(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مجموعة أسئلة تهم الأسرة المسلمة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مجموعة أسئلة تهم الأسرة المسلمة
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار الوطن للنشر
الطبعة: الاولى
عدد الصفحات: 151
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিম পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একগুচ্ছ প্রশ্নাবলী বিভাগ: ফিকহী বিষয়াবলি
বই: মুসলিম পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একগুচ্ছ প্রশ্নাবলী
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান পাবলিশিং
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، ونشهد أن لا إله الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلي يوم الدين.
أما بعد:
فأنه يسر مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية أن تقدم الفتاوى القيمة لفضيلة العلامة الوالد محمد بن صالح العثيمين رحمة الله تعالى.
نسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، موافقا لمرضاته، نافعا لعباده، وأن يكتب
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন অত্যন্ত আনন্দের সাথে ফযিলতুত শায়খ আল্লামা ওয়ালেদ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূল্যবান ফতোয়াসমূহ পেশ করছে।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, একে তাঁর সন্তুষ্টির অনুকূল এবং তাঁর বান্দাদের জন্য কল্যাণকর করেন এবং তিনি যেন লিপিবদ্ধ করেন...
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
لفضيلة شيخنا المؤلف المثوبة والأجر بمنه وكرمه ويعلي درجته في المهديين، ويسكنه فسيح جناته، إنه سميع مجيب.
وصلي الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان.
اللجنة العلمية
في مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين
আমাদের সম্মানিত শায়খ ও লেখকের জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে স্থান দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবিঈগণের (التابعين) ওপর।
ইলমি কমিটি
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন ফাউন্ডেশনে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
استخدام الباروكةمن بين الأدوات التي تستخدمها المرأة لغرض التجميل ما يسمي " بالباروكة " وهى الشعر المستعار الذي يوضع علي الرأس، فهل يجوز للمرأة أن تستخدمها؟
الباروكة محرمة وهي داخلة في الوصل وإن لم يكن وصلا، فهي تظهر رأس المرأة علي وجه أطول من حقيقته فتشبه الوصل، فلقد لعن النبي صلى الله عليه وسلم الواصلة والمستوصلة1. لكن إن لم يكن علي راس المرأة شعر أصلا كأن تكون قرعاء فلا حرج من استعمال الباروكة ليست العيب، لأن إزالة العيوب جائزة، ولهذا أذن النبي صلى الله عليه وسلم لمن قطعت أنفه في إحدى الغزوات أن يتخذ
--------------------------------------------
পরচুলা ব্যবহারনারীদের সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত উপকরণগুলোর মধ্যে একটি হলো "পরচুলা", যা মাথায় পরিধানযোগ্য কৃত্রিম চুল। সুতরাং, কোনো নারীর জন্য কি এটি ব্যবহার করা বৈধ (جائز)?
পরচুলা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (محرم) এবং এটি চুল জোড়া দেওয়ার (وصل) অন্তর্ভুক্ত, যদিও এটি সরাসরি চুল সংযোগ করা নয়। কারণ এটি নারীর মাথার চুলকে তার প্রকৃত অবয়বের চেয়ে দীর্ঘতর করে প্রকাশ করে, ফলে তা চুল জোড়া দেওয়ার সদৃশ হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই নারীর ওপর অভিশাপ দিয়েছেন যে নিজের চুলে অন্য চুল জোড়া দেয় এবং যে নারী অন্যের কাছে চুল জোড়া দেওয়ার আবেদন করে।১ তবে যদি কোনো নারীর মাথায় একেবারেই চুল না থাকে, যেমন সে যদি টেকো হয়, তবে এই ত্রুটি দূর করার জন্য পরচুলা ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। কারণ ত্রুটি দূর করা বৈধ (جائز); আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক যুদ্ধে যার নাক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন যেন সে (নাক) গ্রহণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أنفا من ذهب، ومثل أن يكون في أنفه اعوجاج فيعدله، أو إزالة بقعة سوداء مثلا، فهذا لا بأس به.
أما إن كان لغير إزالة عيب كالوشم والنمص مثلا فهذا هو الممنوع، واستعمال الباروكة حتى لو كان بإذن الزوج ورضاه حرام، لأنه إذن ولا رضا فيما حرمه الله.
স্বর্ণের তৈরি নাক ব্যবহার করা, অথবা নাকে কোনো বক্রতা থাকলে তা সংশোধন করা কিংবা কালো দাগ দূর করার মতো বিষয়গুলোতে কোনো অসুবিধা নেই (لا بأس به)।
কিন্তু যদি তা কোনো ত্রুটি দূর করার উদ্দেশ্যে না হয়ে অন্য কোনো কারণে হয়, যেমন উলকি (وشم) অঙ্কন কিংবা ভ্রু উপড়ানো (نمص), তবে তা নিষিদ্ধ (ممنوع)। আর পরচুলা ব্যবহার করা হারাম (حرام), এমনকি তা স্বামীর অনুমতি ও সন্তুষ্টির ভিত্তিতে হলেও; কেননা আল্লাহ যা হারাম (حرام) করেছেন, তাতে কারো অনুমতি বা সন্তুষ্টির কোনো অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
نتف الشعر* يلاحظ على بعض النساء أنهن يعمدن إلي إزالة أو ترقيق شعر الحاجبين وذلك لغرض الجمال والزينة فما حكم ذلك؟
هذه المسألة تقع على وجهين:
الوجه الأول: أن يكون ذلك بالنتف فهذا محرم وهو من الكبائر، لأنه من النمص الذي لعن النبي صلى الله عليه وسلم فاعله.
الثاني: أن يكون على سبيل القصّ والحفّ، فهذا فيه خلاف بين أهل العلم هل يكون من النمص أم لا؟
ভ্রুর পশম উপড়ে ফেলা* লক্ষ্য করা যায় যে, কিছু নারী সৌন্দর্য ও অলংকরণের উদ্দেশ্যে ভ্রুর পশম অপসারণ করে বা পাতলা করে থাকে; এর বিধান কী?
