(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: -)
مرويات السيرة لأكرم العمري   (أكرم العمري)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مرويات السيرة النبوية بين قواعد المحدثين وروايات الأخباريين

المؤلف: أكرم بن ضياء العمري

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 75

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকরাম আল-উমরীর সীরাত বর্ণনাসমূহ   (আকরাম আল-উমরী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি এবং ইতিহাসবিদদের বর্ণনার আলোকে সীরাতুন নবীর বর্ণনাসমূহ

লেখক: আকরাম বিন দিয়া আল-উমরী

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১)
مرويات السيرة النبوية بين قواعد المحدثين وروايات الأخباريين

الأستاذ الدكتور: أكرم ضياء العمري

بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

يقصد بالمحدِّثين الرواة الذين نقلوا الأحاديث النبوية بمتونها وأسانيدها خلال القرون الإسلامية الأولى حيث كانت الرواية والحفظ تحتل المقام الأول رغم ظهور الكتابة منذ عصر السيرة النبوية وتوسع التدوين خلال القرنين الأولين وظهور المصنفات الحديثية المرتبة على الأسانيد والموضوعات خلال القرن الثاني والثالث للهجرة..

وقد صاغ المحدثون قواعد نقدية دقيقة ضمن منهج واسع عرف بمصطلح الحديث، وبذلك سبقوا الآخرين في التنظير والتقعيد لكيفية التفاعل مع الروايات بفحصها وتطبيق قواعدهم عليها لغرض الحكم عليها قبولاً ورداً، مما أدى إلى اكتمال معلوماتهم عن الرواة والتدقيق في أحوالهم من حيث الصدق والورع والالتزام الديني، وظهرت مكتبة ضخمة في علم الرجال، أثرت في فن الترجمة للأعلام في سائر العلوم التي ظهرت في الإسلام. وأهم المحدثين الذين عنوا بأخبار السيرة النبوية هم أبان بن عثمان، وعروة بن الزبير بن العوام، وعاصم بن عمر بن قتادة، ومحمد بن مسلم بن شهاب الزهري، وموسى بن عقبة، ومعمر بن راشد، ومحمد بن إسحاق، وسليمان بن طرخان التيمي، والوليد بن مسلم الدمشقي، ومحمد بن عائذ الدمشقي، وأبو معشر السندي، وهؤلاء جميعاً إما ثقات أو صدوقون عند أئمة النقاد – ماعدا أبا معشر السندي فإنه بصير بالمغازي ضعيف بالحديث – وقد قبلت مروياتهم إما بإطلاق وإما بقيود كما في مراسيل الزهري التي عدت ضعيفة، وكما في عنعنة محمد بن إسحاق والوليد بن مسلم، فإنهما مدلسان، وبذلك يمكن القول بأن السيرة النبوية حظيت بنخبة من أهل العلم دونت أخبارها
মুহাদ্দিসগণের নীতিমালা ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনার আলোকে সীরাতে নববীর বর্ণনাধারা

প্রফেসর ডক্টর: আকরাম যিয়া আল-উমারী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূ‌মিকা:

মুহাদ্দিস বলতে সেই সকল বর্ণনাকারীকে বোঝানো হয়, যারা ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ মতন (মূল পাঠ) ও সনদসহ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) বর্ণনা করেছেন। সেই সময় লিখন পদ্ধতির অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও বর্ণনা ও মুখস্থকরণই ছিল প্রধান মাধ্যম। যদিও সীরাতে নববীর যুগ থেকেই লিখন পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল এবং প্রথম দুই শতাব্দীতে সীরাত রচনার প্রসার ঘটেছিল এবং হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে সনদ ও বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে হাদিস সংকলনসমূহ আত্মপ্রকাশ করেছিল।

মুহাদ্দিসগণ 'মুসতালাহুল হাদিস' (হাদিস বিজ্ঞান) নামক এক বিস্তৃত শাস্ত্রের অধীনে সুক্ষ্ম সমালোচনামূলক নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বর্ণনার সত্যতা যাচাই এবং তা গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে তত্ত্ব ও মূলনীতি নির্ধারণে অন্যদের তুলনায় অগ্রগামী ছিলেন। এটি বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা, তাকওয়া এবং ধর্মীয় নিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের পথ সুগম করে। এর ফলে 'ইলমুর রিজাল' বা বর্ণনাকারী-তত্ত্বের একটি বিশাল ভাণ্ডার তৈরি হয়, যা ইসলামি জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী রচনার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। সীরাতে নববীর বর্ণনার ক্ষেত্রে যারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আবান ইবনে উসমান, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ, মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরি, মুসা ইবনে উকবা, মা'মার ইবনে রাশিদ, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, সুলাইমান ইবনে তারখান আত-তৈমি, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আদ-দিমাশকি, মুহাম্মদ ইবনে আইয আদ-দিমাশকি এবং আবু মাশার আস-সিন্ধি। সমালোচক ইমামদের মতে, তারা সকলেই হয় নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) অথবা সত্যবাদী (সাদুক)—ব্যতিক্রম শুধু আবু মাশার আস-সিন্ধি, কারণ তিনি মাগাযি বা যুদ্ধাভিযান সম্পর্কে দক্ষ হলেও হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন। তাদের বর্ণনাগুলো হয় নিঃশর্তভাবে গৃহীত হয়েছে অথবা কিছু শর্তসাপেক্ষে, যেমন ইমাম যুহরির 'মুরাসাল' বর্ণনাগুলো দুর্বল হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ও ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের 'আনআনা' কারণ তারা 'মুদাল্লিস' (বর্ণনাকারীর নাম গোপনকারী) ছিলেন। ফলে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সীরাতে নববী একদল বিদগ্ধ আলেমদের সান্নিধ্য পেয়েছে, যারা এর ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২)
وصنفتها؛ وبذلك تم حفظها وأمكن الثقة بمعلوماتها، وهذا مما هيأه الله تعالى لسيرة نبيه صلى الله عليه وسلم.

أما الأخباريون فهم رواة الأخبار التأريخية الذين ظهروا في القرن الثاني الهجري ومن أبرزهم:

محمد بن السائب الكلبي (ت 146هـ) ، وعوانة بن الحكم (ت 147هـ) ، وأبو مخنف لوط بن يحيى (ت157هـ) ، وسيف بن عمر التميمي (ت180هـ) ، وأبو اليقظان النسابة (ت190هـ) ، والهيثم بن عدي (ت206هـ) ، وأبو عبيدة معمر بن المثنى (ت 209هـ) ، ونصر بن مزاحم (ت212هـ) ، وكان علي بن محمد المدائني شيخ الأخباريين (ت212هـ) وخاتمتهم.

وقد جمع الأخباريون معلومات واسعة عن حركة الردة والفتوحات وأوضاع الحياة في عصر الخلافة الراشدة والدولة الأموية والعصر العباسي الأول، وبذلك مهدوا لظهور المؤرخين الكبار، أمثال خليفة بن خياط وابن قتيبة والبلاذري وأبي حنيفة الدينوري واليعقوبي والمسعودي، وإمام أهل هذه الصنعة محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ) .

ثم تتابع الاهتمام بالتدوين والتصنيف في التأريخ بما في ذلك فترة السيرة النبوية. وكان الاعتماد في نقل أخبارها على روادها الأوائل من المحدثين.

مكانة الأخباريين من الجرح والتعديل:

تناولت كتب الجرح والتعديل عدداً من مشاهير الأخباريين؛ ترجمت لهم وبينت صفاتهم وأحوالهم ومكانتهم عند المحدثين النقاد، وذلك ضمن تراجم الرواة ولم يفردوا بكتاب.
এবং তিনি সেগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন; এর মাধ্যমে সেগুলো সংরক্ষিত হয়েছে এবং সেগুলোর তথ্যের উপর আস্থা রাখা সম্ভব হয়েছে, আর এটি মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিরাতের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছিলেন।

আর আখবারীগণ হলেন ঐতিহাসিক সংবাদের বর্ণনাকারী যারা হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে বিশিষ্ট কয়েকজন হলেন:

মুহাম্মদ বিন আস-সাইব আল-কালবি (মৃত্যু ১৪৬ হিজরী), আওয়ানা বিন আল-হাকাম (মৃত্যু ১৪৭ হিজরী), আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া (মৃত্যু ১৫৭ হিজরী), সাইফ বিন ওমর আত-তামিমি (মৃত্যু ১৮০ হিজরী), আবু আল-ইয়াকজান আন-নাসসাবাহ (মৃত্যু ১৯০ হিজরী), আল-হাইসাম বিন আদি (মৃত্যু ২০৬ হিজরী), আবু উবায়দাহ মা'মার বিন আল-মুসান্না (মৃত্যু ২০৯ হিজরী), নাসর বিন মুজাহিম (মৃত্যু ২১২ হিজরী), এবং আখবারীগণের শায়খ ও তাদের ধারার সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মাদায়েনি (মৃত্যু ২১২ হিজরী)।

আখবারীগণ মুরতাদ বিরোধী যুদ্ধ, বিজয়সমূহ, খুলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া রাষ্ট্র এবং প্রথম আব্বাসীয় যুগের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তারা খলিফা বিন খাইয়াত, ইবনে কুতাইবা, আল-বালাজুরি, আবু হানিফা আদ-দিনাওয়ারি, আল-ইয়াকুবি, আল-মাসউদি এবং এই শাস্ত্রের ইমাম মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারির (মৃত্যু ৩১০ হিজরী) মতো বড় ঐতিহাসিকদের আবির্ভাবের পথ সুগম করেছিলেন।

এরপর ইতিহাসের সংকলন ও বিন্যাসের প্রতি গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত থাকে, যার মধ্যে সিরাতে নববীর সময়কালও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এর সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসদের মধ্য থেকে এ শাস্ত্রের প্রথম দিকের অগ্রদূতদের উপর নির্ভর করা হতো।

জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও যাচাই)-এর মানদণ্ডে আখবারীগণের অবস্থান:

জারহ ও তা'দীল বিষয়ক গ্রন্থগুলো অনেক প্রখ্যাত আখবারী সম্পর্কে আলোচনা করেছে; সেখানে তাদের জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে এবং সমালোচক মুহাদ্দিসদের নিকট তাদের গুণাবলি, অবস্থা ও অবস্থানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি বর্ণনাকারীদের জীবনী সংক্রান্ত আলোচনার অংশ হিসেবে করা হয়েছে এবং তাদের জন্য স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৩)
وأهم الأخباريين الذين تناولهم النقاد هم:

1. محمد بن السائب الكلبي (ت146هـ) :

خلاصة ما قيل فيه أنه رأس في الأنساب، شيعي، متروك الحديث، ليس بثقة (1) .

2. عوانة بن الحكم الكلبي (ت147هـ) أو (ت158هـ) :

قال الذهبي: العلاّمة الأخباري، الكوفي الضرير أحد الفصحاء له كتاب التأريخ وكتاب سير معاوية وبني أمية وغير ذلك، وكان صدوقاً في نقله.

وقال ابن حجر: "أخباري مشهور كوفي، كثير الرواية عن التابعين، قلّ أن روى حديثاً مسنداً، وأورد عن عبد الله بن المعتز عن الحسن بن عليل العنزي - وهو من تلاميذ ابن معين - أنه كان عثمانياً. فكان يضع الأخبار لبني أمية (2) .

3. أبو مخنف لوط بن يحيى (ت 157هـ) :

قال يحيى بن معين فيه: "ليس بشيء". وقال في موضع آخر "ليس بثقة" (3) ،

وقال ابن عدي: "هو شيعي محترق، صاحب أخبارهم، وإنما له من

--------------------------------------------

(1) ابن أبي حاتم: الجرح والتعديل 9/351 والبخاري: التأريخ الكبير 2/324 والمزي: تهذيب الكمال 33/177 والذهبي: الكاشف 2/415 وابن حجر: تهذيب التهذيب 2/168، 12/54 وتقريب التهذيب 1/152.

(2) الذهبي سير أعلام النبلاء 7/201 وياقوت: معجم الأدباء6/134 – 139 وابن حجر: لسان الميزان 4/38،386 وسير أعلام النبلاء 11/92.

(3) العقيلي: الضعفاء 4/18
এবং সমালোচকগণ যাদের আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে প্রধান ইতিহাসবিদগণ হলেন:

১. মুহাম্মদ ইবনুল সাইব আল-কালবি (মৃত্যু: ১৪৬ হি.):

তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো—তিনি বংশবিদ্যার প্রধান ইমাম, শিয়া মতাবলম্বী, পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস) এবং নির্ভরযোগ্য নন (১)।

২. আওয়ানা ইবনুল হাকাম আল-কালবি (মৃত্যু: ১৪৭ হি. অথবা ১৫৮ হি.):

আয-যাহাবি বলেন: তিনি প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, কুফার অন্ধ অধিবাসী এবং বিশুদ্ধভাষীদের একজন। তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ এবং মুয়াবিয়া ও বনু উমাইয়ার জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসহ আরও অনেক রচনা রয়েছে। তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী ছিলেন।

ইবনে হাজার বলেন: "তিনি কুফার একজন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, তাবিঈদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, খুব কমই মুসনাদ হাদিস বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতায-এর সূত্রে হাসান ইবনে আলীল আল-আনাযী (যিনি ইবনে মাঈনের অন্যতম ছাত্র) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি উসমানি মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। ফলে তিনি বনু উমাইয়ার পক্ষে মিথ্যা বর্ণনা তৈরি করতেন" (২)।

৩. আবু মিখনাফ লুত ইবনে ইয়াহইয়া (মৃত্যু: ১৫৭ হি.):

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন।" অন্য স্থানে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন" (৩),

ইবনে আদি বলেন: "তিনি একজন কট্টর শিয়া, তাদের ইতিহাসের সংকলক, তাঁর কাছে কেবল..."

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি হাতিম: আল-জারহু ওয়াত-তাদিল ৯/৩৫১; আল-বুখারি: আত-তারিখুল কাবীর ২/৩২৪; আল-মিযযি: তাহযিবুল কামাল ৩৩/১৭৭; আয-যাহাবি: আল-কাশিফ ২/৪১৫; ইবনে হাজার: তাহযিবুত তাহযিব ২/১৬৮, ১২/৫৪ এবং তাকরিবুত তাহযিব ১/১৫২।

(২) আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/২০১; ইয়াকুত: মুজামুল উদাবা ৬/১৩৪-১৩৯; ইবনে হাজার: লিসানুল মিজান ৪/৩৮, ৩৮৬ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/৯২।

(৩) আল-উকায়লি: আদ-দুয়াফা ৪/১৮
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৪)
الأخبار المكروهة الذي لا أستحب ذكره" (1) ،

وقال ابن حجر العسقلاني: "أخباري تالف، لا يوثق به، تركه أبو حاتم وغيره" (2) .

