(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: -)
حديث عيسى بن مريم والطير والضب لعبد الرحمن المقدسي   (بهاء الدين المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حديث عيسى بن مريم وحديث الطير مع أبي بكر وحديث الضب مع النبي - مخطوط

المؤلف: عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد، أبو محمد بهاء الدين المقدسي (ت 624هـ)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 11

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবদুর রহমান আল-মাকদিসি রচিত ঈসা ইবনে মারইয়াম, পাখি এবং গুইসাপের হাদিস   (বাহাউদ্দিন আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: ঈসা ইবনে মারইয়ামের হাদিস, আবু বকরের সাথে পাখির হাদিস এবং নবীর সাথে গুইসাপের হাদিস - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ، আবু মুহাম্মদ বাহাউদ্দিন আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬২৪ হিজরি)

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি

[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: حديث عيسى بن مريم وحديث الطير مع أبي بكر وحديث الضب مع النبي - مخطوط

المؤلف: عبد الرحمن بن إبراهيم المقدسي

المتوفى: 624 هـ
গ্রন্থ: ঈসা ইবনে মারইয়ামের হাদিস, আবু বকরের সাথে পাখির হাদিস এবং নবীর সাথে গুঁইসাপের হাদিস - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম আল-মাকদিসি

মৃত্যু: ৬২৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১)
-ق1ب-

 

جزء فيه

حديث عيسى بن مريم عليه السلام

وحديث الطير مع أبي بكر الصديق

وحديث الضب مع النبي صلى الله عليه وسلم

وفيه أيضا حكايات نقلتها من الجزء الأول من السمرقندي

 

رواية الشيخ الإمام العالم الأوحد بهاء الدين أبو محمد عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد المقدسي عن أبي الحسن عبد الحق بن عبد القادر بن محمد بن يوسف عن محمد بن المختار بن المؤيد بأصبهان (غير واضح) صاحبه عبد الله بن عبد الحميد بن أحمد بن أبي عطاف
-১খ-

 

একটি অংশ যাতে রয়েছে

ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিস

আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে পাখির হাদিস

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে গুঁইসাপের হাদিস

এতে আরও রয়েছে কিছু কাহিনী যা আমি সমরকন্দির প্রথম খণ্ড থেকে সংগ্রহ করেছি

 

শাইখ, ইমাম, অনন্য আলেম বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-মাকদিসি-র বর্ণনা; তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আব্দুল হক বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি ইসফাহানে মুহাম্মদ বিন আল-মুখতার বিন আল-মুয়াইয়্যাদ (অস্পষ্ট) থেকে, এর সহযোগী আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামিদ বিন আহমদ বিন আবি আত্তাফ।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ২)
-ق2أ-

بسم الله الرحمن الرحيم وبه نستعين

 

1- روى أن الله جل وعلا أوحى إلى عيسى عليه السلام أن لي أمة تكون رفيقتك في الجنة فقال يا رب دلني إليها قال فدله إليها فوجد عيسى امرأة ليس لها يدان ولا رجلان ولا عينان قال فسلمت عليها فردت السلام فقال لها كيف تعيشين فقالت: يا عيسى لو كانت لي يدان لربما جمعت بهما الحلال والحرام ثم شهدتا علي يوم القيامة ولو كانت لي عينان نظرت بهما إلى زخارف الدنيا وحوسبت عليها في القيامة ولو كانت لي رجلان لسعت بهما إلى المعاصي والشهوات، ثم شهدتا علي يوم القيامة فقال لها عيسى ألك حاجة قالت المغفرة ولست إليك فقال حاجة أخرى فقال إن لي ابنا يدلني على الوضوء والصلاة، أسال الله أن يعطني أجره

-ق2ب-

قال عيسى فودعتها ومشيت وإذا أنا بشباب جماعة يبكون فقلت لهم ما لكم فقالوا إن لهذه المرأة الزمنة المكفوفة ابنا كان معنا فذهب به الذئب؛ قال فرجعت إليها فقلت يا أمة الله أعظم الله أجرك في ولدك قد أخذه الذئب فقالت الحمد لله الذي رفع عني مؤنة غسله وكفنه ودفنه ورحم ضعفي وحيلتي، فقال عيسى حق لك أن تكوني رفيقة الأنبياء، فقالت ومن أين لك يا عيسى قال أخبرني ربي به قال فشهقت شهقةً عظيمة وخرت ميتة، قال عيسى فواريتها بالتراب وتعجبت برضاها وانقيادها الأحكام بحبوتها (كذا بالأصل) ومطلوبها هـ.

لحاني العاذلون فقلت مهلا ****** فإني لا أرى في الحب عارا

وقالوا قد خلعت فقلت لسنا **** بأول خالع خلع العذارا
-প২অ-

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

 

১- বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ওহি প্রেরণ করলেন যে, নিশ্চয়ই আমার এমন এক বান্দী রয়েছে যে জান্নাতে আপনার সঙ্গী হবে। তিনি আরজ করলেন, হে রব! আমাকে তার সন্ধান দিন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তার সন্ধান দিলেন। ঈসা (আলাইহিস সালাম) এমন এক মহিলাকে দেখতে পেলেন যার হাত নেই, পা নেই এবং চোখও নেই। তিনি তাকে সালাম দিলেন, সে সালামের উত্তর দিল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে জীবন অতিবাহিত করছেন? সে বলল: হে ঈসা! যদি আমার হাত থাকত, তবে হয়তো আমি তা দিয়ে হালাল ও হারাম উভয়ই সংগ্রহ করতাম, অতঃপর কিয়ামতের দিন সেই হাত দুটি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিত। যদি আমার চোখ থাকত, তবে আমি তা দিয়ে দুনিয়ার চাকচিক্যের দিকে দৃষ্টিপাত করতাম এবং কিয়ামতের দিন সেই বিষয়ে আমার হিসাব গ্রহণ করা হতো। আর যদি আমার পা থাকত, তবে আমি তা দিয়ে পাপাচার ও কুপ্রবৃত্তির দিকে ধাবিত হতাম, অতঃপর কিয়ামতের দিন তারা আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিত। ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন, আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে? সে বলল, আমি ক্ষমা চাই, তবে তা আপনার কাছে নয়। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, অন্য কোনো প্রয়োজন? সে বলল, আমার একটি পুত্র আছে যে আমাকে ওজু ও নামাজের ক্ষেত্রে পথ দেখায়, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তার (সেবার) প্রতিদান দান করেন।

