(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الفوائد الحديثية والفقهية القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: سلسلة الفوائد الحديثية والفقهية
(المنتقاة من مجلس العلامة المحدث مصطفى بن العدوي مع طلابه)
المؤلف: أبو أويس أشرف بن نصر بن صابر الكردي
تقريظ وتقديم: أبي عبد الله مصطفى بن العدوي
الناشر: (دار اللؤلؤة، دار مكة) - مصر
الطبعة: الأولى، 1443 - 1447 هـ
عدد الأجزاء: 18
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الأولى 1444
হাদীস ও ফিকহ বিষয়ক উপদেশমালার ধারাবাহিক বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
কিতাব: হাদীস ও ফিকহ বিষয়ক উপদেশমালার ধারাবাহিক
(প্রখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস মোস্তফা বিন আল-আদাউয়ির তাঁর ছাত্রদের নিয়ে আয়োজিত মজলিস থেকে সংকলিত)
লেখক: আবু উওয়াইস আশরাফ বিন নাসর বিন সাবির আল-কুর্দি
প্রশংসা ও ভূমিকা: আবু আবদুল্লাহ মোস্তফা বিন আল-আদাউয়ি
প্রকাশক: (দারুল লু’লু’য়াহ, দারু মক্কাহ) - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ - ১৪৪৭ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১৮
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة فضيلة الشيخ المُحَدِّث مصطفى بن العدوي تقديم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله.
وبعد، فهذه جملةٌ طيبة من الفوائد الحديثية والفقهية، وغيرِ ذلك من الفوائد العلمية الشرعية، جَمَعها أخي الشيخ الفاضل أبو أويس أشرف الكُرْدي - حَفِظه الله - وذلك في ثنايا الدروس المنعقدة لمراجعة أبحاث إخواني من طلبة العلم.
وقد بَذَل فيها جهدًا - حَفِظه الله ووفقه - وضَمَّنها بعض الأبحاث الخاصة به، وخَرَّج ما يَحتاج إلى تخريج، وحَكَم على بعض ما يَحتاج إلى الحُكْم عليه بما يستحق، فجزاه الله خيرًا وبارك فيه.
هذا، وعن هذه الفوائد فهي متنوعة بحَسَب أعمال إخواني العلمية، التي تَمَّتْ مراجعتها، وهي - ولله الحمد - أبحاث نافعة.
فأشكر الله ثم أشكر أخي الشيخ أبا أويس، على جده واجتهاده وعمله النافع، أسأل الله أن يتقبله منه، وأن يجعله في موازين أعماله يوم لقاء الله عز وجل.
هذا، وقد نظرتُ في هذا العمل، بعد أن راجعتُ أعمال إخواني بدقة، نظرتُ في هذا العمل نظرة إجمالية، فألفيتُه نافعًا موفقًا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সম্মানিত শায়খ মুহাদ্দিস মুস্তফা বিন আল-আদাবীর ভূমিকা নিবেদন
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।
অতঃপর, এটি হাদিস, ফিকহ এবং অন্যান্য শরয়ি ইলমি উপকারিতার একটি উত্তম সংকলন। আমার সম্মানিত ভাই শায়খ আবু উওয়াইস আশরাফ আল-কুর্দি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এটি ইলমে দীনের শিক্ষার্থী ভাইদের গবেষণাসমূহ পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত দরসগুলোর মধ্য থেকে সংগ্রহ করেছেন।
তিনি এতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন ও তাওফিক দান করুন— এবং এতে তার নিজস্ব কিছু গবেষণাও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যে বিষয়গুলোর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) প্রয়োজন ছিল তিনি তা করেছেন এবং যে বিষয়গুলোর ওপর হুকুম লাগানো প্রয়োজন ছিল সেগুলোর ওপর উপযুক্ত হুকুম প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এতে বরকত দান করুন।
আর এই উপকারিতাগুলো আমার ভাইদের সেসব ইলমি কাজের ধরন অনুযায়ী বৈচিত্র্যময়, যা পর্যালোচনা করা হয়েছে। আর এগুলো —সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর— অত্যন্ত উপকারী গবেষণা।
আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, অতঃপর আমার ভাই শায়খ আবু উওয়াইসের তার একনিষ্ঠতা, পরিশ্রম এবং উপকারী কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিনে এটি তার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করে দেন।
আমি এই কাজটির ওপর দৃষ্টিপাত করেছি; আমার ভাইদের কাজগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর আমি এই কাজটির ওপর একটি সামগ্রিক দৃষ্টি দিয়েছি এবং একে অত্যন্ত উপকারী ও সঠিক হিসেবে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فاللهَ أسأل أن يوفق أخي أبا أويس، وأن يَزيده من العلم النافع والعمل الصالح.
وصَلِّ اللهم على نبينا محمد، وسَلِّم.
والحمد لله رب العالمين.
كَتَبه
أبو عبد الله مصطفى بن العدوي
(1)--------------------------------------------
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমার ভাই আবু উওয়াইসকে তাওফিক দান করেন এবং তার উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল বৃদ্ধি করে দেন।
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
আবু আবদুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ী
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم العَلَّامة عبد العزيز بن إبراهيم القرشي الفيومي (1)• نقول وبالله الحمد: هذا كتاب جديد في مأتاه، لم يُسبَق إليه، وقد جَمَع جهودًا كثيرة لبعض شبابنا وأبنائنا العلماء، فَجَدُّوا في البحث ووثقوا أخباره، فأكدوا صحتها بعرضها على العَلَّامة الإمام مصطفى العدوي - حفظه الله - وكان ثوبه قشيبًا ومأتاه عجيبًا.
وأسأل الله سبحانه أن ينفع به القاصي والداني، والمبتدئ والمنتهي؛ فهو مَعِين صافٍ، يغترف منه أهل الحديث فيرويهم، وأهلُ الفقه فلا يَمَلون شرابه ولو كان عَلَلًا بَعْد نَهَلٍ.
فبارك الله في القائمين عليه، وفي ابننا الحبيب أبي أويس الكردي، الذي جَمَع شتاته، وهو كظننا به، يعمل دأبًا ولا يَعرفُ كسلًا، غزيرٌ علمُه واسعٌ فهمُه، فإذا قلتَ محدِّثًا، تَنَازَعَهُ أهل الفقه فقالوا: بل هو فقيه.
--------------------------------------------
আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন ইবরাহিম আল-কুরাশি আল-ফাইয়ুমির উপস্থাপনা (১)• আমরা বলছি—এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এটি এমন এক কিতাব যা এর আঙ্গিকে সম্পূর্ণ নতুন, যার নজির এর আগে আর নেই। এটি আমাদের কিছু তরুণ এবং সন্তানতুল্য আলেমদের অনেক প্রচেষ্টাকে একত্রিত করেছে; তারা গবেষণায় কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং এর বর্ণনাগুলোকে প্রামাণ্য করেছেন। তারা আল্লামা ইমাম মুস্তফা আল-আদাওয়ি—আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন—এর নিকট এটি পেশ করে এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করেছেন। এর বাহ্যিক রূপ ছিল অতি মনোরম এবং এর উপস্থাপনা ভঙ্গি ছিল বিস্ময়কর।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে দূরবর্তী ও নিকটবর্তী, এবং শিক্ষানবিশ ও অভিজ্ঞ—সকলকে উপকৃত করেন। কেননা এটি একটি স্বচ্ছ প্রস্রবণ, হাদিসবিদগণ যেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে তৃপ্ত হন এবং ফিকহবিদগণ এর পানীয় গ্রহণে একঘেয়েমি অনুভব করেন না, এমনকি তৃষ্ণা নিবারণের পর বারবার পান করলেও।
সুতরাং আল্লাহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং আমাদের প্রিয় পুত্র আবু উয়াইস আল-কুর্দির ওপর বরকত দান করুন, যিনি এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করেছেন। তিনি আমাদের ধারণার মতোই; ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যান এবং অলসতা চেনেন না। তার জ্ঞান গভীর এবং উপলব্ধি অত্যন্ত ব্যাপক; আপনি যদি তাকে মুহাদ্দিস হিসেবে অভিহিত করেন, তবে ফিকহবিদগণ তাকে নিজেদের দাবি করে বিতর্কে লিপ্ত হবেন এবং বলবেন: বরং তিনি একজন ফকিহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد استمعتُ إليه يَقرأ ويتحدث، فأدركتُ علمَه باللغة وإدراكَه لمعانيها الرائقة، أقول هذا شهادةً لله سبحانه، ولم أوفه حقه؛ فإنه - والله حسيبه - فوقَ ذلك.
بتاريخ مساء الأربعاء (18) من ذي الحجة (1442 هـ) الموافق (28/ 7/ 2021 م).
আমি তাঁকে পাঠ করতে এবং কথা বলতে শুনেছি, তখন আমি ভাষা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং এর চমৎকার অর্থসমূহ উপলব্ধি করার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার উদ্দেশ্যে সাক্ষ্যস্বরূপ এটি বলছি, যদিও আমি তাঁর যথাযথ হক আদায় করতে পারিনি; কেননা তিনি—আল্লাহই তাঁর হিসাব গ্রহণকারী—এর চেয়েও বহু ঊর্ধ্বে।
তারিখ: বুধবার সন্ধ্যা (১৮) যিলহজ (১৪৪২ হিজরি) মোতাবেক (২৮/ ৭/ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ)।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة المؤلفالحمد لله القائل لسيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: 114].
والصلاة والسلام على رسول الله القائل: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا، فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا»
(1).
وبعد، فالرحلة في طلب العلم النافع ابتغاء وجه الله الأعلى - مِنْ أَجَلّ العبادات وأقرب القُرَب وأشرف الزيارات في الله، قال تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদম সন্তানদের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {আর বলো, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন} [ত্বহা: ১১৪]।
আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, যিনি বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা স্মরণ রেখেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে»
(১)।
অতঃপর, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে উপকারী ইলম অন্বেষণে সফর করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিকটতম মাধ্যম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অন্যতম সম্মানিত সফর। আল্লাহ তাআলা বলেন: {কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ»
(1).
