(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: -)
مبحث الاجتهاد والخلاف (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث) القسم: أصول الفقه
الكتاب: مبحث الاجتهاد والخلاف (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
المحقق: عبد الرحمن بن محمد السدحان، عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: -
عدد الصفحات: 39
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও মতভেদ (الخلاف) বিষয়ক গবেষণা (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত, তৃতীয় খণ্ড) বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
গ্রন্থ: ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও মতভেদ (الخلاف) বিষয়ক গবেষণা (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত، তৃতীয় খণ্ড)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আস-সাদহান، আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরিন
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহাজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…مبحث الاجتهاد والخلاف
تأليف: الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد، فهذه رسالة في مبحث الاجتهاد والخلاف لشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى - وهي منقولة باختصار من كتاب أعلام الموقعين 1 لابن القيم رحمه الله وقد وجدنا بآخرها صفحة وربع الصفحة يبحث في العقيدة وما يتصل بذلك من صفات الله، ولا صلة له بموضوع الرسالة، فآثرنا تركه، ومن أحب الرجوع إليه فليرجع إلى الصورة التي نقلنا منها هذه الرسالة، وهي موجودة بالمكتبة السعودية بالرياض التابعة لرئاسة إدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد تحت رقم، 772 – 86. وقد كتب على الصفحة الأولى منها بخط الناسخ هذه العبارة: "هذه الرسالة تأليف الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي وهي مبحث الاجتهاد والخلاف". كما يوجد على هذه الصفحة بعض الحروف اللاتينية التي قد تدل القارئ الكريم إلى موضع النسخة لمن أراد الاطلاع على النسخة الأصلية.
وقد قمنا عند نقل وتصحيح هذه الرسالة بمقابلة هذه الصورة بكتاب "إعلام الموقعين" لابن القيم.
--------------------------------------------
ভূমিকা…ইজতিহাদ ও মতভেদ সংক্রান্ত আলোচনা
রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর, এটি শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর ইজতিহাদ ও মতভেদ সংক্রান্ত আলোচনার ওপর একটি পুস্তিকা। এটি ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আলামুল মুওয়াক্কিঈন ১ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপে সংকলিত হয়েছে। আমরা এর শেষে সোয়া এক পৃষ্ঠার মতো এমন কিছু আলোচনা পেয়েছি যা আকীদা এবং আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেহেতু এই আলোচনার সাথে পুস্তিকাটির মূল বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, তাই আমরা তা বাদ দেওয়াকে শ্রেয় মনে করেছি। কেউ যদি তা দেখতে চান, তবে তিনি সেই পাণ্ডুলিপির মূল কপির সাহায্য নিতে পারেন যেখান থেকে আমরা এটি সংগ্রহ করেছি। এটি রিয়াদের মাকতাবাতুস সাউদিয়া-তে সংরক্ষিত আছে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ পরিচালনা দপ্তরের অধীনে রয়েছে এবং এর নম্বর হলো ৭৭২ – ৮৬। এর প্রথম পৃষ্ঠায় লিপিকরের হস্তাক্ষরে এই বাক্যটি লিখা আছে: "এই পুস্তিকাটি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-নাজদির রচনা এবং এটি ইজতিহাদ ও মতভেদ সংক্রান্ত একটি আলোচনা।" একইভাবে এই পৃষ্ঠায় কিছু ল্যাটিন বর্ণমালাও রয়েছে যা আগ্রহী পাঠককে মূল পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।
আমরা এই পুস্তিকাটি সংকলন ও সংশোধনের সময় ইবনুল কাইয়্যিমের আলামুল মুওয়াক্কিঈন গ্রন্থের সাথে এই অনুলিপিটি মিলিয়ে দেখেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৪)
هذا ولا يفوتنا أن ننبه إلى أن الرسالة لها تتمة، يدل ذلك الكلمة المكتوبة في آخر الصفحة التي انتهينا إليها والتي تشير إلى بداية صفحة جديدة لم نجدها.
والله نسأل أن يرزقنا العلم النافع والعمل به، إنه جواد كريم، وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
عبد الرحمن بن محمد السدحان
عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির একটি অবশিষ্টাংশ রয়েছে। আমরা যে পৃষ্ঠায় সমাপ্ত করেছি তার শেষে লিখিত শব্দটি এরই প্রমাণ দেয়, যা একটি নতুন পৃষ্ঠার সূচনা নির্দেশ করে যা আমরা খুঁজে পাইনি।
আর আল্লাহর নিকট আমরা প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের উপকারী ইলম এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আস-সাদহান
আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-জিবরীন
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৫)
مبحث الاجتهاد والخلاف…بسم الله الرحمن الرحيم
قال ابن القيم في إعلام الموقعين ": إذا قال الصحابي قولا، فإما أن يخالفه صحابي آخر أو لا، فإن خالفه مثله لم يكن قول أحدهما حجة على الآخر، وإن خالفه أعلم منه كالخلفاء الراشدين أو بعضهم، فهل يكون الشق الذي فيه الخلفاء أو بعضهم حجة على الآخرين؟ فيه قولان للعلماء، هما روايتان عن أحمد، والصحيح أنه أرجح. فإن كان الأربعة في شق فلا شك أنه الصواب، وإن كان أكثرهم في شق فالصواب فيه أغلب، فإن كانوا اثنين واثنين فشق أبي بكر وعمر أقرب إلى الصواب، فإن اختلفا فالصواب مع أبي بكر. وهذه جملة لا يعرف تفصيلها إلا من له خبرة وإطلاع، ويكفي في ذلك معرفة رجحان قول الصديق في الجد والإخوة، وكون الطلاق بفم واحد مرة واحدة، وإن تلفظ فيه بالثلاث، وجواز بيع أمهات الأولاد. ولا يحفظ للصديق خلاف نص واحد أبدا، ولا فتوى ولا حكم مأخذهما ضعيف أبدا.
وإن لم يخالف الصحابي صحابي آخر فإما أن يشتهر قوله في الصحابة أوْ لا; فإن اشتهر فالذي عليه جماهير الطوائف من الفقهاء أنه إجماع وحجة، وقالت طائفة منهم: هو حجة وليس بإجماع، وقال بعض الفقهاء المتأخرين، لا يكون إجماعا ولا حجة. وإن لم يشتهر أو لم يعلم هل اشتهر أم لا، فاختلف الناس هل يكون حجة؟
ইজতিহাদ ও মতবিরোধ সংক্রান্ত আলোচনা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইবনুল কায়্যিম 'ইলামুল মুওয়াক্কিইন' গ্রন্থে বলেছেন: "যখন কোনো সাহাবী (صحابي) কোনো কথা বলেন, তবে হয় অন্য কোনো সাহাবী (صحابي) তাঁর বিরোধিতা করবেন অথবা করবেন না। যদি তাঁর সমপর্যায়ের কেউ তাঁর বিরোধিতা করেন, তবে তাঁদের একজনের কথা অন্যজনের ওপর প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না। আর যদি তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ তাঁর বিরোধিতা করেন, যেমন খুলাফায়ে রাশেদীন বা তাঁদের কেউ, তবে যে পক্ষে খুলাফায়ে রাশেদীন বা তাঁদের কেউ আছেন, সেটি কি অন্যদের ওপর প্রমাণ (حجة) হবে? এ বিষয়ে আলেমদের দুটি অভিমত রয়েছে, যা ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনা (روايتان)। সঠিক (صحيح) মত হলো যে, এটিই অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য (أرجح)। যদি চারজন খলিফাই এক পক্ষে থাকেন, তবে নিঃসন্দেহে সেটিই সঠিক। আর যদি তাঁদের অধিকাংশ এক পক্ষে থাকেন, তবে সেখানে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি তাঁরা দুইজন দুইজন করে বিভক্ত হন, তবে আবু বকর ও উমরের পক্ষটি সঠিকের অধিক নিকটবর্তী। আর যদি তাঁরা উভয়ে মতবিরোধ করেন, তবে আবু বকরের পক্ষটিই সঠিক। এটি এমন একটি বিষয় যার বিস্তারিত বিবরণ কেবল অভিজ্ঞ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট পরিচিত। এ ক্ষেত্রে দাদা ও ভাইদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে, এবং এক মজলিসে এক শব্দে এক তালাক হওয়ার বিষয়ে—যদিও তিন তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা হয়—এবং উম্মাহাতুল আওলাদ (সন্তানবতী দাসী) বিক্রির বৈধতার বিষয়ে সিদ্দীকের মতের প্রাধান্য জানাই যথেষ্ট। সিদ্দীকের পক্ষ থেকে কোনো একটি মূলপাঠের (نص) বিপরীত কোনো কিছু কখনো সংরক্ষিত নেই, আর এমন কোনো ফতোয়া বা হুকুমও নেই যার উৎস দুর্বল (ضعيف) হতে পারে।
আর যদি কোনো সাহাবীর (صحابي) কথার অন্য কোনো সাহাবী (صحাবী) বিরোধিতা না করেন, তবে হয় তাঁর সেই কথাটি সাহাবীদের (صحابة) মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করবে অথবা করবে না। যদি তা প্রসিদ্ধ হয়, তবে ফকীহদের অধিকাংশ দলের মতে তা ইজমা (إجماع) এবং প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য। তাঁদের একটি দল বলেছেন: এটি প্রমাণ (حجة), কিন্তু ইজমা (إجماع) নয়। পরবর্তীকালের কিছু ফকীহ বলেছেন: এটি ইজমা (إجماع) হবে না এবং প্রমাণও (حجة) হবে না। আর যদি তা প্রসিদ্ধ না হয় অথবা তা প্রসিদ্ধ হয়েছে কি না তা জানা না যায়, তবে আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, তা কি প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে?"
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৬)
فالذي عليه جمهور الأمة أنه حجة، هذا قول جمهور الحنفية، صرح به محمد بن الحسن، وهو مذهب مالك وأصحابه، وإسحاق وأبي عبيد ومنصوص أحمد ومنصوص الشافعي في القديم والجديد.
والذين قالوا ليس بحجة قالوا: لأن الصحابي مجتهد يجوز عليه الخطأ، ولأن الأدلة الدالة على بطلان التقليد تعم تقليد الصحابي ومن دونه، ولأن التابعي إذا أدرك عمر الصحابة اعتد بخلافه، فكيف يكون قول الواحد حجة عليه، ولأن الأدلة قد انحصرت في الكتاب والسنة والإجماع والقياس والاستصحاب، وقول الصحابي ليس واحدا منها، ولأن امتيازه بكونه أفضل وأعلم لا يوجب وجوب اتباعه على مجتهد آخر من التابعين.
فنقول: الكلام في مقامين:
أحدهما: في الأدلة الدالة على وجوب اتباع الصحابة رضي الله عنهم
الثاني: في الجواب عن شبه النفاة.
أما الأول فمن وجوه:-
الوجه الأول:
ما احتج به مالك، وهو قوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ} 1 الآية، فوجه الدلالة أن الله سبحانه أثنى على من اتبعهم، فإذا قالوا قولا فاتبعهم متبع عليه قبل أن يعرف صحته فهو متبع لهم، ولو كان تقليدا محضا كتقليد بعض
--------------------------------------------
উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) অভিমত হলো এটি একটি দলিল (حجة); এটি হানাফিদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) বক্তব্য, যা মুহাম্মদ ইবনুল হাসান স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। এটিই মালেক এবং তাঁর অনুসারীদের মাজহাব, এবং ইসহাক, আবু উবায়দ, আহমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য (منصوص) এবং শাফেয়ির পুরাতন ও নতুন উভয় মাজহাবের সুস্পষ্ট বক্তব্য (منصوص)।
আর যারা এটিকে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করেন না তারা বলেন: কারণ সাহাবি (صحابي) একজন মুজতাহিদ (مجتهد), যাঁর ভুল হওয়া সম্ভব। তদুপরি, তাকলিদ (تقليد) বাতিল হওয়ার সপক্ষে যেসব দলিল রয়েছে তা সাহাবি (صحابي) এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের তাকলিদকেও (تقليد) অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া, কোনো তাবেয়ি (تابعي) যদি সাহাবিদের (صحابة) যুগ পান এবং তাঁদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে তাঁর সেই ভিন্নমত গণ্য করা হয়; সুতরাং একজন ব্যক্তির কথা কীভাবে অন্যের ওপর দলিল (حجة) হতে পারে? আরও যুক্তি হলো, দলিলসমূহ কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা (إجماع), কিয়াস (قياس) এবং ইসতিসহাবের (استصحاب) মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর সাহাবির বক্তব্য এর কোনোটির মধ্যেই পড়ে না। পরিশেষে, সাহাবির শ্রেষ্ঠত্ব এবং অধিক ইলমের অধিকারী হওয়া অন্য কোনো তাবেয়ি (تابعي) মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য তাঁর অনুসরণ (اتباع) করা ওয়াজিব (وجوب) করে না।
আমরা বলি: আলোচনাটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
প্রথমটি: সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অনুসরণ (اتباع) করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার স্বপক্ষে দলিলের বিষয়ে।
দ্বিতীয়টি: যারা এটি অস্বীকার করেন তাদের সংশয়সমূহের উত্তরের বিষয়ে।
প্রথম পর্যায়টি কয়েকটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়:-
প্রথম দিক:
ইমাম মালেক যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে..." ১ (আয়াত)। দলিল গ্রহণের পদ্ধতি (وجه الدلالة) হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদের প্রশংসা করেছেন যারা তাঁদের অনুসরণ (اتباع) করেছে। সুতরাং তাঁরা যখন কোনো কথা বলেন এবং কোনো অনুসরণকারী তার বিশুদ্ধতা (صحة) জানার পূর্বেই তা অনুসরণ করে, তবে সে তাঁদেরই অনুসরণকারী (متبع) হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি যদি সেটি নিছক তাকলিদও (تقليد) হয় যেমনটি অন্যদের তাকলিদের (تقليد) ক্ষেত্রে দেখা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৭)
المفتين لم يستحق من اتبعهم الرضوان إلا أن يكون عاميا، فأما العلماء فلا يجوز لهم اتباعهم.
