(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: -)
محمد بن عبد الوهاب عقيدته السلفية ودعوته الإصلاحية وثناء العلماء عليه القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: محمد بن عبد الوهاب عقيدته السلفية ودعوته الإصلاحية وثناء العلماء عليه
المؤلف: أحمد بن حجر بن محمد بن حجر بن أحمد بن حجر بن طامي بن حجر بن سند بن سعدون آل بوطامي البنعلي (ت 1423هـ)
الناشر: مطبعة الحكومة بمكة المكرمة
الطبعة: 1395 هـ/1975م
عدد الصفحات: 121
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর সালাফি আকিদা, সংস্কারমূলক দাওয়াত এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর সালাফি আকিদা, সংস্কারমূলক দাওয়াত এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা
লেখক: আহমদ বিন হাজার বিন মুহাম্মদ বিন হাজার বিন আহমদ বিন হাজার বিন তামি বিন হাজার বিন সানাদ বিন সাদুন আল বু-তামি আল-বিনালি (মৃত্যু ১৪২৩ হিজরি)
প্রকাশক: সরকারি প্রেস, মক্কা মুকাররমা
সংস্করণ: ১৩৯৫ হিজরি/১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الطبعة الثانية
بقلم الفقير إلى عفو ربه: عبد العزيز بن عبد الله بن باز، عفا الله عنه.
الحمد لله الذي مَنَّ على عباده في كل زمان فترة بإيجاد أئمة هدى؛ يدعون الناس إلى الصراط المستقيم، ويرشدونهم إلى الطريق القويم، ويبصّرون بكتاب الله أهل العمى، ويصبرون منهم على الأذى، ينفون عن كتاب الله وعن سنة رسوله عليه الصلاة والسلام انتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، وتحريف الغالين، ويشرحون لهم حقيقة الدين، ويكشفون لهم الشبه بواضحات البراهين.
وكان من جملة هؤلاء الأئمة المهتدين والدعاة المصلحين؛ الإمام العلامة، والحبر الفهامة، مجدد ما اندرس من معالم الإسلام في القرن الثاني عشر، والدعي إلى سنة خير البشر: الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي التميمي الحنبلي، طيب الله ثراه، وأكرم في الجنة مثواه، فلقد شرح الله صدره لمعرفة حقيقة الإسلام وما دعا إليه سيد ولد عدنان عليه من ربه أفضل الصلاة والسلام؛ من الهدى ودين الحق، في عصر استحكمت فيه غربة الإسلام، وغلب على أهله الجهل والبدع والخرافات، وعبادة الأنبياء والصالحين والأشجار والأحجار، وقَلَّ فيه من يصدع بالحق، ويشرح للناس حقيقة التوحيد الذي بعث الله به الرسل، وأنزل به الكتب، ويحذرهم من أنواع الشرك المنافية لدين الإسلام، فقام هذا الإمام في النصف الثاني من القرن الثاني عشر الهجري بالدعوة إلى الله سبحانه بقلمه ولسانه، وأوضح للناس حقيقة ما بعث الله به نبيه عليه الصلاة والسلام، وما ألصقه به الجهال والضُّلَاّل وهو برئ منه من الشرك والبدع والخرافات، وأوذي في ذلك أذى كثيراً من الجهال وأدعياء العلم، ومن علماء السوء الذين آثروا الحظ الأدنى على الحظ الأعلى، واشتروا الحياة الدنيا بالآخرة، {فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ} ، ومن الأمراء الجهال الذين لا يهمهم إلا تثبيت مناصبهم، وتحصيل أغراضهم العاجلة.
فصبر رحمه الله على ذلك، واستمر في الدعوة
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাতাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নবুয়তের বিরতিকালীন সময়ে প্রতিটি যুগে তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এমন হিদায়াতের ইমামদের সৃষ্টি করার মাধ্যমে; যারা মানুষকে সরল পথের দিকে আহ্বান করেন, তাদের সুদৃঢ় পথের দিশা দেন, অন্ধদের আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে সত্যের আলোকবর্তিকা দেখান এবং তাদের থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার, মূর্খদের অপব্যাখ্যা এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি দূর করেন। তাঁরা তাদের নিকট দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেন এবং সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে তাদের কাছে সংশয়গুলো উন্মোচন করেন।
এই হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম ও সংস্কারক দাঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; প্রখ্যাত ইমাম ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, দ্বাদশ শতাব্দীতে ইসলামের বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনসমূহের পুনর্জাগরণকারী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারী: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী আত-তামিমী আল-হাম্বালী, আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন এবং জান্নাতে তাঁর আবাসস্থলকে মর্যাদাপূর্ণ করুন। আল্লাহ তাঁর বক্ষকে ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ এবং আদনান-তনয়দের সর্দার (তাঁর ওপর তাঁর রবের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের দিকে আহ্বান করেছিলেন তা জানার জন্য উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন। এটি এমন এক যুগে ছিল যখন ইসলামের একাকীত্ব ও অপরিচিতি প্রকট হয়ে পড়েছিল এবং মানুষের ওপর মূর্খতা, বিদআত ও কুসংস্কার এবং নবী-রাসূল, নেককার ব্যক্তি, গাছ ও পাথরের পূজা প্রাধান্য পেয়েছিল। তখন সত্যের ঘোষণা দেওয়ার মতো এবং মানুষের নিকট সেই তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করার মতো লোক খুব কমই ছিল, যে তাওহীদসহ আল্লাহ রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, আর মানুষকে ইসলামের পরিপন্থী বিভিন্ন শিরক থেকে সতর্ক করার মতো লোকও ছিল বিরল। অতঃপর এই ইমাম হিজরী দ্বাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধাংশে তাঁর কলম ও জবানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত নিয়ে দণ্ডায়মান হলেন। আল্লাহ তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তার প্রকৃত রূপ তিনি মানুষের কাছে স্পষ্ট করলেন এবং মূর্খ ও পথভ্রষ্টরা ইসলামের সাথে শিরক, বিদআত ও কুসংস্কারের যা কিছু লেপন করে দিয়েছিল তা থেকে একে পবিত্র করলেন। এই পথে তিনি মূর্খ, জ্ঞানপাপী এবং এমন সব মন্দ আলিমদের কাছ থেকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন যারা শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের পরিবর্তে নিকৃষ্টতম অংশকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং আখেরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছিল, {ফলে তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না}। এছাড়া এমন কিছু মূর্খ শাসকদের থেকেও তিনি বাধাগ্রস্ত হয়েছিলেন যাদের একমাত্র চিন্তা ছিল নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং পার্থিব স্বার্থ হাসিল করা।
রাহিমাহুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এসবে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
والبيان، وإيضاح الحق بأنواع الأدلة من الكتاب والسنة، وشرح حال سلف الأمة؛ حتى قَبِل الدعوة من سبقت له السعادة، وساهم في نصرها ونشرها بكل ما يستطيع من قوة.
وكان على رأس من نصر الدعوة، وأيدها بقلمه ولسانه وسيفه وسنانه وأولاده وعشيرته، وكل من دخل في طاعته: الإمام الهمام محمد بن سعود؛ جد الأسرة السعودية الحاكمة، تغمده الله برحمته، وأسكنه فسيح جنته، وسائر من ساهم في نصر الدعوة وتأييدها، والاستقامة عليها.
فقام في ذلك هذا الإمام أكمل قيام، وأعلن الجهاد على من وقف في طريق الدعوة، ولم ينشرح لها صدره فلم يتقبلها، بل حاربها وصد عنها، حتى أيده الله ونصره وأتباعه، وأظهر على يديه الدعوة الإسلامية نقية سليمة من شبهات المخرفين، وبدع المضلين.
واستمر الشيخ رحمه الله في الدعوة إلى الله عز وجل، وتدريس العلوم الشرعية للطالبين، وكشف الشبهات التي يروجها الكفار والملحدون من عبّاد القبور وغيرهم، ويشجع على الجهاد بأنواعه، ويشارك فيه بنفسه وأولاده، ويؤلِّف المؤلفات النافعة والرسائل المفيدة في بيان العقيدة الصحيحة، ورد ما يخالفها بأنواع الأدلة والبراهين؛ حتى ظهر دين الله، وانتصر حزب الرحمن، وذلَّ حزب الشيطان، وانتصرت العقيدة السلفية في الجزيرة العربية وما حولها، وكثر الدعاة إلى الحق، ونكست أعلام البدع والشرك والخرافات، وقام سوق الجهاد، وعمّرت المساجد بالصلوات والدروس الإسلامية النقية.
فلله الحمد على هذه النعمة العظيمة، والمنحة الجسيمة، التي تفضل الله بها سبحانه على عباده عند ظهور البدع وغلبة الجهل، واندراس معالم الإسلام، وظهور الشرك في غالب المعمورة.
فجزى الله الشيخ محمد بن عبد الوهاب والإمام محمد بن سعود وأتباعهما وأنصارهما أفضل الجزاء، وأعظم المثوبة، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وقد ألَّف في دعوة الشيخ وجهاده وجهاد آل سعود جَمٌّ غفير، منهم الشيخ العلامة المؤرخ: أبو بكر حسين بن غنام، ومنهم الشيخ العلامة: عثمان بن عبد الله بن بشر، ومنهم في عصرنا الشيخ العلامة: أحمد بن حجر بن محمد آل أبو طامي، القاضي حالياً بالمحكمة الشرعية بقطر، فقد ألَّف كتاباً موجزاً مفيداً، عنوانه: الشيخ محمد بن عبد الوهاب: عقيدته السلفية، ودعوته الإصلاحية، وثناء العلماء عليه، أجاد فيه وأفاد، وأوضح فيه دعوة الشيخ وعقيدته وجهاده؛ بأسلوب جيد مفيد، ونقل فيه عن معاصريه وغيرهم من العلماء والمفكرين من المسلمين وغيرهم ما كتبوه عن دعوته، وما أثنوا به عليه، ورغب إليَّ في قراءة كتابه، وتصحيح ما وقع فيه من أخطاء مطبعية، وتعليق
এবং বর্ণনা, কুরআন ও সুন্নাহর বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে সত্য স্পষ্ট করা এবং উম্মতের সালাফদের অবস্থা ব্যাখ্যা করা; যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করল যার জন্য পূর্ব থেকেই সৌভাগ্য নির্ধারিত ছিল এবং সে তার সামর্থ্যের সবটুকু শক্তি দিয়ে এই দাওয়াতকে সাহায্য ও প্রচার করতে অবদান রাখল।
যারা এই দাওয়াতকে সাহায্য করেছিলেন এবং একে নিজেদের কলম, জিহ্বা, তলোয়ার, বল্লম, সন্তান-সন্ততি, গোত্র এবং যারা তাদের আনুগত্যে ছিল তাদের মাধ্যমে সমর্থন জুগিয়েছিলেন, তাদের অগ্রভাগে ছিলেন: মহান ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ; শাসক সৌদি পরিবারের পিতামহ, আল্লাহ তাঁকে রহমত দিয়ে ঢেকে দিন এবং জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে স্থান দিন, এবং সেই সাথে যারা এই দাওয়াতের সাহায্য, সমর্থন এবং এর ওপর অবিচল থাকতে অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে।
এই ইমাম এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা পালন করেন এবং যারা দাওয়াতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যাদের অন্তর এর জন্য উন্মুক্ত হয়নি ফলে তারা তা গ্রহণ করেনি, বরং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং একে প্রতিহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। পরিশেষে আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের সাহায্য ও বিজয় দান করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলামি দাওয়াতকে কল্পনাবিলাসী উপকথা রচনাকারীদের সংশয় এবং পথভ্রষ্টদের বিদআত থেকে পবিত্র ও ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় প্রকাশ করেন।
শাইখ রহিমাহুল্লাহ মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান, শিক্ষার্থীদের জন্য শরয়ী ইলম পাঠদান এবং কবরপূজারি ও অন্যদের মতো কাফির ও নাস্তিকদের ছড়ানো সংশয়গুলো উন্মোচনের কাজে অব্যাহত থাকেন। তিনি সব ধরনের জিহাদে উৎসাহ প্রদান করতেন এবং নিজে ও তাঁর সন্তানদের নিয়ে তাতে অংশ নিতেন। তিনি সঠিক আকিদা বর্ণনায় এবং এর বিরোধীদের বিভিন্ন দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করে উপকারী গ্রন্থাবলি ও রিসালাহসমূহ রচনা করেন; যতক্ষণ না আল্লাহর দ্বীন প্রকাশ পেল, রহমানের দল বিজয়ী হলো, শয়তানের দল লাঞ্ছিত হলো এবং আরব উপদ্বীপ ও তার আশেপাশে সালাফি আকিদা বিজয়ী হলো। সত্যের দিকে আহ্বানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, বিদআত, শিরক ও কুসংস্কারের ঝাণ্ডা অবনমিত হলো, জিহাদের বাজার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং মসজিদসমূহ নামাজ ও বিশুদ্ধ ইসলামি পাঠদানে আবাদ হলো।
সুতরাং এই মহান নেয়ামত ও বিশাল অনুদানের জন্য আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিদআতের প্রাদুর্ভাব, মূর্খতার ব্যাপকতা, ইসলামের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হওয়া এবং বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে শিরক প্রকাশ পাওয়ার সময়ে তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ হিসেবে দান করেছেন।
আল্লাহ তাআলা শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ এবং তাঁদের অনুসারী ও সাহায্যকারীদের সর্বোত্তম বিনিময় এবং মহান প্রতিদান দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম।
শাইখের দাওয়াত ও জিহাদ এবং আল-সাউদের জিহাদ সম্পর্কে এক বিশাল জনগোষ্ঠী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা ঐতিহাসিক শাইখ আবু বকর হুসাইন বিন গান্নাম, আল্লামা শাইখ উসমান বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশর এবং আমাদের সময়ের আল্লামা শাইখ আহমদ বিন হাজার বিন মুহাম্মদ আল আবু তামী, যিনি বর্তমানে কাতারের শরয়ী আদালতের বিচারক। তিনি একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী বই রচনা করেছেন যার শিরোনাম: শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব: তাঁর সালাফি আকিদা, সংস্কারমূলক দাওয়াত এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা। তিনি এতে চমৎকার আলোচনা করেছেন এবং উপকৃত করেছেন। তিনি শাইখের দাওয়াত, আকিদা ও জিহাদকে একটি সুন্দর ও উপকারী শৈলীতে স্পষ্ট করেছেন। এতে তিনি শাইখের সমসাময়িক ও অন্যান্য আলেম ও চিন্তাবিদদের (মুসলিম ও অমুসলিম) থেকে তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন এবং তাঁর যে প্রশংসা করেছেন তা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি আমাকে তাঁর বইটি পড়ার, তাতে বিদ্যমান মুদ্রণজনিত ভুলত্রুটি সংশোধন করার এবং টিকা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
ما استحسن تعليقه، فأجبته إلى ذلك مساهمة في نشر الحق والدعوة إليه، وقرأت كتابه قراءة تدبّر وتفهّم واستفادة، وأصلحت ما وجدت من أخطاء مطبعية، وعلّقت بعض التعاليق القليلة التي أرى أن فيها مزيداً من الفائدة لقارئ هذا الكتاب.
وكان المؤلف أثابه الله قد وضع بعض الحواشي المفيدة على الطبعة المذكورة، فلهذا رأيت تمييز تعليقي بوضع اسمي في آخره، وما سواه فهو للمؤلف.
وقد رأى وفقه الله أن يضيف إلى النقول السابقة في الطبعة الأولى نقولاً أخرى مفيدة، تبتدئ من الثاني والثلاثين، وتنتهي بالثاني والأربعين من بنود هذا الكتاب، وقد قرأتها فألفيتها مفيدة تحسن إضافتها إلى الكتاب.
