(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
إرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: إرشاد الفحول إلي تحقيق الحق من علم الأصول
المؤلف: محمد بن علي بن محمد بن عبد الله الشوكاني اليمني (ت 1250هـ)
المحقق: الشيخ أحمد عزو عناية، دمشق - كفر بطنا
قدم له: الشيخ خليل الميس والدكتور ولي الدين صالح فرفور
الناشر: دار الكتاب العربي
الطبعة: الطبعة الأولى 1419هـ - 1999م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলমুল উসূল হতে সত্য উদ্ঘাটনে বিজ্ঞজনদের জন্য নির্দেশনা শাখা: উসূলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি)
বই: ইলমুল উসূল হতে সত্য উদ্ঘাটনে বিজ্ঞজনদের জন্য নির্দেশনা
লেখক: মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাওকানি আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি)
সম্পাদক: শেখ আহমদ আজজু ইনায়াহ, দামেস্ক - কাফর বাতনা
ভূমিকা লিখেছেন: শেখ খলিল আল-মাইস এবং ডক্টর ওলি উদ্দিন সালেহ ফারফুর
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
المقدمة
مقدمة سماحة مفتي زحلة والبقاع والغربي الشيخ خليل الميس…مقدمة سماحة مفتي زحلة والبقاع الغربي الشيخ خليل الميس:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده محمد، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فيعتبر القرن الخامس عشر الهجري من عصور نهضة العلوم الشرعية، بما في ذلك علم أصول الفقه. حيث توجهت عناية العلماء به في منهجين.
الأول: التصنيف في هذا الفن، بما في ذلك الأطروحات العلمية المقدمة من الباحثين لنيل درجات الماجستير والدكتوراه في الشريعة الإسلامية، وهنا تشوقت النفوس إلى الاستزادة منه، وتعالت النداءات إلى تجديده تحت عنوان "تأصيل الأصول".
الثاني: التوجه نحو تحقيق كتب التراث لتوفير المادة العلمية بين يدي الباحثين، وتسهيل الحصول على تلك الكنوز التي كانت دفينة في خزائن المكتبات العامة والخاصة قرونا طويلة.
وهنا تشوقت النفوس للوقوف على محتويات تلك الذخائر العلمية، بما في ذلك المطبوع منها، وهو أحوج إلى التحقيق العلمي من المخطوط، ومن بين تلك الأسفار العلمية النفيسة كتاب "إرشاد الفحول للإمام الشوكاني".
ولما كان هذا العلم لا تناله إلا أيدي الفحول من العلماء؛ لأنه كما قال الإمام الغزالي: علم ازدوج فيه العقل والنقل، كان من نافلة القول إن الاعتناء بتلك الكتب لا يقوى عليها إلا النخبة من العلماء وأهل التحقيق. حيث لا يكفي أن يعزى القول إلى مصدره، بل لا بد من تعقب المصنف، واقتناص غرر الكلام، ودرر القواعد، والتعليق عليها كلما اقتضى الأمر.
وهنا تبرز غزائم الرجال في إماطة اللثام عن مكنون النص، ومصادره؛ لنشرف على التراث، ولو من خلال كتاب واحد.
كيف لا، والشوكاني هو المبرز في هذا الميدان، وهو الأمين في النقل، والفقيه الأصولي في اختيار الراجح من القول، والمتبحر في تحرير المذاهب، وإنه بحق لنقرأ من خلال إرشاده
প্রথম খণ্ডভূমিকাজহলে, বাক্কা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় মুফতি মহামান্য শাইখ খলিল আল-মাইসের ভূমিকা…জহলে, বাক্কা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় মুফতি মহামান্য শাইখ খলিল আল-মাইসের ভূমিকা:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে কোনো নবী নেই—মুহাম্মাদ (সা.)—এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের ওপর।
অতঃপর:
পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দীকে উসুলে ফিকহসহ শরয়ী জ্ঞানসমূহের পুনর্জাগরণের অন্যতম যুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে আলেমগণের মনোযোগ এর প্রতি দুটি পদ্ধতিতে নিবদ্ধ হয়েছে।
প্রথমত: এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করা, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইসলামী শরিয়াহর ওপর মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য গবেষকদের উপস্থাপিত বিভিন্ন তাত্ত্বিক অভিসন্দর্ভ; এক্ষেত্রে এই শাস্ত্র হতে আরও বেশি ইলম অর্জনের জন্য মন উন্মুখ হয়ে ওঠে এবং "উসুলের মৌলিকায়ন" শিরোনামে একে নতুনভাবে সংস্কার করার আহ্বান জোরালো হয়।
দ্বিতীয়ত: গবেষকদের নিকট ইলমি উপাদান সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এবং দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহে লুকায়িত থাকা সেই রত্নভাণ্ডারগুলো সহজে লাভের পথ প্রশস্ত করতে আমাদের ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) দিকে অগ্রসর হওয়া।
আর এখানেই সেই ইলমি সঞ্চয়গুলোর বিষয়বস্তু জানার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে, যার মধ্যে মুদ্রিত গ্রন্থগুলোও শামিল, যা পাণ্ডুলিপির তুলনায় বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার (তাহকিক) অধিক মুখাপেক্ষী। আর এই মূল্যবান ইলমি গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি হলো ইমাম শাওকানি রচিত "ইরশাদুল ফুহুল"।
যেহেতু এই ইলম কেবল প্রাজ্ঞ ও দক্ষ আলেমগণই অর্জন করতে পারেন; কারণ ইমাম গাজালী যেমনটি বলেছেন: এটি এমন এক শাস্ত্র যাতে আকল (বিবেক) ও নকল (শ্রুত প্রমাণ)-এর সমন্বয় ঘটেছে। তাই এটি বলাই বাহুল্য যে, এই জাতীয় গ্রন্থাবলীর প্রতি যত্নশীল হওয়া কেবল বিজ্ঞ আলেম ও গবেষকগণের পক্ষেই সম্ভব। যেখানে কোনো উক্তিকে কেবল তার উৎসের দিকে নিসবত করাই যথেষ্ট নয়, বরং গ্রন্থকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করা, শ্রেষ্ঠ আলোচনা ও দুর্লভ মূলনীতিসমূহ আহরণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান করা আবশ্যক।
আর এখানেই মূল পাঠের অন্তর্নিহিত রহস্য ও এর উৎসসমূহ উন্মোচনে ব্যক্তিদের দৃঢ় সংকল্প ফুটে ওঠে; যাতে আমরা আমাদের ইলমি ঐতিহ্যের সুধা গ্রহণ করতে পারি, তা কেবল একটি গ্রন্থের মাধ্যমে হলেও।
তা হবেই না কেন, যখন ইমাম শাওকানি এই ময়দানের একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিশ্বস্ত, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞ ফকিহ ও উসুলিবিদ এবং বিভিন্ন মাযহাবের বিশ্লেষণে এক অতল সমুদ্র। আর আমরা প্রকৃতপক্ষে তাঁর "ইরশাদ"-এর মাধ্যমেই আমাদের ঐতিহ্যকে উপলব্ধি করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
علم الأصول على اختلاف مناهجه، ومدارسه.
وهنا تتجلى عناية فضلية الباحث المحقق الشيخ أحمد عزو عناية لتحقيق هذا السفر الجليل، وقد اشتق جهده من اسمه، فتوافق الاسم والمسمى، وكان إخراج هذا الكتاب بحلة جديدة، وباهتمام مميز وكأني به يرشد مرة ثانية القارئ إلى مصادر هذا الكتاب من خلال تحقيقاته، واستدراكاته وتعليقاته فيلبس "إرشاد الفحول" حلة جديدة ستكون بإذن الله تعالى واحدة من مآثر المحقق الفاضل وتكرمة للمصنف الكبير، وقنية المنية لكل قارئ شغوف بهذا العلم من خلال الكتاب المحقق.
والله ولي التوفيق
وكتبه
مفتي زحلة والبقاع الغربي الشيخ خليل الميس
9/ شوال 1417هـ
16/ شباط 1997م
উসুল শাস্ত্রের ইলম, এর বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি ও মাযহাবের ভিন্নতা সহকারে।
আর এখানে এই মহান গ্রন্থটি সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে প্রথিতযশা গবেষক ও মুহাক্কিক শেখ আহমদ আজ্জু ইনায়াহর বিশেষ যত্নশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টা যেন তাঁর নাম থেকেই উৎসারিত, ফলে নামের সাথে কর্মের সার্থকতা ফুটে উঠেছে। কিতাবটি এক নতুন আঙ্গিকে এবং বিশেষ গুরুত্বের সাথে উপস্থাপিত হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন তিনি তাঁর গবেষণা, সংযোজন ও টীকা-টিপ্পনীর মাধ্যমে পাঠককে পুনরায় এই কিতাবের মূল উৎসসমূহের দিকে পথনির্দেশ করছেন। এর ফলে 'ইরশাদুল ফুহুল' গ্রন্থটি এমন এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে যা ইনশাআল্লাহ এই বিদগ্ধ মুহাক্কিকের শ্রেষ্ঠ কীর্তিসমূহের অন্যতম এবং মহান লেখকের প্রতি একটি বিশেষ সম্মাননা হিসেবে গণ্য হবে। আর এই সম্পাদিত পাণ্ডুলিপিটি হবে এই ইলমের প্রতি অনুরাগী প্রত্যেক পাঠকের জন্য এক কাঙ্ক্ষিত সম্পদ।
আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
এটি লিখেছেন:
জাহলা ও পশ্চিম বেকা অঞ্চলের মুফতি শেখ খলিল আল-মাইস
৯ শাওয়াল ১৪১৭ হিজরি
১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الدكتور ولي الدين صالح فرفور الدمشقي:بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ملهم الوصول إلى علم الأصول، والصلاة والسلام على سيدنا محمد البحر الزخار ونور الأنوار ومعدن الأسرار النبي المختار وعلى آله وصحبه الطيبين الأبرار.
اعلم أن الشريعة الإسلامية خاتمة الشرائع السماوية، المنزلة على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم جامعة بين المعقول والمنقول، مشتملة على أصول وفروع.
وعلم الأصول: من أجل العلوم شرفًا وأعظمها قدرًا، إذ إنه القطب الذي تدور عليه أحكام الشريعة، يرتقي بالإنسان من أرض التقليد، إلى سماء الاجتهاد، مع ملكة الاستنباط.
وعلم الخلاف: من أهم العلوم، تتجسد فيه عقلية العلماء وفقاهة الفقهاء بما يخدم مصالح الأمة الإسلامية على مر الأزمان، ويكفل سعادتها ورقيها من بين سائر الأمم، تتجلى فيه أسرار الرحمة الإلهية لهذه الأمة المحمدية. فاختلافهم رحمة جامعة، واتفاقهم حجة قاطعة، وإن علماء الشريعة ما زالوا يتوسعون في هذا العلم ومداركه، ويقعدون قواعده، ويبنون مسائله، ويوضحون دلائله، ويخرجون فروعه على أصول صحيحه وكليات صريحة من كتاب وسنة متواترة.
وإذا كان الوحي الظاهر قد انقطع نزوله، فإن الوحي الباطن ما زال نابضا لدى المجتهدين إلى ما شاء الله، له محاكمات في واقعات، وتأثيرات عن انفعالات، عالمه الأمر، ميزانه الفهم، ميزابه الفضل، تكمن فيه العلوم والمعارف، خص الله الشريعة الإسلامية به من بين سائر الشرائع، به يميز المجتهد الصحيح من السقيم، ويعرف الأدلة القطعية والظنية والراجح والمرجوح، وتقيس الأمور بأشباهها ونظائرها قياسا شرعيًّا صحيحًا على ضوابط علمية اجتهادية، حتى يسمو بهذه الشريعة إلى سماء الإرادة معرجا من شمس الوصول إلى مغارب الأصول على مر الدهور.
وبعد: فإن كتاب إرشاد الفحول لمؤلفه الإمام محمد بن علي بن محمد بن عبد الله الشوكاني، الصنعاني، اليماني، من الكتب المفيدة في هذا المجال، لما احتوى عليه من كثرة النقول وعزو الأقوال إلى قائليها من أئمة هذا العلم.
ولقد سلك مؤلفه مسلك المتكلمين والفقهاء، واعتنى بإيراد القواعد والمسائل الأصولية
ডক্টর ওয়ালীউদ্দীন সালেহ ফারফুর আল-দিমাশকির ভূমিকা:পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইলমুল উসূলে (মূলনীতি শাস্ত্রে) পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা দানকারী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি এক উত্তাল সমুদ্র, নূরের নূর এবং রহস্যের আকর, সেই মনোনীত নবী; এবং তাঁর পবিত্র ও নেককার পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি।
জেনে রাখুন যে, ইসলামি শরীয়াহ হলো আসমানি শরীয়াহসমূহের পরিসমাপ্তি, যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে; এটি আকল (যুক্তি) ও নকল (বর্ণনা)-এর মধ্যে সমন্বয়কারী এবং মূলনীতি (উসূল) ও উপশাখা (ফুরু) সম্বলিত।
আর ইলমুল উসূল (মূলনীতি শাস্ত্র) হলো সম্মানের দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম মহান ইলম; কারণ এটি সেই কেন্দ্রবিন্দু যাকে ঘিরে শরীয়তের বিধানাবলি আবর্তিত হয়। এটি মানুষকে তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণের নিম্নভূমি থেকে ইজতিহাদের উচ্চাকাশে উন্নীত করে এবং সাথে সাথে মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) যোগ্যতা প্রদান করে।
আর ইলমুল খিলাফ (মতামতের ভিন্নতা বিষয়ক শাস্ত্র) হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলম, যাতে আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা এবং ফকিহদের প্রজ্ঞা মূর্ত হয়ে ওঠে, যা সর্বকালে মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষা করে এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মাঝে এই উম্মাহর সৌভাগ্য ও উন্নতি নিশ্চিত করে। এতে এই উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার জন্য আল্লাহর রহমতের রহস্যগুলো ফুটে ওঠে। সুতরাং তাদের মতপার্থক্য হলো এক ব্যাপক রহমত, আর তাদের ঐক্যমত হলো এক চূড়ান্ত অকাট্য দলিল। শরীয়াহর আলেমগণ নিরন্তর এই ইলম ও এর উপলব্ধিগুলোকে প্রসারিত করে চলেছেন, এর মূলনীতিগুলো বিন্যস্ত করছেন, এর মাসআলাগুলো গঠন করছেন, এর দলিলগুলো স্পষ্ট করছেন এবং কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে মুতাওয়াতিরাহ থেকে প্রাপ্ত সঠিক মূলনীতি ও সুস্পষ্ট সামষ্টিক বিধানের ভিত্তিতে এর শাখা-প্রশাখাগুলো আহরণ করছেন।
যদিও প্রত্যক্ষ ওহীর অবতরণ বন্ধ হয়ে গেছে, তবে অভ্যন্তরীণ ওহী মুজতাহিদদের হৃদয়ে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী এখনও স্পন্দিত হচ্ছে। বাস্তব ঘটনাপ্রবাহে এর বিচারিক প্রয়োগ রয়েছে এবং প্রভাববিস্তারী প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এর জগত হলো আল্লাহর আদেশ, এর মানদণ্ড হলো প্রজ্ঞা, এর উৎস হলো আল্লাহর অনুগ্রহ; এতে লুকিয়ে আছে নানা জ্ঞান ও তত্ত্ব। আল্লাহ তাআলা অন্যান্য শরীয়াহর তুলনায় ইসলামি শরীয়াহকে এর মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন। এর মাধ্যমে মুজতাহিদ ব্যক্তি সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন এবং অকাট্য (কাতয়ি) ও ধারণামূলক (জন্নি) দলিল এবং অগ্রগণ্য (রাজেহ) ও অ-অগ্রগণ্য (মারজুহ) বিষয়সমূহ চিহ্নিত করেন। এর মাধ্যমে বিষয়গুলোকে সেগুলোর সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়াবলির সাথে বৈজ্ঞানিক ও ইজতিহাদি নিয়মনীতি অনুসারে সঠিক শরয়ী কিয়াসের মাধ্যমে তুলনা করা হয়, যাতে যুগের পর যুগ ধরে এই শরীয়াহকে ইচ্ছার উচ্চাকাশে আসীন রাখা যায় এবং উসূলের প্রান্তসীমা থেকে চূড়ান্ত মকসুদ পর্যন্ত আরোহণ করা যায়।
অতঃপর: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাওকানি আস-সানআনি আল-ইয়ামানি রচিত ‘ইরশাদুল ফুহুল’ বইটি এই ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ; কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি রয়েছে এবং এই ইলমের ইমামদের বক্তব্যগুলো সবিস্তারে তাদের নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর লেখক মুতাকাল্লিম (ধর্মতত্ত্ববিদ) ও ফকিহদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং উসূলী মূলনীতি ও মাসআলাগুলো উপস্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
واختلاف العلماء فيها مبينا دليل كل من غير تقيد بأصول مذهب معين، فهو أشبه ما يكون بأصول الفقه المقارن.
وأخيرا: أشكر القائمين على هذا العمل من محقق وناشر وكل من ساهم في إخراجه بثوب جديد يتماشى مع الزمان.
والله أسأل أن يرحمنا، وأن يتقبل منا أعمالنا، وأن يلهمنا الإخلاص في القول والعمل، إنه خير مسئول، وهو على كل شيء قدير، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
كتبه
د. ولي الدين فرفور الدمشقي
حرر في 27/ رمضان /1417هـ
4/ شباط /1997م
এবং এতে আলেমদের মতভেদসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের মূলনীতির অনুসারী না হয়ে প্রত্যেকের দলীল সুস্পষ্ট করা হয়েছে; ফলে এটি তুলনামূলক উসূলে ফিকহের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিশেষে: আমি এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষক, প্রকাশক এবং যারা এটিকে যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রকাশে অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের প্রতি দয়া করেন, আমাদের আমলসমূহ কবুল করেন এবং কথা ও কাজে আমাদের ইখলাস দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য প্রার্থনার আধার এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
ড. ওয়ালিউদ্দীন ফুরফুর আদ-দিমাশকি
লিখিত হয়েছে ২৭ রমাদান, ১৪১৭ হিজরি
৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة التحقيق:الحمد لله مصور النسم في ظلمات الأرحام، مقدر القسم للأنام، مشرع الأحكام، مبين الحلال والحرام، محكم أصول الشريعة المنيعة بالتمام، ومنضج ثمار فروعها المتصلة بكتابه أفضل الإحكام، بسنة نبيه الناسخ كل شريعة ماضية بشريعة الإسلام، عليه وعلى آله وصحبه أفضل الصلاة والسلام.
ونشهد ألا إله إلا الله شهادة راسخة في صميم القلب، تؤمل صاحبها برضى الرب، ونشهد أن محمدا عبده ورسوله، الذي رفع عن الأمة باليسر كل عسير وصعب، عليه وعلى آله وصحبه صلاة وسلاما يدفعان عنا كل كرب.
وبعد:
فلما كان الهدف من وجود الإنسان هو تحقيق العبودية لله عز وجل، وبما أنه سبحانه وتعالى لم يكلنا إلى أنفسنا في تحقيق ذلك، بل أرسل إلينا الرسل، وأيدهم بالوحي الأمين، فلا بد لنا من معرفة وفهم مرامية وأهدافه، وما فيها من التعاليم التي تصلح لنا المعاش والمعاد، فكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم هما النبعان الصافيان اللذان تكفلا بسعادة الدنيا ونعيم الآخرة لمن تمسك بهما.
ولكن لما فسدت السليقة، ودخلت العجمة، وأصابت اللسان آفة اللحن، لم يتسن لكل فرد من أفراد هذه الأمة هذا الفهم، بل اختص بأناس توفرت فيهم شروط وميزات تؤهلم لذلك، فأحاطوا بدقائق علم خاص سموه علم "أصول الفقه"، فلذلك نص العلماء على أن حكم تعلمه فرض كفاية لحاجة الأمة إلى استنباط الأحكام الشرعية للحادثات المتجددة.
وبرعت أقلام العلماء في وصف علم أصول الفقه، فقال الإمام الإسنوي:
هو المعلم الذي يكون المجتهد المبدع، والفقيه المثمر، ويقضي على أكذوبة غلق باب الاجتهاد، ويذهب أسطورة سد طريق الاستنباط، وأنه لا يمكن أن يستغني عنه من أراد أن يتأهل للنظر والاجتهاد أو من يهتم بعلم الفقه والخلاف.
وقال الإمام الغزالي:
هو العلم الذي ازدوج فيه العقل والسمع، واصطحب فيه الرأي والشرع، فأخذ من صفوة
সম্পাদনার ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জরায়ুর অন্ধকারে প্রাণের চিত্রাঙ্কনকারী, সৃষ্টির জন্য রিযিক নির্ধারণকারী, বিধান প্রণেতা, হালাল ও হারামের স্পষ্ট বর্ণনাকারী, দুর্ভেদ্য শরীয়তের মূলনীতিসমূহকে পরিপূর্ণভাবে সুসংহতকারী এবং তাঁর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট এর শাখা-প্রশাখার ফলসমূহকে সর্বোত্তম পন্থায় পরিপক্ককারী; যা তাঁর নবীর সুন্নাহর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে ইসলামের শরীয়তের দ্বারা রহিতকারী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; এমন সাক্ষ্য যা হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত এবং যা এর অধিকারীকে রবের সন্তুষ্টির আশা জাগায়। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি সহজতার মাধ্যমে উম্মতের ওপর থেকে সকল প্রকার কাঠিন্য ও জটিলতা দূর করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর এমন সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যা আমাদের থেকে সকল দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দেবে।
অতঃপর:
যেহেতু মানুষের অস্তিত্বের লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর দাসত্ব বাস্তবায়ন করা, এবং যেহেতু তিনি আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেননি, বরং আমাদের কাছে রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদেরকে বিশ্বস্ত ওহীর মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন, তাই আমাদের জন্য সেই ওহীর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ জানা এবং বোঝা অপরিহার্য। এতে রয়েছে এমন সব শিক্ষা যা আমাদের ইহকাল ও পরকালকে সংশোধন করে। সুতরাং আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ হলো এমন দুটি স্বচ্ছ প্রস্রবণ, যা এই দুটিকে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির জন্য দুনিয়ার সুখ এবং আখেরাতের নিআমতের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
কিন্তু যখন মানুষের স্বভাবজাত ভাষাগত দক্ষতা কলুষিত হলো, ভাষার মধ্যে অনারবীয় প্রভাব প্রবেশ করল এবং রসনায় ভাষাগত ত্রুটির ব্যাধি দেখা দিল, তখন এই উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষে এই বুঝ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বরং এটি এমন একদল মানুষের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেল যাঁদের মধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান ছিল। ফলে তাঁরা এক বিশেষ ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ আয়ত্ত করলেন যার নাম তাঁরা দিয়েছিলেন "উসুলুল ফিকহ"। এ কারণেই উলামায়ে কেরাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলির জন্য শরয়ী বিধান আহরণের নিমিত্তে উম্মতের প্রয়োজনের কারণে এটি শিক্ষা করা ফরযে কিফায়া।
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের বর্ণনায় উলামায়ে কেরামের কলম অত্যন্ত চমৎকার পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছে। ইমাম ইসনাভী বলেছেন:
এটি এমন এক জ্ঞান যা সৃজনশীল মুজতাহিদ এবং ফলপ্রসূ ফকীহ তৈরি করে। এটি ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার মিথ্যা দাবিকে খণ্ডন করে এবং বিধান আহরণের পথ রুদ্ধ হওয়ার কাল্পনিক কাহিনীকে দূর করে। যে ব্যক্তি গবেষণা ও ইজতিহাদের যোগ্যতা অর্জন করতে চায় অথবা যে ফিকহ ও মতভেদপূর্ণ মাসআলা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তার পক্ষে এই ইলম থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব নয়।
ইমাম গাজালী বলেছেন:
এটি এমন এক ইলম যেখানে আকল (যুক্তি) এবং সামআ (নকল/দলিল) এর মিলন ঘটেছে এবং এতে রায় (মতামত) ও শরয় (শরীয়ত) একত্রে স্থান পেয়েছে। যা গ্রহণ করেছে নির্যাস থেকে...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشرع والعقل سواء السبيل، فلا هو تصرف بمحض العقول بحيث لا يتلقاه الشرع بالقبول، ولا مبني على محض التقليد الذي لا يشهد له العقل بالتأييد والتسديد.
