(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: -)
الإمام المازري القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الإمام المازري
المؤلف: حَسن حُسني (اسم مركب) بن صالح بن عبد الوهاب بن يوسف الصُّمادحي التجيبي التونسي (ت 1388هـ)
الناشر: دار الكتب الشرقية - تونس.
عدد الصفحات: 100
أعده للمكتبة الشاملة/ توفيق بن محمد القريشي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو الحجة 1434
ইমাম আল-মাযিরী বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ইমাম আল-মাযিরী
লেখক: হাসান হুসনী (যৌগিক নাম) ইবনে সালিহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ইউসুফ আস-সুমাদহি আত-তুজিবি আত-তিউনিসি (মৃত্যু ১৩৮৮ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আশ-শারকিয়্যাহ - তিউনিসিয়া.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০০
মাকতাবা শামিলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন/ তাওফিক ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাইশি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১)
نوابغ المغرب العربي (1)
حسن حسني عبد الوهاب
الإمام المازري (*)
منشورات لجنة البعث الثقافي الإفريقي
ملتزم الطبع والتوزيع
دار الكتب الشرقية - تونس.
- عدد الأجزاء: 1.
- عدد الصفحات: 99.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
--------------------------------------------
মাগরিবুল আরাবির শ্রেষ্ঠ সন্তানগণ (১)
হাসান হুসনী আব্দুল ওয়াহহাব
ইমাম আল-মাযিরী (*)
ইফরীকী সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ কমিটির প্রকাশনা
মুদ্রণ ও বিতরণের দায়িত্বে
দারুল কুতুব আশ-শারকিয়্যাহ - তিউনিসিয়া।
- খণ্ড সংখ্যা: ১।
- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯।
মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী — আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী এবং এটি টীকা সম্বলিত]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২)
نوابغ المغرب العربي (1)
حسن حسني عبد الوهاب
الإمام المازري (*)
منشورات لجنة البعث الثقافي الإفريقي
ملتزم الطبع والتوزيع
دار الكتب الشرقية - تونس.
--------------------------------------------
মাগরেব অঞ্চলের প্রতিভাধর ব্যক্তিত্বগণ (১)
হাসান হুসনী আব্দুল ওয়াহহাব
ইমাম আল-মাযিরী (*)
আফ্রিকান সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ কমিটির প্রকাশনা
মুদ্রণ ও বিতরণের দায়িত্বে
দার আল-কুতুব আল-শারকিয়্যাহ - তিউনিসিয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
الإهداء:إلى الحبيب الأديب، الوطني الصميم، من ملأ الله قلبه إيمانًا وإخلاصًا ووفاء، ورزقه من الأخلاق العالية ما أكثر محبيه والمعجبين بكمالاته
محمد الهادي المدني
أهدي هذا البحث، راجيًا أن يثير من عاطفته الكريمة ما يزيده تعلقًا بأولئك الأعلام الأفريقيين، قدوة القطر، وفخر المصر.
عبد الوهاب.
উৎসর্গ:সেই প্রিয় সাহিত্যিক ও একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিকের প্রতি, যাঁর অন্তরকে আল্লাহ ঈমান, নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন এবং যাঁকে দান করেছেন এমন উচ্চতর চরিত্র যা তাঁর অনুরাগী ও তাঁর পূর্ণতার প্রশংসাকারীদের সংখ্যাকে বৃদ্ধি করেছে—
মুহাম্মদ আল-হাদী আল-মাদানী
আমি এই গবেষণাটি উৎসর্গ করছি, এই আশায় যে এটি তাঁর মহৎ আবেগকে জাগ্রত করবে যা তাঁকে সেই সকল বরেণ্য আফ্রিকান মনীষীদের প্রতি আরও বেশি অনুরাগী করে তুলবে, যাঁরা ছিলেন এই অঞ্চলের আদর্শ এবং জনপদের গৌরব।
আব্দুল ওয়াহহাব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
كلمة للقارئ:صدور هذه الدراسة القيمة - أيها القارئ العزيز - هو بداية مشروع للنشر يتجه أولاً إلى خدمة الثقافة التونسية في نواحيها الشتى، في نشر مخطوطات تونسية تمثل الفكر التونسي، وفي بحوث مركزة حول موضوعات إفريقية، وفي التعريف الكاشف بـ «نوابغ المغرب العربي» وهذه الدراسة عن الإمام المازري، والسند العلمي التونسي هي الحلقة الأولى في هذه السلسلة التي سنوافيك بكل حلقة منها في أقرب وقت ممكن إن شاء الله.
ويسرنا أن تكون الحلقة الأولى في هذه السلسلة دراسة مستفيضة عن شخصية إسلامية مجتهدة لعبت دورًا هامًا في تاريخ السند العلمي الإفريقي الذي أسهب المؤلف في الحديث عنه إسهابًا ممتعًا، كشف لنا فيه ناحية مجهولة وهامة، هذه الشخصية هي شخصية الإمام المازري - طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ - ..
ويسرنا أن تكون هذه الدراسة - وهي بداية عملنا
পাঠকদের প্রতি কিছু কথা:এই মূল্যবান গবেষণাকর্মটির প্রকাশনা—হে প্রিয় পাঠক—হলো এমন একটি প্রকাশনা প্রকল্পের সূচনা, যা প্রধানত তিউনিসীয় সংস্কৃতির বহুমুখী সেবায় নিবেদিত; যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তিউনিসীয় চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্বকারী পাণ্ডুলিপি প্রকাশ, আফ্রিকান বিষয়াবলির ওপর নিবিড় গবেষণা এবং "মাগরেবুল আরবের প্রতিভাধর ব্যক্তিবর্গের" সুস্পষ্ট পরিচয় তুলে ধরা। ইমাম মাজিরী এবং তিউনিসীয় ইলমি সনদ বিষয়ক এই গবেষণাটি হলো এই সিরিজের প্রথম পর্ব, যার প্রতিটি পর্ব ইনশাআল্লাহ আমরা খুব শীঘ্রই আপনার নিকট উপস্থাপন করব।
আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই সিরিজের প্রথম পর্বটি হলো একজন মুজতাহিদ ইসলামি ব্যক্তিত্বের ওপর একটি বিস্তারিত গবেষণা, যিনি আফ্রিকান ইলমি সনদের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। লেখক এই বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাঞ্জলভাবে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং আমাদের সামনে এক অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছেন। এই ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মাজিরী—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—..
আমরা আনন্দিত যে এই গবেষণাটি—যা আমাদের কাজের সূচনা—
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
التونسي - بقلم باحث فاضل قصر حياته المثمرة الطويلة على خدمة تايخنا التونسي، والثقافة الإسلامية في هذه الربوع.
ومن عسى أن يكون هذا الرجل إن لم يكن مؤرخنا التونسي المجدد، ومعيننا في هذا المشروع صاحب المعالي الأستاذ حسن حسني عبد الوهاب الذي يدين له كثير من الباحثين في المغرب والمشرق بالإعانة والإرشاد.
هذه كلمة تعريف - أيها القارئ الكريم - بعثنا بها إليك بمناسبة تحقيق الخطوة الأولى من خطوات متعددة، وسنلتقي دائمًا حين نعمل، لا حين نقول.
7/ 6 / 1955 م
لجنة البعث الثقافي الإفريقي.
তিউনিসীয় - এক মহৎ গবেষকের কলমে, যিনি তাঁর দীর্ঘ ফলপ্রসূ জীবনকে আমাদের তিউনিসীয় ইতিহাস এবং এই জনপদে ইসলামী সংস্কৃতির সেবায় উৎসর্গ করেছেন।
এই ব্যক্তিটি আর কে হতে পারেন আমাদের তিউনিসীয় নবজাগরণী ইতিহাসবিদ এবং এই প্রকল্পে আমাদের সাহায্যকারী মহামান্য অধ্যাপক হাসান হুসনি আব্দুল ওয়াহাব ছাড়া, যাঁর সাহায্য ও নির্দেশনার কাছে মাগরিব (পশ্চিম) এবং মাশরিকের (পূর্ব) বহু গবেষক ঋণী।
হে সম্মানিত পাঠক, এটি একটি পরিচিতিমূলক বক্তব্য—যা আমরা আপনার কাছে পেশ করছি একাধিক পদক্ষেপের প্রথমটি বাস্তবায়নের প্রাক্কালে; এবং আমরা সর্বদা কর্মের ময়দানে মিলিত হব, কেবল কথার মাধ্যমে নয়।
৭/ ৬ / ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ
আফ্রিকান সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ কমিটি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
توطئة:فيما بين المائة الثانية وأواسط المائة الخامسة من الهجرة كانت «إفريقية» - وهي البلاد التونسية اليوم - ترفل في حلل الرفاهية، وتحيط بها هالات المجد، فتفيض عليها البهاء والرواء.
تعاقبت عليها أجيال من الخلائق والدول، باذلة لها ما في الوسع من جسام المساعي وجلائل الأعمال، فانتظم فيها مجتمع إفريقي ناهض ينظر إلى المستقبل بعين التفاؤل والاستبشار.
وطدت تلك الأجيال والدول في إفريقية التونسي دعائم الحياة الاجتماعية السعيدة، فعملت على ترقية الفلاحة، وتنمية الصناعة، وتنشيط التجارة، وتعميم العلوم والآداب، وبذلك طار صيت البلاد في استكمالها أسباب الحضارة والتمدن وضرب بها المثل في ربوع العالمين.
بينما تمضي إفريقية التونسية إلى أوج العزة والازدهار إذ رماها الزمن بداهية دهياء، زعزعت منها القواعد وردتها على الأعقاب، وأقامت فيها مأتمًا بعد عرس.
ভূমিকা:হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত 'ইফ্রিকিয়া'—যা বর্তমান তিউনিসিয়া—বিলাসিতার পোশাকে সুশোভিত ছিল এবং গৌরবের আভায় পরিবেষ্টিত ছিল, যা তাকে রূপ ও লাবণ্যে ভরপুর করে তুলেছিল।
সেখানে মানুষের বিভিন্ন প্রজন্ম এবং একের পর এক রাষ্ট্র অতিবাহিত হয়েছে, যারা তাদের সাধ্যমতো মহান প্রচেষ্টা ও গৌরবোজ্জ্বল কর্ম সম্পাদন করেছে। ফলে সেখানে একটি অগ্রসরমান ইফ্রিকীয় সমাজ গঠিত হয়েছিল, যা ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদ ও সুসংবাদের দৃষ্টিতে তাকাত।
তিউনিসীয় ইফ্রিকিয়ায় সেইসব প্রজন্ম এবং রাষ্ট্রসমূহ একটি সুখী সামাজিক জীবনের ভিত্তি মজবুত করেছিল। তারা কৃষির উন্নতি, শিল্পের বিকাশ, বাণিজ্যের প্রসার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসারে কাজ করেছিল। এর ফলে সভ্যতা ও উৎকর্ষের উপকরণসমূহ পূর্ণতা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা বিশ্বে তা এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়।
তিউনিসীয় ইফ্রিকিয়া যখন গৌরব ও সমৃদ্ধির চরম শিখরে আরোহণ করছিল, ঠিক তখনই কালচক্র তাকে এক মহাবিপদের মুখে ঠেলে দিল, যা তার ভিত্তিকে প্রকম্পিত করল, তাকে পশ্চাৎপদ করে দিল এবং উৎসবের পর সেখানে শোকের মাতম কায়েম করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
كانت تلك الكارثة التي حلت بالبلاد، ولم يكن لها بمثلها عهد منذ تاريخها الأقدم، أنها فقدت وحدتها السياسية وأضاعت سلطانها المركزي، فاختل توازنها، وانهارت حضارتها في أقل من عام.
