(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: -)
حديث أبي القاسم عافية وغيره لأبي بكر بن المهندس القسم: كتب السنة
الكتاب: حديث أبي القاسم عافية وغيره - مخطوط
المؤلف: أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ إِسْمَاعِيْلَ البنَّاءُ ابْنُ المُهَنْدِسِ (ت 385هـ)
أعده للشاملة: أحمد الخضري
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 46
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু বকর ইবনুল মুহানদিস বর্ণিত আবু আল-কাসিম আফিয়া ও অন্যদের হাদিসসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু আল-কাসিম আফিয়া ও অন্যদের হাদিসসমূহ - পাণ্ডুলিপি
লেখক: আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বান্না ইবনুল মুহানদিস (মৃত ৩৮৫ হিজরি)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদারি
[বইটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৬
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١)
الكتاب: حديث أبي القاسم عافية وغيره - مخطوط
المؤلف: أبو بكر أحمد بن محمد بن إسماعيل المهندس
المتوفى: 385 هـ
-ق1ب-
جزء فيه حديث أبي القاسم عافية بن محمد بن عثمان بن سعيد الإمام (ت 310) عن شيوخه
وحديث أبو بكر أحمد بن مروان بن محمد المالكي (ت340) عن شيوخه
وحديث أبو يعلى حمزة بن إبراهيم بن أيوب بن سليمان بن داود بن داود بن علي بن عبد الله بن العباس بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف العباسي (ت309) عن شيوخه
وحديث أبي الحسن على بن أبي عدي عن شيوخه
وحديث أبي عبد الله الحسين بن علي العلوي (ت 312)
روى عنهم أبو بكر أحمد بن محمد بن إسماعيل بن الفرج المهندس (ت 385)
حدثنا به الشيخ أبو الحسن أحمد بن محمد بن أحمد بن نصر الوراق يعرف بالحكيمي رضي الله عنه وغيرهم
سماع لسهل بن بشر بن أحمد الاسفراييني غفر الله له ولوالديه ونفعه به ونفعه.
গ্রন্থ: আবু আল-কাসিম আফিয়াহ ও অন্যান্যদের হাদিস - পাণ্ডুলিপি
লেখক: আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ بن ইসমাইল আল-মুহান্দিস
মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরি
-পৃষ্ঠা ১খ-
একটি অংশ যাতে রয়েছে ইমাম আবু আল-কাসিম আফিয়াহ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন সাঈদ (মৃ. ৩১০)-এর হাদিস, যা তিনি তাঁর শিক্ষকগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন
এবং আবু বকর আহমদ বিন মারওয়ান বিন মুহাম্মদ আল-মালিকি (মৃ. ৩৪০)-এর হাদিস, যা তিনি তাঁর শিক্ষকগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন
এবং আবু ইয়ালা হামজাহ বিন ইব্রাহিম বিন আইয়ুব বিন সুলাইমান বিন দাউদ বিন দাউদ বিন আলি বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদ মানাফ আল-আব্বাসি (মৃ. ৩০৯)-এর হাদিস, যা তিনি তাঁর শিক্ষকগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন
এবং আবু আল-হাসান আলি বিন আবি আদি-এর হাদিস, যা তিনি তাঁর শিক্ষকগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন
এবং আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলি আল-আলাউই (মৃ. ৩১২)-এর হাদিস
তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-ফারজ আল-মুহান্দিস (মৃ. ৩৮৫)
এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আল-ওয়াররাক, যিনি আল-হাকিমি নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, এবং অন্যান্যগণ
এটি সাহল বিন বিশর বিন আহমদ আল-ইসফারাঈনি-এর শ্রবণকৃত অনুলিপি, আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং এর মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢)
-ق2أ-
ما شاء الله لا قوة إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب
1- (بياض بالأصل) الشيخ أبو الحسن أحمد بن محمد بن أحمد بن نصر الوراق المعروف بالحكيمي قراءة علينا من لفظه من قبل سماعه (بياض) يوم السبت الثامن والعشرون من شهر ربيع الاول سنة أربعين وأربع مائة (بياض) أبو بكر أحمد بن محمد بن إسماعيل المهندس ثنا أبو القاسم عافية بن محمد بن عثمان بن سعيد الأمام يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث خلون (بياض) سنة ثمان وثلاثمائة ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن أبي الزبير عن جابر أنه قال أقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ مُفْرَدًا وأَقْبَلَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها مُهِلَّةً بِعُمْرَةٍ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بِسَرِفَ عَرَكَتْ حَتَّى إِذَا قَدِمْنَا طُفْنَا بالبيت وَالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فأَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه أَنْ يَحِلَّ مِنَّا مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ قَالَ فَقُلْنَا حِلُّ مَاذَا قَالَ الْحِلُّ كُلُّهُ فَوَاقَعْنَا النِّسَاءَ وَتَطَيَّبْنَا بِالطِّيبِ وَلَيْسَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلَاّ أَرْبَعُ لَيَالٍ ثُمَّ أَهْلَلْنَا يَوْمَ التَّرْوِيَةِ ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه عَلَى عَائِشَةَ فَوَجَدَهَا تَبْكِي فَقَالَ مَا شَأْنُكِ فقلت شَأْنِي أَنِّي قد حِضْتُ وَقَدْ حَلَّ النَّاسُ وَلَمْ أَحْلِلْ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَالنَّاسُ يَذْهَبُونَ إِلَى الْحَجِّ الآنَ قَالَ فَإِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ أَهِلِّي بِالْحَجِّ فَفَعَلَتْ وَوَقَفَتِ الْمَوَاقِفَ حَتَّى إِذَا طَهُرَتْ طَافَتْ بِالْكَعْبَةِ وَالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ قَالَ قَدْ حَلَلْتِ مِنْ حَجِّكِ وَعُمْرَتِكِ جَمِيعًا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَجِدُ فِي نَفْسِي أَنِّي لَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ حَتَّى حَجَجْتُ قَالَ فَاذْهَبْ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ
-২ক-
আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
১- (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান) শায়খ আবুল হাসান আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন নাসর আল-ওয়াররাক, যিনি আল-হাকিমি নামে পরিচিত; তিনি আমাদের নিকট তাঁর নিজ শব্দে পাঠ করেছেন তাঁর শোনার আগে থেকে (শূন্যস্থান), শনিবার, আটাশ রবিউল আউয়াল, চারশত চল্লিশ হিজরি সনে। (শূন্যস্থান) আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-মুহান্দিস। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আফিয়াহ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন সাঈদ আল-ইমাম, জুমার দিন সালাতের পর, তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর (শূন্যস্থান), তিনশত আট হিজরি সনে। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন রুমহ, আমাদের অবহিত করেছেন আল-লাইস, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কেবল হজের তালবিয়া পাঠ করতে করতে অগ্রসর হলাম। আর আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কেবল উমরার তালবিয়া পাঠ করতে করতে আসলেন। এমনকি যখন তিনি 'সারিফ' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁর ঋতুস্রাব শুরু হলো। যখন আমরা (মক্কায়) পৌঁছলাম, তখন আমরা কাবা ঘর তওয়াফ করলাম এবং সাফা ও মারওয়া (সাঈ) করলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল না, তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। জাবির বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কীসের থেকে হালাল হবো? তিনি বললেন: "পূর্ণ হালাল হওয়া (অর্থাৎ ইহরামের সকল নিষেধাজ্ঞা সমাপ্ত হওয়া)।" ফলে আমরা স্ত্রীদের সাথে মিলিত হলাম এবং সুগন্ধি ব্যবহার করলাম। অথচ আমাদের এবং আরাফার মাঝে মাত্র চার রাত বাকি ছিল। অতঃপর আমরা তারবিয়ার দিনে (হজের) তালবিয়া পাঠ করলাম। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে কাঁদতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার কী হয়েছে?" আমি (আয়েশা) বললাম: "আমার অবস্থা এই যে, আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। মানুষ ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেছে কিন্তু আমি হালাল হতে পারিনি এবং কাবা ঘরও তওয়াফ করতে পারিনি। অথচ মানুষ এখন হজের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি গোসল করো এবং হজের তালবিয়া পাঠ করো।" তিনি তা-ই করলেন এবং হজের সকল কার্যাদি সম্পাদন করলেন। অবশেষে যখন তিনি পবিত্র হলেন, তখন কাবা ঘর তওয়াফ করলেন এবং সাফা ও মারওয়া (সাঈ) করলেন। এরপর তিনি (রাসুল) বললেন: "তুমি তোমার হজ ও উমরা উভয়টি থেকেই হালাল হয়ে গেছো।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি মনে মনে একপ্রকার অপূর্ণতা বোধ করছি যে, আমি হজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত (উমরার জন্য) কাবা ঘর তওয়াফ করতে পারিনি।" তিনি বললেন: "হে আবদুর রহমান! একে নিয়ে যাও এবং তানঈম থেকে তাকে উমরা করিয়ে আনো।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٣)
وَذَلِكَ لَيْلَةَ الْحَصْبَةِ هـ.
2- ثنا عافية بن محمد ثنا محمد بن محمد بن رمح أنا الليث عن أبي الزبير عن أبي معبد مولى بن عباس عن ابن عباس عن الفضل بن عباس وكان رديف رسول الله صلى الله عليه أنه قال في عَشِيَّةَ عَرَفَةَ وغَدَاةَ جَمْعٍ لِلنَّاسِ حِينَ دَفَعْنَا عَلَيْكُمُ بالسَّكِينَةَ وَهُوَ كَافٌّ نَاقَتَهُ حَتَّى دَخَلَ مُحَسِّرًا أو هو في مِنًى قَالَ عَلَيْكُمْ بِحَصَى الْخَذْفِ الَّذِي يُرْمَى بِهِ الْجَمْرَةُ وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه يلبي حتى رمى الجمرة قال الليث حج أبو بكر وعمر وعثمان بعد رسول الله صلى الله عليه وأصحاب رسول الله متوافرون فهم أعلم الناس برسول الله صلى الله عليه تركوا التلبية وأقبلوا على التهليل والتسبيح والتحميد والدعاء هـ.
3- ثنا عافية بن محمد ثنا أبو الطاهر أحمد بن عمرو ثنا سفيان عن عمرو عن طاووس سمع أبا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ مُوسَى يا آدَمَ أَنْتَ أبونا أخرجنا من الجنة وخَيَّبْتَنَا قَالَ فقال لَهُ آدَمُ أنت مُوسَى اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِكَلَامِهِ وَخَطَّ لَكَ بِيَدِهِ أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدَّرَه اللَّهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ عاما قال فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى هـ.
4- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن عمرو عن أبي الطفيل عن حُذَيْفَةَ بْنَ أَسِيدٍ الْغِفَارِيَّ قال سمعت النبي صلى الله عليه يقول أو قال يَدْخُلُ الْمَلَكُ عَلَى النُّطْفَةِ بَعْدَ مَا تَسْتَقِرُّ فِي الرَّحِمِ أَرْبَعِينَ ليلة فَيَقُولُ رَبِّ ماذا أَشَقِيٌّ أَمْ سَعِيدٌ فيقول الله عز وجل ويكتبان قال فيقول أي رب ماذا أَذَكَرٌ أَمْ أُنْثَى قال فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل ويُكْتَبَانِ رِزْقُهُ وَعَمَلُهُ ومعيشه وأثره ثُمَّ تُطْوَى الصَّحِف فَلَا يُزَادُ على ما فِيهَا وَلَا يُنْقَصُ هـ.
আর তা ছিল হাসবাহ এর রাত।
২- আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া বিন মুহাম্মাদ, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন রুমহ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু মাবাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি ফজল বিন আব্বাস থেকে—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহনের পেছনে বসা ছিলেন। তিনি আরাফার সন্ধ্যা এবং জাম্ (মুযদালিফা) এর সকালে লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, যখন আমরা রওনা হলাম: "তোমরা প্রশান্তি বজায় রাখো।" তখন তিনি তাঁর উষ্ট্রীকে নিয়ন্ত্রণ করছিলেন যতক্ষণ না তিনি মুহাস্সির উপত্যকায় প্রবেশ করলেন অথবা তখন তিনি মিনায় ছিলেন। তিনি বললেন: "তোমরা কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য ছোট পাথর গ্রহণ করো যা দিয়ে জামরায় নিক্ষেপ করা হয়।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করে যাচ্ছিলেন। লাইস বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবু বকর, উমর ও উসমান হজ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তখন বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন। তাঁরা একপর্যায়ে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে তাহলীল, তাসবীহ, তাহমীদ ও দোয়ায় মশগুল হয়েছিলেন।
৩- আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া বিন মুহাম্মাদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আহমাদ বিন আমর থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম ও মূসা বিতর্ক করলেন। মূসা বললেন, "হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদের জান্নাত থেকে বের করেছেন এবং আমাদের বঞ্চিত করেছেন।" আদম তাকে বললেন, "আপনি মূসা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং আপনার জন্য আল্লাহর হাত দিয়ে লিখেছেন। আপনি কি আমাকে এমন এক বিষয়ে তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর আগেই আমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এভাবে আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।"
৪- আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর থেকে, তিনি আবু তুফাইল থেকে, তিনি হুযাইফা বিন আসীদ আল-গিফারী থেকে—তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: জরায়ুতে বীর্য চল্লিশ রাত অবস্থান করার পর ফেরেশতা তার কাছে প্রবেশ করে। সে বলে, "হে প্রতিপালক! এটি কি দুর্ভাগা হবে নাকি সৌভাগ্যবান?" তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ফয়সালা করেন এবং তা লিখে নেওয়া হয়। সে পুনরায় বলে, "হে প্রতিপালক! এটি কি পুরুষ হবে নাকি নারী?" তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ফয়সালা করেন এবং তা লিখে নেওয়া হয়। এরপর তার রিযিক, আমল, জীবনযাত্রা এবং তার পরিণাম লিখে নেওয়া হয়। এরপর দপ্তর গুটিয়ে নেওয়া হয়, ফলে তাতে যা আছে তার চেয়ে বেশি বাড়ানো হয় না এবং কমানোও হয় না।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٤)
5- ثنا عافية ثنا عيسى بن حماد زغبة ثنا رشدين عن عقيل وقرة عن ابن شهاب عن حمزة بن عبد الله بن عمر عن أبيه عن حفصة زوج النبي صلى الله عليه أن رسول الله صلى الله عليه قال لا صيام لمن لم يبيبت الصيام في الليل هـ.
