(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: -)
المتوارين   (عبد الغني بن سعيد الأزدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المتوارين الذين اختفوا خوفا من الحجاج بن يوسف الثقفي

المؤلف: أبو محمد عبد الغني بن سعيد بن علي بن بشر بن مروان الأزدي المصري (ت 409هـ)

المحقق: مشهور حسن محمود سلمان

الناشر: دار القلم , الدار الشامية - دمشق , بيروت

الطبعة: الأولى، 1410

عدد الصفحات: 78

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(ترقيم الأحاديث مضاف من المكتبة الشاملة وليس في المطبوع)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত্মগোপনকারীগণ   (আবদ আল-গনি বিন সাঈদ আল-আজদী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আত্মগোপনকারীগণ যারা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফীর ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদ আল-গনি বিন সাঈদ বিন আলী বিন বিশর বিন মারওয়ান আল-আজদী আল-মিসরী (মৃত্যু ৪০৯ হিজরী)

গবেষক: মাশহুর হাসান মাহমুদ সালমান

প্রকাশক: দার আল-কালাম, আদ-দার আশ-শামিয়্যাহ - দামেস্ক, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

(হাদিস নম্বরগুলো মাকতাবা শামিলা কর্তৃক সংযোজিত এবং এগুলো মূল মুদ্রিত কপিতে নেই)

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر وأعن

 

أخبرنَا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن حمد بن حَامِد قِرَاءَة عَلَيْهِ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عمر الْفراء قَالَ أنبأني الشَّيْخَانِ أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن سعيد بن عبد الله الحبال وَأَبُو زَكَرِيَّا عبد الرَّحِيم بن أَحْمد البُخَارِيّ قَالَا أنبأ عبد الْغَنِيّ بن سعيد الْحَافِظ قَالَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামদ বিন হামিদ, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন বিন উমর আল-ফাররা, তিনি বলেছেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ—আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাব্বাল এবং আবু জাকারিয়া আব্দুর রহিম বিন আহমাদ আল-বুখারি, তাঁরা বলেছেন, সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আব্দুল গনি বিন সাঈদ, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌هروب أبي عَمْرو بن الْعَلَاء من الْحجَّاج بن يُوسُف وتواريه مِنْهُ بِالْيمن

 

1 - حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن جَعْفَر بن مُحَمَّد بن الْورْد إملاء ثَنَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن حميد الْبَصْرِيّ القَاضِي ثَنَا أَبُو حَاتِم سهل بن مُحَمَّد بن عُثْمَان السجسْتانِي ثَنَا الْأَصْمَعِي عَن أبي عَمْرو ابْن عَلَاء قَالَ
হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের নিকট থেকে আবু আমর ইবনুল আলার পলায়ন এবং ইয়ামেনে তার আত্মগোপন

 

১ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ার্দ শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে হুমায়দ আল-বাসরি আল-কাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম সাহল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আস-সিজিস্তানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আসমায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমর ইবনুল আলা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
أخافني الْحجَّاج فهربت إِلَى الْيمن فولجت فِي بَيت بِصَنْعَاء فَكنت أظهر بِاللَّيْلِ على سطحه وأكمن بِالنَّهَارِ فِيهِ قَالَ فَإِنِّي لفي غدْوَة من الغدوات على سطح ذَلِك الْبَيْت إِذْ سَمِعت رجلا ينشد:

رُبمَا تجزع النُّفُوس من الْأُمـ … ـر لَهُ فُرْجَة كحل العقال
হাজ্জাজ আমাকে ভীতসন্ত্রস্ত করেছিল, ফলে আমি ইয়েমেনে পালিয়ে গেলাম এবং সানআ’র একটি ঘরে প্রবেশ করলাম। আমি রাতে তার ছাদে আসতাম এবং দিনে তার ভেতরে আত্মগোপন করে থাকতাম। তিনি বলেন: একদা ভোরে আমি সেই ঘরের ছাদে ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তিকে আবৃত্তি করতে শুনলাম:

অনেক সময় প্রাণসমূহ এমন বি... … ...ষয় নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়ে যার মুক্তি রয়েছে উটের বন্ধনী খুলে দেওয়ার ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪২)
قَالَ قَالَ فَقلت فُرْجَة قَالَ فسررت بهَا قَالَ وَقَالَ آخر مَاتَ الْحجَّاج قَالَ فوَاللَّه مَا أَدْرِي بِأَيِّهِمَا كنت أسر بقوله فُرْجَة أَو بقوله مَاتَ الْحجَّاج

 

2 - حَدثنَا أَبُو عَليّ الْحسن بن الْخَلِيل بن قوام الْحِمْيَرِي ثَنَا أَبُو جَعْفَر
তিনি বললেন, তিনি বললেন, অতঃপর আমি বললাম, "স্বস্তি।" তিনি বললেন, এতে আমি আনন্দিত হলাম। তিনি বললেন, এবং অপর একজন বললেন, "হাজ্জাজ মৃত্যুবরণ করেছে।" তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি জানি না এই দুটির মধ্যে কোনটি আমাকে অধিক আনন্দিত করেছে; তার বলা "স্বস্তি" শব্দে, নাকি তার বলা "হাজ্জাজ মৃত্যুবরণ করেছে" সংবাদে।

 

২ - আবু আলী আল-হাসান বিন আল-খালীল বিন কাওয়াম আল-হিময়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَحْمد بن مُحَمَّد بن سَلامَة ثَنَا أَحْمد بن أبي عمرَان ثَنَا أَبُو نصر أَحْمد ابْن حَاتِم عَن الْأَصْمَعِي عَن أبي عَمْرو بن الْعَلَاء قَالَ اسْتعْمل الْحجَّاج أبي عَليّ بعض أَعماله فنقم عَلَيْهِ فَخرج أبي إِلَى بادية قومه فتوارى بهَا وَأَنا مَعَه فَبينا نَحن فِي سحر من الأسحار إِذْ أقبل رَاكب وَهُوَ يَقُول:

رُبمَا تجزع النُّفُوس من الْأُمـ … ـر لَهُ فُرْجَة كحل العقال

قَالَ قلت وَمَا ذَاك قَالَ مَاتَ الْحجَّاج فوَاللَّه مَا أَدْرِي بِأَيِّهِمَا كنت أَشد فَرحا مَاتَ الْحجَّاج أَبُو بقوله فُرْجَة
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আবু ইমরান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু নাসর আহমদ ইবনে হাতিম আসমায়ীর সূত্রে এবং তিনি আবু আমর ইবনে আল-আলার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমার পিতাকে তাঁর কোনো একটি কাজে নিয়োগ করেছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। ফলে আমার পিতা তাঁর গোত্রের মরু প্রান্তরে চলে যান এবং সেখানে আত্মগোপন করেন; আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। এক শেষ রাতে আমরা সেখানে থাকাকালীন হঠাৎ এক আরোহী উপস্থিত হলেন এবং তিনি বলছিলেন:

