(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
نصب الراية القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: نصب الراية لأحاديث الهداية مع حاشيته بغية الألمعي في تخريج الزيلعي
المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن محمد الزيلعي (ت 762هـ)
قدم للكتاب: محمد يوسف البَنُوري
صححه ووضع الحاشية: عبد العزيز الديوبندي الفنجاني، إلى كتاب الحج، ثم أكملها محمد يوسف الكاملفوري
المحقق: محمد عوامة
الناشر: مؤسسة الريان للطباعة والنشر - بيروت -لبنان/ دار القبلة للثقافة الإسلامية- جدة - السعودية
الطبعة: الأولى، 1418هـ/1997م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تمت مقابلة الكتاب وإضافة ملاحق من نسخ أخرى
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাসবুর রাইয়াহ বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: নাসবুর রাইয়াহ লি-আহাদীসিল হিদায়াহ এবং এর সাথে এর টীকা বুগইয়াতুল আলমায়ি ফী তাখরীজিয যাইলায়ী
লেখক: জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আয-যাইলায়ী (মৃত্যু: ৭৬২ হিজরী)
ভূমিকা লিখেছেন: মুহাম্মাদ ইউসুফ আল-বানূরী
সংশোধন ও টীকা সংযোজন করেছেন: আব্দুল আযীয দেওবন্দী আল-ফাঞ্জানী, কিতাবুল হাজ্জ পর্যন্ত, এরপর তা সমাপ্ত করেছেন মুহাম্মাদ ইউসুফ আল-কামিলপুরী
সম্পাদক ও গবেষক: মুহাম্মাদ আওয়ামাহ
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রাইয়্যান লি-তিবাআতি ওয়ান নাশর - বৈরুত - লেবানন / দারুল কিবলা লি-সাকাফাতিল ইসলামিয়্যাহ - জেদ্দা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরী/১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
বইটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং অন্যান্য সংস্করণ থেকে পরিশিষ্ট সংযোজন করা হয়েছে
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[نصب الراية لأحاديث الهداية مع حاشيته بغية الألمعي في تخريج الزيلعي]ـ
المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن محمد الزيلعي (المتوفى: 762 هـ)
قدم للكتاب: محمد يوسف البَنُوري
صححه ووضع الحاشية: عبد العزيز الديوبندي الفنجاني، إلى كتاب الحج، ثم أكملها محمد يوسف الكاملفوري
المحقق: محمد عوامة
الناشر: مؤسسة الريان للطباعة والنشر - بيروت -لبنان/ دار القبلة للثقافة الإسلامية- جدة - السعودية
الطبعة: الطبعة الأولى، 1418 هـ/1997 م
عدد الأجزاء: 4
[الكتاب مشكول ومقابل وترقيمه موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
নাসবুর রায়াহ লি-আহাদিসিল হিদায়াহ, সাথে এর টীকা বুগইয়াতুল আলমায়ি ফী তাখরিজিল যায়লায়ি
লেখক: জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-যায়লায়ি (মৃত্যু: ৭৬২ হিজরি)
গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন: মুহাম্মদ ইউসুফ আল-বানুরি
সংশোধন ও টীকা প্রদান করেছেন: আবদুল আজিজ দেওবন্দি আল-ফাঞ্জানি, হজ্জ অধ্যায় পর্যন্ত, অতঃপর এটি পূর্ণ করেছেন মুহাম্মদ ইউসুফ আল-কামিলপুরি
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ আওয়ামাহ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়্যান লি-তিবাআহ ওয়ান নাশর - বৈরুত - লেবানন/ দারুল কিবলাহ লিস-সাকাফাতিল ইসলামিয়্যাহ - জেদ্দা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি/১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থটি হরকতযুক্ত, মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাইকৃত এবং এর পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المجلد الأول
مقدمة…مقدمة "نصب الراية- لأحاديث الهداية"
بسم الله الرحمن الرحيمسبحانك اللهم، لك الحمد، كما أنت أهله، وكما يليق بجلال وجهك، وعظيم سلطانك، صل على صفوة خلقك، رسول الرحمة محمد، وآله، أهل بيته وعترته وصحبه، صلاة ترضيك، وترضيه عنا، يا رب العالمين.
وبعد: خطر بالبال أن يكون "نصب الراية - لأحاديث الهداية" مسبوقاً بمقدمة، تحوي أموراً، يجب علمها، وحقائق ثابتة، تجب معرفتها.
ووقعت هذه الخطرة بالبال موقعاً. ولم تلبث حتى أصبحت فكرة، ولم تزل الفكرة، حتى دعت طلوعاً على هذه الصفحات.
فرافقتني الخطرة، وأعجبتني الفكرة، فاحتفلت بها احتفالاً، ورحبت دعوتها ترحاباً. وحاولت أن أصدّرها بكلمة في تعريف "المجلس العلمي" - بالهند، فإنه أضحى سبباً لطبع الكتاب، وعلى إثرها لمعة من ترجمة - المؤلف - ورشحة من ترجمة صاحب "الهداية".
ثم أعقبها بمقالة حافلة في أهم مواضيع الفقه، والحديث، ما يرتاح له قلب العالم، ويبتهج له عقل الفقيه، بقلم نظار محقق، وبحاثة متبحر، وأختمها بكلمة في تصحيح الكتاب، وما لاقينا فيه من كبد وعناء، والله سبحانه خير موفق ومعين.
প্রথম খণ্ড
ভূমিকা…"নাসবুর রায়াহ লি আহাদিসিল হিদায়া"-এর ভূমিকা
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামেহে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আপনারই প্রশংসা, যেমনটি আপনি এর যোগ্য এবং যা আপনার সত্তার মহিমা ও আপনার সুমহান রাজত্বের জন্য শোভনীয়। আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, রহমতের রসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, আহলে বায়ত, বংশধর ও সাহাবীগণের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন—এমন দরূদ যা আপনাকে সন্তুষ্ট করে এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি সন্তুষ্টি বয়ে আনে, হে জগতসমূহের পালনকর্তা।
অতঃপর: মনে এই খেয়াল জাগল যে, "নাসবুর রায়াহ লি আহাদিসিল হিদায়া" গ্রন্থটির শুরুতে একটি ভূমিকা থাকা উচিত, যা এমন কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে যা জানা আবশ্যক এবং এমন কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যকে ধারণ করবে যা অবগত হওয়া জরুরি।
এই ভাবনাটি মনে গভীরভাবে গেঁথে গেল। অনতিবিলম্বে এটি একটি সুসংহত চিন্তায় রূপ নিল এবং সেই চিন্তা ক্রমশ প্রবল হতে থাকল, যতক্ষণ না তা এই পৃষ্ঠাগুলোতে আত্মপ্রকাশের আহ্বান জানাল।
ভাবনাটি আমার সঙ্গী হলো এবং চিন্তাটি আমাকে মুগ্ধ করল, ফলে আমি একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলাম এবং এর আহ্বানকে সাদরে সম্ভাষণ জানালাম। আমি চেষ্টা করেছি ভারতের "আল-মাজলিসুল ইলমি"-এর পরিচিতি দিয়ে এর সূচনা করতে, কেননা এই প্রতিষ্ঠানটিই গ্রন্থটি মুদ্রণের উপলক্ষ হয়েছে। এর পরপরই গ্রন্থকারের জীবনীর ওপর আলোকপাত এবং "হিদায়া" প্রণেতার জীবনীর সংক্ষিপ্ত নির্যাস তুলে ধরা হয়েছে।
অতঃপর ফিকহ ও হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি নিয়ে একটি সমৃদ্ধ প্রবন্ধ এতে যুক্ত করা হয়েছে, যা একজন আলিমের হৃদয়ে প্রশান্তি জোগাবে এবং একজন ফকিহের মেধাকে আনন্দিত করবে; যা একজন সূক্ষ্মদর্শী গবেষক ও সুগভীর পণ্ডিতের লেখনীপ্রসূত। পরিশেষে গ্রন্থটির পাঠ সংশোধন এবং এ ক্ষেত্রে আমরা যে কঠোর পরিশ্রম ও ক্লেশ সহ্য করেছি, তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ইতি টেনেছি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সর্বোত্তম তাওফীকদাতা ও সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
المجلس العلمي المجلس العلمي - إدارة تأليفية، فعلت في سن طفولتها، ما لو فعلته في عهد شبابها، لكفاها فخراً وشرفاً.
رجل سعيد الحظ، ميمون الطلعة، طيب الأرومة، رحيب الصدر، من أهل سملك في - الكجرات - بالهند، أصبح إفريقياً منذ برهة من الدهر، من مشاهير تجار أفريقيا الجنوبية.
التحق بدار العلوم في ديوبند - مركز الثقافة الدينية، والعلمية بالهند - وتخرج منها بعد سنوات، عالماً فاضلاً.
في عهد تحصيله: ساعد طلبة العلم، أعان دار العلوم - مهد تربيته العلمية - بآلاف جنيه، وخدم أكبر شيوخه، إمام العصر المحدث، الشيخ محمد أنور الكشميري ثم الديوبندي، بما فيه أسوة لمن يأتي بعده.
فارق مهده العلمي! فخلّف صيتاً حسناً، وذكراً جميلاً، على الألسنة، وقدراً في القلوب.
بأعماله الخالدة، أصبحت مدرسة تعليم الدين في - دابهيل - "من الكجرات" - جامعة إسلامية - ينثال إليها طلبة العلم من كل صوب وناحية. يتبرع إليها بعطية، تربو على ألف جنيه كل عام.
ثم فتح إدارة علمية لإحياء المآثر العلمية، غراماً بإبقاء آثار العلم الخالدة، تحت إشراف إمام العصر السالف ذكره، ومحقق العصر الشيخ شبير أحمد العثماني الديوبندي - طال بقاءه - فوفق لأن يقدم لأهل العلم ما يربو على عشرين كتاباً: في علوم الحديث. والقرآن. والحقائق وغيرها، قبل أن يبلغ المجلس إلى ثماني حجج، من عمره الميمون.
وكذا الكريم إذا أقام ببلدة
… سال النضار بها وقام الماء
وإليك ذكر شيء من مآثره:
আল-মাজলিস আল-ইলমি আল-মাজলিস আল-ইলমি — একটি সংকলন ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, যা তার শৈশবকালেই এমন সব কাজ আঞ্জাম দিয়েছে, যা তার যৌবনকালে করলেও তা গৌরব ও সম্মানের জন্য যথেষ্ট হতো।
একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, বরকতময় চেহারার অধিকারী, উত্তম বংশোদ্ভূত, উদার হৃদয়ের মানুষ, ভারতের গুজরাটের সামলাক এলাকার অধিবাসী, যিনি দীর্ঘকাল যাবৎ আফ্রিকায় বসবাস করছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী।
তিনি ভারতের ধর্মীয় ও ইলমি সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন এবং কয়েক বছর পর একজন বিজ্ঞ আলেম হিসেবে সেখান থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ইলম অন্বেষণকারীদের সহায়তা করেছেন; তাঁর ইলমি লালনভূমি দারুল উলুমকে হাজার হাজার পাউন্ড দিয়ে সাহায্য করেছেন। তিনি তাঁর প্রধান শায়খ, যুগের ইমাম মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (যিনি পরে দেওবন্দি হিসেবে পরিচিত হন)-এর এমনভাবে খিদমত করেছেন, যা তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ।
তিনি তাঁর ইলমি বিদ্যাপীঠ ত্যাগ করলেন ঠিকই, কিন্তু মানুষের মুখে মুখে এক সুন্দর সুখ্যাতি ও উত্তম চর্চা এবং হৃদয়ে সুউচ্চ মর্যাদা রেখে গেলেন।
তাঁর অক্ষয় কীর্তিগুলোর মাধ্যমে গুজরাটের 'দাভেল'-এর মাদ্রাসায়ে তালিমুদ্দিন একটি 'ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়'-এ পরিণত হয়, যেখানে চারদিক থেকে ইলম পিপাসু শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায়। তিনি প্রতি বছর সেখানে এক হাজার পাউন্ডের বেশি অনুদান প্রদান করেন।
এরপর তিনি ইলমি ঐতিহ্যগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এবং ইলমের অবিনাশী নিদর্শনসমূহকে টিকিয়ে রাখার প্রবল আগ্রহে একটি ইলমি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এটি উপরোক্ত যুগের ইমাম এবং যুগের গবেষক শায়খ শাব্বির আহমদ উসমানি দেওবন্দি —আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন— এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ফলে এই মজলিস তার বরকতময় আয়ুষ্কালের আট বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ইলম পিপাসু ও গবেষকদের সামনে হাদিস শাস্ত্র, কুরআন, হাকায়িক এবং অন্যান্য বিষয়ে বিশটিরও বেশি গ্রন্থ পেশ করার তাওফিক লাভ করে।
উদার ব্যক্তি যখন কোনো জনপদে অবস্থান করেন
… তখন সেখানে স্বর্ণ প্রবাহিত হয় এবং পানির ধারা জারি হয়।
তাঁর কিছু কীর্তির কথা নিচে উল্লেখ করা হলো:
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فمن القرآن: -
1 - مشكلات القرآن - لإمام العصر، محمد أنور الكشميري رحمه الله.
2 - تحية الإسلام. في حياة عيسى عليه السلام أيضاً له.
3 - خاتم النبيين - أيضاً له.
ومن الحديث: -
1 - نصب الراية - لأحاديث الهداية تأليف الإمام الحافظ العلامة. جمال الدين الزيلعي، في - أربعة أجزاء كبيرة -.
2 - نيل الفرقدين، في مسألة رفع اليدين - لإمام العصر.
3 - كشف الستر. في مسألة الوتر - أيضاً له.
ومن الحقائق: -
1 - البدور البازغة - للإمام الشاه، ولي الله الدهلوي، صاحب حجة الله البالغة
2 - الخير الكثير - أيضاً له.
3 - التفهيمات الإلهية في جزءين - أيضاً له.
4 - المعارف اللدنيّة - للإمام الرباني - المجدد للألف الثاني - الشيخ أحمد السرهندي.
5 - مرقاة الطارم - لحدوث العالم - لإمام العصر.
فهذه وأمثالها مآثر ناصعة للمجلس العلمي ألا وإن بانيه المشار إليه، هو الحاج محمد ابن موسى السِّملكي، ثم الإفريقي. أسسه على عماد التقوى والإخلاص! نجاره شرف الخلق، وشعاره سيما العلم، ودثاره رحابة الصدر.
بَيْدَ أني ألاقى منه متضايق الصدر عند التنويه بشأن من شؤونه، غياباً، أو شفاهاً!
কুরআন বিষয়ক শাস্ত্র হতে: -
১ - মুশকিলাতুল কুরআন - আসরের ইমাম মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলন।
২ - তাহিয়্যাতুল ইসলাম। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জীবন প্রসঙ্গে এটিও তাঁরই রচনা।
৩ - খাতামুন নাবিয়্যিন - এটিও তাঁরই গ্রন্থ।
এবং হাদিস শাস্ত্র হতে: -
১ - নাসবুর রায়াহ - হিদায়া গ্রন্থের হাদিসসমূহের গবেষণামূলক সংকলন; লেখক হলেন হাফিজুল হাদিস আল্লামা জামালুদ্দিন আল-যাইলায়ী; এটি চারটি বৃহৎ খণ্ডে সমাপ্ত।
২ - নাইলুল ফারকাদাইন, সালাতে হাত উত্তোলনের (রাফউল ইয়াদাইন) মাসআলা প্রসঙ্গে - এটি আসরের ইমামের রচনা।
৩ - কাশফুস সিতর, বিতরের নামাজের মাসআলা প্রসঙ্গে - এটিও তাঁরই সংকলন।
এবং আধ্যাত্মিক ও পরম সত্য বিষয়ক শাস্ত্র হতে: -
১ - আল-বুদুরুুল বাজিগাহ - হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ-এর লেখক ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী-এর গ্রন্থ।
২ - আল-খাইরুল কাসীর - এটিও তাঁরই রচনা।
৩ - আত-তাফহীমাতুল ইলাহিয়্যাহ (দুই খণ্ডে) - এটিও তাঁরই গ্রন্থ।
৪ - আল-মাআরিফুল লাদুননিয়্যাহ - ইমামে রাব্বানী, দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ, শাইখ আহমদ সিরহিন্দি-এর কিতাব।
৫ - মিরকাতুত ত্বারিম - জগতের নব্যতা বা সৃষ্টিতত্ত্ব (হুদুসে আলম) প্রসঙ্গে - আসরের ইমামের রচনা।
এগুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য রচনাবলী ‘মজলিসুল ইলমী’-র জন্য সমুজ্জ্বল কীর্তিস্বরূপ। জেনে রাখা উচিত যে, এর যে প্রতিষ্ঠাতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি হলেন আল-হাজ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আস-সিমলাকী, অতঃপর আল-ইফ্রিকী। তিনি একে তাকওয়া ও ইখলাসের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেছেন! উন্নত চরিত্র তাঁর ভূষণ, ইলমের আলামত তাঁর প্রতীক এবং হৃদয়ের প্রশস্ততা তাঁর আবরণ।
তবে আমি লক্ষ্য করি যে, তাঁর অনুপস্থিতিতে কিংবা সরাসরি তাঁর কোনো গুণের প্রশংসা বা আলোচনা করা হলে তিনি অত্যন্ত সংকোচ ও কুণ্ঠা বোধ করেন!
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
اكتب هذه السطور، وأنا في القاهرة، وهو في إفريقيا الجنوبية، والقلب يستشعر بخوف الكدر على قلبه مني، مع صفاء. ولولا هذه الخطرة لبثثت طرفاً من مفاخره التي هو يطويها، ومناقبه التي هو يستنكف عن إفشائها، كأنها مثالب نقص، وصمات عار، وحاشاه عن ذلك. وأصدق ما يحكي حاله وحالي، ما قال أبو الطيب: -
أنا بالوشاة إذا ذكرتك أشبه
… تأتي الندى، ويذاع عنك فتكره
لكن أبى المسك إلا أن تتم به نفحاته. وأبت الشمس إلا أن تلمع في الأنحاء سطعاتها المتشعشعة الحمراء.
أرجو عن سماحة شيمته، ورحابة صدره، أن لا يؤاخذني بهذه الكلمات، حيث جذبها القلم من جذر القلب. وحاشاها أن يشوبها نغص من الإطراء، وكدر من الرياء، وكأنها تناثرت من سنىّ القلم، من غير أن يتجشمها إرادة! ومن شيمة الكرماء حسن الظن، وقبول المعاذير.
وقصارى القول: إن المجلس قام في طفولته بأعباء، لو قام بها في فتوّته لكفاه براعة، وصاحب المجلس انتهض لمهمة دينية في ريعان شبيبته، لو انتهض لها في أوان شيبته لكفاه فضلاً ونباهة في الدنيا، وذخراً في الآخرة، ووجاهة عند الله جل ذكره، وعظم برهانه، وأرجو له التوفيق من الله سبحانه بما تقرّ به عينه، وعيون آهل العلم في أنحاء الأرض، إنه سميع مجيب.
ثم أرى لزاماً عليَّ أن أشكر حُسن قيام صديقنا الفاضل الأستاذ السيد أحمد رضا بن السيد شبير علي البجنوري، بأعباء خدمة هذا المجلس العلمي من كل جهة بحنكة، وبصيرة، وصدق وإخلاص، وهو الذي أصبح هذا المجلس بحسن شؤونه الإدارية، ودأب جهده البالغ في تنميته وترشيحه، يرتقي معارج كماله، بما تطمئن به القلوب، وتثلج به الصدور.
أدعو الله سبحانه أن لا يزال موفقاً لما فيه سكينة لقلبه في الدارين، وراحة لقلوب أهل المجلس، وما ذلك على الله بعزيز.
আমি এই পঙক্তিগুলো লিখছি যখন আমি কায়রোতে এবং তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। হৃদয়ে পরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে তাঁর হৃদয়ে বিরক্তি উদ্রেক করার এক আশঙ্কার অনুভূতি কাজ করছে। যদি এই আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি তাঁর সেই গৌরবময় কার্যাবলির কিছু অংশ প্রকাশ করতাম যা তিনি গোপন রাখেন, এবং তাঁর সেই গুণাবলি বর্ণনা করতাম যা প্রকাশ করতে তিনি সংকোচ বোধ করেন; যেন সেগুলো কোনো দোষ বা লজ্জার বিষয়, অথচ তিনি তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। তাঁর এবং আমার অবস্থার সবচেয়ে সঠিক চিত্রায়ন হলো যা আবু তাইয়্যিব বলেছেন: -
আমি আপনার উল্লেখ করার সময় নিন্দুকদের মতোই হয়ে যাই
… আপনি দান করেন, আর আপনার সম্পর্কে তা প্রচার করা হলে আপনি তা অপছন্দ করেন।
কিন্তু কস্তুরী তার সুবাস ছড়িয়ে দিতে বাধ্য। আর সূর্য চারদিকে তার রক্তিম উজ্জ্বল কিরণ বিচ্ছুরিত করতে বাধ্য।
আমি তাঁর উদার স্বভাব ও প্রশস্ত হৃদয়ের কাছে এই আশা রাখি যে, তিনি আমাকে এই শব্দগুলোর জন্য পাকড়াও করবেন না, যেহেতু কলম হৃদয়ের গভীর থেকে এগুলো টেনে এনেছে। এগুলো চাটুকারিতার মালিন্য এবং লোকদেখানোর কলুষতা থেকে মুক্ত; এগুলো যেন কোনো সদিচ্ছা ছাড়াই কলমের ডগা থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছে! আর মহৎ ব্যক্তিদের স্বভাব হলো সুধারণা পোষণ করা এবং ওজর কবুল করা।
সারকথা হলো: এই মজলিস তার শৈশবকালেই এমন সব গুরুদায়িত্ব পালন করেছে, যা যদি সে তার পূর্ণ যৌবনেও পালন করত তবে তা তার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য যথেষ্ট হতো। আর মজলিসের কর্ণধার তাঁর ভরা যৌবনে এমন এক দ্বীনি মিশনের জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন, যা যদি তিনি তাঁর বার্ধক্যকালেও করতেন তবে তা দুনিয়ায় তাঁর মর্যাদা ও সুখ্যাতির জন্য এবং আখিরাতে পাথেয় হিসেবে এবং আল্লাহ—যাঁর স্মরণ মহিমান্বিত ও যাঁর প্রমাণ মহান—তাঁর নিকট মকবুলিয়তের জন্য যথেষ্ট হতো। আমি আল্লাহ সুবহানাহুর কাছে তাঁর জন্য এমন তাওফীক কামনা করি যা তাঁর চক্ষু এবং সারা বিশ্বের আহলে ইলমদের চক্ষু শীতল করে দেয়। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
অতঃপর আমি আমাদের ফযীলতসম্পন্ন বন্ধু উস্তাদ সাইয়্যেদ আহমদ রেজা বিন সাইয়্যেদ শুব্বীর আলী আল-বাজনোরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক মনে করছি, যিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, সততা ও একনিষ্ঠার সাথে সবদিক থেকে এই মজলিসে ইলমির খিদমতের গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিচ্ছেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যার সুচারু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং এর উন্নতি ও বিকাশে নিরলস প্রচেষ্টার ফলে এই মজলিস তার পূর্ণতার সোপানে আরোহণ করছে, যাতে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় এবং বক্ষসমূহ জুড়িয়ে যায়।
আমি আল্লাহ সুবহানাহুর কাছে দুআ করি তিনি যেন তাকে সর্বদা এমন কাজের তাওফীক দান করেন যাতে উভয় জাহানে তাঁর হৃদয়ে প্রশান্তি এবং মজলিসের লোকদের অন্তরে স্বস্তি অর্জিত হয়। আর এটা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[ترجمة الزيلعي] إلمامة "بترجمة الإمام الحافظ جمال الدين الزيلعي الحنفي" "صاحب نصب الراية - لتخريج أحاديث الهداية"، ولمعة من مزايا كتابه الجليل
هو الإمام - الفاضل البارع، المحدث المفيد، الحافظ المتقن، جمال الدِّين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن محمد بن أيوب بن موسى الحنفي الزيلعي رحمه الله.
الزيلعي - نسبة إلى - زيلع - بلدة على ساحل الحبشة، قاله السيوطي في اللباب.