-প২ব-

ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলেন, অতঃপর আমি তাকে বিদায় জানিয়ে চলতে শুরু করলাম। হঠাৎ আমি একদল যুবককে দেখতে পেলাম যারা ক্রন্দন করছিল। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করলাম, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, এই পঙ্গু ও দৃষ্টিহীন মহিলার একটি পুত্র ছিল যে আমাদের সাথে ছিল, কিন্তু তাকে নেকড়ে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, অতঃপর আমি মহিলার কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর বান্দী! আপনার সন্তানের বিপদে আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাকে নেকড়ে নিয়ে গেছে। সে বলল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তার গোসল, কাফন ও দাফনের কষ্ট ও দায়িত্ব আমার ওপর থেকে লাঘব করেছেন এবং আমার দুর্বলতা ও উপায়হীনতার প্রতি দয়া করেছেন। ঈসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনার জন্য এটাই যথার্থ যে আপনি নবীদের সাথী হবেন। সে বলল, হে ঈসা! আপনি এটি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন, আমার রব আমাকে এই সংবাদ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে এক দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করল এবং মাটিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করল। ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলেন, অতঃপর আমি তাকে দাফন করলাম এবং তার সন্তুষ্টি, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি আনুগত্য এবং তার অভীষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য দেখে বিস্মিত হলাম।

নিন্দুকেরা আমাকে তিরস্কার করল, আমি বললাম, ক্ষান্ত হও; কারণ আমি ভালোবাসার মধ্যে কোনো কলঙ্ক দেখি না।

তারা বলল, তুমি তো লোকলজ্জার আবরণ ত্যাগ করেছ; আমি বললাম, আমিই প্রথম ব্যক্তি নই যে লোকলজ্জার পোশাক ছুড়ে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৩)
-ق3أ-

حكاية الطب

2- أخبرنا محمد بن المختار بن محمد بن المؤيد بالله إجازة قال حدثنا أبو طالب محمد بن علي بن الفتح الحربي رحمه الله قال حدثنا أبو حفص عمر بن أحمد بن شاهين قال حدثنا محمد بن عبد الأعلى الصنعاني قال حدثنا معتمر بن سليمان عن داود بن أبي هند عن الشعبي عن ابن عميس عن عمر رضي الله عنه أن أعرابيا روي أن أعرابيا صاد ضبا فجعله في كمه يريد أن يجيء به إلى أهله فيذبحه ويشويه ويأكله فإذا هو بجماعة فقال ما هذه الجماعة فقالوا علي رجل يذكر أنه نبي وهو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب فجاء حتى شق الناس، ثم أقبل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: واللات والعزى ما سلمت على ذي لهجة أبغض إلى منك ولا أكذب، ولولا أن تسمينى قومي عجولا لعجلت إليك فقتلتك فسررت بقتلك الأسود والأبيض وأرحت منك بني هاشم وغيرهم، إذ تسب آلهتنا فعرفه النبي صلى الله عليه وسلم وقال يا أخا بني سليم ما حملك على الذي قلت ولم تكرمني في مجلسي هذا؛ فقال وتكلمني أيضا! واللات والعزى لا آمنت بك حتى يؤمن بك هذا الضب، وطرح الضب بين يديه فقال عمر رضي الله عنه يا رسول الله اذن لي أن أضرب عنقه قال لا أما علمت أن الحليم كاد يكون نبيا ثم أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الضب فقال له يا ضب فقال لبيك وسعديك بلسان عربي مبين يفقهه جميعا القوم فقال له يا ضب من تعبد؟ فقال: الذي في السماء عرشه، وفى الأرض سلطانه وفى البحر سبيله وفى الجنة رحمته وفى النار عقابه، قال: فمن أنا يا ضب

-ق3ب-

قال: رسول رب العالمين وخاتم النبيين، قد أفلح من صدقك وخاب من كذبك، فقال الأعرابي: لا أتبعن أثرا بعد عين، أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأنك محمدا عبده ورسوله شعري وبشري وداخلي وخارجي وسري وعلانيتي والله لقد أتيتك وما على وجه الأرض أحد أبغض إلى منك ولأنت أحب إلى من سمعي وبصري ووالدي وولدي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الحمد لله الذي هداك بي إن هذا الدين يعلو ولا يعلى، لا يقبله الله عز وجل إلا بصلاة ولا يقبل الصلاة إلا بقرآن.

قال: فعلمني، فعلمه فاتحة الكتاب، وقل هو الله أحد، قال: يا رسول الله زدني فما سمعت في النشيد ولا في الرجز أحسن من هذا، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن هذا كلام ربي عز وجل ليس بشعر، فكن عبدا شكورا من قرأ قل هو الله أحد، فكأنما قرأ ثلث القرآن، ومن قرأ قل هو الله أحد مرتين فكأنما قرأ ثلثي القرآن ومن قرأ قل هو الله أحد ثلاث مرات فكأنما قرأ جميع ما أنزل الله عز وجل، فقال الأعرابى: نعم الإله إلهنا، يقبل اليسير ويعطى الجزيل.
-ق3أ-