হয়তো প্রাণসমূহ এমন বিষয়ের … কারণে আতঙ্কিত হয়, যার মুক্তি উটের পায়ের রশি খোলার ন্যায় অতি সন্নিকটে।

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: বিষয়টি কী? তিনি বললেন: হাজ্জাজ মারা গেছেন। আল্লাহর কসম! আমি জানি না এই দুটির মধ্যে কোনটি আমাকে অধিক আনন্দিত করেছে—হাজ্জাজের মৃত্যু সংবাদ, নাকি লোকটির 'ফুরজাহ' (মুক্তি) শব্দের প্রয়োগ।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌ذكر تواري الْحسن بن أبي الْحسن الْبَصْرِيّ من الْحجَّاج بن يُوسُف
হাজ্জাজ বিন ইউসুফের থেকে আল-হাসান বিন আবিল হাসান আল-বসরীর আত্মগোপনের বিবরণ
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَكَانَ تواري الْحسن فِي منزل أبي خَليفَة الْحجَّاج بن عتاب وَكَانَ من التَّابِعين وَله ولد يحدث يُقَال لَهُ عمر بن أبي خَليفَة يحدث عَن مُحَمَّد بن زِيَاد أبي الْحَارِث الجُمَحِي

 

3 - حَدثنَا هِشَام ثَنَا أَبُو جَعْفَر الطَّحَاوِيّ ثَنَا أَحْمد بن دَاوُد ثَنَا ابْن عَائِشَة ثَنَا
আল-হাসানের আত্মগোপন ছিল আবু খলিফা হাজ্জাজ বিন ইতাবের গৃহে এবং তিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর এক পুত্র ছিল যিনি হাদিস বর্ণনা করতেন, তাঁকে উমর বিন আবি খলিফা বলা হয়; তিনি মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আবু আল-হারিস আল-জুমাহি থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন।

 

৩ - হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আত-তাহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আইশাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
حَمَّاد بن سَلمَة عَن حميد قَالَ قَرَأت الْقُرْآن كُله على الْحسن وَهُوَ متوار فِي بَيت أبي خَليفَة.

ففسره لي على الْأَثْبَات وَكَانَ مَالك بن دِينَار يغشى الْحسن فِي ذَلِك التواري

يصدق ذَلِك حَدِيث

 

4 - حَدثنِي بِهِ الْوَلِيد بن الْقَاسِم ثَنَا الْحسن بن عَليّ بن مُوسَى النخاس ثَنَا مُحَمَّد ابْن عبد الْملك بن أبي الشَّوَارِب ثَنَا جَعْفَر بن سُلَيْمَان الصبعي قَالَ كُنَّا عِنْد الْحسن رَحْمَة الله عَلَيْهِ عِنْد أبي خَليفَة الْعَبْدي قَالَ فَجَاءَهُ رجل فَقَالَ يَا أَبَا سعيد رَأَيْت على أبي حَمْزَة جُبَّة خَز فَقَالَ الْحسن لِأَن أقطع مسبخي فألبسه أحب من أَن ألبس جُبَّة خَز

 

5 - حَدثنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن جَابر الحجري ثَنَا إِسْحَاق بن أَحْمد بن جَعْفَر الْقطَّان ثَنَا أَبُو سعيد الْأَشَج ثَنَا عِيسَى بن يُونُس ثَنَا الْعَلَاء بن الْمُغيرَة البندار قَالَ يشرب الْحسن بِمَوْت الْحجَّاج فَسجدَ حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر بن الْورْد ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد بن حيون ثَنَا مُحَمَّد بن هِشَام ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن أبي عُثْمَان قَالَ قَالَ الْحسن حِين بلغه موت الْحجَّاج اللَّهُمَّ أَنْت قتلته فاقطع سنته وَكَانَ يَقُول أَتَانَا أخيفش أعيمش لَهُ حميمة يبغضها شقي من الأشقياء وَالله مَا عرق تَحت ثِيَابه غيار قطّ فِي سَبِيل الله

قَالَ عبد الْغَنِيّ أَبُو عُثْمَان هُوَ عَمْرو بن عبيد وَالله أعلم
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ হুমায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান (আল-বাসরি)-এর কাছে সম্পূর্ণ কুরআন পড়েছি যখন তিনি আবু খলিফার বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন।

তিনি সুদৃঢ় বর্ণনার ভিত্তিতে আমার কাছে এর ব্যাখ্যা করেছেন। আর মালিক ইবনে দিনার সেই আত্মগোপন অবস্থায় হাসানের কাছে যাতায়াত করতেন।

একটি হাদিস বিষয়টিকে সমর্থন করে:

 

৪ - ওয়ালিদ ইবনে কাসিম আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাসান ইবনে আলি ইবনে মুসা আন-নাখখাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবিল শাওয়ারিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের জাফর ইবনে সুলায়মান আস-সুবায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবু খলিফা আল-আবদির বাড়িতে হাসান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট ছিলাম। তিনি বলেন: তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আবু সাঈদ! আমি আবু হামজাকে একটি রেশমি জুব্বা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তখন হাসান বললেন: রেশমি জুব্বা পরিধান করার চেয়ে আমার সাধারণ চাদরটি কেটে পরিধান করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।

 

৫ - আমাদের মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জাবির আল-হাজারি বর্ণনা করেছেন, আমাদের ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন, আমাদের আবু সাঈদ আল-আশাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের আল-আলা ইবনে আল-মুগিরা আল-বান্দার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজের মৃত্যুর সংবাদে হাসান আনন্দিত হলেন এবং সিজদা করলেন। আমাদের আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনুল ওয়ারদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের মুহাম্মদ ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান যখন হাজ্জাজের মৃত্যুর খবর পেলেন তখন বললেন, "হে আল্লাহ! আপনিই তাকে মৃত্যু দিয়েছেন, সুতরাং তার (প্রবর্তিত) প্রথাকেও মিটিয়ে দিন।" তিনি আরও বলতেন, "আমাদের নিকট ক্ষুদ্র চক্ষুবিশিষ্ট ও ঝাপসা দৃষ্টির এক ব্যক্তি এসেছিল যার একটি ঝুটি ছিল, যাকে দুর্ভাগাদের কেউ একজন ঘৃণা করে। আল্লাহর কসম! আল্লাহর পথে তার কাপড়ের নিচে কখনও একবিন্দু ঘামও ঝরেনি।"

