(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: -)
مرويات السيرة لمسفر الدميني القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مرويات السيرة بين قواعد المحدثين وروايات الإخباريين
المؤلف: مسفر بن غرم الله الدميني
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 35
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসফির আদ-দুমাইনীর সীরাত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)
গ্রন্থ: মুহাদ্দিসগণের নীতিমালা ও ইতিহাসবিদগণের বর্ণনার আলোকে সীরাতের বর্ণনাগুলো
লেখক: মুসফির বিন গুরমুল্লাহ আদ-দুমাইনী
প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদীনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أما بعد، فقد طلب إليّ القائمون على ندوة " عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية " أن أكتب في موضوع:
" مرويات السيرة النبوية بين قواعد المحدثين وروايات الإخباريين "
وهو موضوع شائك، يحتاج إلى تأمل وتفكير عميق، أكثر مما يحتاج إلى مراجع ومصادر، وقد بدأت في التفكير فيه، والإعداد لعناصره مبكراً، لكني وجدته عميقاً جداً، إذ يحتاج إلى مزيد من التأمل والتفكير، ومزيد من ضرب الأمثلة والتطبيق، وإنني على علم بأن مثل هذا الموضوع – الذي يبحث قضية خطيرة مثل هذه - يحتاج إلى مزيد من الوقت، ومزيد من النقاش والحوار.
ولا شك أن عَرْضه على الأساتذة المختصين في هذا المؤتمر مما يثري الموضوع، ويكسبه قوة وعمقاً، وذلك ببيان أوجه القصور في معالجته للمشكلة القائمة، واقتراح الحلول المناسبة لها، وكذا بذكر بعض العناصر والقضايا التي يلزم الباحث تأملها والنظر فيها، والحق أنني في انتظار ملاحظات الناظرين إليه، والسامعين له، فهو في نظري خطة مشروع لكتاب شامل، يعالج هذه القضية من جميع جوانبها، ويبحث نظرياً وتطبيقياً الحلول المناسبة لها، وأَعِدُ مقدّماً بالاستفادة مما يبديه الإخوة المناقشون والفاحصون من ملاحظات، والأخذ بما أراه حقاً وصواباً من ذلك.
وأخيراً فإنني أعتذر عن كل خلل أو قصور في هذا البحث، وأسأل الله تعالى الهداية، والتوفيق، والسداد. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
উপস্থাপনা:নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতঃপর, "সুন্নাহ এবং সীরাতুন নববীর প্রতি সৌদি আরব রাজ্যের যত্ন" শীর্ষক সেমিনার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমার নিকট এই বিষয়ে লেখার অনুরোধ করেছেন:
"মুহাদ্দিসগণের উসুল এবং আখবারি (ইতিহাসবিদ)-গণের বর্ণনার প্রেক্ষাপটে সীরাতুন নববীর বর্ণনাধারা"
এটি একটি জটিল বিষয়, যা রেফারেন্স এবং উৎসের চেয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণার বেশি দাবি রাখে। আমি এটি নিয়ে অনেক আগে থেকেই চিন্তা এবং এর উপাদানগুলো প্রস্তুত করা শুরু করেছি, তবে আমি একে অত্যন্ত গভীর হিসেবে পেয়েছি। কারণ এটি আরও অধিক চিন্তা-ভাবনা এবং আরও অধিক উদাহরণ ও প্রয়োগের দাবি রাখে। আমি জানি যে, এ জাতীয় বিষয়—যা এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে—তা অধিক সময় এবং আরও অধিক আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রাখে।
কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের সামনে এটি উপস্থাপন করা বিষয়টিকে সমৃদ্ধ করবে এবং একে শক্তি ও গভীরতা প্রদান করবে। এটি বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে যে সমস্ত ঘাটতি রয়েছে তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে এবং তার জন্য উপযুক্ত সমাধানের প্রস্তাব করার মাধ্যমে সম্ভব হবে। সেইসাথে এমন কিছু উপাদান ও প্রসঙ্গের অবতারণা করার মাধ্যমেও, যা একজন গবেষকের গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার জন্য অপরিহার্য। সত্য বলতে, আমি এটি পাঠকারী এবং শ্রবণকারীদের মতামতের অপেক্ষায় আছি। আমার দৃষ্টিতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের খসড়া পরিকল্পনা, যা এই সমস্যার সকল দিক নিয়ে কাজ করবে এবং তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে এর উপযুক্ত সমাধানগুলো অনুসন্ধান করবে। আমি আলোচক ও পরীক্ষক ভাইদের প্রদত্ত মন্তব্যসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার এবং তার মধ্য থেকে যা সত্য ও সঠিক বলে মনে করব তা গ্রহণ করার ব্যাপারে অগ্রিম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
পরিশেষে, আমি এই গবেষণার যে কোনো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং মহান আল্লাহর নিকট হেদায়েত, তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২)
عناية السلف بالسنة نقداً وتدويناً:من فضل الله تعالى على هذه الأمة، أن قيَّض لها من يحفظ لها دينها وسنة نبيها محمداً صلى الله عليه وسلم؛ ذلك أن الأمم السابقة لم تكن لها عناية بنقل الكتب التي أنزلها الله على أنبيائه ورسله السابقين، ولا بنقل أقوال وأفعال المرسلين إليها، بل إن كثيراً من علماء تلك الأمم هم الذين غيروا وبدلوا كتبهم، وحرفوا دينهم، فعوضاً عن قيامهم بحفظ الدين – وهم الأمناء عليه - ونَقْلِهِ بأمانةٍ وصدقٍ إلى عموم الخلق، بدّلوه وحرّفوه، واشتروا به ثمناً قليلاً، قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ} [آل عمران:187] وقال: {اشْتَرَوْا بِآياتِ اللَّهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [التوبة:9] .
وأخرج البخاري في صحيحه عَنْ عبد اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ كَيْفَ تَسْأَلُونَ أَهْلَ الْكِتَابِ وَكِتَابُكُمْ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْدَثُ الاخْبَارِ بِاللَّهِ تَقْرَؤونَهُ لَمْ يُشَبْ وَقَدْ حَدَّثَكُمُ اللَّهُ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ بَدَّلُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ وَغَيَّرُوا بِأَيْدِيهِمْ الْكِتَابَ فَقَالُوا: هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً، أَفَلا يَنْهَاكُمْ مَا جَاءَكُمْ مِنْ الْعِلْمِ عَنْ مُسَاءَلَتِهِمْ وَلا وَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا مِنْهُمْ رَجُلا قَطُّ يَسْأَلُكُمْ عَنْ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَيْكُمْ (1) .
--------------------------------------------
সুন্নাহর সমালোচনা ও সংকলনে সালাফদের যত্ন:এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, তিনি এর জন্য এমন একদলকে মনোনীত করেছেন যারা এর দ্বীন এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে সংরক্ষণ করবেন; এর কারণ হলো, পূর্ববর্তী উম্মতগণ তাদের নবী ও রাসূলদের প্রতি মহান আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ কিতাবসমূহ সংরক্ষণের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং তাদের নিকট প্রেরিত রাসূলগণের বাণী ও কার্যাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রেও কোনো যত্ন নেয়নি। বরং সেই সব জাতির বহু আলেমরাই তাদের কিতাবসমূহকে পরিবর্তন ও রদবদল করেছে এবং তাদের দ্বীনকে বিকৃত করেছে। দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করার পরিবর্তে—যেহেতু তারাই ছিল এর আমানতদার—এবং সাধারণ সৃষ্টির নিকট সততা ও সত্যনিষ্ঠার সাথে তা পৌঁছে দেওয়ার বদলে তারা তা পরিবর্তন ও বিকৃত করেছে এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য ক্রয় করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আল্লাহ সেই সব লোকদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল যে, তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না, তখন তারা তা নিজেদের পিঠের পেছনে ফেলে দিল এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করল। সুতরাং তারা যা ক্রয় করল তা কতই না নিকৃষ্ট!} [আল ইমরান: ১৮৭] এবং তিনি বলেন: {তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করেছে, অতঃপর তারা তাঁর পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে; নিশ্চয়ই তারা যা করত তা অতি মন্দ।} [আত-তাওবা: ৯]।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা কীভাবে আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসা করো, অথচ তোমাদের কিতাব যা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ, যা তোমরা পাঠ করো এবং যাতে কোনো ভেজাল বা মিশ্রণ ঘটেনি? মহান আল্লাহ তো তোমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবকে রদবদল করেছে এবং তারা নিজ হাতে কিতাব পরিবর্তন করে বলেছে: 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে', যাতে তারা এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে। তোমাদের নিকট যে জ্ঞান এসেছে তা কি তোমাদেরকে তাদের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে বিরত রাখে না? আল্লাহর কসম, আমরা তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে কখনো দেখিনি যে তোমাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৩)
ويقول ابن حزم: "ما نقله الثقة عن الثقة كذلك حتى يبلغ إلى النبي صلى الله عليه وسلم، يخبر كل واحد منهم باسم الذي أخبره، ونسبه، وكلهم معروف الحال والعين، والعدالة، والزمان والمكان - على أن أكثر ما جاء هذا المجيء فإنه منقول نقل الكواف، إما إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من طرق جماعة من الصحابة رضي الله عنهم، وإما إلى الصاحب، وإما إلى التابع، وإما إلى إمام أخذ عن التابع يعرف ذلك من كان من أهل المعرفة بهذا الشأن والحمد لله رب العالمين - وهذا نقل خصّ الله تعالى به المسملين دون سائر أهل الملل كلها...." انتهى (1) .
أما أمة الإسلام فقد تكفل الله تعالى بحفظ كتابها قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] ، كما أن بيان ذلك الكتاب – وهو السنة – محفوظ بحفظ الله تعالى لكتابه، فلا يتصور أن يكون الكتاب محفوظاً، وبيانه غير محفوظ، ومن هنا قيض الله تعالى للسنة النبوية جهابذة حفاظاً أمناء، نقلوها إلينا غضة طرية كما خرجت من في رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ذلك أن هذه الأمة –أمة الإسلام- هي الأمة القائمة بأمر الله تعالى إلى أن تقوم الساعة، ورسالة محمد صلى الله عليه وسلم هي الرسالة الخاتمة قال تعالى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيماً} [الأحزاب:40] ولا بد للقائم بأمرٍ أن يكون أهلاً له – من حيث
--------------------------------------------
ইবনে হাজম বলেন: "একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে একইভাবে বর্ণিত হওয়া, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; যেখানে বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকেই তাকে সংবাদ প্রদানকারীর নাম ও বংশপরিচয় উল্লেখ করেন এবং তাদের প্রত্যেকের অবস্থা, পরিচয়, ন্যায়পরায়ণতা এবং সময় ও স্থান সুপরিচিত—তা সত্ত্বেও এই ধারায় আগত বর্ণনার অধিকাংশ হলো নিরবচ্ছিন্ন গণ-বর্ণনা (নাকলে কাওয়াফ); যা হয় সরাসরি একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছায়, অথবা কোনো সাহাবী পর্যন্ত, অথবা কোনো তাবেয়ী পর্যন্ত, কিংবা তাবেয়ী থেকে জ্ঞান আহরণকারী কোনো ইমাম পর্যন্ত। যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ তারা তা জানেন। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এটি এমন এক বর্ণনা পদ্ধতি যা আল্লাহ তাআলা অন্য সকল ধর্মাবলম্বীদের বাদ দিয়ে কেবল মুসলিমদেরই দান করেছেন..." সমাপ্ত (১)।
পক্ষান্তরে ইসলামী উম্মতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাদের কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় আমিই এই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]। যেমনভাবে এই কিতাবের ব্যাখ্যা—যা হলো সুন্নাহ—তাও আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণেরই অন্তর্ভুক্ত হয়ে সংরক্ষিত। কারণ কিতাব সংরক্ষিত থাকবে অথচ তার ব্যাখ্যা সংরক্ষিত থাকবে না—এমনটা কল্পনা করা যায় না। একারণেই আল্লাহ তাআলা সুন্নাহর সংরক্ষণে এমন একদল বিজ্ঞ ও আমানতদার হাফেয (সংরক্ষক) নিয়োজিত করেছেন, যারা সুন্নাহকে আমাদের কাছে ঠিক সেভাবেই সতেজ ও অবিকৃতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন যেভাবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছিল। এর কারণ হলো এই উম্মত—উম্মতে মুহাম্মাদী—কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত হলো সর্বশেষ রিসালাত। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ।" [আল-আহযাব: ৪০]। আর কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীলকে অবশ্যই সেই কাজের যোগ্য হতে হয়—যেহেতু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৪)
القوة والقدرة، والصدق والأمانة- قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران:110] وأن يكون مقتنعاً بما لديه من حجة وبرهان، واثقاً به، وبعد ذلك يمكنه أن يقيم الحجة على خصمه، وهذه المؤهلات لا تملكها أمة من الأمم السابقة، بل هي مما خص الله به هذه الأمة.
ومن هذا الباب بيان الرسول صلى الله عليه وسلم لأمته أهمية الصدق، والتحري فيما يُنْقَلُ عنه، وإخباره بأنه سَيُكذَبُ عليه، مما نبّه المسلمين عموماً والصحابة خصوصاً لضرورة التروي في النقل عنه، وتحري أحوال الرواة نَقَلَةِ الأخبار عنه، أخرج مسلمٌ وأحمدُ عن أبي هريرة قَالَ: قال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنْ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلا آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لا يُضِلُّونَكُمْ وَلا يَفْتِنُونَكُمْ" (1) .
