(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: -)
المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار - ت أيمن فؤاد سيد القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار
المؤلف: تقي الدين أحمد بن علي بن عبد القادر المقريزي (766 - 845 هـ)
قابله بأصوله وأعده للنشر: أيمن فؤاد سيد
الناشر: مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي - لندن
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م
عدد الأجزاء: 5 (في 7 مجلدات. المقدمة في مجلد والجزء الرابع في مجلدين)
تنبيه: قال المحقق (5/ 189): «أطلب إلى القارئ الكريم - إذا اختلف ضبط العلم أو الموضع أو المصطلح في صفحات الكتاب - أن يعتمد الضّبط الوارد في الكشّافات فهو الضّبط الصّحيح».
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1447
আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার - সম্পাদনায় আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনি
গ্রন্থ: আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার (উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ: জনপদ ও নিদর্শনসমূহের বর্ণনা প্রসঙ্গে)
লেখক: তাকিউদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির আল-মাকরিজি (৭৬৬ - ৮৪৫ হিজরি)
মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই এবং প্রকাশের জন্য প্রস্তুতকরণ: আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল ফুরকান লিত-তুরাছিল ইসলামি (আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন) - লন্ডন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (৭টি জিলদে। ভূমিকা এক জিলদে এবং চতুর্থ খণ্ড দুই জিলদে.)
সতর্কবার্তা: গবেষক বা সম্পাদক বলেছেন (৫/ ১৮৯): «আমি সম্মানিত পাঠকের প্রতি অনুরোধ করছি—যদি বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোতে কোনো ব্যক্তি, স্থান বা পরিভাষার উচ্চারণে (হরকত) ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়—তবে যেন নির্দেশিকা বা সূচিপত্রে বর্ণিত উচ্চারণটির ওপর নির্ভর করা হয়, কারণ সেটিই সঠিক।».
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
تصديرتعدّ المخطوطات الإسلامية السّجلّ الحافل الذي يجمع خلاصة ما أنتجه الفكر العربي والإسلامي على امتداد أربعة عشر قرنا. وكان إحياء هذه المخطوطات في عصر الطّباعة بنشرها نشرا علميّا وتوفيرها لجمهور أكبر من العلماء والباحثين والقرّاء، عملا بدأه المستشرقون ثم قام بعبئه العلماء العرب والمسلمون.
ورأت مؤسّسّة الفرقان للتراث الإسلامي أن تساهم في هذا المجال الهام بنشر بعض المخطوطات القديمة في تحقيقات جديدة تواكب ما وصل إليه علم المخطوطات الحديث، وتدفع بالقديم من تراثنا إلى طريق حضارة إنسانية شاملة.
والكتاب الذي تقدّمه المؤسّسة اليوم «المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار» لشيخ مؤرّخي مصر الإسلامية تقيّ الدين أبي العباس أحمد بن علي بن عبد القادر المقريزي المتوفى سنة 845 هـ/ 1442 م، يعدّ أحد مفاخر التّراث العربي وأهمّ مصادر تاريخ مصر الإسلامية، فهو مصدر لا غنى عنه لدارسي تاريخ مصر الإسلامية وآثارها فقد حفظ لنا المقريزي في هذا الكتاب - إضافة إلى ملاحظاته الشّخصيّة - نقولا مهمّة للمؤلّفين القدماء الذين فقدت مؤلّفاتهم اليوم.
وكان الدكتور أيمن فؤاد سيّد قد قام بتحقيق مسوّدة هذا الكتاب المحفوظة في متحف طوبقبوسراي باستانبول ونشرتها له مؤسّسة الفرقان سنة 1995، وكان للاستقبال الطّيّب الذي قوبلت به هذه النّشرة من جانب المتخصّصين والمعنيين بتاريخ وجغرافية وآثار مصر، دافعا قويّا له للإقدام على تحقيق وإخراج نصّ الكتاب كاملا بعد أن تعرّف على نسخه الأصلية، سواء مسوّدات المقريزي أو النّسخ الكاملة المنسوخة عن أصوله المكتوبة بخطّه والمحفوظة على الأخصّ في مكتبات استانبول.
وقد عهدت المؤسّسة ممثّلة في مجلس الخبراء إلى الدكتور أيمن فؤاد بالقيام بعبء إخراج هذا الكتاب، فهو من المتخصّصين في دراسة تاريخ القاهرة حيث كتب أطروحة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনাইসলামী পাণ্ডুলিপিগুলো হলো সেই সমৃদ্ধ দলিল যা দীর্ঘ চৌদ্দ শতাব্দী ধরে আরব ও ইসলামী চিন্তাধারার নির্যাসকে ধারণ করে রেখেছে। মুদ্রণ যুগে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকাশের মাধ্যমে এই পাণ্ডুলিপিগুলোর পুনর্জাগরণ এবং আলেম, গবেষক ও পাঠকদের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর কাছে তা সহজলভ্য করার যে কাজ শুরু হয়েছিল, তার সূচনা প্রাচ্যবিদরা করলেও পরবর্তীকালে আরব ও মুসলিম পণ্ডিতগণ সেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আধুনিক পাণ্ডুলিপি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সঙ্গতি রেখে নতুন সম্পাদনার মাধ্যমে কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি প্রকাশের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে এক সর্বজনীন মানব সভ্যতার পথে এগিয়ে নেওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটি আজ যে বইটি পেশ করছে তা হলো—ইসলামী মিশরের ঐতিহাসিকদের প্রধান তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির আল-মাকরিজী (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরী/১৪৪২ খ্রিষ্টাব্দ) রচিত ‘আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার ফি জিকরিল খুতাত ওয়াল আসার’। এটি আরব ঐতিহ্যের অন্যতম গৌরব এবং ইসলামী মিশরের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত। ইসলামী মিশরের ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উৎস। মাকরিজী এই গ্রন্থে তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রাচীন সেই সকল লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতিসমূহ সংরক্ষণ করেছেন, যাদের মূল রচনাগুলো আজ হারিয়ে গেছে।
ড. আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদের জাদুঘরে সংরক্ষিত এই গ্রন্থের খসড়াটি সম্পাদনা করেছিলেন এবং ১৯৯৫ সালে আল-ফুরকান ফাউন্ডেশন তা প্রকাশ করেছিল। মিশরের ইতিহাস, ভূগোল ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলে এই সংস্করণটি যেভাবে সমাদৃত হয়েছিল, তা তাকে মূল পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বিশেষ করে ইস্তাম্বুলের লাইব্রেরিগুলোতে সংরক্ষিত মাকরিজীর স্বহস্তে লেখা খসড়া বা তার মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা পূর্ণাঙ্গ কপিগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তিনি এই কাজে ব্রতী হন।
ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ড. আয়মান ফুয়াদকে এই গ্রন্থটি প্রকাশের দায়িত্ব অর্পণ করেছে; কারণ তিনি কায়রোর ইতিহাস অধ্যয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বিশেষজ্ঞ, যেখানে তিনি তার গবেষণাপত্র লিখেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عن «عاصمة مصر حتى نهاية عصر الفاطميين»، ونشر العديد من مصادر التاريخ المصري في العصر الفاطمي، وكتب تقييما جديدا للدّولة الفاطمية في مصر، كما أنّه من خبراء علم المخطوطات وأصدر فيه كتابه «الكتاب العربي المخطوط وعلم المخطوطات».
وقام الدكتور أيمن فؤاد بتحقيق الكتاب اعتمادا على أقدم نسخ الكتاب وأهمّها المنقولة عن خطّ المؤلف، وأضاف إليه شروحا وتعليقات غنيّة اعتمادا على ما ظهر من نصوص جديدة ودراسات متخصّصة حديثة، كما قام بربط أجزاء الكتاب بعضها ببعض وخرّج معلوماته من مصادرها الأصلية. وسيقوم في الأجزاء الخاصّة بوصف المدينة ومساجدها ومدارسها وخوانقها بإضافة صور ومخطّطات لهذه المعالم الأثرية مع خرائط توضّح تطوّر نمو المدينة وأحيائها المختلفة منذ إنشائها وحتّى عصر المقريزي في منتصف القرن التاسع الهجري/ الخامس عشر الميلادي.
ومؤسّسة الفرقان إذ تسهم بنشر هذا الكتاب، تأمل أن تؤدّي جزءا من واجب كبير يلقى على عاتقها وعاتق المؤسّسات العلمية التي تشاركها أهدافها.
واللّه من وراء القصد وهو الهادي إلى سواء السّبيل.
لندن يناير 2002
أحمد زكى يماني
رئيس مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي
'ফাতেমীয় যুগের সমাপ্তি পর্যন্ত মিশরের রাজধানী' শীর্ষক গ্রন্থ এবং ফাতেমীয় যুগে মিশরের ইতিহাসের বহু উৎস তিনি প্রকাশ করেছেন। তিনি মিশরে ফাতেমীয় রাষ্ট্রের একটি নতুন মূল্যায়ন লিখেছেন। এছাড়াও তিনি পাণ্ডুলিপি বিজ্ঞানের অন্যতম বিশেষজ্ঞ এবং এই বিষয়ে তিনি তাঁর 'আরবি পাণ্ডুলিপি এবং পাণ্ডুলিপি বিজ্ঞান' নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন।
ডক্টর আয়মান ফুয়াদ পাণ্ডুলিপির প্রাচীনতম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কপিগুলোর ওপর ভিত্তি করে বইটি সম্পাদনা করেছেন, যা খোদ লেখকের হস্তলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছিল। তিনি এতে নতুন প্রকাশিত পাঠ্য এবং আধুনিক বিশেষায়িত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সমৃদ্ধ ব্যাখ্যা ও টীকা যুক্ত করেছেন। অধিকন্তু, তিনি বইটির বিভিন্ন অংশকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং এর তথ্যসমূহকে তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধার করেছেন। তিনি শহরের বিবরণ এবং এর মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ সংক্রান্ত অংশগুলোতে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ছবি ও নকশা যুক্ত করবেন। সেই সাথে শহরের বিকাশ এবং এর বিভিন্ন মহল্লার ক্রমবিবর্তনের মানচিত্রও প্রদান করবেন, যা শহরটির প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে নবম হিজরি শতকের মধ্যভাগ তথা পঞ্চদশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মাকরিজির যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
আল-ফুরকান ফাউন্ডেশন এই বইটি প্রকাশের মাধ্যমে অবদান রাখার মাধ্যমে আশা পোষণ করছে যে, তারা তাদের এবং তাদের সমমনা লক্ষ্যসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁধে অর্পিত একটি মহৎ দায়িত্বের অংশ পালন করতে সক্ষম হবে।
আর আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।
লন্ডন, জানুয়ারি ২০০২
আহমেদ জাকি ইয়ামানি
চেয়ারম্যান, আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: -)
المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار - ت أيمن فؤاد سيد القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار
المؤلف: تقي الدين أحمد بن علي بن عبد القادر المقريزي (766 - 845 هـ)
قابله بأصوله وأعده للنشر: أيمن فؤاد سيد
الناشر: مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي - لندن
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م
عدد الأجزاء: 5 (في 7 مجلدات. المقدمة في مجلد والجزء الرابع في مجلدين)
تنبيه: قال المحقق (5/ 189): «أطلب إلى القارئ الكريم - إذا اختلف ضبط العلم أو الموضع أو المصطلح في صفحات الكتاب - أن يعتمد الضّبط الوارد في الكشّافات فهو الضّبط الصّحيح».
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1447
আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই'তিবার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার - সম্পাদনা: আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত
কিতাব: আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই'তিবার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার
লেখক: তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল কাদির আল-মাকরিজি (৭৬৬ - ৮৪৫ হিজরি)
মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই ও প্রকাশের প্রস্তুতি: আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
প্রকাশক: আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন - লন্ডন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (৭ ভলিউমে। ভূমিকা এক ভলিউমে এবং চতুর্থ খণ্ড দুই ভলিউমে.)
সতর্কবাণী: সম্পাদক বলেছেন (৫/ ১৮৯): «সম্মানিত পাঠকের নিকট আমার বিনীত আবেদন - যদি কিতাবের পৃষ্ঠাগুলোতে কোনো নাম, স্থান বা পরিভাষার উচ্চারণে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় - তবে তিনি যেন নির্ঘণ্টে (সূচিপত্রে) বর্ণিত উচ্চারণের ওপর নির্ভর করেন, কারণ সেটিই সঠিক উচ্চারণ»।
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدّمة المحقّقعندما انتهيت من كتابة أطروحة دكتوراه الدّولة التي تقدّمت بها إلى جامعة باريس سنة 1986، وكان موضوعها «عاصمة مصر حتّى نهاية العصر الفاطمي (القاهرة والفسطاط) - دراسة في إعادة تخطيطها»، ذكرت في نهاية مقدّمتها أنّه «لاستكمال الثّغرات الموجودة في دراسة تاريخ العاصمة المصرية يجب أن يدرس تطوّر المدينة بطريقة مفصّلة منذ العصر الأيّوبي وحتى عصر المقريزي في أواسط القرن التاسع الهجري/ الخامس عشر الميلادي، ثم استكمال هذه الدّراسة ابتداء من هذا التّاريخ وحتّى عصر الحملة الفرنسية في نهاية القرن الثامن عشر الميلادي، ثم إلى عصر عليّ مبارك بعد ذلك بقرن من الزّمان». وذكرت أنّ هذا المشروع الطّموح لا يمكن أن يتحقّق إلاّ بتوافر شروط ثلاثة:
1 - إخراج تحقيق علمي كامل مع شروح وتعليقات لمؤلّف المقريزي الرئيس «المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار»، ولكتاب «الانتصار لواسطة عقد الأمصار» لابن دقماق، وكذلك كتب «الزّيارات» التي وصلت إلينا.
2 - مطابقة خرائط القاهرة التاريخية التي رسمتها الحملة الفرنسية سنة 1798 م وجراند بك Grand Bek سنة 1874 م، وماكس هرتس باشا Max Herz Pacha سنة 1916، ومصلحة المساحة المصرية سنة 1951 م معا من ناحية، ثم مطابقة ذلك مع خريطة حديثة للقاهرة من ناحية أخرى لمعرفة التّغييرات التي طرأت على شكل العاصمة طوال قرنين من الزّمان.
3 - تحديث التّعليقات الغنيّة التي كتبها المرحوم محمد رمزي بك في هوامش «النّجوم الزّاهرة» لأبي المحاسن يوسف بن تغري بردي والتي حدّد فيها المواضع والعمائر التي ذكرها أبو المحاسن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকা১৯৮৬ সালে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি যখন আমার স্টেট ডক্টরেট গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করি, যার বিষয় ছিল «ফাতেমী যুগের শেষ অবধি মিসরের রাজধানী (কায়রো ও ফুস্তাত) — এর পুনর্পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি গবেষণা», তখন আমি এর ভূমিকার শেষে উল্লেখ করেছিলাম যে, «মিসরের রাজধানীর ইতিহাস অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসম্পূর্ণতাগুলো দূর করার জন্য আইয়ুবীয় যুগ থেকে শুরু করে নবম হিজরি বা পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মাকরিজীর যুগ পর্যন্ত শহরের বিবর্তনের বিস্তারিত অধ্যয়ন আবশ্যক। এরপর এই অধ্যয়নকে সেই সময়কাল থেকে শুরু করে আঠারো শতকের শেষে ফরাসি অভিযানের কাল পর্যন্ত এবং তার এক শতাব্দী পর আলী মুবারকের যুগ পর্যন্ত সম্পন্ন করতে হবে।» আমি আরও উল্লেখ করেছিলাম যে, এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি কেবল তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই বাস্তবায়িত হতে পারে:
১ - মাকরিজীর প্রধান গ্রন্থ «আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ইতিবার ফি জিকরিল খুতাত ওয়াল আসার», ইবনে দুকমাকের «আল-ইন্তিসার লি-ওয়াসিতাত ইকদিল আমসার» এবং আমাদের নিকট হস্তগত «যিয়ারত» সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যা ও টীকা-টিপ্পনীসহ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক সংস্করণ প্রকাশ করা।
২ - একদিকে ১৭৯৮ সালে ফরাসি অভিযান, ১৮৭৪ সালে গ্র্যান্ড বে (Grand Bek), ১৯১৬ সালে ম্যাক্স হার্টজ পাশা (Max Herz Pacha) এবং ১৯৫১ সালে মিসরীয় জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক অঙ্কিত ঐতিহাসিক কায়রোর মানচিত্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা; এবং অন্যদিকে রাজধানীর রূপরেখায় বিগত দুই শতাব্দী ধরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলো জানার জন্য সেগুলোকে কায়রোর আধুনিক মানচিত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা।
৩ - আবু মাহাসিন ইউসুফ ইবনে তাগরি বারদীর «আন-নুজুমুজ যাহিরা» গ্রন্থের পাদটীকায় মরহুম মুহাম্মদ রামজি বে যে সমৃদ্ধ টীকাগুলো লিখেছিলেন, যেখানে তিনি আবু মাহাসিন কর্তৃক বর্ণিত স্থান ও স্থাপনাগুলো সুনির্দিষ্ট করেছিলেন, সেগুলোর আধুনিকায়ন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২)
مقارنة بوضع القاهرة بين سنتي 1933 و 1945 م، وهي الفترة التي كتب فيها رمزي بك تعليقاته، فقد طرأت على القاهرة تغييرات ضخمة منذ كتبت هذه التّحديدات، بحيث أنّ الكثير من نقاط الاستدلال التي ذكرها قد ضاعت اليوم.
وذلك بالإضافة إلى نشر أكبر قدر ممكن من «حجج الأوقاف» المتعلّقة بالمنشآت الدينية وذات الطّابع الاجتماعي، كالمساجد والمدارس والخوانق والدّور والحمّامات والوكالات والخانات والقياسر والفنادق.
فعند اكتمال هذا المشروع - الذي يتطلّب تضافر جهود فريق من الباحثين المتخصّصين - عندئذ فقط يمكننا كتابة تاريخ كامل وحقيقي لعاصمة مصر الإسلامية.
ووجّهت إليّ لجنة المناقشة سؤالا حول الأسلوب الذي يمكن أن نحقّق به هذه الغاية، وكانت إجابتي هي إعداد جيل من شباب الباحثين يدرّب على كيفية التّعامل مع النّصوص القديمة قراءة وتحقيقا ونشرا، يشرف عليه أساتذة متخصّصون في مجال التاريخ والآثار والعمران المدني. وبعد عودتي إلى مصر لم أتمكّن من وضع هذه الفكرة الطّموح موضع التّنفيذ، لأسباب ليس هنا مجال الحديث عنها، وقرّرت أن أتولّى بنفسي وبقدر ما يتاح لي من وقت العمل على تنفيذها. ففي أثناء اشتغالي بنشر مصادر تاريخ مصر في العصر الفاطمي - التي أخرجت منها نصوصا لكلّ من المسبّحي وابن ميسّر وابن المأمون وابن الصّيرفي وابن الطّوير وابن عبد الظّاهر، أتاحت لي الفرصة لتقديم تفسير جديد لتاريخ الدولة الفاطمية في مصر، اعتمادا على هذه المصادر الجديدة، (صدر في طبعتين 1992، 2000 م)، وكذلك أثناء كتابة أطروحتي في جامعة باريس، كان كتاب «الخطط» للمقريزي مصدرا لا غنى عنه لي في تقويم هذه النّصوص واستكمالها - وكلّها من مصادر المقريزي في الخطط - كما أنّه بفضل المعلومات الغنيّة التي وفّرها لنا المقريزي والتي لا نجدها في أي مصدر آخر، لم يكن من الممكن لدراستي عن العاصمة المصرية أن تتحقّق على الوجه الأكمل.
