(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الواضح في علوم القرآن   (مصطفى ديب البغا)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الواضح في علوم القرآن

المؤلف: مصطفى ديب البغا - محيى الدين ديب مستو [ت 1442 هـ]

الناشر: دار الكلم الطيب / دار العلوم الانسانية - دمشق

الطبعة: الثانية، 1418 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 323

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 محرم 1433

আল-ওয়াদিহ ফি উলুমিল কুরআন   (মোস্তফা দীব আল-বুগা)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও উসুলুত তাফসির


কিতাব: আল-ওয়াদিহ ফি উলুমিল কুরআন

গ্রন্থকার: মোস্তফা দীব আল-বুগা - মহিউদ্দীন দীব মিস্তু [মৃত্যু ১৪৪২ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল কালিম আত-তাইয়িব / দারুল উলুম আল-ইনসানিয়্যাহ - দামেস্ক

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৩

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ মহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدّمة

الحمد لله حمدا كثيرا طيّبا، أنزل القرآن الكريم كاملا وشاملا، ومن أيّ تناقض أو ارتياب سالما، قال الله تعالى:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلى عَبْدِهِ الْكِتابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجاً [الكهف: 1].

وجعل التّدبّر في آياته مقصدا، والوصول إلى إتقان تلاوته ولذّة قراءته هدفا وموئلا، فقال سبحانه: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً [النساء: 82].

والصّلاة والسّلام على رسول الله، بعثه الله رحمة للعالمين، وأيّده بقرآنه المعجزة وكلامه المبين، ورضي الله عن أصحابه والتّابعين، ومن اتّبع سبيلهم، فاتّبع هدي القرآن وصراطه المستقيم، إلى يوم الدّين.

وبعد:

فإنّ القرآن الكريم عظيم الفضل رفيع المنزلة في حياة المسلمين جميعا، ماضيا وحاضرا ومستقبلا، وتتجلّى مكانته السّامقة في حفظه من كلّ تحريف أو تبديل، وفي إعجازه لجميع بني البشر أن يأتوا بأقصر سورة من مثله، ولو كان بعضهم لبعض عونا وظهيرا.

وهو شرف وفخار للرسول الكريم صلى الله عليه وسلم، ولأمّته الماجدة المتمسّكة بمبادئ
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অসংখ্য উত্তম ও পবিত্র প্রশংসা; তিনি পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেছেন পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক হিসেবে এবং যা যেকোনো বৈপরীত্য বা সন্দেহ থেকে মুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন:

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।” [সূরা কাহাফ: ১]।

এবং তিনি এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করাকে একটি উদ্দেশ্য হিসেবে এবং এর তিলাওয়াতের নিপুণতা ও পাঠের স্বাদ অর্জনকে একটি লক্ষ্য ও আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য খুঁজে পেত।” [সূরা নিসা: ৮২]।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, আল্লাহ যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁকে তাঁর অলৌকিক (معجزة) কুরআন ও সুস্পষ্ট বাণীর মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণের (التّابعين) ওপর এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, আর কুরআনের হেদায়েত ও এর সরল পথের অনুসারী হয়েছেন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন মুসলিমদের জীবনে—অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে—এক সুমহান মর্যাদা ও উচ্চ আসনের অধিকারী। এর সুউচ্চ অবস্থান প্রকাশ পায় একে সকল প্রকার বিকৃতি (تحريف) বা পরিবর্তন (تبديل) থেকে সুরক্ষিত রাখার মধ্যে এবং সমস্ত মানবজাতিকে এর অনুরূপ ক্ষুদ্রতম একটি সূরা আনয়নে চ্যালেঞ্জ বা অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রদর্শনের মাধ্যমে, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী ও পৃষ্ঠপোষক হয়।

আর এটি দয়ালু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সেই মহিমান্বিত উম্মতের জন্য এক সম্মান ও গর্বের বিষয়, যারা এর মূলনীতিসমূহ আঁকড়ে ধরে আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
الكتاب العزيز وأحكامه قولا وعملا، قال الله تعالى:

وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْئَلُونَ [الزخرف: 44].

ومن آياته وسوره الكريمات تستمدّ الأمّة المسلمة عقيدتها الحنيفية، وعبادتها الصحيحة، وأخلاقها الكريمة، وأحكامها القويمة: إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ [الإسراء: 9].

وفي ثنايا صفحات القرآن المباركة، تتجلّى تجارب الأمم، وتاريخ الإنسانية، وحياة الأنبياء، فيتطلّع المسلمون إلى حاضر سعيد ومستقبل رغيد، على بصيرة وعلم بالماضي الحافل بالعظات والعبر، وعلى هدي من النّداءات الإلهية الحانية، تدعوهم صباح مساء إلى العزّة والمجد في حاضرهم ومستقبلهم.

وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ [المنافقون: 8].

وكلّ هذه الحقائق المرتبطة بأهمية القرآن، منوطة بمعرفة علومه ومرهونة بفهم تنزّلاته، وطرائق جمعه وكتابته وحفظه، وكيفيّة رسمه، ووجوه إعجازه، ومناهج تفسيره وفهمه، والتعرّف على أحكام تجويده، وأساليب بيانه.

إنّ التلاوة لكتاب الله، المسبوقة بهذه الثقافة القرآنية، لا بدّ أن تصل إلى غاياتها في الثّواب والخشوع، والفهم والعمل.

وقد كان هدفنا في جميع أبواب الكتاب وفصوله، أن يبقى القرآن الكريم في بؤرة الضّوء شاهدا ومشهودا، وأمام السمع والبصر والوجدان مقروءا ومتلوّا. وقد توخينا فيما كتبناه أو اخترناه العبارة الواضحة، والأسلوب السهل، وأبعدنا كلّ البعد عن المناقشات اللّفظية، والخلافات الشّكلية التي لا ينبني عليها كبير فائدة، والتي من شأنها أن تبعد القارئ عن جوّ التّدبّر والفهم، والاعتزاز بقدسيّة وحفظ الكتاب العزيز.

وقد أضفنا بابا تطبيقيا يحتوي على فصلين:
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে এর বিধানসমূহ। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:

"নিশ্চয়ই এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক মহাসম্মান; আর অচিরেই তোমাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে।" [যুখরুফ: ৪৪]

আর এই কুরআনের আয়াতসমূহ ও সম্মানিত সূরাসমূহ থেকেই মুসলিম উম্মাহ তাদের একনিষ্ঠ (الحنيفية) আকীদা, সঠিক (الصحيحة) ইবাদত, মহৎ চরিত্র এবং সুদৃঢ় বিধানসমূহ গ্রহণ করে: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অধিকতর সুদৃঢ়।" [ইসরা: ৯]

কুরআনের বরকতময় পৃষ্ঠাগুলোর ভাঁজে ভাঁজে বিভিন্ন জাতির অভিজ্ঞতা, মানবতার ইতিহাস এবং নবীদের জীবনচিত্র ফুটে ওঠে। ফলে মুসলিমরা উপদেশ ও শিক্ষায় ভরপুর অতীত সম্পর্কে জ্ঞান ও দূরদৃষ্টির ভিত্তিতে এক সৌভাগ্যময় বর্তমান ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করে। তারা সেই করুণাময় ঐশী আহ্বানের দিকনির্দেশনা লাভ করে, যা তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতে সম্মান ও মর্যাদার দিকে আহ্বান জানায়।

"আর সম্মান তো কেবল আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের জন্য।" [মুনাফিকুন: ৮]

কুরআনের গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট এই সকল বাস্তবতা এর বিভিন্ন শাস্ত্র বা জ্ঞানসমূহ (علوم) অর্জনের সাথে জড়িত এবং এর অবতীর্ণ হওয়ার পর্যায়সমূহ (تنزيلات), এটি সংকলন, লিখন ও সংরক্ষণের পদ্ধতি, এর লিখনরীতি (رسم), এর মুজিযার (إعجاز) বিভিন্ন দিক, এর তাফসীর (تفسير) ও উপলব্ধির মূলনীতিসমূহ এবং এর তাজভীদের বিধান ও বর্ণনাভঙ্গি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।

আল্লাহর কিতাবের তিলাওয়াত যদি এই কুরআনিক জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়, তবে তা অবশ্যই সওয়াব, খুশু বা একাগ্রতা (الخشوع), উপলব্ধি ও আমলের ক্ষেত্রে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

এই গ্রন্থের সকল পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদে আমাদের লক্ষ্য ছিল যেন আল-কুরআন আলোকবর্তিকা হিসেবে সাক্ষী ও প্রত্যক্ষ বিষয় হিসেবে অবস্থান করে এবং শ্রবণ, দর্শন ও অন্তরের সম্মুখে পঠিত ও তিলাওয়াতকৃত থাকে। আমরা যা লিখেছি বা নির্বাচন করেছি, তাতে স্পষ্ট শব্দ ও সহজ ভঙ্গি অবলম্বন করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা সেই সকল শাব্দিক বিতর্ক ও বাহ্যিক মতভেদ থেকে চূড়ান্ত দূরত্ব বজায় রেখেছি যার ওপর বড় কোনো ফায়দা নির্ভর করে না। বরং এ ধরনের বিতর্ক পাঠককে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) ও উপলব্ধি এবং এই মহাগ্রন্থের পবিত্রতা ও সংরক্ষণের গর্ববোধ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

আমরা একটি প্রায়োগিক অধ্যায় যুক্ত করেছি যা দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
الأول: سبعة نصوص تطبيقية مدروسة لمعظم البحوث المتقدمة.

والثاني: نصوص تطبيقية للدراسة، وأسئلة وتطبيقات على جميع موضوعات الكتاب، للأخذ بيد القارئ والدارس إلى تذوق فنون علوم القرآن بشكل عملي ومنهجي.

اللهمّ تقبّل منا هذا العمل، واكتبه يا ربنا في صحائف أعمالنا، واختم لنا بالحسنى يا رحمن يا رحيم.

دمشق في 1/ 12/ 1416 هـ 7/ 5/ 1996 م المؤلفان الدكتور مصطفى البغا محيي الدين مستو
প্রথমত: অধিকাংশ উচ্চতর গবেষণার পর্যালোচিত সাতটি প্রায়োগিক পাঠ।

দ্বিতীয়ত: অধ্যয়নের জন্য প্রায়োগিক পাঠ, এবং বইটির সকল বিষয়ের ওপর প্রশ্ন ও অনুশীলন, যাতে পাঠক ও শিক্ষার্থী কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) শিল্পরীতিকে ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগতভাবে আস্বাদন করতে পারে।

হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে এই কাজ কবুল করুন, হে আমাদের রব! আমাদের আমলনামায় এটি লিপিবদ্ধ করুন এবং হে পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু! কল্যাণের সাথে আমাদের জীবনের সমাপ্তি দান করুন।

দামেস্ক, ১/ ১২/ ১৪১৬ হিজরি, ৭/ ৫/ ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ। লেখকদ্বয়: ডক্টর মুস্তাফা আল-বুগা ও মুহিউদ্দীন মিস্তু।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌مدخل تمهيدي تعريف «علوم القرآن» وموضوعه وفائدته وتاريخه

‌‌1 - تعريف «علوم القرآن»

هو مباحث تتعلق بالقرآن الكريم من ناحية نزوله وترتيبه، وجمعه وكتابته، وقراءاته، ومحكمه ومتشابهه، وناسخه ومنسوخه، وإعجازه، وأساليبه ودفع الشبه عنه … إلخ ذلك.

ويتضح من هذا التعريف أن (علوم القرآن) علم عربي إسلامي في نشأته وتكوينه، بدأ مع نزول القرآن الكريم، وما زال ينضج ويتكامل حتى قيام الساعة.

 

‌‌2 - موضوعه

القرآن الكريم من أية ناحية من النواحي المذكورة في التعريف.

 

‌‌3 - فائدته

الثقافة العالية العامة في القرآن الكريم، والتسلّح بالمعارف القيّمة فيه، استعدادا لحسن الدفاع عن حمى الكتاب العزيز، وتسهيل خوض غمار تفسير القرآن الكريم، وهو من هذه الناحية كمثل علوم الحديث (المصطلح) لمن أراد أن يدرس علم الحديث.

 

‌‌4 - تاريخ علوم القرآن

أ- عهد ما قبل التدوين: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه يعرفون عن القرآن وعلومه ما عرفه العلماء من بعد، ولكن معرفتهم لم تدوّن، ولم تجمع في كتاب،
‌‌প্রারম্ভিক ভূমিকা: ‘উলূমুল কুরআন’-এর সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয়, উপকারিতা ও ইতিহাস

‌‌১ - ‘উলূমুল কুরআন’-এর সংজ্ঞা

এটি এমন কিছু গবেষণালব্ধ বিষয় যা পবিত্র কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া (نزول), বিন্যাস (ترتيب), সংকলন (جمع) ও লিখন (كتابة), পঠনশৈলী (قراءات), সুষ্পষ্ট (محكم) ও রূপক (متشابه), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), অলৌকিকত্ব (إعجاز), বর্ণনাভঙ্গি (أساليب) এবং এর থেকে সংশয় নিরসন … ইত্যাদি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।

এই সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট যে, ‘উলূমুল কুরআন’ তার উৎপত্তি ও গঠনের দিক থেকে একটি আরবি ও ইসলামি জ্ঞান (علم), যা পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এটি বিকশিত ও পূর্ণতা লাভ করতে থাকবে।

 

‌‌২ - এর আলোচ্য বিষয়

সংজ্ঞায় উল্লেখিত যেকোনো দিক থেকে পবিত্র কুরআনই এর আলোচ্য বিষয়।

 

‌‌৩ - এর উপকারিতা

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে উচ্চতর সাধারণ জ্ঞান অর্জন, এর মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডারে সমৃদ্ধ হওয়া, মর্যাদাপূর্ণ এই কিতাবের পবিত্রতা রক্ষায় আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পবিত্র কুরআনের তাফসিরের (تفسير) গভীরে প্রবেশ করা সহজসাধ্য করা। এই দিক থেকে এটি হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুকদের জন্য হাদিস বিজ্ঞানের পরিভাষার (المصطلح) মতো।

 

‌‌৪ - উলূমুল কুরআনের ইতিহাস

ক- সংকলন-পূর্ব যুগ: রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীগণ কুরআন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন যা পরবর্তী আলিমগণ জানতে পেরেছেন, তবে তাঁদের সেই জ্ঞান সংকলিত (تدوين) ছিল না এবং কোনো কিতাবে একত্রিত করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
لعدم حاجتهم إلى ذلك، فقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرهم ينزل عليه الوحي فيرتّله على مسامعهم، ويكشف لهم عن معانيه وأسراره بوحي من ربّه، وكان الصحابة عربا خلّصا، يتّصفون بقوة الذاكرة وتذوّق البيان وتقدير الأساليب، فأدركوا من علوم القرآن ما لم ندركه نحن، وكانت الأمية متفشية بينهم ووسائل الكتابة بدائية وغير ميسّرة لديهم، ومع ذلك فقد نشطوا في نشر الإسلام وتعاليمه والقرآن وعلومه تلقينا ومشافهة.

