(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مزاعم وأخطاء وتناقضات وشبهات بودلي في كتابه الرسول، حياة محمد دراسة نقدية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مزاعم وأخطاء وتناقضات وشبهات بودلي في كتابه «الرسول، حياة محمد» دراسة نقدية
المؤلف: مهدي بن رزق الله أحمد
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 138
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বদলির ‘রাসূল: মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনী’ বইটিতে আনীত অভিযোগ, ভুলভ্রান্তি, স্ববিরোধিতা এবং সংশয়সমূহ: একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা বিভাগ: সীরাতুন নবী
বই: বদলির ‘রাসূল: মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনী’ বইটিতে আনীত অভিযোগ, ভুলভ্রান্তি, স্ববিরোধিতা এবং সংশয়সমূহ: একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা
লেখক: মাহদী বিন রিজকুল্লাহ আহমদ
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহর পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مزاعم وأخطاء وتناقضات وشبهات بودلي في كتابه " الرسول ـ حياة محمد " دراسة نقدية
إعداد: الأستاذ الدكتور / مهدي رزق الله أحمد أستاذ الدراسات الإسلامية بقسم الثقافة الإسلامية
التعريف ببودلي وكتابه " الرسول ـ حياة محمد "
هو المستشرق البريطاني R.V.C. BODLLY. التحق بالجيش البريطاني عام 1908م، وتدرج في رتبه إلى أن وصل رتبة كولونيل. عمل في وحدة الجيش البريطاني بالعراق، ثم في شرقي الأردن عام 1922م، ثم مستشاراً لسلطنة مسقط عام 1924م.
كان أول من عبر الربع الخالي، وكشف عن أسراره المجهولة بين عامي 1930-1931م.
عندما ترك الخدمة الحكومية ذهب ليعيش بين عرب الصحراء، لأنه -كما يقول في
مقدمة كتابه- كان ضجراً من التعقيدات التافهة التي جاءت عقب الحرب العالمية الأولى، وبقي مع الأعراب سبع سنين، وسمع عن محمد الرجل الذي وحَّد حفنة من القبائل المتنافرة المتنافسة، وجعلهم دعامة إمبراطورية من أعظم إمبراطوريات العالم قوة، وسمع عنه أنه الرجل ذو القلب الحار الذي حَوَّل الوثنيين وعبدة الأصنام إلى مؤمنين صادقين، يؤمنون بإله واحد وباليقين وبالموت والبعث في الحياة الأخرى. هذا ما قاله في مقدمة كتابه: "الرسول".
لم أقتنع بتحليل بودلي وسبب مجيئه من عاصمة الضباب –لندن- ليعيش سبع سنين مع بدو الصحراء. والراجح عندي -والله أعلم- أنه كان يقوم بمهام استخباراتية استعمارية تنصيرية لمصلحة التاج البريطاني، وهي ظاهرة معروفة في الدوائر الاستشراقية والاستعمارية والتنصيرية.
বডলির "দ্য মেসেঞ্জার: লাইফ অফ মুহাম্মদ" বইয়ের দাবি, ভুল, বৈপরিত্য এবং সংশয়সমূহ: একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা
প্রস্তুতিতে: প্রফেসর ডক্টর মাহদী রিজকুল্লাহ আহমাদ, ইসলামিক কালচার বিভাগের ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের অধ্যাপক
বডলি এবং তার বই "দ্য মেসেঞ্জার: লাইফ অফ মুহাম্মদ" এর পরিচিতি
তিনি হলেন ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ আর. ভি. সি. বডলি (R.V.C. BODLEY)। তিনি ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেয়ে কর্নেল পদ লাভ করেন। তিনি ইরাকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, এরপর ১৯২২ সালে জর্ডানের পূর্বাঞ্চলে এবং ১৯২৪ সালে মাস্কাট সালতানাতের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৩০-১৯৩১ সালের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে 'রুব আল-খালি' মরুভূমি পাড়ি দেন এবং এর অজানা রহস্য উন্মোচন করেন।
যখন তিনি সরকারি চাকরি ত্যাগ করেন, তখন তিনি মরুভূমির আরবদের মাঝে বসবাস করতে চলে যান। কারণ—তার বইয়ের
উপক্রমণিকায় যেমনটি তিনি বলেছেন—প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী তুচ্ছ জটিলতায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সাত বছর মরুচারী আরবদের সাথে অবস্থান করেন এবং মুহাম্মদ সম্পর্কে শোনেন—সেই মানুষটি, যিনি পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও প্রতিদ্বন্দ্বী একগুচ্ছ গোত্রকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদেরকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এক সাম্রাজ্যের স্তম্ভে পরিণত করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে শোনেন যে, তিনি ছিলেন এক উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ, যিনি পৌত্তলিক ও মূর্তিপূজারীদের এমন একনিষ্ঠ মুমিনে রূপান্তরিত করেছিলেন যারা এক ইলাহ, সুনিশ্চিত বিশ্বাস এবং মৃত্যুর পর পরকালীন পুনরুত্থানে বিশ্বাসী। এটিই তিনি তার "দ্য মেসেঞ্জার" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
কুয়াশার রাজধানী লন্ডন থেকে বডলির আগমনের কারণ এবং মরুভূমির বেদুইনদের মাঝে সাত বছর বসবাসের যে ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমার কাছে যা অধিকতর সঠিক মনে হয়—আর আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত—তা হলো তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থে গোয়েন্দাবৃত্তি, ঔপনিবেশিক ও মিশনারি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। আর এটি প্রাচ্যবিদ, ঔপনিবেশিক এবং মিশনারি সার্কেলে একটি সুপরিচিত বিষয়।
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
والمثال الأول على هذه الظاهرة:
جون اسبنسر درمنجهام المستشرق البريطاني الذي أرسلته جمعيتان تنصيريتان بريطانيتان إلى إفريقية لدراسة مجتمعاتها الإسلامية وغيرها في إفريقية. وكان نتيجة عيشه وسط الشعوب الإفريقية كتابة مؤلفاته الكثيرة التي شملت معظم أنحاء إفريقية، أشهرها: الإسلام في غربي إفريقية، تاريخ الإسلام في غربي إفريقية، الإسلام في شمالي إفريقية، الإسلام في السودان، الإسلام في إثيوبيا، الإسلام في شرقي إفريقية، وأثر الإسلام في إفريقية. هذا ما كشفه لنا، أما التقارير السرية المبنية على دراساته المذكورة فذاك سر من أسرار المهنة لا يعطى إلا لمن انتدبه من أجله.
والمثال الثاني:
الرحالة والمستشرق الألماني زيتزن ZEETZEN، الذي انتحل شخصية طبيب مسلم يدعى الحاج موسى، وتظاهر بأداء الحج عام 1809م.
والمثال الثالث:
المستشرق السويسري الأصل والبريطاني بالتجنس بوركهارت، الذي اختلف الكتاب في إسلامه: أحقيقي أم ادعاء، تسمى بإبراهيم عبد الله، وأدى مناسك الحج مع المسلمين عام 1814م.
والمثال الرابع:
الرحالة الإسباني المستشرق دومينغو بديا، الذي اتخذ اسم علي بك العباسي ليزور مكة عام 1807م.
والمثال الخامس:
المستشرق الإنجليزي السير ريتشارد برتون (1821ـ1890م) ، الذي انتحل شخصية طبيب مسلم ـ الشيخ عبد الله.
এই পরিস্থিতির প্রথম উদাহরণ হলো:
জন স্পেন্সার ট্রিমিংহাম, একজন ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ যাকে দুটি ব্রিটিশ মিশনারি সমিতি আফ্রিকার মুসলিম এবং অন্যান্য সমাজ অধ্যয়নের জন্য আফ্রিকায় পাঠিয়েছিল। আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর মাঝে তার বসবাসের ফলাফল ছিল তাঁর বহু গ্রন্থ রচনা যা আফ্রিকার অধিকাংশ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: পশ্চিম আফ্রিকায় ইসলাম, পশ্চিম আফ্রিকায় ইসলামের ইতিহাস, উত্তর আফ্রিকায় ইসলাম, সুদানে ইসলাম, ইথিওপিয়ায় ইসলাম, পূর্ব আফ্রিকায় ইসলাম এবং আফ্রিকায় ইসলামের প্রভাব। এটি তিনি আমাদের সামনে প্রকাশ করেছেন, কিন্তু তার উল্লিখিত গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি গোপন প্রতিবেদনগুলো হলো পেশাগত গোপনীয়তার অন্তর্ভুক্ত, যা কেবল তাদেরকেই প্রদান করা হয় যারা তাকে এই কাজের জন্য নিযুক্ত করেছিল।
এবং দ্বিতীয় উদাহরণ:
জার্মান পর্যটক এবং প্রাচ্যবিদ সিটজেন (ZEETZEN), যিনি হাজী মুসা নামক এক মুসলিম চিকিৎসকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং ১৮০৯ সালে হজ্জ পালনের ভান করেন।
এবং তৃতীয় উদাহরণ:
মূলত সুইজারল্যান্ডের এবং নাগরিকত্বে ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ বুর্খহার্ট, যার ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে লেখকদের মাঝে মতভেদ রয়েছে: তা কি প্রকৃত ছিল নাকি কেবল দাবি? তিনি ইবরাহীম আব্দুল্লাহ নাম ধারণ করেন এবং ১৮১৪ সালে মুসলমানদের সাথে হজ্জের কার্যাদি সম্পাদন করেন।
এবং চতুর্থ উদাহরণ:
স্প্যানিশ পর্যটক ও প্রাচ্যবিদ ডোমিঙ্গো বাদিয়া, যিনি ১৮০৭ সালে মক্কা সফরের জন্য আলী বে আল-আব্বাসী নাম ধারণ করেন।
এবং পঞ্চম উদাহরণ:
ইংরেজ প্রাচ্যবিদ স্যার রিচার্ড বার্টন (১৮২১-১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ), যিনি শেখ আব্দুল্লাহ নামক এক মুসলিম চিকিৎসকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন।
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
والمثال السادس:
المستشرق الهولندي الشهير سنوك هرجرونيه (1857- 1936م) ، الذي ادعى الإسلام، وتسمى بعبد الغفار عام 1884م، ومكث بمكة خمسة شهور، ولكن انكشف أمره قبل أن يشهد الحج مع المسلمين في ذلك العام.
وعندما عاد بودلي من الصحراء، انقطع للدراسة والكتابة بصفة خاصة عن المنطقة التي عاش فيها. ومن مؤلفاته: "الرسول ـ حياة محمد "، وهو موضوع بحثنا هذا، و " عاصفة في الصحراء"، [Wind in the Sahara] ، و" دراما محمد الصحراوية ".
ترجم كتابه "الرسول.." إلى العربية: محمد محمد فرج وعبد الحميد جودة السحار، عام 1945م، في 439 صفحة مع مقدمتين، وطبعته الإنجليزية في 355 صفحة. ويتكون من أربعة وعشرين فصلاً، وخاتمة. ذكر في الخاتمة شيئاً يسيراً عن سير الخلفاء الراشدين وزوجات النبي صلى الله عليه وسلم وسراريه، وشرح بعض الكلمات الواردة في كتابه، مثل كلمة عبد وأبو وال وأمير وحج.. إلخ. وذكر في نهاية كتابه المراجع التي اعتمد عليها، وعددها ثمان وعشرون، ليس فيها من المراجع العربية سوى ثلاث ترجمات لمعاني القرآن الكريم، بأيدي مستشرقين، وعمل فهرساً للأعلام الوارد ذكرها في كتابه (1) .
