(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
وجوب تطبيق الحدود الشرعية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: وجوب تطبيق الحدود الشرعية
المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الخالق اليوسف
الناشر: مكتبة ابن تيمية، الكويت
الطبعة: الثانية، 1404 هـ - 1984 م
عدد الصفحات: 64
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শরয়ী হদসমূহ প্রয়োগের আবশ্যকতা বিভাগ: সিয়াসাহ শরইয়্যাহ ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: শরয়ী হদসমূহ প্রয়োগের আবশ্যকতা
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবদুল খালিক আল-ইউসুফ
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ، কুয়েত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
وجوب تطبيق الحدود الشرعية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
শরয়ি হদসমূহ বাস্তবায়নের আবশ্যকতা
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمدلله جل شأنه من إله عليم قادر، وتعالى اسمه وتباركت أسماءه وصفاته، الملك العدل الحق المبين والصلاة والسلام على نبي الهدى والرحمة المبعوث بالحق لإقامة العدل، وقطع دابر المفسدين.. صلوات الله وسلامه عليه. وعلى آله وأصحابه وأنصاره ومن دعا بدعوته إلى يوم الدين.
وبعد
فهذه هي الطبعة الثانية من كتاب وجوب تطبيق الحدود والشرعية نعيد طبعه بعد أن اشتدت الحاجة إليه بحمد الله وتوفيقه وبعد أن أضفنا له الردود على ما أثاره الدكتور سعاد جلال على صفحات جريدة الوطن بشأن الرجم حيث اتبع مذهب الخوارج السابقين في إنكار هذه الفريضة الجليلة، وحيث تشدق بمقابلته بعض المتشدقين ممن يريدون إقصاء الشريعة المطهرة عن حياة الناس ننشر ذلك -بحمد الله وتوفيقه- تنفيذاً للميثاق الذي أخذه الله على من حمل علماً أن ينشره ولا يكتمه نسأل الله أن يكون في هذا أداء لبعض الحق الذي لله علينا، ونستغفره ونعوذ به من العجز والكسل والجبن والبخل وغلبة الدين وقهر الرجال وأسأل الله أن ينفع بهذه الرسالة، وأن يجعلها لنا في ميزان الحسنات والله ولي التوفيق إنه هو السميع العليم.
عبد الرحمن عبد الخالق
الكويت في 4 صفر 1404هـ
الموافق 9 نوفمبر 1983
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর মহিমা অত্যন্ত মহান, যিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান ইলাহ। তাঁর নাম সুউচ্চ এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি বরকতময়। তিনি অধিপতি, ন্যায়বিচারক, পরম সত্য ও সুষ্পষ্ট। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াত ও রহমতের নবীর ওপর, যাকে সত্যসহ প্রেরণ করা হয়েছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের মূলোৎপাটন করতে। আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী, আনসার এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের পথে আহ্বান জানাবে তাদের ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর
এটি হচ্ছে ‘হদ ও শরিয়াহ বাস্তবায়নের আবশ্যকতা’ শীর্ষক কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণ। আল্লাহর প্রশংসা ও তাওফিকে আমরা এটি পুনরায় মুদ্রণ করছি, যেহেতু এর প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমরা ‘আল-ওয়াতান’ পত্রিকার পাতায় পাথর নিক্ষেপে হত্যা (রজম) সংক্রান্ত বিষয়ে ডক্টর সুয়াদ জালাল কর্তৃক উত্থাপিত আপত্তির খণ্ডনসমূহ যুক্ত করেছি। সেখানে তিনি এই মহান বিধানটি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে প্রাচীন খারিজিদের মতাদর্শ অনুসরণ করেছেন। এছাড়া সেখানে কিছু বাগাড়ম্বরকারী ব্যক্তির সাথে তাঁর কথোপকথনও যুক্ত হয়েছে, যারা মানুষের জীবন থেকে পবিত্র শরিয়াহকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও তাওফিকে এটি প্রকাশ করছি সেই অঙ্গীকার পালনার্থে, যা আল্লাহ জ্ঞানীদের নিকট থেকে নিয়েছেন যে—তারা জ্ঞান প্রচার করবে এবং তা গোপন করবে না। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, এটি যেন আল্লাহর প্রতি আমাদের ওপর অর্পিত হকের কিয়দাংশ আদায় হিসেবে গণ্য হয়। আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই পুস্তিকাটির মাধ্যমে সবাইকে উপকৃত করেন এবং একে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় ভারী করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওফিকদাতা এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আবদুর রহমান আবদুল খালিক
কুয়েত, ৪ সফর ১৪০৪ হিজরি
মুতাবেক ৯ নভেম্বর ১৯৮৩
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولىالحمدلله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وأصلي وأسلم على عبده ورسوله محمد المبعوث رحمة للعالمين، والذي أكمل الله له الدين وأتم عليه وعلى أمته النعمة وبعد.
فإن شريعة الإسلام المشتملة على كل ما ينفع الناس في دينهم ودنياهم قد أبعدت عن حياة الناس إلا في قضايا العبادات، وأما قضايا المعاملات والحدود والنظم السياسية والاقتصادية والاجتماعية فإن عامة دول المسلمين إلا قليلاً قد استبدلت بتشريع الله فيها تشريعات من اختراع الإنسان. وكان لذلك أسباب، وليس هذا مجال ذكرها، ولكن الصحوة الإسلامية الحالية حملت معها وجوب العودة إلى الشريعة، والمطالبة الدائمة من جماهير المسلمين بوجوب الحكم بشريعة الله، ولكن أعداء هذه الشريعة لا يكادون يسمعون ذلك حتى تقفز قلوبهم إلى الحناجر وتحمر عيونهم ويصرخوا في كل ناد، ومن فوق كل منبر. دعونا من الشريعة أتريدون أن تعودوا بنا إلى الهمجية والوحشية؟
প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর বান্দা ও রসূল মুহাম্মাদের প্রতি, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে এবং যাঁর জন্য আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের ওপর স্বীয় নিয়ামত সম্পন্ন করেছেন। এরপর:
ইসলামী শরিয়াহ, যা মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তা ইবাদতের বিষয়গুলো ব্যতীত মানুষের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। লেনদেন, দণ্ডবিধি এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে মানব রচিত আইন দ্বারা তা প্রতিস্থাপন করেছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যা এখানে আলোচনার ক্ষেত্র নয়। তবে বর্তমান ইসলামী জাগরণ শরিয়াহর দিকে ফিরে আসাকে অপরিহার্য করে তুলেছে এবং সাধারণ মুসলিম জনতা ক্রমাগত আল্লাহর শরিয়াহ অনুযায়ী বিচার পরিচালনার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু এই শরিয়াহর শত্রুরা যখনই এ কথা শোনে, তখনই তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়, চোখ লাল হয়ে ওঠে এবং তারা প্রতিটি সভা-সমাবেশে ও প্রতিটি মিম্বর থেকে চিৎকার করে বলতে থাকে: "শরিয়াহর কথা বাদ দিন; আপনারা কি আমাদের সেই বর্বরতা ও পাশবিকতার যুগে ফিরিয়ে নিতে চান?"
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وبما أن معظم منابر التوجيه وأجهزة الإعلام من صحافة وإذاعة وتلفاز ومدارس قد أضحت بيد من يجهلون هذه الشريعة ومن يعادونها، فإن هذه المنابر أصبحت تستخدم للتنفير من شريعة الله والصد عن سبيله.
وقد رأيت من واجبي التصدي لبعض هذه الحملات الظالمة بجهدي القليل فنشرت مقالات في صحيفة الوطن الكويتية بوجوب العودة إلى الشريعة، تطبيقاً وتحكيماً وخاصة في قضايا الحدود، وبينت بركات هذه العودة على الجميع، وبينت بحمد الله وتوفيقه فساد العقوبات الوضعية القائمة الآن والتي أصبحت بديلاً من الشريعة المطهرة، ورددت في هذه المقالات أيضاً على فتوى نشرت لأحد العلماء بجواز السماح للسجين بمعاشرة زوجته مبيناً أن هذه الفتوى باطلة لأن السجن أصلاً ليس عقوبة شرعية (أي منصوصاً عليها، وإنما السجن في الشريعة عقوبة تعزيرية اجتهادية. فيما لا يتعدى الأيام القليلة) ، ولذلك فلا يجوز أن يسند بالرأي الشرعي حتى لا نرقع القوانين الوضعية بالشريعة السماوية فنضفي بذلك على قوانين الظلم والجهل القداسة والطهارة وهي براء من ذلك.
ثم رأيت من واجبي جمع ذلك في هذه الرسالة مع إضافات وفقني الله إليها في بيان حكمة الشريعة ووجوب الأخذ بها، وذلك
যেহেতু দিকনির্দেশনামূলক অধিকাংশ মাধ্যম এবং সংবাদপত্র, বেতার, টেলিভিশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো প্রচারযন্ত্রগুলো এখন এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে যারা এই শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা এর শত্রু, তাই এই মাধ্যমগুলো এখন আল্লাহর শরিয়তের প্রতি অনীহা সৃষ্টি এবং তাঁর পথ থেকে মানুষকে বিমুখ করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আমি আমার সামান্য সামর্থ্য অনুযায়ী এই অন্যায্য প্রচারণাগুলোর মোকাবিলা করা আমার কর্তব্য বলে মনে করেছি। তাই কুয়েতের 'আল-ওয়াতান' পত্রিকায় শরিয়তের প্রয়োগ ও ফয়সালার মাধ্যমে এর দিকে ফিরে আসার আবশ্যকতা নিয়ে, বিশেষ করে 'হুদুদ' সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু প্রবন্ধ প্রকাশ করেছি। আমি সকলের জন্য এই প্রত্যাবর্তনের কল্যাণসমূহ বর্ণনা করেছি এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তৌফিকে বর্তমানে প্রচলিত মানবরচিত দণ্ডবিধিগুলোর অসারতা স্পষ্ট করেছি, যা বর্তমানে পবিত্র শরিয়তের বিকল্পে পরিণত হয়েছে। এই প্রবন্ধগুলোতে আমি জনৈক আলেমের প্রকাশিত একটি ফতোয়া (فتوى)-র জবাবও দিয়েছি, যাতে বন্দিকে তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশার অনুমতি দেওয়া বৈধ বলা হয়েছে। আমি সেখানে স্পষ্ট করেছি যে, এই ফতোয়া (فتوى)-টি বাতিল (باطلة); কারণ কারাবাস মূলত কোনো মৌলিক শরয়ি শাস্তি (عقوبة شرعية) নয় [অর্থাৎ যা সরাসরি টেক্সট দ্বারা নির্ধারিত (منصوص عليها)]। বরং শরিয়তে কারাবাস হলো একটি তা’জিরি শাস্তি (عقوبة تعزيرية) যা ইজতিহাদভিত্তিক (اجتهادية), এবং তা সামান্য কয়েক দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। অতএব, একে শরয়ি মতামতের মাধ্যমে ভিত্তি দেওয়া বৈধ নয়, যাতে আমরা আসমানি শরিয়ত দিয়ে মানবরচিত আইনগুলোকে তালি না মারি এবং এর মাধ্যমে জুলুম ও অজ্ঞতার আইনগুলোর ওপর পবিত্রতা ও শুদ্ধতার প্রলেপ না দিই, অথচ সেগুলো এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
অতঃপর আমি বিষয়গুলোকে এই পুস্তিকায় একত্রিত করা নিজের দায়িত্ব মনে করেছি, সাথে আরও কিছু বিষয় যোগ করেছি যা আল্লাহ আমাকে শরিয়তের হিকমত এবং তা অনুসরণের আবশ্যকতা বর্ণনার ক্ষেত্রে তৌফিক দিয়েছেন, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
نشراً لهذه القضية الهامة وتحذيراً لأئمة المسلمين وعامتهم من الركون والرضا بالشرائع الباطلة، وتنويهاً إلى وجوب العمل لوضع شريعة الله موضعها الصحيح حتى تكون كلمة الله هي العليا وكلمة الذين كفروا السفلى والله غالب على أمره، وهذا أداء لبعض الواجب عليّ. أسأل الله أن ينفع بها وأن تكون حافزاً لنا جميعاً بأن نعود إلى شريعة الله نحكمها في كل شئوننا وبالله التوفيق وهو حسبنا ونعم الوكيل.
عبد الرحمن عبد الخالق
الكويت في 18 رجب سنة 1399هـ
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রচারের উদ্দেশ্যে এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে বাতিল আইন-কানুনসমূহের প্রতি অনুগত হওয়া ও তাতে সন্তুষ্ট থাকার বিষয়ে সতর্ক করতে, এবং আল্লাহর শরীয়াহকে তার সঠিক স্থানে আসীন করার জন্য কাজ করার আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করতে [এটি পেশ করা হলো]; যাতে আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ হয় এবং কাফিরদের বাণী হয় নিম্নগামী। আর আল্লাহ তাঁর নিজ কাজে বিজয়ী। এটি আমার ওপর অর্পিত কর্তব্যের সামান্য অংশ পালন মাত্র। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং এটি যেন আমাদের সকলের জন্য এমন এক অনুপ্রেরণা হয় যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর শরীয়াহর দিকে ফিরে আসি এবং আমাদের যাবতীয় বিষয়ে তা দ্বারা বিচার-ফয়সালা করি। আল্লাহর সাহায্যেই সকল সফলতা (توفيق) আসে, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আব্দুর রহমান আব্দুল খালিক
কুয়েত, ১৮ই রজব, ১৩৯৯ হিজরী
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أولاً: فضل إقامة حدود الله في الأرض
مدخل:لما عصى آدم ربه سبحانه وتعالى في السماء، وأهبطه الله إلى الأرض كلمه قائلاً: {قال اهبطا منها جميعاً بعضكم لبعض عدو فإما يأتينكم مني هدى فمن اتبع هداي فلا يضل ولا يشقى، ومن أعرض عن ذكري فإن له معيشة ضنكاً ونحشره يوم القيامة أعمى} (طه: 123-124) ، في هذه الآية بيان أن شريعة الله لآدم والرسل من بعده هي العاصمة من الضلال في الدنيا، والشقوة في الآخرة. ولذلك لم تقتصر شريعة الله للأنبياء على ما يقومون به من فروض تعبدية نحو الله بل شملت تنظيم سائر حياة البشر من زواج وطلاق وميراث، ومعاملات مالية، بل وكل ما يحتاجه الإنسان ليؤسس حياة طيبة طاهرة على الأرض. ولكن الشيطان الذي أخذ على نفسه عداء آدم وذريته استطاع أن يجتال طائفة كبيرة من بني آدم عن طريق ربهم ويصرفهم عن شريعته بشرائع أخرى اخترعوها لأنفسهم فوقع بها الشر والفساد والظلم في الأرض.