وقد عَدّ المحدثون حديث: "مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ" أكثر الأحاديث رواية عنه صلى الله عليه وسلم بإطلاق، فلا يبلغ حديثٌ مبلغَه من الصحة، ولا كثرة عدد رواته من الصحابة رضوان الله عليهم، وهذا يعني أن أكثر الصحابة قد بلغهم خطرُ الكذب عليه، ولذا نجد عدداً منهم يتردد في الرواية عنه، خوفاً من الوقوع في الكذب عليه من حيث لا يدري، ولذلك أقلوا الرواية عنه جداً، وخشي آخرون أن يوقعهم الخطأ - عند رواية حديثه - في وعيد من كذب عليه، فترى أحدهم يعقب روايته لحديثه بقوله " أو كما قال، أو نحو ذلك.- ذلك أن العرب تطلق على الخطأ لفظ الكذب-
--------------------------------------------
শক্তি ও সক্ষমতা, সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতা- আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে} [আলে ইমরান: ১১০] এবং তার কাছে যে দলিল ও প্রমাণ রয়েছে সে বিষয়ে তাকে সন্তুষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, এরপর সে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করতে সক্ষম হবে। এই যোগ্যতাগুলো পূর্ববর্তী কোনো উম্মতের ছিল না, বরং এগুলো সেসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা আল্লাহ এই উম্মতকে বিশিষ্ট করেছেন।
এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর উম্মতের জন্য সত্যবাদিতার গুরুত্ব এবং তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয় তা যাচাই করার গুরুত্ব বর্ণনা করা। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর নামে মিথ্যা বলা হবে, যা সাধারণ মুসলিমদের এবং বিশেষ করে সাহাবীগণকে তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বন এবং তাঁর সংবাদ বহনকারী বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। মুসলিম ও আহমাদ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শেষ যুগে এমন দাজ্জাল ও মিথ্যাবাদীদের আবির্ভাব ঘটবে যারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদীস নিয়ে আসবে যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা কখনো শোননি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থাকো, তারা যেন তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং তোমাদের ফিতনায় ফেলতে না পারে" (১)।
মুহাদ্দিসগণ "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" এই হাদীসটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে নিঃশর্তভাবে সর্বাধিক বর্ণিত হাদীস হিসেবে গণ্য করেছেন। কোনো হাদীসই এর সমপরিমাণ বিশুদ্ধতা কিংবা বর্ণনাকারী সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সংখ্যার দিক থেকে এই পর্যায়ে পৌঁছেনি। এর অর্থ হলো অধিকাংশ সাহাবীর কাছেই তাঁর ওপর মিথ্যা বলার ভয়াবহতা পৌঁছেছিল। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, তাঁদের অনেকেই তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনায় দ্বিধাবোধ করতেন, যেন অজান্তেই তাঁর ওপর মিথ্যারোপের দায়ে পড়ে না যান। এজন্য তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা খুবই কম করতেন। আবার অন্যরা আশঙ্কা করতেন যে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে তা যেন তাঁদেরকে সেই ব্যক্তির শাস্তির অন্তর্ভুক্ত না করে দেয় যে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে। তাই দেখা যায় তাঁদের কেউ কেউ হাদীস বর্ণনার পর বলতেন "অথবা তিনি যেমন বলেছেন", কিংবা "এর অনুরূপ কিছু"। এর কারণ হলো আরবরা ভুলের ক্ষেত্রেও 'মিথ্যা' শব্দটির প্রয়োগ করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وربما أصابت آخرين رعدةٌ وخوفٌ عند روايتهم لحديثه (1) ، أخرج البخاري ومسلم واللفظ له عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ"، وأخرج البخاري عن عبد اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أنه قَالَ لأبيه اِلزُّبَيْرِ: إِنِّي لا أَسْمَعُكَ تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا يُحَدِّثُ فُلانٌ وَفُلانٌ؟ قَالَ: أَمَا إِنِّي لَمْ أُفَارِقْهُ وَلَكِنْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: "مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ" (2) .
ومن هنا بدأت عناية السلف الأول بالسنة النبوية، حفظاً في الكتب والصدور، وروايتها لمن بعدهم بالإسناد المتصل، بنقل الثقة عن الثقة، مع نقدهم لأسانيدها ومتونها، وتحريهم عن أحوال رواتها، ودلائل هذه العناية ثابتة، ونتائجها معروفة، فقد أرسوا قواعد نقد النصوص، حتى شهد لهم العدو قبل الصديق، ويمكننا أن نجتزئ شيئاً يسيراً من عملهم في هذا المجال، أخرج مسلم في مقدمة صحيحه عَنْ طَاوُسٍ قَالَ جَاءَ هَذَا إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - يَعْنِي بُشَيْرَ بْنَ كَعْبٍ - فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا، فَعَادَ لَهُ، ثُمَّ حَدَّثَهُ فَقَالَ لَهُ: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا، فَعَادَ لَهُ فَقَالَ لَهُ – بشير - مَا أَدْرِي أَعَرَفْتَ حَدِيثِي كُلَّهُ وَأَنْكَرْتَ هَذَا، أَمْ أَنْكَرْتَ حَدِيثِي كُلَّهُ وَعَرَفْتَ هَذَا؟ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّا كُنَّا نُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ لَمْ يَكُنْ يُكْذَبُ عَلَيْهِ، فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُول، تَرَكْنَا الْحَدِيثَ عَنْهُ (3) .
--------------------------------------------
সম্ভবত অন্যদের তাঁর (রাসূলের) হাদীস বর্ণনা করার সময় কম্পন ও ভীতি গ্রাস করত, ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের—আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীই আমাকে তোমাদের কাছে অধিক হাদীস বর্ণনা করা থেকে বিরত রাখে যে: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়'।" এবং বুখারী আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতা যুবাইরকে বললেন: "আমি আপনাকে অমুক ও অমুকের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনি না কেন?" তিনি বললেন: "জেনে রাখো, আমি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি, তবে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়'।"
এখান থেকেই সুন্নাহর প্রতি পূর্বসূরি সালাফদের বিশেষ যত্নের সূচনা হয়, গ্রন্থসমূহে ও হৃদয়ে তা সংরক্ষণের মাধ্যমে, এবং বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সনদে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা বর্ণনার মাধ্যমে। সাথে সাথে তাঁরা হাদীসের সনদ ও মতন (মূল পাঠ) সমালোচনা করতেন এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা তদন্ত করতেন। এই যত্নের প্রমাণাদি সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এর ফলাফল সুপরিচিত। তাঁরাই মূলত পাঠ্য পর্যালোচনার মূলনীতিসমূহ স্থাপন করেছেন, যার স্বীকৃতি বন্ধুর আগে শত্রুও দিয়েছে। আমরা এই ক্ষেত্রে তাঁদের কাজের সামান্য অংশ তুলে ধরতে পারি; ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইনি—অর্থাৎ বুশাইর ইবনে কাব—ইবনে আব্বাসের কাছে আসলেন এবং হাদীস বর্ণনা করতে লাগলেন। তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: "অমুক ও অমুক হাদীসটি পুনরায় বর্ণনা করো।" তিনি পুনরায় বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি আবার তাকে বললেন: "অমুক ও অমুক হাদীসটি পুনরায় বর্ণনা করো।" তিনি পুনরায় বর্ণনা করলেন। তখন বুশাইর তাকে বললেন: "আমি বুঝতে পারছি না, আপনি কি আমার সব হাদীস চিনতে পেরেছেন আর কেবল এটিই প্রত্যাখ্যান করছেন, নাকি আমার সব হাদীস প্রত্যাখ্যান করছেন আর কেবল এটিই চিনতে পেরেছেন?" ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: "আমরা এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা হতো না। কিন্তু যখন মানুষ ‘কঠিন ও সহজ’ সব পথে চলতে শুরু করল (অর্থাৎ বাছবিচারহীন হয়ে পড়ল), তখন আমরা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ছেড়ে দিলাম (অর্থাৎ বর্ণনায় অতি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করলাম)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৬)
كما أخرج عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: جَاءَ بُشَيْرٌ الْعَدَوِيُّ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَجَعَلَ يُحَدِّثُ وَيَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ لا يَأْذَنُ لِحَدِيثِهِ، ولا يَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ، مَالِي لا أَرَاكَ تَسْمَعُ لِحَدِيثِي؟ أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ولا تَسْمَعُ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاس: إِنَّا كُنَّا مَرَّةً إِذَا سَمِعْنَا رَجُلاً يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ابْتَدَرَتْهُ أَبْصَارُنَا، وَأَصْغَيْنَا إِلَيْهِ بِآذَانِنَا، فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُولَ، لَمْ نَأْخُذْ مِنْ النَّاسِ إلَاّ ما نَعْرِفُ (1) .
فهذا ابن عباس صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم يبدأ نقد المنقول عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيناقش بشيراً العدوي هذا فيما يرويه، ويراجعه فيه، وبُشَيْرٌ الْعَدَوِيُّ هذا ليس دجالاً وكذاباً، بل هو أحد القراء الزهاد العباد، [وقد وثقه النسائي وغيره، له ترجمة في سير أعلام النبلاء] (2) .
ونَقْدُ ابنِ عباس لما سمعه من بشير العدوي موجه إلى ما يرويه له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم – أعني إلى النص المروي لا إلى الراوي– ولا شك أن ابن عباس يعرفه جيداً ولو أنه اتهمه، أو اتهم من روى عنه لذكر ذلك، وانظر إلى خبره الآخر الذي أخرجه مسلم أيضاً في مقدمة صحيحه: عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ: كَتَبْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، أَسْأَلُهُ أَنْ يَكْتُبَ لِي كِتَابًا، وَيُخْفِي عَنِّي، فَقَالَ: وَلَدٌ نَاصِحٌ، أَنَا أَخْتَارُ لَهُ الأُمُورَ اخْتِيَارًا، وَأُخْفِي عَنْهُ، قَالَ: فَدَعَا بِقَضَاءِ عَلِيٍّ، فَجَعَلَ يَكْتُبُ مِنْهُ أَشْيَاءَ، وَيَمُرُّ بِهِ الشَّيْءُ فَيَقُولُ: وَاللَّهِ مَا قَضَى بِهَذَا عَلِيٌّ إلَاّ
--------------------------------------------
যেমন মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: বুশাইর আল-আদাউয়ী ইবনে আব্বাসের নিকট এলেন এবং হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করে বলতে লাগলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিন্তু ইবনে আব্বাস তার হাদীসের প্রতি কর্ণপাত করছিলেন না এবং তার দিকে তাকাচ্ছিলেন না। তখন তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাস, কী হলো যে আমি আপনাকে আমার হাদীস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করছি আর আপনি শুনছেন না! তখন ইবনে আব্বাস বললেন: একসময় আমরা যখন কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন আমাদের দৃষ্টি দ্রুত তার দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তার কথা শুনতাম। কিন্তু মানুষ যখন ভালো-মন্দ সব পথে চলতে শুরু করল (অর্থাৎ বাছবিচারহীন হয়ে পড়ল), তখন থেকে আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করি যা আমাদের পরিচিত (১)।
ইবনে আব্বাস, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়ের সমালোচনা শুরু করেন। তিনি এই বুশাইর আল-আদাউয়ীর বর্ণিত হাদীস নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন। এই বুশাইর আল-আদাউয়ী কোনো দাজ্জাল বা চরম মিথ্যাবাদী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একজন ক্বারী, যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) এবং ইবাদতগুজার ব্যক্তি। [নাসাঈ এবং অন্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য বা সিকাহ বলেছেন, 'সিয়ারু আলামিন নুবালা'-তে তার জীবনী রয়েছে] (২)।
বুশাইর আল-আদাউয়ীর কাছ থেকে ইবনে আব্বাস যা শুনেছেন তার সমালোচনা ছিল মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার বর্ণিত হাদীসের প্রতি—অর্থাৎ বর্ণিত পাঠের (মতন) প্রতি, বর্ণনাকারীর (রাবী) প্রতি নয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইবনে আব্বাস তাকে ভালোভাবে চিনতেন। যদি তিনি তাকে অভিযুক্ত করতেন বা যার কাছ থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তাকে অভিযুক্ত করতেন, তবে তিনি তা অবশ্যই উল্লেখ করতেন। ইমাম মুসলিম তার 'সহীহ' গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (উপক্রমণিকায়) বর্ণিত অন্য একটি খবর দেখুন: ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের কাছে এই অনুরোধ জানিয়ে পত্র লিখলাম যেন তিনি আমার জন্য একটি কিতাব লিখে দেন এবং আমার থেকে (অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো) গোপন রাখেন। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: সে একজন হিতাকাঙ্ক্ষী সন্তান, আমি তার জন্য বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচন করে দেব এবং (অপ্রয়োজনীয়গুলো) তার থেকে গোপন রাখব। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি আলীর ফয়সালা বা বিচারকার্য সংক্রান্ত নথি আনালেন এবং সেখান থেকে কিছু বিষয় লিখতে লাগলেন। যখনই কোনো একটি বিষয়ের ওপর দিয়ে তিনি অতিক্রম করতেন, তখন তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম, আলী এ ফয়সালা করেননি যদি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
أَنْ يَكُونَ ضَلَّ (1) .
وعَنْ طَاوُسٍ قَالَ أُتِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِكِتَابٍ فِيهِ قَضَاءُ عَلِيٍّ رضي الله عنه، فَمَحَاهُ إلَاّ قَدْرَ -وَأَشَارَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ بِذِرَاعِهِ- (2) .
فقوله:" وَاللَّهِ مَا قَضَى بِهَذَا عَلِيٌّ إلَاّ أَنْ يَكُونَ ضَلَّ " نقدٌ مبنيٌ على نكارة ما نقل عنه، وأنه لو كان صحيحاً أنه قضى به لكان ضالاً، ولمّا امتنع عليه الضلال – فهو إمام هدى – فالنقل عنه غلطٌ وخطأ مردود، قال النووي في تعليقه عليه: ومعناه:" ما يقضي بهذا إلا ضال، ولا يقضي به علي رضي الله عنه إلا أن يُعرفَ أنه ضل، وقد عُلِمَ أنه لم يَضل فيُعلم أنه لم يقض به" (3) .
وصنيع ابن عباس المتقدم، وما أثر عن عائشة رضي الله تعالى عنها من نقد لعدد من المرويات، وكذا غيرهما من الصحابة كان أخذاً بتحذير رسول الله صلى الله عليه وسلم من تلك الروايات الباطلة.
