(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: -)
مرويات غزوة الخندق القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مرويات غزوة الخندق
المؤلف: إبراهيم بن محمد المدخلي
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولي، 1424هـ
عدد الصفحات: 473
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
খন্দক যুদ্ধের বর্ণনাসমূহ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: খন্দক যুদ্ধের বর্ণনাসমূহ
লেখক: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মাদখালি
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة…مرويات غزوة الخندق
تأليف: د. إبراهيم بن محمد عمير المدخلي
كلمة شكر وتقدير
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.
وبعد
…فقد مّن الله علي بالانتهاء من إعداد هذه الرسالة فالشكر لله وحده أولاً وأخيراً على نعمه وتوفيقه.
ثم إني أرى من الواجب علي - اعترافاً بالجميل لأهله - أن أتقدم بشكري الجزيل وبالغ تقديري لفضيلة شيخي الفاضل الشيخ عبد المحسن ابن حمد العباد المشرف على الرسالة والذي لم يدخر جهدا في إبداء توجيهاته وإرشاداته فجزاه الله عني وعن طلاب العلم خير الجزاء وبارك في عمره.
كما أتقدم بالشكر لفضيلة الدكتور أكرم ضياء العمري رئيس قسم الدراسات العليا بالجامعة فقد كان له عظيم الأثر في توجيهي لهذا البحث أيام الدراسة وإرشاداته القيمة أيام التحضير. كما أشكر فضيلة الشيخ حماد الأنصاري1 لفتحه صدره ومكتبته لطلاب العلم. كما أشكر
--------------------------------------------
ভূমিকা…খন্দকের যুদ্ধের বর্ণনাগুলো
রচনায়: ড. ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ উমাইর আল-মাদখালী
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও স্বীকৃতি
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর
…আল্লাহ তাআলা এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন, তাই তাঁর নিয়ামত ও তাওফীকের জন্য প্রথমে ও শেষে সমস্ত শোকরিয়া একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য।
অতঃপর গুণীজনদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করাকে আমি আমার কর্তব্য মনে করি। আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ, শায়খ আব্দুল মুহসিন ইবনে হামাদ আল-আব্বাদ-এর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, যিনি এই গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি তাঁর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর হায়াতে বরকত দান করুন।
সেই সাথে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের প্রধান শ্রদ্ধেয় ড. আকরাম জিয়া আল-উমারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ছাত্র থাকাকালীন আমাকে এই গবেষণার দিকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল ভূমিকা ছিল এবং গবেষণাপত্র প্রস্তুতকালীন তাঁর মূল্যবান পরামর্শগুলো অত্যন্ত সহায়ক ছিল। এছাড়া আমি শ্রদ্ধেয় শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারীর১ প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তাঁর হৃদয় ও লাইব্রেরি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমি আরও ধন্যবাদ জানাই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৮)
فضيلة الدكتور محمود ميره فقد كان كريماً بالمعلومات وإرشاد من يسأله لطيف المعاملة لتلاميذه.
وأخيراً فإني أشكر كل من مد لي يد العون أياً كان من الأساتذة الأفاضل والأصدقاء والزملاء وهم كثير وأخص منهم الأخ الكريم مصطفى عبد الجليل، أمين مكتبة الدراسات العليا بالجامعة فجزى الله الجميع كل خير ووفقهم لما يحبه ويرضاه.
ثم إني في الختام أسأل الله العلي القدير أن يجعل هذا الجهد خالصاً لوجهه الكريم وأن ينفع به وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب. وصلى الله وسلم على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
সম্মানিত ডক্টর মাহমুদ মীরা, তিনি তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার ছিলেন এবং সাহায্যপ্রার্থীদের দিকনির্দেশনা দিতেন, আর তাঁর ছাত্রদের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত অমায়িক।
পরিশেষে, আমি সেই সকল সম্মানিত শিক্ষক, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা অনেক; বিশেষভাবে আমি শ্রদ্ধেয় ভাই মোস্তফা আবদুল জলিলের নাম উল্লেখ করছি, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা অনুষদের গ্রন্থাগারিক। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদেরকে সেই সব কাজের তাওফিক দান করুন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
সবশেষে, আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই প্রচেষ্টাকে একান্তভাবে তাঁর মহিমান্বিত চেহারার জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করেন। আমার সাফল্য কেবল আল্লাহরই তাওফিকে; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله أرسله الله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحابته أجمعين.
أما بعد:
فإن علم التاريخ علم جليل القدر عظيم الفوائد ذلك لأنّ به يقف الإنسان على حقائق ماضية من أخبار وحوادث لشخصيات أو قبائل أو أمم، وهو علم اهتم به القرآن الكريم حيث إنه ورد كثير من قصص الأمم الماضية فيه من ذلك قوله تعالى: {كَذَلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ وَقَدْ آتَيْنَاكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْراً} 1.
وقصص الأمم الماضية وتاريخها يكسب الأجيال المتلاحقة خبرة وفهماً لتلك الأحداث.
--------------------------------------------
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইতিহাস শাস্ত্র অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং প্রভূত কল্যাণকর একটি জ্ঞান। কেননা এর মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন ব্যক্তি, গোত্র বা জাতির অতীত সংবাদ ও ঘটনাবলির বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে। আর এটি এমন একটি জ্ঞান যার প্রতি কুরআনুল কারীম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, যেহেতু এতে অতীত জাতিসমূহের বহু কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “এভাবেই আমি আপনার কাছে ইতিপূর্বে যা ঘটে গেছে তার সংবাদ বর্ণনা করছি, আর আমি আপনাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দান করেছি।” ১।
অতীত জাতিসমূহের কাহিনী ও ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে ঐসব ঘটনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১০)
كما يحصل بها الاتعاظ للأجيال المتعاقبة على مدى الأزمان قال تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} 1.
ولله در الشاعر حيث قال:
ليس بإنسان ولا عالم
… من لم يع الأخبار في صدره
ومن درى أخار من قبله
… أضاف أعماراً إلى عمره2
وإذا كان علم التأريخ من الأهمية بمكان؛ فذروة سنامه تاريخ سيرة سيد البشر محمد بن عبد الله صلوات الله وسلامه عليه.
فهو علم شريف لشرف النبي صلى الله عليه وسلم ولأنه مع ذلك ينقل إلينا أفعاله صلى الله عليه وسلم ونحن مأمورون باتباعه والاقتداء به قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
…} الآية3.
وذلك تشريف من الله سبحانه وتعالى له فلقد شرفه وأعلى مكانته وأنزله المنزلة الكريمة التي يستحقها فأوكل إليه مهمة ما في القرآن الكريم من إجمال وشرح ما يحتاج إلى تفصيل قال تعالى: {
…وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ
--------------------------------------------
তেমনিভাবে এর মাধ্যমে যুগান্তরের পরিক্রমায় আগত প্রজন্মগুলোর জন্য উপদেশ অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর আছে অথবা যে উপস্থিত হৃদয়ে শ্রবণ করে।" ১।
আর কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
সে মানুষ নয় আর না সে আলেম
… যে তার হৃদয়ে ইতিহাসকে গেঁথে নেয়নি।
আর যে ব্যক্তি তার পূর্ববর্তীদের ইতিহাস জেনেছে
… সে যেন নিজের আয়ুর সাথে আরও অনেক আয়ু যুক্ত করেছে।২
আর ইতিহাস শাস্ত্র যদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে; তবে এর সর্বোচ্চ শিখর হলো মানবজাতির সরদার মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সীরাত বা জীবনী।
এটি একটি সুমহান জ্ঞান, কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুউচ্চ মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যেহেতু এটি আমাদের নিকট তাঁর কার্যাবলি পৌঁছে দেয়, আর আমরা তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ..." আয়াত৩।
আর এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য এক বিশেষ সম্মান। তিনি তাঁকে সম্মানিত করেছেন, তাঁর মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁকে সেই সম্মানজনক স্থানে আসীন করেছেন যার তিনি যোগ্য। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশদ ব্যাখ্যা এবং যা বিস্তারিত বর্ণনার দাবি রাখে তার ব্যাখ্যার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "...আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১১)
لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِم}
… 1. وقد وعد الله مسبقاً بحفظ كتابه فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 2.