গুইসাপের কাহিনী

২- মুহাম্মদ ইবনুল মুখতার ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুয়াইয়িদ বিল্লাহ আমাদের অনুমতিসূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ফাতহ আল-হারবী (আল্লাহ তাকে দয়া করুন) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাফস উমর ইবনে আহমাদ ইবনে শাহীন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা আস-সানআনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি শাবী থেকে, তিনি ইবনে উমাইস থেকে এবং তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন গ্রাম্য আরব একটি গুইসাপ শিকার করল। সে সেটিকে তার আস্তিনে পুরে নিল এই উদ্দেশ্যে যে, সেটিকে তার পরিবারের কাছে নিয়ে যাবে এবং সেখানে সেটিকে জবাই করে, ঝলসে ভক্ষণ করবে। হঠাৎ সে এক জনসমাবেশ দেখতে পেল। সে জিজ্ঞেস করল, এই সমাবেশ কিসের? তারা বলল, এখানে একজন লোক আছেন যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করেন এবং তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। সে লোকজনের ভিড় ঠেলে এগিয়ে এল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে এসে বলল: লাত ও উযযার শপথ! কথা বলা প্রাণীদের মধ্যে আপনার চেয়ে বেশি অপ্রিয় এবং আপনার চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী আর কেউ আমার কাছে নেই। আমার কওম যদি আমাকে হঠকারী না বলত, তবে আমি দ্রুত আপনার কাছে এসে আপনাকে হত্যা করতাম এবং আপনার হত্যা দ্বারা আমি কালো ও সাদা (সকল মানুষকে) আনন্দিত করতাম এবং বনু হাশিম ও অন্যদের আপনার থেকে রেহাই দিতাম; কেননা আপনি আমাদের উপাস্যদের গালি দেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে চিনতে পারলেন এবং বললেন, হে বনু সুলাইম গোত্রের ভাই! কোন জিনিস আপনাকে এমন কথা বলতে প্ররোচিত করল? আর আপনি আমার এই মজলিসে আমাকে সম্মান প্রদর্শন করলেন না? সে বলল, আপনি কি আবার আমার সাথে কথাও বলছেন! লাত ও উযযার শপথ, আমি আপনার ওপর ঈমান আনব না যতক্ষণ না এই গুইসাপটি আপনার ওপর ঈমান আনে। এই বলে সে গুইসাপটি তাঁর সামনে ছুড়ে দিল। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন, না; আপনি কি জানেন না যে, ধৈর্যশীল ব্যক্তি প্রায় নবীর সমতুল্য হয়ে যায়? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুইসাপটির দিকে ফিরে বললেন, হে গুইসাপ! সে অত্যন্ত স্পষ্ট আরবি ভাষায় উত্তর দিল যা উপস্থিত সকলেই বুঝতে পারল, সে বলল, আমি হাজির, আমি আপনার সেবায় প্রস্তুত। তিনি তাকে বললেন, হে গুইসাপ! তুমি কার ইবাদত কর? সে বলল: যাঁর আরশ আকাশে, যাঁর কর্তৃত্ব জমিনে, যাঁর পথ সমুদ্রে, যাঁর রহমত জান্নাতে এবং যাঁর শাস্তি জাহান্নামে। তিনি বললেন: হে গুইসাপ! আমি কে?

-ق3ব-

সে বলল: আপনি বিশ্বজগতের রবের রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। যে আপনাকে সত্য বলে মেনেছে সে সফল হয়েছে, আর যে আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তখন গ্রাম্য আরবটি বলল: চাক্ষুষ দেখার পর আমি আর অন্য কিছুর অনুসরণ করব না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আপনি মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আমার লোমকূপ, চামড়া, ভেতর, বাহির, গোপন ও প্রকাশ্য—সব কিছু দিয়ে আমি এটি বিশ্বাস করছি। আল্লাহর শপথ, আমি যখন আপনার কাছে এসেছিলাম তখন জমিনের উপরিভাগে আপনার চেয়ে অধিক অপ্রিয় আমার কাছে আর কেউ ছিল না, অথচ এখন আপনি আমার কাছে আমার কান, চোখ, পিতা ও সন্তানের চেয়েও বেশি প্রিয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার মাধ্যমে আপনাকে হিদায়াত দিয়েছেন। নিশ্চয়ই এই দ্বীন বিজয়ী হয় এবং একে অন্য কিছু দিয়ে পরাভূত করা যায় না। মহান আল্লাহ সালাত ছাড়া কোনো কিছু কবুল করেন না এবং কুরআন পাঠ ছাড়া সালাত কবুল হয় না। সে বলল: আমাকে শিক্ষা দিন। তখন তিনি তাকে সূরা ফাতিহা এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ শিক্ষা দিলেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আরও বাড়িয়ে দিন, কারণ আমি কোনো কবিতা বা ছন্দে এর চেয়ে সুন্দর কিছু শুনিনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: নিশ্চয়ই এটি আমার মহান রবের কালাম, এটি কোনো কবিতা নয়। অতএব আপনি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হোন। যে ব্যক্তি ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ একবার পাঠ করবে, সে যেন কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করল। আর যে ব্যক্তি ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ দুইবার পাঠ করবে, সে যেন কুরআনের দুই-তৃতীয়াংশ পাঠ করল। আর যে ব্যক্তি ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ তিনবার পাঠ করবে, সে যেন মহান আল্লাহর নাজিলকৃত সমস্ত কিতাবই পাঠ করল। তখন গ্রাম্য আরবটি বলল: আমাদের ইলাহ কতই না উত্তম ইলাহ; তিনি সামান্য আমল কবুল করেন এবং অনেক বেশি প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৪)
-ق4أ-

حديث الطير مع الصديق عليه السلام في الغار

3- حدثنا محمد بن علي بن الفتح الحربي رحمه الله قال حدثنا أبو الحسين إبراهيم بن محمد الزجاج، قال حدثنا أبو منصور طاهر بن العباس المروزي بمكة، قال أخبرنا أبو بكر أحمد بن إبراهيم بن إسماعيل، عن أبي الحسن الحماصي عن الهجيمي، عن أبيه عن جده عن ثابت عن أنس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لما حصلت مع صاحبي الصديق في الغار فمكثنا في الغار ثلاثة أيام ولياليهن نظر أبو بكر إلى طير جالس لا يأكل ولا يشرب فعجب من ذلك من أين مأكوله ومشروبه وقول الله عز وجل: " وما من دابة في الأرض إلا على الله رزقها " فأختلج هذا في سر أبي بكر فنزل جبريل عليه السلام ونادى يا أحمد إن العلي الأعلى يقرئك السلام ويقول قد علمت ما أختلج في سر أبي بكر فقل لأبي بكر يكلم الطير فإني قد أمرت الطير أن يكلمه فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي بكر هذا جبريل يخبرك عن رب العالمين أن يكلم الطير فإني أمرت الطير أني يكلمك