أول من صنف في هذا الفن:
أول من قعد قواعد علم أصول الفقه، وأصل أصوله هو الإمام محمد بن إدريس الشافعي، المجتهد صاحب المذهب في رسالته التي كتبها لعبد الرحمن بن مهدي.
المصنفات المؤلفة فيه على مذهب الإمام الشافعي رضي الله عنه:
كثرت الكتب والتآليف المدونة في هذا العلم فمنها:
1- "البرهان": للإمام أبي المعالي عبد الملك بن عبد الله الجويني.
2- "البحر المحيط": للإمام بدر الدين محمد بن عبد الله الزركشي.
3- "المستصفى من علم الأصول": للإمام أبي حامد محمد بن محمد الغزالي.
4- "المحصول": للإمام فخر الدين محمد بن عمر الرازي.
ترجمة المؤلف:
اسمه ونسبه:
هو الإمام محمد بن علي بن محمد بن عبد الله بن الحسن بن محمد بن صلاح.
عرف هو ووالده في صنعاء بالشوكاني، وهي نسبة إلى قرية من قرى السحامية تسمى شوكان، بينها وبين صنعاء دون مسافة يوم.
قال في معجم البلدان: شوكان قرية باليمن من ناحية ذمار.
مولده ونشأته:
ولد في يوم الاثنين، الثامن والعشرين من شهر ذي القعدة، سنة ثلاث وسبعين ومائة وألف هجرية، بهجرة شوكان من بلاد خولان باليمن، ونشأ بصنعاء اليمن.
اهتمامه بالعلم:
- اهتم الإمام الشوكاني بالقرآن الكريم: فقرأه على جماعة من المعلمين، وختمه على الفقيه حسن بن عبد الله الهبل، وجوده على مشايخ القرآن بصنعاء.
- واهتم بعلوم الحديث، فسمع البخاري من أوله إلى آخره، وسمع صحيح مسلم والترمذي، وبعض موطأ الإمام مالك، وبعض شفاء القاضي عياض، وبعض سنن النسائي، وبعض سنن ابن ماجة، وسمع جميع سنن أبي داود وتخريجها للمنذري، وكذلك سمع بعض فتح
শরিয়ত ও আকল (বিবেচনা) সমান্তরাল পথ; এটি নিছক আকলের এমন কোনো প্রয়োগ নয় যা শরিয়ত গ্রহণ করবে না, আবার এটি নিছক অন্ধ অনুকরণের ওপরও ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয় যাকে আকল সমর্থন ও সুদৃঢ় করবে না।
এই শাস্ত্রে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনাকারী:
যিনি সর্বপ্রথম ইলমে উসুলুল ফিকহের মূলনীতিসমূহ বিন্যস্ত করেছেন এবং এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ। তিনি একজন মুজতাহিদ এবং একটি মাজহাবের প্রবর্তক; তিনি এটি তাঁর সেই রিসালায় (পত্র) লিখেছিলেন যা তিনি আব্দুর রহমান বিন মাহদির উদ্দেশ্যে রচনা করেছিলেন।
ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজহাব অনুযায়ী এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলি:
এই বিদ্যায় সংকলিত কিতাব ও রচনাবলি অনেক, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- "আল-বুরহান": ইমাম আবুল মাআলি আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ আল-জুওয়াইনির রচিত।
২- "আল-বাহরুল মুহিত": ইমাম বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আজ-যারকাশির রচিত।
৩- "আল-মুস্তাসফা মিন ইলমিল উসুল": ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জালির রচিত।
৪- "আল-মাহসুল": ইমাম ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন উমর আর-রাজির রচিত।
লেখকের জীবনী:
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন সলিহ।
তিনি এবং তাঁর পিতা সানআ নগরীতে শাওকানি নামে পরিচিত ছিলেন। এটি আস-সাহামিয়ার গ্রামগুলোর মধ্যে শাওকান নামক একটি গ্রামের দিকে সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে, যা সানআ থেকে এক দিনের কম দূরত্বের পথ।
'মুজামুল বুলদান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: শাওকান হলো ইয়ামেনের যামার অঞ্চলের একটি গ্রাম।
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:
তিনি ১১৭৩ হিজরি সনের ২৮শে জিলকদ সোমবার ইয়ামেনের খাওলান অঞ্চলের শাওকান জনপদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইয়ামেনের সানআয় বেড়ে ওঠেন।
ইলমের প্রতি তাঁর অনুরাগ:
- ইমাম শাওকানি পবিত্র কুরআনের প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন: তিনি একদল শিক্ষকের কাছে এটি পাঠ করেন এবং ফকিহ হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল-হাবালের কাছে খতম করেন। সানআর কুরআন বিশেষজ্ঞ শায়খদের কাছে তিনি তাজবিদসহ এটি সম্পন্ন করেন।
- তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতিও মনোযোগী ছিলেন, ফলে তিনি বুখারি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করেন। তিনি সহিহ মুসলিম ও তিরমিজি, ইমাম মালিকের মুয়াত্তার কিছু অংশ, কাজি আয়াজের শিফা-এর কিছু অংশ, সুনানে নাসাঈ-এর কিছু অংশ, সুনানে ইবনে মাজাহ-এর কিছু অংশ এবং মুনযিরির তাখরিজসহ সুনানে আবু দাউদ সম্পূর্ণ শ্রবণ করেন। একইভাবে তিনি ফাতহুল (বারির) কিছু অংশ শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الباري، وبعض شرح مسلم للنووي، وسمع شرح بلوغ المرام وغيرها من علوم الحديث.
- واهتم بعلوم العربية، فحفظ الكافية والشافية لابن الحاجب، وقرأ بعض شروح الكافية كشرح الرضي، وشرح الخبيصي، وقرأ بعض شروح الشافية أيضًا.
- واهتم بعلم الأصول فبرع فيه وألف وصنف، فمن مصنفاته الكتاب الذي بين أيدينا.
- واهتم بعلوم أخرى كثيرة، منها علم الفقه، حتى إنه ترك التقليد واجتهد رأيه اجتهادًا مطلقًا غير مقيد، وهو قبل الثلاثين من عمره، وولي القضاء والإفتاء في صنعاء اليمن.
- شيوخه:
من شيوخه:
1- والده علي بن محمد الشوكاني.
2- الفقيه حسن بن عبد الله الهبل.
3- العلامة عبد الرحمن بن قاسم المداني.
4- العلامة أحمد بن عامر الحدائي.
5- العلامة أحمد بن محمد الحرازي، وقرأ عليه شرح الأزهار.
6- العلامة إسماعيل بن الحسن بن أحمد بن الحسن بن الإمام القاسم بن محمد، وقرأ عليه الملحة في النحو وشرحها.
7- العلامة القاسم بن يحيى الخولاني، وقرأ عليه شرح الغاية.
8- العلامة الحسن بن إسماعيل المغربي، وقرأ عليه التنقيح في علوم الحديث.
9- العلامة عبد الله بن إسماعيل النهمي، وقرأ عليه إيساغوجي للقاضي زكريا.
10- العلامة هادي بن حسين القارني، وقرأ عليه شرح الجزرية.
نشره للعلم:
استغرق الإمام الشوكاني جميع وقته في درس العلم وتحصيله، ونشره وتعليمه للناس، حتى بلغت دروسه في اليوم والليلة ثلاثة عشر درسًا، منها ما يأخذه عن مشايخه، ومنها ما يأخذه عنه تلامذته، واستمر على ذلك مدة، حتى لم يبق عند أحد من شيوخه ما لم يكن من جملة ما قرأه الإمام، ثم إنه بعد ذلك فرغ نفسه لإفادة الطلبة، فكانوا يأخذون عنه في كل يوم زيادة على عشرة دورس في فنون متعددة، منها التفسير والحديث والأصول، والنحو، والصرف، والمعاني، والبيان، والمنطق، والفقه، والجدل، والعروض.
আল-বারী, এবং ইমাম নববীর শারহ মুসলিম-এর কিছু অংশ, এবং তিনি বুলুগুল মারামের শারহ ও হাদীস শাস্ত্রের অন্যান্য জ্ঞান শ্রবণ করেছেন।
- তিনি আরবি ভাষাতত্ত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, তাই তিনি ইবনুল হাজিব-এর আল-কাফিয়া ও আশ-শাফিয়া মুখস্থ করেন এবং আল-কাফিয়ার কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন শারহুর রাযী ও শারহুল খাবিসী অধ্যয়ন করেন। তিনি আশ-শাফিয়ারও কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন।
- তিনি উসুল শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং এতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেন। তাঁর সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে আমাদের হাতে থাকা এই গ্রন্থটিও অন্যতম।
- তিনি আরও অনেক শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, যার মধ্যে রয়েছে ফিকহ শাস্ত্র; এমনকি তিনি তাকলিদ পরিত্যাগ করেন এবং কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে ইজতিহাদ করেন। তখনও তাঁর বয়স ত্রিশ বছর পূর্ণ হয়নি। তিনি ইয়ামেনের সানায় বিচারক ও ফতওয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর শিক্ষকগণ:
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১- তাঁর পিতা আলী বিন মুহাম্মদ আশ-শাওকানী।
২- ফকীহ হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-হাবাল।
৩- আল্লামা আবদুর রহমান বিন কাসিম আল-মাদানী।
৪- আল্লামা আহমদ বিন আমির আল-হাদ্দায়ী।
৫- আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাররাযী, তিনি তাঁর কাছে শারহুল আযহার অধ্যয়ন করেন।
৬- আল্লামা ইসমাইল বিন হাসান বিন আহমদ বিন হাসান বিন ইমাম কাসিম বিন মুহাম্মদ, তিনি তাঁর কাছে নাহু শাস্ত্রের আল-মুলহাহ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন।
৭- আল্লামা কাসিম বিন ইয়াহইয়া আল-খাওলানী, তিনি তাঁর কাছে শারহুল গায়াহ পাঠ করেন।
৮- আল্লামা হাসান বিন ইসমাইল আল-মাগরিবি, তিনি তাঁর কাছে হাদীস শাস্ত্রের আত-তানকীহ পাঠ করেন।
৯- আল্লামা আবদুল্লাহ বিন ইসমাইল আন-নাহমী, তিনি তাঁর কাছে কাযী যাকারিয়ার ঈসাগুজি পাঠ করেন।
১০- আল্লামা হাদী বিন হুসাইন আল-কারনী, তিনি তাঁর কাছে শারহুল জাযারিয়্যাহ পাঠ করেন।
তাঁর জ্ঞান প্রচার:
ইমাম শাওকানী তাঁর সমস্ত সময় ইলম অর্জন ও তা হাসিল করা এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার ও শিক্ষা দানের কাজে ব্যয় করেন। এমনকি দিন ও রাতে তাঁর পাঠদানের সংখ্যা তেরোটিতে পৌঁছেছিল; যার কিছু তিনি তাঁর শিক্ষকদের কাছ থেকে গ্রহণ করতেন এবং কিছু তাঁর ছাত্ররা তাঁর থেকে গ্রহণ করত। তিনি এভাবে একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, যতক্ষণ না তাঁর শিক্ষকদের কাছে এমন কিছু অবশিষ্ট ছিল যা ইমাম শাওকানী পাঠ করেননি। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রে দশটিরও বেশি পাঠ গ্রহণ করত। এসব শাস্ত্রের মধ্যে ছিল তাফসির, হাদীস, উসুল, নাহু, সরফ, মায়ানি, বায়ান, মানতিক, ফিকহ, বিতর্কবিদ্যা ও আরুয।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
مؤلفاته:
حكى الزركلي في الأعلام، أن مؤلفات الإمام الشوكاني بلغت أربعة عشر ومائة مؤلف، منها:
1- نيل الأوطار في شرح المنتقى من الأخبار. وهو مطبوع في ثمانية مجلدات.
2- حاشية شفاء الأوام واسمها "وبل الغمام على شفاء الأوام".
3- الدرر البهية في المسائل الفقهية.
4- البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع، وهو مطبوع.
5- فتح القدير في علم التفسير، وهو مطبوع.
6- السير الجرار على حدائق الأزهار. وهو مطبوع.
7- الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة، وهو مطبوع.
وفاته:
توفي سنة ألف ومائتين وخمسين هـ رحمه الله تعالى عن سبعة وسبعين عامًا1.
منهج التحقيق:
سرت في تحقيق هذا الكتاب على النحو التالي:
1- وضعت مقدمة تشتمل على:
أ- مقدمة التحقيق، ب- ترجمة للمؤلف.
2- قمت بمقابلة الكتاب على نسخة قديمة الطباعة ورمزت له بـ "أ"، حيث اعتمدت في ضبط النص على نشرة الدكتور شعبان محمد إسماعيل، ورمزت لها بالحرف "ب" وذلك بعد أن عجزت عن الحصول على مخطوط للكتاب، إذ إنني أرسلت إلى مكتبة الجامع الكبير في صنعاء
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলী:
আয-যিরিকলী 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আশ-শাওকানির রচনাবলী একশত চৌদ্দটি পর্যন্ত পৌঁছেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
১- নাইলুল আওতার ফী শারহিল মুনতাকা মিনাল আখবার। এটি আট খণ্ডে মুদ্রিত।
২- শিফাউল আওয়াম-এর টীকা গ্রন্থ, যার নাম 'ওয়াবলাল গামাম আলা শিফাইল আওয়াম'।
৩- আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ফিল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ।
৪- আল-বাদরুত তালি' বিমাহাসিনি মান বাদাল কারনিস সাবি', এটি মুদ্রিত।
৫- ফাতহুল কাদীর ফী ইলমিত তাফসীর, এটি মুদ্রিত।
৬- আস-সায়লুল জাররার আলা হাদাইকিল আযহার। এটি মুদ্রিত।
৭- আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ ফিল আহাদিসিল মাওদুআহ, এটি মুদ্রিত।
তাঁর ইন্তেকাল:
তিনি ১২৫০ হিজরী সনে সাতাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন।১
সম্পাদনা পদ্ধতি:
এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১- আমি একটি ভূমিকা যুক্ত করেছি যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
ক- সম্পাদনার ভূমিকা, খ- লেখকের জীবনী।
২- আমি একটি পুরাতন মুদ্রিত সংস্করণের সাথে গ্রন্থটি মিলিয়ে দেখেছি এবং সেটিকে 'আলিফ' (أ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। পাঠ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে আমি ডক্টর শাবান মুহাম্মদ ইসমাইলের সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি এবং সেটিকে 'বা' (ب) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি করেছি গ্রন্থটির কোনো পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে অসমর্থ হওয়ার পর; যদিও আমি সানার জামে কাবীর লাইব্রেরিতে (পাণ্ডুলিপির জন্য) আবেদন পাঠিয়েছিলাম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اليمن، وطلبت الحصول على مخطوطة أصلية للكتاب، بعد أن علمت بوجودها هناك، ولم يكن لنا نصيب بالحصول عليها.
3- قمت بتخريج الآيات القرآنية بردها إلى سورها، ووضع أرقامها، وجعلتها بين قوسين مزهرين. {} .
4- قمت بتخريج الأحاديث النبوية والآثار، وجعلتها بين قوسين صغيرين " " ورقمتها بأرقام مسلسلة موضوعة بين معكوفتين [] وذلك في التعليق.
5- ترجمة الأعلام الواردة أسماؤهم من غير الصحابة المعروفين.
6- عرفت بالكتب الواردة أسماؤها، ونسبتها إلى مؤلفيها.
7- شرحت غريب الألفاظ، وضبطتها.
8- وضعت علامات الترقيم في الكتاب.
9- علقت على بعض النقاط الغامضة بما يوضحها ويزيل غموضها.
10- وضعت عناوين لبعض فصول الكتاب، وجعلتها بين قوسين كبيرين " ".
11- قمت بتخريج الأبيات الشعرية ببيان بحرها ونسبتها إلى ناظميها.
12- وضعت ترجمة للفرق المذكورة في الكتاب.
13- وضعت للكتاب فهارس على النحو التالي:
أ- فهرس الآيات القرآنية.
ب- فهرس الأحاديث النبوية.
جـ- فهرس الأعلام.
د- فهرس الفرق والمذاهب.
هـ- فهرس الأماكن والبلدان.
و فهرس الأبيات الشعرية.
ز- فهرس الكتب الوارد ذكرها في المتن.
ح- فهرس مراجع التحقيق.
ط- فهرس الموضوعات.
ইয়েমেন; সেখানে পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার পর আমি গ্রন্থটির একটি মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের চেষ্টা করি, কিন্তু তা সংগ্রহ করা আমাদের ভাগ্যে জুটেনি।
৩- আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি, সেগুলোর নম্বর প্রদান করেছি এবং সেগুলোকে অলংকৃত বন্ধনী {} -এর মাঝে রেখেছি।
৪- আমি হাদিস এবং আসারসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি, সেগুলোকে ছোট উদ্ধৃতি চিহ্ন " " -এর মাঝে রেখেছি এবং টীকা অংশে সেগুলোকে তৃতীয় বন্ধনী [] -এর মধ্যে ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি।
৫- সুপরিচিত সাহাবীগণ ব্যতীত উল্লিখিত অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচিতি তুলে ধরেছি।
৬- যেসব বইয়ের নাম এসেছে সেগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি এবং সেগুলোকে তাদের মূল লেখকদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
৭- কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করেছি এবং সেগুলোর সঠিক রূপ নির্ধারণ করেছি।
৮- গ্রন্থে যথাযথ বিরামচিহ্ন প্রয়োগ করেছি।
৯- কিছু অস্পষ্ট বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করেছি যা সেগুলোকে ব্যাখ্যা করে এবং অস্পষ্টতা দূর করে।
১০- গ্রন্থের কিছু পরিচ্ছেদের জন্য শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং সেগুলোকে বড় উদ্ধৃতি চিহ্ন " " -এর মধ্যে রেখেছি।
১১- কবিতার পঙ্ক্তিগুলোর ছন্দ নির্ণয় এবং রচয়িতার নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে সেগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি।
১২- গ্রন্থে উল্লিখিত বিভিন্ন দল বা ফিরকার পরিচয় প্রদান করেছি।
১৩- গ্রন্থটির জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে নির্ঘণ্টসমূহ তৈরি করেছি:
ক- কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।
খ- হাদিসের নির্ঘণ্ট।
গ- ব্যক্তি পরিচয়ের নির্ঘণ্ট।
ঘ- ফিরকা ও মাযহাবের নির্ঘণ্ট।
ঙ- স্থান ও জনপদের নির্ঘণ্ট।
চ- কাব্য পঙ্ক্তির নির্ঘণ্ট।
ছ- মূল পাঠে উল্লিখিত গ্রন্থরাজির নির্ঘণ্ট।
জ- সম্পাদনায় ব্যবহৃত তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
ঝ- বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي الختام:
وحيث إنني أتوجه بالشكر والثناء لإرادة "دار الكتاب العربي" حيث انتدبتني لهذا العمل، أقول: إلى كل من يقرأ هذا الكتاب، أو يطلع على نقص أو خلل في العمل بتحقيقه، إنني لم أدع العصمة، ولا الكمال في عملي، فإن العصمة للأنياء، والكمال لله وحده، ولكنني أرجو ممن وجد خطأ في العمل أن يرسل به إلي، وأنا له من الشاكرين، سائلًا المولى تبارك وتعالى أن يحفظ ألسنتنا وأقلامنا من الزلل، إنه على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير، والحمد لله رب العالمين.
المحقق: أحمد عزو عناية
دمشق - كفر بطنا
পরিশেষে:
যেহেতু আমি ‘দারুল কিতাব আল-আরাবি’ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যারা আমাকে এই কাজের জন্য মনোনীত করেছেন, তাই আমি বলছি: যে কেউ এই বইটি পড়বেন, অথবা এর তাহকিক (সম্পাদনা) কর্মে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি লক্ষ্য করবেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি যে, আমি আমার কাজে নির্ভুলতা বা পূর্ণতার দাবি করছি না; কারণ নির্ভুলতা কেবল নবীদের জন্য এবং পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য। তবে যারা এই কাজে কোনো ভুল খুঁজে পাবেন, আমি তাদের কাছে অনুরোধ করছি যেন তা আমাকে জানান, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। বরকতময় ও সুউচ্চ মাবুদের নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের জিহ্বা ও কলমকে বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুহাক্কিক: আহমাদ ইযযু ইনাইয়াহ
দামেস্ক - কাফর বাতনা
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف:إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ، يَا مَنْ هُوَ "الْمَحْمُودُ"* الْمَشْكُورُ عَلَى الْحَقِيقَةِ، إِذْ لَا مُنْعِمَ سِوَاهُ، وَكُلُّ نَفْعٍ يَجْرِي عَلَى يَدِ غَيْرِهِ فَهُوَ الَّذِي أَجْرَاهُ، وَكُلُّ خَيْرٍ يَصِلُ إِلَى بَعْضِ مَخْلُوقَاتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَهُوَ الَّذِي قَدَّرَهُ وَقَضَاهُ.