--------------------------------------------
ব্যতীত যে তিনি পথভ্রষ্ট হয়েছেন (১) ।
তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাসের নিকট একটি কিতাব নিয়ে আসা হল যাতে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিচারকার্য লিপিবদ্ধ ছিল। অতঃপর তিনি তার সামান্য অংশ ব্যতীত বাকি সব মুছে ফেললেন - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ তাঁর হাত (বাহু) দিয়ে সেটির পরিমাণ ইশারা করলেন - (২)।
সুতরাং তাঁর বক্তব্য: "আল্লাহর কসম, আলী এই বিচার করেননি, ব্যতীত এর যে তিনি পথভ্রষ্ট হয়েছেন" - এটি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত বিষয়ের অস্বীকৃতি বা অগ্রহণযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে একটি সমালোচনা। আর যদি এটি সত্য হতো যে তিনি এই ফয়সালা করেছেন, তবে তিনি পথভ্রষ্ট হতেন। অথচ তাঁর ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হওয়া অসম্ভব - কেননা তিনি হেদায়াতের ইমাম - তাই তাঁর পক্ষ থেকে এই বর্ণনাটি ভুল এবং একটি প্রত্যাখ্যাত ত্রুটি। ইমাম নববী এর ব্যাখ্যায় বলেন: "এর অর্থ হল: পথভ্রষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কেউ এই বিচার করবে না। আর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি বিচার করতেন না যতক্ষণ না জানা যেত যে তিনি পথভ্রষ্ট হয়েছেন। অথচ এটি সুনিশ্চিত যে তিনি পথভ্রষ্ট হননি, ফলে এটিও জানা গেল যে তিনি এই বিচার করেননি" (৩)।
ইবনে আব্বাসের পূর্বোক্ত এই আমল এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বেশ কিছু বর্ণনার সমালোচনার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, এবং একইভাবে অন্যান্য সাহাবীগণের কর্মকাণ্ড - তা ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই সকল বাতিল বর্ণনা সম্পর্কে সতর্কবার্তাকে গ্রহণ করারই প্রতিফলন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
شروط قبول الرواية عند المحدثين:لا بد من الإشارة إلى شروط قبول الرواية عند المحدثين، سواء المتقدمون منهم أو المتأخرون، قبل البدء في تقرير منهج نقد مرويات السيرة والتأريخ، وأهم هذه العناصر سنأخذها من كتابات المتقدمين من المحدثين قبل إفراد علوم الحديث بالتدوين، وإنما اخترت هؤلاء الأئمة المتقدمين، ذاكراً شروطهم في
মুহাদ্দিসগণের নিকট বর্ণনা গ্রহণের শর্তাবলি:সিরাত ও ইতিহাসের বর্ণনা সমালোচনার পদ্ধতি নির্ধারণ করার পূর্বে, মুহাদ্দিসগণের নিকট বর্ণনা গ্রহণের শর্তাবলি—চাই তারা পূর্ববর্তী হোন বা পরবর্তী—উল্লেখ করা আবশ্যক। এই উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমরা হাদীস শাস্ত্র স্বতন্ত্রভাবে সংকলিত হওয়ার পূর্বের মুতাকাদ্দিম মুহাদ্দিসগণের রচনাবলি থেকে গ্রহণ করব। মূলত আমি এই অগ্রবর্তী ইমামগণকেই নির্বাচন করেছি এবং তাঁদের শর্তাবলি উল্লেখ করছি...
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৮)
الرواية المقبولة، لتأكيد أمر مهم وهو: معرفة المحدثين – في ذلك الزمان المتقدم، الذي دوّن فيه كتَّابُ التأريخ والسير كتبَهم - لشروط الرواية المقبولة، التي تثبت بها الحجة، وأن هذه الشروط ليست من صنيع المتأخرين من المحدثين – بعد عصر التدوين- الذين جاؤوا بعد أن دوّن كتَّابُ التأريخ والسير كتُبهم ومصنفاتهم، بل كانوا جميعاً – المحدثون وكتاب التأريخ والسير- في عصر واحد بل وبلد واحد، وهؤلاء وأولئك رحلوا، وطلبوا العلم، وسأل كل طائفة منهم الشيوخ المعروفين بحمل العلم عن بغيتهم ومرادهم، كما سألوا بعض الناس عن المواقع والمشاهد، والقبائل والأشخاص، ودونوا ما أخذوه منهم في مصنفاتهم، فلماذا اختلفت شروطهم ومناهجهم؟ هذا ما سأحاول الإجابة عنه في هذا البحث.
إذا علمنا أن أبا عبد الله الحاكم يعد من أول المصنفين في علوم الحديث، فسنبحر قبله بقرنين من الزمان – تقريباً- ونبدأ بالإمام الشافعي (ت:204هـ) الذي يعد كتابه الرسالة جامعاًً بين علوم شتى، من الفقه وأصوله، والحديث وعلومه، حيث يقول في كتابه (الرسالة) :"ولا تقوم الحجة بخبر الخاصة حتى يجمع أمورا منها أن يكون من حدّث به ثقة في دينه، معروفا بالصدق في حديثه، عاقلاً لما يحدث به، عالماً بما يحيل معاني الحديث من اللفظ، [أ] وأن يكون ممن يؤدي الحديث بحروفه كما سمع - لا يحدث به على المعنى؛ لأنه إذا حدث على المعنى وهو غير عالم بما يحيل به معناه لم يدر لعله يحيل الحلال إلى حرام، وإذا أداه بحروفه فلم يبق وجه يخاف فيه إحالته الحديث - حافظاً إذا حدّث به من حفظه، حافظاً لكتابه إذا حدّث من كتابه، إذا شَرِكَ أهل الحفظ في حديث وافق حديثهم، بريئاً من أن يكون مدلساً - يحدث عن من لقي ما
গ্রহণযোগ্য বর্ণনা, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করার জন্য, আর তা হলো: মুহাদ্দিসগণের জ্ঞান—সেই প্রাচীন যুগে যখন ইতিহাস ও জীবনীকারগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছিলেন—গ্রহণযোগ্য বর্ণনার শর্তাবলি সম্পর্কে, যার মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শর্তগুলো সংকলন যুগের পরবর্তী মুহাদ্দিসদের উদ্ভাবন নয়—যারা ইতিহাস ও জীবনীকারদের গ্রন্থ ও সংকলন রচনার পর এসেছিলেন—বরং তাঁরা সকলেই—মুহাদ্দিস এবং ইতিহাস ও জীবনীকারগণ—একই যুগে এমনকি একই জনপদে ছিলেন। তাঁরা সকলেই দেশ ভ্রমণ করেছেন, ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই ইলমের ধারক হিসেবে পরিচিত শায়খদের কাছে তাঁদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। যেমন তাঁরা নির্দিষ্ট স্থান, যুদ্ধের ময়দান, গোত্র ও ব্যক্তিদের সম্পর্কেও মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা তাঁদের সংকলনসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাহলে কেন তাঁদের শর্তাবলি ও কর্মপন্থা ভিন্ন হলো? এই গবেষণায় আমি সেই উত্তর দেওয়ারই চেষ্টা করব।
যদি আমরা জানি যে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম উলূমুল হাদিসের অন্যতম আদি সংকলক হিসেবে গণ্য হন, তবে আমরা তাঁরও প্রায় দুই শতাব্দী আগে ফিরে যাব—প্রায়—এবং ইমাম শাফিয়ী (মৃত্যু: ২০৪ হিজরি) থেকে শুরু করব, যাঁর ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থটি ফিকহ ও উসুল এবং হাদিস ও তার উলূমসহ নানাবিধ শাস্ত্রের একটি আধার হিসেবে বিবেচিত। সেখানে তিনি তাঁর ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থে বলেন: “বিশেষ সংবাদ (খবরুল খাসসাহ) দ্বারা দলিল ততক্ষণ প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না তাতে বেশ কিছু বিষয় একত্রিত হয়। তার মধ্যে রয়েছে: বর্ণনাকারী তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত হবেন, তাঁর বর্ণনায় সত্যবাদিতার জন্য পরিচিত হবেন, যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে বিচক্ষণ হবেন, এবং শব্দের মারপ্যাঁচে হাদিসের অর্থ কীভাবে পরিবর্তিত হয় সে সম্পর্কে অবগত হবেন। [ক] এবং তাঁকে এমন হতে হবে যিনি হাদিসের শব্দগুলো ঠিক সেভাবেই আদায় করবেন যেভাবে তিনি শুনেছেন—অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করবেন না; কারণ তিনি যদি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করেন অথচ অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞাত না হন, তবে তিনি বুঝতে পারবেন না যে সম্ভবত তিনি হালালকে হারামে রূপান্তরিত করে ফেলছেন। আর যদি তিনি শব্দগুলোকে অবিকল পৌঁছে দেন, তবে অর্থ পরিবর্তনের কোনো আশঙ্কা থাকবে না। যদি তিনি স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেন তবে স্মৃতিতে তা উত্তমরূপে সংরক্ষণকারী হতে হবে, আর যদি কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে কিতাব সংরক্ষণকারী হতে হবে। যখন তিনি হিফজ বা মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শীদের সাথে কোনো হাদিসে শরিক হবেন, তখন যেন তাঁর হাদিস তাঁদের হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তিনি মুদাল্লিস হওয়া থেকে মুক্ত হবেন—যিনি যার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তার থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা...
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ৯)
لم يسمع منه - ويحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يحدث الثقات خلافه عن النبي صلى الله عليه وسلم ويكون هكذا من فوقه ممن حدثه حتى ينتهي بالحديث موصولاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى من انتهى به إليه دونه، لأن كل واحد منهم مثبتٌ لمن حدّثه، ومثبت على من حدّث عنه، فلا يستغني في كل واحد منهم عما وصفت " وقال أيضاً:" ومن كثر غلطه من المحدثين ولم يكن له أصل كتاب صحيح لم نقبل حديثه.... وأهل الحديث متباينون: فمنهم المعروف بعلم الحديث - بطلبه وسماعه من الأب والعم وذوي الرحم والصديق وطول مجالسة أهل التنازع فيه - ومن كان هكذا كان مقدماً بالحفظ، إن خالفه من يقصر عنه كان أولى أن يقبل حديثه ممن خالفه من أهل التقصير عنه ويعتبر على أهل الحديث بأن إذا اشتركوا في الحديث عن الرجل بأن يستدل على حفظ أحدهم بموافقة أهل الحفظ، وعلى خلاف حفظه بخلاف حفظ أهل الحفظ له، وإذا اختلفت الرواية استدللنا على المحفوظ منها والغلط بهذا ووجوه سواه، تدل على الصدق والحفظ والغلط، قد بيناها في غير هذا الموضع وأسأل الله التوفيق (1) .
وينقل الخطيب البغدادي في (الكفاية في علم الرواية) عن الحميدي أبي بكر عبد الله بن الزبير، شيخ البخاري (ت: 219 هـ) أنه قال: فإن قال قائل: فما الحديث الذي يثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويلزمنا الحجة به؟ قلت: هو أن يكون الحديث ثابتاً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، متصلاً غير مقطوع، معروف الرجال، أو يكون حديثاً متصلاً، حدثنيه ثقةٌ معروفٌ عن رجلٍ جهلتُه،
--------------------------------------------
তাঁর থেকে শোনেননি—অথচ তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা তাঁর বিপরীতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁর উপরের স্তরের যারা তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন তাদের অবস্থাও অনুরূপ হয়, যতক্ষণ না হাদিসটি নিরবচ্ছিন্নভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছায় অথবা তাঁর আগের কোনো ব্যক্তি পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। কারণ তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বিষয়টি সাব্যস্ত হয় যে কে তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আমি যা বর্ণনা করেছি তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন: "মুহাদ্দিসদের মধ্যে যার ভুল অধিক এবং যার কাছে কোনো সহীহ মূল পাণ্ডুলিপি নেই, আমরা তার হাদিস গ্রহণ করি না... আর হাদিসবিদগণ ভিন্ন ভিন্ন স্তরের: তাদের মধ্যে কেউ হাদিস শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ—হাদিস অনুসন্ধান এবং পিতা, চাচা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের থেকে শ্রবণের মাধ্যমে এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের দীর্ঘ সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে। যিনি এরূপ গুণসম্পন্ন, তিনি মুখস্থ রাখার (হিফজ) ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হবেন। যদি তাঁর চেয়ে নিম্নস্তরের কেউ তাঁর বিরোধিতা করে, তবে সেই নিম্নস্তরের ব্যক্তির চেয়ে এই ব্যক্তির হাদিস গ্রহণ করা অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। আর মুহাদ্দিসদের এভাবে যাচাই করা হয় যে, যখন তাঁরা কোনো এক ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনায় শরিক হন, তখন তাঁদের মধ্যে একজনের মুখস্থ শক্তির নির্ভুলতা সাব্যস্ত করা হয় অন্যান্য হাফেজদের বর্ণনার সাথে মিল থাকার মাধ্যমে। আর তাঁর মুখস্থের ত্রুটি সাব্যস্ত করা হয় হাফেজদের বর্ণনার সাথে অমিল থাকার মাধ্যমে। বর্ণনার মধ্যে যখন মতপার্থক্য হয়, তখন কোনটি সংরক্ষিত এবং কোনটি ভুল, তা আমরা এর মাধ্যমে এবং এর বাইরে অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে চিহ্নিত করি, যা সত্যতা, মুখস্থ শক্তি ও ভুল নির্দেশ করে। আমি এই বিষয়টি অন্য স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এবং আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করি (১)।
খতিব আল-বাগদাদী তাঁর (আল-কিফায়াহ ফী ইলম আল-রিওয়ায়াহ) গ্রন্থে বুখারীর উস্তাদ হুমায়দী আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবাইর (মৃত্যু: ২১৯ হিজরি) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হাদিস কোনটি যা আমাদের জন্য দলিল হিসেবে পালন করা অপরিহার্য? আমি বললাম: তা হলো সেই হাদিস যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত, যা নিরবচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্ন নয়, যার বর্ণনাকারীগণ পরিচিত; অথবা এমন নিরবচ্ছিন্ন হাদিস যা আমার কাছে কোনো সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাকে আমি চিনি না,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وعرفه الذي حدثني عنه، فيكون ثابتاً يعرفه من حدثنيه عنه، حتى يصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
كما نقل - في الكفاية- أيضاً عن محمد بن يحيى الذهلي (ت:258هـ) شيخ البخاري أنه كان يقول: "ولا يجوز الاحتجاج إلا بالحديث الموصل، غير المنقطع، الذي ليس فيه رجل مجهول، ولا رجل مجروح، وقال أيضاً: لا يكتب الخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم حتى يرويه ثقة عن ثقة حتى يتناهى الخبر إلى النبي صلى الله عليه وسلم بهذه الصفة ولا يكون فيهم رجل مجهول ولا رجل مجروح فإذا ثبت الخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذه الصفة وجب قبوله والعمل به وترك مخالفته (1) .
كما نقل (ص 20) عن قتادة (ت: 117هـ) قال: لا يحمل هذا الحديث عن صالح عن طالح، ولا عن طالح عن صالح، حتى يكون صالح عن صالح.
وعن أحمد بن يزيد بن هارون قال: إنما هو صالح عن صالح، وصالح عن تابع، وتابع عن صاحب، وصاحب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، عن جبرائيل، وجبرائيل عن الله عز وجل (2) .