ووجدت أنّ اعتماد الباحثين - منذ ماكس فان برشم ومرورا ببول رافيس وبول كازانوفا وجورج سالمون وكريزويل وحتى حسن عبد الوهاب وأحمد فكري وسعاد ماهر وجان كلود جارسان وأندريه ريمون - على نشرة بولاق التي صدرت في سنة 1853 هـ قد أوقعهم في كثير من الأخطاء التاريخية وجعل بعض أحكامهم يجانبها الصّواب، نظرا لكمّ التّصحيف
১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কায়রোর পরিস্থিতির সাথে তুলনা করলে—যে সময়ে রমজি বেগ তার মন্তব্যগুলো লিখেছিলেন—দেখা যায় যে, এই চিহ্নিতকরণগুলো লেখার পর থেকে কায়রোতে বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যার ফলে তার উল্লেখ করা অনেক নির্দেশক চিহ্ন আজ হারিয়ে গেছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত স্থাপনা সম্পর্কিত ‘ওয়াকফ দলিলসমূহের’ যথাসম্ভব বৃহত্তর অংশ প্রকাশ করা, যেমন: মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, বাসগৃহ, হাম্মামখানা, এজেন্সি, সরাইখানা, বিপণিবিতান এবং পান্থশালা।
যখন এই প্রকল্পটি পূর্ণতা পাবে—যার জন্য একদল বিশেষজ্ঞ গবেষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন—কেবল তখনই আমরা ইসলামি মিসরের রাজধানীর একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রকৃত ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হব।
এবং পরীক্ষণ কমিটি আমাকে এই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি প্রশ্ন করেছিল, আর আমার উত্তর ছিল তরুণ গবেষকদের এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা যারা প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পাঠ, সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত হবে, যাদের তত্ত্বাবধান করবেন ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব এবং নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকরা। মিসরে ফিরে আসার পর কিছু কারণে—যা এখানে আলোচনার অবকাশ নেই—আমি এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত করতে পারিনি এবং আমি নিজেই আমার যতটুকু সময় পাওয়া সম্ভব তা দিয়ে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ফাতিমি যুগে মিসরের ইতিহাসের উৎসসমূহ প্রকাশের কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায়—যেখান থেকে আমি মুসাব্বিহি, ইবনে মুয়াসসার, ইবনে মামুন, ইবনে সাইরাফি, ইবনে তুওয়াইর এবং ইবনে আবদুয জাহিরের পাণ্ডুলিপিসমূহ বের করেছি—এই নতুন উৎসগুলোর ওপর ভিত্তি করে মিসরে ফাতিমি শাসনের ইতিহাসের একটি নতুন ব্যাখ্যা উপস্থাপনের সুযোগ আমি পেয়েছি (যা ১৯৯২ ও ২০০০ সালে দুই সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে)। একইভাবে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার থিসিস লেখার সময় মাকরিযির ‘আল-খিতাত’ বইটি এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মূল্যায়ন ও পূর্ণতা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার জন্য এক অপরিহার্য উৎস ছিল—যার সবগুলোই খিতাত গ্রন্থে মাকরিযির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল—পাশাপাশি মাকরিযি আমাদের যে সমৃদ্ধ তথ্য প্রদান করেছেন যা অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায় না, তার ফলেই মিসরীয় রাজধানী সম্পর্কে আমার গবেষণাটি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এবং আমি লক্ষ্য করেছি যে, গবেষকরা—ম্যাক্স ভ্যান বারচেম থেকে শুরু করে পল রাভিস, পল ক্যাসানোভা, জর্জ সলোমন, ক্রেসওয়েল এবং এমনকি হাসান আব্দুল ওয়াহাব, আহমেদ ফিকরি, সুয়াদ মাহের, জিন-ক্লদ গার্সিন ও আন্দ্রে রেমন্ড পর্যন্ত—১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত বুলাক সংস্করণের ওপর নির্ভর করার ফলে অনেক ঐতিহাসিক ভুলের শিকার হয়েছেন এবং তাদের কিছু সিদ্ধান্ত সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যার কারণ হলো এতে বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণ মুদ্রণ ও পাঠগত ত্রুটি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
والتّخريف والسّقط الذي ملأ صفحات هذه النّشرة والتي اعتمدت على نسخ لا يمكن اعتبارها أساسا صحيحا لنشرة علمية. وقد وفّقت من خلال النّصوص التي نشرتها ومن مقابلة نصّ المقريزي بمصادره التي وصلت إلينا، في أن أصحّح الكثير من الأوهام والأخطاء التي تسرّبت إلى طبعة بولاق. وتأكّد لي بعد أن نشرت «مسودّة الخطط» المحفوظة في مكتبة خزينة بمتحف طوبقبو سراي باستانبول والتي أصدرتها لي مؤسّسة الفرقان للتّراث الإسلامي بلندن سنة 1995، أنّه لا يمكن بحال من الأحوال أن يستمرّ اعتماد الباحثين على هذه النشرة، وأنّه لا بد أن تكون بين أيديهم نشرة صحيحة للكتاب تعتمد على أصحّ نسخ الكتاب وتوثّق معلوماته مع مصادرها المختلفة، وتحيل على أحدث الدّراسات التي تمّت عن تاريخ القاهرة وعمائرها المختلفة، وتحدّد مواضع المدينة التاريخية وتطوّرها تحديدا صحيحا على خرائط موثّقة.
واستقبل المتخصّصون - وعلى الأخصّ المستشرقون - نشرتي للمسوّدة استقبالا حفيّا، حيث كتب عنها الأساتذة Li Guo في مجلة Mamluk Studies التي تصدر في شيكاغو، و Sato Tsugitaka في مجلة Bulletin of the Society for Near Eastern Studies in Japan التي تصدر في طوكيو و G.Rex Smith في مجلة British Middle East Studies Journal التي تصدر في لندن، و H.T.Norris في مجلة Bulletin of the School of Oriental and African Studies الصادرة أيضا في لندن، و Thierry Bianquis في مجلة Bulletin Critique الصادرة عن المعهد العلمي الفرنسي للآثار الشرقية بالقاهرة (انظرها في نهاية المقدّمة).
وقد شجّعتني كلمات التّقدير والحفاوة التي لقيتها هذه النّشرة على أن أمضي في سبيل تحقيق حلم إصدار نشرة علمية محقّقة لكتاب «المواعظ والاعتبار» للمقريزي، وخاصّة ما كتبه الدكتور Li Guo الأستاذ بجامعة نوتردام بإنديانا بالولايات المتحدة
(1) الذي كتب يقول:
--------------------------------------------
এবং সেই প্রলাপ ও বিচ্যুতি যা এই সংস্করণের পাতাগুলোকে পূর্ণ করে রেখেছে, এবং যা এমন কিছু পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছিল যেগুলোকে কোনো বৈজ্ঞানিক সংস্করণের সঠিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। আমি যে পাঠ্যগুলো প্রকাশ করেছি তার মাধ্যমে এবং মাকরিজীর পাঠ্যকে আমাদের কাছে পৌঁছানো তার মূল উৎসগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে বুলাক সংস্করণে ঢুকে পড়া বহু বিভ্রান্তি ও ভুল সংশোধন করতে সক্ষম হয়েছি। ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদের জাদুঘরের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত 'মুসাওওয়াদাত আল-খিতাত' (খিতাত-এর খসড়া) প্রকাশ করার পর—যা লন্ডনের আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ১৯৯৫ সালে আমার জন্য প্রকাশ করেছিল—আমার কাছে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, কোনোভাবেই গবেষকদের এই সংস্করণের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। বরং তাদের হাতে বইটির এমন একটি সঠিক সংস্করণ থাকা অপরিহার্য যা বইটির বিশুদ্ধতম পাণ্ডুলিপিসমূহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে, এর তথ্যগুলোকে বিভিন্ন উৎসের সাথে যাচাই করবে, কায়রোর ইতিহাস ও এর বিভিন্ন স্থাপত্য সম্পর্কে হওয়া আধুনিকতম গবেষণাগুলোর উদ্ধৃতি দেবে এবং নির্ভরযোগ্য মানচিত্রের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক এই শহরের অবস্থান ও এর বিবর্তনকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করবে।
বিশেষজ্ঞগণ—বিশেষ করে প্রাচ্যবিদগণ—আমার এই খসড়া সংস্করণটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে শিকাগো থেকে প্রকাশিত 'মামলুক স্টাডিজ' (Mamluk Studies) সাময়িকীতে অধ্যাপক লি গুয়ো (Li Guo), টোকিও থেকে প্রকাশিত 'বুলেটিন অফ দ্য সোসাইটি ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ ইন জাপান'-এ সাতো সুগিতাকা (Sato Tsugitaka), লন্ডন থেকে প্রকাশিত 'ব্রিটিশ মিডল ইস্ট স্টাডিজ জার্নাল'-এ জি. রেক্স স্মিথ (G. Rex Smith), লন্ডন থেকেই প্রকাশিত 'বুলেটিন অফ দ্য স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ'-এ এইচ. টি. নরিস (H. T. Norris) এবং কায়রোস্থ ফরাসি ইনস্টিটিউট ফর ইস্টার্ন আর্কিওলজি থেকে প্রকাশিত 'বুলেটিন ক্রিটিক'-এ থিয়েরি বিয়াঙ্কুইস (Thierry Bianquis) লিখেছেন (ভূমিকার শেষে এগুলো দেখুন)।
এই সংস্করণটি যে প্রশংসা ও সমাদর পেয়েছে, তা আমাকে মাকরিজীর 'আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার' বইটির একটি সম্পাদিত বৈজ্ঞানিক সংস্করণ প্রকাশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর লি গুয়ো যা লিখেছেন
(১), তিনি লিখেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
«Dr.Ayman Fu'a? d Sayyid is to be commended for an excellent job in bringing to light al-Maqri? zi'? s rare autograph of a draft version (musawwadah) for his all-important al-Khitat and for keeping alive the vision of eventually publishing the complete work.one can only hope that the dream will one day come true».
«الدكتور أيمن فؤاد سيّد جدير بالثّناء على عمله الممتاز في إخراج «مسوّدة» المقريزي لكتابه الهام «الخطط» إلى النّور، وإبقائه فكرة نشر عمل المقريزي كاملا حيّة في مستقبل الأيّام. ولا يملك المرء إلاّ أن يأمل في أن يصبح هذا الحلم حقيقة يوما ما».
وكنت قد عقدت العزم على إصدار نشرة محقّقة لكتاب «المواعظ والاعتبار» منذ أن أنهيت تحقيق الجزء الأربعين من «أخبار مصر» للمسبّحي بالاشتراك مع صديقي المستشرق الفرنسي تياري بيانكي Thierry Bianquis سنة 1978. والحقيقة أنّ هذا الكتاب شغلني منذ صباي وبالتالي تاريخ القاهرة وأخبارها وعمائرها، واختمرت في ذهني هذه الفكرة أكثر عندما بدأت في كتابة أطروحتي للدكتوراه عن «تاريخ العاصمة المصرية حتى نهاية العصر الفاطمي»، إلاّ أنّ الصّعوبات التي واجهت من سبقوني في هذا المشروع، وعلى الأخصّ المستشرق الفرنسي الرّاحل جاستون قييت Gaston Wiet والأثاري الكبير عبد الرحمن عبد التّوّاب - متّعه اللّه بالصّحّة -، كادت تصرفني عن المضيّ في هذا السّبيل. ولكن الكلمات الطّيّبة التي استقبلت بها نشرتي للمسوّدة، وإجماع آراء أعضاء لجنة الخبراء بمؤسّسة الفرقان على نشر الكتاب، كانت حافزا جعلني لا أتخلّى عن تحقيق هذا الأمل، إفادة للمشتغلين بالدّراسات الأثريّة والعمرانية ودفعا للبحث في هذا الميدان خطوة إلى الأمام. فقد استقرّ في يقيني أنّ الأعمال الجماعية - وعلى الأخصّ في الشّرق - نادرا ما يكتب لها النّجاح، كما أنّ تحقيق كتاب مثل «المواعظ والاعتبار» يجب أن يتمّ من قبل شخص واحد حتّى يسود ضبطه وإخراجه فكر موحّد منسجم دون تناقضات.
«ডক্টর আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ প্রশংসার যোগ্য তার চমৎকার কাজের জন্য, যার মাধ্যমে তিনি আল-মাকরিজীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘আল-খিতাত’-এর পাণ্ডুলিপির একটি বিরল খসড়া (মুসাওয়াদাহ) আলোর মুখ দেখিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ কাজটি প্রকাশের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কেউ কেবল এই আশাই করতে পারে যে, কোনো একদিন এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।»
«ডক্টর আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ প্রশংসার দাবিদার আল-মাকরিজীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘আল-খিতাত’-এর বিরল পাণ্ডুলিপির খসড়া (মুসাওয়াদাহ) আলোর মুখ দেখানোর ক্ষেত্রে তার চমৎকার কাজের জন্য এবং ভবিষ্যতে মাকরিজীর সম্পূর্ণ কর্মটি প্রকাশের চিন্তা বাঁচিয়ে রাখার জন্য। আর মানুষ কেবল এই আশাই করতে পারে যে, এই স্বপ্ন কোনো একদিন সত্যে পরিণত হবে।»
আমি ‘আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই’তিবার’ কিতাবটির একটি সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশের সংকল্প করেছিলাম তখন থেকে, যখন আমি ১৯৭৮ সালে আমার বন্ধু ফরাসি প্রাচ্যবিদ থিয়েরি বিয়াঙ্কির সাথে যৌথভাবে আল-মুসাব্বিহীর ‘আখবার মিসর’-এর চল্লিশতম খণ্ডের সম্পাদনা শেষ করি। সত্য বলতে, এই কিতাবটি এবং ফলস্বরূপ কায়রোর ইতিহাস, এর সংবাদ ও স্থাপত্যসমূহ আমার কৈশোর থেকেই আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। এই চিন্তাটি আমার মনে আরও বদ্ধমূল হয় যখন আমি ‘ফাতিমী যুগের শেষ পর্যন্ত মিশরের রাজধানীর ইতিহাস’ শীর্ষক আমার ডক্টরেট থিসিস লেখা শুরু করি। তবে এই প্রকল্পে আমার পূর্বসূরিরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, বিশেষ করে প্রয়াত ফরাসি প্রাচ্যবিদ গ্যাস্টন উইয়েট এবং প্রথিতযশা প্রত্নতাত্ত্বিক আবদুর রহমান আবদুত তাওয়াব—আল্লাহ তাকে সুস্বাস্থ্য দান করুন—তা আমাকে এই পথে অগ্রসর হওয়া থেকে প্রায় বিমুখ করে দিয়েছিল। কিন্তু আমার প্রকাশিত খসড়াটি (মুসাওয়াদাহ) যেভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং আল-ফুরকান ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা কিতাবটি প্রকাশের ব্যাপারে যে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা আমাকে এই আশা পূরণ থেকে পিছু না হটার ক্ষেত্রে এক উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে। এটি প্রত্নতাত্ত্বিক ও নগর অধ্যয়ন সংশ্লিষ্টদের উপকারে আসবে এবং এই ক্ষেত্রে গবেষণাকে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমার মনে এই বিশ্বাস প্রোথিত হয়েছে যে, যৌথ কাজসমূহ—বিশেষ করে প্রাচ্যে—খুব কমই সফলতার মুখ দেখে। তদুপরি, ‘আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই’তিবার’-এর মতো একটি কিতাবের সম্পাদনা একজন ব্যক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে এর যাচাইকরণ ও প্রকাশনায় কোনো বৈপরীত্য ছাড়াই একটি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগত চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقريزى وكتابه المواعظ والاعتباركتاب «المواعظ والاعتبار في ذكر الخطط والآثار» المعروف ب «الخطط» لتقيّ الدين أحمد بن علي المقريزي، هو بإجماع أراء الباحثين أهمّ كتاب في تاريخ مصر وجغرافيتها وطبوغرافية عاصمتها في العصر الإسلامي؛ فهو الكتاب الوحيد الذي وصل إلينا ويقدّم لنا - اعتمادا على المصادر الأصلية - عرضا شاملا لتاريخ مصر الإسلامية ولتأسيس ونموّ عواصم مصر منذ الفتح الإسلامي حتى القرن التاسع الهجري/ الخامس عشر الميلادي، ويعدّ اليوم مصدرا لا غنى عنه للمشتغلين بدراسة آثار مصر الإسلامية. فيوفّر لنا الكتاب قائمة تفصيلية وأوصافا دقيقة للقصور والجوامع والمدارس والخوانق والحارات والأخطاط والدّور والحمّامات والقياسر والخانات والأسواق والوكالات التي وجدت في عاصمة مصر خلال تسعة قرون. وترتكز هذه القائمة في الأساس على الملاحظات الشّخصيّة للمقريزي وعلى مصادر لم تصل إلينا، فحفظ لنا المقريزي بذلك نقولا ذات شأن للمؤلّفين القدماء الذين فقدت مؤلّفاتهم اليوم.
ويدلّ على الأهمية الكبرى التي منحها المؤلّفون والكتّاب العرب لهذا الكتاب احتفاظ مكتبات العالم بعدد كبير من مخطوطاته تعدّت المائة وسبعين مخطوطة بينها خمس وثلاثين مخطوطة في مكتبات إستامبول وحدها، وهو رقم يفوق بكثير مخطوطات أي كتاب عربي آخر. وذلك بالرغم من أنّ مصحّح طبعة بولاق من الكتاب - وهي الطّبعة التي عليها اعتماد الباحثين إلى الآن - يذكر أنّ نسخ الكتاب عزيزة في الديار المصرية وهي مع قلّتها مليئة «بالتحريف الفاحش والسّقط المتفاحش والغلط المخلّ والخطأ المضجر»
(1).
ولم تغب أهمية هذا الكتاب عن الباحثين في القرن التاسع عشر وتعدّت شهرته أوساط المشتغلين بالدّراسات الشرقية. وكان احتفاظ المكتبة الوطنية في باريس بعدد كبير من مخطوطات «الخطط» سببا في لفت انتباه المستشرقين له فرجعوا إليه واقتبسوا منه نقولا مطوّلة فيما كتبوه عن تاريخ مصر الإسلامية وعلى الأخصّ لويس لانجليه Louis Langles وسلفستر دي ساسي de Sacy.Silvestre عند نشره لرحلة عبد اللطيف البغدادي وفي كتابه Chrestomathie arabe وإيتيان كاترمير Etienne Quatremere وفرديناند ويستنفلد Ferdinand Wustenfeld
--------------------------------------------
আল-মাকরিজি এবং তাঁর কিতাব আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবারতাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে আলি আল-মাকরিজি রচিত ‘কিতাবুল মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার’, যা ‘আল-খিতাত’ নামে পরিচিত, গবেষকদের সর্বসম্মত মতে ইসলামি যুগে মিসরের ইতিহাস, ভূগোল এবং এর রাজধানীর টপোগ্রাফি বা স্থানিক বিন্যাস সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি আমাদের কাছে পৌঁছানো একমাত্র গ্রন্থ যা মূল উৎসসমূহের ওপর ভিত্তি করে ইসলামি মিসরের ইতিহাস এবং ইসলামি বিজয় থেকে শুরু করে নবম হিজরি/পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত মিসরের রাজধানীসমূহের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করে। আজ এটি ইসলামি মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিতদের জন্য এক অপরিহার্য উৎস হিসেবে বিবেচিত। গ্রন্থটি নয় শতাব্দী ধরে মিসরের রাজধানীতে বিদ্যমান প্রাসাদ, জামে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, মহল্লা, এলাকা, ঘরবাড়ি, হাম্মামখানা, কায়সারিয়া (বিলাসবহুল বাজার), সরাইখানা, বাজার এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা ও সূক্ষ্ম বিবরণ প্রদান করে। এই তালিকা মূলত আল-মাকরিজির নিজস্ব পর্যবেক্ষণ এবং আমাদের কাছে না পৌঁছানো প্রাচীন উৎসসমূহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এভাবে আল-মাকরিজি আমাদের জন্য প্রাচীন লেখকদের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি সংরক্ষণ করেছেন, যাদের মূল রচনাগুলো আজ বিলুপ্ত।
আরব লেখক ও সাহিত্যিকগণ এই গ্রন্থটিকে যে বিশাল গুরুত্ব প্রদান করেছেন, তার প্রমাণ হলো বিশ্বের পাঠাগারগুলোতে সংরক্ষিত এর বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি, যার সংখ্যা ১৭০টিরও বেশি। এর মধ্যে কেবল ইস্তাম্বুলের পাঠাগারগুলোতেই ৩৫টি পাণ্ডুলিপি রয়েছে; যা অন্য যেকোনো আরবি গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও এই গ্রন্থের বুলাক সংস্করণের—গবেষকরা এখন পর্যন্ত যে সংস্করণের ওপর নির্ভর করেন—সংশোধনকারী উল্লেখ করেছেন যে, মিসরে এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত দুর্লভ এবং যা-ও পাওয়া যায় তাতে প্রচুর ‘জঘন্য বিকৃতি, চরম বিচ্যুতি, বিভ্রান্তিকর ভুল এবং বিরক্তিকর ত্রুটি’ বিদ্যমান
(১)।
উনবিংশ শতাব্দীর গবেষকদের কাছেও এই গ্রন্থের গুরুত্ব অস্পষ্ট ছিল না এবং এর খ্যাতি প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ‘আল-খিতাত’-এর বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত থাকা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ হয়েছিল। ফলে তাঁরা এই গ্রন্থের শরণাপন্ন হন এবং ইসলামি মিসরের ইতিহাস নিয়ে তাঁদের লেখায় দীর্ঘ উদ্ধৃতি গ্রহণ করেন; বিশেষ করে লুইস ল্যাঙ্গলেস, সিলভেস্টার ডি সেসি—যিনি আব্দুল লতিফ আল-বাগদাদির ভ্রমণকাহিনী এবং তাঁর গ্রন্থ ‘খ্রেস্টোম্যাথি অ্যারাব’ (Chrestomathie arabe) প্রকাশের সময় এটি ব্যবহার করেছিলেন, এতিয়েন কোয়াট্রেমের এবং ফার্ডিনান্ড উস্টেনফেল্ড।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفي مصر كان هذا الكتاب من أوائل الكتب التي أخرجتها مطبعة بولاق التي أصدرت طبعة كاملة له في سنة 1270 هـ/ 1853 م، وهي نشرة لا تستحق دائما ثقة كاملة برغم الجهد الواضح الذي بذله مصحّحها الشيخ محمد عبد الرحمن قطّة العدوي المتوفى سنة 1281 هـ/ 1864 م، فنحن لا نعرف الأصول التي اعتمدت عليها
(1) مثل بقيّة الكتب التي أخرجتها مطبعة بولاق القديمة، وجاءت مليئة بالأخطاء والتّصحيف والسّقط الذي وجد في أصولها المعتمد عليها والتي حاول مصحّحها تصويبه قدر الطّاقة أو الإشارة إليه. ومع ذلك فما تزال هذه النّشرة هي الأساس الذي تعتمد عليه كلّ الدّراسات التي تتناول تاريخ عواصم مصر الإسلامية وخططها ومعالمها الأثرية في غياب أيّة نشرة أخرى محقّقة للكتاب.
وقد اعتمدت على طبعة بولاق طبعات أخرى للكتاب أضافت أوهاما وسقطا كثيرا وأخطاء طباعية إلى طبعة بولاق، وهي بذلك لا تشجّع على مراجعتها بسبب إخراجها السّيّ ء يضاف إلى ذلك نقص الترتيب لدى المقريزي نفسه في تنظيم كتابه. فللبحث عن معلومات عن أثر معيّن فإنّنا نضطر إلى مراجعة كلّ الكتاب حيث يتناول المقريزي المعلم الواحد في أماكن عديدة مختلفة وأحيانا بطريقة متعارضة أو يشوبها الغموض. فبسبب ضخامة الكتاب وطول الفترة التي يعالجها وتنوّع المصادر التي اعتمد عليها مؤلّفه نلمس دوما غياث التناسق والتسلسل المنطقي بين فصول كتابه
(2)، الأمر الذي يجعل الاستفادة من الكتاب في غياث كشّاف تحليلي مفصّل لموضوعاته وأعلامه ومواضعه ومصطلحاته أمرا عسيرا، ورغم الحاجة الملحة لهذا الفهرس فإنّه سيظل دون فائدة كبيرة في غياب نشرة علمية مصحّحة للكتاب.