4. سيف بن عمر التميمي (ت170هـ) :

أخباري اتهمه أئمة النقد بالوضع في الأخبار، ومن ثم تركوا مروياته (3) ، ومع ذلك فإن النقول عنه في أخبار الردة والفتوح كثيرة، ولم يتعرض لأخبار السيرة النبوية إلا نادراً، ولم يرو أحاديث نبوية إلا نادراً. وله حديث منكر وخبر يتعلق بالسيرة النبوية (4) ،وقد استقرأ ابن عدي مروياته وقال: "بعض أحاديثه مشهورة، وعامتها منكرة (5) لم يتابع عليها، وهو إلى الضعف أقرب منه إلى الصدق".

ويمكن أن يصار إلى نقدها من خلال ضوابط نقد المتن عند المحدثين، ومن خلال منهج النقد التأريخي الحديث.

5. أبو اليقظان النسابة لقبه سحيم واسمه عامر بن حفص (ت190هـ) :

من موالي تميم عاش بالبصرة، ميوله أموية، يكره الشعوبية، ويخالف غلاة الشيعة (6) ، ولم تترجم له كتب الجرح والتعديل مما يدل على عدم عنايته

--------------------------------------------

(1) ابن عدي: الكامل في ضعفاء الرجال 6/93

(2) ابن حجر: لسان الميزان 4/492.

(3) الذهبي: ميزان الاعتدال 3 / 352 –353، والمزي: تهذيب الكمال 325 – 327.

(4) ميزان الاعتدال للذهبي 3/353.

(5) المزي: تهذيب الكمال 326.

(6) أكرم العمري: مقدمته لطبقات خليفة بن خياط ص22م.
"অপছন্দীয় সংবাদসমূহ যার উল্লেখ করা আমি পছন্দ করি না" (১) ,

এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি বলেছেন: "তিনি একজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ইতিহাসবিদ, তাঁর ওপর আস্থা রাখা যায় না, আবু হাতিম ও অন্যান্যরা তাঁকে বর্জন করেছেন" (২)।

৪. সাইফ বিন উমর আত-তামিমি (মৃত্যু ১৭০ হিজরি):

তিনি একজন ইতিহাসবিদ যাকে সমালোচক ইমামগণ বানোয়াট সংবাদ বর্ণনার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন, যার ফলে তাঁরা তাঁর বর্ণনাগুলো বর্জন করেছেন (৩)। তা সত্ত্বেও রিদ্দা (ধর্মত্যাগ) এবং ফুতুহ (বিজয়) সংক্রান্ত সংবাদে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রচুর, তবে তিনি সীরাতুন্নবী (নবীর জীবনী) সংক্রান্ত সংবাদ খুব কমই বর্ণনা করেছেন এবং নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসও খুব কম বর্ণনা করেছেন। তাঁর একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস এবং সীরাতুন্নবী সংক্রান্ত একটি সংবাদ রয়েছে (৪), ইবনে আদি তাঁর বর্ণনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর কিছু হাদিস প্রসিদ্ধ, তবে তাঁর বেশিরভাগই মুনকার (৫) যেগুলোর কোনো সমর্থিত বর্ণনা নেই, এবং তিনি সত্যবাদিতার চেয়ে দুর্বলতারই অধিক নিকটবর্তী।"

মুহাদ্দিসগণের নিকট মতন (মূলপাঠ) পর্যালোচনার মানদণ্ড এবং আধুনিক ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতির মাধ্যমে এগুলো পর্যালোচনা করা সম্ভব।

৫. আবু আল-ইয়াকজান আন-নাসসাবাহ, তাঁর উপাধি সুহাইম এবং নাম আমির বিন হাফস (মৃত্যু ১৯০ হিজরি):

তিনি তামিমিদের আযাদকৃত গোলামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বসরায় বসবাস করতেন, তাঁর ঝোঁক ছিল উমাইয়াদের প্রতি, তিনি শুউবিয়াহ (আরব-বিদ্বেষী আন্দোলন) অপছন্দ করতেন এবং চরমপন্থী শিয়াদের বিরোধিতা করতেন (৬)। জরাহ-তাদিলের (বিশ্লেষণমূলক জীবনীগ্রন্থ) বইগুলোতে তাঁর জীবনী উল্লেখ করা হয়নি, যা তাঁর প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ারই প্রমাণ বহন করে

--------------------------------------------

(১) ইবনে আদি: আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল ৬/৯৩

(২) ইবনে হাজার: লিসানুল মিজান ৪/৪৯২।

(৩) আয-যাহাবি: মিজানুল ইতিদাল ৩/৩৫২-৩৫৩, এবং আল-মিজ্জি: তাহযিবুল কামাল ৩২৫-৩২৭।

(৪) আয-যাহাবি রচিত মিজানুল ইতিদাল ৩/৩৫৩।

(৫) আল-মিজ্জি: তাহযিবুল কামাল ৩২৬।

(৬) আকরাম আল-উমরি: খলিফা বিন খাইয়াত রচিত তাবাকাত গ্রন্থের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২২ (ম)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৫)
بالأحاديث، رغم وجود عدد من كبار المحدثين بين شيوخه الذين ذكرهم ضمن مصادره..

6. الهيثم بن عدي الطائي (ت207هـ) :

قال عنه ابن المديني – وهو ناقد كبير (ت234هـ) -: "الهيثم بن عدي أوثق عندي من الواقدي، ولا أرضاه في الحديث، ولا في الأنساب، ولا في شيء" (1) .

وكذبه يحيى بن معين (2) ، وأبو داود السجستاني (3) ، وقال البخاري: سكتوا عنه (4) .، وهذه أدنى المراتب عنده، وتركه النسائي وغيره (5) .

7. أبو عبيدة معمر بن المثنى (ت209هـ) :

قال الذهبي: "لم يكن صاحب حديث، وإنما أوردته لتوسعه في علم اللسان وأيام الناس ". وقال ابن قتيبة: "كان الغريب وأيام العرب أغلب عليه " وكان شعوبياً يبغض العرب، ويذهب مذهب الخوارج فيما يقال،

والله أعلم (6) .

8. نصر بن مزاحم الكوفي (ت212هـ) :

قال الذهبي: رافضيٌ جلد، تركوه وقال العقيلي: شيعي في حديثه اضطراب وخطأ كثير. وقال أبو خيثمة: كان كذاباً. وقال أبو حاتم: واهي

--------------------------------------------

(1) الخطيب: تأريخ بغداد 14/52.

(2) ابن معين: التأريخ، وانظر الجرح والتعديل لابن أبي حاتم 9/85.

(3) الخطيب: تأريخ بغداد 14/53.

(4) البخاري: التأريخ الكبير 9/85.

(5) النسائي: الضعفاء 241 والذهبي: ميزان الاعتدال 4/324.

(6) نهاد الموسى: أبو عبيدة معمر بن المثنى 101 - 119.وانظر: الذهبي: سير أعلام النبلاء 9/446.
হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে, যদিও তাঁর উস্তাদদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বড় মাপের মুহাদ্দিস রয়েছেন যাদের নাম তিনি তাঁর উৎস তালিকায় উল্লেখ করেছেন..

৬. আল-হাইসাম ইবন আদি আত-তাঈ (মৃত্যু ২০৭ হি.):

তাঁর সম্পর্কে ইবনুল মাদিনী (যিনি একজন বড় সমালোচক, মৃত্যু ২৩৪ হি.) বলেছেন: "আল-হাইসাম ইবন আদি আমার কাছে আল-ওয়াকিদীর চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, তবে আমি তাঁর ওপর হাদিস, বংশবিদ্যা বা অন্য কোনো বিষয়ে সন্তুষ্ট নই" (১)।

ইয়াহইয়া ইবন মাঈন (২) এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (৩) তাঁকে মিথ্যুক বলেছেন। ইমাম বুখারি বলেছেন: "তাঁরা তাঁর ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন" (৪), আর এটি তাঁর নিকট সর্বনিম্ন স্তরের সমালোচনা। আন-নাসাঈ এবং অন্যান্যরা তাঁকে বর্জন করেছেন (৫)।

৭. আবু উবাইদাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না (মৃত্যু ২০৯ হি.):

আয-যাহাবি বলেছেন: "তিনি হাদিসবেত্তা ছিলেন না, আমি কেবল ভাষাবিজ্ঞান এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীতে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁর কথা উল্লেখ করেছি।" ইবন কুতাইবাহ বলেছেন: "তাঁর ওপর বিরল শব্দাবলী এবং আরবদের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রভাবই বেশি ছিল।" তিনি ছিলেন একজন শুউবি (আরব-বিদ্বেষী), যিনি আরবদের ঘৃণা করতেন এবং জনশ্রুতি অনুযায়ী তিনি খাওয়ারিজদের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন,

আর আল্লাহই ভালো জানেন (৬)।

৮. নাসর ইবন মুযাহিম আল-কুফি (মৃত্যু ২১২ হি.):

আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি একজন কট্টর রাফেজি, মুহাদ্দিসগণ তাঁকে বর্জন করেছেন। আল-উকাইলি বলেছেন: তিনি একজন শিয়া, তাঁর বর্ণিত হাদিসে অনেক অস্থিরতা ও ভুল রয়েছে। আবু খাইসামাহ বলেছেন: তিনি মিথ্যুক ছিলেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি অত্যন্ত দুর্বল।

--------------------------------------------

(১) আল-খতিব: তারিখ বাগদাদ ১৪/৫২।

(২) ইবন মাঈন: আত-তারিখ; দেখুন ইবন আবি হাতিম রচিত আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ৯/৮৫।

(৩) আল-খতিব: তারিখ বাগদাদ ১৪/৫৩।

(৪) আল-বুখারি: আত-তারিখুল কাবির ৯/৮৫।

(৫) আন-নাসাঈ: আদ-দুয়াফা ২৪১ এবং আয-যাহাবি: মিযানুল ইতিদাল ৪/৩২৪।

(৬) নিহাদ আল-মুসা: আবু উবাইদাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না ১০১-১১৯। এবং দেখুন: আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/৪৪৬।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৬)
الحديث، متروك. وقال الدارقطني: ضعيف. وقال العجلي: ليس بثقة ولا مأمون. وقال الخليلي: ضعفه الحفاظ جداً وذكر له ابن عدي أحاديث وقال: هذه وغيرها من أحاديثه غالبها غير محفوظ (1) .

9. أبو الحسن علي بن محمد المدائني (ت225هـ) :

"كان عالماً بالفتوح والمغازي والشعر، صدوقاً في ذلك " وثقه ابن معين، وقال ابن عدي: ليس بالقوي في الحديث" (2) .

10. أبو زيد عمر بن شبة النميري (ت262هـ) :

محدث ثقة، كان صاحب أدب وشعر وأخبار ومعرفة بالناس، وثقه الدارقطني (3) . ولم يبق من مؤلفاته الكثيرة سوى أخبار المدينة، ورواياته تعدّل جوانب من الصورة التأريخية التي تقدمها روايات الأخباريين، ويظهر من الاقتباسات عن كتابه أخبار البصرة أنه تعرّض فيه لأخبار الجمل بتفصيل.

وإذا تأملنا في تراجم الأخباريين، وأحوالهم من الجرح والتعديل، وتحزباتهم القبلية والفكرية والمذهبية، فإن الصورة التأريخية التي قدموها عن القرون الهجرية الأولى الثلاثة سوف تهتز أمامنا، ولا سيما أن بعض الأحداث انفرد أحدهم بتقديم الأخبار عنها، مما يجعل إمكان المقارنة معدوماً حيناً ومحدودا حيناً آخر، وعلى أية حال فإنه ليس أمامنا سوى النقدين الباطني الإيجابي والسلبي للوصول إلى مقاربة للحقيقة التأريخية.

--------------------------------------------

(1) الذهبي: ميزان الاعتدال 7/24 والمغني 2/696 وابن أبي حاتم: الجرح والتعديل 8/468 والعقيلي: الضعفاء الكبير 4/300 والدارقطني: الضعفاء والمتروكين 3/160.

(2) الذهبي: سير أعلام النبلاء 10/400 والمغني في الضعفاء 2/454. وابن حجر: لسان الميزان 4/253.

(3) الخطيب: تاريخ بغداد 11/208. الذهبي: سير أعلام النبلاء 12/369. وابن حجر: تهذيب التهذيب 7/46.
হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি পরিত্যক্ত। ইমাম দারাকুতনী বলেন: দুর্বল। আল-ইজলী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং নিরাপদও নন। আল-খালীলী বলেন: হাফেজগণ তাকে চরমভাবে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন এবং ইবনে আদী তার কিছু হাদিস উল্লেখ করে বলেন: এই হাদিসগুলো এবং তার অন্যান্য হাদিসের অধিকাংশই সংরক্ষিত নয় (১)।

৯. আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মাদায়িনী (মৃত্যু ২২৫ হি.):

"তিনি রাজ্যবিজয়, যুদ্ধাভিযান এবং কবিতা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং এই বিষয়ে তিনি সত্যবাদী।" ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আর ইবনে আদী বলেন: "তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন" (২)।

১০. আবু যায়েদ উমর বিন শাব্বাহ আল-নুমায়রী (মৃত্যু ২৬২ হি.):

নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস, তিনি সাহিত্য, কবিতা, ইতিহাস এবং মানুষ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, দারাকুতনী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (৩)। তার অসংখ্য রচনার মধ্যে কেবল 'আখবারুল মদীনা' অবশিষ্ট রয়েছে। তার বর্ণনাগুলো ইতিহাসবিদদের বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপিত ঐতিহাসিক চিত্রের বিভিন্ন দিককে ভারসাম্যপূর্ণ করে। তার 'আখবারুল বসরা' গ্রন্থ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এতে জিমাল যুদ্ধের (উটের যুদ্ধ) ঘটনাবলী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

আর আমরা যদি ইতিহাসবিদদের জীবনী, জারহ ও তা'দীলের (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার) ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা এবং তাদের গোত্রীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মাযহাবী পক্ষপাতের কথা বিবেচনা করি, তবে হিজরি প্রথম তিন শতাব্দী সম্পর্কে তাদের উপস্থাপিত ঐতিহাসিক চিত্র আমাদের সামনে নড়বড়ে হয়ে পড়বে। বিশেষ করে যখন দেখা যায় যে, কোনো কোনো ঘটনার সংবাদ কেবল একজনই বর্ণনা করেছেন, যার ফলে কখনও তুলনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, আবার কখনও তা সীমিত হয়ে যায়। যা-ই হোক, ঐতিহাসিক সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য আমাদের সামনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবী: মীযানুল ইতিদাল ৭/২৪ এবং আল-মুগনী ২/৬৯৬; ইবনে আবি হাতিম: আল-জারহ ওয়াত তা'দীল ৮/৪৬৮; আল-উকায়লী: আদ-দুয়াফাউল কাবীর ৪/৩০০ এবং আল-দারাকুতনী: আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকীন ৩/১৬০।

(২) আয-যাহাবী: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/৪০০ এবং আল-মুগনী ফীদ দুয়াফা ২/৪৫৪; ইবনে হাজার: লিসানুল মীযান ৪/২৫৩।

(৩) আল-খতীব: তারিখু বাগদাদ ১১/২০৮; আয-যাহাবী: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৩৬৯; ইবনে হাজার: তাহযীবুত তাহযীব ৭/৪৬।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৭)
إن الطبري اعتمد في أخبار صفين على أبي مخنف لوط بن يحيى، إذ انفرد برواياته عنها، فقد ألف أبو مخنف كتاباً في صفين، واعتمد الطبري كثيراً في أخبار الردة والفتوح على سيف بن عمر التميمي الذي ألف كتاب الردة والفتوح.

