(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
كيف يجب علينا أن نفسر القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: كيف يجب علينا أن نفسر القرآن الكريم
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: المكتبه الإسلامية
الطبعة: الأولى 1421هـ
عدد الصفحات: 40
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আমাদের কীভাবে পবিত্র কুরআন তাফসীর করা উচিত বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর
গ্রন্থ: আমাদের কীভাবে পবিত্র কুরআন তাফসীর করা উচিত
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ্জ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাকতাবাহ আল-ইসলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার অন্তর্ভুক্তির তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشر
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد؛ فهذه رسالة: "كيف يجبُ علينا أن نفسر القران الكريم؟ " وأصلها أسئلة أُلقيت على الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله تعالى، فأجاب عنها مسجلةً، ثم فُرغت وطبعت في أوراق، وقدمت للشيخ رحمه الله تعالى، فقرأها وعلق عليها بخط يده.
وقد رأت المكتبة الإسلامية في عمان أن تنشرها اليوم لتعم بها الفائدة، ولينتشر علىُ الشيخ رحمه الله، وليؤجر عليها في قبره رحمه الله.
وهي على صغر حجمها عظيمة الفائدة كبيرة النفع للأمة الإسلامية بأسرها، إذ إنها توضح الأصول والقواعد التي يجب
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রকাশকের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর; এটি একটি পুস্তিকা: "কীভাবে আমাদের পবিত্র কুরআন ব্যাখ্যা করা উচিত?" এর মূল হলো শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট উপস্থাপিত কিছু প্রশ্ন। তিনি অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন। অতঃপর সেগুলো কাগজে লিপিবদ্ধ ও মুদ্রণ করা হয় এবং শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পেশ করা হয়। তিনি তা পাঠ করেন এবং নিজ হাতে এর ওপর টীকা যুক্ত করেন।
আম্মানের আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ আজ এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে এর মাধ্যমে উপকারিতা ব্যাপক হয়, শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইলম প্রচারিত হয় এবং তিনি কবরে এর প্রতিদান লাভ করেন।
পুস্তিকাটি ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়া সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অতিশয় কল্যাণকর। কেননা এটি এমন কিছু মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলিকে স্পষ্ট করে যা আবশ্যক
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪)
علينا أن ننهجها إذا أردنا أن نفسر القران الكريم بالطريقة الصحيحة التي يرضاها ربنا تبارك وتعالى، والتي شرعها على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم، ثم اتبعها من بعده خير هذه الأمة: صحابته، ثم التابعون لها بإحسان رضي الله عنهم أجمعين.
كما أن فيها على صغر حجمها الشيء الكثير من القواعد العامة التي تهم كل مسلم يريد أن يكون من الفرقة الناجية، والتي يجب عليه أن يتمسك ويعمل بها حتى تقوده إلى الطريق الصحيح، كقاعدة "كلما أُحييت سنة أُميتت سنة" وغيرها من تلك القواعد النورانية التي فتح الله بها على الشيخ رحمه الله وغفر له، فقد كان واسع العلم والمعرفة بشريعة الإسلام وبسنة رسولنا صلى الله عليه وسلم وصدق ربنا إذ يقول: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادل 11] . رحم الله الشيخ، وجزى القائمين على نشر علمه من بعده خيراً، ونفع بهذا العلم كل مسلم أطلع عليه.
الناشر
عمان في 4 ذي الحجة 1420هـ
আমাদের সেই পথটিই অবলম্বন করতে হবে যদি আমরা কুরআন মাজীদকে সেই সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করতে চাই যা আমাদের মহান প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যা তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে বিধিবদ্ধ করেছেন। অতঃপর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ—সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ (التابعون)—তা অনুসরণ করেছেন।
এর পাশাপাশি, এই পুস্তিকাটি কলেবরে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও এতে এমন অনেক সাধারণ মূলনীতি রয়েছে যা সেই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যারা মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية)-এর অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য এই নীতিগুলো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং তদানুযায়ী আমল করা আবশ্যক। যেমন একটি মূলনীতি হলো: "যখনই কোনো সুন্নাত (سنة) পুনর্জীবিত করা হয়, তখনই অপর একটি সুন্নাত (سنة) বিলুপ্ত হয়"। এই সকল নূরানি মূলনীতি আল্লাহ তাআলা শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের শরিয়ত এবং আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত (سنة) সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। আমাদের প্রতিপালক সত্যই বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন" [আল-মুজাদালাহ: ১১]। আল্লাহ শাইখকে রহমত করুন এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর ইলম প্রসারের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। এই ইলমের মাধ্যমে প্রত্যেক পাঠক মুসলিমকে উপকৃত করুন।
প্রকাশক
আম্মান, ৪ যিলহজ ১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
سؤال 1: عن صحة حديث: "خذ من القران ما شئت لما شئت"
…سؤال 1: فضيلة الشيخ! قرأت في كتاب صغير حديثاً يقول: "خذ من القران ما شئت لما شئت" فهل هذا الحديث صحيح؟ أفيدونا جزاكم الله خيراً.
الجواب: هذا الحديث: "خذ من القران ما شئت لما شئت" 1؛ حديث مشتهر على بعض الألسنة ولكنه –مع الأسف الشديد - من تلك الأحاديث التي لا أصل لها في السنة ولذلك فلا يجوز روايته ونسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
ثم ذا المعنى الواسع الشامل لا يصخ ولا يثبت مطلقاً في شريعة الإسلام: "خذ من القران ما شئت لما شئت" فمثلا إن أنا جلست في عقر داري، ولا أعمل في مهنتي وصنعتي، وأطلب الرزق من ربي أن ينزله علي من السماء لأني اخذ من القران لهذا! من يقول هذا؟!
هذا كلام باطل، ولعله من وضع أولئك الصوفية الكسالى الذين طُبعوا على الجلوس والسكن فيما يسمونها بالرباطات، ينزلون فيها وينتظرون رزق الله ممن يأتيهم به من الناس، عملاً أن هذا ليس من طبيعة المسلم، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قد ربى المسلمين
--------------------------------------------
প্রশ্ন ১: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো, যে কাজের জন্য ইচ্ছা" - এই হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গে।…প্রশ্ন ১: শ্রদ্ধেয় শায়খ! আমি একটি ছোট বইয়ে একটি হাদিস পড়েছি যেখানে বলা হয়েছে: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো, যে কাজের জন্য ইচ্ছা।" এই হাদিসটি কি সঠিক (صحيح)? আমাদের এ বিষয়ে অবগত করে উপকৃত করবেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
উত্তর: এই হাদিসটি: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো, যে কাজের জন্য ইচ্ছা" ১; হাদিসটি লোকমুখে প্রসিদ্ধ হলেও—অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো—এটি এমন সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত সুন্নাহর মাঝে যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)। অতএব এটি বর্ণনা করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এর সম্বন্ধ করা জায়েজ নয়।
অধিকন্তু, এই ব্যাপক ও বিস্তৃত অর্থ ইসলামি শরিয়তে মোটেই শুদ্ধ (لا يصح) নয় এবং কোনোভাবেই প্রমাণিত (ولا يثبت) নয়: "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো, যে কাজের জন্য ইচ্ছা।" উদাহরণস্বরূপ, আমি যদি আমার নিজ ঘরে বসে থাকি, আমার পেশা ও কর্মতৎপরতা ত্যাগ করি, আর আমার রবের নিকট আকাশ থেকে রিজিক বর্ষণের প্রার্থনা করি—যেহেতু আমি এই উদ্দেশ্যে কুরআন থেকে আমল গ্রহণ করছি! এমন কথা কে বলতে পারে?!
এটি একটি অসার (باطل) কথা। সম্ভবত এটি সেইসব অলস সুফিদের জালকৃত (موضوع) বক্তব্য যারা তথাকথিত 'রিবাত' (খানকাহ) সমূহে অবস্থান ও বসবাস করতে অভ্যস্ত। তারা সেখানে অবস্থান করে এবং মানুষের মাধ্যমে আসা আল্লাহর রিজিকের অপেক্ষা করে; অথচ এটি একজন মুসলিমের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের এমনভাবে গড়ে তুলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
جميعاً على علو الهمة، وعلى عزة النفس، فقال عليه الصلاة والسلام: "اليدُ العليا خير من اليد السفلى، فاليد العليا هي المنفقة، واليد السفلى هي السائلة" 1.
ويُعجبني بهذه المناسبة مما كنت قرأته فيما يتعلق ببعض الزهاد من الصوفية – ولا أطيل في ذلك، فقصصهم كثيرة وعجيبة -:
زعموا أن أحدهم خرج سائحاً ضارباً في الأرض بغير زاد، فوصل الأمر إلى أنه كاد أن يموت جوعاً، فبدت له من بعيد قرية، فأتى إليها، وكان اليوم يوم الجمعة، وهو بزعمه خرج متوكلاً على الله، فلكيلا ينقض بزعمه توكله المزعوم، لم يظهر شخصه للجمهور الذي في المسجد، وإنما انطوى على نفسه تحت المنبر، لكيلا يشعر به أحد، لكنه كان يحدث نفسه لعل أحداً يُحس به، وهكذا خطب الخطيب خطبته، وهو لم يُصل مع الجماعة! فبعد أن انتهى الإمام من الخطبة والصلاة، وبدأ الناس يخرجون زرافات ووحداناً من أبواب المسجد، حتى شعر الرجل بأن المسجد كاد يخلو من الناس، وحينئذٍ تُقفل الأبواب، ويبقى وحيداً في المسجد من غير طعام ولا شراب، فلم يسعه إلا أن
--------------------------------------------
সকলেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদাবোধের ওপর (প্রতিষ্ঠিত), এ প্রসঙ্গে তিনি (সা.) বলেছেন: "উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম; উঁচু হাত হলো দানকারী এবং নিচু হাত হলো সাহায্যপ্রার্থী।" ১.