فَأَحْمَدُهُ حَمْدًا يَرْضَاهُ، وَأَشْكُرُهُ شُكْرًا يُقَابِلُ نَعْمَاهُ، وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ مُحْصَاةٍ، امْتِثَالًا لِأَمْرِهِ، لَا قِيَامًا بِحَقِّ شُكْرِهِ، فَإِنَّ لِسَانِي وَجَنَانِي1 وَأَرْكَانِي2 لَا تَقُومُ بِشُكْرِ أَقَلِّ نِعْمَةٍ مِنْ نعمه العظمية، وَلَا تُؤَدِّي بَعْضَ الْبَعْضِ مِمَّا يَجِبُ عَلَيَّ مِنْ شُكْرِ أَيَادِيهِ الْجَسِيمَةِ3.
وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِهِ الْمُصْطَفَى، مُحَمَّدٍ الْمَبْعُوثِ إِلَى الْأَحْمَرِ مِنَ الْعِبَادِ وَالْأَسْوَدِ صَلَاةً وَسَلَامًا يَتَجَدَّدَانِ بِتَجَدُّدِ الْأَوْقَاتِ، وَيَتَكَرَّرَانِ بِتَكَرُّرِ الْآنَاتِ4، وَعَلَى آلِهِ الْأَبْرَارِ وَصَحَابَتِهِ الْأَخْيَارِ.
وَبَعْدُ: فَإِنَّ عِلْمَ "أُصُولِ الْفِقْهِ" لَمَّا كَانَ هُوَ الْعِلْمَ الَّذِي يَأْوِي إِلَيْهِ الْأَعْلَامُ، وَالْمَلْجَأَ الَّذِي يُلجأ إِلَيْهِ عِنْدَ تَحْرِيرِ الْمَسَائِلِ، وَتَقْرِيرِ الدَّلَائِلِ، فِي غَالِبِ الْأَحْكَامِ، وَكَانَتْ مَسَائِلُهُ الْمُقَرَّرَةُ، وَقَوَاعِدُهُ الْمُحَرَّرَةُ، تُؤْخَذُ مُسَلَّمَةً عِنْدَ كَثِيرٍ مِنَ النَّاظِرِينَ، كَمَا نَرَاهُ فِي مَبَاحِثِ الْبَاحِثِينَ وَتَصَانِيفِ الْمُصَنِّفِينَ، فَإِنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا اسْتَشْهَدَ لِمَا قَالَهُ بِكَلِمَةٍ مِنْ كَلَامِ أَهْلِ الْأُصُولِ، أَذْعَنَ لَهُ الْمُنَازِعُونَ، وَإِنْ كَانُوا مِنَ الْفُحُولِ، لِاعْتِقَادِهِمْ أَنَّ مَسَائِلَ هَذَا الْفَنِّ، قَوَاعِدُ مُؤَسَّسَةٌ عَلَى الْحَقِّ، الْحَقِيقِ بِالْقَبُولِ، مَرْبُوطَةٌ بِأَدِلَّةٍ عِلْمِيَّةٍ مِنَ المعقول والمنقول، تقصير عن القدح في شيء منها أيدي
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা:আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। হে ঐ সত্তা, যিনি প্রকৃতপক্ষেই "প্রশংসিত"* ও কৃতজ্ঞতাভাজন, যেহেতু তিনি ছাড়া কোনো নিআমতদাতা নেই। আর অন্যের হাতে যে উপকারই সাধিত হয়, তা তিনিই জারি করেন। আর তাঁর এক মাখলুকের পক্ষ থেকে অন্য মাখলুকের কাছে যে কল্যাণই পৌঁছে, তা তিনিই নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন।
অতএব আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং তাঁর নিআমতসমূহের বিনিময়ে এমন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যা তার সমতুল্য—যদিও তা অগণিত—তাঁর আদেশের আনুগত্যস্বরূপ, তাঁর কৃতজ্ঞতার পূর্ণ হক আদায়ের দাবি নিয়ে নয়; কেননা আমার জিহ্বা, অন্তর১ এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহ২ তাঁর মহান নিআমতসমূহের মধ্য হতে ক্ষুদ্রতম নিআমতের কৃতজ্ঞতা আদায়েও সক্ষম নয়, এবং তাঁর বিশাল হাতসমূহের৩ (আল্লাহর হাতসমূহের) জন্য আমার ওপর যে কৃতজ্ঞতা ওয়াজিব, তার কিঞ্চিৎ পরিমাণও আদায় করতে পারে না।
আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি লাল ও কালো সকল বান্দার প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। এমন সালাত ও সালাম যা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন হতে থাকে এবং মুহূর্তের৪ আবর্তনে বারবার পুনরাবৃত্ত হয়। আর তাঁর পুণ্যবান পরিবার ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের ওপরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: নিশ্চয়ই 'উসূলে ফিকহ' শাস্ত্র যখন এমন এক ইলম যেখানে বরেণ্য পণ্ডিতগণ আশ্রয় গ্রহণ করেন, এবং অধিকাংশ বিধিবিধানের মাসআলাসমূহ সুসংহত করার এবং দলিলসমূহ উপস্থাপনের সময় যা মূল আশ্রয়স্থল হিসেবে গণ্য হয়; আর এর সুনির্ধারিত মাসআলাসমূহ ও সুসংহত নীতিসমূহ অনেক গবেষকের কাছেই স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে গৃহীত, যেমনটি আমরা গবেষকদের আলোচনা ও লেখকদের রচনাবলিতে দেখতে পাই। কেননা তাদের মধ্যে কেউ যখন তার বক্তব্যের সপক্ষে উসূলবিদগণের কোনো কথা দ্বারা দলিল পেশ করেন, তখন বিরোধীরাও তার কাছে নতি স্বীকার করে, যদিও তারা বিজ্ঞ পণ্ডিত হয়ে থাকেন। এটি তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে, এই শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত সুদৃঢ় মূলনীতি, যা গ্রহণের যোগ্য এবং আকলি (বিবেচনাপ্রসূত) ও নাকলি (উদ্ধৃতিমূলক) ইলমি দলিলের সাথে সম্পৃক্ত। যার কোনো কিছুতে খুঁত ধরার ক্ষেত্রে হাতসমূহ অক্ষমতা প্রকাশ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْفُحُولِ، وَإِنْ تَبَالَغَتْ فِي الطُّولِ، وَبِهَذِهِ الْوَسِيلَةِ صَارَ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَاقِعًا فِي الرَّأْيِ، رَافِعًا لَهُ أَعْظَمَ رَايَةٍ، وَهُوَ يَظُنُّ أَنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ بِغَيْرِ عِلْمِ الرِّوَايَةِ، حَمَلَنِي ذَلِكَ بَعْدَ سُؤَالِ جَمَاعَةٍ لِي مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى هَذَا التَّصْنِيفِ، فِي هَذَا الْعِلْمِ الشَّرِيفِ، قَاصِدًا بِهِ إِيضَاحَ رَاجِحِهِ، مِنْ مَرْجُوحِهِ، وَبَيَانَ سَقِيمِهِ مِنْ صَحِيحِهِ، مُوَضِّحًا لِمَا يَصْلُحُ مِنْهُ لِلرَّدِّ إِلَيْهِ، وَمَا لَا يَصْلُحُ لِلتَّعْوِيلِ عَلَيْهِ، لِيَكُونَ الْعَالِمُ عَلَى بَصِيرَةٍ فِي عِلْمِهِ يَتَّضِحُ لَهُ بِهَا الصَّوَابُ، وَلَا يَبْقَى بَيْنَهُ وَبَيْنَ دَرَكِ الْحَقِّ الْحَقِيقِ بِالْقَبُولِ الْحِجَابُ.
فَاعْلَمْ يَا طَالِبَ الْحَقِّ، أَنَّ هَذَا كِتَابٌ تَنْشَرِحُ لَهُ صُدُورُ "الْمُنْصِفِينَ"*، وَيَعْظُمُ قَدْرُهُ بِمَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ مِنَ الْفَوَائِدِ الْفَرَائِدِ، فِي صُدُورِ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَلَا يَعْرِفُ مَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ مِنَ الْمَعَارِفِ الْحَقَّةِ إِلَّا مَنْ كَانَ مِنَ الْمُحَقِّقِينَ.
وَلَمْ أَذْكُرْ فِيهِ مِنَ الْمَبَادِئِ الَّتِي يَذْكُرُهَا الْمُصَنِّفُونَ فِي هَذَا الْفَنِّ إِلَّا مَا كَانَ لِذِكْرِهِ، مَزِيدُ فَائِدَةٍ، يَتَعَلَّقُ بِهِ تَعَلُّقًا تَامًّا، وينتفع به فِيهِ انْتِفَاعًا زَائِدًا.
وَأَمَّا الْمَقَاصِدُ: فَقَدْ كَشَفْتُ لَكَ عَنْهَا الْحِجَابَ، كَشْفًا يَتَمَيَّزُ بِهِ الْخَطَأُ مِنَ الصَّوَابِ، بَعْدَ أَنْ كَانَتْ مَسْتُورَةً عَنْ أَعْيُنِ النَّاظِرِينَ بِأَكْثَفِ جِلْبَابٍ، وَإِنَّ هَذَا لَهُوَ أَعْظَمُ فَائِدَةٍ يَتَنَافَسُ فِيهَا الْمُتَنَافِسُونَ مِنَ الطُّلَّابِ؛ لِأَنَّ تَحْرِيرَ مَا هُوَ الْحَقُّ هُوَ غَايَةُ الطَّلَبَاتِ، وَنِهَايَةُ الرَّغَبَاتِ، لَا سِيَّمَا فِي مِثْلِ هَذَا الْفَنِّ الَّذِي رَجَعَ كَثِيرٌ مِنَ الْمُجْتَهِدِينَ بِالرُّجُوعِ إِلَيْهِ إِلَى التَّقْلِيدِ، مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ، وَوَقَعَ غَالِبُ الْمُتَمَسِّكِينَ بِالْأَدِلَّةِ بِسَبَبِهِ فِي الرَّأْيِ الْبَحْتِ وَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ، وَسَمَّيْتُهُ: "إِرْشَادَ الْفُحُولِ إِلَى تَحْقِيقِ الْحَقِّ مِنْ عِلْمِ الْأُصُولِ".
وَرَتَّبْتُهُ عَلَى مُقَدِّمَةٍ، وَسَبْعَةِ مَقَاصِدَ، وَخَاتِمَةٍ.
أَمَّا المقدمة فهي "مشتملة"** على فصول أربعة:
--------------------------------------------
শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতবর্গ, যদিও তা দীর্ঘ হয়, আর এই উপায়ের মাধ্যমে ইলমের অধিকারী অনেকেই নিজস্ব মতামতের (রায়) ওপর নির্ভর করে পড়েছেন এবং একে সর্বোচ্চ ঝাণ্ডা হিসেবে তুলে ধরেছেন, অথচ তারা মনে করছেন যে তারা কেবল বর্ণনা ভিত্তিক ইলম (রেওয়ায়েত) অনুযায়ীই আমল করছেন। এই মহৎ ইলম বা শাস্ত্রের ওপর এই গ্রন্থটি রচনা করার ক্ষেত্রে আলেমদের একটি জামাআতের অনুরোধ আমাকে চালিত করেছে। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো এই শাস্ত্রের অগ্রগণ্য (রাজেহ) বিষয়কে দুর্বল (মারজুহ) থেকে পৃথক করে স্পষ্ট করা এবং ত্রুটিপূর্ণ থেকে সঠিককে বর্ণনা করা। আর কোনটি প্রত্যাবর্তনের যোগ্য এবং কোনটি নির্ভরযোগ্য নয় তা স্পষ্ট করা, যাতে আলেম তার ইলমের ব্যাপারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে পারেন এবং তার নিকট সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর তার ও গ্রহণযোগ্য সত্য উপলব্ধির মাঝে কোনো অন্তরায় বা পর্দা না থাকে।
হে সত্যের অন্বেষণকারী, জেনে রেখো যে এটি এমন একটি কিতাব যার প্রতি ‘ন্যায়পরায়ণদের’* অন্তরসমূহ প্রশান্ত হবে, আর এতে বিদ্যমান অনন্য ও বিরল ফায়দাগুলোর কারণে মুমিনদের অন্তরে এর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আর এতে বিদ্যমান প্রকৃত জ্ঞানসমূহ মুহাক্কিক বা গবেষক ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারবে না।
এই শাস্ত্রের লেখকরা যে সকল প্রাথমিক বিষয় (মাবাদে) উল্লেখ করে থাকেন, আমি এখানে কেবল তা-ই উল্লেখ করেছি যার বর্ণনায় বিশেষ উপকারিতা রয়েছে, যার সাথে এই বিষয়ের পূর্ণ সম্পৃক্ততা আছে এবং যা দ্বারা অধিকতর উপকৃত হওয়া সম্ভব।
আর মূল লক্ষ্যসমূহের (মাকাসিদ) ক্ষেত্রে আমি আপনার সামনে থেকে এমনভাবে পর্দা উন্মোচন করে দিয়েছি যার মাধ্যমে ভুল থেকে সঠিক পৃথক হয়ে যায়, অথচ তা দর্শকদের চক্ষু হতে ঘন আবরণে ঢাকা ছিল। আর এটিই হলো সবচেয়ে বড় ফায়দা যা পাওয়ার জন্য ছাত্ররা প্রতিযোগিতা করে থাকে; কারণ সত্য কী তা যাচাই করাই হলো সকল অন্বেষণের মূল লক্ষ্য এবং সকল আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমা। বিশেষ করে এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যেখানে অনেক মুজতাহিদ একে গ্রহণ করতে গিয়ে অবচেতনভাবেই তাকলীদের দিকে ফিরে গেছেন, এবং দলীল আঁকড়ে ধরা অধিকাংশ লোকই এর কারণে নিছক ব্যক্তিগত মতামতের (রায়) মধ্যে নিপতিত হয়েছেন অথচ তারা তা জানেন না। আমি এর নামকরণ করেছি: "ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকীকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল"।
আমি এটি একটি ভূমিকা (মুকাদ্দিমা), সাতটি মূল লক্ষ্য (মাকাসিদ) এবং একটি উপসংহারের (খাতিমা) ওপর বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকাটি চারটি পরিচ্ছেদের ওপর "বিন্যস্ত"**:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مدخل إلى علم الأصول
الْفَصْلُ الْأَوَّلُ فِي تَعْرِيفِ أُصُولِ الْفِقْهِ وَمَوْضُوعِهِ وفائدته واستمدادهمدخل
…الْفَصْلُ الْأَوَّلُ: فِي تَعْرِيفِ أُصُولِ الْفِقْهِ وَمَوْضُوعِهِ، وَفَائِدَتِهِ، وَاسْتِمْدَادِهِ:
اعْلَمْ أَنَّ لِهَذَا اللَّفْظِ اعْتِبَارَيْنِ:
أَحَدُهُمَا بِاعْتِبَارِ الْإِضَافَةِ وَالْآخَرُ بِاعْتِبَارِ الْعَلَمِيَّةِ.
أَمَّا الِاعْتِبَارُ الْأَوَّلُ فَيَحْتَاجُ إِلَى تَعْرِيفِ الْمُضَافِ، وَهُوَ الْأُصُولُ، وَالْمُضَافِ إِلَيْهِ وَهُوَ الْفِقْهُ؛ لِأَنَّ تَعْرِيفَ الْمُرَكَّبِ1 يَتَوَقَّفُ عَلَى تَعْرِيفِ مُفْرَدَاتِهِ، ضَرُورَةَ تَوَقُّفِ مَعْرِفَةِ الْكُلِّ عَلَى مَعْرِفَةِ أَجْزَائِهِ، وَيَحْتَاجُ أَيْضًا إِلَى تَعْرِيفِ الْإِضَافَةِ؛ لِأَنَّهَا بِمَنْزِلَةِ الْجُزْءِ الصُّورِيِّ.
أَمَّا الْمُضَافُ فَالْأُصُولُ: جَمْعُ أَصْلٍ، وَهُوَ فِي اللُّغَةِ مَا يَنْبَنِي عَلَيْهِ غَيْرُهُ.
وَفِي الِاصْطِلَاحِ: يُقَالُ عَلَى الرَّاجِحِ، وَالْمُسْتَصْحِبِ، وَالْقَاعِدَةِ الْكُلِّيَّةِ وَالدَّلِيلِ.
وَالْأَوْفَقُ بِالْمَقَامِ الرَّابِعُ.
وَقَدْ قِيلَ: إِنَّ النَّقْلَ عَنِ الْمَعْنَى اللُّغَوِيِّ هُنَا خِلَافُ الْأَصْلِ، وَلَا ضَرُورَةَ هُنَا تُلْجِئُ إِلَيْهِ؛ لِأَنَّ الِانْبِنَاءَ الْعَقْلِيَّ كَانْبِنَاءِ الْحُكْمِ عَلَى دَلِيلِهِ يَنْدَرِجُ تَحْتَ مُطْلَقِ الِانْبِنَاءِ؛ لِأَنَّهُ يَشْمَلُ الِانْبِنَاءَ الْحِسِّيَّ، كَانْبِنَاءِ الْجِدَارِ عَلَى أَسَاسِهِ، وَالِانْبِنَاءَ الْعَقْلِيَّ كَانْبِنَاءِ الْحُكْمِ عَلَى دَلِيلِهِ.
وَلَمَّا كَانَ مُضَافًا إِلَى الْفِقْهِ هُنَا وَهُوَ مَعْنًى عَقْلِيٌّ دَلَّ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ الِانْبِنَاءُ الْعَقْلِيُّ.
وَأَمَّا الْمُضَافُ إِلَيْهِ وَهُوَ الْفِقْهُ فَهُوَ فِي اللُّغَةِ الْفَهْمُ2.
وَفِي الِاصْطِلَاحِ: الْعِلْمُ بالأحكام الشرعية، عن أدلته التفصيلية بالاستدلال.
--------------------------------------------
উসুল শাস্ত্রের ভূমিকা
প্রথম পরিচ্ছেদ: উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, প্রয়োজনীয়তা এবং এর উৎসসমূহভূমিকা
…প্রথম পরিচ্ছেদ: উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, প্রয়োজনীয়তা এবং এর উৎস প্রসঙ্গে:
জেনে রাখুন যে, এই শব্দটির (উসুলুল ফিকহ) দুটি বিবেচনা রয়েছে:
একটি হলো সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিচারে (ইজাফাত), আর অন্যটি হলো পরিভাষাগত নাম (আলামিয়্যাহ) হিসেবে।
প্রথম বিবেচনার ক্ষেত্রে ‘মুদাফ’ (সম্বন্ধকৃত শব্দ) তথা ‘উসুল’ এবং ‘মুদাফ ইলাইহি’ (যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে) তথা ‘ফিকহ’-এর সংজ্ঞা প্রদান প্রয়োজন। কেননা কোনো যৌগিক পদের সংজ্ঞা তার একক শব্দসমূহের সংজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল; কারণ সামগ্রিক কোনো কিছুকে জানার জন্য তার অংশসমূহকে জানা অপরিহার্য। এছাড়া এখানে সম্বন্ধ বা ইজাফাত-এর সংজ্ঞা প্রদানও প্রয়োজন, কারণ এটি রূপগত অংশের মর্যাদায় রয়েছে।
মুদাফ বা সম্বন্ধকৃত শব্দ হলো ‘উসুল’; এটি ‘আসল’ শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি এমন বিষয়কে বলা হয়, যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে (ভিত্তি)।
আর পরিভাষায় এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত, পূর্বাবস্থা বহাল রাখা (ইস্তিসহাব), সাধারণ মূলনীতি এবং দলীল বা প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমান আলোচনার জন্য চতুর্থ অর্থটি (দলীল) অধিক উপযোগী।
বলা হয়ে থাকে যে, এখানে আভিধানিক অর্থ থেকে সরে আসা মূল নিয়মের পরিপন্থী, আর এখানে এর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক নির্ভরতা—যেমন দলীলের ওপর হুকুমের নির্ভরতা—তা সাধারণ ‘নির্ভরতা’ বা ‘ভিত্তি’ শব্দের অধীনেই পড়ে। কেননা এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভিত্তি (যেমন দেয়ালের ভিত্তি) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি (যেমন দলীলের ওপর হুকুমের ভিত্তি) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
যেহেতু এখানে শব্দটি ফিকহের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং ফিকহ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়, তাই এটি প্রমাণ করে যে এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক নির্ভরতা বা ভিত্তিই উদ্দেশ্য।
আর মুদাফ ইলাইহি বা যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তা হলো ‘ফিকহ’; অভিধানে এর অর্থ হলো উপলব্ধি বা বোঝা।
আর পরিভাষায়: দলীল হতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রমাণাদি সহ শরয়ি বিধানাবলি জানার নাম ফিকহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقِيلَ: التَّصْدِيقُ بِأَعْمَالِ الْمُكَلَّفِينَ، الَّتِي تُقْصَدُ لَا لاعتقاد.
وقيل: معرفة النفس مالها وَمَا عَلَيْهَا عَمَلًا.
وَقِيلَ: اعْتِقَادُ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْفَرْعِيَّةِ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ.
وَقِيلَ: هُوَ جُمْلَةٌ مِنَ الْعُلُومِ "بِأَحْكَامٍ شَرْعِيَّةٍ يُسْتَدَلُّ عَلَى أَعْيَانِهَا"* يُعْلَمُ بِاضْطِرَارٍ أَنَّهَا مِنَ الدِّينِ.
وَقَدِ اعْتُرِضَ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ هَذِهِ التَّعْرِيفَاتِ بِاعْتِرَاضَاتٍ، وَالْأَوَّلُ أَوْلَاهَا إِنْ حُمِلَ الْعِلْمُ فِيهِ عَلَى مَا يَشْمَلُ الظَّنَّ؛ لِأَنَّ غَالِبَ عِلْمِ الْفِقْهِ ظُنُونٌ. وَأَمَّا الْإِضَافَةُ فَمَعْنَاهَا اخْتِصَاصُ الْمُضَافِ بِالْمُضَافِ إِلَيْهِ، بِاعْتِبَارِ مَفْهُومِ الْمُضَافِ إِلَيْهِ.
فَأُصُولُ الْفِقْهِ مَا "يَخْتَصُّ"** بِالْفِقْهِ، مِنْ حَيْثُ كَوْنِهِ مَبْنِيًّا عَلَيْهِ وَمُسْتَنِدًا إِلَيْهِ.