وأسأل الله أن ينفع بهذا الكتاب الجليل جميع من اطلع عليه ويضاعف لمؤلفه الأجر وأن يغفر للشيخ محمد بن عبد الوهاب أنصاره وأتباعه في الحق وسائر دعاة الهدى وأن يتغمدهم برضوانه ويعاملنا وإياهم وسائر المسلمين بلطفه وعفوه وأن يكثر في المسلمين دعاة الهدى وأنصار الحق وأن يجمع كلمتهم على الهدى ويصلح قادتهم أنه سميع قريب وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه. حرر في 22/3/1393
رئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة عبد العزيز بن عبد الله بن باز
আমি যা কিছু টীকা প্রদান করা উত্তম মনে করেছি, হক প্রচার এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমি তাতে সাড়া দিয়েছি। আমি তাঁর কিতাবটি গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা, অনুধাবন ও উপকৃত হওয়ার মানসে পাঠ করেছি। এতে যে সকল মুদ্রণজনিত ত্রুটি পেয়েছি তা সংশোধন করেছি এবং কিছু স্বল্পসংখ্যক টীকা সংযোজন করেছি যা আমি এই কিতাবের পাঠকের জন্য অধিকতর উপকারী বলে মনে করি।
লেখক —আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন— উল্লিখিত সংস্করণে কিছু দরকারী টীকা সংযোজন করেছিলেন, তাই আমি আমার টীকাগুলোকে আলাদা করার জন্য সেগুলোর শেষে নিজের নাম লিখে দিয়েছি, আর এ ছাড়া বাকি সবকিছু লেখকেরই।
তিনি —আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন— প্রথম সংস্করণের পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিগুলোর সাথে আরও কিছু উপকারী উদ্ধৃতি যোগ করা সমীচীন মনে করেছেন, যা এই কিতাবের বত্রিশতম অনুচ্ছেদ থেকে শুরু হয়ে বিয়াল্লিশতম অনুচ্ছেদে শেষ হয়েছে। আমি সেগুলো পড়েছি এবং সেগুলোকে উপকারী পেয়েছি যা কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করা উত্তম হয়েছে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এই মহান কিতাবের মাধ্যমে একে পাঠকারী সকলকে উপকৃত করেন এবং এর লেখকের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। আর তিনি যেন শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, হকের পথে তাঁর সাহায্যকারী ও অনুসারীগণ এবং হিদায়াতের সকল দাঈদের ক্ষমা করেন, তাঁদেরকে আপন সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করেন এবং আমাদের সাথে, তাঁদের সাথে ও সকল মুসলিমের সাথে দয়া ও ক্ষমার আচরণ করেন। তিনি যেন মুসলিমদের মধ্যে হিদায়াতের দাঈ ও হকের সাহায্যকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দেন, হিদায়াতের ওপর তাঁদের ঐক্য সুদৃঢ় করেন এবং তাঁদের নেতৃবৃন্দকে সংশোধন করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটবর্তী। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। ২২/৩/১৩৯৩ তারিখে লিখিত।
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান, আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الأولى
بقلم السيد: علي صبح المدني
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، والصلاة والسلام الأتَمَّان الأَكملان على أَفضل الخلق وخاتم الرسل، سيد الخليقة على الإطلاق؛ محمد بن عبد الله، الذي ابتعثه الله على حين فترة من الرسل، فهدى به من الضلالة، وبصّر به من العمى، وفتح به أعيناً عمياً، وآذاناً صماً، وقلوباً غلفاً، فأدّى الأمانة، وبلّغ الرسالة، وجاهد في سبيل إعلاء كلمة الله، ورفع راية التوحيد، وجاهد في الله حق جهاده، ففتح الله على يديه الفتح المبين.
ولم ينتقل من هذه الدنيا إلا وقد دانت الجزيرة العربية بدين الحق، وتخطت دعوته إلى تخوم الأقطار الفارسية والرومية، فأتم صحابته الكرام فتح تلك الأصقاع المجاورة، فدخل الناس في دين الله أفواجاً.
ثم بعد انقراض رجال القرون الثلاثة المشهود لهم بالخيرية، دَبَّ في المسلمين داء التنافس على الرئاسة، وحب الدنيا، فتفرقت كلمتهم، وتبدد شملهم، فذلوا بعد عزة، وضعفوا بعد قوة، فأصبحوا مسودين بعد أن كانوا سائدين، ومحكومين بعد أن كانوا حاكمين، وفقدوا كل شيء حتى تعاليم دينهم الحنيف، ولا سيما توحيد رب العالمين، فاشرأبت أعناق الشرك، وزين لهم الشيطان سوء أعمالهم، فأحلّوا البدعة محل السنة، والشرك محل التوحيد.
وما زالوا كذلك غارقين في بحار الوثنية والشرك إلا من شاء الله، إلى أن قيّض الله لهذه الأمة من يجدد لها أمر دينها؛ ألا وهو شيخ الإسلام: محمد بن عبد الوهاب،
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা
জনাব আলী সুবহা আল-মাদানী-এর কলমে
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করতে পারেন। আর সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠতম সত্তা ও রাসূলগণের মোহর, সমগ্র সৃষ্টির নিরঙ্কুশ নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর প্রতি বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত সালাত ও সালাম; আল্লাহ যাঁকে রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতিকালে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দান করেছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখ, বধির কান ও আবৃত অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করেছেন। তিনি আমানত আদায় করেছেন, রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার ও তাওহীদের ঝাণ্ডা উত্তোলনের পথে জিহাদ করেছেন। তিনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, ফলে আল্লাহ তাঁর হাতে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছেন।
তিনি ইহলোক ত্যাগ করার পূর্বেই সমগ্র আরব উপদ্বীপ সত্য দ্বীনের অনুগত হয়েছিল এবং তাঁর দাওয়াত পারস্য ও রোমীয় অঞ্চলের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ পার্শ্ববর্তী ঐসব অঞ্চল বিজয় সম্পন্ন করেন, ফলে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকে।
অতঃপর কল্যাণকামী হিসেবে স্বীকৃত প্রথম তিন প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গের বিদায়ের পর, মুসলমানদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও দুনিয়াপ্রীতির রোগ ব্যাপ্ত হলো। ফলে তাদের সংহতি বিনষ্ট হলো এবং তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। সম্মানের পর তারা লাঞ্ছিত হলো এবং শক্তির পর তারা দুর্বল হয়ে পড়ল। তারা শাসিত জাতিতে পরিণত হলো অথচ একসময় তারা ছিল শাসক; তারা পরাধীন হলো অথচ একসময় তারা ছিল স্বাধীন। তারা সবকিছু হারিয়ে ফেলল, এমনকি তাদের একনিষ্ঠ দ্বীনের শিক্ষা পর্যন্ত; বিশেষ করে রাব্বুল আলামীনের তাওহীদ। ফলে শিরক মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং শয়তান তাদের মন্দ আমলগুলোকে তাদের নিকট সুশোভিত করে তুলল। ফলে তারা সুন্নাহর স্থলে বিদআতকে এবং তাওহীদের স্থলে শিরককে স্থান দিল।
আর আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত তারা এভাবেই মূর্তিপূজা ও শিরকের সমুদ্রে নিমজ্জিত ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ এই উম্মতের জন্য এমন একজনকে নিযুক্ত করলেন যিনি তাদের জন্য দ্বীনের সংস্কার করবেন; তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৮)
فاندفع إلى مبارزة أئمة الشرك والضلال، سلاحه كتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام، يكر على تلك الجحافل، فيبددها مع قلة عدد أنصاره وعدده، فكان النصر حليفه في كل وقائعه، ولا غرو فقد قال تعالى: {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ} وقال: {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} .
ولم يمت رحمه الله ورضي عنه - إلا بعد أن دانت لدعوته الجزيرة العربية، فوحّد الله على يديه تلك القبائل والأمراء المتناثرة المتنافرة، فتحققت الوحدة العربية، ومات وهو قرير العين، مطمئن القلب، وقد خلفه أولاده ولا زالوا إلى الآن فكانوا خير خلف لخير سلف.
فجدير بالأجيال المتأخرة أن يدرسوا سير عظماء أسلافهم ليتأسّوا بهم، وينهجوا على منوالهم، فدراسة مناقب هؤلاء الأعلام تملأ الأجيال المتأخرة روحاً تقدمية، وأنفساً طموحة إلى العلا، شريطة أن تكون تلك الدراسة موزونة بميزان الكتاب والسنة، وكذلك كما قال عمر بن الخطاب: "كنا أذل أمة فأعزنا الله بالإسلام، ومهما ابتغينا العزة بغيره أذلنا الله".
لذلك نقدم هذه السيرة العطرة لنباتة البلاد العربية خصوصاً، ولكافة المسلمين عموماً، لتكون حافزاً لهم على التمسك بدينهم، خالصاً من شوائب الشرك والبدع.
ونهيب بسكان الجزيرة العربية ولا سيما الأقطار المقدسة أن يحرصوا على تربية أولادهم وتثقيفهم بالثقافة الإسلامية، ويبعدوهم عن بهرجة المدينة اللادينية الزائفة.
وختاماً فقد أجاد وأفاد مؤلف هذه الرسالة، فقد جمع إلى إيجاز العبارة، إستيفاء المراد.
فنسأل الله أن يجزل له الثواب جزاء ما بذل من هذا المجهود الطيب، وأن يوفقه إلى الاستزادة من المؤلفات النافعة التي تغرس الفضائل الإسلامية في الناشئة حتى ينبتوا نباتاً حسناً، وعلى الله التوفيق.
وصلى الله وسلم وبارك على خاتم رسله محمد وآله وصحبه أجمعين.
তিনি শিরক ও গোমরাহীর ইমামদের মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তাঁর অস্ত্র ছিল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহ। তিনি সেই বিশাল বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতেন এবং তাঁর সাহায্যকারী ও সরঞ্জামের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতেন। ফলে তাঁর প্রতিটি যুদ্ধে বিজয় তাঁর সঙ্গী হয়েছিল। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন, যে তাঁকে সাহায্য করে।" আর তিনি বলেছেন: "যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না সমগ্র আরব উপদ্বীপ তাঁর দাওয়াতের অনুগত হয়েছিল। আল্লাহ তাঁর হাতের মাধ্যমে সেই সব বিক্ষিপ্ত ও বিবদমান গোত্র ও আমিরদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ফলে আরব ঐক্য বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রশান্ত নয়ন ও নিশ্চিন্ত অন্তরে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর পরে তাঁর সন্তানরা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং তারা এখনো বর্তমান আছেন; তারা ছিলেন শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরীদের শ্রেষ্ঠ উত্তরসূরী।
অতএব, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটি সমীচীন যে তারা তাদের মহান পূর্বসূরীদের জীবনী অধ্যায়ন করবে যাতে তাদের অনুসরণ করতে পারে এবং তাদের পথে চলতে পারে। কেননা এই বরেণ্য ব্যক্তিদের গুণাবলি আলোচনা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে অগ্রগামী চেতনা এবং উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে। তবে শর্ত হলো, সেই অধ্যায়ন যেন কিতাব ও সুন্নাহর মানদণ্ডে পরিমাপকৃত হয়। যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছিলেন: "আমরা ছিলাম সবচেয়ে লাঞ্ছিত জাতি, অতঃপর আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন। যখনই আমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে সম্মান খুঁজব, আল্লাহ আমাদের লাঞ্ছিত করবেন।"
এই কারণে আমরা এই সুগন্ধময় জীবনীটি বিশেষ করে আরব ভূখণ্ডের তরুণ প্রজন্মের জন্য এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিমদের জন্য পেশ করছি, যাতে এটি তাদের দ্বীনকে শিরক ও বিদআতের আবিলতা থেকে মুক্ত রেখে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
আমরা আরব উপদ্বীপের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে পবিত্র ভূখণ্ডগুলোর অধিবাসীদের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা যেন তাদের সন্তানদের লালন-পালন ও ইসলামী সংস্কৃতিতে শিক্ষিত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হন এবং তাদেরকে ধর্মহীন আধুনিকতার মিথ্যা চাকচিক্য থেকে দূরে রাখেন।
পরিশেষে, এই পুস্তিকাটির লেখক চমৎকার কাজ করেছেন এবং অত্যন্ত উপকারী তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তির সাথে অভীষ্ট লক্ষ্যের পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ ঘটিয়েছেন।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর এই উত্তম প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে প্রচুর সওয়াব দান করেন এবং তাঁকে আরও অধিক উপকারী গ্রন্থ রচনার তাওফিক দান করেন যা তরুণদের মনে ইসলামী গুণাবলি প্রোথিত করবে, যাতে তারা সুচারুভাবে বেড়ে উঠতে পারে। আর তাওফিক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة المؤلف:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، وسائر أئمة الدين والهداة المخلصين والدعاة المصلحين.
أما بعد:
فلم يخف ما كانت عليه العرب قبل البعثة المحمدية من شقاء، وشرك، وكفر، وذل، وفقر، وانحطاط، وتفرق، وشتات.
لا شريعة سماوية إليها يرجعون، وعلى منهاجها يسيرون، ولا ملك يجمع كلمتهم ويعدل بينهم.
ولما أراد الله لهم السعادة، وإنقاذهم من مهاوي الذل والكفران؛ بعث الله نبينا محمداً صلى الله عليه وسلم، فدعاهم إلى توحيد الخالق العليم، وأرشدهم إلى سلوك الصراط المستقيم، فدخلوا في دين الله أفراداً وجماعات، واعتنقوا هذا الدين الحنيف بحب وإخلاص، ومشوا على منهاجه القويم.
فتوحدت كلمتهم، وقويت شوكتهم، وعز سلطانهم، وفتحوا الأقطار، وأناروا الطريق للبشر، وهدوهم إلى السبيل الأقوم، ودانت لهم الأمم، ودخلوا في دين الله أفواجاً أفواجاً، وخفقت رايتهم من حدود أوروبا إلى الصين، وقوي سلطانهم، فأذل الله لهم الملوك الكافرين.
وذلك كله ببركة اتباعهم لكتاب الله المجيد والسنة المطهرة، واتصافهم بالأخلاق العظيمة والصفات الكريمة.
লেখকের ভূমিকা:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর, আর দ্বীনের অন্যান্য সকল ইমাম, একনিষ্ঠ পথপ্রদর্শক এবং সংস্কারক দাঈগণের ওপর।
অতঃপর:
মুহাম্মাদী নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আরবদের যে দুর্দশা, শিরক, কুফর, লাঞ্ছনা, দারিদ্র্য, অধঃপতন, অনৈক্য ও বিচ্ছিন্নতা ছিল তা কারো কাছে গোপন নয়।
তাদের এমন কোনো আসমানী শরীয়াহ ছিল না যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করত এবং যার পথে তারা চলত, আর এমন কোনো বাদশাহও ছিল না যে তাদের ঐক্যবদ্ধ করত এবং তাদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করত।
যখন আল্লাহ তাদের জন্য সৌভাগ্যের ইচ্ছা করলেন এবং তাদের লাঞ্ছনা ও কুফরীর অতল গহ্বর থেকে উদ্ধার করতে চাইলেন; তখন আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি তাদের সর্বজ্ঞ স্রষ্টার তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিলেন এবং তাদের সরল সঠিক পথে চলার নির্দেশনা দিলেন। ফলে তারা ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল এবং অত্যন্ত ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতার সাথে এই নিষ্ঠাপূর্ণ দ্বীনকে গ্রহণ করল এবং এর সুদৃঢ় পথে চলতে লাগল।
ফলে তাদের ঐক্য সুসংহত হলো, তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেল, তাদের কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তারা বিভিন্ন দেশ জয় করল, মানবজাতির জন্য পথ আলোকিত করল এবং তাদের সঠিক পথের দিশা দিল। জাতিসমূহ তাদের বশ্যতা স্বীকার করল এবং তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল। ইউরোপের সীমান্ত থেকে শুরু করে চীন পর্যন্ত তাদের পতাকা পতপত করে উড়তে লাগল এবং তাদের ক্ষমতা শক্তিশালী হলো; ফলে আল্লাহ তাদের সামনে কাফের রাজাদের লাঞ্ছিত করলেন।
আর এ সব কিছুই ছিল আল্লাহর মহান কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর অনুসরণের বরকতে এবং তাদের মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মহৎ গুণাবলীতে ভূষিত হওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبعد انقضاء القرون المفضلة؛ كثرت البدع والخرافات، والرجوع إلى الوثنية الأولى، بتعظيم المشاهد والقبور، وصرف العبادة لها من دون الله، وتقديم الآراء على السنة المطهرة، والتقليد على الأخذ من الوحيين، وتعطيل الأسماء والصفات بالتأويل، ودانوا بالبدع، وحكموا بحسن أكثر أنواعها.
سرى ذلك في أكثر الأمة الإسلامية، من بعض الأمم الأعجمية الداخلة في الإسلام نفاقاً وكيداً من بعضهم، وحسن ظن من بعض، وعدم فهم كامل لأصول الدين.
وسكت الأكثرون، إما لجهل بالحقائق، وإما مداهنة مع الرؤساء والجماهير، فلهذه الأسباب عَمَّ طوفان البدع والوثنية، فأغرق الأكثرين، وعم أرجاء الأرض من سائر الأقطار.
ولكن والحمد لله لم يخل قرن من القرون التي كثرت فيها البدع والشرك القبيح؛ من علماء ربانيين، ودعاة مصلحين، يجددون لهذه الأمة أمر دينها، بالدعوة والتعليم، وحسن القدوة، وينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، كما يقومون برد الشبه، وقمع الملحدين، وتأييد شريعة سيد المرسلين.
وذلك مصداق ما ورد في الحديث الذي رواه أبو داود: "إن الله يبعث على رأس كل مائة سنة من يجدد لههذ الأمة أمر دينها" 1.
ولقد كان الشيخ الكبير والمصلح الشهير، الداعي إلى توحيد الله العلي الكبير، الشيخ: محمد بن عبد الوهاب التميمي النجدي، رحمه الله، من أولئك العدول المجددين، والمصلحين والمخلصين.
1 هذا الحديث إسناده جيد، رجاله كلهم ثقات، وقد صححه الحاكم والحافظ العراقي والعلامة السخاوي وآخرون، قال الحافظ ابن كثير رحمه الله في "النهاية" لما ذكر هذا الحديث ما نصه: "وقد ادعى كل قوم في إمامهم أنه المراد بهذا الحديث، والظاهر ـ والله أعلم ـ أنه يعم حملة العلم من كل طائفة، وكل صنف من أصناف العلماء من مفسرين ومحدثين وفقهاء ونحاة ولغويين، إلى غير ذلك من الأصناف"انتهى، والله أعلم. عبد العزيز بن عبد الله بن باز.?