এই প্রসঙ্গে সুফিদের মধ্য থেকে কিছু সংসারবিরাগী (زاهد) ব্যক্তি সম্পর্কে আমি যা পড়েছিলাম, তা আমাকে মুগ্ধ করে—আমি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করব না, কেননা তাদের কাহিনী অনেক এবং বিস্ময়কর—:
বর্ণিত আছে যে, তাদের একজন কোনো পাথেয় ছাড়াই পরিভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে অবস্থা এমন হলো যে, তিনি ক্ষুধার তীব্রতায় প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন। তখন দূর থেকে তার দৃষ্টিতে একটি গ্রাম পড়ল এবং তিনি সেখানে আসলেন। দিনটি ছিল জুমার দিন। তিনি নিজের ধারণা অনুযায়ী আল্লাহর ওপর ভরসা (توكل) করে বেরিয়েছিলেন। ফলে তার সেই কথিত ভরসা (توكل) যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি মসজিদে উপস্থিত জনসাধারণের সামনে নিজেকে প্রকাশ করেননি। বরং তিনি মিম্বরের নিচে নিজেকে লুকিয়ে রাখলেন যাতে কেউ তাকে টের না পায়। তবে মনে মনে তিনি আকাঙ্ক্ষা করছিলেন যে কেউ যদি তাকে অনুভব করতে পারে! এভাবে খতিব সাহেব খুতবা প্রদান করলেন, অথচ তিনি জামাতের সাথে সালাতও আদায় করলেন না! যখন ইমাম সাহেব খুতবা ও সালাত শেষ করলেন এবং মানুষ দলে দলে ও একাকী মসজিদের দরজা দিয়ে বের হতে শুরু করল, এক পর্যায়ে সেই ব্যক্তি অনুভব করলেন যে মসজিদ প্রায় জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তিনি খাবার ও পানীয় ছাড়াই মসজিদে একা রয়ে যাবেন। তখন তার আর কোনো উপায় ছিল না কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
يتنحنح ليثبت وجوده للحاضرين، فالتفت بعس الناس، فوجدوه قد تحول كأنه عظم من الجوع والعطش، فأخذوه وأغاثوه.
وسألوه: من أنت يا رجل؟!
قال: أنا زاهد متوكل على الله.
قالوا: كيف تقول: متوكل على الله، وأنت كدت أن تموت؟! ولو كنت متوكلاً على الله لما سألت، ولما نبهت الناس إلى وجودك بالنحنحة، حتى تموت بذنبك؟!
هذا مثال إلى ما يؤدي به مثلُ هذا الحديث "خذ من القران ما شئت لما شئت".
والخلاصة: أن هذا الحديث لا أصل له.
তিনি উপস্থিতদের কাছে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে গলা পরিষ্কার করলেন, তখন কিছু লোক সেদিকে ফিরে তাকাল এবং দেখল যে তিনি ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কঙ্কালসার হয়ে গেছেন; অতঃপর তারা তাকে উদ্ধার করল এবং সাহায্য করল।
তারা তাকে জিজ্ঞেস করল: হে ব্যক্তি, আপনি কে?!
তিনি বললেন: আমি একজন দুনিয়াত্যাগী, আল্লাহর ওপর ভরসাকারী।
তারা বলল: আপনি কীভাবে বলছেন যে আপনি আল্লাহর ওপর ভরসাকারী, অথচ আপনি প্রায় মারা যাচ্ছিলেন?! আপনি যদি সত্যিই আল্লাহর ওপর ভরসাকারী হতেন, তবে আপনি (সাহায্য) চাইতেন না এবং গলা পরিষ্কার করে মানুষকে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতেন না, বরং নিজের অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করতেন!
এটি হলো "কুরআন থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো যে উদ্দেশ্যে ইচ্ছা"—এই জাতীয় হাদিস যে পরিণতির দিকে নিয়ে যায় তার একটি উদাহরণ।
সারকথা হলো: এই হাদিসটি ভিত্তিহীন (لا أصل له)।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
سؤال 2: استفسار عن رأي الشيخ في تمسك القراَنيين بقول القرآنيين بقول الله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ}…سؤال 2: فضيلة الشيخ! يقول القرآنيون: قال تعالى: {وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا} الإسراء:12 [وقال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} ] الأنعام: 38 [ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إن هذا القران طرفه بيد الله، وطرفه بأيديكم، فتمسكوا به، فإنكم لن تضلوا ولن تهلكوا بعده أبداً" 1. نرجو من فضيلتكم التعليق على ذلك.
--------------------------------------------
২য় প্রশ্ন: মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি}—এর মাধ্যমে কুরআনপন্থীদের দলিল পেশ করার বিষয়ে শাইখের অভিমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা।…২য় প্রশ্ন: হে সম্মানিত শাইখ! কুরআনপন্থীরা বলে থাকে যে, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর আমি প্রতিটি বিষয়কে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি} [সূরা আল-ইসরা: ১২]। [এবং আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি}] [সূরা আল-আনআম: ৩৮]। [এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআনের এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে। সুতরাং তোমরা একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো; তবে তোমরা এরপরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না এবং কখনো ধ্বংস হবে না" ১। আমরা আপনার নিকট এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الجواب: أما قوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} ] الأنعام: 38، فهذه الآية إنما تعني الكتاب هُنا: اللوح المحفوظ، ولا تعني: القران الكريم.
أما قوله تعالى: {وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا} الإسراء:12، فإذا ضممتم إلى القران الكريم ما تقدم بيانه آنفا، فحينئذٍ يتم أن الله عز وجل قد فصل كل شيء تفضيلاً، لكن بضميمة أخرى، فإنكم تعلمون أن التفصيل قد يكون تارة بالإجمال، بوضع قواعد عامة يدخل تحتها جزئيات لا يمكن حصرها لكثرتها، فبوضع الشارع الحكيم لتلك الجزئيات الكثيرة قواعد معروفة ظهر معنى الآية الكريمة، وتارة التفصيل وهو المتبادر من هذه الآية، كما قال عليه الصلاة والسلام: "ما تركتُ شيئاً مما أمركم الله به إلا وقد أمرتكم به، ولا تركتُ شيئاً مما نهاكم الله عنه إلا وقد نهيتكم عنه" 1.
فالتفصيل إذاً تارة يكون بالقواعد التي لا تدخل تحتها جزئيات كثيرة، وتارة يكون بالتفصيل لمفردات عبادات وأحكام تفصيلاً لا
--------------------------------------------
উত্তর: মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} [সূরা আল-আন’আম: ৩৮], এই আয়াতে ‘কিতাব’ বলতে এখানে লাওহে মাহফুজ বোঝানো হয়েছে, পবিত্র কুরআনকে বোঝানো হয়নি।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে বর্ণনা করেছি} [সূরা আল-ইসরা: ১২], আপনারা যদি পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে পবিত্র কুরআনকে যুক্ত করেন, তবেই এটি পূর্ণতা পায় যে, মহান আল্লাহ প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; তবে এর সাথে আরেকটি বিষয় যুক্ত রয়েছে। কেননা আপনারা জানেন যে, বিশদ ব্যাখ্যা কখনো কখনো সংক্ষেপায়নের মাধ্যমে হতে পারে—এমন কিছু সাধারণ মূলনীতি নির্ধারণের মাধ্যমে যার অধীনে অসংখ্য উপশাখা অন্তর্ভুক্ত হয়, যা আধিক্যের কারণে গণনা করা সম্ভব নয়। প্রজ্ঞাবান বিধানদাতার পক্ষ থেকে সেই অসংখ্য উপশাখার জন্য সুপরিচিত মূলনীতি নির্ধারণ করে দেওয়ার মাধ্যমেই এই সম্মানিত আয়াতের অর্থ প্রকাশিত হয়েছে। আবার কখনো বিশদ ব্যাখ্যা সরাসরি বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমেও হয়, যা এই আয়াত থেকে প্রাথমিকভাবে অনুধাবন করা যায়। যেমনটি নবি করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের যা যা আদেশ করেছেন, তার মধ্য থেকে এমন কিছুই আমি ছাড়িনি যা তোমাদের করতে নির্দেশ দিইনি। আর আল্লাহ তোমাদের যা যা নিষেধ করেছেন, তার মধ্য থেকে এমন কিছুই আমি ছাড়িনি যা হতে তোমাদের বারণ করিনি।" ১।
সুতরাং, বিশদ ব্যাখ্যা কখনো এমন মূলনীতির মাধ্যমে হয় যার অধীনে অসংখ্য উপশাখা অন্তর্ভুক্ত থাকে না, আবার কখনো ইবাদত ও বিধানাবলির খুঁটিনাটি বিষয়সমূহের এমন সরাসরি বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে হয় যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
يحتاج إلى الرجوع إلى قاعدة من تلك القواعد.
ومن القواعد التي لا يدخل تحتها فرعيات كثيرة – وتظهر بها عظمة الإسلام وسعة دائرة الإسلام في التشريع – قوله صلى الله عليه وسلم على سبيل المثال:
"لا ضرر ولا ضرار" 1.
وقوله عليه السلام: "كل مسكر خمر، وكل خمر حرام" 2.
وقوله عليه السلام: "كل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار" 3.