وَأَمَّا الِاعْتِبَارُ الثَّانِي: فَهُوَ إِدْرَاكُ الْقَوَاعِدِ الَّتِي يُتَوَصَّلُ بِهَا إِلَى اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْفَرْعِيَّةِ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ.
وَقِيلَ: هُوَ الْعِلْمُ بِالْقَوَاعِدِ
… إلخ.
وَقِيلَ: هُوَ نَفْسُ الْقَوَاعِدِ الْمُوَصِّلَةِ بِذَاتِهَا إِلَى اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ
… إلخ.
وَقِيلَ: هُوَ طُرُقُ الْفِقْهِ "عَلَى وَجْهِ الْإِجْمَالِ وَكَيْفِيَّةُ الِاسْتِدْلَالِ بِهَا، وَمَا يَتْبَعُ الْكَيْفِيَّةَ"***.
وَفِيهِ: أَنَّ ذِكْرَ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ تَصْرِيحٌ بِاللَّازِمِ الْمَفْهُومِ ضِمْنًا؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ اسْتِنْبَاطُ الْأَحْكَامِ تَفْصِيلًا، وَهُوَ لَا يَكُونُ إِلَّا عَنْ أَدِلَّتِهَا تَفْصِيلًا، وَيُزَادُ عَلَيْهِ:
عَلَى وَجْهِ التَّحْقِيقِ لِإِخْرَاجِ عِلْمِ الْخِلَافِ1، وَالْجَدَلِ2، فَإِنَّهُمَا وَإِنِ اشْتَمَلَا عَلَى الْقَوَاعِدِ الْمُوَصِّلَةِ إِلَى مَسَائِلِ الْفِقْهِ، لَكِنْ لَا عَلَى وَجْهِ التحقيق، بل الغرض منها إلزام الخصم.
ولما كان العلم مأخوذًا على أصول الفقه عند البعض، حسن ههنا أن نذكر تعريف مطلق العلم:
--------------------------------------------
আরও বলা হয়েছে: এটি হলো মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর হয়) ওই সকল কাজের সত্যয়ন করা, যার উদ্দেশ্য বিশ্বাস নয় বরং আমল।
আরও বলা হয়েছে: নিজের অধিকার ও আমল সম্পর্কিত দায়িত্ব সম্পর্কে আত্মার জ্ঞান।
আরও বলা হয়েছে: বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে আহরিত শাখাভুত শরীয়তসম্মত হুকুমসমূহের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস।
আরও বলা হয়েছে: এটি এমন কিছু ইলম বা জ্ঞানের সমষ্টি "শরীয়তসম্মত হুকুমসমূহ সম্পর্কে যা নির্দিষ্টভাবে দলীল দ্বারা সাব্যস্ত করা যায়"* এবং যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলে আবশ্যিকভাবে জানা যায়।
এই সংজ্ঞাগুলোর প্রত্যেকটির ওপর বিভিন্ন আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। যদি 'ইলম' শব্দটিকে 'জন্ন' বা প্রবল ধারণাকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে প্রথম সংজ্ঞাটিই সর্বাধিক উত্তম; কেননা ফিকহ শাস্ত্রের অধিকাংশ ইলমই প্রবল ধারণানির্ভর। আর ইযাফাত বা সম্বন্ধের অর্থ হলো মুদাফ-ইলাইহ বা সম্বন্ধ পদের অর্থের প্রেক্ষিতে মুদাফ বা সম্বন্ধযুক্ত পদের বিশিষ্টতা।
সুতরাং উসুলুল ফিকহ হলো তা-ই যা ফিকহের সাথে "বিশিষ্ট"**, এই দিক থেকে যে ফিকহ এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর ওপর নির্ভরশীল।
আর দ্বিতীয় বিবেচনায়: এটি হলো ওই সকল মূলনীতি অনুধাবন করা যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে শাখাভুত শরীয়তসম্মত হুকুমগুলো আহরণ করা সম্ভব হয়।
আরও বলা হয়েছে: এটি হলো মূলনীতিসমূহের জ্ঞান ... ইত্যাদি।
আরও বলা হয়েছে: এটি হলো স্বয়ং ওই মূলনীতিসমূহ যা হুকুম আহরণ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় ... ইত্যাদি।
আরও বলা হয়েছে: এটি হলো "সামগ্রিকভাবে ফিকহের পথসমূহ, তা থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি এবং এই পদ্ধতির অনুবর্তী বিষয়সমূহ"***।
এতে একটি আপত্তি এই যে, বিস্তারিত দলীলের উল্লেখ করা মূলত অন্তর্নিহিত অপরিহার্য বিষয়কেই স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা; কারণ উদ্দেশ্য হলো হুকুমসমূহ বিস্তারিতভাবে আহরণ করা, আর তা বিস্তারিত দলীল ব্যতীত সম্ভব নয়। তবে এর সাথে আরও যোগ করা হয়:
তাহকীক বা যথাযথ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হওয়া—যাতে ইলমুল খিলাফ১ এবং ইলমুল জাদাল২ এর বাইরে থাকে। কারণ যদিও এই উভয় শাস্ত্রে ফিকহি মাসআলা পর্যন্ত পৌঁছানোর মূলনীতিসমূহ বিদ্যমান, তবে তা তাহকীকের ভিত্তিতে নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করা।
যেহেতু কারো কারো মতে 'ইলম' উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, তাই এখানে সাধারণভাবে ইলমের সংজ্ঞা উল্লেখ করা সমীচীন হবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَدِ اخْتَلَفَتِ الْأَنْظَارُ فِي ذَلِكَ اخْتِلَافًا كَثِيرًا، حَتَّى قَالَ جَمَاعَةٌ "مِنْهُمُ"* الرَّازِيُّ1: بِأَنَّ مُطْلَقَ الْعِلْمِ ضَرُورِيٌّ، فَيَتَعَذَّرُ تَعْرِيفُهُ، وَاسْتَدَلُّوا بِمَا لَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ مِنَ الدَّلَالَةِ، وَيَكْفِي فِي دَفْعِ مَا قَالُوهُ مَا هُوَ مَعْلُومٌ بِالْوُجْدَانِ لِكُلِّ عَاقِلٍ، أَنَّ الْعِلْمَ يَنْقَسِمُ إِلَى ضَرُورِيٍّ2، وَمُكْتَسَبٍ3.
وَقَالَ قَوْمٌ مِنْهُمُ الْجُوَيْنِيُّ4:
إِنَّهُ نَظَرِيٌّ، وَلَكِنَّهُ يَعْسُرُ تَحْدِيدُهُ5، وَلَا طَرِيقَ إِلَى مَعْرِفَتِهِ إِلَّا الْقِسْمَةَ وَالْمِثَالَ، فَيُقَالُ مَثَلًا: الِاعْتِقَادُ إِمَّا جَازِمٌ، أَوْ غَيْرُ جَازِمٍ، وَالْجَازِمُ إِمَّا مُطَابِقٌ أَوْ غَيْرُ مُطَابِقٍ، وَالْمُطَابِقُ إِمَّا ثَابِتٌ، أَوْ غَيْرُ ثَابِتٍ فَخَرَجَ مِنْ هَذِهِ الْقِسْمَةِ اعْتِقَادٌ جَازِمٌ مُطَابِقٌ ثَابِتٌ وَهُوَ الْعِلْمُ.
وَأُجِيبَ عَنْ هَذَا بأن القسمة والمثال إن أفاد تَمْيِيزًا لِمَاهِيَّةِ الْعِلْمِ عَمَّا عَدَاهَا، صَلُحَا لِلتَّعْرِيفِ لَهَا فَلَا يَعْسُرُ، وَإِنْ لَمْ يُفِيدَا تَمْيِيزًا لَمْ يَصْلُحْ بِهِمَا مَعْرِفَةُ مَاهِيَّةِ الْعِلْمِ.
وَقَالَ الْجُمْهُورُ: إِنَّهُ نَظَرِيٌّ، "لَا"** يَعْسُرُ تَحْدِيدُهُ، ثُمَّ ذَكَرُوا لَهُ حُدُودًا.
فَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ اعْتِقَادُ الشَّيْءِ عَلَى مَا هُوَ بِهِ عَنْ ضَرُورَةٍ أَوْ دَلِيلٍ.
وَفِيهِ: أَنَّ الِاعْتِقَادَ الْمَذْكُورَ يَعُمُّ الْجَازِمَ وَغَيْرَ الْجَازِمِ، وَعَلَى تَقْدِيرِ تَقْيِيدِهِ بِالْجَازِمِ يَخْرُجُ عَنْهُ الْعِلْمُ بِالْمُسْتَحِيلِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بِشَيْءٍ اتِّفَاقًا.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ مَعْرِفَةُ الْمَعْلُومِ عَلَى مَا هُوَ بِهِ
وَفِيهِ: أَنَّهُ يَخْرُجُ عَنْ ذَلِكَ عِلْمُ اللَّهِ عز وجل؛ إذ لا يسمى معرفة.
--------------------------------------------
এ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিগুলোতে প্রচুর মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি ইমাম রাজি-সহ একদল আলিম বলেছেন: জ্ঞানের পরম সত্তা হলো স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি), তাই একে সংজ্ঞায়িত করা অসম্ভব। তারা এমন বিষয় দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যাতে কোনো প্রমাণ নেই। তারা যা বলেছেন তা খণ্ডন করার জন্য প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির স্বজ্ঞা দ্বারা যা জ্ঞাত সেটিই যথেষ্ট যে, জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত: স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি) এবং অর্জিত (মুক্তাসাব)।
ইমাম জুয়াইনি-সহ একদল বলেছেন:
এটি তাত্ত্বিক বা চিন্তাসাপেক্ষ (নাজারি), তবে এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন। এটি জানার একমাত্র পথ হলো বিভাগ বা শ্রেণিবিভাগ এবং উদাহরণ। যেমন বলা হয়: বিশ্বাস হয় দৃঢ় হবে নতুবা দৃঢ় হবে না। দৃঢ় বিশ্বাস হয় বাস্তবসম্মত হবে নতুবা বাস্তবসম্মত হবে না। বাস্তবসম্মত বিশ্বাস হয় অটল হবে নতুবা অটল হবে না। সুতরাং এই বিভাগ থেকে একটি অটল, বাস্তবসম্মত ও দৃঢ় বিশ্বাস বের হয়ে আসে, আর তাই হলো জ্ঞান।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, শ্রেণিবিভাগ এবং উদাহরণ যদি জ্ঞানের সত্তাকে অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করতে সক্ষম হয়, তবে তা সংজ্ঞার জন্য উপযুক্ত এবং তা কঠিন নয়। আর যদি পৃথক করতে না পারে, তবে এর মাধ্যমে জ্ঞানের সত্তা জানা সম্ভব নয়।
জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ বলেছেন: এটি তাত্ত্বিক বা চিন্তাসাপেক্ষ (নাজারি), এবং এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন নয়। অতঃপর তারা এর জন্য কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার ওপর বিশ্বাস করাই হলো জ্ঞান, যা স্বতঃসিদ্ধভাবে অথবা দলিলের ভিত্তিতে অর্জিত হয়।
এতে আপত্তি হলো: উক্ত 'বিশ্বাস' শব্দটি দৃঢ় ও অ-দৃঢ় উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি একে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে অসম্ভব বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত হয় না, কারণ সর্বসম্মতিক্রমে তা কোনো 'বস্তু' নয়।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচয় লাভ করা।
এতে আপত্তি হলো: এর ফলে মহান আল্লাহর জ্ঞান এই সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়; কারণ তাঁর জ্ঞানকে 'মা'রিফাত' (পরিচয় লাভ) বলা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ الَّذِي يُوجِبُ كَوْنَ مَنْ قَامَ بِهِ عَالِمًا أَوْ يُوجِبُ لِمَنْ قام به اسم العالم.
وفيه: أن يَسْتَلْزِمُ الدَّوْرَ1 لِأَخْذِ الْعَالِمِ فِي تَعْرِيفِ الْعِلْمِ.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ مَا يَصِحُّ مِمَّنْ قَامَ بِهِ إِتْقَانُ الْفِعْلِ.
وَفِيهِ: أَنَّ فِي الْمَعْلُومَاتِ مَا لَا يَقْدِرُ الْعَالِمُ عَلَى إِتْقَانِهِ، كَالْمُسْتَحِيلِ.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ اعْتِقَادٌ جَازِمٌ مُطَابِقٌ.
وَفِيهِ: أَنَّهُ يَخْرُجُ عَنْهُ التَّصَوُّرَاتُ وَهِيَ عِلْمٌ.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ حُصُولُ صُورَةِ الشَّيْءِ فِي الْعَقْلِ، أَوِ الصُّورَةُ الْحَاصِلَةُ عِنْدَ الْعَقْلِ.
وَفِيهِ: أَنَّهُ يَتَنَاوَلُ الظَّنَّ، وَالشَّكَّ وَالْوَهْمَ2، وَالْجَهْلَ الْمُرَكَّبَ3.
وَقَدْ جَعَلَ بَعْضُهُمْ هَذَا حَدًّا لِلْعِلْمِ بِالْمَعْنَى الْأَعَمِّ، الشَّامِلِ لِلْأُمُورِ الْمَذْكُورَةِ.
وَفِيهِ: أَنَّ إِطْلَاقَ اسْمِ الْعِلْمِ عَلَى الشَّكِّ، وَالْوَهْمِ وَالْجَهْلِ الْمُرَكَّبِ، يُخَالِفُ مَفْهُومَ الْعِلْمِ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ حُكْمٌ لَا يَحْتَمِلُ طَرَفَاهُ -أَيِ: الْمَحْكُومُ عَلَيْهِ، وَبِهِ- نَقِيضَهُ.
وَفِيهِ: أَنَّهُ يَخْرُجُ عَنْهُ التَّصَوُّرُ وَهُوَ عِلْمٌ.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ صِفَةٌ تُوجِبُ تَمْيِيزًا لِمَحَلِّهَا لَا يَحْتَمِلُ النَّقِيضَ بِوَجْهٍ.
وَفِيهِ: أَنَّ الْعُلُومَ الْمُسْتَنِدَةَ إِلَى الْعَادَةِ تَحْتَمِلُ النَّقِيضَ، لِإِمْكَانِ خَرْقِ الْعَادَةِ بِالْقُدْرَةِ الْإِلَهِيَّةِ.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ صِفَةٌ يَتَجَلَّى بِهِ الْمُدْرَكُ لِلْمُدْرِكِ.
وَفِيهِ: أَنَّ الْإِدْرَاكَ مَجَازٌ عَنِ الْعِلْمِ فَيَلْزَمُ تَعْرِيفُ الشَّيْءِ بِنَفْسِهِ، مَعَ كَوْنِ الْمَجَازِ مَهْجُورًا فِي التَّعْرِيفَاتِ، وَدَعْوَى اشْتِهَارِهِ فِي الْمَعْنَى الْأَعَمِّ الَّذِي هُوَ جِنْسُ الْأَخَصِّ غَيْرُ مُسَلَّمَةٍ.
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: هُوَ صِفَةٌ يَتَجَلَّى بِهَا الْمَذْكُورُ لِمَنْ قَامَتْ هي به.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি (ইলম) এমন এক বিষয় যা যার মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে 'আলিম' (জ্ঞানী) হওয়াকে আবশ্যক করে অথবা যার মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় তার জন্য 'আলিম' নামটিকে আবশ্যক করে।
এর মধ্যে আপত্তি হলো: এটি 'দাওর' (চক্রক সংজ্ঞা) ১ এর দিকে ধাবিত করে, কারণ ইলমের সংজ্ঞায় 'আলিম' শব্দটিকে গ্রহণ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: ইলম হলো এমন কিছু যা যার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় তার পক্ষ থেকে কোনো কাজ নিখুঁতভাবে সম্পাদন করা সঠিক হয়।
এতে আপত্তি হলো: জ্ঞাত বিষয়সমূহের (মা'লুমাত) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নিখুঁতভাবে সম্পাদন করতে আলিম সক্ষম নন, যেমন—অসম্ভব বিষয় (মুস্তাহিল)।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস।
এতে আপত্তি হলো: এর ফলে 'তাসাউরাত' (ধারণা বা প্রত্যক্ষণসমূহ) এর আওতা থেকে বেরিয়ে যায়, অথচ তাও ইলম।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো বুদ্ধিতে কোনো বস্তুর রূপ অর্জিত হওয়া, অথবা বুদ্ধির নিকট অর্জিত হওয়া রূপ।
এতে আপত্তি হলো: এটি ধারণা, সন্দেহ, কল্পনা ২ এবং জটিল মূর্খতাকেও ৩ অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে।
কেউ কেউ এটিকে ইলমের ব্যাপক অর্থের সংজ্ঞা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা উল্লিখিত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এতে আপত্তি হলো: সন্দেহ, কল্পনা ও জটিল মূর্খতার ওপর 'ইলম' নামের প্রয়োগ আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থের পরিপন্থী।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন এক ফয়সালা যার উভয় পক্ষ—অর্থাৎ যার ওপর ফয়সালা করা হয়েছে এবং যার মাধ্যমে ফয়সালা করা হয়েছে—তার বিপরীত কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না।
এতে আপত্তি হলো: এর ফলে 'তাসাউর' এর আওতা থেকে বেরিয়ে যায়, অথচ তাও ইলম।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা তার আধারের জন্য এমন এক পার্থক্য সৃষ্টি করে যা কোনোভাবেই বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না।
এতে আপত্তি হলো: স্বাভাবিক অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল জ্ঞানসমূহ বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, কারণ আল্লাহর কুদরতের মাধ্যমে স্বাভাবিক অভ্যাস ভঙ্গ হওয়া সম্ভব।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষকারীর কাছে প্রত্যক্ষ করা বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
এতে আপত্তি হলো: এখানে 'ইদরিক' (প্রত্যক্ষণ) শব্দটি ইলম-এর রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে সংজ্ঞাটি বস্তুকে সেই বস্তু দিয়েই সংজ্ঞায়িত করার নামান্তর হয়। এছাড়া সংজ্ঞার ক্ষেত্রে রূপক শব্দের ব্যবহার পরিত্যাজ্য। আর একে সেই ব্যাপক অর্থে প্রসিদ্ধ হওয়ার দাবি করা যা বিশেষ শ্রেণির মূল ধরন (জিনস), তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে উল্লিখিত বিষয়টি তার কাছে প্রকাশিত হয় যার মধ্যে বৈশিষ্ট্যটি বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
قَالَ الْمُحَقِّقُ الشَّرِيفُ1: وَهَذَا أَحْسَنُ مَا قِيلَ فِي الْكَشْفِ عَنْ مَاهِيَّةِ الْعِلْمِ؛ لِأَنَّ الْمَذْكُورَ يَتَنَاوَلُ الْمَوْجُودَ، وَالْمَعْدُومَ، وَالْمُمْكِنَ، وَالْمُسْتَحِيلَ، بِلَا خِلَافٍ، وَيَتَنَاوَلُ الْمُفْرَدَ، وَالْمُرَكَّبَ، وَالْكُلِّيَّ، وَالْجُزْئِيَّ، وَالتَّجَلِّي هُوَ الِانْكِشَافُ التَّامُّ، فَالْمَعْنَى أَنَّهُ صِفَةٌ يَنْكَشِفُ بِهَا لِمَنْ قَامَتْ بِهِ مَا مِنْ شَأْنِهِ أَنْ يُذْكَرَ، انْكِشَافًا تَامًّا لَا اشْتِبَاهَ فِيهِ.
فَيَخْرُجُ عَنِ الْحَدِّ الظَّنُّ، وَالْجَهْلُ الْمُرَكَّبُ، وَاعْتِقَادُ الْمُقَلِّدِ الْمُصِيبِ أَيْضًا لِأَنَّهُ فِي الْحَقِيقَةِ عُقْدَةٌ عَلَى الْقَلْبِ، فَلَيْسَ فِيهِ انْكِشَافٌ تَامٌّ، وَانْشِرَاحٌ يَنْحَلُّ بِهِ الْعُقْدَةُ انْتَهَى.
وَفِيهِ: أَنَّهُ يَخْرُجُ عَنْهُ إدراك الحواس، فإنه لا مدخلية للمذكور فِيهِ، إِنْ أُرِيدَ بِهِ الذِّكْرُ اللِّسَانِيُّ، كَمَا هُوَ الظَّاهِرُ، وَإِنْ أُرِيدَ بِهِ مَا يَتَنَاوَلُ الذِّكْرَ بِكَسْرِ الذَّالِ، وَالذُّكْرَ بِضَمِّهَا، فَإِمَّا أَنْ يَكُونَ مِنَ الْجَمْعِ بَيْنَ "مَعْنَيَيِ"* الْمُشْتَرَكِ، أَوْ مِنَ الْجَمْعِ بَيْنَ الْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ، وَكِلَاهُمَا مَهْجُورٌ فِي التَّعْرِيفَاتِ.
هَذَا جُمْلَةُ مَا قِيلَ فِي تَعْرِيفِ الْعِلْمِ، وَقَدْ عَرَفْتَ مَا وَرَدَ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا.
وَالْأَوْلَى عِنْدِي أَنْ يُقَالَ فِي تَحْدِيدِهِ: هُوَ صِفَةٌ يَنْكَشِفُ بِهَا الْمَطْلُوبُ، انْكِشَافًا تَامًّا، وَهَذَا لَا يَرِدُ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِمَّا تَقَدَّمَ فَتَدَبَّرْ.
وَإِذَا عَرَفْتَ مَا قِيلَ فِي "حَدِّ الْعِلْمِ"** فَاعْلَمْ أَنَّ مُطْلَقَ التَّعْرِيفِ لِلشَّيْءِ قَدْ يَكُونُ حَقِيقِيًّا، وَقَدْ يَكُونُ اسْمِيًّا، فَالْحَقِيقِيُّ تَعْرِيفُ الْمَاهِيَّاتِ الْحَقِيقِيَّةِ، وَالِاسْمِيُّ تَعْرِيفُ الْمَاهِيَّاتِ الِاعْتِبَارِيَّةِ.