ولا يمكن الوثوق بما رواه الاثنان (أبو مخنف وسيف) من أخبار الصحابة في الفتن التي جرت في ذلك التأريخ المبكر، وينبغي تلمُّس الأخبار المفردة التي وردت في كتب الحديث، وتأريخ خليفة بن خياط، وأخبار المدينة، وأخبار البصرة لعمر بن شبة؛ للمقارنة مع أخبار أبي مخنف وسيف.

وقد ُبنيت الدراسات التأريخية الحديثة على تأريخ الطبري والبلاذري وعزت الأخبار إليهما دون التحقق من أثر الرواة الذين اعتمدهم الاثنان في سرد الأحداث، وإمكان تأثير الرواة المنحازين على الأخبار المنقولة عنهم، مع تشبع معظمهم بروح متحزبة لا يمكن الوثوق بنزاهتها في شهادتها على الأحداث.

ومن هنا يظهر أن كتابة حقب التأريخ الإسلامي المبكر في العصر الحديث تحتاج إلى عمل نقدي كبير لتقويمها علمياً، وللوصول إلى مقاربة أكبر للصدق والحقيقة.

ومن الطبيعي أن يشترك جمع من المحدثين والأخباريين في حيازة الوصفين: المحدث والأخباري، حيث يتوسع المحدث في جمع الأخبار خارج نطاق الأحاديث النبوية وأحداث السيرة، كما فعل محمد بن إسحاق (ت151هـ) ، ومحمد بن عمر الواقدي (ت 204هـ) ، وخليفة بن خياط (ت 240 هـ) .
ইমাম তাবারী সিফফীনের সংবাদের ক্ষেত্রে আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়ার ওপর নির্ভর করেছেন, কারণ তিনিই এই সংক্রান্ত বর্ণনায় একক বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিলেন। আবু মিখনাফ সিফফীন বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাবারী রিদ্দাহর যুদ্ধ এবং বিজয়সমূহের সংবাদের ক্ষেত্রে সাইফ বিন উমর আত-তামিমীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন, যিনি 'কিতাবুর রিদ্দাহ ওয়াল ফুতুহ' রচনা করেছিলেন।

সেই আদি ইতিহাসের ফেতনাগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে এই দুই ব্যক্তি (আবু মিখনাফ ও সাইফ) যা বর্ণনা করেছেন, তার ওপর আস্থা রাখা সম্ভব নয়। বরং হাদীসের কিতাবসমূহ, খলিফা বিন খাইয়াতের ইতিহাস গ্রন্থ এবং উমর বিন শাব্বার আখবারুল মদিনা ও আখবারুল বসরা-তে বর্ণিত একক সংবাদগুলো অন্বেষণ করা উচিত; যাতে আবু মিখনাফ ও সাইফের সংবাদগুলোর সাথে সেগুলোর তুলনা করা যায়।

আধুনিক ইতিহাস বিষয়ক গবেষণাগুলো তাবারী ও বালাযুরীর ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং তারা যে বর্ণনাকারীদের ওপর নির্ভর করেছেন তাদের প্রভাব যাচাই না করেই সংবাদগুলোকে এই দুই ইতিহাসবিদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। অথচ তাদের বর্ণিত সংবাদের ওপর পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনাকারীদের প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তাদের অধিকাংশেরই মাঝে দলীয় সংকীর্ণতা বিদ্যমান ছিল যার কারণে ঘটনাবলীর সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা রাখা যায় না।

এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আধুনিক যুগে প্রাথমিক পর্যায়ের ইসলামী ইতিহাসের সময়কালগুলো রচনার ক্ষেত্রে একে বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়নের জন্য এবং সত্য ও বাস্তবতার অধিকতর কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য ব্যাপক সমালোচনামূলক কাজের প্রয়োজন রয়েছে।

এটা স্বাভাবিক যে একদল মুহাদ্দিস ও আখবারী উভয় গুণেরই অধিকারী হবেন: মুহাদ্দিস এবং আখবারী। কেননা মুহাদ্দিসগণ অনেক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস ও সীরাতের ঘটনার বাইরেও সংবাদ সংগ্রহের পরিধি বিস্তৃত করেন, যেমনটি করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক (মৃত্যু ১৫১ হিজরী), মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী (মৃত্যু ২০৪ হিজরী) এবং খলিফা বিন খাইয়াত (মৃত্যু ২৪০ হিজরী)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد ألحق المصنفون في علم الرجال تراجم الأخباريين ودرسوهم ضمن تراجم المحدِّثين، وبذلك قدموا معلومات مهمة عنهم، ولا سيما أن الأخباريين لم تفرد تراجمهم في مصنفات مستقلة. وبعضهم نأى بنفسه عن رواية الحديث النبوي إلا عرضاً، في حين غلبت الأخبار التأريخية على ثقافتهم. بل إن اهتمامهم بموضوعات السيرة النبوية قليل، حيث نجد لسيف ابن عمر في تاريخ الطبري (7) روايات تتعلق بردة الأسود العنسي وطليحة ومسيلمة (1) ، ومن الراجح أنها من كتابه (الردة والفتوح) وبوفاة النبي صلى الله عليه وسلم، ولأبي مخنف لوط بن يحيى (روايتان) تتناول حادثة الوفاة، ولم ينقل الطبري عن معمر بن المثنى ولا أبي عبيدة ولا الهيثم بن عدي ولا أبي اليقظان النسابة أية رواية في السيرة النبوية، وإذا فحصنا أثر الأخباريين في قسم السيرة النبوية، من كتاب "البداية والنهاية" لابن كثير (ت774هـ) فإن ضآلة الأخبار تؤكد أن الأخباريين لم يهتموا بالسيرة النبوية إذ نقل عن أبي عبيدة معمر بن المثنى أخباراً قليلة تتعلق بالسيرة، حيث صنَّف أبو عبيدة كراريس في بعض موضوعاتها (2) تتعلق بأزواج النبي صلى الله عليه وسلم، فصنَّف كراسة في ذلك، ونقل عن سيف بن عمر التميمي (3) خبراً يتعلق بقاتل مسيلمة وآخر (4) يتعلق بوفاة النبي صلى الله عليه وسلم، وأخباراً (5)

--------------------------------------------

(1) الطبري 3/147-184-187.

(2) ابن كثير: البداية والنهاية 4/254، 6 / 147، 150، 8/216، 217، 236، 401.

(3) المصدر السابق 5/365.

(4) المصدر السابق 8/108، 123-124، 152-153.

(5) المصدر السابق 8/202، 209، 210، 236.
রিজাল শাস্ত্রের (ব্যক্তিত্ব পরিচিতি শাস্ত্র) রচয়িতাগণ আখবারিগণের জীবনীসমূহকে মুহাদ্দিসগণের জীবনীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সেগুলোর অধীনেই তাঁদের পর্যালোচনা করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, বিশেষত যেহেতু আখবারিগণের জীবনী নিয়ে কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়নি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র ব্যতীত নববী হাদিস বর্ণনা করা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন, যেখানে ঐতিহাসিক সংবাদসমূহের প্রাধান্য তাঁদের ইলমি চর্চায় পরিলক্ষিত হয়। এমনকি সীরাতুন্নবীর (নবীজীর জীবনী) বিষয়গুলোর প্রতিও তাঁদের আগ্রহ ছিল সামান্য। যেমন আমরা তারিখুত তবারিতে সাইফ ইবনে ওমরের সাতটি (৭) বর্ণনা পাই যা আসওয়াদ আল-আনসি, তুলায়হা ও মুসায়লিমার ধর্মত্যাগ সংক্রান্ত (১); এবং প্রবল ধারণা এই যে, সেগুলো তাঁর রচিত (আর-রিদ্দাহ ওয়াল ফুতুহ) গ্রন্থ থেকে গৃহীত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল সংশ্লিষ্ট। আর আবু মুখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়ার (দুটি বর্ণনা) ইন্তেকালের ঘটনা নিয়ে আলোচিত হয়েছে। তবারি মা'মার বিন মুসান্না, আবু উবাইদাহ, হাইসাম বিন আদি কিংবা বংশলিপিশাস্ত্রবিদ আবু ইয়াকজান থেকে সীরাতুন্নবী সম্পর্কে কোনো বর্ণনা উদ্ধৃত করেননি। আমরা যদি ইবনে কাসীরের (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ গ্রন্থের সীরাতুন্নবী অংশে আখবারিগণের প্রভাব পরীক্ষা করি, তবে সংবাদের স্বল্পতা এটাই নিশ্চিত করে যে আখারিগণ সীরাতুন্নবীর প্রতি তেমন গুরুত্ব দেননি। কেননা তিনি আবু উবাইদাহ মা'মার বিন মুসান্না থেকে সীরাত সংশ্লিষ্ট সামান্য কিছু সংবাদ উদ্ধৃত করেছেন; অথচ আবু উবাইদাহ সীরাতের কিছু বিষয়ের ওপর ক্ষুদ্র পুস্তিকা (২) রচনা করেছিলেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সহধর্মিণীগণের সাথে সম্পর্কিত ছিল, তিনি এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন। আর তিনি সাইফ বিন ওমর আত-তামিমি থেকে (৩) মুসায়লিমার হত্যাকারী সংক্রান্ত একটি সংবাদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল সংক্রান্ত অপর একটি সংবাদ (৪) ও আরও কিছু সংবাদ (৫) উদ্ধৃত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তবারি ৩/১৪৭-১৮৪-১৮৭।

(২) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৪/২৫৪, ৬/১৪৭, ১৫০, ৮/২১৬, ২১৭, ২৩৬, ৪০১।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ৫/৩৬৫।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস ৮/১০৮, ১২৩-১২৪, ১৫২-১৫৩।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ৮/২০২, ২০৯, ২১০, ২৩৬।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ৯)
تتعلق بأزواجه صلى الله عليه وسلم، ونقل عن الهيثم بن عدي (1) ومحمد السائب الكلبي (2) حول طهارة أمهاته صلى الله عليه وسلم، وعن هواتف الجن (3) ولم ينقل عن لوط بن يحيى ونصر بن مزاحم وأبي اليقظان النسّابة شيئاً يتعلق بالسيرة النبوية، وكذلك فإن كتب شروح الأحاديث لا تنقل عن الأخباريين إلا نادراً، ويتضح ذلك من مراجعة شرح غني بالنقول والآثار، هو فتح الباري لابن حجر؛ فإنه نقل عن الأخباريين في حادثة وفاة النبي صلى الله عليه وسلم وأحداث الخلافة الراشدة، ولم ينقل أخبار السيرة إلا عن المحدثين. ومعظم الأخباريين لا يوثقهم النقاد المحدثون، ولا ينفع التفتيش في أسانيد رواياتهم، بل تمت محاكمة رواياتهم، فإذا وافقوا الرواة العدول قبلت، وإذا خالفوهم رفضت، ثم إن مقارنة رواياتهم ببعضها تخدم النقد التأريخي، ومما يعين في هذا المجال معرفة ميولهم واتجاهاتهم العقدية والمذهبية، فإن كانت الرواية تخدم مذاهبهم لزم التوقف في قبولها.

وخلاصة القول: أنه ليس أمام الناقد في كثير من الأخبار سوى المحاكمات العقلية لقبول مروياتهم أو رفضها.

وهذا يوضح ضعف مشاركة معظم الأخباريين في تقييد أخبار السيرة النبوية والتصنيف فيها، باستثناء معمر بن المثنى (ت209هـ) وعلي بن محمد المدائني (ت212هـ) اللَّذين صنفا كراريس في موضوعات مختلفة من السيرة النبوية. وثمة موضوع يحتاج إلى دراسة واسعة يتعلق بإعادة فحص مرويات

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 4/71، 238.

(2) المصدر السابق 3/364.

(3) المصدر السابق 3/ 572.
যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিতা পত্নীগণের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল-হাইসাম ইবনে আদি (১) এবং মুহাম্মদ আস-সাইব আল-কালবি (২) থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিতা মাতাগণের (পূর্বপুরুষদের) পবিত্রতা সম্পর্কে এবং জিনের অদৃশ্য কণ্ঠস্বর (৩) সম্পর্কে বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। তবে লুত ইবনে ইয়াহইয়া, নাসর ইবনে মুজাহিম এবং আবু আল-ইয়াকজান আন-নাসসাবাহ থেকে সিরাতে নববী সংক্রান্ত কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি। একইভাবে, হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ ঐতিহাসিকদের থেকে খুব কমই বর্ণনা উদ্ধৃত করে। উদ্ধৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইবনে হাজারের ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থটি পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়; কারণ তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের ঘটনা এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের ঘটনাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সিরাতের বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ ব্যতীত অন্য কারো থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেননি। অধিকাংশ ঐতিহাসিকই মুহাদ্দিস সমালোচকদের নিকট নির্ভরযোগ্য নন এবং তাদের বর্ণনার সনদে অনুসন্ধান চালানো কোনো কাজে আসে না; বরং তাদের বর্ণনাগুলোকে বিচার করা হয়—যদি তারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে একমত হন তবে তা গ্রহণ করা হয়, আর যদি তাদের বিরোধিতা করেন তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। অধিকন্তু, তাদের বর্ণনাগুলোর পারস্পরিক তুলনা ঐতিহাসিক সমালোচনার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। এই ক্ষেত্রে তাদের আকিদাগত ও মাযহাবী ঝোঁক ও প্রবণতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা বিশেষ সহায়ক; কেননা যদি কোনো বর্ণনা তাদের নিজস্ব মাযহাবের স্বার্থ রক্ষা করে, তবে তা গ্রহণের ক্ষেত্রে থামা বা সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

সারকথা হলো: অনেক বর্ণনার ক্ষেত্রে সমালোচকের সামনে তাদের বর্ণনা গ্রহণ বা বর্জনের জন্য যৌক্তিক বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

এটি সিরাতে নববীর সংবাদসমূহ লিপিবদ্ধকরণ এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের দুর্বল অংশগ্রহণের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে। তবে এর ব্যতিক্রম হলেন মা'মার ইবনুল মুসান্না (মৃত্যু ২০৯ হিজরি) এবং আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদায়িনি (মৃত্যু ২১২ হিজরি), যারা সিরাতে নববীর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পুস্তিকা রচনা করেছেন। আর একটি বিষয় যা ব্যাপক গবেষণার দাবি রাখে, তা হলো বর্ণনাগুলোর পুনঃনিরীক্ষণ সংক্রান্ত...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ৪/৭১, ২৩৮।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ৩/৩৬৪।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ৩/৫৭২।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১০)
الواقدي بمقارنتها مع روايات الآخرين للكشف بتفصيل عن الأسباب التي أدت إلى تضعيفه من قبل المحدثين.

