(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: -)
أثر العلم الشرعي في مواجهة العنف والعدوان   (عبد العزيز بن فوزان بن صالح الفوزان)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أثر العلم الشرعي في مواجهة العنف والعدوان

المؤلف: عبد العزيز بن فوزان بن صالح الفوزان

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 42

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 56

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সহিংসতা ও আগ্রাসন মোকাবিলায় শরয়ি জ্ঞানের প্রভাব   (আব্দুল আজিজ বিন ফাওজান বিন সালেহ আল-ফাওজান)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: সহিংসতা ও আগ্রাসন মোকাবিলায় শরয়ি জ্ঞানের প্রভাব

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন ফাওজান বিন সালেহ আল-ফাওজান

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (কাগজে মুদ্রিত বই) : ৪২

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১)
أثر العلم الشرعي في مواجهة العنف والعدوان إعداد

د: عبد العزيز بن فوزان بن صالح الفوزان

عضو هيئة التدريس في كلية الشريعة

جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

بسم الله الرحمن الرحيم‌‌ مقدمة الحمد لله الذي هدانا للإسلام وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، لا رب لنا غيره، ولا معبود بحق سواه.

وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وخليله ومصطفاه.

صلى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه ومن والاه.

أما بعد: فإن الأمن حاجة إنسانية ملحة، ومطلب فطري لا تستقيم الحياة بدونه، ولا يستغني عنه فرد أو مجتمع، والحياة بلا أمن حياة قاحلة مجدبة، شديدة قاسية، لا يمكن أن تقبل أو تطاق.

فالأمن من أهم مقومات السعادة والاستقرار، وأهم أسباب التقدم والتحضر والرقي، وهو مطلب تتفق على أهميته جميع الأمم والشعوب، والأفراد والمجتمعات، في كل زمان ومكان.

وإذا فقد الأمن اضطربت النفوس، وسيطر عليها الخوف والقلق، وتعطلت مصالح الناس، وانقبضوا عن السعي والكسب، وانحصرت هممهم بتأمين أنفسهم ومن تحت أيديهم، ودفع الظلم والعدوان الواقع أو المتوقع عليهم.
সহিংসতা ও আগ্রাসন মোকাবিলায় শরয়ি জ্ঞানের প্রভাব। রচনা:

ড. আবদুল আজিজ বিন ফাওজান বিন সালেহ আল-ফাওজান

শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষক

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা পথ পেতাম না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি ছাড়া আমাদের কোনো রব নেই এবং তিনি ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, এবং তাঁর প্রিয় বন্ধু ও মনোনীত ব্যক্তি।

আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথি এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: নিরাপত্তা একটি জরুরি মানবিক প্রয়োজন এবং একটি স্বভাবজাত চাহিদা, যা ছাড়া জীবন সুসংহত হয় না। কোনো ব্যক্তি বা সমাজ নিরাপত্তা থেকে বিমুখ থাকতে পারে না। নিরাপত্তাহীন জীবন একটি ঊষর ও শুষ্ক জীবনের ন্যায়, যা অত্যন্ত রুক্ষ ও কঠোর; তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সহ্য করার মতো নয়।

কেননা নিরাপত্তা হলো সুখ ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং অগ্রগতি, সভ্যতা ও উন্নতির প্রধানতম কারণ। এটি এমন এক দাবি, যার গুরুত্বের বিষয়ে সকল যুগে ও স্থানে প্রতিটি জাতি, গোষ্ঠী, ব্যক্তি ও সমাজ ঐকমত্য পোষণ করে।

আর যখন নিরাপত্তা বিলুপ্ত হয়, তখন মানুষের মনে অস্থিরতা দেখা দেয়, ভয় ও উৎকণ্ঠা তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে, মানুষের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে যায়, তারা কর্মতৎপরতা ও উপার্জন থেকে বিরত হয়ে পড়ে এবং তাদের সমস্ত চিন্তা কেবল নিজেদের ও তাদের অধীনস্থদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়; ফলে তারা কেবল তাদের ওপর আপতিত বা সম্ভাব্য জুলুম ও আগ্রাসন প্রতিহত করতেই নিমগ্ন থাকে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২)
وإذا كان الأمن حاجة إنسانية ملحة، لا يستغني عنها فرد أو مجتمع، فإن ذلك يعني بالضرورة وجوب مواجهة ما يخل به من العنف، ومعالجة آثاره، وقطع الأسباب الداعية إليه.

وللإسلام منهجه المتفرد في تحقيق الأمن ومكافحة العنف، فهو يهتم بالجوانب التربوية والوقائية التي تمنع وقوع العنف أصلًا، كما يهتم بالجوانب الزجرية والعقابية، التي تمحو آثاره، وتمنع من معاودته وتكراره.

وهذا بخلاف ما عليه المناهج البشرية الجاهلية، والقوانين الوضعية التي تهتم بمعالجة العنف بعد وقوعه، أكثر من اهتمامها بمنع حدوثه ابتداءً.
নিরাপত্তা যেহেতু এক জরুরি মানবিক প্রয়োজন, যা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সমাজ চলতে পারে না, তাই এর অনিবার্য দাবি হলো নিরাপত্তার বিঘ্নকারী সহিংসতাকে মোকাবিলা করা, এর ক্ষতিকর প্রভাব নিরসন করা এবং যেসকল কারণ এই সহিংসতার দিকে ধাবিত করে তা সমূলে উৎপাটন করা।

নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সহিংসতা দমনে ইসলামের রয়েছে এক অনন্য পদ্ধতি; ইসলাম এমন সব নৈতিক, শিক্ষামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে যা সহিংসতার সূত্রপাতকেই রুখে দেয়, পাশাপাশি এটি এমন সব কঠোর শাসন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিও নজর দেয় যা সহিংসতার চিহ্ন মুছে ফেলে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধ করে।

এটি জাহেলিয়াতপূর্ণ মানবীয় মতবাদ ও মানবরচিত আইনগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত, যে আইনগুলো সহিংসতা শুরু থেকেই প্রতিহত করার চেয়ে এটি সংঘটিত হওয়ার পর তার প্রতিকার নিয়ে অধিক ব্যতিব্যস্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৩)
ولو قدر لها أن تهتم بالجوانب الوقائية والتربوية، لم يتوفر لها من وسائل ذلك، ومن الالتزام بها والاستجابة لها واحترامها ما يتوفر للتشريع الإلهي، الذي هو من وضع الخالق الحكيم، الذي خلق الإنسان، ويعلم ما يصلحه ويسعده في عاجل أمره وآجله، تشريعٌ بريء من جهل الإنسان، وهوى الإنسان، وضعف الإنسان، وتقلبات الإنسان، لا محاباة فيه لفرد، ولا لطبقة، ولا لجنس؛ لأن الله هو رب العالمين، والناس كلهم عباده، وقد أنزل عليهم شريعته لتحقيق أمنهم وحفظ مصالحهم، وهدايتهم لما فيه سعادتهم في دنياهم وآخرتهم.

وسوف أركز في هذا البحث على بيان أثر العلم الشرعي في مواجهة العنف، فإن العلم الشرعي المؤسس على الكتاب والسنة هو الذي يهذب النفوس، ويطهر القلوب، ويقيد صاحبه عن العنف والإجرام، ويمنعه من الظلم والعدوان، ويحمله على تعظيم حقوق العباد وحفظ مصالحهم، ويحجزه عن الإقدام على هتك الحرمات، وارتكاب المظالم والموبقات، وهو يمنع من العنف ابتداءً، وهو أيضًا من أعظم الأسباب المعينة على علاج هذه الظاهرة الخطيرة، وحمل من تلبس بشيء منها على التوبة والإنابة، وعدم التكرار والمعاودة.
এমনকি যদি সেগুলোকে (মানবসৃষ্ট আইনকে) প্রতিরোধমূলক এবং শিক্ষামূলক দিকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তবুও সেগুলোর জন্য সেই উপায়-উপকরণ, দায়বদ্ধতা, সাড়াদান এবং সম্মান অর্জন করা সম্ভব হতো না যা ঐশী বিধানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান। এই বিধান সেই প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং যা কিছু মানুষের ইহকাল ও পরকালে সংশোধন ও সুখ বয়ে আনে তা তিনি ভালো করেই জানেন। এই বিধান মানুষের অজ্ঞতা, প্রবৃত্তি, দুর্বলতা এবং অস্থিরতা থেকে মুক্ত। এতে কোনো ব্যক্তি, শ্রেণি বা জাতির প্রতি কোনো পক্ষপাত নেই; কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এবং সকল মানুষই তাঁর বান্দা। তিনি তাদের জন্য তাঁর শরীয়ত নাজিল করেছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জনস্বার্থ রক্ষা করতে এবং তাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে।

আমি এই গবেষণায় সহিংসতা মোকাবিলায় শরয়ি ইলমের প্রভাব বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করব। কেননা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত শরয়ি ইলমই চরিত্রকে সংশোধন করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং এর অধিকারীকে সহিংসতা ও অপরাধ থেকে বিরত রাখে। এটি তাকে জুলুম ও সীমালঙ্ঘন থেকে বাধা দেয় এবং বান্দার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করে। এটি তাকে পবিত্র বিষয়াবলির অবমাননা এবং অন্যায় ও ধ্বংসাত্মক পাপে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি শুরু থেকেই সহিংসতা প্রতিরোধ করে এবং এই বিপজ্জনক সমস্যা সমাধানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি যারা এতে লিপ্ত হয়েছে তাদের তাওবা ও আল্লাহর পথে ফিরে আসতে এবং পুনরায় একই কাজের পুনরাবৃত্তি না করতে উৎসাহিত করে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد انتظم هذا البحث في مقدمة وتمهيد وخاتمة ومبحثين على النحو الآتي:

المبحث الأول: تحريم الاعتداء على النفس.

المبحث الثاني: تحريم إنكار المنكر إذا كان يستلزم ما هو أنكر منه.

والله أسأل أن يرزقنا الفقه في الدين، والاستقامة على منهج سيد المرسلين، وأن يعيذنا من مضلات الفتن ومناهج المفتونين، وأن يهدي ضال المسلمين، ويحفظ بلادنا وسائر بلاد المسلمين من غوائل الأعداء والمتربصين، وتهوكات الجهلة والمتهورين.
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, একটি উপসংহার এবং নিম্নোক্ত দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাণের ওপর আক্রমণ বা সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ হওয়া।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মন্দ কাজের প্রতিবাদ করা নিষিদ্ধ হওয়া যখন তা তার চেয়ে বড় মন্দ কাজের দিকে ধাবিত করে।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন, রাসূলগণের সরদারের আদর্শের ওপর অবিচল রাখেন এবং পথভ্রষ্টকারী ফিতনা ও ফিতনাকারীদের পথ থেকে আশ্রয় দান করেন। তিনি যেন পথভ্রষ্ট মুসলিমদের হিদায়াত দান করেন এবং আমাদের দেশ ও অন্যান্য সকল মুসলিম ভূখণ্ডকে শত্রুদের অনিষ্ট ও ষড়যন্ত্র এবং মূর্খ ও হঠকারীদের অবিমৃষ্যকারিতা থেকে রক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد

ضلال الخلق على كثرة صوره وأنواعه، وتعدد مظاهره وأشكاله، سواء كان في الأفكار والتصورات، أو الأخلاق والسلوكيات، أو الأعمال والممارسات، يعود في حقيقته إلى سببين رئيسين:

الأول: الجهل أو العمى، والثاني: الظلم أو الهوى.

قال الله عز وجل: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} [الأحزاب: 72] .

فبين أن الأصل في الإنسان هو الظلم والجهل، إلا من زكاه الله بالعدل الذي يمنعه من الظلم، والعلم النافع الذي يرفع عنه الجهل.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "والجهل والظلم هما أصل كل شر، كما قال سبحانه: {وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} [الأحزاب: 72] " (1) .