هجم على إفريقية التونسية بَنُو هِلَالٍ وَبَنُو سُلَيْمٍ، ولا كهجوم التتر على بغداد - وذلك في سنة 449 هـ - (1) كأنهم السيل العرم يتدافع على البطاح، أو كأنهم الجراد المنتشر يحط على الحقول النامية، وما هي إلا أن هدمت القصور والأبنية، وخربت المسالك والميادين، وعاثت في عمران البلاد يد الدمار.
وأصابت النكبة - أول ما أصابت - مدينة القيروان، أم القرى المغربية، وعاصمة الحضارة العربية، فأصحبت خاوية على عروشها، يهيم أهلوها على وجهوههم في أرجاء الأرض العريضة ما بين أصقاع المغرب والأندلس، إلى العراق، إلى ما وراء النهر.
فارق العلم والأدب والفن ربوع القيروان، ومضى يلم شتاته، ويجمع بقاياه، ملتمسًا له ملاذًا في المهدية وسوسة وبعض القرى الساحلية الأخرى.
--------------------------------------------
এটি ছিল সেই মহাবিপর্যয় যা দেশটির ওপর আপতিত হয়েছিল, যার কোনো নজির এর প্রাচীন ইতিহাসেও ছিল না। দেশটি তার রাজনৈতিক ঐক্য হারাল এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব বিসর্জন দিল; ফলে এর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেল এবং এক বছরেরও কম সময়ে এর সভ্যতার পতন ঘটল।
বনু হিলাল ও বনু সুলাইম তিউনিসিয়ার ইফ্রিকিয়ার ওপর আক্রমণ চালাল—যা অনেকটা বাগদাদের ওপর তাতারদের আক্রমণের মতোই ছিল—আর এটি ঘটেছিল ৪৪৯ হিজরি সনে। (১) তারা যেন এক প্রবল বন্যা যা সমতলের ওপর আছড়ে পড়ছে, কিংবা যেন এক বিস্তীর্ণ পঙ্গপাল যা ক্রমবর্ধমান ফসলের মাঠে হানা দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই প্রাসাদ ও ভবনসমূহ ধূলিসাৎ হয়ে গেল, পথঘাট ও চত্বরগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো এবং ধ্বংসের হাত দেশটির জনপদগুলোতে তছনছ করে দিল।
আর এই বিপর্যয় সর্বপ্রথম আঘাত হানল কায়রোয়ান নগরীকে—যা ছিল মাগরিবের প্রধান জনপদ এবং আরব সভ্যতার রাজধানী। ফলে এটি বিরাণভূমিতে পরিণত হলো এবং এর অধিবাসীরা মাগরিব ও আন্দালুস থেকে শুরু করে ইরাক ও মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে দিশেহারা হয়ে ছড়িয়ে পড়ল।
ইলম (জ্ঞান), সাহিত্য ও শিল্পকলা কায়রোয়ানের জনপদ ত্যাগ করল এবং নিজের বিক্ষিপ্ত অবশিষ্টাংশ গুছিয়ে নিয়ে মাহদিয়া, সুসা ও অন্যান্য উপকূলীয় গ্রামগুলোতে আশ্রয় খুঁজতে লাগল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكذلك انهوى ركن العلوم الشرعية الذي تواصل قيامه منذ الفتح العربي، وكاد يندثر لولا بقية صالحة من أولي العزم، حفظوا تعاليم الشريعة، واحتضنوا تراث الرواية، وصانوا سبيل التلقي عن الأسلاف، وبذلك سلم لهم السند العلمي، فعكفوا عليه يحوطونه وينفون عنه الزيف، حتى أسلموه إل الأخلاف؛ لكي يتابعوا نشره إعلاءً لكلمة الله!.
في طليعة هؤلاء الأفذاذ البررة، ذلك الحبر الذي خصصنا ترجمته بتلك الأوراق، وهو (الإمام المَازَرِي)
… وكأن الأقدار ناطب به جمع ما تبدد من منهج السند العلمي القديم القويم، واستنقاذه من العبث الذي جَرَّ إليه الطغيان والجهالة والهمجية في تلك الحقبة من تاريخ إفريقية التونسية.
ويحق لتاريخ العلم في هذا البلد الطيب أن يعد الإمام المازري العروة الوثقى بين الماضي الزاهر لتعاليم الحنيفية السمحة، وبين العصور الوسطى في تاريخ الإسلام.
ولكي تتجلى مزية المازري في هذا الصدد نقدم بين يدي ترجمته إلمامة نتعرف بها كيف تواصل السند العلمي في الشريعة
একইভাবে শরয়ী শাস্ত্রের সেই স্তম্ভ ধসে পড়েছিল যা আরব বিজয়ের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান ছিল। এটি প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল, যদি না দৃঢ়সংকল্প একদল সৎকর্মশীল অবশিষ্ট থাকতেন। তারা শরীয়তের শিক্ষা সংরক্ষণ করেছিলেন, বর্ণনার ঐতিহ্যকে লালন করেছিলেন এবং পূর্বসূরিদের থেকে জ্ঞান অর্জনের পথকে সুরক্ষিত করেছিলেন। এর ফলে ইলমী সনদ বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরম্পরা তাদের হাতে নিরাপদ থাকে। তারা একে রক্ষা করতে এবং এর থেকে অসত্য দূর করতে নিজেদের নিবেদিত করেন, যতক্ষণ না তারা তা উত্তরসূরিদের কাছে হস্তান্তর করেন; যাতে আল্লাহর বাণী সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তারা এর প্রচার অব্যাহত রাখতে পারেন।
এই সৎকর্মশীল অনন্য মনীষীদের অগ্রভাগে রয়েছেন সেই মহাজ্ঞানী পণ্ডিত, যাঁর জীবনী আলোচনার জন্য আমরা এই পৃষ্ঠাগুলোকে নির্দিষ্ট করেছি; আর তিনি হলেন (ইমাম আল-মাজেরি)
… মনে হয় যেন ভাগ্য তাঁকে প্রাচীন ও সঠিক ইলমী সনদের বিলুপ্তপ্রায় পদ্ধতিকে একত্রিত করার এবং তিউনিসীয় আফ্রিকার ইতিহাসের সেই যুগে স্বৈরাচার, অজ্ঞতা ও বর্বরতার ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা থেকে তা উদ্ধার করার দায়িত্ব অর্পণ করেছিল।
এই পুণ্যভূমির ইলমী ইতিহাসের জন্য ইমাম আল-মাজরিকে উদার ও বিশুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষার উজ্জ্বল অতীত এবং ইসলামের ইতিহাসের মধ্যযুগের মধ্যে এক মজবুত যোগসূত্র হিসেবে গণ্য করা সঙ্গত।
এই বিষয়ে ইমাম মাজরির বিশেষত্ব যাতে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়, সেজন্য তাঁর জীবনীর প্রারম্ভে আমরা একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করছি, যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারব কীভাবে শরীয়তের ইলমী সনদ বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরম্পরা অব্যাহত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
منذ بزوغ نجمه إلى زمن إمامنا الفذ، وما وليه من العصور إلى قريب من يومنا المشهود.
نَشْأَةُ العِلْمِ الإِسْلَامِيِّ:ظهر علم الشريعة أول ما ظهر في إفريقية - وخاصة في القيروان - على يد الصحابة فالتابعين الوافدين على المغرب إبان الفتوح، عن هؤلاء وهؤلاء كان تسلسل السند، فتلقاه منهم ناشئة العرب المولدون، وأبناء الأفارقة والبربر ممن دخلوا في الإسلام، فما يكاد هذا النشء يحفظ القرآن حتى يروي عن أولئك الفاتحين ومن إليهم سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي المنبع الثاني للشريعة، والأصل التالي للقرآن العظيم في استخلاص أحكام الدين.
وقبل أن نسرد لك أشهر من حملوا العلم، وَرَوَوْا الحديث في إفريقية، وهم الذين يتسق بهم السند العلمي الإفريقي، نستهل البحث بذكر بعض من وفدوا على البلاد وأقاموا بها بعد الفتوح. وقد روى عنهم الحديث والآثار رجال من التابعين
তার উদয়কাল থেকে আমাদের অনন্য ইমামের সময় পর্যন্ত এবং পরবর্তী যুগসমূহ থেকে আমাদের বর্তমান চাক্ষুষ কাল পর্যন্ত।
ইসলামী ইলমের উন্মেষ:শরীয়তের ইলম সর্বপ্রথম আফ্রিকা অঞ্চলে—বিশেষত কাইরোয়ানে—সেই সকল সাহাবী ও তাবেয়ীদের হাতে প্রকাশ পায় যারা বিজয়ের প্রাক্কালে মাগরিব অভিমুখে আগমন করেছিলেন। তাঁদের মাধ্যমেই সনদের পরম্পরা তৈরি হয়েছিল। অতঃপর তাঁদের নিকট থেকে আরবে জন্মগ্রহণকারী নতুন প্রজন্ম এবং ইসলাম গ্রহণকারী আফ্রিকান ও বারবারদের সন্তানগণ এই ইলম গ্রহণ করেন। এই নতুন প্রজন্ম কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার সাথে সাথেই সেই সকল বিজয়ী বীর ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বর্ণনা করতে শুরু করতেন। এই সুন্নাহ হলো শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং দ্বীনের বিধিবিধান আহরণের ক্ষেত্রে মহাগ্রন্থ কুরআনের পরবর্তী মূল ভিত্তি।
আফ্রিকায় ইলম বহনকারী এবং হাদীস বর্ণনাকারী প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ—যাঁদের মাধ্যমে আফ্রিকার ইলমী সনদ সুসংবদ্ধ হয়েছে—তাঁদের তালিকা তুলে ধরার আগে, বিজয়ের পর এই ভূখণ্ডে আগমনকারী ও বসবাসকারী কিছু মহান ব্যক্তির উল্লেখের মাধ্যমে আমরা এই গবেষণা শুরু করছি। তাঁদের থেকে একদল তাবেয়ী হাদীস ও আসার বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الأولين الذين اتخذوا تلك البلاد وطنًا لهم، بعد أن مهدت بها سبل الاقامة بتأسيس مدينة القيروان وغيرها من المدائن العربية.
البِعْثَةُ الدِّينِيَّةُ: كان في مقدمة هؤلاء «العشرة التابعون» الذين عينهم الخليفة عمر بن عبد العزيز سنة مائة من الهجرة، لتفقيه الأفارقة في الدين، وإرشادهم إلى هديه، وإشرابهم مُثُلَهُ العُلْيَا، ونحن نخص بالذكر منهم:
- إسماعيل بن أبي المهاجر المخزومي، عامل عمر بن عبد العزيز على المغرب "ورأس البعثة الدينية، فقيه صالح، يروي عن عبد الله بن عمر، وفُضالة بن عبيد، وروى عنه الأوزاعي بالشرق، وعبد الرحمن بن زياد وغيره بالقيروان، وعلى يده أسلم العدد الغالب من البربر، وكان على إسلامهم حريصًا، مات بالقيروان سنة 133 هـ.
