(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مرويات غزوة الحديبية جمع وتخريج ودراسة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مرويات غزوة الحديبية جمع وتخريج ودراسة
المؤلف: حافظ بن محمد عبد الله الحكمي
الناشر: مطابع الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: 1406هـ
عدد الصفحات: 356
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হুদায়বিয়ার যুদ্ধের বর্ণনাসমূহ: সংগ্রহ, তাখরিজ ও অধ্যয়ন বিভাগ: সীরাতুন নবী
বই: হুদায়বিয়ার যুদ্ধের বর্ণনাসমূহ: সংগ্রহ, তাখরিজ ও অধ্যয়ন
লেখক: হাফিজ বিন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-হাকামী
প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি প্রেস, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব
সংস্করণ: ১৪০৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৬
[বইয়ের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مرويات غزوة الحديبية
تأليف: الدكتور حافظ بن محمد بن عبد الله الحكمي
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه أجمعين والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين
…أما بعد: فإن الله قد ختم الرسالات برسالة محمد صلى الله عليه وسلم وجعل دينه ناسخاً للأديان لا يقبل الله من أحد غيره قال تعالى: {وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 1.
وقد بعث الله محمداً صلى الله عليه وسلم مبلغاً ومبيناً لهذا الدين قال تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} 2.
فقام صلوات الله وسلامه عليه بتلك المهمة خير قيام، حيث أوضح كل صغيرة وكبيرة في هذا الدين بقوله وفعله وتقريره - على مرأى من الناس ومسمع - ابتداء من طور السرية بمكة إلى قيام دولة الإسلام بالمدينة، وكان يسير أثناء ذلك في كل خطوة يخطوها على المستوى البشري، فقد اتخذ كافة الأسباب والوسائل التي هي من مقتضيات الطريق وما ذلك إلا ليتسنى لأمته التأسي به، وترسم خطاه لأنها قد كلفت بمهمته من بعده لا خيار لها، قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللهِ وَمَا أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 3.
وكما أنه لا خيار لأتباع محمد صلى الله عليه وسلم في القيام بهمته من الدعوة إلى هذا الدين وحراسته، فإنه لا ضمان لنجاحهم في تلك المهمة إلا بسلوك الطريق الذي سلكه صلى الله عليه وسلم، والدليل لطريقه صلى الله عليه وسلم هو سيرته فلا بد من الوقوف عليها وترسم خطاه فيها.
--------------------------------------------
হুদাইবিয়ার যুদ্ধের বর্ণনাসমূহ
রচনা: ডক্টর হাফিজ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাকামি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর
...অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের মাধ্যমে সকল রিসালাত সমাপ্ত করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে অন্যান্য সকল দ্বীনের রহিতকারী করেছেন। আল্লাহ কারো কাছ থেকে এই দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ১।
আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দ্বীনের প্রচারকারী ও বর্ণনাকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} ২।
তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক; তিনি সেই দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন। তিনি মানুষের দেখা ও শোনার মধ্য দিয়ে তাঁর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির মাধ্যমে এই দ্বীনের ছোট-বড় প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন—মক্কায় গোপন দাওয়াতের স্তর থেকে শুরু করে মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত। এই সময়ে তিনি যে কদমই ফেলেছেন, তাতে একজন মানুষ হিসেবে যাবতীয় উপায়-উপকরণ ও মাধ্যম গ্রহণ করেছেন যা সেই পথের অনিবার্য দাবি ছিল। আর এটা করা হয়েছে কেবল এ জন্যই যাতে তাঁর উম্মত তাঁকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে এবং তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করতে পারে। কারণ তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর এই দায়িত্ব পালনের ভার উম্মতের ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের অন্য কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত জ্ঞান তথা দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} ৩।
আর যেভাবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসারীদের জন্য এই দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া এবং একে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, তেমনিভাবে এই দায়িত্বে সফল হওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা নেই একমাত্র সেই পথ অবলম্বন করা ছাড়া যে পথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলেছেন। আর তাঁর সেই পথের নির্দেশিকা হলো তাঁর সীরাত (জীবনচরিত); সুতরাং সীরাত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সেখানে তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করা অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأهم جوانب سيرته صلى الله عليه وسلم هي مغازيه؛ لأنها استغرقت قسطاً كبيراً من حياته في مجال الدعوة وهي التطبيق العملي لأحكام الجهاد - الذي يشكل السياج المنيع لحماية هذا الدين كما أنه من أهم وسائل الدعوة إليه، ولذلك أخبر صلى الله عليه وسلم أنه ذروة سنام الإسلام - 1 كما حفلت المغازي بكثير من أساليب الدعوة والأحكام.
وقد أدرك السلف رضوان الله عليهم أهمية مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم فأولوها جانباً عظيماً من عنايتهم، يدل لذلك ما روى الخطيب عن محمد بن عبد الله قال: سمعت عمي الزهري يقول: في علم المغازي علم الآخرة والدنيا2.
وما روي عن إسماعيل بن محمد بن سعد (بن أبي وقاص) أنه قال: "كان أبي يعلمنا مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم وسراياه ويعدها علينا ويقول: هذه مآثر آبائكم فلا تضيعوا ذكرها"3.
وما روي عن علي بن الحسين أنه كان يقول: "كنا نعلَّم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم كما نعلم السورة من القرآن"4.
وتتمثل عنايتهم بها أيضاً في تدوينهم لها في زمن مبكر، فقد قام بذلك جماعة من التابعين، منهم عروة بن الزبير المتوفى سنة (94هـ) ، وأبان بن عثمان بن عفان المتوفى ما بين (101 - 105هـ) ، ومحمد بن مسلم بن شهاب الزهري المتوفى (124هـ) ، وشرحبيل بن سعد المتوفى (124هـ) ، وعبد الله بن أبي بكر بن حزم (135هـ) ، وموسى بن عقبة (141هـ) ، وغيرهم إلا أن كتب هؤلاء في حكم المفقود اليوم سوى نقولات عنها.
ثم تلت هؤلاء طبقة أخرى دونت المغازي بنطاق أوسع أمثال: محمد بن إسحاق (151هـ) ، ومحمد بن عمر الواقدي (207هـ) ، ومحمد بن سعد (230هـ) ، وابن جرير الطبري (310هـ) ، وغيرهم5.
ثم تتابع التأليف في ذلك إلا أن المتأخرين درجوا على الاختصار بحذف الأسانيد.
--------------------------------------------
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর মাগাজি (যুদ্ধাভিযান); কারণ এগুলো দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর জীবনের এক বিশাল অংশজুড়ে ছিল এবং এগুলো হলো জিহাদের বিধানাবলির ব্যবহারিক প্রয়োগ—যা এই দ্বীন রক্ষার জন্য একটি সুদৃঢ় বেষ্টনী স্বরূপ, যেমনটি এটি দাওয়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এজন্যই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি হলো ইসলামের সর্বোচ্চ শিখর—১। মাগাজি দাওয়াতের বহু পদ্ধতি ও বিধানাবলিতেও ভরপুর।
সালাফগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাগাজির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, তাই তাঁরা এর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। খতিব বাগদাদি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা যুহরিকে বলতে শুনেছি: মাগাজির ইলমের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের ইলম নিহিত—২।
ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাদ (ইবনে আবি ওয়াক্কাস) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আমার পিতা আমাদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাগাজি ও সারিয়াগুলো (অভিযান) শিক্ষা দিতেন এবং সেগুলো আমাদের কাছে গণনা করতেন আর বলতেন: এগুলো তোমাদের পিতৃপুরুষদের গৌরবগাঁথা, সুতরাং তোমরা এগুলোর আলোচনা হারিয়ে ফেলো না"—৩।
আলি ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাগাজিগুলো ঠিক সেভাবেই শিখতাম যেভাবে আমরা কুরআনের সূরা শিখতাম"—৪।
তাঁদের এই আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ প্রাথমিক যুগে এগুলো লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমেও ফুটে ওঠে। একদল তাবেয়ি এই কাজ সম্পন্ন করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উরওয়াহ ইবনুত জুবায়ের (মৃত্যু ৯৪ হি.), আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান (মৃত্যু ১০১-১০৫ হি.), মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরি (মৃত্যু ১২৪ হি.), শুরাহবিল ইবনে সাদ (মৃত্যু ১২৪ হি.), আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে হাযম (১৩৫ হি.), মুসা ইবনে উকবা (১৪১ হি.) এবং আরও অনেকে। তবে বর্তমান যুগে এগুলোর উদ্ধৃতি ব্যতীত মূল বইগুলো নিখোঁজ বা বিলুপ্তপ্রায়।
এরপর তাঁদের উত্তরসূরি অন্য এক প্রজন্ম মাগাজিগুলোকে আরও বিস্তৃত পরিসরে লিপিবদ্ধ করেন, যেমন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (১৫১ হি.), মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি (২০৭ হি.), মুহাম্মাদ ইবনে সাদ (২৩০ হি.), ইবনে জারির আত-তাবারী (৩১০ হি.) এবং অন্যান্যরা—৫।
এরপর এ বিষয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রন্থ রচনা চলতে থাকে, তবে পরবর্তী লেখকরা বর্ণনাসূত্র বর্জন করে সংক্ষিপ্ত করার পথ অবলম্বন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبما أن سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومغازيه على وجه الخصوص بتلك المثابة من الأهمية - بحيث لا تستقيم متابعته في طريق الدعوة إلا من خلالها - فلا بد من معرفتها، وترسم خطاها فيها لكن هناك خطوة أولى لا يأمن العثار إلا بسلوكها، وهي تمييز ما صح من سيرته صلى الله عليه وسلم عن غيره، لأن كتب المغازي المتداولة بأيدينا لم يلتزم أصحابها الصحة فيها، بل يوردون المقبول وغيره، وعذر المتقدمين أنهم يكتفون بذكر السند، إلا أنهم لا يفعلون ذلك دائماً، أما المتأخرون فإنهم لا يذكرون سنداً للروايات فضلاً عن تمييز صحيحها من غيره.
نعم قام بعض المحدثين أخيراً بتخريج المرويات في بعض كتب السيرة، وبيان درجتها إلا أن تلك الكتب لم تستوعب مرويات المغازي.
وكذلك وردت كثير من مرويات المغازي في بطون كتب السنة، وقد تفردت ببعضها عن كتب المغازي، لكن أغلبها لم يشترط أصحابها الاقتصار فيها على الصحيح، وما اشترط فيه ذلك لم يرد فيه إلا القليل من مرويات المغازي بالنسبة لما فاته، إلا أن كتب السنة تمتاز بالتزام السند.
وهذا كله يحتم العمل على جمع مرويات المغازي من كتب السنة بالدرجة الأولى، لأنها المصدر الثاني من مصادر السيرة النبوية1 بعد القرآن الكريم، ثم من كتب المغازي وغيرها من مصادر السيرة2، ثم القياد بعد ذلك بدراسة أسانيدها دراسة فاحصة لبيان ما يصح العمل به من غيره لتبرز سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك صافية نقية لمرتاديها.
وهذا ما حملني على اختيار مرويات غزوة الحديبية موضوعاً لبحثي في مرحلة الماجستير.
وقد يسبق هذا السبب في اختياري للموضوع سبب آخر وهو شدة ولوعي بسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم لما تفردت به من صفات عظيمة كالواقعية، والجدية، والوضوح، فهي بعيدة كل البعد عن الخيالات، والهزل، والغموض والطلاسم.