ب- عهد التمهيد لكتابة علوم القرآن: إنّ ما تمّ في عهد الخليفة الثالث عثمان بن عفان رضي الله عنه من جمع القرآن في مصحف إمام، ونسخ عدة نسخ منه لإرسالها إلى الأقطار الإسلامية- والذي نفصّل فيه القول في الباب الثالث من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى- كان الأساس لما يسمّى «علم رسم القرآن». وفي عهد عليّ رضي الله عنه وضع الأساس لما يسمّى «علم النحو» بعد أن أمر عليّ رضي الله عنه أبا الأسود الدؤلي أن يضع بعض القواعد، لحماية لغة القرآن من العجمة وتفشي اللحن بين الناس.

وفي العهد الأمويّ ساهم عدد من الصحابة والتابعين في وضع الأساس لما يسمّى «علم التفسير» و «علم أسباب النزول» و «علم الناسخ والمنسوخ» و «علم غريب القرآن».

ج- عهد التدوين: وفي هذا العهد ألّفت الكتب في أنواع علوم القرآن، واتّجهت الهمم أول الأمر إلى التفسير باعتباره أمّ العلوم القرآنية، ومن أوائل من كتب في التفسير شعبة بن الحجاج، وسفيان بن عيينة، ووكيع بن الجراح. وتفاسيرهم جامعة لأقوال الصحابة والتابعين، ثم تلاهم الطبري المتوفى سنة (310 هـ). وفي علوم القرآن الأخرى كتب علي بن المديني- شيخ البخاري- المتوفى سنة (234 هـ) كتابا في «أسباب النزول» وأبو عبيد القاسم بن سلّام المتوفى سنة
তাঁদের এর প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের মাঝেই অবস্থান করছিলেন, যাঁর ওপর ওহি নাজিল হতো এবং তিনি তা তাঁদের সামনে তিলাওয়াত করতেন। তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহির মাধ্যমে তাঁদের কাছে এর অর্থ ও রহস্য উন্মোচন করতেন। সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন বিশুদ্ধ আরব (عربا خلّصا), তাঁরা প্রখর স্মৃতিশক্তি, সাবলীল ভাষাবোধ এবং বাক্যরীতির চমৎকারিত্ব উপলব্ধির গুণে গুণান্বিত ছিলেন। ফলে তাঁরা কোরআন বিজ্ঞানের এমন সব বিষয় অনুধাবন করেছিলেন যা আমরা করতে পারিনি। তাঁদের মাঝে নিরক্ষরতা ব্যাপক ছিল এবং লিখন উপকরণসমূহ ছিল আদিম ও অপ্রতুল। তা সত্ত্বেও তাঁরা সরাসরি শিক্ষা ও মৌখিক পাঠের (تلقينا ومشافهة) মাধ্যমে ইসলাম, এর শিক্ষা এবং কোরআন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ প্রসারে সক্রিয় ছিলেন।

খ- কোরআন বিজ্ঞান লিখনীর প্রস্তুতি কাল: তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে একটি প্রধান মুসহাফে কোরআন সংকলন এবং বিভিন্ন মুসলিম জনপদে পাঠানোর জন্য এর কয়েকটি অনুলিপি তৈরি করার যে কাজ সম্পাদিত হয়েছিল—যার বিস্তারিত আলোচনা এই কিতাবের তৃতীয় পরিচ্ছেদে ইনশাআল্লাহ আসবে—তা-ই ছিল 'রসমুল কোরআন' বা কোরআনের লিখনরীতি (رسم القرآن) বিজ্ঞানের ভিত্তি। আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে 'ইলমুন নাহু' বা ব্যাকরণ বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপিত হয়; যখন তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে কিছু নিয়ম প্রণয়ন করতে আদেশ দেন, যাতে কোরআনের ভাষাকে অনারবীয় প্রভাব (عجمة) এবং মানুষের মধ্যে ভাষাগত ভুলের (لحن) বিস্তার থেকে রক্ষা করা যায়।

উমাইয়া যুগে একদল সাহাবী ও তাবেয়ী 'ইলমুত তাফসীর' বা তাফসীর বিজ্ঞান, নাজিলের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সংক্রান্ত বিজ্ঞান, রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) সংক্রান্ত বিজ্ঞান এবং কোরআনের বিরল শব্দাবলি (غريب القرآن) সংক্রান্ত বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনে অবদান রাখেন।

গ- সংকলনের যুগ: এই যুগে কোরআন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় কিতাবসমূহ রচিত হতে থাকে। সূচনালগ্নে তাফসীরের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করা হয়, কারণ একে কোরআন বিজ্ঞানের জননী বা মূল হিসেবে গণ্য করা হয়। তাফসীর বিষয়ে যাঁরা প্রথম কিতাব লিখেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা এবং ওয়াকি ইবনুল জাররাহ। তাঁদের তাফসীরসমূহ ছিল সাহাবী ও তাবেয়ীদের বক্তব্যের সংকলন। অতঃপর তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হন তাবারী, যিনি ৩১০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। কোরআন বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ে আলী ইবনুল মাদীনী—যিনি বুখারীর শায়খ (شيخ) ছিলেন এবং ২৩৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন—তিনি 'নাজিলের প্রেক্ষাপট' (أسباب النزول) বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেন। এবং আবু উবায়েদ কাসিম বিন সাল্লাম, যিনি ... হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
(224 هـ) كتب في «الناسخ والمنسوخ» وكلاهما من علماء القرن الثالث.

وأبو بكر السجستاني المتوفى (330 هـ) كتب في «غريب القرآن» وهو من القرن الرابع، وعليّ بن سعيد الحوفي صنف في «إعراب القرآن» وهو من علماء القرن الخامس. وفي هذا القرن الخامس ظهر اصطلاح «علوم القرآن» وأول من كتب فيه هو علي بن سعيد الحوفي المتوفى سنة 430 هـ واسم كتابه: «البرهان في علوم القرآن» ويقع في ثلاثين مجلدا، والموجود منه الآن في دار الكتب المصرية (15) مجلدا. وفي القرن السادس ألّف ابن الجوزي المتوفى سنة (597 هـ) كتابين هما:

«فنون الأفنان في علوم القرآن» و «المجتبى في علوم تتعلق بالقرآن».

وفي القرن السابع ألّف علم الدين السخاوي المتوفى سنة (641 هـ) كتابا سمّاه «جمال القراء». وألّف أبو شامة المتوفى سنة (665 هـ) كتابا سمّاه «المرشد الوجيز فيما يتعلق بالقرآن العزيز».

وفي القرن الثامن كتب بدر الدين الزركشي المتوفى سنة (794 هـ) كتابا وافيا سماه «البرهان في علوم القرآن». وألّف تقي الدين أحمد بن تيمية الحرّاني المتوفى سنة (728 هـ) رسالة في أصول التفسير، وهي مشتملة على بعض موضوعات علوم القرآن.

وفي القرن التاسع: ألّف محمد بن سليمان الكافيجي المتوفى سنة (873 هـ) كتابا في علوم القرآن، وألّف جلال الدين البلقيني المتوفى سنة (824 هـ) كتابه «مواقع العلوم من مواقع النجوم».

وفي القرن العاشر ألّف جلال الدين السيوطي المتوفى سنة (911 هـ) كتابه المشهور «الإتقان في علوم القرآن» وهو من أجمع الكتب في موضوعه، لأنه استفاد من مؤلفات السابقين وزاد عليها «1».

--------------------------------------------

(1) مناهل العرفان؛ للزرقاني (1/ 5 - 32).
(২২৪ হিজরি) তিনি রহিতকারী ও রহিতকৃত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ে লিখেছেন এবং তাঁরা উভয়েই তৃতীয় শতাব্দীর আলেম ছিলেন।

এবং আবু বকর আল-সিজিস্তানি (মৃত্যু ৩৩০ হিজরি) কুরআনের বিরল শব্দাবলি (غريب القرآن) বিষয়ে লিখেছেন এবং তিনি চতুর্থ শতাব্দীর আলেম ছিলেন। আলী ইবনে সাঈদ আল-হাউফি কুরআনের ব্যাকরণ (إعراب القرآن) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তিনি পঞ্চম শতাব্দীর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই পঞ্চম শতাব্দীতেই কুরআনের জ্ঞানবিজ্ঞান (علوم القرآن) পরিভাষাটির উদ্ভব ঘটে এবং এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি লিখেছেন তিনি হলেন ৪৩০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আলী ইবনে সাঈদ আল-হাউফি। তাঁর গ্রন্থের নাম: 'আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন', যা ত্রিশ খণ্ডে বিন্যস্ত, বর্তমানে যার ১৫টি খণ্ড মিসরের দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত আছে। এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইবনুল জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) দুটি গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো:

‘ফুনুনুল আফনান ফি উলুমিল কুরআন’ এবং ‘আল-মুজতাবা ফি উলুমিন তাতাআল্লাকু বিল কুরআন’।

সপ্তম শতাব্দীতে আলম উদ্দিন আস-সাখাভি (মৃত্যু ৬৪১ হিজরি) একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন ‘জামালুল কুররা’। এবং আবু শামা (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন ‘আল-মুরশিদ আল-ওয়াজিজ ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বিল কুরআনিল আজিজ’।

অষ্টম শতাব্দীতে বদর উদ্দিন আজ-জারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) ‘আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন’ নামক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন। এবং তাকি উদ্দিন আহমদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি) তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেন, যা কুরআনের জ্ঞানবিজ্ঞান (علوم القرآن) এর কিছু বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে।

নবম শতাব্দীতে: মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-কাফিয়াজি (মৃত্যু ৮৭৩ হিজরি) কুরআনের জ্ঞানবিজ্ঞান (علوم القرآن) এর ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং জালাল উদ্দিন আল-বুলকিনি (মৃত্যু ৮২৪ হিজরি) তাঁর ‘মাওয়াকিউল উলুম মিন মাওয়াকিন নুজুম’ গ্রন্থটি রচনা করেন।

দশম শতাব্দীতে জালাল উদ্দিন আস-সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন’ রচনা করেন। এটি তার বিষয়বস্তুর ওপর অন্যতম এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ, কারণ তিনি পূর্বসূরিদের রচনাবলি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাতে আরও নতুন কিছু সংযোজন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মানাহিলুল ইরফান; আজ-জারকানি (১/ ৫ - ৩২)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي عصر النهضة الحديثة أثرت المكتبة العربية وازدانت بمؤلفات عديدة في الموضوعات القرآنية وفي علوم القرآن بالذات ونستطيع أن نعدّ منها على سبيل المثال لا الحصر:

«التبيان في علوم القرآن» للشيخ طاهر الجزائري.

«منهج الفرقان في علوم القرآن» للشيخ محمد علي سلامة.

«مناهل العرفان في علوم القرآن» للشيخ محمد عبد العظيم الزرقاني.

«مباحث في علوم القرآن» للدكتور صبحي الصالح.

«من روائع القرآن» للدكتور محمد سعيد رمضان البوطي.

«مباحث في علوم القرآن» للأستاذ مناع القطان.
আধুনিক রেনেসাঁ বা জাগরণের যুগে আরবি পাঠাগার কুরআনিক বিষয়াবলি এবং বিশেষ করে কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান (علوم القرآن) সংক্রান্ত বহুবিধ রচনায় সমৃদ্ধ ও সুশোভিত হয়েছে। আমরা এগুলোর মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কিছু উল্লেখ করতে পারি:

শেখ তাহের আল-জাযাইরি-র «আত-তিবইয়ান ফি উলুমিল কুরআন»।

শেখ মুহাম্মদ আলি সালামাহ-র «মানহাজুল ফুরকান ফি উলুমিল কুরআন»।

শেখ মুহাম্মদ আবদুল আজিম আয-যারকানি-র «মানাহিলুল ইরফান ফি উলুমিল কুরআন»।

ডক্টর সুবহি আল-সালেহ-র «মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন»।

ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি-র «মিন রাওয়ায়িল কুরআন»।

উস্তাদ মান্না আল-কাত্তান-র «মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন»।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الباب الأوّل معنى القرآن وفضله واحترامه

أولا: معنى القرآن لغة، وأسماؤه.

ثانيا: تعريف القرآن الكريم اصطلاحا.

ثالثا: فضل القرآن الكريم وأهميته في حياة المسلمين.

رابعا: فضل تلاوة القرآن الكريم.

خامسا: احترام القرآن الكريم.
প্রথম অধ্যায়: কুরআনের অর্থ, এর মর্যাদা ও সম্মান

প্রথমত: আভিধানিক (لغة) অর্থে কুরআন এবং এর নামসমূহ।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে আল-কুরআনুল কারীমের সংজ্ঞা।

তৃতীয়ত: আল-কুরআনুল কারীমের মর্যাদা এবং মুসলিমদের জীবনে এর গুরুত্ব।

চতুর্থত: আল-কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের মর্যাদা।

পঞ্চমত: আল-কুরআনুল কারীমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أولا: معنى القرآن لغة وأسماؤه

«القرآن» هو أول أسماء الكتاب العزيز وأشهرها، وأصحّ الأقوال في شرح معناه اللغوي أنه مرادف للقراءة، ومنه قوله تعالى: إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (17) فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ [القيامة: 17 - 18] ثم نقل من هذا المعنى المصدري وجعل اسما لكلام الله المنزل على نبيه محمد صلوات الله وسلامه عليه.

وقد قيل: إن اسم القرآن مشتق من القرء بمعنى الجمع؛ لأنه جمع ثمرات الكتب السماوية السابقة، والرأي الأوّل أصح.

وذهب الإمام الشافعي رضي الله عنه إلى أن لفظ القرآن ليس مشتقا ولا مهموزا، وأنه قد ارتجل وجعل علما للكتاب المنزل، كما أطلق اسم التوراة على كتاب موسى، والإنجيل على كتاب عيسى عليهما السلام.

ومن أسماء القرآن: الفرقان، ويعني أنه الكلام الذي يفرّق بين الحق والباطل.

قال تعالى: تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً [الفرقان: 1] ومن أسمائه المشهورة: الكتاب، والذكر، والتنزيل. قال تعالى: نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ [آل عمران: 3] وقال سبحانه: وَهذا ذِكْرٌ مُبارَكٌ أَنْزَلْناهُ [الأنبياء: 50] وقال: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ [الشعراء: 192].

