(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
في سبيل العقيدة الإسلامية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: في سبيل العقيدة الإسلامية
المؤلف: عبد اللطيف بن علي بن أحمد بن محمد السلطاني القنطري الجزائري (ت 1404هـ)
الناشر: دار البعث للطباعة والنشر قسنطينة - الجزائر
الطبعة: الأولى، 1402 هـ - 1982 م
عدد الصفحات: 259
أعده للمكتبة الشاملة/ أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو الحجة 1434
ইসলামী আকিদার পথে বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: ইসলামী আকিদার পথে
লেখক: আব্দুল লতিফ বিন আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-সুলতানি আল-কানতারি আল-জাযাইরি (মৃত্যু ১৪০৪ হি.)
প্রকাশক: দারুল বাস মুদ্রণ ও প্রকাশনা, কনস্টানটাইন - আলজেরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০২ হি. - ১৯৮২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৯
মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ জিলহজ ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
عبد اللطيف بن علي السلطاني
في سبيل
العقيدة الإسلامية
الطبعة الأولى
1402 هـ - 1982 م
نشر
دار البعث للطباعة والنشر قسنطينة - الجزائر
আব্দুল লতিফ বিন আলী আল-সুলতানী
ইসলামী
আকীদার পথে
প্রথম সংস্করণ
১৪০২ হিজরী - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশনায়
দারুল বা'স মুদ্রণ ও প্রকাশনী, কন্সটান্টাইন - আলজেরিয়া
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
عبد اللطيف بن علي السلطاني
في سبيل
العقيدة الإسلامية
الطبعة الأولى
1402 هـ - 1982 م
نشر
دار البعث للطباعة والنشر قسنطينة - الجزائر
আবদুল লতিফ বিন আলী আস-সুলতানী
ইসলামী
আকিদার পথে
প্রথম সংস্করণ
১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশনায়
দারুল বা'স মুদ্রণ ও প্রকাশনা, কনস্টানটাইন - আলজেরিয়া
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
মুদ্রণস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الإفتتاحإن الذين آمنوا وعملوا الصالحات سيجعل لهم الرحمان ودا
الآية 96 من سورة مريم عليها السلام
جمعت هذه الآية بين الإيمان بقواعده في قوله آمنوا وبين الإسلام بقواعده في قوله وعملوا الصالحات.
প্রারম্ভিকানিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, পরম দয়াময় তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন।
সূরা মারইয়ামের ৯৬ নম্বর আয়াত, তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক
এই আয়াতটি ‘তারা ঈমান এনেছে’ উক্তির মাধ্যমে ঈমানের মূলনীতিসমূহ এবং ‘তারা সৎকর্ম করেছে’ উক্তির মাধ্যমে ইসলামের মূলনীতিসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهداءإلى أرواح المعذبين والمحرومين في مجتمعهم الإسلامي،
إلى كل مؤمن بربه كامل في إيمانه،
إلى كل مسلم صادق في إسلامه،
إلى كل الأحرار غير المستعبدين في كل مكان،
أهدي كتابي هذا
ليثبتوا ويثبتوا فوق أرضهم أقدامهم،
من أجل الحق والعقيدة الإسلامية
وليفتحوا أبصارهم على ماضيهم، وينيروا
بالإسلام بصائرهم.
المؤلف
উৎসর্গতাদের ইসলামি সমাজে নির্যাতিত এবং বঞ্চিতদের আত্মার প্রতি,
তাঁর রবের প্রতি বিশ্বাসী এবং ঈমানে পূর্ণ প্রত্যেক মুমিনের প্রতি,
ইসলামে একনিষ্ঠ প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি,
সর্বত্র দাসত্বমুক্ত সকল স্বাধীন মানুষের প্রতি,
আমি আমার এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি
যেন তাঁরা অটল থাকেন এবং নিজ ভূমিতে তাঁদের পা দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেন,
সত্য এবং ইসলামি আকিদার স্বার্থে
এবং যেন তাঁরা তাঁদের অতীতের প্রতি দৃষ্টি উন্মোচন করেন এবং ইসলামের মাধ্যমে
তাঁদের অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেন।
লেখক
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
توجيه وإرشاد:الحمد لله ولى المؤمنين ومسبغ النعم على الخلق أجمعين، فمن شكرها وأدى حقها عد في جماعة المؤمنين، ومن جحدها وأنكرها وكفر بها حشر في زمرة الأغبياء الجاهلين والجاحدين الكافرين.
والصلاة والسلام على إمام المرسلين، وخاتم رسل الله أجمعين محمد بن عبد الله أكرم رسل الله المعظمين وعلى آلهم ومن تبع هداهم، واستمر فى سيره على الطريقة المثلى إلى يوم الدين، ولم يخرج عنها إلى بنيات الطريق بل حافظ على السير في خطها المستقيم عاملا، وناصرا، وداعيا، ومدافعا، فكان من الناجحين، فالله وحده ناصر الحق وأهله، على الباطل وجنده، وهو القائل: ((وكان حقا علينا نصر المؤمنين)) والقائل: ((الله ولي الذين آمنوا يخرجهم من الظلمات إلى النور والذين كفروا أولياؤهم الطاغوت يخرجونهم من النور إلى الظلمات أولئك أصحاب النار هم فيها خالدون)).
وبعد فإن من حق الله الخلاق العليم على عباده أن يعبدوه وحده ولا يشركوا معه غيره، وأن يطيعوه ولا يخالفوا له أمرا ولا نهيا، ولا يخافوا سواه، أولئك
নির্দেশনা ও উপদেশ:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুমিনদের অভিভাবক এবং সকল সৃষ্টির ওপর পূর্ণ নেয়ামত দানকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করল এবং এর হক আদায় করল, সে মুমিনদের দলভুক্ত বলে গণ্য হলো। আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করল, প্রত্যাখ্যান করল এবং তার সাথে কুফরি করল, সে নির্বোধ জাহেল এবং অস্বীকারকারী কাফেরদের দলে হাশরপ্রাপ্ত হবে।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের ইমাম এবং আল্লাহর সকল রাসূলের সমাপ্তিকারী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর, যিনি আল্লাহর সম্মানিত রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর ও যারা তাঁদের হিদায়াত অনুসরণ করেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সর্বোত্তম পথের ওপর নিজের পথচলা অব্যাহত রেখেছে। সে পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য কোনো উপ-পথে যায়নি, বরং তার সরলরেখায় আমলকারী, সাহায্যকারী, আহ্বানকারী এবং প্রতিরক্ষা দানকারী হিসেবে নিজের গতিপথ বজায় রেখেছে, ফলে সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সুতরাং একমাত্র আল্লাহই বাতিল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও সত্যপন্থীদের সাহায্যকারী। তিনি বলেছেন: ((মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব ছিল)) এবং তিনি আরও বলেছেন: ((যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরি করে তাদের অভিভাবক হলো তাগুত, তারা তাদের আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।))
অতপর, নিশ্চয়ই মহান স্রষ্টা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর তাঁর বান্দাদের ওপর প্রাপ্য হক হলো যে, তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে না। এবং তারা যেন তাঁর আনুগত্য করে এবং তাঁর কোনো আদেশ বা নিষেধের বিরুদ্ধাচরণ না করে, আর তিনি ছাড়া অন্য কাউকে ভয় না করে। তারাই...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
هم الذين استنارت عقولهم بنور التوفيق، فوهبوا حياتهم وكل ما يملكون إلى ما يغرس في نفوس عباد الله حبه وطاعته وذلك بإرشادهم إلى سلوك صراط الله المستقيم والسبيل الواضح القويم وهو دين الله الإسلام الذي لا يقبل من أحد غيره ((ومن يبتغي غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخاسرين))، إذ هو دين الله إلى البشر أجمعين وشريعته السمحة البينة عقيدة وعملا فقد كثرت عقائد الزيغ والضلال والبهتان وانتشر دعاتها في كل مكان، يصدون الناس عن سبيل الله ويوجهونهم شطر سبيل الشيطان وقد وجدوا في بعض الضالين من أعانهم على نشر باطلهم في المجتمعات وبلغ بهم هذا إلى المجتمعات الإسلامية، والأوساط الطلابية، والمفروض فيهم أن يكونوا على جانب من الحذر والنباهة، ولكنهم اغتروا بمعسول الكلام المزيف وألبس عليهم الأمر وانطلت عليهم الحيل وإنها - والله - لسبه شنيعة، وكارثة خطيرة لحقت بشعبنا المسلم وشبابنا المرجو للمهمات بعد أن استرد مجده السليب ووطنه العزيز من يد الغاصب الغريب ذلك هو شعبنا الجزائري الذي ما عرف في تاريخه القديم إلا بصلابة عوده وقوة عقيدته الإسلامية حتى في أحلك ليالي الاستعمار فقد كان له رصيد وافر من ذخيرة عقيدة التوحيد، فاستنار في حياته بنور الإسلام وعقيدة التوحيد، وبهذا - فقط - حافظ على شخصيته في دينه وعقيدته،
তারা হলেন সেই সব ব্যক্তি যাদের জ্ঞান তৌফিকের নূর দ্বারা উদ্ভাসিত হয়েছে, ফলে তারা তাদের জীবন এবং তাদের মালিকানাধীন সবকিছু সেই উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন যা আল্লাহর বান্দাদের অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য রোপণ করে। আর তা হলো আল্লাহর সরল সঠিক পথ এবং স্পষ্ট ও সুদৃঢ় পথে চলার জন্য তাদের দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে; আর তা হলো আল্লাহর দীন ইসলাম, যা ব্যতীত অন্য কিছু কারো কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না। "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো জীবনবিধান তালাশ করবে, তা কখনোই তার কাছ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" কেননা এটিই সমস্ত মানবজাতির জন্য আল্লাহর দীন এবং আকিদা ও আমলগতভাবে তাঁর সহজ-সরল ও সুস্পষ্ট শরিয়ত। বস্তুত বক্রতা, বিভ্রান্তি এবং অপবাদের আকিদাগুলো বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সব জায়গায় এগুলোর আহ্বানকারীরা ছড়িয়ে পড়েছে। তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে এবং তাদের শয়তানের পথের দিকে পরিচালিত করে। আর তারা কিছু পথভ্রষ্ট মানুষের মধ্যে এমন লোক খুঁজে পেয়েছে যারা সমাজে তাদের বাতিল মতবাদ প্রচারে সহায়তা করেছে এবং এটি তাদের মাধ্যমে মুসলিম সমাজ ও ছাত্র অঙ্গন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অথচ তাদের নিকট কাম্য ছিল যেন তারা সতর্কতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়, কিন্তু তারা অলঙ্কৃত মিথ্যা কথায় প্রতারিত হয়েছে, বিষয়টি তাদের নিকট অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর প্রতারণা কাজ করেছে। আর আল্লাহর কসম, এটি একটি জঘন্য কলঙ্ক এবং এক ভয়াবহ বিপর্যয়, যা আমাদের মুসলিম জাতির ওপর এবং আমাদের সেই যুবসমাজের ওপর আপতিত হয়েছে যাদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আশা করা হয়েছিল; বিশেষ করে বিজাতীয় দখলদারের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া গৌরব এবং প্রিয় মাতৃভূমি উদ্ধার করার পর। এটি আমাদের আলজেরীয় জাতি, যারা তাদের প্রাচীন ইতিহাসে দৃঢ়তা এবং শক্তিশালী ইসলামী আকিদার জন্যই সুপরিচিত ছিল, এমনকি উপনিবেশবাদের ঘোরতর অন্ধকার রাতেও। কেননা তাদের নিকট তাওহিদের আকিদার এক বিশাল ভাণ্ডার সঞ্চিত ছিল, ফলে তারা তাদের জীবনে ইসলামের নূর এবং তাওহিদের আকিদার মাধ্যমে আলোকবর্তিকা লাভ করেছিল; এবং শুধুমাত্র এভাবেই সে তার দীন ও আকিদার ক্ষেত্রে নিজস্ব সত্তা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعلى كل مميزاته ومميزات شخصيته الإسلامية من أخلاق فاضلة، وسجايا حميدة ذات الطابع الإسلامي، من حياء وكرم، وغيرة ونجدة في الملمات والمهمات، ولم يندمج فيما حاط به من جماعات الضلال، وتمسك بحبل الله المتين، واعتصم به وعقد العزم على أن لا يسل يده منه مهما نزل به ما نزل من صارفات الأيام وأحداثها فنجا - والفضل لله - من كل محاولات المستعمر الكثيرة، التي كم حاول واجتهد في صرفه عن دينه وعقيدته فباء في كل محاولاته بالفشل والخيبة واستمر شعبنا يقاوم الدخيل يتلك العقيدة إلى أن استرد أرضه وشرفه وحريته من غاصبها الدخيل وحررها من كل شيطان مارد.