وبعد الدّراسات المتعلّقة بتاريخ مصر والقاهرة التي اعتمدت على طبعة بولاق للخطط والتي قام بها في أواخر القرن الماضي كلّ من بول رافيس Paul Ravaisse وبول كازانوفا Paul Casanova وماكس فان برشم Max van Berchem وجورج سالمون Georges Salmon وروفن
--------------------------------------------
মিশরে এই বইটি ছিল বুলাক প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম দিককার বইগুলোর একটি, যা ১২৭০ হিজরি/ ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে এর একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। যদিও এর সংশোধক শেখ মুহাম্মদ আবদুর রহমান কিত্তা আল-আদাওয়ী (মৃত্যু ১২৮১ হি./ ১৮৬৪ খ্রি.) স্পষ্টতই যথেষ্ট পরিশ্রম করেছিলেন, তবুও এই সংস্করণটি সবসময় পূর্ণ আস্থার যোগ্য নয়। কারণ প্রাচীন বুলাক প্রেস থেকে প্রকাশিত অন্যান্য বইয়ের মতো এটি কোন মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল তা আমাদের জানা নেই
(১)। আর এটি ভুলভ্রান্তি, শব্দের বিকৃতি ও তথ্যচ্যুতিতে পূর্ণ হয়ে প্রকাশিত হয়েছে যা এর মূল ভিত্তিগুলোতে বিদ্যমান ছিল এবং সংশোধক সাধ্যমতো সেগুলো সংশোধন করার বা সেদিকে ইঙ্গিত করার চেষ্টা করেছেন। তবুও বইটির অন্য কোনো সম্পাদিত (তাহকিককৃত) সংস্করণ না থাকায় ইসলামী মিশরের রাজধানীগুলোর ইতিহাস, সেগুলোর নগর-পরিকল্পনা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ নিয়ে করা সমস্ত গবেষণায় এই সংস্করণটিই ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
বুলাক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে বইটির আরও কিছু সংস্করণ বের হয়েছে যা বুলাক সংস্করণের সাথে আরও অনেক বিভ্রান্তি, তথ্যচ্যুতি এবং মুদ্রণজনিত ভুল যোগ করেছে। এর নিম্নমানের উপস্থাপনার কারণে সেগুলো পর্যালোচনার জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়; এর সাথে যোগ হয়েছে খোদ মাকরিজীর নিজের কিতাব বিন্যাসের সুশৃঙ্খলতার অভাব। কোনো নির্দিষ্ট নিদর্শনের তথ্য খোঁজার জন্য আমাদের পুরো বইটি ঘাটতে হয়, কারণ মাকরিজী একই নিদর্শনের বর্ণনা বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্নভাবে দিয়েছেন এবং কখনো কখনো তা স্ববিরোধী অথবা অস্পষ্টতায় ঘেরা। বইটির বিশালতা, এটি যে দীর্ঘ সময়কালকে ধারণ করে আছে এবং লেখকের ব্যবহৃত উৎসের বৈচিত্র্যের কারণে এর অধ্যায়গুলোর মধ্যে প্রায়শই সামঞ্জস্য ও যৌক্তিক ধারাবাহিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়
(২)। যার ফলে এর বিষয়বস্তু, ব্যক্তিত্ব, স্থান ও পরিভাষার একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী নির্ঘণ্টের অভাব বইটির উপযোগিতাকে কঠিন করে তুলেছে। যদিও এই নির্ঘণ্টের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, তবুও বইটির একটি বিজ্ঞানসম্মত সংশোধিত সংস্করণ ছাড়া এর উপযোগিতা খুব একটা থাকবে না।
বিগত শতাব্দী শেষভাগে পল রাভিস, পল ক্যাসানোভা, ম্যাক্স ভ্যান বারশেম, জর্জ সালমন এবং রুভেন কর্তৃক মিশরের ইতিহাস ও কায়রোর ইতিহাস সংক্রান্ত যেসকল গবেষণা বুলাক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
جست Rueven Guest، تنبّه إلى أهمية هذا الكتاب وضرورة إخراج نشرة علمية تصحّح أخطاءه وتقدّم نصّا نقيا سليما للكتاب واحد من أعلم النّاس بتاريخ مصر الإسلامية هو المستشرق الفرنسي الراحل جاستون قييت Gaston Wiet (1887 - 1971 م) الذي بدأ في عام 1911 مشروعا لإخراج نشرة كاملة محقّقة للكتاب ولكنه لم ينجز منها سوى نشرة جزئية في خمسة أجزاء تعادل الصفحات من 1 إلى 322 من الجزء الأوّل من طبعة بولاق. ففي عام 1927 أوقف قييت مشروعه عندما اكتشف وجود عدد ضخم من مخطوطات «الخطط» وقدّر أنّ إنجاز هذا العمل يتطلّب تعاون فريق من المتخصّصين.
وأثناء اشتغالي بنشر مصادر تاريخ مصر في العصر الفاطمي التي أخرجت منها نصوصا لكلّ من المسبّحي وابن ميسّر وابن المأمون وابن الطّوير وابن الصّيرفي، وكذلك أثناء إعداد أطروحتي في جامعة باريس عن «تاريخ العاصمة المصرية وطبوغرافيتها في زمن الفاطميين» كان كتاب «الخطط» للمقريزي مصدرا لا غنى عنه لي في تقويم هذه النّصوص واستكمالها، كما أنّه بفضل المعلومات الغنيّة التي وفّرها لنا المقريزي والتي لا نجدها في أى مصدر آخر، لم يكن من الممكن لدراستي عن العاصمة المصرية أن تتحقّق على الوجه الأكمل. وقد تمكّنت من خلال هذه النّصوص ومن مصادر المقريزي التي وصلت إلينا والمصادر الموازية الأخرى أن أصحّح الكثير من الأخطاء والأوهام التي تسرّبت إلى طبعة بولاق.
وعندما درست مسوّدة المقريزي لجزء من كتاب «الخطط»، المحفوظة في مكتبة خزينة بمتحف طوبقبو سراي باستامبول، وجدت الضّبط الصّحيح والتّصويب الكامل لكلّ الأخطاء والأوهام التي تسرّبت إلى طبعة بولاق. ورغم أنّ هذه المسوّدة تمثّل الشّكل الأوّل لتصوّر المقريزي لتأليفه للخطط وتختلف اختلافا كبيرا في ترتيبها ومصادرها وحجم المعلومات الذي تقدّمه لنا عن الإخراج الأخير للكتاب، فقد حرصت على نشرها كما هي لأنّها تعدّ نصّا من النّصوص القليلة التي وصلت إلينا والتي تفيدنا في التّعرّف على أسلوب القدماء في التأليف. فرغم أنّه وصل إلينا عدد من المؤلّفات بخطوط مؤلّفيها فإنّه نادرا ما وصلت إلينا مسوّدات المؤلّفين
(1). ومن حسن الحظ فقد وجدت في متحف طويقبو سراي أيضا قسما آخر من مسوّدة الخطط يكمل القسم الذي نشرته سنة 1995، سأشير إليه فيما يلي عند حديثي عن وصف النّسخ المستخدمة في النّشر.
--------------------------------------------
রিভন গেস্ট (Rueven Guest) এই বইটির গুরুত্ব এবং এর ত্রুটিসমূহ সংশোধন করে বইটির একটি বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত পাঠ সম্বলিত একটি বৈজ্ঞানিক সংস্করণ প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। ইসলামি মিশরের ইতিহাস সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন প্রয়াত ফরাসি প্রাচ্যবিদ গ্যাস্টন উইট (Gaston Wiet) (১৮৮৭ - ১৯৭১ খ্রি.)। তিনি ১৯১১ সালে বইটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশের প্রকল্প শুরু করেছিলেন, কিন্তু তিনি এর মাত্র একটি আংশিক সংস্করণ পাঁচটি খণ্ডে সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন, যা বুলাক সংস্করণের প্রথম খণ্ডের ১ থেকে ৩২২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯২৭ সালে উইট তাঁর প্রকল্পটি স্থগিত করেন যখন তিনি 'খিতাত'-এর বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব খুঁজে পান এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ফাতেমি যুগে মিশরের ইতিহাসের উৎসসমূহ প্রকাশের কাজ করার সময়, যেখান থেকে আমি আল-মুসাব্বিহি, ইবনে মুয়াসসার, ইবনে আল-মামুন, ইবনে আল-তুওয়াইর এবং ইবনে আল-সাইরাফির পাঠ্যগুলো প্রকাশ করেছিলাম; এবং প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফাতেমি যুগে মিশরের রাজধানীর ইতিহাস ও ভূ-সংস্থান' শীর্ষক আমার গবেষণাপত্র তৈরির সময় আল-মাকরিজির 'খিতাত' গ্রন্থটি আমার নিকট এই পাঠ্যগুলোর মূল্যায়ন ও পূর্ণতা দানের জন্য একটি অপরিহার্য উৎস ছিল। এছাড়া মাকরিজি আমাদের যে সমৃদ্ধ তথ্য প্রদান করেছেন যা অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায় না, তার ফলে মিশরের রাজধানী সম্পর্কে আমার গবেষণাটি পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। আমি এই পাঠ্যসমূহ, আমাদের কাছে পৌঁছানো মাকরিজির উৎসসমূহ এবং অন্যান্য সমান্তরাল উৎসগুলোর মাধ্যমে বুলাক সংস্করণে অনুপ্রবেশ করা অনেক ভুল ও বিভ্রম সংশোধন করতে সক্ষম হয়েছি।
এবং যখন আমি ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত 'খিতাত' গ্রন্থের একটি অংশের মাকরিজির পাণ্ডুলিপি (খসড়া) অধ্যয়ন করলাম, তখন আমি বুলাক সংস্করণে অনুপ্রবেশ করা প্রতিটি ভুল ও বিভ্রমের সঠিক বিন্যাস ও পূর্ণাঙ্গ সংশোধন খুঁজে পেলাম। যদিও এই খসড়াটি মাকরিজির 'খিতাত' রচনার প্রাথমিক রূপ প্রকাশ করে এবং এর বিন্যাস, উৎস ও তথ্যের পরিমাণের দিক থেকে বইটির চূড়ান্ত সংস্করণের তুলনায় অনেক ভিন্ন, তবুও আমি এটি যেমন আছে তেমনভাবেই প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছি। কারণ এটি আমাদের কাছে পৌঁছানো সেই অল্প সংখ্যক পাঠ্যের একটি যা আমাদের পূর্বসূরিদের রচনাশৈলী সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। যদিও লেখকদের নিজ হাতের লেখায় কিছু গ্রন্থ আমাদের কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু লেখকদের মূল খসড়া পাণ্ডুলিপি আমাদের কাছে পৌঁছানো বিরল
(১)। সৌভাগ্যক্রমে, আমি তোপকাপি প্রাসাদের জাদুঘরে 'খিতাত'-এর খসড়ার আরেকটি অংশ খুঁজে পেয়েছি যা ১৯৯৫ সালে আমার প্রকাশিত অংশটিকে পূর্ণ করে। প্রকাশনায় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা দেওয়ার সময় আমি পরবর্তীতে এ সম্পর্কে উল্লেখ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وتوضّح لنا هذه المسوّدة منهج واحد من كبار علماء المسلمين ومؤرّخيهم في التّصنيف. ففي المخطوطة حذف وكشط وشطب كثير وإضافات عديدة ومطوّلة على هوامش الصّفحات وفي طيّارات بين أوراق الكتاب وتعديل لبعض النّصوص وإشارة بنقلها عند التّبييض إلى مكان آخر أليق بها، والتنبيه إلى استكمال النّقل أو الرّجوع إلى مصادر أخرى تعرّف عليها المقريزي بعد كتابته للمسوّدة.
فكان نشر مسوّدة الخطط - رغم عدم كمالها - هو السّبيل الوحيد لتقديم نصّ صحيح لقسم مختصر من كتاب «المواعظ والاعتبار» للمقريزي، وذلك انتظارا لإخراج تحقيق كامل لأهم كتاب في تاريخ مصر الإسلامية اعتمادا على أصحّ نسخة المخطوطة وأتمّها.
الكتاب ومؤلّفه
1 - موضوع الكتاب وما ألّف فيه من قبلعرف فنّ كتابة الخطط (الطّبوغرافيا) - وهو نوع من الجغرافيا التاريخية الإقليمية - في كثير من أقطار العالم الإسلامي حيث اشتملت مقدّمات الكتب التي أرّخت للمدن الإسلامية مثل «تاريخ بغداد» للخطيب البغدادي و «تاريخ دمشق» لابن عساكر و «الأعلاق الخطيرة في ذكر أمراء الشّام والجزيرة» لابن شدّاد على أوصاف طبوغرافية لهذه المدن، ومع ذلك فنستطيع القول إنّ هذا الفنّ من الفنون التي اختصّت بها مصر الإسلامية ونما تطوّر بها على مدى تاريخها الطّويل، وكان له فيها تاريخ مجيد مهّد الطّريق إلى الاكتمال الذي بلغه هذا الفنّ في مؤلّف المقريزي الضّخم «المواعظ والاعتبار» الذي يعدّ بلا جدال أكبر ممثّل لنمط «الخطط».
فالكتاب أحد مفاخر التّراث العربي، فهو أشمل وأوسع كتاب كتب عن مدينة إسلامية تناول فيه مؤلّفه بطريقة تدعو إلى الإعجاب الظّواهر التاريخية والعمرانية والطّبوغرافية للمدينة، وهو بذلك يختلف عن «تاريخ بغداد» للخطيب البغدادي و «تاريخ مدينة دمشق» للحافظ ابن عساكر؛ فهذان الكتابان - وهما أكبر ما ألّف في تواريخ المدن - اتّبعا منهجا مخالفا، وكان غرض مؤلّفيهما هو الترجمة لمن ولد أو أقام أو دخل أو توفّي في هاتين المدينتين من الخلفاء والسّلاطين والعلماء والأدباء والشعراء والفقهاء
… إلخ، (وهو ما فعله المقريزي في كتابه «المقفّى الكبير») مع مقدّمة في وصف المدينة وتخطيطها لا يمكن مقارنتها بأي حال من الأحوال بعمل المقريزي الذي بلغ
এই খসড়াটি আমাদের সামনে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান আলেম ও ঐতিহাসিকদের রচনাশৈলীর একটি পদ্ধতি স্পষ্ট করে। পাণ্ডুলিপিটিতে প্রচুর বর্জন, ঘষামাজা ও কাটাকুটি এবং পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকা ও বইয়ের পাতার অন্তরালে অসংখ্য দীর্ঘ সংযোজনী বিদ্যমান। এছাড়া কিছু পাঠ্যের সংশোধন এবং পরিচ্ছন্ন অনুলিপি তৈরির সময় সেগুলোকে অধিকতর উপযুক্ত অন্য স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশনা এবং উদ্ধৃতি পূর্ণ করা বা অন্য উৎসগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, যা আল-মাকরিজি খসড়াটি লেখার পর অবগত হয়েছিলেন।
সুতরাং খিতাত-এর খসড়াটি প্রকাশ করা—অসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও—আল-মাকরিজির «আল-মাওয়ায়েজ ওয়াল ইতেবার» গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত অংশের বিশুদ্ধ পাঠ উপস্থাপনের একমাত্র উপায় ছিল। এটি মূলত ইসলামী মিশরের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইটির সবচেয়ে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশের প্রতীক্ষায় করা হয়েছে।
গ্রন্থ ও তার লেখক
১ - গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং ইতিপূর্বে এ বিষয়ে যা রচিত হয়েছেখিতাত (টপোগ্রাফি) লিখনশৈলী—যা মূলত এক প্রকার আঞ্চলিক ঐতিহাসিক ভূগোল—ইসলামী বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই পরিচিত ছিল। যেসব বইয়ে ইসলামী শহরগুলোর ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে, যেমন খতিব আল-বাগদাদীর «তারিখে বাগদাদ», ইবনে আসাকিরের «তারিখে দামেস্ক» এবং ইবনে শাদ্দাদের «আল-আলাকুল খাতিরা ফি জিকরিল উমারাইশ শাম ওয়াল জাজিরা», সেগুলোর ভূমিকায় শহরগুলোর ভৌগোলিক বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও আমরা বলতে পারি যে, এই শিল্পটি মূলত ইসলামী মিশরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এবং এর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে। সেখানে এর একটি গৌরবময় ইতিহাস ছিল যা মাকরিজির বিশাল গ্রন্থ «আল-মাওয়ায়েজ ওয়াল ইতেবার»-এর মাধ্যমে পূর্ণতায় পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করেছিল, যা নিঃসন্দেহে «খিতাত» শৈলীর সর্ববৃহৎ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
এই বইটি আরবি ঐতিহ্যের অন্যতম গৌরব। এটি কোনো ইসলামী শহর সম্পর্কে লেখা সবচেয়ে ব্যাপক ও বিস্তৃত গ্রন্থ, যেখানে লেখক অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে শহরের ঐতিহাসিক, নাগরিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করেছেন। এই দিক থেকে এটি খতিব আল-বাগদাদীর «তারিখে বাগদাদ» এবং হাফেজ ইবনে আসাকিরের «তারিখে মদিনাতে দামেস্ক» থেকে ভিন্ন। কারণ শহরগুলোর ইতিহাসে লেখা সর্ববৃহৎ এই গ্রন্থদ্বয় ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। লেখকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেইসব খলিফা, সুলতান, আলেম, সাহিত্যিক, কবি ও ফকিহদের জীবনী সংকলন করা যারা এই দুই শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন, বসবাস করেছেন, প্রবেশ করেছেন কিংবা মৃত্যুবরণ করেছেন
… ইত্যাদি (যা মাকরিজি তার «আল-মুক্বাফফাল কাবীর» গ্রন্থে করেছেন), যার শুরুতে ছিল শহরের বর্ণনা ও পরিকল্পনার ওপর একটি ভূমিকা। এটি কোনোভাবেই মাকরিজির কাজের সাথে তুলনীয় নয়, যা চরম উৎকর্ষে পৌঁছেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الذّروة بفنّ الخطط في كتابه «المواعظ»، كما أنّ المقريزي - وإن لم يكن آخر المؤلّفين في هذا المجال - إلاّ أنّه أعظمهم مكانة.
وقد ركّز المقريزي جهده الأكبر في هذا الكتاب (الأجزاء الثاني والثالث والرابع) للحديث عن العمران المدني للقاهرة التي أصبحت المركز الثقّافي والسّياسي للعالم الإسلامي في وقته، وفي هذا الإطار عرّف المقريزي تعريفا مفصّلا بكلّ ما يتّصل بمسقط رأسه القاهرة، فلم يترك أثرا أو مؤسّسة إلاّ وصفه بدقّة متناهية وحكى بإسهاب تاريخ بنائه وما طرأ عليه من تغييرات، كما روى سير حياة الأمراء والكبراء الذي باشروا بناءه أو أقاموا فيه، ودوّن كذلك الأحداث المهمّة التي اقترنت بهذه المنشآت والتّقاليد والعادات والرّسوم المتعلّقة بها، حتى أنّه «لا توجد - كما يقول كاترمير Quatremere - مدينة شرقية يمكن أن تفخر بمؤلّف يبلغ مرتبة «الخطط» من حيث الاكتمال والطّرافة كما هو الحال مع القاهرة»
(1).
فالكتاب كتاب مؤسّس في التاريخ العمراني وأوّل كتاب متخصّص في تاريخ مدينة، لا يوجد كتاب أقدم منه، فكتاب «تاريخ فلورنسه» وهو أوّل كتاب في تاريخ المدن في أوروبا، كتب سنة 1480 م أي بعد وفاة المقريزي بنحو أربعين عاما.