ويقف الدكتور محمد عبد الله دراز في كتابه القيم «النبأ العظيم» عند أشهر اسمين وهما «القرآن» و «الكتاب» ليستجلي الحكمة الربانية في ذلك، فيقول: روعي في
‌‌প্রথমত: কুরআনের আভিধানিক অর্থ ও এর নামসমূহ

‘আল-কুরআন’ হলো এই মহান কিতাবের নামসমূহের মধ্যে প্রথম এবং সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। এর আভিধানিক অর্থের ব্যাখ্যায় বিশুদ্ধতম (أصح) মতটি হলো এটি ‘পঠন’ বা ‘পাঠ’ শব্দের সমার্থক; মহান আল্লাহর এই বাণীটি এর অন্তর্গত: “নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।” [সূরা কিয়ামাহ: ১৭-১৮] অতঃপর এই মূল ধাতুগত অর্থ থেকে শব্দটিকে স্থানান্তরিত করে আল্লাহর সেই কালামের নাম হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে যা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ।

বলা হয়ে থাকে যে: ‘কুরআন’ নামটি ‘আল-কারউ’ (القرء) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো—একত্র করা; কারণ এটি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের নির্যাসকে একত্র করেছে। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)।

ইমাম শাফেয়ী (রা.) এই মত পোষণ করেছেন যে, ‘কুরআন’ শব্দটি অন্য কোনো শব্দ থেকে উদ্ভূত নয় এবং এটি হামজাযুক্তও নয়; বরং এটি সরাসরি এই অবতীর্ণ কিতাবের নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, যেমন মুসা (আ.)-এর কিতাবের ওপর ‘তওরাত’ এবং ঈসা (আ.)-এর কিতাবের ওপর ‘ইঞ্জিল’ নাম প্রয়োগ করা হয়েছে।

কুরআনের নামসমূহের মধ্যে একটি হলো ‘আল-ফুরকান’; এর অর্থ হলো এটি এমন এক বাণী যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন: “বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।” [সূরা ফুরকান: ১] এর প্রসিদ্ধ নামসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: আল-কিতাব, আয-যিকর এবং আত-তানযীল। মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি আপনার ওপর সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী।” [সূরা আলে ইমরান: ৩] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: “এবং এটি এক বরকতময় উপদেশ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি।” [সূরা আম্বিয়া: ৫০] তিনি আরও বলেন: “নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” [সূরা শুআরা: ১৯২]

ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘আন-নাবাউল আযীম’-এ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ দুটি নাম— ‘আল-কুরআন’ ও ‘আল-কিতাব’-এর ওপর আলোকপাত করেছেন যাতে এর অন্তর্নিহিত ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা স্পষ্ট করা যায়। তিনি বলেন: এর মধ্যে লক্ষ্য রাখা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
تسميته «قرآنا» كونه متلوّا بالألسنة، كما روعي في تسميته «كتابا» كونه مدوّنا بالأقلام، فكلتا التسميتين من تسمية شيء بالمعنى الواقع عليه.

وفي تسميته بهذين الاسمين إشارة إلى أن من حقه العناية بحفظه في موضعين لا في موضع واحد، أعني أنه يجب حفظه في الصدور والسطور جميعا، أن تضلّ إحداهما فتذكر إحداهما الأخرى، فلا ثقة لنا بحفظ حافظ حتى يوافق الرسم المجمع عليه من الأصحاب، المنقول إلينا جيلا بعد جيل على هيئته التي وضع عليها أول مرة، ولا ثقة لنا بكتابة كاتب حتى يوافق ما هو عند الحفّاظ بالإسناد الصحيح المتواتر.

وبهذه العناية المزدوجة التي بعثها الله في نفوس الأمة المحمدية اقتداء بنبيّها بقي القرآن في حرز حريز، إنجازا لوعد الله الذي تكفّل بحفظه حيث يقول: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ [الحجر: 9] ولم يصبه ما أصاب الكتب الماضية من التحريف والتبديل وانقطاع السند «1».

--------------------------------------------

(1) النبأ العظيم، للدكتور عبد الله دراز (ص 12).
এর নামকরণ ‘কুরআন’ করার কারণ হলো এটি জিহ্বা দ্বারা পঠিত হয়, যেমন এর নামকরণ ‘কিতাব’ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে এটি কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ হয়। সুতরাং উভয় নামকরণই বিষয়টির ওপর আরোপিত বাস্তব অর্থানুসারে করা হয়েছে।

এই দুটি নামে নামকরণের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, একে একটি স্থানে নয় বরং দুটি স্থানে সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হওয়া এর হক; অর্থাৎ অন্তর এবং লিপি—উভয় মাধ্যমেই এটি সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। যাতে একটিতে কোনো ভুল হলে অন্যটি তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সুতরাং কোনো হাফিজের মুখস্থের ওপর আমাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) থাকবে না যতক্ষণ না তা সাহাবিদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত ও আমাদের কাছে যুগপরম্পরায় আদি রূপে হস্তান্তরিত লিপির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। তেমনি কোনো লেখকের লেখার ওপরও আমাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) থাকবে না যতক্ষণ না তা হাফিজদের নিকট বিদ্যমান থাকা সহিহ (صحيح) ও মুতাওয়াতির (متواتر) সনদ (إسناد) অনুযায়ী প্রমাণিত বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

মহানবী (সা.)-এর অনুসরণে উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার অন্তরে আল্লাহ তাআলা যে দ্বিমুখী তদারকির প্রেরণা জাগ্রত করেছেন, তার ফলেই কুরআন এক সুরক্ষিত আশ্রয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন যাতে তিনি এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি এই যিক্‌র নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" [হিজর: ৯]। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যে ধরণের বিকৃতি, পরিবর্তন ও সনদ (سند) বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছিল, তা একে স্পর্শ করতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) আন-নাবাউল আজিম, ড. আবদুল্লাহ দারায (পৃ. ১২)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثانيا: تعريف القرآن الكريم اصطلاحا

القرآن هو اللفظ العربي المعجز، الموحى به إلى محمد صلى الله عليه وسلم بواسطة جبريل عليه السلام، وهو المنقول بالتواتر، المكتوب في المصحف، المتعبد بتلاوته، المبدوء بسورة الفاتحة، والمختوم بسورة الناس.

 

‌‌شرح عناصر التعريف:

‌‌أ- المعجز:

القرآن هو معجزة الرسول الكبرى، وقد أعجز العرب وهم أهل الفصاحة بما تضمّنه من فصاحة وبلاغة، وأنباء الغيب، وأخبار الأمم السابقة، وما حواه القرآن من إعجاز علمي وتشريع محكم دقيق صالح لكل زمان ومكان، ومن الثابت أن النبيّ صلى الله عليه وسلم تحدّى قومه بالقرآن وأنهم عجزوا عن الإتيان بمثله، قال تعالى:

قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً [الإسراء: 88].

وتحدّاهم بعد ذلك أن يأتوا بعشر سور، قال تعالى: قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَياتٍ [هود: 13].

ولما عجزوا أيضا هذه المرة تحدّاهم أن يأتوا بأقصر سورة من مثله، قال تعالى: وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ [البقرة: 23].

ولا شكّ أن هذا الإعجاز هو المقصد الأوّل من إنزال القرآن إثباتا لرسالة ونبوّة
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে আল-কুরআনের সংজ্ঞা

কুরআন হলো অলৌকিক আরবি শব্দসমষ্টি, যা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহি হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা নিরবচ্ছিন্ন (بالتواتر) সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত, যা মুসহাফে লিখিত, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা সূরা আল-ফাতিহা দ্বারা শুরু এবং সূরা আন-নাস দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে।

 

সংজ্ঞার উপাদানসমূহের ব্যাখ্যা:

ক- অলৌকিকত্ব (মুজিজা):

কুরআন হলো রাসুলের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। এটি তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ বাগ্মী ও অলঙ্কারবিদদের এর প্রাঞ্জলতা, অলঙ্কারশৈলী, অদৃশ্যের সংবাদ এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিবৃত্ত দ্বারা হতবাক করে দিয়েছে। এছাড়াও কুরআনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব এবং অত্যন্ত সুনিপুণ ও নির্ভুল বিধান, যা সকল যুগ ও স্থানের জন্য উপযোগী। এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমকে কুরআনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং তারা এর সদৃশ কিছু আনতে অপারগ হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন:

বলুন, ‘যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।’ [আল-ইসরা: ৮৮]।

এরপর তিনি তাদের এর অনুরূপ দশটি সূরা আনার চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন: ‘বলুন, তবে তোমরা এর অনুরূপ উদ্ভাবিত দশটি সূরা নিয়ে আসো।’ [হুদ: ১৩]।

যখন তারা আবারও অপারগ হলো, তখন তিনি তাদের এর অনুরূপ ক্ষুদ্রতম একটি সূরা আনার চ্যালেঞ্জ দিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের আহ্বান করো।’ [আল-বাকারাহ: ২৩]।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অলৌকিকত্বই হলো কুরআন অবতীর্ণ করার প্রধান উদ্দেশ্য, যা রিসালাত ও নবুওয়তের সত্যতা প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
محمد عليه الصلاة والسلام، ويأتي الكلام عن وجوه الإعجاز مفصلا في الباب الرابع من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.

 

‌‌ب- الموحى به:

والقرآن الكريم بجميع ألفاظه ومعانيه منزل من الله تعالى على محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم بواسطة جبريل عليه السلام، قال تعالى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ [الشعراء:

192 - 195].

وقال سبحانه: إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى [النجم: 4]. وهذا أهم عنصر في تعريف القرآن، وتحديد ماهيته، وتعيين مصدره، وواسطة نقله. ولذلك لا بد من دراسة علمية وافية وموجزة عن كلمة الوحي وبيان معناها اللغوي والاصطلاحي.

 

‌‌1 - معنى الوحي لغة وشرعا:

لغة: يقال وحيت إليه وأوحيت: إذا كلّمته بما تخفيه عن غيره. والوحي:

الإشارة السريعة، ويكون ذلك على سبيل الرمز والتعريض، وقد يكون بصوت مجرّد وبإشارة ببعض الجوارح. فمادة الكلمة إذا تدل على معنيين أصليين هما الخفاء والسرعة، ولذا قيل في معناه: الإعلام الخفي السريع الخاص بمن يوجّه إليه بحيث يخفى على غيره. وهذا المعنى اللغوي للوحي يشمل:

1 - الإلهام الغريزي: كالوحي إلى النحل؛ قال الله تعالى: وَأَوْحى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبالِ بُيُوتاً وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ [النحل: 68].

2 - الإلهام الفطري؛ كالوحي إلى أمّ موسى: وَأَوْحَيْنا إِلى أُمِّ مُوسى أَنْ أَرْضِعِيهِ [القصص: 7].

3 - وسوسة الشيطان وتزيينه الشر في نفس الإنسان: وَإِنَّ الشَّياطِينَ لَيُوحُونَ إِلى أَوْلِيائِهِمْ لِيُجادِلُوكُمْ [الأنعام: 121].
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, আর অলৌকিকত্বের দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এই বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

 

‌‌খ- ওহিপ্রাপ্ত বিষয় (الموحى به):

আর আল-কুরআনুল কারিম তার সকল শব্দ ও অর্থসহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন নির্ভরযোগ্য আত্মা (الروح الأمين) আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "এটি তো কেবল ওহি (وحي), যা তার কাছে প্রত্যাদেশ করা হয়।" [আন-নাজম: ৪]। এটি কুরআনের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এর সারসত্তা নির্ধারণ এবং এর উৎস ও পরিবহনের মাধ্যম নির্দিষ্টকরণ। এজন্য ওহি শব্দটি এবং এর আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থ সম্পর্কে একটি পর্যাপ্ত অথচ সংক্ষিপ্ত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন অপরিহার্য।

 

‌‌১ - ওহির আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ:

আভিধানিকভাবে (لغة): 'ওয়াহাইতু ইলাইহি' বা 'আওহাইতু' বলা হয় যখন আপনি কারো সাথে এমনভাবে কথা বলেন যা অন্যদের কাছ থেকে গোপন রাখেন। আর ওহি (وحي) হলো:

দ্রুত ইশারা, যা সংকেত বা পরোক্ষ ইঙ্গিতের মাধ্যমে হতে পারে, আবার কখনো কেবল শব্দ বা শরীরের কোনো অঙ্গের ইশারার মাধ্যমেও হতে পারে। সুতরাং এই শব্দটির মূল ধাতু দুটি মৌলিক অর্থ প্রকাশ করে: গোপনীয়তা ও দ্রুততা। এই কারণেই এর অর্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে: এমন দ্রুত ও গোপন সংবাদ যা কেবল উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকেই জানানো হয় এবং যা অন্যদের কাছে গোপন থাকে। ওহির এই আভিধানিক অর্থ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - সহজাত প্রবৃত্তিগত ইলহাম (إلهام غريزي): যেমন মৌমাছির প্রতি ওহি; আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে ওহি (أوحى) করলেন যে, পাহাড়ে, গাছে এবং তারা যে ঘর তৈরি করে তাতে বাসা তৈরি করো।" [আন-নাহল: ৬৮]।

২ - সহজাত ইলহাম (إلهام فطري); যেমন মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জননীর প্রতি ওহি: "আমি মুসার জননীকে ওহি (أوحينا) করলাম যে, তাকে স্তন্যদান করো।" [আল-কাসাস: ৭]।

৩ - শয়তানের কুমন্ত্রণা (وسوسة) এবং মানুষের মনে মন্দ কাজকে শোভনীয় করে তোলা: "শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি ওহি (يوحون) করে যেন তারা তোমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়।" [আল-আনআম: ১২১]।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
4 - الإشارة السريعة على سبيل الرمز، كإيحاء زكريا عليه السلام لقومه:

فَخَرَجَ عَلى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرابِ فَأَوْحى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا [مريم: 11].

5 - وما يلقيه الله إلى ملائكته من أمر ليفعلوه: إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا [الأنفال: 126].

ووحي الله إلى أنبيائه قد روعي فيه المعنيان الأصليان لكلمة الوحي وهما:

الخفاء والسرعة، وهذا معنى المصدر. ويطلق الوحي على متعلّقه وهو ما وقع به الوحي، أي اسم المفعول: وهو ما أنزله الله تعالى على أنبيائه وما عرّفهم به من أنباء الغيب والشرائع والحكم، ومنهم من أعطاه كتابا، أي تشريعا، ومنهم من لم يعطه.

شرعا: أما التعريف الشرعي للوحي إلى الأنبياء فقد عرفوه بأنه: إعلام الله تعالى لنبيّ من أنبيائه بحكم شرعي ونحوه. أو: هو كلام الله تعالى المنزل على نبي من أنبيائه. وهو تعريف له بمعنى اسم المفعول، أي: للموحى به.

وعرّفه الشيخ محمد عبده في رسالة التوحيد، فقال: «عرفان يجده الشخص من نفسه مع اليقين بأنه من قبل الله بواسطة أو بغير واسطة، والأول بصوت يتمثّل لسمعه أو بغير صوت. ويفرّق بينه وبين الإلهام، بأن الإلهام وجدان تستيقنه النفس فتنساق إلى ما يطلب من غير شعور منها من أين أتى، وهو أشبه بوجدان الجوع والعطش والسرور».

وهو تعريف للوحي بمعنى المصدر، وبدايته تشمل ما يسمّونه بحديث النفس أو الكشف، ولكن التفريق بين الوحي وبين الإلهام في عجز التعريف ينفي هذا ويفسر معنى الوحي الشرعي: على ما يتلقاه النبيّ من خارج نفسه نازلا عليها من السماء، قال تعالى: وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ [النمل: 6].

