(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر مغني اللبيب عن كتاب الأعاريب القسم: النحو والصرف
الكتاب: مختصر مغني اللبيب عن كتاب الأعاريب
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: مكتبة الرشد
الطبعة: الأولى 1427هـ
عدد الصفحات: 163
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুখতাসার মুগনি আল-লাবিব আন কিতাব আল-আআরিব বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: মুখতাসার মুগনি আল-লাবিব আন কিতাব আল-আআরিব
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا له إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فقد قام فضيلة شيخنا محمد بن صالح العثيمين -رحمه الله تعالى- عام 1389هـ باختصار كتاب "مغني اللبيب عن كتب الأعاريب" لابن هشام الأنصاري1 المتوفى عام 761هـ تغمده الله بواسع رحمته ورضوانه وأسكنه فسيح جناته.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর রহমত ও অগণিত শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
আমাদের সম্মানিত শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমীন -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- ১৩৮৯ হিজরি সনে ইবনে হিশাম আল-আনসারী (মৃত্যু ৭৬১ হি.) রচিত "মুগনি আল-লাবীব আন কুতুবিল আ'আরীব" গ্রন্থটির সংক্ষিপ্তকরণ (اختصار) করেছেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর প্রশস্ত রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২)
ثم إنه في عام 1417هـ سعى الشيخ فريد بن عبد العزيز الزامل السليم -أثابه الله- في نشر هذا المختصر النفيس واستأذن شيخه فأذن له بذلك وصدر مطبوعاً بعنايته -جزاه الله خيراً- من حيث عزو الآيات ةتخريج الأحاديث والشواهد الشهرية وتوثيق النقول وعمل الفهارس التفصيلية.
وإنفاذاً للقواعد والتوجيهات التي قررها فضيلة شيخنا رحمه الله تعالى لإخراج مؤلفاته أعيد هذا الكتاب للطباعة والنشر.
نسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم نافعاً لطلاب العلم وأن يجزي فضيلة شيخنا خير الجزاء ويضاعف له المثوبة والأجر ويعلي درجته في المهديين إنه سميع قريب.
اللجنة العلمية في مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية
25/5/1426هـ
অতঃপর ১৪১৭ হিজরি সনে শায়খ ফরিদ বিন আব্দুল আজিজ আল-জামিল আস-সুলাইম—আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করুন—এই মূল্যবান সংক্ষেপিত গ্রন্থ (المختصر) প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং তাঁর শায়খের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। এটি তাঁরই বিশেষ তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—যেখানে আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান, হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج), কাব্যিক প্রমাণাদি (الشواهد), উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণিকতা যাচাই (توثيق) এবং বিস্তারিত নির্ঘণ্ট তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর গ্রন্থাবলি প্রকাশের জন্য যেসব নিয়ম ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষে এই বইটি পুনরায় মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য উপকারী করেন; আর আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁর সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করেন এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের কাতারে তাঁর মর্তবা সমুন্নত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী।
শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের ইলমি কমিটি
২৫/৫/১৪২৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الطبعة الأولى عام 1427هـ:
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد:
فإن لمغني اللبيب لابن هشام الأنصاري رحمه الله منزلة كبرى في نفسي، ومكانة عظمى، وفضلا لا أنكره، فهو أحد المفازع التي أفزع إليها -بعد التوكل على الله- إذا سلكت إلى مسألة نحوية فجا مظلما، أو سبيلا معوجا، أو أخطأت الصراط الأقوم، وكنت أجده الفج الواسع النير، والطريق القويم، والصراط المستقيم، ولكني لعول الصبر، وقلة الجلد، سرعان ما أمل، فإن لم أمل من إمعان النظر والتدقيق بالعبارة حتى أفهمها، مللت من طول الموضوع وسعته، فتجدني أقلب الصفحات أعدها أنتظر النهاية!!
১৪২৭ হিজরি সনের প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
ইবনে হিশাম আল-আনসারী (রহ.)-এর 'মুগনি আল-লাবীব' গ্রন্থটি আমার অন্তরে এক সুউচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং এর অবদান অনস্বীকার্য। এটি এমন এক আশ্রয়স্থল যার প্রতি আমি—আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার পর—তখনই ধাবিত হই, যখন আমি কোনো ব্যাকরণগত (نحوية) মাসআলা (مسألة) সমাধানের ক্ষেত্রে কোনো অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ বা বক্র পথে পরিচালিত হই অথবা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হই। আমি একে সর্বদা এক প্রশস্ত ও আলোকিত পথ এবং সুদৃঢ় ও সরল পথ হিসেবে পেয়েছি। কিন্তু ধৈর্যের স্বল্পতা ও সহনশীলতার অভাবের কারণে আমি দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। যদি আমি ইবারত (عبارة) অনুধাবনের জন্য গভীর মনোযোগ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে ক্লান্ত না-ও হই, তবুও বিষয়ের দীর্ঘতা ও ব্যাপকতায় আমি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ি; ফলে তখন আপনি আমাকে দেখবেন যে আমি পৃষ্ঠা উল্টিয়ে উল্টিয়ে তা গণনা করছি এবং শেষ হওয়ার প্রতীক্ষা করছি!!
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولقد سررت جدا عندما علمت بمختصر المغني لفضيلة شيخنا محمد بن صالح العثيمين، فأملت أن يكون بغيتي، فلست أضيق ذرعا بإمعان الفكر الذي يحتاجه كل مختصر، ولكني أضيق بسعة الموضوع الذي هو سمة كل مطول.
ولما رأيته مخطوطا عرض لي الاعتناء به، والسعي في نشره، دون الإضافات والتعليقات، فلست أهلا لها، ولا أرى هذا علي إلا واجبا، وهي محاولة لعلها تكون بإذن الله ناجحة في خدمة لغة الكتاب العزيز ومن طلبها، فتوكلت على الله وبدأت.
ونظرا لقلة الخبرة، ولقصر النظر عن الاستقصاء، فلن يسلم هذا الاعتناء من عيوب لا مصدر لها سوى صاحبه، فإن تجد هذا أخي القارئ فغض الطرف عنه، والتمس لأخيك العذر، نسأل الله لنا ولك العفو والعافية. وأريد أن أنبهك أخي القارئ إلى أمور:
أولها: إذا رأيت الحاشية مشارا إليها بالرمز (.) فهي حاشية في المتن، أي من كلام المختصر حفظه الله.
الثاني: إذا ذكرت شرح التسهيل، فإنما أعني به الذي ألفه ابن مالك.
আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম যখন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রচিত মুখতাসার আল-মুগনি সম্পর্কে অবগত হলাম। আমি আশা পোষণ করলাম যে এটিই হবে আমার অন্বেষিত লক্ষ্য। প্রতিটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) গ্রন্থের জন্য যে গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয় তাতে আমি বিচলিত হই না, বরং আমি বিষয়বস্তুর ব্যাপকতায় ভারাক্রান্ত বোধ করি, যা প্রতিটি দীর্ঘ বা বিস্তারিত (مطول) গ্রন্থের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য।
যখন আমি এটি পাণ্ডুলিপি আকারে দেখলাম, তখন কোনো প্রকার পরিবর্ধন ও টীকা ছাড়াই এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের প্রয়াস পেলাম। আমি নিজেকে এর উপযুক্ত মনে করি না, তবে আমি একে নিজের জন্য একটি আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবেই গণ্য করছি। এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মহাগ্রন্থের ভাষা এবং এর শিক্ষার্থীদের সেবায় ফলপ্রসূ হতে পারে। অতঃপর আমি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে কাজ শুরু করলাম।
অভিজ্ঞতার অভাব এবং পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনায় অদূরদর্শিতার দরুন এই সম্পাদনা কর্মটি ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত হবে না, যার দায়ভার একান্তই এর লেখকের। হে পাঠক ভাই, আপনি যদি এমন কিছু লক্ষ্য করেন তবে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আপনার ভাইয়ের জন্য ওজর পেশ করবেন। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের ও আপনাদের জন্য ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। আমি আপনাকে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাই:
প্রথমত: যদি দেখেন যে টীকাটি (.) চিহ্নের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে, তবে সেটি মূল পাঠ (متن) সংশ্লিষ্ট টীকা, যা মূলত সংক্ষিপ্তকারী (مختصر) (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর বক্তব্য।
দ্বিতীয়ত: আমি যখন শারহুত তাসহীল-এর কথা উল্লেখ করি, তখন এর দ্বারা ইবনে মালিক কর্তৃক প্রণীত গ্রন্থটিকেই উদ্দেশ্য করে থাকি।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الثالث: إذا أحلت إلى المغني بدون تحديد فإنما أعني به الذي حققه د. مازن المبارك وعلي حمد الله.
عملي في هذا الكتاب:
يتلخص هذا الجهد المقل بهذه النقاط:
1- عزو الآيات القرآنية بذكر السورة ورقم الآية، يتساوى ما إذا كانت الآية المستشهد بها كاملة، أو كان المستشهد به بعضها، ثقة بمعرفة القارئ السابقة بالقرآن الكريم.
