(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: -)
تأخير الظلامة إلى يوم القيامة للسيوطي (الجلال السيوطي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: تأخير الظلامة إلى يوم القيامة - مخطوط
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
أعده للشاملة: أحمد الخضري
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 8
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সুয়ূতী কর্তৃক কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অন্যায়ের বিচার বিলম্বিত করা (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অন্যায়ের বিচার বিলম্বিত করা - পাণ্ডুলিপি
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবি বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরী
[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: تأخير الظلامة إلى يوم القيامة - مخطوطالمؤلف: جلال الدين السيوطيالمتوفى: 911 هـ
গ্রন্থ: কিয়ামত দিবস পর্যন্ত জুলুমের বিচার বিলম্বিত করা - পাণ্ডুলিপিগ্রন্থকার: জালালুদ্দীন সুয়ূতীমৃত্যু: ৯১১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ১)
[ل1أ] بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى. 1- أخرج الحسن بن سفيان في مسنده، وابن المنذر، وابن أبي حاتم، وأبو الشيخ، وابن مردويه في تفاسيرهم، والطبراني في معجمه، والعسكري في الأمثال، وابن منده والباوردي وأبو نعيم جميعا في معرفة الصحابة والبيهقي في دلائل النبوة عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: جاء ثعلبة بن حاطب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله ادع الله أن يرزقني مالا. قال: ويحك يا [ل1ب] ثعلبة. . .! أما ترضى أن تكون مثلي؟ فلو شئت أن يسير ربي هذه الجبال معي لسارت. قال: يا رسول الله ادع الله أن يرزقني مالا، فوالذي بعثك بالحق إن آتاني الله مالًا لأعطين كل ذي حق حقه. قال: ويحك يا ثعلبة. . .! قليل تطيق شكره خير من كثير لا تطيق شكره. فقال: يا رسول الله، ادع الله تعالى. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اللهمَّ ارزقه مالًا. فاتَّجَرَ واشترى غنمًا فبورك له فيها ونمت كما ينمو الدود حتى ضاقت به المدينة فتنحى بها - فكان يشهد الصلاة بالنهار مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا يشهدها بالليل، ثم نمت كما ينمو الدود فتنحى بها، فكان لا يشهد الصلاة بالنهار ولا بالليل إلا من جمعة إلى جمعة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم نمت كما ينمو الدود فضاق به مكانه فتنحى به، فكان لا يشهد جمعة ولا جنازة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجعل يتلقى الركبان ويسألهم عن الأخبار. وفقده رسول الله صلى الله عليه وسلم فسأل عنه؟ فأخبروه أنه اشترى غنمًا، وأن المدينة ضاقت به وأخبروه بخبره. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويح ثعلبة بن حاطب. . .! ثم إن الله تعالى أمر رسوله أن يأخذ الصدقات، وأنزل الله تعالى {خذ من أموالهم صدقة} (التوبة: 103) الآية. فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلين، رجلًا من جهينة ورجلًا من بني سلمة يأخذان الصدقات، فكتب لهما اسنان الابل والغنم كيف يأخذانها على وجهها، وأمرهما أن يمرا على ثعلبة بن حاطب وبرجل من بني سليم، فخرجا فمرا بثعلبة فسألاه الصدقة. فقال: ارياني كتابكما، فنظر فيه فقال: ما هذا إلا جزية، انطلقا حتى تفرغا ثم مرا بي. قال: فانطلقا وسمع بهما السليمي فاستقبلهما بخيار إبله فقالا: إنما عليك دون هذا. فقال: ما كنت أتقرب إلى الله إلا بخير مالي! فقبلاه، فلما فرغا مرا بثعلبة فقال: أرياني كتابكما. فنظر فيه فقال: ما هذا إلا جزية. انطلقا حتى أرى رأيي. فانطلقا حتى قدما المدينة، فلما رآهما رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قبل أن يكلمهما: ويح ثعلبة بن حاطب. ودعا للسليمي بالبركة، وأنزل الله {ومنهم من عاهد الله لئن آتانا من فضله لنصدقن} الثلاث آيات. قال: فسمع بعض من أقارب ثعلبة فأتى ثعلبة فقال: ويحك يا ثعلبة. . .! أنزل الله فيك كذا وكذا. قال: فقدم ثعلبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله هذه صدقة مالي. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله تعالى قد منعني أن أقبل منك قال: فجعل يبكي ويحثي التراب على رأسه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هذا عملك بنفسك أمرتك فلم تطعني، فلم يقبل منه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى مضى. ثم أتى أبا بكر فقال: يا أبا بكر اقبل مني صدقتي، فقد عرفت منزلتي من الأنصار. فقال أبو بكر: لم يقبلها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقبلها؟! فلم يقبلها أبو بكر، ثم ولي عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فأتاه فقال: يا أبا حفص يا أمير المؤمنين اقبل مني صدقتي. وتوسل إليه بالمهاجرين والأنصار وأزواج النبي صلى الله عليه وسلم. فقال عمر: لم يقبلها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أبو بكر أقبلها أنا؟! فأبى أن يقبلها، ثم ولي عثمان فهلك في خلافة عثمان، وفيه نزلت {الذين يلمزون المطوعين من المؤمنين في الصدقات} (التوبة: 79) قال: وذلك في الصدقة.