وَبَيَانُهُ أَنَّ مَا يَتَعَقَّلُهُ الْوَاضِعُ لِيَضَعَ بِإِزَائِهِ اسْمًا إِمَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ مَاهِيَّةٌ حَقِيقِيَّةٌ أَوْ لَا، وَعَلَى الْأَوَّلِ إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُتَعَقَّلُهُ نَفْسَ حَقِيقَةِ ذَلِكَ الشَّيْءِ، أَوْ وُجُوهًا وَاعْتِبَارَاتٍ مِنْهُ، فَتَعْرِيفُ الْمَاهِيَّةِ الْحَقِيقِيَّةِ بِمُسَمَّى الِاسْمِ مِنْ حَيْثُ إِنَّهَا مَاهِيَّةٌ حَقِيقِيَّةٌ تَعْرِيفٌ حَقِيقِيٌّ، يُفِيدُ تَصَوُّرَ الْمَاهِيَّةِ فِي الذِّهْنِ بِالذَّاتِيَّاتِ، كُلِّهَا أَوْ بَعْضِهَا، أَوْ بِالْعَرَضِيَّاتِ، أَوْ "بِالْمُرَكَّبِ"*** مِنْهُمَا، وَتَعْرِيفُ مَفْهُومِ الِاسْمِ وَمَا تَعَقَّلَهُ الْوَاضِعُ. فَوَضَعَ الِاسْمَ بِإِزَائِهِ تَعْرِيفٌ اسْمِيٌّ، يُفِيدُ تَبْيِينَ مَا وُضِعَ الِاسْمُ بِإِزَائِهِ بِلَفْظٍ أَشْهَرَ.
فَتَعْرِيفُ الْمَعْدُومَاتِ لَا يَكُونُ إِلَّا اسْمِيًّا؛ إِذْ لَا حَقَائِقَ لَهَا بَلْ لَهَا مَفْهُومَاتٌ فَقَطْ، وَتَعْرِيفُ
--------------------------------------------
মুহাক্কিক শরীফ১ বলেন: ইলম বা জ্ঞানের সারসত্তা উন্মোচনের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎ বর্ণিত সর্বশ্রেষ্ঠ কথা; কারণ এতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা কোনো মতপার্থক্য ছাড়াই বিদ্যমান, অবিদ্যমান, সম্ভব এবং অসম্ভব সকল কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি একক, যৌগিক, সামগ্রিক ও আংশিক সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর 'তাজাল্লি' হলো পূর্ণাঙ্গ উন্মোচন। সুতরাং এর অর্থ হলো, এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির নিকট—যার মাঝে এটি বিদ্যমান রয়েছে—এমন সব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে এবং সংশয়হীনভাবে উন্মোচিত হয়, যা উল্লেখ করার যোগ্যতা রাখে।
ফলে এই সংজ্ঞা থেকে ধারণা, জটিল মূর্খতা এবং সেই অনুসারীর বিশ্বাসও বাদ পড়ে যায় যে সত্যে উপনীত হয়েছে; কারণ তা বাস্তবে হৃদয়ের ওপর একটি গিঁট মাত্র, যার মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ উন্মোচন এবং এমন প্রশস্ততা নেই যার মাধ্যমে সেই গিঁটটি খুলে যায়। সমাপ্ত।
আর এতে একটি আপত্তি এই যে: এর মাধ্যমে ইন্দ্রিয়জ উপলব্ধি সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, কারণ এতে 'উল্লেখিত' বিষয়ের কোনো প্রবেশাধিকার নেই যদি এর দ্বারা মৌখিক উল্লেখ উদ্দেশ্য হয়, যেমনটি বাহ্যত প্রতীয়মান হয়। আর যদি এর দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য হয় যা দ্বারা 'যিকর' (স্মরণ) এবং 'যাকর' (উল্লেখ) উভয়ই বোঝায়, তবে এটি হয় কোনো অভিন্ন শব্দের দুটি অর্থকে একত্রে গ্রহণ করা হবে, অথবা প্রকৃত ও রূপক অর্থের সমন্বয় হবে; আর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে উভয়টিই বর্জনীয়।
এটিই হলো ইলমের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যা কিছু বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ, আর এগুলোর প্রত্যেকটির ওপর যা আপতিত হয়েছে তা আপনি জেনেছেন।
আমার নিকট এর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে এটি বলাই উত্তম যে: এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা উদ্দিষ্ট বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মোচিত হয়। আর এর ওপর পূর্বোক্ত কোনো আপত্তিই আসবে না, সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।
আপনি যখন 'ইলমের সংজ্ঞা' সম্পর্কে আলোচিত বিষয়গুলো জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, কোনো জিনিসের সাধারণ সংজ্ঞা কখনো প্রকৃত (হাকিকি) হতে পারে, আবার কখনো নামীয় (ইসমি) হতে পারে। প্রকৃত সংজ্ঞা হলো প্রকৃত সারসত্তাগুলোর সংজ্ঞা, আর নামীয় সংজ্ঞা হলো ধারণাগত বা বুদ্ধিগত সত্তাগুলোর সংজ্ঞা।
এবং এর ব্যাখ্যা হলো, নাম প্রদানকারী ব্যক্তি তার বিপরীতে একটি নাম নির্ধারণ করার জন্য যা চিন্তা করেন, তার কি কোনো প্রকৃত সারসত্তা আছে নাকি নেই? প্রথম ক্ষেত্রে, তার চিন্তিত বিষয়টি হয় সেই বস্তুর মূল সারসত্তা হবে, নতুবা তার কোনো দিক বা পরিপ্রেক্ষিত হবে। সুতরাং কোনো প্রকৃত সারসত্তাকে তার নামের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা—এই দিক থেকে যে এটি একটি প্রকৃত সত্তা—হলো প্রকৃত সংজ্ঞা। এটি মনের মধ্যে সেই সারসত্তার এমন একটি ধারণা প্রদান করে যা তার মৌলিক গুণাবলির সবটুকু বা অংশ বিশেষ দ্বারা, অথবা আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা অথবা এ দুটির সমন্বয় দ্বারা অর্জিত হয়। আর নামের ধারণা এবং নাম প্রদানকারীর চিন্তিত বিষয়ের সংজ্ঞা হলো নামীয় সংজ্ঞা। এটি এমন একটি সংজ্ঞা যা নামের বিপরীতে নির্ধারিত বিষয়টি সম্পর্কে আরও সুপরিচিত শব্দের মাধ্যমে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।
সুতরাং অবিদ্যমান বিষয়গুলোর সংজ্ঞা কেবল নামীয় হতে পারে; কারণ এগুলোর কোনো প্রকৃত বাস্তবতা নেই, বরং কেবল ধারণা রয়েছে। এবং সংজ্ঞা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
الموجودات قد يكون اسميًّا. وقد يَكُونُ حَقِيقِيًّا؛ إِذْ لَهَا مَفْهُومَاتٌ وَحَقَائِقُ، وَالشَّرْطُ فِي كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا الِاطِّرَادُ وَالِانْعِكَاسُ، فَالِاطِّرَادُ: هُوَ أَنَّهُ كُلَّمَا وُجِدَ الْحَدُّ وُجِدَ الْمَحْدُودُ، فَلَا يَدْخُلُ فِيهِ شَيْءٌ لَيْسَ مِنْ أَفْرَادِ الْمَحْدُودِ؛ فَهُوَ بِمَعْنَى طَرْدِ الْأَغْيَارِ فَيَكُونُ مَانِعًا، وَالِانْعِكَاسُ: هُوَ أَنَّهُ كُلَّمَا وُجِدَ الْمَحْدُودُ وُجِدَ الْحَدُّ؛ فَلَا يَخْرُجُ عَنْهُ شَيْءٌ مِنْ أَفْرَادِهِ فَهُوَ بِمَعْنَى جَمْعِ الْأَفْرَادِ، فَيَكُونُ جَامِعًا.
ثُمَّ العلم بالضرورة ينقسم إِلَى ضَرُورِيٍّ وَنَظَرِيٍّ:
فَالضَّرُورِيُّ: مَا لَا يُحْتَاجُ فِي تَحْصِيلِهِ إِلَى نَظَرٍ.
وَالنَّظَرِيُّ: مَا يُحْتَاجُ إِلَيْهِ.
وَالنَّظَرُ: هُوَ الْفِكْرُ الْمَطْلُوبُ بِهِ عِلْمٌ أَوْ ظَنٌّ.
وَقِيلَ: هُوَ مُلَاحَظَةُ الْمَعْقُولِ لِتَحْصِيلِ الْمَجْهُولِ.
وَقِيلَ: هُوَ حَرَكَةُ النَّفْسِ مِنَ الْمَطَالِبِ التَّصَوُّرِيَّةِ، أَوِ التَّصْدِيقِيَّةِ، طَالِبَةً لِلْمَبَادِئِ، وَهِيَ الْمَعْلُومَاتُ التَّصَوُّرِيَّةُ، أَوِ التَّصْدِيقِيَّةُ، بِاسْتِعْرَاضِ صُوَرِهَا صُورَةً صُورَةً.
وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنَ الضَّرُورِيِّ وَالنَّظَرِيِّ يَنْقَسِمُ إِلَى قِسْمَيْنِ تَصَوُّرٍ1 وَتَصْدِيقٍ2، وَالْكَلَامُ فِيهِمَا مَبْسُوطٌ فِي عِلْمِ الْمَنْطِقِ.
وَالدَّلِيلُ مَا يُمْكِنُ التَّوَصُّلُ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهِ إِلَى مَطْلُوبٍ خَبَرِيٍّ.
وَقِيلَ: مَا يُمْكِنُ التَّوَصُّلُ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهِ إِلَى الْعِلْمِ بِالْغَيْرِ.
وَقِيلَ: مَا يَلْزَمُ مِنَ الْعِلْمِ بِهِ الْعِلْمُ بِشَيْءٍ آخَرَ.
وَقِيلَ: هُوَ تَرْتِيبُ أُمُورٍ مَعْلُومَةٍ لِلتَّأَدِّي إِلَى مَجْهُولٍ.
وَالْأَمَارَةُ هِيَ الَّتِي يُمْكِنُ أَنْ يُتَوَصَّلَ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهَا إِلَى الظَّنِّ.
وَالظَّنُّ تَجْوِيزُ رَاجِحٍ.
وَالْوَهْمُ تَجْوِيزُ مَرْجُوحٍ.
وَالشَّكُّ تَرَدُّدُ الذِّهْنِ بَيْنَ الطَّرَفَيْنِ.
فَالظَّنُّ فِيهِ حُكْمٌ لِحُصُولِ الرَّاجِحِيَّةِ، وَلَا يَقْدَحُ فِيهِ احْتِمَالُهُ لِلنَّقِيضِ الْمَرْجُوحِ.
وَالْوَهْمُ لَا حُكْمَ فِيهِ، لِاسْتِحَالَةِ الْحُكْمِ بِالنَّقِيضَيْنِ؛ لِأَنَّ النَّقِيضَ الَّذِي هُوَ مُتَعَلِّقُ الظن قد
--------------------------------------------
বিদ্যমান বস্তুসমূহের সংজ্ঞা কখনো নামগত (শাব্দিক) হয়, আবার কখনো তা প্রকৃতগত হয়; কেননা সেগুলোর বিশেষ ধারণা ও বাস্তবতা রয়েছে। এ দুটির প্রত্যেকটির শর্ত হলো 'ইত্তিরাদ' (ব্যাপকতা) এবং 'ইন'ইকাস' (ব্যবর্তকতা)। 'ইত্তিরাদ' হলো যখনই সংজ্ঞা (Had) পাওয়া যাবে, তখনই সংজ্ঞায়িত বস্তু (Mahdud) পাওয়া যাবে, ফলে সংজ্ঞায়িত বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু তাতে প্রবেশ করবে না; এটি অন্যদের বাদ দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই একে 'মানি' (প্রতিবন্ধক) বলা হয়। আর 'ইন'ইকাস' হলো যখনই সংজ্ঞায়িত বস্তু পাওয়া যাবে, তখনই তার সংজ্ঞা পাওয়া যাবে; ফলে এর অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা অংশ সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়বে না। এটি অন্তর্ভুক্ত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই একে 'জামি' (সংগ্রহকারী) বলা হয়।
অতঃপর জ্ঞান আবশ্যকতা অনুযায়ী দুই ভাগে বিভক্ত: আবশ্যকীয় (জরুরি) ও তাত্ত্বিক (নজরি):
আবশ্যকীয় জ্ঞান: যা অর্জনে চিন্তাভাবনার (নজর) প্রয়োজন হয় না।
তাত্ত্বিক জ্ঞান: যা অর্জনে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয়।
আর চিন্তাভাবনা (নজর) হলো এমন চিন্তা যার মাধ্যমে জ্ঞান অথবা প্রবল ধারণা (জন্ন) লাভের অনুসন্ধান করা হয়।
আবার বলা হয়েছে: এটি হলো অজানা বিষয়কে অর্জনের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের পর্যবেক্ষণ।
আরো বলা হয়েছে: এটি হলো কোনো মৌলিক নিয়ম বা মূলনীতির সন্ধানে ধারণাগত (তাসাউর) অথবা সত্যায়নমূলক (তাসদিক) উদ্দেশ্যসমূহ থেকে মনের বিচরণ; আর এই মূলনীতিগুলো হলো ধারণাগত অথবা সত্যায়নমূলক পরিচিত তথ্যসমূহ, যেগুলোর চিত্র একের পর এক পর্যালোচনার মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়।
আবশ্যকীয় ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রত্যেকটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: ধারণা (তাসাউর)১ ও সত্যায়ন (তাসদিক)২। এ দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তর্কশাস্ত্রে (মানতিক) রয়েছে।
দলিল হলো এমন বিষয় যার মাধ্যমে সঠিক চিন্তাভাবনার দ্বারা কোনো সংবাদলব্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
বলা হয়েছে: এটি এমন বিষয় যার মাধ্যমে সঠিক চিন্তাভাবনার দ্বারা অন্য কোনো বিষয়ের জ্ঞান অর্জন সম্ভব হয়।
বলা হয়েছে: যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অন্য কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকাকে আবশ্যক করে।
বলা হয়েছে: এটি হলো অজানা বিষয়ে পৌঁছানোর জন্য জানা বিষয়গুলোকে সুবিন্যস্ত করা।
'আমারাহ' (সংকেত) হলো এমন বিষয় যার মাধ্যমে সঠিক চিন্তাভাবনার দ্বারা প্রবল ধারণায় (জন্ন) পৌঁছানো সম্ভব হয়।
প্রবল ধারণা (জন্ন) হলো কোনো এক দিকের প্রাধান্যকে গ্রহণ করা।
ক্ষীণ ধারণা (ওয়াহম) হলো অপ্রাধান্যযোগ্য দিকটিকে গ্রহণ করা।
সন্দেহ (শাক) হলো দুই দিকের মাঝে মনের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থা।
প্রবল ধারণার (জন্ন) ক্ষেত্রে কোনো এক দিকের প্রাধান্য পাওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত বা হুকুম থাকে, আর এর বিপরীতে ক্ষীণ সম্ভাবনার (নাকিজে মারজুহ) অবকাশ থাকা একে ত্রুটিযুক্ত করে না।
ক্ষীণ ধারণার (ওয়াহম) ক্ষেত্রে কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্ত থাকে না, কারণ দুটি বিপরীত বিষয়ের ওপর একসাথে হুকুম আরোপ করা অসম্ভব; কেননা বিপরীত বিষয়টি যা প্রবল ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حُكِمَ بِهِ، فَلَوْ حُكِمَ بِنَقِيضِهِ الْمَرْجُوحِ -وَهُوَ مُتَعَلِّقُ الْوَهْمِ- لَزِمَ الْحُكْمُ بِهِمَا جَمِيعًا.
وَالشَّكُّ لَا حُكْمَ فِيهِ بِوَاحِدٍ مِنَ الطَّرَفَيْنِ، لِتَسَاوِي الْوُقُوعِ وَاللَّاوُقُوعِ فِي نَظَرِ الْعَقْلِ، فَلَوْ حُكِمَ بِوَاحِدٍ مِنْهُمَا -لَزِمَ التَّرْجِيحُ بِلَا مُرَجِّحٍ، وَلَوْ حُكِمَ بِهِمَا جَمِيعًا- لَزِمَ الْحُكْمُ بِالنَّقِيضَيْنِ.
وَالِاعْتِقَادُ فِي الِاصْطِلَاحِ: هُوَ الْمَعْنَى الْمُوجِبُ لِمَنِ اخْتَصَّ بِهِ كَوْنَهُ جَازِمًا بِصُورَةٍ مُجَرَّدَةٍ، أَوْ بِثُبُوتِ أَمْرٍ أَوْ نَفْيِهِ.
وَقِيلَ: هُوَ الْجَزْمُ بِالشَّيْءِ مِنْ دُونِ سُكُونِ نَفْسٍ، وَيُقَالُ عَلَى التَّصْدِيقِ، سَوَاءٌ كَانَ جَازِمًا، أَوْ غَيْرَ جَازِمٍ، مُطَابِقًا أَوْ غَيْرَ مُطَابِقٍ، ثَابِتًا أَوْ غَيْرَ ثَابِتٍ، فَيَنْدَرِجُ تَحْتَهُ الْجَهْلُ الْمُرَكَّبُ؛ لِأَنَّهُ حُكْمٌ غَيْرُ مُطَابِقٍ، وَالتَّقْلِيدُ لِأَنَّهُ جَزْمٌ بِثُبُوتِ أَمْرٍ أَوْ نَفْيِهِ، لِمُجَرَّدِ قَوْلِ الْغَيْرِ.
وَأَمَّا الْجَهْلُ الْبَسِيطُ: فَهُوَ مُقَابِلٌ لِلْعِلْمِ وَالِاعْتِقَادِ، مُقَابَلَةَ الْعَدَمِ لِلْمَلَكَةِ؛ لِأَنَّهُ عَدَمُ الْعِلْمِ، وَالِاعْتِقَادِ عَمَّا مَنْ شَأْنُهُ أن يكون عالمًا أو معتقدًا.
এর দ্বারা ফয়সালা করা হয়েছে, সুতরাং যদি এর দুর্বল বিপরীতটি দ্বারা ফয়সালা করা হতো -যা মূলত অমূলক ধারণার (ওয়াহম) সাথে সংশ্লিষ্ট- তবে উভয়টি দ্বারা একত্রে ফয়সালা করা আবশ্যক হয়ে পড়ত।
আর সন্দেহের (শাক) ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের ওপরই ফয়সালা করা হয় না, কারণ আকলের দৃষ্টিতে ঘটা এবং না-ঘটা উভয়ই সমান। সুতরাং যদি এ দুটির কোনো একটির ওপর ফয়সালা করা হতো, তবে কোনো অগ্রাধিকার প্রদানকারী ছাড়াই অগ্রাধিকার প্রদান করা (তারজীহ বিলা মুরাজজিহ) আবশ্যক হতো; আর যদি উভয়টির ওপরই ফয়সালা করা হতো, তবে দুটি বিপরীত বিষয়ের ওপর একত্রে ফয়সালা করা আবশ্যক হতো।
পরিভাষায় 'বিশ্বাস' (ইতিকাদ) হলো: এমন অর্থ যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য কোনো একটি বিষয়ের রূপরেখা সম্পর্কে অথবা কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার ব্যাপারে দৃঢ়তাপূর্ণ হওয়াকে আবশ্যক করে।
বলা হয়ে থাকে: এটি হলো আত্মার প্রশান্তি ছাড়াই কোনো বিষয়ে দৃঢ়তা পোষণ করা। এটি 'তাসদীক' (সত্যায়ন) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, চাই তা দৃঢ়তাপূর্ণ হোক বা না হোক, বাস্তবসম্মত হোক বা না হোক, অটল হোক বা না হোক। ফলে এর অধীনে 'জাহলে মুরাক্কাব' (জটিল মূর্খতা) অন্তর্ভুক্ত হয়; কারণ তা বাস্তবতাবিবর্জিত একটি ফয়সালা। আর 'তাকলীদ'ও এর অন্তর্ভুক্ত হয়, কারণ এটি কেবল অপরের কথা অনুযায়ী কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার ব্যাপারে এক প্রকার দৃঢ় বিশ্বাস।
আর 'জাহলে বাসীত' (সরল মূর্খতা) হলো: তা জ্ঞান এবং বিশ্বাসের বিপরীত, যেমন যোগ্যতার বিপরীতে অযোগ্যতা (আদাম বনাম মালাকা); কারণ এটি হলো এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে জ্ঞান এবং বিশ্বাসের অনুপস্থিতি, যার জ্ঞান বা বিশ্বাস রাখার যোগ্যতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
موضوع علم أُصُولِ الْفِقْهِ:وَأَمَّا مَوْضُوعُ عِلْمِ أُصُولِ الْفِقْهِ: فَاعْلَمْ أَنَّ مَوْضُوعَ الْعِلْمِ مَا يُبْحَثُ فِيهِ مِنْ أَعْرَاضِهِ الذَّاتِيَّةِ. وَالْمُرَادُ بِالْعَرَضِ هُنَا الْمَحْمُولُ عَلَى الشَّيْءِ الْخَارِجِ عَنْهُ. وَإِنَّمَا يُقَالُ لَهُ إنما يُقَالُ لَهُ الْعَرَضُ الذَّاتِيُّ؛ لِأَنَّهُ يَلْحَقُ الشَّيْءَ لِذَاتِهِ، كَالْإِدْرَاكِ لِلْإِنْسَانِ، أَوْ بِوَاسِطَةِ أَمْرٍ يُسَاوِيهِ كَالضَّحِكِ لِلْإِنْسَانِ بِوَاسِطَةِ تَعَجُّبِهِ، أَوْ بِوَاسِطَةِ أَمْرٍ أَعَمَّ مِنْهُ دَاخِلٍ فِيهِ كَالتَّحَرُّكِ لِلْإِنْسَانِ بِوَاسِطَةِ كَوْنِهِ حَيَوَانًا.
وَالْمُرَادُ بِالْبَحْثِ عَنِ الْأَعْرَاضِ الذَّاتِيَّةِ: حَمْلُهَا عَلَى مَوْضِعِ الْعِلْمِ، كَقَوْلِنَا: الْكِتَابُ يَثْبُتُ بِهِ الْحُكْمُ، أَوْ عَلَى أَنْوَاعِهِ، كَقَوْلِنَا: الْأَمْرُ يُفِيدُ الْوُجُوبَ، أَوْ عَلَى أَعْرَاضِهِ الذَّاتِيَّةِ، كَقَوْلِنَا: النَّصُّ يَدُلُّ عَلَى مَدْلُولِهِ دَلَالَةً قَطْعِيَّةً، أَوْ عَلَى أَنْوَاعِ أَعْرَاضِهِ الذَّاتِيَّةِ، كَقَوْلِنَا: الْعَامُّ الَّذِي خُصَّ مِنْهُ الْبَعْضُ، يَدُلُّ عَلَى بَقِيَّةِ أَفْرَادِهِ دَلَالَةً ظَنِّيَّةً.