আব্দুল গনি বলেন, আবু উসমান হলেন আমর ইবনে উবাইদ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌تواري عبد الله بن الْحَارِث الْهَاشِمِي ببة عَن الْحجَّاج بن يُوسُف
হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের হাত থেকে আবদুল্লাহ ইবনে হারিস আল-হাশিমী বাব্বাহ-এর আত্মগোপন
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৮)
قَالَ مُحَمَّد بن سعد كَاتب الْوَاقِدِيّ:

عبد الله بن الْحَارِث بن نَوْفَل بن الْحَارِث بن عبد الْمطلب بن هِشَام يكنى أَبَا مُحَمَّد وَهُوَ الَّذِي لقبه أهل الْبَصْرَة ببة هلك بعمان عِنْد انْقِضَاء فتْنَة ابْن الأشعت كَانَ خرج إِلَيْهَا هَارِبا من الْحجَّاج وَولد فِي زمن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَسمع من عمر بن الْخطاب رضي الله عنه خطبَته بالجابية
আল-ওয়াকিদীর লেখক মুহাম্মাদ ইবনে সাদ বলেন:

আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে নাওফাল ইবনে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হিশাম, তাঁর উপনাম হলো আবু মুহাম্মাদ। তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁকে বসরার অধিবাসীরা ‘বাব্বা’ উপাধি দিয়েছিল। তিনি ইবনুল আশআসের ফিতনা সমাপ্তির সময় ওমানে মৃত্যুবরণ করেন; তিনি হাজ্জাজের নিকট থেকে পলায়ন করে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে জন্মগ্রহণ করেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে জাবিয়াতে তাঁর খুতবা শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌تواري إِبْرَاهِيم بن يزِيد النَّخعِيّ أَبُو عمرَان الْفَقِيه من الْحجَّاج

 

6 - حَدثنَا هِشَام بن مُحَمَّد الرعيني ثَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد بن سَلامَة ثَنَا مُحَمَّد ابْن عَليّ بن دَاوُد أنبأ سعيد بن سُلَيْمَان عَن ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ الحبر بن عَمْرو قَالَ
হাজ্জাজ থেকে ইব্রাহিম বিন ইয়াজিদ আল-নাখঈ আবু ইমরান আল-ফকিহ্-এর আত্মগোপন

 

৬ - হিশাম বিন মুহাম্মদ আল-রুআইনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আলী বিন দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব আল-জুহরী আল-হাবর বিন আমর থেকে, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫০)
خبأنا إِبْرَاهِيم فِي دَاره حِين توارى من الْحجَّاج وَكَانَ لَا يُصَلِّي فِي جمَاعَة مَخَافَة من الْحجَّاج

 

7 - حَدثنَا هِشَام بن مُحَمَّد ثَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد بن سَلامَة ثَنَا ابْن أبي دَاوُد ثَنَا سعيد بن مَنْصُور ثَنَا مهْدي بن مَيْمُون عَن شُعَيْب بن الحبحاب قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيم متواريا من الْحجَّاج فَتوفي فَدفن لَيْلًا فَحَضَرت بِالصَّلَاةِ عَلَيْهِ ثمَّ أتيت الشّعبِيّ فَقَالَ لقد توفّي فِي هَذِه اللَّيْلَة رجل مَا ترك بعده مثله قلت بِالْكُوفَةِ قَالَ لَا بِالْكُوفَةِ وَلَا بِالْبَصْرَةِ وَلَا بِالْمَدِينَةِ وَلَا بِمَكَّة وَكَانَ إِذا تكلم سجع

 

8 - وَفِي مشافهة عَليّ بن عمر إيَّايَ بإجازته لي عَن عُثْمَان بن أَحْمد بن السماك عَن حَنْبَل عَن مُحَمَّد بن دَاوُد عَن عِيسَى بن يُونُس عَن الْأَعْمَش قَالَ رَأَيْت على إِبْرَاهِيم خفان أَو قبَاء أعدر الله كانه نبطي قدم من الرستاق قَالَ وَذَلِكَ أَن الْحجَّاج كَانَ يَطْلُبهُ

 

9- حَدثنَا أَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن سلم ثَنَا إِسْحَاق بن أَحْمد بن جَعْفَر هُوَ الْقطَّان ثَنَا زِيَاد بن أَيُّوب ثَنَا إِسْمَاعِيل بن علية عَن ابْن عون
আমরা ইব্রাহীমকে তাঁর ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলাম যখন তিনি হাজ্জাজের থেকে আত্মগোপন করেছিলেন, এবং হাজ্জাজের ভয়ে তিনি জামাতে সালাত আদায় করতেন না।

 

৭ - হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদী ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব ইবনুল হাবহাব থেকে, তিনি বলেন: ইব্রাহীম হাজ্জাজ থেকে আত্মগোপন করেছিলেন, অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলে তাঁকে রাতে দাফন করা হয়। আমি তাঁর জানাজার সালাতে উপস্থিত ছিলাম। এরপর আমি শাবীর নিকট আসলাম, তিনি বললেন: আজ রাতে এমন একজন ব্যক্তি ইন্তেকাল করেছেন, যিনি তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে রেখে যাননি। আমি বললাম: কুফায়? তিনি বললেন: না কুফায়, না বসরায়, না মদীনায় আর না মক্কায়। আর তিনি যখন কথা বলতেন তখন ছন্দময় ভাষায় কথা বলতেন।

 

৮ - এবং আলী ইবনে উমর আমাকে সরাসরি ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে উসমান ইবনে আহমদ ইবনে সাম্মাক থেকে, হানবাল থেকে, মুহাম্মদ ইবনে দাউদ থেকে, ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে এবং আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাশ বলেন: আমি ইব্রাহীমের পরনে মোজা অথবা একটি জুব্বা দেখেছি, আল্লাহর শপথ! যেন তিনি রুস্তাক থেকে আসা একজন নবতী (কৃষিজীবী)। তিনি বলেন: আর এটি এ কারণে ছিল যে, হাজ্জাজ তাঁকে খুঁজছিল।

 

৯- আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে জাফর—যিনি আল-কাত্তান—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জিয়াদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ بشرت إِبْرَاهِيم بِمَوْت الْحجَّاج فَبكى وَمَا ظَنَنْت أحدا يبكى من الْفَرح

بَين هَذَا أَن موت إِبْرَاهِيم كَانَ بعد موت الْحجَّاج وَهُوَ صَحِيح
তিনি বললেন, "আমি ইবরাহিমকে হাজ্জাজের মৃত্যুর সুসংবাদ দিলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন; আমি ভাবিনি যে কেউ আনন্দের আতিশয্যে কাঁদতে পারে।"

এতে স্পষ্ট হয় যে, ইবরাহিমের মৃত্যু হাজ্জাজের মৃত্যুর পরে হয়েছিল এবং এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌تواري مُجَاهِد بن جبر أبي الْحجَّاج وَأبي عِيَاض من الْحجَّاج