2- تخريج الأحاديث النبوية من الصحيحين، وقد أخرج من غيرهما كمسند الإمام أحمد بن حنبل.
3- تخريج الشواهد الشعرية، ونسبتها إلى قائليها متى أمكن ذلك، مائلا إلى الإجمال في ذلك، إذ ليس من المهم أن أفصل في روايات البيت، وعزو كل نسبة إلى مصدرها، إذ لا يترتب على هذا كبير فائدة، وليس من صميم العمل.
ويلاحظ القارئ أنني لم أعرب الأبيات، بل اكتفيت بذكر موضع الشاهد ووجه الاستشهاد فيها، وذلك لأنني قد سبقت بمن أعرب شواهد
তৃতীয়ত: আমি যখন কোনো নির্দিষ্ট সংস্করণ নির্ধারণ না করেই ‘আল-মুগনি’র উদ্ধৃতি দেই, তখন আমি ডা. মাজিন আল-মুবারক এবং আলী হামদুল্লাহ সম্পাদিত সংস্করণটিই বুঝিয়ে থাকি।
এই কিতাবে আমার কাজ:
আমার এই সামান্য শ্রম নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
১- কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধৃত আয়াতটি পূর্ণাঙ্গ হোক কিংবা আংশিক—উভয় ক্ষেত্রেই বিষয়টি সমান; কারণ পাঠকের কুরআনুল কারীম সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান থাকবে—এই আস্থায়।
২- সহীহাইন থেকে নববী হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করা হয়েছে। তবে সহীহাইন ব্যতীত অন্যান্য কিতাব যেমন ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মুসনাদ থেকেও হাদিস চয়ন করা হয়েছে।
৩- কাব্যিক উদাহরণগুলোর তাখরিজ (تخريج) করা হয়েছে এবং সম্ভব হলে সেগুলোকে তাদের রচয়িতাদের দিকে নিসবত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপ করার নীতি অবলম্বন করেছি; কেননা পঙক্তির বিভিন্ন পাঠান্তর বিশ্লেষণ করা এবং প্রতিটি তথ্যকে তার মূল উৎসের সাথে উদ্ধৃত করা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, যেহেতু এতে বিশেষ কোনো ফায়দা নেই এবং এটি এই কাজের মূল লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্তও নয়।
পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, আমি পঙক্তিগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই’রাব) করিনি, বরং কেবল উদ্ধৃতির স্থান এবং সেখানে প্রমাণের ধরণ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। কারণ আমার আগে অনেকেই এই পঙক্তিগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৬)
المغني وشرحها واعتنى بها من قبلي، بل أفرد لها مؤلفا خاصا1.
4- توثيق النقول، بذكر موضع النقل فيما توفر لدي من مؤلفات المنقول عنه، مكتفيا بموضع واحد إن تعددت المواضع.
5- وضع الفهارس التفصيلية، فهارس الآيات القرآنية والأحاديث النبوية، والشواهد الشعرية، والأعلام والأماكن والقبائل، خاتما بفهرس الموضوعات الواردة في الكتاب.
والله أسأل أن ينفع به، وأن يرزقنا إخلاص النية، وقبول العمل، وأن يوفقنا جميعا إلى ما يحب ويرضى، ويهدينا صراطه المستقيم.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه:
فريد بن عبد العزيز الزامل السليم
عنيزة في 4 / 8 / 1417هـ
--------------------------------------------
আল-মুগনি এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ আমার পূর্ববর্তীরা যত্নসহকারে পর্যালোচনা করেছেন, বরং তারা এর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন।১
৪- উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণ্যতা (توثيق) নিশ্চিতকরণ; যার উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে তার যেসকল গ্রন্থ আমার নিকট লভ্য ছিল, সেখান থেকে উদ্ধৃতির স্থান উল্লেখ করার মাধ্যমে। যদি উদ্ধৃতিটি একাধিক স্থানে পাওয়া যায়, তবে একটি স্থানের উল্লেখই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে।
৫- বিস্তারিত নির্ঘণ্ট প্রস্তুতকরণ; কুরআনের আয়াত, নববী হাদিসসমূহ, কাব্যিক প্রমাণাদি (الشواهد), বিশিষ্ট ব্যক্তি, স্থান ও গোত্রসমূহের নির্ঘণ্ট এবং সবশেষে কিতাবে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সূচিপত্র যুক্ত করা হয়েছে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করেন, আমাদের নিয়তের বিশুদ্ধতা (إخلاص) দান করেন এবং আমল কবুল করেন। তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের তাঁর সরল পথে পরিচালিত করেন।
আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর।
লিখেছেন:
ফারিদ ইবনে আব্দুল আজিজ আয-যামিল আস-সুলাইম
উনাইযা, ৪ / ৮ / ১৪১৭ হিজরি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، ونصلي ونسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
هذا مختصر من المغني لابن هشام رحمه الله.
الباب الأول: في تفسير المفردات وذكر أحكامها
حرف الألف"أ"1 وتأتي على وجهين:
أحدهما: أن تكون لنداء القريب، كقوله:
1- أفاطم مهلا بعض هذا التدلل
… وإن كنت قد أزمعت صرمي فأجملي2
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আমরা আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর সালাত ও সালাম পেশ করছি।
এটি ইবনে হিশাম (রহিমাহুল্লাহ) বিরচিত 'আল-মুগনি' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত সার।
প্রথম অধ্যায়: একক শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গে
আলিফ বর্ণ"হামজা" ১ এবং এটি দুইভাবে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: নিকটবর্তী ব্যক্তিকে সম্বোধনের জন্য হওয়া, যেমন কবির উক্তি:
১- হে ফাতিমা! তোমার এই মান-অভিমান কিছুটা সংবরণ করো... আর যদি তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সংকল্পই করে থাকো, তবে তা সৌজন্যের সাথে করো। ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৬)
الثاني: أن تكون للاستفهام، كقولك: أزيد قائم؟ وهي أصل أدوات الاستفهام، ولذلك اختصت بأمور:
أحدها: حذفها، كقوله:
2- فوالله ما أدري وإن كنت داريا
… بسبع رمين الجمر أم بثمان1
الثاني: أنها تجمع بين التصور والتصديق، وغيرها إما للتصديق كـ "هل"، أو للتصور كبقية الأدوات.
الثالث: أنها تدخل على الإثبات والنفي، مثل: {أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ} 2.
الرابع: تمام التصدير، فلا تذكر بعد أم التي للإضراب، فلا يقال: أقام زيد أم أقعد. ويقال: أم هل قعد. وإذا كانت في جملة معطوفة بالواو أو ثم أو الفاء قدمت على العاطف، مثل:
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: এটি প্রশ্নবোধক (استفهام) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘জায়েদ কি দণ্ডায়মান?’ এটি প্রশ্নবোধক অব্যয়সমূহের মূল (أصل), যার ফলে এটি কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী:
প্রথমটি: এর বিলোপ (حذف) সাধন করা, যেমন কবির উক্তি:
২- আল্লাহর কসম, আমি জানি না যদিও আমি অবগত ছিলাম... সাতটি পাথর দ্বারা কি জামরায় নিক্ষেপ করা হয়েছে নাকি আটটি দ্বারা?১
দ্বিতীয়: এটি ধারণা (تصور) এবং প্রত্যয়ন (تصديق) উভয় ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করে; অথচ অন্যান্য অব্যয় হয় কেবল প্রত্যয়নের (تصديق) জন্য ব্যবহৃত হয় যেমন ‘হাল’ (هل), অথবা কেবল ধারণার (تصور) জন্য আসে যেমন অন্যান্য অব্যয়সমূহ।
তৃতীয়: এটি ইতিবাচকতা (إثبات) এবং নেতিবাচকতা (نفي) উভয় প্রকার বাক্যে প্রবেশ করে, যেমন: {আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?}২।
চতুর্থ: বাক্যের শুরুতে অবস্থানের পূর্ণ অধিকার। তাই একে বিরতিসূচক (إضراب) ‘আম’ (أم)-এর পরে উল্লেখ করা যায় না। সুতরাং বলা যায় না: ‘জায়েদ কি দাঁড়িয়েছে নাকি (আম) বসেছে?’ তবে বলা যায়: ‘নাকি সে কি বসেছে?’ (আম হাল কাদা)। আর যদি এটি ওয়াও, সুম্মা অথবা ফা দ্বারা সংযোজিত কোনো বাক্যে থাকে, তবে একে সংযোজক (عاطف) অব্যয়ের পূর্বে নিয়ে আসা হয়, যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৭)
{أَوَلَمْ يَسِيرُوا} 1 {أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ آمَنْتُمْ بِهِ} 2 ، وغيرها يتأخر مثل: {فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 3، وعلى هذا فتكون الجملة التي بعد العاطف معطوفة على ما قبلها، هذا مذهب سيبويه4 والجمهور، وخالف الزمخشري وجماعة، فقالوا الهمزة في موضعها والمعطوف عليه جملة محذوفة بين الهمزة والعاطف تقدر بحسب المقام5، وهو ضعيف لعدم اطراده.