 

‌‌2 - أنواع الوحي:

للوحي أنواع ثلاثة، ذكرها الله تعالى في الآية الكريمة: وَما كانَ لِبَشَرٍ أَنْ
4 - সংকেতের মাধ্যমে দ্রুত ইঙ্গিত প্রদান করা, যেমন যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম) তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন:

অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের সামনে বের হলেন এবং তাদের প্রতি ইশারা করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করো। [মারইয়াম: ১১]।

5 - আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি কোনো কাজ করার যে নির্দেশ প্রদান করেন: যখন আপনার রব ফেরেশতাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন যে, আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। [আল-আনফাল: ১২]।

আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রতি আল্লাহর ওহির ক্ষেত্রে ওহি শব্দের মূল দুটি অর্থই লক্ষ রাখা হয়েছে, আর তা হলো:

গোপনীয়তা (الخفاء) ও দ্রুততা (السرعة), এটি হচ্ছে এর ক্রিয়ামূলীয় (المصدر) অর্থ। ওহি শব্দটি তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে ওহি সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول): যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের প্রতি নাযিল করেছেন এবং তাঁদেরকে অদৃশ্যের সংবাদ, শরিয়তের বিধান ও হিকমত সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে কাউকে তিনি কিতাব অর্থাৎ শরিয়ত দান করেছেন, আবার কাউকে তা দান করেননি।

শারয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে: আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রতি ওহির শারয়ি সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ওলামায়ে কেরাম একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো নবীকে শারয়ি বিধান বা তদনুরূপ কোনো বিষয়ে অবহিত করা। অথবা: এটি হলো আল্লাহর কালাম যা তাঁর কোনো নবীর প্রতি নাযিল করা হয়েছে। এটি কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) হিসেবে এর সংজ্ঞা, অর্থাৎ যা ওহি হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে (الموحى به)।

শায়খ মুহাম্মদ আবদুহু তাঁর 'রিসালাতুত তাওহিদ' গ্রন্থে এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: «এটি এমন এক প্রজ্ঞা যা ব্যক্তি নিজের ভেতর থেকে অনুভব করেন এবং সাথে সাথে এই দৃঢ় বিশ্বাস (اليقين) পোষণ করেন যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে; কোনো মাধ্যমসহ বা মাধ্যম ছাড়া। প্রথমটি অর্থাৎ মাধ্যমযুক্ত হওয়ার পদ্ধতিটি হলো এমন আওয়াজ যা তাঁর শ্রবণে প্রতিধ্বনিত হয় অথবা আওয়াজহীন কোনো মাধ্যম। আর এর (ওহি) এবং ইলহামের (الإلهام) মধ্যে পার্থক্য হলো, ইলহাম হলো এমন এক উপলব্ধি যা নফস সুনিশ্চিতভাবে অনুভব করে এবং যা চাওয়া হয়েছে সেদিকে ধাবিত হয়, তবে তা কোথা থেকে এসেছে সে সম্পর্কে কোনো অনুভূতি থাকে না; এটি অনেকটা ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও আনন্দের অনুভূতির মতো।»

এটি ওহির ক্রিয়ামূলীয় (المصدر) অর্থানুসারে একটি সংজ্ঞা। এর শুরুর অংশটি এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যাকে তারা মনের কথা (حديث النفس) বা কাশফ (الكشف) বলে অভিহিত করেন; কিন্তু সংজ্ঞার শেষাংশে ওহি ও ইলহামের (الإلهাম) মধ্যে যে পার্থক্য করা হয়েছে, তা একে নাকচ করে দেয় এবং শারয়ি ওহির অর্থকে এভাবে ব্যাখ্যা করে: যা নবী তাঁর নিজের সত্তার বাহির থেকে আসমানি বার্তা হিসেবে গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয় আপনি কুরআন প্রাপ্ত হচ্ছেন প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে। [আন-নামল: ৬]।

 

‌‌2 - ওহির প্রকারভেদ:

ওহি তিন প্রকার, যা আল্লাহ তাআলা এই পবিত্র আয়াতে উল্লেখ করেছেন: কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْياً أَوْ مِنْ وَراءِ حِجابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ ما يَشاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ [الشورى: 51].

فالوحي أولا: إلقاء المعنى في القلب، وقد يعبّر عنه بالنّفث في الرّوع

قال صلى الله عليه وسلم: «إن روح القدس نفث في روعي: إن نفسا لن تموت حتى تستكمل رزقها وأجلها، ألا فاتقوا الله وأجملوا في الطلب» «1»

وهو- بالضم- القلب والخلد والخاطر.

وثانيا: الكلام من وراء حجاب، وهو أن يسمع كلام الله من حيث لا يراه، كما سمع موسى عليه السلام نداء ربه من وراء الشجرة قال تعالى:

فَلَمَّا أَتاها نُودِيَ مِنْ شاطِئِ الْوادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَنْ يا مُوسى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعالَمِينَ [القصص: 30].

وثالثا: هو ما يلقيه ملك الوحي المرسل من الله تعالى إلى رسول الله، فيراه متمثلا بصورة رجل أو غير متمثل، ويسمعه منه أو يعيه بقلبه. وهذا النوع الثالث أشهر الأنواع

وأكثرها وقوعا، ووحي القرآن كلّه من هذا القبيل، وهو المسمّى:

(الوحي الجلي) قال تعالى: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ [الشعراء: 193 - 195].

 

‌‌3 - حالات الوحي:

كان جبريل عليه السلام يأتي النبيّ صلى الله عليه وسلم على حالات متنوعة:

1 - فتارة يظهر للرسول في صورته الحقيقية الملكية، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: لَقَدْ رَأى مِنْ آياتِ رَبِّهِ الْكُبْرى [النجم: 18] قال: رأى جبريل في

--------------------------------------------

(1) رواه أبو نعيم في الحلية (10/ 27) بسند صحيح عن أبي أمامة رضي الله عنه، والبغوي في شرح السنة (4/ 304) وفي إسناده رجل مجهول.
"আল্লাহ কোনো মানুষের সাথে কথা বলেন না ওহি (وحي) ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল ছাড়া অথবা তিনি কোনো দূত পাঠান, অতঃপর সে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহি (وحي) করেন; নিশ্চয়ই তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।" [আশ-শুরা: ৫১]।

ওহি (وحي) প্রথমত: হৃদয়ে কোনো অর্থ নিক্ষেপ করা, আর একে অনেক সময় অন্তরে ফুঁক দেওয়া (النفس في الروع) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস আমার হৃদয়ে ফুঁক দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার রিজিক ও আয়ু পূর্ণ করে; অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রার্থনার ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো।" «১»

আর এটি (روع) —পেশ যোগে— অর্থ হলো হৃদয়, অন্তঃকরণ ও মন।

দ্বিতীয়ত: পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলা; আর তা হলো আল্লাহর কালাম এমনভাবে শ্রবণ করা যে তাঁকে দেখা যায় না, যেমন মুসা (আলাইহিস সালাম) গাছের আড়াল থেকে তাঁর রবের আহ্বান শুনেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"অতঃপর যখন তিনি তার কাছে আসলেন, তখন উপত্যকার ডানদিকের বরকতময় ভূমিতে অবস্থিত গাছ থেকে তাঁকে ডেকে বলা হলো, হে মুসা! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক।" [আল-কাসাস: ৩০]।

তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহির (وحي) ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যা নিয়ে আসেন; তখন তিনি তাকে মানুষের আকৃতিতে দেখেন অথবা অন্য কোনো রূপে দেখেন এবং তার থেকে শ্রবণ করেন কিংবা নিজ হৃদয়ে তা গেঁথে নেন। আর এই তৃতীয় প্রকারটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ প্রকার

এবং সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হয়েছে। সমগ্র কুরআনের ওহি (وحي) এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যাকে বলা হয়:

সুস্পষ্ট ওহি (الوحي الجلي)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বস্ত আত্মা, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুয়ারা: ১৯৩-১৯৫]।

 

‌‌৩ - ওহির (وحي) অবস্থাসমূহ:

জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিভিন্ন অবস্থায় আসতেন:

১ - কখনো তিনি রাসূলের কাছে তাঁর প্রকৃত ফেরেশতাসুলভ আকৃতিতে প্রকাশ পেতেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "অবশ্যই তিনি তাঁর রবের মহান নিদর্শনসমূহ দেখেছেন" [আন-নাজম: ১৮]। তিনি বলেন: তিনি জিবরাঈলকে দেখেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম এটি হিলইয়াতুল আউলিয়া (১০/২৭) গ্রন্থে আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন, এবং বাগভী এটি শারহুস সুন্নাহ (৪/৩০৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সূত্রে (إسناد) একজন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
صورته، له ستمائة جناح «1».

2 - وتارة يظهر في صورة إنسان يراه الصحابة ويستمعون إليه، كما في حديث عمر رضي الله عنه الذي رواه البخاري: «بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر … »

وقال النبي صلى الله عليه وسلم في آخر الحديث: «إنّه جبريل جاء يعلّمكم دينكم» «2»

. وكان كثيرا ما يأتي في صورة (دحية الكلبيّ) الصحابي الجليل، وكان دحية من أجمل الصحابة.

3 - وتارة يهبط الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم خفية فلا يرى، ولكن يظهر أثر التّغيّر والانفعال على النبيّ صلى الله عليه وسلم فيغطّ غطيط «3» النائم، ويثقل ثقلا شديدا حتى قد يتصبّب جبينه عرقا في اليوم الشديد البرد.

وقد يكون وقع الوحي على رسول الله كوقع الجرس إذا صلصل في أذن سامعه، وذلك أشدّ أنواعه، وربما سمع الحاضرون صوتا عند وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنه دويّ النحل،

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: كان إذا نزل الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمع عند وجهه دويّ كدويّ النحل «4»

. لكنهم لا يفهمون كلاما، أما هو فإنه يسمع ويعي ما يوحى إليه، ويعلم علما ضروريا أن هذا هو وحي الله دون لبس ولا خفاء، فإذا انجلى عنه الوحي وجد ما أوحي إليه حاضرا في ذاكرته، منقوشا في حافظته كأنما كتب في قلبه الشريف كتابة.

روى البخاري في صحيحه: عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها: أنّ الحارث بن هشام سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! كيف يأتيك الوحي؟

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في التفسير (4575) ومسلم في الإيمان (174).

(2) رواه مسلم في أول كتاب الإيمان (8) وانظر شرحه في كتابنا «الوافي في شرح الأربعين النووية».

(3) هو تردد نفس النائم حتى يسمعه من حوله.

(4) رواه أحمد (1/ 24).
তাঁর রূপ, তাঁর রয়েছে ছয়শত পাখা «১»।

২ - আবার কখনো তিনি একজন মানুষের রূপে আবির্ভূত হতেন যাকে সাহাবীগণ দেখতেন এবং তাঁর কথা শুনতেন, যেমনটি ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যা বুখারি বর্ণনা করেছেন: «একদা আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় আমাদের সামনে অত্যন্ত ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো কেশধারী এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন … »

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসের শেষাংশে বলেছিলেন: «ইনি জিবরিল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন» «২»

। তিনি প্রায়ই মহান সাহাবী দিহিয়া আল-কালবীর রূপে আসতেন, আর দিহিয়া ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম সুদর্শন ব্যক্তি।

৩ - আবার কখনো ওহি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অলক্ষ্যে অবতীর্ণ হতো ফলে তা দেখা যেত না, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর পরিবর্তন ও প্রভাবের আলামত প্রকাশ পেত, তখন তিনি ঘুমন্ত ব্যক্তির নাক ডাকার মতো শব্দ করতেন এবং প্রচণ্ড ভারাক্রান্ত হতেন, এমনকি তীব্র শীতের দিনেও তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত।

আল্লাহর রাসুলের ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি কখনো সজোরে বাজা ঘণ্টার শব্দের মতো হতো যখন তা শ্রবণকারীর কানে ঝংকৃত হয়, আর এটি ছিল ওহি অবতরণের কঠিনতম প্রকার। কখনো কখনো উপস্থিত ব্যক্তিরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার নিকট মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শুনতে পেতেন।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহি নাযিল হতো, তখন তাঁর চেহারার নিকট মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত «৪»

। তবে তাঁরা কোনো কথা বুঝতে পারতেন না; পক্ষান্তরে তিনি তা শুনতেন এবং যা তাঁর প্রতি ওহি করা হতো তা সংরক্ষণ করতেন। তিনি কোনো প্রকার সংশয় বা অস্পষ্টতা ছাড়াই নিশ্চিতভাবে জানতেন যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহি। যখন ওহি অবতরণ শেষ হতো, তিনি যা ওহি করা হয়েছে তা স্বীয় স্মৃতিতে উপস্থিত পেতেন, তাঁর হেফজ বা স্মৃতিপটে তা এমনভাবে অঙ্কিত হয়ে যেত যেন তা তাঁর পবিত্র হৃদয়ে লিখে দেওয়া হয়েছে।

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: হারিস বিন হিশাম আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহি কীভাবে আসে?

--------------------------------------------

(১) বুখারি ‘আত-তাফসীর’ অধ্যায়ে (৪৫৭৫) এবং মুসলিম ‘আল-ঈমান’ অধ্যায়ে (১৭৪) বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম ‘আল-ঈমান’ কিতাবের শুরুতে (৮) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের কিতাব ‘আল-ওয়াফি ফি শারহিল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ’-তে এর ব্যাখ্যা দেখুন।

(৩) এটি হলো ঘুমন্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ যা তার চারপাশের মানুষ শুনতে পায়।

(৪) আহমদ (১/২৪) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس- وهو أشدّه علي- فيفصم عني وقد وعيت عنه ما قال، وأحيانا يتمثّل لي الملك رجلا فيكلّمني فأعي ما يقول» «1» قالت عائشة: ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإنّ جبينه ليتفصّد عرقا.

 

‌‌4 - شبه الجاحدين والمنكرين للوحي:

وقد حرص هؤلاء الجاحدون قديما وحديثا أن يفسّروا حادثة الوحي بنظريات غامضة ومنحرفة، وتهدف في النهاية إلى إنكار رسالة محمد عليه الصلاة والسلام، فنجدهم يفسّرون ظاهرة الوحي بالإلهام النفسي تارة، وبالإشراق الروحي تارة أخرى، ويعميهم الحقد فيتجرّءون على القول بأنه ضرب من الصّرع والجنون كان ينتابه، وواضح أنّها شبه واهية لا تثبت أمام الوقائع النّيّرة والمنطق السليم والحكم العادل النزيه، والذي يهمنا أن نرد عليه هنا ونكشف زيفه هو ما يسمّيه الملحدون في هذا العصر ب (الوحي النفسي):

1 - إن حالة الإلهام النفسي، أو الإشراق الروحي، لا تستدعي الخوف والرعب وتغيّر اللون، لأن الصفاء النفسي والتدرّج في التفكير والتأمل لا ينسجم مع حالة الخوف والاضطراب، بل هما حالتان متناقضتان تماما، وخوف النبيّ صلى الله عليه وسلم ثابت

في حديث بدء الوحي وفيه: «فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد رضي الله عنها، فقال: زمّلوني زمّلوني، فزمّلوه حتى ذهب عنه الرّوع، فقال لخديجة وأخبرها الخبر: لقد خشيت على نفسي «2»» «1».

وقد ذكرنا في حالات الوحي ما كان يعتري رسول الله صلى الله عليه وسلم من تغير واضطراب وتصبّب العرق من جبينه وهو على مرأى من أهله وأصحابه.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في بدء الوحي (2).