6- ثنا عافية ثنا سلمة بن شبيب ثنا عبد الرزاق عن ابن جريج عن يزيد بن يزيد بن جابر عن مكحول عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه قال كان رجل يعمل بالمعاصي وقتل تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فذهب يبتغي التوبة فجاء راهبا فقال لا توبة لك
-ق2ب-
فَقَتَلَهُ فَكمَّلَ بِهِ المائة ثم ذهب يبتغي التوبة فجاء عابدا فقال عسى أن يتاب عليك (غير واضح وبياض بالأصل) قوما يعبدون فتعبد معهم حتى إذا كان بالطريق مات فاختصم فيه ملائكة العذاب والرحمة فبعث إليهم (بياض بالآصل) بينهم فذرع الأرض فوجده أقرب إلى الذين بأنمله (كذا بالأصل) فغفر له هـ.
7- ثنا عافية ثنا سلمة بن شبيب ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عن ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قال قال رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه قَالَ: الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُس هـ.
8- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن أبي حمزة الثمالي عن سعيد بن جبير (بياض بالأصل. . . في المستدرك (عَنِ ابْنِ عباس)) قال إن مما خلق الله لوحا من لؤلؤة أو درة بيضاء دفتاه من ياقوتة حمراء قلمه نور وكتابه نور ينظر فيه كل يوم ستين وثلَاث مائة نظرة في كل نظرة منها يخلق ويرزق ويحيى ويميت ويعز ويذل ويفعل ما يشاء هـ.
৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে হাম্মাদ জুগবাহ থেকে, তিনি রিশদিন থেকে, তিনি আকীল ও কুররাহ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হামজা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হাফসাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতের বেলা রোযার নিয়ত করল না, তার রোযা নেই। সমাপ্ত।
৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে শাবীব থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এক ব্যক্তি পাপে লিপ্ত ছিল এবং নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করেছিল। এরপর সে তওবা করার পথ খুঁজল এবং একজন পাদ্রীর কাছে এল। পাদ্রী বলল, তোমার জন্য কোনো তওবা নেই।
-পৃষ্ঠা ২খ-
তখন সে তাকেও হত্যা করল এবং এর মাধ্যমে একশ পূর্ণ করল। এরপর সে তওবা খুঁজল এবং একজন ইবাদতকারীর কাছে এল। সে বলল, সম্ভবত তোমার তওবা কবুল হবে (মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট ও শূন্যস্থান) এমন এক কওমের কাছে যাও যারা ইবাদত করছে, তুমিও তাদের সাথে ইবাদত করো। পথিমধ্যে সে মারা গেল। তখন আযাবের ফেরেশতা ও রহমতের ফেরেশতারা তার ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হল। তখন তাদের নিকট ফয়সালা করার জন্য একজনকে পাঠানো হল (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান) তাদের মাঝে। এরপর জমিন পরিমাপ করা হল এবং দেখা গেল সে ওই নেককার লোকদের দিকে এক আঙুল পরিমাণ বেশি নিকটবর্তী ছিল। ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হল। সমাপ্ত।
৭- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে শাবীব থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে, তাঁরা আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পশু কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার কোনো জরিমানা নেই, কূপে পড়ে মারা গেলে তার কোনো জরিমানা নেই, খনিতে দুর্ঘটনার কোনো জরিমানা নেই এবং খনিজ বা গুপ্তধনের ক্ষেত্রে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করতে হবে। সমাপ্ত।
৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবুল তাহির থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হামজা আস-সুমালী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান... যা মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে একটি লউহ (ফলক) রয়েছে যা মুক্তা বা সাদা মণি দিয়ে তৈরি, এর দুই পাশ লাল ইয়াকুত পাথরের, এর কলম নূর এবং এর কিতাবও নূর। আল্লাহ প্রতিদিন এতে তিনশ ষাট বার দৃষ্টিপাত করেন। প্রতিটি দৃষ্টিপাতে তিনি সৃষ্টি করেন, রিযিক দান করেন, জীবিত করেন, মৃত্যু দান করেন, সম্মানিত করেন, লাঞ্ছিত করেন এবং তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٥)
9- ثنا عافية ثنا الربيع بن سليمان المرادي ثنا بشر بن بكر حدثني ابن جابر قال مر بنا خَالِدِ بْنِ اللَّجْلَاجِ فدعاه مَكْحُولٌ فقال يا أبا إبراهيم حدثنا حديث عَبْد الرَّحْمَنِ بْنَ عَائِشٍ قال سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَائِشٍ يَقُولُ قال رسول الله صلى الله عليه رَأَيْتُ رَبِّي فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ فقَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى يا محمد فَقُلْتُ أَنْتَ أَعْلَمُ يَا رَبِّ، قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى يا محمد فَقُلْتُ أَنْتَ أَعْلَمُ يَا رَبِّ فَوَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ كَتِفَىَّ فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَىَّ فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ثم تَلَا هذه الآية {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ} قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى يا محمد قال في الكفارات قال وما هي قلت المشي على الأقدام إلى الجمعات والجلوس في المساجد خلف الصلوات وإسباغ الوضوء أماكنه في المكاره قال ومن يفعل ذلك يعش بخير ويمت بخير ويكون من خطيئته كيوم ولدته أمه ومن الدرجات إطعام الطعام وبذل السلام وأن يقوم بالليل والناس نيام قال قلت اللهم أسألك الطيبات وترك المنكرات وحب المساكين وأن تتوب علي وإذا أردت فتنة في قوم فتوفني غير مفتون قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تعلموهن والذي نفسي بيده إنهن لحق هـ.
10- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح قال رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم فقلت يا رسول الله الليث ومالك اختلفا عليك فقال مالك مالك ورث حديثي هـ.
مجلس آخر أملي يوم الجمعة بعد الصلاة هـ.
৯- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবী ইবনে সুলায়মান আল-মুরাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জাবির আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খালিদ ইবনুল লাজলাজ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন মাকহুল তাকে ডেকে বললেন, হে আবু ইব্রাহিম! আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে আইশ-এর হাদীসটি বর্ণনা করুন। তিনি (আবদুর রহমান) বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে আইশকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আমার রবকে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! উচ্চতর পরিষদের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম: হে আমার রব! আপনিই ভালো জানেন। তিনি আবারও বললেন: হে মুহাম্মদ! উচ্চতর পরিষদের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম: হে আমার রব! আপনিই ভালো জানেন। তখন তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, ফলে আমি আমার বুকের মাঝে তার শীতলতা অনুভব করলাম। তখন আমি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব জেনে নিলাম।" এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {আর এভাবেই আমি ইব্রাহিমকে আসমান ও জমিনের রাজত্ব দেখাই যেন সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়}। তিনি (আল্লাহ) বললেন: হে মুহাম্মদ! উচ্চতর পরিষদের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? তিনি বললেন: গুনাহ মোচনকারী আমলসমূহ নিয়ে। আল্লাহ বললেন: সেগুলো কী? আমি বললাম: পায়ে হেঁটে জুমুআর সালাতে যাওয়া, সালাতের পর মসজিদে বসে থাকা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণরূপে ওজু করা। আল্লাহ বললেন: যে ব্যক্তি এই কাজগুলো করবে সে কল্যাণের সাথে বেঁচে থাকবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে এবং সে তার পাপ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছে। আর মর্যাদা বৃদ্ধিকারী কাজগুলো হলো: অন্নদান করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং রাতের বেলা যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করা। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম কাজ করার, মন্দ কাজ বর্জন করার এবং মিসকিনদের ভালোবাসার তাওফিক চাই, আর আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন। আর আপনি যখন কোনো কওমের মধ্যে ফিতনার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফিতনাগ্রস্ত না করে আপনার কাছে তুলে নিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা এই কথাগুলো শিখে নাও, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এগুলো সত্য।
১০- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! লাইস এবং মালিক আপনার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন। তিনি বললেন: মালিক তো মালিকই, সে আমার হাদীসের উত্তরাধিকার লাভ করেছে।
অন্য মজলিস, যা জুমুআর দিন সালাতের পর শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٦)
11- ثنا عافية بن محمد ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن يحيى بن سعيد عن عدي بن ثابت الأنصاري عن عبد الله بن يزيد وكان أميرا على الكوفة على عهد ابن الزبير أن سمع أبا أيوب يقول صليت مع رسول الله صلى الله عليه المغرب والعشاء في حجة الوداع بالمزدلفة هـ.
12- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن يحيى بن سعيد عن موسى بن عقبة مولى آل الزبير عن كريب مولى ابن عباس عن أسامة بن زيد أنه قال انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الدَّفْعَةِ مِنْ عَرَفَاتٍ إِلَى بَعْضِ تِلْكَ الشِّعَابِ لِحَاجَتِهِ فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ مِنَ الْمَاءِ فتوضأ فَقُلْتُ أَتُصَلِّي قَالَ الْمُصَلَّى أَمَامَك هـ.
13- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن أبي الزبير عن سعيد بن جبير وعن طاوس عن ابن عباس أنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا التشهد كما يعلمنا القرآن فكان يقول التحيات المباركات الصلاة الطيبات لله السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمد رسول الله هـ.
14- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن يحيى بن سعيد عن سعد بن إبراهيم عن نافع عن عروة بن المغيرة بن شعبة عن أبيه المغيرة عن رسول الله صلى الله علي أنه خرج لحاجته فاتبعه المغيرة بِإِدَاوَةٍ فِيهَا مَاءٌ حِتى فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْن هـ.
15- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث
-ق3أ-
(بياض بالأصل) عن ابن شهاب عن الأعرج عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه من سَأَلَهُ جَارُهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ فَلَا يَمْنَعْه هـ. قال محمد بن رمح قال الليث هذا أول ما لمالك عندنا وآخره هـ.
১১- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফিয়া বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি আদি বিন সাবিত আল-আনসারী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদ থেকে—যিনি ইবনুল যুবায়রের শাসনামলে কুফার আমীর ছিলেন—যে তিনি আবু আইয়ুবকে বলতে শুনেছেন: আমি বিদায় হজের সময় মুযদালিফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মাগরিব ও ইশা সালাত আদায় করেছি।
১২- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি জুবায়ের পরিবারের মুক্তদাস মূসা বিন উকবা থেকে, তিনি ইবন আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে, তিনি উসামা বিন যায়দ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আরাফাত থেকে প্রস্থানের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজনে একটি পাহাড়ী পথের দিকে গেলেন। আমি তাঁর উপর পানি ঢাললাম এবং তিনি উযু করলেন। আমি বললাম, “আপনি কি সালাত আদায় করবেন?” তিনি বললেন, “সালাতের স্থান তোমার সামনে।”
১৩- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের ও তাউস থেকে, তাঁরা ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: “যাবতীয় অভিবাদন, বরকত, সালাত ও পবিত্র বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।”
১৪- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি সাদ বিন ইবরাহীম থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি উরওয়া বিন মুগীরা বিন শুবা থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুগীরা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর প্রয়োজনে বাইরে বের হলেন। মুগীরা একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলেন। তিনি যখন তাঁর প্রয়োজন শেষ করলেন, তখন তিনি উযু করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন।
১৫- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস...
-পৃষ্ঠা ৩ক-
(মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে) ইবন শিহাব থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কারো প্রতিবেশী যদি তার দেয়ালে কাঠের খুঁটি গাড়তে চায়, তবে সে যেন তাকে বাধা না দেয়।” মুহাম্মদ বিন রুমহ বলেন, লাইস বলেছেন: এটিই মালিকের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে আমাদের কাছে প্রথম এবং শেষ হাদীস।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٧)
16- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر بن السرح ثنا سفيان ثنا الزُّهْرِيُّ، عن أَنَسِ بْنَ مَالِكٍ قال آخِرُ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى النبي صلى الله عليه يَوْمَ الاِثْنَيْنِ كَشَفَ السِّتَارَةَ وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ افَنَظَرْتُ إِلَى وَجْهِهِ كَأَنَّهُ وَرَقَةُ مُصْحَفٍ صلى الله عليه فأراد الناس أن يتحركوا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أن امكثوا وَأَلْقَى السَّجْفَ وَتُوُفِّيَ مِنْ آخِرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ صلى الله عليه هـ.
17- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن الزهري عن السائب بن يزيد قال لما قدم النبي صلى الله عليه المدينة من غزوة تبوك فلقاه الناس فلقيته مع الصبيان على ثنية الوداع هـ.
18- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثناسفيان عن الزهري عن محمد بن حسن بن مطعم عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه قال إن لي أسماء أنا محمد وأنا أحمد وأنا الماحي الذي يمحو الله بي الكفر وأنا الحاشر الذي يحشر الناس على قدمي، وأنا العاقب الذي ليس بعده أحد هـ.
19- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن الزهري سمعه من أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه قال لا تقاطعوا ولا تدابروا ولا تحاسدوا ولا تباغضوا وكونوا عباد الله إخوانا لا يحل لمؤمن أن يهجر أخاه فوق ثلاث فيصد هذا ويصد هذا وخيرهما الذي يبدأ بالسلام هـ.
20- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى قال سمعت سفيان بن عيينة ح. وثنا عافية ثنا أبو الطاهر واللفظ له ثنا سفيان عن الزهري عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف ومحمد بن النعمان بن بشير أخبراه أنهما سمعا النعمان بن بشير يقول نَحَلَني أبي غُلَامًا فأمرتني أمي أن أذهب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لِيُشْهِدَهُ على ذلك فَقَالَ أَكُلَّ وَلَدِك أَعْطَيْته قال لا قَالَ فَارْدُدْهُ هـ.
16- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির বিন আস-সারহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সোমবার দিন আমি শেষবারের মতো নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-কে দেখেছিলাম। তিনি যখন পর্দা সরালেন, তখন লোকজন আবু বকরের পিছনে সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। আমি তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম, তা যেন মুসহাফের একটি পৃষ্ঠা। (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তখন মানুষ নড়াচড়া করতে উদ্যত হলো, কিন্তু তিনি তাদের ইশারায় স্থির থাকতে বললেন। এরপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন এবং সেই দিনের শেষ ভাগে তিনি ইন্তেকাল করলেন। (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। ইতি।
17- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যখন তাবুক যুদ্ধ থেকে মদিনায় ফিরে আসলেন, তখন মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল। আমিও শিশুদের সাথে সানিয়্যাতুল বিদা নামক স্থানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। ইতি।
18- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার কতগুলো নাম রয়েছে; আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি মাহী (নিশ্চিহ্নকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন, আমি হাশির (সমবেতকারী) যার পায়ের নিকট মানুষকে সমবেত করা হবে, এবং আমি আকিব যার পরে আর কেউ নেই।" ইতি।
19- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরী থেকে এবং তিনি তা আনাস ইবনে মালিক থেকে শুনেছেন যে, নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "তোমরা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি পিঠ প্রদর্শন করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না এবং পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুমিনের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয় যে, তারা একে অপরের মুখোমুখি হলে এ এড়িয়ে চলে এবং ও এড়িয়ে চলে। তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে সালামের মাধ্যমে শুরু করে।" ইতি।
20- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে, তিনি বলেন যে আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে শুনেছি (হ)। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির থেকে—আর শব্দাবলী তাঁরই—তিনি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আবদির রহমান ইবনে আউফ এবং মুহাম্মাদ ইবনে নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা উভয়ে নুমান ইবনে বশীরকে বলতে শুনেছেন: "আমার পিতা আমাকে একটি গোলাম উপহার দিয়েছিলেন। তখন আমার মা আমাকে আদেশ দিলেন যেন আমি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর নিকট যাই যাতে তিনি এই বিষয়ে সাক্ষী থাকেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি তোমার সব সন্তানকে এমন দান করেছ?' তিনি উত্তর দিলেন, 'না।' তিনি বললেন, 'তবে তা ফিরিয়ে নাও'।" ইতি।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٨)
21- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن الزهر ي عن عبد الله عن ابن عباس عن الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه عَنِ الدَّارِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يُبَيَّتُونَ فَيُصَابُ مِنْ ذَرَارِيهِمْ وَنِسَائِهِمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه هُمْ مِنْهُمْ وَكَانَ عَمْرٌو يَقُولُ هُمْ مِنْ آبَائِهِمْ قَالَ الزُّهْرِيُّ ثُمَّ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالْوِلْدَان هـ.
22- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى ثنا سفيان بن عيينة عن الزهري أخبرني ابن كعب بن مالك عن عمه أن النبي صلى الله عليه نهى عن قتل النساء والولدان حين بعث إلى ابن أبي الحقيق هـ.
২১- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তাহের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি সা’ব বিন জাসসামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুশরিকদের সেই ঘরবাড়ি বা এলাকা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যেখানে রাতে অতর্কিত আক্রমণ করা হয় এবং ফলে তাদের সন্তান ও নারীরাও আক্রান্ত হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" আমর বলতেন: "তারা তাদের পিতৃপুরুষদের অন্তর্ভুক্ত।" যুহরী বলেন: পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।
২২- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়ায়না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, ইবনে কা’ব বিন মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর চাচা থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইবনে আবিল হুকাইকের নিকট (অভিযান) প্রেরণ করেন, তখন তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٩)
23- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن عمرو بن دينار عن جابر قال قال رسول الله صلى الله عليه مَنْ لِكَعْبِ فإِنَّهُ قَدْ آذَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فقال يَا رَسُولَ اللهِ أَتُحِبُّ أَنْ أَقْتُلَهُ قَالَ: نَعَمْ قَالَ فَائْذَنْ لِي أن أقولَ شيئا فأتاه فَقَالَ له إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ قَدْ سألنا الصَدَقَة وَقَدْ عَنَّانَا وقَدِ اتَّبَعْنَاهُ ونحن نَكْرَهُ أَنْ نَدعه حَتَّى نَنْظُرَ إِلَى أَىِّ شَىْءٍ يَصِيرُ أَمْرُهُ قَالَ أي شيء ترْهَنُونِي قَالَ ما تريد منا قال ترْهَنُونِي نساءكم قَالوا أَنْتَ أَجْمَلُ الْعَرَبِ نَرْهَنُكَ نِسَاءَنَا قالوا يكون ذَلِكَ عَارًا عَلَيْنَا قَالَ فَارْهَنُونِي أَوْلَادَكُمْ قَالُوا سُبْحَانَ اللَّهِ يُسَبُّ ابْنُ أَحَدِنَا فَيُقَالُ له رُهِنْتَ بِوَسْقٍ أَوْ وَسْقَيْنِ قَالُوا أنَرْهَنُكَ اللَّأْمَةَ قَالَ نَعَمْ يُرِيدُ السِّلَاحَ فَلَمَّا أَتَاهُ نَادَاهُ فَخَرَجَ إِلَيْهِم وَهُوَ مُتَطَيِّباً فلما جلس وقد كَانَ جَاءَ مَعَهُ بِنَفَرٍ ثَلَاثَةٍ أَوْ أَرْبَعَةٍ فقال وريح الطيب ينضخ منه قال فذَكَرُوا لَهُ عِنْدِي فُلَانَةُ وَهِيَ أَعْطَرُ نِسَاءِ النَّاسِ قَالَ تَأْذَنُ لِي فَأَشُمَّ قَالَ نَعَمْ قال فوضع يَدَهُ فِي رَأْسِهِ فَشَمَّهُ قَالَ أَعُودُ قَالَ نَعَمْ فَلَمَّا اسْتَمْكَنَ مِنْ
-ق3ب-
رأسه قَالَ دُونَكُمْ فَضَرَبُوهُ حَتَّى قَتَلُوه.
২৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কাব (ইবনুল আশরাফ)-এর জন্য কে আছে? কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে।" তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি পছন্দ করেন যে আমি তাকে হত্যা করি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাহলে আমাকে (কৌশল হিসেবে কিছু) কথা বলার অনুমতি দিন।" অতঃপর তিনি তার নিকট আসলেন এবং তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আমাদের নিকট সদাকাহ চেয়েছেন এবং আমাদের পরিশ্রান্ত করে ফেলেছেন। আমরা তাঁর অনুসরণ করেছি এবং তাঁর বিষয়টি কোন পরিণতির দিকে যায় তা না দেখা পর্যন্ত আমরা তাঁকে ছেড়ে দেওয়া অপছন্দ করছি।" সে (কাব) বলল: "তোমরা আমার নিকট কী বন্ধক রাখবে?" তিনি বললেন: "আপনি আমাদের নিকট কী চান?" সে বলল: "তোমাদের নারীদের আমার নিকট বন্ধক রাখো।" তারা বললেন: "আপনি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর পুরুষ, আমরা কি আমাদের নারীদের আপনার নিকট বন্ধক রাখব? এটি আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হবে।" সে বলল: "তবে তোমাদের সন্তানদের আমার নিকট বন্ধক রাখো।" তারা বললেন: "সুবহানাল্লাহ! আমাদের কারো সন্তানকে বিদ্রূপ করে বলা হবে যে, তোমাকে এক বা দুই ওয়াসাক (খাদ্যশস্যের পরিমাপ)-এর বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছিল। (তার চেয়ে) আমরা কি আপনার নিকট যুদ্ধের সরঞ্জাম বন্ধক রাখব?" সে বলল: "হ্যাঁ।" এর দ্বারা তিনি অস্ত্র বুঝিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তিনি তার নিকট আসলেন, তাকে ডাক দিলেন। সে সুগন্ধি মাখা অবস্থায় তাদের নিকট বেরিয়ে এল। যখন সে বসল—আর তাঁর সাথে তিন বা চারজন লোক ছিল—তিনি বললেন, এবং তার থেকে সুগন্ধির ঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হচ্ছিল, তিনি বললেন: তারা আমার নিকট অমুক নারীর কথা উল্লেখ করেছে যে সে সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুগন্ধিময়। তিনি বললেন: "আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন যাতে আমি ঘ্রাণ নিতে পারি?" সে বলল: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি তাঁর হাত তার মাথায় রাখলেন এবং ঘ্রাণ নিলেন। তিনি বললেন: "আমি কি পুনরায় নিতে পারি?" সে বলল: "হ্যাঁ।" অতঃপর যখন তিনি তার
-পৃষ্ঠা ৩বি-
মাথার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেলেন, তিনি বললেন: "তোমরা ধরো!" তখন তারা তাকে আঘাত করল যতক্ষণ না তারা তাকে হত্যা করল।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٠)
24- ثنا أحمد بن محمد بن المهندس ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى قال ثنا ابن وهب أن مالكا أخبره قال حدثنا (بياض بالأصل. . هو (سعيد المقبري) كما في صحيح البخاري) عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه قال مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ لأَخِيهِ مالا وعرض فليأته فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهَا، فَإِنَّهُ لَيْسَ ثَمَّ دِينَارٌ، وَلَا دِرْهَمٌ قَبْلِ أَنْ يُؤْخَذَ لأَخِيهِ مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ أَخِيهِ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ.
25- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى ثنا خالد بن مزار عن إبراهيم بن طهمان قال قال الحسن لا يأتي على المؤمن شيئ أشد عليه من فقد أخيه المؤمن الذي إن احتاج إليه في دينه وجده ففيها عالما وإن احتاج إليه في دنياه وجد غنيا مبينا وأيم الله ليفقدنه ثم لا يجد له خلقا أبدا هـ.
مجلس آخر يليه أملي هـ.
26- ثنا عافية ثنا (بياض بالأصل. . أظنه محمد بن رمح) أنا الليث عن يحيى بن سعيد عن محمد بن يحيى بن حبان عن عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنَّ رَجُلاً مِنْ بَنِي كِنَانَةَ ثُمَّ مِنْ بَنِي مُدْلِجٍ لَقِيَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو مُحَمَّدٍ فَسَأَلَهُ عَنِ الْوِتْرَ فَقَالَ إِنَّهُ وَاجِبٌ قَالَ الْكِنَانِيُّ فَلَقِيتُ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه يَقُولُ خَمْسُ صَلَوَاتٍ فَرَضَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ مَنْ أَتَى بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا استخفافا بحقهن كَانَ لَهُ عند الله عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ رَحِمَه وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ هـ.
২৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুহান্দিস, তিনি বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদিল আলা থেকে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব যে, মালিক তাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে। তিনি হলেন সাঈদ আল-মাকবুরি, যেমনটি সহীহ বুখারীতে এসেছে) আবু হুরায়রা থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার নিকট তার ভাইয়ের কোনো জুলুমের পাওনা রয়েছে—তা তার সম্পদ হোক বা সম্মান—সে যেন আজই তার নিকট থেকে তা মাফ করিয়ে নেয়। সেই দিন আসার পূর্বেই যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। (সেদিন) তার নেক আমল থেকে তার ভাইয়ের পাওনা পরিমাণ নিয়ে নেওয়া হবে, আর যদি তার কোনো নেক আমল না থাকে তবে তার পাওনাদার ভাইয়ের গুনাহসমূহ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
২৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, তিনি বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদিল আলা থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন মাজার থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন তাহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান বলেছেন: মুমিনের নিকট তার সেই মুমিন ভাইকে হারানোর চেয়ে অধিক কঠিন আর কিছু নেই, যাকে দ্বীনের প্রয়োজনে পাওয়া গেলে সে তাকে আলেম হিসেবে পায়, আর দুনিয়ার প্রয়োজনে পাওয়া গেলে তাকে সুস্পষ্ট স্বচ্ছল হিসেবে পায়। আল্লাহর কসম, সে অবশ্যই তাকে হারাবে এবং এরপর আর কখনো তার মতো কাউকে খুঁজে পাবে না।
পরবর্তী মজলিসটি এরপর শ্রুতিলিপি করা হয়েছে।
২৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, তিনি বর্ণনা করেছেন (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে; আমার ধারণা তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন রুমহ) থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাব্বান থেকে, তিনি ইবনে মুহাইরিজ থেকে বর্ণনা করেন যে, বনু কিনানা এবং পরবর্তীতে বনু মুদলিজ গোত্রের এক ব্যক্তি আনসারদের জনৈক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন যাকে আবু মুহাম্মাদ বলা হতো। তিনি তাকে বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তা ওয়াজিব। কিনানি ব্যক্তি বলেন, এরপর আমি উবাদাহ বিন আস-সামিতের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, আবু মুহাম্মাদ ভুল বলেছে। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে: আল্লাহ বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে এবং সেগুলোর হকের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এর কোনো কিছু নষ্ট করবে না, আল্লাহর নিকট তার জন্য এই অঙ্গীকার রয়েছে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে তা পালন করবে না, আল্লাহর নিকট তার জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই; তিনি চাইলে তাকে দয়া করতে পারেন অথবা চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١١)
27- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن يحيى بن سعيد عن القاسم بن محمد عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه أنها كانت تذكر التشهد (غير واضح) التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ عَلَيك أيها النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللهِ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ هـ.
28- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر أن حاطب بن أبي بلتعة كتب إلى أهل مكة يذكر أن رسول الله صلى الله عليه أراد غَزْوَهُمْ فَدُلَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه عَلَى الْمَرْأَةِ الَّتِي مَعَهَا الْكِتَابُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَأُخِذَ كِتَابُهَا مِنْ رَأْسِهَا فقَالَ يَا حَاطِبُ أَفَعَلْتَ قَالَ: نَعَمْ أَمَا إِنِّي لَمْ أَفْعَلْهُ غِشًّا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وَلَا نِفَاقًا قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ اللَّهَ مُظْهِرٌ رَسُولَهُ صلى الله عليه وَمُتِمٌّ لَهُ أَمْرَهُ غَيْرَ أَنِّي كُنْتُ عَزِيزًا بَيْنَ ظَهْرِيهِمْ وَكَانَتْ وَالِدَتِي مَعَهُمْ فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَّخِذَهَا عِنْدَهُمْ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَلَا أَضْرِبُ رَأْسَ هَذَا فقَالَ أَتَقْتُلُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ ومَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ تبارك وتعالى قَدِ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ هـ.
29- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر أحمد بن عمرو بن السرح ثنا سفيان بن عيينة عن عمرو عن بن منبه وهو وهب عن أخيه وهو همام بن منبه عن معاوية بن أبى سفيان أن رسول الله صلى الله عليه قال إن الرجل إِنَّ الرَّجُلَ لَيَسْأَلُنِي الشَّيْءَ فَأَمْنَعُهُ حَتَّى كي تَشْفَعُوا فَتُؤْجَرُوا وَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه قَالَ اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا هـ.
২৭- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি কাসিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাশাহহুদ উল্লেখ করতেন (যা অস্পষ্ট): সমস্ত পবিত্র অভিবাদন, উত্তম কার্যাবলি, সালাতসমূহ এবং বরকতময় বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। সমাপ্ত।
২৮- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, হাতিব বিন আবি বালতায়া মক্কাবাসীদের নিকট এই মর্মে পত্র লিখেছিলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেই মহিলার সন্ধান দেওয়া হলো যার নিকট পত্রটি ছিল। তিনি তার নিকট লোক পাঠালেন এবং তার মাথার চুল থেকে পত্রটি উদ্ধার করা হলো। তিনি বললেন: হে হাতিব! তুমি কি এটি করেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোনো প্রতারণা বা মুনাফেকির কারণে এটি করিনি। আমি নিশ্চিত জানতাম যে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বিজয়ী করবেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন; তবে আমি তাদের মাঝে একজন নিঃসঙ্গ ব্যক্তি ছিলাম এবং সেখানে আমার মা অবস্থান করছিলেন, তাই আমি তাদের নিকট তার জন্য একটি আশ্রয়ের হাত বা উপকারের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। তখন উমর (রা.) তাঁকে বললেন: আমি কি এর গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: তুমি কি একজন বদরবাসীকে হত্যা করবে? তুমি কি জানো না যে, সম্ভবত আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। সমাপ্ত।
২৯- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আহমদ বিন আমর বিন আস-সারহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উইয়াইনা, আমর থেকে, তিনি ইবনে মুনাব্বিহ অর্থাৎ ওয়াহাব থেকে, তিনি তাঁর ভাই হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কোনো লোক যখন আমার নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করে, তখন আমি তাকে তা দেওয়া থেকে বিরত রাখি (দেরি করি) যেন তোমরা সুপারিশ করতে পারো এবং সওয়াব লাভ করো। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা সুপারিশ করো, সওয়াব লাভ করবে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٢)
30- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن الزهري عن عروة عن زينب عن أم حبيبة عن زينب بنت جحش أن رسول الله صلى الله عليه استيقظ في يوم مُحْمَّرٌ وَجْهُهُ وَهُوَ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ وحلق بيده قال فقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ هـ.
31- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن الزهري عن أبى إدريس عن عُبَادَةَ قال كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ بَايِعُونِي على أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا الآيَةَ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَهُوَ إِلَى اللهِ تعالى إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ تركه هـ.
-ق4أ-
32- (بياض بالأصل) سفيان عن الزهري عن ابن المسيب أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه بِحَسَّانَ بن ثابت وَهُوَ يُنْشِدُ فِي الْمَسْجِدِ فَلَحَظَ إِلَيْهِ فقَالَ: قَدْ كُنْتُ أُنْشِدُ وَفِيهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالَ أنشدك الله هل سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ أَجِبْ عَنِّي اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ فقَالَ أبو هريرة: نَعَم هـ.
৩০- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, তিনি আবু আল-তাহির থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি যয়নব থেকে, তিনি উম্মে হাবিবা থেকে, তিনি যয়নব বিনতে জাহশ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন রক্তিম চেহারায় জাগ্রত হলেন এবং বলছিলেন, "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। নিকটবর্তী এক অনিষ্টের কারণে আরবদের জন্য ধ্বংস! আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে" এবং তিনি তাঁর হাত দ্বারা একটি বৃত্ত তৈরি করে দেখালেন। যয়নব বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।"
৩১- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, তিনি আবু আল-তাহির থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস থেকে, তিনি উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি মজলিসে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তার জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হবে, তবে তা তার জন্য কাফফারা (পাপমোচন) স্বরূপ হবে। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা গোপন রাখবেন, তবে তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ছেড়ে দেবেন (ক্ষমা করবেন)।"
-পৃষ্ঠা ৪ক-
৩২- (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান) সুফিয়ান থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হাসসান বিন সাবিতের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। উমর তাঁর দিকে আড়চোখে তাকালেন। তখন হাসসান বললেন: "আমি তখনো কবিতা আবৃত্তি করতাম যখন মসজিদে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি উপস্থিত থাকতেন।" অতঃপর তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে ফিরে বললেন: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, ‘আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও; হে আল্লাহ! তাকে রুহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) দ্বারা শক্তিশালী করুন’?" আবু হুরায়রা বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٣)
33- ثنا عافية ثنا سلمة بن شبيب (بياض بالأصل) عَبْدُ الرَّزَّاقِ عن ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالاً شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه فِي ذَلِكَ وَشَكُّوا فِيهِ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ وشَكُّوا فِي بَعْضِ أَمْرِهِ قَالَ سَلَمَةُ فَقَفَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه مِنْ خَيْبَرَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَرْجُزَ بِكَ فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه فَقَالَ عُمَرُ بن الخطاب اعْلَمْ مَا تَقُولُ قَالَ فَقُلْتُ
وَاللهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا. . . . . وما تَصَدَّقْنَا، وَما صَلَّيْنَا،
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: صَدَقْتَ:
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا. . . وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا
وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا. . .
৩৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন শাবিব (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান), আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন ইবন জুরায়জ থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন কাব বিন মালিক আল-আনসারি যে, সালামাহ ইবনুল আকওয়া বলেছেন: যখন খায়বারের যুদ্ধের দিন এল, আমার ভাই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে অত্যন্ত কঠোরভাবে যুদ্ধ করলেন। একপর্যায়ে তার নিজ তলোয়ারটিই তার দিকে ফিরে এল এবং তাকে হত্যা করল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এ নিয়ে আলোচনা করতে লাগলেন এবং তার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলেন; তারা বললেন, এক ব্যক্তি যে নিজের অস্ত্রেই মারা গেল! তারা তার সামগ্রিক পরিণতির বিষয়ে সন্দেহ করলেন। সালামাহ বলেন: এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খায়বার থেকে ফিরে আসলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে আপনার শানে কিছু ছন্দোবদ্ধ কবিতা পাঠ করার অনুমতি দেবেন? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন, তুমি কী বলছ তা ভেবেচিন্তে বলো। তিনি (সালামাহ) বলেন: তখন আমি বললাম—
আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ না থাকতেন তবে আমরা হেদায়েত পেতাম না, দান-সদকা করতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না।
তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তুমি সত্য বলেছ।
অতএব আপনি আমাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন এবং আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হই তখন আমাদের পা অটল রাখুন।
আর মুশরিকরা আমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে...
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٤)
قال رسول الله صلى الله عليه مَنْ قَالَ هَذَا قُلْتُ قَالَهَا أَخِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَرْحَمُهُ اللهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فوَاللهِ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ أَنْ يُصَلُّوا عَلَيْهِ وَيَقُولُونَ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا. قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنَ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ فَحَدَّثَنِي عَن أَبِيهِ بمِثْلَ الَّذِي حَدَّثَنِي عَنَْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ غَيْرَ أَنَّ ابْنَ سَلَمَةَ بن الأكوع، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه حين قلت يَهَابُونَ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ قال كَذَبُوا مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا قال فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: بِإِصْبَعَيْهِ هـ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এ কথা কে বলেছে?” আমি বললাম: “এটি আমার ভাই বলেছে।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।” আমি বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহর শপথ! কিছু মানুষ তার জানাজা পড়তে ভয় পাচ্ছে এবং তারা বলছে, সে এমন এক ব্যক্তি যে নিজের অস্ত্রেই মারা গেছে।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে সাধনা ও জিহাদরত অবস্থায় মারা গেছে।” ইবনে শিহাব বলেন, এরপর আমি ইবনে সালামাহ ইবনুল আকওয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি তাঁর পিতার সূত্রে আমাকে অনুরূপ বর্ণনা করলেন যেমনটি আব্দুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছিলেন। তবে ইবনে সালামাহ ইবনুল আকওয়া বলেন যে, যখন আমি বললাম যে তারা তার জানাজা পড়তে ভয় পাচ্ছে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তারা মিথ্যা বলেছে, সে সাধনা ও জিহাদরত অবস্থায় মারা গেছে।” তিনি বললেন: “তার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে।” এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই আঙ্গুল দ্বারা (ইঙ্গিত করে) কথাটি বললেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٥)
34- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى قالوا ثنا ابن وهب أن مالكا أخبره عن أبي النضر عن عبيد بْنَ حُنَيْنٍ، قال يونس أخبره عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ فقَالَ فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا قال فَعَجِبْنَا لَهُ فقَالَ النَّاسُ انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ يُخْبِرُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه عَنْ عَبْدٍ خيّر وَهْوَ يَقُولُ فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه هُوَ الْمُخَيَّرَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ أَعْلَمَنَا بِهِ فقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبَا بَكْرٍ لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ إِلَاّ أخوة الإِسْلَامِ لَا يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَاّ خَوْخَةُ أَبِي بَكْر هـ.
35- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى ثنا ابن يوسف أنه سمع مالك يحدث عن أبي النضر عن عامر بن سعد بن أبي وقاص عن أبيه قال ما سمعت رسول الله صلى الله عليه يقول لأحد يمشي على الأرض أنه من أهل الجنة إلا لعبد الله بن سلام قال وفيه نزلت هذه الآية، ((وشهد شاهد من بني إسرائيل على مثله. .)) الآية هـ.
36- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى حدثني يحيى بن عبد الله بن بكير أخبرني الليث بن سعد حدثني حيوة عن عقبة بن مسلم قال سمعت عبد الله بن الحارث بن جزء الزبيري يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه يقول ويل للأعقاب وبطون الأقدام من النار هـ.
مجلس آخر يليه أملى هـ.
৩৪- আফিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, মালিক তাকে আবু নাদর থেকে, তিনি উবাইদ বিন হুনাইন থেকে সংবাদ দিয়েছেন। ইউনুস বলেন, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য থেকে তিনি যা চান তা এবং আল্লাহর নিকট যা আছে তার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার (সুযোগ) দিয়েছেন। তখন সেই বান্দা আল্লাহর নিকট যা আছে তা-ই পছন্দ করে নিল।" এতে আবু বকর (রা.) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: "আমাদের পিতা ও মাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করছি।" বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাঁর এই কাণ্ডে আশ্চর্যান্বিত হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, "এই বৃদ্ধের দিকে তাকাও! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যাকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, আর তিনি বলছেন 'আমাদের পিতা ও মাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করছি'।" আসলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ছিলেন সেই বান্দা যাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল, আর আবু বকর আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে নিজের সাহচর্য ও সম্পদের দ্বারা আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি ইহসানকারী (দয়ালু) ব্যক্তি হলো আবু বকর। আমি যদি আমার রব ছাড়া আর কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে (আমাদের মাঝে) ইসলামের ভ্রাতৃত্ব বিদ্যমান। মসজিদের কোনো ছোট দরজা খোলা রাখা হবে না, কেবল আবু বকরের দরজা ছাড়া।"
৩৫- আফিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মালিককে আবু নাদর থেকে, তিনি আমির বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি (পিতা) বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে বিচরণকারী কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে 'তিনি জান্নাতবাসী' বলতে শুনিনি কেবল আব্দুল্লাহ বিন সালাম ছাড়া।" বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর ব্যাপারেই এই আয়াত নাজিল হয়েছে: ((এবং বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের উপর সাক্ষ্য দিল...)) আয়াত শেষ পর্যন্ত।
৩৬- আফিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, লাইস বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাইওয়াহ উকবাহ বিন মুসলিম থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন জায আল-জুবাইরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "অগ্নির কারণে গোড়ালি এবং পায়ের পাতার নিম্নভাগের জন্য ধ্বংস।"
পরবর্তী মজলিস এর পরেই আসবে, যা শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলিত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٦)
37- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن سفيان بن عبد الرحمن أظنه عن عاصم بن سفيان الثقفي أَنَّهُمْ غَزَوْا غَزْوَةَ السَّلَاسِلِ فَفَاتَهُمُ الْغَزْوُ فَرَابَطُوا ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى مُعَاوِيَةَ وَعِنْدَهُ أَبُو أَيُّوبَ وَعَقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ عَاصِمٌ يَا أَبَا أَيُّوبَ فَاتَنَا الْغَزْوُ الْعَامَ وَقَدْ أُخْبِرْنَا أَنَّهُ مَنْ صَلَّى فِي الْمَسَاجِدِ الأَرْبَعَةِ غُفِرَ الله لَهُ ذَنْبُهُ فَقَالَ يا ابْنَ أَخِي أَدُلُّكَ عَلَى أَيْسَرَ مِنْ ذلِكَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ كَمَا أُمِرَ وَصَلَّى كَمَا أُمِرَ غُفِرَ لَهُ مَا قَدَّمَ مِنْ عَمَلٍ أَكَذَاكَ يَا عُقْبَةُ قَالَ: نَعَمْ هـ.