ومن المؤسف جدا أن تظهر في أوساط شباب هذا الشعب المسلم شرذمة قليلة حقيرة ادعت أنها من رجال العلم الحريصين على نفع الوطن وأهله فتفاءل الناس بها وقالوا عسى ولعل أن نرى منها قولا صحيحا وسلوكا سليما غير أن الواقع أبطل هذا التفاؤل وأظهر أنها ما اتخذت العلم لباسا إلا للتدليس وبث الإلحاد والبلبلة في أوساط الشباب - إذ يصعب عليها جلب الكبار المتشبعين بالتعاليم الصحيحة إلى ضلالها وإلحادها - فهي مسخرة ومسيرة ومأجورة من قبل أسيادها الملاحدة الذين يريدون مسخ شباب الأمة الجزائرية المسلمة ووجدت مساندة من بعض أبناء هذا الوطن ممن تغذوا بلبن المستعمر الكافر، وهم في حقيقتهم لا دين لهم،
এবং তার সকল বৈশিষ্ট্য এবং তার উন্নত চরিত্র ও প্রশংসনীয় গুণাবলি সম্বলিত ইসলামী ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে—যেমন লজ্জা, উদারতা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং বিপদ-আপদে ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহায্য করা—সে তাকে পরিবেষ্টনকারী পথভ্রষ্ট দলগুলোর সাথে মিশে যায়নি, বরং আল্লাহর মজবুত রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিল, তাঁরই আশ্রয় নিয়েছিল এবং এই দৃঢ় সংকল্প করেছিল যে, সময়ের প্রতিকূলতা ও ঘটনাপ্রবাহে তার ওপর যাই নেমে আসুক না কেন, সে আল্লাহর রজ্জু থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেবে না। ফলে সে—এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর—উপনিবেশবাদীদের সেই অগণিত প্রচেষ্টা থেকে মুক্তি পেয়েছিল, যারা তাকে তার দ্বীন ও আকিদা থেকে বিচ্যুত করার জন্য কতই না চেষ্টা ও পরিশ্রম করেছিল, কিন্তু তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টা ব্যর্থতা ও নিরাশায় পর্যবসিত হয়েছিল। আর আমাদের জনগণ সেই আকিদার সাহায্যেই বহিরাগত শত্রুদের প্রতিরোধ করে গিয়েছে, যতক্ষণ না তারা জবরদখলকারী বহিরাগতদের হাত থেকে নিজেদের ভূমি, সম্মান ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছে এবং একে প্রতিটি অবাধ্য শয়তানের কবল থেকে মুক্ত করেছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এই মুসলিম জনপদের যুবকদের মধ্যে এক অতি নগণ্য ও তুচ্ছ দলের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা দাবি করেছিল যে তারা দেশের ও দেশবাসীর কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ব্যাপারে আশাবাদী হয়েছিল এবং বলেছিল যে, হয়তো আমরা তাদের কাছ থেকে সঠিক কোনো কথা এবং সুস্থ কোনো আচরণ দেখতে পাব। কিন্তু বাস্তবতা এই আশাবাদকে নস্যাৎ করে দিয়েছে এবং প্রকাশ করে দিয়েছে যে, তারা জ্ঞানকে কেবল ধোঁকা প্রদান এবং যুবকদের মাঝে নাস্তিক্যবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার আবরণ হিসেবেই গ্রহণ করেছে—কেননা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বড়দেরকে তাদের এই পথভ্রষ্টতা ও নাস্তিক্যবাদের দিকে টেনে আনা তাদের জন্য কঠিন ছিল—তাই তারা মূলত তাদের নাস্তিক প্রভুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত ও ভাড়াটে এক গোষ্ঠী, যারা আলজেরীয় মুসলিম উম্মাহর যুবকদের আদর্শিক বিকৃতি ঘটাতে চায়। তারা এই দেশেরই এমন কিছু কুসন্তানের সমর্থন লাভ করেছে যারা কাফের উপনিবেশবাদীদের দুগ্ধে লালিত-পালিত হয়েছে, আর প্রকৃতপক্ষে যাদের কোনো দ্বীন বা ধর্ম নেই।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولا وطنية تعصمهم ولا ضمير يؤنبهم ولا هدف لهم سوى حب الشهرة وإشباع الشهوات، وتحريف الشباب الجزائري المسلم عن المنهج الأقوم وفتح المجال لهذه الشرذمة فأطنبت في الكذب والتزوير والبهتان، وأصدرت منشورات لطخت بياضها بسواد الكذب والبهتان كما لطخت بياض صحائفها فجاءت تلك الوريقات الملطخة ((وخذة)) وكارثة أصيبت بها أمتنا في شبابها! ومن العجب والوقاحة أنها صارت تعارض نشر الكتب الإسلامية في وطن الإسلام!! وما فكرت أنها في وطن إسلامي عريق في إسلامه، غيور عن معتقداته، وهي وأعوانها ومسيروها والحارسون عليها والراضون عنها في ذلك شركاء.
فالبرغم من تشجيع هذه الشرذمة الضالة ورغم مساندتها المطلقة، فقد خابت في كل محاولاتها لإيقاف تيار الاتجاه الإسلامي فركضت وراء سرابها ما شاء لها الشيطان وأعوانه أن تركض وكذبت ما شاء لها الهوى أن تكذب، وشوشت على المصلين والعباد في بيوت الله إلى أن أطلقت لسانها وأقلامها المأجورة في أعز عزيز على الأمة الإسلامية وإلى ما في قلبها من عقيدة التوحيد، محاولة انتزاعها واقتلاع جذورها، ظنا منها أن هذا ميسور وسهل، ولكن هيهات ثم هيهات!! فقد اصطدمت بالواقع وباءت بالفشل الذريع والخيبة المرة.
فتنبهوا أيها المسلمون إلى هذا ولا تغفلوا عما يراد بكم وبالوطن العزيز.
কোনো জাতীয়তাবাদ তাদের রক্ষা করে না, কোনো বিবেক তাদের দংশন করে না। খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি লাভ এবং প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা ছাড়া তাদের অন্য কোনো লক্ষ্য নেই। তারা আলজেরীয় মুসলিম যুবক সমাজকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে চায় এবং এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর জন্য পথ উন্মোচন করে দেয়। এরপর তারা মিথ্যাচার, জালিয়াতি এবং অপবাদে চরম বাড়াবাড়ি শুরু করে। তারা এমন সব প্রকাশনা বের করেছে যা মিথ্যার কালিমা দিয়ে এর শুভ্রতাকে কলঙ্কিত করেছে, যেমনভাবে তারা তাদের আমলনামার শুভ্রতাকে কলঙ্কিত করেছে। ফলে সেই কলঙ্কিত পাতাগুলো আমাদের উম্মতের তরুণদের জন্য এক আঘাত এবং বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে! এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের এবং ধৃষ্টতার বিষয় যে, তারা ইসলামের ভূখণ্ডে ইসলামী বইপত্র প্রকাশের বিরোধিতা করতে শুরু করেছে!! তারা এটি একবারও ভেবে দেখেনি যে, তারা এমন এক ইসলামী রাষ্ট্রে অবস্থান করছে যার ইসলাম অত্যন্ত সুপ্রাচীন এবং যা তার আকিদাহ-বিশ্বাসের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল। আর তারা এবং তাদের সহযোগীরা, পরিচালকগণ, তাদের রক্ষকগণ এবং যারা এতে সন্তুষ্ট—সকলেই এই কর্মে অংশীদার।
এই পথভ্রষ্ট ক্ষুদ্র দলটিকে উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, ইসলামী জাগরণের ধারাকে থামিয়ে দেওয়ার তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শয়তান ও তার দোসররা তাদের যতটুকু প্ররোচিত করেছে তারা তাদের মরীচিকার পেছনে ততটুকুই ছুটেছে, আর কুপ্রবৃত্তি তাদের যতটা শিখিয়ে দিয়েছে তারা ততটাই মিথ্যাচার করেছে। তারা আল্লাহর ঘরসমূহে নামাজি ও ইবাদতকারীদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অবশেষে তারা তাদের ভাড়াটে জিহ্বা ও কলম উম্মতে ইসলামীর সবচেয়ে প্রিয় বিষয়ের ওপর এবং তাদের হৃদয়ে প্রোথিত তাওহিদের আকিদাহর ওপর চালিত করেছে। তারা তা উপড়ে ফেলতে এবং এর শিকড় উৎপাটন করার চেষ্টা করেছে, এই মনে করে যে এটি অত্যন্ত সহজ ও সুগম হবে। কিন্তু আফসোস, কতই না অসম্ভব!! তারা বাস্তবের পাথরে হোঁচট খেয়েছে এবং চরম ব্যর্থতা ও তিক্ত নিরাশার গ্লানি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে।
অতএব হে মুসলিমগণ! আপনারা এ বিষয়ে সতর্ক হোন এবং আপনাদের ও আপনাদের এই প্রিয় দেশ সম্পর্কে যা করা হচ্ছে সে বিষয়ে গাফেল থাকবেন না।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فإلى شبابنا المسلم الواعي لما يجب عليه هذه الفصول من حياة قادة التوحيد وأنصار عقيدته، والإدلاء على الخير وإصلاح النفوس وهم ما بين رسول من رسل الله الكرام عليهم الصلاة والسلام - فقد أمرنا خالقنا بالتأسي بهم - وبين مؤمن بدعوتهم، فأخذ عنهم خالص العقيدة الصحيحة، وزبدة الإيمان الصحيح في الصدق والوفاء للعقيدة، والاقتداء بعباده الصالحين، فاصبروا - أيها الأبناء البررة - على ما يصيبكم في سبيل عقيدتكم كما صبروا وستفوزون بالنصر كما فانوا وكونوا لعقيدتكم الصحيحة تكن لكم، تمسكوا بها ودافعوا عنها عدوان الإلحاد والملحدين فإنكم أنصار الحق ودعاته وهم إنما يدافعون عن الباطل ويدعون إليه تماما كما كان مشركو قريش يفعلون في دفاعهم عن أوثانهم فما أشبه اليوم بالأمس، والليلة بالبارحة، واثبتوا كما ثبت أسلافكم الأولون فإن العاقبة للصابرين الثابتين والنصر إنما يناله الصادقون المخلصون والهزيمة والخذلان من نصيب المعتدين الظالمين واجعلوا نصب أعينكم قول الشاعر الحكيم حين قال:
قف دون رأيك في الحياة مجاهدا
… إن الحياة عقيدة وجهاد
واذكروا - أيها الأبناء - موقف رسول الله - إبراهيم الخليل عليه السلام من أجل عقيدته، التوحيدية،
সুতরাং আমাদের সেই সচেতন মুসলিম যুবকদের প্রতি, যারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ, তাওহীদের মহানায়ক ও তাঁর আকীদার সাহায্যকারীদের জীবনের এই পাঠসমূহ, যা কল্যাণের পথপ্রদর্শক এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। তারা আল্লাহর সম্মানিত রাসূলগণের (তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) অন্তর্ভুক্ত - কেননা আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের তাঁদের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন - এবং তাঁদের দাওয়াতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত, যারা তাঁদের কাছ থেকে বিশুদ্ধ সঠিক আকীদার নির্যাস এবং আকীদার প্রতি সততা ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে সঠিক ঈমানের সারবস্তু গ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের অনুসরণ করেছেন। অতএব হে পুণ্যবান সন্তানগণ! তোমরা তোমাদের আকীদার পথে তোমাদের ওপর আসা বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করো, যেমন তাঁরা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। তোমরা অচিরেই বিজয় লাভ করবে যেমন তাঁরা লাভ করেছিলেন। তোমরা তোমাদের সঠিক আকীদার জন্য নিবেদিত হও, তবেই তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে। একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং নাস্তিকতা ও নাস্তিকদের আগ্রাসন থেকে একে রক্ষা করো; কেননা তোমরাই সত্যের সাহায্যকারী ও এর দাওয়াতদানকারী, আর তারা কেবল বাতিলের প্রতিরক্ষা করে এবং তারই দিকে আহ্বান করে—ঠিক যেমনটি কুরাইশ মুশরিকরা তাদের মূর্তিদের রক্ষায় করত। বর্তমানের সাথে অতীতের আর আজকের রাতের সাথে গত রাতের কতই না মিল! তোমরা অটল থাকো যেমন তোমাদের পূর্বসূরিগণ অটল ছিলেন; কেননা শুভ পরিণাম তো ধৈর্যশীল ও অটলদের জন্যই, আর বিজয় কেবল সত্যবাদী ও একনিষ্ঠদের ভাগ্যেই জোটে, পক্ষান্তরে পরাজয় ও লাঞ্ছনা সীমালঙ্ঘনকারী জালেমদের প্রাপ্য। আর তোমরা বিজ্ঞ কবির সেই উক্তিটি নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করো যখন তিনি বলেছিলেন:
নিজের আদর্শের ওপর জীবনে মুজাহিদ হিসেবে অটল থাকো
… নিশ্চয়ই জীবন হচ্ছে আকীদা ও জিহাদ
আর হে বৎসগণ! তোমরা স্মরণ করো আল্লাহর রাসূল ইব্রাহীম খলীল আলাইহিস সালামের সেই অবস্থানের কথা, যা তিনি তাঁর তাওহীদী আকীদার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
حيث قال حسبي الله ونعم الوكيل فهل تركه ربه للظالمين؟؟ وهل تخلى عنه وتركه ولم ينصره؟ حين أرادوا به كيدا فجعلهم ربه الأحسرين؟ كلا وتفكروا - جيدا - في موقف أصحاب الأخدود وهم يعرضون على النار الواحد بعد الواحد تلك النار التي أوقدها لهم الظالمون وهل خافوها؟ واعتبروا بصلابة عود الصحابى ((بلال)) في عقيدته وظهره تحت سياط مشركي قريش في حر الظهيرة وفى بطحاء مكة، يريدون أن ينتزعوا منه عقيدة التوحيد ليكفر بالله وبرسوله محمد صل الله عليه وسلم ويؤمن باللات والعزى ويكون من المشركين، وهل أجابهم إلى ذلك؟ كلا بل أخذ يقول ويردد ((أحد أحد)).
