(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: -)
ما له حكم الرفع من أقوال الصحابة وأفعالهم القسم: علوم الحديث
الكتاب: ما له حكم الرفع من أقوال الصحابة وأفعالهم
المؤلف: أبو ياسر محمد بن مطر بن عثمان آل مطر الزهراني (ت 1427هـ)
الناشر: دار الخضيري للنشر والتوزيع، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: 1418هـ
عدد الصفحات: 82
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাহাবীদের বাণী ও কার্যাবলির মধ্য থেকে যা মারফু হওয়ার হুকুম (حكم الرفع) রাখে বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: সাহাবীদের বাণী ও কার্যাবলির মধ্য থেকে যা মারফু হওয়ার হুকুম (حكم الرفع) রাখে
লেখক: আবু ইয়াসির মুহাম্মদ বিন মাতার বিন উসমান আল মাতার আল-জাহরানি (মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি)
প্রকাশক: দার আল-খুদাইরি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: ১৪১৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مَا لَهُ حُكْمُ الرَّفْعِ مِنْ أَقْوَالِ الصَّحَابَةِ وَأَفْعَالِهِمْ
جمع وترتيب: د. محمَّد بن مطر الزهرانيّ
ال
مقدّمة:الحمد لله والصَّلاة والسَّلام على رسول الله سيّدنا محمَّد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد:
فإنَّ فنَّ علوم الحديث بفنونه المختلفة من العلوم التي ابتكرت لخدمة سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وذبِّ الكذب عنها. وقد بذل السَّلف رحمهم الله جهوداً عظيمة في حفظ السُّنَّة المطهَّرة قولاً وعملاً، وقد تمثّل ذلك في الآتي:
1 - الحفظ التَّامّ لألفاظها وحروفها.
2 - التَّثبُّت في روايتها ونقلها.
3 - العلم والعمل بها.
4 - الفقه فيها.
5 - السَّعي الجادّ لنشرها وتعليمها لجميع الأمَّة حفظاً للدّين وتبليغاً للرسالة.
وإنَّ مما عني به علماء الحديث في علوم الحديث: صيغَ أداء رواية الحديث النَّبويّ وطريقةَ نقله، وقد بلغ بهم التّدقيق في ذلك أن فرَّقوا بين قول الراوي: " حدّثنا "،
সাহাবিদের (الصحابة) কথা ও কাজের মধ্যে যা মারফু (الرفع) এর পর্যায়ভুক্ত।
সংকলন ও বিন্যাস: ড. মুহাম্মদ বিন মাতার আল-জাহরানি
ভূমিকা (المقدّمة):সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবিদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) তার বিভিন্ন শাখাসহ এমন এক জ্ঞান যা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সেবা এবং তা থেকে মিথ্যাকে প্রতিহত করার জন্য উদ্ভাবিত হয়েছে। সালাফ (السلف) (রহিমাহুমুল্লাহ) পবিত্র সুন্নাহর কথা ও কাজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মহান প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যা নিম্নোক্ত বিষয়াবলিতে প্রতিফলিত হয়েছে:
1 - এর শব্দ ও বর্ণের পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ।
2 - এর বর্ণনা (رواية) ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই।
3 - সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ও তদনুযায়ী আমল।
4 - এতে ফিকহ (الفقه) বা গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন।
5 - দ্বীন সংরক্ষণ এবং রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উম্মতের মাঝে তা প্রচার ও প্রসারের জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।
হাদিস বিশারদগণ হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) মধ্যে যে বিষয়টির প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেছেন তা হলো: নব্যবি হাদিস বর্ণনার শব্দাবলি (صيغ الأداء) এবং তা স্থানান্তরের পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে তাঁদের সূক্ষ্মতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁরা বর্ণনাকারীর (الراوي) উক্তি "হাদ্দাসানা (حدثنا)"-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقوله: " أخبرنا "، بل وبين قوله: " حدّثنا " و " حدّثني " و " أخبرنا " و " أخبرني ".
ومما اعتنوا به في هذا المجال: مراتب وصيغ نقل الصَّحابة للسُّنَّة، وقد لخّصها الحافظ مجد الدين أبو السعادات ابن الأثير (ت 606 هـ) وذلك في مقدّمة كتابه " جامع الأصول " فقال: مراتب الأخبار خمس:
الأولى: وهي أعلاها: أن يقول الصحابيُّ: " سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كذا "، أو " حدّثني بكذا "، أو " أخبرني بكذا "، أو " شافهني بكذا "، وكذلك غير الصَّحابيّ من الرواة عمَّن رووا عنه، فهذا لا يتطرّق إليه احتمال، وهو الأصل في الرواية وتبليغ الأخبار.
المرتبة الثانية: أن يقول الصحابيّ: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا "، أو " حدّثنا، أو أخبرنا بكذا "، وكذلك غير الصحابيّ عن شيخه، فهذا ظاهره النّقل وليس نصاًّ صريحاً.
المرتبة الثالثة: أن يقول الراوي: " أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم
এবং তাঁর উক্তি: "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)", বরং তাঁর উক্তি: "আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدّثنا)", "আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدّثني)", "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)" এবং "আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)" এর মধ্যকার পার্থক্য।
এবং এই ক্ষেত্রে তাঁরা যা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন তা হলো: সাহাবিগণের সুন্নাহ বর্ণনার স্তরসমূহ (مراتب) ও শব্দাবলি (صيغ)। হাফিজ মাজদুদ্দিন আবুস সাআদাত ইবনুল আসির (মৃত্যু ৬০৬ হি.) তাঁর কিতাব "জামিউল উসুল"-এর ভূমিকায় তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: সংবাদসমূহের (أخبار) স্তর পাঁচটি:
প্রথম স্তর: এটিই সর্বোচ্চ (أعلاها) স্তর: একজন সাহাবি বলবেন: "আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনটি বলতে শুনেছি (سمعت)", অথবা "তিনি আমাকে এমন হাদিস শুনিয়েছেন (حدّثني)", অথবা "আমাকে এমন সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)", অথবা "তিনি আমার সাথে সরাসরি মুখে মুখে কথা বলেছেন (شافهني)"। অনুরূপভাবে সাহাবি ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ (رواة) যাদের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ (احتمال) থাকে না, আর বর্ণনা (رواية) ও সংবাদ পৌঁছানোর (تبليغ الأخبار) ক্ষেত্রে এটিই মূল ভিত্তি।
দ্বিতীয় স্তর (المرتبة الثانية): একজন সাহাবি বলবেন: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন (قال)", অথবা "আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدّثنا), অথবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)"। অনুরূপভাবে সাহাবি ব্যতীত অন্য কেউ যখন তাঁর শায়খের থেকে বর্ণনা করেন, তখন এটি বাহ্যত বর্ণনা (نقل) হিসেবে গণ্য, কোনো দ্ব্যর্থহীন পাঠ (نص صريح) নয়।
তৃতীয় স্তর (المرتبة الثالثة): বর্ণনাকারী (راوي) বলবেন: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন (أمر)
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بكذا "، أو " نهى عن كذا "، فهذا يتطرّق إليه احتمالات ثلاثة:
أحدها: في سماعه.
والثاني: في الأمر، إذ ربّما يرى ما ليس بأمرٍ أمراً، والصحيح أنَّه لا يظنّ بالصحابيّ إطلاق ذلك إذا علم تحقيقاً أنَّه أمر بذلك.
والثالث: احتمال العموم والخصوص، حتى ظنّ قوم إنَّ مطلق هذا يقتضي أمر جميع الأمة
…المرتبة الرابعة: أن يقول الراوي: " أُمرنا بكذا، نُهينا عن كذا، أُوجِب علينا كذا، أُبيح لنا كذا، حُظر علينا كذا، من السُّنَّة كذا، السُّنَّة جارية بكذا "، فهذا جميعه في حكم واحد، ويتطرّق إليه الاحتمالات الثلاثة التي تطرّقت إلى المرتبة الثالثة، واحتمال رابع: وهو الآمر، فإنَّه لا يُدرى أنَّه رسول الله صلى الله عليه وسلم أو غيره من العلماء، وذهب الأكثرون إلى أنَّه لا يحمل إلا على أمر الله، وأمر رسوله، لأنَّه يريد به إثبات شرع وإقامة حجّة.