كتب الخطط قبل المقريزيذكر المقريزي في مقدّمته لكتاب «المواعظ والاعتبار» أسماء أهمّ المؤلّفين الذين ألّفوا قبله في موضوع الخطط المصرية والذين اعتمد عليهم في جمع المادّة التاريخية والطّبوغرافيّة لكتابه. ورغم أنّ المقريزي يقول: «إنّ أوّل من رتّب خطط مصر وآثارها، وذكر أسبابها في ديوان جمعه أبو عمر محمد بن يوسف الكندي»
(2) المتوفى سنة 350 هـ/ 961 م
(3) فإنّ أبا القاسم عبد الرّحمن بن عبد اللّه بن عبد الحكم المتوفى قبل الكندي بنحو مائة عام في سنة 257 هـ/ 870 م
(4) أفرد في كتابه
--------------------------------------------
আল-মাওয়াইজ গ্রন্থে খিতাত শিল্পে তিনি শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন। তেমনিভাবে আল-মাকরিজি — যদিও তিনি এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ লেখক নন — তবে তিনি মর্যাদার দিক থেকে তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
মাকরিজি এই গ্রন্থের (দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে) কায়রোর নগর উন্নয়নের বর্ণনায় তাঁর সর্বাধিক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যা সেই সময়ে ইসলামি বিশ্বের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে মাকরিজি তাঁর জন্মভূমি কায়রো সংশ্লিষ্ট সবকিছুর একটি বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরেছেন। তিনি কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বা প্রতিষ্ঠান বাদ দেননি যার নিখুঁত বর্ণনা তিনি দেননি এবং এর নির্মাণের ইতিহাস ও এতে আসা পরিবর্তনসমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করেননি। তিনি সেই সকল আমির ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জীবন চরিতও বর্ণনা করেছেন যারা এটি নির্মাণ করেছিলেন বা সেখানে বসবাস করেছিলেন। এছাড়াও তিনি এই সকল স্থাপনা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও প্রথাগুলোর সাথে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন। এমনকি কোয়াত্রেমের (Quatremere) যেমনটি বলেন: "এমন কোনো প্রাচ্যীয় শহর নেই যা কায়রোর মতো স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও অনন্যতার দিক থেকে 'খিতাত'-এর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এমন কোনো লেখকের জন্য গর্ব করতে পারে"
(১)।
সুতরাং এই গ্রন্থটি নগর ইতিহাসের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক গ্রন্থ এবং কোনো শহরের ইতিহাসের ওপর প্রথম বিশেষায়িত গ্রন্থ। এর চেয়ে প্রাচীন কোনো গ্রন্থ নেই। যেমন 'ফ্লোরেন্সের ইতিহাস' গ্রন্থটি, যা ইউরোপের শহরগুলোর ইতিহাসের ওপর প্রথম গ্রন্থ, সেটি ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে লেখা হয়েছিল, অর্থাৎ মাকরিজির মৃত্যুর প্রায় চল্লিশ বছর পর।
মাকরিজির পূর্বে খিতাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহমাকরিজি তাঁর 'আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার' গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর পূর্বে মিসরীয় খিতাত বিষয়ে লেখা গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর গ্রন্থের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক উপাদানসমূহ সংগ্রহ করেছেন। যদিও মাকরিজি বলেন: "যিনি সর্বপ্রথম মিসরের খিতাত ও এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বিন্যস্ত করেছেন এবং আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দি সংকলিত একটি দিওয়ানে এর কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন"
(২) যিনি ৩৫০ হিজরি / ৯৬১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন
(৩), তবে আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম, যিনি আল-কিন্দির প্রায় একশ বছর আগে ২৫৭ হিজরি / ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেছেন
(৪) তিনি তাঁর গ্রন্থে পৃথকভাবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
«فتوح مصر وأخبارها» فصلا وصف فيه خطط الفسطاط والجيزة والإسكندرية، وقد أشار المقريزي نفسه إلى ذلك عرضا في أحد مواضع كتابه
(1).
ولم يصل إلينا كتاب الكندي في الخطط، وإنّما وصل إلينا من مؤلّفاته كتابان هما: «تسمية ولاة مصر» و «تسمية قضاة مصر» اللذين نشرهما روفن جست Rueven Guest باسم «كتاب الولاة وكتاب القضاة»
(2)، وفي الكتاب نبذ يسيرة عن بعض خطط الفسطاط ومنشآتها الأولى ترد في سياق الكلام. وتناول الكندي ذكر خطط الفسطاط ومعالمها في مؤلّفات فقدت اليوم، منها:
كتاب «أخبار مسجد أهل الرّاية الأعظم»
(3) وهو تاريخ المسجد الجامع الذي أنشأه عمرو بن العاص في وسط خطّة أهل الرّاية، وكتاب «الجند الغربي» أو «الأجناد الغرباء»
(4) الذي رجع إليه المقريزي أغلب الظّنّ من خلال مؤلّف القضاعي في «الخطط»، وكذلك «كتاب الخندق» الذي نقل عنه المقريزي سطرين حدّد فيهما تفاصيل غير مهمة
(5).
ومع قدوم الفاطميين إلى مصر وتأسيسهم مدينة القاهرة لتكون عاصمة لخلافتهم في سنة 358 هـ/ 969 م ازدهر نمط التأليف في الخطط على يد بعض كبار مؤرّخيها استمرّوا في وصف خطط الفسطاط التي كانت طوال العصر الفاطمي هي العاصمة التجارية والاقتصادية للبلاد (Metropole)، ولم يكتبوا شيئا يذكر عن خطط القاهرة المدينة الجديدة العاصمة السّياسية والإدارية التي يقيم بها الخليفة وخاصّته. فكتب أبو محمد الحسن بن إبراهيم بن الحسين المعروف بابن زولاق المتوفى سنة 386 هـ/ 996 م
(6) كتابه «خطط مصر» وهو مفقود منذ زمن بعيد، ولم يذكره المقريزي في مقدّمته التي ذكر فيها مؤلّفي الخطط المصرية، ولكن ابن خلّكان ذكر كتابه هذا وربّما اطّلع عليه وقال إنّه «استقصى فيه»
(7). ويرى الأستاذ عبد اللّه عنان أنّ ابن زولاق ربما استقصى فيه إلى جانب خطط الفسطاط، خطط العسكر والقطائع بل لعلّه
--------------------------------------------
«ফুতুহ মিসর ওয়া আখবারুহা» গ্রন্থে একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে যেখানে ফুস্তাত, গিজা এবং আলেকজান্দ্রিয়ার নগরায়ন পরিকল্পনার (খিতাত) বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আল-মাকরিজি নিজেই তার গ্রন্থের এক স্থানে প্রসঙ্গক্রমে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন
(১)।
আল-কিনদির 'খিতাত' (পরিকল্পনা) বিষয়ক গ্রন্থটি আমাদের নিকট পৌঁছেনি। তবে তার রচনাবলির মধ্য থেকে দুটি গ্রন্থ আমাদের হস্তগত হয়েছে, সেগুলো হলো: «তাসমিয়াতু উলাতি মিসর» এবং «তাসমিয়াতু কুদাতি মিসর»। রুবেন গেস্ট (Rueven Guest) এই দুটিকে «কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত» নামে প্রকাশ করেছেন
(২)। এই গ্রন্থে ফুস্তাতের কিছু নগরায়ন পরিকল্পনা এবং এর প্রাথমিক নির্মাণশৈলী সম্পর্কে সামান্য কিছু তথ্য আলোচনার প্রসঙ্গে এসেছে। আল-কিনদি ফুস্তাতের পরিকল্পনা ও এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে এমন কিছু গ্রন্থে আলোচনা করেছেন যা আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
«আখবারু মাসজিদি আহলির রায়াহ আল-আ'জম»
(৩) গ্রন্থটি, যা সেই জামে মসজিদের ইতিহাস যা আমর ইবনুল আস ‘আহলুর রায়াহ’ এলাকার মাঝখানে নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়া «কিতাবুল জুনদিল গারবি» বা «আল-আজনাদুল গুরবা»
(৪) নামক গ্রন্থটি, যার ওপর ভিত্তি করে সম্ভবত আল-মাকরিজি তার ‘খিতাত’ গ্রন্থে অধিকাংশ তথ্য গ্রহণ করেছেন। একইভাবে রয়েছে «কিতাবুল খন্দক», যা থেকে আল-মাকরিজি মাত্র দুই পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছেন যেখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কিছু খুঁটিনাটি বিবরণ দেওয়া হয়েছে
(৫)।
৩৫৮ হিজরি/৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয়দের মিসরে আগমন এবং তাদের খেলাফতের রাজধানী হিসেবে কায়রো শহর প্রতিষ্ঠার পর, প্রথিতযশা ঐতিহাসিকদের হাত ধরে ‘খিতাত’ বা নগরায়ন পরিকল্পনা রচনার ধারায় সমৃদ্ধি আসে। তারা ফুস্তাতের পরিকল্পনার বর্ণনা অব্যাহত রাখেন, যা ফাতেমীয় যুগেও দেশটির বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র (Metropole) হিসেবে টিকে ছিল। তবে তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে নবপ্রতিষ্ঠিত কায়রো শহর সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছুই লিখেননি, যেখানে খলিফা এবং তার ঘনিষ্ঠ পারিষদরা বাস করতেন। ইবনে যুলাক নামে পরিচিত আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে ইবরাহিম ইবনে আল-হুসাইন (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি/৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ)
(৬) তার «খিতাতু মিসর» গ্রন্থটি রচনা করেন, যা সুদীর্ঘকাল ধরে বিলুপ্ত। আল-মাকরিজি তার ভূমিকার যেখানে মিসরীয় ‘খিতাত’ লেখকদের নাম উল্লেখ করেছেন, সেখানে এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেননি। তবে ইবনে খাল্লিকান তার এই গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সম্ভবত তিনি এটি পাঠ করেছিলেন। তিনি বলেছেন যে, ইবনে যুলাক এতে "বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়েছেন"
(৭)। উস্তাদ আবদুল্লাহ ইনান মনে করেন যে, ইবনে যুলাক হয়তো এতে ফুস্তাতের পরিকল্পনার পাশাপাশি আল-আসকার এবং আল-কাতাই'-এর পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, এমনকি সম্ভবত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
تناول أيضا إنشاء القاهرة المعزّيّة، فيكون بذلك أوّل مؤرّخ لخططها
(1).
وفي زمن خلافة المستنصر باللّه زار مصر بين سنتي 439 - 442 هـ/ 1048 - 1050 م الرّحّالة الفارسي الشّهير ناصر خسرو الذي وصف في رحلته المعروفة ب «سفرنامة»
(2) المدن المصرية التي مرّ بها ابتداء من المدخل الشّمالي لمصر وحتى أسوان وعيذاب في الجنوب وصفا دقيقا، ويحوي وصف ناصر خسرو للقاهرة والفسطاط الكثير من التّفصيلات عن أسماء حارات القاهرة وأبوابها والقصر الفاطمي، كما أنّ وصفه للمسجد الجامع في الفسطاط وأسواقها والاحتفالات التي كانت تتمّ في هذه الأيام وصف غني بالتفاصيل
(3). وهذه الرّحلة - التي دوّنها مؤلّفها بالفارسية - لم يعرفها المؤرّخون المصريون المتأخّرون.
وإلى هذه الفترة يرجع أهمّ مصدر رجع إليه المؤلّفون المتأخّرون في تسجيل خطط الفسطاط الأولى حيث كتب أبو عبد اللّه محمد بن سلامة بن جعفر القضاعي المتوفى سنة 454 هـ/ 1062 م
(4) كتابه «المختار في ذكر الخطط والآثار». وقد كتب القضاعيّ كتابه قبل سنيّ الشّدّة المستنصرية التي غيّرت الكثير من معالم مصر الفسطاط، لذلك يقول المقريزي إنّه قد «دثر أكثر ما ذكراه - أى الكندي والقضاعي - ولم يبق إلاّ يلمع أو موضع بلقع ممّا حلّ بمصر من سنيّ الشّدّة المستنصرية من سنة سبع وخمسين إلى سنة أربع وستين وأربع مائة من الغلاء والوباء، فمات أهلها وخربت ديارها وتغيّرت أحوالها، واستولى الخراب على عمل فوق من الطّرفين بجانبي الفسطاط الغربي والشّرقي؛ فأمّا الجانب الغربي فمن قنطرة بني وائل حيث الورّاقات الآن قريبا من باب القنطرة خارج مدينة مصر إلى الشّرف المعروف الآن بالرّصد وأنت مارّ إلى القرافة الكبرى، وأمّا الشّرقي فمن طرف بركة الحبش التي تلي القرافة إلى نحو جامع أحمد بن طولون»
(5).
--------------------------------------------
তিনি আল-মুইজ্জি কায়রো প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আলোচনা করেছেন, যার ফলে তিনি এর নগর পরিকল্পনার প্রথম ইতিহাসবিদ হিসেবে গণ্য হন
(১)।
আর খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহর শাসনামলে ৪৩৯ - ৪৪২ হিজরি / ১০৪৮ - ১০৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে বিখ্যাত পারস্য পর্যটক নাসির খুসরু মিশর সফর করেন, যিনি তাঁর সুপরিচিত ভ্রমণকাহিনী "সফরনামা"-তে
(২) মিশরের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশপথ থেকে শুরু করে দক্ষিণের আসওয়ান ও আইজাব পর্যন্ত যেসব মিশরীয় শহরের মধ্য দিয়ে তিনি অতিক্রম করেছেন, সেগুলোর একটি নির্ভুল বর্ণনা দিয়েছেন। কায়রো এবং ফুসতাত সম্পর্কে নাসির খুসরুর বর্ণনায় কায়রোর বিভিন্ন পাড়ার নাম, এর প্রবেশদ্বারসমূহ এবং ফাতিমি রাজপ্রাসাদ সম্পর্কে প্রচুর বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তেমনি ফুসতাতের জামে মসজিদ, এর বাজারসমূহ এবং তৎকালীন দিনগুলোতে আয়োজিত উৎসবগুলোর বর্ণনায় তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ বিবরণ প্রদান করেছেন
(৩)। আর এই ভ্রমণকাহিনীটি - যা এর লেখক ফারসি ভাষায় সংকলন করেছিলেন - পরবর্তী সময়ের মিশরীয় ঐতিহাসিকদের কাছে পরিচিত ছিল না।
এই সময়ের মধ্যেই সেই গুরুত্বপূর্ণ উৎসটি নিহিত রয়েছে যা পরবর্তীকালের লেখকরা ফুসতাতের প্রাথমিক নগর পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছিলেন; যখন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালামাহ বিন জাফর আল-কুদায়ী (মৃত্যু ৪৫৪ হিজরি / ১০৬২ খ্রিস্টাব্দ)
(৪) তাঁর "আল-মুখতার ফি জিকরিল খিতাত ওয়াল আসার" গ্রন্থটি রচনা করেন। আল-কুদায়ী তাঁর বইটি "আশ-শিদ্দাহ আল-মুসতানসিরিয়্যাহ" (মুসতানসিরি দুর্ভিক্ষ)-এর বছরগুলোর আগে লিখেছিলেন, যা মিশর ও ফুসতাতের অনেক নিদর্শন পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এজন্য আল-মাকরিজি বলেন যে, "তাঁরা দুজনে—অর্থাৎ আল-কিন্দি এবং আল-কুদায়ী—যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এখন কেবল কিছু ছিটেফোঁটা বা জনশূন্য বিরান ভূমি অবশিষ্ট আছে; যার কারণ ৪৫৭ থেকে ৪৬৪ হিজরি সাল পর্যন্ত 'আশ-শিদ্দাহ আল-মুসতানসিরিয়্যাহ' বা মুসতানসিরি দুর্ভিক্ষের সময় মিশরে যে উচ্চমূল্য ও মহামারীর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল, যাতে সেখানকার অধিবাসীরা মারা যায়, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ফুসতাতের পশ্চিম ও পূর্ব উভয় পার্শ্বের উপরিভাগের এলাকাগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়েছিল। পশ্চিম দিক সম্পর্কে বলা যায়, বনু ওয়ায়েল এর পুল থেকে শুরু করে—যেখানে এখন মিশর শহরের বাইরে বাবুল কানতারার কাছে ওয়াররাকাত অবস্থিত—সেখান থেকে বর্তমানের আর-রাসাদ নামে পরিচিত আশ-শারাফ পর্যন্ত, যা বৃহৎ কারাফার (কবরস্থান) দিকে যাওয়ার পথে পড়ে। আর পূর্ব দিক সম্পর্কে বলা যায়, কারাফার নিকটবর্তী বিরকাতুল হাবাশের প্রান্ত থেকে শুরু করে আহমদ বিন তুলুন জামে মসজিদ পর্যন্ত"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويضيف المقريزي: «ثم دخل أمير الجيوش بدر الجمالي مصر في سنة ستّ وستين وأربع مائة، وهذه المواضع خاوية على عروشها خالية من سكّانها وأنيسها، قد أبادهم الوباء واليباب وشتّتهم الموت والخراب ولم يبق بمصر إلاّ بقايا من النّاس كأنّهم أموات قد اصفرّت وجوههم وتغيّرت سحنهم من غلاء الأسعار وكثرة الخوف من العسكرية وفساد طوائف العبيد والملحيّة، ولم يجد من يزرع الأراضي؛ هذا والطّرقات قد انقطعت برّا وبحرا إلاّ بخفارة وكلفة كبيرة. وصارت القاهرة أيضا يبابا دائرة، فأباح للنّاس من العسكرية والملحيّة والأرمن وكلّ من وصلت قدرته إلى عمارة أن يعمر ما شاء في القاهرة ممّا خلا من دور الفسطاط بموت أهلها، فأخذ الناس في هدم المساكن ونحوها بمصر وعمرّوا بها في القاهرة وكان هذا أوّل وقت اختطّ النّاس فيه بالقاهرة»
(1).
يتّضح ممّا ذكره المقريزي أنّ اهتمام القضاعي - مثل سابقيه - انصبّ على الفسطاط العاصمة التجارية لمصر ومركز نشاطها العلمي والاقتصادي، فقد كانت القاهرة حتى هذا الوقت مدينة خاصّة ولم يبحها بدر الجمالي بعد أن وصل إلى مصر إلاّ لبعض فرق الجند نتيجة خراب الفسطاط وهجرة أهلها لها. وقد دثر أكثر ما ذكره الكندي والقضاعي من خطط الفسطاط أوّلا بسبب الشّدّة العظمى ثم بسبب حريق الفسطاط المتعمّد سنتي 559 هـ/ 1064 م و 564 هـ/ 1068 م
(2) وأخيرا بسبب انتقال ميناء القاهرة في القرن التاسع من الفسطاط إلى بولاق شمال القاهرة
(3).
وزالت معالم الفسطاط تماما في القرن التاسع الهجري؛ وذلك رغم أنّ «أكثر بناء الفسطاط كان بالآجرّ المحكوك والجبس والجير من أوثق بناء وأمكنه وآثاره الباقية تشهد له بذلك» كما يقول القلقشندي
(4) الذي يضيف: «وإذا نظرت إلى خطط الكندي والقضاعي والشّريف النّسّابة عرفت ما كان الفسطاط عليه من العمارة وما صار إليه الآن»
(5).
وقد كانت معرفة الكندي والقضاعي بخطط مصر والفسطاط معرفة كبيرة حتى قال عنهما المقريزي: «وناهيك بهما معرفة لآثار مصر وخططها»
(6) وأضاف قائلا: «وعليهما
--------------------------------------------
আল-মাকরিজি আরও বলেন: "অতঃপর ৪৬৬ হিজরি সনে প্রধান সেনাপতি বদর আল-জামালি মিশরে প্রবেশ করেন। তখন এই স্থানগুলো ছিল জনশূন্য ও ভিটামাটির ওপর বিধ্বস্ত, এর অধিবাসী ও সঙ্গী-সাথীদের থেকে তা ছিল খালি। মহামারি এবং ধ্বংসলীলা তাদের নির্মূল করেছিল এবং মৃত্যু ও বিপর্যয় তাদের ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। মিশরে কেবল গুটিকয়েক লোক অবশিষ্ট ছিল যারা মৃতপ্রায়; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সৈন্যদের প্রচণ্ড ভীতি এবং ক্রীতদাস ও পদাতিক বাহিনীর বিশৃঙ্খলার কারণে তাদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল এবং অবয়ব বিকৃত হয়ে পড়েছিল। জমি চাষ করার মতো কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। তদুপরি স্থল ও জলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, কেবল পাহারাদার এবং বিশাল ব্যয় ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কায়রোও এক বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছিল। ফলে তিনি সৈন্যবাহিনী, পদাতিক, আরমানি এবং যাদের সামর্থ্য আছে তাদের সবাইকে কায়রোতে আবাদ করার অনুমতি প্রদান করেন—ফুস্তাতের সেসব ঘরবাড়ি যা অধিবাসীদের মৃত্যুর কারণে খালি হয়ে পড়েছিল। তখন মানুষ ফুস্তাতের ঘরবাড়ি ও অনুরূপ স্থাপনাগুলো ভেঙে কায়রোতে নিয়ে আবাদ করতে শুরু করে। এটাই ছিল প্রথম সময় যখন মানুষ কায়রোতে বসতি স্থাপন ও সীমানা নির্ধারণ শুরু করে।"
(১)।
মাকরিজির বর্ণনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, আল-কুদায়ির মনোযোগ—তার পূর্বসূরিদের মতোই—মিশরের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং এর বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ফুস্তাতের ওপর নিবদ্ধ ছিল। কেননা কায়রো এই সময় পর্যন্ত একটি বিশেষ নগরী ছিল এবং বদর আল-জামালি মিশরে পৌঁছানোর পর ফুস্তাতের ধ্বংসযজ্ঞ ও এর অধিবাসীদের দেশান্তরের ফলে কেবল সৈন্যদের কিছু দলকে সেখানে বসবাসের অনুমতি দিয়েছিলেন। আল-কিন্দি ও আল-কুদায়ি ফুস্তাতের বসতি বিন্যাস সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছিলেন, তার অধিকাংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে—প্রথমত 'মহা সংকট'-এর কারণে, অতঃপর ৫৫৯ হিজরি/১১৬৪ খ্রিস্টাব্দ এবং ৫৬৪ হিজরি/১১৬৮ খ্রিস্টাব্দে ফুস্তাতে ইচ্ছাকৃত অগ্নিকাণ্ডের ফলে
(২) এবং সবশেষে নবম শতাব্দীতে কায়রো বন্দর ফুস্তাত থেকে কায়রোর উত্তরে বুলাকে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে
(৩)।
নবম হিজরি শতাব্দীতে ফুস্তাতের চিহ্নসমূহ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়; অথচ আল-কালকাশান্দি যেমনটি বলেন: "ফুস্তাতের অধিকাংশ ভবন ছিল পোড়া ইট, জিপসাম এবং চুন দিয়ে নির্মিত অত্যন্ত মজবুত ও সুদৃঢ় গাঁথুনির, যার অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহ এর সাক্ষ্য দেয়"
(৪)। তিনি আরও যোগ করেন: "আপনি যদি আল-কিন্দি, আল-কুদায়ি এবং আশ-শরিফ আন-নাসসাবার নকশাগুলোর দিকে তাকান, তবে বুঝতে পারবেন ফুস্তাত আবাদি অবস্থায় কেমন ছিল এবং বর্তমানে কী অবস্থায় উপনীত হয়েছে"
(৫)।
মিশর ও ফুস্তাতের ভৌগোলিক বিন্যাস সম্পর্কে আল-কিন্দি এবং আল-কুদায়ির জ্ঞান ছিল অগাধ, এমনকি তাদের সম্পর্কে মাকরিজি বলেছেন: "মিশরের নিদর্শন এবং এর বিন্যাস সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের গভীরতা আপনার জন্য যথেষ্ট"
(৬)। তিনি আরও যোগ করে বলেন: "আর তাদের উভয়ের ওপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يعوّل في معرفة خطط مصر ومن قبلهما ابن عبد الحكم»
(1).