وإذا كانت البشرية في عصورها السابقة لم تمتلك التجارب الكافية لتقارن بين نتائج تطبيق شريعة الله وشرائع الشيطان فإنها في عصرنا هذا تمتلك تراثاً ضخماً للإسلام والجاهليات المختلفة عبر العصور وتستطيع أن تشاهد إلى أي مدى يوجد الفارق الشاسع بين تطبيق شريعة الله حيث يحل النور والعدل والصلاح وبين تطبيق شرائع الشيطان حيث ينتشر الفساد والظلم بكل الصور والأشكال.
প্রথমত: জমিনে আল্লাহর হুদুদ (حدود) কায়েম করার ফজিলত
ভূমিকা:যখন আদম (আ.) আসমানে তাঁর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার অবাধ্য হলেন এবং আল্লাহ তাকে জমিনে নামিয়ে দিলেন, তখন তিনি তাকে এই বলে সম্বোধন করলেন: {তোমরা উভয়েই এখান থেকে একত্রে নেমে যাও; তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসে, তবে যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার জিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমরা তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব} (ত্বহা: ১২৩-১২৪)। এই আয়াতে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আদম এবং তাঁর পরবর্তী রাসুলদের জন্য আল্লাহর শরিয়ত হলো দুনিয়াতে পথভ্রষ্টতা এবং আখেরাতে দুর্ভাগ্য থেকে বাঁচার একমাত্র রক্ষাকবচ। এই কারণেই নবীদের প্রতি আল্লাহর শরিয়ত কেবল আল্লাহর প্রতি অর্পিত ইবাদতসংক্রান্ত ফরজ (فروض) কার્યાবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা বিবাহ, তালাক, মিরাস, আর্থিক লেনদেনসহ মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনা এবং জমিনে একটি পবিত্র ও সুন্দর জীবন গঠনের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু শয়তান, যে আদম ও তাঁর বংশধরদের সাথে শত্রুতার অঙ্গীকার করেছিল, সে বনী আদমের একটি বড় দলকে তাদের প্রতিপালকের পথ থেকে বিচ্যুত করতে এবং তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত অন্য সব আইনের দিকে ধাবিত করে আল্লাহর শরিয়ত থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে; যার ফলে জমিনে অকল্যাণ, বিপর্যয় এবং জুলুম ছড়িয়ে পড়েছে।
পূর্ববর্তী যুগগুলোতে মানবজাতির কাছে আল্লাহর শরিয়ত এবং শয়তানি আইনের প্রয়োগের ফলাফলের মধ্যে তুলনা করার মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকলেও, বর্তমান যুগে ইসলামের বিশাল ঐতিহ্য এবং যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা বিভিন্ন জাহিলিয়াতের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। ফলে আজ তারা সহজেই প্রত্যক্ষ করতে পারে যে, আল্লাহর শরিয়ত প্রয়োগের ফলে যেখানে আলো, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, আর শয়তানি আইনের প্রয়োগের ফলে যেখানে সকল রূপে ও প্রকারে বিপর্যয় ও জুলুম ছড়িয়ে পড়ে—এ দুয়ের মধ্যে কত বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولا شك أن شريعة الإسلام المنزلة على محمد صلى الله عليه وسلم هي أكمل شرائع الله ففيها رفع الله الآصار والأغلال والتضييق الذي كان على الأمم السابقة ولم يجعل سبحانه فيها علينا حرجاً بوجه من الوجوه، كما قال تعالى: {وما جعل عليكم في الدين من حرج} (الحج: 78) ، وقد أتمها الله لتشمل شئون حياتنا كلها فلا تحتاج بعدها إلى غيرها ولا نحتاج لمزيد عليها كما قال تعالى: {اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام ديناً} (المائدة: 3) ، وقال: {ونزلنا عليك الكتاب تبياناً لكل شيء} (النحل: 89) .
بركات الشريعة:ولا شك أيضاً أن بركات الشريعة المطهرة لا تحصى، فأول ذلك أن الله سبحانه وتعالى قد أناط خير الدنيا بتطبيق شريعته. قال تعالى عن أهل الكتاب: {ولو أنهم أقاموا التوراة والإنجيل وما أنزل إليهم من ربهم لأكلوا من فوقهم ومن تحت أرجلهم} (المائدة: 66) ، وهذه الآية وإن كانت في أهل الكتاب من اليهود والنصارى إلا أنها تنسحب علينا أيضاً، وقال أيضاً سبحانه: {ولو أن أهل القرى آمنوا واتقوا لفتحنا عليهم بركات من السماء والأرض، ولكن كذبوا
নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ ইসলামের শরীয়ত আল্লাহর শরীয়তসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। এতে আল্লাহ পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর থাকা বোঝা, শেকল এবং সংকীর্ণতা দূর করেছেন এবং তিনি এতে আমাদের জন্য কোনো প্রকার সংকীর্ণতা রাখেননি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি} (আল-হজ্জ: ৭৮)। আল্লাহ এটিকে পূর্ণতা দান করেছেন যাতে এটি আমাদের জীবনের সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এরপর আর অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই এবং এর ওপর কোনো অতিরিক্ত কিছুরও দরকার নেই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} (আল-মায়িদাহ: ৩), এবং তিনি বলেছেন: {এবং আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি সবকিছু বিস্তারিত বর্ণনাকারী হিসেবে} (আন-নাহল: ৮৯)।
শরীয়তের বরকতসমূহ:এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে পবিত্র শরীয়তের বরকতসমূহ গণনা করা অসম্ভব। তার মধ্যে প্রথম হলো এই যে, মহান আল্লাহ দুনিয়ার কল্যাণকে তাঁর শরীয়ত বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি আহলে কিতাবদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তারা যদি তাওরাত ও ইনজিল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তবে তারা তাদের উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে রিযিক ভোগ করত} (আল-মায়িদাহ: ৬৬)। এই আয়াতটি যদিও ইহুদি ও খ্রিস্টান তথা আহলে কিতাবদের ক্ষেত্রে, তবুও এটি আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের ওপর আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করেছিল...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فأخذناهم بما كانوا يكسبون} (الأعراف: 96) ، ولذلك ما أرسل الله رسولاً إلا ذكر قومه أن طاعة الله هي السبيل إلى استدرار رحمته في الدنيا، كما قال نوح لقومه: {فقلت استغفروا ربكم إنه كان غفاراً* يرسل السماء عليكم مدراراً* ويمددكم بأموال وبنين ويجعل لكم جنات ويجعل لكم أنهاراً} (نوح: 10-12) ، وكذلك قال هود لقومه: {ويا قوم استغفروا ربكم ثم توبوا إليه يرسل السماء عليكم مدراراً، ويزدكم قوة إلى قوتكم ولا تتولوا مجرمين} (هود: 52) ، ونفس هذا تقريباً ما أعلنه الله في شريعة محمد صلى الله عليه وسلم حيث استفتح سورة من القرآن بقوله تعالى: {الر كتاب أحكمت آياته ثم فصلت من لدن حكيم خبير أن لا تعبدوا إلا الله إنني لكم منه نذير وبشير* وأن استغفروا ربكم ثم توبوا إليه يمتعكم متاعاً حسناً إلى أجل مسمىّ ويؤت كل ذي فضل فضله وإن تولوا فإني أخاف عليكم عذاب يوم كبير} (هود: 1-3) ، ولا شك أن المؤمنين يصدقون بوعد الله ويعلمون يقيناً أن خير الدنيا والآخرة في اتباع مرضاته. وإذا كان ثم من يكذب بهذا الوعد ولا يرى رابطاً وسبباً بين إقامة الصلاة وإيتاء الزكاة والصوم، وبين نزول المطر ووفرة الزراعات ورواج التجارات. فإن ثمة روابط مادية أيضاً يشاهدها كل ذي بصر من مؤمن وكافر بين هذا وذاك، فالصلاة والصيام تربية وتزكية لضمير الفرد وتوجيه له نحو البر والإحسان، ومحبة الخير للناس، ولا شك أن من هذا صفته أجاد
...সুতরাং তাদের অর্জিত পাপের দরুন আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। (আল-আ'রাফ: ৯৬)। এ কারণেই আল্লাহ যখনই কোনো রাসূল প্রেরণ করেছেন, তিনি তাঁর কওমকে এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহর আনুগত্যই হলো পার্থিব জীবনে তাঁর রহমত লাভের একমাত্র পথ; যেমন নূহ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য জান্নাতসমূহ (উদ্যান) ও নহরসমূহ (নদী) সৃষ্টি করবেন।} (নূহ: ১০-১২)। অনুরূপভাবে হূদ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {হে আমার কওম! তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকে ফিরে এসো (তাওবা করো); তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরও শক্তি বৃদ্ধি করবেন, আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না।} (হূদ: ৫২)। প্রায় একই বিষয় আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীয়তেও ঘোষণা করেছেন, যেখানে তিনি কুরআনের একটি সূরার সূচনা করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আলিফ-লাম-রা, এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। (তা এই যে) তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। আর তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে এসো; তবে তিনি তোমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাশীলকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।} (হূদ: ১-৩)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুমিনগণ আল্লাহর প্রতিশ্রুতিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তারা দৃঢ়ভাবে (يقيناً) জানে যে, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কেবল তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। আর যদি এমন কেউ থাকে যে এই প্রতিশ্রুতিকে অস্বীকার করে এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান ও সাওম পালন এবং বৃষ্টি বর্ষণ, কৃষিকাজের প্রাচুর্য ও ব্যবসার প্রসারের মধ্যে কোনো যোগসূত্র বা কারণ খুঁজে না পায়, তবে জেনে রাখা উচিত যে, এগুলোর মাঝে এমন কিছু বস্তুগত যোগসূত্রও রয়েছে যা মুমিন ও কাফির নির্বিশেষে প্রত্যেক চক্ষুষ্মান ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করে। কেননা সালাত ও সাওম হলো ব্যক্তির বিবেকের প্রশিক্ষণ ও পরিশুদ্ধি (تزكية) এবং তাকে নেক আমল ও ইহসানের দিকে পরিচালিত করার এবং মানুষের কল্যাণের প্রতি অনুরাগী করার মাধ্যম। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার বৈশিষ্ট্য এমন, সে অত্যন্ত নিপুণতা অর্জন করেছে...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
صناعته وزراعته، ولم يغش في تجارته، ولم يقبل رشوة إن كان موظفاً، وحافظ على الأموال العامة من الضياع، ولا شك أن مجتمعاً تكون عامته وأكثريته على هذا النحو سيكون مجتمعاً للرخاء والثروة وزيادة الإنتاج. ولا شك أيضاً أن في إخراج الزكاة أعظم فائدة لنماء الأموال والقضاء على الثورات والشحناء التي تشل الاقتصاد وتوصل البلدان إلى الخراب والدمار. وفضل الحج وهو عبادة في التقريب بين الشعوب الإسلامية لا ينكر ومع التقريب تحصل المودة وتتبادل المنافع التجارية والصناعية والزراعية، والعالم كله يسعى إلى إقامة مؤتمر كالحج تنتفي فيه الفروق بين البشر ولا يستطيع، وهذا في العبادات وأما المعاملات فهي أبلغ من ذلك لأنها تستهدف أصلاً رفع الظلم وإقامة العدل في الأرض، ولا شك أن الظلم يتبعه الخراب، وأن العدل يتبعه الرخاء والنماء. فلماذا لا تكون إقامة شريعة الله، تعني انفتاح البركات وزيادة الخيرات. ولا شك أيضاً عند كل ذي لب من مؤمن وكافر أن إقامة الحدود أعني العقوبات الشرعية هي من أكبر أسباب زيادة الخيرات والبركات فقطع يد السارق يعني المحافظة على الأموال وخروجها من المخابىء ليعمل بها في التجارات والزراعات والصناعات، لأن رأس المال جبان -كما يقولون- فإذا توفرت له الحماية خرج، وإذا انتشرت اللصوصية والظلم اختبأ أو هرب، ولا شك أيضاً أن قتل القاتل ردع عن هذه الجريمة المسببة لخراب العمران وتقطيع أوصال المجتمعات، وناهيك بتنفيذ حد الزنا حيث يقطع دابر البغاء، وإنفاق الأموال في غير وجهها، ويقطع الطريق على إنجاب أولاد الزنا الذين هم آفة المجتمعات، فالطفل الذي ينشأ لا يعلم له أباً
তাঁর শিল্প ও কৃষিতে এবং তিনি তাঁর ব্যবসায় প্রতারণা করেন না এবং যদি তিনি কর্মচারী হন তবে ঘুষ গ্রহণ করেন না এবং সাধারণ সম্পদকে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একটি সমাজের সাধারণ মানুষ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যদি এমন প্রকৃতির হয়, তবে সেটি সমৃদ্ধি, সম্পদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সমাজে পরিণত হবে। এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, জাকাত প্রদানের মধ্যে সম্পদের প্রবৃদ্ধি এবং সেইসব বিদ্রোহ ও বিদ্বেষ নির্মূল করার ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ উপকারিতা রয়েছে যা অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয় এবং দেশসমূহকে ধ্বংস ও বিনাশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। হজ—যা একটি ইবাদত—তার মাধ্যমে মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নৈকট্য স্থাপনের মর্যাদা অনস্বীকার্য এবং এই নৈকট্যের সাথে সাথে হৃদ্যতা অর্জিত হয় এবং বাণিজ্যিক, শিল্প ও কৃষিগত সুযোগ-সুবিধার আদান-প্রদান ঘটে। সমগ্র বিশ্ব হজের মতো এমন একটি সম্মেলন আয়োজন করতে সচেষ্ট থাকে যেখানে মানুষের মধ্যেকার ভেদাভেদ বিলুপ্ত হবে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয় না। এটি ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে, আর সামাজিক ও আর্থিক লেনদেন বা মুয়ামালাতের (المعاملات) ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সুদূরপ্রসারী, কারণ এর মূল লক্ষ্যই হলো জুলুম দূর করা এবং পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অন্যায়ের পরবর্তী ফল হলো ধ্বংস এবং ন্যায়বিচারের পরবর্তী ফল হলো সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি। তাহলে আল্লাহর শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা কেন বরকতের দ্বার উন্মোচন এবং কল্যাণ বৃদ্ধির কারণ হবে না? প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি—চাই তিনি মুমিন হোন বা কাফের—তাঁর নিকট এটিও অনস্বীকার্য যে, হুদুদ (الحدود) অর্থাৎ শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি কার্যকর করা হলো কল্যাণ ও বরকত বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। চোরের হাত কাটার অর্থ হলো সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সম্পদকে আত্মগোপন থেকে বের করে এনে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্পে নিয়োজিত করা; কারণ বলা হয়ে থাকে—পুঁজি হলো ভীরু—যখন সে নিরাপত্তা পায় তখন সে বের হয়ে আসে, আর যখন চুরি ও অন্যায় ছড়িয়ে পড়ে তখন সে লুকিয়ে পড়ে অথবা পালিয়ে যায়। এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা সেই অপরাধের জন্য একটি কার্যকর প্রতিরোধক যা নগরায়নের বিনাশ এবং সমাজের বন্ধন ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর জিনা বা ব্যভিচারের দণ্ডবিধি (حد الزنا) কার্যকর করার বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য, যার মাধ্যমে ব্যভিচারের মূল উৎপাটন করা হয় এবং সম্পদের অন্যায় ব্যয় রোধ করা হয়; সেই সাথে এটি ব্যভিচারজাত সন্তান জন্মদানের পথ রুদ্ধ করে যারা সমাজের জন্য একটি ব্যাধি স্বরূপ, কারণ যে শিশুটি বেড়ে ওঠে সে তার পিতার পরিচয় জানে না...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يمتلئ قلبه بالحقد والكراهية للمجتمع، ولا شك أنه يظلم الناس إذا وجد الفرصة لذلك. ولهذا كان عامة المنحرفين والمجرمين من هؤلاء.
