0/0
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: -)
مباحث في علوم القرآن لمناع القطان   (مناع القطان)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: مباحث في علوم القرآن

المؤلف: مناع بن خليل القطان (ت 1420هـ)

الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع

الطبعة: الطبعة الثالثة 1421هـ- 2000م

عدد الصفحات: 407

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মান্না আল-কাত্তানের উলূমুল কুরআনের বিবিধ আলোচনা   (মান্না আল-কাত্তান)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর


কিতাব: উলূমুল কুরআনের বিবিধ আলোচনা

লেখক: মান্না বিন খলীল আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৪২০ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ ১৪২১ হি.- ২০০০ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৭

[বইয়ের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مباحث في علوم القرآن

‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الطبعة الأولى للطبعة الجديدة:

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أُقَدِّم هذه الطبعة للدارسين والقراء، وهي طبعة جديدة خاصة بمكتبة المعارف للنشر والتوزيع في الرياض، بعد أن لقي هذا الكتاب قبولًا بتوفيق الله تعالى ما كنت أتوقعه، وترجم إلى عدة لغات، وتقررت دراسته في أكثر الجامعات الإسلامية.

ولست أدعي أنه لا يعدله كتاب آخر في مادته العلمية، ولكنني بذلت جهدي ما استطعت في اصطفاء موضوعاته، واستخلاص لبها، وانتقاء المفيد منها، وصغت ذلك بأسلوب عذب شائق، وعبارات واضحة جلية، وترتيب محكم دقيق. وكان رواج الكتاب إعلانًا عن قبوله ومدى الحاجة إليه.

وأسأل الله أن يرزقنا العلم النافع، وأن ينفعنا وينفع بنا، إنه سميع مجيب.

مناع خليل القطان

الأستاذ بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

والمشرف على الدراسات العليا

في 20/ 2 /1413هـ
উলূমুল কুরআনের তাত্ত্বিক আলোচনা

‌ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

নতুন মুদ্রণের জন্য প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি শিক্ষার্থী ও পাঠকদের জন্য এই সংস্করণটি পেশ করছি; এটি রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন থেকে প্রকাশিত একটি বিশেষ নতুন সংস্করণ। মহান আল্লাহর অনুগ্রহে এই বইটি এমন কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে যা আমি আশা করিনি; এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অধিকাংশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর পঠন-পাঠন নির্ধারিত হয়েছে।

আমি এই দাবি করছি না যে, এর তাত্ত্বিক বিষয়ের দিক থেকে এর সমকক্ষ অন্য কোনো কিতাব নেই, তবে আমি সাধ্যমতো এর বিষয়বস্তু নির্বাচনে, তার নির্যাস বের করে আনতে এবং উপকারী অংশসমূহ বাছাই করতে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। আমি একে একটি প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় শৈলীতে, সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সূক্ষ্ম বিন্যাসে সাজিয়েছি। বইটির ব্যাপক প্রচারই এর গ্রহণযোগ্যতা এবং এর প্রয়োজনীয়তার পরিমাণের জানান দেয়।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করেন, আমাদের উপকৃত করেন এবং আমাদের মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দুআ কবুলকারী।

মান্না খলিল আল-কাত্তান

প্রফেসর, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

এবং উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের সুপারভাইজার

২০/০২/১৪১৩ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التعريف بالعلم وبيان نشأته وتطوره:

القرآن الكريم هو معجزة الإسلام الخالدة التي لا يزيدها التقدم العلمي إلا رسوخًا في الإعجاز، أنزله الله على رسولنا محمد صلى الله عليه وسلم ليُخرج الناس من الظلمات إلى النور، ويهديهم إلى الصراط المستقيم، فكان صلوات الله وسلامه عليه يبلغه لصحابته –وهم عرب خُلَّصٌ- فيفهمونه بسليقتهم، وإذا التبس عليهم فهم آية من الآيات سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عنها.

رَوَى الشيخان وغيرهما عن ابن مسعود قال: "لما نزلت هذه الآية: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} 1، شق ذلك على الناس، فقالوا: يا رسول الله، وأيُّنا لا يظلم نفسه؟ قال: "إنه ليس الذي تعنون، ألم تسمعوا ما قال العبد الصالح: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} 2، إنما هو الشرك".

وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُفَسِّرُ لهم بعض الآيات.

أخرج مسلم وغيره عن عقبة بن عامر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وهو على المنبر: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} 3، "ألا إن القوة الرمي".

وحرص الصحابة على تلقي القرآن الكريم من رسول الله صلى الله عليه وسلم وحفظه وفهمه، وكان ذلك شرفًا لهم.

عن أنس رضي الله عنه قال: "كان الرجل منا إذا قرأ البقرة وآل عمران جَدَّ فينا" أي عَظُم.

وحرصوا كذلك على العمل به والوقوف عند أحكامه.

--------------------------------------------

1 الأنعام: 82.

2 لقمان: 13.

3 الأنفال: 60.
‌শাস্ত্রের পরিচিতি এবং এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের বর্ণনা:

পবিত্র কুরআন ইসলামের চিরন্তন মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি যার অলৌকিকত্বের দৃঢ়তাকে কেবল বৃদ্ধিই করে। আল্লাহ এটি আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর নাযিল করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য এবং তাদেরকে সরল পথের দিশা দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। তিনি এটি তাঁর সাহাবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন—যারা ছিলেন বিশুদ্ধ আরব—ফলে তারা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়েই তা বুঝতে পারতেন। আর যখন কোনো আয়াতের অর্থ বুঝতে তাদের সংশয় হতো, তখন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন।

শায়খাইন (ইমাম বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি} ১, তা মানুষের কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি যুলুম করেনি? তিনি বললেন: 'এটি তোমরা যা মনে করছো তা নয়। তোমরা কি নেককার বান্দার কথা শোনোনি: {নিশ্চয়ই শিরক হলো চরম যুলুম} ২, এটি মূলত শিরক'।"

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা করতেন।

ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্যরা উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: {আর তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করো} ৩, "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই শক্তি হলো তিরন্দাজি।"

সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে পবিত্র কুরআন গ্রহণ করতে এবং তা মুখস্থ ও অনুধাবন করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং এটি ছিল তাঁদের জন্য একটি সম্মানের বিষয়।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন সূরা আল-বাকারা এবং আলে ইমরান পাঠ করত (আয়ত্ত করত), তখন সে আমাদের মাঝে মহান হয়ে উঠত।" অর্থাৎ তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেত।

তারা একইভাবে এর ওপর আমল করতে এবং এর বিধানসমূহের সীমারেখায় অবস্থান করতে সচেষ্ট ছিলেন।

--------------------------------------------

১ আল-আনআম: ৮২।

২ লুকমান: ১৩।

৩ আল-আনফাল: ৬০।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ৬)
رُوِيَ عن أبي عبد الرحمن السلمي أنه قال: "حدثنا الذين كانوا يقرئوننا القرآن، كعثمان بن عفان وعبد الله بن مسعود وغيرهما أنهم كانوا إذا تعلَّموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات لم يجاوزوها حتى يتعلموا ما فيها من العلم والعمل، قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعًا"1.

ولم يأذن لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم في كتابة شيء عنه سوى القرآن خشية أن يلتبس القرآن بغيره.

رَوَى مسلم عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تكتبوا عني، ومَن كتب عني غير القرآن فليمحه، وحدِّثوا عني ولا حَرَج، ومَن كَذَبَ عليَّ متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار".

ولئن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أذن لبعض صحابته بعد ذلك في كتابة الحديث فإن ما يتصل بالقرآن ظل يعتمد على الرواية بالتلقين في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي خلافة أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.

جاءت خلافة عثمان2 رضي الله عنه، واقتضت الدواعي -التي سنذكرها فيما بعد3– إلى جمع المسلمين على مصحف واحد، فتم ذلك، وسُمِّيَ بالمصحف الإمام، وأُرْسلت نسخ منه إلى الأمصار، وسُمِّيَتْ كتابته بالرسم العثماني، نسبة إليه، ويُعتبر هذا بداية "لعلم رسم القرآن".

ثم كانت خلافة عليٍّ رضي الله عنه فوضع أبو الأسود الدؤلي بأمر منه قواعد النحو، صيانة لسلامة النطق، وضبطًا للقرآن الكريم، ويُعتبر هذا كذلك بداية لـ"علم إعراب القرآن".

--------------------------------------------

1 أخرج عبد الرزاق ما في معناه عن معمر عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي، وأخرجه ابن جرير في مقدمة تفسيره عن عطاء عن أبي عبد الرحمن وصححه أحمد شاكر، فإن أبا عبد الرحمن السلمي تابعيٌّ لا يُحَدِّثُ إلا عن الصحابة.

2 لقد جُمِعَ القرآن أول جمع في عهد الخليفة أبي بكر -رضي الله تعالى عنه- بعد معركة اليمامة كما سيأتي.

3 انظر بحث جمع القرآن في عهد عثمان.
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যারা আমাদের কুরআন পড়াতেন, যেমন উসমান ইবনে আফফান এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও অন্যান্যরা, তারা আমাদের বলেছেন যে, যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তারা সেই আয়াতগুলোর মধ্যে থাকা জ্ঞান ও আমল না শেখা পর্যন্ত পরবর্তী আয়াতে যেতেন না। তারা বলেন: ফলে আমরা কুরআন, জ্ঞান এবং আমল সব একসাথে শিখেছি।"১।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন ব্যতিরেকে তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কিছু লেখার অনুমতি দেননি, পাছে কুরআন অন্য কিছুর সাথে মিশে যায়।

ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখো না; আর কুরআন ছাড়া আমার থেকে কেউ কিছু লিখে থাকলে সে যেন তা মুছে ফেলে। তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তীতে তাঁর কিছু সাহাবীকে হাদীস লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন, তবে কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর খিলাফতকালে মৌখিক শ্রুতিনির্ভর বর্ণনার (তালকীন) ওপরই নির্ভরশীল ছিল।

এরপর উসমান২ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকাল আসে এবং কিছু কারণবশত — যা আমরা পরে আলোচনা করব৩ — মুসলিমদের একটিমাত্র মাসহাফের ওপর একত্রিত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে তা সম্পন্ন হয় এবং এর নাম রাখা হয় 'আল-মাসহাফ আল-ইমাম'। এর বিভিন্ন কপি বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। এই লিখন পদ্ধতিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করে 'রসম উসমানী' বলা হয়। একেই 'কুরআনের লিখন পদ্ধতির জ্ঞান' (ইলম রসম আল-কুরআন)-এর সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এরপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকাল আসে। তখন আবু আসওয়াদ আদ-দুয়ালী তাঁর নির্দেশে ব্যাকরণের (নাহু) নিয়মাবলি প্রণয়ন করেন, যাতে উচ্চারণ সঠিক থাকে এবং কুরআন কারীম সংরক্ষিত হয়। এটিকেও 'কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত জ্ঞান' (ইলম ই’রাব আল-কুরআন)-এর সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।

--------------------------------------------

১ আবদুর রাজ্জাক এর সমার্থবোধক বর্ণনা মামার থেকে, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরের ভূমিকায় আতা থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ শাকির একে সহীহ বলেছেন। কেননা আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী একজন তাবি’য়ী, তিনি সাহাবীগণ ব্যতীত অন্য কারও থেকে হাদীস বর্ণনা করেন না।

২ ইয়ামামার যুদ্ধের পর খলীফা আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে সর্বপ্রথম কুরআন সংকলন করা হয়েছিল, যেমনটি সামনে আসবে।

৩ উসমানের যুগে কুরআন সংকলন অধ্যায়টি দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ৭)
استمر الصحابة يتناقلون معاني القرآن وتفسير بعض آياته على تفاوت فيما بينهم، لتفاوت قدرتهم على الفهم، وتفاوت ملازمتهم لرسول الله صلى الله عليه وسلم وتناقل عنهم ذلك تلاميذهم من التابعين.

ومن أشهر المفسرين من الصحابة: الخلفاء الأربعة، وابن مسعود، وابن عباس، وأُبَيُّ بن كعب، وزيد بن ثابت، وأبو موسى الأشعري، وعبد الله بن الزبير.

وقد كثرت الرواية في التفسير عن: عبد الله بن عباس، وعبد الله بن مسعود، وأُبَيِّ بن كعب، وما رُوِيَ عنهم لا يتضمن تفسيرًا كاملًا للقرآن، وإنما يقتصر على معاني بعض الآيات، بتفسير غامضها، وتوضيح مجملها.

أما التابعون، فاشتهر منهم جماعة، أخذوا عن الصحابة، واجتهدوا في تفسير بعض الآيات.

فاشتهر من تلاميذ ابن عباس بمكة: سعيد بن جبير، ومجاهد، وعِكرمة مولى ابن عباس، وطاوس بن كيسان اليماني، وعطاء بن أبي رباح.

واشتهر من تلاميذ أُبَيِّ بن كعب بالمدينة: زيد بن أسلم، وأبو العالية، ومحمد بن كعب القرظي.

واشتهر من تلاميذ عبد الله بن مسعود بالعراق: علقمة بن قيس، ومسروق، والأسود بن يزيد، وعامر الشعبي، والحسن البصري، وقتادة بن دعامة السدوسي.

قال ابن تيمية: "وأما التفسير، فأعلم الناس به أهل مكة، لأنهم أصحاب ابن عباس، كمجاهد، وعطاء بن أبي رباح، وعِكرمة مولى ابن عباس، وغيرهم من أصحاب ابن عباس، كطاوس، وأبي الشعثاء، وسعيد بن جبير وأمثالهم، وكذلك أهل الكوفة من أصحاب ابن مسعود، ومن ذلك ما تميزوا به عن غيرهم، وعلماء أهل المدينة في التفسير، مثل: زيد بن أسلم الذي أخذ عنه مالك التفسير، وأخذ عنه أيضًا ابنه عبد الرحمن، وعبد الله بن وهب"1.