[ল1অ] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। 1- হাসান ইবনে সুফিয়ান তাঁর মুসনাদে, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শায়খ, ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁদের তাফসিরসমূহে, তাবারানি তাঁর মুজাম-এ, আসকারি আল-আমসাল-এ, এবং ইবনে মানদাহ, আল-বাওয়ার্দি ও আবু নুয়াইম সকলেই 'মারিফাতুস সাহাবা'-তে এবং বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'-তে আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালাবা ইবনে হাতিব রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে ধন-সম্পদ দান করেন। তিনি বললেন: তোমার জন্য পরিতাপ হে [ল1ব] সালাবা. . .! তুমি কি আমার মতো হতে সন্তুষ্ট নও? আমি যদি চাইতাম আমার রব এই পাহাড়গুলোকে আমার সাথে চলমান করে দেবেন, তবে তা অবশ্যই চলত। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে ধন-সম্পদ দান করেন। সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ যদি আমাকে সম্পদ দান করেন তবে আমি প্রত্যেক হকদারের হক আদায় করব। তিনি বললেন: তোমার জন্য পরিতাপ হে সালাবা. . .! অল্প সম্পদ যার শুকরিয়া তুমি আদায় করতে পারবে, তা এমন অধিক সম্পদ থেকে উত্তম যার শুকরিয়া তুমি আদায় করতে পারবে না। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: হে আল্লাহ, তাকে সম্পদ দান করুন। এরপর সে ব্যবসা শুরু করল এবং ছাগল ক্রয় করল। তাতে এমন বরকত দেওয়া হলো যে তা পোকা-মাকড়ের মতো বাড়তে লাগল, এমনকি মদিনায় তার সংকুলান হলো না। তখন সে মদিনার বাইরে চলে গেল—সে দিনের বেলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সালাতে উপস্থিত হতো কিন্তু রাতে হতো না। এরপর সেগুলো পোকা-মাকড়ের মতো বাড়তে লাগল, তখন সে আরও দূরে চলে গেল। ফলে সে জুমুয়াহ ছাড়া দিনের বা রাতের কোনো সালাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে উপস্থিত হতো না। এরপর সেগুলো আরও বাড়তে লাগল এবং স্থান সংকুলান না হওয়ায় সে আরও দূরে চলে গেল। তখন সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে জুমুয়াহ বা জানাজাতেও উপস্থিত হওয়া ছেড়ে দিল। সে পথচারীদের সাথে দেখা করে খবরাখবর জিজ্ঞেস করত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে দেখতে না পেয়ে তার কথা জিজ্ঞেস করলেন। তারা জানাল যে সে ছাগল ক্রয় করেছে এবং মদিনায় তার সংকুলান না হওয়ায় বাইরে চলে গেছে—তাকে পুরো সংবাদ শোনানো হলো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: সালাবা ইবনে হাতিবের জন্য পরিতাপ. . .! অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে সদকা সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন এবং অবতীর্ণ করলেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন} (আত-তাওবাহ: ১০৩) আয়াতটি। রাসূলুল্লাহ (সা.) দুজন লোককে পাঠালেন, একজন জুহাইনা গোত্রের এবং অন্যজন বনী সালামাহ গোত্রের, তারা যেন সদকা সংগ্রহ করে। তাদের জন্য উট ও ছাগলের বয়স ও পরিমাণ লিখে দিলেন যে কীভাবে তা যথাযথভাবে সংগ্রহ করতে হবে। তিনি তাদের সালাবা ইবনে হাতিব এবং বনী সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তারা বেরিয়ে সালাবার কাছে পৌঁছালেন এবং সদকা চাইলেন। সে বলল: তোমাদের কাছে যা লিখে দেওয়া হয়েছে তা আমাকে দেখাও। সে তাতে তাকিয়ে বলল: এ তো জিজিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা তোমাদের কাজ শেষ করে ফেরার পথে আমার কাছে আসো। তারা চলে গেলেন। সুলাইম গোত্রের লোকটি তাদের আগমনের খবর শুনে তার সেরা উটগুলো নিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানালেন। তারা বললেন: আপনার ওপর তো এর চেয়ে কম ওয়াজিব। সে বলল: আমি তো আমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ দিয়েই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাই! তারা তা গ্রহণ করলেন। কাজ শেষ করে তারা যখন সালাবার পাশ দিয়ে ফিরছিলেন, সে বলল: তোমাদের কাগজটি আমাকে দেখাও। সে তাতে তাকিয়ে বলল: এ তো জিজিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা যাও, আমি ভেবে দেখি। তারা চলে গেলেন এবং মদিনায় উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের সাথে কথা বলার আগেই তাদের দেখেই বলে উঠলেন: সালাবা ইবনে হাতিবের জন্য পরিতাপ! আর তিনি সুলাইম গোত্রের লোকটির জন্য বরকতের দোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তিনি যদি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করেন তবে আমরা অবশ্যই দান-সদকা করব...