(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: -)
أسباب النزول ت زغلول القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أسباب نزول القرآن
المؤلف: أبو الحسن علي بن أحمد بن محمد بن علي الواحدي، النيسابوري، الشافعي (ت 468هـ)
المحقق: كمال بسيوني زغلول
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1411 هـ
عدد الصفحات: 508
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসবাবুন নুযুল, তাহকীক: যাগলুল বিভাগ: কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
কিতাব: আসবাবুন নুযুল আল-কুরআন
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াহিদি, আন-নিশাপুরী, আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৬৮ হিজরি)
তাহকীককারী: কামাল বাসিউনি যাগলুল
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৮
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: أسباب نزول القرآن
المؤلف: أبو الحسن علي بن أحمد بن محمد بن علي الواحدي، النيسابوري، الشافعي (المتوفى: 468هـ)
المحقق: كمال بسيوني زغلول
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1411 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
--------------------------------------------
গ্রন্থ: আসবাবুন নুযুল আল-কুরআন (কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ)
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াহিদী, আন-নিসাবুরি, আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু: ৪৬৮ হিজরি)
সম্পাদক: কামাল বাসিউনি যাগলুল
প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمةبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ إن الحمد للَّه، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مُضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَّا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد:
فهذا كتاب (أسباب نزول القرآن) «1» ، أتشرف بتقديمه للقراء والباحثين بعد أن وجدت أن النسخة المتداولة بها أخطاء كثيرة في الأسانيد والمتون، وقد اعتمدت في التحقيق على نسخة قام بتحقيقها الأستاذ/ السيد أحمد صقر حيث إني وجدتها من أفضل النسخ سنداً ومتناً، وقد وجدت فيها زيادات عن النسخة المطبوعة بالقاهرة عام (1316 هـ) وهذه الزيادات مميزة بوضعها بين معكوفين [] ، وقد قام الأستاذ/ السيد أحمد صقر بذلك وتركتها كما هي.
وما أصبت فمن اللَّه، وما أخطأت فمن نفسي، قال عز من قائل ما أَصابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَما أَصابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ [النساء/ 79] .
وأتقدم بخالص شكري وتقديري للأخ الشقيق أبي هاجر لإحضاره النسخة التي اعتمدت عليها من المملكة العربية السعودية، فجزاه اللَّه خيراً وبارك اللَّه فيه.
وأرجو من كل قارئ أن يدعو اللَّه لي، ومن رأى صواباً فليحمد اللَّه، ومن
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
এটি হলো (আসবাব নুযুল আল-কুরআন) «১» গ্রন্থ, যা পাঠক ও গবেষকদের সামনে উপস্থাপন করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। কেননা আমি লক্ষ্য করেছি যে, প্রচলিত কপিগুলোতে সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ)-এর ক্ষেত্রে অনেক ভুল রয়েছে। এই তাহকিকের (গবেষণামূলক সম্পাদনা) ক্ষেত্রে আমি উস্তাদ আস-সাইয়্যিদ আহমাদ সাক্বর কর্তৃক সম্পাদিত কপির ওপর নির্ভর করেছি, কারণ আমি সেটিকে সনদ ও মতনের দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কপি হিসেবে পেয়েছি। এতে আমি ১৩১৬ হিজরি সালে কায়রো থেকে মুদ্রিত কপির তুলনায় কিছু অতিরিক্ত অংশ পেয়েছি। এই অতিরিক্ত অংশগুলোকে তৃতীয় বন্ধনী [] এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। উস্তাদ আস-সাইয়্যিদ আহমাদ সাক্বর এটি করেছিলেন এবং আমি তা অপরিবর্তিত রেখেছি।
আমি যা কিছু সঠিক করেছি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল করেছি তা আমার নিজের পক্ষ থেকে। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমার নিকট যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু অকল্যাণ তোমার ওপর আপতিত হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।" [আন-নিসা: ৭৯]।
আমি আমার সহোদর ভাই আবু হাজারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি সৌদি আরব থেকে এই কপিটি সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য যার ওপর আমি নির্ভর করেছি। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তার মধ্যে বরকত দান করুন।
আমি প্রত্যেক পাঠকের নিকট আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করার অনুরোধ করছি। আর যে ব্যক্তি কোনো সঠিক বিষয় দেখবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৪)
رأى غير ذلك فليتقدم بالنصيحة، قال صلى الله عليه وسلم: «الدين النصيحة» «2» ، أسأل اللَّه العلي القدير أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم وأن يجعله في ميزان حسناتنا يوم القيامة إنه عليٌ قدير.
والحمد للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم المرسلين.
وكتب كمال بسيونى السيد زغلول القاهرة في: 29 محرم 1411 هـ 20 أغسطس 1990 م
--------------------------------------------
কেউ এর ভিন্ন কিছু দেখলে সে যেন উপদেশ প্রদান করে, কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দীন হলো নসিহত (শুভকামনা)» (২)। আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং কিয়ামতের দিন এটিকে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় শামিল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ ও সর্বক্ষমতাবান।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসূলের ওপর।
লিখেছেন: কামাল বাসিউনি আস-সাইয়্যিদ জাঘলুল, কায়রো, তারিখ: ২৯ মুহররম ১৪১১ হিজরী, ২০ আগস্ট ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة الإمام الواحدي «1»
- اسمه وكنيته: هو الإمام العلامة أبو الحسن علي بن أحمد بن محمد بن علي الواحدي النيسابوري.
- نسبه: قال ابن خلكان: لم أعرف هذه النسبة [الواحدي] إلى أي شيء هي ولا ذكرها السمعاني، ثم وجدت هذه النسبة إلى الواحد بن الدين أو الدثن بن
--------------------------------------------
ইমাম আল-ওয়াহিদির জীবনী «১»
- তাঁর নাম ও কুনিয়া: তিনি হলেন ইমাম আল-আল্লামা আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-ওয়াহিদি আন-নিসাবুরি।
- তাঁর বংশপরিচয়: ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: আমি জানতাম না এই নিসবত [আল-ওয়াহিদি] কিসের দিকে সম্পৃক্ত, আর আস-সামআনিও এটি উল্লেখ করেননি। এরপর আমি পেলাম যে এই নিসবতটি আল-ওয়াহিদ ইবনে আদ-দ্বীন অথবা আদ-দাছান ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
مهرة، ذكره أبو أحمد العسكري، وفي المختصر: والواحدي نسبة إلى الواحد بن ميسرة.
- مولده: وُلد رحمه الله بنيسابور، ولم تحدد المراجع التي ترجمت له سنة مولده.
- وفاته: تُوفي رحمه الله بنيسابور، وقد اتفقت جميع المراجع على أن سنة وفاته 468 هـ.
- شيوخه: سمع التفسير من أحمد بن محمد بن إبراهيم الثعلبي، سمع النحو من أبي الحسن علي بن محمد بن إبراهيم الضرير، وأخذ اللغة عن أبي الفضل أحمد بن محمد بن يوسف العروضي، وسمع: أبي القاسم علي بن أحمد البستي، وأبي عثمان سعيد بن محمد الحيري، وأبي الحسن علي بن محمد الفارسي، وغيرهم كثير.
- تلاميذه: أحمد بن عمر الأرغياني، عبد الجبار بن محمد الخواري، وطائفة أخرى.
- مذهبه في العقيدة: كان رحمه الله من حماة مذهب الأشاعرة ويؤكد ذلك قوله عند تفسير قوله تعالى وَنَطْبَعُ عَلى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لا يَسْمَعُونَ قال ابن الأنباري ويجوز أن يكون وَنَطْبَعُ معطوفاً على أَصَبْناهُمْ إذا كان بمعنى نصيب وفي هذا تكذيب للقدرية وبيان أن اللَّه إذا شاء طبع على قلب فلا يفقه هدىً ولا يعي خيراً.
- مذهبه في الفقه: كان رحمه الله شافعي المذهب بدليل أنه قال عند تفسير قوله تعالى وَإِذا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا: ولا تدل الآية على ترك القراءة خلف الإمام لأن هذا الإنصات المأمور به، وإنما هو نهي عن الكلام في الصلاة.
-
مصنفاته:التفسير: له ثلاثة كتب: الوجيز، الوسيط، البسيط، وأسباب النزول يعتبر من كتب التفسير.
মাহরাহ, আবু আহমাদ আল-আসকারি এটি উল্লেখ করেছেন। আল-মুখতাসার গ্রন্থে রয়েছে: আল-ওয়াহিদি নামটি ওয়াহিদ ইবনে মায়সারাহ-এর সাথে সম্পৃক্ত।
- জন্ম: তিনি নিসাবুরে জন্মগ্রহণ করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), এবং তাঁর জীবনী বর্ণনাকারী উৎসসমূহ তাঁর জন্মের সাল নির্দিষ্ট করেনি।
- মৃত্যু: তিনি নিসাবুরে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), এবং সকল উৎস একমত যে তাঁর মৃত্যু সাল ৪৬৮ হিজরি।
- তাঁর শিক্ষকগণ: তিনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সা'লাবির নিকট তাফসির শ্রবণ করেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আদ-দারিরের নিকট নাহু (ব্যাকরণ) শ্রবণ করেন, আবুল ফজল আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-আরুজির নিকট ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি আবুল কাসেম আলী ইবনে আহমাদ আল-বুসতি, আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাইরি, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফারিসি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে (ইলম) শ্রবণ করেছেন।
- তাঁর ছাত্রবৃন্দ: আহমাদ ইবনে উমর আল-আরগিয়ানি, আবদুল জব্বার ইবনে মুহাম্মাদ আল-খাওয়ারি এবং আরও একদল।
- আকিদাগত মাজহাব: তিনি আশআরি মাজহাবের অন্যতম রক্ষক ছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। এটি জোরালো হয় মহান আল্লাহর বাণী—"এবং আমি তাদের অন্তরের ওপর মোহর মেরে দিই, ফলে তারা শুনতে পায় না"—এর তাফসিরে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে। ইবনুল আনবারি বলেন: 'আমরা মোহর মেরে দিই' (শব্দটি) 'আমরা তাদের আক্রান্ত করি' শব্দের সাথে সংযুক্ত হওয়া বৈধ যদি তা 'আমরা আক্রান্ত করব' অর্থে হয়। এতে কাদারিয়াদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে এবং এটি সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ যদি চান তবে অন্তরের ওপর মোহর মেরে দেন, ফলে সে হিদায়েত বুঝতে পারে না এবং কোনো কল্যাণ ধারণ করতে পারে না।
- ফিকহি মাজহাব: তিনি শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—"এবং যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো"—এর তাফসিরে তাঁর বক্তব্য। তিনি বলেন: এই আয়াত ইমামের পেছনে কিরাত বর্জন করার ওপর দলিল হয় না; কারণ যে 'চুপ থাকা'র আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা মূলত সালাতের মধ্যে কথাবার্তা বলা থেকে নিষেধ করার জন্য।
-
তাঁর রচনাবলি:তাফসির: তাঁর তিনটি কিতাব রয়েছে: আল-ওয়াজিজ, আল-ওয়াসিত, আল-বাসিত। আর 'আসবাবুন নুজুল' কিতাবটিও তাফসিরের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
كتاب الدعوات.
المحصول.
كتاب تفسير النبي صلى الله عليه وسلم.
كتاب المغازي.
شرح ديوان المتنبي: طبع في برلين 1858.
كتاب الإعراب في علم الإغراب.
نفي التحريف عن القرآن الشريف.