--------------------------------------------
ষষ্ঠ উদাহরণ:
বিখ্যাত ওলন্দাজ প্রাচ্যবিদ স্নুক হুরগ্রোনিয়ে (১৮৫৭- ১৯৩৬ খ্রি.), যিনি ইসলামের দাবি করেছিলেন এবং ১৮৮৪ সালে নিজের নাম রেখেছিলেন আব্দুল গাফফার। তিনি মক্কায় পাঁচ মাস অবস্থান করেছিলেন, কিন্তু সে বছর মুসলমানদের সাথে হজ পালন করার আগেই তাঁর প্রকৃত পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।
বোডলি যখন মরুভূমি থেকে ফিরে আসেন, তখন তিনি বিশেষভাবে সেই অঞ্চলটি নিয়ে অধ্যয়ন ও লেখালিখিতে আত্মনিয়োগ করেন যেখানে তিনি বসবাস করেছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: "আর-রাসুল: হায়াতে মুহাম্মদ" (রাসূল: মুহাম্মদের জীবন), যা আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয়; "আসিমাতুন ফিস-সাহারা" (মরুভূমিতে ঝড়) [Wind in the Sahara] এবং "ড্রামা মুহাম্মদ আস-সাহরাউইয়াহ" (মুহাম্মদের মরু-নাটক)।
১৯৪৫ সালে মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ফারাজ এবং আব্দুল হামিদ জাওদাহ আস-সাহহার তাঁর "আর-রাসুল..." গ্রন্থটি আরবিতে অনুবাদ করেন। এটি দুই ভূমিকা সংবলিত ৪৩৯ পৃষ্ঠার গ্রন্থ, যেখানে এর ইংরেজি মুদ্রণ ছিল ৩৫৫ পৃষ্ঠার। বইটি চব্বিশটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত। উপসংহারে তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের জীবনী, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিনীগণ ও দাসীদের সম্পর্কে সামান্য কিছু আলোচনা করেছেন এবং তাঁর গ্রন্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ যেমন— আবদ, আবু, আল, আমির এবং হজ ইত্যাদি ব্যাখ্যা করেছেন। গ্রন্থের শেষে তিনি তাঁর ব্যবহৃত তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করেছেন, যার সংখ্যা আটাশটি। প্রাচ্যবিদদের দ্বারা অনূদিত পবিত্র কুরআনের মর্মবাণীর তিনটি অনুবাদ ছাড়া এগুলোর মধ্যে অন্য কোনো আরবি তথ্যসূত্র নেই। এছাড়াও তিনি গ্রন্থে বর্ণিত ব্যক্তিদের নামের একটি তালিকা বা নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أهداف البحث:
لم يهتم مترجما كتاب بودلي بالتصحيح اللازم لأخطائه وشبهاته، لذا كان لزاماً على أحد أبناء الأمة الإسلامية أن يقوم بالتصحيح اللازم، ودحض شبهاته ومزاعمه، التي تشوه سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، وتخدم أهداف وأغراض أعداء الإسلام، ولا سيما أن الكتاب أصبح متداولاً بين الناس باللغتين: الإنجليزية والعربية. ومنه نسخة بالعربية وأخرى بالإنجليزية بمكتبة جامعة الملك سعود.
وقد نَوَّه بالأخطاء الكثيرة في هذا الكتاب مختصون في دراسة الظاهرة الاستشراقية، ومثاله ما جاء في كتاب: " الإسلام والمستشرقون" تأليف نخبة من العلماء، (ص 230) .
"ومن نماذج كتب المستشرقين المليئة بالأخطاء والشبهات في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم كتاب المستشرق (ز. ف. بودلي) ، الذي ترجم إلى العربية دون الاعتناء بإجراء التصحيح اللازم لأخطائه.." وما جاء في كتاب " المستشرقون " لنجيب العقيقي: ".. وقد آمن في مقدمة كتابه "الرسول" بسلامة العقيدة الإسلامية، وضلَّ من بعدُ في تفسير الزكاة والجنة والنار والقضاء والقدر".
ودراسة مثل هذا الكتاب تبصر طلاب الحقيقة من المستشرقين المنصفين بحقائق الإسلام ومناهج المغرضين من المستشرقين في تناول سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم. وتبصر أبناء الأمة الإسلامية الذين ينخدعون بكتابات المستشرقين ويعتمدون عليها في أبحاثهم عن الإسلام وتاريخه وحضارته.
গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:
বোধলি-এর বইটির অনুবাদকদ্বয় এর ভুল ও সন্দেহসমূহ নিরসনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেননি। ফলে উম্মতে ইসলামিয়ার কোনো এক সন্তানের জন্য এ প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন করা এবং তার সেই সকল সন্দেহ ও দাবি খণ্ডন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে বিকৃত করে এবং ইসলামের শত্রুদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিল করে। বিশেষ করে বইটি ইংরেজি ও আরবি উভয় ভাষায় মানুষের মাঝে প্রচলিত হয়ে পড়েছে। এর একটি আরবি ও একটি ইংরেজি পাণ্ডুলিপি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।
প্রাচ্যতত্ত্ব বা ওরিয়েন্টালিজম গবেষণায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞগণ এই বইটির অসংখ্য ভুলের ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, একদল বরেণ্য আলিমের রচিত "ইসলাম ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ" নামক গ্রন্থের ২৩০ পৃষ্ঠায় যা উল্লেখ করা হয়েছে।
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনী সম্পর্কে ভুল এবং সন্দেহে পরিপূর্ণ প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের রচিত গ্রন্থসমূহের একটি নমুনা হলো প্রাচ্যতত্ত্ববিদ (জে. ভি. বোধলি)-এর বই, যা এর ভুলগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়াই আরবিতে অনূদিত হয়েছে..."। অনুরূপভাবে নাজীব আল-আকিকি রচিত "আল-মুসতাশরিকুন" গ্রন্থে যা এসেছে: "...তিনি তার 'আর-রাসূল' গ্রন্থের ভূমিকায় ইসলামি আকিদার বিশুদ্ধতার প্রতি বিশ্বাস ব্যক্ত করলেও পরবর্তীতে জাকাত, জান্নাত, জাহান্নাম এবং কাজা ও কদর (ভাগ্য)-এর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হয়েছেন।"
এই ধরনের গ্রন্থ নিয়ে গবেষণা সত্য অন্বেষণকারী ন্যায়নিষ্ঠ প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বর্ণনার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের হীন কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করে তুলবে। পাশাপাশি এটি মুসলিম উম্মাহর সেই সন্তানদেরও সচেতন করবে যারা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের লেখনীর দ্বারা প্রলুব্ধ হয় এবং ইসলাম, এর ইতিহাস ও সভ্যতা সম্পর্কিত গবেষণায় তাদের ওপর নির্ভর করে।
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة:
لا تخلو مقدمة بحث عن الاستشراق عامة أو عن مستشرق بعينه من ذكر أهداف الاستشراق ووسائله ودوافعه، المنحصرة في الأهداف والدوافع: الدينية والسياسية والاستعمارية والعلمية والتجارية والشخصية.
وتجنباً للتكرار، فالراجح عندي من خلال سيرة بودلي أن الأهداف السياسية هي التي جاءت به ليعيش مع بدو صحراء الحجاز، ليقدم لبلاده المعلومات الاستخباراتية التي تريدها؛ لرسم سياستها الاستعمارية في هذه المنطقة الاستراتيجية؛ وذلك بدليل أن كتابات بودلي لا تحمل الطابع العلمي في أدنى مستوياته، والذي نلحظه في كتابات المستشرقين الذين استقى منهم معلوماته عن سيرة النبي صلى الله عليه وسلم؛ وبقائه تلك المدة الطويلة في البادية - سبع سنوات. لأن من يريد أن يكتب عن سيرة محمد صلى الله عليه وسلم لا يحتاج إلى البقاء في مهد الإسلام هذه المدة، بل يحتاج إلى قضاء نحو خمس هذه المدة فقط، وقضاء أربعة الأخماس الباقية في المكتبات، حيث مصادر السيرة النبوية الأصلية.
إن علاقة مثل هذه الشخصيات التي تعد استشراقية بدوائر الاستعمار، من الظواهر البارزة في تاريخ الاستشراق. ولعل الدور الاستعماري لبودلي بالذات هو دراسة حياة الناس الذين يعيشون في هذه المنطقة وطبيعتهم وخصائصهم، وهل بالإمكان استعمارهم؟! ومعرفة الاتجاهات والحركات المناهضة للاستعمار في المناطق المجاورة في آسية وإفريقية.
أما تفكير بودلي في تأليف الكتب التي أشرنا إليها عن هذه المنطقة، فهو كما يبدو مشروع لاحق، فكَّر فيه عندما رجع واستقر في بلاده، واستهوته شخصية محمد صلى الله عليه وسلم التي وجد تأثيرها العميق في هذه المنطقة.
ভূমিকা:
সাধারণভাবে প্রাচ্যতত্ত্ব বা কোনো বিশেষ প্রাচ্যতত্ত্ববিদ সম্পর্কে গবেষণার ভূমিকা প্রাচ্যতত্ত্বের লক্ষ্য, উপায় ও প্রেষণা উল্লেখ করা থেকে খালি থাকে না, যা ধর্মীয়, রাজনৈতিক, ঔপনিবেশিক, বৈজ্ঞানিক, বাণিজ্যিক এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও প্রেষণার মাঝে সীমাবদ্ধ।
আর পুনরাবৃত্তি এড়াতে, বোডলির জীবনী পর্যালোচনায় আমার কাছে যা অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে হয় তা হলো, রাজনৈতিক লক্ষ্যই তাকে হেজাজের মরুভূমির যাযাবরদের সাথে বসবাস করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যাতে তিনি তার দেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করতে পারেন; যা এই কৌশলগত অঞ্চলে তাদের ঔপনিবেশিক নীতি প্রণয়নে সহায়ক হয়। এর প্রমাণ হলো, বোডলির লেখাগুলোতে ন্যূনতম স্তরের কোনো বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নেই, যা আমরা সেই সব প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের লেখায় লক্ষ্য করি যাদের কাছ থেকে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া মরুপল্লিতে তার দীর্ঘ সাত বছর অবস্থান করাও এর অন্যতম প্রমাণ। কারণ, যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী সম্পর্কে লিখতে চান, তাদের ইসলামের সূতিকাগারে এত দীর্ঘ সময় অবস্থান করার প্রয়োজন নেই; বরং এই সময়ের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ সময় সেখানে অতিবাহিত করাই যথেষ্ট এবং বাকি চার-পঞ্চমাংশ সময় পাঠাগারগুলোতে ব্যয় করা প্রয়োজন, যেখানে সীরাতুন্নবীর মূল উৎসসমূহ বিদ্যমান।
প্রাচ্যতত্ত্ববিদ হিসেবে গণ্য এ ধরণের ব্যক্তিত্বদের সাথে ঔপনিবেশিক মহলের সম্পর্ক প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাসে একটি অন্যতম প্রস্ফুটিত দিক। সম্ভবত বোডলির বিশেষ ঔপনিবেশিক ভূমিকা ছিল এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে গবেষণা করা এবং তাদের কি উপনিবেশ বানানো সম্ভব কি না তা যাচাই করা; সেই সাথে এশিয়া ও আফ্রিকার নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে উপনিবেশবাদ বিরোধী চিন্তাধারা ও আন্দোলনগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা।
আর এই অঞ্চল সম্পর্কে আমরা যে বইগুলোর ইঙ্গিত দিয়েছি সেগুলো রচনার ব্যাপারে বোডলির চিন্তা সম্ভবত পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ ছিল, যা তিনি নিজ দেশে ফিরে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর ভেবেছিলেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব তাকে বিমোহিত করেছিল, যার গভীর প্রভাব তিনি এই অঞ্চলে প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
لقد اتبعت المنهج التحليلي في دراسة كتابه المذكور، إذ أوردت آراءه، ثم نقدتها في ضوء مصادر السيرة الأصلية. وإلى القارئ أبرز مزاعمه وأخطائه وتناقضاته وشبهه:
আমি তাঁর উল্লিখিত গ্রন্থটি অধ্যয়নে বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; সেখানে আমি তাঁর মতামতসমূহ উপস্থাপন করেছি এবং অতঃপর সিরাতের মৌলিক উৎসসমূহের আলোকে সেগুলোর সমালোচনা করেছি। পাঠকের সম্মুখে তাঁর প্রধান দাবি, ভুলত্রুটি, বৈপরীত্য ও সংশয়সমূহ উপস্থাপন করা হলো:
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أبرز مزاعمه وأخطائه وتناقضاته وشبهه
التشكيك في الوحي…1- التشكيك في الوحي:
يزعم بودلي (1) أن محمدا صلى الله عليه وسلم كان يعرف القراءة والكتابة، ثم يبني على هذا الزعم أن القرآن من تأليف محمد صلى الله عليه وسلم. جاء هذا في معرض كلامه على عمه أبي لهب وزوجته أم جميل، إذ يقول عن النبي صلى الله عليه وسلم: "ولم يكن في استطاعته أكثر مما احتمل، ففارقه طبعه الكريم، فلعن عمه وزوجته في صوت عال واضح النبرات، وأضاف إلى اللعن أن أم جميل ستحمل حطب الجحيم. وقد وصف الجحيم وصفاً مروعاً، وقد عنى كل ما قاله، وجاءت هذه اللعنة فيما بعد في سورة (101) من القرآن: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ} [سورة المسد:1] . ولما كان العرب بطبعهم قوماً يتطيرون، ولما كانت لعنة محمد في غاية من الحبكة والبلاغة، فقد انسحب أبو لهب وأم جميل من مجلسه، فانسحب القرشيون في أثرهم.. " (2) .