وإليها نسبة شيخه فخر الدِّين الزيلعي، الفقيه، صاحب تبيين الحقائق - في شرح كنز الدقائق في ست مجلدات كبيرة، ونسب إليها عدة رجال من علماء زيلع الحنفيين، وترجم لبعضهم في كتاب قلادة النحر في وفيات أعيان الدهر1 للشيخ أبي محمد محمد الطيب بن عبد الله من علماء القرن العاشر للهجرة.
قال تقي الدين بن فهد الملكي في ذيل تذكرة الحفاظ - للذهبي: تفقه، وبرع، وأدام النظر والاشتغال، وطلب الحديث، واعتنى به، فانتقى، وخرَّج، وألف، وجمع، وسمع على جماعة من أصحاب النجيب الحراني، ومن بعدهم: كالشهاب أحمد بن محمد بن فتوح التجيبي مسند الإسكندرية.
والشهاب أحمد بن محمد بن قيس الأنصاري فقيه القاهرة والإسكندرية. والشمس محمد بن أحمد بن عثمان بن عدلان شيخ الشافعية وجلال الدِّين أبي الفتوح علي بن عبد الوهاب بن حسن بن إسماعيل بن مظفر بن الفرات الجريري - بضم الجيم - وتقي الدين بن عبد الرزاق بن عبد العزيز بن موسى اللخمي الأسكندري، وتاج الدِّين محمد بن عثمان بن عمر بن كامل البلبيسي، الكارمي الأسكندري، وجمال الدِّين عبد الله بن أحمد بن هبة الله بن البوري، الأسكندري، اهـ.
--------------------------------------------
[যাইলায়ীর জীবনী] "ইমাম হাফিজ জামালুদ্দীন যাইলায়ী হানাফী"-এর জীবনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, যিনি "নাসবুর রাইয়্যাহ লি-তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ"-এর লেখক, এবং তাঁর মহান কিতাবের বৈশিষ্ট্যসমূহের একটি ঝলক।
তিনি হলেন ইমাম - শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, সুনিপুণ মুহাদ্দিস ও হাফিজ, জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুসা হানাফী যাইলায়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
যাইলায়ী - এটি 'যাইলা'-এর দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত - যা হাবাশার (আবিসিনিয়া) উপকূলে অবস্থিত একটি শহর। সুয়ূতী 'আল-লুবাব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
এই শহরের দিকেই তাঁর শায়খ ফখরুদ্দীন যাইলায়ীর সম্পৃক্ততা, যিনি ফকিহ এবং ছয়টি বড় খণ্ডে রচিত 'তাবয়ীনুল হাকায়িক শারহু কানযুদ দাকায়িক'-এর লেখক। যাইলার বহু হানাফী আলেম এই শহরের দিকে সম্পৃক্ত। হিজরি দশম শতাব্দীর আলেম শায়খ আবু মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আত-তয়্যিব ইবনে আবদুল্লাহ রচিত 'কিলাদাতুন নাহর ফি ওয়াফায়াতি আয়ানিদ দাহর'১ কিতাবে তাঁদের কয়েকজনের জীবনী বর্ণিত হয়েছে।
তাকিউদ্দীন ইবনে ফাহাদ মাক্কী যাহাবীর 'তাযকিরাতুল হুফফাজ'-এর পরিশিষ্টে (যাইল) বলেছেন: তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন, পারদর্শিতা লাভ করেছেন, দীর্ঘসময় অধ্যয়ন ও গবেষণায় নিমগ্ন ছিলেন এবং হাদিস অন্বেষণ করেছেন। তিনি এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, হাদিস নির্বাচন করেছেন, তাখরিজ করেছেন, গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন। তিনি নাজীব আল-হাররানীর একদল ছাত্র এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমদের নিকট শ্রবণ করেছেন: যেমন সিকান্দিয়ার মুসনিদ শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ফুতুহ আত-তুজীবি।
এবং শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাইস আল-আনসারী, যিনি কায়রো ও সিকান্দিয়ার ফকিহ ছিলেন; এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে আদলান, যিনি শাফেয়ীদের শায়খ ছিলেন; এবং জালালুদ্দীন আবুল ফুতুহ আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহাব ইবনে হাসান ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুযাফফর ইবনুল ফুরাত আল-জুবাইরি (জীম-এ পেশ বা যম্মাহ যোগে); এবং তাকিউদ্দীন ইবনে আব্দুর রাজ্জাক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুসা আল-লাখমী আল-ইস্কান্দারি; এবং তাজউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে উমর ইবনে কামিল আল-বালবিসি আল-কারমি আল-ইস্কান্দারি; এবং জামালুদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনুল বোরি আল-ইস্কান্দারি। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال تقي الدين أبو بكر التميمي في الطبقات السنية:1 اشتغل وسمع من أصحاب النجيب، وأخذ عن الفخر الزيلعي - شارح الكنز - وعن القاضي علاء الدين التركماني، وغيرهما، ولازم مطالعة كتب الحديث، إلى أن خرَّج أحاديث الهداية، وأحاديث الكشاف، فاستوعب ذلك استيعاباً بالغاً.
قال في الدرر يعني به الحافظ ابن حجر في الدرر الكامنة: ذكر لي - شيخنا العراقي - أنه كان يرافقه في مطالعة الكتب الحديثية، لتخريج الكتب التي كانا قد اعتنيا بتخريجها، فالعراقي لتخريج أحاديث الإحياء، والأحاديث التي يشير إليها الترمذي في الأبواب، والزيلعي لتخريج أحاديث الهداية، والكشاف، فكان كل منهما يعين الآخر، ومن كتاب الزيلعي في تخريج أحاديث الهداية استمد الزركشي في كثير مما كتبه من تخريج أحاديث الرافعي.
وقال ابن العديم، ومن خطه نقلت: شاهدت بخط شيخ الإسلام حافظ الوقت، شهاب الدين أبي الفضل أحمد بن حجر العسقلاني ما صورته - بعد أن ذكر غالب ما نقلناه هنا من الدرر منه -: جمع تخريج أحاديث الهداية، فاستوعب فيه ما ذكره صاحب الهداية من الأحاديث، والآثار في الأصل، وما أشار إليه إشارة، ثم اعتمد في كل باب أن يذكر أدلة المخالفين، ثم هو في ذلك كثير الإنصاف، يحكي ما وجده من غير اعتراض، ولا تعقب غالباً، فكثر إقبال الطوائف عليه، واستوعب أيضاً في تخريج أحاديث الكشاف2 ما فيه من الأحاديث المرفوعة خاصة، فأكثر من تبين طرقها، وتسمية مخرجيها على نمط ما في أحاديث الهداية، لكنه فاته كثير من الأحاديث المرفوعة التي يذكرها الزمخشري بطريق الإشارة، ولم يتعرض غالباً لشيء من الآثار الموقوفة، ورأيت بخطه كثيراً من الفوائد، مفرقاً رحمه الله، وعفا عنه بمنه وكرمه. اهـ انتهى ما حكاه التميمي في طبقاته.
--------------------------------------------
তাকিউদ্দীন আবু বকর আত-তামিমি 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেন: ১ তিনি নাজিবের সাথীদের কাছে জ্ঞানার্জন করেন এবং তাদের নিকট হাদিস শোনেন। তিনি 'কানজ'-এর ব্যাখ্যাকার ফখর আয-যাইলায়ি এবং কাজি আলাউদ্দীন আত-তুর্কমানি ও অন্যদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেন। তিনি হাদিসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত থাকেন, এমনকি তিনি 'হিদায়া' ও 'কাশশাফ'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) সম্পন্ন করেন এবং এতে তিনি অত্যন্ত পূর্ণতা লাভ করেন।
তিনি 'আদ-দুরার' গ্রন্থে অর্থাৎ হাফেজ ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে বলেন: আমাদের শায়খ আল-ইরাকি আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা যে কিতাবগুলোর তাখরিজের কাজে যত্নশীল ছিলেন, সেগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে হাদিসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের সময় তিনি তাঁর (যাইলায়ির) সাথে থাকতেন। ইরাকি 'ইহয়া'-এর হাদিসসমূহ এবং ইমাম তিরমিজি যে সকল হাদিসের দিকে অনুচ্ছেদগুলোতে ইশারা করেছেন সেগুলোর তাখরিজের কাজ করতেন, আর যাইলায়ি 'হিদায়া' ও 'কাশশাফ'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজের কাজ করতেন। তাঁদের প্রত্যেকেই অপরজনকে সাহায্য করতেন। যাইলায়ির 'হিদায়া'-র হাদিসসমূহের তাখরিজ গ্রন্থ থেকেই ইমাম যারকাশি ইমাম রাফেয়ি বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ বিষয়ে তাঁর অধিকাংশ লেখা গ্রহণ করেছেন।
ইবনুল আদিম বলেন এবং আমি তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি: আমি সমকালীন হাফেজ, শায়খুল ইসলাম শিহাবুদ্দীন আবুল ফজল আহমদ ইবনে হাজার আসকালানির নিজ হাতের লেখায় যা দেখেছি তা নিম্নরূপ—এখান থেকে 'আদ-দুরার'-এর অধিকাংশ উদ্ধৃতি প্রদান করার পর তিনি বলেন: তিনি 'হিদায়া'-র হাদিসসমূহের তাখরিজ সংকলন করেছেন, এতে তিনি হিদায়ার লেখক মূল কিতাবে যে সকল হাদিস ও আসার (সাহাবী বা তাবেয়িদের বাণী) উল্লেখ করেছেন এবং যেগুলোর দিকে ইশারা করেছেন তার পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। এরপর তিনি প্রতিটি অধ্যায়ে বিপক্ষ মতাবলম্বীদের দলিলসমূহ উল্লেখ করার নীতি অবলম্বন করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করেছেন, তিনি যা পেয়েছেন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি বা খণ্ডন ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। ফলে সকল শ্রেণির আলেমদের কাছে এটি সমাদৃত হয়েছে। তিনি 'কাশশাফ'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজেও২ বিশেষভাবে সেখানের কেবল 'মারফু' হাদিসগুলো সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তিনি 'হিদায়া'-র হাদিসসমূহের তাখরিজের ন্যায় এগুলোর বর্ণনাপথ এবং হাদিস বর্ণনাকারীদের নাম বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে যামাখশারি ইশারার মাধ্যমে যে সকল 'মারফু' হাদিস উল্লেখ করেছেন তার অনেকগুলোই তাঁর নজর এড়িয়ে গেছে এবং তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাওকুফ' আসারসমূহের ব্যাপারে কোনো আলোচনা করেননি। আমি তাঁর হস্তাক্ষরে বিক্ষিপ্তভাবে অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা দেখেছি। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং নিজ অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে তাঁকে ক্ষমা করুন। তামিমি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা এখানেই শেষ হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقال الشيخ جلال الدين السيوطي في ذيل تذكرة الحفاظ - الذهبي سمع من أصحاب النجيب، وأخذ عن الفخر الزيلعي، شارح الكنز، والقاضي علاء الدين بن التركماني، وابن عقيل، وغير واحد، ولازم مطالعة كتب الحديث إلى أن خرَّج أحاديث الهداية، - وأحاديث الكشاف، واستوعب ذلك استيعاباً بالغاً، اهـ، ومثله قال في حسن المحاضرة عند ذكر حفاظ الحديث، ونقاده بمصر ص 151 - ج 1.
قال البحاثة الكبير الأستاذ المحقق الشيخ محمد زاهد الكوثري طال بقاؤه في حواشيه على ذيل ابن فهد: واستمد ابن حجر نفسه في تخاريجه كذلك، وقال الفاضل المحقق الشيخ عبد الحي اللكنوي في الفوائد البهية: به استمد من جاء بعده من شراح الهداية، بل به استمد كثيراً الحافظ ابن حجر في تخاريجه: كتخريج أحاديث شرح الوجيز - للرافعي. وغيره. اهـ. وقال الأستاذ الكوثري: والزيلعي أعلى طبقة من العراقي، وعمله هذا معه - أي مرافقته في التخاريج - يدل على ما كان عليه من الأخلاق الجميلة والتواضع، وتخاريجه شهود صدق على تبحره وسعة إطلاعه في علوم الحديث، من: معانيه، وأسماء رجاله، ومتونه، وطرقه، وقد رزقها الله الانتفاع بها، والتداول بأيدي أهل العلم بالحديث على مدى القرون، وكان بعيداً عن التعصب المذهبي، يحشد الروايات، وقد لا يتكلم فيما له كبير مجال، انتهى كلامه.
قال الراقم: وكأن الأستاذ الكوثري يعّرض إلى كثير من الحفاظ الشافعية، ولا سيما حامل لواءهم في المتأخرين، الحافظ ابن جحر، فإنه بضد الحافظ الزيلعي، يبخس الحنفية حقهم في أمثال هذه المواضع، ويتكلم فيما لا يكون للكلام فيه مجال، ومن دأبه في كتبه - ولا سيما فتح الباري - أنه يغادر حديثاً في بابه مؤيداً للحنفية، مع علمه، ثم يذكره في غير مظانه، لئلا ينتفع به الحنفية.
قال شيخنا إمام العصر، الشيخ محمد أنور الكشميري، ثم الديوبندي رحمه الله تعالى: كان الحافظ جمال الدين الزيلعي، من المشائخ الصوفية، الذين ارتاضت نفوسهم بالمجاهدات والخلوات، وتزكت قلوبهم عن الرذائل والشهوات، كما كان من أكابر المحدثين الحفاظ، بحور العلم والحديث، وترى من آثار تزكية نفسه أنه لا يتعصب لمذهبه شيئاً، بل يمشي مع الخصوم، ويسايرهم بغاية الإنصاف.
শাইখ জালালুদ্দীন সুয়ূতী 'যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ' গ্রন্থে বলেন— আয-যাহাবী আন-নাজীবের সঙ্গীদের থেকে শুনেছেন, এবং আল-কানয-এর ব্যাখ্যাকার আল-ফখর আয-যাইলায়ী, কাযী আলাউদ্দীন ইবনুত তুর্কমানী, ইবনু আকীল এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ইলমে হাদীসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকতেন, শেষ পর্যন্ত তিনি 'হিদায়া' ও 'কাশশাফ'-এর হাদীসসমূহ বিশ্লেষণ ও সংকলন (তাখরীজ) করেছেন এবং অত্যন্ত গভীরভাবে তা সম্পন্ন করেছেন। সমাপ্ত। অনুরূপ কথা তিনি 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ১৫১ পৃষ্ঠায় মিশরের হাদীসের হাফেয ও সমালোচকদের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন।
মহান গবেষক ও মুহাক্কিক শাইখ মুহাম্মাদ যাহিদ আল-কাওসারী—তাঁর আয়ু দীর্ঘ হোক—ইবনু ফাহাদের 'যাইল'-এর ওপর তাঁর টীকাগ্রন্থে বলেন: ইবনু হাজার নিজেও তাঁর তাখরীজসমূহ থেকে একইভাবে সাহায্য নিয়েছেন। ফাযেল গবেষক শাইখ আব্দুল হাই লাখনভী 'আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেন: তাঁর পরবর্তী হিদায়ার ব্যাখ্যাকারগণ তাঁর থেকে সাহায্য নিয়েছেন, বরং হাফেজ ইবনু হাজার তাঁর তাখরীজসমূহে—যেমন রাফিয়ীর 'শারহুল ওয়াজিজ'-এর হাদীসের তাখরীজে—তাঁর থেকে অনেক সাহায্য নিয়েছেন। সমাপ্ত। উস্তাদ কাওসারী আরও বলেন: যাইলায়ী (হাফেয) ইরাকীর চেয়েও উঁচু স্তরের, আর ইরাকীর সাথে তাঁর এই কাজ—অর্থাৎ তাখরীজের ক্ষেত্রে তাঁর সাহচর্য—তাঁর উন্নত চরিত্র ও বিনয়ের প্রমাণ দেয়। তাঁর তাখরীজসমূহ হাদীসের মর্মার্থ, রাবীদের নাম, মতন এবং সূত্রের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের সত্য সাক্ষী। আল্লাহ তাআলা যুগ যুগ ধরে হাদীস বিশারদদের মাধ্যমে এই কাজগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করেছেন। তিনি মাযহাবী গোঁড়ামি থেকে মুক্ত ছিলেন, বর্ণনাসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংকলন করতেন এবং যেখানে খুব একটা প্রয়োজন নেই সেখানে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতেন না। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
লেখক বলেন: মনে হচ্ছে উস্তাদ কাওসারী শাফেয়ী মাযহাবের অনেক হাফেযের দিকে ইঙ্গিত করছেন, বিশেষ করে পরবর্তী যুগের তাঁদের পতাকাবাহী হাফেয ইবনু হাজার। কারণ তিনি হাফেয যাইলায়ীর সম্পূর্ণ বিপরীত; তিনি এই ধরণের স্থানে হানাফীদের প্রাপ্য অধিকার খর্ব করেন এবং এমন বিষয়ে কথা বলেন যেখানে কথা বলার অবকাশ থাকে না। তাঁর কিতাবসমূহে—বিশেষ করে ফাতহুল বারীতে—তাঁর অভ্যাস হলো তিনি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে হানাফীদের সপক্ষের কোনো হাদীস জানা সত্ত্বেও তা এড়িয়ে যান এবং পরে অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক স্থানে তা উল্লেখ করেন, যাতে হানাফীরা তা থেকে উপকৃত হতে না পারে।
আমাদের শাইখ, যুগের ইমাম, শাইখ মুহাম্মাদ আনোয়ার কাশ্মীরী, অতঃপর দেওবন্দী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: হাফেয জামালুদ্দীন যাইলায়ী ছিলেন এমন একজন সুফী শাইখ, যাঁদের নফস মুজাহাদা ও নির্জন সাধনার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত এবং যাঁদের অন্তর পঙ্কিলতা ও কুপ্রবৃত্তি থেকে পবিত্র। তেমনিভাবে তিনি ছিলেন হাফেয হাদীসদের অন্যতম এবং ইলম ও হাদীসের সমুদ্র। তাঁর আত্মশুদ্ধির প্রভাব হিসেবে দেখা যায় যে, তিনি নিজের মাযহাবের ব্যাপারে কোনো গোঁড়ামি করতেন না, বরং অত্যন্ত ইনসাফের সাথে বিপক্ষীয়দের মতের সাথে চলতেন এবং তাঁদের সাথে সহাবস্থান করতেন।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وبمثل هذه الميزة امتاز الشيخ الحافظ، تقي الدِّين بن دقيق العيد، رحمه الله، بين علماء عصره، وكان هو أيضاً من أكابر الصوفية، صاحب كرامات، لا يتعصب لأهل مذهبه، وربما يقصد في تحقيقه إفادة الحنفية وتأييدهم، وحاشاه أن يبخس حقهم، ومثله منا - في الجمع بين طريقة القوم، وبين علوم الشريعة، ثم النَّصَفة والعدل - الشيخ المحقق ابن الهمام، صاحب فتح القدير، وهذا بخلاف الحافظ ابن حجر، فيتطلب دائماً مواقع العلل، ويتوخى مواضع الوهن من الحنفية، ولا يأتي في أبحاثه ما يفيد الحنفية، ويقول شيئاً، وهو يعلم خلاف ذلك، ولا يليق بجلالة قدره ذلك الصنيع، وحاشاي أن أغض من قدر الحافظ ابن حجر الذي يستحقه، وإنما هي حقائق ناصعة، ووقائع ثابتة، يجب على الباحث الناقد أن يعرفها، عفا الله عنه، وبدل سيئاته حسنات.
وسمعت منه رحمه الله: أن الشيخ ابن الهمام كل ما ذكره في فتحه من أدلة مذهبنا، مستفاد من تخريج الإمام الزيلعي، ولم يزد عليه دليلاً، إلا في ثلاثة مواضع: منها مسألة المهر، وقدر ما يجب.
وأفادني الأستاذ الكوثري: أن من مؤلفات الإمام الزيلعي مختصر معاني الآثار للطحاوي، وهو من محفوظات مكتبة - رواق الأتراك - بالأزهر، والكوبريلي - بالآستانة - اهـ.
أما وفاة هذا الإمام الجليل، فقد اتفقت كلمتهم، ممن ترجم له - كابن ابن حجر. وابن فهد. والسيوطي. والتميمي. والكفوي - على وفاته في المحرم سنة اثنتين، وستين، وسبعمائة - 726 - هجرية، وزاد ابن فهد تعيينه: بالحادي عشر من المحرم، ولم يتعرض أحد منهم، لذكر تاريخ ولادته، ولم أظفر بها، مع تتبع، ودفن بالقاهرة، واتفقت به كلمة من تعرض لوفاته، والعجب أنه لم يعين أحد قبره، ولا جهته، من أصحاب التراجم، ورجال الطبقات، والمؤلفين، في خطط القاهرة، وآثار مصر: كالمقريزي. وغيره، والمتصدين لذكر مزارات الأولياء، وقبور الصالحين بالقاهرة، كالسخاوي. وغيره، إلا أن علي باشا مبارك في الخطط التوفيقية ذكر عند ذكر، شارع باب الوزير، في: ص 103 - ج 2، عطفة الزيلعي، وقال: عرفت بضريح الشيخ الزيلعي المدفون بها، اهـ. ولم يعينه من هو، فوصلت إلى العطفة المذكورة الواقعة في - شارع المحجر - برفاقة صديقي المحترم، الشيخ عبد المجيد الدسوقي عطية، وبمساعدة الأستاذ الفاضل إبراهيم بن مختار الزيلعي، فألقينا في آخر العطفة بيتاً مغلقاً، واطلعنا إلى شباكه، فإذا هو مكتوب على غلاف المرقد الشريف:
এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই শাইখ হাফেজ তাকিউদ্দীন বিন দাকীক আল-ঈদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে স্বতন্ত্র মর্যদা লাভ করেছিলেন। তিনি মহান সূফী সাধকদের অন্তর্ভুক্ত এবং কারামাতের অধিকারী ছিলেন। তিনি নিজ মাযহাবের লোকেদের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন না। এমনকি অনেক সময় গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য থাকত হানাফী মাযহাবকে উপকৃত করা ও সমর্থন প্রদান করা। তাদের প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করা থেকে তিনি বহু দূরে ছিলেন। সূফীদের পথ ও শরীয়তের ইলমের সমন্বয় সাধন, এবং নিরপেক্ষতা ও ইনসাফের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যকার অনুরূপ ব্যক্তিত্ব হলেন 'ফাতহুল কদীর' গ্রন্থের লেখক শাইখ আল-মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম। কিন্তু হাফেজ ইবনে হাজারের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। তিনি সর্বদা হানাফীদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ান এবং তাদের দুর্বল দিকগুলো অন্বেষণ করেন। তাঁর গবেষণায় হানাফীদের জন্য কল্যাণকর কিছু আসে না। এমনকি তিনি এমন কিছু বলেন যা তাঁর জানামতে সত্যের বিপরীত ছিল। তাঁর সুউচ্চ মর্যদার সাথে এ ধরনের আচরণ মোটেও শোভা পায় না। হাফেজ ইবনে হাজারের প্রাপ্য মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই। বরং এগুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট বাস্তবতা ও প্রতিষ্ঠিত ঘটনা, যা একজন সমালোচক গবেষকের জানা আবশ্যক। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর ভুলগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দিন।
আমি তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) নিকট শুনেছি যে, শাইখ ইবনুল হুমাম তাঁর 'ফাতহ' গ্রন্থে আমাদের মাযহাবের প্রমাণাদি হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা ইমাম যাইলায়ীর 'তাখরীজ' থেকে গৃহীত। তিনি সেখানে মাত্র তিনটি স্থান ছাড়া নতুন কোনো দলিল যোগ করেননি; যার একটি হলো মোহরানা এবং তার পরিমাণের মাসআলা।
উস্তাদ আল-কাওসারী আমাকে জানিয়েছেন যে, ইমাম যাইলায়ীর অন্যতম সংকলন হলো ইমাম তহাবীর 'মাআনী আল-আসার'-এর সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার)। এটি আল-আযহারের 'রিওয়াকুল আতরাক' লাইব্রেরিতে এবং ইস্তাম্বুলের 'কোপরুলু' লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিসম্মত সংগ্রহশালায় বিদ্যমান।
এই মহান ইমামের মৃত্যুর ব্যাপারে তাঁর জীবনীকারগণ—যেমন ইবনে হাজার, ইবনে ফাহাদ, সুয়ূতী, তামীমী এবং কাফওয়ী—একমত হয়েছেন যে, তিনি হিজরী সাতশত বাষট্টি (৭৬২) সনের মহররম মাসে ইন্তেকাল করেন। ইবনে ফাহাদ সুনির্দিষ্টভাবে তারিখ উল্লেখ করেছেন ১১ই মহররম। তাঁদের কেউই তাঁর জন্মতারিখ উল্লেখ করেননি এবং অনেক অনুসন্ধানের পরও আমি তা খুঁজে পাইনি। তিনি কায়রোতে সমাহিত হন এবং এ ব্যাপারে তাঁর জীবনীকারগণ একমত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কায়রোর মানচিত্র ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ওপর গ্রন্থ রচনাকারীদের মধ্যে কেউ, যেমন মাকরীযী ও অন্যান্যরা, অথবা কায়রোর ওলী-আওলিয়া ও নেককারদের মাযার বর্ণনাকারীরা, যেমন সাখাবী ও অন্যান্যরা, তাঁর কবরের স্থান বা দিক নির্দিষ্ট করেননি। তবে আলী পাশা মুবারক তাঁর 'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ' গ্রন্থে 'বাবুল ওয়াযীর' সড়কের বর্ণনায় (২য় খণ্ড, ১০৩ পৃষ্ঠা) 'আতফাতুল যাইলায়ী' (যাইলায়ী গলি) এর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি সেখানে সমাহিত শাইখ যাইলায়ীর মাজারের কারণে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি যে সেই যাইলায়ী কে। অতঃপর আমি আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু শাইখ আব্দুল মাজীদ আদ-দাসূকী আতিয়্যাহর সাহচর্যে এবং গুণী উস্তাদ ইব্রাহীম বিন মুখতার যাইলায়ীর সহযোগিতায় 'শারীউল মাহজার'-এ অবস্থিত উল্লিখিত গলিতে পৌঁছি। সেখানে আমরা গলির শেষ প্রান্তে একটি বন্ধ ঘর দেখতে পাই এবং তার জানাল দিয়ে ভেতরে দৃষ্টিপাত করি। সেখানে সেই সম্মানিত সমাধির গিলাফের ওপর লেখা ছিল:
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
هذا مقام الإمام عبد الله الزيلعي، وكان خارج البيت فوق الباب، كتابة في حجر منحوتة، فقرأنا فيه كلمة: عبد الله، وكلمة الزيلعي، ولكن كان في القلب شيء، فاستظهرت بالأستاذ حسن قاسم عالم هذه الآثار فذهب وقرأ اللوح، بعد أن أتعب نفسه، فإذا هو أبو عبد الله، فاتضح أنه غيره، ثم الأستاذ حسن قاسم يجزم بأن ضريحه بقرافة القاهرة، بباب النصر، بَيْدَ أنه اندثرت المقبرة هنا، فلا يعرف اليوم قبر أحد، والله أعلم.