ونظراً لظهور المحدثين المبكر على ظهور الأخباريين، فإنهم تقدموهم في وضع قوانين الرواية، وقلّدهم الأخباريون في طرائق العرض، فكلاهما يهتم بالسند من حيث الظاهر، لكن أسانيد المحدثين حَوَتْ رواة تعرف سيرهم وتتميز أشخاصهم، أما أسانيد الأخباريين فيرد فيها رواة لا نجد لهم في كتب التراجم ذكراً. وقد انتبه السبكي (ت 771هـ) لضرورة وضع قواعد للمؤرخين، لكن محاولته كانت متأخرة وناقصة (1) .

إن المحدثين قدموا للإنسانية منهجاً متكاملاً، واسعاً وشاملاً، للتعامل مع الرواية قبل ثلاثة عشر قرناً، في حين ظهر منهج النقد التأريخي عند الغربيين في أواخر القرن الثامن عشر. وهذا يوضح مدى السبق الذي حققه المحدثون، وقد انعكس ذلك على الحياة الأدبية والثقافية والدينية في المجتمع الإسلامي، حيث تكوَّنت العقلية النقدية في أوساط النخبة، مما كان له أثر كبير في دفع الحضارة الإسلامية في عصور ازدهارها.

لقد تطور منهج النقد عند المحدِّثين منذ القرن الثاني الهجري لغاية القرن التاسع الهجري حيث لم تَجْرِ تعديلات مهمة عليه بعد السخاوي (ت902هـ) ، ورغم أن المتخصصين في القرن العشرين أعادوا صياغة المنهج بصورة شاملة أو جوانب منه، فإنهم لم يقوموا باستقراء تام؛ لإعادة النظر في مسائله وقواعده بإضافة أو تعديل على ضوء ما انتهى إليه البشر في العلوم المختلفة.

--------------------------------------------

(1) راجع طبقات الشافعية2/22.
আল-ওয়াকিদি; অন্যান্যদের বর্ণনার সাথে তার তুলনা করার মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে সেই কারণগুলো উন্মোচন করা হয়েছে যা মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করার দিকে পরিচালিত করেছে।

আখবারী বা ইতিহাসবেত্তাদের আবির্ভাবের তুলনায় মুহাদ্দিসগণের আগে আবির্ভাব ঘটার কারণে, বর্ণনার নীতিমালা প্রণয়নে মুহাদ্দিসগণ তাদের অগ্রগামী ছিলেন এবং আখবারীগণ উপস্থাপনা পদ্ধতিতে তাদের অনুসরণ করেছেন। উভয় পক্ষই বাহ্যিকভাবে সনদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, তবে মুহাদ্দিসগণের সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের জীবনচরিত সুবিদিত এবং পরিচয় স্বতন্ত্র। পক্ষান্তরে, আখবারীগণের সনদে এমন বর্ণনাকারীদের উল্লেখ পাওয়া যায় যাদের জীবনী গ্রন্থগুলোতে কোনো উল্লেখ নেই। ইমাম সুবকী (মৃ. ৭৭১ হি.) ঐতিহাসিকদের জন্য মূলনীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সেই প্রচেষ্টা ছিল পরবর্তী সময়ের এবং অসম্পূর্ণ (১)।

মুহাদ্দিসগণ তেরো শতাব্দী আগে বর্ণনার সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে মানবতার সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ, বিস্তৃত ও ব্যাপক পদ্ধতি উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে পশ্চিমাদের নিকট ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতি আঠারো শতকের শেষভাগে আবির্ভূত হয়েছে। এটি মুহাদ্দিসগণের অর্জিত শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতাকে স্পষ্ট করে। এটি ইসলামি সমাজের সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনে প্রতিফলিত হয়েছিল, যেখানে শিক্ষিত এলিট শ্রেণির মধ্যে সমালোচনামূলক মননশীলতা তৈরি হয়েছিল, যা ইসলামি সভ্যতার স্বর্ণযুগের অগ্রগতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দী পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের নিকট সমালোচনা পদ্ধতি বিকশিত হয়েছে, যেখানে সাখাভী (মৃ. ৯০২ হি.) এর পর এতে আর কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়নি। যদিও বিংশ শতাব্দীর বিশেষজ্ঞগণ এই পদ্ধতিকে সামগ্রিকভাবে বা এর কিছু অংশকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছেন, কিন্তু বিভিন্ন বিজ্ঞানে মানুষের অর্জিত অগ্রগতির আলোকে এর মাসয়ালা ও মূলনীতিগুলোতে নতুন কিছু যুক্ত করে বা সংশোধন করে পুনর্বিবেচনার জন্য তারা পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার (ইস্তিকরা) কাজ সম্পন্ন করেননি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/২২।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১১)
لقد انتبه المحدِّثون منذ القرن الثامن الهجري لأهمية دراسة السيرة وفق مناهجهم بنقد أسانيدها ومتونها مثل الذهبي وابن كثير، لكنهم غلَّبوا إكمال نقد الأحاديث النبوية على أخبار السيرة، لما يترتب على الأحاديث من أحكام شرعية.

ومع اتساع نطاق التعليم في العصر الحاضر، وازدياد الاهتمام بالسيرة النبوية على نطاق واسع، ولما لها من أثر قوي في تربية الأجيال الإسلامية وتحديد قيمها، صار من اللازم التأكد من صحة المعلومات قبل تحليلها تربوياً وقيمياًً.

وقد هيأ العصر الحديث من الوسائل الحديثة والتقنيات المطورة ما يُيسر مهمة إنجاز الموسوعات الحديثية وموسوعات السيرة النبوية وبقية العلوم الإسلامية وربطها ببعضها ليخدم بعضها بعضاً، ويكمل معلوماته ولتتم المقارنة بين الروايات وتفسيرها بنطاق واسع، وقد أثبتت التجارب الأولية جدوى الإفادة من الكمبيوتر وبرامجه، وإن لم تحقق الهدف على الوجه المطلوب لقصور في البرمجة والخبرة العلمية معاً.

وتفيد الدراسات الحديثة ذات المنهج النقدي الحديثي بأن الروايات التي أوردها الرواة الضعفاء تعطي صورة مشوهة لبعض أحداث السيرة النبوية، أما أثر الأخباريين في هذا التشويه فهو محدود؛ لعدم عنايتهم بالسيرة التي عني بها المحدثون، فجاءت مروياتها تتسم بالجدية بعيداً عن المبالغة والخيال، وكثير منها ينقلها شهود عيان معروفون بالصدق والمروءة.

ولكن دخول مرويات الرواة الضعفاء إلى كتب السيرة يظهر في الكتابات المتأخرة مثل السيرة الحلبية، ويقلُّ أثرهم في كتب السيرة المبكرة، ويبدو أن
অষ্টম হিজরি শতাব্দী থেকেই হাদীসবিদগণ তাঁদের নিজস্ব পদ্ধতিতে সীরাতের সনদ ও মতনের পর্যালোচনার মাধ্যমে সীরাত অধ্যয়নের গুরুত্বের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন, যেমন আয-যাহাবী ও ইবনে কাসীর। তবে তাঁরা সীরাতের সংবাদের চেয়ে হাদীসসমূহের পর্যালোচনাকাজ সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, কারণ হাদীসের ওপর শরয়ী বিধানসমূহ নির্ভরশীল।

বর্তমান যুগে শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে এবং সীরাতুন্নবীর প্রতি আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, আর মুসলিম প্রজন্মের লালন-পালন ও তাদের মূল্যবোধ নির্ধারণে সীরাতের শক্তিশালী প্রভাব থাকার কারণে, সীরাতের তথ্যগুলোকে শিক্ষামূলক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার আগে সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান যুগ আধুনিক মাধ্যম ও উন্নত প্রযুক্তির এমন সুযোগ করে দিয়েছে যা হাদীস বিশ্বকোষ, সীরাত বিশ্বকোষ এবং অন্যান্য ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের কাজ সম্পন্ন করা এবং সেগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা সহজ করে দিয়েছে, যাতে একটি অপরটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে বর্ণনাসমূহের মধ্যে তুলনা করা এবং বিস্তৃত পরিসরে সেগুলোর ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক অভিজ্ঞতাগুলো কম্পিউটার ও এর প্রোগ্রামসমূহ ব্যবহারের উপযোগিতা প্রমাণ করেছে, যদিও প্রোগ্রামিং এবং বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতার যুগপৎ সীমাবদ্ধতার কারণে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করতে পারেনি।

হাদীসশাস্ত্রীয় পর্যালোচনামূলক পদ্ধতির আধুনিক গবেষণাসমূহ ইঙ্গিত দেয় যে, দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণিত বর্ণনাসমূহ সীরাতুন্নবীর কিছু ঘটনার একটি বিকৃত চিত্র উপস্থাপন করে। তবে এই বিকৃতির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের প্রভাব সীমিত; কারণ হাদীসবিদগণ সীরাতের প্রতি যেভাবে যত্নবান ছিলেন, তাঁরা সেভাবে ছিলেন না। ফলে হাদীসবিদদের বর্ণিত বর্ণনাসমূহ অতিরঞ্জন ও কল্পনা থেকে মুক্ত এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে। আর এর অধিকাংশ তথ্যই এমন সব প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যারা সত্যবাদিতা ও সততার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

কিন্তু সীরাত গ্রন্থগুলোতে দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণনার অনুপ্রবেশ পরবর্তীকালের রচনাবলীতে দেখা যায়, যেমন ‘আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ’। তবে প্রাথমিক যুগের সীরাত গ্রন্থগুলোতে তাদের প্রভাব খুবই নগণ্য এবং প্রতীয়মান হয় যে...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১২)
الضعف في أسانيد الكتب المبكرة يرجع إلى الإرسال والتدليس والتعليق والبلاغات، وهي مظاهر لا توحي بالثقة وتقتضي إعمال المنهج الحديثي فيها أسانيد ومتوناً.
প্রাথমিক যুগের গ্রন্থসমূহের সনদসমূহে বিদ্যমান দুর্বলতার উৎস হলো ইরসাল, তাদলিস, তালীক এবং বালাঘাত; আর এগুলো এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যা নির্ভরযোগ্যতার সঞ্চার করে না এবং এগুলোর সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রেই হাদিসশাস্ত্রীয় পদ্ধতির প্রয়োগকে অপরিহার্য করে তোলে।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌معالم منهج المحدثين في النقد

‌‌أولاً: المقارنة

…

معالم منهج المحدثين في النقد أساليب النقد عند المحدثين

أولا: المقارنة:

يُعَدُّ جمع طرق الخبر أو الحديث والمقارنة بينها من أميز أساليب المحدثين في نقد الرواية، قال الإمام مسلم: "فبجمع هذه الروايات ومقابلة بعضها ببعض يتميز صحيحها من سقيمها، ويتبين رواة ضعاف الأخبار من أضدادهم من الحفاظ" (1) .

وقال عبد الله بن المبارك: "إذا أردت أن يصح لك الحديث فاضرب بعضه ببعض" (2) ، وقال يحيى بن معين: "إذا كتبت فقمش، وإذا حدثت ففتش" (3) .

وقد عمد المحدثون منذ وقت مبكر إلى طريقة المقارنة بين الروايات التي وردت عن حادث معين أو تنقل كلاماً نبوياً، وتتم المقارنة عادة بين سلاسل الأسانيد، ثم بين المتون للخبر الواحد. فمن أنواع المقارنات التي قاموا بها: "المقارنة بين روايات عدد من الصحابة، والمقارنة بين روايات المحدث الواحد في أزمنة مختلفة، والمقارنة بين مرويات عدد من التلاميذ لشيخ واحد، وبين رواية المحدث ورواية أقرانه، والمقارنة بين الكتاب والمذاكرة، وبين الكتاب والكتاب" (4) . فميزوا الكلام المدرج فنسبوه إلى قائله (5) . وبذلك تميزت ألفاظ

--------------------------------------------

(1) مسلم: كتاب التمييز 162.

(2) محمد مصطفى الأعظمي: مقدمة كتاب التمييز 33.

(3) الخطيب: تاريخ بغداد 1/43.

(4) محمد مصطفى الأعظمي: مقدمة كتاب التمييز 32 فما بعدها.

(5) الصنعاني: توضيح الأفكار 2/54، والسيوطي: تدريب الراوي 1/269.
‌সমালোচনা পদ্ধতিতে মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ

‌প্রথমত: তুলনা করা (মুক্বারানাহ্)

...

সমালোচনা পদ্ধতিতে মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ: মুহাদ্দিসগণের নিকট সমালোচনার শৈলীসমূহ

প্রথমত: তুলনা করা:

হাদীস বা খবরের (সংবাদের) বিভিন্ন সূত্র একত্রিত করা এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনা করা বর্ণনার সমালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয়। ইমাম মুসলিম বলেন: "এই বর্ণনাগুলো একত্রিত করার এবং সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির তুলনা করার মাধ্যমেই তার সহীহ অংশ অসুস্থ (দুর্বল) অংশ থেকে পৃথক হয়, এবং দুর্বল খবরের বর্ণনাকারীগণ তাদের বিপরীত পক্ষ হাফিযগণের থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।" (১) ।

আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: "যদি তুমি হাদীসটি তোমার নিকট সহীহ হওয়া চাও, তবে তার একাংশের সাথে অন্য অংশের সংঘর্ষ ঘটাও (তুলনা করো)" (২) , ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "যখন লিখবে তখন সবকিছু সংগ্রহ করো, আর যখন বর্ণনা করবে তখন তা যাচাই করো" (৩) ।

মুহাদ্দিসগণ প্রাচীনকাল থেকেই সেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে তুলনা করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে এসেছে অথবা যা নববী বাণী বর্ণনা করে। সাধারণত তুলনা করা হয় সনদের সিলসিলার মধ্যে, অতঃপর একই খবরের মতনের (মূল পাঠের) মধ্যে। তাঁরা যেসব ধরণের তুলনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "একাধিক সাহাবীর বর্ণনার মধ্যে তুলনা করা, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একজন মুহাদ্দিসের বর্ণনাসমূহের মধ্যে তুলনা করা, একজন শায়খের একাধিক ছাত্রের বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে তুলনা করা, একজন মুহাদ্দিসের বর্ণনার সাথে তার সমসাময়িকদের বর্ণনার তুলনা করা, পাণ্ডুলিপি ও মৌখিক আলোচনার মধ্যে তুলনা করা, এবং পাণ্ডুলিপির সাথে পাণ্ডুলিপির তুলনা করা" (৪) । এর মাধ্যমে তাঁরা 'মুদরাজ' (অনুপ্রবিষ্ট) কথাগুলো পৃথক করেছেন এবং তা প্রকৃত বক্তার দিকে সম্বন্ধ করেছেন (৫) । এর ফলে শব্দসমূহ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম: কিতাবুত তামীয ১৬২।

(২) মুহাম্মাদ মুস্তফা আজমী: মুকাদ্দিমাহ কিতাবুত তামীয ৩৩।

(৩) খতীব: তারীখ বাগদাদ ১/৪৩।

(৪) মুহাম্মাদ মুস্তফা আজমী: মুকাদ্দিমাহ কিতাবুত তামীয ৩২ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা।

(৫) সানআনী: তাওদীহুল আফকার ২/৫৪, এবং সুয়ূতী: তাদরীবুররাবী ১/২৬৯।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الرسول صلى الله عليه وسلم عن ألفاظ الشراح والمجتهدين التي تمثل فهمهم واستنباطهم من النص. والحق أن التدقيق في المقارنة بلغ غايته عند المحدثين، حيث ظهرت مؤلفات مستقلة تعني ببيان ما أقحم في النص الأصلي من عبارات ألحقها الرواة على سبيل الشرح والإيضاح، وأية قراءة في كتاب "الفصل لوصل المدرج في النقل" للخطيب البغدادي ستكشف عن مدى الدقة في اتباع هذا المنهج، فقد حصر روايات الخبر، وقارن بينها، وانتهى إلى تحديد الخبر الأصلي وما ألحق به فيما بعد.