--------------------------------------------
{তারা কি পরিভ্রমণ করেনি?} 1 {অতঃপর যখন তা সংঘটিত হবে, তখন কি তোমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে?} 2 , এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি বিলম্বে আসে যেমন: {তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হবে?} 3, এবং এর উপর ভিত্তি করে সংযোজক অব্যয়ের পরবর্তী বাক্যটি পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে অন্বিত হবে; এটি সিবওয়াইহি 4 এবং জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত। তবে যামাখশারি এবং একটি দল এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তারা বলেন হামযা তার নিজ স্থানেই আছে এবং যার সাথে অন্বয় করা হচ্ছে সেটি হামযা ও সংযোজক অব্যয়ের মাঝে একটি উহ্য বাক্য যা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী 5 অনুমিত হয়। তবে এটি দুর্বল (ضعيف), কারণ এটি সর্বত্র সমভাবে প্রযোজ্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৮)
فصل1
قد تخرج الهمزة عن الاستفهام إلى معان ثمانية تفهم من السياق:
الأول: التسوية، وهي الداخلة على جملة يصح حلول المصدر محلها، مثل: {سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ} 2، ما أبالي أقمت أم قعدت.
الثاني: الإنكار الإبطالي، وهي التي تقتضي أن ما بعدها غير واقع، كقوله تعالى: {أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ} 3، ولذلك إذا دخلت هذه الهمزة على منفي لزم ثبوته، لأن إبطال النفي إثبات، كقوله تعالى: {أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ} 4.
الثالث: الإنكار التوبيخي، وهي التي تقتضي أن ما بعدها واقع وفاعله ملوم، مثل: {أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبّاً} 5.
الرابع: التقرير، ومعناه حمل المخاطب على
--------------------------------------------
অনুচ্ছেদ ১
কখনও কখনও হামজা (الهمزة) প্রশ্নবোধক (الاستفهام) অর্থ ছাড়িয়ে আটটি ভিন্ন অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয় যা প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়:
প্রথমত: সমতা বিধান (التسوية), এটি এমন বাক্যের শুরুতে আসে যেখানে বাক্যটির পরিবর্তে একটি ক্রিয়ামূল (المصدر) স্থলাভিষিক্ত করা সঠিক হয়। যেমন: {তাদেরকে আপনি সতর্ক করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান} ২, এবং "আমি পরোয়া করি না আপনি দাঁড়ালেন কি বসলেন"।
দ্বিতীয়ত: বাতিলকারী অস্বীকৃতি (الإنكار الإبطالي), এটি দাবি করে যে এর পরবর্তী বিষয়টি বাস্তব নয় বা সংঘটিত হয়নি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি তাদের সৃষ্টির প্রত্যক্ষদর্শী ছিল?} ৩। এই কারণে যখন এই হামজা (الهمزة) কোনো নেতিবাচক (منفي) বিষয়ের ওপর প্রবেশ করে, তখন তা বিষয়টি ইতিবাচক হওয়াকে অবধারিত করে। কারণ কোনো নেতিবাচকতাকে বাতিল করা মানেই তা সাব্যস্তকরণ (إثبات)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কি আপনার বক্ষ আপনার জন্য প্রশস্ত করে দিইনি?} ৪।
তৃতীয়ত: তিরস্কারসূচক অস্বীকৃতি (الإنكار التوبيخي), এটি দাবি করে যে এর পরবর্তী বিষয়টি ঘটেছে এবং এর কর্তা নিন্দনীয়। যেমন: {আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে প্রতিপালক হিসেবে তালাশ করব?} ৫।
চতুর্থত: স্বীকৃতি দান (التقرير), এর অর্থ হলো সম্বোধিত ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ের স্বীকৃতি প্রদানে বাধ্য করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإقرار بأمر قد تقرر عنده ثبوته أو نفيه، ويجب أن يليها الشيء المقرر به كما يجب في الاستفهامية أن يليها الشيء المستفهم عنه، تقول في الاستفهام عن الفعل أو تقريره: أضربت زيدا؟ وعن الفاعل: أأنت ضربته؟ وفي المفعول: أطعاما أكلت؟
الخامس: التهكم، كقوله تعالى: {أَصَلاتُكَ تَأْمُرُكَ} 1.
السادس: الأمر، كقوله تعالى: {أَأَسْلَمْتُمْ} 2.
السابع: التعجب، كقوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ} 3.
الثامن: الاستبطاء، كقوله تعالى: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا} 4.
أجل5: حرف جواب كـ "نعم"، فتكون تصديقا للمخبر، وإعلاما للمستخبر، ووعدا للطالب.
--------------------------------------------
স্বীকৃতি প্রদান (الإقرار) এমন কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে যা তার নিকট সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া স্থির হয়ে গেছে। এর পরে সেই বিষয়টি আসা আবশ্যক যেটির স্বীকৃতি বা স্বীকারোক্তি চাওয়া হচ্ছে, যেমনটি প্রশ্নবোধক (الاستفهامية) বাক্যের ক্ষেত্রে প্রশ্নকৃত বিষয়টি পরে আসা আবশ্যক হয়। আপনি কোনো ক্রিয়া (الفعل) সম্পর্কে প্রশ্ন বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বলতে পারেন: "তুমি কি জায়েদকে প্রহার করেছ?" এবং কর্তা (الفاعل) সম্পর্কে বলতে পারেন: "তুমি কি তাকে প্রহার করেছ?" আর কর্ম (المفعول) সম্পর্কে বলতে পারেন: "তুমি কি কোনো খাদ্য গ্রহণ করেছ?"
পঞ্চম: বিদ্রূপ (التهكم), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার সালাত কি আপনাকে নির্দেশ দেয়} ১।
ষষ্ঠ: আদেশ (الأمر), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছ} ২।
সপ্তম: বিস্ময় (التعجب), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি আপনার প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য করেননি, তিনি কীভাবে ছায়া সম্প্রসারিত করেছেন} ৩।
অষ্টম: বিলম্বিত হওয়ার অনুযোগ (الاستبطاء), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি} ৪।
আ-জাল (أجل): এটি 'হ্যাঁ' (نعم) এর মতো একটি উত্তর প্রদানের অব্যয় (حرف جواب)। সুতরাং এটি সংবাদদাতার সংবাদের সত্যতা নিশ্চিতকরণ (تصديقا), তথ্য অন্বেষণকারীকে অবহিতকরণ (إعلاما) এবং আবেদনকারীকে প্রতিশ্রুতি (وعدا) প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১০)
إذن1: حرف عند الجمهور2، وهي للجواب والجزاء، وقد تتمحض للجواب، والأكثر أن تقع في جواب إن أو لو ظاهرتين أو مقدرتين، مثال المقدر قوله تعالى: {إِذاً لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ} 3، ويوقف عليها بالألف كما تكتب به، وقيل بالنون، وقيل إن عملت فبالألف وإلا فبالنون للفرق بينها وبين إذا.
وتنصب المضارع بشرط تصديرها واستقباله واتصالهما، أو انفصالهما بالقسم أو بلا النافية، وقيل أو بالظرف أو بالنداء أو الدعاء أو بمعمول الفعل.
إن4: على أربعة أوجه:
[الأول] : شرطية، مثل: {إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ} 5.
--------------------------------------------
ইদান (إذن)১: অধিকাংশ ওলামার (الجمهور)২ মতে এটি একটি অব্যয় (حرف), যা উত্তর (جواب) ও প্রতিদান (جزاء) প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। কখনো এটি কেবল উত্তরের জন্য নির্দিষ্ট হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ‘ইন’ (إن) অথবা ‘লাও’ (لو) এর উত্তরে আসে, চাই তা প্রকাশ্য হোক বা উহ্য (مقدر)। উহ্য হওয়ার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: “তবে প্রত্যেক উপাস্য নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত” ৩। এটি লেখার সময় যেমন আলিফ দিয়ে লেখা হয়, থামার (وقف) সময়ও তেমনি আলিফ দিয়েই থামতে হয়। কেউ কেউ বলেছেন এটি নূন (نون) দিয়ে লিখতে হবে। আবার কেউ বলেছেন যদি এটি আমল (عمل) করে তবে আলিফ দিয়ে, আর না করলে নূন দিয়ে লিখতে হবে যাতে ‘ইজা’ (إذا) এবং এর মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
এটি মুজারে (المضارع) ক্রিয়াকে নসব (نصب) প্রদান করে, তবে শর্ত হলো এটি বাক্যের শুরুতে থাকতে হবে, ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎকাল নির্দেশক হতে হবে এবং উভয়ের মাঝে কোনো ব্যবধান থাকা চলবে না। অথবা কসম (قسم) বা না-বোধক লা (لا النافية) দিয়ে ব্যবধান হতে পারে। কেউ কেউ বলেছেন জারফ (ظرف), নিদা (نداء), দোয়া (دعاء) অথবা ক্রিয়ার মামুল (معمول الفعل) দিয়েও ব্যবধান হতে পারে।
ইন (إن)৪: এটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
[প্রথম]: শর্তবাচক (شرطية), যেমন: “যদি তারা বিরত হয়, তবে তাদের যা গত হয়েছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে” ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الثاني: نافية، وتدخل على الجملتين، نحو قوله تعالى: {إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ} 1، {إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِباً} 2. ولا يشترط أن تقع بعدها إلا كقوله تعالى: {إِنْ عِنْدَكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ بِهَذَا} 3 والأكثر إهمالها وقيل بل تعمل عمل ليس.