والمجتمع الإسلامي الذي يظهر على هذا النحو من النظافة والطهر لا شك أنه سيكون مجتمع الخير والبركة والنماء. فلماذا تنكر إذن أن يكون هناك رابط وسبب مباشر تراه كل عين ويفقهه كل قلب بين تطبيق الشريعة المطهرة وبين الرخاء المادي والسعادة الدنيوية. وصدق الله القائل: {من عمل عملاً صالحاً من ذكر أو أنثى وهو مؤمن فلنحيينه حياة طيبة، ولنجزينهم أجرهم بأحسن ما كانوا يعملون} (النحل: 97) . ولذلك جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: [إقامة حد في الأرض خير من أن يمطروا أربعين صباحاً] رواه النسائي وابن ماجة.
ثانياً: التحذير من ترك إقامة الحدودولا يظنن ظان أن الله سبحانه وتعالى قد أنزل شريعته وترك لنا الخيار في العمل بها أو إلغائها، أو أنه يأجرنا ويبارك لنا إذا أخذنا بها، ولا يعاقبنا إن تركناها. أعني ليس تنفيذ الشريعة من باب المستحب والمستحسن، بل من باب الفرض والواجب. فكما أن على تطبيق الشريعة يحصل الفلاح في الدنيا والآخرة، فإن على تركها وإهمالها يتوجب الخسار والدمار في الدنيا والآخرة أيضاً، وإليك الأدلة الشرعية والعقلية على ذلك.
তাঁর অন্তর সমাজের প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণায় পরিপূর্ণ থাকে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুযোগ পেলেই তিনি মানুষের ওপর জুলুম করেন। এ কারণেই পথভ্রষ্ট ও অপরাধীদের অধিকাংশ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
আর ইসলামি সমাজ যা এমন পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার সাথে আত্মপ্রকাশ করে, তা নিঃসন্দেহে কল্যাণ, বরকত ও সমৃদ্ধির সমাজ হবে। সুতরাং আপনি কেন অস্বীকার করবেন যে, পবিত্র শরিয়ত বাস্তবায়ন এবং বৈষয়িক সমৃদ্ধি ও পার্থিব সুখের মধ্যে একটি সরাসরি সম্পর্ক ও কারণ বিদ্যমান রয়েছে, যা প্রতিটি চোখ দেখতে পায় এবং প্রতিটি অন্তর অনুধাবন করে? মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে অবশ্যই এক পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি তাদের কৃতকর্মের চেয়েও উত্তম প্রতিদান প্রদান করব} (সূরা আন-নাহল: ৯৭)। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: [পৃথিবীতে একটি দণ্ডবিধি (حد) কার্যকর করা চল্লিশ দিন বৃষ্টি হওয়ার চেয়েও উত্তম।] এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ।
দ্বিতীয়ত: দণ্ডবিধিসমূহ (الحدود) কার্যকর করা বর্জন করার ব্যাপারে সতর্কতাকেউ যেন এমন ধারণা না করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর শরিয়ত অবতীর্ণ করেছেন এবং তা পালন বা বর্জন করার ক্ষেত্রে আমাদের ইখতিয়ার দিয়েছেন, অথবা আমরা তা গ্রহণ করলে তিনি আমাদের পুরস্কার ও বরকত দিবেন আর বর্জন করলে শাস্তি দিবেন না। আমি বলতে চাচ্ছি, শরিয়ত বাস্তবায়ন করা কেবল পছন্দনীয় (مستحب) বা প্রশংসনীয় (مستحسن) পর্যায়ের বিষয় নয়, বরং এটি ফরজ (فرض) ও ওয়াজিব (واجب) পর্যায়ের বিষয়। কারণ, শরিয়ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেমন দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জিত হয়, তেমনি এটি বর্জন ও অবহেলার কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতি ও ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে; আর আপনার সামনে এর শরয়ি ও যৌক্তিক দলিলসমূহ উপস্থাপন করা হলো।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(أ) الأدلة الشرعية:قال تعالى آمراً رسوله بتنفيذ حدوده {سورة أنزلناها وفرضناها وأنزلنا فيها آيات بينات لعلكم تذكرون} (النور: 1) ، وهذه الآية هي مطلع سورة النور وفيها يعلن الله سبحانه وتعالى فرضية هذه السورة التي شرع فيها حد الزنا، والقذف، وضوابط اللعان، وكذلك كثيراً من آداب الإسلام الأخرى كالحجاب والاستئذان وطاعة الرسول. وبدأ الله سورة المائدة بقوله: {يا أيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود} (المائدة: 1) ، وهذا أمر بأن نوفي أي نكمل ونتمم كل ما عاهدنا الله عليه ثم ذكر الله في هذه السورة كثيراً من العقود والحدود، ومنها تحريم أنواع من الأطعمة، ووجوب العدل مع الأعداء، والوضوء والتيمم، والقتال، والقصاص، والسرقة، وقال في هذه السورة سبحانه بعد ذكر طائفة من هذه العقود والحدود.
{وأنزلنا إليك الكتاب بالحق مصدقاً لما بين يديه من الكتاب ومهيمناً عليه، فاحكم بينهم بما أنزل الله ولا تتبع أهواءهم عما جاءك من الحق} (المائدة: 48) ، وقال أيضاً: {وأن احكم بينهم بما أنزل الله، ولا تتبع أهواءهم، واحذرهم أن يفتنوك عن بعض ما أنزل الله إليك فإن تولوا فاعلم أنما يريد الله أن يصيبهم ببعض ذنوبهم، وإن كثيراً من الناس لفاسقون، أفحكم الجاهلية يبغون. ومن أحسن من الله
(ক) শরয়ী দলিলসমূহ:মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁর নির্ধারিত দণ্ডসমূহ (حدود) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {এটি একটি সূরা যা আমি অবতীর্ণ করেছি এবং একে অলঙ্ঘনীয় কর্তব্য (فرض) করেছি; আর এতে আমি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর} (আন-নূর: ১)। এই আয়াতটি সূরা আন-নূরের প্রারম্ভিক অংশ, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই সূরার আবশ্যকতা ঘোষণা করেছেন যেখানে তিনি ব্যভিচারের দণ্ড (حد), অপবাদের দণ্ড (حد), লিআনের (لعان) নীতিমালা এবং পর্দার বিধান, অনুমতি প্রার্থনা ও রাসূলের আনুগত্যের ন্যায় ইসলামের আরও অনেক শিষ্টাচার বিধিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহ সূরা আল-মায়িদাহ শুরু করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর} (আল-মায়িদাহ: ১)। এটি একটি নির্দেশ যে আমরা যেন আল্লাহর সাথে কৃত সকল অঙ্গীকার পূর্ণ করি, অর্থাৎ তা পরিপূর্ণ ও সমাপ্ত করি। অতঃপর আল্লাহ এই সূরায় অনেক চুক্তি ও দণ্ডবিধির (حدود) কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য হারাম করা, শত্রুদের সাথে ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা, ওযু, তায়াম্মুম, জিহাদ, কিসাস (قصاص) এবং চুরির বিধান। এই সূরায় একগুচ্ছ চুক্তি ও দণ্ডবিধির কথা উল্লেখ করার পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন:
{আর আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সংরক্ষক। সুতরাং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে তুমি তাদের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি কর এবং তোমার কাছে যে সত্য এসেছে তা ত্যাগ করে তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না} (আল-মায়িদাহ: ৪৮)। তিনি আরও বলেছেন: {আর তুমি তাদের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি কর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে, এবং তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না। আর তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাক যাতে আল্লাহ তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কোনোটি থেকে তারা তোমাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখ যে, আল্লাহ কেবল তাদের কিছু পাপের কারণে তাদেরকে বিপদগ্রস্ত করতে চান। আর মানুষের মধ্যে অনেকেই তো পাপাচারী (فاسقون)। তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর আল্লাহর চেয়ে উত্তম...}
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حكماً لقوم يوقنون} (المائدة: 49-50) . وهكذا أوجب على رسوله أن يحكم بين الناس بما أنزل الله إليه، وحذره أن يخرج عن بعض هذا المنزل، وبالطبع هذا الأمر للرسول أمر للأمة كلها، والتحذير تحذير للأمة وخاصة من بيدهم الحكم ومن ولاهم الله شئون المسلمين.
وفي هذه السورة أيضاً سورة المائدة حذرنا الله من أن يحل بنا ما حل باليهود والنصارى الذين بذلوا وتركوا ما أنزله الله عليهم من التوراة والإنجيل، ولذلك كفرهم سبحانه وتعالى وفسقهم بذلك كما قال: {إنا أنزلنا التوراة فيها هدى ونور يحكم بها النبيون الذين أسلموا للذين هادوا والربانيون والأحبار بما استحفظوا من كتاب الله وكانوا عليه شهداء فلا تخشوا الناس واخشون، ولا تشتروا بآياتي ثمناً قليلاً ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون} (المائدة: 44) ، ومعلوم أن هذا نص عام، فكما كفر اليهود بترك كتابهم فإن هذه الأمة تكفر بترك كتابها ثم بين سبحانه وتعالى أنه كتب على اليهود القصاص وأنهم تركوا ذلك فظلموا وخرجوا من الدين حيث قال سبحانه: {وكتبنا عليهم فيها أن النفس بالنفس، والعين بالعين، والأنف بالأنف، والأذن بالأذن، والسن بالسن، والجروح قصاص، فمن تصدق به فهو كفارة له، ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الظالمون} (المائدة: 45) . وذكر سبحانه وتعالى نحو هذا في النصارى أيضاً وحكم عليهم وعلى أمثالهم ممن تركوا الشريعة بالفسق والمروق من الدين حيث قال سبحانه: {وقفينا على آثارهم بعيسى بن مريم
{...সুনিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিচারক আর কে হতে পারে?} (আল-মায়িদাহ: ৪৯-৫০)। এভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের ওপর অপরিহার্য করেছেন যে, তিনি যেন মানুষের মাঝে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করেন। আর তিনি তাঁকে এই অবতীর্ণ বিধানের কোনো অংশ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই, রাসূলের প্রতি এই নির্দেশ মূলত পুরো উম্মতের জন্যই নির্দেশ। আর এই সতর্কবাণীও সমগ্র উম্মতের জন্য, বিশেষ করে যাদের হাতে শাসনক্ষমতা রয়েছে এবং আল্লাহ যাদেরকে মুসলিমদের বিষয়াবলি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন।
এই সূরাটিতেও—অর্থাৎ সূরা আল-মায়িদাহ-তে—আল্লাহ তাআলা আমাদের সতর্ক করেছেন যেন আমাদের ওপর সেই পরিণতি নেমে না আসে যা ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর এসেছিল। তারা তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাওরাত ও ইঞ্জিল বিকৃত ও বর্জন করেছিল। একারণেই মহান আল্লাহ তাদেরকে এর মাধ্যমে কুফরি (كفر) এবং অবাধ্যতা বা ফাসিক (فسق) হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমনটি তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো। আত্মসমর্পণকারী নবীগণ ইয়াহুদীদের জন্য সে অনুযায়ী ফয়সালা দিতেন এবং রব্বানিগণ ও আলিমগণও (তা-ই করতেন), কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা এর ওপর সাক্ষী ছিল। সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আর আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার করে না, তারাই কাফির (كافر)} (আল-মায়িদাহ: ৪৪)। এটি সুপরিচিত যে, এটি একটি সাধারণ (عام) বর্ণনা। সুতরাং ইয়াহুদীরা যেভাবে তাদের কিতাব বর্জন করার কারণে কাফির হয়েছিল, তেমনি এই উম্মতও তাদের কিতাব বর্জন করার মাধ্যমে কুফরি (كفر) করবে। অতঃপর মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইয়াহুদীদের ওপর কিসাস বা প্রতিশোধের বিধান লিখেছিলেন, কিন্তু তারা তা বর্জন করে জুলুম করেছিল এবং দ্বীন থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তাতে তাদের জন্য বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং জখমের বদলে সমপরিমাণ জখম। অতঃপর যে তা সদকা (ক্ষমা) করে দেবে, তা তার জন্য কাফফারা হবে। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার করে না, তারাই জালিম (ظالم)} (আল-মায়িদাহ: ৪৫)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নাসারাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাদের ওপর ও তাদের মতো যারা শরীয়ত বর্জন করেছে তাদের ওপর অবাধ্যতা বা ফাসিক (فسق) হওয়ার এবং দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আমি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মারইয়াম-তনয় ঈসাকে পাঠিয়েছি...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مصدقاً لما بين يديه من التوراة وهدى وموعظة للمتقين. وليحكم أهل الإنجيل بما أنزل الله فيه ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون} (المائدة: 47) .