--------------------------------------------
যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত এবং বিশেষত তাঁর মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমনভাবে যে দাওয়াতের পথে তাঁকে অনুসরণ করা এটি ব্যতীত সম্ভব নয়—তাই তা জানা এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করা অপরিহার্য। তবে এখানে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ রয়েছে যা অনুসরণ করা ব্যতীত পদস্খলন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়; আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করা। কারণ আমাদের হাতে প্রচলিত মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ সেগুলোতে বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করেননি, বরং তারা গ্রহণযোগ্য এবং অগ্রহণযোগ্য উভয় প্রকার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। পূর্বসূরিদের ওজর ছিল এই যে, তারা কেবল সনদ বা সূত্র উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হতেন, যদিও তারা সর্বদা তা করতেন না। আর পরবর্তীগণ তো বর্ণনার জন্য কোনো সনদই উল্লেখ করেন না, বিশুদ্ধতা নিরূপণ করা তো দূরের কথা।
হ্যাঁ, ইদানীং কিছু মুহাদ্দিস সীরাতের কিছু গ্রন্থে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহের তাখরীজ করেছেন এবং সেগুলোর মান বর্ণনা করেছেন, তবে সেই গ্রন্থগুলো মাগাযী সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করেনি।
অনুরূপভাবে, সুন্নাহর মূল গ্রন্থসমূহে মাগাযী সংক্রান্ত অনেক বর্ণনা এসেছে, যেগুলোর কিছু কিছু বর্ণনা মাগাযীর কিতাবসমূহে নেই বরং কেবল সুন্নাহর কিতাবগুলোতেই স্বতন্ত্রভাবে এসেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলোর সংকলকগণ কেবল বিশুদ্ধ বর্ণনার শর্তারোপ করেননি। আর যেখানে এই শর্তারোপ করা হয়েছে, সেখানে যা বাদ পড়েছে তার তুলনায় মাগাযী সংক্রান্ত বর্ণনার পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ সনদ রক্ষা করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
এসব কিছু এই প্রয়োজনীয়তাকে আবশ্যক করে তোলে যে, প্রথমত সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে মাগাযীর বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করা হোক, কারণ কুরআন কারীমের পর এটিই সীরাতুন্নবীর দ্বিতীয় উৎস১। এরপর মাগাযীর গ্রন্থসমূহ এবং সীরাতের অন্যান্য উৎস২ থেকে সংগ্রহ করা, তারপর সেগুলোর সনদসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা যাতে আমলযোগ্য বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলো অন্যদের থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সত্যান্বেষীদের সামনে স্বচ্ছ ও নির্মলভাবে ফুটে ওঠে।
আর এটিই আমাকে আমার মাস্টার্স পর্যায়ের গবেষণার বিষয় হিসেবে হুদায়বিয়ার যুদ্ধের বর্ণনাসমূহকে বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে পূর্বোক্ত কারণের আগে হয়তো আরেকটি কারণ রয়েছে, তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের প্রতি আমার প্রগাঢ় ভালোবাসা; কারণ এতে এমন কিছু মহান বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অনন্য, যেমন বাস্তবতা, গুরুত্ব এবং স্পষ্টতা। এটি কল্পনাপ্রসূত কাহিনী, উপহাস, অস্পষ্টতা এবং রহস্যময়তা থেকে বহু দূরে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد سبقني في هذا المضمار بعض زملائي في قسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية، فلهم فضل السبق، وقد أفدت كثيراً من تجاربهم، وما قمنا به من جهد متواضع في هذا المجال أحسب أنه سيسد ثغرة لا بأس بها إن شاء الله، وإن كان ينقصه شيء من الاستيعاب لمضيق الوقت من جهة، ولاشتراط البعض كتباً محدودة من جهة أخرى، علماً بأني قد جانبت هذا الشرط، وبذلت قصارى جهدي لاستيعاب مرويات الغزوة، ولا أدعي حصول ذلك، لكن أسأل الله أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه، وأن يمد الجميع بالعون لاستكماله حتى تبرز مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم نقية من كل شائبة، وما بذل من جهد في هذا الصدد إنما هو من ثمرات جهود الجامعة الإسلامية التي بذلتها وتبذلها دائماً - في خدمة الإسلام والسنة على وجه الخصوص.
ولا يفوتني أن أنوه بفضل الدكتور أكرم العمري لأن له اليد الطولى في سبب اختياري لهذا الموضوع، فجزاه الله خيراً
…
এই অঙ্গনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের আমার কতিপয় সহকর্মী আমার পূর্বেই কাজ করেছেন, তাই অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদা তাঁদেরই। আমি তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। এই ক্ষেত্রে আমরা যে বিনীত প্রচেষ্টা চালিয়েছি, আমার বিশ্বাস ইনশাআল্লাহ তা একটি উল্লেখযোগ্য শূন্যতা পূরণ করবে; যদিও একদিকে সময়ের স্বল্পতা এবং অন্যদিকে কারও কারও পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু কিতাবের শর্তারোপের কারণে এতে পূর্ণাঙ্গতার কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। উল্লেখ্য যে, আমি এই শর্ত এড়িয়ে চলেছি এবং এই যুদ্ধের বর্ণনাগুলো বিস্তারিতভাবে আয়ত্তে আনার জন্য আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমি তা পূর্ণরূপে অর্জনের দাবি করছি না, তবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এটি সম্পন্ন করার জন্য সকলকে তাওফিক দান করেন, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাগাযী (যুদ্ধাভিযানসমূহ) সকল প্রকার আবিলতামুক্ত হয়ে বিশুদ্ধরূপে ফুটে ওঠে। এই বিষয়ে যে শ্রম ব্যয় করা হয়েছে, তা মূলত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই প্রচেষ্টারই ফসল, যা তারা ইসলামের এবং বিশেষ করে সুন্নাহর সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেখেছে এবং রাখছে।
ডক্টর আকরাম আল-উমারীর অবদানের কথা উল্লেখ করাও আমার কর্তব্য, কারণ এই বিষয়টি নির্বাচনের মূলে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন
...
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
منهجي في البحث
(1) قمت بجمع المرويات من مختلف مصادر السيرة لم أتقيد في ذلك بكتب معينة، فقد رجعت لكثير من كتب السنة من مجاميع ومسانيد وغيرها، كما رجعت لكثير من كتب المغازي والتاريخ والشمائل والدلائل، وكتب معرفة الصحابة ما بين مخطوط ومطبوع محاولاً بذلك استيعاب مرويات الغزوة.
(2) بعد أن جمعت المرويات قسمت البحث إلى أربعة أبواب، ثم حصرت المرويات في الثلاثة الأبواب الأولى، وجعلت الباب الأخير لفقه أهم جوانب المرويات.
والقصد من ذلك هو الحفاظ على تسلسل أحداث الغزوة وترابطها، وتندرج تحت تلك الأبواب فصول ومباحث، وهي مفصلة في صلب الرسالة، وقد سردتها في فهرس الموضوعات.
(3) أورد تحت المبحث الروايات المتعلقة به، وأجعل لكل رواية رقماً ثم أقوم بتخريجها، وإذا ورد الحديث بأكثر من طريق أخرج كل طريق على حدة، محاولاً بذلك استيعاب جميع طرق الحديث وألفاظه دون تكرار.
(4) إذا أعدت الحديث في مبحث آخر لحاجة لا أضع له رقماً آخر، بل أشير إلى الرقم الذي تقدم به، وكذلك لا أعيد تخريجه إلا إذا اقتضت الحاجة ذكر شيء منه.
(5) أعرف برجال السند إذا لم يكن الحديث في الصحيحين أو في أحدهما، وأقتصر في التعريف بهم على التقريب إن كانوا من رجاله، لكن أصرح بسنة وفاة الشخص، ولا أذكر الطبقة التي وضعها ابن حجر، إلا عند تعذر معرفة سنة الوفاة، وإذا أضفت شيئاً كسنة وفاة أو نحوها أشير إلى المصدر.
(6) إذا كان الرواي من رجال التقريب، لكنه متكلم فيه، ويتوقف الحكم على السند على معرفة حاله، فإني أذكر أقوال العلماء فيه عند الكلام على درجة الحديث، وأبين ما ترجح لي فيه، إلا إذا كان في السند أكثر من اثنين بهذه الصفة فأنقل كلام العلماء فيهم عند التعريف بهم خشية الإطالة.
আমার গবেষণার পদ্ধতি
(১) আমি সীরাতের বিভিন্ন উৎস থেকে বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করেছি এবং এক্ষেত্রে আমি নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিনি। বরং আমি সুন্নাহর অনেক গ্রন্থ যেমন মাজমু‘আত (সংকলন), মুসনাদ এবং অন্যান্য গ্রন্থের শরণাপন্ন হয়েছি। পাশাপাশি আমি মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ), ইতিহাস, শামায়েল (বৈশিষ্ট্য), দালায়েল (প্রমাণাদি) এবং সাহাবীদের পরিচিতি বিষয়ক পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত বহু গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি, যাতে যুদ্ধের বর্ণনাগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা যায়।
(২) বর্ণনাগুলো সংগ্রহের পর আমি গবেষণাপত্রটিকে চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। এরপর প্রথম তিনটি অধ্যায়ে বর্ণনাগুলো সীমাবদ্ধ রেখেছি এবং শেষ অধ্যায়টি বর্ণনাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর ফিকহ বা সারমর্ম আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি।
এর উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা ও পারস্পরিক যোগসূত্র রক্ষা করা। এই অধ্যায়গুলোর অধীনে বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা মূল গবেষণাপত্রে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে এবং আমি তা বিষয়সূচিতে তালিকাভুক্ত করেছি।
(৩) আমি প্রতিটি অনুচ্ছেদের অধীনে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি বর্ণনার জন্য একটি ক্রমিক নম্বর দিয়েছি। এরপর আমি সেগুলোর তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি। যদি কোনো হাদীস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়, তবে আমি প্রতিটি সূত্র আলাদাভাবে উল্লেখ করেছি এবং এভাবে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই হাদীসের সকল সূত্র ও শব্দাবলী অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি।
(৪) যদি প্রয়োজনের খাতিরে অন্য কোনো অনুচ্ছেদে কোনো হাদীস পুনরাবৃত্তি করি, তবে আমি সেটিকে নতুন কোনো নম্বর দিই না; বরং আগের নম্বরটির প্রতি ইঙ্গিত করি। একইভাবে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আমি সেটির তাখরীজও পুনরায় করি না।
(৫) যদি হাদীসটি সহীহাইন বা এই দুটির কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি সনদের বর্ণনাকারীদের পরিচয় প্রদান করি। যদি তারা 'তাকরীব' গ্রন্থের বর্ণনাকারী হন, তবে তাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমি ওই গ্রন্থের তথ্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি। তবে আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর বছর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি এবং ইবনে হাজার কর্তৃক নির্ধারিত 'স্তর' (তাবাকাত) উল্লেখ করি না, যদি না মৃত্যুর বছর জানা অসম্ভব হয়। আর যদি আমি মৃত্যুর বছর বা অন্য কোনো তথ্য যোগ করি, তবে তার উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করি।
(৬) যদি কোনো বর্ণনাকারী 'তাকরীব' এর অন্তর্ভুক্ত হন কিন্তু তাকে নিয়ে সমালোচনা থাকে, এবং সনদের মান নির্ধারণ তার অবস্থা জানার ওপর নির্ভর করে, তবে আমি হাদীসের মান আলোচনার সময় তাকে নিয়ে আলেমদের মন্তব্য উল্লেখ করি এবং আমার নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয় তা স্পষ্ট করি। তবে সনদে যদি এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুইজনের বেশি বর্ণনাকারী থাকেন, তবে দীর্ঘসূত্রতার ভয়ে আমি তাদের পরিচয় প্রদানের সময়ই আলেমদের মন্তব্য উদ্ধৃত করি।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(7) إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب أعرف به من كتب الرجال الأخرى باختصار.
(8) إذا لم يكن الحديث في الصحيحين أو أحدهما أقوم بدراسة سنده وفق القواعد التي رسمها المحدثون، ثم أذكر ما ترجح في بيان درجته، صحة أو غيرها، وإن وجدت في ذلك كلاماً لأحد نقلته، فإن وافق ما توصلت إليه فبها، وإلا بينت وجه مخالفتي له.
(9) إذا اقتضت الحاجة إيراد حديث من غير مرويات الغزوة، فلا أضع له رقماً، ولا أخرجه، ولا أعرف برجاله، بل أكتفي بنقل أقوال العلماء في بيان درجته، إلا إذا تعذر ذلك فأقوم بدراسة سنده وأبين ما ظهر لي فيه.
(10) إذا وقع خلاف في شيء من الأحداث الواردة في الغزوة، فإني أنقل أقوال العلماء في ذلك وأناقشها ثم أرجح ما يقتضيه الدليل.
(11) ذكرت في الباب الرابع بعض الأحكام والدروس والعبر دون توسع، وقد أغفلت ذكر كثير من الأحكام الواردة في المرويات لضيق الوقت، ولأنها مبسوطة في مظانها من كتب الفقه، وأما ما ذكرته منها فقد جعلت توطئة للباب بينت فيها وجه أهميته.