শ্রেষ্ঠ যুগসমূহ অতিবাহিত হওয়ার পর; বিদআত ও কুসংস্কার বৃদ্ধি পায় এবং মাজার ও কবরের প্রতি অতিসম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আদি মূর্তিপূজায় প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। আল্লাহকে বাদ দিয়ে সেগুলোর প্রতি ইবাদত নিবেদন করা হয়, পবিত্র সুন্নাহর উপরে মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, ওহীর অনুসরণ ছেড়ে অন্ধ অনুকরণ করা হয়, এবং ব্যাখ্যার (তাবীল) মাধ্যমে আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে অর্থহীন (তা’তিল) করে দেওয়া হয়। তারা বিদআতকে গ্রহণ করে নেয় এবং এর অধিকাংশ প্রকারকে উত্তম বলে ফয়সালা দেয়।
এটি মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, মূলত ইসলামে প্রবেশকারী কিছু অনারব জাতির মাধ্যমে—যাদের কেউ কেউ মুনাফিকি ও চক্রান্তের বশবর্তী হয়ে এটি করেছিল, আর কেউ কেউ সরল বিশ্বাসে এবং দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বুঝ না থাকার কারণে এমনটি করেছিল।
অধিকাংশ লোকই নীরব ছিল—হয়তো প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে, অথবা নেতা ও জনসাধারণের সাথে আপসকামিতার কারণে। এই সব কারণেই বিদআত ও মূর্তিপূজার প্লাবন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা অধিকাংশকেই নিমজ্জিত করে এবং পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে ও সকল জনপদে বিস্তৃতি লাভ করে।
তবে আল্লাহর প্রশংসা যে, বিদআত ও কদর্য শিরক বৃদ্ধি পাওয়া যুগগুলোর কোনোটিই রব্বানী আলেম ও সংস্কারক দাঈদের থেকে শূন্য ছিল না। তারা দাওয়াত, শিক্ষা ও উত্তম আদর্শের মাধ্যমে এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয়াবলিকে সংস্কার (তাজদীদ) করেন। তারা দ্বীন থেকে বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জাহিলদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। পাশাপাশি তারা সংশয় নিরসন করেন, নাস্তিকদের দমন করেন এবং রাসূলদের সরদারের শরীয়তকে শক্তিশালী করেন।
এটি আবু দাউদ বর্ণিত সেই হাদীসেরই সত্যতা প্রমাণ করে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয়াবলিকে সংস্কার করবেন।" ১।
সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী মহান শায়খ এবং সুপ্রসিদ্ধ সংস্কারক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমী আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন সেই সকল ন্যায়পরায়ণ সংস্কারক এবং একনিষ্ঠ পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত।
১. এই হাদীসটির সনদ উত্তম, এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। হাকেম, হাফেজ ইরাকী, আল্লামা সাখাবী এবং অন্যান্যরা একে সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে এই হাদীসটি উল্লেখ করার সময় বলেছেন: "প্রত্যেক দলই তাদের ইমাম সম্পর্কে দাবি করেছে যে তারাই এই হাদীসের উদ্দেশ্য। তবে প্রকাশ্য বিষয় হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—এটি প্রতিটি দল ও প্রত্যেক শ্রেণির আলেমদের মধ্যে যারা ইলম বহনকারী তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ এবং অন্যান্য শ্রেণির আলেমগণ।" সমাপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন। আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
قام يدعو إلىتجريد التوحيد، وإخلاص العبادة لله وحده بمشرعه في كتاباته، وعلى لسان رسوله خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم.
كما قام يدعو إلى نبذ البدع والمعاصي، وعبادة الأولياء والصلحاء والأشجار والغيران.
ويأمر بإقامة شرائع الإسلام المتروكة، وتعظيم حرماته المنتهكة المنهوكة.
ولا زال الناس من عصره إلى اليوم، من مادح وقادح، يعتقد أن الشيخ لم يكن على الصواب، وأن دعوته التي دعا إليها الناس مخالفة للسنة والكتاب ولمذاهب الأئمة الأربعة رحمهم الله.
والسبب في ذلك: أن دعاية الأتراك واشراف مكة في العصر الماضي بضد دعوة الشيخ والسعوديين لأغراضهم السياسية قد نالت رواجاً وانتشاراً في الأقطار الإسلامية1، وتأثر بها الأكثرون، كما أثّرت الكتب التي كتبها بعض أدعياء العلم في نقد الدعوة، والرد على الشيخ.
وما كان أولئك عالمين بحقيقة دعوته، لأنهم لم يطلعوا على كتبه، ولا على كتب أبنائه وأحفاده، من أجل أن وسائل نشر العلم والكتب لم تكن إذ ذاك ميسورة كاليوم، وإنما سمعوا من أفواه بعض الناس، وكتبوا بدون تثبت ومستند، وراجت الدعاية لدى الجمهور، وظنوا أنها صحيحة.
كما اعتقدوا صحة ما كانوا يسمعونه وما يقرءونه من بعض الكتب التي تنتقد الشيخ ودعوته.
وجهل أولئك المؤلفون أو تجاهلوا أن الواجب على الشخص ولا سيما من انتسب إلى العلم أن لا يقبل كل ما يقال عن شخص أو مذهب أو طائفة
1 سيجئ هذا البحث في أثناء الكتاب مفصلاً.
তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে এবং সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী তাওহীদকে নিখাদ করা এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
একইভাবে তিনি বিদআত ও পাপাচার বর্জন এবং অলি-বুজুর্গ, নেককার ব্যক্তি, গাছপালা ও গুহার ইবাদত পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি ইসলামের পরিত্যক্ত বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করার এবং অবমানিত ও লাঞ্ছিত পবিত্র বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষার নির্দেশ দেন।
তাঁর সময় থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ প্রশংসাকারী ও সমালোচনাকারী হিসেবে বিভক্ত রয়েছে; কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে শায়খ সঠিক পথে ছিলেন না এবং তিনি মানুষকে যে দাওয়াত দিয়েছেন তা কুরআন, সুন্নাহ এবং চার ইমামের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) মাযহাবের পরিপন্থী।
এর কারণ হলো: গত যুগে তুর্কিদের এবং মক্কার শরীফদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শায়খের দাওয়াত ও সৌদিদের বিরুদ্ধে চালানো প্রচারণা ইসলামী ভূখণ্ডগুলোতে ১ ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল। এর দ্বারা অধিকাংশ মানুষ প্রভাবিত হয়েছিল; তদুপরি কিছু জ্ঞানপাপীর লিখিত বইপত্র, যা এই দাওয়াতের সমালোচনা এবং শায়খের খণ্ডনকল্পে রচিত হয়েছিল, সেগুলোও প্রভাব বিস্তার করেছিল।
তারা তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত ছিল না, কারণ তারা তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর সন্তান ও পৌত্রদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেনি। কেননা সে সময়ে জ্ঞান ও কিতাব প্রচারের মাধ্যমগুলো বর্তমানের মতো সহজলভ্য ছিল না। বরং তারা কেবল মানুষের মুখ থেকে শুনেছিল এবং কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ ছাড়াই লিখেছিল। ফলে জনসাধারণের মধ্যে সেই অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা একেই সঠিক বলে মনে করে নিয়েছিল।
একইভাবে তারা শায়খ ও তাঁর দাওয়াতের সমালোচনামূলক কিছু কিতাবে যা পড়ত এবং শুনত, সেগুলোকে সঠিক বলে বিশ্বাস করে নিয়েছিল।
সেই লেখকরা জানতেন না অথবা জেনেশুনে উপেক্ষা করেছিলেন যে, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য—বিশেষ করে যারা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত—অপরিহার্য হলো কোনো ব্যক্তি, মাযহাব বা দল সম্পর্কে যা-ই বলা হোক না কেন, তা যাচাই ছাড়াই গ্রহণ না করা।
১ এই আলোচনাটি কিতাবের অভ্যন্তরে বিস্তারিতভাবে আসবে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
حتى يثبت لديه، بأن يسمع من ذلك المنسوب إليه ما أذيع عنه، أو يقرأ كتابه ويتأكد من صحة نسبة الكتاب إليه، وهكذا القول فيما سمعه عن مذهب أو طائفة.
قلنا: إن دعاية الأتراك والأشراف في العصر الماضي قد نالت رواجاً وانتشاراً.
أما في هذا العصر، فقد خفّت وطأة تلك الدعاية السيئة، وعرف كثير من العقلاء في سائر الأقطار والبلدان، حقيقة دعوة الشيخ وصحتها، وذلك بفضل انتشار العلم والوعي في العالم، وبفضل ما اتصفت واشتهرت به الدولة السعودية من التوحيد، وتحكيم الشرع المبين، وإقامة شعائر الإسلام، وإقامة الحدود الشرعية، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، ونشر العدل والأمان، وتمسكها بالسنة الصحيحة والقرآن، ومحاربة أهل البدع، والاهتمام بالعلم والتعليم، ونشر المدارس والمعاهد والكليات في سائر أرجاء المملكة العربية، وفتح الأبواب للطلاب الوافدين من مختلف البلدان، وإعانتهم بالوسائل النافعة الكافية.
كما اشتهرت بالكرم والبذل لجميع الوافدين إليها؛ من غير فرق بين مذهب وبلد وعنصر.
وبالرغم مما قلنا من انتشار الوعي، واتصاف الدولة العربية السعودية بتلك الصفات الكريمة؛ لا زال كثير من المنتسبين إلى العلم فضلاً عن العوام يزعمون أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله لم يكن على الصواب، وأن الفئة الوهابية تكفّر المسلمين، ولا ترى للأنبياء مقاماً ولا احتراماً ولا شفاعة، كما لا تحترم الأولياء والصالحين، ولا ترى زيارة قبر الرسول ولا غيره.
إلى غير ذلك من الأقاويل الزائفة التي لا تعتمد إلا على الوراثة، والسماع عن الماضين الجاهلين، والاغترار ببعض كتب المخرفين.
যতক্ষণ না তার কাছে এটি প্রমাণিত হয়—এভাবে যে, যার দিকে বিষয়টি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার মুখ থেকে তিনি তা শুনবেন যা তার পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে, অথবা তার কিতাব পাঠ করবেন এবং কিতাবটি তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করবেন। কোনো মাযহাব বা দল সম্পর্কে যা শোনা যায়, সে বিষয়েও একই কথা।
আমরা বলেছি: বিগত যুগে তুর্কি ও আশরাফদের অপপ্রচার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও প্রসার লাভ করেছিল।
কিন্তু বর্তমান যুগে সেই কুৎসার প্রভাব হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বহু বুদ্ধিমান ব্যক্তি শাইখের দাওয়াতের হাকীকত ও এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে বিশ্বে জ্ঞান ও সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ার কল্যাণে এবং সৌদি রাষ্ট্র তাওহীদ, সুস্পষ্ট শরীয়তের বিচার ব্যবস্থা কায়েম, ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠা, শরয়ী হদসমূহ কার্যকর করা, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা বিস্তার, সহীহ সুন্নাহ ও কুরআনের সাথে মজবুতভাবে লেগে থাকা, বিদআতিদের বিরুদ্ধে লড়াই, জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ, সমগ্র সৌদি আরবে মাদ্রাসা, ইনস্টিটিউট ও কলেজ স্থাপন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বার উন্মুক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় উপকারী উপকরণের মাধ্যমে তাদের সাহায্যের ফলে।
এছাড়াও আগত সকলের প্রতি দানশীলতা ও বদান্যতার জন্য দেশটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; এক্ষেত্রে কোনো মাযহাব, দেশ বা বর্ণের পার্থক্য করা হয় না।
সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের এই মহৎ গুণাবলিতে ভূষিত হওয়ার কথা আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের মনে এখনো এই ধারণা বদ্ধমূল যে, শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) সঠিক পথের ওপর ছিলেন না। তারা মনে করে যে, ওহাবী গোষ্ঠী মুসলমানদের কাফের ঘোষণা করে, নবীদের কোনো মর্যাদা, সম্মান বা শাফাআতের বিশ্বাস রাখে না, অলী ও নেককার বান্দাদের সম্মান করে না এবং রাসূলের কবর যিয়ারত বা অন্য কোনো কবর যিয়ারত বৈধ মনে করে না।
এজাতীয় আরও অনেক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা রয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কথা, মূর্খ পূর্বসূরিদের থেকে শোনা এবং কিছু বিভ্রান্তিকর লেখকদের কিতাব দ্বারা প্রতারিত হওয়া ছাড়া।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السبب الباعث للتأليف:
فمن أجل ذلك؛ رأيت أن أكتب في سيرة الشيخ المجدد لما اندرس من معالم الإيمان والإسلام، وعقيدته، ودعوته الإصلاحية مؤلفاً وسطاً، اعتمدت فيه على ما ذكره المؤؤخون لـ"نجد" كابن غنام، وابن بشر، والألوسي، والريحاني وغيرهم ممن ذكر الشيخ ودعوته في ثنايا كتبهم.
كما اعتمدت على بعض رسائل إمام الدعوة وأبنائه وأحفاده.
وسأختمه إن شاء الله بثناء العلماء الراسخين، وبعض المؤرخين المحققين من المسلمين والغربيين، على ذلك الإمام الجليل، الذي شغل عصره وبعده، بعلومه وآرائه، وإصلاحه، ودعوته المقيدة بالكتاب والسنة، والذي دوى صوته بعلومه ودعوته في نجد وفي الخارج، وجادل وناضر بقوة جنانه، وفصاحته لسانه، وواضح برهانه.
وإن كنت لست أهلاً لذلك؛ لقصور باعي، وعدم سعة إطلاعي عما هنالك، ولكني بالله استعنت، وإليه تضرعت؛ أن يعينني على هذا المرام، راجياً أن يقف القارئ بعد الاطلاع على هذا الكتاب، وإمعان النظر فيه؛ على حقيقة دعوة الشيخ وعقيدته السلفية، وما اتصف به من العلم والورع والغيرة على الدين، والنصح لعباد الله، والجهاد في سبيله.
فلا ينتهي من قراءته، إلا وقد انكشفت تلك الحجب والأستار التي نسجها أولئك المغرضون حول دعوة الشيخ رحمه الله.
ويعلم أن ما كان يسمعه من أفواه بعض الجاهلين، أو أدعياء العلم ضد الشيخ ودعوته وأتباعه؛ لا نصيب له من الصحة.
গ্রন্থ রচনার কারণ:
এই কারণেই, আমি ঈমান ও ইসলামের বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনসমূহের পুনর্জাগরণকারী শায়খের জীবনী, তাঁর আকিদা এবং তাঁর সংস্কারমূলক দাওয়াত সম্পর্কে একটি মধ্যম মানের গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে আমি 'নজদ' অঞ্চলের ঐতিহাসিকদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি, যেমন ইবনে গান্নাম, ইবনে বিশর, আল-আলুসি, আল-রাইহানি এবং অন্যান্যদের ওপর, যারা তাঁদের কিতাবসমূহের মাঝে শায়খ ও তাঁর দাওয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও আমি দাওয়াতের ইমাম, তাঁর পুত্র ও পৌত্রগণের কিছু চিঠিপত্রের ওপর নির্ভর করেছি।
ইনশাআল্লাহ, আমি গ্রন্থটি সমাপ্ত করব সেই মহান ইমামের প্রতি সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণ এবং মুসলিম ও পাশ্চাত্য সত্যনিষ্ঠ ঐতিহাসিকদের প্রশংসাবাণীর মাধ্যমে; যিনি তাঁর ইলম, মতামত, সংস্কার এবং কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী দাওয়াতের মাধ্যমে তাঁর সমসাময়িককাল ও পরবর্তী সময়কে আলোড়িত রেখেছেন। যাঁর ইলম ও দাওয়াতের আওয়াজ নজদ এবং এর বাইরেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে, এবং যিনি তাঁর হৃদয়ের দৃঢ়তা, ভাষার সাবলীলতা ও স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে বিতর্ক ও যুক্তিতর্ক পরিচালনা করেছেন।
যদিও আমি এই কাজের যোগ্য নই; কারণ আমার সামর্থ্য সীমাবদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার পাণ্ডিত্য প্রশস্ত নয়। তবে আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং তাঁরই কাছে বিনয়াবনত হয়েছি যেন তিনি আমাকে এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেন। আমি আশা করি যে, পাঠক এই কিতাবটি পাঠ ও গভীরভাবে পর্যালোচনার পর শায়খের দাওয়াতের প্রকৃত রূপ ও তাঁর সালাফি আকিদা সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। সেই সাথে তাঁর ইলম, তাকওয়া, দ্বীনের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ, আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণকামনা এবং তাঁর পথে জিহাদ প্রভৃতি গুণাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন।
যাতে তাঁর পাঠ সমাপ্ত হওয়ার আগেই সেই সমস্ত পর্দা ও আবরণ উন্মোচিত হয়ে যায়, যা কুচক্রী মহল শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) দাওয়াতের চারপাশে বুনে দিয়েছিল।
এবং তিনি যেন জানতে পারেন যে, শায়খ, তাঁর দাওয়াত ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে কিছু মূর্খ বা জ্ঞানপাপীর মুখে তিনি যা শুনেছিলেন, তার সত্যতার কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأن تلك الكتب التي ألَّفها بعض من انتسب إلى العلم، راداً بزعمه على الشيخ وأتباعه لا قيمة لها في ميزان العلم والنقد، إذ لم تستند على دليل نقلي صحيح، ولا برهان عقلي سليم.
وكل ما هناك افتراءات على الشيخ، واستنادات على حكايات ملفّقة، وأحاديث ضعيفة أو موضوعة. وهذا أوان الشروع في المقصود، بعون الله الملك المعبود.
فأقول وبالله التوفيق، وبيده أزمة التحقيق.