-ق4ب-
38- ثنا أحمد بن محمد المهندس ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر أنه قال صلى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الأَنْصَارِيُّ (بياض. . (بِأَصْحَابِهِ)) صَلَاةَ الْعِشَاءِ فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ فَانْصَرَفَ رَجُلٌ مِنَّا فَصَلَّى فأُخْبِرَ مُعَاذٌ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ الرَّجُلَ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه فَأَخْبَرَهُ مَا قَالَ لَهُ مُعَاذٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ فتَّانًا يَا مُعَاذُ إِذَا أممت بِالنَّاسِ فَاقْرَأْ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا، وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى، وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى، وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ هـ.
৩৭- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, তিনি আবু আল-যুবাইর থেকে, তিনি সুফিয়ান বিন আবদুর রহমান থেকে, আমার ধারণা তিনি আসিম বিন সুফিয়ান আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা সালাসিল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন কিন্তু যুদ্ধ পাননি (অর্থাৎ মূল যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল), ফলে তারা সেখানে পাহারায় নিযুক্ত থাকেন, অতঃপর তারা মুয়াবিয়ার কাছে ফিরে আসেন। তখন তার কাছে আবু আইয়ুব এবং উকবাহ বিন আমির উপস্থিত ছিলেন। আসিম বললেন, হে আবু আইয়ুব! আমরা এ বছরের যুদ্ধটি হারিয়ে ফেললাম। আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি চার মসজিদে সালাত আদায় করবে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তখন তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ কিছুর সন্ধান দেব না? আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি নির্দেশ অনুযায়ী ওজু করবে এবং নির্দেশ অনুযায়ী সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী আমলসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" হে উকবাহ, বিষয়টি কি এমনই নয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সমাপ্ত।
-পৃষ্ঠা ৪খ-
৩৮- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুহান্দিস, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আফিয়াহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, তিনি আবু আল-যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মুয়াজ বিন জাবাল আল-আনসারী (শূন্যস্থান... (তার সাথীদের নিয়ে)) ইশার সালাত আদায় করলেন এবং তাদের জন্য কিরাত দীর্ঘ করলেন। তখন আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি পৃথক হয়ে সালাত আদায় করলেন। মুয়াজকে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি বললেন, সে একজন মুনাফিক। ওই ব্যক্তির কাছে যখন এ সংবাদ পৌঁছাল, তখন সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়ে মুয়াজ তাকে যা বলেছেন তা জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে মুয়াজ! তুমি কি ফিতনাকারী হতে চাও? যখন তুমি মানুষের ইমামতি করবে তখন পাঠ করবে 'ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা' (সূরা আশ-শামস), 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা' (সূরা আল-আ’লা), 'ওয়াল লাইলি ইজা ইয়াগশা' (সূরা আল-লাইল) এবং 'ইকরা বিইস্মি রাব্বিকা' (সূরা আল-আলাক)।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٧)
39- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر أن أم سلمة زوج النبي اسْتَأْذَنَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه فِي الْحِجَامَةِ فَأَمَرَ النبي صلى الله عليه وسلم أَبَا طَيْبَةَ أَنْ يَحْجُمَهَا وقَالَ حَسِبْتُ أَنَّهُ كَانَ أَخَاهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ أَوْ غُلَامًا لَمْ يَحْتَلِمْ هـ.
40- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن يحيى بن سعيد الأنصاري عن محمد (سواد بالأصل) أن أبا سعيد الخدري قال أقبلت لأسأل رسول الله صلى الله عليه فوجدته يقول من يتصبر يصبره الله ومن يستغن يغنيه الله ومن يستعفف يعفه الله فقلت ما أنا بسائلك اليوم هـ.
41- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان بن عيينة عن الزهري عن ابن المسيب قال سمعت حكيم بن حزام يقول سألت رسول الله صلى الله عليه فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِطِيبِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، فكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ، وَلَا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى هـ.
42- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن عمرو بن دينار سمع صفوان بن عبد الله بن صفوان يخبر عن يزيد بن شيبان قال أَتَانَا ابْنُ مِرْبَعٍ الأَنْصَارِيُّ وَنَحْنُ وقوف بِعَرَفَةَ مَكَان بعيد مِنْ مَوْقِفِ الإِمَامِ فَقَالَ: إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ إِلَيْكُمْ يَقُولُ: كُونُوا عَلَى مَشَاعِرِكُمْ فَإِنَّكُمْ عَلَى إِرْثٍ مِنْ إِرْثِ إِبْرَاهِيمَ هـ.
৩৯- আমাদের নিকট আফিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট লাইস ইবনে সাদ সংবাদ দিয়েছেন আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.)-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ (রা.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে শিঙা লাগানোর অনুমতি চাইলেন। অতঃপর নবী (সা.) আবু তাইবাহকে নির্দেশ দিলেন তাকে শিঙা লাগিয়ে দিতে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে করি সে ছিল তার দুধভাই অথবা এমন এক কিশোর যে তখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।
৪০- আমাদের নিকট আফিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট লাইস ইবনে সাদ সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ (মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু চাওয়ার জন্য এগিয়ে এলাম। তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম: "যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন; যে অভাবমুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন; আর যে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন।" তখন আমি বললাম, আজ আমি আপনার কাছে কিছুই চাইব না।
৪১- আমাদের নিকট আফিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু তাহের বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে, তিনি বলেন: আমি হাকীম ইবনে হিযাম (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন; তারপর আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই সম্পদ সুস্বাদু ও শ্যামল। সুতরাং যে ব্যক্তি তা স্বচ্ছ অন্তরে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা লোভাতুর মনে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয় না। সে ঐ ব্যক্তির মতো যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। আর ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।"
৪২- আমাদের নিকট আফিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু তাহের বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ানকে ইয়াযিদ ইবনে শাইবান থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: ইবনে মিরবা আল-আনসারী আমাদের নিকট এলেন যখন আমরা আরাফায় ইমামের অবস্থানের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করছিলাম। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর প্রেরিত দূত। তিনি বলছেন: তোমরা তোমাদের হজের নিদর্শনগুলোর ওপর অবস্থান করো, কেননা তোমরা ইব্রাহিমের উত্তরাধিকারের ওপর রয়েছ।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٨)
43- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه قال إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ الأَنْبِيَاءِ قَبْلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ أوقد نارا فلما أضاءت، جَعَلَ الدَّوَابُّ وَالْفَرَاشُ يَتقاحِمُونَ فِيهَا، فَأَنَا آخِذٌ بِحُجُزِكُمْ، وَأَنْتُمْ تتقاحمون في النار هـ.
44- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن عمرو وابن المنكدر عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه دخلت الجنة فرأيت فيها قصرا أودارا فقلت لمن هذه فَقِيلَ لِرَجُلٍ مِنْ قُرَيْشٍ، فَرَجَوْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ، فَقِيلَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: فأردت أن أدخلها فذكرت غَيْرَتكَ يَا أَبَا حَفْصٍ فَبَكَى عُمَرُ، فقَالَ: أَيُغَارَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ هـ.
45- ثنا عافية ثنا سلمة بن شبيب ثنا عبد الرزاق عن ابن جريج حدثني هشام بن عروة عن عروة يحدث عن المغيرة بن شعبة عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ اسْتَشَارَهُمْ فِي إِمْلَاصِ الْمَرْأَةِ ، فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بن شعبة: قَضَى فِيهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ بِالغُرَّة فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: إِنْ كُنْتُ صَادِقًا فَأْتِ بِأَحَدٍ يَعْلَمُ ذَلِكَ: فَشَهِدَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ قَضَى به هـ.
43- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি আগুন প্রজ্বলিত করল; যখন আগুনটি চারপাশ আলোকিত করল, তখন পোকা-মাকড় ও ফড়িং তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল। আর আমি তোমাদের কোমর ধরে (আগুন থেকে) টেনে ধরছি, অথচ তোমরা আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছ।
44- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর এবং ইবনুল মুনকাদির থেকে, তাঁরা জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে একটি প্রাসাদ বা ঘর দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার? তখন বলা হলো, কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তির। আমি আশা করেছিলাম যে আমিই সেই ব্যক্তি হব, কিন্তু বলা হলো, এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের। আমি সেখানে প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হে আবু হাফস! তোমার আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার মনে পড়ে গেল। তখন উমর কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ক্ষেত্রেও কি আমি আত্মমর্যাদাবোধ (ঈর্ষা) দেখাব?
45- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ বিন শাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন— হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাহ থেকে এবং উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) কোনো মহিলার (আঘাতজনিত) গর্ভপাতের জরিমানা সম্পর্কে তাঁদের সাথে পরামর্শ চাইলেন। তখন মুগীরা ইবনে শু'বাহ বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ক্ষেত্রে একটি ‘গুররা’ (দাস বা দাসী) প্রদানের ফয়সালা দিয়েছিলেন। তখন উমর তাঁকে বললেন, যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে এমন কাউকে নিয়ে এসো যে এ সম্পর্কে জানে। তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে ফয়সালা দিতে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
46- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى ثنا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ عَنْ شُرَحْبِيلَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه فِي غَزْوَةِ خَيْبَرَ فَخَرَجَتْ سَرِيَّةٌ فَأَخَذُوا إِنْسَانًا مَعَهُ غَنَمٌ يَرْعَاهَا فَجَاءُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه فَكَلَّمَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يُكَلِّمه فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ إِنِّي آمَنْتُ بِكَ وَبِمَا جِئْتَ بِهِ فَكَيْفَ بِالْغَنَمِ يَا رَسُولَ اللهِ فَإِنَّهَا أَمَانَةٌ وَهِيَ لِلنَّاسِ الشَّاةُ وَالشَّاتَانِ وَأَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ فقَالَ احْصِبْ وُجُوهَهَا تَرْجِعْ إِلَى أَهْلِهَا فَأَخَذَ قَبْضَةً مِنْ حَصْبَاءَ أَوْ تُرَابٍ فَرَمَى بِه وُجُوهَهَا فَخَرَجَتْ تَشْتَدُّ حَتَّى دَخَلَتْ كُلُّ شَاةٍ إِلَى أَهْلِهَا ثُمَّ تَقَدَّمَ إِلَى الصَّفِّ فَأَصَابَهُ سَهْمٌ فَقَتَلَهُ وَلَمْ يُصَلِّ لِلَّهِ سَجْدَةً قَطُّ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه أَدْخِلُوهُ الْخِبَاءَ فَأُدْخِلَ خِبَاءَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه حَتَّى إِذَا فَرَغَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه
-ق5أ-
47- دَخَلَ عَلَيْهِ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ لَقَدْ حَسُنَ إِسْلَامُ صَاحِبِكُمْ لَقَدْ دَخَلْتُ عَلَيْهِ وَإِنَّ عِنْدَهُ لَزَوْجَتَيْنِ لَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ.
৪৬- আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হায়ওয়াহ ইবনে শুরাইহ থেকে, ইবনুল হাদ থেকে, শুরাহবিল থেকে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খায়বারের যুদ্ধে ছিলাম। তখন একটি ছোট সেনাদল অভিযানে বের হলো এবং তারা একজন মানুষকে ধরে আনল যার সাথে কিছু মেষ ছিল যা সে চরাচ্ছিল। তারা তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কথা বললেন যা আল্লাহ তাকে বলার ইচ্ছা করলেন। লোকটি তাঁকে বলল: ‘আমি আপনার ওপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান আনলাম। কিন্তু হে আল্লাহর রাসূল, এই মেষগুলোর কী হবে? এগুলো তো আমানত এবং এগুলো মানুষের সম্পদ; একটি, দুটি বা তার চেয়েও বেশি।’ তিনি বললেন: ‘এগুলোর মুখে কঙ্কড় নিক্ষেপ করো, তবেই তারা তাদের মালিকদের কাছে ফিরে যাবে।’ অতঃপর তিনি এক মুষ্টি কঙ্কড় বা মাটি নিলেন এবং তা সেগুলোর মুখের দিকে নিক্ষেপ করলেন। ফলে সেগুলো দ্রুত দৌড়ে চলে গেল, এমনকি প্রতিটি মেষ তার মালিকের কাছে পৌঁছে গেল। তারপর তিনি যুদ্ধের সারিতে অগ্রসর হলেন এবং একটি তীর তাকে আঘাত করল ও তিনি নিহত হলেন। তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কখনো একটি সিজদাও করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তাকে তাঁবুর ভেতরে নিয়ে যাও।’ অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁবুতে নিয়ে যাওয়া হলো। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হলেন...
-পৃষ্ঠা ৫ক-
৪৭- তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: ‘তোমাদের এই সাথীর ইসলাম গ্রহণ অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে। আমি যখন তার কাছে প্রবেশ করলাম, তখন দেখলাম তার কাছে হুরুল ঈনদের মধ্য থেকে তার দুই স্ত্রী রয়েছে।’
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
48- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى قال وأنا أبن وهب أن مالكاً أخبره عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أن رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قَالَ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ كَمَا يَتَرَاءَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الْغَابِرَ فِي الْأُفُقِ مِنْ الْمَشْرِقِ أَوْ الْمَغْرِبِ لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ قَالَ بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ هـ.
مجلس آخر يليه أملي هـ.