--------------------------------------------

1 مقدمة ابن تيمية في أصول التفسير: ص15.
সাহাবায়ে কেরাম পরস্পরের মধ্যে কোরআনের অর্থ এবং এর কিছু আয়াতের তাফসীর আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন, তবে তাদের বোধশক্তির ভিন্নতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকার সময়ের পার্থক্যের কারণে তাদের মাঝে এ বিষয়ে তারতম্য ছিল। পরবর্তীতে তাদের ছাত্র তাবেয়ীরা তাদের থেকে এসব বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মুফাসসিরগণ হলেন: চার খলিফা, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, উবাই ইবনে কাব, যায়েদ ইবনে সাবিত, আবু মুসা আল-আশআরি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবায়ের।

তাফসীরের ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং উবাই ইবনে কাব থেকে প্রচুর বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা পুরো কোরআনের পূর্ণাঙ্গ তাফসীর অন্তর্ভুক্ত করে না; বরং তা কেবল কিছু আয়াতের অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

আর তাবেয়ীদের মধ্যে একদল প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, যারা সাহাবায়ে কেরামের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং কিছু আয়াতের তাফসীরের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছিলেন।

মক্কায় ইবনে আব্বাসের ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ, তাউস ইবনে কাইসান আল-ইয়ামানি এবং আতা ইবনে আবি রাবাহ।

মদীনায় উবাই ইবনে কাবের ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: যায়েদ ইবনে আসলাম, আবুল আলিয়াহ এবং মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি।

ইরাকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: আলকামা ইবনে কায়স, মাসরুক, আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ, আমির আশ-শা’বি, হাসান বসরি এবং কাতাদাহ ইবনে দি’আমাহ আস-সাদুসি।

ইবনে তাইমিয়া বলেন: "আর তাফসীরের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলেন মক্কাবাসী, কারণ তারা ইবনে আব্বাসের সাথী ছিলেন। যেমন মুজাহিদ, আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ এবং ইবনে আব্বাসের অন্যান্য সাথীবৃন্দ, যেমন তাউস, আবুল শা’সা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। তেমনিভাবে ইবনে মাসউদের সাথী কুফাবাসীগণও (তাফসীরে পারদর্শী ছিলেন), যার মাধ্যমে তারা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করেছিলেন। আর তাফসীরের ক্ষেত্রে মদীনার আলেমগণ, যেমন: যায়েদ ইবনে আসলাম, যাঁর কাছ থেকে ইমাম মালিক তাফসীর গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে তাঁর ছেলে আবদুর রহমান ও আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবও তা গ্রহণ করেছেন।"১

--------------------------------------------

১ উসুলুত তাফসীরে ইবনে তাইমিয়ার ভূমিকা: পৃষ্ঠা ১৫।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ৮)
والذي رُوِيَ عن هؤلاء جميعًا يتناول: علم التفسير، وعلم غريب القرآن، وعلم أسباب النزول، وعلم المكي والمدني، وعلم الناسخ والمنسوخ، ولكن هذا كله ظل معتمدًا على الرواية بالتلقين.

جاء عصر التدوين في القرن الثاني، وبدأ تدوين الحديث بأبوابه المتنوعة، وشمل ذلك ما يتعلق بالتفسير، وجمع بعض العلماء ما رُوِيَ من تفسير للقرآن الكريم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو عن الصحابة، أو عن التابعين.

واشتهر منهم: يزيد بن هارون السلمي المتوفى سنة 117 هجرية، وشُعْبَة بن الحجاج المتوفى سنة 160 هجرية، ووكيع بن الجراح المتوفى سنة 197 هجرية، وسفيان بن عُيينة المتوفى سنة 198 هجرية، وعبد الرزاق بن همام المتوفى سنة 211 هجرية.

وهؤلاء جميعًا كانوا من أئمة الحديث، فكان جمعهم للتفسير جمعًا لباب من أبوابه، ولم يصلنا من تفاسيرهم شيء مكتوب سوى مخطوطة تفسير عبد الرزاق بن همام.

ثم نهج نهجهم بعد ذلك جماعة من العلماء وضعوا تفسيرًا متكاملًا للقرآن وفق ترتيب آياته، واشتهر منهم ابن جرير الطبري المتوفى سنة 310 هجرية.

وهكذا بدأ التفسير أولًا بالنقل عن طريق التلقي والرواية، ثم كان تدوينه على أنه باب من أبواب الحديث، ثم دُوِّنَ على استقلال وانفراد، وتتابع التفسير بالمأثور، ثم التفسير بالرأي.

وبإزاء علم التفسير كان التأليف الموضوعي في موضوعات تتصل بالقرآن ولا يستغني المفسر عنها.

فألَّف عليُّ بن المديني شيخ البخاري المتوفى سنة 234 هجرية في أسباب النزول.

وألَّف أبو عبيد القاسم بن سلام المتوفى سنة 224 هجرية في الناسخ والمنسوخ، وفي القراءات.
যাঁদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তাঁদের সকলের বর্ণনাগুলো তাফসির শাস্ত্র, কুরআনের বিরল শব্দাবলি সংক্রান্ত শাস্ত্র, শানে নুযূল বা অবতরণের প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত শাস্ত্র, মাক্কি ও মাদানি সংক্রান্ত শাস্ত্র এবং নাসিখ ও মানসুখ সংক্রান্ত শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে; তবে এই সবকিছুই শ্রুতি ও মৌখিক বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

দ্বিতীয় শতাব্দীতে গ্রন্থায়নের যুগ শুরু হয় এবং হাদিসের বিভিন্ন অধ্যায় অনুসারে সংকলন আরম্ভ হয়, যার মধ্যে তাফসির সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কতিপয় আলেম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবীগণ অথবা তাবেয়ীগণ থেকে বর্ণিত পবিত্র কুরআনের তাফসিরসমূহ সংগ্রহ করেন।

তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আস-সুলামি (মৃত্যু ১১৭ হিজরি), শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি), ওকি ইবনুল জাররাহ (মৃত্যু ১৯৭ হিজরি), সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি) এবং আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম (মৃত্যু ২১১ হিজরি)।

তাঁরা সকলেই ছিলেন হাদিসের ইমাম। ফলে তাঁদের তাফসির সংকলন ছিল হাদিসের বিভিন্ন অধ্যায়ের মধ্যে একটি অধ্যায় মাত্র। আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মামের তাফসিরের পাণ্ডুলিপি ছাড়া তাঁদের লিখিত কোনো তাফসির আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি।

এরপর একদল আলেম তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং তাঁরা আয়াতের ক্রমানুসারে কুরআনের পূর্ণাঙ্গ তাফসির প্রণয়ন করেন। তাঁদের মধ্যে ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরি) বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।

এভাবেই তাফসিরের সূচনা হয়েছিল প্রথমে শ্রুতি ও বর্ণনার মাধ্যমে। অতঃপর তা হাদিসের একটি অধ্যায় হিসেবে সংকলিত হয়। পরবর্তীতে এটি স্বতন্ত্র ও পৃথকভাবে গ্রন্থিত হয় এবং ধারাবাহিকভাবে তাফসিরে বিল মা’সুর ও তাফসিরে বির্‌ রায়ের উদ্ভব ঘটে।

তাফসির শাস্ত্রের সমান্তরালে কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন বিষয়াবলির ওপর বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ রচনার কাজও চলমান ছিল যা ছাড়া একজন মুফাসসিরের পক্ষে চলা অসম্ভব।

ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি) শানে নুযূল বা অবতরণের প্রেক্ষাপট বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন।

আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম (মৃত্যু ২২৪ হিজরি) নাসিখ ও মানসুখ এবং ক্বিরাআত শাস্ত্র বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ৯)
وألَّف ابن قتيبة المتوفى سنة 276 هجرية في مُشْكَل القرآن.

وهؤلاء من علماء القرن الثالث الهجري.

وألَّف محمد بن خلف المرزبان المتوفى سنة 309 هجرية "الحاوي في علوم القرآن".

وألَّف أبو بكر محمد بن القاسم الأنباري المتوفى سنة 328 هجرية في علوم القرآن.

وألَّف أبو بكر السجستاني المتوفى سنة 330 هجرية في غريب القرآن.

وألَّف محمد بن عليٍّ الأدفوي المتوفى سنة 388 هجرية "الاستغناء في علوم القرآن".

وهؤلاء من علماء القرن الرابع الهجري.

ثم تتابع التأليف بعد ذلك.

فألَّف أبو بكر الباقلاني المتوفى سنة 403 هجرية في إعجاز القرآن. وعليُّ بن إبراهيم بن سعيد الحوفي المتوفى سنة 430 هجرية في إعراب القرآن.

والماوردي المتوفى سنة 450 هجرية في أمثال القرآن.

والعز بن عبد السلام المتوفى سنة 660 هجرية في مجاز القرآن.

وعلم الدين السخاوي المتوفى سنة 643 هجرية في علم القراءات.

وابن القيم المتوفى سنة 751 هجرية في "أقسام القرآن".

وهذه المؤلَّفات يتناول كل مؤلف منها نوعًا من علوم القرآن وبحثًا من مباحثه المتصلة به.

أما جمع هذه المباحث وتلك الأنواع –كلها أو جلها- في مؤلف واحد فقد ذكر الشيخ محمد عبد العظيم الزرقاني في كتابه "مناهل العرفان في علوم
এবং ২৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনে কুতায়বাহ কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ (মুশকালুল কুরআন) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

আর তাঁরা ছিলেন হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

এবং ৩০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ আল-মারজুবান "আল-হাবি ফি উলুমিল কুরআন" রচনা করেছেন।

এবং ৩২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আল-আনবারি উলুমুল কুরআন নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ৩৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু বকর আস-সিজিস্তানি কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলি (গারিবুল কুরআন) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ৩৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-আদফুবি "আল-ইস্তিঘনা ফি উলুমিল কুরআন" রচনা করেছেন।

আর তাঁরা ছিলেন হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর এর পরেও গ্রন্থ রচনার ধারা অব্যাহত থাকে।

ফলে ৪০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু বকর আল-বাকিলানি কুরআনের অলৌকিকত্ব (ই’জাযুল কুরআন) নিয়ে এবং ৪৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আলী ইবনে ইবরাহীম ইবনে সাঈদ আল-হাউফি কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাবুল কুরআন) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ৪৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-মাওয়ারদি কুরআনের দৃষ্টান্তসমূহ (আমসালুল কুরআন) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ৬৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম কুরআনের রূপকসমূহ (মাজাযুল কুরআন) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ৬৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আলম আদ-দীন আস-সাখাভি কিরাত শাস্ত্র (ইলমুল কিরাত) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ৭৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনুল কায়্যিম "আকসামুল কুরআন" নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এসকল গ্রন্থের প্রত্যেকটি উলুমুল কুরআনের কোনো না কোনো প্রকার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো একটি গবেষণা নিয়ে আলোচনা করেছে।

তবে এসকল গবেষণা ও প্রকারভেদগুলোকে—তার সবটুকু অথবা অধিকাংশকে—একত্রে একটি গ্রন্থে সংকলন করার বিষয়ে শায়খ মুহাম্মাদ আবদুল আজিম আয-যারকানি তাঁর "মানাহিলুল ইরফান ফি উলুমিল কুরআন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১০)
القرآن"1 أنه ظفر في دار الكتب المصرية بكتاب مخطوط لعلي بن إبراهيم بن سعيد الشهير بالحوفي، اسمه "البرهان في علوم القرآن" يقع في ثلاثين مجلدًا، يوجد منها خمسة عشر مجلدًا غير مرتبة ولا متعاقبة، حيث يتناول المؤلف الآية من آيات القرآن الكريم بترتيب المصحف فيتكلم عما تشتمل عليه من علوم القرآن، مفردًِا كل نوع بعنوان، فيجعل العنوان العام في الآية: "القول في قوله عز وجل … " ويذكر الآية، ثم يضع تحت هذا العنوان: "القول في الإعراب" ويتحدث عن الآية من الناحية النحوية واللغوية، ثم "القول في المعنى والتفسير" ويشرح الآية بالمأثور والمعقول، ثم "القول في الوقف والتمام" ويبين ما يجوز من الوقف وما لا يجوز، وقد يُفْرِد القراءات بعنوان مستقل فيقول: "القول في القراءة"، وقد يتكلم عن الأحكام التي تؤخذ من الآية عند عرضها.

والحوفي بهذا النهج يعتبر أول من دَوَّن علوم القرآن، وإن كان تدوينه على النمط الخاص الآنف الذكر، وهو المتوفى سنة 430هـ.

ثم تبعه ابن الجوزي سنة 597 هجرية في كتابه "فنون الأفنان في عجائب علوم القرآن"2.

ثم جاء بدر الدين الزركشي المتوفى سنة 794 هجرية وألف كتابًا وافيًا سماه "البرهان في علوم القرآن"3.

ثم أضاف إليه بعض الزيادات جلال الدين البلقيني المتوفى سنة 824 هجرية في كتابه "مواقع العلوم من مواقع النجوم".

--------------------------------------------

1 انظر جـ1 ص27 وما بعدها، ط. الحلبي.

2 توجد منه نسخة مخطوطة غير كاملة في المكتبة التيمورية.