وجاء ذلك في معرض كلامه عن عطف زوجته خديجة عليه في مراحل الوحي الأولى، فيقول: ".. وإن هذا العطف قد دفع محمداً فيما بعد أن يكتب هذه الآيات كجزءٍ من القرآن: {وَالضُّحَى وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَى مَا
--------------------------------------------
তাঁর প্রধান দাবি, ভুল, বৈপরীত্য এবং সংশয়সমূহওহীর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি…১- ওহীর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি:
বোডলি (১) দাবি করেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পড়তে ও লিখতে জানতেন, এরপর তিনি এই দাবির ওপর ভিত্তি করে দাবি করেন যে, কুরআন মুহাম্মদেরই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রচনা। এটি তাঁর চাচা আবু লাহাব ও তাঁর স্ত্রী উম্মে জামিল সম্পর্কে আলোচনার সূত্র ধরে এসেছে, যেখানে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে বলেন: "তাঁর সহ্যক্ষমতার বাইরে আর কিছুই করার ছিল না, ফলে তাঁর মহান স্বভাব তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, আর তিনি উচ্চ ও স্পষ্ট স্বরে তাঁর চাচা ও তাঁর স্ত্রীকে অভিশাপ দিলেন। তিনি অভিশাপের সাথে আরও যোগ করলেন যে, উম্মে জামিল জাহান্নামের জ্বালানি বহন করবে। তিনি জাহান্নামের একটি ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছিলেন, এবং যা বলেছিলেন তার প্রতিটি অর্থই তিনি বুঝিয়েছিলেন। এই অভিশাপটি পরবর্তীতে কুরআনের (১০১) নম্বর সূরায় এসেছে: {আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক} [সূরা আল-মাসাদ: ১]। যেহেতু আরবরা প্রকৃতিগতভাবে অশুভ লক্ষণে বিশ্বাসী এক জাতি ছিল এবং মুহাম্মদের অভিশাপটি অত্যন্ত নিপুণ ও অলঙ্কারপূর্ণ ছিল, তাই আবু লাহাব ও উম্মে জামিল তাঁর মজলিস থেকে প্রস্থান করলেন, আর কুরাইশরাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে গেল... " (২) ।
এটি ওহীর প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর প্রতি তাঁর স্ত্রী খাদিজার সহমর্মিতার বর্ণনার ক্ষেত্রেও এসেছে, যেখানে তিনি বলেন: "...এবং এই সহমর্মিতাই মুহাম্মদকে পরবর্তীতে কুরআনের অংশ হিসেবে এই আয়াতগুলো লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল: {শপথ পূর্বাহ্ণের এবং শপথ রাতের যখন তা নিঝুম হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى وَلَلآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَى َلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَى وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَى فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ} [سورة الضحى: 1ـ11] (1) .
وجاء في معرض كلامه على القرآن: "ولكَمْ حاسب نفسه لكي لا يكون في رسالته أثر لإنسان، فكان يفضل أن تكون الآيات التي يأتي فيها ذكر الله مبتدئة بـ {قُلْ} (2) .
ويقول: ".. وقد كتب محمد في السورة الثانية، ثم في السورة الخامسة: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَى مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحاً فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [سورة المائدة: 69] " (3) .
ويقول أثناء كلامه عما دار من لغط حول أحداث نتائج سرية عبد الله بن جحش - سرية نخلة -: ".. فلما هدأت الضجة الأولى، لجأ إلى شيء كان يفعله كلما وجد حرجاً، وهو أنه يوحى إليه، وأن هذا الوحي يحمل إليه رأي الله في الأمر الذي يقلق رسوله، قال: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ} الآية" [البقرة: 217] (4) .
--------------------------------------------
আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি। আর নিশ্চয়ই আপনার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে অধিক উত্তম। এবং শীঘ্রই আপনার প্রতিপালক আপনাকে (এত বেশি) দান করবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি কি আপনাকে পিতৃহীন অবস্থায় পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। এবং তিনি আপনাকে পথপ্রদর্শকহীন পেয়েছেন, অতঃপর পথ প্রদর্শন করেছেন। আর তিনি আপনাকে নিঃস্ব পেয়েছেন, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন। অতএব, আপনি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হবেন না। আর সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দেবেন না। এবং আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা বর্ণনা করুন। [সূরা আদ-দুহা: ১-১১] (১) ।
কুরআন সম্পর্কে তাঁর আলোচনার এক পর্যায়ে এসেছে: "আর তিনি কতবার নিজেকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করেছেন যাতে তাঁর রিসালাতে কোনো মানুষের প্রভাব না থাকে; তাই তিনি পছন্দ করতেন যেন সেই আয়াতগুলো 'বল' দিয়ে শুরু হয় যেখানে আল্লাহর কথা উল্লেখ করা হয়েছে" (২) ।
তিনি বলেন: "..আর মুহাম্মদ দ্বিতীয় সূরায় এবং তারপর পঞ্চম সূরায় লিখেছেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে এবং সাবিঈন ও নাসারাগণ—যে কেউ আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৯]" (৩) ।
আবদুল্লাহ বিন জাহাশের অভিযান—নাখলা অভিযান—এর ঘটনাবলী থেকে উদ্ভূত বিতর্ক সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি বলেন: "..অতঃপর যখন প্রাথমিক উত্তেজনা প্রশমিত হলো, তিনি এমন এক বিষয়ের আশ্রয় নিলেন যা তিনি কোনো সংকটে পড়লে প্রায়ই করতেন; আর তা হলো তাঁর প্রতি ওহি আসা এবং এই ওহি সেই বিষয়ে আল্লাহর অভিমত বহন করে আনত যা তাঁর রাসূলকে বিচলিত করত; তিনি বললেন: {তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে...} আয়াতটি" [আল-বাকারা: ২১৭] (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويقول في تحليلاته لحديث الإفك: ".. وعرف محمد أنه الوحيد الذي يلام، فإن الفضيحة ستستمر ما دام مترددا، فمن واجبه أن يحكم ببراءة عائشة أو إدانتها، فقام بعمل حاسم كما هي عادته في المعارك.." (1) .
ويصور عقوبة الإفك بأنها تشريع من محمد، فيقول: "فلما انتهى أمر تنفيذ العقوبة التي شرعها الآن في حسان وحمنة ومسطح، وكان مسطح صديقاً لأبي بكر (2) ، وكانوا ممن أفصح بالفاحشة" (3) .
وقال عن مسألة حرمة الزواج من الوثنيات وجوازه من الكتابيات: "وأكد ذلك محمد في القرآن بقوله: {الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَهُمْ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ} " [المائدة: 5] (4) .
ويقول في معرض كلامه على جمع القرآن: ".. فلما جمع زيد كل كلمة كتبها محمد.." (5) ، و: "لقد عمل زيد بإخلاص لا يمكن تصوره حتى إنه لما انتهى من نشر القرآن، كان الكتاب من عمل مؤلفه خالصاً، ومؤلفه فقط" (6) . ويعني بمؤلفه هنا الرسول محمد صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
তিনি ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) হাদিসের বিশ্লেষণে বলেন: "..এবং মুহাম্মদ বুঝতে পারলেন যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। যদি তিনি দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন তবে এই কেলেঙ্কারি চলতেই থাকবে। তাই আয়েশার নির্দোষিতা বা দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে ফয়সালা করা তাঁর কর্তব্য ছিল। অতঃপর তিনি যুদ্ধের ময়দানে তাঁর অভ্যাসের মতো একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন.." (১)।
তিনি ইফকের শাস্তিকে মুহাম্মদের প্রণীত একটি বিধান হিসেবে চিত্রিত করেন এবং বলেন: "হাসসান, হামনাহ এবং মিসতাহ-এর ওপর তিনি এখন যে শাস্তি প্রবর্তন করেছেন তা কার্যকর করার কাজ যখন শেষ হলো—আর মিসতাহ আবু বকরের বন্ধু ছিলেন (২)—এবং তারা সেই অশ্লীল কথা প্রকাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" (৩)।
মূর্তিপূজারি নারীদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়া এবং কিতাবি নারীদের সাথে বিবাহ বৈধ হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন: "মুহাম্মদ কুরআনে তাঁর বাণীর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছেন: {আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হলো। যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। আর মুমিন সতী-সাধ্বী নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সতী-সাধ্বী নারী (তোমাদের জন্য বৈধ)}" [আল-মায়িদাহ: ৫] (৪)।
কুরআন সংকলন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন: "..অতঃপর যায়েদ যখন মুহাম্মদের লিখিত প্রতিটি শব্দ সংগ্রহ করলেন.." (৫), এবং: "যায়েদ এমন অকল্পনীয় নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছিলেন যে, যখন তিনি কুরআন প্রচারের কাজ শেষ করলেন, তখন বইটি সম্পূর্ণভাবে এর লেখকের কাজ হিসেবে গণ্য হলো, এবং শুধুমাত্র এর লেখকেরই" (৬)। আর লেখক বলতে তিনি এখানে রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
لولا كثرة ترديده مزاعم نسبة تأليف القرآن إلى الرسول صلى الله عليه وسلم لقلنا إنه ربما يعني في هذه العبارة أن المؤلف المعني هنا هو الله سبحانه وتعالى.
وقال عند كلامه على غزوة تبوك: ".. وكان يعلق على أقوال هؤلاء الذين جاؤوا إليه يعتذرون في سخرية جارحة. قال للذين اعتذروا بحرارة شمس جزيرة العرب في الصيف: {قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرّاً} [التوبة: 81] " (1) .
ويقول أثناء مزاعمه حول الإسراء والمعراج: "..وإن كل ما جاء فعلاً عن هذه الرحلة الإلهية على لسان محمد، هو ما ذكر في سورة الإسراء.." (2) .
ويقول عند تعرضه وتحليله لأحداث غزوة حنين: ".. فكتب في السورة التاسعة عشرة.." (3) .
ويقول في فصله الذي عقده عن القرآن: "وقد كتب محمد القرآن بمفرده، وقد استغرق ذلك منه ما يقرب من عشرين سنة.." (4) .ويقول: "..وضع محمد قوانين محكمة للطلاق..وقد ختم ضرورة معاملة المطلقة معاملة عادلة: ففي السورة الثانية من القرآن نجد: {الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئاً} [البقرة: 229] " (5) .
--------------------------------------------
যদি তিনি বারংবার কুরআনের রচনার কৃতিত্ব রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আরোপের দাবিটি উচ্চারণ না করতেন, তবে আমরা হয়তো বলতাম যে, তিনি সম্ভবত এই বাক্যে বোঝাতে চেয়েছেন এখানে উদ্দিষ্ট লেখক হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা।
এবং তিনি তাবুক যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার সময় বলেছেন: "...এবং তিনি বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে ওইসব লোকদের বক্তব্যের উপর মন্তব্য করছিলেন যারা তাঁর কাছে ওজর পেশ করতে এসেছিল। যারা গ্রীষ্মকালে আরব উপদ্বীপের সূর্যের উত্তাপের ওজর পেশ করেছিল, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন: {বলুন, জাহান্নামের আগুন আরও বেশি উত্তপ্ত} [তওবা: ৮১]" (১)।
এবং ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে তাঁর দাবির মাঝে তিনি বলেন: "...এবং মুহাম্মাদ-এর মুখনিসৃত এই ঐশী ভ্রমণ সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে যা কিছু এসেছে, তা হলো তাই যা সূরা ইসরা-তে উল্লেখ করা হয়েছে..." (২)।
এবং হুনাইন যুদ্ধের ঘটনাবলি বর্ণনা ও বিশ্লেষণের সময় তিনি বলেন: "...অতঃপর তিনি ঊনবিংশ সূরায় লিখেছেন..." (৩)।
এবং কুরআন সম্পর্কে তাঁর রচিত অধ্যায়ে তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ একাই কুরআন লিখেছেন এবং এতে তাঁর প্রায় বিশ বছর সময় লেগেছিল..." (৪)। এবং তিনি বলেন: "...মুহাম্মাদ তালাকের জন্য সুদৃঢ় আইন প্রণয়ন করেছেন... এবং তিনি তালাকপ্রাপ্তা নারীর সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণের প্রয়োজনীয়তার মাধ্যমে বিষয়টি সমাপ্ত করেছেন: কুরআনের দ্বিতীয় সূরায় আমরা পাই: {তালাক দুই বার, এরপর হয় বিধিমত রাখা, না হয় সদয়ভাবে বিদায় দেওয়া। আর তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা তাদের যা দিয়েছ তা হতে কিছু ফিরিয়ে নেবে} [বাকারা: ২২৯]" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويقول في أثناء كلامه على محمد صلى الله عليه وسلم في قومه: ".. وقلما فكرت فيه كمؤلف للقرآن.." (1) .
ومن أقواله الدالة كذلك على تشكيكه في الوحي، قوله عن القرآن الكريم عند تقديمه لكتابه هذا: ".. إنه انعكاس هذا الفكر الثاقب.." (2) .
وحقيقة الوحي عنده مجرد احتمال، إذ يقول في معرض الكلام عن نقاط التشابه بين محمد وعيسى عليهما السلام: "فقد كانا يعتقدان اعتقاد اليقين أن الله يوحي إليهما، ومن المحتمل أن يكون ذلك صحيحاً" (3) .
ويقول مرة عن موضوعات القرآن الكريم: ".. ربما كانت جميعها وحياً سماوياً" (4) . ويقول مرة أخرى عنها: ".. وإنها لتعطي فكرة عن نوع العقل الذي كان يتمتع به محمد، وإنها لتجعل المرء يعجب كيف عرف كل هذا، ومتى فكر في كل هذا، وأين تعلم نظم الشعر المرسل الرنان؟ " (5) .