--------------------------------------------

(1) اقتضاء الصراط المستقيم، ص: 37.
ভূমিকা

সৃষ্টির পথভ্রষ্টতা তার রূপ ও প্রকারের আধিক্য এবং তার বহিঃপ্রকাশ ও অবয়বের নানাবিধ রূপ সত্ত্বেও, চাই তা চিন্তা ও ধারণার ক্ষেত্রে হোক, কিংবা চরিত্র ও আচরণের ক্ষেত্রে, অথবা কাজ ও চর্চার ক্ষেত্রে—প্রকৃতপক্ষে তা দুটি প্রধান কারণে আবর্তিত হয়:

প্রথমত: অজ্ঞতা বা অন্ধত্ব এবং দ্বিতীয়ত: অন্যায় বা প্রবৃত্তি।

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও পর্বতমালার নিকট আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং তাতে ভীত হলো; আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে অত্যন্ত অন্যায়কারী ও অতিশয় অজ্ঞ} [আল-আহযাব: ৭২]।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষের মূল অবস্থা হলো অন্যায় ও অজ্ঞতা; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যাকে আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা (عدل) দ্বারা পবিত্র করেছেন—যা তাকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং তাকে এমন উপকারী জ্ঞান দান করেছেন যা তার থেকে অজ্ঞতা দূর করে দেয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "অজ্ঞতা ও অন্যায় হলো সকল অনিষ্টের মূল, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে অত্যন্ত অন্যায়কারী ও অতিশয় অজ্ঞ} [আল-আহযাব: ৭২]" (১)।

--------------------------------------------

(১) ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, পৃষ্ঠা: ৩৭।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৬)
ويدل على ذلك أيضًا: أن الله تعالى أمرنا بقراءة أم القرآن في كل ركعة من ركعات الصلاة، سواء كانت مفروضة أو مستحبة، ومن بين آياتها قوله سبحانه: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 6 7] .

فأرشدنا إلى سؤاله الهداية إلى الصراط المستقيم، وذلك يتضمن معرفة الحق والتوفيق للعمل به، وهما ينافيان الجهل والهوى، ثم بين أن هذا هو طريق الذين أنعم عليهم من النبيين وأتباعهم بإحسان، حيث دلهم على الحق، وأعانهم على امتثاله والعمل به، بخلاف المغضوب عليهم والضالين، الذين تنكبوا الصراط المستقيم، فوقعوا في الشرك والضلالات، والبدع والخرافات، وارتكبوا الكبائر والمنكرات، إما اتباعًا للهوى مع علمهم بالحق، وهؤلاء هم المغضوب عليهم، كاليهود، الذين أضلهم الله على علم، فتركوا الحق مع علمهم به، وإما جهلًا منهم بالحق، فعبدوا الله على جهل، وهؤلاء هم الضالون، كالنصارى، الذين يتقربون إليه بالشركيات، ويتعبدون له بالبدع والضلالات.
এটি আরও নির্দেশ করে যে: আল্লাহ তায়ালা আমাদের সালাতের প্রতিটি রাকাতে—তা ফরজ হোক কিংবা মুস্তাহাব—উম্মুল কুরআন পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন। আর এর আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} {তাদের পথ, যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট} [আল-ফাতিহা: ৬-৭] ।

সুতরাং তিনি আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত প্রার্থনা করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা সত্যের জ্ঞান লাভ এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফীক লাভকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ উভয় বিষয়ই অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তিপূজার পরিপন্থী। অতঃপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটিই ঐ সকল ব্যক্তিদের পথ যাদেরকে তিনি নেয়ামত দান করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীবৃন্দ; কেননা তিনি তাদেরকে সত্যের দিশা দিয়েছেন এবং তার অনুসরণ ও তদনুযায়ী আমল করতে সাহায্য করেছেন। পক্ষান্তরে তারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের বিপরীত, যারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং শিরক ও পথভ্রষ্টতা (ضلالات), বিদআত (بدع) ও কুসংস্কারে নিপতিত হয়েছে এবং কবিরা গুনাহ ও মন্দ কাজ (منكرات) লিপ্ত হয়েছে। (এসব বিচ্যুতি ঘটেছে) হয় সত্য জানা সত্ত্বেও প্রবৃত্তির অনুসরণের মাধ্যমে—আর এরাই হলো অভিশপ্ত, যেমন ইহুদি জাতি, যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও পথভ্রষ্ট করেছেন, ফলে তারা সত্য জানা সত্ত্বেও তা বর্জন করেছে; অথবা সত্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে—ফলে তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহর ইবাদত করেছে। আর এরাই হলো পথভ্রষ্ট, যেমন খ্রিস্টান সম্প্রদায়, যারা শিরকপূর্ণ কার্যাবলীর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করে এবং বিদআত (بدع) ও পথভ্রষ্টতা (ضلالات) মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৭)
وإذا كان المسلم مأمورًا بأن يتفهم هذه المعاني العظيمة، ويدعو بهذا الدعاء الجامع في كل ركعة من ركعات الصلاة، فإن هذا دليل على خطورة الجهل واتباع الهوى، ووجوب مجاهدة النفس على طلب العلم والهدى، واتباع الحق والاستقامة عليه، وأن الجهل والهوى هما سبب ضلال الخلق، وبعدهم عن الهدى ودين الحق.

ولو تأملت في أحوال العاصين المفرطين، والمبتدعة الضالين، والغلاة الجافين، لوجدتهم إنما أتوا من قبل هذين الأمرين أو أحدهما.

والجهل أصل الضلالين، وأخطر الشرين، وما من أحد يتبع الهوى، ويعرض عن الحق والهدى إلا بسبب جهله بالله وسطوته، وغفلته عن شؤم الذنب وسوء عاقبته.

وفي ظني أن أكثر هؤلاء المذكورين إنما تنكبوا الصراط المستقيم بسبب الجهل وقلة الفقه، وضعف البصيرة في الدين.
একজন মুসলিমকে যখন এই মহান অর্থসমূহ উপলব্ধি করতে এবং সালাতের প্রতি রাকাতে এই বরকতময় ও ব্যাপক অর্থবোধক দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন এটি অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণের ভয়াবহতা এবং জ্ঞান ও হেদায়েত অন্বেষণে নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আবশ্যকতা এবং সত্যের অনুসরণ ও তার ওপর অবিচল থাকার এক সুস্পষ্ট দলিল। আর নিশ্চয়ই অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তিই হলো সৃষ্টির পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ এবং হেদায়েত ও সত্য দ্বীন থেকে তাদের দূরে সরে যাওয়ার মূল হেতু।

আপনি যদি অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী, পথভ্রষ্ট বিদআতি (مبتدعة) এবং রূঢ় চরমপন্থীদের অবস্থার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তারা এই দুটি বিষয় অথবা এই দুটির কোনো একটির কারণেই বিভ্রান্ত হয়েছে।

অজ্ঞতা হলো উভয় প্রকার পথভ্রষ্টতার মূল এবং দুটি অনিষ্টের মধ্যে অধিকতর বিপজ্জনক। যে ব্যক্তিই প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং সত্য ও হেদায়েত থেকে বিমুখ হয়, তা মূলত আল্লাহ এবং তাঁর প্রতাপ সম্পর্কে তার অজ্ঞতা এবং পাপের অশুভ ও মন্দ পরিণতি সম্পর্কে তার উদাসীনতার কারণেই হয়ে থাকে।

আমার ধারণা মতে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত হয়েছে মূলত অজ্ঞতা, সমঝ বা ফিকহের স্বল্পতা এবং দ্বীনের ব্যাপারে দূরদৃষ্টির দুর্বলতার কারণে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৮)
فكثير ممن يرتكبون الكبائر، ويسرفون على أنفسهم بالمعاصي، أو يتساهلون بظلم العباد وبخسهم حقوقهم، لا يعلمون أن فعلهم هذا من المحرمات الكبائر، وإن عرفوا تحريمه من حيث الجملة، فإنهم لا يدركون شناعته وشدة تحريمه، وما يترتب عليه من الإثم والشؤم، والعواقب السيئة في الدنيا وفي الآخرة، فيتساهلون في فعله، ويستهينون بشأنه، ولو علموا ما ورد في هذا المنكر من الوعيد والعذاب الشديد، لما ارتكبوه، أو أصروا عليه واستمرءوه.

فمن يشرب الخمر مثلًا أو يفعل الزنا، أو يمارس الغيبة أو النميمة، لو علم بأضرار هذه المعاصي على القلب والبدن، والدين والدنيا، وما يترتب عليها من العذاب والنكال الأليم، والعقوبات العاجلة والآجلة، لكان ذلك أعظم زاجر له عن اقترافها، أو استمرائها والتهاون بشأنها.
কেননা কবীরা গুনাহে লিপ্ত এবং পাপাচারের মাধ্যমে নিজেদের ওপর সীমা লঙ্ঘনকারী অথবা বান্দাদের প্রতি জুলুম ও তাদের অধিকার খর্ব করার বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের অনেকেই জানে না যে, তাদের এই কাজগুলো নিষিদ্ধ কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। যদিও তারা সামগ্রিকভাবে এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে অবগত, তবুও তারা এর জঘন্যতা, নিষিদ্ধতার কঠোরতা এবং এর ফলে অর্জিত পাপ, অশুভ প্রভাব ও দুনিয়া-আখেরাতের মন্দ পরিণাম সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি রাখে না। ফলে তারা এসব কাজ করতে শিথিলতা দেখায় এবং বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করে। যদি তারা এই বর্জনীয় (منكر) কাজের বিষয়ে বর্ণিত কঠোর হুঁশিয়ারি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি সম্পর্কে জানত, তবে তারা এতে লিপ্ত হতো না অথবা এর ওপর অটল থাকত না এবং একে সহজ মনে করত না।

উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি মদ্যপান করে বা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় অথবা গিবত ও পরনিন্দায় লিপ্ত থাকে; সে যদি কলব ও শরীর এবং দ্বীন ও দুনিয়ার ওপর এই পাপসমূহের ক্ষতি এবং এর ফলে অবধারিত আজাব, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ইহকাল ও পরকালের দণ্ড সম্পর্কে জানত, তবে তা তাকে এই অপরাধ সংঘটন অথবা একে সহজ মনে করা ও এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা থেকে বিরত রাখার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিবন্ধক হতো।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد يُؤتى الإنسان من قبل جهله من وجه آخر، حيث يظن أن فعله هذا مبارك مشروع، وصاحبه مأجور مشكور، وليس الأمر على ظنه وحسبانه في الواقع، كمن يظلم كافرًا أو فاسقًا، ويتعمد الإساءة إليه بالقول والفعل، وهو يظن أن عمله هذا قربة يرفعه الله بها درجات، ويجهل أن الظلم حرام في حق كل أحد، سواء كان مسلمًا أو كافرًا، برًّا أو فاجرًا، وأن فعله هذا من الصد عن سبيل الله، والظلم لعباد الله، وكلاهما حرام بنصوص كثيرة في الكتاب والسنة.

وبهذا نعلم أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، يحرمان إذا تضمنا تفويت مصلحة أكبر، أو جلب فتنة ومفسدة أعظم.

ومما سبق يتبين لنا أمران مهمان:

الأول: حاجتنا بل اضطرارنا إلى معرفة الحق وطلب العلم الشرعي؛ ولهذا جعل الله تعالى طلب العلم الشرعي فريضة على كل مسلم ومسلمة، فعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «طلب العلم فريضة على كل مسلم» (1)

--------------------------------------------

(1) رواه ابن ماجة: 224، وأبو يعلى: 2837، وله شواهد عديدة، وصححه السيوطي في «الجامع الصغير» : 5264، والألباني في «صحيح الترغيب والترهيب» : 70، وقال في تعليقه على «مشكاة المصابيح» 1 / 76: «واعلم أن السيوطي قد جمع هذه الطرق حتى أوصلها إلى الخمسين، وحكم من أجلها على الحديث بالصحة، وحكى العراقي صحته عن بعض الأئمة، وحسنه غير ما واحد، والله أعلم، وأما زيادة» ومسلمة «التي اشتهرت على الألسنة فلا أصل لها ألبتة» .
একজন মানুষ তার অজ্ঞতার কারণে অন্য দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যেখানে সে মনে করে যে তার এই কাজটি বরকতময় ও বিধিসম্মত, এবং এর কর্তা সওয়াবপ্রাপ্ত ও প্রশংসিত; অথচ বাস্তবে বিষয়টি তার ধারণা ও ভাবনার মতো নয়। যেমন—কেউ কোনো ফাসিক (فاسق) বা কাফির ব্যক্তির ওপর জুলুম করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কথা ও কাজের মাধ্যমে তার সাথে অসদাচরণ করে, আর সে মনে করে যে তার এই কাজ একটি ইবাদত বা নৈকট্য লাভের মাধ্যম (قربة), যার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। সে জানে না যে, জুলুম করা প্রত্যেকের হকের ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ (حرام), সে মুসলিম হোক বা কাফির, পুণ্যবান হোক বা পাপিষ্ঠ (فاجر)। আর তার এই আচরণ আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করার শামিল এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি জুলুম; আর এই উভয় কাজই কুরআন ও সুন্নাহর বহু দলিল অনুযায়ী নিষিদ্ধ (حرام)।

এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ নিষিদ্ধ (حرام) হয়ে যায় যখন তা বৃহত্তর কোনো কল্যাণ (مصلحة) নষ্ট করার কারণ হয় অথবা বড় কোনো ফিতনা (فتنة) ও অনিষ্ট (مفسدة) ডেকে আনে।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়:

প্রথমত: সত্য জানা এবং শরয়ি জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি আমাদের প্রয়োজনীয়তা, বরং অনিবার্যতা; একারণেই আল্লাহ তাআলা শরয়ি জ্ঞান অর্জন করাকে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ (فريضة) করেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ (فريضة)» (১)

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ: ২২৪ ও আবু ইয়ালা: ২৮৩৭ বর্ণনা করেছেন। এর অনেকগুলো সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। সুয়ূতী একে আল-জামি আস-সগির: ৫২৬৪ গ্রন্থে এবং আলবানী সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ৭০ গ্রন্থে সঠিক (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মিশকাতুল মাসাবিহ-এর টীকা (১/৭৬)-তে বলেছেন: «জেনে রাখুন যে, সুয়ূতী এই হাদিসের সূত্রগুলো (طرق) একত্রিত করেছেন এমনকি তা পঞ্চাশ পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং সে কারণে তিনি হাদিসটির ওপর সঠিক (صحيح) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। ইরাকি জনৈক ইমামের সূত্রে এর বিশুদ্ধতা বর্ণনা করেছেন এবং একাধিক ইমাম একে উত্তম (حسن) বলেছেন, আল্লাহ-ই ভালো জানেন। আর মানুষের মুখে প্রচলিত 'ও মুসলিম নারী' (ومسلمة) অংশটির কোনো ভিত্তি (أصل) নেই বললেই চলে।»
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا يشمل كل علم يتوقف عليه القيام بالواجب أو ترك المحرم، فتعلمه فرض عين على كل مسلم مكلف، أما ما زاد على ذلك من العلوم الشرعية أو الدنيوية التي تحتاجها الأمة، فهذه تعلمها فرض كفاية، إذا قام بها من يكفي من سائر أمة الإسلام، وسدت بهم حاجة الأمة، فقد حصل المقصود، وأدي الواجب، وسقط الإثم عن الباقين، وإن أطبقت الأمة كلها على تركه، أو تصدى له من لا تحصل بهم الكفاية، أثمت الأمة كلها، الرجال والنساء، القادرون وغير القادرين، أما القادر فيأثم لعدم قيامه به ومباشرته له مع قدرته عليه، وأما غير القادر فواجبه أن يحض القادرين على القيام بما أوجبه الله عز وجل، وإن كان إثم القادر أعظم من إثم غيره، لكنهم جميعًا آثمون، وهذا هو الشأن في جميع فروض الكفايات.

ولأجل هذا حث الله تعالى على طلب العلم النافع والاستكثار منه، وأثنى على العلماء، وبين عظيم فضلهم ورفعة مكانتهم، وأنه لا يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون، ووردت كذلك أحاديث كثيرة تبين فضل العلم والعلماء، وأنهم ورثة الأنبياء في معرفة الحق والعمل به، وفي حمل هذا الدين وتبليغه للعالمين، وهي آيات وأحاديث معلومة فلا نطيل بذكرها.
এটি এমন প্রত্যেক জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে যার ওপর কোনো ওয়াজিব পালন করা বা কোনো হারাম বর্জন করা নির্ভর করে। সুতরাং তা অর্জন করা প্রত্যেক মুকাল্লাফ (مكلف) মুসলিমের ওপর ফরজে আইন (فرض عين)। আর এর অতিরিক্ত শরয়ী বা দুনিয়াবী যে সকল জ্ঞান উম্মাহর প্রয়োজন হয়, তা অর্জন করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। যদি মুসলিম উম্মাহর মধ্য থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক তা সম্পাদন করে এবং তাদের মাধ্যমে উম্মাহর প্রয়োজন পূর্ণ হয়, তবে উদ্দেশ্য হাসিল হবে, ওয়াজিব আদায় হবে এবং অবশিষ্টাংশের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি পুরো উম্মাহ সম্মিলিতভাবে তা বর্জন করে, অথবা এমন ব্যক্তিরা তাতে নিয়োজিত হয় যাদের দ্বারা পর্যাপ্ততা অর্জিত হয় না, তবে পুরো উম্মাহ গুনাহগার হবে—পুরুষ ও নারী, সক্ষম ও অক্ষম সকলেই। সক্ষম ব্যক্তি গুনাহগার হবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা পালন ও সরাসরি সম্পাদন না করার কারণে, আর অক্ষম ব্যক্তির দায়িত্ব হলো সক্ষম ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল যা ওয়াজিব করেছেন তা পালনে উৎসাহিত করা। যদিও সক্ষম ব্যক্তির গুনাহ অক্ষম ব্যক্তির চেয়ে বেশি, তবে তারা সবাই গুনাহগার হবে। সকল ফরজে কিফায়ার (فروض الكفايات) ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম।

আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা উপকারী জ্ঞান অর্জন ও তা বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করেছেন, ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের সুমহান মর্যাদা ও উচ্চ মাকাম স্পষ্ট করেছেন। আর তিনি জানিয়েছেন যে, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা সমান নয়। একইভাবে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা জ্ঞান ও ওলামাদের মর্যাদা বর্ণনা করে এবং (জানায় যে) তারা সত্য জানা ও সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে এবং এই দীন ধারণ ও বিশ্ববাসীর কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নবীদের উত্তরাধিকারী। এসব আয়াত ও হাদিস সুপরিচিত, তাই সেগুলো উল্লেখ করে আমরা আলোচনা দীর্ঘ করছি না।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১১)
بل بين النبي صلى الله عليه وسلم أن الاشتغال بالعلم تعلمًا وتعليمًا أفضل من الاشتغال بنوافل العبادات التي يقتصر نفعها على صاحبها، وأن من خرج في طلب العلم فهو في سبيل الله حتى يرجع، ومن يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين، وبين الفرق الواسع والبون الشاسع بين العالم البصير والعابد الجاهل، فقال: «من سلك طريقًا يطلب فيه علمًا سلك الله به طريقًا من طرق الجنة، وإن الملائكة لتضع أجنحتها رضًا لطالب العلم، وإن العالم ليستغفر له من في السماوات ومن في الأرض والحيتان في جوف الماء، وإن فضل العالم على العابد كفضل القمر ليلة البدر على سائر الكواكب، وإن العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا دينارًا ولا درهمًا، وإنما ورثوا العلم فمن أخذه أخذ بحظ وافر» (1)

ولهذا التفضيل أسباب منها ما يأتي:

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود: 3641، 3642، وابن ماجة: 223، والدارمي: 342، وحسن إسناده الألباني في تعليقه على «مشكاة المصابيح» : 1 / 74، وفي «صحيح الترغيب والترهيب» : 68، ويشهد له حديث أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه، وفيه: (فضل العالم على العابد كفضلي على أدناكم، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله وملائكته وأهل السماوات والأرضين حتى النملة في جحرها وحتى الحوت ليصلون على معلم الناس الخير) والحديث رواه الترمذي: 2685، وصححه السيوطي في «الجامع الصغير» : 5859، ورواه الدارمي بهذا اللفظ من حديث مكحول الدمشقي مرسلًا: 289، قال الألباني في تعليقه على «مشكاة المصابيح» 1 / 75: وهو مرسل حسن.
বরং নবী (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, ইলম অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদান—উভয় ক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকা নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম, যার উপকারিতা কেবল ইবাদতকারীর নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আরও জানিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। তিনি প্রাজ্ঞ আলেম ও অজ্ঞ আবেদের মধ্যে যে ব্যাপক ব্যবধান ও বিশাল পার্থক্য রয়েছে তাও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথসমূহের মধ্য হতে একটি পথে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ—এমনকি পানির গভীরে থাকা মাছও—আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আবেদের ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণিমার রাতের চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন সমস্ত নক্ষত্ররাজির ওপর। নিশ্চয়ই উলামাগণ হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তারা উত্তরাধিকার হিসেবে ইলম রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করেছে, সে এক বিশাল অংশ লাভ করেছে» (১)

এই শ্রেষ্ঠত্বের বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: ৩৬৪১, ৩৬৪২; ইবনে মাজাহ: ২২৩; এবং দারেমি: ৩৪২। আলবানী ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’-এর টীকায় (১/৭৪) এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেছেন এবং ‘সহিহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব’-এ (৬৮) তা উল্লেখ করেছেন। আবু উমামা আল-বাহিলী (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়, যেখানে বলা হয়েছে: (আবেদের ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের সর্বনিম্ন ব্যক্তির ওপর আমার শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান ও জমিনবাসী—এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং মাছও—কল্যাণকামী শিক্ষকগণের জন্য দোয়া করে)। হাদিসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: ২৬৮৫ এবং সুয়ূতী ‘আল-জামেউস সগীর’-এ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন: ৫৮৫৯। দারেমি এই শব্দে মাকহুল আদ-দিমাশকী থেকে হাদিসটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ২৮৯। আলবানী ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’-এর টীকায় (১/৭৫) বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) পর্যায়ের মুরসাল (مرسل) হাদিস।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১২)
1- أن العالم أعرف بالله عز وجل وحقوقه، وأكثر محبةً له وتعظيمًا لجنابه، ورجاء لثوابه، وخوفًا من عقابه، فمن كان بالله أعرف كان منه أخوف، ولهذا قال ربنا سبحانه: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28] فبين أنهم هم الذين يخشونه حق خشيته، لكمال معرفتهم به، وامتلاء قلوبهم بتعظيمه ومحبته، ورجائه وخشيته، وتفكرهم في آياته الكونية والشرعية، وإدراكهم لمقاصد شريعته وغاياتها، وحكمها وأسرارها، فيزدادون يقينًا بأن هذا الدين هو الدين الحق الذي ارتضاه الله لعباده، وأنزله رحمة للعالمين، وأن الذي جاء به هو رسول الله حقًا، الذي لو لم يأت بآية تدل على صدقه وصدق ما جاء به، وأنه من عند الله إلا ما تضمنته هذه الشريعة من الحكم والمصالح لكانت كافية شافية.
1- আলেম মহান আল্লাহ —যিনি মহান ও পরাক্রমশালী— এবং তাঁর অধিকার সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। তিনি তাঁর প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা পোষণ করেন, তাঁর মহান সত্তাকে সর্বাধিক সম্মান করেন, তাঁর প্রতিদানের সর্বাধিক প্রত্যাশা করেন এবং তাঁর শাস্তিকে সর্বাধিক ভয় করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে যত বেশি অবগত, সে তাঁকে তত বেশি ভয় পায়। এই কারণেই আমাদের প্রতিপালক পবিত্র ও মহিমান্বিত বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই আল্লাহকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮]। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তারাই আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করেন; কারণ তাঁর সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ এবং তাঁদের অন্তর তাঁর মহিমা, ভালোবাসা, আশা ও ভীতিতে পরিপূর্ণ। তাঁরা তাঁর জাগতিক ও শরয়ি নিদর্শনাদি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন এবং তাঁর শরীয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, হিকমত ও রহস্যসমূহ অনুধাবন করেন। ফলে তাঁদের এই দৃঢ় বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় যে, এই দ্বীনই সেই সত্য দ্বীন যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং একে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। আর যিনি এই দ্বীন নিয়ে এসেছেন, তিনি সত্যই আল্লাহর রাসূল; যদি তিনি তাঁর সত্যতা এবং তাঁর আনীত বাণীর সত্যতা প্রমাণের জন্য এবং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসার সপক্ষে এই শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত হিকমত ও কল্যাণসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো নিদর্শন উপস্থাপন না-ও করতেন, তবে এটিই পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক হতো।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৩)
2- أن العلم النافع يعصم صاحبه بتوفيق الله من الانحراف والضلال، ويحميه من الوقوع في البدع والمحدثات، والشركيات والضلالات، ويحمله على تعظيم الشعائر والحرمات، والتجافي عن المنكرات والموبقات، بخلاف العابد الجاهل، فإنه قد يقع في شيء من هذه المخالفات بسبب جهله، وربما يتقرب إلى الله بما لم يأذن به الله، كحال عباد النصارى، ومن شابههم من جهلة عباد المسلمين الذين يتعبدون بالبدع والمحدثات، أو يتقربون إلى أصحاب القبور بأنواع القربات، ويشركون بالله تعالى، وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعًا.