فإن قيل: اتباعهم هو أن يقول ما قالوا بالدليل، والدليل قوله: (بِإِحْسَانٍ) ، ومن قلدهم لم يتبعهم بإحسان، لأنه لو كان مطلق الاتباع محمودا لم يفرق، وأيضا فيجوز أن يراد به اتباعهم في أصول الدين، وقوله: (بِإِحْسَانٍ) أي بالتزام الفرائض واجتناب المحارم، ويكون المقصود أن السابقين قد وجب لهم الرضوان وإن أساؤوا; لقوله: "وما يدريك أن الله قد اطلع على أهل بدر فقال: اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم" 1 وأيضا فالثناء على من اتبعهم كلهم، وذلك اتباعهم فيما أجمعوا عليه، وأيضا فالثناء على من اتبعهم لا يقتضي وجوبه وإنما يدل على جواز تقليدهم، وذلك دليل على جواز تقليد العالم كما هو مذهب طائفة، أو الأعلم كقول أخرى، أما الدليل على وجوب اتباعهم فليس في الآية ما يقتضيه.
فالجواب من وجوه:
أحدها: أن الاتباع لا يستلزم الاجتهاد لوجوه:
أحدها: أن الاتباع المأمور به في القرآن كقوله: {فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} 2 {وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} 3 {وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ} 4 ونحوه لا يتوقف على الاستدلال على صحة القول مع الاستغناء عن القائل.
--------------------------------------------
মুফতিদের অনুসারীগণ আল্লাহর সন্তুষ্টির অধিকারী হবেন না, যতক্ষণ না তারা সাধারণ মানুষ (عامي) হন; তবে আলেমদের জন্য তাদের অনুসরণ করা জায়েজ নয়।
যদি বলা হয়: তাদের অনুসরণ করার অর্থ হলো তারা যা বলেছেন তা দলীলের ভিত্তিতে বলা; আর সেই দলিল হলো আল্লাহর বাণী: ‘উত্তমভাবে (إحسان)’। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করল সে তাদের উত্তমভাবে অনুসরণ করল না। কেননা যদি ঢালাওভাবে সকল প্রকার অনুসরণই প্রশংসনীয় হতো, তবে সেখানে পার্থক্য করা হতো না। এছাড়া এটিও সম্ভব যে, এখানে দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) সমূহে তাদের অনুসরণ করা উদ্দেশ্য। আর ‘উত্তমভাবে (إحسان)’ বলার অর্থ হলো ফরজসমূহ পালন করা এবং হারাম বিষয়সমূহ বর্জন করা। এর উদ্দেশ্য হতে পারে যে, অগ্রগামীদের (السابقون) জন্য সন্তুষ্টি অবধারিত হয়ে গেছে যদিও তারা কোনো ভুল করে থাকেন; এর স্বপক্ষে দলিল হলো রাসুলুল্লাহর বাণী: "তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ তা'আলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" ১ আর তাদের সকল অনুসারীদের ওপর এই প্রশংসা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন তারা এমন বিষয়ে অনুসরণ করবে যাতে পূর্বসূরিগণ ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। তদুপরি, যারা তাদের অনুসরণ করে তাদের প্রশংসা করা তাদের অনুসরণ ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়াকে প্রমাণ করে না, বরং তা কেবল তাদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করার বৈধতা নির্দেশ করে। এটি একজন আলেমকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করার বৈধতার দলিল, যেমনটি একটি দলের অভিমত; অথবা সবচেয়ে বড় আলেমকে অনুসরণ করার দলিল যেমনটি অন্য এক দল বলেছেন। তবে তাদের অনুসরণ করা যে ওয়াজিব, এই আয়াতের মধ্যে এমন কোনো দলিল নেই যা তা প্রমাণ করে।
এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: অনুসরণ করা গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করাকে আবশ্যক করে না, এর কারণসমূহ হলো:
প্রথমত: কুরআনে যে অনুসরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো, তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} ২ {এবং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও} ৩ {এবং যে মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে} ৪ এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ; এসব ক্ষেত্রে বক্তার প্রয়োজন এড়িয়ে কেবল উক্তির সত্যতার স্বপক্ষে দলিল তালাশ করার ওপর বিষয়টি স্থগিত থাকে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৮)
الثاني: أنه لو كان المراد اتباعهم في الاستدلال لم يكن فرق بين السابقين وبين جميع الخلائق، لأن اتباع موجب الدليل يجب أن يتبعه 1 كل أحد.
الثالث: أنه إما أن تجوز مخالفتهم في قولهم بعد الاستدلال أو لا، فإن لم تجز فهو المطلوب، وإن جازت فقد خولفوا في تخصيص الحكم واتبعوا في حسن الاستدلال، فليس جعل من فعل ذلك متبعا لموافقتهم في الاستدلال بأولى من جعله مخالفا لمخالفته في عين الحكم.
الرابع: أن من خالفهم في الحكم الذي أفتوا به لا يكون متبعا لهم أصلا، بدليل أن من خالف مجتهدا لا يصح أن يقال اتبعه، وإن أطلق ذلك فلا بد من تقييده بأن يقال: اتبعه في الاستدلال أو الاجتهاد.
الخامس: أن الاتباع افتعال من التبع، وكون الإنسان تابعا لغيره نوع افتقار إليه ومشي خلفه، وكل واحد من المجتهدين ليس متبعا للآخر.
السادس: أن الآية قصد بها مدح السابقين والثناء عليهم، وبيان استحقاقهم أن يكونوا أئمة متبوعين، وبتقدير ألا يكون قولهم موجبا للموافقة ولا مانعا من المخالفة لا يكون لهم هذا المنصب.
السابع: أن من خالفهم في خصوص الحكم لم يتبعهم في ذلك الحكم ولا فيما استدلوا به عليه، فلا يكون متبعا لهم بمجرد مشاركتهم في صفة عامة وهي مطلق الاستدلال والاجتهاد، لا سيما وتلك لا اختصاص لها به،
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: যদি দলিল উপস্থাপনের (استدلال) ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে অগ্রবর্তীগণ (السابقون) এবং সকল সৃষ্টির মাঝে কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট থাকে না। কারণ দলিলের দাবি (موجب الدليل) অনুযায়ী চলা প্রত্যেকের জন্যই আবশ্যক।
তৃতীয়ত: দলিল উপস্থাপনের পর তাঁদের বক্তব্যের বিরোধিতা করা কি বৈধ নাকি অবৈধ? যদি বৈধ না হয়, তবে এটিই কাঙ্ক্ষিত। আর যদি বৈধ হয়, তবে তো বিধানের প্রয়োগের (تخصيص الحكم) ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধিতা করা হলো এবং দলিল উপস্থাপনের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করা হলো। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি তা করল, তাকে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের কারণে 'অনুসারী' বলা অপেক্ষা বিধানের ক্ষেত্রে বিরোধিতার কারণে 'বিরোধী' বলা অধিক যুক্তিযুক্ত।
চতুর্থত: যে ব্যক্তি তাঁদের প্রদানকৃত বিধানের (حكم) বিরোধিতা করে, সে মূলত তাঁদের অনুসারী হতে পারে না। এর প্রমাণ হলো, যে ব্যক্তি কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) বিরোধিতা করে, তাকে তাঁর অনুসারী বলা সঠিক নয়। আর যদি তা সাধারণভাবে বলাও হয়, তবে অবশ্যই তাকে সীমাবদ্ধ করে বলতে হবে যে: সে দলিল উপস্থাপনের (استدلال) ক্ষেত্রে অথবা ইজতিহাদের (اجتهاد) ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছে।
পঞ্চমত: 'ইত্তিবা' (الاتباع) শব্দটি 'তাবে' (التبع) শব্দ থেকে উদ্ভূত, আর কোনো ব্যক্তির অনুসারী (تابع) হওয়ার অর্থ হলো তার প্রতি এক প্রকার মুখাপেক্ষিতা এবং তার পশ্চাদানুসরণ করা। অথচ মুজতাহিদগণের (مجتهدون) প্রত্যেকেই একে অপরের অনুসারী নন।
ষষ্ঠত: আয়াতের মাধ্যমে অগ্রবর্তীগণের (السابقون) প্রশংসা ও গুণগান করা এবং তাঁরা যে অনুসরণযোগ্য ইমাম হওয়ার যোগ্য—তা বর্ণনা করাই উদ্দেশ্য। কিন্তু যদি তাঁদের বক্তব্য ঐকমত্য পোষণকে আবশ্যক না করে এবং বিরোধিতার পথে বাধা না হয়, তবে তাঁদের জন্য এই মর্যাদা সাব্যস্ত হয় না।
সপ্তমত: যে ব্যক্তি বিশেষ বিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধিতা করল, সে না উক্ত বিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করল, আর না সেই দলিলের (دليل) ক্ষেত্রে যা দ্বারা তাঁরা উক্ত বিধান সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং কেবল একটি সাধারণ গুণের অংশীদার হওয়ার কারণে—যা হলো নিছক দলিল উপস্থাপন (استدلال) ও ইজতিহাদ (اجتهاد)—কাউকে অনুসারী বলা যায় না, বিশেষ করে যখন এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল তাঁদের সাথেই নির্দিষ্ট নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৯)
لأن ما ينفي الاتباع، أخص مما يثبته، وإذا وجد الفارق الأخص والجامع الأعم وكلاهما مؤثر، كان التفريق أولى.
وأما قوله: {بِإِحْسَانٍ} فليس المراد به أن يجتهد، وافق أو خالف، لأنه إذا خالف لم يتبع فضلا عن أن يكون بإحسان، ولأن مطلق الاجتهاد ليس فيه اتباع لهم، لكن الاتباع لهم اسم يدخل فيه كل من وافقهم في الاعتقاد والقول، فلا بد مع ذلك أن يكون المتبع محسنا بأداء الفرائض واجتناب المحارم، لئلا يقع اغترار بمجرد الموافقة قولا، وأيضا فلا بد أن يحسن المتبع لهم القول فيهم، اشترط الله ذلك لعلمه بأن سيكون أقوام ينالون منهم، وهذا مثل قوله بعد أن ذكر المهاجرين والأنصار {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ} 1 الآية. وأما تخصيص اتباعهم بأصول الدين دون فروعه فلا يصح، لأن الاتباع عام، ولأن من اتبعهم في أصول الدين فقط لو كان متبعا لهم على الإطلاق لكنا متبعين للمؤمنين من أهل الكتابين، ولم يكن فرق بين اتباع السابقين من هذه الأمة وغيرها.
وأيضا فإنه إذا قيل: فلان يتبع فلانا، ولم يقيد ذلك بقرينة لفظية ولا حالية، فإنه يقتضي اتباعه في كل الأمور التي يتأتى فيها الاتباع، لأن من اتبعه في حال وخالفه في أخرى لم يكن وصفه بأنه متبع بأولى من وصفه بأنه مخالف، ولأن الرضوان حكم تعلق باتباعهم فيكون الاتباع سببا له، لأن الحكم المعلق بما هو مشتق يقتضي أن ما منه الاشتقاق سبب، وإذا كان اتباعهم سببا للرضوان اقتضى الحكم في جميع موارده، ولأن الاتباع يؤذن بكون
--------------------------------------------
কেননা যা অনুসরণকে (اتباع) অস্বীকার করে তা সেই বিষয়ের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট যা একে সাব্যস্ত করে। আর যখন অধিক সুনির্দিষ্ট পার্থক্যকারী বিষয় এবং অধিক ব্যাপক সাধারণ বিষয় বিদ্যমান থাকে এবং উভয়ই প্রভাবশালী হয়, তখন পৃথক করাই উত্তম।
আর তাঁর বাণী: {উত্তমরূপে} এর দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে সে ইজতিহাদ (اجتهاد) করবে—চাই সে একমত হোক বা ভিন্নমত পোষণ করুক। কারণ সে যদি ভিন্নমত পোষণ করে তবে তো অনুসরণই (اتباع) করা হলো না, বরং উত্তমরূপে অনুসরণ করার তো প্রশ্নই আসে না। তদুপরি, নিছক ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মধ্যে তাদের অনুসরণ (اتباع) নেই। বরং তাদের অনুসরণ (اتباع) এমন একটি নাম যার অন্তর্ভুক্ত ঐ সকল ব্যক্তি যারা আকিদাহ ও কথায় তাদের সাথে একমত পোষণ করেন। তবে এর সাথে অবশ্যই অনুসরণকারীকে আবশ্যিক কার্যাবলী (فرائض) পালন ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (محارم) বর্জনের মাধ্যমে নিষ্ঠাবান হতে হবে, যাতে কেবল মৌখিক সহমতের কারণে কোনো বিভ্রম সৃষ্টি না হয়। অধিকন্তু, অনুসরণকারীকে অবশ্যই তাদের সম্পর্কে উত্তম কথা বলতে হবে; আল্লাহ এটি শর্ত করেছেন কারণ তিনি জানেন যে ভবিষ্যতে এমন কিছু সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা তাদের সমালোচনা করবে। আর এটি তাঁর সেই বাণীর ন্যায় যেখানে তিনি মুহাজির ও আনসারদের উল্লেখ করার পর বলেছেন: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে} ১ (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আর তাদের অনুসরণকে কেবল দ্বীনের মূলনীতিতে (أصول الدين) সীমাবদ্ধ করা এবং শাখা-প্রশাখায় (فروع) অনুসরণ না করা সঠিক নয়। কেননা অনুসরণ (اتباع) একটি সাধারণ বিষয়। তাছাড়া, যে ব্যক্তি কেবল দ্বীনের মূলনীতিতে তাদের অনুসরণ করবে তাকে যদি নিঃশর্তভাবে তাদের অনুসরণকারী গণ্য করা হয়, তবে আমরা দুই কিতাবধারীদের (আহলুল কিতাব) মুমিনদেরও অনুসরণকারী হয়ে পড়তাম, ফলে এই উম্মতের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ এবং অন্যদের অনুসরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না।
তাছাড়া, যখন বলা হয়: 'অমুক অমুককে অনুসরণ করে', এবং যদি কোনো শাব্দিক বা পারিপার্শ্বিক নিদর্শন দ্বারা তা সীমাবদ্ধ না করা হয়, তবে তা এমন সব বিষয়ে অনুসরণ করাকে (اتباع) আবশ্যক করে যাতে অনুসরণ সম্ভব। কারণ যে ব্যক্তি কোনো এক অবস্থায় অনুসরণ করে এবং অন্য অবস্থায় বিরোধিতা করে, তাকে 'বিরোধিতাকারী' হিসেবে অভিহিত করার চেয়ে 'অনুসরণকারী' হিসেবে অভিহিত করা অধিক যুক্তিসঙ্গত নয়। আর যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়টি তাদের অনুসরণের (اتباع) সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই এই অনুসরণই (اتباع) হলো এর কারণ। কেননা কোনো ব্যুৎপন্ন শব্দ (مشتق) এর ওপর ভিত্তি করে যে বিধান দেওয়া হয়, তা প্রমাণ করে যে ঐ ব্যুৎপত্তির মূল উৎসটিই হলো বিধানের কারণ। আর যদি তাদের অনুসরণ (اتباع) আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হয়, তবে তা অনুসরণের সকল ক্ষেত্রে এই বিধানকে কার্যকর করে। তদুপরি অনুসরণ (اتباع) একথাই জানান দেয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১০)
الإنسان تبعا لغيره وفرعا عليه، وأصول الدين ليست كذلك، ولأن الآية تضمنت الثناء عليهم وجعلهم أئمة لمن بعدهم، فلو لم يتناول إلا اتباعهم في أصول الدين لم يكونوا أئمة في ذلك لأن ذلك معلوم مع قطع النظر عن اتباعهم.