خصائص هذا الكتاب الجليلقد سمعت أقوال علماء الأمة، وحفاظ الحديث في حق المؤلف، الإمام الحافظ الجهبذ، وأغنتنا كلماتهم الموجزة عن الإطناب في مدحه، بَيْدَ أني أحاول أن أشير إلى لمعة من خصائص مؤلفه هذا، نصب الراية - لتخريج أحاديث الهداية، ليكون من بدء الأمر، بصيرةً لأولي الأبصار، وبصراً لأرباب البصائر، فيقع الكتاب في جذر قلوبهم، بانبلاج وانشراح. فمن خصائص هذا الكتاب، أنه - كما أصبح ذخيرة نادرة للمذهب الحنفي - كذلك أصبح ذخيرة ثمينة لأرباب المذاهب الأخرى، من المالكي. والشافعي. والحنبلي، فكما أن الحنفية يفتقرون إليه في التمسك بعراها الوثيقة، كذلك أصحاب سائر المذاهب لا يستغنون عنه أبداً.
ولا بدع لو قلت: إنه دائرة المعارف العامة، لأدلة فقهاء الأمصار، حيث أحاط بأدلتها، فلا يرى الباحث فيها بخساً ولا رهقاً.
ومنها: - أن هذا الكتاب الفذّ، خدمة جليلة للأحاديث النبوية - على صاحبها الصلوات والتحيات - أكثر مما هو خدمة للمذهب الحنفي، فليكن أمام الباحث الحثيث، أنه كما يحتاج إليه الفقيه المتمسك بالمذهب، كذلك يحتاج إليه المحدث، فأصبح مقياساً ونبراساً للفقهاء، والمحدثين.
ومنها - أنه نفع الأمة في الأحاديث، بتعقبها بجرح وتعديل، مع سرد الأسانيد، ثم ذكر فقه الحديث وفوائده، فالفقيه البارع، يفوز بأربه من فقه الحديث، والمحدث الجهبذ، يقضي وطره من أحوال الرواة، ولطائف الأخبار، والتحديث.
ومنها - أنه وصل إلينا - بواسطة هذا العلق النفيس - نقول: من الكتب القيِّمة في
এটি ইমাম আবদুল্লাহ আয-যাইলায়ীর মাকাম (স্থান), যা ঘরের বাইরে দরজার উপরে ছিল, একটি খোদাই করা পাথরে লেখা ছিল। আমরা তাতে 'আবদুল্লাহ' শব্দ এবং 'আয-যাইলায়ী' শব্দ দুটি পাঠ করি। তবে মনে কিছুটা সংশয় ছিল, তাই আমি এই সকল প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ উস্তাদ হাসান কাসিমের সাহায্য গ্রহণ করি। তিনি সেখানে যান এবং অনেক কষ্ট করে ফলকটি পাঠ করেন। দেখা গেল সেটি হলো 'আবু আবদুল্লাহ'। ফলে স্পষ্ট হলো যে তিনি সেই ব্যক্তি (ইমাম যাইলায়ী) নন। অতঃপর উস্তাদ হাসান কাসিম নিশ্চিতভাবে বলেন যে, তাঁর সমাধি কায়রোর কারাফায় বাবুন নাসর নামক স্থানে অবস্থিত। তবে এখানকার কবরস্থানটি বিলীন হয়ে গেছে, তাই আজ সেখানে কারও কবরের পরিচয় জানা যায় না। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এই মহান কিতাবটির বৈশিষ্ট্যসমূহআপনি উম্মাহর আলেমগণ এবং হাদিস বিশারদদের উক্তি এই মহান ইমাম ও দক্ষ হাফেযের শানে শুনেছেন। তাঁদের এই সংক্ষিপ্ত বাণীসমূহ তাঁর প্রশংসায় দীর্ঘ আলোচনা করা থেকে আমাদের অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। তবে আমি তাঁর এই গ্রন্থ 'নাসবুর রায়াহ লি তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ'-এর কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রতি আলোকপাত করার চেষ্টা করব, যাতে এটি শুরু থেকেই চক্ষুষ্মান ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি এবং জ্ঞানপিপাসুদের জন্য পাথেয় হয়। ফলে কিতাবটি তাদের হৃদয়ের মূলে উন্মোচন ও প্রশান্তির সাথে গেঁথে যাবে। এই কিতাবটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যেমন হানাফী মাযহাবের জন্য একটি বিরল ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে, তেমনি অন্যান্য মাযহাব—মালিকী, শাফেয়ী এবং হাম্বলী—অনুসারীদের জন্য এক মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। হানাফীরা যেমন তাদের মজবুত দালিলিক ভিত্তি আঁকড়ে ধরার জন্য এর মুখাপেক্ষী, তেমনি অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীরাও এটি থেকে কখনও অমুখাপেক্ষী হতে পারবে না।
আমি যদি বলি যে এটি বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের দলীলসমূহের একটি সাধারণ বিশ্বকোষ, তবে তাতে কোনো অতিশয়োক্তি হবে না। কারণ এটি তাঁদের দলীলসমূহকে এমনভাবে পরিবেষ্টন করেছে যে, কোনো গবেষক এতে কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা পাবেন না।
এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো: এই অনন্য কিতাবটি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের এক মহান খিদমত—তাঁহার ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক—যা হানাফী মাযহাবের খিদমতের চেয়েও অধিক। তাই একনিষ্ঠ গবেষকের সামনে এটি স্পষ্ট থাকা উচিত যে, মাযহাব অনুসরণকারী একজন ফকিহের যেমন এটি প্রয়োজন, একজন মুহাদ্দিসেরও এটি ঠিক তেমনই প্রয়োজন। ফলে এটি ফকিহ এবং মুহাদ্দিস উভয়ের জন্যই একটি মাপকাঠি ও আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।
এর আরেকটি দিক হলো—এটি হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে উম্মাহর প্রভূত উপকার করেছে; হাদিসসমূহের জারহ ও তা'দিল (সমালোচনা ও যাচাই) করার মাধ্যমে, সনদসমূহ বিস্তারিত উল্লেখ করার মাধ্যমে এবং এরপর হাদিসের ফিকহ ও এর ফায়দাসমূহ বর্ণনা করার মাধ্যমে। ফলে একজন দক্ষ ফকিহ হাদিসের ফিকহ থেকে তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন, আর একজন প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস রাবীদের অবস্থা, সংবাদের সূক্ষ্ম দিকসমূহ এবং হাদিস বর্ণনার পদ্ধতিসমূহ থেকে তার প্রয়োজন মিটাতে পারেন।
এর অন্যতম একটি দিক হলো—এই মূল্যবান রত্নভাণ্ডারের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে এমন সব মূল্যবান কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি যা...
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث، التي أصبحت بعيدة شاسعة عن متناول أيدي أهل العلم، وأبحاث سامية فيما يتعلق بالرجال، من كتب أضاعتها يد الحدثان، ولا نرى لها عيناً، غير أثر في الكتب الأثرية، وكتب الطبقات والتراجم، من ذكر أسمائها: كصحيح - أبي عوانة. وصحيح - ابن خزيمة. وصحيح - ابن حيان. وصحيح - ابن السكن. ومصنف - ابن أبي شيبة. ومصنف - عبد الرزاق. وكثير من المسانيد. والسنن. والمعاجم، وككتاب الاستذكار، والتمهيد - لابن عبد البر، وكتاب المعرفة، والخلافيات - للبيهقي، وعدة كتب من تصانيف أبي بكر الخطيب البغدادي، وكتب ابن عدي، وكتب ابن أبي حاتم. وغيرهم.
ومن كتب المتأخرين، ككتاب الإلمام، والإمام - للحافظ تقي الدين بن دقيق العيد، وكتب ابن الجوزي كجامع المسانيد، والعلل المتناهية، وكتاب التحقيق، وغيرها من كتب أعلام الأمة، ومعالم الإسلام.
ومنها - أنه نرى فيه كلمات في موضوع الجرح والتعديل، من أئمة الفن، وجهابذة الحديث، ونقدة الرجال، ما لا نشاهده في الذخيرة التي بين أيدينا، من كتب أسماء الرجال المطبوعة المتداولة، بحيث لو أفردت منه جزء مجموع، لأصبح كتاباً ضخماً في الموضوع.
فهذه خصائص عندي، كلها على حيالها، مزايا على حدة، واليك فائدة من فوائد كتابه، تمثيلاً لما قلته.
فائدة: ومجرد الكلام في الرجل لا يسقط حديثه، ولو اعتبرنا ذلك لذهب معظم السنة، إذ لم يسلم من كلام الناس، إلا من عصمه الله، بل خرج في "الصحيح" لخلق ممن تكلم فيهم، ومنهم جعفر بن سليمان الضبعي. والحارث بن عبد الأيادي. وأيمن بن نابل الحبشي. وخالد بن مخلد القطواني. وسويد بن سعيد الحرثاني. ويونس بن أبي إسحاق السبيعي. وغيرهم، ولكن صاحبا الصحيح رحمهما الله إذا أخرجا لمن تكلم فيه، فإنهم ينتقون من حديثه ما توبع عليه، وظهرت شواهده، وعلم أن له أصلاً، ولا يروون ما تفرد به، سيما إذا خالفه الثقات، كما أخرج مسلم لأبي أويس حديث: قسمت الصلاة بيني وبين عبدي: لأنه لم يتفرد به، بل رواه غيره من الأثبات، كمالك، وشعبة، وابن عيينة، فصار حديثه متابعة، وهذه العلة راحت على كثير ممن استدرك على
হাদিসের সেই কিতাবসমূহ, যা বর্তমান আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) নাগাল থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। এতে রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের উচ্চতর গবেষণা রয়েছে এমন সব কিতাব থেকে যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। আমরা সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব দেখি না, কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহ এবং তাবাকাত ও জীবনীগ্রন্থগুলোতে সেগুলোর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন: সহীহ আবু আওয়ানা, সহীহ ইবনে খুযাইমা, সহীহ ইবনে হাইয়ান, সহীহ ইবনে সাকান, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, এবং অসংখ্য মুসনাদ, সুনান ও মা'জাম গ্রন্থসমূহ। এছাড়া ইবনুল বার-এর আল-ইসতিযকার ও আত-তামহীদ, আল-বায়হাকীর কিতাবুল মা'রিফা ও আল-খিলাফিয়্যাত এবং আবু বকর খতীব আল-বাগদাদীর বেশ কিছু কিতাব, ইবনে আদী ও ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যান্যদের কিতাবসমূহ।
পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে হাফেজ তাকীউদ্দিন ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর আল-ইলমাম ও আল-ইমাম, এবং ইবনুল জাওযীর কিতাবসমূহ যেমন জামিউল মাসানীদ, আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ, কিতাবুত তাহকীক এবং উম্মাহর বরেণ্য আলেম ও ইসলামের দিকপালদের অন্যান্য কিতাবসমূহ।
এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে আমরা জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) বিষয়ে এই শিল্পের ইমামগণ, হাদিস বিশারদ এবং রিজাল শাস্ত্রের সমালোচকদের এমন সব বক্তব্য দেখতে পাই, যা আমাদের হাতে থাকা প্রচলিত ও মুদ্রিত রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে পরিলক্ষিত হয় না। যদি এ থেকে একটি সংকলিত অংশ পৃথক করা হতো, তবে এই বিষয়ে তা একটি বিশাল গ্রন্থে পরিণত হতো।
এগুলো আমার নিকট এমন সব বৈশিষ্ট্য, যার প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে একেকটি মর্যাদা। আমি যা বলেছি তার উদাহরণ হিসেবে এই কিতাবের অন্যতম একটি ফায়দা (উপকারিতা) নিচে তুলে ধরা হলো।
ফায়দা: কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কেবল নেতিবাচক সমালোচনা তার হাদিসকে বাতিল করে দেয় না। যদি আমরা তা গণ্য করতাম, তবে সুন্নাহর অধিকাংশ অংশই হারিয়ে যেত। কেননা মানুষের সমালোচনা থেকে কেবল তারাই বেঁচে আছেন যাদের আল্লাহ রক্ষা করেছেন। বরং "সহীহ" গ্রন্থে এমন অনেক লোকের বর্ণনা এসেছে যাদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন: জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ী, হারিস ইবনে আবদ আল-আইয়াদী, আয়মান ইবনে নাবিল আল-হাবাশী, খালিদ ইবনে মাখলাদ আল-কাতওয়ানী, সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ আল-হারসানী, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক আস-সাবিঈ এবং আরও অনেকে। তবে "সহীহ" গ্রন্থদ্বয়ের লেখকগণ (ইমাম বুখারী ও মুসলিম) —আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন— যখন এমন কোনো ব্যক্তির হাদিস বর্ণনা করেন যার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তখন তাঁরা তার হাদিস থেকে সেগুলোই নির্বাচন করেন যা অন্য বর্ণনাকারী কর্তৃক সমর্থিত (মুতাবা'আহ), যার সাক্ষ্য (শাওয়াহিদ) বিদ্যমান এবং যার ভিত্তি আছে বলে জানা যায়। তাঁরা এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করেন না যাতে সেই বর্ণনাকারী একক (তাফাররুদ), বিশেষ করে যখন সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) বিরোধিতা করে। যেমন ইমাম মুসলিম আবু উওয়াইস থেকে "আমি আমার ও আমার বান্দার মাঝে নামাজকে ভাগ করেছি" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; কারণ এটি তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি, বরং মালেক, শু'বা ও ইবনে উইয়াইনার মতো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণও এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে তার হাদিসটি সমর্থিত (মুতাবা'আহ) হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর এই সূক্ষ্ম বিষয়টি তাদের অনেকেরই নজর এড়িয়ে গেছে যারা আপত্তি তুলেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
"الصحيحين" فتساهلوا في استدراكهم، ومن أكثرهم تساهلاً، الحاكم أبو عبد الله في كتابه المستدرك، فإنه يقول: هذا حديث على شرط الشيخين، أو أحدهما، وفيه هذه العلة، إذ لا يلزم من كون الراوي محتجاً به في الصحيح أنه إذا وجد فبي أي حديث، كان ذلك الحديث على شرطه لما بيناه، بل الحاكم كثيراً ما يجيء إلى حديث لم يخرج لغالب رواته في الصحيح، كحديث روي عن عكرمة عن ابن عباس، فيقول فيه: هذا حديث على شرط البخاري يعني لكون البخاري أخرج لعكرمة، وهذا أيضاً تساهل، وكثيراً ما يخرج حديثاً بعض رجاله للبخاري، وبعضهم لمسلم، فيقول: هذا على شرط الشيخين، وهذا أيضاً تساهل، وربما جاء إلى حديث فيه رجل قد أخرج له صاحبا الصحيح عن شيخ معين لضبطه حديثه وخصوصيته به، ولم يخرجا حديثه عن غيره لضعفه فيه، أو لعدم ضبطه حديثه، أو لكونه غير مشهور بالرواية عنه، أو لغير ذلك، فيخرجه هو عن غير ذلك الشيخ، ثم يقول: هذا على شرط الشيخين، أو البخاري. أو مسلم، وهذا أيضاً تساهل، لأن صاحبي الصحيح لم يحتجا به إلا في شيخ معين، لا في غيره، فلا يكون على شرطهما، وهذا كما أخرج البخاري. ومسلم حديث خالد بن مخلد القطواني عن سليمان بن بلال. وغيره، ولم يخرجا حديثه عن عبد الله بن المثنى، فإن خالداً غير معروف بالرواية عن ابن المثنى، فإذا قال قائل في حديث يرويه خالد بن مخلد عن ابن المثنى: هذا على شرط البخاري. ومسلم، كان متساهلاً، وكثيراً ما يجيء إلى حديث فيه رجل ضعيف، أو متهم بالكذب، وغالب رجاله رجال الصحيح، فيقول: هذا على شرط الشيخين. أو البخاري، أو مسلم، وهذا أيضاً تساهل فاحش، ومن تأمل كتابه المستدرك تبين له ما ذكرناه، قال ابن دحية في كتابه العلم المشهور: ويجب على أهل الحديث أن يتحفظوا من قول الحاكم أبي عبد الله، فإنه كثير الغلط، ظاهر السقط، وقد غفل عن ذلك كثير ممن جاء بعده، وقلده في ذلك.
ثم ذلك إلماع إلى أمهات الخصائص، لا حاجة بنا إلى استيفاء الأطراف، بعد الإِيماض إلى اللباب، فقد أبدى الصريح عن الرغوة، وما يوم حليمة بسر، فنرجو الله سبحانه التوفيق، وإصابة الغرض، ونجاح العمل، والله الموفق.
"সহীহাইন" বা বুখারী ও মুসলিমের মানদণ্ডে অতিরিক্ত হাদীস অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে। তিনি বলেন: "এই হাদীসটি দুই শায়খের (বুখারী ও মুসলিমের) শর্তানুযায়ী অথবা তাদের কোনো একজনের শর্তানুযায়ী", অথচ তাতে ত্রুটি বিদ্যমান থাকে। কেননা, কোনো বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থে দলীলযোগ্য হওয়ার মানেই এই নয় যে, তিনি যে কোনো হাদীসেই থাকুন না কেন, সেই হাদীসটি তাদের শর্তানুযায়ী হবে—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি। বরং হাকিম প্রায়শই এমন হাদীস নিয়ে আসেন যার অধিকাংশ বর্ণনাকারীর হাদীস সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়নি; যেমন ইকরিমা হতে ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত হাদীস। তিনি সেটির ক্ষেত্রে বলেন: "এটি বুখারীর শর্তানুযায়ী", অর্থাৎ যেহেতু বুখারী ইকরিমা থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। এটিও একটি শিথিলতা। আবার অনেক সময় তিনি এমন হাদীস আনেন যার বর্ণনাকারীদের কেউ বুখারীর, আবার কেউ মুসলিমের; তখন তিনি বলেন: "এটি দুই শায়খের শর্তানুযায়ী", এটিও একপ্রকার শিথিলতা। কখনো কখনো তিনি এমন হাদীস নিয়ে আসেন যাতে এমন একজন বর্ণনাকারী থাকে যার হাদীস সহীহ গ্রন্থের লেখকদ্বয় কেবল একজন নির্দিষ্ট শায়খ থেকে গ্রহণ করেছেন—সেই নির্দিষ্ট শায়খের হাদীস সংরক্ষণে তার পারদর্শিতা ও বিশেষত্বের কারণে। কিন্তু তারা সেই বর্ণনাকারীর হাদীস অন্য কোনো শায়খ থেকে গ্রহণ করেননি তার দুর্বলতা, বা যথাযথভাবে হিফজ না থাকা, কিংবা তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ না হওয়া অথবা অন্য কোনো কারণে। কিন্তু হাকিম তাকে সেই অন্য শায়খ থেকেই বর্ণনা করেন এবং বলেন: "এটি দুই শায়খের, অথবা বুখারী বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী"। এটিও শিথিলতা; কারণ সহীহ গ্রন্থের লেখকদ্বয় তাকে কেবল নির্দিষ্ট শায়খের হাদীসের ক্ষেত্রেই দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, অন্য কারো ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং এটি তাদের শর্তানুযায়ী হবে না। যেমন বুখারী ও মুসলিম খালিদ বিন মাখলাদ আল-কাতাওয়ানী'র হাদীস সুলাইমান বিন বিলাল ও অন্যদের সূত্রে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তারা আব্দুল্লাহ বিন আল-মুসান্না'র সূত্রে তার কোনো হাদীস গ্রহণ করেননি। কারণ খালেদ, ইবনে আল-মুসান্নার সূত্র থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিচিত নন। এমতাবস্থায় যদি কেউ খালেদ বিন মাখলাদ কর্তৃক ইবনে আল-মুসান্না থেকে বর্ণিত হাদীসের ব্যাপারে বলে যে, "এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী", তবে সে শিথিলতা প্রদর্শনকারী হিসেবে গণ্য হবে। তদ্রূপ তিনি প্রায়শই এমন হাদীস নিয়ে আসেন যাতে কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী থাকে, অথবা কেউ মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত থাকে, কিন্তু সেই হাদীসের অধিকাংশ বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। তখন তিনি বলেন: "এটি দুই শায়খের, অথবা বুখারী বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী"। এটি অত্যন্ত জঘন্য শিথিলতা। যারা তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তাদের কাছে আমাদের এই বক্তব্যের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইবনু দাহিয়া তাঁর 'আল-ইলমুল মাশহুর' গ্রন্থে বলেন: হাদীস বিশারদদের উচিত হাকিম আবু আবদুল্লাহর বক্তব্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা, কারণ তিনি প্রচুর ভুল করেন এবং তাঁর বিচ্যুতিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর পরবর্তী অনেক আলেম এ বিষয়ে উদাসীন ছিলেন এবং তারা এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন।
অতঃপর এটি ছিল মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত মাত্র। সারকথা বর্ণনা করার পর আমাদের বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। কেননা মূল বিষয়টি এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং যা দিবালোকের মতো স্পষ্ট তা কারো অজানা নয়। সুতরাং আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক, সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো এবং কর্মের সফলতা কামনা করছি। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
تلخيص الكتاب، وتذييله ثم ليُعْلم أن الحافظ ابن حجر قد لخص هذا الكتاب، وسماه الدراية - في تلخيص نصب الراية وسمعت من شيخنا إمام العصر مولانا محمد أنور رحمه الله: أن الحافظ ما أجاد في تلخيصه، كما كان يرجى من براعته في التنقيح والتحرير، وعلو كعبه في التلخيص، وغادر كثيرأ من غرر النقول التي ما كان يحرى تركها، وقد طبع هذا التلخيص مرتين - بالهند -، وسموه في طبعة نصب الراية. وطبع أيضاً على هوامش الهداية.