وهذا الحفظ يشمل السنة المطهرة، ولتحقيق هذا الوعد القاطع الصادق كان كل ما قامت به الأمة الإسلامية من جهود عظيمة واهتمام بالغ لا يعرف الأقل منه لأمة من الأمم ولا لدين من الأديان وذلك بحفظ القرآن الكريم في الصدور والمصاحف وتلاوته أناء الليل وأطراف النهار. وذلك لقيامه صلى الله عليه وسلم بما أوكل إليه من واجب خير قيام بأقواله وأفعاله وأحواله وجهاده العظيم وسيرته العطرة حتى ترك الناس على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك.
ونتيجة لذلك حظيت السنة المطهرة بحظها الوافر من وعد الله بالحفظ لتنزيله وذكره، فإنها والقرآن من مشكاة واحدة.
إذاً فالسنة داخلة في ذلك الوعد الصادق بالحفظ والضمان الأكيد. فكان من مظاهر تنفيذ ذلك ما نراه ونلمسه من جهود بذلت لحفظها وصيانتها والذود عنها.
--------------------------------------------
"...যাতে আপনি মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}"
… ১. আর আল্লাহ পূর্বেই তাঁর কিতাব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: {"নিশ্চয়ই আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।"} ২.
আর এই সংরক্ষণ পবিত্র সুন্নাহকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এই অকাট্য ও সত্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহ যে মহান প্রচেষ্টা ও গভীর মনোযোগ নিবেদন করেছে, অন্য কোনো জাতি বা ধর্মের ক্ষেত্রে তার সামান্যতম নজিরও জানা যায় না। আর তা হলো অন্তরসমূহে ও মাসহাফসমূহে কুরআন মাজীদ হিফাযত করা এবং দিবা-রাত্রির প্রহরগুলোতে তা তিলাওয়াত করা। আর এটি সম্ভব হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তাঁর বাণী, কর্ম, অবস্থা, মহান জিহাদ এবং সুগন্ধিময় সীরাতের মাধ্যমে সর্বোত্তমভাবে আঞ্জাম দেওয়ার কারণে; এমনকি তিনি মানুষকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গিয়েছেন যার রাত দিনের মতোই স্পষ্ট; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
এরই ফলশ্রুতিতে পবিত্র সুন্নাহ আল্লাহর ওহী ও যিকর সংরক্ষণের সেই প্রতিশ্রুতির এক বিশাল অংশ লাভ করেছে। কেননা সুন্নাহ ও কুরআন একই আলোর আধার থেকে উৎসারিত।
সুতরাং সুন্নাহও সেই সত্য হিফাযত ও সুনিশ্চিত নিশ্চয়তার অন্তর্ভুক্ত। আর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো সেই সমস্ত প্রচেষ্টা যা আমরা দেখতে ও অনুভব করতে পারছি, যা সুন্নাহর হিফাযত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং একে রক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১২)
فكان من آثار ذلك ما تفخر به المكتبات الإسلامية من مؤلفات قيمة مختلفة المناهج والموضوعات متحدة الغاية والأهداف وهي خدمة السنة المطهرة.
وقد شملت تلك الجهود جزءاً كبيراً من السيرة النبوية الشريفة وذلك بجمع مادتها دون التفات من كثير منهم إلى تنقيتها من الشوائب وإزالة ما علق بها من تحريف وزيادة أو كذب وافتراء كما فعل الجهابذة من المحدثين الذين عنوا بجمع الصحيح دون غيره كالبخاري ومسلم - رحمهما الله تعالى -.
وإن من أجل مهام المؤسسات العلمية في هذا العصر العناية بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم ومغازيه وجمع الآثار الواردة فيها وتمحيصها وهي حاجة ملحة في الوقت الحاضر يتمنى كل مسلم غيور أن تتحقق.
وفي طليعة تلك المؤسسات الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، التي اتجهت لتحقيق هذه الغاية وذلك بتسجيل موضوعات في مختلف جوانب السيرة النبوية وغزوات الرسول صلى الله عليه وسلم.
وقد رغبت المشاركة في جانب من هذه الجوانب فاخترت مرويات (غزوة الخندق) موضوعاً لرسالتي التي أعدها لنيل درجة العالمية الماجستير من شعبة السنة في هذه الجامعة المباركة.
এর ফলশ্রুতিতে ইসলামি গ্রন্থাগারগুলো এমন সব মূল্যবান রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে যা নিয়ে তারা গর্ব করতে পারে; এগুলোর পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন—আর তা হলো পবিত্র সুন্নাহর সেবা করা।
এই প্রচেষ্টাসমূহ সীরাতে নববী বা নবীজির জীবনচরিতের এক বিশাল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে অনেক লেখকই এর বিষয়বস্তু সংকলন করার ক্ষেত্রে সেগুলোকে কলুষতা থেকে পবিত্র করা এবং এতে মিশে যাওয়া বিকৃতি, সংযোজন কিংবা মিথ্যা ও অপবাদ দূর করার ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করেননি, যেমনটি করেছিলেন প্রথিতযশা মুহাদ্দিসগণ যারা কেবল বিশুদ্ধ বা সহিহ হাদিস সংকলনে মনোনিবেশ করেছিলেন, যেমন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন)।
বর্তমান যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম মহৎ কাজ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত ও তাঁর যুদ্ধাভিযানসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং এই সংক্রান্ত বর্ণিত বর্ণনাগুলো সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা। এটি বর্তমান সময়ের এক অনিবার্য দাবি যা প্রতিটি সচেতন মুসলিম পূরণ হওয়ার কামনা করেন।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রভাগে রয়েছে মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, যা সীরাতে নববী ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানের বিভিন্ন দিকের ওপর গবেষণার বিষয়সমূহ নিবন্ধনের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে অগ্রসর হয়েছে।
আমিও এই ধারার একটি অংশে অংশগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেছি। তাই এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্নাহ বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত আমার গবেষণাপত্রের বিষয় হিসেবে ‘খন্দক যুদ্ধের বর্ণনাগুলো’ নির্বাচন করেছি।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سبب اختياري لهذا الموضوع
لقد كان الدافع لي على اختيار هذا الموضوع (مرويات غزوة الخندق) جمعاً ودراسة أمور أهمها:
1- إن الاشتغال بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم محبب إلى النفوس لأنها سيرة صاحب الرسالة محل الأسوة والقدوة فتجعل الإنسان يعيش جل وقته مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي ويسلم عليه ويدفعه ذلك على الحرص والمتابعة.
2- بما أن اليهود كان لهم الدور المباشر في هذه الغزوة وهم الذين كانوا وما زالوا يكيدون للإسلام وأهله وهم يعيدون ما فعلوه بالأمس من شن الحروب على الإسلام ويحاولون إقصاءه عن الحياة العامة بشتى الأساليب لمعرفتهم أن ذلك من أهم أسباب انهيار الإسلام والمسلمين فعمدوا لدعم هذه المحاولة إلى الدس الرخيص وإدخال الروايات الموضوعة أو ما لا أصل له ضد الإسلام وهم بالنسبة لرسول البشرية صلوات الله وسلامه عليه أشد حقداً وأكثر كيداً.
এই বিষয়বস্তু নির্বাচনের কারণ
এই বিষয়বস্তু (খন্দক যুদ্ধের বর্ণনাসমূহের সংকলন ও গবেষণা) নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার জন্য প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল কয়েকটি বিষয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত চর্চায় আত্মনিয়োগ করা মনের কাছে অত্যন্ত প্রিয়; কেননা এটি হচ্ছে সেই রিসালাতের অধিকারীর সীরাত যিনি অনুসরণ ও অনুকরণের আদর্শস্থল। এটি মানুষকে তার সময়ের অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অতিবাহিত করার সুযোগ করে দেয়, সে তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করে এবং এটি তাকে সীরাত অনুসরণে আগ্রহী ও একনিষ্ঠ হতে উদ্বুদ্ধ করে।
২- যেহেতু এই যুদ্ধে ইহুদিদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল এবং তারাই সেই জাতি যারা ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অতীতেও ষড়যন্ত্র করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। তারা অতীতে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার যে নীতি অবলম্বন করেছিল, বর্তমানেও তার পুনরাবৃত্তি করছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে ইসলামকে জনজীবন থেকে নির্বাসিত করার চেষ্টা করছে, কারণ তারা জানে যে এটিই ইসলাম ও মুসলিমদের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে তারা তাদের এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে হীন চক্রান্ত এবং ইসলামের বিরুদ্ধে জাল বা ভিত্তিহীন বর্ণনা অনুপ্রবেশ করানোর আশ্রয় নিয়েছে। আর মানবজাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তারা চরম বিদ্বেষপরায়ণ এবং অধিক ষড়যন্ত্রকারী।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لذلك تأكد بأن الحاجة ماسة إلى مزيد عناية بسيرته العطرة وغزواته المباركة وذلك بتمحيص رواياتها وبيان صحيحها من سقيمها وكشف حقد اليهود على الإسلام فكان لزاماً علي أن أسهم بجهد المقل في خدمة سيرته صلى الله عليه وسلم.