لهذا يجب على العلماء أمام هذا الإلحاد الذي يتزايد خطره وشره يوما بعد يوم محاولا بث عقيدته الإلحادية يجب عليهم اليقظة والانتباه والعمل لدرء هذا الخطر بما يليق به من نشر الكتب التي تقاومه وتبطل عمله إذ هو لا يؤمن برب ولا بخالق ولا ببعث ولا بما يأتي بعده من حساب وجزاء ولا بنار ولا بجنة، ولا بالحياة الأخرى الدائمة، فهو مادي ولا يؤمن إلا بالمادة، إذ هو يسعى بكل قواه أن ينجح في أعماله الإجرامية هذه فعلى العلماء أن يحاربوا الإلحاد بجميع أشكاله وأنواعه وأساليبه فنحن مسلمون مؤمنون نؤمن بما جاءنا من عند الله فنؤمن بالبعث وبالياء الأخرى بعد هذه الحياة
যখন তিনি বললেন, "আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক", তখন তাঁর রব কি তাঁকে জালিমদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন? তিনি কি তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলেন এবং সাহায্য করেননি? যখন তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চাইল, তখন তাঁর রব তাদের চরম ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিতে পরিণত করলেন। কখনোই না। আর আপনারা পরিখাওয়ালাদের (আসহাবুল উখদুদ) অবস্থা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করুন, যখন তাদের একে একে আগুনের সামনে পেশ করা হচ্ছিল; সেই আগুন যা জালিমরা তাদের জন্য প্রজ্বলিত করেছিল। তারা কি সেই আগুনকে ভয় পেয়েছিল? আর সাহাবী বিলালের আকিদার দৃঢ়তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, যখন মক্কার মরুপ্রান্তরে দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড উত্তাপে কুরাইশ মুশরিকদের চাবুকের নিচে তাঁর পিঠ ছিল; তারা তাঁর থেকে তাওহিদের আকিদা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল যাতে তিনি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কুফরি করেন এবং লাত ও উজ্জার প্রতি ঈমান আনেন ও মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি কি তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন? না, বরং তিনি বলতে ও পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন, "এক, এক"।
এই কারণে, এই নাস্তিক্যবাদের সামনে যা দিন দিন বিপজ্জনক ও অশুভ হয়ে উঠছে এবং তার নাস্তিক্যবাদী আকিদা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আলেমদের ওপর আবশ্যিক হলো জাগ্রত হওয়া, মনোযোগী হওয়া এবং এই বিপদ প্রতিহত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যেমন এমন সব গ্রন্থ প্রচার করা যা একে প্রতিরোধ করবে এবং এর অপতৎপরতাকে বাতিল করে দেবে; যেহেতু নাস্তিক্যবাদ কোনো রব, কোনো স্রষ্টা, পুনরুত্থান এবং এর পরবর্তী হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান, জাহান্নাম, জান্নাত কিংবা চিরস্থায়ী পরকালের জীবনে বিশ্বাস করে না। সে বস্তুবাদী এবং বস্তু ছাড়া আর কিছুই বিশ্বাস করে না। সে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সফল হতে সচেষ্ট। অতএব, আলেমদের উচিত নাস্তিক্যবাদের সকল রূপ, প্রকার ও পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করা। কেননা আমরা মুমিন মুসলমান, আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তাতে বিশ্বাস করি; সুতরাং আমরা পুনরুত্থান এবং এই জীবনের পর পরকালীন জীবনে বিশ্বাস করি।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا هو توجيهنا لشبابنا ولكهولنا ولشيوخنا فالسكوت عن الإلحاد ودعوته وهي تنشر بيننا، جريمة كبيرة يقترفها من يسكت عنها ترضية لجانب فلان أو فلان، فالحق واحد والإسلام حق والإلحاد باطل (والإسلام يعلو ولا يعلى) متى وجد أنصارا مخلصين ومؤمنين به صادقين.
ونرجو الله ربنا ومولانا أن يقوي إيماننا ويتقبل منا أعمالنا وأن يثيبنا عليها بقدر إخلاصنا لعقيدتنا وأن ينصر جند الإسلام جند الحق والهداية والسلام أينما كانوا وحسبنا الله ونعم الوكيل ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم فإنا كما قال القائل:
كتبت وقد أيقنت يوم كتابي
… بأن يدي تفنى ويبقى كتابها
فإن كتبت خيرا ستجزى بمثله
… وإن كتبت سوءا عليها حسابها.
এটিই আমাদের যুবক, প্রৌঢ় এবং বৃদ্ধদের প্রতি আমাদের দিকনির্দেশনা। নাস্তিকতা এবং আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া তার প্রচারণার বিষয়ে নীরব থাকা একটি বড় অপরাধ, যা এমন ব্যক্তি সংঘটিত করে যে অমুক বা তমুককে তুষ্ট করার জন্য নীরব থাকে। সত্য তো এক, আর ইসলাম সত্য ও নাস্তিকতা মিথ্যা। (আর ইসলাম বিজয়ী হয় এবং তার ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না) যখনই সে একনিষ্ঠ সাহায্যকারী এবং তার প্রতি বিশ্বাসী সত্যবাদী মুমিনদের পায়।
আর আমরা আমাদের রব ও মাওলা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করেন, আমাদের আমলসমূহ কবুল করেন এবং আমাদের আকিদার প্রতি আমাদের একনিষ্ঠতা অনুযায়ী আমাদের প্রতিদান দান করেন। আর তিনি যেন ইসলামের বাহিনীকে—সত্য, হেদায়েত ও শান্তির বাহিনীকে—যেখানেই তারা থাকুক না কেন সাহায্য করেন। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। মহান ও উচ্চমর্যাদাশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আমরা তো তেমনটিই যেমন জনৈক ব্যক্তি বলেছেন:
আমি লিখেছি এমতাবস্থায় যে লেখার দিন আমি নিশ্চিত ছিলাম
… যে আমার হাত ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু তার লেখা অবশিষ্ট থাকবে
যদি সে কল্যাণকর কিছু লিখে থাকে তবে তার অনুরূপ প্রতিদান পাবে
… আর যদি সে মন্দ কিছু লিখে থাকে তবে তার হিসাব তার উপরেই বর্তাবে।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيد:قال بعض علماء الإسلام ومنهم (عبد الرحمن ابن مهدي) الذي كان من الملازمين للإمام مالك، كما كان من أعلم الناس بالحديث ينبغي لمن أراد أن يصنف كتابا - دينيا - أن يبدأه بالحديث الصحيح الذي رواه أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وهو قوله: سمعت رسول الله صل الله عليه وسلم يقول: (إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه) أخرجه الإمامان البخاري ومسلم في صحيحهما ففي هذا الحديث تنبيه لطالب العلم الديني إلى تصحيح نيته لأن الجزاء على الأعمال إنما يكون على حسب نية العامل إذ لا يصح وضوء ولا صلاة ولا صوم ولا جهاد ولا أى شيء من جميع الطاعات إلا لمن نوى وقصد أنه أراد بعمله طاعة الله عز وجل، أما إذا تجرد العمل من النية فإنه يكون لغوا لا ثواب عليه ولا جزاء فيه إذ بالنية والقصد تتميز الأعمال الدينية عن غيرها من سائر الأعمال، فالنية عنصر أساسي في
ভূমিকা:ইসলামের কতিপয় আলেম বলেছেন—যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (আবদুর রহমান ইবনে মাহদী), যিনি ইমাম মালিকের সার্বক্ষণিক সাথীদের একজন ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্রে মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ছিলেন—যে ব্যক্তি কোনো দ্বীনি কিতাব রচনা করতে চান, তাঁর উচিত আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বর্ণিত সহিহ হাদিসটি দ্বারা তা শুরু করা। আর তা হলো তাঁর এই উক্তি: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে)। ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসে দ্বীনি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য নিজ নিয়ত সংশোধনের একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা রয়েছে। কারণ আমলের প্রতিদান কেবল আমলকারীর নিয়ত অনুযায়ীই হয়ে থাকে। কেননা অজু, নামাজ, রোজা, জিহাদ কিংবা আনুগত্যের কোনো কাজই শুদ্ধ হয় না যতক্ষণ না কেউ তার আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্যের ইচ্ছা ও সংকল্প করে। কিন্তু আমল যদি নিয়তবিহীন হয়, তবে তা নিরর্থক হবে, যার কোনো সওয়াব বা প্রতিদান নেই। যেহেতু নিয়ত ও সংকল্পের মাধ্যমেই ধর্মীয় আমলসমূহ অন্যান্য জাগতিক কাজ থেকে পৃথক হয়, তাই নিয়ত একটি অপরিহার্য উপাদান...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صحة الأعمال وبطلانها، فليس عمل المنافق الذي يحضر مصلى المسلمين ويصلي معهم من غير وضوء - وهو غير مؤمن بها - كمن يصليها بنية فعل الواجب الذي أوجبه الله عليه لأنه مؤمن بوجوبها عليه وإلى هذا تشير الآية الكريمة وهي قوله تعالى (وما أمروا إلا ليعبدوا الله مخلصين له الدين حنفاء).
وقد جرى بعض العلماء على هذا العمل من تقديم هذا الحديث على غيره، منهم الإمام البخاري في صحيحه، حيث ابتدأه بالحديث المذكور وقد ذكره في سبعة مواضع من صحيحه للمناسبة.
ونظرا لكثرة فوائد هذا الحديث وصحته فقد قال فيه الإمام الشافعي رحمه الله وغيره هو ثلث الإسلام، كما قال أنه يدخل في سبعين بابا من أبواب الفقه وقال آخرون من العلماء هو ربع الإسلام لما رأوا فيه من أن أصول الإسلام التي بنيت عليها أحكامه ترجع إلى أربعة أحاديث نبوية أولها حديث عمر هذا (إنما الأعمال بالنيات)، وثانيها حديث أبى هريرة رض الله عنه (من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه)، وثالثها حديث النعمان بن بشير رضي الله عنه (إن الحلال بين وإن الحرام بين)، ورابعها حديث سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنه (إزهد في الدنيا يحبك الله الخ).