هذا، وللشيخ المحدث قاسم بن قطلوبغا الحنفي، ذيل على هذا التخريج، سماه: منية الألمعي فيما فات من تخريج أحاديث الهداية - للزيلعي، والأسف أننا مع شدة الاستقراء، لم نظفر بوجوده في مكتبة، والا فكان المجلس العلمي يريد أن يستوفي فائدة الكتاب بهذا الذيل، ليكون درة التاج لهام التخريج، ولعل الله يحدث بعد ذلك امرا.
رواية الكتابيرويه غالب أصحاب الأثبات، بطريق أمين الدِّين الاقصرائي، عن الحافظ شمس الدَّين محمد بن الجزري المقرئ، عن المؤلف الزيلعي، راجع "الأمم لإِيقاظ الهمم".
গ্রন্থের সংক্ষেপণ ও এর পরিশিষ্ট এরপর জেনে রাখা উচিত যে, হাফেজ ইবনে হাজার এই কিতাবটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন ‘আদ-দিরায়া ফী তালখিস নাসবুর রায়াহ’। আমি আমাদের শাইখ, জামানার ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট শুনেছি: হাফেজ ইবনে হাজার তার এই সংক্ষেপণে ততোটা নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারেননি, যতটা তার পরিমার্জন ও সংকলন দক্ষতা এবং সংক্ষেপণের ক্ষেত্রে তার সুউচ্চ মর্যাদা থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তিনি অনেক উজ্জ্বল উদ্ধৃতি ছেড়ে দিয়েছেন যা বাদ দেওয়া সমীচীন ছিল না। এই সংক্ষেপণটি হিন্দুস্তানে দুইবার মুদ্রিত হয়েছে—এবং একটি সংস্করণে তারা একে ‘নসবুর রায়াহ’ নাম দিয়েছেন। এটি ‘আল-হিদায়াহ’-এর টীকা হিসেবেও মুদ্রিত হয়েছে।
এছাড়াও শাইখ মুহাদ্দিস কাসিম ইবনে কুতলুবুগা আল-হানাফীর এই তাখরিজের ওপর একটি পরিশিষ্ট রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: ‘মুনিয়াতুল আলমায়ি ফীমা ফাতা মিন তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ লিজ-যাইলায়ি’। আক্ষেপের বিষয় হলো, ব্যাপক অনুসন্ধান সত্ত্বেও কোনো লাইব্রেরিতে আমরা এটি খুঁজে পাইনি। অন্যথায় আল-মাজলিসুল ইলমি এই পরিশিষ্টের মাধ্যমে কিতাবটির উপযোগিতা পূর্ণাঙ্গ করতে চেয়েছিল, যাতে এটি তাখরিজ শাস্ত্রের মুকুটের মণি হতে পারে। আর সম্ভবত আল্লাহ এরপর নতুন কোনো পথ তৈরি করে দেবেন।
গ্রন্থের বর্ণনা সূত্রঅধিকাংশ সনদ গ্রন্থকারগণ এটি আমিনুদ্দীন আল-আকসারায়ি-এর সূত্রে হাফেজ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল জাযারি আল-মুকরি থেকে, তিনি গ্রন্থকার যাইলায়ি থেকে বর্ণনা করেন। এ প্রসঙ্গে ‘আল-উমাম লি-ইকাজি আল-হিমাম’ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
نتفة من ترجمة صاحب الهداية بعد أن ذكرت ترجمة صاحب تخريج الهداية سنح لي أن ألحق بها ترجمة صاحب الهداية، ليعرف منزلة هذا الإمام علماء غير المذهب الحنفي، فإن الكثرة الغامرة من علماء العصر بحظ ضئيل من معرفة رجال العلم، من غير مذهبهم، وأما أهل مذهبه، ولا سيما علماء الأفغان، والهند، فهو أشهر عندهم من نار على عَلَم.
قال الحافظ بن عبد القادر القرشي في الجواهر المضيئة: علي بن أبي بكر بن عبد الجليل الفرغاني، شبخ الإسلام، برهان الدِّين المرغيناني، العلامة المحقق صاحب الهداية، اهـ.
ولفظ الفاضل اللكنوي في الفوائد البهية: كان إماماً فقيهاً، حافظاً، محدثاً، مفسراً، جامعاً للعلوم، ضابطاً للفنون، متقناً، محققاً، نظاراً، مدققاً، زاهداً، ورعاً، فاضلاً، ماهراً، أصولياً، أديباً، شاعراً، لم تر العيون مثله، في العلم والأدب. وله اليد الباسطة في الخلاف، والباع الممتد في المذهب، اهـ.
مرغينان - بفتح الميم - مدينة من بلاد - فرغانة -، فرغانة - بفتح الفاء -، وراء الشاش، وراء جيحون، وسيحون. وأيضاً، فهي قرية من قرى فارس. قاله اللقرشي.
تفقه على أئمة عصره، كمفتي الثقلين، نجم الدين أبي حفص عمر النسفي. وابنه أبي الليث أحمد النسفي. والصدر الشهيد حسام الدين عمر. والصدر السعيد تاج الدين أحمد. وأبي عمرو عثمان البيكندي تلميذ، شمس الأئمة السرخسي. وغيرهم.
وأقرّ له بالفضل، والتقدم، أهل عصره، كالإمام فخر الدِّين - قاضي خان - وصاحب المحيط، وصاحب الذخيرة. والشيخ زين الدِّين العتابي. وظهير الدِّين البخاري، صاحب الفتاوى الظهيرية، وغيرهم.
فاق شيوخه، وأقرانه، وأذعنوا له كلهم، ولا سيما بعد تصنيفه لكتاب الهداية. وكفاية المنهى. ونشر المذهب.
ومن مؤلفاته أيضاً كتاب المنتقى. والتجنيس والمزيد. ومناسك الحج. ومختارات النوازل. وكتاب في الفرائض. انتهى ملخصاً، وملتقطاً من الجواهر. والفوائد
আল-হিদায়াহ গ্রন্থকারের জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত অংশ তখরিজুল হিদায়াহ গ্রন্থকারের জীবনী উল্লেখ করার পর আমার নিকট সমীচীন মনে হলো যে, এর সাথে আল-হিদায়াহ গ্রন্থকারের জীবনীটিও যুক্ত করি, যাতে হানাফি মাযহাব বহির্ভূত আলেমগণ এই ইমামের মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারেন। কারণ বর্তমান যুগের অধিকাংশ আলেমের নিজ মাযহাবের বাইরের ইলমি ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য। আর তাঁর নিজ মাযহাবের অনুসারীদের কাছে, বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ভারতের আলেমদের নিকট তিনি পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্জ্বলিত আগুনের চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ।
হাফিজ ইবনে আব্দুল কাদির আল-কুরাশি আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়াহ গ্রন্থে বলেছেন: আলী ইবনে আবু বকর ইবনে আব্দুল জলিল আল-ফারগানি, শাইখুল ইসলাম, বুরহানুদ্দিন আল-মারগিনানি, অপ্রতিদ্বন্দ্বী গবেষক ও আল-হিদায়াহ গ্রন্থের রচয়িতা। সমাপ্ত।
ফাযিল আল-লাখনবি আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ গ্রন্থে লিখেছেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, ফকিহ, হাফিজ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, সর্ববিদ্যায় পারদর্শী, বিভিন্ন শিল্পকলায় দক্ষ, সুনিপুণ, গবেষক, তার্কিক, সূক্ষ্মদর্শী, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার, বিদগ্ধ এবং দক্ষ পন্ডিত। তিনি উসুলবিদ, সাহিত্যিক এবং কবি ছিলেন। ইলম ও সাহিত্যের জগতে চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি। মতপার্থক্যমূলক মাসআলাসমূহে তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল এবং মাযহাবের ক্ষেত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল সুদূরপ্রসারী। সমাপ্ত।
মারগিনান—মিম বর্ণে যবর সহকারে—এটি ফারগানা অঞ্চলের একটি শহর। ফারগানা—ফা বর্ণে যবর সহকারে—শাশ অঞ্চলের ওপারে এবং জাইহুন ও সাইহুন নদীর ওপারে অবস্থিত। এটি পারস্যের একটি গ্রামের নামও বটে। এটি আল-কুরাশি উল্লেখ করেছেন।
তিনি তাঁর সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ইমামদের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমন: মুফতিউস সাকালাইন নাজমুদ্দিন আবু হাফস উমর আন-নাসাফি; তাঁর পুত্র আবু লাইস আহমদ আন-নাসাফি; সদরুশ শহীদ হুসামুদ্দিন উমর; সদরুস সাঈদ তাজুদ্দিন আহমদ; এবং শামসুল আইম্মাহ আস-সারাখসির ছাত্র আবু আমর উসমান আল-বাইকান্দি প্রমুখ।
তাঁর সমসাময়িক পন্ডিতগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং অগ্রগামিতার স্বীকৃতি দিয়েছেন, যেমন: ইমাম ফখরুদ্দিন কাদি খান; আল-মুহিত গ্রন্থের রচয়িতা; আয-যাখিরাহ গ্রন্থের রচয়িতা; শাইখ জাইনুদ্দিন আল-আত্তাবি এবং আল-ফাতাওয়াল জুহাইরিয়্যাহ এর লেখক জুহাইরুদ্দিন আল-বুখারি প্রমুখ।
তিনি তাঁর উস্তাদ ও সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁরা সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছিলেন, বিশেষ করে তাঁর আল-হিদায়াহ ও কিফায়াতুল মুনতাহা গ্রন্থ রচনা এবং মাযহাবের জ্ঞান প্রচারের পর।
তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে: আল-মুন্তাকা, আত-তাজনিস ওয়াল মাজিদ, মানাসিকুল হাজ্জ, মুখতারাতুন নাওয়াযিল এবং মিরাস সংক্রান্ত একটি কিতাব। আল-জাওয়াহির এবং আল-ফাওয়াইদ থেকে সংক্ষেপিত ও সংকলিত। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
طبقة المؤلف عده ابن كمال باشا، من أصحاب الترجيح، وبعضهم، من أصحاب التخريج، وقيل: هو من المجتهدين في المذهب، ومال إليه الفاضل اللكنوي، في تعليقاته على الفوائد البهية، توفي رحمه الله، سنة ثلاث وتسعين وخمسمائة - 593 - هـ.
الهداية
صنف كتاباً، سماه بداية المبتدى جمع فيه كتابي: القدوري. والجامع الصغير، للإمام محمد بن الحسن الشيباني، وزاد عليهما مسائل عند الضرورة، ثم شرحه بكتاب سماه كفاية المنهى، في ثمانين مجلداً، ثم اختصره في كتاب، سماه الهداية. صنف الهداية في ثلاث عشرة سنة، وبقي صائماً في عهد تأليفه لهذا الكتاب، لم يطلع على صومه أحد.
قال إمام العصر، المحدث، الشيخ محمد أنور الكشميري الديوبندي رحمه الله: ليس في أسفار المذاهب الأربعة كتاب بمثابة كتاب الهداية في تلخيص كلام القوم، وحسن تعبيره الرائق، والجمع للمهمات في تفقه نفس، بكلمات كلها درر وغرر.
وقال: وقد صدق من قال من بعض أفاضل الشيعة: إن كتب الأدب العربي في المسلمين ثلاثة: التنزيل العزيز. وصحيح البخاري. وكتاب الهداية، اهـ.
وقال: براعة الإنشاء، وفضل الأدب يظهر في إفصاح التعبير الأدبي في غوامض الأبحاث، ومشكلات المسائل، ليست المزية في فصاحة عبارات الحدائق والأزهار، وذكر النسائم، وخرير الأنهار، فإنه باب طَرَقه كل شاعر وكاتب.
وقال: لا يدرك شأو صاحب الهداية في فقهه ألف فقيه، مثل صاحب الدر المختار، فإن صاحب الهداية فقيه النفس، علمه علم الصدر. وعلم صاحب الدر المختار علم الصحف والأسفار، وان البون بينهما لبعيد.
وقال: سألني بعض الفضلاء، هل تقدر على أن تؤلف كتاباً، مثل - فتح القدير، وهو شرح الهادية - في الدقة والتحرير؟ قلت: نعم، قال: ومثل الهداية؟ قلت: كلا، ولو عدة أسطر.
قال الراقم: وناهيك بهذه الكلمات، من هذا الأستاذ الإمام، إمام العصر. في منزلة هذا
লেখকের স্তর ইবনে কামাল পাশা তাঁকে আসহাবুত তারজীহ (পছন্দ নির্ণয়কারী)-দের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁকে আসহাবুত তাখরীজ (মাসআলা আহরণকারী)-দের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মাযহাবের মুজতাহিদগণের অন্তর্ভুক্ত; ফাযেল লখনভী তাঁর 'আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ' গ্রন্থের টীকায় এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন। তিনি পাঁচশত তিরানব্বই (৫৯৩) হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আল-হিদায়া
তিনি একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দেন বিদায়াতুল মুবতাদী। এতে তিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী রহ.-এর আল-কুদূরী ও আল-জামি'উস সাগীর গ্রন্থদ্বয়কে একত্রিত করেছেন এবং প্রয়োজনে কিছু মাসআলা বৃদ্ধি করেছেন। অতঃপর তিনি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন কিফায়াতুল মুনতাহী, যা আশি খণ্ডে সমাপ্ত। পরবর্তীতে তিনি একে সংক্ষেপ করে আল-হিদায়া নামে একটি কিতাব রচনা করেন। তিনি তেরো বছর ধরে আল-হিদায়া রচনা করেন এবং এই কিতাব রচনার পুরো সময়টা তিনি রোজা রেখে অতিবাহিত করেন, তাঁর এই রোজার কথা কেউ জানতে পারেনি।
যুগের ইমাম মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি দেওবন্দী রহ. বলেন: চার মাযহাবের কিতাবসমূহের মধ্যে পূর্বসূরীদের বক্তব্য সংক্ষেপকরণ, চমৎকার ও স্বচ্ছ প্রকাশভঙ্গি এবং মজ্জাগত ফিকহী প্রজ্ঞার সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি একত্রিত করার ক্ষেত্রে আল-হিদায়ার সমতুল্য কোনো কিতাব নেই; যার প্রতিটি শব্দই মুক্তা ও উজ্জ্বল রত্ন সদৃশ।
তিনি আরও বলেন: শিয়াদের জনৈক বিদগ্ধ পণ্ডিত সত্যই বলেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে আরবি সাহিত্যের কিতাব তিনটি: মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, সহীহ আল-বুখারী এবং আল-হিদায়া। সমাপ্ত।
তিনি আরও বলেন: রচনার নিপুণতা এবং সাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্ব তখনই প্রকাশ পায় যখন গভীর গবেষণা এবং জটিল মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রাঞ্জল সাহিত্যিক অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে। বাগান ও ফুল-ফলের বর্ণনায় সাবলীল শব্দ ব্যবহার, মৃদু হাওয়া বা নদীর কলতানের আলোচনা করা কোনো বিশেষত্ব নয়, কারণ এই পথে প্রত্যেক কবি ও লেখকই বিচরণ করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন: ফিকহ শাস্ত্রে আল-হিদায়া রচয়িতার উচ্চতায় 'আদ-দুররুল মুখতার' রচয়িতার মতো হাজার জন ফকীহ্ মিলেও পৌঁছাতে পারবে না। কেননা হিদায়া রচয়িতা ছিলেন সহজাত ফকীহ্ (ফকীহুন নাফস), তাঁর জ্ঞান ছিল হৃদয়ের জ্ঞান। আর 'আদ-দুররুল মুখতার' রচয়িতার জ্ঞান হলো পৃষ্ঠা ও কিতাবের জ্ঞান। উভয়ের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন: জনৈক পণ্ডিত ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি 'ফাতহুল কাদীর' (যা হিদায়ার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এর মতো সূক্ষ্ম ও সুসংবদ্ধ কোনো কিতাব রচনা করতে সক্ষম? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: হিদায়ার মতো? আমি বললাম: কখনোই নয়, এমনকি কয়েক লাইনও নয়।
লেখক বলেন: যুগের ইমাম এই মহান উস্তাদ ও ইমামের এই কথাগুলোই এই কিতাবের উচ্চ মর্যাদা বুঝার জন্য আপনার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الكتاب الجليل، وإنها ليست مجازفة وإطراء، بل خرجت من فكرة دقيقة صائبة، غاصت في دَرَك الكتاب بمكابدة العناء والتعب، فقدَّم درر تحقيقه للقوم التي أخرجها عن دَرَكه بعد برهة من الدهر.
شروح الهداية فقهاً وحديثاًقد ذكر صاحب كشف الظنون من شروح الهداية، والتعليقات عليها، والتخاريج لأحاديثها، قدراً كبيراً يجاوز ستين شرحاً، ولو أخذنا في التحقيق وضم الحواشي والشروح إليه بعد عهد صاحب الكشف، وإلحاق شروحها في اللغة الفارسية، واللغة الأردية، لزدنا على القدر المذكور قدراً غير يسير. ولاستقصاء البحث موضع غير هذا.
وأول شروحها النهاية - لحسام الدين الصغناتي، تلميذ صاحب الهداية، وقيل: غيرها، ومن شروحه الفوائد - لحميد الدين الضرير. ومعراج الدراية - لقوام الدِّين الكاكي. والكفاية في دراية الهداية لعمر بن صدر الشريعة. وغاية البيان، ونادرة الأفران - للإمام قوام الدين أمير كاتب الإتقاني، المتوفى سنة 758 - هـ، صاحب الشامل، شرح أصول البزودي. والبناية - للشيخ بدر الدين الحافظ العيني، شارح صحيح البخاري، المتوفى سنة 855 - هـ. والعناية - للشيخ أكمل الدين البابرتي. والغاية - لأبي العباس السروجي، الإمام المحدث، وتكملته عن الشيخ المحدث، سعد الدين الديري.
وتصدى لتخريج أحاديثها، الحافظ عبد القادر القرشي، المتوفى سنة 775 - هـ، وسماه: العناية في تخريج أحاديث الهداية.
والحافظ البارع، علاء الدِّين علي بن عثمان المارديني، المتوفى سنة 750 - هـ، صاحب الجوهر النقي في الرد على البيهقي، وهو شيخ الحافظ الزيلعي، وسماه الكفاية في معرفة أحاديث الهداية. والحافظ جمال الدين الزيلعي، سماه نصب الراية - لأحاديث الهداية، وقد فرغنا من ترجمته ومزاياه، وذَّيل تخريجه، الحافظ الشيخ قاسم بن قطلوبغا الحنفي، وسماه: منية الألمعي، وتقدم ذكره، وللشيخ مصلح الدين، مصطفى السروري تعليق على شرح ابن الشحنة في التنبيه على أحاديث الهداية، وللحافظ ابن حجر الدراية - في تلخيص نصب الراية، وقد تقدم في - ترجمة الزيلعي -.
وطبع من شروحه فتح القدير - للشيخ ابن الهمام السيواسي بمصر، مع تكملته، وهو من أمتن الشروح، وأبرعها، وطبع بالهند أيضاً. والعناية - للشيخ البابرتي. والكفاية وهما من أحسن شروحها فقهاً، وطبعت هذه الثلاثة بمصر مجموعة. وطبع البناية - للعيني
এই মহান গ্রন্থটি; আর এটি কোনো অতিরঞ্জন বা চাটুকারিতা নয়, বরং এটি একটি সূক্ষ্ম ও সঠিক চিন্তাপ্রসূত কাজ, যা অত্যন্ত কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করে কিতাবটির গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর তিনি কিতাবের গভীর থেকে বের করে আনা তাঁর তাহকিকের (গবেষণার) মণি-মুক্তাগুলো জাতির সামনে পেশ করেছেন।
ফিকহ ও হাদীসের আলোকে হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহকাশফুয যুনুন-এর লেখক হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এর ওপর টীকা এবং এর হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস অনুসন্ধান) বাবদ ষাটেরও অধিক বিশাল এক পরিমাণের কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা যদি লেখক কাশফুয যুনুন-এর পরবর্তী সময়ের হাশিয়া ও শরাহসমূহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ) এবং ফারসি ও উর্দু ভাষার ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে এর সাথে যুক্ত করে তাহকিক করি, তবে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই গবেষণার বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়।
এর প্রথম ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো হিদায়া গ্রন্থকারের ছাত্র হুসামুদ্দীন আস-সিগনাতি রচিত 'আন-নিহায়াহ'; কারো মতে অন্যটি। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে হামিদুদ্দীন আদ-দারীর রচিত 'আল-ফাওয়ায়িদ', কিওয়ামুদ্দীন আল-কাকি রচিত 'মিরাজুদ দিরাইয়াহ', উমর বিন সদরুশ শরীয়াহ রচিত 'আল-কিফায়াহ ফী দিরায়াতিল হিদায়াহ'। এছাড়া ইমাম কিওয়ামুদ্দীন আমীর কাতিব আল-ইতকানি (মৃত্যু ৭৫৮ হিজরী), যিনি উসূলে বাযদাবীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আশ-শামিল'-এর লেখক, তাঁর রচিত 'গায়াতুল বায়ান' ও 'নাদিরাতুল আফ্রান'। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকার হাফেয বদরুদ্দীন আল-আইনী (মৃত্যু ৮৫৫ হিজরী) রচিত 'আল-বিনায়াহ', শেখ আকমালুদ্দীন আল-বাবরতি রচিত 'আল-ইনায়াহ', এবং ইমাম মুহাদ্দিস আবুল আব্বাস আস-সারুজি রচিত 'আল-গায়াহ', যার পরিশিষ্ট লিখেছেন মুহাদ্দিস শেখ সা'দুদ্দীন আদ-দাইরি।
এর হাদীসসমূহের তাখরীজের দায়িত্ব পালন করেছেন হাফেয আব্দুল কাদির আল-কুরাশি (মৃত্যু ৭৭৫ হিজরী), এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন: 'আল-ইনায়াহ ফী তাখরীজি আহাদিসিল হিদায়াহ'।
এবং পারদর্শী হাফেয আলাউদ্দীন আলী বিন উসমান আল-মারদিনি (মৃত্যু ৭৫০ হিজরী), যিনি ইমাম বাইহাকীর খণ্ডনে 'আল-জাওহারুন নাকি' গ্রন্থটি লিখেছেন এবং তিনি হাফেয যাইলায়ীর উস্তাদ। তিনি এর নাম রেখেছেন 'আল-কিফায়াহ ফী মা'রিফাতি আহাদিসিল হিদায়াহ'। হাফেয জামালুদ্দীন যাইলায়ী এর নামকরণ করেছেন 'নাসবুর রায়াহ লি-আহাদিসিল হিদায়াহ'। আমরা ইতিপূর্বেই তাঁর জীবনী ও গুণাবলি আলোচনা শেষ করেছি। তাঁর এই তাখরীজের ওপর হাফেয শেখ কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফী একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন 'মুনিয়াতুল আলমায়ি', যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শেখ মুসলিহুদ্দীন মুস্তফা আস-সারুরি-এর একটি টীকা রয়েছে ইবনে শাহনার ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর 'আত-তানবীহু আলা আহাদিসিল হিদায়াহ' শিরোনামে। আর হাফেয ইবনে হাজার 'নাসবুর রায়াহ'-এর সংক্ষেপণ হিসেবে 'আদ-দিরাইয়াহ' লিখেছেন, যা যাইলায়ীর জীবনী আলোচনায় পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে শেখ ইবনুল হুমাম আস-সিওয়াসি রচিত 'ফাতহুল কাদির' তার পরিশিষ্টসহ মিশরে মুদ্রিত হয়েছে, যা অন্যতম মজবুত ও নিপুণতম ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং এটি ভারতেও মুদ্রিত হয়েছে। শেখ বাবরতি রচিত 'আল-ইনায়াহ' এবং 'আল-কিফায়াহ'—ফিকহী বিচারে এই দুটি অত্যন্ত চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এই তিনটি গ্রন্থ একত্রে মিশরে মুদ্রিত হয়েছে। এবং আল-াইনীর 'আল-বিনায়াহ' মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في الهند، طبعاً سقيماً، وأصبح اليوم نادراً جداً، وهو من أنفع الشروح، حلاً لغوامض الكتاب، ثم جمعا بين أبحاث الفقه، وأبحاث الحديث، وهو يحتاج إلى إعادة الطبع، مع عناية بالتصحيح بالغة، ومما نحن في اشتياق وحاجة شديدة إلى طبعه من الشروح، فيما أرى - غاية البيان - للاتقاني. ومعراج الدراية - لقوام الدِّين الكاكي والغاية - للشيخ أبي العباس السروجي، حافظ الحديث.