وظلّ كتاب «الخطط» للقضاعي متداولا بين العلماء حتى العقود الأولى من القرن العاشر الهجري؛ فالسّيوطي المتوفى سنة 911 هـ/ 1505 م يذكر أنّه نقل رواية فتح مصر في كتابه «حسن المحاضرة» من نسخة من كتاب الخطط للقضاعي بخطّ القضاعي
(2).
ويذكر المقريزي بعد ذلك أنّ المنبّه على الخطط والتّعريف بها بعد القضاعي هو تلميذه أبو عبد اللّه محمد بن بركات بن هلال النّحوي المصري المتوفى سنة 520 هـ/ 1126 م عن عمر يناهز المائة
(3)، فقد صنّف ابن بركات النّحوي كتابا في الخطط لم يصل إلينا وقف عليه المقريزي بخطّ محمّد بن أسعد الجوّاني
(4) وقال عنه إنّه «تأليف لطيف نبّه فيه الأفضل أبا القاسم شاهنشاه بن أمير الجيوش بدر الجمالي على مواضع قد اغتصبت وتملّكت بعد ما كانت أحباسا»
(5)، ولا شكّ أنّ ذلك كان بعد ما أصاب النّاس من سني الشّدّة ممّا دفعهم إلى اغتصاب المواضع التي وصلت إليها أيديهم بعد فقدهم لممتلكاتهم واضطرارهم إلى ترك منازلهم والانتقال بعيدا عنها، ومع ذلك فإنّ المقريزي لا يشير إلى أي نقل اقتبسه عن كتاب ابن بركات النّحوي.
وتبعا لما ذكره المقريزي أيضا فإنّ آخر من ألّف في الخطط في زمن الفاطميين هو الشّريف النّسّابة أبو عبد اللّه محمد بن أسعد بن عليّ بن الحسين المازاندراني المعروف بالشّريف الجوّاني المتوفى سنة 588 هـ/ 1092 م نقيب الأشراف بمصر ومؤلّف العديد من المصنّفات وخاصّة في النّسب
(6). فقد ألّف الشّريف الجوّاني إلى جانب هذه المصنّفات كتابا في الخطط عنوانه «النّقط لعجم ما أشكل من الخطط» قال عنه المقريزي: «نبّه فيه على معالم قد جهلت وآثار قد دثرت»
(7) وكان أكثر اهتمام الجوّاني مثل سابقيه بخطط الفسطاط
(8). وقد وقف المقريزيّ على خطط
--------------------------------------------
মিশরের খিতাত (বসতি বিন্যাস) এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ইবনে আবদিল হাকাম সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর নির্ভর করা হয়»
(১)।
কুদাঈর «খিতাত» গ্রন্থটি দশম হিজরি শতাব্দীর প্রথম দশক পর্যন্ত আলেমদের মধ্যে প্রচলিত ছিল; ৯১১ হিজরি/১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণকারী সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর «হুসনুল মুহাদারা» গ্রন্থে মিশরের বিজয়ের বিবরণ কুদাঈর নিজ হাতে লেখা «খিতাত» গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত করেছেন
(২)।
মাকরিজি এরপর উল্লেখ করেন যে, কুদাঈর পরে খিতাত সম্পর্কে সচেতনকারী এবং এর পরিচয় দানকারী ব্যক্তি ছিলেন তাঁর ছাত্র আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বারাকাত বিন হিলাল আন-নাহবী আল-মিসরি, যিনি ৫走 হিজরি/১১২৬ খ্রিস্টাব্দে প্রায় একশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন
(৩)। ইবনে বারাকাত আন-নাহবী খিতাত বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা আমাদের কাছে পৌঁছেনি, তবে মাকরিজি মুহাম্মদ বিন আসআদ আল-জাওয়ানির হস্তাক্ষরে তা দেখেছিলেন
(৪) এবং সে সম্পর্কে বলেছিলেন যে, এটি একটি «মনোরম সংকলন যাতে তিনি আল-আফদাল আবু আল-কাসিম শাহানশাহ বিন আমির আল-জুয়ুশ বদর আল-জামালিকে এমন কিছু স্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যা ওয়াকফ থাকা সত্ত্বেও জবরদখল ও মালিকানাভুক্ত করা হয়েছিল»
(৫)। নিঃসন্দেহে এটি ঘটেছিল মানুষের ওপর আপতিত দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর কষ্টের কারণে, যা তাদের ঘরবাড়ি হারানো এবং দূরে চলে যেতে বাধ্য হওয়ার পর তাদের নাগালে পাওয়া জায়গাগুলো জবরদখল করতে প্ররোচিত করেছিল। তা সত্ত্বেও, মাকরিজি ইবনে বারাকাত আন-নাহবীর গ্রন্থ থেকে কোনো উদ্ধৃতি উল্লেখ করেননি।
মাকরিজির বর্ণনা অনুযায়ী, ফাতেমি যুগে খিতাত বিষয়ে সর্বশেষ লেখক ছিলেন বংশলতিকাবিদ শরীফ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আসআদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন আল-মাজান্দারানি, যিনি শরীফ আল-জাওয়ানি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৮৮ হিজরি/১০৯২ খ্রিস্টাব্দ। তিনি মিশরের আশরাফদের নকিব এবং বিশেষ করে বংশলতিকা বিষয়ে অনেক গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন
(৬)। শরীফ আল-জাওয়ানি এই গ্রন্থগুলোর পাশাপাশি খিতাত বিষয়ে «আন-নুয়াত লি-আজমি মা উশকিলা মিনাল খিতাত» শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। মাকরিজি এটি সম্পর্কে বলেছেন: «এতে তিনি এমন কিছু নিদর্শনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যা অজ্ঞাত হয়ে গিয়েছিল এবং এমন কিছু চিহ্নের ব্যাপারে যা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল»
(৭)। তাঁর পূর্বসূরিদের মতোই জাওয়ানির অধিকাংশ মনোযোগ ছিল ফুস্তাতের খিতাতের ওপর
(৮)। মাকরিজি খিতাতের ওপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الجوّاني بخطّه يقول: «هكذا هو بخطّ الشّريف محمّد بن أسعد الجوّاني النّسّابة وهو أقعد بخطط مصر وأعرف من ابن سعيد»
(1).
وبسقوط خلافة الفاطميين في مصر واستيلاء الأيّوبيين السّنّيين على مقاليد الأمور سنة 567 هـ/ 1172 م فقدت القاهرة الكثير من خصوصيّتها و «صارت مدينة سكنى بعد ما كانت حصنا يعتقل به ودار خلافة يلتجأ إليها، فهانت بعد العزّ وابتذلت بعد الاحترام»
(2) فقد «غيّر السّلطان الملك النّاصر صلاح الدين يوسف بن أيّوب كثيرا ممّا كانت عليه وصيّرها مدينة وبلدا يسكنه جمهور النّاس وعامّتهم، وتهدّمت القصور وزالت معالمها وتغيّرت معاهدها، وصارت القاهرة خططا وحارات وشوارع ومسالك وأزقّة»
(3). ونقل الأيّوبيون مركز الحكم إلى قلعة حصينة شيّدوها على الهضبة المتقدّمة من جبل المقطّم ليتمكّنوا من خلالها من الإشراف على القاهرة والفسطاط معا. وعهد صلاح الدين ببناء القلعة والسّور الحجر الذي يرطبها بالفسطاط والقاهرة إلى بهاء الدين قراقوش الذي أتمّ أكبر قسم منها في سنة 579 هـ/ 1183 م، ولكنّ هذا السّور الذي كان سيجمع القاهرة ومصر الفسطاط وقلعة الجبل في نطاق واحد لم يتهيّأ إتمام بنائه أبدا وظلّت هناك مواضع لم يتّصل فيها السّور
(4).
وقد تميّز العصر الأيّوبي بإقامة عدد من المنشآت الدينية والاجتماعية في القاهرة والفسطاط منها أوّل خانقاه للصّوفيّة وهي «خانقاه سعيد السّعداء» شمال القصر الفاطمي الكبير، وعدد من «المدارس» التي كانت ضرورية لإتمام حركة الإصلاح السّنّي الذي بدأه منذ قرن السّلاجقّة ثم خلفاؤهم الزّنكيّون والنوريّون وأتمّه الأيّوبيون في مصر بالقضاء على الخلافة الفاطمية الشّيعية، وقد بلغ عدد المدارس التي أقامها الأيوبيون في القاهرة والفسطاط ثلاث وعشرين مدرسة
(5).
ولا نصادف في زمن الأيّوبيين من يهتم بالكتابة في خطط مصر والقاهرة، فقد غلب على عصرهم الطّابع الحربي ومواجهة القوى الصّليبية (الفرنج) الغاشمة التي هدّدت الشّرق الإسلامي بأثره، وكان للأيّوبيين فضل الذّود عن ديار الإسلام أمام حملات الفرنج المتتالية وتقليص ممالكهم التي أقاموها في مدن بلاد الشّام السّاحلية والشّمالية واسترداد بيت المقدس.
--------------------------------------------
আল-জাওয়ানি তার স্বহস্তে বলেন: «বংশবিশারদ শরিফ মুহাম্মদ ইবনে আসআদ আল-জাওয়ানির হস্তলিপি এমনই; তিনি মিসরের নগর-পরিকল্পনা ও বিন্যাসে (খিতাত) ইবনে সাঈদের চেয়েও অধিক অভিজ্ঞ ও পারদর্শী»
(১)।
৫৬৭ হিজরি/১১৭২ খ্রিস্টাব্দে মিসরে ফাতেমীয় খিলাফতের পতন এবং সুন্নি আইয়ুবীয়দের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে কায়রো তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অনেক কিছু হারিয়ে ফেলে এবং «আগে এটি ছিল একটি দুর্গ যেখানে আবদ্ধ থাকা হতো এবং খিলাফতের কেন্দ্র যেখানে আশ্রয় নেওয়া হতো, কিন্তু পরে এটি কেবল একটি সাধারণ আবাসস্থলে পরিণত হয়। ফলে মর্যাদার পর এটি লাঞ্ছিত হয় এবং শ্রদ্ধার পর তা সাধারণ হয়ে পড়ে»
(২)। কেননা «সুলতান আল-মালিকুন নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব এর পূর্বাবস্থার অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দেন এবং একে সাধারণ মানুষের বসবাসের শহর ও জনপদে পরিণত করেন। ফলে প্রাসাদগুলো ধসে পড়ে, সেগুলোর চিহ্ন মুছে যায় এবং সেগুলোর স্থাপনাগুলো পরিবর্তিত হয়ে যায়। কায়রো তখন বিভিন্ন নগর-অঞ্চল, পাড়া, প্রধান রাস্তা, পথ ও অলিগলিতে পরিণত হয়»
(৩)। আইয়ুবীয়রা তাদের শাসনের কেন্দ্রবিন্দু মুকাত্তাম পাহাড়ের একটি উঁচু মালভূমি বা শৈলশিরার ওপর নির্মিত একটি সুরক্ষিত দুর্গে স্থানান্তর করেন, যাতে তারা সেখান থেকে কায়রো এবং ফুস্তাত—উভয় শহরের ওপর একসাথে নজরদারি করতে পারেন। সালাহুদ্দিন এই দুর্গ এবং একটি পাথুরে প্রাচীর নির্মাণের দায়িত্ব বাহাউদ্দিন কারাকুশের ওপর ন্যস্ত করেন, যা দুর্গটিকে কায়রো ও ফুস্তাতের সাথে সংযুক্ত করবে। কারাকুশ ৫৭৯ হিজরি/১১৮৩ খ্রিস্টাব্দে এর বেশিরভাগ অংশ সম্পন্ন করেন। তবে এই প্রাচীর—যা কায়রো, মিসর-ফুস্তাত এবং জাবাল দুর্গ (মাউন্ট ক্যাসেল)-কে একই পরিমণ্ডলে আবদ্ধ করার কথা ছিল—তার নির্মাণ কাজ কখনোই পূর্ণতা পায়নি এবং প্রাচীরের কিছু অংশ অসংযুক্ত থেকে যায়
(৪)।
আইয়ুবীয় যুগ কায়রো এবং ফুস্তাতে বেশ কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সুফিদের জন্য প্রথম খানকাহ—যা ফাতেমীয় বৃহৎ প্রাসাদের উত্তরে অবস্থিত «খানকাহ সাঈদ আল-সুয়াদা»। এছাড়া ছিল বেশ কিছু «মাদ্রাসা», যা সুন্নি সংস্কার আন্দোলন সম্পন্ন করার জন্য অপরিহার্য ছিল। এই সংস্কার আন্দোলন এক শতাব্দী আগে সেলজুকদের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরি জানকি ও নুরিদের মাধ্যমে অব্যাহত ছিল এবং পরিশেষে মিসরে শিয়া ফাতেমীয় খিলাফতের অবসান ঘটিয়ে আইয়ুবীয়রা তা পূর্ণতা দান করে। কায়রো এবং ফুস্তাতে আইয়ুবীয়দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল তেইশটি
(৫)।
আইয়ুবীয়দের আমলে মিসর ও কায়রোর নগর-পরিকল্পনা (খিতাত) নিয়ে লেখার ক্ষেত্রে তেমন কাউকে আগ্রহী দেখা যায় না। কারণ তাদের যুগে যুদ্ধবিগ্রহের প্রভাব প্রবল ছিল এবং তারা নৃশংস ক্রুসেডার (ফ্রাঙ্ক) বাহিনীর মোকাবিলায় ব্যস্ত ছিলেন, যারা সমগ্র ইসলামি প্রাচ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উপর্যুপরি ফ্রাঙ্ক বাহিনীর অভিযানের মুখে ইসলামি ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং সিরিয়ার উপকূলীয় ও উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে তাদের প্রতিষ্ঠিত রাজ্যগুলোকে সংকুচিত করা ও বায়তুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার করার কৃতিত্ব আইয়ুবীয়দেরই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولكن وصل إلينا من هذه الفترة كتاب لكاتب نصراني ذكر فيه أديرة مصر وكنائسها وأحياء الأقباط بها. وإلى عهد قريب كان هذا الكتاب ينسب إلى مؤرّخ يدعى أبو صالح الأرمنيّ وهو اسم مضاف بخطّ مخالف على النّسخة المحفوظة في باريس والتي نشرها Evetts في أكسفورد سنة 1895 وتشتمل فقط على الجزء الثاني من الكتاب
(1). ولكنّ نسخة خطيّة كاملة كانت في ملك أحد أقباط طنطا
(2) أطلع عليها علي باشا مبارك الذي استفاد منها كثيرا في الجزء السّادس من خططه وهو يتكلّم عن كنائس القاهرة
(3) تثبت أنّ مؤلّف الكتاب هو المؤتمن أبو المكارم سعد الله بن جردس بن مسعود
(4) لا أبو صالح الأرمنيّ. وللأسف الشّديد فقد تسرّبت هذه النّسخة إلى خارج مصر
(5)، واستقرّت الآن في مكتبة Bayerische Stantsbibliothek في ميونخ برقم 2570. ولم يتعرّف المؤرّخون المصريّون المتأخّرون قبل علي مبارك على هذا الكتاب.
كذلك فقد تردّد على مصر في العصر الأيّوبي عدد من الرّحالة المغاربة والبغداديين قدّموا لنا أوصافا هامّة عن تخطيط المدينة ووصف معالمها ومؤسّساتها الدينية وذات الطّابع الاجتماعي مثل أبو الحسين محمد بن أحمد الكتامي المعروف بابن جبير المتوفى سنة 614 هـ/ 1217 م وموفّق الدين عبد اللّطيف بن يوسف بن محمد البغدادي المعروف بعبد اللطيف البغدادي المتوفى سنة 629 هـ/ 1231 م، وعلي بن سعيد المغربي المتوفى سنة 685 هـ/ 1286 م الذي زار القاهرة وأقام فيها مدّة في آخر دولة الأيّوبيين وأوّل دولة المماليك.
--------------------------------------------
তবে এই সময়কাল থেকে আমাদের কাছে একজন খ্রিস্টান লেখকের একটি বই পৌঁছেছে, যাতে তিনি মিশরের মঠ, গির্জা এবং সেখানে কিবতিদের এলাকাগুলো উল্লেখ করেছেন। সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত এই বইটি আবু সালিহ আল-আরমানি নামক একজন ইতিহাসবিদের প্রতি সম্পৃক্ত করা হতো; যা প্যারিসে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে ভিন্ন হাতের লেখায় যুক্ত করা একটি নাম। ইভেটস ১৮৯৫ সালে অক্সফোর্ড থেকে এটি প্রকাশ করেন এবং এতে বইটির কেবল দ্বিতীয় অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল
(১)। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি তান্টার জনৈক কিবতির মালিকানাধীন ছিল
(২) যা আলী পাশা মুবারক দেখার সুযোগ পান। তিনি তাঁর 'খিতাত'-এর ষষ্ঠ খণ্ডে কায়রোর গির্জাগুলো নিয়ে আলোচনার সময় এটি থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন
(৩)। এটি প্রমাণ করে যে, বইটির লেখক হলেন আল-মুতামান আবু আল-মাকারিম সা’দউল্লাহ ইবনে জিরদিস ইবনে মাসউদ
(৪), আবু সালিহ আল-আরমানি নন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই পাণ্ডুলিপিটি মিশরের বাইরে চলে গেছে
(৫) এবং বর্তমানে এটি মিউনিখের বায়ারিশে স্টাটসবিলিওথেক-এ ২৫৭০ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। আলী মুবারকের আগে পরবর্তীকালের মিশরীয় ইতিহাসবিদগণ এই বইটি সম্পর্কে জানতেন না।
একইভাবে আইয়ুবি যুগে বেশ কিছু মাগরেবি ও বাগদাদি পর্যটক মিশরে যাতায়াত করেছিলেন। তাঁরা আমাদের কাছে শহরের পরিকল্পনা, এর নিদর্শন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্ণনার গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ উপস্থাপন করেছেন। যেমন— আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কুতামি, যিনি ইবনে জুবায়ের নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬১৪ হিজরি/ ১২১৭ খ্রিস্টাব্দ), এবং মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন আব্দুল লতিফ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি, যিনি আব্দুল লতিফ আল-বাগদাদি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২৯ হিজরি/ ১২৩১ খ্রিস্টাব্দ), এবং আলী ইবনে সাঈদ আল-মাগরিবি (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি/ ১২৮৬ খ্রিস্টাব্দ), যিনি কায়রো সফর করেছিলেন এবং আইয়ুবি শাসনের শেষ দিকে ও মামলুক শাসনের শুরুতে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وعندما وصل المماليك إلى قمّة السّلطة في مصر أخذ اتّساع القاهرة ونموّها شكلا جديدا حيث أصبحت مصر مركز الجذب السّياسي والثّقافي للعالم الإسلامي بعد سقوط بغداد وانتقال الخلافة العبّاسية إلى القاهرة، ونتج عن ذلك زيادة في عدد سكّان مصر بسبب نزوح العديد من اللاّجئين الذين فرّوا إليها من الشّرق أمام الغزو المغولي واستقرّوا في أطراف القاهرة ممّا أدّى إلى امتداد العمران إلى منطقة الحسينيّة شمال القاهرة الفاطمية حيث أسّس الظّاهر بيبرس جامعه الكبير في سنة 665 هـ/ 1266 م
(1)، وإلى أراضي اللّوق على الجانب الغربي للخليج حيث أنزل بها الظّاهر بيبرس قسما من جيش هولاكو الذي فرّ إلى مصر سنة 660 هـ/ 1261 م
(2)، وكذلك عند السّبع سقايات بالقرب من قناطر السّباع فقد أحيت هذه القناطر، التي أقامها الظّاهر بيبرس في منطقة السّيّدة زينب الحالية لتربط جانبيّ الخليج، هذه المنطقة
(3). وتمثّل سلطنة الملك الظّاهر بيبرس مرحلة هامّة في مراحل نموّ مدينة القاهرة وتجسيدا مسبقا للانفجار العمراني الذي عرفته المدينة في القرن الثامن الهجري/ الرابع عشر الميلادي
(4).