- عبد الله بن يزيد المعافري المعروف بِالحُبُلِيِّ، يروي عن جماعة من الصحابة، منهم: أبو أيوب الأنصاري، وعبد الله بن
প্রথম প্রজন্মের সেই সকল ব্যক্তি, যারা এই ভূখণ্ডগুলোকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যখন কাইরুয়ান এবং অন্যান্য আরব শহরগুলো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেখানে বসবাসের পথ সুগম হয়েছিল।
ধর্মীয় প্রতিনিধিদল: এদের অগ্রভাগে ছিলেন সেই ‘দশজন তাবিঈ’, যাদেরকে খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ হিজরি ১০০ সনে নিযুক্ত করেছিলেন; যাতে তারা আফ্রিকাবাসীদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন, তাদেরকে ইসলামের হেদায়েতের পথে পরিচালিত করেন এবং তাদের মাঝে ইসলামের মহান আদর্শসমূহ সঞ্চারিত করেন। আমরা তাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি:
- ইসমাইল ইবনে আবি আল-মুহাজির আল-মাখজুমি: মাগরেব অঞ্চলে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের গভর্নর এবং ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান। তিনি একজন সৎ ফকিহ (আইনজ্ঞ) ছিলেন; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর এবং ফুদলাহ ইবনে উবায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রাচ্যে তাঁর থেকে আওযাঈ বর্ণনা করেছেন এবং কাইরুয়ানে আব্দুর রহমান ইবনে জিয়াদ ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাতেই বার্বারদের একটি বিশাল অংশ ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তিনি তাদের ইসলামের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি ১৩৩ হিজরিতে কাইরুয়ানে মৃত্যুবরণ করেন।
- আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-মা'আফিরি, যিনি 'আল-হুবুলি' নামে পরিচিত। তিনি সাহাবীদের একটি দলের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আইয়ুব আনসারী এবং আব্দুল্লাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
عمرو بن العاص، وعقبة بن عامر الجُهَنِيِّ، وغيرهم، شهد فتح الأندلس مع موسى بن نصير، ثم استوطن القيروان، واختط بها دَارًا ومسجدا وَكُتَّابًا في ناحية باب تونس، وانتفع به جماعة من الأفارقة، وبث فيهم علمًا كثيرًا، مات سنة 100 هـ وقبره بالقيروان معروف.
- عبد الرحمن بن رافع التنوخي، من فضلاء التابعين، يروي عن عبد الله بن عمر بن الخطاب، وعن جماعة من الصحابة، وعنه يروي عبد الرحمن بن زياد وغيره، وهو أول من تولى القضاء بالقيروان بعد بنائها، وَلَاّهُ إياه الأمير موسى بن نصير سنة 80 هـ وكان عدلاً في أحكامه، وهو الذي يروي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ العَاصِ: (*) " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِمَجْلِسَيْنِ فِي مَسْجِدٍ: أَحَدُ الْمَجْلِسَيْنِ يدْعُونَ اللَّهَ وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ، وَالْآخَرُ يَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ وَيُعَلِّمُونَهُ، فَقَالَ: «كِلَا الْمَجْلِسَيْنِ عَلَى خَيْرٍ، وَأَحَدُهُمَا أَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِهِ، أَمَا هَؤُلَاءِ فَيَدْعَوْنَ اللهَ وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ، وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ، وَيُعَلَّمُونَ الْجَاهِلَ، فَهُمْ أَفْضَلُ وَإِنَّمَا بُعِثْتُ
--------------------------------------------
আমর বিন আস, উকবাহ বিন আমির আল-জুহানি এবং অন্যদের থেকে (তিনি বর্ণনা করেছেন)। তিনি মুসা বিন নুসাইরের সাথে আন্দালুস বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন, অতঃপর কায়রোয়ানে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে তিউনিসিয়া ফটকের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি বাড়ি, একটি মসজিদ ও একটি মক্তব নির্মাণ করেন। আফ্রিকাবাসীদের একটি দল তার দ্বারা উপকৃত হয় এবং তিনি তাদের মাঝে প্রচুর জ্ঞান প্রচার করেন। তিনি ১০০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং কায়রোয়ানে তার কবর সুপরিচিত।
- আবদুর রহমান বিন রাফি আত-তানুখি, তিনি শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব এবং সাহাবীদের একটি দলের নিকট থেকে বর্ণনা করেন। তার নিকট থেকে আবদুর রহমান বিন জিয়াদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। কায়রোয়ান নির্মাণের পর তিনিই প্রথম সেখানে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। আমির মুসা বিন নুসাইর ৮০ হিজরিতে তাকে এই পদে নিযুক্ত করেন এবং তিনি তার বিচারকার্যে অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস থেকে বর্ণনা করেন: (*) "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে দুটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। মজলিস দুটির একটিতে উপস্থিতরা আল্লাহর কাছে দোয়া করছিল এবং তাঁর প্রতি ঐকান্তিক আগ্রহ প্রকাশ করছিল। আর অন্য মজলিসে উপস্থিতরা ফিকহ বা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করছিল এবং তা শিক্ষা দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: «উভয় মজলিসই কল্যাণের ওপর রয়েছে, তবে তাদের একটি অন্যটির চেয়ে উত্তম। এরা তো আল্লাহর কাছে দোয়া করছে এবং তাঁর প্রতি অনুরাগী হচ্ছে। আর অন্যেরা ফিকহ শিখছে এবং অজ্ঞদের শিক্ষা দিচ্ছে, তাই তারাই উত্তম। আর আমাকে তো কেবল প্রেরিত করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مُعَلِّمًا، فَجَلَسَ مَعَهُمْ». أخرجه الترمذي (*) عن عبد الله بن عمرو؛ وتوفى ابن رافع بالقيروان سنة 113 هـ.
- ومنهم إسماعيل بن عبيد الأنصاري، كان من العلماء الفضلاء، يروي عن عبد الله بن عباس، وعبد الله بن عمر، وعبد الله بن عمرو بن العاص وغيرهم، ويروي عنه من أهل إفريقية بكر بن سوادة الجذامي، وعبد الرحمن بن زياد وسواهما، ومن مواليه عبد الملك بن أبي كريمة الآتي ذكره، وانتفع به خلق كثير من الأفارقة، وهو الذي بنى المسجد الكبير المعروف " بمسجد الزيتونة " في القيروان، كما أنشأ بها سوقًا للتجارة غربي مسجده، كانت تسمي " سوق إسماعيل "، وقد خرج مجاهدًا على سبيل التطوع في إحدى غزوات صقلية، ففرق في البحر سنة 107 هـ.
وما من واحد من بقية " العشرة التابعين " إلاكان يروي الحديث عن الصحابة، ويتقن التفسير والفقه، وإلا اتخذ دارًا لسكناه، ومسجدًا لصلاته، وكتابًا لتعليم الناشئة، وقد تفقه
--------------------------------------------
শিক্ষক হিসেবে, অতঃপর তিনি তাদের সাথে বসলেন। তিরমিযী (*) এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে রাফে ১১৩ হিজরি সালে কায়রাওয়ানে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইসমাইল ইবনে উবাইদ আল-আনসারি। তিনি শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং আরও অনেকের নিকট থেকে বর্ণনা করতেন। আফ্রিকা অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে বকর ইবনে সাওয়াদা আল-জুযামি, আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ এবং অন্যরাও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মুক্তদাসদের মধ্যে আব্দুল মালিক ইবনে আবি কারিমা ছিলেন, যাঁর কথা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে। বহু সংখ্যক আফ্রিকান তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। তিনিই কায়রাওয়ানে বিখ্যাত "জাইতুনা মসজিদ" নামে পরিচিত জামে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি সেখানে তাঁর মসজিদের পশ্চিম দিকে একটি বাণিজ্যিক বাজারও স্থাপন করেছিলেন, যা "ইসমাইল বাজার" নামে পরিচিত ছিল। তিনি স্বেচ্ছায় মুজাহিদ হিসেবে সিসিলির একটি যুদ্ধে অংশ নিতে বের হয়েছিলেন এবং ১০৭ হিজরি সালে সমুদ্রপথে নিখোঁজ হন।
অবশিষ্ট "দশজন তাবেয়ী"র প্রত্যেকেরই বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তাঁরা সাহাবায়ে কেরাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন এবং তাফসীর ও ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বসবাসের জন্য ঘর, সালাত আদায়ের জন্য মসজিদ এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার জন্য পাঠশালা তৈরি করেছিলেন। তাঁরা গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
على أيديهم جمع كبير، هم المربون الأولون لأبناء البلاد، وهم الذين لقنوهم علوم الشريعة.
التَّابِعُونَ الدَّاخِلُونَ إِفْرِيقِيَّةَ وَالرِّوَايَةُ عَنْهُمْ:ومن التابعين الذين دخلوا إفريقية كثرت عنهم الرواية:
- يحي بن سعيد بن فهد الأنصاري، وجده فهد من الصحابة، وكانت ابنته خولة زوج حمزة بن عبد المطلب عم النبيء صلى الله عليه وسلم، ولد يحيى بالمدينة، وروى الحديث عن جماعة من الصحابة، منهم: أنس بن مالك، ومعاذ، والسائب بن زيد، وعمرة بنت عبد الرحمن، وقد روى عنه أغلب أيمة الاجتهاد، مثل أبي حنيفة النعمان، ومالك بن أنس، والليث بن سعد، والزهري، والاوزاعي، وغيرهم، وكان يحيى فقيهًا مُحَدِّثًا ثقة مأمونًا، قيل إن جملة ما كان يحمله من الحديث: ثلاثمائة يسندها إلى وجوه من الصحابة والصحابيات، ودخل يحيى إفريقية على رأس القرن الثاني للهجرة أرسله إليها الخليفة عمر بن عبد العزيز عاملاً على الصدقات خاصة، ونزل يحيى مدينة تونس، وجالس بها خالد
তাদের হাতে এক বিশাল গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাঁরাই ছিলেন এই ভূখণ্ডের সন্তানদের প্রথম শিক্ষক এবং তাঁরাই তাঁদেরকে শরীয়তের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলেন।
ইফরীকিয়ায় প্রবেশকারী তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহ:ইফরীকিয়ায় প্রবেশকারী তাবেয়ীদের মধ্যে যাঁদের থেকে প্রচুর রেওয়ায়াত বর্ণিত হয়েছে:
- ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে ফাহদ আল-আনসারী; তাঁর দাদা ফাহদ ছিলেন একজন সাহাবী, এবং তাঁর কন্যা খাওলা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের স্ত্রী। ইয়াহইয়া মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং একদল সাহাবীর নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আনাস ইবনে মালিক, মুয়ায, সায়িব ইবনে যায়েদ এবং আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান। অধিকাংশ মুজতাহিদ ইমাম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন— আবু হানিফা আন-নুমান, মালিক ইবনে আনাস, লাইস ইবনে সাদ, যুহরী, আওযায়ী এবং অন্যান্যরা। ইয়াহইয়া ছিলেন একজন ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি। বলা হয় যে, তাঁর কাছে সংরক্ষিত হাদীসের মোট সংখ্যা ছিল তিনশ, যা তিনি প্রখ্যাত সাহাবী ও মহিলা সাহাবীদের সূত্রে বর্ণনা করতেন। ইয়াহইয়া হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে ইফরীকিয়ায় প্রবেশ করেন; খলীফা ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ তাঁকে বিশেষত সদকা আদায়ের কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে পাঠিয়েছিলেন। ইয়াহইয়া তিউনিস শহরে অবস্থান করেন এবং সেখানে খালিদের সাথে বসেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن أبي عمران التُّجِيبِي، وأخذ كل منهما عن صاحبه كما سمع منه خلق كثير من أبناء تونس والقيروان، ومما هو جدير بالملاحظة أن رواية الأفارقة للحديث كانت أكثر ما كانت بطريق المدنيين وسندهم، ويلوح لي أن ذلك هو السبب الأصيل في ميل الأفارقة من بعد إلى الأخذ بآراء أهل المدينة في الفقه، وإيثار الكثير منهم لمذهب مالك بن أنس وصحبه وقد قال الإمام الشافعي: «إذَا جَاوَزَ الحَديثُ الحَرَمَيْنِ (المَدِينَةِ وَمَكَّةَ) فَقَدْ ضَعُفَ نُخَاعُهُ» (1).
