(খণ্ড: ১) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مناقب الإمام الأعظم أبي حنيفة - ط بذيل الجواهر المضية   (الملا على القاري)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مناقب الإمام الأعظم [أبي حنيفة النعمان]

المؤلف: علي بن سلطان محمد القاري

مطبوع بذيل: «الجواهر المضية في طبقات الحنفية»

الناشر: مطبعة مجلس دائرة المعارف النظامية - حيدر آباد الدكن - الهند

الطبعة: الأولى، 1332 هـ

عدد الأجزاء: بآخر الجزء 2 (الأخير)

تنبيه: هذا الكتاب بكامله ضِمن كتاب المؤلِف الآخر «الأثمار الجنية في أسماء الحنفية» بداية من مقدمته 1/ 127 إلى 295 من ط الوقف السني العراقي في مجلدين، وهي منشورة بالشاملة أيضا؛ فهل هو كتابٌ مُفرَد للمؤلّف؟ أو استلَّه أحدُهم من كتابه الآخر؟ محل بحث!

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 جُمادَى الأولى 1444

ইমাম আযম আবু হানিফার গুণাবলি - আল-জাওয়াহিরুল মুদীয়্যাহ-এর পরিশিষ্টে মুদ্রিত   (মোল্লা আলী আল-কারী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইমাম আযম [আবু হানিফা আন-নুমান]-এর গুণাবলি

লেখক: আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী

পরিশিষ্টে মুদ্রিত: «আল-জাওয়াহিরুল মুদীয়্যাহ ফী তাবাকাতিিল হানাফিয়্যাহ»

প্রকাশক: মাতবাআহ মাজলিস দায়িরাতুল মাআরিফ আন-নিযামিয়্যাহ - হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য - ভারত

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৩২ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ২য় খণ্ডের শেষে (সর্বশেষ)

দ্রষ্টব্য: এই সম্পূর্ণ বইটি লেখকের অন্য একটি গ্রন্থ «আল-আসমারুল জানিয়্যাহ ফী আসমায়িল হানাফিয়্যাহ»-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ইরাকি সুন্নি ওয়াকফ সংস্করণের দুই খণ্ডের প্রথম খণ্ডের ১২৭ পৃষ্ঠা থেকে ২৯৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি শামেলাতেও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি কি লেখকের স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ? নাকি কেউ এটি তাঁর অন্য গ্রন্থ থেকে আলাদা করেছেন? এটি গবেষণার বিষয়!

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ জুমাদাল উলা ১৪৪৪

(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫০)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب الأرض والسماء ذي الفضل والطول والنعماء رفيع الدرجات في الصفات والأسماء ورافع مراتب العلماء من الأنبياء والأولياء والصديقين والشهداء والصلوة والسلام على سيد الأنبياء وسند الأصفياء وعلى آله وصحبه نجوم الاهتداء وعلى اتباعهم بحسن الإقتداء فى الملة الحنفية السمحاء

 

أما بعد

فيقول الواثق بكرم ربه الباري علي بن سلطان محمد القاري إني لما وفقني الله سبحانه بلطفه الخفي وتوفيقه الوفي على كتابة مسند الإمام وشرح مسند الإمام أحببت أن أذكر بعض مناقبه وأشهر نبذة من مراتبه تنبيها للجاهلين بمقامه والغافلين عن دقائق مرامه وأذيله بذكر أصحابه العلية المشاهر من طبقات الحنفية وما لهم من اللطائف الخفية والعوارف الجلية والمعارف السنية رجاء أن أتخلق بفرائد أخلاقهم وأترزق من موائد أرزاقهم فعند ذكر الصالحين تنزل الرحمة وببركاتهم تحصل النعمة وتزول النقمة وقد قيل للجنيد سيد الطائفة هل لذكر المشائخ من منفعة فقال نعم فقيل له هل على ذلك دلالة من الكتاب أو السنة فقال نعم قال تعالى {وكلا نقص عليك من أنباء الرسل ما نثبت به فؤادك} ثم من المعلوم أن الأولياء هم العلماء العاملون والفضلاء الكاملون وقد ثبت عن الإمامين الجليلين أبي حنيفة والشافعي أنهما قالا لو لم يكن العلماء أولياء فليس لله أولياء وروى ما اتخذا الله وليا جاهلا ولو اتخذه لعلمه ومما يشاهد من الآيات قوله تعالى {شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولو العلم} حيث اندرج فيهم الأولياء وقوله سبحانه {يرفع الله الذين آمنوا منكم والذين أوتوا العلم درجات}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিনের রব, যিনি অনুগ্রহ, মহত্ত্ব ও নেয়ামতের অধিকারী। তিনি তাঁর গুণাবলি ও নামসমূহে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং তিনি নবিগণ, ওলিগণ, সিদ্দিকগণ ও শহিদগণের মধ্য থেকে আলেমদের মর্তবা সমুন্নতকারী। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবিদের সরদার ও পবিত্রমনাদের আশ্রয়স্থলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর যারা হেদায়াতের নক্ষত্রস্বরূপ এবং যারা উদার হানাফি মিল্লাতের ওপর উত্তম অনুসরণের সাথে তাঁদের অনুসরণ করে তাঁদের ওপর।

 

অতঃপর

তাঁর রব আল-বারী-এর দয়ার ওপর আস্থাশীল আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী বলছেন, আল্লাহ সুবহানাহু যখন আমাকে তাঁর গুপ্ত অনুগ্রহ ও পূর্ণ তাওফিকের মাধ্যমে মুসনাদে ইমাম লিপিবদ্ধ করার এবং মুসনাদে ইমামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার তাওফিক দান করেছেন, তখন আমি তাঁর কিছু ফযিলত এবং তাঁর মর্যাদার কিছু অংশ আলোচনা করতে পছন্দ করলাম, যাতে তাঁর মাকাম সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাঁর সূক্ষ্ম লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে গাফেলদের জন্য তা সতর্কবার্তা হয়। এবং আমি হানাফি তবকাতের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও সুপ্রসিদ্ধ সাথীদের আলোচনার মাধ্যমে এর পরিশিষ্ট টানছি, আর তাঁদের সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ, সুস্পষ্ট জ্ঞান ও উচ্চতর মা'রিফতসমূহ উল্লেখ করছি; এই আশায় যে, আমি যেন তাঁদের অনুপম চারিত্রিক গুণাবলি দ্বারা চরিত্রবান হতে পারি এবং তাঁদের রিযিকের দস্তরখান থেকে রিযিকপ্রাপ্ত হতে পারি। কেননা নেককারদের আলোচনার সময় রহমত বর্ষিত হয় এবং তাঁদের বরকতে নেয়ামত অর্জিত হয় ও বিপদাপদ বিদায় নেয়। তায়িফার সরদার জুনাইদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "মাশায়েখদের আলোচনার কি কোনো উপকারিতা আছে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "এর স্বপক্ষে কি কিতাব বা সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল আছে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি রাসুলগণের সকল সংবাদ আপনার নিকট বর্ণনা করছি, যার দ্বারা আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি।} তারপর এটি সুবিদিত যে, ওলিগণ হলেন আমলকারী আলেম এবং পূর্ণাঙ্গ ফযিলতসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ। দুই মহান ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ি থেকে এটি সাব্যস্ত যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: "যদি আলেমগণ আল্লাহর ওলি না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলি নেই।" এবং বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ কোনো মূর্খকে ওলি হিসেবে গ্রহণ করেননি, আর যদি তিনি কাউকে গ্রহণ করতেনই তবে তাকে ইলম শিক্ষা দিতেন। আর আয়াতসমূহের মধ্যে যা প্রত্যক্ষ করা যায় তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই; আর ফেরেশতাগণ ও ইলমওয়ালারাও (সাক্ষ্য দিয়েছে)}, যেখানে ওলিগণও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এবং আল্লাহ সুবহানাহুর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চ করে দেবেন।}
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫১)
وقوله عز وجل {إنما يخشى الله من عباده العلماء} وقد قيل لعبد الله بن المبارك كيف لا تستوحش وحدك في المقام فقال كيف يستوحش من يجالس النبي عليه السلام والصحابة والتابعين رضي الله عنهم أجمعين يعني الكتب لان فيها الأخبار والآثار رواه الحاكم فى تاريخه عن نعيم ابن حماد

 

الإمام الأعظم والهمام الأقدم تاج الأئمة وسراج الأمة أبو حنيفة نعمان ابن ثابت الكوفي رحمة الله عليه

وهو ابن زوطا بفتح الزاي والطاء المهملة ابن ماه الكوفي هكذا رفع نسبه رضي الدين الصغاني الحنفي فى العباب ذكره مجد الدين الفيروز أبادي في طبقات الحنفية وقال النووي في تهذيب الأسماء والصفات ابن زوطا بضم الزاي وفتح الطاء وذكر صاحب الكافي أنه نعمان بن ثابت بن طاوس ابن هرمز بن ملك بن شيبان وذكر الإمام أبو مطيع البلخي أنه من العرب من قبيلة الأنصار وذكر نصر بن محمد بن نصر المروزي ان ثابتا كان من قرية نسا من خراسان وذكر حارث بن إدريس أنه كان من مدينة الرجال ثرمذ ورفع نسبه أبو إسحاق الصريفني إلى هود ابن النبي يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم بن آزر وعدد من جملة آبائه الملك إسفنديار وكيقباد وقيل أنه من أبناء أفريدون من نسل ملوك العجم وبعضهم رفعه إلى هود النبي من أولاد سام بن نوح منتهيا إلى شيث بن آدم عليهم السلام لكن في تفسير البغوي في قوله تعالى {ألم يأتكم نبأ الذين من قبلكم قوم نوح وعاد وثمود والذين من بعدهم لا يعلمهم إلا الله} يعني من كان بعد نوح وعاد وثمود وروى عن عبد الله بن مسعود أنه قرأ هذه الآية ثم قال كذب النسابون وعن عبد الله بن عباس قال بين إبراهيم وبين عدنان ثلاثون قرنا
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করেন।" আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "এই স্থানে আপনি একা থাকতে কীভাবে একাকীত্ব বোধ করেন না?" তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি নবী (আলাইহিস সালাম), সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাথে মজলিস করে, তার কীভাবে একাকীত্ব বোধ হতে পারে?" অর্থাৎ কিতাবসমূহ; কারণ তাতে সংবাদ এবং বর্ণনা রয়েছে। হাকেম তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে নুআইম ইবনে হাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

ইমামে আজম, অগ্রগণ্য মহাবীর, ইমামদের মুকুট এবং উম্মতের প্রদীপ আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আল-কুফি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)।

তিনি হলেন জাওতা-এর পুত্র (যা-তে ফাতহা এবং 'ত' বর্ণে ফাতহা যোগে), তিনি মাহ আল-কুফির পুত্র; রদ্বিউদ্দীন আল-সাঘানি আল-হানাফী 'আল-উবাব' গ্রন্থে তাঁর বংশপরম্পরা এভাবেই উল্লেখ করেছেন। মাজদুদ্দীন আল-ফিরোজাবাদী 'তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী 'তাজহীবুল আসমা ওয়াল সিফাত' গ্রন্থে বলেছেন যে, এটি যুত (য-তে দম্মা এবং ত-তে ফাতহা যোগে)। 'আল-কাফি' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হলেন নুমান ইবনে সাবিত ইবনে তাউস ইবনে হুরমুজ ইবনে মালিক ইবনে শায়বান। ইমাম আবু মুতি আল-বালখি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আরবদের মধ্য থেকে আনসার গোত্রীয় ছিলেন। নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযি উল্লেখ করেছেন যে, সাবিত খোরাসানের নাসা নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। হারিস ইবনে ইদ্রিস উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'মদিনাতুর রিজাল' তিরমিযের অধিবাসী ছিলেন। আবু ইসহাক আস-সারিফিনি তাঁর বংশপরম্পরাকে নবী ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আযরের পুত্র হুদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে রাজা ইসফান্দিয়ার এবং কায়কোবাদকে গণনা করেছেন। আরও বলা হয়েছে যে, তিনি পারস্যের রাজবংশের বংশধর আফরিদুনের সন্তানদের মধ্য থেকে ছিলেন। কেউ কেউ তাঁর বংশপরম্পরাকে নুহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র সামের বংশধর নবী হুদ (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, যা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র শীস (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে তাফসির আল-বাগাভিতে মহান আল্লাহর এই বাণীর অধীনে: "তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ পৌঁছেনি? যারা ছিল নুহ, আদ ও সামুদ জাতির লোক এবং তাদের পরবর্তী লোকজন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।" বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো যারা নুহ, আদ ও সামুদের পরে এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এই আয়াতটি পাঠ করে বলতেন, "বংশবিদরা মিথ্যা বলেছে।" আর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন, "ইব্রাহিম ও আদনানের মাঝে ত্রিশটি প্রজন্ম রয়েছে।"
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫২)
لا يعلمهم إلا الله وكان مالك بن أنس يكره أن ينسب الإنسان نسبه أبا أبا إلى آدم وكذلك في حق النبي صلى الله عليه وسلم لأنه لا يعلم أولئك الأباء أحد إلا الله هذا وقيل كان جده زوطا من أهل كابل أو بابل مملوكا لبني تيم الله ابن ثعلبة فاعتق فولد أبوه ثابت على الإسلام وإلا صح أنه من الأحرار ما وقع عليه الرق قط في جميع الأعصار كما هو منقول عن إسمعيل بن حماد ابن الإمام والله اعلم بحقيقة المرام

ثم اعلم أن التوفيق بين الروايات المذكورة في نسب الإمام ممكن لجواز أن يكون مولده ببلدة وتوطنه بأخرى ونشاؤه بغيرها وكذا بأهله بإحداها على أنه لا يلزم أن يكون كله موجودا في حق الإمام بل إذا وجد كل واحد في حق واحد من آبائه صح أن ينسب إليه فان الإمام أبا بكر الخوارزمي أمه خوارزمية وأبوه طبري وعن إسمعيل بن حماد بن أبي حنيفة أن ثابت بن النعمان بن المرزبان من أبناء فارس الأحرار والله ما وقع علينا رق قط ولد جدي في سنة ثمانين وذهب ثابت إلى علي بن أبي طالب كرم الله وجهه وهو صغير فدعا له بالبركة فيه وفى ذريته قيل هو يمي من رهط حمزة الزيات فيكون من قبيلة الصديق وكان خزازا يبيع الخز والصحيح أن الإمام ولد سنة ثمانين وقيل إحدى وستين وقيل ثلاث وستين وأجمعوا على إنه مات سنة مائة وخمسين ببغداد في رجب أو شعبان وقيل في شوال وروى عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال ترفع زينة الدنيا سنة خمسين ومائة وقد قيل مات في السجن ليلى القضاء فلم يفعل وقيل توفى في اليوم الذي ولد فيه الشافعي وقد ثبت رويته لبعض الصحابة واختلف في روايته عنهم والمعتمد ثبوتها كما بينته في = مسند الإمام حال إسناده إلى بعض الأصحاب الكرام فهو من التابعين
তাদের আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না। মালিক বিন আনাস অপছন্দ করতেন যে মানুষ তার বংশপরম্পরাকে পিতা হতে পিতা করে আদম পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও এটি অপছন্দনীয়, কারণ আল্লাহ ব্যতীত কেউ সেই পিতৃপুরুষদের জানেন না। এটি বর্ণিত হয়েছে এবং আরও বলা হয়েছে যে, তাঁর দাদা জউতা কাবুল অথবা বাবিল অধিবাসী ছিলেন এবং বনী তায়মুল্লাহ বিন সা’লাবাহ-এর ক্রীতদাস ছিলেন। অতঃপর তাঁকে মুক্ত করা হয় এবং তাঁর পিতা সাবিত ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করেন। নতুবা সঠিক মত এই যে, তিনি স্বাধীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং কোনো যুগেই তাঁর ওপর দাসত্ব আপতিত হয়নি, যেমনটি ইমামের পৌত্র ইসমাইল বিন হাম্মাদ হতে বর্ণিত হয়েছে। আর প্রকৃত সত্য আল্লাহই ভালো জানেন।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, ইমামের বংশের ব্যাপারে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব। কারণ হতে পারে যে তাঁর জন্ম এক শহরে, আবাস অন্য শহরে এবং বেড়ে ওঠা অন্য কোনো শহরে। একইভাবে তাঁর পরিবার কোনো একটি শহরে ছিল; তবে এটি আবশ্যক নয় যে এই সব কিছু খোদ ইমামের ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকতে হবে। বরং যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের কারও ক্ষেত্রে এর প্রতিটি বিষয় পাওয়া যায়, তবে সেটির সম্বন্ধ তাঁর দিকে করা সঠিক হবে। যেমন ইমাম আবু বকর আল-খাওয়ারিজমির মাতা ছিলেন খাওয়ারিজমি এবং পিতা ছিলেন তাবারী। ইসমাইল বিন হাম্মাদ বিন আবু হানিফা হতে বর্ণিত যে, সাবিত বিন নুমান বিন আল-মারযুবান পারস্যের স্বাধীন বংশোদ্ভূত। আল্লাহর শপথ, আমাদের ওপর কখনো দাসত্ব আপতিত হয়নি। আমার দাদা আশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। সাবিত শৈশবে আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন)-এর নিকট গিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর জন্য এবং তাঁর বংশধরদের জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে তিনি হামজা আল-যাইয়্যাতের গোষ্ঠীর একজন তায়মী ছিলেন, ফলে তিনি সিদ্দিকের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তিনি রেশম ব্যবসায়ী ছিলেন এবং রেশমি কাপড় বিক্রি করতেন। সঠিক মত হলো এই যে, ইমাম আশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। আর বলা হয়েছে যে একষট্টি বা তেষট্টি সনে। এবং সকলে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে তিনি একশত পঞ্চাশ হিজরিতে বাগদাদে রজব অথবা শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। আর বলা হয়েছে যে শাওয়াল মাসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, "একশত পঞ্চাশ হিজরিতে দুনিয়ার সৌন্দর্য অপসারিত হবে।" আরও বলা হয়েছে যে, বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য তাঁকে বলা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে হয়। আবার বলা হয়েছে যে, তিনি সেই দিনে ইন্তেকাল করেছেন যে দিন শাফেয়ী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিছু সাহাবীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়েছে, তবে তাঁদের থেকে তাঁর হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য মত হলো এটি প্রমাণিত, যেমনটি আমি 'মুসনাদুল ইমাম'-এ সম্মানিত সাহাবীগণের প্রতি তাঁর সনদ সম্পর্কিত আলোচনায় স্পষ্ট করেছি। সুতরাং তিনি তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
الأعلام كما صرح به العلماء الأعيان داخل تحت قوله تعالى {والذين اتبعوهم بإحسان} في عموم قوله عليه السلام خير القرون قرني ثم الذين يلونهم رواه الشيخان وغيرهما وفي خصوص حديثه لو كان العلم في الثريا لنا له رجال من فارس على ما في الصحيحين وكثرة مناقبه تدل على رفعة مراتبه فلا يحتاج إلى الإستدال بأحاديث ذكرها العلامة الكردري وغيره بأسانيد في حقه ومنها أبو حنيفة سراج أمتي ونحوه مما قال المحققون من أهل الحديث أنه لا أصل له

ثم علم أن جمهور العلماء من أهل الحديث على أن الرجل بمجرد اللقي للصحابي يصير تابعيا ولا يشترط أن يصحبه مدة ولا ان ينقل عنه رواية بخلاف الصحابي فان بعض الفقهاء شرطوا فيه طول الصحبة أو المرافقة في الغزوة أو الموافقة في الرواية قال البخاري من صحبة أو رآه صلى الله عليه وسلم من المسلمين فهو صحابي ويدل عليه ما ذكر ابن الصلاح عن أبي زرعة أنه سئل عن عدة من روى عنه صلى الله عليه وسلم قال ومن يضبط هذا شهد معه فى حجة الوداع أربعون ألفا وفى تبوك سبعون ألفا ونقل عنه أيضاً قبض صلى الله عليه وسلم عن مائة وأربعة عشر ألفا من الصحابة ممن روى وفي رواية ممن رآه وسمع منه فقيل هؤلاء أين كانوا وأين سمعوا قال أهل المدينة وأهل مكة ومن بينهما من الأعراب فهذا الذي نقله ابن الصلاح نص منه لا يشترط الصحبة الطويلة واستدل أيضا على بطلانه بما روى شعبة عن موسى السبلاني وأثنى عليه خيرا قال أتيت أنس بن مالك فقلت هل بقى من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أحد غيرك قال بقى ناس من الأعراب رأوه فإما من صحبه فلا إسناده جيد حدث به مسلم بحضرة أبي زرعة فأطلق اسم الأصحاب على كل من رآه وقد حققنا هذه المسئلة فى شرح شرح النخبة وقيل يطلق اسم التابعي
বিশিষ্ট আলেমগণ যেমনটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, প্রখ্যাত ইমামগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে।" এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ।" এটি বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। বিশেষভাবে তাঁর এই হাদিসের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য: "যদি জ্ঞান সুরাইয়া নক্ষত্রেও থাকত, তবে পারস্যের কিছু লোক তা অর্জন করে নিত," যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে। তাঁর অসংখ্য গুণাবলি তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়। তাই আল্লামা কারদারি এবং অন্যান্যদের বর্ণিত সনদের ভিত্তিতে তাঁর স্বপক্ষে এমন হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করার প্রয়োজন নেই যেমন: "আবু হানিফা আমার উম্মতের প্রদীপ" এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা, যেগুলোর বিষয়ে হাদিস বিশারদ মুহাক্কিকগণ বলেছেন যে, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