3 نشره وحققه الأستاذ محمد أبو الفضل إبراهيم في أربعة أجزاء.
কুরআন"১ তিনি মিসরীয় লাইব্রেরিতে (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) আলি ইবন ইবরাহিম ইবন সাইদ, যিনি আল-হুফি নামে পরিচিত, তাঁর একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পান। এর নাম "আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন" (কুরআনের জ্ঞানসমূহের প্রমাণ)। এটি ত্রিশ খণ্ডে বিন্যস্ত, যার মধ্যে পনেরটি খণ্ড বিদ্যমান রয়েছে, তবে সেগুলো অবিন্যস্ত এবং অসংলগ্ন। যেখানে লেখক কুরআনের আয়াতসমূহকে মুসহাফের ক্রমানুসারে আলোচনা করেছেন এবং একটি আয়াতে যে সমস্ত কুরআনী জ্ঞান নিহিত রয়েছে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রতিটি বিষয়কে আলাদা শিরোনামে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি আয়াতের সাধারণ শিরোনাম এভাবে দিয়েছেন: "মহান আল্লাহর বাণী … সম্পর্কে আলোচনা" এবং আয়াতটি উল্লেখ করেন। এরপর এই শিরোনামের অধীনে লিখেন: "ইরাব (ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ) সম্পর্কে আলোচনা" এবং আয়াতের নাহু ও ভাষাগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর "অর্থ ও তাফসির সম্পর্কে আলোচনা" এবং আছার ও আকলের (বর্ণনা ও যুক্তি) ভিত্তিতে আয়াতের ব্যাখ্যা করেন। এরপর "ওয়াকফ ও তামাম (থামা ও পূর্ণতা) সম্পর্কে আলোচনা" এবং কোথায় থামা জায়েজ আর কোথায় জায়েজ নয় তা স্পষ্ট করেন। কখনো কখনো তিনি কিরাআতসমূহকে স্বতন্ত্র শিরোনামে নিয়ে এসে বলেন: "কিরাআত সম্পর্কে আলোচনা"। আবার কখনো আয়াত থেকে প্রাপ্ত হুকুম বা বিধানসমূহ নিয়েও আলোচনা করেন।

আর আল-হুফি এই পদ্ধতির মাধ্যমে উলুমুল কুরআন বা কুরআনের জ্ঞানসমূহ সংকলনকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন, যদিও তার সংকলন ছিল উপরোক্ত বিশেষ পদ্ধতিতে। তিনি ৪৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর ৫৯৭ হিজরিতে ইবনুল জাওজি তাঁর "ফুনুনুল আফনান ফি আজায়িবি উলুমিল কুরআন" নামক কিতাবের মাধ্যমে তাঁর অনুসরণ করেন।২

অতঃপর বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) আগমন করেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব রচনা করেন যার নাম দেন "আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন"।৩

এরপর জালালুদ্দিন আল-বুলকিনি (মৃত্যু ৮২৪ হিজরি) তাঁর "মাওয়াক্বিউল উলুম মিন মাওয়াক্বিইন নুজুম" কিতাবে এতে কিছু সংযোজন করেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭ এবং পরবর্তী অংশ, হালাবি সংস্করণ।

২ তায়মুরিয়া লাইব্রেরিতে এর একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে।

৩ এটি উস্তাদ মুহাম্মাদ আবু ফজল ইবরাহিম চার খণ্ডে সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১১)
ثم ألف جلال الدين السيوطي المتوفى سنة 911 هجرية كتابه المشهور "الإتقان في علوم القرآن".

ولم يكن نصيب علوم القرآن من التأليف في عصر النهضة الحديثة أقل من العلوم الأخرى. فقد اتجه المتصلون بحركة الفكر الإسلامي اتجاهًا سديدًا في معالجة الموضوعات القرآنية بأسلوب العصر، مثل كتاب "إعجاز القرآن" لمصطفى صادق الرافعي، وكتابي "التصوير الفني في القرآن" و"مشاهد القيامة في القرآن" للشهيد سيد قطب. و"ترجمة القرآن" للشيخ محمد مصطفى المراغي، وبحث فيها لمحب الدين الخطيب، و"مسألة ترجمة القرآن" لمصطفى صبري، و"النبأ العظيم" للدكتور محمد عبد الله دراز، ومقدمة تفسير "محاسن التأويل" لمحمد جمال الدين القاسمي.

وألف الشيخ طاهر الجزائري كتابًا سماه "التبيان في علوم القرآن".

وألف الشيخ محمد علي سلامة كتابه "منهج الفرقان في علوم القرآن" تناول فيه المباحث المقررة بكلية أصول الدين بمصر تخصص الدعوة والإرشاد.

وتلاه الشيخ محمد عبد العظيم الزرقاني فألف كتابه "مناهل العرفان في علوم القرآن".

ثم الشيخ أحمد أحمد علي في "مذكرة علوم القرآن" التي ألقاها على طلابه بالكلية، قسم إجازة الدعوة والإرشاد.

وصدر أخيرًا "مباحث في علوم القرآن" للدكتور صبحي الصالح.

وللأستاذ أحمد محمد جمال، أبحاث "على مائدة القرآن".

هذه المباحث جميعها هي التي تُعرف بعلوم القرآن، حتى صارت علمًا على العلم المعروف بهذا الاسم.
এরপর জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন" রচনা করেন।

আধুনিক রেনেসাঁ বা জাগরণের যুগে উলূমুল কুরআনের উপর রচিত গ্রন্থাবলির সংখ্যা অন্যান্য শাস্ত্রের তুলনায় কম ছিল না। ইসলামী চিন্তা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ সমসাময়িক শৈলীতে কুরআনী বিষয়বস্তুগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সঠিক দিশা অবলম্বন করেছেন। যেমন- মুস্তফা সাদিক আর-রাফেয়ীর গ্রন্থ "ইজাযুল কুরআন", শহীদ সাইয়্যেদ কুতুবের "আত-তাসওয়ীরুল ফান্নী ফিল কুরআন" ও "মাশাহেদুল কিয়ামাহ ফিল কুরআন", শেখ মুহাম্মদ মুস্তফা আল-মারাগীর "তরজমাতুল কুরআন", এ বিষয়ে মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীবের গবেষণা, মুস্তফা সাবরীর "মাসআলাতু তরজমাতিল কুরআন", ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দারাযের "আন-নাবাউল আযীম" এবং মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আল-কাসিমীর "মাহাসিনুত তাবীল" তাফসীরের ভূমিকা।

শেখ তাহের আল-জাযাইরী একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন "আত-তিবইয়ান ফী উলূমিল কুরআন"।

শেখ মুহাম্মদ আলী সালামাহ তাঁর "মানহাজুল ফুরকান ফী উলূমিল কুরআন" গ্রন্থটি রচনা করেন, যাতে তিনি মিশরের কুল্লিয়াতু উসূলুদ্দীন (উসূলুদ্দীন অনুষদ)-এর দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগের নির্ধারিত পাঠ্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এরপর শেখ মুহাম্মদ আব্দুল আযীম আয-যারকানী তাঁর "মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন" গ্রন্থটি রচনা করেন।

এরপর শেখ আহমদ আহমদ আলী তাঁর "মুযাক্কিরাতু উলূমিল কুরআন"-এ (আলোচনা করেছেন), যা তিনি অনুষদের দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছিলেন।

সম্প্রতি ডক্টর সুবহী আস-সালেহ-এর "মাবাহিছ ফী উলূমিল কুরআন" প্রকাশিত হয়েছে।

উস্তাদ আহমদ মুহাম্মদ জামালের গবেষণামূলক গ্রন্থ "আলা মাইদাতিল কুরআন" রয়েছে।

এই সকল পর্যালোচনাই 'উলূমুল কুরআন' নামে পরিচিত, এমনকি এটি এই নামে সুপরিচিত একটি শাস্ত্রের শিরোনামে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১২)
والعلوم: جمع عِلم، والعلم: الفهم والإدراك. ثم نُقِلَ بمعنى المسائل المختلفة المضبوطة ضبطًا علميًّا.

والمراد بعلوم القرآن: العلم الذي يتناول الأبحاث المتعلقة بالقرآن من حيث معرفة أسباب النزول، وجمع القرآن وترتيبه، ومعرفة المكي والمدني، والناسخ والمنسوخ، والمُحْكَمِ والمتشابه، إلى غير ذلك مما له صلة بالقرآن.

وقد يسمى هذا العلم بأصول التفسير، لأنه يتناول المباحث التي لا بد للمفسر من معرفتها للاستناد إليها في تفسير القرآن1.

--------------------------------------------

1 اكتفينا بهذا العرض التاريخي مع التعريف الإجمالي عن البحث في لفظ "علوم القرآن" باعتباره مركبًا إضافيًّا، وباعتباره علمًا على هذا الفن.
এবং উলুম: এটি ইলম-এর বহুবচন, আর ইলম হলো উপলব্ধি ও জ্ঞান। অতঃপর এটি সুসংবদ্ধ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় বিন্যস্ত বিভিন্ন বিষয়ের অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে।

আর উলুমুল কুরআন বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই জ্ঞান যা কুরআন সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে, যেমন: নাজিলের কারণ (শানে নুযূল) জানা, কুরআন সংকলন ও বিন্যাস, মাক্কী ও মাদানী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিতকৃত), মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট/রূপক আয়াত), এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলি।

কখনো কখনো এই জ্ঞানকে উসূলে তাফসীরও বলা হয়, কারণ এটি এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা কুরআনের তাফসীর করার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার জন্য একজন মুফাসসিরের অবশ্যই জানা প্রয়োজন১।

--------------------------------------------

১. আমরা এখানে 'উলুমুল কুরআন' শব্দটিকে একটি সম্বন্ধযুক্ত পদ হিসেবে এবং এই শাস্ত্রের একটি পারিভাষিক নাম হিসেবে বিবেচনার প্রেক্ষিতে সাধারণ সংজ্ঞাসহ এই ঐতিহাসিক উপস্থাপনার মাধ্যমেই যথেষ্ট মনে করেছি।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌القرآن

‌‌مدخل

…

القرآن:

من فضل الله على الإنسان أنه لم يتركه في الحياة يستهدي بما أودعه الله فيه من فطرة سليمة، تقوده إلى الخير، وترشده إلى البر فحسب، بل بعث إليه بين فترة وأخرى رسولًا يحمل من الله كتابًا يدعوه إلى عبادة الله وحده، ويبشر وينذر، لتقوم عليه الحجة: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} 1.

وظلت الإنسانية -في تطورها ورقيها الفكري- والوحي يعاودها بما يناسبها ويحل مشكلاتها الوقتية في نطاق قوم كل رسول، حتى اكتمل نضجها، وأراد الله لرسالة محمد صلى الله عليه وسلم أن تشرق على الوجود، فبعثه على فترة من الرسل. ليكمل صرح إخوانه الرسل السابقين بشريعته العامة الخالدة، وكتابه المنزَّل عليه، وهو القرآن الكريم … "مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بيتًا فأحسنه وأجمله إلا موضع لبنة من زاوية، فجعل الناس يطوفون به، ويعجبون منه، ويقولون: لولا هذه اللبنة، فأنا اللبنة، وأنا خاتم النبيين" 2.

فالقرآن رسالة الله إلى الإنسانية كافة وقد تواترت النصوص الدالة على ذلك في الكتاب والسٌّنَّة: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} 3.. {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 4، "وكان كل نبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس كافة" 5، ولن يأتي بعده رسالة أخرى {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} 6.

--------------------------------------------

1 النساء: 165.

2 متفق عليه.

3 الأعراف: 158.

4 الفرقان: 1.

5 في الصحيحين من حديث: "أُعطِيتُ خمسًا لم يُعْطَهُنَّ أحد قبلي".

6 الأحزاب: 40.
আল-কুরআন

ভূমিকা

...

আল-কুরআন:

মানুষের প্রতি আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ এই যে, তিনি তাকে এই জীবনে কেবল আল্লাহ প্রদত্ত সেই সুস্থ ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে পথ চলতে ছেড়ে দেননি যা তাকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায় এবং নেক কাজের পথ দেখায়; বরং তিনি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর মানুষের কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব বহন করে আনেন, যা মানুষকে কেবল এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে এবং সুসংবাদ দান করে ও সতর্ক করে, যাতে তাদের ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়: "সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণ (প্রেরণ করা হয়েছে), যাতে রাসূলদের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।" ১।

মানবতা—তার বিবর্তন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির ধারায়—ওহীর পরশ লাভ করতে থাকে, যা প্রতিটি রাসূলের গোত্রের গণ্ডির মধ্যে তাদের সাময়িক সমস্যাবলীর সমাধান এবং তাদের জন্য উপযোগী বিষয় নিয়ে আসত। এভাবে যখন মানবতা পূর্ণ পরিপক্বতায় পৌঁছাল, তখন আল্লাহ চাইলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত অস্তিত্বের দিগন্তে উদ্ভাসিত হোক, তাই তিনি দীর্ঘ বিরতির পর তাঁকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন। যাতে তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব আল-কুরআনুল কারীম এবং তাঁর সার্বজনীন ও শাশ্বত শরীয়তের মাধ্যমে তাঁর পূর্ববর্তী ভ্রাতৃপ্রতিম রাসূলগণের প্রাসাদের পূর্ণতা দান করেন... "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উপমা হলো এমন এক ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, তবে তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়ে গেল। তখন মানুষ তার চারপাশে ঘুরে দেখতে লাগল এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: এই ইটটি কেন স্থাপন করা হলো না? সুতরাং আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী।" ২।

সুতরাং কুরআন হলো সমগ্র মানবতার প্রতি আল্লাহর বার্তা এবং কিতাব ও সুন্নাহর অসংখ্য নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা এর প্রমাণ বহন করে: "বলুন, হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল।" ৩.. "পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর দাসের ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" ৪, "আর প্রত্যেক নবী তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের নিকট বিশেষভাবে প্রেরিত হতেন, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানুষের নিকট।" ৫, আর তাঁর পরে আর কোনো বার্তা আসবে না: "মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।" ৬।

--------------------------------------------

১ আন-নিসা: ১৬৫।

২ মুত্তাফাকুন আলাইহি।

৩ আল-আ’রাফ: ১৫৮।

৪ আল-ফুরকান: ১।

৫ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হাদীসের অংশ: "আমাকে পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে প্রদান করা হয়নি।"

৬ আল-আহযাব: ৪০।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৪)
فلا غرو من أن يأتي القرآن وافيًا بجميع مطالب الحياة الإنسانية على الأسس الأولى للأديان السماوية: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} 1..