ومهما يكن من أمر فقد سار يحيى في إفريقية سيرة الأخيار البررة الساعين لنشر تعاليم الملة السمحة، السالكين سبيل العفة والنزاهة في القول والعمل، وأقام يحيى في تونس نحو عشرين سنة بث في أثنائها علمًا كثيرًا، وأخلاقا مرضية، وتوفي سنة 143هـ (720 م).
مُشَارَكَةُ الإِفْرِيقِيِّينَ فِي العِلْمِ:وبين الرعيل الأول من الأفارقة الذين حملوا العلم الاسلامي:
--------------------------------------------
ইবনে আবি ইমরান আত-তুজিবি; তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যেমন তিউনিসিয়া ও কায়রাওয়ানের বহু মানুষ তাদের নিকট থেকে শুনেছেন। এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, আফ্রিকানদের হাদীস বর্ণনা করার বিষয়টি প্রধানত মদিনাবাসীদের তরীকা ও সনদের মাধ্যমেই ছিল। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এটিই পরবর্তীকালে ফিকহশাস্ত্রে মদিনাবাসীদের মতামতের প্রতি আফ্রিকানদের ঝোঁক এবং তাদের অনেকের মালেক ইবনে আনাস ও তাঁর সঙ্গীদের মাযহাবকে প্রাধান্য দেওয়ার মূল কারণ। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: "হাদীস যখন দুই হারাম (মদিনা ও মক্কা) অতিক্রম করে, তখন তার মূল শক্তি বা মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে যায়" (১)।
যাই হোক না কেন, ইয়াহইয়া আফ্রিকায় সেই সব পুণ্যবান ও নেককার ব্যক্তিদের ন্যায় জীবন অতিবাহিত করেছেন যারা এই উদার দ্বীনের শিক্ষা প্রসারে সচেষ্ট ছিলেন এবং কথা ও কাজে পবিত্রতা ও সততার পথ অবলম্বন করেছিলেন। ইয়াহইয়া তিউনিসিয়ায় প্রায় বিশ বছর অবস্থান করেন, যে সময়ে তিনি প্রচুর জ্ঞান ও পছন্দনীয় চারিত্রিক গুণাবলি প্রচার করেন এবং ১৪৩ হিজরিতে (৭২০ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন।
জ্ঞানচর্চায় আফ্রিকানদের অংশগ্রহণ:আর আফ্রিকানদের প্রথম প্রজন্মের মধ্যে যারা ইসলামি জ্ঞান বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- خالد بن أبي عمران التجيبي، وهو تابعي ابن تابعي، كان أبوه ممن صحب قديمًا عبد الله بن سلام الصحابي، ثم قدم مع جيش حسان بن النعمان سنة 74 هـ. واستقر في مدينة تونس، وولد له خالد، فقرأ على أبيه وعلى غيره من حفظة القرآن ورواة الحديث، ثم رحل إلى المشرق وسمع من أعلامه، وروى عنه غير واحد من كبار الأيمة، مثل الليث بن سعد، وعبد الله بن لهيعه وغيرهما، وروى له مسلم في " صحيحه "، وكذا أبو داود والترمذي والنسائي، كما روى له مالك بن أنس في " الموطأ " بسند يحيى بن سعيد الأنصاري، وعاد خالد إلى إفريقية مُزَوَّدًا برواية زاخرة نقيًا عنه جماعة من أبناء البلاد، مثل عبد الملك بن أبي كر يمة، وعبد الرحمن بن زياد وسواهما، وتولى خالد قضاء إفريقية في ولاية عبد الله بن الحبحاب، وتوفي سنة 123هـ، وقد ترك ديوانًا كبيرًا في الحديث فيه مروياته عن تابعي المدينة.
- عبد الرحمن بن زياد بن أنعم المعافري، كان أبوه من وجوه التابعين، وقد ولد له عبد الرحمن سنة 74 هـ وجند حسان بن النعمان في دخوله إلى إفريقية. روى جانبًا كبيرًا من الحديث
খালিদ বিন আবি ইমরান আত-তুজিবি, তিনি একজন তাবেয়ি এবং তাবেয়ির সন্তান; তাঁর পিতা সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা প্রাচীনকালে সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন সালামের সাহচর্য লাভ করেছিলেন। এরপর তিনি ৭৪ হিজরি সনে হাসসান বিন নু’মানের বাহিনীর সাথে আগমন করেন এবং তিউনিস শহরে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই খালিদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা এবং অন্যান্য কুরআন হাফেজ ও হাদিস বর্ণনাকারীদের কাছে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি প্রাচ্যের দেশসমূহে সফর করেন এবং সেখানকার বিশিষ্ট আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর থেকে অনেক বড় বড় ইমাম হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন লাইস বিন সাদ, আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়া এবং অন্যান্যরা। ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, একইভাবে আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসাঈও বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক বিন আনাসও "মুয়াত্তা" গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারীর সনদে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। খালিদ এক বিশাল বর্ণনাভাণ্ডার নিয়ে ইফ্রিকিয়ায় ফিরে আসেন এবং দেশের একদল লোক তাঁর থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন, যেমন আব্দুল মালিক বিন আবি কারিমা, আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ এবং আরও অনেকে। আব্দুল্লাহ বিন হাবহাবের শাসনকালে খালিদ ইফরিকিয়ার কাজীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ১২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাদিসের একটি বড় সংকলন রেখে গেছেন যাতে মদিনার তাবেয়িদের থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ রয়েছে।
- আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম আল-মাআফিরি, তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট তাবেয়িদের একজন। আব্দুর রহমান ৭৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন যখন হাসসান বিন নু’মান ইফ্রিকিয়ায় প্রবেশ করেন। তিনি হাদিসের একটি বড় অংশ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على من كان في زمانه من التابعين المقيمين في إفريقية مثل خالد بن أبي عمران، وروى على الفقهاء الذين أرسلهم الخليفة عمر بن عبد العزيز مدة خلافته؛ لتفقيه أبناء المغرب، ثم رحل في طلب العلم إلى المشرق: مصر والشام والحجاز والعراق وصحب أبا جعفر المنصور العباسي قبل أن يلي الخلافة في مزاولة العلم بالكوفة، ورجع إلى القيروان وتولى القضاء بها مرتين، وأخذ عنه خلق لا يحصون من أبناء بلده وتوفي سنة 161هـ.
- علي بن زياد التونسي من أبناء مدينة تونس قرأ بها على خالد بن أبي عمران وغيره، وبالمشرق عن سفيان الثوري والليث بن سعد وابن لهيعة وغيرهم، وهو أول من أدخل "موطأ " مالك بن أنس و" جامع " سفيان الثوري الى المغرب " وروايته لـ " الموطأ " (*) مشهورة بين " الموطآت " يوجد منها قطعة صالحة في مكتبة القيروان العتيقة، وممن أخذ عنه من الأفارقة: أسد بن الفرات وسحنون "وقد قال سحنون في شأنه: «كَانَ أَهْلُ العِلْمِ بِالقَيْرَوَانِ إِذَا اِخْتَلَفُوا فِي مَسْأَلَةٍ كَتَبُوا بِهَا إِلَى عَلِيٍّ بْنِ زِيَادٍ، لِيُخْبِرُهُمْ مَنْ عَلَى صَوَابٍ فِيهَا»، وتوفي ابن زياد سنة 183هـ وقبره في حضرة
--------------------------------------------
তার যুগে আফ্রিকায় বসবাসকারী তাবেয়ীদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা লাভ করেন, যেমন খালিদ বিন আবি ইমরান। তিনি সেই ফকীহদের থেকেও বর্ণনা করেছেন যাদের খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ তার খেলাফতকালে মাগরিববাসীদের দ্বীন শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি ইলম অন্বেষণে প্রাচ্যের দেশসমূহ: মিশর, শাম, হিজাজ ও ইরাকে সফর করেন। খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের আগে কুফায় ইলম চর্চাকালে তিনি আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের সান্নিধ্যে ছিলেন। এরপর তিনি কাইরাওয়ানে ফিরে আসেন এবং সেখানে দুইবার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার স্বদেশীদের মধ্যে অসংখ্য মানুষ তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তিনি ১৬১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
- আলি বিন জিয়াদ আত-তিউনিসি তিউনিস শহরের অধিবাসী ছিলেন। সেখানে তিনি খালিদ বিন আবি ইমরান ও অন্যান্যদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। প্রাচ্যে তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি, লাইস বিন সাদ, ইবনে লাহিয়াহ এবং অন্যদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মালেক বিন আনাসের "মুয়াত্তা" এবং সুফিয়ান আস-সাওরির "জামে" মাগরিব অঞ্চলে প্রবেশ করান। "মুয়াত্তা"র বিভিন্ন বর্ণনার (*) মধ্যে তার রেওয়ায়েতটি প্রসিদ্ধ; এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কাইরাওয়ানের প্রাচীন কুতুবখানায় বিদ্যমান রয়েছে। তার থেকে যারা ইলম অর্জন করেছেন এমন আফ্রিকানদের মধ্যে আসাদ বিন আল-ফুরাত এবং সাহনুন অন্যতম। সাহনুন তার সম্পর্কে বলেছেন: "কাইরাওয়ানের আহলে ইলমগণ যখন কোনো মাসআলায় মতপার্থক্যে লিপ্ত হতেন, তখন তারা আলি বিন জিয়াদের কাছে পত্র লিখতেন, যাতে তিনি তাদের জানিয়ে দেন যে এক্ষেত্রে কে সঠিক অবস্থানে আছেন।" ইবনে জিয়াদ ১৮৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার কবর হাজরাতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تونس معروف في أعلى الشارع الذي يحمله اسمه في ناحية القصبة.