وقد بلغت القاهرة أقصى اتّساع لها في زمن سلطنه الملك النّاصر محمد بن قلاوون الذي تولّى السّلطنة ثلاث مرّات في الفترة بين سنتي 693 هـ/ 12933 م و 741 هـ/ 1341 م، فمعاصره ابن فضل اللّه العمري يذكر أنّ حاضرة مصر في وقته كانت تشتمل على ثلاث مدن عظام صارت كلّها مدينة واحدة هي: الفسطاط والقاهرة وقلعة الجبل
(5). فإلى زمن سلطنة النّاصر محمد بن قلاوون ترجع أهمّ منشآت القلعة: الجامع والقصر الأبلق والإيوان والقصور الجوّانية والسّبع قاعات والطّبلخاناه تحت القلعة والميدان وقناطر مجرى العيون
(6). كما أدّى حفر النّاصر محمد في سنة 725 هـ/ 1324 م للخليج النّاصري، الذي كان يستمد ماءه من النّيل إلى الشّمال من فمّ
--------------------------------------------
যখন মামলুকরা মিশরে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছাল, তখন কায়রোর সম্প্রসারণ ও প্রবৃদ্ধি এক নতুন রূপ ধারণ করল, কারণ বাগদাদের পতন এবং কায়রোতে আব্বাসীয় খিলাফত স্থানান্তরের পর মিশর ইসলামি বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে মিশরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, কারণ পূর্ব দিক থেকে মঙ্গোল আক্রমণের মুখে পালিয়ে আসা অনেক শরণার্থী সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল এবং তারা কায়রোর প্রান্তে বসতি স্থাপন করে। যার ফলে ফাতেমীয় কায়রোর উত্তরে হুসাইনীয়া অঞ্চল পর্যন্ত নগরায়ন বিস্তৃত হয়, যেখানে আল-জাহির বিবারস ৬৬৫ হিজরি/ ১২৬৬ খ্রিস্টাব্দে তার বিশাল জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন
(১); এবং খালের পশ্চিম তীরের আল-লুক ভূমি পর্যন্তও নগরায়ন বিস্তৃত হয়, যেখানে আল-জাহির বিবারস হালাকু খানের সেনাবাহিনীর একটি অংশকে পুনর্বাসিত করেছিলেন যারা ৬৬০ হিজরি/ ১২৬১ খ্রিস্টাব্দে মিশরে পালিয়ে এসেছিল
(২); একইভাবে কানাতীরুস সিবা'-এর নিকটবর্তী আস-সাব' সাকায়াত অঞ্চলেও নগরায়ন ঘটে, কারণ আল-জাহির বিবারস বর্তমান সায়্যিদা জয়নাব এলাকায় খালের দুই তীরকে সংযুক্ত করার জন্য যে সেতুগুলো (কানাতীর) নির্মাণ করেছিলেন, তা এই অঞ্চলটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল
(৩)। সুলতান আল-মালিক আল-জাহির বিবারসের শাসনকাল কায়রো শহরের প্রবৃদ্ধির পর্যায়গুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় এবং অষ্টম হিজরি/ চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দে শহরটি যে নগর বিস্ফোরণ দেখেছিল তার একটি প্রাথমিক প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়
(৪)।
কায়রো তার সর্বোচ্চ সম্প্রসারণে পৌঁছেছিল সুলতান আল-মালিক আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের শাসনকালে, যিনি ৬৯৩ হিজরি/ ১২৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৪১ হিজরি/ ১৩৪১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনবার সালতানাতের দায়িত্ব পালন করেন। তার সমসাময়িক ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি উল্লেখ করেছেন যে, তার সময়ে মিশরের রাজধানী তিনটি বিশাল শহর নিয়ে গঠিত ছিল যা পরবর্তীতে একটি শহরে পরিণত হয়, সেগুলো হলো: ফুসতাত, কায়রো এবং কাল'আতুল জাবাল (পাহাড়ের দুর্গ)
(৫)। আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের সালতানাতের সময়কালেই দুর্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল: জামে মসজিদ, আল-কাসরুল আবলাক (রঙিন প্রাসাদ), আল-আইওয়ান, অভ্যন্তরীণ প্রাসাদসমূহ, আস-সাব' কা'আত (সাতটি হল), দুর্গের পাদদেশের তবলখানা, ময়দান এবং কানাতীরু মাজরাল উয়ুন (পানির নালার সেতু)
(৬)। একইভাবে ৭২৫ হিজরি/ ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দে আন-নাসির মুহাম্মদের খননকৃত নাসেরি খাল, যা নীল নদ থেকে উত্তর দিক দিয়ে পানি পেত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الخليج في مواجهة الحدّ الشّمالي لجزيرة الرّوضة ويسير موازيا للخليج حتى يلتقي به شمال جامع الظّاهر بيبرس، أدّى ذلك إلى حكر العديد من الأراضي الواقعة بين الخليجين وبين الخليج النّاصري والنّيل ومنحها إلى الأمراء الذين أقاموا عليها بعض المباني
(1) التي صارت نواة لعمران هذه المنطقة الذي اكتمل في العصر العثماني.
يقول المقريزي إنّ العمارة تزايدت في أيّام النّاصر محمد بن قلاوون بالقاهرة وضواحيها إلى أن كادت تضيق عن أهلها حتى حلّ بهما وباء سنة تسع وأربعين وسبع مائة المعروف ب «الوباء الأسود» وب «الفناء الكبير» والذي اجتاح أيضا شعوب حوض البحر المتوسّط واستمرّ لمدّة خمس عشرة سنة. وقد أدّى هذا الوباء إلى حدوث انخفاض شديد في عدد سكّان مصر، كذلك فقد حدث انخفاض آخر في عدد سكّان مصر في أعقاب الوباء الذي صاحب غلاء سنة 776 هـ/ 1374 م ودام نحو سنتين
(2).
وفي النّصف الثاني من القرن الثامن الهجري/ الرابع عشر الميلادي ظهرت العديد من المشاكل السّياسية الجسيمة التي ساعدت على تفاقم الوضع. حقيقة أنّ وراثة الحكم ظلّت لفترة طويلة في أولاد النّاصر محمد بن قلاوون حيث تولّى منهم اثنا عشر ابنا وحفيدا بين سنتي 741 هـ/ 1341 م و 784 هـ/ 1382 م، كان بينهم، وقت تولّيهم السّلطنة، أطفال ومراهقون ممّا أدّى إلى ازدياد نفوذ كبار الأمراء باستثناء الفترة التي حكم فيها النّاصر حسن والأشرف شعبان. وفي الوقت نفسه فقد كان هؤلاء الأمراء أمثال: شيخو وصرغتمش وطاز ويلبغا من كبار المشيّدين.
ورغم الكوارث التي عبرتها مصر ابتداء من عام 749 م/ 1348 م فقد تمكّن السّلطان النّاصر حسن في الفترة التي تولّى فيها تحت وصاية كبار الأمراء الذين عزلوه لمدّة ثلاث سنوات ثم أعادوه مرّة ثانية، من بناء جامعه تحت القلعة بين سنتي 757 هـ/ 1356 م و 761 هـ/ 1360 م وهو من أعظم المباني في ديار الإسلام يقول المقريزي: «لا يعرف في بلاد الإسلام معبد من معابد المسلمين يحكي هذا الجامع وأقامت العمارة فيه مدّة ثلاث سنين لا تبطل يوما واحدا وأرصد لمصروفها في كلّ يوم عشرون ألف درهم عنها نحو ألف مثقال ذهبا»
(3).
--------------------------------------------
খালটি রওদা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের সম্মুখে অবস্থিত এবং খালের সমান্তরালে অগ্রসর হয়ে জাহের বিবারস মসজিদের উত্তরে সেটির সাথে মিলিত হয়েছে। এর ফলে দুই খালের মধ্যবর্তী এবং নাসেরি খাল ও নীল নদের মধ্যবর্তী বহু জমি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তা সেইসব আমিরদের প্রদান করা হয় যারা সেখানে কিছু অট্টালিকা নির্মাণ করেছিলেন
(১) যা এই অঞ্চলের নগর উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং উসমানীয় যুগে তা পূর্ণতা পায়।
মাকরিজি বলেন যে, আল-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের শাসনামলে কায়রো এবং এর আশপাশের এলাকায় স্থাপত্য নির্মাণ বৃদ্ধি পায়, এমনকি তা জনবসতির জন্য সংকীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়। অবশেষে ৭৪৯ হিজরি সনে একটি মহামারি দেখা দেয় যা ‘কৃষ্ণ মৃত্যু’ (আল-ওয়াবাউল আসওয়াদ) এবং ‘মহা বিনাশ’ (আল-ফানাউল কাবির) নামে পরিচিত, যা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকেও গ্রাস করেছিল এবং পনেরো বছর স্থায়ী হয়েছিল। এই মহামারির ফলে মিশরের জনসংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। তেমনিভাবে ৭৭৬ হিজরি/১৩৭৪ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষের পরবর্তী মহামারিতে মিশরের জনসংখ্যায় আরও একটি হ্রাস ঘটে যা প্রায় দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল
(২)।
অষ্টম হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে/চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দে বেশ কিছু গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দেয় যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। বাস্তবতা হলো, আল-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে শাসনের উত্তরাধিকার বজায় ছিল। ৭৪১ হিজরি/১৩৪১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৮৪ হিজরি/১৩৮২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁদের বারো জন পুত্র ও নাতি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের সুলতান হওয়ার সময় অনেকেই শিশু ও কিশোর ছিলেন, যার ফলে প্রভাবশালী আমিরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; শুধু আল-নাসির হাসান এবং আল-আশরাফ শাবানের শাসনকাল ছিল এর ব্যতিক্রম। একই সময়ে এই আমিরদের মধ্যে শায়খু, সারঘাতমিশ, তায এবং ইয়ালবুগা প্রমুখ ছিলেন প্রধান নির্মাতাদের অন্তর্ভুক্ত।
৭৪৯ হিজরি/১৩৪৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে মিশরের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হওয়া দুর্যোগসমূহ সত্ত্বেও, সুলতান আল-নাসির হাসান তাঁর শাসনামলে (যখন তিনি প্রভাবশালী আমিরদের অভিভাবকত্বে ছিলেন, যারা তাঁকে তিন বছরের জন্য পদচ্যুত করে পুনরায় বহাল করেছিল) কেল্লার নিচে ৭৫৭ হিজরি/১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৬১ হিজরি/১৩৬০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর জামে মসজিদ নির্মাণ করতে সক্ষম হন। এটি ইসলামি ভূখণ্ডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। মাকরিজি বলেন: “ইসলামি দেশগুলোতে এমন কোনো ইবাদতগাহের কথা জানা নেই যা এই মসজিদের সমতুল্য হতে পারে। এর নির্মাণকাজ তিন বছর পর্যন্ত একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং এর ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রতিদিন বিশ হাজার দিরহাম বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা প্রায় এক হাজার মিসকাল স্বর্ণের সমপরিমাণ”
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وظلّ الأمر كذلك إلى أن تمكّن أحد كبار الأمراء من الوثوب إلى الحكم والإطاحة ببقيّة بيت قلاوون هو برقوق الذي أسّس أسرة حاكمة جديدة سنة 784 هـ/ 1382 م عرفت ب «المماليك الشّراكسة» أو «البرجيّة»
(1). ولم يكن من الممكن لهذا التغيير أن يمنع حدوث التّدهور الذي عرفته مصر في نهاية القرن الثامن ومطلع القرن التاسع الهجري الذي كان من الصّعب تداركه.
***
وإذا كان كلّ مؤلّفي الخطط السّابق ذكرهم خصّصوا مؤلّفاتهم للحديث عن خطط الفسطاط، فإنّ أوّل مؤلّف يضع كتابا في وصف خطط القاهرة كان القاضي محيي الدين أبو الفضل عبد اللّه بن رشيد الدين عبد الظّاهر بن نشوان السّعدي المصري المعروف بابن عبد الظّاهر المتوفى سنة 692 هـ/ 1293 م
(2) والذي تعدّ مؤلّفاته المصادر الأساسية لفترة حكم الظّاهر بيبرس والمنصور قلاوون والأشرف خليل، فقد عاصر هؤلاء السّلاطين وكان كاتب السّرّ عندهم
(3). وقد ألّف ابن عبد الظّاهر في تاريخ خطط القاهرة كتابه «الرّوضة البهيّة الزّاهرة في خطط المعزّيّة القاهرة» قال المقريزي: «فتح فيه بابا كانت الحاجة داعية إليه»
(4). وسأفصّل الحديث عن هذا الكتاب عندما أتناول دراسة مصادر المقريزي في المجلّد الثّاني.
وفي الوقت نفسه كان هناك من لا يزال يصف خطط الفسطاط يقول المقريزي أيضا:
«وآخر ما رأيت من الكتب التي صنّفت في خطط مصر كتاب «إيقاظ المتغفّل واتّعاظ المتأمّل» تأليف القاضي الرّئيس تاج الدين محمد بن عبد الوهّاب بن المتوّج الزّبيري - رحمه
--------------------------------------------
বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত জনৈক প্রভাবশালী আমীর ক্ষমতা দখল করতে এবং কালাউন বংশের অবশিষ্টদের ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হন; তিনি হলেন বারকুক, যিনি ৭৮৪ হিজরি/ ১৩৮২ খ্রিস্টাব্দে একটি নতুন শাসক রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন যা 'সার্কাসিয়ান মামলুক' বা 'বুরজি'
(১) নামে পরিচিত। এই পরিবর্তনের পক্ষে অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ এবং নবম শতাব্দীর শুরুতে মিশরের যে চরম অবনতি ঘটেছিল তা রোধ করা সম্ভব ছিল না, যা সংশোধন করা ছিল অত্যন্ত দুরূহ।
***
পূর্বে উল্লিখিত 'খিতাত' (শহরের ইতিহাস ও মানচিত্র) বিষয়ক সকল লেখকই যদি ফুস্তাতের খিতাত সম্পর্কে আলোচনার জন্য তাঁদের রচনাগুলো নিবেদিত করে থাকেন, তবে কায়রোর খিতাতের বর্ণনায় প্রথম গ্রন্থ প্রণয়নকারী লেখক ছিলেন কাজী মুহিউদ্দিন আবুল ফজল আব্দুল্লাহ ইবনে রশীদুদ্দিন আব্দুল জাহির ইবনে নাশুয়ান আস-সাদি আল-মিসরি, যিনি ইবনে আব্দুল জাহির নামে পরিচিত এবং ৬৯২ হিজরি/ ১২৯৩ খ্রিস্টাব্দে (২) মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলি জাহির বাইবার্স, মানসুর কালাউন এবং আশরাফ খলিলের শাসনকালের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ তিনি এই সুলতানদের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁদের 'কাতিব আস-সির' (গোপন সচিব) ছিলেন (৩)। ইবনে আব্দুল জাহির কায়রোর খিতাতের ইতিহাসে তাঁর গ্রন্থ 'আর-রাওদাতুল বাহিয়াতুজ জাহেরা ফি খিতাতিল মুইজ্জিয়াতিল কাহিরা' রচনা করেন। আল-মাকরিজি বলেছেন: "তিনি এতে এমন একটি দুয়ার উন্মোচন করেছেন যার প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য" (৪)। আমি দ্বিতীয় খণ্ডে মাকরিজির উৎসসমূহ পর্যালোচনার সময় এই গ্রন্থটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
একই সময়ে এমন লেখকও ছিলেন যারা ফুস্তাতের খিতাতের বর্ণনা অব্যাহত রেখেছিলেন। আল-মাকরিজি আরও বলেন:
«মিশরের খিতাত নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে সর্বশেষ আমি যা দেখেছি তা হলো কাজী রইস তাজউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আল-মুতাওয়াজ আজ-জুবাইরি রচিত 'ইকাজুল মুতাগাফফিল ওয়া ইত্তিআজুল মুতাম্মিল' গ্রন্থটি—রাহিমাহুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اللّه - وقطع على سنة خمس وعشرين وسبع مائة»
(1)، وأضاف في «المقفّى» أنّه كتاب كبير وأنّ وفاة مؤلّفه كانت سنة 730 هـ/ 1330 م
(2).
وقد ذكر المقريزي في أكثر من نصف صفحة عدد ما ذكره ابن المتوّج من خطط الفسطاط وأزقّتها ودروبها وخوخها وأسواقها
… إلخ
(3). ولكن أكثر ما ذكره ابن المتوّج باد ودثر «في وباء سنة تسع وأربعين وسبع مائة ثم وباء سنة إحدى وستين ثم في غلاء سنة ستّ وسبعين وسبع مائة»
(4). ولا نعرف عن هذا المؤلّف غير ما اقتبس منه المقريزي ومعاصراه القلقشندي وابن دقماق ثم السّيوطي في «حسن المحاضرة»
(5).
ويحوي كتاب «صبح الأعشى في صناعة الإنشا» لأبي العبّاس أحمد بن علي القلقشندي المتوفي سنة 821 هـ/ 1418 م فصلا هامّا عن خطط الفسطاط والقاهرة والقلعة
(6) اعتمد فيه على العديد من المصادر المتقدّمة أهمها الكندي والقضاعي والشّريف النّسّابة وابن عبد الظّاهر وابن المتوّج وابن فضل اللّه العمري.
أمّا ابن دقماق والأوحدي معاصرا المقريزي فسأتناول مؤلّفيهما عند حديثي عن مشكلة تحرير كتاب الخطط
(7).
قاهرة المقريزيتراجعت مكانة القاهرة بشدّة في العقود الأخيرة للقرن الثّامن الهجري وفي مطلع القرن التّاسع الهجري، فقد وصل الغزو المغولي بقيادة تيمور لنك من جديد إلى مشارف مصر، وتزايدت الأزمات التي بدأت تصيب مصر منذ سنة 776 هـ/ 1374 م فارتفعت الأسعار وكثر الغلاء وطالت مدّته وكثرت الحروب الأهلية والفتن بين أهل الدولة. وقد أرجع المقريزي سبب خراب إقليميّ مصر والشّام في هذا الوقت إلى سوء تدبير الملك النّاصر فرج بن برقوق وقال عنه إنّه كان
--------------------------------------------
আল্লাহর — এবং এটি সাতশ পঁচিশ হিজরি সনে সমাপ্ত হয়েছে»
(১), এবং তিনি «আল-মুকাফফা» গ্রন্থে আরও যোগ করেছেন যে এটি একটি বিশাল কিতাব এবং এর লেখকের মৃত্যু হয়েছে ৭৩০ হিজরি/ ১৩৩০ খ্রিস্টাব্দে
(২)।
মাকরিজি আধা পৃষ্ঠারও বেশি জুড়ে ইবনুল মুতাওয়াজ বর্ণিত ফুসতাতের মানচিত্র, এর গলি, পথ, ছোট প্রবেশদ্বার এবং বাজার ইত্যাদির সংখ্যা উল্লেখ করেছেন
… ইত্যাদি
(৩)। কিন্তু ইবনুল মুতাওয়াজ যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশই বিলুপ্ত ও ধ্বংস হয়ে গেছে «৭৪৯ হিজরির মহামারীতে, তারপর ৭৬১ হিজরির মহামারীতে এবং পরবর্তীতে ৭৭৬ হিজরির দুর্ভিক্ষে»
(৪)। মাকরিজি এবং তাঁর দুই সমসাময়িক কালকাশান্দি ও ইবনে দুকমাক এবং পরবর্তীতে সুয়ূতি তাঁর «হুসনুল মুহাদারা» গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন, তা ছাড়া এই লেখক সম্পর্কে আমরা আর কিছু জানি না
(৫)।
আবু আব্বাস আহমাদ বিন আলী কালকাশান্দি (মৃত্যু ৮২১ হিজরি/ ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দ) এর «সুবহুল আ’শা ফি সিনাআতিল ইনশা» গ্রন্থে ফুসতাত, কায়রো এবং দুর্গের মানচিত্র সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে
(৬) যাতে তিনি পূর্ববর্তী অনেক উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, যার মধ্যে প্রধান হলো আল-কিন্দি, আল-কুদায়ী, আশ-শরিফ আন-নাসসাবাহ, ইবনে আবদুজ জাহির, ইবনুল মুতাওয়াজ এবং ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি।
মাকরিজির দুই সমসাময়িক ইবনে দুকমাক এবং আল-আওহাদি সম্পর্কে আমি তাঁদের গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করার সময় কথা বলব যখন খিতাত গ্রন্থ সম্পাদনার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে
(৭)।
মাকরিজির কায়রোহিজরি অষ্টম শতাব্দীর শেষ দশকগুলোতে এবং নবম শতাব্দীর শুরুতে কায়রোর মর্যাদা চরমভাবে হ্রাস পায়। তিমুর লঙের নেতৃত্বে মঙ্গোল আক্রমণ পুনরায় মিশরের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায় এবং ৭৭৬ হিজরি/ ১৩৭৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে মিশরে সংকট বাড়তে থাকে। ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। সেইসাথে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ এবং বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়। মাকরিজি এই সময়ে মিশর ও শাম অঞ্চলের ধ্বংসের কারণ হিসেবে সুলতান নাসির ফরাজ বিন বারকুকের অপশাসনকে দায়ী করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
«أشأم ملوك الإسلام فإنّه خرّب بسوء تدبيره جميع أراضي مصر وبلاد الشّام»
(1) فقد «طرق ديار مصر الغلاء من سنة ستّ وثمان مائة» حيث عمل أمراؤه على رفع الأسعار وزيادة أجرة أطيان الأراضي وكثرت المظالم الحادثة من الدولة بمصادرة الجمهور وتتبّع أرباب الأموال واحتجاز ما بأيديهم من المال بالقهر والقوة والغلبة
(2).
ويضيف المقريزي أنّه نتيجة لهذا الفساد السّياسي والإداري «خربت الإسكندرية وبلاد البحيرة، وأكثر الشّرقيّة، ومعظم الغربيّة، والجيزية، وتدمّرت بلاد الفيّوم، وعمّ الخراب بلاد الصّعيد
… وتلاشت مدنه كلّها، وخرب من القاهرة وظواهرها زيادة على نصف أملاكها، ومات من أهل إقليم مصر بالجوع والوباء نحو ثلثيّ الناس، وقتل من الفتن بمصر مدّة أيّامه خلائق لا تدخل تحت حصر»
(3).
ومن خلال وصف المقريزي لمدينة القاهرة ومراكز نشاطها الاقتصادي نستطيع أن نلحظ المؤشّرات الأكثر وضوحا على تدهور وضع القاهرة في وقته يقول: «وقد اختلّ حال القصبة وخرب وتعطّل أكثر ما تشتمل عليه من الحوانيت بعد ما كانت مع سعتها تضيق بالباعة فيجلسون على الأرض في طول القصبة بأطباق الخبز وأصناف المعايش ويقال لهم أصحاب المقاعد
… وقد ذهب واللّه ما هناك ولم يبق إلاّ القليل، وفي القصبة عدّة أسواق منها ما خرب ومنها ما هو باق»
(4).