এই বিষয়টি দুটি পদ্ধতিতে হতে পারে:
প্রথম পদ্ধতি: যদি তা উপড়ে ফেলার (النتف) মাধ্যমে হয়, তবে তা নিষিদ্ধ (محرم) এবং কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি ভ্রু উপড়ানোর (النمص) অন্তর্ভুক্ত, যার সম্পাদনকারীকে নবী (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: যদি তা কেটে ফেলা (القص) বা ছেঁটে ফেলার (الحف) মাধ্যমে হয়, তবে এ বিষয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ (خلاف) রয়েছে যে, এটি ভ্রু উপড়ানোর (النمص) অন্তর্ভুক্ত হবে কি না?
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والأولي تجنب ذلك.
أما ما كان من الشعر غير المعتاد بحيث ينبت في أماكن لم تجر العادة بها، كأن يكون للمرأة شارب، أو ينبت على حدها شعر، فهذا لا بأس بإزالته، لأنه خلاف المعتاد وهو مشوّه للمرأة.
أما الحاجب فإن من المعتاد أن تكون رقيقة دقيقة، وأن تكون كثيفة واسعة، وما كان معتادا فلا يتعرض له، لأن الناس لا يعدونه عيبا بل يعدون فواته جمالا أو وجوده جمالا، وليس من الأمور آلتي تكون عيبا حتى يحتاج الإنسان إلي إزالته.
আর এটি বর্জন করাই উত্তম।
তবে অস্বাভাবিক চুল যা এমন স্থানে গজায় যেখানে সাধারণত চুল গজায় না—যেমন মহিলার গোঁফ হওয়া কিংবা গালে চুল গজানো—তবে তা অপসারণ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এটি স্বাভাবিক অবস্থার পরিপন্থী এবং তা নারীর জন্য সৌন্দর্যহানিকর।
আর ভ্রুর বিষয়টি হলো, এটি স্বাভাবিকভাবেই কখনো সূক্ষ্ম ও পাতলা হয়, আবার কখনো ঘন ও প্রশস্ত হয়। সুতরাং যা স্বাভাবিক প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত, তাতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। কারণ মানুষ একে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করে না, বরং তারা এর অনুপস্থিতি বা উপস্থিতিকে সৌন্দর্য হিসেবেই গণ্য করে। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মানুষের তা অপসারণ করার প্রয়োজন পড়বে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بروز شعر الرأسأيضا من الطرق التي تعملها المرأة للجمال والزينة قيامها بوضع الحشوى داخل الرأس بحيث يكون الشعر متجمعا فوق الرأس ـ فما حكم هذا العمل؟
الشعر إذا كان على الرأس على فوق فإن هذا
মাথার চুল উঁচু করে রাখানারীদের সৌন্দর্য ও সাজসজ্জার জন্য অবলম্বন করা পদ্ধতিগুলোর অন্যতম হলো মাথার ভেতরে কোনো কৃত্রিম বস্তু (حشوة) ব্যবহার করা যাতে চুলগুলো মাথার উপরিভাগে পুঞ্জীভূত হয়ে থাকে - এই কাজের বিধান (حكم) কী?
চুল যখন মাথার উপরে উঁচুতে থাকে, তখন এটি
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
داخل في التحذير الذي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: " صنفان من أهل النار لم أرهما بعد " " وذكر الحديث: وفيه "" نساء كاسيات عاريات، مائلات مميلات، رؤوسهن كأسنمة البخت المائلة" 1فإذا كان الشعر فوق الرأس ففيه نهى، أما إذا كان علي الرقبة مثلا فإن هذا لا بأس به إلا إذا كانت المرأة ستخرج إلي السوق، فإن في هذه الحال يكون من التبرج، لأنه سيكون له علامة من وراء العباءة تظهر، ويكون هذا من باب التبرج ومن أسباب الفتنة فلا يجوز.
--------------------------------------------
এটি নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে আসা সেই সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত যা তাঁর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "জাহান্নামবাসীদের মধ্যে এমন দুটি শ্রেণি রয়েছে যাদের আমি এখনও দেখিনি।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন, যাতে রয়েছে: "এমন নারী যারা পোশাক পরিহিতা হওয়া সত্ত্বেও উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকৃষ্টকারিনী এবং নিজেরাও আকৃষ্ট, যাদের মস্তক বক্রগামী বুখতি উটের কুঁজের ন্যায়।" 1সুতরাং চুল যদি মাথার উপরিভাগে থাকে তবে তাতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পক্ষান্তরে, তা যদি উদাহরণস্বরূপ ঘাড়ের ওপর থাকে তবে তাতে কোনো দোষ নেই, যদি না সেই নারী বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। কেননা এমতাবস্থায় তা সৌন্দর্য প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ আবায়ার পেছন থেকে এর চিহ্ন প্রকাশ পাবে। এটি সৌন্দর্য প্রদর্শনের পর্যায়ভুক্ত এবং ফিতনার অন্যতম কারণ, তাই এটি বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قص شعر الفتاة إلى الكتف ولبس النعال المرتفعة واستعمال ادوات التجميل…لقد انتشرت ظاهرة قص شعر الفتاة إلي كتفيها للتجميل، ولبس النعال المرتفعة كثيرا، واستعمال أدوات التجميل المعروفة. فما حكم هذه الأعمال؟
মেয়েদের চুল কাঁধ পর্যন্ত ছোট করা, উঁচু জুতা পরিধান করা এবং প্রসাধনী ব্যবহার করা…সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে মেয়েদের চুল কাঁধ পর্যন্ত ছোট করা, অত্যধিক উঁচু জুতা (হিল) পরিধান করা এবং প্রচলিত প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কাজগুলোর বিধান (حكم) কী?