 

10 - حَدثنَا أَبُو الطَّاهِر السدُوسِي حَدثنِي أبي حَدثنِي أَيُّوب بن الْوَلِيد ثَنَا يحيى بن السكن أنبأ شُعْبَة ثَنَا الحكم قَالَ
হাজ্জাজ থেকে মুজাহিদ ইবন জাবর আবুল হাজ্জাজ এবং আবু ইয়াদ-এর আত্মগোপন

 

১০ - আবু তাহির আস-সাদুসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আইয়ুব ইবনুল ওয়ালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনুস সাকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৩)
كَانَ مُجَاهِد وَأَبُو عِيَاض متواريين من الْحجَّاج فَلَمَّا كَانَ يَوْم الْفطر أمّهم أَبُو عِيَاض
মুজাহিদ এবং আবু ইয়াদ হাজ্জাজের নিকট থেকে আত্মগোপন করে ছিলেন। অতঃপর যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসল, তখন আবু ইয়াদ তাদের ইমামতি করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌تواري سُلَيْمَان بن مهْرَان أبي مُحَمَّد الْأَعْمَش من الْحجَّاج

 

11 - حَدثنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن جَابر ثَنَا إِسْحَاق بن أَحْمد بن جَعْفَر ثَنَا أَبُو سعيد الْأَشَج ثَنَا ابْن فُضَيْل عَن الْأَعْمَش قَالَ
হাজ্জাজ থেকে সুলায়মান ইবন মিহরান আবু মুহাম্মদ আল-আ’মাশের আত্মগোপন

 

১১ - মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন জাবির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবন আহমাদ ইবন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৫)
كُنَّا نختبئ قَالَ أَيَّام الْحجَّاج فِي الآجام فَكنت فِي أجمة كَثِيرَة وَالطير فَكنت أفرج الْقصب وَأَجد الصَّيْد فأذبحه بالقصب فَسَأَلت إِبْرَاهِيم وَالشعْبِيّ عَن ذَلِك فَقَالَا لَا يَضرك بِأَيّ شئ ذبحت إِذا ذكيت
আমরা—তিনি বলেন—হাজ্জাজের সময়কালে ঘন অরণ্যে আত্মগোপন করতাম। আমি নিবিড় অরণ্য ও পক্ষীকুল পরিবেষ্টিত অবস্থায় ছিলাম। আমি নলখাগড়া সরিয়ে শিকার খুঁজে পেতাম এবং নলখাগড়া দিয়েই তা যবেহ করতাম। অতঃপর আমি ইব্রাহীম ও শাবিকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন: তুমি যখন যবেহ সম্পন্ন করেছ, তখন যে বস্তুর মাধ্যমেই যবেহ করো না কেন, তাতে তোমার কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌تواري سعيد بن جُبَير من الْحجَّاج وفراره مِنْهُ إِلَى أَن ظفر بِهِ

 

12 - حَدثنَا أَبُو عَليّ النَّرْسِي ثَنَا أَحْمد بن عبد الله بن شَابُور ثَنَا وَاصل وَهُوَ بن عبد الْأَعْلَى ثَنَا أَبُو بكر بن عَيَّاش عَن أبي حُصَيْن قَالَ
হাজ্জাজ থেকে সাঈদ ইবনে জুবায়েরের আত্মগোপন এবং তার থেকে পলায়ন, যতক্ষণ না সে তাঁকে পাকড়াও করে

 

১২ - আবু আলী আন-নারসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শাবুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াসিল—আর তিনি হলেন ইবনে আব্দুল আ'লা—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৭)
أتيت سعيد بن جُبَير بِمَكَّة فَقلت إِن هَذَا الرجل قادم يَعْنِي خَالِد بن عبد الله وَلم يقدم وَلَا آمنهُ عَلَيْك فأطعني واخرج قَالَ وَالله لقد فَرَرْت حَتَّى استحييت من الله عز وجل فَقلت وَالله إِنِّي لأرَاك كَمَا سمتك أمك

قَالَ أَبُو بكر بن عَيَّاش وَأَخْبرنِي يزِيد أَبُو عبد الله قَالَ أَتَيْنَا سعيد بن جُبَير حِين جئ بِهِ فَإِذا هُوَ طيب النَّفس وبنية لَهُ فِي حجره فَنَظَرت إِلَى الْقَيْد فَبَكَتْ قَالَ فشيعناه عَن إِلَى بَاب الْحَبْس قَالَ لَهُ الحرس أعطنا كفلاء فَإنَّا نَخَاف أَن تغرق نَفسك قَالَ يزِيد فَكنت فِيمَن كفل بِهِ

قَالَ أَبُو بكر قَالَ سُلَيْمَان قَالَ بعض أَصْحَابنَا قَالَ قَالَ الْحجَّاج حِين قتل سعيد بن جُبَير أئتوني بِسيف رغيب يَعْنِي عريضا اضربوا قصاص الْمَنْكِبَيْنِ قَالَ ثمَّ ركب سَاعَة ضرب عُنُقه فَمر بِهِ رجل من قُرَيْش فَطرح عَلَيْهِ جذم حَائِط يَعْنِي سعيد بن جُبَير

 

13 - حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن جَعْفَر بن الْورْد ثَنَا يحيى بن أَيُّوب وَعبد الرَّحْمَن ابْن مُعَاوِيَة الْعُتْبِي قَالَا حَدثنَا عَمْرو بن خلد قَالَ سَمِعت عتاب بن بشير عَن سَالم الْأَفْطَس قَالَ أَتَى سعيد بن جُبَير إِلَى الْحجَّاج وَفِي رجله
আমি মক্কায় সাঈদ ইবনে জুবাইরের কাছে আসলাম এবং বললাম, "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আসছে"—অর্থাৎ খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ—"এবং সে এখনো আসেনি, আর আমি আপনার ব্যাপারে তার থেকে নিরাপদ বোধ করছি না; সুতরাং আমার কথা শুনুন এবং বেরিয়ে যান।" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি এতোবার পালিয়েছি যে এখন আমি মহান আল্লাহ জাল্লা ওয়া আ'লার কাছে লজ্জিত।" আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে তেমনই দেখছি যেমন আপনার মা আপনার নামকরণ করেছিলেন।"

আবু বকর ইবনে আইয়াশ বলেন, ইয়াজিদ আবু আব্দুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: সাঈদ ইবনে জুবাইরকে যখন নিয়ে আসা হলো, তখন আমরা তাঁর কাছে আসলাম। তখন তিনি প্রফুল্ল চিত্তে ছিলেন এবং তাঁর কোলে তাঁর একটি ছোট্ট মেয়ে ছিল। মেয়েটি তাঁর পায়ের বেড়ির দিকে তাকিয়ে কাঁদতে লাগল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা তাঁকে কারাগারের দরজা পর্যন্ত বিদায় জানালাম। রক্ষীরা তাঁকে বলল, "আমাদেরকে জামিনদার দিন, কারণ আমাদের ভয় হচ্ছে আপনি নিজেকে শেষ করে দেবেন।" ইয়াজিদ বলেন, "আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা তাঁর জামিনদার হয়েছিল।"