وربما اشتغل العابد الجاهل بالمفضول عن الفاضل، وبالمرجوج عن الراجح، وبالمحبوب لله عن الأحب إليه، فهو يتعبد بالأعمال المفضولات ويترك الأعمال الفاضلات، ويتوسع في النوافل والمستحبات على حساب الفرائض والواجبات، فتجده يُشغَل بنوافل العبادات عن ما أوجبه الله من بر الوالدين، وصلة الأرحام، وتربية الأولاد، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والنصح للمسلمين، وغيرها.
2- নিশ্চয়ই উপকারী ইলম আল্লাহর তাওফিকে তার অধিকারীকে বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে এবং তাকে বিদআত, নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثات), শিরক ও বিভ্রান্তিতে নিপতিত হওয়া থেকে সুরক্ষা দান করে। এটি তাকে ইসলামের নিদর্শন ও পবিত্র বিষয়াবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং মন্দ কাজ (منكرات) ও ধ্বংসাত্মক কার্যাবলি থেকে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। পক্ষান্তরে, মূর্খ ইবাদতকারীর বিষয়টি ভিন্ন; সে তার অজ্ঞতার কারণে এই সমস্ত লঙ্ঘনের কোনোটিতে লিপ্ত হতে পারে এবং সম্ভবত সে এমন বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। যেমন খ্রিস্টান ইবাদতকারী এবং তাদের সদৃশ মুসলিমদের মধ্যকার সেই সমস্ত মূর্খ ইবাদতকারীদের অবস্থা, যারা বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের (محدثات) মাধ্যমে ইবাদত করে অথবা কবরবাসীদের নিকট বিভিন্ন উপায়ে নৈকট্য প্রার্থনা করে এবং মহান আল্লাহর সাথে শিরক করে, অথচ তারা মনে করে যে তারা উত্তম কাজ করছে।

আর সম্ভবত মূর্খ ইবাদতকারী উত্তম আমল বাদ দিয়ে অনুত্তম আমল নিয়ে, এবং অগ্রগণ্য (راجح) বিষয়ের পরিবর্তে অগ্রহণযোগ্য (مرجوح) বিষয় নিয়ে এবং আল্লাহর নিকট অধিকতর প্রিয় আমলের বদলে শুধু প্রিয় আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ফলে সে অপেক্ষাকৃত কম ফজিলতপূর্ণ আমলের মাধ্যমে ইবাদত করে এবং অধিক ফজিলতপূর্ণ আমলসমূহ বর্জন করে। সে ফরজ ও ওয়াজিবের বিনিময়ে নফল ও মুস্তাহাব কার্যাবলিতে ব্যাপকতা বিস্তার করে। তাই দেখা যায়, সে নফল ইবাদত নিয়ে এমনভাবে নিমগ্ন থাকে যা তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আবশ্যককৃত পিতা-মাতার সেবা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, সন্তান লালন-পালন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, মুসলিমদের কল্যাণকামিতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিমুখ করে রাখে।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعلاج ذلك بالبصيرة في الدين، والعلم بمراتب العبادات، ومعرفة أقدارها، والتمييز بين فاضلها ومفضولها، فإن في الطاعات سيدًا ومسودًا، ورئيسًا ومرؤوسًا، وكبيرًا وصغيرًا، وذروةً وما دونها (1)

فالعلم النافع هو الذي يقي من مكايد الشيطان ونزغاته، ويكشف شبهاته وتلبيساته، وكلما كان المؤمن الصادق أكثر علمًا بالشريعة وتضلعًا منها، كان أكثر تمسكًا بالسنة وحرصًا عليها، وبعدًا عن البدعة ونفورًا منها، وحذرًا من مصايد الشيطان ووساوسه.

--------------------------------------------

(1) انظر: مدارج السالكين 1 / 225.
এর প্রতিকার হলো দ্বীনের গভীর অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة), ইবাদতের স্তরসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান ও সেগুলোর মর্যাদা অনুধাবন করা এবং শ্রেষ্ঠতর (فاضل) ও অপেক্ষাকৃত কম শ্রেষ্ঠ (مفضول) বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। কেননা আনুগত্যের (طاعة) কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চতর ও নিম্নতর, প্রধান ও অপ্রধান, বড় ও ছোট এবং সর্বোচ্চ শিখর ও তার নিম্নবর্তী পর্যায়। (১)

সুতরাং উপকারী জ্ঞান (علم) হচ্ছে সেটিই যা শয়তানের ষড়যন্ত্র ও কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে এবং তার সংশয় (شبهة) ও প্রতারণাগুলো উন্মোচিত করে দেয়। একজন সত্যনিষ্ঠ মুমিন শরীয়তের জ্ঞানে যত বেশি সমৃদ্ধ ও পারদর্শী হবেন, তিনি সুন্নাহ (سنة) অনুসরণে তত বেশি অবিচল ও আগ্রহী হবেন এবং বিদআত (بدعة) থেকে তত বেশি বিমুখ ও দূরে থাকবেন; সেই সাথে শয়তানের ফাঁদ ও কুমন্ত্রণা সম্পর্কেও অধিক সতর্ক থাকবেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন ১ / ২২৫।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৫)
3- أن العلم نور يهدي إلى الحق، وينير الطريق للسالكين، وبه يُميَّز بين الإيمان والكفر، والمصلحة والمفسدة، والخير والشر، بل يعرف به خير الخيرين وشر الشرين، وعلى قدر علم الإنسان وفقهه، وقوة بصيرته، وسعة أفقه، ومعرفته بواقعه، يكون حكمه على الأحداث من حوله، وإدراكه لكيفية التعامل معها، ونظره إلى عواقبها ومآلاتها، ومتى يقدم، ومتى يحجم؟ ومن يعادي، ومن يسالم؟ ولهذا أمرنا ربنا عز وجل بالرجوع إلى العلماء الربانيين في الأمور التي تهم الأمة، وتمس مصالحها العامة، فقال سبحانه: {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا} [النساء: 83] .
3- ৩- নিশ্চয়ই জ্ঞান হলো এক জ্যোতি যা সত্যের দিকে পথ প্রদর্শন করে এবং পথিকদের জন্য পথকে আলোকিত করে। এর মাধ্যমেই ঈমান ও কুফর, কল্যাণ (مصلحة) ও অকল্যাণ (مفسدة) এবং ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করা হয়; বরং এর মাধ্যমেই দুটি কল্যাণের মধ্যে অধিকতর কল্যাণকরটি এবং দুটি মন্দের মধ্যে অধিকতর মন্দটি চেনা যায়। মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (فقه), তার অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতা, দৃষ্টিভঙ্গির প্রশস্ততা এবং স্বীয় বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতার নিরিখেই তার চতুষ্পার্শ্বের ঘটনাবলির ওপর তার হুকুম বা বিধান (حكم) এবং সেগুলো মোকাবিলার পদ্ধতিগত বোধ নির্ধারিত হয়। একইসাথে এর পরিণাম ও ফলাফলের ওপর তার লক্ষ্য নিবদ্ধ হয় যে, কখন সে পদক্ষেপ নেবে আর কখন সে বিরত থাকবে? কার সাথে শত্রুতা পোষণ করবে এবং কার সাথেই বা সন্ধি করবে? এই কারণেই আমাদের মহান প্রতিপালক উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিতে রব্বানী আলেমদের শরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদের নিকট শান্তি কিংবা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়; অথচ তারা যদি তা রাসুলের এবং তাদের মধ্যকার দায়িত্বশীলদের নিকট পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য উদ্ঘাটন বা আহরণ (يستنبطونه) করতে সক্ষম, তারা অবশ্যই এর স্বরূপ জানত। যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত, তবে অল্প কয়েকজন ব্যতীত তোমরা সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে।} [আন-নিসা: ৮৩]।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৬)
فهذا إنكار من الله تعالى على من يتعجل في الحكم على الأمور، ويبادر بنشر الأخبار وإذاعتها قبل التأكد من ثبوتها وصحتها، ومناسبة نشرها من عدمه، وأنه ينبغي لهم إذا جاءهم أمر من الأمور المهمة، المتعلقة بالمصالح العامة، أن يتثبتوا ويتعقلوا، وأن يردوا الأمر إلى أولي الأمر من العلماء الراسخين، أهل الرأي والحصافة، والعقل والرزانة، وبعد النظر وسعة الأفق، الذين يعرفون الأحوال، ويميزون بين المصالح والمفاسد، فيهدونهم بإذن الله إلى الطريق الأسد، والمنهج الأرشد، فإن رأوا في إذاعته مصلحةً ونشاطًا للمؤمنين، وسرورًا لهم، وتقوية لعزائمهم، أوتحرزًا من أعدائهم، وحفزًا لهم على مواجهتهم واتقاء شرهم وعدوانهم، فعلوا ذلك، وإن رأوا المصلحة في كتمانه، لم يذيعوه (1)

4- أن عمل العابد مهما عظم، فإن نفعه قاصر على نفسه، بخلاف العالم فنفعه متعدٍ إلى غيره (2)

الثاني: وجوب الحذر من الأئمة المضلين، والجهلة المتعالمين، والمتصدرين للفتوى وليسوا من أهلها، ولهذا أمرنا الله - تعالى - بسؤال أهل الذكر فقال: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [الأنبياء: 7] .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير 1 / 704705، وتفسير السعدي 1 / 377.

(2) انظر: مدارج السالكين 1 / 87، وتلبيس إبليس، ص: 172.
এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি এক প্রকার তিরস্কার, যারা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করে এবং খবরের সত্যতা নিশ্চিত বা প্রমাণিত হওয়া (ثبوت) ও তার বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করার আগে এবং তা প্রচার করা সমীক্ষণ কি না তা বিবেচনা না করেই সংবাদ প্রচার ও প্রসারে লিপ্ত হয়। তাদের জন্য উচিত হলো, যখনই জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের সামনে আসবে, তখন তারা যেন বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধারণ করে এবং তা অনুধাবন করার চেষ্টা করে। আর তারা যেন বিষয়টি উলিল আমর তথা গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেম ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট ন্যস্ত করে, যারা দূরদর্শী, বিচক্ষণ এবং প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। যাঁরা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম। ফলে তাঁরা আল্লাহর অনুমতিতে তাদেরকে সঠিক পথ ও সুসংহত পন্থার দিকে পরিচালিত করবেন। যদি তাঁরা বিষয়টি প্রচার করার মধ্যে মুমিনদের জন্য কোনো কল্যাণ, উদ্দীপনা, আনন্দ বা মনোবল বৃদ্ধির কারণ দেখতে পান, অথবা শত্রুদের থেকে সতর্ক থাকা এবং তাদের মোকাবিলা ও অনিষ্টতা রোধে মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করার সুযোগ দেখেন, তবে তাঁরা তা করবেন। আর যদি তাঁরা মনে করেন যে, তা গোপন রাখাই কল্যাণকর, তবে তাঁরা তা প্রকাশ করবেন না। (১)

৪- একজন ইবাদতকারীর আমল যত মহৎই হোক না কেন, তার উপকারিতা কেবল তার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; পক্ষান্তরে একজন আলেমের উপকারিতা অন্যের নিকটও পৌঁছে। (২)

দ্বিতীয়ত: বিভ্রান্তকারী ইমাম, মূর্খ ছদ্মবেশী আলেম এবং যারা যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন হয়েছে, তাদের থেকে সতর্ক থাকা ওয়াজিব। আর এ কারণেই মহান আল্লাহ আমাদের জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আল-আম্বিয়া: ৭]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির ১ / ৭০৪-৭০৫, এবং তাফসির আস-সা’দী ১ / ৩৭৭।

(২) দেখুন: মাদারিজুস সালেকিন ১ / ৮৭, এবং তালবিসু ইবলিস, পৃ: ১৭২।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأهل الذكر هم العلماء الراسخون، الذين شهدت لهم الأمة بالعلم والإمامة في الدين، أما أدعياء العلم، وأنصاف المتعلمين، والمتطفلون على موائد العلماء، فليسوا أهلًا لأن يستفتوا ويصدر عن رأيهم، وخصوصًا في الأمور العامة التي تمس مصالح الأمة.