অতঃপর জেনে রাখা উচিত যে, অধিকাংশ হাদিস বিশারদ আলেমের মতে, কোনো ব্যক্তি কেবল সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করলেই তাবিঈ হয়ে যান। এর জন্য দীর্ঘ সময় সাহচর্যে থাকা বা তাঁর থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করার শর্ত নেই। তবে সাহাবীর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ কিছু ফকিহ সাহাবী হওয়ার জন্য দীর্ঘ সাহচর্য, যুদ্ধে অংশগ্রহণ অথবা ইলমি বর্ণনায় সঙ্গ দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছেন। ইমাম বুখারি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে যিনিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য পেয়েছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনিই সাহাবী। এর প্রমাণ হলো ইবনুস সালাহ কর্তৃক আবু জুরআহ থেকে বর্ণিত সেই বক্তব্য, যেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কতজন হাদিস বর্ণনা করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, "এটি কে নির্ধারণ করতে পারে? বিদায় হজে তাঁর সাথে ৪০ হাজার এবং তাবুক যুদ্ধে ৭০ হাজার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন তখন এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার সাহাবী ছিলেন যারা বর্ণনা করেছেন, অথবা এক বর্ণনা অনুযায়ী যারা তাঁকে দেখেছেন ও তাঁর থেকে শুনেছেন। প্রশ্ন করা হলো, তাঁরা কোথায় ছিলেন এবং কোথায় শুনেছেন? তিনি বললেন, তাঁরা মদিনাবাসী, মক্কাবাসী এবং তাদের মধ্যবর্তী অঞ্চলের বেদুইন ছিলেন। ইবনুস সালাহ কর্তৃক উদ্ধৃত এই বর্ণনাটি একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, দীর্ঘ সাহচর্য শর্ত নয়। তিনি এই শর্তের অসারতার সপক্ষে শু'বাহ কর্তৃক মুসা আস-সাবলানি (যাঁর তিনি প্রশংসা করেছেন) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আনাস বিন মালিকের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলাম, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে আপনি ছাড়া আর কেউ কি অবশিষ্ট আছেন?" তিনি বললেন, "বেদুইনদের মধ্যে কিছু লোক অবশিষ্ট আছেন যারা তাঁকে দেখেছেন, তবে যারা দীর্ঘ সময় তাঁর সাহচর্যে ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ নেই।" এর সনদ উত্তম। ইমাম মুসলিম এটি আবু জুরআর উপস্থিতিতে বর্ণনা করেছেন। এখানে তাঁকে দেখা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই 'সাহাবী' নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়টি 'শারহু শারহিন নুখবাহ' গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেছি। আর বলা হয় যে, তাবিঈ নামটি ব্যবহৃত হয়...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
على من اسلم من الصحابة بعد الحديبية كخالد ابن الوليد وعمرو بن العاص وأمثالها من مسلمة الفتح لما ثبت أن عبد الرحمن بن عوف شكا إليه صلى الله عليه وسلم خالد بن الوليد فقال عليه السلام دعو إلى أصحابي فوالذي نفسي بيده لو انفق أحدكم مثل أحد ذهبا ما بلغ مدا أحدهم ولا نصيفه أطلق اسم الصحابة على من تقدم صحبته قبل الحديبية في مقام المقابلة وقد ذكر ابن عبد البر في الإستيعاب تراجم بعض الأصحاب والواقدي خص مقاما التابعين رضي الله عنهم أجميعن وبعض مشايخ إمامنا وهم أربعة آلاف

منهم من ذكرنا مناقب بعضم في مسند الإمام وذكر الكردري أنه أدرك الإمام محمد بن علي بن حسين بن علي بن أبي طالب رضى الله عنهم ويسمى الباقر لأنه بقر العلم أي شقه بجودة ذهنه وحدة فهمه وكذا أدرك جعفر بن محمد ابن علي وهو الصادق وأمه أم فروة بنت القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق رضي الله عنه ولد سنة الثمانين في السنة التي ولد فيها الإمام ومات سنة ثمان وأربعين ومائة ومنهم ربيعة الرأي تابعي مشهور من فقهاء المدينة من شيوخ الإمام مالك وزيد بن اسلم مولى أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه ومنهم شعبة بن الحجاج الذي يقال له أمير المؤمنين في الحديث ومنهم أبو محمد عبد الله بن حسن بن حسن بن علي بن أبي طالب من سادات بني هاشم وأمه فاطمة ابنة الحسين بن علي مات في حبس المنصور بالكوفة ومنهم الأوزاعي إمام أهل الشام ومنهم عطاء بن أبي رباح المكي كان جعد الشعر اسود افطس امثل اعور ثم عمي بعد ذلك قال أبو حنيفة ما رأيت افقه من حماد ولا اجمع من عطاء ومنهم أبو بكر عاصم بن أبي النجود بفتح النون وضم الجيم الإمام فى القرأة تابعي جليل القدر ومنهم عامر بن شراحيل بن عبد الله
হুদাইবিয়ার সন্ধির পর যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, যেমন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, আমর ইবনুল আস এবং তাদের মতো মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবীগণের ক্ষেত্রে (এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে)। যেহেতু এটি প্রমাণিত যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন, তখন তিনি (শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর) বলেছিলেন, "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবে তাদের কারোর এক অঞ্জলি কিংবা তার অর্ধেকের সমপরিমাণেও পৌঁছাতে পারবে না।" তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে হুদাইবিয়ার পূর্বে যারা সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁদের ওপর 'সাহাবী' নাম প্রয়োগ করা হয়েছে। ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইসতিয়াব' গ্রন্থে কিছু সাহাবীর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং ওয়াকিদী তাবেয়ীদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) জন্য একটি বিশেষ স্থান নির্দিষ্ট করেছেন। আমাদের ইমামের উস্তাদগণের সংখ্যা চার হাজার।

তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের গুণাবলী আমরা ইমামের মুসনাদে বর্ণনা করেছি। কারদারী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, যাঁকে 'বাকির' বলা হয়; কারণ তিনি তাঁর মেধার উৎকর্ষ ও তীক্ষ্ণ বুঝশক্তির মাধ্যমে জ্ঞানকে বিদীর্ণ বা উন্মোচন করেছিলেন। একইভাবে তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, যিনি 'সাদিক' নামে পরিচিত। তাঁর মাতা ছিলেন উম্মে ফারওয়াহ বিনতে কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)। তিনি আশি হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর ইমাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি একশত আটচল্লিশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাবিআতুর রায়, যিনি মদীনার ফকীহদের মধ্যে একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ী এবং ইমাম মালিকের উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত। আরও রয়েছেন যায়িদ বিন আসলাম, যিনি আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর মুক্তদাস ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শু’বাহ বিন হাজ্জাজ, যাঁকে হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনীন বলা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব, যিনি বনী হাশেমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর মাতা ছিলেন ফাতেমা বিনতে হুসাইন বিন আলী। তিনি কুফায় মনসুরের কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আওযাঈ, যিনি শামবাসীদের ইমাম। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আতা বিন আবি রাবাহ আল-মাক্কী; তিনি ছিলেন কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট, কৃষ্ণবর্ণ, চ্যাপ্টা নাক ও উৎকৃষ্ট শারীরিক গঠন বিশিষ্ট এবং একচক্ষু বিশিষ্ট ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি অন্ধ হয়ে যান। আবু হানিফা বলেন, আমি হাম্মাদের চেয়ে বড় ফকীহ এবং আতার চেয়ে বড় সংগ্রাহক দেখিনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর আসিম বিন আবি নাজুদ (নুন বর্ণে জবর এবং জিম বর্ণে পেশ সহ), যিনি কেরাত শাস্ত্রের ইমাম এবং একজন সুমহান মর্যাদার তাবেয়ী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমির বিন শারাহিল বিন আব্দুল্লাহ...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
الشعبي قال أدركت خمس مائة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وكان يعجبه هذا البيت شعر … ليست الأحلام في حين النهي … إنما الأحلام في حال الغضب …

قلت قد ورد الصبر عند الصدمة الأولى وذكر بعضهم أنه أدرك بهلول بن حمزة الصوفي المجنون فان كان هذا بهلول الذي لقي الرشيد فلا يبعد لجوازان يكون طويل العمر وقصته أن الرشيد حج سنة ثمان وثمانين ومائة وكان بهلول حج في تلك السنة فلما لقيه قال يا أمير المؤمنين حدثني عمرو بن عبد الله العامري وقال رأيته صلى الله عليه وسلم حج على جمل وتحته رحل رث ولم يكن بين يديه ضرب ولا طرد ولا إليك ثم أنشا يقول شعر … هب انك قد ملكت الأرض طرا … ودان لك العباد فكان ماذا

أليس غداً مصيرك جوف قبر … ويحثوك التراب هذا ثم هذا

قال أحديث يا بهلول هل غير هذا قال نعم من رزقه الله مالا وجمالا فعف فى جماله وواسى فى ماله كتب في ديوان الأبرار فظن الرشيد أنه يستجدي فأمر له بمال وقال تقضي به دينك فقال لا يقضي دين بدين أن الذي أعطاك لا ينساني ثم قال توكلت على الحي الذي لا يموت وما أرجو سوى الله وما الرزق من الناس بل من الله وقد نظم بعضهم شعر غدا مذهب النعمان خير المذاهب … كذا القمر الوضاح خير الكواكب

تفقه في خير القرون مع الثقة … فمذهبه لا شك خير المذاهب
আশ-শা'বী বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঁচশত সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি। তিনি এই কাব্যটি পছন্দ করতেন: … বুদ্ধিমত্তা বা ধৈর্য নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো কাজে আসে না … প্রকৃতপক্ষে ধৈর্যের পরীক্ষা হয় রাগের সময়ে …

আমি বলি, প্রথম আঘাতের সময়ে ধৈর্য ধারণের বিষয়টি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বাহলুল বিন হামজা সুফি আল-মাজনুন-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। যদি এটি সেই বাহলুল হয় যিনি রশিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তবে সেটি অসম্ভব নয়, কারণ তার দীর্ঘজীবী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ঘটনাটি হলো, রশিদ একশত অষ্টাশি হিজরীতে হজ করেন এবং বাহলুলও সেই বছর হজ করেছিলেন। যখন তিনি তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমর বিন আব্দুল্লাহ আল-আমেরী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উটের ওপর হজ করতে দেখেছি, যার পিঠে ছিল একটি পুরনো জিন; আর তাঁর সামনে কোনো প্রহার, কাউকে সরিয়ে দেওয়া বা 'সরে দাঁড়াও' জাতীয় হাকডাক ছিল না। এরপর তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করতে লাগলেন: … ধরুন আপনি সমগ্র পৃথিবীর মালিক হয়ে গেলেন … এবং সকল বান্দা আপনার অনুগত হলো, তাতে শেষ পর্যন্ত কী হবে?

আগামীকাল কি আপনার গন্তব্য কবরের গভীর গহ্বর নয়? … আর আপনার ওপর মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হবে, এভাবে এবং ওভাবে।

তিনি (রশিদ) বললেন, হে বাহলুল! এটি কি কোনো হাদীস? এছাড়া কি আর কিছু আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যাকে আল্লাহ সম্পদ ও সৌন্দর্য দান করেছেন, অতঃপর সে তার সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে পবিত্রতা (সংযম) বজায় রাখে এবং তার সম্পদ দ্বারা সহমর্মিতা প্রকাশ করে, তাকে নেককারদের দপ্তরে লিপিবদ্ধ করা হয়। তখন রশিদ মনে করলেন যে তিনি হয়তো সাহায্য প্রার্থনা করছেন, তাই তিনি তার জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দের আদেশ দিলেন এবং বললেন, এর মাধ্যমে আপনি আপনার ঋণ শোধ করবেন। তিনি বললেন, ঋণ দিয়ে ঋণ শোধ করা যায় না। নিশ্চয়ই যিনি আপনাকে দান করেছেন, তিনি আমাকে ভুলে যাবেন না। এরপর তিনি বললেন, আমি সেই চিরঞ্জীবের ওপর তাওয়াক্কুল করেছি যিনি মৃত্যুবরণ করেন না। আমি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে আশা করি না। আর রিযিক মানুষের পক্ষ থেকে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাদের কেউ কেউ এই কবিতাটি রচনা করেছেন: আগামীকাল নুমানের মাযহাবই হবে সর্বোত্তম মাযহাব … যেমন উজ্জ্বল চাঁদ হলো নক্ষত্ররাজির মাঝে শ্রেষ্ঠ।

তিনি নির্ভরযোগ্যতার সাথে সর্বোত্তম যুগে ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন … তাই নিঃসন্দেহে তাঁর মাযহাবই হলো সর্বোত্তম মাযহাব।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৬)
ثلاثة آلاف وألف شيوخه … وأصحابه مثل النجوم الثواقب …

وذكر الإمام النسفي صاحب = المنظومة عن عبد العزيز بن أبي رزمة أن توبة ابن سعد كان جالسه وأخذ صفو علمه وكان لا يجاوز فى القضاء أقوال أبي حنيفة ويقول حسبي هو بيني وبين ربي وقيل يوخذ بقول أبي يوسف في مسائل القضاء لأنه ابتلي بهذا البلاء والمذكور في = الفتاوي أنه إذا كان مع صاحبيه في طرف نأخذ به وان كان وحده في طرف متميز وقال ابن المبارك نأخذ بقوله لا غير

وذكر الإمام الإسفرايني بإسناده إلى علي بن المديني وهو من أساتذة البخاري وهو الذي طعن في حديث القلتين سمعت عبد الرزاق يقول قال معمر ما أعرف أحد بعد الحسن يتكلم في الفقه احسن معرفة منه وناهيك به أن الشافعي قال في حقه الخلق كلهم عيال أبي حنيفة فى الفقه وفى رواية من أراد أن يتبحر فى الفقه فهو عيال على أبي حنيفة وقال الشافعي قيل لمالك هل رأيت أبا حنيفة قال نعم رأيت رجلا لو كلمك في هذه السارية أن يجعلها ذهبا لقام بحجته وهذا من كمال إنصاف مالك مع علو مقامه هنالك وغاية مبالغة في بلاغة الإمام وبيان المرام في جميع المقام وقال ابن المبارك رأيت أورع الناس فضيل بن عياض وأعلم الناس الثوري وأفقه الناس أبا حنيفة وقال أعلم الناس أي بالأحاديث والآثار وأفقه الناس أي أعلمهم بمعانيها والعلم بمعانيها يستلزم العلم بمبانيها وذكر الإمام الغزنوي أن الإمام الأديب أبا يوسف يعقوب بن أحمد بن محمد أنشد لنفسه

شعر

… حسبي من الخيرات ما أعددته … يوم القيامة في رضى الرحمن

دين النبي محمد خير الورى … ثم إعتقادي مذهب النعمان …
তিন হাজার ও এক হাজার তাঁর উস্তাদগণ … এবং তাঁর সাথীবর্গ উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায় …

‘আল-মানজুমাহ’ গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম নাসাফী রহ. আব্দুল আজিজ বিন আবি রিজমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তাওবা ইবনে সাদ তাঁর মজলিসে বসতেন এবং তাঁর ইলমের নির্যাস গ্রহণ করতেন। বিচারকার্যের ক্ষেত্রে তিনি ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতামতের সীমা অতিক্রম করতেন না এবং বলতেন, ‘আমার ও আমার রবের মাঝে (দলিল হিসেবে) তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।’ বলা হয়ে থাকে যে, বিচারকার্যের মাসআলাসমূহে আবু ইউসুফ রহ.-এর অভিমত গ্রহণ করা হয়, কারণ তিনি এই (বিচারকার্যের) পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ‘ফাতাওয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি যদি তাঁর দুই সাথীর সাথে এক পক্ষে থাকেন তবে আমরা তা গ্রহণ করি, আর যদি তিনি একাকী স্বতন্ত্র কোনো পক্ষে থাকেন (তখন পরিস্থিতি ভিন্ন)। ইবনুল মুবারক রহ. বলেছেন, ‘আমরা তাঁর অভিমতই গ্রহণ করি, অন্য কারো নয়।’

ইমাম ইসফারাইনী রহ. তাঁর সনদসহ আলী ইবনুল মাদীনী থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত এবং যিনি দুই মটকা (কুল্লাতাইন) সংক্রান্ত হাদীসটির সমালোচনা করেছেন—আমি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি যে, মা’মার বলেছেন, ‘হাসান বসরীর পর ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কাউকে আমি জানি না।’ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর এই উক্তিই যথেষ্ট যে, ‘ফিকহের ক্ষেত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী (নির্ভরশীল)।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘যে ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী হতে চায়, সে আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।’ ইমাম শাফেয়ী রহ. আরও বলেছেন, ইমাম মালেক রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আপনি কি আবু হানিফাকে দেখেছেন? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যিনি যদি এই স্তম্ভটিকে সোনা বানিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করেন তবে তিনি তাঁর দলিলের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত করতে পারবেন।’ এটি ছিল ইমাম মালেক রহ.-এর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও তাঁর পূর্ণ ইনসাফ এবং ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর বাগ্মিতা ও সর্বক্ষেত্রে বক্তব্যের নিগূঢ় রহস্য প্রকাশের চূড়ান্ত নিদর্শন। ইবনুল মুবারক রহ. বলেছেন, ‘আমি সবচাইতে বেশি আল্লাহভীরু হিসেবে ফুযাইল বিন ইয়াজকে দেখেছি, সবচাইতে বড় আলেম হিসেবে আস-সাওরীকে দেখেছি এবং ফিকহ শাস্ত্রে সবচাইতে পারদর্শী হিসেবে আবু হানিফাকে দেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবচাইতে বড় আলেম’ বলতে হাদীস ও আসার সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত এবং ‘সবচাইতে বড় ফকীহ’ বলতে সেগুলোর অর্থ সম্পর্কে সর্বাধিক প্রজ্ঞাবানকে বোঝানো হয়েছে। আর অর্থ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা মানেই তার ভিত্তিমূল সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। ইমাম গজনভী রহ. উল্লেখ করেছেন যে, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ইমাম আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ নিজের রচিত পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছেন—

কবিতা

… পুণ্যকর্মের মাঝে আমার সঞ্চয়টুকুই আমার জন্য যথেষ্ট … কিয়ামতের দিনে দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির তরে

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দীন … অতঃপর ইমাম নুমানের মাযহাবের ওপর আমার বিশ্বাস …
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
ومما يدل على فضيلة المتقدمين قوله تعالى أو لم يروا أنا نأتي الأرض ننقصها من أطرافها وفسر أنه يموت علمائها وقرائها وحديث أن الله لا يقبض العلم انتزاعا ولكن يقبض العلم بقبض العلماء حتى إذا مات العلماء اتخذ الناس رؤسا جهالا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا ومن هنا لما كان الإمام في القرن المشهور اكتفى بظاهر عدالة الشهود إلا في باب الحدود وصاحباه لما كانا فى عصر غلبة الهوى فاشترطا تزكية أرباب الهدى وقد جاء فى الآثار والإخبار أن أولي الأمر هم العلماء الأخيار وقوله عليه السلام في صحيح مسلم من مات ولم يعرف إمام زمانه مات ميتة جاهلية معناه لم يعرف من يجب عليه الاقتداء والاهتداء به في أوانه

وقد قال بعضهم في تعريف المجتهد هو الذي يكون صوابه أكثر من خطائه أو العكس فإن المجتهد يخطئ ويصيب وثبوت لا ادري لا ينافي كونه مجتهدا فان مالكا سئل عن أربعين حديثا فقال في ست وثلاثين لا ادري وسئل على رضي الله عنه عن مسئلة فقال سلوا مولاي الحسن وذكر الكردري أن الإمام حين فر من بني أمية جاور بالحرمين مدة كثيرة وإنما لزم الإمام من بين مشايخه الكرام حماد ابن أبي سليمان الكوفي الأشعري الفقيه لأنه كان افقه من غيره كما صرح الإمام بنفسه وذكر الإمام النيسابوري أن حمادا كان يفطر عنده في كل ليلة من ليالي رمضان خمسون إنسانا فإذا كان ليلة الفطر كساهم وأعطاهم كل واحد مائةٍ مائة وذكر أيضاً أن رجلا كلم حمادا أن يحول ابنه من معلم إلى معلم آخر لان المعلم الأول يقال ما يجري عليه كل شهر فقال كما يجري عليه كل شهر قال ثلاثون فقال دع الولد عنده فإنا نجري عليه في كل شهر من عندنا مائة وذكر أيضاً أنه جاء أبو الزناد جابيا للخراج إلى الكوفة
পূর্ববর্তীদের শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কি দেখে না যে আমি ভূমিকে এর প্রান্তদেশ থেকে সংকুচিত করে আসছি?" এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো আলিম ও কারীদের মৃত্যু। এছাড়া হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ জ্ঞানকে (মানুষের অন্তর থেকে) ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে উঠিয়ে নেবেন না, বরং আলিমদের মৃত্যু ঘটানোর মাধ্যমেই জ্ঞানকে উঠিয়ে নেবেন। শেষ পর্যন্ত যখন কোনো আলিম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে। এই কারণেই ইমাম (আবু হানিফা) যখন প্রসিদ্ধ শতাব্দীতে ছিলেন, তখন তিনি দণ্ডবিধির ক্ষেত্র ব্যতীত সাক্ষীদের প্রকাশ্য ন্যায়নিষ্ঠতাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। কিন্তু তাঁর দুই শিষ্য যখন প্রবৃত্তির লালসা প্রবল হওয়ার যুগে ছিলেন, তখন তাঁরা হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে সাক্ষীদের সততা যাচাই করার শর্তারোপ করেছেন। বিভিন্ন আসার ও বর্ণনায় এসেছে যে, 'উলিল আমর' বা নির্দেশ প্রদানের অধিকারী হলেন নেককার আলিমগণ। সহীহ মুসলিমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার সময়ের ইমামকে না চিনে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল"—এর অর্থ হলো, সে তার সমসাময়িক এমন ব্যক্তিকে চিনতে পারল না যাকে অনুসরণ করা এবং যার মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করা তার জন্য আবশ্যক।