আবু বকর বলেন, সুলাইমান বলেছেন যে, আমাদের কিছু সাথী বলেছেন: আল-হাজ্জাজ যখন সাঈদ ইবনে জুবাইরকে হত্যার নির্দেশ দিল, তখন সে বলল, "আমার কাছে একটি প্রশস্ত তরবারি নিয়ে এসো।" অর্থাৎ চওড়া তরবারি। (সে বলল,) "দুই কাঁধের সংযোগস্থলে আঘাত করো।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাঁর শিরশ্ছেদ করার কিছুক্ষণ পরেই সে সওয়ার হলো। তখন কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি তাঁর ওপর একটি ভাঙা দেয়ালের অংশ ফেলে দিল, অর্থাৎ সাঈদ ইবনে জুবাইরের মরদেহের ওপর।

 

১৩ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনুল ওয়ার্দ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব এবং আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া আল-উতবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা দুজন বলেছেন: আমর ইবনে খালদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আত্তাব ইবনে বশিরের কাছে শুনেছি, তিনি সালেম আল-আফতাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সাঈদ ইবনে জুবাইরকে আল-হাজ্জাজের কাছে আনা হলো যখন তাঁর পায়ে ছিল...
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৮)
قيود فَلَمَّا دخل عَلَيْهِ أَمر بِضَرْب عُنُقه فَمَا قَامَ الْحجَّاج من مَجْلِسه حَتَّى خلط وَجعل يَقُول قيودنا قيودنا

 

14 - حَدثنَا أَبُو الطَّاهِر ثَنَا إِبْرَاهِيم قَالَ قيل لسَعِيد بن جُبَير مَا يَقُول الْحسن إِذا أَخذ الْحجَّاج الرجل فَيَقُول لَهُ اكفر فَرخص أَن يَقُول ذَلِك فَقَالَ سعيد بن جُبَير يرحم الله الْحسن تقية فِي الأسلام

 

15 - حَدثنَا الْحسن بن رَشِيق ثَنَا عَليّ بن سعيد ثَنَا ابْن أبي عمر ثَنَا سُفْيَان عَن سَالم ابْن أبي حَفْصَة قَالَ لما دخل سعيد بن جُبَير على الْحجَّاج قَالَ لَهُ مَا اسْمك قَالَ سعيد بن جُبَير قَالَ شقي بن كسير قَالَ سعيد إِنَّنِي أعوذ مِنْك بِمَا عاذت مَرْيَم بنت عمرَان بالرحمن إِن كنت تقيا قَالَ لأَقْتُلَنك قَالَ أَنا إِذا كَمَا سمتني أُمِّي فَلَمَّا ذهب بِهِ للْقَتْل قَالَ دَعونِي أصل ركعين قَالَ الْحجَّاج وجهوه لقبلة النَّصَارَى
শেকল! যখন সে তার কাছে প্রবেশ করল, তখন সে তার শিরচ্ছেদের আদেশ দিল। হাজ্জাজ তার মজলিস থেকে ওঠার পূর্বেই সে বিকারগ্রস্ত হয়ে গেল এবং বলতে লাগল, "আমাদের শেকল! আমাদের শেকল!"

 

১৪ - আবু তাহির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন জুবায়েরকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, হাজ্জাজ যখন কোনো ব্যক্তিকে পাকড়াও করে তাকে কুফরি করতে বলে, তখন হাসান (বসরী) সে সম্পর্কে কী বলেন? তিনি সেটি করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন। তখন সাঈদ বিন জুবায়ের বললেন, "আল্লাহ হাসানের ওপর রহম করুন, এটি ইসলামের মধ্যে তাকিয়াহ (আত্মরক্ষা) হিসেবে গণ্য।"

 

১৫ - হাসান বিন রশীদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী বিন সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবু ওমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনে আবু হাফসাহ থেকে, তিনি বলেন: যখন সাঈদ বিন জুবায়ের হাজ্জাজের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন হাজ্জাজ তাকে জিজ্ঞেস করল, "তোমার নাম কী?" তিনি বললেন, "সাঈদ বিন জুবায়ের।" সে বলল, "বরং তুমি শাকি বিন কাসীর।" সাঈদ বললেন, "আমি তোমার থেকে সেই সত্তার আশ্রয় চাচ্ছি, যাঁর আশ্রয় মারইয়াম বিনতে ইমরান পরম দয়াময় আল্লাহর (রহমান) নিকট প্রার্থনা করেছিলেন, যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।" সে বলল, "আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব।" তিনি বললেন, "তবে তো আমি তেমনই হব যেমনটি আমার মা আমার নামকরণ করেছেন।" অতঃপর যখন তাকে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হলো, তিনি বললেন, "আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।" হাজ্জাজ বলল, "তাকে নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) কিবলার দিকে মুখ করিয়ে দাও।"
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৫৯)
فَلَمَّا وَجه قَالَ فأينما توَلّوا فثم وَجه الله

قَالَ مُحَمَّد بن عمر الْوَاقِدِيّ فِي سنة أَربع وَتِسْعين كتب الْحجَّاج إِلَى خَالِد بن عبد الله أَن ابْعَثْ إِلَى سعيد بن جُبَير وطلق بن حبيب فَبعث بهما إِلَيْهِ هَذَا فِي الْكتاب الَّذِي أعلمني عَليّ بن عمر أَنه سَمعه من مُحَمَّد بن عبد الله المستعيني عَن الْعَبَّاس بن عبد الله الباكستاني عَن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عمر الْوَاقِدِيّ عَن أَبِيه عَن عمر بن سعيد بن جُبَير عَن ابْن أبي مليكَة قَالَ وحَدثني ابْن سُبْرَة عَن عبد الله بن عُثْمَان بن خثيم قَالَ رَأَيْت سعيد بن جُبَير وطلق بن حبيب يطوفان بِالْبَيْتِ فِي كبول حِين خرج بهما إِلَى الْحجَّاج وَقَالَ ثَنَا عبد الله بن جَعْفَر عَن زَكَرِيَّا بن عَمْرو قَالَ أَخذ خَالِد سعيد بن جُبَير فَقَالَ أَنْت مِمَّن يطْلب أَمِير الْمُؤمنِينَ وَأَنت مُقيم فِي جواري فَبعث بِهِ إِلَى الْحجَّاج

 