قال الراقم: لم يخدم كتاب في الفقه من المذاهب الاربعة، مثل كتاب الهداية، ولم يتفق على شرح كتاب في الفقه، من الفقهاء، والمحدثين، والحفاظ المتقنين، مثل ما اتفقوا عل كتاب الهداية، وناهيك بهذا الإقبال العظيم، وتلقي القوم إياه بالقبول، فمن شراحه من الفقهاء المحدثين، أعلام العصر، وأعيان القوم، مثل الحافظ العيني. وقوام الدِّين الاتقاني. وقوام الدِّين الكاكي، وابن الهمام السيواسي. ومن مخرجيه من جهابذة الحفاظ، مثل المارديني، والزيلعي، والقرشي، وابن حجر. والقاسم بن قطلوبغا الحنفي، فكفى لكتابه فضلاً وشرفاً، أمثال هولاء الأعيان في شارحيه، ومخرجيه، فهل هذه المزية تساجَل أو تجارَى؟!:
وما كل مخضوب البنان بثينة
… ولا كل مصقول الحديد يمان
وفي هذا القدر كفاية لأولي الألباب، والله الهادي إلى الصواب. وصلى الله تعالى على صاحب النفس القدسية، والأنفاس الزكية، صفوة البرية، محمد وآله، وصحبه، وبارك، وسلم.
محمد يوسف بن السيد محمد زكريا بن السيد مزمل شاه البَنُوري،
نزيل القاهرة، عفا الله عنه، وعافاه، وجعل آخرته خيراً مِن أولاه،
عضو المجلس العلمي، والمدرس بالجامعة الإسلامية - دابهيل سورت - الهند
يوم الاثنين 21، من الربيع الآخر، سنة 1357 هـ.
ভারতে এটি ত্রুটিপূর্ণভাবে মুদ্রিত হয়েছিল এবং বর্তমানে তা অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে। এটি কিতাবটির জটিলতা নিরসনে অন্যতম উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা ফিকহ ও হাদিস উভয় শাস্ত্রের গবেষণার সমন্বয় ঘটিয়েছে। এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সংশোধনের সাথে পুনরায় মুদ্রণ করা প্রয়োজন। আমার দৃষ্টিতে ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে যেগুলোর মুদ্রণের ব্যাপারে আমরা তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজন অনুভব করছি, সেগুলো হলো— আল-ইতকানীর 'গায়াতুল বায়ান', কাওয়ামুদ্দীন আল-কাকীর 'মিরাজুদ দিরায়াহ' এবং হাফেজুল হাদিস শায়খ আবুল আব্বাস আস-সারুজীর 'আল-গায়াহ'।
লেখক বলেন: চার মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রের কোনো কিতাবই 'আল-হেদায়া' কিতাবের মতো সেবাপ্রাপ্ত হয়নি। ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং দক্ষ হাফেজদের মাঝে ফিকহের কোনো কিতাবের ভাষ্য রচনার ক্ষেত্রে এমন ঐকমত্য হয়নি, যেমনটি 'আল-হেদায়া' কিতাবের ক্ষেত্রে হয়েছে। এই বিশাল জনপ্রিয়তা এবং বিদগ্ধজনদের পক্ষ থেকে এর গ্রহণযোগ্যতাই (এর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য) যথেষ্ট। এর ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে রয়েছেন সমকালীন ইমাম ও শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ফকিহগণ, যেমন হাফেজ আইনী, কাওয়ামুদ্দীন আল-ইতকানী, কাওয়ামুদ্দীন আল-কাকী এবং ইবনুল হুমাম আস-সিওয়াসি। আর এর হাদিসসমূহের তাখরিজকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রখর মেধার অধিকারী হাফেজগণ, যেমন আল-মারদিনী, আয-যাইলায়ী, আল-কুরাশী, ইবনে হাজার এবং কাসেম ইবনে কুতলুবুগা আল-হানাফী। সুতরাং এই মহান ব্যক্তিদের এর ব্যাখ্যাকার ও তাখরিজকারী হওয়া এই কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার জন্য যথেষ্ট। এই অনন্য বৈশিষ্ট্য কি অন্য কারো সাথে পাল্লা দেওয়া বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো?!
নখ রঞ্জিত করা প্রতিটি নারীই 'বুতায়না' নয়
… আর পালিশ করা প্রতিটি লোহাই ইয়ামানি নয়।
বুদ্ধিমানদের জন্য এইটুকুই যথেষ্ট, আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী। পবিত্র সত্তা ও পূত-পবিত্র নিঃশ্বাসের অধিকারী এবং সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মুহাম্মদ ইউসুফ বিন আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ যাকারিয়া বিন আস-সাইয়্যিদ মুযাম্মিল শাহ আল-বানূরী,
কায়রো নিবাসী, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে সুস্থতা দান করুন, আর তার পরকালকে ইহকাল অপেক্ষা উত্তম করুন।
মজলিসে ইলমীর সদস্য এবং জামিয়া ইসলামিয়া - ডাভেল, সুরাট - ভারত এর শিক্ষক।
১৩৫৭ হিজরির ২১শে রবিউস সানি, সোমবার।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
نصب الراية - والعناية بحاشيته والعناء في تصحيحه، وطبعه إمام العصر المحدث الجليل البحاثة، الشيخ محمد أنور الكشميري، ثم الديوبندي، المتوفى سنة 1352هـ. رحمه الله تعالى، كان وجّه المجلس العلمي إلى إعادة طبع هذا الكتاب الجليل نصب الراية بعناية بالغة بالتصحيح، وكان الكتاب مطبوعاً في الهند، قبل خمسين عاماً، مشحوناً بالأغلاط في الأسانيد، وألحان فاحشة في متونها، مشوَّهاً بتصحيفات، وتحريفات، وسقط عبارات، بحيث اختل الغرض، وانخرم المقصود في كثير من المواضع، وقلما طبع كتاب بالهند مثله، محرّفاً مصحّفاً، وكان رحمه الله يودّ أن لو يتم الأمر في حياته، لكن الأسف والرزء - أن إمام العصر وافاه الأجل المحتوم قبل إنجاز هذه المنية، ولم يوفق المجلس إلى تكميل بغيته في حياته. بَيْدَ أنه على إثر ذلك، قام مدير المجلس العلمي صديقنا الفاضل المحترم السيد أحمد رضا البجنوري - زاد الله مآثره - مشمراً عن ساعد الجد، لتكميل أمنية إمام العصر، لطبع الكتاب، وأشار محقق العصر، الشيخ شبير أحمد العثماني الديوبندي، صاحب فتح الملهم على صحيح مسلم لاستيفاء الفائدة بتحشية الكتاب أيضاً.
فانتخب لذلك العالم المحقق، والفاضل المحدث الشيخ عبد العزيز الديوبندي الفنجاني، صاحب أطراف البخاري، فاشتغل بتصحيح النسخة المطبوعة والحواشي المفيدة على الكتاب، ولم يظفر الشيخ بنسخة مخطوطة منه حتى يقابل بها، إلا بتلك النسخة المطبوعة، مصححة بالمقابلة بنسخة مخطوطة - بكلكتة - فاعتنى في التصحيح بالمراجعة إلى أصول الكتاب من الأمهات الست، وما تيسر له من المسانيد والمعاجم وغيرها، فراجع المخارج والمصادر، وأطال النّفَس في مراجعة الكتب، من الحديث. والرجال. والطبقات، ولم يمنعه من التحقيق سآمة، ولا كلال، فوُفّق إلى حد قلما يوفق أحد إليه، ولاقى في ذلك عناءً، غير أنا نأخذ عليه شيئاً: - كنا نود أن يطلع علماء القاهرة، وفضلاء البلاد الإسلامية العربية على نفائس تحقيقات بارعة، لإمام العصر السالف ذكره، المبعثرة في مؤلفاته، من فصل الخطاب في أم الكتاب - وخاتمة الخطاب في فاتحة الكتاب وكشف الستر في مسألة الوتر ونيل الفرقدين في مسألة رفع اليدين وبسط اليدين لنيل الفرقدين وفي أماليه وتقريراته على أبحاث الحديث، وما كتبه من الحواشي على جزء القراءة - للبيهقي، وكان حضرة المحشي استعارها من إمام العصر برهة، وما استفاد الشيخ المحشي شفاهاً منه، فإن مؤلفات إمام العصر، وأبحاثه الغامضة، وتحقيقاته البارعة، مما لا مناص للبحاثة المحقق عن الاطلاع عليها
নসবুর রায়াহ - এবং এর টীকাগ্রন্থের প্রতি যত্ন, এর সংশোধনে শ্রম ও এর মুদ্রণ যুগের ইমাম, মহান মুহাদ্দিস ও অনন্য গবেষক, শেখ মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি, অতঃপর দেওবন্দি (মৃত্যু ১৩৫২ হিজরি), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তিনি আল-মাজলিসুল ইলমি-কে এই মহান গ্রন্থ 'নসবুর রায়াহ' অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংশোধনের মাধ্যমে পুনর্মুদ্রণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বইটি পঞ্চাশ বছর পূর্বে ভারতে মুদ্রিত হয়েছিল, যা সনদসমূহের ভুল এবং মূল পাঠের জঘন্য অসংগতিতে পরিপূর্ণ ছিল। এটি লিপিপ্রমাদ, বিকৃতি এবং অনেক বাক্য বাদ পড়ার কারণে এমনভাবে বিকৃত হয়েছিল যে, বহু স্থানে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছিল এবং লক্ষ্য অর্জনে বিঘ্ন ঘটেছিল। ভারতে এর মতো বিকৃত ও ভুলপূর্ণ কিতাব খুব কমই মুদ্রিত হয়েছে। তিনি (রহ.) চেয়েছিলেন যদি তাঁর জীবদ্দশাতেই এই কাজ সম্পন্ন হতো, কিন্তু আফসোস ও দুঃখের বিষয়—এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের পূর্বেই যুগের ইমামের নির্ধারিত মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং মজলিস তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর এই উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে সক্ষম হয়নি। তবে এর পরপরই, আল-মাজলিসুল ইলমির পরিচালক, আমাদের শ্রদ্ধেয় ও গুণী বন্ধু সৈয়দ আহমদ রেজা বিজনোরি—আল্লাহ তাঁর কীর্তি বৃদ্ধি করুন—যুগের ইমামের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য এবং বইটি মুদ্রণের লক্ষ্যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সচেষ্ট হন। যুগের গবেষক, সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল মুলহিম'-এর রচয়িতা শেখ শাব্বির আহমদ উসমানি দেওবন্দি কিতাবটিতে টীকা সংযোজন করে এর উপকারিতাকে পূর্ণতা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এজন্য তাত্ত্বিক আলেম এবং গুণী মুহাদ্দিস, 'আতরাফুল বুখারি'-র রচয়িতা শেখ আব্দুল আজিজ দেওবন্দি ফনজানিকে নির্বাচন করা হয়। তিনি মুদ্রিত পাণ্ডুলিপিটি সংশোধন এবং কিতাবটির ওপর উপকারী টীকা রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। শেখ (সংশোধক) এর সাথে তুলনা করার জন্য কোনো হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি পাননি, কেবল সেই মুদ্রিত কপিটিই পেয়েছিলেন যা কলকাতার একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছিল। সুতরাং তিনি সিহাহ সিত্তাহ এবং তাঁর নাগালে থাকা মাসানিদ, মু'জাম ও অন্যান্য মৌলিক গ্রন্থাবলীর দিকে রুজু করে সংশোধনের কাজে যত্নবান হন। তিনি হাদিসের সূত্র ও উৎসসমূহ যাচাই করেন এবং হাদিস, রিজাল ও তাবাকাত শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ তাঁকে গবেষণা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। ফলে তিনি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হন যেখানে খুব কম লোকই পৌঁছাতে পারে, এবং এই কাজে তিনি অনেক শ্রম স্বীকার করেন। তবে আমরা একটি বিষয়ের অভাব অনুভব করি: আমরা চেয়েছিলাম যে, কায়রোর ওলামায়ে কেরাম এবং আরব বিশ্বের গুণীজনরা যুগের ইমামের (যাঁর আলোচনা আগে চলে গেছে) সেই অনন্য ও চমৎকার গবেষণাসমূহ সম্পর্কে অবগত হতেন, যা তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে ছড়িয়ে আছে; যেমন—'ফাসলুল খিতাব ফি উম্মিল কিতাব', 'খাতিমাতুল খিতাব ফি ফাতিহাতিল কিতাব', 'কাশফুস সিতর ফি মাসআলাতিল বিতর', 'নাইলুল ফারকাদাইন ফি মাসআলাতি রাফইল ইয়াদাইন', 'বাসতুল ইয়াদাইন লি-নাইলিল ফারকাদাইন', এবং হাদিসের বিভিন্ন আলোচনার ওপর তাঁর আমালি ও তাকরীরসমূহ, এবং ইমাম বায়হাকির 'জুযউল কিরাআত'-এর ওপর তাঁর লিখিত টীকা। টীকাকার এগুলো যুগের ইমামের নিকট থেকে কিছুকালের জন্য চেয়ে নিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে মৌখিকভাবেও অনেক উপকৃত হয়েছিলেন। কেননা যুগের ইমামের রচনাবলী, তাঁর সূক্ষ্ম ও গভীর আলোচনা এবং চমৎকার গবেষণাসমূহ এমন বিষয় যা থেকে কোনো গবেষক ও তাত্ত্বিক আলেমের বিমুখ থাকার উপায় নেই।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولكل من يحاول التوسع مع تحقيق وتدقيق، ولكن الشيخ المحشي على رغم أنوفنا، لم ينتبه لهذه الدقيقة، أو تواكل وتساهل فيه، فلم ينقل عنها شيئاً، إلا في مواضع قليلة جداً، وهذا مع أنه يدرك منزلة تحقيقات إمام العصر ويقدرها، وكل ذلك إن شاء الله نستدركه في الطبع الثاني، والله الموفق.
ولما وصل إلى كتاب الحج، هجم على الشيخ مرض، عاقه عن التأليف، فانتظر المجلس لعود صحته وعافيته سنة كاملة، وبعد أن خاب الرجاء، انتخب لتكميل حاشيته وانتهاج مسلكه في التصحيح، صديقنا العالم الفاضل محمد يوسف الكاملفوري، فتلا تلوه، وحذا حذوه، وقدر وفقه الله فيما أرى لأن يدرك شأوه في التحشية والتصحيح، ثم اطلع المجلس على نسخة محفوظة في المكتبة السعيدية - بحيدر آباد دكن، فأمر الفاضل الكاملفوري بمقابلة الكتاب بها، فرحل إليها، وقام شهرين حتى انتهت المقابلة، ثم رأى المجلس نظراً إلى جلالة قدر الكتاب أن يطبع في القاهرة في ثوب قشيب حباً لظهوره في جمال وبهاء، وسعة لنشره بين إخوان القاهرة وسائر البلاد العربية، فأمر المجلس، الفاضل المحترم السيد أحمد رضا مدير المجلس، إلى أن يتمطي صهوة الرحيل إلى القاهرة، لإنجاز هذه المهمة العلمية والدينية، بمرآه كما يشاء، وأحب المجلس أن أكون زميلاً له، فافتتح هذا السفر المبارك بالسفر إلى الحرمين، زادهما الله شرفاً وكرامة1 وبقينا شهراً وبضعة أيام في مكة، زادها الله تعظيماً، وصادفنا هناك نسخة مخطوطة من الكتاب في مكتبة الحرم المكي، مكتوبة بيد الشيخ عبد الحق شيخ الدلائل، ونسخة أخرى، في مكتبة الشيخ عبد الوهاب الهندي، فاغتنمنا الفرصة، وقابلنا بهما عدة مواضع كانت لم تصحح، وإذ فرغنا من زيارة الحرمين، شددنا الرحل نحو القاهرة، فنزلناها منتصف الصفر من العام الجاري، وكنا على ثقة وطمأنينة من جهة التصحيح، وألفينا في - دار الكتب المصرية - عدة نسخ من الكتاب، منها نسخة في ستة مجلدات، على الأول. والسادس تصحيحات، وبعض حواش، بقلم الحافظ ابن حجر، ولم نحتفل بالمقابلة بها كثير احتفال لضيق الوقت، والاستعجال في الطبع، وظن الاستغناء عنها في أصل التصحيح. وشرعنا الطبع، فبدا لنا في أثنائه أنه بقيت أغلاط فاحشة في الأسانيد والمتون جميعاً، تساهل فيها المصححان والمحشيان، وآلمنا ذلك جداً، وضقنا به صدراً، لقلة الفرصة، وعدم اتساع الظروف للمقابلة، حيث كانت تصدر، ملزمة كبيرة في - ست عشرة صفحة - كل يوم، ومن العجيب أنا نجد في الحاشية تخريج للحديث، وتفصيل المخرج بذكر الباب، وتقييد الصفحة، ويكون في الإسناد
--------------------------------------------
যারা গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সাথে বিস্তার লাভ করতে চান তাদের প্রত্যেকের জন্যই; কিন্তু টিকাকার শায়খ আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই সূক্ষ্ম বিষয়টি খেয়াল করেননি, অথবা এতে অবহেলা ও শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। ফলে তিনি অতি নগণ্য স্থান ছাড়া এ থেকে কিছুই উদ্ধৃত করেননি। এটি এমন সত্ত্বেও যে তিনি এই যুগের ইমামের গবেষণার উচ্চ মর্যাদা উপলব্ধি করেন ও এর মূল্যায়ন করেন। ইনশাআল্লাহ, দ্বিতীয় মুদ্রণে আমরা এ সবকিছুর প্রতিকার করব। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
যখন তিনি কিতাবুল হজ পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন শায়খ এক রোগের কবলে পড়লেন যা তাকে গ্রন্থ রচনায় বাধাগ্রস্ত করল। ফলে মজলিস তার সুস্থতা ও আরোগ্যের জন্য পূর্ণ এক বছর অপেক্ষা করল। আশা যখন নিঃশেষ হয়ে গেল, তখন তার টীকা সম্পন্ন করার জন্য এবং তাঁর সংশোধনের পদ্ধতি অনুসরণের জন্য আমাদের বন্ধু, বিজ্ঞ আলেম মুহাম্মদ ইউসুফ কামেলপুরী-কে নির্বাচিত করা হলো। তিনি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন এবং তাঁর পথ অবলম্বন করলেন। আমার মতে, আল্লাহ তাকে তাওফিক দিয়েছেন যাতে তিনি টীকা লিখন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে তাঁর স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এরপর মজলিস হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের সাঈদিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেল। তখন বিজ্ঞ কামেলপুরী-কে কিতাবটি তার সাথে মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হলো। তিনি সেখানে সফর করলেন এবং এই যাচাইয়ের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত দুই মাস অবস্থান করলেন। এরপর কিতাবটির উচ্চ মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে মজলিস সিদ্ধান্ত নিল যে, এটি কায়রোতে চমৎকার সজ্জায় মুদ্রিত হবে, যাতে এটি সৌন্দর্য ও জৌলুসের সাথে প্রকাশিত হয় এবং কায়রো ও অন্যান্য আরব দেশের ভাইদের মাঝে এর ব্যাপক প্রচার ঘটে। ফলে মজলিস তার পরিচালক শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞ জনাব আহমদ রেজা-কে নির্দেশ দিলেন কায়রোর উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি নিতে, যাতে এই ইলমি ও দ্বীনি খিদমতটি তাঁর ইচ্ছামতো তাঁর তদারকিতে সম্পন্ন হয়। মজলিস চাইল আমি যেন তাঁর সফরসঙ্গী হই। সুতরাং তিনি এই বরকতময় সফরটি হারামাইন শরিফাইন সফরের মাধ্যমে শুরু করলেন—আল্লাহ এ দুটির মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন। আমরা মক্কায় এক মাস কয়েক দিন অবস্থান করলাম—আল্লাহ এর সম্মান বৃদ্ধি করুন। সেখানে আমরা হারাম মক্কি লাইব্রেরিতে কিতাবটির একটি পাণ্ডুলিপি পেলাম যা শায়খ আব্দুল হক শাইখুদ দালায়েল-এর স্বহস্তে লিখিত। আর শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব আল-হিন্দি-র লাইব্রেরিতে অপর একটি পাণ্ডুলিপি পেলাম। আমরা এই সুযোগ কাজে লাগালাম এবং এমন কিছু স্থান সেগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখলাম যা ইতিপূর্বে সংশোধন করা হয়নি। হারামাইন জিয়ারত শেষ করে আমরা কায়রোর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম এবং চলতি বছরের সফর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে পৌঁছালাম। সংশোধনের ব্যাপারে আমরা আশ্বস্ত ও নিশ্চিন্ত ছিলাম। আমরা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে কিতাবটির বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি পেলাম, যার মধ্যে একটি ছিল ছয় খণ্ডে। এর প্রথম ও ষষ্ঠ খণ্ডে হাফেজ ইবনে হাজার-এর কলমে কিছু সংশোধন ও টীকা ছিল। সময়ের স্বল্পতা, মুদ্রণের তাড়াহুড়ো এবং মূল সংশোধনের ক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন নেই মনে করে আমরা সেগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখার খুব একটা গুরুত্ব দেইনি। আমরা মুদ্রণ শুরু করলাম, কিন্তু এর মাঝপথেই আমাদের কাছে ধরা পড়ল যে, সনদ ও মূল পাঠ উভয় ক্ষেত্রেই কিছু মারাত্মক ভুল রয়ে গেছে, যে ব্যাপারে দুইজন সংশোধনকারী ও দুইজন টিকাকার শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। এটি আমাদের অত্যন্ত ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলল, কারণ সুযোগ কম ছিল এবং পুনরায় মিলিয়ে দেখার জন্য পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না, যেহেতু প্রতিদিন ষোলো পৃষ্ঠার একটি বড় ফর্মা প্রকাশিত হতো। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা টিকায় হাদিসের উৎস নির্দেশ, অধ্যায়ের নাম উল্লেখসহ বিস্তারিত বিবরণ এবং পৃষ্ঠা নম্বর নির্দিষ্ট করা পেতাম, অথচ সনদের মধ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والمتن خطأ يذهل عنه المصححان، ونراجع المخرج، فنلقى الحديث هناك صحيحاً، لم يتوجه إليه المصححان في نسخة الكتاب، ومثل هذا كثير، ثم نجد أسماء مكررة في صفحة واحدة مثلاً: هزيل. وزريع وخيثم، مثلاً. فيكون تارة - هذيل بالذال وتارة بالزاي، و زريع - تارة بالزاي، وتارة بالذال، وخيثم - تارة بتقديم التحتانية على المثلثة، وأخرى بالعكس، ولا يتوجه المصححان إلى تصحيحها، وجعلها على نمط واحد، وظاهر أن الزاي في الأوليين هنا، وتقديم التحتانية في الثالث متعين، فاضطررنا إلى جمع الكتب من الأصول المتعلقة به، وألجئنا إلى المقابلة بنسخة دار الكتب، وزالت الثقة على التصحيح السابق، وخاب الرجاء، وقام بأعباء هذا التصحيح الأخير للكتاب، صديقنا الفاضل السيد أحمد رضا ولاقى فيه عناءً وعنتاً. ولا نغمض من منزلة تصحيح المصححين ما يستحقانه، وإن لهما الفضل في التصحيح، وصححا أكثر بكثير مما لم يصححا، ونعلم أن ذلك لكثرة الأغلاط، فوقع ما وقع، ولم يبق من الأغلاط إلا نحو ربع منها، غير أنا نحاول لفت النظر إلى عنايتنا بالتصحيح، وإفراغ مجهودنا في مثل هذه الظروف الضيقة.