কেউ কেউ মুজতাহিদের সংজ্ঞায় বলেছেন যে, তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার সঠিক সিদ্ধান্ত তার ভুলের চেয়ে বেশি হয়, অথবা এর বিপরীত; কেননা মুজতাহিদ ভুলও করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তেও উপনীত হন। কোনো বিষয়ে 'আমি জানি না' বলাটা মুজতাহিদ হওয়ার পরিপন্থী নয়। কেননা ইমাম মালিককে চল্লিশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ছত্রিশটির ক্ষেত্রেই বলেছিলেন 'আমি জানি না'। আলী (রা.)-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, "তোমরা আমার মাওলা হাসানের নিকট জিজ্ঞাসা করো।" কারদারি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম (আবু হানিফা) যখন বনু উমাইয়্যাদের থেকে পলায়ন করেন, তখন তিনি দীর্ঘকাল হারামাইন শরীফাইনে অবস্থান করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্মানিত উস্তাদদের মধ্য থেকে কুফার ফকীহ হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান আশআরী-এর সান্নিধ্য গ্রহণ করেছিলেন, কারণ তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক বিজ্ঞ ফকীহ ছিলেন, যেমনটি ইমাম স্বয়ং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নিশাপুরী উল্লেখ করেছেন যে, হাম্মাদ রমজানের প্রতি রাতে পঞ্চাশজন মানুষকে ইফতার করাতেন। অতঃপর যখন ঈদুল ফিতরের রাত আসত, তখন তিনি তাঁদের পোশাক দান করতেন এবং প্রত্যেককে একশ করে প্রদান করতেন। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি হাম্মাদকে তার ছেলেকে এক শিক্ষক থেকে অন্য শিক্ষকের নিকট স্থানান্তর করার জন্য অনুরোধ করেন, কারণ প্রথম শিক্ষককে প্রতি মাসে যা দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। হাম্মাদ জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে প্রতি মাসে কত দেওয়া হয়? সে বলল, ত্রিশ। তখন তিনি বললেন, ছেলেটিকে তার কাছেই থাকতে দাও, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তাকে প্রতি মাসে একশ করে প্রদান করব। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আবু যিনাদ খারাজ আদায়কারী হিসেবে কুফায় এসেছিলেন।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
فقال رجل لحماد أشفع لي إليه في جباية ألف درهم فقال أنا أعطي لك من مالي خمسة آلاف درهم ولا ابذل وجهي له في ألف فدعا له الرجل بالخير

وذكر الحافظ أبو الحسن السجستاني أن الإمام الشافعي كان يقول ما زلت احب حمادا مذ بلغني عنه أنه كان راكبا فانقطع زره فمر على خياط فأراد أن ينزل ليسويه فمنعه عن النزول وقام وسواه فأخرج صرة فأعطاه وحلف أنه لا يملك غيرها قال الكردري ومثله سمعت عن والدي رحمه الله يحكي عن أستاذه الأمير مولانا همام الدين الخطيبي الخوارزمي أنه مر راكبا فسقط عن كمه صرة فيها خمسون دينارا فأخذها رجل وناوله فلم يأخذها وقال إن هذا رزق ساقه الله إليك وفضائله جمة وفيه كفاية وذكر الإمام أبو المعالي الأسفرايني عن نجيم بن إبراهيم عن ابن كدام قال قال رجل أخطأ أبو حنيفة قال كيف تقول هذا وعنده مثل أبي يوسف وزفر في قياسهما ومثل يحيى بن زكريا ابن أبي زائدة وحفص بن غياث وحبان ومندل ابنا علي في حفظهم الحديث والقاسم بن معن في معرفته بالفقه والعربية وداود الطائي وفضيل بن عياض في زهدهما لم يكن يخطئ ولو أخطاء ردوه إلى الحق

وعن سفيان بن عيينة قال شيئان ما كنت أرى أن قراءة حمزة ورأي الإمام يتجاوزان قنطرة الكوفة وقد بلغنا الآفاق وعن الأوزاعي يقول هو أعلم الناس بمعضلات المسائل وعن عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد الأزدي المكي قال كنا مع جعفر بن محمد في الحجر فجاء الإمام فسلم وسلم عليه جعفر وعانقه وسايله حتى سأله عن الخدم فلما قام قال قائل يا ابن رسول الله هل تعرفه قال ما رأيت أحمق منك أسأله عن الخدم وتقول هل تعرفه هذا أبو حنيفة أفقه أهل بلده وعن الواقدي قال كان مالك كثيرا ما يقول بقوله
এক ব্যক্তি হাম্মাদকে বললেন, "আমার পক্ষ থেকে তার কাছে এক হাজার দিরহাম আদায়ের ব্যাপারে সুপারিশ করুন।" তিনি বললেন, "আমি আমার সম্পদ থেকে আপনাকে পাঁচ হাজার দিরহাম দান করছি, কিন্তু এক হাজার দিরহামের জন্য তার কাছে আমি আমার চেহারা বিলিয়ে দেব না (অর্থাৎ সুপারিশ করে নিজেকে ছোট করব না)।" তখন লোকটি তার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন।

হাফেজ আবুল হাসান আস-সিজিস্তানি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফেয়ী বলতেন, "আমি হাম্মাদকে সেই থেকে ভালোবাসি যখন থেকে তার সম্পর্কে আমার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি সওয়ারি অবস্থায় ছিলেন এবং তার (জামার) বোতাম ছিঁড়ে গিয়েছিল। তখন তিনি একজন দর্জির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং সেটি ঠিক করার জন্য নিচে নামতে চাইলেন। কিন্তু দর্জি তাকে নামতে বাধা দিল এবং নিজেই দাঁড়িয়ে তা ঠিক করে দিল। তখন তিনি একটি থলি বের করে তাকে দিয়ে দিলেন এবং কসম খেয়ে বললেন যে, এটি ছাড়া তার কাছে আর কিছুই নেই।" আল-কারদারি বলেন, "অনুরূপ ঘটনা আমি আমার পিতার (রহিমাহুল্লাহ) নিকট থেকে শুনেছি, যা তিনি তার উস্তাদ আমির মাওলানা হাম্মামুদ্দিন আল-খাতিবি আল-খাওয়ারিজমি থেকে বর্ণনা করতেন যে, তিনি সওয়ারি অবস্থায় যাচ্ছিলেন এবং তার আস্তিন থেকে পঞ্চাশ দিনার সম্বলিত একটি থলি পড়ে গেল। এক ব্যক্তি সেটি কুড়িয়ে তাকে বাড়িয়ে দিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না এবং বললেন, 'এটি এমন এক রিজিক যা আল্লাহ তোমার কাছে পাঠিয়েছেন।' তার অসংখ্য গুণাবলি রয়েছে এবং এতটুকুই যথেষ্ট। ইমাম আবুল মাআলি আল-আসফারাইনি নুজাইম বিন ইব্রাহিমের সূত্রে ইবনে কুদামের বরাতে উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি বলল, 'আবু হানিফা ভুল করেছেন।' তিনি বললেন, 'আপনি কীভাবে এ কথা বলেন? অথচ তার কাছে কিয়াসের ক্ষেত্রে আবু ইউসুফ ও যুফারের মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন; হাদিস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ, হাফস বিন গিয়াস, হিব্বান ও মান্দাল (আলি বিন আসিমের দুই পুত্র) রয়েছেন; ফিকহ ও আরবি ভাষার জ্ঞানের ক্ষেত্রে কাসিম বিন মা’ন রয়েছেন; এবং যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে দাউদ আত-তায়ি ও ফুদাইল বিন ইয়াদ রয়েছেন। তিনি ভুল করতে পারেন না; আর যদি তিনি ভুল করতেনও, তবে তারা তাকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনতেন।'

সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি মনে করতাম না যে দুটি বিষয়—হামজার কিরাত এবং ইমামের (আবু হানিফার) মতবাদ—কুফার সেতু পার হতে পারবে; অথচ আজ তা দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।" ইমাম আওযায়ি বলতেন, "তিনি জটিল মাসআলাসমূহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।" আব্দুল মজিদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ আল-আযদি আল-মাক্কি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমরা হিজরে (কা’বা চত্বরে) জাফর বিন মুহাম্মাদের সাথে ছিলাম। এমন সময় ইমাম (আবু হানিফা) এসে সালাম দিলেন। জাফর তার সালামের জবাব দিলেন, তাকে কোলাকুলি করলেন এবং কুশলাদি বিনিময় করলেন, এমনকি তার সেবকদের ব্যাপারেও খোঁজ নিলেন। যখন তিনি উঠে গেলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসুলের বংশধর! আপনি কি তাকে চেনেন?' তিনি বললেন, 'তোমার মতো নির্বোধ আমি আর দেখিনি; আমি তার সেবকদের সম্পর্কে খবর নিচ্ছি আর তুমি বলছ—আমি তাকে চিনি কি না? ইনি আবু হানিফা, স্বীয় জনপদের শ্রেষ্ঠ ফকিহ'।" ওয়াকিদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "ইমাম মালেক প্রায়ই তার (আবু হানিফার) বক্তব্য অনুযায়ী অভিমত ব্যক্ত করতেন।"
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
وإن كان لا يظهره وعن إسمعيل بن أبي فديك قال رأيت مالكا قابضا على يد الإمام وهما يمشيان فلما بلغا المسجد قدم الإمام فسمعته لما دخل المسجد قال بسم الله الرحمن الرحيم هذا موضع الأمان فأمني من عذابك ونجني من النار وعن ليث بن نضر قال لما اخرج عن القصر وطيف به حين امتنع من الولاية قال ابن شبرمة ما على هذا المسكين لو قبله قال ابن أبي ليلي هذا مسكين عندي وعندك وغدا يكون خيرا مني ومنك

وعن الحسن بن قتيبة قال مسعر ما أحسد إلا رجلين الإمام في فقهه والحسن بن صالح في زهده

وعن ابن المبارك كان مسعر إذا رآه قام له وإذا جلس جلس بين يديه وكان معظما له مائلا إليه ومثنيا عليه ومسعر من مفاخر الكوفة في زهده وحفظه وكان من شيوخه أكثر عنه الرواية في مسنده

وعن الاصمعي قلت لأبي يوسف لقد بلغ الله فيك الأماني هل وددت أكثر مما أنت فيه قال وددت أن لي زهد مسعر بن كدام وفقه الإمام وفي رواية قال وددت أن لي مجلسا من أبي حنيفة بنصف ما أملك وكان ماله أزيد من ألفي ألف قال الأصمعي ولم تتمنى هذا قال في النفس حزازات كنت أسألها عنه قلت وفيه رائحة تصف البخل وروى عن عاصم بن يوسف قال قلت لأبي يوسف اجتمع الناس على أنه لا يتقدمك في العلم أحد فقال ما علمي عند علم الإمام إلا كنهر صغير في جانب الفرات

وعن المعلي بن منصور قال أبو يوسف ما اتفق قولي وقوله إلا وجدت لها في قلبي قوة وما فارقته فى مسئلة إلا وفي قلبي أمثال الجبال من الضعف والريبة

وعن عثمان المزني قال كان الإمام افقه من حماد وإبراهيم وعلقمة والأسود
যদ্যপি তিনি তা প্রকাশ করতেন না। ইসমাঈল ইবনে আবু ফুদাইক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মালিককে ইমামের হাত ধরে চলতে দেখেছি যখন তাঁরা পথ চলছিলেন। যখন তাঁরা মসজিদে পৌঁছালেন, তখন তিনি ইমামকে আগে বাড়িয়ে দিলেন। যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। এটি নিরাপত্তার স্থান, সুতরাং আমাকে আপনার শাস্তি হতে নিরাপদ রাখুন এবং আমাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিন।

লাইস ইবনে নাসর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন তাঁকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করা হলো এবং শাসনভার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাঁকে জনসম্মুখে ঘোরানো হচ্ছিল, তখন ইবনে শুবরুমাহ বললেন, "এই বেচারার কী হতো যদি তিনি তা গ্রহণ করতেন?" ইবনে আবি লাইলা বললেন, "তিনি আমার ও আপনার নিকট বেচারা হতে পারেন, কিন্তু আগামী কাল (কিয়ামতের দিন) তিনি আমার ও আপনার চেয়ে উত্তম প্রমাণিত হবেন।"

হাসান ইবনে কুতাইবা থেকে বর্ণিত, মিসআর বলেন, "আমি কেবল দুইজন ব্যক্তিকে ঈর্ষা করি: ইমামকে তাঁর ফিকহের জন্য এবং হাসান ইবনে সালিহকে তাঁর যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার জন্য।"

ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, মিসআর যখন তাঁকে দেখতেন তখন তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং যখন বসতেন তখন তাঁর সামনে বসতেন। তিনি তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন, তাঁর প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। মিসআর তাঁর যুহদ ও হিফজ বা মুখস্থ শক্তির কারণে কুফার গৌরবসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর শায়খদের অন্যতম ছিলেন এবং তিনি তাঁর মুসনাদে তাঁর থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন।

আসমায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু ইউসুফকে বললাম, "আল্লাহ আপনার সকল আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছেন। আপনি বর্তমানে যে অবস্থায় আছেন তার চেয়েও বেশি কিছু কি কামনা করেন?" তিনি বললেন, "আমি আকাঙ্ক্ষা করি যদি আমার নিকট মিসআর ইবনে কিদামের যুহদ এবং ইমামের ফিকহ থাকতো!" অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, "আমি আমার অর্ধেক সম্পদের বিনিময়ে আবু হানিফার একটি মজলিস পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি।" তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল বিশ লক্ষের অধিক। আসমায়ী বললেন, "আপনি কেন এমন আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বললেন, "মনের মধ্যে কিছু সংশয় ছিল যা আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম।" আমি বললাম, এতে কৃপণতা প্রকাশ পায় এমন একটি আভাস রয়েছে। আসিম ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু ইউসুফকে বললাম, "মানুষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে ইলমের ক্ষেত্রে আপনার অগ্রগামী কেউ নেই।" তিনি বললেন, "ইমামের ইলমের তুলনায় আমার ইলম তো ফোরাত নদীর পার্শ্ববর্তী একটি ক্ষুদ্র নহরের ন্যায়।"

মুআল্লা ইবনে মানসুর থেকে বর্ণিত, আবু ইউসুফ বলেন, "যখনই আমার কোনো মত তাঁর মতের সাথে মিলে যেত, তখনই আমি আমার অন্তরে শক্তি অনুভব করতাম। আর যখনই কোনো মাসআলায় আমি তাঁর থেকে ভিন্ন মত পোষণ করতাম, তখনই আমার হৃদয়ে পাহাড়সম দুর্বলতা ও সংশয় সৃষ্টি হতো।"

উসমান আল-মুজানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম আবু হানিফা হাম্মাদ, ইবরাহিম, আলকামা এবং আসওয়াদ অপেক্ষা অধিক ফকিহ ছিলেন।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬০)
وعن أحمد بن بديل قال أبو معاوية يا أهل الكوفة رفعكم الله بالأعمش وبأبي حنيفة يا أهل الكوفة شرفكم الله به وبالأعمش وأبو معاوية هذا هو العزيز من أيمة الكوفة وأجلتهم وفد على الرشيد فأكرمه وجيئ بالطعام فأكله بين يديه وصب الرشيد الماء على يديه حتى غسلهما وقال أتدري من يصب الماء على يديك قال لا قال أمير المؤمنين قال أكرمك الله كما أكرمت العلم قال ما أردت إلا هذا

وعن عبد الله بن لبيد قال كنا عند يزيد بن هارون فقال المغيرة عن إبراهيم فقال رجل حدثنا عنه صلى الله عليه وسلم فقال يزيد يا أحمق هذا تفسير أحاديثه صلى الله عليه وسلم وماذا تصنع بالحديث إذا لم تعلم معناه ولكن همتكم السماع ولو كانت همتكم العلم لنظرتم في كتب الإمام وأقاويله فزبر الرجل وأخرجه عن مجلسه

وعن سويد بن نصر عن ابن المبارك أنه قال لا تقولوا رأى أبي حنيفة رحمة الله ولكن قولوا إنه تفسير الحديث

وعن محمد بن يزيد قال كنت اختلف إلى عامر فقال لي أنظرت في كتبه قلت أنى أطلب الحديث فما أصنع به قال طلبت الآثار سبعين سنة فلم أحسن الاستنجاء حتى نظرت في كتبه

وعن ابن المبارك عليكم بالأثر ولا بد للأثر فأنه يعرف تأويل الحديث ومعناه

وسئل الإمام عن افقه من في خراسان فقال الزفر بن محمد ودعي الإمام إلى مجلس فلم يجد رداء فاخذ الإمام رداء نصر بن محمد وكان شراؤه بمأتي درهم فلما رجع قال شهرتني بردائك
আহমদ ইবনে বদিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু মুআবিয়া বলেছেন: হে কুফাবাসী! আল্লাহ তোমাদেরকে আমাশ এবং আবু হানিফার মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। হে কুফাবাসী! আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর এবং আমাশের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। আর এই আবু মুআবিয়া ছিলেন কুফার ইমামগণের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও অগ্রগণ্য। তিনি রশিদের কাছে প্রতিনিধি হিসেবে গেলে রশিদ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করেন। খাবার আনা হলে তিনি রশিদের সামনেই তা আহার করেন এবং রশিদ নিজে তাঁর দুই হাতে পানি ঢেলে দেন যতক্ষণ না তিনি হাত ধৌত করেন। রশিদ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি জানেন আপনার হাতে কে পানি ঢালছে? তিনি বললেন, না। রশিদ বললেন, আমিরুল মুমিনীন। তিনি বললেন, আল্লাহ আপনাকে সেভাবেই সম্মানিত করুন যেভাবে আপনি জ্ঞানকে সম্মানিত করেছেন। রশিদ বললেন, আমি এটিই চেয়েছিলাম।

আবদুল্লাহ ইবনে লাবিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইয়াজিদ ইবনে হারুনের নিকট ছিলাম। তিনি মুগিরা থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করুন। ইয়াজিদ বললেন, হে মূর্খ! এটিই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা। হাদিসের মর্মার্থ না জানলে তুমি তা দিয়ে কী করবে? তোমাদের লক্ষ্য তো কেবল হাদিস শ্রবণ করা। যদি তোমাদের লক্ষ্য জ্ঞান অর্জন হতো, তবে তোমরা ইমামের কিতাবসমূহ এবং তাঁর বক্তব্যসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে। এরপর তিনি লোকটিকে ধমক দিলেন এবং মজলিস থেকে বের করে দিলেন।

সুওয়াইদ ইবনে নাসর থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: তোমরা বলো না যে এটি আবু হানিফার রায় (ব্যক্তিগত অভিমত), বরং বলো যে এটি হাদিসের তাফসির বা ব্যাখ্যা।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমিরের নিকট যাতায়াত করতাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি তাঁর কিতাবসমূহ দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো হাদিস অন্বেষণ করি, তাঁর কিতাব দিয়ে আমি কী করব? তিনি বললেন, আমি সত্তর বছর ধরে আছার (বর্ণনা) অন্বেষণ করেছি, তবুও আমি সঠিকভাবে শৌচকার্য সম্পাদন করা শিখতে পারিনি যতক্ষণ না তাঁর কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছি।

ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমাদের জন্য আছার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। আর হাদিসের ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ অনুধাবনের জন্য আছার অপরিহার্য।

ইমামকে (আবু হানিফাকে) জিজ্ঞাসা করা হলো খুরাসানে সবচেয়ে বড় ফকিহ কে? তিনি বললেন, যুফার ইবনে মুহাম্মদ। ইমামকে একবার এক মজলিসে দাওয়াত দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি কোনো চাদর খুঁজে পেলেন না। তখন ইমাম নসর ইবনে মুহাম্মদের একটি চাদর গ্রহণ করলেন যা দুইশো দিরহাম দিয়ে কেনা হয়েছিল। ফিরে এসে তিনি বললেন, তোমার এই চাদর তো আমাকে মানুষের নিকট বিশেষভাবে পরিচিত করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬১)
وعن عطية بن أسباط ختن ابن المبارك على أخته قال كان إذا قدم الكوفة استعار من زفر كتبه فكتبه مرارا

وسئل أمالك أفقه أم هو قال هو أفقه من ملأ الأرض مثل مالك

وعن ابن المبارك قال أن الله خلقه رحمة لهذه الأمة وعنه لولاه لكنت ممن يبيع الفلوس أو من المبتدعة

قال الكردري فان قلت ليس لأبي حنيفة كتاب مصنف قلت هذا كلام المعتزلة ودعواهم أنه ليس له في علم الكلام تصنيف وغرضهم بذلك نفي أن يكون الفقه الأكبر وكتاب العالم والمتعلم له لأنه صرح فيه بأكثر قواعد أهل السنة والجماعة ودعواهم أنه كان من المعتزلة وذلك الكتاب لأبي حنيفة البخاري وهذا غلط صريح فإني رأيت بخط العلامة مولانا شمس الملة والدين الكردري البزاتقني العمادي هذين الكتابين وكتب فيهما أنهما لأبي حنيفة وقال تواطأ على ذلك جماعة كثير من المشائخ انتهى

ومن تصانيفه وصاياه لأصحابه وقد شرحت الفقه الأكبر وضمتنه وصاياه بحمد الله ولعلي إذا ظفرت بالعلم والمتعلم اشرحه بعون الله وتوفيقه ولم يكن الإمام قدريا ولا جبريا ولا مرجيا ولا معتزليا بل سنيا حنفيا وتابعه يكون حنفيا

