আল্লাহ ব্যতীত প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ না করি। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম।} (১)।

ইসলাম প্রত্যেক দাওয়াতদানকারীর কাছে প্রত্যাশা করে যে, সে শান্ত স্বভাব ও কোমল আচরণের অধিকারী হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন: {আর আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত}।

ইসলাম বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তিমূলক যুদ্ধকে হারাম করেছে, তবে কল্যাণকর কাজ ও সত্য কথা বলার স্বাধীনতার জন্য জিহাদ ঘোষণা করেছে। ইসলাম একজন মুসলিমের কাছে দাবি করে যে, সে যেখানেই থাকুক এবং যেকোনো সময়েই হোক যেন সত্য কথা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে অত্যাচারী শাসকের সামনে সর্বোত্তম জিহাদ হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ) এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

আর সত্য কথাটি এমন সঠিক কাঠামোর মধ্যে হওয়া উচিত যা গড়ার কাজে লাগে, ধ্বংসের নয় এবং যা মানবতার সেবা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন} (২)। আর বিষয়টি হতে হবে সর্বোত্তম শব্দে এবং শান্ত মেজাজে। কেননা একজন মুসলিম গালিগালাজকারী, লানতকারী কিংবা অশ্লীল ও কটুভাষী নয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মুমিনগণ, যাদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট, তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা উত্তম কথা বলে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদেরকে পবিত্র বাণীর দিকে পরিচালিত করা হয়েছে এবং তাদেরকে প্রশংসিত সত্তার পথের দিশা দেওয়া হয়েছে} (৩), আর উত্তম কথা হৃদয়ে রেখাপাত করে এবং অনুভূতিকে কোমল করে।

ইসলামে সাম্যের বিষয়টি এমন এক সমস্যা যা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল, কিন্তু ইসলাম তা অত্যন্ত সহজে সমাধান করেছে এবং সকল মানুষের মাঝে তা প্রয়োগ করেছে। ইসলাম তাদের সামনে স্পষ্ট করেছে যে, তারা সকলেই এক পিতা ও এক মাতার সন্তান। আর আল্লাহ যে তাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, তা কেবল পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য; একে অপরের ওপর সীমালঙ্ঘন করার জন্য কিংবা একে অপরকে দাসে পরিণত করার জন্য নয়। এটি মানুষের অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে পূর্ণ সাম্যের দাবি রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান

(২) সূরা আল-আহযাব

(৩) সূরা আল-হজ্জ

(৪) সূরা আল-বাকারা
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي فتح مكة المكرمة نادى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: (يا معشر قريش ان الله قد أذهب عنكم نخوة الجاهلية وتعظمها بالآباء) وقال أبو ذر الغفاري رضى الله عنه لرجل يا ابن السوداء فقال له النبي الكريم: (طف الصاع طف الصاع ليس لابن البيضاء على ابن السوداء فضل الا بالعمل الصالح … ).

والشعائر الاسلامية كلها تعمق هذه المعاني في نفوس المسلمين جميعا فصلاة الجماعة والصيام والحج كلها تعمل عملها في تعميق المساواة بين أفراد المجتمع الإسلامي، وبلغت المساواة ذروتها عندما يقول الرسول الكريم صلوات الله وسلامه عليه:) سلمان منا أهل اليت) ويقول عمر بن الخطاب رضى الله عنه: (أبو بكر سيدنا وأعتق سيدنا) ويقصد بذلك بلال رضى الله عنه. كما يقول أيضا عندما ما حضرته الوفاة: (لو كان سالم مولى أبي حذيفة حيا لاستخلفه).

العدل في الاسلام واجب على الجماعة والفرد، ويقول الله سبحانه وتعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} (1).

ويخاطب الله سبحانه وتعالى المؤمنين جميعا بقوله: {يأيها يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (2).

العدالة الاسلامية لا تعرف العواطف حتى ولو كان الخصم قريبا أو صاحبا أو والدا أو غنيا أو فقيرا، فالقاضي والشاهد لا شأن لهما بذلك، والله أولى بالجميع: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة النساء

(2) سورة المائدة

(3) سورة النساء
মক্কা মুকাররমা বিজয়ের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোষণা করে বললেন: (হে কুরাইশ সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের অহংকার এবং পিতৃপুরুষদের নিয়ে গৌরব করার প্রথা দূর করে দিয়েছেন)। আবু যার আল-গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক ব্যক্তিকে বললেন, হে কৃষ্ণাঙ্গীর পুত্র! তখন নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: (পরিমাপ পূর্ণ করো, পরিমাপ পূর্ণ করো; শ্বেতাঙ্গীর পুত্রের ওপর কৃষ্ণাঙ্গীর পুত্রের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, একমাত্র সৎ কর্ম (العمل الصالح) ব্যতীত … )।