(৭) যদি বর্ণনাকারী 'তাকরিব' (তাকরিবুত তাহজিব)-এর অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে অন্যান্য রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় প্রদান করেছি।
(৮) যদি হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এর কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি মুহাদ্দিসগণের প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী এর সনদের ওপর গবেষণা করি; অতঃপর এর মান—সহিহ হওয়া বা অন্য কিছু—নির্ণয়ে যা অগ্রগণ্য হয় তা উল্লেখ করি। এক্ষেত্রে যদি কারও কোনো বক্তব্য পাই তবে তা উদ্ধৃত করি; যদি তা আমার সিদ্ধান্তের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তবে তা গ্রহণ করি, অন্যথায় তার সাথে আমার দ্বিমতের কারণ স্পষ্ট করি।
(৯) যদি যুদ্ধের বর্ণনার বাইরে অন্য কোনো হাদিস উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়, তবে আমি সেটির জন্য কোনো ক্রমিক নম্বর প্রদান করি না, সেটির তাখরিজ করি না এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয়ও প্রদান করি না; বরং হাদিসের মান বর্ণনায় কেবল আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকি। তবে তা যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে আমি এর সনদের ওপর গবেষণা করি এবং আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা বর্ণনা করি।
(১০) যুদ্ধে বর্ণিত কোনো ঘটনার বিষয়ে যদি মতপার্থক্য দেখা দেয়, তবে আমি সে বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করি এবং তা পর্যালোচনা করি, অতঃপর দলিলের আলোকে যা অগ্রগণ্য হয় তা প্রাধান্য দেই।
(১১) চতুর্থ অধ্যায়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই কিছু বিধান, শিক্ষা ও উপদেশ উল্লেখ করেছি। সময়ের স্বল্পতার কারণে এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ থাকায় বর্ণিত হাদিসগুলোর অনেক বিধান উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি। আর আমি যা উল্লেখ করেছি, সেগুলোর জন্য অধ্যায়ের শুরুতে একটি উপক্রমণিকা দিয়েছি, যাতে আমি সেগুলোর গুরুত্বের দিকটি স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
رموز رجال السند المترجم لهم من التقريب
وضع ابن حجر لرجال التقريب رموزاً تشير إلى من روى عنهم من أصحاب الكتب الستة وإلى الكتاب الذي روى لهم فيه.
وقد استعملت تلك الرموز ونصها من التقريب.
خ: للبخاري في صحيحه.
خت: للبخاري إن كان حديثه عنه معلقاً.
بخ: للبخاري في الأدب المفرد.
عخ: للبخاري في خلق أفعال العباد.
ز: للبخاري في جزء القراء.
ى: للبخاري في رفع اليدين.
م: لمسلم.
مق: في مقدمة صحيحة.
د: لأبي داود.
مد: لأبي داود في المراسيل.
صد: لأبي داود في فضائل الأنصار.
خد: لأبي داود في الناسخ والمنسوخ.
قد: لأبي داود في القدر.
ف: لأبي داود في التفرد.
ل: لأبي داود في المسائل.
كد: لأبي داود في مسند مالك.
ت: للترمذي.
تم: للترمذي في الشمائل.
س: للنسائي.
তাকরিব থেকে অনূদিত সনদ বর্ণনাকারীদের জন্য ব্যবহৃত সংকেতসমূহ
ইবনে হাজার তাকরিবের বর্ণনাকারীদের জন্য এমন কিছু সংকেত নির্ধারণ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের মধ্যে কে তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং কোন কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
উক্ত সংকেতগুলোই এখানে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর মূল পাঠ তাকরিব থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ: বুখারির জন্য তাঁর সহিহ গ্রন্থে।
খত: বুখারির জন্য, যদি তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসটি মুআল্লাক হয়।
বাখ: বুখারির জন্য 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে।
আখ: বুখারির জন্য 'খালাকু আফআলিল ইবাদ' গ্রন্থে।
যা: বুখারির জন্য 'জুযউল কিরাআত' গ্রন্থে।
ইয়া: বুখারির জন্য 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থে।
মীম: মুসলিমের জন্য।
মাক: তাঁর সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (ভূমিকায়)।
দাল: আবু দাউদের জন্য।
মাদ: আবু দাউদের জন্য 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে।
সদ: আবু দাউদের জন্য 'ফাদায়িলুল আনসার' গ্রন্থে।
খদ: আবু দাউদের জন্য 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' গ্রন্থে।
কদ: আবু দাউদের জন্য 'আল-কদর' গ্রন্থে।
ফা: আবু দাউদের জন্য 'আত-তাফাররুদ' গ্রন্থে।
লাম: আবু দাউদের জন্য 'আল-মাসায়িল' গ্রন্থে।
কাদ: আবু দাউদের জন্য 'মুসনাদে মালিক' গ্রন্থে।
তা: তিরমিযির জন্য।
তাম: তিরমিযির জন্য 'আশ-শামায়িল' গ্রন্থে।
সীন: নাসায়ির জন্য।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عس: للنسائي في مسند علي.
كن: للنسائي في مسند مالك.
ق: لابن ماجه.
فق: لابن ماجه في التفسير.
ع: للجماعة.
تمييز: من ليست له رواية عند أحد من أصحاب الكتب الستة.
الإحالات للكتب التي رجعت إليها من المطبوع
بالنسبة لصحيح البخاري، ومسلم، وسنن أبي داود، والترمذي وابن ماجه، والموطأ: أحيل إلى اسم الكتاب ورقم الحديث.
والإحالة إلى كتاب الجرح والتعديل، وتهذيب الأسماء واللغات إلى الجزء، ثم القسم، ثم الصفحة.
والإحالة إلى التاريخ الكبير للبخاري إلى القسم، ثم الجزء، ثم الصفحة.
والإحالة إلى سائر الكتب غير هذه: إلى الجزء، والصفحة، أو إلى الصفحة.
আস: মুসনাদে আলীতে আন-নাসায়ীর জন্য।
কুন: মুসনাদে মালিকে আন-নাসায়ীর জন্য।
ক্বাফ: ইবনে মাজাহর জন্য।
ফাক্ব: তাফসির গ্রন্থে ইবনে মাজাহর জন্য।
আইন: জামাআতের (ছয় কিতাবের ইমামগণ) জন্য।
তাময়িজ: কুতুবে সিত্তার সংকলকদের কারোর কাছে যার কোনো বর্ণনা নেই।
মুদ্রিত যে সকল কিতাব থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে
সহীহ বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং মুয়াত্তার ক্ষেত্রে: কিতাবের নাম এবং হাদীস নম্বরের উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে।
আল-জারহ ওয়াত তা'দীল এবং তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত কিতাবের উদ্ধৃতি খণ্ড, অতঃপর বিভাগ এবং তারপর পৃষ্ঠা নম্বরের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
বুখারীর আত-তারীখুল কবীর-এর উদ্ধৃতি বিভাগ, অতঃপর খণ্ড এবং তারপর পৃষ্ঠা নম্বরের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
এসব কিতাব ব্যতীত অন্যান্য কিতাবের উদ্ধৃতি: খণ্ড ও পৃষ্ঠা অথবা কেবল পৃষ্ঠা নম্বরের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الباب الأول: يشمل مقدمات الغزوة وخروج المسلمين لها وما واجههم أثناء سيرهم
الفصل الأول: تحقيق لاسم الغزوة وموقعها
المبحث الأول: المرجحات لتسمية هذه الحادثة بغزوة الحديبية…المبحث الأول: المرجحات لتسمية هذه الحادثة بغزوة الحديبية:
بعد أن تم اختياري ((لمرويات غزوة الحديبية)) موضوعاً لبحثي كانت أول قضية استوقفتني هي: اختلاف الذين كتبوا عن مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم ((في عنوان هذه الحادثة)) .
فنرى بعضهم عنون لها بـ ((أمر الحديبية)) 1 وبعضهم بـ ((قصة الحديبية)) 2، ومنهم من سماها ببعض القضايا التي وقعت فيها مثل: ((عمرة الحديبية)) 3، أو ((صلح الحديبية)) 4، وفريق آخر سماها بـ ((غزوة الحديبية)) 5.
وكان لزاماً علي أن أختار لها عنوان مناسباً من تلك العناوين المطروحة لكن وجدت أمامي سؤالاً يطرح نفسه، وهو: لماذا اخترت هذا العنوان دون غيره؟
وللجواب على هذا السؤال وأمثاله قررت أن يكون اختياري للعنوان ناتجاً عن دراسة وتحليل لتلك العناوين المطروحة لأنه لم يوضع واحد منها إلا باعتبار ما.
فأقول وبالله التوفيق:
بعد دراسة وتأمل لتلك العناوين رأيت أن العنوان المناسب لهذه الحادثة هو: ((غزوة الحديبية)) وذلك للأمور التالية:
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: যুদ্ধাভিযানের ভূমিকা, মুসলিমদের বহির্গমন এবং পথিমধ্যে তাদের সম্মুখীন হওয়া ঘটনাবলী
প্রথম পরিচ্ছেদ: যুদ্ধাভিযানের নাম ও এর অবস্থানের অনুসন্ধান
প্রথম আলোচনা: এই ঘটনাকে ‘হুদায়বিয়ার যুদ্ধাভিযান’ নামকরণের স্বপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কারণসমূহ…প্রথম আলোচনা: এই ঘটনাকে ‘হুদায়বিয়ার যুদ্ধাভিযান’ নামকরণের স্বপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কারণসমূহ:
আমার গবেষণার বিষয় হিসেবে ‘হুদায়বিয়ার যুদ্ধাভিযানের বর্ণনাগুলো’ নির্বাচন করার পর প্রথম যে বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছিল তা হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ সম্পর্কে যারা লিখেছেন, এই ঘটনার শিরোনাম প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য।
আমরা দেখি যে, তাদের কেউ কেউ একে ‘হুদায়বিয়ার বিষয়’ (১) শিরোনামে অভিহিত করেছেন, কেউ ‘হুদায়বিয়ার কাহিনী’ (২) বলেছেন, আবার কেউ কেউ সেখানে ঘটে যাওয়া নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের প্রেক্ষিতে নামকরণ করেছেন যেমন: ‘হুদায়বিয়ার উমরাহ’ (৩) অথবা ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ (৪)। আবার অন্য এক দল একে ‘হুদায়বিয়ার যুদ্ধাভিযান’ (৫) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আমার জন্য উপস্থাপিত শিরোনামগুলোর মধ্য থেকে একটি উপযুক্ত শিরোনাম নির্বাচন করা আবশ্যক ছিল, কিন্তু আমার সামনে একটি প্রশ্ন উপস্থিত হলো: আমি কেন অন্যগুলো বাদ দিয়ে এই শিরোনামটিই পছন্দ করলাম?
এই প্রশ্ন এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোর উত্তর প্রদানের লক্ষ্যে আমি স্থির করলাম যে, আমার শিরোনাম নির্বাচনটি হবে প্রস্তাবিত শিরোনামগুলোর অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণের ফলস্বরূপ; কেননা এগুলোর প্রতিটিই কোনো না কোনো দিক বিবেচনা করেই প্রদান করা হয়েছে।
আমি আল্লাহর তাওফীক কামনা করে বলছি:
উক্ত শিরোনামগুলো নিয়ে অধ্যয়ন ও গভীরভাবে চিন্তা করার পর আমি দেখেছি যে, এই ঘটনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শিরোনাম হলো: ‘হুদায়বিয়ার যুদ্ধাভিযান’; আর তা নিম্নলিখিত কারণসমূহের ভিত্তিতে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أولاً: أنه موافق لاصطلاح أهل السير والمحدثين.
قال الزرقاني: "وقد جرت عادة المحدثين وأهل السير واصطلاحهم غالباً أن يسموا كل عسكر حضره النبي صلى الله عليه وسلم بنفسه الكريمة (غزوة) وما لم يحضره بل أرسل بعضاً من أصحابه إلى العدو (سرية) أو (بعثاً) "1.
ثانياً: ما يحمله لفظ (غزوة) من إيحاءات عميقة تعطى الحادثة اعتباراً خاصاً في شعور المسلم ولا توجد في مثل لفظ (قصة) و (أمر) ذلك لأن لفظ (غزوة) أصبح ملازماً لشخص رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا تكاد ترى أو تسمع هذه اللفظة حتى يسرح بك الخيال من وراء تلك الأجيال المتعاقبة لترى تحركات رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه الأبرار يزلزلون الطغاة وأتباعهم.
ثالثاً: شمول هذا العنوان لجميع تحركات الرسول صلى الله عليه وسلم في هذه الحادثة ابتداء من إحرامه بالعمرة ومروراً بالبيعة والصلح إلى رجوعه للمدينة.
رابعاً: ورود عدة أحاديث تصرح بأن الصحابة رضوان الله عليهم كانوا يسمونها (غزوة) ومن تلك الأحاديث ما يلي:
حديث سلمة بن الأكوع رضي الله عنه:
(1) قال البخاري: حدثنا محمد بن عبد الله حدثنا حماد بن مسعده عن يزيد بن أبي عبيد عن سلمة بن الأكوع قال: "غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سبع غزوات فذكر خيبر2، والحديبية، ويوم حنين3، ويوم القرد4، قال يزيد: ونسيت بقيتهم"5.