• وفيها الازدياد من العلم، ومعرفة مفاتيحه ومواكبة العصر ودقة الفهم والصحبة الصالحة والتعاون على البر والتقوى وإحياء السنن وإماتة البدع.
• وبها تُدْفَع الشبهات، فَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ الحَارِثِ، أَنَّهُ تَزَوَّجَ ابْنَةً لِأَبِي إِهَابِ بْنِ عُزَيْزٍ، فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ أَرْضَعْتُ عُقْبَةَ وَالَّتِي تَزَوَّجَ. فَقَالَ لَهَا عُقْبَةُ: مَا أَعْلَمُ أَنَّكِ أَرْضَعْتِنِي، وَلَا أَخْبَرْتِنِي. فَرَكِبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَيْفَ وَقَدْ قِيلَ؟» فَفَارَقَهَا عُقْبَةُ، وَنَكَحَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ
(2).
• وبها نال الشباب بركة صحبة النبي صلى الله عليه وسلم، فَعَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ رضي الله عنه قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَحِيمًا رَقِيقًا، فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا أَهْلَنَا، فَسَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِنَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، فَقَالَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ، وَمُرُوهُمْ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ»
(3).
• وفيها يَتلقى المتعلم من العالم، ويستفيد الشيخ من الطالب، وتُعْقَد مجالس الربانيين فتَحفُّهم ملائكة الرحمن، ويجدون بغيتهم.
--------------------------------------------
যাতে তারা সতর্ক হতে পারে} [তওবা: ১২২] এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»
(১).
• এতে রয়েছে জ্ঞান বৃদ্ধি, জ্ঞানের চাবিকাঠি সম্পর্কে সম্যক ধারণা, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা, সূক্ষ্ম বোধশক্তি, সৎ সঙ্গ, নেক কাজ ও আল্লাহভীতির বিষয়ে সহযোগিতা, সুন্নাহর পুনর্জীবন এবং বিদআতের মূলোৎপাটন।
• এর মাধ্যমে সংশয় দূর হয়। উকবা ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু ইহাব ইবনে আযীযের এক কন্যাকে বিয়ে করেন। অতঃপর এক নারী তার কাছে এসে বলল: "আমি উকবা এবং সে যাকে বিয়ে করেছে উভয়কে দুধ পান করিয়েছি।" উকবা তাকে বললেন: "তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ বলে আমার জানা নেই এবং তুমি তো আমাকে আগে কখনও সংবাদ দাওনি।" এরপর তিনি সওয়ার হয়ে মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলেন এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «কীভাবে (তাকে স্ত্রীরূপে রাখবে) অথচ এমন কথা বলা হয়েছে?» অতঃপর উকবা তাকে ত্যাগ করলেন এবং সেই নারী অন্য স্বামী গ্রহণ করলেন
(২).
• এর মাধ্যমেই যুবকরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সান্নিধ্যের বরকত লাভ করেছেন। মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা সমবয়সী কয়েকজন যুবক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলাম। আমরা তাঁর কাছে বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছি, তখন তিনি আমাদের পরিবারের কে কে আছেন সে সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন এবং আমরা তাঁকে তা জানালাম। তখন তিনি বললেন: «তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও, তাদের মাঝে অবস্থান করো, তাদের শিক্ষা দাও এবং (সৎ কাজের) নির্দেশ দাও। যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন ইমামতি করে»
(৩).
• এতে শিক্ষার্থী আলিমের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং উস্তাদও ছাত্রের থেকে উপকৃত হন। রব্বানী আলিমদের মজলিস কায়েম হয় যাকে দয়াময় আল্লাহর ফেরেশতারা ঘিরে রাখেন এবং তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فعن أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ، يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَنَادَوْا: هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ» قَالَ: «فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا» قَالَ: «فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ، وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ: مَا يَقُولُ عِبَادِي؟ قَالُوا: يَقُولُونَ: يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ» قَالَ: «فَيَقُولُ: هَلْ رَأَوْنِي؟» قَالَ: «فَيَقُولُونَ: لَا وَاللَّهِ مَا رَأَوْكَ» قَالَ: «فَيَقُولُ: وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي؟» قَالَ: «يَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً، وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدًا وَتَحْمِيدًا، وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحًا» قَالَ: «يَقُولُ: فَمَا يَسْأَلُونِي؟» قَالَ: «يَسْأَلُونَكَ الجَنَّةَ» قَالَ: «يَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟» قَالَ: «يَقُولُونَ: لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا» قَالَ: «يَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا؟» قَالَ: «يَقُولُونَ: لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصًا، وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبًا، وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً» قَالَ: «فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ؟» قَالَ: «يَقُولُونَ: مِنَ النَّارِ» قَالَ: «يَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟» قَالَ: «يَقُولُونَ: لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ، مَا رَأَوْهَا» قَالَ: «يَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟» قَالَ: «يَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارًا، وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً» قَالَ: «فَيَقُولُ: فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ» قَالَ: «يَقُولُ مَلَكٌ مِنَ المَلَائِكَةِ: فِيهِمْ فُلَانٌ، لَيْسَ مِنْهُمْ، إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ». قَالَ: «هُمُ الجُلَسَاءُ لَا يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ»
(1).
وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه: «وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ، وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ، إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ،
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা পথে পথে ঘুরে বেড়ান এবং যিকিরকারীদের অনুসন্ধান করেন। যখন তাঁরা এমন কোনো দল পান যারা আল্লাহর যিকিরে মশগুল, তখন তাঁরা একে অপরকে ডেকে বলেন: "তোমাদের উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিকে এসো।"» তিনি বলেন: «অতঃপর তাঁরা তাঁদের ডানা দিয়ে দুনিয়ার আকাশ পর্যন্ত তাঁদেরকে ঘিরে রাখেন।’ তিনি বলেন: ‘তখন তাঁদের রব তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাঁদের সম্পর্কে অধিক অবগত—: "আমার বান্দারা কী বলছে?" তাঁরা বলেন: "তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, আপনার মহিমা ঘোষণা করছে, আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার গৌরবগান করছে।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "তারা কি আমাকে দেখেছে?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "না, আল্লাহর কসম, তারা আপনাকে দেখেনি।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "যদি তারা আমাকে দেখত তবে কেমন হতো?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "যদি তারা আপনাকে দেখত তবে তারা আপনার আরও একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করত, আরও বেশি আপনার গৌরব ও প্রশংসা করত এবং অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "তারা আমার কাছে কী চায়?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "তারা আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছে।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "তারা কি তা দেখেছে?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "না, আল্লাহর কসম, হে রব! তারা তা দেখেনি।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "যদি তারা তা দেখত তবে কেমন হতো?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "যদি তারা তা দেখত তবে তারা তার প্রতি আরও অধিক লালায়িত হতো, তা আরও কঠোরভাবে অন্বেষণ করত এবং তার প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষা আরও প্রবল হতো।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "তারা কী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "জাহান্নাম থেকে।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "তারা কি তা দেখেছে?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "না, আল্লাহর কসম, হে রব! তারা তা দেখেনি।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "যদি তারা তা দেখত তবে কেমন হতো?"» তিনি বলেন: «তাঁরা বলেন: "যদি তারা তা দেখত তবে তারা তা থেকে পলায়নে আরও কঠোর হতো এবং তাকে আরও বেশি ভয় করত।"» তিনি বলেন: «তখন তিনি বলেন: "আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয়ই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"» তিনি বলেন: «ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা বলেন: "তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে কেবল কোনো এক প্রয়োজনে এসেছিল।"» তিনি বলেন: «তারা এমন এক মজলিস যে, তাদের সাথে বসা ব্যক্তিও দুর্ভাগা হয় না»
(১)।
আর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে রয়েছে: «কোনো সম্প্রদায় যখন আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য হতে কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা পঠন-পাঠন করে, তখন তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ، وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ، لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ»
(1).
• والرحلة ومجالس العلم صِمام أمان للأمة والأجيال القادمة، وهذا واضح في رغبة نبي الله زكريا عليه السلام من الذرية {وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا (5) يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا} [مريم: 5، 6].
• والرحلة طريق للارتقاء والبحث عن المتقنين والترقي في درجات العلم والإيمان: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11] وقال تعالى في شأن الصِّدِّيق يوسف عليه السلام: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].
وخَيْر ما يجتهد فيه طالب العلم بعد تقوى الله
(2) العمل بما تَعَلَّم وتعليم مَنْ لم يعلم، ومذاكرة مَنْ يَعْلم، وتقييد العلم ونشره في الآفاق، فحفظ العلم في الصدر أو في القرطاس أو الكتاب أو نَشْره عبر الوسائل الحديثة المتاحة - كلها طرائق لحفظ العلم ونشره في الآفاق، فربما بَلَغ علمك مكانًا لن تبلغه ببدنك طيلة عمرك، فيكون زاداً لك في رحلتَي البزخ والقيامة بعد مماتك، ورُبَّ مُبلَّغ أوعى من سامع.