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قصّ المرأة لشعرها إما أن يكون على وجه يشبه شعر الرجال فهذا محرم ومن كبائر الذنوب، لأن النبي صلى الله عليه وسلم لعن المتشبهات بالرجال 1، وإما أن يكون على وجه لا يصل به إلي التشبه بالرجال، فقد اختلف أهل العلم في ذلك إلي ثلاثة أقوال منهم من قال إنه جائز لا بأس به، ومنهم من قال إنه محرم، ومنهم من قال إنه مكروه، والمشهور من مذهب الإمام أحمد أنه مكروه.
وفى الحقيقة أنه لا ينبغي لنا أن نتلقى كل ما ورد علينا من عادات غيرنا، فنحن قبل زمن غير بعيد نرى النساء يتباهين بكثرة شعور رؤوسهن وطول شعورهن، فما بالهن اليوم يرغبن تقصير شعر رؤوسهن يذهبن إلي
--------------------------------------------
নারীদের চুল কাটা যদি এমন পদ্ধতিতে হয় যা পুরুষদের চুলের সদৃশ, তবে তা নিষিদ্ধ (محرم) এবং কবীরা গুনাহসমূহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের অভিশাপ (لعن) দিয়েছেন ১। আর যদি তা এমন পদ্ধতিতে হয় যা পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছে না, তবে এ বিষয়ে আলেমগণ (أهل العلم) তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন—কেউ বলেছেন এটি বৈধ (جائز) ও এতে কোনো অসুবিধা নেই, কেউ বলেছেন এটি নিষিদ্ধ (محرم), আবার কেউ বলেছেন এটি অপছন্দনীয় (مكروه)। ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এটি অপছন্দনীয় (مكروه)।
বস্তুত, আমাদের নিকট বিজাতীয় যেসব সংস্কৃতি ও অভ্যাস আসে তার সবকিছুই গ্রহণ করা আমাদের জন্য সমীচীন নয়। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, আমরা দেখতাম নারীরা তাঁদের মাথার চুলের আধিক্য ও দৈর্ঘ্যের জন্য গর্ববোধ করতেন। কিন্তু আজ তাঁদের কী হলো যে, তাঁরা মাথার চুল ছোট করার প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়ছেন এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
هذا العمل الذي أتانا من غير بلادنا، وأنا لست أنكر كل شي جديد ولكن أنكر كل شي يؤدى إلي أن ينتقل المجتمع إلي عادات متلقاة من غير المسلمين.
وأما النعال المرتفعة فلا تجوز إذا خرجت عن العادة وأدت إلي التبرج وظهور المرأة ولفت النظر إليها، لأن الله تعالى يقول {وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} [الأحزاب: 33] . فكل شي يكون به تبرج المرأة وظهورها وتميزها من بين النساء على وجه فيه التجميل فإنه محرم ولا يجوز لها.
وأما استعمال أدوات التجميل فلا بأس به إذا لم يكن فيه ضرر أو فتنه.
এই কর্মকাণ্ড যা আমাদের নিকট বিজাতীয় দেশ থেকে এসেছে; আমি নতুন সব কিছুকেই অস্বীকার করি না, তবে আমি সেই সকল বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করি যা সমাজকে অমুসলিমদের নিকট থেকে প্রাপ্ত রীতিনীতির দিকে ধাবিত করে।
আর উঁচু জুতার (হিল) ক্ষেত্রে বিধান হলো, যদি তা প্রচলিত প্রথা বহির্ভূত হয় এবং তা সৌন্দর্য প্রদর্শন, নারীর অতি-প্রকাশ্যতা ও অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ হয়, তবে তা বৈধ নয়; কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা প্রাচীন জাহেলিয়াতের যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না} [আল-আহজাব: ৩৩]। সুতরাং যা কিছুর মাধ্যমে সৌন্দর্য চর্চার উদ্দেশ্যে নারীর প্রদর্শন, প্রকাশ্যতা এবং অন্যান্য নারীদের মাঝে তার বিশেষ স্বাতন্ত্র্য ফুটে ওঠে, তা নিষিদ্ধ এবং তার জন্য তা জায়েজ নয়।
আর প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি কোনো ক্ষতি বা ফিতনার আশঙ্কা না থাকে, তবে তাতে কোনো বাধা নেই।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ما حكم
استعمال الكحل للمرأة؟
الاكتحال نوعان:
أحدهما: اكتحال لتقوية البصر وجلاء الغشاوة من العين وتنظيفها وتطهيرها بدون أن يكون له جمال،
নারীর
সুর্মা ব্যবহারের বিধান (حكم) কী?
সুর্মা ব্যবহার দুই প্রকার:
প্রথমটি: দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, চোখের ঝাপসাভাব দূর করা এবং চোখ পরিষ্কার ও পবিত্র করার উদ্দেশ্যে সুর্মা ব্যবহার করা, সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকেই,
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فهذا لا بأس به، بل إنه مما ينبغي فعله، لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكتحل في عينيه، ولاسيما إذا كان بالإثمد.
النوع الثاني: ما يقصد به الجمال والزينة، فهذا للنساء مطلوب، لأن المرأة مطلوب منها أن تتجمل لزوجها.
وأما الرجال فمحل نظر، وأنا أتوقف فيه، وقد يفرق فيه بين الشاب الذي يخشى من اكتحاله فتنه فيمنع، وبين الكبير الذي لا يخشى ذلك من اكتحال فلا يمنع.