--------------------------------------------
প্রথমত: এটি সীরাত বিশেষজ্ঞ এবং মুহাদ্দিসগণের পরিভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ।
যারকানী বলেন: "মুহাদ্দিস ও সীরাত বিশেষজ্ঞদের সাধারণ অভ্যাস ও পরিভাষা হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যে সকল অভিযানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন সেগুলোকে তাঁরা সাধারণত (গাজওয়াহ) নামকরণ করেন। আর যেগুলোতে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বরং শত্রুর মোকাবিলায় তাঁর সাহাবীদের মধ্য হতে কাউকে প্রেরণ করেছেন, সেগুলোকে (সারিয়্যাহ) বা (বা’স) বলা হয়।" ১।
দ্বিতীয়ত: 'গাজওয়াহ' শব্দটি যে গভীর ব্যঞ্জনা বহন করে তা একজন মুসলমানের অনুভূতিতে ঘটনাটিকে এক বিশেষ মর্যাদা দান করে, যা 'কিসসা' (গল্প) বা 'আমর' (ঘটনা) শব্দের মধ্যে পাওয়া যায় না। এর কারণ হলো, 'গাজওয়াহ' শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। তাই যখনই আপনি এই শব্দটি দেখবেন বা শুনবেন, আপনার কল্পনাশক্তি সেই বিগত প্রজন্মগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পুণ্যবান সাহাবীদের গতিবিধি প্রত্যক্ষ করতে শুরু করবে, যেখানে তাঁরা জালেম ও তাদের অনুসারীদের কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।
তৃতীয়ত: এই শিরোনামটি এই ঘটনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল তৎপরতাকে শামিল করে; ওমরাহর ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে বায়আত ও সন্ধি হয়ে মদিনায় প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত।
চতুর্থত: এমন বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, সাহাবীগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম একে 'গাজওয়াহ' বলতেন। সেই হাদিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস:
(১) ইমাম বুখারি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবনে মাসআদাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবায়েদ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সালামাহ) বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাতটি যুদ্ধে (গাজওয়াহ) অংশগ্রহণ করেছি।" এরপর তিনি খায়বার ২, হুদায়বিয়া, হুনাইনের যুদ্ধ ৩ এবং যিল-কুরদ ৪-এর কথা উল্লেখ করলেন। ইয়াজিদ বলেন: "বাকিগুলোর কথা আমি ভুলে গিয়েছি।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأخرجه أحمد1 عن حماد بن مسعدة.
حديث أبي قتادة رضي الله عنه:
(2) قال مسلم2: حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي أخبرنا يحيى بن حسان حدثنا معاوية هو ابن سلام أخبرني يحيى، أخبرني عبد الله بن أبي قتادة أن أباه أخبره أنه غزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم غزوة الحديبية، قال: فأهلوا بعمرة غيري
… (الحديث) .
حديث أنس بن مالك عند ابن جرير:
(3) قال: حدثنا أحمد بن المقدام3، قال: ثنا المعتمر4 قال: سمعت أبي5 يحدث عن قتادة6 عن أنس7 بن مالك قال: "لما رجعنا من غزوة الحديبية وقد حيل بيننا وبين نسكنا قال: فنحن بين الحزن والكآبة، قال: فأنزل الله عز وجل: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا} 8 أو كما شاء الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لقد أنزلت علي آية أحب إلي من الدنيا جميعاً"9.
هذا حديث صحيح فرجاله رجال الصحيح وأحمد بن المقدام طعن فيه أبو داود بسبب مزاح كان فيه، وقد تعقبه ابن عدي10 بأنه لا يؤثر فيه، وبين ابن حجر11 أيضاً وجه عدم تأثير طعن أبي داود فيه.
--------------------------------------------
এবং এটি আহমাদ১ হাম্মাদ ইবনে মাসআদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবু কাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস:
(২) মুসলিম২ বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুয়াবিয়া (যিনি ইবনে সালাম) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইয়াহইয়া সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তার পিতা তাকে জানিয়েছেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তারা আমি ব্যতীত উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন... (হাদীস)।
ইবনে জারীরের নিকট আনাস ইবনে মালিকের হাদীস:
(৩) তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমাদ ইবনুল মিকদাম৩ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুতামির৪ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা৫-কে কাতাদাহ৬-এর সূত্রে আনাস৭ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: "যখন আমরা হুদায়বিয়ার যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলাম এবং আমাদের ও আমাদের ইবাদতের মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তখন আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও বিষণ্ণতার মধ্যে ছিলাম। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি}৮ অথবা আল্লাহ যা চাইলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'নিশ্চয়ই আমার ওপর এমন একটি আয়াত নাযিল হয়েছে যা আমার কাছে সমগ্র দুনিয়ার চেয়েও বেশি প্রিয়'।"৯।
এটি একটি সহীহ হাদীস, এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ (গ্রন্থের) বর্ণনাকারী। আর আহমাদ ইবনুল মিকদাম সম্পর্কে আবু দাউদ তার কৌতুকপ্রিয় স্বভাবের কারণে সমালোচনা করেছেন। তবে ইবনে আদি১০ তার অনুসরণ করে বলেছেন যে এটি তার বর্ণনায় কোনো প্রভাব ফেলে না এবং ইবনে হাজার১১ আবু দাউদের সমালোচনার প্রভাব না থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال عنه الذهبي1: "أحد الأثبات المسندين، واحتج به البخاري وغيره"2.
وفي السند عنعنة قتادة وهو مشهور بالتدليس3، لكنها غير مؤثرة على صحة الحديث، لأن أصله في صحيح مسلم4، سوى ما في أوله، ويشهد له الحديثان السابقان.
--------------------------------------------
এবং তাঁর সম্পর্কে আয-যাহাবি ১ বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য সনদধারী বর্ণনাকারীদের একজন এবং ইমাম বুখারি ও অন্যান্যরা তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন" ২।
আর সনদে কাতাদাহর আনআনা রয়েছে এবং তিনি তাদলিসের জন্য প্রসিদ্ধ ৩, তবে এটি হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না; কারণ এর মূল অংশ সহিহ মুসলিমে ৪ বর্ণিত হয়েছে, কেবল এর শুরুর অংশটুকু ব্যতীত এবং পূর্ববর্তী হাদিস দুটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الثاني: تحقيق لاسم الحديبية وموقعها
المطلب الأول: التحقيق في اسمها من حيث ضبطه وسبب إطلاقه عليها…المطلب الأول: التحقيق في اسمها من حيث ضبطه وسبب إطلاقه عليها:
(أ) ضبط لفظ الحديبية:
الحديبية: بالتصغير - هي بضم الحاء وفتح الدال وياء ساكنة وباء موحدة مكسورة وياء مخففة أو مشددة على خلاف:
فأهل العراق على تخفيفها، ونقله النووي عن الشافعي وأهل اللغة، وبعض أهل الحديث"1.
وقال السهلي: "التخفيف هو الأعرف عند أهل العربية، ونقله البكري عن الأصمعي"2.
وقال أبو جعفر النحاس: "سألت كل من لقيت ممن وثقت بعمله من أهل العربية عن الحديبية فلم يختلفوا على أنها مخففة"3.
وقال أحمد بن يحيى: "لا يجوز غير التخفيف"4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হুদাইবিয়ার নামকরণ ও এর অবস্থান সংক্রান্ত পর্যালোচনাপ্রথম অনুচ্ছেদ: এর নামের উচ্চারণরীতি এবং এই নামকরণের কারণ সংক্রান্ত পর্যালোচনা…প্রথম অনুচ্ছেদ: এর নামের উচ্চারণরীতি এবং এই নামকরণের কারণ সংক্রান্ত পর্যালোচনা:
(ক) হুদাইবিয়া শব্দের উচ্চারণরীতি:
হুদাইবিয়া: তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ) হিসেবে—এটি 'হা' বর্ণে পেশ, 'দাল' বর্ণে জবর, 'ইয়া' বর্ণে সুকুন, একটি 'বা' বর্ণে যের এবং পরবর্তী 'ইয়া' বর্ণটি হালকা (তাশদীদহীন) নাকি তাশদীদযুক্ত হবে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে:
ইরাকবাসীরা একে হালকাভাবে (তাশদীদ ছাড়া) উচ্চারণ করেন। ইমাম নববী এটি ইমাম শাফেয়ী, ভাষাবিদগণ এবং কোনো কোনো হাদীস বিশারদ থেকে বর্ণনা করেছেন।১
আস-সুহাইলী বলেন: "আরবি ভাষাবিদদের নিকট তাখফীফ বা হালকা উচ্চারণই অধিক পরিচিত এবং আল-বাকরী এটি আল-আসমায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন।"২
আবু জাফর আন-নাহহাস বলেন: "আমি আরবি ভাষার বিশেষজ্ঞ এমন যাদের সাক্ষাত পেয়েছি এবং যাদের ইলমের ওপর আমার আস্থা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে হুদাইবিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা সকলেই এটি তাখফীফ বা হালকাভাবে উচ্চারিত হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।"৩
আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: "তাখফীফ বা হালকা উচ্চারণ ব্যতীত অন্য কোনোটি বৈধ নয়।"৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأهل المدينة يثقلونها، وكذلك أكثر الفقهاء والمحدثين1.
وحكى ياقوت عن الشافعي رضي الله عنه أنه قال: الصواب: "تشديد الحديبية، وتخفيف الجعرانة، وأخطأ من نص على تخفيفها، وقيل كل صواب"2.
قلت: الظاهر أن الكل صواب، فقد قال النووي: "وهما وجهان مشهوران" ا. هـ3
وقال ابن حجر: "والحديبية بالتخفيف والتثقيل لغتان ا. هـ4
(ب) سبب تسمية ذلك الموضع بالحديبية:
قال ياقوت: "هي قرية متوسطة ليست بالكبيرة، سميت ببئر هناك عند مسجد الشجرة التي بايع تحتها" ا. هـ5
وكذلك قال ابن حجر: هي بئر سمي بها المكان ا. هـ6
وقال الخطابي: "إن الحديبية اسم لشجرة حدباء في ذلك الموضع وصُغِّرت وسُمِّي بها المكان، نقله عنه ياقوت"7.
وحكاه ابن حجر8 بصيغة التمريض.
وقال الزبيدي: "جزم المتأخرون أنها قريبة من قهوة الشميسى، ثم أطلق على الموضع"ا. هـ9
قلت: القول الأول: يشهد له ما في حديث البراء: "كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم أربع عشرة مائة، والحديبية بئر فنزحناها فلم نترك فيها قطرة
… "10.
ولا يبعد أن تكون البئر سميت بالشجرة، والله أعلم.
--------------------------------------------
মদিনাবাসীগণ একে তাশদীদসহ (দ্বিত্ব করে) উচ্চারণ করেন, এবং অধিকাংশ ফকিহ ও মুহাদ্দিসও অনুরূপ করেন।১।
ইয়াকুত ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "সঠিক হলো হুদাইবিয়াহ শব্দে তাশদীদ প্রদান করা এবং জি’রানাহ শব্দে তাশদীদ পরিহার করা (তাকফীফ), আর যারা এর (হুদাইবিয়াহ) তাকফীফ করার কথা বলেছেন তারা ভুল করেছেন। তবে কেউ কেউ বলেন উভয়টিই সঠিক।"২।
আমি বলছি: বাহ্যত উভয়টিই সঠিক, কেননা ইমাম নববী বলেছেন: "এগুলো দুটি প্রসিদ্ধ মত।" (সমাপ্ত)৩।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "হুদাইবিয়াহ শব্দটি তাকফীফ ও তাশদীদ—উভয় ভাবেই পড়ার রীতি বিদ্যমান।" (সমাপ্ত)৪।
(খ) উক্ত স্থানটি হুদাইবিয়াহ নামে নামকরিত হওয়ার কারণ:
ইয়াকুত বলেন: "এটি একটি মাঝারি আকারের গ্রাম, খুব বড় নয়। এর নামকরণ করা হয়েছে সেখানে থাকা একটি কূপের নামানুসারে, যা সেই বৃক্ষ-মসজিদের (মসজিদুশ শাজারাহ) নিকট অবস্থিত যার নিচে বায়আত অনুষ্ঠিত হয়েছিল।" (সমাপ্ত)৫।
অনুরূপভাবে ইবনে হাজার বলেন: এটি একটি কূপ যার নামে স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে। (সমাপ্ত)৬।
খাত্তাবি বলেন: "হুদাইবিয়াহ হলো ওই স্থানে থাকা একটি 'হাদবা' (কুব্জাকৃতি) গাছের নাম, যা থেকে ক্ষুদ্রার্থে হুদাইবিয়াহ শব্দটি এসেছে এবং এর নামেই স্থানটির নাম রাখা হয়েছে। ইয়াকুত তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।"৭।
ইবনে হাজারও এটি বর্ণনা করেছেন৮, তবে তিনি দুর্বলতা জ্ঞাপক শব্দ (সীগাতুত তামরীদ) ব্যবহার করে তা বর্ণনা করেছেন।
যুবাইদী বলেন: "পরবর্তী আলিমগণ দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, এটি শুমাইসী নামক সরাইখানার নিকটবর্তী একটি স্থান, পরবর্তীতে পুরো অঞ্চলের ওপর এই নামটি প্রযুক্ত হয়েছে।" (সমাপ্ত)৯।
আমি বলছি: প্রথম মতটির স্বপক্ষে বারাআ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে চৌদ্দশ জন ছিলাম। হুদাইবিয়াহ ছিল একটি কূপ, যা থেকে আমরা পানি সেচে শেষ করে ফেলেছিলাম এবং তাতে এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট রাখিনি
… "১০।
এবং এটি অসম্ভব নয় যে, কূপটির নামকরণ গাছটির নাম অনুসারেই হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثاني: موقع الحديبية وهل من الحل أو الحرام…المطلب الثاني: موقع الحديبية، وهل هي من الحل أو من الحرم؟
(أ) موقعها:
قال ياقوت: "بين الحديبية ومكة مرحلة وبينها وبين المدينة تسع مراحل".اهـ1 وقال النووي: "إنها على نحو مرحلة من مكة"2.