وقد قال تعالى في فضل حفظ العلم عن ظهر قلب: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي
--------------------------------------------
এবং ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে, আর আল্লাহ তাঁর কাছে অবস্থানকারীদের নিকট তাদের কথা উল্লেখ করেন। যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারে না।
(১)• সফর ও ইলমের মজলিসগুলো উম্মাহ এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক সুরক্ষা কবচ। এটি আল্লাহর নবী জাকারিয়া আলাইহিস সালামের সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে স্পষ্ট: {আর আমি আমার পরে আমার উত্তরাধিকারীদের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন (৫) যে আমার উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকার লাভ করবে, আর হে আমার রব! আপনি তাকে সন্তোষভাজন করুন} [মারইয়াম: ৫, ৬]।
• সফর হলো উন্নতির সোপান এবং দক্ষ ব্যক্তিদের অন্বেষণ এবং ইলম ও ঈমানের মর্তবায় আরোহণের পথ: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্তবা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন} [আল-মুজাদালাহ: ১১]। আল্লাহ তাআলা সিদ্দীক ইউসুফ আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গে বলেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি, আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে রয়েছেন একজন সর্বজ্ঞানী} [ইউসুফ: ৭৬]।
আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের পর একজন ইলম অন্বেষণকারী যা অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করে
(২), তা হলো যা সে শিখেছে সে অনুযায়ী আমল করা, যে জানে না তাকে শেখানো, যে জানে তার সাথে আলোচনা করা এবং ইলমকে লিপিবদ্ধ করা ও দিগদিগন্তে ছড়িয়ে দেওয়া। সুতরাং অন্তরে ইলম মুখস্থ রাখা অথবা কাগজে বা বইয়ে তা লিখে রাখা অথবা আধুনিক সহজলভ্য মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে তা প্রচার করা—সবই ইলম সংরক্ষণ ও তা দিগদিগন্তে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম। সম্ভবত আপনার ইলম এমন এক স্থানে পৌঁছাবে যেখানে আপনি আপনার জীবদ্দশায় সশরীরে পৌঁছাতে পারবেন না; ফলে এটি আপনার মৃত্যুর পর বরজখ ও কিয়ামতের সফরের পাথেয় হবে। আর অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।
আল্লাহ তাআলা মুখস্থ ইলম সংরক্ষণের ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন: {বরং তা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, যা তাদের...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} [العنكبوت: 49].
وقال النبي صلى الله عليه وسلم في قصة وفد عبد القيس: «احْفَظُوهُنَّ، وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ»
(1).
وقال عمرو بن أَخْطَبَ رضي الله عنه: «فَأَعْلَمُنَا أَحْفَظُنَا»
(2).
وفي حديث أبي موسى رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنَ الهُدَى وَالعِلْمِ - كَمَثَلِ الغَيْثِ الكَثِيرِ أَصَابَ أَرْضًا، فَكَانَ مِنْهَا نَقِيَّةٌ، قَبِلَتِ المَاءَ، فَأَنْبَتَتِ الكَلَأَ وَالعُشْبَ الكَثِيرَ. وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ، أَمْسَكَتِ المَاءَ، فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ، فَشَرِبُوا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا، وَأَصَابَتْ مِنْهَا طَائِفَةً أُخْرَى، إِنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ، لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً. فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دِينِ اللَّهِ، وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ، فَعَلِمَ وَعَلَّمَ، وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا، وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ»
(3).
ولله دَرُّ القائل:
العلم في الصدر مثل الشمس في الفلك
… والعقل للمرء مثل التاج للملك
فاشدد يديك بحبل العلم معتصماً
… فالعلم للمرء مثل الماء للسمك
(4)--------------------------------------------
{যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের অন্তরে।} [আল-আনকাবূত: ৪৯]।
আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদলের ঘটনায় বলেছেন: «তোমরা এগুলো মুখস্থ রাখো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে এগুলো জানিয়ে দাও»
(১)।
আর আমর ইবন আখতাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী সেই, যে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুখস্থ রাখে»
(২)।
আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো সেই প্রচুর বৃষ্টির মতো যা কোনো ভূমিতে পতিত হয়। সেই ভূমির একটি অংশ ছিল উর্বর, যা পানি গ্রহণ করে এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপন্ন করে। তার একটি অংশ ছিল অনুর্বর ও শক্ত, যা পানি ধরে রাখে, ফলে আল্লাহ তার মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করেন; তারা সেখান থেকে পান করে, অন্যদের পান করায় এবং চাষাবাদ করে। আর বৃষ্টির পানি এমন এক ভূমিতে পতিত হয় যা ছিল কেবলই সমতল প্রান্তর, যা পানি ধরে রাখে না এবং কোনো ঘাসও উৎপন্ন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীনে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তাকে উপকৃত করেছে, ফলে সে নিজে শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর সেই হিদায়াত গ্রহণ করেনি যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে»
(৩)।
বক্তা কতই না চমৎকার বলেছেন:
অন্তরস্থ জ্ঞান হলো গগনমণ্ডলে সূর্যের মতো
… আর মানুষের আকল হলো রাজার মুকুটের মতো
অতএব ইলমের রজ্জুকে আপন হাত দিয়ে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো
… কেননা মানুষের জন্য ইলম হলো মাছের জন্য পানির মতো
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فكرة الكتاب• كنتُ بفضل الله منذ أن قَدِمْتُ «منية سمنود» في عام (1425 هـ) المُوافِق (2004 م) حريصًا على تدوين مجالس شيخنا، وأَعْظَمُها فائدة «مجلس الظُّهر» الذي كان يُفتتح بقراءة «صحيح الإمام مسلم» وكتب العقيدة و «الرسالة» للشافعي و «النكت على ابن الصلاح» ثم مراجعة الأبحاث والتحقيقات، فنِعم المجلس المعمور بالعلم والأدب والبحث والجديد من الفوائد.
ومن وراء تدوين العلم والفوائد كان هذا الكتاب الذي بين يديك، فلله الحمد والمنة والفضل والشكر.
• اقتناص الفوائد
• قال الإمام الشافعي: «اعْلَمُوا - رَحِمَكُمُ اللَّهُ - أَنَّ هَذَا الْعِلْمَ يَنِدُّ كَمَا تَنِدُّ الْإِبِلُ، فَاجْعَلُوا الْكُتُبَ لَهُ حُمَاةً وَالْأَقْلَامَ عَلَيْهِ رُعَاةً»
(1).
وكانت الكتابة سببًا في كثرة علم عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «مَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدٌ أَكْثَرَ حَدِيثًا عَنْهُ مِنِّي، إِلَّا مَا كَانَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو؛ فَإِنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ وَلَا أَكْتُبُ»
(2).
--------------------------------------------
গ্রন্থটির ধারণা• আল্লাহর অনুগ্রহে আমি যখন থেকে 'মুনয়াত সামানুদ'-এ এসেছি (১৪২৫ হিজরি মুতাবিক ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে), তখন থেকেই আমাদের শায়খের মজলিসসমূহ লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। এর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী ছিল 'যুহরের মজলিস', যা শুরু হতো 'সহীহ ইমাম মুসলিম', আকীদা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর 'আর-রিসালা' এবং ইবনুস সালাহ-এর ওপর রচিত 'আন-নুকাত' পাঠের মাধ্যমে। এরপর চলতো গবেষণা ও তাহকীক পর্যালোচনা। জ্ঞান, আদব, তাত্ত্বিক আলোচনা এবং নিত্যনতুন হিকমত ও উপকারে ভরপুর এক চমৎকার মজলিস ছিল সেটি।
এই ইলম এবং হিকমতগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রচেষ্টার ফসলই হলো আপনার হাতে থাকা এই গ্রন্থটি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ, শ্রেষ্ঠত্ব ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
• জ্ঞান ও হিকমত আহরণ
• ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন: «জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—নিশ্চয়ই এই ইলম বা জ্ঞান উটের মতো পালিয়ে যায়। তাই গ্রন্থগুলোকে এর রক্ষক এবং কলমগুলোকে এর রাখাল বা প্রহরী বানিয়ে নিন»
(১).
লিখা বা লিপিবদ্ধ করাই ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-র অধিক ইলমের কারণ। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আর কেউ আমার চেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন না; কারণ তিনি লিখে রাখতেন, আর আমি লিখতাম না»
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وإليك هذا البيان المُعبِّر:
هَذَا كِتَابُ فَوَائِدٍ مَجْمُوعَةٍ
… جُمِعَتْ بِكَدِّ جَوَارِحِ الْأَبْدَانِ
جُمِعَتْ عَلَى بُعْدِ الْمَشَقَّةِ وَالنَّوَى
… وَالسَّيْرِ بَيْنَ فَيَافِي الْبُلْدَانِ
(1).
--------------------------------------------
আর আপনার সামনে এই অর্থবহ বর্ণনাটি পেশ করা হলো:
এটি সংগৃহীত বহুবিধ উপকারের একটি গ্রন্থ
… যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কঠোর শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে
তা সংগৃহীত হয়েছে সুদূর কষ্ট ও বিচ্ছেদের পথ অতিক্রম করে
… এবং দেশ-দেশান্তরের মরু-প্রান্তরসমূহে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে।
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
طرائق العَلَّامة مصطفى بن العدوي في مجلسه• يَغرس في جلسائه الاحتساب
(1) وحُب العلم والرسوخ فيه، والصبر على تحصيله وتعليمه ونشره، وأنه الثمرة التي يُنتفع بها من الباحث بعد رحيله ويَنتفع هو بها بعد مماته، وفي الحديث: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ»
(2).
• يَغرس في طلابه الإتقان
(3) والأمانة، فلا يَشرع باحث في عرض الأحاديث عليه للتدرب إلا بعد دراسة مصطلح الحديث، والاجتياز فيه بدرجة لا تَقِلّ عن ثمانين بالمائة (80%)، ويَكتب الاختبار للباحثين الجدد بنفسه.
وأحيانًا يُوقِف الباحث خلال النقاش، ويسأله عن اجتيازه الاختبار.
وتارة يَطرح عليه أسئلة ويستمع إلى جوابه.
وتارة يُدقِّق وراء الباحث، ويُراجِع المصادر بنفسه أو بمساعدة الباحثين الحاضرين.