التحبير في شرح الأسماء الحسنى.
أسماء النبي صلى الله عليه وسلم.
الوسيط في الأمثال: طبع في الكويت عام 1975 م بتحقيق الدكتور عفيف محمد عبد الرحمن.
عملي في الكتاب ومنهجي في التحقيق:
1- ترقيم التراجم التي ذكرها المصنف وكتبت الرقم بين معكوفين هكذا [] فمثلًا: الترجمة رقم [1] القول في أول ما نزل من القرآن، وإذا كانت الترجمة آية قمت بكتابة رقمها بين معكوفين [] بعد نهاية الآية.
2- ترقيم أسباب النزول سواء قال المصنف: أخبرنا أو قال: قال فلان أو قال: نزلت في كذا وكذا.
3- عزوت الأحاديث والآثار للكتب التي أخرجتها.
4- قولي مرسل بدون إسناد يعني أنه لا يُحتج به.
5- غالباً لم أسكت على الحديث الضعيف مع بيان سبب ضعفه.
6- البحث عن بعض الأسانيد التي لم يذكرها المصنف فعلى سبيل المثال:
কিতাবুদ দাওয়াত (দুআসমূহের কিতাব)।
আল-মাহসুল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাফসীর বিষয়ক কিতাব।
কিতাবুল মাগাযী (যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত কিতাব)।
শারহু দিওয়ানিল মুতানাব্বি: ১৮৫৮ সালে বার্লিনে মুদ্রিত।
কিতাবুল ইরাব ফী ইলমিল ইগরাব।
নাফইয়ুত তাহরীফ আনিল কুরআনিল শারীফ (সম্মানিত কুরআন থেকে বিকৃতি নিরসন)।
আত-তাহবীর ফী শারহিল আসমাইল হুসনা (আসমাউল হুসনার ব্যাখ্যায় অলঙ্করণ)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহ।
আল-ওয়াসীত ফিল আমছাল: ১৯৭৫ সালে কুয়েতে ডক্টর আফীফ মুহাম্মদ আব্দুর রহমানের সম্পাদনায় মুদ্রিত।
গ্রন্থটিতে আমার কাজ এবং সম্পাদনা পদ্ধতি:
১- লেখক কর্তৃক উল্লিখিত শিরোনামসমূহের নম্বর প্রদান এবং নম্বরগুলো আমি এভাবে [ ] বন্ধনীর মাঝে লিখেছি। যেমন: শিরোনাম নম্বর [১] কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াত সংক্রান্ত আলোচনা। আর শিরোনামটি যদি কোনো আয়াত হয়, তবে আয়াতের শেষে বন্ধনীর [ ] মাঝে তার নম্বর লিখেছি।
২- শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহের নম্বর প্রদান, চাই লেখক 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' বলুন অথবা 'অমুক বলেছেন' বলুন কিংবা 'এটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে' বলুন।
৩- আমি হাদীস এবং আসারসমূহকে (বর্ণনা) সেগুলো সংকলনকারী মূল গ্রন্থসমূহের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
৪- সনদবিহীন কোনো বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার 'মুরসাল' বলার অর্থ হলো এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
৫- অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি দুর্বল হাদীসের বিষয়ে নীরব থাকিনি এবং তার দুর্বলতার কারণ স্পষ্ট করেছি।
৬- লেখক উল্লেখ করেননি এমন কিছু সনদ বা বর্ণনাসূত্র অনুসন্ধান করা; উদাহরণস্বরূপ:
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
رقم (454) قال المصنف: قال ابن مسعود، وقد ذكرت في تخريجي من خرجه مسنداً، وكذلك رقم 469، 589.
7- البحث عن طريق متصل للحديث الذي ذكره مرسلًا فعلى سبيل المثال:
رقم (587) قال المصنف: قال الحسن، وقد ذكرت له شاهداً من حديث ابن عباس.
8- إعداد فهارس فنية للكتاب تيسر على الباحث الرجوع للآية أو الحديث المنشود في زمن وجيز.
والحمد للَّه على توفيقه
৪৫৪ নম্বর: গ্রন্থকার বলেছেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন। আমি আমার তাখরিজে (সূত্র বিশ্লেষণ) উল্লেখ করেছি কারা এটি মুসনাদ (নিরবচ্ছিন্ন সূত্র) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ৪৬৯ ও ৫৮৯ নম্বর।
৭- যে হাদিসটি তিনি মুরসাল (অসম্পূর্ণ সূত্র) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেটির জন্য একটি মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সূত্র অনুসন্ধান করা। উদাহরণস্বরূপ:
৫৮৭ নম্বর: গ্রন্থকার বলেছেন: হাসান বলেছেন। আমি ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে এর জন্য একটি শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) উল্লেখ করেছি।
৮- গ্রন্থের জন্য তাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট (ইনডেক্স) প্রস্তুতকরণ, যা গবেষকের জন্য কাঙ্ক্ষিত আয়াত বা হাদিস খুব অল্প সময়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়া সহজ করে দেয়।
এবং যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর তাওফিকের কারণে।
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
[مقدمة المؤلف]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاحِدِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ، رحمه الله:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الْكَرِيمِ الْوَهَّابِ، هَازِمِ الْأَحْزَابِ، وَمُفَتِّحِ الْأَبْوَابِ، وَمُنْشِئِ السَّحَابِ، وَمُرْسِي الْهِضَابِ، وَمُنْزِلِ الْكِتَابِ، فِي حَوَادِثَ مُخْتَلِفَةِ الْأَسْبَابِ. أَنْزَلَهُ مُفَرَّقًا نُجُومًا، وَأَوْدَعَهُ أَحْكَامًا وَعُلُومًا. قَالَ عَزَّ مِنْ قَائِلٍ: وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا.
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَصْفَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن حَيَّان، أخبرنا أَبُو يَحْيَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ الْعَسْكَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى:
وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ:
ذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ سَنَةً، أُنْزِلَ عَلَيْهِ بِمَكَّةَ ثَمَانِيَ سِنِينَ قَبْلَ أَنْ يُهَاجِرَ، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ.
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَحْيَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَهْلٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ:
فَرَّقَ اللَّهُ تَنْزِيلَهُ، فَكَانَ بَيْنَ أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ عِشْرُونَ أَوْ نَحْوٌ مِنْ عِشْرِينَ سَنَةً.
أَنْزَلَهُ قُرْآنًا عَظِيمًا، وَذِكْرًا حَكِيمًا، وَحَبْلًا مَمْدُودًا، وَعَهْدًا مَعْهُودًا، وَظِلًّا عَمِيمًا، وَصِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، فِيهِ مُعْجِزَاتٌ بَاهِرَةٌ، وَآيَاتٌ ظَاهِرَةٌ، وَحُجَجٌ صَادِقَةٌ، وَدَلَالَاتٌ نَاطِقَةٌ، أَدْحَضَ بِهِ حُجَجَ الْمُبْطِلِينَ، وَرَدَّ بِهِ كَيْدَ الْكَائِدِينَ، وَقَوِيَ بِهِ
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শেখ ইমাম আবু হাসান আলী বিন আহমদ আল-ওয়াহিদী আন-নাইসাবুরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:
সকল প্রশংসা মহান ও পরম দাতা আল্লাহর জন্য, যিনি শত্রুবাহিনীকে পরাজিতকারী, সকল দ্বার উন্মুক্তকারী, মেঘমালা সৃজনকারী, পাহাড়সমূহকে দৃঢ়ভাবে স্থাপনকারী এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও কারণে কিতাব অবতীর্ণকারী। তিনি এটি খণ্ড খণ্ড আকারে অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে বিধিবিধান ও জ্ঞান নিহিত রেখেছেন। মহান সত্তা বলেন: “আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে থেমে থেমে পাঠ করেন এবং আমি তা ধীরে ধীরে অবতীর্ণ করেছি।”
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আস্পাহানী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়ান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন উসমান আল-আসকারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন জুরাই, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রাজা, তিনি বলেন: আমি হাসানকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছি:
“আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে থেমে থেমে পাঠ করেন:”
আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর শুরু এবং শেষের মাঝে আঠারো বছরের ব্যবধান ছিল। হিজরতের আগে মক্কায় আট বছর এবং মদিনায় দশ বছর এটি তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর হুশাইম থেকে, তিনি দাউদ থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহ তাআলা এর অবতরণকে খণ্ড খণ্ড করেছেন, ফলে এর শুরু এবং শেষের মাঝে বিশ বছর অথবা বিশ বছরের কাছাকাছি সময় ছিল।
তিনি একে এক মহান কুরআন, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ, এক বিস্তৃত রজ্জু, এক সুদৃঢ় অঙ্গীকার, এক ব্যাপক ছায়া এবং এক সরল পথ হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। এতে রয়েছে বিস্ময়কর মোজেজা, সুস্পষ্ট নিদর্শন, সত্য প্রমাণ এবং বাকপটু নির্দেশনাসমূহ। এর মাধ্যমে তিনি বাতিলপন্থীদের যুক্তি খণ্ডন করেছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছেন এবং এর মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الْإِسْلَامُ وَالدِّينُ، فلمع مِنْهَاجُهُ، وَثَقُبَ سِرَاجُهُ، وَشَمِلَتْ بَرَكَتُهُ، وَبَلَغَتْ حِكْمَتُهُ- عَلَى خَاتَمِ الرِّسَالَةِ، وَالصَّادِعِ بِالدَّلَالَةِ، الْهَادِي لِلْأُمَّةِ، الْكَاشِفِ لِلْغُمَّةِ، النَّاطِقِ بِالْحِكْمَةِ، الْمَبْعُوثِ بِالرَّحْمَةِ. فَرَفَعَ أَعْلَامَ الْحَقِّ، وَأَحْيَا مَعَالِمَ الصِّدْقِ، وَدَمَغَ الْكَذِبَ وَمَحَا آثَارَهُ، وَقَمَعَ الشِّرْكَ وَهَدَمَ مَنَارَهُ، وَلَمْ يَزَلْ يُعَارِضُ بِبَيِّنَاتِهِ [أَبَاطِيلَ] الْمُشْرِكِينَ حَتَّى مَهَّدَ الدِّينَ، وَأَبْطَلَ شُبَهَ الْمُلْحِدِينَ. صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ صَلَاةً لَا يَنْتَهِي أَمَدُهَا، وَلَا يَنْقَطِعُ مَدَدُهَا، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الَّذِينَ هَدَاهُمْ وَطَهَّرَهُمْ، وَبِصُحْبَتِهِ خَصَّهُمْ وَآثَرَهُمْ، وَسَلَّمَ كَثِيرًا.