وتلاحظ في هذه العبارة أنه يردد زعم كفار قريش بأن القرآن شعر، كما في الآيات {بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ} [الأنبياء: 5] . و: {وَيَقُولُونَ أَإِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ
--------------------------------------------
তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্বজাতি সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন: "..এবং আমি খুব কমই তাঁকে কুরআনের রচয়িতা হিসেবে ভেবেছি.." (১)।
ওহীর (প্রত্যাদেশের) ব্যাপারে তাঁর সংশয় প্রকাশকারী উক্তিগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো এই বইটির ভূমিকায় পবিত্র কুরআন সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য: "..এটি হলো এই তীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তিরই প্রতিফলন.." (২)।
তাঁর নিকট ওহীর বাস্তবতা স্রেফ একটি সম্ভাবনা মাত্র। কেননা তিনি মুহাম্মদ ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের মধ্যকার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকগুলো আলোচনার সময় বলেন: "তাঁরা দুজনেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ তাঁদের নিকট ওহী প্রেরণ করেন, এবং এটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে" (৩)।
তিনি পবিত্র কুরআনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে একবার বলেন: "..সম্ভবত এর সবটুকুই ছিল আসমানী ওহী" (৪)। আবার এ সম্পর্কে অন্য জায়গায় বলেন: "..এবং এটি মুহাম্মদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়, এবং এটি একজন মানুষকে অবাক করে দেয় যে, তিনি কীভাবে এই সব জানতেন, আর কখন তিনি এই সব বিষয়ে চিন্তা করেছেন, এবং কোথায় তিনি এই ধ্বনিমাধুর্যপূর্ণ গদ্য-কবিতা রচনা করতে শিখেছেন?" (৫)।
এই বক্তব্যে আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তিনি কুরাইশ কাফেরদের সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করছেন যে কুরআন হলো কবিতা; যেমনটি এই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: {বরং তারা বলে, ‘এগুলো অর্থহীন দুঃস্বপ্ন; না, সে এটা মিথ্যা রচনা করেছে; না, সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে একটি নিদর্শন নিয়ে আসুক, যেমন প্রেরিত হয়েছিল পূর্ববর্তীদের কাছে’} [সূরা আল-আম্বিয়া: ৫]। এবং: {আর তারা বলত, ‘আমরা কি একজন কবির কারণে আমাদের উপাস্যদের বর্জন করব?’}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مَجْنُونٍ} [الصافات: 36] . و: {أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌ نَتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ} [الطور: 30] . وقد رد الله عليهم في هذا بقوله: {وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلاً مَا تُؤْمِنُونَ} [الحاقة:41] . و: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ} [يس: 69] .
إن الزعم بأن محمدا صلى الله عليه وسلم كان يعرف القراءة والكتابة، وأنه هو مؤلف القرآن الكريم، مما ردده كثير من المستشرقين. وواضح أن بودلي قد تأثر بأشد أساتذته تعصباً ضد الإسلام، وهو المنصر المستشرق هنري لامنس، الذي أفردنا له بحثاً عن افتراءاته على السيرة النبوية، وآخر عن افتراءاته على التاريخ الإسلامي.
والغريب في الأمر أن شيخه آرفنج لم يتعرض لمسألة معرفة محمد صلى الله عليه وسلم القراءة والكتابة، وأن شيخه درمنجهم أقر بأن أبا طالب حين كفل محمداً بعد وفاة جده، لم يكن غنياً، وكذا لم يتح له تعليم الصبي الذي بقي أمياً طوال حياته (1) .
وقبل أن نخوض في الكلام لدحض هذه المزاعم والافتراءات، نقرر حقيقة واضحة هي أن بودلي متناقض في مزاعمه مثل غيره من كثير من المستشرقين المغرضين، فهو يقول –مثلا- عن القرآن الكريم: ".. فبين أيدينا الآن كتاب معاصر، فريد في أصالته وفي سلامته، لم يشك في صحته كما أنزل أي شك جدِّي" (2) . ويقول: "إن ورقة بن نوفل قد مات قبل أن يبدأ محمد في تدوين
--------------------------------------------
উন্মাদ কবি।} [আস-সাফফাত: ৩৬] । এবং: {নাকি তারা বলে: [সে একজন] কবি, আমরা তার জন্য সময়ের আবর্তনের অপেক্ষা করছি} [আত-তুর: ৩০] । আল্লাহ তাদের এই কথার জবাবে বলেছেন: {আর তা কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস করো} [আল-হাক্কাহ: ৪১] । এবং: {আর আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য শোভনীয়ও নয়} [ইয়াসিন: ৬৯] ।
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পড়তে ও লিখতে জানতেন এবং তিনিই পবিত্র কুরআনের রচয়িতা—এই দাবিটি অনেক প্রাচ্যবিদ বারবার করেছেন। এটা স্পষ্ট যে, বোডলি তার ইসলাম-বিদ্বেষী চরমপন্থী শিক্ষকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, বিশেষ করে মিশনারি প্রাচ্যবিদ হেনরি ল্যামেন্স দ্বারা, যার সীরাতুন্নবী ও ইসলামি ইতিহাসের ওপর কৃত অপবাদগুলো নিয়ে আমরা স্বতন্ত্র গবেষণা করেছি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার শিক্ষক আর্ভিং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর লিখতে ও পড়তে পারার বিষয়টি আলোচনা করেননি। আবার তার অন্য শিক্ষক ডারমেনঘেম স্বীকার করেছেন যে, আবু তালিব যখন তার দাদার ইন্তিকালের পর মুহাম্মদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি সচ্ছল ছিলেন না, আর সেই বালকের শিক্ষার ব্যবস্থাও সম্ভব হয়নি যিনি সারাজীবন উম্মী বা নিরক্ষরই ছিলেন (১)।
এই সব দাবি ও অপবাদ খণ্ডনের আলোচনায় প্রবেশের আগে আমরা একটি স্পষ্ট সত্য উপস্থাপন করছি যে, অন্যান্য অনেক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যবিদের মতো বোডলিও তার দাবিতে স্ববিরোধী। উদাহরণস্বরূপ, তিনি পবিত্র কুরআন সম্পর্কে বলেন: "...আমাদের সামনে এখন একটি সমসাময়িক গ্রন্থ রয়েছে, যা এর মৌলিকত্ব ও বিশুদ্ধতায় অনন্য, যেভাবে এটি অবতীর্ণ হয়েছে তার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো গুরুতর সন্দেহ নেই" (২)। তিনি আরও বলেন: "মুহাম্মদ (কুরআন) লিপিবদ্ধ করা শুরু করার আগেই ওরাকা বিন নওফল মারা গিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ما أوحى به إليه جبريل، وقبل أن يبدأ محمد في تنسيق القرآن بكثير" (1) .
ويقول في ثنايا كلامه عن المنافقين في غزوة تبوك: "فقد نزل الوحي يتبعه الوحي في القرآن" (2) . ويقول: "ينفرد محمد في تاريخ الديانات بأنه كان يوحى إليه جميع ما كان يفعله.." (3) .
وعلى الرغم من تناقض بودلي في موقفه من القرآن الكريم، فهو يتهم القرآن بالتناقض حين قال عنه:".. فهو أحياناً غير فني، ويناقض نفسه.." (4) .
فهو يردد هنا بلا وعي فرية أسلافه من مشركي مكة، ويهود المدينة. فقد جاء في كتب التفسير المعتمدة أن سبب نزول قول الله سبحانه وتعالى: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا} [البقرة:106] . و: {وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} [النحل:101] ، أن المشركين قالوا: ألا ترون محمداً، يأمر أصحابه بأمر ثم ينهاهم عنه، ويأمرهم بخلافه، ويقول اليوم قولاً يرجع عنه غداً. ما هذا إلا كلام محمد يقوله من تلقاء نفسه، وهو كلام يناقض بعضه بعضاً (5) .
--------------------------------------------
"জিবরাঈল যা তাঁর কাছে ওহি নিয়ে এসেছিলেন, এবং মুহাম্মদ কুরআন বিন্যস্ত করার কাজ শুরু করার অনেক আগে" (১) ।
তাবুক যুদ্ধে মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনার মাঝে তিনি বলেন: "কুরআনে ওহির পর ওহি অবতীর্ণ হতে থাকে" (২) । তিনি আরও বলেন: "ধর্মের ইতিহাসে মুহাম্মদ অনন্য এই কারণে যে, তিনি যা কিছু করতেন তার সবটুকুই ওহির মাধ্যমে আসত..." (৩) ।
কুরআন মাজীদের ব্যাপারে বোডলির অবস্থানে বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও, তিনি কুরআনকে স্ববিরোধিতার দায়ে অভিযুক্ত করেন যখন তিনি এর সম্পর্কে বলেন: "...এটি কখনও কখনও শিল্পমানহীন এবং নিজের সঙ্গে নিজে বৈপরীত্য পোষণ করে..." (৪) ।
তিনি এখানে অবচেতনভাবে মক্কার মুশরিক এবং মদিনার ইহুদিদের মত তাঁর পূর্বসূরিদের মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি করছেন। নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই বাণী অবতীর্ণ হওয়ার কারণ: {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা তা ভুলিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম কিংবা তার সদৃশ কোনো আয়াত আনয়ন করি} [বাকারা: ১০৬]। এবং: {যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত পরিবর্তন করি—আর আল্লাহ যা নাজিল করেন সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন—তখন তারা বলে: আপনি তো কেবল একজন মিথ্যা রচনাকারী; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না} [নাহল: ১০১]; মুশরিকরা বলত: তোমরা কি মুহাম্মদকে দেখছ না? সে তার সাথীদের একটি আদেশ দেয় আবার পরে তা থেকে নিষেধ করে, এবং তাদের তার বিপরীত আদেশ দেয়। আজ সে একটি কথা বলে আবার কাল তা থেকে ফিরে যায়। এটি মুহাম্মদের নিজের বানানো কথা ছাড়া আর কিছুই নয়, যা একটি অন্যটির সঙ্গে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لا يخفى على أحد من طلاب العلم أن زعم بودلي وغيره من المستشرقين المغرضين بأن محمداً لم يكن أمياً، الغرض منه الوصول إلى الطعن في الوحي، أصل العقيدة والشريعة الإسلامية، أو التشكيك فيه، ومن ثم فتح الباب على مصراعيه ليقول من شاء إنه من وضع محمد وليس من الله.
إن أول من أثار هذه الفرية أو الزعم هم كفار مكة، الذين استخدموا شتى الوسائل والأساليب لمحاربة الرسول صلى الله عليه وسلم، والتشكيك في رسالته وفي شخصه. وفي القرآن الكريم ردٌّ لكل مزاعمهم. ومما قاله سبحانه بشأن معرفة الرسول صلى الله عليه وسلم القراءة والكتابة: {وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذاً لارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ * بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآياتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ} [العنكبوت: 48- 49] . وتواترت أقوال المفسرين من الصحابة رضي الله عنهم والتابعين على أن الله سبحانه وتعالى قد نفى عن نبيه محمد صلى الله عليه وسلم صفة القراءة والكتابة في هذه الآية المحكمة (1) .
ووصف الله سبحانه وتعالى رسوله ونبيه محمداً صلى الله عليه وسلم بأنه أمي لا يعرف القراءة والكتابة، مثل ما جاء في قوله: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالأِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ
--------------------------------------------
কোনো জ্ঞানান্বেষীর কাছে এটি গোপন নয় যে, বডলি এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যবিদদের এই দাবি—মুহাম্মদ নিরক্ষর ছিলেন না—এর মূল উদ্দেশ্য হলো ওহির ওপর আঘাত হানা, যা ইসলামি আক্বিদা ও শরীয়তের মূল ভিত্তি, অথবা এতে সন্দেহ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে তারা এই দরজাটি উন্মুক্ত করতে চায় যাতে যে কেউ চাইলে বলতে পারে যে, এটি মুহাম্মদের স্বরচিত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।
এই অপবাদ বা দাবির প্রথম উত্থাপনকারী ছিল মক্কার কাফেররা, যারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তাঁর রিসালাত ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। আর পবিত্র কুরআনে তাদের সকল দাবির খণ্ডন রয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পড়া ও লেখার জ্ঞান সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা বলেছেন তা হলো: “আর আপনি এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং আপনার ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না, তা করলে বাতিলপন্থীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত। বরং যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদের অন্তরে এটি এক সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর যালিমরা ছাড়া আর কেউ আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে না।” [আন-কাবুত: ৪৮-৪৯]। সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ও তাবিঈদের মধ্য থেকে মুফাসসিরগণের বক্তব্য নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই সুষ্পষ্ট আয়াতে তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে পড়া ও লেখার সক্ষমতাকে নাকচ করেছেন (১)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ‘উম্মি’ (নিরক্ষর) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি পড়তে ও লিখতে জানতেন না; যেমনটি তাঁর এই বাণীতে এসেছে: “যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মি নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; তিনি তাদেরকে আদেশ দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ} [الأعراف:157] . وفي قوله: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158] . ورويت أحاديث وآثار تدل على أمية الرسول صلى الله عليه وسلم.