1- الرغبة في وصل السلسلة التي أوشكت على الانتهاء التي إتجه إلى تنفيذها قسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية في إيجاد بحوث تخصصية في مختلف جوانب السيرة النبوية.
2- إظهار آخر معركة فاصلة غزيت بها المدينة في بحث خاص بها تناول النصوص الواردة فيها.
وأخيراً فقد كان لفضيلة الدكتور أكرم العمري رئيس قسم الدراسات العليا اليد الطولى في توجيهي إلى هذا البحث واختياره فجزاه الله عني خير الجزاء.
لهذه الأمور اخترت هذا البحث فإن أصبت فمن الله وإن أخطأت فمني ومن الشيطان سائلاً المولى عز وجل التوفيق والسداد إنه ولي ذلك والقادر عليه والله على ما أقول وكيل.
এজন্য এটা নিশ্চিত যে, তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত এবং বরকতময় যুদ্ধসমূহের প্রতি অধিকতর যত্ন নেওয়ার তীব্র প্রয়োজন রয়েছে; আর তা হলো এর বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই করা, সঠিক বর্ণনা থেকে ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা এবং ইসলামের প্রতি ইহুদিদের বিদ্বেষ উন্মোচন করা। তাই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতের খিদমতে আমার এই সামান্য সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
১- সেই ধারাবাহিকতাকে যুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা যা সমাপ্তির পথে, যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা বিভাগ সীরাতে নববীর বিভিন্ন দিকে বিশেষায়িত গবেষণা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
২- মদীনার ওপর আক্রমণ হওয়া সর্বশেষ চূড়ান্ত যুদ্ধটিকে একটি স্বতন্ত্র গবেষণার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা, যা এতে বর্ণিত পাঠ্য বা বর্ণনাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পরিশেষে, উচ্চতর গবেষণা বিভাগের প্রধান শ্রদ্ধেয় ডক্টর আকরাম আল-উমারী আমাকে এই গবেষণার দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান এবং এটি নির্বাচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এসব কারণেই আমি এই গবেষণাটি বেছে নিয়েছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করি তবে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি মহান প্রতিপালকের নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আর আমি যা বলছি তার ওপর আল্লাহই কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
منهجي في البحث
1- أورد الحديث ثم أترجم لرجاله من بعض كتب التراجم المعروفة، وإذا كان هناك حديث آخر يؤيده أو بمعناه فإني أورده أيضاً.
2- أقوم بالحكم على الحديث الذي أهمل النقاد الحكم عليه ولم يوجد في الصحيحين بما تمليه تلك الدراسة صحة وضعفاً، وذلك بعد التأكد من دراسة التراجم، والاتصال في الأسانيد وانعدام العلة والشذوذ مع الاستعانة بتصحيح العلماء إن وجد.
3- إذا لم يرد حديث للقصة فأبدأ بإيراد كلام ابن إسحاق - لاتفاقهم بأنه إمام أهل المغازي - ثم أسوق كلام أهل المغازي بعد ذلك.
4- إذا كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما أترجم لرجاله من باب التعريف بهم وذلك باقتضاب.
5- أترجم للأعلام الذين يأتي ذكرهم في غير الأسانيد.
6- أشير للسورة ورقم الآية بالنسبة لما جاء من أدلة من كتاب الله عز وجل.
7- وضعت عدة فهارس بدءاً بالمصادر وانتهاءً بالموضوعات.
আমার গবেষণা পদ্ধতি
১- আমি হাদিস উল্লেখ করি, এরপর প্রসিদ্ধ জীবনীগ্রন্থসমূহ থেকে এর বর্ণনাকারীদের জীবনী তুলে ধরি। যদি বিষয়টিকে সমর্থন করে এমন অন্য কোনো হাদিস থাকে বা সমার্থবোধক কোনো হাদিস থাকে, তবে সেটিও আমি উল্লেখ করি।
২- যেসব হাদিসের ব্যাপারে সমালোচকগণ কোনো হুকুম বা মন্তব্য করেননি এবং যেগুলো সহীহাইন-এ নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে গবেষণার আলোকে আমি সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার হুকুম প্রদান করি। বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনা, সনদের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতামুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর এটি করা হয়। এক্ষেত্রে আলেমদের সত্যায়ন পাওয়া গেলে সেটিরও সহায়তা নেওয়া হয়।
৩- কোনো ঘটনার বর্ণনায় যদি কোনো হাদিস পাওয়া না যায়, তবে আমি ইবনে ইসহাকের বক্তব্য দিয়ে শুরু করি—যেহেতু তিনি মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত—এরপর আমি অন্যান্য মাগাযী বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বর্ণনা করি।
৪- হাদিসটি যদি সহীহাইন-এ বা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে বর্ণনাকারীদের পরিচয়ের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে তাঁদের জীবনী উল্লেখ করি।
৫- সনদের বাইরে যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম এসেছে, আমি তাঁদের জীবনীও তুলে ধরি।
৬- মহান আল্লাহর কিতাব থেকে প্রাপ্ত দলীলসমূহের ক্ষেত্রে আমি সূরা ও আয়াত নম্বর নির্দেশ করি।
৭- আমি উৎসগ্রন্থ থেকে শুরু করে বিষয়বস্তু পর্যন্ত বেশ কিছু সূচিপত্র বা নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خطة البحث
هذا البحث يقع في مقدمة وتمهيد وخمسة أبواب وخاتمة.
أما المقدمة فقد اشتملت على ضرورة العناية بسيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وأما التمهيد فيشتمل على الإشارة إلى الظروف والملابسات التي سبقت الغزوة.
الباب الأول اشتمل على فصلين:
الأول: في أسباب الغزوة.
الثاني: في تاريخها.
وأما الباب الثاني: فقد اشتمل على فصلين أيضاً:
الأول: في دور اليهود في هذه الغزوة وتحته مباحث:
الأول: في بيان الحقد اليهودي على البشرية منذ القدم.
الثاني: الوفد اليهودي المحرض.
الثالث: القبائل التي أغراها اليهود على قتال المسلمين.
الثاني: في بيان دور المنافقين في هذه الغزوة.
وأما الباب الثالث: فهو في بيان موقف المسلمين من هذه التحركات، وقد اشتمل على أربعة فصول:
গবেষণার রূপরেখা
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।
ভূমিকাটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আলোচিত হয়েছে। আর উপক্রমণিকাটিতে যুদ্ধের পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের কারণসমূহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে।
আর দ্বিতীয় অধ্যায়টিও দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই যুদ্ধে ইহুদিদের ভূমিকা এবং এর অধীনে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রাচীনকাল থেকে মানবজাতির প্রতি ইহুদিদের বিদ্বেষের বর্ণনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উস্কানিদাতা ইহুদি প্রতিনিধিদল।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যেসব গোত্রকে ইহুদিরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রলুব্ধ করেছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই যুদ্ধে মুনাফিকদের ভূমিকার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
আর তৃতীয় অধ্যায়টি হলো এই সকল তৎপরতার বিরুদ্ধে মুসলমানদের অবস্থানের বর্ণনায়, এটি চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الأول: في مشاورة الرسول صلى الله عليه وسلم لأصحابه حول حفر الخندق.
الثاني: تواضعه صلى الله عليه وسلم ومباشرته الحفر بنفسه.