--------------------------------------------
আল্লামা মুস্তফা বিন আল-আদাওয়ীর মজলিসের পদ্ধতিসমূহ• তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিতদের মাঝে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা (ইহতিসাব)
(১), ইলমের প্রতি ভালোবাসা, ইলমে গভীরতা অর্জন এবং তা অর্জন, শিক্ষাদান ও প্রচারের ক্ষেত্রে ধৈর্যের বীজ রোপণ করেন। আর এটিই হলো সেই ফল যা কোনো গবেষকের চলে যাওয়ার পর অন্যরা তা থেকে উপকৃত হয় এবং তিনি নিজেও তাঁর মৃত্যুর পর এর দ্বারা উপকৃত হন। হাদিসে এসেছে: «যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি মাধ্যম ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে»
(২)।
• তিনি তাঁর ছাত্রদের মাঝে নিপুণতা
(৩) ও আমানতদারিতার বীজ রোপণ করেন। তাই কোনো গবেষক হাদিসের পরিভাষা শাস্ত্র (মুস্তলাহুল হাদিস) অধ্যয়ন এবং তাতে কমপক্ষে আশি শতাংশ (৮০%) নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া ব্যতীত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট হাদিস উপস্থাপন শুরু করতে পারেন না। তিনি নিজেই নতুন গবেষকদের জন্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করেন।
কখনও কখনও তিনি আলোচনার মাঝপথে গবেষককে থামিয়ে দেন এবং তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।
আবার কখনও কখনও তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং তার উত্তর শোনেন।
আর কখনও তিনি গবেষকের তথ্যসমূহ সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন এবং নিজে অথবা উপস্থিত গবেষকদের সহায়তায় মূল উৎসসমূহ পর্যালোচনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وثالثة: يَسأل عن طبعات الكتاب الذي يقوم الباحث بتحقيقه، وما الحامل له على هذا التحقيق؟ حتى يوجهه للأنفع له وللمسلمين، ويأمن من السطو على أعمال الآخرين، ويُذكِّر بسطو شخص على أحد كتبه، وتقديمها لإحدى الجهات، وفي ثنايا هوامشها: (قلت: مصطفى).
ورابعة: يَسأل عن الأبحاث المُؤلَّفة في بحث الشخص؛ حتى يَبدأ من حيث انتهى غيره.
وخامسة: يَرُدّ الباحثَ للبحث في كتب العلل أو لقصورٍ ظهر في البحث، أو للبحث عن شواهد أو عمومات، أو يسنده لمراجعته مع باحث متقدم، ويُبيِّن أن المجلس مهما اشتددنا فيه على الباحث، فهو أفضل له ولنا عند الله؛ لأن هذا دِين، وأَسْلَمُ من الانتقادات التي قد تَرِد.
• يَزرع فيهم الجد والاجتهاد ونَبْذ التقليد، والاعتناء في أول الطلب بتحرير العلم قبل الانشغال بأعباء الدعوة؛ فإن أثر ذلك ينعكس عليك في التأليف والتحقيق وكِبَر سنك، وبقاء ثمرة الاجتهاد دون نقض لها.
• يُذكِّر طلابه بشكر النعم، فهل يَستوي مَنْ مَنَّ الله عليه بتحفيظ القرآن للأطفال، ومَن مَنَّ الله عليه بصحبة حَمَلة القرآن وأصحاب الأبحاث النافعة؟ ففي كُلٍّ خير لكن الثاني أكثر ارتقاء ونفعًا واستنباطًا.
ويُذكِّر بأول طلبه وقلة المصادر، وبَذْل الأوقات الكثيرة في تخريج حديث من الكتب، أما الآن فيوجد وفرة في المراجع مع سرعة الجمع بالتِّقنيات الحديثة.
তৃতীয়ত: তিনি গবেষক যে কিতাবটি তাহকীক (সম্পাদনা) করছেন তার সংস্করণগুলো সম্পর্কে এবং তাকে এই তাহকীক করতে কী উদ্বুদ্ধ করল সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন; যাতে তিনি তাকে তার জন্য এবং মুসলিমদের জন্য অধিক উপকারী বিষয়ের দিকে পথনির্দেশ করতে পারেন, এবং অন্যের কাজের চৌর্যবৃত্তি থেকে রক্ষা পান। তিনি তার নিজের একটি বই অন্য এক ব্যক্তির দ্বারা চুরি হওয়া এবং তা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যার টীকাগুলোর মাঝে লিখা ছিল: (আমি মোস্তফা বলছি)।
চতুর্থত: তিনি সেই ব্যক্তির গবেষণার বিষয়ে ইতিপূর্বে রচিত গবেষণাপত্রগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন; যাতে সে অন্যের সমাপ্তি থেকেই শুরু করতে পারে।
পঞ্চমত: তিনি গবেষককে 'ইলাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ক কিতাবসমূহে পুনরায় গবেষণার জন্য অথবা গবেষণায় কোনো ত্রুটি প্রকাশ পেলে, অথবা শাহেদ (সমর্থক প্রমাণ) ও সাধারণ বর্ণনা তালাশ করার জন্য ফেরত পাঠান, অথবা কোনো অভিজ্ঞ গবেষকের সাথে তা পর্যালোচনার ভার দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মজলিসে আমরা গবেষকের প্রতি যতই কঠোর হই না কেন, তা আল্লাহর নিকট তার জন্য এবং আমাদের জন্য অধিক উত্তম; কারণ এটি দ্বীন, এবং এটি পরে আসতে পারে এমন সমালোচনা থেকে অধিক নিরাপদ।
তিনি তাদের মাঝে একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম ও অন্ধ অনুকরণ বর্জনের মানসিকতা তৈরি করেন এবং ইলম অর্জনের শুরুতে দাওয়াতের দায়িত্ব পালনের ভারে ব্যস্ত হওয়ার আগেই ইলমকে সুসংহত করার প্রতি যত্নশীল হওয়ার শিক্ষা দেন। কারণ এর প্রভাব তোমার রচনা, তাহকীক এবং বার্ধক্যে প্রতিফলিত হবে এবং তোমার গবেষণার ফসল বিনষ্ট না হয়ে স্থায়ী হবে।
তিনি তার ছাত্রদের নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। যার ওপর আল্লাহ শিশুদের কুরআন হিফজ করানোর অনুগ্রহ করেছেন, আর যার ওপর আল্লাহ কুরআনের ধারক ও উপকারী গবেষকদের সান্নিধ্য লাভের অনুগ্রহ করেছেন—তারা কি সমান হতে পারে? প্রত্যেকটির মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তবে দ্বিতীয়টি অধিক উচ্চতর, উপকারী এবং মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে শক্তিশালী।
তিনি তার ছাত্রজীবনের শুরুর দিনগুলো এবং উৎসের স্বল্পতার কথা স্মরণ করেন, যখন কিতাবসমূহ থেকে একটি হাদিসের তাখরীজ করতে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হতো। অথচ বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রচুর তথ্যসূত্রের প্রাচুর্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
• لا يَبخل على الناس بما عنده من علم ونصيحة وخير، وكأني به يُذكِّر بقوله تعالى: {وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ} [التكوير: 24] وبقول عائشة رضي الله عنها: «وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ كَتَمَ فَقَدْ كَذَبَ» ثُمَّ قَرَأَتْ: {يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} [المائدة: 67]
(1) وبعموم: «مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ، فَلْيَفْعَلْ»
(2)وحديث: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ»
(3).
• لا ينخدع ببهرجة القول وجمال العرض، واللف والدوران وكثرة القول، بل يطير فرحًا بالأدلة وصراحة الاستدلال، وتدعيم الفَهْم بأقوال أئمتنا من الصحابة رضي الله عنهم والتابعين، وأصحاب المذاهب الأربعة وابن حزم والشوكاني، ثم المعاصرين رحمهم الله جميعًا، ثم الربط بالواقع (العمل الميداني).
فإذا ما ظهر له وجه الحق في مسألة أو في الحُكم على حديث بالإعلال أو الصحة، اعتنقه؛ لأن هذا ديننا الذي نُسأل عنه في دنيانا ويوم نلقى الله: {مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ} [القصص: 65] ثم يَشكر الباحثَ بالقول والفعل.
• يُذكِّر بالتزكية وسلامة الصدر وأخوة الإيمان، وأننا بَشَر، وللقدماء حق وللجُدُد أصحاب الفوائد حق، وقد قال تعالى: {وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ} [البقرة: 237].
--------------------------------------------
• তাঁর কাছে যে ইলম, উপদেশ এবং কল্যাণ রয়েছে, তা নিয়ে তিনি মানুষের প্রতি কার্পণ্য করেন না; যেন তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন: {আর তিনি গায়েবের বিষয়ে কৃপণ নন} [আত-তাকওয়ীর: ২৪] এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এই বাণীর কথা: "আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে তিনি (রাসূল ﷺ) কোনো কিছু গোপন করেছেন, তবে সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন: {হে রাসূল! তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করো} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]
(১) এবং এই সাধারণ বাণীর মাধ্যমে: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে"
(২)এবং এই হাদীসের মাধ্যমে: "দীন হলো কল্যাণকামিতা।"
(৩)• তিনি কথার চটক, উপস্থাপনার সৌন্দর্য, ঘোরানো-প্যাঁচানো কথা এবং বাগাড়ম্বরে প্রতারিত হন না; বরং তিনি দলীল-প্রমাণ ও দলীলের দ্ব্যর্থহীন প্রয়োগে অত্যন্ত আনন্দিত হন। এছাড়া আমাদের ইমামগণ—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম, তাবিঈন, চার মাযহাবের ইমামগণ, ইবনে হাযম ও শাওকানী, অতঃপর সমসাময়িক আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন)—তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সম্যক উপলব্ধিকে শক্তিশালী করেন এবং এরপর সেটিকে বাস্তবতার (মাঠপর্যায়ের কাজ) সাথে সংশ্লিষ্ট করেন।
যখন কোনো বিষয়ে তাঁর কাছে হকের দিকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে অথবা কোনো হাদীসের ত্রুটিপূর্ণ হওয়া বা সহীহ হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হয়, তখন তিনি তা মনে-প্রাণে গ্রহণ করেন; কারণ এটাই আমাদের দীন যা সম্পর্কে আমাদের এই দুনিয়ায় এবং যেদিন আমরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব সেদিন জিজ্ঞাসিত হতে হবে: {তোমরা রাসূলদের কী উত্তর দিয়েছিলে?} [আল-কাসাস: ৬৫]। এরপর তিনি গবেষককে কথা ও কাজের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।
• তিনি তাজকিয়া (আত্মশুদ্ধি), অন্তরের সুস্থতা ও ঈমানী ভ্রাতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আর এই যে আমরা মানুষ, তাই পূর্ববর্তীদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি যারা নতুন এবং বিভিন্ন উপকারী বিষয়ের সংকলক তাদেরও অধিকার রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা নিজেদের মধ্যে অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না} [আল-বাকারাহ: ২৩৭]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويَنصح بعض الباحثين بتعديل بعض الأساليب مِنْ: (قلنا)، (بحثنا)، (لم يُعِل الخبرَ أحد) إلى (قلتُ)، (بحثتُ)، (لم يُعِله أحد فيما وقفتُ عليه).