ولقد كان هذا الترك للشريعة المنزلة سبباً في لعن الله لليهود وغضبه عليهم، كما قال تعالى: {لعن الذين كفروا من بني إسرائيل على لسان داود وعيسى بن مريم ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون كانوا لا يتناهون عن منكر فعلوه} (المائدة: 79) ، ومعلوم أن أكبر إنكار ونهي عن المنكر هو إقامة الحدود التي هي بمثابة الزواجر عن ارتكاب الفاحشة والظلم في الأرض، ولو أقاموا الحدود لكان هذا أكبر نهي عن المنكر، ولم يلعنهم الله في الآخرة فقط بمعنى أن يطردهم من رحمته، بل عاقبهم في الدنيا بألوان من الخزي والعار كما قال تعالى: {ضربت عليهم الذلة أينما ثقفوا إلا بحبل من الله وحبل من الناس، وباءوا بغضب من الله وضربت عليهم المسكنة ذلك بأنهم كانوا يكفرون بآيات الله ويقتلون الأنبياء بغير حق. ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون} (آل عمران: 112) . ومعلوم أيضاً أن ترك الحدود أعظم دليل على الكفر بآيات الله، وقد ذكر سبحانه وتعالى أن هذه العقوبات ستظل أبدية عليهم إلا ما استثناه الله في الآية السابقة: {إلا بحبل من الله وحبل من الناس} حيث يقول: {وإذ تأذن ربك ليبعثن عليهم إلى يوم القيامة من يسومهم سوء العذاب إن ربك
(তাওরাতের) সত্যায়নকারী হিসেবে যা তার সম্মুখে ছিল এবং মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক ও উপদেশস্বরূপ। আর ইঞ্জিলের অনুসারীদের উচিত আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে ফয়সালা করা, আর যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী (فاسقون)} (আল-মায়িদাহ: ৪৭)।
আর অবতীর্ণ শরিয়তের এই বর্জনই ছিল ইয়াহুদিদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ এবং তাদের প্রতি তাঁর ক্রোধের কারণ, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের অভিশাপ দেওয়া হয়েছে দাউদ ও মারয়াম তনয় ঈসার মুখে। এটি এজন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। তারা যেসব গর্হিত কাজ (منكر) করত তা হতে একে অন্যকে বারণ করত না} (আল-মায়িদাহ: ৭৯)। আর এটি সুবিদিত যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্বীকৃতি ও গর্হিত কাজ (منكر) হতে নিষেধ করা হলো দণ্ডবিধি কায়েম করা, যা পৃথিবীতে অশ্লীলতা ও জুলুম থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক স্বরূপ। আর তারা যদি দণ্ডবিধি কায়েম করত তবে সেটিই হতো গর্হিত কাজ (منكر) থেকে সবচেয়ে বড় বারণ। আর আল্লাহ তাদেরকে কেবল আখেরাতেই তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে অভিশপ্ত করেননি, বরং দুনিয়াতেও বিভিন্ন প্রকার অপমান ও লাঞ্ছনার মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতি ব্যতীত। তারা আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরেছে এবং তাদের ওপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি এজন্য যে তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করত এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। এটি তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনেরই ফল} (আল ইমরান: ১১২)। আর এটিও সুবিদিত যে, দণ্ডবিধি বর্জন করা আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি কুফরির এক মহা প্রমাণ। আর মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, এই শাস্তিগুলো তাদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী হবে, কেবল পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ যা ব্যতিক্রম করেছেন তা ব্যতীত: {আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতি ব্যতীত}, যেখানে তিনি বলছেন: {আর স্মরণ করো যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করলেন যে, তিনি অবশ্যই কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের ওপর এমন কাউকে পাঠাতে থাকবেন যে তাদের নিকৃষ্ট শাস্তি আস্বাদন করাবে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سريع العقاب وإنه لغفور رحيم} (الأعراف: 167) ، ولقد قال هذا سبحانه في سورة الأعراف بعد أن ذكر اعتداءهم في السبت بصيد السمك في يوم حرم عليهم العمل فيه ثم ترك بعضهم للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
ومثل هذه الآيات القوارع جاء مثلها بشأن النصارى أيضاً كما قال تعالى: {ومن الذين قالوا إنا نصارى أخذنا ميثاقهم فنسوا حظاً مما ذكروا به فأغرينا بينهم العداوة والبغضاء إلى يوم القيامة} (المائدة: 14) ، وكل من قرأ تاريخ النصرانية يعلم إلى أي حد فتكت عداوة النصارى -بعضهم بعضاً- بهم ومزقتهم كل ممزق. وما ادخره الله للكافرين منهم في الآخرة أعظم من ذلك.
ولا يظنن ظان أيضاً أن المسلمين من أمة محمد ليسوا كذلك، بل كل ما هدد به السابقون يقع مثله بالأمة إن فعلت فعلهم. إلا ما شاء الله كما قال تعالى في شأن إهلاك قرى لوط: {فلما جاء أمرنا جعلنا عاليها سافلها وأمطرنا عليها حجارة من سجيل منضود. مسومة عند ربك وما هي من الظالمين ببعيد} (هود: 82-83) ، أي وما الحجارة التي أهلك الله بها قوم لوط ببعيدة عن الظالمين من أمة محمد إن فعلوا فعلهم وساروا على منوالهم. وكذلك قال سبحانه: {ليس بأمانيكم ولا أماني أهل الكتاب من يعمل سوءاً يجز به} (النساء: 123) ،
{দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং তিনি অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (আরাফ: ১৬৭), মহান আল্লাহ সূরা আরাফ-এ এ কথাটি তখন ইরশাদ করেছেন যখন তিনি শনিবারের দিনে মাছ শিকারের মাধ্যমে তাদের সীমালঙ্ঘন করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন—যে দিনে তাদের ওপর কাজ করা নিষিদ্ধ ছিল—অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কারো কারো সৎকাজের আদেশ প্রদান এবং মন্দ কাজের নিষেধ (منكر) পরিত্যাগ করার বিষয়টি আলোচনা করেছেন।
এ জাতীয় হূদয়কম্পনকারী আয়াতগুলো খ্রিস্টানদের ব্যাপারেও একইভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যারা বলে, “আমরা খ্রিস্টান”, আমি তাদের থেকেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম, অতঃপর তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একাংশ তারা ভুলে গেল। ফলে আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করে দিলাম} (মায়েদাহ: ১৪), খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস পাঠকারী মাত্রই অবগত আছেন যে, খ্রিস্টানদের পারস্পরিক শত্রুতা তাদের কতটা পর্যুদস্ত করেছে এবং তাদের চরমভাবে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। আর তাদের মধ্য থেকে যারা কাফের, আখেরাতে আল্লাহ তাদের জন্য যা সঞ্চিত রেখেছেন তা এর চেয়েও গুরুতর।
আর কোনো ধারণা পোষণকারী যেন এমনটি মনে না করে যে, মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মুসলিমরা এর ব্যতিক্রম; বরং পূর্ববর্তীদের যে সকল বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, এই উম্মত যদি তাদের মতো কাজ করে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি আপতিত হবে। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতিরেকে। যেমনটি মহান আল্লাহ লুত (আ.)-এর জনপদ ধ্বংস করার বিষয়ে ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসলো, তখন আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তার ওপর স্তরে স্তরে কঙ্করের পাথর বর্ষণ করলাম। যা তোমার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল। আর তা জালিমদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়} (হুদ: ৮২-৮৩), অর্থাৎ, যে পাথর দিয়ে আল্লাহ লুত (আ.)-এর কওমকে ধ্বংস করেছেন, তা মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জালিমদের থেকেও দূরে নয়, যদি তারা তাদের ন্যায় কাজ করে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। তেমনিভাবে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের আকাঙ্ক্ষা কিংবা আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে কিছুই হবে না; যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} (নিসা: ১২৩),
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أي كل من عمل سوءاً من يهودي أو نصراني أو مسلم فإنه يجازي به لأن الله لا يحابي أحداً. وكذلك قال سبحانه: {فهل ينتظرون إلا مثل أيام الذين خلوا من قبلهم قل فانتظروا إني معكم من المنتظرين} (يونس: 102) . وقال أيضاً: {وإن كلا لما ليوفينهم ربك أعمالهم إنه بما يعملون خبير. فاستقم كما أمرت ومن تاب معك ولا تطغوا إنه بما تعملون بصير ولا تركنوا إلى الذين ظلموا فتمسكم النار وما لكم من دون الله من أولياء ثم لا تنصرون} (هود: 111-113) ، وهذه الآيات كلها قوارع وزواجر تبين أن هذه الأمة يجب عليها أن تستقيم على أمر الله كما شرع الله، وأنها إن تركت ذلك وركنت إلى الظالمين في شيء من تشريعهم الباطل فإن لعنة الله وعقوبته تحل بهم كما حلت بالأمم السالفة.
وهذا الذي أخبر الله سبحانه وتعالى به واقع أمامنا نراه ونشاهده كل يوم، فاندحار هذه الأمة وذلتها وتشريد أبنائها، وركوعها أمام اليهود وكل أعداء الله في الأرض، ثم فرقتها وشتاتها أليس كل ذلك شاهد واضح على صدق وعد الله وأنه سبحانه لا يخلف، وأنه لا يحابي أحداً سبحانه، وأن أمة محمد لا تنصر إلا بتطبيق شريعته وابتغاء مرضاته سبحانه، فهل بعد هذا يماري مجادل في أننا لا نعتز إلا بتطبيق شريعته وأن ذلتنا الحاضرة إنما هي من ترك هذه الشريعة الغراء.
अर्थात्, চাই সে ইহুদি হোক, খ্রিস্টান হোক কিংবা মুসলিম—যে কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার বিনিময় প্রদান করা হবে; কেননা আল্লাহ কারও পক্ষাবলম্বন করেন না। মহান আল্লাহ অনুরূপভাবে বলেছেন: "তবে কি তারা তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় কঠিন দিনগুলোরই অপেক্ষা করছে? বলুন, ‘তবে তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত’" (ইউনুস: ১০২)। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক তাদের প্রত্যেকের আমলের পূর্ণ বিনিময় প্রদান করবেন; তারা যা করে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত। সুতরাং আপনি অটল থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন এবং যারা আপনার সাথে তওবা করেছে তারাও; আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা। আর তোমরা জালেমদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় তোমাদেরকে আগুন স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না" (হুদ: ১১১-১১৩)। আর এই সকল আয়াতই হলো সতর্কবাণী ও ভীতিপ্রদর্শনকারী, যা স্পষ্ট করে যে, এই উম্মতের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহর বিধানের ওপর অটল থাকা যেভাবে আল্লাহ প্রবর্তন করেছেন। আর যদি তারা তা বর্জন করে এবং জালেমদের বাতিল বিধানের কোনো কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আল্লাহর অভিশাপ ও শাস্তি তাদের ওপর আপতিত হবে যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপর আপতিত হয়েছিল।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে সংবাদ প্রদান করেছেন, তা বর্তমানে আমাদের সামনেই বিদ্যমান যা আমরা প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করছি। এই উম্মতের পরাজয়, লাঞ্ছনা, এর সন্তানদের বাস্তুচ্যুতি, ইহুদি ও জমিনের সকল আল্লাহর শত্রুদের সামনে তাদের নতজানু হওয়া এবং তাদের অনৈক্য ও বিচ্ছিন্নতা—এই সবই কি আল্লাহর প্রতিশ্রুতির সত্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ নয়? নিশ্চয়ই তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না এবং তিনি কারও পক্ষাবলম্বন করেন না। আর উম্মতে মুহাম্মদী কখনোই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না তাঁর শরিয়ত বাস্তবায়ন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীত। তবে কি এরপরও কোনো বিতর্ককারী এই বিষয়ে বিতর্ক করবে যে, শরিয়ত বাস্তবায়ন ব্যতীত আমরা অন্য কোনোভাবে সম্মানিত হতে পারি না এবং আমাদের বর্তমান লাঞ্ছনা মূলত এই উজ্জ্বল শরিয়ত বর্জনেরই ফল?
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(ب) الأدلة العقلية:يستطيع أي عاقل منصف ينظر إلى الشريعة الإسلامية ومنهجها في الزجر عن الفساد في الأرض واستئصال دابر الجريمة، وكيفية إقامة العدل بين الناس أن يصل إلى يقين بأن ترك هذه الشريعة يعني زرع الفساد في الأرض. وخاصة أرض العرب إذ أن هذا الجنس من البشر لا يجتمع إلا على سلطان ديني، فما اجتمع العرب في تاريخهم الطويل إلا على هذا السلطان الذي ألف بين قلوبهم ووحد صراطهم ومنهجهم في الحياة، وردع أهل الشر منهم والفساد عن شرهم وفسادهم، ولا يكاد يخرج هذا الدين من أوساطهم حتى يعودوا إلى مثل الجاهلية الأولى شراً وفساداً وفرقة.