وأما قولهم إن الثناء على من اتبعهم كلهم، فنقول: الآية اقتضت الثناء على كل من اتبع كل واحد منهم، كما أن قوله: { (وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ} 1 {وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ} يقتضي حصول الرضوان لكل واحد من السابقين والذين اتبعوهم في قوله: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي} 2 وكذلك في قوله: {اتَّبَعُوهُمْ} لأنه حكم علق عليهم في هذه الآية، فقد تناولهم مجتمعين ومنفردين.
وأيضا فإن الأصل في الأحكام المعلقة بأسماء عامة ثبوتها لكل فرد فرد من تلك المسميات كقوله: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ} وقوله: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ} 3 وقوله {وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} 4.
وأيضا فإن الأحكام المعلقة على المجموع يؤتى فيها باسم يتناول المجموع دون الأفراد، كقوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً} 5 وقوله {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ} 6 وقوله {يَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ} 7 فإن لفظ (الأمة)
--------------------------------------------
মানুষ অন্যদের অনুসারী এবং তাদের একটি শাখা হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) তেমন নয়। আর যেহেতু আয়াতটি তাদের প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তাদেরকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইমাম (أئمة) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, তাই যদি এটি কেবল দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) এর ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণের বিষয়টিকে নির্দেশ করত, তবে তারা এই বিষয়ে ইমাম (أئمة) হতেন না; কারণ তাদের অনুসরণ ব্যতিরেকেই তা নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত।
আর তাদের এই দাবি যে, যারা তাদের সকলকে অনুসরণ করে কেবল তাদের জন্যই প্রশংসা—এর উত্তরে আমরা বলব: আয়াতটি তাদের প্রত্যেককে অনুসরণকারী প্রত্যেকের প্রশংসার দাবি রাখে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা প্রথম অগ্রগামী} ১ {এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে} বাক্যটি প্রত্যেক অগ্রগামী এবং তাদের অনুসরণকারীদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দাবি রাখে, যা তাঁর এই বাণীতে বর্ণিত: {আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত} ২। অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: {তারা তাদের অনুসরণ করেছে} এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কারণ এটি এই আয়াতে তাদের ওপর অর্পিত একটি বিধান, যা তাদের সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত উভয় অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
তাছাড়া, সাধারণ বিশেষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর মূলনীতি (الأصل) হলো, সেই নামধারী প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা সাব্যস্ত হওয়া। যেমন আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো}, এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই সন্তুষ্ট হয়েছেন} ৩, এবং তাঁর বাণী: {তোমরা সত্যবাদীদের সাথী হও} ৪।
আরও কথা হলো, সমষ্টির ওপর নির্ভরশীল বিধানগুলোতে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয় যা কেবল সমষ্টিকেই নির্দেশ করে, ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মাহ (أمة) হিসেবে তৈরি করেছি} ৫, এবং তাঁর বাণী: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ (أمة)} ৬, এবং তাঁর বাণী: {আর যে মুমিনদের পথ ব্যতিরেকে অন্য পথ অনুসরণ করে} ৭। কারণ 'উম্মাহ' (أمة) শব্দটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولفظ (سبيل المؤمنين) لا يمكن توزيعه على أفراد الأمة وأفراد المؤمنين، بخلاف لفظ (السابقين) فإنه يتناول كل فرد من السابقين.
وأيضا فالآية تعم اتباعهم مجتمعين ومنفردين في كل ممكن، فمن اتبع جماعتهم إذا اجتمعوا، واتبع آحادهم فيما وجد عنهم مما لم يخالفه فيه غيره منهم، فقد صدق عليه أنه اتبع السابقين، أما من خالف بعض السابقين فلا يصح أن يقال اتبع السابقين، لوجود مخالفته لبعضهم، لا سيما إذا خالف هذا مرة وهذا مرة. وبهذا يظهر الجواب عن اتباعهم إذا اختلفوا، فإن اتباعهم هناك قول بعض تلك الأقوال باجتهاد واستدلال، إذ هم مجتمعون على تسويغ كل واحد من الأقوال لمن أدى اجتهاده إليه، فقد قصد اتباعهم أيضا.
أما إذا قال قولا ولم يخالفه غيره فلا يعلم أن السابقين سوغوا خلاف ذلك القول. وأيضا فالآية تقتضي اتباعهم مطلقا، فلو فرضنا أن الطالب عثر على نص يخالف قول أحد منهم، فقد علمنا أنه لو ظفر بذلك النص لم يعدل عنه، أما إذا رأينا رأيا، فقد يجوز أن يخالف ذلك الرأي.
وأيضا فلو لم يكن اتباعهم إلا فيما أجمعوا عليه، لم يحصل اتباعهم إلا فيما قد علم أنه من دين الإسلام بالاضطرار، لأن السابقين الأولين خلق عظيم، ولم يعلم أنهم أجمعوا إلا على ذلك، فيكون هذا الوجه هو الذي قبله، وقد تقدم بطلانه، إذ الاتباع في هذا غير مؤثر.
وأيضا فجميع السابقين قد مات منهم أناس في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم وحينئذ فلا يحتاج في ذلك إلى اتباعهم للاستغناء عنه بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم.
"মুমিনদের পথ" (سبيل المؤمنين) শব্দসমষ্টিটি উম্মতের প্রতিটি সদস্য বা মুমিনদের প্রতিটি ব্যক্তির ওপর পৃথকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়; পক্ষান্তরে "পূর্ববর্তী অগ্রগণ্যগণ" (السابقين) শব্দটির বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি অগ্রগণ্যদের প্রত্যেকটি ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হয়।
তদুপরি, আয়াতটি সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে তাদের সম্মিলিত ও একক উভয় ধরনের অনুসরণকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং কেউ যদি তারা যখন ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাদের জামাতকে অনুসরণ করে এবং তাদের একক (آحاد) বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করে যা অন্য কারো মতের বিরোধী নয়, তবে তার ক্ষেত্রে এটি সত্য হবে যে সে অগ্রগণ্যদের অনুসরণ করেছে। কিন্তু যে ব্যক্তি কোনো কোনো অগ্রগণ্য ব্যক্তির বিরোধিতা করল, তার ক্ষেত্রে এটি বলা সঠিক হবে না যে সে অগ্রগণ্যদের অনুসরণ করেছে; যেহেতু তাদের কারো না কারো সাথে তার বিরোধিতা বিদ্যমান রয়েছে, বিশেষ করে যদি সে কখনো এর আবার কখনো ওর বিরোধিতা করে। এর মাধ্যমেই তাদের মতভেদের সময় অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়; কেননা সেক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করার অর্থ হলো ইজতিহাদ (اجتهاد) ও দলীল পেশ করার (استدلال) মাধ্যমে সেই সকল মতের কোনো একটি গ্রহণ করা। যেহেতু তারা প্রত্যেকেই সেই সব উক্তি বা মতকে সেই ব্যক্তির জন্য বৈধ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত ছিলেন যার ইজতিহাদ (اجتهاد) তাকে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে, ফলে সেক্ষেত্রেও সে তাদের অনুসরণেরই সংকল্প করেছে।
কিন্তু যদি তিনি কোনো উক্তি করেন এবং অন্য কেউ তার বিরোধিতা না করেন, তবে এটি জানা যায় না যে অগ্রগণ্যগণ সেই উক্তির বিপরীত কোনো কিছুকে বৈধ সাব্যস্ত করেছিলেন। তদুপরি, আয়াতটি নিঃশর্তভাবে (مطلقا) তাদের অনুসরণের দাবি রাখে। সুতরাং যদি আমরা ধরে নেই যে কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী এমন কোনো অকাট্য পাঠ (نص) খুঁজে পেলেন যা তাদের কারো উক্তির পরিপন্থী, তবে আমরা জানি যে তিনি যদি সেই অকাট্য পাঠ (نص) পেতেন তবে তা থেকে বিচ্যুত হতেন না। কিন্তু যখন আমরা কোনো ব্যক্তিগত রায় (رأي) প্রদান করি, তখন তা সেই উক্তির পরিপন্থী হওয়া সম্ভব।
তদুপরি, যদি তাদের অনুসরণ কেবল তাদের ঐক্যমতের (أجمعوا) বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে তাদের অনুসরণ কেবল সেই বিষয়ের মধ্যেই সম্পন্ন হতো যা দ্বীন ইসলাম থেকে আবশ্যিক বা স্বতঃসিদ্ধভাবে (بالاضطرار) জানা যায়। কারণ প্রথম যুগের অগ্রগণ্যগণ একটি বিশাল জনসমষ্টি ছিলেন এবং তারা এই বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ (أجمعوا) করেছেন কি না তা জানা যায় না। ফলে এই দিকটি পূর্বেরটির মতোই হয়ে যায়, যার অসারতা ইতিপূর্বেই প্রমাণিত হয়েছে; কারণ এই ক্ষেত্রে অনুসরণের কোনো বিশেষ প্রভাব নেই।
তদুপরি, সকল অগ্রগণ্যদের মধ্য থেকে অনেক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেছেন; এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর উপস্থিতির কারণে তখন তাদের অনুসরণের কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم لو فرضنا أحدا يتبعهم إذ ذاك لكان من السابقين، فحاصله أن التابعين لا يمكنهم اتباع جميع السابقين، وأيضا فإن معرفة قول جميع السابقين كالمتعذر، وأيضا فإنهم إنما استحقوا منصب الإمامة بكونهم هم السابقين، وهذه صفة موجودة في كل واحد منهم، فوجب أن يكون إماما للمتقين كما استوجب الرضوان والجنة.
وأما قولهم: ليس فيها ما يوجب اتباعهم، فنقول: الآية تقتضي الرضوان عمن اتبعهم بإحسان، وقد قام الدليل على أن القول في الدين بغير علم حرام، فلا يكون اتباعهم قولا بغير علم، بل قولا بعلم، وهو المقصود، وحينئذ فسواء يسمى تقليدا أو اجتهادا.
وأيضا فإن كان تقليد العالم للعالم حراما كما هو قول الشافعية والحنابلة فاتباعهم ليس بتقليد، لأنه مرضي، وإن كان تقليدهم جائزا أو مستثنى من التقليد المحرم، فلم يقل أحد إن تقليد العلماء من موجبات الرضوان، فعلم أن تقليدهم خارج عن هذا، لأن تقليد العالم وإن كان جائزا فتركه إلى قول غيره أو إلى اجتهاد جائز بالاتفاق، والشيء المباح لا يستحق به الرضوان، وأيضا فإن رضوان الله غاية المطالب ولا ينال إلا بأفضل الأعمال، ومعلوم أن التقليد ليس بأفضل الأعمال، بل الاجتهاد أفضل منه، فعلم أن اتباعهم هو أفضل ما يكون في مسألة اختلفوا فيها هم ومن بعدهم، وأن اتباعهم دون من بعدهم هو الموجب لرضوان الله، فلا ريب أن رجحان أحد القولين يوجب اتباعه، وقولهم أرجح بلا شك.
অতঃপর আমরা যদি ধরে নিই যে, সেই সময় কেউ তাঁদের অনুসরণ করত, তবে সে অগ্রগামীদের (السابقين) অন্তর্ভুক্ত হতো। এর সারকথা হলো, অনুসারীদের (التابعين) পক্ষে সকল অগ্রগামীর (السابقين) অনুসরণ করা সম্ভব নয়। তদুপরি, সকল অগ্রগামীর (السابقين) বক্তব্য অবগত হওয়া এক প্রকার দুঃসাধ্য ব্যাপার। আরও বিষয় হলো, তাঁরা ইমামতের (الإمامة) মর্যাদা লাভ করেছেন কেবল অগ্রগামী (السابقين) হওয়ার কারণেই, আর এই বৈশিষ্ট্য তাঁদের প্রত্যেকের মাঝেই বিদ্যমান। সুতরাং তাঁদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম (إمام) হওয়া আবশ্যক, যেমনভাবে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত প্রাপ্তির যোগ্য হয়েছেন।
আর তাঁদের এই উক্তির প্রেক্ষাপটে যে, 'এতে (আয়াতে) তাঁদের অনুসরণ করা আবশ্যক হওয়ার মতো কিছু নেই', আমরা বলব: আয়াতটি তাঁদের নিষ্ঠার সাথে (بإحسان) অনুসরণকারীদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির দাবি রাখে। আর এই মর্মে দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, দ্বীনের বিষয়ে জ্ঞানহীন কথা বলা হারাম। সুতরাং তাঁদের অনুসরণ করা জ্ঞানহীন কথা হবে না, বরং তা হবে জ্ঞানভিত্তিক কথা; আর এটাই মূল উদ্দেশ্য। এমতাবস্থায় একে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বলা হোক কিংবা স্বাধীন গবেষণা (اجتهاد) বলা হোক (তাতে কোনো পার্থক্য নেই)।
তদুপরি, এক আলিম কর্তৃক অন্য আলিমের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) যদি হারাম হয়—যেমনটি শাফেয়ি ও হাম্বলিদের অভিমত—তবে তাঁদের অনুসরণ করা অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নয়, কারণ তা আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়। আর যদি তাঁদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বৈধ হয় কিংবা নিষিদ্ধ অন্ধ অনুসরণের (تقليد) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়, তবে কেউই বলেননি যে আলিমদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম কারণ। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, তাঁদের অনুসরণ এই সংজ্ঞার বহির্ভূত। কেননা কোনো আলিমের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বৈধ হলেও, তা বর্জন করে অন্য কারো বক্তব্য গ্রহণ করা বা স্বাধীন গবেষণার (اجتهاد) দিকে ফিরে যাওয়া সর্বসম্মতভাবে বৈধ। আর কেবল বৈধ (مباح) কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যায় না। তদুপরি, আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো পরম লক্ষ্য, যা সর্বোত্তম আমল ছাড়া লাভ করা সম্ভব নয়। আর এটি সুবিদিত যে, অন্ধ অনুসরণ (تقليد) সর্বোত্তম আমল নয়, বরং স্বাধীন গবেষণা (اجتهاد) তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অতএব এটি প্রমাণিত হলো যে, এমন কোনো বিষয় যাতে তাঁরা এবং তাঁদের পরবর্তীগণ মতবিরোধ করেছেন, সেখানে তাঁদের অনুসরণ করাই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা। আর পরবর্তী যুগের লোকদের পরিবর্তে তাঁদের অনুসরণ করাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কারণ। সুতরাং এতে কোনো সংশয় নেই যে, দুটি মতের মধ্যে একটির প্রাধান্য তার অনুসরণের আবশ্যকতা তৈরি করে, আর তাঁদের বক্তব্যই নিঃসন্দেহে অধিক অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأيضا فإن الله أثنى على الذين اتبعوهم بإحسان، والتقليد وظيفة العامة، فلو أريد التقليد الذي يجوز خلافه لكان للعامة النصيب الأوفى، وكان حظ علماء الأمة من هذه الآية أبخس الحظوظ.