"অমুক বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন" অথবা "অমুক বিষয়ে নিষেধ করেছেন", এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাবনা তৈরি হয়:
প্রথমটি: তাঁর শ্রবণ (سماع) সংক্রান্ত বিষয়ে।
দ্বিতীয়টি: আদেশের (امر) ক্ষেত্রে, কেননা তিনি হয়তো এমন কিছুকে আদেশ মনে করতে পারেন যা আসলে আদেশ নয়; তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো, একজন সাহাবীর ক্ষেত্রে এমন ধারণা করা যায় না যে তিনি কোনো বিষয়কে নিশ্চিতভাবে আদেশ হিসেবে না জেনে তা ঢালাওভাবে ব্যক্ত করবেন।
তৃতীয়টি: ব্যাপকতা (عموم) ও বিশেষত্বের (خصوص) সম্ভাবনা, এমনকি একদল লোক মনে করেন যে এর সাধারণ রূপ পুরো উম্মতের প্রতি নির্দেশ হওয়াকে আবশ্যক করে
…চতুর্থ স্তর: বর্ণনাকারী (راوي) যদি বলেন: "আমাদেরকে অমুক বিষয়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে, আমাদেরকে অমুক বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, আমাদের ওপর অমুক কাজ ওয়াজিব (واجب) করা হয়েছে, আমাদের জন্য অমুক কাজ বৈধ (مباح) করা হয়েছে, আমাদের ওপর অমুক কাজ নিষিদ্ধ (محظور) করা হয়েছে, সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত হলো এটি, সুন্নাহ (سنة) এভাবে প্রচলিত", তবে এই সবগুলোর বিধান (حكم) একই এবং এতে সেই তিনটি সম্ভাবনাই বিদ্যমান যা তৃতীয় স্তরের ক্ষেত্রে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া এখানে চতুর্থ একটি সম্ভাবনাও রয়েছে: আর তা হলো আদেশদাতা কে? কেননা এখানে জানা যায় না যে আদেশদাতা কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাকি অন্য কোনো আলেম। তবে অধিকাংশ (أكثرون) বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, এটি কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ হিসেবেই গণ্য হবে; কারণ বর্ণনাকারী এর মাধ্যমে শরিয়তের বিধান সাব্যস্ত করা এবং দলিল (حجة) পেশ করা উদ্দেশ্য নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
المرتبة الخامسة: أن يقول الراوي: " كنا نفعل كذا "، وغرضه تعريف الشرع، فإنَّ ظاهره يقتضي إنَّ جميع الصحابة فعلوا ذلك على عهد النبيّ صلى الله عليه وسلم على وجه ظهر للنبيّ صلى الله عليه وسلم ولم ينكره، لأنَّ تعريف الحكم يقع به.
فإن قال: " كانوا يفعلون كذا " وأضافه إلى زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو دليل على جواز الفعل لإنَّ ذكره في معرض الحجّة يدلّ على أنَّه أراد ما فعله الرسول أو سكت عليه دون ما لم يبلغه. 1
وقد ضمّنتُ بحثي هذا الرتبتين: الرابعة والخامسة مما ذكره ابن الأثير رحمه الله، ثمّ أضفتُ إليها ما شاكلها من الصيغ التي تعدّ من المرفوع حكماً، فجاء البحث في خمسة مباحث، قدّمت لها بهذه المقدِّمة وختمتها بذكر أهمِّ النتائج التي توصّلت إليها في البحث.
--------------------------------------------
পঞ্চম স্তর: যদি বর্ণনাকারী (الراوي) বলেন: "আমরা এমনটি করতাম", এবং তাঁর উদ্দেশ্য হয় শরীয়তের বিধান (الحكم) স্পষ্ট করা, তবে এর বাহ্যিক রূপ এটাই দাবি করে যে, সমস্ত সাহাবী (الصحابة) আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তা এমনভাবে করতেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টিগোচর হয়েছিল এবং তিনি তা অস্বীকার করেননি; কারণ এর মাধ্যমেই শরয়ী বিধান (الحكم) সাব্যস্ত হয়।
আর যদি তিনি বলেন: "তাঁরা এমনটি করতেন" এবং একে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করেন, তবে তা উক্ত কাজ বৈধ হওয়ার দলিল (دليل)। কেননা একে প্রমাণ (الحجة) হিসেবে উপস্থাপন করা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কৃতকর্ম অথবা তাঁর মৌনসম্মতি প্রদানকৃত বিষয়কেই বুঝিয়েছেন, এমন কিছু নয় যা তাঁর নিকট পৌঁছায়নি। ১
আমি আমার এই গবেষণায় ইবনুল আসীর (রহ.)-এর উল্লিখিত চতুর্থ ও পঞ্চম—এই দুই স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। অতঃপর এর সাথে সমজাতীয় এমন শব্দ গঠনগুলো (الصيغ) যুক্ত করেছি যা পরোক্ষভাবে উন্নীত (المرفوع حكماً) হিসেবে গণ্য হয়। ফলে গবেষণাটি পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে; আমি একটি ভূমিকার মাধ্যমে এটি শুরু করেছি এবং গবেষণার লব্ধ প্রধান ফলাফলসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে শেষ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
والخمسة مباحث هي:
المبحث الأوّل: قول الصحابيّ: " كنّا نقول كذا "، أو " نفعل كذا "، أو " نرى كذا ".
المبحث الثاني:قول الصحابيّ:" أُمِرنا بكذا "، أو " نُهِينا عن كذا "، أو " من السُّنَّة كذا ".
المبحث الثالث:قول التابعيّ عند ذكر الصحابيّ:" يبلغ به "، أو " يرفعه "، أو " رفعه "، أو " ينميه "، أو " رواية ".
المبحث الرابع:ما وقف على الصحابيّ مما ليس للرأي فيه مجال.
المبحث الخامس:تفسير الصحابيّ للقرآن.
وختاماً أسأل الله العليّ القدير أن يتقبَّل منِّي عملي هذا، وأن ينفعني به وينفع به إخواني من طلبة العلم، وصلى الله وسلّم على نبينا محمَّدٍ وعلى آله.
وكتبه في:29 / 7 / 1418 هـ
محمَّد بن مطر الزهرانيّ
في المدينة النبويّة حرسها الله
এবং পাঁচটি আলোচ্য বিষয় হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীর (صحابي) উক্তি: "আমরা এমন বলতাম", অথবা "আমরা এমন করতাম", অথবা "আমরা এমন মনে করতাম"।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীর (صحابي) উক্তি: "আমাদেরকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে", অথবা "আমাদেরকে এই বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে", অথবা "এটি সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত"।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীর (صحابي) উল্লেখকালে তাবিঈর (تابعي) উক্তি: "তিনি এটি পৌঁছে দিয়েছেন (يبلغ به)", অথবা "তিনি এটি মারফু হিসেবে উন্নীত করেছেন (يرفعه)", অথবা "তিনি একে মারফু করেছেন (رفعه)", অথবা "তিনি এটি সম্পৃক্ত করেছেন (ينميه)", অথবা "এটি একটি বর্ণনা (رواية)"।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যা সাহাবীর (صحابي) ওপর মওকুফ (موقوف) হয়েছে এমন বিষয়ে যাতে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো অবকাশ নেই।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সাহাবীর (صحابي) করা কুরআনের তাফসির (تفسير)।
পরিশেষে, আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই আমল কবুল করেন এবং এর দ্বারা আমাকে ও আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের উপকৃত করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখিত হয়েছে: ২৯ / ৭ / ১৪১৮ হিজরী
মুহাম্মদ বিন মাতার আল-জাহারানি
মদিনা মুনাওয়ারায়, আল্লাহ একে হেফাজত করুন।
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأوّل: قول الصحابيّ:" كنّا نقول كذا "، أو " نفعل كذا "، أو " نرى كذا ".