ولا نعني بهذا أن الدين لا يصلح إلا للعرب خاصة، بل الدين فيه صلاح العالمين والعرب على وجه الخصوص واليقين. فالعالم اليوم يعج بأحط أنواع الفساد والانحلال. فالظلم والطغيان في ظل القوانين الاقتصادية الجائرة أمر شاهد لكل عين سواء في ظل النظام الرأسمالي الذي يبيح الربا وأنواعاً من الاحتكار أو في ظل النظام الشيوعي الذي ينتهك حرمة الإنسان بتجريده من أهم ما يقوم حياته وهو رأس المال ووسيلة الإنتاج. ويجعل منه عبداً لصنم يسمى (المجموع) وحيث يذهب المال في النهاية إلى طوائف من المنتفعين ممن يبقون على رأس السلطة في المجتمعات الشيوعية والاشتراكية. وكذلك الحال في النظام السياسي فبإقصاء الشريعة عم الظلم وناهيك بالنظم الاجتماعية والأخلاقية حيث
(খ) যৌক্তিক প্রমাণাদি (الأدلة العقلية):যেকোনো বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি যদি ইসলামি শরিয়ত (الشريعة الإسلامية) এবং জমিনে ফাসাদ দমনে এর কর্মপদ্ধতি, অপরাধ নির্মূল করার প্রক্রিয়া এবং মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে তিনি এই সুনিশ্চিত বিশ্বাসে (يقين) উপনীত হতে পারবেন যে, এই শরিয়ত পরিত্যাগ করার অর্থই হলো জমিনে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা বপন করা। বিশেষ করে আরব ভূখণ্ডে; কারণ মানবজাতির এই বিশেষ গোষ্ঠীটি ধর্মীয় কর্তৃত্ব (سلطان ديني) ছাড়া ঐক্যবদ্ধ হয় না। তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে আরবরা কেবল এই কর্তৃত্বের ভিত্তিতেই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যা তাদের অন্তরসমূহকে জুড়ে দিয়েছে এবং তাদের জীবনপথ ও জীবনপদ্ধতিকে একীভূত করেছে। এটি তাদের মধ্য থেকে অনিষ্টকারী ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের তাদের মন্দ কাজ ও বিশৃঙ্খলা থেকে নিবৃত্ত করেছে। তাদের মধ্য থেকে এই দ্বীন চলে যাওয়া মাত্রই তারা অনিষ্ট, ফাসাদ ও অনৈক্যের দিক দিয়ে প্রথম জাহেলিয়াতের (الجاهلية الأولى) মতো অবস্থায় ফিরে যায়।
এর অর্থ এই নয় যে, দ্বীন কেবল আরবদের জন্যই উপযুক্ত; বরং দ্বীনের মধ্যে সমগ্র বিশ্ববাসীর কল্যাণ নিহিত রয়েছে, আর আরবদের জন্য তা বিশেষভাবে ও নিশ্চিতভাবে প্রযোজ্য। বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের ফাসাদ ও অবক্ষয়ে নিমজ্জিত। বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক আইনসমূহের অধীনে জুলুম ও স্বৈরাচার প্রতিটি চোখের সামনে দৃশ্যমান; চাই তা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার (النظام الرأسمالي) অধীনে হোক—যা সুদ (الربا) ও বিভিন্ন ধরনের একচেটিয়া কারবারকে বৈধতা দেয়, অথবা সাম্যবাদী ব্যবস্থার (النظام الشيوعي) অধীনে হোক—যা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি অর্থাৎ পুঁজি (رأس المال) ও উৎপাদনের উপকরণসমূহ ছিনিয়ে নিয়ে তার মর্যাদা লুণ্ঠন করে। এটি মানুষকে 'সমষ্টি' (المجموع) নামক এক মূর্তির দাসে পরিণত করে, যেখানে শেষ পর্যন্ত সম্পদ সেই সুবিধাভোগী শ্রেণির হাতে চলে যায় যারা সাম্যবাদী ও সমাজতান্ত্রিক সমাজগুলোর ক্ষমতার শীর্ষে আসীন থাকে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা; শরিয়তকে দূরে রাখার কারণে জুলুম ছড়িয়ে পড়েছে। আর সামাজিক ও নৈতিক ব্যবস্থার কথা তো বলাই বাহুল্য, যেখানে...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
انهارت الأسرة وفقد التواصل والترابط بين الأرحام وكل ذلك بانتشار الزنا وإباحة اللواط حيث انعدم الوفاء والإخلاص والحب الحقيقي بين الزوجين وبالتالي بين الأم وأبنائها، والأب وأولاده، والإخوة بعضهم مع بعض، وأصبح المجتمع أشبه بمجتمع الحيوانات، حيث يتقاتل الذكور على الإناث وقت السفاد دون خجل أو حياء، ومثل هذا المجتمع الذي يفقد الإنسان فيه آدميته ويلتحق بالبهائم لا شك أنه مجتمع شر وفساد.
وهل من الممكن أن تصلح هذه المجتمعات دون نظام إسلامي يردع عن الفواحش ويضع العلاقة بين الرجل والمرأة في مكانها الصحيح ويقيم أسس الاجتماع على التراحم بين الأقارب، ويعرف الإنسان فيه أباً حقيقياً وأماً رحيمة وأخوة يشاركونه نفس الأب. وكذلك أعماماً وأخوالاً وأحفاداً، بدلاً من أن يعيش الناس في مجتمع لا يشكلون فيه أكثر من أرقام عددية كهذه الأرقام التي نعلقها على الطيور والحيوانات في مزارع تربية الماشية والدواجن.
وإذا كان العالم اليوم يشكو من السرقة التي استفحل أمرها، ومن حوادث الاغتصاب التي باتت تهدد كل فتاة، ومن حوادث القتل التي لا تكاد تأمن منها نفس، فمن لهذا العالم يخرجه من الفساد إلا نظام الله وقانونه الذي ما إن يطبق في مجتمع ما تطبيقاً عادلاً حتى تستقر الأوضاع ويأمن الناس وينقطع دابر الشر والفساد.
ومثل هذه الدعوى التي ندعيها لا تحتاج إلى برهان لأن التاريخ كله شاهد بذلك قديماً وحديثاً. ومقارنة يسيرة إلى أي
পরিবার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ও পারস্পরিক যোগসূত্র বিলুপ্ত হয়েছে। ব্যভিচার বিস্তার লাভ করা এবং সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার কারণেই এমনটা ঘটেছে, যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বস্ততা, একনিষ্ঠতা ও প্রকৃত ভালোবাসার অবসান ঘটেছে। ফলস্বরূপ মা ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে, পিতা ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে এবং ভাইদের পরস্পরের মাঝেও এই বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। সমাজ এখন পশুর সমাজের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে, যেখানে পুরুষরা প্রজননকালে কোনো প্রকার লজ্জা বা সংকোচ ছাড়াই নারী-সঙ্গিনী লাভের জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। এমন এক সমাজ যেখানে মানুষ তার মনুষ্যত্ব হারিয়ে চতুষ্পদ জন্তুর সমপর্যায়ে উপনীত হয়, তা নিঃসন্দেহে এক অনিষ্ট ও ফাসাদের সমাজ।
অশ্লীলতা থেকে নিবৃত্তকারী এবং নারী ও পুরুষের সম্পর্ককে তার সঠিক স্থানে বিন্যস্তকারী কোনো ইসলামি ব্যবস্থা ব্যতীত কি এই সমাজগুলোর সংশোধন সম্ভব? যে ব্যবস্থা আত্মীয়দের মধ্যে পারস্পরিক দয়া-মায়ার ভিত্তিতে সামাজিক বুনিয়াদ গড়ে তুলবে এবং যেখানে মানুষ তার প্রকৃত পিতা, স্নেহময়ী মাতা এবং একই পিতার ঔরসজাত ভাই-বোনদের পরিচয় লাভ করতে পারবে। একইভাবে চাচা, মামা ও নাতি-নাতনিদেরও চিনতে পারবে; এমন এক সমাজে বসবাসের পরিবর্তে যেখানে মানুষের পরিচয় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির খামারে পশু-পাখিদের গায়ে ঝুলিয়ে রাখা ক্রমিক সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু নয়।
বর্তমান বিশ্ব যদি চরম আকার ধারণ করা চুরির অপরাধ, প্রতিটি তরুণীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ধর্ষণের ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ডের—যা থেকে কোনো জীবনই নিরাপদ নয়—বিষয়ে অভিযোগ করে থাকে, তবে আল্লাহর প্রবর্তিত ব্যবস্থা ও আইন ব্যতিরেকে কে এই বিশ্বকে ফাসাদ থেকে মুক্ত করবে? যা কোনো সমাজে ন্যায়নিষ্ঠভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে সাথেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়, মানুষ নিরাপত্তা লাভ করে এবং অনিষ্ট ও বিপর্যয়ের মূলোৎপাটন ঘটে।
আমরা যে দাবি করছি তার জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই; কেননা প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাস এর সাক্ষী। যে কোনো বিষয়ের সাথে সামান্য তুলনা করলেই...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مجتمع جاهلي يطبق قوانين الإنسان الجاهلية، ومجتمع مسلم طبق قانون الله العليم سيطلع أي منصف على الفارق الشاسع بين نظام البشر حيث الجهل والظلم والانحراف وبين نظام الله حيث الرحمة والعدل والطهارة.
ولذلك فكل عاقل من البشر مدعو أن يطالب بملء فهمه وبغاية جهده أن يعود الناس إلى نظام الله لنأمن في الدنيا ونسعد قبل الآخرة، وأقول كل إنسان سواء كان مؤمناً أو كافراً يجب أن يسعى لهذا ما دام يملك شيئاً من الإنصاف والحق. وذلك أن كل منصف وصاحب حق سواء اهتدى إلى الإيمان أم لم يهتد سيجد في تشريع الله ضالته المنشودة في إقامة العدل بين الناس وفيما يسمى بالمجتمع الفاضل والمدينة الفاضلة، فالحريات السياسية والدينية قد كفلها الله للجميع في ظل هذا النظام والمحافظة على عقول الناس وأعراضهم وأموالهم، ودمائهم ونسلهم ودينهم قد شرع الله لها من التشريعات ما يصونها ويحفظها، وهل يريد أي عاقل أن يعيش في مجتمع خير من هذا المجتمع الذي يصون له كل مقومات حياته، ويطلق يده في كل باب من أبواب الخير يعود عليه بالنفع. بالطبع لا يعارض إلا المجرمون من أهل الظلم والسرقات والغضب أو من أهل الخنا والخسة والدناءة الذي يحبون أن تشيع الفاحشة ليعيشوا في حمأتها وأن ينتشر الزنا ليصيبوا منه ما وسعهم ولا يسألون بعد ذلك على بناتهم أو أمهاتهم أو أرحامهم. أمثال هؤلاء هم الذين تشرق حلوقهم بذكر تشريع الله ويصيبهم الهلع والجزع إذا سمعوا بحدوده ويتحسون ظهورهم وأيديهم وأعناقهم خوفاً من الجلد والقطع لما اقترفوه من زنا وفاحشة وسرقة وقتل وفساد.
একটি জাহেলি সমাজ যা জাহেলি মানবীয় আইন প্রয়োগ করে এবং একটি মুসলিম সমাজ যা সর্বজ্ঞ আল্লাহর আইন প্রয়োগ করে—যেকোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি মানবীয় ব্যবস্থার মধ্যকার অজ্ঞতা, অবিচার ও বিচ্যুতি এবং আল্লাহর ব্যবস্থার মধ্যকার রহমত, ন্যায়বিচার ও পবিত্রতার বিশাল পার্থক্য প্রত্যক্ষ করবেন।
তাই প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন তারা তাদের পূর্ণ উপলব্ধি ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দাবি জানায় যে, মানুষ যেন আল্লাহর ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসে; যাতে আমরা দুনিয়াতে নিরাপদ থাকতে পারি এবং আখিরাতের পূর্বেই সৌভাগ্যবান হতে পারি। আমি বলব যে, বিশ্বাসী হোক বা অবিশ্বাসী, প্রত্যেক মানুষেরই উচিত এর জন্য প্রচেষ্টা চালানো, যতক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে ন্যূনতম ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যবাদিতা বিদ্যমান থাকে। কারণ প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ এবং সত্যের অধিকারী ব্যক্তি—চাই সে ঈমানের হিদায়াত লাভ করুক বা না করুক—আল্লাহর বিধানের মধ্যেই মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং তথাকথিত 'আদর্শ সমাজ' ও 'আদর্শ নগরী'র সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে পাবেন। কেননা এই ব্যবস্থার ছায়াতলে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা আল্লাহ সকলের জন্য নিশ্চিত করেছেন। মানুষের বিবেক-বুদ্ধি, মান-সম্মান, ধন-সম্পদ, জান-মাল, বংশধারা এবং দ্বীন সংরক্ষণের জন্য আল্লাহ এমন সব বিধান প্রবর্তন করেছেন যা এগুলোকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখে। আর কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি এমন সমাজের চেয়ে উত্তম কোনো সমাজে বসবাসের আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, যা তার জীবনের সমস্ত মৌলিক উপাদানগুলোকে রক্ষা করে এবং কল্যাণের প্রতিটি পথে তাকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় যা তার জন্য উপকারী? স্বাভাবিকভাবেই, কেবল জুলুম, চুরি ও জবরদখলে লিপ্ত অপরাধী অথবা অশ্লীল ও হীন চরিত্রের লোকেরাই এর বিরোধিতা করে; যারা সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তা পছন্দ করে যাতে তারা এর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত থাকতে পারে এবং ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়ুক তা কামনা করে যাতে তারা তাদের সাধ্যমতো তাতে লিপ্ত হতে পারে—আর এরপর তারা তাদের কন্যা, মাতা বা আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাপারে কোনো পরোয়া করে না। এই শ্রেণির লোকেরাই আল্লাহর বিধানের বর্ণনায় কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং যখনই তারা আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধি সম্পর্কে শুনে, তখনই তারা আতঙ্কগ্রস্ত ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে; তারা তাদের কৃত ব্যভিচার, অশ্লীলতা, চুরি, হত্যা ও ফাসাদের কারণে বেত্রাঘাত ও অঙ্গচ্ছেদের ভয়ে নিজেদের পিঠ, হাত ও ঘাড় স্পর্শ করে আতঙ্ক বোধ করে।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
والواجب ألا نعبأ بهؤلاء لأن هؤلاء هم آفة المجتمعات وسوسها وتخليص المجتمعات من شرورهم هو أكبر رحمة للبلاد والعباد. فهل يتنادى العقلاء بعد ذلك من كل ملة وجنس بالعودة إلى تشريع الله وتطبيق حدوده في الأرض؟
আর আমাদের কর্তব্য হলো এদের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করা; কারণ এরাই হলো সমাজের মহামারি ও অভ্যন্তরীণ ঘুণপোকা। সমাজকে এদের অনিষ্ট থেকে মুক্ত করা দেশ ও জনগণের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত। তবে কি সকল ধর্ম ও বর্ণের বিবেকবান ব্যক্তিরা এর পরে আল্লাহর বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন এবং পৃথিবীতে তাঁর নির্ধারিত দণ্ডবিধি বাস্তবায়নের জন্য পরস্পরকে আহ্বান জানাবে?