وبفضل هذه المقارنات عرف وقوع التعارض بين حديثين أحياناً يتساويان في القوة، ويتناقضان في المعنى، ويتعذر الجمع بينهما، وتسمى هذه الصورة "بالاضطراب". وكذلك عرف وقوع التقديم والتأخير في ألفاظ الحديث مما يغير المعنى المراد وهو ما يسمى "بالمقلوب" وهو يدل على عدم ضبط الراوي.

وكذلك فإن النقاد حددوا ما وقع من تصحيف وتحريف، حتى إنهم حددوا أحياناً سبب وقوع التصحيف كالأخذ من كتاب بغير سماع (1) . ومن التصحيف ما يسهل تصحيحه، ومنه ما يتعذر إلا بالمقارنة بين الروايات.

كذلك فإن النقاد حددوا ما وقع من زيادات في ألفاظ بعض الروايات، فوضعوا ضوابط لقبول زيادة الثقة: كأن لا تخالف ما رواه الثقات، وكاشتراط تعدد المجلس وغير ذلك من الضوابط. لقد نجم عن هذه المقارنة ظهور فروع عديدة عرفت بعلوم الحديث، فكانت ثمرة مقارنة الأسانيد معرفة

--------------------------------------------

(1) ابن الصلاح: المقدمة 411.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীসমূহকে ব্যাখ্যাকারী ও মুজতাহিদদের ঐ সকল শব্দ থেকে পৃথক করা যা তাদের অনুধাবন এবং মূল পাঠ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্তকে উপস্থাপন করে। বস্তুত, মুহাদ্দিসগণের নিকট এই তুলনামূলক পর্যালোচনার সূক্ষ্মতা তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিল, ফলে এমন সব স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা মূল পাঠের সাথে বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে যুক্ত করা অতিরিক্ত শব্দসমূহ চিহ্নিত করার কাজ করে। খতীব বাগদাদী রচিত "আল-ফাসল লি-ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল" গ্রন্থটির যে কোনো অংশ পাঠ করলে এই মানহাজ বা পদ্ধতি অনুসরণের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার বিষয়টি প্রকাশ পাবে। তিনি বর্ণনার সকল সূত্র একত্র করেছেন, সেগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন এবং পরিশেষে মূল হাদীস এবং পরবর্তীতে তার সাথে যা যুক্ত করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করেছেন।

এই তুলনামূলক পর্যালোচনার কল্যাণেই কখনও কখনও দুটি হাদীসের মধ্যে এমন বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয় যেখানে উভয় হাদীস শক্তির দিক থেকে সমান কিন্তু অর্থের দিক থেকে পরস্পর বিরোধী, এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। একে "ইযতিরাব" বলা হয়। একইভাবে হাদীসের শব্দসমূহের মধ্যে আগে-পিছে বা অদলবদল হওয়ার বিষয়টিও জানা যায় যা উদ্দিষ্ট অর্থকে পরিবর্তন করে দেয়। একে "মাকলুব" বলা হয় এবং এটি বর্ণনাকারীর মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা বা অসতর্কতা প্রমাণ করে।

তদ্রূপ সমালোচকগণ শব্দগত ও অর্থগত বিকৃতি বা তাসহিফ ও তাহরিফ চিহ্নিত করেছেন। এমনকি তারা কখনও কখনও এই বিকৃতি ঘটার কারণও নির্ধারণ করেছেন, যেমন উস্তাদ থেকে না শুনে সরাসরি কিতাব থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা (১)। তাসহিফের মধ্যে কোনটি সংশোধন করা সহজ, আবার কোনটি বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে তুলনা করা ব্যতীত সংশোধন করা অসম্ভব।

একইভাবে সমালোচকগণ কিছু বর্ণনার শব্দে ঘটা অতিরিক্ত অংশসমূহ নির্ধারণ করেছেন। তারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা কবুলের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন: যেমন তা যেন অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিরোধী না হয় এবং একাধিক মজলিসে শ্রবণের শর্তসহ অন্যান্য নীতিমালা। এই তুলনামূলক পর্যালোচনার ফলে উলূমুল হাদীস হিসেবে পরিচিত অসংখ্য শাখা-প্রশাখার জন্ম হয়েছে। সুতরাং সনদসমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ফল ছিল...

--------------------------------------------

(১) ইবনে আস-সালাহ: আল-মুকাদ্দিমাহ ৪১১।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
المرسل والمنقطع والموقوف والمقلوب وغيرها. وثمرة مقارنة المتون معرفة الشاذ والمضطرب والمنكر والمدرج وغيرها.
মুরসাল, মুনকাতি‘, মাওকুফ, মাকলুব এবং অন্যান্য। আর মতনসমূহের তুলনামূলক পর্যালোচনার ফলাফল হলো শাজ, মুদতারিব, মুনকার, মুদরাজ এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثانياً: إتقان أسلوب المحدث واستخدامه في النقد

لقد عمد بعض النقاد إلى دراسة مجموعة من مرويات المحدث وتمرس فيها بحيث يتمكن من معرفة ما ينسب إليه من مرويات بسبب مشابهتها لها أو مخالفتها، وربما يصل الأمر عند المقارنة إلى تمييز ألفاظ بعض الرواة عن المحدث ومدى تشابهها مع المعروف عنه.

قال علي بن المديني – الناقد المعروف – وقد سُئل: مَنْ أثبت الناس في محمد بن سيرين؟ فقال: أيوب، ثم ابن عون، ثم سلمة بن علقمة، ثم حبيب ابن الشهيد، ثم يحيى بن عتيق، ثم هشام بن حسان. وما قال يزيد بن إبراهيم التستري سمعت محمد بن سيرين أثبت عندي من خالد الحذاء. ألفاظ عاصم الأحول وخالد الحذاء في محمد واحدة لا تشبه ألفاظهما ألفاظ أصحابهم (1) .

إن هذا الحس الدقيق لم يتكون إلا عبر معايشة طويلة لألفاظ المحدث ومعرفة دقيقة بإتقان رواته لها وتباينهم في هذا الإتقان.

قال الحافظ ابن رجب: "حذاق النقاد من الحفاظ- لكثرة ممارستهم للحديث، ومعرفتهم بالرجال، وأحاديث كل منهم- لهم فهم خاص يفهمون به أن هذا الحديث يشبه حديث فلان" (2) .

لقد تراكمت الخبرة عند النقاد المسلمين لطول ممارستهم ومناظراتهم

--------------------------------------------

(1) الفسوي: المعرفة والتاريخ 2/59-60.

(2) همام سعيد: العلل في الحديث 7.
দ্বিতীয়ত: মুহাদ্দিসের বর্ণনাশৈলী আয়ত্ত করা এবং তা সমালোচনায় ব্যবহার করা

কিছু সমালোচক কোনো একজন মুহাদ্দিসের বর্ণনাসমূহের একটি নির্দিষ্ট অংশ অধ্যয়ন ও তাতে গভীর দক্ষতা অর্জনের প্রয়াস চালিয়েছেন, যাতে সেই মুহাদ্দিসের দিকে সম্বন্ধকৃত বর্ণনাসমূহ সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের কারণে তিনি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এমনকি তুলনামূলক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি কখনো কোনো কোনো বর্ণনাকারীর শব্দসমূহকে মূল মুহাদ্দিসের শব্দ থেকে পৃথক করা এবং তাঁর পরিচিত রীতির সাথে সেগুলোর সাদৃশ্যের মাত্রা নিরূপণ করা পর্যন্ত পৌঁছায়।

সুপরিচিত সমালোচক আলী ইবনুল মাদীনী-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: মুহাম্মদ ইবনে সিরীনের বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি কারা? তিনি বললেন: আইয়ুব, এরপর ইবনে আউন, তারপর সালামাহ বিন আলকামা, এরপর হাবীব ইবনে আশ-শাহীদ, তারপর ইয়াহইয়া বিন আতীক, তারপর হিশাম বিন হাসসান। আর ইয়াযীদ বিন ইবরাহিম আত-তুস্তারী যখন বলেন—"আমি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে শুনেছি"—তা আমার কাছে খালিদ আল-হাদ্দার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য। মুহাম্মদ (ইবনে সিরীন)-এর বর্ণনায় আসিম আল-আহওয়াল এবং খালিদ আল-হাদ্দার শব্দসমূহ অভিন্ন; তাদের শব্দমালা তাদের অন্যান্য সহপাঠীদের শব্দমালার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় (১)।

এই সূক্ষ্ম রসবোধ বা অনুভূতি দীর্ঘকাল মুহাদ্দিসের শব্দমালার সাথে নিবিড় জ্ঞানচর্চা এবং বর্ণনাকারীদের সেই শব্দগুলো আয়ত্ত করার নিখুঁত মান ও তাদের মধ্যকার পার্থক্যের সঠিক জ্ঞান ব্যতীত অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়।

হাফিজ ইবনে রাজাব বলেছেন: "হাফিজদের মধ্য থেকে পারদর্শী সমালোচকদের—হাদিস নিয়ে প্রচুর চর্চা, বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাদের প্রত্যেকের হাদিস সম্পর্কে অবগতির কারণে—একটি বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি থাকে যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারেন যে, এই হাদিসটি অমুক ব্যক্তির হাদিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ" (২)।

দীর্ঘ চর্চা ও পারস্পরিক আলোচনার কারণে মুসলিম সমালোচকদের মাঝে অভিজ্ঞতার এই ভাণ্ডার পুঞ্জীভূত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাসাবী: আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারিখ ২/৫৯-৬০।

(২) হুমাম সাঈদ: আল-ইলাল ফিল হাদিস ৭।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وتأملهم في النصوص.

قال الأوزاعي: "كنا نسمع الحديث ونعرضه على أصحابنا كما نعرض الدرهم الزائف، فما عرفوا منه أخذناه، وما أنكروا منه تركناه" (1) .

وقيل لعبد الرحمن بن مهدي: "إنك تقول للشيء هذا صحيح وهذا لم يثبت فعمن تقول ذلك؟ فقال: أرأيت لو أتيت الناقد، فأريته دراهمك، فقال هذا جيد وهذا بهرج أكنت تسأل عمن ذاك أو تسلم له الأمر؟ قال: أسلم له الأمر. فقال: كذلك بطول المجالسة والمناظرة والخبرة" (2) .

إن معرفة أسلوب المحدث والمقارنة به تطور عند نقاد الأدب العربي، وصارت إحدى وسائل النقد الرئيسة عند نقاد الشعراء والكتاب. وكذلك فإن المنهج الغربي يعني بدراسة أسلوب المؤلف والإفادة من ذلك في التعرف على صحة نسبة كتاب ما إليه من خلال ملاحظة وحدة الأسلوب. وقد جاء منهج النقد الغربي ليركز على دراسة الوثيقة والكتاب من حيث التحليل الباطني لاستخراج كل الدلائل التي تعرفنا بالمؤلف وعصره (3) . بل قد دعت الدراسات اللغوية الملتزمة بالمنهج البنيوي والتشريحي إلى عزل النص عن مؤلفه وبيئته ثم القيام بدراسته واستلهامه.

وبناء على تركيز المنهج الأوروبي على الوثيقة المدونة، فإنه قد يضطر إلى الفرض والتخمين لمعرفة أصولها ومصادرها القديمة، في حين أن ذكر الأسانيد في الرواية الإسلامية يسّر الكشف عن مصدر الخبر (4) ، مع تدقيق المنهج

--------------------------------------------

(1) الخطيب: الكفاية 430.

(2) السيوطي: تدريب الراوي 162.

(3) لانجلوا وسينوبوس: النقد التاريخي 67.