49- ثنا عافية بن محمد ثنا محمد بن رمح أنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ قَالَ رُمِيَ يَوْمَ الأَحْزَابِ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَطَعُوا أَكْحَلَهُ فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه بِالنَّارِ فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ وانفتق عرقه الدم فَحَسَمَهُ أُخْرَى فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ سعد قَالَ اللَّهُمَّ لَا تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَاسْتَمْسَكَ عِرْقُهُ فَمَا قَطَرَ قَطْرَةً حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدٍ بن معاذ فَأُرْسِلَ إِلَيْهِ فَحَكَمَ أَنْ تُقْتَلَ رِجَالُهُمْ وَيُسْتَحْيَا نِسَاؤُهُمْ وَذَرَارِيُّهُمْ لِيَسْتَعِينَ بِهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه: أَصَبْتَ حُكْمَ اللهِ فِيهِمْ وَكَانُوا أَرْبَعَ مِائَةٍ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قَتْلِهِمُ انْفَتَقَ عِرْقُهُ فَمَاتَ هـ.
৪৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি ইউনুস ইবনে আবদুল আলা থেকে, তিনি বলেন যে ইবনে ওয়াহাব তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে ইমাম মালিক তাকে সাফওয়ান ইবনে সুলায়ম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা তাদের উপরের কক্ষবাসীদেরকে সেভাবেই দেখবে যেভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তের প্রান্তে উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাও, তাদের মধ্যকার মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে।” তারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! ওগুলো কি নবীদের আবাসন যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারবে না?” তিনি বললেন, “অবশ্যই পৌঁছাবে; যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ, তারা হলো এমন সব লোক যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে।”
এর পরবর্তী অংশ অন্য একটি মজলিসে আমার শ্রুতলিপি থেকে গৃহীত।
৪৯- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া ইবনে মুহাম্মদ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে রুমহ থেকে, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আহযাবের যুদ্ধের দিন সা’দ ইবনে মুআয (রা.)-কে তীর মারা হয়েছিল, যার ফলে তার হাতের মূল শিরাটি (আকহাল) কেটে যায়। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগুন দিয়ে তা দাগিয়ে দেন। এরপর তার হাত ফুলে গেল এবং তার রক্তবাহী শিরাটি ফেটে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। তিনি পুনরায় তা দাগিয়ে দিলেন এবং আবারো তার হাত ফুলে গেল। সা’দ (রা.) যখন এটি দেখলেন তখন বললেন, “হে আল্লাহ! বনু কুরায়জার ব্যাপারে আমার চোখ জুড়িয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আপনি আমার প্রাণ বের করবেন না।” তখন তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল এবং এক ফোঁটা রক্তও ঝরল না যতক্ষণ না তারা সা’দ ইবনে মুআযের ফয়সালার ওপর অনুগত হয়ে কেল্লা থেকে নেমে এল। তখন তাকে ডেকে পাঠানো হলো এবং তিনি ফয়সালা দিলেন যে, তাদের পুরুষদের হত্যা করা হবে এবং তাদের নারী ও সন্তানদের জীবিত রাখা হবে যেন মুসলিমরা তাদের মাধ্যমে সাহায্য লাভ করতে পারে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ীই সঠিক ফয়সালা করেছ।” তারা সংখ্যায় চারশত ছিল। অতঃপর যখন তাদের হত্যার কাজ শেষ হলো, তখন তার শিরাটি পুনরায় ফেটে গেল এবং তিনি ইন্তেকাল করলেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
50- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر عن رسول الله صلى الله عليه أنه قال من رآني في المنام فقد رآني، إنه لا ينبغي للشيطان أن يتمثل في صورتي وقال إذا حلم أحدكم فلا يخبر الناس بتلاعب الشيطان به في المنام هـ.
51- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن أبي الزبير عن جابر أنه قال اشتكى رسول الله صلى الله عليه فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ يُكَبِّرُ يُسْمِعُ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ قال فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَرَآنَا قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا وصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ قُعُودًا فلَمَّا سَلَّمَ قَالَ إِنْ كِدْتُمْ آنفا تَفْعَلُون فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومِ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فلَا تَفْعَلُوا ائْتَمُّوا بِأَئِمَّتِكُمْ إِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا هـ.
52- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا ابن لهيعة عن الأسود أنه سمع نافعا يخبر عن عبد الله بن عمر أنه قال سابق رسول الله صلى الله عليه بين الخيل المضمرة فكانت ترسل مِنَ الْحُفَيَّاءِ وَكَانَ أَمَدُهَا إِلَى ثَنْيَةِ الْوَدَاعِ وَسَابَقَ بَيْنَ الْخَيْلِ الَّتِي لَمْ تُضَمَّرْ فكانت ترسل مِنَ الثَّنْيَةِ وَكَانَ أَمَدُهَا مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ هـ.
53- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر أحمد بن عمرو بن السرج ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بْكَرِ عَنْ خَلَاّدِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بالتلبية أو بِالإِهْلَالِ هـ.
50- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সা’দ আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখেছে সে অবশ্যই আমাকে দেখেছে, কারণ শয়তানের জন্য আমার আকৃতি ধারণ করা সম্ভব নয়।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন স্বপ্নে দেখে যে শয়তান তাকে নিয়ে খেলা করছে, তখন সে যেন মানুষের কাছে তা প্রকাশ না করে।"
51- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) অসুস্থ হলেন, তখন আমরা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি বসা ছিলেন এবং আবু বকর উচ্চস্বরে তাকবীর বলে মানুষকে তা শুনাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকালেন এবং আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের দিকে ইশারা করলেন, ফলে আমরা বসে পড়লাম এবং তাঁর সালাতের অনুকরণে বসে সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন তখন বললেন: "তোমরা এখনই পারস্য ও রোমকদের ন্যায় আচরণ করতে উপক্রম হয়েছিলে; তারা তাদের রাজাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে যখন তারা বসা থাকে। তোমরা এমন করো না। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করো; যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, আর যদি তিনি বসে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করো।"
52- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে লাহীআহ আসওয়াদ থেকে, তিনি নাফি’কে আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে সংবাদ দিতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (খাদ্য ও অনুশীলনের মাধ্যমে কৃশ করা) ঘোড়াগুলোর মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন, যেগুলোকে হাফইয়া থেকে ছেড়ে দেওয়া হতো এবং সেগুলোর শেষ সীমানা ছিল সানিয়াতুল বিদা পর্যন্ত। আর তিনি অপ্রশিক্ষিত ঘোড়াগুলোর মধ্যেও দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন, যেগুলোকে সানিয়াহ থেকে ছেড়ে দেওয়া হতো এবং সেগুলোর শেষ সীমানা ছিল বনী যুরাইক মসজিদ পর্যন্ত।
53- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আহমাদ বিন আমর বিন আস-সারজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন আবু বকর থেকে, তিনি খাল্লাদ বিন সায়িব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার নিকট জিবরাঈল এসে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আমার সাথীদের আদেশ করি তারা যেন তালবিয়াহ বা ইহলালে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করে।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
54- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان بن عيينة عن عبيد الله بن أبي يزيد قال سمعت أم أيوب الأنصارية قالت نزل على رسول الله صلى الله عليه فقربت إليه طعاما فيه من بعض هذه البقول فلم يأكله وقال لأصحابه كلوا فإني لست كأحد منكم إني أكره أن أوذي صاحبي.
قال سفيان: ورأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فسألته عن هذه وقلت يا رسول الله نحو هذه البقول الكراث وما أشتهيه فقال إن الملائكة تأذا منها هـ.
55- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن عمرو عن سعيد بن جبير عن عبد الله بن عمر قال فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه أَخَوَيْ بَنِي الْعَجْلانِ وَقَالَ لهما حسابكما على اللَّهِ، الله يعلم إِنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ لا سبيل لك عليها قال يا رسول الله صداقي الذي أصدقتها قال لا مال لك إن كنت صدقت عليها فهو بما استحللت من فرجها وَإِنْ كُنْتَ كَذَبْتَ عَلَيْهَا (كذا بالأصل نهاية الوجه وله تكمله ساقطة هي: (فَذَلِكَ أَبْعَدُ لَكَ مِنْهُ أَوْ قَالَ مِنْه)) .
-ق5ب-
56- ثنا أحمد بن محمد بن المهندس ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن عبد الله عن عبد الله بن أبي يزيد (كذا بالأصل "يزيد" والصحيح "لبيد") عن سليمان (كذا بالأصل والصحيح "عن ابن سليمان ") (ثم بياض بالأصل. . . أظنه: "ابن يسار عن أبيه أن عمر بن الخطاب") قام بالجابية فقال قام فينا رسول الله صلى الله عليه كقيامي فيكم فقال أكرموا أصحابي ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ثم يظهر الكذب حتى يشهد الرجل ولم يستشهد ويحلف ولا يستحلف فمن سره بحبوحة الجنة (بياض بالأصل. . . أظنه: "فيلزم الجماعة") فإن الشيطان مع الفذ وهو من الإثنين أبعد ولا يخلون رجل بامرأة ليست منه بمحرم فإن الشيطان ثالثهما (بياض بالأصل. . أظنه "ومن سرته") حسنته وساءته سيئته فهو مؤمن هـ.
৫৪- আফিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু তাহের আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আবি ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন, আমি উম্মে আইয়ুব আনসারিয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার এখানে মেহমান হলেন। আমি তাঁর নিকট খাবার পেশ করলাম যাতে এসব শাকসবজির কিছু অংশ ছিল। তিনি তা খেলেন না এবং তাঁর সাহাবীদের বললেন: তোমরা খাও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমি আমার সঙ্গীকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি।
সুফিয়ান বলেন: আমি স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম এবং তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই জাতীয় শাকসবজি যেমন কুরাছ (পিঁয়াজজাতীয় উদ্ভিদ) যা আমি পছন্দ করি না। তিনি বললেন: ফেরেশতারা এর দ্বারা কষ্ট পায়। সমাপ্ত।
৫৫- আফিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু তাহের আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু আজলানের দুই ভাইয়ের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে বিচ্ছেদ করিয়ে দিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: তোমাদের উভয়ের হিসাব আল্লাহর কাছে। আল্লাহ জানেন যে তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তার (স্ত্রীর) ওপর তোমার আর কোনো অধিকার নেই। সে (স্বামী) বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মোহর যা আমি তাকে দিয়েছি তার কী হবে? তিনি বললেন: তোমার কোনো মাল পাওনা নেই। যদি তুমি তার ব্যাপারে সত্য বলে থাকো, তবে তা তার সাথে সহবাস হালাল করার বিনিময়। আর যদি তুমি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে থাকো, (মূল পাণ্ডুলিপির শেষে এভাবেই আছে এবং এর একটি অসম্পূর্ণ অংশ রয়েছে যা হলো: তবে তা তোমার থেকে আরও ধরাছোঁয়ার বাইরে অথবা তিনি বলেছেন: তা থেকে দূরে)।
-পৃষ্ঠা ৫খ-
৫৬- আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহান্দিস আমাদের বর্ণনা করেছেন, আফিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু তাহের আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবি ইয়াজিদ থেকে (মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই 'ইয়াজিদ' আছে, তবে সঠিক হলো 'লাবিদ'), তিনি সুলাইমান থেকে (মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো 'ইবন সুলাইমান থেকে') (অতঃপর মূলে শূন্যস্থান রয়েছে... আমার ধারণা এটি: 'ইবন ইয়াসার তাঁর পিতা থেকে যে, উমর বিন আল-খাত্তাব') জাবিয়ায় দাঁড়ালেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন যেমন আমি তোমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছি। এরপর তিনি বললেন: তোমরা আমার সাহাবীদের সম্মান করবে, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর মিথ্যার বিস্তার ঘটবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে অথচ তাকে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়নি এবং সে কসম করবে অথচ তাকে কসম করতে বলা হয়নি। অতএব যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রশস্ত ও মাঝখানের অংশ পেয়ে আনন্দিত হতে চায় (মূলে শূন্যস্থান... আমার ধারণা: 'সে যেন জামাআত বা ঐক্যবদ্ধ থাকাকে আঁকড়ে ধরে'), কেননা শয়তান একাকী ব্যক্তির সাথে থাকে এবং সে দুইজন থেকে অধিক দূরে থাকে। কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে যদি সে তার মাহরাম না হয়, কারণ শয়তান তাদের তৃতীয়জন হিসেবে থাকে। (মূলে শূন্যস্থান... আমার ধারণা 'আর যার নিকট আনন্দদায়ক হয়') তার নেক আমল এবং তাকে ব্যথিত করে তার মন্দ আমল, সেই হলো মুমিন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
57- ثنا عافية ثنا ربيع بن سليمان المرادي ثنا أسد ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ (بياض بالأصل. . أظنه: إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ) عَنْ حُمَيْدِ الزهري عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه كَانَ يَقُولُ إِنَّ الشُّهَدَاءَ عِنْدَ اللهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ يَاقُوتٍ فِي ظِلِّ الله يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ عَلَى كُثُبٍ مِنْ مِسْكٍ لَا يَدْرُونَ مَا يُصْنَعُ بِالنَّاسِ فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ أَلَا نذهب إِلَى النَّاسِ فَنَنْظُرُ مَا يُصْنَعُ بِهِمْ فَيَمْشُونَ حَتَّى يَنْظُرُوا إِلَى النَّاسِ فَيَقُولُ لَهُمُ الرَّبُّ (غير واضح بالأصل) أَلَمْ أُوَفِّ لَكُمْ وَأَصْدُقْكُمْ فَيَقُولُونَ بَلَى رَبَّنَا لَوْ صَنَعْتَ بِنَا وَاحِدَةً لَوْ رَدَدْتَنَا إِلَى الدُّنْيَا حَتَّى نُقْتَلَ فِيكَ الثَّانِيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ مَا خرجت لَهُمْ سَرِيَّةٌ إِلا وَأَنَا فِيهِمْ وَلَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُسْتَشْهَدُ ثُمَّ أُحْيَا ثم أحيا ثم استشهد ثم أحيا ثلاث مرات هـ.