} তিনটি আয়াত। সালাবার এক আত্মীয় তা শুনে তার কাছে গিয়ে বলল: তোমার জন্য পরিতাপ হে সালাবা. . .! আল্লাহ তোমার সম্পর্কে এই এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। তখন সালাবা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এই নিন আমার সম্পদের সদকা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: আল্লাহ তাআলা আমাকে তোমার থেকে সদকা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। সে কাঁদতে লাগল এবং নিজের মাথায় মাটি ছিটাতে লাগল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: এটা তোমার নিজের কর্মের ফল, আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমার আনুগত্য করোনি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার মৃত্যু পর্যন্ত তার থেকে কিছুই গ্রহণ করলেন না। এরপর সে আবু বকরের কাছে এসে বলল: হে আবু বকর, আমার সদকা গ্রহণ করুন, আনসারদের মাঝে আমার মর্যাদা তো আপনি জানেনই। আবু বকর বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যা গ্রহণ করেননি আমি তা গ্রহণ করব?! আবু বকরও তা গ্রহণ করলেন না। এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনকাল শুরু হলে সে তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু হাফস, হে আমিরুল মুমিনিন, আমার সদকা গ্রহণ করুন। সে মুহাজির, আনসার এবং নবীর স্ত্রীদের মাধ্যমে সুপারিশ করাল। উমর বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং আবু বকর যা গ্রহণ করেননি, আমি তা গ্রহণ করব?! তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। এরপর উসমানের শাসনকাল এলে উসমানের খিলাফতকালেই সে ধ্বংস হলো। আর তার ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছিল: {যারা মুমিনদের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদকা প্রদানকারীদের বিদ্রূপ করে...} (আত-তাওবাহ: ৭৯)। বর্ণনাকারী বলেন: এটি সদকা বিষয়ক।
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ২)
2- وأخرج الطبراني والحاكم في المستدرك وصححه عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَصَابَ غَنِيمَةً، أَمَرَ بِلَالاً فَنَادَى فِي النَّاسِ، فَيَجِيئُونَ بِغَنَائِمِهِمْ، فَيُخَمِّسُهَا وَيَقْسِمُهَا، فَجَاءَ رَجُلٌ بَعْدَ ذَلِكَ بِزِمَامٍ مِنْ شَعْرٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، هَذَا [ل2أ] فِيمَا كُنَّا أَصَبْنَاهُ مِنَ الْغَنِيمَةِ. قَالَ: أَسَمِعْتُ بِلَالاً نَادَى ثَلَاثًا؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: فَمَا مَنَعَكَ أَنْ تَجِيءَ بِهِ؟ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ فَاعْتَذَرَ قَالَ: كُنْ أَنْتَ تَجِيءُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَنْ أَقْبَلَهُ منْكَ.
২- তাবারানি এবং হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক'-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত) লাভ করতেন, তখন বিলালকে নির্দেশ দিতেন; ফলে তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা দিতেন এবং তারা তাদের নিকট থাকা গনিমত নিয়ে আসত। এরপর তিনি তা থেকে এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করতেন এবং তা বণ্টন করতেন। এরপর এক ব্যক্তি পশমের তৈরি একটি লাগাম নিয়ে এল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসুল, এটি সেই গনিমতের অংশ যা আমরা লাভ করেছিলাম। [ল২আ] তিনি বললেন: তুমি কি বিলালকে তিনবার ঘোষণা দিতে শুনেছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে এটি নিয়ে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? সে ওজর পেশ করল। তিনি বললেন: তুমিই কিয়ামতের দিন এটি নিয়ে এসো, আমি তোমার থেকে এটি কখনোই গ্রহণ করব না।
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ৩)
3- وقال ابن عساكر في (تاريخه) : أَنبأنا أَبُو عبد الله محمد بن علي بن أبي العلاء، حَدَّثَنَا أبو بكر الخطيب لفظا أخْبَرَنا أبو الحسين بن بشران، حَدَّثَنَا أبو عَمْرو عثمان بن أحمد بن عبد الله الدقاق أخْبَرَنا أبو بكر محمد بن أحمد بن النضر، حَدَّثَنَا معاوية بن عَمْرو،، عَن أبي إسحاق عن صفوان بن عَمْرو، حَدَّثَنَا حوشب بن سيف قال غزا الناس في زمان معاوية وعليهم عبد الرحمن بن خالد فغل رجل من المسلمين مِئَة دينار رومية فلما قفل الجيش ندم الرجل فأتى عبد الرحمن بن خالد فأخبره خبره وسأله أن يقبلها منه فابى وقال قد تفرق الجيش فلن اقبلها منك حتى تأتي الله بها يوم القيامة فجعل يستقرئ أصحاب رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فيقولون له مثل ذلك فلما قدم دمشق دخل على معاوية يذكر ذلك له فقال له مثل ذلك فخرج من عنده وهو يبكي.أخرجه البخاري في تاريخه.4- وقال عبد الرزاق في المصنف: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، أن رجلا من الأنصار وسع لرجل من المهاجرين في داره ثم إن الأنصاري احتاج إلى داره فجحده المهاجر فاختصما إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يكن للأنصاري بنية فحلف المهاجر ثم إن الأنصاري حضره الموت فقال لبنيه: إنه رضي بها من الله وإني رضيت بالله منها وإنه سيندم فيردها عليكم فلا تقبلوها، فلما توفي الأنصاري ندم المهاجر فجاء إلى بني الأنصاري فقال اقبلوا داركم فأبوا فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم، فذكروا أن أباهم أمرهم أم لا يقبلوها فقال النبي صلى الله عليه وسلم،أتستطيع أن تحملها من سبع أرضين ولم يأمر ولدي الأنصاري أن يقبلوها.5- وقال ابن سعد في الطبقات: قال الحسن للحسين: إني قد سقيت السم غير مرة، وإني لم أسق مثل هذه فقال: من فعل ذلك بك؟ قال لم سقته قال: نعم قال: ما كنت لأخبرك الله أشد نقمه.في تاريخ [ل2ب] ابن عساكر: أن رجلا من الصحابة قتل فأمر معاوية بتحصيل قاتله، فلما حضر إليه بعث به إلى ابن المقتول وقال: هاك قاتل أبيك فاقتله بيدك فقال: والله لا آخذ هذا في أبي، ولكن أتركه حتى يلقى الله فيقتل بأبي على الصراط.