এতে কোনো দোষ নেই (لا بأس به), বরং এটি এমন একটি কাজ যা করা উচিত; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন, বিশেষ করে তা যদি ইসমীদ হয়।
দ্বিতীয় প্রকার: যার দ্বারা সৌন্দর্য ও অলংকরণ উদ্দেশ্য হয়; এটি নারীদের জন্য বাঞ্ছনীয়, কারণ নারীর জন্য তার স্বামীর নিকট সৌন্দর্য প্রকাশ করা কাম্য।
আর পুরুষদের ক্ষেত্রে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে এবং আমি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদানে বিরত (أتوقف) থাকছি। এখানে এমন যুবকের মধ্যে পার্থক্য করা যেতে পারে যার সুরমা ব্যবহারের কারণে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, ফলে তাকে নিষেধ করা হবে; এবং এমন বয়স্ক ব্যক্তি যার ক্ষেত্রে সুরমা ব্যবহারে সেই আশঙ্কা নেই, ফলে তাকে নিষেধ করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
تتجمل المرأة بحدودهل يجوز للمرأة استعمال المكياج الصناعي لزوجها؟ وهل تجوز أن تظهر به أمام أهلها وأمام نساء مسلمات؟
* تتجمل المرأة لزوجها في الحدود المشروعة من الأمور التي ينبغي لها أن تقوم بها، فلأن المرأة كلما تجملت لزوجها كان ذلك أدعي إلي محبته لها وإلي
সীমারেখার ভেতরে নারীর সৌন্দর্যচর্চাএকজন মহিলার জন্য কি তার স্বামীর উদ্দেশ্যে কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহার করা বৈধ (جائز)? আর তার জন্য কি তা মেখে নিজ পরিবার ও মুসলিম নারীদের সামনে উপস্থিত হওয়া বৈধ (جائز)?
* শরীয়তসম্মত (مشروعة) সীমারেখার মধ্যে থেকে স্ত্রীর তার স্বামীর জন্য সৌন্দর্যচর্চা করা এমন একটি বিষয় যা তার করা উচিত; কেননা নারী যখনই তার স্বামীর জন্য নিজেকে সুসজ্জিত করে, তা তার প্রতি স্বামীর ভালোবাসা এবং... এর প্রতি অধিকতর উদ্বুদ্ধকারী হয়।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الائتلاف بينهما، وهذا من مقاصد الشريعة، فالمكياج إذا كان يجملها ولا يضرها فإنه لا بأس به ولا حرج.
ولكني سمعت أن المكياج يضر بشرة الوجه وأنه والبتالى تتغير به بشرة الوجه تغيرا قبيحا قبل زمن تغيرها في الكبر، وأرجو من النساء أن يسألن الأطباء عن ذلك. فإذا ثبت ذلك كان استعمال المكياج إما محرما أو مكروها علي الأقل، لأن كل شي يؤدى بالإنسان إلي التشويه والتقبيح فإنه إما محرم وإما مكروه.
وبهذه المناسبة أود أن أذكر ما يسمي ب " المناكير " وهو شي يوضع علي الأظافر تستعمله المرأة وله قشرة، وهذا لا يجوز استعماله للمرأة إذا كانت تصلي، لأنه يمنع وصول الماء في الطهارة، وكل شي يمنع وصول الماء فإنه لا يجوز استعماله للمتوضي أو المغتسل، لأن الله يقول: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ} [المائدة: من الآية6] ومن كان على أظفارها مناكير فإنها تمنع
তাদের মধ্যে হৃদ্যতা বা সম্প্রীতি বজায় রাখা শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য। মেকআপ যদি নারীকে সৌন্দর্য দান করে এবং তার কোনো ক্ষতি না করে, তবে তা ব্যবহারে কোনো দোষ বা সংকীর্ণতা নেই।
কিন্তু আমি শুনেছি যে, মেকআপ মুখের ত্বকের ক্ষতি সাধন করে এবং এর ফলে বার্ধক্য আসার স্বাভাবিক সময়ের পূর্বেই ত্বক কুৎসিতভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়। আমি নারীদের অনুরোধ করছি তারা যেন এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করেন। যদি বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে মেকআপ ব্যবহার করা হয় নিষিদ্ধ (محرم) অথবা অন্তত অপছন্দনীয় (مكروه) হবে। কারণ যা কিছু মানুষকে বিকৃতি বা কুৎসিত রূপের দিকে ধাবিত করে, তা হয় নিষিদ্ধ (محرم) নতুবা অপছন্দনীয় (مكروه)।
এই প্রসঙ্গে আমি 'নেইল পলিশ' সম্পর্কে উল্লেখ করতে চাই, যা নখের উপর লাগানো হয় এবং যার একটি স্তর থাকে। সালাত আদায়কারী কোনো নারীর জন্য এটি ব্যবহার করা বৈধ নয়, কারণ এটি পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের সময় পানি পৌঁছাতে অন্তরায় সৃষ্টি করে। আর যা কিছু পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, অজুকারী বা গোসলকারীর জন্য তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করো} [সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬ এর অংশ]। আর যার নখে নেইল পলিশ থাকে, তা পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদান করে...
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وصول الماء، فلا يصدق عليها أنها غسلت يدها فتكون قد تركت فريضة من فرائض الوضوء أو الغسل، وأما من كانت لا تصلى فلا حرج عليها إذا استعملته إلا أن يكون هذا الفعل من خصائص نساء الكفار، فإنه لا يجوز لما فيه التشبه بهم.