وقال في المصباح: "تقع على طريق جدة دون مرحلة"3.
وقال صاحب صحيح الأخبار: "فإن جزت وادي فاطمة أتيت الموضع الذي يقال له اليوم الشميسي، وكان يقال له في الزمن القديم: الحديبية."اهـ4
وقال صاحب نسب حرب: "تقع غرب مكة على بعد (22كيلاً) على الطريق إلى جدة، وقد تغير اسمها إلى الشميسي لأنه يقال: إن رجلاً يدعى الشميسي حفر بئراً هناك فغلب اسمه عليها، وبالقرب منها من الغرب أقامت أمانة العاصمة حدائق تعرف بـ (حدائق الحديبية) وفي الحديبية اليوم مسجد الرضوان يقال: إنه بني مكان البيعة".اهـ5
أفادت هذه النقول أن الحديبية تقع في الناحية الغربية من مكة كما صرح بذلك صاحب (نسب حرب) وهو مفهوم قول صاحب (المصباح) وصاحب (صحيح الأخبار) لأن جدة تقع في الجهة الغربية من مكة لكن الواقع أن الحديبية لا تحاذي بمكة من الجهة الغربية، بل تنحرف إلى جهة الشمال وقد أشار إلى ذلك ياقوت حيث ذكر: "أنها ليست في طول الحرم، ولا في عرضه، بل تقع في زاوية الحرم".اهـ6
أما المسافة التي بين الحديبية وبين مكة فقد ذكر ياقوت أنها مرحلة، والمرحلة تقدر بـ (40 كيلو متراً) كما قرر ذلك صاحب تيسير العلام7.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় আলোচনা: হুদাইবিয়ার অবস্থান এবং তা কি হিল নাকি হারামের অন্তর্ভুক্ত?...দ্বিতীয় আলোচনা: হুদাইবিয়ার অবস্থান, এবং তা কি হিল (হারামের বাইরের এলাকা) নাকি হারামের অন্তর্ভুক্ত?
(ক) এর অবস্থান:
ইয়াকুত বলেন: "হুদাইবিয়া ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব এক মারহালা এবং হুদাইবিয়া ও মদীনার মধ্যবর্তী দূরত্ব নয় মারহালা।" সমাপ্ত। ১ এবং আন-নাওয়াবী বলেন: "এটি মক্কা থেকে প্রায় এক মারহালা দূরে অবস্থিত।" ২
এবং ‘আল-মিসবাহ’-তে বলা হয়েছে: "এটি জেদ্দার পথে এক মারহালার কম দূরত্বে অবস্থিত।" ৩
এবং ‘সহীহ আল-আখবার’-এর লেখক বলেন: "আপনি যদি ওয়াদি ফাতিমা অতিক্রম করেন, তবে এমন একটি স্থানে পৌঁছাবেন যাকে বর্তমানে শুমায়সী বলা হয়, আর প্রাচীনকালে একে হুদাইবিয়া বলা হতো।" সমাপ্ত। ৪
এবং ‘নাসাব হারব’-এর লেখক বলেন: "এটি মক্কার পশ্চিমে (২২ কিলোমিটার) দূরত্বে জেদ্দার পথে অবস্থিত। বর্তমানে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে শুমায়সী হয়েছে, কারণ বলা হয় যে, শুমায়সী নামক এক ব্যক্তি সেখানে একটি কূপ খনন করেছিলেন এবং তার নামানুসারেই স্থানটির নাম প্রচলিত হয়ে যায়। এর পশ্চিম দিকের সন্নিকটে আমানাতুল আসিমা (পৌর কর্তৃপক্ষ) কিছু বাগান তৈরি করেছে যা ‘হুদাইবিয়া উদ্যান’ নামে পরিচিত। বর্তমানে হুদাইবিয়ায় ‘মাসজিদুর রিদওয়ান’ রয়েছে, যার সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি বাইয়াত (শপথ) গ্রহণের স্থানে নির্মিত হয়েছে।" সমাপ্ত। ৫
এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হুদাইবিয়া মক্কার পশ্চিম দিকে অবস্থিত, যেমনটি ‘নাসাব হারব’-এর লেখক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং যা ‘আল-মিসবাহ’ ও ‘সহীহ আল-আখবার’-এর লেখকের বক্তব্য থেকেও বোঝা যায়; কারণ জেদ্দা মক্কার পশ্চিম দিকে অবস্থিত। তবে বাস্তবতা হলো, হুদাইবিয়া মক্কার ঠিক সমান্তরালে পশ্চিমে অবস্থিত নয়, বরং কিছুটা উত্তর দিকে বিচ্যুত। ইয়াকুত এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: "এটি হারামের দৈর্ঘ্যে বা প্রস্থে অবস্থিত নয়, বরং হারামের এক কোণে অবস্থিত।" সমাপ্ত। ৬
আর হুদাইবিয়া ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের ব্যাপারে ইয়াকুত উল্লেখ করেছেন যে তা এক মারহালা, আর এক মারহালা (৪০ কিলোমিটার) হিসেবে ধরা হয়, যেমনটি ‘তায়সীরুল আল্লাম’-এর লেখক নির্ধারণ করেছেন। ৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
لكن نرى صاحب (نسب حرب) يقول: "إن بينهما (22كيلو متراً) ، وهناك فرق شاسع بين القولين.
لكن الظاهر أن المتقدمين لا يريدون التحديد الدقيق، وإنما يقصدون التقدير التقريبي للمسافة. لذلك نرى النووي يقول: إنها على نحو مرحلة. وصاحب المصباح يقول: دون مرحلة.
أما صاحب (نسب حرب) فإنه يريد التحديد الدقيق للمسافة، وما ذكره هو المعروف اليوم.
وقد ذكر المتأخرون أنه قد غلب على مكان الحديبية اسم (الشميسي) فصار المكان يعرف بهذا الاسم، لكن ذكر صاحب (نسب حرب) أنها توجد، ثم حدائق تعرف بـ (حدائق الحديبية) وهذا يعني أن المكان لا زال يعرف أنه مكان الحديبية.
(ب) هل الحديبية من الحل أو من الحرم؟
عند مالك أن الحديبية جميعها من الحرم1.
وقال الشافعي: "الحديبية موضع من الأرض منه ما هو في الحل، ومنه ما هو في الحرم"2.
وقال ياقوت: "وبعض الحديبية في الحل، وبعضها في الحرم، وهو أبعد الحل من البيت"3.
وقال ابن القيم: "والحديبية في الحل باتفاق الناس".
وقد قال الشافعي: "بعضها في الحل، وبعضها في الحرم، ومراده: أن أطرافها من الحرم، وإلا فهي من الحل باتفاقهم" ا. هـ4
--------------------------------------------
কিন্তু আমরা (নাসাব হারব)-এর লেখককে বলতে দেখি: "নিশ্চয়ই এ দুইয়ের মাঝে (২২ কিলোমিটার) দূরত্ব রয়েছে," এবং এই দুই বক্তব্যের মাঝে বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান।
তবে স্পষ্টত যে, পূর্বসূরিরা নিখুঁত নির্ধারণ চাচ্ছেন না, বরং তারা দূরত্বের আনুমানিক পরিমাপ বুঝিয়েছেন। একারণেই আমরা ইমাম নববীকে বলতে দেখি: এটি প্রায় এক মঞ্জিল (মারহালা) সমপরিমাণ দূরত্ব। আর (আল-মিসবাহ)-এর লেখক বলেন: এক মঞ্জিলের কম।
পক্ষান্তরে (নাসাব হারব)-এর লেখক দূরত্বের নিখুঁত নির্ধারণ করতে চেয়েছেন, এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা-ই বর্তমানকালে সুপরিচিত।
পরবর্তী যুগের উলামাগণ উল্লেখ করেছেন যে, হুদায়বিয়া স্থানের উপর (আল-শুমাইসি) নামটি প্রবল হয়েছে, ফলে স্থানটি বর্তমানে এই নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। তবে (নাসাব হারব)-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে সেখানে কিছু বাগান রয়েছে যা (হুদায়বিয়ার বাগান) নামে পরিচিত, এবং এর অর্থ হলো স্থানটি এখনও হুদায়বিয়ার স্থান হিসেবেই পরিচিত।
(খ) হুদায়বিয়া কি হিল্ল (হারামের বাইরের এলাকা) নাকি হারামের অন্তর্ভুক্ত?
ইমাম মালিকের মতে হুদায়বিয়ার সম্পূর্ণ অংশই হারামের অন্তর্ভুক্ত১।
ইমাম শাফেঈ বলেন: "হুদায়বিয়া ভূমির এমন একটি স্থান যার কিছু অংশ হিল্ল-এ এবং কিছু অংশ হারামে অবস্থিত"২।
ইয়াকুত বলেন: "হুদায়বিয়ার কিছু অংশ হিল্ল-এ এবং কিছু অংশ হারামে, আর তা বাইতুল্লাহ থেকে হিল্ল-এর সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান"৩।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "হুদায়বিয়া সর্বসম্মতিক্রমে হিল্ল-এর অন্তর্ভুক্ত"।
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "এর কিছু অংশ হিল্ল-এ এবং কিছু অংশ হারামে; আর তাঁর উদ্দেশ্য হলো: এর প্রান্তসীমা হারামের অন্তর্ভুক্ত, নতুবা এটি তাঁদের ঐকমত্য অনুযায়ী হিল্ল-এরই অংশ" সমাপ্ত৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قلت: الظاهر أن ما ذهب إليه الشافعي وياقوت هو الأرجح، وأما ما حكاه ابن القيم من الاتفاق على أن الحديبية كلها من الحل، فغير مسلم، لأن مالكاً يرى أنها من الحرم كلها، والشافعي وغيره يرون أن بعضها من الحرم.
وقد حمل ابن القيم قول الشافعي على أنه يقصد أن أطرافها من الحرم، لكنه لم يبين مساحة هذه الأطراف، وعلى افتراض أنه يقصد ذلك، فإن هذه الأطراف يطلق عليها بعض الحديبية، والله أعلم.
আমি বলছি: প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম শাফিঈ ও ইয়াকুত যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা-ই অধিকতর সঠিক। আর হুদাইবিয়ার পুরো অংশই হিল-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ইবনুল কাইয়্যিম যে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন, তা স্বীকৃত নয়; কারণ ইমাম মালিকের মতে এর পুরো অংশই হারামের অন্তর্ভুক্ত, আর ইমাম শাফিঈ ও অন্যান্যদের মতে এর কিছু অংশ হারামের অন্তর্ভুক্ত।
ইবনুল কাইয়্যিম ইমাম শাফিঈর বক্তব্যকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি এর প্রান্তিক অংশগুলো হারামের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উদ্দেশ্য করেছেন, তবে তিনি এই প্রান্তসীমার আয়তন বর্ণনা করেননি। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে তিনি এটাই উদ্দেশ্য করেছেন, তবে এই প্রান্তিক অংশগুলোকেও হুদাইবিয়ার কিছু অংশ বলা হয়। আর আল্লাহই সম্যক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفصل الثاني: سبب الغزوة وتاريخها
المبحث الأول: سبب الغزوة…المبحث الأول: سبب الغزوة:
درج كثير من أهل المغازي على جعل السبب في خروج المسلمين لهذه الغزوة رؤيا رآها النبي صلى الله عليه وسلم قبيل خروجه، وملخصها: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى أنه دخل البيت هو وأصحابه وطافوا به، وحلق بعضهم وقصر البعض، وأخبر أصحابه بذلك فاستبشروا.
وأول من أثبت هذا السبب - حسب علمي - هو الواقدي1، ثم تابعه كثير ممن كتب في المغازي كاليعقوبي2، والمقريزي3، الزرقاني4، وصاحب تاريخ الخميس5، والشيخ محمد بن عبد الوهاب6، وغيرهم.
وقد تردد كثيراً في إثبات تلك الرؤيا سبباً للغزوة، لأن أول من أثبتها - كما أشرت - هو الواقدي، بينما أغفلها من هو أثبت منه كابن إسحاق وابن سعد وغيرهما.