هذه قواعد وكليات لا يفوتها شيء مما يتعلق بالضرر بالنفس أو الضرر بالمال في الحديث الأول، وما يتعلق بما يُسكر كما في الحديث الثاني، سواء كان المسكر مستنبطاً من العنب – كما هو المشهور - أو من الذرة، أو من أي مادة من المواد الأخرى، فما دام
--------------------------------------------
সেই সমস্ত মূলনীতির (قواعد) মধ্য থেকে কোনো একটি মূলনীতির দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আর এমন কিছু মূলনীতি (قواعد) রয়েছে যার অধীনে অনেক শাখা-উপশাখা অন্তর্ভুক্ত হয় না – এবং যার মাধ্যমে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও শরয়ি বিধান প্রণয়নে ইসলামের প্রশস্ততা ফুটে ওঠে – উদাহরণস্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী:
"ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না" ১।
এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: "প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্যই মদ, আর প্রত্যেক মদই হারাম" ২।
এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: "প্রত্যেক নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে" ৩।
এগুলো এমন কিছু মূলনীতি (قواعد) ও সাধারণ বিধান (كليات), যা থেকে প্রথম হাদিসের জান বা মালের ক্ষতির বিষয় সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুই বাদ যায় না; অনুরূপভাবে দ্বিতীয় হাদিসের নেশা জাতীয় দ্রব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুই বাদ পড়ে না; চাই সেই নেশা জাতীয় দ্রব্যটি আঙুর থেকে প্রস্তুতকৃত হোক – যেমনটি প্রসিদ্ধ (مشهور) – অথবা তা ভুট্টা থেকে হোক কিংবা অন্য কোনো উপাদান থেকেই হোক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
لأنه مُسكر فهو حرام.
كذلك في الحديث الثالث: لا يمكن حصر البدع لكثرتها، ولا يمكن تعدادها ومع ذلك فهذا الحديث – مع إيجازه - يقول بصراحة "وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار".
هذه تفصيل لكن بقواعد.
وأما الأحكام التي تعرفونها، فهي مفصلة بمفردات جاء ذكرها في السنة على الغالب، وأحياناً كأحكام الإرث مثلاً فهي مذكورة في القران الكريم.
أما الحديث الذي جاء ذكره، فهو حديث صحيح، فالعمل به هو الذي بإمكاننا أن نتمسك به، وكما جاء في الحديث "تركت فيكم أمرين، لن تضلوا ما تمسكتم بهما: كتاب الله، وسنة رسوله" 1.
فالتمسك بحبل الله – الذي هو بأيدينا - إنما هو العمل بالسنة المُفصلة للقرآن الكريم.
--------------------------------------------
কারণ এটি নেশাজাতীয়, তাই এটি হারাম (حرام)।
অনুরূপভাবে তৃতীয় হাদিসে: বিদআত (بدعة) অধিক হওয়ার কারণে সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয় এবং সেগুলোকে গণনা করাও সম্ভব নয়; তা সত্ত্বেও এই হাদিসটি—তার সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও—স্পষ্টভাবে বলছে: "এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) হলো জাহান্নামে।"
এগুলো বিস্তারিত বর্ণনা, তবে তা কিছু মূলনীতির (قواعد) ভিত্তিতে।
আর আপনারা যে বিধানসমূহ (أحكام) সম্পর্কে জানেন, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুন্নাহর (سنة) বিস্তারিত বর্ণনায় এসেছে; আর কখনো কখনো—যেমন উত্তরাধিকারের বিধান—সেগুলো পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর যে হাদিসটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি হলো একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। সুতরাং এর ওপর আমল করাই হলো এমন কিছু যা আমরা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি। যেমনটি হাদিসে এসেছে: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতক্ষণ তা আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহ।" ১
সুতরাং আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা—যা আমাদের হাতে রয়েছে—তা হলো মূলত পবিত্র কুরআনের বিস্তারিত ব্যাখ্যাকারী সুন্নাহর (سنة) ওপর আমল করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
سؤال 3: عن مدى صحة قول من يقول: إذا عارض الحديث اية من القران فهو مردود…سؤال 3: هناك من يقول: إذا عارض الحديث آية من القران، فهو مردود. مهما كانت درجة صحته، وضرب مثالاً لذلك بحديث "إن الميت ليُعذب ببكاء أهله عليه" 1، واحتج بقول عائشة في ردها الحديث بقول الله عزوجل {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} ] فاطر:18 [، فكيف على يُرد على من يقول ذلك؟
الجواب: رد هذا الحديث هو من مشاكل رد السنة بالقران وهو يدل على انحراف ذلك الخط.
أما الجواب عن هذا الحديث – وأخص به من تمسك بحديث عائشة رضي الله عنها فهو: أولاً: من الناحية الحديثية: فإن هذا الحديث لا سبيل لرده من الناحية الحديثية لسببين اثنين:
الأول: أن جاء بسند صحيح عن ابن عمر رضي الله عنهما.
الثاني: أنه ابن عمر رضي الله عنه لم يتفرد به، بل تابعه على ذلك عمر بن الخطاب وهو وابنه لم يتفردا به، فقد تابعهما المغيرة ن شُعبة، وهذا مما يحضرني في هذه الساعة بأن هذه الروايات عن
--------------------------------------------
প্রশ্ন ৩: এমন ব্যক্তির উক্তির বিশুদ্ধতা (صحة) প্রসঙ্গে যে বলে: যদি হাদিস কুরআনের কোনো আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)…প্রশ্ন ৩: এমন কিছু লোক আছে যারা বলে: যদি হাদিস কুরআনের কোনো আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود); এর বিশুদ্ধতার (صحة) স্তর যাই হোক না কেন। তিনি এর উদাহরণ হিসেবে এই হাদিসটি পেশ করেছেন: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আজাব দেওয়া হয়" ১, এবং তিনি আয়েশা (রা.)-এর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেন যেখানে তিনি মহান আল্লাহর বাণী {কেউ অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করবে না} [ফাতির: ১৮] এর মাধ্যমে হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সুতরাং যারা এমন কথা বলেন, তাদের কীভাবে উত্তর দেওয়া হবে?
উত্তর: এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করা মূলত কুরআন দ্বারা সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করার সমস্যাবলির অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সেই চিন্তাধারার বিচ্যুতি নির্দেশ করে।
তবে এই হাদিসটির উত্তর—বিশেষ করে যারা আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনাকে আঁকড়ে ধরেন—হলো: প্রথমত: হাদিস শাস্ত্রীয় (حديثية) দৃষ্টিকোণ থেকে: হাদিস শাস্ত্রীয় বিচারে এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করার কোনো অবকাশ নেই, যার দুটি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: এটি ইবনে উমর (রা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: ইবনে উমর (রা.) এটি বর্ণনায় একক (تفرد) হননি, বরং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এক্ষেত্রে তাঁর অনুগামী (تابعه) হয়েছেন। তিনি এবং তাঁর পুত্র বর্ণনায় একক (يتفردا) হননি, বরং মুগীরা ইবনে শু'বাও তাঁদের অনুগামী (تابعهما) হয়েছেন। আমার এই মুহূর্তে যা স্মরণে আসছে তা হলো, এই বর্ণনাগুলো (روايات)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
هؤلاء الصحابة الثلاثة رضي الله عنهم في الصحيحين.
أما لو أن الباحث بحث يحثاً خاصاً في هذا الحديث فيسجد له طرقاً أخرى، وهذه الأحاديث الثلاثة كلها أحاديث صحيحة الأسانيد فلا تُرد بمجرد دعوى التعارض مع القران الكريم.
ثانياً: من الناحية التفسيرية: فإن هذا الحديث قد فسره العلماء بوجهين:
الوجه الأول: أن هذا الحديث إنما ينطبق على الميت الذي كان يعلم في قيد حياته أن أهله بعد موته سيرتكبون مخالفات شرعية، ثم لم ينصحهم ولو يوصهم أن لا يبكوا عليه، لأن البكاء يكون سبباً لتعذيب الميت.
و"ال" التعريف في لفظ "الميت" هنا ليست للاستغراق والشمول، أي: ليس الحديث بمعنى أن كل ميت يُعذب ببكاء أهله عليه، وإنما "ال" هنا للعهد، أي: الميت الذي لا ينصح بألا يرتكبوا بعد وفاته ما يخالف الشرع، فهذا الذي يعذب ببكاء أهله عليه، أما من قام بواجب النصيحة، وواجب الوصية الشرعية بألا
এই তিন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সহীহাইনের বর্ণনায় রয়েছেন।
তবে কোনো গবেষক যদি এই হাদিসটি নিয়ে বিশেষ গবেষণা করেন, তবে তিনি এর আরও অন্যান্য সূত্র (طرق) খুঁজে পাবেন। আর এই তিনটি হাদিসের সবগুলোই বিশুদ্ধ সনদ (صحيحة الأسانيد) বিশিষ্ট; তাই পবিত্র কুরআনের সাথে নিছক বিরোধের দাবি তুলে এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত: ব্যাখ্যাগত দিক থেকে: ওলামায়ে কেরাম এই হাদিসটির দুটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন:
প্রথম ব্যাখ্যা: এই হাদিসটি কেবল সেই মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে জীবিত থাকাকালে জানত যে তার মৃত্যুর পর তার পরিবার শরিয়ত পরিপন্থী কাজ করবে, কিন্তু সে তাদের নসিহত করেনি এবং তার জন্য বিলাপ না করার অসিয়ত করে যায়নি; কেননা এই বিলাপ মৃত ব্যক্তির শাস্তির কারণ হয়ে থাকে।
আর "আল-মায়্যিত" শব্দে "আল" (ال) বর্ণটি এখানে সামগ্রিকতা ও ব্যাপকতা (الاستغراق والشمول) বোঝানোর জন্য নয়। অর্থাৎ, হাদিসটির অর্থ এমন নয় যে, প্রত্যেক মৃত ব্যক্তিই তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আজাবপ্রাপ্ত হবে। বরং এখানকার "আল" (ال) নির্দিষ্টকরণ (العهد) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, সেই মৃত ব্যক্তি যে তার মৃত্যুর পর পরিবার যেন শরিয়ত পরিপন্থী কোনো কাজ না করে সে ব্যাপারে নসিহত করেনি; কেবল সেই ব্যক্তিই তার পরিবারের বিলাপের কারণে আজাবপ্রাপ্ত হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নসিহতের দায়িত্ব পালন করেছে এবং শরয়ি অসিয়ত করার মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে যেন...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ينوحوا عليه، وألا يأتوا بالمنكرات التي تُفعل خاصة في هذا الزمان، فإنه لا يُعذب وإذا لم يُوص لم ينصح عُذب.