وعن إبراهيم بن فيروز عن أبيه قال رأيته جالسا في المسجد يفتي أهل المشرق والمغرب والفقهاء الكبار وخيار الناس كلهم حضور في مجلسه

وعن أبي حيان التوحيدي الملوك عيال عمر إذا ساسوا والفقهاء عيال أبي حنيفة إذا قاسوا والمحدثون كلهم عيال علي أحمد بن حنبل إذا أسندوا

عن مقاتل بن حيان أدركت التابعين ومن بعدهم فما رأيت أحدا مثله
আতিয়্যাহ ইবনে আসবাত, যিনি ইবনুল মুবারকের বোনের স্বামী ছিলেন, থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, যখন তিনি কুফায় আসতেন, তখন ইমাম যুফার থেকে তার কিতাবগুলো ধার নিতেন এবং সেগুলো বারবার লিখতেন।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইমাম মালিক বড় ফকীহ নাকি তিনি? তিনি বললেন, মালিকের মতো এক পৃথিবী পূর্ণ মানুষের চেয়েও তিনি অধিক বড় ফকীহ।

ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাকে এই উম্মতের জন্য রহমত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তার থেকে আরও বর্ণিত যে, যদি তিনি না থাকতেন, তবে আমি মুদ্রা বিক্রেতাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম অথবা বিদআতিদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।

কারদারী বলেন, যদি আপনি বলেন যে আবু হানীফার কোনো রচিত কিতাব নেই, তবে আমি বলব এটি মুতাজিলাদের কথা। ইলমে কালামে তার কোনো রচনা নেই বলে তাদের দাবি করার উদ্দেশ্য হলো 'আল-ফিকহুল আকবার' এবং 'আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম' কিতাব দুটি তার হওয়াকে অস্বীকার করা। কারণ তিনি তাতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ মূলনীতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাদের এই দাবি যে তিনি মুতাজিলা ছিলেন এবং ওই কিতাবটি আবু হানীফা আল-বুখারীর—এটি একটি স্পষ্ট ভুল। কেননা আমি আল্লামা মাওলানা শামসুল মিল্লাহ ওয়াদ-দীন আল-কারদারী আল-বায্যাযী আল-ইমাদীর হস্তাক্ষরে এই দুটি কিতাব দেখেছি এবং তিনি তাতে লিখেছেন যে এই দুটি কিতাব ইমাম আবু হানীফারই। তিনি আরও বলেছেন যে, একদল মাশায়েখ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সমাপ্ত।

তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে তার সাথীদের প্রতি করা তার অসিয়তনামা। আল্লাহর প্রশংসার সাথে আমি আল-ফিকহুল আকবার ব্যাখ্যা করেছি এবং এতে তার অসিয়তগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি। আল্লাহ চাইলে এবং তার তৌফিক পেলে আমি যখন 'আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম' কিতাবটি পাব, তখন সেটিও ব্যাখ্যা করব। ইমাম কাদারিয়া, জাবারিয়া, মুরজিয়া বা মুতাজিলা ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন সুন্নী হানাফী এবং তার অনুসারীরা হানাফী।

ইবরাহীম ইবনে ফায়রুজ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তাকে মসজিদে বসা অবস্থায় দেখেছি যখন তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীদের ফতোয়া দিচ্ছিলেন এবং বড় বড় ফকীহ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা সবাই তার মজলিসে উপস্থিত ছিলেন।

আবু হাইয়ান আত-তাওহীদী থেকে বর্ণিত; বাদশাহরা যখন শাসন পরিচালনা করেন তখন তারা উমরের মুখাপেক্ষী, ফকীহরা যখন কিয়াস করেন তখন তারা আবু হানীফার মুখাপেক্ষী এবং মুহাদ্দিসরা যখন সনদ বর্ণনা করেন তখন তারা সবাই আহমদ ইবনে হাম্বলের মুখাপেক্ষী।

মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী স্তরের লোকদের পেয়েছি, কিন্তু তার মতো কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬২)
قال العلماء أدرك مقاتل عمر بن عبد العزيز والحسن البصري ونافعا وجماعة من التابعين وروي عنهم وكان جليلا وروي عنه واخذ منه وهو شريكه في السماع عن التابعين مثل نافع وعطاء ومحمد بن المنكدر وابن سيرين وغيرهم

قال مقاتل وفدت إلى عمر بن عبد العزيز فأنزلني دار الضيافة وكان أصابه جنابة فأمر بتسخين الماء فقال الغلام ليس هنا حطب قال اشتر بالنسية إذا وجدته تقضي فجاء به فقال أين سخنته قال في دار الضيافة فرده فقال هات ماء من البئر فجاء به فصبه عليه فقال هذا أهون من زمهرير جهنم

وعن أبي معاذ البلخي أنه قال ما رأيت أحد أفضل منه وهو خالد ابن سليمان حافظ الحديث أخذ الحديث عن الثوري والحديث والفقه عن الإمام وكان زاهدا صلبا في دين الله وحين حج سفيان كان أبو معاذ عديله

وعن شقيق بن إبراهيم البلخي أن ذكر مناقبه من أفضل الأعمال وهو من الزهاد والعلماء العباد حتى قيل ما أخرجت بلخ مثله وقد دخل بغداد في زي الفقراء وعليه مدرعة صوف فرآه أبو يوسف من بعيد وهو في موكبه وجلالته فقال وجعلنا بعضكم لبعض فتنة أتصبرون قال نعم ثم رآه من بعيد قال يا أبا إسحاق أنت في كسوتك ما غيرتها قال لا لأني ما وجدت ما طلبتها يعني الجنة وأنت وجدت ما طلبت أي الدنيا فغيرت كسوتك

وعن شداد بن حكيم لولا هو وأصحابه لم نكن ندري ما نختار ونأخذ وكان شداد من أزهد أهل زمانه من أئمة بلخ صلى بوضوء ظهر اليوم ظهر الغد ستين سنة روي عن زفر وأصحابه مات شداد سنة ثلاث عشرة ومائتين

وعن ابن المبارك ذكر الإمام عند داود الطائي فقال ذاك نجم يهتدي به الساري وعلم تقبله قلوب المؤمنين وكل علم ليس بعلمه فهو بلاء على حامله والله
علماءগণ বলেন, মুকাতিল উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, হাসান বসরী, নাফি এবং একদল তাবেয়ীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন। তাঁর থেকেও বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি তাবেয়ীদের থেকে শ্রবণের ক্ষেত্রে তাঁর (ইমামের) অংশীদার ছিলেন, যেমন নাফি, আতা, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির, ইবনে সিরীন এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে।

মুকাতিল বলেন, আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে গেলাম। তিনি আমাকে মেহমানখানায় থাকতে দিলেন। তাঁর জানাবাত (গোসল ফরজ হওয়া) অবস্থা হলো, তাই তিনি পানি গরম করার নির্দেশ দিলেন। গোলাম বলল, এখানে কোনো জ্বালানি কাঠ নেই। তিনি বললেন, বাকিতে কিনে নাও, যখন পাবে তখন শোধ করে দিও। সে কাঠ নিয়ে এল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এটা কোথায় গরম করেছ? সে বলল, মেহমানখানায়। তখন তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, কুয়া থেকে পানি নিয়ে এসো। সে পানি নিয়ে এল এবং তিনি তা নিজের ওপর ঢাললেন। এরপর তিনি বললেন, এটি জাহান্নামের প্রচণ্ড শীত (জমহারীর) অপেক্ষা অনেক সহজ।

আবু মুআয আল-বালখী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি। আর তিনি হলেন হাদীসের হাফেজ খালিদ ইবনে সুলাইমান। তিনি সাওরী থেকে হাদীস এবং ইমামের নিকট থেকে হাদীস ও ফিকহ গ্রহণ করেছেন। তিনি দুনিয়াত্যাগী এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। সুফিয়ান যখন হজ করতেন, আবু মুআয তাঁর সফরসঙ্গী হতেন।

শাকিক ইবনে ইব্রাহিম আল-বালখী থেকে বর্ণিত যে, তাঁর (ইমামের) গুণাবলি আলোচনা করা সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সংসারত্যাগী আলেম ও ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এমনকি বলা হতো যে, বালখ শহর তাঁর মতো আর কাউকে তৈরি করেনি। তিনি ফকীরদের বেশে বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাঁর গায়ে পশমি জুব্বা ছিল। আবু ইউসুফ তাঁর রাজকীয় শোভাযাত্রা ও গাম্ভীর্যের মধ্যে থেকে তাঁকে দূর থেকে দেখলেন এবং বললেন, "আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ বানিয়েছি; তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে?" তিনি (শাকিক) বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি তাঁকে দূর থেকে দেখে বললেন, হে আবু ইসহাক! আপনি আপনার পোশাকেই আছেন, তা পরিবর্তন করেননি। তিনি বললেন, না; কারণ আমি যা অন্বেষণ করছি (অর্থাৎ জান্নাত) তা এখনও পাইনি। আর আপনি যা চেয়েছিলেন (অর্থাৎ দুনিয়া) তা পেয়ে গেছেন, তাই আপনি আপনার পোশাক পরিবর্তন করেছেন।

শাদ্দাদ বিন হাকীম থেকে বর্ণিত, যদি তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা না থাকতেন, তবে আমরা জানতাম না যে কী নির্বাচন করব এবং কী গ্রহণ করব। শাদ্দাদ তাঁর সময়ের বালখের ইমামদের মধ্যে অত্যন্ত দুনিয়াবিমুখ ছিলেন। তিনি ষাট বছর পর্যন্ত একদিনের যোহরের ওযু দিয়ে পরবর্তী দিনের যোহরের নামাজ আদায় করেছেন। তিনি যুফার এবং তাঁর সঙ্গীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। শাদ্দাদ দুইশত তেরো হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি দাউদ আত-তাঈ-এর নিকট ইমামের কথা উল্লেখ করলেন। তখন দাউদ আত-তাঈ বললেন, তিনি হলেন এমন এক নক্ষত্র যার মাধ্যমে পথচারী পথ খুঁজে পায় এবং এমন এক ইলম যা মুমিনদের অন্তর গ্রহণ করে নেয়। আর যে ইলম তাঁর ইলমের অন্তর্ভুক্ত নয়, আল্লাহর কসম, তা তার বাহকের জন্য এক আপদ।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
عالم بالحلال والحرام والنجاة من النار مع ورع مستكمل وخدمة دائمة

وعن أبي يوسف أن الإمام كان يفتي في المسجد الحرام إذ وقف عليه الإمام جعفر الصادق بن محمد الباقر الإمام رضي الله عنهما وعن آبائهما الكرام فقطن الإمام فقام فقال يا بن رسول الله لو علمت أول ما وقفت لما قعدت وأنت قائم فقال اجلس وافت الناس على هذا أدركت آبائي فان قلت هل لشهادة هؤلاء تأثير في الترجيح قلت نعم وأي تأثير عند أرباب الفطنة وذلك ثابت بالكتاب والسنة أما الكتاب فقوله تعالى {وكذلك جعلناكم أمة وسطا لتكونوا شهداء على الناس} قالت طائفة من المفسرين أنه شهادة البعض في الدينا وأما السنة فما في صحيح مسلم عن أنس عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال حين مرت به جنازة فأثنوا عليها خيرا فقال وجبت ثلاثا ثم مروا بأخرى فأثنوا عليها شرا فقال وجبت ثلاثا فقال عمر رضى الله عنه فداك أبي وأمي ما وجبت قال صلى الله عليه وسلم من أثنيتم عليه خيرا أوجبت له الجنة ومن أثنيتم عليه شرا وجبت له النار أنتم شهداء الله في أرضه ثلاثا ولا ينافي هذا ما في البخاري وغيره أنه الشهادة على الأمم بتبليغ رسلهم إليهم

 

‌‌فصل في مقام علمه

ذكر الغرنوي عن زفر عن الإمام أنه قال بلغت الغاية في الكلام حتى صرت مشارا إليه للأنام وكنت اجلس بقرب حلقة حماد فسئلت عمن له زوجة أمة كيف يطلقها للسنة فلم أهتد إلى جواب المسئلة فقلت لها سلي حمادا واخبريني بالجواب فسألت حمادا فأخبرتني فقلت لا حاجة لي في علم الكلام فتحولت إلى حلقة حماد وكان إذا ذكر المسئلة أحفظ قوله فإذا كرر كنت أحفظ أنا الجواب ويخطئ أصحابه فقال لا يجلس في الحلقة قبالتي غيرك فلزمته عشر سنين ثم أردت
হালাল ও হারাম সম্পর্কে বিজ্ঞ এবং পূর্ণাঙ্গ পরহেজগারি ও নিরন্তর খিদমতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত।

আবু ইউসুফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, ইমাম (আবু হানিফা) মসজিদুল হারামে ফতোয়া দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় ইমাম জাফর আস-সাদিক বিন মুহাম্মাদ আল-বাকির (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের এবং তাঁদের সম্মানিত পূর্বপুরুষদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) সেখানে এসে দাঁড়ালেন। ইমাম (আবু হানিফা) বিষয়টি লক্ষ্য করে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর রাসূলের বংশধর! আপনি যখন এসে দাঁড়িয়েছেন তখনই যদি আমি তা জানতাম, তবে আপনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমি বসে থাকতাম না।" তিনি (জাফর আস-সাদিক) বললেন, "আপনি বসুন এবং মানুষকে ফতোয়া প্রদান করুন; আমি আমার পূর্বপুরুষদের এভাবেই পেয়েছি।" আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে, অগ্রাধিকার (তারজিহ) প্রদানের ক্ষেত্রে এদের সাক্ষ্যের কি কোনো প্রভাব আছে? আমি বলব, হ্যাঁ; প্রজ্ঞাবানদের নিকট এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। আর এটি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন থেকে প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হতে পারো}। মুফাসসিরদের একটি দল বলেছেন যে, এটি দুনিয়াতে একে অপরের জন্য সাক্ষ্য প্রদান করা। আর সুন্নাহ থেকে প্রমাণ হলো যা সহীহ মুসলিমে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং লোকেরা সেটির প্রশংসা করল। তখন তিনি তিনবার বললেন, "ওয়াজিব হয়ে গেছে।" এরপর অপর একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো এবং লোকেরা সেটির নিন্দা করল। তখন তিনি তিনবার বললেন, "ওয়াজিব হয়ে গেছে।" উমর (রা.) বললেন, "আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোক, কী ওয়াজিব হয়েছে?" তিনি (সা.) বললেন, "তোমরা যার প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে, আর যার নিন্দা করলে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।" তিনি এটি তিনবার বললেন। আর এটি বুখারী ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত সেই হাদিসের পরিপন্থী নয় যেখানে বলা হয়েছে যে, সাক্ষ্য দেওয়া বলতে নবিগণের রিসালাত পৌঁছানোর ব্যাপারে উম্মতদের সাক্ষ্য দেওয়াকে বুঝায়।

 

‌‌তাঁর ইলমের মর্যাদা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

আল-গজনভী ইমাম যুফার থেকে ইমাম (আবু হানিফা) সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ইমাম) বলেছেন: "আমি কালামশাস্ত্রে (তর্কবিদ্যা) চরম শিখরে পৌঁছেছিলাম, এমনকি আমি মানুষের নিকট বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলাম। আমি হাম্মাদের দরসের মজলিসের কাছে বসতাম। একবার আমাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যার স্ত্রী ছিল একজন দাসী, সে তাকে সুন্নাহ মোতাবেক কীভাবে তালাক দিবে? আমি এই মাসআলার সঠিক উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি তখন তাকে বললাম, হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করো এবং আমাকে উত্তরটি জানাও। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করল এবং আমাকে উত্তরটি জানাল। তখন আমি বললাম, কালামশাস্ত্রের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপর আমি হাম্মাদের দরসের মজলিসে চলে এলাম। তিনি যখন কোনো মাসআলা বলতেন, আমি তা মুখস্থ করে নিতাম। তিনি যখন তা পুনরায় জিজ্ঞাসা করতেন, আমিই উত্তর দিতে পারতাম আর তাঁর অন্য সাথীরা ভুল করত। তখন তিনি বললেন, আমার মজলিসে ঠিক সামনে তুমি ছাড়া আর কারও বসা উচিত নয়। এরপর আমি দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে থাকলাম। এরপর আমি ইচ্ছা করলাম..."
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
أن انفرد في حلقة فلما دخلت المسجد على ذلك العزم لم أملك الخلاف فجلست عنده فأخبر بموت حميم له بالبصرة فخرج إليه وأجلسني مكانه فوردت علي ستون مسئلة لم أحفظ جوابها فأجبت وكتبت جوابي فلما جاء بعد شهرين عرضت عليه جوابي فخالفني في عشرين فحلفت أن لا أفارقه إلى الموت فلازمته ثمانية عشر سنة أخرى

وذكر تاج الإسلام أبو سعد السمعاني عنه قال خدعتني امرأة وفقهتني امرأة وزهدتني امرأة أما الأولى كنت مجتازا فأشارت لي امرأة إلى شئ مطروح في الطريق فتوهمت أنها خرساء وان الشيئ لها فلما رفعته إليها قالت احفظه حتى تسلمه إلى صاحبه والثاني سألتني امرأة عن مسئلة في الحيض فلم أعرف فقالت قولا فتعلمت الفقه والثالث مررت ببعض الطريق فقالت امرأة هذا الذي يصلي الفجر بوضوء العشاء فتعودت ذلك حتى صار عادة

وذكر عنه أنه قال كنت أنازع الناس في علم الدين فسئلت عن فريضة فلم أعرف فقيل تكلم في الدين وهو أدق من الشعر ولا تحسن فريضته فخجلت فأتيت الشعبي فإذا مخضوب الرأس واللحية يلعب بالشطرنج مع أصحابه فسألته عن مسئلة فقال ما يقول فيه الحكم بن عتيبة وحماد وسمعته يقول لا نذر في معصية الله ولا كفارة فيه فقلت الله تعالى يقول {وإنهم ليقولون منكرا من القول وزورا} ومع ذلك أوجب فيه الكفارة فقال أقياس أنت قم فاخرج عني فدخلت على قتادة فإذا هو يتكلم فى القدر فدخلت على أبي الزبير صاحب جبر بن عبد االله فرأيته رجلا لا يحفظ لسانه فأتيت نافعا مولى ابن عمر فإذا هو يروي عن مولاه أنه كان يرخص فى اتيان النساء غير ما تاهن ويتلوا قوله {نساؤكم حرث لكم} الآية فقلت هذا أحمق الناس أو أكذب الناس فإذا كان سمع منه كان عليه أن يكتمه فلزمت حمادا فإن قلت
আমি একটি পৃথক মজলিস করার সংকল্প করলাম। যখন আমি সেই সংকল্প নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন আমি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করতে পারলাম না এবং তাঁর নিকট বসে পড়লাম। অতঃপর বসরার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ আসায় তিনি সেখানে রওয়ানা হলেন এবং আমাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে বসিয়ে দিলেন। আমার কাছে ষাটটি মাসআলা আসল যেগুলোর উত্তর আমার মুখস্থ ছিল না। আমি উত্তর প্রদান করলাম এবং আমার উত্তরগুলো লিখে রাখলাম। দুই মাস পর যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন আমি আমার উত্তরগুলো তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি বিশটি মাসআলায় আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করলেন। তখন আমি শপথ করলাম যে, মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। এরপর আমি আরও আঠারো বছর তাঁর সান্নিধ্যে থাকলাম।

তাযুল ইসলাম আবু সা’দ আস-সামআনি তাঁর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: এক মহিলা আমাকে ধোঁকা দিয়েছিল, এক মহিলা আমাকে ফিকহ শিখিয়েছিল এবং এক মহিলা আমাকে দুনিয়াত্যাগী (যাহিদ) বানিয়েছিল। প্রথমজনের ব্যাপারে বলি, আমি পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন এক মহিলা রাস্তার ওপর পড়ে থাকা একটি জিনিসের দিকে ইঙ্গিত করল। আমি ধারণা করলাম যে সে বোবা এবং জিনিসটি তারই। যখন আমি সেটি তুলে তার কাছে নিয়ে গেলাম, তখন সে বলল: এটি সংরক্ষণ করুন যতক্ষণ না আপনি এর মালিকের কাছে এটি হস্তান্তর করেন। দ্বিতীয় ঘটনা হলো, এক মহিলা আমাকে হায়েযের একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল কিন্তু আমি তা জানতাম না। সে তখন একটি কথা বলল যার ফলে আমি ফিকহ শিক্ষা করলাম। তৃতীয় ঘটনা হলো, আমি একটি পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন এক মহিলা বলল, এই সেই ব্যক্তি যে এশার ওযু দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে। এরপর আমি তা অভ্যাসে পরিণত করলাম যতক্ষণ না তা স্বভাবে পরিণত হলো।