وتحدى رسول الله صلى الله عليه وسلم العرب بالقرآن، وقد نزل بلسانهم، وهم أرباب الفصاحة والبيان، فعجزوا عن أن يأتوا بمثله، أو بعشر سور مثله، أو بسورة من مثله، فثبت له الإعجاز، وبإعجازه ثبتت الرسالة.

وكتب الله له الحفظ والنقل المتواتر دون تحريف أو تبديل، فمن أوصاف جبريل الذي نزل به: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ} 2، ومن أوصافه وأوصاف المنزل عليه: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ، ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ، مُطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ، ومَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ، وَلَقَدْ رَآهُ بِالْأُفُقِ الْمُبِينِ، وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ} 3، {إَنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٍ، فيِ كِتَابٍ مَّكَنُونٍ، لَا يَمَسُّهُ إلَاّ المُطَهَّروَنَ} 4..

ولم تكن هذه الميزة لكتاب آخر من الكتب السابقة لأنها جاءت موقوتة بزمن خاص، وصدق الله إذ يقول: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 5.

وتجاوزت رسالة القرآن الإنس إلى الجن: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ، قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ، يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ} 6..

والقرآن بتلك الخصائص يعالج المشكلات الإنسانية في شتى مرافق الحياة، الروحية والعقلية والبدنية والاجتماعية والاقتصادية والسياسية علاجًا حكيمًا، لأنه تنزيل الحكيم الحميد، ويضع لكل مشكلة بَلْسَمَها الشافي في أسس عامة،

--------------------------------------------

1 الشورى: 13.

2 الشعراء: 193.

3 التكوير: 19، 24.

4 الواقعة: 77-79.

5 الحجر: 9.

6 الأحقاف: 29-31.
এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে কুরআন আসমানি ধর্মসমূহের মৌলিক ভিত্তির ওপর ভিত্তি করে মানবজীবনের সকল চাহিদাকে পরিপূর্ণভাবে পূরণ করে: {তিনি তোমাদের জন্য সেই দ্বীন নির্ধারিত করেছেন, যার আদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার কাছে ওহী করেছি এবং যার আদেশ আমি ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম; এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না} ১।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের লোকদের কুরআনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, অথচ এটি তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারাই ছিল বাকপটুতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিকারী। কিন্তু তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম হয়, অথবা এর সদৃশ দশটি সূরা কিংবা একটি সূরা আনতেও তারা ব্যর্থ হয়। ফলে এর মুজিযা (অলৌকিকত্ব) প্রমাণিত হয় এবং এই অলৌকিকত্বের মাধ্যমেই রিসালাত সাব্যস্ত হয়।

আল্লাহ তাআলা এর জন্য সংরক্ষণ ও কোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়াই মুতাওয়াতির বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার ব্যবস্থা লিখে দিয়েছেন। জিবরীল (আলাইহিস সালাম), যিনি এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, তার একটি গুণ হলো: {বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন} ২। আর তার এবং যার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তার গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী, যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদাবান, সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত। আর তোমাদের সঙ্গী পাগল নন। তিনি তো তাকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন। আর তিনি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয় বলতে কৃপণতা করেন না} ৩, {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে, পবিত্র ব্যক্তিগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না} ৪।

পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের অন্য কোনোটির জন্য এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল না, কারণ সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। আর আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক} ৫।

কুরআনের রিসালাত মানুষ ছাড়িয়ে জিনের নিকটও পৌঁছে গিয়েছে: {আর স্মরণ করুন, যখন আমি একদল জিনকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। অতঃপর যখন তারা সেখানে উপস্থিত হলো, তারা বলল, ‘চুপ করে শোনো’। এরপর যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল, ‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাবের কথা শুনেছি যা মূসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সত্যায়ন করে এবং যা সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তার ওপর ঈমান আনো’} ৬।

আর কুরআন এই সকল বৈশিষ্ট্য দ্বারা মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র—আধ্যাত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, শারীরিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলির এক প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধান প্রদান করে। কারণ এটি প্রজ্ঞাবান ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি সাধারণ মূলনীতির ভিত্তিতে প্রতিটি সমস্যার জন্য আরোগ্যদানকারী সমাধান প্রদান করে।

--------------------------------------------

১ আশ-শূরা: ১৩।

২ আশ-শু'আরা: ১৯৩।

৩ আত-তাকবীর: ১৯, ২৪।

৪ আল-ওয়াকিআ: ৭৭-৭৯।

৫ আল-হিজর: ৯।

৬ আল-আহকাফ: ২৯-৩১।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৫)
تترسم الإنسانية خُطاها، وتبني عليها في كل عصر ما يلائمها، فاكتسب بذلك صلاحيته لكل زمان ومكان، فهو دين الخلود، وما أروع ما قاله داعية الإسلام في القرن الرابع عشر: "الإسلام نظام شامل، يتناول مظاهر الحياة جميعًا، فهو دولة ووطن، أو حكومة وأمة، وهو خُلُقٌ وقوة، أو رحمة وعدالة، وهو ثقافة وقانون، أو علم وقضاء، وهو مادة وثروة، أو كسب وغِنَى، وهو جهاد ودعوة، أو جيش وفكرة، كما هو عقيدة صادقة، وعبادة صحيحة سواء بسواء"1.

والإنسانية المعذَّبة اليوم في ضميرها، المضطربة في أنظمتها، المتداعية في أخلاقها، لا عاصم لها من الهاوية التي تتردى فيها إلا القرآن: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى، وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} 2.

والمسلمون هم وحدهم الذين يحملون المشعل وسط دياجير النظم والمبادئ الأخرى، فحري بهم أن ينفضوا أيديهم من كل بهرج زائف، وأن يقودوا الإنسانية الحائرة بالقرآن الكريم حتى يأخذوا بيدها إلى شاطئ السلام. وكما كانت لهم الدولة بالقرآن في الماضي. فإنها كذلك لن تكون لهم إلا به في الحاضر.

--------------------------------------------

1 من رسالة التعاليم: للإمام الشهيد حسن البنا.

2 طه: 123، 124.
মানবজাতি এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং প্রতিটি যুগে এর ওপর ভিত্তি করে যা তার জন্য উপযোগী তা নির্মাণ করে। এর মাধ্যমেই এটি সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য এর উপযোগিতা লাভ করেছে; কেননা এটি একটি শাশ্বত ধর্ম। চতুর্দশ শতাব্দীর ইসলামের এক দাঈ কতই না চমৎকার বলেছেন: "ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা, যা জীবনের সকল দিককে পরিবেষ্টন করে। এটি রাষ্ট্র ও স্বদেশ, অথবা সরকার ও জাতি; এটি চরিত্র ও শক্তি, অথবা রহমত ও ইনসাফ; এটি সংস্কৃতি ও আইন, অথবা জ্ঞান ও বিচারব্যবস্থা; এটি বস্তু ও সম্পদ, অথবা উপার্জন ও সচ্ছলতা; এটি জিহাদ ও দাওয়াত, অথবা সেনাবাহিনী ও আদর্শ; ঠিক যেমন এটি একটি সঠিক আকিদাহ ও বিশুদ্ধ ইবাদত"১।

আজ যে মানবতা তার বিবেকের দংশনে যন্ত্রণাকাতর, তার শাসনব্যবস্থায় অস্থির এবং তার নৈতিকতায় বিপর্যস্ত, যে অতল গহ্বরে সে নিপতিত হচ্ছে তা থেকে কুরআন ছাড়া তাকে রক্ষা করার আর কেউ নেই: {অতঃপর যে আমার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব} ২।

মুসলিমরাই একমাত্র জাতি যারা অন্যান্য শাসনব্যবস্থা ও মতবাদের অন্ধকারের মধ্যে আলোকবর্তিকা বহন করে চলছে। তাই তাদের জন্য সমীচীন হলো সকল কৃত্রিম চাকচিক্য ত্যাগ করা এবং বিভ্রান্ত মানবতাকে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া, যাতে তারা তাদের হাত ধরে শান্তির উপকূলে নিয়ে যেতে পারে। অতীতে যেমন কুরআনের মাধ্যমেই তাদের রাষ্ট্র ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানেও কুরআন ব্যতীত তা সম্ভব হবে না।

--------------------------------------------

১ ইমাম শহীদ হাসান আল-বান্নার 'রিসালাতুত তালিম' থেকে।

২ ত্ব-হা: ১২৩, ১২৪।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تعريف القرآن:

"قرأ": تأتي بمعنى الجمع والضم، والقراءة: ضم الحروف والكلمات بعضها إلى بعض في الترتيل، والقرآن في الأصل كالقراءة: مصدر قرأ قراءة وقرآنًا. قال تعالى: {إنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وقَرُآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} 1. أي قراءته، فهو مصدر على وزن "فُعلان" بالضم:

--------------------------------------------

1 القيامة: 17، 18.
কুরআনের সংজ্ঞা:

"কারাআ": এটি সংগ্রহ এবং সংযোজন করার অর্থে আসে। কিরাআত হলো: তারতীলের সাথে বর্ণ ও শব্দসমূহকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা। আর কুরআন শব্দটি মূলত কিরাআতের মতোই: এটি 'কারাআ', 'কিরাআতান' ও 'কুরআনান' থেকে আগত একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।} ১। অর্থাৎ এর পাঠ; এটি পেশযোগে "ফু'লান" ওজনে একটি মাসদার:

--------------------------------------------

১ কিয়ামাহ: ১৭, ১৮।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৬)
كالغفران والشكران، تقول: قرأته قرءًا وقراءة وقرآنًا، بمعنى واحد. سمي به المقروء تسمية للمفعول بالمصدر.

وقد خص القرآن بالكتاب المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم فصار له كالعلم الشخصي.

ويطلق بالاشتراك اللفظي على مجموع القرآن، وعلى كل آية من آياته، فإذا سمعت من يتلو آية من القرآن صح أن تقول إنه يقرأ القرآن: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا} 1..

وذكر بعض العلماء أن تسمية هذا الكتاب قرآنًا من بين كتب الله لكونه جامعًا لثمرة كتبه، بل لجمعه ثمرة جميع العلوم. كما أشار تعالى إلى ذلك بقوله: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} 2، وقوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِنْ شَيءٍ} 3..

وذهب بعض العلماء إلى أن لفظ القرآن غير مهموز الأصل في الاشتقاق، إما لأنه وضع علمًا مرتجلًا على الكلام المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم وليس مشتقًا من "قرأ"، وإما لأنه من قرن الشيء بالشيء إذا ضمه إليه، أو من القرائن لأن آياته يشبه بعضها بعضًا فالنون أصلية، وهذا رأي مرجوح، والصواب الأول.

والقرآن الكريم يتعذر تحديده بالتعاريف المنطقية ذات الأجناس والفصول والخواص. بحيث يكون تعريفه حدًّا حقيقيًّا، والحد الحقيقي له هو استحضاره معهودًا في الذهن أو مُشاهدًا بالحس كأن تشير إليه مكتوبًا في المصحف أو مقروءًا باللسان فتقول: هو ما بين هاتين الدفتين، أو تقول: هو من {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، الحَمْدُ للَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ} 4 … إلى قوله: {مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ} 5..

--------------------------------------------

1 الأعراف: 204.

2 النحل: 89.

3 سياق الآية يدل على أن المراد بالكتاب هنا اللوح المحفوظ. ولكن القرآن ثبت في اللوح المحفوظ، "والآية من سورة الأنعام: 38".

4 الفاتحة: 1، 2.

5 الناس: 6.
যেমন 'গুফরান' (ক্ষমা) এবং 'শুকরান' (কৃতজ্ঞতা), আপনি বলেন: আমি এটি পাঠ করেছি 'কুরআন' (পাঠ করা), 'কিরাআত' এবং 'কুরআন' হিসেবে, যার অর্থ একই। যা পাঠ করা হয় (মাফউল) তাকেই মাসদার বা ক্রিয়ামূলের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাবটির জন্য 'কুরআন' নামটি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, ফলে এটি সেই কিতাবের জন্য একটি বিশেষ সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এটি পারিভাষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমগ্র কুরআনের ওপর এবং এর প্রতিটি আয়াতের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। সুতরাং আপনি যখন কাউকে কুরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনবেন, তখন এটি বলা সঠিক হবে যে তিনি কুরআন পাঠ করছেন: "আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো এবং চুপ থাকো।" ১..

কোনো কোনো আলিম উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্যে এই কিতাবটির নাম 'কুরআন' রাখার কারণ হলো এটি তাঁর অন্যান্য কিতাবসমূহের নির্যাসকে ধারণ করে, বরং এটি সমস্ত ইলমের নির্যাসকে একত্রিত করেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন: "আর আমি আপনার ওপর কিতাবটি নাযিল করেছি সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে।" ২, এবং তাঁর বাণী: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।" ৩..