فمن الأحاديث، قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا أنتم صليتم عليَّ فقولوا: اللهم صلِّ على محمد النبي الأمي، وعلى آل محمد،.." (1) ، وقوله: "أنا محمد النبي الأمي ـ قالها ثلاثاً ـ ولا نبي بعدي.." (2) . ورحب به موسى عليه الصلاة والسلام في خبر الإسراء والمعراج، قائلاً له: "مرحباً بالنبي الأمي" (3) .
ومن الآثار المروية بهذا الشأن، قول علي رضي الله عنه: "والذي فلق الحبة، وبرأ النسمة، إنه لعهد النبي الأمي صلى الله عليه وسلم إليَّ ألاّ يحبني إلا مؤمن، ولا يبغضني إلا منافق" (4) .
وتجدر الإشارة هنا إلى أنه روي أثر يدل على نفي أمية الرسول صلى الله عليه وسلم، فرح
--------------------------------------------
"...সৎ কাজের আদেশ দেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন" [আল-আরাফ: ১৫৭]। এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, যিনি উম্মি নবী, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও" [আল-আরাফ: ১৫৮]। এবং এমন অনেক হাদিস ও আসার (সাহাবীদের বাণী) বর্ণিত হয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মি হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।
হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "তোমরা যখন আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে, তখন বলবে: হে আল্লাহ! আপনি উম্মি নবী মুহাম্মাদের প্রতি এবং মুহাম্মাদের পরিবারের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন..." (১)। এবং তাঁর বাণী: "আমি মুহাম্মাদ, উম্মি নবী —এটি তিনি তিনবার বলেছেন— এবং আমার পরে আর কোনো নবী নেই..." (২)। ইসরা ও মিরাজের বর্ণনায় মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁকে স্বাগতম জানিয়ে বলেছিলেন: "উম্মি নবীকে স্বাগতম" (৩)।
এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহের মধ্যে রয়েছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য: "সেই সত্তার কসম, যিনি বীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, উম্মি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ আমাকে ঘৃণা করবে না" (৪)।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মি হওয়াকে অস্বীকার করে একটি আসার বর্ণিত হয়েছে, যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
به المستشرقون والمتفيهقون، وهو من رواية ابن أبي شيبة وغيره، ولفظه: "ما مات رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى كتب وقرأ"، وهو أثر موضوع كما حققه الشيخ الألباني (1) .
واستدل بعض العلماء بعبارات وردت في بعض أحداث السيرة النبوية، فسروها على غير حقيقتها، على أن الرسول صلى الله عليه وسلم عرف الكتابة والقراءة في أواخر سني عمره. ولما لم يُثر بودلي هذه المسألة، فقد آثرنا عدم الخوض فيها. ونكتفي هنا بالإشارة إلى بعض الكتابات التي ردت عليهم، من ذلك كتاب الأستاذ علي شواخ إسحاق: "ماذا حول أمية الرسول صلى الله عليه وسلم" وكتاب الدكتور قحطان عبد الرحمن بن علي: "الرد الشافي الوافر على من نفى أمية سيد الأوائل والأواخر".
أما الأدلة النقلية والعقلية التي تدحض مزاعم بودلي ومن دار في فلكه المتعلقة ببشرية القرآن الكريم فقد ذكرناها في بحثنا الآخر الموسوم بـ" افتراءات المستشرق هنري لامنس على السيرة النبوية".
--------------------------------------------
প্রাচ্যবিদ এবং যারা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করে তারা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করে; এটি ইবনে আবি শায়বাহ ও অন্যান্যদের বর্ণিত একটি আসার (বর্ণনা), যার শব্দগুলো হলো: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তিনি লিখেছিলেন এবং পড়েছিলেন", অথচ এটি একটি জাল (মওযু) বর্ণনা, যেমনটি শেখ আলবানি (১) যাচাই করেছেন।
কিছু আলেম সীরাতুন্নবীর কিছু ঘটনায় বর্ণিত কতিপয় বাক্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন—যাকে তারা প্রকৃত অর্থের বাইরে ব্যাখ্যা করেছেন—এই মর্মে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে লিখতে ও পড়তে জানতেন। যেহেতু বোডলি এই বিষয়টি উত্থাপন করেননি, তাই আমরা এতে বিস্তারিত আলোচনা না করাকেই পছন্দ করেছি। আমরা এখানে কেবল তাদের জবাব স্বরূপ রচিত কিছু লেখনীর উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি; যার মধ্যে রয়েছে উস্তাদ আলী শাওওয়াখ ইসহাক-এর গ্রন্থ: "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিরক্ষরতা (উম্মিয়্যাহ) প্রসঙ্গে কিছু কথা" এবং ড. কাহতান আব্দুর রহমান বিন আলীর গ্রন্থ: "পূর্বাপর সকলের সরদারের নিরক্ষরতাকে অস্বীকারকারীদের প্রতি পর্যাপ্ত ও আরোগ্যদায়ক জবাব"।
কুরআন মাজীদের মানবীয় উৎস সম্পর্কিত বোডলি এবং যারা তার অনুসারী তাদের দাবিগুলোকে খণ্ডনকারী যে সকল শরয়ি ও যৌক্তিক প্রমাণাদি রয়েছে, তা আমরা আমাদের অন্য একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছি যার শিরোনাম: "সীরাতুন্নবীর ওপর প্রাচ্যবিদ হেনরি ল্যামেন্স-এর অপবাদসমূহ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2-
الزعم بأن زيد بن حارثة كان نصرانياً وقبيحاً، تأثر به محمد:يقول بودلي (2) : "وكان زيد بن حارثة نصرانياً، اختطفه قريب لخديجة في غارة على الشام.. وكان زيد شديد السمرة، قبيح الشكل..".
--------------------------------------------
২-
যায়েদ বিন হারিসাহ খ্রিস্টান ও কুৎসিত ছিলেন এবং মুহাম্মাদ তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন—এমন দাবি:বোডলি (২) বলেন: "যায়েদ বিন হারিসাহ খ্রিস্টান ছিলেন, সিরিয়ায় এক অভিযানের সময় খাদিজার এক আত্মীয় তাঁকে অপহরণ করেছিলেন... যায়েদ অত্যন্ত কৃষ্ণবর্ণ এবং কুৎসিত চেহারার ছিলেন...।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في هذا النص عدة مزاعم أو أخطاء تابع فيها بودلي غيره من المستشرقين استناداً إلى روايات لا تثبت أمام الحقائق التاريخية المقبولة. فهل كان زيد نصرانياً كما يزعم بودلي؟
لقد تبنى فرضية نصرانية زيد مستشرقون آخرون من قبل ومن بعد بودلي، أشهرهم كايتاني (1) ، شيخ المستشرق الفرنسي المشهور هنري لامنس، الذي تبنى فرضية شيخه، ليزعم أن محمداً تأثر بزيد، أي أخذ عنه مبادئ النصرانية ليضيفها إلى مصادره المكونة لإسلامه (2) ، والراجح عندي أن بودلي أخذ هذه الفرضية عن شيخه لامنس في كتابه: "جمهور مكة التجارية"، لأنه من بين مراجعه التي ذكرها.
ولمزيد من الأدلة على دوران فرضية نصرانية زيد في كتابات المستشرقين، اقرأ مادة زيد بن حارثة في دائرة المعارف الإسلامية - النسخة الإنجليزية القديمة (3) - بقلم المستشرق ف. قاكا.
وما يمكننا قوله باختصار شديد هو أنه لم تَرِدْ رواية قوية أو ضعيفة في مصادر تاريخنا الإسلامي الموثوقة تشير من قريب أو بعيد إلى أن زيداً كان نصرانياً (4) . ولا يعدو الأمر كونه فرضية استنتجها المستشرقون من الشواهد
--------------------------------------------
এই পাঠে বেশ কিছু দাবি বা ভুল রয়েছে যা বোধলী অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের অনুকরণে গ্রহণ করেছেন এমন সব বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে, যা স্বীকৃত ঐতিহাসিক তথ্যের সামনে টিকে থাকে না। তবে যায়েদ কি খ্রিস্টান ছিলেন, যেমনটি বোধলী দাবি করেন?
যায়েদের খ্রিস্টধর্মাবলম্বী হওয়ার হাইপোথিসিস বা ধারণাটি বোধলীর আগে ও পরে অন্যান্য প্রাচ্যবিদরাও গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন কাইটানি (১), যিনি বিখ্যাত ফরাসি প্রাচ্যবিদ হেনরি ল্যামেন্সের শিক্ষক ছিলেন। ল্যামেন্স তার শিক্ষকের ধারণাটি গ্রহণ করে দাবি করেছেন যে, মুহাম্মদ যায়েদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন; অর্থাৎ, তিনি তার কাছ থেকে খ্রিস্টধর্মের মূলনীতিগুলো গ্রহণ করেছিলেন যাতে সেগুলো তার ইসলাম গঠনের উৎসগুলোর সাথে যোগ করতে পারেন (২)। আমার নিকট অধিকতর সঠিক মনে হয় যে, বোধলী এই ধারণাটি তার শিক্ষক ল্যামেন্সের বই "মক্কার বাণিজ্যিক সমাজ" থেকে গ্রহণ করেছেন, কারণ এটি তার উল্লিখিত তথ্যসূত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রাচ্যবিদদের লেখায় যায়েদের খ্রিস্টধর্মাবলম্বী হওয়ার ধারণার আবর্তনের আরও প্রমাণের জন্য, এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলাম - পুরাতন ইংরেজি সংস্করণ (৩) - এ প্রাচ্যবিদ এফ. কাকা-এর লেখা যায়েদ ইবনে হারিসাহ বিষয়ক প্রবন্ধটি পড়ুন।
অতি সংক্ষেপে আমরা যা বলতে পারি তা হলো, আমাদের নির্ভরযোগ্য ইসলামি ইতিহাসের উৎসগুলোতে এমন কোনো শক্তিশালী বা দুর্বল বর্ণনা পাওয়া যায় না যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে যে যায়েদ খ্রিস্টান ছিলেন (৪)। বিষয়টি প্রাচ্যবিদদের কিছু নিদর্শনের ভিত্তিতে অনুমানকৃত একটি হাইপোথিসিসের চেয়ে বেশি কিছু নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التي تشير إلى وجود نصارى من قبيلة كلب التي ينتمي إليها والد زيد، ومن قبيلة طيئ التي تنتمي إليها والدة زيد (1) .
وهل اختطف زيداً قريب لخديجة في غارة على الشام؟
المعروف في مصادر التاريخ الإسلامي الموثوقة أن سعدى بنت ثعلبة بن عامر، والدة زيد بن حارثة بن شرحبيل بن عبد العزى بن امرئ القيس، زارت قومها وزيد معها، فأغارت خيل لبني القين بن جسر في الجاهلية على منازل بني معن، رهط سعدى، فاحتملوا زيداً وهو يومئذ غلام يافع، فوافوا به سوق عكاظ، فعرضوه للبيع، فاشتراه حكيم بن حزام لعمته خديجة بنت خويلد بأربعمائة درهم، فلما تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهبته له (2) .
وهكذا تظهر لنا منهجية بودلي في التعامل مع حقائق تاريخنا الإسلامي والجهل أو التزييف واضحة في هذه المسألة، مما يغني عن الإطالة.
وهل كان زيد شديد السمرة قبيح الوجه كما يزعم بودلي؟!
تذكر مصادرنا الحديثية والتاريخية المعتمدة أنه لم يكن كما وصفه بودلي. فقد قال أبو داود (3) : وسمعت أحمد بن صالح يقول: كان أسامة بن زيد أسود شديد السواد مثل القار، وكان زيد والده أبيض من القطن. وفي رواية: كان
--------------------------------------------
যা কালব গোত্র (যে গোত্রের সাথে যায়িদের পিতা সম্পৃক্ত) এবং তাই গোত্র (যে গোত্রের সাথে যায়িদের মাতা সম্পৃক্ত)-তে খ্রিষ্টানদের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে (১)।
খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কোনো আত্মীয় কি শামে এক অভিযানের সময় যায়িদকে অপহরণ করেছিলেন?