الثالث: تغلب المسلمين على العقبات التي واجهتهم (الكدية) .
الرابع: مكان الخندق وسرعة إنجازهم لحفره مع بيان المدة التي استغرقوها في الحفر حسب أقوال أهل المغازي.
وأما الباب الرابع: فهو في وصول الأحزاب إلى مشارف المدينة وتحته فصول:
الفصل الأول: في بيان عدد الجيوش وتحته مبحثان:
الأول: في عدد جيش المشركين وبيان قواده.
الثاني: في عدد جيش المسلمين.
الفصل الثاني: في بيان تواطؤ اليهود مع المشركين وعزمهم على ضرب المسلمين من الخلف.
الفصل الثالث: تخذيل المنافقين للصف الإسلامي.
وأما الباب الخامس: فهو في وصف ما دار في غزوة الأحزاب من مناوشات بين المسلمين والكفار وتحته فصول:
الفصل الأول: في اقتحام المشركين الخندق وتصدي المسلمين لهم وتحته مباحث:
প্রথমত: খন্দক (পরিখা) খনন নিয়ে সাহাবীদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরামর্শ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়ত: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিনয় এবং নিজ হাতে খননকার্যে অংশগ্রহণ।
তৃতীয়ত: মুসলিমদের সামনে আসা বাধাসমূহ (কঠিন পাথুরে ভূমি) অতিক্রম করা।
চতুর্থত: খন্দকের স্থান এবং তা খনন সম্পন্ন করার দ্রুততা, সাথে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা অনুযায়ী খননকার্যে ব্যয়িত সময়ের বিবরণ।
আর চতুর্থ অধ্যায়: এটি মদিনার উপকণ্ঠে সম্মিলিত বাহিনীর (আহজাব) পৌঁছানো প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বাহিনীর সংখ্যা বর্ণনা প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে দুটি উপ-আলোচনা রয়েছে:
প্রথমত: মুশরিক বাহিনীর সংখ্যা এবং তাদের সেনাপতিদের বর্ণনা।
দ্বিতীয়ত: মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের সাথে ইহুদিদের যোগসাজশ এবং পেছন থেকে মুসলিমদের ওপর আক্রমণের সংকল্প বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি কাতার বা সারিতে মুনাফিকদের হতাশা ও ভীতি ছড়ানো।
আর পঞ্চম অধ্যায়: এটি খন্দকের যুদ্ধে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যে সংঘটিত খণ্ডযুদ্ধের বর্ণনায় এবং এর অধীনে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের খন্দক অতিক্রম করার প্রচেষ্টা এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিহত করা প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে কয়েকটি উপ-আলোচনা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الأول: في الحصار الذي لحق بالمسلمين.
الثاني: المبارزة.
الثالث: القتلى من الجانبين.
الفصل الثاني: في اشتداد المعركة يمنع المسلمين من الصلاة.
الفصل الثالث: في دور سعد بن معاذ في هذه الغزوة وبلائه فيها.
الفصل الرابع: في دور نعيم بن مسعود الأشجعي في هذه الغزوة.
الفصل الخامس: في دور حذيفة بن اليمان رضي الله عنه.
الفصل السادس: في حصول النزاع بين الأحزاب وانهزامهم وتحته مبحثان:
الأول: في هبوب الريح.
الثاني: نتائج الغزوة.
أما الخاتمة فهي في العبر والأحكام المستفادة من الغزوة.
প্রথম: মুসলমানদের ওপর আপতিত অবরোধ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: দ্বৈরথ যুদ্ধ।
তৃতীয়: উভয় পক্ষের নিহতদের বিবরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া যা মুসলমানদের সালাত আদায়ে অন্তরায় হয়েছিল।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই যুদ্ধে সাদ ইবন মুআয-এর ভূমিকা এবং এতে তাঁর ত্যাগ ও পরীক্ষার বিবরণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই যুদ্ধে নুআইম ইবন মাসউদ আল-আশজায়ীর ভূমিকা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভূমিকা প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত বাহিনীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হওয়া ও তাদের পরাজয় বরণ এবং এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: প্রবল বায়ু প্রবাহিত হওয়া প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: যুদ্ধের ফলাফল।
উপসংহার হলো যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও বিধানসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بحث تمهيدي يتضمن الأحداث التي وقعت بين غزوتي أحد والخندق
بالتتبع والرجوع إلى غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم يتبين أنه قد حدثت أحداث بين هاتين الغزوتين أحد والأحزاب.
ذلك أنه بعد غزوة أحد وبعد تلك الهزيمة التي كان سببها -والله أعلم- عدم طاعة الرماة لرسول الله ولقائدهم ولحكمة أراد الله - تعالى - ذلك.
بيد أن تلك الهزيمة1 في أول الأمر لم تفتّ في عضد الرسول صلوات الله وسلامه عليه ولم تضعف أولئك الجنود الأشاوس فقد ضمدوا جراحاتهم وواصلوا المسير حتى بلغوا حمراء الأسد2.
--------------------------------------------
ওহুদ ও খন্দক যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত ঘটনাবলী সম্বলিত একটি প্রারম্ভিক আলোচনা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধসমূহ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ওহুদ ও আহযাব (খন্দক)—এই দুই যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে কিছু ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
তা এই কারণে যে, ওহুদ যুদ্ধের পর এবং সেই পরাজয়ের পর—যার কারণ ছিল (আল্লাহই ভালো জানেন) রাসূলুল্লাহ এবং তাদের সেনাপতির প্রতি তীরন্দাজদের অবাধ্যতা এবং মহান আল্লাহ এক হিকমতের কারণে তা চেয়েছিলেন।
তবে সেই পরাজয়১ শুরুর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনোবলকে ক্ষুণ্ণ করতে পারেনি এবং সেই সাহসী সৈনিকদেরও দুর্বল করতে পারেনি। বরং তারা তাদের জখমগুলোতে পটি বেঁধেছিলেন এবং পথ চলা অব্যাহত রেখেছিলেন যতক্ষণ না তারা হামরাউল আসাদ২-এ পৌঁছান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال ابن إسحاق1: "فأقام بها الاثنين والثلاثاء والأربعاء ثم رجع إلى المدينة2، وقد كان لمعبد الخزعي3 دور كبير في تخذيل أبي سفيان ومن معه في هذه الحملة. قال محمود شيت خطاب: وكان لابد للمسلمين من أن يقوموا بالتطهير العام في المدينة وخارجها حتى يستعيدوا قوتهم.
لقد استطاعوا أن يجعلوا من المدينة قاعدة آمنة للإسلام قبل غزوة (أحد) ولكن هذه الغزوة أحدثت لهم مشاكل داخلية وخارجية4.
أما المشاكل الداخلية فقد كانت من اليهود الذين هم أشد عداوة للذين آمنوا في السراء والضراء وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها. وذلك مصداقاً لقوله - تعالى: {لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
…} 5.
--------------------------------------------
ইবনে ইসহাক ১ বলেন: "তিনি সেখানে সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার অবস্থান করেন, এরপর মদিনায় ফিরে আসেন ২। এই অভিযানে আবু সুফিয়ান এবং তার সঙ্গীদের নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে মাবাদ আল-খুজায়ী ৩-এর এক বিশাল ভূমিকা ছিল। মাহমুদ শিত খাত্তাব বলেন: মুসলমানদের জন্য মদিনার ভেতরে ও বাইরে সাধারণ নির্মূলকরণ অভিযান পরিচালনা করা অপরিহার্য ছিল যাতে তারা তাদের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে।
তারা উহুদ যুদ্ধের পূর্বে মদিনাকে ইসলামের জন্য একটি নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু এই যুদ্ধ তাদের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সমস্যা তৈরি করেছিল ৪।
অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো ছিল ইহুদিদের পক্ষ থেকে, যারা সুখে-দুঃখে মুমিনদের প্রতি চরম শত্রুতাপরায়ণ এবং আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত (তথা কিয়ামত পর্যন্ত) তারা এমনই থাকবে। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: {নিশ্চয়ই আপনি মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদি ও মুশরিকদের সবচেয়ে কঠোর পাবেন
...} ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২১)
وداخلية أيضاً من المنافقين الذين تظاهروا بالإسلام خبثاً ومكراً فانكشفت نواياهم قبيل معركة أحد وبعدها عندما رأوا الخطر محدقاً بالمسلمين، ومشاكل خارجية من قريش بالدرجة الأولى، إذ أخذت تشن حرب دعاية ضد المسلمين لتظهر نتائج غزوة (أحد) بمظهر يرفع من قيمتها وبالمقابل يحط من قيمة المسلمين.