تَتَابُعُ الطَّبَقَاتِ:ثم تبتدئ طبقة ثانية يوافق ظهورها قيام الدولة الأغلبية في البلاد، ويمتاز رجال هذه الطبقة بالعكوف على أقوال الأئمة المجتهدين في التشريع يجمعون شتاتها، ويؤلفون بين موضوعاتها وَيُبَوِّبُونَ مَسَائِلَ الفِقْهِ وَيُنَسِّقُونَ أَحْكَامَهَا، وبعد أن وقفوا على تفسير القرآن وعرفوا رواية الحديث والسنن، وفي طليعة هذه الطبقة:
- أسد بن الفرات بن سنان من أبناء جند خراسان، قدم به أبوه صغيرًا - ابن عامين - مع جيش محمد بن الأشعث الداخل إلى إفريقية سنة 144 هـ، فأقام بتونس، ثم توجه إلى الحجاز، وأخذ عن مالك بن أنس، ثم انحدر إلى الكوفة وبغداد، فقرأ على أصحاب أبي حنيفة النعمان، ولا سيما محمد بن الحسن الشيباني، وفيما هو عائد إلى بلده عَرَّجَ على مصر، فأخذ
তিউনিসের কাসবাহ এলাকায় তাঁর নাম বহনকারী সড়কের উপরিভাগে তিনি সুপরিচিত।
স্তরের পরম্পরা:অতঃপর দ্বিতীয় একটি স্তরের সূচনা ঘটে, যার আবির্ভাব এই ভূখণ্ডে আগলাবিয় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ। এই স্তরের মনীষীগণ শরয়ী বিধান প্রণয়নে মুজতাহিদ ইমামগণের বক্তব্যের ওপর নিবিষ্ট থাকার মাধ্যমে বিশিষ্টতা লাভ করেন। তাঁরা সেগুলোর বিক্ষিপ্ত অংশসমূহ সংগ্রহ করতেন, বিষয়বস্তুসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতেন, ফিকহী মাসআলাসমূহকে অধ্যায়ভুক্ত করতেন এবং তার বিধানসমূহকে সুবিন্যস্ত করতেন। কুরআন তাফসীর অনুধাবন এবং হাদীস ও সুন্নাহর রেওয়ায়াত সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পর, এই স্তরের পুরোধা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন:
- আসাদ ইবনে আল-ফুরাত ইবনে সিনান, তিনি খোরাসানী বাহিনীর বংশধর। ১৪৪ হিজরী সনে ইফরীকিয়াতে প্রবেশকারী মুহাম্মদ ইবনুল আশআছের বাহিনীর সাথে তাঁর পিতা তাঁকে শিশু অবস্থায় - মাত্র দুই বছর বয়সে - নিয়ে আসেন। এরপর তিনি তিউনিসে অবস্থান করেন, অতঃপর হিজাযের দিকে যাত্রা করেন এবং মালিক ইবনে আনাস থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তারপর তিনি কুফা ও বাগদাদে গমন করেন এবং আবু হানিফা আন-নুমানের শিষ্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, বিশেষত মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানীর নিকট। নিজ দেশে ফেরার পথে তিনি মিশরে যাত্রাবিরতি করেন এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عن عبد الرحمن بن القاسم، وعبد الله بن وهب وغيرهما، واعتمد على ابن القاسم في إنشاء مدونته المعروفة بـ " الأسدية "، وقد تلقى عنه أبناء إفريقية، مثل سحنون، وسليمان بن عمران وسواهما، ويمكن أن نعد أسد بن الفرات أول مؤسس للمدرسة الفقهية القيروانية، بيد أن هذه المدرسة لم تكن تنتسب إلى مذهب معين، بل كانت تروي أقوال كبار المجتهدين مع إيضاح
ما بينها من فروق، وإنما كان ذلك؛ لأن المَذَاهِبَ السُّنِّيَّةِ لم تكن قد تعينت بعد، واستقل كل منها بنفسه، فان ذلك لم يتسق إلا في القرن الثالث للهجرة، وعلى أية حال فقد كان أسد بن الفرات يُقْرِئُ بالقيروان آراء مذهب أهل المدينة، ومذهب أهل العراق بالسوية، حينما أخذت كل طائفة تنحاز إلى مذهب بعينه.
قال المالكي: «وَالمَشْهُورُ عَنْ أَسَدٍ - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - أَنَّهُ كَانَ يَلْتَزِمُ مِنْ أَقْوَالِ أَهْلِ المَدِينَةِ، وَأهْلِ العِرَاقِ مَا وَافَقَ الحَقَّ عِنْدَهُ، وَيَحِقُّ لَهُ ذَلِكَ لاسْتِبْحَارِهِ فِي العُلُومِ وَبَحْثِهِ
আবদুর রহমান বিন আল-কাসিম, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত; তিনি তাঁর সুপরিচিত "আল-আসাদিয়্যাহ" নামক মুদাওয়ানাহ সংকলনে ইবনুল কাসিমের ওপর নির্ভর করেছেন। ইফ্রিকিয়ার অধিবাসীরা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেমন সাহনুন, সুলায়মান বিন ইমরান এবং আরও অনেকে। আসাদ ইবনুল ফুরাতকে কায়রোয়ানীয় ফিকহী ধারার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। তবে এই ধারাটি নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, বরং এটি বড় বড় মুজতাহিদগণের বক্তব্যসমূহ বর্ণনা করত এবং স্পষ্ট করত
তাদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ। আর তা এ কারণেই ছিল যে, সুন্নি মাযহাবসমূহ তখনো নির্দিষ্ট রূপ লাভ করেনি এবং প্রতিটি মাযহাব স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর আগে এ বিষয়টি সুসংহত হয়নি। যাই হোক, আসাদ ইবনুল ফুরাত কায়রোয়ানে আহলে মদীনার মাযহাব এবং আহলে ইরাকের মাযহাবের মতামত সমানভাবে শিক্ষা দিতেন, ঠিক সে সময়ে যখন প্রতিটি গোষ্ঠী নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছিল।
আল-মালিকী বলেন: «আসাদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—সম্পর্কে এটিই প্রসিদ্ধ যে, তিনি আহলে মদীনা ও আহলে ইরাকের মতামতগুলোর মধ্য থেকে সেগুলোকে গ্রহণ করতেন যা তাঁর নিকট সত্যের অনুকূল মনে হতো। ইলমে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও গবেষণার কারণে এটি করার অধিকার তাঁর ছিল...»
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
عَنْهَا، وَكَثْرَةِ مَنْ لَقِيَ مِنَ العُلَمَاءِ وَالمُحَدِّثِينَ» (1)
وقال معاصره أبو سنان زيد بن سنان الأزدي: «وَكَانَ أَسَدُ إِذَا سَرَدَ قَوْلَ العِرَاقِيِّينَ يَقُولُ لَهُ مَشَايِخٌ كَانُوا يُجَالِسُونَهُ مِمَّنْ يَذْهَبُ إِلَى مَذَاهِبِ أَهْلِ المَدِينَةِ: " أَوْقِدْ لَنَا القِنْدِيلَ الثَّانِي يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ " فَيَسْرُدُ أَقْوَالَ المَدَنِيِّينَ».
ويجدر بنا هنا أن نلفت النظر إلى أن أشياع أهل العراق - أبي حنيفة وأصحابه - كانوا أوفر عددًا يومئذٍ من الذين يتابعون أهل الحجاز - مالك وأصحاب السنن - وما ذلك إلا لأن الأمراء من بني الأغلب رجال دولتهم كانوا يقلدون ساداتهم خلفاء بني العباس.
وقد تولى أسد قضاء إفريقية لزيادة الله بن الأغلب، ثم خرج مجاهدًا إلى صقلية زعيمًا للجيش العربي، فاستشهد في فتحها سنة 213 هـ.
كَيْفَ دَخَلَتْ الحَنَفِيَّةُ إِفْرِيقِيَّةَ؟:
حكى المقدسي في " رحلته " - وقد زار المغرب آخر القرن
--------------------------------------------
...এর প্রতি, এবং তিনি অসংখ্য আলেম ও মুহাদ্দিসের সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। (১)
তাঁর সমসাময়িক আবু সিনান যায়েদ ইবনে সিনান আল-আজদী বলেন: “আসাদ যখন ইরাকিদের মতবাদ বর্ণনা করতেন, তখন মদীনার অধিবাসীদের মাযহাবের অনুসারী যে শায়খগণ তাঁর মজলিসে বসতেন, তাঁরা তাঁকে বলতেন: ‘হে আবু আব্দুল্লাহ, আমাদের জন্য দ্বিতীয় প্রদীপটি প্রজ্বলিত করুন।’ তখন তিনি মদীনাবাসীদের মতামত বর্ণনা করতেন।”
এখানে আমাদের এ বিষয়টি লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, ইরাকবাসীদের অনুসারীরা—অর্থাৎ আবু হানিফা ও তাঁর সঙ্গীগণ—সেই সময়ে হিজাজবাসীদের অনুসারীদের—অর্থাৎ মালিক ও সুনান গ্রন্থকারদের—চেয়ে সংখ্যায় অধিক ছিল। এর কারণ ছিল মূলত এটাই যে, বনু আগলাব গোত্রের আমিরগণ ও তাঁদের রাষ্ট্রের কর্মকর্তাবর্গ তাঁদের অভিভাবক বনু আব্বাসীয় খলিফাদের অনুকরণ করতেন।
আসাদ যিয়াদাতুল্লাহ ইবনে আগলাবের অধীনে ইফ্রিকিয়ার বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি আরব সেনাবাহিনীর সেনাপতি হিসেবে মুজাহিদ বেশে সিসিলির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং ২১৩ হিজরিতে তা বিজয়ের প্রাক্কালে শাহাদাত বরণ করেন।
ইফ্রিকিয়াতে হানাফী মাযহাব কীভাবে প্রবেশ করেছিল?:
মাকদিসি তাঁর ‘রিহলা’ (ভ্রমণকাহিনী) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—তিনি শতাব্দীর শেষভাগে মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) ভ্রমণ করেছিলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرابع للهجرة - رواية أخرى عن أخذ أسد بن الفرات لآراء أهل العراق، قال: «وَسَأَلْتُ علماء القيروان كيف وقع مذهب أبي حنيفة إليكم، ولم يكن على سابلتكم؟ - فقالوا: لما قدم عبد الله بن وهب من عند مالك رحمه الله من المدينة إلى مصر، وقد حاز من الفقه والعلوم ما حاز، فاستنكف أسد بن الفرات أن يدرس عليه لجلالته وكبر نفسه، فرحل أسد إلى المدينة ليدرس على مالك، فوجده عليلاً، فلما طال مقامه عنده قال له مالك: " ارجع إلى ابن وهب فقد أودعته علمي، وكفيتكم به الرحلة، فصعب ذلك على أسد وسأل القوم: هل يعرف لمالك نظير؟ - فقيل له: فتى في الكوفة يقال له محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة، فرحل أسد إليه، وأقبل عليه محمد بن الحسن إقبالاً لم يقبله على أحد، ورأى فهمًا وحرصًا، فزقه الفقه زقًا فلما علم محمد أنه قد استقل، وبلغ مراده فيه سيبه إلى المغرب، فلما دخل اختلف إليه فتيان القيروان، ورأوا فروعًا حَيَّرَتْهُمْ وَدَقَائِقَ أَعْجَبَتْهُمْ، وَمَسَائِلَ مَا طَنَّتْ عَلَى أُذُنِ ابْنِ وَهْبٍ، وَتَخَرَّجَ
হিজরি চতুর্থ শতাব্দী - আসাদ ইবনুল ফুরাতের ইরাকবাসীদের মতামত গ্রহণের বিষয়ে অন্য একটি বর্ণনা; তিনি বলেন: «আমি কাইরাওয়ানের আলেমদের জিজ্ঞাসা করলাম, আবু হানিফার মাযহাব আপনাদের কাছে কীভাবে পৌঁছাল, অথচ এটি আপনাদের স্বাভাবিক পথে ছিল না? - তারা বললেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব মদিনা থেকে ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছ থেকে মিশরে আসলেন, এবং তিনি ফিকহ ও ইলমের যা অর্জন করার তা অর্জন করেছিলেন, তখন আসাদ ইবনুল ফুরাত তার কাছে পড়তে অস্বীকৃতি জানালেন নিজের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের কারণে। অতঃপর আসাদ ইমাম মালেকের কাছে পড়ার জন্য মদিনায় সফর করলেন, কিন্তু তাকে অসুস্থ পেলেন। যখন সেখানে তার অবস্থান দীর্ঘ হলো, তখন ইমাম মালেক তাকে বললেন: "তুমি ইবনে ওয়াহাবের কাছে ফিরে যাও, কারণ আমি তাকে আমার ইলম সঁপে দিয়েছি এবং তার মাধ্যমে তোমাদের সফরের কষ্ট লাঘব করে দিয়েছি।" এটি আসাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন মনে হলো এবং তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইমাম মালেকের সমকক্ষ কি কেউ আছে? - তাকে বলা হলো: কুফায় একজন যুবক আছে যাকে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলা হয়, যিনি আবু হানিফার সঙ্গী। তখন আসাদ তার কাছে সফর করলেন এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান তাকে এমনভাবে গ্রহণ করলেন যা অন্য কারো ক্ষেত্রে করেননি। তিনি আসাদের মাঝে গভীর বোধ ও জ্ঞানতৃষ্ণা দেখতে পেলেন, ফলে তিনি তাকে নিবিড়ভাবে ফিকহ আত্মস্থ করালেন। যখন মুহাম্মদ বুঝতে পারলেন যে আসাদ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়েছে, তখন তিনি তাকে মাগরেবে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি যখন সেখানে প্রবেশ করলেন, কাইরাওয়ানের যুবকরা তার কাছে ভিড় জমাতে লাগল। তারা এমন সব ফিকহি শাখা দেখতে পেল যা তাদের বিমোহিত করল এবং এমন সূক্ষ্ম বিষয়াবলি যা তাদের আশ্চর্যান্বিত করল। তারা এমন সব মাসআলা পেল যা ইবনে ওয়াহাবের কানে কখনো প্রতিধ্বনিত হয়নি। এবং তারা শিক্ষা সমাপ্ত করল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
على أسد الخلق، "وفشا مذهب أبي حنيفة رحمه الله بالمغرب» (1).