المؤلف:
এবং জ্ঞানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত কতিপয় ব্যক্তি শাইখ ও তাঁর অনুসারীদের খণ্ডন করার দাবিতে যেসব কিতাব রচনা করেছে, জ্ঞান ও সমালোচনার মানদণ্ডে সেগুলোর কোনো মূল্য নেই; যেহেতু তা কোনো সঠিক বর্ণিত দলীল কিংবা সুস্থ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়নি।
সেখানে যা কিছু আছে তা শাইখের ওপর অপবাদ এবং বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী ও দুর্বল বা জাল হাদিসের ওপর নির্ভরতা মাত্র। আর এটাই হলো মহান রাজাধিরাজ মাবুদ আল্লাহর সাহায্যে মূল বিষয়ে শুরু করার সময়।
আমি বলছি—এবং আল্লাহর কাছেই তাওফীক—আর তাঁর হাতেই রয়েছে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লাগাম।
লেখক:
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
محمد بن عبد الوهاب عقيدته السلفية ودعوته الإصلاحية وثناء العلماء عليه…بسم الله الرحمن الرحيم
ولادته، ونشأته ورحلته لطلب العلم:
ولد الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد ابن راشد التميمي، سنة 1115 هجرية، الموافق سنة 1703م، في بلدة العيينة، الواقعة شمال الرياض.
ونشأ الشيخ في حجر أبيه عبد الوهاب، في تلك البلدة في زمن إمارة عبد الله بن محمد بن حمد بن معمر. وكان سباقاً في عقله وفي جسمه، حاد المزاج، فقد استظهر القرآن قبل بلوغه العشر، وبلغ الاحتلام قبل إتمام الاثنتي عشرة سنة.
قال أبوه: "رأيته أهلاً للصلاة بالجماعة، وزوجته في ذاك العام".
طلبه للعلم:
درس على والده الفقه الحنبلي والتفسير والحديث.
وكان في صغره، منكباً على كتب التفسير والحديث والعقائد.
وكان يعتني بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية، وابن القيم رحمهما الله، ويكثر من مطالعة كتبهما.
رحلاته العلمية:
ثم غادر البلاد قاصداً حج بيت الله الحرام.
وبعد أدائه الفريضة أَمَّ المدينة المنورة، وقصد المسجد النبوي، وزار إمام المرسلين صلى الله عليه وسلم، وصحابته الأبرار المخلصين.
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর সালাফী আকিদাহ, সংস্কারমূলক দাওয়াত এবং তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
তাঁর জন্ম, লালন-পালন এবং ইলম অর্জনের সফর:
শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ ইবনে রাশিদ আত-তামিমী হিজরি ১১১৫ সালে, মোতাবেক ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে রিয়াদের উত্তরে অবস্থিত আল-উয়াইনাহ নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন।
শায়খ সেই জনপদে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মারের শাসনকালে তাঁর পিতা আব্দুল ওয়াহহাবের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। তিনি বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক গঠনে অত্যন্ত অগ্রগামী ছিলেন এবং প্রখর মেজাজের অধিকারী ছিলেন। তিনি দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কুরআন মুখস্থ করেন এবং বারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সাবালকত্ব লাভ করেন।
তাঁর পিতা বলেন: "আমি তাঁকে জামাতের সাথে সালাত পরিচালনার যোগ্য মনে করেছি এবং সেই বছরই তাঁকে বিবাহ দান করেছি।"
তাঁর ইলম অন্বেষণ:
তিনি তাঁর পিতার নিকট হাম্বলী ফিকহ, তাফসীর ও হাদীস অধ্যয়ন করেন।
তিনি ছোটবেলা থেকেই তাফসীর, হাদীস ও আকিদাহর কিতাবসমূহের প্রতি গভীরভাবে নিবিষ্ট ছিলেন।
তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-এর গ্রন্থসমূহের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহ প্রচুর অধ্যয়ন করতেন।
তাঁর ইলমী সফরসমূহ:
অতঃপর তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘরে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে নিজ দেশ ত্যাগ করেন।
ফরয হজ্জ আদায়ের পর তিনি মদীনা মুনাওয়ারার অভিমুখে যাত্রা করেন এবং মসজিদে নববীতে গমন করেন। সেখানে তিনি রাসূলদের ইমাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পুণ্যবান ও একনিষ্ঠ সাহাবীদের যিয়ারত করেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
شيوخه بالمدينة المنورة:
وكان فيها إذ ذاك من العلماء العاملين، الشيخ: عبد الله بن إبراهيم بن سيف من آل سيف النجدي، كان رأساً في بلد المجمعة.
فأخذ عنه الشيخ: محمد بن عبد الوهاب كثيراً من العلم، وأحبه الشيخ عبد الله، وكان به حفياً، وبذل جهداً كبيراً في تثقيفه وتعليمه، وكان من أكبر عوامل توثيق الروابط بينهما وتمكين المحبة توافق أفكاره ومبدئه مع تلميذه في عقيدة التوحيد، والتألم مما عليه أهل نجد وغيرهم من عقائد باطلة، وأعمال زائفة.
واستفاد الشيخ من مصاحبته فوائد عظيمة، وأجازه الشيخ: عبد الله بالحديث المشهور والمسلسل بالأولية "الراحمون يرحمهم الرحمن" من طريقين:
أحدهما: من طريق ابن مفلح عن شيخ الإسلام أحمد بن تيمية، وينتهي إلى الإمام أحمد.
والثاني: من طريق عبد الرحمن بن رجب عن العلامة ابن القيم عن شيخ شيخ الإسلام، وينتهي أيضاً إلى الإمام أحمد.
كما أجازه الشيخ بكل مافي ثبت الشيخ عبد الباقي الحنبلي، شيخ مشايخ وقته؛ قراءة وعلماً وتعليماً، صحيح البخاري بسنده إلى مؤلفه، وصحيح مسلم وشروح الصحيحين، وسنن الترمذي والنسائي، وأبي داود، وابن ماجة ومؤلفات الدارمي، بسنده المتصل إلى المؤلف.
ومسند الإمام الشافعي، وموطأ الإمام مالك، ومسند الإمام أحمد، إلى غير ذلك مما ثبت في ثبت الشيخ عبد الباقي.
ثم وصل الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف حبل الشيخ محمد، بحبل المحدث الشيخ محمد حياة السندي، وعرفه به وبما هو عليه من عقيدة صافية، وبما تجيش به نفسه من مقت الأعمال الشائعة في كل مكان من البدع، والشرك الأكبر والأصغر، وأنه إنما خرج من نجد للرحلة في طلب العلم،
মদিনা মুনাওয়ারায় তাঁর শিক্ষকগণ:
তখন সেখানে আমলকারী আলেমদের মধ্যে ছিলেন শেখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আল-নাজদি, যিনি মাজমাআ শহরের একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন।
শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তাঁর কাছ থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেন। শেখ আবদুল্লাহ তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, তাঁর প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তাঁর শিক্ষা ও দীক্ষায় ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। তাঁদের মধ্যবর্তী সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়া এবং মুহাব্বত গভীর হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তাওহিদের আকিদার ক্ষেত্রে ছাত্রের সাথে তাঁর চিন্তা ও আদর্শের মিল থাকা এবং নজদ ও অন্যান্য এলাকার মানুষের বাতিল আকিদা ও ভ্রান্ত কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যথিত হওয়া।
শেখ তাঁর সাহচর্য থেকে অনেক বড় উপকৃত হন। শেখ আবদুল্লাহ তাঁকে দুটি সূত্রে প্রসিদ্ধ এবং 'মুসালসাল বিল আউয়ালিয়্যাহ' হাদিস—"পরম করুণাময় তাদের উপর দয়া করেন যারা অন্যদের প্রতি দয়া করে"—এর ইজাজত দান করেন:
তার একটি হলো: ইবনে মুফলিহ-এর সূত্রে শায়খুল ইসলাম আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহ থেকে, যা ইমাম আহমাদ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
আর দ্বিতীয়টি হলো: আবদুর রহমান বিন রজব-এর সূত্রে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম থেকে, তিনি শায়খুল ইসলামের শায়খ থেকে, এবং এটিও ইমাম আহমাদ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
এছাড়া শেখ তাঁকে তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ উস্তাদ শেখ আব্দুল বাকি আল-হানবালির 'সাবাত'-এ (সনদ সংকলন) যা কিছু আছে তার সবকিছুর ইজাজত দান করেন—পঠন, ইলম এবং পাঠদান উভয় দিক থেকেই। যার অন্তর্ভুক্ত হলো: সহিহ বুখারি তাঁর লেখক পর্যন্ত সনদসহ, সহিহ মুসলিম এবং উভয় সহিহ গ্রন্থের ব্যাখ্যাসমূহ, সুনানে তিরমিযি, নাসায়ি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং দারেমির রচনাবলি—লেখক পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদসহ।
আরও রয়েছে মুসনাদে ইমাম শাফেয়ি, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং শেখ আব্দুল বাকির 'সাবাত'-এ বর্ণিত অন্যান্য কিতাবসমূহ।
এরপর শেখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ শেখ মুহাম্মদের সাথে মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধির একটি যোগসূত্র তৈরি করে দেন। তিনি তাঁর কাছে শেখ মুহাম্মদের স্বচ্ছ আকিদা এবং সর্বত্র প্রচলিত বিদআত, শিরকে আকবর ও আসগারের প্রতি তাঁর মনের তীব্র ঘৃণা সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেন এবং জানান যে, তিনি মূলত ইলম অন্বেষণের সফরেই নজদ থেকে বের হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وسعياً إلى الاستزادة من السلاح الديني القوي، الذي يعينه على ما هو مصمم عليه من القيام بالدعوة والجهاد في سبيل الله.
وممن أخذ عنهم الشيخ وانتفع بمصاحبته الشيخ: علي أفندي الداغستاني، والشيخ: إسماعيل العجلوني، والشيخ: عبد اللطيف العفالقي الإحسائي، والشيخ: محمد العفالقي الإحسائي.
وقد أجاز الشيخان الداغستاني والإحسائي بمثل ما أجازه الشيخ عبد الله بن إبراهيم بما في ثبت أبي المواهب.
ثم توجه إلى نجد، ثم البصرة، قاصداً الشام، ليستزيد من العلوم النافعة.
شيوخه بالبصرة:
فأقام مدة بالبصرة، درس العلم فيها على جماعة من العلماء.
منهم الشيخ: محمد المجموعي، وقرأ الكثير من النحو واللغة والحديث، كما كتب كثيراً في تلك الإقامة من المباحث النافعة والكتب القيمة، ونشر علمه النافع وآراءه القيمة حول موضوع البدع والخرافات، وإنزال التضرع والحاجات بسكان القبور من عظام نخرة، وأوصال ممزقة، وعزز كلامه بالآيات الساطعات، والبراهين الواضحات.
فقابلوه بالتكذيب والأذى وأخرج من البلاد وقت الهجرة1 وأنزلوا بعض الأذى بشيخه المجموعي.
فقصد الزبير في وقت الصيف وشدة الرمضاء، وكان ماشياً على رجليه، وكاد يهلك من شدة الظمأ.
فساق الله إليه رجلا من بلد الزبير يسمى أبا حميدان، فرآه من أهل العلم والصلاح، فحمله على حماره، حتى أوصله إلى بلد الزبير.
وتوجه إلى الشام راجلاً لينهل من مناهل العلماء، ويتغذى من الثقافات الدينية، مستزيداً.
1 الهجيرة.
আরও শক্তিশালী ধর্মীয় অস্ত্র আহরণের প্রচেষ্টায়, যা তাঁকে আল্লাহর পথে দাওয়াত ও জিহাদ পরিচালনার যে সংকল্প তিনি করেছিলেন তাতে সহায়তা করবে।
শায়খ যাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং যাঁদের সাহচর্য থেকে উপকৃত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— শায়খ আলী এফেন্দী আদ-দাগেস্তানী, শায়খ ইসমাইল আল-আজলুনী, শায়খ আবদুল লতিফ আল-আফালিকী আল-আহসাঈ এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-আফালিকী আল-আহসাঈ।
শায়খ দাগেস্তানী ও শায়খ আহসাঈ উভয়ই তাঁকে অনুরূপ ইজাযত (অনুমতিপত্র) প্রদান করেছিলেন যা শায়খ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আবু আল-মাওয়াহিবের 'সাবাত'-এ বর্ণিত বিষয়াবলির ভিত্তিতে প্রদান করেছিলেন।
অতঃপর তিনি নজদ ও এরপর বসরার দিকে যাত্রা করেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শামে গিয়ে আরও উপকারী জ্ঞান অর্জন করা।
বসরায় তাঁর শিক্ষকগণ:
তিনি বসরায় কিছুকাল অবস্থান করেন এবং সেখানে একদল আলেমদের নিকট ইলম শিক্ষা করেন।
তাঁদের মধ্যে শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ী অন্যতম; তাঁর নিকট তিনি নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা ও হাদিসের অনেক কিতাব পাঠ করেন। এই অবস্থানকালে তিনি অনেক উপকারী গবেষণা ও মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি বিদআত ও কুসংস্কার এবং পচে যাওয়া হাড় ও বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট কবরের বাসিন্দাদের কাছে কাকুতি-মিনতি ও অভাব পূরণের আরজি পেশ করার বিষয়ে তাঁর উপকারী জ্ঞান ও মূল্যবান মতামত প্রচার করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যসমূহকে উজ্জ্বল আয়াত এবং স্পষ্ট দলীল দ্বারা সুদৃঢ় করেন।
কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং কষ্ট দেয়। প্রচণ্ড গরমের সময় তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তারা তাঁর শিক্ষক মাজমুয়ীকেও নানাভাবে কষ্ট দেয়।
এরপর তিনি গ্রীষ্মকালে প্রখর রোদে পায়ে হেঁটে জুবাইরের দিকে যাত্রা করেন। প্রচণ্ড পিপাসায় তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছিলেন।
এমতাবস্থায় আল্লাহ জুবাইর শহর থেকে আবু হুমায়দান নামক এক ব্যক্তিকে তাঁর নিকট পাঠান। তিনি তাঁকে একজন বিজ্ঞ ও নেককার ব্যক্তি হিসেবে চিনতে পেরে তাঁর গাধার পিঠে আরোহণ করান এবং জুবাইর শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
এরপর তিনি আলেমদের জ্ঞান-উৎস থেকে অবগাহন করতে এবং ধর্মীয় জ্ঞান আহরণ করে সমৃদ্ধ হতে পদব্রজে শামের দিকে যাত্রা করেন।
১. প্রচণ্ড উত্তপ্ত দ্বিপ্রহর।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عودته إلى نجد:
غير أنه قلت نفقته، فقفل راجعاً، فأتى الأحساء، فنزل بها عند الشيخ: عبد الله بن عبد اللطيف الشافعي، وقرأ عنده ما شاء الله أن يقرأ.
ثم توجه إلى حريملاء، قرية من نجد، وذلك لأن والده الشيخ: عبد الوهاب قد انتقل إليها.
ولما آب الشيخ من رحلته الطويلة وراء العلم والتحصيل، لازم أباه، واشتغل عليه في علم التفسير والحديث وغيرهما.
وعكف على كتب الشيخين: شيخ الإسلام ابن تيمية، والعلامة ابن القيم رحمهما الله، فزادته تلك الكتب القيّمة علماً ونوراً وبصيرة، ونفخت فيه روح العزيمة.
ورأى الشيخ بثاقب نظره ما بنجد وما بالأقطار التي رحل إليها من العقائد الضالة، والعادات الفاسدة، فصمم على القيام بالدعوة.
حالة نجد قبل الدعوة من حيث الديانة والسياسة
سبق أن ذكرنا لك أيها القارئ الكريم: أن الشيخ رحمه الله زار الحجاز والأحساء والبصرة ولا زبير، وقيل: حتى فارس، حسبما نقل عن "لمع الشهاب"؛ ليروي ظمأه من مناهل العلوم الدينية، ويتفهم أصول الدين وشرائعه القويمة، ويقف على أحوال أولئك الأقوام وعقائدهم وعلومهم، بعدما شاهد في نجد وطنه ما شاهد من المنكرات الأثيمة، والشركيات القبيحة الذميمة، القائلة لمعنى الإنسانية.
وكان أيام تحصيله يقرر لسامعيه ومخالطيه ما فهمه من الدين والتوحيد، ويبين قبائح ما تأتيه العامة وأشباه العامة من أدعياء العلم.
وعندما كان في المدينة المنورة يسمع الاستغاثات برسول الله صلى الله عليه وسلم ودعائه من دون الله؛ فكاد مرجل غيظه ينفجر.
নজদে তাঁর প্রত্যাবর্তন:
তবে তাঁর পাথেয় ফুরিয়ে আসায় তিনি ফিরে আসেন এবং আহসাতে উপনীত হন। সেখানে তিনি শেখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ আশ-শাফিয়ী-এর নিকট অবস্থান করেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি নজদের একটি গ্রাম 'হুরয়মিলা'-এর অভিমুখে যাত্রা করেন, কারণ তাঁর পিতা শেখ আব্দুল ওয়াহহাব সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।
জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষালাভের দীর্ঘ সফর শেষে শেখ যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি তাঁর পিতার সান্নিধ্যে থাকলেন এবং তাঁর কাছে তাফসির, হাদিস ও অন্যান্য বিদ্যায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন।
তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) - এই দুই শায়খের কিতাবসমূহের প্রতি নিবিষ্ট হলেন। সেই মূল্যবান কিতাবসমূহ তাঁর জ্ঞান, আলো এবং অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করল এবং তাঁর মাঝে দৃঢ় সংকল্পের প্রেরণা জোগাল।
শেখ তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মাধ্যমে নজদ এবং যে সকল অঞ্চলে তিনি সফর করেছিলেন সেখানকার ভ্রান্ত আকিদা এবং কলুষিত রীতিনীতিগুলো প্রত্যক্ষ করলেন। ফলে তিনি দাওয়াতের কাজ শুরু করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলেন।
দাওয়াতের পূর্বে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নজদের অবস্থা
হে সম্মানিত পাঠক, আমরা ইতিপূর্বে আপনার নিকট উল্লেখ করেছি যে: শেখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হিজাজ, আহসা, বসরা এবং জুবায়ের সফর করেছেন; এমনকি 'লামাউশ শিহাব' থেকে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী পারস্য পর্যন্তও গিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দ্বীনি ইলমের প্রস্রবণ থেকে তাঁর জ্ঞানের পিপাসা মেটানো, দ্বীনের মূলনীতি ও সুদৃঢ় শরিয়ত সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং সেই সব অঞ্চলের জনপদের অবস্থা, আকিদা ও জ্ঞান সম্পর্কে অবগত হওয়া; বিশেষ করে নিজ জন্মভূমি নজদে বহু পাপাচারী অপকর্ম এবং কদর্য ও নিন্দনীয় শিরকি কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করার পর, যা ছিল মানবতার পরিপন্থী।
শিক্ষা জীবনের দিনগুলিতে তিনি তাঁর শ্রোতা ও সঙ্গীদের কাছে দ্বীন ও তাওহিদ সম্পর্কে তাঁর লব্ধ জ্ঞান বর্ণনা করতেন এবং সাধারণ মানুষ ও ইলমের দাবিদার তথাকথিত আলেমদের কৃত কুকর্মগুলোর কদর্যতা ব্যাখ্যা করতেন।
মদিনা মুনাওয়ারায় থাকাকালীন তিনি যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফরিয়াদ এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাঁর কাছে দোয়া করার বিষয়গুলো শুনতেন, তখন ক্রোধে তাঁর অন্তর যেন ফেটে পড়ার উপক্রম হতো।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فقال للشيخ محمد حياة السندي: ما تقول يا شيخ في هؤلاء؟.
فأجابه على الفور: {إِنَّ هَؤُلاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} .
درس أحوال نجد وأهل البلدان التي زارها، ورأى ماهم فيه من بُعْدٍ عن الدين، ولا سيما نجد.
ماذا رأى؟.
رأى نجداً كما يحدثنا المؤرخون السالفون لنجد، كابن بشر، وابن غنام، والألوسي، والمعاصرون ك "حافظ وهبة"، وغيره مرتعاً للخرافات والعقائد الفاسدة التي تتنافى مع أصول الدين الصحيحة، فقد كان فيها كثير من القبور تنسب إلى بعض الصحابة، يحج الناس إليها، ويطلبون منها حاجاتهم، ويستغيثون بها لدفع كروبهم، فقد كانوا في الجبيلة يؤمون قبر زيد بن الخطاب، يتضرعون لديه، ويسألونه حاجاتهم وكذلك في الدرعية، كان قبر لبعض الصحابة كما يزعمون..
وأغرب من ذلك: توسلهم في بلد المنفوحة بفحل النخل، واعتقادهم أن من تؤمه من العوانس تتزوج، فكانت من تقصده تقول: "يا فحل الفحول، أريد زوجاً قبل الحول".
وفي الدرعية، كان غار يقصدونه، بزعم أنه كان ملجأ لإحدى بنات الأمير التي فرّت هاربة من تعذيب بعض الطغاة.
وفي شعب غبيرا، قبر ضرار بن الأزور، كانوا يأتون لديه من الشركة والمنكر ما لعل مثله، لا يتصور.
ورأى في الحجاز من تقديس قبور الصحابة وأهل البيت والرسول صلى الله عليه وسلم؛ ما لا يسوغ إلا مع رب الأرباب.
كما رأى في البصرة والزبير، وسمع عن العراق والشام ومصر واليمن من الوثنية الجاهلية ما لا يستسيغه العقل، ولا يقره الشرع.
অতঃপর তিনি শায়খ মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্দিকে জিজ্ঞেস করলেন: হে শায়খ, এদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
তিনি তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলেন: "নিশ্চয় এরা যে কাজে লিপ্ত রয়েছে তা বিধ্বংসী এবং তারা যা করছে তা অসার।"
তিনি নজদ এবং যে সকল জনপদ সফর করেছেন তার অধিবাসীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুতি লক্ষ্য করেছেন, বিশেষ করে নজদ অঞ্চলে।
তিনি কী দেখেছিলেন?
তিনি নজদকে এমন অবস্থায় দেখেছিলেন যেমনটি নজদের পূর্বসূরি ইতিহাসবিদগণ বর্ণনা করেছেন—যেমন ইবনে বিশর, ইবনে গান্নাম, আল-আলুসি এবং সমসাময়িক হাফিজ ওয়াহবা ও অন্যান্যরা। এটি ছিল কুসংস্কার এবং ভ্রান্ত আকিদার চারণভূমি যা দ্বীনের সঠিক মূলনীতির পরিপন্থী ছিল। সেখানে এমন অনেক কবর ছিল যা কিছু সাহাবীর বলে দাবি করা হতো, যেগুলোতে মানুষ হজ্জের মতো ভিড় করত, তাদের নিকট প্রয়োজন পূরণ চাইত এবং বিপদ মুক্তির জন্য ফরিয়াদ করত। যেমন আল-জুবায়লায় তারা জায়েদ ইবনে আল-খাত্তাবের কবরের দিকে মুখ করত, সেখানে অনুনয়-বিনয় করত এবং তাদের অভাব পূরণের প্রার্থনা করত। অনুরূপভাবে দিরইয়াহতেও কিছু সাহাবীর কবর ছিল বলে তারা দাবি করত।
এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় ছিল: মানফুহাহ জনপদে পুরুষ খেজুর গাছের মাধ্যমে তাদের উসিলা গ্রহণ এবং এই বিশ্বাস করা যে, অবিবাহিত নারীরা এর কাছে আসলে তাদের বিবাহ হয়ে যাবে। তাই যে নারী সেখানে যেত সে বলত: "হে পুরুষদের পুরুষ (শ্রেষ্ঠ পুরুষ গাছ), আমি এক বছরের পূর্ণ হওয়ার আগেই স্বামী চাই।"
দিরইয়াহতে একটি গুহা ছিল যেখানে তারা যাতায়াত করত। তাদের দাবি ছিল যে, এটি আমীরের এক কন্যার আশ্রয়স্থল ছিল, যে কিছু অত্যাচারীর নির্যাতন থেকে পালিয়ে সেখানে আত্মগোপন করেছিল।
শুআইব গুবায়রায় দিরার ইবনুল আযওয়ারের কবরে তারা এমন শিরক ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হতো যা সম্ভবত কল্পনা করাও অসম্ভব।
তিনি হিজাজে সাহাবীগণ, আহলে বাইত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের প্রতি এমন অতিভক্তি প্রদর্শন করতে দেখেছিলেন যা কেবল রব্বুল আলামীনের জন্যই শোভা পায়।
একইভাবে তিনি বসরা ও জুবায়েরে যা দেখেছিলেন এবং ইরাক, শাম, মিসর ও ইয়েমেন সম্পর্কে জাহেলী মূর্তিপূজার যে সংবাদ শুনেছিলেন, তা সুস্থ বিবেক গ্রহণ করে না এবং শরীয়তও তা অনুমোদন করে না।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
كما سمع عن العيدروس في "عدن"، والزيلعي في اليمن الشئ الكثير.
رأى ما رأى، وسمع ما سمع، وتحقق، ووازن تلك الأفعال المنكرة بميزان الوحيين: كتاب الله المبين، وسيرة الرسول الأمين صلى الله عليه وسلم، وأصحابه المتقين، فرآهم في بعد عن منهج الدين وروحه.
رآهم لم يعرفوا لماذا بعث الله الرسل؟، ولماذا بعث الله محمداً للناس كافة؟، ورأى أنهم لم يعرفوا حالة الجاهلية، وما كان فيها من الوثنية الممقوتة، رآهم غَيَّروا وبدلوا أصول الدين وفروعه، إلا القليل.
هذه حالتهم في دينهم وعبادتهم.
حالة نجد السياسية:
أما حالتهم السياسية: فكما جاء في كتاب "جزيرة العرب في القرن العشرين": رأى أنه ليس هناك قانون ولا شريعة إلا ما قضت به أهواء الأمراء وعمالهم، وكانت نجد متقسمة إلى ولايات عديدة، يحكم كل واحدة منها أمير، لا تربطه وجاره أية رابطة.
ومن أهم هؤلاء الأمراء: بنو خالد في الأحساء، وآل معمر في العيينة، والأشراف في الحجاز.
وعدا هؤلاء، أمراء لا يعبأ بذكرهم.
وقد كان أولئك الأقوام في حروب دائمة، لا سيما مع البادية.
وكان الأمير على قدم الاستعداد عندما تسنح الفرص ليعتدي على جيرانه إذا بدا من هؤلاء الجيران ضعف أو عدم استعداد. انتهى. هكذا كانت حالة بلاد العرب عند إياب الشيخ من رحلته العلمية.
بدء نهضة الشيخ في الإصلاح الديني:
وبعد أن ثبت لديه وتحقق حالتهم السيئة في دينهم ودنياهم، ورأى إقرار العلماء في الحجاز وفي نجد وسائر الأقطار على تلك المنكرات والمبتدعات،
যেমন তিনি ‘আদনে’ আইদারুস এবং ইয়ামেনে যায়লায়ি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছেন।
তিনি যা দেখার দেখলেন, যা শোনার শুনলেন, সত্যতা যাচাই করলেন এবং সেই সব অপছন্দনীয় কর্মসমূহকে ওহীর দুই উৎস—আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব এবং বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর মুত্তাকী সাহাবীগণের সীরাতের মানদণ্ডে পরিমাপ করলেন। ফলে তিনি তাদের দ্বীনের পদ্ধতি এবং এর প্রাণসত্তা থেকে বহুদূরে দেখতে পেলেন।
তিনি দেখলেন যে, তারা জানত না কেন আল্লাহ রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কেন আল্লাহ মুহাম্মদকে সকল মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন। তিনি আরও প্রত্যক্ষ করলেন যে, তারা জাহেলিয়াতের অবস্থা এবং তখনকার ঘৃণ্য মূর্তিপূজা সম্পর্কেও অবগত ছিল না। তিনি দেখলেন যে, সামান্য কিছু ছাড়া তারা দ্বীনের মৌলিক ও শাখা-প্রশাখাগত বিষয়গুলোকে পরিবর্তন ও বিবর্তিত করে ফেলেছে।
তাদের দ্বীন ও ইবাদতের অবস্থা ছিল এমনই।
নজদ-এর রাজনৈতিক অবস্থা:
তাদের রাজনৈতিক অবস্থার কথা বলতে গেলে, যেমনটি ‘বিংশ শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: তিনি দেখলেন যে, সেখানে আমীর ও তাদের কর্মচারীদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী প্রবর্তিত নিয়ম ছাড়া অন্য কোনো আইন বা শরীয়াহ নেই। নজদ তখন বহু ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল, যার প্রত্যেকটি একজন আমীর দ্বারা শাসিত হতো এবং তার সাথে তার প্রতিবেশীর কোনো সুসম্পর্ক ছিল না।
এসকল আমীরদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: আহসায় বনু খালিদ, উয়াইনায় আলে মুয়াম্মার এবং হিজাজে আশরাফগণ।
এ ছাড়াও আরও অনেক আমীর ছিল যাদের কথা উল্লেখ করার মতো গুরুত্ব নেই।
সেই জনগোষ্ঠীগুলো সর্বদা পারস্পরিক যুদ্ধে লিপ্ত থাকত, বিশেষ করে মরুবাসীদের সাথে।
আমীরগণ সুযোগের অপেক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকতেন যেন প্রতিবেশীদের মাঝে সামান্যতম দুর্বলতা বা অপ্রস্তুতি দেখলেই তাদের ওপর আক্রমণ করতে পারেন। সমাপ্ত। শেখ যখন তাঁর ইলমী সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন আরব ভূখণ্ডের অবস্থা ছিল ঠিক এমনই।
ধর্মীয় সংস্কারে শেখের জাগরণের সূচনা:
যখন তাঁর নিকট তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার শোচনীয় অবস্থা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো এবং তিনি দেখলেন যে, হিজাজ, নজদ ও অন্যান্য অঞ্চলের আলিমগণ এসকল গর্হিত কর্ম ও বিদআতের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করছেন বা স্বীকৃতি দিচ্ছেন,
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
إلا القليل منهم ممن كان لا يتجاسر أن يبوح بمقت ما فعلوا، وأيقن أنهم قد أدخلوا في أصول الإسلام العليا ما يأباه القرآن، وما تأباه السنة المحكمة.
وكان يقوي عقيدته بخطئهم، وركونهم إلى البدع ما يقرؤه من الروايات القائلة: بأن المسلمين لا بد أن يغيروا، وأن يسلكوا مسالك الذين من قبلهم، كالحديث الصحيح: "لتتبعن سنن من كان قبلكم"، وكحديث: " لا تقوم الساعة حتى يعبد فئام من أمتي الأوثان"، وحديث: "بدأ الإسلام غريباً وسيعود غريباً كما بدأ".
حينئذ صمّم الشيخ أن يعلن قومه بأنهم قد ضلوا الطريق السوي، وزاغوا عن منهج الصواب.
يقول بعض الكاتبين: "حقاً إن الموقف دقيق حرج، يحتاج إلى شجاعة ما ضية، وإلى إيمان لا يبالي بالأذى في سبيل إرضاء الله وإرضاء الحق الذي اقتنع به، وسبيل إنقاذ البشرية المعذّبة، كما يحتاج إلى عدة كافية من قوة اللسان، وإصابة البرهان، ليواجه ما يجابهه من شبهات واعتراضات لا بد منها. ثم إلى مؤازر قوي يحمي ظهره، ويدافع عن دعوته".
دعوته لقومه:
ابتدأ الشيخ رحمه الله، دعوته لقومه في بلدة "حريملاء"، وبَيّن لهم أن لا يُدعى إلا الله، ولا يُذبح ولا يُنذر إلا له، وأن عقيدتهم في تلك القبور والأحجار والأشجار من الاستغاثة بها، وصرف النذور إليها، واعتقاد النفع والضرر منها؛ ضلال وزور، وبأنهم في حالة لا ترضي، فلا بد من نبذ ذلك، وعزز كلامه بآي من كتاب الله المجيد، وأقوال الرسول وأفعاله، وسيرة أصحابه، فوقع بينه وبين الناس نزاع وجدال، حتى مع والده العالم الجليل، لأنه كان مغتراً بأقاويل المقلدين السالكين تلك الأفعال المنكرة في قوالب حب الصالحين.
তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত, যারা তাদের কৃতকর্মের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে সাহস করত না, এবং তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল যে, তারা ইসলামের সুউচ্চ মূলনীতিসমূহে এমন কিছু প্রবিষ্ট করিয়েছে যা কুরআন প্রত্যাখ্যান করে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহও তা প্রত্যাখ্যান করে।
আর তাদের ভ্রান্তি এবং বিদআতের দিকে তাদের ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে তাঁর বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করত সে সকল বর্ণনা যা তিনি পাঠ করতেন; যাতে বলা হয়েছে যে, মুসলমানরা অবশ্যই (দ্বীনকে) পরিবর্তন করবে এবং তারা পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে। যেমন সহীহ হাদীস: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে", এবং হাদীস: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি দল মূর্তিপূজা করবে", এবং হাদীস: "ইসলাম শুরু হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং অচিরেই তা অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে যেভাবে তা শুরু হয়েছিল।"
তখন শায়খ সংকল্প করলেন যে, তিনি তাঁর কওমকে জানিয়ে দেবেন যে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সত্যের আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে।
জনৈক লেখক বলেন: "প্রকৃতপক্ষে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক ও কঠিন, যার জন্য প্রয়োজন ছিল অদম্য সাহস এবং এমন এক ঈমানের যা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এবং যে সত্য তিনি গ্রহণ করেছিলেন সেই সত্যের সন্তুষ্টির পথে কোনো কষ্টের পরোয়া করে না, আর যা যন্ত্রণাকাতর মানবতাকে রক্ষা করার পথ। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল জিহ্বার পর্যাপ্ত শক্তি এবং অকাট্য দলীল-প্রমাণ, যাতে করে তিনি সেই সকল অনিবার্য সংশয় ও আপত্তির মোকাবেলা করতে পারেন যার সম্মুখীন তিনি হতেন। এরপর প্রয়োজন ছিল একজন শক্তিশালী সহযোগীর, যে তাঁর পৃষ্ঠদেশ রক্ষা করবে এবং তাঁর দাওয়াতের প্রতিরক্ষা করবে।"
তাঁর কওমের প্রতি তাঁর দাওয়াত:
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) "হুরাইমিলা" জনপদে তাঁর কওমের প্রতি দাওয়াত শুরু করেন এবং তাদের নিকট স্পষ্ট করেন যে, আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ডাকা যাবে না, আর যবেহ এবং মানত শুধুমাত্র তাঁর জন্যই হবে। তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, ওই সকল কবর, পাথর ও গাছপালার প্রতি তাদের যে বিশ্বাস রয়েছে—তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, সেখানে মানত পেশ করা এবং তাদের পক্ষ থেকে লাভ-ক্ষতির বিশ্বাস পোষণ করা—তা পথভ্রষ্টতা ও মিথ্যা। তারা এমন এক অবস্থায় আছে যা সন্তোষজনক নয়, তাই অবশ্যই একে বর্জন করতে হবে। তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের আয়াত, রাসূলের বাণী ও কর্ম এবং সাহাবীদের জীবনী দ্বারা তাঁর বক্তব্যকে শক্তিশালী করেন। ফলে তাঁর ও মানুষের মাঝে বিবাদ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়, এমনকি তাঁর সম্মানিত আলেম পিতার সাথেও; কারণ তাঁর পিতা সেই সকল মুকাল্লিদদের কথায় প্রলুব্ধ হয়েছিলেন যারা পুণ্যবানদের প্রতি ভালোবাসার আবরণে ওই সকল গর্হিত কাজগুলো সম্পাদন করত।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
فاستمر الشيخ يجاهد بلسانه وقلمه وإرشاده، وتبعه أناس من أهل تلك البلدة، حتى انتقل أبوه عبد الوهاب إلى جوار رب الأرباب سنة 1153هـ.
والظاهر أن والده اقتنع بأقوال ابنه ومبادئه، كما اقتنع أخوه سليمان بعدما وقع بينه وبينه نزاع وردود1.
وبعد وفاة والده جاهر قومه بالدعوة والإنكار على عقائدهم الضالة، ودعا إلى متابعة الرسول في الأقوال والأفعال.
وكان في تلك البلدة قبيلتان، وكل يدعي الزعامة، وليس هناك من يحكم الجميع، ويأخذ حق الضعيف، ويردع السفيه، وكان لإحدى القبيلتين عبيد يأتون بكل منكر وفساد، ولا يحجمون عن التعدي على العباد؛ فصمم الشيخ على منعهم وردعهم.
ولما أحس أولئك الأرقّاء بما صمّم عليه الشيخ، عزموا أن يفتكوا به خفية، فتسوروا عليه من وراء الجدار، فشعر بهم بعض الناس، فصاحوا بهم وهربوا.
عندها غادر الشيخ "حريملاء" إلى "العيينة" مسقط رأسه، وموطن آبائه، وحاكمها إذ ذاك عثمان بن حمد بن معمر، فتلقاه بكل إجلال وإكرام، وبين الشيخ له دعوته الإصلاحية المباركة، القائمة على دعائم الكتاب والسنة المطهرة، وشرح له معني التوحيد، وأن أعمال الناس اليوم وعقائدهم منافية للتوحيد، وتلا عليه الآيات والأحاديث النبوية، ورجا له من الله إن قام بنصر
--------------------------------------------
শায়খ তার জবান, কলম এবং নির্দেশনার মাধ্যমে দাওয়াতি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন এবং সেই জনপদের একদল লোক তার অনুসরণ করে, অবশেষে তার পিতা আব্দুল ওয়াহহাব ১১৫৩ হিজরি সনে রব্বুল আরবাবের সান্নিধ্যে চলে যান।
বাহ্যত মনে হয় যে, তার পিতা তার পুত্রের কথা ও আদর্শে আশ্বস্ত হয়েছিলেন, যেমনটি তার ভাই সুলাইমান আশ্বস্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও খণ্ডন-প্রতিখণ্ডন সংঘটিত হওয়ার পর।১
পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার কওমের নিকট প্রকাশ্যে দাওয়াত পেশ করেন এবং তাদের ভ্রান্ত আকিদাহসমূহের প্রতিবাদ করেন। তিনি কথা ও কাজে রাসূলের অনুসরণের প্রতি আহ্বান জানান।
সেই জনপদে দুটি গোত্র ছিল এবং প্রত্যেকেই নেতৃত্বের দাবি করত। সেখানে এমন কেউ ছিল না যে সকলের ওপর শাসন পরিচালনা করবে, দুর্বলের হক আদায় করবে এবং নির্বোধকে প্রতিহত করবে। সেই গোত্রদ্বয়ের একটির কিছু দাস ছিল যারা সকল প্রকার অন্যায় ও ফাসাদে লিপ্ত ছিল এবং মানুষের ওপর সীমা লঙ্ঘনে পিছুপা হতো না। তাই শায়খ তাদেরকে বাধা দিতে ও দমনে দৃঢ় সংকল্প করেন।
যখন সেই দাসরা শায়খের সংকল্প সম্পর্কে আঁচ করতে পারল, তারা তাকে গোপনে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল। তারা দেয়াল টপকে তার নিকট পৌঁছাতে চাইল, কিন্তু কিছু লোক তাদের টের পেয়ে চিৎকার করে উঠল এবং তারা পালিয়ে গেল।
তখন শায়খ 'হুরায়মিলা' ত্যাগ করে তার জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষদের আবাসস্থল 'উয়াইনা'র দিকে চলে যান। তৎকালীন সেখানকার শাসক ছিলেন উসমান ইবনে হামাদ ইবনে মুয়াম্মার। তিনি তাকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করলেন। শায়খ তার নিকট কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তার বরকতময় সংস্কারমূলক দাওয়াত তুলে ধরেন। তিনি তার সামনে তাওহীদের অর্থ ব্যাখ্যা করেন এবং বর্তমান মানুষের আমল ও আকিদাহসমূহ যে তাওহীদ পরিপন্থী তা সুস্পষ্ট করেন। তিনি তার সামনে আয়াত ও নববী হাদিসসমূহ তিলাওয়াত করেন এবং আল্লাহর কাছে তার জন্য এই আশা পোষণ করেন যে, যদি তিনি সাহায্যে এগিয়ে আসেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بلا إله إلا الله أن ينصره الله ويعلي كلمته، وتكون له السيادة والزعامة على نجد وغيرها، وله السعادة الأبدية إن شاء الله.
فقبل عثمان، ورحّب بما قال الشيخ، فأعلن الشيخ بالدعوة إلى الله، وإفراد العبادة لله، والتمسك بسنة رسول الله، وأمر بالمعروف ونهى عن المنكر، وقطع الشيخ الأشجار المعظّمة هناك، وهدم قبة زيد بن الخطاب، بمساعدة عثمان الأمير، وأقام الحد على امرأة اعترفت بالزنا مراراً، بعدما تأكد من صحة عقلها وكمال حواسها. فاشتهر أمر الشيخ، وذاع صيته في البلدان.
فبلغ خبره "سليمان بن محمد بن عريعر" حاكم الأحساء وبني خالد، فبعث هذا الجاهل الظالم إلى عثمان بن معمر كتاباً جاء فيه:
"إن المطوّع الذي عندك، قد فعل ما فعل، وقال ما قال، فإذا وصلك كتابي فاقتله، فإن لم تقتله، قطعنا خراجك الذي عندنا في "الأحساء"".
فعظم على عثمان الأمر، وكبر عليه مخالفة ابن عريعر، وغاب عن ذهنه عظمة رب العالمين، وكانت النتيجة من جرّاء ذلك الكتاب وضعف إيمان ابن معمر أن أمر بإخراج الشيخ من بلده.
ولم يفد فيه وعظ الشيخ ونصحه، وأنه لا بد للداعي والمصلح من أن يناله الأذى، ولابد أن تكون العاقبة للمتقين.
فخرج الشيخ رحمه الله، يمشي على رجليه موكلاً به فارس يمشي من خلفه، وليس مع الشيخ إلا المروحة في أشد وقت الحر من الصيف.
فهمّ الفارس بقتل الشيخ، وكان بإيعاز من ابن معمر، فارتعدت يده وكفى الله شره.
وكان الشيخ في مشيه لا يفتر عن ذكر الله، ويردد قوله تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ} .
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর উসিলায় আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করবেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করবেন। নজদ ও অন্যান্য অঞ্চলের উপর তাঁর আধিপত্য ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহ চাইলে তিনি চিরস্থায়ী সুখ লাভ করবেন।
উসমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেন এবং শায়খ যা বললেন তাকে স্বাগত জানালেন। অতঃপর শায়খ আল্লাহর দিকে দাওয়াত, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত এবং রাসূলুল্লাহর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ঘোষণা দিলেন। তিনি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে লাগলেন। শায়খ সেখানকার পুজনীয় বৃক্ষগুলো কেটে ফেললেন এবং আমীর উসমানের সহায়তায় যায়েদ ইবনুল খাত্তাব-এর গম্বুজটি ধূলিসাৎ করলেন। তিনি এমন এক মহিলার ওপর হদ (শরিয়তি দণ্ড) কার্যকর করলেন যে বারবার ব্যভিচারের কথা স্বীকার করেছিল—তবে তা করার আগে তিনি তার মানসিক সুস্থতা ও ইন্দ্রিয় সচেতনতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিলেন। এর ফলে শায়খের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল এবং বিভিন্ন জনপদে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল।
তাঁর এই সংবাদ আল-আহসা ও বনু খালিদ-এর শাসক সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন উরাইআর-এর নিকট পৌঁছাল। তখন এই অজ্ঞ ও জালেম ব্যক্তি উসমান বিন মুয়াম্মার-এর নিকট একটি পত্র পাঠাল যাতে লেখা ছিল:
"তোমার নিকট যে ধর্মতত্ত্ববিদ ব্যক্তিটি রয়েছে সে যা করার করেছে এবং যা বলার বলেছে। সুতরাং যখনই আমার এই পত্র তোমার হস্তগত হবে, তাকে হত্যা করো। আর যদি তাকে হত্যা না করো, তবে আমাদের নিকট 'আল-আহসা' থেকে তোমার যে রাজস্ব পাওনা হয়, তা আমরা বন্ধ করে দেব।"
উসমানের নিকট বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর মনে হলো এবং ইবনে উরাইআর-এর বিরোধিতা করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াল। ফলে রব্বুল আলামীনের মাহাত্ম্যের কথা তাঁর মন থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল। এই পত্রের প্রভাবে এবং ইবনে মুয়াম্মারের ঈমানের দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি শায়খকে তাঁর এলাকা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিলেন।
শায়খের ওয়াজ ও নসিহত তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলল না, অথচ একজন দায়ী ও সংস্কারককে অবশ্যই কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় এবং পরিণাম অবশ্যই মুত্তাকীদের পক্ষে থাকে।
অতঃপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) পায়ে হেঁটে রওনা হলেন, তাঁর সাথে পাহারাদার হিসেবে একজন অশ্বারোহী নিযুক্ত ছিল যে তাঁর পিছনে পিছনে আসছিল। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্যে শায়খের কাছে একটি হাতপাখা ব্যতীত আর কিছুই ছিল না।
অশ্বারোহী ব্যক্তিটি শায়খকে হত্যার সংকল্প করল, যা ছিল ইবনে মুয়াম্মারের ইশারা। কিন্তু তার হাত কেঁপে উঠল এবং আল্লাহ তাঁর অনিষ্ট থেকে তাঁকে রক্ষা করলেন।
পথ চলার সময় শায়খ অবিরাম আল্লাহর জিকির করছিলেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণী পুনরাবৃত্তি করছিলেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য (বিপদ থেকে) বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।"
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ونزل الشيخ بالدرعية وقت العصر سنة 1158هـ ضيفاً على عبد الرحمن ابن سويلم، وابن عمه أحمد بن سويلم.
وخاف ابن سويلم على نفسه من الأمير محمد بن سعود، لأنه كان يعلم حالة الناس، وأنهم لا يقبلون ما أتى به هذا العالم الجليل، ويقابلون ذلك بالأذى، ولا سيما من بيده الأمر.
ولكن الشيخ الممتلئ إيماناً وثقة بالله، سكن جاشه، وأفرغ عليه من العظات، وملأه رجاءاً، ووعده بأنه لا بد من أن يفرج الله وينصره نصراً مؤزراً. فعلم به الخواص من أهل الدرعية، فزاروه خفية، فشرح لهم معاني التوحيد وما يدعو إليه.
وكان للأمير أخوان: مشاري وثنيان، وزوجة كانت لبيبة عاقلة.
فبين الأخوان بعد ما نهلا من مناهل الشيخ لأخيهما الأمير، أن الشيخ محمداً نازل ضيفاً على ابن سويلم، وأن هذا الرجل غنيمة ساقه الله إليك، فاغتنم ما خصك الله به، ورغّبوه في زيارة الشيخ، فامتثل وزار الشيخ.
فدعاه الشيخ إلى التوحيد، وأن التوحيد هو ما بعثت من أجله الرسل، وتلا عليه آيات من الذكر الحكيم، فيها البيان ببطلان عبادة غير الله، ولفت نظره إلى ما عليه أهل نجد من الشرك، والجهل، والفرقة والاختلاف، وسفك الدماء، ونهب العباد.
وبالجملة: بَيَّن له ضعف دينهم ودنياهم، وجهلهم بشرائع الإسلام، ورجاه أن يكون إماماً يجتمع عليه المسلمون، ويكون له الملك والسيادة، ومن بعده في ذريته.
عند ذلك شرح الله صدر محمد بن سعود وأحبّه، واقتنع بما دعاه إليه الشيخ، وبشّر الأمير الشيخ بالنصرة، وبالوقوف معه على من خالفه.
وشرط الأمير على الشيخ شرطين:
الأول: أن لا يرجع الشيخ عنه إن نصرهم الله ومكّنهم.
শায়খ ১১৫৮ হিজরি সনের আসরের সময় দিরইয়াহ-তে অবতরণ করেন এবং আব্দুর রহমান ইবনে সুওয়াইলাম ও তার চাচাতো ভাই আহমদ ইবনে সুওয়াইলামের মেহমান হন।
ইবনে সুওয়াইলাম আমীর মুহাম্মদ বিন সাউদের ভয়ে নিজের প্রাণের ব্যাপারে ভীত ছিলেন, কারণ তিনি জনগণের অবস্থা জানতেন যে, তারা এই মহান আলেম যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করবে না এবং এর বিপরীতে তাকে কষ্ট দেবে, বিশেষ করে যাদের হাতে ক্ষমতা রয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।
কিন্তু ঈমান ও আল্লাহর প্রতি আস্থায় পরিপূর্ণ শায়খ তাকে আশ্বস্ত করলেন, তাকে নসিহত প্রদান করলেন, তার মনে আশা সঞ্চার করলেন এবং তাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, আল্লাহ অবশ্যই পথ প্রশস্ত করবেন এবং তাকে এক শক্তিশালী বিজয় দান করবেন। ফলে দিরইয়াহর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার সম্পর্কে জানতে পারলেন এবং গোপনে তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন তিনি তাদের নিকট তাওহীদের মর্মার্থ এবং তিনি কিসের দিকে আহ্বান করছেন তা ব্যাখ্যা করলেন।
আমীরের দুই ভাই ছিলেন: মুশারী ও সুনাইয়ান এবং তার এক বিদুষী ও বুদ্ধিমতী স্ত্রী ছিলেন।
দুই ভাই শায়খের নিকট থেকে ইলম অর্জনের পর তাদের ভাই আমীরকে জানালেন যে, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সুওয়াইলামের নিকট মেহমান হিসেবে অবস্থান করছেন এবং এই ব্যক্তি এমন এক গনীমত যা আল্লাহ আপনার নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ আপনাকে যা দিয়ে বিশেষিত করেছেন তা লুফে নিন। তারা তাকে শায়খের সাথে সাক্ষাতে আগ্রহী করে তুললেন, ফলে তিনি তা পালন করলেন এবং শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করলেন।
তখন শায়খ তাকে তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিলেন এবং বললেন যে, এই তাওহীদের জন্যই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন। তিনি তার সামনে আল-কুরআনের এমন কিছু আয়াত তিলাওয়াত করলেন যাতে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত বাতিল হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। তিনি নজদবাসীর শিরক, মূর্খতা, দলাদলি ও মতভেদ, রক্তপাত এবং মানুষের সম্পদ লুণ্ঠনের অবস্থার দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি তার কাছে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার দুর্বলতা এবং ইসলামের শরীয়ত সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা স্পষ্ট করলেন। তিনি আশা ব্যক্ত করলেন যে, তিনি এমন একজন ইমাম হবেন যার অধীনে মুসলিমরা একত্রিত হবে এবং তার ও পরবর্তীতে তার বংশধরদের হাতে রাজত্ব ও নেতৃত্ব থাকবে।
তখন আল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাউদের বক্ষ উন্মোচন করে দিলেন এবং তিনি একে পছন্দ করলেন। শায়খ তাকে যে দাওয়াত দিয়েছিলেন তাতে তিনি সন্তুষ্ট হলেন। আমীর শায়খকে সাহায্যের সুসংবাদ দিলেন এবং যারা তার বিরোধিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন।
আর আমীর শায়খের ওপর দুটি শর্তারোপ করলেন:
প্রথমটি হলো: আল্লাহ যদি তাদের বিজয় ও কর্তৃত্ব দান করেন তবে শায়খ যেন তাকে ছেড়ে চলে না যান।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والثاني: أن لا يمنع الأمير من الخراج الذي ضربه على أهل الدرعية وقت الثمار.
فقال الشيخ: "أما الأول: الدم بالدم، والهدم بالهدم. وأما الثاني: فلعل الله يفتح عليك الفتوحات، وتنال من الغنائم ما يغنيك عن الخراج".
فبايع الأمير الشيخ على الدعوة إلى الله، والجهاد في سبيل الله، والتمسك بسنة رسول الله، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، وإقامة الشعائر الدينية.
وبعد استقراره في الدرعية أتى إليه من كان ينتسب إليه، ومعتنقاً مبادئ دعوته، من رؤساء المعامرة وغيرهم، وأخذت الوفود تأتي من كل حدب لما علموا أن الشيخ في دار منعة.
عند ذلك، سمع عثمان بن معمر الذي أخرج الشيخ من بلده أن محمد بن سعود رحمه الله قد بايع الشيخ، وأنه ناصره وأهل الدرعية له مؤيدون، ومعه قائمون ومجاهدون.
فندم عثمان على ما سلف منه في حق الشيخ، فأتى إليه ومعه ثلة من الرجال من رؤساء البلاد وأعيانها، واعتذر، وطلب منه الرجوع. فعلّق الشيخ الأمر على رضاء الأمير محمد بن سعود، فرفض الأمير السماح، ورجع عثمان خائباً.
وشدت إلى الشيخ الرحال، وكثر الوافدون، ليرتووا من مناهله العذبة الصافية النقية من الخرافات والوثنية.
وكانت الحالة الاقتصادية للأمير والبلاد لا تقوي على القيام بمؤن أولئك الوافدين الطالبين؛ فكان بعضهم من شغفه وحبه للعلم يحترف بالليل بالأجرة، وفي النهار يحضر الدروس، إلى أن وسّع الله عليهم وأتى بالفرج واليسر بعد الشدة والعسر.
দ্বিতীয় শর্ত: আমির যেন দিরিয়া-বাসীদের ওপর ফল কাটার মৌসুমে যে কর (খরাজ) ধার্য করেছেন, তা থেকে তাকে (শেখকে) বাধা না দেন।
শেখ বললেন: "প্রথমটির ক্ষেত্রে: রক্তের বদলে রক্ত এবং ধ্বংসের বদলে ধ্বংস। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: সম্ভবত আল্লাহ আপনার জন্য অনেক বিজয় দান করবেন এবং আপনি গনিমতের মাল থেকে এমন কিছু লাভ করবেন যা আপনাকে কর (খরাজ) থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।"
অতঃপর আমির আল্লাহর দিকে দাওয়াত, আল্লাহর পথে জিহাদ, রাসূলুল্লাহর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ এবং দ্বীনি নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার ওপর শেখের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করলেন।
দিরিয়াতে তার থিতু হওয়ার পর, যারা তার অনুসারী ছিল এবং তার দাওয়াতের মূলনীতি গ্রহণ করেছিল, যেমন মুয়ামারা বংশের প্রধানগণ ও অন্যান্যরা, তারা তার কাছে আসতে শুরু করল। আর যখন প্রতিনিধি দলগুলো জানতে পারল যে শেখ একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে আছেন, তখন তারা সবদিক থেকে আসতে লাগল।
এই সময়ে, উসমান বিন মুয়াম্মার—যিনি শেখকে তার শহর থেকে বের করে দিয়েছিলেন—শুনতে পেলেন যে মুহাম্মদ বিন সাউদ (রহিমাহুল্লাহ) শেখের কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাকে সাহায্য করছেন, আর দিরিয়া-বাসীরা তার সমর্থক এবং তার সাথে ঐক্যবদ্ধ ও জিহাদে লিপ্ত।
তখন উসমান শেখের প্রতি তার পূর্ববর্তী আচরণের জন্য অনুতপ্ত হলেন। তিনি ওই অঞ্চলের একদল নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শেখের কাছে আসলেন, ক্ষমা চাইলেন এবং তাকে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করলেন। শেখ বিষয়টি আমির মুহাম্মদ বিন সাউদের সম্মতির ওপর ছেড়ে দিলেন; কিন্তু আমির অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন এবং উসমান ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলেন।
অতঃপর শেখের নিকট ভ্রমণের কাফেলা যাত্রা করতে শুরু করল এবং আগন্তুকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, যাতে তারা কুসংস্কার ও মূর্তিপূজা থেকে মুক্ত তার বিশুদ্ধ ও নির্মল ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান পিপাসা নিবারণ করতে পারে।
সে সময় আমির এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এই জ্ঞানান্বেষী আগন্তুকদের ব্যয়ভার বহন করার মতো শক্তিশালী ছিল না। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইলমের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসার কারণে রাতে মজুর হিসেবে কাজ করত এবং দিনে দরসে উপস্থিত হতো। পরিশেষে আল্লাহ তাদের জন্য প্রশস্ততা দান করলেন এবং কষ্ট ও সংকটের পর স্বস্তি ও প্রাচুর্য নিয়ে আসলেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وثابر الشيخ باذلاً جهده ووسعه في إرشاد الناس وتعليمهم، وبيان معنى "لا إله إلا الله"، وأنها نفي وإثبات؛ ف "لا إله" تنفي جميعا المعبودات، و"إلا الله" تثبت العبادة لله.
وشرح لهم معنى الألوهية بأن الإله: هو الذي تأله القلوب محبة وخوفاً وإجلالاً ورجاءاً. وعلّمهم الأصول الثلاثة.
وبفضل تعاليمه الرشيدة، تنورت أذهانهم، وصفت قلوبهم، وصحت عقائدهم، وزادت محبة الشيخ في قلوب الوافدين إليه.
ثم أخذ يراسل رؤساء البلدان النجدية وقضاتهم، ويطلب منهم الطاعة والانقياد، ونبذ الشرك والعناد.
فمنهم من أطاعه، ومنهم من عصاه، واتخذه سخرياً، واستهزأ به، ونسبه إلى الجهل وعدم المعرفة.
ومنهم: من نسبه إلى السحر.
ومنهم: من رماه بأمور منكرة، هو منها بريء. قاتل الله الجهل والتقليد الأعمى.
ولو كان لأولئك عقل، لعقلوا أن الجاهل لا يستطيع إقامة الأدلة الصحيحة على مطالبه، الجاهل لا يستطيع أن يبارز العلماء الأجلاء ببراهين عقلية وحجج سمعية تقصر السامع على الخضوع، الساحر لا يأمر بخير، لا يأمر بمعروف، ولا ينهى عن منكر.
ولكن لا عجب، فقد قيل سابقاً للمرسلين ولجميع المصلحين، مثل هذا الكلام.
واصل الشيخ ليله ونهاره في نشر الدعوة والوعظ، وكتابة الرسائل العلمية مكتفياً بهذه الوسيلة السلمية،
শেখ নিরলসভাবে তাঁর প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য ব্যয় করেছেন মানুষকে পথপ্রদর্শন ও শিক্ষা দেওয়ার কাজে, এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ বর্ণনায়। তিনি বুঝিয়েছেন যে, এটি মূলত অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির সমষ্টি; অর্থাৎ 'লা ইলাহা' সকল উপাস্যকে অস্বীকার করে, আর 'ইল্লাল্লাহ' একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে সাব্যস্ত করে।
তিনি তাদের কাছে উলুহিয়্যাতের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন যে, 'ইলাহ' হলেন তিনি, যাঁর প্রতি অন্তরসমূহ ভালোবাসা, ভয়, মর্যাদা ও আশার সাথে ধাবিত হয়। তিনি তাদের তিনটি মূলনীতি (উসুল আস-সালাসা) শিক্ষা দিয়েছেন।
তাঁর সঠিক নির্দেশনার বরকতে তাদের চিন্তাচেতনা আলোকিত হলো, হৃদয়সমূহ পরিচ্ছন্ন হলো এবং তাদের আকিদা বিশুদ্ধ হলো। যারা তাঁর কাছে আসতেন, তাদের অন্তরে শেখের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পেল।
এরপর তিনি নজদ অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদের প্রধান ও বিচারকদের কাছে পত্র লিখতে শুরু করেন এবং তাঁদের কাছে আনুগত্য ও অনুগত্যের এবং শিরক ও হঠকারিতা বর্জনের আহ্বান জানান।
তাদের মধ্যে কেউ তাঁর আনুগত্য করল, আবার কেউ তাঁর অবাধ্য হলো এবং তাঁকে বিদ্রূপের পাত্র বানাল, উপহাস করল এবং তাঁকে মূর্খতা ও অজ্ঞতার বিশেষণে বিশেষিত করল।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে জাদুর সাথে সংশ্লিষ্ট করল।
তাদের মধ্যে কেউ তাঁকে এমন সব জঘন্য বিষয়ে অভিযুক্ত করল যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। আল্লাহ মূর্খতা ও অন্ধ অনুকরণকে ধ্বংস করুন।
তাদের যদি নূন্যতম বুদ্ধি থাকত, তবে তারা বুঝত যে, একজন মূর্খ ব্যক্তি তার দাবির পক্ষে সঠিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারে না। একজন অজ্ঞ ব্যক্তি মহান আলেমদের সাথে এমন যৌক্তিক দলিল ও শরয়ী প্রমাণের মাধ্যমে মুকাবেলা করতে পারে না যা শ্রোতাকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করে। একজন যাদুকর কখনও কল্যাণের আদেশ দেয় না, সৎকাজের নির্দেশ দেয় না এবং মন্দকাজ থেকে নিষেধ করে না।
কিন্তু এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ ইতিপূর্বে রাসূলগণের প্রতি এবং সকল সংস্কারকের প্রতিও অনুরূপ কথা বলা হয়েছিল।
শেখ দিন-রাত দাওয়াত প্রচার, ওয়াজ-নসিহত এবং ইলমি পত্র রচনার কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত থাকলেন এবং এই শান্তিপূর্ণ পন্থার ওপরই তুষ্ট থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والأمير "محمد بن سعود" يؤازره حسب مقدرته.
ولكن خصوم الدعوة كانوا يعملون على تأليف القلوب لمحاربة الدعوة بكل الوسائل، والاعتداء على الداخلين في الدعوة، فلم ير الشيخ محمد والأمير بُدّاً من الاستعانة بالسيف بجانب الدعوة الدينية، واستمرت الحروب الدينية سنين عديدة، وكان النصر حليف ابن سعود في أغلب المواقف، وكانت القرى تسقط واحدة تلو الأخرى بيده، ودخل البعض في الطاعة بالاختيار والرغبة، لما عرف حقيقة الأمر.
وإن أردت معرفة عناد القوم وبغيهم وجورهم واعتدائهم، ونقض بعضهم للعهد مرة بعد مرة، فاقرأ "عنوان المجد"، وأن زعماء الدعوة ما كانت خطتهم إلا الدفاع، ورفع العقبات عن سبيل الدعوة الخالصة.
وبعد فتح الرياض1 واتساع ملكهم، وانقياد كل صعب لهم، فوض الشيخ أمور الناس وأموال الغنائم إلى عبد العزيز بن محمد بن سعود الأمير، وتفرّغ الشيخ للعلم وللعبادة وإلقاء الدروس.
وكان محمد وابنه عبد العزيز لا يتصرفان في شيء إلا بعد أن يعلماه، ليعلمهما الحكم الشرعي، ولا ينفذان حكماً إلا عن أمره ورأيه.
--------------------------------------------
এবং আমির "মুহাম্মদ বিন সউদ" তার সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁকে সহযোগিতা করতেন।
কিন্তু দাওয়াতের বিরোধীরা সব উপায়ে দাওয়াতের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করছিল এবং যারা দাওয়াতে প্রবেশ করেছিল তাদের ওপর আক্রমণ করছিল। তাই শেখ মুহাম্মদ এবং আমির ধর্মীয় দাওয়াতের পাশাপাশি তলোয়ারের সাহায্য নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখলেন না। ধর্মীয় যুদ্ধ বহু বছর ধরে চলতে থাকে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজয় ইবনে সউদের পক্ষেই ছিল। গ্রামগুলো একে একে তাঁর হস্তগত হতে থাকে এবং কেউ কেউ প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় ও আগ্রহের সাথে আনুগত্য স্বীকার করে নেয়।
আপনি যদি সেই লোকেদের একগুঁয়েমি, বিদ্রোহ, জুলুম এবং আক্রমণ সম্পর্কে জানতে চান এবং তাদের অনেকের বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গের কথা জানতে চান, তবে "উনওয়ানুল মাজদ" গ্রন্থটি পড়ুন। দাওয়াতের নেতাদের পরিকল্পনা ছিল কেবল প্রতিরক্ষা এবং বিশুদ্ধ দাওয়াতের পথ থেকে বাধা দূর করা।
রিয়াদ বিজয়১ এবং তাদের রাজ্যের বিস্তৃতি ও সমস্ত প্রতিকূলতা বশীভূত হওয়ার পর, শেখ জনগণের বিষয়াবলি এবং গনিমতের সম্পদের দায়িত্ব আমির আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সউদের ওপর অর্পণ করেন এবং শেখ নিজে জ্ঞানচর্চা, ইবাদত ও দরস প্রদানে মনোনিবেশ করেন।
মুহাম্মদ এবং তাঁর পুত্র আব্দুল আজিজ কোনো বিষয়েই পদক্ষেপ নিতেন না যতক্ষণ না তাঁকে অবহিত করতেন, যাতে তিনি তাঁদের শরয়ি বিধান জানিয়ে দিতে পারেন। এবং তাঁরা তাঁর নির্দেশ ও অভিমত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وما زال الشيخ على هذه الحالة الحسنة، والسيرة الطيبة الطاهرة؛ حتى انتقل إلى جوار ربه في ذي القعدة سنة 1206، رحمه الله وأسكنه فسيح الجنان.
علم الشيخ وصفاته:
كان الشيخ رحمه الله تعالى علماً من الأعلام، ناصراً للسنة، وقامعاً للبدعة، خبيراً مطلعاً، إماماً في التفسير والحديث والفقه وأصوله، وعلوم الآلة كالنحو والصرف والبيان، عارفاً بأصول عقائد الإسلام وفروعها، كشافاً للمشكلات، حلالاً للمعضلات، فصيح اللسان، قوي الحجة، مقتدراً على إبراز الأدلة، وواضح البراهين بأبلغ عبارة وأبينها، تلوح على محياه علامات الصلاح، وحسن السيرة، وصفاء السريرة، يحب العباد، ويغدق عليهم من كرمه، ويصلهم ببره وإحسانه، ويخلص لله في النصح والإرشاد، كثير الاشتغال بالذكر والعبادة، قلما يفتر لسانه من ذكر الله.
وكان يعطي عطاء الواثق بربه، ويتحمّل الدين الكثير لضيوفه، ومن يسأله، وكان عليه أُبَّهة العظمة، تنظره الناس بعين الإجلال والتعظيم؛ مع كونه متصفاً بالتواضع واللين، مع الغني والفقير، والشريف والوضيع.
وكان يخص طلبة العلم بالمحبة الشديدة، وينفق عليهم من ماله، ويرشدهم على حسب إستعدادهم.
وكان يجلس كل يوم عدة مجالس ليلقي دروسه في مختلف العلوم، من توحيد، وتفسير، وحديث، وفقه، وأصول وسائر العلوم العربية.
وكان عالماً بدقائق التفسير والحديث، وله الخبرة التامة في علله ورجاله، غير ملول ولا كسول من التقرير والتحرير، والتأليف والتدريس.
وكان صبوراً عاقلاً، حليماً، لا يستفزه الغضب إلا أن تنتهك حرمة الدين، أو تهان شعائر المسلمين، فحينئذ يناضل بسيفه ولسانه، معظِّماً للعلماء، منوهاً بما لهم من الفضائل، آمراً بالمعروف، ناهياً عن المنكر، غير صبور
শাইখ এই উত্তম অবস্থা এবং সুন্দর ও পবিত্র জীবনবৃত্তান্তের ওপর অটল ছিলেন; অবশেষে ১২০৬ হিজরির জিলকদ মাসে তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান, আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং তাঁকে প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করুন।
শাইখের ইলম ও গুণাবলি:
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন সুউচ্চ মিনারস্বরূপ ব্যক্তিত্ব, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং বিদআতের দমনকারী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সুপণ্ডিত; তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ এবং সহায়ক জ্ঞানবিজ্ঞান যেমন—নাহু, সরফ ও বয়ান শাস্ত্রে একজন ইমাম। তিনি ইসলামের আকীদার মূলনীতি ও এর শাখাপ্রশাখাসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি জটিল বিষয়সমূহের উন্মোচনকারী, দুরূহ সমস্যার সমাধানকারী, অত্যন্ত বাগ্মী এবং প্রখর যুক্তিবাদী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও সুস্পষ্ট ভাষায় দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনে সক্ষম ছিলেন। তাঁর চেহারায় সততা, উত্তম চরিত্র এবং অন্তরের স্বচ্ছতার চিহ্ন ফুটে উঠত। তিনি আল্লাহর বান্দাদের ভালোবাসতেন, তাঁদের প্রতি উদারভাবে দান করতেন এবং স্বীয় মহানুভবতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। তিনি নসীহত ও দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি যিকর ও ইবাদতে অত্যন্ত মশগুল থাকতেন, আল্লাহর যিকর থেকে তাঁর জিহ্বা খুব কমই বিরত থাকত।
তিনি তাঁর রবের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল ব্যক্তির ন্যায় দান করতেন এবং মেহমান ও সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য প্রচুর ঋণের বোঝা বহন করতেন। তাঁর মধ্যে গাম্ভীর্য ও মহিমা প্রকাশ পেত; মানুষ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখত। তা সত্ত্বেও তিনি ধনী-দরিদ্র এবং উচ্চ-নীচ নির্বিশেষে সকলের সাথে বিনয় ও নম্রতার সাথে আচরণ করতেন।
তিনি জ্ঞানান্বেষীদের বিশেষভাবে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, নিজের সম্পদ থেকে তাঁদের জন্য ব্যয় করতেন এবং তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী তাঁদের দিকনির্দেশনা দিতেন।
তিনি প্রতিদিন তাওহীদ, তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, উসূলে ফিকহ এবং অন্যান্য আরবি জ্ঞানবিজ্ঞানের পাঠদানের জন্য একাধিক মজলিসে উপবিষ্ট হতেন।
তিনি তাফসীর ও হাদীসের সূক্ষ্ম বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। হাদীসের ত্রুটি (ইলাল) এবং বর্ণনাকারী (রিজাল) শাস্ত্র সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। আলোচনা, লিখনী, গ্রন্থ রচনা এবং পাঠদানের ক্ষেত্রে তিনি কখনোই ক্লান্ত বা অলস হতেন না।
তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল, বুদ্ধিমান ও সহনশীল। দ্বীনের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হওয়া অথবা মুসলিমদের নিদর্শনাবলি অপমানিত হওয়া ব্যতীত ক্রোধ তাঁকে উত্তেজিত করতে পারত না। এমতাবস্থায় তিনি স্বীয় তলোয়ার ও জিহ্বা দ্বারা লড়াই করতেন। তিনি আলেমদের সম্মান করতেন এবং তাঁদের মর্যাদার কথা উল্লেখ করতেন। তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতেন, অন্যায়ের ব্যাপারে তিনি মোটেই ধৈর্যশীল ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
على البدع، ينكر على فاعليها بلين ورفق، متجنباً الشدة والغضب والعنف، إلا أن تدعو إليه الحاجة.
ولا غرو إذا اتصف الشيخ بتلك السجايا الحميدة، والأخلاق الكريمة، فقد ورث تلك عن آبائه واسلافه الأبرار، لأنهم كانوا معروفين بالعلم والفضل والزهد.
فقد كان جده سليمان بن علي عالم نجد في زمانه له اليد الطولى في كثير من الفنون، فشدت إليه الرحال من أصقاع نجد لتحصيل العلوم.
قال ابن بشر: "صنّف مصنفات عديدة، ودرّس وأفتى،وأفاد طلاب العلوم من علمه الواسع".
وأبوه الشيخ عبد الوهاب قد كان عالماً كاملاً، ورعاً، زاهداً، له معرفة تامة في علوم الشريعة وآلاتها. تولّى القضاء في عدة أماكن من نجد، منها العيينة، وحريملا، وله مؤلفات ورسائل مستحسنة، فرحم الله الجميع رحمة واسعة.
مؤلفات الشيخ:
ألّف عدة كتب: منها: "كتاب التوحيد"، وهوغني بالشهرة عن التعريف به. "كشف الشبهات". "ثلاثة الأصول". "مختصر السيرة النبوية". "مختصر الإنصاف والشرح الكبير في الفقه". "نصيحة المسلمين بأحاديث خاتم المرسلين". "كتاب الكبائر". "آداب المشي إلى الصلاة". "أصول الإيمان". "مختصر زاد المعاد". "مختصر صحيح البخاري". "مسائل الجاهلية". "استنباط من القرآن" يقع في جزأين.
বিদআতের বিরুদ্ধে তিনি এর সাথে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি নম্রতা ও কোমলতার সাথে আপত্তি জানাতেন, কঠোরতা, ক্রোধ এবং উগ্রতা পরিহার করতেন, যদি না তার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিত।
শেখ যদি এই সকল প্রশংসনীয় গুণাবলী ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী হন তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি তাঁর পুণ্যবান পিতা ও পূর্বপুরুষদের থেকে এগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন, কেননা তাঁরা ইলম, মর্যাদা এবং দুনিয়াবিমুখতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
তাঁর দাদা সুলাইমান বিন আলী তাঁর সময়ে নজদের প্রখ্যাত আলেম ছিলেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, ফলে জ্ঞান অর্জনের জন্য নজদের দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর নিকট শিক্ষার্থীরা সফর করে আসত।
ইবনে বিশর বলেন: "তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, অধ্যাপনা করেছেন এবং ফতোয়া প্রদান করেছেন, আর তাঁর প্রশস্ত ইলম দ্বারা জ্ঞানপিপাসুদের উপকৃত করেছেন।"
তাঁর পিতা শেখ আব্দুল ওয়াহাব ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ আলেম, পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি; শরীয়তের ইলম ও এর সহায়ক শাখাগুলোতে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ছিল। তিনি নজদের বেশ কিছু স্থানে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে উয়াইনা ও হারাইমিলা অন্যতম। তাঁর বেশ কিছু চমৎকার রচনা ও পত্রাবলী রয়েছে; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।
শেখের রচনাবলী:
তিনি বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: "কিতাবুত তাওহীদ", যা এর ব্যাপক খ্যাতির কারণে কোনো নতুন পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নয়। "কাশফুশ শুবুহাত"। "সালাসাতুল উসুল"। "মুখতাসারুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ"। "ফিকহ শাস্ত্রে মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াশ শারহুল কাবীর"। "নসীহাতুল মুসলিমীন বি-আহাদীসে খাতামিল মুরসালীন"। "কিতাবুল কাবায়ের"। "আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাত"। "উসূলুল ঈমান"। "মুখতাসারু যাদিল মাআদ"। "মুখতাসারু সহীহিল বুখারী"। "মাসায়িলুল জাহিলিয়্যাহ"। "ইস্তিনবাত মিনাল কুরআন" যা দুই খণ্ডে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
"أحاديث الفتن". وله رسائل عديدة، أكثرها في التوحيد.
أبناء الشيخ وتلامذته:
ذكر في "عنوان المجد": أن الشيخ رحمه الله قد أخذ عنه العلم عدة من العلماء الأجلاء، منهم: أبناؤه الأربعة العلماء، والقضاة الفضلاء، الذين درسوا العلوم الشرعية والفنون الأدبية، كما درسوا الفروع والأصول، وصارت لهم ملكة في المعقول والمنقول: حسين، وعبد الله، وعلي، وإبراهيم1.
وقد كان لكل واحد منهم قرب بيته مدرسة، وعنده من طلاب العلوم من أهل الدرعية والغرباء العدد الكثير، بحيث قد يعده السامع أنه قد بولغ في العدد.
ولا زال العلم في ذرية الشيخ وسيكون إن شاء الله باقياً إلى أن تقوم الساعة.
وآل الشيخ في هذا اليوم هم القائمون في المملكة العربية السعودية بالوظائف الدينية، من الإفتاء، والتدريس، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ورئاسة المعاهد والكليات، وحل المشاكل، والدفاع عن حوزة الدين، ونصر شريعة سيد المرسلين. فجزاهم الله أحسن الجزاء، ووفقنا وإياهم لما يحبه ويرضاه.
وأما التلامذة والطلاب الذين نهلوا من منهل الشيخ، وتخرجوا على يده، وصاروا قضاة ومفتين، فلا تحصيهم الأقلام.
ولا بأس أن نذكر عدداً قليلاً:
فمنهم الشيخ العالم الجليل: حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر، والد مؤلف "منحة القريب"2.
--------------------------------------------
"ফিতনা সম্পর্কিত হাদিসসমূহ"। এবং তাঁর অনেকগুলো রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে, যার অধিকাংশ তাওহীদ প্রসঙ্গে।
শাইখের সন্তান ও তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
"উনওয়ানুল মাজদ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে: শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বহু বরেণ্য আলেম ইলম অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর চার আলেম পুত্র এবং বিজ্ঞ বিচারকগণ, যাঁরা শরয়ী জ্ঞান ও সাহিত্যবিদ্যা অধ্যয়ন করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা ফুরু (শাখা-প্রশাখা) ও উসুল (মূলনীতিসমূহ) অধ্যয়ন করেছেন এবং যৌক্তিক ও শ্রুতিজাত বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেছেন: তাঁরা হলেন হুসাইন, আব্দুল্লাহ, আলী ও ইবরাহিম১।
তাঁদের প্রত্যেকেরই বাড়ির কাছে একটি করে মাদরাসা ছিল এবং তাঁদের কাছে দিরইয়াহর বাসিন্দা ও বহিরাগত অনেক ইলম অন্বেষণকারী ছাত্র ছিল, যার সংখ্যা শুনলে শ্রোতার মনে হতে পারে যে এতে অতিরঞ্জন করা হয়েছে।
আর শাইখের বংশধরদের মাঝে ইলম এখনও বিদ্যমান রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তা অবশিষ্ট থাকবে।
বর্তমান সময়ে সৌদি আরব রাজ্যে 'আলে শাইখ' (শাইখের পরিবার)-ই ধর্মীয় দায়িত্বসমূহ পালন করছেন, যার মধ্যে রয়েছে ফতোয়া প্রদান, শিক্ষকতা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, ইনস্টিটিউট ও কলেজসমূহের সভাপতিত্ব, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, দ্বীনের হেফাযত এবং রাসূলগণের সরদারের শরীয়তকে সাহায্য করা। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের ও তাঁদেরকে এমন কাজ করার তাওফিক দিন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
আর ওই সকল ছাত্র ও শিক্ষার্থী যাঁরা শাইখের জ্ঞান-উৎস থেকে পান করেছেন এবং তাঁর হাতে শিক্ষা সমাপন করে বিচারক ও মুফতি হয়েছেন, কলম দ্বারা তাঁদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়।
অল্প কয়েকজনের নাম উল্লেখ করাতে কোনো বাধা নেই:
তাঁদের মধ্যে একজন হলেন বরেণ্য আলেম শাইখ: হামদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুয়াম্মার, যিনি "মিনহাতুল কারিব" গ্রন্থের লেখকের পিতা।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والشيخ الزاهد الورع: عبد العزيز بن عبد الله الحصين الناصري، تولى القضاء إذ ذاك في ناحية الوشم.
والشيخ الفاضل العالم العامل: سعيد بن حجي، قاضي حوطة بني تميم.
والعالم الجليل الشيخ: عبد الرحمن بن نامي، تولى القضاء ببلد "العيينة" والأحساء.
والشيخ المفضال: أحمد بن راشد العريني، القاضي في ناحية "سدير".
والشيخ: عبد العزيز أبو حسين.
والشيخ: حسن بن عيدان، وكان قاضياً في بلد حريملاء.
والشيخ: عبد العزيز بن سويلم، وكان قاضياً في بلد "القصيم".
ومن ذرية الشيخ حسن، وأشهر الموجودين من نسله في عصرنا الحاضر، الشيخ: محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن، وهو الآن مفتي المملكة العربية السعودية، وإليه مرجع الهيئات الدينية.
وأخوه الشيخ: عبد اللطيف؛ رئيس المعاهد الدينية والكليات، والشيخ: عبد الملك رئيس هيئات الأمر بالمعروف بمكة المكرمة.
كما أن من أشهر الموجودين من نسل الشيخ حسين بن محمد، الشيخ: عمر بن حسن، رئيس هيئة الأمر بالمعروف ب "نجد" والمنطقة الشرقية.
عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وجميع النجديين
عقيدته كعقيدة السلف الصالح، على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، والتابعون، والأئمة المهتدون: كأبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، وسفيان الثوري، وابن عيينة، وابن المبارك، والبخاري، ومسلم، وأبي داود، وسائر أهل السنن ممن تبعهم من أهل الفقه والأثر؛ كالأشعري، وابن خزيمة، وتقي الدين بن تيمية، وابن القيم، والذهبي، رحمهم الله.
এবং যাহিদ ও পরহেজগার শায়খ: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-হুসাইন আন-নাসিরি, তিনি সেই সময় আল-ওয়াশম অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এবং ফযিলতপূর্ণ আলেম ও আমলকারী শায়খ: সাঈদ বিন হাজ্জি, হাউতাত বনী তামিমে’র কাজী।
এবং মহান আলেম শায়খ: আবদুর রহমান বিন নামি, তিনি 'আল-উয়াইনাহ' ও আল-আহসা শহরে কাজীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এবং পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ: আহমদ বিন রাশিদ আল-উরাইনি, 'সুদাইর' অঞ্চলের কাজী।
এবং শায়খ: আবদুল আজিজ আবু হুসাইন।
এবং শায়খ: হাসান বিন আইদান, তিনি হুরাইমিলা শহরে কাজী ছিলেন।
এবং শায়খ: আবদুল আজিজ বিন সুওয়াইলাম, তিনি 'আল-কাসিম' শহরে কাজী ছিলেন।
আর শায়খ হাসানের বংশধরদের মধ্যে এবং বর্তমান যুগে তাঁর বংশের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হলেন শায়খ: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আবদুল লতিফ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান। তিনি বর্তমানে সৌদি আরব রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর প্রধান মারজা (আশ্রয়স্থল)।
এবং তাঁর ভাই শায়খ: আবদুল লতিফ; ধর্মীয় ইনস্টিটিউট ও কলেজসমূহের প্রধান, এবং শায়খ: আবদুল মালিক মক্কা মুকাররমার সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী সংস্থাগুলোর প্রধান।
তেমনিভাবে শায়খ হুসাইন বিন মুহাম্মদের বংশধরদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন শায়খ: উমর বিন হাসান, যিনি 'নজদ' ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী সংস্থার প্রধান।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব এবং সকল নজদবাসীর আকিদা
তাঁর আকিদা হলো সালাফে সালেহীনের আকিদার অনুরূপ; যার উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ ছিলেন: যেমন আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ, আহমদ, সুফিয়ান আস-সাওরী, ইবনে উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং অন্যান্য সুনান গ্রন্থপ্রণেতাগণ এবং ফিকহ ও আসার শাস্ত্রের সেই সকল ব্যক্তিবর্গ যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন; যেমন আশআরী, ইবনে খুযাইমাহ, তাকীউদ্দিন ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম এবং যাহাবী, আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আকীদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া ছানাউল উলামায়ি আলাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يعتقد أن الله واحد أحد، فرد صمد، لا شريك له ولا مثيل، ولا وزير له ولا مشير، لم يتخذ صاحبة ولا ولداً، عالم بكل شيء ما كان وما يكون، ومالم يكن، لو كان كيف يكون، قادر على كل شيء، لا يعجزه شيء، بل هو الفعّال لما يريد، ويثبت جميع صفات الله العليا، وأسماءه الحسنى كما نطق الكتاب، وجاءت به السنة الصحيحة من صفة: العلم، والسمع، والبصر، والقدرة، والإرادة، والكلام، والاستواء على العرش، والنزول كل ليلة إلى سماء الدنيا، وسائر الصفات الذاتية والفعلية والخبرية.
يؤمن بها، ويمرّها كما جاءت من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل.
توحيد العبادة والربوبية:
يعتقد: بأن الله هو الحي القادر الخالق، الرازق، المحيي، المميت.
يؤمن بأن يُفرد ربنا بالعبادة، ولا يُشرك به أحد، لا ملك مقرّب، ولا نبي مرسل.
ويبرأ من عبادة ما سواه كائناً ماكان، وهذا هو الحكمة1 التي خلق الله لأجلها الجن والإنس، وأُرسلت لها الرسل، وأُنزلت بها الكتب.
ويبرأ من عبادة الأحجار والأشجار والصالحين الأخيار.
ويبرأ من عابديها، ويقيم الحجج العقلية والنقلية على أنها شرك وضلال، وكفر بالله ذي الجلال، كقوله تعالى حكاية عن قول الرسل لأقوامهم: {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} ، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} .
وكقوله: {إِنْ تَدْعُوهُمْ لا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} .
--------------------------------------------
তিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, একক ও অমুখাপেক্ষী; তাঁর কোনো শরিক বা সমকক্ষ নেই এবং তাঁর কোনো উজির বা পরামর্শদাতা নেই। তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত—যা অতীতে হয়েছে, যা বর্তমানে হচ্ছে এবং যা ভবিষ্যতে হবে; আর যা ঘটেনি তা যদি ঘটত তবে কীভাবে হতো। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না; বরং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন। তিনি আল্লাহর সকল সুউচ্চ গুণাবলি এবং সুন্দর নামসমূহ সাব্যস্ত করেন যেভাবে কিতাব বর্ণনা করেছে এবং সহিহ সুন্নাহতে এসেছে। এসব গুণের মধ্যে রয়েছে: জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি, ক্ষমতা, ইচ্ছা, কথা বলা, আরশের উপর ওঠা, প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা এবং অন্যান্য সকল সত্তাগত, কর্মগত ও সংবাদগত গুণাবলি।
তিনি এগুলোর ওপর ঈমান রাখেন এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই সেগুলোকে বহাল রাখেন—কোনো প্রকার বিকৃতি, অস্বীকার, ধরন নির্ধারণ বা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই।
ইবাদাত ও রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ:
তিনি বিশ্বাস করেন: আল্লাহই চিরঞ্জীব, সর্বক্ষমতাবান, স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী ও মৃত্যুদানকারী।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, কেবল আমাদের রবকেই ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না—না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে, না কোনো প্রেরিত নবীকে।
তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য যেকোনো কিছুর ইবাদাত থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেন, তা যা-ই হোক না কেন। আর এটিই হলো সেই প্রজ্ঞা১ যার জন্য আল্লাহ জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, যার জন্য রাসুলদের প্রেরণ করা হয়েছে এবং যার মাধ্যমে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে।
তিনি পাথর, বৃক্ষ এবং নেককার পুণ্যবানদের ইবাদাত করা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
তিনি এদের ইবাদাতকারীদের থেকেও সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং আকলি ও নাকলি প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন যে, এগুলো শিরক ও পথভ্রষ্টতা এবং মহিমান্বিত আল্লাহর সাথে কুফরি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী, যেখানে তিনি রাসুলদের নিজ কওমকে বলা কথার উদ্ধৃতি দিয়েছেন: {হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই}, {হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদাত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন}।
এবং যেমন তাঁর বাণী: {তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। কিয়ামত দিবসে তারা তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে। আর সম্যক পরিজ্ঞাত সত্তার মতো কেউ তোমাকে সংবাদ দিতে পারবে না}।
--------------------------------------------