ويشير المقريزي إلى تخرّب سوق المرحّلين بعد حوادث سنة 806 هـ، وكثرة سفر السّلطان فرج بن برقوق إلى محاربة الأمير شيخ والأمير نوروز بالبلاد الشّامية، واستدعاء الوزراء ما تحتاج إليه الجمال من الرّحال والأقتاب دون أن يدفعوا ثمنها أو يدفعوا فيها الشيء اليسير ممّا أدّى إلى اختلال حال المرحّلين وتخرّب معظم حوانيت هذا السّوق
(5). وكذلك إلى تلاشي أمر سوق الرّوّاسين واختلاله
(6)، وإلى خراب أكثر حوانيت سوق حارة برجوان بعد أحداث سنة 806 هـ وزوال كلّ أثر لها وأنّه صار «أوحش من وتد في قاع بعد أن كان الإنسان لا يستطيع أن يمرّ فيه من ازدحام النّاس ليلا ونهارا إلاّ بمشقّة»
(7). ويكرّر المقريزي الحديث عن خراب وتلاشي العديد من
--------------------------------------------
«ইসলামের সুলতানদের মধ্যে সর্বাধিক অশুভ, কারণ তিনি তাঁর অপপ্রশাসনের মাধ্যমে মিসরের সমস্ত ভূখণ্ড ও শাম (সিরিয়া) অঞ্চল ধ্বংস করে দিয়েছেন»
(১) বস্তুত «৮০৬ হিজরি সাল থেকে মিসর ভূখণ্ডে দুর্ভিক্ষ হানা দিয়েছিল» যেখানে তাঁর আমিরগণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং কৃষিজমির কর বাড়ানোর কাজে লিপ্ত ছিল। এছাড়া জনসাধারণের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, বিত্তশালীদের খুঁজে বের করা এবং জবরদস্তি ও ক্ষমতার দাপটে তাদের হস্তগত অর্থ কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে জুলুম-অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েছিল
(২)।
মাকরিজি আরও যোগ করেন যে, এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির ফলে «আলেকজান্দ্রিয়া ও বুহাইরা অঞ্চল, শারকিয়ার অধিকাংশ এলাকা এবং গারবিয়া ও জিজিয়ার অধিকাংশ অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ফাইয়ুম অঞ্চল তছনছ হয়ে যায় এবং উচ্চ মিসরেও ধ্বংসলীলা ছড়িয়ে পড়ে … এর সমস্ত শহর বিলীন হয়ে যায়। কায়রো ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্ধেকেরও বেশি সম্পদ বিনষ্ট হয়। অনাহার ও মহামারীতে মিসরের প্রায় দুই-তৃতয়াংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং তাঁর শাসনামলে মিসরে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে অগণিত মানুষ নিহত হয়, যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়»
(৩)।
কায়রো শহর এবং এর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রসমূহ সম্পর্কে মাকরিজির বর্ণনার মাধ্যমে আমরা তাঁর সময়ে কায়রোর পরিস্থিতির অবনতির অত্যন্ত স্পষ্ট ইঙ্গিতসমূহ লক্ষ্য করতে পারি। তিনি বলেন: «কাসাবাহর (প্রধান কেন্দ্র) অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এর অধিকাংশ দোকানপাট ধ্বংস ও অকেজো হয়ে যায়; অথচ একসময় এটি প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও বিক্রেতাদের ভিড়ে এমনভাবে সংকীর্ণ হয়ে থাকত যে, তারা কাসাবাহর দৈর্ঘ্য বরাবর রুটির থালা ও বিবিধ জীবনোপকরণ নিয়ে মাটিতে বসে থাকত এবং তাদের আসহাবুল মাকায়িদ (আসনধারী) বলা হতো … আল্লাহর কসম! সেখানে যা কিছু ছিল তা বিলীন হয়ে গেছে এবং সামান্যই অবশিষ্ট আছে। কাসাবাহতে বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে, যার কিছু ধ্বংস হয়েছে আর কিছু টিকে আছে»
(৪)।
মাকরিজি ৮০৬ হিজরির ঘটনাবলির পর মুরাহহিলিন (ভ্রমণ সরঞ্জাম বিক্রেতা) বাজারের ধ্বংসের কথা এবং আমির শায়খ ও আমির নওরোজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শাম দেশে সুলতান ফারাজ বিন বারকুকের ঘনঘন সফরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। উজিররা উটের জন্য প্রয়োজনীয় গদি ও জিনের সরঞ্জামাদি তলব করতেন, কিন্তু এর কোনো মূল্য পরিশোধ করতেন না অথবা অতি সামান্যই দিতেন। এর ফলে মুরাহহিলিনদের অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এই বাজারের অধিকাংশ দোকান ধ্বংস হয়ে যায়
(৫)। একইভাবে তিনি রাওয়াসিন (মাথা বিক্রেতা) বাজারের অস্তিত্ব বিলীন ও বিপর্যস্ত হওয়া
(৬) এবং ৮০৬ হিজরির ঘটনাবলির পর হারাত বারজুয়ান বাজারের অধিকাংশ দোকান ধ্বংস হওয়া ও এর চিহ্ণ মুছে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, তা «মরুভূমির জনশূন্য খুঁটির চেয়েও বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে; অথচ এক সময় দিনরাত মানুষের ভিড়ের কারণে সেখানে মানুষ অতি কষ্ট ছাড়া চলাচল করতে পারত না»
(৭)। মাকরিজি বারবার আরও অনেক বাজারের ধ্বংস ও বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أسواق القاهرة التي كانت في القصبة بسبب فقر النّاس وزيادة الغلاء والفوضى التي عمّت في فترة فرج بن برقوق
(1). ويقدّر أبو المحاسن بن تغري بردي أنّ أكثر من نصف القاهرة وظواهرها قد تخرّب في أثناء الغلاء والوباء الذي صاحب أزمة سنة 806 هـ كما فقدت فيه القاهرة نحو ثلثيّ أهلها
(2).
وعلى ذلك فإنّ المقريزي عندما دوّن أغلب مادّة كتابه، والتي كتبها على الأرجح في الفترة ما بين سنتي 818 هـ/ 1415 م و 827 هـ/ 1422 م قبل مجاورته بمكّة، لم يكن قد شاهد مجد القاهرة وعظمتها الذي يوضّحه لنا في كتابه وإنّما عرفه ممّا سمعه من المشائخ أو قرأه في المصادر.
فقد دوّن كتابه بعد أزمة سنة 806 هـ/ 1403 م والفوضى التي عرفتها البلاد في عهد فرج بن برقوق وبعد استبداد الأمير المشير جمال الدين الأستادّار بالأمر وهدمه للكثير من العمائر القديمة واستيلائه عليها وتغيير معالم المنطقة التي نعرفها اليوم بالجماليّة نسبة إليه.
كتب الخطط بعد المقريزيلم تكن لكتب الخطط التي ألّفت بعد المقريزي نفس القيمة التي كانت لمؤلّف المقريزي أو لمؤلّفات سابقيه. فقد فقدت مصر استقلالها بعد الفتح العثماني سنة 923 هـ/ 1517 م وأصبحت مجرّد ولاية في الإمبراطورية العثمانية الواسعة، كما أنّ الكتابة التاريخية تقهّقرت كثيرا ولم يشهد العصر العثماني مؤرّخين يمكن مقارنتهم بالمؤرّخين المصريين الذين ظهروا في آخر العصر المملوكي
(3). كذلك فقد تقهقر وضع مدينة القاهرة فبعد أن كانت عاصمة لدولة قويّة - هي دولة المماليك - أصبحت مجرّد مدينة بين مدن الإمبراطورية العثمانية. واكتفى المؤرّخون باستعادة معلومات خطط المقريزي واختصارها وأحيانا السّطو عليها دون أن يضيفوا إليها شيئا ذا بال حتى ألّف علي مبارك كتابه «الخطط التّوفيقيّة الجديدة» في آخر القرن التاسع عشر.
--------------------------------------------
ফারাজ ইবনে বারকুকের শাসনামলে মানুষের দারিদ্র্য, ক্রমবর্ধমান উচ্চমূল্য এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিশৃঙ্খলার কারণে কায়রোর কাসাবা অঞ্চলের বাজারগুলোর করুণ দশা হয়েছিল
(১)। আবু আল-মাহাসিন ইবনে তাগরি বিরদি অনুমান করেন যে, ৮০৬ হিজরি সনের সংকটের সময়কার উচ্চমূল্য ও মহামারীতে কায়রো এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্ধেকেরও বেশি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। একই সাথে কায়রো তার অধিবাসীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়েছিল
(২)।
এর প্রেক্ষিতে, আল-মাকরিজি যখন তার গ্রন্থের অধিকাংশ তথ্য লিপিবদ্ধ করেন—যা তিনি সম্ভবত ৮১৮ হিজরি/১৪১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮২৭ হিজরি/১৪২২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে মক্কায় বসবাসের আগে লিখেছিলেন—তখন তিনি কায়রোর সেই গৌরব ও মহিমা স্বচক্ষে দেখেননি যা তিনি তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বরং তিনি তা জেনেছিলেন প্রবীণ শায়খদের নিকট থেকে শোনা কথা অথবা বিভিন্ন উৎস গ্রন্থ পাঠ করার মাধ্যমে।
তিনি তার গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন ৮০৬ হিজরি/১৪০৩ খ্রিস্টাব্দের সংকট এবং ফারাজ ইবনে বারকুকের আমলে দেশজুড়ে চলা বিশৃঙ্খলার পরে। এছাড়া আমির মুশির জামাল উদ্দিন আল-উস্তাদারের স্বৈরাচারী শাসন, তার দ্বারা অসংখ্য প্রাচীন অট্টালিকা ধ্বংস ও দখল এবং বর্তমানের জামালিইয়াহ (যা তার নামানুসারেই পরিচিত) অঞ্চলের মানচিত্র পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে তিনি এটি লিখেছিলেন।
আল-মাকরিজির পরবর্তী খিতাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহআল-মাকরিজির পরে রচিত খিতাত বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মান আল-মাকরিজির কাজ বা তার পূর্বসূরিদের রচনার মতো ছিল না। ৯২৩ হিজরি/১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় বিজয়ের পর মিশর তার স্বাধীনতা হারায় এবং বিশাল উসমানীয় সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এর ফলে ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনতি ঘটে। উসমানীয় যুগে এমন কোনো ঐতিহাসিক দেখা যায়নি যাদেরকে মামলুক যুগের শেষ দিকে আবির্ভূত মিশরীয় ঐতিহাসিকদের সাথে তুলনা করা যায়
(৩)। একইভাবে কায়রো শহরের মর্যাদাও হ্রাস পায়। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র—মামলুক সালতানাত—এর রাজধানী থেকে এটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের অসংখ্য শহরের মধ্যে সাধারণ একটি শহরে পরিণত হয়। ঐতিহাসিকরা আল-মাকরিজির খিতাত থেকে তথ্য সংগ্রহ, তার সংক্ষিপ্তকরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোনো উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছাড়াই তা ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আলি মুবারক তার «আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ আল-জাদিদাহ» গ্রন্থটি রচনা করা পর্যন্ত এই স্থবিরতা বজায় ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
والملاحظ أنّه لم توجد مؤلّفات اختصّت بذكر الخطط طوال هذه الفترة سوى ثلاث كتب فقط، بينما ضمّن بعض المؤلّفين مؤلّفاتهم التاريخية فصولا في وصف الخطط مثلما فعل أبو المحاسن يوسف بن تغري بردي تلميذ المقريزي المتوفى سنة 874 هـ/ 1470 م الذي خصّص فصلا في الجزء الرّابع من كتابه «النّجوم الزّاهرة في ملوك مصر والقاهرة» للحديث عن خطط القاهرة وتأسيسها في العصر الفاطمي اعتمد فيه على الأخصّ على كتاب «الرّوضة البهيّة الزّاهرة» لابن عبد الظّاهر
(1)، كما أنّه ضمّن كتابه على امتداد بقيّة أجزائه معلومات هامّة عن العديد من المنشآت الدينية وذات الطّابع الاجتماعي، والتغييرات والتّوسّعات التي طرأت على العاصمة المصرية حتى عصره، ولكنّ الغريب أنّه لا يشير إطلاقا على امتداد كتابه إلى خطط المقريزي!
أمّا المؤلّف صاحب التّصانيف المتنوّعة جلال الدين عبد الرّحمن بن أبي بكر السّيوطي المتوفى سنة 911 هـ/ 1505 م فقد ضمّن كتابه «حسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة» بعض المعلومات الطّبوغرافية عن مصر والقاهرة ومعالمها الأثرية وعلى الأخصّ المساجد الجامعة والمدارس والخوانق ملخّصا ما أورده بشأنها المقريزي في خططه
(2).
وأوّل المؤلّفات المتعلّقة مباشرة بالخطط كتاب يحمل عنوان «التّحفة الفاخرة في ذكر رسوم خطوط القاهرة» ألّفه شخص يدعى آقبغا الخاصّكي - وهو مؤلّف غير معروف لنا - للسّلطان الملك الأشرف فانصوه الغوري. وتحتفظ المكتبة الأهلية في باريس بمخطوطة من هذا الكتاب تحت رقم 2265 عربي
(3) منها مصوّرة في دار الكتب المصرية برقم 152 بلدان تيمور وهي لا تعدو أن تكون نسخة من الجزء الثاني من خطط المقريزي (في طبعة بولاق) الذي يبدأ بذكر الحارات مع بعض الخلافات الضّئيلة في الأسلوب.
وإلى هذه الفترة ترجع رسالة صغيرة لأبي حامد محمد بن عبد الرّحمن المقدسي المصري الشّافعي المتوفى نحو سنة 893 هـ/ 1488 م عنوانها: «الفوائد النّفيسة الباهرة في بيان حكم شوارع القاهرة في مذاهب الأئمّة الأربعة الزّاهرة»، نقل فيه المؤلف الفصل الخاص بذكر بين القصرين في خطط المقريزي نقلا حرفيا. وقد نشرت هذه الرّسالة الدكتورة آمال العمري
--------------------------------------------
লক্ষ্যণীয় যে, এই পুরো সময়কালে ‘খিতাত’ (নগরায়ন ও ভূসংস্থান) সংক্রান্ত আলোচনার জন্য স্বতন্ত্রভাবে রচিত মাত্র তিনটি গ্রন্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; যেখানে কিছু লেখক তাঁদের ঐতিহাসিক রচনাবলীতে খিতাতের বর্ণনায় স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমনটি করেছেন আল-মাকরিজীর ছাত্র আবুল মাহাসিন ইউসুফ বিন তাগরি বারদি (মৃত্যু ৮৭৪ হিজরি/ ১৪৭০ খ্রিষ্টাব্দ)। তিনি তাঁর ‘আন-নুজুমুজ জাহিরা ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরা’ গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডে ফাতেমী আমলের কায়রোর খিতাত ও এর ভিত্তি স্থাপন নিয়ে আলোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন; যেখানে তিনি প্রধানত ইবনে আবদুজ জাহিরের ‘আর-রাওদাতুল বাহিয়্যাতুজ জাহিরা’ গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন
(১)। এছাড়া তিনি তাঁর গ্রন্থের বাকি অংশ জুড়ে বহু ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা এবং তাঁর সময় পর্যন্ত মিসরের রাজধানী কায়রোতে ঘটা পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি তাঁর পুরো গ্রন্থে কোথাও আল-মাকরিজীর খিতাতের কোনো উল্লেখই করেননি!
অন্যদিকে বিচিত্র বিষয়ে গ্রন্থ রচনাকারী জালালুদ্দীন আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি/ ১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর ‘হুসনুল মুহাদারা ফি আখবারি মিসর ওয়াল কাহিরা’ গ্রন্থে মিসর ও কায়রোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ, বিশেষ করে জামে মসজিদ, মাদরাসা ও খানকাহগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা তিনি আল-মাকরিজীর ‘খিতাত’ গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যের সারসংক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করেছেন
(২)।
খিতাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রথম রচনাবলীর মধ্যে একটি গ্রন্থের শিরোনাম হলো ‘আত-তুহফাতুল ফাখিরা ফি জিকরি রুসুমি খুতুতি কাহিরা’। এটি আমাদের কাছে অপরিচিত জনৈক আকবুগা আল-খাসসাকি নামক ব্যক্তি সুলতান আল-মালিক আল-আশরাফ কানসুহ আল-গৌরীর জন্য রচনা করেছিলেন। প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এই গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি ২২৬৫ আরবি নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে
(৩), যার একটি ছায়ালিপি মিসরের দারুল কুতুবে ১৫২ ‘বালদান তৈমুর’ নম্বরে রক্ষিত আছে। এটি মূলত আল-মাকরিজীর খিতাত (বুলাক সংস্করণ)-এর দ্বিতীয় খণ্ডের একটি অনুলিপি মাত্র, যা শৈলীগত সামান্য কিছু পার্থক্যসহ ‘হারাত’ (মহল্লা) সমূহের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে।
আর এই সময়েরই আবু হামিদ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-মাকদিসি আল-মিসরি আশ-শাফেয়ীর (মৃত্যু প্রায় ৮৯৩ হিজরি/ ১৪৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা পাওয়া যায়, যার শিরোনাম হলো: ‘আল-ফাওয়ায়িদুল নাফিসাতুল বাহিরা ফি বায়ানু হুকমি শাওয়ারিউল কাহিরা ফি মাজাহিবিল আইম্মাতিল আরবাআতিুজ জাহিরা’। এতে লেখক আল-মাকরিজীর খিতাত থেকে ‘বাইনাল কাসরাইন’ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদটি হুবহু নকল করেছেন। এই পুস্তিকাটি ডক্টর আমাল আল-ওমারি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وصدرت في القاهرة عن هيئة الآثار المصرية سنة 1988. وأبو حامد المقدسي هو مؤلّف كتاب «الفضائل الباهرة في محاسن مصر والقاهرة» الذي نسبه ناشراه خطأ إلى ابن ظهيرة، كما أثبت ذلك الأستاذ مايكل كوك اعتمادا على نسخة في مكتبة غوطا
(1).
والمؤلّف الثاني هو كتاب «قطف الأزهار من الخطط والآثار» لشمس الدّين أبي عبد اللّه محمّد ابن محمّد بن أبي السّرور البكري المتوفي سنة 1060 هـ/
(2) 1650 ذكر في مقدّمته أنّه لمّا طالع كتاب الخطط للمقريزي رآه «أسهب فيه غاية الإسهاب وأطنب فيه غاية الإطناب ولم يرتّبه ترتيبا يسهل منه الكشف لما يريد الطّالب»
(3) وهو بذلك اختصار لخطط المقريزي رتّبه مؤلّفه على ترتيب أصل كتاب المقريزي فيما عدا الباب الثّامن الخاصّ «بذكر الفسطاط وفتح مصر وأخطاطها» فقد أضاف إليه «ذكر بكربكية مصر إلى آخر زمن الوزير أيّوب باشا وذكر فتحها على يد مولانا السّلطان سليم خان مع غاية الاختصار وخاتمة تجمع قضاة مصر إلى آخر مدّة المرحوم المولى زين العابدين أفندي المتوفى بمصر في شوّال سنة ستّ وخمسين وألف وذلك من زيادتي لتتمّ فائدة المختصر»
(4). والنّسخة المحفوظة من الكتاب في دار الكتب المصرية برقم 457 جغرافيا مليئة بالأخطاء الإملائية وبأوهام النّاسخ وخاصّة في أسماء المواضع والمصطلحات كبقيّة نسخ خطط المقريزي نفسها، وكذلك النّسخة رقم 53 بلدان تيمور
(5).
أمّا الكتاب الثّالث فهو مختصر أيضا لخطط المقريزي عنوانه «الرّوضة البهيّة في تلخيص كتاب المواعظ والاعتبار المقريزية» منه نسخة بخطّ مختصره أحمد الحنفي المعروف بالبوح - وهو مؤلّف غير معروف لنا أيضا - في مكتبة غوطا برقم 1638 وهي تحوي اختصار المؤلّف لقسم من خطط المقريزي يبدأ من أوّل الكتاب وينتهي بالكلام على مدينة رعماس
(6).