وقيل غير هذه الأربعة وقد جمعها الحافظ أبو الحسن طاهر بن معوذ المعافري الإشبيلي الأندلسي فقال:
আমলসমূহের বিশুদ্ধতা এবং অসারতা; সুতরাং যে মুনাফিক মুসলিমদের সালাতের স্থানে উপস্থিত হয় এবং অজু ছাড়াই তাদের সাথে সালাত আদায় করে—অথচ সে এতে বিশ্বাসী নয়—তার আমল সেই ব্যক্তির মতো নয় যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর নির্ধারিত ফরজ আদায়ের নিয়তে সালাত আদায় করে, কেননা সে এর আবশ্যকতা বা ফরজিয়াতে বিশ্বাসী। আর মহান আল্লাহর এই বাণীটি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং শিরক মুক্ত হয়ে।"
কিছু আলেম এই হাদিসটিকে অন্য সবকিছুর আগে স্থান দেওয়ার নীতি অনুসরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি করেছেন; তিনি গ্রন্থটি উক্ত হাদিস দিয়ে শুরু করেছেন এবং প্রাসঙ্গিকতার কারণে তাঁর সহীহ গ্রন্থের সাতটি স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন।
এই হাদিসের বহুবিধ উপকারিতা এবং এর বিশুদ্ধতার কারণে ইমাম শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও অন্যান্যগণ বলেছেন যে, এটি ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ। তিনি আরও বলেছেন যে, এটি ফিকহের সত্তরটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে। অন্য আলেমরা বলেছেন এটি ইসলামের এক-চতুর্থাংশ, কেননা তারা মনে করেন ইসলামের যে মূলনীতিগুলোর ওপর এর বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠিত তা চারটি নববী হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। প্রথমটি হলো ওমরের এই হাদিসটি (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল), দ্বিতীয়টি হলো আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস (ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা), তৃতীয়টি হলো নুমান ইবনে বশীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস (নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট), এবং চতুর্থটি হলো সাহল ইবনে সাদ আল-সায়েদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস (দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হও, তবে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন, ইত্যাদি)।
এই চারটি ছাড়া অন্য হাদিসের কথাও বলা হয়েছে। হাফেজ আবুল হাসান তাহের ইবনে মুআওয়াজ আল-মাআফিরি আল-ইশবিলি আল-আন্দালুসি সেগুলো একত্রিত করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عمدة الدين عندنا كلمات
…أربع من كلام خير البرية
إتق الشبهات وازهد ودع ما
…ليس يعنيك واعملن بنية
وقيل قائلها الإمام الشافعي وحديث إنما الأعمال بالنيات المذكور حديث صحيح - كما مر - فهو من الأحاديث التي يدور عليها التكليف الديني، تعددت طرق رواياته وكلها تتصل بمن سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه فلم يصح إلا من روايته هو عن النبي صلى الله عليه وسلم واتفق العلماء على صحته لثقة رواته وتلقوه بالقبول واستخرجوا منه أنواعا شتى من أصول الأحكام والتوجيه وبه صدر الإمام البخاري صحيحه - كما تقدم قريبا - وأقامه مقام الخطبة لصحيحه حسبما أشار إليه من كتب عليه وشرحه وهذا العمل منه رحمه الله إشارة إلى أن كل عمل أو قول لا يراد به وجه الله فهو لغو وباطل لا ثمرة له ولا فائدة فيه لا في الدنيا ولا في الآخرة مثل الذى يصلي رياء وسمعة من حيث لم يقصد بصلاته طاعة الله بفعل ما أوجبه عليه فإن صلاته لا تنفعه ولا تنهاه عن الفحشاء والمنكر لأن هذا من ثمرتها - وإن تردد فاعلها عن المساجد - وكمن يريد - باسم المجاهد وببطاقته - أن يكون مجاهدا له من الحقوق ما للمجاهدين في سبيل الله، ولم تكن له نية الجهاد في سيل الله، أو لم يجاهد
আমাদের কাছে দ্বীনের মূল ভিত্তি হলো চারটি বাণী
…যা সৃষ্টির সেরা মানবের বাণী থেকে সংগৃহীত
সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করো, দুনিয়াবিমুখ হও এবং বর্জন করো যা
…তোমার কোনো প্রয়োজনে আসে না এবং নিয়তের সাথে আমল করো
বলা হয়েছে যে, এর প্রবক্তা হলেন ইমাম শাফিঈ। আর উল্লেখিত "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি একটি সহীহ হাদিস - যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে - সুতরাং এটি এমন সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর ধর্মীয় বিধিবিধান আবর্তিত হয়। এর বর্ণনার সূত্রগুলো বহুবিধ এবং এ সবই সেই ব্যক্তির সাথে যুক্ত যিনি এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন, আর তিনি হলেন আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। এটি কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তাঁর বর্ণনার মাধ্যমেই বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে। বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে উলামায়ে কেরাম এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তাঁরা একে কবুল করে নিয়েছেন। তাঁরা এ থেকে বিভিন্ন প্রকারের মৌলিক বিধান ও দিকনির্দেশনা আহরণ করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থটি এর মাধ্যমেই শুরু করেছেন - যা সম্প্রতি অতিক্রান্ত হয়েছে - এবং তিনি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের খুতবা বা ভূমিকা হিসেবে একে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যেমনটি এর ওপর যারা লিখেছেন ও এর ব্যাখ্যা করেছেন তারা ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) পক্ষ থেকে এই কাজটি হলো এই বিষয়ের প্রতি ইশারা যে, যে কোনো কাজ বা কথা যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করা হয় না, তা অসার ও বাতিল; দুনিয়া বা আখিরাত কোথাও এর কোনো ফল বা ফায়দা নেই। যেমন সেই ব্যক্তি, যে লোকদেখানো এবং সুখ্যাতির জন্য সালাত আদায় করে; কারণ সে তার সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ যা তার ওপর ফরজ করেছেন তা পালনের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যের উদ্দেশ্য করেনি। সুতরাং তার সালাত তার কোনো উপকারে আসবে না এবং তাকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে না, কারণ এটি হলো সালাতের ফল - যদিও সে ব্যক্তি মসজিদে যাতায়াত করে। আর যেমন সেই ব্যক্তি যে ‘মুজাহিদ’ নামে ও পরিচয়ে মুজাহিদ হতে চায় যাতে সে আল্লাহর পথে মুজাহিদদের মতো অধিকার লাভ করতে পারে, অথচ আল্লাহর পথে জিহাদ করার কোনো নিয়ত তার ছিল না অথবা সে জিহাদ করেনি।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أصلا فحشر نفسه في زمرة المجاهدين بالرغم مما وضحه القرآن وبينه رسول الله صلى الله عليه وسلم بفصيح العبارة فهو مجاهد - بالسيف - وبالرغم على الإسلام والقرآن والرسول صلى الله عليه وسلم وفي الوقت نفسه رأيناه لم يستجب لما طلبه منه الإسلام بفعل ما فرضه عليه وترك ما نهاه عنه من الاستقامة على شرعه بتحليل حلاله وتحريم حرامه، والقيام بواجباته والكف عن منهياته فهو تارك للواجبات - كالصلاة مثلا - منتهك للمحرمات - كشرب الخمر مثلا - فكيف يعقل أو يتصور متصور أنه من المجاهدين في سبيل الله، وهذا محال تصوره في الإسلام، ومن قال غير هذا فهو جاهل بالإسلام، ولم يفهم أحكام الإسلام أو سولت له نفسه الافتراء على الله الكذب إذ شتان بين الجهاد والقتال! و ((إن الذين يفترون على الله الكذب لا يفلحون)).
هذا هو الحق والصواب حب من حب وكره وكره، وما سواه غش في الإسلام والنبي صلى الله عليه وسلم قال (من غشنا فليس منا) ولا ينبغي لمن لا يفهم أحكام الإسلام أن يقحم نفسه بين العلماء - ولو لقبه العامة بالشيخ - لأنه يكتسب بذلك إثما، ويكون سبة وعارا على الشريعة الإسلامية وكارثة تنزل بها وعرضة لمسخ الله إلى شر مخلوقاته، فقد كثر أدعياء العلم حتى صاروا يتكلمون في كل شيء، ولو فيما لا يعرفون، كما سمعناهم يتكلمون فيما ليس لهم به علم قال جرير:
وابن اللبون إذا ما لز في قرن
… لم يستطع صولة البزل القعانيس
মূলত সে নিজেকে মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, যদিও কুরআন যা স্পষ্ট করেছে এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাঞ্জল ভাষায় যা বর্ণনা করেছেন তা এর পরিপন্থী। সে ইসলাম, কুরআন এবং রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণ করে কেবল তরবারি ধারণকারী এক মুজাহিদ। একই সাথে আমরা দেখি যে, ইসলাম তার কাছে যা দাবি করেছে—যেমন ফরজ বিধানসমূহ পালন করা এবং তাঁর শরীয়তের ওপর অটল থেকে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করা, হালালকে হালাল জানা ও হারামকে হারাম মানা, ওয়াজিবসমূহ সম্পাদন করা এবং পাপাচার থেকে বিরত থাকা—তাতে সে সাড়া দেয়নি। সে ওয়াজিবসমূহ বর্জনকারী—যেমন সালাত—এবং হারাম কাজে লিপ্ত—যেমন মদ্যপান। এমতাবস্থায় কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কীভাবে কল্পনা করতে পারে যে সে আল্লাহর পথে মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত? ইসলামে এমন ধারণা করা অসম্ভব। যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলে, সে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ এবং সে ইসলামের বিধানসমূহ বোঝেনি, অথবা তার নফস তাকে আল্লাহর নামে মিথ্যা রটনা করতে প্ররোচিত করেছে। কারণ জিহাদ ও যুদ্ধের (কিতাল) মধ্যে বিস্তর ব্যবধান! আর "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটনা করে, তারা সফলকাম হবে না।"
এটাই সত্য এবং সঠিক পথ, কেউ তা পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক। এর বাইরে যা কিছু আছে তা ইসলামের সাথে প্রতারণা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" যার ইসলামের বিধান সম্পর্কে সঠিক বুঝ নেই, তার উচিত নয় আলেমদের কাতারে নিজেকে জোরপূর্বক শামিল করা—যদিও সাধারণ মানুষ তাকে 'শাইখ' উপাধি দিয়ে থাকে। কারণ এর মাধ্যমে সে কেবল গুনাহই অর্জন করে এবং সে ইসলামি শরীয়তের জন্য গ্লানি ও কলঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি শরীয়তের ওপর আপতিত এক বিপর্যয় এবং এর ফলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিকৃষ্টতম সৃষ্টিতে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্তমানে ইলমের মিথ্যা দাবিদারদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে তারা সব বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছে, এমনকি যে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই সে বিষয়েও; যেমন আমরা তাদের এমন বিষয়ে কথা বলতে শুনি যে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র ইলম নেই। কবি জারির বলেছেন:
দুই বছর বয়সী উটশাবককে যখন পূর্ণবয়স্ক শক্তিশালী উটের সাথে মোকাবিলায় জুড়ে দেওয়া হয়
… তখন সে সেই বিশাল ও শক্তিশালী উটগুলোর বীরত্বপূর্ণ আক্রমণের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয় না।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولمنزلة حديث عمر المتقدم (إنما الأعمال بالنيات الخ) ولمكانته عند من عرفوا منزلته في التشريع الإسلامي قال الإمام عبد الرحمن بن مهدي - المتقدم الذكر - لو صنفت كتابا فيه أبواب لجعلت حديث عمر هذا في كل باب من أبوابه.
أما الإمام مسلم رحمه الله فقد أورده في كتاب الجهاد من صحيحه، وكأنه أراد بعمله هذا أن يشير إلى أن البعض ممن يدعون الجهاد - ولم تكن لهم نية فيه - لا نصيب لهم في ثمراته ولهذا نبههم إلى أن النية في العمل هي روحه ومخه، وبدونها فهو جسد ميت بلا روح.
وكلمة - إنما - تفيد الحصر كما قال جمهور علماء العربية والأصول وغيرهم حيث قالوا أن لفظة إنما موضوعة للحصر فتثبت المذكور هنا - وهو قبول الأعمال والجزاء عليها إذا عملت مصحوبة بالنية، وتنفي ما سواها، فكأنه قال إن الأعمال تحسب وتقبل ويجازى عليها فاعلها إذا كانت بنية ولا تحسب ولا تقبل ولا جزاء عليها إذا تجردت منها، مثل سائر العبادات والطاعات جميعها كما مر، وتفصيل هذا في كتب الفقه والحديث.
وبناء على ما جاء في هذا الحديث فإن الرسول صلى الله عليه وسلم بين لأمته أنواعا ثلاثة ممن هاجروا من مكة إلى المدينة تاركين مكة أرض الشرك - في ذلك الوقت - إلى المدينة أرض الإسلام وهم:
أ - مهاجر هاجر بنية وقصد تقوية حزب الله ونصره
উমর (রা.) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল ইত্যাদি) মর্যাদা এবং ইসলামী আইন প্রণয়নে এর গুরুত্ব যারা অনুধাবন করেছেন তাদের নিকট এর উচ্চাসনের কারণে ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী—যাঁর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—বলেছেন: "আমি যদি এমন কোনো গ্রন্থ রচনা করতাম যাতে বিভিন্ন অধ্যায় থাকত, তবে আমি উমরের এই হাদিসটি তার প্রতিটি অধ্যায় রাখতাম।"
পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থের জিহাদ অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে যেন এই ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন যে, যারা জিহাদের দাবি করে অথচ তাতে তাদের সঠিক নিয়ত নেই, এর ফলাফলে তাদের কোনো অংশ নেই। এজন্য তিনি তাদের সতর্ক করেছেন যে, আমলের ক্ষেত্রে নিয়ত হলো তার প্রাণ ও মজ্জা; নিয়ত ছাড়া আমল হলো প্রাণহীন একটি মৃত দেহ।
আর 'ইন্নামা' শব্দটি সীমাবদ্ধতা বা বিশিষ্টতা (হাসর) বুঝায়, যেমনটি আরবি ভাষা ও উসুল শাস্ত্রের জমহুর আলেম এবং অন্যান্যরা বলেছেন। তাঁরা বলেন যে, 'ইন্নামা' শব্দটি সীমাবদ্ধ করার জন্যই নির্ধারিত; ফলে এটি এখানে উল্লিখিত বিষয়টিকেই সাব্যস্ত করে—আর তা হলো আমলের গ্রহণযোগ্যতা ও তার বিনিময় পাওয়া যখন তা নিয়তের সাথে করা হয়—এবং এটি ছাড়া অন্য কিছুকে নাকচ করে দেয়। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন যে, আমল যদি নিয়তের সাথে হয় তবেই তা গণ্য হবে, কবুল হবে এবং আমলকারীকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে। আর যদি তা নিয়ত থেকে মুক্ত হয়, তবে তা গণ্য হবে না, কবুলও হবে না এবং তার কোনো প্রতিদানও নেই। যেমনটি পূর্বে বর্ণিত সমস্ত ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর বিস্তারিত বিবরণ ফিকহ ও হাদিসের কিতাবসমূহে রয়েছে।
এই হাদিসে যা এসেছে তার ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী তিন শ্রেণির লোক সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, যারা তৎকালীন শিরকের ভূমি মক্কা ত্যাগ করে ইসলামের ভূমি মদিনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন:
ক - এমন হিজরতকারী যিনি আল্লাহর দল ও তাঁর দীনকে শক্তিশালী ও সাহায্য করার নিয়ত ও উদ্দেশ্যে হিজরত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وتأييد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلى هذه النية غالب الصحابة رضوان الله عنهم أجمعين.