أولاً: هذه الألفاظ غالباً ما ترد بإحدى الصياغتين التاليتين:
أ - كنا نقول كذا أو نفعل كذا، أو كانوا يقولون أو يفعلون، أو كنا نرى كذا أو لا نرى بأساً بكذا ونحو ذلك، في حياة النبيّ صلى الله عليه وسلم، أو في زمنه أو عصره أو وهو فينا أو بين أظهرنا ونحو ذلك.
ب - كنا نقول أو نفعل أو نرى
… ولا يضيف ذلك إلى زمن النبي صلى الله عليه وسلم 1.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): সাহাবী (صحابي)-র উক্তি: "আমরা এমন বলতাম", অথবা "আমরা এমন করতাম", অথবা "আমরা এমন মনে করতাম".
প্রথমত: এই শব্দসমূহ সাধারণত নিম্নলিখিত দুটি কাঠামো (الصياغة)-র একটিতে বর্ণিত হয়:
ক - "আমরা এমন বলতাম" বা "করতাম", অথবা "তাঁরা বলতেন" বা "করতেন", অথবা "আমরা এমন মনে করতাম" বা "আমরা এতে কোনো সমস্যা (بأس) মনে করতাম না" এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ; যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায়, অথবা তাঁর যুগ (زمن) বা সময় (عصر)-এ, অথবা তিনি আমাদের মাঝে থাকাকালীন বা আমাদের উপস্থিতিতে ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়।
খ - "আমরা বলতাম" বা "করতাম" বা "মনে করতাম"
… এবং একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় না। ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثانياً: من أمثلته:
1 - ما رواه الإمام أبو عبد الله محمَّد بن إسماعيل البخاريّ (ت 256 هـ) ، في " صحيحه " عن سالم بن أبي الجعد عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال:" كنّا إذا صعدنا كبّرنا، وإذا نزلنا سبّحنا " 1.
2 - ما رواه البخاريّ، ومسلم بن الحجّاج (ت 261 هـ) في " صحيحيهما " عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما:" كنّا نعزل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم".
وفي رواية: " كنّا نعزل والقرآن ينزل " 2.
3 - ما رواه أبو داود سليمان بن الأشعث (ت 275 هـ) في سننه عن سالم بن عبد الله بن عمر
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: এর উদাহরণসমূহ:
১ - ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (ওফাত ২৫৬ হিজরি) তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে সালেম ইবনে আবিল জাদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন আমরা ওপরের দিকে আরোহণ করতাম তখন তাকবির (আল্লাহু আকবার) ধ্বনি দিতাম, আর যখন নিচে অবতরণ করতাম তখন তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতাম।" ১।
২ - ইমাম বুখারি এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (ওফাত ২৬১ হিজরি) তাঁদের "সহিহাইন"-এ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আযল (সহবাসে বীর্যপাত বাইরে ঘটানো) করতাম।"
অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "আমরা আযল করতাম অথচ তখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল।" ২।
৩ - আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আশআস (ওফাত ২৭৫ হিজরি) তাঁর "সুনান" গ্রন্থে সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে যা বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
إنَّ ابن عمر قال:" كنّا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم حيٌّ: أفضل أمَّة النبيّ صلى الله عليه وسلم بعده أبو بكر، ثمّ عمر، ثمّ عثمان رضي الله عنهم أجمعين " 1.
ولفظه في البخاريّ:" كنّا نخيّر بين النّاس في زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم فنخيّر أبا بكر، ثمّ عمر بن الخطاب، ثمّ عثمان بن عفان رضي الله عنهم " 2.
ثالثاً: اختلف العلماء في الحديث الوارد بهذه الصّيغة هل له حكم الرّفع أم أنَّه موقوف؟ وذلك على أقوال 3:
الأول:- أنَّه مرفوع مطلقاً، أضيف إلى زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
ইবনে উমর (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবিত থাকাকালীন আমরা বলতাম: তাঁর পরে নবীর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)।" 1.
সহিহ বুখারিতে এর শব্দবিন্যাস হলো: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমরা মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করতাম; ফলে আমরা আবু বকরকে শ্রেষ্ঠ মনে করতাম, তারপর উমর বিন খাত্তাব, তারপর উসমান বিন আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)।" 2.
তৃতীয়ত: এই শব্দাবলীতে বর্ণিত হাদিসটি কি মারফু (مرفوع) হওয়ার মর্যাদা রাখবে নাকি এটি মাওকুফ (موقوف)? এ বিষয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে কয়েকটি অভিমত বিদ্যমান 3:
প্রথম:- এটি নিরঙ্কুশভাবে মারফু (مرفوع), কারণ একে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
أم لم يضف.
قال الحافظ ابن حجر:" هو الذي اعتمده الشيخان في صحيحهما، وأكثر منه البخاريّ " 1.
وقال أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله الحاكم (ت 405 هـ) :"
… إذا قاله الصحابيّ المعروف بالصحبة فهو حديث مسند - مرفوع -، وكلّ ذلك مخرّج في المسانيد " 2.
وقال أبو زكريا محي الدين بن شرف النوويّ (ت 676 هـ) :" وظاهر استعمال كثير من المحدّثين، وأصحابنا في كتب الفقه أنَّه مرفوع مطلقاً سواء أضافه أو لم يضفه، وهذا قويّ فإنَّ الظاهر من قوله: كنّا نفعل، أو كانوا يفعلون الاحتجاج به، وأنَّه فعل على وجه يحتجّ به،
--------------------------------------------
অথবা তিনি তা (রাসূলুল্লাহর দিকে) সম্বন্ধ করেননি।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে এটিকেই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম বুখারি এর অধিক বর্ণনা করেছেন।" ১।
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত ৪০৫ হি.) বলেন: "
… সাহচর্যের জন্য সুপরিচিত কোনো সাহাবি যখন এটি বলেন, তখন তা সংযুক্ত (مسند) - উন্নীত (مرفوع) - হাদিস, এবং এর সবই মুসনাদ গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে।" ২।
আবু জাকারিয়া মহিউদ্দিন বিন শরাফ আন-নববী (মৃত ৬৭৬ হি.) বলেন: "অধিকাংশ হাদিস বিশারদ এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে আমাদের অনুসারীদের ব্যবহারের বাহ্যিক দিক হলো যে, এটি সাধারণভাবে উন্নীত (مرفوع), চাই তিনি এটি (রাসূলুল্লাহর দিকে) সম্বন্ধ করুন বা না করুন। এটি একটি শক্তিশালী মত, কেননা সাহাবির উক্তি: 'আমরা করতাম' বা 'তারা করতেন'—এর বাহ্যিক উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা (احتجاج), এবং এটি এমনভাবে করা হয়েছে যা দলিলযোগ্য,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولا يكون ذلك إلا في زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم ويبلغه " 1.
قال الحافظ زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقيّ (ت 806 هـ) :" وقد أطلق الحاكم في " علوم الحديث " 2 الحكم برفعه ولم يقيّده بإضافته إلى زمنه صلى الله عليه وسلم، وكذا أطلقه الإمام فخر الدين الرازيّ في " المحصول " 3، والسيف الآمديّ في " الإحكام " 4، وقال أبو نصر الصبَّاغ في كتاب " العدّة ":أنَّه ظاهر، ومثّله بقول عائشة رضي الله عنها: كانت اليد لا تقطع في الشيء التافه " 5.
الثاني:- التفريق بين ما يضيفه راويه إلى زمن
--------------------------------------------
"এবং এটি কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেই সম্ভব এবং তা তাঁর নিকট পৌঁছাত।" ১।
হাফেজ যাইন উদ্দিন আবদুর রহিম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি) বলেন: "হাকিম তাঁর 'উলূমুল হাদিস' গ্রন্থে ২ একে মারফু (مرفوع) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন এবং একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের সাথে সম্পৃক্ত করার শর্তারোপ করেননি। অনুরূপভাবে ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজি 'আল-মাহসুল' ৩ গ্রন্থে এবং সাইফ আল-আমিদি 'আল-ইহকাম' ৪ গ্রন্থে এটি সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন। আবু নাসর আস-সাব্বাগ 'আল-উদ্দাহ' গ্রন্থে বলেন যে, এটি জাহির (ظاهر) বা সুস্পষ্ট; এবং তিনি এর উদাহরণ হিসেবে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর এই উক্তিটি পেশ করেছেন: 'তুচ্ছ জিনিসের জন্য হাত কাটা হতো না'।" ৫।
দ্বিতীয়:- বর্ণনাকারী যা কোনো সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন তার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
النبيّ صلى الله عليه وسلم وما لم يضفه، فما أضيف إلى زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم فهو مرفوع، وما لم يضف فهو موقوف.