• ويقول متواضعًا: إنه يستفيد من الباحثين أكثر مما يستفيدون منه، {وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا} [الإسراء: 20] {وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].
• يُذكِّر بسَعة الشريعة والعلم، وأن خطة البحث والفترة الزمانية المحددة له سببان في الإنجاز، وقد قال تعالى: {قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا} [الطلاق: 3].
• يُعَوِّد الباحثَ الحفظ
(1) مع الفَهْم، فيفاجئه بإغلاق أوراق البحث، ويَطلب منه أن يُفصِح عما جاء به.
وتارة يُغلِق خريطة البحث لتشعبها، ويقول له مثلًا: هذا الخبر كم شخصًا رواه عن أبي هريرة؟ ثم مَنْ عنهم؟ ثم يَطلب الحُكم على كل طريق، وهل رجع بعضها إلى بعض أو لا؟.
• وتارة في نقاش الأبحاث يقول للباحث: أُخْبِرك بما عندي، ولو عندك زيادة أو تعقيب تَفضَّلْ به بعد الانتهاء.
وأحيانًا يَطلب من بعض الجالسين تلخيص ما قيل حتى يتأكد أنهم حَصَّلوا واستفادوا.
--------------------------------------------
কিছু গবেষক কিছু শৈলী পরিবর্তনের পরামর্শ দেন, যেমন: 'আমরা বলেছি', 'আমরা গবেষণা করেছি', 'কেউ খবরটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেনি' থেকে 'আমি বলেছি', 'আমি গবেষণা করেছি', 'আমি যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে কেউ এটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেনি'।
• এবং তিনি বিনয়ের সাথে বলেন: তিনি গবেষকদের থেকে যতটুকু উপকৃত হন, তারা তাঁর থেকে ততটুকু উপকৃত হয় না; "আর তোমার রবের দান কখনো সীমিত নয়" [আল-ইসরা: ২০] "এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন" [ইউসুফ: ৭৬]।
• তিনি শরীয়ত ও জ্ঞানের প্রশস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, এবং এটিও যে, গবেষণার পরিকল্পনা এবং এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা হলো কাজ সম্পন্ন করার দুটি কারণ; আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন" [আত-তালাক: ৩]।
• তিনি গবেষককে অনুধাবনের পাশাপাশি মুখস্থ করার
(১) অভ্যাস করান, এরপর গবেষণাপত্র বন্ধ করে তাকে চমকে দেন এবং তাতে যা আছে তা ব্যক্ত করতে বলেন।
আবার কখনও তিনি গবেষণার নকশাটি তার জটিলতার কারণে বন্ধ করে দেন এবং তাকে বলেন, উদাহরণস্বরূপ: এই বর্ণনাটি আবু হুরায়রা থেকে কতজন বর্ণনা করেছেন? এরপর তাঁদের থেকে কারা করেছেন? তারপর তিনি প্রতিটি সূত্রের (তরিক) ওপর হুকুম জানতে চান এবং সেগুলো কি একে অপরের দিকে ফিরে যায় কি না তাও জিজ্ঞেস করেন।
• আবার কখনও গবেষণার আলোচনায় তিনি গবেষককে বলেন: আমার কাছে যা আছে তা আমি তোমাকে বলছি, আর তোমার কাছে যদি অতিরিক্ত কিছু থাকে বা কোনো মন্তব্য থাকে তবে শেষ হওয়ার পর তা পেশ করো।
কখনও কখনও তিনি উপস্থিতদের মধ্য থেকে কাউকে যা বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ করতে বলেন, যাতে তিনি নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা তা অর্জন করেছে এবং উপকৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
• يُبيِّن قيمة الوقت والثمرةَ المرجوة منه، فيُكلِّف بعض القائمين على العرض بضبط وقتٍ محدد، كخَمْس دقائق أو عَشْر أو ربع ساعة للباحث؛ حتى لا يطغى على حقوق الآخرين، ومِن ثَمّ لا تتراكم الأعمال.
• يَفتح مجالًا للمشاركة العلمية من الحاضرين
(1) ويُحفِّز عليها بعسل النحل أو التمر أو الهدايا، مع الثناء على قيمة الفائدة؛ شحذًا للهمم وإخراجًا للمزيد، وحضًّا على التكامل العلمي والتلقيح العقلي والتقويم البحثي.
• يتشاور مع إخوانه في مراجعة بعض الكتب، هل تقربه من الله أو تضر به؟ وأحيانًا وقته لا يَسمح بمراجعتها، فيُجَزِّئها على بعض الباحثين القدامى، ويَنص في تقديمه على ما رأى وسَمِع.
• توزيع الأبحاث النافعة التي حُررت في المكان على طلبة العلم، وعلى الوافدين بما يناسبهم منها.
--------------------------------------------
• তিনি সময়ের গুরুত্ব এবং এর থেকে প্রত্যাশিত সুফল স্পষ্ট করেন; তাই তিনি উপস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গবেষকের জন্য পাঁচ, দশ বা পনের মিনিটের মতো একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের দায়িত্ব প্রদান করেন, যাতে অন্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয় এবং এর ফলে কাজ জমে না থাকে।
• তিনি উপস্থিতদের পক্ষ থেকে জ্ঞানতাত্ত্বিক অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন
(১) এবং মৌমাছির মধু, খেজুর বা উপহারের মাধ্যমে এতে উৎসাহিত করেন, পাশাপাশি প্রাপ্ত উপকারের গুরুত্বের প্রশংসা করেন; এটি করেন সংকল্পকে শাণিত করতে, আরও বেশি কিছু বের করে আনতে এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক পূর্ণতা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গবেষণামূলক মূল্যায়নে উদ্বুদ্ধ করতে।
• তিনি কিছু বই পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর ভাইদের সাথে পরামর্শ করেন—সেগুলো কি তাঁকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে নাকি তাঁর ক্ষতি করবে? কখনও কখনও তাঁর সময় সেগুলো পর্যালোচনার অনুমতি দেয় না, তখন তিনি সেগুলো কিছু প্রবীণ গবেষকদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং তাঁর ভূমিকায় তিনি যা দেখেছেন ও শুনেছেন তা উল্লেখ করেন।
• সেই স্থানে সম্পাদিত কল্যাণকর গবেষণাপত্রসমূহ ইলম অন্বেষী ছাত্র এবং আগন্তুকদের মাঝে তাদের উপযোগী বিষয় অনুযায়ী বিতরণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
منهجي في الكتاب
1 - جَمَعْتُ بفضل الله كثيرًا من المادة العلمية التي ناقشها شيخنا مع الباحثين حَفِظهم الله، وذلك بمجالسة الباحث ومناقشته والاستفادة من عقله وبحثه، ومراجعة بعض ما يشكل أو بتوثيق فائدته من بحثه لضيق وقته، أو بالتقاط صورة ضوئية من بحثه، أو بتدوينها في ثنايا النقاش العلمي، مع تأريخها هجريًّا وميلاديًّا غالبًا.
وكتابة الخلاصة مع التوثيق اليسير.
وإن كانت الفائدة مكررة، أكدتُها بما وصل إليه الباحث الجديد، مع ذكر اسمه وتاريخ نقاشه غالبًا؛ حتى يُعْلَم المتقدم من المتأخر ويُنسَب الفضل لأهله.
2 - وضعتُ خلاصةً في نهاية الفائدة، اشتملت على خلاصة ما انتهيتُ إليه، مع تمييز ما يُنسَب لشيخنا من منطوقه أو مكتوب بنانه أو مفهوم المناقشة.
فإن كان ثَم وجهة للباحث في المخالفة، أَثبتُّها له إثراء للبحث وإحياء للعلم وفتحًا لباب الاجتهاد، وقد قال تعالى: {وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا} [الإسراء: 20] {وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} [يوسف: 76].
3 - راجعتُ شيخنا - حفظه الله - في عدد من الأخبار التي اختَلف اجتهاده فيها، فأَثبتُّ رأيه الأخير بتاريخه، وربما أشرتُ للسابق واللاحق دفعًا للتعارض بين الباحثين، أو تآلفًا بين النقاشات المصورة، أو تنبيهًا على التراجعات التي تَراجَع عنها مع الباحثين أو في كتبه الأخرى.
কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি১ - আল্লাহর অনুগ্রহে আমি অনেক ইলমী উপাদান সংগ্রহ করেছি যা আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন) গবেষকদের সাথে আলোচনা করেছেন; আর তা গবেষকের সাথে বসা, তাঁর সাথে আলোচনা করা এবং তাঁর মেধা ও গবেষণা থেকে উপকৃত হওয়ার মাধ্যমে। কখনও সময়ের স্বল্পতার কারণে তাঁর গবেষণা থেকে অস্পষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা বা এর ফায়দাগুলো প্রামাণ্য করার মাধ্যমে, অথবা তাঁর গবেষণা থেকে আলোকচিত্র (ফটো কপি) গ্রহণের মাধ্যমে, অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিজরি ও ঈসায়ী তারিখসহ ইলমী আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে তা লিখে রাখার মাধ্যমে।
এবং সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্রসহ সারসংক্ষেপ লিখেছি।
যদি কোনো ফায়দা বা তথ্য পুনরাবৃত্ত হয়, তবে আমি নতুন গবেষক যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা দ্বারা একে শক্তিশালী করেছি, সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর নাম এবং আলোচনার তারিখ উল্লেখ করেছি; যাতে অগ্রবর্তী ও পরবর্তী ব্যক্তি সম্পর্কে জানা যায় এবং যোগ্য ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয়।
২ - আমি প্রতিটি ফায়দার শেষে একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করেছি, যা আমি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তার নির্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সাথে আমাদের শায়খের দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত—তা তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী হোক, স্বহস্তে লিখিত হোক বা আলোচনার নির্যাস হোক—তা পৃথক করে দেখিয়েছি।
যদি কোনো বিষয়ে গবেষকের ভিন্নমত বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, তবে গবেষণাকে সমৃদ্ধ করতে, ইলমকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ইজতিহাদের দ্বার উন্মোচন করতে আমি তা তাঁর নামেই বহাল রেখেছি। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনার রবের দান নিষিদ্ধ নয়} [আল-ইসরা: ২০] {এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন} [ইউসুফ: ৭৬]।
৩ - আমি আমাদের শায়খের (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) সাথে এমন কিছু বর্ণনার ব্যাপারে পর্যালোচনা করেছি যেগুলোতে তাঁর ইজতিহাদ পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে আমি তাঁর সর্বশেষ অভিমতটি তারিখসহ লিপিবদ্ধ করেছি। গবেষকদের মধ্যে বৈপরীত্য নিরসনে, ধারণকৃত আলোচনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে, অথবা গবেষকদের সাথে আলোচনায় কিংবা তাঁর অন্যান্য কিতাবে তিনি যে সকল মত থেকে ফিরে এসেছেন সে সম্পর্কে সতর্ক করতে আমি কখনও পূর্বের ও পরের উভয় মতের দিকেই ইঙ্গিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 - استأنستُ في ترتيب هذه الفوائد بصحيحَي البخاري ومسلم. واستأنستُ في تبويبها بتبويبات الكتب الستة وغيرها.