নির্ভরযোগ্য ইসলামী ইতিহাসের উৎসসমূহে যা সুপরিচিত তা হলো, সু’দা বিনতে সা’লাবা বিন আমির—যিনি হারিসাহ বিন শুরাহবীল বিন আবদিল উযযা বিন ইমরুল কায়সের পুত্র যায়িদের মাতা—তিনি তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন এবং যায়িদ তাঁর সাথে ছিলেন। জাহেলী যুগে বনী কায়ন বিন জাসরের এক অশ্বারোহী দল সু’দার বংশ বনী মা’ন-এর আবাসস্থলে আক্রমণ চালায়। তারা যায়িদকে ছিনিয়ে নেয়, সে সময় তিনি ছিলেন কিশোর বালক। তারা তাঁকে উকায বাজারে নিয়ে আসে এবং বিক্রির জন্য পেশ করে। তখন হাকীম বিন হিযাম তাঁর ফুফু খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদের জন্য চারশ দিরহাম দিয়ে তাঁকে ক্রয় করেন। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিবাহ করলেন, তখন তিনি তাঁকে তাঁর (নবীজির) নিকট উপহার হিসেবে প্রদান করেন (২)।
এভাবেই এই বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের ইসলামী ইতিহাসের সত্যতার সাথে বডলি-এর আচরণের পদ্ধতি এবং তার অজ্ঞতা বা জালিয়াতি আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, যা বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে।
আর যায়িদ কি অত্যন্ত কৃষ্ণবর্ণ এবং কদর্য চেহারার ছিলেন যেমনটি বডলি দাবি করেছেন?!
আমাদের নির্ভরযোগ্য হাদীস ও ইতিহাসের উৎসসমূহ উল্লেখ করে যে, তিনি তেমন ছিলেন না যেমনটি বডলি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ (৩) বলেন: আমি আহমাদ বিন সালিহকে বলতে শুনেছি যে, উসামা বিন যায়িদ আলকাতরার মতো কুচকুচে কালো ছিলেন, আর তাঁর পিতা যায়িদ তুলার চেয়েও সাদা (ফর্সা) ছিলেন। অন্য রেওয়ায়েতে আছে: তিনি ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أسامة أسود وكان زيد أبيض (1) .
وروى البخاري ومسلم (2) ، من حديث عائشة رضي الله عنها، قالت: "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليَّ مسروراً تبرق أسارير وجهه، فقال: "ألم تريْ إلى مُجزَّز نظر آنفا إلى زيد بن حارثة وأسامة بن زيد، فقال: "إن هذه الأقدام بعضها من بعض". وفي رواية: ".. ألم تري أن مجززاً المدلجي دخل عليَّ فرأى أسامة وزيداً وعليهما قطيفة قد غطيا رؤوسهما وبدت أقدامهما، فقال: إن هذه الأقدام بعضها من بعض" (3) .
قال ابن حجر في شرحه لهذا الحديث: قال أبو داود: نقل أحمد بن صالح عن أهل النسب أنهم كانوا في الجاهلية يقدحون في نسب أسامة، لأنه كان أسود شديد السواد، وكان أبوه زيد أبيض من القطن، فلما قال القائف ما قال مع اختلاف اللون سر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك لكونه كافًّا لهم عن الطعن فيه لاعتقادهم ذلك.
وقد أخرج عبد الرزاق من طريق ابن سيرين أن أم أسامة، وهي أم أيمن مولاة النبي صلى الله عليه وسلم كانت سوداء، فلهذا جاء أسامة أسود. وقد وقع في الصحيح عن ابن شهاب أن أم أيمن كانت حبشية وصيفة لعبد الله والد النبي صلى الله عليه وسلم، ويقال كانت من سبي الحبشة الذين قدموا زمن الفيل، فصارت لعبد المطلب، فوهبها
--------------------------------------------
উসামা ছিলেন কালো বর্ণের এবং যায়িদ ছিলেন শ্বেত বর্ণের (১)।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম (২) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তাঁর চেহারার রেখাগুলো উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠছিল। তিনি বললেন: 'তুমি কি দেখনি যে, মুজাযযায কিছুক্ষণ আগে যায়িদ ইবন হারিসাহ এবং উসামা ইবন যায়িদকে দেখে বলল: 'নিশ্চয়ই এই পাগুলো একে অপরের অংশ'।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "...তুমি কি দেখনি যে, মুজাযযায আল-মাদলাজী আমার কাছে প্রবেশ করল, অতঃপর সে উসামা ও যায়িদকে দেখল যে তারা একটি চাদর দিয়ে নিজেদের ঢেকে রেখেছিল, যার মাধ্যমে তাদের মাথা ঢাকা ছিল কিন্তু তাদের পাগুলো অনাবৃত ছিল। তখন সে বলল: 'নিশ্চয়ই এই পাগুলো একে অপরের অংশ'।" (৩)।
ইবন হাজার এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: আবু দাউদ বলেছেন: আহমদ ইবন সালিহ বংশবিদদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা জাহেলিয়াতের যুগে উসামার বংশ নিয়ে কটাক্ষ করত, কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত কালো বর্ণের, অথচ তার পিতা যায়িদ ছিলেন তুলার মতো সাদা। সুতরাং বর্ণবৈষম্য থাকা সত্ত্বেও যখন সেই বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিটি (কায়েফ) এই কথা বললেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। কারণ এটি তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তাঁর বংশ নিয়ে কটাক্ষ করা থেকে তাদের বিরত রাখবে।
আব্দুর রাজ্জাক ইবন সীরিনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উসামার মা—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাসী উম্মে আয়মান—তিনি কালো বর্ণের ছিলেন। এই কারণেই উসামা কালো বর্ণের হয়েছিলেন। সহীহ গ্রন্থে ইবন শিহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মে আয়মান ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আবদুল্লাহর একজন হাবশী দাসী। বলা হয় যে, তিনি ছিলেন হস্তীবাহিনীর সময় আগত হাবশী যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত, অতঃপর তিনি আব্দুল মুত্তালিবের মালিকানাধীন হন এবং তিনি তাকে দান করে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لعبد الله، وتزوجت قبل زيد عبيد الحبشي، فولدت له أيمن، فكنيت به.. قال القاضي عياض: لو صح أن أم أيمن كانت سوداء لم ينكروا سواد ابنها أسامة، لأن السوداء قد تلد من الأبيض أسود. قلت - أي ابن حجر -: يحتمل أنها كانت صافية، فجاء أسامة شديد السواد، فوقع الإنكار لذلك (1) .
قلت: فما دام قد ثبت أن أم أيمن كانت من أصل حبشي، فهذا يعني عدم استبعاد أن يكون سواد بشرة أحد أجدادها من جهة الأم أو الأب مثل سواد الحفيد أسامة. وهذا أمر ملاحظ ومعروف جداً في إفريقية، وبخاصة في المناطق التي اختلطت فيها أعراق العرب بأعراق الزنوج أو الحاميين الأفارقة، مثلما في السودان. وهذا من بدهيات علم الوراثة أو الجينات. وبذلك لا حجة لمن يستنكر شدة سواد بشرة أسامة.
إن الذي يهمنا من هذا كله أن زيداً لم يكن شديد السمرة قبيح الوجه كما يزعم بودلي وغيره، بل الذي كان شديد السمرة ابنه أسامة رضي الله عنه، لأن أم أسامة رضي الله عنه كانت حبشية. ويبدو أن بودلي اعتمد على أساتذته المستشرقين الذين اعتمدوا على رواية الواقدي عند ابن سعد (2) ، حيث يقول: "وكان زيد رجلاً قصيراً آدم شديد الأدمة، في أنفه فطس". وربما أخذ هؤلاء رواية الواقدي بطريق غير مباشر، وبخاصة من ابن عبد البر (3) .
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহর জন্য; এবং যায়িদের পূর্বে তিনি উবাইদ আল-হাবাশিকে বিবাহ করেছিলেন, যার ফলে আইমানের জন্ম হয় এবং সেই নামেই তিনি কুনিয়া লাভ করেন। কাজী আয়াজ বলেন: যদি এটি সঠিক হয় যে উম্মে আইমান কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন, তবে তারা তার পুত্র উসামার কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করত না, কারণ কৃষ্ণাঙ্গ নারী শ্বেতাঙ্গ পুরুষের মাধ্যমেও কৃষ্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করতে পারে। আমি (ইবনে হাজার) বলছি: হতে পারে তিনি উজ্জ্বল বর্ণের ছিলেন, ফলে উসামা অত্যন্ত কালো বর্ণের হয়ে জন্মান, আর এ কারণেই আপত্তির সৃষ্টি হয়েছিল (১)।
আমি বলছি: যেহেতু এটি প্রমাণিত যে উম্মে আইমান হাবশি বংশোদ্ভূত ছিলেন, তার অর্থ হলো এটি অসম্ভব নয় যে তার মা বা বাবার পক্ষের কোনো পূর্বপুরুষের গায়ের রঙ নাতি উসামার মতো কালো ছিল। এটি আফ্রিকায় অত্যন্ত পরিচিত এবং লক্ষ্যণীয় একটি বিষয়, বিশেষ করে সেই অঞ্চলগুলোতে যেখানে আরবদের বংশধারা কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান হামি বংশধারার সাথে মিশ্রিত হয়েছে, যেমন সুদান। এটি বংশগতি বিজ্ঞান বা জেনেটিক্সের একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। সুতরাং, উসামার ত্বকের তীব্র কালো রঙের বিষয়ে যারা আপত্তি তোলে, তাদের কাছে কোনো যুক্তি নেই।
এই পুরো আলোচনা থেকে আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, যায়িদ অত্যন্ত শ্যামবর্ণের ও কুৎসিত চেহারার কেউ ছিলেন না যেমনটি বোডলি এবং অন্যরা দাবি করে; বরং যিনি তীব্র শ্যামবর্ণের ছিলেন তিনি হলেন তার পুত্র উসামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু), কারণ উসামার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মা ছিলেন হাবশি। মনে হচ্ছে বোডলি তার প্রাচ্যবিদ শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করেছেন, যারা ইবনে সা'দের নিকট আল-ওয়াকিদির বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছিলেন (২), যেখানে বলা হয়েছে: "যায়িদ ছিলেন একজন খাটো এবং অত্যন্ত কালচে বর্ণের লোক, তার নাক ছিল চ্যাপ্টা।" সম্ভবত তারা আল-ওয়াকিদির এই বর্ণনাটি পরোক্ষভাবে গ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে ইবনে আব্দুল বার (৩) থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والواقدي لا يحتج به، فهو "متروك مع سعة علمه" كما يقول ابن حجر في التقريب (1) . ومن العيب المنهجي الواضح الاحتجاج بالروايات الضعيفة جداً مع وجود الروايات الصحيحة.
ولو افترضنا جدلاً أن زيداً كان كما وصف بودلي وغيره استناداً إلى رواية الواقدي، فإن في هذا دليلاً من الأدلة الكثيرة على عظمة الرسول صلى الله عليه وسلم الذي أحبه هو وابنه أسامة وهما بهذا الشكل. فقد عرف زيد بأنه حِبُّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذلك ابنه أسامة.
روى البخاري (2) ومسلم (3) وغيرهما (4) أن الرسول صلى الله عليه وسلم عندما أمَّر أسامة على الجيش الذي أمر بتجهيزه في مرض وفاته، طعن بعض الناس في إمارته، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن تطعنوا في إمارته فقد كنتم تطعنون في إمارة أبيه من قبل [يعني عندما أمره على سرية مؤتة] ، وأيم الله إن كان لخليقاً للإمارة، وإن كان لمن أحب الناس إليَّ، وإن هذا لمن أحب الناس إليَّ بعده".
وآخى الرسول صلى الله عليه وسلم بينه وبين عمه حمزة، وقدمه في الإمرة على ابن عمه جعفر في سرية مؤتة (5) .
--------------------------------------------
ওয়াকিদী দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন। ইবনে হাজার 'তাকরীব' (১) গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন যে, "বিশাল ইলম থাকা সত্ত্বেও তিনি মাতরূক (পরিত্যজ্য)"। সহীহ বর্ণনা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অতি দুর্বল বর্ণনাসমূহ দ্বারা দলীল পেশ করা একটি স্পষ্ট পদ্ধতিগত ত্রুটি।
তর্কের খাতিরে যদি আমরা ধরেও নিই যে, যায়িদ ঠিক তেমনই ছিলেন যেমনটি ওয়াকিদীর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বোডলি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন, তবে এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহানুভবতার অসংখ্য প্রমাণের মধ্যে অন্যতম একটি প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে—যিনি তাকে এবং তার পুত্র উসামাকে তাদের এই রূপেই ভালোবেসেছিলেন। যায়িদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং একইভাবে তার পুত্র উসামাও।
বুখারী (২), মুসলিম (৩) এবং অন্যরা (৪) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় উসামাকে একটি প্রস্তুতকৃত সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন, তখন কিছু মানুষ তার নেতৃত্বের ব্যাপারে সমালোচনা করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "তোমরা যদি তার নেতৃত্বের সমালোচনা করো, তবে এর আগে তোমরা তার পিতার নেতৃত্বের সমালোচনা করেছিলে [অর্থাৎ যখন তাঁকে মুতা অভিযানে সেনাপতি করা হয়েছিল]। আল্লাহর কসম! তিনি অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্য ছিলেন এবং তিনি আমার কাছে মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রিয় ছিলেন। আর এ (উসামা)-ও তার পরে আমার কাছে মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রিয়।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়িদ এবং তাঁর আপন চাচা হামযাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন এবং মুতা অভিযানে তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই জাফরের আগে নেতৃত্বের মর্যাদা প্রদান করেছিলেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
3-
زعمه أن مراعي ديار بني سعد كانت خصبة ممتدة (1) :
إن هذا القول من بودلي ليس صحيحاً على إطلاقه، وذلك بدليل أن السنة التي قدمت فيها المرضعات البدويات إلى مكة وأخذت فيها حليمة السعدية محمداً صلى الله عليه وسلم لترضعه، كانت سنة شهباء، كما قالت حليمة السعدية (2) أي سنة جدب وقحط، لأن الأرض تكون فيها بيضاء. وقالت كذلك: "ثم قدمنا منازلنا من بلاد بني سعد، وما أعلم أرضاً من أرض الله أجدب منها". وكان من بركات الرسول صلى الله عليه وسلم عليها ـ كما روت ـ أن أغنامها تجد ما تأكله من العشب فتشبع وتحلب كثيرا بينما أغنام الآخرين لا تجد ما تأكله، فترجع جوعى، وليس في ضرعها قطرة لبن لإنسان.