وهذه النقولات عن الأئمة المتقدمين في شروط الخبر الصحيح تدل على أنهم بدؤوا قديماً جداً في تقرير مناهجهم في نقد الأخبار، ومعرفة صحيحها من سقيمها.
ولو تأملنا كلام الشافعي المتقدم لتبين لنا أنه يشترط للخبر الذي تقوم به
--------------------------------------------
এবং যে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন তাকে তিনি চেনেন, ফলে এটি সাব্যস্ত হবে এবং যিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তিনি তাকে চেনেন, যতক্ষণ না তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে।
যেভাবে আল-কিফায়া গ্রন্থে বুখারীর উস্তাদ মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী (মৃত্যু: ২৫৮ হি.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: "বিচ্ছিন্ন নয় এমন মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হাদিস ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েয নয়, যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি নেই এবং কোনো ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিও নেই।" তিনি আরও বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত সংবাদ ততক্ষণ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করা হবে না যতক্ষণ না একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অপর একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেন, এভাবে এই বৈশিষ্ট্যের সাথে সংবাদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। তাদের মধ্যে যেন কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি না থাকে এবং কোনো ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তি না থাকে। সুতরাং যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বৈশিষ্ট্যের সাথে সংবাদটি সাব্যস্ত হবে, তখন তা গ্রহণ করা, সে অনুযায়ী আমল করা এবং তার বিরোধিতা বর্জন করা ওয়াজিব হবে (১)।
যেভাবে (পৃষ্ঠা ২০) কাতাদাহ (মৃত্যু: ১১৭ হি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "এই হাদিস কোনো সৎ ব্যক্তি থেকে অসৎ ব্যক্তি বর্ণনা করবে না, আবার কোনো অসৎ ব্যক্তি থেকে সৎ ব্যক্তিও বর্ণনা করবে না, যতক্ষণ না তা সৎ ব্যক্তি থেকে সৎ ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত হয়।"
এবং আহমাদ বিন ইয়াযীদ বিন হারুন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এটি হলো একজন সৎ ব্যক্তি থেকে অপর একজন সৎ ব্যক্তি, সৎ ব্যক্তি থেকে তাবিঈ, তাবিঈ থেকে সাহাবী এবং সাহাবী থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি জিবরাঈল থেকে এবং জিবরাঈল মহান আল্লাহর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন (২)।
সহিহ খবরের (সংবাদের) শর্তাবলি সম্পর্কে পূর্ববর্তী ইমামদের এই উদ্ধৃতিগুলো প্রমাণ করে যে, তারা সংবাদের সমালোচনা এবং তার মধ্য থেকে সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত সংবাদ নির্ণয়ের পদ্ধতি নির্ধারণে অনেক পূর্বেই কাজ শুরু করেছিলেন।
আমরা যদি ইমাম শাফিঈর পূর্বোক্ত বক্তব্যটি গভীরভাবে চিন্তা করি, তবে আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে যে, তিনি এমন খবরের জন্য শর্তারোপ করেছেন যার দ্বারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحجة شروطاً عدة، هي: عدالة الراوي في دينه، وهو ما عبر عنه بقوله: أن يكون من حدّث به ثقة في دينه، معروفاً بالصدق في حديثه، عاقلاً لما يحدث به.
ضبطه لما يرويه، سواء في صدره أو في كتابه، حيث قال: حافظاً إذا حدّث به من حفظه، حافظاً لكتابه إذا حدّث من كتابه، عالماً بما يحيل معاني الحديث من اللفظ، لأنه إذا حدث على المعنى وهو غير عالم بما يحيل به معناه لم يدر لعله يحيل الحلال إلى حرام، وإذا أداه بحروفه فلم يبق وجه يخاف فيه إحالته الحديث.
اتصال الإسناد: حيث قال: ويكون هكذا من فوقه ممن حدثه، حتى ينتهي بالحديث موصولاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى من انتهى به إليه دونه، لأن كل واحد منهم مثبتٌ لمن حدّثه، ومثبتٌ على من حدّث عنه، فلا يستغني في كل واحد منهم عما وصفت.
كما أشار إلى شروط أخرى متعلقة بما تقدم، منها: عدم مخالفة من هو أولى منه، والسلامة من التدليس، والانقطاع، والجهالة.
وقد اشترط كل من الحميدي والذهلي في الحديث المقبول من الشروط نحواً مما اشترط الشافعي، حيث اشترطا فيه: اتصال الإسناد، وثقة الراوي، مع السلامة من الجرح والجهالة.
وهنا نعلم أن أهم شروط الحديث الصحيح عند المحدثين هي:
عدالة الراوي، وضبطه لحديثه.
اتصال الإسناد بين الراوي وبين من يروي عنه.
দলীলযোগ্য হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে, সেগুলো হলো: বর্ণনাকারীর দ্বীনদারী বা ন্যায়পরায়ণতা; যে সম্পর্কে তিনি এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে: যার মাধ্যমে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে তাকে তার দ্বীন পালনে নির্ভরযোগ্য হতে হবে, তার হাদীস বর্ণনায় সত্যবাদিতার জন্য প্রসিদ্ধ হতে হবে এবং তিনি যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।
তিনি যা বর্ণনা করছেন তাতে তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি বা নির্ভুলতা থাকা, চাই তা তাঁর অন্তরে (স্মৃতিতে) থাকুক কিংবা তাঁর কিতাবে। যেমন তিনি বলেছেন: যদি তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেন তবে তাকে হিফাযতকারী হতে হবে, আর যদি তাঁর কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে তাঁর কিতাবের সংরক্ষণকারী হতে হবে। এছাড়া শব্দের কারণে হাদীসের অর্থ যে পরিবর্তিত হয়ে যায়, সে বিষয়ে তাকে জ্ঞানী হতে হবে। কারণ, যদি তিনি অর্থগতভাবে হাদীস বর্ণনা করেন অথচ অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞাত না হন, তবে তিনি বুঝতে পারবেন না যে সম্ভবত তিনি হালালকে হারামে রূপান্তরিত করে ফেলেছেন। আর যদি তিনি হুবহু শব্দসহ তা বর্ণনা করেন, তবে হাদীসের অর্থ পরিবর্তনের কোনো ভয় থাকে না।
সনদের ধারাবাহিকতা: যেমন তিনি বলেছেন: তার ঊর্ধ্বস্থ ব্যক্তি যার নিকট থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ হতে হবে, যতক্ষণ না হাদীসটি নিরবচ্ছিন্নভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত অথবা নবী ব্যতীত অন্য যার নিকট সমাপ্ত হয়েছে তার নিকট পৌঁছায়। কারণ তাদের প্রত্যেকেই যার নিকট হাদীস বর্ণনা করছেন তার নিকট নির্ভরযোগ্য এবং যার থেকে বর্ণনা করছেন তার বর্ণনার সত্যতা নিশ্চিতকারী। তাই তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আমি যা বর্ণনা করেছি তা অপরিহার্য।
এছাড়াও তিনি পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু শর্তের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: নিজের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বিরোধিতা না করা, এবং তাদলীস, ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) ও জাহালাত (পরিচয়হীনতা) থেকে মুক্ত থাকা।
ইমাম হুমাইদী এবং ইমাম যুহলী উভয়েই গ্রহণযোগ্য হাদীসের ক্ষেত্রে ইমাম শাফিয়ী যা শর্ত করেছেন তারই অনুরূপ শর্তারোপ করেছেন। তারা সেখানে শর্ত করেছেন: সনদের ধারাবাহিকতা এবং বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা, পাশাপাশি দোষারোপ (জারহ) এবং পরিচয়হীনতা (জাহালাত) থেকে মুক্ত থাকা।
এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, মুহাদ্দিসগণের নিকট সহীহ হাদীসের প্রধান শর্তগুলো হলো:
বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা এবং হাদীসের ক্ষেত্রে তার নির্ভুলতা।
বর্ণনাকারী এবং যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন তাদের মাঝে সনদের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১২)
عدم مخالفة الراوي لمن هو أولى منه.
هذه مجمل شروط الرواية عند المحدثين، فما شروط كتاب السير والتأريخ في مروياتهم؟
إن الناظر في مؤلفاتهم – المخصوصة بالسيرة - لا يرى لديهم شروطاً خاصة بهم، بل يراهم متساهلين في كثير من مروياتهم، فلا يشترطون العدالة، فتراهم يروون عن شيوخ مجاهيل لا يعرفون، وكذا الضبط؛ فلا تراهم يردون خبراً لأن راويه لا يضبط حديثه، وأخيراً اتصال الإسناد فلم أرهم يولونه الاهتمام اللائق، فالأخبار المرسلة والمعضلة والتي لا إسناد لها كثيرة في مروياتهم، وهذا يعني أنهم لا يشترطون فيها ما يشترطه عموم المحدثين في مروياتهم.
বর্ণনাকারীর তার চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য কারো বিরোধিতা না করা।
এগুলো হলো মুহাদ্দিসগণের নিকট বর্ণনার সংক্ষিপ্ত শর্তাবলি। তবে সীরাত ও ইতিহাস লেখকদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের শর্তাবলি কী?
নিশ্চয়ই যারা তাদের সীরাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, তারা সেখানে তাদের নিজস্ব কোনো বিশেষ শর্ত দেখতে পান না; বরং তাদের অনেক বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়। তারা বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতার শর্তারোপ করেন না, ফলে দেখা যায় তারা এমন সব অজ্ঞাত শিক্ষকদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের পরিচয় জানা যায় না। তদ্রূপ নির্ভুলতা বা সংরক্ষণের বিষয়টিও; কোনো বর্ণনাকারী তার হাদীস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে তারা কোনো বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেন না। পরিশেষে, সনদের নিরবচ্ছিন্নতা; আমি তাদের এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিতে দেখিনি। তাদের বর্ণনাসমূহে মুরসাল, মু'দাল এবং সনদবিহীন বর্ণনার সংখ্যা প্রচুর। এর অর্থ হলো, সাধারণ মুহাদ্দিসগণ তাদের বর্ণনায় যেসব শর্তারোপ করেন, সীরাত ও ইতিহাস লেখকগণ তাদের বর্ণনায় সেসব শর্তারোপ করেন না।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أسباب تفاوت شروط الرواية بين المحدثين وكتاب التأريخ والسير:إذا عرفنا شروط قبول الرواية – ولو إجمالاً – عند المحدثين، فلعلنا نتلمس أسباب تفاوت المعايير بين المصنفين في الحديث النبوي والمصنفين في السير والتأريخ، وهي كما سيرى القارئ بعضها متعلق ببعض، ومرتبط به، ومبني عليه، لكن التقسيم الفني لا يمنع من تفريقها وتنويعها.
أول الأسباب – في نظري – وأولاها هو الغرض من التصنيف والجمع، فالمحدثون غرضهم جمع الأدلة التي يمكن أن تستنبط منها الأحكام الشرعية المختلفة، ومن ذلك ما يدخل تحت مسمى السيرة النبوية، وعادة أن من يريد الاستدلال على أمر فإنه لا يورد له إلا ما كان مقبولاً عنده، أو صالحاً للانجبار في نظره على الأقل، أما المصنفون في السيرة فإن اهتمامهم بالسيرة أشمل وأوسع، فيهمهم أن يجمعوا فيها أموراً كثيرة لا تشغل - عادة - بال المحدثين، ومن ذلك مثلاً تحديد مواقع الغزوات جغرافياً، وتواريخها، وأسماء من حضرها، وقبائلهم وأسنانهم، وخيلهم ومراكبهم، وتفاصيل أخرى دقيقة لا ينبني على أكثرها حكم شرعي.
والأمر الثاني: - مبنيٌ على السابق - وهو الشيوخ الذين أخذ عنهم كل من الطائفتين، ودرجة كل منهم، فتلك التفاصيل والجزئيات اليسيرة، إذا لم يجدها المحدث بإسناد يرضاه ربما زهد في أخذها عن ذلك الشيخ الذي يرويها له، وربما أخذها عنه لكنه أهمل روايتها فيما بعد، كما أن كثيراً من الأخبار والمعلومات ما يكون متداولاً بين الناس، وربما كان مشهوراً عندهم، لكنهم
মুহাদ্দিসগণ এবং ইতিহাস ও সীরাত রচয়িতাদের মাঝে বর্ণনার শর্তাবলির পার্থক্যের কারণসমূহ:মুহাদ্দিসগণের নিকট বর্ণনা গ্রহণের শর্তাবলি—সংক্ষেপে হলেও—যদি আমাদের জানা থাকে, তবে আমরা সম্ভবত নববী হাদীসের সংকলক এবং সীরাত ও ইতিহাসের সংকলকগণের মাঝে মানদণ্ডের পার্থক্যের কারণসমূহ অনুধাবন করতে পারব। পাঠক যেমনটি দেখবেন, এই কারণগুলোর একটি অপরটির সাথে সংশ্লিষ্ট, সম্পৃক্ত এবং তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তবে কারিগরি বিভাজন সেগুলোকে পৃথক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে বাধা দেয় না।
আমার দৃষ্টিতে প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো সংকলন ও সংগ্রহের উদ্দেশ্য। মুহাদ্দিসগণের উদ্দেশ্য হলো এমন সব দলিল সংগ্রহ করা যেখান থেকে বিভিন্ন শারঈ বিধান আহরণ করা সম্ভব; যার মধ্যে সীরাতে নববী হিসেবে গণ্য বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত যিনি কোনো বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করতে চান, তিনি কেবল এমন বর্ণনা উপস্থাপন করেন যা তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য অথবা অন্তত তাঁর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে। অন্যদিকে সীরাত রচয়িতাদের আগ্রহ সীরাতের ব্যাপারে অধিকতর ব্যাপক ও বিস্তৃত। তাঁরা সীরাতের এমন অনেক বিষয় সংগ্রহ করতে গুরুত্ব দেন যা সাধারণত মুহাদ্দিসগণের ভাবনার বিষয় নয়। উদাহরণস্বরূপ, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী যুদ্ধগুলোর (গাযওয়াত) স্থান নির্ধারণ, সেগুলোর তারিখ, অংশগ্রহণকারীদের নাম, তাঁদের গোত্র, বয়স, তাঁদের ঘোড়া ও সওয়ারি এবং আরও অনেক সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি বিষয়, যার অধিকাংশের ওপর কোনো শারঈ বিধান নির্ভর করে না।
দ্বিতীয় বিষয়টি—যা পূর্ববর্তী বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত—তা হলো সেই সব উস্তাদ যাঁদের কাছ থেকে উভয় দল জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের মান। সেই সূক্ষ্ম ও ক্ষুদ্র খুঁটিনাটি বিষয়গুলো যদি মুহাদ্দিস তাঁর পছন্দসই সনদে না পান, তবে সম্ভবত তিনি সেই উস্তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করার ব্যাপারে বিমুখ থাকেন যিনি তাঁকে এটি বর্ণনা করছেন। অথবা হতে পারে তিনি তাঁর কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছেন কিন্তু পরবর্তীকালে তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে উপেক্ষা করেছেন। তেমনিভাবে অনেক সংবাদ ও তথ্য মানুষের মাঝে প্রচলিত থাকে এবং সম্ভবত তাঁদের কাছে প্রসিদ্ধও হয়, কিন্তু তাঁরা
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لا يجدون له إسناداً متصلاً أو صحيحاً، فالإخباري لا يقف عند هذه الشروط التي تفقده كثيراً من مصادره، ومادته العلمية.