وأيضا فإذا كان اتباعهم موجب الرضوان لم يكن تركه موجب الرضوان، لأن الجزاء لا يقتضيه وجود الشيء وضده.
وأيضا فإن طلب رضوان الله واجب، لأنه إذا لم يوجب رضوانه فإما سخطه أو عفوه، والعفو بعد انعقاد سبب الخطيئة. وأيضا فإنه إنما أثنى على المتبع بالرضوان، ولم يصرح بالوجوب، لأن إيجاب الاتباع يدخل فيه الاتباع بالأفعال، ويقتضي تحريم مخالفتهم مطلقا، فيقتضي ذم المخطئ، وليس كذلك، أما الأقوال فلا وجه لمخالفتهم فيها بعد أن ثبت أن فيها رضي الله.
وأيضا فإن القول إذا ثبت أن فيه رضى الله لم يكن رضى الله في ضده بخلاف الأفعال، وقد يكون رضى الله في الأفعال المختلفة وفي الترك بحسب قصدين وحالين، أما الاعتقادات والأقوال فليست كذلك، فإذا ثبت أن في قولهم رضى الله لم يكن الحق إلا هو، فوجب اتباعه. فإن قيل: السابقون هم الذين صلوا إلى القبلتين، أو هم أهل بيعة الرضوان ومن قبلهم، فما الدليل على اتباع من أسلم بعد ذلك؟
قيل: إذا ثبت وجوب اتباع أهل بيعة الرضوان فهو أكبر المقصود، على أنه لا قائل بالفرق، وكل الصحابة سابق بالنسبة إلى من بعدهم.
অধিকন্তু, আল্লাহ সেই সকল লোকেদের প্রশংসা করেছেন যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। আর অনুকরণ (تقليد) হলো সাধারণ মানুষের কাজ; সুতরাং এখানে যদি এমন অনুকরণ (تقليد) উদ্দেশ্য হতো যা লঙ্ঘন করা বৈধ, তবে সাধারণ মানুষের অংশই এতে অধিক হতো এবং এই আয়াতের ফজিলতে উম্মতের আলেমদের ভাগ হতো অত্যন্ত নগণ্য।
এছাড়া, তাঁদের অনুসরণ করা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হয়, তবে তা বর্জন করা আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হতে পারে না; কারণ কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত বিষয়—উভয়টিই একই প্রতিদান লাভের দাবি রাখে না।
তদুপরি, আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা আবশ্যক (واجب); কারণ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত না হয়, তবে হয় তাঁর অসন্তুষ্টি থাকবে অথবা ক্ষমা থাকবে। আর ক্ষমা তো কেবল গুনাহের কারণ ঘটার পরেই হতে পারে। এছাড়াও, আল্লাহ কেবল অনুসরণকারীকে সন্তুষ্টির মাধ্যমে প্রশংসা করেছেন এবং সরাসরি আবশ্যকতার (وجوب) কথা উল্লেখ করেননি। কেননা অনুসরণের আবশ্যকতা (إيجاب) নির্ধারণের মধ্যে কার্যাবলীর অনুসরণও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা তাঁদের সরাসরি বিরোধিতা করাকে সামগ্রিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি রাখে; এর ফলে ভুলকারীর নিন্দা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। তবে বক্তব্যের ক্ষেত্রে, যখন এটি প্রমাণিত যে তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে, তখন তাঁদের বিরোধিতা করার আর কোনো অবকাশ থাকে না।
অধিকন্তু, কোনো বক্তব্যে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিপরীত বক্তব্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকতে পারে না—যা কার্যাবলীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। কখনো ভিন্ন ভিন্ন কার্যাবলী এবং তা বর্জনের ক্ষেত্রে নিয়ত ও অবস্থা ভেদে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস (اعتقادات) এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো যে তাঁদের বক্তব্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে, তখন সেটিই কেবল সত্য (حق), ফলে তার অনুসরণ করা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ে। যদি প্রশ্ন করা হয়: অগ্রবর্তী (السابقون) বলতে তো তাঁরাই উদ্দেশ্য যারা দুই কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন, অথবা তাঁরা হলেন বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী এবং তাঁদের পূর্ববর্তীগণ; তাহলে এরপর যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাঁদের অনুসরণ করার দলিল কী?
উত্তরে বলা হবে: যদি বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের অনুসরণ করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণিত হয়, তবে সেটিই হলো মূল উদ্দেশ্য। তাছাড়া তাঁদের মাঝে পার্থক্যের কোনো প্রবক্তা নেই, আর সকল সাহাবীই তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় অগ্রবর্তী (سابق)।
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الوجه الثاني: 1
قوله تعالى: {اتَّبِعُوا مَنْ لا يَسْأَلُكُمْ أَجْراً وَهُمْ مُهْتَدُونَ} 2 هذا قصه الله سبحانه عن صاحب (يس) على سبيل الرضى بهذه المقالة، والثناء على قائلها، والإقرار له عليها، وكل الصحابة رضي الله عنهم لم يسألنا أجرا، وهم مهتدون، بدليل قوله تعالى: {وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ} 3 الآية و "لعل" من الله واجب، وقوله {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدىً} 4، وقوله: {سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ} 5، وقوله: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} 6، وكل منهم قاتل في سبيل الله، وجاهد إما بيده أو بلسانه، فيكون الله قد هداهم، ومن هداه فهو مهتد، فيجب اتباعه للآية.
الوجه الثالث:
قوله سبحانه وتعالى: {وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ} 7 وكل من الصحابة منيب إلى الله، فيجب اتباع سبيله، وأقواله واعتقاداته من أكبر سبيله، والدليل عن أنهم منيبون إلى الله أن الله سبحانه قد هداهم، وقد قال تعالى: {وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} 8.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দিক: ১
মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চায় না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত} ২। মহান আল্লাহ এই বিষয়টি সূরা ইয়াসিনে বর্ণিত সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন তার উক্তির প্রতি সন্তুষ্টি স্বরূপ, প্রবক্তার প্রশংসা হিসেবে এবং তার বক্তব্যের স্বীকৃতি হিসেবে। আর সকল সাহাবী (صحابة) — আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন — আমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাননি এবং তাঁরা সুপথপ্রাপ্ত; যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের পাড়ে ছিলে} ৩। এই আয়াতে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সম্ভবত’ (لعل) শব্দটির প্রয়োগ নিশ্চয়তা বা আবশ্যকতা বোঝায়। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা সৎপথ অবলম্বন করে তিনি তাদের সুপথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন} ৪; এবং তাঁর বাণী: {অচিরেই তিনি তাদের হেদায়েত দান করবেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করবেন} ৫; এবং তাঁর বাণী: {যারা আমার পথে সংগ্রাম করে আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ প্রদর্শন করব} ৬। তাঁদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথে লড়াই করেছেন এবং হাত অথবা জবানের মাধ্যমে জিহাদ করেছেন; ফলে আল্লাহ তাঁদের হেদায়েত দান করেছেন। আর আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, সে-ই সুপথপ্রাপ্ত; সুতরাং উক্ত আয়াতের ভিত্তিতে তাঁদের অনুসরণ করা আবশ্যক।
তৃতীয় দিক:
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {এবং তুমি তার পথ অনুসরণ করো যে আমার অভিমুখী হয়েছে} ৭। আর সকল সাহাবীই (صحابة) আল্লাহর প্রতি পরম অনুগত ও অভিমুখী; সুতরাং তাঁদের পথ অনুসরণ করা আবশ্যক। তাঁদের বক্তব্য ও বিশ্বাসসমূহ তাঁদের অনুসৃত পথের অন্যতম প্রধান অংশ। আর তাঁরা যে আল্লাহর অভিমুখী, তার দলিল হলো মহান আল্লাহ তাঁদের হেদায়েত দান করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং তিনি তাঁর দিকে তাকেই হেদায়েত দান করেন যে তাঁর অভিমুখী হয়} ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الوجه الرابع:
قوله تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} 1 فأخبر سبحانه أن من اتبع الرسول يدعو إلى الله على بصيرة، ومن دعا إلى الله على بصيرة وجب اتباعه، لقوله تعالى فيما حكاه عن الجن ورضيه: {يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ} 2.
الوجه الخامس:
قوله سبحانه وتعالى: {قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى} 3 قال ابن عباس في رواية أبي مالك: هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم، والدليل عليه قوله تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا} 4 وحقيقة الاصطفاء افتعال من التصفية، فيكون قد صفاهم من الأكدار، والخطأ من الأكدار، فيكونون مصفين منه، ولا ينتقض هذا بما إذا اختلفوا، لأن الحق لم يعدهم، ولا يكون قول بعضهم كدرا، لأن مخالفة الكدر وبيانه يزيل كونه كدرا.
الوجه السادس:
أن الله سبحانه شهد لهم أنهم أوتوا العلم، بقوله تعالى: {وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ} 5 وقوله: {حَتَّى إِذَا
--------------------------------------------
চতুর্থ দিক:
মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।} ১ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে, যারা রাসূলের অনুসরণ করেন তারা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। আর যে ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন, তার অনুসরণ করা আবশ্যক। কারণ জিনদের পক্ষ থেকে বর্ণিত যে বিষয়টি আল্লাহ পছন্দ করেছেন তাতে বলা হয়েছে: {হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও।} ২।
পঞ্চম দিক:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম।} ৩ আবু মালিকের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তারা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদের মনোনীত করেছি, তাদেরকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি।} ৪ মূলত মনোনয়ন (اصطفاء)-এর হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ হলো ‘পরিশোধন’ (تصفية) করা। সুতরাং তিনি তাদেরকে যাবতীয় কলুষতা থেকে মুক্ত করেছেন। আর ভুল এক প্রকার কলুষতা, তাই তারা তা থেকে মুক্ত। তাদের মধ্যকার মতভেদ এই মূলনীতিকে ক্ষুণ্ণ করে না; কারণ সত্য তাদের ঊর্ধ্বে বা বাইরে চলে যায়নি। তাদের কারো বক্তব্য কলুষতা হতে পারে না, কারণ কলুষতার বিরোধিতা ও তার স্বরূপ প্রকাশ ওই বিষয়টির কলুষতা দূর করে দেয়।
ষষ্ঠ দিক:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: {যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তারা আপনার রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাকে সত্য হিসেবে দেখতে পায়।} ৫ এবং তাঁর বাণী: {এমনকি যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفاً} 1 وقوله: {رْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} 2 واللام في العلم ليست للاستغراق، وإنما هي للعهد، أي العلم الذي بعث الله به نبيه صلى الله عليه وسلم، وإذا كانوا قد أوتوا هذا العلم، كان اتباعهم واجبا.
الوجه السابع:
قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} 3 الآية. شهد لهم سبحانه أنهم يأمرون بكل معروف، وينهون عن كل منكر، فلو كانت الحادثة في زمانهم لم يفت فيها إلا من أخطأ منهم، لم يكن أحد منهم قد أمر فيها بمعروف، ولا نهى فيها عن منكر، إذ الصواب معروف، والخطأ منكر من بعض الوجوه، ولولا ذلك لما صح التمسك بهذه الآية على أن الإجماع حجة.