৩- এবং ইবনে আসাকির তাঁর (তারিখ) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবুল আলা, আমাদের নিকট মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-খাতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন বিশরান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আন-নাদর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া বিন আমর, আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন আমর থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাওশাব বিন সাইফ, তিনি বলেন: মুয়াবিয়ার শাসনকালে মানুষ যুদ্ধে বের হয়েছিল এবং তাদের সেনাপতি ছিলেন আব্দুর রহমান বিন খালিদ। তখন মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি একশ রোমান দিনার আত্মসাৎ করল। যখন সেনাবাহিনী ফিরে এল, লোকটি অনুতপ্ত হলো এবং আব্দুর রহমান বিন খালিদের কাছে এসে তাকে বিষয়টি অবহিত করল এবং তা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করল। তিনি অস্বীকার করে বললেন: সেনাবাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সুতরাং আমি তোমার থেকে এটি গ্রহণ করব না যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন তুমি এটি নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হও। এরপর সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাছে গিয়ে বিষয়টি বলতে লাগল, তাঁরাও তাকে অনুরূপ কথা বললেন। যখন সে দামেস্কে পৌঁছাল, মুয়াবিয়ার নিকট প্রবেশ করে তাকে বিষয়টি অবহিত করল, তিনিও তাকে অনুরূপ কথা বললেন। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে গেল।বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।৪- এবং আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক আনসারী ব্যক্তি জনৈক মুহাজির ব্যক্তির জন্য তার বাড়িতে জায়গা প্রশস্ত করে দিলেন। এরপর আনসারী ব্যক্তিটির নিজের বাড়ির প্রয়োজন হলো, কিন্তু মুহাজির তা অস্বীকার করল। তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে গেলেন। আনসারীর নিকট কোনো প্রমাণ ছিল না, তাই মুহাজির কসম খেল। এরপর যখন আনসারীর মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাঁর সন্তানদের বললেন: তিনি (পিতা) এটি আল্লাহর সোপর্দ করেছেন এবং আমি আল্লাহর কাছে এর বিনিময়ে সন্তুষ্ট। অচিরেই সে অনুতপ্ত হবে এবং তা তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেবে, তখন তোমরা তা গ্রহণ করবে না। যখন আনসারী ইন্তেকাল করলেন, মুহাজির অনুতপ্ত হলো এবং আনসারীর সন্তানদের কাছে এসে বলল: তোমাদের বাড়ি গ্রহণ করো। তারা অস্বীকার করল। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উল্লেখ করা হলো। তারা জানালো যে তাদের পিতা তাদের এটি গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি সাত জমিন থেকে এটি বহন করার সামর্থ্য রাখো? আর তিনি আনসারীর সন্তানদের তা গ্রহণ করার নির্দেশ দেননি।৫- এবং ইবনে সা'দ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: হাসান হুসাইনকে বললেন: আমাকে একাধিকবার বিষ পান করানো হয়েছে, তবে এর মতো বিষ কখনো পান করানো হয়নি। তিনি বললেন: কে আপনার সাথে এমনটি করেছে? হাসান বললেন: কেন তুমি তা জানতে চাইছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ (আমি জানতে চাই)। হাসান বললেন: আমি তোমাকে বলব না, আল্লাহ কঠোর প্রতিশোধ গ্রহণকারী।ইবনে আসাকিরের তারিখে [পত্র ২-বি]: জনৈক সাহাবী নিহত হলেন, তখন মুয়াবিয়া তাঁর হত্যাকারীকে পাকড়াও করার নির্দেশ দিলেন। যখন তাকে হাজির করা হলো, তিনি তাকে নিহতের পুত্রের কাছে পাঠালেন এবং বললেন: এই নাও তোমার পিতার হত্যাকারী, তাকে নিজ হাতে হত্যা করো। সে বলল: আল্লাহর শপথ, আমি আমার পিতার বিনিময়ে এটি গ্রহণ করব না, বরং আমি তাকে ছেড়ে দিচ্ছি যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, যেন সিরাতের ওপর আমার পিতার বিনিময়ে তাকে পাকড়াও করা হয়।
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ৪)
6- وأخرج ابن عساكر: عن عبيدة بن الحكم الأزدي أن قوما أتوا الحسن بن علي، رضي الله عنهما، فذكروا زياد أوجعلوا يقولون اللهم اجعل قتله بأيدينا فقال الحسن: مه، فإن القتل كفارة، ولكن اسأل الله أن يميته على فراشه.7- وقال ابن عساكر: أخبرنا أبو عبد الله الخلال، أخبرنا إبراهيم بن منصور، أخبرنا أبو بكر بن المقرئ، حَدَّثَنَا الطحاوي، حَدَّثَنَا إبراهيم بن أبي داود البرلسي، حَدَّثَنَا عبد الرحمن بن المبارك، حَدَّثَنَا سفيان بن حبيب، حَدَّثَنَا شعبة عن عَمْرو بن مرة، عَن أبي صالح ذكوان عن صهيب مولى العباس قال: رأيت عليا يقبل يد العباس ورجله ويقول يا عم ارض عني قال: كلا والله لتلقين الله عز وجل بها.8-وأخرج ابن المنذر في تفسيره: عن الشعبي رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: إني لأبغض فلانًا، فقيل للرجل: ما شأن عمر رضي الله عنه يبغضك! فلما أكثر القوم في الذكر جاء فقال: يا عمر أفتقت في الإِسلام فتقًا؟ قال: لا. قال: فجنيت جناية؟ قال: لا. قال: أحدثت حدثًا؟ قال: لا. قال: فعلام تبغضني وقد قال الله {والذين يؤذون المؤمنين والمؤمنات بغير ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانًا وإثمًا مبينًا} ؟! فقد آذيتني فلا غفرها الله لك. فقال عمر رضي الله عنه: صدق والله ما فتق فتقًا، ولا ولا فاغفرها لي، فلم يزل به حتى غفرها له.
6- ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন: উবাইদাহ বিন আল-হাকাম আল-আযদি থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট আসলেন এবং যিয়াদের কথা উল্লেখ করলেন। তারা বলতে শুরু করলেন, "হে আল্লাহ! তার মৃত্যু যেন আমাদের হাতে হয়।" তখন হাসান বললেন: "থামো, কেননা হত্যা হলো (গুনাহের) কাফফারা স্বরূপ; বরং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করো যেন তিনি তাকে তার নিজের বিছানায় মৃত্যু দান করেন।"7- ইবনে আসাকির বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-খল্লাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন মানসুর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাহাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আবু দাউদ আল-বুরলুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আল-মুবারক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন হাবিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ যাকওয়ান থেকে, তিনি আব্বাসের মুক্তদাস সুহাইব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে আব্বাসের হাত ও পা চুম্বন করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন, "হে চাচা, আমার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।" তিনি বললেন, "কখনোই নয়, আল্লাহর কসম, তুমি এর মাধ্যমেই মহামহিম আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।"8- ইবনুল মুনযির তাঁর তাফসিরে বর্ণনা করেছেন: শা'বি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি অমুক ব্যক্তিকে অপছন্দ করি।" তখন লোকটিকে বলা হলো: "উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কেন তোমাকে অপছন্দ করেন?" যখন লোকজন এ বিষয়ে অনেক আলোচনা করল, তখন সে এসে বলল: "হে উমর! আমি কি ইসলামে কোনো ফাটল ধরিয়েছি?" তিনি বললেন: "না।" সে বলল: "আমি কি কোনো অপরাধ করেছি?" তিনি বললেন: "না।" সে বলল: "আমি কি কোনো নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করেছি?" তিনি বললেন: "না।" সে বলল: "তাহলে কেন আপনি আমাকে অপছন্দ করেন, অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন— {আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃতকর্ম ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে}?! আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন, তাই আল্লাহ যেন আপনাকে ক্ষমা না করেন।" তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আল্লাহর কসম, সে সত্য বলেছে; সে কোনো ফাটল ধরায়নি, আর কোনো (অপরাধও করেনি), সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।" তিনি অনবরত অনুরোধ করতে থাকলেন যতক্ষণ না লোকটি তাঁকে ক্ষমা করলেন।
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ৫)
9- وقال ابن سعد في الطبقات: حدثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، عَنِ ابْنِ عَوَانٍ عَنْ عُمَيْرِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ: كَانَ مَرْوَانُ أَمِيرًا عَلَيْنَا سِنِينَ، فَكَانَ يَسُبُّ عَلِيًّا كُلَّ جُمُعَةٍ عَلَى الْمِنْبَرِ، ثُمَّ عُزِلَ مَرْوَانُ، وَاسْتُعْمِلَ سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ سِنِينَ، فَكَانَ لَا يَسُبُّهُ، ثُمَّ عُزِلَ سَعِيدٌ، وَأُعِيدَ مَرْوَانُ، فَكَانَ يَسُبُّهُ، فَقِيلَ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ: أَلَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ مَرْوَانُ، فَلَا تَرَدُّ شَيْئًا؟ فَكَانَ يَجِيءُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَيَدْخُلُ حُجْرَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَيَكُونُ فِيهَا، فَإِذَا قُضِيَتِ الْخُطْبَةُ، خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّى فِيهِ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى أَهْلِهِ، فَلَمْ يَرْضَ بِذَلِكَ مَرْوَانُ، حَتَّى أَهْدَى لَهُ فِي بَيْتِهِ، فَإِنَّا لَجُلُوسٌ مَعَهُ، إِذْ قِيلَ لَهُ: فُلَانٌ عَلَى الْبَابِ، قال: [ل3أ] ائذن له فوالله إني لأظنه جاء بشر فَأَذِنَ لَهُ، فَدَخَلَ، فَقَالَ: إِنِّي جِئْتُكَ مِنْ عِنْدِ سُلْطَانٍ وَجِئْتُكَ بِعَزْمَةٍ. فَقَالَ: تَكَلَّمْ. فَقَالَ: أَرْسَلَ مَرْوَانُ بِعَلِيٍّ وَبِعَلِيٍّ وَبِكَ وَبِكَ، وَمَا وَجَدْتُ مَثَلَكَ إِلَاّ مَثَلَ الْبَغْلَةِ، يُقَالُ لَهَا: مَنْ أَبُوكِ؟ فَتَقُولُ: أُمِّي الْفَرَسُ. قال الحسن: ارجع إليه فقل له: إني والله لا أمحو عنك شيئًا مما قلت بأني أسبك يا مروان، ولكن موعدي وموعدك الله، فإن كنت صادقًا يأجرك الله بصدقك، وإن كنت كاذبًا فالله أشد نقمة، قد أكرم الله جدي أن يكون مثلي مثل البغلة.