وَبَعْدَ هَذَا، فَإِنَّ عُلُومَ الْقُرْآنِ غَزِيرَةٌ وَضُرُوبَهَا جَمَّةٌ كَثِيرَةٌ، يَقْصُرُ عَنْهَا الْقَوْلُ وَإِنْ كَانَ بَالِغًا، وَيَتَقَلَّصُ عَنْهَا ذَيْلُهُ وَإِنْ كَانَ سَابِغًا. وَقَدْ سَبَقَتْ لِي- وَلِلَّهِ الْحَمْدُ- مَجْمُوعَاتٌ تَشْتَمِلُ عَلَى أَكْثَرِهَا، وَتَنْطَوِي عَلَى غَرَرِهَا، وَفِيهَا لِمَنْ رَامَ الْوُقُوفَ عَلَيْهَا مَقْنَعٌ وَبَلَاغٌ، وَعَمَّا عَدَاهَا مِنْ جَمِيعِ الْمُصَنَّفَاتِ غُنْيَةٌ وَفَرَاغٌ، لِاشْتِمَالِهَا عَلَى عُظْمِهَا مُتَحَقِّقًا وَتَأْدِيَتِهِ إِلَى مُتَأَمِّلِهِ مُتَّسِقًا. غَيْرَ أَنَّ الرَّغَبَاتِ الْيَوْمَ عَنْ عُلُومِ الْقُرْآنِ صَادِفَةٌ كَاذِبَةٌ فِيهَا، قَدْ عَجَزَتْ قُوَى الْمَلَامِ عَنْ تَلَافِيهَا، فَآلَ الْأَمْرُ بِنَا إلى إفادة المبتدءين بِعُلُومِ الْكِتَابِ، إِبَانَةَ مَا أُنْزِلَ فِيهِ مِنَ الْأَسْبَابِ. إِذْ هِيَ أَوْفَى مَا يَجِبُ الْوُقُوفُ عَلَيْهَا، وَأَوْلَى مَا تُصْرَفُ الْعِنَايَةُ إِلَيْهَا، لِامْتِنَاعِ مَعْرِفَةِ تَفْسِيرِ الْآيَةِ وَقَصْدِ سَبِيلِهَا، دُونَ الْوُقُوفِ عَلَى قِصَّتِهَا وَبَيَانِ نُزُولِهَا.
وَلَا يَحِلُّ الْقَوْلُ فِي أَسْبَابِ نُزُولِ الْكِتَابِ، إِلَّا بِالرِّوَايَةِ وَالسَّمَاعِ مِمَّنْ شَاهَدُوا التَّنْزِيلَ وَوَقَفُوا عَلَى الْأَسْبَابِ، وَبَحَثُوا عَنْ عِلْمِهَا وَجَدُّوا فِي الطِّلَابِ.
وَقَدْ وَرَدَ الشَّرْعُ بِالْوَعِيدِ لِلْجَاهِلِ ذِي الْعِثَارِ، فِي هَذَا الْعِلْمِ بِالنَّارِ.
أَخْبَرَنَا أَبُو إِبْرَاهِيمَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْوَاعِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَامِدٍ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «اتَّقُوا الْحَدِيثَ [عَنِّي] إِلَّا مَا عَلِمْتُمْ، فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ
ইসলাম ও দীন; ফলে এর কর্মপন্থা দীপ্তিমান হয়েছে, এর প্রদীপ উজ্জ্বল হয়েছে, এর বরকত পরিব্যাপ্ত হয়েছে এবং এর প্রজ্ঞা পৌঁছেছে—নবুয়তের সমাপ্তিকারীর ওপর, যিনি দলিলের মাধ্যমে সত্য প্রকাশকারী, উম্মতের পথপ্রদর্শক, দুঃখ-কষ্ট দূরকারী, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর প্রবক্তা এবং রহমতস্বরূপ প্রেরিত। তিনি সত্যের ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন, সততার নিদর্শনাবলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, মিথ্যাকে চূর্ণ করেছেন ও এর চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দিয়েছেন এবং শিরককে দমন করেছেন ও এর মিনার ধূলিসাৎ করেছেন। তিনি তাঁর সুস্পষ্ট প্রমাণাদির মাধ্যমে মুশরিকদের বাতুলতার মোকাবিলা করে গেছেন, যতক্ষণ না তিনি দীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং মুলহিদদের সংশয়সমূহ বাতিল করেছেন। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর—এমন সালাত যার সময়কাল শেষ হবে না এবং যার সাহায্য কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাদেরকে তিনি হেদায়েত দান করেছেন ও পবিত্র করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্যের জন্য বিশেষিত করেছেন ও অগ্রাধিকার দিয়েছেন; আর বর্ষিত হোক অগণিত সালাম।
অতঃপর, নিশ্চয়ই কুরআনের জ্ঞানরাজি অগাধ এবং এর প্রকারভেদ বহু ও বৈচিত্র্যময়। কোনো বক্তব্যই তা পুরোপুরি প্রকাশ করতে সক্ষম নয়, যদিও তা চরম বাগ্মীতাপূর্ণ হয়; এবং এর প্রশস্ততা বর্ণনায় শব্দের সীমানা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, যদিও তা অত্যন্ত বিস্তারিত হয়। আল্লাহর প্রশংসা যে, ইতিপূর্বে আমার এমন কিছু সংকলন প্রকাশিত হয়েছে যা এর অধিকাংশ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এর শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলোকে ধারণ করেছে। যারা এসব বিষয়ে অবগত হতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও পাথেয় রয়েছে এবং অন্যান্য সমস্ত কিতাব থেকে তা অমুখাপেক্ষী ও যথেষ্ট। কেননা তা অত্যন্ত সুসংহতভাবে এই জ্ঞানের বিশাল অংশকে ধারণ করেছে এবং এর চিন্তাশীল পাঠকের কাছে তা সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দিয়েছে। তবে বর্তমানে কুরআনের উলুম বা জ্ঞানরাজির প্রতি মানুষের আগ্রহ বিমুখ ও স্তিমিত হয়ে পড়েছে, যা দূর করতে তিরস্কারকারীদের শক্তিও অসমর্থ হয়ে পড়েছে। তাই বিষয়টি আমাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে, আমরা কিতাবুল্লাহর জ্ঞান অর্জনে প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীদের উপকৃত করার জন্য অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ (আসবাবুন নুজুল) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব। কারণ এটিই হলো সেই বিষয় যা সম্পর্কে অবগত হওয়া সর্বাধিক আবশ্যক এবং যার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কেননা কোনো আয়াতের তাফসির জানা এবং এর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়—যতক্ষণ না এর প্রেক্ষাপট ও অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।
আর আসবাবুন নুজুল (কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ) সম্পর্কে কথা বলা বৈধ নয় কেবল রেওয়ায়েত এবং শ্রবণ ব্যতিরেকে—তাদের নিকট থেকে যারা ওহি অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন, এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং এর জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
আর শরিয়তে এই ইলম বা জ্ঞান বিষয়ে অজ্ঞ স্খলনকারীর জন্য জাহান্নামের আগুনের কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইবরাহিম ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-ওয়াইজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামিদ আল-আত্তার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন লাইস ইবনে হাম্মাদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আওয়ানাহ, তিনি আব্দুল আলা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো, তবে যা তোমরা জানো সেটি ছাড়া। কারণ যে ব্যক্তি মিথ্যা বলবে...
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَى الْقُرْآنِ مِنْ غَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» «1» .
وَالسَّلَفُ الْمَاضُونَ، رحمهم الله، كَانُوا فِي أَبْعَدِ الْغَايَةِ احْتِرَازًا عَنِ الْقَوْلِ فِي نُزُولِ الْآيَةِ.
أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَخْلَدِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ نُجَيْدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ:
سَأَلْتُ عُبَيْدَةَ عَنْ آيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ وَقُلْ سَدَادًا، ذَهَبَ الَّذِينَ يَعْلَمُونَ فِيمَا أُنْزِلَ الْقُرْآنُ.
وَأَمَّا الْيَوْمُ فَكُلُّ أَحَدٍ يَخْتَرِعُ شَيْئًا وَيَخْتَلِقُ إِفْكًا وَكَذِبًا. مُلْقِيًا زِمَامَهُ إِلَى الْجَهَالَةِ، غَيْرَ مُفَكِّرٍ فِي الْوَعِيدِ لِلْجَاهِلِ بِسَبَبِ [نُزُولِ] الْآيَةِ. وَذَلِكَ الَّذِي حَدَا بِي إِلَى إِمْلَاءِ هَذَا الْكِتَابِ، الْجَامِعِ لِلْأَسْبَابِ، لِيَنْتَهِيَ إِلَيْهِ طَالِبُوا هَذَا الشَّأْنِ وَالْمُتَكَلِّمُونَ فِي نُزُولِ [هَذَا] الْقُرْآنِ، فَيَعْرِفُوا الصِّدْقَ، وَيَسْتَغْنُوا عَنِ التَّمْوِيهِ وَالْكَذِبِ، وَيَجِدُّوا فِي تَحَفُّظِهِ بَعْدَ السَّمَاعِ وَالطَّلَبِ.
وَلَا بُدَّ مِنَ الْقَوْلِ أَوَّلًا فِي مَبَادِئِ الْوَحْيِ، وَكَيْفِيَّةِ نُزُولِ الْقُرْآنِ ابْتِدَاءً عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتَعَهُّدِ جِبْرِيلَ إِيَّاهُ بِالتَّنْزِيلِ، وَالْكَشْفِ عَنْ تِلْكَ الْأَحْوَالِ، وَالْقَوْلُ فِيهَا عَلَى طَرِيقِ الْإِجْمَالِ.
ثُمَّ نَفْرَغُ لِلْقَوْلِ مُفَصَّلًا فِي سَبَبِ نُزُولِ كُلِّ آيَةٍ رُوِيَ لَهَا سَبَبٌ مَقُولٌ، مَرْوِيٌّ مَنْقُولٌ. وَاللَّهُ تَعَالَى الموفق للصواب والسَّدَاد، وَالْآخِذُ بِنَا عَنِ الْعَاثُورِ إلى الجَدَد.
--------------------------------------------
"...আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে (মিথ্যা আরোপ করে), সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া কুরআনের ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সেও যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" «১» ।
পূর্ববর্তী সালাফগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) আয়াতের অবতরণ সম্পর্কে কথা বলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মাখলাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে নুজাইদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আওন, মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি উবাইদাহকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। কুরআন কী বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে তা যারা জানতেন তাঁরা চলে গেছেন।"
কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু উদ্ভাবন করছে এবং মিথ্যা ও অপবাদ রটনা করছে। সে তার লাগাম মূর্খতার হাতে সঁপে দিয়েছে, আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য যে সতর্কবাণী রয়েছে সে সম্পর্কে সে চিন্তা করে না। আর এটিই আমাকে এই কিতাবটি শ্রুতিলিখনের (ইমলা) দিকে ধাবিত করেছে, যা অবতরণের কারণসমূহের (আসবাবুন নুযূল) একটি সংকলন; যাতে এই বিষয়ের অন্বেষণকারীগণ এবং কুরআনের অবতরণ সম্পর্কে আলোচনাকারীগণ এর শরণাপন্ন হতে পারেন, ফলে তাঁরা সত্য জানতে পারেন, এবং প্রতারণা ও মিথ্যা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারেন, আর এটি শোনার ও অন্বেষণের পর তা সংরক্ষণে সচেষ্ট হতে পারেন।
তাই সর্বাগ্রে ওহীর সূচনা এবং প্রাথমিকভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি, জিবরাইলের ওহী নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন এবং সেই অবস্থাগুলোর উন্মোচন সম্পর্কে আলোচনা করা আবশ্যক। আর এ বিষয়ে আলোচনা হবে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে।
এরপর আমরা প্রতিটি আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় মনোনিবেশ করব, যেগুলোর বিষয়ে কোনো কথিত কারণ বর্ণিত হয়েছে এবং যা সূত্রসহকারে বর্ণিত ও স্থানান্তরিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই সঠিক ও যথাযথ বিষয়ের তৌফিকদাতা এবং তিনিই আমাদের বিপদসংকুল পথ থেকে সহজ ও সঠিক পথের দিকে নিয়ে যান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
[1] القولُ في أول ما نزل من القرآن«1» - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بن إبراهيم المُقْري، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَامِدٍ الْأَصْفَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّهَا قَالَتْ:
«أول ما بُدِيَءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانِ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلَاءُ، فَكَانَ يَأْتِي حِرَاءً فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ- وَهُوَ التَّعَبُّدُ- اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ. ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى فَجَأَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ:
--------------------------------------------
[১] কুরআনের যা কিছু সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা«১» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে হামিদ আল-আসফাহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি ইবনে শিহাব আল-জুহরি থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উরওয়াহ, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
«রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি হেরা গুহায় আসতেন এবং সেখানে একাধারে বেশ কয়েক রাত 'তাহান্নুস'—অর্থাৎ ইবাদত—করতেন এবং এর জন্য সাথে পাথেয় নিয়ে আসতেন। অতঃপর তিনি খাদিজার নিকট ফিরে যেতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় সংগ্রহ করতেন। অবশেষে তাঁর কাছে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ সত্য (ওহী) আসলো। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اقْرَأْ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَقُلْتُ [لَهُ] : مَا أَنَا بِقَارِئٍ. قَالَ: فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ. فَأَخَذَنِي فَغَطِّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ، فَقَالَ: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ حَتَّى بَلَغَ مَا لَمْ يَعْلَمْ فَرَجَعَ بِهَا تَرْجُفُ بَوَادِرُهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ رضي الله عنها فَقَالَ: زَمِّلُونِي. فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ: يَا خَدِيجَةُ! مَا لِي؟ فَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ وَقَالَ: قَدْ خَشِيتُ عَلَيَّ، فَقَالَتْ لَهُ: كلا، أبشر فو اللَّه لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتُقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ» .
رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ.
وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ، كِلَاهُمَا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ.
«2» - أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الطَّبَرِيُّ، أَخْبَرَنَا جَدِّي [حَدَّثَنَا] أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ:
إِنَّ أَوَّلَ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ.
رَوَاهُ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ فِي صَحِيحِهِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّبْغِيِّ، عَنْ بِشْرِ بْنِ مُوسَى، عَنِ الْحُمَيْدِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ.
«3» - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن إبراهيم المقري، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ محمد بن الْجُرْجَانِيُّ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ: أَنَّ مُحَمَّدَ ابن إِسْحَاقَ حَدَّثَهُمْ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا
--------------------------------------------
"পড়ুন।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি তাকে বললাম: আমি তো পড়তে জানি না।" তিনি বলেন: "অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আমাকে এমনভাবে চাপ দিলেন যে আমার কষ্টের সীমা রইল না। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পড়তে জানি না। তখন তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে আমার কষ্টের সীমা রইল না। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পড়তে জানি না। তখন তিনি তৃতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন এবং আমার কষ্টের সীমা রইল না। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন... শেষ পর্যন্ত যা তিনি জানতেন না।" এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন এবং খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" অতঃপর তারা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। তিনি বললেন: "হে খাদিজা! আমার কী হলো?" এরপর তিনি তাঁকে সব সংবাদ জানালেন এবং বললেন: "আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি।" তখন খাদিজা (রা.) তাঁকে বললেন: "কখনোই নয়, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, অতিথিসেবা করেন এবং সত্য পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন।"
এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, ইয়াহইয়া বিন বুকাইর থেকে।
আর এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন রাফে থেকে। তাঁরা উভয়েই আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
«২» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরীফ ইসমাঈল বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আত-তাবারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, [আমাদের বর্ণনা করেছেন] আবু হামিদ আহমদ বিন আল-হাসান আল-হাফিয, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন বিশর, আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
নিশ্চয়ই কুরআনের প্রথম যা নাযিল হয়েছে তা হলো: পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।
এটি বর্ণনা করেছেন হাকীম আবু আব্দুল্লাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে, আবু বকর আস-সিবগী থেকে, তিনি বিশর বিন মূসা থেকে, তিনি আল-হুমাইদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে।
«৩» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম আল-মুকরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-জুরাযানী, আমাদের বর্ণনা করেছেন নাসর বিন মুহাম্মদ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ যে, মুহাম্মদ বিন ইসহাক তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াকূব আদ-দাওরাকী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন নাসর বিন যিয়াদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ وَالْحَسَنِ قَالَا:
أَوَّلُ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
فَهُوَ أَوَّلُ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ بِمَكَّةَ، وَأَوَّلُ سُورَةٍ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ.
«4» - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ التَّاجِرُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمَخْزُومِيُّ: أَنَّهُ سَمِعَ بَعْضَ عُلَمَائِهِمْ يَقُولُ: كَانَ أَوَّلُ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ- صلى الله عليه وسلم اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ فَقَالُوا: هَذَا صَدْرُهَا [الَّذِي] أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حِرَاءٍ، ثُمَّ أُنْزِلَ آخِرُهَا بَعْدَ ذَلِكَ بِمَا شَاءَ اللَّهُ.
وَأَمَّا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ الَّذِي رُوِيَ أَنَّ أَوَّلَ مَا نَزَلَ سُورَةُ «الْمُدَّثِّرِ» ، فَهُوَ مَا.
«5» - أَخْبَرَنَاهُ الْأُسْتَاذُ أَبُو إِسْحَاقَ الثَّعَالِبِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَامِدٍ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ زَيْدٍ التِّنِيسِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ:
--------------------------------------------
আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ আন-নাহবী আমাকে ইকরিমা ও হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা দুজন বলেছেন:
কুরআনের সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছে তা হলো 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)।
সুতরাং এটিই মক্কায় কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ বিষয়, আর প্রথম সূরা হলো 'পড়ুন আপনার রবের নামে'।
«৪» - হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল ফজল আত-তাজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-হাফিয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু সালিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, লাইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উকাইল ইবনে শিহাব থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর আল-মাখযুমি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি তাঁদের জনৈক আলিমকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ তাঁর রাসূলের—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—প্রতি সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ করেছেন তা হলো "পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।" অতঃপর তাঁরা বলেন: এটি হলো এর প্রথমাংশ যা হেরা গুহায় রাসূলুল্লাহর—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—প্রতি নাযিল হয়েছিল, এরপর আল্লাহ যা চেয়েছেন সেই অনুযায়ী এর শেষাংশ নাযিল হয়েছে।
আর সেই সহীহ হাদীসটি যাতে বর্ণিত হয়েছে যে প্রথম যা নাযিল হয়েছে তা হলো সূরা «আল-মুদ্দাসসির», সেটি হলো তা যা:
«৫» - উস্তায আবু ইসহাক আস-সা'লাবী আমাদের তা জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে ঈসা ইবনে যাইদ আত-তিন্নিসী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমর ইবনে আবু সালামা আওযাঈ থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قبل؟ قال: يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُلْتُ: أَوْ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ؟ قَالَ: سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ:
أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قبل؟ قال: يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قَالَ: قُلْتُ: أَوْ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ؟
قَالَ جَابِرٌ: أُحَدِّثُكُمْ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم: إِنِّي جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا، فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ بَطْنَ الْوَادِي، فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي وَخَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي، ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى السَّمَاءِ فَإِذَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ فِي الْهَوَاءِ- يَعْنِي جِبْرِيلَ- فَأَخَذَتْنِي رَجْفَةٌ. فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ فَأَمَرْتُهُمْ فَدَثَّرُونِي ثُمَّ صَبُّوا عَلَيَّ الْمَاءَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل عليّ: يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ.
وَهَذَا لَيْسَ بِمُخَالِفٍ لِمَا ذَكَرْنَاهُ أَوَّلًا، وَذَلِكَ: أَنَّ جَابِرًا سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم[هَذِهِ] الْقِصَّةَ الْأَخِيرَةَ وَلَمْ يَسْمَعْ أَوَّلَهَا، فَتَوَهَّمَ أَنَّ سُورَةَ الْمُدَّثِّرِ أَوَّلُ مَا نَزَلَ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ، وَلَكِنَّهَا أَوَّلُ مَا نَزَلَ عَلَيْهِ بَعْدَ سُورَةِ «اقْرَأْ» .
وَالَّذِي يَدُلُّ عَلَى هَذَا.
«6» - مَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنُ [أَبِي] حَامِدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَكَرِيَّا، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن يحيى، حدَّثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ:
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ- فَقَالَ فِي حَدِيثِهِ:
فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَجَثَثْتُ مِنْهُ رُعْبًا، فَرَجَعْتُ، فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي، فَدَثَّرُونِي، فَأَنْزَلَ اللَّه تعالى يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ.
رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ.
وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ، كِلَاهُمَا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ.
--------------------------------------------
আমি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলাম: কুরআনের কোন অংশটি আগে নাজিল হয়েছে? তিনি বললেন: 'হে চাদর আবৃত' (সূরা আল-মুদ্দাসসির)। আমি বললাম: নাকি 'পড়ুন আপনার রবের নামে' (সূরা আল-আলাক)? তিনি বললেন: আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারীকে জিজ্ঞাসা করলাম:
কুরআনের কোন অংশটি আগে নাজিল হয়েছে? তিনি বললেন: 'হে চাদর আবৃত'। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: নাকি 'পড়ুন আপনার রবের নামে'?
জাবির বললেন: আমি তোমাদের কাছে তাই বর্ণনা করছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি হেরা গুহায় এক মাস অবস্থান করলাম। যখন আমার অবস্থান শেষ হলো, আমি নিচে নামলাম এবং উপত্যকার সমতলে আসলাম। তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি আমার সামনে, পিছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। এরপর আমি আকাশের দিকে তাকালাম এবং দেখলাম তিনি শূন্যে এক আরশের ওপর আছেন—অর্থাৎ জিবরাইল—তা দেখে আমি প্রকম্পিত হলাম। এরপর আমি খাদিজার কাছে আসলাম এবং তাদের নির্দেশ দিলে তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। এরপর তারা আমার ওপর পানি ঢালল। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমার ওপর নাজিল করলেন: 'হে চাদর আবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন'। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে হারব থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আওজাঈ থেকে।
আর এটি আমরা আগে যা উল্লেখ করেছি তার পরিপন্থী নয়। এর কারণ হলো: জাবির (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে [এই] শেষের ঘটনাটি শুনেছিলেন এবং এর প্রথম অংশটি শোনেননি। ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন যে সূরা আল-মুদ্দাসসির সর্বপ্রথম নাজিল হয়েছে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়, বরং এটি 'ইকরা' (সূরা আল-আলাক) এর পরে তাঁর ওপর প্রথম নাজিল হওয়া সূরা।
যা এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে:
«৬» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান ইবনে [আবু] হামিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দাগুলি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, জুহরি থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, জাবির (রা.) থেকে, তিনি বলেন:
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহী স্থগিত থাকার সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর বর্ণনায় বলেন:
একদা আমি হাঁটছিলাম, তখন আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি মাথা তুললাম এবং দেখলাম হেরা গুহায় যে ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি কুরসিতে বসে আছেন। তাঁকে দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি ফিরে এলাম এবং বললাম: আমাকে চাদর দাও, আমাকে চাদর দাও। তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। তখন আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: 'হে চাদর আবৃত'।
বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে।
এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে রাফে' থেকে, তাঁরা উভয়েই আবদুর রাজ্জাক থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَبَانَ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْوَحْيَ كَانَ قَدْ فَتَرَ بَعْدَ نُزُولِ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ ثم نزل يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ. وَالَّذِي يُوَضِّحُ مَا قُلْنَا إِخْبَارُ النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْمَلَكَ الَّذِي جَاءَ بِحِرَاءٍ جَالِسٌ، فَدَلَّ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْقِصَّةَ إِنَّمَا كَانَتْ بَعْدَ نُزُولِ اقْرَأْ.