الثالث: مخففة من الثقيلة، وتدخل على الجملتين، فإن دخلت على الاسمية جاز إعمالها خلافا للكوفيين4، وإن دخلت على الفعل أهملت وجوبا، والأكثر أن يليها ماض ناسخ، ثم مضارع ناسخ، ثم ماض غير ناسخ ثم مضارع غير ناسخ، ولا يقاس على الأخيرين.
الرابع: زائدة، وأكثر ما تقع بعد ما النافية، كقوله:
3- بني غدانة ما إن أنتم ذهب
… ولا صريف ولكن أنتم الخزف5
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: না-বাচক (نافية), এটি উভয় প্রকার বাক্যের (ইসমিয়্যাহ ও ফিলিয়্যাহ) শুরুতে আসে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মায়েরা তারা ছাড়া আর কেউ নয় যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে} ১, {তারা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই বলে না} ২। এটি শর্ত নয় যে এর পরে সর্বদা 'ইল্লা' (إلا) থাকতে হবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এ ব্যাপারে তোমাদের নিকট কোনো প্রমাণ নেই} ৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি আমলহীন বা নিষ্ক্রিয় (إهمال) থাকে; তবে কেউ কেউ বলেছেন যে এটি 'লাইসা' (ليس) এর ন্যায় আমল করে।
তৃতীয়: 'ইন্না'র লঘু রূপ (مخففة من الثقيلة), এটিও উভয় প্রকার বাক্যের শুরুতে আসে। যদি এটি নামবাচক বাক্যের (اسمية) শুরুতে আসে তবে কুফাবাসীদের মতের বিপরীতে একে আমল দেওয়া (إعمال) বৈধ ৪। আর যদি এটি ক্রিয়াবাচক বাক্যের শুরুতে আসে তবে এটি বাধ্যতামূলকভাবে আমলহীন (أهملت وجوبا) হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর পরে ক্রিয়ারূপ পরিবর্তনকারী অতীতকাল (ماض ناسخ), এরপর ক্রিয়ারূপ পরিবর্তনকারী বর্তমানকাল (مضارع ناسخ), এরপর সাধারণ অতীতকাল (ماض غير ناسخ) এবং এরপর সাধারণ বর্তমানকাল (مضارع غير ناسخ) আসে। শেষোক্ত দুটির ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করা যাবে না।
চতুর্থ: অতিরিক্ত (زائدة), এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে না-বাচক 'মা' (ما النافية) এর পরে আসে। যেমন কবির উক্তি:
৩- হে বনু গদানাহ! তোমরা স্বর্ণ নও এবং রৌপ্যও নও; বরং তোমরা তো মাটির পাত্র ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১২)
أن1: تأتي اسما ضميرا، نحو: أنت، والتاء حرف خطاب عند الجمهور، وتأتي حرفا على أربعة أوجه.
[الأول] : أن تكون حرف مصدر ناصبا للمضارع فتقع مبتدأ نحو: {وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ} 2. وفاعلا في نحو: يعجبني أن تقوم. ومفعولا نحو: أحب أن تقوم، ومجرورا نحو: {مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا} 3، وقد تهمل حملا على ما المصدرية، كقوله تعالى: {لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ} 4 على قراءة الرفع5.
الثاني: أن تكون مخففة من الثقيلة فتقع بعد فعل
--------------------------------------------
আন (أن)১: এটি বিশেষ্য হিসেবে সর্বনাম রূপে আসে, যেমন: ‘আনতা’, এবং জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে ‘তা’ হলো সম্বোধনসূচক বর্ণ (حرف خطاب)। এটি অব্যয় (حرف) হিসেবে চারটি পন্থায় ব্যবহৃত হয়।
[প্রথম]: এটি মুদারে-কে নাসব প্রদানকারী (ناصبا للمضارع) মাসদার প্রদানকারী অব্যয় (حرف مصدر) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং মুবতাদা (مبتدأ) হিসেবে আপতিত হয়, যেমন: {আর তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} ২। এটি ফায়েল (فاعلا) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘তোমার দাঁড়ানো আমাকে মুগ্ধ করে’। মাফউল (مفعولا) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি তোমার দাঁড়ানো পছন্দ করি’। এবং মাজরুর (مجرورا) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: {আমাদের নিকট আপনার আসার পূর্বে} ৩। কখনো কখনো একে ‘মা মাসদারিয়া’ (ما المصدرية)-এর সদৃশ গণ্য করে আমলহীন বা প্রভাবহীন রাখা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যে দুধ পান করানোর পূর্ণ সময়সীমা সমাপ্ত করতে চায়} ৪, পেশবিশিষ্ট কিরাত (قراءة الرفع) ৫ অনুযায়ী।
দ্বিতীয়: এটি সাকিলাহ বা দ্বিত্ব বর্ণযুক্ত ‘আন্না’ থেকে মুখাফফাফাহ বা লঘু (مخففة من الثقيلة) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো ক্রিয়ার পরে আসে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اليقين أو ما نزل منزلته، كقوله تعالى: {أَفَلا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلاً} 1، وإذا دخلت على الجملة الاسمية نصبت الاسم ورفعت الخبر، وشرط اسمها أن يكون ضميرا محذوفا وخبره جملة، إلا أن يذكر اسمها فيجوز الأمران كقوله:
4- بأنك ربيع وغيث مريع
… وأنك هناك تكون الثمالا2
الثالث: أن تكون مفسرة بمعنى أي كقوله تعالى: {فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ} 3، وأنكرها الكوفيون، قال المؤلف وهو عندي متجه4، ويشترط أن لا يدخل عليها جار، وأن تقع بين جملتين
--------------------------------------------
নিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) অথবা যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তারা দেখে না যে, ওটা তাদের কোনো কথার উত্তর দেয় না?} ১। আর এটি যখন জুমলা ইসমিয়ার শুরুতে আসে, তখন তা ইসমকে নসব প্রদান করে এবং খবরকে রফ’ প্রদান করে। এর ইসমের জন্য শর্ত হলো—তা উহ্য সর্বনাম (ضمير محذوف) হতে হবে এবং খবরটি একটি বাক্য হতে হবে। তবে যদি এর ইসমটি উল্লিখিত থাকে, তবে উভয়টিই বৈধ; যেমন কবির উক্তি:
৪- নিশ্চয় আপনি বসন্তকাল এবং কল্যাণময় বৃষ্টি
… আর সেখানে আপনিই হলেন আশ্রয়দাতা ২
তৃতীয় প্রকার: এটি ব্যাখ্যামূলক (مفسرة) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া, যা ‘অর্থাৎ’ অর্থে আসে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি তাঁর প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তুমি নৌকা নির্মাণ করো} ৩। কুফাবাসী ব্যাকরণবিদগণ একে অস্বীকার করেছেন। লেখক বলেন, এটি আমার নিকট যুক্তিযুক্ত ৪। এর শর্ত হলো—এর পূর্বে কোনো ‘জার’ প্রবেশ করবে না এবং এটি দুটি বাক্যের মাঝে অবস্থিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
السابقة فيها معنى القول دون حروفه إلا أن يكون القول مؤولا بغيره كما في قوله تعالى: {مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ} 1 أي ما أمرتهم إلا بما أمرتني به
… إلخ.
الرابع: أن تكون زائدة، مثل قوله تعالى: {فَلَمَّا أَنْ جَاءَ الْبَشِيرُ} 2، وتفيد التوكيد كسائر الزوائد.
وزيد على هذه الأوجه أوجه أخرى، منها:
الأول: أن تكون شرطية، قاله الكوفيون ورجحه المؤلف3.
الثاني: النفي.
الثالث: معنى إذ ذكره بعضهم في قوله تعالى: {بَلْ عَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ} 4.
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী আলোচনায় শব্দের ব্যবহার ব্যতিরেকে 'বক্তব্য' (قول) এর অর্থ নিহিত রয়েছে, যদি না সেই বক্তব্যকে অন্য কোনো অর্থে ব্যাখ্যায়িত (مؤول) করা হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাদেরকে কেবল তা-ই বলেছি যা আপনি আমাকে আদেশ করেছেন—তা এই যে, তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদত করো} ১ অর্থাৎ, আপনি আমাকে যা আদেশ করেছেন তা ব্যতিরেকে আমি তাদের অন্য কোনো নির্দেশ দিইনি
... ইত্যাদি।
চতুর্থ: এটি অতিরিক্ত (زائدة) হওয়া; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা আসলো} ২, এবং এটি অন্যান্য অতিরিক্ত পদের ন্যায় দৃঢ়তা (توكيد) প্রদান করে।
এই ক্ষেত্রগুলোর সাথে আরও কিছু ক্ষেত্র যুক্ত করা হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:
প্রথম: এটি শর্তবাচক (شرطية) হওয়া। কুফাবাসীগণ একথাই বলেছেন এবং গ্রন্থকার একেই প্রাধান্য দিয়েছেন ৩।
দ্বিতীয়: না-বোধক (نفي) অর্থে।
তৃতীয়: 'যখন' (إذ) এর অর্থে; যা কেউ কেউ মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন: {বরং তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের নিকট আসলো} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إن1: وتأتي على وجهين:
الأول: أن تكون حرف توكيد فتنصب الاسم وترفع الخبر، وقد تنصبهما في لغة كقوله:
5- إذا اسود جنح الليل فلتأت ولتكن
… خطاك خفافا إن حراسنا أسدا2
وقد يرتفع بعدها المبتدأ فيكون اسمها ضمير الشأن محذوفا.