كما أن كثيراً من الأخبار التي يرويها أولئك الشيوخ المجهولون – أو المجروحون - كثيراً ما تكون غريبة ونادرة، وإذا كان الناس عامة يميلون إلى سماع الغريب، فإن طالب العلم أحرص على حمل الغريب وروايته، ليتفرد عن أقرانه بما ليس عندهم، لكنه حينئذٍ يكون عرضة للاتهام، وربما جُرِحَ لذلك، وخاصة إذا أكثر منه، قال الخطيب البغدادي:" وأكثر طالبي الحديث في هذا الزمان يغلب على إرادتهم كتب الغريب دون المشهور، وسماع المنكر دون المعروف
… " (1) .
الأمر الثالث: وهو الشيوخ الذين روى عنهم كل من الطائفتين – وعبرت هنا بالرواية وليس الأخذ، لأن الأخذ المجرد عن الشيخ الضعيف لا يضر الراوي إذا لم يرو عنه – ذلك أن الراوي يتأثر توثيقاً وتجريحاً – عادة - بمن يروي عنه، ولذا ليس له أن يروي إلا عن ثقة مقبول الرواية، غير متهم في دينه ولا حديثه، ومن هنا رأينا غالب المحدثين يسمعون من كل أحد، لكنهم عند الرواية ينتقون شيوخهم الذين يروون عنهم، ويزهدون في الرواية عن المجروحين والمجهولين الذين لا يعرفون، من ذلك قول أبي حاتم الرازي:" إذا كتبت فقمش وإذا حدثت ففتش " قال العراقي: كأنه أراد؛ اكتب الفائدة ممن سمعتها، ولا تؤخر حتى تنظر هل هو أهلٌ للأخذ عنه أم لا؟ فربما فات ذلك بموته أو سفره أو غير ذلك، فإذا كان وقت الرواية أو العمل ففتش حينئذ،
--------------------------------------------
তারা এর জন্য কোনো সংযুক্ত বা সহীহ সনদ পায় না; তাই সংবাদ বর্ণনাকারী (আখবারি) এমন শর্তাবলির তোয়াক্কা করেন না, যা তাকে তার অনেক উৎস ও ইলমি উপাদান থেকে বঞ্চিত করবে।
তেমনিভাবে সেইসব অজ্ঞাত—বা সমালোচিত—শায়খদের বর্ণিত অনেক সংবাদই প্রায়শই অদ্ভুত ও বিরল হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ যেহেতু অদ্ভুত বিষয় শোনার প্রতি ঝুঁকে থাকে, তাই ইলম অন্বেষী ছাত্ররা অদ্ভুত বা বিরল বর্ণনা সংগ্রহ ও তা বর্ণনা করার প্রতি অধিক আগ্রহী হয়, যাতে সে তার সমসাময়িকদের কাছে নেই এমন বিষয়ের মাধ্যমে তাদের থেকে অনন্য হতে পারে। কিন্তু এমতাবস্থায় সে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে এবং সম্ভবত সে কারণে তাকে সমালোচিত হতে হয়, বিশেষ করে যদি সে এটি অধিক মাত্রায় করে থাকে। আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন: "এই যমানার অধিকাংশ হাদিস অন্বেষীর সংকল্পের ওপর প্রসিদ্ধ বর্ণনার পরিবর্তে বিরল বর্ণনা লেখা এবং পরিচিত বর্ণনার পরিবর্তে প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা শোনার প্রবণতা প্রবল হয়ে দাঁড়িয়েছে
... " (১)।
তৃতীয় বিষয়: সেইসব শায়খ যাদের থেকে উভয় দল বর্ণনা করেছেন—আমি এখানে বর্ণনা (রেওয়ায়েত) শব্দ ব্যবহার করেছি, গ্রহণ (আখয) নয়। কারণ দুর্বল শায়খের কাছ থেকে কেবল শিক্ষা গ্রহণ করা বর্ণনাকারীর জন্য ক্ষতিকর নয় যদি সে তার থেকে বর্ণনা না করে—কারণ একজন বর্ণনাকারী সাধারণত যার কাছ থেকে বর্ণনা করে তার দ্বারাই নির্ভরযোগ্যতা বা সমালোচনার (তাউসিক ও তাজরিহ) ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়। তাই তার জন্য নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী ছাড়া অন্য কারও থেকে বর্ণনা করা উচিত নয়, যিনি তার দ্বীন বা হাদিসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নন। এ কারণেই আমরা দেখি যে অধিকাংশ মুহাদ্দিস প্রত্যেকের কাছ থেকেই শ্রবণ করতেন, কিন্তু বর্ণনা করার সময় তারা তাদের শায়খদের বাছাই করতেন যাদের থেকে তারা বর্ণনা করবেন এবং তারা সমালোচিত ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বিমুখ থাকতেন। এ প্রসঙ্গে আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: "যখন তুমি লিখবে তখন সব জমা করো, আর যখন বর্ণনা করবে তখন যাচাই করো।" আল-ইরাকি বলেন: যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন; যার কাছ থেকেই শুনেছ তার থেকে উপকারটি লিখে নাও, আর সে গ্রহণের উপযুক্ত কি না তা দেখার জন্য দেরি করো না; কারণ তার মৃত্যু বা সফর বা অন্য কোনো কারণে তা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তবে যখন বর্ণনা করার বা আমল করার সময় আসবে, তখন যাচাই করো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال السخاوي:" غير أنه يغتفر في الطلب ما لا يغتفر في الأداء
… " انتهى (1) .
والناظر في شيوخ كل من الفريقين يجد بوناً شاسعاً، فأهل السير أكثروا الرواية عن المجهولين والمجروحين، ويكفي أن نطالع كتاباً من كتبهم لتجد هذا الأمر واضحاً، ويكفي أن تراجع شيوخ الواقدي لتعلم صدق هذا الأمر، بخلاف غالب المحدثين الذين يعتنون بانتقاء الأسانيد والشيوخ.
والرابع: كثرة الأحاديث التي انفرد بها المصنفون في التأريخ والسير، وغرابتها، وهذا مما يؤثر عادة في صاحبه، ذلك أن كثرة الأخبار الغريبة في حديث الراوي سبب من أسباب ضعفه، قال مالك: شر العلم الغريب، وخير العلم الظاهر الذي قد رواه الناس. وقال عبد الرزاق: كنا نرى أن غريب الحديث خيٌر فإذا هو شرٌ، وقال الإمام أحمد: لا تكتبوا هذه الأحاديث الغرائب فإنها مناكير وعامتها عن الضعفاء، وعن أبي يوسف القاضي قال: من اتبع غريب الحديث كذب، ومن طلب المال بالكيمياء أفلس، ومن طلب الدين بالكلام تزندق (2) .
بل إن الراوي الثقة إذا ذهب إلى غير بلده استحب له أن يتجنب رواية الغرائب، حتى لا يتهمه أولئك بالكذب، لأنهم قد لا يعرفونه، ولا يعلمون صدقه وثقته كما يعرفه أهل بلده، فإذا سمعوا منه تلك الغرائب ربما اتهموه بالتزيد والكذب، أو بالغفلة والخطأ، أخرج البخاري في صحيحه عن
--------------------------------------------
আস-সাখাভী বলেছেন: "তবে অন্বেষণের ক্ষেত্রে যা ক্ষমা করা হয়, বর্ণনার ক্ষেত্রে তা ক্ষমা করা হয় না..." সমাপ্ত (১)।
উভয় দলের শিক্ষকদের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি এক বিশাল ব্যবধান দেখতে পাবেন। জীবনচরিতকারগণ (আহলুস সিয়ার) অজ্ঞাত এবং সমালোচিত ব্যক্তিদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্য তাদের কোনো একটি কিতাব অধ্যয়ন করাই যথেষ্ট এবং এ কথার সত্যতা জানার জন্য আল-ওয়াকিদীর শিক্ষকদের তালিকা পর্যালোচনা করাই যথেষ্ট। এর বিপরীতে অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের অবস্থা ভিন্ন, যারা সনদ ও শিক্ষক নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করেন।
চতুর্থত: ইতিহাস ও জীবনচরিত লেখকদের এককভাবে বর্ণিত হাদিসের আধিক্য এবং সেগুলোর অদ্ভুত হওয়া; আর এটি সাধারণত বর্ণনাকারীর ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ, রাবীর বর্ণনায় অদ্ভুত বা বিরল সংবাদের আধিক্য তার দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ। ইমাম মালিক বলেন: সবচেয়ে নিকৃষ্ট ইলম হলো বিরল বা অদ্ভুত (গারিব) ইলম, আর সর্বোত্তম ইলম হলো প্রকাশ্য ইলম যা মানুষ বর্ণনা করেছে। আব্দুর রাজ্জাক বলেন: আমরা মনে করতাম বিরল হাদিস উত্তম, কিন্তু দেখা গেল তা নিকৃষ্ট। ইমাম আহমাদ বলেন: তোমরা এই বিরল হাদিসগুলো লিখো না, কারণ এগুলো অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) এবং এগুলোর অধিকাংশই দুর্বলদের মাধ্যমে বর্ণিত। কাজী আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি বিরল হাদিসের অনুসরণ করবে সে মিথ্যা বলবে, যে কিমিয়ার (আলকেমি) মাধ্যমে সম্পদ খুঁজবে সে দেউলিয়া হবে এবং যে কালাম শাস্ত্রের মাধ্যমে দ্বীন খুঁজবে সে যিনদীক হবে (২)।
এমনকি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন নিজ শহরের বাইরে অন্য কোথাও যান, তখন তার জন্য বিরল বর্ণনা এড়িয়ে চলা মুস্তাহাব, যাতে সেখানকার লোকেরা তাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত না করে। কারণ তারা তাকে না-ও চিনতে পারে এবং তার সত্যবাদিতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে তাদের তেমন জ্ঞান না-ও থাকতে পারে যা তার নিজ শহরের মানুষের রয়েছে। ফলে যখন তারা তার থেকে এসব অদ্ভুত কথা শুনবে, তখন সম্ভবত তারা তাকে অতিরঞ্জন ও মিথ্যাচার, অথবা অসতর্কতা ও ভুলের দায়ে অভিযুক্ত করবে। বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
علي قال: "حَدِّثُوا النَّاس بِمَا يَعْرِفُونَ، أَتُحِبُّونَ أَنْ يُكَذَّبَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " (1) ، وقال ابن مسعود: ما أنت بمحدثٍ قوماً حديثاً لا تبلغه عقولهم، إلا كان لبعضهم فتنة " رواه مسلم (2) ، وقال النخعي: كانوا يكرهون إذا اجتمعوا أن يخرج الرجل أحسن ما عنده، قال السمعاني: عنى بالأحسن " الغريب" (3) .
وقال عيسى بن يونس:" ينبغي للرجل أن يتوقى رواية غريب الحديث، فإني أعرف رجلاً كان يصلي في اليوم مائتي ركعة، ما أفسده عند الناس إلا رواية غريب الحديث
… " (4) .
ويلتحق بذلك الروايات الشاذة والمنكرة، فالراوي الذي يخالف الثقات في حديثه، ربما أضر ذلك به، ولاسيما إذا كثرت مخالفته لمن هو أولى منه، وانظر إلى كلام الشافعي المتقدم:".... ومن كان هكذا كان مقدماً بالحفظ، إن خالفه من يقصر عنه كان أولى أن يقبل حديثه ممن خالفه من أهل التقصير عنه
… ".
هذه أهم أسباب تفاوت شروط نقد المرويات عند كل من المحدثين وكتاب السير في نظري.
--------------------------------------------
আলী বলেন: "মানুষের কাছে তাদের বোধগম্য বিষয় অনুযায়ী বর্ণনা করো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হোক?" (১), এবং ইবনে মাসউদ বলেন: "তুমি যখন কোনো সম্প্রদায়ের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা তাদের বুদ্ধি অনুধাবন করতে সক্ষম নয়, তখন তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)। নাখায়ি বলেন: "তাঁরা (সালাফগণ) যখন সমবেত হতেন, তখন কোনো ব্যক্তি তার কাছে থাকা সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি উপস্থাপন করাকে অপছন্দ করতেন।" সামআনি বলেন: "সবচেয়ে বিস্ময়কর বলতে তিনি 'গারিব' বা বিরল হাদিস বুঝিয়েছেন" (৩)।
ঈসা ইবনে ইউনুস বলেন: "একজন ব্যক্তির উচিত বিরল হাদিস বর্ণনা করা থেকে সতর্ক থাকা। কেননা আমি এমন একজন ব্যক্তিকে চিনতাম যিনি প্রতিদিন দুইশ রাকাত নামাজ পড়তেন, কিন্তু মানুষের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল বিরল হাদিস বর্ণনা করা
… " (৪)।
এর সাথে শায (বিচ্যুত) এবং মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনাগুলোও যুক্ত হবে। সুতরাং যে বর্ণনাকারী তার হাদিসে নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা করেন, সম্ভবত তা তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে যখন তার চেয়ে অধিক যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে তার বিরোধের মাত্রা বেড়ে যায়। ইমাম শাফেয়ির পূর্বোক্ত বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করুন: "...আর যিনি এমন ছিলেন যে হিফজ বা মুখস্থ শক্তিতে অগ্রগণ্য ছিলেন, যদি তার চেয়ে কম যোগ্য কেউ তার বিরোধিতা করে, তবে সেই ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তির বিরোধিতার তুলনায় অগ্রগণ্য ব্যক্তির হাদিস গ্রহণ করাই অধিক সমীচীন হবে
… "।
আমার দৃষ্টিতে মুহাদ্দিসগণ এবং সিরাত রচয়িতাদের নিকট বর্ণিত বিষয়সমূহ পর্যালোচনার শর্তাবলির ভিন্নতার এগুলোই হলো প্রধান কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المعايير المقترحة لنقد المرويات في السيرة:لا بد قبل البحث في هذه المسألة من تأمل مسألتين متعلقتين بهذا الاقتراح:
المسألة الأولى: معرفة الهدف من نقد مرويات السيرة والتأريخ ودراستها.