وخارجية أيضاً من القبائل المجاورة حيث إنهم طمعوا بالمسلمين وظنوا أنهم أصبحوا في متناول أيديهم غنيمة باردة1.
ونتيجة لذلك بلغ الرسول صلى الله عليه وسلم بعد شهرين من غزوة أحد أن طليحة وسلمة ابني خويلد الأسدي يحرضان قومهما بني أسد لغزوة المدينة ونهب أموال المسلمين فيها.
فسارع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى بعث أبي سلمة2 على رأس مائة وخمسين
--------------------------------------------
এবং মুনাফিকদের পক্ষ থেকেও অভ্যন্তরীণ সমস্যা বিদ্যমান ছিল, যারা বিদ্বেষ ও ধূর্ততার বশবর্তী হয়ে ইসলামের ভান করেছিল। ফলে উহুদ যুদ্ধের ঠিক আগে এবং পরে যখন তারা মুসলমানদের বিপদসংকুল অবস্থায় দেখল, তখন তাদের কুমতলব উন্মোচিত হয়ে গেল। আর বাহ্যিক সমস্যা ছিল প্রধানত কুরাইশদের পক্ষ থেকে; কেননা তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি প্রোপাগান্ডামূলক যুদ্ধ শুরু করেছিল যাতে উহুদ যুদ্ধের ফলাফলকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় যা তাদের মর্যাদাকে বাড়িয়ে দেয় এবং বিপরীতে মুসলমানদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
এবং পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলোর পক্ষ থেকেও বাহ্যিক হুমকি ছিল, কারণ তারা মুসলমানদের ওপর চড়াও হওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারেনি এবং ধারণা করেছিল যে তারা (মুসলমানরা) এখন তাদের হাতের নাগালে আসা এক সহজ গনীমতে পরিণত হয়েছে।১
এরই ফলশ্রুতিতে উহুদ যুদ্ধের দুই মাস পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, খুওয়াইলিদ আল-আসাদীর দুই পুত্র তুলাইহা ও সালামাহ তাদের গোত্র বনু আসাদকে মদীনা আক্রমণ এবং সেখানে মুসলমানদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করার জন্য উস্কানি দিচ্ছে।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎক্ষণাৎ আবু সালামাহ-কে২ একশ পঞ্চাশ জনের একটি সেনাদলের নেতৃত্বে পাঠানোর ত্বরিত ব্যবস্থা নিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২২)
رجلاً ليباغت القوم في ديارهم قبل أن يقوموا بغارتهم1.
فلما انتهى أبو سلمة إلى أرضهم تفرقوا وتركوا نعماً كثيراً لهم من الإبل والغنم فأخذ ذلك كله وأسر منهم ثلاثة مماليك وأقبل راجعاً بهم إلى المدينة2.
وفي شهر صفر3 من السنة الرابعة4 كانت غزوة الرجيع5،
--------------------------------------------
ব্যক্তিদের যাতে তারা গোত্রটিকে তাদের নিজ ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণ করতে পারেন, তারা আক্রমণ করার পূর্বেই।১
অতঃপর আবু সালামাহ যখন তাদের ভূমিতে পৌঁছালেন, তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল এবং তাদের প্রচুর গবাদি পশু—উট ও ভেড়া—রেখে পালিয়ে গেল। তিনি সেগুলোর সব গ্রহণ করলেন এবং তাদের মধ্য থেকে তিনজন ক্রীতদাসকে বন্দি করলেন এবং তাদের নিয়ে মদিনার দিকে ফিরে আসলেন।২
চতুর্থ হিজরি সালের৪ সফর মাসে৩ রাজি’র যুদ্ধ৫ সংঘটিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وذلك أن رهطاً من عضل1 والقارة2 قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله إن فينا إسلاماً فابعث معنا نفراً من أصحابك يفقهوننا فبعث معهم ستة من أصحابه3.
--------------------------------------------
ঘটনাটি হলো, আদল ও আল-কারাহ গোত্রের একদল লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মাঝে ইসলামের প্রচার ঘটেছে, তাই আমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য আপনার সাহাবীদের মধ্য থেকে একটি দল আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন।" তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে ছয়জনকে তাদের সাথে পাঠালেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أما البخاري فقال: "إنهم كانوا عشرة1 معتمداً على حديث صحيح في ذلك"2، وبقوله قال ابن سعد: "إلا أنه لم يذكر سوى سبعة"3، وبقوله قال ياقوت الحموي4.
قال الحافظ: "وكذا سمى موسى بن عقبة السبعة المذكورين لكنه قال معتب بن عوف5، وكان أميرهم كما قال ابن إسحاق6 مرثد بن أبي مرثد الغنوى من قيس عيلان"7.
هذا ما قاله ابن إسحاق وبعكس قوله قال البخاري، وقد أورد الحديث الصحيح الدال صراحة على أن الأمير كان عاصم بن ثابت8.
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে বুখারি বলেছেন: "এ বিষয়ে একটি সহিহ হাদিসের ওপর নির্ভর করে তারা দশজন ছিলেন১", এবং ইবনে সাদ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী বলেছেন: "তবে তিনি সাতজন ব্যতীত অন্যদের নাম উল্লেখ করেননি৩", আর ইয়াকুত আল-হামাউয়িও৪ তাঁর অনুরূপ কথা বলেছেন।
হাফেজ বলেছেন: "তেমনিভাবে মুসা ইবনে উকবা উল্লিখিত সাতজনের নাম বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি মুত্তিব ইবনে আউফ৫-এর কথা বলেছেন। আর ইবনে ইসহাক৬-এর বর্ণনা অনুযায়ী তাদের আমির ছিলেন কায়েস আয়লান গোত্রের মারসাদ ইবনে আবি মারসাদ আল-গানাউয়ি৭।"
এটি ইবনে ইসহাক যা বলেছেন তা-ই, আর বুখারি তাঁর বিপরীত কথা বলেছেন। তিনি এমন একটি সহিহ হাদিস বর্ণনা করেছেন যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আমির ছিলেন আসিম ইবনে সাবিত৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال البخاري1 رحمه الله: "حدثني إبراهيم بن موسى أخبرنا هشام بن يوسف عن معمر عن الزهري2 عن عمرو بن أبي سفيان الثقفي عن أبي هريرة قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية عينا وأمر عليهم عاصم بن ثابت وهو جد عاصم بن عمر بن الخطاب فانطلقوا حتى إذا كانوا بين عسفان ومكة ذكروا لحي من هذيل يقال لهم بنو لحيان فتبعوهم بقريب من مائة رامٍ فاقتصوا أثرهم حتى أتوا منزلاً نزلوه فوجدوا فيه نوى تمر تزودوه من المدينة فقالوا هذا تمر يثرب فتبعوا آثارهم حتى لحقوهم فلما انتهى عاصم وأصحابه لجأوا إلى فدفد3 وجاء القوم فأحاطوا بهم فقالوا لكم العهد والميثاق إن نزلتم إلينا أن لا نقتل منكم رجلاً فقال عاصم: أما أنا فلا أنزل في ذمة كافر، اللهم أخبر عنا رسولك فقاتلوهم حتى قتلوا عاصماً في سبعة نفر بالنبل، وبقي خبيب
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "ইবরাহীম ইবনে মূসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আমর ইবনে আবু সুফিয়ান আস-সাকাফী থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন গোয়েন্দা হিসেবে একটি ছোট সৈন্যদল প্রেরণ করেন এবং আসেম ইবনে সাবিতকে তাঁদের ওপর আমীর নিযুক্ত করেন, যিনি ছিলেন আসেম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবের নানা। তাঁরা রওনা হলেন এবং যখন উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালেন, তখন হুযাইল গোত্রের একটি শাখা—যাদের বনু লিহয়ান বলা হয়—তাদের কাছে বিষয়টি আলোচিত হলো। ফলে প্রায় একশ জন তীরন্দাজ নিয়ে তারা তাঁদের পিছু নিল এবং তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে লাগল। অবশেষে তারা এমন এক স্থানে পৌঁছাল যেখানে তাঁরা যাত্রাবিরতি করেছিলেন। সেখানে তারা মদীনা থেকে পাথেয় হিসেবে আনা খেজুরের আঁটি দেখতে পেল। তারা বলল, 'এটি ইয়াসরিবের খেজুর'। অতঃপর তারা তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাঁদের নাগাল পেয়ে গেল। যখন আসেম ও তাঁর সাথীরা বুঝতে পারলেন, তখন তাঁরা একটি উঁচু ভূমিতে আশ্রয় নিলেন এবং শত্রুরা এসে তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। তারা বলল, 'তোমাদের জন্য অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রইল যে, তোমরা যদি আমাদের কাছে নেমে আসো তবে আমরা তোমাদের একজনকেকেও হত্যা করব না'। তখন আসেম বললেন, 'আমি অন্তত কোনো কাফিরের আশ্রয়ে নিচে নামব না। হে আল্লাহ, আমাদের পক্ষ থেকে আপনার রাসুলকে সংবাদ পৌঁছে দিন'। অতঃপর তারা তাঁদের সাথে যুদ্ধ করল এবং তীরের আঘাতে আসেমসহ সাত ব্যক্তিকে শহীদ করে দিল, আর খুবাইব বাকি রইলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وزيد ورجل آخر، فأعطوهم العهد والميثاق، فلما أعطوهم العهد والميثاق نزلوا إليهم فلما استمكنوا منهم حلوا أوتار1 قسيهم فربطوهم بها. فقال الرجل الثالث2 الذي معهما هذا أول الغدر فأبى أن يصحبهم فجروه وعالجوه على أن يصحبهم فلم يفعل فقتلوه وانطلقوا بخبيب وزيد حتى باعوهما بمكة
… الخ"3.