قال أبو بكر أحمد بن عليّ الخطيب البغداديّ (ت 463 هـ) :" قول الصحابيّ:كنّا نقول كذا، ونفعل كذا، من ألفاظ التّكثير ومما يفيد تكرار الفعل والقول واستمرارهم عليه، فمتى أضاف ذلك إلى زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم على وجه كان يعلم به رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا ينكره، وجب القضاء بكونه شرعاً، وقام إقراره له مقام نطقه بالأمر به، ويبعد فيما كان يتكرّر قول الصحابة له وفعلهم إياه على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يخفى عليه وقوعه ولا يعلم به، ولا يجوز في صفة الصحابيّ أن يعلم إنكاراً من النبيّ صلى الله عليه وسلم في ذلك فلا يرويه، لأنَّ الشرع والحجّة في إنكاره لا في فعلهم لما ينكره، ولا يمكن في صفته رواية الفعل الذي ليس بشرع وتركه رواية إنكاره له الذي هو الشرع، فوجب أن يكون المتكرّر في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم مع إقراره شرعاً ثابتاً لما قلناه ".
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যা সম্পর্কিত করা হয়েছে এবং যা করা হয়নি; সুতরাং যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে তা হলো উন্নত বা রাসূলের দিকে সম্পর্কিত (مرفوع), আর যা সম্পর্কিত করা হয়নি তা হলো স্থগিত বা সাহাবীর পর্যায়ে সীমিত (موقوف)।
আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) বলেছেন: "সাহাবীর উক্তি: 'আমরা এমনটি বলতাম' এবং 'আমরা এমনটি করতাম'—এটি আধিক্যবাচক শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং যা কোনো কাজ ও কথার পুনরাবৃত্তি এবং সেটির ওপর তাঁদের অবিচল থাকার অর্থ প্রদান করে। সুতরাং যখনই বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত করা হবে যে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবগত ছিলেন এবং তিনি তা অস্বীকার করেননি, তখন একে শরীয়ত হিসেবে ফয়সালা করা ওয়াজিব হবে। আর তাঁর মৌন সম্মতি (إقرار) কোনো বিষয়ের সরাসরি আদেশ প্রদানের সমতুল্য হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবীদের পক্ষ থেকে কোনো কথা বা কাজের বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটবে অথচ সেটি তাঁর কাছে গোপন থাকবে এবং তিনি তা জানবেন না—এটি সুদূরপরাহত। আর একজন সাহাবীর বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এটি হওয়া সমীচীন নয় যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো বিষয়ের অসম্মতি জানবেন অথচ তা বর্ণনা করবেন না। কারণ শরীয়ত ও দলিল নিহিত রয়েছে তাঁর অসম্মতির মাঝে, সাহাবীদের সেই কাজের মাঝে নয় যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর একজন সাহাবীর পক্ষে এমন কাজ বর্ণনা করা সম্ভব নয় যা শরীয়ত নয়, অথচ সেই অসম্মতির বর্ণনাটি পরিত্যাগ করা যা মূলত শরীয়ত। অতএব আমরা যা বলেছি তার ভিত্তিতে এটি আবশ্যক হয় যে, রাসূলের যুগে তাঁর মৌন সম্মতির (إقرار) সাথে যা বারবার সংঘটিত হয়েছে, তা সুপ্রতিষ্ঠিত শরীয়ত হিসেবে গণ্য হবে।"
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثمّ ساق بإسناده إلى عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: كنّا لا نرى بكراء الأرض بأساً حتى حدّثنا رافع ابن خديج إنَّ النبيّ صلى الله عليه وسلم نهى عن كراء الأرض، فكان ابن عمر يقول: لقد نهى ابن خديج عن أمرٍ نافعٍ لنا 1.
فجمع ابن عمر بين ما كانوا عليه من فعل الاستكراء وبين حديث رافع بن خديج، عن النبيّ صلى الله عليه وسلم في النهي عنه
… " 2.
ثمّ قال رحمه الله:" ومتى جاءت رواية عن الصَّحابة بأنّهم كانوا يقولون أو يفعلون شيئاً، ولم يكن في الرواية ما يقتضي إضافة وقوع ذلك إلى زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم، لم يكن
--------------------------------------------
এরপর তিনি তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা জমি ইজারা দেওয়াতে কোনো দোষ মনে করতাম না, যতক্ষণ না রাফে ইবনে খাদিজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জমি ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর ইবনে ওমর বলতেন: ইবনে খাদিজ আমাদের জন্য একটি উপকারী বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। 1.
ফলে ইবনে ওমর জমি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রচলিত আমল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত রাফে ইবনে খাদিজের হাদিসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সমন্বয় করেছেন
… " 2.
অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখন সাহাবীগণের পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা (رواية) আসে যে তাঁরা কোনো কিছু বলতেন বা করতেন, এবং সেই বর্ণনার (رواية) মধ্যে এমন কিছু নেই যা সেই বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের সাথে সম্পৃক্ত করার দাবি রাখে, তবে তা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حجّة " 1.
وتابع الخطيب على ذلك أبو عمرو بن الصّلاح (ت 643 هـ) ، فقال:" قول الصحابيّ: كنّا نفعل كذا أو كنّا نقول كذا، إن لم يضفه إلى زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو من قبيل الموقوف " 2.
وقال أبو المظفّر منصور بن محمَّد السمعانيّ (ت 489 هـ) :" وإذا قال الصحابيّ:كنّا نفعل كذا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو بمنزلة المسند إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ". ثمّ قال في ردّه على الذين قالوا: أنَّه ليس بمنزلة المسند:"
… وأما نحن فنقول: إنَّ الظاهر من أمر الصَّحابة أنّهم ما كانوا يقدمون على شيء من أمور الدين والنبيّ صلى الله عليه وسلم بين
--------------------------------------------
দলিল " ১.
খতিব [আল-বাগদাদী]-এর অনুসরণে আবু আমর ইবনুল সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.) বলেছেন: "সাহাবীর বক্তব্য: 'আমরা এরূপ করতাম' অথবা 'আমরা এরূপ বলতাম', যদি তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত না করেন, তবে তা স্থগিত (موقوف) পর্যায়ের।" ২.
আবু আল-মুজাফফর মানসুর বিন মুহাম্মদ আস-সামআনি (মৃত্যু ৪৮৯ হি.) বলেছেন: "আর যখন সাহাবী বলেন: 'আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এরূপ করতাম', তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মুসনাদ হিসেবে গণ্য।" অতঃপর যারা এটিকে মুসনাদ পর্যায়ভুক্ত নয় বলে মনে করেন, তাঁদের জবাবে তিনি বলেছেন: "
… আর আমরা বলি: সাহাবীগণের বিষয়ের প্রকাশ্য দিকটি হলো এই যে, তাঁরা দ্বীনের কোনো বিষয়ে অগ্রসর হতেন না যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মাঝে বিদ্যমান ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أظهرهم إلا عن أمره وإذنه فصار قولهم: كنّا نفعل كذا في زمان النبيّ صلى الله عليه وسلم بمنزلة المسند، لهذا الظاهر، والظاهر حجّة " 1.
وقد ذكر مثل ذلك بحروفه الحافظ أبو إسحاق إبراهيم ابن عليّ الشيرازيّ (ت 476 هـ) في كتابه " التبصرة في أصول الفقه " 2.