-ق4ب-

فنادى أبو بكر أيها الطير كلمني بإذن بالله من أين مأكولك ومشروبك؟ فقال الطير يا أبا بكر سلني عما شئت ولا تسألني عن هذا فإن هذا سر بيني وبين الله عز وجل، لا أريد أن يطلع عليه أحد سوى الله فقال أبو بكر إن كنت مأمور لي بالسمع والطاعة فتقول لي ما أسألك عنه فقال الطير والذي فلق الحبة وبرأ النسمة إن الله خلقني قبل أن يخلق أباك آدم بألف عام ومأكولي ومشروبي في كلمات إذا جعت: ألعن من يبغضك فأشبع، وإذا عطشت أصلي على من يصلي عيك فأروا.
-পৃষ্ঠা ৪ক-

গুহায় সিদ্দিক (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে পাখির হাদীস

৩- মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল ফাতহ আল-হারবী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আল-হুসাইন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আজ-জাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মক্কায় আবু মনসুর তাহির ইবনুল আব্বাস আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুল হাসান আল-হিমাসি থেকে, তিনি আল-হুজাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আমি আমার সাথী সিদ্দিকের সাথে গুহায় ছিলাম এবং আমরা সেখানে তিন দিন ও তিন রাত অতিবাহিত করলাম, তখন আবু বকর একটি বসে থাকা পাখির দিকে তাকালেন যা খাচ্ছিল না এবং পানও করছিল না। তিনি এতে বিস্মিত হলেন যে, এর খাদ্য ও পানীয় কোথা থেকে আসে? অথচ মহামহিম আল্লাহর বাণী হলো: "আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নয়।" এই বিষয়টি আবু বকরের মনে দোলা দিচ্ছিল। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হলেন এবং ডাক দিলেন, হে আহমাদ! নিশ্চয়ই সুউচ্চ মহান আল্লাহ আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং বলছেন, আবু বকরের মনে যা দোলা দিচ্ছিল তা আমি জানি। সুতরাং আপনি আবু বকরকে বলুন যেন সে পাখিটির সাথে কথা বলে, কেননা আমি পাখিকে নির্দেশ দিয়েছি যেন সে তার সাথে কথা বলে। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরকে বললেন, এই জিবরাঈল আপনাকে রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছেন যে আপনি পাখির সাথে কথা বলুন, কারণ আমি পাখিকে নির্দেশ দিয়েছি যেন সে আপনার সাথে কথা বলে।

-পৃষ্ঠা ৪খ-

অতঃপর আবু বকর ডাক দিলেন, হে পাখি! আল্লাহর অনুমতিতে আমার সাথে কথা বলো, তোমার খাদ্য ও পানীয় কোথা থেকে আসে? পাখিটি বলল, হে আবু বকর! আপনি আমাকে যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করুন কিন্তু এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবেন না। কারণ এটি আমার এবং মহামহিম আল্লাহর মধ্যকার একটি গোপন রহস্য, আমি চাই না আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এ সম্পর্কে অবগত হোক। আবু বকর বললেন, যদি তোমাকে আমার কথা শোনার এবং আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আমি তোমাকে যা জিজ্ঞাসা করছি তা বলো। পাখিটি বলল, সেই সত্তার কসম যিনি শস্যবীজ অংকুরিত করেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আপনার পিতা আদমের সৃষ্টির এক হাজার বছর আগে সৃষ্টি করেছেন। যখন আমি ক্ষুধার্ত হই তখন আমার খাদ্য এবং যখন তৃষ্ণার্ত হই তখন আমার পানীয় থাকে কিছু বাক্যের মধ্যে: যখন আমি ক্ষুধার্ত হই, তখন আমি তাকে অভিশাপ দেই যে আপনাকে ঘৃণা করে, ফলে আমি পরিতৃপ্ত হই; আর যখন আমি তৃষ্ণার্ত হই, তখন আমি আপনার ওপর দরুদ পাঠকারীর জন্য দোয়া করি, ফলে আমার পিপাসা মিটে যায়।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫)
4- حدثنا محمد بن علي بن الفتح قال حدثنا أبو الحسن علي بن أحمد بن مهدي قال حدثنا أبو صالح الأصبهاني عن عبد الرحمن بن سعيد بن هارون قال حدثنا إبراهيم بن نصر الكندي قال حدثنا سلم بن قادم عن عروة عن عائشة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا آوى إلى فراشه وضع يده اليمين تحت خده الأيمن فنام على شقه الأيمن وقال هذه نومة الأنبياء، ثم قال اللهم قني عذابك يوم تبعث عبادك ثم قال الحمد لله الذي على فقدر، ونظر فخبر، وملك فقدر، الحمد لله الذي

-ق5أ-

يحيي الموتى ويميت الأحياء وهو على كل شيء قدير قالت عائشة رضي الله عنه: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من قالهن، وكل الله به ملكين ملكا عن يمينه، وملكا عن يساره يقول الذي عن يمينه اللهم اغفر له، والذي عن يساره، اللهم ارحمه فان قبض في ليلته كنت شهيدا، وإن أخر في أجله أصبح مغفورا له.
৪- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন মাহদী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সালেহ আল-আসবাহানী, আবদুর রহমান বিন সাঈদ বিন হারুন থেকে, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন নাসর আল-কিন্দি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালাম বিন কাদিম, উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর বিছানায় আশ্রয় নিতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত তাঁর ডান গালের নিচে রাখতেন এবং তাঁর ডান কাতে ঘুমাতেন। তিনি বলতেন, "এটি নবীদের ঘুমানোর পদ্ধতি।" এরপর তিনি বলতেন, "হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আজাব থেকে রক্ষা করুন সেদিন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন।" তারপর তিনি বলতেন, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুউচ্চ এবং তিনি নির্ধারণ করেছেন, যিনি দেখেন এবং খবর রাখেন, এবং যিনি রাজত্বের মালিক ও ফয়সালা করেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি

-পৃ৫ক-

মৃতকে জীবিত করেন এবং জীবিতকে মৃত্যু দান করেন, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, "যে ব্যক্তি এই কথাগুলো বলবে, আল্লাহ তার জন্য দুইজন ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন; একজন তার ডান দিকে এবং একজন তার বাম দিকে। তার ডান দিকের জন বলে, 'হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন', এবং তার বাম দিকের জন বলে, 'হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া করুন'। এরপর যদি সে ওই রাতে মারা যায়, তবে সে শহীদ হবে; আর যদি তার হায়াত দীর্ঘ হয় (বেঁচে থাকে), তবে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় সকাল করবে।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬)
5- ثنا علي بن عمر بن مهدي الحافظ قال ثنا محمد بن نوح الجنيديسابوري، قال ثنا محمد بن أحمد بن زيد قال حدثنا عمرو بن عاصم، قال ثنا الحسن بن رزين عن ابن جريج عن ابن عباس ولا أعلمه إلا مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال يلتقي الخضر وإلياس كل عام في الموسم فيحلق كل واحد منهما رأس صاحبه ويتفرقان عن هؤلاء الكلمات بسم الله ما شاء الله لا يسوق الخير إلا الله ما شاء الله ما يصرف السوء إلا الله ما شاء الله ما كان من نعمة فمن الله ما شاء الله لا حول ولا قوة إلا بالله قال وقال ابن عباس: من قالهن حين يصبح وحين يمسى ثلاث مرات أمنه الله تعالى من الغرق والسرق والحرق قال وأحسبه قال: ومن الشيطان والسلطان ومن الحية والعقرب.
৫- আলী ইবনে উমর ইবনে মাহদী আল-হাফিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে নূহ আল-জুনাইদিসাবুরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমর ইবনে আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনে রাযীন আমাদের নিকট ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন; বর্ণনাকারী বলেন: আমি একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (উন্নত সনদ) ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। তিনি বলেছেন: খিজির ও ইলিয়াস প্রতি বছর (হজ্জের) মৌসুমে মিলিত হন। তখন তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর মাথা মুণ্ডন করে দেন এবং তারা এই বাক্যগুলো পাঠ করে একে অপরের থেকে বিদায় নেন: আল্লাহর নামে, আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়); আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ কল্যাণ বয়ে আনে না। আল্লাহ যা চেয়েছেন; আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ অনিষ্ট দূর করে না। আল্লাহ যা চেয়েছেন; সকল নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকেই। আল্লাহ যা চেয়েছেন; আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (পাপ থেকে বাঁচার) কোনো উপায় নেই এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনে আব্বাস বলেছেন: যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই বাক্যগুলো পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে পানিতে ডুবে যাওয়া, চুরি হওয়া এবং অগ্নিকাণ্ড থেকে নিরাপদ রাখবেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি ইহাও বলেছেন: এবং শয়তান, সুলতান (অত্যাচারী শাসক), সাপ ও বিচ্ছু থেকে (নিরাপদ রাখবেন)।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৭)
6- أخبرنا أبو بكر أحمد بن إبراهيم بن شاذان، ثنا أبو بكر القاسم بن داود الكاتب، ثنا أبو بكر بن أبي الدنيا ثنا أبو خزيمة أحمد بن العباس النميري، قال حدثني زكريا بن ميمون وكان يختم القرآن في اليوم والليلة مرتين قال حدثني عبد الله بن عبد الرحمن

-ق5ب-

في قلبي اللهم إنك دبرت الأمور، وجعلت مصيرها إليك فأحيني بعد الموت حياة طيبة، وقربني إليك زلفى، اللهم من أصبح وأمسى ثقته ورجاؤه غيرك فأنت ثقتي ورجائي ولا حول ولا قوة إلا بالله العلى العظيم.

وصلى الله على محمد وآله وسلم

حكاية نقلتها من كتاب السمرقندي رضي الله عن مؤلفه
৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন শাযান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আল-কাসিম বিন দাউদ আল-কাতিব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর বিন আবিদ দুনইয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু খুযাইমাহ আহমাদ বিন আল-আব্বাস আন-নুমাইরি, তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া বিন মাইমুন—যিনি দিনে ও রাতে দুইবার কুরআন খতম করতেন—তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান

—পৃষ্ঠা ৫খ—

আমার অন্তরে: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি সকল বিষয় পরিচালনা করেছেন এবং সেগুলোর প্রত্যাবর্তন আপনার দিকেই নির্ধারিত করেছেন। অতএব মৃত্যুর পর আমাকে এক পবিত্র জীবন দান করুন এবং আমাকে আপনার একান্ত নৈকট্য দান করুন। হে আল্লাহ, যার সকাল ও সন্ধ্যা আপনার পরিবর্তে অন্য কারো ওপর আস্থা ও আশা নিয়ে অতিবাহিত হয় (সে হোক), কিন্তু আপনিই আমার আস্থা এবং আপনিই আমার আশা। আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (গুনাহ থেকে ফেরার) কোনো উপায় নেই এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই।

আল্লাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি একটি বর্ণনা যা আমি সমরকান্দির কিতাব থেকে নকল করেছি, আল্লাহ এর লেখকের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৮)
7- روي عن جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أنه قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رسول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِي خَلِيلِي جِبْرِيلُ آنِفًا فَقَالَ يَا نبي الله وَالَّذِي نفسي بيده والذي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنَّ لِلَّهِ عَبْدًا مِنْ عَبِادِهِ عَبَدَ اللَّهَ خَمْسَ مِائَةِ سَنَةٍ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ فِي الْبَحْرِ طُولُهُ وعَرْضُهُ ثَمانونَ ذِرَاعًا فِي ثَمانينَ ذِرَاعًا وَالْبَحْرُ مُحِيطٌ بِهِ أَرْبَعَةَ آلَافِ فَرْسَخٍ مِنْ كُلِّ نَاحِيَةٍ وَأَجرى اللَّهُ لَهُ عَيْنًا عَذْبَةً بِعَرْضِ الأُصْبَعِ لينتفع بها في أصل ذلك الْجَبَلِ وَشَجَرَةَ رُمَّانٍ أنبتها الله له فيها تُخْرِجُ لَهُ كُلَّ يوم رُمَّانَةً واحدة فَإِذَا أَمْسَى عليه المساء نَزَلَ فَأَسبغ الْوضُوءِ وَأَخَذَ تِلْكَ الرُّمَّانَةَ فَأَكَلَهَا