ب - ومهاجر هاجر بنية وقصد كسب الدنيا والمال، لأن من كان يتعامل معهم من المؤمنين في مكة هاجروا إلى المدينة فلحق بهم من أجل فائدته الدنيوية، فلم يسعه المقام بعدهم في مكة فلحق بهم لنيل مكاسب دنيوية لا تعود فائدتها إلا عليه وكان يغزو معهم لينال نصيبه من الغنيمة.
ج - ومهاجر آخر خطب امرأة ليتزوج بها تدعى (أم قيس) فأبت أن تتزوجه ما دام في مكة، إلا إذا هاجر إلى المدينة فأجابها إلى شرطها وهاجر إلى المدينة من أجل الزواج بها وجاء في الروايات عن الصحابة أن هذا المهاجر كان يعرف باسم (مهاجر أم قيس) فهذان الصنفان الأخيران من المهاجرين لم يكونا من المهاجرين لله لما بينا من انعدام النية في هجرتهما فلم يفوزا بثواب الهجرة إذ الهجرة في الشرع هي الخروج من أرض الكفر إلى أرض الإسلام وفي وقتنا الحاضر انعكست هذه المعاني فصارت الهجرة تطلق على من هاجر من أرض الإسلام إلى أرض الكفر لمقاصد سياسية وغيرها.
جاء في الحكم المأثورة (لو نفع علم بلا عمل لما ذم الله سبحانه أحبار وعلماء أهل الكتاب) و (لو نفع عمل بلا إخلاص لما ذم الله سبحانه المنافقين).
نسأل الله العالم بالنيات أن يجعل نياتنا في أعمالنا وأقوالنا خالصة له من كل شائبة تفسدها وتحبطها، ونرجوه أن يجعلها خالصة لوجهه الكريم آمين.
এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সহযোগিতা করা; আর এই নিয়তের উপরেই অধিকাংশ সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) ছিলেন।
খ - এবং এমন এক মুহাজির যে দুনিয়া ও সম্পদ উপার্জনের নিয়ত ও উদ্দেশ্যে হিজরত করেছে। কারণ মক্কায় মুমিনদের মধ্যে যাদের সাথে সে লেনদেন করত তারা মদীনায় হিজরত করেছিল, ফলে সে তার পার্থিব উপকারের উদ্দেশ্যে তাদের অনুগামী হয়েছে। তাদের চলে যাওয়ার পর মক্কায় অবস্থান করা তার জন্য সম্ভব ছিল না, তাই সে পার্থিব অর্জন লাভের জন্য তাদের সাথে যোগ দিয়েছে যার উপকার কেবল তার নিজের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। আর সে তাদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত যাতে গণীমতের মালের অংশ লাভ করতে পারে।
গ - এবং অন্য এক মুহাজির যে জনৈক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিল যাকে (উম্মে কায়স) বলা হতো। সে মক্কায় অবস্থানকালীন তাকে বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়, যতক্ষণ না সে মদীনায় হিজরত করে। অতঃপর সে তার শর্ত পূরণ করল এবং তাকে বিবাহের উদ্দেশ্যে মদীনায় হিজরত করল। সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোতে এসেছে যে, এই মুহাজির 'উম্মে কায়সের মুহাজির' হিসেবে পরিচিত ছিল। হিজরতকারীদের এই শেষোক্ত দুই প্রকার আল্লাহর জন্য হিজরতকারী ছিলেন না; যেমনটি আমরা তাদের হিজরতে নিয়তের অনুপস্থিতির বর্ণনায় পরিষ্কার করেছি। ফলে তারা হিজরতের সওয়াব লাভ করতে পারেনি। কেননা শরীয়াতে হিজরত হলো কুফর ভূখণ্ড থেকে ইসলাম ভূখণ্ডের দিকে প্রস্থান করা। বর্তমান সময়ে এই অর্থসমূহ উল্টে গেছে, ফলে রাজনৈতিক ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ইসলাম ভূখণ্ড থেকে কুফর ভূখণ্ডের দিকে হিজরতকারীদের ক্ষেত্রেও এখন হিজরত শব্দটি প্রয়োগ করা হয়।
প্রবাদতুল্য হিকমতপূর্ণ কথায় এসেছে: (যদি আমলহীন ইলম কোনো উপকারে আসত, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহলে কিতাবের ধর্মগুরু ও আলেমদের নিন্দা করতেন না) এবং (যদি ইখলাসবিহীন আমল কোনো উপকারে আসত, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুনাফিকদের নিন্দা করতেন না)।
আমরা নিয়তসমূহ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের আমল ও কথার নিয়তকে এমন সকল পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে কেবল তাঁরই জন্য খাঁটি করে দেন যা আমলকে নষ্ট ও বাতিল করে দেয়। আর আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এগুলোকে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন। আমীন।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تقديم:العقيدةالعقيدة هي قوة عظيمة تحتل مكان الإحساس من الإنسان فتهب لصاحبها الإيمان بما يعتقده وشدة المقاومة لكل ما لا يتفق مع ما مالت إليه تلك العقيدة وارتضته لنفسها وهذا لتأييد ما عقد عليه صاحبها عزمه واختياره وتحول بينه وبين الضعف والخور والذوبان في كل طارئء جديد، وهذه الصفة إحدى مميزاتها قال الشاعر المفلق الحطيئة:
أولئك قوم إن بنوا أحسنوا البناء
…وإن عاهدوا أوفوا وإن عاقدوا شدوا
فالعقيدة مأخوذة من العقد بمعنى اللي يقول القائل عقدت الحبل فهو معقود فهذا في الحسيات وأما في المعنويات فمعناها التعهد والالتزام ومن هذا جاءت عقدة النكاح والبيع والشراء وغير ذلك من العهود والعقود والالتزامات والعقد - بالكسر - هو الخيط ينظم فيه الخرز واللؤلؤ وغيرهما.
উপস্থাপনা:আকিদাহআকিদাহ হলো এক মহান শক্তি যা মানুষের অনুভূতির স্থান দখল করে নেয়, ফলে তা তার অধিকারীকে তার বিশ্বাসের প্রতি ঈমান এবং যা সেই আকিদাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন সবকিছুর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের শক্তি দান করে। এটি আকিদাহর অধিকারীর সংকল্প ও পছন্দকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং তার মাঝে ও যে কোনো নতুন পরিস্থিতির সামনে দুর্বলতা, হীনম্মন্যতা বা বিলীন হয়ে যাওয়ার মাঝে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এই বৈশিষ্ট্যটি এর অন্যতম বিশেষত্ব। প্রখ্যাত কবি আল-হুতাইআ বলেছেন:
তাঁরা এমন এক জাতি যে, যদি তাঁরা নির্মাণ করেন তবে তাঁরা সর্বোত্তম নির্মাণ করেন
…আর যদি তাঁরা প্রতিশ্রুতি দেন তবে তা পূর্ণ করেন এবং যদি তাঁরা চুক্তিবদ্ধ হন তবে তা সুদৃঢ় করেন।
সুতরাং আকিদাহ শব্দটি ‘আকদ’ (বন্ধন) থেকে গৃহীত, যার অর্থ পাকানো। যেমন কেউ বলে: ‘আমি দড়িটি বেঁধেছি’, ফলে তা আবদ্ধ। এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর ভাবগত বিষয়ের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। এখান থেকেই বিবাহ, ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্যান্য অঙ্গীকার, চুক্তি ও দায়বদ্ধতার পরিভাষাগুলো এসেছে। আর ‘ইকদ’ (বর্ণের নিচে জের যোগে) হলো সেই সুতো যাতে পুঁতি, মুক্তা বা অন্য কিছু গেঁথে রাখা হয়।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال علماء اللغة العربية - في مادتها - عقد يعقد - بالكسر - عقدا وعقودا معناه التزم بالعهد والعقد فيجب عليه الوفاء بما التزمه وعقده وتقول تعاقد القوم على كذا بمعني تعاهدوا والتزموا به، ومنه قوله تعالى (يا أيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود). قيل في تفسيرها هي العهود، وقيل هي الفرائض التي التزموها وتحملوها بعقيدة التوحيد والإسلام.
والعقيدة هي الحكم الذي لا يقبل الشك في نظر معتقده كما قال الجوهري.
وفى الدين ما يتصف به الاعتقاد دون العمل، كعقيدة وجود الله عز وجل، واعتقد كذا بقلبه آمن به وصدق، واعتقد الأمر صدقه وعقد عليه قلبه وضميره وتدين به واتخذه دينا فأصحاب العقيدة هم من كانت لهم عقيدة عقدوا عليها قلوبهم فصارت أرواحهم ونفوسهم وحياتهم مبذولة بسخاء في سبيل عقيدتهم فهم قد اشتروا بها - العقيدة - ما اعتقدوه - ودفعوها فداء وثمنا لها - وهي الغالية - في سبيل بقائهم على عقيدتهم التي اعتقدوها وعقدوا عليها حياتهم ورضوا بما دفعوه فيها، وذلك بثباتهم عليها وتمسكهم بها من غير أن يلزمهم بها أحد أو يجبرهم عليها مجبر، وهذا هو الإيمان بالعقيدة.
وهذه فصول جمعتها من ملف حياة أبطال العقيدة الإسلامية الذين ظهروا مع ظهور دين الله الإسلام الخالد
আরবি ভাষাবিদগণ তাদের শব্দতত্ত্বের মূল উপাদানে বলেছেন— ‘আকাদা-ইয়াক্বিদু’ (ক্রিয়ার মধ্যাক্ষরে কাসরা যোগে), এর মাসদার হলো ‘আকদান’ ও ‘উকুদান’। এর অর্থ হলো কোনো অঙ্গীকার ও চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। সুতরাং মানুষের ওপর সেই অঙ্গীকার ও চুক্তি পূর্ণ করা আবশ্যক যা সে নিজের জন্য অপরিহার্য করেছে এবং যার ওপর সে দৃঢ় হয়েছে। আপনি যখন বলেন, ‘লোকেরা অমুক বিষয়ে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হয়েছে’, তখন এর অর্থ হয় তারা অঙ্গীকার করেছে এবং এর প্রতি দায়বদ্ধ হয়েছে। এ অর্থেই মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ করো।" এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এগুলো হলো অঙ্গীকারসমূহ। আবার এও বলা হয়েছে যে, এগুলো হলো সেই সব ফরজ বা আবশ্যিক বিধান যা তারা তাওহিদ ও ইসলামের আকিদার মাধ্যমে নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছে এবং তার ভার বহন করেছে।
আকিদা হলো এমন এক অটল বিশ্বাস যা বিশ্বাসীর দৃষ্টিতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ রাখে না, যেমনটি আল-জাওহারী বলেছেন।
আর দ্বীনের ক্ষেত্রে আকিদা হলো সেই বিষয় যা কর্মের পরিবর্তে কেবল বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস (আকিদা)। কেউ কোনো বিষয় অন্তরে ‘বিশ্বাস করল’ অর্থ সে তাতে ঈমান আনল ও সত্য বলে সাক্ষ্য দিল। সে বিষয়টি বিশ্বাস করল মানে সেটিকে সত্য বলে গ্রহণ করল এবং তার ওপর নিজের হৃদয় ও বিবেককে সুদৃঢ় করল, একে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করল এবং একেই নিজের দ্বীন বানিয়ে নিল। সুতরাং আকিদাপন্থী তারাই যাদের এমন আকিদা বা আদর্শ রয়েছে যার ওপর তারা তাদের অন্তরকে সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করেছে; ফলে তাদের আকিদার তরে তাদের রূহ, প্রাণ ও জীবন অত্যন্ত উদারভাবে উৎসর্গীকৃত হয়েছে। তারা তাদের এই আকিদার বিনিময়ে যা তারা বিশ্বাস করেছে তা ক্রয় করে নিয়েছে এবং এর জন্য মুক্তিপণ ও মূল্য পরিশোধ করেছে—যা অত্যন্ত দামি—যাতে তারা তাদের সেই আকিদার ওপর অটল থাকতে পারে যা তারা গ্রহণ করেছে এবং যার ওপর তারা তাদের জীবনকে নিবদ্ধ করেছে। তারা এর জন্য যা ব্যয় করেছে তাতে তারা সন্তুষ্ট থেকেছে। আর তা হয়েছে এর ওপর তাদের অবিচলতা এবং একে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে, কোনো ব্যক্তির জবরদস্তি বা কোনো জবরদস্তিকারীর চাপ ছাড়াই। আর এটাই হলো আকিদার প্রতি প্রকৃত ঈমান।
এগুলো হলো কিছু পরিচ্ছেদ যা আমি ইসলামি আকিদার সেই সব বীর সেনানীদের জীবন-নথি থেকে সংকলন করেছি, যারা আল্লাহর চিরন্তন দ্বীন ইসলামের আবির্ভাবের সাথেই আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تصلح لتربية النفوس وتوطينها عليها لكي تخوض معركة الحياة التي تجري بين الإيمان والإلحاد، فهي معارك ضارية من قديم الزمان إلى اليوم وإلى ما بعد اليوم ويلزم مقاومة الإلحاد بالعقيدة القوية، فهي سلاح الانتصار الذي لا يغلب صاحبه جمعتها من قصص القرآن وكتب السيرة التي اهتمت بحياة أولئك الأبطال وما نالهم من خصوم الإسلام وأسميتها (في سبيل العقيدة الإسلامية) فهي تتناول مواقف شجاعة وقفها أولئك الأبطال في وجوه أعداء الله والأديان السماوية، مثلهم مثل كفار قريش الذين وقفوا في وجه العقيدة الإسلامية والدعوة المحمدية وحاولوا بكل قواهم صد الناس عنها وصرفهم عن الاهتداء بهديها غير أن الله مكن لها في الأرض وثبتها بثبات أولئك المؤمنين على عقيدتهم التي آمنوا بها فلم يرهبهم وعيد ولم يؤثر فيهم عذاب شديد بل صمدوا لكل ذلك صمود الجبال العظام ومنهم الرسل الكرام الذين اختارهم الله لتحمل الرسالة وتبليغ دين الله إلى البشر أجمعين وتطهير العقائد من كل ما يخل بعلو مرتبة الإنسان على سائر المخلوقات وقد ميزه خالقه بالعقل والإدراك للأشياء والموجودات على حقيقتها ومن غير اللائق به أن يخضع لمخلوق قد يكون أقل منه إدراكا وأحرى به إذا كان جمادا أو نباتا فإن في هذا الخضوع والطاعة لغير الخلاق العليم إهدارا لكرامة الإنسان التي أكرمه بها خالقه الحكيم ورفع منزلته على منازل غيره، وجعله هو