الوجه الثامن:
قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} 4. قال غير واحد من السلف: هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ولا ريب أنهم أئمة الصادقين، وكل صادق بعدهم فبهم يأتم في صدقه، بل حقيقة صدقه اتباعه لهم، وكونه معهم، ومعلوم أن من خالفهم في شيء وإن وافقهم في غيره لم يكن معهم فيما خالفهم فيه، فتنتفي عنه المعية
--------------------------------------------
...তারা আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে, "এইমাত্র তিনি কী বললেন?" [১] এবং আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন।" [২] এখানে 'আল-ইলম' (জ্ঞান) শব্দের 'লাম' অক্ষরটি সার্বজনীনতা (استغراق) বুঝানোর জন্য নয়, বরং এটি সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় বুঝানোর (عهد) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ সেই জ্ঞান যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন। আর যখন তাদেরকে এই জ্ঞান দান করা হয়েছে, তখন তাদের অনুসরণ করা অপরিহার্য (واجب) হয়ে পড়েছে।
সপ্তম দিক:
আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে" (আয়াত)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তারা প্রতিটি সৎকাজের (معروف) আদেশ দেয় এবং প্রতিটি অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে। সুতরাং, যদি তাদের যুগে এমন কোনো ঘটনা ঘটত যাতে তারা সবাই ভুল করত, তবে তাদের কেউ তখন সৎকাজের আদেশ দিত না এবং অসৎকাজ থেকেও নিষেধ করত না। কারণ সঠিক বিষয়টি হলো সৎকাজ (معروف) আর ভুল বিষয়টি কোনো কোনো দিক থেকে অসৎকাজ (منكر)। আর যদি এমনটি না হতো, তবে এই আয়াত দ্বারা ইজমা (إجماع) বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যে একটি দলিল (حجة), তা প্রমাণ করা সঠিক হতো না।
অষ্টম দিক:
আল্লাহ তাআলার বাণী: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।" একাধিক সালাফ (سلف) বা পূর্বসূরি ইমামগণ বলেছেন: তারা হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁরাই হলেন সত্যবাদীদের ইমাম। তাঁদের পরবর্তী প্রত্যেক সত্যবাদী ব্যক্তি তাঁদের সত্যবাদিতাকেই অনুসরণ করে; বরং সত্যবাদিতার প্রকৃত অর্থই হলো তাঁদের অনুসরণ করা এবং তাঁদের সাথে থাকা। এটি সুবিদিত যে, কেউ যদি কোনো বিষয়ে তাঁদের বিরোধিতা করে—যদিও অন্য বিষয়ে সে তাঁদের সাথে একমত হয়—তবে যে বিষয়ে সে বিরোধিতা করেছে তাতে সে তাঁদের সাথে থাকল না। ফলে এক্ষেত্রে তাঁদের 'সাথে থাকা'র বিষয়টি তার থেকে নাকচ হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلقة، وإن ثبت له قسط من المعية فيما وافقهم فيه، فلا يصدق عليه أنه معهم بهذا القسط. وهذا كما نفى الله ورسوله الإيمان المطلق عن الزاني والشارب والسارق، وهذا كما أن اسم الفقيه والعالم عند الإطلاق لا يقال لمن معه مسألة أو مسألتان، وإن قيل: معه شيء من العلم. ففرق بين المعية المطلقة ومطلق المعية، ومعلوم أن المأمور به الأول لا الثاني، فإن الله سبحانه لم يرد منا أن نكون معهم في شيء من الأشياء، وأن نحصل من المعية ما يصدق عليه الاسم، وهذا غلط عظيم في فهم مراد الرب من أوامره، فإذا أمرنا بالتقوى والبر والصدق والعفة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والجهاد ونحو ذلك، لم يرد منا أن نأتي من ذلك بأقل ما يطلق عليه الاسم.
الوجه التاسع:
قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً} 1. ووجه الاستدلال بالآية أنه سبحانه وتعالى أخبر أنه جعلهم أمة خيارا عدلا، هذا حقيقة الوسط، فهم خير الأمم وأعدلها في أقوالهم وأعمالهم وإراداتهم ونياتهم، وبهذا استحقوا أن يكونوا شهداء للرسل على أممهم يوم القيامة، والله سبحانه يقبل شهادتهم عليهم فهم شهداؤه، ولهذا نوَّه بهم، ورفع ذكرهم، وأثنى عليهم، لأنه سبحانه لما اتخذهم شهداء أعلم خلقه من الملائكة وغيرهم بحال هؤلاء الشهداء، وأمر ملائكته أن تصلي عليهم، وتدعو لهم، وتستغفر لهم. والشاهد المقبول عند الله هو الذي يشهد بعلم وصدق، فيخبر بالحق،
--------------------------------------------
নিরঙ্কুশ সাহচর্য (المعية المطلقة), যদিও সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের সাথে ঐকমত্যের কারণে কোনো ব্যক্তির জন্য সাহচর্যের একটি অংশ সাব্যস্ত হয়, তবে এই সামান্য অংশের কারণে তাঁর ওপর নিরঙ্কুশভাবে এই নামটির প্রয়োগ সত্য হবে না। এটি ঠিক তেমনই যেমন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যভিচারী, মদ্যপায়ী এবং চোরের থেকে নিরঙ্কুশ ঈমান (الإيمان المطلق) অস্বীকার করেছেন। এবং এটি ঠিক তেমনি যেমন 'ফকিহ' বা 'আলেম' নাম দুটি নিরঙ্কুশভাবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় না যার মাত্র একটি বা দুটি মাসআলা জানা আছে, যদিও বলা যেতে পারে যে তার কাছে কিছুটা ইলম রয়েছে। সুতরাং নিরঙ্কুশ সাহচর্য (المعية المطلقة) এবং সাহচর্যের সামান্য অংশ (مطلق المعية)-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর এটি সুবিদিত যে, প্রথমটির নির্দেশই দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয়টির নয়। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের থেকে এটি চাননি যে আমরা কোনো একটি সামান্য বিষয়ে তাদের সাথে থাকব আর সেই সামান্য সাহচর্য অর্জনের মাধ্যমেই এই নামের অধিকারী হব। আল্লাহর আদেশের উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ভুল। অতএব তিনি যখন আমাদের তাকওয়া, নেক কাজ, সত্যবাদিতা, পবিত্রতা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ এবং জিহাদ ইত্যাদির নির্দেশ দেন, তখন তিনি আমাদের থেকে এটি চান না যে আমরা এগুলোর কেবল ন্যূনতম পর্যায়টুকু পালন করব যার ওপর ভিত্তি করে নামটির সাধারণ প্রয়োগ ঘটে।
নবম দিক:
আল্লাহ তায়ালার বাণী: "আর এভাবেই আমি তোমাদের এক ভারসাম্যপূর্ণ (وسط) জাতি হিসেবে তৈরি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন।" ১. এই আয়াত থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাদের এক শ্রেষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) জাতি হিসেবে গঠন করেছেন; আর এটিই হলো 'ওয়াসাত' বা ভারসাম্যপূর্ণতার প্রকৃত অর্থ। সুতরাং তারা তাদের কথা, কাজ, সংকল্প এবং নিয়তের ক্ষেত্রে সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ। আর এই কারণেই তারা কিয়ামতের দিন সকল উম্মতের বিপক্ষে রাসূলগণের পক্ষে সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন, তাই তারা তাঁরই মনোনীত সাক্ষী। এজন্যই তিনি তাদের মর্যাদা উচ্চকিত করেছেন, তাদের আলোচনাকে সমুন্নত করেছেন এবং তাদের প্রশংসা করেছেন। কারণ তিনি যখন তাদের সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তখন তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত তথা ফেরেশতা ও অন্যান্যদের এই সাক্ষীদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের জন্য রহমতের দোয়া করতে, প্রার্থনা করতে এবং ক্ষমা চাইতে। আর আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) সাক্ষী তিনিই যিনি জ্ঞান ও সত্যবাদিতার সাথে সাক্ষ্য দেন এবং সত্য প্রকাশ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مستندا إلى علمه به، كما قال تعالى: {إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 1. فقد يخبر الإنسان بالحق اتفاقا من غير علمه به، وقد يعلمه ولا يخبر به، فالشاهد المقبول عند الله هو الذي يخبر به عن علم. فلو كان علمهم أن يفتي أحدهم بفتوى وتكون خطأ مخالفة لحكم الله ورسوله، ولا يفتي غيره بالحق، كانت هذه الأمة العدل قد أطبقت على خلاف الحق، بل انقسموا قسمين: قسما أفتى بالباطل، وقسما سكت.
الوجه العاشر:
قوله تبارك وتعالى: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيداً عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} 2 الآية. فأخبر سبحانه وتعالى أنه اجتباهم، والاجتباء كالاصطفاء، وهو افتعال من جبى الشيء يجبيه إذا ضمه إليه، فهم الذين اجتباهم الله إليه، وجعلهم أهله وخاصته، ولهذا أمرهم سبحانه أن يجاهدوا فيه حق جهاده فيبذلوا له أنفسهم، ويفردوه بالمحبة والعبودية، ويختاروه وحده إلها معبودا محبوبا على كل ما سواه كما اختارهم على من سواهم، ثم أخبر سبحانه أنه يسر عليهم دينه غاية التيسير، ولم يجعل عليهم من حرج ألبئة، لكمال محبته لهم ورأفته ورحمته وحنانه بهم، ثم أمرهم بلزوم ملة إمام الحنفاء أبيهم إبراهيم وهي إفراده سبحانه وحده بالعبودية والتعظيم والحب
--------------------------------------------
সেটি সম্পর্কে তার জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “তবে তারা ছাড়া যারা জেনে-শুনে সত্যের সাক্ষ্য দেয়” ১। কেননা অনেক সময় মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে না জেনেই ঘটনাক্রমে সত্য কথা বলে ফেলে, আবার কখনো সে তা জানে কিন্তু প্রকাশ করে না। সুতরাং আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) সাক্ষী হলেন সেই ব্যক্তি, যে জ্ঞানের ভিত্তিতে সংবাদ দেয়। যদি তাদের জ্ঞান এমন হতো যে, তাদের মধ্যে কেউ এমন ফতোয়া দেয় যা ভুল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানের পরিপন্থী, আর অন্য কেউ সত্যের ভিত্তিতে ফতোয়া না দেয়, তবে এই ন্যায়পরায়ণ (عدل) উম্মত সত্যের পরিপন্থী বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেত। বরং তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ত: একদল বাতিলের ওপর ফতোয়া দিত এবং অন্যদল নীরব থাকত।
দশম দিক:
মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন। দ্বীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা চাপিয়ে দেননি। এটা তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ। তিনি আগে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষী হও” ২ (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের মনোনীত করেছেন। এই মনোনয়ন হলো নির্বাচনের অনুরূপ, যা এমন একটি শব্দমূল থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কোনো কিছুকে নিজের দিকে টেনে নেওয়া বা গুছিয়ে নেওয়া। সুতরাং তারাই সেই জনগোষ্ঠী যাদের আল্লাহ নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের তাঁর আপন ও বিশেষ বান্দা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এজন্যই তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাঁর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করে, তাঁর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে, ভালোবাসা ও ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করে এবং অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাঁকেই একমাত্র উপাস্য ও প্রিয় ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে, যেমন তিনি তাদের অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের জন্য তাঁর দ্বীনকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছেন এবং তাদের ওপর কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য রাখেননি। এটি তাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, মমতা, দয়া ও করুণার পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ। এরপর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন একনিষ্ঠদের ইমাম, তাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শকে আঁকড়ে ধরতে, যা হলো ইবাদত, মহত্ত্ব ও ভালোবাসায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والخوف والرجاء والتوكل والإنابة والتفويض والاستسلام، فيكون تعلق ذلك من قلوبهم به وحده لا بغيره، ثم أخبر سبحانه أنه نوه بهم وأثنى عليهم قبل وجودهم، وسماهم عباده المسلمين قبل أن يظهرهم، ثم نوه بهم، وسماهم كذلك بعد أن أوجدهم اعتناء بهم، ورفعة لشأنهم، وإعلاء لقدرهم، ثم أخبر سبحانه أنه فعل ذلك ليشهد عليهم رسوله، ويشهدوا هم على الناس. فيكون مشهودا لهم بشهادة الرسول صلى الله عليه وسلم شاهدين على الأمم بقيام حجة الله عليهم، فكان هذا التنويه وإشادة الذكر بهذين الأمرين الجليلين، ولهاتين الحكمتين العظيمتين. والمقصود: أنهم إذا كانوا بهذه المنزلة عنده سبحانه فمن المحال أن يحرمهم كلهم الصواب في مسألة، فيفتي بعضهم بالخطأ، ولا يفتي غيره بالصواب، ويظفر به من بعدهم، والله المستعان.
الوجه الحادي عشر:
قوله تبارك وتعالى: {وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 1. أخبر سبحانه عن المعتصمين به أنهم قد هدوا إلى الحق، والصحابة معتصمون بالله، لقوله تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ} 2 ومعلوم كمال تولي الله سبحانه لهم ونصره إياهم أتم نصر، وهذا يدل على أنهم اعتصموا به أتم اعتصام.
--------------------------------------------
ভীতি, আশা, তাওয়াক্কুল, আল্লাহর অভিমুখী হওয়া, সবকিছু তাঁর ওপর অর্পণ করা এবং আত্মসমর্পণ; এর ফলে তাদের অন্তরের এই সকল বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকে কেবল তাঁরই সাথে, অন্য কারো সাথে নয়। অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের অস্তিত্ব লাভের পূর্বেই তাদের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেছেন এবং তাদের প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই তাদের 'মুসলিম বান্দা' হিসেবে নামকরণ করেছেন। অতঃপর তাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়ে, তাদের শান সমুন্নত করার নিমিত্তে এবং তাদের মর্যাদা উচ্চকিত করার লক্ষ্যে তাদের সৃষ্টির পরেও তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন এবং একইভাবে অভিহিত করেছেন। এরপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তা করেছেন যাতে তাঁর রসূল তাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তারা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হতে পারেন। ফলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাক্ষ্যের মাধ্যমে তাদের অনুকূলে সাক্ষ্য প্রদান করা হবে এবং তারা অন্যান্য উম্মতদের ওপর আল্লাহর প্রমাণ (حجة) কায়েমের মাধ্যমে সাক্ষী হবেন। সুতরাং এই সুখ্যাতি ও গুণকীর্তন ছিল এই দুটি মহান বিষয় এবং এই দুটি সুমহান হিকমতের কারণে। মূল উদ্দেশ্য হলো: যখন মহান আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা এই স্তরে, তখন এটি অসম্ভব যে তিনি তাদের সকলকে কোনো একটি মাসআলায় সঠিক (صواب) সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত করবেন, যার ফলে তাদের কেউ ভুলের ওপর ফতোয়া প্রদান করবে অথচ অন্য কেউ সঠিক ফতোয়া দিবে না, আর তাদের পরবর্তী কেউ সেই সত্যটি লাভ করবে; আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
একাদশ দিক:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, সে অবশ্যই সরল পথের দিশা পেয়েছে} ১। মহান আল্লাহ তাঁর রজ্জু ধারণকারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা সত্যের (حق) দিশা পেয়েছে। আর সাহাবীগণ আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধরো, তিনি তোমাদের অভিভাবক; কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী} ২। এটি সর্বজনবিদিত যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কর্তৃক তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ সাহায্য প্রদান ছিল অত্যন্ত নিখুঁত, যা প্রমাণ করে যে তারা আল্লাহকে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২০)
الوجه الثاني عشر:
قوله تعالى عن أصحاب موسى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآياتِنَا يُوقِنُونَ} 1. فأخبر سبحانه أنه جعل منهم أئمة يأتم بهم من بعدهم، لصبرهم ويقينهم، إذ بالصبر واليقين تنال الإمامة في الدين، فإن الداعي إلى الله لا يتم له أمره إلا بيقينه للحق الذي يدعو إليه، وبصيرته به، وصبره على تنفيذ الدعوة إلى الله باحتمال مشاق الدعوة، وكف النفس عما يوهن عزمه؛ فمن كان بهذه المثابة كان من الأئمة الذين يهدون بأمره سبحانه، وأصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أحق وأولى بهذا الوصف من أصحاب موسى، فهم أولى بمنصب هذه الإمامة.