ويبدو أن الحقيقة تجانب ما روى القدسي، فإن أسد بن الفرات لم يكن أول من أظهر آراء أهل العراق - أبي حنيفة وصحبه - بإفريقية، بل سبقه إلى ذلك بنصف قرن فقيه مُحَدِّثٌ جَلِيلُ القَدْرِ، هُوَ:
- عبد الله بن عمر بن فروخ، أبو محمد الفارسي، أصله من خراسان، وقدم أبوه إفريقية فولد له بها ابنه عبد الله سنة 115 هـ، وقرأ على محدثيها، ثم قصد الشرق واتصل في العراق بالأعمش (سليمان بن مهران) التابعي، وحمل عنه كثيرًا من الحديث، ثم اجتمع في الكوفة بالإمام أبي حنيفة النعمان وصحبه مدة طويلة، وكتب عنه مسائل كثيرة، يقال إنها عشرة آلاف مسألة، وكان ابن فروخ يميل إلى مذهب النظر والاستدلال، فغلب عليه القياس على طريقة أهل العراق فيما يتبين له أنه الصواب، ويروى أنه ناظر يومًا زُفَرَ في مجلس أبي حنيفة، فازدراه زُفَرُ لهيئته الإفريقية ولباسه المغربي، فلم يزل يناظره
--------------------------------------------
আসাদ আল-খালক-এর নিকট, "এবং মাগরিবে আবু হানিফা রহ.-এর মাযহাব ছড়িয়ে পড়ল।" (১)।
আপাতদৃষ্টে মনে হয় যে, আল-মাকদিসী যা বর্ণনা করেছেন সত্য তার বিপরীত। কারণ আসাদ ইবনে আল-ফুরাত ইফরীকিয়াতে আহলুল ইরাক—আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের—মতামত প্রথম প্রকাশকারী ছিলেন না; বরং তাঁর অর্ধশতাব্দী পূর্বে একজন মহান ফকিহ ও মুহাদ্দিস এ কাজে তাঁর অগ্রবর্তী ছিলেন, তিনি হলেন:
- আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে ফাররুখ, আবু মুহাম্মদ আল-ফারসি। তাঁর আদি নিবাস ছিল খুরাসানে। তাঁর পিতা ইফরীকিয়াতে আসেন এবং সেখানে ১১৫ হিজরিতে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেখানকার মুহাদ্দিসদের নিকট পড়াশোনা করেন। অতঃপর তিনি প্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেন এবং ইরাকে তাবিঈ আল-আ'মাশ (সুলায়মান ইবনে মিহরান)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি কুফায় ইমাম আবু হানিফা আন-নুমান-এর সাথে মিলিত হন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে থাকেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে অনেক মাসআলা লিখেছিলেন, বলা হয় যে তার সংখ্যা দশ হাজার। ইবনে ফাররুখ পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিপ্রমাণের পদ্ধতির প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর ওপর ইরাকিদের পদ্ধতিতে কিয়াসের প্রভাব প্রবল ছিল সে সকল বিষয়ে যা তাঁর নিকট সঠিক বলে প্রতিভাত হতো। বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি আবু হানিফার মজলিসে যুফারের সাথে বিতর্ক করছিলেন। যুফার তাঁর ইফরীকীয় অবয়ব ও মাগরিবি পোশাকের কারণে তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর সাথে বিতর্ক চালিয়ে যান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حتى علا ابن فروخ عليه، وقطعه بالحجة والدليل، فأنكر أبو حنيفة على زفر ازدارءه بابن فروخ وعاتبه، ثم تحول ابن فروخ من العراق إلى الحجاز، ولقي الإمام مالك بن أنس، وسمع منه وتفقه عليه، وكتب عنه مسائل كثيرة معروفة، ثم عاد آخرًا إلى بلده القيروان، وانتدب لتعليم الناس، وانتفع به خلق كثير من أبناء البلاد، فعن فروخ، وعن تلاميذه انتشرت آراء أهل العراق في إفريقية، وكان هو أول من أظهرها بها. وكانت وفاته سنة 172 هـ.
من ذلك الحين انتشرت أقوال الإمام أبي حنيفة وأصحابه في إفريقية أيما انتشار، ولبثت تزدهر من أواخر القرن الثاني إلى أواسط القرن الرابع.
وقد نَبَّهَ المقدسي في " رحلته "إلى الوفاق بين الحنفيين والمالكيين بقوله: «
… وَمَا رَأَّيْتُ فَرِيقَيْنِ أَحَسَنَ اِتِّفَاقًا وَأَقَلَّ تَعَصُّبًا مِنْهُمْ مِنْ أَهْلِ القَيْرَوَانِ، وَسَمِعْتُهُمْ يَحْكُونَ عَنْ قُدَمَائِهِمْ فِي ذَلِكَ حِكَايَاتٍ عَجِيبَةٍ حَتَّى قَالُوا: إِنَّهُ كَانَ [الحَاكِمُ] أَي القَاضي - سَنَةً حَنَفِيًّا، وَسَنَةً مَالِكِيًّا»
এমনকি ইবনে ফাররুখ তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন এবং দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তাঁকে পরাস্ত করেন। ফলে আবু হানিফা ইবনে ফাররুখের প্রতি জুফারের অবজ্ঞার কারণে তাঁকে তিরস্কার করেন এবং ভর্ৎসনা করেন। এরপর ইবনে ফাররুখ ইরাক থেকে হিজাজে চলে যান এবং ইমাম মালিক ইবনে আনাসের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর কাছে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে অনেক সুপরিচিত মাসআলা লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি শেষ পর্যন্ত নিজ শহর কায়রোয়ানে ফিরে আসেন এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সেই ভূখণ্ডের বহু মানুষ তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হন। সুতরাং ইবনে ফাররুখ এবং তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমেই ইফরীকিয়ায় ইরাকিদের মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনিই প্রথম সেখানে তা প্রকাশ করেন। ১৭২ হিজরি সনে তাঁর ইন্তেকাল হয়।
সেই সময় থেকে ইফরীকিয়ায় ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের মতবাদ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত তা সমৃদ্ধ হতে থাকে।
আল-মাকদিসি তাঁর ‘রিহলা’ (ভ্রমণকাহিনী)-তে হানাফি ও মালিকিদের মধ্যকার সংহতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: «
… আর আমি কায়রোয়ানের অধিবাসীদের চেয়ে অধিক চমৎকার ঐক্যবদ্ধ এবং কম গোঁড়ামিপূর্ণ কোনো দুটি দল দেখিনি। আমি তাঁদেরকে তাঁদের পূর্বসূরিদের সম্পর্কে এ বিষয়ে বিস্ময়কর সব গল্প বর্ণনা করতে শুনেছি, এমনকি তাঁরা বলতেন যে: শাসক অর্থাৎ বিচারক এক বছর হানাফি হতেন এবং এক বছর মালিকি হতেন। »
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد حدث مثل ذلك بالفعل في مدة بني الأغلب، فلما سقطت دولتهم، وقامت الدولة الفاطمية الشيعية النحلة تضاءل عدد المستمسكين بالمذهب الحنفي حتى انقطع تمامًا في آخر عهد المعز لدين الله قبل انتقاله إلى ملك مصر سنة 361 هـ. ولم يبق بإفريقية من أهل السنة غير المالكيين، أو بعض المقلدين لمذهب الإمام الشافعي.
وقد وفقني الله تعالى إلى جمع شطر جليل من تراجم علماء الحنفية الأفارقة، فخصصتهم ببحث مستقل عَرَّفْتُ فيه بهم، وجلوت سيرتهم ومآثرهم، وسينشر فيما بعد إن شاء الله.