ففي هذا الخبر دليل على أن مراعي بني سعد لم تكن خصبة ممتدة كل عام كما يزعم بودلي، وبخاصة العام الذي قدم فيه الرسول صلى الله عليه وسلم إليهم مسترضعاً.
ولأن بودلي وغيره من المستشرقين لا يؤمنون بالمعجزات والكرامات والبركات والخوارق (3) ، فنراهم لا يأبهون لها ولو ثبتت بنص قرآني.
--------------------------------------------
৩-
বনু সাদ গোত্রের চারণভূমি উর্বর ও বিস্তৃত ছিল বলে তার দাবি (১) :
বোডলির এই উক্তিটি ঢালাওভাবে সঠিক নয়; এর প্রমাণ হলো, যে বছর বেদুইন স্তন্যদাত্রী নারীরা মক্কায় এসেছিলেন এবং হালিমা আস-সাদিয়া মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্তন্যদানের জন্য গ্রহণ করেছিলেন, সেটি ছিল একটি চরম দুর্ভিক্ষের বছর, যেমনটি হালিমা আস-সাদিয়া (২) বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, এটি ছিল অনাবৃষ্টি ও অনাহারের বছর, কারণ দুর্ভিক্ষের সময় মাটি ধূসর-সাদা বর্ণ ধারণ করে। তিনি আরও বলেন: "অতঃপর আমরা বনু সাদের ভূখণ্ডে আমাদের আবাসে ফিরে এলাম। আল্লাহর জমিনের মধ্যে এর চেয়ে বেশি শুষ্ক ও ঊষর কোনো ভূমি সম্পর্কে আমার জানা ছিল না।" তাঁর বর্ণনা মতে, তাঁর ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতসমূহের একটি ছিল এই যে, তাঁর ছাগলগুলো পর্যাপ্ত ঘাস খুঁজে পেত এবং তৃপ্ত হয়ে প্রচুর দুধ দিত, অথচ অন্যদের ছাগলগুলো খাওয়ার মতো কিছুই পেত না এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরে আসত; সেগুলোর ওলানে মানুষের পান করার মতো এক ফোঁটা দুধও থাকত না।
এই বর্ণনায় এর প্রমাণ রয়েছে যে, বনু সাদ গোত্রের চারণভূমি প্রতি বছর বোডলির দাবি অনুযায়ী উর্বর ও বিস্তৃত ছিল না, বিশেষ করে যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দুগ্ধপোষ্য শিশু হিসেবে গিয়েছিলেন।
আর যেহেতু বোডলি ও অন্যান্য প্রাচ্যবিদগণ মুজিজা, কারামত, বরকত ও অলৌকিক ঘটনাবলীতে (৩) বিশ্বাস করেন না, তাই দেখা যায় তারা এগুলোর প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করেন না, এমনকি যদি তা কুরআনের বর্ণনা দ্বারাও প্রমাণিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
4-
زعمه تحرك غرائز الرسول صلى الله عليه وسلم الجنسية في أواخر أيامه:يزعم بودلي (1) أن غرائز الرسول صلى الله عليه وسلم الجنسية كانت خامدة، ثم تحركت في أواخر أيامه. وهذا الزعم في أصله لشيخه إميل درمنجهم (2) ، ونصه: "شعر محمد في العقد الأخير من عمره بميل كبير إلى النساء..".
يستنتج بودلي ومشايخه من المستشرقين (3) مثل هذه المزاعم من حقيقة تعدد زوجات الرسول صلى الله عليه وسلم بعد وفاة خديجة رضي الله عنها، حيث كان عمره حينها خمسين عاماً. ولو كان هؤلاء موضوعيين أو منصفين لنظروا أولاً في سيرة كل واحدة من زوجاته والظروف والبواعث التي أحاطت بزواجه من كل واحدة منهن، قبل أن يروِّجوا لتلك المزاعم. وهذا ما فعلناه في كتابنا "السيرة النبوية في ضوء المصادر الأصلية (4) ".
وخلاصة ذلك:
(1) زواجه صلى الله عليه وسلم من خديجة بنت خويلد رضي الله عنها:
إن أول ما يدركه الإنسان من هذا الزواج – كغيره – هو عدم اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم بأسباب المتعة الجسدية، بدليل أنها كانت أكبر منه سناً بخمس عشرة سنة، ولم يتزوج عليها إلا بعد وفاتها عن خمس وستين سنة، وكان
--------------------------------------------
৪-
তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যৌন প্রবৃত্তি জাগ্রত হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে:বোডলি (১) দাবি করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যৌন প্রবৃত্তি সুপ্ত ছিল, অতঃপর তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে তা জাগ্রত হয়। এই দাবিটি মূলত তাঁর শিক্ষক এমিল ডারমেনগেম (২) থেকে প্রাপ্ত, যার বক্তব্য হলো: "মুহাম্মদ তাঁর জীবনের শেষ দশকে নারীদের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন..."।
বোডলি এবং তাঁর প্রাচ্যবিদ (৩) শিক্ষকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহুবিবাহের বাস্তবতা থেকে এই ধরণের দাবিগুলো অনুমান করেছেন, যা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর ইন্তেকালের পর ঘটেছিল, যখন তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর। তারা যদি বস্তুনিষ্ঠ বা ন্যায়নিষ্ঠ হতেন, তবে এই ধরণের দাবি প্রচার করার আগে প্রথমে তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর জীবনী এবং প্রত্যেকের সাথে তাঁর বিবাহের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও কারণগুলো বিবেচনা করতেন। আমরা আমাদের "মূল উৎসসমূহের আলোকে সীরাতুন নবী (৪)" গ্রন্থে এটিই করেছি।
এর সারসংক্ষেপ হলো:
(১) খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর সাথে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ:
এই বিবাহ থেকে একজন মানুষ প্রথমেই যা বুঝতে পারে—অন্যান্য বিবাহের মতো—তা হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক আনন্দের উপকরণের প্রতি ভ্রূক্ষেপহীনতা। এর প্রমাণ হলো, তিনি (খাদিজা) তাঁর চেয়ে বয়সে পনের বছরের বড় ছিলেন এবং পঁয়ষট্টি বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোনো বিবাহ করেননি। এবং তিনি ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عمره حين وفاتها خمسين عاماً، وكانت ثيباً عندما تزوجها، إذ تزوجت بعتيق ابن عائذ المخزومي فولدت له بنتاً، وتزوجت أبا هالة بن النباش التميمي، فولدت له ابنها هنداً وبنتاً. وكانت هي التي سعت للزواج من الرسول صلى الله عليه وسلم (1) .
(2) زواجه صلى الله عليه وسلم من سودة بنت زمعة:
كانت من المؤمنات المهاجرات إلى الحبشة في سبيل الله مع زوجها السكران بن عمرو، الذي توفي عنها، فخشي النبي صلى الله عليه وسلم أن يبطش بها قومها الكفار لعدم رضائهم بهجرتها، فتزوجها على الرغم من كبر سنها (2) ، وعندما طعنت في السن، وذهبت حاجتها في الفراش، خشيت أن يطلقها الرسول صلى الله عليه وسلم وتحرم بذلك من الحشر في أزواجه، وهبت ليلتها لعائشة رضي الله عنها (3) .
(3) زواجه صلى الله عليه وسلم من عائشة بنت أبي بكر رضي الله عنهما:
رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المنام - ورؤيا الأنبياء حق - أن رجلاً يحملها إليه في قطعة بيضاء من جيد الحرير، قائلاً: (هذه امرأتك) ، فيكشف فيراها، فيقول: "إن كان هذا من عند الله يمضه. (4) " وكفى بهذا دليلاً على انتفاء
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যুর সময় রাসুলুল্লাহর বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর। তিনি যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তিনি বিবাহিতা (বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা) ছিলেন; কেননা তিনি আতিক ইবনে আইজ আল-মাখজুমিকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর গর্ভে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। এরপর তিনি আবু হালা ইবনে নাব্বাশ আল-তামিমিকে বিয়ে করেন এবং তাঁর গর্ভে হিন্দ নামক এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন। তিনিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিয়ের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছিলেন (১)।
(২) সাওদা বিনতে জামআ রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ:
তিনি ছিলেন আল্লাহর পথে তাঁর স্বামী সাকরান ইবনে আমরের সাথে আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুমিন নারীদের একজন। তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশঙ্কা করলেন যে, তাঁর হিজরতে অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণে তাঁর কাফের কওম তাঁর ওপর চড়াও হতে পারে। তাই তিনি তাঁর অধিক বয়স হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বিয়ে করেন (২)। যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং দাম্পত্য চাহিদার অবসান ঘটল, তখন তিনি আশঙ্কা করলেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো তাঁকে তালাক দিয়ে দেবেন এবং এর ফলে তিনি হাশরের ময়দানে তাঁর স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। তখন তিনি তাঁর পালার রাতটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জন্য দান করে দেন (৩)।
(৩) আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কন্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেন—আর নবীদের স্বপ্ন সত্য—যে জনৈক ব্যক্তি একটি চমৎকার রেশমি সাদা কাপড়ে করে তাঁকে তাঁর কাছে নিয়ে আসছেন এবং বলছেন: (ইনি আপনার স্ত্রী)। এরপর তিনি আবরণ উন্মোচন করে তাঁকে দেখতে পান এবং বলেন: "যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা কার্যকর করবেন (৪)।" এটিই এর অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট দলিল হিসেবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الشهوانية، ولم يتزوج بكراً غيرها (1) ، وكان لوالدها دور كبير في نصرة الإسلام، فحرص الرسول صلى الله عليه وسلم في مصاهرته لتوثيق عرى المحبة بينهما.
(4) زواجه صلى الله عليه وسلم من حفصة بنت عمر رضي الله عنهما:
تزوجها للحكمة ذاتها التي تزوج من أجلها عائشة وسودة رضي الله عنهما، وإضافة إلى رغبته في تخفيف حزنها لفقد زوجها خُنَيس بن حذافة البدري وصاحب الهجرتين (2) ، الذي استشهد نتيجة جراح يوم أحد (3) ، وحزن والدها لحزنها، فعرضها والدها عمر رضي الله عنه على صاحبيه أبي بكر وعثمان رضي الله عنهما، فاعتذر الثاني وسكت الأول لعلمه برغبة النبي صلى الله عليه وسلم في مواساتها بالاقتران بها (4) ، وعندما طلقها الرسول صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل عليه السلام، وقال له: "راجع حفصة، فإنها صوامة قوامة، وإنها زوجتك في الجنة" (5) .