এটি আত্মাকে শিক্ষিত ও অভ্যস্ত করার উপযোগী যাতে তা ঈমান ও নাস্তিকতার মধ্যে চলমান জীবন-সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে পারে। এগুলো প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি এবং ভবিষ্যতেরও এক ভয়াবহ সংগ্রাম। সুদৃঢ় আকিদার মাধ্যমে নাস্তিকতাকে প্রতিরোধ করা আবশ্যক; কারণ এটি বিজয়ের এমন এক অস্ত্র যার অধিকারী কখনো পরাজিত হয় না। আমি এটি কুরআনের কাহিনী ও সিরাত গ্রন্থাবলি থেকে সংগ্রহ করেছি, যেখানে ঐ সকল বীরদের জীবন এবং ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর আসা কষ্টের বর্ণনা রয়েছে। আমি এর নামকরণ করেছি 'ইসলামী আকিদার পথে'। এতে সেই বীরদের সাহসিকতাপূর্ণ অবস্থানের কথা আলোচিত হয়েছে যা তারা আল্লাহর শত্রু ও আসমানী দ্বীনসমূহের শত্রুদের মোকাবিলায় গ্রহণ করেছিলেন। তাদের দৃষ্টান্ত কুরাইশ কাফেরদের মতো, যারা ইসলামী আকিদা ও মুহাম্মাদী দাওয়াতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল এবং তাদের সর্বশক্তি দিয়ে মানুষকে তা থেকে নিবৃত্ত করতে ও এর হিদায়াত থেকে বিমুখ করতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আল্লাহ একে জমিনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং মুমিনদের আকিদার ওপর অবিচল থাকার মাধ্যমে একে স্থায়িত্ব দান করেছেন। কোনো হুমকি তাদের ভীত করতে পারেনি এবং কোনো কঠোর আযাব তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেনি, বরং তারা সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় অটল ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সম্মানিত রাসূলগণ, যাদের আল্লাহ রিসালাতের দায়িত্ব বহন এবং সমস্ত মানুষের নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। আর আকিদাকে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র করার জন্য যা অন্যান্য সৃষ্টির ওপর মানুষের সুউচ্চ মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। তার স্রষ্টা তাকে বুদ্ধি এবং বস্তু ও বিদ্যমান বিষয়সমূহের প্রকৃত রূপ অনুধাবনের ক্ষমতা দিয়ে বিশিষ্টতা দান করেছেন। তার জন্য এমন কোনো সৃষ্টির নিকট মস্তক অবনত করা সমীচীন নয় যা বোধশক্তির দিক থেকে তার চেয়েও হীন হতে পারে, বিশেষত তা যদি জড় পদার্থ কিংবা উদ্ভিদ হয়। কেননা সর্বজ্ঞাত স্রষ্টা ব্যতীত অন্য কারো প্রতি এই বশ্যতা ও আনুগত্য মানুষের সেই মর্যাদাকেই ভুলুণ্ঠিত করে যা দ্বারা মহাপ্রজ্ঞাময় স্রষ্টা তাকে ভূষিত করেছেন এবং অন্যদের তুলনায় তার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন এবং তাকে বানিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المتصرف فيها فقد ضل هذا الإنسان عن الصراط المستقيم - ولا زال في ضلاله إلى الآن - بالرغم من المراحل التي قطعها الإنسان في ميادين شتى من علوم وغيرها فجاءت دعوة الرسل والشرائع السماوية لتعود به إلى الطريق المستقيم التي حاد عنها بضلاله فآمن بها طائفة من هذا النوع هديت إليها فآمنوا بتلك الدعوة وهي تدعوهم إلى توحيد الله الخلاق العليم فأيدوها وكانوا من أنصارها بالرغم مما حاط بهم من مخاطر وأهوال تتفتت منها الجبال الصخرية ويذوب منها صلب الحديد من شدة فظاعتها وأهوالها لتكون لنا نعم العون على ما نلاقيه من أتعاب في سبيل حياتنا الإسلامية من خصوم الإسلام في بلد الإسلام سواء كانوا من الخارجين عنه بالأصالة أو المنتسبين إليه بالوراثة فقد كثر منهم التهجم والعدوان على العقيدة الإسلامية وعلى حامليها فنحن في حاجة ماسة إلى أمثلة بطولية صادقة، مما ضربه للعالم أولو العزم والثبات على العقيدة والمبدإ من أولئك الأبطال الذين هم من الرعيل الأول في بداية انبثاق نور الإسلام وعقيدة التوحيد، ففي ماضينا وتاريخنا - والفضل والحمد لله - أمثلة رائعة تصلح لتربية أنفسنا وأبناء زماننا عليها.
فنذكرهم بهذه الأمثلة النادرة في غير ماضي الأمة الإسلامية لقد صرنا نخشى - والله - دروسها واندثارها بل ونسيانها حيث أننا شاهدنا ولمسنا وسمعنا بما يجرى في الأوطان الإسلامية من صدود
যিনি এতে কর্তৃত্বশীল, সেই মানুষটি সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে—এবং সে এখনও তার সেই ভ্রষ্টতাতেই নিমজ্জিত আছে—মানুষ বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিবিধ ক্ষেত্রে বহু পর্যায় অতিক্রম করা সত্ত্বেও। অতঃপর রাসূলগণের দাওয়াত ও আসমানী শরীয়তসমূহ আগমন করল তাকে সেই সরল পথে ফিরিয়ে আনতে, যা থেকে সে স্বীয় পথভ্রষ্টতার কারণে বিচ্যুত হয়েছিল। ফলে এই শ্রেণির একদল লোক এতে ঈমান আনল এবং এর প্রতি হেদায়েত প্রাপ্ত হলো। তারা সেই দাওয়াতের প্রতি ঈমান আনল যা তাদেরকে মহান স্রষ্টা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান জানায়। তারা একে সমর্থন করল এবং এর সাহায্যকারী হলো, যদিও তারা এমন সব বিপদ ও ভয়াবহতার সম্মুখীন হয়েছিল যাতে পাথুরে পাহাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং এর ভয়াবহতা ও ত্রাসের তীব্রতায় কঠিন লোহা গলে যায়। এটি আমাদের জন্য এক উত্তম সহায়ক হতে পারে সেই সব কষ্টের মোকাবিলায় যা আমরা আমাদের ইসলামী জীবনের পথে ইসলামের দেশগুলোতে ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে পাচ্ছি—চাই তারা মৌলিকভাবেই এর বহির্ভূত হোক অথবা উত্তরাধিকারসূত্রে এর সাথে সম্পৃক্ত হোক। তাদের পক্ষ থেকে ইসলামী আকীদা এবং এর বাহকদের ওপর আক্রমণ ও শত্রুতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই আমাদের এমন সত্যনিষ্ঠ বীরত্বপূর্ণ উদাহরণের একান্ত প্রয়োজন, যা বিশ্বের সামনে সেই সব দৃঢ় সংকল্প ও আকীদার ওপর অবিচল বীরেরা পেশ করেছেন, যারা ইসলামের নূর ও তাওহীদের আকীদার উন্মেষলগ্নে প্রথম সারির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমাদের অতীত ও ইতিহাসে—সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর—এমন চমৎকার সব উদাহরণ রয়েছে যা আমাদের নিজেদের এবং বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের লালন-পালনের জন্য উপযুক্ত।
অতএব, আমরা তাদেরকে এই বিরল উদাহরণগুলোর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দিই যা ইসলামী উম্মাহর অতীত ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া অসম্ভব। আল্লাহর কসম, আমরা এখন এগুলো বিলুপ্ত হওয়া, মুছে যাওয়া এমনকি বিস্মৃত হওয়ার আশঙ্কা করছি; কারণ আমরা ইসলামী দেশগুলোতে বিমুখতা ও উদাসীনতার যে চিত্র প্রত্যক্ষ করছি, অনুভব করছি এবং শ্রবণ করছি...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإعراض ونكران لعقيدة الأسلاف، ولما أتت به هذه العقيدة - حيث لا أفضل منها في الوجود - ولقلة الدعاة لهذه العقيدة وتفرقهم وليست لهم أسلحة الدفاع العصرية فقد هجمت عليها عقيدة الإلحاد والكفر والذبذبة بوسائل العصر وهي تنادي وتقول أنها جاءت لمحاربة عقيدة الإسلام الموروثة عن الآباء والأجداد فالسكوت عن هذا الهجوم يعتبر من العقوق الفاضح الذي تلبس به أبناء هذا الجيل بل صرنا نخشى ضياعها حتى من أوساط من يزعمون أنهم من زمرة علماء الدين وورثة الأنبياء والمرسلين وهنا نتساءل هل سكت الأنبياء والمرسلون من تبليغ دعوتهم؟ وهل أهملوا دعوتهم التي كلفوا بها؟ وهل كان فيهم الذي لا يقول كلمة الحق للحق؟ وهل جرفتهم تيارات زمانهم الداعية إلى تلك العقائد الزائفة التي كانت سائدة في زمانهم؟ تلك العقائد التي كانت على شنا حفرة من النار وعلى شفا جرف هار.
فنحن - الآن - إذا درسنا التاريخ وقرأناه فإنما ندرسه ونقرؤه من نافذة الحروب التي تشن على الأوطان - التراب والحجر والشجر الخ - وإذا مجدنا أبطاله إنما نمجدهم من زاوية مواقفهم في وجه الغزاة الفاتحين - ونعتز بهذا - أما من جهة العقيدة والدين والأخلاق، فذلك أمر تافه في نظر البعض منا - لا يدخل في الحساب والحقيقة هي كامنة في العقيدة والدين، وقد شاهدنا وعلمنا أن من كان يحيا بدون عقيدة ودين فإنه يسهل
এবং এটি পূর্বসূরিদের আকিদার প্রতি বিমুখতা ও অস্বীকৃতি এবং এই আকিদা যা নিয়ে এসেছে তার প্রতি অবজ্ঞা—অথচ অস্তিত্বে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই। এই আকিদার দাওয়াত প্রদানকারীদের স্বল্পতা, তাদের অনৈক্য এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অভাবের সুযোগে নাস্তিক্যবাদ, কুফর ও সংশয়বাদের আকিদা আধুনিক উপায়ে এর ওপর চড়াও হয়েছে। এই অপশক্তি উচ্চস্বরে ঘোষণা করছে যে, তারা বাপ-দাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ইসলামের আকিদাকে নির্মূল করতে এসেছে। এই আক্রমণের মুখে নীরব থাকা বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের পক্ষ থেকে এক চরম অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি আমরা এখন এই আকিদা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি তাদের মধ্য থেকেও যারা নিজেদেরকে দ্বীনি আলেমদের দল এবং নবী ও রাসূলদের উত্তরাধিকারী বলে দাবি করেন। এখানে আমরা প্রশ্ন করি—নবী ও রাসূলগণ কি তাঁদের দাওয়াত প্রচার করা থেকে নীরব ছিলেন? তাঁরা কি তাঁদের ওপর অর্পিত দাওয়াতের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছিলেন? তাঁদের মধ্যে কি এমন কেউ ছিলেন যিনি সত্যের খাতিরে সত্য কথাটি বলতেন না? তৎকালীন সময়ে প্রচলিত সেই সমস্ত ভ্রান্ত আকিদার দিকে আহ্বানকারী স্রোতধারা কি তাঁদের ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল? সেই আকিদাসমূহ যা ছিল জাহান্নামের গহ্বরের কিনারায় এবং ধসে পড়া খাদের কিনারে অবস্থিত।
বর্তমানে আমরা যখন ইতিহাস অধ্যয়ন করি এবং তা পাঠ করি, তখন আমরা তা কেবল ভূখণ্ড—মাটি, পাথর ও বৃক্ষলতা ইত্যাদির ওপর পরিচালিত যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাঠ করি। আর আমরা যখন ইতিহাসের বীরদের মহিমান্বিত করি, তখন কেবল বিজয়ী আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই তা করি—এবং আমরা এতে গর্বিত বোধ করি। কিন্তু আকিদা, দ্বীন ও আখলাকের দিকটি আমাদের কারও কারও দৃষ্টিতে তুচ্ছ বিষয়—যা হিসাবের মধ্যেই আসে না। অথচ প্রকৃত সত্য আকিদা ও দ্বীনের মধ্যেই নিহিত। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি এবং জেনেছি যে, যে ব্যক্তি আকিদা ও দ্বীনহীন জীবন যাপন করে, তার জন্য এটি সহজ হয়ে পড়ে...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عليه خيانة وبيع وطنه بأبخس الأثمان، والشاهد على هذا الذي قدمناه البطل المغوار المرحوم الأمير (عبد القادر ابن محيي الدين) فإنه إنما وقف في وجه الغزاة الاستعماريين حين احتلالهم للجزائر بلباس العقيدة والدين لا بسواهما مما تلوكه ألسنة القوم اليوم كل هذا مقصود به إبعاد الدين من ساحة الحرب والتحرير وهى نية خبيثة وقصد سيء لا يخفى على أحد.