-ق6أ-

ثُمَّ قَامَ يصلي وإنه سَأَلَ رَبَّهُ أَنْ يَقْبِضَهُ سَاجِدًا وَأَنْ لَاَ يَجْعَلَ لِلأَرْضِ وَلَا لِشَيْءٍ من الهوام على جسده سَبِيلَا حَتَّى يبَعَثَهُ الله يوم القيامة سَاجِداً، فَفَعَلَ الله تعالى به ذلك، قال جبريل فَنَحْنُ نَمُرُّ عَلَيْهِ إِذَا هَبَطْنَا وَإِذَا عَرَجْنَا وهو على حاله في السجود ثم قال وأنا نَجِدُ فِي الْعِلْمِ أَنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُوقَفُ بَيْنَ يَدَيِ اللهِ عز وجل فَيَقُولُ الله أَدْخِلُوا عَبْدِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي فيقول بل بعملي فيقول الله أَدْخِلُوا عَبْدِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي فَيَقُولُ: بَلْ بِعَمَلِي فَيَقُولُ الله تعالى لِلْمَلَائِكَةِ فحاسبوا عَبْدِي بِنِعْمَتِي عَلَيْهِ فَتُوجَدُ نِعْمَةُ الله عليه في الْبَصَرِ قَدْ أَحَاطَتْ بِعِبَادَته خَمْسِ مِائَةِ سَنَةٍ وَبَقِيَتْ نِعْمَةُ سائر الْجَسَدِ فَيَقُولُ الله أَدْخِلُوا عَبْدِي النَّارَ قَالَ فَيجَره الزبانية إِلَى النَّارِ فَيُنَادِي يا رَبّ بِرَحْمَتِكَ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ فَيَقُولُ الله رُدُّوهُ فَيُوقَفُ العبد بَيْنَ يَدَيْهِ فَيَقُولُ له عَبْدِي مَنْ خَلَقَكَ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا فَيَقُولُ أَنْتَ يَا رَبِّ فَيَقُولُ أذلك كَانَ مِنْ قِبَل عبادتك أم بِرَحْمَتِي فَيَقُولُ يا رب بِرَحْمَتِكَ فَيَقُولُ مَنْ قَوَّاكَ خَمْس مِائَةِ سنة على عبادتي فَيَقُولُ أَنْتَ يَا رَبِّ

-ق6ب-

فَيَقُولُ مَنْ أَنْزَلَكَ فِي الجَبَل وَسَطَ لُجَّةِ البحر وَأَخْرَجَ لَكَ الْمَاءَ الْعَذْبَ مِنَ الْمَاءِ الْمَالِحِ وَأَخْرَجَ لَكَ رُمَّانَةً كُلَّ يوم وَإِنَّمَا تَخْرُجُ فِي السَّنَةِ مَرَّةً واحدة وَسَأَلْتَنِي أَنْ أَقْبِضَ روحك سَاجِدًا فَفَعَلْتُ ذَلِكَ بِكَ من الذي فعل ذلك بك فَيَقُولُ أَنْتَ يَا رَبِّ فَيقول أذلك من قبلك أم بِرَحْمَتِي فيقول بل بِرَحْمَتِك فيقول الله له بل وبرحمتي أُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ خذوا بيده فأَدْخِلُوه الْجَنَّةَ فَنِعْمَ الْعَبْدُ كُنْتَ أنت يَا عَبْدِي فَيُدْخِلُهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، ثم قَالَ جِبْرِيلُ إِنَّمَا الأَشْيَاءُ كلها بِرَحْمَةِ اللهِ تَعَالَى.
৭- জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "এইমাত্র আমার নিকট থেকে আমার বন্ধু জিবরাঈল চলে গেলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর নবী, যাঁর হাতে আমার প্রাণ এবং যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন এক বান্দা ছিল যে সমুদ্রের মাঝে একটি পাহাড়ের চূড়ায় পাঁচশত বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিল। পাহাড়টির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল আশি হাত বাই আশি হাত এবং সমুদ্রটি তাকে চারদিক থেকে চার হাজার ফারসাখ পর্যন্ত পরিবেষ্টন করে ছিল। আল্লাহ তার জন্য সেই পাহাড়ের পাদদেশে আঙ্গুল পরিমাণ প্রশস্ত একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা প্রবাহিত করেছিলেন যাতে সে তা থেকে উপকৃত হতে পারে এবং আল্লাহ সেখানে তার জন্য একটি ডালিম গাছ উৎপন্ন করেছিলেন যা প্রতিদিন তার জন্য একটি করে ডালিম দিত। যখন সন্ধ্যা হতো, সে নিচে নেমে আসত এবং পূর্ণরূপে অজু করত, তারপর সেই ডালিমটি নিয়ে খেয়ে নিত।

-পৃষ্ঠা ৬ক-

অতঃপর সে নামাজে দাঁড়িয়ে যেত। সে তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল যেন তিনি তাকে সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সিজদারত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত তার দেহের ওপর জমিন বা কোনো পোকামাকড়কে কোনো পথ (আধিপত্য) না দেন। মহান আল্লাহ তার জন্য তাই করলেন। জিবরাঈল বললেন: আমরা যখনই (দুনিয়াতে) অবতরণ করি বা (আসমানে) আরোহণ করি, তাকে সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাই। অতঃপর তিনি বললেন: আমরা ইলমে (তথা লাওহে মাহফুজে) দেখতে পাই যে, কিয়ামতের দিন তাকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং তাকে মহান আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হবে। তখন আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। সে বলবে: বরং আমার আমলের মাধ্যমে। তখন আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। সে বলবে: বরং আমার আমলের মাধ্যমে। তখন মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের বলবেন: আমার নেয়ামতের বিপরীতে আমার বান্দার আমলের হিসাব করো। তখন দেখা যাবে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর থাকা চোখের দৃষ্টির নেয়ামতটিই তার পাঁচশত বছরের ইবাদতকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে এবং শরীরের বাকি সমস্ত নেয়ামত অবশিষ্ট থেকে গেছে। তখন আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। জিবরাঈল বললেন: তখন জাহান্নামের পাহারাদার ফেরেশতারা তাকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। তখন সে উচ্চস্বরে ডাকবে: হে রব! আপনার রহমতে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। তখন আল্লাহ বলবেন: তাকে ফিরিয়ে আনো। তখন বান্দাকে আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হবে। আল্লাহ তাকে বলবেন: হে আমার বান্দা! তোমাকে কে সৃষ্টি করেছে যখন তুমি কিছুই ছিলে না? সে বলবে: আপনি, হে আমার রব! তিনি বলবেন: সেটা কি তোমার ইবাদতের কারণে ছিল নাকি আমার রহমতে? সে বলবে: হে রব! আপনার রহমতে। তিনি বলবেন: তোমাকে পাঁচশত বছর আমার ইবাদত করার শক্তি কে দিয়েছিল? সে বলবে: আপনি, হে আমার রব!