(5) زواجه صلى الله عليه وسلم من زينب بنت خزيمة الهلالية رضي الله عنها:
قيل: إن زوجها عبيدة بن الحارث استشهد يوم بدر (6) ، وقيل: إنه عبد الله ابن جحش الذي استشهد يوم أحد (7) ، وكانت قبلهما تحت الطفيل بن
--------------------------------------------
কামলালসা (তথা যৌনাকাঙ্ক্ষা নয়), আর তিনি তাকে (১) ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে বিয়ে করেননি, আর ইসলামের সাহায্যে তাঁর পিতার এক বিশাল ভূমিকা ছিল, তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপনে সচেষ্ট ছিলেন যাতে তাঁদের মধ্যকার ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
(৪) হাফসা বিনতে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ:
তিনি তাকে সেই একই হিকমতের কারণে বিয়ে করেছিলেন যার জন্য আয়েশা ও সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বিয়ে করেছিলেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল তাঁর স্বামী খুনাইস ইবনে হুজাফা আল-বাদরি এবং দুই হিজরতের অধিকারী (২) -যিনি উহুদ যুদ্ধের যখমের কারণে শাহাদাত বরণ করেন (৩)- এর বিয়োগে তাঁর দুঃখ লাঘব করার আকাঙ্ক্ষা। আর তাঁর দুঃখে তাঁর পিতাও ব্যথিত ছিলেন, ফলে তাঁর পিতা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর দুই সাথী আবু বকর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। দ্বিতীয়জন অপারগতা প্রকাশ করেন এবং প্রথমজন নীরব থাকেন, কারণ তিনি জানতেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ে করে সান্ত্বনা দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন (৪)। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তালাক দিয়েছিলেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে এসে বললেন: "হাফসাকে ফিরিয়ে নিন, কেননা তিনি অত্যধিক রোজা পালনকারী ও রাত জেগে সালাত আদায়কারী, আর তিনি জান্নাতেও আপনার স্ত্রী" (৫)।
(৫) জয়নব বিনতে খুজাইমা আল-হিলালিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ:
বলা হয়ে থাকে: তাঁর স্বামী উবায়দাহ ইবনুল হারিস বদরের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন (৬), আবার বলা হয়: তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ যিনি উহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন (৭), আর তাঁদের উভয়ের পূর্বে তিনি তোফায়েল ইবনে এর অধীনে ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحارث بن عبد المطلب، فطلقها (1) ، وقيل: كانت عند جهم بن عمرو بن الحارث (2) .
ودعيت في الجاهلية بأم المساكين لرحمتها بهم (3) .
إن امرأة تعاقب عليها هذا العدد من الأزواج، وما عرف عنها من الصلاح والرأفة على المساكين، لجديرة بتكريم الرسول صلى الله عليه وسلم لها بالزواج.
(6) زواجه صلى الله عليه وسلم من أم سلمة المخزومية رضي الله عنها:
كانت من شهيرات المجاهدات يوم أحد والحديبية، والمهاجرات إلى الحبشة والمدينة.
استشهد زوجها إثر إصابة يوم أحد، وترك لها أربعة من الذرية، فأراد الرسول صلى الله عليه وسلم أن يواسيها بجبر مصابها ورعاية أيتامها.
(7) زواجه صلى الله عليه وسلم من جويرية بنت الحارث رضي الله عنهما:
كانت من بين سبايا غزوة بني المصطلق، وهي ابنة زعيم القوم الحارث ابن أبي ضرار، فتنازل له عنها من وقعت في سهمه، فأعتقها وتزوجها ترغيباً لأبيها وقومه في الإسلام، فكان أن جاء والدها مسلماً وأسلم معه قومه، وإكراماً لمصاهرة الرسول صلى الله عليه وسلم قومها أعتق المسلمون سبي قومها.
--------------------------------------------
আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব, অতঃপর তিনি তাঁকে তালাক দেন (১), এবং বলা হয়েছে: তিনি জাহম বিন আমর বিন আল-হারিসের নিকট ছিলেন (২)।
জাহেলিয়াত যুগে মিসকিনদের প্রতি তাঁর দয়ার কারণে তাঁকে ‘উম্মুল মাসাকীন’ (মিসকিনদের জননী) বলে ডাকা হতো (৩)।
নিশ্চয়ই এমন এক নারী, যাঁর জীবনে ধারাবাহিকভাবে একাধিক স্বামীর আগমন ঘটেছে এবং যাঁর সততা ও মিসকিনদের প্রতি মমত্ববোধের কথা সর্বজনবিদিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবাহের মাধ্যমে সম্মানিত হওয়ার যোগ্যই ছিলেন।
(৬) উম্মে সালামাহ আল-মাখযুমিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবাহ:
তিনি উহুদ ও হুদায়বিয়ার যুদ্ধের দিনের প্রখ্যাত নারী মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আবিসিনিয়া ও মদীনায় হিজরতকারিনীদের অন্যতম ছিলেন।
উহুদ যুদ্ধে আহত হওয়ার পরবর্তী প্রভাবে তাঁর স্বামী শাহাদাত বরণ করেন এবং তাঁর নিকট চারজন সন্তান রেখে যান। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর শোকের সান্ত্বনা দিতে এবং তাঁর ইয়াতীম সন্তানদের দেখাশোনার উদ্দেশ্যে তাঁকে বিবাহের ইচ্ছা পোষণ করেন।
(৭) জুওয়াইরিয়াহ বিনতে আল-হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবাহ:
তিনি বনী মুস্তালিক যুদ্ধের বন্দিনীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি সেই গোত্রের নেতা হারিস ইবনে আবি দিরারের কন্যা ছিলেন। যাঁর অংশে তিনি দাসী হিসেবে পড়েছিলেন, তিনি রাসূলের সপক্ষে তাঁর দাবি ত্যাগ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পিতা ও কওমকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে তাঁকে দাসত্বমুক্ত করেন এবং বিবাহ করেন। এর ফলে তাঁর পিতা মুসলিম হিসেবে আগমন করেন এবং তাঁর সাথে তাঁর কওমও ইসলাম গ্রহণ করে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এই বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মুসলিমগণ তাঁর গোত্রের সকল যুদ্ধবন্দীকে মুক্ত করে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(8) زواجه صلى الله عليه وسلم من زينب بنت جحش رضي الله عنها:
هي ابنة أميمة، عمة الرسول صلى الله عليه وسلم، زوجها الرسول صلى الله عليه وسلم لمولاه زيد بن حارثة، الذي أعتقه وتبناه، وأراد الله سبحانه وتعالى أن يطلقها ليتزوجها النبي صلى الله عليه وسلم لإبطال عادة التبني، ونزل في هذا قرآن كما في الآية: {فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَراً زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَراً وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً} (1) [الأحزاب:37] .
(9) زواجه صلى الله عليه وسلم من أم حبيبة بنت أبي سفيان رضي الله عنهما:
هاجرت إلى الحبشة، فارتد زوجها هناك، فأراد الرسول صلى الله عليه وسلم أن يكرمها لثباتها، ولكيلا يشمت بها الكفار، على رأسهم والدها، الذي كان يتزعم معارضة الدعوة الإسلامية بضراوة، وأراد صلى الله عليه وسلم أن يكسر حدة عداوة والدها وقومه بني أمية (2) .
(10) زواجه صلى الله عليه وسلم من صفية بنت حيي بن أخطب النضيرية:
كان في زواجه منها ذات الحكمة في زواجه من جويرية رضي الله عنها؛ فهي ابنة زعيم يهودي، مات هو وزوجها وأخوها في صراعهم ضد الرسول صلى الله عليه وسلم (3) ، فكان لا بد من أن تكون من الصفي بإثر سقوط خيبر، ليتزوجها، فيكسر ذلك حدة عداوة اليهود، وإعطاء الدليل العملي على نفي تهمة العنصرية ضد اليهود.
--------------------------------------------
(৮) যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহ:
তিনি উমাইমার কন্যা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফুফু। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর মুক্ত করা দাস যায়েদ বিন হারিসার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন, যাকে তিনি মুক্ত করেছিলেন এবং পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা চাইলেন যে যায়েদ তাঁকে তালাক দিক, যাতে পালক পুত্র গ্রহণের প্রথা বাতিলের উদ্দেশ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিবাহ করেন। এ বিষয়ে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যেমনটি আয়াতে বলা হয়েছে: {অতঃপর যায়েদ যখন তার সাথে প্রয়োজন শেষ করল (তালাক দিল), তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের জন্য তাদের পালক পুত্রদের স্ত্রীদের বিবাহ করার ব্যাপারে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা না থাকে যখন তারা তাদের সাথে প্রয়োজন শেষ করে; আর আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়ে থাকে।} (১) [আল-আহযাব: ৩৭]।
(৯) উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহ:
তিনি হাবশায় হিজরত করেছিলেন, সেখানে তাঁর স্বামী ধর্মত্যাগী হয়ে যায়। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঈমানের ওপর অবিচল থাকার কারণে তাঁকে সম্মানিত করতে চাইলেন এবং যাতে কাফেররা তাঁকে নিয়ে উপহাস করার সুযোগ না পায়, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন তাঁর পিতা—যিনি চরমভাবে ইসলামি দাওয়াতের বিরোধিতার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চেয়েছিলেন তাঁর পিতা ও তাঁর গোত্র বনু উমাইয়ার শত্রুতার তীব্রতা হ্রাস করতে (২)।
(১০) সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব আন-নাদিরিয়্যাহ-এর সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহ:
তাঁর সাথে বিবাহের পেছনে সেই একই প্রজ্ঞা নিহিত ছিল যা জুবায়রিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে বিবাহের ক্ষেত্রে ছিল; তিনি ছিলেন এক ইহুদি নেতার কন্যা, যাঁর পিতা, স্বামী ও ভাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন (৩)। সুতরাং খায়বার বিজয়ের পর গনিমতের বিশেষ অংশ (সাফি) হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করা নবীজির জন্য অবধারিত ছিল যাতে তিনি তাঁকে বিবাহ করেন, যার মাধ্যমে ইহুদিদের শত্রুতার তীব্রতা হ্রাস পায় এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষের অপবাদের ব্যবহারিক খণ্ডন সম্ভব হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজায়িমু ওয়া আখতাউ ওয়া তানাকুদাতু ওয়া শুবুহাতু বুদলি ফি কিতাবিহির রাসুল, হায়াতু মুহাম্মাদ দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(11) زواجه صلى الله عليه وسلم من ميمونة بنت الحارث الهلالية رضي الله عنها:
كان عمه العباس حريصاً على هذا الزواج، لمعرفته بتقواها، فهي أخت زوجته أم الفضل (1) ، ومما يدل على تقواها قول ضرتها عائشة رضي الله عنها: "أما إنها كانت من أتقانا لله وأوصلنا للرحم" (2) .
وفي الاقتران بمثلها تحبيب لقومها في الإسلام.
(12) تسرّيه صلى الله عليه وسلم مارية القبطية:
أهداه إياها مقوقس مصر، فقبلها (3) حرصاً على ترغيب القبط في الإسلام، وعندما ولدت له ابنه إبراهيم أعتقها، وقال في هذا: "أعتقها ولدها" (4) .
وأصبح هذا الحديث من أدلة الحكم الفقهي في أمهات الأولاد (5) .
(13) زواجه صلى الله عليه وسلم من ريحانة بنت زيد بن عمرو بن خنافة:
قيل إنها من بني النضير، وقيل من قريظة، اصطفاها لنفسه فأعتقها وتزوجها (6) . ويقال عن حكمة زواجه منها ما قلناه عن حكمة زواجه من صفية وجويرية ومارية.
إن هذا الإصهار من قبائل شتى وأعداء ألداء يحمل في طياته حكمة بالغة
--------------------------------------------
(১১) মায়মুনা বিনতে হারিস আল-হিলালিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহ:
তাঁর চাচা আব্বাস এই বিবাহের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন, কারণ তিনি তাঁর তাকওয়া সম্পর্কে জানতেন; তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রী উম্মুল ফদলের বোন (১)। তাঁর তাকওয়ার প্রমাণস্বরূপ তাঁর সতীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এই উক্তিটি উল্লেখযোগ্য: "জেনে রেখো, তিনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক মুত্তাকি এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় সর্বাধিক অগ্রগামী ছিলেন" (২)।
তাঁর মতো মহীয়সী নারীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তাঁর গোত্রের নিকট ইসলামকে প্রিয় করে তোলা উদ্দেশ্য ছিল।
(১২) মারিয়া আল-কিবতিয়াহর সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসী হিসেবে গ্রহণ:
মিশরের অধিপতি মুকাউকিস তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, এবং কিবতিদের ইসলামে আকৃষ্ট করার আগ্রহ থেকে তিনি তা গ্রহণ করেন (৩)। যখন তিনি তাঁর পুত্র ইব্রাহিমকে জন্ম দিলেন, তখন তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং এ সম্পর্কে বললেন: "তাঁর সন্তানই তাঁকে মুক্ত করে দিয়েছে" (৪)।
এই হাদিসটি 'উম্মাহাতুল আওলাদ' (সন্তানের মা হওয়া দাসী) সংক্রান্ত ফিকহী বিধানের অন্যতম দলিলে পরিণত হয়েছে (৫)।
(১৩) রায়হানা বিনতে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে খুনাফাহর সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহ:
বলা হয় যে তিনি বনু নাযির গোত্রের ছিলেন, আবার কেউ বলেন তিনি বনু কুরাইজা গোত্রের। নবীজী তাঁকে নিজের জন্য পছন্দ করেন, অতঃপর তাঁকে মুক্ত করে বিবাহ করেন (৬)। তাঁর সাথে বিবাহের হিকমত সম্পর্কে ঠিক তা-ই বলা হয়, যা সাফিয়া, জুওয়াইরিয়া এবং মারিয়ার সাথে বিবাহের হিকমত প্রসঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি।
বিভিন্ন গোত্র এবং ঘোর শত্রুদের সাথে এই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাঝে অত্যন্ত গভীর হিকমত নিহিত রয়েছে।
--------------------------------------------