--------------------------------------------
এটি ১৯৮৮ সালে কায়রোর মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। আর আবু হামিদ আল-মাকদিসি হলেন 'আল-ফাদায়িল আল-বাহিরা ফি মাহাসিন মিসর ওয়াল কাহিরা' গ্রন্থটির লেখক, যা এর দুই প্রকাশক ভুলবশত ইবনে জুহাইরার কাজ বলে উল্লেখ করেছিলেন; যেমনটি প্রফেসর মাইকেল কুক ঘোটা লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রমাণ করেছেন
(১)।
দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ বিন আবিস সুরুর আল-বাকরি (মৃত্যু ১০৬০ হিজরি/ ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দ) রচিত 'কাতফুল আজহার মিনাল খিতাত ওয়াল আসার'
(২)। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি আল-মাকরিজির 'খিতাত' গ্রন্থটি পাঠ করেন, তখন তিনি একে 'অত্যন্ত বিস্তারিত ও অতিমাত্রায় দীর্ঘায়িত' হিসেবে দেখতে পান এবং এটি এমনভাবে বিন্যস্ত নয় যা একজন জ্ঞানপিপাসুর জন্য তার কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ করে'
(৩)। ফলে এটি আল-মাকরিজির 'খিতাত'-এর একটি সংক্ষিপ্তসার, যা লেখক আল-মাকরিজির মূল গ্রন্থের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন, তবে অষ্টম অধ্যায়টি এর ব্যতিক্রম যা 'ফুস্তাতের বিবরণ, মিশর বিজয় এবং এর এলাকাগুলোর বিন্যাস' সংক্রান্ত। তিনি এতে আরও যোগ করেছেন 'উজির আইয়ুব পাশার শেষ সময় পর্যন্ত মিশরের বকরবকিয়্যাহ শাসন এবং আমাদের মওলানা সুলতান সেলিম খানের হাতে মিশর বিজয়ের অতি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং একটি পরিশিষ্ট যা মিশরের বিচারকদের ইতিহাস তুলে ধরে মরহুম মওলা জয়নুল আবেদিন এফেন্দির শেষ সময় পর্যন্ত, যিনি ১০৫৬ হিজরির শাওয়াল মাসে মিশরে ইন্তেকাল করেন। আর এটি আমার পক্ষ থেকে একটি অতিরিক্ত সংযোজন যাতে এই সংক্ষিপ্তসারটির উপযোগিতা পূর্ণ হয়'
(৪)। মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) ৪৫৭ নম্বর ভৌগোলিক পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত গ্রন্থটি বানান ভুল এবং অনুলিপিকারের বিভ্রান্তিতে পূর্ণ, বিশেষ করে স্থানের নাম এবং পরিভাষার ক্ষেত্রে, যেমনটি আল-মাকরিজির খিতাত-এর অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। একইভাবে তৈমুর লাইব্রেরির ৫৩ নম্বর ভৌগোলিক পাণ্ডুলিপিটিও ত্রুটিপূর্ণ
(৫)।
তৃতীয় বইটি হলো আল-মাকরিজির 'খিতাত'-এর আরেকটি সংক্ষিপ্তসার যার শিরোনাম 'আর-রাওদাতুল বাহিয়্যাহ ফি তালখিস কিতাব আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার আল-মাকরিজিয়্যাহ'। এর একটি পাণ্ডুলিপি এর সংক্ষেপকারী আহমদ আল-হানাফি (যিনি আল-বুহ নামে পরিচিত এবং আমাদের নিকট অপরিচিত একজন লেখক) এর স্বহস্তে লিখিত, যা ঘোটা লাইব্রেরিতে ১৬৩৮ নম্বরে সংরক্ষিত। এটি আল-মাকরিজির খিতাত-এর একটি অংশের লেখক কর্তৃক করা সংক্ষিপ্ত রূপ যা গ্রন্থের শুরু থেকে শুরু হয়ে রা'মাস শহর সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولا يقابلنا طوال القرنين السّابع عشر والثّامن عشر من ألّف في موضوع الخطط حتى إذا وصلنا إلى نهاية القرن الثامن عشر ووصول الحملة الفرنسية إلى مصر نجد علماء الحملة يؤلّفون كتابهم الضّخم «وصف مصر» La Description de I'Egypte الذي يعدّ أهم كتاب في تاريخ مصر في نهاية العصر الحديث. وقد وضع اثنان من علماء الحملة قسمين هامّين من الكتاب: «وصف مدينة القاهرة وقلعة الجبل» لإدم فرانسوا جومار
(1) Edme Francois Jomard و «مذكرات عن جزيرة الرّوضة والمقياس» لمارسيل. J.Marcel
ويمثّل وصف القاهرة وقلعة الجبل لجومار تطوّرا هامّا في تاريخ كتابة الخطط المصرية فهو في هذه المرّة وصف لمشاهدة أجنبي زار المدينة وزوّد بجميع الإمكانات التي تتيح له تقديم وصف دقيق للمدينة ورفع لأهمّ معالمها الأثرية ورسم تصويري لهذه المعالم.
والميزة الأساسية لوصف جومار والتي تجعل منه مؤلّفا متميّزا في سلسلة الكتب المتعلّقة بتاريخ الخطط المصرية أنّه تسجيل ووصف لحالة مدينة القاهرة ولقلعة الجبل في سنوات بأعيانها هي الثّلاث سنوات التي أمضتها الحملة الفرنسية في مصر، بل بالتحديد وصف لحالة هذه المدينة خلال شهرين يبدءان من يوم 10 ديسمبر سنة 1799 وينتهيان في أواسط فبراير سنة 1800 م، وهي الفترة التي قام فيها جومار بجولته في القاهرة لتسجيل معالم المدينة على الخريطة التي وضعها المهندسون الجغرافيون المصاحبون للحملة، بالإضافة إلى الرّفع الهندسي لهذه المعالم والرّسم التّصويري لها.
وعلى ذلك فإنّه لأوّل مرّة تصحب الوصف الطّبوغرافي لمدينة القاهرة خريطة تفصيلية - هي الأولى من نوعها - مثبت عليها حدود المدينة وشوارعها الرئيسة والجانبية وأهمّ معالمها نحو سنة 1800 م مع شرح لما جاء على هذه الخريطة.
وترجع أهميّة هذه الخريطة كذلك إلى أن تغييرا كبيرا كان قد طرأ على شكل مدينة القاهرة وعلى مقرّ الحكم في القلعة منذ وصف المقريزي في القرن التاسع/ الخامس عشر، كما أنّ تغييرا آخر تعرضّت له المدينة ومقرّ الحكم بعد وصف جومار في نهاية القرن الثامن عشر حيث خرّب الفرنسيون وأزالوا الكثير من المواضع التي ورد ذكرها في وصف الحملة نفسه، ثم على يد محمّد عليّ باشا وأبنائه، وخاصّة إسماعيل، حيث فتحت طرق كثيرة أدّت إلى زوال العديد من نقاط
--------------------------------------------
সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতাব্দী জুড়ে আমাদের সামনে এমন কোনো লেখকের নাম আসে না যিনি খিতাত (নগর-ইতিহাস ও ভূগোল) বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন। অবশেষে যখন আমরা অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং মিশরে ফরাসি অভিযানের আগমনে উপনীত হই, তখন আমরা দেখতে পাই সেই অভিযানের পণ্ডিতগণ তাদের বিশাল গ্রন্থ ‘ওয়াসফু মিসর’ (মিশর বর্ণনা) বা 'La Description de l'Egypte' রচনা করছেন, যা আধুনিক যুগের শেষভাগে মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই হিসেবে বিবেচিত হয়। উক্ত অভিযানের দুজন পণ্ডিত গ্রন্থটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রণয়ন করেছেন: এদমে ফ্রাঁসোয়া জোমার্ড
(১) কর্তৃক ‘কায়রো শহর ও পার্বত্য দুর্গের বর্ণনা’ এবং জে. মার্সেল কর্তৃক ‘রওজা দ্বীপ ও মিকইয়াস (নীলমানক) সংক্রান্ত স্মৃতিকথা’।
জোমার্ডের কায়রো এবং পার্বত্য দুর্গের বর্ণনা মিশরীয় খিতাত রচনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। কারণ, এটি ছিল এমন একজন বিদেশীর প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা যিনি শহরটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং তাকে এমন সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল যা তাকে শহরের একটি নিখুঁত বিবরণ প্রদান, এর প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর পরিমাপ নির্ধারণ এবং এই নিদর্শনগুলোর সচিত্র নকশা অঙ্কন করতে সক্ষম করে তুলেছিল।
জোমার্ডের বর্ণনার মূল বৈশিষ্ট্য—যা তাকে মিশরীয় খিতাতের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত গ্রন্থগুলোর ধারায় একটি স্বতন্ত্র রচনা হিসেবে গণ্য করে—তা হলো এটি কায়রো শহর এবং পার্বত্য দুর্গের একটি নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থার বিবরণ ও নথিভুক্তকরণ; আর তা হলো সেই তিন বছর যা ফরাসি অভিযান মিশরে অতিবাহিত করেছিল। বরং আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, এটি ১৭৯৯ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৮০০ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত—এই দুই মাস সময়ের শহরটির অবস্থার বর্ণনা। এটি সেই সময় যখন জোমার্ড কায়রো ভ্রমণে বের হয়েছিলেন যাতে অভিযানের সাথে আসা ভৌগোলিক প্রকৌশলীদের তৈরি মানচিত্রে শহরের নিদর্শনগুলো নথিবদ্ধ করা যায়, পাশাপাশি এই নিদর্শনগুলোর জ্যামিতিক পরিমাপ এবং সচিত্র নকশা তৈরি করা যায়।
ফলস্বরূপ, এই প্রথমবারের মতো কায়রো শহরের ভূ-সংস্থানিক বর্ণনার সাথে একটি বিস্তারিত মানচিত্র সংযুক্ত হয়—যা ছিল তার ধরনের মধ্যে প্রথম—যাতে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ শহরের সীমানা, এর প্রধান ও পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলো এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনসমূহ চিহ্নিত করা ছিল এবং এই মানচিত্রে যা যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার ব্যাখ্যাও ছিল।
এই মানচিত্রের গুরুত্ব এই কারণেও যে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে (নবম হিজরি) মাকরিজীর বর্ণনার পর থেকে কায়রো শহরের অবয়ব এবং দুর্গের শাসনকেন্দ্রে এক বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। একইভাবে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে জোমার্ডের বর্ণনার পরেও শহর ও শাসনকেন্দ্রটি অন্য এক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়; কেননা ফরাসিরা খোদ অভিযানের বর্ণনায় উল্লিখিত অনেক স্থান ধ্বংস ও বিলুপ্ত করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে মুহাম্মদ আলী পাশা এবং তাঁর সন্তানদের, বিশেষ করে ইসমাইলের আমলে অনেক রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়, যার ফলে অনেক নিদর্শন বিলুপ্ত হয়ে যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الاستدلال التي عينها سواء المقريزي أو جومار، كما ردمت أغلب برك القاهرة
(1).
وإذا كانت الخرائط المفصّلة التي رسمها الفرنسيون لأحياء القاهرة موضّحين عليها معالمها وطرقاتها وآثارها التي كانت قائمة في سنة 1800 م هي الأولى من نوعها وكانت نقطة الانطلاق لأعمال رسّامي الخرائط الذين رسموا خرائط للقاهرة في أيّام محمّد عليّ باشا وخلفائه، فيحقّ لنا أن نتساءل إذا كانت هناك محاولات لرسم خرائط للقاهرة سابقة على خريطة الحملة؟
لقد أثبت جان كلود جارسان بأدلّة قاطعة أنّ أوّل خريطة وضعت للقاهرة ووصلت إلينا رسمها شخص يرمز له بالحرفين. r.d في زمن السّلطان قايتباي في أواخر القرن التاسع/ الخامس عشر، أي بعد وفاة المقريزي بأقلّ من نصف قرن. وقد طبعت هذه الخريطة التي تعرف باسم خريطة Matheo Pagano لأوّل مرّة سنة 1549 م في فينسيا ثم أعيد طبعها مرّة ثانية في سنة 1574 م
(2). وتوصّلت الباحثة سيلفي دينوا Sylvie Denoix بعد أن قابلت هذه الخريطة على خريطة كتاب «وصف مصر» وعلى الوصف الطّبوغرافي الذي قدّمه المقريزي في أواسط القرن التاسع الهجري في كتابه «الخطط» إلى أنّ هذه الخريطة صالحة للاستخدام في عمومها
(3).
ومن أهمّ المصادر التي تناولت خطط القاهرة في القرن التاسع عشر كتاب «عجائب الآثار في التّراجم والأخبار» المعروف ب «تاريخ الجبرتي» لمؤلّفة عبد الرّحمن بن حسن الجبرتي المتوفي سنة 1237 هـ/ 1822 م. والجبرتي ليس من كتّاب الخطط مثل المقريزي، ولكنّه في أثناء وصفه أحداث القاهرة أو عند حديثه على رجال عصره، كان يجعل تعيين المواقع والأماكن ظاهرة واضحة في سطوره بحيث أنّنا نستطيع من خلال روايته أن نصوّر معالم القاهرة ونتعرّف على خططها وأحيائها المعاصرة رغم أنّه لا يحدّدها تحديدا دقيقا كما يفعل كتّاب الخطط
--------------------------------------------
মাকরিজি কিংবা জোমার্ট কর্তৃক নির্ধারিত নিদর্শনসমূহ, যেমনটি কায়রোর অধিকাংশ জলাশয় ভরাট করে ফেলা হয়েছিল
(১)।
১৮০০ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যমান কায়রোর এলাকাগুলোর যে বিস্তারিত মানচিত্র ফরাসিরা অঙ্কন করেছিল—যাতে তারা শহরটির নিদর্শনসমূহ, রাস্তাঘাট এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছিল—সেটি যদি তার ধরনের প্রথম মানচিত্র হয় এবং মুহাম্মদ আলী পাশা ও তাঁর উত্তরসূরিদের আমলে কায়রোর মানচিত্র অঙ্কনকারী মানচিত্রকারদের কাজের সূচনা বিন্দু হয়ে থাকে, তবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, ফরাসি অভিযানের মানচিত্রের পূর্বে কি কায়রোর মানচিত্র অঙ্কনের কোনো প্রচেষ্টা ছিল?
জঁ ক্লদ গারসিন অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, কায়রোর জন্য তৈরি করা প্রথম মানচিত্র যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা সুলতান কায়েতবে-র শাসনামলে নবম হিজরি/পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে অঙ্কিত হয়েছিল। এটি এমন একজন ব্যক্তি অঙ্কন করেছিলেন যার নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল r.d। অর্থাৎ, মাকরিজির মৃত্যুর পর আধা শতাব্দীরও কম সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন হয়। 'মাথিও পাগানো' (Matheo Pagano) নামে পরিচিত এই মানচিত্রটি প্রথমবার ১৫৪৯ খ্রিস্টাব্দে ভেনিসে মুদ্রিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৫৭৪ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার মুদ্রিত হয়
(২)। গবেষক সিলভি ডেনোয়া (Sylvie Denoix) এই মানচিত্রটিকে 'ডেসক্রিপশন ডি ল'ইজিপ্ট' (Description de l'Égypte - মিশরের বর্ণনা) বইয়ের মানচিত্র এবং নবম হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মাকরিজি তাঁর 'আল-খিতাত' গ্রন্থে যে ভূ-সংস্থানিক বর্ণনা দিয়েছেন তার সাথে তুলনা করার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই মানচিত্রটি সাধারণভাবে ব্যবহারের জন্য উপযোগী
(৩)।
উনবিংশ শতাব্দীতে কায়রোর নগর-বিন্যাস (খিতাত) নিয়ে আলোচনা করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো ১২৩৭ হিজরি/১৮২২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণকারী আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আল-জাবারতির লেখা 'আজায়িবুল আসার ফিত তারাজিম ওয়াল আখবার' গ্রন্থটি, যা 'জাবারতির ইতিহাস' নামে পরিচিত। জাবারতি মাকরিজির মতো প্রথাগত 'খিতাত' বা নগর-বিন্যাস লেখক ছিলেন না। তবে কায়রোর ঘটনাবলি বর্ণনা করার সময় কিংবা তাঁর সমসাময়িক ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি স্থান ও অবস্থানগুলোর বর্ণনা তাঁর লেখনীতে এত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতেন যে, তাঁর বর্ণনার মাধ্যমে আমরা তৎকালীন কায়রোর নিদর্শনসমূহ চিত্রিত করতে পারি এবং সমসাময়িক পাড়া ও এলাকাগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। যদিও তিনি খিতাত লেখকদের মতো সেগুলো নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওয়ায়িয ওয়াল ইতিবার ফী যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার - তে আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المتخصّصين، لأنّه غني فقط بذكر ما شيّد أو خرّب أو غيّرت معالمه بالقاهرة من مساجد وقصور وأسبلة في الفترة التي عاصرها
(1).
ويختتم هذه السّلسلة الطّويلة من كتب الخطط المصرية كتاب «الخطط التّوفيقية الجديدة لمصر القاهرة ومدنها وبلادها القديمة والشّهيرة» لعلي باشا مبارك الذي طبع بين سنتي 1305 هـ/ 1888 م و 1306 هـ/ 1889 م.
وقد بنى علي مبارك كتابه على «خطط» المقريزي وجعلها مرشدة الأوّل ومصدره الذي لا ينضب في التعريف والابتداء
(2) وجعل همّه تتبّع الخطط والمعالم والآثار طوال القرون الأربعة التي تفصل بينه وبين سلفه العظيم، وأن يصل حاضر خطط القاهرة بماضيها
(3). ورغم الجهد الكبير الذي بذله على مبارك في كتابه والذي وسّع إطاره ليشمل جميع المدن والقرى المصرية مع الترجمة لكثير من أعيانها في مختلف العصور، فالفرق شاسع بين ما دوّنه على مبارك في نهاية القرن التاسع عشر الميلادي وبين ما دوّنه المقريزي في القرن التاسع الهجري/ الخامس عشر الميلادي، فكتاب المقريزي ينبض بالحياة ويتميّز بالدّقّة بعكس كتاب علي مبارك الذي نقل أغلب كتاب المقريزي وأضاف إلى كلّ معلم ما صار إليه في وقته ولكن دون رابطة تربط هذا الوصف وتصل أنحاءه. وقد تمكّن علي مبارك من الرّجوع إلى عدد كبير من كتب الوقف وعقود الأملاك استطاع من خلالها استخراج صور خطط القاهرة وأحيائها في العصر الإسلامي من خططها ومعالمها المعاصرة، وتقدير الأبعاد والمسافات التي تحدّد الكثير من هذه الآثار المندرسة.
ورغم أنّ علي مبارك اطّلع على وصف الحملة الفرنسية وكان هو نفسه مهندسا درس الهندسة في فرنسا فقد جاء وصفه للخطط خاليا من أيّة خريطة توضيحية خاصّة وأنّ كتابه تتعذّر الاستفادة منه الاستفادة الحقّة في غياب هذه الخرائط التوضيحية.
وتحتفظ دار الكتب المصرية بالجزء الثاني من مخطوطة عنوانها «نزهة الأبصار في خطط مصر القاهرة وما فيها من الآثار» وهي بخطّ مؤلّفها حسين وفائي المعروف بوفائي الحكيم كتبها سنة 1336 هـ ومحفوظة تحت رقم 1687 ط. وهذا الكتاب على شكل جداول تشرح أسماء
--------------------------------------------
বিশেষজ্ঞদের জন্য, কারণ এটি কেবল তাঁর সমসাময়িককালে কায়রোতে নির্মিত, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা যার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়েছে এমন মসজিদ, প্রাসাদ এবং পানীয় সরবরাহ কেন্দ্রের বর্ণনায় সমৃদ্ধ
(১)।
মিশরীয় মানচিত্র ও জনপদ বিবরণী (খিতাত) বিষয়ক বইগুলোর এই দীর্ঘ ধারার সমাপ্তি ঘটে আলী পাশা মুবারকের 'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ আল-জাদিদাহ লি-মিসর আল-কাহিরা ওয়া মুদুনিহা ওয়া বিলাদিহা আল-কাদিমা ওয়া আল-শাহীরা' গ্রন্থের মাধ্যমে, যা ১৩০৫ হিজরি/ ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩০৬ হিজরি/ ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মুদ্রিত হয়েছিল।
আলী মুবারক তাঁর গ্রন্থটি মাকরিযীর 'খিতাত'-এর ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন এবং একে তাঁর প্রাথমিক নির্দেশিকা ও পরিচিতি ও প্রারম্ভের ক্ষেত্রে এক অফুরন্ত উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন
(২)। তাঁর লক্ষ্য ছিল তাঁর এবং তাঁর মহান পূর্বসূরির মধ্যবর্তী চার শতাব্দীর মানচিত্র, নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্বগুলো অনুসরণ করা এবং কায়রোর বর্তমান মানচিত্রকে অতীতের সাথে সংযুক্ত করা
(৩)। যদিও আলী মুবারক তাঁর গ্রন্থে ব্যাপক শ্রম দিয়েছেন এবং এর পরিধি বিস্তৃত করে মিশরের সকল শহর ও গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বিভিন্ন যুগের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী উল্লেখ করেছেন, তবুও উনবিংশ শতাব্দীর শেষে আলী মুবারকের লিপিবদ্ধ করা বিবরণ এবং নবম হিজরি/ পঞ্চদশ শতাব্দীতে মাকরিযীর লিপিবদ্ধ করা বিবরণের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা মাকরিযীর গ্রন্থটি প্রাণবন্ত এবং সূক্ষ্মতায় অনন্য, পক্ষান্তরে আলী মুবারকের গ্রন্থটি এর বিপরীত, যিনি মাকরিযীর গ্রন্থের অধিকাংশ বিষয়ই উদ্ধৃত করেছেন এবং প্রতিটি নিদর্শনের বর্ণনায় তাঁর সময়ের অবস্থা যুক্ত করেছেন, কিন্তু সেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র বা সমন্বয় নেই। তবে আলী মুবারক বিপুল সংখ্যক ওয়াকফনামা এবং মালিকানা দলিল পর্যালোচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি সমকালীন মানচিত্র ও নিদর্শনসমূহ থেকে ইসলামী যুগের কায়রোর মানচিত্র ও পাড়াগুলোর চিত্র উদ্ধার করতে এবং এই বিলুপ্ত নিদর্শনগুলোর অনেকগুলোর পরিমাপ ও দূরত্ব নিরূপণ করতে সক্ষম হন।
যদিও আলী মুবারক ফরাসি অভিযানের বিবরণগুলো দেখেছিলেন এবং নিজে একজন প্রকৌশলী হিসেবে ফ্রান্সে প্রকৌশল বিদ্যা অধ্যয়ন করেছিলেন, তবুও তাঁর মানচিত্রের বিবরণ কোনো ব্যাখ্যামূলক মানচিত্র ছাড়াই উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে এই ব্যাখ্যামূলক মানচিত্রের অভাবে তাঁর গ্রন্থটি থেকে প্রকৃত সুফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।
আর মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার বা দারুল কুতুব আল-মিসরীয়্যাহ-তে 'নুযহাতুল আবসার ফি খিতাত মিসর আল-কাহিরা ওয়া মা ফিহা মিনাল আসার' শিরোনামের একটি পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় খণ্ড সংরক্ষিত আছে। এটি এর লেখক হুসাইন ওয়াফায়ী, যিনি ওয়াফায়ী আল-হাকিম নামে পরিচিত, তাঁর নিজ হাতে লেখা। তিনি এটি ১৩৩৬ হিজরিতে লিখেছিলেন এবং এটি ১৬৮৭ ত. নম্বরে সংরক্ষিত। এই বইটি ছক আকারে বিভিন্ন নামের ব্যাখ্যা প্রদান করে...
--------------------------------------------