সমস্ত ইসলামি নিদর্শনসমূহ সকল মুসলিমের হৃদয়ে এই অর্থগুলোকে গভীরতর করে। জামাতে সালাত, রোজা এবং হজ—সবই ইসলামি সমাজের সদস্যদের মধ্যে সাম্য সুগভীর করতে ভূমিকা রাখে। সাম্য তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল যখন রাসুল কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: (সালমান আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত)। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: (আবু বকর আমাদের নেতা এবং তিনি আমাদের নেতাকে মুক্ত করেছেন), এর দ্বারা তিনি বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বুঝিয়েছেন। মৃত্যু শিয়রে উপস্থিত হলে তিনি আরও বলেছিলেন: (যদি আবু হুযাইফার মুক্ত দাস (مولى) সালেম জীবিত থাকতো, তবে আমি তাকেই খলিফা মনোনীত করতাম)।

ইসলামে ন্যায়বিচার (العدل) সমাজ ও ব্যক্তির ওপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দিতে এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের (العدل) সাথে বিচার করবে} (১)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল মুমিনকে সম্বোধন করে বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইনসাফ কায়েমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সাক্ষ্যদানে অটল থাকো; কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার (العدل) বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার (العدل) করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত} (২)।

ইসলামি ন্যায়বিচার (العدالة) আবেগ চেনে না, চাই বিপক্ষ দল নিকটাত্মীয়, বন্ধু, পিতা-মাতা, ধনী কিংবা দরিদ্র হোক না কেন। বিচারক ও সাক্ষীর নিকট এসবে কিছু যায় আসে না; আর আল্লাহ সকলের জন্য যথেষ্ট: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইনসাফে অটল থাকো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষী দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, আল্লাহ উভয়ের জন্যই যথেষ্ট। সুতরাং ন্যায়বিচার (العدل) করতে গিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা বিমুখ হও, তবে জেনে রেখো আল্লাহ তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত} (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা

(২) সূরা আল-মায়িদাহ

(৩) সূরা আন-নিসা
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
العدالة من أسس المجتمع الإسلامي، ولقد طبقت تطبيقا رائعا في الصدر الأول من الاسلام، فالنبي صلى الله عليه وسلم رهن درعه عند يهودي وحين طالبه اليهودي طلبه في غلظة قائلا: انكم يا بنى عبد المطلب قوم مطل فهم عمر بأن يؤدبه على هذا التجرء على الرسول فقتال له النبي عليه السلام في هدوء: (يا عمر أنا وهو كنا أحوج الى غير هذا منك تأمرني بحسن الأداء وتأمره بحسن الاقتضاء) ويسير المؤمنون على هذا النهج رافعين راية العدل المطلقة.

الاسلام نظام عالمي، وهذا النظام ليس مستعارا ولا خليطا، بل هو نظام رباني قائم بذاته مستقل بروحه أنقد أمما عظيمة في الماضي كانت ترزح تحت قوانين جائرة ونظم فاسدة، وسيتنفذ ان شاء الله أمما عظيمة في المستقبل لأن قوانينه لا زالت مطمح أنظار العالم في حل المشكلات العويصة، لأنه القانون الوحيد الذي يساير طبيعة البشر وميولاتهم الفطرية.

الاسلام جاء يبني مجتمعا لا يعرف الطبقات، ولا الطوائف والأحزاب إلا حزب الله لأنه قد أتى بقوانين عادلة لتطهير المجتمع من الأمراض الفاسدة وهذه القوانين تناولت حياة المجتمع كلها.

التعليم في الاسلام هو الاساس الأول لبناء المجتمع، وتكوين الفرد، وهو النور الذى يسير الانسان على هديه في شؤون دنياه وآخرته، ولذا أمر الاسلام به في أول آية نزلت من السماء: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ * عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} (1). هذه الدعوة ليست مقصورة على الرسول صلى الله عليه وسلم بل تتعداه الى الانسانية جمعاء …

ولقد أهاب الاسلام بالإنسان أن يسعى في مناكب الأرض طلبا للعلم والمعرفة بقوله عز وجل: (أفلم يسيروا في الأرض فتكون لهم قلوب يعقلون بها أو آذان يسمعون بها فإنها لا تعمى الأبصار ولكن تعمى القلوب التي في الصدور} (2).