هذا التفصيل هو الذي يجب أن نفهمه من التفسير الأول لكثير من العلماء المعروفين والمشهورين، كالنووي وغيره، وإذا عرفنا هذا التفصيل، وضح ألا تعارض بين هذا الحديث وبين قوله تعالى: {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} ] فاطر:18 [، إنما يظهر التعارض فيما لو فُهم أن "ال" في لفظ "الميت" إنما هي للاستغراق والشمول، أي: كل ميت يُعذب، حينئذٍ يُشكل الحديث ويتعارض مع الآية الكريمة، أما إذا عرفنا المعنى الذي ذكرناه آنفا، فلا تعارض ولا إشكال، لأن الذي يُعذب إنما يُعذب بسبب عدم قيامه بواجب النصح والوصية، هذا الوجه الأول مما قيل في تفسير هذا الحديث لدفع التعارض المدعي.
أما الوجه الثاني: فهو الذي ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في بعض مصنفاته، أن العذاب هنا ليس عذاباُ في القبر، أو عذاباً في الآخرة، وإنما هو بمعنى التألم وبمعنى الحزن، أي: إن الميت إذا
তারা যেন তার জন্য বিলাপ না করে এবং বিশেষ করে এই যুগে করা হয় এমন সব বর্জনীয় কাজ (منكرات) যেন তারা না করে; তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না। কিন্তু সে যদি অসিয়ত না করে এবং নসিহত না করে, তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।
ইমাম নববী ও অন্যান্য সুপরিচিত ও প্রখ্যাত আলেমদের প্রথম ব্যাখ্যা থেকে আমাদের এই বিস্তারিত বিষয়টিই বোঝা উচিত। আমরা যখন এই বিস্তারিত ব্যাখ্যাটি অনুধাবন করব, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এই হাদিস এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর কেউ অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করবে না} [ফাতির: ১৮]-এর মধ্যে কোনো বিরোধ (تعارض) নেই। বিরোধ (تعارض) কেবল তখনই প্রতীয়মান হয় যখন "আল-মাইয়্যিত" (মৃত ব্যক্তি) শব্দে "আল" (ال) বর্ণটি ব্যাপকতা (استغراق) ও অন্তর্ভুক্তিকরণ (شمول) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ: প্রত্যেক মৃত ব্যক্তিকেই শাস্তি দেওয়া হবে। এমতাবস্থায় হাদিসটি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং তা পবিত্র আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। কিন্তু আমরা যদি ইতিপূর্বে উল্লিখিত অর্থটি জানি, তবে কোনো বিরোধ (تعارض) বা অস্পষ্টতা থাকে না। কারণ যাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তাকে কেবল নসিহত ও অসিয়ত করার আবশ্যিক দায়িত্ব পালন না করার কারণেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। দাবিকৃত বিরোধ (تعارض) নিরসনে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বর্ণিত এটিই প্রথম দিক।
আর দ্বিতীয় দিকটি হলো: যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিছু রচনায় উল্লেখ করেছেন যে, এখানে আজাব বা শাস্তি বলতে কবরের আজাব বা আখিরাতের আজাব বোঝানো হয়নি; বরং এটি বেদনা ও দুঃখবোধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত ব্যক্তি যখন...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
سمع بكاء أهله عليه، أسف وحزن لحزنهم هم عليه.
هكذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية، وهذا لو صح لاستأصل شأفة الشبهة.
لكني أقول: أن هذا التفسير يتعارض مع حقيقتين اثنتين لذلك لا يسعنا إلا أن نعتمد على التفسير الأول للحديث:
الحقيقة الأولى: أن في حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه الذي أشرت إليه آنفا زيادة تبين أن العذاب ليس بمعنى التألم، وإنما هو بمعنى العذاب المتبادر، أي: عذاب النار، إلا أن يعفو الله تبارك وتعالى، كما هو صريح قوله عزوجل {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} ] النساء:48 [، ففي رواية المغيرة قال: "إن الميت ليُعذب ببكاء أهله يوم القيامة"، فهذا صريح بأن الميت يُعذب بسبب بكاء أهله عليه يوم القيامة، وليس في القبر، وهو الذي فسره ابن تيمية بالألم والحزن.
الحقيقة الأخرى: هي أن الميت إذا مات لا يحس بشيء يجري من حوله، سواء أكان هذا الشيء خيراً أو شراً – كما تدل عليه أدلة الكتاب والسنة – اللهم إلا في بعض المناسبات التي جاء ذكرها في
তিনি তার ওপর তার পরিজনের বিলাপ শুনতে পান, তাদের দুঃখের কারণে তিনি অনুতপ্ত ও ব্যথিত হন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এভাবেই বলেছেন; আর এটি যদি সঠিক হতো, তবে তা সংশয়ের মূলোৎপাটন করে দিত।
তবে আমি বলব: এই ব্যাখ্যাটি দুটি বাস্তব সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই হাদিসের প্রথম ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই:
প্রথম সত্য: মুগিরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে—যার উল্লেখ আমি ইতিপূর্বে করেছি—এমন একটি অতিরিক্ত অংশ (زيادة) রয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, আজাব এখানে নিছক ব্যথিত হওয়ার অর্থে নয়, বরং এটি সচরাচর প্রচলিত শাস্তি অর্থাৎ জাহান্নামের শাস্তির অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। তবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যদি ক্ষমা করেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এ ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} [আন-নিসা: ৪৮]। মুগিরার বর্ণনা (رواية)-তে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন তার পরিজনের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হবে"। সুতরাং এটি সুস্পষ্ট যে, মৃত ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন তার ওপর তার পরিজনের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি প্রদান করা হবে, কবরে নয়; অথচ ইবনে তাইমিয়্যাহ একে কেবল দুঃখ ও বেদনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
অন্য সত্যটি হলো: মানুষ যখন মারা যায়, তখন সে তার চারপাশে যা ঘটছে—তা ভালো হোক বা মন্দ—সে সম্পর্কে কিছুই অনুভব করতে পারে না, যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ নির্দেশ করে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া যেগুলোর উল্লেখ এসেছে...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بعض الأحاديث، إما كقاعدة لكل ميت، أو لبعض الأموات، حيث أسمعهم الله عزوجل بعض الشيء الذي يتألمون به.
فمن الأول: الحديث الذي رواه البخاري في صحيحه من حديث أنس بن مالك رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن العبد إذا وضع في قبره، وتولى عنه أصحابه – حتى إنه سمع قرع نعالهم – أتاه ملكان" 1، ففي هذا الحديث الصحيح إثبات سمع خاص للميت في وقت دفنه، وحين ينصرف الناس عنه، أي: في الوقت الذي يُجلسه الملكان أُعيدت الروح إليه، فهو في هذه الحالة يسمع قرع النعال، فلا يعني الحديث بداهة أن هذا الميت وكل الأموات تُعاد إليهم أرواحهم، وأنهم يظلون يسمعون قرع النعال المارة بين القبور إلى يوم يبعثون! لا.
إنما هذا وضعٌ خاص وسماع خاص من الميت، لأنه أُعيدت روحه إليه، وحينئذٍ لو أخذنا بتفسير ابن تيمية رحمه الله، وسعنا دائرة إحساس الميت بما يجري حوله، سواءً عند نشعه قبل دفنه، أو بعد وضعه في قبره، ومعنى ذلك: أن يسمع بكاء الأحياء عليه وهذا
--------------------------------------------
কিছু হাদিস হয় প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য সাধারণ নিয়ম হিসেবে, অথবা নির্দিষ্ট কিছু মৃত ব্যক্তির জন্য, যেখানে মহান আল্লাহ তাদের এমন কিছু শোনান যার দ্বারা তারা যন্ত্রণাবোধ করে।
প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো: সেই হাদিস যা বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা তাকে ছেড়ে চলে যায়—এমনকি সে তাদের জুতার শব্দও শুনতে পায়—তখন তার নিকট দুজন ফেরেশতা আসেন।" ১। সুতরাং এই সহীহ (صحيح) হাদিসে দাফন করার সময় এবং মানুষ যখন তার নিকট থেকে ফিরে যায় তখন মৃত ব্যক্তির জন্য এক বিশেষ শ্রবণের প্রমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ: যে সময়ে ফেরেশতাদ্বয় তাকে বসিয়ে দেন তখন তার মধ্যে রূহ ফিরিয়ে আনা হয়; ফলে সে এই অবস্থায় জুতার শব্দ শুনতে পায়। তবে এই হাদিসের অর্থ স্বতঃসিদ্ধভাবে এটি নয় যে, এই মৃত ব্যক্তি এবং সকল মৃত ব্যক্তির রূহ তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত কবরের পাশ দিয়ে চলাচলকারীদের জুতার শব্দ শুনতেই থাকে! না।
নিশ্চয়ই এটি একটি বিশেষ অবস্থা এবং মৃত ব্যক্তির বিশেষ শ্রবণ, কারণ তার রূহ তার নিকট ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এমতাবস্থায়, আমরা যদি ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর ব্যাখ্যা গ্রহণ করি, তবে দাফনের পূর্বে খাটিয়ায় থাকা অবস্থায় হোক বা কবরে রাখার পরে হোক—মৃত ব্যক্তির চারপাশে যা ঘটে সে সম্পর্কে তার অনুভূতির পরিধিকে আমরা আরও বিস্তৃত করতে পারি। আর এর অর্থ হলো: জীবিতদের কান্না সে শুনতে পায় এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يحتاج إلى نص، وهو مفقود. هذا أولاً.
