(খণ্ড: ১) হাদিসানি আহাদুহুমা ফি ফাদলি রজব লিআবি মা'শার আত তাবারি (পৃষ্ঠা: -)
حديثان أحدهما في فضل رجب لأبي معشر الطبري   (الطبري، أبو معشر)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء فيه حديثان أحدهما في فضل رجب

المؤلف: عبد الكريم بن عبد الصمد بن محمد بن علي بن محمد القطان أبو معشر الطبري (ت 478هـ)

المحقق: جمال عزون

الناشر: مؤسسة الريان - بيروت [طبع ضمن مجموع يبدأ بكتاب: أداء ما وجب من بيان وضع الوضاعين في رجب]

الطبعة: الأولى، 2000 م

عدد الصفحات: 344

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু মাশার আত-তাবারির রজব মাসের ফজিলত বিষয়ক দুটি হাদিস   (আত-তাবারি, আবু মাশার)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: একটি পুস্তিকা যাতে রয়েছে দুটি হাদিস, যার একটি রজব মাসের ফজিলত বিষয়ক

লেখক: আব্দুল কারিম বিন আব্দুল সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তান আবু মাশার আত-তাবারি (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি)

সম্পাদক: জামাল আজজুন

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রায়য়ান - বৈরুত [একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত যা শুরু হয়েছে এই কিতাব দ্বারা: রজব মাসে জালিয়াতদের জালিয়াতি বর্ণনার আবশ্যকতা সম্পাদন]

সংস্করণ: প্রথম، ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৪

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি (অনুলিপি) ، এবং হে কল্যাণের প্রত্যাশী, এগিয়ে এসো (পাঠ যাচাই)

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) হাদিসানি আহাদুহুমা ফি ফাদলি রজব লিআবি মা'শার আত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
‌‌الجزء فيه حديثان أحدهما في فضل رجب

من رواية أبي معشر عبد الكريم بن عبد الصمد المقرئ

رواية أبي بكر أحمد بن علي بن الحسين بن زكريا الطريثيثي عنه

رواية أبي عبد الله الحسين بن علي بن أحمد الشالنجي الخياط عنه

رواية العلامة أبي اليمن زيد بن الحسن بن زيد الكندي عنه

سماع إسماعيل بن عبد الله ابن الأنماطي
এই খণ্ডে দু’টি হাদীস রয়েছে, যার একটি রজব মাসের ফজিলত সম্পর্কে

আবু মাশার আব্দুল কারীম বিন আব্দুস সামাদ আল-মুকরির বর্ণনা থেকে

আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন যাকারিয়া আত-তুরাইথীসীর বর্ণনা, তাঁর থেকে

আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন আহমাদ আশ-শালানজী আল-খাইয়্যাতের বর্ণনা, তাঁর থেকে

আল্লামা আবুল ইয়ামান যায়েদ বিন হাসান বিন যায়েদ আল-কিন্দীর বর্ণনা, তাঁর থেকে

ইসমাঈল বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল আনমাতীর শ্রবণকৃত
(খণ্ড: ১) হাদিসানি আহাদুহুমা ফি ফাদলি রজব লিআবি মা'শার আত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم

1- أخبرنا الإمام العلامة حجة العرب تاج الدين أبو اليمن زيد بن الحسن بن زيد الكندي أيده الله قال: أخبرنا الشيخ الإمام العالم أبو عبد الله الحسين بن علي بن أحمد سبط الشيخ أبي منصور المقرئ قال: أبنا الشيخ أبو بكر أحمد بن علي بن الحسين بن زكريا الطريثيثي قراءة عليه بقراءة أبي بكر بن الخاضبة عليه وأنا أسمع وذلك في رجب من سنة ثلاث وثمانين وأربعمئة قال: ثنا الشيخ الإمام الأوحد أبو معشر عبد الكريم بن عبد الصمد المقرئ رضي الله عنه بآمل سنة ثمان وعشرين وأربعمئة قال: أَخْبَرَنِي أبو الحَسَن علي بن عبد الله بن جهضم الهمداني قال: حدثنا أبو الحَسَن عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْبَصْرِيُّ، قال: حَدَّثَنَا أَبِي رحمه الله، قال حَدَّثَنَا ⦗ص: 340⦘ خَلَفُ بْنُ عبيد الله الصنعاني، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: رَجَبُ شَهْرُ اللَّهِ وَشَعْبَانُ شَهْرِي وَرَمَضَانُ شَهْرُ أُمَّتِي قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مَعْنَى قَوْلِكَ: شَهْرُ اللَّهِ؟ قَالَ: لأَنَّهُ مَخْصُوصٌ بِالْمَغْفِرَةِ، وَفِيهِ تحصن الدِّمَاءُ، وَفِيهِ تَابَ اللَّهُ عَلَى أَنْبِيَائِهِ، وَفِيهِ أَنْقَذَ أَوْلِيَاءَهُ مِنْ يَدِ أَعْدَائِهِ

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَهُ اسْتَوْجَبَ عَلَى اللَّهِ ثَلاثَةَ أَشْيَاءَ: مَغْفِرَةً لِجَمِيعِ مَا سَلَفَ مِنْ ذُنُوبِهِ، وَعِصْمَةً فِيمَا بَقِيَ مِنْ عُمُرِهِ، وَأَمَانًا مِنَ الْعَطَشِ يَوْمَ الْعَرْضِ الأَكْبَرِ فَقَامَ شَيْخٌ ضَعِيفٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَعْجَزُ عَنْ صِيَامِهِ كُلِّهِ، فَقَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: صم أَوَّلَ يَوْمٍ مِنْهُ، فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَأَوْسَطَ يَوْمٍ مِنْهُ، وَآخِرَ يَوْمٍ مِنْهُ، فَإِنَّكَ تُعْطَى ثَوَابَ مَنْ صَامَهُ كُلَّهُ، ولَكِنْ لا تَغْفُلُوا عَنْ لَيْلَة أَوَّل جمعة فِيه، فَإِنَّهَا لَيْلَةٌ تُسَمِّيهَا يعني الْمَلائِكَةُ الرَّغَائِبُ، وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا مَضَى ثلث اللَّيْلُ لا يَبْقَى مَلَكٌ فِي جَمِيعِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ إِلَاّ وَيَجْتَمِعُونَ فِي الْكَعْبَةِ وَحَوَالَيْهَا، وَيَطَّلِعُ اللَّهُ إلَيْهِمُ اطِّلاعَةً فَيَقُولُ لهم: يا مَلائِكَتِي سَلُونِي مَا شِئْتُمْ، فَيَقُولُونَ رَبَّنَا حَاجَتُنَا إِلَيْكَ أَنْ تَغْفِرَ لِصُوَّامِ رَجَبٍ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: قَدْ فَعَلْتُ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَمَا مِنْ أَحَدٍ يَصُومُ يَوْمَ الْخَمِيسِ أَوَّلَ خَمِيسٍ فِي رَجَبٍ، ⦗ص: 341⦘ ثُمَّ يُصَلِّي فِيمَا بَيْنَ الْعِشَاءِ وَالْعَتْمَةِ اثنا عَشْرَ رَكْعَةً، يفصل بين كل ركعتين بتسليمة يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ مَرَّةً، وَإِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اثنا عَشْرَ مَرَّةً، فَإِذَا فَرَغَ مِنْ صَلاتِهِ صَلَّى عَلَيَّ سَبْعِينَ مَرَّةً، يقول اللهم صل على محمد النبي الأمي وعلى آله ثم يسجد سجدة ويقول في سجوده سبعين مرة سبوح قدوس رب الملائكة والروح ثم يرفع رأسه فيقول سبعين مرة رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ فإِنَّكَ أَنْتَ العلي الأَعْظَمُ، ثُمَّ يَسْجُدُ سجدة أخرى فَيَقُولُ فيها مِثْلَ مَا قَالَ فِي السَّجْدَةِ الأُولَى، ثُمَّ يَسْأَلُ حَاجَتَهُ في سجوده، فَإِنَّهَا تُقْضَى ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يصلي عبدٌ، أو أَمَةٌ هَذهِ الصَّلاةَ إِلَاّ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ جَمِيعَ ذُنُوبِهِ وَلو كَانَتْ ذنوبه مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ وَعَدَدِ الرمل ووزن الجبال وورق الشجر وشفع له يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي سَبْعِمِئَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ ممن قد استوجب النار، فَإِذَا كَانَ أَوَّلِ لَيْلَةٍ فِي قَبْرِهِ بعث إليه ثَوَابُ هَذهِ الصَّلاةِ، في أحسن صورة فتحييه بِوَجْهٍ طَلْقٍ وَلِسَانٍ ذَلْقٍ، فَيَقُولُ لَهُ: يا حَبِيبِي أَبْشِرْ فَقَدْ نَجَوْتَ مِنْ كُلِّ شِدَّةٍ، فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ فَوَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ وَجْهًا أَحْسَنَ مِنْ وَجْهِكَ ، وَلا سَمِعْتُ كَلامًا أَحْلَى مِنْ كَلامِكَ ، وَلا شَمَمْتُ رَائِحَةً أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَتِكَ، فَتقُول: يَا حَبِيبِي أَنَا ثَوَابُ تلك الصَّلاةِ الَّتِي صَلَّيْتَهَا فِي لَيْلَةِ كَذَا من شَهْرِ كَذَا، من سنة كذا جِئْتُ اللَّيْلَةَ لأَقْضِيَ حَقَّكَ، وَآنِسَ وَحْدَتَكَ، وَأَرْفَعَ عَنْكَ وَحْشَتَكَ، فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ أَظْلَلْتُ فِي عَرْصَةِ الْقِيَامَةِ عَلَى رَأْسِكَ، وَأَبْشِرْ فَلَنْ تَعْدِمَ الْخَيْرَ مِنْ مَوْلاكَ أَبْدًا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