وهكذا كان مصير هذه السرية الصغيرة سواء كانوا عيناً كما في الحديث أو معلمين كما في قول ابن إسحاق4 وغيره من العلماء5 كان مصيرهم الاستشهاد في سبيل الله ونعم المصير.
أما بالنسبة لعددهم فالصحيح كما قاله البخاري وهم عشرة ستة من المهاجرين وأربعة من الأنصار وكان أميرهم عاصم بن ثابت قال الحافظ: كذا في الصحيح وفي السيرة أن الأمير عليهم مرثد بن أبي مرثد وما في الصحيح أصح6.
--------------------------------------------
...এবং যাইদ ও অন্য একজন ব্যক্তি; অতঃপর তারা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার প্রদান করল। যখন তারা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার প্রদান করল, তখন তারা তাদের নিকট নেমে এল। তারা যখন তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করল, তখন তারা তাদের ধনুকের গুণসমূহ খুলে নিল এবং তা দিয়ে তাদেরকে বেঁধে ফেলল। তখন তাদের সাথে থাকা তৃতীয় ব্যক্তিটি বলল, "এটিই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা।" ফলে সে তাদের সাথে যেতে অস্বীকার করল। তারা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিতে চাইল এবং তাদের সাথে যাওয়ার জন্য জবরদস্তি করল, কিন্তু সে রাজি হলো না। ফলে তারা তাকে হত্যা করল এবং খুবাইব ও যাইদকে নিয়ে রওয়ানা হলো, এমনকি মক্কায় তাদের বিক্রি করে দিল... ইত্যাদি।৩
এভাবেই ছিল এই ক্ষুদ্র সেনাদলের (সারিয়্যা) পরিণতি, তারা হাদীসে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী গোয়েন্দা হিসেবে থাকুন কিংবা ইবনে ইসহাক৪ ও অন্যান্য আলেমদের৫ বর্ণনা অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে থাকুন; তাদের শেষ পরিণতি ছিল আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ, আর এটি কতই না চমৎকার পরিণতি!
তাদের সংখ্যার ব্যাপারে সঠিক তথ্য হলো যা ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন—তারা ছিলেন দশজন; ছয়জন মুহাজির এবং চারজন আনসার। তাদের আমীর ছিলেন আসিম বিন সাবিত। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: সহীহ গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে, তবে সীরাত গ্রন্থে এসেছে যে তাদের আমীর ছিলেন মারসাদ বিন আবি মারসাদ। আর সহীহ গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই অধিক বিশুদ্ধ।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أما بالنسبة لمهمة هذه السرية فقد رأينا الاختلاف في ذلك.
فبعضهم يقول إنهم كانوا معلمين وبعضهم قال إنهم كانوا عيناً ويؤيد كونها عيناً الرواية التي أوردها الحافظ عن أبي الأسود1 عن عروة2 (بعثهم عيوناً إلى مكة ليأتوه بخبر قريش) 3.
قال ابن سعد: "وذكر الواقدي أن سبب خروج بني لحيان عليهم هو قتل سفيان الهذلي، وأن الهذليين اتفقوا مع عضل والقارة أن يأتوا النبي صلى الله عليه وسلم ويطلبوا منه معلمين حتى يثأروا لمقتل زعيمهم سفيان بن خالد الهذلي"4.
--------------------------------------------
এই অভিযানের (সারিইয়্যাহ) উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আমরা মতভেদ দেখতে পাই।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে তাঁরা শিক্ষক ছিলেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন তাঁরা গুপ্তচর ছিলেন। তাঁদের গুপ্তচর হওয়ার বিষয়টিকে হাফেজ (ইবনে হাজার) বর্ণিত আবু আল-আসওয়াদ থেকে উরওয়াহ-এর রেওয়ায়েতটি সমর্থন করে (তিনি তাঁদের কুরাইশদের সংবাদ নিয়ে আসার জন্য গুপ্তচর হিসেবে মক্কায় পাঠিয়েছিলেন)।
ইবনে সাদ বলেন: "ওয়াকিদি উল্লেখ করেছেন যে, বনু লিহইয়ানের তাঁদের বিরুদ্ধে বের হওয়ার কারণ ছিল সুফিয়ান আল-হুযালির হত্যাকাণ্ড। আর হুযালিরা আযাল ও আল-কারাহ গোত্রের সাথে একমত হয়েছিল যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসবে এবং তাঁর কাছে শিক্ষকদের আবেদন করবে, যাতে তারা তাদের নেতা সুফিয়ান ইবনে খালিদ আল-হুযালির হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أما بالنسبة لتاريخ هذه الوقعة فالصحيح مع القائلين أنها كانت سنة أربع1 ذلك لأن أحداً كانت في شوال سنة ثلاث وهذه في صفر سنة أربع.
أما ابن حزم فقد ذكر أنها كانت في صفر في آخر تمام السنة الثالثة من الهجرة2.
قلت: "وهذا غير موافق لما جرت عليه العادة من أن التاريخ أو السنة الجديدة تبدأ بالمحرم أما صفر فيأتي بعده فكيف يكون هو في آخر السنة؟ إلا أن يكون قصده الحساب من مقدم الرسول صلى الله عليه وسلم المدينة حيث قدم في ربيع الأول فيكون صفر في آخر السنة فعلاً كما أشار والله أعلم".
وفي نفس السنة ونفس الشهر كانت الفاجعة الأليمة التي راح ضحيتها سبعون رجلاً من القراء تلك الفاجعة التي وقعت في مكان يسمى بئر معونة3.