لكن بعد البحث والتتبع وجدت ما يشهد لها ويدل على أن لها أصلاً وذلك من القرآن والحديث:
قال تعالى: {لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاء اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُؤُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ
… } 7.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: যুদ্ধের কারণ ও এর ইতিহাসপ্রথম পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের কারণ...প্রথম পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের কারণ:
যুদ্ধের ইতিহাস রচয়িতাদের (মাগাযী বিশেষজ্ঞ) অনেকে এই যুদ্ধে মুসলিমদের বের হওয়ার কারণ হিসেবে এমন একটি স্বপ্নকে সাব্যস্ত করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বের হওয়ার কিছুকাল আগে দেখেছিলেন। এর সারসংক্ষেপ হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ বায়তুল্লাহয় (কাবা শরীফে) প্রবেশ করেছেন এবং তা তাওয়াফ করছেন, আর তাদের কেউ মাথা মুণ্ডন করেছেন এবং কেউ চুল ছোট করেছেন। তিনি তাঁর সাহাবীগণকে এ কথা জানালেন, ফলে তারা আনন্দিত হলেন।
আমার জানামতে, এই কারণটিকে সর্বপ্রথম যিনি সাব্যস্ত করেছেন তিনি হলেন ওয়াকিদী ১, এরপর যুদ্ধ সংক্রান্ত ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে অনেকেই তাঁর অনুসরণ করেছেন, যেমন ইয়াকুবী ২, মাকরিযী ৩, যারকানী ৪, 'তারীখুল খামিস' এর লেখক ৫, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ৬ এবং অন্যান্যরা।
এই স্বপ্নটিকে যুদ্ধের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার বিষয়ে অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ ছিল, কেননা আমি যেমন উল্লেখ করেছি, এটি সর্বপ্রথম ওয়াকিদী উল্লেখ করেছেন; অথচ তাঁর চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ যেমন ইবনে ইসহাক, ইবনে সাদ এবং অন্যান্যরা এটি এড়িয়ে গেছেন।
কিন্তু অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমি এমন কিছু প্রমাণ পেয়েছি যা এর সাক্ষ্য দেয় এবং ইঙ্গিত দেয় যে এর একটি মূল ভিত্তি কুরআন ও হাদিসে বিদ্যমান:
মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ তোমরা অবশ্যই মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে—তোমাদের কেউ কেউ মাথা মুণ্ডন করবে এবং কেউ কেউ চুল ছোট করবে, তোমাদের কোনো ভয় থাকবে না ...} ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد ذكر المفسرون أن سبب نزول هذه الآية هو التساؤل الذي حصل حول الرؤيا.
فقد روى ابن جرير ذلك عن مجاهد وابن زيد:
(4) قال ابن جرير: حدثنا محمد1 بن عمرو قال: ثنا أبو عاصم2 قال: ثنا عيسى3، وحدثني الحارث4 قال ثنا الحسن5 قال: ثنا ورقاء6 جميعاً عن ابن أبي نجيح7 عن مجاهد8 في قوله "الرؤيا بالحق" قال: أرى النبي صلى الله عليه وسلم بالحديبية أنه يدخل مكة وأصحابه محلقين، فقال أصحابه حين نحر بالحديبية: أين رؤيا محمد صلى الله عليه وسلم؟ "9.
سند هذا الأثر حسن إلى مجاهد لكنه مرسل.
(5) وقال ابن جرير: حدثني يونس10، قال: أخبرنا ابن وهب11 قال: قال
--------------------------------------------
মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো স্বপ্ন সম্পর্কে উদ্ভূত প্রশ্ন।
ইবনে জারীর এটি মুজাহিদ ও ইবনে যাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন:
(৪) ইবনে জারীর বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ১ বিন আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আসিম২ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা৩ বর্ণনা করেছেন, এবং আমার নিকট হারিস৪ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান৫ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ারকা৬ বর্ণনা করেছেন, তারা সকলেই ইবনে আবি নাজীহ৭ থেকে, তিনি মুজাহিদ৮ থেকে আল্লাহর এই বাণী "স্বপ্নটি সত্যসহ" এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদাইবিয়ায় স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তিনি মক্কায় প্রবেশ করছেন এবং তাঁর সাহাবীগণ মাথা মুণ্ডন করছেন। হুদাইবিয়ায় যখন কুরবানি সম্পন্ন হলো, তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই স্বপ্ন কোথায় গেল?৯।
এই আসারটির সনদ মুজাহিদ পর্যন্ত হাসান, তবে এটি মুরসাল।
(৫) ইবনে জারীর বলেন: আমার নিকট ইউনুস১০ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইবনে ওয়াহাব১১ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن زيد1: في قوله تعالى: {لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ
… } ، قال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: "إني قد رأيت أنكم ستدخلون المسجد الحرام محلقين رؤوسكم ومقصرين" فلما نزل بالحديبية، ولم يدخل ذلك العام، طعن المنافقون في ذلك فقالوا: أين رؤياه؟ فنزلت الآية2.
سند هذا الأثر صحيح إلى ابن زيد وهو عبد الرحمن بن زيد ضعيف، ضعفه ابن معين، وابن المديني، وأحمد والنسائي، وغيرهم3.
لكن معنى الأثرين ثابت من حديث المسور ومروان ففيه من رواية معمر عند البخاري: "فقال عمر بن الخطاب: يا رسول الله أو ليس كنت تحدثنا أنا سنأتي البيت فنطوف به؟ قال: بلى: فأخبرتك أنك تأتيه العام؟ قال: لا، قال: فإنك آتيه ومطوف به4.
وفي حديثهما من رواية ابن إسحاق عند أحمد بسند حسن "وقد كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم خرجوا وهو لا يشكون في الفتح لرؤيا رآها رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما رأوا ما رأوا من الصلح والرجوع وما تحمل رسول الله صلى الله عليه وسلم على نفسه، دخل الناس من ذلك أمر عظيم حتى كادوا أن يهلكوا
… "5.
فالآية وما في حديث المسور ومروان تدل على أنه قد حصل للنبي صلى الله عليه وسلم رؤيا خرج المسلمون إثرها لهذه الغزوة.
لكن الأثر الذي رواه ابن جرير عن مجاهد يُعَكِّرُ على جعل هذه الرؤيا سبباً لخروج المسلمين إذ فيه: "أن الرؤيا حصلت للرسول صلى الله عليه وسلم بالحديبية"، وذلك بعد خروج المسلمين.
لكن إذا تأملنا حديث المسور ومروان نرى في رواية معمر قول عمر: "أوليس كنت تحدثنا أنا سنأتي البيت فنطوف به؟ ".
--------------------------------------------
ইবনে যাইদ১: আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: {নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্য দেখিয়েছেন
… } , তিনি (ইবনে যাইদ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেছিলেন: "আমি স্বপ্ন দেখেছি যে তোমরা অবশ্যই মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে কেউ মাথা মুণ্ডনকারী অবস্থায় এবং কেউ চুল ছোটকারী অবস্থায়।" অতঃপর যখন তিনি হুদায়বিয়ায় অবতরণ করলেন এবং সেই বছর (মক্কায়) প্রবেশ করতে পারলেন না, তখন মুনাফিকরা এই বিষয়ে সমালোচনা করে বলল: তাঁর দেখা স্বপ্ন কোথায় গেল? তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়২।
ইবনে যাইদ পর্যন্ত এই বর্ণনার সনদটি সহীহ, তবে তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন যাইদ যিনি দুর্বল (দাঈফ)। ইবনে মাঈন, ইবনে মাদিনী, আহমাদ, নাসাঈ এবং অন্যান্যগণ তাঁকে দুর্বল বলেছেন৩।
কিন্তু এই দুটি বর্ণনার অর্থ মিসওয়ার ও মারওয়ানের হাদীস থেকে প্রমাণিত। বুখারীতে মা'মারের বর্ণনায় এতে রয়েছে: "অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের বলেননি যে আমরা বাইতুল্লাহতে আসব এবং তা তওয়াফ করব? তিনি বললেন: অবশ্যই। তবে আমি কি আপনাকে খবর দিয়েছিলাম যে আপনি এই বছরই সেখানে আসবেন? তিনি বললেন: না। তিনি (রাসূল) বললেন: নিশ্চয়ই আপনি সেখানে আসবেন এবং তা তওয়াফ করবেন৪।"
আহমাদে ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় তাঁদের (মিসওয়ার ও মারওয়ান) হাদীসে হাসান সনদে বর্ণিত আছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বের হয়েছিলেন এই অবস্থায় যে, তাঁরা বিজয়ের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করছিলেন না। এর কারণ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা একটি স্বপ্ন। অতঃপর যখন তাঁরা সন্ধি ও ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দেখলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিজের ওপর সহ্য করে নিলেন তা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন মানুষের মাঝে এমন এক মহা উদ্বেগের সৃষ্টি হলো যে তারা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল
… "৫।
সুতরাং এই আয়াত এবং মিসওয়ার ও মারওয়ানের হাদীসে যা রয়েছে তা প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন যার প্রেক্ষিতে মুসলিমরা এই অভিযানের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।
তবে ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে যে বর্ণনাটি বর্ণনা করেছেন তা এই স্বপ্নকে মুসলিমদের বের হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে, কারণ তাতে রয়েছে: "স্বপ্নটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় থাকাকালীন দেখেছিলেন", আর তা ছিল মুসলিমদের বের হওয়ার পরের ঘটনা।
কিন্তু যদি আমরা মিসওয়ার ও মারওয়ানের হাদীস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তবে আমরা মা'মারের বর্ণনায় উমরের এই উক্তিটি দেখতে পাই: "আপনি কি আমাদের বলেননি যে আমরা বাইতুল্লাহতে আসব এবং তা তওয়াফ করব?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي رواية ابن إسحاق: "وقد كان المسلمون خرجوا وهو لا يشكون في الفتح لرؤيا رآها النبي صلى الله عليه وسلم".
فكلام عمر يدل على أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يحدثهم بذلك قبل مجيئهم للحديبية، وما في رواية ابن إسحاق يفيد أن المسلمين خرجوا بعد الرؤيا.
لذلك حمل بعض العلماء الرؤيا التي يشير إليها الأثر الموقوف على مجاهد أنها رؤيا ثانية.
قال الزرقاني: "وأما ما رواه الفارابي وعبد بن حميد والبيهقي في الدلائل عن مجاهد قال: "أري النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالحديبية أنه يدخل مكة هو وأصحابه آمنين محلقين رؤوسهم ومقصرين، فلما نحر الهدي بالحديبية قال له أصحابه: أين رؤياك يا رسول الله؟ فنزلت: {لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ
… } فهي رؤيا رآها بالحديبية تبشيراً له من الله ثانياً فلا يصلح جعلها سبباً لخروجه من المدينة"1.
--------------------------------------------
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় রয়েছে: "আর মুসলিমগণ এমন অবস্থায় অভিযানে বের হয়েছিলেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখা একটি স্বপ্নের কারণে তাদের মনে বিজয়ের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না।"
উমরের কথা একথাই প্রমাণ করে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় পৌঁছানোর পূর্বেই তাদের নিকট এ সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন; আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে তা নির্দেশ করে যে, মুসলিমগণ স্বপ্ন দেখার পরেই অভিযানে বের হয়েছিলেন।
এ কারণে কোনো কোনো আলিম মুজাহিদ থেকে বর্ণিত 'মাওকুফ' আছারে যে স্বপ্নের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, সেটিকে দ্বিতীয় একটি স্বপ্ন হিসেবে গণ্য করেছেন।
আল-জুরকানি বলেন: "আর আল-ফারাবি, আবদ বিন হুমাইদ এবং আল-বায়হাকি 'আদ-দালাইল'-এ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় থাকা অবস্থায় তাঁকে (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছিল যে, তিনি এবং তাঁর সাথীরা নিরাপদে, কেউ মস্তক মুণ্ডন করে আবার কেউ চুল ছোট করে মক্কায় প্রবেশ করছেন। অতঃপর যখন তিনি হুদায়বিয়ায় হাদি জবেহ করলেন, তখন তাঁর সাথীরা তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার সেই স্বপ্ন কোথায়? তখন অবতীর্ণ হলো: {আল্লাহ তাঁর রাসুলের স্বপ্নকে যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করেছেন
... }। সুতরাং এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ হুদায়বিয়ায় দেখা তাঁর দ্বিতীয় একটি স্বপ্ন, তাই এটিকে মদিনা থেকে তাঁর বের হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়'।"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني: تاريخ خروج المسلمين لغزوة الحديبيةاستعمل النبي صلى الله عليه وسلم على المدينة قبل خروجه نميلة بن عبد الله الليثي على قول ابن هشام1، وابن2 سيد الناس ومن تبعهما.