ولقد سمعت أن بعض الناس أفتى بأن هذا من جنس لبس الخفين، وأنه يجوز أن تستعمله المرأة لمدة يوم وليلة إن كانت مقيمة، ومدة ثلاثة أيام إن كانت مسافرة، ولكن هذه فتوى غلط وليس كل ما ستر الناس به أبدانهم يلحق بالخفين، فإن جاءت الشريعة بالمسح عليهما للحاجة إلي ذلك غالبا فإن القدم محتاجة للستر، لأنها تباشر الأرض والحصى والبرودة وغير ذلك، فخصص الشارع المسح بهما. وقد يدعى قياسها على العمامة وليس بصحيح، لأن العمامة محلها الرأس، والرأس فرضه مخفف من
পানি পৌঁছানো; এমতাবস্থায় সে তার হাত ধৌত করেছে বলে গণ্য হবে না, ফলে সে অজু বা গোসলের আবশ্যিক বিধানসমূহের (فرائض) মধ্য থেকে একটি আবশ্যিক বিধান (فريضة) বর্জন করল। আর যে নারী সালাত আদায় করে না, তার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে কোনো বাধা নেই, যদি না এই কাজটি কাফির নারীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়; কেননা তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের (التشبه) কারণে এটি বৈধ নয়।
আমি শুনেছি যে, কিছু লোক ফতোয়া (فتوى) দিয়েছেন যে এটি চামড়ার মোজা (خفين) পরিধানের পর্যায়ভুক্ত, এবং কোনো নারী মুকিম বা স্থানীয় হলে একদিন একরাত এবং মুসাফির বা ভ্রমণকারী হলে তিনদিন এটি ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এই ফতোয়া (فتوى) ভুল; মানুষ তাদের শরীর যা দিয়ে আবৃত করে তার সবকিছুই মোজার (خفين) পর্যায়ভুক্ত নয়। মূলত সচরাচর প্রয়োজনের তাগিদে শরিয়তে এ দুটির ওপর মাসেহ করার (المسح) বিধান এসেছে, কারণ পায়ের পাতার আবরণের প্রয়োজন হয় যেহেতু তা সরাসরি মাটি, কঙ্কর, শীত এবং অন্যান্য জিনিসের সংস্পর্শে আসে; তাই বিধানদাতা (الشارع) এ দুটির ওপর মাসেহ (المسح) করাকে নির্দিষ্ট করেছেন। একে পাগড়ির (عمامة) ওপর কিয়াস (قياس) করার দাবি করা হতে পারে, তবে তা সঠিক নয়। কারণ পাগড়ির স্থান হলো মাথা, আর মাথার আবশ্যিক বিধান (فرض) লঘু করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أصله، فإن فريضة الرأس هي المسح بخلاف الوجه فإن فريضته الغسل، ولهذا لم يبح النبي صلى الله عليه وسلم أن تمسح القفازين مع أنهما يستران اليد.
وفي الصحيحين من حديث المغيرة بن شعبة: "أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ وعليه جبة ضيقة الكمين فلم يستطع إخراج يديه، فأخرج يديه من تحتها فغسلها" 1 فدلّ هذا على أنه لا يجوز للإنسان أن يقيس أي حائل يمنع وصول الماء علي العمامة وعلى الخفين، والواجب على المسلم أن يبذل غاية جهده في معرفة الحق، وأن لا يقدم على فتوى إلا وهو يشعر أن الله تعالى سائله عنها، لأنه يعبر عن شريعة الله عز وجل.
--------------------------------------------
এর মূল বিষয় হলো, মাথার নির্ধারিত বিধান হলো মাসাহ করা, পক্ষান্তরে চেহারার বিধান হলো ধৌত করা। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতমোজার ওপর মাসাহ করার অনুমতি প্রদান করেননি, যদিও তা উভয় হাতকে আবৃত করে রাখে।
সহীহাইন-এ মুগীরা ইবনে শু'বাহ বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজু করলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর পরনে সংকীর্ণ আস্তিনবিশিষ্ট একটি জুব্বা ছিল। তিনি তা থেকে হাত বের করতে পারছিলেন না, ফলে তিনি জুব্বার নিচ দিয়ে হাত বের করে তা ধৌত করলেন।" ১ সুতরাং এটি একথারই প্রমাণ দেয় যে, পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদানকারী কোনো আবরণকে পাগড়ি কিংবা মোজার সাথে তুলনা করা মানুষের জন্য বৈধ নয়। একজন মুসলিমের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো সত্য উদ্ঘাটনে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং যতক্ষণ না সে অনুভব করে যে আল্লাহ তাআলা তাকে এই ফতোয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন, ততক্ষণ ফতোয়া প্রদানে অগ্রসর না হওয়া; কেননা সে মহান আল্লাহর শরীয়তেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ما حكم لبس الملابس الضيقة والبنطلون للمرأة؟
নারীদের জন্য আঁটসাঁট পোশাক ও প্যান্ট পরিধান করার বিধান কী?
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
* الملابس الضيقة للمرأة ولبس البنطلون غير لائق فإن كان يراها غير محارمها فلا شك في تحريمه، لأن في ذلك فتنه عظيمة. وقد جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "صنفان من أهل النار لم أرهما بعد، نساء كاسيات عاريات مائلات مميلات" إلي آخر الحديث1، وقد فسر بعض أهل العلم معني الكاسيات العاريات بأنها المرأة تلبس ثيابا لكنها لا تسترها سترا كاملا إما لضيقها وإما لخفتها وإما لقصرها، وعلى هذا فعلى المرأة أن تحترز من ذلك.