«7» - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بن محمد المقري، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بن محمد المقري حَدَّثَنَا أَبُو الشَّيْخِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ:
أَوَّلُ سُورَةٍ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ.
وَآخِرُ سُورَةٍ أُنْزِلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ: «الْمُؤْمِنُونَ» . وَيُقَالُ:
«الْعَنْكَبُوتُ» .
وَأَوَّلُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بِالْمَدِينَةِ: وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ وَآخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ فِي الْمَدِينَةِ:
«بَرَاءَةٌ» .
وَأَوَّلُ سُورَةٍ أَعْلَنَهَا رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ: «وَالنَّجْمِ» .
وَأَشَدُّ آيَةٍ عَلَى أَهْلِ النَّارِ: فَذُوقُوا فَلَنْ نَزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا.
وَأَرْجَى آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ لِأَهْلِ التَّوْحِيدِ: إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ
… الْآيَةَ.
وَآخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم: وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ، وَعَاشَ النَّبِيُّ- صلى الله عليه وسلم بَعْدَهَا تسع ليال.
[2] القولُ في آخر ما نزل من القرآن«8» - أَخْبَرَنَا أَبُو إِبْرَاهِيمَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْوَاعِظُ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ [بْنُ
--------------------------------------------
এই হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, 'ইকরা বিইসমিল্লাহ রাব্বিকা' (পাঠ করুন আপনার রবের নামে) নাযিল হওয়ার পর ওহি স্থগিত ছিল, এরপর 'ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির' নাযিল হয়েছে। আমরা যা বলেছি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই সংবাদ দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, হেরা গুহায় আগত ফেরেশতা বসা ছিলেন; যা প্রমাণ করে যে, এই ঘটনাটি কেবল 'ইকরা' নাযিল হওয়ার পরেই সংঘটিত হয়েছিল।
«৭» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুশ শায়খ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান বিন শাকিক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন আল-হুসাইন বিন ওয়াকিদ, আমার পিতা আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি:
মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সর্বপ্রথম যে সূরাটি নাযিল হয়েছিল তা হলো: 'ইকরা বিইসমিল্লাহ রাব্বিকা'।
আর মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সর্বশেষ যে সূরাটি নাযিল হয়েছিল তা হলো: 'আল-মুমিনুন'। বলা হয়ে থাকে:
'আল-আনকাবুত'।
মদিনায় সর্বপ্রথম নাযিল হওয়া সূরা হলো: 'ওয়াইলুল লিল মুতাফফিফীন' এবং মদিনায় সর্বশেষ নাযিল হওয়া সূরা হলো:
'বারাআত' (তওবা)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সর্বপ্রথম যে সূরাটি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন তা হলো: 'ওয়ান নাজমি'।
জাহান্নামীদের জন্য কুরআনের সবচেয়ে কঠোর আয়াত হলো: "অতএব তোমরা স্বাদ আস্বাদন করো, আমি তোমাদের কেবল আজাবই বৃদ্ধি করব।"
তাওহিদপন্থীদের জন্য কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক আয়াত হলো: "নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এর বাইরে যা আছে তা তিনি ক্ষমা করেন..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিল হওয়া সর্বশেষ আয়াত হলো: "আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে", এই আয়াত নাযিলের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় রাত জীবিত ছিলেন।
[২] কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত অংশ সম্পর্কে আলোচনা«৮» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইব্রাহিম ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-ওয়ায়িজ, এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ [বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى قَالَا] : أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَطَرٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ:
آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ: يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ، وَآخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ: «بَرَاءَةٌ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي التَّفْسِيرِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، وَرَوَاهُ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ بُنْدَارٍ، عَنْ غُنْدَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ.
«9» - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَيَّانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا [عَبْدُ اللَّهِ] بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:
آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ: وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ.
«91» - م-[وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ. حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، سَمِعْتُ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيَّ يَقُولُ: آخِرُ آيَةٍ نْزَلَتْ وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ] «10» - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّحْوِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن
--------------------------------------------
[ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন] : আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে মাতার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খলিফা আল-ফাদল ইবনে আল-হুবাব আল-জুমাহি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ওয়ালিদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু'বাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইসহাক, তিনি বলেন: আমি বারা ইবনে আযিবকে বলতে শুনেছি:
সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো: ‘তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়; বলুন, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন’, এবং সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো: ‘বারাআত’ (সূরা আত-তাওবাহ)। বুখারী এটি তাফসীর অধ্যায়ে সুলাইমান ইবনে হারব থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি অন্য এক স্থানে এটি আবুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিম এটি বুন্দার থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
«৯» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আত-তামীমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হায়য়ানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাহল ইবনে উসমান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন [আবদুল্লাহ] ইবনুল মুবারক, জুয়াইবার থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো: ‘আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে’।
«৯১» - ম - [এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাহল ইবনে উসমান। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি যাইদাহ, মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, আমি আতিয়্যাহ আল-আউফিকে বলতে শুনেছি: সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো ‘আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে’] «১০» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আন-নাহবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سنان المقري، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ علي الموصلي، أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ الْأَحْمَسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْكَلْبِيُّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ، قَالَ:
ذَكَرُوا أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ وَآخِرَ آيَةِ مِنْ سورة «النساء» نزلنا آخِرَ الْقُرْآنِ.
«11» - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الصُّوفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ قَالَ:
آخِرُ آيَةٍ أُنْزِلَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم: لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ، وَقَرَأَهَا إِلَى آخِرِ السُّورَةِ.
--------------------------------------------
সিনান আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আলী আল-মাওসিলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আল-আহমাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ফুদ্বাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কালবি, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" তিনি বলেন:
তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি এবং সূরা 'আন-নিসা'-এর শেষ আয়াতটি কুরআনের সর্বশেষে নাযিল হয়েছে।
«১১» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম আস-সুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল-আবদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন ইবরাহীম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বা, তিনি আলী বিন যাইদ থেকে, তিনি ইউসুফ বিন মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই বিন কা'ব (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে নাযিল হওয়া সর্বশেষ আয়াত হলো: "নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন," এবং তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رَوَاهُ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ فِي صَحِيحِهِ، عَنِ الْأَصَمِّ، عَنْ بَكَّارِ بْنِ قُتَيْبَةَ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْعَقَدِيِّ، عَنْ شُعْبَةَ.
«12» - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ [عَبْدِ] الْعَزِيزِ فِي كِتَابِهِ: أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ الْحَدَّادِيَّ أَخْبَرَهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ:
أَحْدَثُ الْقُرْآنِ بِاللَّهِ عَهْدًا: لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ
… الْآيَةَ.
وَأَوَّلُ يَوْمٍ أُنْزِلَ [الْقُرْآنُ] فِيهِ يَوْمُ الِاثْنَيْنِ.
«13» - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الثَّعَالِبِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَكَرِيَّا الشَّيْبَانِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ: أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ: أَرَأَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ. قَالَ: فِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ الْقُرْآنُ.
وَأَوَّلُ شَهْرٍ أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ: شَهْرُ رَمَضَانَ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ: شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ.
«14» - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حمدان النَّصْرُوي، قال: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ
--------------------------------------------
এটি ইমাম হাকিম আবু আব্দুল্লাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে আল-আসাম থেকে, তিনি বাক্কার ইবনে কুতাইবা থেকে, তিনি আবু আমির আল-আকাদি থেকে, তিনি শু’বা থেকে বর্ণনা করেছেন।
«১২» - আবু আমর মুহাম্মদ বিন [আব্দুল] আজিজ তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-হাদ্দাদি তাঁদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন— ইসহাক বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন— ওয়াকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বা থেকে, তিনি আলি বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইউসুফ বিন মাহাক থেকে, তিনি উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের সবচেয়ে সর্বশেষ অবতীর্ণ অংশ হলো: "অবশ্যই তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
আর প্রথম দিন যাতে [কুরআন] অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সোমবার।
«১৩» - আবু ইসহাক আস-সালাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাকারিয়া আশ-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আদ-দাগুলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি খাইসামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদি বিন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গাইলান বিন জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ আজ-জিমানি থেকে, তিনি আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, সোমবারের রোজা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "এই দিনে আমার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।"
আর প্রথম মাস যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো রমজান মাস। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।"
«১৪» - আব্দুর রহমান বিন হামদান আন-নাসরুয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَاسِي، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءِ بْنِ الْهَيْثَمِ الْغُدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ وَاثِلَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
نَزَلَتْ صُحُفُ إِبْرَاهِيمَ أَوَّلَ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ لِسِتٍّ مَضَيْنَ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الْإِنْجِيلُ لِثَلَاثَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الزَّبُورُ لِثَمَانِ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الْقُرْآنُ لِأَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ خَلَتْ من رمضان.
[3] القولُ في آية التسمية وبيان نزولها«15» - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن إبراهيم المقري، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُرْجَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مَنْدَهْ، حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ:
أَوَّلُ مَا نَزَلَ بِهِ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَا مُحَمَّدُ اسْتَعِذْ، ثُمَّ قُلْ:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
«16» - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بن [أَبِي] إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাজা ইবনে হাইসাম আল-গুদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমরান, কাতাদা থেকে, তিনি আবু আল-মালিহ থেকে, তিনি ওয়াসিলা থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
রমজানের প্রথম রাতে ইব্রাহিমের সহীফাসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, রমজানের ছয় দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছে, রমজানের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইনজীল অবতীর্ণ হয়েছে, রমজানের আঠারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যাবুর অবতীর্ণ হয়েছে এবং রমজানের চব্বিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
[৩] তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) সংক্রান্ত আয়াত এবং এর অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা«১৫» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মুদরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-জুরজানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জাওহারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে উমারাহ, আবু রাওক থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
জিবরীল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সর্বপ্রথম যা নিয়ে অবতীর্ণ হলেন, তাতে তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনি আশ্রয় প্রার্থনা করুন (আউযুবিল্লাহ পড়ুন), অতঃপর বলুন:
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
«১৬» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ ইবনে [আবি] ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আহমাদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الخلال قال، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ. حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم لَا يَعْرِفُ خَتْمَ السُّورَةِ حَتَّى يَنْزِلَ عَلَيْهِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
«17» - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ طَاهِرٍ الْبَغْدَادِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَطَرٍ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَجَّاجِ الْعَبْدِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، ذَكَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ:
كُنَّا لَا نَعْلَمُ فَصْلَ مَا بَيْنَ السُّورَتَيْنِ حَتَّى تَنْزِلَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
«18» - أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا جَدِّي، أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرَشِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ:
نَزَلَتْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي كل سورة.
[4] القول في سورة الفاتحةاخْتَلَفُوا فِيهَا: فَعِنْدَ الْأَكْثَرِينَ: هِيَ مَكِّيَّةٌ مِنْ أَوَائِلِ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ.