وقال الحافظ محي الدين يحيى بن شرف النوويّ (ت 676 هـ) :" وقال الجمهور من المحدّثين وأصحاب الفقه والأصول: إن لم يضفه إلى زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس بمرفوع بل هو موقوف، وإن أضافه فقال: كنّا نفعل في حياة النبيّ صلى الله عليه وسلم أو في زمنه أو وهو فينا أو بين أظهرنا أو نحو ذلك، فهو مرفوع، وهذا هو المذهب الصحيح الظاهر،
--------------------------------------------
তাদের নিকট থেকে তা প্রকাশ পাওয়া তাঁর নির্দেশ ও অনুমতি ব্যতিরেকে সম্ভব ছিল না। ফলে তাদের এই বক্তব্য: "আমরা নবী (সা.)-এর যুগে এমনটি করতাম" এই বাহ্যিক অবস্থার প্রেক্ষিতে মুসনাদ (المسند) এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; আর এই বাহ্যিক অবস্থা হলো দলিল (حجة)।
হাফিজ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আলি আশ-শিরাজি (মৃত্যু ৪৭৬ হি.) তাঁর "আত-তাবসিরা ফি উসুলিল ফিকহ" গ্রন্থে হুবহু এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
হাফিজ মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববি (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণের জুমহুর এবং ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রবিদগণ বলেছেন: যদি তিনি (সাহাবি) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত না করেন, তবে তা মারফু (مرفوع) নয় বরং তা মাওকুফ (موقوف)। আর যদি তিনি একে সম্পৃক্ত করেন এবং বলেন: 'আমরা নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় অথবা তাঁর যুগে অথবা তিনি আমাদের মাঝে থাকাবস্থায় অথবা আমাদের সান্নিধ্যে থাকাবস্থায় এমনটি করতাম' বা অনুরূপ কিছু, তবে তা মারফু (مرفوع)। আর এটিই হলো সঠিক ও প্রকাশ্য মত,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإنَّه إذا فعل في زمنه صلى الله عليه وسلم فالظاهر اطّلاعه عليه، وتقريره إياه صلى الله عليه وسلم، وذلك مرفوع " 1.
وقال الحافظ ابن حجر (ت 852 هـ) :" ومثال المرفوع من القول حكماً لا تصريحاً أن يقول الصحابيّ: كنّا نقول على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا، فله حكم ما لو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو مرفوع سواء كان مما سمعه منه أو عنه بواسطة
… "، ثمّ قال:" ومثال المرفوع من التّقرير حكماً: أن يخبر الصحابيّ أنّهم كانوا يفعلون في زمان النبيّ صلى الله عليه وسلم كذا، فإنَّه يكون له حكم الرّفع من جهة أنَّ الظّاهر اطّلاعه صلى الله عليه وسلم على ذلك، لتوفّر دواعيهم على سؤاله عن أمور دينهم، ولإنَّ ذلك زمان نزول الوحي فلا يقع من الصحابة فعل شيء ويستمرّون عليه إلا وهو غير ممنوع الفعل، وقد استدلّ جابر وأبو سعيد الخدريّ رضي الله عنهما على جواز العزل بأنّهم كانوا
--------------------------------------------
কেননা যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে কোনো কাজ করা হতো, তখন বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে তিনি তাতে অবগত ছিলেন এবং সেটি ছিল তাঁর পক্ষ থেকে অনুমোদন (تقرير), আর তা মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য। 1.
হাফেজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হি.) বলেন: "বক্তব্যমূলক মারফু যা সরাসরি নয় বরং বিধানগত (المرفوع من القول حكماً لا تصريحاً), তার উদাহরণ হলো সাহাবী (الصحابيّ) কর্তৃক এ কথা বলা: 'আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এমনটি বলতাম'। এটি সেই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত যেন তিনি বলেছেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। সুতরাং তা মারফু (مرفوع), চাই তা সরাসরি তাঁর থেকে শুনে থাকুন অথবা কোনো মধ্যস্থতার মাধ্যমে
… "। অতঃপর তিনি বলেন: "অনুমোদনমূলক মারফু যা বিধানগত (المرفوع من التقرير حكماً)-এর উদাহরণ হলো: সাহাবী (الصحابيّ) কর্তৃক এ সংবাদ দেওয়া যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এমন কাজ করতেন। এটি মারফু (الرفع)-এর বিধানভুক্ত হওয়ার কারণ হলো, বাহ্যত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে অবগত ছিলেন; কেননা তাদের দ্বীনি বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করার প্রবল প্রেরণা বিদ্যমান ছিল। তদুপরি সেটি ছিল ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়, তাই সাহাবীগণের (الصحابة) পক্ষ থেকে কোনো কাজ হওয়া এবং তার ওপর তারা অব্যাহত থাকা সম্ভব নয় যদি না তা অনুমোদিত হতো। জাবের ও আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আযল (العزل) বৈধ হওয়ার সপক্ষে এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে তারা ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يفعلونه والقرآن ينزل، ولو كان مما ينهى عنه لنهى عنه القرآن " 1.
وذهب إلى كونه مرفوعاً يحتجّ به الحافظ محمَّد بن أحمد الفتوحي الحنبليّ (ت 972 هـ) فقال:" إنَّ حكم ذلك حكم قول الصحابي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
… "2.
الثالث:- أنَّه من قبيل الموقوف مطلقاً أضيف أو لم يضف إلى زمنه صلى الله عليه وسلم وقد جزم بهذا القول الحافظ أبو بكر أحمد بن إبراهيم الإسماعيليّ (ت 371 هـ) فيما رواه عنه تلميذه الحافظ أبو بكر أحمد بن محمَّد بن غالب الخوارزميّ البرقانيّ (ت 425 هـ) 3.
قال السيوطيّ (ت 911 هـ) :" وهو بعيد
--------------------------------------------
"...তারা তা করত এমতাবস্থায় যখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল; আর যদি এটি এমন কিছু হতো যা থেকে নিষেধ করা আবশ্যক, তবে কুরআন অবশ্যই তা নিষেধ করত।" ১.
আর হাফিজ মুহাম্মাদ বিন আহমদ আল-ফুতুহি আল-হাম্বলি (মৃত ৯৭২ হি.) একে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) এবং দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به) হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় এর বিধান হলো সাহাবীর এই কথার বিধানের অনুরূপ: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন
… " ২.
তৃতীয়ত: এটি সাধারণভাবে সাহাবীর বক্তব্য (موقوف) পর্যায়ের, চাই তা তাঁর (সা.) সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হোক বা না হোক। হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন ইবরাহিম আল-ইসমাঈলি (মৃত ৩৭১ হি.) এই মতটি সুনিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন, যা তাঁর থেকে তাঁর ছাত্র হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমি আল-বারকানি (মৃত ৪২৫ হি.) বর্ণনা করেছেন। ৩.
আস-সুয়ুতি (মৃত ৯১১ হি.) বলেছেন: "এটি সুদূরপরাহত (بعيد)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
جداًّ " 1.
الرابع:- التفصيل فيما جاء بهذه الصيغة وأضيف إلى زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم، بين أن يكون ذلك الفعل مما لا يخفى غالباً فيكون مرفوعاً أو يخفى فيكون موقوفاً 2.