5 - ضممتُ إليها كثيرًا من الفوائد التي بحثتُها وناقشتُها مُفرَدة أو ضِمن أبحاثي.
6 - هَمَّشْتُ ببيان غريب أو ضبط نسبة أو غير ذلك.
7 - عَرَّفْتُ بغالب الباحثين تعريفًا موجزًا
(1)، يشمل اسمه ونسبته، وأبحاثه أو تحقيقاته النافعة، التي قَدَّمَ لها شيخنا حفظه الله له وذلك من منطوق الباحث أو مكتوبه فأسفر هذا التعريف عن منزلة الباحث ومؤلفاته التي طبعت والتي لما تطبع.
--------------------------------------------
৪ - এই ফায়দাগুলোর বিন্যাসে আমি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সাহায্য নিয়েছি। আর এর অধ্যায় বিন্যাসের ক্ষেত্রে কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব) এবং অন্যান্য কিতাবের অধ্যায় বিন্যাসকে অনুসরণ করেছি।
৫ - আমি এর সাথে এমন অনেক ফায়দা যুক্ত করেছি যা আমি স্বতন্ত্রভাবে অথবা আমার গবেষণার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান ও আলোচনা করেছি।
৬ - আমি কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা, নিসবত বা সম্বন্ধের সঠিকতা নির্ধারণ অথবা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে টীকা প্রদান করেছি।
৭ - আমি অধিকাংশ গবেষকের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছি
(১), যার মধ্যে রয়েছে তাঁদের নাম ও নিসবত, এবং তাঁদের সেই সকল উপকারী গবেষণা বা তাহকীকসমূহ, যেগুলোর ভূমিকা আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) লিখে দিয়েছেন। গবেষকের মৌখিক বক্তব্য বা লিখিত বিষয়াদি থেকে এটি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এই পরিচিতির মাধ্যমে গবেষকের মর্যাদা এবং তাঁর সেই সকল রচনাবলি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যা প্রকাশিত হয়েছে এবং যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
8 - ختمتُ الكتاب بفهرس مؤلفات شيخنا وتحقيقاته، وغالب الكتب والرسائل والأبحاث التي قدّم لها مِنْ جمع الباحث يحيى بن مصطفى بن العدوي، حفظه الله.
لَمَّا تم ما مَنَّ الله به عليَّ، سميتُه: «سلسلة الفوائد الحديثية والفقهية المنتقاة
(1) من مجلس العَلَّامة المُحَدِّث مصطفى بن العدوي مع طلابه».
واللهَ أسأل بما سأله به خليل الرحمن وابنه إسماعيل عليهما السلام: {رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة: 127] وبما سأله به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم في أضحيته: «اللهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»
(2).
كَتَبه
أبو أويس
أشرف بن نصر بن صابر بن إبراهيم بن محمد، البُرُلُّسي الكُرْدي
بتاريخ عصر (19) جمادى الأولى (1443)، المُوافِق (23/ 12/ 2021 م).
ت/ 01007192699
--------------------------------------------
৮ - আমি বইটি আমাদের শাইখের রচনাবলি ও তাঁর তাহকীকসমূহের (গবেষণাকর্ম) একটি নির্ঘণ্ট দিয়ে সমাপ্ত করেছি। আর তাঁর ভূমিকা প্রদানকৃত অধিকাংশ বই, রিসালাহ এবং গবেষণাপত্রগুলো গবেষক ইয়াহইয়া ইবনে মুস্তফা ইবনে আল-আদাবী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) সংগ্রহ করেছেন।
যখন আল্লাহ আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তা সমাপ্ত হলো, তখন আমি এর নাম রেখেছি: «আল্লামা মুহাদ্দিস মুস্তফা ইবনে আল-আদাবীর তাঁর ছাত্রদের সাথে মাজলিস থেকে চয়িত হাদিস ও ফিকহ বিষয়ক ফায়দাহসমূহের সিলসিলা
(১)»।
আর আমি আল্লাহর কাছে সেভাবেই প্রার্থনা করছি, যেভাবে খলিলুর রহমান এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম) প্রার্থনা করেছিলেন: {হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-বাকারা: ১২৭]। এবং যেভাবে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কুরবানীর সময় প্রার্থনা করেছিলেন: «হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ, মুহাম্মদের পরিবার এবং মুহাম্মদের উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন»
(২)।
এটি লিখেছেন
আবু উওয়াইস
আশরাফ বিন নাসর বিন সাবির বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ, আল-বুরুসসালি আল-কুর্দি
তারিখ: ১৯ জুমাদাল উলা (১৪৪৩), মুতাবেক (২৩/১২/২০২১ খ্রি.), আসরের সময়।
টেলিফোন: ০১০০৭১৯২৬৯৯
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كتاب التوحيد
(أسماء الله الحسنى)
هل أسماء الله الحسنى محصورة بعدد؟• أسماء الله ليست محصورة بعدد عند الجمهور.
وأَصْرَحُ دليل لهم: حديث ابن مسعود رضي الله عنه، وفيه: «أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتُهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتُهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي، وَجَلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ غَمِّي، إِلَّا أَذْهَبَ اللهُ هَمَّهُ وَأَبْدَلَهُ مَكَانَ حُزْنِهِ فَرَحًا» وعِلته أبو سلمة الجُهَني.
ولهم دليلان محتملان:
أ - قوله صلى الله عليه وسلم: «لا أُحصِي ثناء عليك، أنت كما أثنيتَ على نفسك»
(1).
ب - قوله صلى الله عليه وسلم في حديث الشفاعة العظمى: «ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيَّ مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا، لَمْ يَفْتَحْهُ عَلَى أَحَدٍ قَبْلِي»
(2).
ج - ولهم توجيه لقوله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الجَنَّةَ»
(3) خلافًا لابن حزم
(4).
--------------------------------------------
কিতাবুত তাওহিদ(আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ)আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ কি সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ?• জমহুর বা অধিকাংশ উলামাদের মতে আল্লাহর নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।
তাদের স্বপক্ষে সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল হলো ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে: «আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা যা আপনি আপনার অদৃশ্যের জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন; (প্রার্থনা করছি এই যে) আপনি কুরআনকে আমার অন্তরের বসন্ত, আমার বক্ষের নূর, আমার দুঃখের অপসারণকারী এবং আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন। তবে আল্লাহ অবশ্যই তার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তার দুঃখের পরিবর্তে আনন্দ দান করবেন।» আর এই হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) হলেন আবু সালামাহ আল-জুহানি।
তাদের আরও দুটি সম্ভাব্য দলিল রয়েছে:
ক - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না, আপনি ঠিক তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন»
(১)।
খ - শাফায়াতে উজমার (মহা সুপারিশের) হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «অতঃপর আল্লাহ আমার জন্য তাঁর এমন কিছু প্রশংসা ও গুণগান উন্মুক্ত করবেন, যা ইতিপূর্বে আমার আগে আর কারো জন্য উন্মুক্ত করেননি»
(২)।
গ - এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, অর্থাৎ এক কম একশত; যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে (আয়ত্ত করবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(৩) - ইবনে হাজম
(৪) এর মতের বিপরীতে তারা এই হাদিসটির একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
• قال النووي (ت/ 676):
(1).
اتَّفَق العلماء على أن هذا الحديث ليس فيه حصر لأسمائه سبحانه وتعالى،
--------------------------------------------
• নববী (মৃ. ৬৭৬) বলেছেন:
(১).
ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এই হাদিসে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فليس معناه أنه ليس له أسماء غير هذه التسعة والتسعين.
وإنما مقصود الحديث أن هذه التسعة والتسعين مَنْ أحصاها دخل الجنة، فالمراد الإخبار عن دخول الجنة بإحصائها لا الإخبار بحصر الأسماء؛ ولهذا جاء في الحديث الآخَر: «أسألك بكل اسم سَمَّيْتَ به نفسك أو استأثرت به في علم الغيب عندك» وقد ذَكَر الحافظ أبو بكر بن العربي المالكي عن بعضهم أنه قال: لله تعالى ألف اسم. قال ابن العربي: وهذا قليل فيها. والله أعلم.
•وقال ابن تيمية (ت/ 728) في «دَرْء تَعارُض العقل والنقل» (3/ 332):
والصواب الذي عليه جمهور العلماء: أن قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن لله تسعة وتسعين اسمًا، مَنْ أحصاها دخل الجنة» معناه أن مَنْ أَحْصَى التسعة والتسعين من أسمائه دخل الجنة، ليس مراده أنه ليس له إلا تسعة وتسعون اسمًا
… فأَخْبَر أنه صلى الله عليه وسلم لا يُحصِي ثناء عليه، ولو أَحْصَى جميع أسمائه لأحصى صفاته كلها، فكان يُحصِي الثناء عليه؛ لأن صفاته إنما يُعبَّر عنها بأسمائه.