(2) رواه البخاري في بدء الوحي (3).
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানির মতো আসে—আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টকর—অতঃপর যখন তা শেষ হয়, তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা আয়ত্ত করে নেই। আবার কখনো ফেরেশতা আমার নিকট মানুষের রূপ ধরে উপস্থিত হন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা আয়ত্ত করি।» আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহি নাজিল হতে দেখেছি, ওহি শেষ হওয়ার পর দেখা যেত তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরছে।

 

‌‌৪ - ওহি অস্বীকারকারী ও প্রত্যাখ্যানকারীদের সংশয়সমূহ:

এই অস্বীকারকারীরা প্রাচীন ও আধুনিক কালে ওহির ঘটনাকে বিভিন্ন রহস্যময় ও বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর রিসালাতকে অস্বীকার করা। আমরা দেখি যে, তারা ওহির বিষয়টিকে কখনো মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা, আবার কখনো আধ্যাত্মিক আলোকায়ন হিসেবে ব্যাখ্যা করে। বিদ্বেষ তাদেরকে এতটাই অন্ধ করে দিয়েছে যে, তারা এটিকে তাঁর ওপর ভর করা এক প্রকার মৃগীরোগ বা উন্মাদনা বলার দুঃসাহস দেখায়। এটি স্পষ্ট যে, এগুলো অত্যন্ত দুর্বল সংশয় যা উজ্জ্বল বাস্তবতা, সঠিক যুক্তি এবং ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ বিচারের সামনে টিকে থাকে না। বর্তমানে নাস্তিকরা যাকে ‘মনস্তাত্ত্বিক ওহি’ বলে অভিহিত করে, এখানে সেটি খণ্ডন করা এবং তার অসারতা উন্মোচন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য:

১ - মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা বা আধ্যাত্মিক আলোকায়নের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি, আতঙ্ক বা গায়ের রঙ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। কারণ মানসিক প্রশান্তি এবং চিন্তাভাবনা ও ধ্যানের ধারাবাহিকতা ভয় ও অস্থিরতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং এগুলো দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভয় পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত

ওহি শুরুর হাদিস এ, যেখানে বর্ণিত হয়েছে: «রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কম্পিত হৃদয়ে তা নিয়ে ফিরে এলেন এবং খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে প্রবেশ করে বললেন: তোমরা আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, তোমরা আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো। অতঃপর তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে আবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। এরপর তিনি খাদিজাকে সব ঘটনা জানালেন এবং বললেন: আমি আমার নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি।»

আমরা ওহির বিভিন্ন অবস্থার বর্ণনায় উল্লেখ করেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের চোখের সামনে তাঁর মাঝে কী ধরনের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং কপাল বেয়ে ঘাম ঝরার ঘটনা ঘটত।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি ওহি শুরুর অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন (২)।

(২) ইমাম বুখারি ওহি শুরুর অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
2 - واقتضت حكمة الله تعالى أن يحتجب الملك عن رسول الله «1» مدة بعد رؤيته له في غار حراء، فاستبدّ به القلق، وخاف أن يكون الله تعالى قد قلاه لسوء صدر منه، وراحت نفسه تحدّثه كلما وصل إلى ذروة جبل أن يلقي بنفسه منها …

إلى أن رأى جبريل وقد ملأ شكله ما بين السماء والأرض يناديه، ويقول: يا محمد أنت رسول الله حقّا وأنا جبريل «2».

وهذا الانقطاع الذي حصل في حياة النبيّ صلى الله عليه وسلم يجعل القول بأن الوحي إلهام نفسيّ كلاما باطلا وضربا من الجنون.

3 - إن جانبا عظيما من القرآن الكريم احتوى على أنباء من سبق من الأمم والجماعات، وقصص الأنبياء، وذكر الأحداث التاريخية بوقائعها الصحيحة الدقيقة.

وهذه الأخبار لا يمكن أن يقول عاقل بأنها إلهام نفسي أو إشراق روحي، لأنها لا تعتمد إلا على التلقي والتعليم؛ قال تعالى: نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِما أَوْحَيْنا إِلَيْكَ هذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغافِلِينَ [يوسف: 3] وقال سبحانه: وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ [آل عمران: 44].

4 - واحتوى القرآن كذلك على حقائق علمية، ونظريات طبيعية وفلكية تثبت الأيام بعد تقدّم العلم صحتها وأسبقيتها، قال تعالى: سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ [فصلت: 53]. وتضمّن القرآن في بيان العقائد أمورا تفصيلية عن بدء الخلق ونهايته وعن الحياة الآخرة وما فيها من الموقف

--------------------------------------------

(1) انظر فترة الوحي في كتاب التعبير من صحيح البخاري (باب أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي) رقم (6581) وفتح الباري (12/ 359 - 361).

(2) رواه ابن سعد عن ابن عباس رضي الله عنهما، كما في فتح الباري (12/ 360).
২ - আল্লাহ তাআলার হিকমত বা প্রজ্ঞা এটিই দাবি করেছিল যে, হেরা গুহায় ফেরেশতাকে দেখার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখবেন। এর ফলে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং এই আশঙ্কা করেন যে, হয়তো তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁকে ত্যাগ করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি যখনই কোনো পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন, তখন তাঁর মন চাইত সেখান থেকে নিজেকে নিচে নিক্ষেপ করতে …

অবশেষে তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে দেখতে পেলেন, যাঁর আকৃতি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দিগন্তজুড়ে পূর্ণ হয়ে আছে। তিনি তাঁকে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন: "হে মুহাম্মদ! আপনি সত্যিই আল্লাহর রাসূল এবং আমি জিবরাঈল" (২)।

নবী (সা.)-এর জীবনে ওহীর এই যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছিল, তা এই দাবিকে সম্পূর্ণ অসার ও এক প্রকার উন্মাদনা হিসেবে সাব্যস্ত করে যে—ওহী হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক ইলহাম বা অভ্যন্তরীণ প্রেষণা।

৩ - পবিত্র কুরআনের একটি বড় অংশ পূর্ববর্তী উম্মত ও জাতিসমূহের সংবাদ, নবীদের ঘটনাবলি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহকে তাদের সঠিক ও নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণ করেছে।

কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এই সংবাদগুলোকে মনস্তাত্ত্বিক ইলহাম বা আধ্যাত্মিক আলোকায়ন বলতে পারেন না; কারণ এগুলো কেবল গ্রহণ (تلقي) এবং শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি আপনার কাছে এই কুরআন ওহী করার মাধ্যমে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, যদিও এর আগে আপনি এ বিষয়ে অনবহিত ছিলেন।" [ইউসুফ: ৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "মারইয়ামের অভিভাবক কে হবে তা নির্ধারণ করার জন্য তারা যখন তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল, তখন আপনি তাদের নিকট ছিলেন না এবং তারা যখন বাদানুবাদ করছিল তখনও আপনি তাদের সাথে ছিলেন না।" [আলে ইমরান: ৪৪]।

৪ - কুরআন একইভাবে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক সত্য এবং প্রাকৃতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক তত্ত্ব ধারণ করেছে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির পর বর্তমান যুগে যার নির্ভুলতা এবং অগ্রবর্তিতা প্রমাণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি শীঘ্রই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ বিশ্বজগতের দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য।" [ফুসসিলাত: ৫৩]। এছাড়াও কুরআন আকীদা বা বিশ্বাস বর্ণনার ক্ষেত্রে সৃষ্টিতত্ত্বের শুরু ও শেষ, পরকাল এবং হাশরের ময়দানের বিস্তারিত বিষয়াদিও অন্তর্ভুক্ত করেছে...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী-র কিতাবুত তাবীর-এ ওহী স্থগিত থাকার সময় (فترة الوحي) অধ্যায়টি দেখুন (পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি যেভাবে ওহী শুরু হয়েছিল), হাদিস নং (৬৫৮১) এবং ফাতহুল বারী (১২/ ৩৫৯ - ৩৬১)।

(২) এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে ইবনে সাদ বর্ণনা (رواه) করেছেন, যেমনটি ফাতহুল বারী (১২/ ৩৬০)-তে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
والحساب والجنة والنار، ويضاف إلى ذلك كله ما تضمّنه القرآن من أحكام قاطعة عن أخبار المستقبل، وما يجري من أحداث تقع وفق سنن الله الاجتماعية في القوة والضعف والعزة والذلة. والذي ينطق بهذا رجل أميّ لم يعرف الكتابة ولم يقرأ في كتاب، ومع ذلك يتحدّى بما جاء به جميع الناس في كل أرض وفي كل زمان. إن التفسير المنصف لما جاء به هو الإيمان بهذا الاتصال الذي حدث بين الأرض والسماء عن طريق الوحي لتبليغ هداية الله؛ قال تعالى: وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى [النجم: 3 - 4].

يقول الدكتور محمد عبد الله دراز في كتابه (النبأ العظيم):

هذا الرأي هو الذي يروّجه الملحدون اليوم باسم (الوحي النفسي) زاعمين أنهم بهذه التسمية قد جاءونا برأي علمي جديد، وما هو بجديد، وإنما هو الرأي الجاهلي القديم، لا يختلف عنه في جملته ولا في تفصيله، فقد صوّروا النبيّ عليه الصلاة والسلام رجلا ذا خيال واسع وإحساس عميق فهو إذا شاعر، ثم زادوا فجعلوا وجدانه يطغى كثيرا على حواسه حتى يخيّل إليه أنه يرى ويسمع شخصا يكلّمه، وما ذاك الذي يراه ويسمعه إلا صورة أخيلته ووجداناته فهو إذا الجنون أو أضغاث الأحلام، على أنهم لم يطيقوا الثبات طويلا على هذه التعليلات، فقد اضطروا أن يهجروا كلمة (الوحي النفسي) حينما بدا لهم في القرآن جانب الأخبار الماضية والمستقبلة، فقالوا: لعله تلقّفها من أفواه العلماء في أسفاره للتجارة، فهو إذا قد علّمه بشر. فأيّ جديد ترى في هذا كله؟ أليس كله حديثا معادا يضاهون به قول جهّال قريش؟ وهكذا كان الإلحاد في ثوبه الجديد صورة متّسخة، بل ممسوخة منه في أقدم أثوابه، وكان غذاء هذه القلوب المتحضّرة في العصر الحديث مستمدّا من فتات الموائد التي تركتها تلك القلوب المتحجّرة في عصور الجاهلية الأولى، قال تعالى: كَذلِكَ قالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِثْلَ قَوْلِهِمْ تَشابَهَتْ قُلُوبُهُمْ [البقرة:

118].

হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম; এবং এসবের সাথে আরও যুক্ত হবে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সংবাদাবলি সম্পর্কে অকাট্য (قاطعة) বিধানসমূহ এবং শক্তি-সামর্থ্য, দুর্বলতা, মর্যাদা ও লাঞ্ছনা বিষয়ে আল্লাহর সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী সংঘটিত ঘটনাবলি। আর এই বাণী প্রচার করছেন এমন এক নিরক্ষর ব্যক্তি, যিনি লিখতে জানতেন না এবং কোনো কিতাবও পড়েননি। তা সত্ত্বেও তিনি যা নিয়ে এসেছেন, তা দিয়ে সকল ভূখণ্ডের ও সকল কালের সমস্ত মানুষকে চ্যালেঞ্জ করছেন। তিনি যা নিয়ে এসেছেন, তার ইনসাফপূর্ণ ব্যাখ্যা হলো সেই যোগাযোগের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, যা আল্লাহর হিদায়েত পৌঁছে দেওয়ার জন্য ওহি (وحي)-এর মাধ্যমে আসমান ও জমিনের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি নিজ খেয়াল-খুশিমতো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" [সুরা আন-নাজম: ৩-৪]

ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ তাঁর 'আন-নাবাউল আজিম' গ্রন্থে বলেন:

এই মতবাদটিই বর্তমানকালের নাস্তিকরা 'মানসিক ওহি' (الوحي النفسي) নামে প্রচার করছে। তারা দাবি করে যে, এই নামকরণের মাধ্যমে তারা আমাদের কাছে এক নতুন বৈজ্ঞানিক মতবাদ নিয়ে এসেছে। অথচ এটি কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং এটি প্রাচীন জাহেলি যুগেরই মতবাদ; যা সামগ্রিকভাবে বা বিস্তারিতভাবে সেই পুরাতন মতবাদ থেকে মোটেও ভিন্ন নয়। তারা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছে যার কল্পনাশক্তি অত্যন্ত প্রখর এবং অনুভূতি অতি গভীর, ফলে তিনি একজন কবি। এরপর তারা আরও বাড়িয়ে বলল যে, তাঁর আবেগ ও অনুভূতি তাঁর ইন্দ্রিয়শক্তির ওপর এতটাই প্রবল হয়ে যেত যে, তিনি কল্পনা করতেন যে তিনি কাউকে দেখছেন এবং শুনছেন যে কি না তাঁর সাথে কথা বলছে। অথচ তিনি যা দেখতেন বা শুনতেন তা তাঁর কল্পনা ও অনুভূতিরই প্রতিচ্ছবি মাত্র। সুতরাং এটি হয় উন্মাদনা, না হয় অলীক স্বপ্ন। তবে তারা এই অজুহাতগুলোর ওপর বেশিক্ষণ স্থির থাকতে পারেনি। যখন কুরআনের অতীত ও ভবিষ্যতের সংবাদাবলির দিকটি তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন তারা 'মানসিক ওহি' (الوحي النفسي) শব্দটি বর্জন করতে বাধ্য হলো। এরপর তারা বলল: সম্ভবত তিনি তাঁর ব্যবসায়িক সফরের সময় আলিমদের কাছ থেকে এসব শুনে নিয়েছেন; সুতরাং কোনো মানুষই তাঁকে এসব শিক্ষা দিয়েছে। এই সবকিছুর মধ্যে আপনি নতুন কী দেখছেন? এগুলো কি সেই পুরনো কথারই পুনরাবৃত্তি নয়, যার মাধ্যমে তারা কুরাইশ মূর্খদের কথার সাদৃশ্য গ্রহণ করছে? এভাবেই নতুন পোশাকে নাস্তিকতা হলো তার পুরাতন পোশাকের একটি নোংরা, বরং বিকৃত রূপ। আধুনিক যুগের এই 'সভ্য' হৃদয়ের খাদ্য ছিল জাহেলিয়াতের প্রথম যুগের সেই পাষাণ হৃদয়গুলোর উচ্ছিষ্ট থেকে সংগ্রহ করা। মহান আল্লাহ বলেন: "এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের মতো কথা বলেছিল। তাদের অন্তরগুলো একে অপরের সদৃশ হয়ে গেছে।" [সুরা আল-বাকারাহ:

১১৮]।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وبعد هذه العجالة في بيان معنى الوحي، وردّ شبه الجاحدين له، نعود إلى شرح عناصر التعريف للقرآن الكريم.

 

‌‌ج- المتعبّد بتلاوته:

وهذا يعني أن قراءة آيات القرآن الكريم عبادة، يتقرّب بها المؤمن من خالقه، ويكتب له بها الأجر الجزيل والثواب العظيم، كما سيأتي عند الكلام عن فضل قراءة القرآن.