৫৭- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রবী' বিন সুলাইমান আল-মুরাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন আইয়্যাশ, (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান... আমার ধারণা: ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ফারওয়া থেকে, তিনি যুহরী থেকে), তিনি হুমায়দ যুহরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "নিশ্চয়ই শহীদগণ আল্লাহর নিকট ইয়াকুত পাথরের মিম্বরসমূহের উপর আল্লাহর ছায়াতলে থাকবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। তারা মেশকের টিলার উপর অবস্থান করবেন এবং তারা জানতে পারবেন না মানুষের সাথে কী (আচরণ) করা হচ্ছে। অতঃপর তারা একে অপরকে বলবে: আমরা কি মানুষের কাছে গিয়ে দেখব না তাদের সাথে কী করা হচ্ছে? এরপর তারা হাঁটবেন যতক্ষণ না তারা মানুষের অবস্থা দেখতে পান। তখন প্রতিপালক তাদের বলবেন (মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট): আমি কি তোমাদের জন্য (ওয়াদা) পূর্ণ করিনি এবং তোমাদের সাথে সত্য রক্ষা করিনি? তারা বলবেন: হ্যাঁ, হে আমাদের রব! আপনি যদি আমাদের জন্য একটি কাজ করতেন—যদি আপনি আমাদের দুনিয়াতে ফিরিয়ে দিতেন যাতে আমরা আপনার পথে দ্বিতীয়বার শহীদ হতে পারতাম! অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি মুমিনদের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে কোনো সেনাদলই অভিযানে বের হতো না যাতে আমি তাদের মাঝে থাকতাম না। আর আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যে, আমি নিহত হই অতঃপর জীবিত হই, পুনরায় শহীদ হই অতঃপর জীবিত হই, পুনরায় জীবিত হই অতঃপর শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই—এভাবে তিনবার।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
58- ثنا عافية ثنا ربيع بن سليمان ثنا أسد ثنا حماد بن سلمة عن ثابت عن أبي رافع عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن رجلا في بني إسرائيل يقال له جريج كان في صومعة له فأتته أمه فقالت أي جريج أي بني أشرف أكلمك فقال يا رب أمي وصلاتي قال فأقبل على صلاته مرارا تردد ذلك فقالت اللهم لا تمته حتى تريه المومسة يعني الزانية قال وكانت امرأة راعية تؤتي غنمها إلى ظل صومعته قال فحملت فأخذت فقالوا ويلك ممن فقالت من جريج صاحب الصومعة قالوا يا عدو الله يا مرائي بني إسرائيل قال فأقبل على صلاته قال فنزل فجعل في عنقه حبلا فطافوا بهما فبينا هم يطوفون بهما قال فوضع إصبعه في بطنها فقال يا غلام من أبوك قال فلان راعي الضأن قالوا إن شئت بنيناها لك ذهبا وفضة قال أعيدوها كما كانت هـ.
59- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى قال وأنا ابن وهب أن مالك حدثه عن يحيى بن سعيد عن عمرة عن عائشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه ما زال جبريل يوصيني بالجار حتى ظننت أنه سيورثه هـ.
مجلس آخر يليه أملي هـ.
60- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر عن رسول الله صلى الله عليه أنه قال عُرِضَ عَلَيَّ الأَنْبِيَاءُ فَإِذَا مُوسَى ضَرْبٌ مِنَ الرِّجَالِ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ ورَأَيْتُ عِيسَى صلى الله عليه فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ وَرَأَيْتُ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عَلَيْه فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهًا صَاحِبُكُمْ، يَعْنِي نَفْسَهُ صلى الله عليه وَرَأَيْتُ جِبْرِيلَ عليه السلام فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهًا دِحْيَةُ بن خليفة هـ.
৫৮- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবী বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ সাবিত থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে তার ইবাদতখানায় অবস্থান করত। একদা তার মা তার কাছে এসে ডাকলেন, 'হে জুরাইজ, হে আমার পুত্র, উঁকি দাও, আমি তোমার সাথে কথা বলব।' তখন সে মনে মনে বলল, 'হে আমার রব, আমার মা নাকি আমার সালাত?' অতঃপর সে তার সালাতেই মনোনিবেশ করল। মা কয়েকবার তাকে ডাকলেন এবং সে বারবার একই কাজ করল। তখন তার মা ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, 'হে আল্লাহ, ব্যভিচারিণীর মুখ না দেখানো পর্যন্ত তুমি তাকে মৃত্যু দিও না।' বর্ণনাকারী বলেন, একজন মেষপালিকা নারী তার ছাগলপাল নিয়ে তার ইবাদতখানার ছায়ায় আসত। সে গর্ভবতী হয়ে পড়ল এবং সন্তান প্রসবের পর তাকে পাকড়াও করা হলো। তারা বলল, 'ধিক তোমাকে! এ কার সন্তান?' সে বলল, 'ইবাদতখানার অধিবাসী জুরাইজের।' তারা বলল, 'হে আল্লাহর শত্রু! হে বনী ইসরাঈলের রিয়াকার!' বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইজ তখন সালাত আদায় করছিলেন। তিনি নেমে আসলেন এবং তারা তার গলায় রশি পরিয়ে দিল। অতঃপর তারা তাদের দুজনকে নিয়ে ঘুরতে লাগল। যখন তারা তাদের নিয়ে ঘুরছিল, তখন তিনি তার আঙুল শিশুটির পেটে রাখলেন এবং বললেন, 'হে শিশু, তোমার পিতা কে?' শিশুটি বলল, 'অমুক মেষপালক।' তারা বলল, 'আপনি যদি চান আমরা আপনার ইবাদতখানা সোনা ও রুপা দিয়ে তৈরি করে দেব।' তিনি বললেন, 'এটি যেভাবে ছিল সেভাবেই ফিরিয়ে দাও।' সমাপ্ত।
৫৯- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে ওয়াহাব আমাকে জানিয়েছেন যে, মালিক ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জিবরীল আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে অনবরত উপদেশ দিচ্ছিলেন, এমনকি আমার মনে হলো যে তিনি শীঘ্রই প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন। সমাপ্ত।
পরবর্তী মজলিস, যা এর পরে শ্রুতলিখন করা হয়েছে। সমাপ্ত।
৬০- আফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস বিন সাদ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমার সামনে নবীগণকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি মূসাকে দেখতে পেলাম, তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন, যেন তিনি শানুআ গোত্রের পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত। আমি ঈসাকে (সা.) দেখলাম, আমার দেখা লোকদের মাঝে উরওয়াহ বিন মাসউদ তার সবচেয়ে সদৃশ। আমি ইবরাহীমকে (সা.) দেখলাম, আমার দেখা লোকদের মাঝে তোমাদের এই সঙ্গী—অর্থাৎ তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন—তার সবচেয়ে সদৃশ। আমি জিবরীলকে (আ.) দেখলাম, আমার দেখা লোকদের মাঝে দিহয়াহ বিন খলিফা তার সবচেয়ে সদৃশ। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
61- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر بن عبد الله عن رسول الله صلى الله عليه أنه قال غَطُّوا الإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَغْلِقُوا الْبَابَ وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَحُلُّ سِقَاءً، وَلَا يَفْتَحُ بَابًا، وَلَا يَكْشِفُ إِنَاءً فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَاّ أَنْ يَعْرُضَ عَلَى إِنَائِهِ عُودًا وَيَذْكُرَ اسْمَ اللهِ فَلْيَفْعَلْ فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْتِ بَيْتَهُمْ هـ.
62- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير عن جابر بن عبد الله أنه قال بعثني رسول الله صلى الله عليه لحاجة ثم أدركته وهو يسير فسلمت عليه فأشار إلى فلما فرغ دعاني فقال إنك سلمت آنفا وأنا أصلي وهو موجه جبينه قبل المشرق هـ.
63- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث بن سعد عن أبي الزبير
-ق6أ-
(بياض بالأصل. . أظنه: عَنْ جَابِرٍ عن رَسُولَ اللهِ) صلى الله عليه صلى الله عليه وسلم أنه نَهَى عَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ وَالاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَأَنْ يَرْفَعَ الرَّجُلُ إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الأُخْرَى وَهُوَ مُسْتَلْقٍ عَلَى ظَهْرِهِ هـ.
64- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا ابن لهيعة عن محمد بن العجلان أن سعيد بن أبي سعيد المقريء عَنْ عبيد بنِ جُرَيْجٍ أنه قَالَ: قُلْتُ لعبد الله بنِ عُمَرَ رأيتك تصفر لحيتك ولَمْ أَرَ أَحَدًا من أصحاب النبي صلى الله عليه يصنع ذلك قال فقال عبد الله إني رأيت رسول الله صلى الله عليه يصفر قَالَ ورأيتك تلبس نعال سبتية ولم أر أحدا يلبسها قال فقال إني رأيت رسول الله صلى الله عليه يلبسها ويتوضأ فيها هـ.
৬১- আফিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-যুবাইর হতে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে, তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) হতে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: তোমরা পাত্র ঢেকে রাখো, পানির মশক বেঁধে রাখো, দরজা বন্ধ করো এবং প্রদীপ নিভিয়ে দাও। কারণ শয়তান পানির মশকের বাঁধন খোলে না, কোনো দরজা খোলে না এবং কোনো পাত্রের ঢাকনা উন্মোচন করে না। যদি তোমাদের কেউ তার পাত্রের ওপর একটি কাঠি আড়াআড়িভাবে রাখা এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করা ছাড়া অন্য কিছু না পায়, তবে সে যেন তাই করে। কারণ অনিষ্টকারী ক্ষুদ্র প্রাণী (ইঁদুর) গৃহবাসীর ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সমাপ্ত।
৬২- আফিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-যুবাইর হতে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন, অতঃপর আমি তাঁর দেখা পেলাম যখন তিনি পথ চলছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি আমার দিকে ইশারা করলেন। যখন তিনি (নামাজ হতে) অবসর হলেন, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: "তুমি কিছুক্ষণ আগে আমাকে সালাম দিয়েছিলে যখন আমি নামাজ পড়ছিলাম।" আর তখন তিনি তাঁর কপাল পূর্ব দিকে মুখ করে রেখেছিলেন। সমাপ্ত।
৬৩- আফিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-যুবাইর হতে
-৬ক-
(মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান। আমি মনে করি এটি: জাবির হতে, আল্লাহর রাসূল হতে) (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যে তিনি ইশতিমাল আস-সাম্মা (শরীরে কাপড় এমনভাবে জড়ানো যাতে হাত বের করা যায় না) এবং এক কাপড়ে ইহতিবা (হাঁটু গেড়ে বসা) করতে নিষেধ করেছেন এবং কোনো ব্যক্তি পিঠের ওপর চিত হয়ে শুয়ে তার এক পা অন্য পায়ের ওপর উঠিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন। সমাপ্ত।
৬৪- আফিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আজলান হতে যে সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-মাকবুরি উবাইদ বিন জুরাইজ হতে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ বিন উমরকে বললাম, "আমি আপনাকে আপনার দাড়ি হলুদ রঙ করতে দেখেছি অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের কাউকে তা করতে দেখিনি।" তখন আবদুল্লাহ বললেন, "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-কে হলুদ রঙ করতে দেখেছি।" তিনি (উবাইদ) বললেন, "আর আমি আপনাকে সিবতিয়্যাহ (চামড়ার) জুতো পরতে দেখেছি এবং আমি কাউকে তা পরতে দেখিনি।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-কে তা পরতে দেখেছি এবং তিনি তাতে অজু করতেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
65- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر أحمد بن عمرو بن السرح ثنا سُفْيَانُ بن عيينة، عن مُحَمَّد بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بن الحارث التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ اللَّهَ لَيُصَبِّحُ الْقَوْمَ بِالنِّعْمَةِ ثم يُمَسِّيهِمْ بها ثم يُصْبِح منهم قوم كَافِرِونَ يَقُولُون مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا.
قال محمد فذكرت هذا لسعيد بن المسيب فقال ونحن قد سمعنا هذا من أبي هريرة وقد أخبرني من شهد عمر بن الخطاب وهو يستسقي فلما استسقى التفت إلى العباس فقال: يا عباس يا عمَّ رسول الله صَلَّى الله عَلَيْهِ، كم بقي من نوء الثريا؟ فقال: أما إنها يزعمون أنها تعترض في الأفق بعد سقوطها سبعًا، قال: فما مضت سابعة حتى مُطروا هـ.
66- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن الْعَلَاءِ بن عبد الرحمن، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النبي صلى الله عليه مَرَّ بِرَجُلٍ يَبِيعُ طَعَامًا فَسَأَلَهُ كَيْفَ تَبِيعُ فَأَخْبَرَهُ فَأُوحِيَ إِلَيْهِ أَدْخِلْ يَدَكَ فِيهِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فيه فَإِذَا هُوَ مَبْلُولٌ فَقَالَ له النبي صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنَّا مَنْ غَشَّ هـ.
67- ثنا عافية ثنا أبو الطاهر ثنا سفيان عن محمد بن عجلان عن الأعرج عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه قال الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ فإن فاتك شيء فَقُلْ قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فعل وَإِيَّاكَ وَاللَّوْ فَإِنَّهُ يَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ هـ.