الثاني: أن تكون حرف جواب بمعنى نعم كقول ابن الزبير رضي الله عنه: "إن وراكبها". لمن قال له: "لعن الله ناقة حملتني إليك".
أن3: وتأتي على وجهين:
الأول: أن تكون حرف توكيد ينصب الاسم ويرفع الخبر، وهي موصول حرفي تؤول مع
--------------------------------------------
ইন (إن) ১: এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: এটি একটি নিশ্চয়তাবোধক অব্যয় (حرف توكيد) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বিশেষ্যকে নসব (نصب) প্রদান করে এবং খবরকে রফ (رفع) প্রদান করে। কোনো কোনো উপভাষায় এটি উভয়কেই নসব প্রদান করতে পারে, যেমন কবির এই উক্তিতে:
৫- যখন রাতের আঁধার কালো হয়ে আসে তখন তুমি এসো, আর তোমার পদক্ষেপ যেন লঘু হয়
… নিশ্চয়ই আমাদের রক্ষীরা সিংহস্বরূপ ২
কখনও এরপরে মুক্তাদা (مبتدأ) রফ অবস্থায় থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে এর বিশেষ্যটি একটি ঊহ্য বিষয়সূচক সর্বনাম (ضمير الشأن) হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয়ত: এটি ‘হ্যাঁ’ অর্থে উত্তরবাচক অব্যয় (حرف جواب) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে; যেমন ইবনে আল-জুবায়ের (রা.)-এর উক্তি: "হ্যাঁ (إن) এবং এর আরোহীর উপরেও।" এটি তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে তাঁকে বলেছিল: "আল্লাহ সেই উষ্ট্রীর ওপর লানত করুন যা আমাকে আপনার কাছে বহন করে নিয়ে এসেছে।"
আন্না (أن) ৩: এটিও দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: এটি একটি নিশ্চয়তাবোধক অব্যয় (حرف توكيد) যা বিশেষ্যকে নসব (نصب) প্রদান করে এবং খবরকে রফ (رفع) প্রদান করে। এটি একটি হরফী সংযুক্ত অব্যয় (موصول حرفي) যা পরবর্তী অংশের সাথে মিলে ব্যাখ্যামূলক অর্থে ব্যবহৃত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
معموليها بمصدر، فإن كان الخبر مشتقا فالمصدر من لفظه مضافا إلى اسمها، مثل: بلغني أنك قائم، أي قيامك، وإن كان جامدا قدر بالكون، مثل: بلغني أنك زيد، أي كونك زيدا.
الثاني: أن تكون لغة في لعل.
أم 1: على أربعة أوجه:
الأول: أن تكون متصلة، وهي التي لا يستغني ما قبلها عن ما بعدها، وتقع بعد همزة التسوية، نحو: سواء علي أقمت أم قعدت، وبعد همزة يطلب بها وبـ أم التعيين، نحو: أزيد قائم أم عمرو، فالواقعة بعد همزة التسوية لا تستحق جوابا والكلام معها قابل للتصديق والتكذيب ولابد أن تكون بين جملتين في تأويل مفردين كما في الآية2، والتقدير: سواء عليهم استغفارك لهم وعدمه. والواقعة بعد همزة التعيين بخلافها فيما ذكر، فتقع بين مفردين كالمثال، أو جملتين ليستا في تأويل المفردين، كقوله:
--------------------------------------------
এর দুই মামুলকে ক্রিয়ামূল (مصدر) দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। যদি খবরটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) হয়, তবে সেই শব্দের ক্রিয়ামূল (مصدر) তার ইসিমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হবে। যেমন: ‘আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি দণ্ডায়মান’, অর্থাৎ ‘তোমার দণ্ডায়মান হওয়া’। আর যদি তা অব্যুৎপন্ন (جامد) হয়, তবে একে বিদ্যমানতা (كون) শব্দ দ্বারা অনুমান করা হবে। যেমন: ‘আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি যায়েদ’, অর্থাৎ ‘তোমার যায়েদ হওয়া’।
দ্বিতীয়ত: এটি ‘লাআল্লা’ (لعل)-এর একটি ভাষাগত রূপান্তর হতে পারে।
আম (أم) ১: এটি চারভাবে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: এটি সংযুক্ত (متصلة) হওয়া; এটি এমন শব্দ যার পূর্ববর্তী অংশ পরবর্তী অংশ ছাড়া অর্থপূর্ণ হয় না। এটি সমতার হামজা (همزة التسوية)-এর পরে আসে, যেমন: ‘আমার কাছে সমান যে তুমি দাঁড়ালে নাকি বসলে’। আবার এটি এমন হামজার পরেও আসে যার দ্বারা এবং ‘আম’ (أم)-এর মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ (تعيين) চাওয়া হয়। যেমন: ‘যায়েদ কি দণ্ডায়মান নাকি আমর?’ সুতরাং সমতার হামজা (همزة التسوية)-এর পরে অবস্থিত ‘আম’ কোনো উত্তরের দাবি রাখে না এবং এর দ্বারা কৃত বক্তব্যটি সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এটি অবশ্যই দুটি বাক্যের মধ্যে হতে হবে যা একক শব্দের (مفرد) ব্যাখ্যা প্রদান করে, যেমনটি ২ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এর মূল অর্থ: ‘তাদের জন্য তোমার ক্ষমা প্রার্থনা করা বা না করা উভয়ই তাদের নিকট সমান’। আর নির্দিষ্টকরণের হামজা (همزة التعيين)-এর পরে অবস্থিত ‘আম’-এর বিধান উল্লেখিত বিষয়ের বিপরীত। এটি উদাহরণের ন্যায় দুটি একক শব্দের (مفرد) মাঝে আসতে পারে অথবা এমন দুটি বাক্যের মাঝেও আসতে পারে যা একক শব্দের (مفرد) ব্যাখ্যা প্রদান করে না। যেমন তাঁর উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6- لعمرك ما أدري وإن كنت داريا
… شعيث بن سهم أم شعيث بن منقر1
الوجه الثاني: أن تكون منقطعة، وهي التي لا يفرقها الإضراب وتقع في الخبر المحض، كقوله تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ} 2 وفي استفهام بغير الهمزة، كقوله تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ} 3، وفي استفهام بالهمزة إذا خرج عن معناه الأصلي، كقوله تعالى: {أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا} 4 لأن الهمزة هنا للإنكار، وقال أبو عبيدة5: إنها قد تفارق الإضراب للاستفهام المجرد.
--------------------------------------------
6- তোমার জীবনের শপথ, আমি জানি না যদিও আমি অবগত ছিলাম
… শুয়াইত ইবনে সাহাম নাকি শুয়াইত ইবনে মুনকির১
দ্বিতীয় প্রকার: তা হলো বিচ্ছিন্ন (منقطعة) হওয়া; এটি সেই প্রকার যা ইদরাম বা প্রসঙ্গ পরিবর্তন (الإضراب) দ্বারা পৃথক হয় না এবং কেবল বিশুদ্ধ সংবাদের (الخبر المحض) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এই কিতাব অবতীর্ণকরণে কোনো সন্দেহ নেই; নাকি তারা বলে যে তিনি এটি নিজে রচনা করেছেন?} ২ এবং হামজা (الهمزة) ব্যতীত অন্য প্রশ্নবোধক (استفهام) অব্যয়ের ক্ষেত্রেও এটি আসে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান? নাকি অন্ধকার ও আলো কি সমান?} ৩ এবং হামজা (الهمزة) বিশিষ্ট প্রশ্নবোধক (استفهام) বাক্যেও ব্যবহৃত হয় যখন তা তার মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের কি এমন পা আছে যা দিয়ে তারা চলে? নাকি তাদের এমন হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরে?} ৪ কারণ এখানে হামজা (الهمزة) হলো অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের (للإنكار) জন্য। আর আবু উবায়দাহ৫ বলেন: এটি কখনও কেবল প্রশ্নের (للاستفهام) জন্য ইদরাম বা প্রসঙ্গ পরিবর্তন (الإضرাব) থেকে বিযুক্ত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الثالث: أن تقع زائدة، كقوله:
7- ياليت شعري ولامنجامن الهرم
… أم هل على العيش بعد الشيب من ندم1
الرابع: أن تكون للتعريف كما نقل عن حمير وطيء مثل: أمقمر.