• وقال ابن حجر في «فتح الباري» (11/ 220):
اخْتُلِفَ فِي هَذَا الْعَدَدِ، هَلِ الْمُرَادُ بِهِ حَصْرُ الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى فِي هَذِهِ الْعِدَّةِ، أَوْ أَنَّهَا أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ، وَلَكِنِ اخْتَصَّتْ هَذِهِ بِأَنَّ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ؟ فَذَهَبَ الْجُمْهُورُ إِلَى الثَّانِي وَنَقَلَ النَّوَوِيُّ اتِّفَاقَ الْعُلَمَاءِ عَلَيْهِ.
এর অর্থ এই নয় যে, এই নিরানব্বইটি ছাড়া তাঁর আর কোনো নাম নেই।
বরং হাদিসের উদ্দেশ্য হলো যে, এই নিরানব্বইটি নাম যে ব্যক্তি গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুতরাং এখানে উদ্দেশ্য হলো নামগুলো গণনার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের সংবাদ দেওয়া, নামগুলোকে সীমাবদ্ধ করা নয়; এই কারণেই অন্য হাদিসে এসেছে: "আমি আপনার কাছে আপনার প্রতিটি নামের অসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নামে আপনি নিজেকে অভিহিত করেছেন অথবা যা আপনি আপনার কাছে গায়বি ইলমে সংরক্ষিত রেখেছেন।" হাফেজ আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি কারো কারো থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহর এক হাজার নাম রয়েছে। ইবনুল আরাবি বলেন: আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে এটি সামান্যই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
• এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.) তাঁর ‘দারউ তা’আরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি’ (৩/ ৩৩২) গ্রন্থে বলেছেন:
সঠিক কথা—যার ওপর জমহুর ওলামায়ে কেরাম রয়েছেন—তাহলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"—এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি তাঁর নামসমূহ থেকে নিরানব্বইটি নাম গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; তাঁর উদ্দেশ্য এটি নয় যে, তাঁর নিরানব্বইটি ছাড়া আর কোনো নাম নেই
… সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারবেন না। যদি তিনি তাঁর সমস্ত নাম গণনা করতে পারতেন, তবে তিনি তাঁর সকল গুণাবলিও গণনা করতে পারতেন, আর তখন তিনি তাঁর প্রশংসাও গুনে শেষ করতে পারতেন; কারণ তাঁর গুণাবলি কেবল তাঁর নামের মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়।
• এবং ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’ (১১/ ২২০) গ্রন্থে বলেছেন:
এই সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে যে, এর দ্বারা কি এই নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে আসমাউল হুসনাকে সীমাবদ্ধ করা উদ্দেশ্য, নাকি নাম এর চেয়েও বেশি, তবে এগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে? জমহুর ওলামায়ে কেরাম দ্বিতীয় মতটির দিকে গিয়েছেন এবং ইমাম নববী এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العلي الأعلى المتعال عز وجل -
• جاء (العلي) مقترنًا أو منعوتًا بالعظيم والكبير والحكيم:
1 - فالأول مع سَعة المُلْك والعلم في آية الكرسي: {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255] وقال تعالى: {لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [الشورى: 4].
2 - العلي الكبير عن كل شرك وباطل، فهو أغنى الأغنياء عن الشرك: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [الحج: 62]
(1).
وفي سياق الرد على مَنْ أَنْكَر البعث ثم أَقَر به، وطَلَب الرجعة إلى الدنيا: {ذَلِكُمْ بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ} [غافر: 12].
وقالت الملائكة: {مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [سبأ: 23]
(2).
--------------------------------------------
আল-আলী, আল-আলা, আল-মুতাআল (মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) -
• ‘আল-আলী’ (সুউচ্চ) নামটি ‘আল-আজিম’ (মহা মহিমান্বিত), ‘আল-কাবীর’ (সুমহান) এবং ‘আল-হাকীম’ (প্রজ্ঞাময়) নামগুলোর সাথে সংযুক্ত হয়ে অথবা গুণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে:
১ - প্রথমত, আয়তুল কুরসীতে রাজত্ব ও জ্ঞানের প্রশস্ততার সাথে: {তিনি জানেন তাদের সামনে যা রয়েছে এবং তাদের পেছনে যা রয়েছে; আর তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমান ও জমিন জুড়ে বিস্তৃত এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না; আর তিনি সুউচ্চ, মহা মহিমান্বিত} [বাকারা: ২৫৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; আর তিনি সুউচ্চ, মহা মহিমান্বিত} [শূরা: ৪]।
২ - আল-আলী ও আল-কাবীর—সকল শিরক ও বাতিল থেকে সুউচ্চ; তিনি শিরক থেকে সকল অমুখাপেক্ষীদের চেয়েও বেশি অমুখাপেক্ষী: {তা একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল; আর আল্লাহই সুউচ্চ, সুমহান} [হজ্জ: ৬২]
(১)।
আর যারা পুনরুত্থান অস্বীকার করার পর তা স্বীকার করেছিল এবং পৃথিবীতে ফিরে আসার আবেদন করেছিল, তাদের জবাব দেওয়ার প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন: {তোমাদের এই অবস্থা একারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তখন তোমরা কুফরি করতে, আর যদি তাঁর সাথে শরিক করা হতো তখন তোমরা বিশ্বাস করতে; সুতরাং ফয়সালা কেবল আল্লাহরই জন্য, যিনি সুউচ্চ, সুমহান} [গাফির: ১২]।
ফেরেশতারা বলেছিল: {তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বলেছিল, ‘যা সত্য তা-ই বলেছেন; আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান’} [সাবা: ২৩]
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الشورى: 51]
(1).
• وجاء المتعال عز وجل مع سَعة علمه تعالى: {اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ (8) عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ} [الرعد: 8، 9]
(2).
• وجاء الأعلى عز وجل في موطنين
(3):
أ - مع الأمر بتسبيحه: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (1) الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّى (2) وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى} [الأعلى: 1 - 3].
ب - ومع إخلاص العباد: {وَمَا لِأَحَدٍ عِنْدَهُ مِنْ نِعْمَةٍ تُجْزَى (19) إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَى} [الليل: 19، 20].
--------------------------------------------
৩ - {কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহি ব্যতীত, অথবা পর্দার আড়াল থেকে ব্যতিরেকে, অথবা কোনো রসূল প্রেরণ করা ব্যতীত, অতঃপর তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে যা ইচ্ছা ওহি করেন; নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাময়} [আশ-শুরা: ৫১]
(১).
• এবং মহান আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততার সাথে ‘আল-মুতাআল’ (সর্বোচ্চ) হিসেবে এসেছেন: {আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী কী গর্ভধারণ করে এবং জরায়ু যা সংকুচিত করে ও যা বৃদ্ধি করে এবং তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, সুমহান, সর্বোচ্চ} [আর-রাদ: ৮, ৯]
(২).
• এবং ‘আল-আ’লা’ (সর্বোচ্চ) মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে দুটি স্থানে এসেছে
(৩):
ক - তাঁর পবিত্রতা ঘোষণার নির্দেশের সাথে: {আপনি আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন। যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুঠাম করেছেন। এবং যিনি নির্ধারণ করেছেন ও পথপ্রদর্শন করেছেন} [আল-আ’লা: ১ - ৩]।
খ - এবং বান্দাদের ইখলাসের সাথে: {তার নিকট কারও এমন কোনো অনুগ্রহ পাওনা নেই যার প্রতিদান দিতে হবে। কেবল তার সুউচ্চ রবের চেহারা কামনায়} [আল-লাইল: ১৯, ২০]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
• ومع القاعدة العظمى ليس كمثله شيء: {لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النحل: 60]، وقوله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الروم: 27].
• التعبد بهذه الأسماء على أربعة أنحاء:
أولًا - بالتأمل في معانيها؛ فقد جَمَعَتْ سياقات هذه الأسماء العلو المطلق لله عز وجل
(1):
1 - علو ذات، فهو الرحمن على العرش استوى.
2 - علو قَدْر، فله المثل الأعلى في السموات والأرض.
3 - علو قَهْر، فهو الواحد القهار.
ثانيًا - اعتزاز العابد بربه وعبادته على أهل الباطل، والتواضع لربه ثم لأهل الإيمان: {قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى} [طه: 68].
وفي غزوة أُحُد أَخَذَ أبو سفيان يَرْتَجِزُ: أُعْلُ هُبَلْ، أُعْلُ هُبَلْ. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا تُجِيبُوا
(2) لَهُ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُ أَعْلَى وَأَجَلُّ»
--------------------------------------------
• এবং সেই মহান মূলনীতির সাথে যে, তাঁর সদৃশ কেউ নেই: {যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের জন্য রয়েছে মন্দ উদাহরণ, আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [নাহল: ৬০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন; আর তা তাঁর জন্য সহজতর। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ গুণ ও বৈশিষ্ট্য তাঁরই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [রুম: ২৭]।
• এই নামগুলোর মাধ্যমে ইবাদত চারভাবে হতে পারে:
প্রথমত - এগুলোর অর্থ নিয়ে ভাবনার মাধ্যমে; কারণ এই নামগুলোর প্রেক্ষাপট মহান আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ উচ্চতাকে একত্রিত করেছে
(১):
১ - সত্তাগত উচ্চতা, কারণ রহমান আরশের উপর উঠেছেন।
২ - মর্যাদাগত উচ্চতা, কারণ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ গুণ ও বৈশিষ্ট্য তাঁরই।
৩ - ক্ষমতার উচ্চতা, কারণ তিনি এক, প্রবল প্রতাপশালী।
দ্বিতীয়ত - বাতিলপন্থীদের বিপরীতে ইবাদতকারীর নিজ রব ও তাঁর ইবাদত নিয়ে গর্ববোধ করা, এবং নিজ রবের সামনে ও অতঃপর মুমিনদের প্রতি বিনয়ী হওয়া: {আমি বললাম, ‘ভয় করো না, নিশ্চয় তুমিই সর্বোচ্চ (বিজয়ী)’} [ত্বহা: ৬৮]।
আর ওহুদ যুদ্ধে আবু সুফিয়ান রণসঙ্গীত গাইতে শুরু করল: ‘হুবালের জয় হোক, হুবালের জয় হোক’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তোমরা কি তাকে জবাব দেবে না?