৯- এবং ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে, তিনি উমাইর ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মারওয়ান কয়েক বছর আমাদের আমির ছিলেন। তিনি প্রতি জুমুআয় মিম্বরের ওপর আলীকে গালি দিতেন। অতঃপর মারওয়ান অপসারিত হলেন এবং সাঈদ ইবনুল আস কয়েক বছরের জন্য নিযুক্ত হলেন; তিনি তাঁকে গালি দিতেন না। এরপর সাঈদ অপসারিত হলেন এবং মারওয়ানকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখন তিনি আবারো গালি দিতে শুরু করলেন। এমতাবস্থায় হাসান ইবনে আলীকে বলা হলো: "মারওয়ান যা বলছে আপনি কি তা শুনছেন না? আপনি কেন এর কোনো প্রত্যুত্তর দিচ্ছেন না?" বর্ণনাকারী বলেন, তিনি জুমুআর দিনে আসতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কামরায় প্রবেশ করে সেখানেই অবস্থান করতেন। যখন খুতবা শেষ হতো, তখন তিনি মসজিদে বের হয়ে সালাত আদায় করতেন এবং এরপর নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যেতেন। মারওয়ান এতেও সন্তুষ্ট হলেন না, এমনকি তিনি তাঁর ঘরে (বার্তাবাহক) পাঠালেন। আমরা তখন তাঁর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁকে বলা হলো: "অমুক ব্যক্তি দরজায় উপস্থিত।" তিনি বললেন: [ল৩অ] "তাকে অনুমতি দাও; আল্লাহর কসম, আমি মনে করছি সে কোনো অকল্যাণ নিয়ে এসেছে।" তাকে অনুমতি দেওয়া হলো এবং সে প্রবেশ করল। সে বলল: "আমি আপনার নিকট একজন শাসকের পক্ষ থেকে এসেছি এবং এক কঠোর বার্তা নিয়ে এসেছি।" তিনি বললেন: "বলো।" সে বলল: "মারওয়ান আলী সম্পর্কে এবং আপনার সম্পর্কে বিভিন্ন কটু কথা পাঠিয়েছে। আর সে বলেছে যে, আপনার দৃষ্টান্ত তো কেবল একটি খচ্চরের মতো, যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তোমার পিতা কে? সে উত্তর দিয়েছিল—আমার মা হলো ঘোড়া।" হাসান বললেন: "তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো: হে মারওয়ান, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে গালি দিয়ে তোমার বলা কথাগুলোর কোনো কিছুই মুছে ফেলব না। বরং আমার ও তোমার ফয়সালার স্থান আল্লাহর নিকট। যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমার সত্যবাদিতার কারণে তোমাকে প্রতিদান দেবেন; আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহ আমার দাদাকে এমন মর্যাদা দান করেছেন যে, আমার দৃষ্টান্ত খচ্চরের মতো হতে পারে না।"
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ৬)
10- وقال ابن عساكر: أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن نصير بن محمد بن خميس في كتابه: حَدَّثَنَا القاضي أبو نصر محمد بن علي بن ودعان، حَدَّثَنَا أبو الفتح أحمد بن عُبَيد الله بن ودعان عمي، حَدَّثَنَا أبو القاسم نصر بن أحمد بن محمد بن الخليل المرجي، حَدَّثَنَا أبو يَعْلَى أحمد بن علي بن المثنى، حَدَّثَنَا عبد الله بن بكار، حَدَّثَنَا القاسم بن الفضل عن عَمْرو بن مرة عن سالم بن أبي الجعد عن عثمان قال ذكر عثمان بني أمية فقال والله لو أن مفاتيح الجنة بيدي لأعطيتها بني أمية حتى يدخلوا الجنة من عند آخرهم ولأستعملنهم على رغم من زعم قال فقال عمار فإن ذلك يرغم بأنفي قال أرغم الله بأنفك قال بأنف أبي بكر وعمر قال فغضب فقام إليه فوطئه وأجفله الناس عنه قال فبعث إلى طلحة والزبير فقال ائتيا هذا الرجل فخيراه بين ثلاث بين أن يقتص، أو يأخذ أرشا، أو يعفو فأتياه فقالا إن هذا الرجل قد أنصف فخيرك أن تقتص، أو تأخذ أرشا، أو تعفو فأتياه قال لا والله لا أقبل منهن واحدة حتى ألقى رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فاشكو إليه.11 - وقال ابن أبي شيبة في المصنف: حدثنا [الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ،] عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، قَالَ: كَتَبَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم عَيْبَ عُثْمَانَ فَقَالُوا: مَنْ يَذْهَبُ بِهِ إلَيْهِ، فَقَالَ عَمَّارُ: أَنَا، فَذَهَبَ بِهِ إلَيْهِ، فَلَمَّا قَرَأَهُ قَالَ: أَرْغَمَ اللَّهُ بِأَنْفِكَ، فَقَالَ عَمَّارُ: وَبِأَنْفِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ، قَالَ: فَقَامَ وَوَطِئَهُ حَتَّى غُشِيَ عَلَيْهِ، قَالَ: وَكَانَ عَلَيْهِ تُبَّان. قَالَ: ثُمَّ بَعَثَ إلَيْهِ الزُّبَيْرِ وَطَلْحَةَ فَقَالَا لَهُ: اخْتَرْ إحْدَى ثَلَاثٍ: إمَّا أَنْ تَعْفُوَ، وَإِمَّا أَنْ تَأْخُذَ [ل3ب] الأَرْشَ، وَإِمَّا أَنْ تَقْتَصَّ، قَالَ: فَقَالَ عَمَّارُ: لَا أَقْبَلُ مِنْهُنَّ شَيْئًا حَتَّى أَلْقَى اللَّهَ.