(4) محمدعثمان موافي: منهج النقد التاريخي الإسلامي والمنهج الأوروبي 174.
এবং মূল পাঠসমূহে তাদের গভীর অভিনিবেশ।

আওযায়ী (রহ.) বলেন: “আমরা হাদীস শুনতাম এবং তা আমাদের সাথীদের নিকট পেশ করতাম যেভাবে আমরা কৃত্রিম দিরহাম যাচাই করার জন্য পেশ করি। তারা যেটিকে সঠিক বলে চিনতে পারতেন আমরা তা গ্রহণ করতাম এবং যেটিকে তারা অস্বীকার করতেন আমরা তা বর্জন করতাম।” (১)।

আবদুর রহমান বিন মাহদীকে বলা হলো: “আপনি কোনো বিষয়ে বলেন যে এটি সহীহ এবং এটি প্রমাণিত নয়; তবে আপনি কার ভিত্তিতে এ কথা বলেন? তিনি বললেন: মনে করুন, আপনি যদি কোনো মুদ্রাপরীক্ষকের কাছে গিয়ে তাকে আপনার দিরহামগুলো দেখান এবং সে বলে যে এটি ভালো আর এটি কৃত্রিম, তবে কি আপনি তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে তিনি কার ভিত্তিতে তা বললেন, নাকি তার সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন? তিনি বললেন: আমি তার সিদ্ধান্ত মেনে নেব। তিনি (ইবনে মাহদী) বললেন: তদ্রূপ দীর্ঘ সাহচর্য, পর্যালোচনা এবং অভিজ্ঞতার ফলে বিষয়টি অর্জিত হয়।” (২)।

মুহাদ্দিসগণের লিখনশৈলী অনুধাবন করা এবং তার তুলনা করার বিষয়টি আরবি সাহিত্যের সমালোচকদের নিকট বিকশিত হয়েছে এবং এটি কবি ও লেখকদের সমালোচকদের নিকট অন্যতম প্রধান সমালোচনা-পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। একইভাবে পশ্চিমা পদ্ধতিও লেখকের শৈলী অধ্যয়ন করা এবং শৈলীর অভিন্নতা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো বই তার দিকে সম্পৃক্ত করার সত্যতা যাচাই করার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করে। পশ্চিমা সমালোচনা পদ্ধতি দলিল ও বইয়ের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে লেখক ও তার যুগ সম্পর্কে যাবতীয় প্রমাণাদি উদ্ঘাটনের বিষয়ে মনোযোগ নিবদ্ধ করে (৩)। এমনকি কাঠামোবাদী ও ব্যবচ্ছেদবাদী পদ্ধতির অনুসারী ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণাসমূহ পাঠকে (টেক্সট) তার লেখক এবং পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানায় এবং এরপর সেটিকে অধ্যয়ন ও তার থেকে ভাবার্থ গ্রহণের প্রতি গুরুত্ব দেয়।

লিখিত দলিলের ওপর ইউরোপীয় পদ্ধতির এই অতিরিক্ত গুরুত্বারোপের ফলে, এর প্রাচীন মূল এবং উৎসগুলো জানার জন্য তা অনুমান ও ধারণার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। পক্ষান্তরে, ইসলামী বর্ণনায় সনদের উল্লেখ সংবাদের উৎস উদঘাটন করাকে সহজতর করে দিয়েছে (৪), এবং সেই সাথে পদ্ধতির সূক্ষ্মতাও বজায় রেখেছে।

--------------------------------------------

(১) আল-খাতীব: আল-কিফায়া ৪৩০।

(২) আস-সুয়ূতী: তাদরীবুর রাবী ১৬২।

(৩) ল্যাংলোইস ও সিনোবোস: আন-নাকদুত তারিখী ৬৭।

(৪) মুহাম্মাদ উসমান মুওয়াফী: মানহাজুন নাকদিত তারিখী আল-ইসলামী ওয়াল মানহাজুল উরুব্বী ১৭৪।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الإسلامي في التأكد من الاتصال بين الرواة الناقلين للخبر عبر العصور خوفاً من وقوع الانقطاع الزمني مما يولد الشك في صحة الرواية.
যুগ পরম্পরায় সংবাদ বহনকারী বর্ণনাকারীদের মধ্যবর্তী নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসলামি (পদ্ধতি), যেন সময়ের ব্যবধানজনিত বিচ্ছেদ ঘটার আশঙ্কা না থাকে, যা বর্ণনার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সংশয় তৈরি করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ثالثاً: الاهتمام بشهود العيان وكثرتهم

لقد وجّه المحدثون نقدهم إلى الإسناد أولاً ثم إلى المتن، وبذلك اختصروا الجهد عندما لا يصمد السند أمام النقد فلا حاجة عندئذ للاستمرار في نقد المتن. والحق أن النقد للمتن وفق المعايير العقلية خاصةً لا يعد سبيلاً قويماً ووحيداً لنقد الأحاديث التي لا يستحيل عادةً صدورها عن النبي صلى الله عليه وسلم ومع ذلك فإن السند يسقطها. على أن وضع الضوابط العقلية لنقد المتن كان يواكب ضوابط نقد السند، لأن صحة السند وحدها لا يعدّها النقاد كافية لتصحيح الحديث.

إن العناية بالإسناد تهدف إلى الوصول إلى شاهد عيان صادق بواسطة سلسلة من الشهود الصادقين الضابطين. ومن هنا كان تعريف الحديث الصحيح: هو ما وصل إلينا بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط من أوله إلى منتهاه، من غير شذوذ ولا علة. وانتقد الخبر إذا سقط منه شاهد العيان وصار مرسلاً ضعيفاً يحتاج إلى تعدد طرقه "مخارجه" إذا أريد الأخذ به. وموضوع تعدد المخارج يتسم بالدقة، وليس المقصود أن تنتهي سلاسل الأسانيد إلى سلسلة واحدة، بل لابد أن يستقل بعضها عن بعض حتى نهاية السند أو أعلاه (الصحابي أو التابعي أو تابع التابعي) .

إن تعدد المخارج وحده هو الذي يمنع من إهمال الخبر وعدم الاعتداد به عند سقوط اسم شاهد العيان منه.

وهكذا فإن الأخبار التي تضمها وثيقة أو كتاب متأخر لا تُعدُّ بعيدة عن
তৃতীয়ত: প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এবং তাদের আধিক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ

মুহাদ্দিসগণ তাদের সমালোচনা প্রথমে সনদের দিকে এবং এরপর মতনের (মূল পাঠ) দিকে নিবদ্ধ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা পরিশ্রম লাঘব করেছেন; কারণ যখন কোনো সনদ সমালোচনার মুখে টিকতে পারে না, তখন মতনের সমালোচনা অব্যাহত রাখার আর কোনো প্রয়োজন থাকে না। প্রকৃতপক্ষে, বিশেষ করে যৌক্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে মতনের সমালোচনা করা এমন সব হাদিস যাচাইয়ের সঠিক ও একমাত্র পথ নয়, যা সাধারণত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়া অসম্ভব নয়, অথচ সনদ সেগুলোকে বাতিল করে দেয়। তা সত্ত্বেও, মতনের সমালোচনার জন্য যৌক্তিক নিয়মাবলি নির্ধারণ করা সনদ সমালোচনার নিয়মাবলির সমান্তরাল ছিল; কারণ কেবল সনদের বিশুদ্ধতাকেই সমালোচকগণ হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য যথেষ্ট মনে করতেন না।

সনদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো একদল সত্যবাদী ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন সাক্ষীর সিলসিলার মাধ্যমে একজন সত্যবাদী প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর নিকট পৌঁছানো। এখান থেকেই সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে: যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি ছাড়াই আমাদের নিকট পৌঁছেছে। কোনো সংবাদ থেকে যদি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী বাদ পড়ে তবে তাকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করা হতো এবং তা মুরসাল ও দুর্বল হিসেবে গণ্য হতো, যা গ্রহণ করতে হলে এর একাধিক সূত্রের (মাখরাজ) প্রয়োজন হতো। সূত্রের এই আধিক্যের বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম; এর অর্থ এই নয় যে সনদের সকল সিলসিলা একটি মাত্র সিলসিলায় গিয়ে ঠেকবে, বরং সনদের শেষ বা উপরিভাগ (সাহাবি, তাবেয়ি বা তাবে-তাবেয়ি) পর্যন্ত এগুলোর একেকটি অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র হওয়া আবশ্যক।

সূত্রের এই আধিক্যই কোনো সংবাদকে অবহেলা করা বা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর নাম বাদ পড়ার কারণে তা অগ্রাহ্য করা থেকে রক্ষা করে।

এভাবেই, কোনো দলিল বা পরবর্তী সময়ের কোনো কিতাবে সংকলিত সংবাদসমূহকে দূরে মনে করা হয় না।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأحداث والأشخاص المباشرين للفعل التاريخي ما دامت الأسانيد ترقى إلى شهود العيان. فكان شاهد العيان هو المؤرخ الحقيقي، وعندئذ يبني شهادته على الملاحظة المباشرة إذ ليس بينه وبين الوقائع أية وسائط. ولكن تبقى مهمة الباحث في أن يتأكد من صدق شاهد العيان وصدق المخبرين عنه، وصدق صاحب الكتاب أو مدون الوثيقة. وهذا ينطبق على المؤلفات المتأخرة التي اعتمدت على مصادر أقدم مفقودة، فإن المؤلفات المتأخرة هي مصادر بديلة عن المتقدمة، ولا تعدُّ بعيدة عن الأحداث، لأن الاعتماد على المصادر المتقدمة في تناول الحدث أو الخبر.

وهكذا فإن (تاريخ بغداد) للخطيب البغدادي عندما يتناول خبراً يتعلق بالخليفة العباسي الراضي بواسطة إسناده إلى أبي بكر الصولي لا يعدُّ متأخراً، لأن الصولي عاصر وعاشر الخليفة الراضي فهو شاهد عيان ولكن يبقى التفتيش عن صحة سند الخطيب إلى الصولي، وهو سند نسخة كتاب "الأوراق" للصولي، التي تملّك الخطيب حق روايتها.

وفي الكتب المشهورة المتداولة يتساهل النقّاد في السؤال عن طرق تحمل الكتاب أو سنده، لصعوبة تزييف نسخة محرّفة من الكتاب المشهور المتداول بين أهل العلم، إذ سرعان ما يكشف الزيف وتسقط النسخة.

والحق أن التأكيد في منهج التأليف الإسلامي ليس على اسم الكتاب الذي يتم النقل منه بل على مؤلفه، لذلك كثيراً ما يهمل المصنّف ذكر اسم الكتاب ويقتصر على ذكر اسم المؤلف ضمن سلسلة الإسناد دون أن يشير إلى أنه مؤلف كتاب. وهكذا تتولّد صعوبة معرفة اسم المؤلف عندما يرد في سلسلة السند ذكر عدد من المؤلفين، كما يكون من الصعب تحديد اسم
ঐতিহাসিক কার্যের সাথে সরাসরি যুক্ত ঘটনা ও ব্যক্তিবর্গ, যতক্ষণ পর্যন্ত সনদসমূহ প্রত্যক্ষদর্শী পর্যন্ত পৌঁছায়। তখন প্রত্যক্ষদর্শীই হন প্রকৃত ইতিহাসবিদ, এবং এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করেন, যেহেতু তাঁর ও ঘটনার মাঝে কোনো মাধ্যম থাকে না। তবে গবেষকের দায়িত্ব হলো প্রত্যক্ষদর্শীর সত্যতা, তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের সত্যতা এবং গ্রন্থকার বা নথির সংকলকের সত্যতা নিশ্চিত করা। এটি পরবর্তীকালের সেই সকল রচনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা প্রাচীন কোনো বিলুপ্ত উৎসের ওপর নির্ভর করে রচিত হয়েছে। এমতাবস্থায় পরবর্তীকালের এই রচনাগুলো পূর্ববর্তী রচনার বিকল্প উৎস হিসেবে গণ্য হয় এবং সেগুলোকে ঘটনা থেকে দূরে মনে করা হয় না, কারণ ঘটনা বা সংবাদ বর্ণনায় তখন পূর্ববর্তী উৎসগুলোর ওপরই নির্ভর করা হয়েছে।

একইভাবে খতিব বাগদাদীর (তারিখে বাগদাদ) যখন আব্বাসী খলিফা আর-রাদি সংক্রান্ত কোনো সংবাদ আবু বকর আস-সুলীর মাধ্যমে তাঁর সনদে বর্ণনা করেন, তখন তা পরবর্তীকালের উৎস হিসেবে গণ্য হয় না। কারণ আস-সুলী খলিফা আর-রাদির সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সাহচর্যে থেকেছেন, ফলে তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে খতিব থেকে আস-সুলী পর্যন্ত সনদের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের বিষয়টি থেকে যায়; আর তা হলো আস-সুলীর ‘আল-আওরাক’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির সনদ, যা বর্ণনা করার অধিকার খতিব লাভ করেছিলেন।

আর প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে সমালোচকরা গ্রন্থটি গ্রহণের পদ্ধতি বা এর সনদ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেন। কারণ আলেমদের মাঝে প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ কোনো গ্রন্থের বিকৃত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন; যেহেতু দ্রুতই সেই জালিয়াতি ধরা পড়ে যায় এবং পাণ্ডুলিপিটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

প্রকৃতপক্ষে ইসলামি গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সেই লেখকের ওপর যাঁর থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে, গ্রন্থের নামের ওপর নয়। এজন্য অনেক সময় সংকলক গ্রন্থের নাম উল্লেখ করতে অবহেলা করেন এবং কেবল সনদ বা বর্ণনাসূত্রের ধারায় লেখকের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হন, তিনি যে কোনো গ্রন্থের রচয়িতা সেদিকে ইঙ্গিত করেন না। এভাবে যখন সনদে একাধিক লেখকের নাম আসে তখন মূল লেখকের নাম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি কঠিন হয়ে পড়ে নাম নির্ধারণ করা...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الكتاب للمؤلف الذي ألّف عدة كتب في موضوع واحد أو موضوعات متداخلة، بحيث يمكن تكرار روايات نفسها في كل منها. وهنا يلحظ المعني بأساليب التأليف في القرون الأولى أن النظرة إلى الكتاب حتى في عصر التدوين (القرن الثالث الهجري) لم تحظ بالقدر الكافي من الاهتمام، وظلّت النظرة إلى المؤلف بوصفه "راوية" هي الأساس، رغم طغيان الكتابة على الذاكرة وشيوع التأليف في تلك الفترة.

গ্রন্থটি সেই লেখকের যিনি একটি একক বিষয়ে অথবা পরস্পর সম্পৃক্ত একাধিক বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার ফলে সেগুলোর প্রত্যেকটিতে একই বর্ণনার পুনরাবৃত্তি ঘটা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শতাব্দীসমূহের গ্রন্থ রচনা পদ্ধতির প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিরা লক্ষ্য করবেন যে, সংকলন ও গ্রন্থবদ্ধকরণের যুগেও (হিজরি তৃতীয় শতাব্দী) 'কিতাব' বা গ্রন্থের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পর্যাপ্ত গুরুত্ব লাভ করেনি এবং স্মৃতির ওপর লেখনীর প্রাধান্য ও সেই যুগে গ্রন্থ রচনার ব্যাপকতা সত্ত্বেও লেখককে একজন 'বর্ণনাকারী' হিসেবে দেখার বিষয়টিই মূল ভিত্তি হিসেবে রয়ে গিয়েছিল।

(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌رابعاً: وضع شروط للراوي والمروي

لقد استخدم المحدثون مبدأ التثبت في التعامل مع العلم النقلي "الرواية".

إن مبدأ "التثبت" استخدمه المحدثون في القرون الأولى للهجرة، يقول عبد الرحمن بن مهدي (ت198هـ) أحد كبار النقاد: "خصلتان لا يستقيم فيهما حسن الظن: الحكم والحديث" (1) .