الوجه الثالث عشر.
قوله تبارك وتعالى: {وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً} 2. وإمام بمعنى قدوة، وهو يصلح للواحد والجمع، كالأمة والأسوة، وقد قيل: هو جمع آمم كصاحب وصحاب وراجل ورجال وتاجر وتجار، وقيل: مصدر كقتال وضراب، أي ذوى إمام، والصواب الوجه الأول، فكل من كان من المتقين وجب عليه أن يأتم بهم، والتقوى واجبة فالائتمام بهم واجب.
الوجه الرابع عشر.
ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في الصحاح أنه قال: "خير القرون القرن الذي بعثت فيه، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم" 3 فأخبر
--------------------------------------------
দ্বাদশ দিক:
মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত} ১। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন ইমাম বা নেতা মনোনীত করেছিলেন যাদেরকে পরবর্তী লোকেরা অনুসরণ করবে—তাদের ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে। কেননা ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই দ্বীনের ইমামত বা নেতৃত্ব লাভ করা যায়। কারণ আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর কাজ পূর্ণতা পায় না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না সে যে সত্যের দিকে আহ্বান করছে তার প্রতি তার দৃঢ় বিশ্বাস ও অন্তর্দৃষ্টি থাকে, আর আল্লাহর দাওয়াত বাস্তবায়নে এর প্রতিকূলতা সহ্য করার ধৈর্য এবং সংকল্পকে দুর্বল করে দেয় এমন বিষয় থেকে নফসকে বিরত রাখার ক্ষমতা থাকে। অতএব, যে ব্যক্তি এই মর্যাদার অধিকারী হবে, সে-ই হবে সেইসব ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর আদেশে পথপ্রদর্শন করেন। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথীদের তুলনায় এই গুণাবলিতে ভূষিত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য ও অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবিদার; সুতরাং তাঁরা এই ইমামত বা নেতৃত্বের পদের জন্য অধিকতর উপযুক্ত।
ত্রয়োদশ দিক।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {এবং যারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের বংশধরদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর বস্তু দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ স্বরূপ করুন} ২। এখানে ইমাম বা নেতা অর্থ হলো আদর্শ (قدوة), যা একবচন ও বহুবচন উভয়ের জন্য প্রযোজ্য, যেমন 'উম্মাহ' এবং 'উসওয়াহ' শব্দ দুটি। কেউ কেউ বলেছেন: এটি 'আম্মিম' শব্দের বহুবচন, যেমন 'সাহেব' থেকে 'সিহাব', 'রাজিল' থেকে 'রিজাল' এবং 'তাজির' থেকে 'তুজ্জার'। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি মাসদার বা মূল ধাতু, যেমন 'কিতাল' ও 'দিরাব'; অর্থাৎ 'ইমামতের অধিকারী'। সঠিক মত হলো প্রথমটি। সুতরাং যারা মুত্তাকী, তাদের প্রত্যেকের জন্য সাহাবীদের অনুসরণ করা আবশ্যক, আর যেহেতু তাকওয়া অবলম্বন করা আবশ্যক, তাই তাঁদের অনুসরণ করাও আবশ্যক।
চতুর্দশ দিক।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) গ্রন্থসমূহে যা প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সর্বোত্তম যুগ হলো সেই যুগ যে যুগে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর তাদের পরবর্তী যারা আসবে, অতঃপর তাদের পরবর্তী যারা আসবে" ৩। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২১)
صلى الله عليه وسلم أن خير القرون قرنه مطلقا، وذلك يقتضي تقديمهم في كل باب من أبواب الخير، وإلا لكانوا خيرا من بعض الوجوه، فلا يكونون خير القرون مطلقا، ثم هذا يتعدد في مسائل عدة، لأن من يقول ليس بحجة، يجوز عنده أن يكون من بعدهم أصاب في كل مسألة قال فيها الصحابي قولا، ولم يخالفه صحابي آخر، وهذا يأتي في مسائل كثيرة تفوق العد والإحصاء.
الوجه الخامس عشر:
ما روى مسلم في صحيحه من حديث أبي موسى، قال: "صليت المغرب مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا: لو جلسنا حتى نصلي معه العشاء، جلسنا، فخرج علينا، قال: ما زلتم هاهنا؟ قلنا: يا رسول الله صلينا معك المغرب، ثم جلسنا حتى نصلي معك العشاء، قال: أحسنتم وأصبتم ورفع رأسه إلى السماء، وكان كثيرا ما يرفع رأسه إلى السماء، فقال: النجوم أمنة للسماء، فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد، وأنا أمنة لأصحابي، فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون، وأصحابي أمنة لأمتي، فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما يوعدون" 1 ووجه الاستدلال بالحديث أنه جعل نسبة أصحابه إلى من بعدهم كنسبته إلى أصحابه، ومعلوم أن هذا يعطي من وجوب الاهتداء بهم ما هو نظير اهتدائهم بنبيهم صلى الله عليه وسلم ونظير اهتداء أهل الأرض بالنجوم. وأيضا فإنه جعل بقاءهم بين الأمة أمنة لهم وحرزا من الشر وأسبابه.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হলো তাঁর যুগ (নিঃশর্তভাবে)। আর এটি কল্যাণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার প্রদানকে আবশ্যক করে। অন্যথায় তাঁরা কেবল বিশেষ কিছু দিক থেকে শ্রেষ্ঠ হতেন, ফলে তাঁদের যুগ নিঃশর্তভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হতো না। অতঃপর এটি অনেকগুলো মাসআলায় পুনরাবৃত্ত হয়; কারণ যারা মনে করেন যে তাঁদের (সাহাবীদের) বক্তব্য দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়, তাদের মতে সাহাবীদের পরবর্তী কেউ এমন প্রতিটি মাসআলায় সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব যেখানে কোনো সাহাবী একটি মত প্রদান করেছেন এবং অন্য কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা করেননি। আর এটি এত অধিক মাসআলায় ঘটে যা গণনা ও পরিসংখ্যানের বাইরে।
পঞ্চদশ দিক:
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। আমরা বললাম: যদি আমরা এশার সালাত পর্যন্ত বসে থাকি এবং তাঁর সাথে আদায় করি! অতঃপর আমরা বসে রইলাম। তখন তিনি আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: 'তোমরা কি এখনো এখানে আছো?' আমরা বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আমরা বসে রইলাম যাতে আপনার সাথে এশার সালাত আদায় করতে পারি।' তিনি বললেন: 'তোমরা উত্তম কাজ করেছ এবং সঠিক কাজ করেছ।' অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করলেন—আর তিনি প্রায়ই আকাশের দিকে মাথা তুলতেন—এবং বললেন: 'নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আকাশের উপর যা প্রতিশ্রুত তা নেমে আসবে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের উপর যা প্রতিশ্রুত তা এসে পড়বে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের উপর যা প্রতিশ্রুত তা চলে আসবে'।" ১ এই হাদিস থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো এই যে, তিনি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের সাথে তাঁর সাহাবীদের সম্পর্ককে তাঁর নিজের সাথে সাহাবীদের সম্পর্কের ন্যায় নির্ধারণ করেছেন। আর এটি সুপরিচিত যে, এটি সাহাবীদের মাধ্যমে হেদায়াত লাভের বিষয়টিকে তেমনি আবশ্যক করে তোলে যেমনটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে তাঁদের হেদায়াত প্রাপ্তি এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করা। তদুপরি, তিনি উম্মতের মাঝে তাঁদের অবস্থানকে সকল অনিষ্ট ও তার কারণসমূহ থেকে রক্ষার জন্য একটি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২২)
الوجه السادس عشر:
ما رواه أبو عبد الله بن بطة من حديث الحسن عن أنس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن مثل أصحابي في أمتي كمثل الملح في الطعام، لا يصلح الطعام إلا بالملح ". قال الحسن: فقد ذهب ملحنا فكيف نصلح. وروى ابن بطة أيضا بإسنادين إلى عبد الرزاق، أخبرنا معمر عمن سمع الحسن يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مثل أصحابي في الناس كمثل الملح في الطعام". ثم يقول الحسن: هيهات! ذهب ملح القوم. وقال الإمام أحمد: حدثنا حسن بن علي الجعفي عن أبي موسى - يعني إسرائيل- عن الحسن، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مثل أصحابي كمثل الملح في الطعام". قال: يقول الحسن: هل يطيب الطعام إلا بالملح؟، ويقول الحسن: فكيف بقوم ذهب ملحهم؟. ووجه الاستدلال أنه شبه أصحابه في صلاح دين الأمة بهم بالملح الذي صلاح الطعام به، فلو جاز أن يفتوا بالخطأ، ويظفر بالصواب من بعدهم، لكان من بعدهم ملحا لهم. يوضحه: أن الملح كما أنه صلاح الطعام فالصواب به صلاح الأنام، فلو أخطؤوا لاحتاج ذلك إلى ملح يصلحه.
الوجه السابع عشر:
ما روى البخاري عن أبي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تسبوا أصحابي، فلو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مدّ
ষোড়শ দিক:
আবু আবদুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ হাসান (রাহ.)-এর সূত্রে আনাস (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মাঝে আমার সাহাবীদের উপমা হলো খাদ্যে লবণের মতো; লবণ ছাড়া যেমন খাদ্য সুস্বাদু হয় না।" হাসান (রাহ.) বলেন: "আমাদের লবণ তো নিঃশেষ হয়ে গেছে, এখন আমরা কীভাবে সংশোধিত হব?" ইবনে বাত্তাহ আরও দুটি সনদ (إسناد) সহকারে আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মা'মার এমন এক ব্যক্তি থেকে সংবাদ দিয়েছেন যিনি হাসানকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মাঝে আমার সাহাবীদের উপমা হলো খাদ্যে লবণের মতো।" অতঃপর হাসান বলতেন: "হায় আফসোস! সেই জাতির লবণ তো চলে গেছে।" ইমাম আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী আল-জু'ফি আবু মুসা —অর্থাৎ ইসরাঈল— থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার সাহাবীদের উপমা হলো খাদ্যে লবণের উপমার মতো।" বর্ণনাকারী বলেন: হাসান বলতেন: "লবণ ছাড়া কি খাদ্য সুস্বাদু হয়?" হাসান আরও বলতেন: "সেই জাতির অবস্থা কেমন হবে যাদের লবণ নিঃশেষ হয়ে গেছে?" দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো—তিনি উম্মতের দ্বীনের সংশোধনে সাহাবীদের লবণের সাথে তুলনা করেছেন, যে লবণের দ্বারা খাদ্যের সংশোধন হয়। সুতরাং তারা যদি ভুল ফতোয়া দিতেন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতো, তবে তাদের পরবর্তী প্রজন্মই তাদের জন্য লবণের ন্যায় সাব্যস্ত হতো। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বললে: লবণ যেমন খাদ্যের উপাদেয়তা নিশ্চিত করে, তেমনি সঠিক সিদ্ধান্তও মানবজাতির সংশোধন নিশ্চিত করে। অতএব, তারা যদি ভুল করতেন, তবে তা সংশোধনের জন্য পুনরায় লবণের প্রয়োজন হতো।
সপ্তদশ দিক:
বুখারি আবু সাঈদ (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তাদের এক মুদ (পরিমাণ)..."
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أحدهم ولا نصيفه" 1. وفي لفظ: "فوالذي نفسي بيده". وهذا خطاب منه لخالد بن الوليد ولأقرانه من مسلمة الفتح والحديبية; فإذا كان مد أحد أصحابه ونصيفه أفضل عند الله من مثل أحد ذهبا من مثل خالد وأضرابه من الصحابة، فكيف يجوز أن يحرمهم الله الصواب، ويظفر به من بعدهم؟
الوجه الثامن عشر:
ما روى الحميدي، حدثنا محمد بن طلحة، حدثني عبد الرحمن بن سالم ابن عبد الرحمن بن عويم بن ساعدة عن أبيه عن جده، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله اختارني، واختار لي أصحابا، فجعل لي منهم وزراء وأنصارا وأصهارا" الحديث، ومن المحال أن يحرم الله الصواب من اختارهم لرسوله، ويعطيه من بعدهم.
الوجه التاسع عشر:
ما رواه أبو داود الطيالسي، حدثنا المسعودي عن عاصم عن أبي وائل عن ابن مسعود، قال: "إن الله نظر في قلوب العباد فوجد قلب محمد صلى الله عليه وسلم خير قلوب العباد، فبعثه برسالته، ثم نظر في قلوب العباد بعد قلب محمد صلى الله عليه وسلم فوجد قلوب أصحابه خير قلوب العباد، فاختارهم لصحبة نبيه ونصرة دينه، فما رآه المسلمون حسنا فهو عند الله حسن، وما رآه المسلمون قبيحا فهو عند الله قبيح". ومن المحال أن يخطئ الحق خير قلوب العباد بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم ويظفر به من بعدهم.
--------------------------------------------
"...তাদের কারো এক মুদ (مد) এমনকি অর্ধেকও নয়।" ১. এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ।" এটি তাঁর পক্ষ থেকে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ এবং মক্কা বিজয় ও হুদায়বিয়ার সময় ইসলাম গ্রহণকারী তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রতি একটি সম্বোধন; সুতরাং যদি তাঁর কোনো একজন সাহাবীর এক মুদ (مد) বা তার অর্ধেক ব্যয় করা আল্লাহ্র কাছে খালিদ ও তাঁর মতো সাহাবীদের উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়, তবে কীভাবে এটা সম্ভব হতে পারে যে, আল্লাহ্ তাঁদের সঠিক (صواب) বিষয়টি থেকে বঞ্চিত করবেন এবং তাঁদের পরবর্তী আগতরা তা লাভ করবে?