১০- এবং ইবনে আসাকির বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে নাসির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খামিস তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন: কাজী আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে উদআন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা আবু আল-ফাতহ আহমদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে উদআন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-কাসিম নাসর ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খলিল আল-মারজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে বক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনে আল-ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবি আল-জাদ থেকে, তিনি উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উসমান বনু উমাইয়ার কথা উল্লেখ করে বললেন, "আল্লাহর কসম, যদি জান্নাতের চাবিসমূহ আমার হাতে থাকত, তবে আমি তা বনু উমাইয়াকে দান করতাম যতক্ষণ না তাদের শেষ ব্যক্তিটি জান্নাতে প্রবেশ করে। আর যারা এতে আপত্তি করে তাদের নাসিকা ধুলোয় ধূসরিত করে (অনিচ্ছা সত্ত্বেও) আমি অবশ্যই তাদেরকে দায়িত্বে নিয়োগ দিতাম।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আম্মার বললেন, "তাতে তো আমার নাসিকাই ধুলোয় ধূসরিত হবে (অর্থাৎ আমিই অপমানিত হব)।" উসমান বললেন, "আল্লাহ তোমার নাসিকা ধুলোয় ধূসরিত করুন (তোমাকে লাঞ্ছিত করুন)।" আম্মার বললেন, "আর আবু বকর ও উমরের নাসিকাও কি?" বর্ণনাকারী বলেন, তখন উসমান রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর দিকে উঠে গিয়ে তাঁকে পদদলিত করলেন এবং মানুষজন তাঁকে সরিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর উসমান তালহা ও জুবাইরের কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, "তোমরা এই লোকটির কাছে যাও এবং তাকে তিনটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করতে বলো: হয় সে কিসাস (প্রতিশোধ) নিবে, অথবা সে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করবে, অথবা সে ক্ষমা করে দেবে।" তারা তাঁর কাছে এসে বললেন, "এই ব্যক্তি (উসমান) ইনসাফ করেছেন, তিনি আপনাকে কিসাস নেওয়া, ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা অথবা ক্ষমা করে দেওয়ার ইখতিয়ার দিয়েছেন।" আম্মার বললেন, "না, আল্লাহর কসম! আমি এগুলোর একটিও গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাঁর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ পেশ করি।"১১ - এবং ইবনে আবি শায়বা আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে বলেছেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবি আল-জাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ উসমানের ত্রুটিসমূহ লিখে রাখলেন এবং বললেন, "কে এটি নিয়ে তাঁর কাছে যাবে?" আম্মার বললেন, "আমি।" এরপর তিনি এটি নিয়ে তাঁর কাছে গেলেন। যখন তিনি এটি পাঠ করলেন, তখন বললেন, "আল্লাহ তোমার নাসিকা ধুলোয় ধূসরিত করুন।" আম্মার বললেন, "আর আবু বকর ও উমরের নাসিকাও?" বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি (উসমান) উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে পদদলিত করলেন এমনকি তিনি বেহুঁশ হয়ে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাঁর পরনে একটি তুব্বান (ছোট পায়জামা) ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাঁর নিকট জুবাইর ও তালহাকে পাঠালেন। তাঁরা তাঁকে বললেন, "তুমি তিনটির একটি বেছে নাও: হয় তুমি ক্ষমা করে দাও, অথবা তুমি ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করো, অথবা তুমি কিসাস নাও।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আম্মার বললেন, "আমি এগুলোর কিছুই গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি।"
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ৭)
12- ومما يلحق بهذا ما أخرجه ابن جرير عن مجاهد في الذي يقتل الصيد متعمدًا، وهو يعلم أنه محرم ويتعمد قتله قال: لايحكم عليه ولا حج له.13- وأخرج أبو الشيخ: عن محمد بن سيرين قال: من قتله متعمدا لقتله ناسيا لإحرامه فعليه الجزاء، ومن قتله متعمدا لقتله غير ناس لإحرامه فذاك إلى الله إن شاء عذبه وإن شاء غفر له.14- وأخرج الشافعي في الأم وعبد بن حميد، وابن جرير عن مجاهد قال: من قتله متعمدا غير ناس لإحرامه ولا يريد غيره فقد حل وليست له رخصة ومن قتله ناسيا لإحرامه وأراد غيره فأخطأ به فذلك العمد المكفر.15- وأخرج ابن جرير عن الحسن في قوله ومن قتله منكم متعمدا: قال: متعمدا للصيد ناسيا لإحرامه في قوله "فمن اعتدى بعد ذلك "قال: متعمدا للصيد يذكر إحرامه " فله عذاب أليم " ولا يحكم عليه.16- وأخرج عبد الرزاق وابن أبي شيبة وعبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وأبو الشيخ من طريق عكرمة عن ابن عباس في الذي يصيب الصيد وهو محرم يحكم عليه مرة واحدة فإن عاد لم يكحم عليه وكان ذلك إلى الله إن شاء عاقبه وإن شاء عفا عنه، ثم تلا "ومن عاد فينتقم الله منه ".ولفظ أبي الشيخ ومن عاد قيل له اذهب ينتقم الله منك.17- وأخرج ابن جرير وابن المنذر من طريق علي ابن أبي طلحة عن ابن عباس قال: من قتل شيئا من الصيد خطأ وهو محرم حكم عليه كلما قتله، ومن قتله متعمدا حكم عليه فيه مرة واحدة فإن عاد يقال له ينتقم الله منك كما قال الله عز وجل.