قال أبو المظفّر منصور بن محمَّد السمعانيّ التّيميّ (ت 489 هـ) :"
… وإذا قال الصحابيّ:كانوا يفعلون كذا
… ، فإن أضافه إلى عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وكان مما لا يخفى مثله: حُمِل على إقرار الرسول صلى الله عليه وسلم وصار شرعاً، وإن كان مثله يخفى؛ فإن تكرّر منهم وكثر حمل على إقراره؛ لأنَّ الأغلب فيما كثر منهم أنَّه لا يخفى عليه، كما روي عن أبي سعيد الخدريّ رضي الله عنه أنَّه قال:" كنّا نخرج صدقة الفطر في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم صاعاً من برّ
--------------------------------------------
চতুর্থত: এই শব্দমালার মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ হলো—যদি সেই কাজটি এমন হয় যা সাধারণত গোপন থাকে না, তবে তা রাসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে গণ্য হবে; আর যদি তা গোপন থাকে তবে তা সাহাবী পর্যন্ত স্থগিত (موقوف) হিসেবে গণ্য হবে।
আবু আল-মুজাফফর মানসুর ইবনে মুহাম্মদ আল-সামআনী আল-তায়মী (মৃত ৪৮৯ হিজরি) বলেছেন: ... “যখন কোনো সাহাবী বলেন: ‘তাঁরা এমন করতেন ...’, আর তিনি যদি তা রাসুলের যুগের দিকে সম্পৃক্ত করেন এবং বিষয়টি যদি এমন হয় যা সাধারণত গোপন থাকার মতো নয়, তবে তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌনসম্মতি (إقرار) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা শরয়ি বিধানে পরিণত হবে। আর যদি বিষয়টি এমন হয় যা সাধারণত গোপন থাকে, তবে সেটি যদি তাঁদের থেকে বারবার এবং অধিক পরিমাণে প্রকাশ পায়, তবে তাও তাঁর মৌনসম্মতির অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ তাঁদের পক্ষ থেকে যা অধিক মাত্রায় ঘটে, তা সাধারণত তাঁর কাছে গোপন থাকে না। যেমন আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: ‘আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা গম প্রদান করতাম’।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
أو صاعاً من شعير أو صاعاً من تمر
… " 1 الحديث. ثمّ قال:" وعلى هذا إذا أخرج الراوي الرواية مخرج التكثير بأن قال:كانوا يفعلون كذا، حملت الرواية على علمه وإقراره، فصار المنقول شرعاً، وإن تجرّد عن لفظ التّكثير كقوله: فعلوا كذا، فهو محتمل، ولا يثبت شرع باحتمال"2.
قال الحافظ النوويّ عند ذكر الخلاف في هذه الصيغة: " قال أبو إسحاق الشيرازيّ في " اللمع ":إن كان ذلك مما لا يخفى في العادة كان كما لو رآه النبيّ صلى الله عليه وسلم ولم ينكره، فيكون مرفوعاً؛ وإن جاز خفاؤه عليه صلى الله عليه وسلم لم يكن مرفوعاً
--------------------------------------------
"...অথবা এক সা যব অথবা এক সা খেজুর
… " ১ হাদিস। তারপর তিনি বলেন: "আর এর ওপর ভিত্তি করে, বর্ণনাকারী (الراوي) যখন আধিক্য বুঝানোর পদ্ধতিতে বর্ণনা (الرواية) পেশ করেন—এই বলে যে: 'তারা এমনটি করতেন'—তখন সেই বর্ণনাটি তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) জ্ঞান ও মৌনসম্মতির (إقراره) ওপর ধাবিত হবে; ফলে যা বর্ণিত হয়েছে তা শরয়ি বিধান হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা আধিক্যবোধক শব্দ বর্জিত হয়, যেমন তাঁর উক্তি: 'তারা এমনটি করেছেন', তবে তা সংশয়যুক্ত (محتمل) এবং সংশয়ের দ্বারা কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত হয় না" ২।
হাফিজ নববী এই শব্দচয়নের (الصيغة) ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করার সময় বলেন: "আবু ইসহাক আল-শিরাজি 'আল-লুমআ' গ্রন্থে বলেছেন: যদি বিষয়টি এমন হয় যা সাধারণত গোপন থাকার কথা নয়, তবে তা এমন হবে যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি দেখেছেন এবং তিনি তা অস্বীকার করেননি। ফলে সেটি মারফু (مرفوعاً) হবে; আর যদি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট তা গোপন থাকা সম্ভব হয়, তবে তা মারফু (مرفوعاً) হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
كقول بعض الأنصار:كنّا نجامع فنكسل ولا نغتسل، فهذا لا يدلّ على عدم وجوب الغسل من الإكسال لأنَّه يفعل سراًّ فيخفى " 1.
الخامس:- إن أورده الصحابيّ في معرض الحجّة حمل على الرفع، وإلا فموقوف؛ قال الحافظ ابن حجر:" حكاه القرطبيّ " 2.
--------------------------------------------
যেমন জনৈক আনসারীর উক্তি: "আমরা সহবাস করতাম অতঃপর বীর্যপাত হতো না এবং আমরা গোসল করতাম না।" এটি বীর্যপাত না হওয়া (الإكسال) থেকে গোসল ওয়াজিব না হওয়ার ওপর দলিল নয়, কারণ এটি গোপনে করা হতো বিধায় তা অস্পষ্ট থাকতো। " 1.
পঞ্চম:- যদি সাহাবী এটি প্রমাণের স্থলে পেশ করেন তবে তাকে মারফু (الرفع) হিসেবে গণ্য করা হবে, অন্যথায় এটি মাওকুফ (موقوف); হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "কুরতুবী এটি বর্ণনা করেছেন।" 2.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
تنبيهات:
هذه التنبيهات ذكرها الحافظ ابن حجر في كتاب " النكت على كتاب ابن الصّلاح " 1.
وجعلها الحافظ السخاويّ (ت 902 هـ) في " فتح المغيث " 2 أقوالاً في حكم الحديث الوارد بهذه الصّيغة، وأتبعتها بما يشاكلها من التنبيهات:
الأول:
قول الصحابي:" كنّا نرى كذا "، ينقدح فيها من الاحتمال أكثر مما ينقدح في قوله:" كنّا نقول أو نفعل "، لأنّها من الرأي، ومستنده قد يكون تنصيصاً أو استنباطاً.
الثاني:
قوله:" كان يقال كذا ".
قال الحافظ المنذريّ:" اختلفوا هل يلتحق بالمرفوع أو الموقوف؟ " قال:" والجمهور على أنَّه إذا أضافه إلى
--------------------------------------------
সতর্কতাগুলো:
এই সতর্কতাগুলো হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর "আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ১।
হাফিজ সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হি.) "ফাতহুল মুগিস" ২ গ্রন্থে এই শব্দরীতিতে বর্ণিত হাদিসের বিধান (حكم) সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিমত হিসেবে এগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন; আমি এগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরও কিছু সতর্কতা নিচে যুক্ত করছি:
প্রথমত:
সাহাবির উক্তি: "আমরা এমন মনে করতাম", এর ক্ষেত্রে তাঁর "আমরা বলতাম বা করতাম" উক্তির তুলনায় অন্য প্রকারের সম্ভাবনা বেশি থাকে; কারণ এটি ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) থেকে নিঃসৃত হতে পারে এবং এর ভিত্তি কখনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (تنصيص) হতে পারে আবার কখনো গবেষণালব্ধ ইস্তিনবাত (استنباط) হতে পারে।
দ্বিতীয়ত:
তাঁর উক্তি: "বলা হতো এমন।"
হাফিজ মুনজিরি বলেন: "বিদ্বানগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি মরফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য হবে নাকি মাউকুফ (موقوف) হিসেবে?" তিনি বলেন: "জুমহুর বা সংখ্যাগুরু (الجمهور) উলামাদের মত হলো যে, এটি যখন তিনি... এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করবেন"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
زمن النبيّ صلى الله عليه وسلم يكون مرفوعاً ".
قال الحافظ ابن حجر:
" ومما يؤيّد إنَّ حكمها الرفع مطلقاً ما رواه النسائيّ من حديث عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه قال:" كان يقال: صائم رمضان في السفر كالمفطر في الحضر " 1، فإنَّ ابن ماجه رواه 2 من الوجه الذي أخرجه منه النسائيّ بلفظ:" قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
… "، فدلّ على أنّها عندهم من صيغ الرفع، والله أعلم ".
الثالث:
لا يختصّ جميع ما تقدّم بلإثبات، بل يلتحق به النّفي كقولهم:" كانوا لا يفعلون كذا "، ومنه قول عائشة رضي
--------------------------------------------
নবী (সা.)-এর যুগ হলে তা মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য হবে।"
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন:
"আর যা কিছু এর বিধানকে নিরঙ্কুশভাবে মারফু (الرفع) হওয়াকে সমর্থন করে, তা হলো নাসায়ী কর্তৃক বর্ণিত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর হাদিস। তিনি বলেন: 'বলা হতো: সফরে রমজানের রোজা পালনকারী ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় রোজা ভঙ্গকারীর ন্যায়' ১। নিশ্চয়ই ইবনে মাজাহ এটি ২ সেই সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে সূত্র থেকে নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন
…', যা প্রমাণ করে যে এটি তাঁদের নিকট মারফু করার শব্দাবলির (صيغ الرفع) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।"
তৃতীয়ত:
পূর্বে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা কেবল ইতিবাচক বর্ণনার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং নেতিবাচক বর্ণনাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন তাঁদের উক্তি: 'তাঁরা এমনটি করতেন না', আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো আয়েশা (রা.)-এর উক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الله عنها:" كانوا لا يقطعون اليد في الشيء التافه " 1.