ثم إن الضغث على الإبالة، أن فضيلة المحشي صحح نسخته التي يملكها، وحشى على هوامشها، وترك نسخة المجلس التي فوضها إليه المجلس لهذا الغرض، ثم لم يسمح بنسخته بالإعارة، مع شدة الحاجة إليها، فألجئنا إلى نقل التصحيحات والتحشية، ثم بقيت في النقل أغلاط، وسقطات في العبارات، فزاد الأمر غمة، حتى اضطر المحشي إلى إرسال نسخته إلى القاهرة بالبريد، ثم إنا نرى في كثير من المواضع، الحواشي كالمذكرة غير مرتبة، وغير مهذبة، فافتقرنا في ترتيبها إلى زيادة كلمات ونقصها، وقصارى القول: إنه استعرضت أمثال هذه الأمور المتعبة في أثناء شغل الطبع، حتى عاقتنا عن كثير من المهمات العلمية التي حاولنا أن نقضيها في عهد الإقامة بالقاهرة، ولم ندرك المقابلة بالالتزام، مع نسخة دار الكتب إلا من الجزء الثاني، نعم أدركنا كثيراً من الأغلاط في الجزء الأول، حيث انتبهنا لها، ولا سيما الملزمة الأولى، فإنا أعدنا طبعها بسبب أغلاط فاحشة بقيت فيها على غرة منا بالتصحيح السابق، ومن المشكل أن نذكر نماذج تلك التصحيحات، ونكلف الناظرين على الثناء على كل لفظة لفظة، ومن أجل هذا لم ننبه على الخطأ في الهوامش في الطبع السابق، بل التزمنا التصحيح، وعند اختلاف النسخ سلكنا مسلك الترجيح، فإن لم يترجح جانب أشير الاختلاف في الهوامش، ولا حاجة هنا إلى بسط الأمثلة، ففي سبيل الله ما لاقينا من العنت البالغ، والكبد في التصحيح، وما بذلنا من المجهود البشري، وعلمنا أن من أصعب الأمور أمر التصحيح، ومع هذا لا ندعي أنا استوفينا حق التصحيح، ولا ندعي أنه لا يجد
মূল পাঠে এমন সব ভুল রয়েছে যা সংশোধকদ্বয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আমরা যখন মূল উৎসের দিকে ফিরে তাকালাম, তখন সেখানে হাদিসটিকে সঠিক পেলাম, অথচ বইয়ের পাণ্ডুলিপিতে সংশোধকদ্বয় সেদিকে লক্ষ্য করেননি; এমন ঘটনা প্রচুর। এরপর আমরা একই পৃষ্ঠায় বারবার আসা কিছু নাম দেখতে পাই, যেমন: হুযাইল, যুরাই' এবং খাইসাম। কখনও দেখা যায়—হুযাইল বর্ণটি 'যাল' (ذ) দিয়ে, আবার কখনও 'যা' (ز) দিয়ে লেখা হয়েছে। যুরাই'—কখনও 'যা' (ز) দিয়ে, আবার কখনও 'যাল' (ذ) দিয়ে। আর খাইসাম—কখনও 'ছা' (ث)-এর পূর্বে 'ইয়া' (ي) দিয়ে, আবার কখনও এর উল্টো। সংশোধকদ্বয় এগুলো সংশোধন করে একটি নির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার দিকে ভ্রূক্ষেপ করেননি। অথচ এটা স্পষ্ট যে, প্রথম দুটির ক্ষেত্রে 'যা' (ز) এবং তৃতীয়টির ক্ষেত্রে 'ছা'-এর পূর্বে 'ইয়া' বর্ণটি থাকাই সুনির্ধারিত। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট মূল গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করতে বাধ্য হলাম এবং 'দারুল কুতুব'-এর পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখতে বাধ্য হলাম। পূর্ববর্তী সংশোধনের ওপর আস্থা চলে গেল এবং প্রত্যাশা ব্যর্থ হলো। অতঃপর এই গ্রন্থের সর্বশেষ সংশোধনের গুরুভার আমাদের গুণী বন্ধু আস-সাইয়্যিদ আহমাদ রিযা কাঁধে নিলেন এবং এতে তিনি অনেক কষ্ট ও ক্লেশ সহ্য করলেন। আমরা সংশোধকদ্বয়ের সংশোধনের যে মর্যাদা তারা প্রাপ্য, তা খাটো করে দেখছি না। সংশোধনের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের অবদান রয়েছে। তারা যা সংশোধন করতে পারেননি, তার চেয়ে অনেক বেশি তারা সংশোধন করেছেন। আমরা জানি যে, ভুলের আধিক্যের কারণেই এমনটা ঘটেছে, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন ভুলের মাত্র চারভাগের একভাগ অবশিষ্ট আছে। তবে আমরা শুধু সংশোধনের ক্ষেত্রে আমাদের যত্ন এবং এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের ব্যয়িত প্রচেষ্টার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি।
এরপর বিপত্তির ওপর বিপত্তি হলো এই যে, শ্রদ্ধেয় টীকাভাষ্যকার তাঁর মালিকানাধীন পাণ্ডুলিপিটি সংশোধন করেছেন এবং তার পার্শ্বটীকায় নোট লিখেছেন; কিন্তু তিনি মজলিসের সেই পাণ্ডুলিপিটি ছেড়ে দিয়েছেন যা মজলিস এই উদ্দেশ্যেই তাঁর নিকট অর্পণ করেছিল। তদুপরি, প্রচণ্ড প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপিটি ধার দিতে রাজি হননি। ফলে আমরা সংশোধন ও টীকাগুলো নকল করে নিতে বাধ্য হলাম। পরবর্তীতে সেই নকলের কাজেও কিছু ভুল এবং বাক্যের বিচ্যুতি থেকে গেল, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলল। শেষ পর্যন্ত টীকাভাষ্যকার ডাকযোগে কায়রোতে তাঁর পাণ্ডুলিপি পাঠাতে বাধ্য হলেন। এরপর আমরা অনেক স্থানে দেখতে পেলাম যে, টীকাগুলো নোটের মতো অগোছালো ও অমার্জিত। তাই সেগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু শব্দ যোগ বা বিয়োগ করার প্রয়োজন পড়ল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মুদ্রণ চলাকালে এই ধরনের ক্লান্তিকর বিষয়গুলো সামনে আসত, যা আমাদের কায়রোতে অবস্থানকালীন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক কাজ সম্পন্ন করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা দ্বিতীয় খণ্ড থেকেই কেবল নিয়মিতভাবে 'دار الكتب' (দারুল কুতুব)-এর পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা শুরু করতে পেরেছিলাম। তবে প্রথম খণ্ডেও আমরা অনেক ভুল ধরতে পেরেছিলাম যখন আমাদের দৃষ্টি সেদিকে নিপতিত হয়েছিল, বিশেষ করে প্রথম ফর্মাটি; পূর্ববর্তী সংশোধনের ওপর অসতর্কভাবে আস্থা রাখার কারণে তাতে কিছু মারাত্মক ভুল থেকে যাওয়ায় আমরা তা পুনরায় মুদ্রণ করেছি। আর সেসব সংশোধনের নমুনা উল্লেখ করা এবং পাঠকদের প্রতিটি শব্দের জন্য প্রশংসা করতে বাধ্য করা একটি কঠিন বিষয়। এই কারণেই আমরা পূর্ববর্তী মুদ্রণের ভুলগুলো পার্শ্বটীকায় উল্লেখ করিনি, বরং আমরা সরাসরি সংশোধনের পথ বেছে নিয়েছি। পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে আমরা প্রাবল্য (তারজিহ)-এর পথ অবলম্বন করেছি। যদি কোনো পক্ষই প্রবল না হতো, তবে পার্শ্বটীকায় সেই পার্থক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে উদাহরণের বিস্তার ঘটানোর প্রয়োজন নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমরা সংশোধনের কাজে যে চরম কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করেছি এবং মানুষের সাধ্যানুযায়ী যে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি তা উৎসর্গ করছি। আমরা বুঝতে পেরেছি যে, সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো সংশোধনের কাজ। তবুও আমরা দাবি করি না যে, আমরা সংশোধনের হক পুরোপুরি আদায় করতে পেরেছি, আর আমরা এটাও দাবি করি না যে এতে কেউ কোনো ভুল খুঁজে পাবে না।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الناظر في الكتاب خطأ، وكيف! وربما يكبو النظر، ولكل جواد كبوة، وربما يطرأ في المطبع مع غاية الاعتناء بتصحيح البروفات، والفرخ، بَيْدَ أنا ندعي أنا أفرغنا المجهود، ووفقنا إلى خدمة خطيرة في مدة قصيرة، قلَّما يوفق إليها أحد في مثل هذه الفرص الضيقة، وكان غرضنا تقديم الكتاب إلى العلماء، وطلبة العلم بأحسن أسلوب وأبرع منهاج، وقد حصل، ولله الحمد، ولا علينا لو نتمثل بقول أبي الطيب:
وما أنا بالباغي على الحب رشوة
… ضعيف هوى، يبغي عليه ثواب
وهاك
النسخ التي أُستعين بها في التصحيح: -
1 - نسخة - المكتبة السعيدية، المخطوطة - المنسوبة إلى الشيخ محمد سعيد المدراسي بالهند، ورمزها س.
2 - نسخة - مكتبة الشيخ عبد الوهاب الدهلوي - المكتوبة سنة 1134 هـ.
3 - نسخة - مكتبة الحرم المكي، ولعلها منقولة من نسخة الشيخ عبد الوهاب.
4 - نسخة - دار الكتب المصرية - في ستة مجلدات، الجزء الاول. والسادس بتصحيح الحافظ ابن حجر، ورمزها دار.
5 - أيضاً نسخة - دار الكتب المصرية - في ثلاث مجلدات، موقوفة الملك أبي النصر، برسباي، في: سنة 829 هـ.
6 - نسخة - كلكته ورمزها نك.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
البنوري عفا الله عنه.
বইয়ের পাঠকের ক্ষেত্রে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়, আর তা হবেই না কেন! কখনো দৃষ্টিরও বিচ্যুতি ঘটে, আর প্রতিটি দ্রুতগামী ঘোড়ারও হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রুফ ও ফর্মা সংশোধনে অত্যন্ত যত্নশীল হওয়া সত্ত্বেও মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় ভুল ভ্রান্তি হতে পারে। তবে আমরা দাবি করি যে, আমরা আমাদের সর্বশক্তি ব্যয় করেছি এবং অত্যন্ত অল্প সময়ে এক গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার তৌফিক লাভ করেছি, যা এই ধরনের সীমাবদ্ধ সুযোগে খুব কম লোকই লাভ করে থাকে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কিতাবটি আলেম ও শিক্ষার্থী মহলে সর্বোত্তম শৈলী ও চমৎকার পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা; আর আল্লাহর প্রশংসায় তা অর্জিত হয়েছে। আবু তায়্যিবের এই পংক্তিটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে আমাদের কোনো বাধা নেই:
আমি এমন নই যে ভালোবাসার বিনিময়ে কোনো প্রতিদান বা ঘুস চাইব
… সেই তো দুর্বল অনুরাগী, যে তার বিনিময়ে সওয়াব বা প্রতিদান প্রত্যাশা করে।
আর এই হলো সেই
পাণ্ডুলিপিসমূহ যা সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে: -
১ - সায়িদিয়া লাইব্রেরির কপি, যা ভারতের শাইখ মুহাম্মদ সাঈদ মাদরাসির সাথে সম্বন্ধযুক্ত পাণ্ডুলিপি, এর সংকেত 'স'।
২ - শাইখ আব্দুল ওয়াহাব দেহলভি লাইব্রেরির কপি—যা ১১৩৪ হিজরিতে অনুলিখিত।
৩ - মক্কার হারাম শরিফ লাইব্রেরির কপি, সম্ভবত এটি শাইখ আব্দুল ওয়াহাবের কপি থেকে নকল করা হয়েছে।
৪ - দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর কপি—ছয় খণ্ডে সমাপ্ত, এর প্রথম ও ষষ্ঠ খণ্ড হাফেজ ইবনে হাজার কর্তৃক সংশোধিত, এর সংকেত 'দার'।
৫ - এছাড়া দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর আরেকটি কপি—যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত, সুলতান আবুল নাসর বারসবায় কর্তৃক ৮২৯ হিজরিতে ওয়াকফকৃত।
৬ - কলকাতা কপি, এর সংকেত 'নক'।
আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
বানুরি—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب الطهارات
مدخل…بسم الله الرحمن الرحيم
وَبِهِ نَسْتَعِينُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.
كِتَابُ الطَّهَارَاتِ
الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ: رَوَى الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ، فَبَالَ قَائِمًا وَتَوَضَّأَ، وَمَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ وَخُفَّيْهِ، قُلْت: هَذَا حَدِيثٌ مُرَكَّبٌ مِنْ حَدِيثَيْنِ، رَوَاهُمَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ، جَعَلَهُمَا الْمُصَنِّفُ حَدِيثًا وَاحِدًا، فَحَدِيثُ الْمَسْحِ عَلَى النَّاصِيَةِ وَالْخُفَّيْنِ، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ1 عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِيهِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ، وَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ، وَعَلَى الْعِمَامَةِ، وَعَلَى الْخُفَّيْنِ، انْتَهَى. وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي مُعْجَمِهِ بِهَذَا الْإِسْنَادِ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْعِمَامَةَ، وَوَهِمَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كِتَابِ التَّحْقِيقِ فَعَزَا هَذَا الْحَدِيثَ إلَى الصَّحِيحَيْنِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ، بَلْ انْفَرَدَ بِهِ مُسْلِمٌ2 وَتَعَقَّبَهُ عَلَيْهِ صَاحِبُ التَّنْقِيحِ، وَرَوَى أَبُو دَاوُد، فِي سُنَنِهِ3 مِنْ حَدِيثِ أَبِي مَعْقِلٍ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: رَأَيْت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَتَوَضَّأُ، وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ قَطَرِيَّةٌ، فَأَدْخَلَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْعِمَامَةِ، فمسح مقدمة رَأْسِهِ، وَلَمْ يَنْقُضْ الْعِمَامَةَ، انْتَهَى. وَسَكَتَ عَنْهُ أَبُو دَاوُد، ثُمَّ الْمُنْذِرِيُّ فِي مُخْتَصَرِهِ، وَرَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ4 وَسَكَتَ عَنْهُ، ثُمَّ قَالَ: وَهَذَا الْحَدِيثُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ إسْنَادُهُ عَلَى شَرْطِ الْكِتَابِ، فَإِنَّ فِيهِ لَفْظَةً غَرِيبَةً، وَهِيَ: أَنَّهُ مَسَحَ بَعْضَ رَأْسِهِ، وَلَمْ يَنْقُضْ الْعِمَامَةَ، انْتَهَى.
وَحَدِيثُ السُّبَاطَةِ. وَالْبَوْلِ قَائِمًا، ً رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ5 حَدَّثَنَا إسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ ثَنَا أَبُو دَاوُد ثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أبي وائل بن الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ6 أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ
--------------------------------------------
পবিত্রতা অধ্যায়ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁর কাছেই আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
পবিত্রতার কিতাব
প্রথম হাদিস: মুগীরা ইবনে শু'বা বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোত্রের আবর্জনার স্তূপের কাছে আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। এরপর তিনি অজু করলেন এবং তাঁর মাথার অগ্রভাগ ও মোজা দুটির উপর মাসাহ করলেন। আমি বলি: এই হাদিসটি দুটি হাদিসের সমন্বয়ে গঠিত, যা মুগীরা ইবনে শু'বা বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার সে দুটিকে একটি হাদিস হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। মাথার অগ্রভাগ এবং মোজার উপর মাসাহ করার হাদিসটি মুসলিম (১) উরওয়াহ ইবনে মুগীরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করলেন এবং তাঁর মাথার অগ্রভাগ, পাগড়ি ও মোজা দুটির উপর মাসাহ করলেন। (সমাপ্ত)। তাবারানি তাঁর মু'জাম গ্রন্থে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে পাগড়ির কথা উল্লেখ করেননি। ইবনে আল-জাওজি 'আত-তাহকীক' কিতাবে ভুল করেছেন, তিনি এই হাদিসটিকে বুখারি ও মুসলিমের দিকে নিসবত করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; বরং মুসলিম (২) এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং 'আত-তানকীহ' এর লেখক তাঁর এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। আবু দাউদ তাঁর সুনান (৩) গ্রন্থে আবু মা'কিল থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অজু করতে দেখেছি, তাঁর মাথায় একটি কাতারি পাগড়ি ছিল। তিনি পাগড়ির নিচ দিয়ে তাঁর হাত প্রবেশ করালেন এবং মাথার অগ্রভাগ মাসাহ করলেন, কিন্তু পাগড়ি খোলেননি। (সমাপ্ত)। আবু দাউদ এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, অতঃপর আল-মুনযিরি তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থেও নীরব থেকেছেন। আল-হাকিম এটি 'মুস্তাদরাক' (৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনিও নীরব থেকেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: এই হাদিসটি, যদিও এর সনদ এই কিতাবের শর্তানুযায়ী নয়, তবুও এতে একটি বিরল শব্দ রয়েছে, আর তা হলো: তিনি তাঁর মাথার কিছু অংশ মাসাহ করেছেন এবং পাগড়ি খোলেননি। (সমাপ্ত)।
আর আবর্জনার স্তূপ এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার হাদিসটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান (৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে মানসূর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে শু'বা আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল ইবনে আল-মুগীরা ইবনে শু'বা (৬) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আবর্জনার স্তূপের কাছে আসলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا. قَالَ شُعْبَةُ: قَالَ عَاصِمٌ: يَوْمَئِذٍ، وَهَذَا الْأَعْمَشُ يَرْوِيهِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ، وَمَا حَفِظَهُ، فَسَأَلْتُ عَنْهُ مَنْصُورًا، فَحَدَّثَنِيهِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ، انْتَهَى.
وَحَدِيثُ حُذَيْفَةَ هَذَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ1، وَمُسْلِمٌ2 عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ3 قَوْمٍ، فَبَالَ قَائِمًا، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَجِئْتُهُ بِهِ، ثُمَّ تَوَضَّأَ، زَادَ مُسْلِمٌ: وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، انْتَهَى. وَوَقَعَ لِشَيْخِنَا الْعَلَّامَةِ عَلَاءِ الدِّينِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَهْمٌ مِنْ وَجْهَيْنِ: أَحَدُهُمَا أَنَّهُ قَالَ فِي حَدِيثِ حُذَيْفَةَ بَعْدَ أَنْ حَكَاهُ بِلَفْظِ الْبُخَارِيِّ. وَزِيَادَةِ مُسْلِمٍ: أَخْرَجَاهُ، وَقَدْ بَيَّنَّا أَنَّ مُسْلِمًا انْفَرَدَ فِيهِ بِالْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ. وَقَدْ صَرَّحَ بِذَلِكَ عَبْدُ الْحَقِّ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّحِيحَيْنِ فَقَالَ: لَمْ يَذْكُرْ الْبُخَارِيُّ فِيهِ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ. الْوَهْمُ الثَّانِي،: أَنَّهُ جَعَلَ حَدِيثَ الْكِتَابِ مُرَكَّبًا مِنْ حَدِيثِ الْمُغِيرَةِ، أَنَّهُ عليه السلام مَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ وَخُفَّيْهِ، وَمِنْ حَدِيثِ حُذَيْفَةَ، فِي السُّبَاطَةِ، وَالْبَوْلِ قَائِمًا وَهَذَا عَجَبٌ مِنْهُ، لِأَنَّ الْمُصَنِّفَ جَعَلَهُمَا مِنْ رِوَايَةِ الْمُغِيرَةِ، وَقَدْ بَيَّنَّا أَنَّ حَدِيثَ السُّبَاطَةِ. وَالْبَوْلِ قَائِمًا أَيْضًا. رَوَاهُ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ، كَمَا أَخْرَجَهُ عَنْهُ ابْنُ مَاجَهْ4 وَكَانَ مِنْ الْوَاجِبِ أَنْ يَذْكُرَهُمَا مِنْ رِوَايَةِ الْمُغِيرَةِ لِيُطَابِقَ عَزْوَ الْمُصَنِّفِ، وَهَذَا الْوَهْمُ الثَّانِي لَمْ يَسْتَبِدَّ بِهِ الشَّيْخُ، وَإِنَّمَا قَلَّدَ فِيهِ غَيْرَهُ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.
الْحَدِيثُ الثَّانِي: عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلَا يَغْمِسَنَّ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ". قُلْت: أَخْرَجَهُ الْأَئِمَّةُ السِّتَّةُ فِي كُتُبِهِمْ، فَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ5 مِنْ طَرِيقِ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً، ثُمَّ لِيَنْتَثِرْ، وَمَنْ اسْتَجْمَرَ، فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ، فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي الْإِنَاءِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ"، انْتَهَى. وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ6 مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ"، انْتَهَى. وَرَوَاهُ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا: "إذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنْ اللَّيْلِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ"، انْتَهَى. وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ7 مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ
جَابِرٍ مَرْفُوعًا: "إذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنْ النَّوْمِ، فَأَرَادَ أَنْ يَتَوَضَّأَ، فَلَا يُدْخِلْ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ حَتَّى يَغْسِلَهَا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ باتت يده"، ولا على مَ8 وَضَعَهَا. انْتَهَى. وَوَقَعَ فِي لَفْظِ الْمُصَنِّفِ، وَغَيْرِهِ مِنْ أصحابنا: فلا يغمسن بثوت نون التَّوْكِيدِ الْمُشَدَّدَةِ، وَلَمْ أَجِدْهَا
--------------------------------------------
এক কওমের নিকট, অতঃপর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। শু’বাহ বলেন: আসিম বলেছেন: ঐ দিন। আর এই আমাশ এটি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি এটি মুখস্থ রাখতে পারেননি। অতঃপর আমি এ বিষয়ে মানসুরকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমার কাছে আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুজাইফা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
হুজাইফার এই হাদিসটি বুখারি১ ও মুসলিম২ আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কওমের আবর্জনা ফেলার স্থানে৩ এলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। তারপর তিনি পানি চাইলেন, আমি তাঁর নিকট তা নিয়ে এলাম, অতঃপর তিনি অজু করলেন। মুসলিম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: এবং তিনি তাঁর মোজা দুটির ওপর মাসাহ করলেন। সমাপ্ত। এই হাদিসের ক্ষেত্রে আমাদের শাইখ আল্লামা আলাউদ্দীনের দুই দিক থেকে বিভ্রান্তি (ভ্রম) ঘটেছে: প্রথমটি হলো, তিনি হুজাইফার হাদিসটি বুখারির শব্দে এবং মুসলিমের অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করার পর বলেছেন: তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন। অথচ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, মুসলিম এতে মোজার ওপর মাসাহ করার বর্ণনায় একক। আব্দুল হক ‘আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: বুখারি এতে মোজার ওপর মাসাহ করার কথা উল্লেখ করেননি। দ্বিতীয় বিভ্রান্তিটি হলো: তিনি কিতাবের হাদিসটিকে মুগিরার হাদিস—যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর কপালের সামনের চুল ও মোজার ওপর মাসাহ করেছেন—এবং হুজাইফার হাদিস—যা আবর্জনা ফেলার স্থান ও দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা সংক্রান্ত—এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি করেছেন। এটি তাঁর পক্ষ থেকে বিস্ময়কর বিষয়, কারণ গ্রন্থকার উভয়টিকেই মুগিরার বর্ণনা হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, আবর্জনা ফেলার স্থান ও দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার হাদিসটিও মুগিরা ইবনে শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনে মাজাহ৪ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের নির্দেশনার সাথে মিল রাখার জন্য তাঁর উচিত ছিল উভয়টি মুগিরার বর্ণনা থেকে উল্লেখ করা। আর এই দ্বিতীয় বিভ্রান্তিতে শাইখ একা নন, বরং তিনি এক্ষেত্রে অন্যদের অনুসরণ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয় হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন পাত্রের মধ্যে তার হাত না ডুবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে। কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।" আমি বলি: ছয় ইমাম তাঁদের কিতাবসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন। বুখারি৫ এটি মালেকের সূত্রে আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন অজু করে, সে যেন তার নাকে পানি দেয়, তারপর তা ঝেড়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করে, সে যেন বেজোড় সংখ্যায় করে। আর তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তার হাত ধুয়ে নেয়। কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।" সমাপ্ত। মুসলিম৬ এটি আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিকের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগে, সে যেন পাত্রের মধ্যে তার হাত না ডুবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে। কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।" সমাপ্ত। তিনি এটি আবু সালেহের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকেও মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যখন রাতে ঘুম থেকে ওঠে, সে যেন পাত্রের মধ্যে তার হাত না ডুবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে। কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।" সমাপ্ত। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে৭ এটি আবু যুবাইরের সূত্রে
জাবির থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে ওঠে এবং অজু করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার অজুর পানির পাত্রে তার হাত প্রবেশ না করায় যতক্ষণ না সে তা ধৌত করে। কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে এবং কিসের ওপর৮ তা রেখেছে।" সমাপ্ত। গ্রন্থকার এবং আমাদের অন্যান্য সাথীদের শব্দে ‘ফালা ইয়াগমিসান্না’ এসেছে তাকিদযুক্ত নুনসহ, কিন্তু আমি এটি খুঁজে পাইনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فِيهِ إلَّا عِنْدَ الْبَزَّارِ فِي مُسْنَدِهِ، فَإِنَّهُ رَوَاهُ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلَا يَغْمِسَنَّ يَدَهُ فِي طَهُورِهِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا، الْحَدِيثَ.