--------------------------------------------

(1) سورة العلق

(2) سورة الحج
ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) হলো ইসলামী সমাজের অন্যতম ভিত্তি। ইসলামের প্রথম যুগে এর চমৎকার প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়েছে। নবী করীম (সা.) জনৈক ইহুদির কাছে নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। যখন সেই ইহুদি অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় তার পাওনা দাবি করল এবং বলল: "হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! তোমরা পাওনা পরিশোধে টালবাহানা করে থাকো," তখন ওমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি এই ধৃষ্টতার জন্য তাকে শাসন করতে চাইলেন। তখন নবী (সা.) অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন: "হে ওমর! আমাদের দুজনের পক্ষ থেকে তোমার কাছে অন্য কিছুর প্রয়োজন ছিল; তুমি আমাকে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধের আদেশ দিতে আর তাকে উত্তম পন্থায় পাওনা চাওয়ার নির্দেশ দিতে।" মুমিনগণ এই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই ন্যায়বিচারের নিরঙ্কুশ পতাকা সমুন্নত রেখেছেন।

ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা কোনো ধার করা বা সংমিশ্রিত বিষয় নয়; বরং এটি একটি খোদায়ী ব্যবস্থা যা নিজস্ব সত্তায় স্বতন্ত্র। এটি অতীতে অনেক বড় বড় জাতিকে জালিম আইন ও কলুষিত ব্যবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও এটি মহান জাতিসমূহকে মুক্তি দেবে, কারণ এর বিধানসমূহ জটিল সমস্যা সমাধানে এখনও বিশ্ববাসীর পরম আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হয়ে আছে। কেননা এটিই একমাত্র জীবনবিধান যা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি ও সহজাত প্রবৃত্তিগুলোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

ইসলাম এমন এক সমাজ বিনির্মাণের জন্য এসেছে যেখানে কোনো শ্রেণীভেদ থাকবে না, থাকবে না কোনো গোষ্ঠী বা দল—কেবল আল্লাহর দল ব্যতীত। কারণ ইসলাম সমাজকে কলুষিত ব্যাধি থেকে পবিত্র করার জন্য ন্যায়সংগত বিধান নিয়ে এসেছে এবং এই বিধানগুলো সমাজজীবনের সকল দিককে পরিব্যাপ্ত করে আছে।

ইসলামে শিক্ষাই হলো সমাজ বিনির্মাণ এবং ব্যক্তি গঠনের মূল ভিত্তি। শিক্ষা হলো সেই আলো যা মানুষকে তার দুনিয়া ও আখিরাতের কার্যাবলীতে পথ দেখায়। এজন্যই আসমান থেকে অবতীর্ণ প্রথম আয়াতে ইসলাম শিক্ষার নির্দেশ দিয়েছে: {পড়ো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়ো, আর তোমার রব অতি দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না} (১)। এই আহ্বান কেবল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির প্রতি প্রসারিত …

ইসলাম মানুষকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অন্বেষণে পৃথিবীর দিগন্তসমূহে বিচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {তবে কি তারা যমীনে ভ্রমণ করেনি? তাহলে তাদের এমন হৃদয় হতো যা দিয়ে তারা অনুধাবন করতে পারত অথবা এমন কান হতো যা দিয়ে তারা শুনতে পারত। আসলে চক্ষু তো অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়সমূহ} (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আলাক

(২) সূরা আল-হাজ্জ
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم (العالم والمتعلم شريكان في الأجر، ولا خير في سائر الناس بعد) وقد أمر صلى الله عليه وسلم كل أسير كاتب في غزوة بدر الكبرى من المشركين أن يعلم عشرة من أصحابه الكتابة والقراءة، وجعل ذلك سبيل تحرره، وأخبر بأن العلم أفضل أنواع العبادات فقال (قليل العلم خير من كثير العبادة) وقال: (فضل العالم على العابد كفضلى على أدناكم) وهكذا شمل ميدان العلم والمعرفة في الاسلام كل شؤون الحياة كلها.

الحكم في الاسلام: الأمة الإسلامية تستمد - نظمها وتشريعاتها من أربعة مصادر: اثنان أصليان وهما الكتاب والسنة واثنان فرعيان وهما الاجماع والقياس فعلى هذه المصادر قام المجتمع الإسلامي.