إذا علمنا أن الغرض من دراسة الحديث الشريف، إنما هو لمعرفة المقبول الذي يؤخذ به، ويعمل بموجبه، ولمعرفة الضعيف الذي لا تقوم به الحجة، ولا يلزم العمل به، فما الغرض إذن من دراسة مرويات السيرة والتأريخ عموماً؟
وللجواب عن هذا السؤال يمكن القول: إن مرويات السيرة والتأريخ تنقسم إلى قسمين، قسم منها ثابت كثبوت الأحاديث النبوية الأخرى، فمنها ما ورد في الصحيحين والسنن والمسانيد والسير وغيرها من مصادر السنة الأخرى بأسانيد مقبولة عند أهل الفن، وهذه لا كلام فيها، حيث يمكن البناء عليها، واستنباط الدروس والعبر منها، وأخذ الأحكام الشرعية المتنوعة من ثناياها.
وقسم آخر لم يثبت حسب منهج المحدثين، فلا تسلم طرقها من جهالة أو جرح في رواتها، أو انقطاع وإعضال وإرسال في أسانيدها، وهذا القسم لا يصلح للعمل بموجبه حسب الأحكام التكليفية - من وجوب وندب وكراهة وتحريم – لأنه لا يمكن أن نحكم بشيء مما تقدم إلا بعد ثبوت الدليل، والحكم الشرعي لا يثبت بدليل واهٍ.
وما دامت دراسة هذا القسم من مرويات السيرة والتأريخ لا يثبت به
সীরাত বিষয়ক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার প্রস্তাবিত মানদণ্ডসমূহ:এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পূর্বে এই প্রস্তাবের সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন:
প্রথম বিষয়: সীরাত ও ইতিহাসের বর্ণনাগুলোর সমালোচনা এবং তা অধ্যয়নের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানা।
আমরা যদি জানি যে, হাদীস শরীফ অধ্যয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রহণযোগ্য বর্ণনাগুলো সম্পর্কে জানা—যা গ্রহণ করা হবে এবং যার ওপর আমল করা হবে; আর দুর্বল বর্ণনাগুলো চেনা—যার মাধ্যমে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং যার ওপর আমল করা আবশ্যক নয়; তাহলে সাধারণভাবে সীরাত ও ইতিহাসের বর্ণনাগুলো অধ্যয়নের উদ্দেশ্য কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়: সীরাত ও ইতিহাসের বর্ণনাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ হলো প্রমাণিত বর্ণনা, যা অন্যান্য নববী হাদীসের মতোই প্রমাণিত। এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সহীহাইন, সুনান, মাসানিদ, সীরাত গ্রন্থ এবং সুন্নাহর অন্যান্য উৎসসমূহে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনাগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কারণ এর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়, এ থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা সম্ভব এবং এর মধ্য থেকে বিভিন্ন প্রকার শরঈ বিধান আহরণ করা যায়।
আর অন্য ভাগটি হলো এমন যা মুহাদ্দিসগণের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রমাণিত নয়। এর সূত্রগুলো বর্ণনাকারীদের পরিচয়হীনতা অথবা তাদের ওপর আপত্তি থেকে মুক্ত নয়; অথবা এগুলোর সনদে বিচ্ছিন্নতা, জটিলতা বা ইরসাল রয়েছে। এই ভাগটি তাকলীফি বিধানসমূহের—যেমন ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মাকরূহ ও হারাম—ক্ষেত্রে আমল করার যোগ্য নয়। কারণ দলিল প্রমাণিত হওয়া ব্যতীত উল্লিখিত কোনো বিষয়ের ফয়সালা করা সম্ভব নয়, আর শরঈ বিধান কোনো দুর্বল দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।
আর যেহেতু সীরাত ও ইতিহাসের বর্ণনাগুলোর এই অংশটি অধ্যয়নের মাধ্যমে কোনো কিছু প্রমাণিত হয় না...
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حكم شرعي، فما الغرض إذن من نقدها ودراستها؟
الذي يظهر لي - والله أعلم - أن دراسة هذا القسم إنما هو للاستئناس بما ورد به، وأخذ العظة والعبرة منه – إن كان مقبولاً - أو للمعرفة الذهنية المجردة، أو لغير ذلك من الأمور، وفي هذه الحال أرى أننا في حاجة إلى استعمال نقد المتن حسب المعايير المعتبرة، أو ما يسميه الغربيون " النقد الداخلي ".
المسألة الثانية – التي وعدنا ببحثها – هي: هل صحة الإسناد تستلزم صحة المتن؟ فإذا صح الإسناد لزم منه أن يكون المتن صحيحاً، وينبني على هذا أمرٌ آخر هو: ألا يمكن أن تكون تلك الأخبار التي وصفت أسانيدها بأنها غير صحيحة – أي ضعيفة أو موضوعة - صحيحة في الأمر نفسه؟
هذان الأمران قد نص عليهما المحدثون في كتبهم، حيث قرروا ذلك في قاعدتين:
الأولى: أن صحة الإسناد لا تستلزم صحة المتن، فقد يصح الإسناد ولا يصح المتن لشذوذ أو علة.
قال ابن الصلاح: قد يقال " هذا حديث صحيح الإسناد " ولا يصح، لكونه شاذاً أو معللاً (1) .
وقال ابن القيم: وقد عُلِمَ أن صحة الإسناد شرط من شروط صحة الحديث، وليست موجبة لصحة الحديث، فإن الحديث إنما يصح بمجموع
--------------------------------------------
একটি শরয়ী বিধান, তাহলে এগুলো সমালোচনা ও অধ্যয়ন করার উদ্দেশ্য কী?
আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় - এবং আল্লাহই ভালো জানেন - এই বিভাগের অধ্যয়ন মূলত এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ এবং তা থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা - যদি তা গ্রহণযোগ্য হয় - অথবা নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান অর্জন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের জন্য। এমতাবস্থায় আমি মনে করি যে, আমাদের নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড অনুযায়ী মতনের সমালোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাকে পাশ্চাত্যরা "অভ্যন্তরীণ সমালোচনা" বলে অভিহিত করেন।
দ্বিতীয় মাসআলা - যা আমরা আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম - তা হলো: সনদের বিশুদ্ধতা কি মতনের বিশুদ্ধতাকে অপরিহার্য করে? অর্থাৎ যদি সনদ সহীহ হয়, তবে কি এর দ্বারা মতন সহীহ হওয়া আবশ্যক হয়? এর ওপর ভিত্তি করে আরেকটি বিষয় সামনে আসে: যেসব সংবাদের সনদকে অশুদ্ধ - অর্থাৎ যঈফ বা জাল - হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলো কি বাস্তবে সঠিক হওয়া সম্ভব নয়?
মুহাদ্দিসগণ তাদের কিতাবসমূহে এই দুটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তারা এগুলোকে দুটি মূলনীতির মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন:
প্রথমটি: সনদের বিশুদ্ধতা মতনের বিশুদ্ধতাকে অপরিহার্য করে না; কেননা কখনো সনদ সহীহ হতে পারে কিন্তু শায (অস্বাভাবিকতা) বা ইল্লাত (সুক্ষ্ম ত্রুটি)-এর কারণে মতন সহীহ নাও হতে পারে।
ইবনুস সালাহ বলেছেন: কখনো বলা হয় "এই হাদীসের সনদ সহীহ", কিন্তু হাদীসটি সহীহ নয়, কারণ সেটি শায অথবা মুয়াল্লাল (১)।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: এটি জানা কথা যে, সনদের বিশুদ্ধতা হাদীস সহীহ হওয়ার শর্তসমূহের একটি শর্ত মাত্র, এটি হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ কারণ নয়; কেননা হাদীস মূলত সমষ্টিগতভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أمور منها: صحة سنده، وانتفاء علته، وعدم شذوذه ونكارته، وأن لا يكون راويه قد خالف الثقات أو شذ عنهم (1) .
وقال الأنصاري: لأنه لا تلازم بين الإسناد والمتن صحة وحسناً، إذ قد يصح الإسناد أو يحسن لاجتماع شروطه – من الاتصال والعدالة والضبط – دون المتن لقادح من شذوذ أو علة (2) .
وقال ابن الجوزي: وقد يكون الإسناد كله ثقات، ويكون الحديث موضوعاً أو مقلوباً، أو قد جرى فيه تدليس، وهذا من أصعب الأمور، ولا يعرف ذلك إلا النقاد (3) .
وعلى هذا سائر من كتب من المحدثين في علوم الحديث.
ومن هذه النصوص نستفيد أموراً منها:
- أن الإسناد ليس كل شيء في الحكم على الخبر، بل لا بد من تضافر أمور أخرى متعلقة بالمتن.
- أن النظر إلى المتن – عند الحكم على الحديث - كان موضع اهتمام لدى المحدثين، وأنهم لم يغفلوه عند حكمهم عليه.
- أن المتون الواردة بأسانيد لم يحكم لها بالصحة يمكن النظر فيها ونقدها، والحكم عليها بحكم مناسب لها، وليس شرطاً أن يكون حكماً بالصحة أو الحسن، بل يمكن أن يكون حكماً بالإمكان والوقوع، أو
--------------------------------------------
বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: এর সনদের বিশুদ্ধতা, এর ত্রুটি (ইল্লাত) না থাকা, এর অস্বাভাবিকতা (শুযুয) এবং আপত্তিকরতা (নাকারা) না থাকা, এবং এর বর্ণনাকারী যেন নির্ভরযোগ্যদের (সিক্বাহ) বিরোধিতা না করেন অথবা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না হন (১)।
আনসারী বলেন: কেননা সহিহ ও হাসান হওয়ার ক্ষেত্রে সনদ ও মতনের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। কারণ, শর্তগুলো—যেমন অবিচ্ছিন্নতা (ইত্তিসাল), ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) এবং স্মৃতিশক্তি (দব্ত)—থাকার কারণে সনদ সহিহ বা হাসান হতে পারে, কিন্তু অস্বাভাবিকতা (শুযুয) বা ত্রুটির (ইল্লাত) মতো কোনো দোষের কারণে মতনটি তেমন নাও হতে পারে (২)।
ইবনুল জাওযী বলেন: এমন হতে পারে যে সনদের বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য, কিন্তু হাদিসটি বানোয়াট (মাওযু) অথবা উলটপালট (মাকলুব), অথবা তাতে তাদলিস করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা বিশেষজ্ঞ সমালোচকগণ ছাড়া আর কেউ জানেন না (৩)।
হাদিসশাস্ত্রের ওপর কিতাব রচনাকারী অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিও এটিই।
এই পাঠ্যগুলো থেকে আমরা কিছু বিষয় জানতে পারি, যার মধ্যে রয়েছে:
- সংবাদের ব্যাপারে হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে সনদই সবকিছু নয়, বরং মতনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোর সমন্বয়ও আবশ্যক।
- হাদিসের ব্যাপারে হুকুম দেওয়ার সময় মতন পর্যালোচনা করা মুহাদ্দিসগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয় ছিল এবং তারা এর ওপর হুকুম দেওয়ার সময় একে অবহেলা করেননি।
- যে মতনগুলো এমন সনদে বর্ণিত হয়েছে যেগুলোকে সহিহ বলা হয়নি, সেগুলো পর্যালোচনা ও সমালোচনা করা সম্ভব এবং সেগুলোর ওপর উপযুক্ত হুকুম প্রদান করা যায়। এটি আবশ্যক নয় যে হুকুমটি কেবল সহিহ বা হাসান হতে হবে, বরং তা সম্ভব হওয়া বা সংঘটিত হওয়ার হুকুমও হতে পারে, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالتكذيب والاستحالة ونحوه من الأحكام المناسبة.
والقاعدة الثانية: وهي أن الحكم على الحديث بعدم الصحة لا يعني أنه كذب أو موضوع، فقد يكون صحيحاً في حقيقة الأمر، قال ابن الصلاح: "إذا قالوا في حديث إنه غير صحيح، فليس ذلك قطعاً بأنه كذب في نفس الأمر، إذ قد يكون صدقاً في نفس الأمر، وإنما المراد به أنه لم يصح إسناده على الشرط المذكور" (1) .
وقال الكمال بن الهمام في فتح القدير: لقائل أن يقول: الحكم بالضعف والصحة إنما هو في الظاهر، أما في نفس الأمر فيجوز صحة ما حكم بضعفه ظاهراً (2) .
وعلى هذا فموضوع بحثنا هو الأحاديث والآثار والأخبار والقصص والسير الواردة بأسانيد ضعيفة أو واهية أو موضوعة.
وهنا أمرٌ ينبغي التنبيه له: وهو أن الأحايث التي حُكم عليها بالوضع نوعان: منها ما حكم عليه بالوضع بالنظر إلى إسناده، ومنها ما حكم عليه بالوضع بالنظر إلى متنه، فأما ما حكم عليه بالوضع بالنظر إلى إسناده فقط، حيث ورد من طريق راوٍ كذابٍ أو دجال ونحوه، دون سبب آخر في متن الحديث، فهذه يمكن النظر فيها وتطبيق المقاييس المقترحة عليها، فقد يكون الحديث معقولاً أو مقبولاً، إذ لا يبعد أن يصدق الكاذب، أو يصيب المخطئ، بل لو اعترف الواضع بوضعه لاحتمل أن يكون كاذباً في اعترافه ذلك.