১- ইমাম আল্লামা আরবের হুজ্জাত তাজউদ্দীন আবুল ইয়ামান জায়েদ ইবনুল হাসান ইবনে জায়েদ আল-কিন্দি (আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন) আমাদের সংবাদ দিয়ে বলেছেন: শায়খ ইমাম আলেম আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আহমদ সিবত আশ-শায়খ আবু মনসুর আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে জাকারিয়া আত-তুরাইথীসি তার কাছে পাঠকালে আমাদের জানিয়েছেন; আবু বকর ইবনুল খাদিবাহ তার সামনে পাঠ করছিলেন এবং আমি তা শুনছিলাম। এটি ছিল চারশত তিরাশি হিজরি সনের রজব মাসে। তিনি বলেন: অদ্বিতীয় শায়খ ইমাম আবু মাশার আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুল সামাদ আল-মুকরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) চারশত আটাশ হিজরি সনে আমুল শহরে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাহদাম আল-হামাদানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনে সাঈদ আল-বাসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪০⦘ খালাফ ইবনে উবাইদুল্লাহ আস-সানআনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস এবং রমজান হলো আমার উম্মতের মাস। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার এই কথার অর্থ কী যে এটি আল্লাহর মাস? তিনি বললেন: কারণ এটি বিশেষভাবে ক্ষমার মাস, এতে রক্তপাত বন্ধ রাখা হয়, এতে আল্লাহ তাঁর নবীদের তওবা কবুল করেছেন এবং এতে তিনি তাঁর বন্ধুদের শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি এতে রোজা রাখবে, আল্লাহর ওপর তার জন্য তিনটি বিষয় অবধারিত হয়ে যায়: তার অতীতের সমস্ত গুনাহের ক্ষমা, তার অবশিষ্ট জীবনের জন্য সুরক্ষা এবং মহা উপস্থিতির দিনে তৃষ্ণা থেকে নিরাপত্তা। তখন এক দুর্বল বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো পুরো মাস রোজা রাখতে অক্ষম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তবে তুমি এর প্রথম দিন রোজা রাখো, কারণ একটি নেকি দশগুণের সমান; আর এর মধ্যবর্তী দিন এবং শেষ দিন রোজা রাখো। তাহলে তোমাকে পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াব দেওয়া হবে। কিন্তু তোমরা এর প্রথম জুমার রাতের ব্যাপারে গাফেল হয়ো না। কারণ ফেরেশতারা এই রাতকে 'রাগায়েব' নামে ডাকে। আর তা হলো, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন আসমান ও জমিনের সকল ফেরেশতা কাবার চারদিকে সমবেত হয়। আল্লাহ তাদের প্রতি উঁকি দেন এবং তাদের বলেন: হে আমার ফেরেশতারা, তোমরা যা চাও আমার কাছে প্রার্থনা করো। তারা বলে: হে আমাদের রব, আপনার কাছে আমাদের আবেদন হলো আপনি রজব মাসের রোজাদারদের ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল বলেন: আমি তা করে দিলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার যে ব্যক্তি রোজা রাখবে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪১⦘ তারপর ইশা ও শেষ রাতের মধ্যবর্তী সময়ে বারো রাকাত নামাজ পড়বে এবং প্রতি দুই রাকাতের মাঝে সালাম ফিরিয়ে আলাদা করবে; প্রতি রাকাতে একবার সূরা ফাতিহা, তিনবার 'ইন্না আনজালনাহু ফি লাইলাতিল কদর' এবং বারোবার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পড়বে। নামাজ শেষ করে আমার ওপর সত্তর বার দরুদ পড়বে এবং বলবে— 'হে আল্লাহ, উম্মি নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন'। এরপর সেজদায় যাবে এবং সেজদায় সত্তর বার বলবে— 'অতি পবিত্র ও অতি মহিমান্বিত, ফেরেশতা ও রূহের রব'। এরপর মাথা উঠিয়ে সত্তর বার বলবে— 'হে আমার রব, ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আপনি যা জানেন তা এড়িয়ে যান (ক্ষমা করুন), নিশ্চয়ই আপনিই সর্বোচ্চ ও সর্বমহান'। এরপর পুনরায় সেজদায় যাবে এবং প্রথম সেজদার মতো পড়বে। এরপর সেজদারত অবস্থায় নিজের হাজত বা প্রয়োজনের কথা জানাবে, তবে তা পূরণ করা হবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম, কোনো পুরুষ বা নারী বান্দা যদি এই নামাজ আদায় করে, তবে আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন, যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা, বালুকণা, পাহাড়ের ওজন বা গাছের পাতার সমান হয়। আর কিয়ামতের দিন সে তার পরিবারের সাতশত সদস্যের জন্য সুপারিশ করতে পারবে যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। কবরের প্রথম রাতে এই নামাজের সওয়াব