তাঁর সূত্রে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: আমি দ্বীনি ইলম নিয়ে মানুষের সাথে বিতর্ক করতাম। একদা আমাকে ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো কিন্তু আমি তা জানতাম না। তখন বলা হলো, আপনি দ্বীন নিয়ে কথা বলেন যা চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম, অথচ আপনি ফারায়েয বিষয়ে দক্ষ নন? এতে আমি লজ্জিত হলাম এবং আশ-শাবী-র নিকট আসলাম। দেখলাম তাঁর মাথা ও দাড়ি খেযাব লাগানো এবং তিনি তাঁর সাথীদের সাথে দাবা খেলছেন। আমি তাঁকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আল-হাকাম ইবনে উতাইবা এবং হাম্মাদ কী বলেন? আমি তাঁকে বলতে শুনলাম যে, আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজে কোনো মানত নেই এবং তাতে কোনো কাফফারাও নেই। আমি বললাম, আল্লাহ তাআলা বলেছেন— {এবং নিশ্চয়ই তারা গর্হিত কথা ও মিথ্যা বলে}— তবুও এর ওপর কাফফারা ওয়াজিব করেছেন। তিনি বললেন, আপনি কি কিয়াসপন্থী? উঠুন এবং আমার নিকট থেকে চলে যান। এরপর আমি কাতাদাহ-র কাছে গেলাম, দেখলাম তিনি তাকদির নিয়ে আলোচনা করছেন। এরপর আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর সাথী আবু যুবাইরের নিকট গেলাম এবং দেখলাম তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর জিহ্বা সংযত রাখেন না। এরপর আমি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে’-র নিকট গেলাম এবং দেখলাম তিনি তাঁর মনিব থেকে বর্ণনা করছেন যে, তিনি স্ত্রীদের সাথে তাদের স্বাভাবিক স্থান ছাড়া অন্য পথে মিলনের অনুমতি দিতেন এবং আল্লাহর এই বাণী পাঠ করতেন— {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র}— আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। আমি বললাম, এ ব্যক্তি হয় সবচেয়ে নির্বোধ নতুবা সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। যদি তিনি এটি তাঁর কাছ থেকে শুনেও থাকেন, তবে তা গোপন রাখা তাঁর জন্য উচিত ছিল। এরপর আমি হাম্মাদকে আঁকড়ে ধরলাম। যদি আমি বলি—
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৫)
قد أنكر الإمام علي الشعبي لعبه بالشطرنج وهو مختلف بين العلماء المتأخرين فإن مالكا والشافعي جوزاه والنكير في المجتهدات ساقط قال النمرتاشي ليس لك أن تنكر على من قلد مجتهدا أو اجتهد دليلا فإن نقول لا نكير إلا أن الأفضل أخذ العلم ممن هو الأتقى إلا كمل ولذا أنكر على فعله لا على قوله فان التقوى فوق الفتوى قال تعالى {إن أكرمكم عند الله أتقاكم} وورد استفت قلبك وإن أفتاك المفتون ومن المعلوم أن الخروج من موضع الخلاف مستحب بالإجماع وفسر بعضهم الانصباب بالنرد والشطرنج كما ذكر القرطبي وأغرب بعض الشافعية حيث بالغ في لعبه حتى بلغه إلى حد الندب وإذا عيي القراءة لعب به في المسجد وأسند إلى قوم من الصحابة والتابعين أنهم لعبوا بها قال ابن العربي ما مسها يد تقي قط والأصح أن مالكا معنى فى المنع وقد ثبت قوله عليه السلام ملعون من لعب بالشطرنج والناظر إليه كآكل لحم الخنزير فلهذا المنقول الظاهر أنكر الإمام الباهر على المخالف المجاهر والله أعلم بحقائق السرائر قال الكردري فان قلت ما وجه الإنكار على نافع فيما يرويه عن مولاه مع ان ظاهر القرآن يوافقه وهو قوله تعالى {أتاتون الذكران من العالمين وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم} وقد ثبت القول به عن نافع عن ابن عمر فان كل فرقة فسروا أنى في قوله تعالى {فأتوا حرثكم أنى شئتم} بمعنى أين وقالوا قال به سعيد بن المسيب ونافع وابن عمر ومحمد بن كعب القرظي وعبد الملك بن الماجشون من المالكية وذكر ابن العربي أن سفيان ذكر في كتاب جماع النسوان وأحكام القرآن جوازه عن كثير من الصحابة والتابعين وقال أيضاً بوجود اللواطة في الجنة كثير من المحققين من علماء الحنفية فدل على أنه لا إنكار على نافع قلت كان العلامة يقول لا تهو لكم أسماء الرجال عند قوة

ইমাম আলী আশ-শা’বী তাঁর দাবা খেলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, অথচ এটি পরবর্তী আলেমদের মাঝে মতভেদপূর্ণ বিষয়। ইমাম মালিক ও শাফেঈ একে বৈধ বলেছেন এবং ইজতিহাদি বিষয়ে আপত্তি করা চলে না। নিমরতাশি বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুজতাহিদকে অনুসরণ করে কিংবা কোনো দলিলের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করে, তার ওপর আপত্তি জানানোর অধিকার তোমার নেই। কারণ আমরা বলি যে, কোনো আপত্তি নেই; তবে সর্বাধিক খোদাভীরু ও পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির নিকট হতে ইলম গ্রহণ করাই উত্তম। এই কারণেই তাঁর কর্মের ওপর আপত্তি করা হয়েছে, তাঁর বাণীর ওপর নয়। কেননা তাকওয়া ফতোয়ার ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মুত্তাকী।" আরও বর্ণিত আছে, "তোমার অন্তরের নিকট ফতোয়া চাও, যদিও মুফতিগণ তোমাকে ফতোয়া দেন।" এটি সুবিদিত যে, মতভেদপূর্ণ বিষয় থেকে বেরিয়ে আসা সর্বসম্মতিক্রমে মুস্তাহাব। কেউ কেউ 'ইনসিবাব' (মনোনিবেশ) শব্দটির ব্যাখ্যা করেছেন পাশা ও দাবা খেলার মাধ্যমে, যেমনটি কুরতুবী উল্লেখ করেছেন। শাফেঈ মাযহাবের কেউ কেউ অত্যন্ত বিস্ময়কর বাড়াবাড়ি করেছেন এই খেলার বিষয়ে, এমনকি একে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যখন তিলাওয়াতে ক্লান্তি আসত, তখন তিনি মসজিদে এটি খেলতেন। সাহাবী ও তাবিঈদের এক দলের প্রতি এটি নিসবত করা হয়েছে যে তাঁরা এটি খেলতেন। ইবনুল আরাবী বলেন, কোনো মুত্তাকীর হাত কখনো এটি স্পর্শ করেনি। বিশুদ্ধ মত হলো, ইমাম মালিক একে নিষেধ করার পক্ষেই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী প্রমাণিত যে, "দাবা খেলোয়াড় অভিশপ্ত, আর এর দিকে দৃষ্টিপাতকারী শূকরের মাংস ভক্ষণকারীর ন্যায়।" এই সুস্পষ্ট বর্ণনার কারণেই মহান ইমাম প্রকাশ্য বিরোধিতাকারীর ওপর আপত্তি করেছেন। আর অন্তরের প্রকৃত রহস্য আল্লাহই ভালো জানেন। কারদারী বলেন, যদি বলা হয় যে, নাফে’ তাঁর মনিব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে আপত্তির কারণ কী, অথচ কুরআনের প্রকাশ্য বর্ণনা এর অনুকূলে? যা হলো আল্লাহর বাণী: "তোমরা কি বিশ্বজগতের পুরুষদের নিকট গমন করো এবং তোমাদের রব তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের মধ্য থেকে যা সৃষ্টি করেছেন তা বর্জন করো?" এটি নাফে’র মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে। কেননা প্রত্যেক দল আল্লাহর বাণী "তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো" আয়াতে 'আন্না' শব্দের অর্থ 'কোথায়' বা 'কোন দিক থেকে' করেছেন। তাঁরা বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, নাফে’, ইবনে উমর, মুহাম্মদ ইবনে কা’ব আল-কুরযী এবং মালিকী মাযহাবের আব্দুল মালিক ইবনুল মাজিশুন এই মত দিয়েছেন। ইবনুল আরাবী উল্লেখ করেছেন যে, সুফিয়ান 'জিমাউন নিসওয়ান' ও 'আহকামুল কুরআন' কিতাবে অনেক সাহাবী ও তাবিঈ থেকে এর বৈধতা বর্ণনা করেছেন। হানাফী আলেমদের অনেক গবেষক জান্নাতে সমকামিতার অস্তিত্বের কথা বলেছেন, যা প্রমাণ করে যে নাফে’-এর ওপর কোনো আপত্তি নেই। আমি বলি, আল্লামা বলতেন, শক্তিশালী দলিলের উপস্থিতিতে ব্যক্তিদের নাম যেন তোমাদের ভীত না করে।

(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৬)
الدلائل وكشف المقال فان كتاب الله تعالى حاكم ببطلان هذا القول فان قوله تعالى {فإذا تطهرن} وقوله تعالى {فأتوا حرثكم} كل دليل قاطع على حرمة محل اللوث اللازم وكذا الأحاديث الحسان الكثيرة والصحاح شهيرة ناطقة صريحة في التحريم رواها الإمام أحمد بن حنبل في مسنده وأبو داود والترمذي والنسائي وقد جمعها أبو الفرج أحمد بن الجوزي في جزء ثم حرمة اللواط عقلية ولذا سماه الله فاحشة فلا وجود لها في الجنة وقيل سمعية فلها وجود فيها وقيل يخلق الله تعالى طائفة يكون نصفها الأعلى على صفة الذكور ونصفها الأسفل على صفة الإناث والصحيح الأول انتهى

ولا يخفي بعد هذا الاستدال بأمثال هذه الأقاويل المجهولة المجعولة في تجويز اللواطة هي الفاحشة في جميع الأمم المتقدمة والمتأخرة والقبيحة في العقول السليمة وأما نقلهم عن المحققين من علماء الحنفية وجودها فى دار النعم العظيمة حاشا المحققين من هذه المقالة السقيمة على أن الطائفة المنصفة لا يلزم في جماعها اللواطة وأيضاً لا يفرق بين الذكر والأنثى إلا بالنصف الثاني فعليك الكلام بالثاني إذ من المعلوم أن أهل الجنة جرد مرد على التنزل أن لمسلك الطائفة فالطابع الجنتية لا تميل إليها في الدار الكثيفة وأيضاً كيف يحكم المحققون بوجود اللواطة في الجنة مع أن العلوم الغيبية التي لا تشتبه بالأدلة القطعية وأقلها الضنية لا بالأمور الوهمية الصادرة عن العقول الردية فنسأل الله العافية من الخطاء في الأمور الدينية والآخروية وأما نقلهم عن نافع فان النسأي روى عن أبي النضر قال لنافع قد أكثر عليك القول أنك تقول به عن مولاك قال كذبوا عليّ الحديث

وذكر الدارمي في = مسنده عن سعيد بن يسار قال قلت لإبن عمر ما تقول
প্রমাণাদি ও বক্তব্যের উন্মোচন: আল্লাহ তাআলার কিতাব এই উক্তির অসারতার বিষয়ে ফয়সালাকারী। কেননা আল্লাহ তাআলার বাণী "অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী "তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন করো" - এর প্রতিটি নোংরামির আবশ্যিক স্থানের হারামের বিষয়ে চূড়ান্ত দলিল। একইভাবে অনেক হাসান ও প্রসিদ্ধ সহিহ হাদিস রয়েছে যা হারামের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, যা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর মুসনাদে এবং আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। আবু আল-ফারাজ আহমদ ইবনুল জাওজি একটি পত্রে এগুলো সংকলন করেছেন। অতঃপর সমকামিতার হারামের বিষয়টি যৌক্তিক, আর একারণেই আল্লাহ একে অশ্লীলতা হিসেবে অভিহিত করেছেন, তাই জান্নাতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। বলা হয়েছে যে এটি শ্রুতিগত (নকলি), তাই জান্নাতে এর অস্তিত্ব থাকতে পারে। আরও বলা হয়েছে যে আল্লাহ তাআলা এমন একদল সৃষ্টি করবেন যাদের উপরের অর্ধেক পুরুষের আকৃতিতে এবং নিচের অর্ধেক নারীর আকৃতিতে হবে। তবে প্রথম মতটিই সঠিক। সমাপ্ত।

এই ধরনের অজ্ঞাত ও বানোয়াট কথাবার্তার মাধ্যমে সমকামিতাকে বৈধ করার অপপ্রয়াসের অসারতা গোপন নয়, যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উম্মতের কাছেই অশ্লীলতা এবং সুস্থ বিবেকের কাছে অত্যন্ত জঘন্য বিষয়। আর হানাফি উলামাদের মধ্য থেকে মুহাক্কিকদের বরাত দিয়ে জান্নাতে এর অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে তাদের যে বর্ণনা, এই রুগ্ন উক্তি থেকে মুহাক্কিকগণ মুক্ত। বিশেষ করে সেই দ্বিখণ্ডিত গোষ্ঠীর সাথে মিলনের ক্ষেত্রে সমকামিতা অপরিহার্য নয়; তাছাড়া পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য তো কেবল নিম্নাংশ দ্বারাই হয়। সুতরাং আপনার আলোচনা নিম্নাংশ নিয়েই হওয়া উচিত। কেননা এটা জানা কথা যে জান্নাতবাসীরা হবে লোমহীন ও দাড়িহীন কিশোর সদৃশ। তর্কের খাতিরে যদি সেই গোষ্ঠীর বিষয়টি ধরাও হয়, তবে জান্নাতি স্বভাব এই স্থূল জগতের অপছন্দনীয় বিষয়ের দিকে ঝুঁকবে না। তাছাড়া মুহাক্কিকগণ কীভাবে জান্নাতে সমকামিতার অস্তিত্বের ফয়সালা দেবেন, যেখানে অদৃশ্যের জ্ঞানসমূহ অকাট্য দলিল বা অন্তত প্রবল ধারণার বিষয়, নিকৃষ্ট বুদ্ধি থেকে নির্গত কাল্পনিক বিষয় নয়। আমরা আল্লাহর কাছে দ্বীনি ও পরকালীন বিষয়ে ভুল থেকে মুক্তি প্রার্থনা করি। আর নাফে'র বরাতে তাদের বর্ণনার বিষয়ে ইমাম নাসাঈ আবু নাদর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে'কে বলেছিলেন: আপনার সম্পর্কে তো অনেক কথা রটেছে যে আপনি আপনার মনিবের সূত্রে এটি জায়েজ হওয়ার কথা বলছেন। তিনি বললেন: তারা আমার ওপর মিথ্যাচার করেছে।

দারেমি তাঁর মুসনাদে সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বললাম, আপনি কী বলেন...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৭)
فى الجواري حين حمض بهن قال وما التحميض فذكرت له الدبر فقال هل يفعل ذلك أحد من المسلمين وقد ذكر بعض أصحابنا فيما أجاب به المعدل الذى هجا الإمام مذفران سالما روى عن ابن عمر خلافه فقال شعر … أن كنت ذا كذب على أشياخنا … متنقصا لأبي حنيفة أو زفر

فعليك إثم الشيخ أعني مالكا … في قوله وطي الحلائل في الدبر

هذا مقال قد رووا عن سالم … تكذيب ناقله وتزوير الخبر … وذكر الإمام الأندلسي وقال مالك لابن وهب وعلي بن زياد لما أخبراه أن ناسا بمصر يتحدثون ذلك عنه فنفر عن ذلك وبادر إلى تكذيب الناقل وقال كذبوا علي ألستم قوما عربا أو يكون الحرث إلا موضع النبت قال ثعلب شعر … إنما الأرحام أرضون محترف … فعلينا الزرع وعلى الله الإنبات …

أقول ولا يبعد الجمع بين نفي القول المذكور وإثباته أن محل الثاني إذا كانت المرأة حائضا كما نقل شيخ مشايخنا السيوطي في الدر المنثور روايات كثيرة عن بعض السلف والله سبحانه أعلم

وذكر الديلمي بإسناده إلى القاسم بن عدي العجلي قيل للإمام كيف اخترت حمادا قال بتوفيق الله تعالى وتأملت في العلوم فقلت الكلام عاقبته سوء ونفعه قليل إن تبحر فيه لا يقدر على الكلام جهارا ويرمي بالهوى وعاقبة الأدب مجالسة الصبيان وعاقبة الشعر التكدي بالمدح وقول الجفاء والخناء وتمزيق الدين وعلم القراءة بعد جمع الكثير منه في العمر الطويل مجالسة الأحداث وربما يرمي بسؤ الحفظ فيلزمه ذلك وعلم الفقه أولى لمجالسة المشائخ
দাসীদের ক্ষেত্রে যখন তাদের সাথে পায়ুপথে সঙ্গম করা হয়েছিল, তিনি বললেন, পায়ুপথে সঙ্গম কী? তখন তার কাছে এর বিষয়টি উল্লেখ করা হলো। তিনি বললেন, মুসলিমদের মধ্যে কি কেউ এমন কাজ করে? আমাদের কিছু সঙ্গী সেই উত্তরে উল্লেখ করেছেন যা আল-মুআদ্দিল দিয়েছিলেন, যিনি ইমামের নিন্দা করেছিলেন যখন সালেম ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে এর বিপরীত বর্ণনা করেছিলেন। তিনি কবিতায় বলেছিলেন: … যদি তুমি আমাদের উস্তাদদের ওপর মিথ্যারোপ করে থাকো … আবু হানিফা বা যুফারকে খাটো করে

তবে তোমার ওপর সেই শায়খের (অর্থাৎ মালিকের) পাপ বর্তাবে … তার সেই বক্তব্য অনুযায়ী যে পায়ুপথে স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম বৈধ।

এটি একটি বক্তব্য যা তারা সালেমের সূত্রে বর্ণনা করেছে … বর্ণনাকারীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং সংবাদটিকে জাল সাব্যস্ত করা … আন্দালুসি ইমাম এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, ইমাম মালিক ইবনে ওহাব ও আলী বিন যিয়াদকে বলেছিলেন যখন তারা তাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে মিসরের কিছু লোক তার পক্ষ থেকে এই কথা বর্ণনা করছে। তখন তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বর্ণনাকারীকে মিথ্যাবাদী বলতে ত্বরান্বিত হলেন। তিনি বললেন, তারা আমার ওপর মিথ্যারোপ করেছে। তোমরা কি আরব জাতি নও? ফসল ফলানোর স্থান কি চারা গজানোর জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও হতে পারে? সা'লাব কবিতায় বলেছেন: … নিশ্চয়ই জরায়ুসমূহ হলো চাষাবাদের জমি … আমাদের কাজ হলো বীজ বপন করা আর আল্লাহর কাজ হলো চারা গজানো …

আমি বলি, উল্লিখিত বক্তব্যের অস্বীকৃতি এবং স্বীকৃতির মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব নয় যে, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্র হলো যখন স্ত্রী ঋতুবতী থাকে, যেমনটি আমাদের শায়খের শায়খ সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর'-এ পূর্বসূরিদের থেকে অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ভালো জানেন।

দায়লামী তার সনদে কাসিম বিন আদি আল-ইজলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কেন হাম্মাদকে বেছে নিলেন? তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলার তৌফিকে। আমি বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে চিন্তা করলাম এবং দেখলাম যে, কালাম শাস্ত্রের পরিণাম মন্দ এবং এর উপকারিতা সামান্য। যদি কেউ এতে গভীর জ্ঞান অর্জন করে, তবে সে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারে না এবং তার দিকে প্রবৃত্তি পূজার অপবাদ ছুঁড়ে দেওয়া হয়। সাহিত্যের পরিণাম হলো বালকদের সাথে উঠাবসা। কবিতার পরিণাম হলো প্রশংসার ছলে ভিক্ষাবৃত্তি, রুক্ষ ও অশ্লীল কথা বলা এবং দ্বীনকে কলঙ্কিত করা। আর দীর্ঘ জীবনে কিরাআত শাস্ত্রের বিপুল জ্ঞান অর্জনের পরিণাম হলো অল্পবয়স্কদের সাথে উঠাবসা, আর অনেক সময় তাকে দুর্বল মুখস্থ শক্তির অপবাদ দেওয়া হয় যা তার সাথে লেগে থাকে। তাই ফিকহ শাস্ত্রই উস্তাদ ও মনীষীদের সান্নিধ্য লাভের জন্য অধিকতর উত্তম।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৮)
والتخلق بأخلاقهم ولا يستقيم أداء التكاليف إلا به وحصول نجح الدارين متعلق بكسبه ولو نزلت نازلة في الحي احتاجوا إليك بسببه فإن يجدوا عندك جوابا قالوا سلوا مشائخك فان أردت الدنيا نلت به وان تخليت للعبادة فلم يقدر أحد أن يقول تعبد بلا علم

وبه إلى يحيى بن شيبان قال قال الإمام كنت أعطيت جدلا في الكلام وأصحاب الأهواء في البصرة كثيرة فدخلتها نيف وعشرين مرة وربما قمت بها سنة أو أكثر ظنا أن علم الكلام أجل العلوم فلما مضى مدة عمري تفكرت وقلت السلف كانوا أعلم بالحقائق ولم ينتصبوا مجادلين بل أمسكوا عنه وخاضوا في علم الشرائع ورغبوا فيه وتعلموا وعلموا وتناظروا عليه فتركت الكلام واشتغلت بالفقه ورأيت المشتغلين بالكلام ليس سيماهم سيماء الصالحين قاسية قلوبهم غليظة أفئدتهم لا يبالون بمخالفة الكتاب والسنة ولو كان خيرا لاشتغل به السلف الصالحون هذا

وحكاية روياه مشهورة أنه ينبش قبر النبي صلى الله عليه وسلم ويولف العظام الكرام يوضع بعضها في موضع مناسب للمقام وتعبير ابن سيرين لها أن صاحبها رجل يحيي الله به سنة أميتت فيما بين الأنام

فصل في اعتقاده

ذكر الغزنوي عن يحيى بن نصر والديلمي عن نوح بن أبي مريم الجامع قالا سألناه عن السنة والجماعة قال تفضيل الشيخين ومحبة الختنين والإيمان بالقدر خيره وشره والمسح على الخفين وتحليل النبيذ للتقوى على طاعة الله لا السكر وعدم التكفير لأحد بذنب عدم التكلم فى الله بشيئ قال سعد بن معاذ جمع الإمام في هذه الأحرف
এবং তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে নিজেকে রঞ্জিত করা; আর এটি ছাড়া শরয়ি দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় এবং উভয় জাহানের সফলতা অর্জন এর ওপরই নির্ভরশীল। যদি জনপদে কোনো বিপদ নেমে আসে, তবে তারা এর কারণেই আপনার মুখাপেক্ষী হবে। তারা যদি আপনার কাছে উত্তর পায়, তবে বলবে, 'আপনার শায়খদের জিজ্ঞাসা করুন'। যদি আপনি দুনিয়া চান, তবে এর মাধ্যমেই তা লাভ করবেন; আর যদি ইবাদতের জন্য নিভৃতচারী হন, তবে কেউ বলতে পারবে না যে আপনি ইলম ছাড়াই ইবাদত করছেন।