"أل" 2: على ثلاثة أوجه:
الأول: أن تكون اسما موصولا مشتركا ويوصل بها اسم الفاعل واسم المفعول دون الصفة المشبهة واسم التفضيل، وقد توصل بظرف أو جملة اسمية أو فعلية فعلها مضارع وذلك خاص بالشعر.
الثاني: أن تكون حرف تعريف إما للعهد أو للجنس، والعهد إما ذكري أو ذهني أو حضوري، والجنس إما لاستغراق الأفراد، أو استغراق خصائص الأفراد، أو لتعريف الماهية.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: এটি অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির বাণী:
৭- হায়! যদি আমি জানতাম, বার্ধক্য থেকে কোনো নিষ্কৃতি নেই... অথবা বার্ধক্যের পর জীবনের জন্য কি কোনো অনুশোচনা আছে?১
চতুর্থত: এটি সংজ্ঞার্থ জ্ঞাপক (للتعريف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি হিমইয়ার এবং তায় গোত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: আম-কামার (অপেক্ষা চন্দ্র)।
'আল' ২: তিন প্রকার হতে পারে:
প্রথমত: এটি সাধারণ সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (اسما موصولا مشتركا) হতে পারে। এর মাধ্যমে কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) এবং কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول)-কে যুক্ত করা হয়; তবে গুণবাচক বিশেষ্য (الصفة المشبهة) বা আধিক্যবাচক বিশেষ্য (اسم التفضিল)-এর ক্ষেত্রে এটি হয় না। কখনো কখনো এটি ক্রিয়া বিশেষণ (ظرف), নামবাচক বাক্য (جملة اسمية) অথবা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া সম্পন্ন (مضارع) ক্রিয়াবাচক বাক্যের (جملة فعلية) সাথেও যুক্ত হতে পারে; তবে এটি কবিতার জন্য নির্দিষ্ট।
দ্বিতীয়ত: এটি সংজ্ঞার্থ জ্ঞাপক অব্যয় (حرف تعريف) হতে পারে, যা হয় পরিচিতি (عهد) অথবা শ্রেণী (جنس) বুঝানোর জন্য আসে। পরিচিতি (عهد) আবার তিন প্রকার: শাব্দিক (ذكري), মানসিক (ذهني) অথবা উপস্থিত (حضوري)। আর শ্রেণী (جنس) হয় ব্যক্তি-সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করার (لاستغراق الأفراد) জন্য, অথবা ব্যক্তির গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করার (استغراق خصائص الأفراد) জন্য, কিংবা সত্তার পরিচয় প্রদানের (لتعريف الماهية) জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الثالث: أن تكون زائدة، إما لازمة كالتي في الأسماء الموصولة، والمقارنة للأعلام كـ اليسع، وإما للمح الأصل كالداخلة على الأسماء المنقولة من مجرد صالح لها كـ حارث وعباس، وهذا النوع سماعي فلا يقال: المحمد، وإما للضرورة، كقوله:
8 - رأيت الوليد بن اليزيد مباركا
… شديدا بأعباء الخلافة كاهله1
وإما شذوذا كقولهم: ادخلوا الأول فالأول، وجاؤا الجماء الغفير2.
أما3: على وجهين:
الأول: أن تكون حرف استفتاح كـ "ألا"، وتكثر قبل القسم، كقوله:
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রকার: এটি অতিরিক্ত (زائدة) হওয়া; হয় এটি অপরিহার্য (لازمة) যেমন সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যসমূহে (الأسماء الموصولة) থাকে এবং নির্দিষ্ট বিশেষ্য নামের (الأعلام) সাথে যুক্ত থাকে যেমন: আল-ইয়াসা, অথবা এটি মূল অর্থের প্রতি ইঙ্গিত প্রদানের জন্য হতে পারে যেমন ঐসব নামের শুরুতে যুক্ত হওয়া যা মূল গুণের উপযোগী সাধারণ নাম থেকে বিশেষ্য হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমন: হারিস এবং আব্বাস। আর এই প্রকারটি শ্রুতি-নির্ভর (سماعي), তাই 'আল-মুহাম্মদ' বলা হয় না। অথবা এটি কাব্যের প্রয়োজনের (ضرورة) কারণে হতে পারে, যেমন কবি বলেছেন:
8 - আমি বরকতময় ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদকে দেখেছি... যার কাঁধ খিলাফতের গুরুদায়িত্ব বহনে অত্যন্ত শক্তিশালী ১
অথবা এটি ব্যতিক্রমধর্মী (شذوذا) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন তাদের উক্তি: 'তোমরা ক্রমানুসারে প্রবেশ করো' এবং 'তারা সবাই দলবদ্ধ হয়ে এসেছে' ২।
আম্মা (أما): এটি দুই প্রকারের হতে পারে:
প্রথম: এটি প্রারম্ভিক অব্যয় (حرف استفتاح) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া, যেমন: 'আলা' (ألا), এবং শপথের পূর্বে এর ব্যবহার অধিক হয়ে থাকে, যেমন কবির উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২০)
9 - أما والله إن الظلم شوم
… وما زال المسيء هو الظلوم1
الثاني: أن تكون بمعنى حقا أو أحقا، فالصواب أنها كلمتان؛ الهمزة وما بمعنى حق، وموضعها نصب على الظرفية، وأن وما بعدها في تأويل مصدر مبتدأ، مثل: أما أني بك مغرم، وقال المبرد: موضعها نصب مصدرا لـ حق محذوفا وأن وما بعدها فاعل به.
وزاد بعضهم لها معنى ثالثا: وهو العرض، فتختص بالأفعال، نحو: أما تقوم.
أما2: ويقال: أيما، حرف شرط وتفصيل وتوكيد، وقد لا تكون للتفصيل، كما في قولك: أما زيد فمنطلق، وسمع: "أما قريشا فأنا أفضلها". وهو دليل على أنه لا يلزم أن يقدر في أما: مهما يكن من شيء، بل يقدر ما يليق بالمحل، فالتقدير هنا: مهما ذكرت قريشا.. إلخ.
--------------------------------------------
৯ - আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই জুলুম অমঙ্গলজনক
… আর পাপাচারী সর্বদা জালিম হিসেবেই থাকে।১
দ্বিতীয়: এটি 'হাক্কান' (সত্যিই) অথবা 'আ-হাক্কান' (সত্যিই কি) অর্থে ব্যবহৃত হয়। সঠিক অভিমত হলো এটি দুটি শব্দ; হামজা এবং 'মা' যা 'হাক্ক' (সত্য) অর্থে ব্যবহৃত। এর ব্যাকরণিক স্থান হলো সময়ের বিশেষ্য (الظرفية) হিসেবে নাসব (نصب) অবস্থায় থাকা। আর 'আন্না' ও তার পরবর্তী অংশটি একটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) এর ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। যেমন: 'সত্যিই কি আমি তোমার প্রতি আসক্ত?'। ইমাম মুবাররাদ বলেছেন: এর ব্যাকরণিক স্থান হলো একটি উহ্য 'হাক্ক' শব্দের ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে নাসব (نصب) অবস্থায় থাকা এবং 'আন্না' ও তার পরবর্তী অংশটি তার কর্তা (فاعل) হিসেবে গণ্য হবে।
কেউ কেউ এর জন্য একটি তৃতীয় অর্থও বৃদ্ধি করেছেন: আর তা হলো অনুরোধ বা প্রস্তাব (العرض), যা কেবল ক্রিয়াগুলোর (الأفعال) সাথে সুনির্দিষ্ট। যেমন: 'তুমি কি দাঁড়াবে না?'।
আম্মা (أما)২: একে 'আইমা'-ও বলা হয়। এটি শর্ত (شرط), বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل) এবং গুরুত্বারোপের (توكيد) অব্যয়। কখনও কখনও এটি বিস্তারিত বর্ণনার জন্য আসে না, যেমন আপনার উক্তি: 'যায়দ তো চলে যাচ্ছে'। আর বর্ণিত আছে: "কুরাইশদের ক্ষেত্রে আমিই তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ"। এটি প্রমাণ করে যে, 'আম্মা' (أما) শব্দের ক্ষেত্রে 'যা কিছুই হোক না কেন' (মাহমা ইয়াকুন মিন শাই) উহ্য ধরা আবশ্যক নয়, বরং প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ উহ্য ধরতে হয়। এখানে উহ্য রূপটি হলো: 'যখনই আমি কুরাইশদের কথা উল্লেখ করি'... ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২১)
إما 1: ويقال: إيما. وهي حرف عطف عند الأكثر في نحو: جاءني إما زيد وإما عمرو، وقيل لا ونقل الإجماع عليه.
ولها خمسة معان:
أحدها: الإبهام، كقوله تعالى: {إِمَّا يُعَذِّبُهُمْ وَإِمَّا يَتُوبُ عَلَيْهِمْ} 2.
الثاني: الشك، نحو: جاءني إما زيد وإما عمرو.
الثالث: التخيير، نحو: {إِمَّا أَنْ تُعَذِّبَ وَإِمَّا أَنْ تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْناً} 3.
الرابع: الإباحة، نحو: تعلم إما فقها وإما نحوا.