وقد حذرنا النبي صلى الله عليه وسلم من أمثال هؤلاء فقال: «إن الله لا يقبض العلم انتزاعًا ينتزعه من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يُبق عالمًا اتخذ الناس رؤوسًا جهالًا فسئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا» (1)

وهذا يتضمن التحذير من ترئيس الجهال، وتخلية الساحة لهم، بقعود العلماء الراسخين عما أوجبه الله عليهم من البلاغ والتبيين، وفيه التحذير من استفتاء أدعياء العلم وأنصاف المتعلمين، ومن يتصدرون للفتوى، وهم في الحقيقة جهال أدعياء، وفيه التحذير الشديد لهؤلاء من القول على الله بلا علم، وإقحام أنفسهم فيما لا يحسنون، والخوض في بحر لا يجيدون السباحة فيه، فيَضلون ويُضلون، ويتحملون أوزارهم وأوزار من يضلونهم بغير علم.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري: 100، ومسلم: 2673.
আর 'আহলুয যিকর' হলেন সেই সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলিমগণ (العلماء الراسخون), যাদের জ্ঞান এবং দ্বীনি নেতৃত্বের ব্যাপারে উম্মত সাক্ষ্য দিয়েছে। পক্ষান্তরে, ইলমের মিথ্যা দাবিদার, স্বল্পশিক্ষিত এবং আলিমদের মজলিসে অনাহুত অনুপ্রবেশকারীরা ফতোয়া প্রদানের বা তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করার যোগ্য নয়; বিশেষত জাতির বৃহত্তর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাধারণ বিষয়াবলিতে।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এজাতীয় লোকদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের অন্তর থেকে ইলম টেনে বের করে নেওয়ার মাধ্যমে তা উঠিয়ে নেবেন না; বরং তিনি আলিমদের মৃত্যুর মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলিম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের নিকট ফতোয়া জানতে চাওয়া হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে» (১)

এর মধ্যে মূর্খদের নেতৃত্বে বসানো এবং সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলিমগণ (العلماء الراسخون) আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত প্রচার ও ব্যাখ্যার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাদের জন্য ময়দান উন্মুক্ত করে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা রয়েছে। এতে ইলমের মিথ্যা দাবিদার, স্বল্পশিক্ষিত এবং যারা ফতোয়ার আসনে আসীন হয় অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা মূর্খ ও ভণ্ড—তাদের নিকট থেকে ফতোয়া চাওয়ার ব্যাপারেও সতর্কতা রয়েছে। এছাড়া এতে তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে যারা ইলম ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলে এবং এমন বিষয়ে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে যা তারা ভালভাবে বোঝে না; তারা এমন এক সাগরে অবগাহন করে যাতে সাঁতার কাটতে তারা পারদর্শী নয়। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে। আর তারা নিজেদের পাপের বোঝা এবং যাদেরকে তারা ইলম ছাড়া পথভ্রষ্ট করছে তাদের পাপের বোঝাও বহন করবে।

--------------------------------------------

(১) বর্ণনা করেছেন সহিহ বুখারি: ১০০, এবং সহিহ মুসলিম: ২৬৭৩।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৮)
ويؤكد ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم حين حذر من فتنة الخوارج، وأمر بقتلهم، بين أنهم إنما أُتوا من قبل جهلهم، وقلة فقههم، فجنوا على أنفسهم وعلى أمتهم، ولم يشفع لهم حسن نيتهم، وسلامة قصدهم، وكثرة عبادتهم، فعن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «سيخرج في آخر الزمان قوم حدثاء الأسنان، سفهاء الأحلام، يقولون من خير قول البرية، يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية، فإذا لقيتموهم فاقتلوهم، فإن في قتلهم أجرًا لمن قتلهم عند الله يوم القيامة» (1)

فبين أنهم سفهاء الأحلام، وهذا دليل على ضعف عقولهم وغلبة الجهل عليهم، ووصفهم بأنهم "حدثاء الأسنان"، وحديث السن في الغالب أقرب إلى الجهل والطيش، والتسرع وعدم الروية، وجنوح الفكر والتطرف في الرأي، من كبير السن، الذي عركته الحياة، وحنكته التجارب، وأدرك أهمية النظر في المآلات والعواقب.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري: 3415، 4770، 6531، ومسلم 1066.
এটি এই বিষয়টিই সুনিশ্চিত করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খারিজিদের ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং তাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে তারা মূলত তাদের অজ্ঞতা এবং ফিকহ (فقه) বা গভীর প্রজ্ঞার স্বল্পতার কারণেই বিভ্রান্ত হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের এবং তাদের উম্মতের ওপর বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। তাদের উত্তম নিয়ত, উদ্দেশ্যের সততা এবং ইবাদতের আধিক্য তাদের জন্য কোনো উপকারে আসেনি। আলি বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে অল্পবয়স্ক এবং নির্বোধ চিন্তাভাবনার অধিকারী। তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম কথা বলবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তোমরা যেখানেই তাদের পাবে হত্যা করবে, কারণ তাদের হত্যাকারীর জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট প্রতিদান রয়েছে» (১)

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তারা নির্বোধ চিন্তাভাবনার অধিকারী, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা এবং তাদের ওপর মূর্খতার প্রাবল্যের প্রমাণ। তিনি তাদের "অল্পবয়স্ক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আর সাধারণত একজন অল্পবয়স্ক ব্যক্তি বয়স্ক ব্যক্তির তুলনায় অজ্ঞতা, চপলতা, তাড়াহুড়ো, অদূরদর্শিতা এবং চিন্তাগত বিচ্যুতি ও মতামতের ক্ষেত্রে চরমপন্থার অধিক নিকটবর্তী থাকে। বিপরীতে, একজন বয়স্ক ব্যক্তি জীবনসংগ্রামে পোড় খাওয়া ও অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হন এবং তিনি বিষয়ের পরিণাম ও ফলাফল পর্যালোচনার গুরুত্ব অনুধাবন করেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি: ৩৪১৫, ৪৭৭০, ৬৫৩১ এবং মুসলিম: ১০৬৬।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ১৯)
ووصفهم كذلك بأنهم "يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم"، وهذا أيضًا دليل على جهلهم وضعف بصيرتهم، فإنهم مع كثرة قراءتهم للقرآن لا يجاوز حناجرهم، فهم لا يعونه بعقولهم، ولا يفقهون مواعظه ونذره، ولا يعلمون أحكامه وحدوده.

وقد بلغ من فرط جهلهم، وقلة توفيقهم أنهم كما وصفهم النبي صلى الله عليه وسلم في حديث آخر: «يقتلون أهل الإسلام ويدعون أهل الأوثان» (1) ، فقد استحلوا دم علي بن أبي طالب رضي الله عنه ومن كان معه من خيار الصحابة والتابعين، هذا فضلًا عن احتقارهم لكبار علماء الصحابة، وزهدهم في علمهم، وظنهم أنهم - على قلة بضاعتهم وضعف عقولهم - أعلم منهم، وأبصر بالأمور، فنعوذ بالله من عمى القلوب، وانطماس البصائر، ولبس الحق بالباطل.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري: 3166، ومسلم: 1064.
তিনি তাদের সম্পর্কে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তারা "কুরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না", এবং এটি তাদের মূর্খতা ও অন্তর্দৃষ্টির দুর্বলতারও প্রমাণ। কেননা প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না; ফলে তারা তা তাদের বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করে না, এর নসিহত ও সতর্কবাণীসমূহ বোঝে না এবং এর বিধান ও সীমারেখা সম্পর্কে অবগত নয়।

তাদের চরম মূর্খতা এবং তাওফিকের অভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য একটি হাদিসে তাদের সম্পর্কে যেমন বর্ণনা করেছেন: «তারা ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজকদের ছেড়ে দেবে» (১)। তারা আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) এবং তাঁর সাথে থাকা শ্রেষ্ঠ সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীদের (تابعين) রক্ত প্রবাহিত করা হালাল মনে করেছিল। এছাড়া তারা বড় বড় আলেম সাহাবীদের (صحابة) প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করত, তাঁদের ইলমের প্রতি বিমুখ ছিল এবং তাদের সামান্য পুঁজি ও দুর্বল বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ধারণা করত যে, তারা তাঁদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং বিষয়াবলীতে অধিকতর দূরদর্শী। আমরা অন্তরের অন্ধত্ব, অন্তর্দৃষ্টির বিলুপ্তি এবং সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

(১) বর্ণনা করেছেন বুখারি: ৩১৬৬, এবং মুসলিম: ১০৬৪।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الأول

تحريم اعتداء الإنسان على نفسه

نفس الإنسان ليست ملكًا له، وإنما هي ملك لخالقها وموجدها عز وجل، وهي أمانة عند صاحبها، سيسأل عنها يوم القيامة، أحفظها وقام بحقها، أم ضيعها وظلمها، ولم يقم بما يجب لها؟

ولهذا فلا يجوز للإنسان أن يقتل نفسه، ولا أن يغرر بها في غير مصلحة شرعية، ولا أن يتصرف بشيء من أجزائها إلا بما يعود عليها بالمصلحة، أو يدرأ عنها المفسدة، وليس له أن يُضر بنفسه بحجة أنه يتصرف فيما يخصه، وأنه لم يعتد على غيره، فإن اعتداءه على نفسه كاعتدائه على غيره عند الله تعالى (1)

قال الله تعالى: {وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} {وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا} [النساء: 29 - 30] .

فهذا نهي للمؤمنين أن يقتل بعضهم بعضًا (2) ، ونهي للإنسان عن قتل نفسه، سواء كان ذلك بتعمد قتلها مباشرة، أو بفعل الأخطار المفضية إلى التلف والهلاك، ثم توعّد من يقتل نفسه أو نفس غيره بغير حق بأن يصليه نار جهنم وساءت مصيرًا (3)

--------------------------------------------

(1) انظر: الإسلام وضرورات الحياة، ص: 63.

(2) قال القاسمي في تفسيره 5 / 1203: «فإن كل المؤمنين كنفس واحدة، والتعبير عنهم بالأنفس، للمبالغة في الزجر عن قتلهم، بتصويره بصورة ما لا يكاد يفعله عاقل» .

(3) انظر: تفسير السعدي 1 / 341، 342.
প্রথম পরিচ্ছেদ

মানুষের নিজের ওপর নিজের সীমালঙ্ঘনের অবৈধতা

মানুষের প্রাণ তার নিজস্ব মালিকানাধীন নয়, বরং তা তার স্রষ্টা ও মহান অস্তিত্ব দানকারীর মালিকানাধীন। এটি তার নিকট একটি আমানত, যার সম্পর্কে কিয়ামতের দিন তাকে প্রশ্ন করা হবে—তিনি কি তা সংরক্ষণ করেছেন এবং তার হক আদায় করেছেন, নাকি তা বিনষ্ট করেছেন ও তার ওপর জুলুম করেছেন এবং এর জন্য যা আবশ্যক ছিল তা পালন করেননি?

আর এই কারণেই মানুষের জন্য নিজেকে হত্যা করা বৈধ নয়, আর কোনো শরিয়াহসম্মত কল্যাণ ব্যতিরেকে নিজেকে বিপদাপন্ন করাও বৈধ নয়। এমনকি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনো একটির ক্ষেত্রেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা বৈধ নয়, যদি না তা তার জন্য কোনো উপকারে আসে অথবা তার থেকে কোনো অনিষ্ট দূর করে। আর নিজের ওপর হস্তক্ষেপ করছে এবং অন্যের ওপর তো সীমালঙ্ঘন করছে না—এই অজুহাতে নিজের ক্ষতি করার কোনো অধিকার তার নেই। কেননা মহান আল্লাহর নিকট নিজের ওপর সীমালঙ্ঘন করা অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করার মতোই (১)

মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর অতি দয়ালু। আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের বশবর্তী হয়ে এমনটি করবে, শীঘ্রই আমি তাকে আগুনে দগ্ধ করব; আর আল্লাহর পক্ষে এটি অত্যন্ত সহজ।} [আন-নিসা: ২৯ - ৩০] ।

এটি মুমিনদের একে অপরকে হত্যা করার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা (২), এবং মানুষের নিজের জীবন নাশের ব্যাপারেও একটি নিষেধাজ্ঞা; চাই তা সরাসরি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার মাধ্যমেই হোক অথবা বিনাশ ও ধ্বংসের দিকে ধাবিতকারী কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মাধ্যমেই হোক। এরপর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিজেকে অথবা অন্যকে হত্যা করবে, তাকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এবং তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য (৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইসলাম ওয়া দারুরাতুল হাইয়াহ, পৃষ্ঠা: ৬৩।

(২) কাসেমী তাঁর তাফসিরে (৫ / ১২০৩) বলেন: «কেননা সকল মুমিন একটি প্রাণের ন্যায়, আর তাঁদেরকে ‘আনফুস’ (প্রাণসমূহ) শব্দে সম্বোধন করার উদ্দেশ্য হলো তাঁদের হত্যা করার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা—এমন এক বিষয় চিত্রায়নের মাধ্যমে যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি করতে পারে না» ।

(৩) দেখুন: তাফসিরে সাদী ১ / ৩৪১, ৩৪২।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২১)
قال القرطبي: "أجمع أهل التأويل على أن المراد بهذه الآية النهي أن يقتل بعض الناس بعضًا، ثم لفظها يتناول أن يقتل الرجل نفسه بقصدٍ منه للقتل: في الحرص على الدنيا وطلب المال، بأن يحمل نفسه على الغرر المؤدّي إلى التلف. . أو في حال ضجر أو غضب، فهذا كله يتناوله النهي" (1)

وقد احتج بهذه الآية عمرو بن العاص رضي الله عنه حين أجنب ثم تيمم، وخشي إن اغتسل بالماء أن يهلك من شدة البرد، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم، وأقره على احتجاجه (2)

وقال تعالى: {وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [لبقرة: 195] .