এবং একই সনদে ইয়াহইয়া বিন শাইবান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম বলেছেন, 'আমাকে ইলমে কালামে বিতর্কের পারদর্শিতা দেওয়া হয়েছিল। বসরায় প্রবৃত্তি পূজারীদের সংখ্যা ছিল অনেক, তাই আমি সেখানে বিশ বারেরও বেশি গিয়েছি। কখনো কখনো সেখানে এক বছর বা তার বেশি সময় অবস্থান করেছি এই ধারণায় যে, ইলমে কালাম হলো শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান। যখন আমার জীবনের একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, আমি চিন্তা করে দেখলাম যে সলফগণ সত্য সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন, তবুও তারা বিতর্ককারী হিসেবে অবতীর্ণ হননি। বরং তারা এটি থেকে বিরত থেকেছেন এবং শরয়ি ইলমসমূহে নিমগ্ন হয়েছেন, এর প্রতি আগ্রহী হয়েছেন, তা শিখেছেন, শিখিয়েছেন এবং এর ওপর বিতর্ক করেছেন। অতঃপর আমি কালাম শাস্ত্র ত্যাগ করলাম এবং ফিকহ শাস্ত্রে আত্মনিয়োগ করলাম। আমি দেখলাম যে, যারা কালাম শাস্ত্রে মগ্ন থাকে, তাদের বৈশিষ্ট্য নেককারদের মতো নয়; তাদের অন্তর কঠোর, তাদের হৃদয় রুক্ষ, তারা কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করতে পরোয়া করে না। যদি এতে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে সলফে সালেহীন অবশ্যই এতে মগ্ন হতেন।'

তাঁর সেই স্বপ্নের ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর খনন করছেন এবং সম্মানিত হাড়গুলো একত্রিত করছেন এবং সেগুলোর যথাযথ স্থানে বিন্যস্ত করছেন। ইবনে সিরিন এর ব্যাখ্যায় বলেছিলেন যে, এই স্বপ্নের অধিকারী এমন এক ব্যক্তি হবেন যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের মাঝে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করবেন।

তাঁর আকিদা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

গজনভী ইয়াহইয়া বিন নাসর থেকে এবং দাইলামী নূহ বিন আবু মারয়াম আল-জামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: আমরা তাকে সুন্নাত ও জামায়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: শায়খাইনের (আবু বকর ও ওমর) শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা, দুই জামাতার (উসমান ও আলী) প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনা, মোজার ওপর মাসেহ করা, আল্লাহর আনুগত্যের শক্তি অর্জনের জন্য নবীয পান করা বৈধ মনে করা—মাতলামির উদ্দেশ্যে নয়, গুনাহের কারণে কাউকে কাফের সাব্যস্ত না করা এবং আল্লাহ সম্পর্কে কোনো বিষয়ে (যুক্তি দিয়ে) কথা না বলা। সাদ বিন মুয়াজ বলেছেন: ইমাম এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যে আকিদাকে সংহত করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬৯)
السبعة مذهب أهل السنة والجماعة

فاعلم أنه روى عبد الرحمن بن المثنى أن الإمام كان يفضل الشيخين ثم يقول علي وعثمان ثم من كان له سابقة وهو أنقى فهو أفضل وكان لا يقول في الصحابة إلا خيرا وكان يقول مقام أحدهم مع النبي صلى الله عليه وسلم ساعة أفضل من عبادتنا طول عمرنا

ثم اعلم أن بعض المتكلين قالوا نمسك عن تفضيل الصحابة بعضهم على بعض والجمهور على خلافه ولكن اختلفوا فقال أكثرهم الصديق أفضلهم وقال الخطابية الفاروق أفضلهم وقال الرواندية العباس أفضلهم وقال الرافضة علي أفضلهم واتفق أهل السنة على تقديم الشيخين ووافقهم أيضاً فيه المعتزلة ثم اختلفوا فقال أقلهم وهو رواية عن الإمام ثم علي ثم عثمان وقال أكثرهم ثم عثمان ثم علي وهو الأصح من مذهب الإمام كما يعرف من كتاب الفقه الأكبر ونصائحه ثم تمام العشرة المبشرة بالجنة ثم أهل بدر ثم أهل أحد ثم أصحاب بيعة الرضوان وزعم طائفة منهم ابن عبد البران من توفي من الصحابة الكرام حال حياته أفضل ممن بقي بعد مماته عليه السلام وهذا إطلاق غير مرضي عند العلماء الأعلام

ثم اختلف العلماء في التفضيل المذكور أقطعي أم ظني فذكر الأشعري أنه قطعي وذكر الباقلاني أنه ظني ثم اختلفوا أن التفضيل بحسب الظاهر فقط أم بحسب الظاهر والباطن كذا ذكره الكردري والقول بكونه قطعيا بعيد جداً اللهم إلا أن يقال في حق الصديق فإنه إلى التحقيق حقيق وأما القول بأنه بحسب الظاهر والباطن فأبعد والله ولي التوفيق

ثم في قوله ومحبة الختنين إشارة إلى أن محبتهما كافية فى كون حليهما من
সাতটি মাসআলা: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাজহাব

জেনে রাখুন যে, আব্দুর রহমান ইবনে মুসান্না বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম (আবু হানিফা) শায়খাইনকে (আবু বকর ও ওমর) শ্রেষ্ঠত্ব দান করতেন, এরপর আলী ও উসমানের কথা বলতেন। তারপর যার ইসলামের পথে অগ্রগামিতা রয়েছে এবং যিনি অধিক পবিত্র, তিনিই অধিক শ্রেষ্ঠ। তিনি সাহাবীদের সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু বলতেন না। তিনি বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে তাঁদের কারো এক মুহূর্তের অবস্থান আমাদের সারা জীবনের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, কিছু কালামশাস্ত্রবিদ বলেছেন যে, আমরা সাহাবীদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়ে নীরব থাকব; তবে জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। তবে তাঁরাও মতভেদ করেছেন; তাঁদের অধিকাংশ বলেছেন সিদ্দীক (আবু বকর) তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। খাত্তাবিয়্যাহ সম্প্রদায় বলেছে ফারুক (ওমর) তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। রাওয়ান্দিয়াহ সম্প্রদায় বলেছে আব্বাস তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। রাফেজিরা বলেছে আলী তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আহলে সুন্নাত শায়খাইনকে অগ্রগণ্য করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং মুতাজিলাগণও এই বিষয়ে তাঁদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। এরপর তাঁরা মতভেদ করেছেন; তাঁদের মধ্য থেকে অল্পসংখ্যক লোক বলেছেন—এবং এটি ইমাম (আবু হানিফা) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়াত—তারপর আলী, তারপর উসমান। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশ বলেছেন এরপর উসমান, তারপর আলী। ইমামের মাযহাব অনুযায়ী এটিই অধিক বিশুদ্ধ, যেমনটি ফিকহুল আকবার কিতাব এবং তাঁর উপদেশসমূহ থেকে জানা যায়। এরপর জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত পূর্ণ দশজন (আশারায়ে মুবাশশারা), এরপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, এরপর ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, এরপর বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীগণ। তাঁদের একটি দল, যাদের মধ্যে ইবনে আব্দুল বার রয়েছেন, দাবি করেছেন যে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেছেন, তাঁরা তাঁর ইন্তেকালের পর যারা জীবিত ছিলেন তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে বিজ্ঞ আলেমদের নিকট এটি একটি অগ্রহণযোগ্য ঢালাও মন্তব্য।

অতঃপর আলেমগণ উল্লিখিত শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি অকাট্য (কাতঈ) নাকি ধারণাপ্রসূত (জন্নি), সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আশআরী উল্লেখ করেছেন যে এটি অকাট্য, আর ইমাম বাকিলানি উল্লেখ করেছেন যে এটি ধারণাপ্রসূত। এরপর তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, এই শ্রেষ্ঠত্ব কি কেবল বাহ্যিক বিচারে নাকি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় বিচারে; যেমনটি কারদারি উল্লেখ করেছেন। এই শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি অকাট্য হওয়ার দাবিটি অত্যন্ত দূরবর্তী (অবাস্তব), তবে যদি সিদ্দীকের (আবু বকর) ক্ষেত্রে এটি বলা হয়, তবে তা গবেষণার নিরিখে যথাযথ। আর শ্রেষ্ঠত্ব বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকে হওয়ার বক্তব্যটি আরও অধিক দূরবর্তী। আল্লাহই তাওফিক দাতা।

অতঃপর তাঁর বক্তব্য "দুই জামাতার ভালোবাসা" এর মধ্যে এই ইশারা রয়েছে যে, তাঁদের উভয়ের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা যথেষ্ট...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭০)
أهل السنة لما سبق من الكلام أراد الإمام التنبيه على أن باغضهما خارجي خارج من أهل السنة والجماعة وكذا باغض عثمان وهما الشيعة سواء يقولون لا نحب الثلاثة ولا نسبهم أو يلعنونهم وفى تكفير لاعنهم خلاف مشهور وتفصيل فى محله مسطور وقد بسطة هذه المسئلة في رسالة مستقلة ثم في قوله ويؤمن بالقدر خيره وشره إخراج المعتزلة وسائر المبتدعة من القدرية والمراد بالأيمان بالقدر اعتقاد أن جميع الأمور بقضاء الله وقدره وفق ما أراد أن يظهر بكسب العباد فخرج الجبرية على أنهم أقرب إلى الحق من سائر المبتدعة

ثم في قوله والمسح على الخفين رد على طائفة من الشيعة وقد نقل ابن المبارك عن الإمام ما قلت بالمسح عليهما حتى جاءني مثل ضوء النهار يعني الأدلة الساطعة من الكتاب فان آية الوضوء مبهمة مجملة باعتبار القراءتين وقد بينها النبي صلى الله عليه وسلم بغسل الرجلين حال كشفهما ومسحهما وقت لبسهما وكادت الآثار في المسح أن تتواتر بل قد تتواتر معنى أكثرة طرقه ورواته

ثم في قوله وتحليل النبيذ إشعار بأن من قال به لا يخرج عن كونه من أهل السنة لا أنهم اتفقوا على تحليله فإن المسئلة خلافية وهي من الفروع الفقهية التي فيها خلاف المالكية والشافعية والحنبلية فمذهبهم إن كل ما يسكر كثيره فقليله حرام وقد بينة الأدلة من الجانبين في شرح مسند الإمام وفى قوله لا للسكر إيماء إلى أن شربه إذا أنجر إلى السكر فهو حرام وكذا إذا قصد السكر به في أول قعوده

وقد ذكر علماؤنا في بحث المثلث أنه إذا قعد للسكر فالقدح الأول حرام وكذا القعود عليه حرام وسرحوا بأن السكر من البنج ولبن الرماك حرام إلا أنه لا يحد وذكر فى يتيمة الدهران حادثة أهل البنج وقعت فى زمان
আহলে সুন্নাত সম্পর্কে পূর্ববর্তী আলোচনার প্রেক্ষিতে ইমাম এই বিষয়ে সতর্ক করতে চেয়েছেন যে, তাঁদের দুজনের (আবু বকর ও উমর) প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি একজন খারেজি এবং সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বহির্ভূত। একইভাবে উসমান (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীও একই রূপ, আর তারা হলো শিয়া; চাই তারা বলুক যে ‘আমরা এই তিনজনকে ভালোবাসি না এবং গালিও দেই না’ অথবা তারা তাঁদের অভিশাপ দিক। তাঁদের অভিশাপ প্রদানকারীদের কাফের সাব্যস্ত করার বিষয়ে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে এবং এর বিস্তারিত বিবরণ যথাযোগ্য স্থানে লিপিবদ্ধ আছে। আমি একটি স্বতন্ত্র রিসালায় এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। অতঃপর তাঁর উক্তি— ‘এবং সে তাকদিরের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান রাখে’—এর মাধ্যমে মুতাজিলা এবং কদরিয়্যার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সকল বিদয়াতিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাকদিরের ওপর ঈমানের অর্থ হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, যাবতীয় বিষয় আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী সেইভাবে সম্পন্ন হয় যা তিনি বান্দার উপার্জনের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেয়েছেন। ফলে জাবরিয়্যাহ সম্প্রদায় এর বাইরে গণ্য হয়, যদিও তারা অন্যান্য বিদয়াতিদের তুলনায় হকের অধিক নিকটবর্তী।

অতঃপর তাঁর উক্তি— ‘এবং মোজার ওপর মাসাহ করা’— শিয়াদের একটি দলের খণ্ডন। ইবনুল মুবারক ইমাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ‘আমি মোজার ওপর মাসাহ করার কথা ততক্ষণ বলিনি যতক্ষণ না আমার কাছে দিবালোকের ন্যায় অর্থাৎ কিতাবুল্লাহ থেকে সুস্পষ্ট দলিলসমূহ এসেছে।’ কেননা ওযুর আয়াতটি উভয় কিরাআতের বিবেচনায় অস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ব্যাখ্যা করেছেন পা উন্মুক্ত অবস্থায় ধৌত করার এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় মাসাহ করার পদ্ধতির মাধ্যমে। মাসাহ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো প্রায় মুতাওয়াতির পর্যায়ের, বরং এর সূত্র ও বর্ণনাকারীদের আধিক্যের কারণে তা অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির।

এরপর তাঁর উক্তি— ‘এবং নবীয হালাল হওয়া’— এ কথার ইঙ্গিত দেয় যে, যিনি এটি বলেন তিনি আহলে সুন্নাতের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যান না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা এর বৈধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কারণ বিষয়টি মতভেদপূর্ণ এবং এটি ফিকহী শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলিদের দ্বিমত রয়েছে। তাঁদের মাযহাব হলো: যে বস্তুর বেশি পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম। আমি ইমামের মুসনাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থে উভয় পক্ষের দলিলসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর তাঁর উক্তি ‘নেশার জন্য নয়’—এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নবীয পান করা যদি নেশার পর্যায়ে পৌঁছায় তবে তা হারাম। অনুরূপভাবে যদি কেউ বসার শুরু থেকেই নেশার নিয়ত করে থাকে।

আমাদের উলামায়ে কেরাম ‘মুসাল্লাস’ সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ নেশা করার উদ্দেশ্যে বসে, তবে প্রথম পাত্রটিও হারাম এবং সেই উদ্দেশ্যে বসাও হারাম। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, ভাঙ (বাঞ্জ) এবং ঘোটকীর দুধ থেকে সৃষ্ট নেশা হারাম, তবে এতে হদ কার্যকর হবে না। ‘ইয়াতিমাতুদ দাহর’ গ্রন্থে ভাঙ সেবনকারীদের একটি ঘটনার কথা বর্ণিত হয়েছে যা তৎকালীন সময়ে ঘটেছিল।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭১)
الطحاوي من أئمتنا وخاله المزني من الشافعية فأفتيا بالحرمة ووافقهما في ذلك أئمة عصرهما والمكتوب في حاشية القنية عن العلامة مولانا سيف الدين الفقيه أن من يعتاد أكل البنج يعاقب بالقتل وهذا محمول على أنه يأكله لتحصيل السكر ويزعمه حلالا

وأما ما ذكره الأئمة الثلاثة من الآثار الحسان والأحاديث الصحاح من تعليق الحكم وهو الحرمة بالسكر قل المشروب أو كثر فقد تكلم فيه رئيس المحدثين يحيى بن معين وعلى التنزل فمأول بان المراد من السكر هو المسكر بالفعل والمنع من شرب قليله إنما هو في حق من يشرب لقصد السكر والتلهي لا للنشاط على الطاعة والتقوى أو لئلا ينجر قليله إلى كثيره كالراعي حول الحمى

وقد ذكر الطحاوي وغيره أن عند محمد كل ما يسكر كثيره فقليله حرام وأما فتوى المشائخ على رأى أبي حنيفة وأبي يوسف ومع هذا ففي فتاوي قاضي خان أنه سئل الإمام أبو حفص الكبير عن هذا فقال لا يحل شربه فقيل له خالفت الشيخين فقال لا لأنهما كانا يحلان الأسمر للتقوى والناس في زماننا يشربونه للفجور والتلهي وشربه للهو لا يحل إجماعا

ثم في قوله وعدم التكفير بها أي بكبيرة رد على الخوارج وقوله وعدم التكلم في الله بشيء يعني في صفات الله كذا ذكره الكردري وفيه بحث إذ تكلم الإمام على الصفات في الفقه الأكبر وغيره والمسئلة تنازع فيها أهل السنة والمعتزلة حيث أثبتها الأولون قائلين بأنها قديمة لا عين الذات ولا غيرها والآخرون نفوها تحرزا من تعدد القدماء فينبغي حمل كلام الإمام على نفي الكلام في كنه ذاته وصفاته أو على نفيه فيهما مطلقا بمجرد الدلالة العقلية ففيه رد على الحكماء وبعض الجهلة من المتصوفة القائلين بوحدة الوجود والإتحاد
তাহাবী আমাদের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর মামা আল-মুযানী শাফেয়ী মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত; তারা উভয়েই হারাম হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন এবং তাদের সমসাময়িক ইমামগণও এ ব্যাপারে তাদের সাথে একমত হয়েছেন। 'আল-কুনিয়া'র হাশিয়ায় আল্লামা মাওলানা সাইফ উদ্দিন আল-ফকীহ থেকে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি ভাঙ খাওয়ার অভ্যাস করবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে শাস্তি দেওয়া হবে। আর এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে নেশাগ্রস্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে এটি খায় এবং একে হালাল বলে দাবি করে।

আর তিন ইমাম যে সকল উত্তম আছার এবং সহীহ হাদীসের মাধ্যমে বিধানকে অর্থাৎ হারাম হওয়াকে নেশার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন—চাই পানীয়ের পরিমাণ কম হোক বা বেশি—সে সম্পর্কে মুহাদ্দিসকুলের শিরোমণি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আলোচনা করেছেন। আর বিতর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবে তার ব্যাখ্যা এই যে, নেশা বলতে প্রকৃতপক্ষে নেশা উদ্রেককারী বস্তুকে বোঝানো হয়েছে। আর এর সামান্য পরিমাণ পান করা থেকে নিষেধ করা কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে নেশা করা ও আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে পান করে, আনুগত্য ও তাকওয়ার কাজে উদ্দীপনার জন্য নয়; অথবা এই আশঙ্কায় যে সামান্য পরিমাণ পান করা তাকে অধিক পরিমাণের দিকে টেনে নিয়ে যাবে, যেমন সংরক্ষিত চারণভূমির চারপাশে বিচরণকারী মেষপালকের অবস্থা।

তাহাবী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুহাম্মাদের মতে যে বস্তুর অধিক পরিমাণ নেশা উদ্রেক করে তার সামান্য পরিমাণও হারাম। তবে মাশায়েখগণের ফতোয়া ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম আবু ইউসুফের মতের ওপর। এতদসত্ত্বেও 'ফাতাওয়া কাজী খান'-এ বর্ণিত আছে যে, ইমাম আবু হাফস আল-কাবীরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি পান করা হালাল নয়। তাকে বলা হলো: আপনি কি শায়খাইনের বিরোধিতা করলেন? তিনি বললেন: না, কারণ তারা তাকওয়ার জন্য 'আসমার' হালাল মনে করতেন, অথচ আমাদের সময়ের মানুষ তা পাপাচার ও আমোদ-প্রমোদের জন্য পান করে। আর আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে তা পান করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।

অতঃপর তাঁর উক্তি "কবীর গুনাহর কারণে কাফের না বলা" এর মাধ্যমে খাওয়ারেজদের প্রতিবাদ করা হয়েছে। আর তাঁর উক্তি "আল্লাহর ব্যাপারে কোনো কথা না বলা" বলতে আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে কথা না বলা বোঝানো হয়েছে; কারদারী এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তবে এতে আলোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ ইমাম গুণাবলী সম্পর্কে 'আল-ফিকহুল আকবার' এবং অন্যান্য গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। এ মাসআলাটি আহলে সুন্নাত এবং মুতাযিলাদের মধ্যে বিরোধপূর্ণ, যেখানে প্রথমোক্তরা গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে এগুলো অনাদি, আল্লাহর সত্তার হুবহু অংশ নয় আবার সত্তা বহির্ভূত কিছুও নয়। আর শেষোক্তরা অনাদি সত্তার সংখ্যাধিক্য থেকে বাঁচার জন্য সেগুলো অস্বীকার করেছে। সুতরাং ইমামের বক্তব্যকে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে কথা বলা নিষেধ করার ওপর প্রয়োগ করা উচিত, অথবা কেবল যুক্তির নিরিখে এই উভয় বিষয়ে কথা বলাকে নিঃশর্তভাবে নিষেধ করার ওপর প্রয়োগ করা উচিত। এতে দার্শনিক এবং সুফিদের মধ্য থেকে কিছু মূর্খ ব্যক্তি যারা ওয়াহদাতুল উজুদ এবং ইত্তিহাদে বিশ্বাসী, তাদের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭২)
والحلول وسائر مقالات أهل الفساد واليه رؤوف بالعباد