«19» - أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الزَّاهِدُ، أَخْبَرَنَا جَدِّي،
--------------------------------------------
আল-খাল্লাল বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে যাইদ আল-বাজালি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু কুরাইব। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরার সমাপ্তি বুঝতে পারতেন না যতক্ষণ না তাঁর ওপর 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হতো।
«১৭» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কাহির ইবনে তাহির আল-বাগদাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে মাতার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে আলি আজ-জুহলি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে হাজ্জাজ আল-আবদি, আবদুল্লাহ ইবনে আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে উল্লেখ করেন, তিনি বলেন:
আমরা দুই সূরার মধ্যবর্তী পার্থক্য বুঝতে পারতাম না যতক্ষণ না 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হতো।
«১৮» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে জাফর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হারাশি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে আবু ফুদাইক, আবদুল্লাহ ইবনে নাফি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
প্রতিটি সূরায় 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হয়েছে।
[৪] সূরা আল-ফাতিহা সম্পর্কে আলোচনাএটি নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: অধিকাংশের মতে, এটি মাক্কী সূরা এবং কুরআনের প্রথম দিকে অবতীর্ণ হওয়া সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
«১৯» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আজ-জাহিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو الْحِيرِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَارِثِ وَعَلِيُّ بْنُ سَهْلِ بْنِ الْمُغِيرَةِ قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ [أَبِي] بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ:
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا بَرَزَ سَمِعَ مُنَادِيًا يُنَادِيهِ: يَا مُحَمَّدُ، فَإِذَا سَمِعَ الصَّوْتَ انْطَلَقَ هَارِبًا، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ: إِذَا سَمِعْتَ النِّدَاءَ فَاثْبُتْ حَتَّى تَسْمَعَ مَا يَقُولُ لَكَ. قَالَ: فَلَمَّا بَرَزَ سَمِعَ النِّدَاءَ: يَا مُحَمَّدُ، فَقَالَ: لَبَّيْكَ، قَالَ: قُلْ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أشهد وأن مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، ثُمَّ قال: قل: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ حتى فرع مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ.
وَهَذَا قَوْلُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.
«20» - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُفَسِّرُ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمُفَسِّرُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمُودٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَحْمُودٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الْقَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ:
نَزَلَتْ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ بِمَكَّةَ مِنْ كَنْزٍ تَحْتَ الْعَرْشِ.
«21» - وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ عَنِ السَّعْدِيِّ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:
قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فَقَالَ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. فَقَالَتْ قُرَيْشٌ: دَقَّ اللَّهُ فَاكَ أَوْ نَحْوَ هَذَا، قَالَهُ الْحَسَنُ وَقَتَادَةُ.
وَعِنْدَ مُجَاهِدٍ: أَنَّ الْفَاتِحَةَ مَدَنِيَّةٌ. قَالَ الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَضْلِ: لِكُلِّ عَالِمٍ هَفْوَةٌ،
--------------------------------------------
আবু আমর আল-হিরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনুল হারিস এবং আলি ইবনু সাহল ইবনুল মুগিরা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু [আবি] বুকাইর আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি আবু মাইসারা থেকে বর্ণনা করেছেন:
যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নির্জনে বের হতেন, তখন একজন আহ্বানকারীকে তাঁকে ডাকতে শুনতেন: 'হে মুহাম্মদ'। যখনই তিনি সেই শব্দ শুনতেন, তখন পলায়নপর অবস্থায় প্রস্থান করতেন। তখন ওয়ারাকা ইবনু নাওফাল তাঁকে বললেন: 'যখন আপনি সেই আহ্বান শুনবেন, তখন স্থির থাকবেন যতক্ষণ না শুনতে পান তিনি আপনাকে কী বলেন।' তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর যখন তিনি নির্জনে বের হলেন, তখন সেই আহ্বান শুনলেন: 'হে মুহাম্মদ'। তিনি বললেন: 'আমি উপস্থিত (লাব্বাইক)'। তিনি (আহ্বানকারী) বললেন: 'বলুন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।' তারপর তিনি বললেন: 'বলুন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।'—এভাবে তিনি ফাতিহাতুল কিতাব শেষ করলেন।
আর এটি আলি ইবনু আবি তালিবের উক্তি।
«২০» - আবু ইসহাক আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ আল-মুফাসসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনু জাফর আল-মুফাসসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মাহমুদ আল-মারওয়াযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাহমুদ আস-সাদি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া আল-কাসরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনু মুআবিয়া আল-আলা ইবনুল মুসাইয়িব থেকে এবং তিনি ফুদাইল ইবনু আমর থেকে, তিনি আলি ইবনু আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
ফাতিহাতুল কিতাব মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, আরশের নিচের এক ভাণ্ডার থেকে।
«২১» - এবং এই একই সনদসূত্রে আস-সাদি থেকে: আমর ইবনু সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা কালবি থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় দাঁড়ালেন এবং বললেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য। তখন কুরাইশরা বলল: আল্লাহ তোমার মুখ ভেঙে দিন অথবা অনুরূপ কিছু। এটি হাসান এবং কাতাদা বলেছেন।
আর মুজাহিদের মতে: ফাতিহা মদিনায় অবতীর্ণ। হুসাইন ইবনুল ফাদল বলেন: প্রত্যেক আলিমেরই চ্যুতি রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَهَذِهِ بَادِرَةٌ مِنْ مُجَاهِدٍ، لِأَنَّهُ تَفَرَّدَ بِهَذَا الْقَوْلِ، وَالْعُلَمَاءُ عَلَى خِلَافِهِ. وَمِمَّا يُقْطَعُ بِهِ عَلَى أَنَّهَا مَكِّيَّةٌ قَوْلُهُ تَعَالَى: وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ يَعْنِي الْفَاتِحَةَ.
«22» - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّحْوِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْحِيرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي الْعَلَاءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَرَأَ عَلَيْهِ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أُمَّ الْقُرْآنِ فَقَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَلَا فِي الزَّبُورِ وَلَا فِي الْقُرْآنِ مِثْلَهَا، إِنَّهَا لَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ.
وَسُورَةُ «الْحِجْرِ» مكية بلا اختلاف، وَلَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَمْتَنَّ عَلَى رَسُولِهِ بِإِيتَائِهِ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَهُوَ بِمَكَّةَ ثُمَّ يُنْزِلُهَا بِالْمَدِينَةِ. وَلَا يَسَعُنَا الْقَوْلُ: بِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ بِمَكَّةَ بِضْعَ عَشْرَةَ سَنَةً يُصَلِّي بِلَا فَاتِحَةِ الْكِتَابِ. هَذَا مِمَّا لَا تقبله العقول.
--------------------------------------------
এটি মুজাহিদ থেকে আসা একটি বিচ্ছিন্ন মত, কারণ তিনি এই বিষয়ে একক মত পোষণ করেছেন, আর ওলামায়ে কেরাম এর বিপরীত মত পোষণ করেন। যা দ্বারা এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে সূরাটি মক্কী, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাতটি পুনঃপুনঃ পঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন দান করেছি," অর্থাৎ সূরা ফাতিহা।
«২২» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আন-নাহবী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-হীরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে জাফর, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-আলা, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন— এমতাবস্থায় যে উবাই ইবনে কাব তাঁর কাছে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করলেন— তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহ তাওরাত, ইনজীল, যাবুর এমনকি কুরআনের অন্য কোথাও এর মতো কিছু নাযিল করেননি। নিশ্চয়ই এটি সেই সাতটি পুনঃপুনঃ পঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে।"
আর সূরা 'আল-হিজর' কোনো মতভেদ ছাড়াই মক্কী সূরা। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের উপর মক্কায় অবস্থানকালেই সূরা ফাতিহা প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রকাশ করবেন আর পরে সেটি মদীনায় নাযিল করবেন—এমনটি হতে পারে না। আর আমাদের পক্ষে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় দশ বছরেরও বেশি সময় সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত আদায় করেছেন। এটি এমন একটি বিষয় যা বিবেক গ্রহণ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سورة البقرةمَدَنِيَّةٌ بِلَا خِلَافٍ.
«23» - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَامِدٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الصَّغِيرُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْكَبِيرُ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ زُرَيْقٍ، عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ:
أَوَّلُ سُورَةٍ أُنْزِلَتْ بِالْمَدِينَةِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ.
[5] قَوْلُهُ تَعَالَى: الم ذَلِكَ الْكِتَابُ. [1، 2] .
«24» - أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ [الثَّقَفِيُّ] الزَّعْفَرَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَطَرٍ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، حَدَّثَنَا شِبْلٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ:
--------------------------------------------
সূরা আল-বাকারাহ্এটি কোনো মতভেদ ছাড়াই মাদানি (মদিনায় অবতীর্ণ)।
«২৩» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন হামিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আস-সগির, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-কাবির, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আম্মার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শুআইব বিন জুরাইক, আতা আল-খুরাসানি থেকে বর্ণিত, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া প্রথম সূরা হলো সূরা আল-বাকারাহ্।
[৫] মহান আল্লাহর বাণী: আলিফ-লাম-মিম। এটি সেই কিতাব। [১, ২] ।
«২৪» - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান [আস-সাকাফি] আয-জাফরানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন মাতার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-লাইস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হুজাইফাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শিবল, ইবনে আবি নাজিহ থেকে বর্ণিত, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أَرْبَعُ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ نَزَلَتْ فِي الْمُؤْمِنِينَ، وَآيَتَانِ بَعْدَهَا نَزَلَتَا في الكافرين، وثلاث عَشْرَةَ بَعْدَهَا نَزَلَتْ فِي المنافقين.
[6] قوله تعالى: إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَواءٌ عَلَيْهِمْ. [6] .
«25» - قَالَ الضَّحَّاكُ: نَزَلَتْ فِي أَبِي جَهْلٍ وَخَمْسَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ. وَقَالَ الْكَلْبِيُّ: يَعْنِي الْيَهُودَ.
[7] قَوْلُهُ تَعَالَى: وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا. [14] .
«26» - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا شَيْبَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قُرَّةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ بِلَالٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ عَنِ الْكَلْبِيِّ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ:
نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ وَأَصْحَابِهِ، وَذَلِكَ: أَنَّهُمْ خَرَجُوا ذَاتَ يَوْمٍ فَاسْتَقْبَلَهُمْ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ: انْظُرُوا كَيْفَ أَرُدُّ هَؤُلَاءِ السُّفَهَاءَ عَنْكُمْ، فَذَهَبَ فَأَخَذَ بِيَدِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه فَقَالَ:
مَرْحَبًا بِالصِّدِّيقِ سَيِّدِ بَنِي تَيْمٍ، وَشَيْخِ الْإِسْلَامِ، وَثَانِي رَسُولِ اللَّهِ فِي الْغَارِ، الْبَاذِلِ نَفْسَهُ وَمَالَهُ. ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِ عُمَرَ رضي الله عنه فَقَالَ: مَرْحَبًا بِسَيِّدِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ، الْفَارُوقِ الْقَوِيِّ فِي دِينِ اللَّهِ، الْبَاذِلِ نَفْسَهُ وَمَالَهُ لِرَسُولِ اللَّهِ. ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِابْنِ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ وَخَتَنِهِ، سَيِّدِ بَنِي هَاشِمٍ مَا خَلَا رَسُولَ اللَّهِ. ثُمَّ افْتَرَقُوا. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لِأَصْحَابِهِ: كَيْفَ رَأَيْتُمُونِي فَعَلْتُ؟ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمْ فَافْعَلُوا كَمَا فَعَلْتُ فَأَثْنَوْا عَلَيْهِ خَيْرًا. فَرَجَعَ الْمُسْلِمُونَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَخْبَرُوهُ بِذَلِكَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الآية.