فالأمير عبد القادر رحمه الله كان عالما دينيا بعقيدته التوحيدية فقيها إسلاميا بفقهه في أحكام دينه وأجوبته التي كان يجيب بها سائليه مبسوطة في الكتاب الذي حوى سيرته وأعماله (تحفة الزائر) فقد كان في حياته عالما قبل أن يكون أميرا وقائدا ولذا قدمه أهله وبنو عشيرته لقيادة المجاهدين في حربهم للإستعمار وجيوشه فهو من أبطال العقيدة المعروفين بمواقفهم النادرة فإذا ما مجدناه في يوم - ما - فلا ينبغي أن يخفى هذا المعنى علينا فأبطال العقيدة عندنا كثيرون والحمد لله ولم تصدر منهم خيانة ولا ضعف أيام المقاومة كما وقعت من غيرهم ممن لا عقيدة دينية لهم.
فمواقف كهذه المواقف الراسخة تقتضي علماء الإسلام الناصحين - أينما كانوا - أن يوحدوا كلمتهم، ويقووا صفوفهم ويدعموها بصدق النية والإخلاص في العمل لنصرة العقيدة ولمجابهة هذا التيار الإلحادي المهاجم على دين التوحيد، إذ لو وجدهم أمامه في ساعة الهجوم
তার ওপর তার মাতৃভূমির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও নামমাত্র মূল্যে তা বিক্রি করার দায় বর্তায়। আমাদের উপস্থাপিত এই বক্তব্যের সাক্ষী হলেন অকুতোভয় বীর মরহুম আমির (আব্দুল কাদির ইবনে মুহিউদ্দিন)। আলজেরিয়া দখলের সময় তিনি ঔপনিবেশিক আক্রমণকারীদের সামনে কেবল আকিদা ও দ্বীনের পোশাক পরেই দাঁড়িয়েছিলেন, বর্তমানে মানুষের মুখে মুখে যে সমস্ত বুলি প্রচলিত আছে তার ভিত্তিতে নয়। এ সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ ও মুক্তির ময়দান থেকে দ্বীনকে দূরে সরিয়ে দেওয়া; এটি একটি জঘন্য নিয়ত ও মন্দ উদ্দেশ্য যা কারো কাছে গোপন নয়।
আমির আব্দুল কাদির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার তাওহিদি আকিদার কারণে একজন দ্বীনি আলেম এবং তার দ্বীনের আহকাম বিষয়ক ফিকহ চর্চার কারণে একজন ইসলামি ফকিহ ছিলেন। প্রশ্নকারীদের নিকট তার দেওয়া উত্তরসমূহ তার জীবনী ও কর্মের সংকলন ‘তুহফাতুজ যায়ির’ গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছে। তিনি তার জীবনে আমির ও সেনাপতি হওয়ার পূর্বে একজন আলেম ছিলেন। আর এ কারণেই তার পরিবার ও গোত্রের লোকেরা তাকে উপনিবেশবাদ ও তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুজাহিদদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আকিদার সেই বীরদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের বিরল অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। সুতরাং যদি আমরা কোনোদিন তাকে মহিমান্বিত করি, তবে এই বিষয়টি যেন আমাদের কাছে অস্পষ্ট না থাকে। আমাদের মাঝে আকিদার বীরদের সংখ্যা অনেক, আলহামদুলিল্লাহ। প্রতিরোধের দিনগুলোতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা বা দুর্বলতা প্রকাশ পায়নি, যেমনটি ঘটেছিল তাদের ক্ষেত্রে যাদের কোনো ধর্মীয় আকিদা ছিল না।
এ ধরনের সুদৃঢ় অবস্থানসমূহ নিষ্ঠাবান আলেমদের নিকট এ দাবি রাখে—তারা যেখানেই থাকুন না কেন—যেন তারা তাদের কথাকে এক করেন, নিজেদের কাতারকে শক্তিশালী করেন এবং আকিদাকে বিজয়ী করতে ও তাওহিদের দ্বীনের ওপর আক্রমণকারী এই নাস্তিক্যবাদী স্রোতকে মোকাবিলা করতে নিয়তের সততা ও একনিষ্ঠ আমলের মাধ্যমে একে সমর্থন যোগান। কেননা, যদি এই স্রোত আক্রমণের সময় তাদেরকে সামনে পেত...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لاختفى بدلا من الظهور بهذا المظهر الذي ينم على التحدي لعقيدة الأمة في وطنها وعلى من كان منهم ضعيفا أن يتخلى عن تلك الذبذبة المشينة التي ظهرت عليهم في هذا العصر فقد ساقتهم إلى توهين كلمة الحق التي هي كلمتهم وتقوية صف الباطل والإلحاد بسكوتهم وبكل أسف وحسرة فقد رأينا منهم من أظهر عداءه لدعاة الحق وناصري العقيدة الإسلامية بل وحتى أن البعض منهم لم يكتف بسكوته حتى أظهر الشماتة والتشفي بسبب ما أصاب بعض الدعاة ويصيبهم من أعداء الحق والعقيدة الإسلامية، وما ذلك إلا لأغراض دنيئة ونفوس مريضة بمرض - ما - كالحسد - مثلا - وهو داء قديم فيهم، نسأل الله الشفاء لنا ولهم من هذا المرض الخطير، أو كان ذلك منهم لمصالح ذاتية خوفا من أن تفوتهم بوقوفهم إلى جانب الحق وأنصاره فضلوا وأضلوا والله وحده يتولاهم بما يشاء فإنه يمهل ولا يهمل وهو - وحده - القوي العزيز.
فإلى حماة العقيدة الإسلامية أمثلة صحيحة من تلكم المواقف التي - ثبتت كركائز للحق اعتمد عليها، فثبتت أقدامه ودعمتها في أرض الإيمان - فنجعلها نصب أعيننا كمصباح منير يرينا ويكشف لنا طريق السلامة والنجاة من مخاطر هذه الحياة ويجنبنا سبل الغواية والضلال، فإنهم - أهل تلك المواقف - هم أهل العقيدة الصحيحة الثابتون عليها بالرغم مما نالهم من أجلها وفي
উম্মাহর আকিদার প্রতি চ্যালেঞ্জ স্বরূপ এই রূপে আবির্ভূত হওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন। আর তাদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের উচিত এই যুগে তাদের মাঝে প্রকাশ পাওয়া সেই লজ্জাজনক দোদুল্যমানতা পরিত্যাগ করা; কেননা এটি তাদের হকের বাণীকে—যা মূলত তাদেরই বাণী—দুর্বল করতে এবং তাদের নীরবতার মাধ্যমে বাতিল ও নাস্তিকতার পক্ষকে শক্তিশালী করতে ধাবিত করেছে। অত্যন্ত পরিতাপ ও আক্ষেপের সাথে আমরা তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের দেখেছি, যারা হকের দাওয়াতদানকারী এবং ইসলামী আকিদার সাহায্যকারীদের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করেছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ শুধু নীরব থেকেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং হকের শত্রু ও ইসলামী আকিদার শত্রুদের পক্ষ থেকে কিছু দাঈদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে বা হচ্ছে, তার কারণে তারা আনন্দ ও তৃপ্তি প্রকাশ করেছে; আর তা কেবল হীন উদ্দেশ্য এবং হিংসার মতো কোনো রোগে আক্রান্ত অসুস্থ অন্তরের কারণেই—যা তাদের মাঝে এক প্রাচীন ব্যাধি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের ও তাদের জন্য এই ভয়াবহ ব্যাধি থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করছি। অথবা এটি তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে হতে পারে, এই ভয়ে যে—হক ও হকের সাহায্যকারীদের পাশে দাঁড়ালে হয়তো তাদের স্বার্থহানি ঘটবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে। আল্লাহ একাই তাদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা ব্যবস্থা নেবেন, নিশ্চয়ই তিনি সুযোগ দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না; আর তিনিই একমাত্র প্রবল শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।
অতএব ইসলামী আকিদার রক্ষকদের সামনে সেই সব অবস্থানের কিছু সঠিক উদাহরণ পেশ করা হলো, যা হকের এমন স্তম্ভ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার ওপর হক নির্ভরশীল ছিল, ফলে তা হকের পা-কে সুদৃঢ় করেছে এবং ঈমানের জমিনে তাকে শক্তিশালী করেছে—সুতরাং আমরা সেগুলোকে আমাদের চোখের সামনে একটি প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের মতো রাখি, যা আমাদের এই জীবনের বিপদ থেকে নিরাপত্তা ও মুক্তির পথ দেখাবে ও উন্মোচিত করবে এবং আমাদের বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার পথ থেকে দূরে রাখবে। কারণ তারা—সেই সব অবস্থানের অধিকারীরা—হলেন সঠিক আকিদার অনুসারী এবং এর ওপর অটল অবিচল, শত বিপদ-আপদ সত্ত্বেও যা তাদের ওপর এর কারণে আপতিত হয়েছে এবং...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
سبيلها، فحفظ لهم التاريخ أروع القصص وأسما الأمثلة، وأصدق الإيمان.
والعقائد كثيرة ومتنوعة، فمنها عقيدة التوحيد، وهي عقيدتنا نحن المسلمين، وهي التي ندين الله بها.
وعقيدة التثليث، وهي التي طرأت على المسيحية بعد أن كانت في أول أمرها وفي زمان رسولها عيسى عليه السلام عقيدة توحيدية.
وعقيدة الشرك بالله وفيها تعدد الآلهة المعبودة والمشركون أصناف وأنواع متعددة في إشراكهم. وعقيدة الملاحدة، التي تنكر وجود الإله بتاتا.
وعقيدة التوحيد هي العقيدة الصحيحة وهي الحق الذي لا ينجو أحد إلا بها، وهي مبنية على توحيد الإله الخالق لكل شيء والذي تجب طاعته على كل المخلوقين إذ لا خالق سواه.
ونراها في وقتنا الحاضر أصابها شيء من الضعف في قلوب البعض من المسلمين وهذا بسبب احتكاكهم بغيرهم ممن لا عقيدة لهم أصلا أو ممن لهم عقيدة باطلة وغير مقبولة شرعا وعقلا، وتظهر نتيجة هذا الضعف في الكلام الذي نسمعه من بعض من ينتسبون للإسلام، من ذلك أن بعض الناس ينطقون بكلمات تشعر بأن قائلها لا يفهم ما يقول، ولا يشعر بأن صفة الخلق والإيجاد لا تعطى
তার সেই পথ; ইতিহাস তাদের জন্য চমৎকার সব কাহিনী, সুউচ্চ দৃষ্টান্ত এবং সত্যতম ঈমান সংরক্ষণ করে রেখেছে।
আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ বহু ও বৈচিত্র্যময়, তার মধ্যে রয়েছে তাওহীদের আকিদা, যা আমাদের মুসলিমদের আকিদা এবং যার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর আনুগত্য করি।
আর রয়েছে ত্রিত্ববাদী আকিদা, যা খ্রিস্টধর্মের ওপর আপতিত হয়েছে অথচ প্রারম্ভে এবং তাদের রাসুল ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ে তা ছিল তাওহীদী আকিদা।
এছাড়া রয়েছে আল্লাহর সাথে শিরকের আকিদা, যাতে উপাস্যদের বহুত্ব বিদ্যমান এবং মুশরিকরা তাদের শিরকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রকারের হয়ে থাকে। আর নাস্তিকদের আকিদা, যা ইলাহ বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করে।
তাওহীদের আকিদাই হলো সঠিক আকিদা এবং এটিই সেই সত্য যা ব্যতীত কেউ মুক্তি পাবে না। এটি সবকিছুর স্রষ্টা একমাত্র ইলাহ-এর একত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যাঁর আনুগত্য করা সমস্ত সৃষ্টির ওপর আবশ্যক, যেহেতু তিনি ব্যতীত আর কোনো স্রষ্টা নেই।
বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কিছু মুসলিমের অন্তরে এই আকিদার ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বলতা স্পর্শ করেছে। এর কারণ হলো তাদের এমন সব লোকদের সাথে মেলামেশা যাদের আদতে কোনো আকিদাই নেই অথবা যাদের আকিদা বাতিল এবং যা শরয়ি ও যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য। আর এই দুর্বলতার প্রতিফলন ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তির কথাবার্তায় প্রকাশ পায়; যেমন কিছু মানুষ এমন সব শব্দ উচ্চারণ করে যা দ্বারা বোঝা যায় যে বক্তা কী বলছে তা সে অনুধাবন করছে না, এবং সে এটিও অনুভব করে না যে সৃষ্টি করা ও অস্তিত্ব দান করার গুণটি অন্য কাউকে প্রদান করা যায় না...