--------------------------------------------
নারীদের জন্য আঁটসাঁট পোশাক এবং প্যান্ট পরিধান করা অশোভন; যদি গায়রে-মাহরাম ব্যক্তিরা তাকে দেখে তবে তা নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ এতে রয়েছে মহা ফিতনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "জাহান্নামীদের এমন দুটি দল রয়েছে যাদের আমি এখনও দেখিনি; এমন নারী যারা পোশাক পরিহিতা অথচ নগ্ন, যারা পুরুষদের আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হয়..." হাদিসের শেষ পর্যন্ত১। কতিপয় আলিম 'পোশাক পরিহিতা নগ্ন' কথাটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, নারী পোশাক পরিধান করবে ঠিকই কিন্তু তা তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে আবৃত করবে না—হয় পোশাকটি সংকীর্ণ বা আঁটসাঁট হওয়ার কারণে, অথবা পাতলা হওয়ার কারণে, নতুবা খাটো হওয়ার কারণে। অতএব, নারীর জন্য এ থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لبس الجينز ليس من التشبهيوجد نوع من القماش يسمي الجينز يفصل بطرق مختلفة لملابس الأطفال بنين وبنات يمتاز بالمتانة، والإشكال أن هذه الخامة يلبسها الكفار وغيرهم بطريقة
জিন্স পরিধান করা সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত নয়এক বিশেষ ধরণের কাপড় রয়েছে যাকে জিন্স বলা হয়, যা ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এবং এটি এর স্থায়িত্বের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সমস্যা হলো এই যে, এই উপাদানটি কাফির এবং অন্যরা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরিধান করে—
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
البنطلون الضيق وهو مشهور ومعروف، والسؤال هو استعمال هذا القماش بأشكاله المختلفة غير البنطلون الضيق بمعنى استعماله لمتانته وجودته هل يدخل في التشبه؟
التشبه معناه هو أن يقوم الإنسان بشي يختص بالمتشبه بهم، فإذا هذه القماشة أو غيرها علي وجه يشبه لباس الكفار فقد دخل في التشبه، أما مجرد أن يكون لباس الكفار من هذا القماش ولكن يفصل علي وجه آخر مغاير لملابس الكفار، فإن ذلك لا بأس به ما دام مخالفا لطريقة الكفار حتى لو اشتهروا بها ما دام أن الهيئة ليست ما يلبسه الكفار.
সংকীর্ণ প্যান্ট অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। প্রশ্ন হলো, এই কাপড়ের স্থায়িত্ব ও গুণগত মানের কারণে সংকীর্ণ প্যান্ট ব্যতীত অন্য কোনো আকৃতিতে এর ব্যবহার কি অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত হবে?
অনুকরণের অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করা যা যাদের অনুকরণ করা হচ্ছে তাদের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সুতরাং, যদি এই কাপড় বা অন্য কোনো কিছু কাফেরদের পোশাকের সদৃশ কোনো পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়, তবে তা অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু কাফেরদের পোশাক যদি এই কাপড়ের তৈরি হয় অথচ তা যদি কাফেরদের পোশাক থেকে ভিন্ন কোনো পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়, তবে তাতে কোনো বাধা নেই যতক্ষণ তা কাফেরদের পদ্ধতির পরিপন্থী হয়; এমনকি তারা এই কাপড়ের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও কোনো সমস্যা নেই, যদি পোশাকের বাহ্যিক অবয়ব কাফেরদের পরিহিত পোশাকের মতো না হয়।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الممازحة مع المحارم…نعلم أن عمّ المرأة من محارمها الذين يجوز لها أن تكشف لهم. ولكن ماذا إذا كان عم المرأة يمزح معها مزاحا فاحشا فهل يجوز لها ألا تقابله بسبب مزاحه الفاحش؟
মাহরামদের (محارم) সাথে কৌতুক করা…আমরা জানি যে মহিলার চাচা তার সেই সকল মাহরামদের (محارم) অন্তর্ভুক্ত যাদের সামনে তার (অঙ্গ) প্রকাশ করা বৈধ (يجوز)। কিন্তু যদি মহিলার চাচা তার সাথে অশ্লীল কৌতুক করেন, তবে তার এই অশ্লীল রসিকতার কারণে মহিলার জন্য কি তার সাথে সাক্ষাৎ না করা বৈধ (يجوز) হবে?
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إذا كان العم يمازح بنات أخيه ممازحة مريبة فأنه لا يحل أن يأتين إليه ولا يكشفن وجوههن عنده لأن العلماء الذين أباحوا للمحرم أن تكشف المرأة وجهها عنده، اشترطوا أن لا يكون هناك فتنة، وهذا الرجل الذي يمازح بنات أخيه مزاحا قبيحا معناه أنه يخشى عليهن منه الفتنة، والواجب البعد عن أسباب الفتنة.
ولا تستغرب أن أحد من الناس يمكن أن تتعلق رغبته بمحارمه ـ والعياذ بالله ـ وانظر إلي التعبير القرآني، قال تعالى: {ولا تنكحوا ما نكح آباؤكم من النساء إلا ما قد سلف إنه كان فاحشة ومقتا وساء سبيلا} [النساء:22] وقال في الزنا: {وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً} [الإسراء: 32] وهذا يدل على أن نكاح ذوات المحارم أعظم قبحا من الزنا.
وخلاصة الجواب: أنه يجب عليهن البعد عن عمهن وعدم كشف الوجه له، مادمن يرين منه هذا المزاح القبيح الموجب للريبة.