অষ্টাদশ দিক:
আল-হুমায়দী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে সালিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উয়াইম ইবনে সায়েদা তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবীদের মনোনীত করেছেন। অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে আমার জন্য উজির (وزراء), সাহায্যকারী (أنصار) এবং আত্মীয় (أصهار) নির্ধারণ করেছেন।" - হাদিস। এটা অসম্ভব যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলের জন্য যাদের মনোনীত করেছেন তাঁদের সঠিক (صواب) বিষয়টি থেকে বঞ্চিত করবেন এবং তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের তা দান করবেন।
ঊনবিংশ দিক:
আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদী আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এরপর তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যের জন্য মনোনীত করেছেন। সুতরাং মুসলমানগণ যা উত্তম (حسن) মনে করেন, তা আল্লাহ্র কাছেও উত্তম (حسن), আর মুসলমানগণ যা মন্দ (قبيح) মনে করেন, তা আল্লাহ্র কাছেও মন্দ (قبيح)।" এটা অসম্ভব যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে বান্দাদের সর্বোত্তম অন্তরসমূহ সত্য (حق) থেকে বিচ্যুত হবে এবং পরবর্তী লোকেরা তা জয়যুক্ত হবে বা তা লাভ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأيضا فإن ما أفتى به أحدهم، وسكت عنه الباقون، فإما أن يروه حسنا أو قبيحا، فإن رأوه حسنا فهو حسن عند الله، وإن رأوه قبيحا ولم ينكروه لم تكن قلوبهم من خير قلوب العباد، وكان من أنكره بعدهم خيرا منهم وأعلم، وهذا من أبين المحال.
الوجه العشرون:
ما رواه أحمد وغيره عن ابن مسعود أنه قال: "من كان متأسيا فليتأس بأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فإنهم كانوا أبر هذه الأمة قلوبا، وأعمقها علما، وأقلها تكلفا، وأقومها هديا، وأحسنها حالا، قوم اختارهم الله لصحبة نبيه، وإقامة دينه، فاعرفوا لهم فضلهم، واتبعوا آثارهم، فإنهم كانوا على الهدى المستقيم".
الوجه الحادي والعشرون:
ما رواه الطبراني وأبو نعيم وغيرهما، عن حذيفة بن اليمان، أنه قال: "يا معشر القراء، خذوا طريق من كان قبلكم، فوالله لئن استقمتم لقد سبقتم سبقا بعيدا، ولئن تركتموه يمينا وشمالا لقد ضللتم ضلالا بعيدا".
الوجه الثاني والعشرون:
ما قاله جندب بن عبد الله لفرقة دخلت عليه من الخوارج; فقالوا: ندعوك إلى كتاب الله، قال: أنتم؟ قالوا: نحن، فقال: "يا أخابث خلق الله، في اتباعنا تختارون الضلالة، أم في غير سنتنا تلتمسون الهدى؟ اخرجوا عني".
আরও কথা হলো, তাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো ফতোয়া দিয়েছেন এবং অন্য সকলে সে বিষয়ে নীরব থেকেছেন, তবে তারা সেটিকে হয় উত্তম (حسن) মনে করেছেন অথবা মন্দ মনে করেছেন। যদি তারা সেটিকে উত্তম (حسن) মনে করে থাকেন, তবে তা আল্লাহর কাছেও উত্তম (حسن)। আর যদি তারা সেটিকে মন্দ মনে করে থাকেন এবং তার প্রতিবাদ না করে থাকেন, তবে তাদের অন্তরসমূহ বান্দাদের অন্তরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হতো না এবং যারা তাদের পরে এর প্রতিবাদ করত তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও অধিক জ্ঞানী হতো; অথচ এটি স্পষ্টতই অসম্ভব।
বিংশতম দিক:
যা আহমদ ও অন্যান্যরা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আদর্শ গ্রহণ করতে চায়, সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের আদর্শ গ্রহণ করে; কারণ তারা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পুণ্যবান, জ্ঞানের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত, হিদায়াতের দিক থেকে সবচেয়ে সঠিক এবং অবস্থার দিক থেকে সর্বোত্তম। তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা স্বীকার করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো, কেননা তারা সরল সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।"
একবিংশতম দিক:
যা তাবারানি, আবু নুআইম এবং অন্যান্যরা হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "হে ক্বারী সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অবলম্বন করো। আল্লাহর কসম, যদি তোমরা এই পথে অটল থাকো তবে তোমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আর যদি তোমরা একে ডানে কিংবা বামে পরিত্যাগ করো, তবে তোমরা চরমভাবে পথভ্রষ্ট হবে।"
দ্বাবিংশতম দিক:
জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ খারিজিদের একটি দলের প্রতি যা বলেছিলেন যখন তারা তাঁর নিকট এসেছিল; তারা বলল: "আমরা আপনাকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করছি।" তিনি বললেন: "তোমরা?" তারা বলল: "হ্যাঁ, আমরা।" তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতমরা! আমাদের অনুসরণের মধ্যেই কি তোমরা পথভ্রষ্টতা বেছে নিচ্ছো, নাকি আমাদের সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোথাও হিদায়াত অনুসন্ধান করছো? আমার নিকট থেকে দূর হয়ে যাও।"
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الوجه الثالث والعشرون:
ما رواه الترمذي من حديث العرباض بن سارية قال: "وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة بليغة، ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله، كأنها موعظة مودع، فماذا تعهد إلينا؟ فقال: عليكم بالسمع والطاعة، وإن تأمر عليكم عبد حبشي" 1 الحديث، وهذا حديث حسن، إسناده لا بأس به، فقرن سنة الخلفاء بسنته، وأمر باتباعها، وبالغ في الأمر بها، وهذا يتناول ما أفتوا به، وسنوه للأمة، وإن لم يتقدم من نبيهم فيه شيء، وإلا كان ذلك سنته، ويتناول ما أفتى به جميعهم، أو أكثرهم، أو بعضهم، لأنه علق ذلك بما سنه الخلفاء الراشدون؛ ومعلوم أنهم لم يسنوا ذلك وهم خلفاء في آن واحد، فعلم أن ما سنه كل واحد منهم في وقته فهو من سنة الخلفاء الراشدين.
الوجه الرابع والعشرون:
ما رواه الترمذي من حديث الثوري، عن عبد الملك بن عمير عن هلال مولى ربعي بن حراش، عن ربعي، عن حذيفة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقتدوا باللذيْن من بعدي أبي بكر وعمر، واهتدوا بهدي عمار، وتمسكوا بعهد ابن أم عبد" 2 قال الترمذي: هذا حديث حسن.
--------------------------------------------
ত্রয়বিংশ দিক:
ইমাম তিরমিজি ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাতে বলা হয়েছে: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এক অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী উপদেশ প্রদান করলেন, যাতে চোখ থেকে অশ্রু বিগলিত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন এক ব্যক্তি আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! মনে হচ্ছে এটি কোনো বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশ, অতএব আপনি আমাদের কী অসিয়ত করছেন? তিনি বললেন: আমি তোমাদের কথা শোনা ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিচ্ছি, যদিও তোমাদের ওপর কোনো হাবশি ক্রীতদাসকেও আমির নিযুক্ত করা হয়।" ১ হাদিস। এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস এবং এর সনদ (إسناد) ত্রুটিমুক্ত (لا بأس به)। এখানে তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহকে নিজের সুন্নাহর সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং তা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন, এমনকি এই নির্দেশের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি তাদের প্রদানকৃত ফতোয়া এবং উম্মতের জন্য তাদের প্রবর্তিত রীতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও তাদের নবি থেকে ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু বর্ণিত না হয়ে থাকে; অন্যথায় তা স্বয়ং নবিরই সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হতো। এটি তাদের সকলের, অথবা অধিকাংশের কিংবা তাদের মধ্য থেকে কোনো একজনের প্রদানকৃত ফতোয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা তিনি বিষয়টিকে খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রবর্তিত সুন্নাহর সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। এটি সুপরিচিত যে, তারা সকলে একই সময়ে খলিফা হিসেবে কোনো সুন্নাহ বা রীতি প্রবর্তন করেননি। সুতরাং জানা গেল যে, তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ সময়ে যা প্রবর্তন করেছেন তা খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহরই অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্বিংশ দিক:
ইমাম তিরমিজি সওরি থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবনে হিরাশ-এর মুক্তদাস হিলাল থেকে, তিনি রিবয়ী থেকে এবং তিনি হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরবর্তী এই দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর; আর আম্মারের আদর্শ গ্রহণ করো এবং ইবনে উম্মে আবদের অসিয়ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।" ২ ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الوجه الخامس والعشرون:
ما رواه مسلم في صحيحه عن أبي قتادة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن يطع القوم أبا بكر وعمر يرشدوا" 1، وهو في حديث الميضأة الطويل 2.
الوجه السادس والعشرون:
أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبي بكر وعمر في شأن تأمير القعقاع والأقرع: "لو اتفقتما على شيء لم أخالفكما" 3.
الوجه السابع والعشرون:
أن النبي صلى الله عليه وسلم نظر إلى أبي بكر وعمر فقال: "هذان السمع والبصر" 4، أي هما مني بمنزلة السمع والبصر، أو هما من الدين بمنزلة السمع والبصر.
الوجه الثامن والعشرون:
ما رواه أبو داود عن أبي ذر، قال: " مر فتى على عمر، فقال عمر: نعم الفتى، فتبعه أبو ذر، فقال: يا فتى، استغفر لي، فقال: يا أبا ذر، أستغفر لك وأنت صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: استغفر لي، قال: لا، أو تخبرني، قال: إنك مررت على عمر، فقال: نعم
--------------------------------------------
পঁচিশতম দিক:
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "লোকেরা যদি আবু বকর ও উমরের আনুগত্য করে, তবে তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত হবে" ১; আর এটি পানির পাত্রের দীর্ঘ হাদিস ২-এর অন্তর্ভুক্ত।
ছাব্বিশতম দিক:
আল-কাক্কা ও আল-আকরা'কে আমির নিযুক্ত করার বিষয়ে নবী (সা.) আবু বকর ও উমরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে একমত হতে, তবে আমি তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করতাম না" ৩।
সাতাশতম দিক:
নবী (সা.) আবু বকর ও উমরের দিকে তাকালেন এবং বললেন: "এরা দুজনেই হলো কান ও চোখ" ৪; অর্থাৎ আমার নিকট তাদের মর্যাদা কান ও চোখের সমতুল্য, অথবা দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা কান ও চোখের ন্যায়।
আটাশতম দিক:
আবু দাউদ আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জনৈক যুবক উমরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন উমর বললেন: কতই না চমৎকার এই যুবক! অতঃপর আবু যার তার পিছু নিলেন এবং বললেন: হে যুবক, আমার জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করো। যুবকটি বলল: হে আবু যার, আমি আপনার জন্য ইস্তিগফার করব, অথচ আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবী? তিনি বললেন: আমার জন্য ইস্তিগফার করো। যুবকটি বলল: না, যতক্ষণ না আপনি আমাকে কারণ বলবেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি উমরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছিলে এবং তিনি বলেছিলেন: হাঁ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفتى، وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقول: إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه".
الوجه التاسع والعشرون:
ما رواه مسلم عن عائشة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "قد كان فيمن خلا من الأمم أناس محدثون، فإن يكن في أمتي أحد منهم فهو عمر" 1 وهو في المسند والترمذي من حديث أبي هريرة، والمحدث هو المكلم الذي يلقي الله في روعه الصواب، يحدثه به الملك عن الله.
الوجه الثلاثون:
ما رواه الترمذي عن عقبة بن عامر مرفوعا: "لو كان بعدي نبي لكان عمر" 2، وفي لفظ: "لو لم أبعث فيكم لبعث فيكم عمر". قال الترمذي: حديث حسن.
الوجه الحادي والثلاثون:
ما روى ابن أبي خالد عن الشعبي أن عليا (قال: "ما كنا نبعد أن السكينة تنطق على لسان عمر". ورواه عمرو بن ميمون عن زر عن علي.
الوجه الثاني والثلاثون:
ما رواه واصل الأحدب عن أبي وائل عن ابن مسعود، قال: "ما رأيت عمر إلا وكأن ملكا بين عينيه يسدده".
--------------------------------------------
"...সেই যুবক। আর আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্যকে উমরের জিহ্বা ও হৃদয়ে স্থাপন করেছেন'।"
উনত্রিশতম দিক:
মুসলিম আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলেন যারা অনুপ্রাণিত (محدثون) ব্যক্তি ছিলেন। যদি আমার উম্মতের মধ্যে তাদের কেউ থেকে থাকে, তবে সে উমর।" ১ এবং এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে মুসনাদ এবং তিরমিযী-তে বর্ণিত হয়েছে। আর অনুপ্রাণিত (محدث) ব্যক্তি হলেন তিনি যার সাথে কথা বলা হয় এবং আল্লাহ যার হৃদয়ে সঠিক কথাটি ঢেলে দেন, আর ফেরেশতা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সাথে সেই বিষয়ে কথা বলেন।
ত্রিশতম দিক:
তিরমিযী উকবা ইবনে আমির থেকে রাসুলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যদি আমার পরে কোনো নবী হওয়ার অবকাশ থাকত, তবে উমরই হতো।" ২ এবং অন্য এক শব্দে আছে: "যদি আমি তোমাদের মাঝে প্রেরিত না হতাম, তবে উমর তোমাদের মাঝে প্রেরিত হতো।" তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি উত্তম (حسن)।
একত্রিশতম দিক:
ইবনে আবি খালিদ শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রা.) বলেছেন: "আমরা উমরের জিহ্বা দিয়ে প্রশান্তি কথা বলাকে অসম্ভব মনে করতাম না।" এবং আমর ইবনে মাইমুন জির-এর সূত্রে আলী (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
বত্রিশতম দিক:
ওয়াসিল আল-আহদাব আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি উমরকে যখনই দেখেছি, মনে হয়েছে যেন কোনো এক ফেরেশতা তার দুই চোখের মাঝখানে থেকে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الوجه الثالث والثلاثون:
ما رواه الأعمش عن شقيق، قال: قال عبد الله: "والله لو أن علم عمر وضع في كفة ميزان، وجعل علم أهل الأرض في كفة لرجح علم عمر، فذكرت ذلك لإبراهيم النخعي، فقال: قال عبد الله: والله إني لأحسب عمر ذهب بتسعة أعشار العلم".
الوجه الرابع والثلاثون:
ما رواه ابن عيينة عن عبد الله بن أبي يزيد، قال: "كان ابن عباس إذا سئل عن شيء فكان في القرآن أو السنة قال به، وإلا قال بما قال به أبو بكر وعمر، فإن لم يكن قال برأيه".