وَجَمِيعُ مَبَاحِثِ أُصُولِ الْفِقْهِ رَاجِعَةٌ إِلَى إِثْبَاتِ أَعْرَاضٍ ذَاتِيَّةٍ لِلْأَدِلَّةِ وَالْأَحْكَامِ، مِنْ حَيْثُ إِثْبَاتِ الْأَدِلَّةِ لِلْأَحْكَامِ، وَثُبُوتِ الْأَحْكَامِ بِالْأَدِلَّةِ، بِمَعْنَى أَنَّ جَمِيعَ مَسَائِلِ هَذَا الْفَنِّ هُوَ الْإِثْبَاتُ، وَالثُّبُوتُ.
وَقِيلَ: مَوْضُوعُ عِلْمِ أُصُولِ الْفِقْهِ هُوَ الدَّلِيلُ السَّمْعِيُّ الْكُلِّيُّ فَقَطْ، مِنْ حَيْثُ إِنَّهُ يُوَصِّلُ الْعِلْمُ بِأَحْوَالِهِ إِلَى قُدْرَةِ إِثْبَاتِ الْأَحْكَامِ لِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ، أَخْذًا مِنْ شَخْصِيَّاتِهِ1.
وَالْمُرَادُ بِالْأَحْوَالِ مَا يَرْجِعُ إِلَى الْإِثْبَاتِ، وَهُوَ ذَاتِيٌّ للدليل والأول أولى.
--------------------------------------------
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়:আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়ের (মাওজু) ক্ষেত্রে জেনে রাখুন যে, কোনো শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো এমন কিছু যার অনিবার্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (আ'রাজ-এ-জাতিয়াহ) নিয়ে তাতে আলোচনা করা হয়। এখানে 'বৈশিষ্ট্য' (আ'রাজ) বলতে এমন কিছু বোঝানো হয়েছে যা কোনো বিষয়ের ওপর আরোপিত হয় কিন্তু তা তার সত্তার বহির্ভূত। একে ‘অনিবার্য বৈশিষ্ট্য’ বলা হয় কারণ এটি সেই বস্তুর সত্তার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; যেমন মানুষের ক্ষেত্রে উপলব্ধি ক্ষমতা, অথবা তার সমপর্যায়ের কোনো মাধ্যমের মাধ্যমে হওয়া যেমন মানুষের ক্ষেত্রে বিস্ময়বোধের কারণে হাসা, অথবা এমন কোনো অধিকতর ব্যাপক মাধ্যমের মাধ্যমে হওয়া যা তার অন্তর্ভুক্ত যেমন মানুষ প্রাণী হওয়ার কারণে তার নড়াচড়া করা।
অনিবার্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনার অর্থ হলো: সেগুলোকে শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা; যেমন আমাদের কথা: 'কিতাব (কুরআন) দ্বারা বিধান সাব্যস্ত হয়', অথবা শাস্ত্রের প্রকারভেদের ওপর প্রয়োগ করা; যেমন আমাদের কথা: 'আদেশ (আমর) আবশ্যকতা (ওয়াজিব) প্রদান করে', অথবা এর অনিবার্য বৈশিষ্ট্যসমূহের ওপর প্রয়োগ করা; যেমন আমাদের কথা: 'সুস্পষ্ট পাঠ (নস) তার অর্থের ওপর অকাট্যভাবে প্রমাণ নির্দেশ করে', অথবা অনিবার্য বৈশিষ্ট্যের প্রকারভেদের ওপর প্রয়োগ করা; যেমন আমাদের কথা: 'সাধারণ শব্দ (আম) যা থেকে কিছু অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তা তার অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর ধারণাগতভাবে প্রমাণ নির্দেশ করে'।
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের যাবতীয় আলোচনা দলিল ও বিধানসমূহের (আহকাম) জন্য অনিবার্য বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করার দিকেই ফিরে যায়; দলিল দ্বারা বিধান সাব্যস্ত করা এবং দলিলের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে। অর্থাৎ এই শাস্ত্রের সকল মাসয়ালা বা বিষয়বস্তু হলো 'সাব্যস্ত করা' (ইছবাত) এবং 'সাব্যস্ত হওয়া' (ছবুত)।
কেউ কেউ বলেছেন: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো শুধুমাত্র সামগ্রিক শ্রুত দলিলসমূহ, এই দিক থেকে যে, এর অবস্থাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ব্যক্তিকে তার বিশেষ রূপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফ) কর্মসমূহের জন্য বিধান সাব্যস্ত করার সক্ষমতার দিকে পৌঁছে দেয়।
আর 'অবস্থাসমূহ' বলতে সেই বিষয়কেই বোঝানো হয়েছে যা 'সাব্যস্ত করার' দিকে ফিরে যায়, আর এটি দলিলের জন্য স্বকীয় বা অনিবার্য বিষয়; তবে প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فائدة علم أصول الفقه وثمرته:وَأَمَّا فَائِدَةُ هَذَا الْعِلْمِ: فَهِيَ الْعِلْمُ بِأَحْكَامِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ أَوِ الظَّنُّ بِهَا.
وَلَمَّا كَانَتْ هَذِهِ الْغَايَةُ بِهَذِهِ الْمَنْزِلَةِ مِنَ الشَّرَفِ، كَانَ عِلْمُ طَالِبِهِ بِهَا وَوُقُوفُهُ عَلَيْهَا مُقْتَضِيًا لِمَزِيدِ عِنَايَتِهِ بِهِ، وَتَوَفُّرِ رَغْبَتِهِ فِيهِ؛ لِأَنَّهَا سَبَبُ الفوز بسعادة الدارين.
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের উপকারিতা ও এর ফল:আর এই শাস্ত্রের উপকারিতা হলো: মহান আল্লাহর বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অথবা সে সম্পর্কে প্রবল ধারণা অর্জন করা।
যেহেতু এই লক্ষ্যটি মর্যাদার এমন উচ্চ স্তরে আসীন, তাই এই শাস্ত্রের অন্বেষীর জন্য এ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করা তার পক্ষ থেকে অধিকতর যত্নশীল হওয়ার এবং এতে পূর্ণ আগ্রহ থাকার দাবি রাখে; কারণ এটি ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য অর্জনের মাধ্যম।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
استمداد علم أصول الفقه:وَأَمَّا اسْتِمْدَادُهُ فَمِنْ ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ:
الْأَوَّلُ: عِلْمُ الكلام1، لتوقف الأدلة الشرعية على معرفة الباري سُبْحَانَهُ، وَصِدْقِ الْمُبَلِّغِ، وَهُمَا مَبْنِيَّانِ فِيهِ، مُقَرَّرَةٌ أدلتهما من مَبَاحِثِهِ.
الثَّانِي: اللُّغَةُ الْعَرَبِيَّةُ؛ لِأَنَّ فَهْمَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَالِاسْتِدْلَالَ بِهِمَا مُتَوَقِّفَانِ عَلَيْهَا، إِذْ هُمَا عَرَبِيَّانِ.
الثَّالِثُ: الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ مِنْ حَيْثُ تَصَوُّرِهَا؛ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ إِثْبَاتُهَا أَوْ نَفْيُهَا، كَقَوْلِنَا: الْأَمْرُ للوجوب، والنهي للتحري، والصلاة واجبة، والربا حرام2.
وجه ذكرنا لما اشتمل عليه هذا الفضل أَنْ يُوجِبَ زِيَادَةَ بَصِيرَةٍ لِطَالِبِ هَذَا الْعِلْمِ كما لا يخفى على ذي فهم.
--------------------------------------------
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের উৎসসমূহ:আর এই শাস্ত্রের উৎস হলো তিনটি বিষয়:
প্রথম: ইলমুল কালাম; কারণ শারয়ি দলিলসমূহ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহুর পরিচয় এবং বাণী প্রচারকের সত্যতা জানার ওপর নির্ভরশীল। আর এই উভয় বিষয় ইলমুল কালামের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং এদের স্বপক্ষে দলিলসমূহ এই শাস্ত্রেরই বিভিন্ন পরিচ্ছেদে সুপ্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয়: আরবি ভাষা; কারণ কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন করা এবং তা থেকে দলিল গ্রহণ করা আরবি ভাষার ওপর নির্ভরশীল, যেহেতু এ দুটিই আরবি ভাষায়।
তৃতীয়: শারয়ি বিধানসমূহ সেগুলোর উপলব্ধির দিক থেকে; কারণ লক্ষ্য হলো সেগুলোকে সাব্যস্ত করা অথবা নাকচ করা। যেমন আমাদের উক্তি: আদেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য, এবং নিষেধ হারামের জন্য, আর সালাত ওয়াজিব ও সুদ হারাম।
এই পরিচ্ছেদে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করা, যেমনটি প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الثاني في الأحكام
مدخل…الفصل الثاني: في الأحكام
وَإِنَّمَا قَدَّمْنَا الْكَلَامَ فِي الْأَحْكَامِ عَلَى الْكَلَامِ فِي اللُّغَاتِ؛ لِأَنَّهُ يَتَعَلَّقُ بِالْأَحْكَامِ مَسَائِلُ مِنْ مهمات علم الكلام، سنذكرها ههنا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
وَفِيهِ أَرْبَعَةُ أَبْحَاثٍ:
1- الْبَحْثُ الْأَوَّلُ فِي الْحُكْمِ.
2- الثَّانِي فِي الْحَاكِمِ.
3- الثَّالِثُ فِي الْمَحْكُومِ بِهِ.
4- الرَّابِعُ فِي الْمَحْكُومِ عليه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিধানসমূহ প্রসঙ্গেপ্রবেশিকা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিধানসমূহ প্রসঙ্গে
বস্তুত আমরা বিধানসমূহ সংক্রান্ত আলোচনাকে ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার অগ্রে স্থান দিয়েছি; কারণ বিধানসমূহের সাথে ইলমুল কালামের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা সংশ্লিষ্ট রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা এখানেই উল্লেখ করব।
আর এতে চারটি আলোচনা রয়েছে:
১- প্রথম আলোচনা: বিধান (হুকুম) প্রসঙ্গে।
২- দ্বিতীয়টি: বিধানদাতা (হাকিম) প্রসঙ্গে।
৩- তৃতীয়টি: যা দ্বারা বিধান প্রদান করা হয় (মাহকুম বিহি) প্রসঙ্গে।
৪- চতুর্থটি: যার ওপর বিধান প্রযোজ্য হয় (মাহকুম আলাইহি) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأول في الحكم…أما الْبَحْثُ الْأَوَّلُ فِي الْحُكْمِ:
فَاعْلَمْ أَنَّ الْحُكْمَ هُوَ: الْخِطَابُ الْمُتَعَلِّقُ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ بِالِاقْتِضَاءِ1 أَوِ التَّخْيِيرِ أَوِ الْوَضْعِ، فَيَتَنَاوَلُ اقْتِضَاءَ الْوُجُودِ، وَاقْتِضَاءَ الْعَدَمِ، إِمَّا مَعَ الْجَزْمِ، أَوْ مَعَ جَوَازِ التَّرْكِ، فَيَدْخُلُ فِي هَذَا الْوَاجِبُ وَالْمَحْظُورُ، وَالْمَنْدُوبُ، وَالْمَكْرُوهُ، وَأَمَّا التَّخْيِيرُ فَهُوَ الْإِبَاحَةُ.
وَأَمَّا الْوَضْعُ: فَهُوَ السَّبَبُ، وَالشَّرْطُ، وَالْمَانِعُ.
فَالْأَحْكَامُ التَّكْلِيفِيَّةُ خَمْسَةٌ؛ لِأَنَّ الْخِطَابَ إِمَّا أَنْ يَكُونَ جَازِمًا، أَوْ لَا يَكُونَ جَازِمًا، فَإِنْ كَانَ جَازِمًا فَإِمَّا أَنْ يَكُونَ طَلَبَ الْفِعْلِ، وَهُوَ الْإِيجَابُ، أَوْ طَلَبَ التَّرْكِ، وَهُوَ التَّحْرِيمُ.
وَإِنْ كَانَ غَيْرَ جَازِمٍ، فَالطَّرَفَانِ إِمَّا أَنْ يَكُونَا عَلَى السَّوِيَّةِ، وَهُوَ الْإِبَاحَةُ، أَوْ يَتَرَجَّحُ جَانِبُ الْوُجُودِ، وَهُوَ النَّدْبُ، أَوْ يَتَرَجَّحُ جَانِبُ التَّرْكِ، وَهُوَ الْكَرَاهَةُ، فَكَانَتِ الْأَحْكَامُ ثَمَانِيَةً، خَمْسَةٌ تَكْلِيفِيَّةٌ وَثَلَاثَةٌ وَضْعِيَّةٌ.
--------------------------------------------
হুকুম সংক্রান্ত প্রথম পরিচ্ছেদ...হুকুম সংক্রান্ত প্রথম আলোচনা প্রসঙ্গে:
জেনে রাখুন যে, হুকুম হলো: দাবি, ইখতিয়ার (পছন্দ) বা ওয়াদ’ (বিধিবদ্ধকরণ)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে সক্ষম ব্যক্তি) কার্যাবলি বিষয়ক আল্লাহর সম্বোধন। এটি কাজ সম্পাদনের দাবি এবং বর্জনের দাবিকে অন্তর্ভুক্ত করে—চাই তা দৃঢ়তার সাথে হোক, অথবা বর্জনের সুযোগ রেখে হোক। ফলে এর অধীনে ওয়াজিব (আবশ্যক), মাহযূর (নিষিদ্ধ), মানদুব (পছন্দনীয়) এবং মাকরূহ (অপছন্দনীয়) অন্তর্ভুক্ত হয়। আর ইখতিয়ার বা পছন্দের বিষয়টি হলো ইবাহাত (বৈধতা)।
আর ওয়াদ’ (বিধিবদ্ধকরণ) হলো: সবব (কারণ), শর্ত এবং মানে’ (প্রতিবন্ধক)।
সুতরাং আহকামুত তাকলিফিয়্যাহ (দায়িত্বারোপকারী বিধানসমূহ) পাঁচটি; কারণ সম্বোধনটি হয় দৃঢ়তামূলক হবে, নতুবা দৃঢ়তামূলক হবে না। যদি তা দৃঢ়তামূলক হয়, তবে তা হয় কাজ সম্পাদনের দাবি হবে—যা হলো ঈজাব (আবশ্যকীকরণ), অথবা তা কাজ বর্জনের দাবি হবে—যা হলো তাহরীম (নিষিদ্ধকরণ)।
আর যদি তা দৃঢ়তামূলক না হয়, তবে উভয় দিক হয় সমান হবে—যা হলো ইবাহাত (বৈধতা), অথবা সম্পাদনের দিকটি প্রাধান্য পাবে—যা হলো নাদব (সুপারিশকৃত), অথবা বর্জনের দিকটি প্রাধান্য পাবে—যা হলো কারাহাত (অপছন্দনীয়তা)। সুতরাং বিধানসমূহ মোট আটটি; পাঁচটি তাকলিফী এবং তিনটি ওয়াদ’য়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَتَسْمِيَةُ الْخَمْسَةِ تَكْلِيفِيَّةً تَغْلِيبٌ؛ إِذْ لَا تَكْلِيفَ فِي الْإِبَاحَةِ بَلْ وَلَا فِي النَّدْبِ، وَالْكَرَاهَةِ التَّنْزِيهِيَّةِ عِنْدَ الْجُمْهُورِ.
وَسُمِّيَتِ الثَّلَاثَةُ وَضْعِيَّةً؛ لِأَنَّ الشَّارِعَ وَضَعَهَا عَلَامَاتٍ لِأَحْكَامٍ تَكْلِيفِيَّةٍ، وُجُودًا وَانْتِفَاءً.
فَالْوَاجِبُ فِي الِاصْطِلَاحِ: مَا يُمْدَحُ فَاعِلُهُ، وَيُذَمُّ تَارِكُهُ، عَلَى بَعْضِ الْوُجُوهِ فَلَا يَرِدُ النَّقْضُ بِالْوَاجِبِ الْمُخَيَّرِ، وَبِالْوَاجِبِ عَلَى الْكِفَايَةِ، فَإِنَّهُ لَا يُذَمُّ فِي الْأَوَّلِ، إِذَا تَرَكَهُ مَعَ الْآخَرِ، وَلَا يُذَمُّ فِي الثَّانِي إِلَّا إِذَا لَمْ يَقُمْ بِهِ غَيْرُهُ.
وَيَنْقَسِمُ إِلَى مُعَيَّنٍ وَمُخَيَّرٍ، وَمُضَيَّقٍ، وَمُوَسَّعٍ، وَعَلَى الْأَعْيَانِ، وَعَلَى الْكِفَايَةِ.
وَيُرَادِفُهُ الْفَرْضُ عِنْدَ الْجُمْهُورِ1، وَقِيلَ: الْفَرْضُ مَا كَانَ دَلِيلُهُ قَطْعِيًّا، وَالْوَاجِبُ مَا كَانَ دَلِيلُهُ ظَنِّيًّا وَالْأَوَّلُ أَوْلَى؟
وَالْمَحْظُورُ: مَا يُذَمُّ فَاعِلُهُ وَيُمْدَحُ تَارِكُهُ، وَيُقَالُ: لَهُ الْمُحَرَّمُ، وَالْمَعْصِيَةُ، وَالذَّنْبُ، وَالْمَزْجُورُ عَنْهُ، وَالْمُتَوَعَّدُ عَلَيْهِ، وَالْقَبِيحُ.
وَالْمَنْدُوبُ: مَا يُمْدَحُ فَاعِلُهُ، وَلَا يُذَمُّ تَارِكُهُ.
وَقِيلَ: هُوَ الَّذِي يَكُونُ فِعْلُهُ رَاجِحًا فِي نَظَرِ الشَّرْعِ، وَيُقَالُ لَهُ: مُرَغَّبٌ فِيهِ، وَمُسْتَحَبٌّ، وَنَفْلٌ، وَتَطَوُّعٌ، وَإِحْسَانٌ، وَسُنَّةٌ.
وَقِيلَ: إِنَّهُ لَا يُقَالُ لَهُ سُنَّةٌ، إِلَّا إِذَا دَاوَمَ عَلَيْهِ الشَّارِعُ، كَالْوِتْرِ، وَرَوَاتِبِ الْفَرَائِضِ.
وَالْمَكْرُوهُ: مَا يُمْدَحُ تَارِكُهُ، وَلَا يُذَمُّ فَاعِلُهُ.
وَيُقَالُ بِالِاشْتِرَاكِ عَلَى أُمُورٍ ثَلَاثَةٍ: عَلَى مَا نُهِيَ عَنْهُ نَهْيَ تَنْزِيهٍ، وَهُوَ الَّذِي أَشْعَرَ فَاعِلَهُ أَنَّ تَرْكَهُ خَيْرٌ مِنْ فِعْلِهِ، وَعَلَى تَرْكِ الْأَوْلَى، كَتَرْكِ صَلَاةِ الضُّحَى، وَعَلَى الْمَحْظُورِ الْمُتَقَدِّمِ.
وَالْمُبَاحُ: مَا لَا يُمْدَحُ عَلَى فِعْلِهِ، وَلَا عَلَى تَرْكِهِ.
وَالْمَعْنَى: أَنَّهُ أَعْلَمَ فَاعِلَهُ أَنَّهُ لَا ضَرَرَ عَلَيْهِ، فِي فِعْلِهِ وَتَرْكِهِ، وَقَدْ يُطْلَقُ عَلَى مَا لَا ضَرَرَ عَلَى فَاعِلِهِ، وَإِنْ كَانَ تَرْكُهُ مَحْظُورًا، كَمَا يُقَالُ: دَمُ الْمُرْتَدِّ مُبَاحٌ، أَيْ: لَا ضَرَرَ عَلَى مَنْ أَرَاقَهُ، وَيُقَالُ لِلْمُبَاحِ: الْحَلَالُ، وَالْجَائِزُ، والمطلق.
--------------------------------------------
পাঁচটি বিধানকে 'তাকলীফী' (দায়বদ্ধতামূলক) নামকরণ করা হয়েছে প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে; কারণ মুবাহ (বৈধ) কাজে কোনো দায়বদ্ধতা নেই, এমনকি জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামাদের মতে মানদুব (পছন্দনীয়) এবং মাকরূহে তানযিহী (সামান্য অপছন্দনীয়) কাজেও কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
আর অন্য তিনটি বিধানকে 'ওয়াদঈ' (নির্ধারণী বা পরিস্থিতিমূলক) বলা হয়; কারণ শরীয়ত প্রণেতা সেগুলোকে তাকলীফী বিধানের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
পারিভাষিক অর্থে ওয়াজিব হলো: যার সম্পাদনকারী প্রশংসিত হয় এবং বর্জনকারী নিন্দিত হয়। এটি বিশেষ কিছু দিক বিবেচনায় বলা হয়েছে, ফলে ঐচ্ছিক ওয়াজিব (ওয়াজিবে মুখাইয়্যার) এবং সামষ্টিক ওয়াজিবের (ওয়াজিবে কিফায়া) মাধ্যমে সংজ্ঞায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। কারণ প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে, অন্যটি পালন করার সাথে সাথে একটি বর্জন করলে ব্যক্তি নিন্দিত হয় না; আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে, অন্য কেউ তা পালন করলে বর্জনকারী নিন্দিত হয় না।
আর ওয়াজিব নির্ধারিত, ঐচ্ছিক, সংকীর্ণ সময়ব্যাপী, প্রশস্ত সময়ব্যাপী, ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক—এই ভাগে বিভক্ত।
জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামাদের মতে 'ফরজ' শব্দটিও এর সমার্থক।১ কেউ কেউ বলেন: যার দলিল অকাট্য (কাতঈ) তা হলো ফরজ, আর যার দলিল ধারণাপ্রসূত (জন্নী) তা হলো ওয়াজিব। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর উপযোগী।
আর মাহযুর (নিষিদ্ধ) হলো: যার সম্পাদনকারী নিন্দিত হয় এবং বর্জনকারী প্রশংসিত হয়। একে মুহররাম (হারাম), মা’সিয়ত (পাপ), যানব (গুনাহ), মাজযুর আনহু (বারিত বিষয়), মুতাওয়আদ আলাইহি (শাস্তির হুমকিপ্রাপ্ত বিষয়) এবং কাবিহ (মন্দ কাজ) বলা হয়।
মানদুব (পছন্দনীয়) হলো: যার সম্পাদনকারী প্রশংসিত হয়, কিন্তু বর্জনকারী নিন্দিত হয় না।
কেউ কেউ বলেন: শরীয়তের দৃষ্টিতে যে কাজটির সম্পাদন করা অগ্রগণ্য তাই মানদুব। একে মুরাগগাব ফিহি (উৎসাহিত বিষয়), মুস্তাহাব, নফল, তাতাউ (স্বেচ্ছাধীন কাজ), ইহসান এবং সুন্নাহ বলা হয়।
বলা হয়েছে যে, একে ততক্ষণ 'সুন্নাহ' বলা হবে না যতক্ষণ না শরীয়ত প্রণেতা নিয়মিত তা পালন করেছেন, যেমন বিতর এবং ফরজ নামাজের নিয়মিত সুন্নাতসমূহ (রাওয়াতিব)।
মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হলো: যার বর্জনকারী প্রশংসিত হয়, কিন্তু সম্পাদনকারী নিন্দিত হয় না।
এটি সমভাবে তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: যা 'তানযিহী' (সামান্য) অপছন্দের সাথে নিষেধ করা হয়েছে—যা সম্পাদনকারীকে এই মর্মে বার্তা দেয় যে তা বর্জন করা সম্পাদন করার চেয়ে উত্তম; উত্তম কাজ বর্জন করা (তারকে আওলা)—যেমন চাশতের (দুহা) নামাজ বর্জন করা; এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত নিষিদ্ধ বা মাহযুর বিষয়।
মুবাহ (বৈধ) হলো: যার সম্পাদন বা বর্জন কোনোটির জন্যই প্রশংসা করা হয় না।
এর অর্থ হলো: এটি সম্পাদনকারীকে জানিয়ে দেয় যে, তা করা বা বর্জন করার মধ্যে তার কোনো ক্ষতি (বা গুনাহ) নেই। কখনো কখনো এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার সম্পাদনকারীর কোনো ক্ষতি নেই, যদিও তা বর্জন করা নিষিদ্ধ; যেমন বলা হয়: 'মুরতাদের রক্ত মুবাহ (বৈধ)', অর্থাৎ যে তার রক্ত প্রবাহিত করবে তার কোনো ক্ষতি (বা দণ্ড) হবে না। মুবাহ-কে হালাল, জায়েয এবং মুতলাক (অবারিত) বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالسَّبَبُ: هُوَ جَعْلُ وَصْفٍ ظَاهِرٍ مُنْضَبِطٍ مَنَاطًا1 لِوُجُودِ حُكْمٍ، أَيْ: يَسْتَلْزِمُ وُجُودُهُ وُجُودَهُ.