الْحَدِيثُ الثَّالِثُ: قَالَ عليه السلام: "لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يُسَمِّ اللَّهَ تَعَالَى" 1.قُلْت: رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَمِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، وَمِنْ حَدِيثِ الْخُدْرِيِّ، وَمِنْ حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِيِّ، وَمِنْ حَدِيثِ أَبِي سَبْرَةَ.
أَمَّا حَدِيثُ أبي هريرة، فرواه أبي دَاوُد، وَابْنُ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ يَعْقُوبَ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وُضُوءَ لَهُ، وَلَا وضوء لمن يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ"، انْتَهَى. وَرَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ2، فَقَالَ فِيهِ: عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فَذَكَرَهُ، ثُمَّ قَالَ: حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ، وَقَدْ احْتَجَّ مُسْلِمٌ بِيَعْقُوبَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونِ، وَاسْمُ أَبِي سَلَمَةَ دِينَارٌ، انْتَهَى كَلَامُهُ. قَالَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ بْنُ دَقِيقِ الْعِيدِ فِي كِتَابِ الْإِمَامِ، نُقِلَ عَنْ الْحَاكِمِ أَنَّهُ أَخْرَجَ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِهِ الْمُسْتَدْرَكِ مِنْ جِهَةِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ3 عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَنَّهُ قَالَ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ، وَقَدْ احْتَجَّ مُسْلِمٌ بِيَعْقُوبَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، وَهَذَا إنْ صَحَّ عَنْهُ، فَهُوَ انْتِقَالٌ ذِهْنِيٌّ مِنْ يَعْقُوبَ بْنِ سَلَمَةَ، إلَى يَعْقُوبَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، وَيَعْقُوبُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ احْتَجَّ بِهِ مُسْلِمٌ، وَيَعْقُوبُ بْنُ سَلَمَةَ اللَّيْثِيُّ هَذَا لَمْ يَحْتَجَّ بِهِ مُسْلِمٌ، وَقَدْ أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ، والدارقطني مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ لَمْ يَقُولَا: إلَّا يَعْقُوبَ بْنَ سَلَمَةَ، انْتَهَى كَلَامُهُ. وَهَذَا الْكَلَامُ مُشْعِرٌ بِأَنَّ الشَّيْخَ تَقِيَّ الدِّينِ لَمْ يَرَ الْمُسْتَدْرَكَ، وَقَدْ صَرَّحَ فِي الْإِمَامِ - فِي بَابِ مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ أَنَّهُ رَآهُ، فَقَالَ بَعْدَ أَنْ نَقَلَ مِنْهُ كَلَامًا طَوِيلًا: هَكَذَا رأيته في نسخته عَتِيقَةٍ4 مِنْ الْمُسْتَدْرَكِ. وَقَالَ فِي كِتَابِ الزَّكَاةِ بَعْدَ أَنْ نَقَلَ فِيهِ حَدِيثًا فِي زَكَاةِ التِّجَارَةِ: فِيهِ. وَفِي الْبُرِّ صَدَقَةٌ، هَكَذَا وَجَدْتُهُ فِي أَصْلٍ مِنْ الْمُسْتَدْرَكِ بِضَمِّ الْبَاءِ5، وَقَدْ نَقَلْتُ كَلَامَهُ. وَقَالَ الْبُخَارِيُّ فِي تَارِيخِهِ الْكَبِيرِ: لَا يُعْرَفُ لِسَلَمَةَ سَمَاعٌ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَلَا لِيَعْقُوبَ مِنْ أَبِيهِ، انْتَهَى. ذَكَرَهُ فِي تَرْجَمَةِ سَلَمَةَ. وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي سُنَنِهِ6 مِنْ حَدِيثِ أَيُّوبَ بْنِ النَّجَّارِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا تَوَضَّأَ مَنْ لَمْ
--------------------------------------------
এটি কেবল আল-বাজজারের নিকট তাঁর মুসনাদে রয়েছে, কেননা তিনি হিশাম বিন হাসসান থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সিরীন থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত পবিত্র পানিতে না ডুবায় যতক্ষণ না তার ওপর (পানি) ঢেলে নেয়", হাদীস শেষ পর্যন্ত।
তৃতীয় হাদীস: তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নাম নেয় না, তার ওযু হয় না।" ১. আমি বলি: এটি আবু হুরায়রা, সাঈদ বিন যায়েদ, খুদরী, সাহল বিন সাদ আস-সা'ঈদী এবং আবু সাবরা-এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রার হাদীসটি আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ ইয়াকুব বিন সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার ওযু নেই তার সালাত নেই, আর যে তার (ওযুর) ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করে না তার ওযু নেই।" সমাপ্ত। আল-হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: ইয়াকুব বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: হাদীসটির সনদ সহীহ, তবে তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি। মুসলিম ইয়াকুব বিন আবি সালামাহ আল-মাজিশুনকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আবু সালামাহ-এর নাম দিনার। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো। শাইখ তাকিউদ্দীন বিন দাকীক আল-ঈদ তাঁর 'আল-ইমাম' কিতাবে বলেছেন: আল-হাকিম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই হাদীসটি তাঁর আল-মুস্তাদরাক কিতাবে ইবনে আবি ফুদাইক থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন সনদটি সহীহ, আর মুসলিম ইয়াকুব বিন আবি সালামাহকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর এটি যদি তাঁর থেকে সঠিক হয়, তবে এটি ইয়াকুব বিন সালামাহ থেকে ইয়াকুব বিন আবি সালামাহ-এর দিকে একটি মানসিক বিভ্রান্তি (ভ্রম)। ইয়াকুব বিন আবি সালামাহ আল-মাজিশুনকে মুসলিম দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু এই ইয়াকুব বিন সালামাহ আল-লায়সীকে মুসলিম দলীল হিসেবে গ্রহণ করেননি। ইবনে মাজাহ এবং দারাকুতনী এটি ইবনে আবি ফুদাইকের বর্ণনায় সংকলন করেছেন এবং তারা কেবল ইয়াকুব বিন সালামাহ-ই বলেছেন। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো। এই বক্তব্যটি ইঙ্গিত দেয় যে শাইখ তাকিউদ্দীন আল-মুস্তাদরাক দেখেননি। অথচ তিনি 'আল-ইমাম' কিতাবে - সালাতের ওয়াক্তের অধ্যায়ে - স্পষ্ট করেছেন যে তিনি এটি দেখেছেন। তিনি সেখান থেকে একটি দীর্ঘ বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: এভাবেই আমি আল-মুস্তাদরাকের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে দেখেছি। তিনি যাকাত অধ্যায়ে ব্যবসা পণ্যের যাকাত সম্পর্কিত একটি হাদীস উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: তাতে রয়েছে, "গমে (বুরর) সদকা আছে", এভাবেই আমি আল-মুস্তাদরাকের একটি মূলে 'বা' অক্ষরে পেশ (যম্মাহ) সহকারে পেয়েছি এবং আমি তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি। বুখারী তাঁর 'তারিখুল কাবীর'-এ বলেছেন: সালামাহ-এর আবু হুরায়রা থেকে শ্রবণ এবং ইয়াকুবের তাঁর পিতা থেকে শ্রবণ সাব্যস্ত নেই। সালামাহ-এর জীবনী আলোচনায় তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। দারাকুতনী তাঁর সুনানে এটি আইয়ুব বিন নাজ্জার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঐ ব্যক্তি ওযু করেনি যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ، وَمَا صَلَّى مَنْ لَمْ يَتَوَضَّأْ"، انْتَهَى. وَأَيُّوبُ بْنُ النَّجَّارِ، وَثَّقَهُ جَمَاعَةٌ، لَكِنَّ الْبَيْهَقِيَّ1 رَوَاهُ، وَأَعَلَّهُ بِأَنَّ فِيهِ انْقِطَاعًا، قَالَ: كَانَ أَيُّوبُ بْنُ النَّجَّارِ يَقُولُ: لَمْ أَسْمَعْ مِنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ إلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا، وَهُوَ حَدِيثُ: الْتَقَى آدَم. وَمُوسَى، ذَكَرَ ذَلِكَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ فِيمَا رَوَاهُ عَنْهُ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، انْتَهَى.
وَأَمَّا حَدِيثُ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، فَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَابْنُ مَاجَهْ2 مِنْ حَدِيثِ أَبِي ثِفَالٍ3 عَنْ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّتَهُ بِنْتَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ4 تُحَدِّثُ أَنَّهَا سَمِعْت أَبَاهَا سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَا صَلَاةَ" بِلَفْظِ أَبِي دَاوُد، قَالَ التِّرْمِذِيُّ: قَالَ أَحْمَدُ: لَا أَعْلَمُ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثًا لَهُ إسْنَادٌ جَيِّدٌ، وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إسْمَاعِيلَ يَعْنِي الْبُخَارِيَّ: أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، انْتَهَى. وَرَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ5 أَيْضًا، وَصَحَّحَهُ. وَأَعَلَّهُ ابْنُ الْقَطَّانِ فِي كِتَابِ الْوَهْمِ وَالْإِيهَامِ وَقَالَ: فِيهِ ثَلَاثَةٌ مَجَاهِيلُ الْأَحْوَالِ: جَدَّةُ رَبَاحٍ لَا يُعْرَفُ6 لَهَا اسْمٌ وَلَا حَالٌ، وَلَا تُعْرَفُ بِغَيْرِ هَذَا. وَرَبَاحٌ أَيْضًا مَجْهُولُ الْحَالِ. وَأَبُو ثِفَالٍ7 مَجْهُولُ الْحَالِ أَيْضًا، مَعَ أَنَّهُ أَشْهَرُهُمْ لِرِوَايَةِ جَمَاعَةٍ عَنْهُ: مِنْهُمْ الدَّرَاوَرْدِيُّ، انْتَهَى. وَذَكَرَهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي كِتَابِ الْعِلَلِ8 وَقَالَ هَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ عِنْدَنَا بِذَاكَ الصَّحِيحِ: أَبُو ثِفَالٍ مَجْهُولٌ، وَرَبَاحٌ مَجْهُولٌ، انْتَهَى. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ فِي عِلَلِهِ الْكَبِيرِ: سَأَلْت مُحَمَّدَ بْنَ إسْمَاعِيلَ عَنْ اسْمِ أبي ثقال، فَلَمْ يَعْرِفْهُ، ثُمَّ سَأَلْت الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ الْخَلَّالَ، فَقَالَ: اسْمُهُ ثُمَامَةُ بْنُ حُصَيْنٍ، انْتَهَى.
وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ، فَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ9 مِنْ حَدِيثِ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ رُبَيْحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ" انْتَهَى. وَرَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ10 أَيْضًا، وَصَحَّحَهُ. وَأَسْنَدَ إلَى الْأَثْرَمِ11 أَنَّهُ قَالَ: سَأَلْت أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنْ التَّسْمِيَةِ فِي الْوُضُوءِ، فَقَالَ: أَحْسَنُ مَا فِيهَا حَدِيثُ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، وَلَا أَعْلَمُ فِيهَا حَدِيثًا ثَابِتًا، وَأَرْجُو أَنْ يُجْزِئَهُ الْوُضُوءُ، لِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ حَدِيثٌ أَحْكُمُ بِهِ، انْتَهَى. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ فِي عِلَلِهِ الْكَبِيرِ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إسْمَاعِيلَ: رُبَيْحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ، انْتَهَى.
وَأَمَّا حَدِيثُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، فَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ12 أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْمُهَيْمِنِ بْنِ عَبَّاسِ
--------------------------------------------
আল্লাহর নাম স্মরণ করে, এবং যে ওযু করেনি তার সালাত হয়নি," শেষ। আর আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জারকে একদল নির্ভরযোগ্য বলেছেন, কিন্তু আল-বায়হাকি ১ এটি বর্ণনা করেছেন এবং সূত্রে বিচ্ছিন্নতা থাকার কারণে একে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জার বলতেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে মাত্র একটি হাদিস শুনেছি, আর সেটি হলো আদম ও মুসার সাক্ষাতের হাদিস। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তা উল্লেখ করেছেন যা ইবনে আবি মারইয়াম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, শেষ।
আর সাঈদ ইবনে যায়েদের হাদিসটি তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ ২ আবু সিফাল ৩-এর সূত্রে রাবাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর দাদী বিনতে সাঈদ ইবনে যায়েদ ৪ থেকে শুনেছেন, তিনি তাঁর পিতা সাঈদ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সালাত হবে না" - আবু দাউদের শব্দ অনুযায়ী। তিরমিজি বলেন: আহমাদ বলেছেন: আমি এই বিষয়ে উত্তম সনদযুক্ত কোনো হাদিস জানি না। মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল অর্থাৎ আল-বুখারি বলেছেন: এই বিষয়ে সবচেয়ে ভালো হলো রাবাহ ইবনে আবদুর রহমানের হাদিসটি, শেষ। আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক ৫ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন। ইবনে আল-কাত্তান 'আল-ওয়াহম ওয়াল-ইহম' গ্রন্থে একে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন এবং বলেছেন: এতে তিনজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি রয়েছেন: রাবাহ-এর দাদী যার নাম বা পরিচয় জানা নেই ৬, এবং তিনি এটি ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনার জন্য পরিচিত নন। রাবাহ নিজেও অজ্ঞাত পরিচয়। আবু সিফাল ৭-ও অজ্ঞাত পরিচয়, যদিও একদল বর্ণনাকারী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করার কারণে তিনি তাঁদের মধ্যে অধিক পরিচিত: তাঁদের মধ্যে আদ-দারাওয়ার্দি অন্যতম, শেষ। ইবনে আবি হাতিম 'আল-ইলাল' ৮ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি আমাদের নিকট তেমন সহিহ নয়: আবু সিফাল অজ্ঞাত, এবং রাবাহ অজ্ঞাত, শেষ। তিরমিজি তাঁর 'ইলাল আল-কাবির' গ্রন্থে বলেছেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে আবু সিফাল-এর নাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা চিনতে পারেননি। অতঃপর আমি আল-হাসান ইবনে আলি আল-খাল্লালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: তাঁর নাম হলো সুমামাহ ইবনে হুসাইন, শেষ।
আর আবু সাঈদের হাদিসটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান ৯ গ্রন্থে কাসির ইবনে যায়েদ-এর সূত্রে রুবাইহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওযু হয়নি," শেষ। আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক ১০ গ্রন্থে এটিও বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন। আল-আসরাম ১১ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে ওযুর সময় তাসমিয়া পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: এই বিষয়ে কাসির ইবনে যায়েদের হাদিসটি সবচেয়ে ভালো, তবে আমি এই বিষয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো হাদিস জানি না। আমি আশা করি যে তার ওযু হয়ে যাবে, কারণ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো এমন কোনো হাদিস নেই যার ওপর আমি হুকুম লাগাতে পারি, শেষ। তিরমিজি তাঁর 'ইলাল আল-কাবির' গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বলেছেন: রুবাইহ ইবনে আবদুর রহমান একজন মুনকার আল-হাদিস বর্ণনাকারী, শেষ।
আর সাহল ইবনে সা’দের হাদিসটি ইবনে মাজাহ ১২ ও বর্ণনা করেছেন আবদুল মুহাইমিন ইবনে আব্বাস-এর সূত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وُضُوءَ لَهُ، وَلَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ".
وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي سَبْرَةَ، فَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي مُعْجَمِهِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ ثَنَا شُعَيْبُ بْنُ سَلَمَةَ الْأَنْصَارِيُّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَبْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَا صَلَاةَ إلَّا بِوُضُوءٍ، وَلَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ"، مُخْتَصَرٌ.
حَدِيثٌ يُشْكِلُ عَلَى أَحَادِيثِ التَّسْمِيَةِ: أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُد1، وَالنَّسَائِيُّ2، وَابْنُ مَاجَهْ 21 عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ حُضَيْنِ بْنِ الْمُنْذِرِ عَنْ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ، قَالَ، أَتَيْت النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، فَسَلَّمْت عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: "إنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْك، إلَّا أَنِّي كُنْت عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ"، انْتَهَى. وَرَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ فِي النَّوْعِ الْأَوَّلِ، مِنْ الْقِسْمِ الرَّابِعِ عَنْ ابْنِ خُزَيْمَةَ بِسَنَدِهِ، وَرَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ3، وَقَالَ: إنَّهُ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ انْتَهَى. وَالْجَوَابُ عَنْهُ مِنْ وَجْهَيْنِ: أَحَدُهُمَا أَنَّهُ مَعْلُولٌ. وَالْآخَرُ: أَنَّهُ مُعَارَضٌ، أَمَّا كَوْنُهُ مَعْلُولًا فَقَالَ ابْنُ دَقِيقِ الْعِيدِ فِي الْإِمَامِ: سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، قَدْ اخْتَلَطَ بِآخِرِهِ، فَيُرَاعَى فِيهِ سَمَاعُ مَنْ سَمِعَ مِنْهُ قَبْلَ الِاخْتِلَاطِ4، قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ سَمِعَ مِنْهُ قَدِيمًا، قَالَ: وَقَدْ رَوَاهُ النَّسَائِيُّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ بِهِ، وَلَيْسَ فِيهِ: إنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي إلَى آخِرِهِ، وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ5 عَنْ حُمَيْدٍ، وَغَيْرِهِ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْمُهَاجِرِ مُنْقَطِعًا، فَصَارَ فِيهِ ثَلَاثُ عِلَلٍ، وَرَوَى أَبُو دَاوُد فِي سُنَنِهِ6 مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْعَبْدِيِّ ثنا نلفع، قَالَ: انْطَلَقْت مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي حَاجَةٍ إلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ، كَانَ مِنْ حَدِيثِهِ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي سِكَّةٍ مِنْ سِكَكِ الْمَدِينَةِ، وَقَدْ خَرَجَ مِنْ غَائِطٍ، أَوْ بَوْلٍ، إذْ سَلَّمَ عَلَيْهِ رَجُلٌ، فَلَمْ يَرُدَّ عليه السلام، ثُمَّ إنَّهُ ضَرَبَ بِيَدِهِ الْحَائِطَ، فَمَسَحَ وَجْهَهُ مَسْحًا، ثُمَّ ضَرَبَ ضَرْبَةً، فَمَسَحَ ذِرَاعَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ كَفَّهُ، وَقَالَ "إنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْك، إلَّا أَنِّي لَمْ أَكُنْ عَلَى طَهَارَةٍ" انْتَهَى. وَقَالَ النَّوَوِيُّ فِي الْخُلَاصَةِ7: مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ الْعَبْدِيُّ لَيْسَ
--------------------------------------------
বিন সাহল বিন সা’দ আস-সা’ইদী তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যার ওজু নেই তার সালাত নেই, আর যে (ওজুর শুরুতে) আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওজু নেই।"
আর আবু সাবরাহ বর্ণিত হাদিসটি তাবারানি তার মু'জাম গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, তিনি শুআইব বিন সালামাহ আল-আনসারি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়াযিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন উনাইস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সাবরাহ থেকে এবং তিনি তার দাদা আবু সাবরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ওজু ব্যতীত কোনো সালাত নেই, আর যে আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওজু নেই", এটি সংক্ষিপ্ত।
তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টিকারী একটি হাদিস: এটি আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি হুদাইন বিন আল-মুনযির থেকে এবং তিনি মুহাজির বিন কুনফুদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলাম যখন তিনি ওজু করছিলেন, আমি তাঁকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। যখন তিনি ওজু শেষ করলেন, তখন বললেন: "তোমার সালামের উত্তর দিতে আমাকে অন্য কিছু নয় বরং আমি ওজুহীন অবস্থায় ছিলাম বলেই বিরত রেখেছে," সমাপ্ত। আর ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে চতুর্থ পরিচ্ছেদের প্রথম প্রকারে ইবনে খুজাইমার সূত্রে তার সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি, সমাপ্ত। এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: একটি হলো এটি ত্রুটিযুক্ত (মা’লুল), অন্যটি হলো এটি বিরোধী বর্ণনার সম্মুখীন। ত্রুটিযুক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইবনে দাকীকুল ঈদ 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেন: সাঈদ বিন আবি আরুবাহ তার জীবনের শেষ দিকে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন, তাই তার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কে তার স্মৃতিভ্রমের আগে তার থেকে হাদিস শুনেছেন। ইবনে আদি বলেন: আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: ইয়াযিদ বিন যুরাই’ তার থেকে অনেক আগে শুনেছেন। তিনি বলেন: নাসাঈ এটি শু’বার সূত্রে কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে "আমাকে বিরত রাখেনি..." শেষ পর্যন্ত এই অংশটুকু নেই। আর হাম্মাদ বিন সালামাহ এটি হুমাইদ ও অন্যান্যদের সূত্রে হাসান থেকে এবং তিনি মুহাজির থেকে বিচ্ছিন্নভাবে (মুনকাতি') বর্ণনা করেছেন, ফলে এতে তিনটি ত্রুটি দেখা দিল। আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন সাবিত আল-আবদির হাদিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নাফি’ বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন ওমরের সাথে কোনো প্রয়োজনে ইবনে আব্বাসের কাছে যাচ্ছিলাম। যখন তিনি তার প্রয়োজন শেষ করলেন, তার আলোচনার মাঝে বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনার কোনো এক গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি তখন মল অথবা মূত্র ত্যাগ করে বের হয়েছেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁকে সালাম দিল কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না। অতঃপর তিনি তার হাত দিয়ে একটি দেয়ালে আঘাত করলেন এবং তার মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন, এরপর আবার আঘাত করলেন এবং তার কনুই পর্যন্ত উভয় হাত মাসাহ করলেন, এরপর তার কবজি পর্যন্ত এবং বললেন: "আমি পবিত্র অবস্থায় ছিলাম না বলেই তোমার সালামের উত্তর দিতে বাধা পেয়েছি," সমাপ্ত। আর নববী 'আল-খুলাসাহ' গ্রন্থে বলেন: মুহাম্মদ বিন সাবিত আল-আবদি নির্ভরযোগ্য নন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَكْثَرِ الْمُحَدِّثِينَ، وَقَدْ أَنْكَرَ عَلَيْهِ الْبُخَارِيُّ. وَغَيْرُهُ رَفْعَ هَذَا الْحَدِيثِ، وَقَالُوا: الصَّحِيحُ أَنَّهُ مَوْقُوفٌ عَلَى ابْنِ عُمَرَ، انْتَهَى. وَأَمَّا كَوْنُهُ مُعَارَضًا، فَرَوَى الْبُخَارِيُّ. وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ كُرَيْبٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاضْطَجَعْت فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طُولِهَا، فَنَامَ عليه السلام حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ - أَوْ قَبْلَهُ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ - اسْتَيْقَظَ فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الْخَوَاتِيمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ، فَتَوَضَّأَ منه، فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ فصلى، الحديث هَذَا مَا يَدُلُّ عَلَى جَوَازِ ذِكْرِ اسْمِ اللَّهِ، وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ مَعَ الْحَدَثِ، وَلَكِنْ وَقَعَ فِي الصَّحِيحِ1 أبي حنيفة ابخاريأ أَنَّهُ عليه السلام تَيَمَّمَ لِرَدِّ السَّلَامِ، أَخْرَجَاهُ عَنْ أَبِي الْجُهَيْمِ، قَالَ: أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ، فَلَقِيَهُ رَجُلٌ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْجِدَارِ، فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ رَدَّ عليه السلام، انْتَهَى. وَلَمْ يَصِلْ مُسْلِمٌ2 بِسَنَدِهِ بِهِ، وَلَكِنَّهُ رَوَى مِنْ حَدِيثِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا مَرَّ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ، فَسَلَّمَ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ3: التَّيَمُّمَ، وَرَوَاهُ الْبَزَّارُ فِي مُسْنَدِهِ4 مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ، رَجُلٌ مِنْ آلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ، وَقَالَ: فَرَدَّ عليه السلام، وَقَالَ: "إنَّمَا رَدَدْت عَلَيْك خَشْيَةَ أَنْ تَقُولَ: سَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ فَإِذَا رَأَيْتَنِي هَكَذَا، فَلَا تُسَلِّمْ عَلَيَّ، فَإِنِّي لَا أَرُدُّ عَلَيْك"، انْتَهَى. وَذَكَرَهُ عَبْدُ الْحَقِّ فِي أَحْكَامِهِ مِنْ جِهَةِ الْبَزَّارِ، ثُمَّ قَالَ: وَأَبُو بَكْرٍ هَذَا فِيمَا أَعْلَمُ5 هُوَ ابْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رَوَى عَنْهُ مَالِكٌ، وَغَيْرُهُ، لَا بَأْسَ بِهِ، وَلَكِنَّ حَدِيثَ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ أَصَحُّ، فَإِنَّ الضَّحَّاكَ أَوْثَقُ مِنْ أَبِي بَكْرٍ هَذَا، وَلَعَلَّ ذَلِكَ كَانَ فِي مَوْطِنَيْنِ، انْتَهَى كَلَامُهُ. وَتَعَقَّبَهُ ابْنُ الْقَطَّانِ فِي كِتَابِهِ فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ لَهُ أَنَّهُ هُوَ، وَلَمْ يُصَرِّحْ فِي الْحَدِيثِ بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَجَدِّهِ؟، انْتَهَى.