والإلقاء: هو طرح الشيء، والمراد بالأيدي: الأنفس، عبّر بالبعض عن الكل، بناء على أن أكثر أفعال النفس بالأيدي، والتهلكة: مصدر من هلك يهلك هلاكًا وهُلْكًا وتهلكة، أي: لا توقعوا أنفسكم في الهلاك (3)

قال الشيخ عبد الرحمن السعدي: "والإلقاء باليد إلى التهلكة، يرجع إلى أمرين: لترْك ما أمر به العبد، إذا كان تركه موجبًا أو مقاربًا لهلاك البدن أو الروح (4)

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن 5 / 156-157، وانظر نحوه في فتح القدير 1 / 457.

(2) انظر: تفسير القاسمي 5 / 1203-1204، وتفسير ابن كثير 2 / 235، والحديث رواه أبو داود: 334، وأحمد في المسند 4 / 203-204، والحاكم 1 / 177، وصححه، ووافقه الذهبي، وصححه الألباني في «إرواء الغليل» 1 / 181، وقال: صححه النووي، وقواه ابن حجر.

(3) انظر: تفسير القاسمي 3 / 195، وفتح القدير 1 / 193.

(4) وذلك كترك الأكل أو الشرب، أو ترك السعي لتحصيلهما مع القدرة على ذلك، حتى يدركه الموت بسبب الجوع أو العطش، وكترك الجهاد في سبيل الله والإنفاق فيه، الموجب لتسلط الأعداء وقتلهم للمسلمين، وتركُ الجهاد والنفقةِ فيه، هو سبب نزول هذه الآية، انظر في سبب نزولها: تفسير ابن كثير 1 / 331، والجامع لأحكام القرآن 2 / 361-363، وفتح القدير 1 / 193، وقد قال الشوكاني: «والحق أن الاعتبار بعموم اللفظ، لا بخصوص السبب، فكل ما صدق عليه أنه تهلكة في الدين أو الدنيا، فهو داخل في هذا، وبه قال ابن جرير الطبري» .
ইমাম কুরতুবী বলেন: "ব্যাখ্যাকারগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো এক মানুষ অপর মানুষকে হত্যা করা হতে নিষেধ করা। অতঃপর এর শব্দগত অর্থ সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে হত্যার উদ্দেশ্যে নিজেকে হত্যা করে: দুনিয়ার লালসা এবং অর্থ উপার্জনের নেশায় নিজেকে এমন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে যা তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়... অথবা বিরক্তি কিংবা রাগের বশবর্তী হয়ে; এই সবগুলিই উক্ত নিষেধাঞ্জোর অন্তর্ভুক্ত।" (১)

এবং আমর ইবনুল আস (রাযি.) এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যখন তিনি অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন এবং তায়াম্মুম করেছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে যদি তিনি পানি দিয়ে গোসল করেন তবে তীব্র শীতের কারণে তিনি মারা যেতে পারেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেসে দিলেন এবং তার দলিল পেশ করাকে সমর্থন করলেন। (২)

মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা নিজেদের হাতকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না} [বাকারা: ১৯৫]।

'আল-ইলকা' হলো কোনো কিছু নিক্ষেপ করা। 'আইদি' (হাতসমূহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'আনফুস' (জীবন বা সত্তা); এখানে আংশিক শব্দ দ্বারা পূর্ণাঙ্গকে প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ মানুষের অধিকাংশ কাজ হাতের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়। আর 'তাহলুকা' শব্দটি 'হালাকা' ধাতু থেকে নির্গত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ: তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিপতিত করো না। (৩)

শায়খ আবদুর রহমান আস-সা'দী বলেন: "নিজের হাতে ধ্বংসের মুখে নিপতিত হওয়া দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়: বান্দার ওপর যা নির্দেশিত হয়েছে তা বর্জন করা, যদি সেই বর্জন শারীরিক বা আত্মিক ধ্বংসের কারণ হয় অথবা ধ্বংসের নিকটবর্তী করে দেয়।" (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ৫ / ১৫৬-১৫৭, এবং এর অনুরূপ দেখুন ফাতহুল কাদীর ১ / ৪৫৭-এ।

(২) দেখুন: তাফসীরে কাসেমী ৫ / ১২০৩-১২০৪, তাফসীরে ইবনে কাসীর ২ / ২৩৫। হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ: ৩৩৪, এবং আহমদ আল-মুসনাদ ৪ / ২০৩-২০৪, এবং আল-হাকিম ১ / ১৭৭ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আয-যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর আলবানী একে ইরওয়াউল গালীল ১ / ১৮১-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে: আন-নববী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং ইবনে হাজার একে শক্তিশালী (قوي) বলেছেন।

(৩) দেখুন: তাফসীরে কাসেমী ৩ / ১৯৫ এবং ফাতহুল কাদীর ১ / ১৯৩।

(৪) আর তা হলো যেমন আহার বা পানীয় বর্জন করা, অথবা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা উপার্জনের চেষ্টা বর্জন করা, যতক্ষণ না ক্ষুধা বা তৃষ্ণার কারণে মৃত্যু তাকে স্পর্শ করে। অনুরূপভাবে আল্লাহর পথে জিহাদ এবং তাতে ব্যয় করা বর্জন করা, যা শত্রুদের আধিপত্য বিস্তার এবং মুসলিমদের হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর জিহাদ ও তাতে ব্যয় বর্জন করাই হলো এই আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট; এর নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ১ / ৩৩১, আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ২ / ৩৬১-৩৬৩, এবং ফাতহুল কাদীর ১ / ১৯৩। আশ-শাওকানী বলেছেন: "সঠিক কথা হলো ধর্তব্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ), বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপট (خصوص السبب) নয়। সুতরাং দ্বীন বা দুনিয়ার ক্ষেত্রে যা কিছুই ধ্বংস হিসেবে গণ্য হবে, তা এই নিষেধাঞ্জোর অন্তর্ভুক্ত হবে; আর ইবনে জারীর আত-তাবারীও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২২)
وفعل ما هو سبب موصل إلى تلف النفس أو الروح، فيدخل في ذلك أمور كثيرة. . ومن ذلك: تغرير الإنسان بنفسه في مقاتلة، أو سفر مخوف، أو محل مَسبَعة، أو حيات، أو يصعد شجرًا أو بنيانًا خطرًا، أو يدخل تحت شيء فيه خطر، ونحو ذلك، فهذا ونحوه، ممن ألقى بيده إلى التهلكة" (1)

وجاءت السنة النبوية مؤكدةً لما في القرآن، ومنذرةً بالوعيد الشديد، والعذاب الأليم لمن قتل نفسه.

ففي الصحيحين عن جندب بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كان فيمن كان قبلكم رجل به جُرح، فجزع، فأخذ سكينًا، فحزّ بها يده، فما رقأ الدمُ حتى مات، قال الله تعالى: بادرني عبدي بنفسه، حرّمت عليه الجنة» (2)

--------------------------------------------

(1) تفسير السعدي 1 / 153.

(2) رواه البخاري: 3463، 1364، ومسلم: 113.
এমন কাজ করা যা প্রাণ বা আত্মার বিনাশের কারণ হয়, এর অন্তর্ভুক্ত অনেক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেকে বিপদে ফেলা, অথবা কোনো বিপজ্জনক সফর, অথবা হিংস্র জন্তু-জানোয়ার বা সাপ রয়েছে এমন স্থানে যাওয়া, অথবা বিপজ্জনক কোনো গাছ বা দালানে আরোহণ করা, কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কিছুর নিচে প্রবেশ করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। সুতরাং এই জাতীয় কাজ ঐ ব্যক্তির কাজের অন্তর্ভুক্ত যে নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।" (১)

সুন্নাহ নববী কুরআনের বিধানকে সুদৃঢ় করতে এবং যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ নিয়ে এসেছে।

সহিহাইন-এ জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে জখমপ্রাপ্ত হয়েছিল। সে ব্যথায় অস্থির হয়ে একটি ছুরি নিল এবং তা দিয়ে নিজের হাত কাটল। এরপর রক্তপাত বন্ধ হলো না, অবশেষে সে মারা গেল। মহান আল্লাহ বললেন: আমার বান্দা নিজের প্রাণের ব্যাপারে আমার সাথে তাড়াহুড়ো করেছে, আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।» (২)

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে সাদি ১ / ১৫৩।

(২) বুখারি: ৩৪6৩, ১৩৬৪ এবং মুসলিম: ১১৩।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي الصحيحين أيضًا عن أبي هريرة رضي الله عنه -قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قتل نفسه بحديدة، فحديدته في يده يتوجّأُ (1) بها في بطنه في نار جهنم خالدًا مخلدًا فيها أبدًا، ومن شرب سمًا، فقتل نفسه، فهو يتحساه (2) في نار جهنم خالدًا مخلدًا فيها أبدًا، ومن تردّى من جبل. (3) فقتل نفسه، فهو يتردى في نار جهنم خالدًا مخلدًا فيها أبدًا» . (4) وفي رواية للبخاري: «الذي يخنُقُ نفسه، يخنقها في النار، والذي يطعُن نفسه، يطعُنُها (5) في النار» . (6)

وفي الباب أحاديث كثيرة في الصحيحين وغيرهما.

وأما قوله صلى الله عليه وسلم: «في نار جهنم خالدًا مخلدًا فيها أبدًا» فقد أجاب عنه العلماء بأجوبة، منها: أنه محمول على من فعل ذلك مستحلًا له بلا تأويل، مع علمه بتحريمه، فإنه يصير باستحلاله لما حرمه الله كافرًا، والكافر مخلد في النار بلا ريب.

ومنها: أنه ورد مورد الزجر والتغليظ، وحقيقته غير مرادة.

--------------------------------------------

(1) قال ابن الأثير في جامع الأصول 10 / 217: «وجأته بالسكين: إذا ضربته بها، وهو يتوجأ بها، أي: يضرب بها نفسه» .

(2) يتحساه: أي يشربه في تمهل ويتجرعه. والسم: بضم السين وفتحها وكسرها، ثلاث لغات، والفتح أفصحهن، انظر: شرح النووي على مسلم 2 / 121، وفتح الباري 10 / 248.

(3) التردي: الوقوع من الموضع العالي، وقوله: (من تردى من جبل فقتل نفسه) أي: أسقط نفسه منه متعمدًا ذلك، وإلا فمجرد قوله (تردى) لا يدل على التعمد، انظر: جامع الأصول 10 / 217، وفتح الباري 10 / 248.

(4) رواه البخاري: 5778، ومسلم: 109.

(5) قال ابن حجر في الفتح 3 / 229: يطعنها: هو بضم العين المهملة، كذا ضبْطه في الأصول.