ومما يدلّ على أهمية التلاوة في مجال العبادة: أنّ الصّلاة لا تصحّ إلا بقراءة آيات من القرآن، ولا يغني عنه شيء من الأذكار والدعاء، قال الله تعالى: عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَؤُا ما تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ [المزمل: 20].

وقال صلى الله عليه وسلم: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب» «1».

 

‌‌د- المنقول بالتواتر:

ومعنى التواتر هو نقل الجمع عن الجمع بحيث يستحيل تواطؤهم على الكذب، ومن المسلّم به تاريخيا: أن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم تلقّوا القرآن مشافهة من فم رسول الله وحفظه أكثرهم، ونقلوه إلى جيل التابعين، وهكذا بقي القرآن ينتقل من جيل إلى جيل آخر حتى وصلنا، وهذا يجعلنا نجزم بأن القرآن نقل إلينا بالتواتر، نقلته جموع المسلمين عن جموعهم إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم، بحيث قطع بصدق وضبط كل طبقة منهم واستحالة اتّفاقهم على الكذب، وفي أبحاثنا القادمة سندرس بالتفصيل كيف نقلت الأجيال المسلمة هذا القرآن بالحفظ في الصدور والكتابة في السطور، مما يثلج صدر المسلم ويزيده يقينا بقوله تعالى: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ

لَحافِظُونَ

[الحجر: 9].

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صفة الصلاة (723) ومسلم في الصلاة (394) وأبو داود في الصلاة (822) والترمذي في الصلاة (247) والنسائي في الافتتاح (2/ 137 - 138).
ওহীর অর্থ এবং অস্বীকারকারীদের সংশয় নিরসনের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর, আমরা আল-কুরআনের সংজ্ঞার উপাদানগুলোর ব্যাখ্যায় ফিরে যাচ্ছি।

 

‌‌গ- যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য:

এর অর্থ হলো কুরআন কারীমের আয়াত পাঠ করা একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে মুমিন তার স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করে এবং এর বিনিময়ে তার জন্য বিপুল প্রতিদান ও মহান সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়, যা কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত সংক্রান্ত আলোচনায় সামনে আসবে।

ইবাদতের ক্ষেত্রে তিলাওয়াতের গুরুত্বের প্রমাণ হলো: কুরআন তিলাওয়াত ব্যতীত সালাত সহীহ হয় না এবং অন্য কোনো জিকির বা দোয়া এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি জানেন যে তোমরা এটি পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন। অতএব কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু পাঠ করো।" [আল-মুয্যাম্মিল: ২০]।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই ব্যক্তির সালাত হবে না যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না।" (১)।

 

‌‌ঘ- যা মুতাওয়াতির (التواتر) পদ্ধতিতে বর্ণিত:

মুতাওয়াতির (التواتر) এর অর্থ হলো এক বিশাল জামাত বা দলের পক্ষ থেকে অপর এক বিশাল জামাত বা দলের নিকট থেকে এমনভাবে বর্ণিত হওয়া যাতে তাদের সকলের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। ঐতিহাসিকভাবে এটি স্বীকৃত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ সরাসরি তাঁর মুখ থেকে কুরআন গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের অধিকাংশ এটি মুখস্থ করেছিলেন। তাঁরা এটি পরবর্তী তাবেঈ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন এবং এভাবেই কুরআন এক প্রজন্ম (طبقة) থেকে অপর প্রজন্মে (طبقة) স্থানান্তরিত হয়ে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এটি আমাদের এই বিষয়ে নিশ্চিত করে যে, কুরআন আমাদের কাছে মুতাওয়াতির (التواتر) পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়ে এসেছে। মুসলিমদের বিশাল জনগোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এটি বর্ণনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি স্তরের (طبقة) বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা ও নির্ভরযোগ্য স্মৃতিশক্তি বা যবত (الضبط) সুনিশ্চিত ছিল এবং তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব ছিল। আমাদের পরবর্তী আলোচনাগুলোতে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কীভাবে মুসলিম প্রজন্মগুলো এই কুরআনকে অন্তরে মুখস্থ রাখার মাধ্যমে এবং পাতায় লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন, যা একজন মুসলিমের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস বৃদ্ধি করে: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।" [আল-হিজর: ৯]।

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি সালাতের বৈশিষ্ট্য অধ্যায়ে (৭২৩), মুসলিম সালাত অধ্যায়ে (৩৯৪), আবু দাউদ সালাত অধ্যায়ে (৮২২), তিরমিজি সালাত অধ্যায়ে (২৪৭) এবং নাসায়ী ইফতিতাহ অধ্যায়ে (২/ ১৩৭ - ১৩৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذه العناصر الأربعة من عناصر تعريف القرآن، تحدّد حقيقة القرآن، وتميّزه عن غيره من الحديث النبوي، أو الحديث القدسي، أو القراءات الشاذة، أو الترجمة الحرفية، أو غير الحرفية للقرآن، لأن الحديث ليس بمعجز، والقراءات الشاذة غير متواترة، والترجمة ليست هي اللفظ المنزل.
কুরআন সংজ্ঞায়নের এই চারটি উপাদান কুরআনের প্রকৃত স্বরূপকে সুনির্ধারিত করে এবং একে হাদিসে নববী, হাদিসে কুদসি, বিচ্ছিন্ন পাঠ্যরীতি (القراءات الشاذة) কিংবা কুরআনের আক্ষরিক বা ভাবানুবাদ থেকে পৃথক করে; কারণ হাদিস মুজিজা বা অলৌকিক নয়, বিচ্ছিন্ন পাঠ্যরীতিগুলো (القراءات الشاذة) ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত (متواترة) নয় এবং অনুবাদ সরাসরি অবতীর্ণ শব্দসমষ্টি নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ثالثا: فضل القرآن وأهميته في حياة المسلمين وضرورة العمل به وأثره في العالم

‌‌1 - فضل القرآن الكريم

القرآن هو كتاب الله الخالد، وحجته البالغة على الناس جميعا، ختم الله به الكتب السماوية، وأنزله هداية ورحمة للعالمين، وضمّنه منهاجا كاملا وشريعة تامّة لحياة المسلمين، قال تعالى: إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً [الإسراء: 9].

والقرآن معجزة باقية ما بقي على الأرض حياة أو أحياء، أيّد الله تعالى به رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم وتحدّى الإنس والجنّ على أن يأتوا بسورة من مثله، فكان عجز البلغاء والفصحاء قديما وحديثا أكبر دليل على سماويّة هذا الكتاب وأنه كلام ربّ العالمين، قال تعالى: قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً [الإسراء: 88].

ونقتصر في بيان فضل القرآن على وصف الله تعالى، ووصف رسول الله صلى الله عليه وسلم له، وشهادة أحد أعداء الإسلام بفضله.

 

‌‌(1) - الله عز وجل يصف القرآن الكريم

وصف الله القرآن بأوصاف عديدة هي أسماء له، تدلّ على عظيم فضله وعلوّ منزلته:

1 - وصفه الله بأنه روح، والروح بها الحياة، قال تعالى: وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا
তৃতীয়ত: কুরআনের মর্যাদা, মুসলিম জীবনে এর গুরুত্ব, তদানুযায়ী আমল করার প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্বে এর প্রভাব

১ - পবিত্র কুরআনের মর্যাদা

কুরআন হলো আল্লাহর শাশ্বত কিতাব এবং সকল মানুষের জন্য তাঁর চূড়ান্ত দলিল। আল্লাহ এর মাধ্যমে আসমানি কিতাবসমূহের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং একে বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত ও রহমত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। এতে মুসলিম জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনপদ্ধতি ও পরিপূর্ণ শরিয়ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাপেক্ষা সরল এবং মুমিনদের যারা সৎকর্ম করে তাদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।" [আল-ইসরা: ৯]।

আর কুরআন হলো একটি চিরস্থায়ী অলৌকিক নিদর্শন যা পৃথিবীতে জীবন বা জীব থাকা পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-কে সমর্থন করেছেন এবং মানুষ ও জিন জাতিকে এর অনুরূপ একটি সুরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। প্রাচীন ও আধুনিক কালের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও বাগ্মীদের অক্ষমতাই এই কিতাবটি আসমানি হওয়ার এবং এটি যে রব্বুল আলামিনের কালাম, তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" [আল-ইসরা: ৮৮]।

কুরআনের মর্যাদা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা মহান আল্লাহর বর্ণনা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণনা এবং ইসলামের জনৈক শত্রুর সাক্ষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

 

(১) - মহান আল্লাহ কর্তৃক পবিত্র কুরআনের বর্ণনা

আল্লাহ কুরআনকে এমন অনেক বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন যা এর নাম হিসেবেও গণ্য হয়; এগুলো এর মহান মর্যাদা ও উচ্চ মাকামের পরিচয় দেয়:

১ - আল্লাহ একে 'রুহ' (আত্মা) হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর রুহের মাধ্যমেই জীবন পরিচালিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং এভাবেই আমি আপনার প্রতি ওহি অবতীর্ণ করেছি..."
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنا ما كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتابُ وَلَا الْإِيمانُ [الشورى: 52].

2 - ووصفه بأنّه نور، والنور به الإبصار، قال تعالى:

قَدْ جاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُماتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ [المائدة: 15 - 16].

3 - ووصفه بأنه الهادي إلى أفضل طريق إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ [الإسراء: 9].

4 - ووصفه بأنه شفاء ورشاد، قال تعالى: قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدىً وَشِفاءٌ [فصلت: 44].

5 - وهو كتاب الحق الذي لا يعرض له الباطل قط، قال تعالى: وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْناهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ [الإسراء: 105] وقال سبحانه: وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (41) لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ [فصلت: 41 - 42].

 

‌‌(2) النبيّ العظيم يصف القرآن

ووصف النبيّ صلى الله عليه وسلم القرآن الكريم، فكان وصفا حافلا بمزايا القرآن، جامعا لفضائله؛

روى الترمذيّ عن عليّ رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ألا إنها ستكون فتنة. فقلت: ما المخرج منها يا رسول الله؟ قال: كتاب الله، فيه نبأ ما كان قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، هو الفصل، ليس بالهزل، من تركه من جبّار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضلّه الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم. هو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق (لا يبلى) على كثرة الردّ، ولا تنقضي عجائبه، هو الذي لم تنته الجنّ إذ سمعته حتى قالوا إِنَّا سَمِعْنا قُرْآناً عَجَباً (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ [الجن: 1 - 2]. ومن قال به صدق
...আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী। [আশ-শুরা: ৫২]।

২ - এবং তিনি একে নূর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর নূরের মাধ্যমেই দৃষ্টি কাজ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট একটি নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর নির্দেশক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন [আল-মায়িদা: ১৫-১৬]।

৩ - এবং তিনি একে সর্বোত্তম পথের দিশারি হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথপ্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়" [আল-ইসরা: ৯]।

৪ - এবং তিনি একে নিরাময় ও সঠিক পথনির্দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা" [ফুসসিলাত: ৪৪]।

৫ - আর এটি সত্যের কিতাব যা কখনো বাতিল স্পর্শ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি এটি সত্যসহ অবতীর্ণ করেছি এবং এটি সত্যসহই অবতীর্ণ হয়েছে" [আল-ইসরা: ১০৫] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এর সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল এতে আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ" [ফুসসিলাত: ৪১-৪২]।

 

‌‌(২) মহান নবী কর্তৃক কুরআনের বর্ণনা

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র কুরআনের বর্ণনা দিয়েছেন, যা কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর ফজিলতসমূহের এক ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা;

তিরমিজি আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সাবধান! অচিরেই ফিতনা দেখা দেবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদসমূহের ফয়সালা রয়েছে। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা, এটি কোনো কৌতুক নয়। কোনো স্বৈরাচারী অহংকারবশত একে ত্যাগ করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিভ্রান্ত হয় না, এর কারণে জিহ্বা জড়তাগ্রস্ত হয় না, আলেমগণ এটি পাঠ করে তৃপ্ত হন না, বারবার পাঠে এটি পুরনো (لا يبلى) হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো শেষ হয় না। এটি সেই কিতাব যা শুনে জীনরা এ কথা না বলে থাকতে পারেনি যে: 'আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ দেখায়; ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি' [আল-জিন: ১-২]। যে ব্যক্তি এর আলোকে কথা বলবে, সে সত্য বলেছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم» «1».

 

‌‌(3) الوليد بن المغيرة يصف القرآن

وهذا الوليد بن المغيرة، وهو كافر يظهر العداوة لرسول الله صلى الله عليه وسلم يصف القرآن الكريم وصفا دقيقا وصادقا يشهد بفضل كلام الله وعظمته وتميزه عن كلام المخلوقين؛ أخرج الحاكم في المستدرك والبيهقي في دلائل النبوة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: إن الوليد بن المغيرة المخزوميّ، وهو أحد رؤساء قريش، جاء إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم فقرأ عليه القرآن. فكأنّه رقّ له، وقال: يا عجبا لما يقول ابن أبي كبشة- يعني محمدا صلى الله عليه وسلم فو الله ما هو بشعر، ولا سحر، ولا بهمز من الجنون، وإنّ قوله لمن كلام الله. فلما سمع بذلك النفر من قريش ائتمروا وقالوا:

والله لئن صبأ الوليد لتصبون قريش. فلما سمع بذلك أبو جهل بن هشام قال: أنا والله أكفيكم شأنه، فانطلق حتى دخل عليه بيته فقال: يا عمّ، إنّ قومك يريدون أن يجمعوا

لك مالا ليعطوكه، فإنك أتيت محمدا لتعرض لما قبله. قال: قد علمت قريش أني من أكثرها مالا. قال: فقل فيه قولا يبلغ قريشا أنك تنكر له.