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثالثاً: رد الحكم الشرعي كفرتثير الدعوة إلى تطبيق الشريعة الإسلامية خوفاً وهلعاً عند فئات شتى. فالحكام يخافون على مناصبهم، وأصحاب الأموال يخافون على ثرواتهم، وأهل الفجور والمعاصي يخافون على ما هم فيه من دنس وقذارة. وقد يكون في وسط هؤلاء وهؤلاء بعض من يصلون ويزعمون حب الله ورسوله والامتثال برسالة الإسلام. وحتى يكون في هذا الكتاب موعظة لكل هؤلاء فإننا نذكرهم جميعاً بما يلي: -
1- رد الحكم الشرعي كفر:لا يشك مسلم أن من لوازم الإيمان الإقرار بشرع الله سبحانه، والتسليم لأمره، وهذا معنى الإسلام أي التسليم والإذعان والانقياد لأمر الله، وقد دل على هذا المعنى آيات كثيرة كقوله تعالى: {إنما كان قول المؤمنين إذا دعوا إلى الله ورسوله ليحكم بينهم أن يقولوا سمعنا وأطعنا} وكقوله جل وعلا: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم، ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليماً} ، وفي هذه الآية تعجب الله سبحانه ممن يدعي الإيمان وهو يريد أن يتحاكم إلى غير حكم الله وحكم رسوله وأخبر أنه لا يؤمن إلا من حكم الله ورسوله في كل شجار يكون بينه وبين آخرين، ورضي بحكم الله وحكم رسوله وسلم تسليماً كاملاً لذلك.
ولا شك أن الحدود الشرعية للجرائم المعروفة: السرقة، والقتل،
তৃতীয়ত: শারঈ বিধান (حكم شرعي) প্রত্যাখ্যান করা কুফর (كفر)ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়নের আহ্বান বিভিন্ন মহলে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। শাসকরা তাদের পদের জন্য ভীত থাকে, বিত্তশালীরা তাদের সম্পদের জন্য শঙ্কিত থাকে এবং পাপাচারী ও পাপিষ্ঠরা তাদের বর্তমান কলুষতা ও অপবিত্রতা নিয়ে ভয়ে থাকে। এই সব লোকজনের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তিও থাকতে পারে যারা সালাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা ও ইসলামের বার্তার অনুবর্তিতার দাবি করে। এই গ্রন্থটি যেন এই সকল শ্রেণির মানুষের জন্য একটি উপদেশ হয়, সেজন্য আমরা তাদের সবাইকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি: -
১- শারঈ বিধান (حكم شرعي) প্রত্যাখ্যান করা কুফর (كفر):কোনো মুসলিম এতে সন্দেহ পোষণ করে না যে, ঈমানের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো মহান আল্লাহর শরীয়াহকে স্বীকার করে নেওয়া এবং তাঁর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করা। আর এটাই হলো ইসলামের মূল অর্থ, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ (تسليم), বশ্যতা (إذعان) এবং আনুগত্য (انقياد) করা। মহান আল্লাহর বাণীসহ বহু আয়াত এই অর্থের প্রমাণ দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনদের উক্তি তো কেবল এটাই—যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মানলাম।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু না, আপনার পালনকর্তার শপথ, তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তা পূর্ণ আত্মসমর্পণের (تسليم) সাথে গ্রহণ করে।}। এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই ব্যক্তির প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে ঈমানের দাবি করে অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান ব্যতিরেকে অন্য কারো কাছে বিচারপ্রার্থনা করতে চায়; তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার মধ্যকার সকল বিবাদে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বিচারক মানবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়ে তার সামনে পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ (تسليم) করবে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুপরিচিত অপরাধসমূহ যেমন: চুরি ও হত্যার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শারঈ দণ্ডবিধি (حدود شرعية)...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والزنا، وشرب الخمر، وقطع الطريق، والإفساد في الأرض، وغير ذلك من الجرائم. وهذه الحدود الشرعية أعني العقوبات المقدرة شرعاً لهذه الجرائم أصبحت لاشتهارها من المعلوم في الدين ضرورة، ولا يكاد بل لا يصح من المسلم أن يجهل ذلك. وإذا كان هذا ثابتاً ومعلوماً في الدين فإن تكذيبه أو رده كفر مخرج من ملة الإسلام، وهذا الحكم لا خلاف فيه بتاتاً، أعني كفر من رد حكماً من أحكام الله الثابتة في كتابه أو على لسان رسوله خاصة إذا كان هذا الرد معللاً بأن هذا التشريع لا يناسب الناس، أو يوافق العصر، أو أنه وحشية، أو غير ذلك لأن حقيقة عيب التشريع هي عيب المشرع، والذي شرع هذا وحكم به هو الله سبحانه وتعالى، ولا يشك مسلم في أن عيب الله أو نسبة النقص أو الجهل له كفر به وخروج عن ملة الإسلام.
ولذلك فالأمر الأول الذي ينبغي أن يتعلمه الذين يردون هذا الحكم أنهم ليسوا من جماعة المسلمين ولا ينتمون إلى هذه الأمة أصلاً. إلا أن يعلنوا توبتهم ورجوعهم إلى الله سبحانه وتعالى.
2- لا يخاف العقوبة إلا المجرم:نحن نعلم يقيناً أن كثيراً من الذين هالهم وأخافهم تنفيذ العقوبات الشرعية هم من الكفار الأصليين (الكافر الأصلي هو الذي لم يدخل الإسلام قبل كاليهودي والنصراني) وإن كانوا يتكلمون بحرص كاذب على الإسلام والمسلمين، ونعلم يقيناً كذلك أنه لا
ব্যভিচার, মদ্যপান, রাহাজানি, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি এবং এই জাতীয় অন্যান্য অপরাধ। এই শরয়ি দণ্ডবিধি, অর্থাৎ এই সকল অপরাধের জন্য শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত দণ্ডসমূহ (العقوبات المقدرة) বর্তমানে প্রসিদ্ধির কারণে দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয় (المعلوم في الدين ضرورة) হিসেবে পরিগণিত। কোনো মুসলিমের পক্ষে এ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা প্রায় অসম্ভব, বরং তা সঠিক নয়। আর যখন এটি দ্বীনের মাঝে সুসাব্যস্ত (ثابت) ও সুবিদিত, তখন একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বা প্রত্যাখ্যান করা ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কুফরি (كفر مخرج من ملة الإسلام)। এই হুকুমের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র মতভেদ নেই। অর্থাৎ, কেউ যদি মহান আল্লাহর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূলের জবানে সুসাব্যস্ত (ثابت) আল্লাহর কোনো বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে কাফির বলে গণ্য হবে; বিশেষ করে যদি এই প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে এই যুক্তি দেখানো হয় যে, এই বিধান মানুষের জন্য উপযোগী নয়, কিংবা বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অথবা এটি নিষ্ঠুরতা বা এই জাতীয় অন্য কিছু। কারণ কোনো বিধানের ত্রুটি খোঁজার প্রকৃত অর্থ হলো খোদ বিধানদাতার ত্রুটি খোঁজা। আর যিনি এই বিধান দিয়েছেন এবং এর ফয়সালা করেছেন তিনি মহান আল্লাহ। কোনো মুসলিমের এতে সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর দোষ বর্ণনা করা বা তাঁর প্রতি কোনো অপূর্ণতা বা অজ্ঞতার নিসবত করা আল্লাহর সাথে কুফরি (كفر) এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুতি।
তাই যারা এই বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের প্রথমত যা জানা উচিত তা হলো—তারা মুসলিম জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আদতে এই উম্মতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যতক্ষণ না তারা তওবা ঘোষণা করে এবং মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
২- অপরাধী ব্যতীত কেউ শাস্তিকে ভয় পায় না:আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, শরয়ি দণ্ডসমূহ কার্যকর করার বিষয়টি যাদের আতঙ্কিত ও ভীত করেছে, তাদের অধিকাংশই হলো মূল কাফির (الكافر الأصلي) (মূল কাফির (الكافر الأصلي) বলতে তাকে বোঝানো হয় যে আগে ইসলামে প্রবেশ করেনি, যেমন ইহুদি ও খ্রিষ্টান); যদিও তারা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি কৃত্রিম দরদ নিয়ে কথা বলে। আমরা এও নিশ্চিতভাবে জানি যে...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يخاف العقاب إلا المجرم، فالذين يثورون اليوم مذعورون خائفين ما أخافهم إلا أن ينالهم العقاب يوماً. ولذلك فهذه الضجة المفتعلة التي أججها من أججها بكل هذا الذعر والخوف والصراخ يعلم الجميع دوافعه ودوافنه، فهذه العقوبات لا تنال في الشريعة إلا المجرمين فقط، ولا تكون في مواقعها الشرعية إلا بتوفر شروط صارمة، فالزنا لا يتوفر إثباته الشرعي إلا بشهادة أربعة عدول يشهدون الجرم نفسه، وهذا لا يتأتى إلا أن تفعل هذه الفاحشة في الهواء الطلق. وليس هناك من إثبات آخر لهذه الجريمة سوى الاعتراف، والمعترف هو يريد الطهارة لنفسه.
وأما حد السرقة فبالرغم من أنه يثبت بشهادة عدلين وطرق أخرى، وبالرغم من الشدة الواضحة فيه فلا يشك منصف أن هذا موقعه تماماً ليس من حيث أن الله وحده شرع ذلك وهو العزيز الحكيم بل وأيضاً عند ذي عقل متجرد عن الغواية والهوى، فاليد التي تمتد خفية إلى أموال الآخرين وقد كفل لها الدين الأمن والسلامة والعدل والإنصاف، لا شك أنها يد آثمة تستحق القطع، ولا شك أن عنصر الخوف من القطع وازع عظيم، والأيدي القليلة التي قطعت في الإسلام بهذه الجريمة حفظت من الأموال والدماء والأعراض ما يفوقها ملايين المرات، ودين يقطع الأيدي الخائنة من مجتمعه جدير بالتعظيم والإجلال، وأما الشرائع التي تضع الأيدي الخائنة في مستوى المسئولية وتؤمنها على الأعراض والأموال لا شك أنها شرائع فاسدة، ونحن نعيش الآن في عالم يظهر فيه كل يوم فضيحة سياسية في قمة السلطة، وهذه الفضائح ليست أخلاقية فقط بل ومالية أيضاً، وهذه الفضائح التي تطفو على سطح هذا العالم المهترىء لا تمثل إلا جانباً يسيراً فقط
অপরাধী ব্যতীত অন্য কেউ শাস্তিকে ভয় পায় না। সুতরাং যারা আজ আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে বিদ্রোহ করছে, তাদের ভয়ের একমাত্র কারণ হলো কোনো একদিন তাদের ওপরও শাস্তির বিধান কার্যকর হবে। এজন্য এই কৃত্রিম হইচই, যা বিশেষ কোনো পক্ষ অত্যন্ত আতঙ্ক, ভয় ও চিৎকারের মাধ্যমে উস্কে দিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য ও গোপন অভিসন্ধি সম্পর্কে সবাই অবগত। কারণ শরিয়তে এই শাস্তিগুলো কেবল অপরাধীদেরই স্পর্শ করে এবং এগুলো শরয়ি ক্ষেত্রে কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন কঠোর শর্তাবলি পূরণ হয়। ব্যভিচারের শরয়ি প্রমাণ চারজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدول) সাক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত সম্ভব নয়, যারা সরাসরি সেই অপরাধ সংঘটিত হতে দেখেছে। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব, যখন এই অশ্লীল কাজটি প্রকাশ্য স্থানে করা হয়। এই অপরাধ প্রমাণের জন্য স্বীকারোক্তি ব্যতীত অন্য কোনো উপায় নেই এবং যে ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দেয়, সে মূলত নিজের পবিত্রতা অর্জন করতে চায়।
আর চুরির নির্ধারিত শাস্তির ক্ষেত্রে, যদিও তা দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدلين) সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য উপায়ে প্রমাণিত হয় এবং এতে দৃশ্যত কঠোরতা পরিলক্ষিত হয়, তবুও কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তি এর যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করবেন না। এটি কেবল এই কারণে নয় যে, আল্লাহ তাআলা এককভাবে এই বিধান দিয়েছেন এবং তিনিই মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়, বরং প্রবৃত্তি ও বিভ্রান্তিমুক্ত যে কোনো সুস্থ বিবেকের কাছেও এটি যুক্তিযুক্ত। যে হাত গোপনে অন্যের সম্পদের দিকে প্রসারিত হয়, অথচ দ্বীন যেখানে নিরাপত্তা, শান্তি, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে, নিঃসন্দেহে সেই হাত অপরাধী এবং তা কর্তনযোগ্য। আর কর্তনের ভয় যে একটি বড় প্রতিরোধক শক্তি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইসলামে এই অপরাধের কারণে যে সামান্য সংখ্যক হাত কাটা হয়েছে, তা কোটি কোটি গুণ বেশি সম্পদ, জীবন ও সম্মান রক্ষা করেছে। যে দ্বীন তার সমাজ থেকে বিশ্বাসঘাতক হাতগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তা অবশ্যই মহিমা ও শ্রদ্ধার যোগ্য। আর যেসব আইন বিশ্বাসঘাতক হাতগুলোকে দায়িত্বশীল পর্যায়ে আসীন করে এবং তাদের কাছে মানুষের সম্মান ও সম্পদের আমানত গচ্ছিত রাখে, নিঃসন্দেহে সেগুলো কলুষিত আইন। আমরা বর্তমানে এমন এক বিশ্বে বাস করছি যেখানে প্রতিদিন ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে কোনো না কোনো রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি উন্মোচিত হচ্ছে। এই কেলেঙ্কারিগুলো কেবল নৈতিক নয়, বরং আর্থিকও বটে। আর এই জরাজীর্ণ বিশ্বের উপরিভাগে ভেসে ওঠা এই কেলেঙ্কারিগুলো প্রকৃত চিত্রর অতি সামান্য অংশ মাত্র।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من جوانب الفساد الحقيقية المنتشرة في هذا العفن والفساد، والذي يسمى بالحضارة الحديثة.