الخامس: التفصيل، كقوله تعالى: {إِمَّا شَاكِراً وَإِمَّا كَفُوراً} 4.
أو 5: العاطفة، لها اثنا عشر معنى.
--------------------------------------------
ইম্মা (إما) ১: একে ইম্মা (إيما)ও বলা হয়। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের নিকট এটি একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), যেমন: "আমার কাছে হয় জায়েদ এসেছে নতুবা আমর এসেছে"; কেউ কেউ বলেছেন এটি সংযোজক অব্যয় নয় এবং এ বিষয়ে ঐক্যমত (الإجماع) বর্ণিত হয়েছে।
এর পাঁচটি অর্থ রয়েছে:
প্রথমটি: অস্পষ্টতা (الإبهام), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হয়তো তিনি তাদের শাস্তি দেবেন, নতুবা তাদের তওবা কবুল করবেন} ২।
দ্বিতীয়টি: সন্দেহ (الشك), যেমন: "আমার কাছে হয় জায়েদ এসেছে নতুবা আমর এসেছে।"
তৃতীয়টি: পছন্দের সুযোগ দান (التخيير), যেমন: {হয় তুমি তাদের শাস্তি প্রদান করবে, নতুবা তাদের ব্যাপারে উত্তম কোনো পথ অবলম্বন করবে} ৩।
চতুর্থটি: বৈধতা (الإباحة), যেমন: "তুমি হয় ফিকহ শেখো অথবা নাহু শেখো।"
পঞ্চমটি: বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, নতুবা সে অকৃতজ্ঞ হবে} ৪।
আও (أو) ৫: এটি একটি সংযোজক (العاطفة) অব্যয়, এর বারোটি অর্থ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأول: الشك، نحو: {يَوْماً أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ} 1.
الثاني: الإبهام، نحو: {وَإِنَّا أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلَى هُدىً} 2.
الثالث: التخيير، وهي التي تقع بعد الطلب وقبل ما يمتنع فيه الجمع مثل: تزوج هندا أو أختها.
الرابع: الإباحة، وهي التي تقع بعد الطلب وقبل ما يجوز فيه الجمع مثل: جالس العلماء أو الزهاد، فيباح الجميع، فإن تقدمها لا الناهية امتنع الجميع، كقوله: {وَلا تُطِعْ مِنْهُمْ آثِماً أَوْ كَفُوراً} 3.
الخامس: الجمع المطلق كالواو، كقوله:
10 - وقد زعمت ليلى بأني فاجر
… لنفسي تقاها أو عليها فجورها4
--------------------------------------------
প্রথমত: সন্দেহ (الشك), যেমন: {একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ} ১।
দ্বিতীয়ত: অস্পষ্টতা (الإبهام), যেমন: {নিশ্চয়ই আমরা অথবা তোমরা সৎপথে রয়েছি} ২।
তৃতীয়ত: পছন্দ করার সুযোগ প্রদান (التخيير), এটি সেই শব্দ যা তলাব বা কামনার পরে আসে এবং এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে দুইয়ের একত্র করা অসম্ভব, যেমন: হিন্দকে অথবা তার বোনকে বিয়ে করো।
চতুর্থত: বৈধতা (الإباحة), এটি সেই শব্দ যা তলাব বা কামনার পরে আসে এবং এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে দুইয়ের একত্র করা সম্ভব, যেমন: আলেমদের অথবা জাহিদদের (সংসারবিরাগীদের) মজলিসে বসো; এখানে সবগুলোর একত্র করা বৈধ। তবে যদি তার পূর্বে না-নাহিয়াহ (الناهية) আসে, তবে সবগুলোই নিষিদ্ধ হয়ে যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের মধ্যে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করবেন না} ৩।
পঞ্চমত: নিঃশর্ত একত্রীকরণ (الجمع المطلق), যা 'ওয়াও' এর ন্যায় অর্থ প্রদান করে, যেমন কবির উক্তি:
১০ - লায়লা ধারণা করেছে যে আমি পাপাচারী
… আমার নফস বা আত্মার জন্য তার তাকওয়া অথবা তার ওপর তার পাপাচার ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
السادس: الإضراب كـ "بل"، بشرطين: إعادة العامل، وتقدم نفي أو نهي مثل: ما قام زيد أو ما قام عمرو. لا يقم زيد أو لا يقم عمرو، وقال الكوفيون1: تأتي للإضراب مطلقا كقوله:
11 - كانوا ثمانين أو زادوا ثمانية
… لولا رجاؤك قد قتلت أولادي2
السابع: التقسيم، نحو: الكلمة اسم أو فعل أو حرف.
الثامن: أن تكون بمعنى إلا الاستثنائية فينتصب المضارع بعدها، مثل: لأقتلنه أو يسلم.
التاسع: أن تكون بمعنى إلى فينتصب المضارع بعدها أيضا، نحو: لألزمنك أو تقضي ديني.
العاشر: التقريب، نحو: لا أدري أسلم أو ودع.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ: 'বাল' (بل)-এর ন্যায় প্রসঙ্গ পরিবর্তন (الإضراب), যা দুটি শর্তে হয়ে থাকে: আমিল (عامل) বা ক্রিয়া-উপাদানের পুনরাবৃত্তি এবং পূর্বে না-বোধক (نفي) অথবা নিষেধজ্ঞাপক (نهي) শব্দের উপস্থিতি। যেমন: 'মা ক্বামা যাইদুন আও মা ক্বামা আমরুন' (যাইদ দাঁড়ায়নি বরং আমর দাঁড়ায়নি)। 'লা ইয়াক্বুম যাইদুন আও লা ইয়াক্বুম আমরুন' (যাইদ যেন না দাঁড়ায় বরং আমর যেন না দাঁড়ায়)। কুফাবাসীগণ বলেন: এটি নিঃশর্তভাবেই প্রসঙ্গ পরিবর্তন (الإضراب)-এর জন্য আসে, যেমন কবির উক্তি:
১১ - তারা ছিল আশি জন বরং তার চেয়েও আট জন বেশি... যদি আপনার প্রতি প্রত্যাশা না থাকত তবে আমি আমার সন্তানদের হত্যা করতাম।
সপ্তম: বিভাজন (التقسيم), যেমন: কালিমা হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) অথবা অব্যয় (حرف)।
অষ্টম: ব্যতিক্রমধর্মী 'ইল্লা' (إلا الاستثنائية)-এর অর্থে হওয়া, এমতাবস্থায় এর পরবর্তী বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) টি নসবযুক্ত (ينتصب) হয়। যেমন: 'লা-আক্বতুলান্নাহু আও ইউসলিমা' (আমি অবশ্যই তাকে হত্যা করব যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে)।
নবম: 'ইলা' (إلى) বা পর্যন্ত অর্থে হওয়া, এক্ষেত্রেও এর পরবর্তী বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) টি নসবযুক্ত হয়। যেমন: 'লা-আলযামান্নাকা আও তাক্বদিয়া দাইনি' (আমি অবশ্যই তোমার সাথে লেগে থাকব যতক্ষণ না তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করো)।
দশম: নৈকট্য বা সম্ভাবনা (التقريب), যেমন: 'লা আদরি আসাল্লামা আও ওয়াদ্দা'আ' (আমি জানি না সে কি সালাম দিল নাকি বিদায় নিল)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحادي عشر: الشرطية، نحو: لأقولن الحق رضي الكافر أو سخط.
الثاني عشر: التبعيض، نقله ابن الشجري1 عن بعض الكوفيين، والتحقيق أن أو موضوعة لأحد الشيئين أو الأشياء.
وقد تخرج إلى معنى بل أو الواو وبقية المعاني مستفادة من غيرها، والمعنى العاشر الذي هو التقريب فاسد فـ أو فيه للشك، وكذلك المعنى الحادي عشر، والحق أن الفعل الذي قبلها دال على معنى الشرط، فيكون ما عطف عليه كذلك.
ألا 2: على خمسة أوجه:
الأول: أن تكون للتنبيه فتدل على تحقق ما بعدها، وتدخل على الجملتين، كقوله تعالى: {أَلا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ} 3، {أَلا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفاً عَنْهُمْ} 4.
--------------------------------------------
একাদশ: শর্তবাচকতা (الشرطية), যেমন: আমি অবশ্যই সত্য বলব, কাফির সন্তুষ্ট হোক বা অসন্তুষ্ট।
দ্বাদশ: আংশিকতা (التبعيض), ইবনুল শাজারি ১ এটি জনৈক কুফাবাসীদের থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তবে সঠিক অনুসন্ধান (التحقيق) হলো, ‘আউ’ (أو) শব্দটি দুটি বস্তু বা বহু বিষয়ের মধ্য হতে কোনো একটির জন্য নির্ধারিত।
এটি কখনো ‘বাল’ (بل) বা ‘ওয়াও’ (الواو)-এর অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থগুলো অন্য সূত্র থেকে সংগৃহীত। দশম অর্থটি, যা হলো ‘নিকটবর্তী করা’ (التقريب), তা অশুদ্ধ; বরং সেখানে ‘আউ’ (أو) সন্দেহ (الشك)-এর জন্য ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে একাদশ অর্থটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রকৃত সত্য হলো, এর পূর্ববর্তী ক্রিয়াটি শর্তের (الشرط) অর্থ নির্দেশ করে, ফলে যার ওপর সংযোজন (العطف) করা হয়েছে সেটিও অনুরূপ অর্থ প্রদান করে।
‘আলা’ (ألا) ২: এটি পাঁচটি পন্থায় (أوجه) ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: সতর্কীকরণের (التنبيه) জন্য হওয়া, যা তার পরবর্তী বিষয়ের নিশ্চয়তা প্রমাণ করে এবং এটি উভয় প্রকার বাক্যের শুরুতে আসে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই} ৩, {জেনে রেখো, যেদিন তাদের কাছে তা আসবে, সেদিন তাদের থেকে তা ফিরিয়ে নেওয়া হবে না} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الثاني: التوبيخ والإنكار، كقوله:
12 - ألا ارعواء لمن ولت شبيبته
… وآذنت بمشيب بعده هرم1
الثالث: التمني، كقوله:
13 - ألا عمر ولى مستطاع رجوعه
… فيرأب ما أثأت يد الغفلات2
الرابع: الاستفهام عن النفي، كقوله:
14 - ألا اصطبار لسلمى أم لها جلد
… إذا ألاقي الذي لاقاه أمثالي3
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: তিরস্কার (التوبيخ) ও অস্বীকৃতি (الإنكار), যেমন তাঁর কথা:
১২ - যার যৌবন বিদায় নিয়েছে তার কি নিবৃত্তি নেই... যে বার্ধক্যের পর জরাগ্রস্ততার বার্তা দিয়েছে?১
তৃতীয়: আকাঙ্ক্ষা (التمني), যেমন তাঁর কথা:
১৩ - হায়! যদি অতিবাহিত জীবনের ফিরে আসা সম্ভব হতো... তবে তা উদাসীনতার হাতের করা ক্ষতি সংশোধন করত।২
চতুর্থ: নেতিবাচকতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা (الاستفهام عن النفي), যেমন তাঁর কথা:
১৪ - সালমার কি কোনো ধৈর্য নেই নাকি তার সহনশীলতা আছে... যখন আমি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যা আমার মতো ব্যক্তিরা ভোগ করেছে?৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذه الأقسام تختص بالجملة الاسمية وتعمل عمل لا الجنسية وتختص التي للتمني بأنه لا خبر لها لفظا ولا تقديرا، ولا يجوز مراعاة محلها مع اسمها ولا إلغاؤها ولو تكررت.
الخامس: العرض والتحضيض، والفرق بينهما أن العرض طلب بلين، والتحضيض بحث، وتختص بالفعلية نحو: {أَلا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ} 1.
إلا 2: على أربعة أوجه:
الأول: أن تكون للاستثناء فينتصب ما بعدها بها في نحو: قام القوم إلا زيدا -على الصحيح-3 ويرتفع في نحو: {مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ} 4 على البدلية عند البصريين، وعلى العطف بها عند الكوفيين5.
الثاني: أن تكون بمعنى غير فيوصف بها جمع
--------------------------------------------
এই প্রকারগুলো সাধারণত বিশেষ্যমূলক বাক্যের (الجملة الاسمية) সাথে নির্দিষ্ট এবং এগুলো জাতিবাচক না-বোধক 'লা' (لا الجنسية) এর ন্যায় আমল করে। আকাঙ্ক্ষামূলক (التمني) অব্যয়টির বৈশিষ্ট্য হলো যে, শব্দগতভাবে বা উহ্যভাবে এর কোনো সংবাদ বা খবর (خبر) থাকে না। এর বিশেষ্যের (اسم) সাথে এর স্থানের (محل) বিবেচনা করা বৈধ নয় এবং এটি পুনরাবৃত্তি হলেও একে অকার্যকর (إلغاء) করা বৈধ নয়।
পঞ্চম: নম্রভাবে প্রস্তাব (العرض) এবং জোরালোভাবে উদ্বুদ্ধকরণ (التحضيض)। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, 'আরদ' (العرض) হলো কোমলতার সাথে কোনো কিছু চাওয়া, আর 'তাহদিদ' (التحضيض) হলো জোরালো তাগিদ বা উৎসাহ প্রদান। এগুলো ক্রিয়ামূলক বাক্যের (الجملة الفعلية) সাথে নির্দিষ্ট, যেমন: {তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন?} ১।
ইল্লা (إلا): এটি চারটি পন্থায় ব্যবহৃত হয়:
প্রথম: ব্যতিক্রম (الاستثناء) করার জন্য ব্যবহৃত হওয়া, এমতাবস্থায় সঠিক (الصحيح) মতানুসারে এর পরবর্তী শব্দটি 'নসব' প্রাপ্ত হয়, যেমন: 'কওমের লোকেরা দাঁড়ালো জায়েদ ব্যতীত'। আবার এটি 'রফা' প্রাপ্ত হয় যেমন: {তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত তারা তা করেনি} ৪; যা বসরী আলেমদের নিকট স্থলাভিষিক্ততা (البدلية) হিসেবে এবং কূফী আলেমদের নিকট এর মাধ্যমে সংযোজন (العطف) হিসেবে গণ্য ৫।
দ্বিতীয়: এটি 'গাইর' (غير) এর অর্থে ব্যবহৃত হওয়া, যার মাধ্যমে বহুবচনকে বিশেষিত করা হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু মুগনিল লাবীব আন কিতাবিল আআরীব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
منكر أو شبهه، مثال ذلك: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} 1، ثم إن كان ما بعدها مطابقا لموصوفها فالوصف مختص، كقولك: جاء رجل إلا زيد، وإن كان مخالفا له بإفراد أو غيره فالوصف مؤكد صالح للإسقاط، فلو قال: عندي له عشرة إلا درهما، لزمه تسعة، ولو قال: إلا درهم لزمه عشرة، لأن الوصف مؤكد فإن العشرة غير الدرهم، ويصح أن تسقط إلا درهم، ومثله الآية2، فيصح أن يقال: لو كان فيهما آلهة لفسدتا. وإذا كانت إلا هذه بمعنى غير فإنها تفارقها من وجهين:
أحدهما: أنه لا يجوز حذف موصوفها فلا يقال: جاءني إلا زيد.
الثاني: أنه لا يوصف بها إلا حيث يجوز الاستثناء، فلا يجوز عندي له درهم إلا جيد.
الوجه الثالث -من أوجه إلا-: أن تكون عاطفة كالواو، أثبته بعضهم3.
--------------------------------------------
অনির্দিষ্ট (منكر) অথবা তার সদৃশ; এর উদাহরণ হলো: {যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত} ১। অতঃপর, যদি এর পরবর্তী অংশটি তার বিশেষিত পদের (موصوف) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সেই বিশেষণ (وصف) নির্দিষ্ট (مختص) হিসেবে গণ্য হয়; যেমন আপনার উক্তি: 'জায়েদ ছাড়া একজন ব্যক্তি এসেছে'। আর যদি তা একবচন বা অন্য কোনো কারণে তার বিপরীত হয়, তবে বিশেষণটি (وصف) দৃঢ়তাসূচক (مؤكد) হিসেবে গণ্য হয় যা বিলোপযোগ্য। সুতরাং কেউ যদি বলে: 'তার কাছে আমার দশটি মুদ্রা পাওনা রয়েছে একটি দিরহাম ব্যতীত (إلا درهما)', তবে তার জন্য নয়টি প্রদান করা আবশ্যক হবে। আর যদি সে বলে: 'একটি দিরহাম বাদে (إلا درهم)', তবে তার জন্য দশটিই প্রদান করা আবশ্যক হবে; কারণ এখানে বিশেষণটি (وصف) হলো দৃঢ়তাসূচক (مؤكد), কেননা দশ আর দিরহাম একজাতীয় নয়। আর এখানে 'একটি দিরহাম বাদে' অংশটি বিলোপ করা শুদ্ধ। অনুরূপ বিষয় হলো উক্ত আয়াতটি ২, যেখানে বলা শুদ্ধ হবে: 'যদি আকাশ ও পৃথিবীতে ইলাহ থাকত তবে তা ধ্বংস হয়ে যেত'। আর যখন এই 'ইল্লা' (إلا) শব্দটি 'গাইর' (غير) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি দুটি দিক থেকে তার চেয়ে ভিন্ন হয়:
প্রথমত: এর বিশেষিত পদ (موصوف) বিলোপ করা বৈধ নয়; সুতরাং বলা যাবে না: 'ইল্লা জায়েদ আমার কাছে এসেছে'।
দ্বিতীয়ত: এটি দ্বারা কেবলমাত্র সেখানেই বিশেষণ (وصف) প্রদান করা যায় যেখানে ব্যতিক্রম (استثناء) করা বৈধ। সুতরাং 'আমার নিকট তার একটি দিরহাম আছে ভালোটি বাদে' বলা বৈধ নয়।
তৃতীয় প্রকার -ইল্লা-এর প্রকারভেদের মধ্যে-: এটি 'ওয়াও'-এর ন্যায় সংযোজক (عاطفة) হতে পারে, যা কেউ কেউ ৩ সাব্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------