(২)» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কী বলব? তিনি বললেন: «তোমরা বলো: আল্লাহ সুউচ্চ ও অতি মহান»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ: إِنَّ لَنَا العُزَّى وَلَا عُزَّى لَكُمْ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا تُجِيبُوا لَهُ؟» قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُ مَوْلَانَا، وَلَا مَوْلَى لَكُمْ»
(1).
ثالثًا - طلبُ العلو والارتقاء بمعالي الأخلاق وتَرْك سفسافها، وكذلك فضول القول واللغو، والسبق في المعالي والسمو في الدعوات. وفي الخبر: «فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ، فَاسْأَلُوهُ الفِرْدَوْسَ»
(2).
والأعمالِ
(3) والذِّكر، ففي الحديث القدسي: «فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ»
(4).
والدعاء؛ فقد دعا النبي صلى الله عليه وسلم لعُبيد أبي عامر: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ يَوْمَ القِيَامَةِ فَوْقَ كَثِيرٍ مِنْ خَلْقِكَ مِنَ النَّاسِ»
(5). وكقولك: اللهم أنت العلي الأعلى المتعال، فارزقنا العلو بطاعتك في الدنيا والآخرة.
• ومن أمثلة ذلك: عموم قوله تعالى: {وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} [الزخرف: 32] {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11] وقال
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমাদের জন্য উজ্জা আছে, আর তোমাদের কোনো উজ্জা নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা কি তাকে উত্তর দেবে না?» তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কী বলব? তিনি বললেন: «তোমরা বলো: আল্লাহ আমাদের অভিভাবক, আর তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই»
(১).
তৃতীয়ত - উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চমর্যাদা অন্বেষণ করা এবং তুচ্ছ বিষয়সমূহ বর্জন করা, তেমনিভাবে অনর্থক কথাবার্তা ও অসার কাজ পরিহার করা এবং উচ্চমর্যাদায় অগ্রগামী হওয়া ও প্রার্থনায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখা। হাদীসে এসেছে: «যখন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তখন ফেরদাউস প্রার্থনা করো»
(২).
এবং আমল
(৩) ও জিকিরের ক্ষেত্রে; হাদীসে কুদসিতে এসেছে: «সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সমাবেশে স্মরণ করি»
(৪).
এবং দোয়ার ক্ষেত্রে; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাইদ আবু আমিরের জন্য দোয়া করেছিলেন: «হে আল্লাহ, কিয়ামতের দিন তাকে আপনার সৃষ্টির বহু মানুষের উপরে স্থান দিন»
(৫)। আর যেমন আপনার বলা: হে আল্লাহ, আপনিই পরম উচ্চ, সর্বোচ্চ ও সমুন্নত, সুতরাং দুনিয়া ও আখেরাতে আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে আমাদের উচ্চতা দান করুন।
• এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর সাধারণ বাণী: {আমি তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর মর্যাদায় উন্নত করেছি, যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর আপনার রবের রহমত তারা যা জমা করে তা থেকে উত্তম} [যুখরুফ: ৩২] {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন} [মুজাদালা: ১১] এবং তিনি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تعالى في رسله: {وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ} [البقرة: 253] وقال في إدريس عليه السلام: {وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا} [مريم: 57] وفي نبينامحمد صلى الله عليه وسلم: {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} [الشرح: 4] وقال في أهل الإيمان: {وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَى} [طه: 75].
وشرفٌ لك أن يضاف اسم ولدك أو حفيدك للأعلى عز وجل، وذلك بتسميته (عبد الأعلى)
(1) أو (عبد العلي) أو (عبد المتعال)
(2) فهذا ذِكر ممتد لك كلما ذُكِرَ أو نودي أو كُتِبَ في سِجل.
رابعًا - حُسْن الظن في الله وفي تشريعاته، وأنها كلها علو وارتقاء، قال تعالى: {وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [التوبة: 40] وقال جل ذكره: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} [الإسراء: 9].
وتَأَمَّلْ ذكر السجود في أجمل هيئة، وأقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد، وشعاره: (سبحان ربي الأعلى) وفي الوتر بثلاث ركعات، تَقرأ في الأولى منهن سورة الأعلى عز وجل.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলদের সম্পর্কে বলেন: {এবং তিনি তাদের কাউকে মর্যাদায় উন্নীত করেছেন} [আল-বাকারা: ২৫৩] এবং ইদরিস আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {এবং আমি তাকে উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছি} [মারিয়াম: ৫৭] এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন: {এবং আমি আপনার জন্য আপনার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছি} [আশ-শারহ: ৪] এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর যে মুমিন হয়ে তাঁর কাছে আসবে এবং নেক আমল করবে, তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা} [ত্বহা: ৭৫]।
আপনার জন্য এটি সম্মানের যে আপনার সন্তান বা নাতির নাম মহামহিম 'আল-আ'লা' (সর্বোচ্চ)-এর সাথে সম্বন্ধিত হবে, আর তা হচ্ছে তার নাম (আব্দুল আ'লা)
(১) অথবা (আব্দুল আলী) অথবা (আব্দুল মুতাআল)
(২) রাখার মাধ্যমে; এটি আপনার জন্য এক প্রলম্বিত স্মরণ হয়ে থাকবে যখনই তার নাম উল্লেখ করা হবে, ডাকা হবে কিংবা কোনো নথিতে লেখা হবে।
চতুর্থত- আল্লাহ এবং তাঁর বিধিবদ্ধ বিধানের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা এবং এটি বিশ্বাস করা যে এগুলো সবই উচ্চতা ও উৎকর্ষের পরিচায়ক। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি কাফেরদের কথাকে নিচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই হচ্ছে সুউচ্চ; আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আত-তাওবা: ৪০] এবং তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে হিদায়াত দেয় যা সর্বাপেক্ষা সরল ও সঠিক} [আল-ইসরা: ৯]।
আর সবচেয়ে সুন্দর অবস্থায় সিজদার জিকিরের কথা চিন্তা করুন; বান্দা যখন সিজদাবনত থাকে তখনই সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, আর তার মূলমন্ত্র হলো: (পবিত্রতা ঘোষণা করছি আমার মহান রবের, যিনি সর্বোচ্চ)। আর তিন রাকাআত বিতরের প্রথম রাকাআতে আপনি মহামহিম আল্লাহর 'সূরা আল-আ'লা' পাঠ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
• فائدة: بما سبق وفيما سيأتي بصيرة لأهل البصائر، ورَدٌّ على المُعطِّلة والمُؤوِّلة والمُحرِّفة صفة العلو لله عز وجل، وهي ثابتة بالكتاب والسُّنة والإجماع، كما سيأتي إن شاء الله تعالى.
• تنبيه: أما قوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [المجادلة: 7] فمؤول بالعلم لأمور ثلاثة:
1 - سياق الآية.
2 - وختامها في العلم.
3 - الإجماع.
وأما قوله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهٌ وَفِي الْأَرْضِ إِلَهٌ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ} [الزخرف: 84] فإله: أي: معبود.
• উপকারিতা: যা গত হয়েছে এবং যা সামনে আসবে তাতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে এবং এটি মহান আল্লাহর উচ্চতার গুণকে (সিফাতে উলুউ) অস্বীকারকারী, অপব্যাখ্যাকারী এবং বিকৃতকারীদের জন্য একটি খণ্ডন। আর আল্লাহর উচ্চতার বিষয়টি কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা দ্বারা প্রমাণিত, যা সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে।
• সতর্কবার্তা: মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে—"তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থজন না থাকেন, এবং পাঁচ ব্যক্তিরও না যাতে তিনি ষষ্ঠজন না থাকেন। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সঙ্গেই থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।" [আল-মুজাদালাহ: ৭]—এটি তিনটি কারণে 'ইলম' বা জ্ঞানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:
১ - আয়াতের পূর্বাপর প্রাসঙ্গিকতা।
২ - আয়াতের সমাপ্তি জ্ঞানের বর্ণনার মাধ্যমে হওয়া।
৩ - ইজমা (ঐকমত্য)।
আর মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে—"আর তিনিই আসমানে ইলাহ এবং যমীনেও ইলাহ; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।" [আয-যুখরুফ: ৮৪]—এখানে ইলাহ অর্থ হলো: মা'বুদ বা উপাস্য।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল ফাওয়াইদিল হাদিসিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المَلِك المالك المليك عز وجل
• قوله تعالى: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 4]
(1) جَمَع بين اسمَي الملك والمالك.
وأما المليك، ففي قوله تعالى: {فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ} [القمر: 55].
• قال البخاري في «صحيحه» رقم (6205) وفي «الأدب المفرد» (817): حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَخْنَى الأَسْمَاءِ
(2) يَوْمَ القِيَامَةِ عِنْدَ اللهِ - رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلَاكِ».
وتابع شُعيبًا ابن أبي الزناد، وهو عبد الرحمن - وهو ضعيف - أخرجه ابن
--------------------------------------------
বাদশাহ, মালিক ও অধিপতি, মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত
• মহান আল্লাহর বাণী: {বিচার দিবসের মালিক} [আল-ফাতিহা: ৪]
(১) এখানে ‘আল-মালিক’ (বাদশাহ) ও ‘আল-মালিক’ (মালিক) — এই দুই নামকে একত্রিত করা হয়েছে।
আর ‘আল-মালিক’ (অধিপতি) নামের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: {সত্যের আসনে, সর্বশক্তিমান বাদশাহর সান্নিধ্যে} [আল-কামার: ৫৫]।
• ইমাম বুখারি তার ‘সহিহ’ গ্রন্থে (৬২০৫) এবং ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এ (৮১৭) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আবুল ইয়ামান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি শুআইব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুল যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম
(২) হলো সেই ব্যক্তির, যে নিজের নাম রেখেছে 'রাজাধিরাজ' (বাদশাহদের বাদশাহ)»।
শুআইব-এর অনুসরণ করেছেন ইবনে আবি যিনাদ, আর তিনি হলেন আব্দুর রহমান — এবং তিনি দুর্বল — একে ইবনে... বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------