فقال: وماذا أقول؟ فو الله ما فيكم رجل أعلم بالشعر مني، لا برجزه ولا بقصيده، ولا بأشعار الجنّ. والله ما يشبه هذا الذي يقول شيئا من هذا. والله إن لقوله الذي يقول لحلاوة، وإن عليه لطلاوة، وإنه لمثمر أعلاه، مغدق أسفله، وإنه ليحطم ما تحته، وإنه ليعلو وما يعلى عليه. فقال أبو جهل: والله ما يرضى عنك قومك حتى تقول فيه قولا. قال: فدعني أفكر، فلما فكّر قال: هذا سحر يؤثر، يأثره عن غيره. فخرج على قومه بهذا القول الآثم، فأنزل الله فيه قوله تعالى:

إِنَّهُ فَكَّرَ وَقَدَّرَ (18) فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ (19) ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ (20) ثُمَّ نَظَرَ (21) ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ (22) ثُمَّ أَدْبَرَ

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي في فضائل القرآن (2906).
যে ব্যক্তি এর অনুযায়ী আমল করবে সে পুণ্য লাভ করবে, যে এর দ্বারা ফয়সালা করবে সে ন্যায়বিচার করবে এবং যে এর দিকে আহ্বান জানাবে সে সরল পথের দিশা পাবে। (১)।

 

‌‌(৩) আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা কর্তৃক কুরআনের বর্ণনা

আর এই আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা, যে কাফির হওয়া সত্ত্বেও এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করা সত্ত্বেও পবিত্র কুরআনের এমন এক সূক্ষ্ম ও সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা দিয়েছিল যা আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব, মহিমা এবং সৃষ্টিজীবের বাণীর ওপর এর স্বাতন্ত্র্যের সাক্ষ্য দেয়; ইমাম হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এবং বাইহাকি দালায়েলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা আল-মাখজুমি, যে কুরাইশ নেতাদের অন্যতম ছিল, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এল। তিনি তাকে কুরআন পড়ে শোনালেন। এতে যেন তার মন নরম হলো। সে বলল: "ইবনে আবি কাবশাহ—অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যা বলে তাতে কী বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে! আল্লাহর কসম, তা কোনো কবিতা নয়, জাদুমন্ত্র নয় এবং জিনের কোনো প্রলাপও নয়; বরং তার এই বাণী অবশ্যই আল্লাহর বাণী।" কুরাইশদের একদল লোক যখন তা শুনতে পেল, তারা শলাপরামর্শ করল এবং বলল:

"আল্লাহর কসম, যদি ওয়ালিদ ধর্ম পরিবর্তন করে, তবে তো পুরো কুরাইশ জাতিই ধর্ম পরিবর্তন করবে।" যখন আবু জাহল ইবনে হিশাম তা শুনতে পেল, সে বলল: "আল্লাহর কসম, আমিই তোমাদের হয়ে তার বিষয়টি দেখছি।" অতঃপর সে তার নিকট গিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করল এবং বলল: "হে চাচা! আপনার কওম আপনার জন্য সম্পদ সংগ্রহ করতে চায় আপনাকে দেওয়ার জন্য; কারণ আপনি মুহাম্মাদের কাছে গিয়েছিলেন তার কাছে যা আছে তা পাওয়ার আশায়।" সে (ওয়ালিদ) বলল: "কুরাইশরা ভালো করেই জানে যে আমি তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনাঢ্য ব্যক্তি।" আবু জাহল বলল: "তবে তার ব্যাপারে এমন কোনো উক্তি করুন যা কুরাইশদের কাছে এ বার্তা পৌঁছাবে যে আপনি তাকে প্রত্যাখ্যান করছেন।"

সে বলল: "আমি কী বলব? আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে কবিতার ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক পারদর্শী কেউ নেই—চাই তা রাজজ ছন্দ হোক, কাসিদা হোক বা জিনের কবিতা হোক। আল্লাহর কসম, সে যা বলে তা এর কোনোটির সাথেই সদৃশ নয়। আল্লাহর কসম, সে যা বলে তাতে এক অপূর্ব মাধুর্য রয়েছে এবং তার ওপর রয়েছে এক অনন্য লাবণ্য। তার উপরিভাগ ফলপ্রসূ এবং নিম্নভাগ সজীবতায় ভরপুর। এটি তার নিম্নে থাকা সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং এটি উচ্চ মর্যাদাশীল, এর ওপর অন্য কিছু জয়ী হতে পারে না।" আবু জাহল বলল: "আল্লাহর কসম, আপনার কওম আপনার ওপর ততক্ষণ সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বলেন।" সে বলল: "তবে আমাকে চিন্তা করার অবকাশ দাও।" অতঃপর যখন সে চিন্তা করল, তখন বলল: "এটি কেবল জাদুমন্ত্র যা অন্যের কাছ থেকে শেখা হয়েছে।" অতঃপর সে তার কওমের সামনে এই পাপপূর্ণ উক্তি নিয়ে বের হয়ে এল। তখন আল্লাহ তাআলা তার সম্পর্কে নাযিল করলেন:

সে চিন্তা করল এবং মনঃস্থির করল (১৮) ধ্বংস হোক সে, কেমন সে মনঃস্থির করল! (১৯) আবারও ধ্বংস হোক সে, কেমন সে মনঃস্থির করল! (২০) তারপর সে দৃষ্টিপাত করল (২১) তারপর সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ বিকৃত করল (২২) তারপর সে পিঠ ফেরাল...

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি ফাদায়িলুল কুরআন অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (২৯০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَاسْتَكْبَرَ (23) فَقالَ إِنْ هذا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ [المدثر: 18 - 24] «1»

 

‌‌2 - أهمية القرآن في حياة المسلمين

تكمن أهمية القرآن الكبرى فيما اشتمل عليه من هداية إلى العقائد الصحيحة، والعبادات الحقة، والأخلاق الكريمة، والتشريعات العادلة، وما اشتمل عليه من تعاليم بناء المجتمع الفاضل، وتنظيم الدولة القوية.

وإنّ المسلمين لو جدّدوا إيمانهم بأهمية هذا الكتاب الكريم، وكانوا جادّين في الالتزام والطاعة لما فيه من أوامر وتوجيهات إلهية حكيمة، فإنهم يجدون ما يحتاجون إليه من حياة روحية طاهرة، وقوة سياسية وحربية، وثروة وحضارة، ونعم لا تعدّ ولا تحصى؛ قال تعالى: وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرى «2» آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنا عَلَيْهِمْ بَرَكاتٍ مِنَ السَّماءِ وَالْأَرْضِ وَلكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْناهُمْ بِما كانُوا يَكْسِبُونَ [الأعراف: 96].

وإذا أراد المسلمون الخير والصلاح والعزّة لأنفسهم وأمتهم، فعليهم اتّباع هدي نبيّهم صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام رضي الله عنهم في حفظ القرآن وفهمه والعمل بما فيه؛ لأنه لن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أوّلها.

 

‌‌3 - أثر القرآن في العالم

من المعلوم أن لهذا القرآن ما يشبه السحر في تأثيره على النفوس والقلوب، ومن الثابت تاريخيا أن هذا التأثير كان له فعله في أنفس المؤمنين خاصّة، وفي أنفس المشركين عامة، والآن بعد تعاقب الشهور والسنين والقرون لا تزال للقرآن جدّته،

--------------------------------------------

(1) رواه الحاكم في المستدرك (2/ 507) وصححه الحاكم، ووافقه الذهبي، ورواه البيهقي في الدلائل (2/ 198). «صبأ»: ترك دينه. «لتعرض ما قبله»: لتحصل على شيء مما عنده من المال.

(2) يخبر تعالى عن قلّة إيمان أهل القرى الذين أرسل فيهم الرسل، وكيف أهلكهم الله عقابا لكفرهم، وانظر تمام أخبارهم في تفسير ابن كثير (2/ 282 - 296).
এবং সে অহংকার করল (২৩); অতঃপর বলল, "এ তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ছাড়া আর কিছু নয়।" [আল-মুদ্দাসসির: ১৮-২৪] «১»

 

‌‌২ - মুসলিম জীবনে কুরআনের গুরুত্ব

কুরআনের সুমহান গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এতে বিদ্যমান সঠিক আকিদা, যথাযথ ইবাদত, উন্নত চরিত্র এবং ন্যায়ভিত্তিক বিধানাবলির নির্দেশনার মধ্যে; এছাড়াও এতে রয়েছে একটি আদর্শ সমাজ গঠন এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র পরিচালনার শিক্ষা।

মুসলিমরা যদি এই সম্মানিত কিতাবের গুরুত্বের প্রতি তাদের ঈমানকে নবায়ন করত এবং এতে বিদ্যমান প্রজ্ঞাপূর্ণ খোদায়ি আদেশ ও নির্দেশনাবলি পালনে আন্তরিক ও অনুগত হতো, তবে তারা তাদের প্রয়োজনীয় পবিত্র আধ্যাত্মিক জীবন, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি, সম্পদ ও সভ্যতা এবং অগণিত নেয়ামত লাভ করত; মহান আল্লাহ বলেন: "আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের ওপর আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, ফলে তারা যা অর্জন করেছিল তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম।" [আল-আরাফ: ৯৬]।

মুসলিমরা যদি নিজেদের এবং তাদের উম্মতের জন্য কল্যাণ, সংশোধন ও মর্যাদা কামনা করে, তবে তাদের উচিত কুরআন সংরক্ষণ, অনুধাবন এবং তদানুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সম্মানিত সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের আদর্শ অনুসরণ করা; কারণ এই উম্মতের শেষাংশ কখনই সংশোধিত হবে না, যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল তা ছাড়া।

 

‌‌৩ - বিশ্বে কুরআনের প্রভাব

এটি সর্বজনবিদিত যে, মানুষের আত্মা ও অন্তরের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এই কুরআনের জাদুর মতো এক প্রভাব রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি স্বীকৃত যে, এই প্রভাব বিশেষ করে মুমিনদের অন্তরে এবং সাধারণভাবে মুশরিকদের অন্তরে প্রবলভাবে কাজ করেছিল। এখন দীর্ঘ সময়, বছর এবং শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কুরআনের সেই চিরন্তন সজীবতা অম্লান রয়েছে,

--------------------------------------------

(১) আল-হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক (২/ ৫০৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাকিম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, আর আয-যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। বায়হাকি এটি দালািলুন নুবুওয়াহ (২/ ১৯৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। «সাবাআ»: নিজের ধর্ম ত্যাগ করা। «লিতাউরিদা মা কাবলাহু»: তার নিকট থাকা সম্পদ থেকে কিছু লাভ করার জন্য।

(২) মহান আল্লাহ এখানে ঐ সমস্ত জনপদবাসীদের ঈমানের স্বল্পতার সংবাদ দিচ্ছেন যাদের নিকট রাসূলদের পাঠানো হয়েছিল, এবং কুফরির শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ কীভাবে তাদের ধ্বংস করেছিলেন। তাদের বিস্তারিত সংবাদ দেখুন ইবনে কাসিরের তাফসির (২/ ২৮২ - ২৯৬) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولا يزال له تأثيره، بل زادت قوّته قوة وحجّته حجة، فملايين المسلمين يطبقون أحكام القرآن ويطيعون أوامره بشكل اختياري ومن غير أي إجبار أو إكراه، وملايين الألسنة تتلوه صباح مساء، وإذا عات العالم تبثّ آياته من أقصى الأرض إلى أقصاها، والمطابع تدفع كلّ يوم آلاف النسخ إلى جميع أنحاء العالم، وفي كلّ عام نجد القرآن الكريم ينير بآياته مساحة جديدة من الأرض، وينشر الإسلام في أناس لم يكونوا في عداد المسلمين من قبل. ومع ذلك فإنّ المسلم يجد هذا الأثر جزئيا بالمقارنة مع ما يطمح إليه من وصول هداية القرآن للناس جميعا، وتخليص العالم من شرور المدنية المادية الحديثة، وإنقاذهم من واقع حياتهم المليء بالرذائل والأهواء والتفنّن في إثارة الشهوات.

وهذا متوقف ولا شك على عودة المسلمين إلى قرآنهم عودة صادقة، ليسترشدوا بآياته، ويلتزموا بأحكامه، ويتعظوا بعبره ودروسه.

وعندها يمكن للمسلمين أن يكونوا دعاة إصلاح وسلام صادقين وناجحين، كما صدق ونجح أسلافهم من قبل، ويوم يتحقّق ذلك يفرح المؤمنون بنصر الله.
এর প্রভাব আজও অব্যাহত রয়েছে, বরং এর শক্তি ও প্রামাণিকতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ মুসলিম স্বেচ্ছায় এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কুরআনের বিধানসমূহ পালন করছে এবং এর নির্দেশনাবলী মেনে চলছে। লক্ষ লক্ষ কণ্ঠ সকাল-সন্ধ্যায় এটি তিলাওয়াত করছে; বিশ্বের প্রচারমাধ্যমগুলো পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এর আয়াতসমূহ প্রচার করছে এবং ছাপাখানাগুলো প্রতিদিন হাজার হাজার কপি বিশ্বের সর্বত্র সরবরাহ করছে। প্রতি বছর আমরা দেখতে পাই যে, কুরআনুল কারিম তার আয়াতসমূহের মাধ্যমে পৃথিবীর নতুন নতুন অঞ্চলকে আলোকিত করছে এবং এমন সব মানুষের মাঝে ইসলাম প্রচার করছে যারা ইতিপূর্বে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তা সত্ত্বেও, একজন মুসলিম এই প্রভাবকে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার তুলনায় আংশিক মনে করেন, যা হলো—সমস্ত মানুষের নিকট কুরআনের হিদায়াত পৌঁছে দেওয়া, আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতার অশুভ প্রভাব থেকে বিশ্বকে মুক্ত করা এবং চারিত্রিক কলুষতা, কুপ্রবৃত্তি ও কামস্পৃহা জাগিয়ে তোলার নানাবিধ অপকৌশলে পরিপূর্ণ জীবন থেকে তাদের উদ্ধার করা।

আর এটি নিঃসন্দেহে নির্ভর করছে মুসলিমদের তাদের কুরআনের দিকে একনিষ্ঠভাবে প্রত্যাবর্তনের ওপর, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ থেকে পথনির্দেশনা লাভ করতে পারে, এর বিধানসমূহ মেনে চলতে পারে এবং এর উপদেশ ও শিক্ষা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

তখনই মুসলিমদের পক্ষে সংস্কার ও শান্তির সত্যনিষ্ঠ ও সফল আহ্বায়ক হওয়া সম্ভব হবে, যেমনটি তাদের পূর্বসূরিগণ ইতিপূর্বে সফল হয়েছিলেন। আর যেদিন এটি বাস্তবায়িত হবে, সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌رابعا: فضل تلاوة القرآن، وآداب التلاوة، وحكم التغني بالقرآن

‌‌1 - فضل تلاوة القرآن

تلاوة القرآن سنة من سنن الإسلام والإكثار منها مستحبّ، لأنها وسيلة إلى فهم كتاب الله والعمل به، وفضلها ثابت في القرآن الكريم والسنة الشريفة، قال الله تعالى: إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتابَ اللَّهِ وَأَقامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْناهُمْ سِرًّا وَعَلانِيَةً يَرْجُونَ تِجارَةً لَنْ تَبُورَ (29) لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ [فاطر: 29 - 30].

وروى مسلم عن أبي أمامة رضي الله عنه: أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اقرءوا القرآن، فإنه يأتي يوم القيامة شفيعا لأصحابه» «1».

وروى أبو داود والنسائي والترمذي، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قوله: «يقال لصاحب القرآن اقرأ وارتق، ورتّل كما كنت ترتّل في الدّنيا، فإنّ منزلتك عند آخر آية تقرأ» «2».

والتلاوة مع إخلاص النية عبادة يؤجر عليها المسلم، وتقرّبه من خالقه؛

روى الترمذيّ عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من قرأ حرفا من كتاب الله تعالى فله به حسنة، والحسنة بعشرة أمثالها، لا أقول

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صلاة المسافرين (804).