(6) رواه البخاري: 1365.
সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে সেই লোহার অস্ত্রটি তার হাতে থাকবে এবং তা দিয়ে সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে এবং সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল সেই বিষ অল্প অল্প করে পান করতে থাকবে এবং সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল একইভাবে উপর থেকে নিচে পড়তে থাকবে এবং সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে»। (৪) বুখারির একটি বর্ণনায় (رواية): «যে ব্যক্তি নিজের শ্বাসরোধ করবে, সে জাহান্নামেও নিজেকে শ্বাসরোধ করতে থাকবে; আর যে ব্যক্তি নিজেকে ছুরিকাঘাত করবে, সে জাহান্নামেও নিজেকে ছুরিকাঘাত (৫) করতে থাকবে»। (৬)

এই বিষয়ে সহিহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে অনেক হাদিস রয়েছে।

আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: «জাহান্নামের আগুনে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে» প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন উত্তর দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো: এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে কোনো ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে এবং এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও বিষয়টিকে বৈধ মনে করে তা করেছে। কেননা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে বৈধ মনে করার কারণে সে কাফির (كافر) হয়ে যায়, আর কাফির (كافر) নিঃসন্দেহে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে।

অন্য একটি উত্তর হলো: এটি মূলত ধমক ও কঠোরতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে, এর প্রকৃত অর্থ এখানে উদ্দেশ্য নয়।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসির জামি-উল উসুল (১০/২১৭) গ্রন্থে বলেছেন: «'ওয়াজাআতুহু বিস-সিক্কিন' অর্থ: যখন তুমি তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করো। আর 'ইয়াতাওয়াজ্জাউ বিহা' অর্থ: সে তা দিয়ে নিজেকে আঘাত করছে»।

(২) 'ইয়াতাহাসসাহু' অর্থ: সে তা ধীরে ধীরে এবং চুমুক দিয়ে পান করবে। 'সুম্ম' (বিষ) শব্দটি সীন অক্ষরে পেশ, জবর ও যের—এই তিন উচ্চারণরীতিতে পড়া যায়, তবে জবর দিয়ে পড়া সবচাইতে বিশুদ্ধ। দেখুন: মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ (২/১২১) এবং ফাতহুল বারি (১০/২৪৮)।

(৩) 'আত-তারাদি' অর্থ: উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যাওয়া। আর "যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিল" কথাটির অর্থ হলো: সে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে সেখান থেকে ফেলে দিল। তা না হলে কেবল 'পড়ে যাওয়া' শব্দটি ইচ্ছাকৃত হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। দেখুন: জামি-উল উসুল (১০/২১৭) এবং ফাতহুল বারি (১০/২৪৮)।

(৪) এটি বুখারি (৫৭৭৮) এবং মুসলিম (১০৯) বর্ণনা করেছেন।

(৫) ইবনে হাজার ফাতহুল বারি (৩/২২৯) গ্রন্থে বলেছেন: 'ইয়াতউনাহা' শব্দটিতে আইনের ওপর পেশ হবে, মূল পাণ্ডুলিপি বা উৎসগুলোতে (أصول) এভাবেই সংরক্ষিত আছে।

(৬) এটি বুখারি (১৩৬৫) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولكن هذا كما يقول أبو عبيد القاسم بن سلام: "من أفظع ما تُؤوِّل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، أن جعلوا الخبر عن الله وعن دينه وعيدًا لا حقيقة له، وهذا يؤول إلى إبطال العقاب، لأنه إن أمكن ذلك في واحد منها كان ممكنًا في العقوبات كلها". (1)

ومنها: أنه يستحق هذا الجزاء لشناعة جرمه، وهذا جزاؤه لو أراد الله أن يجازيه بما يكافئ جرمه، ولكنه تكرم على عباده الموحدين، فأخبر أنهم يخرجون من النار بتوحيدهم، وأنه لا يُخلِّد في النار من مات موحدًا. (2)

وقد رجّح ابن حجر هذا الجواب الأخير، فقال: " وأولى ما حمل عليه هذا الحديث ونحوه من أحاديث الوعيد، أن المعنى المذكور جزاء من فعل ذلك، إلا أن يتجاوز الله تعالى عنه ". (3)

--------------------------------------------

(1) الإيمان لأبي عبيد بتحقيق الألباني ص: 88.

(2) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم 2 / 125، والمغني 11 / 444، والمبدع 8 / 240، وفتح الباري 3 / 227.

(3) فتح الباري 10 / 248.
কিন্তু এটি যেমন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর করা সবচেয়ে জঘন্য অপব্যাখ্যাগুলোর একটি হলো যে, তারা আল্লাহ এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কিত সংবাদকে এমন শাস্তির হুমকি (وعيد) হিসেবে গণ্য করেছেন যার কোনো বাস্তবতা নেই। এটি মূলত শাস্তিকে বাতিল করার নামান্তর, কারণ যদি কোনো একটি শাস্তির ক্ষেত্রে এমনটি সম্ভব হয়, তবে তা সকল শাস্তির ক্ষেত্রেই সম্ভব হবে।" (১)

এর মধ্যে একটি ব্যাখ্যা হলো: সে তার অপরাধের ভয়াবহতার কারণে এই শাস্তির যোগ্য এবং এটিই হতো তার শাস্তি যদি আল্লাহ তাকে তার অপরাধের সমপরিমাণ প্রতিফল দিতে চাইতেন। কিন্তু তিনি তাঁর একত্ববাদী (موحد) বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাদের তাওহীদের কারণে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে এবং যে ব্যক্তি একত্ববাদী (موحد) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। (২)

ইবন হাজার এই শেষোক্ত উত্তরটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দিয়েছেন এবং বলেছেন: "এই হাদিস এবং এই জাতীয় শাস্তির হুমকি (وعيد) সংবলিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী ব্যাখ্যা হলো এই যে, উল্লিখিত বিষয়টি সেই কাজ সম্পাদনকারীর প্রাপ্য শাস্তি, তবে আল্লাহ তাআলা যদি তাকে ক্ষমা করে দেন (সেটি ভিন্ন বিষয়)।" (৩)

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদ রচিত আল-ঈমান, আলবানী এর তাহকীকসহ, পৃষ্ঠা: ৮৮।

(২) দেখুন: সহীহ মুসলিমের ওপর শারহু নববী ২/১২৫, আল-মুগনি ১১/৪৪৪, আল-মুবদি ৮/২৪০ এবং ফাতহুল বারী ৩/২২৭।

(৩) ফাতহুল বারী ১০/২৪৮।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويدل لذلك قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] ، فبين أن ما دون الشرك من الكبائر، ومنها القتل بغير حق، لا يخلد صاحبها في النار، بل هو تحت مشيئة الله تعالى، فإن شاء غفر له، وإن شاء عذبه ثم يكون مآله إلى الجنة، ويؤيده حديث عبادة بن الصامت، فإن النبي صلى الله عليه وسلم بعد أن بايعهم على ترك القتل والزنا وغيرهما قال: «فمن وفى منكم فأجره على الله، ومن أصاب شيئًا من ذلك فعوقب به فهو كفارة له، ومن أصاب شيئًا من ذلك فستره الله عليه فأمره إلى الله إن شاء عفا عنه وإن شاء عذبه» . (1) ويؤيده قصة الذي قتل تسعة وتسعين نفسًا ثم أكمل المائة، ولما هاجر إلى القرية الصالحة، أدركه الموت بين القريتين فقبضته ملائكة الرحمة. (2) والقصة معلومة مشهورة. (3)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري: 6416، ومسلم: 1709.

(2) رواه البخاري: 3283، ومسلم: 2766.

(3) انظر: المغني 11 / 444، وفتح الباري 12 / 188، وقد بسط القول في هذه المسألة العلامة الشوكاني في «نيل الأوطار» 7 / 208212.
এর সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রমাণ বহন করে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এর নিম্ন পর্যায়ের অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} [আন-নিসা: ৪৮]। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিরক অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ের বড় গুনাহসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, এগুলোর কারণে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না; বরং তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন, আর চাইলে শাস্তি দেবেন, অতঃপর তার চূড়ান্ত গন্তব্য হবে জান্নাত। আর উবাদাহ ইবনুস সামিত বর্ণিত হাদিস একে সমর্থন করে; নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নিকট থেকে হত্যা, ব্যভিচার ও অন্যান্য বিষয় বর্জনের ওপর বায়আত গ্রহণ করার পর বলেছিলেন: «তোমাদের মধ্যে যে এই অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং তার জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, তবে তা তার জন্য কাফফারা স্বরূপ। আর যে এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা গোপন রাখবেন, তবে তার বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন অথবা চাইলে শাস্তি দিতে পারেন»। (১) সেই ব্যক্তির কাহিনীও একে সমর্থন করে যে নিরানব্বই জনকে এবং পরে একশ পূর্ণ করে হত্যা করেছিল। যখন সে পুণ্যবানদের জনপদের দিকে হিজরত করছিল, তখন দুই জনপদের মধ্যবর্তী স্থানে তার মৃত্যু উপস্থিত হলো এবং রহমতের ফেরেশতারা তার রূহ কবজ করল। (২) আর এই কাহিনীটি সুবিদিত ও প্রসিদ্ধ (مشهورة)। (৩)

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি: ৬৪১৬ এবং মুসলিম: ১৭০৯।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি: ৩২৮৩ এবং মুসলিম: ২৭৬৬।

(৩) দেখুন: আল-মুগনি ১১/৪৪৪, ফাতহুল বারি ১২/১৮৮। আল্লামা শাওকানি এই মাসআলায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁর ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থে ৭/২০৮-২১২।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذا ما رجحه ابن القيم أيضًا، حيث أورد أقوال العلماء في المسألة ثم قال: "وقالت فرقة سابعة: هذه النصوص وأمثالها مما ذكر، فيه المقتضي للعقوبة، ولا يلزم من وجود مقتضى الحكم وجوده، فإن الحكم إنما يتم بوجود مقتضيه وانتفاء مانعه، وغاية هذه النصوص الإعلام بأن كذا سببٌ للعقوبة ومقتضٍ لها، وقد قام الدليل على ذكر الموانع، فبعضها بالإجماع، وبعضها بالنص، فالتوبة مانع بالإجماع، والتوحيد مانع بالنصوص المتواترة التي لا مدفع لها، والحسنات العظيمة الماحية مانعة، والمصائب الكبار المكفرة مانعة، وإقامة الحدود في الدنيا مانع بالنص، ولا سبيل إلى تعطيل هذه النصوص، فلا بد من إعمال النصوص من الجانبين". (1)

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين 1 / 396 397، وانظر نحوه في: شرح النووي على صحيح مسلم 17 / 83، 18 / 159.

আর ইবনুল কাইয়্যিমও একেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি এই বিষয়ে আলেমদের অভিমতসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: "একটি সপ্তম দল বলেছে: এই সকল নস (نصوص) এবং এই জাতীয় যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে শাস্তির দাবিদার (مقتضي) বিদ্যমান। তবে হুকুমের দাবিদার (مقتضى الحكم) বিদ্যমান থাকলেই যে সেই হুকুম কার্যকর হওয়া আবশ্যক হবে তা নয়। কারণ, কোনো বিধান বা হুকুম কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন তার দাবিদার (مقتضي) উপস্থিত থাকে এবং তার প্রতিবন্ধক (مانع) অনুপস্থিত থাকে। এই সকল নসের (نصوص) মূল লক্ষ্য হলো এটি জানানো যে, অমুক বিষয়টি শাস্তির কারণ এবং তার দাবিদার (مقتضٍ)। আর প্রতিবন্ধকসমূহ (موانع) উল্লেখ করার ব্যাপারে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যার কিছু সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) দ্বারা সাব্যস্ত এবং কিছু নস (نص) দ্বারা সাব্যস্ত। সুতরাং তওবা হলো সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) অনুযায়ী একটি প্রতিবন্ধক (مانع), আর তাওহিদ হলো এমন সব অবিচ্ছিন্ন (متواترة) নস (نصوص) দ্বারা সাব্যস্ত প্রতিবন্ধক যা খণ্ডন করার কোনো অবকাশ নেই। তদ্রূপ গুনাহ মিচনকারী মহান নেক আমলসমূহ প্রতিবন্ধক, গুনাহর কাফফারা স্বরূপ আপতিত বড় বড় বিপদ-আপদসমূহ প্রতিবন্ধক এবং দুনিয়াতে হদ কার্যকর করাও নস (نص) অনুযায়ী একটি প্রতিবন্ধক (مانع)। আর এই নসসমূহকে (نصوص) অকার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই, তাই উভয় দিকের নসসমূহের (نصوص) ওপর আমল করা আবশ্যক।" (১)

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন ১ / ৩৯৬ ৩৯৭, এবং অনুরূপ দেখুন: সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শরহ ১৭ / ৮৩, ১৮ / ১৫৯।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد روى مسلم عن جابر رضي الله عنه قال: «لما هاجر النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة، هاجر إليه الطفيل بن عمرو، وهاجر معه رجل من قومه، فاجتووا المدينة. (1) فمرض، فجزع، فأخذ مشاقص له. (2) فقطع بها براجمه. (3) فشخبت يداه (4) حتى مات، فرآه الطفيل بن عمرو في منامه، فرآه وهيئتُه حسنة، ورآه مغطيًا يديه، فقال له: ما صنع بك ربك؟ فقال: غفر لي بهجرتي إلى نبيه صلى الله عليه وسلم، فقال: مالي أراك مغطيًا يديك؟ قال: قيل لي: لن نصلح منك ما أفسدت.