وروى الإمام أبو حامد محمد بن أبي الربيع المازني والشيخ الإمام النسفي بإسنادهما إلى أبي مقاتل السمرقندي أن الإمام قال فى = كتاب العالم والمتعلم العمل تبع للعلم والعمل القليل بالعلم خير من العمل الكثير بالجهل كما أن الزاد القليل الذى لا بد منه في المفازة مع الهداية أفضل من الزاد الكثير مع الجهالة قال الله تعالى {قل هل يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون} وقد صرح الإمام في ذلك الكتاب بأكثر قواعد أهل السنة فهو بريئ من كونه معتزليا أو مرجيا أو جبريا كما توهم بعضهم إذ أسندوا مذهبهم إليه ترويجا بما شاهدوا من الفضل لديه واعتماد أكثر المسلمين في باب الإعتقاد والأعمال عليه فله ولأصاحبه الحنفية مشاركة في الملة الحنفية حيث ادعى كل أرباب ملة أن الخليل منهم وقد نفى الله عنهم بقوله {ما كان إبراهيم يهوديا ولا نصرانيا ولكن كان حنيفا مسلما وما كان من المشركين} والحمد لله رب العالمين

هذا وكان الإمام إذا وردت مسئلة فيها حديث صحيح تبعه ولو عن الصحابة والتابعين وإلا قاس فأحسن القياس روى أنه وضع ستين ألف مسئلة وقيل وضع خمسة مائة ألف مسئلة وذكر الخطيب الخوارزمي أنه وضع ثلاثة آلاف وثمانين ألف مسئلة منها ثمانية وثلاثون ألفا في العبادة والباقي في المعاملات لولا هذا لبقي الناس في نية الضلالة وبيداء الجهالة

وذكر أبو المعالي الحلبي عن الحسن بن زياد عنه أنه قال قولنا هذا رأى حسن وهو أحسن ما قدرنا عليه فمن جاء بأحسن مما قلنا فهو أولى بالصواب منا

وذكر الديلمي عن زهير بن معاوية قال كنت عنده والأزهر بن الأغريقائه إذا صاح رجل وقال أول من قاس إبليس فقال الإمام يا هذا
এবং অবতারবাদ ও ফাসাদপন্থীদের অন্যান্য সমস্ত মতামত; আর তিনি বান্দাদের প্রতি অতিশয় দয়ালু।

ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবন আবি আল-রাবি আল-মাজিনী এবং শাইখ ইমাম নাসাফী তাদের সনদের মাধ্যমে আবু মুকাতিল আল-সামারকান্দি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম 'কিতাব আল-আলিম ওয়াল-মুতায়াল্লিম'-এ বলেছেন— আমল হলো ইলমের অনুসারী। ইলমের সাথে অল্প আমল মূর্খতার সাথে অধিক আমলের চেয়ে উত্তম, যেমন সঠিক পথের দিশা থাকা অবস্থায় মরুভূমিতে প্রয়োজনীয় সামান্য পাথেয় মূর্খতার সাথে অধিক পাথেয় অপেক্ষা উত্তম। মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?} ইমাম সেই কিতাবে আহলে সুন্নাহর অধিকাংশ মূলনীতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তাই তিনি মুতাজিলা, মুরজিয়া বা জাবরিয়া হওয়া থেকে মুক্ত, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করেছেন যখন তারা তাদের কাছে বিদ্যমান শ্রেষ্ঠত্ব প্রত্যক্ষ করে এবং আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মুসলিম তাঁর ওপর নির্ভরশীলতা দেখে তাদের নিজেদের মাজহাবকে প্রচার করার উদ্দেশ্যে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে। তাঁর এবং তাঁর হানাফী অনুসারীদের হানিফী মিল্লাতে অংশীদারিত্ব রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী দাবি করেছিল যে খলীল (ইব্রাহিম আ.) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাদের থেকে এটি অস্বীকার করে তাঁর বাণীর মাধ্যমে বলেছেন: {ইব্রাহিম ইহুদিও ছিলেন না, খ্রিস্টানও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না}। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ঘটনা হলো, ইমামের নিকট যখন কোনো মাসয়ালা আসত যাতে সহিহ হাদিস বিদ্যমান থাকত, তখন তিনি সেটিই অনুসরণ করতেন, চাই তা সাহাবী বা তাবিঈদের থেকে বর্ণিত হোক না কেন; অন্যথায় তিনি কিয়াস করতেন এবং অত্যন্ত নিপুণ কিয়াস করতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি ষাট হাজার মাসয়ালা সংকলন করেছেন এবং বলা হয় যে পাঁচ লক্ষ মাসয়ালা সংকলন করেছেন। খতিব আল-খাওয়ারিজমি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ত্রিশ লক্ষ আশি হাজার মাসয়ালা সংকলন করেছেন, যার মধ্যে আটত্রিশ হাজার ইবাদত সংক্রান্ত এবং বাকিগুলো লেনদেন সংক্রান্ত। এটি না হলে মানুষ গোমরাহির সংকল্প ও মূর্খতার মরুভূমিতে নিমজ্জিত থাকত।

আবু আল-মাআলি আল-হালাবি হাসান ইবনে জিয়াদ থেকে এবং তিনি ইমাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম বলেছেন: আমাদের এই বক্তব্য একটি উত্তম রায় এবং এটিই আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোত্তম। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের বলা কথার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে আসবে, সে আমাদের চেয়ে সত্যের অধিক নিকটবর্তী হবে।

দাইলামি জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাঁর এবং আল-আযহার ইবনুল আগরিকায়ার কাছে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলল: সর্বপ্রথম যে কিয়াস করেছিল সে তো ইবলিস। ইমাম বললেন: হে লোক...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭৩)
وضعت الكلام فى غير موضعه قاس اللعين لرد أمر الله حيث قال تعالى {وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس قال أأسجد لمن خلقت طينا} ونحن من مسئلة إلى أخرى لنردها إلى أصل من أصول الكتاب أو السنة أو اتفاق أمة فنجتهد وندور حول الاتباع فأين هذا من ذاك فصاح الرجل وقال تبت من مقالتي إلى ربي نورت الله قلبك كما نورت قلبي

وعن علي بن هشام قال اخبرنا أبو حنيفة قال حدثنا الشعبي أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كتب إلى أبي موسى الأشعري وهوعامل بالبصرة إن قس الشيئ بالشيئ واضرب الأمثال يتبين لك الحق

وعن الحسن بن زياد أنه كان يقول ليس لأحد أن يقول برأيه مع نص عن كتاب الله أو سنة عن رسول الله أو إجماع عن الأمة وإذا اختلف الصحابة على أقوال نختار منها ما هو أقرب الى الكتاب أو السنه ونحبتنب عما جاوز ذلك فالاجتهاد موسع على الفقهاء لمن عرف الاختلاف وقاس فاحسن القياس وعلى هذا كانوا

وروى عنه ما جاء عن الله ورسوله لا نتجاوز عنه وما اختلف فيه الصحابة أخترناه وما جاء عن غيرهم أخذنا وتركنا

وروى أنه كان كثيرا يقرأ هذه الآية فى خلال كلامه {فبشر عباد الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه} وفيه دليل على أنه لم يبدع لفظ الاستحسان فانه موجود فى الكتاب وكذا في السنة فقد ورد ما رآه المسلمون حسنا فهو عند الله حسن

وعن أبي يوسف أنه كان إذا وردت حادثة قال الإمام هل عندكم أثر فإن كان عنده أو عندنا أثر أخذ به وإن اختلف الآثار أخذ بالأكثر وإلا أخذ بالقياس
আপনি কথাকে তার সঠিক ক্ষেত্র হতে বিচ্যুত করেছেন। সেই অভিশপ্ত ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ প্রত্যাখ্যান করার জন্য কিয়াস করেছিল, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের সামনে সেজদা করো, তখন তারা সবাই সেজদা করল ইবলিস ছাড়া। সে বলল, আমি কি তাকে সেজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?} আর আমরা এক মাসআলা হতে অন্য মাসআলার দিকে অগ্রসর হই যাতে সেটিকে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ অথবা উম্মতের ঐকমত্যের (ইজমা) কোনো মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে দিতে পারি। আমরা ইজতিহাদ করি এবং অনুসরণের (ইত্তিবা) চারপাশেই আবর্তিত হই। সুতরাং সেটির সাথে এটির তুলনা কোথায়? তখন সেই ব্যক্তি চিৎকার করে উঠল এবং বলল, আমি আমার বক্তব্য থেকে আমার রবের কাছে তওবা করছি। আল্লাহ আপনার অন্তরকে আলোকিত করুন যেমন আপনি আমার অন্তরকে আলোকিত করেছেন।

আলী বিন হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হানিফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, শাবি আমাদের জানিয়েছেন যে, উমর বিন খাত্তাব (রা.) যখন আবু মুসা আল-াশআরিকে বসরা’র গভর্নর হিসেবে পত্র লিখেছিলেন, তখন বলেছিলেন: "এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে তুলনা করো এবং উদাহরণ পেশ করো, তবেই তোমার কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে।"

হাসান বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: আল্লাহর কিতাবের কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (নাস), রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ অথবা উম্মতের ঐকমত্যের উপস্থিতিতে কারও জন্য নিজের ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করার সুযোগ নেই। আর যখন সাহাবীগণ বিভিন্ন মতে বিভক্ত হন, তখন আমরা তাদের মধ্য থেকে সেটিই গ্রহণ করি যা কিতাব ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী এবং যা তা লঙ্ঘন করে তা পরিহার করি। সুতরাং ইজতিহাদ সেই সকল ফকিহদের জন্য প্রশস্ত যারা মতভেদ সম্পর্কে অবগত এবং যথাযথভাবে কিয়াস করতে সক্ষম; আর তারা এই পদ্ধতির উপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে আমরা তা অতিক্রম করি না। আর যাতে সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন তা থেকে আমরা (পছন্দমতো) বেছে নেই। আর যা অন্যদের থেকে এসেছে তা আমরা গ্রহণও করি আবার বর্জনও করি।

বর্ণিত আছে যে, তিনি প্রায়ই তাঁর আলোচনার মাঝে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন: {অতএব আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে।} এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি 'ইসতিহসান' শব্দটি উদ্ভাবন করেননি, কারণ এটি কিতাবে বিদ্যমান। অনুরূপভাবে সুন্নাহতেও রয়েছে; কেননা বর্ণিত আছে: "মুসলমানরা যাকে উত্তম মনে করে, আল্লাহর কাছেও তা উত্তম।"

আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত যে, যখনই কোনো নতুন সমস্যার উদ্ভব হতো, ইমাম বলতেন: "তোমাদের কাছে কি কোনো বর্ণনা (আসার) আছে?" যদি তাঁর কাছে বা আমাদের কাছে কোনো বর্ণনা থাকত তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন। আর যদি বর্ণনাগুলোর মধ্যে মতভেদ হতো তবে তিনি সংখ্যাধিক্যের মত গ্রহণ করতেন। অন্যথায় তিনি কিয়াসের আশ্রয় নিতেন।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭৪)
وإن تعسر القياس فتركه إلى الاستحسان

وعن محمد بن سماعة أن الإمام ذكر في تصانيفه نيفا وسبعين ألف حديث وانتخب الآثار من أربعين ألف حديث والمسائل التي رجع عنها من القيام إلى الأثر كثيرة لشدة اتباعه منها كان يقسم الدية على منافع الأئمة ويوجب الأرش في الإبهام أكثر مما يوجبة في سائر الأصابع فلما بلغه قول عليه السلام الأصابع كلها سواء رجع عن ذلك كالصديق كان يقول الدية في الأنف أكثر من الأذنين لأنه يستره العمامة والأنف مكشوف ففوات الزمان فيه أكثر فلما بلغه أنه عليه السلام أوجب في الأذنين الدية رجع عن ذلك

ومنها أن الإمام كان يقول اكثر الحيض خمسة عشر يوما فلما بلغه عن أنس أنه عليه السلام قال الحيض ثلاثة أيام إلى العشرة والزايد استحاضة رجع عن ذلك ومنها ما ذكره خلف الأحمر أن الإمام كان لا يصلى قبل العيد ولا بعده ثم رأيته يصلي بعد العيد فسألته عن ذلك فقال بلغني عن علي رضي الله عنه أنه كان يصلي بعده أربعا فاقتديت به انتهى ولعله كان يصلى فى بيته كما رواه ابن ماجه أنه كان عليه السلام يصلي بعده في بيته ركعتين

فان قلت تعليم الحيل مذموم حتى قالوا أن المفتي الذي يعلم الناس الحيل هو الماجن الذي يستحق الحجر في جميع المذاهب قلت الحق فيه التفصيل قال تعالى {كذلك كدنا ليوسف} الآية وقال عز وجل لأيوب {وخذ بيدك ضغثا فاضرب به ولا تحنث} وكان حلف أن يجلد زوجته رحمة مائة جلدة فعلمه الله تعالى المخرج وقد صح أنه عليه السلام قال خذو عثكالا فيه مائة شمراخ فاضربوه به حين أتى يناقض الخلق وقدرني وصح أنه عليه السلام قال لعامل خيبر وكل تمر خيبر هكذا قال لا بعت منه صاعين بصاع فقال صلى الله عليه وسلم
যদি কিয়াস কঠিন হয়ে যায়, তবে তা ত্যাগ করে ইস্তিহসানের দিকে ধাবিত হওয়া।

মুহাম্মদ ইবনে সামাআহ থেকে বর্ণিত যে, ইমাম তাঁর সংকলনসমূহে সত্তর হাজারেরও অধিক হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং চল্লিশ হাজার হাদিস থেকে আসার (বর্ণনা) নির্বাচন করেছেন। সুদৃঢ় অনুসরণের কারণে কিয়াস বর্জন করে আসার বা হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন এমন মাসআলার সংখ্যা অনেক। তন্মধ্যে একটি হলো, তিনি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপযোগিতার ভিত্তিতে দিয়ত (রক্তপণ) বণ্টন করতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির ক্ষেত্রে অন্যান্য আঙুলের তুলনায় অধিক অর্শ (ক্ষতিপূরণ) ওয়াজিব মনে করতেন। অতঃপর যখন তাঁর নিকট নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী পৌঁছাল যে, "সবগুলো আঙুল সমান", তখন তিনি সেই মত থেকে ফিরে আসেন। সিদ্দিকের (সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তির) ন্যায় তিনি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর পূর্বের মত ত্যাগ করতেন। তিনি বলতেন, কানের তুলনায় নাকের দিয়ত বেশি হওয়া উচিত; কারণ পাগড়ি কানকে ঢেকে রাখে আর নাক অনাবৃত থাকে, ফলে সময়ের ব্যবধানে নাকের ক্ষেত্রে বাহ্যিক ক্ষতির প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। অতঃপর যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় কানের ক্ষেত্রেও পূর্ণ দিয়ত ধার্য করেছেন, তখন তিনি তা থেকে ফিরে আসেন।

তদ্রূপ ইমাম বলতেন যে মাসিকের সর্বোচ্চ সময়সীমা পনেরো দিন। কিন্তু যখন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস তাঁর নিকট পৌঁছাল যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মাসিক তিন দিন থেকে দশ দিন পর্যন্ত এবং এর অতিরিক্ত যা হয় তা হলো ইস্তিহাজা (রক্তপ্রদর)", তখন তিনি পূর্বের মত ত্যাগ করেন। খলফ আল-আহমার যা উল্লেখ করেছেন তা-ও এর অন্তর্ভুক্ত যে, ইমাম ঈদের আগে বা পরে সালাত আদায় করতেন না। অতঃপর আমি তাঁকে ঈদের পরে সালাত আদায় করতে দেখে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি ঈদের পর চার রাকাত সালাত আদায় করতেন, তাই আমি তাঁর অনুসরণ করেছি। সমাপ্ত। সম্ভবত তিনি এই সালাত নিজ ঘরে আদায় করতেন, যেমনটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।

যদি আপনি বলেন যে হিলা বা আইনি কৌশল শিক্ষা দেওয়া নিন্দনীয়, এমনকি আলিমগণ বলেছেন যে মুফতি মানুষকে হিলা শিক্ষা দেয় সে পাপাচারী এবং সমস্ত মাজহাব অনুযায়ী সে আইনি নিষেধাজ্ঞার যোগ্য; তবে আমি বলব এই ক্ষেত্রে সঠিক পথ হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, "এভাবেই আমি ইউসুফের জন্য কৌশল অবলম্বন করেছিলাম" (আয়াত)। মহান আল্লাহ আইয়ুব আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "তুমি তোমার হাতে এক মুষ্টি ঘাস নাও এবং তা দিয়ে আঘাত করো, আর শপথ ভঙ্গ করো না।" তিনি দয়াপরবশ হয়ে তাঁর স্ত্রীকে একশত বেত মারার শপথ করেছিলেন, তখন মহান আল্লাহ তাঁকে এই থেকে নিষ্কৃতির পথ শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত যে, যখন এক শারীরিক দুর্বল ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল, তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "একশটি কঞ্চিযুক্ত একটি খেজুরের ডাল নাও এবং তা দিয়ে তাকে একবার আঘাত করো।" তদ্রূপ এটিও সহিহভাবে প্রমাণিত যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের একজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন— খায়বরের সব খেজুর কি এমনই? সে বলল— না, আমি দুই সা'র বিনিময়ে এক সা' (উন্নত মানের) খেজুর বিক্রয় করি। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭৫)
أوه عن الربو هلا بعت صاعيك بدرهم ثم ابتعت به تمرا فدل أن الحيلة للتوصل إلى الحق أو للتخلص عن المضرة جائزة وإنما الحرام ما يتوصل به إلى الباطل وإبطال الحق بعد الثبوت والمفتي الماجن في القول المعتمد هو الذي يفتي بأمر باطل يؤدي إلى الخروج من الدين كما يعلم لامرأة الارتداد ليتخلص من الزوج وليس لها ذلك فأنها إن فعلت ذلك يسترقها زوجها وهذا على قولها بلا شبهة والمسئلة معروفة

وقد ذكر عبد المجيد الخوارزمي عن محمد بن مقاتل أن رجلا جاء وقال للإمام ما تقول فيمن لا يرجو الجنة ولا يخاف النار ولا يخاف الله ويأكل الميتة ويصلي بلا ركوع ولا سجود ويشهد بما لم يره ويبغظ الحق ويحب الفتنة فقال أصحابه أمر هذا الرجل مشكل فقال الإمام هذا رجل يرجو الله تعالى لاالجنة ويخاف الله تعالى لا النار ولا يخاف الظلم عليه من الله في عدله ويأكل السمك والجراد ويصلي على الجنائز ويشهد بالتوحيد ويبغض الموت وهو حق ويحب المال والولد وهما فتنة فقام السائل وقبل رأسه وقال أشهد أنك وعاء للعلم

وذكر العلامة حسام الملة السغناقي أن رجلا جاء إليه وقال بواو أم بواوين فقال بواوين فقال بارك الله فيك كما بورك في لا ولا فلم يعلم الحاضرون ما قالا فقال الحاضرون ما هذا الكلام فقال سألني عن التشهد بواو أم بواوين فقلت بهما فقال بارك الله فيك كما بورك في شجرة لا شرقية ولا غربية

وذكر الديلمي عن علي بن عثام قال لما فر الإمام إلى المدينة وكان فيها حسين بن زيد العلوي واليا من جهة بني العباس فقال لغلامه خذ بلجام دابة الشيخ وقل له من خير الناس بعد النبي عليه السلام فقال العباس فسكت وكان غرض
সুদ থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে—তুমি কি তোমার দুই সা’ এক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে পরে তা দিয়ে খেজুর ক্রয় করতে পারো না? এটি প্রমাণ করে যে, সত্যে পৌঁছানোর জন্য অথবা ক্ষতি থেকে নিষ্কৃতির জন্য কৌশল (হিলা) অবলম্বন করা বৈধ। প্রকৃতপক্ষে হারাম হলো তা-ই, যার মাধ্যমে বাতিলের পথে চলা হয় এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে নস্যাৎ করা হয়। নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী পাপাচারী বা নির্লজ্জ মুফতি সেই ব্যক্তি, যে এমন বাতিল বিষয়ে ফতোয়া দেয় যা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়ার দিকে নিয়ে যায়। যেমন সে কোনো নারীকে তার স্বামী থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ধর্মত্যাগের (মুরতাদ হওয়ার) কৌশল শিক্ষা দেয়, অথচ মহিলার জন্য এমনটি করা বৈধ নয়। যদি সে এমনটি করে, তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী কোনো সংশয় ছাড়াই সে তার স্বামীর দাসীতে পরিণত হবে এবং এই মাসআলাটি সুপরিচিত।

আবদুল মাজিদ আল-খোয়ারিজমি মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি ইমামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে জান্নাতের আশা করে না, জাহান্নামকে ভয় পায় না এবং আল্লাহকে (অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে জুলুমকে) ভয় পায় না? সে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করে, রুকু ও সেজদা ছাড়াই সালাত আদায় করে, যা সে দেখেনি এমন বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়, সত্যকে ঘৃণা করে এবং ফিতনাকে ভালোবাসে?’ ইমামের সঙ্গীরা বললেন, ‘এই লোকটির বিষয় তো অত্যন্ত জটিল!’ তখন ইমাম বললেন, ‘এ এমন এক ব্যক্তি যে জান্নাতের নয় বরং আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা রাখে; জাহান্নামের নয় বরং আল্লাহ তাআলার আজাবকে ভয় পায়; এবং আল্লাহর ইনসাফের ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে নিজের ওপর কোনো জুলুমের ভয় পায় না। সে মাছ ও পঙ্গপাল (যা মৃত হলেও হালাল) ভক্ষণ করে, জানাজার সালাত (যাতে রুকু-সেজদা নেই) আদায় করে, আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয় যা সে সরাসরি দেখেনি, মৃত্যুকে ঘৃণা করে যা এক অনিবার্য সত্য, এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে ভালোবাসে যা পরীক্ষার বস্তু (ফিতনা)।’ তখন প্রশ্নকারী দাঁড়িয়ে ইমামের মস্তক চুম্বন করল এবং বলল, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি জ্ঞানের আধার।’