কোনো কোনো আলিম মনে করেন যে, 'কুরআন' শব্দটি ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে মূলত হামজা যুক্ত শব্দ নয়। হয় এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর নাযিলকৃত বাণীর জন্য একটি মৌলিক সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি 'ক্বারা-আ' (পাঠ করা) থেকে উদ্ভূত নয়; অথবা এটি কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে মিলিয়ে দেওয়া অর্থে 'ক্বরন' (যুক্ত করা) শব্দ থেকে এসেছে; অথবা এটি 'ক্বারায়িন' (লক্ষণসমূহ) শব্দ থেকে এসেছে, কারণ এর আয়াতসমূহ একে অপরের সদৃশ। সেক্ষেত্রে 'নুন' বর্ণটি মূল বর্ণ। তবে এটি একটি দুর্বল মত, আর প্রথম মতটিই সঠিক।

কুরআন কারীমকে জেন্স (শ্রেণি), ফাসল (বিভেদক) এবং খাস (বৈশিষ্ট্য) সম্বলিত যৌক্তিক সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা দুঃসাধ্য, যা এর প্রকৃত নির্যাসকে প্রকাশ করবে। এর প্রকৃত সংজ্ঞা হলো একে মনে গেঁথে নেওয়া বা ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রত্যক্ষ করা, যেমন আপনি মুসহাফে লিখিত বা জিহ্বা দিয়ে পঠিত কোনো কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে বলবেন: এই দুই মলাটের মধ্যবর্তী বিষয়ই হলো কুরআন; অথবা আপনি বলবেন: এটি "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন" ৪ … থেকে শুরু করে "মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস" ৫ পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটুকু।

--------------------------------------------

১ আল-আরাফ: ২০৪।

২ আন-নাহল: ৮৯।

৩ আয়াতের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে, এখানে 'কিতাব' বলতে 'লাওহে মাহফুজ' উদ্দেশ্য। তবে কুরআন লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ রয়েছে, "আর আয়াতটি সূরা আল-আনআম: ৩৮-এর"।

৪ আল-ফাতিহা: ১, ২।

৫ আন-নাস: ৬।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويذكر العلماء تعريفًا له يُقَرِّبُ معناه ويميزه عن غيره، فيُعَرِّفُونَهُ بأنه: "كلام الله، المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم المتعبد بتلاوته". فـ "الكلام" جنس في التعريف، يشمل كل كلام، وإضافته إلى "الله" يُخْرِجُ كلام غيره من الإنس والجن والملائكة.

و"المنزَّل" يُخْرِج كلام الله الذي استأثر به سبحانه: {قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا} 1، {وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّه} 2.

وتقييد المنزَّل بكونه "على محمد، صلى الله عليه وسلم" يُخرج ما أُنْزِلَ على الأنبياء قبله كالتوراة والإنجيل وغيرهما.

و"المتعبد بتلاوته" يُخرج قراءات الآحاد، والأحاديث القدسية -إن قلنا إنها منزَّلة من عند الله بألفاظها- لأن التعبد بتلاوته معناه الأمر بقراءته في الصلاة وغيرها على وجه العبادة، وليست قراءة الآحاد والأحاديث القدسية كذلك.

--------------------------------------------

1 الكهف: 109.

2 لقمان: 27.
আলেমগণ এর এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেন যা এর অর্থকে নিকটতর করে এবং একে অন্য সব কিছু থেকে পৃথক করে। তারা একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেন: "আল্লাহর কালাম, যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য।" সংজ্ঞার মধ্যে "কালাম" (কথা) শব্দটি একটি সাধারণ শ্রেণি, যা সব ধরণের কথাকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর একে "আল্লাহর" সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে মানুষ, জিন ও ফেরেশতাগণের মতো অন্যদের কথাকে এর বহির্ভূত করা হয়েছে।

আর "অবতীর্ণ" শব্দটি আল্লাহর সেই কালামকে পৃথক করে যা তিনি কেবল নিজের জন্যই নির্দিষ্ট রেখেছেন: {বলুন, যদি আমার রবের কথাগুলো লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র কালি হয়ে যেত, তবে আমার রবের কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র শুকিয়ে যেত, যদিও আমি এর সাহায্যের জন্য অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসতাম} ১, {আর জমিনে যত বৃক্ষ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও আল্লাহর কালাম শেষ হবে না} ২।

অবতীর্ণ শব্দটিকে "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর" অবতীর্ণ হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের ওপর যা নাযিল হয়েছিল, যেমন তাওরাত, ইঞ্জিল ও অন্যান্য কিতাবসমূহকে এর বহির্ভূত রাখা হয়েছে।

আর "যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য" কথাটি কিরাআতে আহাদ এবং হাদিসে কুদসিকে এর বহির্ভূত করে—যদি আমরা বলি যে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে শব্দসহ অবতীর্ণ—কারণ তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত হওয়ার অর্থ হলো সালাত বা সালাতের বাইরে ইবাদত হিসেবে তা পাঠ করার নির্দেশ থাকা; কিন্তু কিরাআতে আহাদ এবং হাদিসে কুদসির বিষয়টি তেমন নয়।

--------------------------------------------

১. আল-কাহাফ: ১০৯।

২. লোকমান: ২৭।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أسماؤه وأوصافه:

وقد سماه الله بأسماء كثيرة:

منها "القرآن". {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} 1.

و"الكتاب". {لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ} 2.

و"الفرقان". {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 3.

--------------------------------------------

1 الإسراء: 9.

2 الأنبياء: 10.

3 الفرقان: 1.
এর নাম ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এবং আল্লাহ একে অনেক নামে অভিহিত করেছেন:

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো "আল-কুরআন"। "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়।" ১।

এবং "আল-কিতাব" (গ্রন্থ)। "আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি এমন এক কিতাব, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য আলোচনা।" ২।

এবং "আল-ফুরকান" (পার্থক্যকারী)। "পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" ৩।

--------------------------------------------

১ আল-ইসরা: ৯।

২ আল-আম্বিয়া: ১০।

৩ আল-ফুরকান: ১।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৮)
و"الذكر".. {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1..

و"التنزيل".. {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 2.. إلى غير ذلك مما ورد في القرآن.

وقد غلب من أسمائه: "القرآن" و"الكتاب"، قال الدكتور محمد عبد الله دراز:

"رُوعِيَ في تسميته "قرآنًا" كونه متلوًّا بالألسن، كما رُوعِيَ في تسميته "كتابًا" كونه مدوَّنًا بالأقلام، فكلتا التسميتين من تسمية شيء بالمعنى الواقع عليه".

وفي تسميته بهذين الاسمين إشارة إلى أن من حقه العناية بحفظه في موضعين لا في موضع واحد، أعني أنه يجب حفظه في الصدور والسطور جميعًا، أن تضل إحداهما فتذكر إحداهما الأخرى، فلا ثقة لنا بحفظ حافظ حتى يوافق الرسم المجمع عليه من الأصحاب، المنقول إلينا جيلًا بعد جيل على هيئته التي وُضِعَ عليها أول مرة، ولا ثقة لنا بكتابة كاتب حتى يوافق ما هو عند الحفَّاظ بالإسناد الصحيح المتواتر.

وبهذه العناية المزدوجة التي بعثها الله في نفوس الأمة المحمدية اقتداء بنبيها. بقي القرآن محفوظًا في حرز حريز، إنجازًا لوعد الله الذي تكفَّل بحفظه حيث يقول: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} ولم يصبه ما أصاب الكتب الماضية من التحريف والتبديل وانقطاع السند"3.

وبيَّن سر هذه التفرقة بأن سائر الكتب السماوية جِيء بها على التوقيت لا التأبيد، وأن هذا القرآن جِيء به مُصَدِّقًا لما بين يديه من الكتب ومهيمنًا عليها، فكان جامعًا لما فيها من الحقائق الثابتة زائدًا عليها بما شاء الله زيادته، وكان سائرًا مسيرها، ولم يكن شيء منها ليسد مسده، فقضى الله أن يبقى حجة إلى

--------------------------------------------

1 الحجر: 9.

2 الشعراء: 192.

3 النبأ العظيم: ص12، 13- ط. دار القلم بالكويت.
এবং "আল-জিকর" (স্মারক)... {নিশ্চয়ই আমি এই জিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} ১..

এবং "আত-তানজিল" (অবতরণ)... {এবং নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} ২.. এছাড়া কুরআনে বর্ণিত অন্যান্য নামসমূহ।

এর নামগুলোর মধ্যে "আল-কুরআন" এবং "আল-কিতাব" নাম দুটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ বলেন:

"একে 'কুরআন' নামকরণ করার ক্ষেত্রে জিহ্বা দ্বারা পঠিত হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়েছে, আর 'কিতাব' নামকরণ করার ক্ষেত্রে কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ফলে উভয় নামকরণই বিষয়বস্তুর ওপর আপতিত বাস্তব অর্থের প্রেক্ষিতে করা হয়েছে।"

এই নাম দুটির মাধ্যমে একে নামকরণের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, একটি নয় বরং দুটি স্থানে এটি সংরক্ষণের যত্ন নেওয়া এর প্রাপ্য অধিকার। অর্থাৎ, অন্তর এবং লিপি—উভয় মাধ্যমেই এটি সংরক্ষণ করা আবশ্যক, যেন একটির বিভ্রান্তিতে অন্যটি স্মরণ করিয়ে দেয়। সুতরাং কোনো হাফেজের মুখস্থ রাখার ওপর আমাদের ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ আস্থা নেই, যতক্ষণ না তা সাহাবীদের সর্বসম্মত সেই লিপি শৈলীর (রসম) সাথে মিলবে, যা প্রথমবার সংকলিত হওয়ার পর থেকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আমাদের কাছে অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছেছে। আবার কোনো লেখকের লেখার ওপরও আমাদের ততক্ষণ পর্যন্ত আস্থা নেই, যতক্ষণ না তা সহিহ ও মুতাওয়াতির সনদের মাধ্যমে হাফেজদের নিকট রক্ষিত স্মৃতির সাথে মিলবে।

নবীর অনুসরণে উম্মতে মুহাম্মদীর অন্তরে আল্লাহ যে এই দ্বিমুখী যত্নের প্রেরণা জাগ্রত করেছেন, তার ফলেই কুরআন এক সুরক্ষিত দুর্গের মতো সংরক্ষিত রয়ে গেছে। এটি আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, যেখানে তিনি এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই জিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী}। ফলে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর মতো এতে কোনো বিকৃতি, পরিবর্তন বা সনদের বিচ্ছিন্নতা ঘটেনি" ৩।

তিনি এই পার্থক্যের রহস্য বর্ণনা করে বলেছেন যে, অন্যান্য আসমানি কিতাবগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রেরিত হয়েছিল, অনন্তকালের জন্য নয়। আর এই কুরআন তার পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর তদারককারী হিসেবে এসেছে। ফলে এটি সেগুলোর মধ্যে থাকা শাশ্বত সত্যসমূহকে ধারণ করার পাশাপাশি আল্লাহ অতিরিক্ত যা দিতে চেয়েছেন তাও এতে যুক্ত হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই এর অভাব পূরণ করতে সক্ষম ছিল না। তাই আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, এটি কিয়ামত পর্যন্ত অকাট্য প্রমাণ হিসেবে বহাল থাকবে...

--------------------------------------------

১ আল-হিজর: ৯।

২ আশ-শুআরা: ১৯২।

৩ আন-নাবা আল-আজিম: পৃষ্ঠা ১২, ১৩ - মুদ্রণ: দারুল কলম, কুয়েত।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ১৯)
قيام الساعة، وإذا قضى الله أمرًا يَسَّر له أسبابه -وهو الحكيم العليم- وهذا تعليل جيد.

ووصف الله القرآن بأوصاف كثيرة كذلك:

منها "نور".. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا} 1..

و"هدى" و"شفاء" و"رحمة" و"موعظة".. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} 2.

و"مبارك".. {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْه} 3.

و"مبين".. {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ} 4.

و"بشرى".. {مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدىً وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} 5.

و"عزيز".. {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ} 6.

و"مجيد".. {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ} 7.

و"بشير" و"نذير".. {كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ، بَشِيرًا وَنَذِيرًا} 8.

وكل تسمية أو وصف فهو باعتبار معنى من معاني القرآن.

--------------------------------------------

1 النساء: 174.

2 يونس: 57.

3 الأنعام: 92.

4 المائدة: 15.

5 البقرة: 97.

6 فصلت: 15.

7 البروج: 21.

8 فصلت: 3، 4.
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া; আর আল্লাহ যখন কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন তিনি তার জন্য উপকরণসমূহকে সহজ করে দেন—আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ—আর এটি একটি উত্তম ব্যাখ্যা।

অনুরূপভাবে আল্লাহ কুরআনকে অনেকগুলো বিশেষণে বিশেষিত করেছেন:

তার মধ্যে রয়েছে "নূর" (জ্যোতি).. {হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে দলিল এসেছে এবং আমরা তোমাদের প্রতি সুস্পষ্ট নূর নাযিল করেছি} ১..

এবং "হিদায়াত", "শিফা" (আরোগ্য), "রহমত" ও "মাউয়িজাহ" (উপদেশ).. {হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে} ২.

এবং "মুবারক" (বরকতময়).. {আর এটি একটি কিতাব যা আমরা নাযিল করেছি, বরকতময়, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী} ৩.

এবং "মুবীন" (সুস্পষ্ট).. {আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে} ৪.

এবং "বুশরা" (সুসংবাদ).. {যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ} ৫.

এবং "আযীয" (মর্যাদাবান).. {নিশ্চয় যারা যিকিরের (কুরআনের) প্রতি কুফরি করেছে যখন তা তাদের কাছে এসেছে; আর এটি অবশ্যই এক অতি মর্যাদাবান কিতাব} ৬.

এবং "মাজীদ" (মহিমান্বিত).. {বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন} ৭.

এবং "বাশীর" (সুসংবাদদাতা) ও "নাযীর" (সতর্ককারী).. {এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে সেই কওমের জন্য যারা জানে; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে} ৮.

প্রতিটি নামকরণ বা বিশেষণ কুরআনের অর্থসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি অর্থের বিবেচনায় করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১ আন-নিসা: ১৭৪।

২ ইউনুস: ৫৭।

৩ আল-আনআম: ৯২।

৪ আল-মায়িদাহ: ১৫।

৫ আল-বাকারাহ: ৯৭।

৬ ফুসসিলাত: ১৫।

৭ আল-বুরূজ: ২১।

৮ ফুসসিলাত: ৩, ৪।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২০)
الفرق بين القرآن والحديث القدسي والحديث النبوي

سبق تعريف القرآن، ولكي نعرف الفرق بينه وبين الحديث القدسي والحديث النبوي نعطي التعريفين الآتيين:

الحديث النبوي:

الحديث في اللغة: ضد القديم، ويُطلق ويراد به كلام يُتحدث به ويُنقل ويَبلغ الإنسان من جهة السمع أو الوحي في يقظته أو منامه، وبهذا المعنى سُمِّيَ القرآن حديثًا: {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا} 1، وسُمِّيَ ما يُحَدَّثُ به الإنسان في نومه: {وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ} 2..