৬৫- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু তাহের আহমদ বিন আমর বিন আস-সারহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-হারিস আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো কওমকে সকালে নেয়ামত দান করেন, অতঃপর সন্ধ্যায়ও তা দান করেন, এরপর তাদের মধ্য থেকে একদল সকালে কাফের হয়ে যায় এবং বলে যে, আমরা অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি লাভ করেছি।
মুহাম্মদ বলেন, আমি সাইদ বিন আল-মুসায়্যিবের কাছে এটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমরাও এটি আবু হুরায়রা থেকে শুনেছি। তিনি আমাকে আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাবকে বৃষ্টির জন্য দোয়া (ইস্তিসকা) করতে দেখেছেন; যখন তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন, তখন তিনি আব্বাসের দিকে তাকিয়ে বললেন: হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাচা, সুরাইয়া নক্ষত্রের কক্ষপথের আর কতটুকু বাকি আছে? তিনি বললেন: তারা ধারণা করে যে, এটি অস্ত যাওয়ার পর দিগন্তে সাত দিন অবস্থান করে। বর্ণনাকারী বলেন, সেই সপ্তম দিন পার হওয়ার পূর্বেই তারা বৃষ্টি লাভ করল।
৬৬- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু তাহের, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান হাদিস বর্ণনা করেছেন আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কীভাবে বিক্রি করছ? সে তাঁকে অবহিত করল। তখন তাঁর প্রতি ওহী পাঠানো হলো যে, তুমি এর ভেতর তোমার হাত প্রবেশ করাও। তিনি তার ভেতরে হাত প্রবেশ করালেন এবং দেখলেন তা ভেজা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৬৭- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু তাহের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে অধিক উত্তম, তবে উভয়ের মাঝেই কল্যাণ রয়েছে। তোমার জন্য যা উপকারী তা অর্জনে সচেষ্ট হও। যদি তোমার কোনো কিছু হাতছাড়া হয়ে যায় তবে বলো: আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন। আর সাবধান! 'যদি' (এমন করতাম) বলা থেকে বিরত থাকো, কেননা তা শয়তানের কাজের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
68- ثنا عافية ثنا الربيع بن سليمان المؤذن ثنا أسد ثنا حماد بن زيد ثنا محمد بن واسع عن أبي صالح عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه من فرج عن مسلم كربة من كرب الدنيا فرج الله عنه كربة من كرب الآخرة ومن ستر أخاه المسلم في الدنيا ستره الله في الدنيا والآخرة والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه هـ.
69- ثنا عافية ثنا الربيع بن سليمان ثنا أسد ثنا يحيى بن عيسى عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال قال رسول الله يقول الله كُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا ابْنُ آدَمَ تُضَاعَفُ عَشْر حسنات إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ يقول الله إلا الصوم هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَيَدَعُ طَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي، ولِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عند لقَاء رَبَّهُ وَلخُلُوف فَمِ الصائم أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ قال ثم قال الصوم جنة الصوم جنة هـ.
70- ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى أنا ابن وهب أن مالكا أخبره قال أخبرني إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة عن أنس بن مالك قال كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَ بردائه جَبْذَةً شديدة نظرت في صَفْحَةِ عُنُقِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وقَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ الْبُرْدِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ ثم قَالَ يَا مُحَمَّدُ مر لي مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عِنْدَكَ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رسول الله صلى الله عليه فَضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ هـ.
-ق6ب-
৬৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী বিন সুলাইমান আল-মুয়াযযিন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়দ, মুহাম্মদ বিন ওয়াসি’ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দুনিয়ার বিপদসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ তাআলা পরকালে তার বিপদসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে। সমাপ্ত।
৬৯- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী বিন সুলাইমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ঈসা, আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ বলেন, তবে রোজা ব্যতীত, কেননা তা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব; সে আমারই জন্য নিজের প্রবৃত্তি ও আহার বর্জন করে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি তার ইফতারের সময় এবং অপরটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি বললেন: রোজা হলো ঢাল, রোজা হলো ঢাল। সমাপ্ত।
৭০- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব যে, মালিক তাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা, আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাঁটছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর গায়ে মোটা পাড় বিশিষ্ট একটি নাজরানী চাদর ছিল। তখন এক বেদুইন তাঁকে পেয়ে তাঁর চাদর ধরে সজোরে টান দিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গ্রীবাদেশের পার্শ্বভাগে তাকালাম, সেই সজোরে টানের কারণে সেখানে চাদরের পাড়ের চিহ্ন বসে গিয়েছিল। এরপর সে বলল: হে মুহাম্মদ, তোমার নিকট আল্লাহর যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু প্রদানের নির্দেশ দাও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং হাসলেন, এরপর তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন। সমাপ্ত।
-পৃষ্ঠা ৬খ-
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
71- ثنا أحمد بن محمد المهندس ثنا عافية ثنا يونس بن عبد الأعلى ثنا أحمد بن عمرو الدمشقي عن أخي سفيان (بياض بالأصل) أراك يا فتى (غير واضح) بالشعر ألا أخبرك (غير واضح) وجد مكتوب في حجر في الجاهلية: ثم قالت وكل مصيبات الزمان وجدتها سوى صالح الإخوان هينة الخطب.
مجلس آخر يليه إملي
72- ثنا عافية بن محمد ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن أبي الزبير عن جابر أنه قال أَعْتَقَ رجل (بياض بالأصل. . أظنه: منا غُلَامًا) من بني عُذرة (بياض بالأصل) دُبُرٍ فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه فقال ألك مال غيره فقال لا فقال (بياض بالأصل) رسول الله صلى الله عليه فَقَالَ مَنْ يَشْتَرِيهِ فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ العدوي بِثَمَانِ مِائَةِ دِرْهَمٍ فَجائها رسول الله صلى الله عليه فدَفَعَهَا إِلَيْهِ ثم قَالَ ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فَإِنْ فَضَلَ شَىْءٌ فَلأَهْلِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَىْءٌ فَفي ذِي قَرَابَتِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ فَهَكَذَا وَهَكَذَا يَقُولُ فَبَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ قال الليث ليس الناس على هذا هـ.
73- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن عطاء بن أبي رباح عن يعلى بن أمية عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَجُلا جَاءَ إلى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وَقَدْ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ وَهُوَ مُتَخَلِّقٌ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه أَنْ يَنْزِعَهَا نَزْعًا وَيَغْتَسِلَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا وَقَالَ مَا كُنْتَ فَاعِلا فِي حَجَّتِكَ فَافْعْلهُ فِي عُمْرَتِكَ هـ.
৭১- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুহান্দিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদুল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আমর আদ-দিমাশকি, সুফিয়ানের ভাই হতে বর্ণিত (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান), হে যুবক, আমি তোমাকে দেখছি (অস্পষ্ট) কবিতা নিয়ে, আমি কি তোমাকে সংবাদ দেব না (অস্পষ্ট) জাহেলি যুগে একটি পাথরে লিখিত পাওয়া গেছে: অতঃপর তিনি বললেন, সৎ ভাইদের বিচ্ছেদ ব্যতীত যুগের সকল বিপদকেই আমি সহজ মনে করেছি।
পরবর্তী আরেকটি মজলিস যা শ্রুতলিপির অন্তর্ভুক্ত
৭২- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া বিন মুহাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন রুমহ, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন লাইস, আবু যুবায়র হতে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: বনু উযরা গোত্রের এক ব্যক্তি (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান... আমার ধারণা: আমাদের মধ্য থেকে একজন গোলামকে) তার মৃত্যুর পর আযাদ করার ঘোষণা দিলেন। এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কি এ ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে?" সে বলল, "না"। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান) বললেন, "কে একে ক্রয় করবে?" তখন নুয়াইম বিন আবদুল্লাহ আল-আদাউয়ি তা আটশত দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই অর্থ নিয়ে তাকে প্রদান করলেন এবং বললেন, "নিজে থেকে শুরু করো এবং নিজের ওপর সাদাকাহ করো। যদি অতিরিক্ত কিছু থাকে তবে তা তোমার পরিবারের জন্য, আর যদি পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য। আর যদি তোমার নিকটাত্মীয়দের দেওয়ার পরও অতিরিক্ত থাকে তবে এভাবে ও এভাবে করো।" তিনি হাত দিয়ে তার সামনে, ডানে ও বামে ইঙ্গিত করে এ কথা বললেন। লাইস বলেন, মানুষ এই আমলের ওপর নেই। সমাপ্ত।
৭৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন রুমহ, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন লাইস, আতা বিন আবি রাবাহ হতে, তিনি ইয়ালা বিন উমাইয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলো, সে তখন উমরার ইহরাম অবস্থায় ছিল এবং তার গায়ে একটি জুব্বা ছিল এবং সে সুগন্ধি মেখেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং দুই বা তিনবার গোসল করতে বললেন। আর তিনি বললেন, "তুমি তোমার হজের সময় যা যা করো, তোমার উমরাতেও তাই করো।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু আবিল কাসিম আফিয়াহ ওয়া গাইরিহি লিআবি বাকর ইবনিল মুহান্দিস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
74- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا ابن لهيعة عن محمد بن عجلان أن صيفي أبا سعيد أخبره عن أبي السائب أنه قال دخلت على أبي سعيد الخدري أعوده فحانت مني نظرة تَحْتَ سَرِيرِهِ فَإِِذَا حَيَّةٌ منطوية فبدت فَقَالَ مَا لَكَ قُلْتُ حَيَّةٌ قَالَ دعها عنك ترى هذا البيت المقابل لك فإنه كان فيهَ ابْنَ عَمٍّ لِي عروس فلما كَانَ يَوْمُ الخندق اسْتَأْذَنَ رسول الله صلى الله عليه أن يطلع أَهْلِه فَأَذِنَ لَهُ فأقبل فَوَجَدَ امْرَأَتَهُ قَائِمَةً عَلَى البَابِ فَأَهوا إليها بِالرُّمْحِ فَقَالَتْ لا تَعْجَلْ ادخل البيت تعلم ما أتاني فإذا حَيَّةٌ منطوية في مجلسها فاهوا بالرمح (غير واضح) ثم جرح فركزه في الحجرة ووقع الفتى فمات فَأَتَى قَوْمُهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فأخبروه فَقَالُوا يا رسول الله ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَرُدَّ إلينا صَاحِبَنَا فَقَالَ اسْتَغْفِرُوا لِصَاحِبِكُمْ، إِِنَّ بِالْمَدِينَةِ بقايا من الجن مسلمين فإذا بدا لكم شيء منهم فأذنوه ثلاثا فإن عاد فاقتلوه هـ.
75- ثنا عافية ثنا محمد بن رمح أنا الليث عن يحيى بن سعيد عن محمد بن يحيى بن حبان عن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي حسين عن مجاهد أبي الحجاج عن رجل من بني تميم قال كنت فيمن قاتل علي بن أبي طالب يوم الجمل فلما ذهب ذلك اشتكى حسين بن علي بن أبي طالب فجئته عائدا فدخل علينا علي بن أبي طالب فقال ما أدخلك علينا فقلت دخلت أعود حسينا لحقه ومكانه قال أما الذي أظن أنه في نفسك ليس مانعي أن أخبرك شيئا قد سمعته من رسول الله صلى الله عليه سمعت رسول الله صلى الله عليه يقول من عاد أخاه المسلم قعد في خراف الجنة فإذا قام وكل به سبعون ألف ملك يصلون عليه حتى الليل فقال ابن المنكدر ومن حين يمسي حتى يصبح هـ.
৭৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে লাহিয়া, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাইফি আবু সাঈদ থেকে, তিনি আবু সাইব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরির নিকট তাকে দেখতে গেলাম। হঠাৎ আমার দৃষ্টি তার খাটের নিচে পড়ল এবং সেখানে একটি কুণ্ডলী পাকানো সাপ দেখতে পেলাম। সেটির নড়াচড়া প্রকাশ পেলে তিনি বললেন: তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: একটি সাপ। তিনি বললেন: একে ছেড়ে দাও। তুমি কি তোমার সামনের এই বাড়িটি দেখছ? সেখানে আমার এক চাচাতো ভাই থাকত যে ছিল নববিবাহিত। যখন খন্দকের যুদ্ধের দিন এল, তখন সে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার পরিবারের নিকট যাওয়ার অনুমতি চাইল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। সে ফিরে এসে দেখল তার স্ত্রী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হলো। তখন স্ত্রী বলল: তাড়াহুড়ো করো না, ঘরে ঢুকে দেখো কী আমাকে বাইরে বের করে এনেছে। সে ঘরে ঢুকে দেখল তার বসার স্থানে একটি কুণ্ডলী পাকানো সাপ। সে বর্শা দিয়ে সেটিকে আঘাত করল, তারপর সেটিকে বিদ্ধ করে আঙিনায় গেঁথে দিল। এরপর যুবকটি পড়ে গিয়ে মারা গেল। তখন তার গোত্রের লোকেরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি জানালো এবং বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের সাথীকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। তিনি বললেন: তোমাদের সাথীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই মদিনায় অবশিষ্ট কিছু মুসলিম জিন রয়েছে। যখন তোমাদের সামনে তাদের কেউ প্রকাশিত হয়, তখন তাকে তিনবার সতর্ক করো। এরপরও যদি সে ফিরে আসে, তবে তাকে হত্যা করো।
৭৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে রুমহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি মুজাহিদ আবু আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি বনু তামিম গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উটের যুদ্ধে আলী ইবনে আবি তালিবের বিরুদ্ধে লড়াইকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যখন সেই বিষয়টি শেষ হলো এবং হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব অসুস্থ হলেন, তখন আমি তাকে দেখতে আসলাম। এমতাবস্থায় আলী ইবনে আবি তালিব আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: তুমি কেন আমাদের কাছে এসেছ? আমি বললাম: আমি হুসাইনের হক এবং তার মর্যাদার কারণে তাকে দেখতে এসেছি। তিনি বললেন: তোমার অন্তরে আমার সম্পর্কে যা আছে বলে আমি মনে করি, তা আমাকে তোমাকে এমন কিছু সংবাদ প্রদান করা থেকে বিরত রাখবে না যা আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সে জান্নাতের ফল আহরণের স্থানে অবস্থান করে। আর যখন সে উঠে দাঁড়ায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য নিযুক্ত হয়ে যায় যারা রাত পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে।" ইবনে আল-মুনকাদির বলেন: "এবং যখন থেকে সে সন্ধ্যা করে সকাল হওয়া পর্যন্ত।"