فإذا حاول المسلمون اليوم أن يعودوا لتطبيق هذا الزواجر الشرعية فإنما يعني هذا في أقل صورة القضاء على المستوى المهين الذي وصلنا إليه عبر العقوبات التافهة، والصيغ الملتوية للتحايل على الإجرام والفساد. ولذلك فإن أي منصف لا يستطيع أن يصف الصارخين في كل مكان بإبعاد الحدود الشرعية عن واقع التطبيق إلا أنهم كارهون للدين تدفعهم هذه الكراهية إلى معاداة كل شيء فيه حتى لو كان زكاة، أو تحريم ربا، أو تحريم ظلم واستغلال، أو أنهم مجرمون منتشرون، يستطيعون العيش على أموال الناس وأعراضهم في ظل قوانين هشة تخدم الفساد والشر.
আধুনিক সভ্যতা নামধারী এই পচনশীলতা ও কলুষতার মাঝে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃত দুর্নীতির এটি একটি দিক।
আজ যদি মুসলমানরা পুনরায় এই শরীয়তি দণ্ডবিধি (الزواجر الشرعية) প্রয়োগের প্রচেষ্টা চালায়, তবে এর ন্যূনতম অর্থ হবে সেই অপমানজনক স্তরের অবসান ঘটানো, যেখানে আমরা তুচ্ছ দণ্ড এবং অপরাধ ও দুর্নীতির সাথে চাতুর্যপূর্ণ কৌশলের কুটিল পন্থার মাধ্যমে উপনীত হয়েছি। তাই কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিই সর্বত্র শরীয়তি নির্ধারিত দণ্ড (الحدود الشرعية) বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে যারা চিৎকার করছে, তাদের সম্পর্কে এ কথা বলা ছাড়া উপায় নেই যে—হয় তারা দ্বীনবিদ্বেষী, যে বিদ্বেষ তাদের দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ের সাথে শত্রুতা করতে প্ররোচিত করে, এমনকি তা যাকাত, সুদের (الربا) নিষিদ্ধকরণ কিংবা জুলুম ও শোষণের বিলোপ সাধন হলেও; অথবা তারা এমন সব বিচরণশীল অপরাধী, যারা দুর্নীতি ও মন্দের পৃষ্ঠপোষক ভঙ্গুর আইনের ছত্রছায়ায় মানুষের সম্পদ ও ইজ্জত-আব্রু লুণ্ঠন করে বেঁচে থাকতে চায়।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
رابعاً: الحبس ليس عقوبة شرعية ولذلك فلا يجوز ترقيعه من الشريعةاطلعت على ما نشرته (الوطن) يوم السبت 23-12-1978م حول الفتوى التي نسبتها إلى لجنة الفتوى بوزارة الأوقاف وذلك بإباحة الشرع للسجين أن يعاشر زوجته أثناء فترة سجنه، وقرأت التبرير الذي نسب إلى الشيخ عطية صقر والذي برر به هذه المعاشرة وجاء في معرض قوله: "عقوبة السجن يقصد بها التهذيب والتقويم". وقوله: "وإننا نرى أنه لا بأس من أن يكون للسجين فرصة للقاء زوجته على أن لا يكون ذلك بصفة دائمة، أو مرات متقاربة حتى لا يستمرئ حياة السجن ما دامت مطالبته ومشتهياته كلها في متناوله، بل يكون هذا اللقاء في فترات متباعدة ليبقى لديه الإحساس بمرارة الحرمان والندم على ذنبه"أ. هـ.
وحيث أن هذه الفتوى تعد ترقيعاً خطيراً للقانون الوضعي (المخالف للشريعة الإسلامية) وكذلك تعتبر تأييداً وتدعيماً لعقوبة "لا إنسانية" وهي السجن، فإننا رأينا من واجبنا أن نرد على ذلك مبينين أن عقوبة السجن ليست عقوبة شرعية حتى يستفتي المسلمون في شأن إصلاحها، وكذلك فالسجن أيضاً ليست عقوبة إنسانية، بل نراها جريمة ترتكب باسم العدالة، وإليكم الأدلة والبيان لما قدمنا:
চতুর্থত: কারাবাস কোনো শরয়ী শাস্তি নয়, তাই শরিয়তের মাধ্যমে একে তালি দেওয়া বা সংস্কার করা বৈধ নয়আমি গত ২৩-১২-১৯৭৮ ইংরেজি, শনিবার 'আল-ওয়াতান' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ফতোয়া সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যা আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ফতোয়া বোর্ডের বরাতে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, শরিয়ত একজন বন্দি ব্যক্তিকে তার কারাবাসকালীন সময়ে স্ত্রীর সাথে মেলামেশার অনুমতি দেয়। আমি শেখ আতিয়্যাহ সাকরের নামে প্রচলিত সেই যুক্তিটিও পড়েছি যার মাধ্যমে তিনি এই মেলামেশার বৈধতা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে: "কারাদণ্ডের উদ্দেশ্য হলো সংশোধন ও চরিত্র গঠন।" তিনি আরও বলেছেন: "আমরা মনে করি যে, বন্দি ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ থাকাতে কোনো বাধা নেই; তবে শর্ত হলো এটি যেন স্থায়ীভাবে বা ঘনঘন না হয়, যাতে তার যাবতীয় চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা হাতের নাগালে থাকার ফলে সে কারাজীবনে অভ্যস্ত হয়ে না পড়ে। বরং এই সাক্ষাৎ হওয়া উচিত দীর্ঘ বিরতিতে, যাতে তার অন্তরে বঞ্চনার তিক্ততা এবং নিজ অপরাধের জন্য অনুশোচনা বোধ জাগ্রত থাকে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
যেহেতু এই ফতোয়াটি (ইসলামি শরিয়ত বিরোধী) মানবরচিত আইনের একটি বিপজ্জনক প্রলেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং এটি একটি "অমানবিক" শাস্তি তথা কারাবাসকে সমর্থন ও শক্তিশালী করছে, তাই আমরা এর প্রতিবাদ জানানো আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করছি। আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, কারাদণ্ড কোনো শরয়ী শাস্তি নয় যে মুসলমানরা এর সংস্কারের বিষয়ে ফতোয়া গ্রহণ করবে। একইভাবে, কারাবাস কোনো মানবিক শাস্তিও নয়, বরং আমরা একে ন্যায়বিচারের নামে সংঘটিত একটি অপরাধ হিসেবে মনে করি। আমাদের দাবির সপক্ষে দলিল ও ব্যাখ্যা নিচে পেশ করা হলো:
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أولاً: عقوبة السجن ليست عقوبة شرعية:وهذا الحكم تقريباً من المعلوم في الدين ضرورة فلم ترد كلمة السجن والحبس في الكتاب والسنة كعقوبة محكمة (غير منسوخة) قط. والذي جاء في الكتاب والسنة مما قد يفهمه بعض الناس أنه عقوبة سجن هو:
(أ) قوله تعالى في شأن الزانيات {واللاتي يأتين الفاحشة من نسائكم فاستشهدوا عليهن أربعة منكم فإن شهدوا فأمسكوهن في البيوت حتى يتوفاهن الموت أو يجعل الله لهن سبيلاً} (النساء: 15) . وقد أمر هنا سبحانه بإمساك الزانية في البيوت حتى الموت أو إلى أن يفصل الله في شأنهن بأمر آخر، وقد فعل الله ونسخ هذا الحكم وحكم في شأنهن بالجلد إذا كانت بكراً كما قال تعالى: {الزانية والزاني فاجلدوا كل واحد منهما مائة جلدة ولا تأخذكم بهما رأفة في دين الله إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر وليشهد عذابهما طائفة من المؤمنين} (النور: 2) ، وأما المحصن والمحصنة فقد حكم الله فيهما ورسوله بالرجم وأخبر الرسول أن الجلد والرجم هو السبيل الذي أشار الله إليه في آية النساء الماضية: {أو يجعل الله لهن سبيلاً} ، كما قال صلى الله عليه وسلم: [خذوا عني، خذوا عني!! قد جعل الله لهن سبيلاً: البكر بالبكر جلد مائة ونفي سنة، والثيب بالثيب جلد
প্রথমত: কারাদণ্ড কোনো শরয়ী শাস্তি নয়:এবং এই বিধানটি প্রায় দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয়ভাবে জ্ঞাত (معلوم من الدين بالضرورة) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ কুরআন এবং সুন্নাহতে কারাদণ্ড বা বন্দিত্বের শব্দসমূহ কখনোই কোনো সুনিশ্চিত (محكمة) (রহিত নয় (غير منسوخة)) শাস্তি হিসেবে আসেনি। আর কুরআন ও সুন্নাহতে যা কিছু এসেছে যা দেখে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে এটি কারাদণ্ড, তা হলো:
(ক) ব্যভিচারিণীদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করো। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদের ঘরে অবরুদ্ধ করো যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ বের করেন} (নিসা: ১৫)। এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যভিচারিণীকে মৃত্যু অবধি ঘরে আটকে রাখার অথবা আল্লাহ তাদের ব্যাপারে অন্য কোনো ফয়সালা না করা পর্যন্ত নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীকালে আল্লাহ তাআলা এই বিধানটিকে রহিত (نسخ) করেছেন এবং অবিবাহিত হলে তাদের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাতের বিধান দিয়েছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর বিধান পালনে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হও। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে} (নূর: ২)। আর বিবাহিত পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড বা রজম (رجم) এর বিধান দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ জানিয়েছেন যে, বেত্রাঘাত ও রজম হলো সেই পথ যার প্রতি মহান আল্লাহ নিসা সূরার পূর্বোক্ত আয়াতে ইঙ্গিত করেছিলেন: {অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ বের করেন}, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: [তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করো, তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করো!! আল্লাহ তাদের জন্য পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন: অবিবাহিতের সাথে অবিবাহিতের ব্যভিচারের ক্ষেত্রে একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিতের সাথে বিবাহিতের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত...
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مائة والرجم] (رواه الجماعة إلا البخاري والنسائي) ، والشاهد من كل ذلك أن الحبس في البيوت منسوخ بآية (النور) والحديث الآنف. ولا شك أن الحبس في البيوت أيضاً المنسوخ ليس هو كالحبس المعروف في أيامنا هذه (وسيأتي لهذا تفصيل آخر) .
(ب) وأما الدليل الآخر الذي قد يفهم منه بعض الناس أن الحبس عقوبة شرعية، فهو النفي أو التغريب، الذي جاء في قوله تعالى في شأن المفسدين في الأرض: {إنما جزاء الذين يحاربون الله ورسوله، ويسعون في الأرض فساداً أن يقتلوا، أو يصلبوا أو تقطع أيديهم وأرجلهم من خلاف أو ينفوا من الأرض} (المائدة: 33) الآية. وقد ذكر الله هذا (النفي) على أنه عقوبة شرعية، وكذلك جاء في حديث عبادة بن الصامت الذي ذكرناه آنفاً في شأن عقوبة الزاني البكر قوله صلى الله عليه وسلم: [والبكر بالبكر جلد مائة وتغريب عام] ، فالتغريب المذكور هنا في الحديث يعني الإبعاد عن مسرح الجريمة.. وقد فهم بعض الناس كما ذكرت آنفاً أن (النفي والتغريب) في الآية والحديث يعني السجن، أو يقوم السجن مقامه، وهذا قياس بعيد جداً فالمنفي يمارس حياته كاملة في منفاه وإن كان يراقب أو (تحدد إقامته) كما هو اصطلاح العصر وكذلك من حكم عليه بالتغريب فإنه يمارس أيضاً حياته كاملة. والسجن أيضاً عقوبة تختلف عن هذا تماماً. بل هو جريمة كما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى.
(جـ) وقد يستدل بعض الناس أن السجن عقوبة شرعية لأن بعض الخلفاء قد اتخذوا السجون، وعاقبوا بهذه العقوبة.