(2) رواه أبو داود في الصلاة (1464) والنسائي في الكبرى (8056) والترمذي في فضائل القرآن (2915).
‌‌চতুর্থত: কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত, তিলাওয়াতের আদব এবং সুরে কুরআন পাঠের বিধান

‌‌১ - কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

কুরআন তিলাওয়াত করা ইসলামের সুন্নতসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত একটি সুন্নত (سنة) এবং এর আধিক্য মুস্তাহাব (مستحبّ); কারণ এটি আল্লাহর কিতাব অনুধাবন এবং তদানুযায়ী আমল করার মাধ্যম। এর ফজিলত কুরআন কারীম এবং সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনও ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ সওয়াব দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।" [ফাতির: ২৯ - ৩০]।

ইমাম মুসলিম আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে» (১)।

আবু দাউদ, নাসাঈ এবং তিরমিযী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কুরআনের সাথীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে আরোহণ করো; আর তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরস্থিরভাবে পাঠ (ترتيل) করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট» (২)।

নিয়তের একনিষ্ঠতা সহকারে তিলাওয়াত করা একটি ইবাদত, যার জন্য একজন মুসলিম সওয়াব লাভ করেন এবং এটি তাকে তার স্রষ্টার নিকটবর্তী করে;

তিরমিযী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে সে একটি নেকি লাভ করবে; আর প্রতিটি নেকি তার দশ গুণ হবে। আমি বলি না যে...»

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি সালাতুল মুসাফিরীন (৮০৪) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(২) আবু দাউদ এটি সালাত (১৪৬৪), নাসাঈ আল-কুবরা (৮০৫৬) এবং তিরমিযী ফাজায়েলুল কুরআন (২৯১৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
(الم) حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف» «1».

وروى البخاريّ ومسلم عن عائشة رضي الله عنها: أن النبيّ صلى الله عليه وسلم قال: «الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاقّ له أجران» «2».

وكان الصحابة رضوان الله عليهم يحافظون على تلاوة القرآن، ومنهم من كان يختم في اليوم والليلة، ومنهم من كان يختم في أكثر؛

روى البخاري ومسلم عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اقرأ القرآن في شهر». قلت: إني أجد قوة، قال: «اقرأه في عشر». قلت: إني أجد قوة، قال: «اقرأه في سبع ولا تزد على ذلك» «3».

وأما القدر الذي ينبغي للمسلم أن يقرأه ليختم القرآن: فيختلف باختلاف الأشخاص، يقول النووي في كتابه «الأذكار»: «المختار أن ذلك مختلف باختلاف الأشخاص، فمن كان يظهر له بدقيق الفكر لطائف ومعارف فليقتصر على قدر يحصل له معه كمال فهم ما يقرأ، وكذلك من كان مشغولا بنشر العلم أو فصل الحكومات أو غير ذلك من مهمّات الدين والمصالح العامة، فليقتصر على قدر لا يحصل بسببه إخلال بما هو مرصد له، ولا فوات كماله، وإن لم يكن من هؤلاء المذكورين فليكثر ما أمكنه من غير خروج إلى حدّ الملل أو الهذرمة في القراءة» «4».

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي في فضائل القرآن (2910).

(2) رواه البخاري في التفسير (4653) ومسلم في صلاة المسافرين (798).

(3) رواه البخاري في فضائل القرآن (4767) ومسلم في الصيام (1159) (184).

(4) الأذكار النووية (ص 188) طبعة دار ابن كثير الثالثة- 1412 هـ- تحقيق محيي الدين مستو، والهذرمة: السرعة في الكلام والمشي، ويقال للتخليط: هذرمة.
(আলিফ-লাম-মীম) একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। (১)

বুখারি ও মুসলিম আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি সম্মানিত পুণ্যবান ফিরিশতাদের সাথে থাকবেন। আর যিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন কিন্তু এতে আটকে যান এবং তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।" (২)

সাহাবায়ে কিরাম (রা.) নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তাদের মধ্যে কেউ দিন ও রাতে একবার খতম করতেন, আবার কেউ এর চেয়ে বেশি সময়ে খতম করতেন;

বুখারি ও মুসলিম আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, "মাসে একবার কুরআন খতম করো।" আমি বললাম, "আমি অধিক সামর্থ্য রাখি।" তিনি বললেন, "দশ দিনে খতম করো।" আমি বললাম, "আমি অধিক সামর্থ্য রাখি।" তিনি বললেন, "সাত দিনে খতম করো এবং এর চেয়ে বেশি করো না।" (৩)

আর একজন মুসলিমের কুরআন খতমের জন্য যতটুকু পাঠ করা উচিত: তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। ইমাম নববী তাঁর 'আল-আজকার' কিতাবে বলেন: "পছন্দনীয় (المختار) মত হলো, এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। সুতরাং যার নিকট গভীর চিন্তার ফলে সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও জ্ঞান উদ্ভাসিত হয়, তিনি যেন তিলাওয়াতের এমন পরিমাণ নির্ধারণ করেন যাতে তিনি যা তিলাওয়াত করছেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। একইভাবে যিনি দ্বীনি জ্ঞান প্রচার, বিচারকার্য পরিচালনা বা দ্বীনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যস্ত থাকেন, তিনি যেন তিলাওয়াতের এমন পরিমাণ নির্ধারণ করেন যাতে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে এবং তার পূর্ণাঙ্গতায় কমতি না হয়। আর যিনি এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন, তিনি যেন ক্লান্তি বা তিলাওয়াতের অতিদ্রুততা (الهذرمة) পরিহার করে যথাসম্ভব অধিক তিলাওয়াত করেন।" (৪)

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি ফাদায়িলুল কুরআন (২৯১০) অধ্যায়ে বর্ণনা (رواه) করেছেন।

(২) বুখারি এটি তাফসির (৪৬৫৩) এবং মুসলিম সালাতুল মুসাফিরীন (৭৯৮) অধ্যায়ে বর্ণনা (رواه) করেছেন।

(৩) বুখারি এটি ফাদায়িলুল কুরআন (৪৭৬৭) এবং মুসলিম সিয়াম (১১৫৯) (১৮৪) অধ্যায়ে বর্ণনা (رواه) করেছেন।

(৪) আল-আজকারুন নববী (পৃ. ১৮৮), দারু ইবনে কাসির প্রকাশনী, তৃতীয় সংস্করণ- ১৪১২ হিজরি- তাহকিক (تحقيق) করেছেন মহিউদ্দিন মিস্তু। আর 'হাদরামা' (الهذرمة): কথা ও চলায় দ্রুততা; অসংলগ্ন কথা বলাকেও 'হাদরামা' বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌2 - آداب التلاوة

القرآن الكريم كلام الله تعالى، ولتلاوة كلام الله آداب يجب مراعاتها والمحافظة عليها، وهي:

1 - إخلاص النية لله، والتجرّد عن الأهواء والرغبات والأغراض الدنيوية الزائلة، لأن بعض هذه الأشياء إن وجد كان حجابا كثيفا بين القارئ أو السامع وبين كلام الله تعالى.

2 - تحسين الهيئة واستقبال القبلة، والتّطهّر والتّطيب، وتنظيف الفم بالسّواك، وترك العبث أو الالتفات.

3 - استحضار القلب، والتّأهّب لقراءة القرآن كأنما يسمع من الله سبحانه.

4 - الاستعاذة: عند ابتداء القراءة؛ لقوله تعالى: فَإِذا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطانِ الرَّجِيمِ [النحل: 98]. ثم البسملة في مطلع كل سورة سوى سورة «براءة».

5 - الخشوع والتدبّر في معاني القرآن، والوقوف على كل عبرة ومعنى والتأثر بكل وعد ووعيد؛ قال تعالى: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً [النساء: 82]. وقال سبحانه: وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعاً [الإسراء: 109].

6 - تحسين الصوت بالقرآن، وتجويده وترتيله ترتيلا حسنا؛ قال تعالى:

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا [المزمل: 4].

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «زيّنوا القرآن بأصواتكم» «1».

7 - الاجتماع للقراءة، وتوسيع المجلس ليتمكن القرّاء من الجلوس فيه؛ لما

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود في الصلاة (1468) والنسائي في الافتتاح (2/ 179) وابن ماجة في إقامة الصلاة (1342).
‌‌২ - তেলাওয়াতের আদবসমূহ

কুরআনুল কারীম আল্লাহ তাআলার কালাম, আর আল্লাহর কালাম তেলাওয়াতের কিছু আদব রয়েছে যা মেনে চলা এবং রক্ষা করা আবশ্যক, সেগুলো হলো:

১ - আল্লাহর জন্য নিয়তের একনিষ্ঠতা (ইখলাস) বজায় রাখা এবং খেয়াল-খুশি, কামনা-বাসনা ও নশ্বর পার্থিব উদ্দেশ্যসমূহ থেকে মুক্ত থাকা; কেননা এগুলোর কোনোটির উপস্থিতি পাঠক বা শ্রোতা এবং আল্লাহ তাআলার কালামের মধ্যে একটি ঘন পর্দা হয়ে দাঁড়ায়।

২ - বাহ্যিক অবস্থা সুন্দর রাখা, কিবলামুখী হওয়া, পবিত্রতা অর্জন ও সুগন্ধি ব্যবহার করা, মিসওয়াকের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করা এবং অনর্থক কাজ বা এদিক-ওদিক তাকানো পরিহার করা।

৩ - অন্তরকে উপস্থিত রাখা এবং কুরআন পাঠের জন্য এমনভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা যেন সে মহান আল্লাহর নিকট থেকেই তা শ্রবণ করছে।

৪ - ইস্তিআযা (আশ্রয় প্রার্থনা করা): পাঠ শুরু করার সময়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "অতএব যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো" [আন-নাহল: ৯৮]। অতঃপর 'বারাআত' সূরা ব্যতীত প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করা।

৫ - বিনয় এবং কুরআনের মর্মার্থ নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা, প্রতিটি উপদেশ ও অর্থের ওপর থামা এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীর দ্বারা প্রভাবিত হওয়া; আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি পেত" [আন-নিসা: ৮২]। তিনি আরও বলেন: "তারা কাঁদতে কাঁদতে চিবুক গেড়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে" [আল-ইসরা: ১০৯]।

৬ - কুরআনের মাধ্যমে কণ্ঠস্বরকে সুন্দর করা এবং একে তাজবীদ ও উত্তমরূপে তারতীলের সাথে পাঠ করা; আল্লাহ তাআলা বলেন:

“এবং কুরআন পাঠ করো তারতীলের সাথে” [আল-মুয্যাম্মিল: ৪]।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো” (১)।

৭ - পাঠের জন্য সমবেত হওয়া এবং মজলিসকে প্রশস্ত করা যাতে পাঠকগণ সেখানে বসতে সক্ষম হন; কেননা...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) আবু দাউদ 'আস-সালাত' অধ্যায়ে (১৪৬৮), আন-নাসায়ী 'আল-ইফতিতাহ' অধ্যায়ে (২/ ১৭৯) এবং ইবনে মাজাহ 'ইকামাতুস সালাত' অধ্যায়ে (১৩৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াদিহ ফী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
روى مسلم في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله، يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم، إلا نزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة، وحفّتهم الملائكة، وذكرهم الله فيمن عنده» «1».

8 - ويجب على السامع للقرآن أن ينصت ويفكّر في آياته، سواء أكان يسمعه من قارئ أو من مذياع … قال تعالى: وَإِذا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ [الأعراف: 203].

 

‌‌3 - التغني بالقرآن

ذكرنا فيما سبق أن من آداب التلاوة: تحسين الصوت وتجويد التلاوة، ونزيد هنا هذا الأمر وضوحا فنقول: إنّ تحسين الصوت وتزيينه بالقرآن مستحب ولو بالألحان العربية المعروفة، ولكن بشرط مراعاة آداب القرآن وملاحظة الأحكام المنصوص عليها في علم التجويد، وعدم الإخلال بأيّ حكم من أحكام القرآن، ويؤيّد هذا

قول النبيّ صلى الله عليه وسلم لأبي موسى الأشعري: «لقد أوتيت مزمارا من مزامير آل داود» «2»

أي أوتيت صوتا حسنا. وكان عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قارئا نديّ الصوت ويجيد تلاوة القرآن،

وقد قال عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحبّ أن يقرأ القرآن غضّا كما أنزل فليقرأه على قراءة ابن أم عبد» «3»

يعني ابن مسعود.

وعن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ في

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في الذكر (2699) وأبو داود في الصلاة (1455) والترمذي في فضائل القرآن (2945) وابن ماجة في المقدمة (225). ومعنى «السكينة»: الطمأنينة والراحة والرضا، و «غشيتهم»: عمّتهم وتخللت نفوسهم، و «حفّتهم»: أحاطت بهم وحرستهم.

(2) رواه البخاري في فضائل القرآن (4761) ومسلم في صلاة المسافرين (793) (125).

(3) رواه أحمد في المسند (1/ 445) وابن ماجة في المقدمة (138).
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: «যখন কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য হতে কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন» «১»।

৮ - কুরআন শ্রবণকারীর ওপর আবশ্যক হলো মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, চাই সে কোনো কারীর নিকট থেকে শুনুক অথবা রেডিও থেকে … আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়।" [সূরা আল-আরাফ: ২০৩]।

 

‌‌৩ - সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করা

আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তিলাওয়াতের আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: কণ্ঠস্বর সুন্দর করা এবং তিলাওয়াতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা। আমরা এখানে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বলছি যে: কণ্ঠস্বর সুন্দর করা এবং কুরআনের মাধ্যমে তাকে সুশোভিত করা মুস্তাহাব, এমনকি তা পরিচিত আরবীয় সুরের মাধ্যমে হলেও। তবে শর্ত হলো কুরআনের আদবসমূহ বজায় রাখা এবং তাজবিদ শাস্ত্রে বর্ণিত বিধানসমূহ মেনে চলা এবং কুরআনের কোনো বিধানই লঙ্ঘন না করা। আর এটি সমর্থন করে—

আবু মুসা আল-আশআরী (রা.)-এর প্রতি নবী (সা.)-এর বাণী: «তোমাকে দাউদ (আ.)-এর বংশধরদের বাঁশির সুরের মতো একটি সুর (সুমধুর কণ্ঠ) প্রদান করা হয়েছে» «২»

অর্থাৎ সুমধুর কণ্ঠস্বর প্রদান করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন একজন সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী কারী এবং তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

তাঁর সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের মতো সজীব ও সতেজভাবে পাঠ করতে পছন্দ করে, সে যেন ইবনে উম্মে আব্দ-এর কিরাত অনুযায়ী পাঠ করে» «৩»

অর্থাৎ ইবনে মাসউদ।

বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে তিলাওয়াত করতে শুনেছি...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি যিকর অধ্যায়ে (২৬৯৯), আবু দাউদ সালাত অধ্যায়ে (১৪৫৫), তিরমিযী ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায়ে (২৯৪৫) এবং ইবনে মাজাহ মুকাদ্দিমায় (২২৫) বর্ণনা করেছেন। আর ‘আস-সাকিনাহ’ শব্দের অর্থ: স্থৈর্য, প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি; ‘গাশিয়াতহুম’ অর্থ: তাদের পরিব্যাপ্ত করে নেয় এবং তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে; ‘হাফফাতহুম’ অর্থ: তাদের পরিবেষ্টন করে এবং রক্ষা করে।

(২) বুখারী এটি ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায়ে (৪৭৬১) এবং মুসলিম সালাতুল মুসাফিরীন অধ্যায়ে (৭৯৩) (১২৫) বর্ণনা করেছেন।

(৩) আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে (১/ ৪৪৫) এবং ইবনে মাজাহ মুকাদ্দিমায় (১৩৮) বর্ণনা করেছেন।