المَدْرَسَةُ المَالِكِيَّةُ:- سحنون بن سعيد التنوخي، من أبناء الجند العربي، ولد في القيروان سنة 160 هـ، وأخذ في إفريقية عن علي بن زياد، وأسد بن الفرات وغيرهما، ورحل إلى الحجاز، ولم يدرك مالكًا، ورجع إلى مصر فسمع من عبد الرحمن بن قاسم، وعليه غالب اعتماده، وأخذ عن غيره من كبار تلاميذ مالك،
বনু আগলাবের শাসনামলে প্রকৃতপক্ষে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। যখন তাদের রাষ্ট্রের পতন ঘটে এবং শিয়া মতাদর্শের ফাতেমীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন হানাফি মাযহাবের অনুসারীদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে, এমনকি ৩৬১ হিজরিতে মিসরের রাজত্বে স্থানান্তরের পূর্বে মুয়িজ লি-দীনিল্লাহর শাসনের শেষ সময়ে তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর আফ্রিকায় আহলে সুন্নাতের মধ্যে মালিকিগণ অথবা ইমাম শাফেয়ির মাযহাবের কিছু অনুসারী ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না।
আল্লাহ তাআলা আমাকে আফ্রিকান হানাফি আলেমদের জীবনীর এক বিশাল অংশ সংকলন করার তাওফিক দিয়েছেন। ফলে আমি তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র গবেষণাপত্র নির্দিষ্ট করেছি যেখানে আমি তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছি এবং তাদের জীবনী ও গৌরবময় অবদানসমূহ ফুটিয়ে তুলেছি; ইনশাআল্লাহ এটি পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।
মালিকি মাযহাবের ধারা:- সাহনুন বিন সাঈদ আত-তানুখি, তিনি আরব সৈনিক পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৬০ হিজরিতে কায়রোয়ানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আফ্রিকায় আলী বিন যিয়াদ, আসাদ বিন আল-ফুরাত ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং হিজায সফর করেন। তবে তিনি ইমাম মালিকের সাক্ষাৎ পাননি। অতঃপর তিনি মিসরে ফিরে আসেন এবং আবদুর রহমান বিন কাসিমের নিকট থেকে পাঠ গ্রহণ করেন এবং তার ওপরই ছিল তার প্রধান নির্ভরতা। এছাড়া তিনি ইমাম মালিকের অন্যান্য প্রথিতযশা ছাত্রদের নিকট থেকেও জ্ঞান অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وعلي بن القاسم راجع " مدونة " شيخه أسد بن الفرات وقد ظهر لابن القاسم العدول عن بعض آرائه الأولى واتخاذ آراء غيرها، وعاد سحنون إلى بلاده، وأراد أن يحمل أَسَدًا على إصلاح " الأسدية " على ما تلقاه من ابن القاسم، فلم يوافقه أسد.
واستمر سحنون بما أوتي من براعة ومقدرة يبث فقه أهل المدينة خاصة - مالك وأصحابه - ولا سيما بعد استشهاد أسد بن الفرات في صقلية، وَلِذَا عُدَّ سحنون أول من أظهر الفقه المدني ورجحه، وأرسخ كلمته في إفريقية والمغرب، وقد امتاز سحنون بخصال نادرة، منها: جمعه بين الاستقامة التامة والدين، ورجحان العقل والعفة، مع استقلال الفكر وقوة الشكيمة؛ وتوارد عليه عدد لا يحصى من المتعلمين من أنحاء المغرب، ولا سيما الأندلس، وصارت حلقة تدريسه أكبر حلقة عرفت لأستاذ، قيل إنه كان يجلس فيها أربعمائة طالب علم؛ ولما ناله سحنون من الشهرة والصيت البعيد أولاه الأمير الأغلبي قضاء إفريقية سنة 234هـ فأظهر مقدرة منقطعة النظير في تنظيم مهمة القضاء، بل إنه وضع الكثير من أصول المؤسسات الشرعية في
আলী ইবনুল কাসিম তাঁর উস্তাদ আসাদ ইবনুল ফুরাতের "মুদাওওয়ানা" পর্যালোচনা করেছিলেন এবং ইবনুল কাসিমের মাঝে তাঁর পূর্ববর্তী কিছু মতামত থেকে ফিরে আসা এবং অন্য মতামত গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল। সুহনুন তাঁর দেশে ফিরে আসলেন এবং ইবনুল কাসিমের নিকট থেকে যা গ্রহণ করেছিলেন তার ভিত্তিতে আসাদকে তাঁর "আসাদিয়া" সংশোধন করতে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আসাদ তাঁর সাথে একমত হননি।
সুহনুন তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্য ও যোগ্যতার মাধ্যমে মদীনার অধিবাসীদের ফিকহ—বিশেষ করে মালেক ও তাঁর অনুসারীদের ফিকহ—প্রচার করতে থাকেন, বিশেষত সিসিলিতে আসাদ ইবনুল ফুরাতের শাহাদাতের পর। একারণেই সুহনুনকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় যিনি মাদানী ফিকহকে প্রকাশ করেছেন ও প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ইফরীকিয়া ও মাগরিবে এর ভিত্তি সুদৃঢ় করেছেন। সুহনুন কিছু বিরল বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে: পূর্ণ অবিচলতা ও দ্বীনদারির সমন্বয়, প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও পবিত্রতা, সেই সাথে চিন্তার স্বাধীনতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা। মাগরিবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, বিশেষ করে আন্দালুস থেকে অগণিত শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ভিড় করত। তাঁর পাঠদান মজলিসটি কোনো উস্তাদের জন্য পরিচিত বৃহত্তম মজলিসে পরিণত হয়েছিল; বলা হয় যে সেখানে চারশ ইলম অন্বেষণকারী বসত। সুহনুনের এই ব্যাপক খ্যাতি ও সুখ্যাতির কারণে ২৩৪ হিজরিতে আগলাবি আমির তাঁকে ইফরীকিয়ার বিচারকের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ফলে তিনি বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে অতুলনীয় দক্ষতার পরিচয় দেন, বরং তিনি শরয়ী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনেক মূলনীতি প্রণয়ন করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إفريقية، مثل دستور «أحكام السوق» وهي وظيفة الحسبة، ونظإم قضاة الآفاق، وكشف الشهود، وسنن التعليم الابتدائي، وتعيين أيمة المساجد إلى غير ذلك من الأوضاع التي جرى بها العمل مئات السنين، وما زال بعضها سنة متبعة إلى يوم الناس هذا.
وفي مدة قضائه اجتهد سحنون في تعطيل الدروس التي كان يلقيها أصحاب الأهواء، والنحل الخارجة عن السنة في الجامع الكبير، مسجد عقبة بالقيروان، مثل الصُّفْرِيَّةِ، وَالمُرْجِئَةِ، وَالمُشَبِّهَةِ، وَالمُعْتَزِلَةِ وغيرهم، حتى ألزمهم إخلاء الجامع من حلقهم، ولم تعد إليه بعد.
وقصارى القول أن سحنون بن سعيد يعد بحق المؤسس الأول لمدرسة الفقه المالكي في إفريقية، بل في المغرب عامة كما كان الأسوة الحسنة لمن جاء بعده من علماء السنة في دراسة العلوم الفقهية، وشرح أصول السنة، وتوفي سنة 240 هـ.
وتمتاز الطبقة التي تلي هذه بتفسير أقوال من تقدمهم وإيضاح آرائهم، وتطبيق الفروع على الأصول، وفي طليعتها:
আফ্রিকা (ইফ্রিকিয়া), যেমন "বাজারের বিধিবিধান" (আহকামুস সুক) এর বিধান যা হিসবাহর দায়িত্ব, দূরবর্তী অঞ্চলের বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি, সাক্ষীদের জবানবন্দি যাচাই, প্রাথমিক শিক্ষার নিয়মাবলি এবং মসজিদের ইমাম নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়াদি যা শত শত বছর ধরে প্রচলিত ছিল এবং যার কিছু আজও মানুষের মাঝে প্রচলিত রীতি হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।
তাঁর বিচারকার্য পরিচালনার সময়কালে সাহনুন কায়রাওয়ানের জামে উকবা মসজিদে প্রবৃত্তি পূজারি এবং সুন্নাহ বহির্ভূত ফিরকাগুলোর পাঠদান বন্ধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। যেমন—সুফরিয়াহ, মুরজিয়াহ, মুশাব্বিহাহ, মুতাজিলা এবং অন্যান্য। পরিশেষে তিনি তাদের পাঠচক্রগুলো মসজিদ থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেন এবং পরবর্তীতে তারা আর সেখানে ফিরতে পারেনি।
সারসংক্ষেপ এই যে, সাহনুন ইবনে সাইদকে যথার্থই আফ্রিকা তথা সমগ্র মাগরেব অঞ্চলে মালিকি ফিকহী মাযহাবের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা গণ্য করা হয়। তদুপরি তিনি তাঁর পরবর্তী সুন্নাহর আলেমদের জন্য ফিকহী শাস্ত্রের পঠন-পাঠন এবং সুন্নাহর উসূলের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক উত্তম আদর্শ ছিলেন। তিনি ২৪০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
এর পরবর্তী প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য হলো পূর্বসূরিদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান ও তাঁদের মতামতের স্পষ্টীকরণ এবং মূলনীতির ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখাগুলোর প্রয়োগ করা। এই স্তরের অগ্রভাগে রয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
محمد بن سحنون، أخرجه والده متخلقًا بالكثير من هديه وخصاله، وجلس يدرس أقوال أبيه. وعني بالتأليف فوضع أكثر من مائتي جُزْءٍ في فنون العلم، ولا سيما شرح المجمل من " مدونة " أبيه، ومن كتبه " آداب المعلمين " الذي بين أيدينا، وهو أول من فتح هذا الباب، وتوفي سنة 256 هـ.
محمد بن عبدوس، تلميذ سحنون، وأحد البارزين من صحبه، كان بارعًا في الفقه المالكي، قوي الاستنباط، هو رابع المحمدين الذين اجتمعوا في عصر واحد من أيمة مذهب مالك، والثلاثة هم: محمد بن سحنون، وهو قيرواني مثله، ومحمد بن عبد الحكم، ومحمد بن المواز، وكلاهما مصري، وعن محمد بن عبدون أخذ جماعة لا يحصون من أبناء إفريقية والأندلس، وألف كُتُبًا كثيرة منها كتاب " التفاسير " فَسَّرَ فيه أصول الفقه وشرح مسائل " المدونة " وغيرها، وتوفي سنة 260 هـ.
- يحيى بن عمر الكناني، ولد بالأندلس، ثم استوطن إفريقية بعد أن جال في عواصم الشرق، وروى عن كبار علمائه، واستقر أخيرًا في مدينة سوسة، وأكثر اعتماده على شيخه
মুহাম্মদ বিন সাহনুন; তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর বহুবিধ হেদায়াত ও বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন এবং তিনি তাঁর পিতার বক্তব্যসমূহ পাঠ ও পর্যালোচনায় নিয়োজিত হন। তিনি গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং ইলমের বিভিন্ন শাখায় দুই শতাধিক খণ্ড রচনা করেন, বিশেষ করে তাঁর পিতার 'মুদাওওয়ানা'র সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট অংশসমূহের ব্যাখ্যা। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে 'আদাবুল মুয়াল্লিমীন' যা বর্তমানে আমাদের নিকট বিদ্যমান এবং তিনি এই বিষয়ের দ্বার উন্মোচনকারী প্রথম ব্যক্তি। তিনি ২৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ বিন আবদুস; সাহনুনের ছাত্র এবং তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি মালিকি ফিকহে অত্যন্ত পারদর্শী এবং মাসআলা উদ্ভাবনে শক্তিশালী ছিলেন। তিনি সেই চার 'মুহাম্মদ'-এর চতুর্থজন, যাঁরা মালিকি মাযহাবের ইমামদের মধ্য থেকে একই যুগে একত্রিত হয়েছিলেন। অন্য তিনজন হলেন: মুহাম্মদ বিন সাহনুন—যিনি তাঁর ন্যায় কায়রাওয়ানি ছিলেন, এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাকাম ও মুহাম্মদ বিন মুওয়াজ—যাঁরা উভয়ই মিশরীয় ছিলেন। মুহাম্মদ বিন আবদুন থেকে আফ্রিকা ও আন্দালুসের অগণিত শিক্ষার্থী ইলম অর্জন করেছেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে 'আত-তাফাসির' নামক গ্রন্থ; এতে তিনি উসূলে ফিকহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং 'মুদাওওয়ানা'সহ অন্যান্য কিতাবের মাসআলাসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি ২৬০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
- ইয়াহইয়া বিন উমর আল-কিনানি; আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেন, অতঃপর প্রাচ্যের প্রধান শহরগুলোতে ভ্রমণ ও সেখানকার বিজ্ঞ আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান বর্ণনা করার পর আফ্রিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরিশেষে তিনি সুসা শহরে স্থায়ী হন এবং তাঁর অধিক নির্ভরতা ছিল তাঁর শাইখের ওপর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
سحنون، وتفقه به خلق كثير، منهم: ابن اللباد، وأبو العرب التميمي، وأبو العباس الأبياني، وصنف نحو أربعين مؤلفًا في الحديث والفقه، والرد على أهل البدع، وفي فضائل المرابطة، ومنها كتاب فريد في بابه، وهو " أحكام السوق " (1) أبان فيه نظام المدائن في الإسلام، ومهمة الحسبة، وهو - فيما عرفنا - أقدم من ضبط أصولها وأحكامها، وتوفي في سوسة سنة 289 هـ، ومكان قبره بها مشهور.