[একশত বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপ] (এটি বুখারি ও নাসাঈ ব্যতীত জামাত বর্ণনা করেছেন), এখানে মূল বিষয় হলো যে, ঘরে আটকে রাখা বা কারারুদ্ধ করার বিষয়টি সূরা নূরের আয়াত ও পূর্বে উল্লেখিত হাদিস দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ঘরে আটকে রাখার যে বিষয়টি রহিত (منسوخ) হয়েছে, তা আমাদের বর্তমান সময়ের পরিচিত কারাগারের মতো নয় (এর বিস্তারিত সামনে আসবে)।
(খ) অন্য যে প্রমাণটি থেকে কিছু মানুষ মনে করতে পারেন যে কারারুদ্ধ করা একটি শরয়ি শাস্তি, তা হলো দেশান্তর (النفي) বা নির্বাসন (التغريب), যা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদের দেশান্তর (ينفوا) করা হবে} (আল-মায়িদাহ: ৩৩)। আল্লাহ এই দেশান্তরকে (النفي) একটি শরয়ি শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে, যা আমরা পূর্বে অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তির বিষয়ে উল্লেখ করেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: [অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিত মহিলার ক্ষেত্রে শাস্তি হলো একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন (تغريب)]। সুতরাং হাদিসে উল্লেখিত এই নির্বাসন (التغريب) বলতে অপরাধ সংঘটনের স্থান থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়াকে বোঝায়। আমি পূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি, কিছু মানুষ আয়াত ও হাদিসে উল্লেখিত দেশান্তর (النفي) ও নির্বাসন (التغريب) বলতে কারাবাস বুঝিয়েছেন, অথবা মনে করেছেন কারাবাস এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। এটি অত্যন্ত দূরবর্তী একটি তুলনা (قياس), কারণ যাকে দেশান্তর করা হয় সে তার নির্বাসন স্থলে পূর্ণাঙ্গ জীবন অতিবাহিত করতে পারে, যদিও তাকে নজরদারিতে রাখা হয় অথবা তার আবাসন নির্দিষ্ট (تحدد إقامته) করে দেওয়া হয় যেমনটি বর্তমান সময়ের পরিভাষা; ঠিক একইভাবে যাকে নির্বাসনের দণ্ড দেওয়া হয় সেও তার পূর্ণ জীবন যাপন করে। আর কারাবাস এমন একটি শাস্তি যা এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরং এটি একটি অপরাধ, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে।
(গ) কিছু লোক হয়তো কারাবাসকে শরয়ি শাস্তি হিসেবে এই যুক্তিতে দলিল হিসেবে পেশ করতে পারেন যে, কিছু খলিফা কারাগার নির্মাণ করেছিলেন এবং এই শাস্তি কার্যকর করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فالجواب عن ذلك أنه لم يعاقب خليفة راشد قط بالسجن كعقوبة لحد من حدود الله تعالى كسرقة وقتل وزنا ونحو ذلك من العقوبات التي جاء لها حدود في الشريعة الإسلامية وإنما عاقب بعض الخلفاء بالسجن كعقوبة تعزيرية في الجرائم التي لم ينزل تحديد شرعي بعقوبتها. كما عاقب عمر بن الخطاب رضي الله عنه، في النشوز، والهجاء وقد كانت هذه العقوبة واحداً أو أياماً قليلة، وهذا في الحقيقة نوع من التوقيف والتعزيز، وليس هذا عقوبة شرعية ولذلك نص من أباح السجن في مثل هذه التعازير أن لا يزيد عن سنة بحال حتى لا يجاوز الحد الشرعي في التغريب. وهذا على كل حال ليس دليلاً شرعياً لأن هذا اجتهاد لسنا ملزمين بالأخذ به وخاصة إذا كانت كل الشواهد تدل على أن السجن قد أضحى مدرسة للإجرام وليس إصلاحاً وتهذيباً كما يزعمون.
এর উত্তর হলো এই যে, কোনো ন্যায়নিষ্ঠ খলিফা (خليفة راشد) কখনও আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত দণ্ডসমূহের (حدود) অন্তর্ভুক্ত চুরি, হত্যা, ব্যভিচার বা এ জাতীয় অপরাধের ক্ষেত্রে—যেগুলোর শাস্তির বিধান ইসলামী শরিয়তে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে—শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড দেননি। বরঞ্চ কোনো কোনো খলিফা সেইসব অপরাধের ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক দণ্ড (تعزيرية) হিসেবে কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন, যেগুলোর শাস্তির কোনো নির্দিষ্ট সীমা শরিয়তের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়নি। যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) স্বামীর অবাধ্যতা (نشوز) এবং মানহানিকর কবিতা বা ব্যঙ্গ (هجاء)-এর ক্ষেত্রে শাস্তি দিয়েছিলেন; আর এই শাস্তির মেয়াদ ছিল একদিন বা মাত্র কয়েক দিন। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল এক প্রকারের আটক এবং শাসন (تعزير), এটি কোনো মূল শরিয়তি দণ্ড (عقوبة شرعية) ছিল না। এ কারণেই যারা এই ধরণের সংশোধনমূলক ব্যবস্থার (تعازير) ক্ষেত্রে কারাদণ্ডকে বৈধ বলেছেন, তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো অবস্থাতেই এর মেয়াদ যেন এক বছরের বেশি না হয়, যাতে তা অপরাধীকে দেশান্তরী করার (تغريب) ক্ষেত্রে নির্ধারিত শরিয়তি সীমা (الحد الشرعي) অতিক্রম না করে। সর্বোপরি এটি কোনো (অকাট্য) শরিয়তি দলিল (دليل شرعي) নয়, কারণ এটি ছিল একটি গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) যা গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য নই; বিশেষ করে যখন সকল বাস্তব প্রমাণ একথাই নির্দেশ করে যে, জেলখানা এখন সংশোধনাগার হওয়ার পরিবর্তে অপরাধের পাঠশালায় পরিণত হয়েছে, যেমনটি তারা দাবি করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ثانياً: السجن هو صلب العقوبات الوضعية:وبينما نرى أن الشريعة المطهرة استبعدت "السجن" تماماً كعقوبة شرعية (أي منصوص عليها، وإنما السجن في الشريعة مجرد إيقاف احتياطي على ذمة التحقيق أو تعزيراً باجتهاد القاضي لا يتعدى الأيام المعدودة) ، فإن القوانين الوضعية جعلت عقوبة السجن هي العقوبة الأساسية في كافة الجرائم على اختلاف صورها وأشكالها. فالسجن هو عقوبة في جرائم القتل، والعدوان على ما دون النفس، والسرقة، والنصب والتزوير وكل الجرائم المالية، وكذلك جعلته عقوبة للاغتصاب وما تعتبره جرائم خلقية، والأدهى من ذلك أيضاً أنها جعلته عقوبة فيما يشبه الجريمة وليس بجريمة أصلاً كقتل الخطأ الذي لا يد فيه للقاتل، وكحيازة الأسلحة، بل ومن أعجب العجب أنها جعلته عقوبة لما أسمته بجرائم الرأي، وقد بالغت القوانين الوضعية في هذه العقوبة فحكمت بالسجن المؤبد مطلقاً حتى الموت بل والسجن مائة سنة ومائة ونيف، ومن المعلوم عادة أن الإنسان لا يعمر على هذا النحو..
وكان لا بد لكل منصف أن يعلم أن الشريعة تنزيل من حكيم حميد، وأن يسأل نفسه لماذا استبعدت الشريعة عقوبة السجن على هذا النحو؟! ولماذا أقرت الشرائع الوضعية العمياء هذه العقوبة على هذا النحو أيضاً؟
ولن يخفى بالطبع عند النظر والفهم لهذه العقوبة الباطلة أنها جريمة وليست عقوبة. وإليك تفصيل هذا في الفصلين الآتيين.
দ্বিতীয়ত: কারাদণ্ড হলো মানবরচিত দণ্ডবিধির মূল ভিত্তি:যেখানে আমরা দেখি যে, পবিত্র শরিয়ত "কারাদণ্ড"-কে একটি বিধিবদ্ধ শরিয়তি দণ্ড (অর্থাৎ দলিলে সরাসরি বর্ণিত দণ্ড) হিসেবে পুরোপুরি বর্জন করেছে (শরিয়তে কারাবাস হলো তদন্তের স্বার্থে নিছক সতর্কতামূলক আটক রাখা অথবা বিচারকের ইজতিহাদ অনুযায়ী বিবেচনামূলক দণ্ড (تعزيراً), যা নির্দিষ্ট কয়েক দিনের বেশি দীর্ঘ হয় না), সেখানে মানবরচিত আইনগুলো বিভিন্ন প্রকার ও প্রকৃতির সকল অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডকেই মূল শাস্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। সুতরাং কারাদণ্ড হলো হত্যা, শারীরিক আঘাত, চুরি, জালিয়াতি ও প্রতারণা এবং সকল প্রকার আর্থিক অপরাধের সাজা। একইভাবে তারা এটিকে ধর্ষণ এবং যেগুলোকে তারা নৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সেগুলোর শাস্তিরূপে নির্ধারণ করেছে। এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা একে এমন বিষয়ের জন্যও সাজা হিসেবে গণ্য করেছে যা মূলত অপরাধই নয়, বরং অপরাধের সদৃশ; যেমন ভুলবশত হত্যা যাতে হত্যাকারীর কোনো হাত নেই এবং অস্ত্র রাখা। এমনকি চরম আশ্চর্যের বিষয় হলো, তথাকথিত 'মতাদর্শিক অপরাধের' জন্যও তারা কারাদণ্ডকে সাজা হিসেবে নির্ধারণ করেছে। মানবরচিত আইনগুলো এই শাস্তির ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছে এবং মৃত্যু অবধি আমরণ কারাদণ্ড, এমনকি একশ বছর বা তারও বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান দিয়েছে, অথচ সাধারণত এটি সবারই জানা যে মানুষ এতো দীর্ঘকাল জীবিত থাকে না।
প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির জন্য এটি জানা অপরিহার্য যে, শরিয়ত হলো প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তাকে নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে যে, শরিয়ত কেন কারাদণ্ডকে এভাবে বর্জন করল? আর কেনই বা এই অন্ধ মানবরচিত বিধানগুলো এই শাস্তিকে এভাবে বহাল রাখল?
এই বাতিল দণ্ডটি পর্যালোচনা ও অনুধাবন করলে এটি নিশ্চিতভাবেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এটি স্বয়ং একটি অপরাধ, কোনো শাস্তি নয়। পরবর্তী দুটি পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করা হলো।
(খণ্ড: ১)
উজুবু তাতবিকিল হুদুদিশ শারইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
خامساً: أهداف العقوبات الشرعيةللعقوبة في الإسلام أهداف وحكم محددة هي: التطهير، والقصاص، والتعويض، والزجر، و"السجن" كعقوبة لا يحقق شيئاً من هذه الحكم ولا الأهداف، بل على العكس من ذلك فإنه يحقق من الفساد أضعاف ما قد يوجد فيه من مصالح تافهة وإليك التفصيل في كل ذلك:
أولاً: التطهير:فرض الله سبحانه وتعالى الحدود في الإسلام (العقوبات الشرعية المنصوص عليها) مطهرات للذنوب التي ارتكبها أصحابها وعوقبوا عليها كما في حديث عبادة بن الصامت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: [بايعوني على أن لا تشركوا بالله شيئاً، ولا تسرقوا، ولا تزنوا ولا تقتلوا أولادكم ولا تأتوا ببهتان تفترونه بين أيديكم وأرجلكم، ولا تعصوا في معروف فمن وفى منكم فأجره على الله ومن أصاب من ذلك شيئاً فعوقب في الدنيا فهو كفارة له] الحديث. وهذه الكفارة مطلوبة عند المسلم الذي يخاف عقوبة الله في الآخرة وكذلك هي ماحية للذنب عند الله سبحانه في الآخرة حتى لو لم يرد (المحدود) المعاقب في حد شرعي بالتطهير. وهذا في ذاته نفع لصاحبه. ومعلوم قطعاً أن الذي ينفذ فيه حد غير شرعي كالسجن مثلاً فإن جانب التطهير منتف منه لأن الطهارة الشرعية من الذنب حق من حقوق الله تعالى إذ لا يغفر الذنوب إلا هو
পঞ্চম: শরয়ী দণ্ডবিধির (العقوبات الشرعية) উদ্দেশ্যসমূহইসলামে দণ্ডের কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও প্রজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো হলো: পবিত্রকরণ (التطهير), কিশ্বাস (القصاص), ক্ষতিপূরণ (التعويض) এবং প্রতিরোধ (الزجر)। আর দণ্ড হিসেবে "কারাদণ্ড" এই প্রজ্ঞা বা উদ্দেশ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করে না; বরং এর বিপরীতে এটি তুচ্ছ কিছু উপকারের তুলনায় বহুগুণ বেশি ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
প্রথমত: পবিত্রকরণ (التطهير):আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইসলামে নির্ধারিত দণ্ডবিধি (الحدود) — যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত শরয়ী দণ্ডসমূহ (العقوبات الشرعية المنصوص عليها) — ফরজ করেছেন অপরাধীদের কৃত পাপ থেকে পবিত্র করার মাধ্যম হিসেবে, যার কারণে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়। যেমনটি উবাদাহ ইবনুন সামিত (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: [তোমরা আমার কাছে এই মর্মে শপথ গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, সজ্ঞানে কারো প্রতি কোনো মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে না এবং কোনো সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তার দণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত (كفارة) স্বরূপ।] হাদিস। আর এই প্রায়শ্চিত্ত (كفارة) সেই মুসলিমের নিকট কাঙ্ক্ষিত যে আখিরাতে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করে। তেমনিভাবে এটি আখিরাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট পাপ মোচনকারী, এমনকি যদি নির্ধারিত দণ্ডপ্রাপ্ত (المحدود) ব্যক্তি শরয়ী দণ্ডের মাধ্যমে পবিত্র হওয়া নাও চায়। এটি মূলত তার নিজের জন্যই কল্যাণকর। আর এটি অকাট্যভাবে জানা যে, যার ওপর অ-শরয়ী কোনো দণ্ড কার্যকর করা হয়, যেমন কারাদণ্ড, তবে সেক্ষেত্রে পবিত্রকরণের বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে। কারণ পাপ থেকে শরয়ী পবিত্রতা (الطهارة الشرعية) অর্জন করা আল্লাহ তায়ালার অন্যতম একটি অধিকার, যেহেতু তিনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।