-পৃষ্ঠা ৬খ-

তিনি বলবেন: উত্তাল সমুদ্রের মাঝে ওই পাহাড়ে তোমাকে কে নামিয়েছিল, লোনা পানির ভেতর থেকে কে তোমার জন্য মিষ্টি পানি বের করে দিয়েছিল এবং প্রতিদিন কে তোমার জন্য একটি করে ডালিম বের করে দিত—অথচ তা বছরে মাত্র একবার ফলে? আর তুমি আমার কাছে প্রার্থনা করেছিলে যেন আমি সিজদারত অবস্থায় তোমার প্রাণ কবজ করি এবং আমি তোমার জন্য তা-ই করেছি; কে তোমার জন্য এসব করেছে? সে বলবে: আপনি, হে আমার রব! তিনি বলবেন: সেটা কি তোমার পক্ষ থেকে ছিল নাকি আমার রহমতে? সে বলবে: বরং আপনার রহমতে। তখন আল্লাহ তাকে বলবেন: বরং আমার রহমতেই আমি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাচ্ছি। তোমরা তার হাত ধরো এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। হে আমার বান্দা! তুমি কতই না উত্তম বান্দা ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এরপর জিবরাঈল বললেন: সমস্ত বিষয় কেবল মহান আল্লাহর রহমতেই হয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৯)
8- وروى الحسن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما اجتمع الرجاء والخوف في قلب مسلم عند الموت إلا أعطاه الله ما رجا وصرف ما يخاف. (الحكاية الثانية)
৮- হাসান বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত্যুর সময় কোনো মুসলিমের হৃদয়ে যখনই আশা ও ভীতি একত্রে জমা হয়, আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন যা সে আশা করে এবং যা সে ভয় পায় তা থেকে তাকে রক্ষা করেন। (দ্বিতীয় কাহিনী)
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১০)
9- روى في الخير أن إبراهيم الخليل صلى الله عليه وسلم لما كشف الله له عن ملكوت السماوات والأرض نظر إلى رجل في طرف من أطراف الأرض مكث على معصية فدعا عليه فخسف به، ثم نظر

-ق7أ-

إلى رجل آخر كذلك وإلى آخر كذلك فأوحى الله إليه مهلا يا إبراهيم فإنك رجل مجاب الدعوة وأنا الذي أطلع فالله ترد. أعلم فأغفر، إنما عبدي مني يكن ثلاث إن تاب عن قريب تبت عليه وإن تاب قبل موته بساعة تبت عليه وغفرت وإن مات على ما هو عليه فأمره إليّ إن شئت عذبته وإن شئت غفرت له. (الحكاية الثالثة)

قال المؤلف ينبغي للذي يأمر بالمعروف أن يقصد به وجه الله تعالى وإعزاز الدين، ولا يكون لحمية نفسه فإنه إن قصد به وجه الله تعالى ونصر الدين وإعزازه نصره الله تعالى ووفقه لذلك، وإن كان أمره لحمية نفسه خذله الله تعالى وأذله.
৯- সৎ বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইবরাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যখন আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিনের রাজত্ব উন্মোচন করলেন, তখন তিনি পৃথিবীর এক প্রান্তে এক ব্যক্তিকে পাপে মগ্ন দেখলেন। তিনি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন, ফলে তাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হলো। তারপর তিনি

-পৃষ্ঠা ৭ক-

অন্য এক ব্যক্তির দিকেও অনুরূপভাবে তাকালেন এবং অন্য আরও একজনের দিকেও। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: "হে ইবরাহিম, শান্ত হও! কেননা তুমি এমন এক ব্যক্তি যার দুআ কবুল করা হয়, আর আমিই হলাম পর্যবেক্ষণকারী। আমি অবগত হই এবং ক্ষমা করি। আমার বান্দার অবস্থা তিনটির কোনো একটি হয়: যদি সে শীঘ্রই তওবা করে, আমি তার তওবা কবুল করি; যদি সে মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগেও তওবা করে, আমি তার তওবা কবুল করি ও তাকে ক্ষমা করি; আর যদি সে এই অবস্থাতেই মারা যায়, তবে তার বিষয়টি আমার ইচ্ছাধীন—যদি আমি চাই তাকে শাস্তি দেব, আর যদি আমি চাই তাকে ক্ষমা করব।" (তৃতীয় কাহিনী)

গ্রন্থকার বলেন: যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ দেয়, তার উচিত এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং দ্বীনকে সম্মানিত করার সংকল্প করা। এটি যেন তার নফসের আবেগ বা ব্যক্তিগত অহমিকার কারণে না হয়। কেননা, সে যদি এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং দ্বীনের সাহায্য ও মর্যাদাকে উদ্দেশ্য করে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য করবেন এবং তাকে সেই তাওফিক দান করবেন। আর যদি তার আদেশ প্রদান করাটা নিজের ব্যক্তিগত অহমিকার কারণে হয়, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করবেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ঈসা ইবনু মারয়ামা ওয়াত তাইরি ওয়াদ দবি লি-আবদির রহমান আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১১)
10- فإنه بلغني عن عكرمة أنه قال كان ممن قبلنا من شجرة تعبد من دون الله فأخذ فأسه وركب حماره ثم توجه نحو الشجرة ليقطعها فلقيه إبليس لعنه الله في بعض الطريق في صورة رجل