وثانياً: بعض نصوص الكتاب والسنة الصحيحة تدل على أن الموتى لا يسمعون، وهذا بحث طويل، ولكني سأذكر حديثاً واحداً، وأنهي الجواب عن السؤال وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم "إن لله ملائكة سياحين في الأرض يبلغوني عن أمتي السلام" 1، وقوله "سياحين" أي: طوافين على المجالس، فكلما صلى مسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، فهناك ملك موكل يوصل السلام من ذاك المسلم إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فلو كان الأموات يسمعون، لكان أحق هؤلاء الأموات أن يسمع هو نبينا صلى الله عليه وسلم، لما فضله الله تبارك وتعالى، وخصه بخصائص على كل الأنبياء والرسل والعالمين، فلو كان أحدٌ يسمع لكان النبي صلى الله عليه وسلم ثم لو كان النبي صلى الله عليه وسلم يسمه شيئا بعد موته، لسمع صلاة أمته عليه.
ومن هنا تفهمون خطأ – بلا ضلال – الذين يستغيثون ليس بالنبي صلى الله عليه وسلم بل وبمن دونه، سواء كانوا رسلا أو أنبياء أو صالحين، لأنه لو استغاثوا بالرسول عليه الصلاة والسلام لما سمعهم، كما
--------------------------------------------
এর জন্য একটি পাঠ্যের (نص) প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনুপস্থিত। এটি প্রথমত।
এবং দ্বিতীয়ত: কুরআন ও সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর কিছু পাঠ্য (نصوص) প্রমাণ করে যে মৃত ব্যক্তিরা শুনতে পায় না। এটি একটি দীর্ঘ আলোচনা, তবে আমি একটি হাদিস উল্লেখ করব এবং এই প্রশ্নের উত্তরটি শেষ করব। সেটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু ভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছে যারা পৃথিবীতে বিচরণ করেন, তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার নিকট সালাম পৌঁছে দেন।" ১। এখানে "ভ্রমণকারী" বলতে বুঝানো হয়েছে যারা বিভিন্ন মজলিসে বিচরণ করেন। সুতরাং যখনই কোনো মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করেন, তখনই একজন নিয়োজিত ফেরেশতা সেই মুসলিমের পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সালাম পৌঁছে দেন। যদি মৃত ব্যক্তিরা শুনতে পেত, তবে এই মৃতদের মধ্যে শোনার অধিক হকদার হতেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং সমস্ত নবী, রসূল ও বিশ্ববাসীর ওপর তাঁকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন। যদি কেউ শুনতে পেত, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই শুনতেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁর ইন্তেকালের পর কোনো কিছু শুনতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর উম্মতের প্রেরিত দরুদ শুনতে পেতেন।
আর এখান থেকেই আপনারা তাদের ভুল—বরং বিভ্রান্তি—বুঝতে পারবেন যারা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছেই নয়, বরং তাঁর নিম্নমর্যাদার ব্যক্তিদের কাছেও সাহায্য প্রার্থনা করে, তারা রসূল হোক বা নবী হোক কিংবা নেককার ব্যক্তি হোক। কারণ তারা যদি রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর কাছেও সাহায্য প্রার্থনা করত, তিনিও তাদের কথা শুনতেন না, যেমন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هو صريح القران {إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ} ] الأعراف:194 [، و {إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ} ] فاطر:14 [إلى آخر الآية.
إذا فالموتى من بعد موتهم لا يسمعون، إلا ما جاء النص في قضية خاصة – كما ذكرت آنفا – من سماع الميت قرع النعال، وبهذا ينتهي الجواب عن هذا السؤال.
এটি কুরআনের সুস্পষ্ট ভাষ্য: {নিশ্চয় তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা তোমাদের মতোই দাস} [আল-আরাফ: ১৯৪], এবং {তোমরা তাদের ডাকলে তারা তোমাদের সেই ডাক শুনবে না} [ফাতির: ১৪]—আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
অতএব, মৃত ব্যক্তিরা তাদের মৃত্যুর পর শুনতে পায় না, তবে দালিলিক টেক্সট (نص) এর মাধ্যমে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে সাব্যস্ত বিষয়টি স্বতন্ত্র—যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—মৃত ব্যক্তির জুতার আওয়াজ শুনতে পাওয়া। এর মাধ্যমেই এই প্রশ্নের উত্তর সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سؤال 4: عن حكم فتح المسجلة على القران والانشغال عن سماعه…سؤال 4: إذا كانت المسجلة مفتوحةً على القرآن الكريم، وبعض الحاضرين لا يستمعون بسبب أنهم مشغولون بالكلام، فما حكم عدم الاستماع؟ وهل يأثم أحد من الحاضرين أو الذي فتح المسجلة؟
الجواب: الجواب عن هذه القضية يختلف باختلاف المجلس الذي يُتلى فيه القران من المُسجلة، فإن كان المجلس مجلس علم وذكر وتلاوة قران، فيجب – والحالة هذه – الإصغاء التام، ومن لم يفعل فهو آثم، لمخالفته بقول الله تبارك وتعالى في القران {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} ] الأعراف:204] .
প্রশ্ন ৪: কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় রেকর্ডার চালু রাখা এবং তা শ্রবণে মনোযোগী না হওয়ার বিধান (حكم) প্রসঙ্গে…প্রশ্ন ৪: যদি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় রেকর্ডার চালু থাকে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ নিজেদের কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকার কারণে তা শ্রবণ না করে, তবে এই শ্রবণ না করার বিধান (حكم) কী? এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ অথবা যিনি রেকর্ডারটি চালু করেছেন, তারা কি গুনাহগার হবেন?
উত্তর: এই বিষয়ের উত্তরটি সেই মজলিসের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে যেখানে রেকর্ডারের মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াত করা হচ্ছে। যদি মজলিসটি ইলম, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের মজলিস হয়, তবে এমতাবস্থায় পূর্ণ মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা আবশ্যক (واجب); আর যে ব্যক্তি তা করবে না সে গুনাহগার হবে। কারণ সে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই বাণীর বিরুদ্ধাচরণ করেছে: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।} [আল-আরাফ: ২০৪]।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أما إذا كان المجلس ليس مجلس علم ولا ذكر ولا تلاوة قران، وإنما مجلس عادي، كأن يكون إنسان يعمل في البيت، أو يدرس أو يطالع، ففق هذه الحالة لا يجوز فتح آلة التسجيل، ورفع صوت التلاوة بحيث يصل إلى الآخرين الذين هم ليسوا مكلفين بالسماع، لأنهم لم يجلسوا له، والمسؤول هو الذي رفع صوت المسجلة وأسمع صوتها للآخرين، لأنه يُحرجُ على الناس، ويحملهم على أن يسمعوا للقران في حالة هم ليسوا مستعدين لهاالاستماع.
وأقرب مثال على هذا: أن أحدنا يمر في الطريق، فيسمع من السمان، وبائع الفلافل، الذي يبيع أيضاً هذه الأشرطة المُسجلة "الكاسيتات" فقد ملأ صوت القران، وأينما ذهبت تسمع هذا الصوت، فهل هؤلاء الذين يمشون في الطريق – كل في سبيله – هم مكلفون أن ينصتوا لهذا القران الذي يُتلى في غير محله؟! لا، وإنما المسؤول هو هذا الذي يُحرجُ على الناس، ويسمعهم صوت القران، إما للتجارة أو لإلفات نظر الناس، ونحو ذلك من المصالح المادية، فإذاً هم يتخذون القران من جهةٍ مزامير – كما جاء
পক্ষান্তরে, মজলিসটি যদি ইলম, জিকির কিংবা কুরআন তিলাওয়াতের মজলিস না হয়ে সাধারণ কোনো মজলিস হয়—যেমন কোনো ব্যক্তি ঘরে কাজ করছে, পড়াশোনা করছে কিংবা পাঠে নিমগ্ন রয়েছে—তবে এমতাবস্থায় অডিও রেকর্ডার চালু করা এবং তিলাওয়াতের আওয়াজ এতটা উচ্চকিত করা বৈধ নয় যা এমন ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছায় যারা তা শ্রবণের জন্য দায়বদ্ধ নয়। কারণ তারা তিলাওয়াত শোনার উদ্দেশ্যে উপবিষ্ট হয়নি। এর জন্য সেই ব্যক্তিই দায়ী যে রেকর্ডারের আওয়াজ উচ্চকিত করে অন্যদের শুনিয়েছে; কারণ সে মানুষকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করছে এবং তাদের এমন এক অবস্থায় কুরআন শুনতে বাধ্য করছে যখন তারা শ্রবণের জন্য প্রস্তুত নয়।
এর সবচেয়ে নিকটতম উদাহরণ হলো: আমাদের কেউ যখন রাস্তা দিয়ে চলে, তখন সে মুদিদোকানি কিংবা ফালাফেল বিক্রেতার নিকট থেকে শব্দ শুনতে পায়, যে কি না এসব রেকর্ডকৃত ক্যাসেটও বিক্রি করে থাকে। সে কুরআনের আওয়াজ দ্বারা চারপাশ পূর্ণ করে রেখেছে এবং যেখানেই যাওয়া হয় সেখানেই এই আওয়াজ শোনা যায়। এখন যারা রাস্তায় চলাচল করছে—যারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যতিব্যস্ত—তারা কি এই অনুপযুক্ত স্থানে তিলাওয়াতকৃত কুরআন মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য দায়বদ্ধ? না, বরং এর জন্য দায়ী সেই ব্যক্তি যে মানুষকে বিব্রত করছে এবং তাদের কুরআনের আওয়াজ শোনাচ্ছে—হয় ব্যবসার উদ্দেশ্যে অথবা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, কিংবা এই জাতীয় কোনো জাগতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে। ফলশ্রুতিতে তারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করছে—যেমনটি বর্ণিত হয়েছে—
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
في بعض الأحاديث"12"1، ثم هم يشترون بآيات الله ثمناً قليلاً في أسلوب آخر غير أسلوب اليهود والنصارى الذين قال الله عزوجل في حقهم في هذه الآية {اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا} ] التوبة9.