قُلْت: قَدْ جَاءَ ذَلِكَ مُصَرَّحًا فِي مُسْنَدِ السَّرَّاجِ6 فَقَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسَ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ ثَنَا سَعِيدُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ، فَذَكَرَهُ، وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ الله أن رجلاً مرعلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ، فَسَلَّمَ عليه فقال عليه السلام: "إذَا رَأَيْتَنِي عَلَى هَذِهِ الْحَالَةِ، فَلَا تُسَلِّمْ عَلَيَّ، فَإِنَّك إنْ فَعَلْت ذَلِكَ، لَمْ أَرُدَّ عَلَيْك"، انْتَهَى. وَرَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَقَالَ فِيهِ: فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، وَيُنْظَرُ فِي التَّوْفِيقِ
--------------------------------------------
অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট এটি শক্তিশালী নয় এবং ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা এই হাদিসটিকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন: সঠিক হলো এটি ইবনে উমরের ওপর মাওকূফ। সমাপ্ত। আর এর বিরোধী হওয়ার বিষয়টি হলো, বুখারী ও মুসলিম কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক রাত আমার খালা ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমুনার নিকট কাটালাম। আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দৈর্ঘ্যের দিকে শুলেন। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) মধ্যরাত পর্যন্ত—অথবা তার কিছু আগে বা পরে—ঘুমালেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং তাঁর হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। অতঃপর তিনি সূরা আলে-ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর তিনি একটি ঝুলন্ত মশকের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তা থেকে ওযু করলেন, আর তিনি উত্তমরূপে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। এই হাদিসটি অপবিত্র অবস্থায় (হাদাস) আল্লাহর নাম স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করার বৈধতার ওপর দলিল প্রদান করে। তবে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) সালামের উত্তর দেওয়ার জন্য তায়াম্মুম করেছিলেন। বুখারী ও মুসলিম আবু আল-জুহায়ম থেকে হাদিসটি বের করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বি'রে জামালের দিক থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে এক ব্যক্তির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো এবং সে তাঁকে সালাম দিল। কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলেন, অতঃপর নিজের মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসেহ করলেন এবং এরপর সালামের উত্তর দিলেন। সমাপ্ত। কিন্তু মুসলিম তাঁর সনদে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেননি, তবে তিনি দাহহাক ইবনে উসমান থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি অতিক্রম করছিল এমতাবস্থায় যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রস্রাব করছিলেন। লোকটি সালাম দিল, কিন্তু তিনি তার উত্তর দেননি। এতে তিনি তায়াম্মুমের কথা উল্লেখ করেননি। আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে ইবনে উমরের বংশধরদের মধ্য হতে আবু বকর নামক জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: অতঃপর তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: "আমি তোমার সালামের উত্তর এই আশঙ্কায় দিয়েছি যাতে তুমি না বলো যে—আমি তাঁকে সালাম দিলাম অথচ তিনি আমার উত্তর দিলেন না। সুতরাং যখন তুমি আমাকে এই অবস্থায় দেখবে, তখন আমাকে সালাম দেবে না; কারণ (সে অবস্থায়) আমি তোমার উত্তর দেব না।" সমাপ্ত। আবদুল হক তাঁর 'আহকাম' গ্রন্থে আল-বাযযারের সূত্র হতে এটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আমার জানামতে এই আবু বকর হলেন ইবনে উমর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। তাঁর থেকে মালিক ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা নেই (লা বা'সা বিহি)। তবে দাহহাক ইবনে উসমানের হাদিসটি অধিক বিশুদ্ধ, কারণ দাহহাক এই আবু বকরের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য। সম্ভবত ঘটনাটি দুই ভিন্ন সময়ে ঘটেছিল। তাঁর কথা এখানেই শেষ। ইবনুল কাত্তান তাঁর কিতাবে এর সমালোচনা করে বলেছেন: তিনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে এটি তিনিই, অথচ হাদিসে তাঁর নাম, তাঁর পিতার নাম ও তাঁর দাদার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি? সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: মুসনাদে সাররাজে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ ইবনে সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু বকর ইবনে উমর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব আমার কাছে নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল যখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন। সে তাঁকে সালাম দিল। তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) বললেন: "যখন তুমি আমাকে এই অবস্থায় দেখবে, তখন আমাকে সালাম দেবে না; কারণ তুমি যদি তা করো, তবে আমি তোমার উত্তর দেব না।" সমাপ্ত। আল-বাযযারও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: তিনি তার উত্তর দেননি। উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টি বিবেচনাধীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بَيْنَ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ، فَإِنَّهَا مُتَعَارِضَةٌ جِدًّا، وَتُرَاجَعُ الْأُصُولُ أَيْضًا، وَاسْتَدَلَّ الْبَيْهَقِيُّ1 عَلَى عَدَمِ وُجُوبِ التَّسْمِيَةِ بِمَا رَوَاهُ أَصْحَابُ السُّنَنِ الْأَرْبَعَةِ مِنْ حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلَّادٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمِّهِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ - فِي الْمُسِيءِ صَلَاتَهُ - قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "إذَا قُمْت فَتَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَك اللَّهُ"، وَفِي لَفْظٍ لَهُمْ: "إنَّهَا لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ، فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ، وَيَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَرِجْلَيْهِ إلَى الْكَعْبَيْنِ، ثُمَّ يُكَبِّرَ اللَّهَ عز وجل وَيَحْمَدَهُ، ثُمَّ يَقْرَأَ مِنْ الْقُرْآنِ مَا تَيَسَّرَ، ثُمَّ يُكَبِّرَ وَيَسْجُدَ، فَيُمَكِّنَ وَجْهَهُ" - أَوْ قَالَ: جَبْهَتَهُ – مِنْ الْأَرْضِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ، ثُمَّ يُكَبِّرَ فيستوي قاعداً على معقده، فَيُقِيمَ صُلْبَهُ، فَوَصَفَ الصَّلَاةَ هَكَذَا: أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ حَتَّى فَرَغَ، لَا يَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يَفْعَلَ ذَلِكَ"، انْتَهَى. قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَذَكَرَ ابْنُ الْقَطَّانِ أَنَّ يَحْيَى2 بْنَ عَلِيِّ بْنِ خَلَّادٍ لَا يُعْرَفُ لَهُ حَالٌ، وَأَبُوهُ عَلِيٌّ ثِقَةٌ، وَجَدُّهُ يَحْيَى بْنُ خَلَّادٍ، أَخْرَجَ لَهُ الْبُخَارِيُّ. قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: احْتَجَّ أَصْحَابُنَا بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي نَفْيِ وُجُوبِ التَّسْمِيَةِ وَحَدِيثُ: الْمُسِيءِ صَلَاتَهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أبي هريرة، وليس في هَذَا اللَّفْظُ، وَإِنَّمَا فِيهِ: إذَا قُمْتَ إلَى الصَّلَاةِ، فَكَبِّرْ، ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَك مِنْ الْقُرْآنِ الْحَدِيثَ، قَالَ: وَاحْتَجُّوا أَيْضًا بِحَدِيثِ يَحْيَى بْنِ هَاشِمٍ السِّمْسَارِ، ثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إذَا تَطَهَّرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ، فَإِنَّهُ يُطَهِّرُ جَسَدَهُ كُلَّهُ، فَإِنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَى طَهُورِهِ لَمْ يُطَهِّرْ إلَّا مَا مَرَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ". قَالَ: وَهَذَا ضَعِيفٌ، لَا أَعْلَمُ رَوَاهُ عَنْ الْأَعْمَشِ غَيْرُ يَحْيَى بْنِ هَاشِمٍ، وَهُوَ مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ، وَرَمَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ بِالْوَضْعِ، ثُمَّ أَخْرَجَ نَحْوَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ. وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ، وَضَعَّفَهُمَا. قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي التَّحْقِيقِ: وَرُبَّمَا قَالَ الْخَصْمُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: إنَّهُ حُجَّةٌ لَهُ، لِأَنَّهُ حُكْمٌ بِطَهَارَةِ الْأَعْضَاءِ مَعَ عَدَمِ التَّسْمِيَةِ، قَالَ: وَجَوَابُهُ: أَنَّا نَقُولُ: الْبَدَنُ مُحْدِثٌ بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَا يجوز مَسُّ الْمُصْحَفِ بِصَدْرِهِ، وَمَعَ بَقَاءِ الْحَدَثِ فِي بَعْضِ الْبَدَنِ لَا تَصِحُّ الصَّلَاةُ. وَقَالَ فِي الْإِمَامِ: وَاسْتُدِلَّ عَلَى وُجُوبِ التَّسْمِيَةِ، بِمَا رَوَاهُ مَعْمَرٌ عَنْ ثَابِتٍ، وَقَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: طَلَبَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وضوءً، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "هَلْ مَعَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مَاءٌ"؟ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الْمَاءِ، وَقَالَ: "تَوَضَّئُوا بِاسْمِ اللَّهِ" قَالَ: فَرَأَيْت الْمَاءَ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ، قَالَ: قُلْت لِأَنَسٍ: كَمْ تراهم؟ قال: نحو مِنْ سَبْعِينَ، انْتَهَى. رَوَاهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ. وَالنَّسَائِيُّ. والدارقطني، ثُمَّ الْبَيْهَقِيُّ، وَقَالَ: هَذَا أَصَحُّ مَا فِي التَّسْمِيَةِ. وَأَصْلُ الْحَدِيثِ عَنْ أَنَسٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَإِنَّمَا الْمَقْصُودُ بِرِوَايَةِ مَعْمَرٍ، هَذِهِ اللَّفْظَةُ الَّتِي ذَكَرَ فِيهَا التَّسْمِيَةَ، وَالْحَدِيثُ لَيْسَ فِيهِ حُجَّةٌ، فَتَأَمَّلْهُ. وَالنَّسَائِيُّ، وَالْبَيْهَقِيُّ بَوَّبَا عَلَيْهِ بَابَ التَّسْمِيَةِ عِنْدَ الْوُضُوءِ وَمِمَّا اُسْتُدِلَّ بِهِ مِنْ السُّنَّةِ
--------------------------------------------
এই হাদিসগুলোর মধ্যে যথেষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে এবং মূলনীতিগুলোর দিকেও পুনরায় দৃষ্টিপাত করা উচিত। ইমাম বায়হাকী তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা) ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন চার সুনান গ্রন্থ প্রণেতাগণ কর্তৃক বর্ণিত আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খাল্লাদ, তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর চাচা রিফায়া ইবনে রাফে থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে—যিনি তাঁর সালাতে ভুল করেছিলেন—তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: "যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন ওযু করো যেভাবে আল্লাহ তোমাকে আদেশ করেছেন।" তাদের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কারো সালাত ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে পূর্ণরূপে ওযু করবে যেভাবে আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং সে তার মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করবে, তার মাথা মাসেহ করবে এবং টাখনু পর্যন্ত তার উভয় পা ধৌত করবে। তারপর সে মহান আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করবে এবং তাঁর প্রশংসা করবে। এরপর কুরআনের যা সহজ হয় তা পাঠ করবে। অতঃপর তাকবির দিবে এবং সিজদাহ করবে, ফলে সে তার চেহারা"—অথবা বলেছেন: "তার কপাল—জমিনে স্থির করবে যতক্ষণ না তার শরীরের জোড়াগুলো স্থির হয়। এরপর তাকবির দিবে এবং সোজা হয়ে বসে উঠবে, তার পিঠ সোজা করবে। তিনি এভাবে চার রাকাত সালাতের বর্ণনা দিলেন যতক্ষণ না শেষ হলো। তোমাদের কারো সালাত ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে এরূপ করবে।" সমাপ্ত। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদিসটি হাসান। ইবনুল কাত্তান উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে খাল্লাদ এর অবস্থা অজ্ঞাত, তবে তার পিতা আলী নির্ভরযোগ্য এবং তার দাদা ইয়াহইয়া ইবনে খাল্লাদ থেকে ইমাম বুখারী হাদিস বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী বলেন: আমাদের সাথীগণ (শাফেঈগণ) তাসমিয়া ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নাকচ করতে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর সালাতে ভুলকারীর হাদিসটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়ে সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) রয়েছে, তবে তাতে এই শব্দগুলো নেই। বরং সেখানে রয়েছে: "যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবির দিবে, তারপর তোমার সাথে কুরআনের যা সহজ হয় তা পাঠ করবে..."। তিনি বলেন: তারা ইয়াহইয়া ইবনে হাশিম আস-সিমসারের হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন, যা আ'মাশ থেকে, তিনি শাকিক ইবনে সালামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "যখন তোমাদের কেউ পবিত্রতা অর্জন করে, সে যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে (বিসমিল্লাহ বলে)। কেননা তা তার পুরো শরীরকে পবিত্র করে দেয়। আর যদি সে তার পবিত্রতা অর্জনের শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তবে পানির স্পর্শ পাওয়া অংশ ব্যতীত তার অন্য কিছু পবিত্র হবে না।" তিনি বলেন: এটি দুর্বল (জয়ীফ)। ইয়াহইয়া ইবনে হাশিম ছাড়া আ'মাশ থেকে অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। সে মাতরুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত রাবী), আর ইবনে আদি তাকে জালকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধার করেছেন এবং উভয়টিকেই দুর্বল বলেছেন। ইবনুল জাওযী 'আত-তাহকীক' গ্রন্থে বলেন: সম্ভবত প্রতিপক্ষ এই হাদিসের ব্যাপারে বলতে পারেন যে, এটি তাদের সপক্ষে দলিল। কারণ এটি তাসমিয়া না করা সত্ত্বেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পবিত্র হওয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি বলেন: এর উত্তর হলো: আমরা বলি যে, শরীরটি অপবিত্র থেকে যায়, যার প্রমাণ হলো বুকের সাথে লাগিয়ে মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করা বৈধ নয়। আর শরীরের কোনো অংশে অপবিত্রতা অবশিষ্ট থাকলে সালাত সহীহ হয় না। তিনি 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেন: তাসমিয়া ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে যা মা'মার বর্ণনা করেছেন সাবিত ও কাতাদাহ থেকে এবং তারা আনাস থেকে। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কিছু সাহাবী ওযুর পানি খুঁজছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমাদের কারো নিকট কি পানি আছে?" এরপর তিনি পানির মধ্যে তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: "আল্লাহর নামে ওযু করো।" তিনি (আনাস) বলেন: আমি পানিকে তাঁর আঙুলের মাঝখান থেকে বের হতে দেখলাম যতক্ষণ না তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত ওযু সম্পন্ন করল। তিনি বলেন: আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার মতে তারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: সত্তর জনের মতো। সমাপ্ত। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে খুযাইমাহ, নাসাঈ, দারা কুতনী এবং বায়হাকী। বায়হাকী বলেন: তাসমিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনা। আনাস থেকে বর্ণিত মূল হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিমে স্বীকৃত)। তবে মা'মারের বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো সেই শব্দটি যেখানে তাসমিয়ার উল্লেখ আছে। তবে এই হাদিসটিতে (ওয়াজিব হওয়ার) কোনো দলিল নেই, সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করুন। নাসাঈ এবং বায়হাকী এই হাদিসের ভিত্তিতে ওযুর সময় তাসমিয়া পাঠের পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। আর সুন্নাহ থেকে যা দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুর রায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عَلَى أَنَّ الْوُضُوءَ لَا يَجِبُ قَبْلَ وَقْتِ الصَّلَاةِ مَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُد. وَالتِّرْمِذِيُّ فِي كِتَابِ الْأَطْعِمَةِ. وَالنَّسَائِيُّ فِي الطَّهَارَةِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ الْخَلَاءِ، فَقُرِّبَ إلَيْهِ طَعَامٌ، فَقَالُوا: أَلَا نَأْتِيكَ بِوَضُوءٍ؟ قَالَ: "إنَّمَا أُمِرْت بِالْوُضُوءِ إذَا قُمْتُ إلَى الصَّلَاةِ"، قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَرَوَاهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي صَحِيحِهِ. وَالْحَدِيثُ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِنْ رِوَايَةِ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، لَكِنْ بِغَيْرِ لَفْظَةِ - إنَّمَا - الْمُفِيدَةُ لِلْمَطْلُوبِ مِنْ الْحَدِيثِ. وَبِهَا اسْتَدَلَّ ابْنُ خُزَيْمَةَ عَلَى ذَلِكَ، وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ مِنْ طَرِيقِ أَبِي دَاوُد بِلَفْظَةِ - إنَّمَا -.
الْحَدِيثُ الرَّابِعُ: رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوَاظِبُ عَلَى السِّوَاكِ. قُلْت: فِيهِ أَحَادِيثُ: فَمِنْهَا مَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ. وَمُسْلِمٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إذَا قَامَ مِنْ اليل يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ، انْتَهَى. وَفِي لَفْظٍ إذَا قَامَ لِيَتَهَجَّدَ.
حَدِيثٌ آخَرُ: رَوَى مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ شُرَيْحٍ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ، انْتَهَى.
حَدِيثٌ آخَرُ: أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُد فِي سُنَنِهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ أُمِّ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يَسْتَيْقِظُ1 مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إلَّا تَسَوَّكَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ، انْتَهَى.
حديث آخر: أخرج النَّسَائِيُّ، وَابْنُ مَاجَهْ2 عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَيَسْتَاكُ، انْتَهَى.
حَدِيثٌ آخَرُ: رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَأَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيُّ، وَأَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ فِي مَسَانِيدِهِمْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْمَلِيحِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يَنَامُ إلَّا وَالسِّوَاكُ عِنْدَهُ، فَإِذَا اسْتَيْقَظَ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ.
حَدِيثٌ آخَرُ: أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي مُعْجَمِهِ عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ لِشَيْءٍ مِنْ الصَّلَوَاتِ حَتَّى يَسْتَاكَ، انْتَهَى.
حَدِيثٌ آخَرُ: يَدُلُّ عَلَى مُحَافَظَتِهِ عليه السلام عَلَى السِّوَاكِ، وَهُوَ أَنَّهُ فعليه عليه السلام حَتَّى عِنْدَ وَفَاتِهِ، كَمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي آخِرِ كِتَابِ الْمَغَازِي3 مِنْ حَدِيثِ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: دَخَلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَا مُسْنِدَتُهُ إلَى صَدْرِي، وَمَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سِوَاكٌ رَطْبٌ يَسْتَنُّ بِهِ، فَأَبَدَّهُ4 رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَصَرَهُ، فَأَخَذْتُ السِّوَاكَ فَقَضَمْته5، وَطَيَّبْته، ثُمَّ دَفَعْته إلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،
--------------------------------------------
নামাযের সময়ের পূর্বে ওযু ওয়াজিব না হওয়ার দলিল হলো যা আবু দাউদ এবং তিরমিযী 'খাদ্যদ্রব্য' অধ্যায়ে এবং নাসায়ী 'পবিত্রতা' অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শৌচাগার থেকে বের হলেন, এরপর তাঁর সামনে খাবার পেশ করা হলো। তাঁরা বললেন: আমরা কি আপনার জন্য ওযুর পানি নিয়ে আসব না? তিনি বললেন: "আমাকে তো কেবল তখনই ওযু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যখন আমি নামাযের জন্য দাঁড়াই।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদিস। ইবনে খুযাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি মুসলিমের নিকট সাঈদ ইবনুল হুয়াইরিসের বর্ণনায় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে 'কেবল' (ইন্নামা) শব্দটি নেই যা হাদিসটি থেকে উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রমাণ দেয়। ইবনে খুযাইমা এই শব্দটির মাধ্যমেই দলিল পেশ করেছেন। আর বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু দাউদের সূত্রে 'কেবল' (ইন্নামা) শব্দসহ এটি বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ হাদিস: বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত মিসওয়াক করতেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এ বিষয়ে একাধিক হাদিস রয়েছে: তার মধ্যে একটি বুখারী ও মুসলিম আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ ঘষতেন, সমাপ্ত। এক বর্ণনায় রয়েছে: যখন তিনি তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন।
অন্য একটি হাদিস: মুসলিম শুরাইহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন, মিসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন, সমাপ্ত।
অন্য একটি হাদিস: আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি উম্মে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে বা দিনে যখনই ঘুম থেকে জাগতেন, ওযু করার আগে মিসওয়াক করতেন, সমাপ্ত।
অন্য একটি হাদিস: নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে দুই দুই রাকাত করে নামায পড়তেন, এরপর তিনি ফিরে এসে মিসওয়াক করতেন, সমাপ্ত।
অন্য একটি হাদিস: আহমাদ, আবু দাউদ তায়ালিসি এবং আবু ইয়ালা মাওসিলি তাঁদের মুসনাদসমূহে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার দাদা আবুল মালিহ আমার নিকট ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক তাঁর নিকট রাখা ছাড়া ঘুমাতেন না, অতঃপর যখন তিনি জাগতেন, মিসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন।
অন্য একটি হাদিস: তাবারানি তাঁর মুজাম গ্রন্থে সালেহ ইবনে আবি সালেহ থেকে, তিনি যাইদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো নামাযের জন্য তাঁর ঘর থেকে বের হতেন না যতক্ষণ না তিনি মিসওয়াক করতেন, সমাপ্ত।
অন্য একটি হাদিস: যা তাঁর (আলাইহিস সালাম) মিসওয়াকের প্রতি নিয়মিত অভ্যাসের প্রমাণ দেয়, আর তা হলো তিনি এমনকি তাঁর মৃত্যুর সময়ও এটি করেছেন, যেমন বুখারী 'কিতাবুল মাগাযী'র শেষে কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমি তাঁকে আমার বুকের সাথে হেলান দিয়ে ধরে রেখেছিলাম। আবদুর রহমানের সাথে একটি কাঁচা মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে তিনি দাঁত মাজছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকালেন। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং তা চিবিয়ে নরম করলাম ও পরিষ্কার করলাম, এরপর তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদান করলাম।
--------------------------------------------