وذكر الواقدي3، وابن4 سعد ومن تبعهما أنه استعمل ابن أم مكتوم، وهناك قول ثالث5: أنه استعمل أبارهم كلثوم بن الحصين.
قال الزرقاني6: "يحتمل أنه استخلف نميلة وأبارهم على المصالح والإمام ابن أم مكتوم".
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হুদায়বিয়ার যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মুসলিমদের বের হওয়ার তারিখনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনা থেকে বের হওয়ার পূর্বে ইবনে হিশাম১, ইবনে সাইয়্যিদুন নাস২ এবং তাঁদের অনুসারীদের মতানুসারে নুমাইলা বিন আব্দুল্লাহ আল-লাইসিকে মদিনার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন।
ওয়াকিদি৩, ইবনে সাদ৪ এবং তাঁদের অনুসারীরা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে উম্মে মাকতুমকে নিযুক্ত করেছিলেন। আবার একটি তৃতীয় মত৫ রয়েছে যে, তিনি আবা রহম কুলসুম বিন আল-হুসাইনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
যুরকানি৬ বলেন: "সম্ভবত তিনি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির জন্য নুমাইলা ও আবা রহমকে এবং ইমামতির জন্য ইবনে উম্মে মাকতুমকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثم خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه للغزوة، وذلك في يوم الاثنين مستهل ذو القعدة من السنة السادسة، وسأورد ما يثبت هذا التحديد إن شاء الله.
(أ) ما ورد في التحديد بالسنة السادسة:
(6) قال البيهقي: "أخبرنا أبو الحسين بن الفضل بن القطان1 ببغداد قال: أخبرنا عبد الله بن جعفر بن درستويه2 النحوي، قال: حدثنا يعقوب3 بن سفيان قال: أخبرنا ابن المنذر4 قال: حدثنا عبد الله بن نافع5 قال: حدثني نافع6 بن أبي نعيم عن نافع7 مولى ابن عمر قال: "كانت الحديبية سنة ست بعد مقدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة في ذي القعدة"8.
سند هذا الأثر حسن، فابن المنذر تكلم فيه أحمد لأنه خلط في القرآن، ولكونه قدم إلى ابن أبي دؤاد، لكن وثقه ابن معين والنسائي وابن وضاح، وأبو حاتم والدارقطني، ورجح الذهبي توثيقه فقد رمز له بـ (صح) ، وقال الساجي: "له مناكير لكن تعقبه الخطيب" وقال ابن حجر: "اعتمده البخاري، وانتفى من حديثه"9، وفي
--------------------------------------------
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাথীরা যুদ্ধের (অভিযানের) উদ্দেশ্যে বের হলেন, আর তা ছিল ষষ্ঠ হিজরি সনের যুল-কাদা মাসের শুরুর দিকে সোমবার দিন। ইনশাআল্লাহ, আমি এই সময় নির্ধারণের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করব।
(ক) ষষ্ঠ হিজরি সন নির্ধারণের স্বপক্ষে যা বর্ণিত হয়েছে:
(৬) ইমাম বায়হাকী বলেন: "আমাদেরকে বাগদাদে আবুল হুসাইন বিন আল-ফজল বিন আল-কাত্তান১ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ব্যাকরণবিদ আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন দুরুসতাওয়াইহ২, তিনি বলেন: ইয়াকুব৩ বিন সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুনযির৪ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন নাফে৫ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফে৬ বিন আবু নুয়াইম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে৭ থেকে, তিনি বলেন: 'হুদায়বিয়ার ঘটনাটি ঘটেছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মদীনায় আগমনের ষষ্ঠ হিজরি সনের যুল-কাদা মাসে'৮।
এই বর্ণনার সনদটি হাসান। ইবনুল মুনযির সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিরূপ মন্তব্য করেছেন কারণ তিনি কুরআনের (মাখলুক হওয়ার ফিতনার) ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন এবং ইবনে আবু দুয়াদ-এর কাছে গিয়েছিলেন। তবে ইবনে মাঈন, নাসায়ী, ইবনে ওয়াদদাহ, আবু হাতিম এবং দারাকুতনী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আয-যাহাবীও তার নির্ভরযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তার বর্ণনার পাশে (সহীহ) চিহ্ন দিয়েছেন। আস-সাজী বলেন: "তার কিছু বিতর্কিত বর্ণনা আছে, তবে আল-খাতীব এর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন।" ইবনে হাজার বলেন: "বুখারী তার ওপর নির্ভর করেছেন এবং তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন"৯। আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
السند أيضاً نافع بن أبي نعيم، قال أحمد: "ليس بشيء في الحديث، لكن وثقه ابن معين"، وقال ابن سعد: "كان ثبتاً"، وقال أبو حاتم: "صدوق صالح الحديث"، وذكره ابن حبان في الثقات، وقال ابن المديني وابن عدي والدارقطني: "لا بأس به"1، فتوثيق هؤلاء مقدم على قول من جرحه، لا سيما والجرح غير مفسر السبب، وبقية رجال السند كلهم ثقات، فالأثر حسن إلى نافع، وقد أرسله نافع لكن معناه ثابت من حديثي ابن عمر التاليين:
(7) قال ابن حجر: "روى يعقوب بن سفيان في تاريخه بسند حسن عن ابن عمر قال: "كانت عمرة القضية في ذي القعدة سنة سبع"2.
هذه الرواية صريحة في أن عمرة القضية كانت في السنة السابعة، وحديث البخاري الآتي يثبت أنها كانت في السنة التي تلي عام الحديبية.
(8) قال البخاري: حدثنا محمد بن رافع حدثنا سريج بن النعمان حدثنا فليح عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمراً فحال قريش بينه وبين البيت، فنحر هديه وحلق رأسه بالحديبية، وقاضاهم على أن يعتمر العام المقبل، ولا يحمل سلاحاً عليهم إلا سيوفاً ولا يقيم بها إلا ما أحبوا، فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم، فلما أقام بها ثلاثاً أمروه أن يخرج فخرج" 3.
وأخرجه من طريق4 محمد بن الحسين بن إبراهيم عن أبيه عن فليح به مثله.
فهذا الحديث يفيد تصريحاً أن النبي صلى الله عليه وسلم اعتمر عمرة القضية في العام الذي يلي عام الحديبية مباشرة، والحديث الذي قبله صريح في أن هذا العام الذي اعتمر فيه عمرة القضية هو السنة السابعة.
وإذا ثبت أن عمرة القضية كانت في السنة السابعة، وأنها في السنة التي تلي عام الحديبية، فالحديبية إذن في السنة السادسة بلا شك.
--------------------------------------------
বর্ণনাসূত্রে আরও রয়েছেন নাফে‘ ইবনে আবু নুআইম। আহমাদ বলেন: "হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন, তবে ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।" ইবনে সাদ বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।" আবু হাতিম বলেন: "তিনি সত্যবাদী ও হাদিসে উত্তম।" ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। ইবনে মাদিনি, ইবনে আদি এবং দারাকুতনি বলেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।"১ সুতরাং তাদের নির্ভরযোগ্য বলা সেই ব্যক্তির সমালোচনার চেয়ে অগ্রগণ্য যিনি কোনো কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে সমালোচনা করেছেন। বর্ণনাসূত্রের বাকি সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য। সুতরাং নাফে‘ পর্যন্ত বর্ণনাটি হাসান (উত্তম)। নাফে‘ এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর অর্থ ইবনে ওমরের পরবর্তী দুটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত:
(৭) ইবনে হাজার বলেন: "ইয়াকুব বিন সুফিয়ান তার ইতিহাস গ্রন্থে একটি হাসান বর্ণনাসূত্রে ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'কাজাহ উমরাহ সপ্তম হিজরি সনের জিলকদ মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।'"২
এই বর্ণনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কাজাহ উমরাহ সপ্তম হিজরি সনে হয়েছিল। আর বুখারির পরবর্তী হাদিসটি প্রমাণ করে যে, এটি হুদায়বিয়ার পরের বছর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
(৮) বুখারি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে রাফি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুরাইজ ইবনে নুমান থেকে, তিনি ফুলইহ থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরার উদ্দেশ্যে বের হলেন, কিন্তু কুরাইশরা তাঁর ও কা’বা ঘরের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। ফলে তিনি হুদায়বিয়াতে তাঁর কোরবানির পশু জবাই করলেন এবং মাথা মুণ্ডন করলেন। তিনি তাদের সাথে এই শর্তে সন্ধি করলেন যে, আগামী বছর তিনি উমরা করবেন এবং তরবারি ছাড়া কোনো অস্ত্র বহন করবেন না, আর সেখানে তারা যতক্ষণ পছন্দ করে তার বেশি অবস্থান করবেন না। পরবর্তী বছর তিনি উমরা করলেন এবং তাদের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী সেখানে প্রবেশ করলেন। যখন তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করলেন, তখন তারা তাঁকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল এবং তিনি বের হয়ে গেলেন।"৩
তিনি (বুখারি) এটি মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে ইবরাহিমের সূত্র ধরে৪ তাঁর পিতার মাধ্যমে ফুলইহ থেকে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিসটি স্পষ্টভাবে প্রদান করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার ঠিক পরের বছরই কাজাহ উমরাহ করেছিলেন। আর এর আগের হাদিসটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যে বছর তিনি কাজাহ উমরাহ করেছিলেন সেটি ছিল সপ্তম হিজরি সন।
আর যখন এটি প্রমাণিত হলো যে কাজাহ উমরাহ সপ্তম হিজরি সনে হয়েছিল এবং এটি হুদায়বিয়ার পরের বছর ছিল, তখন হুদায়বিয়া নিঃসন্দেহে ষষ্ঠ হিজরি সনে হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الإجماع على أنها كانت في السنة السادسة:
قال النووي: "وقد أجمع المسلمون أن الحديبية كانت سنة ست من الهجرة في ذي القعدة" ا. هـ1
وقال ابن كثير: "وكانت الحديبية في ذي القعدة سنة ست بلا خلاف" ا. هـ2
وقال ابن حجر: "كانت الحديبية في سنة ست بلا خلاف" ا. هـ3
وقد شذ ابن الديبع فقال: "كانت في السنة الخامسة"4، ولكن لا مستند له في ذلك.
(ب) التحديد بشهر ذي القعدة ورد فيه ما يلي:
(9) قال البخاري حدثنا عبيد الله عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن البراء رضي الله عنه: "اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة، فأبى أهل مكة أن يدعوه يدخل مكة، حتى قاضاهم: لا يدخل مكة سلاحاً إلا في القرب"5.
وأخرجه في كتاب الصلح6 والمغازي7 بهذا الإسناد مطولاً.
وأخرجه من طريق8 شعبة، ومن طريق9 سفيان بن سعيد، كلاهما عن أبي إسحاق عن البراء مختصراً لم يذكر العمرة.
وأخرجه أحمد10 عن حجين وأسود بن عامر كلاهما عن إسرائيل به مطولاً.
وأخرجه الدارمي11 عن محمد بن يوسف عن إسرائيل به مطولاً.
--------------------------------------------
এটি ষষ্ঠ হিজরি সনে সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত্য:
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, হুদাইবিয়া হিজরি ষষ্ঠ সনের জিলকদ মাসে সংঘটিত হয়েছিল।" সমাপ্ত। ১
ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: "হুদাইবিয়া কোনো মতভেদ ছাড়াই ষষ্ঠ হিজরি সনের জিলকদ মাসে সংঘটিত হয়েছিল।" সমাপ্ত। ২
ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "হুদাইবিয়া কোনো মতভেদ ছাড়াই ষষ্ঠ সনে হয়েছিল।" সমাপ্ত। ৩
তবে ইবনুদ দাইবা ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন: "এটি পঞ্চম সনে হয়েছিল" ৪, কিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।
(খ) জিলকদ মাসে এটি নির্ধারিত হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে:
(৯) ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিলকদ মাসে উমরাহ পালন করেন, কিন্তু মক্কাবাসী তাকে মক্কায় প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তিবদ্ধ হলেন যে, তিনি খাপবদ্ধ তলোয়ার ছাড়া কোনো অস্ত্র নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবেন না।" ৫।
তিনি এটি কিতাবুস সুলহ (সন্ধি অধ্যায়) ৬ এবং মাগাযী (যুদ্ধাভিযান অধ্যায়) ৭-এ এই একই সনদে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি এটি শু'বাহ এর সূত্রে ৮ এবং সুফিয়ান বিন সাঈদ এর সূত্রে ৯ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে উমরাহর কথা উল্লেখ নেই।
ইমাম আহমাদ ১০ এটি হুজাইন ও আসওয়াদ বিন আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে ইসরাঈল থেকে এটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম দারেমী ১১ এটি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে এবং তিনি ইসরাঈল থেকে এটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأخرجه الترمذي1 عن عباس بن محمد الدوري عن إسحاق بن منصور السلولي عن إسرائيل به مختصراً، ولفظه: قال: "اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة".