তার কাছে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে পাঠানো হবে। সে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ও সাবলীল ভাষায় তাকে অভিবাদন জানাবে এবং বলবে: হে আমার প্রিয়জন, সুসংবাদ গ্রহণ করো, তুমি প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছ। সে বলবে: তুমি কে? আল্লাহর কসম, আমি তোমার চেহারার চেয়ে সুন্দর আর কোনো চেহারা দেখিনি, তোমার কথার চেয়ে মিষ্টি আর কোনো কথা শুনিনি এবং তোমার সুগন্ধির চেয়ে উত্তম কোনো ঘ্রাণ পাইনি। সে বলবে: হে আমার প্রিয়জন, আমি তোমার সেই নামাজের সওয়াব যা তুমি অমুক বছরের অমুক মাসের অমুক রাতে পড়েছিলে। আজ রাতে আমি তোমার হক আদায় করতে, তোমার একাকিত্ব দূর করতে এবং তোমার আতঙ্ক দূর করতে এসেছি। যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, আমি কিয়ামতের ময়দানে তোমার মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকব। সুসংবাদ নাও, তুমি তোমার মালিকের পক্ষ থেকে কখনো কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে না।
(খণ্ড: ১) হাদিসানি আহাদুহুমা ফি ফাদলি রজব লিআবি মা'শার আত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩৪২)
2- أخبرنا الشيخ الإمام الأوحد أبو معشر عبد الكريم بن عبد الصمد الطبري المقرئ بآمل قال: أَخْبَرنَا الشيخ أبو علي الحَسَن بن الأشعث المنبجي بها حَدَّثَنا القاضي أبو عمرو عثمان بن إبراهيم الطرسوسي بمعرة النعمان قال قرئ على أبي الحَسَن أَحْمَد بن مُحَمَّد ⦗ص: 343⦘ بن سلام الطرسوسي سنة 336 قال: حدثنا أبو القاسم عبد الرحمن بن مُحَمَّد بن سلام قال حَدَّثَنا بشير بن زاذان عن عمر بن صبيح عن أبي هاشم الواسطي عن أبي رجاء العطاردي عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه أن رجلا قال يا رسول الله أنبئت أنك قلت الصلوات الخمس والجمعة كفارات لما بينهن ما اجتنبت الكائر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ذلك وأنا أقول والغسل يوم الجُمُعَة كفارة والمشي إلى الجمعة كفارة، كل خطوة كعبادة مائتي سنة قيام ليلها وصيام نهارها ، فإذا قضى الجمعة على السنة كتب الله له أجر عبادة مائتي سنة قيام ليلها وصيام نهارها.
2- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অদ্বিতীয় ইমাম শায়খ আবু মা’শার আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুস সামাদ আত-তাবারী আল-মুকরি আমুল শহরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আলী আল-হাসান ইবনুল আশ’আস আল-মানবিজী সেখানে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু আমর উসমান ইবনে ইবরাহীম আত-তারসূসী মা’আররাত আল-নু’মানে, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪৩⦘ ইবনে সালাম আত-তারসূসীর নিকট ৩৩৬ হিজরী সনে পাঠ করা হয়েছিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাশীর ইবনে জাযান, তিনি উমর ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি আবু হাশিম আল-ওয়াসিতী থেকে, তিনি আবু রাজা আল-আতারিদী থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে আপনি বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং জুমা তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা (মোচনকারী), যতক্ষণ পর্যন্ত কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকা হয়। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি তা বলেছি, এবং আমি আরও বলছি যে, জুমার দিনের গোসল কাফফারা এবং জুমার দিকে হেঁটে যাওয়াও কাফফারা; প্রতিটি কদম দুইশত বছরের ইবাদতের সমতুল্য—যার রাতগুলো দাঁড়িয়ে নামাজে এবং দিনগুলো রোজা রেখে অতিবাহিত করা হয়েছে। অতঃপর যখন সে সুন্নাহ মোতাবেক জুমা সম্পন্ন করে, আল্লাহ তার জন্য দুইশত বছরের ইবাদতের সওয়াব লিখে দেন—যার রাতগুলো দাঁড়িয়ে নামাজে এবং দিনগুলো রোজা রেখে অতিবাহিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাদিসানি আহাদুহুমা ফি ফাদলি রজব লিআবি মা'শার আত তাবারি (পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
آخر الجزء والحمد لله رب العالمين

وصلواته تترى على سيدنا محمد وآله وأصحابه وأزواجه وذريته الطاهرين وسلم تسليماً
খণ্ডের সমাপ্তি এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গীসাথি, পত্নীগণ ও পবিত্র বংশধরদের ওপর নিরন্তর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।