الرابع 2:
قال الحافظ السخاويّ:" وكلّ ما أوردناه من الخلاف حيث لم يكن في القصّة اطّلاعه صلى الله عليه وسلم، أما إذا كان فيها اطلاعه كقول ابن عمر:" كنّا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم حيّ: أفضل هذه الأمَّة بعد نبيِّها أبو بكر، وعمر، وعثمان، ويسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا ينكره " 3 فحكمه الرّفع
--------------------------------------------
(আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন): "তারা তুচ্ছ কোনো জিনিসের জন্য হাত কাটতেন না।" ১।
চতুর্থ ২:
হাফিজ সাখাভি বলেন: "আমরা মতভেদের যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি তা তখন প্রযোজ্য যখন সেই ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবগত হওয়ার বিষয়টি না থাকে। কিন্তু যদি ঘটনায় তাঁর অবগত হওয়ার বিষয়টি থাকে, যেমন ইবনে উমর (রাযি.)-এর উক্তি: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা বলতাম: নবীর পর এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর, উমর ও উসমান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন অথচ তিনি তা অস্বীকার করতেন না।' ৩—তবে এর হুকুম হলো মারফু (الرفع)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إجماعاً " 1.
الخامس:
ذكر أبو عبد الله الحاكم في " معرفة علوم الحديث " عن محمَّد بن سيرين، عن المغيرة بن شعبة قال:" كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرعون بابه بالأظافير ". 2
ثمّ عقّب عليه بقوله:" هذا حديث يتوهّمه من ليس من أهل الصنعة مسنداً لذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه، وليس بمسند، فإنَّه موقوف على صحابيّ حكى عن أقرانه من
--------------------------------------------
সর্বসম্মতভাবে (إجماعاً) " ১.
পঞ্চম:
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর "মা'রিফাত উলুমিল হাদিস" গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাঁর দরজায় নখ দিয়ে করাঘাত করতেন।" ২
অতঃপর তিনি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন একটি হাদিস যা হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন এমন ব্যক্তি এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ থাকায় মুসনাদ মনে করে বিভ্রান্ত হতে পারেন; অথচ এটি মুসনাদ নয়। কেননা এটি একজন সাহাবী (صحابي) থেকে বর্ণিত মাওকুফ (موقوف) বর্ণনা, যিনি তাঁর সমসাময়িকদের (أقران) থেকে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الصحابة فعلاً وليس يسنده واحد منهم " 1.
نقل كلام الحاكم هذا الحافظ ابن الصّلاح في " علوم الحديث " ثمّ عقّب عليه فقال:" بل هو مرفوع، وهو بأن يكون مرفوعاً أحرى، لكونه أحرى باطّلاعه صلى الله عليه وسلم، والحاكم معترف بكون ذلك من قبيل المرفوع، ولعلّه أراد أنَّه ليس بمسند لفظاً، بل هو موقوف لفظاً، وكذلك سائر ما سبق موقوف لفظاً، وإنّما جعلناه مرفوعاً من حيث المعنى، والله أعلم ". 2
وقد فسّر الحافظ ابن حجر كلام ابن الصّلاح - الأخير - فقال:" وقد حقّق المصنّف - ابن الصّلاح - المناط فيه بما حاصله: إنَّ له جهتين: جهة الفعل وهو صادر من الصحابة فيكون موقوفاً، وجهة التّقرير وهي مضافة إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم من حيث إنَّ فائدة قرع بابه أنَّه يعلم
--------------------------------------------
সাহাবীদের কর্ম হিসেবে, এবং তাদের কেউ একে সরাসরি বর্ণিত (يسنده) করেননি।" ১.
হাফেজ ইবনুস সালাহ তার "উলূমুল হাদিস" গ্রন্থে আল-হাকিমের এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "বরং এটি রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع), এবং এটি রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ সম্পর্কে অবহিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। আল-হাকিম নিজেও একে রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। সম্ভবত তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে এটি শাব্দিকভাবে সরাসরি বর্ণিত (مسند) নয়, বরং শাব্দিকভাবে সাহাবীর কথা পর্যন্ত স্থগিত (موقوف)। অনুরূপভাবে পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলোও শাব্দিকভাবে সাহাবীর কথা পর্যন্ত স্থগিত (موقوف), এবং আমরা অর্থের দিক থেকে সেগুলোকে রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে গণ্য করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" ২
হাফেজ ইবনে হাজার, ইবনুস সালাহ-এর এই শেষোক্ত বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন: "গ্রন্থকার (ইবনুস সালাহ) এর মূল ভিত্তিটি বিশ্লেষণ করেছেন যার সারমর্ম হলো: এর দুটি দিক রয়েছে; একটি হলো কর্মের দিক, যা সাহাবীদের থেকে প্রকাশ পাওয়ায় তা সাহাবীর কথা পর্যন্ত স্থগিত (موقوف)। আর অন্যটি হলো মৌনসম্মতির (التّقرير) দিক, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্পৃক্ত; কারণ তাঁর দরজায় করাঘাত করার উদ্দেশ্যই হলো তিনি যাতে জানতে পারেন (সেটি বুঝানো)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أنَّه قرع، ومن لازم علمه بكونه قرع مع عدم إنكاره ذلك على فاعله، التقرير على ذلك الفعل، فيكون مرفوعاً " 1.
السادس:
قال الحافظ السيوطيّ (ت 911 هـ) بعد كلامه على حديث المغيرة في القرع بالأظافر الآنف الذكر:" ومن المرفوع أيضاً اتفاقاً الأحاديث التي فيها ذكر صفة النبيّ صلى الله عليه وسلم ونحو ذلك " 2.
السابع:
قال الحافظ العراقيّ:" إذا قال التابعيّ:كنّا نفعل كذا فليس بمرفوع قطعاً، وهل هو موقوف؟ لا يخلو إما أن يضيفه إلى زمن الصحابة أم لا، فإن لم يضفه إلى زمنهم فليس بموقوف أيضاً بل هو مقطوع، وإن أضافه إلى
--------------------------------------------
...যে তাকে নখ দিয়ে মৃদু করাঘাত করা হয়েছিল, এবং তাঁর এ বিষয়ে অবগত হওয়া সত্ত্বেও তা সম্পাদনকারীর ওপর আপত্তি না করার অর্থ হলো উক্ত কর্মের মৌন অনুমোদন (تقرير) দান করা। অতএব এটি মারফু (مرفوع) হবে। 1.
ষষ্ঠত:
হাফিজ সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হি.) নখ দিয়ে করাঘাত করার বিষয়ে মুগিরাহ বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত হাদিসটি নিয়ে আলোচনার পর বলেছেন: "সেই হাদিসগুলোও সর্বসম্মতিক্রমে মারফু (مرفوع) এর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোতে নবী ﷺ-এর দৈহিক বৈশিষ্ট্য এবং এ জাতীয় বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে।" 2.
সপ্তমত:
হাফিজ ইরাকী বলেন: "যদি কোনো তাবিঈ (تابعي) বলেন: 'আমরা এরূপ করতাম', তবে সেটি নিশ্চিতভাবে মারফু (مرفوع) নয়। এখন প্রশ্ন হলো, এটি কি মাওকুফ (موقوف)? এটি দুটির একটি থেকে খালি নয়: হয় তিনি বিষয়টিকে সাহাবিগণের (الصحابة) যুগের দিকে সম্পৃক্ত করবেন, নতুবা করবেন না। যদি তিনি তাদের যুগের সাথে সম্পৃক্ত না করেন, তবে সেটি মাওকুফ (موقوف)-ও হবে না, বরং তা হবে মাকতু (مقطوع)। আর যদি তিনি সম্পৃক্ত করেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
زمنهم فيحتمل أن يقال: أنَّه موقوف، لأنَّ ظاهره اطّلاعهم على ذلك وتقريرهم، ويحتمل أن يقال: ليس بموقوف أيضاً لأنَّ تقرير الصحابيّ قد لا ينسب إليه بخلاف تقرير النبيّ صلى الله عليه وسلم فإنَّه أحد وجوه السنن " 1.