16 - حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد بن الْحسن بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن خَلاد التَّمِيمِي الْجَوْهَرِي القَاضِي ابْن بنت نعيم بن حَمَّاد ثَنَا مُحَمَّد بن زيان ثَنَا سَلمَة بن شبيب ثَنَا عبد الرَّزَّاق أنبأ معمر أَخْبرنِي الزُّهْرِيّ قَالَ قَالَ حججْت مَعَ عمر بن عبد الْعَزِيز وَحج بِالنَّاسِ فِي خلَافَة الْوَلِيد فَلَمَّا كُنَّا بمنى أَتَانِي سعيد بن جُبَير لَيْلًا وَهُوَ متوار من الْحجَّاج قَالَ فَقَالَ لي
যখন তাঁর চেহারা, তিনি বললেন: সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।

মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি বলেন, চুরানব্বই হিজরি সনে হাজ্জাজ খালিদ বিন আব্দুল্লাহর কাছে লিখে পাঠান যে, সাঈদ বিন জুবায়ের এবং তালক বিন হাবিবকে যেন (গ্রেপ্তার করে) পাঠানো হয়। অতঃপর তিনি তাঁদের দুজনকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এটি সেই কিতাবে রয়েছে যার বিষয়ে আলী বিন উমর আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি এটি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুস্তায়িনি থেকে শুনেছেন, তিনি আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ আল-বাকিস্তানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর বিন সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে। তিনি বলেন, ইবনে সুবরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন খাইসাম থেকে, তিনি বলেন, আমি সাঈদ বিন জুবায়ের এবং তালক বিন হাবিবকে শিকল পরিহিত অবস্থায় বাইতুল্লাহ তওয়াফ করতে দেখেছি যখন তাঁদের দুজনকে হাজ্জাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এবং তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া বিন উমর থেকে, তিনি বলেন, খালিদ সাঈদ বিন জুবায়েরকে ধরলেন এবং বললেন: আপনি তো তাদের একজন যাদের আমিরুল মুমিনীন তালাশ করছেন, অথচ আপনি আমার প্রতিবেশী হিসেবে অবস্থান করছেন! অতঃপর তিনি তাঁকে হাজ্জাজের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

 

১৬ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খাল্লাদ আত-তামিমি আল-জাওহারি আল-কাদি, যিনি নুয়াইম বিন হাম্মাদের দৌহিত্র, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন যিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সালামা বিন শাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জুহরি আমাকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি উমর বিন আব্দুল আজিজের সাথে হজ আদায় করেছি যখন তিনি ওয়ালিদের খেলাফতকালে মানুষের হজের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যখন আমরা মিনায় ছিলাম, তখন সাঈদ বিন জুবায়ের রাতের বেলা আমার কাছে এলেন, আর তিনি হাজ্জাজের নিকট থেকে আত্মগোপন করে ছিলেন। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন—
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬০)
أتخاف على صَاحبك هَذَا قَالَ قلت لَا وَلنْ آمن

 

17 - حَدثنَا أَبُو أَحْمد السَّعْدِيّ ثَنَا جَعْفَر بن أَحْمد الْعَبْدي ثَنَا إِسْحَاق بن أبي إِسْرَائِيل قَالَا ثَنَا هشيم عَن أبي بشر قَالَ قَالَ لي سعيد بن جُبَير إِن الْحجَّاج قاتلي قَالَ قلت وَلم ذَاك قَالَ رُؤْيا رَأَيْتهَا

 

18 - حَدثنَا هِشَام بن خَليفَة ثَنَا مُحَمَّد بن مرّة الرعيني ثَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن سَلامَة ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر بن حَفْص قَالَ سَمِعت الرَّمَادِي يَقُول سَمِعت مُسَددًا يَقُول سَمِعت يحيى الْقطَّان يَقُول سَمِعت سُفْيَان الثَّوْريّ ذكر سعيد بن جُبَير فَقَالَ مَا أعدل بِهِ من التَّابِعين أحدا مَا زَالَ على بَصِيرَة من أمره حَتَّى قتل مَا أشبهه إِلَّا بِعَمَّار

 

19 - حَدثنَا هِشَام ثَنَا أَبُو جَعْفَر ثَنَا نوح بن الْفرج ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد الفهمي ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن الْقَاسِم عَن مَالك بن أنس قَالَ أخرج الْحجَّاج سعيد بن جُبَير وطلق بن حبيب من الْكَعْبَة فذبحهما ذبحا

 

20 - حَدثنَا الْحسن بن رَشِيق ثَنَا أَبُو الدولابي ثَنَا إِبْرَاهِيم بن يَعْقُوب الْجوزجَاني ثَنَا الْحسن بن نَافِع ثَنَا حَمْزَة عَن أبي شَوْذَب قَالَ أعظم النَّاس أَخذ سعيد بن جُبَير بِمَكَّة وَكَانَ الْقَسرِي أَخذه فَصَعدَ الْمِنْبَر وَهُوَ جَانب الْكَعْبَة فَقَالَ لَو أَن أَمِير الْمُؤمنِينَ كتب إِلَى أَن انقض هَذَا حجرا حجرا وَوضع يَده على الْكَعْبَة لنقضته من حَتَّى أَدَعهُ غديرا ترده الْإِبِل

 

21 - حَدثنَا الْحسن ثَنَا ابو بشر ثَنَا إِبْرَاهِيم بن يَعْقُوب حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن مُوسَى ثَنَا عيس بن يُونُس ثَنَا أبي قَالَ سَمِعت شهر بن عَطِيَّة يَقُول
আপনি কি আপনার এই সঙ্গীর ব্যাপারে আশঙ্কা করছেন? তিনি বলেন: আমি বললাম, না; আর আমি কখনো নিরাপদ হব না।

 

১৭ - আমাদের নিকট আবু আহমদ আস-সাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর বিন আহমদ আল-আবদী থেকে, তিনি ইসহাক বিন আবি ইসরাঈল থেকে, তাঁরা উভয়ে হুশাইম থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের আমাকে বললেন, "নিশ্চয়ই হাজ্জাজ আমাকে হত্যা করবে।" তিনি (আবু বিশর) বলেন, আমি বললাম, "সেটি কেন?" তিনি বললেন, "একটি স্বপ্নের কারণে যা আমি দেখেছি।"

 

১৮ - আমাদের নিকট হিশাম বিন খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন মুররাহ আর-রুআইনী থেকে, তিনি আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনে সালামা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর বিন হাফস থেকে, তিনি বলেন: আমি রামাদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুসাদ্দাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে সাঈদ ইবনে জুবায়েরের আলোচনা করতে শুনেছি, তিনি বললেন, "তাবেঈদের মধ্যে আমি কাউকে তাঁর সমকক্ষ মনে করি না। তিনি তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে দূরদৃষ্টির ওপর অটল ছিলেন যতক্ষণ না তিনি নিহত হলেন। তাঁর সাথে আম্মার (ইবনে ইয়াসির) ছাড়া আর কারো সাদৃশ্য আমি পাই না।"