وأخرج بعضه في كتاب البر والصلة2، وفي كتاب المناقب3 من طريق إسرائيل أيضاً، وليس في ذكر للعمرة.
وأخرجه البخاري من غير طريق إسرائيل بسياق آخر مختصراً: قال: حدثنا أحمد بن عثمان حدثنا شريح بن مسلمة حدثنا إبراهيم بن يوسف عن أبيه عن أبي إسحاق قال: "سألت مسروقاً وعطاء ومجاهد فقالوا: اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة قبل أن يحج، قال وسمعت البراء بن عازب رضي الله عنهما يقول: اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة قبل أن يحج مرتين"4.
وأخرجه بهذا السند في كتاب الجزية والموادعة5 مطولاً، ولم تذكر فيه العمرة.
حديث أنس رضي الله عنه:
(10) قال البخاري حدثنا حسان بن حسان حدثنا همام عن قتادة: سألت أنساً رضي الله عنه: كم اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم. قال: "أربع عمرة الحديبية في ذي القعدة حيث صده المشركون، وعمرة من العام المقبل في ذي القعدة حيث صالحهم، وعمرة الجعرانة6 إذ قسم غنيمة - أراه حنين - قلت كم حج؟ قال: واحدة"7.
وأخرجه8 عن هدبة عن همام به بلفظ: "اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أربع في ذي القعدة إلا التي اعتمر مع حجته، عمرته من الحديبية" نحوه
…--------------------------------------------
আর এটি তিরমিযী ১ আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দাওরী থেকে, তিনি ইসহাক বিন মানসুর আস-সালুলি থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং এর শব্দগুলো হলো: তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকদ মাসে উমরাহ পালন করেছেন।"
এর কিছু অংশ 'কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ' ২ এবং 'কিতাবুল মানাকিব' ৩-এ ইসরাঈলের সূত্রেই বর্ণনা করা হয়েছে, তবে তাতে উমরার কোনো উল্লেখ নেই।
আর বুখারী এটি ইসরাঈলের সূত্র ছাড়া অন্য এক বর্ণনায় সংক্ষিপ্তভাবে সংকলন করেছেন: তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন উসমান, তিনি শুরাইহ বিন মাসলামাহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন ইউসুফ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: "আমি মাসরুক, আতা এবং মুজাহিদকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁরা বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করার পূর্বে যিলকদ মাসে উমরাহ পালন করেছেন। তিনি বলেন, আর আমি আল-বারা বিন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করার পূর্বে যিলকদ মাসে দুইবার উমরাহ পালন করেছেন" ৪।
এবং এই একই সনদে এটি 'কিতাবুল জিযয়া ওয়াল মুয়াদায়া' ৫-তে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে উমরার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস:
(১০) ইমাম বুখারী বলেন, আমাদের নিকট হাসসান বিন হাসসান বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি কাতাদা থেকে বর্ণনা করেন: আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরাহ পালন করেছেন? তিনি বললেন: "চারবার। হুদায়বিয়ার উমরাহ যিলকদ মাসে যখন মুশরিকরা তাঁকে বাধা দিয়েছিল, পরবর্তী বছর যিলকদ মাসে উমরাহ যখন তিনি তাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন, এবং জিরানা ৬-র উমরাহ যখন তিনি গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) বণ্টন করেছিলেন—আমি মনে করি এটি হুনাইনের সম্পদ—আমি জিজ্ঞাসা করলাম তিনি কতটি হজ্জ করেছিলেন? তিনি বললেন: একটি" ৭।
আর এটি ৮ হুদবাহ থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে একই সনদে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকদ মাসে চারটি উমরাহ পালন করেছেন, তবে সেই উমরাহ ব্যতীত যা তিনি তাঁর হজ্জের সাথে পালন করেছিলেন; তাঁর হুদায়বিয়ার উমরাহ..." অনুরূপ...
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأخرجه بهذا الإسناد في المغازي1 بمثله، وفي الجهاد2 مختصراًَ ذكر عمرة الجعرانة فقط.
وأخرجه مسلم عن3 هداب - هو هدبة4 - به فذكر نحوه، وفيه: "من الحديبية أو زمن الحديبية".
وأخرجه عن5 محمد بن المثنى عن عبد الصمد عن همام به نحو لفظ هدبة.
وأخرجه أبو داود6 عن أبي الوليد الطيالسي وهدبة، كلاهما عن همام به نحوه.
وأخرجه البخاري عن أبي الوليد7 به، وليس فيه تحديد زمن الحديبية.
وأخرجه الترمذي8 عن إسحاق بن منصور عن حبان بن همام به، وليس فيه تحديد زمن الحديبية.
وأخرجه أحمد9 عن عفان عن همام به، بمثل لفظ حسان بن حسان.
حكى ابن كثير والعيني الإجماع على إنها في ذي القعدة:
قال ابن كثير: "كان الحديبية في ذي القعدة سنة ست بلا خلاف
"10.
وقال العيني: "وكان خروجه من المدينة يوم الاثنين لهلال ذي القعدة سنة ست بلا خلاف" 11.
قلت: قد وردت عن عروة بن الزبير رواية بأن غزوة الحديبية كانت في شوال، ونص الرواية:
--------------------------------------------
এবং তিনি এটি এই সনদে মাগাযী অধ্যায়ে১ একইভাবে এবং জিহাদ অধ্যায়ে২ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, সেখানে কেবল জি'রানার উমরার উল্লেখ রয়েছে।
এবং ইমাম মুসলিম এটি হাদ্দাব থেকে৩ —তিনি হলেন হুদবা৪— বর্ণনা করেছেন এবং তদ্রূপ উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে: "হুদায়বিয়া থেকে অথবা হুদায়বিয়ার সময়ে।"
এবং তিনি এটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না থেকে৫, তিনি আবদুস সামাদ থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন যা হুদবার শব্দের অনুরূপ।
এবং আবু দাউদ৬ এটি আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি এবং হুদবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই হাম্মাম থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এবং বুখারী এটি আবুল ওয়ালিদ৭ থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে হুদায়বিয়ার সময় নির্ধারণের উল্লেখ নেই।
এবং তিরমিযী৮ এটি ইসহাক বিন মনসুর থেকে, তিনি হাব্বান বিন হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে হুদায়বিয়ার সময় নির্ধারণের উল্লেখ নেই।
এবং আহমদ৯ এটি আফফান থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যা হাসসান বিন হাসসানের শব্দের অনুরূপ।
ইবনে কাসীর এবং আইনী ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে এটি যিলকদ মাসে হয়েছিল:
ইবনে কাসীর বলেন: "হুদায়বিয়া ষষ্ঠ হিজরীর যিলকদ মাসে হয়েছিল এতে কোনো মতভেদ নেই"
১০।
এবং আইনী বলেন: "মদীনা থেকে তাঁর বের হওয়া ছিল ষষ্ঠ হিজরীর যিলকদ মাসের চাঁদ ওঠার সোমবারের দিনে, এতে কোনো মতভেদ নেই" ১১।
আমি বলছি: উরওয়াহ বিন যুবায়ের থেকে একটি বর্ণনা এসেছে যে হুদায়বিয়ার যুদ্ধ শাওয়াল মাসে হয়েছিল, আর বর্ণনার পাঠ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(11) قال ابن أبي شيبة: حدثنا أبو أسامة1 قال: حدثنا هشام2 عن أبيه3 قال: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحديبية، وكانت الحديبية في شوال"4، الحديث.
أخرجه يعقوب بن سفيان من طريق آخر: قال: حدثنا إسماعيل5 ابن الخليل عن علي6 بن مسهر قال: أخبرني هشام بن عروة عن أبيه قال: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحديبية في رمضان، وكانت الحديبية في شوال"7.
وأخرجه البيهقي من طريق يعقوب بن سفيان8 به.
سند هذا الأثر صحيح إلى عروة، وهو مرسل.
وقد اعتبر العلماء هذه الرواية عن عروة شاذة.
فقد حكاها ابن القيم عنه ثم عقب عليها بقوله: "وهذا وهم وإنما كانت غزوة الفتح في رمضان" 9.
كما أوردها ابن كثير من طريق يعقوب بن سفيان، وعقب عليها بقوله: وهذا غريب جداً عن عروة10.
--------------------------------------------
(১১) ইবনে আবি শায়বাহ বলেন: আমাদের কাছে আবু উসামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হিশাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং হুদায়বিয়া শাওয়াল মাসে ছিল", হাদীসটি সমাপ্ত।
ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান এটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসমাঈল ইবনুল খলিল আলী ইবনে মুশহির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাকে তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে হুদায়বিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং হুদায়বিয়া শাওয়াল মাসে ছিল।"
আর বায়হাকী এটি ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ানের সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।
এই বর্ণনার সনদটি উরওয়াহ পর্যন্ত সহীহ, তবে এটি মুরসাল।
উলামায়ে কেরাম উরওয়াহ থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটিকে 'শায' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য করেছেন।
ইবনুল কাইয়্যিম এটি তাঁর থেকে উল্লেখ করেছেন এবং এরপর মন্তব্য করেছেন: "এটি একটি ভ্রম, মূলত মক্কা বিজয়ের যুদ্ধই রমজান মাসে হয়েছিল।"
অনুরূপভাবে ইবনে কাসীর ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করেছেন: "এটি উরওয়াহ থেকে বর্ণিত হওয়া অত্যন্ত গরীব (বিস্ময়কর)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতু গাযওয়াতিল হুদায়বিয়্যাহ জামউ ওয়া তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال ابن حجر: "جاء عن هشام بن عروة عن أبيه أنه خرج في رمضان، واعتمر في شوال وشذ بذلك"1.
قلت: وقد وردت عن عروة رواية أخرى توافق الجمهور:
(12) قال البيهقي: قال: يعقوب2: قال حسان3 بن عبد الله: عن ابن لهيعة4 عن أبي الأسود5: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تجهز يريد العمرة، وتجهز معه ناس كثير، وذلك في ذي القعدة سنة ست"6.
هكذا ذكر البيهقي هذه الرواية موقوفة على أبي الأسود لكن ابن القيم وابن كثير صرحا بأن أبا الأسود رواها عن عروة بن الزبير.
قال ابن القيم: "وقد قال أبو الأسود عن عروة: أنها كانت في ذي القعدة على الصواب"7.
وقال ابن كثير: بعد أن حكى قول الجمهور: "وهو الذي رواه ابن لهيعة عن أبي الأسود عن عروة: أنها في ذي القعدة سنة ست"8.
كما جزم ابن حجر حيث قال: وقد وافق أبو الأسود عن عروة الجمهور9.
وسند هذا الأثر ضعيف لأنه معلق فبين البيهقي ويعقوب بن سفيان واسطتان10.
--------------------------------------------
ইবনে হাজার বলেন: "হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রমজান মাসে বের হয়েছিলেন এবং শাওয়াল মাসে উমরাহ পালন করেছিলেন; আর তিনি এই মতের ক্ষেত্রে একাকী বা ভিন্নমত পোষণকারী।"১
আমি বলছি: উরওয়াহ থেকে অন্য একটি বর্ণনা এসেছে যা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা)-এর মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
(১২) বায়হাকী বলেন: ইয়াকুব২ বলেন: হাসসান৩ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: ইবনে লাহিয়াহ৪ থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ৫ থেকে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ করার ইচ্ছা পোষণ করে প্রস্তুতি নিলেন এবং তাঁর সাথে অনেক মানুষও প্রস্তুতি নিলেন; আর এটি ছিল ষষ্ঠ হিজরীর জিলকদ মাসে।"৬
বায়হাকী এই বর্ণনাটি আবুল আসওয়াদের ওপর মাওকুফ (তার নিজস্ব বক্তব্য) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ইবনুল কায়্যিম এবং ইবনে কাসীর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবুল আসওয়াদ এটি উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইবনুল কায়্যিম বলেন: "আবুল আসওয়াদ উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন: সঠিক মত অনুযায়ী এটি জিলকদ মাসে ছিল।"৭
ইবনে কাসীর জমহুরদের মত উল্লেখ করার পর বলেন: "আর এটিই ইবনে লাহিয়াহ আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি ছিল ষষ্ঠ হিজরীর জিলকদ মাসে।"৮
যেমনটি ইবনে হাজার দৃঢ়তার সাথে বলেছেন: "আবুল আসওয়াদ উরওয়াহ থেকে জমহুরদের সাথে একমত হয়েছেন।"৯
এই আসারটির (বর্ণনা) সনদ দুর্বল, কারণ এটি মুআল্লাক; কেননা বায়হাকী এবং ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ানের মাঝে দুজন মধ্যস্থতাকারী রয়েছেন।১০
--------------------------------------------