الوجه الخامس والثلاثون:
ما رواه منصور عن زيد بن وهب عن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "رضيت لأمتي ما رضي لها ابن أم عبد". كذا رواه يحيى بن يعلى المحاربي عن زائدة 1 عن منصور، والصواب ما رواه إسرائيل وسفيان عن منصور عن القاسم بن عبد الرحمن عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا، ثم ذكر من حديث عمرو بن حريث نحوه.
الوجه السادس والثلاثون:
ما رواه أبو إسحاق عن حارثة بن مضرب، قال: "كتب عمر إلى أهل الكوفة: قد بعثت إليكم عمار بن ياسر أميرا، وابن مسعود معلما ووزيرا،
--------------------------------------------
তেত্রিশতম দিক:
আমাশ শাকিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহর কসম, যদি উমরের জ্ঞান মিজানের এক পাল্লায় রাখা হতো এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের জ্ঞান অন্য পাল্লায় রাখা হতো, তবে উমরের জ্ঞানই ভারী হতো।" আমি ইব্রাহিম নাখয়ীর নিকট তা উল্লেখ করলে তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহর কসম, আমি মনে করি উমর জ্ঞানের দশ ভাগের নয় ভাগই নিয়ে গেছেন।"
চৌত্রিশতম দিক:
ইবনে উইয়ায়না আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইবনে আব্বাসকে যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তা কুরআন বা সুন্নাহতে পাওয়া যেত, তবে তিনি সে অনুযায়ী সমাধান দিতেন। অন্যথায় আবু বকর ও উমর যা বলেছেন তা বলতেন। আর যদি তাও না পাওয়া যেত, তবে তিনি নিজের রায় অনুযায়ী বলতেন।"
পঁয়ত্রিশতম দিক:
মানসুর জাইদ ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইবনে উম্মে আবদ আমার উম্মতের জন্য যা পছন্দ করেছেন, আমিও তাদের জন্য তা পছন্দ করেছি।" ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-মুহারিবি জাইদাহ [১] থেকে এবং তিনি মানসুর থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তবে সঠিক হলো যা ইসরাইল ও সুফিয়ান মানসুর থেকে, তিনি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি আমর ইবনে হুরাইসের হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
ছত্রিশতম দিক:
আবু ইসহাক হারিসাহ ইবনে মুদাররিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর কুফাবাসীদের নিকট লিখেছিলেন: আমি তোমাদের কাছে আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে আমির হিসেবে এবং ইবনে মাসউদকে শিক্ষক ও উজির হিসেবে পাঠিয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهما من النجباء من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم من أهل بدر، فاقتدوا بهما، واسمعوا قولهما، وقد آثرتكم بعبد الله على نفسي".
الوجه السابع والثلاثون:
ما قاله عبادة بن الصامت وغيره: "بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على أن نقول بالحق حيث كنا، ولا نخاف في الله لومة لائم".
الوجه الثامن والثلاثون:
ما ثبت في الصحيح من حديث أبي سعيد الخدري، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رقى المنبر، فقال: "إن عبدا خيره الله بين الدنيا وبين ما عنده، فاختار ما عنده
… " 1 إلخ.
الوجه التاسع والثلاثون:
ما رواه زائدة عن عاصم عن زر عن عبد الله قال: "لما قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت الأنصار: منا أمير ومنكم أمير، فأتاهم عمر، فقال: ألستم تعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر أبا بكر أن يؤم الناس؟ قالوا: بلى. قال: فأيكم تطيب نفسه أن يتقدم أبا بكر؟ فقالوا: نعوذ بالله أن نتقدم أبا بكر" إلخ.
الوجه الأربعون:
ما ثبت في الصحيح عن ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "بينما أنا نائم إذ أُتيت بقدح لبن، فقيل لي: اشرب، فشربت منه حتى إني لأرى الري يجري في أظفاري، ثم أعطيت فضلي عمر 2 قالوا: فما أولت ذلك؟ قال: العلم".
--------------------------------------------
"এবং তাঁরা উভয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী উচ্চমর্যাদাশীল সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা তাঁদের অনুসরণ করো এবং তাঁদের কথা শোনো। আর আমি নিজের ওপর আবদুল্লাহকে (ইবনে মাসউদ) তোমাদের জন্য অগ্রাধিকার দিয়েছি।"
সপ্তত্রিংশতম দিক:
উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযি.) এবং অন্যদের বর্ণিত উক্তি: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করেছি যে, আমরা যেখানেই থাকি সত্য বলব এবং আল্লাহর পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় পাব না।"
অষ্টত্রিংশতম দিক:
সহিহ (صحيح) গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রাযি.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে যা প্রমাণিত (ثابت), যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া এবং আল্লাহর নিকট যা রয়েছে—এ দুয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন; তখন সে বান্দা আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা-ই পছন্দ করে নিয়েছে
… " ১ ইত্যাদি।
ঊনচত্বারিংশতম দিক:
যায়িদা আসিম থেকে, তিনি যির থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন আনসারগণ বললেন: 'আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে।' তখন ওমর (রাযি.) তাঁদের নিকট এসে বললেন: 'তোমরা কি জানো না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাযি.)-কে মানুষের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?' তাঁরা বললেন: 'অবশ্যই।' তিনি বললেন: 'তাহলে তোমাদের মধ্যে কার মন সায় দেয় যে সে আবু বকরের অগ্রবর্তী হবে?' তখন তাঁরা বললেন: 'আমরা আবু বকরের অগ্রবর্তী হওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি'" ইত্যাদি।
চত্বারিংশতম দিক:
সহিহ (صحيح) গ্রন্থে ইবনে উমর (রাযি.) থেকে যা প্রমাণিত (ثابت), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, এমন সময় আমার নিকট এক পেয়ালা দুধ আনা হলো। আমাকে বলা হলো: পান করুন। আমি তা থেকে পান করলাম, এমনকি আমি তৃপ্তির সতেজতা আমার নখ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখলাম। এরপর আমি আমার উদ্বৃত্ত অংশ ওমরকে প্রদান করলাম।" ২ তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি এর কী ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন?" তিনি বললেন: "ইলম (জ্ঞান)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الوجه الحادي والأربعون:
ما ثبت في الصحيح عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اللهم فقهه في الدين" 1.
الوجه الثاني والأربعون:
أن صورة المسألة ما إذا لم يكن في الواقعة حديث، ولا اختلاف بين الصحابة وإنما قال بعضهم فيها قولا ولم يعلم أنه اشتهر في الباقين، ولا أنهم خالفوه، فنقول: من تأمل المسائل الفقهية، وتصرف في مداركها وارتوى من مواردها، علم قطعا أن كثيرا منها قد تشتبه فيها وجوه الرأي، بحيث لا يوثق فيها بظاهر مراد أو قياس صحيح ينشرح له الصدر، بل تتعارض فيها الظواهر والأقيسة على وجه يقف المجتهد في أكثر المواضع، لا سيما إذا اختلف الفقهاء، فإن عقولهم من أكمل العقول، فإذا وجد قول لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين هم سادات الأمة، وأعلم الناس، وقد شاهدوا التنزيل، وعرفوا التأويل، كان الظن والحالة هذه بأن الصواب في جهته من أقوى الظنون، وإذا كان المطلوب في الحادثة إنما هو ظن راجح، فلا شك أن الظن الذي يحصل لنا به أرجح من كثير من الظنون.
الوجه الثالث والأربعون:
أن الصحابي إذا قال قولا فله مدارك ينفرد بها عنا، ومدارك نشاركه فيها، فأما ما يختص به فيجوز أن يكون سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم شفاها أو من صحابي آخر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فإن ما انفردوا به من العلم عنا أكثر من أن يحاط به، فلم يرو كل منهم
--------------------------------------------
একচল্লিশতম দিক:
সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে যা সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করুন।" ১.
বিয়াল্লিশতম দিক:
মাসআলার স্বরূপটি হলো এমন যখন কোনো ঘটনায় কোনো হাদিস নেই এবং সাহাবীগণের মধ্যে কোনো মতপার্থক্যও নেই, বরং তাদের কেউ একজন সেই বিষয়ে একটি অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং এটি অবশিষ্টদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হয়েছে কি না বা তারা এর বিরোধিতা করেছেন কি না তা জানা যায়নি। আমরা বলি: যে ব্যক্তি ফিকহী মাসআলাসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবেন, সেগুলোর উৎসগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করবেন এবং সেগুলোর মূল ধারা হতে জ্ঞান আহরণ করবেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারবেন যে, এগুলোর অনেক ক্ষেত্রে মতামতের দিকগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে কোনো প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) বা সঠিক কিয়াস (قياس صحيح)-এর ওপর এমনভাবে ভরসা করা যায় না যা অন্তরকে প্রশান্ত করে। বরং সেখানে প্রকাশ্য অর্থসমূহ এবং কিয়াসসমূহ এমনভাবে পরস্পর বিরোধী হয় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুজতাহিদ (مجتهد) থমকে দাঁড়ান, বিশেষ করে যখন ফকিহগণ (فقهاء) মতভেদ করেন; কেননা তাদের মেধা হলো সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ মেধার অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়—যারা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী, আর তারা ওহী নাজিল হতে দেখেছেন এবং এর ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে অবগত ছিলেন—তবে এমতাবস্থায় সত্য তাদের দিকেই থাকার প্রবল ধারণা (الظن) অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। আর যখন কোনো নতুন উদ্ভূত ঘটনায় কেবল প্রবল ধারণা (ظن راجح)-ই কাম্য হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের মাধ্যমে আমাদের যে ধারণা অর্জিত হয় তা অন্য অনেক ধারণার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য।
তেতাল্লিশতম দিক:
একজন সাহাবী যখন কোনো কথা বলেন, তখন তার কাছে এমন কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি থাকে যাতে তিনি আমাদের চেয়ে অনন্য, আবার কিছু ভিত্তিতে আমরাও তাঁর অংশীদার। যা তাঁর জন্য বিশেষায়িত, হতে পারে তিনি তা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে মৌখিকভাবে শুনেছেন অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্য কোনো সাহাবীর মাধ্যমে শুনেছেন। কারণ আমাদের তুলনায় তাদের সেই অনন্য জ্ঞান এত বেশি যা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। ফলে তাদের প্রত্যেকেই সব কিছু বর্ণনা (يروي) করেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবহাছুল ইজতিহাদি ওয়াল খিলাফ (মাতবুউুন যিমনা মুয়াল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল জুযউস ছালিছ)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كل ما سمع، وأين ما سمعه الصديق والفاروق وغيرهما من كبار الصحابة رضي الله عنهم إلى ما رووه؟ فلم يرو عنه صديق الأمة مائة حديث، وهو لم يغب عن النبي صلى الله عليه وسلم في شيء من مشاهده، بل صحبه من حين بعث، بل قبل البعث إلى أن توفي.
فقول القائل: لو كان عند الصحابي في هذه الواقعة شيء عن النبي صلى الله عليه وسلم لذكره، قول من لم يعرف سيرة القوم وأحوالهم، فإنهم كانوا يهابون الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعظمونها، ويقللونها خوف الزيادة والنقص، ويحدثون بالشيء سمعوه من النبي صلى الله عليه وسلم مرارا، ولا يصرحون بالسماع. فتلك الفتوى لا تخرج عن ستة أوجه:-
أحدها: أن يكون سمعها من النبي صلى الله عليه وسلم.
الثاني: أن يكون سمعها ممن سمعها منه.
الثالث: أن يكون فهمها من كتاب الله فهما خفي علينا.
الرابع: أن يكون قد اتفق عليها ملؤهم، ولم ينقل إلينا إلا قول المفتي.
الخامس: أن يكون لكمال علمه باللغة ودلالة اللفظ على الوجه الذي انفرد به عنا، أو لقرائن حالية اقترنت بالخطاب، أو لمجموع أمور فهموها على طول الزمان، من رؤية النبي صلى الله عليه وسلم ومشاهدة أفعاله وأحواله وسيرته، وعلى هذه التقادير يكون حجة يجب اتباعها.
السادس: أن يكون فهم ما لم يرده الرسول صلى الله عليه وسلم،
সিদ্দীক, ফারুক এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যা কিছু শুনেছেন এবং যেখানেই শুনেছেন, সেগুলোর তুলনায় তাঁরা কতটুকুই বা বর্ণনা (رواية) করেছেন? উম্মতের সিদ্দীক (আবু বকর) তাঁর থেকে একশটি হাদিসও বর্ণনা করেননি, অথচ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো যুদ্ধ বা উপস্থিতিতেই অনুপস্থিত ছিলেন না; বরং তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন, এমনকি নবুওয়াতের আগে থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।
সুতরাং কোনো বক্তার এই কথা যে—"যদি এই ঘটনার ব্যাপারে সাহাবীর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো কিছু থাকত, তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন"—এমন ব্যক্তির কথা যে সেই সম্প্রদায়ের সীরাত ও অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। কারণ তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণনা (رواية) করার বিষয়টিকে অত্যন্ত ভয় করতেন এবং একে অনেক বড় মনে করতেন। বর্ণনাটি যেন বেড়ে না যায় বা কমে না যায়—সেই ভয়ে তাঁরা বর্ণনা কমিয়ে দিতেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা বারংবার শুনেছেন তা বর্ণনা করতেন ঠিকই, কিন্তু সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার কথা ব্যক্ত করতেন না। অতএব, সেই ফতোয়াগুলো ছয়টি বিষয়ের বাইরে নয়:-
প্রথমত: তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: তিনি তা এমন ব্যক্তির নিকট থেকে শুনেছেন যিনি সরাসরি তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন।
তৃতীয়ত: তিনি এটি আল্লাহর কিতাব থেকে এমনভাবে উপলব্ধি করেছেন যা আমাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
চতুর্থত: তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, কিন্তু আমাদের নিকট কেবল ফতোয়াদানকারীর উক্তিটিই বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চমত: ভাষার ওপর তাঁর পূর্ণ পাণ্ডিত্য এবং শব্দের অর্থগত নির্দেশনার (دلالة اللفظ) এমন বিশেষ দিক যা আমাদের কাছে নেই, অথবা বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক পরিস্থিতির কারণে, অথবা দীর্ঘ সময় ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করা এবং তাঁর কর্ম, অবস্থা ও সীরাত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত সামগ্রিক উপলব্ধির কারণে হতে পারে। এমতাবস্থায় এটি একটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে যা অনুসরণ করা আবশ্যক।
ষষ্ঠত: তিনি এমন কিছু বুঝেছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য করেননি,