১২- এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করে অথচ সে জানে যে সে ইহরাম অবস্থায় আছে এবং জেনে-শুনেই তা হত্যা করে; তিনি বলেন: তার ওপর কোনো বিচার (কাফফারা) ধার্য করা হবে না এবং তার কোনো হজ হবে না।১৩- আবুশ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি শিকার করার ইচ্ছায় শিকার হত্যা করে অথচ সে তার ইহরামের কথা ভুলে গিয়েছিল, তার ওপর বিনিময় (জরিমানা) ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি শিকার করার ইচ্ছায় শিকার হত্যা করে এবং সে তার ইহরামের কথা বিস্মৃত ছিল না, তবে বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন।১৪- আশ-শাফেঈ 'আল-উম্ম' গ্রন্থে এবং আব্দ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার ইহরামের কথা বিস্মৃত না হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করে এবং সে অন্য কিছু নয় বরং শিকারই উদ্দেশ্য করে, তবে সে ইহরাম ভঙ্গ করল এবং তার জন্য কোনো অবকাশ নেই। আর যে ব্যক্তি তার ইহরামের কথা ভুলে গিয়ে শিকার হত্যা করল অথবা অন্য কিছুর ইচ্ছা করতে গিয়ে ভুলবশত শিকার করে ফেলল, তবে এটিই সেই ইচ্ছাকৃত কাজ যার বিনিময় বা কাফফারা দিতে হয়।১৫- ইবনে জারীর হাসান থেকে আল্লাহর বাণী "আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শিকারের ইচ্ছা করেছে অথচ নিজের ইহরামের কথা ভুলে গেছে। আর "অতঃপর যে এরপর সীমালঙ্ঘন করবে" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: শিকারের ইচ্ছা করেছে অথচ নিজের ইহরামের কথা স্মরণে রেখেছে; "তবে তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি" এবং তার ওপর কোনো বিচার (কাফফারা) ধার্য করা হবে না।১৬- আব্দুর রাজ্জাক, ইবনে আবি শায়বাহ, আব্দ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শায়খ ইকরিমা সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে ইহরাম অবস্থায় শিকার করে; তার ওপর একবারই বিচার (কাফফারা) ধার্য করা হবে, যদি সে পুনরায় তা করে তবে তার ওপর আর বিচার করা হবে না এবং বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, "আর যে পুনরায় করবে, আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ নেবেন।"আবুশ শায়খের বর্ণনার শব্দ হলো: "আর যে পুনরায় করবে তাকে বলা হবে, তুমি যাও, আল্লাহ তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন।"১৭- ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযির আলী ইবনে আবি তালহা সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় ভুলবশত কোনো শিকার হত্যা করবে, যতবার সে এটি করবে ততবারই তার ওপর বিচার (কাফফারা) ধার্য করা হবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে, তার ক্ষেত্রে একবারই বিচার করা হবে; এরপর যদি সে পুনরায় তা করে তবে তাকে বলা হবে, আল্লাহ তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখীরুয যালামাহ ইলা ইয়াওমিল কিয়ামাহ লিস-সুয়ূতী
(পৃষ্ঠা: ৮)
18- وأخرج ابن أبي شيبة وعبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر عن الشعبي. أن رجلًا أصاب صيدًا وهو محرم، فسأل شريحًا فقال: هل أصبت قبل هذا شيئًا؟ قال: لا. قال: أما إنك لو فعلت لم أحكم عليك، ولوكلتك إلى الله يكون هو ينتقم منك.19- وأخرج ابن جرير وأبو الشيخ عن سعيد بن جبير قال: رخص في قتل الصيد مرة، فإن عاد لم يدعه الله [ل4أ] حتى ينتقم منه.20- وأخرج عبد بن حميد وابن جرير عن إبراهيم. في الذي يقتل الصيد ثم يعود قال: كانوا يقولون: من عاد لا يحكم عليه، أمره إلى الله.21 - وأخرج عبد بن حميد وابن جرير عن سعيد بن جبير قال: يحكم عليه في العمد مرة واحدة، فإن عاد لم يحكم عليه وقيل له: اذهب ينتقم الله منك، ويحكم عليه في الخطأ أبدًا. تم ولله الحمد على كل حال ونعمة
18- ইবনে আবি শাইবা, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির এবং ইবনুল মুনযির শাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে শিকার করল। অতঃপর সে শুরাইহকে (মাসয়ালা) জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: তুমি কি এর আগে এমন কিছু করেছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: জেনে রেখো, যদি তুমি ইতিপূর্বে এমন করতে তবে আমি তোমার ব্যাপারে কোনো ফয়সালা দিতাম না, বরং তোমাকে আল্লাহর ওপর সোপর্দ করতাম যাতে তিনি তোমার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন।19- ইবনে জারির এবং আবুশ শাইখ সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: একবার শিকার করার ক্ষেত্রে ছাড় (ফয়সালা) দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কেউ যদি পুনরায় এমনটি করে, তবে আল্লাহ তাকে ছেড়ে দেবেন না [ল৪আ] যতক্ষণ না তিনি তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন।20- আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে জারির ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি শিকার করে পুনরায় তা করে সে সম্পর্কে তিনি বলেন: তাঁরা বলতেন— যে পুনরায় এমনটি করে তার বিরুদ্ধে কোনো বিধান দেওয়া হবে না, তার বিষয়টি আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।21 - আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে জারির সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার করলে একবার তার ওপর ফয়সালা কার্যকর হবে। যদি সে পুনরায় তা করে তবে তার ওপর আর ফয়সালা দেওয়া হবে না এবং তাকে বলা হবে— যাও, আল্লাহ তোমার থেকে প্রতিশোধ নেবেন। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে সর্বদা ফয়সালা প্রদান করা হবে। সব অবস্থায় ও সকল নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া ও প্রশংসা সহকারে সমাপ্ত।