যদি কোনো চাচা তার ভ্রাতুষ্পুত্রীদের সাথে সন্দেহজনক (ريبة) হাস্যরসে লিপ্ত হন, তবে তাদের জন্য তার নিকট আসা কিংবা তার সামনে মুখমণ্ডল উন্মোচন করা বৈধ নয়। কারণ যে সকল আলেম (علماء) মাহরামের (محرم) সামনে নারীর মুখমণ্ডল উন্মোচন করা বৈধ বলেছেন, তারা এই শর্তারোপ করেছেন যেন সেখানে কোনো ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা না থাকে। আর যে ব্যক্তি তার ভ্রাতুষ্পুত্রীদের সাথে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস করে, তার অর্থ হলো তাদের ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা রয়েছে। আর ফিতনার (فتنة) কারণসমূহ থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব (واجب)।
আর এতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই যে, কোনো মানুষের লালসা তার মাহরামদের (محارم) প্রতিও আসক্ত হতে পারে—আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কুরআনের বর্ণনাভঙ্গির দিকে লক্ষ্য করুন, মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের পিতারা যে নারীদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না, তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন। নিশ্চয় এটি অশ্লীলতা (فاحشة), ঘৃণ্য এবং নিকৃষ্ট পথ।" [সূরা আন-নিসা: ২২]। আর ব্যভিচার (زنا) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "আর তোমরা ব্যভিচারের (زنى) নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয় এটি অশ্লীলতা (فاحشة) ও মন্দ পথ।" [সূরা আল-ইসরা: ৩২]। এটি প্রমাণ করে যে, মাহরামদের (محارم) সাথে লিপ্ত হওয়া সাধারণ ব্যভিচারের (زنى) চেয়েও অধিক জঘন্য।
উত্তরের সারকথা হলো: যতক্ষণ পর্যন্ত তারা চাচার পক্ষ থেকে এই রূপ কুরুচিপূর্ণ এবং সন্দেহ (ريبة) উদ্রেককারী হাস্যরস প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণ তাদের জন্য চাচার থেকে দূরে থাকা এবং তার সামনে মুখমণ্ডল উন্মোচন না করা ওয়াজিব (واجب)।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تصفيف الشعرهل يجوز للمرأة أن تصفف شعرها بالطريقة العصرية وليس الغرض التشبه بالكافرات ولكن للزوج؟
الذي بلغني عن تصفيف الشعر أنه يكون بأجرة باهظة كثيرة قد تصفها بأنها إضاعة مال، والذي أنصح به نساءنا أن يتجنبن هذا الترف، وللمرأة أن تتجمل لزوجها على وجه لا يضيع به المال هذا الضياع، فإن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن إضاعة المال.
চুল বিন্যাসকোনো নারীর জন্য কি আধুনিক পদ্ধতিতে চুল বিন্যাস করা বৈধ, যদি তার উদ্দেশ্য কাফির নারীদের অনুকরণ করা না হয় বরং কেবল স্বামীর জন্য হয়?
চুল বিন্যাস সম্পর্কে আমার নিকট যা পৌঁছেছে তা হলো, এটি অত্যধিক ব্যয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয় যা অর্থের অপচয় হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। আমি আমাদের নারীদের এই বিলাসিতা পরিহার করার পরামর্শ দিচ্ছি। একজন নারীর জন্য তার স্বামীর উদ্দেশ্যে নিজেকে সজ্জিত করার অবকাশ রয়েছে এমন পন্থায় যাতে অর্থের এই রূপ অপচয় না হয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থ অপচয় করতে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ما حكم قيام بعض النساء بأخذ الموديلات من مجلات الأزياء إذا كان ذلك بدون قصد اتباع الموضة ومسايرة الغرب، هل يعد هذا تشبها بالكافرات مع أن النساء يلبسن ما ينتجه الغرب من الملابس وغير ذلك؟
কিছু নারী কর্তৃক ফ্যাশন ম্যাগাজিন থেকে নকশা গ্রহণ করার বিধান কী, যদি তা ফ্যাশন অনুসরণ এবং পাশ্চাত্যের অন্ধানুকরণ করার উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে হয়? এটি কি কাফের নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে, অথচ মহিলারা পাশ্চাত্যের উৎপাদিত পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী পরিধান করে থাকেন?
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اطلعت على كثير من هذه المجلات فألفيتها مجلات خليعة فظيعة خبيثة، حقيق بنا في المملكة العربية السعودية، الدولة التي لا نعلم ـ ولله الحمد دوله مماثلة لها في الحفاظ على شرع الله وعلى الأخلاق الفاضلة. إننا نريد أن نربأ ونحن في هذه الدولة أن توجد مثل هذه المجلات في أسواقنا وفي محلات الخياطة، لأن منظرها أفظع من مخبرها، ولا يجوز لأي امرأة أو أي رجل أن يشترى هذه المجلات أو ينظر إليها أو يراجعها لأنها فتنة. قد يشتريها الإنسان وهو يظن أنه سالم منها، ولكن لا تزال به نفسه والشيطان حتى يقع في فخها وشركها، ويحتار مما فيها من أزياء لا تتناسب مع البيئة الإسلامية. وأحذر جميع النساء والقائمين عليهن من وجودها في بيوتهم لما فيها من الفتنة العظيمة والخطر على أخلاقنا وديننا.
আমি এই জাতীয় বহু সাময়িকী পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেগুলোকে অত্যন্ত কদর্য, ঘৃণ্য ও কলুষিত হিসেবে পেয়েছি। সৌদি আরব রাজ্যের অধিবাসী হিসেবে আমাদের জন্য এটিই সমীচীন—এমন এক রাষ্ট্র যার সমতুল্য দ্বিতীয় কোনো রাষ্ট্র আল্লাহর বিধান ও সর্বোত্তম নৈতিকতা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের জানা নেই (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। আমরা এই রাষ্ট্রে বসবাসরত অবস্থায় এটিই কামনা করি যে, আমাদের বাজারগুলোতে এবং দর্জির দোকানগুলোতে এই ধরণের সাময়িকীর কোনো অস্তিত্ব না থাকুক। কেননা এগুলোর বাহ্যিক রূপ এর অভ্যন্তরীণ বিষয়বস্তুর চেয়েও জঘন্য। কোনো নারী বা পুরুষের জন্য এই সাময়িকীগুলো ক্রয় করা, সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা কিংবা সেগুলো পর্যালোচনা করা বৈধ নয়; কারণ তা হলো ফিতনা (فتنة)। মানুষ হয়তো নিজেকে এর থেকে নিরাপদ মনে করে এগুলো ক্রয় করে, কিন্তু তার নফস ও শয়তান ক্রমাগত তাকে প্ররোচিত করতে থাকে যতক্ষণ না সে এর মরণফাঁদে নিপতিত হয় এবং এতে বিদ্যমান এমন সব পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে বিভ্রান্ত হয় যা ইসলামি পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমি সকল নারী এবং তাদের দায়িত্বশীল অভিভাবকদের ঘরবাড়িতে এগুলোর উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করছি; কেননা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে ভয়াবহ ফিতনা (فتنة) এবং আমাদের নৈতিকতা ও দ্বীনের জন্য চরম ঝুঁকি।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
طبقات غطاء الوجهمن المعلوم أن الغطاء الذي تستخدمه المرأة على وجهها ينقسم إلي عدة طبقات، فكم طبقة من غطاء الوجه ينبغي أن تضع المرأة على وجهها؟
الواجب على المرأة أن تستر وجهها عن الرجال غير المحارم لها، بأن تستره بستر لا يصف لون البشرة، سواء كان طبقة أم طبقتين أم اكثر، فإن كان الخمار صفيقا لا ترى البشرة من خلاله كفى طبقة واحدة، وإن كانت لا تكفي زادت اثنتين أو ثلاثة أو أربعا، والمهم أن تستره بما لا يصف اللون فإنه لا يكفي كما تفعله بعض النساء، وليس المقصود أن تضع المرأة شيئا على وجهها، بل المقصود ستر وجهها فلا يبين لغير محارمها.