والحديث في الاصطلاح: ما أُضِيفَ إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة.

فالقول: كقوله، صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى.." 3.

والفعل: كالذي ثبت من تعليمه لأصحابه كيفية الصلاة ثم قال: "صَلُّوا كما رأيتموني أُصَلِّي" 4، وما ثبت من كيفية حجه، وقد قال: "خذوا عني مناسككم" 5.

والإقرار: كأن يُقِرَّ أمرًا عَلِمَهُ عن أحد الصحابة من قول أو فعل. سواء أكان ذلك في حضرته صلى الله عليه وسلم أما في غيبته ثم بلغه، ومن أمثلته: "أكل الضب على مائدته، صلى الله عليه وسلم"، "وما رُوِي من أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث رجلًا على سرية، وكان يقرأ لأصحابه في صلاته فيختم بـ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أحَدٌ} 6، فلما رجعوا ذكروا ذلك له عليه الصلاة والسلام، فقال: سلوه لأي شيء يصنع ذلك؟ فسألوه، فقال: لأنها صفة الرحمن وأنا أحب أن أقرأ بها، فقال النبي، صلى الله عليه وسلم: "أخبروه أن الله يحبه" 7.

--------------------------------------------

1 النساء: 87.

2 يوسف: 101.

3 من حديث طويل رواه البخاري ومسلم عن عمر بن الخطاب.

4 رواه البخاري.

5 أخرجه مسلم وأحمد والنَّسائي.

6 الإخلاص: 1.

7 رواه البخاري ومسلم.
কুরআন, হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববির মধ্যে পার্থক্য

কুরআনের সংজ্ঞা ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে। কুরআন এবং হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববির মধ্যে পার্থক্য জানার জন্য আমরা নিচে এই দুটি সংজ্ঞা প্রদান করছি:

হাদিসে নববি:

আভিধানিক অর্থে হাদিস: এটি 'কাদিম' বা পুরাতনের বিপরীত। এটি এমন কথাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা ব্যক্ত করা হয়, বর্ণনা করা হয় এবং যা মানুষের কাছে শোনার মাধ্যমে কিংবা জাগ্রত বা নিদ্রাবস্থায় ওহির মাধ্যমে পৌঁছায়। এই অর্থেই কুরআনকে 'হাদিস' বলা হয়েছে: {আর আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী কথা (হাদিস) আর কে হতে পারে?} ১, এবং মানুষ ঘুমের মধ্যে যা দেখে বা বলে তাকেও 'হাদিস' বলা হয়েছে: {আর আপনি আমাকে স্বপ্নের (হাদিসসমূহের) ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন} ২..

পারিভাষিক অর্থে হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা, কাজ, মৌনসম্মতি বা গুণাবলিকে হাদিস বলে।

কথা: যেমন তাঁর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে.." ৩।

কাজ: যেমন তাঁর সাহাবিদেরকে সালাত আদায়ের পদ্ধতি শেখানোর বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে, অতঃপর তিনি বলেছিলেন: "তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" ৪। আর তাঁর হজ্জ করার পদ্ধতির বিষয়টিও সাব্যস্ত হয়েছে, যেক্ষেত্রে তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজ্জের নিয়মাবলি গ্রহণ করো" ৫।

মৌনসম্মতি: সাহাবিদের কোনো কথা বা কাজ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তা অনুমোদন করা। চাই সেটি তাঁর উপস্থিতিতে হোক কিংবা তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘটার পর তিনি তা জানতে পেরেছেন। এর উদাহরণ হলো: "তাঁর দস্তরখানে গুঁইসাপ (দ্বব) ভক্ষণ করা", এবং "বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি ছোট সামরিক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। তিনি সালাতে তাঁর সাথীদের ইমামতি করতেন এবং সূরা {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} ৬ পাঠ করে কিরাত শেষ করতেন। যখন তাঁরা ফিরে এলেন, তখন তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞাসা করো, সে কেন এমনটি করে? তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: কারণ এটি রহমানের গুণাবলির বর্ণনা, আর আমি এটি পড়তে ভালোবাসি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে সংবাদ দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন" ৭।

--------------------------------------------

১ আন-নিসা: ৮৭।

২ ইউসুফ: ১০১।

৩ উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৪ বুখারি বর্ণনা করেছেন।

৫ মুসলিম, আহমাদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

৬ আল-ইখলাস: ১।

৭ বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২১)
والصفة: كما رُوِيَ: "من أنه صلى الله عليه وسلم كان دائم البِشر، سهل الخُلُق، لَيِّنَ الجانب، ليس بفظٍّ ولا غليظٍ ولا صخَّاب ولا فحَّاش ولا عيَّاب … ".

الحديث القدسي:

عرَّفنا معنى الحديث لغة، والقدسي: نسبة إلى القدس، وهي نسبة تدل على التعظيم، لأن مادة الكلمة دالة على التنزيه والتطهير في اللغة، فالتقديس: تنزيه الله تعالى، والتقديس: التطهير، وتقدَّس: تطهَّر، قال الله تعالى على لسان ملائكته: {وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ} 1، أي نُطَهِّرُ أنفسنا لك.

والحديث القدسي في الاصطلاح: هو ما يضيفه النبي صلى الله عليه وسلم إلى الله تعالى، أي إن النبي صلى الله عليه وسلم يرويه على أنه من كلام الله، فالرسول راوٍ لكلام الله بلفظ من عنده، وإذا رواه أحد رواه عن رسول الله مُسْنَدًا إلى الله عز وجل، فيقول: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل....".

أو يقول: "قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى - أو يقول الله تعالى … ".

ومثال الأول: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل: "يد الله ملأى لا يغيضها نفقة، سحَّاء الليل والنهار … " 2.

ومثال الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله تعالى "أنا عند ظن عبدي بي، وأنا معه إذا ذكرني، فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملأٍ ذكرته في ملأٍ خير منه … " 3.

--------------------------------------------

1 البقرة: 30.

2 أخرجه البخاري.

3 أخرجه البخاري ومسلم.
এবং গুণাবলি: যেমন বর্ণিত হয়েছে: "তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা প্রফুল্ল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, সহজ স্বভাবের এবং নম্র প্রকৃতির ছিলেন; তিনি কঠোর, রূঢ়, কলহপ্রিয়, অশ্লীলভাষী বা দোষ অন্বেষণকারী ছিলেন না … "।

হাদিসে কুদসি:

আমরা শাব্দিক অর্থে হাদিসের সংজ্ঞা জেনেছি। আর 'কুদসি' শব্দটি 'কুদ্স' (পবিত্রতা)-এর সাথে সম্পর্কিত, যা মহত্ত্ব ও সম্মানের পরিচায়ক। কারণ ভাষাগতভাবে এই শব্দটির মূল ধাতু পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নির্দেশ করে। অতএব, 'তাকদিস' হলো আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ঘোষণা করা। তাকদিস মানে পবিত্র করা এবং 'তাকাদদাস' মানে পবিত্র হওয়া। আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের জবানিতে বলেছেন: {আমরা আপনার প্রশংসা সহকারে তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি} ১, অর্থাৎ আমরা আপনার জন্য নিজেদের পবিত্র করি।

পারিভাষিক সংজ্ঞায় হাদিসে কুদসি হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার দিকে সম্বন্ধ করেন। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে আল্লাহর কালাম বা বাণী হিসেবে বর্ণনা করেন; এক্ষেত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণীর বর্ণনাকারী মাত্র, যার শব্দ নবীজির পক্ষ থেকে। আর যখন কেউ এটি বর্ণনা করেন, তখন তিনি তা আল্লাহর রাসুল থেকে আল্লাহ আজজা ওয়া জাল্লা-এর দিকে সনদসহ বর্ণনা করেন এবং বলেন: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব আজজা ওয়া জাল্লা থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন...."।

অথবা বলেন: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন - অথবা আল্লাহ তাআলা বলছেন … "।

প্রথমটির উদাহরণ: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব আজজা ওয়া জাল্লা থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন: "আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ, কোনো ব্যয় বা দান তা কমাতে পারে না, যা রাত-দিন অবিরাম বর্ষিত হতে থাকে … " ২।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমনই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে আমার সত্তায় স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাদের চেয়েও উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি … " ৩।

--------------------------------------------

১ আল-বাকারাহ: ৩০।

২ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الفرق بين القرآن والحديث القدسي:

هناك عدة فروق بين القرآن الكريم والحديث القدسي أهمها:

1- أن القرآن الكريم كلام الله أَوْحَى به إلى رسول الله بلفظه، وتحدى به العرب، فعجزوا عن أن يأتوا بمثله، أو بعشر سور مثله، أو بسورة من مثله، ولا يزال التحدي به قائمًا، فهو معجزة خالدة إلى يوم الدين.

والحديث القدسي لم يقع به التحدي والإعجاز.

2- والقرآن الكريم لا يُنْسَب إلا إلى الله تعالى، فيقال: قال الله تعالى.

والحديث القدسي -كما سبق- قد يُرْوَى مضافًا إلى الله وتكون النسبة إليه حينئذ نسبة إنشاء فيقال: قال الله تعالى، أو: يقول الله تعالى، وقد يُرْوَى مضافًا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وتكون النسبة حينئذ نسبة إخبار لأنه عليه الصلاة والسلام هو المُخْبِرُ به عن الله، فيقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل.

3- والقرآن الكريم جميعه منقول بالتواتر، فهو قطعي الثبوت، والأحاديث القدسية أكثرها أخبار آحاد، فهي ظنية الثبوت. وقد يكون الحديث القدسي صحيحًا، وقد يكون حسنًا، وقد يكون ضعيفًا.

4- والقرآن الكريم من عند الله لفظًا ومعنًى، فهو وحي باللفظ والمعنى.

والحديث القدسي معناه من عند الله، ولفظه من عند الرسول صلى الله عليه وسلم على الصحيح فهو وحي بالمعنى دون اللفظ، ولذا تجوز روايته بالمعنى عند جمهور المحدِّثين.

5- والقرآن الكريم مُتَعَبَّدٌ بتلاوته، فهو الذي تتعين القراءة به في الصلاة: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} 1، وقراءته عبادة يُثيب الله عليها بما جاء في الحديث: "من قرأ حرفًا من كتاب الله تعالى فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول "ألم" حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف" 2.

--------------------------------------------

1 المزمل: 20.

2 رواه الترمذي عن ابن مسعود وقال: حديث حسن صحيح.
কুরআন এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে পার্থক্য:

পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১- পবিত্র কুরআন আল্লাহর বাণী যা তিনি তাঁর রাসূলের নিকট শব্দসহ ওহী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে তারা এর মতো কিছু, অথবা এর মতো দশটি সূরা, অথবা এর মতো একটি সূরা আনতেও অক্ষম হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান, তাই এটি কিয়ামত পর্যন্ত এক চিরন্তন মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন)।

আর হাদিসে কুদসির মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ বা মুজিজা সংঘটিত হয়নি।

২- পবিত্র কুরআন কেবল আল্লাহ তাআলার দিকেই সম্পর্কিত করা হয়, তাই বলা হয়: আল্লাহ তাআলা বলেছেন।

আর হাদিসে কুদসি —যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে— কখনও আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করে বর্ণিত হয় এবং তখন সেই সম্বন্ধটি হয় রচনার নিরিখে; ফলে বলা হয়: আল্লাহ তাআলা বলেছেন, বা আল্লাহ তাআলা বলেন। আবার কখনও এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করে বর্ণিত হয় এবং তখন সেই সম্বন্ধটি হয় সংবাদ প্রদানের নিরিখে; কারণ তিনিই আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সংবাদ প্রদানকারী। তখন বলা হয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান প্রতিপালক থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন।

৩- সমগ্র পবিত্র কুরআন 'তাওয়াতুর' (নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) পদ্ধতিতে বর্ণিত, তাই এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। আর অধিকাংশ হাদিসে কুদসি হলো 'আখবারে আহাদ' (একক বর্ণনা), তাই এগুলো প্রমাণের দিক থেকে সম্ভাব্য পর্যায়ের। হাদিসে কুদসি সহীহ (বিশুদ্ধ) হতে পারে, হাসান (উত্তম) হতে পারে, আবার যঈফ (দুর্বল) হতে পারে।

৪- পবিত্র কুরআন শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই এটি শব্দ ও অর্থ উভয় মাধ্যমেই ওহী।

আর হাদিসে কুদসির অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে এর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে। তাই এটি কেবল অর্থের দিক থেকে ওহী, শব্দের দিক থেকে নয়। এজন্য অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট এটি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করা বৈধ।

৫- পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত সম্পন্ন হয়, তাই নামাজের মধ্যে এটি পাঠ করা অপরিহার্য: {সুতরাং কুরআনের যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো} ১। এবং এর পাঠ একটি ইবাদত যার প্রতিদানে আল্লাহ সওয়াব দান করেন যেমনটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর একটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলি না যে 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর" ২।

--------------------------------------------

১ আল-মুযযাম্মিল: ২০।

২ তিরমিযী ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৩)
والحديث القدسي لا يجزئ في الصلاة، ويثيب الله على قراءته ثوابًا عامًّا، فلا يصدق فيه الثواب الذي ورد ذكره في الحديث على قراءة القرآن، بكل حرف عشر حسنات.
আর হাদিসে কুদসি সালাতে যথেষ্ট হয় না এবং আল্লাহ এটি পাঠের ওপর সাধারণ সওয়াব দান করেন। সুতরাং এতে কুরআন পাঠের ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত সেই সওয়াব প্রযোজ্য হবে না, যাতে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি নেকি পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفرق بين الحديث القدسي والحديث النبوي:

الحديث النبوي قسمان:

"قسم توقيفي" وهو الذي تلقى الرسول صلى الله عليه وسلم مضمونه من الوحي فبيَّنه للناس بكلامه، وهذا القسم وإن كان مضمونه منسوبًا إلى الله فإنه -من حيث هو كلام- حَرِي بأن يُنسب إلى الرسول صلى الله عليه وسلم لأن الكلام إنما يُنسب إلى قائله وإن كان ما فيه من المعنى قد تلقاه عن غيره.