وَبَيَانُهُ: أن الله سُبْحَانَهُ فِي الزَّانِي مَثَلًا حُكْمَيْنِ: أَحَدُهُمَا تَكْلِيفِيٌّ، وَهُوَ وُجُوبُ الْحَدِّ عَلَيْهِ، وَالثَّانِي وَضْعِيٌّ، وَهُوَ جَعْلُ الزِّنَا سَبَبًا لِوُجُوبِ الْحَدِّ؛ لِأَنَّ الزِّنَا لَا يُوجِبُ الْحَدَّ بِعَيْنِهِ وَذَاتِهِ، بَلْ بِجَعْلِ الشَّرْعِ.
وَيَنْقَسِمُ السَّبَبُ بِالِاسْتِقْرَاءِ إِلَى الْوَقْتِيَّةِ، كَزَوَالِ الشَّمْسِ، لِوُجُوبِ الصَّلَاةِ، وَالْمَعْنَوِيَّةِ كَالْإِسْكَارِ لِلتَّحْرِيمِ وَكَالْمِلْكِ لِلضَّمَانِ، وَالْمَعْصِيَةِ لِلْعُقُوبَةِ.
وَالشَّرْطُ: هُوَ الْحُكْمُ عَلَى الْوَصْفِ بِكَوْنِهِ شَرْطًا لِلْحُكْمِ.
وَحَقِيقَةُ الشَّرْطِ: هُوَ مَا كَانَ عَدَمُهُ يَسْتَلْزِمُ عَدَمَ الْحُكْمِ، فَهُوَ وَصْفٌ ظَاهِرٌ مُنْضَبِطٌ، يَسْتَلْزِمُ ذَلِكَ، أَوْ يَسْتَلْزِمُ عَدَمَ السَّبَبِ، لِحِكْمَةٍ فِي عَدَمِهِ، تُنَافِي حِكْمَةَ الْحُكْمِ أَوِ السَّبَبِ.
وَبَيَانُهُ: أَنَّ الْحَوْلَ شَرْطٌ فِي وُجُوبِ الزَّكَاةِ، فَعَدَمُهُ يَسْتَلْزِمُ عَدَمَ وُجُوبِهَا، وَالْقُدْرَةُ عَلَى التَّسْلِيمِ شَرْطٌ فِي صِحَّةِ الْبَيْعِ، فَعَدَمُهَا يَسْتَلْزِمُ عَدَمَ صِحَّتِهِ، وَالْإِحْصَانُ شَرْطٌ فِي سَبَبِيَّةِ الزِّنَا لِلرَّجْمِ، فَعَدَمُهُ يَسْتَلْزِمُ عَدَمَهَا.
وَالْمَانِعُ: هُوَ وَصْفٌ ظَاهِرٌ مُنْضَبِطٌ، يَسْتَلْزِمُ وُجُودُهُ حِكْمَةً، تَسْتَلْزِمُ عَدَمَ الْحُكْمِ، أَوْ عَدَمَ السَّبَبِ، كَوُجُودِ الْأُبُوَّةِ، فَإِنَّهُ يَسْتَلْزِمُ عَدَمَ ثُبُوتِ الِاقْتِصَاصِ لِلِابْنِ مِنَ الْأَبِ؛ لِأَنَّ كَوْنَ الْأَبِ سَبَبًا لِوُجُودِ الِابْنِ، يَقْتَضِي أَنْ لَا يَصِيرَ الِابْنُ سَبَبًا لِعَدَمِهِ.
وَفِي هَذَا الْمِثَالِ الَّذِي أَطْبَقَ عَلَيْهِ جُمْهُورُ أَهْلِ الْأُصُولِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ السَّبَبَ الْمُقْتَضِيَ لِلْقِصَاصِ هُوَ فِعْلُهُ، لَا وُجُودُ الِابْنِ وَلَا عَدَمُهُ، وَلَا يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ حِكْمَةً مَانِعَةً لِلْقِصَاصِ، وَلَكِنَّهُ وَرَدَ الشَّرْعُ بِعَدَمِ ثُبُوتِ الْقِصَاصِ لِفَرْعٍ مِنْ أَصْلٍ.
وَالْأَوْلَى أَنْ يُمَثَّلَ لِذَلِكَ بِوُجُودِ النَّجَاسَةِ الْمُجْمَعِ عَلَيْهَا فِي بَدَنِ الْمُصَلِّي، أَوْ ثَوْبِهِ فَإِنَّهُ سَبَبٌ لِعَدَمِ صِحَّةِ الصلاة، عند من يجعل الطهارة شرطًا، فههنا قَدْ عُدِمَ شَرْطٌ وَهُوَ الطَّهَارَةُ، وَوُجِدَ مَانِعٌ وَهُوَ النَّجَاسَةُ، لَا عِنْدَ مَنْ يَجْعَلُهَا وَاجِبَةً فَقَطْ.
وَأَمَّا الْمَانِعُ الَّذِي يَقْتَضِي وُجُودُهُ حِكْمَةً تُخِلُّ بِحِكْمَةِ السَّبَبِ، فَكَالدَّيْنِ فِي الزَّكَاةِ، فَإِنَّ حِكْمَةَ السَّبَبِ -وَهُوَ الْغِنَى- مُوَاسَاةُ الْفُقَرَاءِ مِنْ فَضْلِ مَالِهِ، وَلَمْ يَدَعِ الدَّيْنُ فِي الْمَالِ فَضْلًا يُوَاسَى بِهِ، هَذَا عَلَى قَوْلِ مَنْ قال أن الدين مانع.
--------------------------------------------
আর ‘সবব’ (কারণ) হলো: কোনো প্রকাশ্য ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে কোনো বিধানের অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা; অর্থাৎ যার অস্তিত্ব বিধানটির অস্তিত্বকে অনিবার্য করে তোলে।
এর ব্যাখ্যা হলো: উদাহরণস্বরূপ ব্যভিচারীর ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার দুটি বিধান রয়েছে: একটি হলো তকলিফী (দায়িত্বারোপকারী বিধান), যা হলো তার ওপর দণ্ডবিধি (হদ) কার্যকর করা ওয়াজিব হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো ওয়াদয়ী (وضعِيّ - পরিস্থিতিগত বিধান), যা হলো ব্যভিচারকে দণ্ডবিধি ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা; কেননা ব্যভিচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের সত্তার কারণে দণ্ডবিধিকে ওয়াজিব করে না, বরং শরয়ি নির্ধারণের মাধ্যমেই তা হয়ে থাকে।
পর্যালোচনার ভিত্তিতে ‘সবব’ বা কারণকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়: সময়গত কারণ, যেমন সালাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া; এবং অর্থগত কারণ, যেমন হারামের জন্য মাদকতা, দায়বদ্ধতার (জামানত) জন্য মালিকানা এবং শাস্তির জন্য পাপাচার।
আর ‘শর্ত’ হলো: কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে কোনো বিধানের শর্ত হিসেবে গণ্য করা।
শর্তের প্রকৃত রূপ হলো: যার অনুপস্থিতি বিধানের অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে তোলে। সুতরাং এটি এমন এক প্রকাশ্য ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য যা বিধানের অনুপস্থিতিকে অথবা কারণের (সবব) অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে তোলে। এর কারণ হলো শর্তটির অনুপস্থিতিতে এমন কোনো হিকমত বা যৌক্তিকতা পাওয়া যায় যা সংশ্লিষ্ট বিধান বা কারণের হিকমতের পরিপন্থী।
এর ব্যাখ্যা হলো: জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া (হাওল) একটি শর্ত; সুতরাং এর অনুপস্থিতি জাকাত ওয়াজিব না হওয়াকে অনিবার্য করে। পণ্য হস্তান্তরের সক্ষমতা ক্রয়-বিক্রয় সহীহ হওয়ার শর্ত; সুতরাং এর অনুপস্থিতি ক্রয়-বিক্রয় সহীহ না হওয়াকে অনিবার্য করে। আর পাথর ছুড়ে হত্যার (রজম) কারণ হিসেবে ব্যভিচার গণ্য হওয়ার জন্য ‘ইহসান’ (বিবাহিত হওয়া) একটি শর্ত; ফলে এর অনুপস্থিতি সেই কারণকেও অনুপস্থিত করে দেয়।
আর ‘মানি’ (প্রতিবন্ধক) হলো: এমন এক প্রকাশ্য ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য যার উপস্থিতিতে এমন কোনো হিকমত পাওয়া যায় যা সংশ্লিষ্ট বিধান বা কারণের অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে। যেমন পিতৃত্বের উপস্থিতি; এটি সন্তানের পক্ষ থেকে পিতার ওপর কিসাস (প্রতিশোধ) সাব্যস্ত হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক। কারণ পিতা যেহেতু সন্তানের অস্তিত্বের মাধ্যম, সেহেতু সন্তান যেন তার (পিতার) বিনাশের কারণ না হয়—এটাই সংগত।
অধিকাংশ উসুলবিদ যে উদাহরণটির ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ কিসাসের দাবিদার সবব (কারণ) হলো পিতার কৃতকর্ম (হত্যা), সন্তানের অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতি নয়। আর সেটিকে কিসাসের পথে প্রতিবন্ধক হিকমত হিসেবে গণ্য করাও সঠিক নয়। বরং শরিয়তে মূল (পিতা-মাতা) থেকে উদ্ভূত শাখার (সন্তান) জন্য কিসাস সাব্যস্ত না হওয়ার বিধান এসেছে।
এর জন্য উত্তম উদাহরণ হলো মুসল্লির শরীরে বা পোশাকে সর্বসম্মত নাপাকির উপস্থিতি। যারা পবিত্রতাকে (তাহারাত) নামাজের শর্ত হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতে এটি নামাজ সহীহ না হওয়ার কারণ। এক্ষেত্রে একদিকে শর্তের অনুপস্থিতি ঘটেছে—যা হলো পবিত্রতা, আবার প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি ঘটেছে—যা হলো নাপাকি। তবে এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যারা পবিত্রতাকে কেবল ওয়াজিব মনে করেন।
আর যে প্রতিবন্ধকের (মানি) উপস্থিতি কারণের (সবব) হিকমতকে ব্যাহত করে, তার উদাহরণ হলো জাকাতের ক্ষেত্রে ঋণ। কারণ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার কারণের হিকমত হলো সচ্ছলতা—যার উদ্দেশ্য হলো নিজের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে দরিদ্রদের সাহায্য করা। অথচ ঋণ সম্পদের সেই অতিরিক্ত অংশটি অবশিষ্ট রাখে না যা দ্বারা সাহায্য করা যায়। এটি অবশ্য তাদের মতানুসারে যারা ঋণকে জাকাতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক মনে করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثاني في الحاكم…الْبَحْثُ الثَّانِي: فِي الْحَاكِمِ
اعْلَمْ أَنَّهُ لَا خِلَافَ فِي كَوْنِ الْحَاكِمِ الشَّرْعَ بَعْدَ الْبَعْثَةِ، وَبُلُوغِ الدَّعْوَةِ.
وَأَمَّا قَبْلَ ذَلِكَ: فَقَالَتِ الْأَشْعَرِيَّةُ1: لَا يَتَعَلَّقُ لَهُ سُبْحَانَهُ حُكْمٌ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ، فَلَا يَحْرُمُ كُفْرٌ وَلَا يَجِبُ إِيمَانٌ.
وَقَالَتِ الْمُعْتَزِلَةُ2: إِنَّهُ يَتَعَلَّقُ لَهُ تَعَالَى حُكْمٌ بِمَا أَدْرَكَ الْعَقْلُ فِيهِ صِفَةَ حُسْنٍ، أَوْ قُبْحٍ لِذَاتِهِ، أَوْ لِصِفَتِهِ، أَوْ لِوُجُوهٍ وَاعْتِبَارَاتٍ عَلَى اخْتِلَافٍ بَيْنَهُمْ فِي ذَلِكَ.
قَالُوا: وَالشَّرْعُ كَاشِفٌ عَمَّا أَدْرَكَهُ الْعَقْلُ قَبْلَ وُرُودِهِ.
وَقَدِ اتَّفَقَ الْأَشْعَرِيَّةُ وَالْمُعْتَزِلَةُ عَلَى أَنَّ الْعَقْلَ يُدْرِكُ الْحُسْنَ وَالْقُبْحَ فِي شَيْئَيْنِ:
الْأَوَّلُ: مُلَاءَمَةُ الْغَرَضِ لِلطَّبْعِ وَمُنَافَرَتُهُ لَهُ، فَالْمُوَافِقُ حَسَنٌ عِنْدَ الْعَقْلِ، وَالْمُنَافِرُ قبيح عنده.
الثاني: صفة الْكَمَالِ وَالنَّقْصِ، فَصِفَاتُ الْكَمَالِ حَسَنَةٌ عِنْدَ الْعَقْلِ، وَصِفَاتُ النَّقْصِ قَبِيحَةٌ عِنْدَهُ.
وَمَحَلُّ النِّزَاعِ بَيْنَهُمْ -كَمَا أَطْبَقَ عَلَيْهِ جُمْهُورُ الْمُتَأَخِّرِينَ، وَإِنْ كَانَ مُخَالِفًا لِمَا كَانَ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ- هُوَ كَوْنُ الْفِعْلِ مُتَعَلَّقَ الْمَدْحِ، وَالثَّوَابِ، وَالذَّمِّ، وَالْعِقَابِ، آجِلًا وَعَاجِلًا.
فَعِنْدَ الْأَشْعَرِيَّةِ وَمَنْ وَافَقَهُمْ: أَنَّ ذَلِكَ لَا يَثْبُتُ إِلَّا بِالشَّرْعِ، وَعِنْدَ الْمُعْتَزِلَةِ وَمَنْ وَافَقَهُمْ: أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ لِكَوْنِ الْفِعْلِ وَاقِعًا عَلَى وَجْهٍ مَخْصُوصٍ، لِأَجْلِهِ يَسْتَحِقُّ فاعله الذم.
قالوا: وذلك الوجه قيد يَسْتَقِلُّ الْعَقْلُ بِإِدْرَاكِهِ، وَقَدْ لَا يَسْتَقِلُّ.
أَمَّا الْأَوَّلُ: فَالْعَقْلُ يَعْلَمُ بِالضَّرُورَةِ حُسْنَ الصِّدْقِ النَّافِعِ، وَقُبْحَ الْكَذِبِ الضَّارِّ، وَيَعْلَمُ نَظَرًا حُسْنَ الصِّدْقِ الضَّارِّ، وَقُبْحَ الْكَذِبِ النَّافِعِ.
وَأَمَّا الثَّانِي: فَكَحُسْنِ صَوْمِ آخِرِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ، وَقُبْحِ صَوْمِ الَّذِي بَعْدَهُ، فَإِنَّ الْعَقْلَ لَا طَرِيقَ لَهُ إِلَى الْعِلْمِ بِذَلِكَ، لَكِنَّ الشَّرْعَ لَمَّا وَرَدَ علمنا الحسن والقبح فيهما.
--------------------------------------------
শাসক (বা বিধানদাতা) সম্পর্কিত দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ...দ্বিতীয় আলোচনা: শাসক (বা বিধানদাতা) প্রসঙ্গে
জেনে রাখুন যে, রাসূলের নবুওয়াত লাভ এবং দাওয়াত পৌঁছানোর পর শারীআতই যে একমাত্র বিধানদাতা, এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।
আর এর পূর্বে: আশআরিগণ১ বলেন: মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের আমলের সাথে মহান আল্লাহর কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট হয় না। ফলে বিবেক দ্বারা কুফর হারাম সাব্যস্ত হয় না এবং ঈমান আনা ওয়াজিব হয় না।
মুতাযিলাগণ২ বলেন: আকল বা বিবেক যে বিষয়টিতে ভালো বা মন্দের গুণ অনুধাবন করে, তার সাথে মহান আল্লাহর বিধান সংশ্লিষ্ট হয়; চাই তা বিষয়টির নিজস্ব সত্তার কারণে হোক, অথবা তার কোনো গুণের কারণে হোক, কিংবা বিভিন্ন দিক ও বিবেচনার কারণে হোক—এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও।
তারা বলেন: শারীআত কেবল সেই বিষয়গুলোকেই উন্মোচন করে যা শারীআত আসার পূর্বেই আকল অনুধাবন করেছিল।
আশআরি এবং মুতাযিলা উভয় দল দুটি ক্ষেত্রে আকল কর্তৃক ভালো ও মন্দ অনুধাবন করার বিষয়ে একমত হয়েছেন:
প্রথমটি: স্বভাবজাত উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যতা বা বৈপরীত্য। সুতরাং যা স্বভাবের অনুকূল তা আকলের নিকট ভালো, আর যা প্রতিকূল তা আকলের নিকট মন্দ।
দ্বিতীয়টি: পূর্ণতা ও অপূর্ণতার গুণ। সুতরাং পূর্ণতার গুণাবলি আকলের নিকট ভালো, আর অপূর্ণতার গুণাবলি তার নিকট মন্দ।
তাদের মধ্যে বিবাদের মূল বিষয়টি হলো—যেমনটি পরবর্তীকালের অধিকাংশ আলিম একমত হয়েছেন, যদিও তা পূর্ববর্তী অনেক আলিমের মতের বিপরীত—কোনো কাজ ইহকাল ও পরকালে প্রশংসা ও সওয়াব এবং নিন্দা ও শাস্তির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া নিয়ে।
আশআরি এবং তাদের অনুসারীদের মতে: এটি শারীআত ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না। আর মুতাযিলা ও তাদের অনুসারীদের মতে: এটি কোনো কাজের বিশেষ কোনো পন্থায় সংঘটিত হওয়ার কারণে হয়, যার ফলে তার কর্তা প্রশংসার বা নিন্দার যোগ্য হয়।
তারা বলেন: সেই বিশেষ বিষয়টি এমন একটি দিক যা অনুধাবন করতে আকল কখনো স্বাবলম্বী হয়, আবার কখনো হয় না।
প্রথমটির ক্ষেত্রে: আকল স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপকারী সত্যের ভালো হওয়া এবং ক্ষতিকারক মিথ্যার মন্দ হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। আর গবেষণার মাধ্যমে ক্ষতিকারক সত্যের ভালো হওয়া এবং উপকারী মিথ্যার মন্দ হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: যেমন রমযানের শেষ দিনে রোযা রাখার কল্যাণ এবং তার পরের দিনে রোযা রাখার অকল্যাণ; কেননা আকলের পক্ষে নিজে থেকে এটি জানার কোনো পথ নেই। কিন্তু যখন শারীআত অবতীর্ণ হলো, তখন আমরা এ দুটির ভালো ও মন্দ সম্পর্কে জানতে পারলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَأُجِيبَ: بِأَنَّ دُخُولَ هَذِهِ الْقَبَائِحِ فِي الْوُجُودِ. إِمَّا أَنْ يَكُونَ عَلَى سَبِيلِ الِاضْطِرَارِ، أَوْ عَلَى سَبِيلِ الِاتِّفَاقِ، وَعَلَى التَّقْدِيرَيْنِ فَالْقَوْلُ بِالْقُبْحِ بَاطِلٌ.