ثم كانت بإفريقية طبقة أخرى من حملة علوم الشريعة على مذهب مالك، وقد شهدت هذه الطبقة سقوط الدولة الأغلبية - سنة 296 هـ - وقيام الدولة الفاطمية الشيعية مكانها، وقد حاول ملوك العبيديين القضاء على مذهب أهل السنة، وتسويد النحلة الشيعية، وقاسى علماء القيروان من جراء ذلك ألوان الاضطهاد والمناواة، فأخفت صوتهم، ومنع نشر تعاليمهم مدة ستين عَامًا أو أكثر، كما لقي القائمون بالدعوة الشيعية من مقاومة علماء
--------------------------------------------
সাহনুন, এবং তাঁর নিকট থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুল লাব্বাদ, আবু আল-আরব আত-তামীমী এবং আবুল আব্বাস আল-আবিয়ানী। তিনি হাদিস, ফিকহ, বিদআতিদের খণ্ডন এবং সীমান্ত পাহারার ফযিলত বিষয়ে প্রায় চল্লিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে তাঁর একটি অনন্য গ্রন্থ হলো "আহকামুস সুক" (১), যাতে তিনি ইসলামের নগর ব্যবস্থা এবং হিসবাহর দায়িত্ব বর্ণনা করেছেন। আমাদের জানামতে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এর মূলনীতি ও বিধানসমূহ সুসংবদ্ধ করেছেন। তিনি ২৮৯ হিজরিতে সুসা নগরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানে তাঁর কবরের স্থানটি সুপরিচিত।
অতঃপর আফ্রিকায় মালিকি মাযহাব অনুযায়ী শরীয়াহ বিজ্ঞানের ধারক-বাহকদের আরও একটি স্তরের আবির্ভাব ঘটে। এই স্তরটি ২৯৬ হিজরিতে আগলাবি রাষ্ট্রের পতন এবং তার স্থলে শিয়া ফাতেমি রাষ্ট্রের উত্থান প্রত্যক্ষ করেছিল। উবাইদি রাজারা আহলে সুন্নাহর মাযহাব নির্মূল করার এবং শিয়া মতবাদকে বিজয়ী করার চেষ্টা করেছিল। এর ফলে কায়রোয়ানের উলামায়ে কেরাম নানা ধরনের নিপীড়ন ও শত্রুতার শিকার হন। ফলে তাঁদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ ষাট বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তাঁদের শিক্ষা প্রচার নিষিদ্ধ থাকে। তেমনিভাবে শিয়া দাওয়াতের প্রবক্তারাও উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
السنة، واستنكار الأمة الإفريقية ما أدى إلى وقوع أحداث دموية عنيفة في شوارع القيروان، وكان ذلك من أكبر أسباب يأس الفاطميين من نجاح دعوتهم في البلاد، وتمكينها من معتقد الأفارقة، حتى اضطر العبيديون إلى نقل عاصمتهم من القيروان إلى المهدية بعض حين، ثُمَّ وَلَّوْا وُجُوهَهُمْ قِبَلَ المَشْرِقِ، ساعين إلى امتلاك مصر، حتى استولوا عليها وسكنوها - سنة 362 هـ - وكان على رأس المقاومين للشيعة في نشر دعوتهم بين الأفارقة:
- أبو عثمان سعيد بن الحداد الغساني، تلميذ سحنون وغيره عني منذ صغره بعلم الكلام والجدل، والقول بالنظر والحجة، وكان مفرط الذكاء وقاد القريحة مُتَفَنِّنًا في سائر العلوم، لا يخلد إلى مذهب من المذاهب، بل كان يذم التقليد ويقول: «هُوَ مِنْ نَقْصِ العُقُولِ، وَتَقَاعُسِ الهِمَمِ»، وهو أكبر مناضل عن السُّنَّةِ أنبتته التربة الإفريقية، وله مواقف حاسمة مع دعاة الشيعة في " رَقَّادَةَ " منذ بزغت دولتهم، وقد سجل لنا التاريخ بعض مجالس الجدل بينه وبين الشيعيين، حتى شبهه معاصروه بأحمد بن حنبل
সুন্নাহ এবং আফ্রিকার জনগণের এই অস্বীকৃতি কায়রোয়ানের রাস্তায় তীব্র সহিংস রক্তক্ষয়ী ঘটনার সূত্রপাত করে। আর এটিই ছিল দেশটিতে ফাতেমীয়দের নিজ দাওয়াতের সফলতা এবং আফ্রিকানদের আকিদাহর মধ্যে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে নিরাশ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এমনকি এক পর্যায়ে উবাইদীরা তাদের রাজধানী কায়রোয়ান থেকে মাহদীয়ায় স্থানান্তরিত করতে বাধ্য হয়। এরপর তারা প্রাচ্যের দিকে মুখ ফিরায় এবং মিসর অধিকারের চেষ্টা করে, পরিশেষে ৩৬২ হিজরিতে তারা তা দখল করে সেখানে বসবাস শুরু করে। আফ্রিকানদের মাঝে শিয়াদের দাওয়াত প্রসারের বিরুদ্ধে যারা প্রতিরোধের অগ্রভাগে ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
- আবু উসমান সাঈদ ইবনুল হাদ্দাদ আল-গাসসানী। তিনি সাহনুন ও অন্যদের ছাত্র ছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি ইলমুল কালাম, বিতর্কবিদ্যা এবং যুক্তি ও প্রমাণের অনুসরণের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন এবং সকল বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবে সীমাবদ্ধ থাকতেন না, বরং তাকলীদ বা অন্ধ অনুকরণের নিন্দা করতেন এবং বলতেন: «এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অপূর্ণতা এবং সংকল্পের স্থবিরতা হতে উদ্ভূত»। তিনি ছিলেন আফ্রিকার মাটি থেকে জন্ম নেওয়া সুন্নাহর পক্ষে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগ্রামী। তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ‘রাক্কাদাহ’ নামক স্থানে শিয়া দাওয়াতীদের বিরুদ্ধে তাঁর অনমনীয় ও সিদ্ধান্তমূলক অবস্থান ছিল। ইতিহাস আমাদের নিকট তাঁর এবং শিয়াদের মধ্যকার কিছু বিতর্ক সভার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রেখেছে, এমনকি তাঁর সমসাময়িকগণ তাঁকে আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে তুলনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল মাযেরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أيام المحنة بخلق القرآن، وتوفي سعيد سنة 302 هـ.
- أبوبكر محمد بن اللباد، وجده الأعلى أحد موالي موسى بن نصير، أخذ عن تلاميذ سحنون كيحيى بن عمر، وسعيد الحداد وغيرهما، وبرع في الفقه إلى أن حاز رياسة المالكية في إفريقية، ولذا امتحنه دعاة الشيعة ومنعوه من إلقاء دروسه بالمسجد الجامع، ثم سجن مع المجرمين في المهدية، ثم أطلق وألزم الاعتكاف في بيته، فكان تلاميذه - ومنهم عبد الله بن أبي زيد - يقصدونه خفية، ويجعلون كتبهم في أوساطهم حتى تبتل بالعرق، وداوم على الإقراء، وقد استفاد منه جيل كامل حافظوا على سند الشيوخ المتوارث، وتوفي سنة 333 هـ.
تَفَرُّدُ المَالِكِيَّةُ بِإِفْرِيقِيَّةَ:ثم كانت طبقة أخرى شهدت جلاء الشيعة إلى مصر، وقيام الأمراء من بني زيري الصنهاجيين مكان بني عبيد الله الفاطميين، وقد خفت وطأة التضييق على المالكية إذ أصبح جمعهم بمأمن من المقاومة والتنكيل، وفي ذلك الحين نبغ فقهاء أعلام، في مقدمتهم:
কুরআনের মাখলুক হওয়া বিষয়ক ফিতনার দিনগুলোতে, এবং সাঈদ ৩০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল লাব্বাদ, তার ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষদের একজন ছিলেন মুসা ইবনে নুসাইরের আযাদকৃত দাস। তিনি সাহনুনের ছাত্রদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমন ইয়াহইয়া ইবনে উমর, সাঈদ আল-হাদ্দাদ এবং আরও অনেকে। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন, এমনকি ইফরীকিয়া অঞ্চলে মালিকি মাযহাবের নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন। এই কারণেই শিয়া দাঈরা তাকে পরীক্ষা করে এবং জামে মসজিদে দরস দিতে বাধা দেয়। এরপর তাকে মাহদিয়াতে অপরাধীদের সাথে কারারুদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি মুক্তি পান এবং নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তার ছাত্ররা - যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদও ছিলেন - গোপনে তার কাছে আসতেন এবং তাদের কিতাবগুলো কোমরবন্ধের ভেতরে লুকিয়ে রাখতেন, এমনকি ঘামে সেগুলো ভিজে যেত। তিনি পাঠদান অব্যাহত রেখেছিলেন এবং তার কাছ থেকে একটি পুরো প্রজন্ম উপকৃত হয়েছিল যারা উস্তাদদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সনদ সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি ৩৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ইফরীকিয়াতে মালিকি মাযহাবের একক প্রাধান্য:এরপর এমন এক প্রজন্মের আগমন ঘটে যারা শিয়াদের মিশরে চলে যাওয়া এবং উবাইদুল্লাহ ফাতেমিদের পরিবর্তে বনু যিরি সানহাজিদের শাসনের সূচনা প্রত্যক্ষ করেছিল। মালিকিদের ওপর দমন-পীড়নের তীব্রতা কমে গিয়েছিল, ফলে তাদের জামাত প্রতিরোধ ও নির্যাতনের হাত থেকে নিরাপদ হয়েছিল। সেই সময়ে প্রথিতযশা ফকীহদের আবির্ভাব ঘটে, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন: