(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
اليسر والسماحة في الإسلام   (فالح بن محمد الصغير)

القسم: كتب عامة


الكتاب: اليسر والسماحة في الإسلام

المؤلف: فالح بن محمد الصغير

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 47

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 59

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামে সহজতা ও উদারতা   (ফালিহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাগীর)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: ইসলামে সহজতা ও উদারতা

লেখক: ফালিহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাগীর

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪৭

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
اليسر والسماحة في الإسلام إعداد

أد. فالح بن محمد الصغير

كلية أصول الدين - جامعة الإمام

بسم الله الرحمن الرحيم‌‌ المقدمة الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه إلى يوم الدين، وبعد:

إن الإسلام هو الدين الذي اختاره الله - تعالى - لعباده، منذ أن خلق الخليقة الأولى آدم عليه السلام، يقول الله تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (1) . ويقول أيضًا: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} (2) . وجعل لهذا الدين محورًا واحدًا إلى يوم القيامة، هو توحيده جل وعلا، وهو المحور الذي كان يدعو إليه الأنبياء والرسل أقوامهم وأتباعهم، يقول جل ثناؤه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (3) . وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (4) .

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 19.

(2) سورة آل عمران، الآية: 85.

(3) سورة النحل، الآية: 36.

(4) سورة الذاريات، الآية: 56.
ইসলামে সহজতা ও সহনশীলতা

প্রস্তুতকরণে: প্রফেসর ড. ফালিহ বিন মুহাম্মাদ আস-সগির

ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি (أصول الدين) অনুষদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।‌ ‌ ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও প্রতিদান দিবস (يوم الدين) পর্যন্ত তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইসলাম হলো সেই দ্বীন যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন, সৃষ্টির সূচনালগ্নে আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকেই। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} (১)। তিনি আরও ইরশাদ করেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না} (২)। আর তিনি এই দ্বীনের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত একটিই মূল ভিত্তি নির্ধারণ করেছেন, তা হলো মহান আল্লাহর তাওহিদ (একত্ববাদ)। এটিই সেই মূল ভিত্তি যার দিকে নবী ও রাসুলগণ তাঁদের কওম ও অনুসারীদের আহ্বান করতেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের নিকট অবশ্যই একজন রাসুল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} (৩)। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯।

(২) সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫।

(৩) সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬।

(৪) সুরা আজ-জারিয়াত, আয়াত: ৫৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২)
ولكن أحكام هذا الدين كانت تختلف من رسالة إلى أخرى، وكانت تلك الأحكام مقتصرة على أقوام وأفراد في زمان ومكان محددين، ولا تدوم أحكام أية رسالة بعد وفاة نبيها لأمد طويل، فسرعان ما يعتريها التحريف والتبديل، فيفسد التوحيد عند الناس، وتعم المعاصي والمظالم، حتى يرسل الله تعالى نبيًّا آخر يجدد للناس دينهم، ويردهم إلى توحيد الله وهديه، هكذا كانت سنة الله - تعالى - في الأمم السابقة.

حتى بعث الله - تعالى - آخر رسله صلى الله عليه وسلم ومعه آخر رسالة، فجاءت هذه الرسالة عامة للإنس والجن، والأبيض والأسود، والعرب والعجم، وهي الرسالة التي حملت مضمونين جديدين، هما الرحمة والعالمية، لقوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء، الآية: 107.
কিন্তু এই দ্বীনের বিধানসমূহ এক রিসালাত থেকে অন্য রিসালাতে ভিন্ন হতো, এবং সেই বিধানগুলো নির্দিষ্ট সময়ের ও স্থানের বিশেষ কওম ও ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কোনো নবীর ইন্তেকালের পর তাঁর আনীত রিসালাতের বিধান দীর্ঘকাল স্থায়ী হতো না, বরং দ্রুতই তাতে বিকৃতি ও পরিবর্তন প্রবেশ করত। ফলে মানুষের মাঝে তাওহীদ বিনষ্ট হয়ে যেত এবং পাপ ও অন্যায়-অবিচার ছড়িয়ে পড়ত, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা অন্য একজন নবী প্রেরণ করতেন যিনি মানুষের জন্য তাদের দ্বীনকে পুনর্জীবিত করতেন এবং তাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ ও হেদায়েতের দিকে ফিরিয়ে আনতেন। পূর্ববর্তী উম্মতদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার নীতি এমনই ছিল।

অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশেষ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর সাথে পাঠালেন সর্বশেষ রিসালাত। এই রিসালাত মানব ও জিন, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ এবং আরব ও অনারব—সবার জন্য সার্বজনীন হয়ে এল। এটি এমন এক রিসালাত যা দুটি নতুন বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে, তা হলো রহমত ও বিশ্বজনীনতা; যেহেতু আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।" (১)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
إن هذا الدين العالمي الذي يخاطب الناس كافة، بجميع أعراقهم وأطيافهم، في كل أرجاء الأرض، لا بد أن يتميز بصفات وخصائص تتناسب مع أحوال الناس وظروفهم في البلاد المتفرقة من العالم، فجاء يحمل في أحكامه وتشريعاته التيسير والسعة، فلا تخلو فريضة من الفرائض ولا شعيرة من الشعائر إلا وقد أضفى عليها الله - تعالى - من اليسر ما يجعل الإنسان قادرًا على تطبيقها والقيام بها على الصورة التي أرادها الله - تعالى - ورسوله صلى الله عليه وسلم، لأنه عز وجل لا يكلف النفس فوق طاقتها أبدًا: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 286.
নিশ্চয়ই এই বিশ্বজনীন দ্বীন যা পৃথিবীর সকল প্রান্তের সকল জাতি ও বর্ণের সমস্ত মানুষকে সম্বোধন করে, তাকে অবশ্যই এমন কিছু গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে যা বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডের মানুষের অবস্থা ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এটি তার বিধান ও শরিয়ত প্রবর্তনের ক্ষেত্রে সহজতা ও প্রশস্ততা নিয়ে এসেছে। এমন কোনো আবশ্যিক বিধান বা ইবাদতের নিদর্শন নেই যেখানে আল্লাহ তায়ালা সহজতা দান করেননি, যা মানুষকে তা যথাযথভাবে পালন করতে এবং আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে চেয়েছেন সেই পদ্ধতিতে সম্পাদন করতে সক্ষম করে তোলে। কারণ মহান আল্লাহ কখনোই কোনো আত্মাকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না; সে যা ভালো কাজ করেছে তার ফল তারই, আর সে যা মন্দ কাজ করেছে তার ফলও তারই} (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وتتوضح لنا هذه الحقيقة في رسالة الإسلام بشكل أكثر عندما تتم المقارنة بين ما كانت عليها الأمم السابقة من المشقة والعنت، وما صارت عليه أمة الإسلام من يسر وسهولة، يقول الله تعالى: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف، الآية: 157.
ইসলামের বার্তার এই বাস্তবতাটি আমাদের কাছে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় যখন পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর আপতিত কষ্ট ও কাঠিন্য এবং ইসলামি উম্মাহর সহজতা ও সাবলীলতার মধ্যে তুলনা করা হয়; মহান আল্লাহ বলেন: {যারা অনুসরণ করে সেই রাসুলের, যিনি নিরক্ষর নবি, যাঁর সম্পর্কে তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। তিনি তাদের সৎ কাজের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন। আর তিনি তাদের উপর থেকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ—যা তাদের উপর ছিল—মোচন করেন। সুতরাং যারা তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ জ্যোতির অনুসরণ করেছে, তারাই সফলকাম} (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
فقد خفف الله - تعالى - عن عباده الأغلال والأثقال التي كانت ترافق شرائعهم فتثقل بها كواهلهم، وتصعب معها حياتهم، وهذا فضل كبير من الله - تعالى - لهذه الأمة، ولم يكن ذلك أمرًا عارضًا وإنما لحكمة يعلمها الله، أرادها لعباده تمشيًا مع فطرهم وإعانتهم في أداء طاعاتهم وعباداتهم، ومن ثم تحقيق مصالحهم في شؤونهم كلها، فكل حكم أو تشريع يحمل معه مصلحة للناس في أنفسهم وأموالهم وأولادهم، وغيرها.

وإذا أردنا أن نخوض في أعماق مبدأ التيسير والسماحة في دين الله - تعالى - فإننا سنجد أنفسنا أمام بحر زاخر من الشواهد والنصوص والأحداث التي تقر هذا المبدأ وتحث المسلمين على انتهاجه واتباعه، لذا سنتحدث عن هذا المبدأ الإسلامي العظيم من خلال بعض المعالم التي برز فيها واضحا وجليًّا بشيء من الإيجاز، وذلك حسب ما يتطلبه المقام؛ إذ إن هذا البحث كتب بناء على طلب: (المؤتمر العالمي عن موقف الإسلام من الإرهاب) الذي ترعاه جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض.

وقد جاءت عناصر البحث في:

- مفهوم اليسر.

- الدين الإسلامي قائم على اليسر والسماحة.

- مرتكزات منهج اليسر في الشريعة الإسلامية.
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর থেকে সেই সকল শৃঙ্খল ও গুরুভার লাঘব করেছেন যা তাদের পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যার ভারে তাদের স্কন্ধ নুয়ে পড়ত ও জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত। এটি এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর এক বিশাল অনুগ্রহ। এটি কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না, বরং এর মূলে রয়েছে এমন এক প্রজ্ঞা (حكمة) যা কেবল আল্লাহই পরিজ্ঞাত; তিনি তাঁর বান্দাদের স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) সাথে সংগতি রেখে এবং তাদের আনুগত্য ও ইবাদত পালনে সহায়তা করার নিমিত্তেই এটি নির্ধারণ করেছেন, যাতে তাদের যাবতীয় বিষয়ে কল্যাণ (مصالح) সাধিত হয়। বস্তুত প্রতিটি বিধান (حكم) বা শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع) মানুষের জান, মাল, সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কল্যাণ (مصلحة) বহন করে।

আমরা যদি মহান আল্লাহর দ্বীনে সহজীকরণ ও উদারতার মূলনীতির গভীর তলদেশে অবগাহন করতে চাই, তবে আমরা নিজেদের এমন এক উত্তাল সমুদ্রের সম্মুখে দেখতে পাব যা অজস্র প্রমাণ, মূলপাঠ (نصوص) এবং ঘটনাবলীতে পরিপূর্ণ, যা এই মূলনীতিকে সুসংহত করে এবং মুসলিমদের তা গ্রহণ ও অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে। অতএব, আমরা এই মহান ইসলামি মূলনীতির কতিপয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব যেখানে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এটি সমকালীন প্রেক্ষাপটের দাবি; কারণ এই গবেষণাটি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘সন্ত্রাসবাদের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এর বিশেষ আহ্বানে রচিত হয়েছে।

গবেষণার আলোচ্য বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:

- সহজীকরণের ধারণা।

- ইসলামি দ্বীন সহজীকরণ ও উদারতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

- ইসলামি শরিয়তে সহজীকরণ পদ্ধতির মূল ভিত্তি (مرتكزات) সমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
- مجالات التيسير والسماحة في الإسلام.

- القواعد الشرعية المستنبطة من النصوص الواردة في التيسير.

- آثار الابتعاد عن منهج التيسير.

- خلاصة البحث.

وأسأل الله - تعالى - أن ينفع بهذا، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وكتبه

فالح بن محمد بن فالح الصغير

الرياض 1424هـ

ص. ب 41961 الرياض 11531

falehmalsgair@yahoo. com
- ইসলামে সহজীকরণ ও উদারতার ক্ষেত্রসমূহ।

- সহজীকরণ সংক্রান্ত বর্ণিত পাঠ্যসমূহ থেকে আহরিত শরয়ি মূলনীতিসমূহ।

- সহজীকরণের মানহাজ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রভাবসমূহ।

- গবেষণার সারসংক্ষেপ।

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

ইতি লেখক

ফালিহ বিন মুহাম্মদ বিন ফালিহ আস-সগির

রিয়াদ ১৪২৪ হিজরি

পোস্ট বক্স ৪১৯৬১ রিয়াদ ১১৫৩১

falehmalsgair@yahoo. com
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مفهوم اليسر اليُسْرُ لغة: ضد العُسْرِ. ومنه " الدِّين يُسْرٌ " أي سهلٌ سَمْحٌ قليل التشديد (1) .

أما في الاصطلاح: فهو تطبيق الأحكام الشرعية بصورة معتدلة كما جاءت في كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، من غير تشدُّد يُحرِّم الحلال، ولا تميُّع يُحلِّل الحرام.

ويدخل تحت هذا المسمى السماحة والسعة ورفع الحرج وغيرها من المصطلحات التي تحمل المدلول نفسه.

وسنتحدث عن اليسر والسماحة في ضوء العناصر الآتية:

--------------------------------------------

(1) المعجم الوسيط، مادة: يسر 2 / 1078.
সহজতার (يسر) ধারণা শাব্দিক অর্থে সহজতা (يسر) হলো কঠিনতার (عسر) বিপরীত। এখান থেকেই "দ্বীন সহজ (يسر)" কথাটি এসেছে, অর্থাৎ এটি সহজ (سهل), উদার (سمح) এবং এতে কঠোরতা (تشديد) কম (১)।

আর পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح): এটি হলো শারয়ি বিধানসমূহকে (أحكام شرعية) ভারসাম্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা যেভাবে তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহয় (سنة) বর্ণিত হয়েছে; যেখানে এমন কোনো উগ্রতা (تشدد) থাকবে না যা হালালকে (حلال) হারাম (حرام) করে দেয়, আর এমন কোনো শিথিলতা (تمييع) থাকবে না যা হারামকে (حرام) হালাল (حلال) করে দেয়।

এই শিরোনামের অধীনে উদারতা (سماحة), প্রশস্ততা (سعة), সংকীর্ণতা দূরীকরণ (رفع الحرج) এবং একই অর্থবহ অন্যান্য পরিভাষাগুলো অন্তর্ভুক্ত।

আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে সহজতা (يسر) ও উদারতা (سماحة) সম্পর্কে আলোচনা করব:

--------------------------------------------

(১) আল-মু’জাম আল-ওয়াসীত, মূলশব্দ (مادة): يسر ২ / ১০৭৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أولاً - الدين الإسلامي قائم على اليسر والسماحة إن الدين الإسلامي بمجمله قائم على اليسر ورفع الحرج ابتداء من العقيدة وانتهاء بأصغر أمور الأحكام والعبادات بشكل يتوافق مع الفطرة الإنسانية وتتقبله النفس البشرية من غير تكلف أو تعنت، وهذا ما أشار إليه الله تعالى في مواطن كثيرة من كتابه العزيز منها قوله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} (1) ، وقوله أيضًا: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} (2) ، وقوله عز وجل: {يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا} (3) .

وتلت هذه الآيات الكريمات السنة النبوية بأحاديث كثيرة تحمل معاني اليسر في أمور الدين وعدم التنطع والتشدد في العبادات والطاعات، فقد أشار عليه الصلاة والسلام إلى أن من أهم ما تميزت به رسالة الإسلام عن غيرها من الرسالات السماوية السابقة هي السماحة واليسر كما في قوله صلى الله عليه وسلم: «إن الدين يسر ولن يشاد الدين أحد إلا غلبه، فسددوا وقاربوا وأبشروا، واستعينوا بالغدوة والروحة وشيء من الدلجة» (4) .

--------------------------------------------

(1) سورة الحج، الآية: 78.

(2) سورة البقرة، الآية: 185.

(3) سورة النساء، الآية: 28.

(4) صحيح البخاري، رقم39، ص9-10.
প্রথমত - ইসলাম ধর্ম সহজসাধ্যতা ও উদারতার ওপর প্রতিষ্ঠিত সামগ্রিকভাবে ইসলাম ধর্ম সহজসাধ্যতা এবং কাঠিন্য দূরীকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত; যা আকিদা থেকে শুরু করে বিধিবিধান ও ইবাদতের ক্ষুদ্রতম বিষয় পর্যন্ত এমনভাবে বিন্যস্ত, যা মানবপ্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা হঠকারিতা ছাড়াই মানুষের মন তা গ্রহণ করে নেয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবের বহু স্থানে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর বাণী: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেননি} (১), এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজসাধ্যতা চান এবং তোমাদের জন্য কোনো কঠোরতা চান না} (২), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান; আর মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে} (৩)।

এই সম্মানীত আয়াতসমূহের অনুগামী হয়েছে সুন্নাহর অসংখ্য হাদিস, যেগুলোতে দ্বীনি বিষয়ে সহজসাধ্যতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে আতিশয্য ও কঠোরতা পরিহার করার বার্তা নিহিত রয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, পূর্ববর্তী আসমানি রিসালাতগুলোর তুলনায় ইসলামি বার্তার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উদারতা ও সহজসাধ্যতা, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীতে এসেছে: «নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তিই দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে। অতএব তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য প্রার্থনা করো» (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৮।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৮।

(৪) সহিহ বুখারি, নম্বর ৩৯, পৃষ্ঠা ৯-১০।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
والمتمعن في السيرة النبوية يجد أن سلوك النبي صلى الله عليه وسلم وتعامله مع صحابته مبني على منهج التيسير والسماحة، والشواهد أكثر من أن تعد أو تحصى، ولكن نكتفي بسرد حادثة وقعت لأحد الصحابة وجاء إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، يريد مخرجًا لها وهو صحابي فقير لا يملك قوت يومه، وهي تغني عن جميع ما كان يقع للصحابة من إحراجات.

يقول أبو هريرة رضي الله عنه: «بينما نحن جلوس عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ جاءه رجل فقال: يا رسول الله هلكت، قال: ما لك؟ قال: وقعت على امرأتي وأنا صائم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هل تجد رقبة تعتقها؟ قال: لا، قال: فهل تستطيع أن تصوم شهرين متتابعين؟ قال: لا، فقال: فهل تجد إطعام ستين مسكينا؟ قال: لا، قال: فمكث النبي صلى الله عليه وسلم فبينا نحن على ذلك أتي النبي صلى الله عليه وسلم بعرق فيها تمر - والعرق: المكتل - قال: أين السائل؟ فقال: أنا، قال: خذها فتصدَّق بها فقال الرجل: أعلى أفقر مني يا رسول الله؟ فوالله ما بين لابتيها - يريد الحرتين - أهل بيت أفقر من أهل بيتي، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت أنيابه ثم قال: أطعمه أهلك» (1) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، رقم1936، ص311. ورواه مسلم في صحيحه برقم2595، ص453.
যে ব্যক্তি সীরাতে নববী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি দেখতে পান যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ এবং তাঁর সাহাবীদের সাথে তাঁর লেনদেন সহজীকরণ ও মহানুভবতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর প্রমাণাদি সংখ্যায় এত বেশি যে তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা জনৈক সাহাবীর জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েই সন্তুষ্ট থাকব, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নিজের সমস্যার সমাধান চেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দরিদ্র সাহাবী যার কাছে একদিনের খাবারও ছিল না। এই ঘটনাটি সাহাবীদের জীবনে ঘটে যাওয়া অনুরূপ সকল বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: "একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি।' তিনি বললেন, 'তোমার কী হয়েছে?' সে বলল, 'আমি রোজা রাখা অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমার কি কোনো দাস আছে যাকে তুমি মুক্ত করতে পারো?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'তবে কি তুমি টানা দুই মাস রোজা রাখতে পারবে?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'তবে কি তুমি ষাট জন মিসকিনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য রাখো?' সে বলল, 'না।' বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। আমরা এই অবস্থায় থাকতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খেজুর ভর্তি একটি 'আরাক' (বড় ঝুড়ি) আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রশ্নকারী ব্যক্তি কোথায়?' সে বলল, 'আমি এখানে।' তিনি বললেন, 'এটি নাও এবং এটি সদকা করে দাও।' তখন লোকটি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার চেয়ে বেশি দরিদ্র কাউকে দেব? আল্লাহর কসম! এই দুই পাহাড়বেষ্টিত প্রান্তরের মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে দরিদ্র আর কোনো পরিবার নেই।' তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন, এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। এরপর তিনি বললেন, 'এটি তোমার পরিবারকেই খাওয়াও'।" (১) ।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ১৯৩৬, পৃষ্ঠা ৩১১। এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ২৫৯৫, পৃষ্ঠা ৪৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
1 -‌‌ الرخصة

الرخصة في اللغة: التيسير والتسهيل، أو اليسر والسهولة، والرخص ضد الغلاء، وفلان يترخص في الأمر إذا لم يستقص، ويتعدى بالهمزة والتضعيف (1) .

أما في الاصطلاح فقد عرفها البيضاوي بأنها: "الحكم الثابت على خلاف الدليل لعذر" (2) .

والرخصة قاعدة عظيمة من قواعد هذا الدين حيث تشمل جميع أمور الدين وجوانبه في العقيدة والعبادة والمعاملة والعقوبات وغيرها. وهي منحة وصدقة من الله - تعالى - لعباده، كما قال عليه الصلاة والسلام: «صدقة تصدق الله بها عليكم فاقبلوا صدقته» (3) .

ويمكن وصف الرخصة بأنها من أهم معالم اليسر في هذا الدين، وأن الله - تعالى - إنما أجازها ليخفف عن عباده وطأة بعض التكاليف، ويعذرهم عما لا يطيقونه، لذلك يستحب إتيان هذه المنحة والعمل بها في مواضع الجواز، يقول عليه الصلاة والسلام: «إن الله يحب أن تؤتى رخصه كما يكره أن تؤتى معصيته» (4) .

ويمكن الإشارة إلى بعض هذه الرخص التي بيّنها الله ورسوله عليه الصلاة والسلام للأمة من خلال الأمثلة الآتية:

--------------------------------------------

(1) المصباح المنير 1 / 304. القاموس المحيط 2 / 304.

(2) نهاية السول 1 / 87.

(3) صحيح مسلم، رقم1573، ص279.

(4) مسند أحمد، رقم5873، ص453. ورواته ثقات.
1 -‌‌ অনুমতি (رخصة)

আভিধানিক অর্থে অনুমতি (رخصة) হলো: সহজীকরণ ও সুবিধা প্রদান, অথবা স্বস্তি ও সহজসাধ্যতা। 'রুকস' হলো দুর্মূল্যতা বা মহার্ঘতার বিপরীত। কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শিথিলতা অবলম্বন (يترخص) করে তখন, যখন সে তাতে পূর্ণ কঠোরতা অবলম্বন করে না। এটি হামযা ও তাশদীদ যোগে (দ্বিত্বকরণ) রূপান্তরিত হয় (১)।

আর পরিভাষায় আল-বায়যাভী একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "ওজরের (عذر) কারণে সাধারণ দলিলের (دليل) বিপরীতে সাব্যস্ত বিধান" (২)।

অনুমতি (رخصة) এই দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি মহান মূলনীতি, যা আকীদা, ইবাদত, মুআমালাত (লেনদেন), দণ্ডবিধি এবং দ্বীনের অন্যান্য সকল বিষয় ও দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য একটি অনুগ্রহ ও সদকা, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি একটি সদকা যা আল্লাহ তোমাদের প্রদান করেছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর সদকা গ্রহণ করো" (৩)।

অনুমতিকে (رخصة) এই দ্বীনের সহজসাধ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। মহান আল্লাহ এটি অনুমোদন করেছেন যাতে তাঁর বান্দাদের ওপর থেকে কিছু বিধিবিধানের ভার লাঘব করা যায় এবং তারা যা বহন করতে সক্ষম নয় সে ব্যাপারে তাদের ওজর (عذر) কবুল করা যায়। তাই অনুমোদিত ক্ষেত্রগুলোতে এই অনুগ্রহ গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর প্রদত্ত রুকসাহ (رخص) গ্রহণ করাকে তেমনি ভালোবাসেন যেমনটি তাঁর অবাধ্য হওয়াকে অপছন্দ করেন" (৪)।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতের জন্য যে সকল অনুমতির (رخص) বিষয় বর্ণনা করেছেন, নিম্নের উদাহরণগুলোর মাধ্যমে সেগুলোর কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত করা যেতে পারে:

--------------------------------------------

(১) আল-মিসবাহুল মুনীর ১/৩০৪; আল-কামূসুল মুহীত ২/৩০৪।

(২) নিহায়াতুস সূল ১/৮৭।

(৩) সহীহ মুসলিম, নম্বর ১৫৭৩, পৃষ্ঠা ২৭৯।

(৪) মুসনাদে আহমাদ, নম্বর ৫৮৭৩, পৃষ্ঠা ৪৫৩। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
أ - الرخصة في السفر: وذلك بقصر الصلاة الرباعية المفروضة، والجمع بين صلاتي الظهر والعصر وكذا المغرب والعشاء جمع تقديم أو تأخير. وكذلك الإفطار فيه، لقوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} (1) .

وقوله صلى الله عليه وسلم: «ليس من البر الصوم في السفر» (2) .

ب - التيمم بالتراب عند عدم وجود الماء أو عند تعذر استعماله ، لقوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (3) .

ج - الرخصة في الحيض والنفاس، وهما عذران للصلاة والصيام ومسّ المصحف والطواف بالنسبة للمرأة.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 184.

(2) صحيح البخاري، رقم1946، ص313. ورواه مسلم في صحيحه برقم2612، ص456.

(3) سورة المائدة، الآية: 6.
ক - সফরে বিধানগত শিথিলতা (رخصة): আর তা হলো চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ সালাতকে সংক্ষেপকরণ (قصر) করা এবং জোহর ও আসরের মাঝে এবং একইভাবে মাগরিব ও এশার মাঝে অগ্রিম একত্রীকরণ (جمع تقديم) অথবা বিলম্বিত একত্রীকরণ (جمع تأخير) পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা। তেমনিভাবে সফরে সিয়াম ভঙ্গ করাও এর অন্তর্ভুক্ত, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমাদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে} (১)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «সফরে সিয়াম পালন করা কোনো নেকির কাজ নয়» (২)।

খ - পানির অনুপস্থিতিতে অথবা তার ব্যবহারে অক্ষমতার সময় মাটি দ্বারা তায়াম্মুম (تيمম) করা, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম (تيمم) করো, সুতরাং তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় করো} (৩)।

গ - ঋতুস্রাব (حيض) ও নিফাস (نفاس) কালীন অবস্থায় বিধানগত শিথিলতা (رخصة); এ দুটি বিষয় নারীর জন্য সালাত, সিয়াম, মুসহাফ স্পর্শ করা এবং তাওয়াফের ক্ষেত্রে ওজর (عذر) হিসেবে গণ্য।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪।

(২) সহিহ বুখারি, নম্বর ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৩১৩। এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ২৬১২, পৃষ্ঠা ৪৫৬।

(৩) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
2 -‌‌ الأصل في الأشياء الإباحة

ومن أهم المرتكزات التي قام عليها منهج التيسير في الإسلام أن الأصل في الأشياء حلها وإباحتها، وليس منعها وحرمتها، فكل ما خلق في هذا الكون مسخرٌ للإنسان ومهيأ للاستمتاع به، ما لم يكن فيه نهي صريح، يقول الله تعالى: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِنْهُ} (1) .

وبما أن الشارع قد بيّن ذلك فلا يحق لأحد أن يحرم هذا المباح، فإنه بذلك يدخل في نطاق التنطع والتعنت المنهي عنه، ومن أجل ذلك جاء التحذير الرباني بالنهي عن تحريم الأمور المباحة أو تحليل المحرم، فقد كان هذا السؤال سببًا لإخراج الناس من الدين الحق، وإحلال غضب الله عليهم، كما حدث لبعض الأمم السابقة، يقول الله تعالى: {يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ} {قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ} (2) .

--------------------------------------------

(1) سورة الجاثية، الآية: 13.

(2) سورة المائدة، الآيتان: 101، 102.
2 -‌‌ জিনিসের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো বৈধতা (الإباحة)

ইসলামে সহজীকরণের (التيسير) পদ্ধতি যে সকল প্রধান ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তার অন্যতম হলো—বস্তুর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো তার হালাল হওয়া এবং বৈধতা (إباحة), তার বারণ বা হারাম হওয়া (حرمة) নয়। সুতরাং এই মহাবিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে তা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত এবং তা থেকে উপকার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যতক্ষণ না তাতে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুকে নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন।" (১)

যেহেতু শারী'আত প্রণেতা (الشارع) বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাই এই বৈধ (مباح) বিষয়কে হারাম করার অধিকার কারো নেই। কারণ এমনটি করার মাধ্যমে সে নিষিদ্ধ চরমপন্থা (التنطع) ও কঠোরতার (التعنت) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। এই লক্ষ্যেই বৈধ বিষয়কে হারাম করা অথবা হারামকে হালাল করা থেকে বিরত থাকার জন্য ঐশী সতর্কবাণী এসেছে। কারণ এই (অপ্রয়োজনীয়) প্রশ্নই মানুষকে সত্য দ্বীন থেকে বের করে দেওয়ার এবং তাদের ওপর আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার কারণ হয়েছিল, যেমনটি পূর্ববর্তী কিছু উম্মতের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর যদি তোমরা কুরআন নাজিল হওয়ার সময় সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সেসব মাফ করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম সহনশীল। তোমাদের আগে এক জাতি এ ধরনের প্রশ্ন করেছিল, তারপর তারা এর কারণে অবিশ্বাসী (كافر) হয়ে গিয়েছিল।" (২)

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-জাসিয়া, আয়াত: ১৩।

(২) সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০১, ১০২।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويقول عليه الصلاة والسلام: «إن أعظم المسلمين جرما من سأل عن شيء لم يحرم فحرم من أجل مسألته» (1) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، رقم7289، ص1254. ورواه مسلم في صحيحه برقم6116، ص103.
এবং তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেন: «নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপরাধের দিক থেকে সবচেয়ে বড়, যে এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করেছে যা হারাম ছিল না, অতঃপর তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম করা হয়েছে» (১) ।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ৭২৮৯, পৃষ্ঠা ১২৫৪। এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ৬১১৬, পৃষ্ঠা ১০৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
3 -‌‌ الخطأ والنسيان والإكراه

تظهر سماحة الإسلام في توافقه مع الفطرة الإنسانية السليمة التي خلقها في نفس الإنسان، ومن هذه الفطرة الخطأ الذي يقع فيه الإنسان في معظم أحواله من غير قصد، وكذلك ما يعتريه من النسيان، وهو ما ذكره الله - تعالى - على لسان المؤمنين الذين قالوا: {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} قال الله تعالى: " قد فعلت " (1) .

وأما الاستكراه فهو أمر خارج عن إرادة الإنسان، لا يستطيع كل إنسان أن يتحمل ما قد يتعرض له من أذى أو ضرر أو تهديد بالقتل أو قطع عضو وغيره، فحينها رخص له الشارع أن يتنازل عن بعض مفاهيمه الدينية تخلصًا من الحال التي يعانيها، والعذاب الواقع عليه كما حصل لعمار بن ياسر رضي الله عنهما، حينما ذكر آلهة قريش بخير ونال من رسول الله صلى الله عليه وسلم تحت وطأة التعذيب، وقتل أبواه أمام عينيه، فشكا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال له الرسول عليه الصلاة والسلام: « (كيف تجد قلبك؟) ، قال: مطمئنًا بالإيمان، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن عادوا فعد) » (2) .

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، رقم330، ص67.

(2) رواه الحاكم في المستدرك 2 / 357. وذكره ابن حجر في الفتح عن عبد بن حميد من طريق ابن سيرين وقال: وهو مرسل ورجاله ثقات، وذكر مراسيل أخرى في هذا المعنى ثم قال: وهذه المراسيل تقوي بعضه ببعض.
৩ -‌‌ ভুল, বিস্মৃতি এবং জবরদস্তি

ইসলামের উদারতা ও মহানুভবতা মানুষের অন্তরে সৃষ্ট সেই সুস্থ মানবীয় স্বভাবের সাথে এর সামঞ্জস্যের মাঝে ফুটে ওঠে। এই স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যেরই একটি অংশ হলো ভুল, যা মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে; একইভাবে বিস্মৃতিও এর অন্তর্ভুক্ত যা মানুষকে আক্রান্ত করে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জবানিতে এটি উল্লেখ করেছেন যারা বলেছিল: {হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না}। আল্লাহ তাআলা এর উত্তরে বলেছিলেন: "আমি তা করেছি (অর্থাৎ তোমাদের দোয়া কবুল করেছি)" (১)।

আর জবরদস্তি হলো এমন একটি বিষয় যা মানুষের ইচ্ছার বহির্ভূত। প্রত্যেক মানুষের পক্ষে তার ওপর আপতিত কষ্ট, ক্ষতি, প্রাণনাশের হুমকি কিংবা অঙ্গহানির মতো বিষয়গুলো সহ্য করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় শরিয়ত প্রণেতা তাকে বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং তার ওপর চলা নির্যাতন থেকে নিষ্কৃতি পেতে কিছু ধর্মীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে ছাড় প্রদান করেছেন; যেমনটি আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। যখন নির্যাতনের তীব্রতায় তিনি কুরাইশদের উপাস্যদের সম্পর্কে ভালো কথা বলেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন, অথচ তখন তাঁর চোখের সামনেই তাঁর পিতা-মাতাকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: « (তুমি তোমার অন্তরকে কেমন পাচ্ছ?) , তিনি বললেন: ঈমানের ওপর প্রশান্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (তারা যদি পুনরায় এমন করে, তবে তুমিও পুনরায় তাই করো) » (২)।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, নম্বর ৩৩০, পৃষ্ঠা ৬৭।

(২) হাকেম এটি আল-মুস্তাদরাক ২/৩৫৭ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার ফাতহুল বারি-তে আবদ বিন হুমাইদ থেকে ইবনে সিরিনের সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)। তিনি এই একই অর্থে আরও কিছু বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مراسيل) উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: এই বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل) একে অপরকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وما ذلك إلا رحمة بالعباد وتيسيرًا عليهم، لأن الخطأ والنسيان من الأمور الفطرية التي لا يسلم منها أحد، وأما الإكراه فلأن قوة التحمل تختلف من إنسان لآخر، من أجل ذلك جاء هذا التشريع الرباني بهذه الصورة الميسرة التي تناسب أطباع الناس وفطرهم.

আর এটি বান্দাদের প্রতি কেবল রহমত ও তাদের জন্য সহজীকরণ স্বরূপ; কেননা ভুল ও বিস্মৃতি হলো মানুষের স্বভাবজাত বিষয় যা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। আর জবরদস্তির বিষয়টি হলো, সহ্য করার ক্ষমতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়; একারণেই এই ঐশী বিধান এমন এক সহজ পদ্ধতিতে এসেছে যা মানুষের মেজাজ ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
4 -‌‌ النهي عن الغلو في الدين

إن دين الله - تعالى - يحمل في تطبيقه السعادة والعدالة للناس، ولا يحمل الشقاء والعذاب، فالإنسان الذي يأخذ هذا الدين كما أراده الله - تعالى - باعتدال وفهم ووعي ينال السعادة والنجاة في الدنيا والآخرة، وأما الذي يشادّ فيه ويتشدد في غير موضع التشدد، ويحرم الحلال والمباح، فإنه ينال الشقاء والعذاب في الدنيا والآخرة، يشير إلى هذا المعنى ربنا عز وجل في أول سورة طه قائلا: {طه} {مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى} (1) .

ويقول عليه الصلاة والسلام: «هلك المتنطعون» قالها ثلاثا (2) .

والمتنطعون كما فسره النووي رحمه الله: المتعمقون المشدِّدون في غير موضع التشديد (3) .

--------------------------------------------

(1) سورة طه، الآيتان: 1، 2.

(2) صحيح مسلم، رقم6784، ص1162.

(3) رياض الصالحين، ص54، باب الاقتصاد في الطاعة.
৪ -‌‌ ধর্মে বাড়াবাড়ি (غلو) করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর দ্বীন তার অনুশীলনের মাঝে মানুষের জন্য সুখ ও ন্যায়বিচার বহন করে, এবং তা দুঃখ ও যন্ত্রণা বহন করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দ্বীনকে মহান আল্লাহর অভিপ্রায় অনুযায়ী ভারসাম্য, সঠিক উপলব্ধি ও সচেতনতার সাথে গ্রহণ করে, সে দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ ও মুক্তি লাভ করে। আর যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাপারে অনমনীয়তা প্রদর্শন করে এবং অনর্থক কঠোরতা (تشدد) অবলম্বন করে, আর হালাল ও বৈধ বিষয়কে হারাম করে দেয়, সে দুনিয়া ও আখেরাতে দুঃখ ও কষ্টের শিকার হয়। আমাদের মহান প্রতিপালক সূরা ত্বা-হা-এর শুরুতে এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে ইরশাদ করেছেন: {ত্বা-হা} {আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি} (১)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «আতিশয্যকারীরা (المتنطعون) ধ্বংস হয়েছে» কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন (২)।

আর ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) আতিশয্যকারী (المتنطعون)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: তারা হলো সেই সব লোক যারা অহেতুক গভীরে প্রবেশকারী এবং যেখানে কঠোরতার স্থান নয় সেখানেও কঠোরতা (تشديد) অবলম্বনকারী (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ১, ২।

(২) সহিহ মুসলিম, নম্বর ৬৭৮৪, পৃষ্ঠা ১১৬২।

(৩) রিয়াদুস সালিহীন, পৃষ্ঠা ৫৪, ইবাদতে ভারসাম্য রক্ষা অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
فقبول الطاعة غير مرتبط بمدى التعب والنصب، لأن الله - تعالى - لا يحب أن يطاع بغير ما أنزله على عباده، فالذي يعبد الله ليلًا ونهارًا بشكل يخالف منهج الله - تعالى - لا تقبل عبادته مهما أتعب نفسه وأرهقها، والله عز وجل في غنى عن أعمال العباد، ولكنه - جل شأنه - يفرح عندما يرى عباده على دينه القويم، تقول أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها: «إن النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها وعندها امرأة قال: من هذه؟ قالت: فلانة، تذكر من صلاتها قال: (مهْ عليكم بما تطيقون فوالله لا يَمَلُّ الله حتى تَملوا) وكان أحب الدِّين إليه ما داوم صاحبه عليه» (1) .

ويقول أنس بن مالك رضي الله عنه: «دخل النبي صلى الله عليه وسلم فإذا حبل ممدود بين الساريتين فقال: ما هذا الحبل؟ قالوا: هذا حبل لزينب فإذا فترت تعلقت، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا حُلُّوه ليُصل أحدكم نشاطه فإذا فتر فليقعد» (2) .

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، رقم43، ص10. ورواه مسلم في صحيحه برقم1834، ص318-319.

(2) صحيح البخاري، رقم1150، ص184. ورواه مسلم في صحيحه برقم1831، ص318.
আনুগত্য কবুল হওয়া ক্লান্তি ও কষ্টের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে তাঁর আনুগত্য করা হোক—এটি তিনি পছন্দ করেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদত করে এমন পদ্ধতিতে যা আল্লাহ তাআলার মানহাজের পরিপন্থী, তার ইবাদত কবুল হবে না, সে নিজেকে যতই ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করুক না কেন। আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আমল থেকে অমুখাপেক্ষী, তবে তিনি খুশি হন যখন তাঁর বান্দাদের তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনের ওপর অটল দেখেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর নিকট একজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'ইনি কে?' আয়েশা (রা.) বললেন: 'অমুক মহিলা', এরপর তিনি তাঁর সালাতের (অধিক্য) সম্পর্কে বর্ণনা করতে লাগলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'থামো, তোমরা সাধ্যানুযায়ী আমল করো। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো।' আর তাঁর কাছে দ্বীনের সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল তা-ই, যা আমলকারী নিয়মিত পালন করে।" (১)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) প্রবেশ করে দেখলেন দুটি স্তম্ভের মাঝখানে একটি দড়ি লটকানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'এই দড়িটি কিসের?' সাহাবীগণ বললেন: 'এটি যয়নবের দড়ি; যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন।' তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'না, এটি খুলে ফেলো। তোমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রাণবন্ত থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করা; আর যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে তখন যেন সে বসে পড়ে।'" (২)

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ৪৩, পৃষ্ঠা ১০। এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১৮৩৪, পৃষ্ঠা ৩১৮-৩১৯।

(২) সহীহ বুখারী, নম্বর ১১৫০, পৃষ্ঠা ১৮৪। এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১৮৩১, পৃষ্ঠা ৩১৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
5 -‌‌ التوبة

والتوبة من الأسس المتينة التي يرتكز عليها منهج التيسير في الإسلام، وهي سبب من أسباب ثبات المؤمن وبقائه على دين الله تعالى، حيث تزيل عن كاهله هموم المعاصي وأثقال المخالفات، وتدفعه للعمل دومًا نحو الأفضل، يقول الله تعالى: {قُلْ يا عبادي الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} (1) .

والتوبة سبب لمحبة الله - تعالى - للإنسان عندما ينيب إليه بعد أن عصاه، ويندم على فعله: {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} (2) .

ويؤيد هذا المعنى قوله عليه الصلاة والسلام: «لله أشد فرحا بتوبة أحدكم من أحدكم بضالته إذا وجدها» (3) .

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر، الآية: 53.

(2) سورة البقرة، الآية: 222.

(3) صحيح مسلم، رقم6953، ص1189.
৫ -‌‌ তাওবা

ইসলামে সহজীকরণ (تيسير) নীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হলো তাওবা। এটি মুমিনের অবিচলতা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর অটল থাকার অন্যতম কারণ; কেননা এটি তার কাঁধ থেকে গুনাহের দুশ্চিন্তা ও অবাধ্যতার বোঝা অপসারিত করে এবং তাকে সর্বদা উত্তম আমলের দিকে ধাবিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (১)।

মানুষ যখন নাফরমানি করার পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়, তখন তাওবা মহান আল্লাহর ভালোবাসা লাভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।} (২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী এই অর্থকে সমর্থন করে: "তোমাদের কেউ তার হারিয়ে যাওয়া সওয়ারি খুঁজে পেলে যতটা খুশি হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তাওবায় তার চেয়েও বেশি খুশি হন।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আজ-জুমার, আয়াত: ৫৩।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২।

(৩) সহীহ মুসলিম, নম্বর ৬৯৫৩, পৃষ্ঠা ১১৮৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وينبغي ألا يستكثر الإنسان على ربه بالتوبة إذا عصى، أو يصارع نفسه ويدخلها في مستنقعات الوسواس الخناس إذا اقترفت يداه ذنبًا أو وقعت عينه على معصية، بأن يقول: إن الله - تعالى - لن يغفر لي بعد هذا، فهذه معصية كبرى، وعقيدة فاسدة، وسوء ظن بالله جل شأنه، وهو باب من أبواب الشيطان لئلا يعود إلى ربه مرة أخرى ويعمل الأعمال الصالحة، يقول عليه الصلاة والسلام: «والذي نفسي بيده لو لم تذنبوا لذهب الله بكم ولجاء بقوم يذنبون فيستغفرون الله فيغفر لهم» (1) .

ويقول عليه الصلاة والسلام: «كل بني آدم خطاء وخير الخطائين التوابون» (2) .

ومن يسر هذا الدين وسعته ورحمته أن الله - تعالى - جعل الأعمال الصالحة مكفرات لخطايا بني آدم، لقوله تعالى: {إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} (3) .

وقوله عليه الصلاة والسلام لأبي ذر رضي الله عنه: «اتق الله حيثما كنت وأتبع السيئة الحسنة تمحها، وخالق الناس بخلق حسن» (4) .

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، رقم6965، ص1191.

(2) سنن ابن ماجه، رقم4251، ص619. رواه الترمذي في جامعه برقم2499، ص568-569. رجاله ثقات غير زيد بن حباب قال فيه الإمام أحمد: صدوق كثير الخطأ.

(3) سورة الفرقان، الآية: 70.

(4) جامع الترمذي، رقم1987، ص460. قال الترمذي: حديث حسن صحيح.
মানুষের উচিত নয় অবাধ্য হওয়ার পর তার রবের নিকট তাওবাকে বড় মনে করা, কিংবা নিজের নফসকে শয়তানের কুমন্ত্রণার পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করা যখন তার হাত কোনো পাপাচারে লিপ্ত হয় কিংবা তার দৃষ্টি কোনো গুনাহের ওপর পড়ে; এই বলে যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এরপর আমাকে আর ক্ষমা করবেন না। কারণ এটি একটি বড় গুনাহ, ভ্রান্ত আকিদা এবং মহান আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা। আর এটি শয়তানের একটি প্রবেশদ্বার যাতে সে পুনরায় তার রবের নিকট ফিরে না আসে এবং নেক আমল না করে। তিনি (সা.) বলেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা পাপ না করতে তবে আল্লাহ তোমাদের সরিয়ে দিতেন এবং এমন এক জাতিকে নিয়ে আসতেন যারা পাপ করত এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত, ফলে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতেন» (১) ।

তিনি (সা.) আরও বলেন: «প্রত্যেক আদম সন্তানই অত্যন্ত ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তাওবাকারীরা» (২) ।

এই দ্বীনের সহজসাধ্যতা, প্রশস্ততা এবং রহমতের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মসমূহকে আদম সন্তানের পাপসমূহের মোচনকারী বানিয়েছেন, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে; আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৩) ।

এবং আবু যর (রা.)-এর প্রতি তাঁর (সা.) বাণী: «তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো এবং মন্দের পরপরই ভালো কাজ করো, তা মন্দকে মিটিয়ে দেবে; আর মানুষের সাথে উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মেলামেশা করো» (৪) ।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, নং ৬৯৬৫, পৃ. ১১৯১।

(২) সুনান ইবনে মাজাহ, নং ৪২৫১, পৃ. ৬১৯। তিরমিযী তাঁর জামে-তে এটি নং ২৪৯৯, পৃ. ৫৬৮-৫৬৯-এ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে যায়িদ ইবনে হুবাব ব্যতীত; ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: সত্যবাদী প্রচুর ভুলকারী (صدوق كثير الخطأ)।

(৩) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭০।

(৪) জামে আত-তিরমিযী, নং ১৯৮৭, পৃ. ৪৬০। তিরমিযী বলেন: হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد وردت أحاديث كثيرة تبين الأعمال التي تكفر السيئات وتحط منها، وترفع الدرجات وتزيد منها عند الله تعالى، نذكر بعضها:

أ - الوضوء، فإنه يكفر عن المسلم ذنوبه وخطاياه ما اجتنبت الكبائر، لقوله صلى الله عليه وسلم: «من توضأ فأحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت أظفاره» (1) .

ب - الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة، وكذلك صوم رمضان، فإنها جميعا تكفر خطايا ابن آدم وترفع من درجاته وشأنه عند الله تعالى، يقول عليه الصلاة والسلام: «الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة ورمضان إلى رمضان مكفرات ما بينهن إذا اجتنبت الكبائر» (2) .

وعن أبي قتادة الأنصاري رضي الله عنه «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم عرفة فقال: (يكفر السنة الماضية والباقية) ، وسئل عن صوم يوم عاشوراء فقال: "يكفر السنة الماضية» (3) .

ج - أن كل ابتلاء ومصيبة يبتلى بها المسلم فهي كفارة له، لقوله عليه الصلاة والسلام: «ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا أذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها إلا كفر الله بها من خطاياه» (4)

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، رقم578، ص121.

(2) صحيح مسلم، رقم552، ص117.

(3) صحيح مسلم، رقم2747، ص477.

(4) صحيح البخاري، رقم5641، ص999. ورواه مسلم بنحوه برقم6568، ص1128.
অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা সেসব আমল বর্ণনা করে যা পাপসমূহ মোচন ও তা বিলোপ করে এবং মহান আল্লাহর নিকট মর্যাদা বৃদ্ধি ও তা বর্ধিত করে। আমরা নিচে সেগুলোর কিছু উল্লেখ করছি:

ক - অজু: এটি একজন মুসলিমের গুনাহ ও ত্রুটিসমূহকে মোচন করে যতক্ষণ পর্যন্ত কবিরা গুনাহ (الكبائر) থেকে বেঁচে থাকা হয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি অজু করল এবং উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করল, তার শরীর থেকে তার পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও তা বের হয়ে যায়» (১)।

খ - পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ, অনুরূপভাবে রমজানের রোজা; এই সবগুলোই বনী আদমের পাপসমূহ মোচন করে এবং মহান আল্লাহর নিকট তার মর্যাদা ও শান বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—এগুলো তাদের মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা (كفارة) স্বরূপ, যদি কবিরা গুনাহ (الكبائر) থেকে বেঁচে থাকা হয়» (২)।

আবু কাতাদা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরাফার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: (এটি বিগত ও অবশিষ্ট বছরের পাপ মোচন করে)। আর তাকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এটি বিগত বছরের পাপ মোচন করে"» (৩)।

গ - একজন মুসলিম যে কোনো পরীক্ষা ও বিপদের সম্মুখীন হয়, তা তার জন্য কাফফারা (كفارة) স্বরূপ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একজন মুসলিমের ওপর যে ক্লান্তি, রোগ-ব্যাধি, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, কষ্ট বা শোক আসুক না কেন—এমনকি তার শরীরে যদি একটি কাঁটাও ফোটে—তার বিনিময়ে আল্লাহ তার পাপসমূহ মোচন করে দেন» (৪)

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, নম্বর ৫৭৮, পৃষ্ঠা ১২১।

(২) সহিহ মুসলিম, নম্বর ৫৫২, পৃষ্ঠা ১১৭।

(৩) সহিহ মুসলিম, নম্বর ২৭৪৭, পৃষ্ঠা ৪৭৭।

(৪) সহিহ বুখারি, নম্বর ৫৬৪১, পৃষ্ঠা ৯৯৯। এবং মুসলিম অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা করেছেন, নম্বর ৬৫৬৮, পৃষ্ঠা ১১২৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
1 -‌‌ في العقيدة

تميز الدين الإسلامي عن غيره من الأديان والعقائد بوضوح العقيدة وسهولة الإيمان بالله تعالى، حيث أمر الناس بعبادة الله وحده، وأنه الإله الواحد الذي لم يلد ولم يولد، ولم يكن له كفوًا أحد، بيده ملكوت السموات والأرض، لا معبود سواه، وأنه لا وساطة بين العباد وخالقهم، ولا شركاء معه، فليس في العقيدة الإسلامية ألغاز لا يعرفها إلا فئة من الأحبار والرهبان، وليس فيها غموض وغبش كما في العقائد الأخرى من تجزئة الواحد إلى ثلاثة، وليس فيها استهانة بالعقل الإنساني ليعبد أحجارًا وأشخاصًا وحيوانات كما في البوذية وغيرها، وإنما هي عقيدة في غاية من اليسر والسماحة، فَهِمَها الأعرابي الذي يعيش في الصحراء حينما قال: البعرة تدل على البعير، والأثر يدل على المسير، فليل داج، وسماء ذات أبراج، ألا يدل على الواحد القهار، أو كما قال.
1 -‌‌ আকিদার ক্ষেত্রে

অন্যান্য ধর্ম ও বিশ্বাসের তুলনায় ইসলামি দীন তার আকিদার স্বচ্ছতা এবং মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের সহজবোধ্যতার কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। কেননা এটি মানুষকে কেবলমাত্র এক আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে, তিনিই সেই একক ইলাহ যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আসমান ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই হাতে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং বান্দা ও তাদের স্রষ্টার মাঝে কোনো মধ্যস্থতা নেই, আর তাঁর কোনো অংশীদারও নেই। ইসলামি আকিদায় এমন কোনো রহস্য নেই যা কেবল একদল পণ্ডিত ও সন্ন্যাসী ছাড়া আর কেউ জানে না, আর এতে অন্য আকিদাপদ্ধতির ন্যায় কোনো অস্পষ্টতা বা ধোঁয়াশাও নেই যেখানে এককে তিনে বিভক্ত করা হয়। এতে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে অবমাননা করে পাথর, ব্যক্তি কিংবা পশুপাখির উপাসনা করতে বলা হয়নি যেমনটি বৌদ্ধধর্ম বা অন্যান্য মতবাদে দেখা যায়; বরং এটি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল একটি আকিদা। এমনকি মরুচারী এক বেদুইনও তা অনুধাবন করতে পেরেছিল যখন সে বলেছিল: 'উটের বিষ্ঠা উটের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়, আর পদচিহ্ন প্রমাণ দেয় চলাচলের; সুতরাং অন্ধকার রাত এবং নক্ষত্রশোভিত আকাশ কি সেই এক ও পরাক্রমশালী সত্তার অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে না?' অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
ومعلوم أن الغموض وعدم الفهم في العقيدة يوقع الإنسان في الحرج والضيق، ويهوي به إلى الضلالات والشركيات، فلا يعرف ربه المعرفة السليمة، ولا يعرف سبيل الوصول إليه إلا من خلال الوسائط، بشرًا كانوا أم حجرًا أم خشبًا، فيأخذ تصورًا فاسدًا عن الله تعالى، فتتلوث أعماله بهذا التصور، وتتطاير في الهواء هباء منثورًا كما قال الله تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا} (1) .

هذا في جملة التصور العقدي وهو كذلك في جزئيات العقيدة كأركان الإيمان الستة.

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، الآية: 23.
এটা সুবিদিত যে, আকিদাহ (عقيدة) এর ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা এবং সঠিক উপলব্ধির অভাব মানুষকে সংকীর্ণতা ও কষ্টের মধ্যে নিপতিত করে এবং তাকে পথভ্রষ্টতা (ضلالات) ও শিরকের (شركيات) দিকে ধাবিত করে। ফলে সে তার প্রতিপালককে সঠিকভাবে চিনতে পারে না এবং বিভিন্ন মাধ্যম (وسائط)—তা মানুষ হোক, পাথর হোক কিংবা কাঠ হোক—ব্যতীত তাঁর নিকট পৌঁছানোর পথ খুঁজে পায় না। ফলস্বরূপ সে মহান আল্লাহ সম্পর্কে এক ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে, যার ফলে তার আমলসমূহ এই ধারণার দ্বারা কলুষিত হয়ে পড়ে এবং বাতাসে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো উড়ে যায়; যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর তারা যে কাজ করেছে আমি তার প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব} (১)।

এটি যেমন সামগ্রিক আকিদাহগত (عقدي) ধারণার ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি আকিদাহর শাখা-প্রশাখা যেমন ঈমানের ছয়টি রুকনের (أركان الإيمان) ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
2 -‌‌ في العبادات

يظهر مبدأ اليسر والمسامحة جليًّا في العبادات أكثر من غيرها من أمور الدين، حيث إنها سلوك ظاهر، فجميع العبادات قائمة على هذا المبدأ الذي خصّ الله تعالى به هذه الأمة من غيرها من الأمم، المفروضة منها والنوافل، يقول عليه الصلاة والسلام: «عليكم بما تطيقون فإن الله لا يمل حتى تملوا» (1) .

ويمكن أن نشير إلى بعض هذه المظاهر في العبادات الآتية:

أ - في الطهارة:

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، رقم43، ص10. ورواه مسلم في صحيحه برقم1834، ص318-319.
২ -‌‌ ইবাদাতের ক্ষেত্রে

ইবাদাতের ক্ষেত্রে সহজসাধ্যতা ও সহনশীলতার মূলনীতি দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অধিক স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। যেহেতু এটি একটি প্রকাশ্য আচরণ, তাই সমস্ত ইবাদাত—তা ফরজ হোক বা নফল—এই মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা আল্লাহ তাআলা অন্যান্য উম্মতের তুলনায় বিশেষভাবে এই উম্মতকে দান করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "তোমরা ততটুকুই আমল করো যতটুকু পালনের সামর্থ্য তোমাদের আছে; কেননা আল্লাহ তাআলা (পুরস্কার প্রদানে) ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা (আমল করতে করতে) ক্লান্ত হয়ে পড়ো।" (১)।

নিম্নে বর্ণিত ইবাদাতগুলোর ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যের কিছু দিক নির্দেশ করা যেতে পারে:

ক - পবিত্রতার ক্ষেত্রে:

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ৪৩, পৃষ্ঠা ১০। এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১৮৩৪, পৃষ্ঠা ৩১৮-৩১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
يظهر مبدأ اليسر والمسامحة في الطهارة واضحًا لأنه المدخل إلى العبادات، واليسر فيها أمر ضروري، لأن المسلم يتوضأ في اليوم والليلة خمس مرات، ويغتسل من الجنابة كذلك، ويتعرض لبعض النجاسات هنا وهناك، فإن الشدة في الطهارة توقعه في الضيق والحرج ويجعل نفسه تمل من العبادة نفسها فضلا عن الطهارة، كما هي حال كثير من المصابين بالوسوسة أثناء الوضوء أو الطهارة أو وقوع بعض النجاسات على الثوب وغيرها، وهذا ما نهى عنه الرسول صلى الله عليه وسلم، وهو جزء من سماحة هذا الدين ويسره، وفضل من الله - تعالى - على عباده ليندفعوا نحو الطاعة وأداء العبادات بالصورة المطلوبة، حيث يقول عليه الصلاة والسلام في طهارة الماء: «إن الماء لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه وطعمه ولونه» (1) .

ويقول عليه الصلاة والسلام عن ماء البحر: «هو الطهور ماؤه الحل ميتته» (2) .

ويتبين يسر هذا الدين في الطهارة من قصة الأعرابي الذي بال في المسجد فقام الناس ليقعوا به، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دعوه وهريقوا على بوله سَجْلا من ماء أو ذَنوبًا من ماء، فإنما بُعثتم ميسِّرين ولم تُبعثوا معسِّرين» (3) .

--------------------------------------------

(1) سنن ابن ماجه، رقم521، ص74. وروى بنحوه الترمذي برقم66، ص18، وقال:حديث حسن.

(2) سنن أبي داود، رقم86، ص23. ورواه الترمذي برقم69، ص19. وقال حديث حسن صحيح.

(3) صحيح البخاري، رقم220، ص41. وروى القصة مسلم في صحيحه برقم661، ص133.
পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহজসাধ্যতা ও সহনশীলতার মূলনীতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, কারণ এটি ইবাদতসমূহের প্রবেশদ্বার। আর এতে সহজসাধ্যতা থাকা একান্ত আবশ্যক, কেননা একজন মুসলিমকে দিনে ও রাতে পাঁচবার অজু করতে হয়, অনুরূপভাবে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করতে হয় এবং তাকে এখানে-সেখানে বিভিন্ন নাপাকির সম্মুখীন হতে হয়। এমতাবস্থায় পবিত্রতার ক্ষেত্রে কঠোরতা তাকে সংকীর্ণতা ও কষ্টের মধ্যে নিপতিত করবে এবং পবিত্রতা তো বটেই, খোদ ইবাদতের প্রতিও তার মনে অনীহা সৃষ্টি করবে; যেমনটি অজু বা পবিত্রতা অর্জনের সময় অথবা পোশাকে নাপাকি লাগার ক্ষেত্রে সংশয় বা ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত বহু মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি নিষেধ করেছেন। এটি এই দ্বীনের মহানুভবতা ও সহজতার অংশ এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ, যাতে তারা যথাযথভাবে আনুগত্য ও ইবাদত পালনে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। পানির পবিত্রতা সম্পর্কে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করতে পারে না, তবে যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ ও বর্ণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা প্রবল হয়ে যায় (তা ব্যতীত)» (১) ।

সমুদ্রের পানি সম্পর্কে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল» (২) ।

পবিত্রতার ক্ষেত্রে এই দ্বীনের সহজসাধ্যতা সেই বেদুঈনের ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, যে মসজিদে প্রস্রাব করেছিল। তখন মানুষ তাকে ধমক দেওয়ার জন্য বা বাধা দেওয়ার জন্য উদ্যত হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি বা বড় পাত্র ভরে পানি ঢেলে দাও। তোমাদের তো সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা আরোপকারী হিসেবে নয়» (৩) ।

--------------------------------------------

(১) সুনানে ইবনে মাজাহ, নম্বর ৫২১, পৃষ্ঠা ৭৪। ইমাম তিরমিজি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ৬৬ নম্বরে, পৃষ্ঠা ১৮ এবং বলেছেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস।

(২) সুনানে আবু দাউদ, নম্বর ৮৬, পৃষ্ঠা ২৩। ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন ৬৯ নম্বরে, পৃষ্ঠা ১৯ এবং বলেছেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস।

(৩) সহিহ বুখারি, নম্বর ২২০, পৃষ্ঠা ৪১। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন ৬৬১ নম্বরে, পৃষ্ঠা ১৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن اليسر في الطهارة أيضًا إذا تعلقت قذارة بالنعلين فإن مسحهما بالأرض يطهرهما لقوله عليه الصلاة والسلام: «إذا جاء أحدكم إلى المسجد فلينظر فإن رأى في نعليه قذرًا أو أذى فليمسحه وليصل فيهما» (1) .

ومن يسر هذا الدين في الطهارة أن النجاسة الواقعة على الثوب تزال بالماء وهذا فيه يسر كبير إذا قورن بما كانت عليه بنو إسرائيل من قبل حيث كانوا يكلفون بقص ما أصيب بالنجاسة من الثوب.

وصور اليسر والسماحة في التطهير، لا نستطيع حصرها في هذا المقام.

ب - في التيمم:

ومن اليسر في هذا الدين أن المسلم إذا لم يجد ماء ليتوضأ به أو كان به مرض أو جرح لا يستطيع أن يتوضأ بالماء، فله أن يتيمم بالتراب، فضلا من الله تعالى وتسهيلا عليه، لقوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (2) .

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود، رقم650، ص104. ورواته ثقات.

(2) سورة المائدة، الآية: 6.
পবিত্রতার ক্ষেত্রে সহজসাধ্যতার আরেকটি দিক হলো, যদি জুতোয় কোনো অপবিত্রতা লেগে যায়, তবে তা মাটির সাথে ঘষলেই তা পবিত্র হয়ে যায়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসবে, সে যেন দেখে নেয়; যদি সে তার জুতোয় কোনো অপবিত্রতা বা ময়লা দেখতে পায়, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে এবং তা পরেই সালাত আদায় করে।" (১)।

পবিত্রতার ক্ষেত্রে এই দ্বীনের সহজতার আরেকটি দিক হলো পোশাকে লাগা নাপাকি পানি দিয়ে দূর করা যায়। এটি একটি বিশাল সহজসাধ্য বিষয়, যখন এর তুলনা করা হয় পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈলদের বিধানের সাথে; কেননা তাদের ওপর নির্দেশ ছিল পোশাকের যে অংশে নাপাকি লেগেছে তা কেটে ফেলার।

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহজসাধ্যতা ও উদারতার এই রূপগুলো এই স্বল্প পরিসরে সীমাবদ্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

খ - তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে:

এই দ্বীনের একটি সহজসাধ্য বিষয় হলো, কোনো মুসলিম যদি ওজু করার জন্য পানি না পায় অথবা সে অসুস্থ থাকে কিংবা এমন কোনো জখম থাকে যার কারণে পানি দিয়ে ওজু করতে সক্ষম না হয়, তবে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সহজীকরণস্বরূপ তার জন্য মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করার বিধান রয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত তা দিয়ে মুছে নাও। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" (২)।

--------------------------------------------

(1) সুনান আবু দাউদ, নম্বর ৬৫০, পৃষ্ঠা ১০৪। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

(2) সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
بخلاف ما كانت عليه الشرائع السابقة، حيث لا تقبل صلاة من غير تطهر بالماء.

وجاء تأكيد هذا الأمر في السنة النبوية في قوله عليه الصلاة والسلام: «أعطيت خمسا لم يعطهن أحد قبلي: نصرت بالرعب مسيرة شهر، وجعلت لي الأرض مسجدا وطهورا فأيما رجل من أمتي أدركته الصلاة فليصل، وأحلت لي المغانم ولم تحل لأحد قبلي، وأعطيت الشفاعة، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس عامة» (1) .

ج - في الصلاة:

ويمكن بيان بعض صور التيسير في الصلاة من خلال النقاط الآتية:

- أن فرضيتها خمس مرات في اليوم والليلة، فلا تأخذ وقتًا طويلًا، ولا تشغل الإنسان عن أداء أعماله اليومية، وإنما هي لقاءات مع الله تعالى يجدد فيها المؤمن العهد مع ربه على الطاعة والاستقامة والصلاح، وقد فرضت في البداية خمسين صلاة عند المعراج بالنبي صلى الله عليه وسلم، ثم صارت خمس صلوات بأجر خمسين صلاة، وفي ذلك سماحة ورحمة.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، رقم335، ص58. ورواه مسلم في صحيحه برقم1163، ص212.
পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহের বিপরীত, যেখানে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন ব্যতিরেকে সালাত কবুল হতো না।

সুন্নাহ নববিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর মাধ্যমে এই বিষয়ের তাকিদ এসেছে: "আমাকে পাঁচটি এমন বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কাউকে দেওয়া হয়নি: এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে; সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সিজদাহর স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে, সুতরাং আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তির যেখানে সালাতের সময় হবে সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়; আমার জন্য গনিমত বা যুদ্ধের লব্ধ মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না; আমাকে সুপারিশ করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে; এবং প্রত্যেক নবীকে বিশেষ করে তাঁর নিজ জাতির কাছে পাঠানো হতো, আর আমাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট পাঠানো হয়েছে।" (১)

গ - সালাতের ক্ষেত্রে:

সালাতের ক্ষেত্রে সহজীকরণের কিছু চিত্র নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে:

- দিনে ও রাতে মাত্র পাঁচবার সালাত ফরজ করা হয়েছে, যা খুব বেশি সময় নেয় না এবং মানুষকে তার প্রাত্যহিক কাজকর্ম সম্পাদনে ব্যস্ত রাখে না। বরং এগুলো মহান আল্লাহর সাথে এমন কিছু সাক্ষাত যেখানে মুমিন তার রবের সাথে আনুগত্য, অবিচলতা ও সততার অঙ্গীকার নবায়ন করে। মিরাজের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর প্রাথমিকভাবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল, অতঃপর তা পঞ্চাশ ওয়াক্তের সওয়াবসহ পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়; আর এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে উদারতা ও রহমত।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ৩৩৫, পৃষ্ঠা ৫৮। এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১১৬৩, পৃষ্ঠা ২১২।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
- مشروعية الجمع والقصر في الصلاة أثناء السفر أو المطر أو المرض، وذلك للظروف التي يمر بها الإنسان في هذه الحالات من قلة في الماء أو البرد أو خوف من الطريق أو زيادة في المرض، لذلك جعل الإسلام فيه الصلاة بشكل آخر يتناسب مع هذه الظروف فأجاز له الجمع والقصر، حيث قصرت الصلوات الرباعية إلى ركعتين فقط.

عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: «أقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بتبوك عشرين يومًا يقصر الصلاة» (1) .

ويتغير وضع الصلاة وكيفيتها كذلك في حالة الخوف في الحرب أو هجوم سبع أو سيل أو نحوه، ويسهل أمرها وتقصر، لما في ذلك من مصلحة على المسلمين وحماية لهم من عدوهم الذين قد يغدرون بهم أثناء الصلاة، وتسمى هذه الصلاة بصلاة الخوف، قال تعالى: {وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا} (2) . ثم ذكرت في الآية الآتية كيفية أداء هذه الصلاة على دفعتين.

--------------------------------------------

(1) مسند أحمد، رقم14186، ص990. ورواه أبو داود في سننه برقم1235، ص183-184، وقال: غير مَعْمَر يرسله ولا يسنده.

(2) سورة النساء، الآية: 101.
সফর, বৃষ্টি বা অসুস্থতার সময় নামাজে একত্রীকরণ (جمع) ও সংক্ষিপ্তকরণ (قصر)-এর বৈধতা; মানুষের এ সকল পরিস্থিতিতে পানির স্বল্পতা, শৈত্য, পথের ভয় কিংবা অসুস্থতা বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণে ইসলাম এই পরিস্থিতিগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে নামাজের একটি ভিন্ন রূপ নির্ধারণ করেছে। তাই তাকে একত্রীকরণ (جمع) ও সংক্ষিপ্তকরণ (قصر)-এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজগুলো মাত্র দুই রাকাতে সংক্ষিপ্ত করা হয়।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুকে বিশ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি নামাজ সংক্ষিপ্ত (قصر) করতেন।" (১)।

একইভাবে যুদ্ধাবস্থায় ভয়ের সময়, হিংস্র পশুর আক্রমণ, প্লাবন বা অনুরূপ পরিস্থিতিতে নামাজের অবস্থা ও পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটে; বিষয়টি সহজ করা হয় এবং সংক্ষিপ্ত (قصر) করা হয়। এতে মুসলিমদের জন্য কল্যাণ রয়েছে এবং তাদের শত্রুর হাত থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, যারা নামাজের সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করতে পারে। এই নামাজকে সালাতুল খাউফ বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য নামাজের সংক্ষিপ্তকরণ (قصر) করায় কোনো গুনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে কাফেররা তোমাদের ফিতনায় ফেলবে। নিশ্চয়ই কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।} (২)। এরপর পরবর্তী আয়াতে এই নামাজ দুই দলে বিভক্ত হয়ে আদায়ের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ আহমাদ, নম্বর ১৪১৮৬, পৃষ্ঠা ৯৯০। আবু দাউদ তাঁর সুনান-এ ১২৩৫ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪। তিনি বলেছেন: মা’মার ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীরা এটিকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সংযুক্ত (مسند) হিসেবে বর্ণনা করেননি।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০১।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهناك أحاديث وشواهد كثيرة بشأن قصر الصلاة، وذلك لوجود ظروف يصعب معها القيام بأداء هذه الصلوات كما هي في الأحوال الطبيعية.

- جواز الصلاة في أي مكان من الأرض، حيث لم تكن جائزة عند الأمم السابقة إلا في المعابد والصوامع، يقول عليه الصلاة والسلام: «أعطيت خمسا لم يعطهن أحد قبلي: نصرت بالرعب مسيرة شهر، وجعلت لي الأرض مسجدا وطهورا، فأيما رجل من أمتي أدركته الصلاة فليصل، وأحلت لي المغانم ولم تحل لأحد قبلي، وأعطيت الشفاعة، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس عامة» (1) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، رقم335، ص58. ورواه مسلم في صحيحه برقم1163، ص212.
নামায সংক্ষিপ্ত করা সংক্রান্ত অনেক হাদিস এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) রয়েছে; আর তা এমন সব পরিস্থিতির উপস্থিতির কারণে যেখানে স্বাভাবিক অবস্থার মতো এই নামাযগুলো যথাযথভাবে আদায় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

- জমিনের যেকোনো স্থানে নামায আদায় করা বৈধ হওয়া, যেখানে পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্য কেবল উপাসনালয় ও গির্জা ব্যতীত অন্য কোথাও তা বৈধ ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: «আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি: এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে; সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে, সুতরাং আমার উম্মতের যে কারো নিকট যেখানেই নামাযের ওয়াক্ত হবে সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়; আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল ছিল না; আমাকে সুপারিশের অধিকার দেওয়া হয়েছে; এবং ইতিপূর্বে প্রত্যেক নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁর নিজস্ব সম্প্রদায়ের নিকট, কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির নিকট» (১) ।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ৩৩৫, পৃষ্ঠা ৫৮। এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর ১১৬৩, পৃষ্ঠা ২১২।
(খণ্ড: ১) আল-ইউসরু ওয়াস-সামাহাতু ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
- تخفيف الصلاة وعدم الإطالة فيها، لأن صلاة الجماعة تجمع بين الصغير والكبير والمريض، فينبغي مراعاة ذلك، وهذا ما كان الرسول عليه الصلاة والسلام يحذر أصحابه منه، يقول جابر بن عبد الله الأنصاري رضي الله عنه: «أقبل رجل بناضحين وقد جنح الليل فوافق معاذا يصلي فترك ناضحه وأقبل إلى معاذ فقرأ بسورة البقرة أو النساء فانطلق الرجل وبلغه أن معاذا نال منه فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فشكا إليه معاذا فقال النبي صلى الله عليه وسلم: يا معاذ، أفتان أنت أو أفاتن ثلاث مرار فلولا صليت بسبح اسم ربك والشمس وضحاها والليل إذا يغشى فإنه يصلي وراءك الكبير والضعيف وذو الحاجة» (1) .

ويقول عليه الصلاة والسلام: «إني لأقوم في الصلاة أريد أن أطوّل فيها فأسمع بكاء الصبي فأتجوّز في صلاتي، كراهية أن أشق على أمه» (2) .

- رفعت الصلاة عن الحائض والنفساء، ولا تقضى بعد الطهر، وهذا يسر ولطف على المرأة، حيث تعاني في فترة الحيض والنفاس آلامًا ودماء، يصعب معها الصلاة، وقد تطول هذه المدة فيشق القضاء، فجاءت الرحمة الربانية على المرأة بهذا التيسير، ولم يطلب منها قضاء تلك الصلوات الفائتة عنها بعد ذلك.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، رقم705، ص115. ورواه مسلم في صحيحه برقم 1040، ص194.

(2) صحيح البخاري، رقم707، ص116. ورواه مسلم في صحيحه برقم 1056، ص196.
নামাজ সংক্ষেপ করা এবং তাতে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা; কারণ জামাতে নামাজে ছোট, বড় এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা একত্রিত হয়, তাই এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। আর এ ব্যাপারেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবীদের সতর্ক করতেন। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) বলেন: “এক ব্যক্তি দুটি উট নিয়ে আসলেন যখন রাত ঘনিয়ে আসছিল। তিনি মুয়াজ (রা.)-কে নামাজ পড়তে দেখে তাঁর উট দুটি রেখে মুয়াজের সাথে নামাজে শামিল হলেন। মুয়াজ (রা.) সূরা আল-বাকারাহ অথবা সূরা আন-নিসা পাঠ করলেন। তখন সেই ব্যক্তি (নামাজ ছেড়ে) চলে গেলেন। তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে মুয়াজ (রা.) তাঁর সমালোচনা করেছেন। তখন তিনি নবী (সা.)-এর নিকট এসে মুয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। নবী (সা.) বললেন: ‘হে মুয়াজ! তুমি কি ফিতনাসৃষ্টিকারী (فتان)?’—এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। ‘তুমি কেন সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা, ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা, এবং ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা পাঠ করে নামাজ পড়লে না? কারণ তোমার পেছনে বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল (ضعيف) এবং অভাবী ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করে থাকে’।” (১)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন: “নিশ্চয়ই আমি নামাজে দাঁড়িয়ে তা দীর্ঘ করার ইচ্ছা করি, কিন্তু যখন কোনো শিশুর কান্নার শব্দ শুনি, তখন আমি আমার নামাজ সংক্ষেপ (تجوّز) করি, কারণ আমি তার মায়ের ওপর কষ্ট দেওয়াকে অপছন্দ করি।” (২)।

- ঋতুবতী (حائض) এবং প্রসূতি (نفساء) নারীর ওপর থেকে নামাজ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পবিত্র হওয়ার পর তার কাজা আদায় করতে হয় না। এটি নারীর প্রতি সহজীকরণ ও অনুগ্রহ; কারণ ঋতুস্রাব ও প্রসব পরবর্তী সময়ে মহিলারা বেদনা ও রক্তস্রাবের সম্মুখীন হন, যা নামাজ আদায় করাকে কঠিন করে তোলে। আবার এই সময়কাল দীর্ঘ হতে পারে বিধায় কাজা আদায় করাও কষ্টসাধ্য। তাই রব্বানী রহমতস্বরূপ নারীদের জন্য এই সহজীকরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সেই ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, নং ৭০৫, পৃ. ১১৫। এবং মুসলিম তাঁর সহীহে এটি বর্ণনা করেছেন, নং ১০৪০, পৃ. ১৯৪।

(২) সহীহ বুখারী, নং ৭০৭, পৃ. ১১৬। এবং মুসলিম তাঁর সহীহে এটি বর্ণনা করেছেন, নং ১০৫৬, পৃ. ১৯৬।