--------------------------------------------
এই সূরার প্রথম চারটি আয়াত মুমিনদের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, পরবর্তী দুটি আয়াত কাফিরদের বিষয়ে এবং এর পরের তেরোটি আয়াত মুনাফিকদের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
[৬] মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য সমান... [৬]।
২৫ - দাহহাক বলেছেন: এটি আবু জাহল এবং তার পরিবারের পাঁচজন সদস্যের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আর কালবী বলেছেন: এর দ্বারা ইহুদিদের বোঝানো হয়েছে।
[৭] মহান আল্লাহর বাণী: আর যখন তারা মুমিনদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি... [১৪]।
২৬ - আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম, আমাদের জানিয়েছেন শায়বাহ বিন মুহাম্মাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন কুররাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন বিলাল, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান, তিনি কালবী থেকে, তিনি সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন:
এই আয়াতটি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সঙ্গীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। ঘটনাটি হলো: একদিন তারা বের হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর সাথে তাদের দেখা হলো। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই বলল: দেখ, আমি কীভাবে এই নির্বোধদের তোমাদের থেকে সরিয়ে দিই। এরপর সে গিয়ে আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরল এবং বলল:
স্বাগতম হে সিদ্দীক, বনু তায়িম গোত্রের নেতা, শাইখুল ইসলাম, গুহার ভেতর আল্লাহর রাসূলের দ্বিতীয় সঙ্গী, যিনি নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গকারী। এরপর সে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরল এবং বলল: স্বাগতম হে বনু আদি ইবনে কাব গোত্রের নেতা, আল-ফারূক, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত শক্তিশালী, রাসূলুল্লাহর জন্য নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গকারী। এরপর সে আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু-এর হাত ধরল এবং বলল: স্বাগতম হে আল্লাহর রাসূলের চাচাতো ভাই এবং তাঁর জামাতা, রাসূলুল্লাহ ছাড়া বনু হাশিম গোত্রের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। এরপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তখন আবদুল্লাহ তার সঙ্গীদের বলল: আমি যা করলাম তা তোমরা কেমন দেখলে? যখনই তোমরা তাদের দেখবে, আমি যা করেছি তোমরাও তেমনটাই করবে। তখন তারা তার প্রশংসা করল। এদিকে মুসলিমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে গিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[8]قوله: يا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ. [21] .
«27» -[أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الزَّاهِدُ، أخبرنا أبو عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو تُرَابٍ الْقُهُسْتَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ] ، [عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ:
كُلُّ شَيْءٍ نَزَلَ فِيهِ يَا أيها الناس، فهو مكي، ويا أَيُّهَا الذين آمنوا، فهو مدني.]
[يعني أن يَا أَيُّهَا الناس خِطَابُ أهل مكة، ويا أيها الذين آمنوا خطاب أَهْلِ المدينة. فقوله: يا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ خِطَابٌ لِمُشْرِكِي مَكَّةَ إِلَى قَوْلِهِ:
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا. وَهَذِهِ الْآيَةُ نَازِلَةٌ فِي الْمُؤْمِنِينَ، وَذَلِكَ: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمَّا ذَكَرَ جَزَاءَ الْكَافِرِينَ بِقَوْلِهِ: النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ ذَكَرَ جَزَاءَ الْمُؤْمِنِينَ] .
[9] قوله تعالى: / بقره 26 إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا. [26] .
«28» -[[قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي رِوَايَةِ أَبِي صَالِحٍ] : لَمَّا ضَرَبَ اللَّهُ تَعَالَى هَذَيْنِ الْمَثَلَيْنِ لِلْمُنَافِقِينَ، يَعْنِي قَوْلَهُ: مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا وَقَوْلَهُ: أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ- قَالُوا: اللَّهُ أَجَلُّ وَأَعْلَى مِنْ أَنْ يَضْرِبَ الْأَمْثَالَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ هذه الآية.]
«29» -[بقره 26 وَقَالَ الْحَسَنُ وَقَتَادَةُ: لَمَّا ذَكَرَ اللَّهُ الذُّبَابَ وَالْعَنْكَبُوتَ فِي كِتَابِهِ، وَضَرَبَ
--------------------------------------------
[8]তাঁর বাণী: হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো। [২১] .
«২৭» -[আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-জাহিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আহমাদ আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তুরাব আল-কুহুস্তানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন বিশর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাউহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে] , [আলক্বামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
যেখানেই "হে মানবজাতি" অবতীর্ণ হয়েছে তা মক্কী, আর যেখানেই "হে ঈমানদারগণ" অবতীর্ণ হয়েছে তা মাদানী।]
[অর্থাৎ "হে মানবজাতি" হলো মক্কাবাসীদের প্রতি সম্বোধন, আর "হে ঈমানদারগণ" হলো মদীনাবাসীদের প্রতি সম্বোধন। সুতরাং তাঁর বাণী: "হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো" আয়াতটি মক্কার মুশরিকদের প্রতি সম্বোধন, তাঁর এই বাণী পর্যন্ত:
এবং আপনি সুসংবাদ দিন তাদের যারা ঈমান এনেছে। আর এই আয়াতটি মুমিনদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এর কারণ হলো: আল্লাহ তাআলা যখন কাফেরদের প্রতিদান সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করলেন: "সেই আগুন যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে", তখন তিনি মুমিনদের প্রতিদানও উল্লেখ করলেন] ।
[9] আল্লাহ তাআলার বাণী: / বাকারা ২৬ নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা বা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো কিছুর উপমা দিতে লজ্জাবোধ করেন না। [২৬] .
«২৮» -[[আবু সালিহর বর্ণনায় ইবনে আব্বাস বলেন] : যখন আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের জন্য এই দুটি উদাহরণ দিলেন, অর্থাৎ তাঁর এই বাণী: "তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালাল" এবং তাঁর এই বাণী: "অথবা আসমান থেকে বর্ষিত মুষলধারে বৃষ্টির মতো"- তখন তারা বলল: আল্লাহ উপমা দেওয়ার চেয়েও মহান ও উচ্চতর। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন।]
«২৯» -[বাকারা ২৬ হাসান ও কাতাদাহ বলেন: আল্লাহ যখন তাঁর কিতাবে মাছি ও মাকড়সার কথা উল্লেখ করলেন এবং উপমা দিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لِلْمُشْرِكِينَ [بِهِ] الْمَثَلَ- ضَحِكَتِ الْيَهُودُ وَقَالُوا: مَا يُشْبِهُ هَذَا كَلَامَ اللَّهِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.]
«30» -[أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عن عطاء،] [بقره 26 عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا قَالَ:
وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ ذَكَرَ آلِهَةَ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا وَذَكَرَ كَيْدَ الْآلِهَةِ فَجَعَلَهُ كَبَيْتِ الْعَنْكَبُوتِ، فَقَالُوا: أَرَأَيْتَ حَيْثُ ذَكَرَ اللَّهُ الذُّبَابَ وَالْعَنْكَبُوتَ فِيمَا أَنْزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلَى مُحَمَّدٍ، أَيُّ شَيْءٍ يَصْنَعُ بِهَذَا؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.]
[10] قوله تعالى: / بقره 44 أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ. [44] .
«31» -[[قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي رِوَايَةِ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ بِالْإِسْنَادِ الَّذِي ذُكِرَ:] نَزَلَتْ فِي يَهُودِ [أَهْلِ] الْمَدِينَةِ، كَانَ الرَّجُلُ مِنْهُمْ يَقُولُ لِصِهْرِهِ وَلِذَوِي قَرَابَتِهِ وَلِمَنْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ رَضَاعٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: اثْبُتْ عَلَى الدِّينِ الَّذِي أَنْتَ عَلَيْهِ، وَمَا يَأْمُرُكَ بِهِ هَذَا الرَّجُلُ- يَعْنُونَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ أَمْرَهُ حَقٌّ. فَكَانُوا يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِذَلِكَ وَلَا يَفْعَلُونَهُ.]
[11] قَوْلُهُ تَعَالَى: وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ. [45] .
[عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ: أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ خِطَابٌ لِأَهْلِ الْكِتَابِ، وَهُوَ مَعَ ذَلِكَ أَدَبٌ لِجَمِيعِ الْعِبَادِ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: رَجَعَ بِهَذَا الْخِطَابِ إِلَى خِطَابِ الْمُسْلِمِينَ. وَالْقَوْلُ الْأَوَّلُ أَظْهَرُ.]
--------------------------------------------
মুশরিকদের জন্য [সেটি দিয়ে] উদাহরণ পেশ করেছেন— ইহুদিরা হাসল এবং বলল: এটি আল্লাহর বাণীর সদৃশ নয়। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করলেন।
«৩০» -[আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-হাফিজ তাঁর কিতাবে, আমাদের জানিয়েছেন সুলায়মান ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন বকর ইবনে সাহল, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে সাঈদ, মুসা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে,] [বাকারা ২৬, ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত:
নিশ্চয় আল্লাহ কোনো উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না। তিনি বলেন:
তা এই কারণে যে, আল্লাহ যখন মুশরিকদের উপাস্যদের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, "আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু কেড়ে নেয়," এবং উপাস্যদের চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে তাকে "মাকড়সার ঘরের" সাথে তুলনা করলেন, তখন তারা (মুশরিকরা) বলল: আপনি কি দেখেছেন যে আল্লাহ মুহাম্মাদের ওপর অবতীর্ণ কুরআনে মাছি এবং মাকড়সার কথা উল্লেখ করেছেন? তিনি এ দিয়ে কী করতে চান? তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করলেন।]
[১০] মহান আল্লাহর বাণী: / বাকারা ৪৪ তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের আদেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও? [৪৪] ।
«৩১» -[[ইবনে আব্বাস কালবির বর্ণনায় আবু সালিহ থেকে পূর্বোল্লিখিত সনদে বলেছেন:] এটি মদিনার ইহুদিদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। তাদের কোনো ব্যক্তি তার জামাতা, তার আত্মীয়স্বজন এবং তার ও যাদের সাথে দুগ্ধ-সম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিল এমন মুসলিমদের বলত: তোমরা যে দ্বীনের ওপর আছো তাতে অটল থাকো এবং এই ব্যক্তি—অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—তোমাদের যা নির্দেশ দেন তা মেনে চলো, কারণ তাঁর আনীত বিধান সত্য। তারা মানুষকে এই নির্দেশ দিত অথচ নিজেরা তা পালন করত না।]
[১১] মহান আল্লাহর বাণী: তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। [৪৫] ।
[অধিকাংশ আলেমদের মতে: এই আয়াতটি আহলে কিতাবদের প্রতি সম্বোধন, তবে এটি একই সাথে সকল বান্দাদের জন্য একটি শিষ্টাচার। কেউ কেউ বলেছেন: এই সম্বোধনটি পুনরায় মুসলিমদের সম্বোধনের দিকে ফিরে এসেছে। তবে প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট।]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[12]قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا
… الْآيَةَ. [62] .
«32» -[أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ الْعَسْكَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَ: قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن كثير،] [بقره 62 عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ:
لَمَّا قَصَّ سَلْمَانُ عَلَى النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، قِصَّةَ أَصْحَابِ الدَّيْرِ، قَالَ: هُمْ فِي النَّارِ.