--------------------------------------------
এই ঘটনার তারিখের ব্যাপারে সঠিক মত হলো তাদের সাথে যারা বলেন এটি চতুর্থ হিজরি সনে সংঘটিত হয়েছিল। এর কারণ হলো ওহুদ যুদ্ধ হিজরি তৃতীয় সনের শাওয়াল মাসে হয়েছিল এবং এটি হিজরি চতুর্থ সনের সফর মাসে হয়েছে।১
অন্যদিকে ইবনে হাজম উল্লেখ করেছেন যে, এটি হিজরতের তৃতীয় বর্ষের একেবারে শেষে সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিল।২
আমি বলি: "এটি প্রচলিত নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যে, ইতিহাস বা নতুন বছর মহররম মাস দিয়ে শুরু হয়, আর সফর আসে তার পরে; তাহলে এটি কীভাবে বছরের শেষে হতে পারে? যদি না তাঁর উদ্দেশ্য হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় আগমনের সময় থেকে গণনা করা। যেহেতু তিনি রবিউল আউয়াল মাসে আগমন করেছিলেন, তাই সফর মাসটি প্রকৃতপক্ষে বছরের শেষেই হবে, যেমনটি তিনি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।"
একই বছর এবং একই মাসে সেই বেদনাদায়ক ট্র্যাজেডিটি ঘটেছিল যাতে সত্তরজন ক্বারী শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সেই ঘটনাটি বির-এ মাউনা নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الحافظ: "وقد أوضح ذلك ابن إسحاق حيث قال: حدثني أبي1 عن المغيرة2 ابن عبد الرحمن وغيره قال: قدم أبو براء عامر بن مالك المعروف بملاعب الأسنة3 على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرض عليه الإسلام فلم يسلم ولم يبعد وقال: يا محمد لو بعثت رجالاً من أصحابك إلى أهل نجد رجوت أن يستجيبوا لك وأنا جار لهم فبعث المنذر بن عمرو4 في أربعين رجلاً من خيار المسلمين".
--------------------------------------------
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "ইবনে ইসহাক এটি স্পষ্ট করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: আমার পিতা মুগীরা বিন আব্দুর রহমান এবং অন্যদের থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, 'মুলাইবুল আসিন্না' (বর্শা নিয়ে ক্রীড়াকারী) নামে পরিচিত আবু বারা আমির বিন মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তিনি তার নিকট ইসলাম পেশ করলেন, কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন না, আবার সত্য থেকে দূরেও সরে গেলেন না। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি যদি আপনার সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোককে নজদবাসীদের নিকট পাঠাতেন, তবে আমি আশা করি তারা আপনার ডাকে সাড়া দিত; আর আমি তাদের নিরাপত্তার জিম্মাদার। অতঃপর তিনি চল্লিশজন বাছাইকৃত মুসলিমের সাথে মুনজির বিন আমরকে পাঠালেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فعرض لهم حيان1 من بني سليم رعل وذكوان عند بئر يقال لها بئر معونة
… الخ"2.
قال الحافظ: "ويمكن الجمع بأن الأربعين كانوا رؤساء وبقية العدة أتباعاً ووهم من قال كانوا ثلاثين فقط"3.
قال الحافظ4: "وذكر بني لحيان في هذه القصة وهم وإنما كان بنو لحيان في قصة خبيب في غزوة الرجيع التي قبل هذه، وكانت نتيجة هذه السرية أن غدر بهم عامر بن الطفيل وقد أسف الرسول صلى الله عليه وسلم والمسلمون على هذه النخبة من المؤمنين ومكث صلى الله عليه وسلم شهراً يدعو على رعل وذكوان"5
--------------------------------------------
তখন বনু সুলাইমের রিল ও যাকওয়ান নামক দুটি গোত্র১ বীর মাউনা নামক একটি কূপের নিকট তাদের গতিরোধ করে
… ইত্যাদি"২।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "বর্ণনাগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, চল্লিশ জন ছিলেন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং অবশিষ্টরা ছিলেন অনুসারী। আর যারা বলেছেন যে তারা মাত্র ত্রিশ জন ছিলেন, তাদের ধারণাটি ভ্রমাত্মক"৩।
হাফেজ বলেন৪: "এই বর্ণনায় বনু লিহয়ানের উল্লেখ থাকা একটি ভুল। মূলত বনু লিহয়ানের সংশ্লিষ্টতা ছিল এর পূর্ববর্তী রাজী যুদ্ধে খুবাইব (রা.)-এর ঘটনায়। এই অভিযানের ফলাফল ছিল এই যে, আমির বিন তুফাইল তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলিমগণ মুমিনদের এই বাছাইকৃত দলটির শাহাদাতে অত্যন্ত শোকাহত হয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস যাবৎ রিল ও যাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন"৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال وكذلك: "أخرج هذه القصة موسى بن عقبة عن ابن شهاب نحوه لكن لم يسم المذكورين، قال: ووصله الطبري من وجه آخر عن ابن شهاب عن ابن كعب بن مالك عن كعب"1.
قلت: "لكنه وصلها في تاريخه من طريق آخر غير التي ذكرها الحافظ"2.
قال الحافظ: "ووصلها أيضاً ابن عايذ3 من حديث ابن عباس لكن بسند ضعيف4. إلا أن هناك أحاديث صحيحة تدل على أنهم كانوا سبعين".
لذلك قال البخاري رحمه الله: "حدثنا أبو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا عبد العزيز عن أنس رضي الله عنه قال: "بعث النبي صلى الله عليه وسلم سبعين رجلاً لحاجة يقال لهم القراء
--------------------------------------------
তিনি বলেন, একইভাবে: "মুসা ইবনে উকবা ইবনে শিহাব থেকে এই ঘটনাটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সেখানে তিনি উল্লিখিত ব্যক্তিদের নাম দেননি। তিনি বলেন: তাবারী এটি ইবনে শিহাব থেকে অন্য একটি সূত্রে সংযুক্ত করেছেন, যা ইবনে কাব ইবনে মালিকের সূত্রে কাব থেকে বর্ণিত।"১
আমি বলছি: "কিন্তু তিনি তাঁর ইতিহাসে এটি হাফিয উল্লিখিত সূত্র ব্যতীত অন্য একটি সূত্রে সংযুক্ত করেছেন।"২
হাফিয বলেন: "ইবনে আইয৩-ও ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদটি দুর্বল।৪ তবে এমন কিছু সহিহ হাদিস রয়েছে যা প্রমাণ করে যে তারা সত্তর জন ছিলেন।"
এজন্য ইমাম বুখারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "আমাদের নিকট আবু মামার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল ওয়ারিস হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি প্রয়োজনে সত্তর জন লোককে পাঠিয়েছিলেন, যাদেরকে 'কুররা' (কুরআন পাঠকারী) বলা হতো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وهم الغادرون بأصحاب بئر معونة1.
وعلى أثر هذه السرية كانت غزوة بني النضير2.
وفي شهر جمادى الأولى من السنة الرابعة خرج صلى الله عليه وسلم بنفسه في غزوة ذات الرقاع3 يريد بني محارب وبني ثعلبة بن سعد بن غطفان واستعمل على المدينة أبا ذر الغفاري وقيل عثمان بن عفان، وخرج في أربعمائة من أصحابه وقيل سبعمائة فلقي جمعاً من غطفان فتواقفوا4 ولم يكن بينهم قتال إلا أنه صلى بهم يومئذ صلاة الخوف.
هكذا قال ابن إسحاق وجماعة من أهل السير والمغازي في تاريخ هذه الغزوة وصلاة الخوف بها وتلقاه الناس عنهم قال ابن القيم5 وهو مشكل جداً.
--------------------------------------------
আর তাঁরাই ছিলেন বি’রে মাউনার সঙ্গীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারী১।
এই অভিযানের পরপরই বনু নাযীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল২।
চতুর্থ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে ‘জাতুর রিকা’৩ যুদ্ধে বের হন; তাঁর উদ্দেশ্য ছিল গাতফান গোত্রের বনু মুহারিব এবং বনু সা’লাবা বিন সা’দ। তিনি মদিনার দায়িত্ব অর্পণ করেন আবু যার আল-গিফারীর ওপর, কারো মতে উসমান বিন আফফানের ওপর। তিনি তাঁর চারশ সঙ্গীকে নিয়ে বের হন, কারো মতে সাতশ। সেখানে তিনি গাতফানের এক দলের মুখোমুখি হন এবং তাঁরা একে অপরের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন৪; তবে তাঁদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ হয়নি, কেবল তিনি সেদিন তাঁদের নিয়ে ‘সালাতুল খাওফ’ (ভয়কালীন সালাত) আদায় করেছিলেন।
ইবনে ইসহাক এবং সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের একদল আলিম এই যুদ্ধের তারিখ এবং এতে সালাতুল খাওফ আদায়ের বিষয়ে এভাবেই বলেছেন এবং মানুষ তাঁদের থেকেই এটি গ্রহণ করেছে। ইবনুল কায়্যিম৫ বলেন: এটি অত্যন্ত জটিল বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والإشكال يأتي إذا ثبت أن غزوة ذات الرقاع وقعت قبل غزوة الخندق كما هو ترتيب ابن إسحاق وغيره من أصحاب المغازي. فإنه قد صح أن المشركين حبسوا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الخندق عن صلاة العصر حتى غابت الشمس.