--------------------------------------------
মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, অসম্ভব হওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য যথাযথ বিধানের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় নিয়ম: কোনো হাদিসের ওপর সহিহ না হওয়ার বিধান প্রদানের অর্থ এই নয় যে তা মিথ্যা বা বানোয়াট; কেননা বাস্তব ক্ষেত্রে সেটি সহিহ হতে পারে। ইবনুস সালাহ বলেন: "যখন তাঁরা কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন যে এটি সহিহ নয়, তখন এর মাধ্যমে বাস্তব ক্ষেত্রে সেটি মিথ্যা হওয়া অবধারিত হয় না, কারণ বাস্তবে সেটি সত্যও হতে পারে। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী এর সনদটি সহিহ সাব্যস্ত হয়নি" (১)।
কামাল ইবনুল হুমাম ফাতহুল কাদিরে বলেন: কোনো প্রবক্তা বলতে পারেন যে, দুর্বলতা বা সহিহ হওয়ার বিধান প্রদান কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে; আর বাস্তব ক্ষেত্রে সেই হাদিসটি সহিহ হওয়া সম্ভব, যার ওপর বাহ্যিকভাবে দুর্বল হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে (২)।
এর ওপর ভিত্তি করে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো সেই সকল হাদিস, আসার, সংবাদ, কিচ্ছা এবং সিরাত, যা দুর্বল, অত্যন্ত দুর্বল বা বানোয়াট সনদে বর্ণিত হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় সতর্ক করা আবশ্যক: আর তা হলো, যে হাদিসগুলোর ওপর বানোয়াট হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে তা দুই প্রকার। এর মধ্যে কিছু এমন যার ওপর বানোয়াট হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে তার সনদের দিকে লক্ষ্য করে, আর কিছু এমন যার ওপর বানোয়াট হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে তার মতনের (মূল পাঠের) দিকে লক্ষ্য করে। সুতরাং যে হাদিসটির ওপর কেবল সনদের ভিত্তিতে বানোয়াট হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে—যেহেতু তা মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী বা চরম প্রতারক এবং এই জাতীয় কারো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং হাদিসের মতনে অন্য কোনো কারণ নেই—সেগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে এবং তার ওপর প্রস্তাবিত মানদণ্ডসমূহ প্রয়োগ করা যেতে পারে। কেননা হাদিসটি বুদ্ধিগ্রাহ্য বা গ্রহণযোগ্য হওয়া অসম্ভব নয়। কারণ এটি অসম্ভব নয় যে, একজন মিথ্যাবাদীও সত্য বলতে পারে অথবা ভুলকারীও সঠিক কথা বলতে পারে; বরং যদি কোনো জালকারী হাদিস জাল করার স্বীকারোক্তিও দেয়, তবে তার সেই স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রেও সে মিথ্যাবাদী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أما ما حُكِمَ عليه بالوضع بالنظر إلى متنه، لنكارته ومعارضته لكتاب الله تعالى، أو للمقطوع به من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو لغير ذلك من الأمور المبينة في موضعها، فهذا مقطوع بوضعه واختلاقه، ولا ينظر فيه ولا كرامة.
وقد قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْماً بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات:6] .
وأخرج البخاري في صحيحه عن أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: وَكَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحِفْظِ زَكَاةِ رَمَضَانَ، فَأَتَانِي آتٍ، فَجَعَلَ يَحْثُو مِنْ الطَّعَامِ، فَأَخَذْتُهُ، فَقُلْتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَقَالَ: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ، لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنْ اللَّهِ حَافِظٌ، ولا يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ، ذَاكَ شَيْطَانٌ" (1) .
قال الحافظ ابن حجر: وفي الحديث من الفوائد: أن الشيطان قد يعلم ما ينتفع به المؤمن، وأن الحكمة قد يتلقاها الفاجر فلا ينتفع بها وتؤخذ عنه فينتفع بها، وأن الكافر قد يصدق ببعض ما يصدق به المؤمن ولا يكون بذلك مؤمنا، وبأن الكذاب قد يصدق (2) .
وإذن فقد يصدق الوضاع فيما يرويه من حديث، وإنما لم يقبله المحدثون منه ولو تاب من كذبه، احتياطاً للدين، وعقوبة له، وردعاً لغيره ممن يتجرأ على الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحذراً من أن يكون كاذباً في حديثه.
--------------------------------------------
আর যার মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার মাধ্যমে জাল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তার অসংগতি এবং মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অকাট্য বিষয়ের সাথে বিরোধের কারণে অথবা এর স্বস্থানে বর্ণিত অন্যান্য কারণে—তবে তা জাল এবং বানোয়াট হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত। এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না এবং এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসেক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বস এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও।" [আল-হুজুরাত: ৬]।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমজানের জাকাত (ফিতরা) পাহারার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন এক আগন্তুক এসে অঞ্জলি ভরে খাদ্যবস্তু নিতে শুরু করল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম: আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাব। এরপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, (শয়তান আবু হুরায়রা রা.-কে বলল:) "যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে তোমাকে সত্য বলেছে, অথচ সে চরম মিথ্যাবাদী। সে ছিল শয়তান।" (১) ।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এই হাদিসে অনেক শিক্ষণীয় দিক রয়েছে: শয়তান এমন কিছু জানতে পারে যা মুমিনের উপকারে আসে; প্রজ্ঞা বা জ্ঞান পাপাচারী ব্যক্তির কাছ থেকেও অর্জিত হতে পারে যা থেকে সে নিজে উপকৃত না হলেও তার থেকে গ্রহণ করে অন্য কেউ উপকৃত হতে পারে; কাফের ব্যক্তি মুমিন যা বিশ্বাস করে তার কোনো কোনো বিষয়ে বিশ্বাস পোষণ করতে পারে, কিন্তু সে কারণে সে মুমিন হয়ে যায় না; এবং চরম মিথ্যাবাদীও কখনো সত্য কথা বলতে পারে (২) ।
সুতরাং, হাদিস জালকারী ব্যক্তি তার বর্ণিত হাদিসে কখনো সত্য বলতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুহাদ্দিসগণ তার থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করেননি—যদিও সে তার মিথ্যাচার থেকে তওবা করে—দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন হিসেবে, তার শাস্তি হিসেবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করতে যারা দুঃসাহস দেখায় তাদের প্রতিরোধের জন্য এবং তার বর্ণনায় মিথ্যা থাকার আশঙ্কায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২২)
أما إن كان الحكم بالوضع على الحديث مبنياً على النظر في متنه، بأن يكون مناقضاً للمقطوع به من الدين أو العقل، أو لغير ذلك مما هو مقرر في موضعه، فهذا لا خلاف في رده، والحكم عليه بالكذب والاختلاق، سواء أكان سببه الخطأ أو تَعَمُّدُ الكذب، قال ابن الجوزي عقب حديث منكر:
… وإلا فمثل هذا الحديث لا يحتاج إلى اعتبار رواته، لأن المستحيل لو صدر عن الثقات رُدَّ ونُسِبَ إليهم الخطأ (1) .
وما دام الأمر كذلك فيمكننا حينئذٍ أن ننظر في متون تلك الأخبار التي لم تُقْبل بسبب النظر في أسانيدها، وأن نزنها بميزانٍ يمكننا من خلاله أن نحكم عليها إما: بالرد والتكذيب، أو بالإمكان والتصديق.
وهذا المعيار أكثر اعتماده على النظر في المتن؛ لأن الأسانيد الواردة بها أكثرها غير قوية، ولا تصلح للحجية، لجأنا إلى النظر في المتون وإمكان صدقها، ونقدها بموازين مناسبة للحال.
--------------------------------------------
যদি কোনো হাদিসের জাল হওয়ার হুকুম তার মতন পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে হয়—অর্থাৎ সেটি দ্বীন বা আকলের সুনিশ্চিত বিষয়ের পরিপন্থী হওয়া অথবা এ জাতীয় অন্যান্য কারণ যা যথাস্থানে নির্ধারিত রয়েছে—তবে তা প্রত্যাখ্যান করতে এবং একে মিথ্যা ও বানোয়াট সাব্যস্ত করতে কোনো মতভেদ নেই; চাই এর কারণ ভুলবশত হোক কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচারের কারণে। ইবনুল জাওযী একটি মুনকার হাদিসের আলোচনায় বলেছেন:
… অন্যথায় এ জাতীয় হাদিসের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের যাচাই করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ কোনো অসম্ভব বিষয় যদি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকেও বর্ণিত হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং সেটিকে তাদের ভুল হিসেবে গণ্য করা হবে (১)।
বিষয়টি যখন এমন, তখন আমরা ঐ সকল সংবাদের মতনগুলো পর্যালোচনা করতে পারি যা কেবল সনদ পর্যালোচনার কারণে গৃহীত হয়নি; এবং আমরা সেগুলোকে এমন মানদণ্ডে পরিমাপ করতে পারি যার মাধ্যমে আমরা সেগুলোর ব্যাপারে হয় প্রত্যাখ্যান ও মিথ্যারোপের ফয়সালা দিতে পারি, অথবা সম্ভাবনা ও সত্যতার ফয়সালা দিতে পারি।
এই মানদণ্ডটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মতন পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল; কারণ এই ক্ষেত্রে বর্ণিত অধিকাংশ সনদ শক্তিশালী নয় এবং দলীল হওয়ার যোগ্য নয়। তাই আমরা মতনসমূহ পর্যালোচনা এবং সেগুলোর সত্য হওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করার পথ অবলম্বন করেছি এবং সেগুলোকে পরিস্থিতির উপযোগী মানদণ্ড দ্বারা বিশ্লেষণ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ملامح المعايير المقترحة:ومن المعايير المقترحة:
* عرض الخبر على القرآن الكريم.
* عرض الخبر على السنة الصحيحة.
* عرض الخبر على الحقائق والمعلومات التأريخية الثابتة.
* عرض الخبر على القواعد والمسلمات العقلية.
* اشتمال الخبر على أمر منكر أو مستحيل، أو ما يقدح في الكتاب والسنة، أو في الرسالة والصحابة، أو ما علم من أحوال السلف سببٌ في الحكم بضعفه أو ببطلانه.
وبيان ذلك: أنه يمكننا أن نستفيد من النصوص الثابتة من الكتاب والسنة، والحقائق التأريخية الصحيحة، وكذا من العرف الثابت (1) ، والمسلمات العقلية في نقد النصوص الأخرى، وبيان قبولها أو عدم قبولها، وذلك على أحد وجهين:
الوجه الأول: إما أن تكون شواهد ودلائل على صحة أصل تلك الأخبار، بحيث يقال: إن هذا الخبر وإن لم يثبت بإسناد صحيح إلا أن معناه صحيح، وذلك لورود لفظه أو معناه في متنٍ آخر ثابت، إما من القرآن أو من السنة أو من الحقائق المُسَلَّمة الأخرى، وهذا الأمر كثير في صنيع المحدثين، ومن ذلك:
--------------------------------------------
প্রস্তাবিত মানদণ্ডসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ:প্রস্তাবিত মানদণ্ডসমূহের মধ্যে রয়েছে:
* আল-কুরআনুল কারীমের নিকট বর্ণনাটি উপস্থাপন করা।
* সহীহ সুন্নাহর নিকট বর্ণনাটি উপস্থাপন করা।
* প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য ও বাস্তব ঘটনাবলির নিকট বর্ণনাটি উপস্থাপন করা।
* যৌক্তিক নিয়ম ও স্বীকৃত স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলির নিকট বর্ণনাটি উপস্থাপন করা।
* বর্ণনায় কোনো আপত্তিকর বা অসম্ভব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া, অথবা এমন কিছু থাকা যা কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি, কিংবা রিসালাত ও সাহাবীগণের প্রতি কটাক্ষ করে, অথবা সালাফদের অবস্থা থেকে যা জানা যায় তা বর্ণনাটিকে দুর্বল বা বাতিল বলে সাব্যস্ত করার কারণ হওয়া।
এর ব্যাখ্যা হলো: আমরা কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য নসসমূহ, সঠিক ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ, অনুরূপভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রথা (১) এবং যৌক্তিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে অন্যান্য নস বা বর্ণনা সমালোচনার ক্ষেত্রে এবং সেগুলো গ্রহণযোগ্য কি না তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে উপকার গ্রহণ করতে পারি; আর তা দুটি পদ্ধতির কোনো একটির মাধ্যমে হতে পারে:
প্রথম পদ্ধতি: হয় সেগুলো এই সংবাদ বা বর্ণনাগুলোর মূলভিত্তির বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে সাক্ষী ও প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে, যাতে বলা যায় যে: এই বর্ণনাটি যদিও কোনো সহীহ সনদে প্রমাণিত নয়, তবুও এর অর্থ সঠিক। কারণ এর শব্দ বা অর্থ অন্য কোনো প্রমাণিত মূল পাঠে (মতন) বর্ণিত হয়েছে, তা কুরআন থেকে হোক বা সুন্নাহ থেকে অথবা অন্য কোনো স্বীকৃত সত্য থেকে। মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতিতে এটি একটি অতি সাধারণ বিষয়, যার উদাহরণ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عن زيد بن أسلم أن رجلا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما يحل لي من امرأتي وهي حائض؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لتشد عليها إزارها، ثم شأنك بأعلاها"، قال أبو عمر: لا أعلم أحدا روى هذا الحديث مسنداً بهذا اللفظ أن رجلا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا، ومعناه صحيح ثابت (1) .
وعن مالك أنه بلغه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إني لأنسى أو أنسى لأسن"، قال ابن عبد البر: أما هذا الحديث بهذا اللفظ فلا أعلمه يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم بوجه من الوجوه مسنداً ولا مقطوعاً، وهو أحد الأحاديث الأربعة في الموطأ التي لا توجد في غيره مسندة ولا مرسلة، معناه صحيح في الأصول، وقد مضت الآثار في باب نومه عن الصلاة تدل على هذا المعنى (2) .
وعن يونس بن عبيد عن الحسن قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سلمان سابق الفرس" هذا مرسل ومعناه صحيح (3) .
وعن ابن عباس قال: نظر النبي صلى الله عليه وسلم إلى علي فقال: "أنت سيد في الدنيا، سيد في الآخرة، ومن أحبك فقد أحبني، وحبيبي حبيب الله، وعدوك عدوي، وعدوي عدو الله، قال: والويل لمن أبغضك من بعدي"، قال المؤلف: هذا حديث لا يصح عن رسول صلى الله عليه وسلم ومعناه صحيح (4) .