ان قواعد الحكم كلها منصوص عليها في القرآن والحديث وإذا لم يكن ثم نص يأتي الاجماع والقياس ويصبحان حجة، الشريعة الاسلامية هي جملة الأوامر الالهية وأنها معصومة من الأخطاء ترسم للمسلم أحكام سلوكه في حياته كلها دينيا وسياسيا واجتماعيا.

فرض الاسلام أن يقوم الحكم على أساس الشورى وأن يقوم التشريع على أساس الكتاب والسنة واتفاق الامام والرعية، ولا ضير بعد ذلك أن يتبعوا هذا النظام أو ذلك من نظم الانتخابية أو يعملوا بهذا الدستور أو ذاك من دساتير الحياة النيابية فكل نظام صالح ما دام قائما على الشورى مؤيدا بسند من مشيئة الامام وأولي الرأي وحقوق الجماعة.

ان قوانين الاسلام تقوم على القرآن والسنة وعلى القياس وفتوى أهل الذكر ومشيئة الاجماع، وأن القرآن الكريم يقول للمسلمين: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} يسلك كل مسلم طريقه على حسب المنهاج المبين فهو أمين على ضميره فيما يختاره من أحكام الدين التي شرعها الكتاب إجمالا، ولم يذكر تمثيل الأمثلة عليها. ولكن اذا رجعنا الى السنة نجد أن أول ما ينهى الإسلام عنه هو أن يقوم الحكم على أساس العصبية زمن أحاديث
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার, আর তাদের পরে অন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদরের মহাযুদ্ধে মুশরিকদের মধ্য হতে প্রত্যেক শিক্ষিত বন্দীকে তার দশজন সাহাবীকে লিখন ও পঠন শেখানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং একেই তাদের মুক্তির পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ইলম বা জ্ঞান হলো শ্রেষ্ঠতম ইবাদত। তিনি বলেন, "অল্প জ্ঞান অধিক ইবাদতের চেয়ে উত্তম।" তিনি আরও বলেন, "একজন আবেদের তুলনায় একজন আলেমের মর্যাদা তোমাদের মধ্যে সবচাইতে সাধারণ ব্যক্তির তুলনায় আমার মর্যাদার মতো।" এভাবেই ইসলামে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্র জীবনের সকল বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে।

ইসলামে শাসনব্যবস্থা: মুসলিম উম্মাহ তাদের শাসনপদ্ধতি ও আইন প্রণয়ন চারটি উৎস থেকে গ্রহণ করে: দুইটি মৌলিক—কিতাব ও সুন্নাহ, এবং দুইটি শাখা—ঐক্যমত্য (إجماع) ও সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس)। এই উৎসগুলোর ওপরই ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শাসনব্যবস্থার সমস্ত নিয়মাবলি কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যদি সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণনা (نص) না থাকে, তবে ঐক্যমত্য (إجماع) ও সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس) আসে এবং সেগুলো দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়। ইসলামী শরিয়াহ হলো আল্লাহর নির্দেশাবলির সমষ্টি এবং এটি ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত (معصومة)। এটি একজন মুসলিমের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক—সর্বক্ষেত্রে তার আচরণের বিধান নির্ধারণ করে দেয়।

ইসলাম অপরিহার্য করেছে যে, শাসনব্যবস্থা পরামর্শ (شورى)-র ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং আইন প্রণয়ন হবে কিতাব, সুন্নাহ এবং ইমাম ও জনগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এরপরে তারা নির্বাচনের যেকোনো পদ্ধতি অনুসরণ করুক বা প্রতিনিধিত্বমূলক জীবনের যেকোনো সংবিধান মেনে চলুক না কেন, তাতে কোনো বাধা নেই। প্রতিটি ব্যবস্থাই ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক, যতক্ষণ তা পরামর্শ (شورى)-র ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং ইমাম, বিজ্ঞ ব্যক্তি ও জনগণের অধিকারের সমর্থনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