 

১৯ - আমাদের নিকট হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু জাফর থেকে, তিনি নূহ বিন আল-ফারাজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-ফাহমি থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আল-কাসিম থেকে, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং তালক বিন হাবিবকে কাবা থেকে বের করে আনলেন এবং তাঁদের উভয়কে নির্মমভাবে জবাই করলেন।

 

২০ - আমাদের নিকট হাসান বিন রাশিক বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আদ-দৌলাবি থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন ইয়াকুব আল-জুজাজানি থেকে, তিনি হাসান বিন নাফে' থেকে, তিনি হামজা থেকে, তিনি আবু শাউজাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মক্কায় সাঈদ ইবনে জুবায়েরের গ্রেফতার হওয়া মানুষের নিকট অত্যন্ত গুরুতর বিষয় ছিল। কাসরি তাঁকে গ্রেফতার করেছিলেন, অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন যা কাবার পাশে ছিল, এরপর তিনি বললেন, "যদি আমিরুল মুমিনীন আমার নিকট লিখে পাঠান যে একে (কাবাকে) পাথর পাথর করে ভেঙে ফেলুন -এবং তিনি কাবার ওপর তাঁর হাত রাখলেন- তবে আমি একে এমনভাবে চূর্ণ করতাম যে একে একটি জলাশয়ে পরিণত করতাম যেখানে উট পানি পান করতে আসত।"

 

২১ - আমাদের নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন ইয়াকুব থেকে, আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি ঈসা বিন ইউনুস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: আমি শাহর বিন আতিয়্যাহকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬১)
لما ثقل الْحجَّاج جعل يَقُول مَالِي ولسعيد بن جُبَير

 

22 - حَدثنَا أَبُو أَحْمد السَّعْدِيّ ثَنَا مُحَمَّد بن أعين ثَنَا ابْن أَيُّوب المقابري ثَنَا خلف ابْن خَليفَة ثَنَا رجل من الحرس يَعْنِي حرس الْحجَّاج أَن سعيد بن جُبَير لما سقط رَأسه إِلَى الأَرْض قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله ثَلَاث مَرَّات قَالَ مرَّتَيْنِ كلَاما بَينا وَقَالَ الثَّالِثَة بِلِسَان منكسر
যখন হাজ্জাজ মুমূর্ষু হয়ে পড়ল, সে বলতে লাগল: "সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সাথে আমার কী হলো!"

 

২২ - আমাদের নিকট আবু আহমদ আস-সাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে আইয়ুব আল-মুকাবিরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালাফ ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাজ্জাজের প্রহরীদের জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, সাঈদ ইবনে জুবায়েরের মাথা যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ল, তখন তিনি তিনবার বললেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"। তিনি দুইবার স্পষ্টভাবে বললেন এবং তৃতীয়বার ভাঙা কণ্ঠে বললেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌تواري عمرَان بن حطَّان السدُوسِي من الْحجَّاج بن يُوسُف
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ থেকে ইমরান বিন হিত্তান আস-সাদূসীর আত্মগোপন
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬৪)
23 - سَأَلت أَبَا الْحسن الحطابي عَن خَبره وَكَانَت تمسه مِنْهُ ولادَة من قبل بَنَاته فَكتب لي بِخَطِّهِ وَقَالَ فِيهِ ذكر بعض أَهله
২৩ - আমি আবুল হাসান আল-খাত্তাবিকে তাঁর সংবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম; তাঁর কন্যাদের দিক থেকে তাঁর সাথে একটি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তিনি নিজ হাতে আমার নিকট লিখে পাঠালেন এবং তাতে তাঁর পরিবারের কিছু সদস্যের কথা উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬৫)
أَنه لما اشْتَدَّ طلب الْحجَّاج لعمران وأخاف قومه وداعهم بِسَبَبِهِ فَاخْتَلَفُوا عَلَيْهِ وَذكروا لَهُ خوف عبد الْملك وعماله وَالْحجاج وَغَيره فَارق قومه وتنقل من حَيّ إِلَى حَيّ إِلَى أَن نزل ب روح بن زنباع الجذامي فَبينا روح ذَات لَيْلَة فِي سمر عبد الْملك إِذْ قَالَ عبد الْملك هَل تَدْرُونَ من يَقُول هَذَا الْبَيْت:

وفيمن قيل أكْرم بِقوم بطُون الطير أقبرهم … لم يخلطوا دينهم بغيا وعدوانا

هَل تَدْرُونَ من قَالَه وَهل أحد مِنْكُم يزيدنا عَلَيْهِ أبياتا فَقَالُوا لَا قَالَ فَمن أَتَانِي بِعلم ذَلِك فَلهُ عِنْدِي مَا سَأَلَ بعد الأشطط بن فَخرج روح حَتَّى أَتَى منزله فَقَالَ عمرَان يَا عبد الله هَل تَدْرِي من يَقُول هَذَا الشّعْر وَأَعَادَهُ فَقَالَ عمرَان بن حطَّان وَأنْشد القصيدة بِطُولِهَا
যখন ইমরানের সন্ধানে হাজ্জাজের তৎপরতা তীব্রতর হলো এবং তার কারণে তার কওম ভীত হয়ে পড়ল ও তাদের বিদায় জানাল, তখন তারা তার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করল এবং তার নিকট আব্দুল মালিক, তার কর্মচারীগণ, হাজ্জাজ ও অন্যদের ভয়ের কথা উল্লেখ করল। ফলে সে তার স্বগোত্র ত্যাগ করল এবং এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে স্থানান্তরিত হতে থাকল, শেষ পর্যন্ত সে রুহ ইবনে জুনবা আল-জুজামির নিকট গিয়ে অবস্থান নিল। একদা রাতে রুহ যখন আব্দুল মালিকের সান্ধ্যকালীন গল্পগুজবের আসরে ছিলেন, তখন আব্দুল মালিক বললেন: "তোমরা কি জানো এই পঙক্তিটি কার এবং কার সম্পর্কে বলা হয়েছে?"