الوجه الثاني: وإما أن نجعل ما ورد في نصوص الكتاب، والسنة
--------------------------------------------
যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: "ঋতুবতী অবস্থায় আমার স্ত্রীর থেকে আমার জন্য কী বৈধ?" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে যেন তার ইজার (তহবন্দ) শক্ত করে বেঁধে নেয়, অতঃপর তার উপরের অংশ তোমার জন্য।" আবু ওমর বলেন: আমি এমন কাউকে জানি না যিনি এই শব্দে হাদীসটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবে জিজ্ঞাসা করেছেন, তবে এর অর্থ সহীহ ও সাব্যস্ত (১)।
ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি ভুলে যাই অথবা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয় যাতে আমি সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করি।" ইবনে আবদিল বার বলেন: এই শব্দে এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনোভাবে মুসনাদ বা মাকতু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটি মুওয়াত্তার সেই চারটি হাদীসের একটি যা অন্য কোথাও মুসনাদ বা মুরসাল হিসেবে পাওয়া যায় না। উসূলের (মূলনীতির) ক্ষেত্রে এর অর্থ সহীহ। নামায থেকে ঘুমিয়ে পড়ার অধ্যায়ে এই অর্থের স্বপক্ষে বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে (২)।
ইউনুস ইবনে উবাইদ হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সালমান হলো পারস্যবাসীদের মধ্যে অগ্রগামী।" এটি মুরসাল এবং এর অর্থ সহীহ (৩)।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীর দিকে তাকিয়ে বললেন: "তুমি দুনিয়াতে নেতা এবং আখিরাতেও নেতা। যে তোমাকে ভালোবাসল সে মূলত আমাকেই ভালোবাসল, আর আমার প্রিয়জন আল্লাহর প্রিয়জন। তোমার শত্রু আমার শত্রু, আর আমার শত্রু আল্লাহর শত্রু।" তিনি আরও বললেন: "দুর্ভোগ তার জন্য যে আমার পরে তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে।" গ্রন্থকার বলেন: এই হাদীসটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ নয়, তবে এর অর্থ সহীহ (৪)।
দ্বিতীয় দিক: হয় আমরা কিতাব ও সুন্নাহর দলিলে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الصحيحة، والأخبار المتواترة أو المشهورة ونحو ذلك، دليلاً على بطلان الخبر، وذلك إذا كان متنه، أو معناه، أو دلالته، تناقض تمام المناقضة ما ثبت في تلك النصوص المتفق عليها، بحيث لا يمكن أن نجمع بينها وبينه بوجه من الوجوه.
وهذا كثير أيضاً في صنيع المحدثين، ومن ذلك:
حديث " لا يدخل الجنة ولد الزنى ولا والده ولا ولد ولده " قال ابن الجوزي: ثم أي ذنب لولد الزنى حتى يمنعه من دخول الجنة، فهذه الأحاديث تخالف الأصول وما في قوله تعالى: {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام:164] (1) .
وحديث: "سب أصحابي ذنب لا يغفر" قال ابن تيمية: هذا كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء:48] (2) .
تنبيه:
ومما ينبغي التنبه له عند النقد أن النص الواحد – أو الخبر الواحد- يمكن أن يحتوي على معلومات عدة، منها ما هو صحيح ومنها ما ليس بصحيح، فلا يلزمنا قبول النص برمته، أو رده كله، بل يمكن قبول ما تظهر سلامته، والتوقف أو رد غيره مما ورد في السياق، وهذا ما عمل به المحدثون عند رد الروايات الشاذة وإنكارها، ومن ذلك قول شريك في حديث الإسراء " [لما] أُسْرِيَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَسْجِدِ الْكَعْبَةِ جَاءَهُ ثَلاثَةُ نَفَرٍ قَبْلَ أَنْ يُوحَى إِلَيْهِ وَهُوَ
--------------------------------------------
সহিহ এবং মুতাওয়াতির বা মশহুর বর্ণনা ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ কোনো বর্ণনার অসারতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়, যখন এর শব্দ (মতন), অর্থ বা মর্ম এমনভাবে ঐসব সর্বসম্মত পাঠের (নসুস) সম্পূর্ণ পরিপন্থী হয় যে, কোনোভাবেই তাদের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয় না।
মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতিতেও এটি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়, যার উদাহরণ হলো:
হাদীস: "যিনার সন্তান, তার পিতা এবং তার নাতি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" ইবনুল জাওযী বলেন: "যিনার সন্তানের এমন কী অপরাধ যে তা তাকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেবে? এই হাদীসগুলো মূলনীতির (উসুল) বিরোধী এবং মহান আল্লাহর এই বাণীরও পরিপন্থী: {আর কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না} [আল-আনআম: ১৬৪] (১)।
এবং হাদীস: "আমার সাহাবীদের গালি দেওয়া এমন এক পাপ যা ক্ষমা করা হবে না।" ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর একটি মিথ্যাচার। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য সবকিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} [আন-নিসা: ৪৮] (২)।
সতর্কীকরণ:
পর্যালোচনার সময় একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত যে, একটি পাঠ (নস) বা সংবাদ (খবর) একাধিক তথ্যের সমাহার হতে পারে, যার কিছু সহিহ হতে পারে আর কিছু সহিহ নাও হতে পারে। তাই পুরো পাঠটিকে গ্রহণ করা অথবা পুরোপুরি বর্জন করা আমাদের জন্য আবশ্যক নয়; বরং যা সঠিক বলে প্রতীয়মান হয় তা গ্রহণ করা যেতে পারে এবং প্রেক্ষাপটে বর্ণিত অন্যান্য বিষয় বর্জন বা স্থগিত রাখা যায়। মুহাদ্দিসগণ 'শাজ' (অস্বাভাবিক) বর্ণনা প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন। এর উদাহরণ হলো ইসরা সংক্রান্ত হাদীসে শরীকের উক্তি: "[যখন] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাবা মসজিদ থেকে ইসরা (নৈশভ্রমণ) করানো হলো, তখন তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনজন ব্যক্তি আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نَائِمٌ فِي مَسْجِدِ الْحَرَامِ "الحديث أخرجه البخاري (1) وهذه اللفظة أنكرها الخطابي، وابن حزم، وعبد الحق، والقاضي عياض والنووي، وعبارة النووي: وقع في رواية شريك أوهام أنكرها العلماء، أحدها: قوله "قَبْلَ أَنْ يُوحَى إِلَيْهِ" وهو غلط لم يوافق عليه، وأجمع العلماء أن فرض الصلاة كان ليلة الإسراء فكيف يكون قبل الوحي انتهى (2) .
ومن ذلك حديث عبد اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الطِّيَرَةُ مِنْ الشِّرْكِ وَمَا مِنَّا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ" أخرجه الترمذي في سننه وقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وسَمِعْت مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ: كَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: (وَمَا مِنَّا) هَذَا عِنْدِي قَوْلُ عبد اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ (3) ، قال الصنعاني: لأنه لا يصح أن يضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم، لاستحالة أن يضاف إليه شيء من الشرك (4) .
--------------------------------------------
"মসজিদুল হারামে নিদ্রারত অবস্থায়"—হাদীসটি বুখারী (১) বর্ণনা করেছেন। এই শব্দটিকে খাত্তাবী, ইবনে হাজম, আবদুল হক, কাজী আয়াজ এবং নববী প্রত্যাখ্যান করেছেন। নববীর বক্তব্য হলো: শরীকের বর্ণনায় এমন কিছু ভ্রম ঘটেছে যা উলামাগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো তাঁর কথা: "তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার আগে", যা একটি ভুল এবং এর সাথে কেউ একমত হননি। উলামাগণ একমত হয়েছেন যে, সালাত ফরয করা হয়েছিল ইসরা-এর রাতে, সুতরাং ওহী নাযিলের আগে এটি কীভাবে সম্ভব? সমাপ্ত (২)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরক, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে এর উদয় হয় না, তবে আল্লাহ তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তা দূর করে দেন।" তিরমিযী এটি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, সুলাইমান ইবনে হারব এই হাদীসের বিষয়ে বলতেন: "(আর আমাদের মধ্যে কেউ নেই)—এটি আমার নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের উক্তি" (৩)। সানআনী বলেন: কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত করা সঠিক নয়, যেহেতু তাঁর সাথে শিরকের কোনো বিষয় সম্পৃক্ত হওয়া অসম্ভব (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
درجات الأخبار ومراتبها حسب المعايير المقترحة:يمكننا أن نضع اصطلاحات جديدة لمراتب الأخبار التي نقوم بنقدها حسب تلك المعايير المقترحة لنقد المرويات، فإذا كان المحدثون قد وضعوا اصطلاح: الصحيح والضعيف أولاً، ثم زادوا عليه الحسن، فأصبح الحديث ينقسم إلى: صحيح وحسن وضعيف، كما قسّموا الضعيف أقساماً ومراتب متفاوتة، فيمكننا أن نفعل مثل ذلك اليوم، لكن في تلك المرويات التي هي دون الحسن عند المحدثين، وكنت قد اقترحت أن تكون على مراتب ثلاث هي: مقبول، ثم معقول، ثم متروك (1) ، لكنني بعد تأملٍ لصنيع المحدثين وعباراتهم، رأيت لفظاً كثيراً ما يوردونه في مثل هذه الحال، ذلكم هو قولهم: "معناه صحيح"، ويمكن أن نضيف إليه بعض العبارات التي تناسب المقام، وبناءً عليه فإنني أقترح أن تكون مراتب الأخبار التي يتم نقدها حسب هذه المعايير على النحو التالي:
المرتبة الأولى: عبارة " معناه صحيح " وهي أعلى الدرجات، ويمكن تخصيصها بما له شاهد صريح، قوي الدلالة من نصوص الكتاب والسنة – الصحيحة – بغض النظر عن حال إسناده.
ومن ذلك ما قدمنا بعضه قبل قليل، ومنه:
--------------------------------------------
প্রস্তাবিত মানদণ্ড অনুযায়ী সংবাদের স্তর ও মর্যাদাসমূহ:বর্ণনা পর্যালোচনার প্রস্তাবিত মানদণ্ড অনুযায়ী আমরা যে সংবাদগুলো পর্যালোচনা করছি, সেগুলোর মর্যাদার জন্য আমরা নতুন পরিভাষা নির্ধারণ করতে পারি। মুহাদ্দিসগণ যদি প্রথমে 'সহীহ' ও 'যয়ীফ' পরিভাষা নির্ধারণ করে থাকেন এবং পরবর্তীতে এর সাথে 'হাসান' যুক্ত করেন, যার ফলে হাদীস সহীহ, হাসান ও যয়ীফ—এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়, আর যেভাবে তাঁরা যয়ীফকেও বিভিন্ন শাখা ও ভিন্ন ভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন, তবে আমরাও আজ তদ্রূপ করতে পারি। তবে তা সেই বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যা মুহাদ্দিসগণের নিকট 'হাসান' স্তরের নিচে। আমি পূর্বে প্রস্তাব করেছিলাম যে এগুলোর তিনটি স্তর হবে: মাকবুল (গৃহীত), অতঃপর মাকুল (যৌক্তিক), অতঃপর মাত্রুক (পরিত্যক্ত) (১)। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি ও তাঁদের ব্যবহৃত শব্দাবলি নিয়ে গভীর চিন্তার পর আমি একটি শব্দ লক্ষ্য করেছি যা তাঁরা এ জাতীয় ক্ষেত্রে প্রায়শই ব্যবহার করেন, আর তা হলো তাঁদের এই উক্তি: "এর অর্থ সঠিক"। এর সাথে আমরা এই পরিস্থিতির উপযোগী আরও কিছু শব্দ যোগ করতে পারি। এর ওপর ভিত্তি করে আমি প্রস্তাব করছি যে, এই মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যালোচিত সংবাদের স্তরগুলো হবে নিম্নরূপ:
প্রথম স্তর: "এর অর্থ সঠিক" বাক্যটি; এটি সর্বোচ্চ স্তর। কিতাব ও সুন্নাহর—সহীহ—শক্তিশালী দলিলসমৃদ্ধ স্পষ্ট সাক্ষ্য যার সপক্ষে রয়েছে, তার সানাদের অবস্থা যেমনই হোক না কেন, তাকে এই স্তরে নির্দিষ্ট করা যেতে পারে।
এর কিছু উদাহরণ আমরা অল্পক্ষণ আগে পেশ করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিমুসফির আদ-দুমাইনী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ما ذكره القرطبي في تفسيره قال: وروى نصر بن عيسى عن مالك عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى: {يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاوَتِهِ} قال: "يتبعونه حق اتباعه " فيه واحد من المجهولين فيما ذكر الخطيب أبو بكر، إلا أن معناه صحيح (1) .
وقال ابن كثير في تفسيره: قال صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى: {لَتَرْكَبُنَّ طَبَقاً عَنْ طَبَقٍ} [الانشقاق:19] قال: "حالاً بعد حال"، قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن قدامكم لأمراً عظيماً لا تقدرونه فاستعينوا بالله العظيم" هذا حديث منكر، وإسناده فيه ضعفاء، ولكن معناه صحيح والله سبحانه وتعالى أعلم (2) .
وفي السنة لعبد الله بن أحمد: عن حماد بن زيد قال: القرآن كلام الله عز وجل، نزل به جبريل عليه السلام، من رب العالمين جل وعز " في إسناده من لا يعرف ولكن معناه صحيح (3) .
ومنه قول ابن حزم في المحلى: فإن احتجوا بما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنه سئل عن الشهادة؟ فقال: "ألا ترى الشمس على مثلها فاشهد أو دع" قال أبو محمد: وهذا خبر لا يصح سنده، لأنه من طريق محمد بن سليمان، وهو هالك، عن عبيد الله بن سلمة، وهو ضعيف، لكن معناه صحيح (4) .
--------------------------------------------
ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে যা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবনে ঈসা মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {তারা তা পাঠ করে যেভাবে পাঠ করা উচিত}। তিনি বলেন: "তারা তা অনুসরণ করে যেভাবে অনুসরণ করা উচিত।" খতিব আবু বকর যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী এতে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন, তবে এর অর্থ সঠিক (১)।
ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {তোমরা অবশ্যই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে} [আল-ইনশিকাক: ১৯]। তিনি বলেছেন: "এক অবস্থার পর অন্য অবস্থায়।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে এক মহান বিষয় রয়েছে যা সামলানোর সক্ষমতা তোমাদের নেই, সুতরাং মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো।" এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস এবং এর সনদে দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে, তবে এর অর্থ সঠিক এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক অবগত (২)।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদের 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।" এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি পরিচিত নন, তবে এর অর্থ সঠিক (৩)।
এর মধ্যে রয়েছে 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে ইবনে হাজমের বক্তব্য: যদি তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে যে, তাঁকে সাক্ষ্য প্রদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি কি সূর্য দেখতে পাচ্ছ? এর মতো স্পষ্ট বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দাও অথবা ছেড়ে দাও।" আবু মুহাম্মদ বলেন: এই বর্ণনার সনদ সহীহ নয়, কারণ এটি মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমানের সূত্রে বর্ণিত এবং সে পরিত্যক্ত, উবাইদুল্লাহ ইবনে সালামা থেকে বর্ণিত এবং সে দুর্বল, তবে এর অর্থ সঠিক (৪)।
--------------------------------------------