قَالَ سَلْمَانُ: فَأَظْلَمَتْ عَلَيَّ الْأَرْضُ، فَنَزَلَتْ: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا إِلَى قوله: وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ قَالَ: فَكَأَنَّمَا كُشِفَ عَنِّي جَبَلٌ.]
«33» -[أَخْبَرَنَى مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَدَّادِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَزِيدَ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَمْرٌو، عن أسباط،] [بقره 62 عَنْ السُّدِّيِّ: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا.. الْآيَةَ، قَالَ: نَزَلَتْ فِي أَصْحَابِ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ لَمَّا قَدِمَ سَلْمَانُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، جَعَلَ يُخْبِرُ عَنْ عِبَادَتِهِمْ وَاجْتِهَادِهِمْ، وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ. كَانُوا يُصَلُّونَ وَيَصُومُونَ، وَيُؤْمِنُونَ بِكَ، وَيَشْهَدُونَ أَنَّكَ تُبْعَثُ نَبِيًّا. فَلَمَّا فَرَغَ سَلْمَانُ مِنْ ثَنَائِهِ عَلَيْهِمْ قَالَ رسول اللَّه- صلى الله عليه وسلم:
يَا سَلْمَانُ هُمْ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَتَلَا إِلَى قَوْلِهِ: وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ.]
«34» -[أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ
--------------------------------------------
[১২]মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে
… আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [৬২] ।
«৩২» -[আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আর-রাযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন উসমান আল-আসকারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু যায়িদা, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন কাসীর থেকে,] [বাকারা ৬২] মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
যখন সালমান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গির্জার অধিবাসীদের কাহিনী বর্ণনা করলেন, তখন তিনি (নবী) বললেন: তারা জাহান্নামী।
সালমান বলেন: এতে পৃথিবী আমার কাছে অন্ধকার হয়ে গেল, তখন অবতীর্ণ হলো: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে..." আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।" তিনি বলেন: তখন মনে হলো যেন আমার ওপর থেকে একটি পাহাড় সরিয়ে নেওয়া হলো।]
«৩৩» -[আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মারওয়াযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-হাদ্দাদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াযীদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর, আসবাত থেকে,] [বাকারা ৬২] সুদ্দী থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে..." আয়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি সালমান আল-ফারসির সাথীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। সালমান যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি তাদের ইবাদত ও কঠোর সাধনার কথা বলতে লাগলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা সালাত আদায় করত, রোজা রাখত, আপনার প্রতি ঈমান আনত এবং সাক্ষ্য দিত যে আপনি নবী হিসেবে প্রেরিত হবেন। সালমান যখন তাদের প্রশংসা শেষ করলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
হে সালমান, তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে..." এবং তিনি "তারা চিন্তিতও হবে না" পর্যন্ত পাঠ করলেন।]
«৩৪» -[আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَكَرِيَّاءَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ مُرَّةَ، عَنِ ابن مسعود] ، [بقره 62 وَعَنْ نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا
… الْآيَةَ، نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ.
وَكَانَ مِنْ أَهْلِ جُنْدِيسَابُورَ مِنْ أَشْرَافِهِمْ، وَمَا بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ نَازِلَةٌ فِي الْيَهُودِ.]
[13] قَوْلُهُ تَعَالَى: فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْآيَةَ. [79] .
[نَزَلَتْ فِي الَّذِينَ غَيَّرُوا صِفَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وبدلوا نعته] .
«35» -[بقره 79 قَالَ الْكَلْبِيُّ بِالْإِسْنَادِ الَّذِي ذَكَرْنَا: إِنَّهُمْ غَيَّرُوا صِفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي كِتَابِهِمْ، وَجَعَلُوهُ آدَمَ سِبْطًا طَوِيلًا، وَكَانَ رَبْعَةً أَسْمَرَ صلى الله عليه وسلم. وَقَالُوا لِأَصْحَابِهِمْ وَأَتْبَاعِهِمْ: انْظُرُوا إِلَى صِفَةِ النَّبِيِّ الَّذِي يُبْعَثُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، لَيْسَ يُشْبِهُ نَعْتَ هَذَا. وَكَانَتْ لِلْأَحْبَارِ وَالْعُلَمَاءِ مَأْكَلَةٌ مِنْ سَائِرِ الْيَهُودِ، فَخَافُوا أَنْ تَذْهَبَ مَأْكَلَتُهُمْ إِنْ بَيَّنُوا الصِّفَةَ، فَمِنْ ثَمَّ غَيَّرُوا.]
[14] قَوْلُهُ تَعَالَى: وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً. [80] .
«36» -[أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الصُّوفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দাগুলি, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি খাইসামা, আমাদের জানিয়েছেন আমর ইবনে হাম্মাদ, আমাদের জানিয়েছেন আসবাত, আস-সুদ্দি থেকে, তিনি আবু মালিক থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, এবং মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে, [বাকারা ৬২] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত:
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে
... (পুরো আয়াত), এই আয়াতটি সালমান আল-ফারসির সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
তিনি জুন্দিসাবুরের অধিবাসী এবং তাদের অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর এই আয়াতের পরবর্তী অংশ ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
[১৩] মহান আল্লাহর বাণী: অতঃপর ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং বলে যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে... (পুরো আয়াত)। [৭৯] ।
[এটি তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেছিল এবং তাঁর গুণাবলি বদলে দিয়েছিল] ।
«৩৫» -[বাকারা ৭৯] কালবি আমাদের উল্লিখিত সনদে বলেছেন: তারা তাদের কিতাবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ফেলেছিল। তারা তাকে গৌরবর্ণ, সোজা চুল বিশিষ্ট ও দীর্ঘদেহী হিসেবে চিত্রিত করেছিল, অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মাঝারি গড়নের ও শ্যামল বর্ণের। তারা তাদের সঙ্গী ও অনুসারীদের বলত: শেষ জামানায় যে নবীর আবির্ভাব হবে তার বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকাও, তার সাথে এই ব্যক্তির বর্ণনার কোনো মিল নেই। ইহুদি যাজক ও পণ্ডিতদের সাধারণ ইহুদিদের পক্ষ থেকে আহারের (উপঢৌকনের) ব্যবস্থা ছিল। তারা ভয় পাচ্ছিল যে, যদি তারা সঠিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেয় তবে তাদের সেই আহারের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে; আর সেই কারণেই তারা এটি পরিবর্তন করেছিল।
[১৪] মহান আল্লাহর বাণী: আর তারা বলে, আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না সামান্য কয়েক দিন ছাড়া। [৮০] ।
«৩৬» -[আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আবিল কাসিম আস-সুফি, আমাদের জানিয়েছেন আবুল হুসাইন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসবাবুন নুযুল ত জাগলুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَامِدٍ] الْعَطَّارُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ، عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ الزُّهْرِيُّ، حدَّثنا أَبِي وَعَمِّي قَالَا: حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ، عن عكرمة،] [بقره 80 عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:
قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، الْمَدِينَةَ، وَالَيَهُودُ تَقُولُ: إِنَّمَا هَذِهِ الدُّنْيَا سَبْعَةُ آلَافِ سَنَةٍ، وَإِنَّمَا يُعَذَّبُ النَّاسُ فِي النَّارِ لِكُلِّ أَلْفِ سَنَةٍ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا يَوْمًا وَاحِدًا فِي النَّارِ، مِنْ أَيَّامِ الْآخِرَةِ، وَإِنَّمَا هِيَ سَبْعَةُ أَيَّامٍ ثُمَّ يَنْقَطِعُ الْعَذَابُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي ذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِمْ: وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً.]
«36» م-[[أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا جُوَيْبِرٌ، عن الضحاك] [بقره 80 عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: فِي قَوْلِهِ: وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قَالَ] :
وَجَدَ أَهْلُ الْكِتَابِ مَا بَيْنَ طَرَفَيْ جَهَنَّمَ مَسِيرَةَ أَرْبَعِينَ [عَامًا] فَقَالُوا: لَنْ نُعَذَّبَ فِي النَّارِ إِلَّا مَا وَجَدْنَا فِي التَّوْرَاةِ. فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ اقْتَحَمُوا فِي النَّارِ. فَسَارُوا فِي الْعَذَابِ حَتَّى انْتَهَوْا إِلَى سَقَرَ، وَفِيهَا شَجَرَةُ الزَّقُّومِ، إِلَى آخِرِ يَوْمٍ مِنَ الْأَيَّامِ الْمَعْدُودَةِ، قَالَ: فَقَالَ لَهُمْ خَزَنَةُ [أَهْلِ] النَّارِ: يَا أَعْدَاءَ اللَّهِ، زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ لَنْ تُعَذَّبُوا فِي النَّارِ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً، فَقَدِ انْقَضَى الْعَدَدُ، وَبَقِيَ الْأَبَدُ] .
[15] قَوْلُهُ تَعَالَى: أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ الآية «1» . [75] .
--------------------------------------------
[মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামিদ] আল-আত্তার, আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আবদিল জব্বার, আমাদের খবর দিয়েছেন আবুল কাসিম, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ আল-জুহরি, আমার পিতা ও আমার চাচা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমার পিতা ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইকরামা থেকে, [বাকারা ৮০, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসলেন, তখন ইহুদিরা বলত: এই পৃথিবী মাত্র সাত হাজার বছরের, আর মানুষকে দুনিয়ার প্রতি এক হাজার বছরের বিনিময়ে আখেরাতের দিনসমূহের হিসাবে জাহান্নামের আগুনে মাত্র একদিন শাস্তি দেওয়া হবে; আর তা মাত্র সাত দিন, তারপর শাস্তি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের এই উক্তির প্রেক্ষিতে নাযিল করলেন: "আর তারা বলে, ‘আগুন আমাদের স্পর্শই করবে না, তবে নির্দিষ্ট কয়েক দিন ছাড়া।’"
«৩৬» ম-[[আমাদের খবর দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-তামিমি, আমাদের খবর দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-রাজি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাহল ইবনে উসমান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জুয়াইবির, আদ-দাহহাক থেকে] [বাকারা ৮০, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: আল্লাহর বাণী: ‘আর তারা বলে, আগুন আমাদের স্পর্শই করবে না, তবে নির্দিষ্ট কয়েক দিন ছাড়া’ সম্পর্কে তিনি বলেন] :
আহলে কিতাবরা জাহান্নামের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব চল্লিশ [বছরের] পথ দেখতে পেয়েছে। তারা বলেছিল: তাওরাতে আমরা যা পেয়েছি তা ছাড়া আমাদের জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে না। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তারা শাস্তির মধ্যে চলতে থাকবে যতক্ষণ না 'সাকার'-এ পৌঁছাবে, আর তাতে রয়েছে যাক্কুম গাছ; এভাবে সেই নির্দিষ্ট দিনগুলোর শেষ দিন পর্যন্ত। তিনি বলেন: তখন জাহান্নামের পাহারাদাররা তাদের বলবে: হে আল্লাহর শত্রুরা, তোমরা দাবি করেছিলে যে তোমাদের কেবল নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে, এখন তো সেই সংখ্যা শেষ হয়ে গেছে, আর এখন অনন্তকাল বাকি রয়ে গেছে।]
[১৫] আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা কি এই আশা করো যে তারা তোমাদের প্রতি ঈমান আনবে..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত [১]। [৭৫]।
--------------------------------------------