--------------------------------------------
কিছু হাদিসে"১২"১, অতঃপর তারা ইয়াহুদি ও নাসারাদের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যতিরেকে ভিন্ন এক পদ্ধতিতে আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য ক্রয় করে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই আয়াতে ইরশাদ করেছেন, {তারা আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য ক্রয় করেছে} [আত-তাওবা: ৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
سؤال 5: عن معنى قوله تعالى: {وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ}…سؤال 5: إن الله عزوجل يُخبر عن نفسه فيقول: {وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} ] آل عمران:54 [، فربما يضيق عقل بعض الناس عن فهم هذه الآية على ظاهرها، وبما أننا لسنا بحاجة للتأويل، فكيف يكون الله خير الماكرين؟!
الجواب: المسألة سهلة بفضل الله، وذلك لأننا نستطيع أن نعرف أن المكر – من حيث هو مكر - لا يوصف دائماً وأبداُ بأنه شر، كما إنه لا يوصف دائما وأبدا بأنه خير، فرُب كافر يمكر بمسلم، لكن هذا المسلم كيس فطن ليس مغفلا ولا غبيا، فهو متنبه لمكر خصمه الكافر، فيعامله على نقيض مكره هو، بحيث تكون النتيجة أن هذا المسلم بمكره الحسن قضى على الكافر بمكره السيئ، فهل يقال: إن هذا المسلم حينما مكر بالكافر تعاطى أمراً غير مشروع؟ لا أحد يقول هذا.
ومن السهل أن تفهموا هذه الحقيقة من قوله عليه الصلاة
প্রশ্ন ৫: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা ষড়যন্ত্র করল এবং আল্লাহও কৌশল করলেন, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী} এর অর্থ সম্পর্কে।…প্রশ্ন ৫: মহান আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {আর তারা ষড়যন্ত্র করল এবং আল্লাহও কৌশল করলেন, আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী} [আলে ইমরান: ৫৪]। সম্ভবত কিছু মানুষের বুদ্ধি এই আয়াতটিকে এর প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) অনুযায়ী বুঝতে সংকীর্ণতার শিকার হয়। যেহেতু আমাদের রূপক ব্যাখ্যার (تأويل) কোনো প্রয়োজন নেই, সেহেতু আল্লাহ কীভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী হতে পারেন?!
উত্তর: আল্লাহর অনুগ্রহে বিষয়টি সহজ। কারণ আমরা জানি যে, কৌশল বা মকর (مكر) — কেবল মকর হিসেবে — তা সর্বদা এবং চিরকাল মন্দ হিসেবে বর্ণিত হয় না, আবার তা সর্বদা এবং চিরকাল ভালো হিসেবেও বর্ণিত হয় না। অনেক সময় কোনো কাফের একজন মুসলিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, কিন্তু সেই মুসলিম ব্যক্তি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ; তিনি অসতর্ক বা নির্বোধ নন। ফলে তিনি তার শত্রু কাফরের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকেন এবং তার সাথে এমন পাল্টা আচরণ করেন যা তার ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর ফলে পরিণাম এই দাঁড়ায় যে, এই মুসলিম তার উত্তম কৌশলের মাধ্যমে কাফেরের মন্দ ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দেন। এমতাবস্থায় কি বলা হবে যে, এই মুসলিম যখন কাফেরের বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করেছেন, তখন তিনি কোনো অবৈধ কাজ করেছেন? কেউ এমন কথা বলবে না।
আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বাণী থেকে এই বাস্তবতাটি অনুধাবন করা সহজ যে...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
والسلام: "الحرب خدعة" 1، فالذي يقالُ في الخدعة يُقال في المكر تماماً، فمخادعة المسلم لأخيه المسلم حرام، لكن مخادعة المسلم للكافر عدو الله وعدو رسوله هذا ليس حراماً، بل هو واجب، كذلك مكر المسلم بالكافر الذي يريد المكر به –بحيث يبطل هذا المسلم مكر الكافر - هذا مكر حسن، وهذا إنسان وذاك إنسان.
فماذا نقول بالنسبة لرب العالمين القادر العليم الحكيم؟
ها هو يبطل مكر الماكرين جميعاً لذلك قال: {وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} ، فحينما وصف ربنا عزوجل نفسه بهذه الصفة؟ قد لفت نظرنا بأن المكر حتى من البشر ليس دائماً، لأنه قال {وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} فهناك ماكر بخير، وماكر بشر، فمن مكر بخير لم يُذم، والله عزوجل كما قال: {وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} .
وباختصار أقول: كل ما خطر ببالك فالله بخلاف ذلك، فإذا توهم الإنسان أمراً لا يليق بالله، فليعلم رأساً أنه مخطئ، فهذه الآية هي مدح لله عزوجل، وليس فيها أي شيء لا يجوز نسبته
--------------------------------------------
এবং (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী): "যুদ্ধ হলো একটি কৌশল" ১; সুতরাং রণকৌশল সম্পর্কে যা বলা হয়, চাতুর্য বা কর্মপন্থা সম্পর্কেও ঠিক তা-ই প্রযোজ্য। একজন মুসলিমের তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে প্রতারণা করা হারাম, তবে আল্লাহর শত্রু ও তাঁর রাসূলের শত্রু কাফেরের সাথে মুসলিমের কৌশল অবলম্বন করা হারাম নয়, বরং তা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে, যে কাফের কোনো মুসলিমের সাথে ষড়যন্ত্র করতে চায়, তার বিরুদ্ধে মুসলিমের পাল্টা কৌশল অবলম্বন করা—যাতে এই মুসলিম কাফেরের চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিতে পারে—তা একটি উত্তম কৌশল; সেও একজন মানুষ এবং এও একজন মানুষ।
তাহলে জগতসমূহের প্রতিপালক, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় সত্তার বিষয়ে আমরা কী বলব?
এই যে তিনি সকল ষড়যন্ত্রকারীর চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দেন, এজন্যই তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী"; সুতরাং যখন আমাদের রব মহান আল্লাহ নিজেকে এই গুণে গুণান্বিত করেছেন, তখন তিনি আমাদের এই মর্মে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, মানুষের পক্ষ থেকে চাতুর্য বা কৌশল অবলম্বন করা সর্বদা (নিন্দনীয়) নয়। কেননা তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী"। সুতরাং সেখানে যেমন কল্যাণের কৌশল রয়েছে, তেমনি মন্দের চাতুর্যও রয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তি কল্যাণের জন্য কৌশল অবলম্বন করল সে নিন্দিত নয়। আর মহান আল্লাহ যেমনটি বলেছেন: "আর আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী"।
সংক্ষেপে আমি বলব: আপনার মনে (আল্লাহর সত্তা বা গুণাবলি সম্পর্কে) যা কিছুই উদিত হোক না কেন, আল্লাহ তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং মানুষ যদি এমন কোনো বিষয়ের কল্পনা করে যা আল্লাহর শানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তবে তার তৎক্ষণাৎ জেনে রাখা উচিত যে সে ভুলের মধ্যে রয়েছে। এই আয়াতটি মূলত মহান আল্লাহর গুণকীর্তন এবং এতে এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা নাজায়েজ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
إلى الله تبارك وتعالى.
বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর নিকট।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
سؤال6: عن معنى قوله تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} ومن هم الصابئون؟
…سؤال6: كيف نوفق بين هاتين الآيتين {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} ] ال عمران:85 [، وقوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَى مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} ] المائدة:69 [؟
الجواب: لا تعارض بين الآيتين كما يوهم السؤال، وذلك لأن آية الإسلام هي بعد أن تَبلُغً دعوةُ الإسلامِ أولئك الأقوام الذين وصفهم الله عزوجل في الآية الثانية {فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} وذكر منهم الصابئة، والصابئة حينما يذكرون يسبق إلى الذهن أن المقصود بهم: عُباد الكواكب لكنهم – في الحقيقة - كل قوم وقعوا في الشرك بعد أن كانوا من أهل التوحيد فالصابئة كانوا موحدين، ثم عرض لهم الشرك وعبادة الكواكب، فالذين ذُكروا في هذه الآية هم المؤمنون منهم الموحدون، فهؤلاء قبل مجيء دعوة الإسلام هم كاليهود والنصارى، وهم ذُكروا أيضاً في نفس السياق الذي ذُكر فيه
প্রশ্ন ৬: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না} এর অর্থ এবং সাবী কারা?