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إلا لله الواحد القهار فهو الخالق لا خالق سواه وهذا معنى التوحيد ولا مدبر لشؤون الخلق إلا هو فهو العليم الحكيم، وليس له شريك يعينه، ولا وزير يؤازره بل هو وحده خالق كل شيء، لا إله معه، ولا قادر على الخلق والإيجاد يسانده أو ينوب عنه فهو كما قال: (إنما أمره إذا أراد شيئا أن يقول له كن فيكون). وكما كان الرسول صلى الله عليه وسلم يقول في دعائه: (اللهم إنك لست بإله استحدثناه، ولا برب ابتدعناه، ولا كان قبلك من إله نلجأ إليه ونذرك، ولا أعانك على خلقنا أحد فنشركه فيك، تباركت وتعاليت).
ومن إظهار سوء الأدب مع الخلاق العليم ما نسمعه - بين الحين والآخر - من بعض كبار الناس وصغارهم مما يعتبر في الشرع وقاحة وسوء أدب مع من خضعت له ولقدرته وعزته جميع المخلوقات من إنس وجان فقد سمعناهم يتفوهون بألفاظ نابية وغير لائقة بالعبد الضعيف والعاجز البين العجز فإذا أراد الواحد من هؤلاء الناس أن يتكلم عن العناية والاهتمام بالمواطن في تهذيبه وتهيئته لأي مهمة كانت لتناط بعهدته قال من غير حياء من الله خالقه وخالق كل شيء هكذا بتبجح وفخر (نريد خلق الإنسان المواطن) وهذه العبارة فيها إساءة الأدب - بل ربما الكفر والجحود للخالق الواحد - مع الله الذي لا شريك معه في خلق الإنسان المواطن وغيره فلا خالق مع الله الخالق لكل شيء، ومنه هذا المخلوق الخالق، غرورا، وجاء في القرآن الكثير من الآيات
একমাত্র এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত (আর কোনো উপাস্য নেই), তিনিই স্রষ্টা, তিনি ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই। আর এটিই তাওহীদের অর্থ। তিনি ব্যতীত সৃষ্টির বিষয়াবলি পরিচালনাকারী আর কেউ নেই; তিনিই সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তাঁর কোনো অংশীদার নেই যে তাঁকে সাহায্য করবে, আর কোনো উজির বা মন্ত্রীও নেই যে তাঁকে সহযোগিতা করবে। বরং তিনি একাই সবকিছুর স্রষ্টা; তাঁর সাথে কোনো ইলাহ নেই। সৃষ্টি করা ও অস্তিত্ব দান করার ক্ষেত্রে এমন কোনো সক্ষম সত্তা নেই যে তাঁকে সহায়তা করবে অথবা তাঁর প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি যেমনটি বলেছেন: (তাঁর নির্দেশ তো কেবল এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন: ‘হও’, আর তা হয়ে যায়)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দোয়ায় যেমনটি বলতেন: (হে আল্লাহ, আপনি এমন কোনো ইলাহ নন যাকে আমরা নতুনভাবে উদ্ভাবন করেছি, আর না এমন কোনো রব যাকে আমরা নতুন করে তৈরি করেছি। আপনার পূর্বে এমন কোনো ইলাহ ছিল না যার নিকট আমরা আশ্রয় নিতাম এবং আপনাকে বর্জন করতাম। আমাদের সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে কেউ আপনাকে সাহায্য করেনি যে আমরা তাকে আপনার সাথে অংশীদার করব। আপনি বরকতময় এবং সুউচ্চ)।
মহাজ্ঞানী স্রষ্টার প্রতি শিষ্টাচার পরিপন্থী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হলো যা আমরা মাঝে মাঝে উচ্চপদস্থ বা সাধারণ মানুষের নিকট থেকে শুনে থাকি, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে ধৃষ্টতা এবং সেই সত্তার প্রতি অভদ্রতা হিসেবে বিবেচিত—যার ক্ষমতা ও সম্মানের নিকট মানুষ ও জিনসহ সমস্ত সৃষ্টি অনুগত হয়েছে। আমরা তাদের এমন অশালীন শব্দ উচ্চারণ করতে শুনেছি যা একজন দুর্বল ও স্পষ্টত অক্ষম বান্দার জন্য মোটেও শোভনীয় নয়। এই মানুষদের মধ্যে কেউ যখন কোনো নাগরিকের যত্ন নেওয়া এবং তাকে সুশৃঙ্খল করা ও তার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়ে কথা বলতে চায়, তখন সে তার ও সবকিছুর স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি কোনো লজ্জা ছাড়াই অহংকার ও গর্বের সাথে এভাবে বলে ফেলে—(আমরা নাগরিক মানুষ সৃষ্টি করতে চাই)। আর এই বাক্যটির মধ্যে রয়েছে শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন—বরং সম্ভবত এটি সেই অদ্বিতীয় স্রষ্টার প্রতি কুফরি ও অস্বীকৃতি—যাঁর সাথে নাগরিক মানুষ বা অন্য কিছু সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে কোনো অংশীদার নেই। সবকিছুর স্রষ্টা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো স্রষ্টা নেই। এই সৃষ্টিটি দম্ভবশত নিজেকে স্রষ্টা দাবি করেছে। আর কুরআনে এ বিষয়ে অনেক আয়াত এসেছে।
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لترفع عن هذا النوع من المغرورين غرورهم، فقد قال الله تعالى (يا أيها الناس اذكروا نعمت الله عليكم هل من خالق غير الله يرزقكم من السماء والأرض؟ لا إله إلا هو فأنى تؤفكون) (1). وقال: (ذلكم الله ربكم لا إله إلا هو خالق كل شيء فاعبدوه، وهو على كل شيء وكيل) (2).
فلا خالق إلا الله، فتنبهوا أيها (الغافلون المخطئون) العاجزون عن رد الموت عنكم إذا حل بكم وصححوا عقيدتكم في الله قبل أن يفوتكم الأوان فأي شيء جعلكم لا تدفعونه عنكم إذا نزل بساحتكم؟ ذلك هو عجزكم وضعفكم أيها الخالقون جهلا وغرورا واستخفافا بمن خلقكم ورزقكم فأنتم محتاجون إليه في كل حين.
دعوا هذه الكلمات الغير اللائقة بالبشر الضعيف والتي قد تؤدي بصاحبها إلى الكفر شيئا فشيئا إذ هي من خصائص المدبر الحكيم والخالق - وحده - الذي له الخلق والإيجاد والهداية والإرشاد، دعوها حتى لا تلعنكم الأجيال المقبلة كما (لعن الذين كفروا من بني إسرائيل على لسان داود وعيسى ابن مريم ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون، كانوا لا يتناهون عن منكر فعلوه، لبئس ما كانوا يفعلون) (3) فقولوا نهيء بدل نخلق
--------------------------------------------
এই ধরণের অহংকারীদের অহংকার দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন (হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো। আল্লাহ ছাড়া কি কোনো স্রষ্টা আছে, যে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দান করে? তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ?) (১)। এবং তিনি বলেছেন: (তিনিই আল্লাহ তোমাদের রব, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা; অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো, আর তিনি সবকিছুর ওপর তত্ত্বাবধায়ক) (২)।
সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই। অতএব হে (ভ্রান্ত গাফেলগণ), তোমরা সচেতন হও; তোমরা তো মৃত্যু যখন তোমাদের ওপর উপস্থিত হয় তখন তা প্রতিহত করতে অক্ষম। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আল্লাহর ব্যাপারে তোমাদের আকিদা সংশোধন করো। মৃত্যু যখন তোমাদের প্রাঙ্গণে নেমে আসে, তখন কোন জিনিস তোমাদেরকে তা প্রতিহত করা থেকে বিরত রাখে? এটাই তোমাদের অক্ষমতা ও দুর্বলতা হে অজ্ঞতা, অহংকার এবং যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন ও রিযিক দিয়েছেন তাঁর প্রতি তুচ্ছজ্ঞানবশত নিজেদের স্রষ্টা দাবিদারগণ; অথচ তোমরা প্রতিটি মুহূর্তে তাঁরই মুখাপেক্ষী।
দুর্বল মানুষের জন্য অনুপযুক্ত এই শব্দগুলো পরিহার করো যা এর প্রবক্তাকে ধীরে ধীরে কুফরির দিকে নিয়ে যেতে পারে। কারণ এটি একমাত্র প্রজ্ঞাময় পরিচালক ও স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য—যাঁর জন্যই সৃষ্টি, অস্তিত্ব দান, হিদায়াত এবং পথপ্রদর্শন। এগুলো ছেড়ে দাও যেন পরবর্তী প্রজন্ম তোমাদের লানত না দেয় যেমন (বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, দাঊদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখ দিয়ে তাদের ওপর লানত করা হয়েছিল। এটি একারণে যে তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা যেসব মন্দ কাজ করত তা থেকে তারা একে অপরকে বাধা দিত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট) (৩)। অতএব তোমরা 'আমরা সৃষ্টি করি' এর পরিবর্তে 'আমরা প্রস্তুত করি' বলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফী সাবীলিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أي السبل أنفع لنشر العلم؟
إن حياة العالم العامل بعلمه موزعة بين تعليم العلم وبثه في أوساط أمته والراغبين فيه وبين تأليف الكتب لفائدة الخلق أجمعين وتصنيفها ونشر العلم بواسطتها، وكل هذا من واجبات العلماء العاملين بعلمهم ولكن أيهما أولى بالتقديم والعناية؟ هل نشر العلم وتصحيح العقيدة بواسطة التعليم للناس أهم وأولى بالاهتمام والتقديم؟ أو نشرهما بواسطة تأليف الكتب وتصنيفها؟ فمال بعض المفكرين من العلماء إلى الاهتمام بالتعليم ونشره بين الراغبين فيه وإعدادهم لقراءة الكتب التي تؤلف بينما مال البعض الآخر إلى نشره وتعميمه بواسطة تصنيف الكتب وتأليفها ليستفيد منها المعاصر وغيره إذ هي لمن حضر وعاصر مؤلفها ولمن سيأتي من بعد فهي بهدا الاعتبار من أهم ما يتركه الأولون للآخرين من التراث الغالي، كما هو الشأن فيما تركه لنا أسلافنا الأماجد، فقد استفدنا منها فوائد عظيمة لا تقوم بقيمة، إذ حفظت لنا لغتنا وديننا وعقيدتنا وأخلاقنا وتاريخنا وأدبنا وغير ما ذكر، ولولا ما تركه لنا أولئك الأسلاف العاملون بالرغم من
জ্ঞান প্রচারের জন্য কোন পথটি সবচেয়ে বেশি উপকারী?নিশ্চয়ই স্বীয় জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী আলেমের জীবন জ্ঞান শিক্ষা দান ও স্বীয় উম্মত ও জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে তা প্রচার করা এবং সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণে গ্রন্থ রচনা ও সংকলন এবং তার মাধ্যমে জ্ঞান প্রচারের মাঝে বিভক্ত। আর এই সব কিছুই স্বীয় জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী আলেমদের আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু এই দুটির মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকার ও যত্নের দিক থেকে অগ্রগণ্য? মানুষের মাঝে সরাসরি পাঠদানের মাধ্যমে জ্ঞান প্রচার ও আকিদা সংশোধন করা কি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং মনোযোগ ও অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য? নাকি গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের মাধ্যমে সে দুটি প্রচার করা? আলেমদের মধ্য হতে কিছু চিন্তাবিদ পাঠদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে তা প্রচার করা এবং তাদেরকে রচিত গ্রন্থসমূহ পাঠের জন্য প্রস্তুত করার দিকে ঝুঁকেছেন। অপরদিকে, অন্য কিছু আলেম গ্রন্থ সংকলন ও রচনার মাধ্যমে জ্ঞান প্রচার ও তা সর্বজনীন করার দিকে ঝুঁকেছেন, যাতে সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্ম তা থেকে উপকৃত হতে পারে। কারণ গ্রন্থ হলো লেখকের সমসাময়িক উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য এবং যারা তাঁর পরে আসবে তাদের জন্যও। এই বিবেচনায় এটি হলো পূর্বসূরিদের পক্ষ থেকে উত্তরসূরিদের জন্য রেখে যাওয়া মূল্যবান ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ঠিক যেমনটি আমাদের মহান পূর্বসূরিগণ আমাদের জন্য রেখে গেছেন। আমরা সেগুলো থেকে এমন সব মহান উপকার লাভ করেছি যার কোনো মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়; কারণ সেগুলো আমাদের ভাষা, ধর্ম, আকিদা, চরিত্র, ইতিহাস, সাহিত্য এবং উল্লিখিত বিষয়সমূহ ছাড়াও আরও অনেক কিছু সংরক্ষণ করেছে। সেই আমলকারী পূর্বসূরিরা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের জন্য যা কিছু রেখে গেছেন, তা যদি না থাকতো...