فقصها الطفيل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اللهم ولِيَديه فاغفر) .» (5)

--------------------------------------------

(1) الاجتواء: أن تستوخم المكان ولا يوافقك، قاله ابن الأثير في جامع الأصول 10 / 222، وقال النووي في شرحه على صحيح مسلم 2 / 131: «ومعناه: كرهوا المقام بها لضجر، ونوع من سقم. قال الخطابي: وأصله من الجوى، وهو داء يصيب الجوف» .

(2) جمع مشقص، وهو سهم له نصل عريض، وقيل: طويل، وقيل: ما طال وعرض، قال النووي: وهذا هوالظاهر هنا، لقوله (قطع بها براجمه) ، ولا يحصل ذلك إلا بالعريض، انظر: شرح النووي على صحيح مسلم 2 / 131، وجامع الأصول 10 / 222.

(3) البراجم بفتح الباء: هي مفاصل الأصابع، واحدتها برجمة، انظر: شرح النووي على صحيح مسلم 2 / 131، وجامع الأصول 10 / 222.

(4) شخبت بفتح الشين والخاء أي: سال دمهما، وقيل: سال بقوة، انظر: شرح النووي على صحيح مسلم 2 / 131.

(5) رواه مسلم: 116.
ইমাম মুসলিম জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন নবী (সা.) মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তুফায়েল ইবনে আমর তাঁর কাছে হিজরত করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তিও হিজরত করলেন। অতঃপর মদীনার আবহাওয়া তাদের নিকট প্রতিকূল (اجتووا) মনে হলো। (১) ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং অস্থির হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে থাকা কিছু প্রশস্ত তীরের ফলক (مشاقص) নিলেন। (২) তা দিয়ে তিনি তাঁর আঙুলের জোড়াগুলো (براجم) কেটে ফেললেন। (৩) ফলে তাঁর হাত দুটি থেকে রক্ত প্রবাহিত হলো (شخبت) (৪) এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মারা গেলেন। এরপর তুফায়েল ইবনে আমর তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি তাঁকে সুন্দর অবস্থায় দেখলেন, তবে দেখলেন যে তিনি তাঁর হাত দুটি ঢেকে রেখেছেন। তিনি তাঁকে বললেন: 'আপনার প্রতিপালক আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?' তিনি বললেন: 'নবী (সা.)-এর নিকট হিজরত করার কারণে তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।' তিনি বললেন: 'আমি কেন আপনাকে আপনার হাত দুটি ঢেকে রাখতে দেখছি?' তিনি বললেন: 'আমাকে বলা হয়েছে: আপনি আপনার যা নষ্ট করেছেন, আমরা তা সংশোধন করব না'।"

অতঃপর তুফায়েল (রা.) এই ঘটনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "হে আল্লাহ! তাঁর হাত দুটির জন্যও ক্ষমা করে দিন।" (৫)

--------------------------------------------

(১) আল-ইজতিওয়া (الاجتواء): কোনো স্থান অস্বাস্থ্যকর মনে হওয়া এবং তা অনুকূল না হওয়া। ইবনুল আসির 'জামি আল-উসুল' (১০/২২২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২/১৩১) বলেছেন: "এর অর্থ হলো: বিষণ্ণতা ও এক প্রকার অসুস্থতার কারণে সেখানে অবস্থান করা অপছন্দ করা। খাত্তাবি বলেছেন: এর মূল শব্দ হলো আল-জাওয়া (الجوى), যা শরীরের অভ্যন্তরে হওয়া একটি রোগ।"

(২) এটি মিশকাস (مشقص)-এর বহুবচন, যা এমন এক প্রকার তীর যার ফলক প্রশস্ত। কেউ বলেছেন: লম্বা ফলক। আবার কেউ বলেছেন: যা লম্বা ও প্রশস্ত উভয়ই। নববী বলেন: এখানে এটাই স্পষ্ট, কারণ তাঁর উক্তি (তা দিয়ে তিনি তাঁর আঙুলের জোড়াগুলো কেটে ফেললেন) প্রশস্ত ফলক ছাড়া সম্ভব নয়। দেখুন: সহিহ মুসলিম-এর ওপর নববীর ব্যাখ্যা (২/১৩১) এবং জামি আল-উসুল (১০/২২২)।

(৩) আল-বুরাজিম (البراجم) 'বা' বর্ণে ফাতহা দিয়ে: এগুলো হলো আঙুলের জোড়াসমূহ, এর একবচন হলো বুরাজমাহ (برجمة)। দেখুন: সহিহ মুসলিম-এর ওপর নববীর ব্যাখ্যা (২/১৩১) এবং জামি আল-উসুল (১০/২২২)।

(৪) শাখাবাত (شخبت) 'শীন' এবং 'খা' বর্ণে ফাতহা দিয়ে, অর্থাৎ: হাত দুটি থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে। কেউ বলেছেন: প্রবল বেগে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে। দেখুন: সহিহ মুসলিম-এর ওপর নববীর ব্যাখ্যা (২/১৩১)।

(৫) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ১১৬।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا الحديث يدل على تحريم قتل الإنسان نفسه، وعظم عقوبته في الآخرة، كما يدل على أن من قتل نفسه غير مستحل لذلك، فإنه لا يعد كافرًا، ولذلك بوّب عليه النووي بقوله: "باب الدليل على أن قاتل نفسه لا يكفر"، ثم قال في شرح الحديث: "فيه حجة لقاعدة عظيمة لأهل السنة: أن من قتل نفسه، أو ارتكب معصية غيرها، ومات من غير توبة، فليس بكافر، ولا يقطع له بالنار، بل هو في حكم المشيئة. . وهذا الحديث شرح للأحاديث التي قبله الموهم ظاهرها تخليد قاتل النفس وغيره من أصحاب الكبائر في النار". (1)

وكما لا يجوز إتلاف النفس بالكلية، فلا يجوز إيلامها، أو إتلاف عضو من أعضائها، إلا لمصلحة تربو على مفسدة الإيلام والقطع.

فإن احتاج لقطع عضو من بدنه، أو كيّ جزء منه، أو غرز إبرة فيه، لمصلحة يرجوها لبدنه، أو لدفع مفسدة يخشى منها عليه، فلا حرج في ذلك، لأن مصلحته عائدة لحماية النفس، وهو داخل في باب ارتكاب أخف الضررين، لدفع أعلاهما، أو جلب أعلى المصلحتين بتفويت أدناهما، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) شرح النووي على صحيح مسلم 2 / 131-132.
এই হাদিসটি মানুষের আত্মহত্যা হারাম হওয়ার এবং পরকালে এর ভয়াবহ শাস্তির প্রমাণ বহন করে। তেমনিভাবে এটি এ কথাও প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি আত্মহত্যার বিষয়টিকে বৈধ মনে না করে নিজেকে হত্যা করে, সে কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য হবে না। এ কারণেই ইমাম নববী এই হাদিসের ওপর এভাবে পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন: "পরিচ্ছেদ: আত্মহত্যা কারী কাফির (كافر) না হওয়ার প্রমাণ"। অতঃপর তিনি হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এতে আহলে সুন্নাতের একটি মহান মূলনীতির সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে যে: যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করল কিংবা অন্য কোনো পাপে লিপ্ত হলো এবং তওবা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করল, সে কাফির (كافر) নয়। তার জন্য সুনিশ্চিতভাবে জাহান্নামের ফয়সালা দেওয়া যাবে না, বরং সে আল্লাহর ইচ্ছার (مشيئة) অধীন থাকবে। আর এই হাদিসটি পূর্ববর্তী ওই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যাস্বরূপ, যার বাহ্যিক রূপ থেকে আত্মহত্যা কারী এবং অন্যান্য কবিরা গুনাহে (الكبائر) লিপ্ত ব্যক্তিদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী (تخليد) হওয়ার ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।" (১)

যেহেতু জীবনকে পুরোপুরি ধ্বংস করা জায়েজ নয়, সেহেতু শরীরকে কষ্ট দেওয়া কিংবা শরীরের কোনো অঙ্গ নষ্ট করাও জায়েজ নয়; তবে যদি এর কল্যাণ (مصلحة) শরীরের কোনো অংশ কাটা বা ব্যথার ক্ষতির (مفسدة) চেয়ে বেশি হয়, তবে তা বৈধ।

সুতরাং যদি শরীরের কোনো অঙ্গ কাটার প্রয়োজন হয়, অথবা কোনো অংশ দহন (كي) করার দরকার পড়ে, কিংবা শরীরে সুঁই ফুটানোর প্রয়োজন হয়—শরীরের কোনো কল্যাণের (مصلحة) আশায় কিংবা কোনো সম্ভাব্য ক্ষতি (مفسدة) প্রতিহত করার জন্য—তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এর উপকারিতা প্রাণের সুরক্ষার সাথেই সম্পৃক্ত। এটি 'দুটি ক্ষতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিটি (أخف الضررين) বেছে নেওয়া' নামক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, যার উদ্দেশ্য হলো বড় ক্ষতিটি প্রতিহত করা; অথবা ছোট কল্যাণটি বিসর্জন দিয়ে বৃহত্তর কল্যাণ (المصلحتين) অর্জন করা। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) শারহে নববী আলা সহিহ মুসলিম ২ / ১৩১-১৩২।
(খণ্ড: ১) আসারুল ইলমিশ শরয়ী ফী মুওয়াজাহাতিল উনফি ওয়াল উদওয়ান (পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الثاني

تحريم اعتداء الإنسان على غيره

إذا كان اعتداء الإنسان على نفسه بتلك المثابة من التحريم والتغليظ في العقوبة، فإن اعتداءه على غيره أشد تحريمًا، وأعظم إثمًا، وأغلظ عقوبة، وأسوأ عاقبة.

وقد جاءت نصوص كثيرة في الكتاب والسنة، تحذر من ذلك تحذيرًا شديدًا، وتبين سوء عاقبته، وعظم عقوبة فاعله.

قال الله تعالى: {وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ} [الإسراء: 33] ، وهذه الآية نهي عن قتل النفس المحرمة، مؤمنةً كانت أو معاهدةً إلا بالحق الذي يوجب قتلها. (1)

وقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَأً} [النساء: 92] ، وقال تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا} [النساء: 93] .

فأي وعيد أعظم من هذا الوعيد؟! إنه لوعيد تقشعر منه جلود المؤمنين، وتنخلع من هوله قلوبهم، ويوجد في نفوسهم رادعًا قويا، ووازعًا ذاتيًا، يمنعهم من التعدي على غيرهم، وإزهاق نفوسهم ظلمًا وعدوانًا.

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرطبي 7 / 133.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

অন্যের ওপর মানুষের আক্রমণের অবৈধতা

যদি নিজের ওপর মানুষের আক্রমণ হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে এবং শাস্তির কঠোরতার ক্ষেত্রে সেই পর্যায়ের হয়ে থাকে, তবে অন্যের ওপর তার আক্রমণ আরও কঠোরভাবে হারাম, আরও বড় গুনাহ, আরও কঠিন শাস্তিদায়ক এবং পরিণতির দিক দিয়ে অত্যন্ত জঘন্য।

কুরআন ও সুন্নাহতে এমন বহু পাঠ বা নস (نصوص) বর্ণিত হয়েছে, যা এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করে এবং এর মন্দ পরিণতি ও সম্পাদনকারীর জন্য শাস্তির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন, তাকে তোমরা হত্যা করো না যথাযথ কারণ ব্যতীত} [আল-ইসরা: ৩৩]। এই আয়াতটি সেই সকল নিষিদ্ধ প্রাণ হত্যা করা থেকে নিষেধ করে, চাই সে মুমিন হোক অথবা চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম (معاهدة); তবে শরয়ি অধিকার বা যথার্থ কারণ ব্যতীত যা তাকে হত্যা করাকে আবশ্যক করে। (১)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর কোনো মুমিনের জন্য এটি সংগত নয় যে সে অন্য মুমিনকে হত্যা করবে, তবে ভুলবশত হলে ভিন্ন কথা} [আন-নিসা: ৯২]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে; আর আল্লাহ তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত রেখেছেন} [আন-নিসা: ৯৩]।

এই সতর্কবাণীর চেয়ে বড় আর কোনো সতর্কবাণী হতে পারে কি?! এটি এমন এক সতর্কবাণী যা শুনে মুমিনদের গায়ের চামড়া শিউরে ওঠে, এর ভয়াবহতায় তাদের অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং এটি তাদের মনে এক শক্তিশালী প্রতিবন্ধক ও স্বকীয় নিয়ামক তৈরি করে, যা তাদের অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করা এবং অন্যায় ও শত্রুতার বশবর্তী হয়ে প্রাণহানি ঘটানো থেকে বিরত রাখে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি ৭ / ১৩৩।