ونظراً لنشأة شروط صحة الرواية في ظلال الدين، فإن شروط الراوي تأثرت بذلك، فلابد أن يكون مسلماً ليقبل أداؤه، وإن لم يعدُّ الإسلام شرطاً عند تحمله. وقد اختلف المحدثون والأصوليون حول سن التحمل "السماع" فذهب بعضهم إلى اشتراط البلوغ، وأطلق آخرون السن بشرط القدرة على ضبط ما يرى ويسمع ولو لم يبلغ، ولكنهم لم يختلفوا في ضرورة أن يكون بالغاً عاقلاً مميزاً وقت الأداء (الرواية) (2) ، وكذلك اشترطوا في الراوي العدالة بأن يكون صادقاً سليماً من كل صفة تخل بمروءته ودينه حتى تحصل الثقة

--------------------------------------------

(1) ابن أبي حاتم: الجرح والتعديل 1/36. والحكم: القضاء.

(2) الخطيب: الكفاية 31، 32، 54، 76، 100.
চতুর্থত: বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের জন্য শর্তাবলি নির্ধারণ

মুহাদ্দিসগণ বর্ণিত জ্ঞান বা "রেওয়ায়েত" ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের নীতি অবলম্বন করেছেন।

হিজরীর প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে মুহাদ্দিসগণ "যাচাই-বাছাই" নীতিটি ব্যবহার করেছেন। অন্যতম প্রধান পর্যালোচক আবদুর রহমান ইবনে মাহদী (মৃত্যু ১৯৮ হি.) বলেন: "দুটি বিষয় এমন যেখানে সুধারণা পোষণ করা সঠিক নয়: বিচারকার্য এবং হাদীস।" (১)।

রেওয়ায়েত বা বর্ণনার বিশুদ্ধতার শর্তাবলি দ্বীনের ছায়াতলে গড়ে ওঠার কারণে, বর্ণনাকারীর শর্তাবলিও এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সুতরাং বর্ণনা পেশ করার সময় বর্ণনাকারীকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে, যদিও বর্ণনা গ্রহণের সময় ইসলামকে শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়নি। বর্ণনা গ্রহণ বা "শ্রবণের" বয়সের ব্যাপারে মুহাদ্দিস ও উসুলবিদগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, আবার কেউ কেউ বয়স নির্ধারণ না করে যা দেখছেন বা শুনছেন তা যথাযথভাবে আয়ত্ত করার সক্ষমতাকে শর্ত করেছেন, যদিও সে প্রাপ্তবয়স্ক না হয়। কিন্তু বর্ণনা পেশ বা রেওয়ায়েতের সময় বর্ণনাকারীর প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিস্ক ও হিতাহিত জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা কোনো মতভেদ করেননি (২)। অনুরূপভাবে তাঁরা বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতার শর্তারোপ করেছেন, অর্থাৎ তাকে সত্যবাদী হতে হবে এবং তার ব্যক্তিত্ব ও দ্বীনদারীকে ক্ষুণ্ণ করে এমন প্রতিটি দোষ থেকে মুক্ত হতে হবে, যাতে নির্ভরযোগ্যতা অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি হাতিম: আল-জারহু ওয়াত তা'দীল ১/৩৬। আল-হুকুম অর্থ: বিচারকার্য।

(২) আল-খাতিব: আল-কিফায়া ৩১, ৩২, ৫৪, ৭৬, ১০০।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২০)
بروايته، والشرط الرابع في الراوي: هو الضبط، سواء أكان ضبط صدر أم كتاب: بأن يكون سليم الذاكرة والفهم إذا حفظ، صحيح الكتابة والنقل إذا دوّن. فإذا اختلط أو كثرت غفلته في فترة ما فإنه يسقط توثيقه مهما بلغ ورعه أو سلامة نيته، بل إن سلامة النية قد تؤدي إلى السذاجة والغفلة مما يؤثر في دقة الراوية، لذلك قال ابن سيرين: "لم نر الصالحين في شيء أكذب منهم في الحديث" (1) ، فلا بد للراوي من التمتع بعقل سليم، وتصوُّر مستنير، وقدرة جيدة على التمييز، فإذا اختلت قواه النفسية والعقلية فإن روايته مرفوضة. وهذا ما انتهى إليه المنهج النقدي الحديث إذ اشترط في الباحث "أن يكون فطناً حتى يقف دون عناء كبير على التفاصيل الهامة أو الظروف الأساسية التي تؤثر تأثيراً فعالاً في الظاهرة التي يلاحظها ويجري التجارب عليها" (2) .

وأما المروي فقد اشترط أن يكون مسموعاً على العلماء وليس مأخوذاً من الكتب والنسخ دون تملك حق روايتها، وهذا الشرط لحماية الرواية من التحريف والتصحيف والخطأ في الفهم، فالعالم هو الذي سيبين النطق الصحيح والفهم الصحيح للرواية.

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح مسلم 13.

(2) محمود قاسم: المنطق ومناهج البحث 105 – 106.
তার বর্ণনার ক্ষেত্রে রাবীর (বর্ণনাকারীর) জন্য চতুর্থ শর্ত হলো: দাবত (স্মৃতি ও নির্ভুলতা), চাই তা মুখস্থ রাখা (দাবত আস-সদর) কিংবা লিখে রাখা (দাবত আল-কিতাব) হোক; অর্থাৎ মুখস্থ করার ক্ষেত্রে স্মরণশক্তি ও অনুধাবনের সুস্থতা এবং লিখে রাখার ক্ষেত্রে নির্ভুল লিখন ও অনুলিপি নিশ্চিত করা। সুতরাং যদি কোনো বর্ণনাকারী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন কিংবা কোনো এক সময়ে তার অসাবধানতা বেড়ে যায়, তবে তার বিশ্বস্ততা বা ‘তাওসিক’ বাতিল হয়ে যাবে, তিনি যতই পরহেজগার হোন না কেন কিংবা তার নিয়ত যত বিশুদ্ধই হোক না কেন। বরং নিয়তের বিশুদ্ধতা অনেক সময় সরলতা ও অসাবধানতার দিকে নিয়ে যেতে পারে যা বর্ণনার নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই ইবনে সিরিন বলেছেন: "আমরা পুণ্যবানদের হাদিস বর্ণনার চেয়ে অন্য কোনো বিষয়ে বেশি মিথ্যা বলতে দেখিনি" (১)। অতএব, রাবীর জন্য সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বচ্ছ ধারণা এবং উত্তম বিচারক্ষমতা থাকা অপরিহার্য। যদি তার মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিতে ত্রুটি দেখা দেয়, তবে তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হবে। আর আধুনিক সমালোচনা পদ্ধতিও এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে; যেখানে গবেষকের জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে যে "তাকে অত্যন্ত বিচক্ষণ হতে হবে, যাতে তিনি অনায়াসেই সেই গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি বা মৌলিক পরিস্থিতিগুলো উপলব্ধি করতে পারেন যা তার পর্যবেক্ষণকৃত বা পরীক্ষাধীন বিষয়ের ওপর কার্যকরী প্রভাব বিস্তার করে" (২)।

আর বর্ণিত বিষয়ের (মারউই) ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তা আলেমদের নিকট থেকে শ্রুত হতে হবে; বর্ণনার অধিকার লাভ করা ছাড়া কেবল বই বা পাণ্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। আর এই শর্তটি আরোপ করা হয়েছে বর্ণনাকে বিকৃতি (তাহরিফ), লিপিপার্থক্যজনিত ভুল (তাসহিফ) এবং ভুল অনুধাবন থেকে রক্ষা করার জন্য। কারণ আলেমই বর্ণনার সঠিক উচ্চারণ ও সঠিক মর্মার্থ স্পষ্ট করে দেবেন।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিমের মুকাদ্দিমা, ১৩।

(২) মাহমুদ কাসিম: আল-মানতিক ওয়া মানাহিজুল বাহাস ১০৫ – ১০৬।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌خامساً: اشتراط الملاحظة العلمية

من الصفات التي اشترطت في شاهد العيان لقبول شهادته، فالملاحظة العابرة ليست موضع ثقة، وإنما الملاحظة الدقيقة مع سلامة الحواس وقوة
পঞ্চম: তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের শর্তারোপ

প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তার মধ্যে যেসব গুণাবলি থাকা শর্ত করা হয়েছে এটি তার অন্যতম। কারণ ভাসা ভাসা পর্যবেক্ষণ নির্ভরযোগ্য নয়; বরং ইন্দ্রিয়সমূহের সুস্থতা ও শক্তির সাথে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণই (নির্ভরযোগ্য)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২১)
الذاكرة من أجل "الضبط". إن الملاحظة العلمية تكون مقصودة وشرطها "ألَاّ يكون لدى الباحث شاغل آخر سوى اتخاذ الحيطة تجاه أخطاء الملاحظة التي قد تحول دون رؤية الظاهرة بتمامها، أو قد تؤدي إلى تحديدها تحديداً سيّئاً" (1) . والمحدثون أرادوا أن تكون ملاحظة الراوي مباشرة ومقصودة، وألَاّ يغيب ذهنه حال التلقي، فلا ينشغل بسوى الرواية وإلا سقطت روايته سواء كان تحمله سماعاً أو قراءة. بل إنهم أقاموا المفاضلة بين السماع والقراءة على مدى توافر الحضور الذهني، وإمكان تصحيح وضبط الرواية في الحالتين.

--------------------------------------------

(1) محمود قاسم: المنطق ومناهج البحث 103.
"ضبط" বা নির্ভুলতা রক্ষার জন্য স্মৃতিশক্তি। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ উদ্দেশ্যমূলক হয়ে থাকে এবং এর শর্ত হলো, "গবেষকের যেন পর্যবেক্ষণজনিত ত্রুটিসমূহ এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন ব্যতিরেকে অন্য কোনো ব্যস্ততা না থাকে, যা হয়তো বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যক্ষ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হতে পারে অথবা বিষয়টিকে ত্রুটিপূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করার দিকে ধাবিত করতে পারে" (১)। মুহাদ্দিসগণ চেয়েছিলেন রাবির পর্যবেক্ষণ যেন সরাসরি ও উদ্দেশ্যমূলক হয় এবং গ্রহণের সময় তার মনোযোগ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়; ফলে তিনি বর্ণনা ব্যতীত অন্য কিছুতে লিপ্ত হবেন না, অন্যথায় তার বর্ণনা বাতিল হয়ে যাবে— চাই তার সেই গ্রহণ পদ্ধতি শ্রবণ (সামা’) হোক কিংবা পঠন (কিরাআত)। বরং তারা মানসিক উপস্থিতির প্রাপ্যতা এবং উভয় অবস্থায় বর্ণনাটি সংশোধন ও নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করার সক্ষমতার ভিত্তিতে শ্রবণ ও পঠনের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মাহমুদ কাসেম: আল-মানতিক ওয়া মানাহিজুল বাহাস ১০৩।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌سادساً: الانتخاب عمل نقدي

إن المنهج النقدي الإسلامي كما أشرت من قبل استخدم مع الأحاديث والآثار المرفوعة والموقوفة على الصحابة، ولم يستعمل إلا نادراً في نطاق الرواية التأريخية والأدبية، حيث لم يكن المؤرخون في القرون الأولى الإسلامية ينقدون "الخبر التأريخي"بل كانوا يقومون بالجمع الشامل والانتقاء، ولا ريب أن الانتقاء (الانتخاب) يدخل ضمن الأعمال النقدية بالجملة، ولكن ذلك يتوقف على مدى دقة مقاييس المنتخب وشروطه في كتابه. ومن هنا فلا يمكن القول أن (تاريخ الطبري) خال من أي عمل نقدي ما دام الطبري قد انتخب مادته من المكتبة التأريخية التي وقف عليها في عصره. ولكن من جهة ثانية لا يمكن عدُّ الطبري قد قام بعمل نقدي للأسانيد والمتون مثل عمل البخاري ومسلم في صحيحيهما؛ لأنه لم يشترط الصحة في كتابه، بل لم يشأ أن يتحمل مسؤولية الأخبار التي صرح بأن العهدة فيها على "الراوي" وليس عليه.
ষষ্ঠ: নির্বাচন একটি সমালোচনামূলক কাজ

আমি ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি যে, ইসলামি সমালোচনামূলক পদ্ধতি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত মারফু হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরামের প্রতি সম্পৃক্ত মাওকুফ আসারসমূহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি খুব সামান্যই ব্যবহৃত হয়েছে; কেননা ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলোর ঐতিহাসিকগণ ‘ঐতিহাসিক সংবাদ’ সমালোচনা বা বিশ্লেষণ করতেন না, বরং তারা ব্যাপক সংগ্রহ ও চয়ন (বাছাই) করতেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, চয়ন বা নির্বাচন করা সামগ্রিকভাবে সমালোচনামূলক কাজেরই অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি নির্ভর করে নির্বাচনকারীর মানদণ্ডের সূক্ষ্মতা এবং তার কিতাবে আরোপিত শর্তাবলির ওপর। এ কারণে এটি বলা সম্ভব নয় যে, 'তারিখে তাবারী' সকল প্রকার সমালোচনামূলক কাজ থেকে মুক্ত, যেহেতু ইমাম তাবারী তার সমসাময়িক ঐতিহাসিক ভাণ্ডার থেকে তার উপাদানসমূহ নির্বাচন করেছেন। কিন্তু অন্যদিকে, ইমাম তাবারীকে সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাদের ‘সহিহ’ গ্রন্থদ্বয়ে যে ধরনের সমালোচনামূলক কাজ করেছেন, তেমন কাজের অধিকারী হিসেবে গণ্য করা যায় না; কারণ তিনি তার কিতাবে কেবল সহিহ রেওয়ায়াত আনার শর্তারোপ করেননি, বরং তিনি সেই সংবাদগুলোর দায়ভার গ্রহণ করতে চাননি যেগুলোর ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এর দায় বর্ণনাকারীর ওপর, তার নিজের ওপর নয়।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المحدثون والنقد الباطني السلبي

‌‌اشتراط تملك حق الرواية:

…

المحدثون والنقد الباطني السلبي:

اهتم النقاد المحدثون بالكشف عن اتجاهات الراوي وميوله العقدية والسياسية، ونظروا إلى مروياته بحذر، إذا وافقت هواه، ورفضوا مروياته إذا كان من الدعاة إلى البدعة والهوى، وهو رأي أحمد بن حنبل؛ وذهب الشافعي إلى قبول شهادة (أخبار) أهل الأهواء، إلا الخطابية من الرافضة؛ لأنهم يرون الشهادة بالزور لموافقيهم، ويرى الإمام مالك رفض مرويات أهل الأهواء (1) .

والرأي المعتدل هو ترك الدعاة إلى بدعهم، لأن حماستهم ودعوتهم تؤثر في روايتهم، وأما غير الدعاة فتركهم بالجملة يسقط كثيراً من الروايات دون مسوِّغ ومن هنا قال ناقد كبير هو علي بن المديني: "لو تركت أهل البصرة لحال القدر، ولو تركت أهل الكوفة لذلك الرأي – يعني التشيع – خربت الكتب". قوله: "خربت الكتب" يعني لذهب الحديث (2) . بل إن بعض الدعاة إلى البدع كالخوارج لم تردّ مروياتهم، لأن بدعتهم تجرهم إلى تغليظ جريرة الكذب، فهم يكفِّرون مرتكب الكبيرة والكذب كبيرة (3) ، والمقصود معرفة الدوافع النفسية للراوي ومدى تأثيرها في دقة الرواية.