ইসলামের আইনসমূহ কুরআন, সুন্নাহ, সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس), বিজ্ঞ ব্যক্তিদের ফতোয়া এবং ঐক্যমত্য (إجماع)-এর অভিপ্রায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কুরআনুল কারিম মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলে: {আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরিয়াহ ও একটি পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি}। প্রত্যেক মুসলিম এই সুস্পষ্ট পথ অনুযায়ী তার জীবন অতিবাহিত করে। সে তার বিবেকের নিকট আমানতদার সেই ধর্মীয় বিধানসমূহ চয়ন করার ক্ষেত্রে যা কিতাব সামগ্রিকভাবে বিধিবদ্ধ করেছে, কিন্তু যার প্রতিটি উদাহরণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে আমরা যদি সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করি তবে দেখতে পাই যে, ইসলাম সর্বপ্রথম যে বিষয়টি নিষেধ করেছে তা হলো বংশীয় অন্ধত্ব বা গোত্রপ্রীতির (عصبية) ভিত্তিতে শাসন পরিচালনা করা। হাদিস সমূহের বর্ণনায়...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
النبي صلى الله عليه وسلم: (ليس منا من دعا الى عصبية وليس منا من قاتل على عصبية، وليس منا من مات على عصبية) والقرآن يقول: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى} والرسول يقول: (ان الله لا يجمع أمتى على ضلالة) ويقول: (من أطاعني فقد أطاع الله ومن عصاني فقد عصى الله ومن يطع الأمير فقد أطاعني، ومن يعص الأمير فقد عصاني) ويقول: (اتبعوا السواد الأعظم) فهذه جملة قواعد الحكم في الاسلام، السلطان لا يقوم على عصبية بل على الشورى، ويغلب فيها اجماع السواد الأعظم وتجب فيها الطاعة لمن يتولى الامر كما تجب لله ورسوله.

ان النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن معنى العزم في قوله عز وجل: {وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ} قال: (مشاورة أهل الرأي ثم اتباعهم) وأنه صلى الله عليه وسلم قال مرة لأبي بكر وعمر رضى الله عنهما لو اجتمعتما في مشورة ما خالفتكما. ووضح عمل الوزير مع الأمير فقال: (اذا أراد الله بالأمير خيرا جعل له وزير صدق إن نسي ذكره وإن ذكر أعانه وإذا أراد به غير ذلك جعل له وزير سوء إذا نسي لم يذكره وإذا ذكر لم يعنه).

أما الواجب بين الأمير والرعية فقد قال عليه الصلاة والسلام: (من خلع يدا من طاعة لقي الله يوم القيامة ولا حجة له، ومن مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية) وقوله: (لا طاعة في معصية وإنما الطاعة في المعروف) وقوله: (من رأى من أميره شيئا فكرهه فليصر، فإنه ليس أحد يفارق الجماعة فيموت الا مات ميتة جاهلية).

وزبدة الأوامر والنواهي جميعا في هذا الواجب بين الراعي والرعية انه الأمر والطاعة في المعروف والحذر عند الخلاف من تفريق الجماعية، وعصمة الجميع أن يسمع الراعي والرعية الى النصيحة من القادرين عليها {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (1)

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গোত্রবাদের (عصبية) দিকে আহ্বান করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গোত্রবাদের (عصبية) ভিত্তিতে যুদ্ধ করে এবং সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গোত্রবাদের (عصبية) ওপর মৃত্যুবরণ করে।" কুরআন বলছে: "এবং তাদের কাজ-কর্ম সম্পাদিত হয় পারস্পরিক পরামর্শের (شورى) মাধ্যমে।" রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে পথভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর একত্রিত করবেন না।" তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি আমাকে মান্য করল, সে মূলত আল্লাহকেই মান্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো। আর যে আমিরের (الأمير) আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল এবং যে আমিরের (الأمير) অবাধ্য হলো, সে আমারই অবাধ্য হলো।" তিনি বলেন: "তোমরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর (السواد الأعظم) অনুসরণ করো।" এগুলো হলো ইসলামে শাসনব্যবস্থার মূলনীতিসমূহের সমষ্টি। রাষ্ট্রক্ষমতা (السلطان) কোনো গোত্রপ্রীতির (عصبية) ওপর নয়, বরং পরামর্শের (شورى) ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর (السواد الأعظم) ঐক্যমত্য (إجماع) প্রাধান্য পায় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যেমন আনুগত্য আবশ্যক, তেমনি দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিরের প্রতিও আনুগত্য প্রদর্শন করা ওয়াজিব (تجب) বা আবশ্যক।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তুমি কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করো, অতঃপর যখন তুমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ (عزم) করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো" -এর মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ (عزم) বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের (أهل الرأي) সাথে পরামর্শ করা এবং এরপর তাদের অনুসরণ করা।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেছিলেন, "যদি তোমরা কোনো পরামর্শের (مشورة) ক্ষেত্রে একমত হতে, তবে আমি তোমাদের বিরোধিতা করতাম না।" তিনি আমিরের সাথে উজিরের (الوزير) কর্মপন্থা স্পষ্ট করে বলেন: "আল্লাহ যখন কোনো আমিরের (الأمير) কল্যাণ চান, তখন তাকে একজন সত্যনিষ্ঠ উজির (وزير صدق) দান করেন; যদি তিনি কিছু ভুলে যান তবে উজির তা স্মরণ করিয়ে দেন এবং যদি তিনি কিছু স্মরণ করেন তবে উজির তাকে সাহায্য করেন। আর আল্লাহ যখন তার জন্য এর বিপরীত কিছু চান, তখন তাকে একজন মন্দ উজির (وزير سوء) দেন; যদি তিনি ভুলে যান তবে উজির তা স্মরণ করান না এবং যদি তিনি স্মরণ করেন তবে উজির তাকে সাহায্য করেন না।"