و"قسم توفيقي" وهو الذي استنبطه الرسول صلى الله عليه وسلم من فهمه للقرآن، لأنه مبيِّن له، أو استنبطه بالتأمل والاجتهاد. وهذا القسم الاستنباطي الاجتهادي يقره الوحي إذا كان صوابًا، وإذا وقع فيه خطأ جزئي نزل الوحي بما فيه الصواب1 وليس هذا القسم كلام الله قطعًا.

ويتبين من ذلك: أن الأحاديث النبوية بقسميها: التوقيفي، والتوفيقي الاجتهادي الذي أقره الوحي، يمكن أن يقال فيها إن مردها جميعًا بجملتها إلى الوحي، وهذا معنى قوله تعالى في رسولنا، صلى الله عليه وسلم: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} 2..

والحديث القدسي معناه من عند الله عز وجل، يُلْقَى إلى الرسول صلى الله عليه وسلم بكيفية من كيفيات الوحي -لا على التعيين- أما ألفاظه فمن عند الرسول صلى الله عليه وسلم على

--------------------------------------------

1 ومثاله ما كان في أسرى بدر، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ برأي أبي بكر وقبل منهم الفداء، فنزل القرآن الكريم معاتبًا له: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى} [الأنفال: 67] .

2 النجم: 3، 4.
হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববীর মধ্যে পার্থক্য:

হাদিসে নববী দুই প্রকার:

"তাওকিফি (অহি-নির্ভর) অংশ": এটি হলো সেই অংশ যার মূল বিষয়বস্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহির মাধ্যমে লাভ করেছেন, অতঃপর তা নিজের ভাষায় মানুষের কাছে বর্ণনা করেছেন। এই অংশটির মূল বিষয়বস্তু আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হলেও, তা কথা হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ারই অধিক যোগ্য; কারণ কথা সাধারণত বক্তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যদিও সেই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ তিনি অন্য কারো কাছ থেকে লাভ করে থাকেন।

এবং "তাওফিকি (উপলব্ধি-জাত) অংশ": এটি হলো সেই অংশ যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের সমঝ-বুঝ থেকে আহরণ করেছেন—যেহেতু তিনি এর ব্যাখ্যাকারী—অথবা গভীর চিন্তা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে আহরণ করেছেন। এই ইজতিহাদ-জাত আহরিত অংশটি যদি সঠিক হয় তবে অহি তাকে অনুমোদন দান করে। আর যদি এতে কোনো আংশিক ভুল পরিলক্ষিত হয়, তবে অহি নাযিল হয়ে সঠিক বিষয়টি জানিয়ে দেয়। ১ আর এই অংশটি নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর কথা নয়।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে: হাদিসে নববীর উভয় প্রকার—তাওকিফি এবং অহি সমর্থিত তাওফিকি-ইজতিহাদি—সবগুলোরই প্রত্যাবর্তনস্থল মূলত অহির দিকে। আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থও এটাই: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} ২

আর হাদিসে কুদসির অর্থ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, যা অহির বিভিন্ন মাধ্যমের কোনো একটির মাধ্যমে—সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি ব্যতিরেকে—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এর শব্দাবলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে...

--------------------------------------------

১ এর উদাহরণ হলো বদর যুদ্ধের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়টি; যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর (রা.)-এর মত গ্রহণ করে তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর পবিত্র কুরআন তাঁকে অনুযোগ করে নাযিল হয়: {কোনো নবীর জন্য এটা সংগত নয় যে, তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে} [আল-আনফাল: ৬৭]।

২ আন-নাজম: ৩, ৪।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৪)
الراجح ونسبته إلى الله تعالى نسبة لمضمونه لا نسبة لألفاظه، ولو كان لفظه من عند الله لما كان هناك فرق بينه وبين القرآن، ولوقع التحدي بأسلوبه والتعبد بتلاوته.

ويرد على هذا شبهتان!

الشبهة الأولى: أن الحديث النبوي وحي بالمعنى كذلك، واللفظ من الرسول صلى الله عليه وسلم فلماذا لا نسميه قدسيًّا أيضًا؟

والجواب: أننا نقطع في الحديث القدسي بنزول معناه من عند الله لورود النص الشرعي على نسبته إلى الله بقوله، صلى الله عليه وسلم: "قال الله تعالى، أو يقول الله تعالى" ولذا سميناه قدسيًّا، بخلاف الأحاديث النبوية فإنها لم يرد فيها مثل هذا النص، ويجوز في كل واحد منها أن يكون مضمونه معلَّمًا بالوحي "أي توقيفيًّا" وأن يكون مستنبطًا بالاجتهاد "أي توفيقيًّا" ولذا سمينا الكل نبويًّا وقوفًا بالتسمية عند الحد المقطوع به، ولو كان لدينا ما يميز الوحي التوقيفي لسميناه قدسيًّا كذلك.

الشبهة الثانية: أنه إذا كان لفظ الحديث القدسي من الرسول صلى الله عليه وسلم فما وجه نسبته إلى الله بقوله، صلى الله عليه وسلم: "قال الله تعالى، أو يقول الله تعالى".

والجواب: أن هذا سائغ في العربية، حيث ينسب الكلام باعتبار مضمونه لا باعتبار ألفاظه، فأنت تقول حينما تنثر بيتًا من الشعر: يقول الشاعر كذا، وحينما تحكي ما سمعته من شخص: يقول فلان كذا، وقد حكى القرآن الكريم عن موسى وفرعون وغيرهما مضمون كلامهم بألفاظ غير ألفاظهم، وأسلوب غير أسلوبهم، ونسب ذلك إليهم: {وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ، قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلا يَتَّقُونَ، قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ، وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هَارُونَ، وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنْبٌ
অগ্রগণ্য মত হলো, আল্লাহ তাআলার দিকে এর সম্বন্ধ করা হয়েছে এর মর্মের ভিত্তিতে, এর শব্দের ভিত্তিতে নয়। যদি এর শব্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হতো, তবে এর এবং কুরআনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না, এবং এর রচনারীতি দ্বারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হতো এবং এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য হতো।

এর ওপর দুটি সংশয় উত্থাপিত হয়!

প্রথম সংশয়: হাদিসে নববীও তো একইভাবে মর্মের দিক থেকে ওহি, আর শব্দ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে; তবে কেন আমরা সেটিকেও হাদিসে কুদসি বলি না?

উত্তর হলো: আমরা হাদিসে কুদসির ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবে বলি যে, এর মর্ম আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে আল্লাহর দিকে এর সম্বন্ধ করার শরয়ী দলিল বিদ্যমান যে: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন" অথবা "আল্লাহ তাআলা বলেন"। এই কারণেই আমরা একে কুদসি নামকরণ করেছি। হাদিসে নববীর বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ সেগুলোতে এই ধরনের কোনো বক্তব্য আসেনি। সেগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে এটি সম্ভব যে, তার মর্ম ওহির মাধ্যমে শেখানো হয়েছে (অর্থাৎ তাওকিফি) অথবা ইজতিহাদের মাধ্যমে আহরিত হয়েছে (অর্থাৎ তাওফিকি)। এই কারণেই আমরা সবগুলোকে 'নববী' নামকরণ করেছি এবং নামকরণের ক্ষেত্রে আমরা নিশ্চিত সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। যদি আমাদের কাছে তাওকিফি ওহি চেনার কোনো মাধ্যম থাকত, তবে আমরা সেটিকেও কুদসি হিসেবে নামকরণ করতাম।

দ্বিতীয় সংশয়: যদি হাদিসে কুদসির শব্দ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হয়, তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে আল্লাহর দিকে এর সম্বন্ধ করার হেতু কী: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন" অথবা "আল্লাহ তাআলা বলেন"।

উত্তর হলো: আরবি ভাষায় এটি অনুমোদিত, যেখানে কথার মর্মের ভিত্তিতে সম্বন্ধ করা হয়, শব্দের ভিত্তিতে নয়। আপনি যখন কোনো কবিতার ছন্দকে গদ্যে রূপান্তর করেন তখন বলেন: কবি এমনটি বলেছেন। আবার যখন আপনি কারো কাছ থেকে শোনা কোনো কথা বর্ণনা করেন তখন বলেন: অমুক ব্যক্তি এমনটি বলেছেন। পবিত্র কুরআন মূসা, ফেরাউন এবং অন্যদের কথার মর্ম তাদের নিজস্ব শব্দ এবং ভঙ্গি ছাড়াই বর্ণনা করেছে এবং তা তাদের দিকেই সম্বন্ধ করেছে: "যখন আপনার রব মূসাকে ডাকলেন যে, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও, ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে; তারা কি ভয় করবে না? তিনি বললেন: হে আমার রব! আমি আশঙ্কা করছি যে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে। আর আমার বুক সংকুচিত হয়ে আসছে এবং আমার জিহ্বা চলছে না, তাই হারুনের কাছে বার্তা পাঠান। আর তাদের কাছে আমার একটি অপরাধের দায় রয়েছে..."
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৫)
فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ، قَالَ كَلَّا فَاذْهَبَا بِآياتِنَا إِنَّا مَعَكُمْ مُسْتَمِعُونَ، فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرائيلَ، قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ، وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ، قَالَ فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ، فَفَرَرْتُ مِنْكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ، وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدْتَ بَنِي إِسْرائيلَ، قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ، قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ} 1.

--------------------------------------------

1 من ذهب إلى أن الحديث القدسي وحي باللفظ كذلك يجعل هذا فرقًا أساسيًّا بينه وبين الحديث النبوي، ويبقى الفرق بينه وبين القرآن الكريم في عدم التحدي وعدم الإعجاز وعدم التعبد بتلاوته وعدم التواتر في معظمه "والآيات من سورة الشعراء: 10، 24".
আমি ভয় পাচ্ছি যে তারা আমাকে হত্যা করবে। তিনি বললেন, কক্ষনো নয়, সুতরাং তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে যাও, নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে শ্রবণকারী হিসেবে রয়েছি। অতএব তোমরা ফিরআউনের নিকট যাও এবং বলো, নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূল। যেন তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দাও। সে (ফিরআউন) বলল, আমরা কি তোমাকে আমাদের মাঝে শিশু অবস্থায় লালন-পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের কয়েক বছর আমাদের মাঝে কাটিয়েছিলে। আর তুমি তোমার সেই কাজ করেছিলে যা তুমি করেছিলে, আর তুমি ছিলে অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি (মূসা) বললেন, আমি তখন সে কাজটি করেছি যখন আমি ছিলাম ভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর যখন আমি তোমাদের ভয় পেলাম তখন তোমাদের নিকট থেকে পালিয়ে গেলাম, এরপর আমার প্রতিপালক আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন এবং আমাকে রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত করলেন। আর আমার প্রতি তোমার সেই অনুগ্রহের যে খোটা দিচ্ছ, তা তো এই কারণে যে তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ। ফিরআউন বলল, আর বিশ্বজগতের প্রতিপালক আবার কে? তিনি (মূসা) বললেন, তিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এই উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে তার প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। ১।

--------------------------------------------

১. যারা এই মত পোষণ করেন যে, হাদিসে কুদসিও একইভাবে শব্দগতভাবে ওহি, তারা একে হাদিসে নববীর সাথে একটি মৌলিক পার্থক্য হিসেবে গণ্য করেন। আর পবিত্র কুরআনের সাথে এর পার্থক্য রয়ে যায় চ্যালেঞ্জ প্রদান না করা, অলৌকিকত্ব না থাকা, তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত সাব্যস্ত না হওয়া এবং এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির না হওয়ার মাঝে। আর আয়াতগুলো সূরা আশ-শুয়ারা: ১০-২৪।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৬)
3-‌‌ الوحي:

‌‌إمكانية الوحي ووقوعه:

ازدهرت الحياة العلمية وبددت أشعتها كل ريبة كانت تساور الناس إلى عهد قريب فيما وراء المادة من روح، وآمن العلم المادي الذي وضع جل الكائنات تحت التجربة والاختبار بأن هناك عالمًا غيبيًّا وراء هذا العالمَ المشاهَد، وأن عالَم الغيب أدق وأعمق من عالَم الشهادة، وأكثر المخترعات الحديثة التي أخذت بألباب الناس تحجب وراءها هذا السر الخفي الذي عجز العلم عن إدراك كنهه وإن لاحظ آثاره ومظاهره، وقَرَّبَ هذا بُعْدَ الشقة بين التنكر للأديان والإيمان بها مصداقًا لقوله تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} 1، وقوله: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} 2..

فالبحوث النفسية الروحية لها في مضمار العلم الآن مكانتها، ويساندها ويُقرِّبها إلى الأفهام تفاوت الناس في مداركهم وميولهم وغرائزهم، فمن العقولِ العبقريُّ الفذ الذي يبتكر كل جديد، ومنها الغبي الذي يستعصي عليه إدراك بديهي الأمور، وبين المنزلتين درجات. والنفوس كذلك، منها الصافي المشرق، والخبيث المعتم.