আল্লামা হুসামুল মিল্লাহ আস-সুগ নাকি উল্লেখ করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘একটি ‘ওয়াও’ দিয়ে নাকি দুটি ‘ওয়াও’ দিয়ে?’ তিনি বললেন, ‘দুটি ‘ওয়াও’ দিয়ে।’ সে বলল, ‘আল্লাহ আপনাকে তেমনি বরকত দান করুন যেমন বরকত দান করা হয়েছে ‘না’ এবং ‘না’-তে।’ উপস্থিত ব্যক্তিরা তাদের কথোপকথন বুঝতে পারলেন না। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এসব কী কথা?’ তিনি বললেন, ‘সে আমাকে তাশাহহুদের মধ্যে ‘ওয়াও’ একটি হবে নাকি দুটি—সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। আমি বললাম দুটিই হবে (অর্থাৎ ‘আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিউ’ এবং ‘আস-সালামু আলাইনা’ উভয়টির আগে)। তখন সে বলল, আল্লাহ আপনাকে তেমনি বরকত দান করুন যেমন বরকত দান করা হয়েছে সেই বৃক্ষে যা প্রাচ্যেরও নয় এবং প্রতীচ্যেরও নয় (লা শারকিয়্যাতিউ ওয়া লা গারবিয়্যাতিহি)।’

আদ-দাইলামি আলী ইবনে উসাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন ইমাম মদিনায় আশ্রয় নিলেন এবং সেখানে আব্বাসীয়দের পক্ষ থেকে হুসাইন ইবনে জায়েদ আল-আলাভি গভর্নর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তখন গভর্নর তাঁর গোলামকে বললেন, ‘শাইখের বাহনের লাগাম ধরো এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আব্বাস।’ অতঃপর তিনি চুপ হয়ে গেলেন। আর তাঁর উদ্দেশ্য ছিল...
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭৬)
العلوي أنه إذا قال الصديق آذاه وإذا قال المرتضى لامه في ترك مذهبه فلما اختار الثالث لم يتمالك أن يقول شيئا خوفا من بني العباس انتهى وكان الإمام قصد به الخيرية من الحيثية النسبية وقد ورد أن في المعاريض لمندوحة عن الكذب وثبت أن الحرب خدعة

وذكر الإمام الحلبي عن علي بن عاصم قال كان الإمام يأخذ من لحيته الحجام فقال له اتبع مواضع البياض فقال لا تفعل لأنه يزيد فقال اتبع مواضع السواد لعله يزيد فبلغ الحكاية إلى شريك فقال لو ترك القياس فى شيئ لتركه مع الحجام

وذكر الكرماني عن محمد بن سلمة والصيمري عن فضل بن غانم قالا مرض أبو يوسف فعاده الإمام مرارا فرآه في بعض الأيام ثقيلا فقال لقد كنت اؤملك بعدي للمسلمين ولئن أصبت ليموتن علم كثير فلما برأ أعجب بنفسه وعقد مجلس الأمالي في مسجده فلما بلغ ذلك الإمام دس إليه رجلا وقال له قل له ما تقول في قصار أنكر أن يكون الثوب لصاحبه ثم جاء به إلى المالك مقصورا وطلب الأجران قال يجب الأجر قل أخطأت وإن قال لا يجب قل أخطأت ففعل الرجل ذلك فقام أبو يوسف من ساعته وراح إلى خدمته فقال ما جاء بك إلا مسئلة القصار سبحان الله من رجل يتكلم في دين الله ويعقد مجلسا ولا يحسن مسئلة من مسائل الإجارة فقال علمني قال إن قصره قبل الجحود يجب الأجر لأنه صنعه للمالك وإن قصره بعده لا يجب لأنه صنعه لنفسه ثم قال من ظن أنه يستغني عن التعلم فليبكي على نفسه

وذكر المرغيناني أن شيطان الطاق وهو شيخ للرافضة كان يتعرض للإمام كثيرا فدخل الشيطان يوما في الحمام وكان فيه الإمام وكان قريب العهد بموت
আলাউয়ী বর্ণনা করেন যে, তিনি যদি 'সিদ্দিক' বলতেন তবে তারা তাকে কষ্ট দিত, আর যদি 'মুরতাজা' বলতেন তবে তারা তার মাযহাব ত্যাগের কারণে তাকে তিরস্কার করত। ফলে যখন তিনি তৃতীয়টি বেছে নিলেন, তখন বনু আব্বাসের ভয়ে কিছু না বলে থাকতে পারলেন না। ইমাম এর দ্বারা বংশীয় মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিয়েছিলেন। বর্ণিত আছে যে, দ্ব্যর্থবোধক কথায় মিথ্যার হাত থেকে বাঁচার সুযোগ থাকে এবং এটি প্রমাণিত যে যুদ্ধ হলো কৌশল।

ইমাম হালাবী আলী ইবনে আসিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: জনৈক নাপিত ইমামের দাড়ি কাটছিল। নাপিত তাকে বলল, 'সাদা দাড়িগুলো উপড়ে ফেলুন'। তিনি বললেন, 'তা করো না, কারণ এতে এটি বৃদ্ধি পায়'। নাপিত তখন বলল, 'তবে কালো দাড়িগুলো উপড়ে ফেলুন, হতে পারে তাও বৃদ্ধি পাবে'। এ ঘটনা শারীকের কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, 'তিনি যদি কোনো বিষয়ে কিয়াস পরিহার করতেন, তবে নাপিতের সাথেই পরিহার করতেন'।

কিরমানী মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে এবং সাইমারী ফজল ইবনে গানিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেন: আবু ইউসুফ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইমাম বারবার তাকে দেখতে যান। একদিন তাকে খুব অসুস্থ দেখে তিনি বললেন, 'আমার পরে আমি মুসলমানদের জন্য তোমার ব্যাপারে আশা পোষণ করতাম; যদি তোমার মৃত্যু হয়, তবে অনেক ইলম বিলুপ্ত হয়ে যাবে'। যখন তিনি সুস্থ হলেন, তখন তিনি আত্মতুষ্ট হয়ে পড়লেন এবং নিজের মসজিদে 'আমালী' (ইলমি আলোচনা) মজলিস শুরু করলেন। এ খবর ইমামের কাছে পৌঁছলে তিনি জনৈক ব্যক্তিকে তার কাছে পাঠিয়ে বললেন: তাকে গিয়ে বল, তুমি সেই ধোপার ব্যাপারে কী বল, যে কাপড়টি তার মালিকের বলে অস্বীকার করল, তারপর তা ধুয়ে মালিকের কাছে নিয়ে এল এবং মজুরি দাবি করল? যদি সে বলে মজুরি দিতে হবে, তবে বল তুমি ভুল করেছ। আর যদি বলে দিতে হবে না, তবে বল তুমি ভুল করেছ। লোকটি তাই করল। আবু ইউসুফ তৎক্ষণাৎ উঠে তার খিদমতে হাজির হলেন। ইমাম বললেন, 'ধোপার মাসআলা ছাড়া অন্য কিছু তোমাকে এখানে নিয়ে আসেনি। সুবহানাল্লাহ! এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর দ্বীন নিয়ে কথা বলে এবং মজলিস বসায়, অথচ ইজারা (ভাড়া বা পারিশ্রমিক) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের একটি মাসআলাও ভালো করে জানে না!' তিনি বললেন, 'আমাকে শিখিয়ে দিন'। তিনি বললেন, 'যদি সে অস্বীকার করার আগে কাপড়টি ধুয়ে থাকে, তবে মজুরি ওয়াজিব হবে, কারণ সে মালিকের জন্যই কাজটি করেছে। আর যদি অস্বীকার করার পর ধুয়ে থাকে, তবে মজুরি ওয়াজিব হবে না, কারণ সে তা নিজের জন্য করেছে'। এরপর তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি মনে করে যে তার আর শেখার প্রয়োজন নেই, তার উচিত নিজের অবস্থার জন্য ক্রন্দন করা'।

মারগিনানী বর্ণনা করেন যে, শয়তানুত তাক—যে রাফেজীদের একজন শাইখ ছিল—সে প্রায়ই ইমামের বিরোধিতা করত। একদিন সেই শয়তান গোসলখানায় প্রবেশ করল, যেখানে ইমামও উপস্থিত ছিলেন। সেটি ছিল মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ের ঘটনা।
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭৭)
أستاذه حماد فقال الشيطان مات أستاذكم حماد فاسترحنا منه فقال الإمام أستاذنا مات وأستاذكم من المنظرين إلى يوم الوقت المعلوم فتحير الرافضي وكشف عورته فغمض الإمام بصره فقال الشيطان يا نعمان منذكم أعمى الله بصرك فقال مذهتك الله سترك فبادر الإمام إلى الخروج من الحمام وأنشأ يقول شعر … أقول وفي قولي بلاغ وحكمة … وما قلت قولا جئت فيه بمنكر

ألا يا عباد الله خافوا إلهكم … ولا تدخلوا الحمام إلا بميزر …

وروى عنه أنه قال كنا لا ننصرف من عند حماد إلا بفائدة فقال لنا يوما إذا وردت عليكم مسئلة معضلة فاجعلوها سوالا على صاحبها فوعيته فبعد مدة ذهبت إلى دار المنصور فخرج إلي ربيع الحاجب وكان يعاديني فقال أن أمير المؤمنين يأمرنا بقتل رجل ولا ندري ما هو أنقتله قلت يا أبا العباس أن أمير المؤمنين يأمر بالحق أو الباطل قال بل بالحق قلت أنفذ الحق حيث كان قال وكان الربيع أراد أن يوثقني فربطته

وروى أن امرأة كانت مجنونة لها لقب إذا دعيت بذلك شتمت فدعاها رجل به فقذفت أبويه وهما حيان فرفعت إلى ابن أبي ليلى فأقام عليها حدين قائمة في المسجد في مجلس واحد فقال الإمام المجنونة لا تحد والخصم أبواه وهما فى الأحياء ولا تحد إلا بطلبهما ولا يوالي بين الحدين حتى يجف الأول ولا يقام الحدان لو قذف جماعة بكلمة ولا تقام الحدود في المساجد ولا تحد قائمة ولا تمد فى الحدود

وعن خارجة قال دعاه المنصور وعنده ابن أبي ليلى قاضي الكوفة وابن شبرمة قاضي بغداد فقال ما قولك فى الخوارج إذا صابوا من مال المسلمين
তার উস্তাদ হাম্মাদ। শয়তান বলল, "তোমাদের উস্তাদ হাম্মাদ মারা গেছেন, তাই আমরা তার হাত থেকে রেহাই পেয়েছি।" তখন ইমাম বললেন, "আমাদের উস্তাদ তো মারা গেছেন, কিন্তু তোমাদের উস্তাদ (ইবলিস) সেই সুনির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।" এতে সেই রাফেযী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল এবং তার লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করে দিল। ইমাম তখন তার দৃষ্টি অবনত করলেন। শয়তান বলল, "হে নুমান! কতদিন হলো আল্লাহ তোমার দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন?" তিনি বললেন, "যেদিন থেকে আল্লাহ তোমার আবরণ উন্মোচন করেছেন।" এরপর ইমাম দ্রুত গোসলখানা থেকে বেরিয়ে এলেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করলেন … আমি বলছি এবং আমার কথায় রয়েছে স্পষ্ট বার্তা ও প্রজ্ঞা … আর আমি এমন কোনো কথা বলিনি যা অন্যায্য।

ওহে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা তোমাদের ইলাহকে ভয় করো … এবং নিম্নাংশের পোশাক (লুঙ্গি) ছাড়া গোসলখানায় প্রবেশ করো না …

তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "আমরা হাম্মাদের নিকট থেকে কোনো না কোনো শিক্ষা বা উপকার লাভ করা ছাড়া ফিরতাম না।" একদিন তিনি আমাদের বললেন, "যখন তোমাদের নিকট কোনো জটিল মাসআলা উপস্থিত হবে, তখন তোমরা তা প্রশ্নকারীর ওপরই সোপর্দ করে দিও।" আমি বিষয়টি হৃদয়ে গেঁথে নিলাম। কিছুকাল পর আমি মনসুরের প্রাসাদে গেলাম। তখন রবী' হাজিব আমার নিকট এল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত। সে বলল, "আমীরুল মুমিনীন আমাদের এক ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন অথচ আমরা জানি না বিষয়টি কী; আমরা কি তাকে হত্যা করব?" আমি বললাম, "হে আবুল আব্বাস! আমীরুল মুমিনীন কি ন্যায়ের আদেশ দেন না কি অন্যায়ের?" সে বলল, "অবশ্যই ন্যায়ের।" আমি বললাম, "ন্যায় যেখানেই হোক তা কার্যকর করুন।" ইমাম বললেন, "রবী' আমাকে কৌশলে আটকাতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকেই পেঁচিয়ে ধরলাম।"

বর্ণিত আছে যে, এক উন্মাদ নারী ছিল যার একটি উপাধি ছিল; যদি তাকে সেই নামে ডাকা হতো তবে সে গালি দিত। এক ব্যক্তি তাকে সেই নামে ডাকল, ফলে সে ওই ব্যক্তির জীবিত পিতা-মাতাকে অপবাদ দিল। বিষয়টি ইবনে আবি লায়লার নিকট উত্থাপিত হলে তিনি মসজিদের ভেতর এক মজলিসেই দাঁড়ানো অবস্থায় তার ওপর দু'টি হদ (দণ্ড) কার্যকর করলেন। তখন ইমাম বললেন, "পাগল ব্যক্তির ওপর হদ কার্যকর হয় না। আর বিবাদী হলো তার পিতা-মাতা যারা জীবিত, তাই তাদের দাবি ছাড়া হদ কার্যকর হবে না। আবার প্রথম হদের ক্ষত শুকানোর আগে দ্বিতীয় হদ কার্যকর করা যাবে না। যদি এক বাক্যে একদল মানুষকে অপবাদ দেওয়া হয় তবে একাধিক হদ কার্যকর হয় না। আর মসজিদের ভেতরে হদ কায়েম করা যায় না, দাঁড়িয়ে হদ দেওয়া যায় না এবং হদ কার্যকরের সময় শরীর প্রসারিত বা টানটান করা হয় না।"

খারিজা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মনসুর তাঁকে ডেকে পাঠালেন, তখন তাঁর নিকট কুফার কাজী ইবনে আবি লায়লা এবং বাগদাদের কাজী ইবনে শুবরুমা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "খারেজীরা যদি মুসলমানদের সম্পদ হস্তগত করে ফেলে, তবে সে বিষয়ে আপনার অভিমত কী?"
(খণ্ড: ٢) মানাকিবুল ইমামিল আজম আবি হানিফা - ত বিজাইলিল জাওয়াহিরিল মুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭৮)
ودمائهم قال الإمام سل هذين فسألهما فقال أحدهما يواخذون وقال الآخر لا قال أخطئا جميعا قال لهذا دعوتك ما صوابه قال ما أصابوا بعد التجمع لا يضمنون وما أصابوا قبله ضمنوا ادعي الزهري فى هذه المسئلة إجماع الصحابة

وروى أن عاصما كان من شيوخه كان إذا أتاه ويستفتيه قال له أتيتنا صغيرا وأتيناك كبيرا

وعن بشر بن المفضل عنه أنه قال كانت لنا جارة ولها غلام أصاب منها دون الفرج فحبلت فجاءني أهلها فقالوا نخاف أن تلد وهي بكر فقلت هل لها أحد تثق به فقالوا عمتها قلت تهب الغلام منها ثم تزوجها منه فإذا أزال عذريتها ردت الغلام إليها فيبطل النكاح وهذه حيلة أيضاً ذكرها لمن يخاف أن لا يطلق المحللة بعد النكاح منه فتهب المرأة غلامها لمن تثق به أو تنكح بغلام رجل ثم تهب ذلك الغلام منها بعد الدخول بها فيفسد النكاح وإن أرادت قطع التحدث باعت الغلام من تاجر يروح به إلى أقصى المقام وينقطع التحدث

وعن يوسف بن خالد السمتى قال خرجنا معه إلى بستان إذ نحن بابن أبي ليلى راكبا على بغلته فسلم فسايرا فمرا على نسوان يغنين فلما سكتن قال الإمام أحسنتن فنظرا ابن أبي ليلى في قماطره فوجد قضية فيها شهادته فدعاه ليشهد في تلك القضية فلما شهد أسقط شهادته وقال قلت لمن كن يغنين أحسنتن قال متى قلت ذلك حين سكتن أم حين كن يغنين قال حين سكتن قال أردت بذلك أحسنتن بالسكوت فأمضى شهادته ثم قرأ الإمام {ولا يحيق المكر السيء إلا بأهله} فخاف ابن أبي ليلى من الإمام خوفا شديدا بعد ذلك المقام وكان إذا وقع له عويصة دس إلى الإمام رجلا يسأله عما هنالك وكان الإمام يعلم به وينشد

شعر
...এবং তাদের রক্ত। ইমাম বললেন: এই দুজনকে জিজ্ঞাসা করো। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন। তাদের একজন বলল: তাদের পাকড়াও করা হবে, এবং অন্যজন বলল: না। তিনি বললেন: তোমরা দুজনেই ভুল করেছ। তিনি বললেন: এই কারণেই আমি আপনাকে ডেকেছিলাম; সঠিক বিষয়টি কী? তিনি বললেন: তারা দলবদ্ধ হওয়ার পর যা ঘটিয়েছে তার জন্য তারা দায়ী হবে না, আর তার পূর্বে যা করেছে তার জন্য তারা দায়ী হবে। যুহরি এই মাসআলায় সাহাবীগণের ঐকমত্যের দাবি করেছেন।

আরও বর্ণিত আছে যে, আসিম তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট আসতেন এবং ফতোয়া জিজ্ঞাসা করতেন, তখন তিনি তাঁকে বলতেন: তুমি আমাদের নিকট ছোট অবস্থায় এসেছিলে আর আমরা তোমার নিকট আসছি বড় অবস্থায়।

বিশর ইবনুল মুফায্যাল থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমাদের এক প্রতিবেশী নারী ছিল যার একজন দাস ছিল। দাসটি তাকে যৌনাঙ্গ ব্যতীত অন্যভাবে স্পর্শ করে, ফলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তার পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসে বলল: আমরা আশঙ্কা করছি যে সে কুমারী থাকা অবস্থাতেই সন্তান প্রসব করবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তার কি এমন কোনো বিশ্বস্ত লোক আছে? তারা বলল: তার ফুফু। আমি বললাম: সে দাসটিকে তার ফুফুকে দান করে দেবে, অতঃপর ফুফু তাকে সেই দাসের সাথে বিয়ে দেবে। যখন দাসটি তার কুমারীত্ব হরণ করবে, তখন ফুফু দাসটিকে পুনরায় তার কাছে ফিরিয়ে দেবে, ফলে বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে। এটি এমন একটি কৌশল যা তিনি তাদের জন্যও উল্লেখ করেছেন যারা আশঙ্কা করে যে বিয়ের পর 'মুহাল্লিল' (হালালাকারী) তাকে তালাক দেবে না। সেক্ষেত্রে নারী তার দাসকে কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে দান করবে অথবা কোনো ব্যক্তির দাসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে, অতঃপর তার সাথে মিলনের পর সেই দাসকে নিজের অধিকারে নিয়ে নেবে (দান হিসেবে গ্রহণ করবে), ফলে বিবাহ নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি সে লোকমুখে চর্চা বন্ধ করতে চায়, তবে সে দাসটিকে এমন এক বণিকের কাছে বিক্রি করে দেবে যে তাকে দূরতম কোনো স্থানে নিয়ে যাবে এবং আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।

ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা তাঁর সাথে একটি বাগানের দিকে বের হলাম। এমতাবস্থায় আমরা ইবনে আবি লায়লাকে তাঁর খচ্চরের ওপর আরোহী অবস্থায় দেখতে পেলাম। তিনি সালাম দিলেন এবং তারা একত্রে চলতে লাগলেন। তাঁরা গান গায় এমন কিছু নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। যখন তারা চুপ হলো, তখন ইমাম বললেন: তোমরা উত্তম কাজ করেছ। ইবনে আবি লায়লা তাঁর নথিপত্রের থলিতে লক্ষ্য করলেন এবং এমন একটি মামলা পেলেন যাতে ইমামের সাক্ষ্য ছিল। ফলে তিনি ইমামকে সেই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকলেন। যখন ইমাম সাক্ষ্য দিলেন, তখন তিনি তাঁর সাক্ষ্য বাতিল করে দিলেন এবং বললেন: আপনি কি সেই গান গায়িকাদের বলেননি যে 'তোমরা উত্তম কাজ করেছ'? ইমাম বললেন: আমি এটি কখন বলেছি? যখন তারা চুপ হয়েছিল তখন, নাকি যখন তারা গান গাইছিল তখন? তিনি বললেন: যখন তারা চুপ হয়েছিল। ইমাম বললেন: আমি এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছি যে, চুপ থেকে তোমরা উত্তম কাজ করেছ। তখন তিনি তাঁর সাক্ষ্য কার্যকর করলেন। এরপর ইমাম তিলাওয়াত করলেন: "মন্দ ষড়যন্ত্র কেবল ষড়যন্ত্রকারীকেই বেষ্টন করে"। এই ঘটনার পর ইবনে আবি লায়লা ইমামকে অত্যন্ত ভয় পেতে শুরু করেন। যখনই তাঁর কোনো কঠিন সমস্যা দেখা দিত, তিনি কোনো লোককে ইমামের কাছে পাঠাতেন বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। ইমাম বিষয়টি বুঝতে পারতেন এবং কবিতা আবৃত্তি করতেন:

কবিতা