وفي السنن ومسند أحمد والشافعي - رحمهما الله - أنهم حبسوه عن صلاة الظهر والعصر والمغرب والعشاء فصلاهن جميعاً وذلك قبل نزول صلاة الخوف والخندق بعد ذات الرقاع سنة خمس1.
ومما ينبغي ذكره في هذه العجالة أن أبا سفيان قال عند انصرافه من أحد: موعدكم معنا العام القابل2 ببدر فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "قولوا نعم قد فعلنا قال أبو سفيان: فذلكم الموعد ثم انصرف، فلما كان شعبان وقيل ذو القعدة من العام القابل. وهي السنة الرابعة لأن أُحداً كانت في شوال سنة ثلاث وعليه جمهور أهل العلم، وغزوة بدر الموعد كانت في الرابعة على هذا الأساس خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم لموعده في ألف وخمسمائة وكانت الخيل عشرة أفراس وحمل لواءه علي بن أبي طالب، واستخلف على المدينة ابن
--------------------------------------------
জটিলতা তখনই দেখা দেয় যদি এটি প্রমাণিত হয় যে যাতুর রিকা যুদ্ধ খন্দকের যুদ্ধের আগে সংঘটিত হয়েছিল, যেমনটি ইবনে ইসহাক এবং অন্যান্য মাগাযি (যুদ্ধাভিযান) লেখকদের বিন্যাসে পাওয়া যায়। কেননা এটি সহিহ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, খন্দকের দিন মুশরিকরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসরের সালাত থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত আটকে রেখেছিল।
সুনান গ্রন্থসমূহ এবং মুসনাদে আহমাদ ও শাফিঈতে — আল্লাহ তাঁদের উভয়ের উপর রহমত বর্ষণ করুন — বর্ণিত হয়েছে যে, তারা তাঁকে যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা সালাত থেকে আটকে রেখেছিল, ফলে তিনি সেগুলো একত্রে আদায় করেছিলেন। আর এটি সালাতুল খাওফ (ভয়ের সালাত) অবতীর্ণ হওয়ার আগের ঘটনা, আর যাতুর রিকার পর পঞ্চম হিজরিতে খন্দক সংঘটিত হয়েছিল ১।
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, আবু সুফিয়ান উহুদ থেকে ফেরার সময় বলেছিল: আগামী বছর বদর প্রান্তরে তোমাদের সাথে আমাদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত রইল ২। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা বলো, হ্যাঁ, আমরা তা কবুল করলাম"। আবু সুফিয়ান বলল: তবে এটাই ওয়াদা রইল। তারপর সে চলে গেল। অতঃপর যখন পরবর্তী বছরের শাবান মাস, মতান্তরে জিলকদ মাস এলো। আর এটি ছিল চতুর্থ হিজরি। কারণ জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মতে উহুদ যুদ্ধ হয়েছিল তিন হিজরির শাওয়াল মাসে। এই ভিত্তিতে বদরুল মাও’ইদ (প্রতিশ্রুত বদর) যুদ্ধ হয়েছিল চতুর্থ হিজরিতে। এই সমীকরণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিশ্রুতি পালনের উদ্দেশ্যে পনেরো শত সৈন্য নিয়ে বের হলেন, যার মধ্যে অশ্বারোহী বাহিনী ছিল দশটি ঘোড়ার। তাঁর ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব এবং তিনি মদিনায় স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
رواحة1، فانتهى إلى بدر فأقام بها ثمانية أيام ينتظر المشركين.
وخرج أبو سفيان بالمشركين من مكة وهم ألفان ومعهم خمسون فرساً فلما انتهوا إلى مر الظهران2 قال لهم أبو سفيان: أن العام عام جدب وقد رأيت أني راجع بكم فانصرفوا راجعين وأخلفوا الموعد3، وكان تأخر المشركين عن الموعد مما أعاد القوة والهيبة للمسلمين وقد محت غزوة بدر الآخرة كل أثر سيء لمعركة أحد داخل المدينة وخارجها على حد سواء"4.
قال ابن إسحاق: "ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة فأقام من مقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم بها أشهراً حتى مضى ذو الحجة وولي تلك الحجة المشركون وهي سنة أربع ثم غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم دومة الجندل"5.
--------------------------------------------
রওয়াহা ১, এরপর তিনি বদর অভিমুখে রওয়ানা হলেন এবং মুশরিকদের অপেক্ষায় সেখানে আট দিন অবস্থান করলেন।
আবু সুফিয়ান দুই হাজার মুশরিক এবং পঞ্চাশটি ঘোড়া নিয়ে মক্কা থেকে বের হলেন। যখন তারা মাররুজ জাহরান ২ পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন আবু সুফিয়ান তাদের বললেন: "এই বছরটি দুর্ভিক্ষের বছর। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তোমাদের নিয়ে ফিরে যাব। অতএব তোমরা ফিরে যাও।" ফলে তারা ফিরে গেলেন এবং ওয়াদা ভঙ্গ করলেন ৩। মুশরিকদের ওয়াদা রক্ষা না করা এবং পিছিয়ে যাওয়া মুসলমানদের শক্তি ও মর্যাদা পুনপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যম হয়েছিল। আর এই 'বদর আল-আখিরা' যুদ্ধ মদীনার ভেতরে ও বাইরে ওহুদ যুদ্ধের সমস্ত নেতিবাচক প্রভাব সমভাবে মুছে দিয়েছিল ৪।
ইবনে ইসহাক বলেন: "এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় ফিরে গেলেন এবং তাঁর মদীনায় প্রত্যাবর্তনের পর সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করলেন, এমনকি জিলহজ মাস অতিবাহিত হলো। মুশরিকরা সেই হজের তত্ত্বাবধান করেছিল এবং সেটি ছিল হিজরি চতুর্থ সন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দূমাতুল জান্দাল অভিযান পরিচালনা করেন" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল খানদাক
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال ابن هشام: "في شهر ربيع الأول من سنة خمس واستعمل على المدينة سباع بن عرفطة"1.
قال ابن القيم: "وذلك أنه بلغه أن بها جمعاً كثيراً يريدون أن يدنوا من المدينة فخرج في ألف من المسلمين ومعه دليل من بني عذره.. يقال له مذكور2 فلما دنا منهم إذا هم مغربون3 فهجم على ماشيتهم ورعاتهم فأصاب من أصاب وهرب من هرب وجاء الخبر أهل دومة فتفرقوا ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم بساحتهم فلم يجد فيها أحداً فأقام بها أياماً وبث السرايا وفرق الجيش
--------------------------------------------
ইবনে হিশাম বলেন: "পঞ্চম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে বের হন] এবং মদিনার দায়িত্ব সিবাহ ইবনে আরফাতাহর ওপর ন্যস্ত করেন।"১
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "এর কারণ ছিল এই যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে সেখানে (দুমাতুল জান্দালে) এক বিশাল জনসমাবেশ ঘটেছে যারা মদিনার নিকটবর্তী হতে চায়। ফলে তিনি এক হাজার মুসলিম সৈন্য নিয়ে বের হলেন এবং তাঁর সাথে বনু উদরাহ গোত্রের একজন পথপ্রদর্শক ছিল যাকে 'মাজকুর' বলা হতো।২ যখন তিনি তাদের নিকটবর্তী হলেন, দেখা গেল তারা পলায়নপর।৩ তিনি তাদের গবাদিপশু ও রাখালদের ওপর আক্রমণ করলেন; ফলে যারা পাকড়াও হওয়ার তারা হলো এবং যারা পালিয়ে যাওয়ার তারা পালিয়ে গেল। দুমাতুল জান্দালবাসীদের কাছে এই খবর পৌঁছালে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চত্বরে অবতরণ করলেন কিন্তু সেখানে কাউকে পেলেন না। তিনি সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করলেন এবং ছোট ছোট সেনাদল প্রেরণ করলেন ও সেনাবাহিনী ছড়িয়ে দিলেন।"
--------------------------------------------