-ق7ب-

فقال له ما تريد فقال رأيت شجرة تُعبَد من دون الله فأعظمت ذلك وأعطيت عهدا أن أركب حماري وآخذ فأسي وأتوجه فأقطعها فقال له إبليس مالك ولها دعها أبعد الله من يعبدها، فلم يرجع فقال له ثانية مالك ولها دعنا فأبعد الله من يعبدها فلم يرجع فقاتله إبليس فاعتركا فأخذه العابد فصرعه ثم استوى على صدره فقال إبليس أيها الرجل حل سبيلي وشأنك بها، ثم تركه وسار إليها ليقطعها ثم لحقه إبليس فقال هل لك أن تدعها، وأنا أعطيك كل يوم درهمين أو قال أربع دراهم ترفع طرف فراشك فتجد ما تحته فقال أو تفعل ذلك قال نعم ضمنت لك كل يوم ذلك فرجع العابد إلى منزله فوجد ذلك يومين أو ثلاثة أو ما شاء الله ثم لم يجد شيئا

-ق8أ-

(سواد بالأصل) ذلك فأخذ فأسه وركب حماره وتوجه نحوها فجاءه إبليس في صورة رجل، فقال له أين تريد قال شجرة تعبد من دون الله أقطعها فقال له إبليس إنك لن تقدر على ذلك (بياض بالأصل) فلم يرجع فقاتله إبليس فأخذه وصرعه ثم استوى على صدره، وقال له ترجع وإلا قتلتك قال أربع (غير واضح) فترك سبيله، ثم قال له سألتك بالله أن لا أخبرتني كيف غلبتك أول مرة وغلبتني أنت هذه المرة قال له إبليس أنا أخبرك، أما أول مرة فكان خروجك غضباً لله تعالى فلو اجتمع أهل السماء وأهل الأرض ما ردوك، وأما ألآن فإنك إنما خرجت حيث لم تجد الدرهمين فإن تقدمت لأدقن رأسك فرجع إلى بيته وتركه للعبرة. (الحكاية الرابعة)
১০- ইকরিমাহ হতে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন, আমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে দেখল আল্লাহকে ছেড়ে একটি গাছের উপাসনা করা হচ্ছে। ফলে সে তার কুঠার নিল এবং তার গাধার পিঠে আরোহণ করল, অতঃপর সে গাছটি কাটার উদ্দেশ্যে সেদিকে রওনা হলো। পথিমধ্যে আল্লাহর লানতপ্রাপ্ত ইবলিস এক মানুষের রূপ ধরে তার সাথে সাক্ষাৎ করল।

-পৃষ্ঠা-৭খ-

সে (ইবলিস) তাকে বলল, তুমি কী চাও? সে বলল, আমি একটি গাছ দেখেছি যা আল্লাহকে ছেড়ে উপাসনা করা হচ্ছে। বিষয়টি আমার কাছে গুরুতর মনে হয়েছে এবং আমি অঙ্গীকার করেছি যে আমি আমার গাধার পিঠে চড়ব, কুঠার নেব এবং সেদিকে গিয়ে তা কেটে ফেলব। ইবলিস তাকে বলল, তোমার এতে কী লাভ? ওটা ছেড়ে দাও, যারা এর উপাসনা করে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। কিন্তু সে ফিরে গেল না। ইবলিস তাকে দ্বিতীয়বার বলল, তোমার এতে কী লাভ? আমাদের ছেড়ে দাও, যারা এর উপাসনা করে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তবুও সে ফিরে গেল না। তখন ইবলিস তার সাথে লড়াই করল এবং তারা ধস্তাধস্তি করল। ইবাদতকারী ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরল এবং আছাড় দিয়ে ফেলে দিল, অতঃপর তার বুকের ওপর উঠল। তখন ইবলিস বলল, হে লোক! আমার পথ ছেড়ে দাও এবং তুমি তোমার কাজ করো। এরপর সে তাকে ছেড়ে দিল এবং গাছটি কাটার জন্য সেদিকে চলতে লাগল। তখন ইবলিস আবার তার পিছু নিল এবং বলল, তুমি কি এটি ছেড়ে দেবে? আমি তোমাকে প্রতিদিন দুইটি দিরহাম (অথবা সে বলেছিল চারটি দিরহাম) দেব। তুমি তোমার বিছানার এক পাশ তুললেই তার নিচে তা পেয়ে যাবে। সে বলল, তুমি কি সত্যিই তা করবে? সে বলল, হ্যাঁ, আমি প্রতিদিনের জন্য তোমার জিম্মাদার হলাম। তখন ইবাদতকারী তার বাড়িতে ফিরে এল এবং দুই বা তিন দিন অথবা আল্লাহ যা চাইলেন ততদিন তা পেল। এরপর আর কিছুই পেল না।

-পৃষ্ঠা-৮ক-

(মূল পাণ্ডুলিপিতে এই অংশ অস্পষ্ট) এমতাবস্থায় সে তার কুঠার নিল এবং গাধার পিঠে চড়ে সেদিকে রওনা হলো। ইবলিস এক মানুষের রূপে তার কাছে এল এবং বলল, তুমি কোথায় যেতে চাও? সে বলল, আল্লাহকে ছেড়ে যে গাছটির উপাসনা করা হচ্ছে আমি তা কাটতে চাই। ইবলিস তাকে বলল, তুমি তা করতে পারবে না (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান)। কিন্তু সে ফিরে গেল না। তখন ইবলিস তার সাথে লড়াই করল এবং তাকে জাপটে ধরে আছাড় দিয়ে ফেলে দিল, অতঃপর তার বুকের ওপর উঠল। সে তাকে বলল, তুমি ফিরে যাও নতুবা আমি তোমাকে হত্যা করব। সে চার... (অস্পষ্ট)... তখন সে তার পথ ছেড়ে দিল। অতঃপর সে (ইবাদতকারী) তাকে বলল, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কি আমাকে বলবে না যে, প্রথমবার আমি কীভাবে তোমাকে পরাজিত করলাম আর এবার তুমি আমাকে কীভাবে পরাজিত করলে? ইবলিস তাকে বলল, আমি তোমাকে বলছি; প্রথমবার তোমার বের হওয়া ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগের কারণে, তাই যদি আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা সবাই একত্রিত হতো তবুও তোমাকে ফেরাতে পারত না। আর এখন তুমি কেবল তখনই বের হয়েছ যখন তুমি দিরহাম দুটি পাওনি। সুতরাং যদি তুমি সামনে অগ্রসর হও তবে আমি অবশ্যই তোমার মাথা চূর্ণ করে দেব। ফলে সে তার ঘরে ফিরে গেল এবং শিক্ষাস্বরূপ তা ত্যাগ করল। (চতুর্থ কাহিনী)