…প্রশ্ন ৬: আমরা এই দুটি আয়াতের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করব— {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না} [আলে ইমরান: ৮৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে, সাবী ও নাসারা—যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [আল-মায়িদাহ: ৬৯]?
উত্তর: প্রশ্নে যেমনটি ধারণা হতে পারে, প্রকৃতপক্ষে এই দুই আয়াতের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। এর কারণ হলো, ইসলামের আয়াতটি সেই সব জাতির নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে, যাদের বর্ণনা মহান আল্লাহ দ্বিতীয় আয়াতে দিয়েছেন—{তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না}। আর তিনি তাদের মধ্যে সাবীদের কথা উল্লেখ করেছেন। যখনই সাবীদের নাম উল্লেখ করা হয়, তখন সাধারণত মস্তিষ্কে এই চিন্তার উদয় হয় যে, তাদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: নক্ষত্র পূজারী। কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে এমন এক জাতি যারা একত্ববাদী থাকার পর শিরকের মধ্যে নিপতিত হয়েছিল। মূলত সাবীরা একত্ববাদী ছিল, পরবর্তীতে তাদের মাঝে শিরক ও নক্ষত্র পূজার অনুপ্রবেশ ঘটে। অতএব, এই আয়াতে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলো তাদের মধ্যকার মুমিন ও একত্ববাদীগণ। ইসলামের দাওয়াত আসার পূর্বে তারা ইহুদি ও নাসারাদের মতোই ছিল এবং তাদেরকেও সেই একই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الصابئة فهؤلاء مَنْ كان منهم متمسكاً بدينه في زمانه، فهو من المؤمنين {فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} .
ولكن بعد أن بعث الله عزوجل محمداً عليه الصلاة والسلام بدين الإسلام، وبلغت دعوة هذا الإسلام أولئك الناس من يهود ونصارى وصابئة، فلا يقبل منه إلا الإسلام.
إذاً قوله تعالى {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا} أي: بعد مجيء الإسلام على لسان الرسول عليه الصلاة والسلام، وبلوغ دعوة الإسلام إليه، فلا يُقبل منه إلا الإسلام.
وأما الذين كانوا قبل بعثة الرسول عليه الصلاة والسلام بالإسلام، أو الذين قد يوجدون اليوم على وجه الأرض ولم تبلغهم دعوة الإسلام أو بَلَغَتْهُمْ دعوةُ الإسلام ولكنْ بلغتهم محرفةً عن أساسها وحقيقتها، كما ذكرتُ في بعض المناسبات عن القاديانيين – مثلاً - الذين انتشروا في أوربا وأمريكا يدعون إلى الإسلام لكن هذا الإسلام الذين يدعون إليه ليس من الإسلام في شيء، لأنهم يقولون بمجيء أنبياء بعد خاتم الأنبياء محمد عليه الصلاة والسلام، فهؤلاء الأقوام – من الأوربيين والأمريكيين الذين دعوا إلى الإسلام القادياني، ولم
সাবেয়িন: তাদের মধ্যে যারা নিজ নিজ সময়ে নিজেদের ধর্মের ওপর অবিচল ছিল, তারা বিশ্বাসী (المؤمنين) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত; {তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না}।
কিন্তু মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইসলামের দ্বীন দিয়ে প্রেরণের পর এবং ইহুদি, খ্রিস্টান ও সাবেয়িনদের নিকট ইসলামের এই দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ার পর, কারো পক্ষ থেকে ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছু আর গ্রহণ করা হবে না।
সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে...} এর অর্থ হলো: রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে ইসলামের আগমনের পর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ার পর, তার থেকে ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করা হবে না।
আর যারা ইসলামের সাথে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরিত হওয়ার পূর্বে ছিল, অথবা যারা আজ পৃথিবীতে এমন অবস্থায় বিদ্যমান যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, অথবা যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে ঠিকই কিন্তু তা তার মূল ভিত্তি ও বাস্তবতা থেকে বিকৃত (محرفة) অবস্থায় পৌঁছেছে—যেমন আমি বিভিন্ন উপলক্ষ্যে কাদিয়ানিদের সম্পর্কে উদাহরণ দিয়েছি—যারা ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, কিন্তু তারা যে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ তারা শেষ নবী (خاتم الأنبياء) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর আরও নবীর আগমনের দাবি করে। সুতরাং এই সকল জাতি—ইউরোপীয় ও আমেরিকানদের মধ্য থেকে যারা কাদিয়ানি ইসলামের দিকে আহূত হয়েছে এবং তারা...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تبلغهم دعوة الإسلام الحق – على قسمين:
قسم منهم على دين سابق وهم متمسكون به، فعلى ذلك تحمل آية {فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} .
وقسم انحرف عن هذا الدين – كما هو شأن كثير من المسلمين اليوم – فالحجة قائمة عليهم.
أما من لم تبلغهم دعوة الإسلام مطلقاً –سواء بعد الإسلام أو قبله -، فهؤلاء لهم معاملة خاصة في الآخرة، وهي أن الله عزوجل يبعث إليهم رسولاً يمتحنهم - كما امتحن الناس في الحياة الدنيا – فمن استجاب لذلك الرسول في عرصات يوم القيامة وأطاعه دخل الجنة، ومن عصاه دخل النار1.
--------------------------------------------
যাদের নিকট ইসলামের সত্য দাওয়াত পৌঁছেছে, তারা দুই প্রকার:
তাদের একদল পূর্ববর্তী কোনো দ্বীনের ওপর অটল রয়েছেন এবং তারা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন; এমতাবস্থায় (কুরআনের) এই আয়াতটি {তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না} তাদের ওপরই প্রযোজ্য হবে।
আর অন্য একদল এই দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে—যেমনটি বর্তমান কালের অনেক মুসলিমের অবস্থা—সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে যাদের নিকট ইসলামের দাওয়াত একেবারেই পৌঁছেনি—চাই তা ইসলামের আবির্ভাবের পরে হোক বা আগে—পরকালে তাদের সাথে বিশেষ আচরণ করা হবে।
আর তা হলো, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের নিকট একজন রাসুল পাঠাবেন যিনি তাদের পরীক্ষা করবেন—যেমনটি তিনি দুনিয়ার জীবনে মানুষকে পরীক্ষা করেছেন—অতঃপর কিয়ামতের ময়দানে যে ব্যক্তি সেই রাসুলের আহ্বানে সাড়া দেবে এবং তার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তার অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سؤال7: عن اية: {وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا} ومن هم الصابئون؟
…سؤال7: قال تعالى: {وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا} ] الأنعام:25 [، يَشُم البعض من هذه الآية رائحة الجبر، فما رأيكم في ذلك؟
الجواب: هذا الجعل هو جعلٌ كوني، ولفهم هذا لابد من شرح معنى الإرادة الإلهية، فالإرادة الإلهية تنقسم إلى قسمين:
প্রশ্ন ৭: আয়াত প্রসঙ্গে: {আর আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা} এবং সাবিয়ী (الصابئون) কারা?
…প্রশ্ন ৭: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা} [সূরা আল-আনআম: ২৫], কেউ কেউ এই আয়াত থেকে জবর বা নিয়তিবাদের (الجبر) আভাস পান, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
উত্তর: এই নির্ধারণ হলো মহাজাগতিক নির্ধারণ (جعل كوني); আর এটি অনুধাবনের জন্য ঐশী ইচ্ছার (الإرادة الإلهية) অর্থ ব্যাখ্যা করা আবশ্যক। কারণ ঐশী ইচ্ছা দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إرادة شرعية، وإرادة كونية.
والإرادة الشرعية: هي كل ما شرعه الله عزوجل لعباده، وحضهم على القيام به من طاعات وعبادات على اختلاف أحكامها، من فرائض إلى مندوبات، فهذه الطاعات والعبادات يريدها تبارك وتعالى ويُحبها.