--------------------------------------------
তাদের যুগ, ফলে সম্ভাবনা রয়েছে যে বলা হবে: এটি মাওকুফ (موقوف); কারণ এর বাহ্যিক দিকটি হলো সে বিষয়ে তাদের অবগত হওয়া এবং তাদের মৌন সম্মতি (تقرير)। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে একে মাওকুফ (موقوف) বলা হবে না; কারণ সাহাবীর মৌন সম্মতি (تقرير) অনেক সময় তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় না, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌন সম্মতির (تقرير) বিপরীত, কারণ তা সুন্নাহর (السنن) অন্যতম একটি প্রকার।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثاني: قول الصحابيّ:" أُمِرنا بكذا "، أو " نُهِينا عن كذا "، أو " من السُّنَّة كذا ".
أولاً:- وقع الخلاف في حكم الحديث الوارد بهذه الصيغة كما وقع الخلاف في التي قبلها.
ومحصّل الأقوال فيها قولان مشهوران لأهل العلم 1:
الأول:إنَّ الحديث الوارد بهذه الصيغة له حكم الرفع وبهذا قال جماهير العلماء من المحدّثين والفقهاء وغيرهم.
والثاني: إنَّ له حكم الوقف.
ثانياً:- من أمثلة ذلك:
1 - ما رواه البخاريّ في كتاب الصلاة، باب وجوب الصلاة في الثياب، ومسلم في صلاة العيدين،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীর উক্তি: "আমাদেরকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে", অথবা "আমাদেরকে এই বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে", অথবা "সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো এই বিষয়টি".
প্রথমত:- এই শব্দচয়নে (صيغة) বর্ণিত হাদিসের হুকুমের (حكم) ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যেমনটি এর পূর্ববর্তী আলোচনার ক্ষেত্রেও মতভেদ হয়েছে।
এই বিষয়ে মতামতসমূহের সারসংক্ষেপ হলো আহলে ইলমদের নিকট দুটি প্রসিদ্ধ অভিমত ১:
প্রথম: নিশ্চয়ই এই শব্দচয়নে (صيغة) বর্ণিত হাদিসটি মারফু (الرفع) হিসেবে গণ্য হবে এবং এটিই জমহুর (جماهير) তথা অধিকাংশ আলেমদের অভিমত যাদের মধ্যে মুহাদ্দিসগণ, ফকিহগণ এবং অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়: এটি মাওকুফ (الوقف) হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বিতীয়ত:- এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১ - যা ইমাম বুখারি কিতাবুস সালাত-এর 'কাপড় পরিহিত অবস্থায় সালাত ওয়াজিব হওয়া' অনুচ্ছেদে এবং ইমাম মুসলিম 'দুই ঈদের সালাত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
باب ذكر إباحة خروج النساء في العيدين إلى الصَّلاة من حديث أمّ عطيّة:" أُمِرنا أن نخرج إلى العيدين العواتق وذوات الخدور ".
2 - ما رواه البخاريّ في الجنائز، باب اتباع النساء الجنائز، ومسلم في الجنائز، باب نهي النساء عن اتباع الجنائز، من حديث أمّ عطيّة - أيضاً -:" نُهِينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا ".
3 - ما رواه البخاريّ في الحجّ، باب الجمع بين الصّلاتين بعرفة من طريق الزهريّ عن سالم بن عبد الله بن عمر:" إنَّ الحجّاج بن يوسف سأل عبد الله بن عمر رضي الله عنه كيف يصنع في الموقف يوم عرفة؟ فقال سالم: إن كنت تريد السنّة فهجّر بالصلاة يوم عرفة، فقال عبد الله بن عمر صدق
… الحديث ".
ثالثاً:- فيما يأتي أقوال أهل العلم في حكم الحديث الوارد بهذه الصيغة:
1 - قال أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله بن البيّع
উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে দুই ঈদে মহিলাদের নামাজের জন্য বের হওয়ার বৈধতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ: "আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা দুই ঈদে যুবতী ও পর্দানশীন নারীদের বের করে নিয়ে আসি।"
২ - যা বুখারি 'জানাজা' অধ্যায়ের 'মহিলাদের জানাজায় অংশগ্রহণ' পরিচ্ছেদে এবং মুসলিম 'জানাজা' অধ্যায়ের 'মহিলাদের জানাজায় অংশগ্রহণে নিষেধ' পরিচ্ছেদে উম্মে আতিয়্যাহ (রা.)-এর সূত্রেও বর্ণনা করেছেন: "আমাদেরকে জানাজার অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে তা আমাদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি।"
৩ - যা বুখারি 'হজ' অধ্যায়ের 'আরাফায় দুই নামাজ একত্র করা' পরিচ্ছেদে জুহরি-এর সূত্রে সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন কী করতে হবে? তখন সালিম বললেন: আপনি যদি সুন্নাহ অনুসরণ করতে চান, তবে আরাফার দিন নামাজের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি নিন। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) বললেন: সে সত্য বলেছে
… হাদিস।"
তৃতীয়ত:- এই শব্দে বর্ণিত হাদিসের বিধান (حكم) সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমগণের অভিমত নিম্নরূপ:
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বায়্যি' বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মা লাহূ হুকমুর রাফয়ি মিন আকওয়ালিস সাহাবাতি ওয়া আফআলিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الحاكم النيسابوريّ (ت 405 هـ) :" قول الصحابيّ المعروف بالصحبة:أُمِرنا أن نفعل كذا، أو نُهِينا عن كذا وكذا، وكنّا نؤمر بكذا، وكنّا ننهى عن كذا
… ، وقول الصحابيّ أيضاً: من السنّة كذا، وأشباه ما ذكرناه، إذا قاله الصحابيّ المعروف بالصحبة فهو حديث مسند - مرفوع -، وكلّ ذلك مخرّج في المسانيد " 1.
وقال في " المستدرك ":" أجمعوا على إنَّ قول الصحابيّ: من السنّة كذا حديث مسند - مرفوع -" 2.
قال الخطيب البغداديّ (ت 463 هـ) :" باب في حكم قول الصحابيّ:أُمِرنا بكذا أو نُهِينا عن كذا، أو من السنّة كذا، هل يجب حمله على أمر الرسول صلى الله عليه وسلم ونهيه أو يجوز كونه أمراً ونهياً له ولغيره؟ " 3.
--------------------------------------------
আল-হাকিম আল-নিশাপুরী (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরি): "সাহচর্যের জন্য সুপরিচিত সাহাবী (صحابي)-র এই উক্তি: 'আমাদের এই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে', অথবা 'আমাদের এই কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে', অথবা 'আমাদের এমন আদেশ দেওয়া হতো', অথবা 'আমাদের এমন নিষেধ করা হতো'
… , এবং সাহাবী (صحাবী)-র এই উক্তিও যে: 'এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত', এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ বিষয়সমূহ; যখন সাহচর্যের জন্য সুপরিচিত কোনো সাহাবী (صحাবী) তা বলেন, তখন সেটি মুসনাদ (مسند) হাদিস—মারফূ (مرفوع)—হিসেবে গণ্য হয় এবং এই সব বিষয়ই মুসনাদ গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে।" ১.
তিনি "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে বলেছেন: "তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সাহাবী (صحাবী)-র উক্তি: 'এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত' হলো মুসনাদ (مسند) হাদিস—মারফূ (مرفوع)।" ২.
আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) বলেছেন: "সাহাবী (صحابي)-র উক্তি: 'আমাদের অমুক কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে' অথবা 'আমাদের অমুক কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে' অথবা 'এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত'—এর বিধান (حكم) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এটি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ ও নিষেধ হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক, নাকি এটি তাঁর জন্য এবং অন্যদের জন্য কোনো সাধারণ আদেশ ও নিষেধ হওয়া সম্ভব?" ৩.
--------------------------------------------