وجسم الإنسان يطوي وراءه روحًا هي سر حياته، وإذا كان الجسم تبلى ذرَّاته وتفنى أنسجته وخلاياه ما لم يتناول قسطه من الغذاء، فجدير بالروح أن يكون لها غذاء يمدها بالطاقة الروحية كي تحتفظ بمقوماتها وقيمها.

وليس ببعيد على الله تعالى أن يختار من عباده نفوسًا لها من نقاء الجوهر وسلامة الفطرة ما يعدها للفيض الإلهي، والوحي السماوي، والاتصال بالملأ

--------------------------------------------

1 فصلت: 53.

2 الإسراء: 85.
৩-‌‌ ওহী:

‌‌ওহীর সম্ভাব্যতা ও সংঘটন:

বৈজ্ঞানিক জীবন বিকশিত হয়েছে এবং এর আলোকচ্ছটা বস্তু জগতের ঊর্ধ্বে থাকা রুহ বা আত্মা সম্পর্কে সম্প্রতি মানুষের মনে থাকা সকল সংশয় দূর করে দিয়েছে। জড়বাদী বিজ্ঞান, যা প্রায় সকল সত্তাকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধীনে এনেছে, তা বিশ্বাস করেছে যে এই দৃশ্যমান জগতের পেছনে একটি অদৃশ্য (গায়েবী) জগত রয়েছে। আর গায়েবী জগত দৃশ্যমান জগতের চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম ও গভীর। অধিকাংশ আধুনিক উদ্ভাবন যা মানুষের মন জয় করেছে, সেগুলোর পেছনে এমন এক গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে যার মূল প্রকৃতি উপলব্ধি করতে বিজ্ঞান অক্ষম হয়েছে, যদিও বিজ্ঞান এর প্রভাব ও বহিঃপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করেছে। এটি ধর্মকে অস্বীকার করা এবং তাতে বিশ্বাস করার মধ্যবর্তী দূরত্বকে কমিয়ে দিয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটি সত্য।" ১, এবং তাঁর বাণী: "তোমাদেরকে জ্ঞান থেকে সামান্যই প্রদান করা হয়েছে।" ২।

সুতরাং বিজ্ঞানের ময়দানে বর্তমানে মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক গবেষণার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। মানুষের বোধশক্তি, রুচি ও প্রবৃত্তির ভিন্নতা একে সমর্থন করে এবং মানুষের উপলব্ধির নিকটবর্তী করে দেয়। মেধাবীদের মধ্যে এমন অদ্বিতীয় প্রতিভা রয়েছে যারা নিত্য নতুন উদ্ভাবন করে, আবার এমন নির্বোধও রয়েছে যার কাছে অতি সাধারণ বিষয় উপলব্ধি করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আর এই দুই স্তরের মাঝে রয়েছে বহু সোপান। তদ্রূপ মানুষের আত্মাগুলোর মধ্যেও রয়েছে পবিত্র ও উজ্জ্বল আত্মা, আবার রয়েছে কলুষিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন আত্মা।

মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে রয়েছে আত্মা, যা তার জীবনের রহস্য। শরীরের অণুসমূহ যদি জীর্ণ হয়ে যায় এবং এর টিস্যু ও কোষগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যতক্ষণ না তা পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করে, তবে আত্মার জন্যও এমন খোরাক থাকা বাঞ্ছনীয় যা তাকে আধ্যাত্মিক শক্তি যোগাবে, যাতে সে তার মৌলিক গুণাবলী ও মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারে।

আর আল্লাহ তাআলার পক্ষে এটি মোটেও অসম্ভব নয় যে, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কিছু আত্মাকে মনোনীত করবেন যাদের সত্তার পবিত্রতা এবং ফিতরাতের (স্বভাবজাত প্রকৃতি) সুস্থতা তাদের ঐশী অনুগ্রহ, আসমানী ওহী এবং ঊর্ধ্বজগতের সাথে সংযোগ স্থাপনের যোগ্য করে তুলবে।

--------------------------------------------

১. ফুসসিলাত: ৫৩।

২. আল-ইসরা: ৮৫।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأعلى، ليُلقي إليها برسالاته التي تسد حاجة البشر في رقي وجدانه، وسمو أخلاقه، واستقامة نظامه، وهؤلاء هم رسله وأنبياؤه.

ولا غرابة في أن يكون هذا الاتصال بالوحي السماوي.

فالناس اليوم يشاهدون التنويم المغناطيسي، وهو يوضح لهم أن اتصال النفس الإنسانية بقوة أعلى منها يُحدث أثرًا يُقرِّب إلى الأفهام ظاهرة الوحي؛ حيث يستطيع الرجل القوي الإرادة أن يتسلط بإرادته على من هو أضعف منه فينام نومًا عميقًا، ويكون رهن إشارته، ويُلَقِّنه ما يريد فيجري على قلبه ولسانه، وإذا كان هذا فعل الإنسان بالإنسان فما ظنك بمن هو أشد منه قوة؟ 1.

ويسمع الناس الأحاديث المسجلة التي تحملها اليوم موجات الأثير، عابرة الوهاد والنجاد، والسهول والبحار، دون رؤية ذويها، بل بعد وفاتهم.

وأصبح الرجلان يتخاطبان في الهاتف، أحدهما في أقصى المشرق، والآخر في أقصى المغرب، وقد يتراءيان مع هذا التخاطب، ولا يسمع الجالسون بجانبهما شيئًا سوى أزيز كدوي النحل الذي في صفة الوحي.

ومَن منا ليس له حديث نفس في يقظته أو منامه يدور في خلده دون أن يرى متكلمًا أمامه؟

هذه وغيرها أمثلة تفسر لعقولنا حقيقة الوحي.

وقد شاهد الوحي معاصروه، ونُقِلَ بالتواتر المستوفي لشروطه بما يفيد العلم القطعي إلى الأجيال اللاحقة، ولمست الإنسانية أثره في حضارة أمته، وقوة أتباعه، وعزتهم ما استمسكوا به وانهيار كيانهم وخذلانهم ما فرَّطوا في جنبه، مما لا يدع مجالًا للشك في إمكان الوحي وثبوته. وضرورة العودة إلى الاهتداء به إطفاء للظمأ النفسي بِمُثُلِهِ العليا، وقيمه الروحية.

--------------------------------------------

1 انظر النبأ العظيم ص75.
সর্বোচ্চ সত্তা, যাতে তিনি তাদের কাছে তাঁর সেই রিসালাত বা বার্তা পৌঁছিয়ে দেন যা মানুষের বিবেকের উন্নতি, নৈতিকতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের জীবন ব্যবস্থার সঠিকতার জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন পূরণ করে। আর তারাই হলেন তাঁর রাসূল এবং নবীগণ।

আর এই সংযোগ আসমানী ওহীর মাধ্যমে হওয়াতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

আজকাল মানুষ হিপনোটিজম বা সম্মোহন বিদ্যা দেখতে পায়, যা তাদের সামনে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, মানুষের আত্মার তার চেয়ে উচ্চতর কোনো শক্তির সাথে সংযোগ ঘটা এমন এক প্রভাব তৈরি করে যা ওহীর বিষয়টিকে বুঝার নিকটবর্তী করে দেয়; যেখানে একজন দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অধিকারী মানুষ তার ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে নিজের চেয়ে দুর্বল কাউকে বশীভূত করতে পারে, ফলে সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয় এবং তার ইঙ্গিতের অনুগত হয়ে পড়ে। সে তাকে যা চায় তা শিখিয়ে দেয়, ফলে তা তার অন্তরে ও জিহ্বায় জারি হয়ে যায়। আর যদি মানুষের সাথে মানুষের কর্ম এমন হতে পারে, তবে তাঁর সম্পর্কে আপনার ধারণা কী, যিনি শক্তিতে তার চেয়েও অনেক বেশি প্রবল? ১।

আর মানুষ সেই রেকর্ডকৃত কথাবার্তা শুনতে পায় যা বর্তমানে ইথার তরঙ্গের মাধ্যমে নিম্নাঞ্চল ও উচ্চাঞ্চল, সমভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাহিত হয়, বক্তাকে না দেখেই, এমনকি তাদের মৃত্যুর পরেও।

বর্তমানে দুইজন মানুষ টেলিফোনে কথা বলছে, যাদের একজন সুদূর প্রাচ্যে এবং অন্যজন সুদূর পাশ্চাত্যে অবস্থান করছে। এই কথোপকথনের সময় তারা একে অপরকে দেখতেও পায়, অথচ তাদের পাশে বসে থাকা ব্যক্তিরা ওহীর বর্ণনায় উল্লেখিত মৌমাছির গুঞ্জনের মতো অস্ফুট শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায় না।

আর আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যার জাগ্রত অবস্থায় বা ঘুমের ঘোরে মনে মনে এমন কোনো কথা উদিত হয় না, যা তার চিন্তায় ঘুরপাক খায় অথচ সে তার সামনে কোনো বক্তাকে দেখতে পায় না?

এগুলো এবং এজাতীয় অন্যান্য উদাহরণ আমাদের বিবেকের কাছে ওহীর হাকিকত বা বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে।

ওহীর সমসাময়িকরা তা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এটি তার শর্তাবলী পূরণকারী মুতাওয়াতির বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। মানবতা এর প্রভাব দেখেছে তার উম্মতের সভ্যতায়, অনুসারীদের শক্তিতে এবং তাদের মর্যাদায় যতদিন তারা একে আঁকড়ে ধরেছিল; আবার তাদের অস্তিত্বের পতন ও লাঞ্ছনায় যখন তারা এর ব্যাপারে অবহেলা করেছে। যা ওহীর সম্ভাবনা ও তার সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না। আর এর সুমহান আদর্শ এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মাধ্যমে মানসিক তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এর হিদায়াতের দিকে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য।

--------------------------------------------

১. দেখুন: আন-নাবাউল আজিম, পৃষ্ঠা ৭৫।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولم يكن رسولنا صلى الله عليه وسلم أول رسول أُوحِيَ إليه، بل أَوْحَى الله تعالى إلى الرسل قبله بمثل ما أَوْحَى إليه: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا، وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} 1..

فليس هناك في نزول الوحي على محمد صلى الله عليه وسلم ما يدعو إلى العجب، ولذا أنكر الله على العقلاء هذا في قوله: {أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَباً أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُبِينٌ} 2..

--------------------------------------------

1 النساء: 163، 164.

2 يونس: 2.
আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম রাসূল ছিলেন না যার নিকট ওহী পাঠানো হয়েছে, বরং আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণের নিকটও ওহী পাঠিয়েছিলেন ঠিক যেমনটি তিনি তাঁর প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি ওহী নাযিল করেছি যেমন ওহী নাযিল করেছিলাম নূহ এবং তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি। আর আমি ওহী নাযিল করেছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলাইমানের প্রতি এবং আমি দাঊদকে যাবূর দান করেছি। আর এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের কাহিনী আমি ইতিপূর্বে আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের কাহিনী আপনার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} ১..

সুতরাং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার মধ্যে বিস্ময়কর কিছু নেই, আর এজন্যই আল্লাহ বিবেকসম্পন্নদের এই বিস্ময়বোধকে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর এই বাণীতে বলেছেন: {মানুষের জন্য কি এটা বিস্ময়কর যে, আমি তাদের মধ্য থেকেই একজনের কাছে ওহী নাযিল করেছি এই মর্মে যে, আপনি মানুষকে সতর্ক করুন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য সত্যের উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। কাফিররা বলল, নিশ্চয় এ তো এক সুস্পষ্ট জাদুকর} ২..

--------------------------------------------

১. আন-নিসা: ১৬৩, ১৬৪।

২. ইউনুস: ২।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুন ফী উলূমিল কুরআন লি-মান্না ইল কাত্তান (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌معنى الوحي:

يقال: وحيت إليه وأوحيت: إذا كلَّمته بما تخفيه عن غيره، والوحي: الإشارة السريعة، وذلك يكون بالكلام على سبيل الرمز والتعريض، وقد يكون بصوت مجرد، وبإشارة ببعض الجوارح.

والوحي مصدر، ومادة الكلمة تدل على معنيين أصليين، هما: الخفاء والسرعة، ولذا قيل في معناه: الإعلام الخفي السريع الخاص بمن يوجَّه إليه بحيث يخفى على غيره، وهذا معنى المصدر، ويُطلق ويُراد به الوحي، أي بمعنى اسم المفعول. والوحي بمعناه اللغوي يتناول:

1- الإلهام الفطري للإنسان، كالوحي إلى أُم موسى {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ} 1..

--------------------------------------------

1 القصص: 7.
ওহীর অর্থ:

বলা হয়: 'ওয়াহাইতু ইলাইহি' এবং 'আওহাইতু', যখন আপনি তার সাথে এমন কিছু গোপন কথা বলেন যা অন্যদের অগোচরে থাকে। আর 'ওহী' হলো দ্রুত ইশারা; যা রূপক বা পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে, আবার তা কেবল কোনো শব্দের মাধ্যমে কিংবা শরীরের কোনো অঙ্গের ইশারার মাধ্যমেও হতে পারে।

ওহী একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর এই শব্দের মূল উপাদানটি দুটি মৌলিক অর্থের ওপর দালালত করে, তা হলো: গোপনীয়তা ও দ্রুততা। এজন্য এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: যাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে তাকে কোনো বিষয় গোপনে ও দ্রুততার সাথে এমনভাবে জানানো যাতে তা অন্যদের কাছে গোপন থাকে। এটি হলো মাসদারের অর্থ। আবার কখনো ওহী শব্দটি ব্যবহার করে 'যা ওহী করা হয়েছে' (অর্থাৎ ইসমে মাফউল) বুঝানো হয়। আর শাব্দিক অর্থে ওহী নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:

১- মানুষের স্বভাবজাত ইলহাম, যেমন মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মায়ের প্রতি ওহী: "আর আমি মুসার মায়ের প্রতি ওহী করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও।" ১..

--------------------------------------------

১. আল-কাসাস: ৭।