بَيَانُ الْأَوَّلِ: أَنَّ فَاعِلَ الْقَبِيحِ. إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُتَمَكِّنًا مِنَ التَّرْكِ أَوْ لَا يَكُونَ فَإِنْ لَمْ يَتَمَكَّنْ مِنَ التَّرْكِ فَقَدْ ثَبَتَ الِاضْطِرَارُ، وَإِنْ تَمَكَّنَ مِنَ التَّرْكِ. فَإِمَّا يَتَوَقَّفُ رُجْحَانُ الْفَاعِلِيَّةِ عَلَى التَّارِكِيَّةِ، عَلَى مُرَجِّحٍ أَوْ لَا يَتَوَقَّفُ، إِنْ لَمْ يَتَوَقَّفْ فَاتِّفَاقِيٌّ، لَا اخْتِيَارِيٌّ، لِعَدَمِ الْإِرَادَةِ، وَإِنْ تَوَقَّفَ، فَذَلِكَ الْمُرَجِّحُ إِمَّا أَنْ يَكُونَ مِنَ الْعَبْدِ أَوْ مِنْ غَيْرِهِ، أَوْ لَا مِنْهُ وَلَا مِنْ غَيْرِهِ، فَالْأَوَّلُ مُحَالٌ؛ لِأَنَّ الْكَلَامَ فِيهِ كَمَا فِي الْأَوَّلِ، فَيَلْزَمُ التَّسَلْسُلَ1، وَهُوَ مُحَالٌ، وَالثَّانِي يُقَالُ فِيهِ: إِنَّ عِنْدَ حُصُولِ ذَلِكَ الْمُرَجِّحِ إِمَّا أَنْ يَجِبَ "وُقُوعُ"*، الْأَثَرِ أَوْ لَا، فَإِنْ وَجَبَ فَقَدْ ثَبَتَ الِاضْطِرَارُ؛ لِأَنَّ قَبْلَ وُجُودِ هَذَا الْمُرَجِّحِ كَانَ الْفِعْلُ مُمْتَنِعَ الْوُقُوعِ، وَعِنْدَ وُجُودِهِ صَارَ وَاجِبَ الْوُقُوعِ، وَلَيْسَ وُقُوعُ هَذَا الْمُرَجِّحِ بِالْعَبْدِ أَلْبَتَّةَ، فَلَمْ يَكُنْ لِلْعَبْدِ تَمَكُّنٌ فِي شَيْءٍ مِنَ الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ، وَلَا مَعْنًى لِلِاضْطِرَارِ إِلَّا ذَلِكَ، وَإِنْ لَمْ يَجِبْ حُصُولُ هَذَا الْمُرَجِّحِ لَا يَمْتَنِعُ وُجُودُ الْفِعْلِ تَارَةً، وَعَدَمُهُ أُخْرَى، فَتَرْجِيحُ جَانِبِ الْوُجُودِ عَلَى جَانِبِ الْعَدَمِ، إِمَّا أَنْ يَتَوَقَّفَ عَلَى انْضِمَامِ مُرَجِّحٍ إِلَيْهِ أَوْ لَا يَتَوَقَّفَ، إِنْ تَوَقَّفَ لَمْ يَكُنِ الْحَاصِلُ قَبْلَ ذَلِكَ مُرَجِّحًا تَامًّا، وَقَدْ فَرَضْنَاهُ مُرَجِّحًا تَامًّا هَذَا خُلْفٌ، وَإِنْ لَمْ يَتَوَقَّفْ فَلَا تَرْجِيحَ أَلْبَتَّةَ وَإِلَّا لَعَادَ الْقِسْمُ الْأَوَّلُ.
وَإِنْ كَانَ حُصُولُ ذَلِكَ الْمُرَجِّحِ لَا مِنَ الْعَبْدِ وَلَا مِنْ غَيْرِ الْعَبْدِ، فَحِينَئِذٍ يَكُونُ وَاقِعًا لَا لِمُؤَثِّرٍ فَيَكُونُ اتِفَاقِيًّا.
وَرُدَّ هَذَا الْجَوَابُ: بِأَنَّ الْقَادِرَ يُرَجِّحُ الْفَاعِلِيَّةَ عَلَى التَّارِكِيَّةِ مِنْ غَيْرِ مُرَجِّحٍ.
وَأُجِيبَ عَنْ هَذَا الرَّدِّ: بِأَنَّ تَرْجِيحَ الْقَادِرِ إِنْ كَانَ لَهُ مَفْهُومٌ زَائِدٌ عَلَى كَوْنِهِ قَادِرًا، كَانَ تَسْلِيمًا لِكَوْنِ رُجْحَانِ الْفَاعِلِيَّةِ عَلَى التَّارِكِيَّةِ لَا يُمْكِنُ إِلَّا عِنْدَ انْضِمَامِ آخَرَ إِلَى الْقَادِرِيَّةِ، فَيَعُودُ الْكَلَامُ الْأَوَّلُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَفْهُومٌ زَائِدٌ "لَمْ يَبْقَ"** لِقَوْلِكُمْ: الْقَادِرُ يُرَجِّحُ أَحَدَ مَقْدُورَيْهِ عَلَى الْآخَرِ إِلَّا مُجَرَّدَ أَنَّ صِفَةَ الْقَادِرِيَّةِ مُسْتَمِرَّةٌ فِي الْأَزْمَانِ كُلِّهَا، ثُمَّ إِنَّهُ يُوجَدُ الْأَثَرُ فِي بَعْضِ تِلْكَ الْأَزْمِنَةِ دُونَ بَعْضٍ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ الْقَادِرُ قَدْ رَجَّحَهُ، وَقَصَدَ إِيقَاعَهُ، وَلَا مَعْنَى لِلِاتِّفَاقِ إِلَّا ذَلِكَ.
وَلَا يَخْفَى مَا فِي هَذَا الْجَوَابِ مِنَ التَّعَسُّفِ2، لِاسْتِلْزَامِهِ نَفْيَ الْمُرَجِّحِ مُطْلَقًا، وَالْعِلْمُ الضَّرُورِيُّ حَاصِلٌ لِكُلِّ عَاقِلٍ، بِأَنَّ الظُّلْمَ وَالْكَذِبَ وَالْجَهْلَ قَبِيحَةٌ عِنْدَ الْعَقْلِ، وَأَنَّ العدل والصدق
--------------------------------------------
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে এই যে: এই মন্দ বিষয়গুলোর অস্তিত্বে আসা হয় বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে হবে, অথবা দৈবঘটনার ভিত্তিতে হবে। উভয় অবস্থাতেই একে মন্দ বলা বাতিল।
প্রথমটির ব্যাখ্যা: মন্দ কর্ম সম্পাদনকারী হয় তা ত্যাগ করতে সক্ষম হবে, নতুবা হবে না। যদি সে তা ত্যাগ করতে সক্ষম না হয়, তবে বাধ্যবাধকতা প্রমাণিত হলো। আর যদি সে তা ত্যাগে সক্ষম হয়, তবে না করার চেয়ে করার প্রাধান্য হওয়া কি কোনো প্রাধান্যদানকারী বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে, নাকি করবে না? যদি নির্ভর না করে, তবে তা দৈবঘটনা, ইচ্ছাধীন নয়; কেননা সেখানে কোনো ইচ্ছা নেই। আর যদি নির্ভর করে, তবে সেই প্রাধান্যদানকারী বিষয় হয় বান্দার পক্ষ থেকে হবে, অথবা অন্য কারো পক্ষ থেকে হবে, অথবা না তার পক্ষ থেকে আর না অন্য কারো পক্ষ থেকে হবে। প্রথমটি অসম্ভব; কারণ এ ক্ষেত্রেও আলোচনা প্রথমটির মতোই হবে, যা অসীম পরম্পরা বা তাসালসুল ১ কে আবশ্যক করবে, আর তা অসম্ভব। আর দ্বিতীয়টির ব্যাপারে বলা হয় যে: সেই প্রাধান্যদানকারী বিষয়টি ঘটার সময় তার প্রভাবের প্রকাশ কি আবশ্যক হবে নাকি হবে না? যদি আবশ্যক হয়, তবে বাধ্যবাধকতা প্রমাণিত হলো; কারণ এই প্রাধান্যদানকারী বিষয়টি পাওয়ার আগে কর্মটি ঘটা অসম্ভব ছিল, আর এটি পাওয়ার পর তা আবশ্যক হয়ে গেল। অথচ এই প্রাধান্যদানকারী বিষয়টি ঘটা মোটেও বান্দার হাতে নয়। ফলে করা বা না করার কোনো বিষয়েই বান্দার সক্ষমতা থাকল না। আর বাধ্যবাধকতার অর্থ এটাই। আর যদি এই প্রাধান্যদানকারী বিষয়টি ঘটা আবশ্যক না হয়, তবে কখনো কাজের অস্তিত্ব আর কখনো অনস্তিত্ব ঘটা অসম্ভব নয়। সুতরাং অনস্তিত্বের দিকের চেয়ে অস্তিত্বের দিককে প্রাধান্য দেওয়া কি তার সাথে অন্য কোনো প্রাধান্যদানকারী বিষয় যুক্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করবে নাকি করবে না? যদি নির্ভর করে, তবে যা অর্জিত হয়েছিল তা তার আগে পূর্ণাঙ্গ প্রাধান্যদানকারী বিষয় ছিল না। অথচ আমরা তাকে পূর্ণাঙ্গ প্রাধান্যদানকারী বিষয় ধরে নিয়েছি; এটি একটি স্ববিরোধিতা। আর যদি নির্ভর না করে, তবে মোটেও কোনো প্রাধান্য নেই। নতুবা তা প্রথম প্রকারের দিকেই ফিরে যাবে।
আর যদি সেই প্রাধান্যদানকারী বিষয়টি অর্জিত হওয়া বান্দার পক্ষ থেকেও না হয় এবং অন্য কারো পক্ষ থেকেও না হয়, তবে সেটি কোনো প্রভাবকারী ছাড়াই ঘটছে, ফলে তা হবে দৈবঘটনা।
এই উত্তরের প্রতিবাদ করা হয়েছে এই বলে যে: সক্ষম ব্যক্তি কোনো প্রাধান্যদানকারী বিষয় ছাড়াই না করার চেয়ে করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে পারে।
এই প্রতিবাদের উত্তরে বলা হয়েছে: সক্ষম ব্যক্তির প্রাধান্য দান করার যদি সক্ষম হওয়ার অতিরিক্ত কোনো অর্থ থাকে, তবে তা এই বিষয়টিকে মেনে নেওয়া হবে যে, সক্ষমতার সাথে অন্য কিছু যুক্ত হওয়া ছাড়া না করার চেয়ে করার দিকটি প্রাধান্য পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে কথাটি আবার সেই প্রথম আলোচনার দিকেই ফিরে যাবে। আর যদি তার কোনো অতিরিক্ত অর্থ না থাকে, তবে আপনাদের এই কথা—'সক্ষম ব্যক্তি তার দুটি সামর্থ্যের একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেয়'—এর কোনো অর্থই অবশিষ্ট থাকে না। কেবল এটিই থাকে যে, সক্ষম হওয়ার গুণটি সব সময়েই বিদ্যমান থাকে। এরপর কোনো নির্দিষ্ট সময়ে তার প্রভাব প্রকাশ পায় আর অন্য সময়ে পায় না, অথচ সেই সক্ষম ব্যক্তি তাকে প্রাধান্য দেয়নি বা তা ঘটানোর উদ্দেশ্যও করেনি। আর দৈবঘটনার এর চেয়ে ভিন্ন কোনো অর্থ নেই।
এই উত্তরের মধ্যে যে জবরদস্তি ২ রয়েছে তা গোপন নয়; কারণ এটি ঢালাওভাবে প্রাধান্যদানকারী বিষয়কে অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে। অথচ প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এই স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান অর্জিত আছে যে, জুলুম, মিথ্যা ও মূর্খতা বিবেকের কাছে মন্দ বিষয়, এবং ন্যায়বিচার ও সত্যবাদিতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالْعِلْمَ حَسَنَةٌ عِنْدَهُ، لَكِنَّ حَاصِلَ مَا يُدْرِكُهُ العقل من "قبيح هذا القبح"*، وَحُسْنِ هَذَا الْحَسَنِ هُوَ أَنَّ فَاعِلَ الْأَوَّلِ يَسْتَحِقُّ الذَّمَّ وَفَاعِلَ الثَّانِي يَسْتَحِقُّ الْمَدْحَ، وَأَمَّا كَوْنُ الْأَوَّلِ مُتَعَلِّقًا لِلْعِقَابِ الْأُخْرَوِيِّ، وَالثَّانِي مُتَعَلِّقًا لِلثَّوَابِ الْأُخْرَوِيِّ فَلَا.
وَاحْتَجَّ الْمُثْبِتُونَ لِلتَّحْسِينِ وَالتَّقْبِيحِ الْعَقْلِيَّيْنِ، بِأَنَّ الْحُسْنَ وَالْقُبْحَ لَوْ لَمْ يَكُونَا مَعْلُومَيْنِ قَبْلَ الشَّرْعِ لَاسْتَحَالَ أَنْ يُعْلَمَا عِنْدَ وُرُودِهِ؛ لِأَنَّهُمَا إِنْ لَمْ يَكُونَا مَعْلُومَيْنِ قَبْلَهُ فَعِنْدَ وُرُودِهِ بِهِمَا، يَكُونُ وَارِدًا بِمَا لَا يَعْقِلُهُ السَّامِعُ وَلَا يَتَصَوَّرُهُ، وَذَلِكَ مُحَالٌ، فَوَجَبَ أَنْ يَكُونَا مَعْلُومَيْنِ قَبْلَ وُرُودِهِ. وَأُجِيبَ بِأَنَّ الْمَوْقُوفَ عَلَى الشَّرْعِ لَيْسَ تَصَوُّرَ الْحُسْنِ وَالْقُبْحِ، فَإِنَّا قَبْلَ الشَّرْعِ نَتَصَوَّرُ مَاهِيَّةَ تَرَتُّبِ الْعِقَابِ وَالثَّوَابِ، وَالْمَدْحِ وَالذَّمِّ عَلَى الْفِعْلِ، وَنَتَصَوَّرُ عَدَمَ هَذَا التَّرَتُّبِ، فَتَصَوُّرُ الْحُسْنِ وَالْقُبْحِ لَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ، إِنَّمَا الْمُتَوَقِّفُ عَلَيْهِ هُوَ التَّصْدِيقُ، فَأَيْنَ أَحَدُهُمَا مِنَ الْآخَرِ؟ وَاحْتَجَّ الْمُثْبِتُونَ أَيْضًا بِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَكُنِ الْحُكْمُ بِالْحُسْنِ وَالْقُبْحِ إِلَّا بِالشَّرْعِ لَحَسُنَ مِنَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَلَوْ حَسُنَ مِنْهُ كُلُّ شَيْءٍ لَحَسُنَ مِنْهُ إِظْهَارُ الْمُعْجِزَةِ عَلَى يَدِ الْكَاذِبِ، وَلَوْ حَسُنَ مِنْهُ ذَلِكَ لَمَا أَمْكَنَنَا التَّمْيِيزُ بَيْنَ النَّبِيِّ وَالْمُتَنَبِّئِ، وَذَلِكَ يُفْضِي إِلَى بُطْلَانِ الشَّرَائِعِ.
وَأُجِيبَ بِأَنَّ الِاسْتِدْلَالَ بِالْمُعْجِزِ عَلَى الصِّدْقِ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّ اللَّهَ إِنَّمَا خَلَقَ ذَلِكَ الْمُعْجِزَ لِلصِّدْقِ، وَكُلُّ مَنْ صَدَّقَهُ اللَّهُ فَهُوَ صَادِقٌ، وَبِأَنَّ الْعَقْلَ يَمْنَعُ مِنْ خَلْقِ الْمُعْجِزِ عَلَى يَدِ الْكَاذِبِ مُطْلَقًا؛ لِأَنَّ خَلْقَهُ عِنْدَ الدَّعْوَى يُوهِمُ أَنَّ الْمَقْصُودَ مِنْهُ التَّصْدِيقُ، فَلَوْ كَانَ الْمُدَّعِي كَاذِبًا لَكَانَ ذَلِكَ إِيهَامًا لِتَصْدِيقِ الْكَاذِبِ، وَأَنَّهُ قَبِيحٌ، وَاللَّهُ لَا يَفْعَلُ الْقَبِيحَ.
وَاحْتَجَّ الْمُثْبِتُونَ أَيْضًا بِأَنَّهُ لَوْ حَسُنَ مِنَ اللَّهِ كُلُّ شَيْءٍ لَمَا قَبُحَ مِنْهُ الْكَذِبُ، وَعَلَى هَذَا لَا يَبْقَى اعْتِمَادٌ عَلَى وَعْدِهِ وَوَعِيدِهِ.
وَأُجِيبَ: بِأَنَّ هَذَا وَارِدٌ عَلَيْهِمْ؛ لِأَنَّ الْكَذِبَ قَدْ يَحْسُنُ فِي مِثْلِ الدَّفْعِ بِهِ عَنْ قَتْلِ إِنْسَانٍ ظُلْمًا، وَفِي مِثْلِ مَنْ تَوَعَّدَ غَيْرَهُ بِأَنْ يَفْعَلَ بِهِ مَا لَا يَجُوزُ مِنْ أَنْوَاعِ الظُّلْمِ ثُمَّ تَرَكَ ذَلِكَ، فَإِنَّهُ هُنَا يَحْسُنُ الْكَذِبُ وَيَقْبُحُ الصِّدْقُ.
ورُدَّ بِأَنَّ الْحُكْمَ قَدْ يَتَخَلَّفُ عَنِ الْمُقْتَضِي الْمَانِعِ، وَلَا اعْتِبَارَ بِالنَّادِرِ، عَلَى أَنَّهُ يُمْكِنُ أَنْ يَقَعَ الدَّفْعُ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَفْعَلَ مَا لَا يَحِلُّ بِإِيرَادِ الْمَعَارِيضِ، فَإِنَّ فِيهَا مَنْدُوحَةً1 عَنِ الْكَذِبِ.
وَاحْتَجَّ الْمُثْبِتُونَ أَيْضًا بِأَنَّهُ لَوْ قِيلَ لِلْعَاقِلِ: إِنْ صَدَقْتَ أَعْطَيْنَاكَ دِينَارًا، وَإِنْ كَذَبْتَ أَعْطَيْنَاكَ دِينَارًا، فَإِنَّا نَعْلَمُ -بِالضَّرُورَةِ- أَنَّ الْعَاقِلَ يَخْتَارُ الصِّدْقَ، وَلَوْ لَمْ يَكُنْ حَسَنًا لَمَا اختاره.
--------------------------------------------
এবং জ্ঞান তাঁর নিকট একটি উত্তম বিষয়, কিন্তু "এই মন্দের মন্দত্ব"* এবং এই ভালোর ভালোত্ব সম্পর্কে বিবেক যা উপলব্ধি করে তার সারমর্ম হলো এই যে, প্রথমটির কর্তা নিন্দার যোগ্য এবং দ্বিতীয়টির কর্তা প্রশংসার যোগ্য। তবে প্রথমটি পরকালীন শাস্তির সাথে এবং দ্বিতীয়টি পরকালীন সওয়াবের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিবেকের কাজ নয়।
যৌক্তিক ভালো ও মন্দ (তাহসিন ও তাকবিহ আল-আকলি) নির্ধারণের প্রবক্তাগণ দলিল পেশ করেন যে, শরয়ি বিধান আসার আগে যদি ভালো ও মন্দ জানা না থাকত, তবে শরয়ি বিধান আসার সময় তা জানা অসম্ভব হতো; কারণ শরয়ি বিধানের আগে যদি সেগুলো জানা না থাকত, তবে শরয়ি বিধান যখন তা নিয়ে আসত, তখন তা এমন বিষয় হতো যা শ্রবণকারী বুঝতে পারে না এবং কল্পনাও করতে পারে না, আর তা অসম্ভব। সুতরাং শরয়ি বিধান আসার আগেই তা জানা থাকা আবশ্যক। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, শরয়ি বিধানের ওপর যা নির্ভরশীল তা ভালো ও মন্দের কেবল ধারণা (তাসাউয়ুর) নয়; কারণ শরয়ি বিধানের আগেই আমরা কর্মের ওপর শাস্তি ও পুরস্কার এবং নিন্দা ও প্রশংসার অর্পিত হওয়ার স্বরূপ কল্পনা করতে পারি এবং এটি অর্পিত না হওয়াও কল্পনা করতে পারি। সুতরাং ভালো ও মন্দের ধারণা শরয়ি বিধানের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং যা নির্ভরশীল তা হলো সত্যায়ন (তাসদিক)। সুতরাং একটি অপরটি থেকে কতই না দূরে? প্রবক্তাগণ আরও দলিল পেশ করেন যে, যদি ভালো ও মন্দের বিধান কেবল শরয়ি বিধানের মাধ্যমেই হতো, তবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি কাজই ভালো হতো। আর যদি তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিটি কাজই ভালো হতো, তবে কোনো মিথ্যাবাদীর হাতে মোজেজা প্রকাশ করাও ভালো হতো। আর যদি তা ভালো হতো, তবে আমাদের পক্ষে সত্য নবী ও মিথ্যা নবুওয়াত দাবিদারের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হতো না, যা সকল শরয়ি বিধান বাতিল হওয়ার দিকে নিয়ে যেত।
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মোজেজার মাধ্যমে সত্যতার প্রমাণ দেওয়া এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, আল্লাহ তাআলা সেই মোজেজাকে সত্য প্রমাণের জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং আল্লাহ যাকে সত্য বলে সত্যায়ন করেন সে অবশ্যই সত্যবাদী। আর বিবেক নিরঙ্কুশভাবে মিথ্যাবাদীর হাতে মোজেজা সৃষ্টি করাকে অসম্ভব মনে করে; কারণ নবুওয়াতের দাবির সময় মোজেজা সৃষ্টি করা এই ধারণা দেয় যে এর উদ্দেশ্য হলো সত্যায়ন করা। সুতরাং যদি দাবিদার মিথ্যাবাদী হয়, তবে তা মিথ্যাবাদীকে সত্যায়ন করার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে, যা অত্যন্ত মন্দ। আর আল্লাহ মন্দ কাজ করেন না।
প্রবক্তাগণ আরও দলিল পেশ করেন যে, যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি বিষয়ই ভালো হতো, তবে তাঁর পক্ষ থেকে মিথ্যা বলাও মন্দ হতো না। আর এমনটি হলে তাঁর ওয়াদা (পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি) এবং ওয়াইদ (শাস্তির হুমকি)-এর ওপর কোনো আস্থা অবশিষ্ট থাকত না।
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে: এই আপত্তি তাদের ওপরও আপতিত হয়; কারণ মিথ্যা বলা কখনো ভালো হতে পারে, যেমন কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা। আবার যেমন কেউ অন্যকে এমন অন্যায় করার হুমকি দিল যা করা জায়েজ নয়, অতঃপর সে তা ত্যাগ করল; এক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ভালো এবং সত্য বলা মন্দ।
এর জবাবে বলা হয়েছে যে, কোনো বাধার কারণে বিধানটি মূল দাবি বা কারণ থেকে পৃথক হয়ে যেতে পারে। আর বিরল বিষয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। তাছাড়া হারামের হাত থেকে বাঁচার জন্য কৌশলপূর্ণ উক্তি (মাআরিজ) ব্যবহার করা সম্ভব, যার মধ্যে মিথ্যা পরিহার করার প্রশস্ত সুযোগ রয়েছে।
প্রবক্তাগণ আরও দলিল দেন যে, যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে বলা হয়: "যদি তুমি সত্য বলো তবে তোমাকে একটি দিনার দেব, আর যদি মিথ্যা বলো তবে তোমাকে একটি দিনার দেব," তবে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তি সত্যকেই বেছে নেবে। যদি সত্য ভালো না হতো তবে সে তা বেছে নিত না।
--------------------------------------------