মুখমণ্ডল আবৃত করার স্তরের বিবরণএটি সুবিদিত যে, একজন নারী তার মুখমণ্ডল আবৃত করার জন্য যে আবরণ ব্যবহার করেন তা কতিপয় স্তরে বিভক্ত। সুতরাং একজন নারীর তার মুখমণ্ডলের ওপর আবরণের কয়টি স্তর রাখা উচিত?
নারীর জন্য তার গায়রে-মাহরাম পুরুষদের নিকট থেকে নিজের মুখমণ্ডল আবৃত রাখা আবশ্যক (واجب)। এই আবরণ এমন পর্দা দ্বারা হওয়া উচিত যা ত্বকের বর্ণ প্রকাশ করে না, চাই তা এক স্তরের হোক বা দুই স্তর কিংবা তার অধিক। যদি ওড়নাটি পুরু হয় এবং তার মধ্য দিয়ে ত্বক দেখা না যায়, তবে এক স্তরই যথেষ্ট। আর যদি তা যথেষ্ট না হয়, তবে দুই, তিন বা চারটি স্তর ব্যবহার করবে। মূল লক্ষ্য হলো এমনভাবে আবৃত করা যাতে ত্বকের রঙ ফুটে না ওঠে; কেননা কিছু নারী যা করে থাকেন, তা যথেষ্ট নয়। এখানে উদ্দেশ্য কেবল চেহারার ওপর কোনো কিছু রাখা নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো চেহারাকে এমনভাবে ঢেকে রাখা যেন তা গায়রে-মাহরামদের নিকট প্রকাশ না পায়।
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعلى النساء أن يتقين الله في أنفسهن، وفي بنات مجتمعهن، فإن المرأة إذا خرجت كاشفة، أو شبه كاشفة اقتدت بها امرأة أخرى، وثالثة وهكذا حتى ينتشر ذلك بين النساء، وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من سنّ في الإسلام سنة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها إلي يوم القيامة" 1 وبلادنا ـ والحمد لله ـ بلاد محافظة على دينها في عباداتها وأخلاقها، ومعاملاتها، وهكذا يجب أن تكون فإنها ـ والحمد لله ـ هي البلاد التي خرج منها نور الإسلام وإليها يرجع، فالواجب علينا المحافظة على ديننا وسلوكنا وأخلاقنا المتلقاة من شريعتنا حتى نكون خير أمة أخرجت للناس.
وعلينا لا نأخذ بكل جديد يرد إلينا من خارج
--------------------------------------------
নারীদের উচিত নিজেদের বিষয়ে এবং সমাজের কন্যাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা। কারণ, একজন নারী যদি পর্দা হীনভাবে অথবা প্রায়-অনাবৃত অবস্থায় বের হয়, তবে অন্য নারীরা তাকে অনুসরণ করবে, এরপর তৃতীয়জন এবং এভাবে তা নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করবে, তার ওপর সেই মন্দ কাজের পাপ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই কাজ করবে তাদের পাপের অংশও বর্তাবে।" এবং আমাদের দেশ—আলহামদুলিল্লাহ—এমন এক দেশ যা তার ইবাদত, চরিত্র ও পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বীয় দ্বীনকে সংরক্ষণ করে চলে। আর এমনই হওয়া উচিত, কারণ—আলহামদুলিল্লাহ—এটি সেই ভূখণ্ড যেখান থেকে ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হয়েছে এবং এখানেই তা ফিরে আসবে। সুতরাং আমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমাদের দ্বীন, আচরণ ও শরীয়ত থেকে প্রাপ্ত নৈতিকতাকে সংরক্ষণ করা, যাতে আমরা মানুষের জন্য আবির্ভূত শ্রেষ্ঠ উম্মত হতে পারি।
এবং আমাদের উচিত নয় বাইরে থেকে আসা প্রতিটি নতুন বিষয়কেই গ্রহণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমুআতু আসইলাতিন তুহিম্মুল উসরাতিল মুসলিমাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بلادنا،بل ينظر في هذا الجديد إن كان فيه مصلحة وليس فيه محذور شرعي فإننا نأخذ به، وإن كان محذور شرعي فإننا نرفضه ونبعده عن مجتمعنا حتى نبقى محافظين على ديننا وأخلاقنا ومعاملاتنا.
আমাদের দেশসমূহ; বরং এই নতুন বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য করা উচিত যে, যদি এতে কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) থাকে এবং কোনো শরয়ি বিধি-নিষেধ (محذور شرعي) না থাকে, তবে আমরা তা গ্রহণ করব। আর যদি এতে শরয়ি বিধি-নিষেধ (محذور شرعي) থাকে, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব এবং আমাদের সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেব, যাতে আমরা আমাদের দ্বীন, নৈতিকতা ও পারস্পরিক লেনদেনের হিফাযতকারী হিসেবে অবিচল থাকতে পারি।