وأما الإرادة الكونية: فهي قد تكون تارة مما لم يشرعها الله، ولكنه قدرها وهذه الإمارة إنما سُميت بالإرادة الكونية اشتقاقاً من قوله تعالى: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} ] يس:82 [، ف "شَيْئًا" اسم نكرة يشمل كل شيء، سواء أكان طاعة أو معصية، وإنما يكون ذلك بقوله تعالى: {كُنْ} ، أي بمشيئته وقضائه وقدره، فإذا عرفنا هذه الإرادة الكونية – وهي أنها تشمل كل شيء، سواء أكان طاعة أو كان معصية – فلا بد من الرجوع بنا إلى موضوع القضاء والقدر، لأن قوله تعالى {وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا} ، معناه أن هذا الذي قال له {كُنْ} جعله أمراً مُقدراً كائناً لابد منه، فكل شيء عند الله عزوجل بقدر، وهذا أيضاً
বিধানগত ইচ্ছা (إرادة شرعية) এবং সৃষ্টিগত ইচ্ছা (إرادة كونية)।
বিধানগত ইচ্ছা (الإرادة الشرعية) হলো: মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন এবং আনুগত্য (طاعات) ও ইবাদতের (عبادات) বিভিন্ন বিধানের আলোকে—আবশ্যিক কার্যাবলি (فرائض) থেকে শুরু করে পছন্দনীয় কার্যাবলি (مندوبات) পর্যন্ত—যা কিছু পালনে তাদের উৎসাহিত করেছেন; এই আনুগত্য (طاعات) ও ইবাদতসমূহ (عبادات) মহান আল্লাহ তায়ালা চান এবং তিনি তা পছন্দ করেন।
আর সৃষ্টিগত ইচ্ছা (الإرادة الكونية) হলো: এটি কখনো কখনো এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও হতে পারে যা আল্লাহ তায়ালা শরিয়তসম্মত করেননি, কিন্তু তিনি তা নির্ধারণ করেছেন। আর এই বিষয়টি ‘সৃষ্টিগত ইচ্ছা’ (الإرادة الكونية) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে উৎসারিত হয়ে: {তাঁর নির্দেশ তো কেবল এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন: ‘হও’ (كن), ফলে তা হয়ে যায়} [ইয়াসিন: ৮২]। এখানে ‘কোনো কিছু’ (شَيْئًا) শব্দটি একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (اسم نكرة) যা সব কিছুকেই শামিল করে, তা আনুগত্য (طاعة) হোক বা নাফরমানি (معصية) হোক। আর তা কেবল মহান আল্লাহর বাণী: ‘হও’ (كن) এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ তাঁর ইচ্ছা (مشيئة), ফয়সালা (قضاء) এবং তকদিরের (قدر) মাধ্যমে। সুতরাং যখন আমরা এই সৃষ্টিগত ইচ্ছা (الإرادة الكونية) সম্পর্কে জানলাম—যা আনুগত্য (طاعة) ও নাফরমানি (معصية) উভয়সহ সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে—তখন আমাদের জন্য অবশ্যই ফয়সালা ও তকদির (القضاء والقدر) সংক্রান্ত বিষয়ের দিকে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা}, এর অর্থ হলো: যাকে তিনি ‘হও’ (كن) বলেছেন, তাকে তিনি একটি অবধারিত ও সুনির্ধারিত বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যা ঘটা অনিবার্য। সুতরাং মহান আল্লাহর কাছে প্রতিটি বিষয়ই নির্ধারিত তকদির (بقدر) অনুযায়ী হয়ে থাকে, এবং এটিও...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يشمل الخير والشر، ولكن ما يتعلق منه بنا نحن الثقلين –الإنس والجن المكلفين المأمورين من الله عزوجل - أن ننظر فيما نقوم نحن به، إما أن يكون بمحض إرادتنا واختيارنا، وإما أن يكون رغماً عنا، وهذا القسم الثاني لا يتعلق به طاعة ولا معصية، ولا يكون عاقبة ذلك جنة ولا ناراً، وإنما القسم الأول هو الذي عليه تدور الأحكام الشرعية، وعلى ذلك يكون جزاء الإنسان الجنة أو النار، أي: ما يفعله الإنسان بإرادته، ويسعى إليه بكسبه واختياره هو الذي يحاسب عليه، إنْ كان خيراً فخير، وإن كان شراً فشر.
وكون الإنسان مختاراً في قسم كبير من أعماله، فهذه حقيقة لا يمكن المجادلة فيها شرعاً ولا عقلاً.
أما شرعاً: فنصوص الكتاب والسنة متواترة في أمر الإنسان بأن يفعل ما أمر به، وفي أن يترك ما نُهي عنه، وهذه النصوص أكثر من أن تذكر.
أما عقلاً: فواضح لكل إنسان متجرد عن الهوى والغرض بأنه حينما يتكلم، حينما يمشي، حينما يأكل، حينما يشرب،
কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ই এর অন্তর্ভুক্ত; তবে আমাদের সাথে—অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট ও শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত (المكلفين) জিন ও ইনসান নামক উভয় জাতির সাথে—সংশ্লিষ্ট বিষয়টি হলো আমাদের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণ করা। আমাদের কার্যাবলি হয় আমাদের নিরঙ্কুশ ইচ্ছা ও পছন্দের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, নতুবা আমাদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঘটে। এই দ্বিতীয় প্রকারের সাথে আনুগত্য বা অবাধ্যতার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এর পরিণাম জান্নাত বা জাহান্নামও নয়। বরং প্রথম প্রকারের কার্যাবলির ওপরই শরয়ি বিধানসমূহ আবর্তিত হয় এবং এরই ভিত্তিতে মানুষের প্রতিদান হিসেবে জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ মানুষ নিজ ইচ্ছায় যা করে এবং নিজের উপার্জন ও পছন্দের মাধ্যমে যা অর্জনের চেষ্টা করে, সেটির জন্যই তাকে জবাবদিহি করতে হবে। যদি তা কল্যাণকর হয় তবে তার প্রতিদান কল্যাণ, আর যদি মন্দ হয় তবে তার ফল মন্দ।
মানুষের অধিকাংশ কর্মের ক্ষেত্রে সে যে ইচ্ছাশক্তির অধিকারী, এটি এমন এক বাস্তবতা যা শরিয়ত বা যুক্তিবুদ্ধি কোনোটি দিয়েই অস্বীকার করা সম্ভব নয়।
শরিয়তের দৃষ্টিতে: কিতাব ও সুন্নাহর দলিলাদি এই বিষয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواترة) যে, মানুষকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করতে হবে এবং যা নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জন করতে হবে। এই সংক্রান্ত ভাষ্যসমূহ সংখ্যায় এত অধিক যে তা উল্লেখ করে শেষ করা সম্ভব নয়।
আর যুক্তির নিরিখে: প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে এটি সুস্পষ্ট যে, সে যখন কথা বলে, যখন হাঁটে, যখন পানাহার করে,
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াজিবু আলাইনা আন নুফাস্সিরাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حينما يفعل أي شيء، مما يدخل في اختياره، فهو مختار في ذلك غير مضطر إطلاقاً، وأنا شئتُ أنْ أتكلم الآن، فليس هناك أحد يجبرني على ذلك بطبيعة الحال، ولكنه مقدر، ومعنى كلامي هذا مع كونه مقدراً، أي أنه مقدر مع اختياري لهذا الذي أقوله وأتكلم به، ولكن باستطاعتي أن أصمت لأبين لمن كان في شك مما أقول أني مختار في هذا الكلام.
إذاُ، فاختيار الإنسان –من حيث الواقع - أمر لا يقبل المناقشة والمجادلة، وإلا فالذي يجادل في مثل هذا إنما هو يسفسط ويشكك في البدهيات، وإذا وصل الإنسان إلى هذه المرحلة انقطع معه الكلام.
إذاً فأعمال الإنسان قسمان: اختيارية، واضطرارية.
والاضطرارية: ليس فيها كلام، لا من الناحية الشرعية ولا من الناحية الواقعية، والشرع يتعلق بالأمور الاختيارية، فهذه هي الحقيقة، وإذا ركزناها في أذهاننا، استطعنا أن نفهم الآية السابقة: {وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً} وهذا الجعل كوني، ويجب أن نتذكر الآية السابقة {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا} أن الإرادة ههنا إرادة كونية، ولكن ليس رغماُ عن هذا الذي جعل
যখনই কোনো ব্যক্তি কোনো কাজ করে যা তার স্বেচ্ছাধিকারের (اختيار) অন্তর্ভুক্ত, তখন সে সেই ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন (مختار), মোটেও বাধ্য (اضطراري) নয়। আমি যে এখন কথা বলতে চেয়েছি, স্বাভাবিকভাবেই এক্ষেত্রে আমাকে বাধ্য করার কেউ নেই, তবে এটি নির্ধারিত (مقدر)। আমার এই কথা নির্ধারিত হওয়ার অর্থ হলো—আমার এই বলা ও কথা বলার পছন্দের (اختيار) সাথেই তা নির্ধারিত। তবে আমি চাইলে নীরব থাকতে পারি, যাতে আমার কথায় সন্দেহ পোষণকারীদের নিকট এটি স্পষ্ট করতে পারি যে, আমি আমার এই কথার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন (مختار)।
সুতরাং, মানুষের পছন্দ বা ইখতিয়ার—বাস্তবতার নিরিখে—এমন একটি বিষয় যা কোনো বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা গ্রহণ করে না। অন্যথায়, যে ব্যক্তি এই ধরণের বিষয়ে বিতর্ক করে, সে মূলত নিরর্থক তর্কে (سفسطة) লিপ্ত এবং স্বতঃসিদ্ধ (بديهيات) বিষয়গুলোতে সন্দেহ পোষণকারী। মানুষ যখন এই পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তার সাথে আলোচনা করার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
অতএব, মানুষের কর্মকাণ্ড দুই প্রকার: স্বেচ্ছাধীন (اختيارية) এবং অনিচ্ছাধীন (اضطرارية)।
আর অনিচ্ছাধীন (اضطرارية) কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো আলোচনার অবকাশ নেই—না শরয়ি (شرعية) দৃষ্টিকোণ থেকে, না বাস্তবতার দিক থেকে। আর শরীয়ত মূলত স্বেচ্ছাধীন (اختيارية) বিষয়সমূহের সাথেই সম্পৃক্ত। এটিই হলো বাস্তবতা। যদি আমরা এটি আমাদের হৃদয়ে বদ্ধমূল করতে পারি, তবে পূর্বোক্ত আয়াতটি বুঝতে সক্ষম হব: {আর আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি}। আর এই আরোপ করা হলো সৃষ্টিগত (كوني)। আমাদের সেই পূর্ববর্তী আয়াতটি স্মরণ করতে হবে: {তাঁর নির্দেশ তো কেবল এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন...}। এখানে ইচ্ছা বলতে সৃষ্টিগত ইচ্ছা (إرادة كونية) বোঝানো হয়েছে, তবে তা যার ওপর অর্পিত হয়েছে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয়।