إن تحليل شخصية الرواة ودوافعهم سبق إليه المنهج الإسلامي، وجاء المنهج النقدي الحديث يفتش عن مدى حياد أو موضوعية الراوي أو

--------------------------------------------

(1) الخطيب: الكفاية 120.

(2) المصدر السابق: 129.

(3) المصدر السابق: 130.
হাদিস বিশারদগণ এবং নেতিবাচক অভ্যন্তরীণ সমালোচনা

বর্ণনা করার অধিকার লাভের শর্তাবলী:

...

হাদিস বিশারদগণ এবং নেতিবাচক অভ্যন্তরীণ সমালোচনা:

হাদিস সমালোচকগণ বর্ণনাকারীর আদর্শিক এবং রাজনৈতিক ঝোঁক ও প্রবণতা উন্মোচনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তার বর্ণনাগুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন যদি সেগুলো তার খেয়াল-খুশির (প্রবৃত্তির) অনুকূলে হয়। আর যদি বর্ণনাকারী বিদআত ও প্রবৃত্তির দিকে আহ্বানকারী (দাঈ) হতেন, তবে তারা তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করতেন; এটিই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের অভিমত। ইমাম শাফিঈ প্রবৃত্তি পূজারীদের সাক্ষ্য (সংবাদ) গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত 'খাত্তাবিয়া' সম্প্রদায় ব্যতীত; কারণ তারা তাদের মতাদর্শের অনুসারীদের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকে বৈধ মনে করে। আর ইমাম মালিক প্রবৃত্তি পূজারীদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করার পক্ষপাতী ছিলেন।

ভারসাম্যপূর্ণ অভিমত হলো তাদের বর্জন করা যারা নিজেদের বিদআতের দিকে আহ্বান করে, কারণ তাদের অতি-উৎসাহ এবং দাওয়াত তাদের বর্ণনার ওপর প্রভাব ফেলে। আর যারা আহ্বানকারী নন, তাদের ঢালাওভাবে বর্জন করা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অনেক বর্ণনাকে বাতিল করে দেয়। এখান থেকেই একজন মহান সমালোচক আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: "যদি আমি কদরিয়া মতবাদের কারণে বসরাবাসীদের ত্যাগ করতাম, আর সেই (শিয়া) মতাদর্শের কারণে কুফাবাসীদের ত্যাগ করতাম, তবে কিতাবসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত।" তার উক্তি: "কিতাবসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত" এর অর্থ হলো হাদিস বিলুপ্ত হয়ে যেত। এমনকি বিদআতের দিকে আহ্বানকারী কিছু গোষ্ঠী যেমন খারেজিদের বর্ণনাও প্রত্যাখ্যান করা হয়নি, কারণ তাদের বিদআত তাদেরকে মিথ্যার গোনাহকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখার দিকে ধাবিত করে; তারা কবিরা গুনাহগারকে কাফের মনে করে, আর মিথ্যা বলা একটি কবিরা গুনাহ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারীর মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা এবং বর্ণনার নির্ভুলতার ওপর তার প্রভাবের মাত্রা উপলব্ধি করা।

বর্ণনাকারীদের ব্যক্তিত্ব এবং তাদের প্রেষণা বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে ইসলামী পদ্ধতিই অগ্রগামী ছিল। আধুনিক সমালোচনামূলক পদ্ধতি বর্ণনাকারীর নিরপেক্ষতা বা বস্তুনিষ্ঠতার মাত্রা অনুসন্ধানে এসেছে বা...

--------------------------------------------

(১) আল-খাতিব: আল-কিফায়া ১২০।

(২) পূর্বোক্ত উৎস: ১২৯।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস: ১৩০।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
المؤلف (1) ، حيث اشترط ألا ينساق لعواطفه الخلقية والعقدية والفلسفية (2) ، "وأن تجيء روايته مستقلة قدر المستطاع عن قائلها، فلا يمازجها شيء من ميوله وأهوائه ونزعاته الذاتية، وليس للباحث العلمي أن يختار من الشواهد لبحثه ما يخدم رغبة في نفسه، أو أن يحقق مثلاً أعلى يتمناه" (3) .

إن تحليل نفسية الراوي، ومعرفة أثر الغرور وحب الشهرة في دقة مروياته، من الجوانب التي أولاها المنهج الإسلامي اهتمامه، يقول شعبة بن الحجاج (ت160هـ) : "لا يجيئك الحديث الشاذ إلا من الرجل الشاذ" (4) ، والحديث الشاذ هو أن يروي الثقات حديثاً فيشذ عنهم واحد فيخالفهم، وهذا إما لاختلال الضبط أو للرغبة في الشهرة بمعرفة أحاديث غريبة نادرة. وقد وصف الخطيب أكثر طلبة الحديث في عصره بغلبة كتب الغريب عليهم دون المشهورة، وسماع المنكر دون المعروف (5) ، وكان أبو يوسف القاضي قد نبه من قبل على خطورة ذلك: "من اتبع غريب الحديث كذب" (6) .

إن منهج النقد الحديث يرفض التعلق برواية شاذة، ويطالب بجمع سائر الروايات المتعلقة بحادث معين؛ لتكتمل الصورة، ويُعرف الاتجاه العام في المصادر، وتُكتشف محاولة التزوير، وتزييف الخبر. وعند شذوذ مصدر معين تبرز ثمة دواعٍ لاتهامه، وهي من أبرز مزايا الجمع الكامل والتقميش التام.

--------------------------------------------

(1) لانجلوا وسينبوس: مدخل 129/132.

(2) محمود قاسم: المنطق ومناهج البحث 103.

(3) زكي نجيب محمود: المنطق الوضعي 2/42.

(4) الخطيب: الكفاية 141.

(5) الخطيب: المصدر السابق 141.

(6) المصدر السابق 142.
লেখক (১), যেখানে তিনি শর্তারোপ করেছেন যে, গবেষক যেন তার নৈতিক, আদর্শিক এবং দার্শনিক আবেগ দ্বারা তাড়িত না হন (২), "এবং তার বর্ণনা যেন বর্ণনাকারী থেকে যথাসম্ভব স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ হয়, ফলে তার ব্যক্তিগত ঝোঁক, প্রবৃত্তি ও প্রবৃত্তিগত প্রবণতার কোনো কিছুই যেন তাতে মিশে না যায়। আর বৈজ্ঞানিক গবেষকের জন্য এটি সমীচীন নয় যে, তিনি তার গবেষণার জন্য এমন সব প্রমাণাদি নির্বাচন করবেন যা তার নিজের কোনো অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করে, অথবা এমন কোনো উচ্চতর আদর্শ বাস্তবায়ন করে যা তিনি কামনা করেন" (৩)।

বর্ণনাকারীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার বর্ণিত বিষয়ের নির্ভুলতার ওপর অহংকার ও খ্যাতির মোহের প্রভাব অনুধাবন করা সেই সব দিকগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর প্রতি ইসলামী গবেষণা পদ্ধতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি) বলেন: "বিচ্ছিন্ন বর্ণনা কেবল বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির পক্ষ থেকেই তোমার কাছে আসে" (৪)। আর বিচ্ছিন্ন হাদিস (শায) হলো, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ একটি হাদিস বর্ণনা করবেন কিন্তু তাদের মধ্য থেকে একজন তাদের বিরোধিতা করে ভিন্ন কিছু বর্ণনা করবেন; এটি হয় স্মৃতির ত্রুটির কারণে অথবা বিরল ও অদ্ভুত হাদিস বর্ণনার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জনের লালসায়। আল-খতিব তাঁর যুগের অধিকাংশ হাদিস অন্বেষণকারীকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের চেয়ে বিরল কিতাবসমূহের প্রতি এবং সুপরিচিত বিষয়ের চেয়ে অপরিচিত ও অগ্রহণযোগ্য বিষয় শোনার প্রতি বেশি আসক্ত ছিল (৫)। কাজী আবু ইউসুফ এর পূর্বেই এই বিষয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন: "যে ব্যক্তি বিরল ও অদ্ভুত হাদিসের অনুসরণ করে, সে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হয়" (৬)।

আধুনিক সমালোচনা পদ্ধতি কোনো বিচ্ছিন্ন বর্ণনার ওপর নির্ভর করা প্রত্যাখ্যান করে এবং কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সংক্রান্ত অন্যান্য সকল বর্ণনা সংগ্রহের দাবি জানায়; যাতে চিত্রটি পূর্ণাঙ্গ হয়, উৎসসমূহের সাধারণ ধারা উপলব্ধি করা যায় এবং তথ্য জালকরণ ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অপচেষ্টা উদ্ঘাটিত হয়। যখন কোনো নির্দিষ্ট উৎস বিচ্ছিন্ন বা ব্যতিক্রম হয়ে পড়ে, তখন তাকে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়; আর এটিই হলো পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ ও সামগ্রিক তথ্য অনুসন্ধানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

--------------------------------------------

(১) ল্যাঙ্গলইস এবং সিনোবোস: প্রবেশিকা ১২৯/১৩২।

(২) মাহমুদ কাসেম: যুক্তিবিদ্যা ও গবেষণা পদ্ধতি ১০৩।

(৩) জাকি নাজিব মাহমুদ: ইতিবাচক যুক্তিবিদ্যা ২/৪২।

(৪) আল-খতিব: আল-কিফায়া ১৪১।

(৫) আল-খতিব: পূর্বোক্ত উৎস ১৪১।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস ১৪২।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুস সীরাতি লিআকরাম আল-উমারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
إن دراسة الحالة الصحية والعقلية للراوي وما يطرأ عليه من تغيير اهتم بها المنهج النقدي الإسلامي وحاول تحديد وقت المرض، كالاختلاط الذي يؤدي إلى رفض الرواية منذ تاريخ وقوعه دون أن يتعدى أثره تاريخ الراوي السابق، ولا شك أن ضعف الذاكرة وكثرة الغلط تؤدي إلى التوقف في قبول الرواية.

وجاء المنهج النقدي الحديث يؤكد على أهمية الفحص عن دقة الراوي وحالته العقلية والنفسية عند التحمل والأداء (1) ، فهو يحذر "أن يكون المؤلف قد أساء الملاحظة نتيجة لدوافع باطنية أو شعورية (هلوسة أو وهم) " (2) .

وقد قرر المحدثون أن صحة السند لا تقتضي صحة المتن، لذلك فإنهم نقدوا المتن أيضاً، وذلك عن طريق تصحيحه قبل تفسيره وتحليله، وقد كشفوا عن أخطاء وتحريفات وتصحيفات المتن في مؤلفات مستقلة رائدة من أشهرها مؤلَّف العسكري (تصحيفات المحدثين) .

إن جهابذة نقاد السند هم جهابذة نقاد المتن في آن واحد، مثل الإمام البخاري والإمام مسلم في "التمييز" حيث ساق الأخير الأحاديث المنقولة على الوهم في متونها دون أسانيدها، وبين وجه الوهم بذكر ما اشتهر من الأحاديث المخالفة لها في المتن (3) . وتتابعت الجهود لصياغة منهج نقد المتن، وظهرت ضوابط دقيقة ذكر بعضها ابن القيم مثل اشتمال المتون على المجازفات ومخالفتها للحس وسماجة المعنى وركاكة الأسلوب والمناقضة للسنة الصريحة أو لصريح القرآن أو لأنها لا تشبه كلام الرسول صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) لانجلوا وسينبوس: النقد التاريخي 128 – 129.

(2) المصدر السابق 135- 138.

(3) التمييز 133، 138، 139.
বর্ণনাকারীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং তাতে যে পরিবর্তন ঘটে, সে বিষয়ে ইসলামি সমালোচনা পদ্ধতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং অসুস্থতার সময়কাল নির্ধারণের চেষ্টা করেছে; যেমন 'ইখতিলাত' (স্মৃতিভ্রান্তি), যা ঘটার তারিখ থেকে বর্ণনা প্রত্যাখ্যানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে এর প্রভাব বর্ণনাকারীর পূর্ববর্তী বর্ণনাসমূহের ওপর পড়ে না। নিঃসন্দেহে স্মৃতির দুর্বলতা এবং ভুলের আধিক্য বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিরত থাকার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আধুনিক সমালোচনা পদ্ধতিও (হাদিস) গ্রহণ এবং প্রদানের সময় বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা এবং তার মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা পরীক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেয় (১)। এটি সতর্ক করে যে, "রচয়িতা সম্ভবত অভ্যন্তরীণ বা সচেতন কোনো তাড়নার (হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রম) ফলে পর্যবেক্ষণে ভুল করেছেন" (২)।

মুহাদ্দিসগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, সনদের বিশুদ্ধতা মতনের (মূল পাঠের) বিশুদ্ধতাকে আবশ্যক করে না। তাই তাঁরা মতনেরও সমালোচনা করেছেন, আর তা করেছেন তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের পূর্বে তাকে সংশোধন করার মাধ্যমে। তাঁরা মতনের ভুলভ্রান্তি, বিকৃতি ও লিখনগত ভুলসমূহ স্বতন্ত্র ও অগ্রগামী সব গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো আল-আসকারির 'তাসহিফাতুল মুহাদ্দিসিন'।

সনদের শ্রেষ্ঠ সমালোচকগণ একই সাথে মতনেরও শ্রেষ্ঠ সমালোচক ছিলেন। যেমন ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম তাঁর 'আত-তাময়িজ' গ্রন্থে; যেখানে শেষোক্ত জন সনদ ছাড়াই সেই সব হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলোর মতনে বিভ্রম ঘটেছে, এবং এর বিপরীতে প্রসিদ্ধ ও বিরোধী হাদিসসমূহ উল্লেখ করে বিভ্রমের দিকটি স্পষ্ট করেছেন (৩)। মতন সমালোচনার পদ্ধতি প্রণয়নে প্রচেষ্টাসমূহ অব্যাহত থাকে এবং বেশ কিছু সূক্ষ্ম মাপকাঠি প্রকাশ পায়, যার কিছু ইবনুল কাইয়্যিম উল্লেখ করেছেন। যেমন: মতনের মধ্যে অতিরঞ্জন থাকা, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের পরিপন্থী হওয়া, অর্থের কদর্যতা, প্রকাশভঙ্গির দুর্বলতা এবং সুস্পষ্ট সুন্নাহ বা সুস্পষ্ট কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া কিংবা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সদৃশ না হওয়া।

--------------------------------------------

(১) লাংলোইস এবং সেনোবোস: ঐতিহাসিক সমালোচনা ১২৮ – ১২৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ১৩৫- ১৩৮।

(৩) আত-তাময়িজ ১৩৩, ১৩৮, ১৩৯।