"কতই না সম্মানিত সেই কওম যাদের কবর হয়েছে পাখিদের উদরে … তারা তাদের দ্বীনকে বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘনের দ্বারা কলুষিত করেনি।"

"তোমরা কি জানো এটি কে বলেছে এবং তোমাদের কেউ কি এর সাথে আরও কিছু পঙক্তি যোগ করতে পারবে?" তারা বলল, "না।" তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি আমার নিকট এই বিষয়ে সংবাদ নিয়ে আসবে, সে যা প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা-ই দান করব, যদি না তা কোনো অসঙ্গত দাবি হয়।" অতঃপর রুহ বেরিয়ে তার আবাসে আসলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কি জানেন এই কবিতাটি কে বলেছে?" এবং তিনি সেটি পুনরায় পাঠ করলেন। তখন ইমরান বললেন: "ইমরান ইবনে হাত্তান।" অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ কাসিদাটি পাঠ করে শোনালেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬৬)
فَلَمَّا غَدا روح على عبد الْملك أنْشدهُ

الشّعْر الَّذِي أنْشدهُ عمرَان فَقَالَ لَهُ عبد الْملك من أَيْن أصبت هَذَا الشّعْر فَقَالَ
অতঃপর রূহ যখন সকালে আব্দুল মালিকের কাছে গেলেন, তিনি তাকে আবৃত্তি করে শুনালেন

সেই কবিতাটি যা ইমরান আবৃত্তি করেছিলেন। তখন আব্দুল মালিক তাকে বললেন, "তুমি এই কবিতাটি কোথা থেকে সংগ্রহ করলে?" তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬৭)
من ضيف لي مَا رَأَيْت أحفظ مِنْهُ بشئ قطّ مَا رويت لَهُ شَيْئا إِلَّا وسابقني هَذِه إِلَيْهِ وَزَادَنِي مِنْهُ مَا لَا أعرفهُ وَرَأَيْت نَعته نَعته ونعته وَرَأَيْت رجلا عابدا كثير الصَّلَاة وَإِنِّي لأظنه من الحرورية أهل الْعرَاق قَالَ عبد الْملك يَا غُلَام ائْتِنِي بطوماد سنة الْحجَّاج فَأتي بِهِ فَإِذا رقْعَة فَقَرَأَ حليته فَإِذا حلية عمرَان فَقَالَ عبد الْملك فَانْطَلق فأتني بضيفك وأعلمه أَنه آمن ليحدثني مَجْلِسا وَاحِدًا فَلَمَّا رَجَعَ روح إِلَى منزله قَالَ لَهُ أَيهَا الشَّيْخ إِن أَمِير الْمُؤمنِينَ استزارك فزره فَقَالَ مَالِي وللأمير قَالَ إِنَّه قد أحب ذَاك قَالَ فَخذ لي كتاب أَمَان بِخَط يَده أسكن إِلَيْهِ قَالَ نعم ثمَّ اتى روح عبد الْملك فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِنَّه قد أحب أَن يكون مَعَه كتاب أَمَان بِخَط يدك وخاتمك
আমার এমন একজন মেহমান সম্পর্কে, যার চেয়ে অধিক মুখস্থকারী ব্যক্তি আমি কোনো বিষয়ে কখনো দেখিনি। আমি যখনই তাঁর কাছে কোনো কিছু বর্ণনা করেছি, তখনই তিনি এ বিষয়ে আমার অগ্রবর্তী হয়েছেন এবং তাতে এমন কিছু যোগ করেছেন যা আমার জানা ছিল না। আমি তাঁর গুণাবলি এবং বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করেছি। আমি তাঁকে একজন ইবাদতগুজার ব্যক্তি হিসেবে দেখেছি যিনি প্রচুর সালাত আদায় করেন এবং আমার প্রবল ধারণা যে তিনি ইরাকবাসী হারুরিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। আবদুল মালিক বললেন, হে গোলাম! হাজ্জাজের বছরের সেই 'তুমাদের' (দীর্ঘ নথি) নিয়ে এসো। অতঃপর তা আনা হলো এবং দেখা গেল সেখানে একটি চিরকুট রয়েছে। তিনি তাঁর শারীরিক বর্ণনা পাঠ করলেন এবং দেখা গেল সেটি ইমরানেরই বর্ণনা। তখন আবদুল মালিক বললেন, তুমি যাও এবং তোমার মেহমানকে নিয়ে এসো। তাঁকে আশ্বস্ত করো যে তিনি নিরাপদ, যাতে তিনি আমার সাথে এক মজলিসে কথা বলতে পারেন। যখন রুহ নিজ বাড়িতে ফিরে এলেন, তিনি তাঁকে বললেন, হে শায়খ! আমিরুল মুমিনীন আপনার সাক্ষাৎ চেয়েছেন, অতএব আপনি তাঁর সাথে দেখা করুন। তিনি বললেন, আমিরের সাথে আমার কী কাজ? রুহ বললেন, তিনি এটিই পছন্দ করেছেন। তিনি বললেন, তাহলে আমার জন্য তাঁর নিজ হাতে লেখা একটি নিরাপত্তা পত্র নিয়ে এসো যাতে আমি আশ্বস্ত হতে পারি। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এরপর রুহ আবদুল মালিকের কাছে এলেন এবং বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! তিনি আপনার নিজ হস্তাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত একটি নিরাপত্তা পত্র তাঁর কাছে রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুতাওয়ারীন (পৃষ্ঠা: ৬৮)
قَالَ عبد الْملك هَذِه بعض خدع أهل الْعرَاق ذهب الرجل وتركك أما أَنِّي أَرَاك سترجع وَلَا تَجدهُ فَانْصَرف روح إِلَى منزله وَقد خرج عمرَان وَخلف فِي منزله رقْعَة فِيهَا أَبْيَات شعر وَهِي:

يَا روح كم من أخي مثوى نزلت بِهِ … قد ظن ظَنك من لخم وغسان

حَتَّى إِذا خفته زايلت منزله … من بعد مَا قيل عمرَان بن حطَّان

قد كنت ضيفك حينا لَا يؤرقني … فِيهِ طوارق من إنس وَمن جَان
আব্দুল মালিক বললেন, "এটি ইরাকবাসীদের কিছু প্রতারণা। লোকটি চলে গেছে এবং তোমাকে ছেড়ে গেছে। আমি দেখছি যে তুমি ফিরে যাবে কিন্তু তাকে পাবে না।" অতঃপর রওহ তার বাড়িতে ফিরে গেলেন, আর ইমরান ইতিপূর্বেই প্রস্থান করেছিলেন এবং তার বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন যাতে কিছু কাব্যপদ ছিল, যা হলো:

হে রওহ, কত মেজবানের আশ্রয়েই না আমি অবস্থান করেছি … যারা লাখম ও গাসসান গোত্রের ন্যায় তোমার মতোই ধারণা পোষণ করেছিল।

অবশেষে যখন আমি তাকে ভয় করেছি, তখন তার গৃহ ত্যাগ করেছি … যখন বলা হলো যে (আমি) ইমরান বিন হিত্তান।

আমি কিছুকাল তোমার অতিথি ছিলাম, যেখানে আমাকে কোনো কিছু নির্ঘুম রাখেনি … মানুষ বা জিনের কোনো নৈশ আগন্তুক।