আমির ও প্রজাসাধারণের মধ্যকার আবশ্যিক কর্তব্য সম্পর্কে রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন: "যে ব্যক্তি আনুগত্যের (طاعة) বন্ধন ছিন্ন করবে, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার সপক্ষে কোনো দলিল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি আনুগত্যের শপথ (بيعة) ব্যতিরেকে মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু।" তাঁর বাণী: "পাপাচারের (معصية) কাজে কোনো আনুগত্য (طاعة) নেই, আনুগত্য কেবল সৎ কাজেই (المعروف) সীমাবদ্ধ।" তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি তার আমিরের (الأمير) মধ্যে এমন কিছু দেখবে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ দল (الجماعة) থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এবং ওই অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহেলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু বরণ করবে।"

শাসক ও শাসিতের মধ্যকার এই কর্তব্যের আদেশ ও নিষেধের সারমর্ম হলো—সৎ কাজে (المعروف) আদেশ ও আনুগত্য করা এবং মতভেদের সময় ঐক্যবদ্ধ দল (الجماعية) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। এই সকল বিষয়ের সুরক্ষা হলো শাসক ও শাসিত উভয় পক্ষ কর্তৃক যোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রদানকৃত নসিহত (النصيحة) বা উপদেশ গ্রহণ করা। "তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের (المعروف) নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজে (المنكر) বাধা দেবে। তারাই সফলকাম।" (১)

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম বিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
أو كما قال عليه الصلاة والسلام: (والذي نفسي بيده لتأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر أو ليوشكن الله أن يبعث عليكم عذابا من عنده ثم لتدعونه ولا يستجيب لكم) وعلى الأمة أن تغير ما تكره من شأنها فإنه (ما من قوم يعمل فيهم بالمعاصي ثم يقدرون على أن يغيروا، ثم لا يغيرون إلا يوشك أن يعمهم الله بعذاب) وعلى الأمير ألا يبتغي الريبة في الرعية لأن الأمير إذا ابتغى الريبة في الناس أفسدهم، والخير كل الخير في الجماعة المفلحة تتساند وتتعاون، إنما المؤمنون كرجل واحد ان اشتكى عينه اشتكى كله وان اشتكى رأسه اشتكى كله، ترى المؤمنين في تراحمهم وتوادهم وتعاطفهم كمثل الجسد إذا اشتكى منه عضو الواحد تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى.

অথবা যেমনটি তিনি (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করবে; অন্যথায় আল্লাহ শীঘ্রই তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে আযাব প্রেরণ করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দুআ করবে কিন্তু তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন না।" আর উম্মতের কর্তব্য হলো তাদের সামগ্রিক অবস্থার যা কিছু তারা অপছন্দ করে তা পরিবর্তন করা; কেননা "কোনো জাতির মধ্যে যখন পাপাচার সংঘটিত হয় এবং তারা তা পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখা সত্ত্বেও পরিবর্তন না করে, তবে আল্লাহ শীঘ্রই তাদের সকলকে আযাবে বেষ্টন করবেন।" আর আমিরের উচিত নয় প্রজাদের মধ্যে সংশয় অনুসন্ধান করা; কারণ আমির যখন মানুষের মধ্যে সংশয় অনুসন্ধান করেন, তখন তিনি তাদের কলুষিত করে ফেলেন। আর সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে সেই সফল জামাতের মধ্যে যারা পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে। মুমিনগণ তো একজন ব্যক্তির ন্যায়; যদি তার চোখে পীড়া হয় তবে তার পুরো শরীর ব্যথিত হয়, আর যদি তার মাথায় পীড়া হয় তবে তার পুরো শরীর ব্যথিত হয়। তুমি মুমিনদের তাদের পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে একটি দেহের ন্যায় দেখবে; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অবশিষ্ট অংশ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার ডাকে সাড়া দেয়।